Tuesday, August 24, 2010

মাহে রমজানে শ্রমিকের প্রতি কর্তব্য by মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান

খেটেখাওয়া পরিশ্রমী মানুষ ও বিভিন্ন ধরনের শ্রমিকের পক্ষে রোজা রেখে পরিপূর্ণভাবে কাজকর্ম সম্পাদন যে কত কঠিন তা মালিক পক্ষের তিলে তিলে অনুভব করার সময় মাহে রমজান। যে শ্রমিক দৈহিক পরিশ্রম করে, মাথার ঘাম পায়ে ফেলে রুজি-রোজগার বা আয়-উপার্জন করে, তার জন্য রোজা অবস্থায় দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনের বিষয়টি মালিকপক্ষকে উপলব্ধি করা দরকার। মাহে রমজানের দিনে অধীনস্থ কর্মচারীদের দায়িত্ব ও কাজকর্ম হালকা করে দেওয়া ইসলামের বিধান। অন্যথায় তারা কঠিন শাস্তির মুখোমুখি হবে। রমজান মাসে তাদের ওপর কষ্টকর কাজের বোঝা চাপানো অনুুচিত। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘এ মাসে (রমজানে) যারা দাস-দাসীদের প্রতি সদয় ব্যবহার করে, অর্থাৎ তাদের কাজের বোঝা হালকা করে, আল্লাহ তাদের দয়াপরবশ হয়ে ক্ষমা করে দেন এবং জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করেন।’
ইসলাম ধনী-গরিব, মনিব-চাকর, মালিক-শ্রমিকের কোনো পার্থক্য করে না। ইসলাম আদল-ইনসাফ ও ন্যায়নীতির ধর্ম। গৃহের মালিক নিজে যা খাবে ও পরবে অধীনস্থ কাজের লোকদের তা-ই খাওয়াবে ও পরাবে। নবী করিম (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘হে লোক সকল! আল্লাহ তোমাদের ভাইদের তোমাদের অধীন করে দিয়েছেন। অতএব, যার অধীনে কোনো ভাই থাকে তাকে তা-ই খাওয়াবে যা সে নিজে খায়, তাকে তা-ই পরাবে যা সে নিজে পরে এবং তাকে সাধ্যের অধিক কাজ চাপিয়ে দিবে না। অগত্যা তাকে দিয়ে যদি কোনো কষ্টের কাজ করাতে হয় তাহলে তাকে সাহায্য করবে।’ (বুখারি ও মুসলিম)
সাহাবায়ে কিরাম নিজেদের জীবনে নবীজির এ আদেশ পুঙ্খানুপঙ্খভাবে পালন করেছেন এবং অন্যকেও পালনে উদ্বুদ্ধ করেছেন। কিন্তু বাস্তবে ঘাম ঝরানো শ্রমিকের প্রতি মালিক শ্রেণীকে সামান্যতম সহানুভূতি প্রদর্শন করতে দেখা যায় না। অনেক ক্ষেত্রে যেন রমজান মাসে তাদের আরও রুদ্রমূর্তি হয়ে আবির্ভূত হতে দেখা যায়। রোজাদার শ্রমিকদের কাছ থেকে অন্য সময়ের মতোই কড়ায়-গণ্ডায় শ্রম আদায় করার জন্য কঠোরতা দেখালে, রোজা রাখার কারণে তপ্ত দুপুরে প্রচণ্ড খরতাপে যখন সে হাঁপিয়ে ওঠে এবং দায়িত্ব পালনে ত্রুটি হয় তখন তার প্রতি চাপ প্রয়োগ ও দুর্ব্যবহার করলে রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের দিনগুলোতে মালিকপক্ষের ক্ষমা নয়, বরং কঠোর শাস্তিই নিশ্চিত হবে। অপর দিকে শ্রমিক যদি রোজা রাখা সত্ত্বেও সাধ্যমতো কর্তব্য পালনে সচেষ্ট হয়, তাহলে সে সাধারণ কেউ রোজা রেখে যে সওয়াব পাবে তার দ্বিগুণ সওয়াব পাবে। অধীনস্থ কর্মচারী, শ্রমিক ও খেটেখাওয়া লোকদের পুরস্কারের কথা রাসুলে করিম (সা.) ঘোষণা করেছেন, ‘তিন ধরনের লোকের জন্য (প্রতিটি নেক কাজের) দ্বিগুণ সওয়াব রয়েছে। তন্মধ্যে এক ব্যক্তি হচ্ছে ওই দাস যে আল্লাহর হক ও মনিবের হক উভয় আদায় করে।’ এ সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আর যারা কাজ করে তাদের জন্য কতই না চমত্কার প্রতিদান।’ (সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৩৬)
গৃহভৃত্য ও পরিচারিকারাও যে আল্লাহর বান্দা, রমজান মাসে যেন লোকেরা সে কথা ভুলে যায়। তাদের খাটুনির মাত্রা বাড়িয়ে দেওয়া হয়। অথচ হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে যে নবী করিম (সা.) বাণী প্রদান করেছেন, ‘তোমরা মাহে রমজানে দাস-দাসীর কাজকর্ম শিথিল করে দাও। তারা যেন রমজান মাসের ইবাদত যথাযথভাবে করতে পারে।’ বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) ছিলেন মানবতার শ্রেষ্ঠ বন্ধু। তিনি ক্রীতদাসদের কষ্ট নিজে ভাগ করে নিতেন। বিপদে-আপদে তাদের পাশে দাঁড়াতেন। একবার এক গোলাম গম পিষছিল আর কাঁদছিল। নবীজি তার কান্নার কারণ জিজ্ঞেস করলে সে বলল, ‘প্রতিদিন তাকে এক মণ গম পিষতে হয়। আজ শরীরটা খুব অসুস্থ, তাই পিষতে পারছি না। আমার মনিব বড়ই নিষ্ঠুর লোক। গম পিষতে পারছি না দেখলে হয়তো সে আমাকে মারবে, এই ভয়ে কাঁদছি।’ রাহমাতুল্লিল আলামিন গোলামটির পাশে বসে তার গমগুলো পিষে দিলেন এবং বললেন, ‘ভবিষ্যতে যখনই তোমার কষ্ট হবে আমাকে খবর দিবে। আমি এসে তোমার কাজ সম্পন্ন করে দিব।’
কোনো ক্রীতদাসের অসুস্থতার খবর শুনলে নবীজি ছুটে যেতেন এবং তার সেবা-শুশ্রুষা করতেন। একবার এক ধনী লোকের জনৈক গোলাম অসুস্থ হয়ে পড়েছিল। তাকে দেখার কেউ ছিল না। মনিব ছিল অত্যন্ত নিষ্ঠুর প্রকৃতির। গোলামটি একটি অন্ধকার কুঠুরিতে শুয়ে কাতরাচ্ছিল। দয়াল নবীজি ওই বাড়ির কাছ দিয়ে যাওয়ার সময় অসুস্থ গোলামটির কাতরানির আওয়াজ শুনতে পেলেন। তিনি সেখানে উপস্থিত হয়ে তার মাথায় হাত বোলাতে থাকেন। এতে সে আরাম বোধ করতে লাগল। রাতে সে নবীজিকে চিনতে পারল না। জিজ্ঞেস করল, তার মনিব তাকে সেবার জন্য পাঠিয়েছেন কি না। নবীজি বললেন, ‘তিনি স্বেচ্ছায়ই এসেছেন।’ পরদিন সকালে ওই ক্রীতদাস যখন দেখল যে নবীজি তার সেবা করছেন, তখন সে কেঁদে উঠল। ভাবতে লাগল, মানুষের জন্য মানুষের এত দয়া, এত ভালোবাসা? আমি একজন গোলাম, অথচ দোজাহানের বাদশাহ হয়েও নবীজি আমার সেবা করছেন? এই ছিল মহানবী (সা.)-এর সুমহান আদর্শ। রাসুলুল্লাহ (সা.) জীবনের শেষ মুহূর্তটি পর্যন্ত দাস-দাসীদের কথা স্মরণ রেখেছিলেন। হজরত আলী (রা.) বলেছেন যে নবী করিম (সা.)-এর সর্বশেষ বাণী ছিল, ‘১ নামাজ-নামাজ, আর ২. যারা তোমাদের অধীনে তাদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করো।’ (আল-আদাবুল মুফরাদ)
প্রকৃত রোজাদার মুমিন ব্যক্তি সদা আল্লাহর প্রতি দায়িত্বশীল এবং মানুষের প্রতি কর্তব্যপরায়ণ থাকেন। শ্রমিকের অধিকার রক্ষায় সচেষ্ট থাকাই ঈমানদারের দায়িত্ব। তার ঘরে যেসব কাজের লোক রয়েছে তাদের প্রতিও তার অধিকার রয়েছে। দৈনন্দিন ব্যবহারিক জীবনে তাদের এ ন্যায্য অধিকার আদায় করতে হবে। কোনো রোজাদার ব্যক্তি এ ব্যাপারে শৈথিল্য দেখাতে পারেন না। মালিক শ্রেণীর সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে অফিস-আদালতের মতো শ্রমিকের কর্মঘণ্টা কমানোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা দরকার। প্রয়োজনে তাদের জন্য সামান্য ভাতার ব্যবস্থাও করা যেতে পারে। যে রোজাদার ব্যক্তি তার অধীনস্থ কাজের লোকদের প্রতি সদ্ব্যবহার দেখাবে, আল্লাহ তার প্রতি অসীম দয়ার হাত প্রসারিত করবেন এবং তাকে বেহেশত দান করবেন। নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘যার মধ্যে তিনটি গুণ থাকবে, আল্লাহ তার ওপর রহমতের ডানা প্রসারিত করবেন এবং তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। ১. দুর্বলের সঙ্গে নম্র ব্যবহার, ২. পিতামাতার সঙ্গে মমতা জড়ানো কোমল ব্যবহার এবং ৩. দাস-দাসীর প্রতি সদাচরণ।’ (তিরমিজি)
সাধারণত কাজের লোকদের মানুষ খুব কমই ক্ষমা করে থাকে। নিজের ছেলেমেয়ের হাত দিয়ে মূল্যবান জিনিসটি খোয়া গেলে টুঁ-শব্দটি পর্যন্ত করে না, আর ওই গৃহস্থালি কাজের ছেলেমেয়ের হাত দিয়ে সামান্য কিছু নষ্ট হলেই অমনি শুরু হয় বেদম প্রহার বা নির্যাতন। অসুখের কারণে কাজ না করতে পারলে তাদের বকুনিও শুনতে হয়। কাজের লোক বলে তাদের কামনা-বাসনা নেই, বিশ্রামের প্রয়োজন নেই, রোগ-ব্যাধি নেই—এমন ধারণা ইসলাম সম্মত নয়। নবী করিম (সা.) এ জাতীয় দুর্ব্যবহার থেকে উম্মতকে বিরত থাকার জন্য কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন। অধীনস্থ লোকদের প্রতি সদ্ব্যবহার করা হচ্ছে না বলেই সমাজে মালিক-শ্রমিক ব্যাপক বৈষম্য বিদ্যমান রয়েছে, যা সভ্য সমাজের জন্য মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়। সুতরাং মাহে রমজানসহ সর্বাবস্থায় কঠোরতা পরিহার করে রোজাদারদের আচার-ব্যবহারে ইসলামের সদাচরণ, ক্ষমা, উদারতা ও কোমলতার মহৎ গুণাবলির বহিঃপ্রকাশ বাঞ্ছনীয়।
ড. মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান: সহকারী অধ্যাপক, ইসলামিক একাডেমি, দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়। পরিচালক, ইনস্টিটিউট অব হজরত মুহাম্মদ (সা.)।

