Monday, October 26, 2015

কিডনি সুরক্ষা করুন খুব সহজে

কিডনি হচ্ছে আমাদের দেহের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। সম্প্রতি স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইটে কিডনির যত্নে বিশেষজ্ঞদের ৬টি পরামর্শের কথা উল্লেখ করা হয়েছে; বলা হয়েছে, এই ৬টি পরামর্শ মেনে চললে কিডনি ভালো থাকবে।
বৃক্ক (ইংরেজি : Kidney) প্রাণী দেহের এক জোড়া বীন সদৃশ অঙ্গ বিশেষ, যা উদরের পিছনের দিকে অবস্থিত, এবং যা মূত্র উত্পাদন করে ও বের করে দেয়। পাশাপাশি কিডনি শরীরের পানি ও ইলেকট্রলাইট (সোডিয়াম, পটাসিয়াম, ইত্যাদি) এর ভারসাম্য বজায় রাখে ও অন্তক্ষরা গ্রন্থি হিসাবে কাজ করে। বৃক্কের অবস্থান পেরিটোনিয়ামের পিছনে। দুটি কিডনি পিঠের দিকের প্রাচীরের কাছে মেরুদন্ডের ঠিক পাশেই দু'দিকে বক্ষদেশীয় কশেরুকার (t12) অঞ্চল থেকে শুরু হয়ে তৃতীয় কশেরুকা (L3) পর্যন্ত অবস্থান করে। ডান বৃক্ক বাম বৃক্ক অপেক্ষা সামান্য নীচে থাকে। ডান বৃক্ক মধ্যচ্ছদার নীচেই যকৃতের পিছনে এবং বাম বৃক্ক মধ্যচ্ছদার নীচে প্লীহার পিছনে থাকে। বৃক্কের উপরিভাগ ১১তম এবং ১২তম পর্শুকা (RIB) দ্বারা আংশিক আবৃত থাকে। এখানে অ্যাড্রেনাল গ্রন্থি রয়েছে। সমস্ত বৃক্ক পেরিরেনাল ও প্যারারেনাল ফ্যাট এবং রেনাল পর্দা (Renal Fascia) দ্বারা আবৃত। পুরুষের বৃক্কের ওজন ১২০ থেকে ১৭০ গ্রাম এবং নারীদের ১১৫ থেকে ১৫৫ গ্রাম হয়ে থাকে। সচরাচর বাম বৃক্ক ডান বৃক্ক থেকে সামান্য বড় হয়। সাধারণভাবে, মানুষ একটি কিডনি নিয়েই বেঁচে থাকতে পারে। তাই, একজন সুস্থ মানুষ অন্য আরেকজন মানুষকে প্রয়োজনে একটি কিডনি দান করতে পারে।
পরামর্শ এক : বেশি বেশি পানি পান করুন
আমাদের দেহে বিপাক প্রক্রিয়া থেকে সৃষ্ট বর্জ্য পদার্থ শরীর থেকে বের করে দেওয়ার কাজটি করে মূলত যকৃত বা লিভার ও বৃক্ক বা কিডনি। এর মধ্যে কিডনির গুরুত্বপূর্ণ কাজ হচ্ছে শরীরে পানি ও ইলেকট্রলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখা। তো, কিডনিকে কার্যকর রাখতে প্রয়োজন পর্যাপ্ত পানির। সুতরাং, প্রতিদিন আমাদের বেশি করে পানি পান করার অভ্যাস করতে হবে। যথেষ্ট পানি পান করলে পাথর রোগ প্রতিরোধ করা যায়।
পরামর্শ দুই : বিয়ার কম খান
বিয়ার অনেকের পছন্দ, কিন্তু, এটিও এক ধরনের ওয়াইন বা মদ। আর মুসলমানদের জন্য যেহেতু মদ্যপান নিষিদ্ধ, তাই আমাদের শ্রোতাদের অধিকাংশই বিয়ার খান না, এ কথা নিশ্চিতভাবেই বলা যায়। কিন্তু তারপরও যাদের অভ্যাস আছে, তাদের জন্য বলছি: বেশি বিয়ার পান করা আমাদের কিডনির জন্য ক্ষতিকর। তাই, যারা বিয়ার পান করেন, তাদের উচিত যতদূর সম্ভব কম বিয়ার খাওয়া। আরেকটি কথা আমি এখানে শ্রোতাদের বলতে চাই। কিডনির সুস্থতা ঝাচাইয়ের প্রাথমিক মাপকাঠি হচ্ছে মুত্র। মুত্র পরীক্ষা করেই কিডনির প্রাথমিক অসুস্থতা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়। তাই যদি আপনাদের প্রস্রাবে সমস্যা থাকে, তবে দ্রুত চিকিত্সকের পরামর্শ নিন। রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমেও কিডনির সমস্যার কথা জানা যায়, তবে ততক্ষণে হয়তো অনেক বেশি ক্ষতি হয়ে যাবে।
পরামর্শ তিন : কিডনি রোগীর কম শাক-সবজি ও ফল খাওয়া উচিত
সাধারণভাবে শাক-সবজি ও ফল যত বেশি খাওয়া যায়, ততই আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। কিন্তু, যারা কিডনির রোগে আক্রান্ত, তাদের উচিত খাওয়ার ব্যাপারে অতিরিক্ত সাবধানতা অবলম্বন করা। শাক-সবজি ও ফলের মধ্যে প্রচুর পটাশিয়াস থাকে। অসুস্থ বা দুর্বল কিডনির জন্য এই পটাশিয়াম ক্ষতিকর। তাই, কিডনি রোগীদের উচিত শাক-সবজি ও ফল কম খাওয়া। এক্ষেত্রে চিকিত্সকের পরামর্শ মেনে চলা উচিত।
পরামর্শ চার : কোমল পানীয়ের পরিবর্তে পানি পান করুন
আপনি কি কোমল পানীয়, এই যেমন ধরুন, কোকা কোলা, পেপসি ইত্যাদি খেতে পছন্দ করেন? হ্যাঁ, অনেকেই কিন্তু দেখা যায়, সারাদিন এ ধরনের কোমল পানীয়ের ওপরই নির্ভর করে। তারা পানি কম খান বা একেবারেই খান না। সমস্যা হচ্ছে, কোনো কোনো কোমল পানীয়তে ক্যাফেইন থাকে, যা আমাদের রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয়। অন্যদিকে, উচ্চরক্তচাপ কিডনির জন্য ক্ষতিকর। সুতরাং বিশেষজ্ঞরা কিডনির যত্নে বিভিন্ন কোমল পানীয়র পরিবর্তে যতদূর সম্ভব সাধারণ পানি পানের পরামর্শ দিয়ে থাকেন।
পরামর্শ পাঁচ : গোশত কম খান
আপনি কি বেশি বেশি গোশত খেতে পছন্দ করেন? বিশেষজ্ঞরা বলেন, এক দিনে একজনের উচিত ৩০০ গ্রামের বেশি গোশত না-খাওয়া। এর বেশি মাংস খেলে শরীরের কিডনির ওপর চাপ পড়ে। আর যদি আপনি কিডনির রোগী হন, তাহলে মাংস খাওয়ার পরিমাণ আপনাকে আরো কমাতে হবে। এ ব্যাপারে চিকিত্সক আপনাকে যথাযথ পরামর্শ দিবেন।
পরামর্শ ছয় : লবণাক্ত খাবার কম খান
লবণ কিডনির বোঝা বাড়িয়ে দেয়। খাবারে থাকা লবণের ৯৫ শতাংশই কিডনির মাধ্যমে বিপাক হয়ে যায়। এর মানে, আপনি যত বেশি লবণ খাবেন, আপনার কিডনিকে তত বেশি কাজ করতে হবে। বিশেষজ্ঞরা বলেন, প্রতিদিন একজন মানুষের ৬ গ্রামের বেশি লবণ খাওয়া উচিত নয়। আসলে, আমাদের উচিত প্রতিদিন লবণ গ্রহণের পরিমাণ ৩ থেকে ৫ গ্রামের মধ্যে সীমিত রাখা। আরেকটি কথা বলতে চাই যে, ইনস্ট্যান্ট নুডুলসের মধ্যে লবণের পরিমাণ বেশি থাকে; তাই তা আমাদের কম খাওয়া উচিত।

যকৃত বা লিভারের যত্ন নিন, মেনে চলুন ৮টি পরামর্শ

যকৃত বা লিভার বা প্রচলিত বাংলায় 'কলিজা' হচ্ছে আমাদের শরীরের একটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। সুস্থ থাকতে চাইলে, শরীরের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের মতো এর যত্নও সমানভাবে নিতে হবে। আজকে যকৃতের যত্নে চিকিত্সকদের দেয়া ৮ পরামর্শ নিয়ে আলোচনা করবো। আশা করা যায়, এই পরামর্শগুলো মেনে চলতে আপনার যকৃত সুস্থ থাকবে এবং আপনিও সুস্থ থাকবেন।
সম্প্রতি একটি স্বাস্থ্য বিষয়ক ওয়েবসাইটে এই ৮টি পরামর্শ দেয়া হয়েছে। তবে, সে আলোচনায় যাবার আগে আমি যকৃত সম্পর্কে কিছু প্রাথমিক তথ্য শ্রোতাদের সামনে তুলে ধরতে চাই। যকৃত বা লিভার হচ্ছে দেহের বৃহত্তম গ্রন্থি। এটি মেরুদণ্ডী ও অন্যান্য কিছু প্রাণীদেহে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। এটি প্রাণীদেহের বিপাকে ও অন্যান্য কিছু শারীরিক কাজে প্রধান ভূমিকা পালন করে। গ্লাইকোজেনের সঞ্চয়, প্লাজমা প্রোটিন সংশ্লেষণ, ওষুধ বা অন্যান্য রাসায়নিকের বিষক্রিয়া দূর করা ইত্যাদি ক্ষেত্রে এর ভূমিকা অপরিহার্য। যকৃত মধ্যচ্ছদার নিচের অংশে অবস্থিত। যকৃতে পিত্ত উত্পন্ন হয়; পিত্ত একধরনের ক্ষারীয় যৌগ যা পরিপাকে সহায়তা করে, বিশেষত স্নেহজাতীয় খাদ্যের ইমালসিফিকেশনে। এ ছাড়া, যকৃত দেহের বিভিন্ন জৈব-রাসায়নিক প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে। যকৃত ২টি খন্ডে বিভক্ত।
লিভারের ওজনের পাঁচ থেকে দশ ভাগের বেশি চর্বি দিয়ে পূরণ হলে যে রোগটি হয় তাকে 'ফ্যাটি লিভার' বলে। পশ্চিমা বিশ্বে সাধারণত মদ্যপানের কারণে ফ্যাটি লিভার হয়ে থাকে। তবে বহুমূত্র ,শর্করা জাতীয় খাদ্যের আধিক্য, রক্তে চর্বির আধিক্য, উচ্চ রক্তচাপ, স্থূলতা ইত্যাদি কারণেও ফ্যাটি লিভার হয়। লিভারে জমা চর্বি অনেক সময় স্থানীয় প্রদাহ সৃষ্টি করে এবং এ প্রদাহ থেকে কিছুসংখ্যক রোগীর লিভার সিরোসিস, এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে লিভার ক্যানসারও হতে পারে। প্রাথমিক অবস্থায় এই রোগের কোনো উপসর্গ থাকে না, অন্য রোগের পরীক্ষা করার সময় সাধারণত রোগটি ধরা পড়ে। কখনো কখনো পেটের উপরিভাগের ডানদিকে ব্যাথা, অবসন্নতা, ক্ষুধামান্দ্য ইত্যাদি উপসর্গ দেখা দিতে পারে।
পরামর্শ এক : একটানা অনেকক্ষণ বসে থাকবেন না
আপনি জানেন কি, আমাদের অস্থিসন্ধি, Tendon ও Ligament ইত্যাদির ওপর যকৃতের প্রভাব অনেক বেশি? দীর্ঘ সময় ধরে কম্পিউটার ও টেলিভিশনের সামনে বসে থাকলে অনেকের অস্থিসন্ধি, Tendon ও Ligament-এ স্টিফনেস দেখা দিতে পারে। এটি হয় আমাদের যকৃত ঠিকমতো কাজ না-করলে। তা ছাড়া, দীর্ঘক্ষণ একজায়গায় বসে থাকলে বা খেলাধুলা থেকে বিরত থাকলে দেখবেন আপনার মেজাজ খিটখিটে হয়ে গেছে। তাই একটানা অনেকক্ষণ বসে থাকবেন না। এটা আপনার যকৃতের স্বাস্থ্যর জন্য ভালো।
পরামর্শ দুই : অতিরিক্ত সিগারেট ও মদ্যপান থেকে বিরত থাকুন।
আমরা জানি যে, সিগারেট খাওয়া আমাদের শরীরের জন্য ক্ষতিকর। চিকিত্সকরা বলেন, ধূমপানে পায়ের নখ থেকে শুরু করে মাথার চুল পর্যন্ত এমন কোনো অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নেই যা কমবেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় না। তবে, ধূমপানে সবচে বেশি যে অঙ্গগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয় যকৃত সেগুলোর একটি। আর মদের উপাদান 'ইথানল' তো যকৃতের ভয়ঙ্কর শত্রু। সিগারেটের নিকোটিন ও মদের ইথানল মানবদেহে বিভিন্ন রোগ, বিশেষ করে ক্যান্সার সৃষ্টি করতে পারে। সুতরাং, ধূমপান ও মদ্যপান থেকে বিরত থাকুন, সুস্থ থাকুন। বিশেষ করে যাদের যকৃতে সমস্যা আছে, তাদের উচিত সিগারেট ও মদ একদম ত্যাগ করা।
পরামর্শ তিন : চিকিত্সকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ খাবেন না।
যদি আপনার নিজে নিজে ওষুধ খাওয়ার এই বদভ্যাস থাকে তো, আজই তা ত্যাগ করুন। এ অভ্যাস আমাদের যকৃতের জন্য খুবই খারাপ। চিকিত্সকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ খেলে অপ্রয়োজনীয় ও অতিরিক্ত ওষুধ খাওয়া হয়ে যেতে পারে এবং সেক্ষেত্রে সেসব ওষুধ শরীরের যকৃতের জন্য বোঝাস্বরূপ হবে। আর যকৃতের সমস্যা ভুগছেন এমন রোগীদের উচিত চিকিত্সকে তার রোগ সম্পর্কে ঠিকমতো অবহিত করা। অন্য রোগের চিকিত্সার জন্য গেলেও, যকৃতের সমস্যার জন্য তিনি কী ওষুধ খাচ্ছেন, তা চিকিত্সককে জানাতে হবে। কারণ, যকৃতের রোগীদের জন্য চিকিত্সকরা ওষুধ প্রেসক্রাইব করার সময় বিশেষ সাবধানতা অবলম্বন করেন।
পরামর্শ চার : তেলেভাজা খাবার বা চর্বিযুক্ত খাবার বেশি খাবেন না।
তেল হচ্ছে আমাদের নিত্যদিনের খাবারের এক অপরিহার্য উপাদান। চর্বি আমাদের শরীরের এক প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান। পরিমিত চর্বিযুক্ত খাবার আমাদের শরীরে শক্তি যোগায়। কিন্তু অতিরিক্ত তেলাভাজা খাবার বা চর্বিযুক্ত খাবার কিন্তু ভালো নয়। তেলেভাজা খাবার বা চর্বিযুক্ত খাবার অতিরিক্ত খাওয়া উচিত নয়। তেলেভাজা বা অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার আমাদের যকৃতের জন্য ভালো নয়।
মাদকদ্রব্য সেবন শরীরের জন্য মারত্মক পরিণতি বয়ে আনে এটা আমরা সবাই জানি। মাদকের প্রভাবে আমাদের শরীর স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারে না। যকৃতকে শরীরের এক 'রাসায়নিক কারখানা' বলে অভিহিত করা হয়। শরীরের বিভিন্ন পদার্থের রূপান্তর ও সংশ্লেষের কাজ যকৃতে সম্পন্ন হয়। যকৃত শরীরের বিষাক্ত পদার্থ দূর করে। আগেই বলেছি, সিগারেটের নিকোটিন ও মদের ইথানল যকৃতের মারাত্মক ক্ষতি করে। এ থেকে নিশ্চয়ই আপনারা বুঝতে পারছেন মাদরের কী ধরনের নেতিবাচক প্রভাব যকৃতের ওপর পরে।
পরামর্শ ৬ : প্রক্রিয়াকরণকৃত খাদ্য খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।
প্রক্রিয়াকরণকৃত বা প্রসেস্ড খাবার খেতে আপনি পছন্দ করেন কি? এসব খাবারে প্রিজারভেটিভ নামের একধরনের রাসায়নিক পদার্থ থাকে, যা আমাদের যকৃতের ক্ষতি করে। এক কথায় বলা যায়, এধরনের খাবার আমাদের শরীরের শুধু ক্ষতিই করতে পারে, লাভ নয়।
পরামর্শ ৭ : মেজাজ নিয়ন্ত্রণে রাখুন।
বাংলাদেশে একটি বহুল প্রচলিত শ্লোগান আছে: রেগে গেলেন তো হেরে গেলেন। আসলে রাগ মাঝে মাঝে প্রয়োজনীয় হলেও, কথায় কথায় রেগে যাওয়া বা অতিরিক্ত রেগে যাওয়া কখনোই ভালো নয়। আপনি যখন প্রচণ্ড রেগে যান বা উত্তেজিত হয়ে ওঠেন, তখন আপনার শরীরের নানান সমস্যা দেখা দিতে পারে, যেমন: পেট ব্যথা, মাথা ব্যথা, বুকে ব্যথা, উচ্চ রক্তচাপ, রক্তে উচ্চ শর্করা ইত্যাদি। মেয়েদের ক্ষেত্রেও দেখা দিতে পারে বিশেষ কিছু উপসর্গ। আর এসবকিছু আপনার যকৃতের জন্য ভালো নয়। তাই, নিজের মেজাজ নিয়ন্ত্রণে রাখুন, সুস্থ থাকুন।
পরামর্শ ৮ : সঠিক সময়ে এবং পর্যাপ্ত সময় ধরে ঘুমান।
প্রিয় শ্রোতা, ঘুম নিয়ে আমরা আগের অনুষ্ঠানে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করেছি। যথেষ্ট ঘুম না-হলে, আমাদের যকৃতে রক্তপ্রবাহ দুর্বল হয়। আর এভাবে চলতে থাকলে আমাদের রোগ-প্রতিরোধক শক্তিও দিন দিন কমতে থাকে। অতএব, আমাদের শরীরের জন্য যথেষ্ট ঘুম প্রয়োজন। সঠিক সময়ে, সঠিক নিয়মে পর্যাপ্ত সময় ধরেন ঘুমান এবং সুস্থ থাকুন।

