Sunday, October 13, 2024

হাসিনার হাতে ভারতের ট্রাভেল পাস, অন্যত্র আশ্রয়ের ব্যর্থ চেষ্টা: সম্পর্ক নষ্টের আশঙ্কা নাকচ পররাষ্ট্র উপদেষ্টার

দু'দিন আগে নয়াদিল্লি ও লন্ডন সূত্রে খবর বেরিয়েছে তৃতীয় দেশে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধান কিংবা রাজনৈতিক জীবন বাঁচাতে বিদেশ ভ্রমণে শেখ হাসিনাকে ‘ট্রাভেল ডকুমেন্ট’ দিয়েছে ভারত। চাঞ্চল্যকর রিপোর্টটি করেছিলো ঢাকার প্রতিষ্ঠিত একটি মিডিয়া। দিল্লির সাউথ ব্লক আজ অবধি সেই তথ্যের সত্যতা স্বীকার বা অস্বীকার করেনি। চুপ ছিলো ঢাকাও। 'পূজার ছুটি চলছে' বলে শনিবার বিকাল অবধি মানবজমিনের কোয়েরি এড়িয়ে যান সেগুনবাগিচার দায়িত্বশীলরা। তাছাড়া সচিব যুক্তরাষ্ট্র সফরে থাকায় 'যা বলার উপদেষ্টা বলবেন' বলেও জানান তারা। এ কারণে দেশের গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা মুখিয়ে ছিলেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টার প্রতি। অবশেষ নরসিংদীর ঐতিহ্যবাহী সেবা সংঘ পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনের মুখোমুখি হতে সক্ষম হন স্থানীয় সাংবাদিকরা।

প্রশ্ন মূলত একটাই-শেখ হাসিনাকে ভারতের ‘ট্রাভেল ডকুমেন্ট’ দেয়ার খবর সত্য কি-না? সম্পূরক জিজ্ঞাসা, এতে ঢাকা-দিল্লি বহুমাত্রিক সম্পর্কে কোনো প্রভাব পড়বে কি? প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়ার কোনোরকম চেষ্টা না করেই জবাব দেন পোড় খাওয়া কূটনীতিক তৌহিদ হোসেন, তবে খানিকটা ডিপ্লোম্যাটিক্যালি। বলেন, ‘ট্রাভেল ডকুমেন্ট যেকোনো দেশ যেকোনো ব্যক্তিকেই ইস্যু করতে পারে। আমাদের তা ঠেকানোর কোনো উপায় নেই। তবে কোনো মামলায় যদি তাকে (শেখ হাসিনা) আদালত হাজির করতে নির্দেশ দেন, তাহলে অবশ্যই আমরা তাকে ফেরানোর যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।’

রক্তাক্ত গণ–অভ্যুত্থানের মুখে পালিয়ে যাওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারত ‘ট্রাভেল ডকুমেন্ট’ দেয়ায় দেশটির সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট বা অবনতির আশঙ্কা এ সময় নাকচ করেন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা মিস্টার হোসেন।

৫ই আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে পদত্যাগ করে ভারতে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। এরপর থেকে তিনি নয়াদিল্লিতেই রয়েছেন বলে তথ্য পাচ্ছে সরকার। দায়িত্ব নেয়ার পরপরই নোবেলবিজয়ী অর্থনীতিবিদ প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তবর্তীকালীন সরকার প্রধানমন্ত্রী বলে পাওয়া শেখ হাসিনার কূটনীতিক পাসপোর্ট রিভোক বা বাতিল ঘোষণা করে। ফলে দিল্লিতে তার অবস্থা কিংবা অন্যত্র নিরাপদ আশ্রয় খুঁজতে একমাত্র বিকল্প হচ্ছে ভারতের ট্রাভেল ডকুমেন্ট ইস্যু করা। যাতে ভারতসহ অন্য দেশের ভিসা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

স্পেশাল অ্যারেঞ্জমেন্টে দিল্লির আশ্রয়ে থাকা শেখ হাসিনা ভারত ছেড়ে যেতে পারেন মর্মে ক'দিন আগে ব্রেকিং রিপোর্ট করে মানবজমিন। এরপর তার অন্যত্র যাওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। এরমধ্যে গত বুধবার তার অনুকূলে ভারত সরকারের ট্রাভেল ডকুমেন্ট ইস্যু করেছে মর্মে তথ্য পান লন্ডন প্রবাসী সাংবাদিক বাংলা ট্রিবিউন প্রতিনিধি মুনজের আহমদ চৌধুরী। তথ্যটি নয়াদিল্লিতে যাচাই করেন খ্যাতিমান সাংবাদিক রঞ্জন বসু।

বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ রেহানা পরিবারের ঘনিষ্ঠ, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের একজন প্রভাবশালী নেতার বরাতে রিপোর্টে জানানো হয়, শেখ হাসিনাকে ভারত সরকার যে ট্রাভেল ডকুমেন্ট দিয়েছে তাতে ভিসা নিয়ে তিনি বিশ্বের যেকোনো দেশে যেতে পারবেন। এ বিষয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা শনিবার কোনো রাখঢাক না করেই বলেন, ভারত বা যেকোনো দেশ যে কারও অনুকূলে 'ট্রাভেল ডকুমেন্ট' ইস্যু করতেই পারে। এটা ঠেকানোর কেনো উপায় আমাদের হাতে নেই। ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক উভয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তৌহিদ হোসেন বলেন, ভারতের সঙ্গে আমাদের কিছু বিষয়ে অস্বস্তি ছিল, সেটা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছি। আমাদের মধ্যে বিদ্যমান যে সম্পর্ক আছে, সেটা বজায় থাকবে। তিনি বলেন, সম্পর্ক উন্নয়ন উভয়ের স্বার্থেই হতে হবে। ভারতের যেমন আমাদের দরকার, তেমনি আমাদেরকেও ভারতের দরকার।’

হাসিনার 'ট্রাভেল ডকুমেন্ট' প্রশ্নে বিশ্লেষকদের অনুমান এবং...

ঢাকায় হাইকমিশনারের গুরু দায়িত্ব পালন করে যাওয়া ভারতের শীর্ষ এক কূটনীতিক বলছিলেন, ‘ভারত যদি শেখ হাসিনাকে ট্রাভেল ডকুমেন্ট সত্যিই দিয়ে থাকে, আমি তাতে এতটুকুও অবাক হবো না। কারণ এই পরিস্থিতিতে এটাই সবচেয়ে স্বাভাবিক ও প্রত্যাশিত পদক্ষেপ।' তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন, ভারতের বিভিন্ন জায়গায় যে কয়েক লাখ তিব্বতি শরণার্থী থাকেন, তাদের বেশিরভাগ ভারতের পাসপোর্টধারী নন। বরং এই ধরনের ‘ট্রাভেল ডকুমেন্ট’ (সংক্ষেপে যেটাকে বলে ‘টিডি’) নিয়েই তারা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে সফর করেন। টিডি কোনো পাসপোর্ট নয়, বরং ভারত সরকারের জারি করা একটি বিশেষ ধরনের ‘পরিচয়পত্র’; যা দিয়ে বিদেশ সফর করা যায়। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ এতে ভিসা দিয়ে থাকে। এর পোশাকি নাম হলো- ‘আইডেন্টিটি সার্টিফিকেট’ বা আইসি। ভারতের সাধারণ পাসপোর্ট গাঢ় নীল রঙের হলেও আইসি সাধারণত হলুদ রঙের একটি বুকলেটের আকারে জারি করা হয়। তিব্বতি ধর্মগুরু চতুর্দশ দালাই লামা– যিনি ১৯৫৯ সালে চীনের চোখ এড়িয়ে ভারতে পালিয়ে আসেন এবং দেশটিতে রাজনৈতিক আশ্রয় লাভ করেন। তিনিও এ ধরনের একটি ‘ট্রাভেল ডকুমেন্ট’ বা আইসি নিয়েই সারা পৃথিবী চষে বেড়ান। ভারতের পাসপোর্ট নেয়ার সুযোগ থাকলেও তিনি গ্রহণ করেননি। দ্বিতীয় বা তৃতীয় প্রজন্মের যে তিব্বতিদের ভারতের মাটিতে জন্ম, তারাও জন্মসূত্রে ভারতীয় নাগরিক হওয়ার অধিকারী। কিন্তু তাদেরও বেশিরভাগকে পাসপোর্টের বদলে ‘টিডি’ বা ‘আইসি’ দিয়েছে ভারত। তারা এটা নিয়েই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যাতায়াত করছেন। ভারতের সাবেক ওই কূটনীতিক এ-ও  বলছিলেন, ‘জানি না শেষ পর্যন্ত শেখ হাসিনাকে ভারত রাজনৈতিক আশ্রয় (পলিটিক্যাল অ্যাসাইলাম) দেবে কি-না। কিন্তু গত দুই মাসের ঘটনাপ্রবাহ যেভাবে গড়িয়েছে, তাতে দালাই লামার ঘটনার সঙ্গে আমি কিন্তু শেখ হাসিনার কেসের অনেক মিল পাচ্ছি। ভারতে যতদিনই থাকুন, শেখ হাসিনা হাত গুটিয়ে নিষ্ক্রিয় হয়ে বসে থাকবেন, এটা তো আর হতে পারে না। দালাই লামাও তাই করেছেন, রাজনীতি ও কূটনীতি চালিয়ে গেছেন এবং পৃথিবীর বহু দেশে সফর করেছেন। একইভাবে রাজনৈতিক প্রয়োজনে, বিশ্বময় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে দেখা করতে শেখ হাসিনাকেও ভারতের বাইরে যেতে হবে, এটাই স্বাভাবিক। সেই বাস্তবতা অনুধাবন করে ভারত যদি তাকে ‘টিডি’ বা ‘আইসি’ দিয়ে থাকে, সেটাতে অবাক হওয়ার কিছু নেই’।

হাসিনাকে আমিরাতের প্রত্যাখ্যান

ওদিকে বিভিন্ন সূত্রে বিদেশি সংবাদ মাধ্যমে খবর বেরিয়েছে- ৫ই আগস্ট পদত্যাগের পর অব্যাহত কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।  তিনি কমফোর্ট জোন হিসেবে ভারতেই অস্থায়ী আশ্রয় খুঁজছেন। সেই সঙ্গে বিকল্প হিসেবে সংযুক্ত আরব আমিরাতে আশ্রয় পাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু আমিরাত তাকে গ্রহণ করেনি। একটি সূত্রের দাবি, এরইমধ্যে আমিরাতে প্রবেশের এক দফা চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছেন তিনি! তাকে নাকি বিমানবন্দরেই ১৭ ঘণ্টা অবরুদ্ধ অবস্থায় কাটাতে হয়েছে! রাজনৈতিক পট পরিবর্তনে বিদেশে শেখ হাসিনার আশ্রয় পাওয়ার ব্যর্থ চেষ্টা এটাই ইঙ্গিত করে যে, আন্তর্জাতিক মহলে তার বিকল্প সুযোগ হ্রাস পাচ্ছে।

ওদিকে অন্য সূত্রের খবর, কিছু শর্তে  দিল্লিতে অবস্থান করছেন শেখ হাসিনা। যদিও তার ঐতিহাসিক মিত্র ভারত। যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য বৈশ্বিক শক্তি শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থানে নাখোশ। এটি দিল্লির ওপর প্রচ্ছন্ন চাপ। স্মরণ করা যায়, প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার ইঙ্গিত দিয়েছে যে দুর্নীতি এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ে হাসিনাকে ফেরানোর চেষ্টা করা হবে। ততদিন তিনি ভারতে থাকলে বাংলাদেশের সঙ্গে টানাপোড়েন হবেই। উল্লেখ্য, আমিরাতের আগে বৃটেনে আশ্রয় প্রার্থনা করেছিলেন শেখ হাসিনা। কিন্তু তারাও তাকে গ্রহণে রাজি হয়নি।

mzamin

৫ সিকার ছাগল চিনতে না পারলে রক্ত দেয়া থামবে না: পিনাকী ভট্টাচার্য by আব্দুল মোমিত

কথায় আছে হাজার টাকার বাগান খায় ৫ সিকার ছাগলে। এই ৫ সিকার ছাগল চিনতে না পারলে বারবার বাংলাদেশের মানুষকে রক্ত দিতে হবে। এই ৫ সিকার ছাগল হচ্ছে আওয়ামী লীগ এবং ভারত। এই দুই শক্তিকে মোকাবিলা করতে না পারলে বাংলাদেশে শান্তি আসবে না বলে মন্তব্য করেছেন লেখক ও অ্যাক্টিভিস্ট পিনাকী ভট্টাচার্য।

শনিবার প্যারিসের একটি হোটেলের বলরুমে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ফরোয়ার্ড’র (এইচআরএফ) উদ্যোগে ‘গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশ: প্রবাসীদের ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনারে প্রধান অতিথি পিনাকী ভট্টাচার্য আরও বলেন, বারবার প্রবাসী বাংলাদেশিদের পক্ষে থেকে দাবি জানানো হয়। কিন্তু হওয়ার কথা ছিল তারা বলবে এবং সেটি সরকার মেনে নেবে। আমাদেরকে এমন পরিস্থিতি তৈরি করতে হবে। আমি একটি উদ্যোগ নিয়েছি পুরো বিশ্ব থেকে প্রবাসীরা পাঁচ বিলিয়ন ডলার রাষ্ট্রকে দেবে। এটি হলে সরাসরি প্রবাসীরা রাষ্ট্র নির্মাণের কাজে চলে আসবেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এইচআরএফ সভাপতি মোহাম্মদ ফয়সাল আহমেদ। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন ফরাসি গণমাধ্যম ফ্রান্স টুয়েন্টিফোরের সাংবাদিক মোহাম্মদ আরিফ উল্লাহ। বাংলা টেলিগ্রাম সম্পাদক সাংবাদিক শাহ সুহেল আহমদের সঞ্চালনায় শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন সাংবাদিক অনুক্ত কামরু। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ থেকে আগত রাজনীতিবিদ নুরুল ইসলাম ভুঁইয়া (ছোটন), ফ্রান্স বিএনপির প্রধান উপদেষ্টা এহসানুল হক বুলু,  সাধারণ সম্পাদক এম এ তাহের, সাবেক সভাপতি সিরাজুল ইসলাম মিয়া, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জুনেদ আহমেদ, কমিউনিটি নেতা টি এম রেজা।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধের উপর প্যানেল আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন সিনিয়র সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী মোহাম্মদ মাহবুব হোসাইন, বাংলাদেশ কমিউনিটি ইন ফ্রান্স (বিসিএফ)-এর প্রেসিডেন্ট এম ডি নূর, অ্যাক্টিভিস্ট ও রাজনীতিবিদ মোহাম্মদ আলী চৌধুরী, আইনজীবী ও অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট মনোয়ার হোসাইন, বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ফরাসি আইনজীবী আকাশ হেলাল, বাংলাদেশ কমিউনিটি ইন ফ্রান্স (বিসিএফ)-এর প্রেসিডেন্ট এম ডি নূর।

এছাড়া সেমিনারে অতিথি আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক শামীমা আক্তার রুবি, বিকশিত নারী সংঘের সভানেত্রী তৌফিকা শাহেদ, সাবেক সেনা কর্মকর্তা মীর জাহান, লিটল ম্যাগ স্রোতের সম্পাদক কবি বদরুজ্জামান, মানবাধিকার সংগঠন এফডিএইচআর ফ্রান্স- এর সভাপতি মোহাম্মদ আল আমিন, সিনিয়র সাংবাদিক কামরুজ্জামান কাজল।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ থেকে প্রবাসীদের পক্ষ থেকে চার দফা দাবি জানানো হয়। সেগুলো হলো, বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ও মিশনগুলোর তত্ত্বাবধানে জাতীয় নির্বাচনে প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা, দ্বিতীয়ত ফ্রান্সসহ সবগুলো দূতাবাসে দ্রুত ই-পাসপোর্ট এবং জাতীয় পরিচয় পত্র তৈরির ব্যবস্থা করা, তৃতীয়ত দাবি হচ্ছে জাতীয় সংসদে প্রবাসীদের জন্য সংরক্ষিত আসনের ব্যবস্থা করা, চতুর্থত অনিয়মিত অভিবাসীদের লাশ সরকারি খরচে দেশে প্রেরণের ব্যবস্থা করা।