দুই প্রকল্পে বিশ্বব্যাংক ঋণ দেবে ১১০০ কোটি টাকা

গ্রামের হতদরিদ্র মানুষের জীবনমান উন্নয়নে বিশ্বব্যাংক থেকে মোটা অঙ্কের ঋণ নিচ্ছে সরকার। ‘নতুন জীবন’ নামক প্রকল্পের আওতায় এ ঋণের অর্থ ব্যয় করা হবে। ঋণের পরিমাণ ১১ কোটি ৫০ লাখ ডলার বা ৮০৫ কোটি টাকা।
এ ছাড়া দেশের পৌরসভাগুলোর পরিবেশ, অবকাঠামো ও সেবার মানোন্নয়নে মিউনিসিপ্যাল সার্ভিসেস নামক যে প্রকল্পটি চালু রয়েছে, তাতেও অতিরিক্ত চার কোটি ২০ লাখ ডলার বা ২৯৪ কোটি টাকা ঋণ দেবে বিশ্বব্যাংক।
দুই প্রকল্প মিলিয়ে ঋণের অঙ্ক এক হাজার ১০০ কোটি টাকা। গত ২৩ জুন প্রকল্প দুটি অনুমোদন করে বিশ্বব্যাংক।
বিশ্বব্যাংকের আওতাধীন সহজ শর্তে ঋণদাতা সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট এজেন্সি (আইডিএ) থেকে ৪০ বছর মেয়াদে এ ঋণ নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। সুদাসলে যথাসময়ে ঋণের অর্থ ফেরত দিতে না পারলে আরও ১০ বছর অতিরিক্ত সময় (গ্রেস পিরিয়ড) পাওয়া যাবে। সুদের হার দশমিক ৭৫ শতাংশ।
দুটি ঋণের ব্যাপারে আজ সোমবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের পরিকল্পনা কমিশনের এনইসি সম্মেলনকক্ষে সরকারের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করবে আইডিএ। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব ও বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধি চুক্তিতে সই করবেন। বিশ্বব্যাংক ও ইআরডি সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
সূত্র জানায়, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে পড়া এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাসহ প্রধানত, উপকূলীয় জেলাগুলোতে নতুন জীবন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। একই উদ্দেশে সামাজিক বিনিয়োগ কর্মসূচি প্রকল্প (এসআইপিপি) নামক বিশ্বব্যাংকের একটি প্রকল্প বর্তমানে চালু রয়েছে। এসআইপিপিরই নাম পাল্টে রাখা হয়েছে ‘নতুন জীবন’ প্রকল্প।
দেশের যে অর্ধেক জনগোষ্ঠী দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছে, নতুন জীবন প্রকল্পের মাধ্যমে ওই জনগোষ্ঠীর জীবন মানের উন্নয়ন ঘটানোই এ প্রকল্পের উদ্দেশ্য বলে জানা গেছে।
এদিকে ইআরডির কর্মকর্তারা জানান, নতুন জীবন প্রকল্পের মাধ্যমে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর চলমান জীবিকায়ন কর্মসূচি ত্বরান্বিত হবে। এতে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট প্রাকৃতিক বিপর্যয় মোকাবিলার সক্ষমতাও অর্জন করতে পারবে তারা।
বিশ্বব্যাংক সূত্র জানায়, কমপক্ষে ৬০ লাখ দরিদ্র মানুষের কাছে পৌঁছানো তাদের লক্ষ্য। নতুন জীবনের পথে এগিয়ে নিয়ে তাদের জীবন মানের উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে ‘নতুন জীবন’। প্রথম পর্যায়ে ইতিমধ্যেই দেড় হাজার গ্রামের ৩০ লাখ মানুষ এসআইপিপি প্রকল্পের সুবিধা পেয়েছে। দ্বিতীয় পর্যায়ে সুবিধাবঞ্চিত রয়েছে আরও ৩০ লাখ মানুষ। নতুন জীবন প্রকল্প থেকে সুবিধা পাবে তারা।
এদিকে স্থানীয় সরকার বিভাগের নিয়ন্ত্রণাধীন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের আওতায় বাংলাদেশ মিউনিসিপ্যাল ডেভেলপমেন্ট ফান্ডের মাধ্যমে (বিএমডিএফ) বর্তমানে ১৩ কোটি ৮৬ লাখ ডলার বা ৯৭০ কোটি ২০ লাখ টাকার একটি মিউনিসিপ্যাল সার্ভিস প্রকল্পটি চালু আছে। ১৯৯৯ সালের জুলাই থেকে শুরু হওয়া প্রকল্পটিতে তৃতীয় সংশোধনী পর্যন্ত করা হয়েছে, যার মেয়াদ ৩০ জুন শেষ হওয়ার কথা। এই প্রকল্পের জন্য অতিরিক্ত ঋণ নেওয়া হচ্ছে ২৯৪ কোটি টাকা।

সাধারণ সূচক নিম্নমুখী, লেনদেন বেড়েছে

ঢাকা শেয়ারবাজারে (ডিএসই) আজ সোমবার সাধারণ সূচকের নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেলেও আর্থিক লেনদেন বেড়েছে। আজ সাধারণ মূল্যসূচক ১৯ দশমিক ১৮ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৬৭৪১ পয়েন্টে। এ ছাড়া আজ মোট এক হাজার ৯৮৬ কোটি টাকার লেনদেন হয়। যা গতকালের চেয়ে ১৩৪ কোটি টাকা বেশি।
আজ শেয়ারবাজারে লেনদেন হওয়া বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম কমেছে। লেনদেন হওয়া মোট ২৫৪টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দাম বেড়েছে ১১০টি প্রতিষ্ঠানের, কমেছে ১৪০টি প্রতিষ্ঠানের এবং অপরিবর্তিত রয়েছে মোট চারটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম।
লেনদেনে শীর্ষে থাকা পাঁচটি প্রতিষ্ঠান হলো—বেক্সিমকো, বেক্সিমকো টেক্সটাইল, নাভানা সিএনজি, বিএসআরএম স্টিলস ও তিতাস গ্যাস।
দাম বৃদ্ধিতে শীর্ষে থাকা পাঁচটি প্রতিষ্ঠান হলো—ইন টেক অনলাইন, অগ্রণী সিস্টেমস, সাফকো স্পিনিং, বিডিকম অনলাইন ও ইনফরমেশন সার্ভিসেস নেটওয়ার্ক।
দাম কমে যাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে শীর্ষ পাঁচটি হলো—প্রাইম ফিন্যান্স ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, কনফিডেন্স সিমেন্ট, মুন্নু জুট স্টাফলাস, চট্টগ্রাম ভেজিটেবল ও বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফিন্যান্স কোম্পানি।