কোরাম সংকটে অপচয় ৩২ কোটি টাকা

দশম জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় থেকে ষষ্ঠ অধিবেশনে প্রতিদিনই গড়ে ২৬ মিনিট কোরাম সংকট হয়েছে। এ ৫টি অধিবেশনের ১১২ কার্যদিবসে কোরাম সংকট ছিল ৪৮ ঘণ্টা ৪১ মিনিট। সংসদ অধিবেশন পরিচালনা করতে প্রতি মিনিটে গড় ব্যয় প্রায় ১ লাখ ১১ হাজার টাকা। অর্থাৎ কোরাম সংকটে ৩২ কোটি ৪২ লাখ ৩১ হাজার টাকা অপচয় হয়েছে। এ সময়ে সরকার ও বিরোধী দল তাদের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে। এমনকি স্পিকারও শক্তিশালী ভূমিকা পালনে ব্যর্থ হয়েছেন। এ পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল-বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সবকিছু দেখে মনে হয়, বর্তমান সংসদ যেন পুতুলনাচের একটি নাট্যশালা। তিনি বলেন, সার্বিকভাবে সংসদের কার্যক্রমে আমরা হতাশ। সংসদে সরকারি ও বিরোধী দলের উপস্থিতি গ্রহণযোগ্য নয়। সংসদীয় আচরণ থেকে ব্যাপক বিচ্যুতি ঘটছে। তিনি আরও বলেন, বিতর্কিত নির্বাচনের মধ্য দিয়ে গঠিত তথাকথিত বিরোধী দলের কার্যকর কোন ভূমিকা নেই। মূলত ক্ষমতাসীন দলের একচ্ছত্র ভুবন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে সংসদ। নিয়ম রক্ষার্থে এ সংসদ চলছে। তাই বিতর্ক এড়াতে নতুন নির্বাচন প্রয়োজন।
গতকাল রাজধানীর ধানমন্ডির মাইডাস সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে ‘পার্লামেন্টওয়াচ’বিষয়ক এ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। গবেষণা প্রতিবেদনটিতে জুন ২০১৪ ও আগস্ট ২০১৫ পর্যন্ত (দশম সংসদের দ্বিতীয় থেকে ষষ্ঠ অধিবেশন) পরিমাণবাচক এবং গুণবাচক তথ্য সংগৃহীত হয়। প্রত্যক্ষ তথ্যের উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে সংসদ টেলিভিশন চ্যানেলে সরাসরি প্রচারিত সংসদ কার্যক্রম এবং টিআইবির গবেষণা দলের সদস্য কর্তৃক অধিবেশন সরাসরি পর্যবেক্ষণ। এ ছাড়া পরোক্ষ তথ্যের উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয় সংসদ কর্তৃক প্রকাশিত বুলেটিন ও কমিটি প্রতিবেদন, সরকারি গেজেট, প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদন, বই ও প্রবন্ধ ও সংবাদপত্রের তথ্য ইত্যাদি। প্রতিবেদন উত্থাপন করেন টিআইবির রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি বিভাগের ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার ফাতেমা আফরোজ ও মোরশেদা আক্তার। এ সময় টিআইবির নির্বাহী উপনির্বাহী পরিচালক ড. সুমাইয়া খায়ের, পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল হাসান ও প্রোগ্রাম ম্যানেজার জুলিয়েট রোজেটি উপস্থিত ছিলেন।
টিআইবির ১২ দফা: সংসদীয় গণতন্ত্র সুদৃঢ় এবং সংসদকে কার্যকর ও জবাবদিহিতার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করতে ১২ দফা সুপারিশ তুলে ধরা হয়। সেখানে বলা হয়, অসংসদীয় আচরণ এবং ভাষার ব্যবহার বন্ধে স্পিকারকে অধিকতর শক্তিশালী ভূমিকা পালন করতে হবে। বিরোধী দলকে বিতর্কিত অবস্থান পরিহার করে প্রকৃত বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করতে হবে। জনগুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে আলোচনার জন্য বেশি সময় বরাদ্দ করতে হবে। আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় এমপিদের অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে। সংসদীয় কমিটির সদস্য নির্বাচনের ক্ষেত্রে স্বার্থের দ্বন্দ্বের বিষয়টি পুরোপুরিভাবে বিবেচনায় নিতে হবে।
প্রত্যাশিতপর্যায়ে কার্যকর হয়নি সংসদ: গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, দশম সংসদের ৫টি অধিবেশনে আইন পাসের জন্য কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন হয়েছে। কিন্তু প্রশ্নবিদ্ধ প্রধান বিরোধী দলের প্রত্যাশিত জোরালো ভূমিকার ঘাটতি; সংসদের বাইরের রাজনৈতিক জোট নিয়ে অপ্রাসঙ্গিক সমালোচনা ও অশালীন ভাষার প্রাধান্য; অসংসদীয় আচরণ ও ভাষার ব্যবহার বন্ধে স্পিকারের শক্তিশালী ভূমিকার অনুপস্থিতি, বিধান থাকলেও আন্তর্জাতিক চুক্তিবিষয়ক আলোচনা অনুষ্ঠিত না হওয়া, আইন প্রণয়ন, প্রশ্নোত্তর ও জনগুরুত্বপূর্ণ নোটিশের আলোচনায় সদস্যদের কম অংশগ্রহণ, কমিটির সদস্যদের ব্যবসায়িক সংশ্লিষ্টতাসহ স্বার্থের দ্বন্দ্ব, সংসদীয় কার্যক্রমে তথ্যের উন্মুক্ততা ও অভিগম্যতার ঘাটতি ইত্যাদি কারণে সংসদ প্রত্যাশিত পর্যায়ে কার্যকর হয়নি। এ ছাড়া স্বতন্ত্র সদস্যদের মধ্যে ৬৩ ভাগ সরকারি জোটের প্রধান দলের সাংগঠনিক পদে বহাল রয়েছে। এতে আরও বলা হয়, পর্যবেক্ষণাধীন অধিবেশনগুলোতে সংসদীয় আলোচনার ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো সরকারি দল ও ‘প্রধান বিরোধী দল’ সম্মিলিতভাবে একই সুরে সংসদের বাইরে রাজনৈতিক দলের সমালোচনায় মুখর হয়েছেন। সরকারের মন্ত্রিসভার অংশবিশেষ এই কথিত ‘প্রধান বিরোধী দলের’ সরকারের লেজুড়বৃত্তি ছিল পরিষ্কার। তদুপরি সরকার দলের পক্ষ থেকেও এই লেজুড়বৃত্তিকে বিভিন্নভাবে দশম সংসদের ইতিবাচক অর্জন হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা অব্যাহত ছিল। তবে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যরা বিভিন্ন ইস্যুতে জোরালো ভূমিকা রেখেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিপক্ষের সমালোচনা বেড়েছে ১২ গুণ: ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, একটি দল বা জোট যাদের সংসদে উপস্থিত নেই, তাদের নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে। প্রতিপক্ষের সমালোচনা আগের সংসদের চেয়ে ১২ গুণ বেড়েছে। এটা কারও কাম্য নয়। তিনি বলেন, সংসদীয় কমিটির মূল দায়িত্ব পালনের প্রতি অনীহা ও সংসদ সদস্যদের অবহেলা বিশেষভাবে লক্ষণীয়। অষ্টম, নবম ও দশম সংসদের দ্বিতীয়-ষষ্ঠ অধিবেশনের তুলনামূলক বিশ্লেষণে দেখা যায়, নিজ দল ও সরকার দলের প্রশংসা হয়েছে ৭৫০০ বার, সংসদের বাইরের রাজনৈতিক জোটের সমালোচনা হয়েছে ৭২৬৮ বার। নবম সংসদে বিরোধী দলের উপস্থিতির হার চার শতাংশ। এবার বিরোধী দলের উপস্থিতি ৫৩ শতাংশ। সেদিক থেকে সংসদে বিরোধী দলের অংশগ্রহণ বেড়েছে। তবে বিরোধী দল কতটুকু বিরোধী তা নিয়ে যথেষ্ট প্রশ্ন রয়েছে। কমিটিতে অনেক সদস্যের কমিটি সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়িক সম্পৃক্ততা ও সিদ্ধান্ত প্রহণে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে। কমিটিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী পদাধিকার বলে সদস্য হওয়ার কারণে এবং কোনো কোনো কমিটিতে আগের মন্ত্রী সংশ্লিষ্ট স্থায়ী কমিটির সভাপতি হওয়ায় জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তারের সম্ভাবনার সুযোগ তৈরি হয়েছে। দ্বিতীয় থেকে ষষ্ঠ অধিবেশনের কার্যদিবসগুলোর মধ্যে প্রধান বিরোধী দল এবং অন্যান্য বিরোধী সদস্য ছয়বার ওয়াকআউট করে। পাঁচটি অধিবেশনে ৩০টি বিল পাস হয়। এ ক্ষেত্রে প্রায় ২১ ঘণ্টা ৩৮ মিনিট সময় ব্যয় করা হয়, যা অধিবেশনগুলোর ব্যয়িত মোট সময়ের ৬ শতাংশ। প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্ব মোট ১৫টি কার্যদিবসে অনুষ্ঠিত হয়। এ পর্বে ৫৬ জন সংসদ সদস্য অংশগ্রহণ করেন যাদের মধ্যে ৪১ জন সরকারি দলের, ১১ জন প্রধান বিরোধী দলের এবং ৪ জন অন্যান্য বিরোধী সদস্য। মন্ত্রীদের প্রশ্নোত্তর পর্বে ৪৯টি কার্যদিবসে মোট ২০৫ জন সদস্য অধিবেশনের মোট সময়ের প্রায় ১৪ শতাংশ সময় অংশগ্রহণ করেন। মোট ২৯২টি প্রশ্ন উত্থাপিত হয়। উত্থাপিত প্রশ্নগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক (৩৪টি) ছিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট।
দায় এড়াতে নতুন একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন প্রয়োজন: টিআইবি নির্বাহী পরিচালক বলেন, সংসদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আইন প্রণয়ন কার্যবলিতে এমপিদের অংশগ্রহণ হতাশাজনক। ৩৫০ এমপির মধ্যে মাত্র ২৯ জন সদস্য আলোচনায় অংশ নিয়েছেন। তিনি বলেন, আমার মনে হয় এমপিদের আইন প্রণয়ন কার্যবলি সম্পর্কিত আলোচনায় অংশ নেয়ার যোগ্যতা বা দক্ষতা নেই। একই সঙ্গে এটিও হতে পারে, এমপিদের আইন সম্পর্কিত কার্যবলিতে আলোচনায় অংশ নেয়ার মানসিকতা নেই। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিতর্কিত নির্বাচনের দায় এড়াতে গেলে নতুন একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন প্রয়োজন। তবে সেটা কখন, কীভাবে হবে, সেটা রাজনীতির দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের সিদ্ধান্তের বিষয়। তবে দ্রুতই সংসদকে সব আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করার উদ্যোগ নেয়া হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

দক্ষিণ এশিয়ায় শক্তিশালী ভূ-কম্পন

দক্ষিণ এশিয়ার তিন দেশ আফগানিস্তান, ভারত ও পাকিস্তানে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার শক্তিশালী ভূ-কম্পন অনুভূত হয়েছে। বাংলাদেশ সময় বেলা তিনটার দিকে ভূমিকম্পনটি অনুভূত হয়।
আজ সোমবার বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্রের ভূ-তাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল থেকে ২৫০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে হিন্দুকুশ অঞ্চলের ২১৩ দশমিক ৫ কিলোমিটার গভীরে।
কমপক্ষে এক মিনিট স্থায়ীত্বের ভূমিকম্পের সময় আফগানিস্তানের কাবুল, পাকিস্তানের ইসলামাবাদ ও ভারতের নয়াদিল্লির বিভিন্ন ভবনে থাকা লোকজন রাস্তায় বেরিয়ে আসে।
পাকিস্তানে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫২
ভূমিকম্পের সময় জম্মু-কাশ্মীরের শ্রীনগরে অনেক ভবন থেকে মানুষ রাস্তায় নেমে আসেন। ছবি: রয়টার্স
শক্তিশালী ভূমিকম্পে পাকিস্তানে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫২ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়া দেশটিতে আরও কয়েক শ ব্যক্তি আহত হয়েছে। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আজ সোমবার পাকিস্তানের জাতীয় দৈনিক ডনের অনলাইন সংস্করণের খবরে জানানো হয়, প্রথমে সাড়ে সাত মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। এরপর ওই এলাকায় ৪ দশমিক ৮ তীব্রতার আরেকটি ভূকম্পন অনুভূত হয়।
পাকিস্তানের করাচি, লাহোর, ইসলামাবাদ, রাওয়ালপিন্ডি, কোয়েটা, কোহাত ও মালাকান্দসহ উত্তরাঞ্চলে শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে অনেক ভবন ও বাড়ি ধসে পড়েছে। এ ছাড়া পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে।
পাকিস্তানের সোয়াতের একটি হাসপাতালে ভূমিকম্পে আহত ১৯৪ জন এবং পেশোয়ারের আরেকটি হাসপাতালে শতাধিক আহত ব্যক্তিকে ভর্তি করা হয়েছে বলে প্রাথমিক খবরে জানানো হয়।
আফগানিস্তানে ভূমিকম্পে নিহত ১৭
ভূমিকম্পের সময় ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির ভবনগুলো থেকে লোকজন আতঙ্কে রাস্তায় চলে আসেন। ছবি: রয়টার্স
শক্তিশালী ভূমিকম্পে আফগানিস্তানে কমপক্ষে ১৭ নিহত ও ৫৫ জন আহত হয়েছে। আজ সোমবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে এ তথ্য জানানো হয়।
দেশটির তাখার প্রদেশের প্রাদেশিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার প্রধান রয়টার্সকে বলেন, তাখারের তালোকান শহরের একটি বিদ্যালয়ে ভূমিকম্পের সময় হুড়োহুড়ি করে শ্রেণিকক্ষ থেকে করে বের হতে গিয়ে ১২ ছাত্রী নিহত হয়েছে।
দেশটির কয়েকটি অঞ্চল থেকে আরও পাঁচজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূ-তাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল থেকে ২৫০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে হিন্দুকুশ অঞ্চলের ২১৩ দশমিক ৫ কিলোমিটার গভীরে।
বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে জানানো হয়, দক্ষিণ এশিয়ার তিন দেশ আফগানিস্তান, ভারত ও পাকিস্তানে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার শক্তিশালী ভূ-কম্পন অনুভূত হয়েছে। বাংলাদেশ সময় বেলা তিনটা ৯ মিনিটে ভূমিকম্পটি অনুভূত হয়।
ভূমিকম্পের সময় আফগানিস্তানের কাবুল ছাড়াও পাকিস্তানের ইসলামাবাদ ও ভারতের নয়াদিল্লির বিভিন্ন ভবনে থাকা লোকজন রাস্তায় বেরিয়ে আসে।
ভারতেও শক্তিশালী ভূকম্পন অনুভূত
ভূমিকম্পের পর সব ভবন থেকে দ্রুত লোকজন বাইরে বের হয়ে আসে। জম্মু-কাশ্মীরের শ্রীনগরের এই শিক্ষার্থীরাও রাস্তায় চলে আসে। তাদের চোখে-মুখে আতঙ্ক। ছবি: রয়টার্স
ভারতের দিল্লি, কাশ্মীর, হিমাচল প্রদেশ, হরিয়ানা ও পাঞ্জাবে আজ সোমবার শক্তিশালী ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে। স্থানীয় সময় বেলা আড়াইটার দিকে সাড়ে সাত মাত্রার ওই ভূকম্পনটি অনুভূত হয়।
ভারতের এনডিটিভির খবরে এ কথা জানানো হয়।
ভূমিকম্পের পর পর লোকজন ভবন ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে আসে। ভূমিকম্পের সময় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে দিল্লির মেট্রো সার্ভিস বন্ধ করে দেওয়া হয়।
এদিকে ভূমিকম্পের কারণে জম্মু-কাশ্মীরের রাজধানী শ্রীনগরে টেলিফোন ও বিদ্যুৎ লাইন বন্ধ হয়ে গেছে বলে ওই প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

