Friday, January 7, 2011

অর্থবছরের ছয় মাসে রপ্তানি আয়ে প্রবৃদ্ধি ৪১ শতাংশ

চলতি ২০১০-১১ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় রপ্তানি আয় ৪১ শতাংশ বেড়েছে। শুধু তাই নয়, এই ছয় মাসে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও ১৭ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি আয় হয়েছে।
আলোচ্য ছয় মাসে মোট রপ্তানি আয় হয়েছে এক হাজার ২৬ কোটি ৩৬ লাখ ডলার। যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৭২৭ কোটি ৯৭ ডলার। অর্থাৎ ছয় মাসে রপ্তানি আয় বেশি হয়েছে প্রায় ৩০০ কোটি ডলার।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) মাসিক প্রতিবেদনে গতকাল বুধবার এ তথ্য-উপাত্ত প্রকাশ করা হয়েছে। প্রধান প্রধান রপ্তানি পণ্যগুলোয় নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে রপ্তানি আয় বেশি হয়েছে বলে প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইপিবির তথ্যানুযায়ী আগের অর্থবছরের ডিসেম্বর মাসে যেখানে রপ্তানি আয় হয়েছিল ১১৮ কোটি ৫২ ডলার, সেখানে এ বছর হয়েছে ১৯৮ কোটি ৮৩ লাখ ডলার। অর্থাৎ মাসিক হিসাবে আগের ডিসেম্বরের তুলনায় এই ডিসেম্বরে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৬৭ দশমিক ৭৬ শতাংশ। রপ্তানির মধ্যে সবচেয়ে বেশি আয় হয়েছে নিট পোশাক খাত থেকে। আলোচ্য ছয় মাসে নিট পোশাক রপ্তানির মাধ্যমে আয় হয়েছে ৪৩১ কোটি ১৯ লাখ ডলার, যা আগের অর্থবছরের চেয়ে ৪৩ দশমিক ৩৯ শতাংশ বেশি। ওভেন পোশাক খাতের ৬৩ কোটি ৬৫ লাখ ডলারের আয়ে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রবৃদ্ধি হয় ৪০ দশমিক ৭৯ শতাংশ। পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি হয় ৫৪ কোটি ৮৬ লাখ ডলার। এতে প্রবৃদ্ধি হয় ৫৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ। হোম টেক্সটাইলে ২৯ কোটি ৬০ লাখ ডলারের আয়ে প্রবৃদ্ধি হয় ৭৭ দশমিক ৭৫ শতাংশ, হিমায়িত খাদ্য ৩৩ কোটি ১২ লাখ ডলারের আয়ে প্রবৃদ্ধি হয় ৫২ দশমিক ৯২ শতাংশ। চামড়া খাতে ১২ কোটি ৮৭ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়, যা আগের বছরের চেয়ে ৩১ দশমিক ২৭ শতাংশ বেশি।এ ছাড়া আলোচ্য সময়ে ১৭ কোটি ১৬ লাখ ডলার মূল্যের কৃষিপণ্য, পাঁচ কোটি ৩২ লাখ ডলারের তামাক, তিন কোটি ১৬ লাখ ডলারের প্লাস্টিক পণ্য, দুই কোটি ৫৩ লাখ ডলারের চামড়াজাত পণ্য, ২২ লাখ ডলারের হস্তশিল্প, দুই কোটি ৬৩ লাখ ডলারের টুপি, এক কোটি ২০ লাখ ডলারের ঘড়ি ও ঘড়ির যন্ত্রাংশ, ১৪ কোটি ৫০ লাখ ডলারের ফুটওয়্যার, এক কোটি ৮০ লাখ ডলারের জাহাজ, এক কোটি ৮২ লাখ ডলারের সিরামিক পণ্য রপ্তানি হয়। এক কোটি ১৪ লাখ ডলারের কম্পিউটার সার্ভিসেস (জুলাই-অক্টোবর) এবং এক কোটি ৮৮ লাখ ডলারের ইলেকট্রিক পণ্য রপ্তানি হয়েছে।তবে কিছু পণ্যে রপ্তানি আয় গত বছরের একই সময়ের তুলনায় কম হয়েছে। এর মধ্যে চা রপ্তানি হয়েছে মাত্র ১২ লাখ ডলারের, যা আগের বারের তুলনায় ৬৮ দশমিক ৪১ শতাংশ কম। এ ছাড়া কেমিক্যাল পণ্য ১৯ দশমিক ৬৪, বাইসাইকেল ১০ দশমিক ২১, আসবাব ১০ দশমিক ৭২, ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য ৮ দশমিক ৭৩ এবং ওষুধ ২ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ কম রপ্তানি হয়েছে। চলতি ২০১০-১১ অর্থবছরে দেশের মোট রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে এক হাজার ৮৫০ কোটি ডলার, যা গত অর্থবছরের প্রকৃত রপ্তানি আয়ের চেয়ে ১৪ দশমিক ১৬ শতাংশ বেশি।
আগের ২০০৯-১০ অর্থবছরে রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল এক হাজার ৭৬০ কোটি ডলার। এর বিপরীতে রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছিল এক হাজার ৬১২ কোটি ডলার। যা তার আগের বছরের অর্জিত এক হাজার ৫৫৬ কোটি ডলারের রপ্তানি আয় থেকে ৪ দশমিক ১১ শতাংশ বেশি ছিল।

বীজ উৎপাদন ও সংরক্ষণে প্রাইজের সঙ্গে অংকুর সিড অ্যান্ড হিমাগারের চুক্তি

নীলফামারীতে উন্নত মানের আলুবীজ উৎপাদন, সংরক্ষণ ও কৃষকের উৎপাদিত আলুর ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে অংকুর সিড অ্যান্ড হিমাগার লিমিটেড এবং প্রাইজ, ইউএসএআইডি গত মঙ্গলবার একটি চুক্তি করেছে।
চুক্তি সই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অংকুর সিড অ্যান্ড হিমাগার লিমিটেডের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সেলিম, হিমাগারের ব্যবস্থাপক মো. কাইউম প্রধান এবং প্রাইজ, ইউএসএআইডির হর্টিকালচার টিম লিডার এ বি সিদ্দিকী ও সেক্টর ডেভেলপমেন্ট অ্যাডভাইজার আবদুল মান্নান সরকার।অনুষ্ঠানে এ বি সিদ্দিকী সাংবাদিকদের বলেন, ‘উন্নত জাতের বীজ উৎপাদনে কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও হিমাগারে বীজ সংরক্ষণে কারিগরি সহায়তা প্রদান, টিস্যু কালচার পদ্ধতিতে বীজ উৎপাদন এবং উন্নত বাজারব্যবস্থা নিশ্চিতকরণে আমরা কাজ করব। এতে করে ভালো বীজের নিশ্চয়তার পাশাপাশি এলাকার আলুচাষিরা লাভবান হবেন।’এ বি সিদ্দিকী আরও জানান, ‘২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এ প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ের মেয়াদ পর্যন্ত এই চুক্তি বলবৎ থাকবে।মোহাম্মদ সেলিম জানান, তাঁদের প্রতিষ্ঠান অংকুর সিড অ্যান্ড হিমাগারের ধারণক্ষমতা ১৫ হাজার মেট্রিক টন। এতে সাত হাজার টন বীজ আলু সংরক্ষণ করা হয়।

