Saturday, September 18, 2010

ইসলামের আলোকে শিক্ষা ও গবেষণা by মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান

আধুনিক কালে জ্ঞান-বিজ্ঞানের যে চরম উৎকর্ষ, তা ইসলামের অবদান। বর্তমানে মানবজাতির ইতিহাস এমন পর্যায়ে গিয়ে উপনীত হয়েছে, যা থেকে সব জ্ঞান-বিজ্ঞানের স্রোতোধারা ইসলামের দিকেই প্রবাহিত হচ্ছে। ইসলাম সূচনাকাল থেকেই জ্ঞান-বিজ্ঞানের পৃষ্ঠপোষকতা করে আসছে। জ্ঞানার্জন ছাড়া ইসলাম বোঝা অসম্ভব। এ জন্য ইসলাম তার অনুসারীদের জ্ঞানার্জনের প্রতি সর্বাধিক উৎসাহিত করেছে। পবিত্র কোরআনে মুসলমানদের এ প্রার্থনা করতে দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে, ‘হে আমাদের প্রতিপালক! আমার জ্ঞান বৃদ্ধি করো।’
আল্লাহ তাআলা মানুষকে জ্ঞান-বুদ্ধির বদৌলতেই সব সৃষ্টিজীবের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব প্রদান করেছেন। ফেরেশতাদের অসম্মতি সত্ত্বেও তিনি হজরত আদমকে (আ.) সৃষ্টি করে তাঁকে সবকিছুর নাম শিক্ষা দেন। এসব বিষয়বস্তুর জ্ঞান ও বিদ্যালাভের মাধ্যমেই হজরত আদম (আ.) ফেরেশতাদের থেকে বিশেষ মর্যাদা পাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেন তথা সম্মানের শীর্ষ পর্যায়ে উন্নীত হন। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘আর স্মরণ কর যখন তোমার প্রতিপালক ফেরেশতাদের বললেন, “আমি পৃথিবীতে প্রতিনিধি পাঠাতে যাচ্ছি”।’ ফেরেশতারা বলল, ‘আপনি কি সেখানে এমন কিছু পাঠাবেন, যারা অশান্তি ঘটাবে ও রক্তপাত করবে? আমরাই তো আপনার প্রশংসা, মহিমা ও পবিত্রতা ঘোষণা করছি।’ তিনি বললেন, ‘আমি যা জানি তোমরা তা জানো না।’ আর তিনি আদমকে যাবতীয় বস্তুর নাম শিক্ষা দিয়ে সেগুলো ফেরেশতাদের সামনে প্রকাশ করলেন এবং বললেন, এগুলোর নাম আমাকে বলো, যদি তোমরা সত্যবাদী হও।’ (সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ৩০-৩১) অতঃপর ফেরেশতারা হজরত আদম (আ.)-এর জ্ঞান-বুদ্ধি ও শিক্ষার কাছে পরাজিত হয় এবং আল্লাহর নির্দেশে তাঁকে সম্মানসূচক সিজদা করে।
মহানবী (সা.) জ্ঞানলোক ও সভ্যতার যে বিরাট অট্টালিকার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন, তা তাঁর সমকাল থেকেই সারা পৃথিবীকে অলংকৃত করে আসছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বজ্রকণ্ঠে ঘোষণা করেছেন, ‘জ্ঞানার্জন করা প্রতিটি মুসলমান নর-নারীর ওপর ফরজ।’ (ইবনে মাজা ও বায়হাকি) তিনি আরও বলেছেন, ‘জ্ঞান হচ্ছে মুমিনের জন্মগত অধিকার, যেখানেই এটা দেখো গ্রহণ করো।’ নবী করিম (সা.)-এর কাছে ৬১০ খ্রিস্টাব্দের ২৬ রমজান লাইলাতুল কদরের রাতে নাজিলকৃত ওহির সর্বপ্রথম বাণীতেই অধ্যয়ন করার নির্দেশসহ মানব সৃষ্টিতত্ত্ব ও কলমের উল্লেখ রয়েছে। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘পড়ো, তোমার প্রভুর নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন। যিনি মানুষকে জমাট রক্ত হতে সৃষ্টি করেছেন। পড়ো, আর তোমার প্রভু মহামহিমান্বিত, যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন, তিনি মানুষকে শিক্ষা দিয়েছেন যা সে জানত না।’ (সূরা আল-আলাক, আয়াত: ১-৫) আল্লাহর বাণী আল-কোরআন জ্ঞান-বিজ্ঞানের অফুরন্ত ভাণ্ডার। জ্ঞানের যেকোনো শাখার সুস্পষ্ট নিদর্শন কোরআন মজিদ থেকে লাভ করা সম্ভব। এ মর্মে ইরশাদ হয়েছে, ‘শপথ বিজ্ঞানময় কোরআনের।’ (সূরা ইয়াসিন, আয়াত-২)
জ্ঞান অন্বেষণ ছাড়া আল্লাহর পরিচয় লাভ করা সম্ভব নয়। সঠিক গবেষণা ও গভীর বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান বাস্তব অর্থে ইসলামের পরিচয় লাভেরই নামান্তর। কোরআন মজিদ মানুষকে পারিপার্শ্বিক ও নিজেদের মধ্যে চিন্তা-ভাবনা ও গবেষণার আহ্বান জানিয়েছে। এ মর্মে ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই মহাকাশ ও পৃথিবী সৃষ্টিতে এবং দিবা-রাত্রির আবর্তনের মধ্যে বোধসম্পন্ন লোকদের জন্য নিদর্শন রয়েছে; যারা দাঁড়িয়ে, বসে ও শায়িত অবস্থায় আল্লাহকে স্মরণ করে এবং মহাকাশ ও পৃথিবী সৃষ্টির বিষয়ে চিন্তা-গবেষণা করে এবং বলে, ‘হে আমাদের প্রতিপালক! এসব তুমি অনর্থক সৃষ্টি করোনি। সব পবিত্রতা একমাত্র তোমারই। আমাদেরকে তুমি দোজখের শাস্তি হতে বাঁচাও।’ (সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৯০-১৯১) অন্যত্র ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই মহাকাশ ও পৃথিবীর সৃষ্টিতে, রাত ও দিনের বিবর্তনে এবং সমুদ্রে বিচরণশীল নৌযানগুলোতে মানুষের জন্য কল্যাণ রয়েছে। আর আল্লাহ আকাশ থেকে যে পানি নাজিল করেছেন, তৎদ্বারা মৃত ভূমিকে সজীব করে তুলেছেন এবং এতে ছড়িয়ে দিয়েছেন সব রকম জীবজন্তু। আর আবহাওয়া পরিবর্তনে এবং মেঘমালায় যা তাঁরই নির্দেশের অধীনে মহাকাশ ও পৃথিবীর মাঝে বুদ্ধিমান সম্প্রদায়ের জন্য নিদর্শন রয়েছে।’ (সূরা আল-বাকারা, আয়াত-১৬৪)
পবিত্র কোরআন কেবল ধর্মগ্রন্থই নয়, এতে একজন ব্যক্তির জীবনযাত্রা থেকে সামাজিক জীবনযাত্রা তথা মানবজাতির জন্য চিরকল্যাণের দিকনির্দেশনা রয়েছে। জ্ঞান সাধনা ও বিজ্ঞান চর্চার অসংখ্য নিদর্শন কোরআন মজিদে বিদ্যমান রয়েছে। যেমন—আলোকবর্ষের পরিমাপ সম্পর্কে ইরশাদ হয়েছে, ‘ফেরেশতাগণ ও রূহ আল্লাহর দিকে ঊর্ধ্বগামী হয় এমন একদিকে, যার পরিমাণ পার্থিব পঞ্চাশ হাজার সমান।’ (সূরা আল-মা’আরিজ, আয়াত-৪) এ ছাড়া সমুদ্র ও পর্বতমালা সম্পর্কে বলা হয়েছে, ‘তিনিই কাজে লাগিয়ে দিয়েছেন সমুদ্রকে, যাতে তা থেকে তোমরা তাজা মাছ খেতে পারো, তা থেকে বের করতে পারো পরিধেয় অলংকার। তুমি তাতে জলযানসমূহকে পানি চিরে চলতে দেখবে এবং যাতে তোমরা আল্লাহর কৃপা অন্বেষণ করো এবং যাতে তাঁর অনুগ্রহ স্বীকার করো। আর তিনি পৃথিবীর ওপর বোঝা রেখেছেন যে, কখনো যেন তা তোমাদের নিয়ে হেলে-দুলে না পড়ে এবং নদী ও পথ তৈরি করেছেন, যাতে তোমরা তোমাদের গন্তব্যস্থলে পৌঁছাতে পারো। আর তিনি নির্ণায়ক বহু চিহ্ন সৃষ্টি করেছেন এবং তারকা দ্বারাও মানুষ পথের নির্দেশ পায়।’ (সূরা আন-নাহল, আয়াত: ১৪-১৬)
পবিত্র কোরআনে উদ্ভিদবিজ্ঞানের নানাবিধ নিদর্শনের সুস্পষ্ট বর্ণনা রয়েছে। যেমন—ইরশাদ হয়েছে, ‘তারা কি ভূপৃষ্ঠের দিকে দৃষ্টিপাত করে না? আমি এতে প্রত্যেক প্রকারের কত উদ্ভিদ উদ্গত করেছি। নিশ্চয়ই এতে নিদর্শন রয়েছে, কিন্তু তাদের অধিকাংশই বিশ্বাসী নয়।’ (সূরা আশ-শুয়ারা, আয়াত: ৭-৮) মধু ও মৌমাছি সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘আপনার পালনকর্তা মৌমাছিকে তাঁর অন্তরের ইঙ্গিত দ্বারা নির্দেশ দিলেন—পাহাড়ে, বৃক্ষে ও উঁচু চালে গৃহ তৈরি করো, এরপর সর্বপ্রকার ফল থেকে ভক্ষণ করো এবং আপন পালনকর্তার উন্মুক্ত পথসমূহ অনুসরণ করো। ফলে তার পেট থেকে বিভিন্ন বর্ণের পানীয় নির্গত হয়। এতে মানুষের জন্য রয়েছে রোগের প্রতিকার। নিশ্চয়ই এতে চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য নিদর্শন রয়েছে।’ (সূরা আন-নাহ্ল, আয়াত: ৬৮-৬৯) পানি থেকেই যে পৃথিবীতে প্রথম জীবনের উদ্ভব ঘটেছে, এ সম্পর্কে কোরআন মজিদে ইরশাদ হয়েছে, ‘অবিশ্বাসীরা কি ভাবে না যে, মহাকাশ ও পৃথিবীর মুখ বন্ধ ছিল, অতঃপর আমি উভয়কে খুলে দিলাম এবং প্রাণবন্ত সবকিছু আমি পানি থেকে সৃষ্টি করলাম। এর পরও কি তারা বিশ্বাস স্থাপন করবে না?’ (সূরা আল-আম্বিয়া, আয়াত-৩০)
আল কোরআনে জ্ঞান-বিজ্ঞান সম্পর্কে এ ধরনের অসংখ্য আয়াত রয়েছে, যা শিক্ষা ও গবেষণা করে মুসলিম বিজ্ঞানীরা জ্ঞান-বিজ্ঞানের নতুন দিক উন্মোচন করতে সমর্থ হয়েছিলেন। সৃষ্টিতত্ত্ব, জ্যোতির্বিদ্যা, জ্যোতিষশাস্ত্র, পদার্থ, রসায়ন, খনিজবিজ্ঞান, উদ্ভিদবিজ্ঞান, প্রাণিবিদ্যা, চিকিৎসাবিজ্ঞান, বিদ্যুৎ, আলো, তাপ, অঙ্কশাস্ত্র, মহাশূন্যে গবেষণাসহ বিজ্ঞানের সব উন্নতি মুসলমানদের আল কোরআনের শিক্ষা ও গবেষণার ফসল। যুগে যুগে জ্ঞান-বিজ্ঞান যতই চরম উন্নতি ও অগ্রগতি লাভ করবে, বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার জন্য ইসলামের সভ্যতা ও বাস্তবতা ততই সমুজ্জ্বল হয়ে মানুষের কাছে প্রতিভাত হবে।
ড. মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান: সহকারী অধ্যাপক, ইসলামিক একাডেমি, দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়। পরিচালক, ইনস্টিটিউট অব হজরত মুহাম্মদ (সা.)।

