Monday, January 15, 2018

আর কোনও ‘ডিভি লটারি’ নয়! ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতির খোলনলচে পাল্টে দেবার ইঙ্গিত দিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রে আর কোনও ‘ডাইভারসিটি ভিসা থাকবে না’।
 
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প রোববার (১৪ জানুয়ারি) দেয়া একট টুইটে এই মনোভা ব্যক্ত করেন। সেখানে তিনি তার ‘সবার আগে আমেরিকা’("America First") নীতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বাছবিচারহীন ‘ডিভি লটারি’র মাধ্যমে কেউ আর যুক্তরাষ্টে অভিবাসী হয়ে আসতে পারবে না। বরং এখন থেকে কেবল বাছাই করা মেধাবী লোকেরাই যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী হিসেবে আসবে।
 
এজন্য রোববার ‘মেধাভিত্তিক অভিবাসন নীতি’ প্রণয়ন করার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী হিসেবে কেবল সেইসব লোকদেরই চান যারা আমেরিকাকে ‘আবারও শক্তিশালী ও মহান’ করে তুলতে সহায়ক হবে।

রোববার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একাধিক টুইট বার্তা পোস্ট করেন। এসবের একটি হুবহু তুলে দেয়া হলো:
 
"I, as President, want people coming into our Country who are going to help us become strong and great again, people coming in through a system based on MERIT. No more Lotteries! #AMERICA FIRST,"
 
‘মেধাভিত্তিক অভিবাসন ব্যবস্থা’ হলে যুক্তরাষ্ট্রে কেবল সেইসব লোকেরাই প্রবেশ করতে পারবে, যারা মেধাবী এবং যাদের ‘চমৎকার অতীত রেকর্ড’ রয়েছে।
 
এছাড়া তিনি বলেন, তার কাছে সবার আগে মুখ্য বিষয় হচ্ছে আমেরিকানদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মাদকের ব্যাপক প্রবেশে ইতি টানা।
 
ট্রাম্প যে মেধাভিত্তিক অভিবাসন ব্যবস্থার কথা বলছেন তাতে করে যুক্তরাষ্ট্রে মোট অভিবাসীর হার কমবে। এর ফলে ভারতের মতো দেশগুলো বড় ধরনের সুফল ভোগ করবে।

ট্রাম্পের নতুন এই অভিবাসন নীতি বাস্তবায়িত হলে বিশ্বের বহু দেশের কোটি কোটি অভিবাসনপ্রত্যাশীর স্বপ্ন চুরমার হয়ে যাবে। কয়েক দশক ধরে চলা ডাইভারসিটি লটারির ভিসা পদ্ধতির মাধ্যমে গ্রিন কার্ড পাওয়ার পথও চিরতরে বন্ধ হয়ে যাবে। বিভিন্ন দেশের মানুষ নিজেদের মেধাগত যোগ্যতা ছাড়া অন্য কোনো উপযুক্ত কারণ দেখিয়েও আর যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী হতে পারবে না। স্বল্প সংখ্যক বাছাই করা মেধাবীর বাইরে আর সবাই থেকে যাবে বঞ্চিত।

স্নাতক পাস কোর্সের ভর্তি শুরু ১৭ জানুয়ারি

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৭-২০১৮ শিক্ষাবর্ষে প্রথম বর্ষ স্নাতক পাস ও স্নাতক (সম্মান) প্রফেশনাল কোর্সে অনলাইনে ভর্তি কার্যক্রমের শুরু হবে ১৭ জানুয়ারি।
 
সোমবার  দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
 
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ভর্তির কার্যক্রমের প্রাথমিক আবেদন ওইদিন বিকেল ৪টা থেকে শুরু হয়ে ৩ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা পর্যন্ত চলবে। উভয় কোর্সের ভর্তি কার্যক্রমে আবেদনকারী প্রার্থীদের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে প্রতিটি কলেজের জন্য আলাদাভাবে মেধা তালিকা প্রণয়ন করা হবে।
 
ভর্তি সক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট- (www.admissions.nu.edu.bd অথবা nu.edu.bd/admissions) থেকে জানা যাবে।

৭০ অনুচ্ছেদের বৈধতা নিয়ে এবার হাইকোর্টের বিভক্ত রায়

রাজনৈতিক দল থেকে পদত্যাগ বা দলের বিপক্ষে ভোট দেওয়ার কারণে সংসদীয় আসন শূন্য হওয়া সংক্রান্ত সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের বৈধতা নিয়ে করা রিটে বিভক্ত আদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

বিচারপতি মঈনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি মো. আশরাফুল কামালের সমন্বয়ে হাইকোর্ট বেঞ্চ সোমবার রিটের শুনানিতে এই বিভক্ত আদেশ দেন।

বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ৭০ অনুচ্ছেদ প্রশ্নে রুল দিয়েছেন। আর বেঞ্চের অন্য বিচারপতি মো. আশরাফুল কামাল রিট আবেদনটি খারিজ করে দিয়েছেন।

সংশ্নিষ্ট আইনজীবীরা জানান, নথিপত্রসহ রিট আবেদনটি এখন বিধি অনুযায়ী ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠানো হবে। তিনি এর জন্য একটি বেঞ্চ নির্ধারণ করে দেবেন। ওই বেঞ্চের আদেশ অনুযায়ী বিষয়টি নিষ্পত্তি হবে।

আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন রিটকারী সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু।

আদেশের পর মোতাহার হোসেন সাজু সাংবাদিকদের বলেন, হাইকোর্টের সংশ্নিষ্ট বেঞ্চ থেকে রিট আবেদনটি প্রধান বিচারপতির দপ্তরে পাঠানো হবে। পরে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি রিট আবেদনটি নিষ্পত্তির জন্য যে বেঞ্চ গঠন করে দেবেন সেখানেই এর পরবর্তী শুনানি হবে।

২০১৭ সালের ১৭ এপ্রিল সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদকে অগতান্ত্রিক দাবি করে তা বাতিলের জন্য হাইকোর্টে এ রিটটি দায়ের করেন আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ। রিটে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ একই সংবিধানের অন্যান্য অনুচ্ছেদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক দাবি করে তা বাতিলের জন্যও রুল জারির নির্দেশনা চাওয়া হয়েছিল। এতে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, সংসদ সচিবালয়ের সচিব, আইন সচিব, প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও জাতীয় সংসদের স্পিকারকে বিবাদী করা হয়।

রিটে বলা হয়, একজন সাংসদ জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধি। কিন্ত সংসদে তিনি তার দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ভোট বা নিজস্ব মতামত দিতে পারেন না। কারণ সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ভোট দিলে তার সংসদ সদস্য পদ থাকবে না। অথচ সংবিধানের প্রস্তাবনা ও ১১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী গণতন্ত্র হচ্ছে মৌল কাঠামোর অন্তর্ভুক্ত। ফলে ৭০ অনুচ্ছেদটি অগণতান্ত্রিক এবং সংবিধানের গণতান্ত্রিক মুল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু ২ এপ্রিল


উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষা আগামী ২ এপ্রিল থেকে শুরু হবে, চলবে ৪ মে পর্যন্ত। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

ঢাকা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক তপন কুমার সরকার  বলেন, চলতি বছর শুরু হতে যাওয়া এইচএসসি পরীক্ষা রুটিন তৈরি করা হয়েছে। সেটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদন দেয়া হলেই তা প্রকাশ করা হবে।

তিনি আরো বলেন, প্রতি বছর ১ এপ্রিল থেকে এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হয়ে থাকে। কিন্তু এবার সেদিন স্টার সানডে হওয়ায় পরীক্ষার রুটিন একদিন পিছিয়ে তৈরি করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, প্রস্তাবিত রুটিন অনুযায়ী আগামী ২ এপ্রিল বাংলা প্রথম পত্র (তত্ত্বীয়) পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত তত্ত্বীয় পরীক্ষা চলবে। এরপর থেকে শুরু হবে ব্যবহারিক পরীক্ষা। চলবে ৪ মে পর্যন্ত। এ বছর এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় প্রায় ১২ লাখ পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করার কথা রয়েছে।

ঢাকা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, এবার কম্পিউটার বিষয়ে আলাদাভাবে পরীক্ষা আয়োজন করা হবে না। আইসিটি বিষয়ের মধ্যে কম্পিউটার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ কারণে প্রতি বছর এ পরীক্ষা মোট ৪৪ দিন ধরে আয়োজিত হলেও এবার দুদিন কমিয়ে ৪২ দিন পর্যন্ত চলবে এইচএসসি পরীক্ষা।

সিসাকে মাদকের আওতায় আনার প্রস্তাব by শুভ্র দেব

অত্যাধুনিক সাজসজ্জা। আবছা অন্ধকার। উচ্চ শব্দে বাজছে হিন্দি-ইংরেজি গান। টেবিলে টেবিলে সাজানো সিসা সেবন করার হুক্কা। সিসায় টান দিয়ে হৈ-হুল্লোড়, চিৎকার-চেঁচামেচিতে মেতে উঠছে তরুণ-তরুণীরা। শুধু তরুণ-তরুণী নন এখানে সব বয়সীদের বিচরণ।
এ যেন অন্যরকম এক উন্মাদনা। বনানীর ১১ নম্বর সড়কের জেনেটিক পয়েন্ট এগারোর ১২ তলার ফাহরেনহাইট সিসাবারের চিত্র এমনটাই। ফাহরেনহাইটের সহকারী ব্যবস্থাপক রফিক বলেন, আমরা এখন আর কোনো পার্টি থ্রো করি না। তবে কেউ যদি পার্টি করতে চায় সেক্ষেত্রে আমরা আয়োজন করি। তবে আমাদের এই রেস্টুরেন্টটি মূলত সিসাবার। সঙ্গে খাবারের আইটেম রয়েছে। এখানে ক্ল্যাসিক সিসার সঙ্গে রেগুলার কফিসহ ১ হাজার টাকা ও প্রিমিয়াম সিসার সঙ্গে দুটি হট চকোলেটসহ ১ হাজার ৬০০ টাকা। ফাহরেনহাইটের ঠিক উল্টোপাশে গ্রিন ডিলাক্স ভবনের ৬ তলার গিটার স্টিংগস সিসা বারের অবস্থাও প্রায় একই। সামনে ফুড আইটেম। ভেতরে সীসা লাউঞ্জ। বিক্রয় সহকারী প্রদীপ বলেন, আমরা সিসা সেবনের জন্য ১ হাজার টাকা নেই। এর বাইরে খাবারের জন্য আলাদা টাকা দিতে হয়। তবে মিন্ট, গ্রেইভ, ডাবল আপেল, কিউইউ, অরেঞ্জসহ আরো কিছু ফলের নির্যাসের আদলে সিসা সেবন করার সুবিধা রয়েছে। সরজমিন বিভিন্ন সিসাবার ঘুরে ও সিসাসেবীদের সঙ্গে আলাপকালে জানা যায় এখানে অধিকাংশ সিসাসেবীরাই কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। ক্লাস ফাঁকি দিয়ে তারা বন্ধুদের হাত ধরে সিসায় ঝুঁকছেন।
মোগল আমল থেকে সিসার প্রচলন। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে সিসা এখনো অনেক জনপ্রিয়। বিভিন্ন ফলের নির্যাস দিয়ে তৈরি হয় সিসার উপাদান। কিন্তু অভিযোগ আছে বাংলাদেশে সিসার আড়ালে মেশানো হচ্ছে বিভিন্ন মাদকদ্রব্য। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)-এর পরীক্ষায় মাদক মেশানোর বিষয়টি ধরা পড়েছে। এমনকি ল্যাবে পরীক্ষা করে সিসায় মাদক মেশানোর আলামত পাওয়া গেছে। এছাড়া গোয়েন্দা তথ্যও বার বার সিসায় মাদকের উপস্থিতি প্রমাণিত হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে পরীক্ষায় দেখা গেছে, সিসা স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। এর মধ্যে উচ্চমাত্রার টক্সি, কার্বন মনো-অক্সাইড হেভি মেটালসহ ক্যানসার সৃষ্টিকারী উপাদান রয়েছে। টেট্রাহাইড্রোক্যানাবিনল হাসিসের নির্যাসের সঙ্গে রাসায়নিক মিশ্রণে সিসা তৈরি হয়। এতে নিকোটিনের পরিমাণও থাকে মাত্রাতিরিক্ত। তামাক বিশেষজ্ঞদের মতে, এক সেশনে সিসা টানলে ৫৪টি সিগারেটের সমান ক্ষতি হয়। এছাড়া সিসার ধোঁয়ায় প্রচুর পরিমাণে কার্বন মনোঅক্সাইড থাকে, যা মানবদেহের জন্য খুবই ক্ষতিকর। তাদের মতে সিসা সিগারেটের চেয়ে অনেক বেশি ভয়ঙ্কর। এছাড়া সিসায় ফলের নির্যাসের সঙ্গে অন্যান্য ক্ষতিকর মাদকদ্রব্যের রাসায়নিক উপাদান ব্যবহার করা হয়। অন্য মাদকে যে ক্যানসার ছড়াতে পাঁচ বছর সময় লাগবে সেখানে নিয়মিত সিসায় আসক্ত হলে দুই বছরের মধ্যে শরীরে ক্যানসার ছড়িয়ে পড়তে পারে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের দেয়া তথ্যানুযায়ী, তাদের কাছে কাগজে কলমে এখন ১০৮টি সিসা লাউঞ্জ বা সিসা বারের তালিকা আছে। তবে প্রকৃতপক্ষে সিসা বারের সংখ্যা আরো অনেক বেশি। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অন্তত ৩ শতাধিক রেস্তরাঁয় এ ব্যবসা চালানো হচ্ছে। আর সিসাসেবী এখন ৫০ হাজার ছাড়িয়েছে। রাজধানীর সিসা লাউঞ্জ ও বারগুলোর মধ্যে অন্যতম গুলশানের ক্লাব অ্যারাবিয়ান, জাবেদ কাড লাউঞ্জ, হাবুল-কাবুল, মাউন্ট আল্টা লাউঞ্জ, জোন জিরো লাউঞ্জ, এক্সিট লাউঞ্জ। বনানীর ফাহরেনহাইট, ফিউসন হান্ট, ডকসিন, কফি হাউজ, মিলাউন্স, বেইজিং লাউঞ্জ, মিট লাউঞ্জ, সিক্সথ ফ্লোর, মোহাম্মদপুরের অ্যারাবিয়ান নাইটস, ফুড কিং, ধানমন্ডির সেভেন টুয়েলভ লাউঞ্জ, ডমিনেন্স পিজা, কিউ কিউ টি অ্যান্ড লাউঞ্জ, এইচ টু ও লাউঞ্জ অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট, ঝাল লাউঞ্জ অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট, বেইলি রোডের থার্টি থ্রি ও খিলক্ষেতের হোটেল রিজেন্সি।
সূত্র জানায়, সিটি করপোরেশন থেকে হোটেল ব্যবসার লাইসেন্স নিয়ে আড়ালে চালায় সিসা বার। অনিয়ন্ত্রিতভাবে
চলায় বিভিন্ন সময় সিসা বারে ডিএনসি কর্মকর্তারা অভিযান চালিয়েছে। কিন্তু সিসা বারে অভিযানের জন্য রেস্তরাঁ মালিকরা হাইকোর্টে রিট করেছে। রেস্তরাঁ মালিকদের অভিযোগ তারা সিসাতে কোনো মাদকদ্রব্য মেশান না। অযথাই ডিএনসি কর্মকর্তারা তাদের হয়রানি করেন। আবার ডিএনসি কর্মকর্তারা বলছেন, রেস্তরাঁ মালিকরা গোপনে সিসাতে মাদকদ্রব্য মিশিয়ে দেন। যদি সিসাতে মাদক মেশানো হয় তবে সেটি অবৈধ। তবে সিসাকে মাদকের আওতায় আনার জন্য আইনের খসড়া প্রস্তাব করা হয়েছে। সূত্র জানায়, ২০১৩ সালের ২৫শে ফেব্রুয়ারি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সিসা বারের জন্য ৮ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল। তদন্ত কমিটি সিসা বারের জন্য বেশকিছু সুপারিশও করে। যারমধ্যে সিসাকে মাদকের আওতায় আনার কথা বলা হয়। এছাড়া সিসা বারের জন্য লাইসেন্স নেয়ার নিয়ম ও ২৫ বছরের কম বয়সীদের সিসা বারে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা ও বিদেশিদের জন্য পাঁচ তারকা হোটেলে ব্যবস্থা গ্রহণ ও বর্তমানে চালু সিসা বারগুলো বন্ধ করে দেয়ার সুপারিশ করা হয়। যদিও কার্যত তার কোনোটিই বাস্তবায়ন হয়নি। তবে ইদানীং সীসা বারের বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষ বেশ তৎপর। সমপ্রতি ডিএনসি মাদকদ্রব্য আইনে সিসাকে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য আইনের খসড়া প্রস্তাব দিয়েছে। এছাড়া, গত ১০ই ডিসেম্বর সিসা বারগুলোতে রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে কী বিক্রি হচ্ছে তা দেখার জন্য অভিযান চালানোর নির্দেশ দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর এবং ভ্যাট (ভ্যালু এডেড ট্যাক্স) বা মূসক (মূল্য সংযোজন কর) গোয়েন্দা দপ্তরে পাঠানো ওই চিঠিতে বলা হয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, প্রধানত ডিএনসির সহযোগিতা নিয়ে সিসার রেস্তরাঁগুলোতে অভিযান চালাতে হবে।
এ ব্যাপারে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) গোয়েন্দা শাখার অতিরিক্ত পরিচালক নজরুল ইসলাম শিকদার মানবজমিনকে বলেন, বিভিন্ন সময় আমরা সিসাবারে অভিযান চালিয়েছি। কিন্তু রেস্তরাঁ মালিকদের হাইকোর্টে রিটের কারণে আপাতত সেটি স্থগিত আছে। তাদের দাবি সিসাতে মাদকের কোনো মিশ্রণ নাই। তবে অভিযোগ আছে সিসাতে মাদক মেশানো হয়। ল্যাব টেস্টেও অনেক সময় সিসার উপস্থিতি পাওয়া গেছে। তাই সিসাকে মাদকের আওতায় আনার জন্য আমরা প্রস্তাবনা করেছি। তিনি বলেন, বার আর সিসা লাউঞ্জ মিলিয়ে আমাদের কাছে ১০৮টির মতো তালিকা আছে। এর বাইরে আমাদের অজানা অনেক সিসা বার থাকতে পারে। মাদকের আওতায় আনা গেলে এদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে ব্যবস্থা নেয়া যাবে।