এছাড়া বক্তারা বলেন, এই প্রথমবারের মতো অভিবাসী বাংলাদেশিরা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে স্টেক হোল্ডারের ভূমিকায় এসেছেন। চার দফা দাবি আদায়ে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে জোরদার ভূমিকা পালন করতে হবে। এছাড়াও ৫ই আগস্টের বিপ্লবকে সার্থক করার জন্য প্রবাসে সকল বাংলাদেশিকে সজাগ থাকার আহ্বান জানানো হয়।

mzamin

মানবজমিন অনুসন্ধান: একটি ফ্লাইওভারের গল্প by শরিফ রুবেল

এ এক অন্যরকম গল্প। যে গল্প হার মানায় রূপকথাকেও। বিশ্বাস আর অবিশ্বাসের মারপ্যাঁচে যেখানে বন্ধু হয়ে যায় বিশ্বাসঘাতক। বন্ধুর সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে নিজে হয়ে গেলেন এক রাজ্যের মহারাজা। অন্যদিকে যার জন্য তিনি পেলেন রাজ্য, তাকে ছুড়ে দেয়া হয়েছে বঙ্গোপসাগরে। এমন কাহিনী গল্প আর সিনেমাতেই দেখা যায়। কিন্তু বাস্তবে এমন এক গল্পের খলনায়ক ওবায়দুল করিম চৌধুরী। আর তার রাজ্যের নাম ওরিয়ন। ওরিয়ন গ্রুপ। ঢাকার প্রবেশ পথ যাত্রাবাড়ী থেকে গুলিস্তান যে ফ্লাইওভার নির্মিত হয়েছে এই ওরিয়ন গ্রুপের তত্ত্বাবধানেই। এখানেও রয়েছে আরও ভয়ঙ্কর গল্প। তার আগে রাজ্য দখলের গল্প আপাতত কিছুটা জেনে আসা যাক। দুই দশক আগের কথা। তখন ২০০৩ সাল। এ সময় সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে বাংলাদেশে আসেন সেদেশের ধনকুবের ব্যবসায়ী মাজেদ আহমেদ সাইফ বেলহাসা। উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশে নির্র্মাণ প্রকল্পে বিনিয়োগ করা। বাংলাদেশে এসে ঘটনাচক্রে যোগাযোগ হয় ওবায়দুল করিম চৌধুরীর সঙ্গে। বেলহাসা জানান, তার মনের ইচ্ছার কথা। লুফে নেন ওবায়দুল করিম চৌধুরী। দুইজনের মধ্যে কথা হয়। হয় বন্ধুত্ব। একে- অপরকে বিশ্বাস করেন। তাহলে আর দেরি কেন? ২০০৩ সালেই বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করেন ধনকুবের বেলহাসা। দুবাইভিত্তিক কোম্পানি বেলহাসা ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকটিং কোম্পানি এলএলসি ও বেলহাসা ইন্টারন্যাশনাল কোম্পানি এলএলসি’র শাখা খোলেন বাংলাদেশে। সঙ্গে নেন বন্ধু ওবায়দুল করিম চৌধুরীকে। বেলহাসা ঢাকার বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্মাণকাজে অর্থ বিনিয়োগ করেন। এক বছরের মাথায় কূটচাল চালতে থাকেন ওবায়দুল করিম। ফন্দি আঁটেন পুরো ব্যবসা নিজের করে নেয়ার। ওদিকে ওবায়দুল করিম বেলহাসার প্রকল্পের নামে ব্যাংক লোন নিয়ে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার শুরু করেন। বিষয়টি জেনে যায় বেলহাসা। এছাড়া বেলহাসা কোম্পানির শেয়ার ভাগাভাগী নিয়েও দু’জনের মধ্যে সৃষ্টি হয় দূরত্ব। ওবায়দুল করিম শুরু করেন কোম্পানি হাতিয়ে নেয়ার চক্রান্ত। খুবই দ্রুত জাল-জালিয়াতি করে পুরো কোম্পানি দখলের চেষ্টা করেন। এ কাজে সহায়তা নেন আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদেরও। জাল স্বাক্ষর করে কোম্পানির নামও বদলে দেন। বেলহাসা থেকে নাম পাল্টে হয়ে যায় ওরিয়ন গ্রুপ। এ গ্রুপের চেয়ারম্যান হন ওবায়দুল করিম। এরপর শুরু হয় তার অনিয়ম-দুর্নীতি, অর্থ আত্মসাৎ, শেয়ার প্রতারণা, অংশীদারদের শেয়ার দখল। শুধু তাই নয়, পরিবারের সদস্যদের নামে ভুয়া মালিকানা হস্তান্তর শুরু করেন। এরপর জড়ান একের পর এক ঋণ কেলেঙ্কারির ঘটনা। এ থেকেই গোটা দেশে ছড়িয়ে পড়ে ওরিয়ন গ্রুপের নাম। ওবায়দুল করিম চৌধুরীর নাম। একজন বিদেশি ধনকুবের বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে এসে নিঃস্ব হয়ে ফিরেন তার দেশে। সঙ্গে বয়ে নিয়ে যান নজিরবিহীন এক প্রতারণার ইতিহাস। ওবায়দুল করিমের নেশাই ছিল এটি। শুধু বেলহাসা নয়, একম ইঞ্জিনিয়ারিং নামে আরেকটি কোম্পানি এভাবে দখল করেন ওবায়দুল করিম। তার সেই অংশীদারকেও করেন দেশছাড়া। ওবায়দুল করিমের উত্থানের শুরু এমন নাটকীয়ভাবে। শুরুতেই দুবাইভিত্তিক কোম্পানি বেলহাসার শেয়ার কেলেঙ্কারি করে হাতিয়ে নেন কোম্পানির দেড় হাজার কোটি টাকা। ওদিকে ক্ষমতা খাটিয়ে যাত্রাবাড়ী-গুলিস্তান ফ্লাইওভার প্রকল্পে হাজার কোটি টাকা লোপাট করে রয়েছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। মানবজমিন-এর অনুসন্ধানে ওরিয়ন গ্রুপের জাল-জালিয়াতির অনেক তথ্য উঠে এসেছে।

ফ্লাইওভার থেকে হাজার কোটি টাকা উধাও: ঢাকা সিটি করপোরেশন যাত্রাবাড়ী-গুলিস্তান ফ্লাইওভার নির্মাণে প্রকল্প ব্যয় ধরে ৬৭০ কোটি টাকা। সেই অনুযায়ী ওবায়দুল করিম বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ১০ শতাংশ সুদে ৬০০ কোটি টাকা সংগ্রহ করেন। এরমধ্যে জনতা ব্যাংক-২০০ কোটি, এসআইবিএল ব্যাংক-৫০ কোটি, অগ্রণী ব্যাংক-১৫০ কোটি, আইসিবি ব্যাংক-৫০ কোটি, রূপালী ব্যাংক-১৫০ কোটি টাকা ঋণ দেয়। তবে ওবায়দুল করিম তৎকালীন প্রকল্প পরিচালক আসিকুর রহমান ও ঢাকা সিটি করপোরেশনের যোগসাজশে তথাকথিত আরবিট্রেশনের নামে চুক্তির ৬৭০ কোটি টাকা থেকে ব্যয় বাড়িয়ে ২ হাজার ৩৭৮ কোটি টাকা নির্ধারণ করেন। তবে আরবিট্রেশন নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান সিমপ্লেক্স ইনফ্রাক্টাকচার লি. ইন্ডিয়ার সঙ্গে হওয়া চুক্তিমতে, ফ্লাইওভারে কনস্ট্রাকশন কাজে মোট খরচ হয় ৭৮৮ কোটি টাকা। অথচ প্রকল্প ব্যয় ধরা ছিল ৬৭০ কোটি টাকা। কিন্তু অবৈধভাবে ব্যয় বর্ধিত করা হয় ২৩৭৮ কোটি টাকা। এছাড়া বিভিন্ন ব্যাংক থেকে বন্ড ডিসকাউন্টের মাধ্যমে বন্ধক রেখে ২১৫০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেন। এরমধ্যে ১৩৬২ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা হয় এমন তথ্যও প্রকাশ পায়। এদিকে বেলহাসা ও একম ইঞ্জিনিয়ারিং-এর ব্যাংক একাউন্টে লেনদেনের স্টেটমেন্ট ঘেঁটে যাত্রাবাড়ী ফ্লাইওভার প্রকল্পে ৭৯০ কোটি টাকা খরচের তথ্য পাওয়া গেছে। বাকি ১৩৬০ কোটি টাকার কোনো হদিস মেলেনি। ২০১১ সালের ২৮শে নভেম্বর বেলহাসা-একম জেভি অ্যান্ড এসোসিয়েটের নাম পরিবর্তন করে অবৈধভাবে ওরিয়ন ইনফ্রাস্ট্রাকচার নামকরণ করা হয়। এই নাম পরিবর্তন প্রক্রিয়ায় ওবায়দুল করিম বেলহাসার প্রধান অংশীদার মাজেদ বেলহাসা ও পার্টনার মুজিবুল হকের স্বাক্ষর জাল করেন। এজিএম ছাড়াই তাদের কোম্পানি থেকে বের করে দেয়া হয়।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ওবায়দুল করিম যাত্রাবাড়ী ফ্লাইওভার থেকে আদায়কৃত টোলের মাত্র ৪০ শতাংশ হিসাবে দেখান। বাকি ৬০ শতাংশ টোলের টাকা গোপনে সরিয়ে নিচ্ছেন। ১২ বছর ধরেই চলছে এ ঘটনা। এমন বেশকিছু টোল আদায়ের ব্যালেন্স সিট মানবজমিন-এর হাতে এসেছে। ফ্লাইওভার সরজমিন ঘুরেও এমন চিত্র দেখা গেছে। নির্দিষ্ট টোল প্লাজা বাদ দিয়েই ফ্লাইওভারের বিভিন্ন পয়েন্টে চালকদের হাতে রশিদ ধরিয়ে টোল আদায় করছেন ওরিয়নের পোশাক পরিহিত কিছু ব্যক্তি। এভাবে টাকা নেয়ার হিসাব থাকছে না কম্পিউটারের সফ্‌টওয়্যারে। সড়ক ও জনপথ বিভাগের হিসাব বলছে, মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারে প্রতি ঘণ্টায় বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলে ৮ থেকে ১০ হাজার। সে হিসাবে টোল আদায় হওয়ার কথা বছরে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা। আর ওরিয়ন হিসাব দিচ্ছে বছরে ১৪০ কোটি থেকে ১৭৮ কোটি টাকার।

এ ছাড়া ফ্লাইওভার নির্মাণ নকশা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। নিচের রাস্তা বন্ধ করে পায়ার ও ডিভাইডার করা হয়েছে যাতে গাড়ি কম চলতে পারে।
বেলহাসা দখল করে ওরিয়ন তৈরি: জালিয়াতি করে একম এবং বিদেশি জয়েন্টভেঞ্চার কোম্পানি বেলহাসার প্রধান অংশীদারকে বাদ দিয়ে ওরিয়নের মালিক বনে যান ওবায়দুল করিম। ২০০৩ সালের মে মাসে যাত্রাবাড়ী-গুলিস্তান ফ্লাইওভার প্রকল্পটি দুই স্তর বিশিষ্ট আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হয়। দরপত্রে যোগদান করা দাতাদের কারিগরি অভিজ্ঞতা ও আর্থিক যোগ্যতা চাওয়া হয়। সে সময় আন্তর্জাতিক যোগ্যতাসম্পন্ন প্রতিষ্ঠান বেলহাসা ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন কোম্পানির সঙ্গে যুক্ত হয়ে দরপত্রে অংশ নেয় ওবায়দুল করিম। আইনগত শর্ত পূরণের জন্য ওরিয়ন গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান একম অ্যান্ড এসোসিয়েটস লিমিটেডের সঙ্গে যৌথ মালিকানায় কোম্পানি গঠন করে বেলহাসা। যৌথ মালিকানার কোম্পানির নাম দেয়া হয় বেলহাসা একম অ্যান্ড এসোসিয়েটস লিমিটেড। পরে আর্থিক বিবেচনায় বেলহাসা একম কনসোর্টিয়াম প্রকল্পটির কাজ পান। সেই প্রেক্ষিতে ২০০৫ সালের ৯ই আগস্ট বেলহাসা বরাবর লেটার অব ইনটেন্ট (এলওআই) ইস্যু করেন সিটি করপোরেশন। এমনকি নিয়ম অনুযায়ী কনসোর্টিয়াম অংশীদারদের সমন্বয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন কোম্পানি বেলহাসা একম অ্যান্ড এসোসিয়েটস লিমিটেড (এসপিভিসি) নামে কোম্পানি নিবন্ধিত হয়। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এলে যাত্রাবাড়ী- গুলিস্তান প্রকল্পটি বেলহাসা একম অ্যান্ড এসোসিয়েটস সরকারের অনুমতি নিয়ে কাজ শুরু করে। দরপত্র দাখিল করে বেলহাসা দুবাই ও একম বাংলাদেশ নামে। টেন্ডার প্রক্রিয়ায় চুক্তি অনুযায়ী বেলহাসা ৬০ শতাংশ ও একম ৪০ শতাংশ বিডার ছিলেন। কিন্তু দরপত্র প্রক্রিয়ায় দুবাইভিত্তিক কোম্পানি বেলহাসা প্রধান বিডার হিসাবে অংশ নিলেও ওবায়দুল করিম একম ইঞ্জিনিয়ারিং বাদ দিয়ে নিজে ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে শেয়ার হোল্ডার করে দেন। অথচ কাগজপত্র বলছে, শুরুতে দুবাইয়ের নাগরিক শেখ মাজেদ আহমেদ সাইফ বেলহাসা কোম্পানির ৮০ শতাংশ ও ওবায়দুল করিম ও তার পরিবারের সদস্যরা মাত্র ২০ শতাংশ শেয়ারের মালিক। ২০০৫ সালের ২০শে মার্চ দুবাই নাগরিক শেখ মাজেদ আহমেদ সাইফ বেলহাসার স্বাক্ষর জাল করে ভুয়া চুক্তির মাধ্যমে কোম্পানিটির রেজিস্ট্রশন নিজের নামে করে নেন ওবায়দুল করিম। অথচ দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির প্রতিবেদনে কোথাও ওবায়দুল করিম, ছেলে সালমান করিম ও মেয়ের জামাই মেহেদী হাসানের নাম ছিল না। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পরে বেলহাসাকে বের করে দিয়ে সম্পূর্ণ কোম্পানি দখল করে নেয় ওবায়দুল করিম পরিবার। ভুয়া চুক্তিপত্রের মাধ্যমে বেলহাসার ৮০ শতাংশ শেয়ার থেকে মাত্র ৫ শতাংশ শেয়ার রেখে বাকি শেয়ার নিজের একম ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের নামে লিখে নেন। পরে বেলহাসা পরিবার দাবি করেন করিম পরিবারের সঙ্গে তাদের কোনো চুক্তি হয়নি। যে কাগজপত্র দেখানো হয়েছে তা ভুয়া।

অবৈধভাবে বোর্ড মিটিং দেখিয়ে ওবায়দুল করিমের ছেলে সালমান করিম ও জামাই মেহেদী হাসানের নামে কোম্পানির সব শেয়ার স্থানান্তর করা হয়। একইভাবে দুবাইয়ের প্রতিষ্ঠান বেলহাসার শেয়ারও জাল-জালিয়াতি করে হাতিয়ে নেয়া হয় ওবায়দুল করিম ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে। এমনকি যৌথ বিনিয়োগকারী কোম্পানির নাম পাল্টে নতুন নাম দেয়া হয় ওরিয়ন ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড। পরে যৌথ কোম্পানির ব্যাংক অ্যাকাউন্টের কর্তৃত্ব নিয়ে নেন ওবায়দুল করিম। এই সময়ের মধ্যে বেলহাসা ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন কোম্পানির ৬০০ কোটি টাকা পর্যায়ক্রমে ব্যাংক থেকে তুলে নেয়া হয়। তখন বিদেশি কোম্পানিটির সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন ওবায়দুল করিম। এই জাল- জালিয়াতি ও অবৈধভাবে কোম্পানি দখলের সমস্ত কাগজপত্র মানবজমিন-এর হাতে সংরক্ষিত আছে। পরবর্তীতে বিদেশি কোম্পানি বেলহাসা ওবায়দুল করিমের বিরুদ্ধে জাল-জালিয়াতি করে কোম্পানি দখলের অভিযোগে আদালতে মামলা করেন। মামলা নং ৪৯৬/১০। তবে ১৪ বছর পেরিয়ে গেলেও ওই মামলার কোনো অগ্রগতি হয়নি। বরং ওবায়দুল করিম কৌশলে বেলহাসাকে ঠেকাতে তাদের নামে ২০১০ সালের ১৬ই আগস্ট একটি মামলা করেন। মামলা নং ৩৪৯/১০। ওই মামলায় বলা হয় বেলহাসা এই প্রকল্প কোম্পানির বেলহাসা-একম জেভি (পরিবর্তিত নাম) এর কেউ না। এমনকি বেলহাসা যাতে প্রতিকার চেয়ে সরকারের কাছে কোনো চিঠিপত্র দিতে না পারে এজন্য আদালত থেকে একটি নিষেধাজ্ঞা নেয়া হয়। উপায়ন্ত না পেয়ে বেলহাসার মালিক মাজেদ আহমেদ বেলহাসা জুবায়ের আহমেদ ভূঁইয়া নামের এক আইনজীবীকে মামলা পরিচালনার দায়িত্ব দিয়ে বাংলাদেশ ছাড়েন।

যেভাবে দখল একম ইঞ্জিনিয়ারিং: শুধু বেলহাসা নয়, প্রতারণা করে নির্মাণ প্রতিষ্ঠান একম ইঞ্জিনিয়ারিং দখল করেন ওবায়দুল করিম ও তার ছেলে সালমান করিম। নথিপত্র থেকে জানা গেছে, ২০০২ সালে বিএনপি’র নেতা শাহ্‌ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদের ছোট ভাই শাহ একেএম মুজিবুল হক ও ওবায়দুল করিম যৌথভাবে একম ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেড নামে একটি কোম্পানি গঠন করেন। কোম্পানিটির অংশীদারিত্বের শেয়ার ছিল ওবায়দুল করিম ৫০ শতাংশ, একেএম মুজিবুল হক ৪০ শতাংশ ও রবিউল ইসলাম ১০ শতাংশ। এই প্রতিষ্ঠানটি মূলত বিদ্যুৎ, যোগাযোগ, ইমারত ও বিল্ডিং নির্মাণ কাজ করতো। প্রতিষ্ঠানটি মতিঝিল সিটি সেন্টার, বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক কনফারেন্স সেন্টার, সোনারগাঁও হোটেল সংস্কার, যাত্রাবাড়ী ফ্লাইওভার নির্মাণ করেন। ২০০২ সাল থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত তারা সফলতার সঙ্গে কাজ করেছে। তবে ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর বদলে যান ওবায়দুল করিম। পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে কোম্পানিটির অন্যতম অংশীদার মুজিবুল হককে বিএনপি নেতার ভাই পরিচয় দিয়ে নানা মুখরোচক খবর প্রচার করতে থাকেন। পরে কৌশলে মুজিবুলকে সন্ত্রাসী মদতদাতা বিএনপি নেতা সাজিয়ে ভুয়া এজিএম ডেকে তার ৪০ শতাংশ শেয়ার প্রতারণা করে লিখে নেন ওবায়দুল করিম। এ বিষয়ে মুজিবুল হক ২০১০ সালের ২৫শে এপ্রিল গুলশান থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। জিডি নং-২৩৮৮/১০। পরে মামলা করতে গেলেও তার মামলা নেয়া হয়নি। এরপরে উচ্চ আদালতে রিট করেও কোম্পানির শেয়ার রক্ষা করতে পারেননি মুজিবুল হক। যার হাইকোর্ট রিট পিটিশন নং- ১৭১/১০। অভিযোগ রয়েছে, ওবায়দুল করিম ভুক্তভোগী মুজিবুল হককে গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের দিয়ে একাধিকবার তুলে নিয়ে নির্যাতন করেছেন। এক পর্যায়ে দেশ ছাড়তে বাধ্য করেন।