নির্ধারিত দিনে ঋণসুবিধার তালিকা দিতে ব্যর্থ ডিএসই

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোন কোন কোম্পানি ঋণসুবিধা পাবে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সে তালিকা প্রণয়ন করতে পারেনি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)।
তাই ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো নিজস্ব কৌশল অনুসরণ করে গ্রাহকদের ঋণ দিচ্ছে। ফলে প্রতিষ্ঠানগুলোর দেওয়া ঋণের হার ভিন্ন ভিন্ন হচ্ছে।
বাজারের ঝুঁকি কমানো ও তারল্যপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণের জন্য গত ২৪ আগস্ট এসইসি ২০০৬ সালে প্রণীত ঋণ বিতরণ ও ব্যবস্থাপনার বিধান পরিপালনে কড়াকড়ি আরোপের সিদ্ধান্ত নেয়। এ বিধানে মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউসগুলোকে তাদের গ্রাহকদের ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সূত্র অনুসরণ করার কথা বলা হয়েছে।
সূত্র অনুযায়ী, ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো গ্রাহকদের শেয়ারের বাজারমূল্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির প্রকৃত সম্পদমূল্য (এনএভি) যোগ করে দুই দিয়ে ভাগ করে যে ফল পাওয়া যাবে, তার সমানুপাতিক হারে ঋণ দিতে পারবে। একই সঙ্গে সূত্র অনুযায়ী, কোনো গ্রাহকের ঋণসীমা অতিক্রম করলে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তা সমন্বয় করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
এ বিধানটি অত্যন্ত জটিল এবং এ পদ্ধতিতে ঋণ গণনার জন্য প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার নেই উল্লেখ করে তা বাতিলের দাবি জানান মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমবিএ) নেতারা।
এর জবাবে গত ৫ আগস্ট অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এসইসির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ডিএসই প্রতি বৃহস্পতিবার সূত্র অনুযায়ী কোন কোম্পানি ঋণ পাবে আর কোন কোম্পানি পাবে না, তার তালিকা প্রকাশ করবে।
কিন্তু গতকাল পর্যন্ত ডিএসইর ওয়েবসাইটে এ জাতীয় কোনো তালিকার নমুনা পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অভিযোগ করে বলেছেন, ডিএসইর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সতীপতী মৈত্রর গাফিলতির কারণেই এটা সম্ভব হয়নি। কিন্তু সতীপতী মৈত্র সাংবাদিকদের সঙ্গে এ বিষয়ে কোনো কথা বলতে অস্বীকার করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি মার্চেন্ট ব্যাংকের প্রধান প্রথম আলোকে বলেন, ঋণ বিতরণ ও ব্যবস্থাপনার এসইসির বর্তমান বিধান পরিপালনে জটিলতা কমাতে ডিএসইকে তালিকা প্রণয়নের দায়িত্ব দিয়েছিল এসইসি। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ডিএসই তা করতে না পারায় তাদের নিজস্ব পদ্ধতি অনুসরণ করে ঋণ দিতে হচ্ছে।

পাকিস্তানি অভিবাসীর বিরুদ্ধে অর্থ সরবরাহের অভিযোগ

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে টাইমস স্কয়ারে বোমা হামলার ষড়যন্ত্র মামলায় অবৈধ অর্থ লেনদেনের অভিযোগ আনা হয়েছে পাকিস্তানি অভিবাসী মোহম্মদ ইউনিসের বিরুদ্ধে। তবে আইনজীবীরা বলেছেন, তিনি জেনেশুনে ওই অর্থ সরবরাহ করেননি।
গত বছরের ১ মে টাইমস স্কয়ারে গাড়িবোমা হামলার চেষ্টায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক ফয়সাল শাহজাদ। এর আগের মাসে তাঁকে অর্থ সরবরাহ করেন ইউনিস।
মার্কিন কৌঁসুলি প্রিট ভারারা এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘অবৈধ অর্থ আদান-প্রদানের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে ইউনিস নিজের অজান্তেই একটি সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনায় অর্থ জুগিয়েছেন।

১৮শ বছর আগের সেই লাশ

ব্রিটেনের নর্দাম্বারল্যান্ড কাউন্টিতে এক হাজার ৮০০ বছর আগে খুন হওয়া এক বালিকার মরদেহ পাওয়া গেছে। প্রত্নতত্ত্ববিদদের মতে, মাথায় আঘাত করে তাকে খুন করা হয়ে থাকতে পারে। তবে পুলিশ এ ব্যাপারে কোনো তদন্ত করেনি। গতকাল বৃহস্পতিবার ব্রিটিশ দৈনিক ডেইলি মেইল এ প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
নর্দাম্বারল্যান্ডে সাবেক রোমান সাম্রাজ্যের ভিন্ডোল্যান্ডা দুর্গে সেনাদের একটি কক্ষের কোনায় গর্তের মধ্যে ওই বালিকার মরদেহ পাওয়া যায়। প্রত্নতত্ত্ববিদদের মতে, খুন করার পর তাড়াহুড়া করে তাকে মাটিচাপা দেওয়া হয়। ডারহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃতত্ত্ববিদ ট্রুডি বাক মরদেহটি কমবয়সী এবং সম্ভবত কোনো বালিকার বলে শনাক্ত করেন।
ভিন্ডোল্যান্ডার খননবিষয়ক পরিচালক অ্যান্ড্রু বারলি বলেন, এ ধরনের অন্য ঘটনাগুলোও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। ওই বালিকা দাস, নাকি মুক্ত মানুষ ছিল—সে বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি বলেন, দুই সেনার শত্রুতার জের ধরে এই খুন হয়ে থাকতে পারে।