আধুনিক প্রযুক্তির চাবিকাঠি ম্যাগনেটিক ইন্ডাকশন

আজকের এই আধুনিক যুগে মানুষ মোবাইল ফোন থেকে শুরু করে নানা রকম ডিভাইসের উপর নির্ভরশীল৷ তবে সেগুলি কীভাবে চলে – তা নিয়ে কারো তেমন মাথাব্যথা নেই৷ এর অনেকগুলির পেছনেই রয়েছে ‘ম্যাগনেটিক ইন্ডাকশন' প্রক্রিয়া৷
দৈনন্দিন জীবনে নানা ইলেকট্রিক যন্ত্র আমাদের ঘিরে রয়েছে৷ তাদের অনেকগুলি চলে ‘ম্যাগনেটিক ইন্ডাকশন' নামের এক চমকপ্রদ প্রক্রিয়ার ভিত্তিতে৷ ইন্ডাকশন বিষয়টি আসলে বেশ সহজ৷ তারের কয়েলের মধ্য দিয়ে একটি চুম্বক নিয়ে গেলে বৈদ্যুতিক ভোল্টেজ সৃষ্টি হয়৷
ঊনবিংশ শতাব্দীর শুরুতে ব্রিটিশ বিজ্ঞানী মাইকেল ফ্যারাডে এই প্রক্রিয়া আবিষ্কার করেছিলেন৷ তার আগেই অবশ্য তিনি ইলেকট্রিক মোটর তৈরি করেছিলেন৷ ফ্যারাডে কিন্তু সেখানেই থেমে থাকেননি৷ তাঁর মনে হয়েছিল, শুধু ইলেকট্রিক কারেন্ট থেকে মুভমেন্ট বা গতি সৃষ্টি হয় না৷ এর বিপরীতটাও – অর্থাৎ মুভমেন্ট থেকেও ইলেকট্রিক কারেন্ট সৃষ্টি করা নিশ্চয় সম্ভব৷
ফ্যারাডে তামার তার দিয়ে একটি কয়েল তৈরি করেছিলেন৷ সেই কয়েলের মধ্য দিয়ে একটি চুম্বক নিয়ে যেতেই বিদ্যুৎ সৃষ্টি হলো৷ বেশ কয়েক'টি পরীক্ষার পর তিনি এমন এক পদক্ষেপ নিলেন, আজকের দিনে যা একেবারই বিস্ময়কর নয়৷ তিনি এক ডিস্কের উপর চুম্বক লাগিয়ে সেটিকে কয়েলের মধ্য দিয়ে পেঁচিয়ে নিয়েছিলেন৷ ফ্যারাডে এভাবে বিদ্যুতের উন্নতির পথ সুগম করে দিয়েছিলেন৷ এই তত্ত্ব কাজে লাগিয়ে তিনি এমন জেনারেটর তৈরি করেছিলেন, যা গতি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে৷ শীঘ্রই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলি ইউরোপের প্রথম শহরগুলিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করে৷
জলশক্তি, কয়লা, পরমাণু শক্তি, গ্যাস ও বায়োমাস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ভিত্তি হলো ইলেকট্রোম্যাগনেটিক ইন্ডাকশন৷ প্রত্যেকটি কেন্দ্রের মূলে রয়েছে জেনারেটর৷ তার মধ্যে এমন চুম্বক রয়েছে, যা তারের কয়েলের মধ্য দিয়ে প্যাঁচানো৷ এই জেনারেটরের আরও ক্ষুদ্র সংস্করণ আমাদের চারিপাশেই রয়েছে৷ সাইকেলের ডায়নামোর পেছনেও একই তত্ত্ব কাজ করে৷
ট্রান্সফর্মারের ক্ষেত্রেও তাই ঘটে৷ তারা উচ্চ মাত্রার ভোল্টেজকে ইলেকট্রনিক ডিভাইসের প্রয়োজনমতো নিম্ন মাত্রার ভোল্টেজে রূপান্তরিত করে৷ এর মধ্যে মোবাইল ফোনের ব্যাটারি চার্জ করার প্রক্রিয়াও রয়েছে৷
হালের আরএফআইডি চিপ-ও ফ্যারাডে-র তত্ত্বের উপর ভিত্তি করে কাজ করে৷ একটি স্ক্যানিং ডিভাইস চৌম্বক ক্ষেত্র সৃষ্টি করে, চিপের মধ্যে ক্ষুদ্র কয়েল যা বদলে দেয়৷ স্ক্যানিং ডিভাইস সেই পরিবর্তন টের পায়৷ সেটি এতই স্পর্শকাতর যে, বিভিন্ন চিপের মধ্যে সামান্যতম ফারাকও তার চোখ এড়ায় না৷
শহরের অনেক রাস্তায়ও সেই একই তত্ত্ব আরও বড় আকারে প্রয়োগ করা হয়৷ রাস্তার উপরে বসানো অদৃশ্য ইন্ডাকশন কয়েলের উপর দিয়ে গাড়ি গেলে ট্রাফিক লাইট সবুজ হয়ে যায়৷ এটাও ম্যাগনেটিক ইন্ডাকশনের কারণে ঘটে৷

সৌদি বাদশাহকে সরানোর পক্ষে বেশির ভাগ যুবরাজ

সালমান বিন আবদুল আজিজ
সৌদি আরবের এক যুবরাজ বলেছেন, ১২ জন যুবরাজের মধ্যে ৮ জনই বর্তমান সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজকে সরানোর পক্ষে। যুক্তরাজ্যের ইনডিপেনডেন্ট পত্রিকাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ওই যুবরাজ বলেন, সালমানের জায়গায় তাঁরা সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আহমদ বিন আবদুল আজিজকে আনতে চান। খবর ইনডিপেনডেন্টের। নিরাপত্তার কারণে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই যুবরাজ বলেন, উলামা ও ধর্মীয় নেতারা প্রিন্স আহমদকে পছন্দ করেন। তবে সবাই নয়। তবে ৭৫ শতাংশ তো হবেই। সৌদি রাজতন্ত্রে কোনো পরিবর্তনের জন্য ধর্মীয় নেতাদের মতামত বেশ গুরুত্বপূর্ণ। রাজনৈতিক এবং ধর্মীয় নানা বিষয়ে মতামত দেওয়ারও ক্ষমতা আছে তাঁদের। ক্ষমতার প্রশ্নে সৌদি রাজপরিবারের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব নিয়ে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল। যুবরাজের কথার পর আরও পোক্ত হলো। আবদুল আজিজ আল সউদ ১৯৩২ সালে সৌদি আরবের বর্তমান রাজতন্ত্রের প্রতিষ্ঠা করেন।
১৯৬৪ সালে তাঁর বড় ছেলে সউদ বিন আবদুল আজিজকে পরিবারের বিদ্রোহে ক্ষমতা ছেড়ে দিতে হয়েছিল ভাই ফয়সলের হাতে। সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে বলে মনে করেন আল সউদের নাতি ওই যুবরাজ।যুবরাজ বলেন, এখন বাদশাহ সালমানের কাছে দুটি পথ খোলা আছে। এক হতে পারে তিনি আল সউদের মতো দেশ ছেড়ে চলে যাবেন। আর এতে দেশে এবং দেশের বাইরেও তিনি সম্মান পাবেন। নতুবা প্রিন্স আহমদকে পূর্ণ ক্ষমতাসহ ক্রাউন প্রিন্স ঘোষণা করা যেতে পারে। তখন তিনি তেল, অর্থনীতি, সমরাস্ত্র, অভ্যন্তরীণ, গোয়েন্দা বিভাগ—অর্থাৎ সবকিছুই দেখবেন। ভাই আবদুল্লাহ বিন আবদুল আজিজের মৃত্যুর পর এ বছরের শুরুতে সালমান বাদশাহ হন। তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই রাজপরিবারের বিদ্রোহের গুঞ্জন শুরু হয়। সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি রাজপরিবারের নেতৃত্বের পরিবর্তন নিয়ে দুটো চিঠি বেশ আলোড়ন তোলে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এই যুবরাজই চিঠি দুটি লিখেছেন। ওই যুবরাজকে উদ্ধৃত করে বলা হয়, শাসক হিসেবে সালমানের কিছু সিদ্ধান্তে তাঁর কাছের লোকেরাও অসন্তুষ্ট। ছেলেদের মধ্যে সবচেয়ে কাছের ৩০ বছর বয়সী মোহাম্মদ বিন সালমানকে ডেপুটি ক্রাউন প্রিন্স নির্বাচন, তাঁকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী বানানো, ইয়েমেন যুদ্ধের সীমাহীন ব্যয় এবং সম্প্রতি পবিত্র হজের সময় দুর্ঘটনা সালমানকে আরও অজনপ্রিয় করে তুলেছে। ডেপুটি ক্রাউন প্রিন্স হওয়ার পর মোহাম্মদ বিন সালমান ব্যাপক ক্ষমতা ও সম্পদ গড়ে তুলেছেন বলে জানান ওই যুবরাজ। তিনি বলেন, যেকোনো কাগজপত্র বা টেলিফোন তাঁর বাবার কাছে যাওয়ার আগে ডেপুটি ক্রাউন প্রিন্সের হাত হয়ে যায়। এখন যিনি ক্রাউন প্রিন্স, সেই মোহাম্মদ বিন নায়েফও অজনপ্রিয়।

মালদ্বীপের ভাইস প্রেসিডেন্ট গ্রেপ্তার

আহমেদ আদিব
মালদ্বীপের ভাইস প্রেসিডেন্ট আহমেদ আদিবকে গত শনিবার গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে আদালত গতকাল রোববার তাঁকে ১৫ দিন গ্রেপ্তার রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। গত মাসে স্পিডবোটে বোমা হামলা চালিয়ে প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহ ইয়ামিনকে হত্যার ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগে ভাইস প্রেসিডেন্ট আদিবকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদিব গ্রেপ্তার হওয়ার পর গতকাল টেলিভিশনে ভাষণ দেন প্রেসিডেন্ট ইয়ামিন। ওই ভাষণে তিনি বলেন, ‘পুরো জাতির নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য ভাইস প্রেসিডেন্টকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’
এএফপি

বাদশাহ সালমানকে ক্ষমতাচ্যুত করতে চান আট ভাই

সৌদি আরবের ১২ যুবরাজের আটজনই বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজকে সরানোর পক্ষপাতী বলে তাদের একজন দাবি করেছেন। তারা ৭৯ বছর বয়সী সালমানকে হটিয়ে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স আহমেদকে সিংহাসনে বসাতে চান। খবর ইন্ডিপেন্ডেন্ট ও টাইমস অব ইন্ডিয়ার। ইন্ডিপেন্ডেন্ট পত্রিকাটি জানায়, নিরাপত্তার কারণে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই যুবরাজের বক্তব্য সৌদি রাজতন্ত্রের অভ্যন্তরীণ সমস্যা নিয়ে চলমান গুঞ্জনকে বাস্তব ভিত্তি দিল। বিষয়টি নিয়ে লন্ডনে সৌদি দূতাবাসে কথা বলার চেষ্টা করেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ওই যুবরাজ বলেন, ‘ওলামা এবং ধর্মীয় নেতারা আহমদকেই পছন্দ করেন। সবাই নয়, তবে ৭৫ শতাংশ তো হবেই।’ সৌদি আরবে ধর্মীয় নেতাদের মতামত সব সময়ই গুরুত্ব পায়। ধর্মীয় এবং রাজতন্ত্রের নানা সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা-সমালোচনারও এখতিয়ার থাকে তাদের। আবদুল আজিজ আল সউদ ১৯৩২ সালে সৌদি আরবের বর্তমান রাজতন্ত্রের প্রতিষ্ঠার পর তার বড় ছেলে সউদ বিন আবদুল আজিজকে পরিবারের বিদ্রোহে ক্ষমতা ছেড়ে দিতে হয়েছিল ভাই ফয়সলের কাছে।
১৯৬৪ সালের মতো ঘটনা এবারও ঘটতে পারে বলে ইন্ডিপেন্ডেন্টকে জানান আল সউদের নাতি ওই যুবরাজ। ‘বর্তমান অবস্থায় বাদশাহ সালমানের কাছে দুটি পথ খোলা আছে; এক. হতে পারে তিনি দেশ ছেড়ে চলে যাবেন, তাকে সম্মান এবং শ্রদ্ধার চোখে দেখা হবে। এছাড়া প্রিন্স আহমদকে পূর্ণ ক্ষমতাসহ ক্রাউন প্রিন্স ঘোষণা করা যেতে পারে। পাঁচ বছরে দেউলিয়া হতে পারে সৌদি আরব : আইএমএফ মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে শক্তিশালী অর্থনীতির দেশ সৌদি আরব পাঁচ বছরের মধ্যে দেউলিয়া হয়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ধারাবাহিকভাবে কমতে থাকাই এ দেউলিয়া হওয়ার কারণ। আইএমএফের ‘মিডল ইস্ট ইকোনমিক আউটলুক’ প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে যুক্তরাজ্যের ইন্ডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি বছর সৌদি আরবের বাজেট ঘাটতি ২১ দশমিক ৬ শতাংশে দাঁড়াতে পারে। আগামী বছর এর পরিমাণ হতে পারে ১৯ দশমিক ৪ শতাংশ। ফলে ব্যয় নির্বাহের জন্য আরও বেশি অর্থের প্রয়োজন হবে সৌদি আরবের। অথচ দেশটির বিদেশী মুদ্রার রিজার্ভ কমতে কমতে ৬৫৪ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারে ঠেকেছে।

