Friday, November 23, 2018

গ্রামে থাকার একমাত্র শর্ত...

এই গ্রামের বাসিন্দাদের আর্থিক অবস্থা বেশ স্বচ্ছল। গ্রামবাসীরা বেশ শৌখিনও। চোখে দামি সানগ্লাস, গলায় সোনার চেন, আংটি, বড় বড় পানশালা, শিশুদের জন্য রয়েছে বিনোদন কেন্দ্র, পার্ক কী নেই এই গ্রামে।
সব থেকেও এই গ্রামে যে জিনিসটা নেই। তা হলো, গ্রামবাসীদের গায়ে কোনও জামা-কাপড়। না, আন্দামানের জাড়োয়া বা দক্ষিণ আমেরিকা কাওয়াহিবা আদিবাসীদের কথা বলছি না। এই গ্রামের বাসিন্দারা জাতে ব্রিটিশ। ব্রিটেনের হার্টফোর্ডশায়ারের এই গ্রামটির নাম স্পিলপ্লাজ।
শোনা যায়, ১৯২৯ সালে লন্ডন ছেড়ে চার্লস ম্যাকস্কি এবং তার স্ত্রী ডোরথি এই গ্রামে বসতি স্থাপন করেন। এই অঞ্চলে জমি কিনে প্রথমে তাবু তৈরি করে বসবাস শুরু করেন দুজনে।
এলাকাটির নাম দেন ‘স্পিলপ্লাজ’ বা খেলার জায়গা। সপ্তাহান্তে ম্যাকস্কি আর ডোরথির পরিচিতরা তাঁদের সঙ্গে দেখা করতে আসতেন। এই ভাবে ধীরে ধীরে ম্যাকস্কি আর ডোরথির অতিথিদের কেউ কেউ এখানে বসবাস শুরু করেন। ১২ একর জমিতে গড়ে ওঠা এই গ্রামে বর্তমানে মোট ৫৫টি বাড়ি রয়েছে।
গ্রামে বিদ্যুত সংযোগ রয়েছে। গৃস্থলির প্রয়োজনীয় যাবতীয় আধুনিক সরঞ্জাম রয়েছে গ্রামবাসীদের কাছে। এমন কী আধুনিক, ফ্যাশনেবল জামা-কাপড়ও রয়েছে তাঁদের কাছে। গ্রামের বাইরে গেলে জামা-কাপড় পরেই যান তাঁরা। তবে গ্রামে থাকার সময় নগ্নতাই তাঁদের পছন্দ। স্পিলপ্লাজ গ্রামের বাসিন্দারা এই গ্রামটিকে ব্রিটেনের সবচেয়ে পুরনো নগ্নতাবাদী অঞ্চল বলে দাবি করেন। বাসিন্দাদের এই নগ্নতাবাদকে সমর্থন না করতে পারলে, এখানে এক চিলতেও জমি জায়গা কেনা যাবে না। তবে স্পিলপ্লাজের বাসিন্দাদের নগ্নতাবাদকে মেনে নিতে পারলে সেখানে জলের দরে জমি পেয়ে যেতে পারেন যে কেউ।
সূত্র- জিনিউজ

গণতন্ত্রের জন্য এখনো লড়াই করা যায় -জেল অভিজ্ঞতার বর্ণনায় শহিদুল

সদ্য কারামুক্ত ড. শহিদুল আলম এক প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, ঐক্যবদ্ধভাবে আমরা দুর্দান্ত এক শক্তি, গণতন্ত্রের জন্য এখনও লড়াই করা যায়। কারামুক্তির পর এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি বলেন, কখনো ভাবিনি ঢাকার জ্যাম, কুয়াশা ও লাগাতার গাড়ির হর্ন এত আকর্ষণীয় হতে পারে। কখনো উপলব্ধি করিনি একটি দুর্দান্ত ও চমৎকার আইনি দল এবং বাংলাদেশ তথা সমগ্র বিশ্বের অসাধারণ কিছু জেদি, উদ্ভাবনী ও স্বাধীনতাপ্রেমী মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টা এত শক্তিশালী হতে পারে।
স্বাধীনতা শব্দটির অর্থ কখনোই এতটা উপলব্ধি করিনি। আজ আমি মুক্ত। কিন্তু কেরানীগঞ্জ জেলে বন্দি আমার বন্ধুদের গল্প এখনো হৃদয়ে গেঁথে আছে। যে চড়ুইপাখিটি আমার সঙ্গে বন্ধুত্ব করেছিল তাকে মনে পড়ছে। আপনাদের ভালোবাসায় আমি সিক্ত হয়েছি।
কেরানীগঞ্জ কারাগার আমাকে বুঝতে শিখিয়েছে, কারা আমার প্রকৃত বন্ধু। কঠিন এই ১০৭ দিনে যারা আমার পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাদের আমি বন্ধুত্বের আলিঙ্গন ও স্যালুট জানাই।
এখনো একটি ন্যায্য ও শান্তিপূর্ণ পৃথিবী গড়া সম্ভব। এদিকে মানবজমিনের সঙ্গে আলাপে তিনি জানিয়েছেন, কেরানীগঞ্জের যে এলাকায় কেন্দ্রীয় কারাগারে তিনি বন্দি ছিলেন ওই এলাকায় ফটোগ্রাফি পাঠশালার একটি শাখা খোলার তার ইচ্ছা রয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মুক্তি পান শহিদুল আলম।
মুক্তির পরদিনই একটি বেসরকারি হাসপাতালে তার বিভিন্ন শারীরিক পরীক্ষা হয়। চিকিৎসা শেষ হলে তিনি কাজে ফিরবেন ও গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলবেন বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।