অভিবাসন সংস্কার প্রক্রিয়া এড়িয়ে যাচ্ছি না: ওবামা

যুক্তরাষ্ট্রের হিসপ্যানিক জাতিগোষ্ঠীর জনগণকে আশ্বস্ত করে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেছেন, তিনি অভিবাসন সংস্কার-প্রক্রিয়ার প্রতিশ্রুতি থেকে সরে যাননি। গত বুধবার কংগ্রেশনাল হিসপ্যানিক ককাস ইনস্টিটিউট আয়োজিত এক নৈশভোজে এসব কথা বলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
ওবামা বলেন, ২০০৮ সালের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এখনো এ ব্যাপারে মার্কিন নীতির সংস্কারের উদ্যোগ নিতে না পারায় তিনি হতাশ। এ ব্যাপারে বিরোধী রিপাবলিকান দলীয় সদস্যদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, সংস্কারের বিষয়টি এগিয়ে নিতে দুই দলের সহযোগিতা দরকার। এ ব্যাপারে তাঁর প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখার জন্য হিসপ্যানিকদের আহ্বান জানান তিনি। আগামী ২ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে এই বক্তব্য দিয়েছেন ওবামা।
ওবামার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলোর অন্যতম একটি বিষয় ছিল অভিবাসন প্রক্রিয়ার সংস্কার।

কাশ্মীরে বিক্ষোভ দমনে নতুন কৌশল যৌথ বাহিনীর

জম্মু কাশ্মীরের বিক্ষোভ দমনে সামরিক ও আধাসামরিক এবং পুলিশ বাহিনী নতুন কৌশল অবলম্বন করার পরিকল্পনা নিয়েছে। গত বুধবার ওই তিন বাহিনীর কর্মকর্তারা জরুরি বৈঠক করে ‘বিশেষ কৌশল’ গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নেয়। বৈঠক শেষে সেনাবাহিনীর এক বিবৃতিতে এ ঘোষণা দিলেও সে কৌশল সম্পর্কে তাঁরা বিস্তারিত কিছু বলেননি।
কর্মকর্তারা বলেছেন, পঞ্চম দিনের মতো গতকালও কাশ্মীরের প্রধান প্রধান শহরগুলোয় কারফিউ ছিল। তবে গতকাল সেখানে কোনো সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়নি। নতুন করে যাতে কোনো সংঘর্ষ না হয় সে জন্য সেনাবাহিনী, আধাসামরিক বাহিনী ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জরুরি বৈঠক করেন। তাঁরা একটি ‘অ্যাকশন প্ল্যান’ তৈরি করেছেন। শিগগিরই সেটা বাস্তবায়ন করা হবে। তবে ওই পরিকল্পনার বিস্তারিত দিক তাঁরা ব্যাখ্যা করেননি।
এদিকে কাশ্মীরের ১০টি প্রধান বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন গতকাল বৃহস্পতিবার সেনাছাউনি ও পুলিশ স্টেশনের সামনে অবস্থান ধর্মঘট করার ঘোষণা দিয়েছে।
গত বুধবার দিল্লিতে কাশ্মীর পরিস্থিতি পরিদর্শনের জন্য যে সর্বদলীয় প্রতিনিধিদল গঠন করা হয়েছে, ওই প্রতিনিধিদলের সদস্যদের আগামী দু-একদিনের মধ্যে কাশ্মীরে যাওয়ার কথা রয়েছে। তাঁরা সেখানে গিয়ে সাধারণ মানুষ, বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা, বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন অল পার্টিস হুররিয়াত কনফারেন্সের শীর্ষস্থানীয় নেতা এবং সরকারি পদাধিকারী বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলবেন। ফিরে এসে তাঁরা কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার নিরাপত্তাবিষয়ক কমিটির কাছে প্রতিবেদন পেশ করবেন। ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী সরকার পরবর্তী পদক্ষেপ স্থির করবে বলে কথা রয়েছে।
ওমরকে সময় দেওয়া উচিত: রাহুল গান্ধী
ভারতের ক্ষমতাসীন কংগ্রেস পার্টির যুববিষয়ক সাধারণ সম্পাদক পার্লামেন্ট সদস্য রাহুল গান্ধী বলেছেন, কাশ্মীর পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার ব্যাপারে সেখানকার মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহকে আরও সময় দেওয়া উচিত। তিনি বলেছেন, ওমরের প্রতি সরকারের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। তবে কাশ্মীর ইস্যুতে তাঁর কোনো হস্তক্ষেপ নেই বলেও জানিয়েছেন রাহুল।
কলকাতায় এক সংবাদ সম্মেলনে রাহুল বলেন, কাশ্মীরে ন্যাশনাল কনফারেন্স ক্ষমতায় রয়েছে। ওই দলের নেতা ওমর আবদুল্লাহ সেখানকার মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বয়সে নবীন। অন্যদিকে কাশ্মীর একটি জটিল এলাকা। তরুণ হয়েও ওমর জটিল দায়িত্ব পালন করছেন বলে তাঁকে সমস্যা সমাধানে আরও সময় দেওয়া এবং সর্বাত্মক সহযোগিতা দেওয়া উচিত। কাশ্মীর ইস্যুতে নাক গলানোর বিষয়টি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে তিনি বলেছেন, এ বিষয়ে তাঁর কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।

প্রতিরক্ষা সম্পর্ক জোরদারে রুশ-মার্কিন চুক্তি সই

নিজেদের মধ্যে সামরিক সম্পর্ক জোরদার করতে দুটি চুক্তি করেছে একসময় পরস্পরের চরম শত্রু দুই দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া। গতকাল বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনের মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনে এই চুক্তি সই হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রবার্ট গেটস বলেছেন, দুই দেশকে এখন একই ধরনের সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী আনাতোলি সার্দাইকোভকে পেন্টাগনে স্বাগত জানান গেটস। সেখানে দুই মন্ত্রীর মধ্যে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা বৈঠক হয়। মন্ত্রী হিসেবে সার্দাইকোভের এটিই প্রথম যুক্তরাষ্ট্র সফর এবং পাঁচ বছরেরও বেশি সময় পর এই প্রথম রাশিয়ার কোনো প্রতিরক্ষামন্ত্রী পেন্টাগনে গেলেন।
দুই দেশের সামরিক সম্পর্কের রূপরেখা চিহ্নিত করে একটি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন গেটস ও সার্দাইকোভ। সামরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এতে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে প্রতিরক্ষা সহযোগিতাকে।
গেটস বলেন, ‘১৯৯৩ সালে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের স্থলাভিষিক্ত হবে নতুন এই সমঝোতা স্মারক। রুশ-মার্কিন সম্পর্ক জোরদার করার ক্ষেত্রে এতে সর্বাধিক গুরুত্ব পেয়েছে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা। আমাদের দুই দেশকেই এখন একই ধরনের নিরাপত্তা হুমকি ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে।’
সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে গেটস আরও বলেন, ‘আমাদের বিশ্বাস, এর মাধ্যমে দুই দেশের প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আরও বেশি যৌথ সহযোগিতা বিনিময়, মহড়া ও উদ্যোগ নেওয়া যাবে।’
এ ছাড়া প্রতিরক্ষা সম্পর্ক নিয়ে কাজ করার জন্য একটি কার্যনির্বাহী কমিটি গঠনের চুক্তিতেও স্বাক্ষর করেন দুই দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রী। সশস্ত্র বাহিনীর সংস্কার, রূপান্তর, প্রতিরক্ষানীতির গুরুত্ব নির্ধারণ এবং জাতীয় নিরাপত্তা, স্বচ্ছতা ও পারস্পরিক আস্থা সৃষ্টি এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করবে এই কমিটি।
গেটস বলেন, ‘আমার ও সার্দাইকোভের যৌথ সভাপতিত্বে এই কমিটি বছরে অন্তত একবার বৈঠকে বসবে। এ ছাড়া বিভিন্ন বিষয় নিয়ে নিজেদের মধ্যে প্রায়ই মতবিনিময় করবে।’
রুশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী সার্দাইকোভ বলেন, ‘দুই দেশকে যেসব সমস্যা ও হুমকি মোকাবিলা করতে হচ্ছে তা নিয়ে আমাদের মধ্যে খুবই আন্তরিক ও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সেনা পর্যায়ে আলোচনার প্রস্তাব উত্তরের

দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সেনা পর্যায়ে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছে উত্তর কোরিয়া। গত মার্চে দক্ষিণ কোরিয়ার যুদ্ধজাহাজডুবির ঘটনায় সিউল পিয়ংইয়ংকে দায়ী করলে দেশ দুটির মধ্যে তীব্র উত্তেজনা দেখা দেয়। গতকাল বৃহস্পতিবার বার্তা সংস্থা ইয়নহ্যাপ এ তথ্য জানায়।
ইয়নহ্যাপ জানায়, গত বুধবার প্যানমুনজম গ্রামের সীমান্তে সেনা পর্যায়ে যোগাযোগের মাধ্যমে উত্তর কোরিয়া আলোচনার ওই প্রস্তাব দেয়। এ ছাড়া প্যানমুনজম গ্রামে জাতিসংঘের কমান্ড (ইউএনসি) ও উত্তর কোরিয়ার সেনাবাহিনীর মধ্যে কর্নেল পর্যায়ে গতকাল বৃহস্পতিবার পঞ্চম দফায় একটি বৈঠক হওয়ার কথা। এই বৈঠক সামনে রেখেই দুই দেশের মধ্যে সেনা পর্যায়ে আলোচনার প্রস্তাবটি এল।
এর আগে চলতি সপ্তাহেই দক্ষিণ কোরিয়া উত্তর কোরিয়ার বন্যাদুর্গত এলাকায় সহায়তা পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছিল। দুই বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে উত্তর কোরিয়ায় দক্ষিণ কোরিয়ার সহায়তা পাঠানোর ঘটনা এটাই প্রথম।

নির্বাচন বর্জনের জন্য আফগানদের প্রতি তালেবানের আহ্বান

পার্লামেন্ট নির্বাচন বর্জনের জন্য আফগান জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে তালেবান। গতকাল বৃহস্পতিবার এক ই-মেইল বিবৃতিতে জঙ্গি গোষ্ঠীটি এই আহ্বান জানায়।
তালেবানের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এই প্রক্রিয়া বর্জন করার জন্য আমরা মুসলমান জাতির প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। এইভাবে সব বিদেশি প্রক্রিয়া ভণ্ডুল হয়ে যাবে।’ জিহাদ ও ইসলামি প্রতিরোধ-সংগ্রামের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকার মাধ্যমে দেশ থেকে দখলদারদের বিতাড়িত করার জন্যও জনগণের প্রতি আহ্বান জানায় তালেবান।
আগামীকাল শনিবার দেশটিতে পার্লামেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষের ২৪৯টি আসনের জন্য আড়াই হাজারেরও বেশি প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
তালেবানের পক্ষ থেকে বলা হয়, আল্লাহ ও দেশের মুসলমানদের সহায়তায় এই প্রতারণামূলক প্রক্রিয়াসহ দখলদারদের ঔপনিবেশিক পরিকল্পনা ভণ্ডুল করে দেওয়ার জন্য তারা লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।

যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযুক্ত চার খেমাররুজ নেতা

কম্বোডিয়ার জাতিসংঘ-সমর্থিত যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল খেমাররুজের সাবেক চার নেতাকে অভিযুক্ত করেছে। আগামী বছর এই চার নেতার বিচারকাজ শুরু হবে।
খেমাররুজ নেতা পলপটের ডেপুটি নুওন চিয়া, সাবেক প্রেসিডেন্ট খিউ সাম্পান, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী লেং স্যারি ও তাঁর স্ত্রী লেং থিরিথকে আগামী বছর আদালতের কাঠগড়ায় তোলা হবে। এই চার নেতার বিরুদ্ধে গণহত্যা, নির্যাতন ও ধর্মীয় কারণে শাস্তি দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। গত জুলাইয়ে সাবেক কারাপ্রধান ডাচকে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। তিনি হলেন প্রথম ব্যক্তি, যাঁকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন নমপেন-ভিত্তিক আদালত।
ট্রাইব্যুনালের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ২০১১ সালের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে খেমাররুজ এই চার নেতার বিচারকাজ শুরু হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। তাঁরা ২০০৭ সাল থেকে আটক। অভিযুক্ত চার নেতাই বয়োবৃদ্ধ। ৮৪ বছরের লেং স্যারি অসুস্থ। তাঁর ৭৮ বছর বয়সী স্ত্রী লেং থিরিথ প্রথম নারী, যাঁকে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারের মুখোমুখী করা হচ্ছে। লেং থিরিথ সমাজকল্যাণমন্ত্রীও ছিলেন।
পলপটের ডেপুটি নুওন চিয়ার বয়স ৮৪ বছর। আর সাবেক প্রেসিডেন্ট খিউ সাম্পানের বয়স ৭৯ বছর। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, নুওন চিয়া পল পটের শাসনামলের নেপথ্যের আদর্শগত চালিকা শক্তি ছিলেন। অভিযুক্ত চার নেতাই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন।
খেমাররুজ শাসনামলে তাদের অত্যাচার-নির্যাতনে প্রায় ২০ লাখ মানুষ মারা গেছে। ১৯৭৫ থেকে ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত কম্বোডিয়া শাসন করেছে খেমাররুজরা। খেমাররুজদের শীর্ষ নেতা পল পট ১৯৯৮ সালে মারা গেছেন।
টুওল স্লেং কারাগারের প্রধান ডাচকে দোষী সাব্যস্ত করেছে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল। ওই কারাগারে খেমাররুজ সরকারের ‘শত্রুদের’ পাঠানো হতো।
টুওল স্লেং কারাগারে নারী, পুরুষ ও শিশুদের ওপর নির্যাতন ও হাজারো হত্যাকাণ্ড তত্ত্বাবধান করার অভিযোগ স্বীকার করেছেন ডাচ। তাঁকে ৩৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

পাকিস্তানে সামরিক শাসন বিকল্প নয়: যুক্তরাষ্ট্র

বেসামরিক সরকারের পরিবর্তে সামরিক শাসন পাকিস্তানের জন্য কোনো বিকল্প হতে পারে না—এ কথা জানিয়ে দেশটির বেসামরিক সরকারকে সহযোগিতা আরও জোরদার করার আশ্বাস দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
সাম্প্রতিক বন্যা মোকাবিলায় ব্যর্থতার অভিযোগে পাকিস্তানের মানুষ চরম ক্ষুব্ধ দেশের সরকারের ওপর। এর পরিপ্রেক্ষিতে দেশটি আবারও সামরিক শাসনের কবলে পড়তে পারে বলে বিভিন্ন মহল থেকে ধারণা করা হচ্ছে।
পাকিস্তান ও আফগানিস্তানে নিযুক্ত মার্কিন বিশেষ দূত রিচার্ড হলব্রুক গত বুধবার পাকিস্তানে বন্যাদুর্গত এলাকা সফরের সময় সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা পাকিস্তানে বেসামরিক ও গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারকেই কেবল সহযোগিতা করব। আমি আবারও বলছি, আমরা কেবল পাকিস্তানে বেসামরিক ও গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারকেই সহযোগিতা করব।’
ভয়াবহ বন্যার পর পাকিস্তানকে ২৬ কোটি মার্কিন ডলার সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
বন্যার্ত মানুষকে সহযোগিতা করতে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে কাজ করছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে তিনি বলেন, ‘সেনাবাহিনী সরকারেরই একটি অংশ। সব ক্ষেত্রে তাদের নিজস্ব একটা ভূমিকা থাকবে।’
১৯৪৭ সালে স্বাধীন হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত পাকিস্তানে চারবার সামরিক অভ্যুত্থান হয়েছে এবং অর্ধেকেরও বেশি সময় তারাই দেশ শাসন করেছে।
এবার বন্যাদুর্গত মানুষকে সহযোগিতায় সেনাবাহিনীর ভূমিকা দেশের মধ্যে বেশ প্রশংসিত হচ্ছে। আর অন্যদিকে বন্যা মোকাবিলায় ব্যর্থতার জন্য চরম সমালোচিত হচ্ছে বেসামরিক সরকার। দুর্গত মানুষ সরকারের ওপর চরম ক্ষুব্ধ।

কারসাজি করে ছবি প্রকাশের অভিযোগ

ওয়াশিংটনের হোয়াইট হাউসে গত ২ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত মধ্যপ্রাচ্য শান্তি আলোচনার ছবি কারসাজি করে প্রকাশ করায় তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে মিসরের সরকারি আল-আহরাম পত্রিকা। মিসরের প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারক মধ্যপ্রাচ্য শান্তি আলোচনায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন, এ বিষয়টি বোঝানোর জন্য পত্রিকাটিতে ছবি বদল করে ছাপানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
আল-আহরাম পত্রিকায় প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, লালগালিচার ওপর দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারক। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাসহ ফিলিস্তিন, ইসরায়েল ও জর্ডানের নেতারা তাঁর পেছনে।
মধ্যপ্রাচ্য শান্তি আলোচনা শুরু হওয়ার সময় হোয়াইট হাউসে আসল ছবিটি তোলা হয়। মূল ছবিতে প্রেসিডেন্ট ওবামা ছিলেন সবার সামনে আর হোসনি মোবারক পেছনে।
আল-আহরাম পত্রিকার মঙ্গলবারের সংস্করণে ৬ নম্বর পৃষ্ঠায় নকল ছবিটি ছাপানো হয়। প্রচারসংখ্যার দিক থেকে এটি দেশের সবচেয়ে বড় পত্রিকা।