বই পড়েই সময় কাটে প্রণব মুখার্জির

ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি বই পড়েই এখন তার সময় কাটাচ্ছেন।

প্রণব মুখার্জি বলেন, আমি জীবনের দীর্ঘ সময় রাজনীতি করেছি। ভারতের সংসদে এবং রাষ্ট্রপতির পদের মত সাংবিধানিক পদে ছিলাম। অবসর গ্রহণের পরে আমার অফুরন্ত সময় পড়ার জন্য।

সফররত ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি আজ (সোমবার) দুপুরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তার সরকারি বাসভবন গণভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে একথা বলেন।

তিনি ২০১৩ সালে ভারতের রাষ্ট্রপতি হিসেবে বাংলাদেশে তার প্রথম বিদেশ সফরের কথাও স্মরণ করেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে বাংলাদেশের চমকপ্রদ আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের প্রশংসা করে ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশ এখন বিনিয়োগের জন্য একটি আকর্ষণীয় স্থান।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের উল্লেখযোগ্য দিক তুলে ধরে বলেন, তার সরকারের বিভিন্ন বাস্তবধর্মী পদক্ষেপের ফলে দারিদ্র্যের হার ২২ শতাংশে নেমে এসেছে। গত বছরের বন্যার ফলে দেশের অর্থনীতি খানিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে।

রোহিঙ্গা ইস্যু সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ মানবিক কারণে প্রায় ১০ লাখ বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিককে আশ্রয় প্রদান করেছে।

প্রণব মুখার্জির মেয়ে শর্মিষ্ঠা মুখার্জি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সিনিয়র সচিব সুরাইয়া বেগম এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আয়োজিত মধ্যাহ্ন ভোজে অংশগ্রহণ করেন ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি।

বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

এরআগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবনের প্রধান প্রবেশ মুখে ফুলের তোড়া হাতে প্রণব মুখার্জিকে স্বাগত জানান।

ভারতীয় সেনাদের হামলায় ৭ পাক সেনা নিহত

ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রতিশোধমূলক আক্রমণে সাত পাক সেনা নিহত হয়েছে। সোমবার জম্মু-কাশ্মীরের নিয়ন্ত্রণ রেখার পুঞ্চ সেক্টরে এ ঘটনা ঘটে।

ভারতীয় সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়া।

এক টুইটবার্তায় পাক সরকারের তরফ থেকে কমপক্ষে চার সেনার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। শনিবার নিয়ন্ত্রণ রেখার রাজৌরি জেলায় পাকিস্তানি সেনাদের গুলিতে এক ভারতীয় সেনা নিহত হয়। তারপরেই পাকিস্তানি সেনাদের ওপর পাল্টা হামলা চালায় ভারতীয় সেনারা।

এক ঊর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তা পিটিআইকে জানিয়েছেন, নিয়ন্ত্রণ রেখার পুঞ্চ সেক্টরের জাগলোতি এলাকায় পাকিস্তানি সেনাদের ওপর প্রতিশোধমূলক হামলা চালিয়েছে সেনারা।

সোমবার সকালে সেনা দিবসের এক অনুষ্ঠানে ভারতীয় সেনা প্রধান বিপিন রাওয়াত বলেন, আমাদের যদি বাধ্য করা হয় তবে আরো সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করব।

জেনারেল রাওয়াত আরো বলেন, নিয়ন্ত্রণ রেখায় পাকিস্তানি সেনারা ক্রমাগত সন্ত্রাসীদের সহায়তার চেষ্টা করছেন। তাদের একটি শিক্ষা দেওয়ার জন্য আমরা আমাদের শক্তি ব্যবহার করছি। পাকিস্তানের যে কোনো ধরনের উস্কানিমূলক পদক্ষেপের কার্যকর প্রতিশোধ নেওয়া হবে। যে কোনো মূল্যে ভারতবিরোধী তৎপরতাকে সফল হতে দেবো না আমরা।

মহাকাশ থেকে একমাস পর ফিরল ড্রাগন ক্যাপসুল

কোনো রকম ঝামেলা ছাড়াই গেলো শনিবার আন্তর্জাতিক মহাকাশ কেন্দ্র থেকে ফিরেছে স্পেসএক্সের ড্রাগন ক্যাপসুল। আন্তর্জাতিক মহাকাশ কেন্দ্রে প্রায় এক মাস ছিল ক্যাপস্যুলটি। খবর ইয়াহু নিউজ ও নাসার।

গেলো শনিবার একটি ফ্যালকন-৯ রকেটে করে ক্যাপসুলটি প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত একটি জাহাজে এসে নামে।

এ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো মহাকাশে গিয়ে প্রত্যাশামতো ফিরে এসেছে ড্রাগন ক্যাপসুল। ফেরার সময় এতে ৪ হাজার ১শ’ পাউন্ডের বিভিন্ন জিনিস পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে মহাকাশে চালানো বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত পরীক্ষার ফলাফলের নমুনা রয়েছে, যা পৃথিবীর বিজ্ঞানীরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবেন বলে জানা গেছে।

আন্তর্জাতিক মহাকাশ কেন্দ্র থেকে যাত্রা শুরু করে ছয় ঘণ্টায় পৃথিবীতে পৌছায় ড্রাগন। শনিবার সকালে মাটিতে নামার আগে সফলভাবে প্যারাসুট খুলেছে ক্যাপস্যুলটির। ২০১৭ সালের ১৫ ডিসেম্বর পাঠানো হয় ড্রাগন ক্যাপসুল। এতে আন্তর্জাতিক মহাকাশ কেন্দ্রের জন্য ৪ হাজার ৮শ’ পাউন্ড সরবরাহ পাঠানো হয়।

স্পেসএক্সের পুনর্ব্যবহারযোগ্য মহাকাশযান প্রকল্পের এটি আরেকটি সাফল্য। প্রতিষ্ঠানটির পুনর্ব্যবহারযোগ্য ফ্যালকন-৯ রকেট দিয়েই মহাকাশে পাঠানো হয়েছিল ড্রাগন ক্যাপসুল। মহাকাশ থেকে মালপত্র আনার একমাত্র কার্গো হচ্ছে ড্রাগন। একই ক্যাপসুল দুইবার মহাকাশ থেকে কোনো ক্ষয়ক্ষতি ছাড়া পৃথিবীতে ফিরে আসার মাধ্যমে এটাই প্রমাণ হয় যে অদূর ভবিষ্যতে অনেক কম খরচে এবং ঝামেলা ছাড়াই মানুষ মহাকাশ ভ্রমণ করতে পারবে।

২০০২ সালে প্রযুক্তি উদ্যোক্তা এলন মাস্ক স্পেসএক্স প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, যার উদ্দেশ্য ছিল মানুষকে মঙ্গলগ্রহে বসতি স্থাপনের উদ্দেশ্যে প্রেরণ করা। সে উদ্দেশ্য এখনো পর্যন্ত কার্যকর না হলেও ড্রাগন ক্যাপস্যুলের ফিরে আসায় তার সে আকাঙ্ক্ষা বাস্তবে পরিণত হওয়ার পথে আরো এক ধাপ এগিয়ে গেলো।

৮ ব্যাংকে নিয়োগ পরীক্ষা নিয়ে জরুরি সভা মঙ্গলবার


রাষ্ট্র মালিকানাধীন আট ব্যাংক ও আর্থিক খাতের প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ পরীক্ষা নিয়ে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জরুরি সভা ডেকেছে ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটি।

মঙ্গলবার বেলা ১১টায় বাংলাদেশ ব্যাংকে এ সভা হবে। এতে রাষ্ট্র মালিকানাধীন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়োগের দায়িত্বে থাকা ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটি এবং ১৪টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নির্বাহীদের উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে।

সভায় সভাপতিত্ব করবেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর।

ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটির প্রধান মোশাররফ হোসেন খান বলেন, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের ব্যাপারে আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে জরুরি কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য কাল সভা ডাকা হয়েছে। সভায় এ ব্যাপারে ইতিবাচক কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে আশা করি।

রাষ্ট্রমালিকানাধীন আট ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে গতকাল রোববার থেকে প্রার্থীরা বিক্ষোভ করেন। তারা নয় দফা দাবি জানিয়েছেন। এসব দাবি মানা না হলে তারা আদালতে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

গত শুক্রবার আট ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষার বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে নানা অব্যবস্থাপনার অভিযোগ পাওয়া যায়। প্রশ্নপত্র ও বসার জায়গা না পেয়ে শাহ আলী মহিলা কলেজ কেন্দ্রের পরীক্ষার্থীরা ভাঙচুর ও সড়ক অবরোধও করেছেন। ওই কেন্দ্রের পরীক্ষা হবে ২০ জানুয়ারি।

কবে পাবেন আপনার স্মার্টকার্ড : জেনে নিন

সরকার নতুন স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র বিতরণ শুরু করেছে। ইতিমধ্যেই অনেকে নিজেদের কার্ড বুঝে পেয়েছেন। কিন্তু এখনো যারা পাননি তারা নিজেই জেনে নিতে পারেন কবে পেতে পারেন আপনার স্মার্টকার্ডটি। মোবাইলে এসএমএস পাঠিয়ে বা নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট থেকে জানতে পারবেন এ তথ্য।

প্রসঙ্গত, স্মার্টকার্ড প্রচলনের ফলে এখন থেকে জালিয়াতির অবসান ঘটবে, কারণ এতে থাকছে ২৫ ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়, মেশিন রিডেবল নতুন এই স্মার্টকার্ডে একটি ক্ষুদ্র চিপসে একজন নাগরিকের ৩২টি মৌলিক তথ্য আছে। বর্তমানে পাসপোর্ট, ব্যাংকিং, ড্রাইভিং লাইসেন্স, ট্রেড লাইসেন্স, শেয়ার ব্যবসাসহ ২৫টি সেবা গ্রহণের সুবিধা থাকছে। ভবিষ্যতে এই সংখ্যা আরো বাড়বে।

প্রথমে মোবাইলের মেসেজ অপশনে গিয়ে sc স্পেস nid স্পেস ১৭ ডিজিটের এনআইডি নম্বর লিখতে হবে। যাদের এনআইডি নম্বর ১৩ ডিজিটের, তারা প্রথমে জন্ম সাল যুক্ত করে নেবেন। এরপর তা যেকোনো মোবাইল অপারেটর থেকে ১০৫ নম্বরে পাঠালেই ফিরতি মেসেজে পাবেন আপনার স্মার্টকার্ডের তথ্য।

তবে যারা এখনো এনআইডি পাননি, তারা প্রথমে sc লিখে স্পেস দেবেন। এরপর f লিখে স্পেস দিয়ে নিবন্ধন ফরম নম্বর লিখবেন। আবারও স্পেস দিয়ে d লিখে জন্ম তারিখ (yyy-mm-dd) ফরম্যাটে জন্ম তারিখ লিখে ১০৫ নম্বরে মেসেজ পাঠাবেন। ফিরতি মেসেজে আপনার এনআইডি কবে, কোথায় কোন ক্যাম্পে দেয়া হবে তা জানানো হবে। এ ছাড়াও মোবাইলের মাধ্যমে ১০৫ নম্বরে কল করে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে স্মার্টকার্ড সম্পর্কে জানতে পারবেন।

ওয়েবসাইট ব্যবহার করেও আপনার স্মার্টকার্ড কবে, কোথায় দেয়া হবে, তা জানতে পারবেন। এ জন্য যা যা করতে হবে :

১. এই লিংকে প্রবেশ করুন : https://services.nidw.gov.bd/card_distribution

২. আপনার এনআইডি নম্বর বা ভোটার নিবন্ধন ফরমের স্লিপ নম্বর, জন্ম তারিখ ও ক্যাপচা লিখুন।

৩. ‘কার্ড বিতরণ তথ্য দেখুন’ অপশনে ক্লিক করতে হবে।

৪. এরপর যে উইন্ডো আসবে সেখানেই থাকবে কবে, কোন ক্যাম্পে আপনার স্মার্টকার্ডটি দেয়া হবে।

৫. যদি লেখা ওঠে ‘No data found for: Your card distribution date is not scheduled yet, please try later,’ তাহলে বুঝতে হবে আপনার এলাকায় কবে স্মার্টকার্ড দেয়া হবে তার তারিখ এখনো ঠিক হয়নি। আর কিছুদিন পর আবার ট্রাই করবেন।

ভোলায় নতুন গ্যাস ক্ষেত্রের সন্ধান

দেশের দক্ষিণাঞ্চলের জেলা ভোলার ভেদুরিয়ায় একটি নতুন গ্যাস ক্ষেত্রের সন্ধান পাওয়া গেছে। সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে গ্যাস ক্ষেত্রটির সন্ধান পাওয়ার কথা জানানো হয়।

বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেডের (বাপেক্স) কর্মকর্তারা বলছেন, প্রাথমিক পরীক্ষায় ভোলা নর্থ-১ নামের ওই কূপে গ্যাস আছে বলেই তাদের মনে হচ্ছে।

সভাশেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের বলেন, নতুন ওই ক্ষেত্রে ৬০০ বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যেতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে আশা করা হচ্ছে। এটি হবে দেশের ২৭তম গ্যাস ক্ষেত্র।

সেখানে খনন করা হলে আরো গ্যাস পাওয়া যাবে বলে সরকার আশা করছে।

বাপেক্সের প্রকৌশলীরা ধারণা করছেন, শাহবাজপুরে ৩৫ বিলিয়ন ঘনফুটের বেশি গ্যাস মজুদ রয়েছে। সেখানে থাকা চারটি কূপের মধ্যে তিনটি থেকে প্রতিদিন প্রায় ৩৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস তোলা হচ্ছে।

গতবছরের অক্টোবরে ওই গ্যাস ক্ষেত্রের পাশেই নতুন আরেকটি গ্যাস ক্ষেত্রের সন্ধান পাওয়া যায়, যার নাম দেয়া হয়েছে ‘শাহবাজপুর ইস্ট-১’।

এই ক্ষেত্রে ৭০০ বিলিয়ন ঘনফুটের মতো গ্যাসের মজুদ থাকতে পারে বলে বাপেক্সের কর্মকর্তারা এর আগে জানিয়েছিলেন।

চট্টগ্রাম বন্দর জেটিতে ভেড়ার সময় আটকা পড়ল জাহাজ

বহির্নোঙর থেকে বন্দর জেটিতে ভেড়ার সময় কন্টেইনারবাহী একটি জাহাজ বন্দর চ্যানেলের পাশে  আটকে গেছে।

সোমবার সকাল ১১ টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। তবে এতে জাহাজ চলাচলে কোনো সমস্যা নেই বলে জানিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।

বন্দর সূত্রে জানা গেছে, মাল্টার পতাকাবাহী কন্টেইনার জাহাজটি বন্দর জেটিতে নিয়ে আসার সময় একটি ফিশিং ট্রলার সামনে পড়ে। সেটাকে রক্ষা করতে গিয়ে জাহাজের পাইলট ডানদিকে চলে যান। এতে জাহাজটি চ্যানেলের পাশে আটকে যায়।

চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালক (প্রশাসন) মো. জাফর আলম  জানান, চরে আটকে যাওয়া জাহাজের জন্য বন্দর চ্যানেলে জাহাজ চলাচলে কোনো সমস্যা হচ্ছে না। জাহাজটি বন্দরের টাক বোট দিয়ে চ্যানেল থেকে দূরে সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে। জোয়ার থাকলে সরিয়ে নেয়া সুবিধাজনক। এটিকে মাথায় রেখেই সরিয়ে নেয়ার কাজ করছে বন্দরের কর্মীরা।