রেকর্ড গড়তে পাল তুলেছে লরা

নিজের নৌযানে লরা ডেকার
বিশ্ব রেকর্ড গড়ার আশায় এবার পাল তুলেছে ডাচ কিশোরী লরা ডেকার। সফল হলে লরা হবে সমুদ্রপথে বিশ্ব ভ্রমণকারী সবচেয়ে কম বয়সী অভিযাত্রী। লরার বয়স ১৪ বছর। সমুদ্রপথে বিশ্ব ভ্রমণ শেষে ২০১২ সালের ১৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দেশে ফিরতে পারলে অস্ট্রেলিয়ার জেসিকা ওয়াটসনের রেকর্ডটি ভাঙতে পারবে সে। ১৬ বছর বয়সী জেসিকা বর্তমানে বিশ্ব ভ্রমণকারী সবচেয়ে কম বয়সী অভিযাত্রী।
লরা অভিযাত্রার উদ্দেশ্যে ৪ আগস্ট বাড়ি ছাড়ে। সবকিছু ঠিকঠাক করে আট মিটার (২৬ ফুট) লম্বা নৌযান নিয়ে গতকাল সে সমুদ্রে পাল তোলে। এই অভিযাত্রার জন্য লরাকে অনেক চড়াই-উত্রাই পার হতে হয়েছে। ডেনমার্কের অনেক সামাজিক সংগঠন তার বিশ্ব ভ্রমণের বিরোধিতা করেছে। তারা বলেছে, এ সফর শেষ পর্যন্ত তার আবেগ-অনুভূতিতে প্রভাব ফেলবে। সমাজেও পড়বে এর বিরূপ প্রভাব। লরার মাও তাকে একা সমুদ্রে পাঠাতে রাজি ছিলেন না। উপায় না দেখে লরা শরণাপন্ন হয় আদালতের। আদালত এ বছরের প্রথম দিকে তাকে সমুদ্রপথে একা বিশ্ব ভ্রমণের অনুমতি দেন।লরার এ অভিযানে বিশেষভাবে তৈরি নৌকাসহ আনুষঙ্গিক সহায়তা দিয়েছে ম্যাসমিডিয়া নামে নেদারল্যান্ডসের একটি গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান।লরা দুই বছরে পুরো বিশ্ব ঘুরে বেড়াবে বলে স্থির করেছে। এ সময় সে ২০টি স্থানে যাত্রাবিরতি করবে বলে জানা গেছে।

যন্ত্রপাতি সরিয়ে নিতে শুরু করেছে বিপি

মেক্সিকো উপসাগরে তেলক্ষেত্রের তলদেশ থেকে ড্রিল পাইপসহ অন্য যন্ত্রপাতি সরিয়ে নেওয়া শুরু করেছে ব্রিটিশ পেট্রোলিয়াম (বিপি)। বিস্ফোরণের মুখটি নতুন একটি ছিপি দিয়ে বন্ধের প্রস্তুতি নেওয়ার পর গতকাল বিপি যন্ত্রপাতি সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করে।
মার্কিন কর্মকর্তা থাড অ্যালেন গত শুক্রবার ‘ফিশিং’ নামে পাইপ সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরুর অনুমোদন দেন। এর আগে তেলক্ষেত্রের ওই মুখ দিয়ে আর তেল বের না হওয়ার একটি পরীক্ষা করা হয়।
গত এপ্রিলে তেলক্ষেত্রে বিস্ফোরণের পর সাগরে তেল ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। মার্কিন কর্তৃপক্ষ এ ঘটনাকে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় তেল ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা হিসেবে অভিহিত করেছে।

শান্তিচুক্তি দুষ্কর, তবে সম্ভব: নেতানিয়াহু

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্য শান্তিচুক্তি ‘দুষ্কর তবে সম্ভব’। তিনি বলেছেন, ইসরায়েলের প্রধান প্রধান স্বার্থ সংরক্ষিত হলেই ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে শান্তিচুক্তি হতে পারে, অন্যথায় নয়। গতকাল রোববার সাপ্তাহিক মন্ত্রিসভার বৈঠক শুরু হওয়ার আগে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু বলেন, চুক্তি সম্পাদনের বিষয়ে তাঁর সন্দেহ আছে। তবে তিনি মনে করেন, ইসরায়েলের প্রধানতম স্বার্থ সংরক্ষণ নিশ্চিত করা গেলে চুক্তি পর্যন্ত পৌঁছানো একেবারে অসম্ভব হবে না। তিনি আরও বলেন, ইসরায়েলের নিরাপত্তাব্যবস্থা সুরক্ষিত করলে এবং ফিলিস্তিন ইসরায়েলকে সার্বভৌম ইহুদি রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিলে তাঁরা চুক্তি সম্পাদনে সহযোগিতা করবেন। একই সঙ্গে যেকোনো ধরনের চুক্তিকে অবশ্যই সংঘাতের অবসান হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।
গত শুক্রবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন মধ্যপ্রাচ্য শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরু করার ঘোষণা দেওয়ার পর প্রথমবারের মতো নেতানিয়াহু এ কথা বলেন।
উল্লেখ্য, আগামী ২ সেপ্টেম্বর ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস ও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ওয়াশিংটনে সরাসরি শান্তি আলোচনায় মিলিত হতে যাচ্ছেন।

রোমানিয়ায় অবৈধ অভিবাসী আটক

রোমানিয়ার সীমান্ত থেকে ইরাক ও আফগানিস্তানের ৩৬ জন অবৈধ অভিবাসীকে আটক করা হয়েছে। দেশটির পুলিশ গতকাল রোববার এ তথ্য জানায়।
কর্মকর্তারা জানান, গত শনিবার রোমানিয়ার ভারস্যান্ড সীমান্তের কাছে একটি তল্লাশি চৌকি থেকে ওই অভিবাসীদের আটক করা হয়। তারা ওই লরির একটি বিশেষ কম্পার্টমেন্টে লুকিয়ে ছিল। কর্তৃপক্ষ জানায়, আটক অভিবাসীরা ইউরোপের ২৫টি দেশের ভিসামুক্ত অঞ্চল শেনগেনে যাওয়ার চেষ্টা করছিল।
গত মার্চে রোমানিয়া ও হাঙ্গেরির সীমান্ত থেকে ১৫ শিশুসহ ৫০ জন আফগান অভিবাসীকে একটি মালবাহী ট্রাক থেকে আটক করা হয়।

লক্ষাধিক লোককে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে

চীনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ভয়াবহ বন্যার কারণে এক লাখ ২০ হাজার লোককে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বন্যায় ইতিমধ্যে চারজনের প্রাণহানি ঘটেছে। প্রতিবেশী দেশ উত্তর কোরিয়ায়ও কয়েক হাজার লোককে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
গ্রীষ্মকালীন প্রবল বর্ষণে ইয়ালু নদীর পানি স্ফীত হয়ে বিপত্সীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আরও প্রবল বর্ষণ হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন আবহাওয়াবিদেরা।
চীনের সিভিল অ্যাফেয়ার্স মন্ত্রণালয় জানায়, প্রবল বর্ষণের কারণে তিন দিনে লিয়াওনিং প্রদেশে এক লাখ ২৭ হাজার লোককে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যার মোকাবিলা করছে দেশটি। বার্তা সংস্থা সিনহুয়া জানায়, শুধু উত্তর কোরিয়ার সীমান্তবর্তী ডাংডং নগর থেকে ৯৪ হাজারের বেশি অধিবাসীকে সরিয়ে নেওয়া হয়।
কুয়ানদিয়ানে প্রবল বর্ষণে সৃষ্ট ভূমিধসে একটি বাড়ি চাপা পড়ার পর ৬০ বছর বয়সী এক ব্যক্তি নিখোঁজ রয়েছেন। কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি জানায়, উত্তর কোরিয়ার সিনুইজু নগরের এবং সীমান্তবর্তী গ্রামীণ এলাকাগুলো পুরোপুরি প্লাবিত হলে পাঁচ হাজারেরও বেশি লোককে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

ইরাকে বিদ্যুতের দাবিতে বিক্ষোভ সংঘর্ষ, পুলিশসহ আহত ১৬

ইরাকে দক্ষিণাঞ্চলীয় নাসিরিয়াহ শহরে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ সরবরাহের দাবিতে বিক্ষোভে সংঘর্ষে ১০ পুলিশসহ ১৬ জন আহত হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও সরকারি কর্মকর্তারা গতকাল রোববার এ কথা জানান। যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরাকে বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতি খুবই খারাপ।
গত শনিবার সন্ধ্যায় এ বিক্ষোভে জনতা চিত্কার করে বলতে থাকে, বিদ্যুৎ কোথায়? এ সময় পুলিশ বাধা দিলে জনতা পুলিশের ওপর পাথর ছুড়ে মারে।
জবাবে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ জলকামান ব্যবহার করে এবং ৪০ জন বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করে। বিদ্যুতের দাবিতে গত জুন মাসেও এ ধরনের বিক্ষোভ হয়েছিল।
নাসিরিয়াহ পুলিশের মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল মুরতাদা আল-শাহতুর বলেন, শনিবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে বিক্ষোভকারীরা নাসিরিয়াহর কেন্দ্রস্থলে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করে। তারা বলে, প্রাদেশিক সরকার মৌলিক নাগরিক পরিষেবা, বিশেষ করে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে ব্যর্থ হয়েছে। এ সময় বিক্ষোভকারীরা তাদের ওপর হামলা করলে তারাও জলকামান ব্যবহার করে। এতে এই আহত ও গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটে।