সিটি সেন্টার নির্মাণে ভয়ঙ্কর প্রতারণা: ওবায়দুল করিম ও তার পরিবারের সদস্যরা শুধুমাত্র যাত্রাবাড়ী-গুলিস্তান ফ্লাইওয়ার নির্মাণ প্রকল্পেই নয়, অনিময় করে বিপুল টাকা আত্মসাৎ করেছেন সিটি সেন্টার নির্মাণ প্রকল্পেও। এমন কিছু তথ্য-প্রমাণ মানবজমিন-এর হাতে এসেছে। ঢাকার মতিঝিলে ৪১তলা বিশিষ্ট সিটি সেন্টার নির্মাণের সময় ওরিয়ন গ্রুপের সঙ্গে লিড কোম্পানি ছিল বেলহাসা। সে সময় বেলহাসা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাজেদ আহমেদ বেলহাসার সই জাল করে ব্যাংক ঋণ নিয়ে পরে সেই ঋণ আর পরিশোধ করেনি ওরিয়ন গ্রুপ। সিটি সেন্টার নির্মাণের জন্য ২০০৩ সালে অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের সঙ্গে চুক্তি হয় দুবাই-বাংলাদেশের যৌথ বিনিয়োগের প্রতিষ্ঠান বেলহাসা একম জেভি লিমিটেডের। নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটিতে বেলহাসা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের শেয়ার ছিল ৬০ শতাংশ আর একম ইঞ্জিনিয়ারিং এর ৪০ শতাংশ। আবার একম ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মালিকানায় ওরিয়নের চেয়ারম্যান ওবায়দুল করিমের সঙ্গে ব্যবসায়ী মুজিবুল হকের ৪০ শতাংশ শেয়ার ছিল। তবে পরবর্তীতে বেলহাসা কিংবা মুজিবুল হক কাউকে না জানিয়ে ওবায়দুল করিম জালিয়াতি করে ওরিয়ন ল্যাবরেটরিজের নামে শেয়ার হস্তান্তর করে নেন। চুক্তি ও ব্যাংকিং কাগজপত্র ঘেঁটে দেখা যায়, বেলহাসা ও একম জেভি লিমিটেডের নামে সোশ্যাল ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক লিমিটেড (এসআইবিএল) থেকে ৪০ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে সিটি সেন্টারের নির্মাণকাজ শুরু হয়। পরে শেয়ারধারীদের অজ্ঞাতে ওবায়দুল করিম একাই সিটি সেন্টারের ২২টি ফ্লোর বিক্রি করেন প্রায় ৪৫০ কোটি টাকায়, যার বড় একটি অংশ অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হয়। ভবনটি নির্মাণের পর ২০১৭ সালে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এসআইবিএল থেকে দ্বিতীয় দফায় নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটির নামে আবারো ৫০ কোটি টাকা ঋণ নেয়া হয়। যা আর পরিশোধ করা হয়নি। এ কারণে চলতি বছরের ৩১শে জুলাই পর্যন্ত বেলহাসা একম জেভি’র খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়ায় ৮৬ কোটি ৩৮ লাখ টাকারও বেশি। বেলহাসার শেয়ারের বিপরীতে ঋণ ও সিআইবিতে মালিকের নাম দেখে হতবাক দুবাইয়ের কোটিপতি ব্যবসায়ী মাজেদ আহমদ বেলহাসাও। ব্যাংক ঋণ নেয়ার সময় বেলহাসার এমডি’র সই জাল করা হয়। এজন্য বেলহাসাও এখন বাংলাদেশে ঋণখেলাপি। এদিকে অন্য শেয়ারধারীদের বঞ্চিত করে ওবায়দুল করিম একাই সিটি সেন্টারটি জবরদখল করে রেখেছেন।

যা বলছেন বেলহাসার আইনজীবী: বেলহাসার হয়ে আইনি লড়াই করা সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জোবায়ের আহমেদ ভূঁইয়া বলেন, একমের নাম দেয়া হয় ওরিয়ন গ্রুপ, যেখানে একমের মধ্যে ওরিয়ন গ্রুপ বলতে কোনো শব্দও নেই। তারা বেলহাসার সব সিগনেচার জাল করেছে। একমেরও সব সিগনেচার জাল করেছে। জাল করে ওবায়দুল করিমের ছেলে সালমান করিম ও তার মেয়ের জামাই মেহেদী হাসানকে যুক্ত করেছে। পরে কোম্পানিটা পুরোপুরি নিজে দখল করেছে। বেলহাসার যে শেয়ার হোল্ডিং সেটা মাত্র ৬ শতাংশ করেছে। ৯৫ শতাংশ ওবায়দুল করিম ওরিয়নের সঙ্গে মিলে দখল করে ফেলেছেন। এখানে জালিয়াতি হয়েছে, ক্রিমিনাল অফেন্স হয়েছে, সিভিল অফেন্স হয়েছে। দখল ও বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের বিষয়ে জানতে ওরিয়ন গ্রুপের চেয়ারম্যান ওবায়দুল করিমের মুঠোফোনে ফোন দেয়া হলে তাকে পাওয়া যায়নি। ক্ষুদে বার্তা দিয়েও কোনো সাড়া মেলেনি।

mzamin

ইউক্রেনের আকাশে রাশিয়া কেন নিজেদেরই গোপন অস্ত্র ধ্বংস করল

ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলের কস্তিয়ানতিনিভকা শহর। আকাশে হঠাৎ দেখা গেল সাদা ধোঁয়ার দুটি রেখা। ইউক্রেনীয়দের কাছে এর অর্থ একটাই—হামলা চালাতে আসছে রাশিয়ার দুটি যুদ্ধবিমান। সেগুলোর ইঞ্জিন থেকেই বের হচ্ছে ওই ধোঁয়ার রেখা। তবে এরপর যা ঘটল, তার জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিলেন না কেউ।

একটি ধোঁয়ার রেখা থেকে বের হলো একটি বস্তু। দ্রুতগতিতে সেটি এগিয়ে গেল আরেকটি রেখার দিকে। তারপর বিস্ফোরণে বিদ্যুৎ চমকের মতো আলোকিত হয়ে উঠল আকাশ। অর্থাৎ হয় রাশিয়ার কোনো যুদ্ধবিমান ভুলবশত আরেকটি যুদ্ধবিমানের ওপর হামলা চালিয়েছে। অথবা ইউক্রেনের যুদ্ধবিমানের হামলায় ধ্বংস হয়েছে রাশিয়ার কোনো যুদ্ধবিমান।

এর কিছুক্ষণের মধ্যেই ভূপাতিত ওই আকাশযানের ধ্বংসাবশেষ খুঁজে পাওয়া গেল। সেটি রাশিয়ার সর্বাধুনিক আর গোপন অস্ত্রগুলোর একটি—‘এস–৭০’ বলেই মনে হয়েছে। এটি একটি সামরিক ড্রোন। শত্রুপক্ষের রাডারে ধরা না পড়েই হামলা চালাতে পারে এটি। এই ড্রোনের আরেকটি নাম ‘ওখোতনিক’, অর্থ ‘শিকারি’।

ওখোতনিক ড্রোনগুলো যুদ্ধবিমানের মতো বড় আকৃতির। সেগুলোয় কোনো চালক থাকে না। আকাশে এই ড্রোন শনাক্ত করাও খুবই কঠিন। ওখোতনিকের নির্মাতাদের দাবি, বিশ্বে এই ড্রোনের তুলনা নেই বললেই চলে। এই দাবি হয়তো সত্যি হতে পারে। তবে কস্তিয়ানতিনিভকার আকাশে যে ড্রোন ভিডিওতে ধরা পড়েছে, সেটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিল বলেই মনে হচ্ছে।

ভিডিওতে ড্রোনের ওপর যে আকাশযান দিয়ে হামলা চালাতে দেখা যায়, সেটি ছিল রাশিয়ার সু–৫৭ যুদ্ধবিমান। সেটি হয়তো ওই ড্রোনের সঙ্গে সংযোগ ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছিল। শেষ পর্যন্ত সফল না হলে ড্রোনটি ধ্বংসের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কারণ, ড্রোনটি ইউক্রেনের আকাশে উড়ছিল। আর ধ্বংস না করা হলে সেটির প্রযুক্তি ইউক্রেনীয়দের হাতে চলে যাওয়ার ঝুঁকি ছিল।

সেদিন কস্তিয়ানতিনিভকার আকাশে আসলেই কী ঘটেছিল, সে সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করেনি মস্কো বা কিয়েভ। তবে ড্রোনটি যে আসলেই নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিল, তা মনে করেন সামরিক বিশ্লেষকদের অনেকে। তাঁদের বিশ্বাস, যুদ্ধক্ষেত্রে ইউক্রেন বাহিনীয় যে প্রযুক্তি ব্যবহার করছে, তার খপ্পরে পড়েই যোগাযোগবিচ্ছিন্ন হয়েছিল ড্রোনটি।

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে চলছে ইউক্রেন যুদ্ধ। এর পর থেকে দেশটির যুদ্ধক্ষেত্রে অনেক ধরনের ড্রোনের ব্যবহার হয়েছে। তবে সেগুলোর কোনোটিই এস–৭০–এর মতো নয়। এই ড্রোনের ওজন ২০ হাজার কেজির বেশি। হামলা চালাতে পারে ছয় হাজার কিলোমিটার এলাকাজুড়ে। এটি দেখতে অনেকটা তিরে মতো। ‘এক্স–৪৭বি’ নামের যুক্তরাষ্ট্রেরও প্রায় একই রকম দেখতে একটি ড্রোন রয়েছে।

ধারণা করা হয়, রাশিয়ার ওখোতনিক ড্রোনটি বোমা ও রকেট বহন করতে পারে। সেগুলো দিয়ে হামলা চালাতে পারে স্থল ও আকাশের কোনো লক্ষ্যবস্তুতে। নজরদারির কাজেও ব্যবহার করা যায় ড্রোনটি। উল্লেখযোগ্য আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো, রাশিয়ার পঞ্চম প্রজন্মের সু–৫৭ যুদ্ধবিমানের সঙ্গে মিলে হামলা চালাতে পারে ওখোতনিক।

২০১২ সাল থেকে ওখোতনিক নিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছিল রাশিয়া। ২০১৯ সালে প্রথমবারের মতো এটি আকাশে ওড়ানো হয়। তবে সেটি যে ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যবহার করা হচ্ছে, তা কয়েক দিন আগেও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। চলতি বছরের শুরুর দিকে ড্রোনটি দক্ষিণ রাশিয়ার আখতুবিনস্ক বিমানঘাঁটিতে দেখা মেলা খবর পাওয়া যায়। এই ঘাঁটি ইউক্রেনে হামলা চালানোর জন্য ব্যবহার করা হয়।

রাশিয়ার কাছে মোট চারটি ওখোতনিক ড্রোন আছে বলে মনে করা হয়। এর একটিই সম্প্রতি ইউক্রেনে ধ্বংস হলো। এ ব্যর্থতা মস্কোর জন্য অবশ্যই বড় একটি ধাক্কা। কারণ, চলতি বছরেই সেটির পুরোপুরি উৎপাদন শুরু করার কথা রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক ব্যর্থতা থেকে বোঝা যাচ্ছে, ড্রোনটি এখনো ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত নয়।

ইউক্রেনে ভূপাতিত হওয়ার আগে ওখোতনিক ড্রোনটি ধ্বংস করা হলেও সেটি থেকে এখনো ইউক্রেনীয়রা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেতে পারেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকদের অনেকে। কিয়েভভিত্তিক উড়োজাহাজ বিশেষজ্ঞ আনাতোলি খ্রাপচিনস্কি বলেন, লক্ষ্যবস্তু খুঁজে বের করার জন্য ড্রোনটির নিজস্ব রাডার আছে কি না বা এমন অনেক তথ্য এখনো ধ্বংসাবশেষ থেকে জানা যেতে পারে।

ওখোতনিক যেখানে ভূপাতিত হয়েছিল, সেখানকার ছবি খতিয়ে দেখেছেন আনাতোলি। তাঁর মতে, ড্রোনটির রাডারকে ফাঁকি দেওয়ার সক্ষমতা সীমিত। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ড্রোনটির ইঞ্জিনের পেছনের অংশ (নজল) গোলাকৃতির। এটি সহজেই রাডারে ধরা পড়তে পারে। আর সেটির কিছু সরঞ্জাম অ্যালুমিনিয়ামের তৈরি বলে মনে হয়েছে। এটিও রাডার ফাঁকি দিতে সক্ষম নয়।

এটা নিশ্চিত যে ড্রোনটির ধ্বংসাবশেষ এখন খতিয়ে দেখবেন ইউক্রেনের প্রকৌশলীরা। তাঁদের পাওয়া তথ্যগুলো কিয়েভের পশ্চিমা মিত্রদের হাতে তুলে দেওয়া হবে। তবে এটাও ঠিক যে রাশিয়া বসে নেই। নতুন ও আরও আধুনিক উপায়ে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে কাজ করছে মস্কো। আর আজ তারা ব্যর্থ হয়েছে, তার অর্থ এই নয় যে কাল সফল হবে না।

ওখোতনিক বিধ্বস্ত হওয়ার পর সেটি খতিয়ে দেখছেন ইউক্রেনের সেনাসদস্যরা
ওখোতনিক বিধ্বস্ত হওয়ার পর সেটি খতিয়ে দেখছেন ইউক্রেনের সেনাসদস্যরা ছবি: রয়টার্স

দখলদার ইসরায়েলের সেই পুরোনো খায়েশ পুনর্ব্যক্ত করলেন মন্ত্রী

ইহুদিবাদী রাষ্ট্র ইসরায়েলের সীমানাবৃদ্ধির রূপরেখা জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী মন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ভবিষ্যতে জর্ডান নদীর ওপারের ভূমি ইসরায়েল দখল করে নেবে। সাম্প্রতিক একটি ডকুমেন্টারিতে তিনি ওই মন্তব্য করেন। যদিও এই প্রত্যাশা ইহুদি জনগণের বেশ পুরোনো।

টিআরটি ওয়ার্ল্ডের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, তারা ‘গ্রেটার ইসরায়েলের’ স্বপ্ন দেখেন। সে ভবিষ্যত রাষ্ট্রের সীমানা হবে জর্ডান নদীর ওপার পর্যন্ত প্রসারিত। অল্প অল্প করে তা দখল করে ইসরায়েল এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে।

অতি-ডানপন্থী এ মন্ত্রী আরও দাবি করেন, জেরুজালেম শেষ পর্যন্ত সিরিয়ার দামেস্ক পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। এর ব্যাখ্যায় তিনি ধর্মের প্রসঙ্গ টেনে আনেন। যেখানে বৃহত্তর ইসরায়েল আদর্শের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ ‘প্রতিশ্রুত ভূমির’ কথা বলা হয়েছে। সেই ভূমিতে একটি ইহুদি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হবে।

স্মোট্রিচের মন্তব্যটি তার আগের মনোভাবই প্রকাশ করে। এর আগেও তিনি বিভিন্ন সময় ফিলিস্তিনি জনগণের অস্তিত্ব অস্বীকার করেছিলেন এবং বলেছিলেন, ফিলিস্তিন শহরকে পৃথিবী থেকে মুছে ফেলা উচিত।

বৃহত্তর ইসরায়েল ধারণাটি ইহুদিদের ধর্মীয় গ্রন্থে উল্লেখ আছে। সেই ধারণা মতে উগ্র ডানপন্থি ইসরায়েলি নেতারা ফিলিস্তিন, সিরিয়া ও জর্ডানের কিছু অংশ দখলের চেষ্টারত। যদিও ধর্মে ইহুদি রাষ্ট্রটির সঠিক সীমানা অনির্ধারিত; তবুও ইসরায়েলিরা ধারণাটি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এগোচ্ছেন। মন্ত্রীর ওই মন্তব্য তারই একটি সুচিন্তিত চিত্রায়ন।

জর্দান নদী মধ্যপ্রাচ্যে শরিয়ত নদী নামেও পরিচিত। মধ্যপ্রাচ্যের ২৫১-কিলোমিটার দীর্ঘ (১৫৬ মা) নদীটি গালীল সাগরের উত্তর থেকে দক্ষিণ দিকে বয়ে চলে মৃত সাগরে গিয়ে পতিত হয়। নদীটির পূর্ব সীমান্তে রয়েছে জর্ডান ও গোলান মালভূমি এবং পশ্চিম সীমান্তে রয়েছে ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীর ও ইসরায়েল। জর্ডান ও পশ্চিম তীর উভয়ই নদীটির কাছ থেকে তাদের নাম গ্রহণ করে।

মধ্যপ্রাচ্যের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ নদীটি ইহুদিধর্ম ও খ্রিস্টধর্মে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। এ নদী ঘিরেই ইহুদিদের ‘প্রতিশ্রুত ভূমির’ কাহিনি প্রাচীনকাল থেকে আবর্তিত। ইহুদি ছাড়াও অনেক ধর্মের মানুষ বিশ্বাস করেন ইহুদিরা একদিন তাদের প্রতিশ্রুত ভূমির দখল নেবে। যদি তাই হয় তবে মধ্যপ্রাচ্যের অনেক স্বাধীন দেশের বিলুপ্তি ঘটবে। 

ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী মন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ। ছবি : সংগৃহীত
ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী মন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ। ছবি : সংগৃহীত

প্রতিরোধ যোদ্ধাদের নতুন হাইকমান্ড, দীর্ঘ যুদ্ধের প্রস্তুতি

দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে চলতে থাকা লোবানন-ইসরায়েল সংঘাত এবার নতুন রূপ নিচ্ছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। জানা গেছে, লেবাননের শিয়াপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ এবার ইসরায়েলের সঙ্গে দীর্ঘ যুদ্ধের জাল বুনছে। সেই পরিকল্পনা ঘিরেই গোষ্ঠীটি শুরু করেছে শীর্ষ কমান্ড গঠনের কাজ। বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে এমন তথ্য নিশ্চিত করেছে দলের উচ্চপর্যায়ের দুটি সূত্র।