‘বিচারপতি বিদ্রোহ’ ভারতের গণতন্ত্রেরই সংকট by মিজানুর রহমান খান

ভারতের সুপ্রিম কোর্টের নজিরবিহীন ‘বিচারক বিদ্রোহের’ ঘটনায় প্রথমেই শেক্‌সপিয়ারের হেমলেট থেকে ধার করে বলি: ‘সামথিং ইজ রটেন ইন দ্য স্টেট অব ডেনমার্ক।’ প্রধান বিচারপতির প্রতি আস্থার সংকট বিচার বিভাগীয় হলেও ভারতীয় গণতন্ত্রের গুণমান থেকে একে বিচ্ছিন্ন করা যাবে না। এটা ভারতীয় গণতন্ত্রের এক গভীরতর ভয়াবহ সংকট বা বিদ্যমান শাসন পদ্ধতির পচন প্রক্রিয়ার একটা নাটকীয়  বহিঃপ্রকাশ। কারুকাজ করা কার্পেটের নিচের ধুলা বেরিয়ে পড়েছে। এটা মূলত নির্বাহী বিভাগের অবিবেকী সংবেদনশীলতায় বিচার বিভাগের একটা আপসকামিতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ। এ ঘটনা কমনওয়েলথজুড়ে একটা বার্তা দেবে; আর সেটা দরকারি ছিল। কেউ বলছেন, বিদ্রোহী চার বিচারপতির পদত্যাগ করা উচিত। কারণ, তাঁরা রেওয়াজ ভেঙেছেন। প্রধান বিচারপতি যদি অভিশংসনযোগ্য অপরাধ করে থাকেন, তাহলে রাষ্ট্রপতিকে চিঠি লেখার পথ খোলা ছিল। কিন্তু বিদ্রোহীরা দাবি করেছেন, সব পথ যাচাই করেই তবে তাঁরা উপায়ন্তর না দেখে বিবেকের তাড়নায় জাতির সামনে সত্য প্রকাশ করেছেন। আটপৌরে সংবাদ সম্মেলন নয়, তাঁরা রীতিমতো বিচারকক্ষ থেকে বেরিয়ে জনতার মঞ্চে, গণ-আদালতে পৌরহিত্য করেছেন। কিন্তু এটা গ্রহণযোগ্য নয়, এটা কোনো ভালো দৃষ্টান্ত নয়। এর যাতে কখনো পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সেটাই ভারতের সুপ্রিম কোর্টের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। লক্ষণীয় যে প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্রর বিরুদ্ধে জ্যেষ্ঠতার ক্রম অনুযায়ী প্রধান বিচারপতির ঠিক পরের চার বিচারপতি বিদ্রোহ করেছেন। তাঁরা কলিজিয়ামের (প্রধান বিচারপতি ও পরের চার জ্যেষ্ঠ বিচারপতিদের সমন্বয়ে গঠিত কমিটি) বাইরের কেউ নন, তাঁরা সবাই কংগ্রেস আমলে ২০১১ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের বিচারক হয়েছেন। অন্যতম বিদ্রোহী বিচারক হলেন আসামের রঞ্জন গগৈ।
২০১৪ সালের এপ্রিলে ঢাকায় এসেছিলেন ভারতের সাবেক প্রধান বিচারপতি আলতামাশ কবীর। কথা প্রসঙ্গে তিনি আমাদের বলেছিলেন, ‘রঞ্জন গগৈকে সুপ্রিম কোর্টে আনতে “আমি” ভূমিকা রেখেছিলাম।’ এই ‘আমি’ ইঙ্গিতবহ যে, কলিজিয়ামের ওপর ব্যক্তি প্রধান বিচারপতি বিরাট প্রভাব রাখতে পারেন। হয়তো এটা উপমহাদেশীয় সংস্কৃতির বাইরে নয়। কিন্তু এই সংস্কৃতিকে চ্যালেঞ্জ করার দিন এসে গেছে। কলিজিয়াম যদি গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান হয়ে থাকে, তাহলে ‘বিতর্কিত’ বেঞ্চগুলো গঠনে প্রধান বিচারপতির একার সিদ্ধান্ত অগণতান্ত্রিক, এমনকি নৈতিক কি না, তা বিচার্য। আমাদের বিবেচনায় এই সংকটকে ঘিরে সব থেকে লক্ষণীয় বিষয় হলো, বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ–সংশ্লিষ্ট একটি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের তদন্ত। সিবিআই অভিযোগ এনেছিল যে অমিত শাহ গুজরাটের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থাকতে সোহরাবকে মেরে ফেলার নির্দেশ দেন এবং তা কার্যকর হয়। মুম্বাইয়ের জেলা জজ বি এইচ লয়া ২০১৪ সালে যখন সোহরাব হত্যায় অমিত শাহের কথিত জড়িত থাকা মামলার বিচার করছিলেন, তখন তিনি ‘হৃদ্‌যন্ত্রের ক্রিয়া’ বন্ধ হয়ে মারা যান। কিন্তু তাঁর পরিবারের দাবি, মৃত্যুর অল্প কয়েক দিন আগে অমিতের সপক্ষে রায় দিতে ১০০ কোটি রুপি ঘুষের প্রস্তাব তিনি ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। এর দুই সপ্তাহ পরে তাঁর স্থানে আসা বিচারক অমিতকে খালাস দেন। পরবর্তী সময়ে এ ঘটনা নিয়ে জনস্বার্থে দায়ের করা একটি মামলা শুনানির দায়িত্ব প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্র জ্যেষ্ঠ বিচারকদের মত অগ্রাহ্য করে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি অরুণ কুমার মিশ্রর বেঞ্চে দিয়েছিলেন। এই বিচারপতির সঙ্গে বিজেপির ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ রয়েছে। আঁচ পাই, ওই মামলার শুনানি প্রধান বিচারপতি তাঁর ‘পছন্দের বেঞ্চে’ পাঠানোয় সরকার সন্তুষ্ট হয়। এই ঘটনাসহ অন্য অনেক ঘটনার যোগফল এই বিস্ফোরণ, কিন্তু এই একটি ঘটনা বিদ্রোহের সলতেয় আগুন ধরিয়ে দিয়েছে বলেই মনে করা হয়। এমনকি এক প্রশ্নের জবাবে চার ‘বিদ্রোহীর’ একজন বিচারপতি রঞ্জন গগৈ সংবাদ সম্মেলনে তা স্বীকারও করেছেন। এই বিদ্রোহের একটি অনিবার্য রাজনৈতিক মাত্রা রয়েছে। শীর্ষ আদালতে কার্যত দুটি ধারার মেরুকরণ স্পষ্ট। কিছুটা সংযম রক্ষা করে হলেও প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো বিভক্ত হয়ে গেছে। বিজেপি প্রধান বিচারপতির দিকে এবং রাহুল গান্ধীর কংগ্রেস বিদ্রোহীদের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করেছে। সব থেকে বড় কথা, এ পর্যন্ত ভারতের শীর্ষ বার-বেঞ্চের মুখ্য অনুঘটকেরা বিদ্রোহীদের দ্বারা ইতিহাসের প্রথম সংবাদ সম্মেলনটি করা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখালেও যেসব প্রশ্ন তাঁরা তুলেছেন, তার যৌক্তিকতা কেউ নাকচ করে দেননি। প্রধান বিচারপতি বা বিদ্রোহী চার বিচারপতির নিজ নিজ যুক্তি যেমনই হোক, এ ঘটনা বিশ্বের এই অঞ্চলের বিচার বিভাগের ওপর জন–আস্থায় একটা সুদূরপ্রসারী চাপ তৈরি করবে। রাষ্ট্রের এই স্তম্ভটির শক্তির একমাত্র উৎস জনগণের আস্থা, আজ সেখানে একটি গহ্বর তৈরি হলো। ভারতের এই সংকট থেকে বড় শিক্ষা নেওয়ার বিষয় হলো, বিচারক নিয়োগের ব্যবস্থা একান্তভাবে সরকারের কাছে থাকা যেমন বিপদ, তেমনি নিরঙ্কুশভাবে সুপ্রিম কোর্টের কাছে থাকাও বিপদ। রাষ্ট্রের কোনো একক বা দ্বৈত অঙ্গের কাছে ক্ষমতা রাখা যাবে না, যাতে স্বচ্ছতার ঘাটতি পড়ে।
স্বয়ংক্রিয় জবাবদিহির ব্যবস্থা মার খায়। আসলে প্রধান বিচারপতির এককভাবে বেঞ্চ গঠন নিয়ে যে সংকট ভারতে দেখা দিয়েছে, সেটা কমনওয়েলথভুক্ত কিছু দেশে আমরা বহুকাল ধরে দেখেছি, সেখানেও স্বচ্ছতা আনা জরুরি। প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভা যদি ‘ফাস্ট অ্যামোং দ্য ইকুয়ালস’ নীতির ভিত্তিতে চলতে পারে, তাহলে প্রধান বিচারপতি ও তাঁর ২৪ সদস্যের সুপ্রিম কোর্ট সভা কেন একই নীতিতে চলতে পারবেন না? ১৯৯৮ সালে থার্ড জাজেস মামলায় ভারতের নির্বাহী বিভাগ স্বতঃপ্রণোদিতভাবে বিচারপতি ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি ও পরের চার জ্যেষ্ঠ বিচারপতিকে নিয়ে গঠিত কলিজিয়ামকে বরণ করেছিল। এই কলিজিয়াম যে মুখ থুবড়ে পড়ল, তার দায়িত্ব সুপ্রিম কোর্টকেই নিতে হবে। কম যোগ্য কিংবা মধ্যম মানের বিচারক নিয়োগ নিয়ে বেশ জোরালো প্রশ্ন উঠেছে। ভারতের উচিত হবে ব্রিটেনের নবগঠিত কমিশনের অনুসরণে একটি উন্মুক্ত শুনানিনির্ভর বিচারক নিয়োগের প্রক্রিয়া চালু করার সুদূরপ্রসারী রূপকল্প ঘোষণা করা। বিচারকদের অবশ্যই প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে আসতে হবে। বিনম্র গোপনীয়তার যুগ ভেবেচিন্তে বাসি হতে দেওয়াই ভালো। গোপনীয়তানির্ভর ভারতীয় কলিজিয়াম তার একুশ বছর পূর্তিতে এক অভূতপূর্ব বিস্ময়কর বিপর্যয় দেখল। দৃশ্যত এখানে সরকারের কোনো কলকাঠি নেই। কিন্তু এটা সন্দেহ করার কারণ আছে যে ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় সরকারের কোনো স্বার্থরক্ষা থেকে উদ্ভূত কোনো কিছু বিচারের ঝরনাধারাকে দূষিত করেছে কি না। মাত্র দুই বছর আগে বিচারপতি নিয়োগে বিজেপি ও কংগ্রেস এক অসাধারণ মতৈক্যে পৌঁছে সংবিধানের ৯৯তম সংশোধনী এনেছিল। এতে তারা বিচারপতি নিয়োগে সরকারের একটা ভূমিকা রাখার বিধান করেছিল। কিন্তু ভারতের সুপ্রিম কোর্টের পাঁচ সদস্যের বেঞ্চ ৪: ১ ভোটে তা নাকচ করেন। ওই মামলার রায়দানকারী পাঁচজনের মধ্যে এই বিদ্রোহে অংশ নেওয়া চারজনই রয়েছেন। বিচারপতি কুরিয়েন জোসেফ, রঞ্জন গগৈ ও মদন বি লোকুর মাত্র দুই বছর আগে দ্বিতীয় জ্যেষ্ঠতম ও বিদ্রোহের নেতা বিচারপতি জাস্তির সঙ্গে একমত হতে পারেননি। অথচ সংবাদ সম্মেলনে জাস্তি ওই তিনজনকে নিয়েই বলেছেন, কলিজিয়ামের মধ্যে কী ঘটছে তা জাতির জানা উচিত। এটা চমকপ্রদ যে বিদ্রোহের নেতা বিচারপতি জাস্তি চেলমেশ্বরই একমাত্র বিচারক, যিনি কলিজিয়াম প্রথার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছিলেন। শ্রদ্ধেয় আইনবিদ প্রশান্ত ভূষণের মতো যাঁরা ৯৯তম সংবিধান সংশোধনী বাতিলের মধ্যে ‘বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ঝান্ডা’ উড়তে দেখছিলেন, তাঁদের এখন আত্মজিজ্ঞাসা দরকার। ২০১৫ সালের অক্টোবরে ৪:১ ভোটে ৯৯তম সংশোধনী বাতিল হয়। ভিন্নমত প্রদান করে চেলমেশ্বর যা লিখেছেন, তার যুক্তি নাকচ করা যাবে না। তিনি লেখেন, ১. বিচারক নিয়োগ–প্রক্রিয়ায় অবশ্যই স্বচ্ছতা থাকতে হবে। কার নাম প্রস্তাব করা হলো, কে করল, কেন করল, তার পূর্ববৃত্তান্ত কী, সেটা কলিজিয়াম কেন, নির্বাহী বা সংসদ যে-ই এসে বলুক না কেন, এটা শুধু আমরাই জানব, অন্য কেউ জানবে না, তাহলে তাকে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা বলা যাবে না। ২. সরকারের বক্তব্যের কোনো গুরুত্বই থাকবে না, সব অবস্থায় শুধু কলিজিয়ামের মত অগ্রগণ্য থাকবে, তা হতে পারবে না। এটা ক্ষমতার ভারসাম্য নীতিবিরোধী। তাঁর কথায়, বিচারক নিয়োগে বিচার বিভাগের মতের প্রাধান্য থাকবে, এই মত ‘প্রায়োগিকভাবে ত্রুটিপূর্ণ’। ৩. সব থেকে ভয়ানক হলো, বিচারপতি নিয়োগের নথিপত্র সব প্রধান বিচারপতির জিম্মায় থাকে। এগুলো সাধারণ মানুষ দূরে থাক, সুপ্রিম কোর্টের অন্যান্য বিচারকও দেখতে পারেন না। তাঁর এই কটাক্ষ উপভোগ্য, যখন তিনি লেখেন, অন্য বিচারপতিরা তো আর প্রধান বিচারপতির মতো ভাগ্যবান নন। অনেক কাল ভেবেছি, ভারতীয় লোকসভায় ৭০ বছর ধরে যাঁরা ‘অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে’ ক্রমাগতভাবে নির্বাচিত হয়ে চলেছেন, ব্রিটেনের পুরোনো উপনিবেশগুলোতে যাঁরা সাংবিধানিক বিপর্যয়ে বাঁচতে অভ্যস্ত, তাই আমরা যাঁরা সাংবিধানিক ধারাবাহিকতায় ভারতকে সমীহ করি, তারা কখন ভুলে গেলাম একটি স্বীকৃত সাম্প্রদায়িক শক্তি কখন নন্দিত গণতান্ত্রিক শক্তি হয়ে গেছে, কারণ মানুষ তাদের ভোট দিয়েছেন। এ ঘটনা বিচার বিভাগীয় নয়, এটা গণতন্ত্রের গভীর অসুখের লক্ষণ। এমন একটি রাষ্ট্র কল্পনা করা কঠিন, যেখানে সাংসদেরা অন্তর্গতভাবে বেশি দুর্বলভাবে গঠিত হবেন, কিন্তু সেই দুর্বলতার ঘাটতি বিচার বিভাগ পূরণ করে দেবেন। আমরা ভুয়া ধারণা পাচ্ছিলাম যে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের অনির্বাচিত বিচারকদের গুণমান এতটাই বেশি যে তাঁরা নির্বাচিতদের যোগ্যতার ঘাটতি পূরণ করে চলেছেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারতে জনস্বার্থে মামলা খুব বেশি বেড়ে গিয়েছিল। যেসব দেশের রাজনীতিকেরা দুর্বল, তাঁরা সবল একটি বিচার বিভাগ আশা করেছেন। তাঁরা ভেবেছেন, নির্বাচিতদের শাসনের ঘাটতি, মানবাধিকারের ঘাটতি অনির্বাচিত বিচারকেরা পূরণ করে দেবেন। সেটা যে কিছুকাল চলে, কিন্তু কালোত্তীর্ণ হয় না, পা পিছলে যেতে পারে, সেটাই স্মরণ করিয়ে দিল ভারতের বিচারপতি বিদ্রোহ।
মিজানুর রহমান খান: সাংবাদিক৷
mrkhanbd@gmail.com

ত্বক সুন্দর রাখতে টকদই

এ সময়ে আমাদের রোদের মধ্যে বের হতেই হয় আর রোদে ত্বক পুড়ে যায় বা সানবার্ন হয়। বাসায় ফিরে একটু কষ্ট করলে আপনি রোদের পোড়া ভাব বা রুক্ষতা থেকে রক্ষা পেতে পারেন। এমন আবহাওয়ায় ত্বকের চাই একটু বাড়তি যত্ন। এ সময় ত্বকের মৃত কোষ তুলে ময়েশ্চারাইজার ফিরিয়ে আনাটা জরুরি। তাই এ গরমে আপনার ত্বক যাতে কোমল ও মসৃণ থাকে সেজন্য ওমেন্স ওয়ার্ল্ডের পরিচালক ও বিউটি এক্সপার্ট ফারনাজ আলম আপনাকে কিছু মূল্যবান পরামর্শ দিচ্ছেন- মানুষ সুন্দরের পূজারি; কিন্তু আমাদের কি সবসময় সুন্দর থাকা হয়? হয় না। দৈনন্দিন কাজ আর ব্যস্ততার জন্য আমাদের বাইরে যেতেই হয়। আর এখন তো গরমের সময়। এ সময়ে আমাদের রোদের মধ্যে বের হতেই হয় আর রোদে ত্বক পুড়ে যায় বা সানবার্ন হয়। বাসায় ফিরে একটু কষ্ট করলে আপনি রোদের পোড়া ভাব বা রুক্ষতা থেকে রক্ষা পেতে পারেন। এমন আবহাওয়ায় ত্বকের চাই একটু বাড়তি যত্ন। এ সময় ত্বকের মৃত কোষ তুলে ময়েশ্চারাইজার ফিরিয়ে আনাটা জরুরি। এ গরমে আমাদের ত্বকের আর্দ্রতা হারায়। তাই ত্বকের জন্য প্রয়োজনীয় ফলমূল, সবজি, শস্যজাতীয় খাবার, প্রোটিন এবং প্রচুর পরিমাণে পানি পান করা জরুরি। অনেক সময় পর্যাপ্ত পরিমাণ স্বাস্থ্যকর খাবার না খেলে ত্বক মলিন হয়ে পড়ে। তাছাড়া ত্বকের জন্য ভিটামিন সি এবং কম ফ্যাটযুক্ত খাবার খাওয়া উচিত। এক্ষেত্রে দই আপনার ত্বকে জাদুর মতো কাজ করে।
* রোদে পোড়া দাগ দূর করার জন্য ৫ চামচ টকদই, ১ চামচ চন্দন গুঁড়া, ১ চামচ মসুর ডাল বাটা মিশিয়ে মুখ, হাত, পায়ে লাগিয়ে রাখুন। শুকালে ধুয়ে ফেলুন। ১ মাস এ মাস্কটি লাগিয়ে ফলাফল দেখুন। যাদের ত্বক শুষ্ক তারা মধু নিতে পারেন।
* ৩ চামচ টকদই, আধা চামচ কাঁচা হলুদ বাটা, ১ চামচ বেসন মিশিয়ে মাস্ক হিসেবে লাগান, ত্বক ফর্সা হবে।
* স্ট্রবেরি ফল ২টি এবং ৫ চামচ টকদই ব্লেন্ড করে মুখে মাস্ক হিসেবে লাগান। ত্বক অনেক ফ্রেশ হবে। ত্বকের কোলাজেনের সমতা রাখবে, ব্রণ এবং ত্বকের দাগ দূর করবে, বলিরেখা কমবে।
* যাদের অমসৃণ ও রুক্ষ ত্বক তাদের মন খারাপ করার কিছু নেই। কারণ সেসব ত্বকের জন্য টকদই খুব উপকার। এক কাপ টক দই ও দুটি কলা চটকে ভালো করে মিশিয়ে নিয়ে গোসলের আগে পুরো শরীরে লাগিয়ে নিতে পারেন। এরপর ২০ মিনিট অপেক্ষা করে গোসল করে ফেলতে হবে।
* ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে টকদইয়ের জুড়ি নেই। টকদই, বেসন ও মধু মিশিয়ে নিতে হবে ভালো করে। মুখসহ পুরো শরীরে ব্যবহার করতে পারেন। আধা ঘণ্টা পর ম্যাসাজ করে ধুয়ে ফেলতে হবে। নিয়মিত ব্যবহারে ত্বকের রং হবে উজ্জ্বল ও প্রাণবন্ত।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠক চলছে