অবকাঠামো উন্নয়নে পিছিয়ে বাংলাদেশ

ব্যবসায়িক প্রতিযোগিতা সক্ষমতার বিচারে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ সবচেয়ে পিছিয়ে। আর অবকাঠামোগত দিকে দিয়ে এশিয়ার ১৩টি দেশেরে মধ্যে বাংলাদেশ দ্বিতীয় অবস্থানে। এরমধ্যে অবকাঠমোগতভাবে পার্শ্ববর্তী দেশ নেপালের অবস্থান বাংলাদেশের চেয়ে পিছিয়ে থাকলেও প্রাতিষ্ঠানিক দিক দিয়ে অনেক এগিয়ে রয়েছে। এজন্য সার্বিক বিবেচনায় ব্যবসায়িক সক্ষমতায় বাংলাদেশ এশিয়াতে সবচেয়ে পিছিয়ে রয়েছে। সম্প্রতি দাতা সংস্থা বিশ্বব্যাংক প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য তুলে ধরা হয়। বিশব্যাংক বলছে, গত কয়েক বছরে সড়ক, রেল ও বন্দর উন্নয়নে বাংলাদেশ প্রচুর অর্থ বিনিয়োগ করেছে। কিন্তু বাস্তবে এর কোনো প্রতিফলন নেই। অবকাঠামো উন্নয়নে দক্ষিণ ও পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে পিছিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ।
এ বিষয়ে অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান যুগান্তরকে বলেন, সরকার দেশের অবকাঠামো ব্যবস্থার উন্নয়নে ব্যাপক বিনিয়োগ করছে। পদ্মা সেতু, চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহ চার লেন, স্থলবন্দর এবং রেল খাতের উন্নয়নে বড় বড় প্রকল্পের বাস্তবায়ন চলছে। খুব শিগগিরই এসব প্রকল্পের সুফল জনগণ পাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যথা সময়ে প্রকল্পের কাজ শেষ করতে তদারকি করা হচ্ছে। যে কোনো প্রকার অনিয়ম ঠেকাতে নজরদারি জোড়দার করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে অবকাঠামো খাতে বাংলাদেশের স্কোর ৭-এর মধ্যে ২ দশমিক ৬। এ অবস্থান এশিয়ার মধ্যে দ্বিতীয়। এক্ষেত্রে নেপাল ছাড়া দক্ষিণ এশিয়ার বাকি সব দেশের স্কোর বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে। নেপালের স্কোর ২ দশমিক ২। দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশেগুলোর মধ্যে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের স্কোর ৩ দশমিক ৭, শ্রীলংকার ৪ দশমিক ২, ভুটানের ৩ দশমিক ৪, আর পাকিস্তানের অভস্থান ২ দশমিক ৭। আর পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়া, চীন, থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়াসহ সবাই অবকাঠামো খাতে বাংলাদেশের চেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে। অন্যদিকে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতায় বাংলাদেশের অবস্থান এশিয়াতে সর্বনিুে। এ সূচকে বাংলাদেশের স্কোর ৭ এর মধ্যে ২ দশমিক ৯। দক্ষিণ এশিয়ার বাকি ৫টি দেশের মধ্যে ভারত ও শ্রীলংকার স্কোর ৪ দশমিক ১। নেপাল অবকাঠামোতে পিছিয়ে থাকলেও এ সূচকে বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে। নেপালের স্কোর ৩ দশমিক ৪, ভুটানের অবস্থান ৪ দশমিক ৬, পাকিস্তানের স্কোর ৩ দশমিক ৩। একইসঙ্গে পূর্ব এশিয়ার ৭টি দেশের তুলনায়ও বাংলাদেশের অবস্থান নিুে।
এর মধ্য দক্ষিণ কোরিয়ার স্কোর ৩ দশমিক ৯, চীনের ৪ দশমিক ২, থাইল্যান্ডের ৩ দশমিক ৭, ইন্দোনেশিয়ার ৪ দশমিক ১, ফিলিপাইনের ৩ দশমিক ৮, ভিয়েতনামের ৩ দশমিক ৭ ও কম্বোডিয়ার ৩ দশমিক ৩। বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা প্রতিবেদন ২০১৫-১৬ থেকে এসব তথ্য প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিশ্বব্যাংকের লিড ইকোনমিস্ট ড. জাহিদ হোসেন যুগান্তরকে বলেন, বাংলাদেশে বিনিয়োগে স্থবিরতা অনেক দিনের। এ স্থবিরতা না কাটিয়ে উঠার পেছনে প্রাতিষ্ঠানিক ও অবকাঠামোগত দুর্বলতা একটি বড় কারণ। তিনি বলেন, বিনিয়োগের তুলনায় অবকাঠামো উন্নয়ন যে হচ্ছে না, তা দৃশ্যমান বাস্তবতা। এর কিছু অংশ অপচয় হতে পারে। অদক্ষতার কারণেও বিনিয়োগের সুষ্ঠু ব্যবহার না হতে পারে। আবার দুর্নীতিও থাকতে পারে। তবে দুর্নীতি হয়েছে কিনা তা সুনির্দিষ্ট করে বলা কঠিন। তবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। বিশ্বব্যাংক তার প্রতিবেদনে বলছে, উচ্চ প্রবৃদ্ধির জন্য সামষ্টিক অর্থনীতিতে নীতি সহায়তা দিতে হবে। এজন্য দ্রুত আর্থিক খাতে বেশকিছু সংস্কার কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে। বিশেষ করে ব্যাংকিং খাতে জবাবদিহিতা আরও বাড়াতে হবে। এছাড়া বিনিয়োগ বাড়াতে চলমান সংস্কার কার্যক্রমের গতিশীলতা আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারূপ করা হয়েছে।

শেয়ারবাজারে লেনদেন আরও কমেছে

শেয়ারবাজারে লেনদেন আরও কমেছে। রোববার দেশের দুই শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) মিলে ৩৫৪ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে। আগের দিনের চেয়ে যা ৩১ কোটি টাকা কম। এর মধ্যে ডিএসইতে লেনদেন কমেছে ৩০ কোটি টাকা এবং সিএসইতে ১ কোটি টাকা। এর আগে গত সপ্তাহে ডিএসইতে লেনদেন ১৩ শতাংশ কমেছিল। তবে উভয় শেয়ারবাজারেই রোববার মূল্যসূচক ও বাজার মূলধন কিছুটা বেড়েছে। বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ডিএসইতে রোববার ৩১৫টি প্রতিষ্ঠানের ৯ কোটি ৫৯ লাখ শেয়ার লেনদেন হয়েছে। যার মোট মূল্য ৩২৫ কোটি ৭০ লাখ টাকা। যা আগের দিনের চেয়ে ৩০ কোটি ৪৭ লাখ টাকা কম। ডিএসইর ব্রড সূচক আগের দিনের চেয়ে ১ পয়েন্ট বেড়ে ৪ হাজার ৬৪৯ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে। ডিএসই-৩০ মূল্যসূচক দশমিক ৩৪ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৭৬২ পয়েন্টে নেমে এসেছে। ডিএসই শরিয়া সূচক ৩ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ১১৬ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে। এর মধ্যে দাম বেড়েছে ১৪০টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের, কমেছে ১২৬টি এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৪৯টি কোম্পানির শেয়ারের দাম। ডিএসইর বাজার মূলধন আগের দিনের চেয়ে বেড়ে ৩ লাখ ২১ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে।
সিএসই : চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে রোববার ২৩৩টি প্রতিষ্ঠানের ৮৮ লাখ ৯৬ হাজার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। যার মোট মূল্য ২৯ কোটি ২৮ লাখ টাকা। আগের দিনের চেয়ে যা ১ কোটি টাকা কম। এর মধ্যে দাম বেড়েছে ১১৩টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম, কমেছে ৯২টি এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২৮টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম। সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক আগের দিনের চেয়ে ১ পয়েন্ট বেড়ে ১৪ হাজার ১৯৮ পয়েন্টে নেমে এসেছে। সিএসই-৩০ মূল্যসূচক ৫১ পয়েন্ট বেড়ে ১২ হাজার ৫৬১ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে। সিএসইর বাজার মূলধন আগের দিনের চেয়ে বেড়ে ২ লাখ ৫৫ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। রোববার ডিএসইতে যেসব প্রতিষ্ঠানের শেয়ার বেশি লেনদেন হয়েছে সেগুলো হল- আমান ফিড, সিভিও পেট্রো কেমিক্যাল, কেডিএস এক্সেসোরিস, বেক্সিমকো ফার্মা, ইউনাইটেড এয়ার, মিরাকল ইন্ডাস্ট্রিজ, সিএনএ টেক্সটাইল, শাহজি বাজার পাওয়ার, ইফাদ অটো এবং বিএসআরএম স্টিল মিল। ডিএসইতে রোববার যেসব প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বেশি বেড়েছে সেগুলো হল- মিরাকল ইন্ডাস্ট্রিজ, স্ট্যান্ডার্ড সিরামিক, দেশ গার্মেন্টস, হাক্কানি পাল্প, দেশবন্ধু পলিমার, আনোয়ার গ্যালভানাইজিং, এক্সিম ব্যাংক প্রথম মিউচুয়াল ফান্ড, ফু-ওয়াং সিরামিক, আনলিমা ইয়ার্ন এবং মুন্নু সিরামিক। অন্যদিকে যেসব প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বেশি কমেছে সেগুলো হল- ইস্টার্ন হাউজিং, গ্রিনডেল্টা মিউচুয়াল ফান্ড, ডেসকো, মোজাফফর হোসেন স্পিনিং মিলস, কেডিএস এক্সেসোরিস, যুমনা ব্যাংক, পঞ্চম আইসিবি মিউচুয়াল ফান্ড, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, প্রিমিয়ার সিমেন্ট এবং জাহিন স্পিনিং মিল।

এক আবাহনীর বিদায় আরেক আবাহনী শেষ চারে

আগের দিন ঢাকা আবাহনীকে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে দেন কলকাতা ইস্টবেঙ্গলের গোলকিপার দিবেন্দ্যু সরকার। যার নামে এই টুর্নামেন্ট, সেই শেখ কামাল আবাহনীর প্রতিষ্ঠাতা। তার ক্লাব দর্শক হয়ে গেল। সেই তাদেরই গ্রুপপর্ব থেকে বিদায় করে দিয়ে সাত পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন লাল-হলুদ শিবির। ম্যাচটি গোলশূন্য ড্র হয়। বুধবার সেমিফাইনালে ইস্টবেঙ্গল খেলবে ঢাকা মোহামেডানের বিপক্ষে। ইস্টবেঙ্গলের দরকার ছিল এক পয়েন্ট। কিন্তু ঢাকা আবাহনীকে জিততে হতো ২-০ গোলে। দ্বিতীয়ার্ধে গোলের জন্য মরিয়া ঢাকা আবাহনী চেপে ধরে প্রতিপক্ষকে।
এসময় রক্ষণ সামলাতে ব্যস্ত থাকতে হয় কলকাতার ক্লাবকে। দিবেন্দ্যু একাই রুখে দাঁড়ান সব ঝড়ঝাপটা। নিশ্চিত পাঁচটি গোল বাঁচিয়ে তিনিই ম্যাচসেরা। ঢাকা আবাহনীর ব্যর্থতার দিনে আয়োজক চট্টগ্রাম আবাহনী সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে। শনিবার দিনের প্রথম ম্যাচে পাকিস্তান লীগ চ্যাম্পিয়ন করাচি ইলেকট্রিককে ৪-২ গোলে হারিয়ে ছয় পয়েন্ট নিয়ে গ্র“প রানার্সআপ হয় চট্টগ্রাম আবাহনী। আয়োজকদের বড় জয়ের স্থপতি জাহিদ হোসেন। তার হ্যাটট্রিকের হাত ধরে শেষ চারে পৌঁছে যায় চট্টগ্রাম আবাহনী। অপর গোলটি কিংসলে এলিটার। সেটিও জাহিদের পাসে। এমন চমকপ্রদ নৈপুণ্য সত্ত্বেও জাহিদকে ম্যাচসেরার পুরস্কার না দেয়াটাই বিস্ময়ের। সেটি পেয়েছেন কিংসলে।

আউট অব সিন বিন্দু

কথায় আছে ‘আউট অব সাইট আউট অব মাইন্ড’। এ সূত্রটি লাক্স তারকা আফসান আরা বিন্দুর ক্ষেত্রে শতভাগ প্রযোজ্য। দীর্ঘদিন মিডিয়ায় নেই। তাই নেই কোনো খবরে। বিয়ে করে একেবারেই আড়ালে চলে গেছেন এ তারকা। যদিও বিয়ের বেশ আগেই মিডিয়ায় কাজ বন্ধ করে দিয়েছিলেন তিনি। বিয়ের আগে কিছু গুজব নিয়ে বেশ বিব্রত ছিলেন। তাই কোনো রকম খবরেও থাকতে রাজি ছিলেন না বিন্দু। কিন্তু মিডিয়াবাসী বলে কথা। খবরে না থাকলেও খবর তার পেছনে ছুটবেই। বিয়ের একবছরপূর্তিতে আবারও সামনে আসছেন তিনি।
তবে শুধু পত্রিকার পাতায়। ক্যামেরার সামনে আপাতত দাঁড়াচ্ছেন না বলেই জানিয়েছেন। এ মুহূর্তে অবস্থান করছেন আমেরিকায়। গিয়েছেন গত সপ্তাহে। ওখানেই প্রথম বিবাহবার্ষিকী উৎযাপন করেছেন আজ। এখন থেকে আমেরিকাতেই স্থায়ীভাবে বসবাস করবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি। সম্প্রতি দেশীয় মিডিয়ায় জানান দিয়েছেন, ঘর সংসার নিয়ে ব্যস্ত থাকেেত চান তিনি। অভিনয়ে ফেরার কোনো ইচ্ছে নেই তার। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘অভিনয়ে আর ফেরার কোনো সম্ভাবনা নেই। সংসার জীবনটাই আমি খুব উপভোগ করছি। একজন নারী হিসেবে যে জীবন পূর্ণ জীবন সেই জীবনই পেয়েছি’।