ইরানের প্রত্যক্ষ মদদ ও সমর্থনে ১৯৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় হিজবুল্লাহ। জন্মলগ্ন থেকেই ইসরায়েল রাষ্ট্রকে ধ্বংসের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ তারা। গত দশকগুলোতে ইসরায়েলের সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে সংঘাতে জড়ায়। কিন্তু ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলের ভূখণ্ডে গাজার সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের হামলা ও এর জবাবে গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযান ইসরায়েল ও হিজুবুল্লাহকে বড় যুদ্ধের মুখোমুখী করে তোলে।

ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলীয় সীমান্তের অপর পাশে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলেই হিজবুল্লাহর প্রধান কমান্ড কেন্দ্রসহ গোষ্ঠীটির গুরুত্বপূর্ণ সব সামরিক স্থাপনার অবস্থান। ইসরায়েলি বাহিনী গাজায় অভিযান শুরুর পর থেকে হামাসের প্রতি সংহতি জানিয়ে দক্ষিণ লেবানন থেকে উত্তর ইসরায়েলের বিভিন্ন স্থাপনাকে লক্ষ্য করে রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া শুরু করে হিজবুল্লাহ।

জানা গেছে, গত ২০ সেপ্টেম্বর থেকে দক্ষিণ লেবাননে বিমান অভিযান শুরু করে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। এ অভিযানে ইতোমধ্যে নিহত হয়েছেন হিজবুল্লাহর প্রধান নেতা ও সেক্রেটারি জেনারেল হাসান নাসরুল্লাহসহ প্রায় সব শীর্ষ কমান্ডার। প্রতিশোধ নিতে মরিয়া হিজবুল্লাহ।

হিজবুল্লাহর এক জ্যেষ্ঠ কমান্ডার এ নিয়ে জানায়, নাসরুল্লাহ নিহত হওয়ার তিন দিনের মধ্যে নতুন একটি কমান্ড সেন্টার স্থাপন করেছে গোষ্ঠীটি। ১ অক্টোবর থেকে সেটি কার্যকরও রয়েছে। আগে গোষ্ঠীটির মধ্যম ও নিম্ন পর্যায়ের যোদ্ধাদের জন্য যেসব কঠোর বিধিনিষেধ ছিল, নাসরুল্লাহ ও অন্যান্য জ্যেষ্ঠ কমান্ডার নিহত হওয়ার পর থেকে তা অনেকটাই শিথিল পর্যায়ে রয়েছে।

বলা হচ্ছে, হিজবুল্লাহ বর্তমানে কঠিন সময় পার করছেন। আর এই সময়ে টিকে থাকার জন্য বেশ কিছু সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে সংগঠনটি। আর এতেই আশঙ্কা করা যাচ্ছে, লেবানন দীর্ঘ যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে যাচ্ছে। 

হিজবুল্লাহ যোদ্ধারা। ছবি : সংগৃহীত
হিজবুল্লাহ যোদ্ধারা। ছবি : সংগৃহীত

সীমান্ত বাড়িয়ে সৌদি আরবে ঢুকতে চায় ইসরায়েল?

ফিলিস্তিনিদের হটিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে উড়ে এসে জুড়ে বসে ইহুদিরা। পরে সেখানে তারা গঠন করে ইসরায়েল নামক রাষ্ট্র। এরপর অত্যাচার, নির্যাতন, হত্যাসহ বিভিন্ন যুদ্ধ আর দখলবাজির মাধ্যমে তারা প্রতিবারই বাড়িয়ে নিয়েছে নিজেদের পরিধি। সেখানে তারা গড়ে তুলেছে ইহুদি বসতি। কিন্তু তাতেও ক্ষুধা মেটেনি তাদের। প্রতিবারই যুদ্ধের মাধ্যমে ইসরায়েল বাড়িয়েছে নিজেদের স্বার্থ আর সামাজ্য।

পশ্চিমা সমর্থিত ইসরায়েলের লোভাতুর দৃষ্টি কতদূর পর্যন্ত যেতে পারে সে ব্যাপারে পরিষ্কার একটি ধারণা দিয়েছেন সে দেশের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ। এক প্রামাণ্যচিত্রে তিনি তুলে ধরেছেন ইসরায়েলের সীমানাবৃদ্ধির পরিকল্পনার রূপরেখা। এতে ওই মন্ত্রী বলেন, নিজেদের প্রতিরক্ষার জন্য জর্ডান নদীর পূর্বে থাকা অঞ্চলগুলিও তাদের দরকার। পূর্ব থেকে আসা যে কোনো আক্রমণ যেন প্রতিহত করা যায়।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে ইসরায়েলি অর্থমন্ত্রী মন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচের এমন বক্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে আরব রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে তৈরি হয়েছে তীব্র প্রতিক্রিয়া। তুর্কি বার্তাসংস্থা আনাদোলু জানায়, ফ্রান্স-জার্মানভিত্তিক নিউজ ম্যাগাজিন আর্টে রিপোর্টেজ থেকে নির্মিত ‘ইন ইসরায়েল : মিনিস্টারস অব কেয়াস’ নামের প্রমাণ্যচিত্রটি মুক্তি পেয়েছে চলতি মাসে। সেখানেই ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির এবং অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ ইহুদি রাষ্ট্রের বিস্তৃতি নিয়ে কথা বলেন।

ডকুমেন্টারিতে স্মোট্রিচ আরও জানান, এটি লিখিত আছে, জেরুজালেমের ভবিষ্যত প্রসারিত হবে দামেস্কে। যাকে বলা হচ্ছে ‘বৃহত্তর ইসরায়েল’। এর পক্ষে ধর্মীয় ব্যাখ্যাও দাঁড় করিয়েছেন চরম ডানপন্থি এই মন্ত্রী। তিনি দাবি করেন, কেবল জর্ডান, সিরিয়া, লেবানন, ইরাক, মিশরই নয়, বরং সৌদি আরবের অঞ্চলও অন্তর্ভুক্ত হবে বৃহত্তর ইসরায়েলে। ইসরায়েলি জনগণের মাঝে যা গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য হিসেবে গৃহীত হয়েছে।

তবে ইসরায়েলের এমন পরিকল্পনাকে আগ্রাসী এবং আঞ্চলিক শান্তির জন্য বিপজ্জনক বলে বিবেচনা করছে আরব রাষ্ট্রগুলো। অনেকেই মনে করছেন, ইসরায়েল যদি সত্যিই তার সীমান্তকে সম্প্রসারণ করে, তাহলে ফিলিস্তিনীদের মতোই ভাগ্য বরণ করতে হবে আরও অসংখ্য জাতিগোষ্ঠীকে। শুরু হতে পারে সংঘাতের নতুন অধ্যায়।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যে এই পরিকল্পনা স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় দীর্ঘমেয়াদি প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে, যা বিশ্ব সম্প্রদায়ের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

নেতানিয়াহুর হাতে গ্রেটার ইসরায়েলের মানচিত্র। ছবি : সংগৃহীত
নেতানিয়াহুর হাতে গ্রেটার ইসরায়েলের মানচিত্র। ছবি : সংগৃহীত



দিগ্বিজয়ী তৈমুর লং ও ডক্টর ইউনূসের ‘রিসেট বাটন’ by শায়ের খান

আজ থেকে প্রায় ৬০০ বছর আগেই ‘রিসেট বাটন পুশ’ করে রাজ্য পুনরুদ্ধার করেছিলেন তৈমুর লং। এই সেদিন আমাদের ইউনূস স্যার ভোয়া’র (ভয়েস অব আমেরিকা) আনিস আহমেদকে তরুণদের ‘রিসেট বাটন পুশ’ করা নিয়ে বললে তা লুফে নেয় ফ্যাসিস্ট দোসররা। এই গোষ্ঠী ‘রিসেট বাটন পুশ’ কি, সেটাই বোঝেনি। অথচ তা ৬০০ বছর আগেও বুঝেছিলেন তৈমুর লং।

দিগ্বিজয়ী বীর তৈমুর লং একবার রাজ্য হারিয়ে ভিখারির ছদ্মবেশে ঘুরছেন। এক দুপুরে প্রচণ্ড ক্ষুধার্ত তৈমুর এক দরজায় নক করলে দরজা খোলেন এক সুন্দরী তরুণী। ক্ষুধার্ত ভিখারিকে বলেন, ‘একটু অপেক্ষা করো, আমি তোমার জন্য খিচুড়ি রেঁধে নিয়ে আসি।’ ক্ষুধাকাতর তৈমুর রেঁধে আনা গরম খিচুড়ির থালার মাঝখানে দিলেন হাত ডুবিয়ে।  হাত খেলো গরম ছ্যাঁকা। হো হো হো করে হেসে উঠলো তরুণী। বিব্রত ভিখারিকে বললো, ‘তোমার অবস্থা তো দেখি বাদশাহ তৈমুর লং-এর মতো।’ চমকে উঠে ভিখারি বাদশাহ বললেন, ‘কি রকম?’ সুন্দরী বললো, তৈমুর লোভ করে সরাসরি রাজধানী আক্রমণ করেছিল। চারদিক থেকে ঘিরে ফেলায় হেরে যায় সে। তার উচিত ছিল আশপাশের রাজ্যগুলো আগে দখল করা। খিচুড়িও খেতে হয় চারদিক থেকে আস্তে আস্তে।’ খিচুড়ি খেয়ে মহিলাকে সালাম দিয়ে বিদায় নেন ছদ্মবেশী তৈমুর। আস্তে আস্তে আবার  সুসংগঠিত হয়ে মহিলার দেয়া ‘খিচুড়ি তত্ত্বে’ পুনর্দখল করেন রাজ্য।

আজ থেকে প্রায় ৬০০ বছর আগেই ‘রিসেট বাটন পুশ’ করে রাজ্য পুনরুদ্ধার করেছিলেন তৈমুর লং।
এই সেদিন আমাদের ইউনূস স্যার ভোয়া’র (ভয়েস অব আমেরিকা) আনিস আহমেদকে তরুণদের ‘রিসেট বাটন পুশ’ করা নিয়ে বললে তা লুফে নেয় ফ্যাসিস্ট দোসররা। এই গোষ্ঠী ‘রিসেট বাটন পুশ’ কি, সেটাই বোঝেনি। অথচ তা ৬০০ বছর আগেও বুঝেছিলেন তৈমুর লং।
ইংলিশে ‘রি’ কথাটা ব্যবহার হয় কোনোকিছু পুনরায় বা আবার করার অর্থে। যেমন সোশ্যাল মিডিয়ায় আপনি রি- পোস্ট করেন। নতুন করে পোস্ট। যেমন রিস্টার্ট। আবার স্টার্ট করা । রিমেক। আবার মেক করা। রিশিডিউল। আবার শিডিউল করা। রিসেট। আবার সেট করা। একেবারেই সোজা।
আরেকটু সোজা করে ভাবি। ধরা যাক, এক দম্পতি সন্ধ্যায় কোনো পার্টিতে যাবে। স্ত্রী সুন্দর বেণী করে সাজুগুজু করছে। স্বামী বললো, ‘বেণী না প্লিজ, তোমার পার্টি কাঁপানো খোঁপাটা করো।’ খুশির দীর্ঘশ্বাসে বেণী খুলে খোঁপা বাঁধলো স্ত্রী।  আসলে সে  চুলে ‘রিসেট বাটন পুশ’ করে বেণীকে খোঁপা করে দিয়েছে । বেণী খোঁপা হয়েছে কিন্তু চুল চুলের জায়গায়ই আছে।   

চুলে ‘রিসেট বাটনের’ আরেকটা উদাহরণ আমরা আনতে পারি। বিগত সরকারের তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ ওরফে টাকলা মুরাদ  মাতাল অবস্থায় যখন অভিনেত্রী মাহিয়া মাহীকে ‘অই ছেমরি’ বা টুটাফাটা অশ্লীল চিৎকার করছিল, তখন নাকি তার চুল ছিল পুরোই চাঁছাছোলা। ঘনিষ্ঠদের মতে, তার মাথা অরিজিনালি পুরো চাঁছা না।  হালকা চুলের গ্যালারি আছে। প্রতিদিন  গ্যালারি কালার করা ঝামেলা। তাই তিনি চুলের ‘রিসেট বাটন পুশ’ করে দেন। গ্যালারি হয়ে যায় চাঁছাছোলা স্মার্ট। তিনি দেখতে হয়ে যান ড্যাশিং ক্রিমিনাল। আর টুট্টা ফুট্টারা বলতে থাকে- ভাইয়াকে খুব হ্যান্ডসাম লাগতেসে।   
রিসেট বাটন পুশ করা পরিবর্তনের জন্য এক স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। আপনি জীবন চলার পথে বহুবার রিসেট বাটন পুশ করেছেন, কিন্তু বোঝেন নাই  যে সেটা ছিল রিসেট বাটন।   
ক্রিকেট বা ফুটবল ম্যাচে ক্ষণে ক্ষণে রিসেট বাটন পুশ করা হয়। টপাটপ কয়েকটা উইকেট পড়ে গেছে বা ধুমধাম দুটো গোল খেয়ে গেছো, দাও রিসেট বাটন পুশ করে।  নতুন পরিকল্পনায় সাজাও কৌশল। অবশ্যই এই কৌশল অতীতের ভুল মাথায় রেখেও তা শুধরে।
ঢাকা ইউনিভার্সিটি দিয়ে বিষয়টা আরেকটু বোঝা যাবে।
আগের দিনে ঢাকা ইউনিভার্সিটির ভিসি বলতেই কল্পনায় উচ্চ শিক্ষিত ব্যক্তিত্বসম্পন্ন এক অভিভাবকের মুখ ভেসে উঠতো। যে অভিভাবক ভাবেন শিক্ষা নিয়ে, সমাজ-অর্থনীতি- গ্লোবাল রাজনীতি নিয়ে। অথচ  বিগত সরকারের আমলে মানুষ দেখলো  এক  ভিসি  টিএসসিতে ১০ টাকায় চা- চপ-ছমুছা বিক্রি করছে। ফ্যাসিস্ট সমর্থক এই চাটুকার  ভিসি জুলাই-আগস্ট বিপ্লবে গণহত্যাকারীদের পক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন। এখানে রিসেট বাটন পুশ করে দিন। এতে ঢাকা ইউনিভার্সিটিটা থাকবে, টিএসসি থাকবে, আসবে সম্মানিত ভিসি। টিএসসিতে ছাত্ররা  চা-চপ-সিঙ্গারায় সুস্থ আড্ডা দিবে। শুধু থাকবে না নীতিহীন চাটুকার ভিসি আর তার চা-চপ- ছমুছা।
আগস্ট বিপ্লবে ছাত্র-জনতার বিজয়ের আর তৈমুর লং-এর রাজ্যজয়ের রিসেট বাটনে একটু পার্থক্য আছে। বলা যায়, উল্টো। তৈমুর লং চারদিক জয় করে শেষ করেন রাজধানীতে। আর আমাদের বিজয় শুরু হয়েছে রাজধানী থেকে। এখন রিসেট বাটন পুশ করে যেতে হবে চারদিকে। বাহির থেকে দেশের ভেতর প্যারাসাইট ঢোকা বন্ধ করতে হবে প্রথমে। একইসঙ্গে ভেতরে থাকা প্যারাসাইট দমন করতে হবে।
গেল ১৬টা বছর বাহির আর ভেতরের প্যারাসাইট মিলে দেশের প্রতিটা সেক্টরকে একেবারে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে দাঁড় করিয়েছে।

mzamin

ইসরায়েলের আয়রন ডোমের দুর্বলতা জেনে গেছে ইরান?

ইসরায়েলের আয়রন ডোমের দুর্বলতা জেনে গেছে ইরান?

ইহুদিবাদী ইসরায়েলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র অভিযানের দিকে ইঙ্গিত করে ব্রিটিশ দৈনিক ডেইলি টেলিগ্রাফ লিখেছে, ইসলামি এ দেশটির পরবর্তী পদক্ষেপ হতে পারে আরও অনেক বেশি ধ্বংসাত্মক। সংবাদমাধ্যমটি বলছে, ইরান সম্ভবত ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা সিস্টেমের দুর্বলতাগুলো জেনে গেছে।

টেলিগ্রাফ লিখেছে, ইরানের ‘ট্রু প্রমিজ-২’ শীর্ষক অভিযান প্রমাণ করেছে যে, দেশটি ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটাতে সক্ষম।

দৈনিকটি আরও লিখেছে, বিশেষজ্ঞরা এটা বোঝার চেষ্টা করছেন যে, পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ তীব্রতর হলে ইসরায়েল ইরানের আরও বেশি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জোয়ার থেকে নিজেকে রক্ষা করতে সক্ষম হবে কি?