সিটি নির্বাচন: মাহবুব তালুকদারের মূল্যায়ন, আলোর মুখ দেখেনি রিপোর্ট

পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার বলেছেন, নির্বাচন কমিশন ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের তথ্য সংগ্রহের কোনো নির্দেশনা দেয়নি। এসব কর্মকাণ্ড কারা, কী উদ্দেশ্যে করছে তা রহস্যজনক। অতি উৎসাহী কিছু পুলিশ সদস্যের এই কর্মকাণ্ডে ব্যাপক বিভ্রান্তি ও ভীতির সৃষ্টি হয়েছে। যার দায় নির্বাচন কমিশনের ওপর পড়ে। বৃহস্পতিবার একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলাবিষয়ক বিশেষ সভায় লিখিত বক্তব্যে নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার এসব কথা বলেন। রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে এই বিশেষ সভা হয়। বক্তব্যে সাম্প্রতিক সময়ে অনুষ্ঠিত গাজীপুর ও খুলনা সিটি নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা তুলে ধরেন মাহবুব তালুকদার।
এসময় এই নির্বাচন কমিশনার প্রশ্ন তোলেন, শিডিউল ঘোষণার আগে যে পুলিশ গায়েবি মামলা করেছে, শিডিউল ঘোষণার পরে তাদের রাতারাতি পালটে গিয়ে নির্বাচনে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করা কী সম্ভব? তিনি আরও বলেন, পুলিশ বাহিনী নির্বাচনে সবচেয়ে বড় সহায়ক শক্তি।
তারা নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন না করলে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়বে। গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের অনিয়ম নিয়ে নিজের করা তদন্ত প্রতিবেদন প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে জমা দিলেও তা আলোর মুখ দেখেনি বলে উল্লেখ করেন তিনি। বরিশাল সিটি করপোরেশনের নির্বাচন অনিয়মের কারণে বন্ধ করে দিতে কমিশনাররা একমত হলেও নির্বাচনী কর্মকর্তাদের নিরাপত্তার কথা ভেবে তা করা হয়নি বলে বক্তব্যে উল্লেখ করেন তিনি বিগত নির্বাচনগুলোয় পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রশ্নবিদ্ধ ভূমিকা সামনে এনে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে না হয় সে বিষয়ে যত্মবান হতে কর্মকর্তাদের পরামর্শ দেন তিনি।
মাহবুব তালুকদারের পুরো বক্তব্য: আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আইন-শৃঙ্খলাবিষয়ক বিশেষ সভায় লিখিত বক্তব্য রাখার খুব একটা রেওয়াজ নেই। কিন্তু আজ আমি আপনাদের সামনে ব্যতিক্রম হিসেবে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করছি।
১৯৭০ সালে আমি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক থাকাকালে তৎকালীন জাতীয় নির্বাচনে প্রিজাইডিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করেছিলাম। নির্বাচন বিষয়ে সেটাই ছিল আমার একমাত্র অভিজ্ঞতা। নির্বাচন কমিশনে যোগদানের পর সেই অভিজ্ঞতা দিনে দিনে ফুলে-পল্লবে পল্লবিত হয়েছে। একই সঙ্গে তাতে আছে কিছু কাঁটার আঘাত। আজ আপনাদের সঙ্গে তা শেয়ার করতে চাই।
বর্তমান কমিশন দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই আমরা দুটো উল্লেখযোগ্য নির্বাচন সম্পন্ন করেছিলাম। একটি কুমিল্লা সিটি নির্বাচন এবং অপরটি রংপুর সিটি করপোরশেন নির্বাচন। এই দুটি নির্বাচনে আমরা সুনামের সঙ্গে উতরে গেছি বলে অনুমান করতে পারি। কারণ, এ দুটি নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে বলে অভিযোগ শোনা যায়নি। বলতে দ্বিধা নেই, এই দুটি নির্বাচনে বর্তমান নির্বাচন কমিশন জনমানসে একটা আস্থার স্থান তৈরি করে নিতে পেরেছে।
পরবর্তী সময়ে খুলনা, গাজীপুর, বরিশাল, রাজশাহী ও সিলেট যে পাঁচটি সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে, তার অভিজ্ঞতা ছিল ভিন্ন। আমি খুলনা, রাজশাহী ও সিলেট নির্বাচন সর্ম্পকে কোনো কথা বলব না। তবে যেহেতু আমি বরিশাল সিটি করপোরশন নির্বাচনে একক দায়িত্বে ছিলাম, সেহেতু এই নির্বাচনের অভিজ্ঞতা আপনাদের সামনে তুলে ধরবো। অন্যদিকে গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন সম্পর্কে মাননীয় প্রধান নির্বাচন কমিশনার আমাকে একটি প্রতিবেদন তৈরি করতে অনুরোধ জানান। ‘গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের স্বরূপ সন্ধান’ শিরোনামে আমি একটি প্রতিবেদন তৈরি করে তাকে সমর্পণ করি। অজ্ঞাত কারণে সেটি এখনও আলোর মুখ দেখেনি।
বিগত নির্বাচনের অভিজ্ঞতার আলোকে আত্মবিশ্লেষণের তাগিদেই আমি গাজীপুর ও বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচন দুটির ইতিবাচক ও নেতিবাচক দিকগুলো আপনাদের সামনে তুলে ধরতে চাই। প্রথমেই বলে রাখা প্রয়োজন যে, কোনো ব্যক্তি বা সংস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য নয়, কারো দায়িত্ব পালন অবমূল্যায়ন করার জন্য জন্য নয়, বিষয়গুলো উপস্থাপন করতে হচ্ছে, আগের সমস্যাগুলোর সমাধান খুঁজে পেতে এবং আগামী একদল জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অনুরূপ সমস্যা যাতে সৃষ্টি না হয়, সেই পথ সুগম করতেই এই আলোচনা।
গাজীপুর নির্বাচনের বিষয়ে আমি তিনটি ঘটনার উল্লেখ করব। প্রথম ঘটনা হচ্ছে- গাজীপুর জেলা প্রশাসক ১৭৯ জনের একটি স্বাক্ষরবিহীন তালিকা রিটার্নিং অফিসারের নিকট প্রেরণ করলে রিটার্নিং অফিসার তার গ্রহণে অসম্মতি জানান। পরে জেলা প্রশাসকের অফিস থেকে নিম্নোক্ত ফরোয়ার্ডিংসহ তালিকা পাঠানো হলেও তালিকায় কারো স্বাক্ষর নেই। ফরোয়ার্ডিং নিম্নরূপ:
‘বিষয় প্রিজাইডিং অফিসারগণের নামের তালিকা প্রেরণ।
উপযুক্ত বিষয়ে গোয়েন্দা সংস্থা থেকে এ কার্যালয়ে একটি প্রতিবেদন পাওয়া গিয়েছে। প্রতিবেদন পর্যালোচনায় প্রতিবেদনটি গাজীপুর সিটি নির্বাচনের প্রিজাইডিং অফিসার নিয়োগ সংক্রান্ত। প্রিজাইডিং নিয়োগ সংক্রান্ত কার্যক্রম যেহেতু রিটার্নিং অফিসার কর্তৃক সম্পাদিত হয়ে থাকে, বিধায় প্রতিবেদনটি পরবর্তী প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের জন্য নির্দেশক্রমে এতদসঙ্গে প্রেরণ করা হলো।
সংযুক্ত: ০৮ (আট) ফর্দ।’
উল্লেখ্য যে, স্বাক্ষরবিহীন তালিকাটিতে কোনো শিরোনাম নেই। ফরোয়ার্ডিংয়ে জেলা প্রশাসক অফিসের নিম্ন পর্যায়ের একজন কর্মকর্তার নাম ও স্বাক্ষর রয়েছে।
দ্বিতীয় বিষয়টি পুলিশের কার্যক্রম সম্পর্কিত। রিটার্নিং অফিসার মৌখিকভাবে বলেছেন, বিরোধী দলের মেয়রপ্রার্থীর কোনো অভিযোগপত্র প্রেরণ করা হলে পুলিশ অফিস থেকে তা তা গ্রহণের স্বীকৃতিপত্র দেয়া হতো না। অনেক অনুরোধের পর চিঠি গ্রহণ করা হতো। বিরোধী দলের মেয়র প্রার্থী পুলিশি হয়রানি গণগ্রেপ্তার ভীতি প্রদর্শন, কেন্দ্র দখল সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে পুলিশ নীরব ভূমিকা পালন করেছে। এসব অভিযোগ সম্বলিতপত্রের কোন উত্তর পাওয়া যায়নি। রিটার্নিং অফিসার প্রেরিত এগারোটি অভিযোগপত্রের মাত্র চারটির উত্তর পাওয়া গেছে। যা অনেকটা দায়সারা গোছের। পুলিশ বাকি সাতটি অভিযোগের কোনো উত্তর দেয়ার প্রয়োজন মনে করেনি।
তৃতীয় বিষয়টিও পুলিশকে নিয়েই। গাজীপুরে নির্বাচনকালে ইউনিফরমধারী পুলিশ ও সাদা পোশাকের পুলিশ অনেক ব্যক্তিকে বাসা থেকে ও রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ আছে। অনেককে অন্য জেলায় নিয়ে যাওয়া হয়। তাদের একজন ছাড়া পুলিশ অন্যদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে কোনো স্বীকারোক্তি করেনি। নির্বাচনের পরে দেখা যায় তাদের অনেকে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে আছে। গ্রেপ্তার না করলে তারা কারাগারে কীভাবে গেলেন। এ প্রশ্নের কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।
এবার বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আসি। এই সিটি করপোরেশন নির্বাচনের দায়িত্বে এককভাবে আমি ছিলাম। কিন্তু দুঃখের বিষয়, ৫টি সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সবচেয়ে খারাপ অবস্থা ছিল বরিশালের। সকালে ভোটগ্রহণ কার্যক্রম বেশ ভালো ছিল। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এখানে বিভিন্নমুখী অনিয়ম শুরু হয়। বেলা এগারোটার মধ্যে আমার কাছে প্রতীয়মান হয় যে, এভাবে ভোটগ্রহণ চলতে পারে না। সিইসিসহ মাননীয় কমিশনারদের আমি জানাই, বরিশালের ভোট কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়া প্রয়োজন। একপর্যায়ে মাননীয় কমিশনারবৃন্দ সবাই ভোট বন্ধ করার বিষয়ে একমত হলেও নির্বাচন বন্ধ করলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিস্থিতি সামাল দিতে পারবে না। এবং নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা দেয়া সম্ভব হবে কি না- ভেবে নির্বাচন বন্ধ করা থেকে আমরা বিরত থাকি। ইতিমধ্যে ৬জন মেয়র প্রার্থীর মধ্যে ৫জন তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেয় এবং একজন প্রার্থী প্রায় প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীনভাবে বিজয়ী হন।
বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচন প্রসঙ্গে পরে নির্বাচন কমিশনের যে তদন্ত কমিটি গঠিত হয় তার সম্মুখে রিটার্নিং অফিসার যে বক্তব্য দেন তার কিয়দংশ তুলে ধরছি। ‘কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিরোধী প্রার্থীদের পুলিশ কর্তৃক অযাচিতভাবে হয়রানি করা হয়েছে। আবার সরকারি প্রার্থীর আচরণবিধি ভঙ্গের ঘটনায় পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা দেখা গেছে। শুধু তাই নয়, উল্টো বিরোধী প্রার্থীর প্রচারণায় পুলিশের অযাচিত হস্তক্ষেপের অভিযোগ রয়েছে।’ অন্যদিকে নির্বাচনের সার্বিক পর্যালোচনায় তদন্ত কমিটির বক্তব্য: ‘বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোট গ্রহণের দিন অনেক ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিল না এবং ভারপ্রাপ্ত পুলিশ কমিশনার এ বিষয়ে আন্তরিক ছিলেন না। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও পুলিশ কর্তৃপক্ষ নির্বাচন কমিশনের পর্যবেক্ষক ও সহকারী রিটার্নিং অফিসারদের নিরাপত্তায় কোনো পুলিশ সদস্য নিয়োগ দেননি। ভোটকেন্দ্রসহ নির্বাচনী এলাকায় অনেক ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ছিল নাজুক। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যগণ অনেক ক্ষেত্রেই রিটার্নিং অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসারের নির্দেশনা অনুসরণ করেননি। কিছু কিছু ক্ষেত্রে ভোটকেন্দ্র ও ভোটকেন্দ্রের বাইরে প্রচুর বহিরাগতদের অবস্থান ছিল।’
প্রায় ৫ হাজার পৃষ্ঠার সংযুক্ত ডকুমেন্টসসহ টাইপ করা ৭১ পৃষ্টার মূল তদন্ত রিপোর্টটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমি দুটি স্থান মাত্র উদ্ধৃতি করলাম।
সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সবচেয়ে ইতিবাচক দিক হলো এসব নির্বাচনে কোনো প্রাণহানী ঘটেনি। বিভিন্ন স্থানে অনিয়ম সত্ত্বেও ভোটকেন্দ্রগুলোতে মোটামুটি শান্তি বজায় ছিল, শৃঙ্খলা কতটুকু বজায় ছিল তা প্রশ্নসাপেক্ষ। একই সময়ে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের স্থানীয় নির্বাচনে ১৪ জনের প্রাণহানি ঘটে। সেসব বিবেচনায় সিটি করপোরেশনের ইতিবাচক বিষয়টি উপেক্ষা করা যায় না।
বর্তমানে বহুল প্রচলিত গায়েবি মামলা এখন আর গায়েবি আওয়াজ নয়। মাননীয় হাইকোর্ট পর্যন্ত এ ধরনের মামলাতে পুলিশের ভাবমূর্তি নষ্ট হয় বলে উল্লেখ করেছেন। ঢাকার পুলিশ কমিশনার মহোদয় পুলিশ বাহিনীকে গায়েবি মামলা না করতে নির্দেশ দিয়েছেন। তার পরও অনেক ক্ষেত্রে এরূপ মামলা চালু রয়েছে। আমার প্রশ্ন হলো, শিডিউল ঘোষণার পর যে পুলিশ গায়েবি মামলা করেছে, শিডিউল ঘোষণার পরে তার পক্ষে রাতারাতি পাল্টে গিয়ে নির্বাচনে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করা কি সম্ভব? পুলিশ বাহিনী নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি সহায়ক মুক্তি। তারা নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন না করণে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়বে।
কিছুসংখ্যক গায়েবি মামলার আসামিদের তালিকা বিরোধী দল থেকে নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হয়েছে। যদিও অধিকাংশই পুরনো মামলা। এসব মামলার অজ্ঞাত আসামিদের অনেকের আদালত থেকে জামিন নেয়া হয়তো সম্ভব হবে না। কোন কোন সম্ভাব্য প্রার্থীর বিরুদ্ধে মামলা থাকার কারণে তারা নির্বাচনী প্রচারকাজ চালাতে ভয় পাচ্ছেন। এহেন ভীতি সর্বক্ষেত্রে অমূলক নয়। নির্বাচনী ব্যবস্থাপনাকে স্বাভাবিক রাখার স্বার্থে নির্বাচন পূর্ব সময়ে প্রার্থীরা যাতে হয়রানির শিকার না হয়, সেজন্য ব্যবস্থা নেয়া দরকার। এ সম্পর্কে নির্বাচন কমিশন থেকে যে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে, তা যথাযথভাবে পরিপালন করা প্রয়োজন।
এ ক্ষেত্রে আরেকটি কথা বলতে চাই। ২০১৬ সালের ২৪শে মে বাংলাদেশ সরকার বনাম ব্লাস্ট-এর মামলার রায়ে সুপ্রিম কোর্টের মাননীয় আপিল বিভাগ ‘গাইড লাইনস ফর ল’ এনফোর্সমেন্ট এজেন্সিস’ শিরোনামে গ্রেপ্তার সম্পর্কিত যে নির্দেশনাটি প্রদান করেছেন, তা কোথাও যথাযথভাবে পরিপালন করা হয়েছে বলে আমার জানা নেই। আপিল বিভাগের নির্দেশনাটিতে মানবিক অধিকার ও মানবিক মর্যাদা সমুন্নত রাখার যে অভিব্যক্তি রয়েছে, তা পরিপালিত হলে পুলিশের আচরণবিধি লঙ্ঘনের প্রবণতা অনেক কমে যেতে পারত।
‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ বলে একটা বিষয় নির্বাচন কমিশনের কাছে প্রায়ই দাবি করা হয়ে থাকে। সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কমিশন লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের আশ্বাস দিলেও সত্যিকার অর্থে এর তেমন কোনো কার্যকারিতা ছিল না। ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ একটি আপেক্ষিক কথা। এর কোনো নির্দিষ্ট পরিমাপক নেই। তবে নির্বাচন কমিশন বিভিন্ন বিধি-বিধানকে সামনে রেখে সবার জন্য সমান সুযোগ তৈরিতে বদ্ধপরিকর ছিল, এ কথা স্বীকার করতে হবে। কিন্তু নির্বাচনী এলাকার বাস্তব পরিস্থিতি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের জন্য অনুকূল ছিল না। আমার মনে হয়, সরকার যদি সরকারি দলের ব্যাপারে নিরপেক্ষ থাকে তাহলে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি সম্ভব। নির্বাচন কমিশনের পক্ষে এককভাবে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করা সম্ভব নয়। তবু আমি মনে করি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরিতে পুলিশের একটা বিরাট ভূমিকা আছে। পুলিশ যদি সবার প্রতি সমান আচরণ করে তাহলে সেটা সম্ভব হতে পারে।
আমি জানি, সিটি করপোরেশন নির্বাচন ও জাতীয় নির্বাচন এক কথা নয়। আগেই বলেছি, সিটি করপোরেশন নির্বাচনের বিষয়গুলো উল্লেখ করেছি নির্বাচনকালে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সমস্যাগুলো চিহ্নিত করার জন্য। এটা কখনোই পুলিশ বাহিনীর কার্যক্রমকে অবমূল্যায়ন করার জন্য নয়। আমার বক্তব্য আত্মবিশ্লেষণ হিসেবেই গ্রহণযোগ্য।
আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সম্প্রতি মিডিয়ায় যে বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে তা হলো নির্বাচন কর্মকর্তাদের তথ্য সংগ্রহে পুলিশ দুই মাস পূর্ব থেকে মাঠে নেমেছে। তারা প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ও পোলিং কর্মকর্তাদের বিষয়ে নানারূপ তথ্য সংগ্রহ করছে এবং জিজ্ঞাসাবাদ করছে। পত্রিকামতে, এই তথ্যানুসন্ধানের বিষয়ে পুলিশকে কোনো নির্দেশনা দেয়া হয়নি। কমিশন নির্বাচন কর্মকর্তাদের তথ্যসংগ্রহের কোনো নির্দেশনা দেয়নি। সুতরাং এসব কর্মকাণ্ড কে কী উদ্দেশ্যে করছে, তা রহস্যজনক। বলা বাহুল্য, অতি উৎসাহী কিছু পুলিশ সদস্যের এই কর্মকাণ্ডে ব্যাপক বিভ্রান্তি ও ভীতির সৃষ্টি হয়েছে, যার দায় নির্বাচন কমিশনের ওপর এসে পড়ে।
প্রিয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাবৃন্দ, আমি আগেও আপনাদের বলেছি সংবিধান অনুযায়ী দায়িত্ব পালনের নিমিত্ত আমরা যে শপথ গ্রহণ করেছি, আপনারা সেই শপথের অংশীদার। কারণ, নির্বাচন আমরা করি না, নির্বাচন আপনারাই করে থাকেন। আপনারা আমাদের সবচেয়ে সহায়ক শক্তি। অতীতে যে সব জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে আপনারা তাতে দক্ষতা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার পরিচয় দিয়েছেন। আমি আশা করি অতীতের মতো আপনাদের সার্বিক সহযোগিতায় এবারও নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে। তবু আমার বক্তব্য আত্মবিশ্লেষণমূলক কথা বলতে হলো অধিকতর সচেতনতা সৃষ্টির জন্য।
এবারের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নানা কারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শুধু দেশবাসী নয়, বিশ্ববাসী আমাদের নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে আছে। সত্যি বলতে কী, একাদশ জাতীয় নির্বাচন আমাদের আত্মসম্মান সমুন্নত রাখার নির্বাচন। আমরা কোনোভাবেই এই নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ হতে দিতে পারি না। আর এ কথা সত্য যে আমরা প্রশ্নবিদ্ধ হলে তার দায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর বর্তাবে এবং আপনারা প্রশ্নবিদ্ধ হলে আমরা দায় এড়াতে পারব না। সুতরাং আশা করি জাতির এই ক্রান্তিলগ্নে আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, গ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে আমরা দেশবাসীর প্রত্যাশা পূরণ করতে পারব।