আবার দরপতন, আবার বিক্ষোভ

টানা চতুর্থ দিনের দরপতনে আজ বৃহস্পতিবার আবারো উত্তাল হয়ে উঠেছে ঢাকার শেয়ারবাজার। বেলা তিনটায় লেনদেন শেষ হওয়ার সময় ডিএসই’র সাধারণ সূচক ২১৩ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৭৭৩৫ পয়েন্টে।
এদিকে, টানা দরপতনে আজও বিনিয়োগকারীরা বিক্ষোভ শুরু করেছে। তাঁরা ডিএসই’র সামনের সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল করছে। বিনিয়োগকারীরা এসময় ডিএসই’র সামনে দুটি যাত্রীবাহী বাসও ভাঙচুর করে। এই ঘটনায় শাপলা চত্বর থেকে রাম কৃষ্ণ মিশন রোড পর্যন্ত সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ডিএসই এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বিনিয়োগকারীরা ডিএসইর আশেপাশের বিভিন্ন ভবনের ছাদে অবস্থান নিয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করছে বলে জানা গেছে। পুলিশ শক্তি প্রয়োগ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছে। এদিকে সর্বশেষ প্রাপ্ত খবরে জানা গেছে, বিকেল চারটার দিকে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এসময় তারা সাতজন বিক্ষোভকারীকে আটক করে। পুলিশের লাঠি পেটায় আহত হন চারজন বিক্ষোভকারী।
আজ বৃহস্পতিবার ডিএসইতে মোট ২৪৭টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার লেনদেন হয়। এর মধ্যে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানেরই শেয়ারের দাম কমেছে। ২৩১টি প্রতিষ্ঠানের দাম কমে যাওয়ার পাশাপাশি দাম বেড়েছে ১২টি প্রতিষ্ঠানের ও অপরিবর্তিত রয়েছে মোট ৪টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম।

ডিএসইতে ৯ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন লেনদেন

দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) আজ বৃহস্পতিবার দরপতনের ঘটনা ঘটেছে। ফলে ডিএসইতে লেনদেন পরিমাণও কমেছে। বাজার বিশ্লেষকেরা বিষয়টিকে বাজারের জন্য নেতিবাচক হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
ডিএসই সূত্রে জানা যায়, ডিএসইতে আজ ৯৬৯ কোটি ৮৬ লাখ ৮২ হাজার টাকার আর্থিক লেনদেন হয়, যা গত ৯ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। এর আগে গত বছরের ১৯ এপ্রিল ডিএসইতে ৯৬৩ কোটি টাকার আর্থিক লেনদেন হয়েছিল। এ ছাড়া গত ১৩ সেপ্টেম্বর এক হাজার ২৮ ও গতকাল বুধবার এক হাজার ২৯ কোটি টাকার লেনদেন হয়।
এ দিকে গত ৫ ডিসেম্বর ডিএসইর ইতিহাসে সর্বোচ্চ তিন হাজার ২৪৯ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছিল। এই হিসেবে আজ দুই হাজার ২৮০ কোটি টাকা কম লেনদেন হয়।
বাজার বিশ্লেষকেরা জানান, পুঁজিবাজারে সম্প্রতি বেশ তারল্য সংকট দেখা দেওয়ায় গত কয়েক দিন ধরে আর্থিক লেনদেন কিছুটা কমেছে, তবে আজকের লেনদেনকে বাজারের জন্য নেতিবাচক হিসেবে মন্তব্য করেছেন তাঁরা।
তবে বিনিয়োগকারীরা বলছেন, সাধারণ বিনিয়োগকারীদের বেকায়দায় ফেলতে কোনো চক্র বাজারে ঢুকে পড়েছে। তারা ইচ্ছাকৃতভাবে দরপতন ঘটিয়ে নিজেদের ফায়দা লুটছে। অন্যদিকে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা।
এ ব্যাপারে রশিদ ইনভেস্টমেন্ট সার্ভিসেস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আহমেদ রশিদ লালি বলেন, বর্তমানে মুদ্রাবাজারে বেশ তারল্যসংকট রয়েছে। এর প্রভাব পুঁজিবাজারেও পড়ছে। সুতরাং মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা এলে শেয়ারবাজারেও স্থিতিশীলতা আসবে।
এ ব্যাপারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক আবু আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, বাজার মন্দা অবস্থায় প্রবেশ করার কারণে লেনদেনের পরিমাণও কমেছে। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ও বড় বড় বিনিয়োগকারীরা সক্রিয় হলেই বাজার আবার আগের গতিতে ফিরে আসবে।