জ্যাকসনের মৃত্যুর ঘটনায় কনসার্ট আয়োজকের বিরুদ্ধে মামলা

পপসম্রাট মাইকেল জ্যাকসনের মৃত্যুর আগে পরিকল্পিত ধারাবাহিক কনসার্টের আয়োজক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে গত বুধবার মামলা করেছেন তাঁর মা। লস অ্যাঞ্জেলেস সুপিরিয়র কোর্টে ক্যাথেরিন জ্যাকসন এইজি লাইভ নামের ওই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তিনি এ মামলা করেন।
মামলায় অভিযোগ করা হয়, জ্যাকসনের ব্যক্তিগত চিকিৎসকের কর্মকাণ্ডের জন্য এইজি দায়ী। প্রতিষ্ঠানটি জ্যাকসনের জন্য যথাযথ জীবনরক্ষাকারী উপকরণ সরবরাহ করতে ব্যর্থ হয়েছে বলেও মামলায় অভিযোগ করা হয়।
মামলায় বলা হয়, এইজির কর্মকাণ্ড ও নিষ্ক্রিয়তা ২০০৯ সালের ২৫ জুন মাইকেলকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছে। মামলায় কনসার্টের আয়োজকের বিরুদ্ধে অবহেলা, চুক্তি ভঙ্গ ও প্রতারণার অভিযোগ আনা হয়েছে।
বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এইজি লাইভের একজন মুখপাত্র বলেন, তিনি মামলার কাগজপত্র দেখেননি এবং এ ব্যাপারে তিনি কোনো মন্তব্য করবেন না।লন্ডনে পরিকল্পিত ধারাবাহিক কনসার্ট শুরুর মাত্র কয়েক দিন আগে রিহার্সেল থেকে লস অ্যাঞ্জেলসের বাড়িতে ফেরার পর মাইকেল জ্যাকসন মারা যান।লস অ্যাঞ্জেলেসের করোনার কার্যালয়ের কর্মকর্তারা মাইকেলের মৃত্যুকে হত্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তাঁরা বলেন, মূলত ঘুমানোর জন্য শক্তিশালী চেতনানাশকের ব্যবহারসহ স্নায়ুবিক উত্তেজনা প্রশমনকারী অন্যান্য ওষুধ এবং ব্যথানাশক ওষুধের কারণে মাইকেল মারা গেছেন।ক্যাথেরিন জ্যাকসনের আইনজীবী ব্রায়ান প্যানিস এক বিবৃতিতে বলেন, মাইকেল জ্যাকসনকে নিয়ে কী হয়েছিল—বিশ্ববাসীর সামনে সেই সত্য প্রমাণ করাই এই মামলার উদ্দেশ্য।এর আগে গত জুনে মাইকেলের চিকিৎসক কনরাড মারের বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন মাইকেলের বাবা জো। কিন্তু তাঁর মামলায় এইজির নাম উল্লেখ করা হয়নি।
পরিকল্পিত ধারাবাহিক ‘দিস ইজ ইট’ কনসার্টের পরিচালক কেনি ওর্তেগাকেও গত বুধবারের মামলার বিবাদী করা হয়েছে। মামলায় অনির্দিষ্ট পরিমাণ ক্ষতিপূরণ চাওয়া হয়েছে।

সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেননি আব্বাস ও নেতানিয়াহু

মধ্যপ্রাচ্য শান্তি নিয়ে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের পরপর দুদিনের বৈঠকে দৃশ্যত কোনো ফলাফল দেখা না গেলেও যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, আলোচনায় পশ্চিম তীরের ইহুদি বসতির ব্যাপারে ‘অগ্রগতি’ হয়েছে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের আগামী সপ্তাহে আবার বৈঠকে বসার কথা রয়েছে।
মিসরের পর্যটননগর শারম-আল-শেখে গত মঙ্গলবার এবং জেরুজালেমে গত বুধবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন, নেতানিয়াহু এবং আব্বাস দুই দফা ত্রিপক্ষীয় বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষ দূত জর্জ মিশেলও উপস্থিত ছিলেন। পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপন স্থগিত রাখা হবে, নাকি পুনরায় তা চালু করা হবে, সেটি নিয়েই ওই বৈঠকে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে দর কষাকষি হয়।
নেতানিয়াহু বলেছেন, আগামী অক্টোবর থেকেই বসতি নির্মাণ ফের শুরু করা হবে। অন্যদিকে, আব্বাস বলেছেন, সেটি করা হলে তাঁরা আলোচনা থেকে সরে আসবেন। উভয় পক্ষ এ ইস্যুতে অনড় থাকা অবস্থায় ত্রিপক্ষীয় বৈঠক শেষ হয়। তবে বিশ্লেষকেরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র যেহেতু মধ্যস্থতা করছে সে জন্য তাঁরা এত তাড়াতাড়ি আলোচনা ভেস্তে যাওয়াকে মেনে নিতে পারছেন না।
দুই দিন ধরে বৈঠক করার পর আলোচনায় কত দূর অগ্রগতি হয়েছে সে বিষয়ে নেতানিয়াহু অথবা আব্বাস কেউই মুখ খোলেননি। তবে জর্জ মিশেল সাংবাদিকদের বলেছেন, তাঁরা এখনই হাল ছাড়ছেন না। সুনির্দিষ্টভাবে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো না গেলেও বসতি নির্মাণের ইস্যুতে কিছুটা অগ্রগতি হয়েছে। আরও কয়েক দফা দুই পক্ষ আলোচনা করলে একটি সমাধানের পথ বেরিয়ে আসবে।
এ বিষয়ে আলোচনার জন্য গতকাল বৃহস্পতিবার সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের সঙ্গে জর্জ মিশেলের দেখা করার কথা। সেখান থেকে তাঁর লেবাননে গিয়ে সেখানকার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গেও বৈঠক করার কথা রয়েছে।
এদিকে গাজার দখলে থাকা সংগঠন হামাস তাদের বাদ দিয়ে আয়োজিত আব্বাস ও নেতানিয়াহুর বৈঠককে অবৈধ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। হামাসের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী আহমেদ ইউসুফ বলেছেন, মাহমুদ আব্বাস কোনোভাবেই সমগ্র ফিলিস্তিনের প্রতিনিধি নন। তাই তাঁরা কোনো সিদ্ধান্তে এলেও তা বাস্তবায়নে সাধারণ ফিলিস্তিনিরা সমর্থন দেবে না।

বিসিবির চাকরি ছাড়লেন মাহমুদ

জাতীয় দলের সহকারী কোচই শুধু নন, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) চাকরিই আর করতে চান না খালেদ মাহমুদ। জাতীয় দলের সাবেক এই অধিনায়ক গত ৫ সেপ্টেম্বর সহকারী কোচের পদ থেকে অব্যাহতি চেয়ে বোর্ডে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন বলে জানিয়েছে বিশ্বস্ত একটি সূত্র। তবে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত এক মাসের ‘নোটিশ পিরিয়ড’ আছে বলে মাহমুদ এখনো জাতীয় দলের অনুশীলনে আছেন।
মাহমুদের পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন বিসিবির ক্রিকেট পরিচালনা কমিটির প্রধান এনায়েত হোসেন। কাল টেলিফোনে তিনি জানান, ‘জাতীয় দলের সহকারী কোচের দায়িত্বে আর থাকতে চায় না জানিয়ে খালেদ মাহমুদ বোর্ডকে চিঠি দিয়েছে। তবে আমরা এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নিইনি। তার সঙ্গে বিষয়টা নিয়ে আলোচনার জন্য বোর্ডের টেকনিক্যাল কমিটি প্রধান নির্বাহী মঞ্জুর আহমেদ ও উপ-মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) নিজামউদ্দিন চৌধুরীকে দায়িত্ব দিয়েছে। ও কেন আর দায়িত্বে থাকতে চাইছে না বা অন্য কোথাও কাজ করতে চায় কি না, সেসব জানা দরকার।’
এনায়েত হোসেন জানিয়েছেন, জাতীয় দলের সহকারী কোচ হিসেবে না থেকে মাহমুদ নাকি একাডেমি বা বোর্ডের কোচ হিসেবে অন্য কোথাও কাজ করতে আগ্রহী। ‘আমরা চাই, সুজন (খালেদ মাহমুদ) দেশের ক্রিকেটের সঙ্গে থাকুক। তাকে সহকারী কোচ করা হয়েছিল প্রেষণে। এখন সে যদি অন্য কোথাও কাজ করতে আগ্রহী হয়, সেটা আমরা দেখব’—বলেছেন এনায়েত হোসেন। তবে সূত্র জানিয়েছে, মাহমুদ বিসিবির সঙ্গে সম্পর্কটা পুরোপুরিই ছিন্ন করতে চান। কাল বিসিবির প্রধান নির্বাহী এবং উপ-মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) তাঁর সঙ্গে আলোচনায় বসলেও মাহমুদ সিদ্ধান্ত পাল্টাবেন না বলে জানিয়ে দিয়েছেন। বোর্ডের দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়ার পর আসন্ন প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগে আবাহনীর কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন মাহমুদ।
খালেদ মাহমুদের সরে দাঁড়ানোর কারণটা অভিমানজনিত বলে জানিয়েছে সূত্র। সহকারী কোচ হিসেবে যেভাবে জাতীয় দলের সঙ্গে কাজ করছেন, সেটা মানতে পারছেন না তিনি। জেমি সিডন্স তাঁকে সঠিকভাবে ব্যবহার করছেন না, প্র্যাকটিসে সেভাবে গুরুত্ব দিচ্ছেন না, কখনো কখনো ক্রিকেটারদের সামনে অপমানজনক আচরণও করছেন—ঘনিষ্ঠজনদের কাছে এমন অভিযোগই নাকি করেছেন মাহমুদ। তবে কাল পদত্যাগ এবং তার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে মাহমুদ কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

তাঁরা বুঝতে পেরেছিলেন!