১৫ই ডিসেম্বরের পর থেকে মাঠে সেনা

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণের ১৫ দিন আগে মাঠে নামবে সেনাবাহিনী। ১৫ই ডিসেম্বরের পর সশস্ত্র বাহিনীর ছোট টিম স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে দেখা করবে। প্রতি জেলায় থাকবে সশস্ত্র বাহিনীর টিম। তাদের নিয়ে সমন্বয় করে কাজ করবেন জেলার এসপিরা। নির্বাচনকে সামনে রেখে গতকাল আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক বিশেষ সভায় এ তথ্য জানান প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদা। নির্বাচন ভবনে এ সভার আয়োজন করা হয়। এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের উদ্দেশে নূরুল হুদা বলেন, সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের যাতায়াতের ব্যবস্থা করে রাখতে হবে।
অন্যান্য বাহিনী ও ম্যাজিস্ট্রেটকে তথ্য দিয়ে আপনারা সহায়তা করবেন। ১৫ই ডিসেম্বরের পর থেকে এ কার্যক্রম শুরু হবে।
তবে সশস্ত্রবাহিনীর কর্মপরিধি, তারা কতদিন নিয়োজিত থাকবে তা জানাননি সিইসি। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের পর চূড়ান্ত আইনশৃঙ্খলা বৈঠকের পরে এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে বলে ইতিমধ্যে কমিশন জানিয়েছে। ৩০শে ডিসেম্বর ভোটগ্রহণ হবে। এর আগে ২৮শে নভেম্বর মনোনয়নপত্র জমার শেষ সময়, বাছাই ২রা ডিসেম্বর ও ৯ই ডিসেম্বর প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় রয়েছে। ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ ইতিমধ্যে জানিয়েছেন, নির্বাচন চলাকালে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে বেসামরিক প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে ‘এইড টু দ্য সিভিল পাওয়ার’ বিধানের অধীনে সশস্ত্রবাহিনী মোতায়েন থাকবে। সেনাবাহিনীকে বিচারিক ক্ষমতা দিয়ে নির্বাচনের সময় মোতায়েনের দাবি ছিল বিএনপিসহ কয়েকটি দলের। তবে গত ৮ নভেম্বর তফসিল ঘোষণার দিন জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে সিইসি বলেন, এবার সেনা মোতায়েন হবে আগের মতোই।
অর্থাৎ সেনাবাহিনীর বিচারিক ক্ষমতা থাকবে না। বাংলাদেশে এর আগের প্রতিটি জাতীয় নির্বাচনেই সেনা মোতায়েন হয়েছে। ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারি এবং ২০০৮ সালের ২৯শে ডিসেম্বরের সংসদ নির্বাচনে সশস্ত্রবাহিনীর প্রায় ৫০ হাজার সদস্যকে মোতায়েন করা হয়েছিল। ইসি কর্মকর্তারা জানান, ২০০১ সালের আগে নির্বাচনে সেনা মোতায়েন সংক্রান্ত কোনো বিধান আরপিওতে ছিল না। তারপরও ১৯৭৩ থেকে এ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত প্রতিটি জাতীয় নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যদেরও জেলা/থানা/উপজেলা পর্যায়ে পাঠানো হয়েছিল। ২০১৪ সালের ভোটে সেনাবাহিনী ৯ই জানুয়ারি পর্যন্ত স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে নিয়োজিত ছিল।
ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের তথ্য সংগ্রহ করা নিষেধ: সভায় নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ১২ দফা নির্দেশনা দেয়া হয়। এর মধ্যে পুলিশকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের তথ্য সংগ্রহ করতে নিষেধ করেন সিইসি। তিনি বলেন, বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের তথ্য সংগ্রহ করার কথা আমরা বলিনি। এটা আপনারা করবেন না। কারণ, এটা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। যারা ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা, তারা বিব্রত হন। আমরা এটা চাই না। সিইসি নূরুল হুদা বলেন, যদি তথ্য সংগ্রহ করার প্রয়োজন হয়, তবে গোপন সূত্র ব্যবহার করে সংগ্রহ করতে পারেন। বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে তাদের জিজ্ঞেস করার দরকার নেই। এটা আমরা চাই না। তিনি বলেন, তফসিল ঘোষণার পর কাউকে বিনা ওয়ারেন্টে প্রেপ্তার করবেন না, মামলা করবেন না। কাউকে হয়রানিমূলক মামলা বা গ্রেপ্তার করা যাবে না। আশা করি, আপনারা এটা করছেনও না। নূরুল হুদা বলেন, মামলার বিষয়ে বিএনপি’র পক্ষ থেকে শুরুতে ৪ থেকে ৫ হাজার জনের একটি তালিকা দেয়া হয়েছিল।
পরীক্ষা করে দেখা গেছে, ওই সব মামলা ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগের। আর এবারের নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে করা মামলার পূর্ণাঙ্গ তথ্য বিএনপি’র পক্ষ থেকে পাওয়া যায়নি। তাই ব্যবস্থা নিতে পারছি না। অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনে পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে সিইসি বলেন, পুলিশ প্রশাসনের কারণে যেন নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ না হয়, সে বিষয়ে লক্ষ্য রাখতে হবে। এই নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কেননা, সব দল অংশ নেবে। নির্বাচনের সব প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। প্রজাতন্ত্রের সবাই মিলেই নির্বাচন সুষ্ঠু করতে কাজ করতে হবে। নির্বাচনের সিংহভাগ দায়িত্ব পুলিশের থাকে। ভোটারের নিরাপত্তা থেকে শুরু করে সব ধরনের নিরাপত্তার দায়িত্ব তাদের ওপরই বেশি থাকে। পুলিশ প্রশাসনের প্রতি সিইসি বলেন, নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা রোধ করা ঐতিহ্যগতভাবেই আপনাদের দায়িত্ব। এবারও দেশের বৃহত্তর স্বার্থে আপনারা দায়িত্ব পালন করবেন। সংবিধান মতে কর্তৃত্ব নয়, বিবেক মতো কাজ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, নির্বাচন যেন কোনোভাবে প্রশ্নবিদ্ধ না হয়।
আইনশৃঙ্খলার দায়িত্ব পালনে পূর্ণ স্বাধীনতা থাকবে। তবে নির্বাচন কমিশন তা নজরদারি করবে। ইতিমধ্যেই অভিযোগ আসা শুরু করেছে। তবে নির্বিঘ্নে দায়িত্ব পালন করতে হবে। ভালোভাবে যাচাই না করে কারও বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হবে না। আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। আইনশৃঙ্খলার বিভিন্ন পর্যায়ের তথ্য ও পরামর্শ পুলিশের কাছ থেকে বিভিন্ন বাহিনী নেবে উল্লেখ করে সিইসি পুলিশকে এখনই কৌশলগত পরিকল্পনা তৈরি করতে বলেন। সভায় চার নির্বাচন কমিশনার, ইসি সচিব, অতিরিক্ত সচিব, জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব, আইজিপি, জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক, ডিএমপি কমিশনারসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বাসযোগ্য ঢাকার খোঁজে by ইদ ইজাসজ ভাস্কেজ ও ডেভিড ম্যাসন