বেসরকারি কলেজের নিরীক্ষা by বদরে মুনীর

সরকারি এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় মিনিস্ট্রি অডিট বলে একটা কাজ হয়। এই প্রক্রিয়ায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে সাধারণত একজন পরিদর্শক ও একজন নিরীক্ষক নির্ধারিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো, জনবল-কাঠামো, বছরভিত্তিক আয়-ব্যয়ের হিসাব, নিয়োগ-প্রক্রিয়া ইত্যাদি পরিদর্শন ও নিরীক্ষণ শেষে মন্ত্রণালয়ে রিপোর্ট প্রদান করেন। এ রকম অডিটের কবলে পড়ে হয়তো ১০-১৫, এমনকি ২০ বছর ধরে শিক্ষকতা করা এবং বেতন-ভাতার সরকারি অংশ ভোগ করে যাওয়া একজন শিক্ষক জানতে পারেন, তাঁর নিয়োগ অবৈধ। অর্থাৎ এই ১০-১৫-২০ বছরে হাজার হাজার ছাত্রের সামনে শিক্ষক হিসেবে দাঁড়িয়ে তাদের পড়ালেখায় সাহায্য করা এবং বিনিময়ে মজুরি পাওয়ার পুরো ব্যাপারটাই একজন শিক্ষকের জীবনে অবৈধ! কারণ কী? কারণ, ওই নিয়োগ-প্রক্রিয়ায় একটি বিষয়ের জন্য ন্যূনতম নিয়োগপ্রার্থী থাকার নিয়ম তিনজন, ছিলেন দুজন; শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের প্রতিনিধি হিসেবে সাক্ষাৎকার বোর্ডে সরকারি কলেজের একজন অধ্যক্ষের উপস্থিত থাকার বিধি, কিন্তু ছিলেন একজন সহকারী অধ্যাপক; বিষয় বিশেষজ্ঞ হিসেবে একজন সহকারী অধ্যাপক থাকার বিধান, ছিলেন একজন প্রভাষক।বাংলাদেশের বাস্তবতায় যেকোনো পেশায় নিয়োগপ্রার্থী একজন ব্যক্তির পক্ষে কি উপরিউক্ত শর্তগুলো জানা সম্ভব, না সেগুলো জানা তাঁর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য? একজন নিয়োগপ্রার্থী কি নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানের কাছে জানতে চাইবেন, নিয়োগ-প্রক্রিয়ায় কতজন প্রতিযোগী অংশ নিচ্ছেন, নাকি সাক্ষাৎকার বোর্ডে জানতে চাইবেন, মাউশির প্রতিনিধি সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ কি না অথবা বিষয় বিশেষজ্ঞ সহকারী অধ্যাপক কি না? তাহলে নিয়োগ-প্রক্রিয়ার এই অবৈধতার দায় কার? দায় যারই হোক, তা বহন করতে হয় সেই শিক্ষককে, আকৈশোর যার ধারণা ছিল শিক্ষকতা একটা নির্ঝঞ্ঝাট এবং মোটামুটি সম্মানজনক জীবিকা।এভাবে সকাল নয়টা থেকে রাত নয়টা—তিন দিন অডিট চলার পর নির্ধারিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সব শিক্ষক-কর্মচারীর নিয়োগ অবৈধ হয়ে গেলে পরিদর্শক বা নিরীক্ষক সাহেব রসিকতা করে বলেন, মিনিস্ট্রি অডিট হলো কারেন্টের জাল, অনিয়মের কেঁচকি মাছটাও ছাড়া পাবে না। দিন তিনেক পর প্রতিষ্ঠানপ্রধান শিক্ষক-কর্মচারীদের জানান, ঢাকা থেকে ফোন করা হচ্ছে যোগাযোগ করতে। অডিটের কারেন্টের জাল ছিঁড়ে সব অবৈধতাকে বৈধতা দিতে পারে যে বোয়াল মাছ, তার দাম প্রতিষ্ঠানের সব শিক্ষক-কর্মচারীর দুই মাসের বেতন। সত্য-মিথ্যা বলা মুশকিল। কেননা, মফস্বলের এসব বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানদের বেশির ভাগই (অবশ্যই সবাই নন) তস্কর শ্রেণীর। ইন্সপেক্টর-অডিটর সত্যিই উৎকোচ চাইছেন, না প্রতিষ্ঠানের প্রধানেরা তাঁদের নাম ভাঙিয়ে শিক্ষক-কর্মচারীদের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন অথবা যে পরিমাণ ঘুষ দাবি করা হচ্ছে, তার পরিমাণ বাড়িয়ে বলা হচ্ছে কি না, তা যাচাই করার কোনো উপায় এই শিক্ষক-কর্মচারীদের থাকে না। লেনদেন বিষয়ে কথা হয় প্রতিষ্ঠানের প্রধানের সঙ্গে।
এ ব্যাপারে দৃষ্টান্ত টানতে গত অক্টোবরের একটি প্রসঙ্গ তোলা যায়। বেসরকারি কলেজের শিক্ষকদের চাকরির মেয়াদ আট বছর পূর্ণ হওয়ায় বেতন স্কেলের যে উন্নতি ঘটে, তা কয়েক বছর বন্ধ ছিল। সেই টাইম স্কেল পুনরায় চালুর প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় শিক্ষা ভবনে উৎকোচ গ্রহণের প্রস্তুতি বিষয়ে খবর প্রকাশিত হয় পত্রপত্রিকায়।
মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীর ত্বরিত হস্তক্ষেপে অবিশ্বাস্য হলেও সত্য যে এবারের টাইম স্কেল পরিবর্তনে শিক্ষা ভবনে টাকা লাগেনি। কেননা এ বিষয়ে গঠিত কমিটির আহ্বায়ক দীপক কুমার নাগ, মহাপরিচালক (প্রশাসন), মাউশি জানাচ্ছেন, ‘কোনো টাকা লাগবে না। কে টাকা নিচ্ছে, আমাকে বলেন। আমরা দিনরাত দরজা বন্ধ করে কাজ করছি। ১৮ (অক্টোবর) তারিখের মধ্যে টাইম স্কেল পৌঁছে যাবে।’ এরপর তো বলা যায় না, শিক্ষা ভবন ঘুষ নিয়েছে। অথচ বেসরকারি কলেজের অনেক অধ্যক্ষই টাকা না নিয়ে শিক্ষক-কর্মচারীদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ঢাকায় পাঠাননি, অথবা কাগজপত্র ঢাকায় নিয়ে শিক্ষক-কর্মচারীদের ফোন করেছেন, ‘ঘুষ লাগছে, এসএ পরিবহনে টাকা পাঠান।’
এ পর্যন্ত যা লেখা হলো তার প্রতি বর্ণ প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতায় পাওয়া নির্জলা সত্য হলেও এর কোনো দালিলিক প্রমাণ হাজির করা সম্ভব না। কেননা গত শতকের নব্বইয়ের দশকে এবং তার পরে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশের মফস্বলের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর, বিশেষ করে বেসরকারি কলেজগুলো প্রতিষ্ঠায় ও পরিচালনায় ব্যাপক-বিস্তৃত অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা, আত্মীয়প্রীতি এবং অদক্ষতা ও অযোগ্যতা বিরাজমান। এমন দৃষ্টান্তও হাজির করা যাবে যে মফস্বলের আনাচ-কানাচে যেকোনো চার বর্গকিলোমিটার, অথবা তারও কম এলাকা নিয়ে পাঁচ-ছয়জন যেনতেন এমএ পাস, তাদের মধ্য থেকে শারীরিকভাবে সবচেয়ে বলশালী একজনকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ বানিয়ে একটা কলেজ খুলে বসা হয়েছে। এরপর বিষয়ভিত্তিক এমএ, এমএসসি, এমকম পাস স্থানীয়দের কাছ থেকে ‘যার কাছে যেমন পাই’ ভিত্তিতে লাখ লাখ টাকা নিয়ে প্রভাষক হিসেবে নিয়োগ আর নানা রকম প্রলোভন দেখিয়ে ছাত্র ভর্তি শুরু করা হয়। এভাবে চলতে চলতে পাঁচ-সাত বছর চলার পর একেকটা কলেজ মোটামুটি দুই-তিন-চার শ ছাত্রছাত্রী এবং ৪০-৫০-৬০ জন শিক্ষক-কর্মচারী নিয়ে দাঁড়িয়ে গেছে। সুতরাং জন্মলগ্ন থেকেই অনিয়ম-দুর্নীতি এসব কলেজগুলোর দোসর। মিনিস্ট্রি অডিটের কালে এসব অনিয়ম-দুর্নীতি, অসৎ অধ্যক্ষ ও অসৎ ইন্সপেক্টর অডিটরদের কাছে এক মহা মওকা হয়ে ওঠে। আর এটা তো সবারই জানা যে এ রকম লেনদেনের কোনো প্রমাণ থাকে না।এমন পরিবেশ-পরিস্থিতিতে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের কাছে মিনিস্ট্রি অডিট আরেকটা বিষফোঁড়া।শিক্ষামন্ত্রীর অনেক সাহসী, দৃঢ়সংকল্প ও পদক্ষেপের ফলে আমাদের পুরো শিক্ষাব্যবস্থারই মনে হচ্ছে একটা বদল হচ্ছে। আধুনিক ও সম্ভাবনাময় জাতীয় শিক্ষানীতি প্রণয়ন সেই পদক্ষেপগুলোর একটি। এ বিষয়ে কি কিছু ভাবা যায় না, এই মিনিস্ট্রি অডিট নিয়ে?দেশের জন্য সুখবর যে আমাদের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব একজন কবি। ক্ষমতার অন্যায্য দাপটের সামনে টিকতে না পেরে ঘুষ দিলে কেবল তো আর্থিক ক্ষতিই হচ্ছে না, মানুষ হিসেবে ব্যক্তির মর্যাদাও মাটিতে লুটাচ্ছে। এদিকটায় একটু তাকানো মনে হয় দরকার।
বদরে মুনীর: কবি ও শিক্ষক।