বিশেষজ্ঞদের উদ্ধৃতি দিয়ে টেলিগ্রাফ আরও লিখেছে, ভিডিও চিত্র থেকে এটা বোঝা যাচ্ছে যে, ইসরায়েল সম্ভবত একই সময়ে ইরানের বিপুল সংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্রের হামলা ঠেকানোর মতো যথেষ্ট সংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র বিধ্বংসী সিস্টেমের অধিকারী নয়।

ওই রিপোর্টে বলা হয়েছে, এ ভয় রয়েছে যে, বিশেষ করে ইরানের ড্রোন হামলাগুলো ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা সিস্টেমের ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটিয়ে এতে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে বা এই ব্যবস্থা ওলট-পালট করে দিয়েছে অথবা এইসব সিস্টেমের দুর্বলতার দিকগুলো ইরান জেনে গেছে।

ব্রিটেনের এই দৈনিক লিখেছে, ইরান তার মিত্রদের সঙ্গে সমন্বয় করে বিপুল সংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্রের বিশাল হামলা চালিয়ে ইসরায়েলের আকাশ-প্রতিরক্ষা সিস্টেমগুলোকে অকার্যকর করতে সক্ষম হয়েছে এবং ইসরায়েলের ভূমিতে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পেরেছে।

ইরানের দূরপাল্লার হাইপারসনিক মিসাইল। ছবি : সংগৃহীত
ইরানের দূরপাল্লার হাইপারসনিক মিসাইল। ছবি : সংগৃহীত



ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এখন যেমন চলছে by মুনির হোসেন

অস্থির সময় পেরিয়ে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ছাত্ররাজনীতির আঁতুড়ঘর মধুর ক্যান্টিনে নেতাকর্মীদের ভিড় নেই। ক্লাস-পরীক্ষার সময় উচ্চশব্দের রাজনৈতিক স্লোগান নেই। নবাগত শিক্ষার্থীদের জোর করে নেতাকে প্রটোকল দেয়া ও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে নিয়ে যাচ্ছে না কোনো ছাত্রসংগঠন। হলগুলোতে বন্ধ গেস্টরুম ও গণরুম কালচার। শিক্ষাসূচি চলছে স্বাভাবিক গতিতে। সব মিলিয়ে নতুন এক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দেখছেন শিক্ষার্থীরা। এতদিন অপরাজনীতির যে শৃঙ্খল তাদের বন্দি রেখেছিল সেই দৃশ্য থেকে মুক্ত তারা। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পরই এভাবে বদলে  গেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চিত্র। তবে সংকট রয়েছে কোথাও কোথাও। বিগত সরকারের সুবিধাভোগী ও অনিয়মের সমর্থনকারী অর্ধশতাধিক শিক্ষককে বয়কট করেছেন শিক্ষার্থীরা। তাই কোনো কোনো কোর্সে পাঠদানে বিঘ্ন ঘটছে। এ ছাড়া যাদের প্রত্যক্ষ মদতে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা হয়েছে সেসব শিক্ষক ও হামলাকারী ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে নেয়া হয়নি কোনো ব্যবস্থা। অন্যদিকে ছেলেদের হল থেকে মেয়াদোত্তীর্ণ ও বহিরাগতদের বের করে দেয়ায় আবাসন সংকট অনেকটা কেটে গেলেও মেয়েদের হলে বরাবরের মতোই প্রকট রয়েছে আবাসন সংকট। ছাত্ররাজনীতি থাকবে কি থাকবে না সে বিষয়ে ব্যাপক আলোচনা হলেও শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া ও শিক্ষক রাজনীতির বিষয়ে আলোচনা নেই। এ ছাড়া নতুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন কী হবে তা নিয়েও তেমন কোনো আলোচনা হচ্ছে না। এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। অন্যদিকে ফজলুল হক মুসলিম হলে তোফাজ্জল হোসেন নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা দেশব্যাপী ব্যাপক আলোচনা সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলছেন, তারা শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রমকে সবচেয়ে গুরুত্ব দিচ্ছেন। শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখতে সব ধরনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। একইসঙ্গে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে সম্পর্ক বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করছে প্রশাসন। শিক্ষার্থীরাও পড়া-লেখায় মনোযোগী হচ্ছে। নতুন হল নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। ছাত্ররাজনীতির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে গঠন করা হবে কমিটি।

পহেলা জুলাই সর্বজনীন পেনশন স্কিম নিয়ে আপত্তি জানিয়ে শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কর্মবিরতিতে গেলে বন্ধ হয়ে যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম। এরপর ৫ই জুলাই থেকে কোটা নিয়ে উচ্চ আদালতের দেয়া রায়ের প্রতিক্রিয়ায় শিক্ষার্থীরাও অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে। অচলাবস্থা সৃষ্টি হয় দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠে। পরবর্তীতে উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে ১৫ই জুলাই শিক্ষার্থীদের ওপর নির্বিচারে হামলা চালায় ছাত্রলীগ। ক্যাম্পাসে মোতায়েন হয় পুলিশ। ১৬ই জুলাই রংপুরে আবু সাঈদসহ সারা দেশে পুলিশের গুলিতে ৬ শিক্ষার্থীকে হত্যার পর আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। ওইদিন রাত থেকে পরদিন সকাল পর্যন্ত ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থীরা ছাত্রলীগকে হলছাড়া করে। ভাঙচুর করা হয় সংগঠনটির নেতাদের কক্ষ। ক্যাম্পাসে মোতায়েন করা হয় কয়েক হাজার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় ১৭ই জুলাই সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের জরুরি সিন্ডিকেট সভায় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেয়া হয় বিশ্ববিদ্যালয় ও হলগুলো। ওইদিন পুলিশের সঙ্গে কয়েক দফা সংঘর্ষে অনেকটা কোণঠাসা হয়ে পড়ে শিক্ষার্থীরা। সন্ধ্যার মধ্যে হল ছাড়তে বাধ্য হয় শিক্ষার্থীরা। ছাত্র-জনতার রক্তস্নাত বিপ্লবে ৫ই আগস্ট পতন হয় শেখ হাসিনা সরকারের। এরপরই খুলে দেয়া হয় হলগুলো। যদিও আগ থেকেই হলগুলোতে কিছু শিক্ষার্থী থাকা শুরু করে। পদত্যাগ করেন ভিসি প্রফেসর ড. এএসএম মাকসুদ কামাল। প্রফেসর ড. নিয়াজ আহমেদ খানের নেতৃত্বে দায়িত্ব নেয় নতুন প্রশাসন। কয়েক দফায় ডায়ালগ শেষে দীর্ঘ বিরতির পর ২২শে সেপ্টেম্বর প্রথম বর্ষ ব্যতীত অন্যসব শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর ৩০শে সেপ্টেম্বর প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদেরও ক্লাস চালু হয়। একে একে অনুষ্ঠিত হতে থাকে আটকে থাকা বিভিন্ন মিডটার্ম ও ইনকোর্স পরীক্ষা।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব হলে থাকা গণরুম বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। তাড়ানো হয়েছে বহিরাগতদের। মেয়াদোত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদেরও নোটিশ দিয়ে হল ছাড়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী ছেলেদের হল থেকে ২০১৬-১৭ সেশন পর্যন্ত হলে থাকা শিক্ষার্থীরা হল ছেড়ে দিয়েছেন। আর ২০১৭-১৮ সেশনকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় দেয়া হয়েছে কোনো কোনো হলে। হলে সবার জন্য পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখা বাধ্য করা হয়েছে। এলোটেড শিক্ষার্থীদের ডাটাবেজ তৈরি করা হয়েছে। কেন্দ্রীয়ভাবেও এটি মনিটরিং করা হচ্ছে। আবাসিক শিক্ষকদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালনের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। ভিসিসহ প্রশাসনের শীর্ষ ব্যক্তিরা হলে হলে গিয়ে শিক্ষার্থীদের কথা শুনছেন। তাদের সমস্যা সমাধানে উদ্যোগী হয়েছেন। ভিসি নিজেও সকাল সকাল হলে গিয়ে শিক্ষার্থীদের খোঁজ নিতে দেখা গেছে। ক্যান্টিনগুলোতে খাবারের মান বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। রিডিংরুমকে আরও আধুনিকায়নের পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে।

অন্যদিকে ছাত্ররাজনীতি চলবে কি চলবে না সে বিষয়ে রয়েছে নানা মত। এমতাবস্থায় ছাত্ররাজনীতির ধরন কী হবে তা নির্ণয়ে একটি কমিটি গঠন করা হচ্ছে। যে কমিটির পরমর্শের ভিত্তিতে ছাত্ররাজনীতির বিষয়ে রূপরেখা দেয়া হবে। ভারসাম্য আনা হচ্ছে ভিসিসহ প্রশাসনের অন্য দায়িত্বশীলদের ক্ষমতার। এদিকে ১৫ই জুলাই শিক্ষার্থীদের ওপর হামলাকারী শিক্ষক ও ছাত্রলীগ নেতাদের বিরুদ্ধে এখনো কোনো ব্যবস্থা নেয়নি প্রশাসন। একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও তার অগ্রগতি নিয়েও সন্তুষ্ট নয় শিক্ষার্থীরা। এরইমধ্যে বিভাগগুলোতে ক্লাস পরীক্ষায় অনেক অপরাধী অংশ নেয়ায় ক্ষোভ রয়েছে শিক্ষার্থীদের মধ্যে। কিছুটা অস্থিরতা রয়েছে প্রশাসনিক ভবনেও।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি, প্রো-ভিসি (প্রশাসন), প্রো-ভিসি (শিক্ষা) এবং ট্রেজারাররা প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নিজ নিজ বিভাগ/ ইনস্টিটিউটে ক্লাস নিতে পারবেন। শিক্ষা কার্যক্রমে এ ধরনের অংশগ্রহণ প্রশাসন এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে আন্তঃসম্পর্ক উন্নয়নের পাশাপাশি জ্ঞানচর্চার প্রক্রিয়াকে উৎসাহিত করতে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সেশনজট নিরসন ও একাডেমিক কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার স্বার্থে ১৭ দিন কমিয়ে আনা হয়েছে শীত ও গ্রীষ্মকালীন ছুটি।

শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের প্রভোস্ট ড. ফারুক শাহ বলেন, হলে আবাসন সংকটই ছিল আমাদের প্রধান সমস্যা। এর মূলে ছিল মেয়াদ উত্তীর্ণ ও বহিরাগতদের হলে অবস্থান। এখন সেটি নেই বললেই চলে। বৈধ ছাত্রদের সিট দিতে পেরেছি। খাবারের দোকানে তালিকা করে দিয়েছি। বৈচিত্র্যতা যেন তাদের খাবার তালিকায় থাকে। সতর্ক করার পরও মানসম্মত খাবার পরিবেশনে ব্যর্থ হওয়ায় দুটি ক্যান্টিনের পরিচালনার দায়িত্ব থাকা প্রতিষ্ঠান পরিবর্তন করা হয়েছে। রিডিংরুমগুলোকে ঠিক করা হয়েছে। পুরো হলকে ২০টা সিসিটিভির মাধ্যমে সার্ভিলেন্স করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের বৈধ আইডি কার্ড দেয়া হয়েছে। মসজিদ সংস্কার, ফ্লোরে ফ্লোরে পানির ফিল্টার স্থাপন, অবকাঠামোগত সংস্কারসহ এক্সট্রাকারিকুল্যাম এক্টিভিটিস বাড়ানোর চেষ্টা করছি। সব মিলিয়ে হলকে পরিবেশগতভাবে বাসযোগ্য করে তোলার চেষ্টা করছি আমরা।

সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর রাশেদা ইরশাদ নাসির বলেন, আমার অনুষদের ১৬টি বিভাগেই ক্লাস শুরু হয়েছে। কোনো কোনো বিভাগে পরীক্ষাও চালু হয়েছে। কিছু বিভাগে যেসব ক্রাইসিস আছে সেগুলো সম্মিলিতভাবে সমাধানের উদ্যোগ নিয়েছি। কোনো কোনো বিভাগে দ্বন্দ্ব নিরসনে কমিটিও করে দেয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় সে গ্যাপ হয়েছে তা বিভাগ ও কেন্দ্রীয়ভাবে পূরণ করার চেষ্টা করে যাচ্ছি। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা যে ট্রমার মধ্যদিয়ে গিয়েছে সেগুলো রিকভারই আমাদের প্রায়োরিটি। সেক্ষেত্রে কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে তাদের এই ট্রমাটাইজড সিচ্যুয়েশন থেকে আমরা বের করে আনতে চাই। প্রয়োজনে খেলাধুলা, শরীর চর্চার মতো কাজে তাদেরকে যুক্ত করতে চাই।

বাংলাদেশ কুয়েত-মৈত্রী হলের শিক্ষার্থী আরিফা আক্তার আশা বলেন, মেয়েদের হলে আবাসন সংকট নতুন বিষয় না। বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে ছাত্রী সংখ্যা ছাত্রদের তুলনায় কম নয়, বরং বেশি। অথচ তাদের জন্য হল মাত্র ৫টি। এর মধ্যে বাংলাদেশ কুয়েত-মৈত্রী হলে ৩য়, ৪র্থ বর্ষেও রেফারেন্স ছাড়া সিট পাওয়া যায় না। অন্য হলে যখন সিটের জন্য ১ম কল, ২য় কল হতে থাকে তখন মৈত্রী হলে আবেদনের নোটিশই দেয়া হয় না। কুয়েত-মৈত্রী, বঙ্গমাতা, শামসুন্নাহার হলের অধিকাংশ মেয়ে অন্যান্য হলে গণরুমে থাকতো। অন্য হলে থাকার একটি কারণ হলো সেইসময়ে নিজ হলে রাজনৈতিক দখলদারিত্বের গণরুমে থাকলে সে বৈধ সিট পাওয়ার পরও রাজনীতি করতে হতো। জুলাই বিপ্লবের পর গণরুমে থাকা ছাত্রীরা তাদের মাথাগোঁজার জায়গাটুকুও হারিয়েছে। যার সংখ্যা একদমই কম না, প্রতি হলে ৫০০-৬০০ করে মেয়ে গণরুমে ছিল। এই মেয়েদের ২০%কে হলে জায়গা দেয়ার মতো সিট প্রশাসনের কাছে নেই। তিনি বলেন, আমরা গণরুম সংস্কৃতিতে আর ফিরে যেতে চাই না। আমরা চাই মেয়েদের সিট সংকট দূর হোক, যাতে মেয়েদের অসহায়ত্বকে কাজে লাগিয়ে কোনো ক্ষমতাসীন দল মেয়েদের না খাটাতে পারে। হল নির্মাণ সময়সাপেক্ষ ব্যাপার কিন্তু ভবন ভাড়া করে সমস্যা আপাতত সমাধানের জন্য বলেছি। প্রশাসন রাজি হয়নি। তারা ৩০০ সিট বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।

বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের ২০২১-২২ সেশনের শিক্ষার্থী অনন্যা বলেন, আন্দোলনের আগে অনেকে পলিটিক্যালি গণরুমে থাকতো, কিন্তু সেই সিটগুলো এখন নাই। অনাবাসিক অনেক মেয়ে আছে যারা নিজে নিজের খরচ চালায় একইসঙ্গে ফ্যামিলির খরচও চালায়। তারা যে দুয়েক মাস অপেক্ষা করবে সেই সিচুয়েশনটাও নাই। ইমিডিয়েট সিটের জন্য আমরা প্রশাসনের কাছে প্রস্তাবনা দিয়েছি।

বর্তমান প্রশাসনের কার্যক্রম নিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক ও কবি সুফিয়া কামাল হলের আবাসিক ছাত্রী উমামা ফাতেমা বলেন, নতুন প্রশাসন শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে আন্তরিক মনে হচ্ছে। তবে তাদের কাছে বর্তমানে ছাত্ররাজনীতি থাকবে কি থাকবে না এ বিষয়টা যে রকম মুখ্য বিষয় হয়ে উঠেছে সেভাবে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া বা শিক্ষক রাজনীতি কী রকম হবে সেসব বিষয়ে আলোচনা নেই। শিক্ষকরা কতোটুকু নিজেদের রাজনীতিকীকরণ করবেন তার ওপরই নির্ভর করে ক্যাম্পাসে শিক্ষার পরিবেশ কেমন হবে। এ ছাড়াও ১৫ই জুলাইয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি হলেও এখনো তার অগ্রগতি দেখছি না। হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। আবার যে সকল শিক্ষক এসব হামলায় মদত দিয়েছেন তাদের ব্যাপারেও কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। হামলাকারীরা নতুনভাবে ফিরে আসছে। তারা ক্লাস করছে, পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার বিষয়ে আন্তরিক নয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি (প্রশাসন) প্রফেসর ড. সায়মা হক বিদিশা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস-পরীক্ষা পুরোদমে শুরু হয়েছে। ছাত্র-শিক্ষকদের সঙ্গে সম্পর্ক বৃদ্ধির জন্য কাজ করছি। সেক্ষেত্রে আমরা সিনেটে তাদের সঙ্গে বসেছি। এ ছাড়া বিভাগ ও হল পর্যায়েও কথা শোনার উদ্যোগ নিয়েছি। যেটি আমরা সারা বছর জারি রাখতে চাই, যে শিক্ষার্থীরা তাদের সমস্যাগুলো আমাদের জানাতে পারে। শিক্ষার্থীরা তাদের যেসব প্রত্যাশা আমাদের জানিয়েছে আমরা সেগুলো হল প্রভোস্টদের দিয়েছি। তারা যেন সেগুলো সমাধান করেন বা যেসব বিষয়ে আমাদের সহায়তা লাগবে সেসব বিষয়ে অবহিত করেন। 

mzamin

পররাষ্ট্র সচিবের সফর: যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা

মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ কর্মকর্তা উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী রিচার্ড ভার্মার সঙ্গে বৈঠক করেছেন ওয়াশিংটন সফররত পররাষ্ট্র সচিব মো. জসীম উদ্দিন। বৈঠক হয়েছে মার্কিন আন্ডার সেক্রেটারি উজরা জেয়াসহ বাইডেন প্রশাসনের প্রভাবশালী অনেক কর্মকর্তার সঙ্গে। সব বৈঠকেই পরিবর্তিত বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কার এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সমুন্নত রাখা, মানবাধিকার লঙ্ঘনের জবাবদিহিতা, রোহিঙ্গা সংকটে মানবিক সহায়তা ও টেকসই সমাধান এবং শ্রম অধিকার নিয়ে অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। শনিবার ওয়াশিংটনস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, বৃহস্পতি ও শুক্রবার পররাষ্ট্র সচিবের মঙ্গে মার্কিন প্রশাসনের জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধির বৈঠক হয়। সিরিজ বৈঠকগুলো গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের উন্নয়ন এবং মানবাধিকারের মূল উদ্বেগ নিরসনে বাংলাদেশ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দৃঢ় ও ক্রমবর্ধমান সহযোগিতার প্রতিফলন। বৈঠকগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের তরফে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক গভীর ও সম্প্রসারণ এবং পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সহযোগিতা জোরদার করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে বলেও জানানো হয়।

আলোচনায় অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার উদ্যোগ এবং চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা, রোহিঙ্গা ইস্যু, শ্রম আইন সংস্কার ইত্যাদিতে যুক্তরাষ্ট্রের কারিগরি ও আর্থিক সহায়তার ওপর আলোকপাত করা হয় বলে জানা গেছে।

এদিকে একইদিনে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের রাজনীতি বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি জন বাসের সঙ্গে পৃথক বৈঠক হয় পররাষ্ট্র সচিবের। বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের গতিতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা গভীর করার উপায় এবং অগ্রাধিকার ক্ষেত্রগুলোতে কার্যকর সহযোগিতা এগিয়ে নেয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়। ওদিকে হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিশেষ সহকারী ও দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক জ্যেষ্ঠ পরিচালক লিন্ডসে ডব্লিউ ফোর্ডের সঙ্গেও বৈঠক হয় পররাষ্ট্র সচিবের। সেখানেও তারা দুই দেশের সম্পর্কের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। তাদের আলোচনায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংস্কার এজেন্ডা, গণতান্ত্রিক উত্তরণ, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা ইস্যু, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, রোহিঙ্গা সংকট, শ্রম আইন ইত্যাদি স্থান পায়। সফরের শুরুতে পররাষ্ট্র সচিব জসিম উদ্দিন দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারী ইউএসটিআর ব্রেন্ডন লিঞ্চের সঙ্গে বৈঠক করেন।