ঢাকা মহানগর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক কেন্দ্রস্থল। দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির চালিকাশক্তি এই এলাকা। বাণিজ্যিক প্রাণকেন্দ্র হিসেবে ঢাকার অবস্থানের কারণে শহরটিতে জনসংখ্যা বৃদ্ধি ঘটেছে ব্যাপক হারে। ৪০ বছরে মানুষের সংখ্যা বেড়েছে ১০ গুন! ২০১৫ সালের হিসাব অনুযায়ী ঢাকায় ১.৮ কোটি মানুষের বসবাস। এভাবেই দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে দ্রুতগতিতে নগরায়ন ঘটেছে বাংলাদেশে।
বর্তমানে বাংলাদেশের শহুরে জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি বাস করেন ঢাকায়। ঢাকায় প্রতি হেক্টরে ৪৪০ জন মানুষ বাস করেন। ফলে এটি বিশ্বের সবচেয়ে ঘনবসতি সম্পন্ন শহরগুলোর একটি। মুম্বই, হংকং ও করাচির চেয়েও ঢাকার জনসংখ্যার ঘনত্ব বেশি।
পাশাপাশি, ঢাকা বিশ্বের সবচেয়ে বাস-অযোগ্য শহরগুলোর একটি।
১৪০টি শহরের বাসযোগ্যতার জরিপে ঢাকার অবস্থান ১৩৭ তম। ঢাকার এই পরিস্থিতিতে বেশি সমস্যায় পড়েন দরিদ্র, নারী ও বয়স্কদের মতো ঝুঁকিতে থাকা মানুষরা।
ঢাকার বস্তিতে বসবাসের পরিস্থিতি প্রত্যন্ত অঞ্চলের চেয়েও খারাপ, যদিও এখানে থাকলে কর্মসংস্থানের সুযোগ বেশি। শহরের মাত্র দুই-তৃতীয়াংশ এলাকায় পাইপের পানি উপলভ্য। মাত্র ৩-৪ শতাংশ বর্জ্য জল নিষ্কাশন করা হয়। পুরো শহরের বর্জ্যের মাত্র ৬০ শতাংশ সংগ্রহ করা হয়।
ঢাকায় ট্রাফিক জ্যামের অবস্থা ভয়াবহ। জনসংখ্যা অনুপাতে অপর্যাপ্ত অবকাঠামো ও জনপরিবহণ সুবিধা এজন্য দায়ী। ঢাকা বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরের একটি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দিষ্ট করা মাত্রারও ৮ গুণ বেশি এখানকার দূষণের মাত্রা। পাবলিক স্পেস ইতিমধ্যে বেশ সীমিত। কিন্তু ভূমি ব্যবহার আরও বাড়ছে, ফলে এ ধরণের স্থান ক্রমেই আরও সঙ্কুচিত হচ্ছে।
এই ইস্যু সমাধানে, মেট্রো ঢাকা প্ল্যাটফর্ম নামে বিশ্বব্যাংকের একটি নগর উন্নয়ন প্রোগ্রাম রয়েছে। এই প্ল্যাটফর্মের অধীনে, আমরা ঢাকার অতীত, চলমান ও ভবিষ্যৎ বিশ্লেষণ ও বিনিয়োগ কর্মকান্ড পদ্ধতিগতভাবে পর্যালোচনা করেছি। কৃত্রিম উপগ্রহ থেকে প্রাপ্ত তথ্য ও সাম্প্রতিক গবেষণা বিশ্লেষণ করে আমরা মহানগর এলাকায় মানুষের চলাচল ও কর্মসংস্থান সম্পর্কিত ‘ট্রেন্ড’ নথিবদ্ধ করতে পেরেছি।
এসবের মধ্যে রয়েছে, উত্তরাঞ্চলীয় মহানগর এলাকায় কারখানা ও তৈরি পোশাক খাতের বিস্তার। শহরের ঐতিহাসিক কেন্দ্রস্থলে সেবাখাতের দিকে সরে যাওয়া। পূর্ব ঢাকার নতুন বাণিজ্যিক ব্যবসায়িক প্রাণকেন্দ্র হওয়ার সম্ভাবনা।
এই বিশ্লেষণ থেকে দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ পরিকল্পনা করার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে বিভিন্ন প্রবৃদ্ধি প্রবণতা অনুযায়ী প্রয়োজন মেটানো সম্ভব হবে।
পাশাপাশি, আসন্ন ঢাকা সিটি নেইবারহুড আপগ্রেডিং প্রজেক্ট-এ আমরা নগর বাসযোগ্যতা উন্নয়নের দিকে নজর দিচ্ছি। বিশেষ করে বুড়িগঙ্গা নদীর পাশ ঘেঁষা পুরোনো ঢাকার দিকে পাবলিক স্পেস সৃষ্টি করার মাধ্যমে।
এই প্ল্যাটফর্ম থেকে প্রাপ্ত উপাত্ত ব্যবহার করে আমরা শহরের বিভিন্ন এলাকায় পাবলিক স্পেস বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা নির্ণয় ও অগ্রাধিকার দিতে পারছি।
আমরা এই তালিকা সীমিত করে এনেছি। স্থপতি নিয়োগ দিয়েছি নগর নকশা প্রকল্পের কাজ করতে। এছাড়া স্থানীয় কম্যুনিটি গ্রুপ ও স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে বার বার পরামর্শ করতে বসেছি। তাদের ইনপুটের মাধ্যমে এমন ধরণের পাবলিক স্পেসের কথা উঠে এসেছে, যা মধ্য ঢাকাকে আরও প্রাণবন্ত, অংশগ্রহণমূলক ও বাসযোগ্য করতে সাহায্য করবে।
(বিশ্বব্যাংক ব্লগে প্রকাশিত লেখার অনুবাদ)

রাজনীতি এখন বড় ব্যবসায়িক উদ্যোগে পরিণত হয়েছে

বাংলাদেশে রাজনীতিই এখন বড় ব্যবসায়িক উদ্যোগে পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ সিপিডির বিশেষ ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। এ সময় নির্বাচনী হলফনামায় দেয়া প্রার্থীদের সম্পদের তথ্য এবং ঋণ খেলাপি ও কর ফাঁকিবাজদের তথ্য জনগণের সামনে তুলে ধরার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। গতকাল রাজধানীর ব্র্যাক ইন সেন্টারে ‘দ্যা লিস্ট ডেভেলপমেন্ট কান্ট্রিস রিপোর্ট-২০১৮’র প্রকাশনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুনের সঞ্চালনায় উপস্থিত ছিলেন সিপিডির বিশেষ ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সংস্থাটির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। প্রবন্ধে ভবিষ্যৎ উদ্যোক্তা তৈরির দিক-নির্দেশনা ও অর্থনীতির কাঠামোগত রূপান্তর ও সরকারি নীতি সংস্কারের বিষয়ে উল্লেখ করা হয়।
দেশের রাজনীতিতে ব্যবসায়ীদের আধিক্যের কথা তুলে ধরে ড. দেবপ্রিয় বলেন, নির্বাচনের ভেতরে ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর উপস্থিতি যথেষ্ট দৃশ্যমান। রাজনীতিবিদদের চেয়েও হয়তো ব্যবসায়ী গোষ্ঠীরই তুলনামূলকভাবে দৃশ্যমান উপস্থিতি বেশি।
রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে ব্যবসায়ী গোষ্ঠী এখন প্রয়োজন বোধ করছেন। কারণ যে সমস্ত সুযোগ-সুবিধা তারা অনেক ক্ষেত্রে পেয়েছেন, সেটা একমাত্র রাষ্ট্রীয় আনুকূল্য দ্বারাই সুরক্ষা করা সম্ভব। এর ফলে ব্যবসা এবং রাজনীতির ক্ষেত্রেই কলুষ সম্পর্ক গড়ে উঠছে।
তিনি বলেন, ব্যবসায়ীরা সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করছেন। কিন্তু দাবি আদায় করতে পারছেন না। তারা তাদের স্বার্থের জন্য রাজনীতিকে ব্যবহার করছেন। সরকারের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের সম্পর্ক থাকার পরও ব্যাংকের অস্থিরতা, বন্দরের দুর্নীতি, রাজস্বে অনিয়ম, ব্যবসায়ী হয়রানির পরও কথা বলতে পারেন না। কারণ রাজনীতিতে নিজের স্বার্থে ব্যবসায় পরিণত করছেন তারা।
রাজনৈতিক দলগুলোর দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনাকে ইতিবাচক জানিয়ে দেবপ্রিয় বলেন, দেশে প্রতিযোগিতাপূর্ণ রাজনীতি না থাকলে, প্রতিযোগিতাপূর্ণ অর্থনৈতিক ব্যবস্থাও নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। ব্যবসা এবং রাজনীতির স্বার্থান্বেষী সম্পর্কের সমালোচনা করে আসন্ন নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী ইশতেহারে ভালো অর্থনৈতিক পরিকল্পনার প্রত্যাশা করেন তিনি। তিনি বলেন, কর অবকাশ থেকে শুরু করে যে কোনো লাইসেন্স বা নতুন ব্যাংক, এগুলো বিশেষভাবে আনুকূল্যের ভিত্তিতে হয়েছে। সেজন্য তারা রাজনীতি দিয়ে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাকে ব্যবহার করে নিজেদের সুরক্ষা দিতে চান।
দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, গুটিকয়েক ব্যবসায়ীরা নিজেদের ব্যবসার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেন। তাদের একচেটিয়া সুবিধা ভোগের কারণে ছোট ব্যবসায়ীরা রাষ্ট্রীয় সুফল পায় না। এ ক্ষেত্রে একটি সুষ্ঠু গ্রহণযোগ্য নীতিমালা থাকা দরকার। যেখান থেকে সবাই সমানতালে প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে ব্যবসার মুনাফা ভোগ করবে ও রাষ্ট্রীয় সুবিধা পাবেন।
দেবপ্রিয় বলেন, রাজনীতিবিদরাও এখন অনেক বেশি ব্যবসার দিকে যুক্ত হচ্ছেন। রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীরা একে অপরের সমর্থনে কাজ করছেন। নাগরিকরা কে রাজনীতিবিদ আর কে ব্যবসায়ী তা বুঝে উঠতে পারছে না। তাদের সামনে দৃশ্যমান হচ্ছে বাংলাদেশে রাজনীতিই এখন সবচেয়ে বড় ব্যবসায়িক উদ্যোগ। দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে উদ্যোক্তা শ্রেণির অনুকূলে যে ধরনের পরিবেশ দরকার সে রকম বাস্তবতা নেই বলে তিনি মনে করেন।
তিনি বলেন, আসন্ন নির্বাচনে রাজনৈতিক নেতাদের হলফনামার সত্যতা যাচাই করতে হবে ব্যাংক ও এনবিআরকে। একইসঙ্গে এসব হলফনামার কপি নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) দিতে হবে। নির্বাচনের পর ব্যাংক ও এনবিআরকে এসব হলফনামার আপডেট জানতে হবে। একটি স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল ও উন্নত রাষ্ট্রে যেতে হলে অবশ্যই এর স্বচ্ছতা জরুরি।
সিপিডির বিশেষ ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, নির্বাচনী ইশতেহারে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের পথে অর্থনীতির কাঠামোগত রূপান্তরের দিক সম্পর্কে সুস্পষ্ট প্রতিফলন থাকা উচিত। তিনি বলেন, কী ধরনের বাংলাদেশ রাজনৈতিক দলগুলো চান, সেটাতে তারা উদ্যোক্তা-রাষ্ট্রের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে যেন এ অর্থনৈতিক পরিকল্পনাগুলো তারা আমাদের সামনে পেশ করেন, আমরা (যাতে) যাচাই-বাছাই করতে পারি সেগুলোর যৌক্তিকতা কী। আমরা উন্নয়নশীল দেশ হবো। উন্নয়ন রাষ্ট্র থেকে উদ্যোক্তা রাষ্ট্রে যেতে হবে। উদ্যোক্তা শ্রেণি সৃষ্টি করতে চাইলে সরকারের নীতিমালার সাহায্য লাগবে। নতুন উদ্যোক্তাদের লাইফ সাইকেল সাপোর্ট দিতে হবে। আগামী দিনে দক্ষিণ এশিয়ায় আমাদের বড় বাজার হবে। সেভাবে উদ্যোক্তা গড়ে তুলতে হবে।
সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, একটি সীমিত আকারে এক ধরনের উদ্যোগকে প্রমোট করা হচ্ছে। কিন্তু সামগ্রিকভাবে উদ্যোক্তা শ্রেণি বা উদ্যোগের বিকাশের জন্য সরকারের যে নীতিকাঠামো, যে ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক পরিবেশ, যে ধরনের অবস্থান সেটি এখনো কিন্তু নেই।
গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল বা উন্নত দেশে যেতে হলে প্রতিযোগিতামূলক ব্যবসা, সু-শাসন, নারী উদ্যোক্তার হার বাড়াতে হবে। এজন্য অর্থনৈতিক ফান্ড প্রয়োজন, লাইসেন্স, রেজিস্ট্রেশন, টেন্ডারের দুর্নীতি রোধ করতে হবে।
স্বল্পোন্নত দেশগুলোর ভালো উন্নয়নের জন্য উদ্যোক্তাদের উন্নয়নে জোর দিতে হবে উল্লেখ করে ব্যবসা-বাণিজ্য সংশ্লিষ্ট আইনগুলোর সঠিক বাস্তবায়ন ও বৈষম্যহীন নীতি নিশ্চিত করারও তাগিদ জানায় সিপিডি। শুধু তাই নয়, একটি উন্নয়নশীল দেশ হতে হলে আইনের সঠিক বাস্তবায়নের পাশাপাশি সুশাসনও নিশ্চিত করা দরকার বলে জানায় প্রতিষ্ঠানটি।