শিগগির দেশে ফিরছেন সৌদি বাদশাহ

সৌদির বাদশা আবদুল্লাহর শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে। তিনি শিগগির যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফিরবেন। সেখানে তাঁর পিঠে অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। গতকাল বুধবার তাঁর মেয়ে প্রিন্সেস আদেলাহ এ কথা জানান।
রিয়াদের কিং সৌদ বিশ্ববিদ্যালয়ে এক নারী সম্মেলনে আদেলাহ সৌদি দৈনিক আল-ওয়াতনকে বলেন, বাদশা আবদুল্লাহর শারীরিক অবস্থার ক্রমাগত উন্নতি হচ্ছে। তিনি ফিজিওফেরাপি নিচ্ছেন। চিকিৎসা নেওয়া শেষ হলে তিনি দেশে ফিরবেন। ২২ নভেম্বর তিনি নিউইয়র্ক যান।

চীনে তুষারপাতের কারণে সরানো হয়েছে ৫৮ হাজার লোক

ভারী তুষারপাতের কারণে চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় এলাকার জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এ পর্যন্ত ৫৮ হাজার লোককে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
তুষার ও বরফের কারণে সেখানকার অনেক রাস্তাঘাটে পথচারী ও যানবাহন চলাচল থেমে গেছে। স্থানীয় কর্মকর্তারা জানান, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে পাঁচটি প্রদেশে কমপক্ষে এক হাজার বাড়ির ছাদ ধসে পড়েছে। তবে কেউ হতাহত হয়েছে কি না, সে ব্যাপারে অবশ্য তাঁরা কিছু বলেননি।
তীব্র শীত ও তুষারপাতে সবচেয়ে বিপদে পড়েছে পার্বত্য এলাকার লোকজন। স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হওয়ায় সেখান থেকে হাজার হাজার লোককে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানায়, তুষারপাতের কারণে এ অঞ্চলের প্রায় তিন লাখ একর জমির ফসল নষ্ট হয়েছে। এতে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২০ কোটি ডলার। কাল শুক্রবার পর্যন্ত এ ধরনের খারাপ আবহাওয়া বিরাজ করতে পারে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়া বিভাগের কর্মকর্তারা।

গাজার অর্থনীতিকে ধ্বংসের প্রান্তে রাখতে চেয়েছে ইসরায়েল

গাজার অর্থনীতিকে পুরোপুরি ধ্বংস না করে ধ্বংসের প্রান্তে আটকে রাখতে চেয়েছিল ইসরায়েল। ২০০৮ সালে ইসরায়েল কর্তৃপক্ষ তাদের এই পরিকল্পনার কথা যুক্তরাষ্ট্রকে জানিয়েছিল।
বিশ্বজুড়ে সাড়া জাগানো ওয়েবসাইট উইকিলিকসের ফাঁস করা গোপন মার্কিন কূটনৈতিক বার্তার বরাত দিয়ে গতকাল বুধবার নরওয়ের স্থানীয় পত্রিকা আফটেনপোস্টেন এ কথা জানায়। পত্রিকাটির দাবি, উইকিলিকসের কাছে থাকা আড়াই লাখ গোপন মার্কিন কূটনৈতিক তারবার্তার সবই তাদের কাছে রয়েছে।
খবরে তিনটি গোপন বার্তার বরাত দিয়ে বলা হয়, ইসরায়েলের তেল আবিবে মার্কিন দূতাবাসকে গাজায় অবরোধ চালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি জানায় দেশটির কর্তৃপক্ষ। ফিলিস্তিনের গাজা অংশের নিয়ন্ত্রণ করছে হামাস। দলটি ইসরায়েলকে স্বীকৃতি জানাতে রাজি নয়।ইসরায়েলে হামাসের রকেট হামলার অজুহাতে ২০০৮ সালে এক সামরিক অভিযানের পর থেকে গাজা অবরোধ করে ইসরায়েল। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই অবরোধের তীব্র নিন্দা জানায়।
পত্রিকাটিতে একটি বার্তার বরাত দিয়ে বলা হয়, ইসরায়েল কর্তৃপক্ষ মার্কিন দূতাবাসকে নিশ্চিত করেছে যে গাজা অবরোধের সার্বিক পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তারা গাজার অর্থনীতিকে ধ্বংসের খুব কাছাকাছি আটকে রাখবে, কিন্তু পুরোপুরি ধ্বংস করবে না। ইসরায়েল চেয়েছে, ওই উপকূলীয় এলাকার অর্থনীতি সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে যাক।