রপ্তানি বহুমুখীকরণে পারস্পরিক সহযোগিতা, যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা তুলা থেকে উৎপাদিত আরএমজির ডিএফকিউএফ প্রবেশাধিকার, ফার্মাসিউটিক্যাল পণ্যের নিবন্ধন সহজীকরণ ও নিবন্ধন ফি হ্রাস, শ্রম আইন সংস্কার এবং ইউএস ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ফাইন্যান্স কো-অপারেশনে (ডিএফসি) প্রবেশাধিকার নিয়ে তাদের মধ্যে আলোচনা হয় বলে জানানো হয়েছে। পররাষ্ট্র সচিবের সম্মানে মার্কিন স্টেট ডেপার্টমেন্ট একটি ভোজের আয়োজন করেছিল। যেখানে মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্র মন্ত্রী ডনাল্ড লু, ভারপ্রাপ্ত অ্যাসিসট্যান্ট সেক্রেটারি মার্টা সি ইয়ুথ, ডেপুটি অ্যাসিসট্যান্ট সেক্রেটারি নিকোল চুলিক, ডেপুটি অ্যাসিসট্যান্ট সেক্রেটারি মনিকা অ্যাগার জ্যাকবসেন এবং ডিরেক্টর আল্লা পি প্রমুখ অংশ নেন বলে জানানো হয়েছে। স্মরণ করা যায়, ওয়াশিংটন সফরের আগে পররাষ্ট্র সচিব নিউ ইয়র্ক সফর করেন। ৮ই সেপ্টেম্বর পররাষ্ট্র সচিবের দায়িত্ব নেয়ার পর এটাই তার প্রথম বিদেশ সফর।

mzamin


বিধ্বস্ত বীমা খাতে গ্রাহকদের হাহাকার by এমএম মাসুদ

রংপুরের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে ঢাকায় এসেছেন আবদুল হাকিম। উদ্দেশ্য একটি নামকরা বীমা কোম্পানির হেড অফিসে গিয়ে বীমার টাকা উদ্ধার করা। তার সহ এলাকার আরও কয়েকজনের অর্ধডজন পলিসির মেয়াদ শেষ হয়েছে। কিন্তু টাকা তুলতে পারছেন না। এ টাকার পেছনে ঘুরছেন প্রায় দুই বছর ধরে। হাকিম জানান, পলিসির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর  যখন তারা টাকা তুলে নিতে চান, তখন স্থানীয় বীমা কোম্পানির অফিস থেকে চাপ দেয়া হয় টাকাটা একই কোম্পানিতে ডিপিএস করে রাখতে। কিন্তু আমরা ডিপিএস করতে রাজি হইনি। আমরা টাকা তুলতে চেয়েছি। হেড অফিসে জানালে তখন বলা হয় যে, টাকা ফেরত দেবে। কিন্তু টাকা পাওয়া যাচ্ছে না। কখনো বলে আগামী মাসে আসেন, কখনো বলে চেক হয় নাই। কখনো বলে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নাই। একেকবার একেক কথা। শুধু হয়রানি।

শুধু আবদুল হাকিম নয়, তার মতো অনেকেই বীমা করতে আগ্রহী হন না। ঢাকার একজন বেসরকারি চাকরিজীবী জাইমা ইসলাম জানান, তার কাছে মাঝে মধ্যে এজেন্ট বা প্রতিনিধিরা আসেন বীমা করাতে। কিন্তু তার এতে আস্থা নেই। তার মতে, দেশের বীমা সিস্টেমটাই একটা ফটকা মনে হয়। টাকা কাকে দিচ্ছি। আসলেই এ টাকা ফেরত পাবো কি-না এটি আমি জানি না। তাই ব্যাংকে ডিপিএস করি কিন্তু বীমা করিনি।

আরেকজন স্কুল শিক্ষক কাকন বেগম বলেন, তার স্বামী কয়েক বছর আগে বীমা করেছিলেন। কিন্তু পরে জমা দেয়া টাকাটাই আর ফেরত পাননি। ফলে মৃত্যু, দুর্ঘটনা, অঙ্গহানিসহ এ ধরনের ঘটনায় বীমা না করায় আর্থিক সুবিধার বাইরেই থাকছেন অধিকাংশ মানুষ। এ ছাড়া স্বাস্থ্যবীমার প্রসার না ঘটায় চিকিৎসাখাতেও মানুষের ব্যক্তিগত ব্যয় বাড়ছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বীমা খাতে প্রকৃত এজেন্ট তৈরি না হওয়া এবং কিছু ক্ষেত্রে গ্রাহকরা এজেন্টদের দ্বারা প্রতারণার শিকার হওয়ায় বীমা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে নেতিবাচক ধারণা বিরাজ করছে। ফলে এ শিল্পের বিকাশে বাধা হিসেবে কাজ করছে। এ ছাড়া বাংলাদেশে ১৯৭৩ সাল থেকে বীমা কার্যক্রম শুরু হলেও এখন বিভিন্ন ধরনের বীমার আওতায় আছে দুই কোটিরও কম মানুষ এবং বিশ্লেষকরা বলছেন বীমা কোম্পানিগুলোর প্রতি মানুষের চরম অনাস্থার কারণে এ বিষয়ে মানুষের আগ্রহ কম।

সাধারণ মানুষ কী ভাবে: মানুষ মনে করে, আমরা ইন্স্যুরেন্সের প্রিমিয়াম অব্যাহতভাবে দিয়েছি। কিন্তু যখনই আমার প্রয়োজনটা দেখা দিচ্ছে অর্থাৎ কোনো দুর্ঘটনা ঘটছে, তখন আমরা কোম্পানির কাছে যাচ্ছি। কিন্তু টাকা পাচ্ছি না। এখান থেকে ওখানে ঘুরাচ্ছে। তাহলে যে ঝুঁকি মেটানোর জন্য ইন্স্যুরেন্স করলাম, আমার তো সে উদ্দেশ্য পূরণ হলো না। বীমা কোম্পানির এজেন্ট বা প্রতিনিধিদের কাছ থেকে সন্তোষজনক সেবা পাচ্ছি না। ফলে মানুষের কাছে নেতিবাচক বার্তা যাচ্ছে।

বাংলাদেশে বীমা খাতে ব্যাপক সম্ভাবনা থাকলেও অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে আস্থা পাচ্ছে না সাধারণ গ্রাহক। প্রায় ১৭ কোটি মানুষের বাজার। এ খাত থেকে টাকা পয়সা তছরুপ করে নিয়ে পালিয়েছেন অনেকে। দীর্ঘদিন ঘুরেও বীমার টাকা তুলতে পারেননি তারা। ফলে বীমা পলিসি নেয়ার ক্ষেত্রেও অনীহা কাজ করছে। এ খাতের প্রতি আস্থা বাড়াতে স্বচ্ছতা ও সুশাসন জরুরি বলে মত দেন ভুক্তভোগী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

বিশ্লেষকদের মন্তব্য: আইডিআরএ’র সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জয়নুল বারী বলেন, এটা ঠিক যে, দেশের সার্বিক অর্থনীতি যে গতিতে এগোচ্ছে, বীমা খাত সেভাবে এগোতে পারছে না। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, আমাদের দেশের মানুষ বীমাবান্ধব নয়। সরকারি বাধ্যবাধকতা অর্থাৎ আইনগত বাধ্যবাধকতা না থাকলে কেউ বীমা করে না। এ ছাড়া, অনেক প্রতিষ্ঠান বীমা দাবি পরিশোধ না করায় মানুষের মধ্যে এক ধরনের আস্থাহীনতা সৃষ্টি হয়েছে।

দাবি নিষ্পত্তির হার:
বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে দাবি নিষ্পত্তির হার ছিল ৬৫.১৯ শতাংশ। এক বছর আগে যা ছিল ৬১.১৬ শতাংশ। বাংলাদেশে ২০২২ সালের তুলনায় ২০২৩ সালে বীমা খাতে দাবি নিষ্পত্তির হার ৪ শতাংশের বেশি বেড়েছে। আইডিআরএ’র তথ্যে দেখা গেছে, লাইফ ও নন-লাইফ উভয় বীমার ক্ষেত্রেই নিষ্পত্তির হার বেড়েছে। লাইফ ইন্স্যুরেন্স খাতে ২০২৩ সালে ৭২ শতাংশ দাবি নিষ্পত্তি হয়েছে, আগের বছর যা ছিল ৬৭ শতাংশ। এ ছাড়া নন-লাইফ বীমার ক্ষেত্রে আগের বছরের ৩৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৩ সালে হয়েছে ৪১ শতাংশ।

আইডিআরএ’র ২০ সালের প্রতিবেদন বলছে, বীমা কোম্পানিগুলোতে এখনো অনেক বীমা দাবি মেয়াদ শেষে নিষ্পত্তি হচ্ছে না, অর্থাৎ গ্রাহক টাকা বুঝে পাচ্ছেন না। জীবন বীমার ক্ষেত্রে দাবি নিষ্পত্তির হার ৬৭ শতাংশ। আর সাধারণ বীমার ক্ষেত্রে ৩৫ শতাংশ।

৯০ ভাগ মানুষ বীমার বাইরে:
আইডিআরএ’র তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে সব মিলিয়ে ৮২টি বীমা প্রতিষ্ঠান সেবা দিচ্ছে। এর মধ্যে লাইফ ৩৬টি আর নন-লাইফ ৪৬টি। বর্তমানে ১৭ কোটি জনসংখ্যার মধ্যে বীমার আওতায় আছে মাত্র ১ কোটি ৭১ লাখ মানুষ, যা শতাংশের হিসাবে ১০ শতাংশ। অর্থাৎ দেশের ৯০ শতাংশ মানুষ এখনো বীমা সেবার বাইরে রয়ে গেছে। প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, ২০২২ সালে মোট বীমার পরিমাণ ছিল এক কোটি ১৪ লাখ ২ হাজার ৮৬৯টি, যা ২০২৩ সালে কিছুটা কমে হয়েছে ৯৮ লাখ ৪৮ হাজার ৫৯৯টি। এ সময়ে লাইফে কমলেও নন-লাইফে বীমার পরিমাণ বেড়েছে।

গবেষাণা সংস্থাগুলোর তথ্য:
সিপিডি’র এক তথ্যে বলা হয়, বীমা খাত থেকে টাকা পয়সা নিয়ে অনেকে পালিয়ে যাচ্ছেন। দীর্ঘদিন ঘুরেও বীমার টাকা তোলা যাচ্ছে না। অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে বর্তমানে তীব্র আস্থা সংকটে পড়েছে খাতটি। এ খাতের প্রতি আস্থা বাড়াতে স্বচ্ছতা ও সুশাসন জরুরি।

নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স বিভাগের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে বীমা খাতের বিস্তার না হওয়ার পেছনে মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে আস্থাহীনতার কথা। আর এই আস্থাহীনতার মূল কারণ পাওনা দাবি নিষ্পত্তিতে জটিলতা।
সূত্রমতে, দেশের বীমা খাত শুরু থেকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বীমা অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণে ছিল। এরপর বীমা খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে ২০১১ সালে অধিদপ্তর বিলুপ্ত করে প্রতিষ্ঠা করা হয় বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)। সেই হিসাবে আইডিআর-এর বয়সও ১৩ বছর। কিন্তু এই দীর্ঘ সময়েও বীমা খাত যেন সেই এক জায়গাতেই দাঁড়িয়ে রয়েছে। এখনো জিডিপি’র তুলনায় বীমা খাতের অবদান মাত্র আধা শতাংশ।

mzamin

দলে দলে দেশ ছেড়ে পালাচ্ছে ইসরায়েলিরা

ইসরায়েল ধীরে ধীরে নিজের সীমানা বাড়াচ্ছে। বিদেশের মাটি থেকে ইহুদিদের উড়িয়ে এনে সেই অবৈধ জায়গায় গড়ে দিচ্ছে বসতি। তবে এত কিছু করেও ইসরায়েলিদের মন পাওয়া যাচ্ছে না। নতুন এক পরিসংখ্যান বলছে, দলে দলে ইসরায়েল ছাড়ছে দেশটির নাগরিকরা।

রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠালাভের পর থেকেই একের পর এক সংঘাতে জড়িয়েছে ইসরায়েল। এখন নতুন করে গাজার পাশাপাশি লেবাননেও ইসরায়েলি আগ্রাসন চলছে। এমতাবস্থায় ইসরায়েল ছাড়ার হিড়িক পড়ে গেছে। বলা হচ্ছে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর চলতি বছর ইসরায়েল ছাড়ার প্রবণতা বেড়েছে তিন গুণ।

ইসরায়েলের মারিভ পত্রিকার বরাতে মিডল ইস্ট মনিটর জানায়, এ বছরের প্রথম সাত মাসেই দেশ ছেড়েছে ৪০ হাজার ইসরায়েলি। যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে গেল বছর দেশ ছাড়ার এই পরিমাণ ছিল মাসে দুই হাজারের বেশি। এমনকি অন্য দেশের নাগরিকত্ব নেওয়ার হারও বেড়েছে ইসরায়েলে।

টাইমস অব ইসরায়েলের খবরে বলা হয়েছে, চলমান যুদ্ধের মধ্যে এক-চতুর্থাংশ ইসরায়েলি দেশ ছেড়েছেন বা ছাড়ার জন্য সুযোগ খুঁজছেন। কান্তার ইনসাইটস এবং কান পাবলিক ব্রডকাস্টারের একটি জরিপের বরাত দিয়ে এই খবর জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি।

সংস্থাটির গত সপ্তাহে পরিচালিত জরিপ অনুসারে, অনেকে বলেছেন তারা ইতিমধ্যে চলে গেছেন। জরিপে অংশ নেওয়া ২৩ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন- তারা ইসরায়েল ছেড়ে চলে যাওয়ার কথা ভাবছেন। ৯ শতাংশ ইসরায়েলি বলেছেন- তারা দেশ ছাড়বেন কিনা জানেন না।

মিডল ইস্ট মনিটরের খবরে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রায় ১০ লাখ ইসরায়েলি বিদেশি পাসপোর্ট নিয়েছে। সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরু হলে যেন তড়িঘড়ি নতুন ঠিকানায় চলে যাওয়া যায়, তাই এমন পদক্ষেপ নিয়েছে তারা। এছাড়া চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে বিদেশে ৭০০ কোটি ডলার ট্রান্সফার করেছে ইসরায়েলিরা।

ইসরায়েলি পত্রিকার ভাষায়, এটা ব্রেন ড্রেন অর্থাৎ মেধাবিরা ইসরায়েল ছাড়ছে। কেননা, দেশ ছাড়ার এই তালিকায় ডাক্তার, বিজ্ঞানী, ফার্মাসিস্ট ও প্রযুক্তি খাতের বিশেষজ্ঞরাও রয়েছেন। তারা বিদেশি বিভিন্ন কোম্পানিতে চাকরি ও নিরাপদ জীবনের আশায় ইসরায়েল ছাড়ছেন।

ইসরায়েলের বেন গুরিয়ান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রীরা, ৬ জুন, ২০২২। ছবি : টাইমস অব ইসরায়েল

ফ্যাসিস্ট সরকারের সঙ্গে কাজ করা গণমাধ্যমের বিচার হবে

জুলাই-আগস্ট গণহত্যার পক্ষে যেসব গণমাধ্যম ফ্যাসিস্ট সরকারের সঙ্গে কাজ করেছে, তাদের বিচার করা হবে বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, এ ঘটনায় ইতিমধ্যে কয়েকটি মামলা হয়েছে এবং কয়েকজন গ্রেপ্তারও হয়েছেন। আরও যাদের সম্পৃক্ততা আছে, তদন্ত সাপেক্ষে তাদেরও বিচারের আওতায় আনা হবে। গতকাল সকাল ৯টায় ঢাকা থেকে রংপুরে যাওয়ার পথে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন। এ সময় তাকে নীলফামারী জেলা ও সৈয়দপুর উপজেলা প্রশাসন এবং সৈয়দপুর উপজেলা জামায়াতের পক্ষ থেকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। সৈয়দপুর জেলা বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও পৃথকভাবে উপদেষ্টাকে শুভেচ্ছা জানান। নাহিদ ইসলাম রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে যোগদানের উদ্দেশ্যে ঢাকা থেকে বাংলাদেশ বিমানে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে আসেন। এই সফরে তার সঙ্গে ছিলেন নাগরিক ঐক্য কমিটির সদস্য সচিব আকতার হোসেন।

এ সময় নীলফামারীর জেলা প্রশাসক নায়িরুজ্জামান, সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুর-ই আলম সিদ্দিকী, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আমিনুল ইসলাম, সৈয়দপুর উপজেলা জামায়াতের আমীর হাফেজ মাওলানা আবদুল মুনতাকিম তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।
এরপর সড়কপথে উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান যোগ দিতে যান। অনুষ্ঠানে তিনি প্রধান অতিথি ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তথ্য উপদেষ্টা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শহীদ আবু সাঈদকে গভীরভাবে স্মরণ করে বলেন, ‘আবু সাঈদসহ এই জুলাই বিপ্লবের সব শহীদদের স্মরণ করছি। আবু সাঈদরা যে কারণে শহীদ হয়েছেন, গণঅভ্যুত্থানের যে আকাঙ্ক্ষা তারা ধারণ করেছিলেন, সেই একই আকাঙ্ক্ষা ধারণ করে আমরা বাংলাদেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই।’