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ইস্যুতে বাংলাদেশ-মিয়ানমারের যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের প্রথম বৈঠক শুরু হয়েছে। স্থানীয় সময় সোমবার সকাল ১০টায় মিয়ানমারের রাজধানী নেপিদোতে বৈঠকটি শুরু হয়। নেপিদোতে নিযুক্ত বাংলাদেশি রাষ্ট্রদূত পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক বাংলাদেশের পক্ষে এবং মিয়ানমারের পক্ষে দেশটির পার্মামেন্ট সেক্রেটারি মিন্ট থো বৈঠকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। দুই দেশের ১৫ জন করে মোট ৩০ সদস্যের সমন্বয়ে জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করা হয়েছে। রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসনের বিষয়ে গত ২৩ নভেম্বর বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে একটি দ্বিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের প্রথম বৈঠকে এক লাখ রোহিঙ্গার প্রাথমিক তালিকা নেপিদোর কাছে হস্তান্তর করার কথা রয়েছে ঢাকার। জানা গেছে, ২০১৬ সালের অক্টোবরের পর থেকে যেসব রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে, তাদের ফেরত নেবে মিয়ানমার। এ ছাড়া প্রত্যাবাসনের পর রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা, কর্মসংস্থানসহ কতজনকে কীভাবে ফেরত নেয়া হবে, এসব বিষয়ে আলোচনা হবে। বৈঠকে নতুন কোনো চুক্তি সই হলে প্রত্যাবাসন শুরুর সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হবে। আগামী ২৩ জানুয়ারি থেকে রোহিঙ্গাদের আনুষ্ঠানিকভাবে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। উল্লেখ্য, গত বছরের ২৫ আগস্ট রাখাইনের মংডু জেলায় নিরাপত্তা বাহিনীর তল্লাশিচৌকিতে হামলার জেরে রোহিঙ্গাদের গ্রামে অভিযান শুরু করে সেনাবাহিনী। সেনাবাহিনীর সদস্যরা রোহিঙ্গা নারী-শিশুদের ধর্ষণ-হত্যাসহ তাদের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেয়। প্রাণ বাঁচাতে রাখাইন ছেড়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে থাকে রোহিঙ্গারা। এখন পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ছয় লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে।

সরল ডায়ানার মূর্তি

লন্ডনের অভিজাত ডিপার্টমেন্টাল স্টোর হ্যারডসে প্রিন্সেস ডায়ানা আর ডোডি আল-ফায়েদের যে ব্রোঞ্জের মূর্তি ছিল তা সরিয়ে নেয়া হচ্ছে। প্রিন্সেস ডায়ানা ও তার বন্ধু ডোডি ১৯৯৭ সালে প্যারিসে এক গাড়ি দুর্ঘটনায় মারা যাওয়ার পর হ্যারডসের তৎকালীন মালিক এবং ডোডির পিতা মোহাম্মদ আল-ফায়েদ এ যুগল ভাস্কর্য স্থাপন করেছিলেন। ২০০৫ সালে স্থাপিত মূর্তিটি এখন আল-ফায়েদের কাছেই ফিরিয়ে দেয়া হচ্ছে বলে ঘোষণা করা হয়েছে। খবর বিবিসির। আল-ফায়েদ ২০১০ সালে কাতারি রাজপরিবারের কাছে হ্যারডস বিক্রি করে দেন ১৫০ কোটি পাউন্ডে। মূর্তিটির নাম দেয়া হয়েছিল ‘ইনোসেন্ট ভিকটিমস’ (নির্দোষ শিকার) এবং এতে একটি ডানা মেলে দেয়া পাখির নিচে ওই যুগলকে নৃত্যের ভঙ্গিমায় তুলে ধরা হয়। হ্যারডসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাইকেল ওয়ার্ড বলেন, মূর্তিটি আল-ফায়েদের কাছে ফিরিয়ে দেয়ার এটাই উপযুক্ত সময়। কারণ কেনসিংটন প্রাসাদে এখন যে নতুন স্মৃতিস্তম্ভ নির্মিত হবে সেখানে গিয়ে সম্মান দেখাতে পারবেন সাধারণ মানুষ।

জাকার্তা স্টক এক্সচেঞ্জ ভবনে ধস

রাজধানী জাকার্তায় ইন্দোনেশিয়া স্টক এক্সচেঞ্জ ভবনের (আইডিএক্স) ভেতরে সিলিং ধসে পড়েছে। এতে বেশ কিছু মানুষ আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে সংবাদ সংস্থা এএফপি। স্থানীয় সময় সোমবার দুপুরের কিছুক্ষণ পর এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় মেট্রো টিভির একজন রিপোর্টার। তিনি ওই ভবনটি থেকে পুঁজিবাজারের খবর সংগ্রহ করেন। জাকার্তা পুলিশের মুখপাত্র আর্গো ইউয়ুনো মেট্রো টিভিকে বলেন, আমরা এ ঘটনার তদন্ত করছি। তবে এখন আমরা ধসে আক্রান্তদের উদ্ধার করাকে প্রাধান্য দিচ্ছি। ইন্দোনেশিয়ার টিভি চ্যানেলগুলোতে প্রচারিত ছবিতে দেখা গেছে, অনেক মানুষ ভবনটির মেঝেতে শুয়ে আছেন এবং অনেককে উদ্ধার করে ভবনটির বাইরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ছাদধসের ঘটনায় কতজন আহত হয়েছেন তার সংখ্যা পুলিশের মুখপাত্র নিশ্চিত করে না বললেও তিনি জানিয়েছেন, এ পর্যন্ত কোনো প্রাণহানি ঘটেনি। টেলিভিশনের সংবাদে প্রচারিত ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, আতঙ্কিত লোকজন চিৎকার করছে। ধ্বংসস্তূপ থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করছেন কর্মকর্তারা। উল্লেখ্য, ইন্দোনেশিয়া স্টক এক্সচেঞ্জ ভবনটি রাজধানী জাকার্তার কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত। বহুতল ভবনটির ১২তলায় বিশ্বব্যাংকের ইন্দোনেশিয়া কার্যালয় অবস্থিত।

বাগদাদে জোড়া বিস্ফোরণে নিহত ২৬

ইরাকের রাজধানী বাগদাদে পরপর দুটি আত্মঘাতী বোমার বিস্ফোরণে ২৬ জন নিহত হয়েছেন। সোমবার দুই আত্মঘাতী ব্যক্তি বাগদাদের কেন্দ্রস্থল আল তাইয়ারান স্কয়ারেজোড়া বোমার বিস্ফোরণ ঘটে বলে জানান ইরাকের জয়েন্ট অপারেশন কমান্ডের মুখপাত্র জেনারেল সাদ মান। খবর এএফপির। এ নিয়ে গত তিন দিনে বাগদাদে দ্বিতীয়বারের মতো এমন ঘটনা ঘটল। পূর্ব বাগদাদের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আবদেল ঘানি আল সাদি জানান, বোমার বিস্ফোরণে এখন পর্যন্ত ২৬ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ৯০ জন।

আগামী সপ্তাহে শৈত্যপ্রবাহ ! মাস জুড়ে থাকবে শীত

পৌষের শুরুতে শীতের দাপট দেখা না গেলেও বিদায় বেলায় অনেকটা ঘটা করেই জেঁকে বসেছে ঠাণ্ডা। গেল কয়েকদিন ধরে দেশজুড়ে রয়েছে কনকনে শীত। তবে আবহাওয়াবিদরা বলছেন, জানুয়ারি জুড়ে শীত থাকবে দেশজুড়ে। শীত থাকলেও কনকনে ভাব সামান্য কমবে। তবে দিন ও রাতের তাপমাত্রায় কিছুটা পরিবর্তন আসতে পারে। কোথাও কোথাও তীব্রতা অব্যাহত থাকবে। এর মধ্যেই আগামী সপ্তাহে একটি শৈত্যপ্রবাহ দেখা মিলতে পারে। তীব্র কুয়াশা আরো বেশ কিছুদিন অব্যাহত থাকবে।

সোমবার সকালে আবহাওয়াবিদ আয়েশা খানম  জানান, গেল বছর তো তেমন শীত পড়েনি। পৌষের মাঝামাঝি সময়েও শীতের তীব্রতা ছিল না। এবার ভারতেও শীত বাড়বে, এর প্রভাব দেশেও থাকবে।

তিনি আরো বলেন, গেল বছরের চেয়ে একটু বেশিই শীত পড়তে পারে। জানুয়ারি মাসতো শীতেরই মাস। পুরো মাস জুড়েই শীত শীত আবহাওয়া থাকবে। ঘন কুয়াশায় সূর্যের তাপ ভূ-ভাগে পৌঁছতে পারছে না। ফলে দিনের তাপমাত্রা (সর্বোচ্চ তাপমাত্রা) খুব একটা পরিবর্তন হচ্ছে না। ফলে এই শীতের মধ্যেই তাপমাত্রা কখনো বাড়বে, কখনো কমবে।  


আবহাওয়া পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, টাঙ্গাইল এবং ফরিদপুর অঞ্চলসহ খুলনা, রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের উপর দিয়ে মৃদু শৈত্য প্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে। তবে অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে।

আজ সকালে ঢাকায় বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৯৭ শতাংশ। উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে বাতাসের গতি ছিল ঘণ্টায় ৫ থেকে ১০ কিলোমিটার।

আবহাওয়া চিত্রের সংক্ষিপ্তসারে বলা হয়, উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের বর্ধিতাংশ ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকা পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমি লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে।

এছাড়া মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারাদেশে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে এবং তা কোথাও কোথাও দিনের বেলা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।

রোববার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল রংপুরের রাজার হাটে ৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস

তামিমির সঙ্গে না পেরে তার গ্রাম অবরোধ ইসরাইলের

ইসরাইলি সেনাসদস্যদের চড়-থাপ্পড় মেরে কারাবন্দি ফিলিস্তিনিকন্যা আহেদ আল তামিমি। এতেও না দমে সুযোগ পেলে ফের ইসরাইলি সেনাদের থাপড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে এ কিশোরী। এ অবস্থায় তামিমির সাহসের সঙ্গে না পেরে আরও উন্মত্ত হয়ে পড়েছেন দখলদার সেনারা। তারা কিশোরীর গ্রাম ‘নবী সালেহ’য় মিলিটারি জোন ঘোষণা দিয়ে সেখান থেকে প্রবেশ ও বের হওয়ার সব পথ বন্ধ করে দিয়েছে। ফিলিস্তিনের সরকারি বার্তা সংস্থা ওয়াফা নিউজ এজেন্সির বরাত দিয়ে এ খবর জানিয়েছে আলজাজিরা। ইসরাইলি সেনারা নবী সালেহ গ্রামের সব পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির পাশাপাশি গ্রামটিতে সাধারণ ফিলিস্তিনি ও সাংবাদিকদেরও প্রবেশ বন্ধ করে দিয়েছেন। আহেদ তামিমির চাচা বিলাল আল তামিমি ওয়াফা নিউজ এজেন্সিকে জানান, ইসরাইলি সেনারা গ্রামের রাস্তাগুলোতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছেন। তারা সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাসকারী ছাড়া অন্য ফিলিস্তিনি ও সাংবাদিকদের প্রবেশ বন্ধ করে দিয়েছেন। তবে অন্য ফিলিস্তিনিরা বিকল্প ও কষ্টসাধ্য বিভিন্ন পথ ব্যবহার করে গ্রামটিতে প্রবেশ করছেন এবং আহেদ তামিমিসহ অন্য ফিলিস্তিনিদের মুক্তির জন্য প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। সম্প্রতি আহেদ তামিমির এক চাচাতো ভাইকে মাথায় গুলি করেন ইসরাইলি সেনারা। এতে কিশোরটি কয়েক দিন কোমায় থাকার পর মারা যায়। এই বর্বোচিত ঘটনার পর ইসরাইলি সেনারা তামিমিদের বাড়ির সামনে এলে তাদের দেখে ক্ষোভে ফেটে পড়ে কিশোরী আহেদ তামিমি। সে ইসরাইলি সেনাদের চপেটাঘাত করে। পরে ইসরাইলি মিডিয়ার উসকানির মুখে গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে আহেদকে আটক করে নিয়ে যান ইসরাইলি সেনারা। পরে তার মা ও চাচাতো বোন নূর তামিমিকেও আটক করা হয়। নূরকে মুক্তি দেয়া হলেও আহেদ, তার মা ও চাচি এবং এক ভাই এখনও দখলদারদের বন্দিশালায় আটক রয়েছেন।

শীর্ষ জ্বালানি কর্মকর্তাদের নিয়ে হেলিকপ্টার সাগরে, নিহত ৬

ভারতে শীর্ষ জ্বালানি কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি হেলিকপ্টার সাগরে ভেঙ্গে পড়েছে। এতে ছয়জন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় শনিবার ১০টা ২০ মিনিটে মুম্বাইয়ের জুহু থেকে উড়ে আসা হেলিকপ্টারটি আরব সাগরে ভেঙে পড়ে। হেলিকপ্টারটিতে ভারতের জ্বালানি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস কর্পোরেশনের শীর্ষ স্থানীয় কর্মকর্তারা ছিলেন। জানা গেছে, জুহু থেকে ছেড়ে যাওয়া হেলিকপ্টারটি হাই নর্থ ফিল্ডের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু উড্ডয়নের ১৫ মিনিট পরই এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের (এটিসি) সঙ্গে এর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে দুপুর নাগাদ হেলিকপ্টারটির ধ্বংসাবশেষ খুঁজে পাওয়া যায়। ওএনজিসির এক কর্মকর্তা জানান, শনিবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে এই দুর্ঘটনা ঘটে। ১০টা ৫৮ মিনিটে ওএনজিস-র নর্থ ফিল্ডে হেলিকপ্টারটি পৌঁছনোর কথা ছিল। কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ে গন্তব্যে না পৌঁছনোয় শুরু হয় অনুসন্ধান। তিনি জানান, মুম্বাইয়ের এটিসির সঙ্গে হেলিকপ্টারটির শেষবার যোগাযোগ হয়েছিল ১০টা ৩৫ মিনিটে। এদিকে ওএনজিসির সঙ্গে উদ্ধারকাজে যোগ দেয় নৌবাহিনী। হেলিকপ্টার ও নৌকা নিয়েও তল্লাশি শুরু হয়। রোববার সকাল পর্যন্ত ছয়জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে।

ভারতে বিচারকদের বিদ্রোহের নেপথ্যে বিচারকের মৃত্যু

ভারতে এক বিচারকের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষমতাসীন দল বিজেপির সভাপতি অমিত শাহ সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। দেশটির তদন্ত সংস্থা সেন্ট্রাল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (সিবিআই) অমিত শাহর বিরুদ্ধে এ অভিযোগ তুলেছে কংগ্রেস। তাদের দাবি, বিচারক ব্রিজগোপাল হরকিষণ লোয়ার মৃত্যুর ঘটনায় অমিত শাহর বিরুদ্ধে নতুন করে ফৌজদারি মামলা করতে হবে। ওই বিচারকের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনার জের ধরেই বিচারকদের মধ্যে বিদ্রোহ হয়েছে। খবর আনন্দবাজার পত্রিকার। গোয়া প্রদেশের কংগ্রেস সভাপতি শান্তারাম নায়েক বলেছেন, ফৌজদারি মামলায় অমিত শাহর নাম রয়েছে। নাগপুরে বিচারক লোয়ার রহস্যজনক মৃত্যুও ফের খতিয়ে দেখা উচিত। বিচারক লোয়ার মৃত্যু রহস্য নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবির মামলা নিয়েই শুক্রবার প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্রের বিরুদ্ধে চার জ্যেষ্ঠ বিচারপতি নজিরবিহীন সংবাদ সম্মেলন করেন। এরপর এ বিষয়টি ফের আলোচনায় আসে। প্রধান বিচারপতি এই মামলাটি বিচারপতি অরুণ মিশ্রের বেঞ্চে পাঠিয়েছিলেন। এটি নিয়েই প্রশ্ন ওঠে। ভারতের প্রবীণ আইনজীবী দুষমন্ত দাভে এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, কে না জানে, বিচারপতি অরুণ মিশ্র বিজেপি নেতাদের ঘনিষ্ঠ! আর কংগ্রেস নেতা শান্তারাম প্রশ্ন তুলেছেন, কোন মামলা কোন বিচারপতি শুনবেন, তা ঠিক করার প্রক্রিয়া নিয়ে সংসদেও প্রশ্ন তোলা যায় না। তাহলে সরকার কীভাবে নিজের ক্ষমতা কাজে লাগাচ্ছে? সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশেই ওই মামলাটি গুজরাট থেকে মহারাষ্ট্রে সরিয়ে নেয়া হয়। শুনানি শেষ হওয়ার আগে বিচারককে বদলি না করার নির্দেশও দিয়েছিল সর্বোচ্চ আদালত। তা সত্ত্বেও লোয়ার পূর্বসূরি, বিচারক জে টি উটপতকে বদলি করা হয়। এরপর ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে বিচারক লোয়ার মৃত্যু হলে মামলার দায়িত্ব পান বিচারক এম বি গোসাভি। ওই মাসের শেষেই তিনি অমিতকে বেকসুর খালাস করে দেন। ২০১৪ সালের ১ ডিসেম্বর নাগপুরে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে গিয়ে বিচারক লোয়ার আকস্মিক মৃত্যু হয়। তখন মুম্বাইয়ের বাসিন্দা ৪৮ বছর বয়সী লোয়া একটি মামলা শুনছিলেন। সেটি ছিল ২০০৫ সালে গুজরাট পুলিশের বিরুদ্ধে সংঘর্ষে সোহরাবুদ্দিন শেখকে হত্যার অভিযোগের মামলা। অমিত শাহ তখন গুজরাটের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন। সিবিআইয়ের অভিযোগপত্রে প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে অমিতের নাম ছিল। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট অনুযায়ী, হৃদরোগে মৃত্যু হয় তার। কিন্তু লোয়ার পরিবার সম্প্রতি অভিযোগ তুলেছে, মৃত্যুর কয়েক দিন আগে তাকে ১০০ কোটি টাকা ঘুষের প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল।