ইচ্ছাকৃত ‘নো বল’ নিয়ে এত তোলপাড় হয়ে গেল, ‘ব্রেকিং নিউজ’ করল নিউজ অব দ্য ওয়ার্ল্ড, অথচ মাঠের দণ্ডমুণ্ডের দুই কর্তা নাকি আগেই বুঝতে পেরেছিলেন! লর্ডস টেস্টের দুই আম্পায়ার টনি হিল ও বিলি বাউডেন নাকি আগেই বুঝতে পেরেছিলেন, ইচ্ছে করেই নো বল করেছেন মোহাম্মদ আমির। তবে অর্থের বিনিময়ে নো বল করেছেন, সেটা বুঝে ফেলার মতো অন্তর্যামী হয়ে যাননি দুই কিউই আম্পায়ার। দুজনেরই ধারণা ছিল, ব্যাটসম্যান জোনাথন ট্রটকে ভড়কে দেওয়ার জন্য ওটা ছিল আমিরের কৌশল।
নিউজ অব দ্য ওয়ার্ল্ড-এর দাবি অনুযায়ী, আমির-আসিফ ইচ্ছে করেই যে তিনটি নো বল করেছেন, ১৯তম ওভারে আমিরের করা নো বলটি সেগুলোর একটি। দাগের অনেক সামনে থেকে শর্ট বল করেছিলেন আমির, খেলতে হিমশিম খেয়েছিলেন ট্রট। ওয়েলিংটনের ডমিনিয়ন পোস্টকে হিল বলেছেন, নো বলটি নিয়ে তখনই আলোচনা হয়েছে দুই আম্পায়ারের। তবে তাঁদের ধারণা ছিল, নো বলটি কৌশলের অংশ, ফাস্ট বোলাররা অনেক সময়ই বাড়তি সুবিধা নেওয়ার জন্য যা করে থাকে।
স্পট ফিক্সিং নিয়ে তোলপাড় হওয়ার পর এই প্রথম মুখ খুললেন ওই ম্যাচের দুই আম্পায়ারের একজন। ব্রিটিশ ট্যাবলয়েডটি ঘটনা ফাঁস করার পর চতুর্থ দিনে মাঠের আবহটাও জানিয়েছেন হিল, ‘সবকিছুই ছিল কেমন যেন শান্ত। দুই দলই ছিল অনেক চুপচাপ। এমনিতে মাঠে অনেক কথাবার্তা হয়, কিন্তু সেদিন কিছুই হয়নি। তারা স্রেফ খেলে যাচ্ছিল।’ সেদিন দুই আম্পায়ারের মনোজগৎটা কেমন ছিল? ‘আমরা ম্যাচে মনোযোগ দেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করছিলাম, যাতে পরিস্থিতি আমাদের গ্রাস না করে ফেলে। আমি ভেবেছিলাম মাঠে একটু কথার লড়াইও হতে পারে। প্রশংসনীয়ভাবে দুই দলেরই মনোযোগ ছিল ক্রিকেটে। পরিস্থিতি ছিল শান্ত’—বলেছেন হিল।

উস্টারেও উজ্জ্বল সাকিব

২০ জুলাই হল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে ম্যাচ খেলে যুক্তরাজ্য সফর শেষে দেশে ফিরে এসেছে বাংলাদেশ দল। দলের সঙ্গে তিনি ফেরেননি। তিনি থেকে গেলেন কাউন্টি ক্রিকেটে খেলার জন্য। এই প্রথম দল ছাড়া প্রায় দুই মাস ধরে দেশের বাইরে থাকতে হলো সাকিব আল হাসানকে।
অবশেষে গতকাল এবারের দীর্ঘ প্রবাস জীবনের শেষ ম্যাচটা খেললেন বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক। এখন দেশে ফিরে দলের সঙ্গে যোগ দেবেন। তার আগে কাউন্টি ক্রিকেটের দ্বিতীয় বিভাগে সাকিবের প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির হিসাব মেলানোর পালা। ফেরার আগে কী নিয়ে এলেন, তাঁর দল উস্টারশায়ারকেই বা কী দিয়ে এলেন?
উস্টারশায়ারের কপাল খুলে দিয়ে এসেছেন। গতকাল মৌসুমের শেষ প্রথম শ্রেণীর ম্যাচে সাসেক্সকে ৪ উইকেটে হারিয়েছে তারা। অন্য ম্যাচে ডার্বিশায়ারের বিপক্ষে গ্ল্যামরগন হেরে গেলে উস্টার প্রথম ডিভিশনে উঠে যাবে। উস্টার সাকিবময় নয়। তবে আগের মৌসুমে বড় দুর্দিনে পড়ে যাওয়া উস্টারের এ মৌসুমে বড় ভরসার নাম ছিলেন এই সাকিব আল হাসান।
১৯৬৪ থেকে ১৯৮৯ সালের মধ্যে পাঁচবার কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেছে উস্টারশায়ার। ইয়ান বোথাম, ইমরান খান, কপিল দেবের মতো যুগশ্রেষ্ঠ অলরাউন্ডাররা খেলে গেছেন এই দলে। কিন্তু ২০০৯ সালে বড় বিপাকে পড়ে যায় তারা। ১৯২৮ সালের পর ওইবারই প্রথম কোনো প্রথম শ্রেণীর ম্যাচে জয় ছাড়াই মৌসুম শেষ করতে হয় উস্টারশায়ারকে।
বোথামদের তো আর ফিরিয়ে আনা যাবে না। তাই এমন সময়ে সমাধান হিসেবে ক্লাবটি দলে টানে বর্তমান যুগের ওয়ানডের সেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানকে। সাকিবও সুযোগ পেয়ে যান কাউন্টি অভিষেকের।
সুযোগের দারুণ সদ্ব্যবহার করেই শুরু করেছিলেন সাকিব। কাউন্টিতে প্রথম শ্রেণীর অভিষেক ইনিংসে ডার্বিশায়ারের বিপক্ষে ৯০ রান করেছিলেন। আর ৪০ ওভারের ম্যাচে অভিষেক হয়েছিল ৭২ রানের ইনিংস দিয়ে। এর পর থেকে ৮টি প্রথম শ্রেণীর ম্যাচ ও ৫টি সীমিত ওভারের ম্যাচ খেলেছেন। সীমিত ওভারের ম্যাচে আরও একটি ফিফটি করলেও সাকিবের ব্যাট খুব হাসেনি।
৫টি সীমিত ওভারের ম্যাচে ৩৭.৪০ গড়ে ১৮৭ রান করেছেন; যা মৌসুমে উস্টারের পক্ষে ষষ্ঠ সর্বোচ্চ রান। ৮টি প্রথম শ্রেণীর ম্যাচে সাকিবের সংগ্রহ ৩৫৮ রান।
তবে সাকিব কাউন্টি ক্রিকেটে তাঁর আসল ভেল্কিটা দেখিয়েছেন বল হাতে। ৮টি প্রথম শ্রেণীর ম্যাচে নিয়েছেন ৩৫ উইকেট। নিজের তৃতীয় ম্যাচ, গ্লস্টারশায়ারের বিপক্ষে দ্বিতীয় ইনিংসে ২৩ রানে ৫ উইকেট নিয়েছিলেন। পরের ৬ ইনিংসে আরও দুবার ইনিংসে ৫ বা তার বেশি উইকেট সাকিবের। যার মধ্যে মিডলসেক্সের বিপক্ষে দ্বিতীয় ইনিংসে ৩২ রানে ৭ উইকেটও আছে।
মিডলসেক্সের বিপক্ষে এই বোলিংটা উস্টারের পক্ষে এ বছরের ইনিংস-সেরা। উস্টারের হয়ে এই মৌসুমের সেরা পাঁচটি বোলিং বিশ্লেষণের মধ্যে প্রথম, চতুর্থ ও পঞ্চম সেরা; তিনটিই সাকিবের। দলটির হয়ে এ মৌসুমের ম্যাচসেরা বোলিংও করেছেন সাকিব। সারের বিপক্ষে সে ম্যাচে প্রথম ইনিংসে ২ উইকেট ও পরের ইনিংসে ৬ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি।
সাকিবের বোলিংয়ের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ তথ্য—মিডলসেক্সের বিপক্ষে তাঁর বোলিংটা দ্বিতীয় বিভাগ কাউন্টির এ মৌসুমের তৃতীয় সেরা বোলিং! আর এসবের পাশে মাথায় রাখতে হবে, সাকিব কিন্তু তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় অর্ধেকের মতো ম্যাচ খেলেছেন। যেমন ৪০ ওভারের খেলায় সাকিব ৫ ম্যাচে ১৭.৭৭ গড়ে ৯ উইকেট নিয়ে উস্টারের দ্বিতীয় সেরা উইকেটশিকারি। দলের হয়ে ১৮ উইকেট নিয়ে তালিকার এক নম্বরে থাকা জ্যাক স্যানট্রি ম্যাচ খেলেছেন ১২টি।এসব পরিসংখ্যান নিঃসন্দেহে সাকিবের কৃতিত্বই প্রমাণ করে। কিন্তু আসল প্রমাণটা হবে দেশে ফিরলে। কাউন্টি অভিজ্ঞতা জাতীয় দলের হয়ে কাজে লাগাতে পারবেন সাকিব?
যা নিয়ে ফিরছেন
এ মৌসুমে কাউন্টি ক্রিকেট দ্বিতীয় বিভাগের তৃতীয় সেরা (৭/৩২) এবং দশম সেরা (৬/৪২) বোলিং ফিগার
উস্টারশায়ারের হয়ে মৌসুমে ম্যাচসেরা বোলিং (৮/১০২)
উস্টারশায়ারের পক্ষে মৌসুমে ইনিংস-সেরা বোলিং (৭/৩২)
দলের ইনিংস-সেরা ৫টি বোলিং বিশ্লেষণের ৩টিই সাকিবের
৪০ ওভারের ম্যাচে দলের পক্ষে মৌসুমে সেরা বোলিং (৪/৩২)
সর্বোচ্চ উইকেট সংগ্রাহকের চেয়ে ৭ ম্যাচ কম খেলে ৯ উইকেট নিয়ে ৪০ ওভারের ম্যাচে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেট

বাংলাদেশের লক্ষ্য চূড়ান্ত পর্ব

সুযোগটা মিলেছিল গতবারও। কিন্তু দুই বছর আগে এএফসি অনূর্ধ্ব-১৯ ফুটবলের বাছাইপর্বে খেলতে বাংলাদেশ মহিলা ফুটবল দল মালয়েশিয়া যেতে পারেনি আর্থিক সমস্যায়। এবার তাই স্বাগতিক হওয়ার সুযোগটা হাতছাড়া করেনি বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। সেই সুবাদে টুর্নামেন্টে প্রথমবারের মতো অংশ নেওয়া। ২০ সেপ্টেম্বর কমলাপুর বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহি মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে বাছাইপর্বের উদ্বোধনী দিনে মাঠে নামছে বাংলাদেশের মেয়েরা। প্রতিপক্ষ জর্ডান। ২২ সেপ্টেম্বর ইরান ও ২৪ সেপ্টেম্বর ভারতের বিপক্ষে বাকি দুটি ম্যাচ বাংলাদেশের।
ইরান ও জর্ডান বাংলাদেশের চেয়ে যথেষ্টই শক্তিশালী বলে একটা স্বাভাবিক ধারণা কাজ করে। তবে বাফুফের মহিলা ফুটবল কমিটির চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম (বাচ্চু) তা মনে করেন না, ‘আমরা অন্য দলগুলোর খেলার সিডি আনিয়ে কোচ ও মেয়েদের দেখিয়েছি। আমার মনে হয় না ওরা আমাদের চেয়ে খুব বেশি এগিয়ে আছি। যেহেতু এখানে সিনিয়রদের খেলার সুযোগ নেই তাই ভয়েরও কিছু দেখছি না।’ টুর্নামেন্টের বাছাইপর্বে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্নই দেখছেন তিনি, ‘আমরা যেভাবে অনুশীলন করেছি তাতে আশা করি চ্যাম্পিয়ন হতে পারব।’
চ্যাম্পিয়ন না হতে পারলে অবশ্য দ্বিতীয় রাউন্ডে ওঠার সুযোগও নেই। ওদিকে দ্বিতীয় রাউন্ডে সরাসরি উঠে গেছে থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম ও চীনা তাইপে।
কোচ গোলাম রব্বানি ছোটন দায়িত্ব নিয়েছেন মাস দেড়েক। কোচেস কোর্সের ওপর ট্রেনিংয়ে অংশ নিতে পরশু শ্রীলঙ্কা যাচ্ছেন তিনি। তাঁরও প্রত্যাশা চ্যাম্পিয়ন হওয়ার, ‘যদিও কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে পারিনি আমরা। তবে অনুশীলনে মেয়েরা যা খেলেছে ওটাই মাঠে খেলতে পারলে চ্যাম্পিয়ন হওয়া অসম্ভব কিছু না।’ প্রস্তুতির অংশ হিসেবে তিনি সিনিয়রদের বিপক্ষে এরই মধ্যে ৪-৫টা অনুশীলন ম্যাচও খেলিয়েছেন কমলাপুর স্টেডিয়ামে। রব্বানির অনুপস্থিতিতে কোচের দায়িত্ব বর্তেছে তাঁর সহকারী মাহমুদ আলমের ওপর।
টুর্নামেন্টে খেলতে আগামীকাল ঢাকা আসছে ভারত ও জর্ডান। পরদিন ইরান। খেলাগুলো সরাসরি সম্প্রচার করবে বিটিভি ওয়ার্ল্ড। কাল সংবাদ সম্মেলনে তথ্যগুলো জানালেন সিরাজুল ইসলাম। উপস্থিত ছিলেন কমিটির সাধারণ সম্পাদক মাহফুজা আক্তার (কিরণ) প্রমুখ।

আর্সেনালের ছয় চেলসির চার

কোথাও কোনো অঘটন নেই। পরশু বড় দলগুলো ইউরোপ-শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ের শুরুটা করল জয় দিয়েই। স্প্যানিশ লিগটা জয় দিয়ে শুরু করতে পারেননি হোসে মরিনহো। তবে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে ইউরোপ অভিযানের শুরুটা তাঁর জয় দিয়েই হলো। জয় পেয়েছে ইংল্যান্ডের দুই পরাশক্তি চেলসি ও আর্সেনাল আর ইতালির এসি মিলান। কষ্টার্জিত হলেও, জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে জার্মানির চ্যাম্পিয়ন বায়ার্ন মিউনিখ।
তবে এই চার দলের মধ্যে বড় জয় পেয়েছে ইংলিশ দুই ক্লাব আর্সেনাল ও চেলসিই। নিজেদের মাঠে আর্সেনাল ৬-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে পর্তুগালের স্পোর্টিং ব্রাগাকে। স্লোভাকিয়ার এমএসকে জিলিনাকে তাদের মাঠে ৪-১ গোলে গুঁড়িয়ে দিয়ে ফিরেছে চেলসি। রিয়াল, বায়ার্ন আর মিলান তিনটি দলই জিতেছে ২-০ গোলে। নিজেদের মাঠে রিয়ালের জয়টি সাবেক চ্যাম্পিয়ন আয়াক্স আমস্টারডামের বিপক্ষে। আর বায়ার্ন তাদের মাঠে হারিয়েছে ইতালির এএস রোমাকে। তবে ইতালির আরেক দল এসি মিলান নিজেদের মাঠে জয় পেয়েছে অজেরির বিপক্ষে।
শক্তির বিচারে বায়ার্ন ও রোমার ব্যবধান বড়জোর আঠারো-বিশ। এর পরও গতবারের রানার্সআপ বায়ার্নের কষ্টার্জিত জয়টা ঠিক মেনে নিতে পারেনি সমর্থকেরা। প্রথমার্ধে নিষ্প্রভ ছিল লুইস ফন গলের দল। দ্বিতীয়ার্ধে ভালো খেললেও গোল পেতে ৭৯ মিনিট পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে। ৭৯ মিনিটে বায়ার্নকে এগিয়ে দিয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে সোনার জুতাজয়ী টমাস মুলার। ৪ মিনিট পর ব্যবধান বাড়ান বিশ্বকাপে রোনালদোর সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডের পেছনে ছোটা মিরোস্লাভ ক্লোসা।
জয়টা কষ্টে এসেছে ঠিক, তবে বায়ার্ন সময় যেতে যেতে আরও ভালো করবে বলেই বিশ্বাস কোচ ফন গলের। রোমার অতি রক্ষণাত্মক খেলার সমালোচনা করে সমর্থকদের ধৈর্য ধরার অনুরোধ জানিয়েছেন বায়ার্নের ডাচ কোচ, ‘পরিস্থিতি বিবেচনা করলে আমি মনে করি, আমরা ভালোই খেলেছি। তারা (রোমা) শুধু রক্ষণাত্মক খেলেছে। আমাদের সমর্থকদের ধৈর্য ধরতে হবে।’
মরিনহোর অবশ্য এসব কথা বলার প্রয়োজন পড়েনি। দল খুব বড় জয় হয়তো পায়নি। তবে আনিটার আত্মঘাতী গোলের সঙ্গে হিগুয়েইনের গোল মিলে আসা তাদের জয়টি এসেছে আয়াক্সকে দলিতমথিত করে। ম্যাচ শেষে মরিনহো তাই বলতে পারলেন, ‘দুর্দান্ত খেলেছি আমরা।’
রিয়াল অসাধারণ ফুটবলই খেলেছে এদিন। এবং তা মরিনহোর ফুটবল-দর্শনের বাইরে গিয়ে। ১৯৭১ থেকে ’৭৩, টানা তিন বছরের চ্যাম্পিয়ন আয়াক্সকে শুরু থেকেই চেপে ধরে রিয়াল। ওজিল, রোনালদো, ডি মারিয়ারা মিলে আয়াক্সের গোলে নিয়েছেন ৩৫টি শট। এই চাপ সামলাতে পারেনি আয়াক্স। প্রথম গোলটিও সেই সাক্ষ্য দেয়। ৩১ মিনিটে ওজিল, ডি মারিয়া, রোনালদো আর হিগুয়েইন সমন্বিত আক্রমণ থেকেই গোল পায় রিয়াল। বল বাঁচাতে গিয়ে নিজেদের জালেই পাঠিয়ে দেন আনিটা।
দ্বিতীয় গোলটি আসে দ্বিতীয়ার্ধে। সেটিও মিলিত প্রচেষ্টার ফসল। অ্যাঙ্গেল ডি মারিয়া চিপ করে বল দিয়েছিলেন মেসুত ওজিলকে। তাঁর শটটি আয়াক্স গোলরক্ষক স্টেকেলেনবার্গ ফিরিয়ে দেন। বলটি আবার ওজিলের পায়ে ফিরে এলে তিনি সেটি দিয়ে দেন ফাঁকায় দাঁড়িয়ে থাকা হিগুয়েইনকে। হিগুয়েইন ছোট্ট ভলিতে বল পাঠিয়ে দেন জালে।
মুহুর্মুহু আক্রমণ সত্ত্বেও দুটির বেশি গোল পায়নি রিয়াল। তবে আর্সেনাল আক্রমণ যেমন করেছে, তেমনি গোলও পেয়েছে। ব্রাগার জালে আর্সেনালের গোল-বন্যার শুরুটা করেন অধিনায়ক সেস ফ্যাব্রিগাস। জোড়া গোল করেছেন স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড। মেক্সিকান ফরোয়ার্ড কার্লোস ভেলাও তাই। বাকি দুটি গোল চামাক ও আন্দ্রেই আরশাভিনের।
চেলসির জয়ে বড় ভূমিকা বিশ্বকাপে বহিষ্কৃত ফরাসি স্ট্রাইকার নিকোলাস আনেলকার। জোড়া গোল করেছেন তিনি। চেলসির বাকি দুটি গোল মাইকেল এসিয়েন ও স্টারিজের। এদিকে বার্সেলোনা ছেড়ে মিলানে যাওয়ার এই প্রথম পায়ের নিচে যেন মাটি পেলেন জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচ। মিলানের দুটি গোলই করেছেন তিনি।