নাহিদ ইসলাম বলেন, আমাদের সহযোদ্ধা শহীদ আবু সাঈদ এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন। তিনি লড়াই করতে গিয়ে শহীদ হয়েছেন। তার এই রক্তের বিনিমিয়ে আমরা স্বাধীনতা ভোগ করছি। এই সময়ে প্রতিনিধি হিসেবে আমরা সরকারের কাজ করছি। সম্প্রতি ভারত ধর্ম ও জুলাই বিপ্লব নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে, এ বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেয়া হবে, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমাদের অবশ্যই সত্যটা তুলে ধরতে হবে। যেটা সত্য, যেটা আসলে দেশে ঘটেছে, সেই জিনিসটাই যেন তুলে ধরতে পারি। দেশের মানুষের কাছে প্রচার করতে পারি, এতটুকুই আমাদের জন্য যথেষ্ট হবে। এ বিষয়ে নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, ফেসবুকে নানা গুজব রটানো হচ্ছে, ফেক আইডি খুলে নানা ধরনের মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। ফ্যাসিবাদী শক্তি রাজপথ থেকে পরাজিত হয়ে এখন অনলাইনে তারা তাদের শক্তি প্রদর্শন করছে। আমরা যাতে সচেতন হই, কোনো মিথ্যা তথ্য বা গুজব বিশ্বাস না করি। স্থানীয় সাংবাদিকেরা রংপুর অবহেলিত জেলা কেন, জানতে চাইলে তথ্য উপদেষ্টা  বলেন, আমরা অবশ্যই মনে করি, রংপুর অবহেলিত। বাজেটগুলোতে রংপুরে অল্প পরিমাণ বাজেট দেয়া হয়। তার দ্বিগুণ, তিনগুণ বাজেট দেয়া হয় গোপালগঞ্জে। এই যে বৈষম্য, এই বৈষম্যের বিরুদ্ধেই আমাদের লড়াই ছিল। আমাদের প্রধান উপদেষ্টা যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, আমরা অবশ্যই সে অনুযায়ী কাজ করছি। রংপুরের যে বৈষম্য অবহেলা, তা অবশ্যই আমরা দূর করবো। তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের অন্তর্বর্তী সরকার কোনো নতজানু পররাষ্ট্রনীতিতে বিশ্বাস করে না। বাংলাদেশের যা ন্যায্য প্রাপ্তি, সেই ন্যায্যতা ও সমতার ভিত্তিতে কাজ করা হচ্ছে। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্যাগুলো প্রসঙ্গে বলেন, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শহীদ হয়েছেন, সেখানে সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা অবহেলিত থাকবেন না, তাদের অগ্রাধিকার দেয়া হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. শওকাত আলী, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য মোহাম্মদ তানজীমউদ্দিন খান, শহীদ আবু সাঈদের বাবা মো. মকবুল হোসেন, সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন মোরশেদ হোসেন, প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন মিজানুর রহমান, বিজ্ঞান অনুষদের ডিন কমলেস চন্দ্র রায়, কলা অনুষদের ডিন শফিকুর রহমান, বিজনেস স্টাডিজের ডিন ফেরদৌস রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

mzamin

ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে আমরা সবাই বাংলাদেশি -তারেক রহমান

বাংলাদেশে ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে আমরা সবাই বাংলাদেশি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। গতকাল শারদীয় দুর্গাপূজা ও বিজয়া দশমী উপলক্ষে এক বাণীতে তিনি এ মন্তব্য করেন।

বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি-হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান নির্বিশেষে বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের সমঅধিকার ও সুরক্ষার সমান সুযোগের অলঙ্ঘনীয় বিধান থাকতে হবে। আমাদের দেশ একটি ঐক্যবদ্ধ জাতি হিসেবে জনগোষ্ঠীর সকল সম্প্রদায়কে অন্তর্ভুক্ত করে। আমরা সবাই মিলে এমন একটি যৌথ সম্প্রদায় গঠন করি, যেখানে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রত্যেকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়। আমি এই আনন্দময় দুর্গাপূজার উৎসবে সংশ্লিষ্ট সকলকে উষ্ণ শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। এই উৎসব প্রতিটি গৃহে সমৃদ্ধি, সম্প্রীতি ও শান্তিতে ভরে তুলে এবং সকল সম্প্রদায়ের মধ্যে পারস্পরিক শুভেচ্ছা ও সংহতি প্রসারিত করুক। আমি এবারের শারদীয় দুর্গোৎসবের সর্বাঙ্গীন সাফল্য কামনা করি।

তারেক রহমান বলেন, উৎসব যে ধর্মেরই হোক, উৎসবের প্রাঙ্গণ সব মানুষের জন্য উন্মুক্ত। উৎসবের প্রাঙ্গণের দরজা কখনোই বন্ধ থাকে না। যেকোনো ধর্মীয় উৎসবই মানুষে মানুষে নিবিড় বন্ধন রচনা করে, সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ জাগরিত হয়। সকল ধর্মের মর্মবাণী দেশপ্রেম, শান্তি ও মানব কল্যাণ। এক বর্বর হিংসাযুদ্ধের বিপরীতে সমাজে শান্তি ও সাম্য প্রতিষ্ঠায় ব্রতী হওয়া আমাদের সকলের কর্তব্য।

তিনি বলেন, দুর্গাপূজার অন্তর্নিহিত বাণীই হচ্ছে-হিংসা, লোভ ও ক্রোধরূপী অসুরকে বিনাশ করে সমাজে স্বর্গীয় শান্তি প্রতিষ্ঠা করা, যেখানে মানবিক সাম্য ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে। উৎপীড়ন ও প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার মধ্যদিয়ে যারা সমাজকে, মানব সভ্যতাকে ধ্বংস করতে চায়, প্রতিষ্ঠিত করতে চায় কুশাসন তাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে মানবকল্যাণ প্রতিষ্ঠাই এই উপাসনার অন্তর্নিহিত তাগিদ। সেই বাণীকে আত্মস্থ করেই দুর্গাপূজার উৎসবের আনন্দকে সকলে মিলে ভাগ করে নিতে হবে। উৎসবের পরিসর সংকীর্ণ নয়, বরং এটি উন্মুক্ত ও সর্বজনীন।

হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা ও বিজয়া দশমী উপলক্ষে হিন্দু ধর্মাবলম্বী সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে তাদের সুখ শান্তি ও কল্যাণ কামনা করেন তারেক রহমান।

অপর এক বাণীতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, শারদীয় দুর্গাপূজা বাংলা ভাষাভাষীর হিন্দু জনগোষ্ঠীর সকল মানুষের জীবনে একটা বিশেষ স্থান অধিকার করে আছে। সুদীর্ঘকাল ধরেই এই উপমহাদেশে এই ধর্মীয় উৎসবটি এক সমৃদ্ধশালী ঐতিহ্য ধারণ করে আছে। যেকোনো ধর্মীয় উৎসবই সাম্প্রদায়িক বিভেদ-বিভাজনকে অতিক্রম করে উৎসবের পরিসরে সবাইকে নিয়ে আমাদের যে সমাবেশ তা আবহমান সৌহার্দের শাশ্ব্ব্বত চিত্র। শারদীয় দুর্গাপূজার উৎসব সকলের মধ্যে নিয়ে আসে স্বর্গীয় আনন্দ ও শুভেচ্ছার বার্তা। উৎসব সব মানুষের মিলনই শুধু সম্পন্ন করে না, পরোক্ষে নানা সম্প্রদায়কে সংযুক্ত করে নানাভাবে। যেকোনো ধর্মীয় উৎসব জাতি-রাষ্ট্রে সর্বমানুষের মিলন ক্ষেত্র। বিএনপি আবহমানকালের বৈশ্বিক চেতনা ও ঐতিহ্যের ধারায় ধর্মীয় স্বাধীনতা ও মূল্যবোধে বিশ্বাস করে।

মির্জা ফখরুল বলেন, সম্প্রতি আওয়ামী পতিত সরকারের আমলে সাম্প্রদায়িক উস্কানি, বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়সহ হিন্দুু সম্প্রদায়ের দেবালয়ে আক্রমণ ও ভাঙচুর হয়েছে বারবার। বর্তমানে অশুভ চক্রের আক্রমণ ঠেকাতে হিন্দু সম্প্রদায় ও মন্দিরকে ঘিরে অশুভ চক্রের চক্রান্ত ঠেকাতে দেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে পাহারা দিচ্ছে। যাতে শান্তি ও সহাবস্থানের মধ্যদিয়ে শারদীয় দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হতে পারে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টকারীরা দেশ ও মানবতার শত্রু। তাদের প্রতিহত করতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি অঙ্গীকারাবদ্ধ।

mzamin


সিলেট ছাত্রলীগ: নাজমুলের মুখে যে সমালোচনা

আত্মগোপনে সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নাজমুল ইসলাম। ৫ই আগস্টের পর থেকে তার দেখা মিলছে না। প্রথমদিকে নিজেকে জানান দিতে কিছুটা নিশ্চুপ থাকলেও এখন ভার্চ্যুয়াল মাধ্যমে সরব তিনি। করছেন নিজের দলের সমালোচনাও। কখনো কখনো করছেন আক্ষেপও। সম্প্রতি তিনি সিলেট জেলা ও নগর ছাত্রলীগের কমিটি পুর্ণাঙ্গ না হওয়ার প্রসঙ্গ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্ট্যাটাস দিয়েছেন। তিন বছর পাড় করলো সিলেট জেলা ও নগর ছাত্রলীগ। এর মধ্যে দু’মাস হলো দেশান্তরি নেতারা। এর আগে মাঠে সক্রিয় ছিলেন নেতারা। এই দু’মাসে মাঠে থাকা দূরের কথা, কেউ প্রকাশ্যে আসতে পারেননি। শুধু ছাত্রলীগ নয়, আওয়ামী পরিবারের সবাই আত্মগোপনে। আড়ালে থাকা নাজমুল সম্প্রতি স্ট্যাটাসে সিলেট জেলা ছাত্রলীগ পূর্ণাঙ্গ না হওয়া নিয়ে নিজের ব্যর্থতার কথা তুলে ধরেছেন। তবে; এতে তিনি ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ও সিলেট আওয়ামী লীগের নেতাদের ওপর ক্ষোভ ঝেরেছেন। বলেছেন, ‘দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে আক্ষেপ একটাই. তা হলো পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন করতে না পারা। তবে আমি আমার বিবেকের কাছে সবসময় পরিষ্কার। কেন না এই ৩ বছরে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে সর্বমোট চারবার পূর্ণাঙ্গ কমিটি জমা দিয়েছি। চেষ্টা তদবির হাতে ধরা পায়ে ধরা মালিশ করা মলম দেয়া এমন কিছু বাদ রাখি নাই কমিটি পূর্ণাঙ্গ করার জন। দিনের পর দিন ঢাকা থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন করাতে না পারার এই আক্ষেপ সবসময় থাকবে।’ কেন অনুমোদন হয়নি, কারা বাধা দিলেন, সমস্যা কি ছিল নিজেই এ প্রশ্ন ছুড়ে নাজমুল বলেন- ‘উত্তর একটাই দলের এখন দুর্দিন, দুঃসময়ে এইসব বলে সংগঠনের অভ্যন্তরে আর বিভক্তি তৈরি করতে চাই না। তবে মোটা দাগে যদি দায় দিতে হয় তবে অবশ্যই কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদককে দিতে হবে। তাদের খামখেয়ালি, তাদের অবহেলা, স্বেচ্ছাচারিতা আর জবাবদিহিতা না থাকার কারণে শুধু সিলেট জেলা ও মহানগর নয় বরং বাংলাদেশ ছাত্রলীগের প্রায় সকল সুপার ইউনিট একধরনের স্থবির হয়ে গিয়েছিল। আর স্থানীয় পর্যায়ে এটি দিবালোকের মতো স্পষ্ট আওয়ামী লীগের সঙ্গে আমাদের দূরত্ব ছিল। আমরা তাদের বলয়ের বাইরে ছিলাম এবং সেই কারণে সিলেটের আওয়ামী লীগের অনেকেই চাননি জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগ পূর্ণাঙ্গ হোক। কেন না আমাদের কমিটি পূর্ণাঙ্গ হয়ে গেলে সফলদের কাতারে আমাদের নাম অগ্রভাগে চলে আসবে এটা অনেকেই মেনে নিতে পারেননি বা মেনে নেয়া সম্ভব ছিল না।’ সম্প্রতি আরেকটি স্ট্যাটাসে তিনি নিজেদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে দলের ক্ষতি হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। নাজমুল তার স্টাটাসে লিখেছেন, ‘আওয়ামী লীগের সবচেয়ে বড় শত্রু আওয়ামী লীগ নিজে। বিএনপি জামায়াত যতটুকু ক্ষতি আমাদের করেছে তার চেয়ে যোজন যোজন গুণ ক্ষতি আমরা করেছি শুধুমাত্র নিজেদের অভ্যন্তরীণ কোন্দল আর একে অপরের প্রতি হিংসার কারণে। সেই ধারাবাহিকতা সেই কোন্দল সেই হিংসার রাজনীতি এখনো বিদ্যমান, যার কারণে আমাদের ঘুরে দাঁড়াতে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি সময় লাগবে।’ ওই স্টাটাসে তিনি উল্লেখ করেন- ‘দল ক্ষমতায় থাকতে আমাদের কেউ ভালো অবস্থানে চলে যাচ্ছে তাকে কীভাবে আটকাতে হবে সেই নিয়ে থাকতো আমাদের ব্যস্ততা। কেউ আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হয়ে যাচ্ছে তাকে আটকাতে হবে। কেউ বেশি জনপ্রিয় হয়ে গেছে তাকে ধ্বংস করতে হবে। কারও কর্মী বেশি একে সন্ত্রাসী বানাতে হবে। কেউ সাহসী তারে মামলা দিয়ে পর্যুদস্ত করতে হবে। কেউ নেতার অবাধ্য হয়েছে প্রয়োজনে তাকে অস্ত্র মাদক দিয়ে ফাঁসিয়ে হলেও নিজেদের ক্ষমতা জাহির করতে হবে। আর এগুলো করতে করতে দলের মূলধারার নেতাকর্মীদের কোনঠাসা করে ফেলা হয়েছিল।’ তিনি উল্লেখ করেন, ৫ই আগস্টের পর থেকে শুরু হয়েছে আওয়ামী লীগ নিধন। দলের এই কঠিনতম সময়েও এসে দেখতে পাচ্ছি- এক শ্রেণির আঙ্গুলবাজ তথাকথিত সুশীল মার্কা কিছু লোক, যারা নিজেদেরকে শেখ হাসিনার চেয়েও বড় আওয়ামী লীগার মনে করে এরা দলের কেন্দ্র থেকে তৃণমূল সবাইকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কুৎসা রটাচ্ছে। এদের কারণে বর্তমানে আওয়ামী লীগের কোনো নেতা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পর্যন্ত নিজেদের মতামত ব্যক্ত করতে দ্বিধা করছেন। আমি তাদেরকে বলবো, দলের ভিতর আঙ্গুলবাজী বন্ধ করেন। দলের সুসময়ে যা করেছেন এখন এই দুঃসময়ে উস্কানি দেয়া নেতাদের বিরুদ্ধে প্রোপাগান্ডা ছড়ানো বন্ধ করুন। তোমাদের এইসব উস্কানির কারণে দলের লাভের চেয়ে ক্ষতি বেশি হচ্ছে।
mzamin

দুদকে অভিযোগের পাহাড় by মারুফ কিবরিয়া

সাবেক এক সংসদ সদস্যের সম্পদের অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এক মাস আগে শুরু হওয়া অনুসন্ধান কার্যক্রমে খুব বেশি এগুতে পারেনি সংস্থাটি। কারণ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কাছে পর্যাপ্ত তথ্য নেই। শুধুমাত্র জাতীয় নির্বাচনের হলফনামাই তার সম্বল। এ ছাড়া ব্যাংক, সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়গুলোতে তথ্য চেয়ে চিঠি দিয়েছেন ওই কর্মকর্তা। এতেও কূল কিনারা হয়নি। গত জুন মাসে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের আলোচিত সাবেক কর্মকর্তা মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। চার মাস পার হয়ে গেলেও তা শেষ হয়নি এবং সংস্থাটি মামলাও করেনি।

এদিকে গত ৫ই আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পরপর অসংখ্য অভিযোগ জমা পড়তে শুরু করে দুদকে। সংস্থাটির অভিযোগ কেন্দ্র, হটলাইন ও ব্যক্তিগতভাবে চেয়ারম্যানের দপ্তরসহ প্রতিদিন শতাধিক অভিযোগ আসছে। একইসঙ্গে দুদকও এসব আমলে নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করেছে।

দুদকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত ৫ই আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর প্রথম ধাপে ৭০ সাবেক মন্ত্রী ও এমপির বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয়। প্রতিদিনই যোগ হচ্ছে নতুন ফাইল। এরই মধ্যে সে সংখ্যা একশ’র বেশি হয়েছে। এ ছাড়া আরও দুই শতাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

এ ছাড়া ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের আগে থেকেই প্রায় তিন হাজার অভিযোগ অনুসন্ধান চলমান ছিল। সেগুলোও চলছিল ধীরগতিতে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, অভিযুক্তদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য সঠিক সময়ে না আসা এবং বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানো চিঠির জবাব না পাওয়ায় অনুসন্ধানগুলো শেষ করা যায়নি।  

এদিকে তদন্ত শেষ হওয়া মামলাগুলোও জট লেগে আছে আদালতে। সূত্র বলছে, দুদকের দায়ের করা চলতি বছরের জুন পর্যন্ত ঢাকা ও ঢাকার বাইরে নিম্ন আদালতে ৩ হাজার ৩৭৪টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এর মধ্যে ২ হাজার ৯৪৪টির বিচার কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং হাইকোর্টের আদেশে ৪৩০টি মামলা বিচার কাজ স্থগিত রয়েছে। এ ছাড়া উচ্চ আদালতে ৭৪৬টি রিট, ৯১৪টি ফৌজদারি বিবিধ মামলা, ১ হাজার ২৪৫টি ক্রিমিনাল আপিল ও ৭০৭টি ফৌজদারি রিভিশন মামলা নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে।