ইরানের সঙ্গে বিমান যোগাযোগ উদ্বেগের বিষয় কেন হবে

ইরান ও সিরিয়ার সঙ্গে বিমান যোগাযোগ অব্যাহত রাখার বিষয়ে আত্মপক্ষ সমর্থন করেছে ভেনিজুয়েলা। ভেনিজুয়েলার সরকারি বিমান সংস্থা কনভিয়াসা ওই দুটি দেশের যাত্রীদের আনা-নেওয়া করায় যুক্তরাষ্ট্র যে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভেনিজুয়েলা তা উড়িয়ে দিয়েছে। ওয়াশিংটনে নিযুক্ত ভেনিজুয়েলার রাষ্ট্রদূত বার্নার্ডো আলভারেজ হেরেরা বলেছেন, তাঁর সরকার এতে অসুবিধার কিছু দেখছে না।
গত সপ্তাহে নিউইয়র্কের রিপাবলিক নেতা ও প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য এলিয়ট এঞ্জেল ভয়েস অব আমেরিকাকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে বলেন, প্রত্যেক সপ্তাহে তেহরান ও দামেস্কের যাত্রীরা অবাধে কারাকাসে যাতায়াত করছে। এটা উদ্বেগের বিষয়। তিনি বলেন, তাঁর বিশ্বাস, বর্তমানে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসের মদদ জোগানো দেশ হচ্ছে ইরান। এ অবস্থায় তেহরান ও কারাকাসের নিয়মিত বিমান যোগাযোগ তাঁদের কাছে বড় ধরনের উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
২০০৯ সালে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সন্ত্রাসবাদবিষয়ক এক প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট হুগো শাভেজ রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদী দেশ ইরানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করছে।
তবে ভেনিজুয়েলার রাষ্ট্রদূত বার্নার্ডো আলভারেজ হেরেরা বলেছেন, জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্টসহ বিশ্বের বহু গুরুত্বপূর্ণ শহর থেকে যাত্রীরা অবাধে তেহরান যেতে পারছেন। এ অবস্থায় কারাকাস থেকে কেউ সেখানে গেলে সেটা কীভাবে উদ্বেগের বিষয় হয় তা তাঁদের জানা নেই। তিনি বলেন, ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে তেহরানের সঙ্গে কারাকাসের কূটনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। এই দুই দেশের মধ্যে বিমান যোগাযোগ রয়েছে বহু দিন থেকেই। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে তাঁরা এই ফ্লাইট চলাচলে কোনো অসুবিধা আছে বলে মনে করছেন না।

মানববিহীন বোমারু বিমানের উদ্বোধন করল ইরান

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ সে দেশের নিজস্ব প্রযুক্তিতে প্রথমবারের মতো নির্মিত মানববিহীন বোমারু বিমানের উদ্বোধন করেছেন। ইরানের সরকারি টেলিভিশনের খবরে বলা হয়েছে, কারার নামের ওই বিমান ভারী বোমা নিয়ে দ্রুতগতিতে দূরপাল্লার অভিযানে যেতে এবং নির্ভুল লক্ষ্যে বোমা ফেলতে সক্ষম। প্রেসিডেন্ট আহমাদিনেজাদ একে ‘শত্রুপক্ষের জন্য ইরানের মৃত্যুদূত’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেছেন, ইরানের ওপর কেউ হামলা চালালে সেটি তার জন্য ‘সামরিক আত্মহত্যা’ হয়ে দেখা দেবে। অন্যদিকে ইরানের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেছেন, ইসরায়েল কোনোভাবে ইরানের পরমাণু স্থাপনায় হামলা চালালে বুঝতে হবে ইসরায়েলের নিশ্চিহ্ন হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে।
সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, গতকাল রোববার ইরানের বার্ষিক প্রতিরক্ষা শিল্প দিবস (ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রি ডে) উপলক্ষে প্রেসিডেন্ট আহমাদিনেজাদ তেহরানের মালেক আশতার বিশ্ববিদ্যালয়ে চার মিটার লম্বা বিমানটির উদ্বোধন করেন। এর মধ্য দিয়ে ইরান ভূমি থেকে ভূমিতে উেক্ষপণযোগ্য কিয়াম ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালানোর দুই দিন এবং পরমাণু বিদ্যুেকন্দ্র চালুর এক দিন পর এ সামরিক বিমানের উদ্বোধন করল।
প্রেসিডেন্ট আহমাদিনেজাদ বলেন, এ বিমান ইরানের শত্রুপক্ষের জন্য মৃত্যুদূত, তবে বন্ধুর জন্য শান্তির বার্তাবাহক হিসেবে কাজ করবে। তিনি বলেন, শত্রুপক্ষের ঘাঁটিকে অচল করে দেওয়াই হবে এর মূল লক্ষ্য। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের ওয়েবসাইটে ওই বিমানকে ‘বোমা বহনে সক্ষম’ ও ‘দ্রুতগামী’ হিসেবে উল্লেখ করা হলেও এর সুনির্দিষ্ট সক্ষমতা উল্লেখ করা হয়নি। আগামী কয়েক দিনে ইরান আরও বড় ধরনের সামরিক অস্ত্রের উদ্বোধন এবং ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গতকাল উপস্থিত কর্মকর্তাদের উদ্দেশে আহমাদিনেজাদ বলেন, অবরোধ আরোপ করে এবং সামরিক হামলার ভয় দেখিয়ে ইরানের প্রযুক্তিগত অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা চলছে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের ঝানু রাজনীতিকেরাও বুঝতে পারছেন, ইরানের ওপর হামলা হলে হামলাকারীর জন্য তা ‘সামরিক আত্মহনন’ হয়ে দেখা দেবে।
অন্যদিকে ইরান মজলিশের (পার্লামেন্ট) ন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যান্ড ফরেন পলিসি কমিশনের প্রধান আলায়েদ্দিন বোরৌজেরদি বলেছেন, ইহুদি রাষ্ট্র (ইসরায়েল) ইরানের পরমাণু স্থাপনায় আঘাত করলে বুঝতে হবে তার নিশ্চিহ্ন হওয়ার সময় এসে গেছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কর্মকর্তারা ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক ক্ষমতা প্রয়োগের আহ্বান জানানোর পর তিনি এ বক্তব্য দেন।