সিলেটে বিকল্প ভাবনায় ছহুল by ওয়েছ খছরু

সিলেটে অর্থমন্ত্রী পরিবারের বিকল্প হতে পারেন সাবেক নির্বাচন কমিশনার ছহুল হোসাইন। তার প্রতি আপত্তি নেই সিলেট আওয়ামী লীগের নেতাদেরও। ‘ব্যুরোক্রেসি’র লড়াইয়ে একমাত্র বিকল্প হচ্ছেন তিনি। দলের নেতারা জানিয়েছেন, সিলেট-১ আসনের মনোনয়ন নিয়ে অর্থমন্ত্রী পরিবারের টানাপড়েনে হাইকমান্ডের নজরে রয়েছেন ছহুল হোসাইন। এতে কপাল খুলতে পারে তারও। ইতিমধ্যে আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে মনোনয়ন নিয়ে তার কথা হয়েছে বলে পারিবারিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। এ কারণে প্রার্থিতা ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছেন ছহুল হোসাইন।
আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেলেই তিনি নির্বাচন করতে চলে আসবেন জন্মস্থান সিলেটে। সাবেক নির্বাচন কমিশনার ছহুল হোসাইনের এবার নির্বাচনী লড়াইয়ে নামার খবরটি রাজনীতিতে তুমুল আলোচনার জন্ম দেয়।
এরপরও সব আলোচনা-সমালোচনাকে উপেক্ষা করে ছহুল হোসাইন আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন ক্রয় করে ভোটযুদ্ধে নামার ঘোষণা  দেন। এমনকি গণভবনে গিয়ে তিনি আওয়ামী লীগের সাক্ষাৎকারেও উৎসাহের সঙ্গে যোগদান করেন। এর প্রায় দুই মাস আগে থেকে তিনি নিজ শহর সিলেট-১ আসনে নির্বাচনে নামার ঘোষণা দিয়েছেন। আর তার পছন্দের তালিকায় ছিল আওয়ামী লীগের মনোনয়ন। ছহুল হোসাইন নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনীতিতে নামার ঘোষণা দিলেও তার সামনে পাহাড়সম বাধা রয়েছে সিলেটে। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ও তার পরিবারের বলয় থেকে আওয়ামী লীগের টিকিট ছিটকে পড়লে তার ভাগ্য খুলতে পারে। কিন্তু নৌকার কাণ্ডারি হতে খোদ অর্থমন্ত্রী পরিবারেই মুখিয়ে আছেন একাধিক প্রার্থী।
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত রাজনীতি, মন্ত্রিত্ব সবকিছু থেকে নিজেকে বিদায় জানিয়েছেন অনেক আগেই। বার বার তিনি অবসরের ঘোষণা দিয়ে এবারের নির্বাচনের পর অবসর নেবেন বলেও জানিয়েছেন। তার এই ঘোষণার পর অনুজ ড. একে আবদুল মোমেন এসেছেন প্রকাশ্যে। মর্যাদাপূর্ণ সিলেট-১ আসন থেকে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী হতে তিনি অপেক্ষায় রয়েছেন। এই অবস্থায় অর্থমন্ত্রী পরিবার নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে সিলেটে। ড. মোমেনকে এবার প্রার্থী চান না অনেকেই। সেক্ষেত্রে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতকে প্রার্থী হিসেবে মানছেন সবাই। অর্থমন্ত্রী প্রার্থী হলে দলের ভেতরে থাকা বিরোধী  জোটের মুখেও লাগাম থাকবে। প্রকাশ্যে বিরোধিতা করার সাহসও পাবে না কেউ। কিন্তু অর্থমন্ত্রী প্রার্থী হতে চাচ্ছেন না। তিনি নিজ থেকেই এ আসন ছাড় দিতে চান ছোট ভাই ড. একে আবদুল মোমেনকে।
কিন্তু মুখে অর্থমন্ত্রী এ কথা বললেও নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় তিনি এবার নিজেও প্রার্থী হয়েছেন। সিলেট-১ আসনে তিনিও মনোনয়ন চেয়েছেন। অর্থমন্ত্রী পরিবারের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক নেতা জানিয়েছেন, অর্থমন্ত্রীকে প্রার্থী চান তার ছেলে সাহেদ মুহিত ও তার স্ত্রী। এ কারণে সাহেদ মুহিত নিজে গিয়ে অর্থমন্ত্রীর জন্য মনোনয়নপত্র দলীয় কার্যালয় থেকে ক্রয় করে আনেন। অর্থমন্ত্রী ছোট ভাই ড. মোমেনের জন্য মনোনয়ন কিনতে গেলেও তার পক্ষে মনোনয়ন ক্রয় করা নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দেয়। এরপর অর্থমন্ত্রী সেই মনোনয়নপত্র জমাও দিয়েছেন। অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে পরিবারের ছেলে ও পুত্রবধূ ছাড়াও দলের হাইকমান্ডের ৪-৫ জন নেতা রয়েছেন। তারা এবার অর্থমন্ত্রীকে আবারো নির্বাচনে দেখতে চান। আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান নেতা তোফায়েল আহমেদ অর্থমন্ত্রীকে প্রার্থী করার ব্যাপারে খুব আশাবাদী। তিনি আগে থেকেই এ ব্যাপারে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছেন বলে অর্থমন্ত্রী পরিবারের ঘনিষ্ঠ সূত্র দাবি করেছে। 
মনোনয়ন নিয়ে অর্থমন্ত্রী পরিবারের দ্বিধাদ্বন্দ্বের বিষয়টি এখন আর সিলেট আওয়ামী লীগের কারো অজানা নয়। এ জন্য এখনই বলা যাচ্ছে না সিলেট-১ আসনে কে হচ্ছেন আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী। ড. মোমেনকে বাদ দিয়ে অর্থমন্ত্রী ফের নৌকার প্রার্থী হলে অবসান ঘটবে সব জল্পনার। সম্প্রতি সিলেট আওয়ামী লীগের কয়েকজন সিনিয়র নেতার সঙ্গে ঢাকায় দলের হাই কমান্ডের এ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এই আলোচনায় সবাই প্রার্থী হিসেবে অর্থমন্ত্রীর পক্ষে মত দিয়েছেন। কিন্তু ড. মোমেনকে রেখে নিজে প্রার্থী হওয়ার ব্যাপারে এখনো ইতিবাচক নন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। এ নিয়ে তিনি এখনো সিদ্ধান্তহীনতায় রয়েছেন।
এই অবস্থায় সম্প্রতি আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে কথা হয়েছে সাবেক নির্বাচন কমিশনার ছহুল হোসাইনেরও। আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে প্রার্থী হতে তিনি শতভাগ প্রস্তুত রয়েছেন বলে জানিয়েও দিয়েছেন। ছহুল হোসাইনের পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডাকে ছহুল হোসাইন সাড়া দিয়েছেন। এবং নির্বাচনের প্রস্তুতির কথা জানিয়েও দিয়েছেন। এ কারণে এখন ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছেন তিনি। ছহুল হোসাইনের আপন ভাতিজা ও সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর দেলোয়ার হোসেন সজীব মানবজমিনকে জানিয়েছেন, নির্বাচনের জন্য সাবেক নির্বাচন কমিশনার ছহুল হোসাইন প্রস্তুত। দল থেকে তাকে মনোনয়ন দেয়া হলে তিনি সিলেটে চলে আসবেন। এরপর শুরু করবেন আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের সঙ্গে ছহুল হোসাইনের যোগাযোগ চলছে। তবে সভানেত্রীর সঙ্গে দেখা করার বিষয়টি তার জানা নেই। দেখা হলেও সেটি ছহুল হোসাইন তাদের জানাননি বলে জানান সজীব।
সিলেটের কাজিটুলার বনেদি পরিবারের সন্তান সাবেক নির্বাচন কমিশনার ছহুল হোসাইন। বিগত কয়েক যুগ ধরে ঘুরে-ফিরেই তার পরিবারের সদস্যরা ওই এলাকায় জনপ্রতিনিধিত্ব করছেন। পরিবারের রয়েছে আলাদা সুখ্যাতি। ছহুল হোসাইন জেলা জজ হিসেবে দীর্ঘ দিন দেশের বিভিন্ন জেলা ও দায়রা জজ আদালতে দায়িত্ব পালন করেন। আইন বিষয়ে তার প্রকাশনাও রয়েছে। এ ছাড়া তিনি আইন সচিব পদেও দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। সর্বশেষ জরুরি জমানায় নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব পালনের পর তিনি অবসরে রয়েছেন। এখন রাজনীতিতে নামতে চান ছহুল হোসাইন। নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনীতিতে নামার ইচ্ছা তার। এ কারণে সিলেট-১ আসনে প্রার্থিতা চেয়ে গত দুই বছর ধরে কাজ করছেন। ছহুল হোসাইন এখন নিজের শহরে এলে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা তার সঙ্গে দেখা করেন। বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে তিনি উপস্থিত হলেও এখনো প্রকাশ্য রাজনৈতিক মঞ্চে ওঠেননি।
সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ফয়জুল আনোয়ার আলাওয়ার জানিয়েছেন, সিলেট-১ আসনে আওয়ামী লীগের একাধিক যোগ্য প্রার্থী রয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যোগ্য প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়ে আমাদের কাছে পাঠাবেন। এবং যাকে পাঠাবেন তাকে নিয়ে আমরা আগামী সংসদ নির্বাচনে জয়ী হতে পারবো। সিলেটে আওয়ামী লীগ একত্রিত হয়ে নামলে সংসদ নির্বাচনের জয় থাকবে নৌকার পক্ষে। সিলেট আওয়ামী লীগের নেতারা মনে করেন দীর্ঘ ১০ বছর ধরে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ক্ষমতাসীন থাকার কারণে আওয়ামী লীগের ভেতরে কিছুটা বিভেদের সৃষ্টি হয়েছে। এই বিভেদের ফলস্বরূপ সিলেট-১ আসন থেকে দলীয় মনোনয়ন চেয়েছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ ও সাবেক মেয়র বদরউদ্দিন আহমদ কামরান। তারা দুইজন অর্থমন্ত্রীকে অতীতে মুরব্বি মানলেও এখন তারা সে অবস্থান থেকে সরে এসেছেন। এই দুই নেতার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের দুটি বলয় সিলেটের রাজনীতিতে সক্রিয় রয়েছে। ফলে আগামী জাতীয় নির্বাচনে এই বিভেদ অনেকটা কাজ করবে বলে মনে করেন তারা।