জম্মু ও কাশ্মির ভারতের অংশ নয় by জি. মুনীর

ভারতের বরাবরের দাবি ভারত-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মির ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ। ভারতের এই দাবিকে অসার প্রমাণ করে জম্মু ও কাশ্মির রাজ্যের হাইকোর্ট সম্প্রতি রায় দিয়েছেনÑ জম্মু ও কাশ্মির কখনোই ভারতের অংশ ছিল না এবং এখনো এর অংশ নয়। এই রায়ে আদালত বলেছে, ভারতের সংবিধানে জম্মু ও কাশ্মিরকে সীমিত সার্বভৌম ভূখণ্ডের মর্যাদা দেয়া হয়েছে। বিচারপতি হাসনাইন মাসুদি ও বিচারপতি জনকরাজ কোতয়ালের ডিভিশন বেঞ্চ এই রায় দিয়েছেন।
এ দুই বিচারপতির দেয়া ৬০ পৃষ্ঠার এই রায়ে বলা হয়েছে, ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ নম্বর অনুচ্ছেদে এই রাজ্যকে বিশেষ মর্যাদা দেয়া হয়েছে; যা সংশোধন, বাতিল বা রদ করা যাবে না। আদালত বলেছে, সংবিধানের ৩৫ক অনুচ্ছেদে বিদ্যমান আইনে কাশ্মিরকে সুরক্ষা দেয়া হয়েছে। সংবিধানে ৩৭০ নম্বর অনুচ্ছেদকে অস্থায়ী বিধান হিসেবে উল্লেখ করা হলেও একবিংশ ধারায় এটিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ ধারা সংবিধানের, ৩৭০ সম্বর ধারাকে ‘স্থায়ী, অপরিবর্তনশীল বিশেষ বিধান’ স্থায়ী স্থান করে নিয়েছে। আইনসভায় এটি সংশোধন, বাতিল বা রদ করা যাবে না। (The bench ruled : "Article 35A gives 'protection' to existing laws in force in the State. Article 370 though titled as 'Temporary Provision' and included in Para XXI titled 'Temporary, Transitional and Special Provisions' has assumed place of permanence in the Constitution. It is beyond amendment, repeal or abrogation, in as much as Constituent Assembly of the State before its dissolution did not recommend its amendment or repeal.")
ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ নম্বর অনুচ্ছেদটি সংবিধানের মাধ্যমে ‘সংশোধন বাতিল বা রদের অযোগ্য’ বলে ঘোষণা থাকলেও ভারতীয় জনতা পার্টি তথা বিজেপি এই অনুচ্ছেদটি বাতিলের দাবি জানিয়ে আসছে। বর্তমানে এ দলটি কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন থাকায় বিষয়টি এরা আরো গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। জানা গেছে, জম্মু ও কাশ্মির সরকারের কাছে যত দ্রুত সম্ভব উল্লিখিত এই রায়ের একটি কপি চেয়ে পাঠিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। হাইকোর্ট কিসের ভিত্তিতে এই রায় দিয়েছে, তার ব্যাখ্যাও চাওয়া হয়েছে।
এ দিকে আদালতের এই রায়কে স্বাগত জানিয়েছে রাজ্যটির স্থানীয় দলগুলো ও রাজনৈতিক নেতারা, যারা সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানদের হয়ে কাজ করছেন। পিপলস ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট (পিডিএফ) প্রেসিডেন্ট এবং আওয়ামী মোথিদা মাহাজ (এএমএম) নেতা হাকিম মোহাম্মদ ইয়াসিন এই রায়কে স্বাগত জানিয়েছেন। রাজনৈতিক নেতারা বলেছেন, এখন জম্মু ও কাশ্মির সরকারের সামনে চ্যালেঞ্জ হচ্ছে ৩৭০ নম্বর অনুচ্ছেদকে আরো জোরদার করে তোলা।
হাকিম মোহাম্মদ ইয়াসিন গত ১৬ অক্টোবর বলেছেন, ‘এটি স্বাগত জানানোর মতো একটি প্রত্যাশিত রায়। অ্যাসেম্বলির ভেতরে ও বাইরে দাবি ছিল ৩৭০ নম্বর অনুচ্ছেদকে সুরক্ষা দেয়ার। অতএব হাইকোর্টের এই রায় একটি ওয়েলকাম ডিসিশন। এখন জম্মু ও কাশ্মির সরকারের জন্য, বিশেষ করে মুফতি সাহেবের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে কিভাবে ৩৭০ নম্বর অনুচ্ছেদকে আরো জোরদার করে তোলা যায়, কী করে এসব ক্ষয়িষ্ণু অনুচ্ছেদ পুনরুদ্ধার করা যায়।’ তিনি আরো বলেন, ‘সংবিধানের ৩৭০ নম্বর অনুচ্ছেদেই জম্মু ও কাশ্মির রাজ্যের সীমিত সার্বভৌমত্ব ও বিশেষ মর্যাদার অনুমোদন রয়েছে।
পিডিএফ প্রধান এই আহ্বানও জানান, রাজ্য সরকার যেন শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিনাশকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়। তার দাবি, জম্মু ও কাশ্মির রাজ্যকে অঞ্চলের নামে যারা বিভক্ত করতে চায়, তাদের কঠোরভাবে দমন করতে হবে। রাজ্য সরকারকে এদের চিহ্নিত করে শাস্তির মুখোমুখি করতে হবে।
ইতিহাস বলেÑ জম্মু ও কাশ্মির ১৮৪৬ থেকে ১৯৫২ সাল পর্যন্ত ছিল ভারতে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের একটি প্রিন্সলি স্টেট, যা শাসন করত রাজপুত ডুগরা রাজারা। ব্রিটিশ সাম্রাজ্যে নামমাত্র সার্বভৌম স্টেটগুলোকে বলা হতো প্রিন্সলি স্টেট বা ন্যাটিভ স্টেট। ১৮৪৬ সালে প্রথম ইঙ্গ-শিখ যুদ্ধের পর জম্মু ও কাশ্মির স্টেট গঠন করা হয়। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি এর সাথে কাশ্মির উপত্যকাকে সংযুক্ত করে গোলাব সিংয়ের কাছে হস্তান্তর করে ৭৫ লাখ রুপির ইনডেমনিটি পরিশোধের বিনিময়ে। ১৯৪৭ সালে ভারত ও পাকিস্তান স্বাধীন হয়। তখন এই রাজ্যে মুসলমানেরা ছিল সংখ্যাগরিষ্ঠ। কিন্তু এই স্টেট ছিল অমুসলিম মহারাজা হরি সিংয়ের শাসনাধীনে। তখন প্রশ্ন দেখা দেয় মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এই জম্মু ও কাশ্মির কার পক্ষে যোগ দেবেÑ পাকিস্তানের পক্ষে, না ভারতের, না এই দুই দেশের কোনোটির সাথে সংযুক্ত না হয়ে নিরপেক্ষ স্বাধীন কাশ্মির রাষ্ট্র গঠন করবে? এ নিয়ে নানা বিশৃঙ্খলা চলার মধ্য দিয়েই মহারাজা হরি সিং সামরিক সহায়তার বিনিময়ে সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে এই রাজ্যকে ভারতীয় ডোমিনিয়নে যোগ দেয়ার চুক্তি স্বাক্ষর করে ১৯৪৭ সালের ২৬ অক্টোবর। এ নিয়ে ভারত-পাকিস্তান দ্বন্দ্ব দেখা দেয়। এই রাজ্যের পশ্চিম ও উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোর নিয়ন্ত্রণ চলে যায় পাকিস্তানের হাতে, যা আজ আজাদ কাশ্মির ও গিলগিটস্তান নামে পরিচিত। একাংশ চলে যায় ভারতের নিয়ন্ত্রণে, যা ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু ও কাশ্মির নামে পরিচিত। উল্লেখ্য, কাশ্মিরের ২০ শতাংশের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে চীনের হাতে, যা আকসাই চীন নামেও পরিচিত।
এখানে একটা কথা বলা দরকার, জম্মু ও কাশ্মির হাইকোর্ট সুস্পষ্টভাবে এক রায়ে বললেন, জম্মু ও কাশ্মির ভারতের কোনো অংশ নয়। ২০১০ সালের দিকে ভারতের স্পষ্টবাদী লেখিকা অরুন্ধতী রায় ঠিক একই কথা বলে ছিলেন : ‘কাশ্মির ইজ নট অ্যা পার্ট অব ইন্ডিয়া।’ এই সত্য উপলব্ধির ওপর ভর করে ওই সময় নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে তিনি বলেছিলেন : ‘কাশ্মির শুড গেট আজাদি ফ্রম ভুখে নাঙ্গে ইন্ডিয়া।’
এই বক্তব্যের পর তার বিরোধীরা এই বক্তব্যকে রাষ্ট্রদ্রোহের শামিল বলে হইচই শুরু করে দেয়। তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা দায়েরের জন্য সরকারের কাছে দাবি তোলে । এর জের ধরে ২০১০ সালের ২৯ নভেম্বর ভারতের পুলিশ নয়াদিল্লিতে ভারতীয় এই স্পষ্টবাদী বিশিষ্ট মানবাধিকারকর্মীর বিরুদ্ধে একটি রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা দায়ের করে। তার বিরুদ্ধে পুলিশ শ্রীনগরে ২১ অক্টোবরে আয়োজিত ‘আজাদি : দ্য অনলি ওয়ে’ শীর্ষক এক সেমিনারে তথাকথিত ভারতবিরোধী বক্তব্য রাখার অভিযোগ তোলে এই মামলায়। এ সময় তাকে গ্রেফতারের নানা হুমকিও চার দিক থেকে আসতে শুরু করে। কারণ তিনি বক্তব্যে দাবি করেছেন, জম্মু ও কাশ্মির উপত্যকা কখনোই ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল না। আর এটিই হচ্ছে একটি ঐতিহাসিক সত্য। তিনি এ কথাও বলেছেন, ভারত সরকারের উচিত কাশ্মিরের জনগণের আশা-আকাক্সক্ষা মেনে নেয়া। আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার মেনে নেয়া।
তার বিরুদ্ধে এই রাষ্ট্রদ্রোহের মামলার নানা ক্রিয়া-প্রক্রিয়া যখন চলছিল, তখন অরুন্ধতী রায় ২০১০ সালের ২৮ নভেম্বর ‘দ্য হিন্দু’ পত্রিকায় একটি কলাম লেখেন। তাতে তিনি উল্লেখ করেনÑ দিল্লি পুলিশকে কোর্ট আদেশ দিয়েছে আমার বিরুদ্ধে একটি রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা দায়ের করতে। আমার মনে হয়, সম্ভবত তাদের উচিত জওয়াহেরলার নেহরুর বিরুদ্ধেও রাষ্ট্রদ্রোহের একটি মরণোত্তর মামলা করা। কেনো তা করা উচিত, এর জবাবও তিনি তার এ লেখায় দিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৪৭ সালের ২৭ অক্টোবর জওয়াহেরলাল নেহরু ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো এক টেলিগ্রামে লিখেছিলেন :  'I should like to make it clear that the question of aiding Kashmir in this emergency is not designed in any way to influence the state to accede to India. Our view which we have repeatedly made public is that the question of accession in any disputed territory or state must be decided in accordance with wishes of people and we adhere to this view.' (Telegram 402 Primin-2227 dated 27th October, 1947 to PM of Pakistan repeating telegram addressed to PM of UK).
এ ছাড়া এর চার দিন পর ৩১ অক্টোবর তিনি আরেকটি টেলিগ্রাম পাঠান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াবজাদা লিয়াকত আলী খানের কাছে, যাতে তিনি উল্লেখ করেন : "Kashmir's accession to India was accepted by us at the request of the Maharaja's government and the most numerously representative popular organization in the state which is predominantly Muslim. Even then it was accepted on condition that as soon as law and order had been restored, the people of Kashmir would decide the question of accession. It is open to them to accede to either Dominion (India or Pakistan) then."
কিন্তু সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো, এই দু’টি টেলিগ্রামেই নেহরু কাশ্মিরের জনগণের ইচ্ছা অনুযায়ী তাদের পাকিস্তান বা ভারতে অন্তর্ভুক্তির সুযোগ দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। বাস্তবে তা তিনি করেননি। সে প্রতিশ্রুতি তিনি ও তার দেশ শতভাগ ভঙ্গ করেছে। বরং তা না করে তিনি আরো দু’টি প্রিন্সলি স্টেট হায়দরাবাদ ও জুনাগড় দখল করতে সেখানে ভারতীয় সৈন্য পাঠিয়েছিলেন। এবং সামরিক অভিযান চালিয়েই ভারত স্টেট দু’টি দখল করে। অথচ এই দু’টি রাজ্য পাকিস্তানের সাথে যোগ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। সে ইতিহাস কারো অজানা নয়।
কাশ্মিরের মানুষের পক্ষে কথা বলার জন্য যখন অরুন্ধতীকে রাষ্ট্রদ্রোহী প্রমাণের তোড়জোড় চলছিল নানা মহল থেকে, তখন তিনি ২০১০ সালের ২৬ অক্টোবর এক বিবৃতি প্রকাশ করে একটি কথাই তুলে ধরতে চেয়েছিলেন। তার ভাষায়Ñ “আমার বক্তব্যের কপিটি মনোযোগের সাথে পড়ে দেখলে বুঝতে পারবেন, সেখানে আমার মৌল আহ্বানটি ছিল ন্যায়বিচার। আমি কথা বলেছি কাশ্মিরের জনগণের প্রতি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য, যারা এখন বসবাস করছেন বিশ্বের ‘মোস্ট ব্রুটাল মিলিটারি অকুপেশনে’র অধীনে।”
কাশ্মিরের মানুষ তাদের আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার চায়। এরা চায় না ভারত থেকে বেরিয়ে পাকিস্তানে যোগ দিতে। কিংবা পাকিস্তান থেকে বেরিয়ে ভারতে যোগ দিতে। কাশ্মির ভারতের নয়, পাকিস্তানেরও নয়। কাশ্মির কাশ্মিরিদের। এরা চায় স্বাধীন কাশ্মির। আজাদ কাশ্মির। শুধু জম্মু ও কাশ্মির নয়, লাদাখ মুজাফ্ফরাবাদ, মিরপুর সমগ্র কাশ্মির এদের। সে কাশ্মিরের কথাই বলছে কাশ্মিরিরা। সে কাশ্মির পাওয়ার পথ একটাই : আজাদি দ্য অনলি ওয়ে। সে জন্য চাই এক অমোঘ সত্যের উপলব্ধি : ‘কাশ্মির ইজ নট অ্যা পার্ট অব ইন্ডিয়া’। এই দুই সত্য মেনে নেয়ায় ভারতের ব্যর্থতা ক্ষমাহীন সীমাহীন। প্রতিশ্রুতি ভঙ্গই যেন এ ক্ষেত্রে ভারতের অঙ্গভূষণ। জওয়াহেরলাল নেহরুর আরেকটি প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েই এ লেখার ইতি টানতে চাই। ১৯৪৭ সালের ২১ নভেম্বর তিনি তার ৩৬৮ নম্বর চিঠিতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীকে লিখেছিলেন :'I have repeatedly stated that as soon as peace and order have been established, Kashmir should decide of accession by Plebiscite or referendum under international auspices such as those of United Nations.' (এভাবে পরবর্তী সময়ে নেহরু কাশ্মিরের জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার প্রশ্নে রেফারেন্ডাম দেয়ার প্রতিশ্রুতি বারবার উল্লেখ করেছেন)
নেহরুর প্রতিশ্রুত কাশ্মিরিদের আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকারের সেই রেফারেন্ডাম বা গণভোটের কথা ভারতীয় শাসকেরা কোনো দিন মুখে আনছেন না। আশা করি, কাশ্মিরের মানুষের আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার প্রতিষ্ঠা করার ক্ষেত্রে নেহরুর দায়ভার পরিমাপ ও তা পালনে তার ও তার পরবর্তী ভারতীয় নেতাদের ব্যর্থতার মাত্রাটা এবার অন্তত উপলব্ধিতে নেবেন। কাশ্মির সমস্যা সমাধানে ইতিবাচক পদক্ষেপ নিয়ে এগিয়ে আসবেন। অনেক হয়েছে আর নয়। স্বাধীনতার কথা বলতে কাশ্মিরিরা আর কত নির্যাতিত হবেন?