ক্ষমতার চাবি স্বতন্ত্রদের হাতে

অস্ট্রেলিয়ার নির্বাচনে কোনো দলই সরকার গঠনের মতো প্রয়োজনীয় আসন পাচ্ছে না—এটা নিশ্চিত হয়ে যাওয়ার পর থেকেই বিজয়ী স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী জুলিয়া গিলার্ড ও বিরোধীদলীয় নেতা টনি অ্যাবট।
প্রধানমন্ত্রী গিলার্ড শনিবার নির্বাচনের রাতেই স্বীকার করে নেন, ক্ষমতাসীন লেবার পার্টি কিংবা বিরোধী রক্ষণশীল জোট—কোনো পক্ষই সম্ভবত সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৭৬ আসন পাচ্ছে না।
এবিসির পূর্বাভাষ—নির্বাচনে টনি অ্যাবটের নেতৃত্বাধীন জোট পাবে ৭৩টি আসন আর লেবার পার্টি পাবে ৭২টি আসন।
রোববার দুপুর পর্যন্ত খবর অনুযায়ী লেবার দল ৭২টি আসনে জয়লাভ করেছে। লিবারেল/ ন্যাশনাল জোট পেয়েছে ৭০টি আসন। চূড়ান্ত ফল পেতে আরও সময় লাগবে বলে জানা গেছে।
এবারের নির্বাচন অস্ট্রেলিয়ার ইতিহাসে সবচেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের একটি এবং ১৯৪০ সালের পর এবার আবার ঝুলন্ত পার্লামেন্ট হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী গিলার্ড বলেন, ছোট দলগুলোকে যদি বাদ দেওয়া হয়, তাহলে তাঁর লেবার পার্টি সারা দেশে বেশি ভোট পেয়েছে।
৭৫ শতাংশ ভোট গণনার পর দেখা যায়, গিলার্ডের লেবার পার্টি পেয়েছে ৫০ দশমিক ৭ শতাংশ ভোট। অন্যদিকে বিরোধী জোট পেয়েছে ৪৯ দশমিক ৩ শতাংশ। কিন্তু বিরোধী নেতা অ্যাবট বলেছেন, এটা পরিষ্কার যে লেবার পার্টি পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছে, সেই সঙ্গে বৈধতাও।
সরকার গঠনের জন্য স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সমর্থন আদায়ের জন্য জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন গিলার্ড ও অ্যাবট দুজনেই।
গিলার্ড বলেছেন, ক্ষমতা ধরে রাখতে সমর্থন আদায়ের জন্য তিনি রোববার স্বতন্ত্র এমপিদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছেন। গত জুন মাসে অস্ট্রেলিয়ার প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী হওয়া গিলার্ড বলেন, তাঁরা আশাবাদী যে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সমর্থন তাঁদের দিকেই আসবে এবং এ লক্ষ্যে তিন স্বতন্ত্র প্রার্থীর সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনাও সেরে রেখেছেন তিনি।
টনি অ্যাবটও বলেছেন, তিনিও স্বতন্ত্র প্রার্থী ও গ্রিন পার্টির সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা করেছেন।
স্বতন্ত্র প্রার্থী টনি উইন্ডসর বলেন, তিনি গিলার্ড ও অ্যাবটের ফোন পেয়েছেন। উইন্ডসর আরও বলেন, তিনি আরও দুই স্বতন্ত্র প্রার্থী বব কাটার ও রব ওয়াকেশটের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলবেন। বড় দলগুলোর সঙ্গে সরকার গঠনের বিষয়ে আলোচনা তাঁরা একসঙ্গে করবেন, নাকি স্বতন্ত্রভাবে করবেন তা ঠিক করাই থাকবে এ আলোচনার মূল উদ্দেশ্য।
গ্রিন পার্টির নেতা বব ব্রাউন বলেন, গিলার্ডের সঙ্গে ‘আন্তরিক’ আলোচনা হলেও তাঁদের মধ্যে কোনো সমঝোতা হয়নি। গ্রিন পার্টির নবনির্বাচিত আইনপ্রণেতা অ্যাডাম ব্রান্ডটের সমর্থন লাভের জন্য ব্রাউনকে ফোন করেছিলেন গিলার্ড। এর আগে ব্রান্ডট ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, লেবার সরকারই তাঁর পছন্দ।
প্রথম মুসলমান ও আদিবাসী এমপি: এবারের পার্লামেন্ট নির্বাচনে প্রথমবারের মতো একজন মুসলমান প্রার্থী জয়লাভ করেছেন। এ ছাড়া একজন আদিবাসী (অ্যাবোরিজিন) প্রার্থীও জয়ের পথে রয়েছেন। প্রথম মুসলমান প্রার্থী হিসেবে জিতেছেন বসনীয় বংশোদ্ভূত ইউনিয়ন কর্মী এড হুসিচ। তিনি লেবার পার্টি থেকে নির্বাচিত হয়েছেন।
এখনো শিশুসুলভ চেহারার ওয়াইট রয় সবচেয়ে কমবয়সী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। ২০ বছর বয়সী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রয় ৫২ শতাংশ ভোট পেয়েছেন। লিবারেল ন্যাশনাল পার্টির টিকিটে তিনি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
অস্ট্রেলিয়ার পার্লামেন্টে প্রথম আদিবাসী হিসেবে নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন কেন ওয়াইট। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর চেয়ে তিনি এগিয়ে রয়েছেন। ওয়াইট লিবারেল পার্টি অব অস্ট্রেলিয়ার প্রার্থী।

চীনে রাজনৈতিক সংস্কার চান প্রধানমন্ত্রী জিয়াবাও

চীনের প্রধানমন্ত্রী ওয়েন জিয়াবাও বলেছেন, অর্থনীতির সুরক্ষার স্বার্থে আমাদের রাজনৈতিক সংস্কার করতে হবে। দ্রুত বিকাশমান শহর শেনজেনে এক সফরকালে তিনি এ কথা বলেন। এদিকে দেশটির এক জেনারেল বলেছেন, চীনকে হয় সংস্কার করতে হবে, নয় মরতে হবে। গত শনিবারের স্থানীয় পত্রিকায় প্রকাশিত বার্তা সংস্থা সিনহুয়ার এক খবরে এ কথা বলা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজনীতির পুনর্গঠন করা না হলে দেশটি অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের মাধ্যমে ইতিমধ্যে যা কিছু অর্জন করেছিল, সেগুলোও হারাবে। এ ছাড়া দেশের আধুনিকায়নের লক্ষ্যে গৃহীত পদক্ষেপগুলোও ব্যাহত হবে। তিনি বলেন, জনগণের গণতান্ত্রিক ও আইনি অধিকারগুলোর নিশ্চয়তা অবশ্যই দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে জনগণকেও দেশের আইন, অর্থনীতি, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিষয়গুলোর সঙ্গে একাত্ম হতে হবে।
জিয়াবাওয়ের বক্তব্যে ‘রাজনৈতিক সংস্কার’-এর সংজ্ঞা স্পষ্ট না হলেও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ধরে রাখার ব্যাপারে তাঁর কমিউনিস্ট পার্টির শীর্ষপর্যায়ের উদ্বেগের বিষয়টি ফুটে উঠেছে। তিনি জনগণকে শর্তসাপেক্ষে সরকারের সমালোচনার সুযোগ করে দিতে চান।
২০১৩ সালের প্রথমার্ধে ক্ষমতা ছাড়বেন জিয়াবাও। তিনি তাঁর বক্তব্যে ক্ষমতার শেষ দিনগুলোতে সমাজকল্যাণমূলক কাজে জড়িত থাকার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
মাত্র তিন দশকে ছোট্ট একটি গ্রাম থেকে এক বিশালকায় শহরে পরিণত হয়েছে শেনজেন। দ্রুত বর্ধমান ও উন্নয়নশীল এই শহরের বর্তমান লোকসংখ্যা এক কোটি ৪০ লাখ। জিয়াবাও বলেন, শেনজেনের গল্প প্রমাণ করে, সংস্কার ও বাইরের পৃথিবীর জন্য নিজেকে উন্মুক্ত করে দিলে জাতীয় অগ্রগতি এবং জনজীবনে শান্তি ও সমৃদ্ধি অর্জন সম্ভব।
এদিকে চীনের এক জেনারেল বলেছেন, চীনকে হয় সংস্কার করতে হবে, নয় মরতে হবে। তিনি তাঁর রক্ষণশীল কমিউনিস্ট পার্টির নেতা ও পিপলস লিবারেশন আর্মির সহকর্মীদের সতর্ক করে দিয়ে বলেন, চীনকে অবশ্যই মার্কিন ধাঁচের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে, অথবা সোভিয়েত ইউনিয়নের মতো পতন মেনে নিতে হবে।
হংকংয়ের ফনিক্স ম্যাগাজিনে প্রকাশিত এক নিবন্ধে জেনারেল লিউ ইয়াঝোউ লিখেছেন, ‘একটি দেশের প্রচলিত ব্যবস্থা যদি নাগরিকদের শ্বাস-প্রশ্বাসে বাধা সৃষ্টি করে এবং তাদের সৃষ্টিশীলতার বিকাশে প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে তা ধ্বংস হবেই।’ তিনি লেখেন, ‘কেবল ওয়াল স্ট্রিট কিংবা সিলিকন ভ্যালির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের সাফল্য আসেনি, বরং দেশটিতে দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যমান আইনের শাসন ও প্রচলিত ব্যবস্থার কারণেই তা সম্ভব হয়েছে।’ বলা হয়ে থাকে, আমেরিকার প্রচলিত ব্যবস্থাটি তৈরি করেছেন মেধাবীরা, কিন্তু তা পরিচালনা করছেন বোকারা।
জেনারেল লিউ বলেন, ‘একটি খারাপ ব্যবস্থা খারাপ আচরণসম্পন্ন একজন ভালো মানুষ তৈরি করে, অন্যদিকে একটি ভালো ব্যবস্থা ভালো আচরণসম্পন্ন একজন খারাপ মানুষ তৈরি করে।’ তিনি বলেন, গণতন্ত্র অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।

বিসিবির ১২০ কোটি টাকার বাজেট

২০১০-১১ অর্থবছরে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) বাজেট ধরা হয়েছে ১২০ কোটি ৫৯ লাখ ২৬ হাজার ৯২৫ টাকা। কাল বিসিবির পরিচালনা পরিষদের এক সভায় এ বাজেট অনুমোদন করা হয়েছে। সভায় আগামী ২৪ অক্টোবর বোর্ডের বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠানেরও সিদ্ধান্ত হয়েছে।
এ ছাড়া এবারের প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগে প্রতিটি দলকে সর্বোচ্চ পাঁচজন করে বিদেশি খেলোয়াড় নিবন্ধন করানোর অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বোর্ড। তবে প্রতি ম্যাচে একটি দলে দুজনের বেশি বিদেশি খেলোয়াড় খেলতে পারবেন না। বিদেশি খেলোয়াড়দের অবশ্যই নিজ নিজ দেশের প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটার হতে হবে।
সভায় ফিল্ডিং কোচ জুলিয়েন ফাউন্টেনের নিয়োগ অনুমোদন করা হয়েছে এবং বিশ্বকাপ পর্যন্ত জাতীয় দলের ম্যানেজার হিসেবে তানজীব আহসান সাদকেই রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ ছাড়া আইসিসির আম্পায়ার্স প্যানেলে পাঠানোর জন্য ফিল্ড আম্পায়ার হিসেবে নাদির শাহ ও এনামুল হক এবং টিভি আম্পায়ার হিসেবে শরফুদ্দৌলা ইবনে শহীদকে মনোনয়ন দিয়েছে বোর্ড। হাতের ইনজুরির চিকিত্সার জন্য তামিম ইকবালকে অস্ট্রেলিয়া পাঠানোরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে সভায়।