উচ্ছ্বসিত জয়া আহসান

অভিনেত্রী জয়া আহসান বেশ ফুরফুরে মেজাজে রয়েছেন। একের পর এক সিনেমায় অভিনয় করছেন, আর নিজের ঝুলিত তুলে নিচ্ছেন পুরস্কার। কিছুদিন আগে জি সিনে অ্যাওয়ার্ডে সেরা অভিনয়শিল্পীর পুরস্কার জয়ের পর গতকাল রোববার আরেকটি পুরস্কার পেয়েছেন তিনি।

কলকাতার প্রিয়া সিনেমা হলে ‘বেঙ্গল ফিল্ম জার্নালিস্টস অ্যাওয়ার্ড’ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। জয়ার হাতে পুরস্কার তুলে দেন প্রসেনজিৎ। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সাংবাদিক সমিতি আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে জয়া অভিনীত ‘বিসর্জন’ চলচ্চিত্রটি আরো তিনটি বিভাগে পুরস্কার পেয়েছে।

পুরস্কার গ্রহণ শেষে জয়া চলে যান মুর্শিদাবাদে। সেখানে সৃজিত মুখার্জির নতুন সিনেমা ‘এক যে ছিল রাজা’র শুটিং করবেন। ছবিটিতে আরো অভিনয় করছেন যিশু, অপর্ণা সেন, অঞ্জন দত্ত, অনির্বাণ ভট্টাচার্য প্রমুখ।

এছাড়া ১৬তম ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে বুধবার (১৭ জানুয়ারি) শাহবাগের পাবলিক লাইব্রেরির মূল মিলনায়তনে বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে প্রদর্শিত হবে জয়া আহসান অভিনীত চলচ্চিত্র ‘খাঁচা’।

১৯৪৭ সালের দেশভাগের পটভূমিতে নির্মিত এই ছবিটি পরিচালনা করেছেন আকরাম খান। হাসান আজিজুল হকের ছোটগল্প ‘খাঁচা’ অবলম্বনে সিনেমাটি নির্মিত হয়েছে।

জয়া বলেন, বারবার দেশত্যাগের চেষ্টা করছে একটি পরিবার। কিন্তু বারবারই কোনো না কোনো বাধার সম্মুখীন হয় তারা। এই টানাপড়েন নিয়েই ‘খাঁচা’র গল্প। আমার অন্যতম একটি প্রিয় চলচ্চিত্র খাঁচা। সবাইকে সিনেমাটি দেখার আমন্ত্রণ জানাই।

ভারতের কারাগার থেকে যেভাবে পালিয়েছে দুই বাংলাদেশি

কলকাতার আলীপুর কেন্দ্রীয় সংশোধনাগার (কারাগার) থেকে দুই বাংলাদেশি পালিয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় পুলিশ। পলাতকরা সেখানে বিচারাধীন বন্দি ছিলেন। দুই বাংলাদেশির সঙ্গে অপর এক ভারতীয় নাগরিকও পালিয়েছে। রোববার সকালে সংশোধনাগারে বন্দি গণনার সময় বিষয়টি ধরা পড়ে। এর পরই তাদের খোঁজাখুঁজি শুরু হয়। এ ঘটনার জেরে আলীপুর কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, দুই বাংলাদেশি বন্দি হলেন মোহাম্মদ ফারুক হাওলাদার এবং ফেরদৌস শেখ ওরফে রানা। এর মধ্যে ফারুক ২০১৩ সালে বেআইনি অস্ত্র পাচার ও ডাকাতি মামলায় গ্রেফতার হয়েছেন। আর ফেরদৌস বেআইনি অনুপ্রবেশ ও ডাকাতির মামলায় বিচারাধীন আছেন। শনিবার গভীর রাতে আলীপুর সংশোধনাগারের পিছন দিকের ছয় নম্বর ওয়াচ টাওয়ার সংলগ্ন উঁচু পাঁচিল টপকে তিন বন্দি পালিয়ে যান। পাঁচিলের ওপাশের রয়েছে আদি গঙ্গা। বন্দিরা তাদের চাদরকে দড়ি হিসেবে ব্যবহার করেছেন। চাদরের একপ্রান্তে লোহার রড লাগিয়ে তা বাঁকিয়ে পাঁচিলের কাঁটা তারে বিঁধে ফেলা হয়। তারপর তাতে করে পাঁচিলের উপরে উঠে যান আসামিরা। পাঁচিল ডিঙ্গিয়ে ওপারে থাকা পেয়ারা গাছ বেয়ে নিচে নেমে পালিয়ে যান তিনজন। পাঁচিলের পাশ থেকে চাদর ও বাঁকানো লোহার রড উদ্ধার করেছে পুলিশ।

গাড়ি ঢুকে গেলো বাড়ির দোতলায়!

যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য ক্যালিফোর্নিয়ায় দ্রুতগতির একটি  গাড়ি দ্বিতীয়তলার একটি বাড়ির উপরের অংশে ঢুকে যায়। স্থানীয় সময় রোববার ভোরের দিকে এই ঘটনা ঘটে। ওই গাড়িটিতে দুইজন যাত্রী ছিলেন।

অরেঞ্জ কাউন্টি ফায়ার অথরিটি (ওসিএফএ) জানিয়েছে, গাড়ির একজন যাত্রী বেরিয়ে গেলেও অপরজন আটকে ছিলেন। পরে সকাল পৌনে সাতটার দিকে তাকে উদ্ধার করা হয়।

অরেঞ্জ কাউন্টি ফায়ার অথরিটির ক্যাপ্টেন স্টেফেন হর্নার বলেন, ওই ব্যক্তি ঝুলে থাকা গাড়ির মধ্যে এক ঘণ্টার বেশি সময় আটকে ছিলেন।

ওসিএফএ জানিয়েছে, ওই গাড়িটি রাস্তার মাঝখানে ডিভাইডারের সঙ্গে ধাক্কা লেগে উড়ে গিয়ে ভবনটিতে ঢুকে যায়।


তারা বলছে, গাড়ি থেকে একজন বেরোতে পারলেও লস অ্যাঞ্জেলস কাউন্টি আরবান সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ (ইউএসএআর) টিমের সহায়তায় অপরজনকে বের করে আনা হয়।

ওই ঘটনায় দ্বিতীয়তলায় সামান্য আগুন ধরে যায়। হর্নার বলেন, তবে দ্রুতই ওই আগুন নিভিয়ে ফেলা হয়। পরে উদ্ধারকারী দল এসে অপর ব্যক্তিকে উদ্ধার করে। ওই ঘটনার শিকার দুই ব্যক্তির পরিচয় এখনো জানা যায়নি।

হর্নার বলেন, তারা এসময় সামান্য আহত হন। পরে তাদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়।

তবে ওই ঘটনায় সময় ভবনটিতে কোনো ব্যক্তি ছিল না।

সিরিয়ায় আবারও রাসায়নিক হামলা

সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কের কাছাকাছি বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত একটি এলাকায় সরকারি বাহিনী কর্তৃক আবারও রাসায়নিক হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে এক শিশুসহ দুইজন নিহত হয়েছে। খবর বিবিসির। বিবিসি খবরে বলা হয়েছে, দামেস্কের শহরতলীর পূর্ব ঘাউতা এলাকায় সরকারি বাহিনী ও রাশিয়ান বাহিনীর মিসাইল হামলার পর ক্লোরিন গ্যাসের গন্ধ পাওয়া গেছে। স্বাস্থ্যকর্মীরা জানান, হামলায় দুই জন নিহত হয়েছে। আহত অপর ছয়জনকে শ্বাসকষ্টজনিত কারণে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এর আগে গত বছর খান সেইখুন শহরে সারিন গ্যাস হামলায় ৮০ জনেরও বেশি প্রাণ হারায়। সিরিয়া যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরে বেশ কয়েকবার ক্লোরিন হামলার অভিযোগ উঠেছে। তবে সবসময়ই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে সিরিয়া।

নেদারল্যান্ডসের ট্রেন এখন শতভাগ বায়ুচালিত

নেদারল্যান্ডসের সব বৈদ্যুতিক ট্রেন এখন বায়ুশক্তির দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। এটি জানিয়েছে দেশটির জাতীয় রেলওয়ে কোম্পানি নেদারল্যান্ডিজ স্পুরউইগেন (এনএস)। খবর ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের।

এনএসের একজন মুখপাত্র টন বুন বলেছেন, ১ জানুয়ারি ২০১৭ থেকে আমাদের ট্রেনগুলো শতভাগ বায়ুশক্তি চালিত।

দুই বছর আগে এনএসের টেন্ডারের মাধ্যমে ওই কাজটি পায় নেদারল্যান্ডসের বৈদ্যুতিক কোম্পানি এনেকো। কোম্পানি দুটি ১০ বছরের জন্য চুক্তি করে। ওই চুক্তি অনুযায়ী ২০১৮ সালের জানুয়ারি থেকে এনএসের সব ট্রেন বায়ুচালিত করতে বলা হয়।

বুন আরো বলেন, আমরা আমাদের পরিকল্পনার এক বছর আগেই লক্ষ্যে পৌঁছতে পেরেছি। সারাদেশ ও উপকূলবর্তী এলাকায় উইন্ডমিল বা বায়ুচাকা থাকায় আমাদের অর্জন দ্রুততার সঙ্গে হয়েছে।


এনেকো ও এনএস একটি যৌথ ওয়েবসাইটে জানিয়েছে, প্রতিদিন প্রায় ছয় লাখ যাত্রী ‘বিশ্বের প্রথম’ বায়ুচালিত ট্রেন ব্যবহার করছেন। এনএস প্রতিদিন প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার ট্রিপ পরিচালনা করে।

এনএস বলছে, একটি বায়ুচাকা এক ঘণ্টা চললে তা একটি ট্রেনের ১২০ মাইল পর্যন্ত যাওয়ার জন্য শক্তি যোগাতে পারে। কোম্পানিটি বলছে, ২০২০ সালের মধ্যে তারা যাত্রী প্রতি এই শক্তি খরচ আরো কমিয়ে আনতে চান। যেটি ২০০৫ সালের চেয়ে ৩৫ শতাংশ কম হবে।

৬ হাজার শিক্ষক নিয়োগ প্রাথমিকে

১ হাজার ৫শ’ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রতিটিতে চার জন করে সর্বমোট ৬ হাজার শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হবে।

রোববার দশম জাতীয় সংসদের ১৯তম অধিবেশনে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান এ তথ্য জানান।

অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্য আব্দুর রহমান বদির এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে গণশিক্ষামন্ত্রী এ কথা বলেন।

মন্ত্রী আরো বলেন, আদালতে মামলা থাকার কারণে আমরা ওই ১ হাজার ৫শ’ স্কুলে শিক্ষক দিতে পারিনি। অন্য স্কুল থেকে শিক্ষক নিয়ে এসব স্কুল চালানো হচ্ছে। অচিরেই প্রতিটি স্কুলে চারজন করে অর্থাৎ ১ হাজার ৫শ’ স্কুলে ৬ হাজার শিক্ষক নিয়োগ দিতে পারব।

মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম (বীর উত্তম) এর সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে গণশিক্ষামন্ত্রী বলেন, যেসব স্কুলে ক্লাস রুমের সংকট রয়েছে সেগুলো চাহিদার ভিত্তিতে পূরণ করা হবে। এ জন্য ১২ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ৬৫ হাজার ক্লাসরুম করা হবে। যেখানে ছাত্র-ছাত্রী বেশি সেসব স্কুলে এই ক্লাসরুম করা হবে।

চট্টগ্রামের সংসদ সদস্য সামসুল হক চৌধুরীর সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, বিদ্যালয়হীন গ্রাম আর এখন নেই। মাত্র চারটি বাকি আছে। এছাড়া চর ও হাওর অঞ্চলে কিছু গ্রাম আছে যেখানে বিদ্যালয় নেই। এজন্য আরো এক হাজার স্কুল করার চাহিদা দিয়ে প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় চর ও হাওর অঞ্চলে বিদ্যালয় করা হবে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী বলেন, বর্তমানে ২১ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের ঘাটতি (পদ শূন্য) রয়েছে। শিগগিরই এসব স্কুলে সহকারী শিক্ষকদের চলতি দায়িত্ব দেয়া হবে। প্রধান শিক্ষকের পদটি দ্বিতীয় শ্রেণির হওয়ার কারণে এটা এখন সরকারি কর্ম-কমিশনের (পিএসসি) মাধ্যমে নিয়োগ করা হয়।

এরইমধ্যে শিক্ষক নিয়োগ দেয়ার ব্যাপারে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

কাতারের প্রিন্সকে বন্দি করেছে আরব আমিরাত

কাতারের এক রাজপুত্রকে বন্দি করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। শেখ আব্দুল্লাহ বিন আলি আল ছানি নামের ওই প্রিন্স এক ভিডিও বার্তায় তাকে বন্দি করার বিষয়টি প্রকাশ করেছে। আরব আমিরাতের আমির মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাখতুমের অতিথি হিসেবে শেখ আব্দুল্লাহ সেখানে গেলে তাকে বন্দি করা হয়েছে। খবর আল জাজিরার। শনিবার শেখ আব্দুল্লাহ একটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন।
ভিডিওতে তিনি বলেছেন, আমি এখন আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবিতে আছি। আমি এখন একজন বন্দি। এখানে আমার সঙ্গে যা ঘটছে তার জন্য আরব আমিরাতের আমির শেখ মোহাম্মাদ দায়ী। তবে বিভিওতে শেখ আব্দুল্লাহ বিস্তারিত কিছু বলতে পারেননি। তিনি আরব আমিরাতের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন জায়েদের আমন্ত্রণে সেখানে গিয়েছিলেন বলে উল্লেখ করেছেন। শেখ আব্দুল্লাহ ভিডিওতে বলেন, আরব আমিরাত কর্তৃপক্ষ আমাকে দেশ ত্যাগ করতে বাধা দিচ্ছে। আমি এখন খুব ভয়ের মধ্যে আছি। বিষয়ে কাতারে ওপর দোষ চাপানো হতে পারে। এজন্য আমি বিষয়টি জনগণকে জানাতে চাই। আমি জানি কাতারের জনগণ নিদোর্ষ। ১৯৬০ সালে কাতারের আমির ছিলেন শেখ আলি বিন আব্দুল্লাহ আল ছানি। শেখ আব্দুল্লাহ তার পুত্র।

হামাস নেতা হামদানকে হত্যাচেষ্টা, অল্পের জন্য রক্ষা

হত্যাচেষ্টা থেকে প্রাণে রক্ষা পেলেন ফিলিস্তিনের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের অন্যতম শীর্ষ নেতা আবু হামজা হামদান। রোববার লেবাননের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সিডন শহরের বুস্তান আল-কাবির এলাকায় হামদানকে গাড়িবোমা হামলা চালিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়।
হত্যাচেষ্টা থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেলেও তিনি আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে লেবানন২৪নিউজ ওয়েবসাইট। আবু হামজা হামদান গাজা উপত্যকাভিত্তিক হামাসের শীর্ষ নেতা। লেবাননে তিনি কী কাজে গিয়েছিলেন তা জানা যায়নি। কোনো কোনো খবরে বলা হচ্ছে- এ বিস্ফোরণে অন্য আরও কয়েকজন ব্যক্তি আহত হয়েছেন। লেবাননের আন-নাহার পত্রিকা একটি ছবি প্রকাশ করেছে, যাতে দেখা যাচ্ছে- একটি গাড়িতে আগুন জ্বলছে। ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের নেতাদের গুপ্ত হামলা চালিয়ে হত্যার জন্য কুখ্যাত দখলদার ইসরাইলেল গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। সর্বশেষ গত বছরের মার্চ মাসে ইসরাইল হামাস নেতা মাজেন ফুকাহাকে হত্যা করেছিল।

‘শতাব্দীর জঘন্য কশাঘাত’ আখ্যা দিয়ে ট্রাম্পের পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান

জেরুজালেমকে দখলদার ইসরাইলের রাজধানী স্বীকৃতি দেয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর সমালোচনা করেছেন ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস। তিনি বলেন, জেরুজালেম রাজনৈতিকভাবে আমাদের রাজধানী। ধর্মীয়ভাবে এ শহর আমাদের রাজধানী এবং ভৌগোলিকভাবেও এটি আমাদেরই রাজধানী। কিন্তু ট্রাম্পের এক টুইটের কারণে এটি আমাদের মানচিত্র থেকে মুছে ফেলা হয়েছে। কাজেই আমরা ট্রাম্পকে না বলছি। আমরা কখনই তার পরিকল্পনা গ্রহণ করব না। আমরা বলছি- ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনা ‘শতাব্দীর জঘন্য কশাঘাত’, উল্লেখ করেন ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস।
জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী ঘোষণার পরও ট্রাম্প ইসরাইল-ফিলিস্তিনের মধ্যে একটি ‘চূড়ান্ত সমঝোতা’য় পৌঁছাবেন বলে বাগাড়ম্বর করে আসছিলেন। কিন্তু রোববার থেকে শুরু হওয়া ফিলিস্তিন মুক্তি সংস্থার (পিএলও) দুদিনব্যাপী কেন্দ্রীয় কাউন্সিলসভার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মাহমুদ আব্বাস যে কঠোর অবস্থান ঘোষণা করলেন, তাতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতাকারী ভূমিকা প্রত্যাখ্যাত হয়ে গেল। এ সভায় আব্বাস তাৎপর্যপূর্ণভাবে উল্লেখ করেন, ১৯৯০-এর দশকে স্বাক্ষরিত অসলো চুক্তি ‘অবসান’ ঘটিয়েছে ইসরাইল। অসলো চুক্তির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ফিলিস্তিন-ইসরাইলের মধ্যে শান্তি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। এ চুক্তির পর ফিলিস্তিনি স্বশাসন কর্তৃপক্ষ গঠিত হয়, যার প্রেসিডেন্ট ছিলেন পিএলওর তৎকালীন প্রধান ইয়াসির আরাফাত। ২০০৪ সালে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা আন্দোলনের মহান নেতা মাহমুদ আব্বাসের রহস্যজনক মৃত্যু হয়। এর পর ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেন মাহমুদ আব্বাস। তার বিরুদ্ধে ইসরাইলের প্রতি নমনীয় মনোভাবের অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু গত ৬ ডিসেম্বর ট্রাম্প জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী ঘোষণার পর থেকে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন আবুমাজেনখ্যাত মাহমুদ আব্বাস।