উত্তর আয়ারল্যান্ডে শীর্ষ কর্মকর্তার পদত্যাগ

নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড ওয়াটারের (এনআইডব্লিউ) প্রধান নির্বাহী লরেন্স ম্যাকেঞ্জি পদত্যাগ করেছেন। বিবিসি একটি সূত্রে এ খবর জানতে পেরেছে।
সম্প্রতি পানির সংকট মোকাবিলা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন ম্যাকেঞ্জি। তাঁর চাকরি ছাড়ার ব্যাপারে বিস্তারিত কয়েক দিনের মধ্যে প্রকাশ করা হবে।
গত ডিসেম্বরে বড়দিনের ছুটির সময় উত্তর আয়ারল্যান্ডে তীব্র পানির সংকট দেখা দেয়। স্টরমন্টে ওই সংকটে পড়ে হাজার হাজার পরিবারকে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। প্রচণ্ড শীতের পরপর আবার তাপমাত্রা বেশ বেড়ে যাওয়ায় বহু পাইপ ফেটে যায়। পরিস্থিতির যতটা দ্রুত অবনতি হয়, তার সঙ্গে তাল দিয়ে সংকট মোকাবিলায় ব্যর্থ হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা এনআইডব্লিউর তীব্র সমালোচনা শুরু করে। এ অবস্থায় গত বৃহস্পতিবার লরেন্স ম্যাকেঞ্জি ও অন্য জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপকদের তলব করে সংকটের কারণ জানতে চায় স্টরমন্টের আঞ্চলিক উন্নয়নবিষয়ক কমিটি।
ম্যাকেঞ্জির কর্মদক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে এনআইডব্লিউর দায়িত্বপ্রাপ্ত আঞ্চলিক উন্নয়নমন্ত্রী কনর মারফি বলেন, তিনি আপাতত জনগণের দুর্ভোগ লাঘবের কথা ভাবছেন।
ইতিমধ্যে সংকট কমে এসেছে। তবে এখনো প্রায় ১০০ বাড়িতে পানি নেই।
শিক্ষা বিভাগ জানিয়েছে, পানির সংকটের কারণে বড়দিনের পর খুলে দেওয়া স্কুলগুলো গতকাল বুধবার বন্ধ করে দেওয়ার কথা।

বন্যায় কুইন্সল্যান্ডের ৭৫ শতাংশ কয়লাখনি বন্ধ

অস্ট্রেলিয়ায় বন্যায় আরও নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। ফুঁসে উঠেছে ফিজরয় নদীর পানি। ফলে কুইন্সল্যান্ড রাজ্যের বিরাট এলাকা প্রায় ৩০ ফুট পানির নিচে তলিয়ে গেছে। আয়তনে জার্মানি ও ফ্রান্সের সমান কুইন্সল্যান্ড রাজ্যের প্রায় ৭৫ শতাংশ কয়লার খনি বন্ধ হয়ে গছে।
রাজ্যের ছোট-বড় অন্তত ৪০টি শহর বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। বিস্তীর্ণ গমখেত ও পশুচারণভূমি নষ্ট হয়েছে। বিশ্বখ্যাত গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ হুমকির মুখে পড়েছে। সড়ক, রেলপথসহ বিভিন্ন অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বন্যায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ৫০০ কোটি মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
গতকাল বুধবার কুইন্সল্যান্ডের রাজ্যপ্রধান এনা ব্লিগ স্থানীয় সেভেন নেটওয়ার্ক টেলিভিশনকে জানান, রাজ্যের কমপক্ষে ৪০টি শহর বন্যাকবলিত হয়েছে। এ প্রদেশের ৭৫ শতাংশ খনিতে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। খনি বন্ধ থাকায় আন্তর্জাতিক ইস্পাত বাজার অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে। কারণ, বিশ্বে ইস্পাত উৎপাদনে ব্যবহূত কয়লার ৭৫ শতাংশ রপ্তানি হয় এই কুইন্সল্যান্ড থেকে।
কুইন্সল্যান্ডের খনিজসম্পদমন্ত্রী জানান, খনিগুলো বন্ধ থাকায় প্রতিদিন ১০ কোটি ডলার ক্ষতি হচ্ছে। এ খাতে এ পর্যন্ত ১০০ কোটি ডলারের বেশি ক্ষতি হয়েছে। বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, বন্যার কারণে এ বছর অস্ট্রেলিয়ার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ কমে যেতে পারে। দেশটির বর্তমান প্রবৃদ্ধির হার ২ দশমিক ৭ শতাংশ।
বন্যা মোকাবিলায় গঠিত টাস্কফোর্সের কর্মকর্তারা বলেন, বন্যায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ৫০০ কোটি মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। অস্ট্রেলিয়া বিশ্বের চতুর্থ গম উৎপাদনকারী দেশ। দেশটির মোট উৎপাদনের পাঁচ শতাংশ হয় কুইন্সল্যান্ডে। বন্যার কারণে উৎপাদন মারাত্মকভাবে হ্রাস পাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

জাঁকজমকপূর্ণ বিয়ে নিষিদ্ধ হচ্ছে আফগানিস্তানে!

আফগানিস্তানে জাঁকজমকপূর্ণ বিয়ে অনুষ্ঠান আয়োজনের রেওয়াজ চলে আসছে বহুদিন ধরে। বহু মানুষকে আপ্যায়ন করে আনন্দ অনুষ্ঠান ভাগাভাগি করে তারাও পেত আনন্দ। তবে এতে তাদের ওপর চাপত বিপুল ঋণের বোঝা। বর ও কনেপক্ষকে অনর্থক এ ব্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করতে এবার জাঁকজমকপূর্ণ বিয়ের অনুষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের চিন্তা করছে সরকার।
তালেবানি শাসনামলে আফগানিস্তানে বিয়ের অনুষ্ঠানে নাচ-গান ও জাঁকজমকপূর্ণ ব্যয়বহুল আয়োজন ছিল নিষিদ্ধ। ২০০১ সালে তালেবানদের হটিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত সরকার ক্ষমতায় আসে। এরপর থেকে বিয়ের অনুষ্ঠানে আবারও পুরোনো ঐতিহ্য ফিরে আসে, খরচ হতে থাকে বিপুল অর্থ। বিয়ের আয়োজন করা হয় নামীদামি বিলাসবহুল হলগুলোতে। বহু লোককে অতিথি হিসেবে আপ্যায়ন করা হয়।
বিচারমন্ত্রী হাবিবুল্লাহ গালেবের মন্তব্য, বিয়ের অনুষ্ঠান যেন অনেকটা প্রতিযোগিতার মতো, কেউ কারও চেয়ে অনুষ্ঠান আয়োজনে পিছিয়ে থাকতে চায় না। কেউ কেউ তাদের পারিবারিক ঐতিহ্য ও ধনসম্পদ দেখানোর জন্যও শত শত অতিথিকে আপ্যায়ন করে। আবার কাউকে ঐতিহ্য ধরে রাখার প্রয়োজনে ঋণ করে হলেও অনুষ্ঠান আয়োজন করতে হয়। সরকার এ ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজনে নিষেধাজ্ঞা আরোপের চিন্তা করছে