সেরেনার পর দেল পোত্রোও নেই

ক্যারিয়ারের ১৩টি গ্র্যান্ড স্লামের প্রথমটি তিনি জিতেছিলেন এখানেই। ১৯৯৯ সালে। তাই বলে সেরেনা উইলিয়ামসের সঙ্গে কিন্তু ইউএস ওপেনের খুব বেশি সখ্য এমনটা বলা যাবে না। এখানে, নিজেদের দেশের গ্র্যান্ড স্লাম টুর্নামেন্টে শিরোপা জিতেছেন আর দুবার। তার পরও সেরেনা ইউএস ওপেনের সবচেয়ে বড় তারকা। কিন্তু তাঁকে ছাড়াই ৩০ আগস্ট শুরু হচ্ছে ইউএস ওপেন।
ইনজুরির কারণে টুর্নামেন্ট থেকে নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছেন সেরেনা। ১৯৭৫ সালে র্যাঙ্কিং চালুর পর সেরেনাই হতে চলেছেন মেয়েদের র্যাঙ্কিংয়ের প্রথম এক নম্বর খেলোয়াড়, যিনি মিস করছেন ইউএস ওপেন।
ইউএস ওপেন পাচ্ছে না পুরুষ এককের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন হুয়ান মার্টিন দেল পোত্রোকেও। কবজির চোট টুর্নামেন্টের বাইরে ছিটকে দিল এই ২৩ বছর বয়সী আর্জেন্টাইনকে। গত ইউএস ওপেনের ফাইনালে রজার ফেদেরারকে হারিয়ে যিনি টেনিস-বিশ্বে ঘোষণা করেছিলেন তাঁর আবির্ভাব। সংশয় দেখা দিয়েছিল মেয়েদের এককের ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন কিম ক্লাইস্টার্সকে নিয়েও। কিন্তু কাল এই বেলজিয়ান জানিয়েছেন, তিনি ফিট। অবশ্য ক্লাইস্টার্সের স্বদেশি, আরেক সাবেক এক নম্বর জাস্টিন হেনিন সরে দাঁড়িয়েছেন।
তবে টুর্নামেন্টের জন্য সবচেয়ে বড় দুঃসংবাদ হলো সেরেনার খেলতে না পারা। গত মাসে মিউনিখের এক রেস্তোরাঁয় গ্লাস ভেঙে ঢুকে গিয়েছিল সেরেনার পায়ে। ১৫ জুলাই অস্ত্রোপচার করানোর পরও এখনো পুরো ফিট হয়ে ওঠেননি।

গ্যাসকোয়েনের সঙ্গে রুনির তুলনা

চারদিকে তীব্র সমালোচনা। কিন্তু কদিন পরপরই রুনি কাউকে না কাউকে পাচ্ছেন পাশে। এবারের রুনি-প্রশস্তি টেরি ভেনাবলসের কণ্ঠে। ইংল্যান্ড জাতীয় দলের সাবেক এই কোচ শুধু প্রশংসাই করলেন না, রুনিকে বসিয়ে দিলেন পল গ্যাসকোয়েনের পাশে। বললেন, রুনি ঠিক গ্যাসকোয়েনের মতো।
১৯৯৮ সালে অবসর নেওয়া গ্যাসকোয়েন ইংল্যান্ডের জার্সি পরে খুব বেশি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাননি। ১০ বছরে খেলেছেন মাত্র ৫৭ ম্যাচ। তবে মাঠের সৃষ্টিশীল খেলা দিয়ে এই কয়েক ম্যাচেই জায়গা করে নিয়েছেন ইংল্যান্ডের সর্বকালের সেরাদের তালিকায়। ফুটবল দক্ষতায় যেমন খ্যাত ছিলেন, সমান কুখ্যাত তিনি মাঠের বাইরের কারণেও। রুনির ভক্তদের জন্য স্বস্তির বিষয়, নানা বিতর্কিত কাণ্ডকীর্তি করে বেড়ানো মাঠের বাইরের গ্যাসকোয়েনের সঙ্গে নয়, ভেনাবলস রুনিকে তুলনা করেছেন মাঠের গ্যাসকোয়েনের সঙ্গেই।
‘আমি বলতে চাই, গাজ্জা আর রুনির মধ্যে সত্যিই অনেক মিল। স্রেফ রুনির কথা বলি, সে একক কর্তৃত্বে ম্যাচ জিততে চায়। অতি সুন্দর রুদ্ধশাস গোল এবং ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার হাতে বেরিয়ে আসতে চায়। কিন্তু কিছু সময় যায়, যখন গোল করতে পারে না রুনি, তখনই গেল গেল বলে গুঞ্জন শুরু হয়ে যায়। এমন সংকটে আমি সব সময়ই পলকে (গ্যাসকোয়েন) বলতাম, স্রেফ মাঠে যাও এবং নিজেকে উজাড় করে দাও, প্রতিপক্ষের রক্ষণ চিরে দুর্দান্ত সেসব পাস দাও, যাও নিজেকে উপভোগ করো।’ দ্য সান-এ লেখা কলামে ইংল্যান্ডের সর্বজনশ্রদ্ধেয় কোচ রুনি সম্পর্কে আরও বলেছেন, ‘রুনিকেও মনে হচ্ছে একই রকম। এবং এটি যদি সংকট হয় আমার তো মনে হয় প্রিমিয়ার লিগের বাকি ১৯ জন ম্যানেজারকেও এটি সামলাতে হবে।’
গত লিগের ৩২ ম্যাচে ২৬ গোল করেছিলেন রুনি। ম্যানইউর পক্ষে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা দিমিতার বারবেতভ করেছিলেন ১২ গোল। এটা স্মরণ করিয়ে দিয়ে ভেনাবলস বলেছেন, একটা ম্যাচেই অনুজ্জ্বল বলে দর্শক এবং মিডিয়ার দিক থেকে এমন তীর রুনির দিকে ছুটে যাওয়া উচিত নয়।
দক্ষিণ আফ্রিকা গিয়েছিলেন বিশ্বকাপ নিজের করে নিতে। কিন্তু দ্বিতীয় রাউন্ডেই বিদায় নেওয়া ইংল্যান্ডের পক্ষে একটাও গোল করতে পারেননি রুনি। ম্যানইউর হয়ে নতুন ঘরোয়া মৌসুম শুরু করলেন কমিউনিটি শিল্ড দিয়ে। প্রথম ৪৫ মিনিট খেলে গোল পাননি। নিউক্যাসলের বিপক্ষে লিগের প্রথম ম্যাচেও অনুজ্জ্বল। সমর্থক ও মিডিয়ার চোখ তাহলে এখনো আটকে আছে দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে, যেখানে ইংল্যান্ড ব্যর্থ, ব্যর্থ তাদের বড় ভরসা রুনি?

ফুলহামে আটকে গেল ম্যানইউ

দুবার এগিয়ে গিয়েও জিততে পারল না ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের দ্বিতীয় ম্যাচেই অ্যালেক্স ফার্গুসনের দল ২-২ গোলে ড্র করল ফুলহামের সঙ্গে। ফুলহামের মাঠে ম্যানইউ এগিয়ে যায় পল স্কোলসের গোলে। ডেভিসের গোলে ম্যাচে ফেরে ফুলহাম। কিন্তু আবার পিছিয়ে পড়ে হ্যাঙ্গেল্যান্ডের আত্মঘাতী গোলে। এই হ্যাঙ্গেল্যান্ডই আবার সমতায় ফেরান ফুলহামকে।

রাউলের বিপক্ষে জিতলেন নিস্টলরয়

ম্যাচটা ছিল সাবেক দুই রিয়াল মাদ্রিদ সতীর্থের মুখোমুখি লড়াই। এই মৌসুমেই রিয়াল থেকে শালকে জিরো ফোরে নাম লিখিয়েছেন রাউল, রুড ফন নিস্টলরয় গেছেন হামবুর্গ এসভিতে। পরশু জার্মানির বুন্দেসলিগায় এই দুই দলের ম্যাচে হামবুর্গ জিতেছে ২-১ গোলে। দলের দুটি গোলই করেছেন নিস্টলরয়। রাউল করতে পারেননি একটিও। ফলে দুই দিক দিয়েই রাউলের বিপক্ষে জয় হলো নিস্টলরয়ের। ৪৬ মিনিটে প্রথম গোলটি করেছিলেন নিস্টলরয়। ৮০ মিনিটে সমতা ফেরান ফারফান। ৮৩ মিনিটে নিস্টলরয়ের জয়সূচক গোল।