যুক্তরাষ্ট্রের চাপের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান

যুক্তরাষ্ট্রের চাপের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর জন্য পাকিস্তান সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) পার্টির চেয়ারম্যান ও সাবেক ক্রিকেটার ইমরান খান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পাকিস্তানবিদ্বেষী নীতির সমালোচনাও করেছেনতিনি। রোববার ইসলামাবাদে এক অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান। সন্ত্রাসবাদের ব্যাপারে আমেরিকার দ্বৈতনীতির তীব্র সমালোচনা করে ইমরান বলেন, আর্থিক সাহায্য পাওয়ার আশায় সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধে জড়ানোই পাকিস্তানের ভুল হয়েছে।
তবে তিনি দাবি করেন, সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে পাকিস্তানের কোনো সম্পর্ক নেই। সাবেক এ ক্রিকেটার বলেন, আর্থিক সহায়তা পাওয়ার বিনিময়ে পাকিস্তান যে যুদ্ধ শুরু করেছিল, তার ফলে ৭০ হাজার মানুষের প্রাণহানি হয়েছে। তেহরিক-ই-ইনসাফ পার্টির নেতা ইমরান খান এর আগে পাকিস্তানকে মার্কিন বলয় থেকে বেরিয়ে এসে চীন, রাশিয়া ও ইরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক স্থাপনের আহ্বান জানিয়েছিলেন। ২০১৭ সালের আগস্ট মাসে ট্রাম্প পাকিস্তানকে আফগানিস্তানে তৎপর সন্ত্রাসীদের পৃষ্ঠপোষক বলে অভিহিত করেন, যা ছিল ইসলামাবাদের জন্য অবমাননাকর। একই অভিযোগে সম্প্রতি পাকিস্তানকে দেয়া আর্থিক সাহায্যের একাংশ বন্ধ করে দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।

চরতী সমিতি চট্টগ্রামের আহ্বায়ক কমিটি গঠিত

চট্টগ্রাম শহরে বসবাসরত চরতীর প্রত্যেক পেশার মানুষের মধ্যে পারস্পরিক হৃদ্যতা, সহমর্মিতা ও সহযোগিতার যোগসূত্র স্থাপনসহ চরতীর জনগনের সার্বিক কল্যাণের লক্ষ্যে চরতি সমিতি চট্টগ্রাম গঠনকল্পে এক সভা মুক্তিযোদ্ধা নীল রতন দাশগুপ্তের সভাপতিত্বে নগরীর রেস্টুরেরন্ট অনূষ্ঠিত হয়।

সভায় মুক্তিযোদ্ধা নীল রতন দাশগুপ্তকে আহ্বায়ক,  এ.কে. এম মুজিবুল হক চৌধুরী, এড. আবুল কাশেম, মো. আবুল কালাম, মো. গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী, মো. রুহুল্লাহ চৌধুরী, মফিজ উদ্দিন আহমদকে যুগ্ন আহ্বায়ক এবং এ.এফ.এম আখতারুজ্জামান কায়সারকে সদস্য সচিব, এম নজরুল ইসলাম চৌধুরী, এড দেলোয়ার হোসেন, আবদুল মালেক খান, আলহাজ্ব নুরুল আমিন, মো. আলমগীর হোসেন , মো. নিজাম উদ্দিন, ফরিদুল আলম, আবুল হোসেন শুভ, মাহফুজুর রহমান চৌধুরী, এড নিলূ কান্তি দাশ, মো.জাহাঙ্গীর আলম, জিল্লুর রহমান সিকদার, মো. জাহেদুল ইসলাম, কে,এম. নঈমুল হক কে নির্বাহী সদস্য করে ২১ সদস্যের বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। 

সভায় সদস্য সংগ্রহ, উপদেষ্টা পরিষদ গঠন, দ্রুত সময়ের মধ্যে সাধারণ সভার মাধ্যমে গঠনতন্ত্র প্রস্তুত ও অনুমোদন, পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের লক্ষ্যে কাজ করার  সিদ্ধান্ত গ্রহীত হয়। 

এ সমিতি চট্টগ্রাম শহরে বসবাসরত চরতীবাসীর মধ্যে পারস্পরিক হৃদ্যতা ও সহযোগিতার বিষয় ছাড়াও চরতীর যে কোন সংকট সমাধানে এবং সার্বজনীন স্বার্থ রক্ষা, জনসাধারণের শিক্ষা ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সদস্যগণ আশা প্রকাশ করেন।

পোশাক শ্রমিকদের জন্য মজুরি বোর্ড গঠন

শ্রম ও কর্মসংস্থানবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মজিবুল হক চুন্নু বলেছেন, তৈরি পোশাকশিল্প শ্রমিকদের জন্যে সরকার মজুরি বোর্ড ঘোষণা করেছে। তিনি বলেন, এই বোর্ড বাজারমূল্য ও অন্যান্য জিনিসপত্রের দর যাচাই করে আগামী ৬ মাসের মধ্যে শ্রমিকদের বেতন নির্ধারণ করে সুপারিশ করবে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে নিম্নতম মজুরি নির্ধারণ করে তা ঘোষণা করা হবে। রোববার শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে তিনি এ তথ্য জানান। প্রতিমন্ত্রী জানান, নতুন মজুরি বোর্ডে মালিকপক্ষের প্রতিনিধি থাকবেন সিদ্দিকুর রহমান এবং শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে থাকবেন শামসুন্নাহার ভূইয়া। বোর্ডের স্থায়ী সদস্য থাকছেন চেয়ারম্যান সাবেক জেলা জজ সৈয়দ আমিনুল ইসলাম। এছাড়া সদস্যদের মধ্যে মালিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে থাকছেন কাজী সাইফুদ্দীন আহমদ, শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি থাকছেন জাতীয় শ্রমিক লীগের কার্যকরী সভাপতি ফজলুল হক মন্টু। কমিটির নিরপেক্ষ সদস্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দিন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন শ্রম মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব আফরোজা খান, সাবেক সভাপতি ও হামিম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে আজাদ, বিজিএমইএ ভাইস প্রেসিডেন্ট সিদ্দিকুর রহমান। উল্লেখ্য, ২০১৩ সালে সর্বশেষ পোশাক শ্রমিকদের নিম্নতম মজুরি ঘোষণা করে সরকার। সে সময় পোশাক শ্রমিকদের নিম্নতম মজুরি ঘোষণা করা হয়েছিল ৫ হাজার ৩০০ টাকা। শ্রম ও আইন অনুযায়ী ৫ বছর পর শ্রমিকদের নতুন মজুরি কাঠামো ঘোষণা করার কথা রয়েছে।

প্রশ্নগুলো সামনে আনতে হবে by ডা. এম এ হাসান

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মাটিতে যে নির্বিচার যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যা শুরু হয়, তার অন্তর্ভুক্ত ছিল টার্গেট কিলিং, ধর্মভিত্তিক নিধন, জাতিগোষ্ঠীভিত্তিক নির্মূল, বেছে বেছে প্রগতিশীল ব্যক্তি নিধন। ওই সময় ‘জোনোসাইডাল রেপ’, ‘এনফোর্সড মাইগ্রেশন’, পরিকল্পিত গুম ইত্যাদি অপরাধ হয়েছে। সবচেয়ে বেশি হয়েছে যুদ্ধের প্রকৃত লক্ষ্যের বাইরে সাধারণের ওপর পরিকল্পিত ও অপরিকল্পিত আক্রমণ- নিবির্চার হত্যা তথা যুদ্ধাপরাধ এবং Crimes against humanity of murder. বেছে বেছে বুদ্ধিজীবী ও প্রগতিশীল গোষ্ঠীসহ বিশেষ মতাদর্শভিত্তিক একটি দল ও ধর্মীয় গোষ্ঠী নিশ্চিহ্ন করার উদ্যোগ নেয়ার কারণে জেনোসাইড (Convention on the Prevention and Punishment of the Crime of Genocide) আর্টিকেলের ২/ই ধারা অনুযায়ী, পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে গণহত্যার দায়ে অভিযুক্ত করা যায়। নির্বিচার হত্যা, ধর্ষণ ও অগ্নিসংযোগ করে যে ব্যাপক জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে হিন্দুগোষ্ঠীর ৬৯ লাখ (আগস্ট ’৭১-এর মধ্যে) মানুষকে পরিকল্পিত পদ্ধতিতে শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও ভীতসন্ত্রস্ত (traumatized) করে নদ-নদী, বনাঞ্চল ও জলাশয়ের মধ্য দিয়ে দেশছাড়া করা হয়েছিল, তাতে ৫ থেকে ৬ লাখ হিন্দু নিশ্চিহ্ন হয় অথবা মৃত্যুর দুয়ারে পৌঁছে। এতে ৪ লাখের মতো শিশুসহ মুসলিম জনগোষ্ঠী নিশ্চিহ্ন বা গুম হয়ে যায়। তারা আর কখনোই ফিরে আসেনি। তারা এমন এক কৃষ্ণবিবরে নিমজ্জিত হয়েছিল, যা থেকে কখনোই তাদের চিহ্নিত করা যায়নি। পরিবারের কাছে তারা নিখোঁজ হয়ে আছে। এতে জেনোসাইড আর্টিকেলে ২/সি (Genocide by deliberately inflicting conditions of life calculated to bring about physical destruction) ধারা অনুয়ায়ী গণহত্যা প্রমাণিত হয়। এ প্রক্রিয়ায় দেশের অভ্যন্তরে এবং অভিবাসনকালে কোনো কোনো ভিকটিমের শরীর ও মনে এমন ক্ষতিসাধন করা হয় যাকে আইনানুগভাবে গণহত্যা বলা যায়। হিন্দুকে যখন হিন্দু বলে হত্যা করা হয়েছে, সেটাও গণহত্যা। কলেমা পাঠ করিয়ে ধর্মীয়সত্তা বিচার এবং খতনার চিহ্ন দেখে ধর্ম নির্ণয় এর প্রমাণ। এটি আরও প্রমাণিত হয় তাদের ধর্মীয় বিদ্বেষভিত্তিক ‘হেট মেসেজ’ এবং ব্যক্ত অভিপ্রায়ে। এ হেট মেসেজের মাধ্যমে বাঙালি জাতিগোষ্ঠীসহ ভিন্ন মতাদর্শভিত্তিক দলকে নিশ্চিহ্ন করার অভিলাষ ব্যক্ত হয়েছে পাকিস্তানি বাহিনী এবং তাদের দোসরদের ভয়াবহ বিদ্বেষমূলক ও উসকানিমূলক বক্তব্যে। এরই ধারাবাহিকতায় ধর্মীয় বিচারে শত্রু নিরূপণ করে গণহত্যার যে নষ্ট উদ্যোগ নেয় পাকিস্তানি সেনারা, তাতেই প্রমাণিত হয় তাদের কৃত অপরাধ। তাদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ incitement ও complicity গণহত্যাকেই প্রমাণ করে। ঘাতকের নানা উক্তি ও ব্যক্ত অভিপ্রায় তথা নানা কর্ম তাদের পূর্বপরিকল্পনা এবং প্রকৃত অভিপ্রায়কে প্রমাণ করে। তাদের হত্যার ধরনগুলো এবং হত্যার পর তাদের মানসিক অবস্থান Dehumanization প্রক্রিয়াকে প্রমাণ করে। এ গণহত্যায় কাল, সময়, স্থান, নিহত মানুষের সংখ্যা, পরিচয়, দেহাবশেষের পরিচয়, যাবতীয় ফরেনসিক আলামত, artifect, ante-mortem evidence, postmortem, evidence সবকিছুই সামনে আনতে হবে গণহত্যা প্রমাণের জন্য। যেসব প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে, তা হল- গণহত্যা কে করেছে? কবে করেছে? কবে তা শুরু হয়েছে? কতদিন তা চলেছে? কোন ভুখণ্ডে তা হয়েছে? কী প্রক্রিয়ায় তা হয়েছে? নিহতদের সম্ভাব্য পরিচয় কী? তাদের জাতিগত, ধর্মগত, গোষ্ঠীগত পরিচয় কী? তাদের লিঙ্গভিত্তিক অবস্থান কী? ইত্যাদি। ঘাতকের মুখ্য ইচ্ছা, পরিকল্পনা, প্রধান পরিকল্পকদের পরিচয়; পরিকল্পনায় ব্যবহৃত শক্তি, পরিকল্পকদের পেছনের প্রচ্ছায়া বিষয়ে আলোকপাত করা প্রয়োজন। পরিকল্পনা বাস্তবায়নে নানা ধাপ, পদক্ষেপ, নানা ব্যক্তি, গোষ্ঠী ও দলের অন্তর্ভুক্তিকরণ যথাসম্ভব স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন লক্ষ্য ও আক্রমণের শ্রেণীবিন্যাস। এ আলোকেই ২৫ মার্চকে গণহত্যা দিবস হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার কাজটি এগিয়ে নিতে হবে। তবে বাস্তবতার আলোকে ওই দিবসের স্বীকৃতি আদায়ের আগে ’৭১-এ বাংলাদেশে গণহত্যা হয়েছে এমন স্বীকৃতি আদায় করা প্রয়োজন। ওই বিষয়টি বা ’৭১-এর গণহত্যার ঘটনাক্রম প্রমাণ করতে হবে গণহত্যার সংজ্ঞার আলোকে। জেনেভা কনভেনশন ও জেনোসাইড কনভেনশন অনুযায়ী গণহত্যা বলতে সমষ্টির বিনাশ ও অভিপ্রায়কে বোঝায়। এ গণহত্যা বলতে বোঝায় এমন কর্মকাণ্ড, যার মাধ্যমে একটি জাতি, ধর্মীয় সম্প্রদায় বা নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠীকে সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে নিশ্চিহ্ন করা হয় এবং এ সংক্রান্ত অভিপ্রায় ব্যক্ত করা হয়। ১৯৪৮ সালের ৯ ডিসেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে গৃহীত রেজুলেশন ২৬০(৩)-এর অধীনে গণহত্যাকে এমন একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়, যা বিশ্বময় প্রতিরোধে সব রাষ্ট্র অঙ্গীকারবদ্ধ। সংজ্ঞা অনুযায়ী, গণহত্যা কেবল হত্যাকাণ্ডের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এক্ষেত্রে জাতিগত, গোষ্ঠীগত বা ধর্মগত নিধনের উদ্দেশ্যে যদি একজন লোককেও হত্যা করা হয়, সেটাও গণহত্যা। যদি কোনো জাতি, গোষ্ঠী বা বিশেষ ধর্মের মানুষের জন্ম রুদ্ধ করার প্রয়াস নেয়া হয় বা পরিকল্পিতভাবে বিশেষ জাতি ও গোষ্ঠীভুক্ত নারীর গর্ভে একটি ভিন্ন জাতির জন্ম দেয়ার চেষ্টা করা হয়, সেটাও গণহত্যা। তবে শেষের বিষয়টিকে ‘জেনোসাইডাল রেপ’ বলা হয়। কেবল অর্থনৈতিক স্বার্থ বা রাজনৈতিক অভিসন্ধি নয়, বাঙালির প্রতি ঘৃণা ও বিদ্বেষ ২৫ মার্চ হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্যতম প্রণোদনা হিসেবে কাজ করে। বাঙালির প্রতি বিদ্বেষ, ঘৃণা ও ক্রোধের বিষয়টি Prime perpetrator বিশ্বাসের সঙ্গে মিলেমিশে ছিল। তাদের শীর্ষ ক্রোধ ছিল বাঙালি জাতিসত্তায় বিশ্বাসী রাজনৈতিক কর্মী এবং প্রগতিশীল বুদ্ধিজীবীদের ওপর। গণহত্যায় বিনাশকৃত মানুষের শ্রেণীবিন্যাসের সঙ্গে বধ্যভূমির সংখ্যা, তার বিন্যাস ও জেনোসাইডাল ম্যাপটি উপস্থাপন করা প্রয়োজন। সৌভাগ্যক্রমে এমন একটি জিপিএস ম্যাপ রয়েছে WCFFC- এর হাতে। ৫ হাজার বধ্যভূমিতে প্রায় ৯১১টি বধ্যভূমির তালিকাও রয়েছে। রয়েছে ৮৮টি নদী এবং ৬৫টি ব্রিজের তালিকা, যেখানে নিয়মিত হত্যা করা হল নিরস্ত্র মানুষদের। বিভিন্ন বধ্যভূমিতে নিহতদের একটি তালিকাও রয়েছে। এ সংক্রান্ত বিবরণসহ অপরাধের কেস হিস্ট্রি বিবৃত হয়েছে ‘যুদ্ধাপরাধ ও গণহত্যা বিচারের অন্বেষণ’ শীর্ষক একটি গ্রন্থে এবং ইংরেজি ভাষায় রচিত ‘Beyond Denial’ গ্রন্থে। সম্ভবত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শেষ গ্রন্থটি ব্যবহার করছে। এতে বিভিন্ন বধ্যভূমিতে নিহতদের একটি তালিকাও রয়েছে। ভিকটিমের বয়ান এবং অপরাধীর বিবরণসহ ওইসব গ্রন্থে রয়েছে শর্মিলা বোসের মিথ্যাচারের উত্তর। এসব তথ্য-উপাত্ত নিয়ে সুবিন্যস্ত কেস রিপোর্ট তৈরি করতে হবে এবং তা নিয়ে দেশে দেশে বিভিন্ন সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসতে হবে। এ সংক্রান্ত স্বীকৃতির জন্য ওইসব দেশের কূটনৈতিক প্রতিনিধিসহ তাদের অতিথিদের দেখাতে হবে দেশের বিভিন্ন ক্ল্যাসিকাল গণহত্যা ভূমি এবং গণহত্যার আলামত। সময়োপযোগী পদক্ষেপের অভাবে ২৫ মার্চকে আন্তর্জাতিক গণহত্যা দিবস হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার বিষয় সুদূরপরাহত বা প্রায় অসম্ভব বলে বিবেচিত। এ পরিপ্রেক্ষিতে ওই দাবি থেকে সরে এসে ওই দিবসকে International Day of Resistance against War and cruelty হিসেবে ঘোষণা দেয়ার দাবি জানাতে হবে। এটাই আমাদের গণহত্যাকে সামনে আনবে। ২০০৪-এ প্রতিকূল পরিবেশ ও সময়ে WCFFC- যখন ইউনেস্কোর কাছে এমন দাবি জানায়, তখন ওই সংগঠনের এডিজি মি. পিয়ারে সেন WCFFC-কে লেখেন-‘I acknowledge with thanks receipt of your email to UNESCO by which you request support to mark 25 March as the International Day of Resistance against War and cruelty. ... proposals (...) should be submitted [by †overnments of Member States or by NGOs] directly to the Assembly.’ এখন রাষ্ট্রকে ওই দাবিটি সামনে আনতে হবে ছেড়ে যাওয়া ট্রেনটি ধরার জন্য, উদ্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছার জন্য। বিরুদ্ধ স্রোত ও অতিক্রান্ত সময় বিবেচনা করে রাষ্ট্রকে কিছু সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে হবে দেশের মধ্যে এবং দেশের বাইরে। এটি করতে হবে কৃষ্ণরাতকে সামনে আনার জন্য- Price of Freedom-কে সমুন্নত করার জন্য। চূড়ান্ত বিচারে ২৫ মার্চের আঘাতটি ছিল মানুষের জীবনের ন্যায্য অধিকারের প্রতি, মানবমর্যাদার প্রতি, স্বাধীন সত্তাসংশ্লিষ্ট চিরন্তন আকাঙ্ক্ষার প্রতি। দেশে দেশে ঘটে যাওয়া সভ্যতাবিনাশী, মর্যাদাবিধ্বংসী এমন নিষ্ঠুর ও ভয়াবহ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধের জন্যই ২৫ মার্চের মতো দিনগুলোকে স্মরণীয় করে রাখা প্রয়োজন। এটি স্মরণ করতে হবে এ কারণে যাতে এমন দিন আর কোথাও ফিরে না আসে। ২৫ মার্চের কৃষ্ণরাতে জমাট হয় যে আকাঙ্ক্ষা, তা স্বাধীনতা সংগ্রামে অসামান্য শক্তিশালী অনুঘটক হিসেবে কাজ করে। এটাকে সামনে এনে আলোকোজ্জ্বল করতে হবে জাতির আত্মপরিচয় ও মূল্যবোধ।
ডা. এম এ হাসান : মুক্তিযুদ্ধ ও গণহত্যা বিষয়ক গবেষক
dhasan471@gmail.com