হোসেনি দালানে নিহত কিশোর সুন্নী

ঢাকায় শিয়া সম্প্রদায়ের তাজিয়া মিছিলের প্রস্তুতির সময় হোসেনি দালানে হামলায় নিহত কিশোর সাজ্জাদ হোসেন সানজুর বাড়িতে এখনো স্তব্ধ তার পরিবার। শিয়াদের মিছিলে হামলা হলেও নিহত সাজ্জাদের পরিবার কিন্তু সুন্নি।
সপ্তম শ্রেনীতে পড়ত ১৫ বছর বয়সী সানজু। তার সহপাঠী, শিক্ষক ও পাড়া প্রতিবেশীরা রবিবারও সমবেদনা জানাতে বাড়িতে এসে ভিড় করেছেন।
তার পরিবার বলছে, হোসেনি দালানের ভেতরে এমন ঘটনা বাংলাদেশের জন্য দুর্ভাগ্যজনক। এর পেছনে জড়িতদের বিচার না হলে তা হবে সরকারের ব্যর্থতা।
কর্তৃপক্ষ তাদের হয়রানি করছে বলেও অভিযোগ করছে নিহত সাজ্জাদ হোসেন সানজুর পরিবার, যারা বসবাস করেন ঢাকার কাছেই কেরানিগঞ্জে।
কেরানিগঞ্জের শুভাঢ্যা এলাকায় যে বাড়িতে সানজুর পরিবারের বাস সেখানে গিয়ে দেখা গেলো মেঝের উপর গোল হয়ে বসে আছেন সবাই।
কোনও কথা নেই কারো মুখে। মা রাশেদা বলছিলেন পাচ ভাই দুবোনের মধ্যে সব চাইতে ছোট সানজু ক্রিকেট খেলা নিয়ে খুব আগ্রহী ছিল।
স্থানীয় চরাইল উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেনীর ছাত্র ছিলো সানজু। কদিন ধরে স্কুলের ছুটি চলছিল। মা রাশেদা জানালেন কয়েকদিন ধরেই তাই সে তাজিয়ার মিছিলে যাবার ব্যাপারে খুব ইচ্ছা প্রকাশ করছিল।
বোমা হামলার ঘটনায় এই পরিবারের আরো তিন জন আহত হয়েছেন। সানজুর ভাবি সুমি বেগম তাদের একজন।
নিহতের শোকাহত স্বজনরা
তিনি বলছিলেন, ঘটনার পর সানজুকে নিয়ে যখন হাসপাতালে ছুটছিলেন, তখন কারো সাহায্য পাননি তারা।
মাত্র কদিন আগেই তোলা সানজুর একটি ফটোগ্রাফ হাতে নিয়ে ঘরের এক কোনায় বসে ছিলেন বাবা মোহাম্মদ নাসির। সেটি সবাইকে দেখাচ্ছিলেন তিনি।
মি নাসের বলছিলেন, তারা সুন্নি মুসলিম হলেও শিয়া সম্প্রদায়ের এই আয়োজনে নিয়মিত অংশ নিতেন। হোসেনি দালানের ভেতরে ঐতিহ্যবাহী এই আয়োজনে এমন ঘটনাকে বাংলাদেশের জন্য এক দুর্ভাগ্য বলে অভিহিত করলেন মোহাম্মদ নাসির।
তিনি আরো বলছেন, এ ঘটনার সাথে জড়িতদের ধরে বিচারের আওতায় না আনা গেলে তা হবে সরকারের ব্যার্থতা।
ঘটনার পর থেকেই বারবার পুলিশ ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ডাক পড়ছে এই পরিবারের সদস্যদের।
মি নাসির বলছেন, কর্তৃপক্ষের কেউ এখনও আসেননি তার বাড়িতে, বরং তাদেরকেই বারবার ডাকা হচ্ছে। অনেক রাত অবধি থানায় বসিয়ে রাখা হয়েছে।
এই প্রতিবেদকের সামনেই জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে ফোন পান মি. নাসির। তিনি বলছিলেন, ফোনে তাকে বলা হলো জাতীয় পরিচয় পত্র নিয়ে ঢাকা জেলা প্রশাসকের অফিসে যেতে।
“আমারে বলতেছে তাড়াতাড়ি আসেন নাইলে কিন্তু পাইবেন না। আমি জিজ্ঞেস করলাম কী পামু না। তখন ওরা বললো মুরুব্বি একটু আসেন তারপর কথা বলি। দ্যাখেন যার ছেলে হারায় তার তো এমনিতেই অবস্থা অন্য রকম থাকে। মনে করেন পুলিশ বা অন্যরা তারে নিয়া যদি টানা হেঁচড়া করেন, বারবার ডাকেন, পেরেশানি করেন, তাইলে তো ঐ মানুষটারে মাইরা ফালানের অবস্থা!”
এই বিষয়টিকে শোক সন্তপ্ত একটি পরিবারের জন্য চরম এক হয়রানি বলেও মনে করছেন তিনি।
তবে কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এখন কিছুই চান না সাজ্জাদ হোসেন সানজুর পরিবার। শুধু ঘটনার সাথে জড়িতদের দ্রুত সনাক্ত করে বিচারের দাবি করছেন তারা।
সূত্র : বিবিসি

৪০০ বছরের ঐতিহ্যে সন্ত্রাসের থাবা

বোমা হামলায় রক্তাক্ত হলো শিয়া মুসলিমদের তাজিয়া মিছিল। কারবালার শোককে ধারণ করে শিয়া সম্প্রদায়ের বার্ষিক এ আয়োজনে বোমা হামলার ঘটনায় রক্তরঞ্জিত হলো ৪০০ বছরের ঐতিহ্য। সন্ত্রাসের কালো থাবায় শোকের মিছিলেই প্রাণ গেলো কিশোর সাজ্জাদের। আহত হয়েছেন শতাধিক মানুষ। প্রায় চারশ’ বছর ধরে ধর্মীয় সম্প্রীতির অনন্য নিদর্শন হিসেবে পুরান ঢাকার হোসেনি দালান থেকে মহররমের তাজিয়া মিছিল বের হয়ে আসছে। এবারই প্রথম এতে হামলার ঘটনা ঘটলো।
গত শুক্রবার মধ্যরাতে তাজিয়া মিছিল বের করার প্রস্তুতি নেয়ার সময় দুর্বৃত্তদের পাঁচটি হাতবোমার বিস্ফোরণে প্রকম্পিত হয়ে উঠে হোসেনি দালানের ইমামবাড়া। শোক মিছিলের প্রস্তুতি বাদ দিয়ে দিগ্বিদিক ছুটতে হয় জড়ো হওয়া হাজারো মানুষকে। বোমা হামলায় লুটিয়ে পড়লেন নারী-শিশুসহ শতাধিক মানুষ। আতঙ্কিত হয়ে পরে পুরো এলাকার অধিবাসীরা। কান্না আর আহাজারিতে ভারি হয়ে ওঠে শোক মিছিল। যে যেভাবে পেরেছেন ছুটে গেছেন নিরাপদ দূরত্বে। ছুটতে গিয়ে পদদলিত হয়েছেন অনেকে। পরক্ষণেই আহতদের উদ্ধার করে নেয়া হয় ঢাকা মেডিক্যালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে। যদিও তাজিয়া মিছিলের প্রস্তুতি উপলক্ষে ব্যাপক নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছিল পুরো এলাকায়। কিন্তু এত নিরাপত্তার মধ্যেও দুর্বৃত্তরা হামলার পর নির্বিঘ্নে পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থলে ছুটে যান আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। রাতেই পুরো এলাকা কর্ডন করা হয়। জব্দ করা হয় বিস্ফোরিত বোমার বিভিন্ন খণ্ডাংশ। উদ্ধার করা হয় তাজা বোমাও। ঘটনার পর পর পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অন্তত ৪-৫ জনকে আটক করেছে। গতকাল এ ঘটনায় চকবাজার থানা পুলিশের পক্ষ থেকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। গতকালই মামলাটির তদন্তভার ডিবিতে স্থানান্তর করা হয়েছে। এদিকে ঘটনার প্রায় ১৪ ঘণ্টা পর যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সাইট ইন্টিলিজেন্স গ্রুপ এ হামলায় আইএসের দায় স্বীকারের কথা জানায়। যদিও সরকারের দায়িত্বশীলরা এ ঘটনায় আইএসের সংশ্লিষ্টতা উড়িয়ে দিয়ে বলেছেন, দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করতেই পরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালানো হয়েছে। যদিও গতকাল পর্যন্ত হামলায় জড়িত কাউকে আটক করতে পারেনি আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা। এ বোমা হামলার পর অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাজ্য তাদের নাগরিকদের জন্য নতুন করে ভ্রমণ সতর্কতা জারি করেছে। নিন্দা জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল গতকাল সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, বাংলাদেশে ‘কিছু হলেই’ আইএস-এর নামে দায় স্বীকারের যেসব বার্তা আসছে, তার পেছনে ‘অন্য  কোন উদ্দেশ্য’ রয়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশে ‘সাংগঠনিকভাবে’ আইএস-এর অস্তিত্ব থাকার কোন প্রমাণ পায়নি গোয়েন্দারা। অথচ একটা কিছু হলেই তাৎক্ষণিকভাবে আইএস বিবৃতি দিচ্ছে। এটা প্রপাগান্ডা হতে পারে, এর পেছনে উদ্দেশ্য থাকতে পারে। মন্ত্রী বলেন, আমরা তদন্ত করছি। যারাই হরকাতুল জিহাদ, তারাই হুজি, তারাই জেএমবি, তারাই আনসারুল্লাহ, তারাই শিবির। সবই একসূত্রে গাঁথা।’ ঘটনার পরদিন হাসপাতালে আহতদের দেখতে গিয়ে পুলিশের মহাপরিদর্শক এ কে এম শহীদুল হক বলেন, আমরা প্রাথমিক তদন্তে জানতে পেরেছি, এটা স্বাধীনতাবিরোধী চক্রের কাজ। পুলিশের এএসআই হত্যাকাণ্ড আর এই বোমা বিস্ফোরণ একই সূত্রে গাঁথা। এসআই হত্যার ঘটনায় আটক মাসুদ রানার তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ বোমা ও ককটেল উদ্ধার করেছে। ওই বোমার সঙ্গে হোসেনি দালানে বিস্ফোরিত বোমার মিল রয়েছে। এতে মনে হয় একই চক্র এ নাশকতা ঘটিয়েছে। আইজিপি বলেন, এই চক্রটি হত্যা ও নাশকতা চালানোর জন্য বিভিন্ন গ্রুপকে দায়িত্ব দিয়েছিল। যাদের একটি গ্রুপ এএসআইকে হত্যা করেছে, আরেকটি গ্রুপ হোসেনি দালানে বোমা বিস্ফোরণ ঘটায়।
এদিকে রাতে বোমা হামলার পর সকালে তাজিয়া মিছিল  বের করা নিয়ে সংশয় দেখা দিলেও হোসেনি দালান কর্তৃপক্ষ সকালে মিছিল বের করার সিদ্ধান্ত নেয়। মিছিলে কয়েক হাজার লোক অংশ নেন। হোসেনি দালান থেকে মিছিলটি ধানমন্ডির ঝিগাতলায় গিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়।
হামলাকারী দু’জন: ঘটনার পর সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনার বরাত দিয়ে গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলছেন, তাজিয়া মিছিলের হামলায় অংশ নিয়েছিল দুই দুর্বৃত্ত। দু’জনের মধ্যে একজন হাতে তৈরি গ্রেনেডগুলো ছুড়ে মারে। অপরজন ছিল তার সহযোগী। সিসিটিভি ফুটেজে হামলাকারী দুজনের একজনকে বোমা নিক্ষেপ করতে দেখা গিয়েছে বলে গোয়েন্দা পুলিশের এক কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন। ওই কর্মকর্তা জানান, ইমামবাড়ার ভেতরের কবরস্থানের এক পাশ থেকে বোমা হামলা চালানো হয়। ওই জায়গাটি কিছুটা অন্ধকারাচ্ছন্ন ছিল। একারণে দুর্বৃত্তরা ওই স্থানে গিয়ে হামলা চালায়। সিসিটিভির ফুটেজে তাদের চেহারা পরিষ্কারভাবে দেখা যায় না। তবে চেহারা দেখে তাদের চিহ্নিত করার প্রচেষ্টা চলছে। গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, ইমামবাড়ায় সাধারণ সময়ে তাদের নিজস্ব ১৬টি সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো থাকে। তাজিয়া মিছিল উপলক্ষে আরও ১৬টি সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছিল পুলিশের পক্ষ থেকে। সবগুলো ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। এসব ফুটেজ বিশ্লেষণ করে হামলাকারীদের শনাক্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
ছদ্মবেশে ঢুকেছিল দুর্বৃত্তরা: আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হামলাকারী দুর্বৃত্তরা ছদ্মবেশে ইমামবাড়ায় ঢুকেছিল। তাজিয়া মিছিল উপলক্ষে ইমামবাড়ার ভেতরে শিয়া মুসলিম ছাড়াও সুন্নি মুসলিমরা যোগ দেন ও নানা বিষয়ে ‘মানত’ করে থাকেন। পুলিশ কর্মকর্তাদের ধারণা, দুর্বৃত্তরা শিয়া ছদ্মবেশে ইমামবাড়ার ভেতরে ঢুকেছিল। সিসিটিভি ফুটেজে তাদের শরীরে তাজিয়া মিছিলের অংশ নেয়ার জন্য লাল-নীল কাপড়ও ছিল। গ্রেনেড নিক্ষেপকারী দুইজন মানুষের ভিড়ের সঙ্গে মিশে হোসেনি দালানের ভেতরে কবরস্থানের কর্ণারে গিয়ে অবস্থান নেয়। হামলার পর দুর্বৃত্তরা ইমামবাড়ার পেছনের দরজা দিয়ে পালিয়ে যায়। গোয়েন্দা সংশ্লিষ্টরা জানান, বোমা বিস্ফোরণের পরপরই সবাই পড়িমরি করে দৌড়াতে থাকে। এই সুযোগে হামলাকারীরাও নিরাপদে পেছনের দরজা দিয়ে বাইরে  বের হয়ে যায়। কারণ হিসেবে গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলেন, ইমামবাড়ার সামনের রাস্তায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অসংখ্য সদস্য মোতায়েন ছিল। হামলাকারীরা এ কারণে সামনের দিকে আসেনি। আর ইমামবাড়া কর্তৃপক্ষ বরাবরের মতো ভেতরে নিজেরাই ভলান্টিয়ার দিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিতের দায়িত্ব নিয়েছিল। বাইরে অংশে মোতায়েন করা হয়েছিল র‌্যাব-পুলিশ সদস্যদের। গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলছেন, তাদের ধারণা ছিল অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরির জন্য কেউ হামলা চালাতে চাইলে ইমামবাড়ার সামনের রাস্তায় হামলা হতে পারে। ইমামবাড়া কর্তৃপক্ষও ভাবতে পারেনি দুর্বৃত্তরা ভেতরে ঢুকে হামলা চালাতে পারে।
নিক্ষেপ করা হয় ৫টি গ্রেনেড: গোয়েন্দা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, তাজিয়া মিছিলের প্রস্তুতির সময় মোট ৫টি হাতে তৈরি গ্রেনেড নিক্ষেপ করা হয়েছিল। এর মধ্যে তিনটি বিস্ফোরিত হয়েছে। একটি অবিস্ফোরিত রয়েছে আর অপর একটি পিন খোলা হলেও সেটি বিস্ফোরিত না হয়ে অকার্যকর হয়ে যায়। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের সদস্যরা জানান, হামলায় ব্যবহৃত বোমাগুলো জিআই পাইপ কেটে ভেতরে ডেটোনেটর বসিয়ে তৈরি করা হয়। এর ভেতরে বিস্ফোরক থাকলেও স্প্লিন্টার ছিল না। প্রতিটি গ্রেনেডের ওজন ছিল আনুমানিক ৬০০ গ্রাম করে। বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের সদস্যরা জানান, হাতে তৈরি এসব গ্রেনেডের ভেতরে ১৫০ ভোল্টের ৪টি করে ব্যাটারি যুক্ত করা ছিল। আর পিন খোলার ৫ সেকেন্ডের মধ্যে বিস্ফোরিত হবে এমনভাবে এসব তৈরি করা হয়েছিল। বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের প্রধান ও ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার ছানোয়ার হোসেন বলেন, হামলায় ব্যবহৃত বোমাগুলো মধ্যমমানের। বিস্ফোরণের পর জিআই পাইপের ক্ষুদ্রাংশগুলো স্প্লিন্টার হিসেবে মানুষের শরীরে গিয়ে আঘাত হেনেছে। এদিকে গতকালও ঘটনাস্থল থেকে গ্রেনেডের ক্লিপ উদ্ধার করেছে র‌্যাব-১০ এর একটি দল। র‌্যাব ১০-এর অধিনায়ক (সিও) জাহাঙ্গীর হোসেন মাতুব্বর জানান, ঘটনাস্থল থেকে র‌্যাব চারটি হ্যান্ড গ্রেনেডের ক্লিপ উদ্ধার করেছে। এগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা: এদিকে শিয়া মুসলিমদের ওপর হামলার ঘটনায় গতকাল চকবাজার থানার এসআই জালাল উদ্দিন বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা (নং ১৯) দায়ের করেন। সন্ত্রাসবিরোধী আইন ২০০৯ (সংশোধিত ২০১৩) এর ধারা ৬(২) এর (এ) (বি) (সি) (ডি) (ই) মোতাবেক অপরাধ হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়। মামলায় অজ্ঞাতনামাদের আসামি করা হয়েছে। মামলার অভিযোগে বলা হয়, মুসলিম শিয়া সম্প্রদায়ের সদস্যরা প্রতিবছর পবিত্র আশুরা উপলক্ষে শোক মিছিল বের করে থাকে। শত বছরের ঐতিহ্যবাহী এই মিছিলে হাজার হাজার লোক অংশ নেয়। তাদের শান্তিপূর্ণ মিছিলে বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে তাদেরকে ঐতিহ্যবাহী শোক মিছিল থেকে বিরত রাখা, বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে বিরাজমান সংহতি বিনষ্ট করা এবং জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার লক্ষ্যে অজ্ঞাতনামা সন্ত্রাসী গোষ্ঠী তাদের পরিকল্পনা এবং ধারাবাহিক ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে বোমা/গ্রেনেড বিস্ফোরণ ঘটিয়ে একজনকে হত্যা ও শতাধিক ব্যক্তিকে জখম করে। পাশাপাশি ইমামবাড়ার ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা ধ্বংসের প্রচেষ্টা চালায়। ঘটনাস্থল এবং ঘটনার বৈশিষ্ট্য পর্যালোচনায় প্রতীয়মান হয় যে, সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর একটি অংশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তাদের ষড়যন্ত্র ও ধারাবাহিক পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বোমা/গ্রেনেড বিস্ফোরণ ঘটনায় এবং তাদের অপর একটি অংশ ঘটনা সংঘটনে আর্থিক সহায়তা, প্রশিক্ষণ, পরামর্শ ও নির্দেশনা প্রদান করে।
সন্দেহভাজন ৪-৫ জন আটক: তাজিয়া মিছিলের প্রস্তুতির সময় বোমা হামলার ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে ৪-৫ জনকে আটক করা হয়েছে। ঘটনার পরপর ইমামবাড়া কর্তৃপক্ষ তাদের আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে বলে জানা গেছে। গোয়েন্দা সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, যাদের আটক করা হয়েছে তাদের কাছ থেকে তেমন কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। আটককৃতদের একজন মাদকাসক্ত। পুলিশ এরই মধ্যে সন্দেহভাজনদের ধরতে অভিযান শুরু করেছে।
তদন্ত কমিটি গঠন: তাজিয়া মিছিলের প্রস্তুতি মিছিলে বোমা হামলার ঘটনায় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ- ডিএমপি। এই কমিটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরাপত্তায় কোন ব্যত্যয় ছিল কিনা তা খতিয়ে দেখবে। আগামী সাত দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রধান করা হয়েছে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) শেখ মুহাম্মদ মারুফ হাসান। অন্য দুই সদস্য হলেন- ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম) কৃষ্ণপদ রায় ও ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) মাশরুকুর রহমান খালেদ।