ইভিএম ব্যবহার হলে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে মামলার হুঁশিয়ারি

একাদশ জাতীয় নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার হলে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সংবিধান লঙ্ঘনের অভিযোগে মামলা করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। ইভিএম সংক্রান্ত এক সেমিনারে ফ্রন্টের অন্যতম শীর্ষ নেতা ও জেএসডি’র সভাপতি আ স ম আবদুর রব এ হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই- সংবিধান লঙ্ঘন হবে ইভিএম ব্যবহার করলে। সংবিধানের বিরোধিতা হবে, রাষ্ট্রদ্রোহিতা হবে। এটা রাষ্ট্রীয় অপরাধ, সাংবিধানিক অপরাধ। এটা যদি নির্বাচন কমিশন সরকারের আজ্ঞাবহ হয়ে ব্যবহার করতে যায় আমরা আমাদের নেতা সংবিধান প্রণেতা ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে মামলা করবো।
আমি নির্বাচন কমিশনকে বলতে চাই, এটা সংবিধান বিরোধী, রাষ্ট্র বিরোধী, মামলা হবে; জেলে যাবেন। আমরা ছাড়বো, দেশের ১৮ কোটি মানুষ ছাড়বে না। রাজধানীর গুলশান লেকশোর হোটেলে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের উদ্যোগে ‘ইভিএমকে না বলুন, আপনার ভোটকে সুরক্ষিত করুন’- শীর্ষক সেমিনারে তিনি এ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
সেমিনারে ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিনে কিভাবে ভোট কারচুপি করা যায়  একটি ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) প্রয়োগিক ব্যবহারে ভোট প্রদান করে তার ফলাফল উপস্থাপন করা হয়। সেখানে দেখানো হয় কিভাবে এক প্রতীকের ভোট অন্য প্রতীকের বক্সে জমা হয়।
বিএনপি মহাসচিব ও ফ্রন্টের মুখপাত্র মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, একাদশ নির্বাচনে অংশগ্রহণ সম্পর্কে ফ্রন্টের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, নির্বাচনে আমরা যাবো, নির্বাচনকে জনগণের রায়ে পরিণত করতে জাতি নির্বাচনে যাবে। সেই নির্বাচনকে অবশ্যই জনগণের রায়ে পরিণত করতে জনগণ সেই লড়াই, সেই যুদ্ধে লড়বে। ভোটের যুদ্ধে লড়বে। সেখানে কোনো কিছুই তাদেরকে আটকিয়ে রাখতে পারবে না। ভোট বিপ্লব হবে, জনগণ সেই ভোট বিপ্লবের জন্য প্রস্তুত হয়ে রয়েছে। তিনি বলেন, আমরা যখন আজকে নির্বাচনে যাচ্ছি, তখনও আমাদের অসংখ্য নেতা কারাগারে রয়েছেন। আমাদের প্রার্থী হওয়ার উপযুক্ত যারা, তারা কারাগারে রয়েছেন। তাদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। এমনকি আমাদের মনোনয়নপত্র নেয়ার জন্য আসার পথেও নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আবারও বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার জন্য জোর করে সব অপকৌশল ব্যবহার করছে। জনগণের ওপরে যখন কোনও আস্থা থাকে না, তখনই এসব কৌশলের আশ্রয় নেয়া হয়। নির্বাচন কমিশনের ভূমিকার কঠোর সমালোচনা করে মির্জা আলমগীর বলেন, ইসি নিজে থেকেই সরকারের আজ্ঞাবহ প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। এই কারণে জনগণের কোনো কথাই তাদের কানে যাচ্ছে না।
কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম বলেন, বর্তমান সরকার এবার ভোটকেন্দ্রে যেতে পারবে কিনা আমার সন্দেহ আছে। ইভিএম’র এই রকম প্রেজেনেটশন আরো সব জায়গায় দেয়া দরকার। এতে মানুষ আরো সাহসী হবে। মূলত আমাদের দরকার মানুষকে সাহসী করে তোলা।
নাগরিক ঐক্যের সমন্বয়ক মাহমুদুর রহমান বলেন, ভোটের দিন ভোটের মাঠে ভোট দিতে যান। এবার স্লোগানটা দিতে হবে নিরাপদ ভোট চাই, নিরাপদ ভোটকেন্দ্র চাই। আমরা একটা শঙ্কামুক্ত, প্রশ্নমুক্ত নির্বাচন চাই।
গণফোরামের কার্যকরী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী বলেন, নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের উদ্দেশ্যই হচ্ছে, জনগণের ভোট ডাকাতি করা। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, ভোট ডাকাতির পরিণতি হবে ভয়াবহ। এজন্য জনগণ এই সরকারকে কখনোই ক্ষমা করবে না। বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, নির্বাচন কমিশনের স্বচ্ছতা আজ প্রশ্নবিদ্ধ। তাদের উপর বিশ্বাস ও আস্থা রাখার কোনো সুযোগ নেই।
সেমিনারের মূল প্রবন্ধে বলা হয়, ইভিএম এর মূল ভোটিং প্রোগ্রাম পরিবর্তন করা যায় এবং এর মাধ্যমে ভোটের ফলাফল পরিবর্তন করা সম্ভব। সময়ভিত্তিক কারচুপির মাধ্যমে নির্দিষ্ট সময়ের পর যে প্রার্থীকেই ভোট দেয়া হোক না কেন তার নির্দিষ্ট মার্কায় যাবে। সংখ্যা নির্ভর কারচুরি মাধ্যমে কোনো ব্যালট ইউনিটি (ক) মার্কায় যদি নির্দিষ্ট সংখ্যার চেয়ে বেশি ভোট পায় তবে পরবর্তী সকল ভোট (খ) মার্কায় যাবে। চূড়ান্ত ফলাফল নির্ভর কারচুপির মাধ্যমে ভোটের ফলাফল যাই হোক না কেন, ফলাফল ডিসপ্লেতে পূর্বনির্ধারিত ফলাফল প্রদর্শন করবে।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে ও  বিজ্ঞান-প্রযুক্তি সম্পাদক প্রকৌশলী রিয়াজুল ইসলাম রিজুর পরিচালনায় সেমিনারে গণস্বাস্থ্যের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও জাতীয় পার্টি (জাফর) মোস্তফা জামাল হায়দার বক্তব্য দেন। সেমিনারে ২০ দলীয় জোটের শরিক খেলাফত মজলিশের অধ্যক্ষ মুহাম্মদ ইসহাক, ইসলামী ঐক্যজোটের এমএ রকীব, বিজেপি’র আন্দালিব রহমান পার্থ, কল্যাণ পার্টির সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীরপ্রতীক, এলডিপি’র রেদোয়ান আহমেদ, জাগপা’র তাসমিয়া প্রধান, খন্দকার লুৎফর রহমান, এনপিপি’র ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, লেবার পার্টির মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, মুসলিম লীগের এএইচএম কামরুজ্জামান খান, পিপল্‌স লীগের গরীবে নেওয়াজ, ন্যাপ-ভাসানীর আজহারুল ইসলাম, বাংলাদেশ ন্যাপের এমএন শাওন সাদেকী, ইসলামিক পার্টির আবু তাহের চৌধুরী, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মাওলানা নূর হোসাইন কাশেমী, মুফতি মো. ওয়াক্কাস, মহিউদ্দিন ইকরাম, সাম্যবাদী দলের সাঈদ আহমেদ, ডিএল’র সাইফুদ্দিন আহমেদ মনি, জাতীয় লীগের সৈয়দ এহসানুল হুদা ও পিপিবি’র শামসুল হক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর মাহবুবউল্লাহ, সাংবাদিক শওকত মাহমুদ, সাংবাদিক মাহফুজউল্লাহ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর তাজমেরী এস ইসলাম, প্রফেসর মামুুন আহমেদ, প্রফেসর ডা. একেএম আজিজুল হক, প্রফেসর ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, প্রফেসর সিরাজউদ্দিন আহমেদ, প্রফেসর ফরহাদ হালিম ডোনার, বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নেতা শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, সেলিম ভূঁইয়া, বেবী নাজনীন, শাকিল ওয়াহিদ, মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, শামীমুর রহমান, আশরাফ উদ্দিন বকুল, তাবিথ আউয়াল, ফয়সল আলিম, সৈয়দ সাদাত আহমেদ, কেএম আসাদুজ্জামান, হাছিন আহমেদ, সারোয়ার হোসেন, বিএফইউজে মহাসচিব এম আবদুল্লাহ, ডিইউজে সভাপতি কাদের গনি চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম।