এসব অভিযোগ অনুসন্ধানের গন্তব্য নিয়ে উঠেছে নানা প্রশ্ন। দুদকের কার্যক্রমের মধ্যে প্রাথমিক যাচাই-বাছাই, অনুসন্ধান, মামলা ও তদন্ত একটা দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মধ্যে যেতে হয়। সংস্থাটির কর্মকর্তারা জানান, এই প্রক্রিয়ায় যেতে হলে সঠিক সময়ে শেষ করা দুষ্কর হয়ে পড়ে। অনেক ক্ষেত্রে কর্মকর্তাদের আন্তরিকতা থাকলেও কমিশনের উচ্চ পদস্থদের ঢিলেঢালা মনোভাবে অনুসন্ধানের ফাইল স্তূপে পরিণত হয়। ফলে শঙ্কায় পড়ে যায় পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কমিশনের আন্তরিকতার অভাব থাকলে চলমান অনুসন্ধান সঠিক সময়ে শেষ করা সম্ভব নয়। আবার কর্মকর্তাদের দক্ষতা এবং জনবল নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কেউ কেউ। তাদের দাবি, দুদকের বর্তমান চেয়ারম্যান কমিশনারসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা অনেক ক্ষেত্রে অনুসন্ধান ও তদন্তে হস্তক্ষেপ করার যেকোনো ফাইলের গন্তব্য অনিশ্চয়তায় পড়ে যায়।

এ বিষয়ে দুদকের সাবেক মহাপরিচালক (প্রসিকিউশন) মো. মঈদুল ইসলাম মানবজমিনকে বলেন, কমিশন আন্তরিক হলেই সঠিক সময়ে সব অনুসন্ধান শেষ করতে পারে। কিন্তু আন্তরিক না হলে অনুসন্ধান-তদন্ত কোনোটাই সময়মতো শেষ করতে পারবে না। এক-এগারোর আমলের মামলা এখনো তদন্তাধীন উল্লেখ করে তিনি বলেন, অভ্যন্তরীণ জটিলতা ও নিজস্ব প্রসিকিউশন না থাকায় ১৬-১৭ বছর আগের মামলা এখনো ঝুলে আছে।

দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া শেষ করতে কী করণীয় জানতে চাইলে মঈদুল ইসলাম বলেন, যে বিশেষ জজ আদালতে দুদকের মামলা কার্যক্রম পরিচালিত হয় তাতে সারা বছর দুদকের মামলা থাকে না। বেশির ভাগ সময়ই খুনের মামলা এই মামলা ওই মামলা থাকে। ফলে বিচার বিভাগে দুদকের জন্য আলাদা একটি আদালত থাকার সুপারিশ করছি আমি। একইভাবে  উচ্চ আদালতেও আলাদা আপিল আদালত থাকার সুপারিশ করছি। বিশেষ করে দুদকের মামলা দুদকের আদালতেই হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেটা না থাকায় বছরে ৯ শতাংশ মামলাও নিষ্পত্তি করতে পারে না।  

নেই স্থায়ী প্রসিকিউশন: আগামী মাসেই একুশ বছরে পা রাখতে যাচ্ছে দুদক। কিন্তু এখনো আদালতে মামলা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নেই নিজস্ব প্রসিকিউটর। তবে লিগ্যাল অ্যান্ড প্রসিকিউশন উইং রয়েছে। অস্থায়ীভাবে নিয়োগ দেয়া প্রসিকিউটর দিয়েই বিচার কাজ পরিচালনা করা হয়। দুদক আইনে প্রয়োজনীয় সংখ্যক প্রসিকিউটরের সমন্বয়ে কমিশনের নিজস্ব একটি স্থায়ী প্রসিকিউশন ইউনিট থাকার কথা বলা হলেও এখনো বিধিই তৈরি করতে পারেনি দুদক। আইনের ৩৩ ধারায় বলা আছে, কমিশনের তদন্ত কাজের জন্য বিশেষ জজ আদালতে বিচারযোগ্য মামলা পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক প্রসিকিউটরের সমন্বয়ে কমিশনের নিজস্ব একটি স্থায়ী প্রসিকিউশন ইউনিট থাকবে। ওই প্রসিকিউশনের নিয়োগ ও চাকরি বিধি দ্বারা নির্ধারিত হবে। এই ধারায় নিয়োগ পাওয়া প্রসিকিউটররা পাবলিক প্রসিকিউটর হিসেবে গণ্য হবেন। অথচ কমিশন গঠনের ১৯ বছর পার হলেও দুদকের নিজস্ব আইনজীবী প্যানেল গঠন করা হয়নি। সরকারি দলের আইনজীবীদের দিয়ে মামলা পরিচালনা করা হচ্ছে। সরকার দুদককে সব ধরনের ক্ষমতা দিয়েছে, কিন্তু কমিশন এ-সংক্রান্ত একটি বিধিই প্রস্তুত করতে পারেনি।

এ বিষয়ে সাবেক মহাপরিচালক মঈদুল ইসলাম বলেন, স্থায়ী প্রসিকিউশন থাকার বিষয়ে আইনেই রয়েছে। কিন্তু দুদক এত বছরেও সেটি করেনি। যেসব আইনজীবী দিয়ে দুদকের মামলা চালানো হয় তারা দুদক ছাড়াও নিজেদের মামলা নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। ফলে এখানে সমন্বয়ের একটি ঘাটতি রয়েই গেছে। তাই স্থায়ী প্রসিকিউশন হওয়াটা এখন সময়ের দাবি।

সার্বিক বিষয়ে দুদক সংস্কার কমিশনের প্রধান ও ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান মানবজমিনকে বলেন, দুদকের বর্তমান যে কমিশন দায়িত্বে রয়েছে সেটা পরিবর্তনের এখতিয়ার সংস্কার কমিশনের নেই। তবে আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি এই মুহূর্তে দুদককে ঢেলে সাজানো প্রয়োজন।

অনুসন্ধান-তদন্তের আইন বিধি নিয়ে তিনি বলেন, আমরা সংস্কার কমিশন ইতিমধ্যে এ বিষয়ে নিয়ে আলোচনা করেছি। অনুসন্ধান ও তদন্তের যে প্রক্রিয়া আইন এবং বিধি ধারা নির্ধারণ করা হয়েছে সেটা কি দুর্নীতিকে সুরক্ষা দেয়া নাকি প্রতিকার করা- বিষয়টি খতিয়ে দেখা দরকার। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যে ধরনের প্রক্রিয়া রয়েছে তার আলোকে করা যায় কিনা সেটাও অনুসন্ধান করে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন ইফতেখারুজ্জামান।

mzamin

প্রতিমা বিসর্জনে শেষ হচ্ছে দুর্গাপূজা: ঢাকেশ্বরী মন্দির পরিদর্শন প্রধান উপদেষ্টার

হিন্দু শাস্ত্রমতে, এবার দেবীদুর্গা মর্ত্যে এসেছিলেন পালকিতে চড়ে। আর ঘোড়ায় চড়ে কৈলাশে ফিরবেন। তিথি স্বল্পতার কারণে এবারের দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা তিনদিনেই শেষ হয়েছে। একইদিনে অষ্টমী ও নবমীর পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বিধিমতে, মন্ত্রপাঠ করে দেবীকে ঢাকঢোল, শঙ্খ বাজিয়ে গানের তালে তালে বিদায় জানানো হয়েছে। দেশের অনেক জায়গায় গতকালই প্রতিমা বিসর্জন  করা হয়েছে। তবে বেশির ভাগ স্থানে আজ সনাতন ধর্মাবলম্বীরা ভারাক্রান্ত মনে সিদুঁর খেলার মধ্যদিয়ে প্রতিমা বিসর্জন করবে। গতকাল থেকেই মন্দিরে মন্দিরে বিদায়ী সুর বাজছিল।

বেলতলায় ষষ্ঠী পূজার মধ্যদিয়ে শুরু হয় পাঁচ দিনব্যাপী শারদীয় দুর্গোৎসব। মণ্ডপে মণ্ডপে সপ্তমী, অষ্টমী, নবমী ও দশমী পূজার মধ্যদিয়ে শেষ হলো আনুষ্ঠানিকতা। সনাতনী ধর্মাবলম্বীরা মনে করেন পালকি বা দোলায় দেবীর আগমন বা গমন হলে এর ফল হয় মড়ক। খাদ্যশস্যে পোকা-মাকড়ের আক্রমণ হবে ও রোগব্যাধি বাড়বে। এ ছাড়া দেবী স্বর্গে গমন করেন ঘোটকে বা ঘোড়ায়। শাস্ত্রমতে দেবীর গমন বা আগমন ঘোটকে হলে ফলাফল হয় ছত্রভঙ্গ। এটা সামাজিক ও রাজনৈতিক এলোমেলো অবস্থাকে ইঙ্গিত করে। পঞ্জিকা মতে, এবার মহানবমী পূজার পরই দশমী বিহিত পূজা হয়। গতকাল সকালে  শুরু হয় বিজয়া দশমীর পূজা। মণ্ডপগুলোতে আড়ম্বর অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে শুরু হয় পূজা-অর্চনা। শারদীয় দুর্গোৎসবের মহানবমী তিথিতে বিহিত পূজা এবং দর্পণ বিসর্জনের মাধ্যমে মণ্ডপে মণ্ডপে দেবীদুর্গার আরাধনা করেছেন হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা।

গতকাল রাজধানীর পূজামণ্ডপগুলোতে দেখা যায়, প্রতিটি মণ্ডপেই দুর্গাপূজার শেষ সময়ের প্রস্তুতি শেষ করা হচ্ছে। মন্ত্রপাঠে আনন্দময়ীকে অঞ্জলি দিচ্ছেন ভক্তরা। এবার তিথির কারণে মহানবমী পূজার পরই দশমীর বিহিত পূজা এবং বিসর্জন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শ্রী শ্রী বরদেশ্বরী কালীমাতা মন্দিরের আহ্বায়ক বাবু পবন দাস বলেন, এবার একদিনেই নবমী-দশমী পালিত হয়েছে। রোববার প্রতিমা বিসর্জন হবে। এ বছর কিছুটা ভীতি থাকলেও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। জমকালোভাবেই পালিত হয়েছে দুর্গোৎসব। পরিতোষ নামের এক ভক্ত বলেন, এবার পূজা ঘিরে আমাদের মধ্যে শঙ্কা ছিল। তবে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই পূজা হয়েছে।
শাস্ত্রমতে, নবমীতেই দেবীদুর্গা রুদ্ররূপ ধারণ করে বধ করেছিলেন মহিষাসুরকে। নবমীর সকাল তাই অশুভ শক্তি থেকে মুক্তির সকাল। ১০৮টি বেলপাতা, আম কাঠ, ঘি দিয়ে যজ্ঞের মাধ্যমে দেবীদুর্গার কাছে দেয়া হয় আহুতি। ৮টা ২৬ মিনিটে শুরু হয় দশমী পূজা। দর্পণ বিসর্জনের মধ্যদিয়ে ভক্তদের কাঁদিয়ে একদিন আগেই দেবী দুর্গার প্রস্থান। সপ্তমী থেকে নবমী, চার সন্তান নিয়ে অন্নপূর্ণা এবার পৃথিবীতে থাকলেন কেবল তিনদিন। দেবীর বিদায়ে নবমীর আনন্দের সঙ্গে যুক্ত হলো বিষাদের সুর। শেষবেলায় তাই দেবীর কাছে সুখ-শান্তি এবং সমৃদ্ধির প্রার্থনা করেন ভক্তরা।

সারা দেশে মন্দির ছাড়াও বিভিন্ন মাঠে হয়েছে দুর্গাপূজা। পূজামণ্ডপ ঘিরে ছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা। সরজমিন দেখা যায়, বৌদ্ধ মন্দির সংলগ্ন সালাম ডেইরি বালুর মাঠেও মণ্ডপ সাজানো হয়। নিরাপত্তায় ছিলেন সেনাবাহিনীর সদস্যরা। সনাতন ধম্বাবলম্বীর মানুষ তাদের ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী পূজা-অর্চনা করেছেন। সনাতন ছাত্র ও সমাজকল্যাণ সংঘের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সৌরভ দাস বলেন, এবার কিছুটা ভীতি ছিল আমাদের মনে। যদিও এখানে কোনো অপ্রীতিকর কিছু হয়নি। পুরান ঢাকার একটি মণ্ডপের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় কিছুটা ভয় কাজ করেছে। তবে সুন্দরভাবে আমরা আমাদের পূজার আনুষ্ঠানিতা সম্পন্ন করতে পেরেছি।

ঢাকেশ্বরী মন্দির পরিদর্শন প্রধান উপদেষ্টার

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, আমরা এমন সমাজ চাই না যেখানে সেনাবাহিনী, পুলিশ দিয়ে উৎসব পালন করতে হবে। এ সরকার এমন বাংলাদেশে গঠন করতে চায় যেখানে সব সমপ্রদায় এবং নাগরিকের সমান অধিকার থাকবে। শনিবার রাজধানীর ঢাকেশ্বরী মন্দিরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির পরিদর্শন করেন এবং সেখানে হিন্দু সমপ্রদায়ের সদস্যদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

তিনি বলেন, আমরা বাধ্য হয়ে সেনাবাহিনী, পুলিশ, র‌্যাব-এর সাহায্য নিয়ে দুর্গাপূজা করেছি। তাদের সহায়তার জন্য ধন্যবাদ জানাই। আমরা এমন একটি রাষ্ট্র গঠন করতে পারি খুব শিগগিরই, যেখানে তারাও ছুটি উপভোগ করবে, আমরাও ছুটি উপভোগ করবো। তাদের (আইনশৃঙ্খলা বাহিনী) ছুটি বিসর্জন দিয়ে আমাদের আনন্দ করতে হবে না। এ ‘অপরাধবোধ’ থেকে আমরা মুক্ত হয়ে যাবো। দেশের নাগরিক হিসেবে উৎসব পালন করবো।

এ রকম রাষ্ট্র আমরা গঠন করবো। আমরা সেই স্বপ্নের রাষ্ট্র গঠন করতে পারি, যেটা দিয়ে দেশের মানুষ দুনিয়ার সামনে গর্ব করতে পারে।
প্রধান উপদেষ্টা জাতীয় মন্দিরে পৌঁছলে তাকে পূজা উৎসব পরিষদের পক্ষ থেকে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেয়া হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর সর্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি জয়ন্ত কুমার দেব, সাধারণ সম্পাদক তাপস চন্দ্র পাল, বাংলাদেশ পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর ও সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মা। ধর্ম উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেনও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

শুভেচ্ছা বক্তব্যে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এই যে আমরা আপনাদের শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে আপনাদের পূজা উৎসবের সুযোগ করে দিলাম। এটা যেন ভবিষ্যতে আর কখনো করতে না হয়, সে জন্য আমরা একযোগে কাজ করবো। আমরা এমন এক বাংলাদেশ তৈরি করতে চাই, যে বাংলাদেশে যারা এই দেশের নাগরিক তাদের ‘সকলেরই সমান অধিকার’, এটা যেন আমরা নিশ্চিত করি।

শুধু কিতাবে লিখে দিলে হবে না- মন্তব্য করে তিনি বলেন, এরপর কাটাকাটি মারামারি এগুলো করলাম, অধিকার কেড়ে নিয়ে বাহবা পেলাম, এ রকম বাংলাদেশ আমরা চাই না। এ রকম সমাজ চায় না বলেই ছাত্র-জনতা তাদের জীবন দিয়েছে। নতুন বাংলাদেশ সৃষ্টি করার স্বপ্ন নিয়ে এ যাত্রা শুরু করেছি। আমরা এ স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করতে চাই। এটা শুধু কথার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চাই না।

রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কারের বিষয়ে তিনি বলেন, নতুন বাংলাদেশে আমাদের কী কী নতুন দরকার, তা বের করে আনতে হবে, সেটি প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। আমরা কতোগুলো কমিশন বানিয়ে দিয়েছি। তারা তো দেশ পাল্টিয়ে ফেলতে পারবে না। তাদের সেই সাধ্য তো নেই। কমিশন করেছি এই জন্য যে, তারা আমাদের স্বপ্নগুলোকে একত্র করবে। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের কারণে মহাস্বপ্নে আমরা চলে এসেছি, এ স্বপ্নের একটা রূপরেখা থাকবে। আমরা বলছি সংবিধান সংশোধন করবো, নির্বাচন কমিশন ও নির্বাচন প্রথা সংশোধন করবো, অনেক কিছু।

সংস্কার কমিশন তিন মাসের মধ্যে প্রতিটি বিষয়ে রূপরেখা দেবে জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, যেগুলো আপনারা চান সেগুলো বাস্তবায়ন করার নামই হলো সংস্কার। দেশকে ‘পাল্টে ফেলার’ সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, এটা যেন আমাদের হাতছাড়া না হয়ে যায়। কারণ, একবার হাতছাড়া হয়ে গেলে এটা আর কোনো দিন ফিরে আসবে না।

অপূর্ব এক সুযোগ ছাত্র-জনতা আমাদের হাতে দিয়েছে। আমাদের হাতে আলাদিনের প্রদীপ দিয়ে দিয়েছে, আমরা যা চাই, তাই করতে পারি। স্বপ্নগুলোকে একত্র করেন। ছোটখাটো বিষয়ের মধ্যে থাইকেন না। বড় বিষয়ের দিকে আসেন। কাঠামো তৈরি করে দিলে, তারপরে কে কী পেলো বা পেলো না, সে হিসাবই নেই, পাবো বলেই তো সবকিছু করছি।

অতীতে অত্যাচারিত হওয়ার অভিযোগ এনে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, অভ্যুত্থানের মাধ্যমে এমন একটা সমাজ থেকে আমরা বেরিয়ে আসছি, যেখানে সমস্ত অধিকার ছিল ছোট্ট একটি গোষ্ঠীর কাছে, বাকি মানুষের কোনো অধিকার ছিল না। আমরা সব অধিকার বঞ্চিত ছিলাম।

এই অভ্যুত্থান হঠাৎ করে সেটা পাল্টে ফেললো। যারা মানুষের সমস্ত অধিকার কেড়ে নিয়েছিল তাদের থেকে দেশকে মুক্ত করেছিল ছাত্র-জনতা। এখন এ অধিকার আমাদের সবার কাছে আসতে হবে।

রাষ্ট্র যদি কারও অধিকার নিশ্চিত করতে পারে তা হলে সেই রাষ্ট্রের কী দরকার- এই প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, রাষ্ট্রের দায়িত্ব হচ্ছে প্রত্যেকের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা। যে অধিকার কেড়ে নেবে, তাকে যেন সঙ্গে সঙ্গে শাস্তি দেয়া হয়। এটিই স্বপ্ন।

mzamin