বল হাতে সফল সাকিব

সারের বিপক্ষে আগের চার দিনের ম্যাচটায় দারুণ খেলেছিলেন। কিন্তু কাল গ্ল্যামরগনের বিপক্ষে ৪০ ওভারের ম্যাচে কোনো রান না করেই আউট হয়ে গেছেন বাংলাদেশ সহ-অধিনায়ক। তবে বল হাতে ৪ উইকেট নিয়ে পুষিয়ে দিয়েছেন ব্যাটিংয়ের ব্যর্থতা।
চার নম্বরে নেমে প্রথম বলেই বাঁহাতি স্পিনার নিক জেমসকে ফিরতি ক্যাচ দিয়েছেন সাকিব। সাকিব না পারলেও ওপেনার মঈন আলীর ১২১, অধিনায়ক বিক্রম সোলাঙ্কির ৫১ ও গ্যারেথ অ্যান্ড্রুর অপরাজিত ৬৬ রানের সৌজন্যে ৫ উইকেটে ২৯৬ রান করেছে উস্টারশায়ার। গ্ল্যামরগন ২৬.১ ওভারে মাত্র ১১৮ রানেই অলআউট হয়ে যায়। সাকিব ৬.১ ওভার বোলিং করে ৩২ রান দিয়ে নিয়েছেন ৪ উইকেট। ৩৮ রান দিয়ে ম্যাসন নিয়েছেন ৩ উইকেট।

ভারতকে উড়িয়ে ফাইনালে শ্রীলঙ্কা

দলের মধ্যেই এই হাসি ছড়িয়ে দিয়েছেন পেরেরা
গত ২৫ মাসে ওয়ানডেতে ৪২ বার মুখোমুখি হয়েছে ভারত-শ্রীলঙ্কা। কিন্তু এতটা যুদ্ধংদেহী পরিস্থিতি কখনো ছিল না। সুরাজ রণদিভের ‘নো বল’ বিতর্কে দুদলের দীর্ঘদিনের সম্প্রীতির বাতাবরণ হাওয়ায় উড়ে গেছে। ম্যাচের আগের দিন কুমার সাঙ্গাকারা বলেছিলেন, ‘আমরা সঠিক চেতনাতেই ক্রিকেটটা খেলার চেষ্টা করি। না পারলে দায় নিজেদের কাঁধে নেই, সংবাদমাধ্যম বা বোর্ডের আড়ালে লুকানোর চেষ্টা করি না।’ আবার হিন্দুস্তান টাইমসকে কোনো এক ভারতীয় ক্রিকেটার বলেছেন, ‘রণদিভ শুধু খেলুক না, ওকে রান-বন্যায় ভাসিয়ে দেব।’ক্রিকেটীয় দৃষ্টিকোণ থেকেও ম্যাচটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। যে দল জিতবে, তাদেরই ফাইনাল নিশ্চিত। সব মিলিয়ে টান টান উত্তেজনার এক ম্যাচের প্রেক্ষাপট ছিল পুরোপুরি প্রস্তুত। অথচ এই ম্যাচটাই কিনা হলো এমন একতরফা! ভারতকে ইতিহাসের ‘সবচেয়ে বড়’ পরাজয়ের লজ্জায় ডুবিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে উঠে গেল শ্রীলঙ্কা। ২০৯ বল হাতে রেখে জিতেছে শ্রীলঙ্কা, ভারতের বিপক্ষে এত বেশি বল বাকি থাকতে জেতেনি আর কোনো দল। যাঁকে নিয়ে এত বিতর্ক, ভারতের হুমকি, সেই রণদিভকে বলই হাতে নিতে হয়নি! শ্রীলঙ্কার মাটিতে পা রাখার দেড় মাস পর প্রথম টস জিতে ব্যাটিং নিয়েছিলেন মহেন্দ্র সিং ধোনি। কিন্তু শ্রীলঙ্কার চার পেসার মিলে তাদের গুটিয়ে দিলেন ১০৩ রানে। ক্যারিয়ারের প্রথম ৫ উইকেট নিয়ে ধ্বংসযজ্ঞের মূল নায়ক অলরাউন্ডার থিসারা পেরেরা।

দ্রগবা না পারলেও পেরেছে চেলসি

মানুষের সব চাওয়াই কি পূরণ হয়? দিদিয়ের দ্রগবা চেয়েছিলেন ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে হ্যাটট্রিকের হ্যাটট্রিক করতে, প্রিমিয়ার লিগ যে ঘটনা দেখেছিল ৬৪ বছর আগে। হ্যাটট্রিক দূরের কথা, পরশু গোলেরই দেখা পেলেন না।
তবে দ্রগবা না পারলে কী হবে? চেলসি ঠিকই দুর্দমনীয় গতিতে এগিয়ে চলছে। লিগের প্রথম ম্যাচে ওয়েস্ট ব্রমউইচকে ৬-০ গোলে হারানোর পর পরশু একই ব্যবধানে হারাল তারা উইগান অ্যাথলেটিককে।
কার্লো আনচেলত্তির চেলসি যেন ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে গোলের বন্যাই বইয়ে দেওয়ার মিশন নিয়ে নেমেছে। এই নিয়ে সর্বশেষ তিন ম্যাচে ২০ গোল হলো তাদের। গত মৌসুমের শেষ ম্যাচে এই উইগানের বিপক্ষেই ৮-০ গোলে জিতেছিল ‘ব্লু’রা। আর এবার প্রথম দুই ম্যাচে পেল ১২ গোল।
গোল করায় যতটাই উদার চেলসি, গোল খাওয়ার দিক দিয়ে ঠিক ততটাই কৃপণ। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে তারা গোল খায়নি টানা ৫০০ মিনিট। দেখা যাক সময়টাকে আর কত দূর নিয়ে যেতে পারেন আনচেলত্তির ‘নীল’ সৈনিকেরা।
দ্রগবা গোল পাননি, তবে গোল পেয়েছেন তাঁর স্বদেশি সতীর্থ সলোমন কালু। কালুর জোড়া গোলের উত্স ছিলেন আবার দ্রগবাই। গোলের হ্যাটট্রিক করতে না পারলেও গোল করানোয় দ্রগবা ঠিকই হ্যাটট্রিক করেছেন পরশু। জোড়া গোল করেছেন দিন কয়েক আগে ফ্রান্স জাতীয় দলে ১৮ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা পাওয়া আনেলকা। ৪৮ মিনিটে তাঁর প্রথম গোলটি এসেছে দ্রগবার সহযোগিতায়।
উইগানের জালে চেলসির গোল-বন্যার শুরুটা হয় ৩৪ মিনিটে। প্রথম ম্যাচে ব্ল্যাকপুলের কাছে ০-৪ গোলের পরাজয়ের পর নিজেদের মাঠে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয় ছিল উইগানের। ৩৩ মিনিট পর্যন্ত চেলসিকে আটকেও রেখেছিল। কিন্তু ৩৪ মিনিটে উইগানের প্রতিরোধ ভেঙে দেন ফ্লোরেন্ত মালুদা। এ মৌসুমেই লিভারপুল থেকে চেলসিতে নাম লেখানো ইয়সি বেনায়ুন করেন দলের ষষ্ঠ গোল।
তবে চেলসি এত এত গোল পাওয়ার পরও দিদিয়ের দ্রগবার কাছে মনে হয়েছে লিগ শিরোপা ধরে রাখাটা অত সহজ হবে না, ‘সামনে কঠিন পথ। লিগ জয়টা খুব সহজ হবে না। এ ম্যাচে আমরা ৬ গোল করেছি। তবে প্রথমার্ধে ভুগতে হয়েছে।’ মৌসুমের শুরুটা স্বপ্নের মতো হয়েছে দেখে খুশিই কোচ আনচেলত্তি, ‘শুরুটা ভালোভাবে করা গুরুত্বপূর্ণ। এই ধারাটা বজায় রাখতে হবে।’
পরশু ব্ল্যাকপুলকে গোলে ভাসিয়েছে আর্সেনাল। লিভারপুলের সঙ্গে ড্র দিয়ে লিগ শুরু করা আর্সেনালকে ৬-০ গোলের বড় জয় এনে দিয়েছেন আসলে ইংলিশ উইঙ্গার থিও ওয়ালকট। ফ্যাবিও ক্যাপেলোর বিশ্বকাপ দল থেকে বাদ পড়ার জবাব দিলেন হ্যাটট্রিক করে। আর্সেনালের বাকি গোল তিনটি করেছেন আরশাভিন, দিয়াবি আর চামাক।
মৌসুম শুরুর আগেই বলেছিলেন, ওয়ালকট বিশ্বকাপ দল থেকে বাদ পড়ার জবাব মাঠেই দেবেন। তাঁর কথা সত্যি হতে চলেছে দেখে খুব খুশি ওয়েঙ্গার। ওয়ালকটকে ‘বিদ্যুত্গতি’র মনে হয়েছে তাঁর কাছে, ‘আগের চেয়ে ও এখন আরও বেশি ইলেকট্রিক। ও আগের চেয়ে এখন আরও বেশি তীক্ষ। আগের চেয়ে অনেক বেশি পরিণতও হয়েছে সে।’