সংসদ পুতুল নাচের নাট্যশালা : টিআইবি

গত ৫ জানুয়ারির নির্বাচনকে ‘বিতর্কিত’ ও বর্তমান সংসদকে ‘পুতুল নাচের নাট্যশালা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। ধানমণ্ডির মাইডাস সেন্টারে রোববার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এ মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, আমি দায়িত্ব নিয়ে বলছি, দশম সংসদ নির্বাচন ছিল ‘বিতর্কিত’। একই সাথে প্রশ্নবিদ্ধ ‘তথাকথিত’ বিরোধী দল দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করছে না। এটা উদ্বেগের, হতাশার। বিরোধী দল সরকারি দলের লেজুরবৃত্তি করছে। সরকারি দলের অংশ হিসেবে থাকায় তারা এখনও নিজেদের অবস্থান প্রমাণ করতে পারেনি। তাই সবার অংশগ্রহণে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন প্রত্যাশা করেন তিনি।
সংসদকে ‘পুতুল নাচের নাট্যশালা’ হিসেবে আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, সার্বিকভাবে সংসদের কার্যক্রমে আমরা হতাশ। সংসদে সরকারি ও বিরোধী দলের উপস্থিতি গ্রহণযোগ্য নয়। সংসদীয় আচরণ থেকে ব্যাপক বিচ্যুতি হয়েছে। একটি দল বা জোট যাদের সংসদে উপস্থিত নেই, তাদের নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে। প্রতিপক্ষের সমালোচনা আগের সংসদের চেয়ে ১২ গুণ বেড়েছে।
সংসদ সদস্যদের যোগত্যার প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, সংসদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আইন প্রণয়ন কার্যবলীতে এমপিদের অংশগ্রহণ হতাশাজনক। ৩৫০ জন এমপির মধ্যে মাত্র ২৯ জন সদস্য আলোচনায় অংশ নিয়েছেন। আমার মনে হয়, এমপিদের আইন প্রণয়ন কার্যবলী সম্পর্কিত আলোচনায় অংশ নেয়ার যোগ্যতা নেই, দক্ষতা নেই। একই সাথে এটিও হতে পারে, এমপিদের আইন সম্পর্কিত কার্যবলীতে আলোচনায় অংশ নেয়ার মানসিকতাও নেই।
ড. ইফতেখার বলেন, সংসদীয় কমিটির মূল দায়িত্ব পালনের প্রতি অনীহা ও সংসদ সদস্যদের অবহেলা বিশেষভাবে লক্ষ্যণীয়। নবম সংসদে বিরোধী দলের উপস্থিতির হার ৪ শতাংশ। এবার বিরোধীদলের উপস্থিতি ৫৩ শতাংশ। সেদিক থেকে সংসদে বিরোধী দলের অংশগ্রহণ বেড়েছে। তবে বিরোধীদল কতটুকু বিরোধী তা নিয়ে যথেষ্ট প্রশ্ন রয়েছে।
টিআইবির উপ-নির্বাহী পরিচালক ড. সুমাইয়া খায়ের, পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল হাসান, রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি বিভাগের ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার ফাতেমা আফরোজ, মোরশেদ আক্তার, প্রোগ্রাম ম্যানেজার জুলিয়েট রোজেটি উপস্থিত ছিলেন।
গবেষণায় বলা হয়, পর্যবেক্ষণাধীন অধিবেশনগুলোতে সংসদীয় আলোচনার ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো সরকারি দল ও ‘প্রধান বিরোধীদল’ সম্মিলিত সুরে সংসদের বাইরে রাজনৈতিক দলের সমালোচনায় মুখর হয়েছেন। সরকারের মন্ত্রিসভার অংশবিশেষ এই কথিত ‘প্রধান বিরোধীদলের’ সরকারের লেজুড়বৃত্তি ছিলো পরিষ্কার। তদুপরি সরকার দলের পক্ষ থেকেও এই লেজুড়বৃত্তিকে বিভিন্নভাবে দশম সংসদের ইতিবাচক অর্জন হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা অব্যাহত ছিলো।
প্রতিবদনটি ‘পার্লামেন্টওয়াচ’ ধারাবাহিকের ১২তম ও দশম জাতীয় সংসদের ওপর দ্বিতীয় প্রতিবেদন। ২০১৪ সালের জুন মাস থেকে ২০১৫ সালের জুলাই মাস পর্যন্ত সময়ে এ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।
গবেষণার ফলাফলে বলা হয়, বিদেশিদের সাথে সম্পাদিত সব চুক্তি সংসদে উপস্থাপন করার কথা সংবিধানে উল্লেখ করা হলেও স্বাক্ষরিত ২৫টি চুক্তি নিয়ে পাঁচটি সংসদ অধিবেশনের কোনোটিতেই আলোচনা হয়নি। ‘বিতর্কিত’ নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠনের পর থেকে প্রশ্নবিদ্ধ প্রধান বিরোধীদলের প্রত্যাশিত জোরালো ভূমিকার ঘাটতি; সংসদের বাইরের রাজনৈতিক জোট নিয়ে অপ্রাসঙ্গিক সমালোচনা ও অশালীন ভাষার প্রাধান্য; অসংসদীয় আচরণ ও ভাষার ব্যবহার বন্ধে স্পিকারের শক্তিশালী ভূমিকার অনুপস্থিতি; আইন প্রণয়ন; প্রশ্নোত্তর ও জনগুরুত্বপূর্ণ নোটিশের আলোচনায় সদস্যদের কম অংশগ্রহণ; কমিটির সদস্যদের ব্যবসায়িক সংশ্লিষ্টতাসহ স্বার্থের দ্বন্দ্ব; সংসদীয় কার্যক্রমে তথ্যের উন্মুক্ততা ও অভিগম্যতার ঘাটতি ইত্যাদি কারণে সংসদ প্রত্যাশিত পর্যায়ে কার্যকর হয়নি।

রক্তাক্ত হোসনি দালান: তাজিয়া মিছিলে বোমা হামলায় নিহত ১ আহত দেড় শতাধিক

রাজধানীর হোসনি দালান এলাকায় তাজিয়া মিছিলের প্রস্তুতিকালে বোমা হামলায় এক শিশু নিহত ও অন্তত দেড় শ’ মানুষ আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে এখনো প্রায় অর্ধশত রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি আছেন। ইমাম হোসাইনের (রা:) শহীদ হওয়ার দিনকে উপলক্ষ করে গত শুক্রবার গভীর রাতে মুসলমানদের শিয়া সম্প্রদায়ের অনুসারীরা তাজিয়া মিছিলের প্রস্তুতিকালে এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বেষ্টনীর মধ্যে দুর্বৃত্তরা এ হামলা চালিয়ে পালিয়ে যায়।
পবিত্র আশুরায় নানা আয়োজনে দিবসটি পালিত হয়। তবে ঢাকায় এই আয়োজন চোখে পড়ার মতো। বিশেষ করে অবাঙালি অধ্যুষিত এলাকায় এই দিনকে স্মরণ করতে নানা আয়োজন চলে। দুলদুল সাজিয়ে বের হয় তাজিয়া মিছিল। পুরান ঢাকা ও মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে প্রতি বছরই দু’টি বিশাল মিছিল বের হয়। পুরান ঢাকার মিছিলটি হোসনি দালান এলাকা থেকে বের হয়ে বিভিন্ন এলাকা প্রদক্ষিণ করে। অপর দিকে মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্প এলাকা থেকে মিছিল বের হয়ে ঝিগাতলা এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। হোসনি দালান এলাকা থেকে গত ৪০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে এভাবে তাজিয়া মিছিল বের হয়ে আসছে। নির্বিঘেœ দিনটি অতিবাহিত হয়ে আসছে এ দীর্ঘ সময়। কিন্তু এবারের আশুরায় ঘটেছে বিস্ফোরণের ঘটনা।
প্রত্যক্ষদর্শী ও শিয়া সম্প্রদায়ের লোকজন বলেছেন, এমনটি তারা কোনো দিনও কল্পনা করেননি। তাজিয়া মিছিলে এমন হামলার ঘটনা ঘটবে তা তারা স্বপ্নেও ভাবেননি। সাজিদ নামে এক যুবক বলেন, শত শত বছর ধরে এভাবে তারা ঐতিহ্যবাহী তাজিয়া মিছিল করে আসছেন। কিন্তু এবারেই বোমা হামলার শিকার হলেন। তিনি বলেন, রাত তখন ১টা ৫৫ মিনিটের মতো। হঠাৎ একটি বিস্ফোরণ, মানুষের দৌড়াদৌড়ি, বাঁচার আকুতি। এর মধ্যে আরো একটি বিস্ফোরণ। পরে ছোট ছোট আরো কয়েকটি শব্দ। সাজিদ বলেন, মুহূর্তে পুরো এলাকা রক্তাক্ত। আহত অবস্থায় অনেকে রাস্তার ওপর পড়ে আছেন। আবার কেউ কেউ রক্তাক্ত অবস্থায় নিরাপদ স্থানে দৌড়াচ্ছেন। কয়েক মিনিটের মধ্যে পুরো এলাকা ফাঁকা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, কোত্থেকে কে বা কারা এ বোমা হামলা চালিয়েছে প্রচণ্ড ভিড়ে তা লক্ষ করা যায়নি। পুরো এলাকা যেমন মানুষে কানায় কানায় পূর্ণ, তেমনি রাতের অন্ধকার। বিস্ফোরণের পর জীবন নিয়েই টানাটানি।
এ দিকে ঘটনাস্থল থেকে অনেকে নিজেরাই আহত অবস্থায় গিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। আবার অনেকে এতটাই গুরুতর ছিলেন যে তাদের ঘটনাস্থল থেকে অন্যরা উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন। হাসপাতালে যাদের নেয়া হয় তাদের মধ্যে সাজ্জাদ হোসেন সনজু (১৫) নামে এক স্কুলছাত্র নিহত হয়। সাজ্জাদের বাবার নাম মো: নাসির হোসেন। বাসা কেরানীগঞ্জের চরাইল হাইস্কুল হাবিবনগর গোলাবাজার এলাকায়। আগে তারা বাবুবাজারের ৫/১ জুম্মা লেনে বসবাস করত। স্থানীয় স্কুলের সপ্তম শ্রেণীর ছাত্র ছিল সে। পরিবারের সাথে সে হোসনি দালানে এসেছিল।
সাজ্জাদের বড় ভাই রাশেদ হোসেন বলেন, রাত ১১টায় তারা কেরানীগঞ্জ থেকে হোসনি দালান এলাকায় আসেন তাজিয়া মিছিলে অংশ নিতে।
তার সাথে ছিলেন স্ত্রী সুমি আক্তার, মেয়ে সিনহা, ছেলে শিহাব, শাশুড়ি আয়েশা এবং ছোট ভাই সাজ্জাদ। সবাই মিলে বিভিন্ন স্থানে ঘুরে রাত ১২টায় তারা হোসনি দালান মেইন কম্পাউন্ডে ঢোকেন। সেখানে তারা কতক্ষণ দুলদুল ঘোড়ার ঘরের কাছে দাঁড়ান। ঘোড়াটিকে সেখানে সাজিয়ে রাখা হয়েছিল মিছিলে বের হওয়ার জন্য। কিছু সময় পড়েই মূল মিছিল বের হওয়ার কথা ছিল। সে কারণে বিভিন্ন স্থান থেকে ছোট ছোট মিছিল নিয়ে শিয়া সম্প্রদায়ের লোকজন হোসনি দালান এলাকায় জড়ো হতে থাকেন। রাশেদ বলেন, এক সময় লোকজনে কানায় কানায় ভরে যায় পুরো এলাকা। তারা কবর জিয়ারতের জন্য যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। হঠাৎ বিকট বিস্ফোরণ। সময় তখন ১টা ৫৫ মিনিটের মতো। এর কয়েক সেকেন্ড পরেই মূল গেটে আবারো বিস্ফোরণ। রাশেদ বলেন, মুহূর্তে ছোটাছুটি। তার সঙ্গে যারা ছিলেন তারাও এদিক-ওদিক চলে যান। কোনো মতে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে তিনি সেখান থেকে বের হন। তার ছেলেমেয়ে ও স্ত্রীও আহত হয়েছেন। তাদের নিয়ে তিনি হাসপাতালে গিয়ে দেখেন তার ভাই সনজু ও শাশুড়ি আয়েশা ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ট্রলিতে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছেন। পরে তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ভর্তির পরে মারা যান তার ভাই সনজু।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, বোমার স্পিøন্টারে সনজুর হার্ট ও ফুসফুস ছিদ্র হয়ে গেছে। এতেই তার মৃত্যু ঘটেছে।
এই ঘটনায় আহত হয়েছেন দেড় শতাধিক। যার মধ্যে এখনো প্রায় অর্ধশত হাসপাতালে ভর্তি আছেন। এর মধ্যে ১৬ জন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, ২৭ জন মিটফোর্ড হাসপাতাল এবং বাকিরা বিভিন্ন কিনিকে ভর্তি আছেন। আহতদের মধ্যে অর্ধেকের বেশি নারী ও শিশু। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল সূত্র জানায়, এখানে ভর্তিকৃতরা হলেন, রুনা (৩০), আয়েশা (৫০), রিনা (৩৮), জামাল (৫৫), সানোয়ার (৩০), রুনি (২৫), নুর হোসেন (৫৫), রাকিব (২০), সোহান (১১), মনির (৩৬), হালিমা (২২), কামাল (২৩), সিনহা (১১), ফয়সাল (২), হাসম (৬) ও এরশাদ (২২)।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বোমা হামলার সময় সেখানে পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছিলেন। এর মধ্যেই দুর্বৃত্তরা হামলা চালিয়ে নির্বিঘেœ চলে যায়। ঘটনার পর সেখানে পুলিশ ও গোয়েন্দাদের ঊর্ধ্বতন কর্তারা হাজির হন। সেখান থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেন। গতকাল গোয়েন্দা পুলিশের এক কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বলেছেন, কবরস্থানের ভেতর থেকে বোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে এবং দু’জন এই বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে।
এ দিকে, র‌্যাব ১০-এর অধিনায়ক জাহাঙ্গীর হোসেন মাতুব্বর বলেছেন, হামলায় গ্রেনেড ব্যবহার করা হয়েছে এবং সেগুলো হাতে তৈরি। গতকাল বেলা সাড়ে ১২টায় তিনি হোসনি দালান চত্বরে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন। তিনি বলেছেন, এ গ্রেনেড ভেতর থেকেই মারা হয়েছে। কারণ চত্বরের চার পাশে বড় বড় দেয়াল ও ভবন আছে। বাইরে থেকে এগুলো মারা সম্ভব নয়। তিনি বলেছেন, গ্রেনেডে ব্যবহৃত দু’টি সেফটি কিপ গতকাল বেলা পৌনে ১২ টার দিকে উদ্ধার করা হয়। দুর্বৃত্তরা মোট ৫টি গ্রেনেড বিস্ফোরণের চেষ্টা করে। এর মধ্যে তিনটি বিস্ফোরিত হয়। বাকি দু’টি অবিস্ফোরিত ছিল। শনিবার ঘটনাস্থল থেকে অবিস্ফোরিত গ্রেনেড দু’টি ও দু’টি সেফটি কিপ উদ্ধার করা হয়। বাকি কিপ খোঁজা হচ্ছে।
এ দিকে মিছিলে বোমা হামলার ঘটনায় চকবাজার থানায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে। মামলাটি দায়ের করেছেন চকবাজার থানার এক এসআই। মামলায় কাউকে আসামি করা হয়নি।
নিহত সনজুর পরিবার জানিয়েছে, তারা শিয়া সম্প্রদায়ের নন। তারা সুন্নি সম্প্রদায়ের। তবুও প্রতি বছরই তারা এই তাজিয়া মিছিলে অংশ নেন। ঘটনার পর থেকে পুরান ঢাকায় মানুষের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও শোক বিরাজ করছে। ঘটনার পরদিন তারা কালো ব্যাজ ধারণ করে তাজিয়া মিছিলে অংশ নেন।
এ দিকে ঘটনার পর দুই দিন অতিবাহিত হলেও এর সাথে সম্পৃক্ত কাউকে শনাক্ত করতে পারেনি গোয়েন্দারা। মামলা দায়েরের পর থানা পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্ত শুরু করেছে।
এ দিকে গত রাতে মামলাটি তদন্তের জন্য গোয়েন্দা বিভাগে (ডিবি) ন্যস্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। ডিবি পুলিশ ইতোমধ্যেই অনানুষ্ঠানিকভাবে তদন্ত শুরু করেছে। র‌্যাব সদস্যরাও ছায়া তদন্ত শুরু করেছেন।
পুরান ঢাকার হোসনি দালানে শুক্রবার রাতে বোমা বিস্ফোরণের পর আহতদের হাসপাতালে নেয়া হয়; ইনসেটে নিহত সানজু : নয়া দিগন্ত