আলোচনায় বসতে রাজি বাগবো

আইভরি কোস্টে বিতর্কিত নির্বাচনের পর উদ্ভূত রাজনৈতিক সংকট ‘শান্তিপূর্ণভাবে’ সমাধানের লক্ষ্যে আলোচনায় বসতে সম্মত হয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট লঅন্ত বাগবো। আফ্রিকার নেতারা গত মঙ্গলবার এ কথা জানিয়েছেন।
প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিজয়ী বলে ঘোষিত আলাসেন ওয়েতাহার সদর দপ্তরে গত মঙ্গলবার খুব সকালে অভিযান চালিয়েছেন বাগবোর সমর্থক সেনারা। এতে একজন নিহত ও আটজন আহত হয়েছে। আটক করা হয়েছে ১৩০ জনকে।
পশ্চিম আফ্রিকার দেশগুলোর অর্থনৈতিক সংস্থা ইসিওডব্লিউএএসের চেয়ারম্যান জেমস ভিক্টর বেহো জানান, আলাসান ওয়েতাহার অস্থায়ী কার্যালয়ের চার পাশ থেকে শিগগিরই অবরোধ তুলে নিতে রাজি হয়েছেন বাগবো। তবে ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়ানোর বিষয়ে কোনো ইঙ্গিত এখনো দেননি বাগবো।
নাইজেরিয়ার আবুজায় ইসিওডব্লিউএএসের সদস্যদের সঙ্গে বিশেষ বৈঠকের পর বেহো বলেন, ‘সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধানের লক্ষ্যে কোনো পূর্বশর্ত ছাড়াই আলোচনায় বসতে রাজি হয়েছেন বাগবো। একই সঙ্গে ওয়েতাহার অস্থায়ী কার্যালয় হোটেল দ্য গলফের চার পাশ থেকে অবরোধ দ্রুত তুলে নেওয়ার অঙ্গীকারও করেছেন।’
ইসিওডব্লিউএএসের চেয়ারম্যান জানান, আইভরি কোস্টের স্বাধীন নির্বাচন কমিশন ঘোষিত ও জাতিসংঘ স্বীকৃত নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিলে বাগবোর সম্মানজনক অপসারণে ওয়েতাহা রাজি হতে পারেন বলে আভাস দিয়েছেন।
ইসিওডব্লিউএএসের পক্ষ থেকে সিয়েরা লিওনের প্রেসিডেন্ট আর্নেস্ট করোমা, বেনিনের প্রেসিডেন্ট বোনি ইউয়েয়ি, কেপ ভার্দের প্রেসিডেন্ট পেদ্রো পিরেজ ও আফ্রিকান ইউনিয়নের (এইউ) প্রতিনিধি হিসেবে কেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী রাইলা ওদিঙ্গা গত সোমবার আইভরি কোস্টে যান। সেখানে তাঁরা প্রেসিডেন্ট বাগবো ও ওয়েতাহার সঙ্গে বৈঠক করেন।
বৈঠক শেষে ফিরে প্রতিনিধিদলের সদস্যরা নিজ নিজ সংস্থার প্রধানকে বৈঠকের ফলাফল অবহিত করেন।
কেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী ওদিঙ্গা বলেন, ক্ষমতা ভাগাভাগির কোনো সুযোগ নেই, সরে দাঁড়ানোর জন্যই বাগবোকে আলোচনায় আসতে হবে। একই সঙ্গে তিনি জানান, কোনো কিছুতে কাজ না হলে সর্বশেষ পদক্ষেপ হিসেবে বাগবোর সামরিক অভিযানের সম্ভাবনাও নাকচ করা যায় না।
মঙ্গলবার সকালে আইভরি কোস্ট ডেমোক্রেটিক পার্টির (পিডিসিআই) সদর দপ্তরে সেনাবাহিনীর অভিযানে একজন নিহত হয়। সেখানে গোপনে অস্ত্র মজুদ করা হয়েছে—এই অভিযোগে অভিযান চালান বাগবোর সমর্থক সেনারা। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ওয়েতাহাকে সমর্থন দেওয়া আরএইচডিপি জোটের শরিক পিডিসিআই।
গত ২৮ নভেম্বরের নির্বাচনের পর বাগবো ও ওয়েতাহা দুজনই আলাদাভাবে প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছেন। এরপর সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। আবিদজানের একটি হোটেলে আশ্রয় নিয়েছেন ওয়েতাহা। জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনীর একটি ছোট দল তাঁর নিরাপত্তা দিচ্ছে। আফ্রিকান ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ওয়েতাহাকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে ক্ষমতা ছেড়ে দেওয়ার জন্য বাগবোকে চাপ দিয়ে যাচ্ছে।

ভোটে উতরে গেলেন কুয়েতের প্রধানমন্ত্রী

কুয়েতের পার্লামেন্টে সে দেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ নাসের মোহাম্মদ আল আহমাদ আল-সাবাহর বিরুদ্ধে আনা ‘অসহযোগিতা প্রস্তাবের’ ওপর গতকাল বুধবার ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছেন তিনি। প্রস্তাবটিকে প্রধানমন্ত্রীকে অপসারণের প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছিল।
পার্লামেন্টের স্পিকার জাসেম আল-খোরাফি জানান, ৫০ আসনের পার্লামেন্টে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে ২৫ জন সদস্য ভোট দেন। বিপক্ষে ভোট দেন ২২ জন। একজন পার্লামেন্ট সদস্য ভোটদানে বিরত থাকেন। মন্ত্রী হওয়ায় একজন সদস্য ভোট দিতে পারেননি। অপর এক সদস্য কুয়েতের বাইরে অবস্থান করছেন।
খোরাফি বলেন, ‘সংবিধান অনুযায়ী পার্লামেন্ট প্রধানমন্ত্রীর ওপর পুনরায় আস্থা ও সহযোগিতা পুনর্ব্যক্ত করেছে।’ এর আগে পার্লামেন্টে তিন ঘণ্টার একটি রুদ্ধদ্বার অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।
তবে ভোটাভুটির পর বিরোধীদলীয় পার্লামেন্টের সদস্যরা বলেন, শেখ নাসেরের নেতৃত্বাধীন সরকারের সঙ্গে তাঁরা কাজ করবেন না। বিরোধীদলীয় সাংসদ মুসাল্লাম আল-বারাক বলেন, ‘আজ কর্মসূচি শুরু হলো। এই সরকারের পতন না হওয়া পর্যন্ত তা অব্যাহত থাকবে।’