হাইকোর্টে জামিনপ্রার্থীদের ভিড়: ‘আদালতের বারান্দা এখন আমাদের ঘরবাড়ি’ by উৎপল রায়

শামসুল হক (৫৫)। ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলের নন্দোয়ার ইউনিয়নের ভণ্ডগ্রামের বাসিন্দা। রাণীশংকৈল থানায় দায়ের করা নাশকতার একটি মামলায় হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন নিতে আসেন তিনি। গতকাল দুপুরে সুপ্রিম কোর্ট অ্যানেক্স (বর্ধিত) ভবনের দোতলায় সংশ্লিষ্ট আদালতের বারান্দায় তিনিও লাইনে ছিলেন অন্যদের সঙ্গে। ভগ্ন শরীরের শ্মশ্রুমণ্ডিত শামসুল হকের চোখে মুখে ছিল দিশাহারা ভাব। দুশ্চিন্তার ছাপও স্পষ্ট। পাশেরজনকে কেবলই জিজ্ঞাসা করছেন ‘জামিন হইবো তো? তার পাশে থাকা তারই এলাকার কয়েকজন জানান, সহজ সরল শামসুল হক অন্যের জমিতে কৃষিকাজ করেন। শারীরিকভাবেও অতটা সবল নন তিনি।
পড়াশুনা যেমন নেই, তেমনি তার উচ্চারণেও রয়েছে সমস্যা।
বিএনপির কোনো পর্যায়ের রাজনীতির সঙ্গেই তিনি নেই। তার সাতটি মেয়ে। ইতিমধ্যে দুই মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। আরো ৫ মেয়ের বিয়ে নিয়ে দুশ্চিন্তা ও পরিশ্রমে তার শরীর আরো ভেঙে পড়েছে। তিনি এই মামলার বিষয়ে কিছুই জানেন না। অসুস্থ শরীর নিয়েই তিনি ঢাকায় এসেছেন নাশকতার মামলায় আগাম জামিন নিতে। এমনকি ঢাকায় আসা যাওয়ার ভাড়াও নেই তার কাছে। দেয়ালে ঠেস দিয়ে হাউমাউ করে কেঁদে উঠেন শামসুল হক। তার পাশে থাকা কয়েকজন তাকে সান্ত্বনা দেন। শামসুল হক বলেন, কাজকাম কইরা কূল পাই না।
রাজনীতি করমো কহন। ঘরে ৫টা মাইয়া। কয়ডা দিন পালাইয়া ছিলাম। মেয়েগুলার চিন্তায় কিছুই করতে পারি না। এলাকার লোকজন কইলো হাইকোর্টে আইতে, তাই আইলাম। যদি জামিন না পাই তাইলে আমার সংসারডা কেডায় দেখবো? রানীশংকৈলের নন্দোয়ার ইউনিয়ন বিএনপি নেতা শামসুল ইসলাম বলেন, সহজ সরল শামসুল ইসলাম রাজনীতির কিছুই বোঝেন না। আমরা বিএনপির সরাসরি রাজনীতি করলেও তিনি বিএনপির সমর্থক। কিন্তু এরকম একজন অসহায় মানুষের নামেও মামলা দেয়া হবে এটি আমরা ভাবিনি। পরে জানা যায়, দুপুর ২টার পর সংশ্লিষ্ট আদালত থেকে ৮ সপ্তাহের আগাম জামিন পান শামসুল হকসহ অন্যরা। আইনজীবী ও আদালত সংশ্লিষ্টরা জানান, পুলিশের ওপর হামলা, ককটেল বিস্ফোরণ, বিশেষ ক্ষমতা আইন ও বিস্ফোরক আইনসহ বিভিন্ন মামলায় বেশকিছুদিন ধরেই আগাম জামিনের জন্য সারা দেশের বিভিন্ন জেলা, উপজেলা থেকে বিএনপির নেতাকর্মীরা আসছেন সুপ্রিম কোর্টে। সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা বলছেন, সুপ্রিম কোর্টের ইতিহাসে এত বেশি মামলায় আগাম জামিনের আবেদন হাইকোর্টে জমা পড়েনি।
এত বেশি মানুষও হাইকোর্টে আগাম জামিনের জন্য হাজির হননি। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও ফৌজদারি আইন বিশেষজ্ঞ অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন মানবজমিনকে বলেন, ‘সরকার পরিকল্পিতভাবে আগামী নির্বাচনের পূর্বে বিএনপির নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার আতঙ্কে রেখে মাঠ খালি করে একতরফাভাবে নির্বাচন করতে চায়। এ জন্যই সারা দেশে বিএনপির নেতাকর্মীদের নামে এসব ভিত্তিহীন গায়েবি ও কাল্পনিক মামলা দেয়া হচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘সারা দেশ থেকে প্রতিটি কর্মদিবসেই বিএনপির শত শত লোক আগাম জামিন নিতে আসছেন। আর সুপ্রিম কোর্টের ইতিহাসে এত বেশি লোকের আগাম জামিন নিতে আসার নজির অতীতে যেমন নেই তেমনি এত বেশি গায়েবি মামলাও অতীতে হয়নি। এত বেশি লোক জামিন নিতে আদালতে আসেন নি।’ তিনি বলেন, আশার কথা এই যে হাইকোর্ট অনেক উদার হয়েছেন। অন্তর্বর্তীকালীন আগাম জামিন দিচ্ছেন। তবে, দুর্ভাগ্য যে, হাইকোর্ট চার সপ্তাহ কিংবা আট সপ্তাহ আগাম জামিন দিলেও জামিন শেষে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি নিম্ন আদালতে হাজির হলে অনেককেই কারাগারে পাঠানো হচ্ছে। এতেই বোঝা যায় সরকার নিম্ন আদালতে হস্তক্ষেপ করছে।’ খন্দকার মাহবুব আরো বলেন, ‘যারা আগাম জামিন নিতে আসছেন তাদেরকে আমরা সর্বতোভাবে আইনি সহায়তা দিচ্ছি। কিন্তু এমনও আছেন যাদের ঢাকায় আসা যাওয়ার মতো ভাড়া নেই, খাওয়ার টাকা নেই। ওই সব লোকের নামেও মামলা দেয়া হচ্ছে।
দুপুর ১টা। সুপ্রিম কোর্ট অ্যানেক্স (বর্ধিত) ভবনের সামনে দীর্ঘ লাইন। পাশে দাঁড়িয়ে একজন সিরিয়াল নম্বর ও এলাকার নাম বলছেন। সঙ্গে সঙ্গে হাত তুলে ‘আছি’ বলে জানান দিচ্ছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি। কিছুক্ষণ পরই সারিবদ্ধভাবে সবাই গিয়ে হাজির হন ওই ভবনের দোতলার একটি আদালতে। কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা সবাই ঠাকুরগাঁও জেলা, থানা, ইউনিয়ন, ওয়ার্ড পর্যায়ের বিএনপির নেতাকর্মী। নাশকতা, বিশেষ ক্ষমতা আইনসহ বিভিন্ন মামলায় হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন নিতে এসেছেন সর্বমোট ২৪০ জন। তাদের সবাই হাজির কি-না এবং জামিন যাতে হাতছাড়া না হয় তা নিশ্চিত হতেই এ বিশেষ লাইনের ব্যবস্থা।
ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান ও একই উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জিয়াউল ইসলাম জিয়া আলাপকালে জানান, গত ১লা সেপ্টেম্বর ঠাকুরগাঁও জেলা শহরের একটি কমিউনিটি সেন্টারে সকাল ১১টার দিকে মিলাদের আয়োজন করা হয়। ওই দিন সন্ধ্যায় তিনি জানতে পারেন নাশকতার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে তিনিসহ ৩৫ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে। এতদিন অনেকটাই আত্মগোপেনে ছিলেন। আইনজীবীদের সঙ্গে পরামর্শ করে বৃহস্পতিবার আগাম জামিন নিতে এসেছেন তারা। তিনি আরো জানান, বিগত কয়েক মাসের মধ্যে ১৭টি মামলায় ওই জেলার বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের অন্তত ৬শ’ নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে গতকাল বৃহস্পতিবার ২৪০ জন আগাম জামিন নিতে এসেছেন।
ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের কয়েকজন নেতা বলেন, নেতাকর্মীদের আগাম জামিনের জন্য বেশকয়েকদিন ধরে হাইকোর্টে আসতে হচ্ছে। এর আগেও ধাপে ধাপে ২শ’ জনের বেশি নেতাকর্মীর আগাম জামিন হয়েছে। পুলিশের দায়ের করা মামলায় গতকাল হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন নিতে এসেছিলেন রানীশংকৈলের ৮ নম্বর নন্দোয়ার ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ওয়াদুদ বিন নূর আলিফ। তিনি বলেন, গত ১লা সেপ্টেম্বর স্থানীয় থানায় আমার বিরুদ্ধে নাশকতার মামলা হয়। সেই থেকে গ্রেপ্তারের ভয়ে এলাকায় নিয়মিত যেতে পারছি না। শুধু আমি নই ওই থানার বিএনপির সকলপর্যায়ের নেতাকর্মীদের একই অবস্থা। অনেকেই এলাকাছাড়া। আবার অনেকেই আগাম জামিন নিতে হাইকোর্টে আসছেন।
সোহেল মৃধা (৩৩)। চাদপুর মতলব (উত্তর) ফরাজীকান্দি ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। নাশকতার একটি মামলায় গতকাল হাইকোর্টে আগাম জামিন নিতে এসেছেন তিনি। সোহেল মৃধা বলেন, বিগত এক বছরের মধ্যে আমার নামে ৫টি মামলা হয়েছে। সবগুলোতেই জামিনে আছি। আজকে (গতকাল) একটি মামলায় ৮ সপ্তাহের জামিন হয়েছে। তিনি জানান, নারায়নগঞ্জের পঞ্চবটী এলাকায় কফেকশনারীর ব্যবসা রয়েছে তার। পুলিশি ঝামেলার ভয়ে অনেকদিন ধরেই পরিবার থেকে অনেকটাই বিচ্ছিন্ন তিনি। মতলবের (উত্তর) গ্রামের বাড়িতে না থেকে নারায়ণগঞ্জের পঞ্চবটী এলাকায় থাকেন। সোহেল মৃধা বলেন, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে গ্রামের বাড়ি গিয়েছিলাম। সেখান থেকে একটি মামলায় পুলিশ আমাকে গ্রেপ্তার করে। এরপর কারাগার। ১৮ দিন কারাবাস শেষে চাঁদপুরের একটি আদালত থেকে জামিন পাই। এরপর থেকে ভয়ে গ্রামের বাড়িতে নিয়মিত যাই না। তিনি বলেন, ২৫শে নভেম্বর আমার সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়ে সৌশি আক্তারের বার্ষিক পরীক্ষা। মেয়েটার ইচ্ছে ছিল পরীক্ষার সময় আমি তার কাছে থাকবো। কিন্তু মনে হয় তা সম্ভব হবে না। আতঙ্কে থাকি কখন না আবার মামলা হয়, গ্রেপ্তার হয়ে যাই। সোহেল মৃধা আরো বলেন, মামলায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছি। প্রতিনিয়ত আদালতে দৌড়ঝাঁপ করতে হচ্ছে। পারিবারিক, সামাজিক ও আর্থিকভাবেও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। একমাত্র অবলম্বন ব্যবসাটাও হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে।
মতলব (উত্তর) উপজেলা যুবদলের সভাপতি রাশেদ হাসান টিপু (৪৩) বলেন, আমার নামে বিশেষ ক্ষমতা ও বিস্ফারক আইনের দুটি মামলা রয়েছে। দুটিতেই জামিনে আছি। গত ফেব্রুয়ারিতে একটি মামলায় কারাগারে নেয়া হয় আমাকে। ২৫ দিন কারাগারে থেকে পরে মুক্তি পাই। তিনি বলেন, আজ (গতকাল) এই উপজেলার বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে যারা জামিন নিতে এসেছেন তাদের অনেকেই মামলায় বিপর্যস্ত। কেউবা অসহায়। অনেকের ঢাকায় আসা ও যাওয়ার মতো ভাড়াও নেই। আমরা যারা নেতৃত্বস্থানীয় তারাই তাদের জামিনের জন্য চেষ্টা করছি। তিনি আরো বলেন, আমরা মামলায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছি। এলাকায় যেতে পারি না। যদি যেতেও হয় সকালে গিয়ে ওই দিনই ফিরে আসি। সবশেষ গত ২০শে অক্টোবর গ্রামের বাড়িতে গিয়েছিলাম। রাতে থাকতে পারিনি। ওই দিনই চলে আসি। তিনি বলেন, স্থানীয় এলাকায় বালু পাথরের ব্যবসা রয়েছে আমার। কিন্তু সেই ব্যবসাও অনেকটাই স্লথ। গ্রেপ্তার হয়রানির ভয়ে বেশির ভাগ সময় ঢাকাতেই থাকি।
নাশকতার মামলায় হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন নিতে এসেছেন মতলবের (উত্তর) ১০ নম্বর পূর্ব ফতেপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মো. সজীব আল ফালাক (২৬)। তিনি জানান, এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে তার নামে বিশেষ ক্ষমতা ও বিস্ফোরক আইনে একটি মামলা হয়। ওই মামলায় তিনি জামিনে আছেন। ওয়েস্ট কোস্ট ম্যানেজমেন্ট টেকনোলজিতে মেকানিক্যাল বিভাগে এমএসসি করছেন তিনি। পাশাপাশি ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। সজীব আল ফালাক বলেন, রাজনীতি যে এত কঠিন সেটি আগে বুঝিনি। গ্রেপ্তার হয়রানির আতঙ্কে থাকি প্রতিনিয়ত। পড়াশুনাও বিঘ্নিত হচ্ছে। গ্রামের বাড়িতে নিয়মিত যেতে পারি না। এখন থাকি পুরান ঢাকার ফরিদাবাদ এলাকায় এক আত্মীয়র বাসায়। বলা চলে দুঃসহ জীবন পার করছি। আগাম জামিন নিতে আসা চাঁদপুর বিএনপির একজন নেতা বলেন, এভাবে আদালতে দৌড়ঝাঁপ করতে গিয়ে আমাদের সামাজিক ও পারিবারিক জীবন ব্যাহত হচ্ছে। অনেকেই পরিবারের কাছ থেকে অনেকটাই বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছেন।
হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন নিতে আসা ময়মনসিংহের গৌরিপুরের মইলাকান্দা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. রিয়াদুজ্জামান (৩৬) বলেন, গত ৭/৮ বছরে আমার নামে ৫২টি মামলা হয়েছে। এর সবগুলোতে জামিনে আছি। একটি মামলায় গত ১৩ই অক্টোবর কারাগারে যাই। প্রায় একমাস পর কারামুক্তি পাই। আজও (গতকাল) তিনটি মামলায় ১০৪ জনের আগাম জামিন হয়েছে। এর মধ্যে আমিও আছি। তিনি বলেন, গত কয়েকবছরে আদালতের বারান্দায় হয়ে গেছে আমাদের বাড়িঘর। আজ এই মামলা তো কাল সেই মামলা। শুধু আমি নই এলাকার আমাদের প্রায় সব নেতকর্মীরই একই অবস্থা। মামলায় হাজিরা দিতে দিতে আমাদের এখন গা-সওয়া হয়ে গেছে। মনে হচ্ছে এটাই বোধহয় আমাদের নিয়তি। গৌরিপুরের ডৌহাখলার মজিবুর রহমান জানান, এলাকায় তিনি কৃষিকাজ করেন। বিএনপির কোনো পর্যায়ের রাজনীতির সঙ্গেই তিনি জড়িত নন। তবে, ওই রাজনৈতিক দলের সমর্থক হওয়ার কারণেই তাকেও মামলার আসামি করা হয়েছে বলে জানান তিনি। মজিবুর রহমান বলেন, কয়েকদিন ধইরা পালাইয়াছিলাম। আইজ জামিন পাইছি।
চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক তৌহিদুল ইসলামের সঙ্গে কথা হয় সুপ্রিম কোর্ট এলাকায়। আলাপকালে জানান বিশেষ ক্ষমতা আইনের একটি মামলায় হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন নিতে এসেছেন তিনি। তিনি বলেন, আমিসহ আরো অনেকের নামে গত জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ৬টি মামলা দিয়েছে পুলিশ। এর মধ্যে ৫টি মামলায় ঘুরেফিরে ৪২ জনকে আসামি করা হয়েছে। হাইকোর্টে এসেছিলাম আগাম জামিন নিতে। তিনি বেলন, আদালত আমাদের ৮ সপ্তাহের আগাম জামিন দিয়েছেন। কিন্তু ভয় আর আতঙ্ক আমাদের কাটে না। এই বুঝি নতুন কোনো মামলা দিয়ে কারাগারে পাঠিয়ে দেয়া হয়, সেই দুশ্চিন্তায় থাকি। তিনি বলেন, আমাদের নামে যে হারে মামলা করা হচ্ছে এবং যেভাবে আমরা আদালতের বারান্দায় দৌড়াচ্ছি তাতে এটি আমাদের জন্য নতুন এক অভিজ্ঞতা। পরিবার পরিজন, কাজকর্ম বাদ দিয়ে আমরা এখন কেবলই মামলা নিয়ে দৌড়াচ্ছি।

জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে ইসরাইল বিরোধী ৯টি প্রস্তাব পাস

জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে ইসরাইল বিরোধী নয়টি প্রস্তাব পাস হয়েছে। এটা ফিলিস্তিনের ওপর ইহুদিবাদী ইসরাইলের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের শামিল। এই প্রথমবারের মতো আমেরিকা ইসরাইল বিরোধী প্রস্তাবে ভেটো দেওয়া থেকে বিরত ছিল। ভেটো দিলে ইসরাইলের প্রতি আমেরিকার পরিপূর্ণ সমর্থনের নীতিই প্রকাশ পেত।
জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের চতুর্থ কমিটির পক্ষ থেকে প্রস্তাব গ্রহণের পাশাপাশি ফিলিস্তিনিদেরসহ সেখানে বসবাসরত অন্যান্য আরবদের ওপর ইসরাইলি অবৈধ পদক্ষেপগুলোর নিন্দা জানানো হয়েছে। বিশেষ করে অবৈধ বসতি স্থাপনের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। ফিলিস্তিনের অধিবাসীদের ওপর ইসরাইলের সংহিংসতাপূর্ণ পদক্ষেপের সমালোচনা করে সাধারণ অধিবেশন থেকে মানবাধিকার লঙ্ঘনমূলক ইসরাইলি ঘৃণ্য পদক্ষেপ বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছে। নির্বিচার গুলি বর্ষণ করা, নিরীহ ফিলিস্তিনেীদের ওপর হামলা চালিয়ে হতাহত করা কিংবা বেসামরিক নারী-পুরুষ শিশুদের গ্রেফতার করে কারাবন্দী করার মতো পাশবিকতা বন্ধেরও আহ্বান জানানো হয়েছে।
জাতিসংঘের প্রস্তাব মানতে যদিও বাধ্য নয় ইসরাইল তবু তাদের সমূহ অপরাধযজ্ঞের বিরুদ্ধে বিশ্বের এতোগুলো দেশ যে নিন্দা জানিয়েছে বিশেষ করে 'গোলান' প্রস্তাব যে গ্রহণ করেছে তার মধ্যে ইসরাইলের জন্য সুস্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে। বার্তাটি হলো গোলান মালভূমি দখল করা আন্তর্জাতিক নীতিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
যেমনটি জাতিসংঘে নিযুক্ত সিরিয়ার স্থায়ী প্রতিনিধি বাশার আল জাফারি বলেছেন: গোলান সিরিয়ার অংশ। দামেশক এই অঞ্চলকে শান্তিপূর্ণ উপায়ে হোক কিংবা যুদ্ধের মাধ্যমেই হোক, উদ্ধার করবে।
ইহুদিবাদী ইসরাইল মার্কিন সহায়তায় ফিলিস্তিনীদের ওপর অমানবিক অত্যাচার চালিয়ে যাচ্ছে। ফিলিস্তিনীদের ওপর এই দ্বিপক্ষীয় চাপ সৃষ্টিকে 'ডিল অব দ্য সেঞ্চুরি' শতাব্দির চুক্তি মেনে নেয়ার কৌশল বলে মনে করা হচ্ছে। ট্রাম্প ক্ষমতার বসার পর থেকেই ফিলিস্তিনীদের বিরুদ্ধে ইসরাইলকে একচেটিয়া সমর্থন দিয়ে এসেছে। বিশ্ব জনমতকে উপেক্ষা করে ট্রাম্প বায়তুল মোকাদ্দাসকে ইসরাইলের রাজধানী ঘোষণা করেছে। গায়ের জোরে মার্কিন দূতাবাস বায়তুল মোকাদ্দাসে স্থানান্তর করেছে। ফিলিস্তিনী শরণার্থীদের দেওয়া সাহায্য বন্ধ করে দিয়েছে। যার ফলে ফিলিস্তিনীদের ভোগান্তি বেড়েই চলেছে।
এরকম পরিস্থিতিতে ইসরাইল বিরোধী ৯টি প্রস্তাব পাশের ঘটনা প্রমাণ করছে যে, ইহুদিবাদী ইসরাইলের বিরুদ্ধে সমগ্র বিশ্ব আজ ঐক্যবদ্ধ এবং এই ঐক্য ক্রমশ শক্তিশালী হচ্ছে।