নির্বাচনের বছর আচরণ-উচ্চারণে সাবধানতা দরকার by ড. শেখ আবদুস সালাম

১০ জানুয়ারি ছিল বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর শর্তহীন আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা পরিপূর্ণ এবং নিশ্চিতভাবে অর্জিত কিংবা প্রতিষ্ঠিত হলেও সেদিনের সাড়ে সাত কোটি মানুষের মনের মধ্যে আরেকটি অপরিমেয় তৃষ্ণাবোধ রয়ে গিয়েছিল। সেটি হচ্ছে স্বাধীনতার অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তখনও পাকিস্তানের কারাগারে ফাঁসির অপেক্ষায় দিন কাটাচ্ছিলেন। এ সময় একদিকে বাঙালিদের হাতে বন্দি পাকিস্তানের তিরানব্বই হাজার সৈন্যের জীবনমৃত্যুর প্রশ্ন, অন্যদিকে বিশ্ব জনমতের চাপে পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকদের তখন বাধ্য হতে হয় পাকিস্তানের কারাগার থেকে বঙ্গবন্ধুকে মুক্তি দিতে। ১৯৭২ সালের ৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুকে মুক্তি দিয়ে তারা তাকে একটি প্লেনে চড়িয়ে লন্ডনে পাঠিয়ে দেয়। বঙ্গবন্ধু লন্ডন-দিল্লি হয়ে ১০ জানুয়ারি ঢাকার মাটিতে পা রাখেন। প্রায় প্রতিবছর ১০ জানুয়ারি আওয়ামী লীগ নেতা তোফায়েল আহমেদ এদিনটিতে পত্রপত্রিকায় একটি করে প্রবন্ধ লিখেন। তার প্রবন্ধে সব সময় তিনি ১৯৭২ সালের এ দিনটিকে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে বাংলার মানুষের বিজয়ের পরিপূর্ণতার’ দিন বলে উল্লেখ করেন। ইতিহাসের সত্যও তাই। জানুয়ারিতে শুধু বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তন নয়, এই মাসে আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগেরও জন্ম। ১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি খোদ বঙ্গবন্ধুর হাতেই এ সংগঠনের গোড়াপত্তন তথা প্রতিষ্ঠিত হওয়া। এ দিনটিও বাংলা এবং বাঙালির ইতিহাসের একটি অন্যতম দিন। আমাদের ভাষা, স্বাধিকার এবং স্বাধীনতা সংগ্রামে এ সংগঠনটির অবদান অনস্বীকার্য। গত কয়েকদিনে এ দুটি দিনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগসহ বেশকিছু সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন অনেক অনুষ্ঠান এবং কর্মসূচি পালন করেছে। কিন্তু উজ্জ্বল এবং ইতিহাসের সাক্ষী এসব দিবস পালন অনুষ্ঠানের আগে-পরে আমরা পত্রপত্রিকার পাতা থেকে এমন কিছু খবর জানতে পেরেছি, যা অনভিপ্রেত এবং একেবারেই কাম্য নয়। ছাত্রলীগের এক সময়ের শীর্ষ এক নেতার সম্প্রতি একটি লেখায় তিনি ছাত্রলীগকে ‘মরুভূমির একটি নিষ্কলুষ সূর্যোদয়’ উল্লেখ করে ছাত্রলীগকে এদেশের সব আন্দোলন-সংগ্রামের অগ্রযাত্রী, উদ্ভাবক এবং সারথি বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, ইতিহাসের অলঙ্ঘনীয় বিচারে বাংলাদেশ, শেখ মুজিব এবং ছাত্রলীগ একটি অন্যটির প্রতিশব্দ বা পরিপূরক। একই লেখায় তিনি আফসোস করে বলেছেন, আজকের ছাত্ররাজনীতি বিশেষ করে ছাত্রলীগের মূল্যবোধের অবক্ষয় দেখে তার হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে। অবশ্য তিনি এ কারণে ছাত্রলীগকে এককভাবে দায়ী না করে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনের সার্বিক অবক্ষয়, নেতৃত্বের দুর্বলতা, দুর্নীতি, ক্ষমতার প্রতি লোভ- এসবকেও দায়ী করেছেন। তিনি এগুলোর ঊর্ধ্বে উঠে বঙ্গবন্ধুর রাজনীতির চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে ছাত্রলীগকে সবরকম অনৈতিক, অগ্রহণযোগ্য, আসুরিক এবং স্বার্থকেন্দ্রিকতা থেকে বেরিয়ে এসে অতীত গৌরবকে ধারণ করে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। শুধু ছাত্রলীগ নয়, ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য সংগঠন এবং তাদের সব কর্মীর কাছে আমাদের সবার প্রত্যাশাও এমনটিই। কিন্তু আসলে আমরা এমনটি দেখতে পারছি কি? এ প্রশ্নের সরল উত্তর ‘হ্যাঁ’ বলা আমাদের জন্য যেন দিন দিন কঠিন হয়ে পড়ছে। গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে, ৪ জানুয়ারি ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে তারা নিজেরাই স্বার্থ-দ্বন্দ্বে কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় হানাহানি-মারামারিতে লিপ্ত হয়েছে। ৭ জানুয়ারি সিলেটের টিলাগঞ্জে দু’পক্ষের সংঘর্ষের কারণে তাদেরই এক কর্মী নিহত হয়েছে। এ বছর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিসহ বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের দায়ে ৭১ জন গ্রেফতার হয়েছে, এর মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সঙ্গে জড়িত আছে ৩৫ জন। গ্রেফতারদের মধ্যে এমন অনেক নাম রয়েছে, যারা ছাত্রলীগের রাজনীতিক পরিচয়ে পরিচিত। অবশ্য এখানে একটি ভালো দিক রয়েছে, এ ধরনের ঘটনার পরপরই সাংগঠনিকভাবে ছাত্রলীগ তাদের বিরুদ্ধে কোনো কোনো ক্ষেত্রে ব্যবস্থা নিয়েছে। অনেকের ধারণা, ছাত্রলীগের ছায়ায় থেকে বা ছাত্রলীগের নাম ব্যবহার করে ‘হাইব্রিড’রা এসব ঘটনা ঘটানোর প্রয়াস পাচ্ছে। কিন্তু এসবের দায় তো ছাত্রলীগের ওপরই বর্তাচ্ছে। ১০ জানুয়ারি দৈনিক প্রথম আলোয় এক ছাত্রীর ছবিসহ প্রকাশিত ‘বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় : শীতের রাতে হল থেকে বের করে দিল ছাত্রলীগ’ খবরটি পড়ে আমাদের কারও ভালো লাগেনি। ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর মিছিলে যায়নি বলে প্রচণ্ড এ শীতের রাতে এক ছাত্রীকে হল থেকে বের করে দেয়া এবং পরদিন এ ঘটনার জের ধরে ‘ছাত্রলীগ কর্তৃক হল থেকে বের করে দেয়ার প্রতিবাদে আমরণ অনশন’ শিরোনামে প্লাকার্ড লাগিয়ে এক ছাত্রী-শিক্ষার্থীর ছবি পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হওয়ার খবর ছাত্রলীগ তথা ছাত্ররাজনীতির ঐতিহ্যকে যেমন কালিমাযুক্ত করেছে, তেমনি এর প্রভাবও কিন্তু সুদূরপ্রসারী হতে পারে। ছাত্রলীগকে মনে রাখতে হবে, এ বছর কিন্তু নির্বাচনী বছর। ছাত্রলীগ কেন? সব রাজনৈতিক দল বিশেষ করে সরকার, আওয়ামী লীগ, আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠন সবাইকেই কিন্তু হিসাব-নিকাশ করেই পা বাড়াতে হবে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড আখেরে কিন্তু বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা এবং তার সরকারের ঘাড়েই গড়িয়ে যায়। এসব কর্মকাণ্ডে বঙ্গবন্ধুর আত্মাই কিন্তু কষ্ট পায়।
২. ২০১৮ সাল নির্বাচনের বছর। প্রধানমন্ত্রী এরই মধ্যে নৌকায় ভোট চাওয়া শুরু করেছেন। প্রধানমন্ত্রী এ জানুয়ারি মাসেই তার সরকারের মেয়াদ একটানা ৯ বছর পূর্ণ করেছেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে যা বিরল। প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের মন্ত্রী এবং নীতিনির্ধারকরা আশা করছেন, আগামী নির্বাচনেও আওয়ামী লীগ জয়যুক্ত হবে এবং টানা তৃতীয় মেয়াদে সরকার গঠন করবে। এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে যে বিষয়টি বেশি প্রতিধ্বনিত হচ্ছে সেটি হল, তার সরকারের সময় দেশের বেশকিছু অভাবনীয় উন্নয়ন সূচক. যা বাংলাদেশের মানুষ এরই মধ্যে ভোগ করতে শুরু করেছে এবং মেগা প্রকল্পগুলো শেষ করা গেলে তা আরও অর্থবহ এবং কার্যকর হবে। দ্বিতীয়টি হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর নির্লোভ ও সৎ জীবনযাপন এবং মানুষের প্রতি তার ভালোবাসা ও বিশ্বাস। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়ার বিষয়টি দৃশ্যমান; তার সততা আর মানবিক বিষয়টি আজ বিশ্ব স্বীকৃত। বাংলাদেশের মানুষের আস্থার জায়গাটি আসলে তাকে ঘিরে। কিন্তু সম্প্রতি সরকারের মন্ত্রীদের কিছু কিছু অসাবধানতামূলক উচ্চারণ এতে কিন্তু চিড় ধরাচ্ছে। গণমাধ্যমে এসব নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে। এগুলো ভালো লক্ষণ নয়। সম্প্রতি মন্ত্রিপরিষদে সামান্য রদবদলের ঘটনা ঘটেছে। এটি হয়তো একটি রুটিন ব্যাপার। এ রদবদলের মধ্য দিয়ে তৃণমূলের একজন ঝানু রাজনীতিক শাহজাহান কামাল পর্যটন ও বিমান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন। তিনি বরাবরই আওয়ামী লীগের একজন একনিষ্ঠ কর্মী এবং তৃণমূলের ফোঁড় খাওয়া রাজনীতিক। মন্ত্রী হয়েই তিনি তার মন্ত্রণালয়কে লাভজনক করার ঘোষণা দিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বললেন, এটি করতে তিনি প্রয়োজনে তার রক্ত দেবেন। সন্দেহ নেই, তিনি মাঠপর্যায়ের একজন তেজস্বী, দৃঢ়সংকল্পবদ্ধ এবং কর্তব্যনিষ্ঠ নেতা। কিন্তু মনে হয়েছে মন্ত্রী হয়েই তিনি যেন প্রথম দিনেই একটি মেঠো বক্তৃতা করলেন। আর পত্রপত্রিকা যথার্থই লিখল- ‘মাননীয় মন্ত্রী, রক্ত দেয়ার দরকার নেই পারলে কাজ করুন’। আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মুখেও একই কথার উচ্চারণ হতে শুনেছি। এ ধরনের উচ্চারণে আসলে একজন মন্ত্রীর কী বলা উচিত, কী বলা উচিত নয়- এগুলো নিয়ে কথা উঠে। বড় বড় কথা না বলে উত্তেজনা এড়িয়ে নেতা-মন্ত্রীদের ঠাণ্ডা মাথায় কাজ করে যাওয়াই ভালো। এ সময় টেকনোক্রেট কোটায় নবনিযুক্ত আরেকজন মন্ত্রী হয়েছেন মোস্তাফা জব্বার, অত্যন্ত পরিচিত নাম। আমরা তাকে চিনি একজন বিনয়ী, সদালাপী এবং কম্পিউটার প্রযুক্তিবিদ হিসেবে। তাকে দেয়া হয়েছে তথ্যপ্রযুক্তি ও টেলিযোগাযোগ দফতর। পত্রপত্রিকায় পীর হাবিবুর রহমানের লেখায় তার জাসদ রাজনৈতিক ব্যাকগ্রাউন্ডের একটি পরিচয় পেলাম। তার পারঙ্গমতার সঙ্গে মিলিয়ে তাকে এ দফতরের মন্ত্রী বানানো যথার্থই বলে মনে করি। রাজনীতি, প্রজ্ঞা এবং প্রযুক্তির মিলন তার একজন সফল মন্ত্রী হওয়ার পথে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করি। কিন্তু মন্ত্রী হয়েই ৬ জানুয়ারি তিনি যে মন্তব্যটি করলেন- ‘প্রধানমন্ত্রী একটি ডুবন্ত নৌকাকে জাগিয়ে তোলার দায়িত্ব আমাকে দিয়েছেন’ এ কথাটি যদি সত্যিও ধরে নেই; কিন্তু কথাটি কি এভাবে বলা ঠিক হয়েছে? এর ফলে মানুষ প্রশ্ন করার সুযোগ পাচ্ছে যে, আসলে কি ‘নৌকা’ ডুবন্ত পর্যায়ে চলে গেছে? অথবা তার পূর্বসূরিরা কি মন্ত্রণালয় বা বিভাগকে ডুবন্ত অবস্থায় নিয়ে গিয়েছেন? বিরোধীপক্ষ কিন্তু প্রচারণার সুযোগ পাবে যে, মন্ত্রীরাই বলছেন- নৌকা ‘ডুবন্ত’। আমার বিবেচনায় এ ধরনের অসাবধানতামূলক উচ্চারণ সরকার এবং নির্বাচনের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে; অন্তত বিরোধীপক্ষের লোকজনের কথাবার্তা বলার সুযোগ তৈরি করে দিতে পারে। সম্প্রতি একটি বড় অসাবধানতামূলক উচ্চারণ বেরিয়ে এসেছে আমাদের শিক্ষামন্ত্রীর মুখ থেকে। আমি ব্যক্তিগতভাবে ৩৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে তাকে জানি। তার সম্পর্কে আমার ধারণা উচ্চ। তিনি একজন বিচক্ষণ রাজনীতিক, ভালো মানুষ। এমনকি খালেদা জিয়াও ২ থেকে ৩ বছর আগে এই একই কথা বলে তার এক বক্তৃতায় শিক্ষামন্ত্রীর তারিফ করেছিলেন। অতিকথনের বশবর্তী হয়ে কিছুদিন আগে তিনিও বলে বসলেন যে, সব মন্ত্রী চোর, তিনি নিজেও চোর। কবে কোন্ দিনের কথা এবং প্রেক্ষিত টেনে সবাইকে তিনি সহনশীল মাত্রায় ঘুষ খাওয়ার উপদেশ দিলেন। এসবের ফলে তার প্রাণান্ত চেষ্টায় শিক্ষা এবং তার নিজের যতটুকু সুনাম (প্রশ্ন ফাঁস ঘটনা ছাড়া) তৈরি হয়েছিল, সবই তো এখন প্রশ্নের মুখে দাঁড়াল। সরকারেরও কিন্তু ভবিষ্যতে বড় একটি প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড়ানোর অবস্থা তৈরি হল। শিক্ষামন্ত্রী এরই মধ্যে প্রেস কনফারেন্স করে তার বক্তব্য পরিষ্কার করতে চেয়েছেন; কিন্তু তা কতটা পরিষ্কার হয়েছে, সেটা বলা কঠিন। এ সম্পর্কে ২৭ ডিসেম্বর বাংলাদেশ প্রতিদিনে পীর হাবিব একটা বড় লেখা লিখেছিলেন। কোথাও আজকাল চুরি, দুর্নীতির খবর হলে লোকজন এখন বলাবলি করছে- সব মন্ত্রীই তো চোর, তারা নিজেরা স্বীকার করছে, তাহলে অন্যরা করবে না কেন? শুনেছি সংসদেও এ নিয়ে কথা উঠেছে এবং শিক্ষামন্ত্রীকে দুঃখ প্রকাশ করা বা ক্ষমা চাওয়ার কথা বলা হয়েছে। এ ধরনের উচ্চারণের ডালপালার বিস্তার এবং জের কিন্তু খুবই সুদূরপ্রসারী। ১৯৮৪-৮৫ সালে রাজীব গান্ধী যখন ভারতের প্রধানমন্ত্রী তখন আবদুর রহমান আন্তুলে ছিলেন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী। তিনি প্রয়াত ইন্দিরা গান্ধীর নামে ‘ইন্দিরা গান্ধী প্রতিভা প্রতিষ্ঠান’ বলে একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছিলেন। একসময় মহারাষ্ট্রের একটি জেলা পর্যায়ের পত্রিকা একটি খবর ছাপল যে, এ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং তা কংগ্রেসের নির্বাচনী তহবিলে জোগান দেয়া হচ্ছে। সম্ভবত দিল্লিতেও এমন দু-একটি ঘটনা ঘটেছিল। ফলে বিরোধীপক্ষ প্রচারণা শুরু করল- ‘সারা ভারতমে শোর হ্যায়, রাজীব গান্ধী চোর হ্যায়।’ মহারাষ্ট্রেও স্লোগান উঠল ‘মহারাষ্ট্রমে শোর হ্যায়, আন্তুলেজী চোর হ্যায়।’ সেসময়ে কংগ্রেসের পরাজয়ের কারণের মধ্যে এ ঘটনাটিকেও বড় কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। অসাবধানতামূলকভাবে নেতা-মন্ত্রীদের মুখ থেকে, বিশেষ করে নির্বাচনী বছরে এমন কিছু উচ্চারিত হওয়া উচিত নয়, যার কারণে বড় কোনো মাশুল গুনতে হতে পারে।
ড. শেখ আবদুস সালাম : অধ্যাপক, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
skasalam@gmail.com

চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের নতুন সচিব শওকত আলম

 চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডে নতুন সচিব হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন শওকত আলম। ২০১৪ সাল থেকে তিনি উপ-পরিচালক (হিসাব ও নিরীক্ষা) হিসেবে কর্মরত আছেন। 
মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড চট্টগ্রামের চেয়ারম্যান অধ্যাপক শাহেদা ইসলাম জানান, রোববার (১৪ জানুয়ারি) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব ফাতেমা তুল জান্নাত স্বাক্ষরিত এক আদেশে শওকত আলমকে চট্টগ্রাম শিক্ষা্বোর্ডের সচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে সচিবের দায়িত্বে ছিলেন অধ্যাপক মো. আবদুল মুবিন। তিনি ২০১৭ সালের ২৮ ডিসেম্বর অবসর গ্রহণের পর পদটি শূন্য হয়। শূন্য পদেই শওকত আলমকে পদায়ন করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। 
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতি বিষয়ে স্নাতকোত্তর পাস করা শওকত আলম ১৯৯৩ সালে ১৪তম বিসিএস’র (শিক্ষা) মাধ্যমে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে অন্তর্ভূক্ত হন। বিসিএসে (শিক্ষা) অর্থনীতি বিষয়ে মেধাতালিকায় তৃতীয় স্থান অর্জন করেন তিনি।
১৯৯৩ সালের ১৭ নভেম্বর গাছবাড়িয়া সরকারি কলেজে অর্থনীতি বিষয়ে প্রভাষক হিসেবে যোগদান করে ১৯৯৬ সালে নগরীর হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজে বদলি হন। পরবর্তীতে ২০০১ সালে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে পদোন্নতি পেয়ে কুমিল্লার ভিক্টোরিয়া কলেজ, ২০০২ সালে আবারো নগরীর হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজে যোগ দেন।
পরবর্তীতে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে পদোন্নতি পেয়ে ২০০৬ সালে হবিগঞ্জের বৃন্দাবন কলেজ, ২০১১ সালে বান্দরবান সরকারি কলেজে যোগদান করেন।
সেখান থেকে ২০১৪ সালের ৪ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের উপ-পরিচালক (হিসাব ও নিরীক্ষা) হিসেবে প্রেষণে নিয়োগ পান। পরবর্তীতে ২০১৭ সালে অধ্যাপক হিসেবে পদোন্নতি পান তিনি।

জননিরাপত্তা একটি সাংবিধানিক ও গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু

২০১২ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ‘মানব নিরাপত্তা’র সংজ্ঞা নির্ধারণ করে। ২০১২ সালের ২৫ অক্টোবর এ সংজ্ঞাকে জাতিসংঘের শীর্ষ সম্মেলন অনুমোদন করে। নিরাপত্তার ধারণাকে জীবনযাত্রার বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিস্তৃত করেছে জাতিসংঘ। এসব ক্ষেত্র হচ্ছে- অর্থনীতি, রাজনীতি, স্বাস্থ্য, খাদ্য, পরিবেশ, প্রতিবেশ এবং ব্যক্তিগত নিরাপত্তা। ব্যক্তিগত নিরাপত্তার অর্থ রাষ্ট্রের নাগরিকের জীবন, সম্পদ ও সম্মানের নিরাপত্তা প্রেসিডেন্ট রুজভেল্ট ব্যক্তিকে যেভাবে ভীতিমুক্ত দেখতে চেয়েছেন, জাতিসংঘের ওইসব কার্যক্রমের মাধ্যমে ব্যক্তির নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের প্রয়াস নেয়া হয়েছে। জাতিসংঘ কর্তৃক ব্যক্তি বা মানব নিরাপত্তা ঘোষণায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, ‘People have the right to live, freedom and dignity. Free from poverty, and despair... with an equal opportunity to enjoy all their rights and fully develop their human potential’. জাতিসংঘের এ প্রস্তাবনার প্রতি রাষ্ট্রগুলো তাদের অকুণ্ঠ সমর্থন ব্যক্ত করেছে। বস্তুত রাষ্ট্রের অস্তিত্ব নির্ভর করে জনসমষ্টির ওপর। রাষ্ট্রবিজ্ঞানে রাষ্ট্রের অপরিহার্য উপাদান হিসেবে যে চারটি বিষয়ের কথা বলা হয়েছে, তা হল- জনসমষ্টি, ভূখণ্ড, সরকার ও সার্বভৌমত্ব। জনসমষ্টি রাষ্ট্রের নিয়ামক। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় রাষ্ট্র কোনটি? আয়তনে যেটি বড় সেটি, নাকি যেটি জনসংখ্যায় বড় সেটি? নিঃসন্দেহে জনসমষ্টি রাষ্ট্রের সমার্থক। রাষ্ট্রের রয়েছে তিনটি অঙ্গ- আইন বিভাগ (Legislature), নির্বাহী বিভাগ (Executive) এবং বিচার বিভাগ (Judiciary)। এসব বিভাজন মানুষের কল্যাণ, নিরাপত্তা এবং জীবনযাপন সুখময় করার জন্য। রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ভাষায়- ‘সর্বাধিক মানুষের জন্য সর্বাধিক সুখ’ (Greatest happiness to the highest number of people) নিশ্চিত করাই রাষ্ট্রের উদ্দেশ্য। মানুষের জন্য সরকার। সরকারের জন্য মানুষ নয়। মানুষের কল্যাণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। সরকারের তরফ থেকে মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের জন্য সৃষ্টি হয়েছে বিভিন্ন ধরনের প্রতিষ্ঠান। এসব হচ্ছে- প্রতিরক্ষা বাহিনী, সীমান্ত রক্ষা বাহিনী, পুলিশ ও আনসার বাহিনী। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার মূল দায়িত্ব পুলিশের। আমাদের দেশে পুলিশ বাহিনীকে সবকিছু সামাল দিতে হয়। সব অনৈতিক, অবক্ষয়, অপচয়, দুর্নীতি, সহিংসতা, পারিবারিক সংঘাত, শিশুহত্যা, নারী ধর্ষণ, গুম, হত্যা, লুটতরাজ, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, অপহরণ, বাজার অব্যবস্থা, পরিবেশ বিপর্যয়, ইত্যকার সবকিছুই কি একা পুলিশ বাহিনীর সামাল দেয়া সম্ভব? রাষ্ট্রযন্ত্রের মধ্যে যদি সমন্বয়হীনতা পরিলক্ষিত হয় বা গণতান্ত্রিক কাঠামোর ভিত যদি নড়বড়ে হয়ে যায়, সর্বোপরি রক্ষক যখন বক্ষকের ভূমিকা পালন করে থাকে, তখন পুলিশ বাহিনীর পক্ষেও যত শক্ত সামর্থ্যবান অবস্থা নিয়েই থাকুক না কেন, তার পক্ষে পেশাগত দায়িত্ব পালন করা সম্ভব হয়ে ওঠে না। পুলিশ বাহিনী তখন আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ও সেবার মহান ব্রতকে ভুলে যায় আর তখন আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় যদি ফাটল দেখা যায় বা প্রশ্নবিদ্ধ হয় তাহলে সামাজিক ভারসাম্য বিঘ্নিত হতে বাধ্য। নাগরিক নিরাপত্তা এবং জনকল্যাণ হবে বিপর্যস্ত ও বিধ্বস্ত। আমরা প্রায়ই জাতীয় নিরাপত্তার কথা বলি বা অনেক সময় বিজ্ঞজনের কাছ থেকে শুনে থাকি। সাধারণ মানুষের কাছে বিষয়টি একটি বিশেষ ধারণার (কনসেপ্ট) মধ্যেই সীমাবদ্ধ। ধারণাটি হল, জাতীয় নিরাপত্তা মানে হচ্ছে, সামরিক বাহিনী আর বহিঃশত্রুর আক্রমণ থেকে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা। বিষয়টি আসলে তা নয়। যদিও জাতীয় নিরাপত্তার ধারণাটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্রের সমাজবিজ্ঞানী ও মিলিটারি-কূটনীতিকদের উদ্ভাবন; তবে ওই ধারণার ব্যাপক পরিবর্তন হয় শীতল যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই। এ ধারণার ব্যাপকতা আরও প্রসারিত হয় শীতল যুদ্ধ শেষ হওয়ার পরপরই। জাতীয় নিরাপত্তার অন্তর্নিহিত উপাদানগুলোর মূলে রয়েছে নাগরিক নিরাপত্তা। নাগরিক নিরাপত্তার জন্যই রাষ্ট্র, সরকার ও রাষ্ট্রের অন্যান্য অঙ্গ। এ নিরাপত্তার অন্তর্ভুক্ত খাদ্য, বাসস্থান, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা থেকে ব্যক্তি নিরাপত্তা আর সে কারণেই রাষ্ট্র সার্বভৌম। শাসনব্যবস্থা ও নাগরিক নিরাপত্তা জাতীয় নিরাপত্তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুটি উপাদান। নাগরিক নিরাপত্তা দেয়ার দায়িত্ব রাষ্ট্রের পক্ষে সরকারের। বর্তমান সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠন প্রক্রিয়ায় এ বিষয়ে যথেষ্ট যত্নবান বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। শাসন ব্যবস্থা আর নাগরিক নিরাপত্তা (হিউম্যান সিকিউরিটি) জাতীয় নিরাপত্তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। নাগরিক নিরাপত্তার সঙ্গে সুশাসন ওতপ্রোতভাবে জড়িত। জাতিসংঘের সংজ্ঞানুসারে নাগরিক নিরাপত্তার সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের মানবিক বিষয়, অর্থনীতি এবং সামাজিক আঙ্গিক ইত্যাদি জড়িত, যার মাধ্যমে নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়।
জাতিসংঘ ১৯৯০ সালে এর কয়েকটি উপাদান চিহ্নিত করেছে। যেগুলোর মধ্যে সর্বাগ্রে রয়েছে সংগঠিত ও অসংগঠিত সন্ত্রাস থেকে নাগরিক নিরাপত্তা, মানবাধিকার লঙ্ঘন ও অপশাসন। রয়েছে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ, সম্পদের সুষম বণ্টন এবং পরিবেশ সংরক্ষণ; যদিও অপশাসনের তেমন প্রণিধানযোগ্য সংজ্ঞা নেই; তবে নাগরিক নিরাপত্তা সুশাসনের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান, তা এ বিষয়ে জাতিসংঘের ইউএনডিপির সম্পৃক্ততা থেকেই প্রতীয়মান। বাংলাদেশে সার্বিকভাবে জাতীয় নিরাপত্তার তেমন চর্চা হতে দেখা যায় না। আলোচনা হয় শুধু দু-একটি প্রতিষ্ঠানে; তবে সেসব প্রতিষ্ঠানেও বেশিরভাগ সময় সার্বভৌমত্ব এবং কিছু অন্যান্য উপাদান নিয়েই আলোচনা হয়। আলোচনায় এখনও মাত্রা পায়নি অপ্রচলিত নিরাপত্তা (নন-ট্রাডিশনাল সিকিউরিটি বা এনটিএস)। অপ্রচলিত নিরাপত্তার গ্রহণযোগ্য সংজ্ঞা হল, জনগণের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করে এমন বেসামরিক হুমকি (নন মিলিটারি থ্রেট), যেখানে ব্যক্তিনিরাপত্তার বিষয়টিও অন্যতম উপাদান। আমাদের দেশে সবেমাত্র কিছু সামরিক-বেসামরিক উচ্চশিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে, বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজে এ বিষয়ে চর্চা শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে বাংলাদেশ আনসার-ভিডিপি একাডেমিতেও জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ের ওপরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্বীকৃত কোর্স শুরু হয়েছে। এগুলোর প্রাতিষ্ঠানিকতার মাধ্যমে জননিরাপত্তা বিষয়ের ধারণায় নাগরিক সমাজ সমৃদ্ধ হবে এবং জননিরাপত্তাও সুদৃঢ় হবে। ব্যক্তিনিরাপত্তা নিয়ে যদি আলোচনা করা যায়, প্রথমেই উঠে আসবে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি আর ব্যাপক দুর্নীতি। এ দুটি ক্ষেত্রেই রাষ্ট্রযন্ত্র তথা রাজনৈতিক ব্যবস্থা গত দুই দশকে ব্যক্তিনিরাপত্তা আশানুরূপভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি। তবে আশার কথা এই যে, বর্তমান সরকারকে এক্ষেত্রে মনোযোগী দেখা যাচ্ছে। জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সরকারের হলেও সমাজ-সচেতন না হলে এ নিশ্চয়তা সম্ভব নয়। সমাজ-সচেতনতার জন্য প্রয়োজন সামাজিক জাগরণের। সামাজিক জাগরণের অভাবে ধর্ষণ, গুম আর হত্যার মধ্যে নাগরিক নিরাপত্তা বিপর্যয়ের মুখে পড়ে। সরকার তথা দায়িত্বশীল রাজনীতিবিদদের প্রধান দায়িত্ব জাতীয় নিরাপত্তা তথা অপ্রচলিত নিরাপত্তা সুদৃঢ় করতে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা জোরদার করা। আরও প্রয়োজন অধিকতর সুশাসনের জন্য রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখা। সুশাসনের প্রবক্তারা বলে থাকেন, যেখানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা অনুপস্থিত, সেখানে নিরাপত্তা বা যে কোনো কল্যাণ প্রয়াস ব্যর্থ হতে বাধ্য। অর্থবহ রাজনৈতিক অংশগ্রহণ ব্যতীত যেমন গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না; সেরূপ জনগণের সক্রিয় আন্দোলন ব্যতীত কাক্সিক্ষত রাষ্ট্র নির্মিত হতে পারে না। নাগরিক সাধারণকে তাদের নিরাপত্তা, সম্পদ ও সম্মান লাভের জন্য অবশ্যই সংগঠিত সচেতন ও বলিষ্ঠ সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। নাগরিকদেরই নাগরিক নিরাপত্তার জন্য অব্যাহত সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে। জনগণ যদি ক্ষমতার উৎস হয়, তাহলে তাদের বিজয় অনিবার্য। এক্ষেত্রে যদি কোনো প্রতারকচক্র বা ফাঁদ তৈরির কোনো কারখানার মালিক বা কোনো শোষক ও স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর কাছে সাধারণ মানুষ জিম্মি হয় বা পুতুলের মতো ব্যবহৃত হতে থাকে, তাহলে বিজয়ের পরিবর্তে শোষণ চিরস্থায়ী রূপ লাভ করবে। তেমনটি হলে ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন ধুলায় ভূলুণ্ঠিত হবে। পতন হবে অবধারিত। এ বিষয়ে রাজনৈতিক সর্বোচ্চ সতর্কতা জ্ঞান ও সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি। রাজনীতি যদি হয় মানুষের কল্যাণের জন্য, রাষ্ট্রের উন্নয়নের জন্য, তাহলে সর্বাগ্রে মানুষ ও রাষ্ট্রের নিরাপত্তা দরকার। যুক্তরাষ্ট্রে এতদিন ব্যক্তিস্বাধীনতা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ছিল সবকিছুর ঊর্ধ্বে। কিন্তু নাইন-ইলেভেনের পর যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা এজেন্সি সে দেশের সব মানুষের মোবাইল, ল্যান্ড ফোন, ইন্টারনেটসহ সব ইলেকট্রনিক যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপর নজরদারি চালু করেছে। সম্প্রতি এ ঘটনা ফাঁস হয়ে যাওয়ার পর তা নিয়ে শুরু হয় মহা হইচই। শেষ পর্যন্ত তা গড়ায় যুক্তরাষ্ট্রের আইন পরিষদ পর্যন্ত। রাষ্ট্রের নিরাপত্তার স্বার্থে কংগ্রেস এবং সিনেটে ভোটাভুটির মাধ্যমে সংখ্যাগরিষ্ঠের ভোটে গোয়েন্দা সংস্থার ওই নজরদারি ব্যবস্থা বহাল রাখা হয়েছে। তাই আজ দৃঢ়ভাবে বলার সময় এসেছে, মানুষের ও রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয় এমন কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি চলতে পারে না। সুতরাং হরতাল পরিহার করার সময় এসেছে। দেশের অনেক বিদগ্ধজন এরই মধ্যে সুপ্রিমকোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণপূর্বক এ বিষয়ের ওপর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। জননিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে রাষ্ট্রের আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও বাহিনীগুলোকে যা যা প্রয়োজন, তার সবকিছুই করতে হবে। রাজনীতির নামে দুর্বৃত্তায়ন ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপ বন্ধ করার জন্য রুলস্ অব এনগেজমেন্ট অনুসারে যতটুকু ফোর্স প্রয়োগ করা দরকার, তা নির্ধিদ্বায় করতে হবে। সংবিধানের ৩৬ ও ৩৭ অনুচ্ছেদবলে রাষ্ট্র সেই ক্ষমতা তাদের দিয়েছে।
ড. ফোরকান উদ্দিন আহমদ : কলামিস্ট ও গবেষক