হ্যামিল্টনে আত্মবিশ্বাসী নিউজিল্যান্ড

নিউজিল্যান্ডের একপ্রকার ঐতিহ্যই এটা। সিরিজ শুরুর আগে সফরকারী দলের বিপক্ষে শেষ যে অনুশীলন ম্যাচটি হবে, সেটি হবে প্রথম টেস্টের দলের ছায়া। ওয়াঙ্গারেই কোবহাম ওভালে ৩ দিনের যে ম্যাচটি পরশু শেষ হলো, এতেও এর ব্যতিক্রম হয়নি। বাংলাদেশ সময় আগামীকাল ভোর ৪টায় শুরু হতে যাওয়া ম্যাচটিতে নিউজিল্যান্ডের যে দল খেলবে, এই ম্যাচে খেলল সেই দলই। আর এ কারণেই দুই টেস্টের সিরিজের প্রথম ম্যাচে অন্যরকম একটা আত্মবিশ্বাস নিয়েই নামতে পারছে নিউজিল্যান্ড।তিন দিনের ম্যাচটিতে ব্রেন্ডন ম্যাককালাম দুর্দান্ত একটি ডাবল সেঞ্চুরি করেছেন। পাকিস্তানের খেলা একমাত্র ইনিংসে ড্যানিয়েল ভেট্টোরি ও ক্রিস মার্টিন নিয়েছেন ৩টি করে উইকেট। ২টি উইকেট পেয়েছেন জেমস ফ্রাঙ্কলিনও। সবকিছু মিলিয়ে ওপেনার ম্যাকিন্টোশ দলের আত্মবিশ্বাসটাকে দেখছেন অনেক উঁচুতেই, ‘আমাদের অনেক আত্মবিশ্বাস নিয়েই এ ম্যাচটা খেলতে যাওয়া উচিত। বিশ্বের এক নম্বর টেস্ট দল ভারতের বিপক্ষেও আমরা ভালো খেলে এসেছি।’ভারত সফরে নাগপুরে ইনিংস ও ১৯৮ রানে হারার আগে দুটি টেস্ট ড্র করেছে নিউজিল্যান্ড। এরপর দেশের মাটিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজটি জিতেছে ২-১-এ। ভালো করেছে অনুশীলন ম্যাচেও। ম্যাকিন্টোশ আত্মবিশ্বাসী হতেই পারেন। তবে পাকিস্তানকে কখনোই আপনি উপেক্ষা করতে পারেন না। বিশ্ব ক্রিকেটের সবচেয়ে অননুমেয় দলটি গত নভেম্বরে আরব আমিরাতে দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে টেস্ট সিরিজ ড্র করে বুঝিয়ে দিয়েছে তাদের বিপক্ষে শেষ কথা বলার ঝুঁকি নেওয়া যায় না।
পাকিস্তান অবশ্য প্রথম টেস্টের দলে পাচ্ছে না অফ স্পিনার সাঈদ আজমলকে। গত পরশু তাঁর বাবার মৃত্যুসংবাদ পেয়ে পাকিস্তানে ফিরে গেছেন তিনি।

কুক আর বেলে ভাজা অস্ট্রেলিয়া

গ্রায়েম সোয়ানের কাঁধে এখন মস্ত বড় দায়িত্ব। মেলবোর্নে সিরিজ ধরে রাখার উৎসব ইংল্যান্ড করে ফেলেছে ‘স্প্রিঙ্কলার ডান্স’ দিয়ে সোয়ানের নেতৃত্বে। সিরিজ জয়ের উৎসব তো আরও জাঁকালো হওয়া চাই। দুই যুগ পর অস্ট্রেলিয়ায় অ্যাশেজ জয়ের আনন্দ-উৎসব স্মরণীয় করে রাখতে হবে না! দেখা যাক, ‘জোকার’ সোয়ান এবার কী বের করেন ঝুলি থেকে।
সিডনি টেস্টের তৃতীয় দিন শেষে দল সোয়ানকে উৎসবের আগাম পরিকল্পনার দায়িত্ব দিয়ে রাখতেই পারে। হাতে ৩ উইকেট নিয়ে ইংল্যান্ড ২০৮ রানের লিড পেয়ে গেছে। প্রথম ইনিংসে ২৮০ রানে গুটিয়ে যাওয়া অস্ট্রেলিয়া তাদের দ্বিতীয় ইনিংসে কত দূর যাবে, সেটি আপনিই অনুমান করে নিন।
ম্যাচ, একই সঙ্গে সিরিজটা এভাবে ইংল্যান্ডের দিকে ঝুলে থাকার মূলে অবশ্যই অ্যালিস্টার কুক। আগের দিন ৬১ রানে অপরাজিত কুক তুলে নিয়েছেন সিরিজে তাঁর তৃতীয় সেঞ্চুরি। একসময় মনে হচ্ছিল, ওয়ালি হ্যামন্ডের পর দ্বিতীয় ইংলিশ হিসেবে এক অ্যাশেজে দুটো ডাবল সেঞ্চুরিও পেয়ে যাবেন। কিন্তু রেকর্ডের পাতায় হ্যামন্ডকে নিঃসঙ্গ রেখে মাত্র ১১ রানের জন্য বঞ্চিত হয়েছেন ডাবল সেঞ্চুরি থেকে।
কুকের সঙ্গে ইয়ান বেলও অ্যাশেজে তাঁর প্রথম সেঞ্চুরিটা করেছেন একদম ঠিক সময়ে। বেলের ১১৫ রানের ইনিংসটা কিছু বিতর্কের রসদও দিয়ে গেলেও এটা প্রশ্নাতীত, ম্যাচের লাগাম পুরোপুরি ইংল্যান্ডের হাতে।
কুক আর বেলের দুটো সেঞ্চুরির মাহাত্ম্য আরও বেড়ে যাচ্ছে কাল লাঞ্চের আগে ইংল্যান্ড দুটি উইকেট হারিয়ে ফেলায়। আগের দিনের নৈশপ্রহরী জেমস অ্যান্ডারসন সাত রানের বেশি করতে পারেননি। মাত্র ১৩ রানে মাইকেল বিয়ারের প্রথম টেস্ট উইকেট হয়ে বিদায় নিয়ে পল কলিংউড হয়তো টেস্ট থেকে অবসরের সিদ্ধান্তের আরও কাছে পৌঁছে গেছেন। অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংস থেকে ৫৪ রানে পিছিয়ে থাকতেই ইংল্যান্ড হারায় ৫ উইকেট।
এর পরই ষষ্ঠ উইকেটে কুক-বেলের ১৫৪ রানের জুটি। বেল অবশ্য ৬৭ রানে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়েছিলেন। আম্পায়ার আউট দেওয়ার পর রেফারেল নেন বেল। সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে নেওয়া হলেও সেটি মীমাংসিত ছিল না। পরে স্নিকোতে দেখা যায়, বেলের ব্যাটে ছোঁয়া লেগেছিল বলের। ৮৪ রানেও একবার স্মিথকে রিটার্ন ক্যাচ দিয়ে বেঁচে গেছেন। নব্বইয়ের ঘরে গিয়ে অবশ্য বেশ সাবলীল ছিলেন। স্মিথের বলে ২ রান নিয়ে পূর্ণ করেন ক্যারিয়ারের দ্বাদশ সেঞ্চুরি।
এর আগে নব্বইয়ের ঘরে কুককে বেশ নড়বড়ে দেখিয়েছে। তাঁর ৯৯ রানে নাটকও হয়েছে। বিয়ারের বলে শর্ট লেগে ফ্লিক করার পর ক্যাচের আবেদন করে উদ্যাপন শুরু করে দেয় অস্ট্রেলিয়া। বিয়ারের হতাশা দ্বিগুণ হয়ে যায় টিভি রিপ্লেতে। দেখা যায়, বল ফিলিপ হিউজের তালুবন্দী হওয়ার আগে মাটি ছুঁয়ে গেছে। এই বিয়ারের বলেই আগের দিন আউট হয়েও নো বলের কল্যাণে বেঁচে গিয়েছিলেন কুক।
বিয়ারের পরের ওভারে সেঞ্চুরি পূর্ণ করা সেই কুক অবশেষে আউট হন শেন ওয়াটসনের বলে। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। বেল প্রিয়রকে নিয়ে গড়েন ১০৭ রানের জুটি। আলোকস্বল্পতায় দিনের খেলা শেষ হওয়ার মাত্র এক ওভার আগে বেল ফিরে গেলেও ততক্ষণে ৪৮৮ রান তুলে ফেলেছে ইংল্যান্ড। ক্লার্কের দুশ্চিন্তার কাঁটা হয়ে প্রিয়র অপরাজিত আছেন ৫৪ রানে।