ভারতে আসছেন নতুন লি

ম্যায় টুমহারা হু’। ২০০৬ সালে ভারতের কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী আশা ভোঁসলের সঙ্গে গান গেয়ে ব্রেট লি ভাঙা হিন্দিতে উচ্চারণ করেছিলেন, ‘আমি তোমার।’ অস্ট্রেলিয়ার এই সুদর্শন ফাস্ট বোলার এবার পুরো বলিউড ইন্ডাস্ট্রিকেই বলছেন, ‘আমি তোমাদের!’ ওয়েবসাইট।
টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়েছেন। ওয়ানডে, টি-টোয়েন্টি দলেও জায়গা অনিশ্চিত। একসময় ঘণ্টায় ৯৯.৯ মাইল বেগে বল ছোড়া এই আগুনে বোলারের ক্রিকেট-ভবিষ্যৎই একরকম অনিশ্চিত। লি নতুন ক্যারিয়ার শুরু করছেন। তবে আর দশটা তারকা ক্রিকেটারের মতো নয়। ক্রিকেটের বাইরে গিয়ে নতুন পরিচয়ে আবির্ভূত হতে চাইছেন।
তাঁর নতুন ব্যান্ড ‘হোয়াইট শ্যু থিওরি’ নিয়ে যাচ্ছেন ভারত সফরে। আটটির মতো কনসার্ট করার কথা আছে তাঁর। তাঁর নিজের নামের ফ্যাশন ব্র্যান্ড আসছে বাজারে। ‘বিএল’ নামের ব্র্যান্ড থেকে ভারতের বাজারে ছাড়া হবে বিভিন্ন ধরনের পোশাক। এর আগে টাইমেক্স ঘড়ির মডেল হয়েছিলেন। এনার্জি ড্রিংক বুস্ট, নিউ ব্যালান্স জুতা আর মোটরসাইকেল নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টিভিএসের সঙ্গে চুক্তি আছে তাঁর। লি চুক্তিবদ্ধ হচ্ছেন আরও বেশ কিছু পণ্যের মডেল হওয়ার ব্যাপারে। ৩৩ বছর বয়সীর অভিনয় করার কথা বলিউডে। অবশ্য এরই মধ্যে ভিক্টরি নামের একটি ছবিতে অভিনয়ও করেছেন।
অস্ট্রেলিয়ায়ও সম্প্রতি চ্যানেল নাইনের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন। এই টিভির হয়ে ধারাভাষ্য দিতে দেখা যাবে তাঁকে। যদিও চ্যানেল নাইনের হয়ে লি পরিকল্পনা করছেন আরও বড় কিছু করার। লাইফ স্টাইল নিয়ে একটা ধারাবাহিক অনুষ্ঠান করার কথা তাঁর। এর আগে ‘পারসোনাল বেস্ট’ নামের একটা টিভি অনুষ্ঠানে উপস্থাপনা করার অভিজ্ঞতাও আছে তাঁর।
ব্রেট লির মুখপাত্র নিল ম্যাক্সওয়েল জানিয়েছেন, ভারতীয় বাজারে লির চাহিদা অনেক, ‘আগামী ছয়-সাত বছরে তাঁর পক্ষে ২ কোটি ডলার পর্যন্ত আয় করা সম্ভব। বলিউডের বাজার তো এখন অনেক বড়। সেখানকার তারকারা ৪ কোটি ডলারের চুক্তি পর্যন্ত সই করছেন। আর লি ভারতে অনেকটা বিটলসের (জনপ্রিয় ব্যান্ড) মতোই জনপ্রিয়। তাকে নিয়ে কাড়াকাড়ি পড়ে যায় সেখানে।’
আসলেই তা-ই। ভারতের সাধারণ মানুষ শুরু থেকেই লিকে বরণ করে নিয়েছে। ২০০৬ সালে আশা ভোঁসলের সঙ্গে তাঁর ‘ইউ আর ওয়ান ফর মি’ গানটি তুমুল জনপ্রিয় হয়। এখনো লির বেশ কদর সেখানে। এই ক্রিকেট তারকা নিজে জানালেন, এই ভালোবাসায় তিনি অভিভূত, ‘জানি না কী কারণে সেখানকার মানুষের প্রতি আমার অনেক ভালোবাসা।’
এই ভালোবাসাকে আশ্রয় করে লি নতুন সম্পর্ক গড়তে চাইছেন। দেখা যাক, ভারত এবার কীভাবে বরণ করে তাঁকে।

সেই মেসি, সেই বার্সা

মুখে ফিরেছে সেই দুষ্টুমিষ্টি হাসি। ফিরেছে দুই তর্জনী দুই দিকে উঁচিয়ে গোল উদ্যাপনের সেই পরিচিত দৃশ্য। লিওনেল মেসির গায়েও যে ফিরেছে বার্সেলোনার মেরুন-বেগুনি ডোরাকাটা জার্সি। পরশু আবারও মেসি-ম্যাজিক। এবার হ্যাটট্রিক করলেন আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড। স্প্যানিশ সুপার কাপের ফিরতি লেগে সেভিয়াকে ৪-০ গোলে উগিয়ে দিল বার্সা। প্রথম লেগে ৩-১ গোলে হেরে আসার পরও ৫-৩ গোল-গড়ে জিতে নিল মৌসুম সূচক শিরোপা।
এই ম্যাচ দিয়েই বার্সার হয়ে অভিষেক হলো দুজনের। মাঠে ডেভিড ভিয়ার। ভিআইপি বক্সে নতুন ক্লাব সভাপতি সান্দ্রো রসেলের। দুজনের শুরুটাই হলো দুর্দান্ত। ভিয়া স্কোরশিটে নাম লেখাতে পারেননি। তবে ৫৬ মিনিটে বদলি হিসেবে নামা ভিয়াও খেলেছেন দারুণ। ম্যাচের প্রথম একাদশে বিশ্বকাপজয়ী বার্সার আট খেলোয়াড়ের পাঁচজন ছিলেন। বদলি হিসেবে বেঞ্চে ভিয়ার সঙ্গে বসেছিলেন কার্লোস পুয়োল আর আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা। দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন মিডফিল্ডার জাভি।
আক্রমণের নেতৃত্বে ছিলেন পেদ্রো। ১৩ মিনিটে বার্সার প্রথম গোলটি এসেছে তাঁর সৌজন্যেই। অবশ্য গোলটি হয়েছে আত্মঘাতী। ২৪ মিনিটে দলের দ্বিতীয় গোল করেন মেসি। আর গোল না পেলেও চলত। ম্যাচটা ২-০ গোলে জিতলেও শিরোপা থেকে যেত বার্সেলোনার ঘরেই।
কিন্তু গত বিশ্বকাপে ডজনখানেক গোলের সুযোগ তৈরি করেও গোলের দেখা না পাওয়া মেসি ছিলেন দারুণ মুডে। ৪৩ মিনিটে দ্বিতীয় আর ম্যাচের শেষ প্রান্তে, ৮৯ মিনিটে পূর্ণ করেন হ্যাটট্রিক। যেন সবাইকে মনে করিয়ে দেন, গত মৌসুমে ক্লাবের হয়ে ৫৩ ম্যাচে ৪৭ গোল ছিল তাঁর।
এই ম্যাচে সেভিয়া খেলায়নি প্রথম লেগে তাদের জয়ের দুই নায়ক ফ্রেডেরিক কানুটে আর লুইস ফ্যাবিয়ানোকে। আগামীকাল চ্যাম্পিয়নস লিগের বাছাইপর্বের ম্যাচ আছে তাদের। এ কারণেই দলের দুই তারকাকে তারা রেখেছিল বিশ্রামে। কিন্তু বার্সা যেভাবে খেলেছে, তাতে মনে হয় না ফ্যাবিয়ানো-কানুটে থাকলেও ফলাফলের হেরফের হতো।
এ ম্যাচ দিয়ে বার্সেলোনা যেন সতর্কবার্তা পাঠিয়ে দিতে চেয়েছিল হোসে মরিনহোর রিয়াল মাদ্রিদকেও। কোচ হিসেবে তৃতীয় মৌসুমেই আট নম্বর ট্রফিটি জেতার পর পেপ গার্দিওলা বলেছেন, তাঁর দলের পক্ষে আরও উন্নতি করা সম্ভব, ‘পুরোপুরি ছন্দে ফিরতে আমাদের আরও পরিশ্রম করতে হবে। জাভি, ইনিয়েস্তা, মেসিদের সেরা ফর্মে ফেরা এখনো বাকি।’ মেসিও জানালেন, ‘আমাদের দলটা আসলে ক্রমেই গড়ে উঠছে। আমরা প্রতি ম্যাচেই উন্নতি করছি।’ তাঁর কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, আর্জেন্টিনার হয়ে গত বিশ্বকাপে ব্যর্থ হওয়ার পর যে সমালোচনা শুনতে হয়েছে, এ ব্যাপারে তাঁর কী মত। মেসির উত্তর, ‘আসলে আমার কাছে ফুটবল জিনিসটার মূল উদ্দেশ্য হলো উপভোগ করা। নিজের সেরাটা ঢেলে দেওয়া। সেটা জাতীয় দলেই হোক কিংবা এখানে।