হাত-পায়ের জয়েন্টে ব্যথা হলে by ডা. এম ইয়াছিন আলী

আয়েশা খাতুন গৃহিণী, বয়স ২৮। কিছুদিন থেকে লক্ষ করছেন তার পুরো শরীরে ব্যথা। বিশেষ করে হাত-পায়ের ছোট ছোট জয়েন্টগুলোতে বেশি ব্যথা করে ও ফুলে যায়। সকালে ঘুম থেকে উঠার সময় এত বেশি ব্যথা হয় যে, বিছানা থেকে উঠতে পারেন না। কিছুক্ষণ হাঁটাচলা কিংবা কাজকর্ম করলে ব্যথা কমে আসে, পাশাপাশি শরীরে হালকা জ্বর থাকে। আয়েশা খাতুন সমস্যাটিকে অবহেলা না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলেন। ডাক্তার রোগের বর্ণনা শুনে এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বললেন আপনার রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস হয়েছে।
এটি পরিচিত একটি বাত রোগ। এটি অটোইম্যুন ডিজিজ যার নির্দিষ্ট কোনো কারণ এখন পর্র্যন্ত জানা যায়নি। পুরুষ ও মহিলা উভয়েরই হতে পারে। পুরুষের তুলনায় মেয়েদের বেশি হয়। সাধারণত ২৫ থেকে ৪৫ বছর বয়সীদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। এ সমস্যা সাধারণত সম্পূর্ণ নিরাময় হয় না।
লক্ষণ
প্রথমে হাত-পায়ের ছোট ছোট জয়েন্টগুলোতে ব্যথা করে। পরে শরীরের প্রতিটি জয়েন্টে সমস্যা দেখা দেয়।
জয়েন্টগুলো ফুলে যায় ।
সকালে ঘুম থেকে উঠার সময় ব্যথা বেশি হয়। পরে হাঁটাচলা ও কাজকর্মে ব্যথা কমে আসে।
ব্যথার পাশাপাশি শরীরে জ্বর জ্বর অনুভূত হয়। রিউম্যাটিক নডিউল দেখা যায়।
রোগ নির্ণয়
ক্লিনিক্যাল এক্সামিনেশন বা পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি রোগ নির্ণয়ে কিছু প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষা করার প্রয়োজন পড়ে। যেমনÑ সিবিসি উইথ ইএস আর, সিআরপি, আর এ টেস্ট, সেরাম ইউরিক এসিড, এএনএ এন্টিবডি, এন্টি সিসিপি ইত্যাদি এবং আক্রান্ত জয়েন্টগুলো এক্সরে করারও প্রয়োজন পড়ে।
চিকিৎসা ও করণীয়
এটি যেহেতু সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য রোগ নয়, তাই এর জন্য চিকিৎসকের নির্দেশনায় কিছু ওষুধ রোগীকে নিয়মিত খেতে হবে। পাশাপাশি এ রোগের জটিলতা যেমন জয়েন্টগুলো শক্তে হয়ে যায় ও বাঁকা হয়ে যায় ইত্যাদি প্রতিরোধ করার জন্য নিয়মিত ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা নিতে হবে এবং চিকিৎসকের নির্দেশিত ব্যায়াম করতে হবে।
লেখক : বাত, ব্যথা, পারালাইসিস ও ফিজিওথেরাপি বিশেষজ্ঞ, চেয়ারম্যান ও চিফ কনসালটেন্ট
ঢাকা সিটি ফিজিওথেরাপি হাসপাতাল, ধানমণ্ডি, ঢাকা

সাজ্জাদের বাড়িতে কারবালার মাতম ‘কর্তৃপক্ষ হয়রানি করছে’

কারবালার মাতম সাজ্জাদের বাড়িতে। কারবালাকে স্মরণ করে তাজিয়া মিছিল বের হবে সকালে। রাতে চলছে প্রস্তুতি। কে জানতো এখানে ঘটে যাবে আরেক কারবালা। সপ্তম শ্রেণীতে পড়তো সাজ্জাদ। অন্য সবার মতো সেও ঘর থেকে বেরিয়ে তাজিয়া মিছিলের প্রস্তুতি দেখতে যায় হোসনি দালানে। হঠাৎ বিকট শব্দ। কেঁপে ওঠে আশপাশ। সাজ্জাদ লাশ হয়ে ফিরলো ঘরে। তরতাজা ছেলে ঘর থেকে বেরিয়ে লাশ হয়ে ফিরলো দেখে সাজ্জাদের মা’র কান্নার শক্তিও হারিয়ে গেছে। শোকে পাথর হয়ে গেছেন তিনি। শুক্রবার গভীর রাতে বোমা হামলায় নিহত সাজ্জাদের বাড়িতে এখন এমন পরিবেশ। পাঁচ ভাই আর দুই বোনের মধ্যে সাজ্জাদ সবার ছোট। সাজ্জাদের বাবা নাসের পেশায় চাকরিজীবী। অন্য সন্তানরা তেমন লেখাপড়া না করায় ছোট ছেলেকে নিয়ে তার স্বপ্নের কমতি ছিলো না। কেরানীগঞ্জের চরাইলের নুরুল হক উচ্চ বিদ্যালয়ে সপ্তম শ্রেণির ছাত্র ছিলো সাজ্জাদ। পড়াশোনার বাইরে ক্রিকেট খেলা ছিলো তার সবচেয়ে শখের কাজ। তাই তো প্রায়ই বাবার কাছে আবদার করতো ভালো কোথাও ক্রিকেট প্র্যাকটিস করার ব্যবস্থা করে দিতে। ‘তুমি আগে এসএসসি পরীক্ষা দাও। ভালো রেজাল্ট করো। তারপর তোমাকে ক্লাবে ভর্তি করে দেবো।’ এই ছিলো বাবার উত্তর। কথাগুলো বলতেই কান্নায় বুক ভারি হয়ে যায় নাসির আহমেদের। কিছুক্ষণ চুপ থেকে আবার বলে উঠেন, সাজ্জাদ ছিলো আমার হাতের লাঠি। রোজকার বাজারে আমার সঙ্গে যেতো। এটা-ওটা কিনে দিতে আবদার করতো। কখনও ওর আবদার ফেলে দিতাম না। সাজ্জাদের মা বলেন, তাজিয়া মিছিলে যাওয়ার দিন আমাকে বললো- মা আমাকে টাকা দাও, পিঠা আনবো। পিঠা আনলো সবার জন্য। সবাইকে খেতে দিলো। এটাই ছিলো আমার সঙ্গে আমার কলিজার টুকরার শেষ কথা। গত ২০শে অক্টোবর ছিলো সাজ্জাদের ১৪তম জন্মদিন। প্রতিবার ঘরোয়া আয়োজনে ধুমধাম করে পালন করা হয়। পরিবারের ছোট সন্তান বলে কথা। কিন্তু এবছর আশুরার ব্যস্ততায় নিঃশব্দে কেটে গেছে দিনটি। এনিয়ে অভিমানেরও কমতি ছিলো না সাজ্জাদের। কখনও ভাবিকে, কখনও মাকে গিয়ে বলতো- তোমরা এবার আমার জন্মদিন পালন করোনি। বোমা হামলায় সাজ্জাদের সঙ্গে আহত হয়েছেন তার ভাবি, ভাগ্নি ও খালা। পায়ের জখম নিয়ে কিছুটা সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরেছেন ভাবি। তবে সাজ্জাদের খালা ও ভাগ্নির অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক। সাজ্জাদের ভাবি সুমি জানান, হঠাৎ বিকট শব্দ। চারদিকে অন্ধকার দেখছিলাম। সবাই যার যার মতো দৌড়াচ্ছে। বোমাটি এসে পড়ে আমাদের খুব কাছে। বোমার স্প্লিন্টারে কিছু বলতে পারছিলাম না। কিছুক্ষণ পর দেখি আমরা আহতাবস্থায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছি। পাশেই ছিলো পুলিশের গাড়ি। অনেক অনুরোধ করার পরও তারা গাড়িতে তোলেনি। কিছুক্ষণ পরে এম্বুলেন্স এসে ঢাকা মেডিক্যালে নিয়ে যায়। সাজ্জাদের বোন বলেন, ডাক্তার-নার্সদের কাছে ধরনা দিতে দিতে আমরা অস্থির হয়ে গেছি। কিন্তু তারা আমার ভাইকে একবারের জন্য চেয়েও দেখেনি। ডাক্তারদের আন্তরিকতা থাকলে হয়তো আমার ভাইকে বাঁচানো যেত। সাজ্জাদের পুরো নাম- সাজ্জাদ হোসেন সাঞ্জু। সাঞ্জু নামেই তাকে ডাকতো সবাই। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে বের হতেই চোখে পড়লো- কাঠের দরজায় সাজ্জাদের নিজ হাতের লেখা ‘সাঞ্জু’ নামটি। এসব দেখে সবাই মাতম করছে। কারবালার মাতম।
কর্তৃপক্ষ হয়রানি করছে, অভিযোগ পরিবারের
এদিকে, বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঢাকায় শিয়া সমপ্রদায়ের তাজিয়া মিছিলের প্রস্তুতির সময় হোসেনি দালানে হামলায় নিহত কিশোর সাজ্জাদ হোসেন সানজুর বাড়িতে এখনও স্তব্ধ তার পরিবার। শিয়াদের মিছিলে হামলা হলেও নিহত সাজ্জাদের পরিবার কিন্তু সুন্নি। সপ্তম শ্রেণিতে পড়তো ১৫ বছর বয়সী সানজু। তার সহপাঠী, শিক্ষক ও পাড়া প্রতিবেশীরা রোববারও সমবেদনা জানাতে বাড়িতে এসে ভিড় করেছেন। তার পরিবার বলছে, হোসেনি দালানের ভেতরে এমন ঘটনা বাংলাদেশের জন্য দুর্ভাগ্যজনক। এর পেছনে জড়িতদের বিচার না হলে তা হবে সরকারের ব্যর্থতা। কর্তৃপক্ষ তাদের হয়রানি করছে বলেও অভিযোগ করছে নিহত সাজ্জাদ হোসেন সানজুর পরিবার, যারা বসবাস করেন ঢাকার কাছেই কেরানীগঞ্জে। কেরানীগঞ্জের শুভাঢ্যা এলাকায় যে বাড়িতে সানজুর পরিবারের বাস সেখানে গিয়ে দেখা গেলো মেঝের উপর গোল হয়ে বসে আছেন সবাই। কোন কথা নেই কারো মুখে। মা রাশেদা বলছিলেন পাঁচ ভাই ও দু’বোনের মধ্যে সব চাইতে ছোট সানজু ক্রিকেট খেলা নিয়ে খুব আগ্রহী ছিল। স্থানীয় চরাইল উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণীর ছাত্র ছিল সানজু। ক’দিন ধরে স্কুলের ছুটি চলছিল। মা রাশেদা জানালেন কয়েকদিন ধরেই তাই সে তাজিয়ার মিছিলে যাবার ব্যাপারে খুব ইচ্ছা প্রকাশ করছিল। বোমা হামলার ঘটনায় এই পরিবারের আরও তিনজন আহত হয়েছেন। সানজুর ভাবি সুমি বেগম তাদের একজন। তিনি বলছিলেন, ঘটনার পর সানজুকে নিয়ে যখন হাসপাতালে ছুটছিলেন, তখন কারো সহযোগিতা পাননি। মাত্র ক’দিন আগেই তোলা সানজুর একটি ফটোগ্রাফ হাতে নিয়ে ঘরের এক কোনায় বসে ছিলেন বাবা মোহাম্মদ নাসির। সেটি সবাইকে দেখাচ্ছিলেন তিনি। মি. নাসের বলছিলেন, তারা সুন্নি মুসলিম হলেও শিয়া সমপ্রদায়ের এই আয়োজনে নিয়মিত অংশ নিতেন। হোসেনি দালানের ভেতরে ঐতিহ্যবাহী এই আয়োজনে এমন ঘটনাকে বাংলাদেশের জন্য এক দুর্ভাগ্য বলে অভিহিত করলেন মোহাম্মদ নাসির।
তিনি আরও বলছেন, এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের ধরে বিচারের আওতায় না আনা গেলে তা হবে সরকারের ব্যর্থতা। ঘটনার পর থেকেই বারবার পুলিশ ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ডাক পড়ছে এই পরিবারের সদস্যদের। মি. নাসির বলছেন, কর্তৃপক্ষের কেউ এখনও আসেননি তার বাড়িতে, বরং তাদেরকেই বারবার ডাকা হচ্ছে। অনেক রাত অবধি থানায় বসিয়ে রাখা হয়েছে। এই প্রতিবেদকের সামনেই জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে ফোন পান মি. নাসির। তিনি বলছিলেন, ফোনে তাকে বলা হলো জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে ঢাকা জেলা প্রশাসকের অফিসে যেতে। “আমারে বলতেছে তাড়াতাড়ি আসেন নাইলে কিন্তু পাইবেন না। আমি জিজ্ঞেস করলাম কী পামু না। তখন ওরা বললো মুরব্বি একটু আসেন তারপর কথা বলি। দ্যাখেন যার ছেলে হারায় তার তো এমনিতেই অবস্থা অন্য রকম থাকে। মনে করেন পুলিশ বা অন্যরা তারে নিয়া যদি টানাহেঁচড়া করেন, বারবার ডাকেন, পেরেশানি করেন, তাইলে তো ঐ মানুষটারে মাইরা ফালানের অবস্থা!” এই বিষয়টিকে শোকসন্তপ্ত একটি পরিবারের জন্য চরম এক হয়রানি বলেও মনে করছেন তিনি। তবে কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এখন কিছুই চান না সাজ্জাদ হোসেন সানজুর পরিবার। শুধু ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে বিচারের দাবি করছেন তারা।