স্টেইনের টেন্ডুলকার প্রশস্তি

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কেপটাউনের সাদার্ন সান কালিনান হোটেলের একটি নির্দিষ্ট রুমের বাইরে অপেক্ষা করছিলেন এক ফরাসি দম্পতি। ওই রুমের পাশের রুমটিতেই উঠেছেন ফ্রানকোইস ও হেস্টার দু টোয়েট। নিজেদের রুম ছেড়ে টোয়েট দম্পতির পাশের রুমটিকে লক্ষ্য বানিয়ে অপেক্ষার হেতু, ওই রুমটির বর্তমান বাসিন্দা শচীন টেন্ডুলকার। নিউল্যান্ডসে ক্যারিয়ারের ৫১তম টেস্ট সেঞ্চুরিটি করে খানিক আগে যিনি ঢুকেছেন নিজের রুমে।
ফরাসি দম্পতি ক্রিকেট কতটা বোঝেন সেটা তাঁরাই ভালো বলতে পারবেন। তবে শচীন টেন্ডুলকার যে এই বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম বড় তারকা, সে বিষয়ে তাঁদের সংশয় ছিল না। তাই টেন্ডুলকারের একটা অটোগ্রাফের জন্য ব্যাকুল ছিলেন। আশা মিটেছে তাঁদের। দরজায় কড়া নাড়তেই সানন্দে অটোগ্রাফপ্রার্থীর চাহিদা মিটিয়েছেন টেন্ডুলকার। দুনিয়ার এতবড় ক্রিকেটার এমন বিনয়ী, অভিভূত তাঁরা!
ফরাসি ওই দম্পতি টেন্ডুলকারের বিনয় দেখেছেন। কিন্তু তাঁরা কি জানেন ব্যাট হাতে নিয়ে তিনি কতটা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ, রুদ্রমূর্তি হয়ে ওঠেন? টোয়েট দম্পতি না জানুন, ডেল স্টেইন জানেন। স্টেইন জানলেন মঙ্গলবারও। টেস্ট শুরুর আগে থেকেই আলোচনা, দক্ষিণ আফ্রিকা-ভারতের চেয়েও এটা বেশি করে শচীন-স্টেইনের দ্বৈরথ। ইতিহাসের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যানের সঙ্গে বর্তমানের সেরা বোলারের লড়াই।
সিরিজে এখন পর্যন্ত দুটি সেঞ্চুরি করেছেন টেন্ডুলকার। স্টেইনও তাঁকে আউট করেছেন দুবার। কাজেই শচীন-স্টেইন দ্বৈরথ জমজমাট। মহাগুরুত্বপূর্ণ কেপটাউন টেস্টের তৃতীয় দিনটিতে তো শুধু শচীন-স্টেইন দ্বৈরথই হলো। আগুনের গোলা ছুড়ে সারাটা দিনই ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের জ্বালিয়ে মারলেন স্টেইন। কিন্তু টেন্ডুলকারের মুখোমুখি হয়ে উল্টো নিজেই পুড়েছেন হতাশায়!
বাউন্সারে, সুইংয়ে অন্যরা বিধ্বস্ত, কিন্তু এক প্রান্তে অবিচল দাঁড়িয়ে টেন্ডুলকারই স্টেইনকে দিয়ে গেছেন পাল্টা জবাব। ৫ উইকেট নিলেও স্টেইন টেন্ডুলকারকে আউট করতে পারেননি। ১৪৬ রানের ঝলমলে ইনিংস খেলা টেন্ডুলকার মরকেলের শিকার।
মঙ্গলবারের লড়াইয়ে কে জয়ী সেটা স্কোরবোর্ডই বলছে। দিন শেষে স্টেইনের উপলব্ধি, টেন্ডুলকারকে আউট করার চেষ্টা না করাই ভালো। বাউন্সারে কাজ হয়নি, সুইংয়ে কাজ হয়নি। কাজ হয়নি স্লেজিংয়েও। স্টেইন তাই বলছেন, ‘শচীন অসাধারণ এক খেলোয়াড়। তাঁকে আউট করার চেষ্টা করে শক্তি অপচয়ের মানে হয় না। আপনার বরং অন্য প্রান্তের ব্যাটসম্যানের দিকে নজর দেওয়া উচিত।’
স্টেইনের কথা, টেন্ডুলকারকে খেপাতে গেলেই বিপদ! আর টেন্ডুলকার বলেছেন, ক্রিকেটকে কখনোই দুই ব্যক্তির লড়াই মনে করেন না তিনি। তাঁর কাছে ক্রিকেট দলীয় খেলা। লড়াইটাও তাই দলীয়।