বিদ্রোহী আনেলকা-ইব্রার জবাব

ফ্রেঞ্চ ফুটবল ফেডারেশনকে (এফএফএফ) আক্ষেপে পুড়িয়ে গোল করেই চলেছেন নিকোলাস আনেলকা। পরশু চ্যাম্পিয়নস লিগে জিলিনার বিপক্ষে জোড়া গোলের গৌরব মাখল তাঁর বুট জোড়া। এর আগে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগেও জোড়া গোল করেছিলেন উইগান অ্যাথলেটিকের বিপক্ষে। মৌসুমের শুরুতে ৫ ম্যাচে ৪ গোল। ফ্রান্সের জাতীয় দলের এই দুঃসময়ে আনেলকার দুর্দান্ত ফর্ম এফএফএফকে নিশ্চয়ই পোড়াচ্ছে। বিশ্বকাপের পর যে ১৮ ম্যাচের জন্য তাঁকে নিষিদ্ধ করেছে এফএফএফ।
মাঠে যা করছেন, তাতেই দেশের ফুটবল ফেডারেশনের কর্তাব্যক্তিদের নাকে খত দেওয়ার জোগাড়। কিন্তু ‘বিদ্রোহী’ আনেলকা শুধু গোল করেই সন্তুষ্ট নন। প্রতিবাদের ভাষা জানাতে বেছে নিয়েছেন গোল উদ্যাপনের বিভিন্ন ভঙ্গি। পরশুই যেমন এমন একটা ভাব করলেন, অদৃশ্য হাতকড়া কেউ পরিয়ে দিয়েছে তাঁকে। ম্যাচের শেষেও একরকম ধুয়ে দিলেন এফএফএফকে, ‘আমি এমনটা করেছি ফ্রেঞ্চ ফেডারেশনের উদ্দেশেই। যা হয়ে গেছে সেটা এখন আমার জন্য স্রেফ অতীত। আমি এখনো পুরোপুরি চেলসিকে নিয়ে ভাবছি।’
শুধুই চেলসি? জাতীয় দল যদি আবার ডাকে, দুঃসময়ে কি সাড়া দেবেন না? মাত্রই তো ফ্রান্স তাদের ফুটবল ইতিহাসেই ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের সর্বনিম্ন অবস্থানে চলে এসেছে। আনেলকার রূঢ় জবাব, ‘না, কখনোই আর খেলব না।’
পরশু জোড়া গোল করেছেন জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচও। আনেলকার মতো প্রতিবাদী উদ্যাপন তিনি করেননি। চাইলে করতে পারতেন। তাঁরও যে পাল্টা জবাব দেওয়ার ছিল। বার্সেলোনা ছেড়ে আসার পর পেপ গার্দিওলার সঙ্গে কয়েক দফা বাক্যবাণ চালাচালি করেছেন। মিলানের হয়ে ইউরোপ-অভিষেকে জোড়া গোল সেই জবাবেরই একটা অংশ কি না, কে জানে। একটা রেকর্ডও করে ফেলেছেন। ভিন্ন ভিন্ন পাঁচটি ক্লাবের হয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগে গোল করার।
পরশু জোড়া গোলদাতার তালিকায় নাম আছে দুই আর্সেনাল খেলোয়াড়ের। সেস ফ্যাব্রিগাস আর কার্লোস ভেলা। ফ্যাব্রিগাসের জন্য জবাব দেওয়ার কিছু ছিল না, ছিল গানার সমর্থকদের মন জিতে নেওয়ার। গত বিশ্বকাপের আগে-পরে তাঁর বার্সেলোনায় চলে যাওয়া নিয়ে অনেক কথাবার্তাই হয়েছে। ফ্যাব্রিগাসও ঠারেঠোরে জানিয়ে দিয়েছিলেন, নিজের শেকড়ে ফিরে যেতে তিনি উদ্গ্রীব। শেষ পর্যন্ত তাঁকে ইংল্যান্ডের ক্লাবটিতেই থেকে যেতে হয়েছে। অনেকেই আশঙ্কা করেছিল, ফ্যাব্রিগাস হয়তো মনখুলে খেলতে পারবেন না। কারণ বার্সা-আর্সেনাল সমঝোতা হয়েছে, পরের মৌসুমে এই মিডফিল্ডার চলে যাবেন ন্যু ক্যাম্পে। তা-ই যদি হয়, ফ্যাব্রিগাসের মন তো সেখানেই পড়ে থাকার কথা।
কিন্তু না। মৌসুমের শুরুতে ৪ ম্যাচে দুটি গোল করে এবং তাঁর মূল কাজ যেটি—তিনটি গোল করিয়ে বুঝিয়ে দিলেন, আর্সেনালের অধিনায়কের বন্ধনী শুধু বাহুতে নয়, ধারণ করে আছেন হূদয়েও। আর ২১ বছর বয়সী কার্লোস ভেলা এই মৌসুমে তিন ম্যাচে সমান গোল করে আর্সেন ওয়েঙ্গারের কাছে বার্তা পাঠালেন, তাঁকে আর ধারে এ-ক্লাব সে-ক্লাবে পাঠানোর দরকার নেই। গানারদের হয়ে তোপ দাগানোর জন্য তিনি প্রস্তুত।
গতবারের রানার্সআপ বায়ার্ন মিউনিখের শুভসূচনা হয়েছে টমাস মুলার আর মিরোস্লাভ ক্লোসার পায়ে। জার্মানির দুই বিশ্বকাপ হিরো শক্ত প্রতিপক্ষ রোমার বিপক্ষে দেরিতে হলেও দলকে পুরো ৩ পয়েন্ট এনে দিয়েছেন। দুজনের গোল পাওয়াটা বায়ার্নের জন্য সুখবর। এবার মৌসুমের শুরুটা যে খুব একটা ইতিবাচক হয়নি গতবারের ‘ডাবল’জয়ীদের, তাতে মুলার-ক্লোসার বিশ্বকাপের আলোটা ফিরিয়ে আনতে না পারার কারণটাই মূল।