Tuesday, April 19, 2016

ইরানে পার্লামেন্ট নির্বাচন ২০১২ সালের মার্চে

ইরানে ২০১২ সালের মার্চ মাসে পার্লামেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। দেশটির অভ্যন্তরীণমন্ত্রী মোস্তফা মোহাম্মদ নাজ্জার গতকাল রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমকে এ কথা জানান। তিনি বলেন, মজলিসের নির্বাচন মার্চ মাসের দুই তারিখে অনুষ্ঠিত হবে।
ইরানের নির্বাচনী পর্যবেক্ষক সংস্থা ‘দ্য গার্ডিয়ানস কাউন্সিল’ নিবন্ধিত প্রার্থীদের প্রার্থিতা খতিয়ে দেখবে। সংস্থাটি নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফলও সত্যায়ন করবে।
২০০৯ সালের জুন মাসে অনুষ্ঠিত ইরানের গত নির্বাচনে কট্টরপন্থী নেতা আহমাদিনেজাদ নির্বাচিত হন। তবে বিরোধী নেতারা ভোট কারচুপির অভিযোগ তুলে গণবিক্ষোভের ডাক দিয়েছিলেন। এ বিক্ষোভে বহু মানুষ নিহত ও গ্রেপ্তার হন।
প্রসঙ্গত, বিরোধীদলীয় নেতা মির হোসেন মৌসাভি গত ফেব্রুয়ারিতে এক বিক্ষোভ সমাবেশে যোগ দেওয়ার পর তাঁকে গৃহবন্দী করা হয়।

ফরাসি ওয়াইনের উৎস ইতালি!

আঙুরের রস থেকে উৎপাদিত পানীয় ওয়াইনের জগতে ফরাসি ওয়াইন বিশ্বখ্যাত। এ নিয়ে ফরাসিদের গর্বের শেষ নেই। কিন্তু প্রত্নতাত্ত্বিকেরা বলছেন, এই পানীয়ের উৎপত্তিস্থল ফ্রান্স নয়, বরং ইতালি। প্রসিডিংস অব দ্য ন্যাশনাল একাডেমি অব সায়েন্সেস সাময়িকীতে প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, আনুমানিক ৫০০ খ্রিষ্ট-পূর্বাব্দে ইতালির প্রাচীন এত্রুসকান জনগোষ্ঠীর কাছ থেকে অ্যামফোরা নামের একধরনের বড় পাত্র আমদানি করা হয়েছিল। ওই পাত্রে ওয়াইনের উপস্থিতির রাসায়নিক প্রমাণ মিলেছে। মনে করা হচ্ছে ইতালির এত্রুসকান সভ্যতাতেই আঙুরজাত এ পানীয় উৎপাদনের সূচনা। তখন এই পানীয়ের ভেষজগুণের জন্য হয়তো তা দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রায় সংরক্ষণ করা হতো। ইতালির প্রাক-রোমান যুগের বাসিন্দা এত্রুসকান জনগোষ্ঠী সম্ভবত মধ্যপ্রাচ্যের প্রাচীন জাতি ফিনিশীয়দের কাছ থেকে ওয়াইনের ব্যবহার শিখেছিল। লৌহযুগের শুরুর দিকে ফিনিশীয়রা ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছিল। তারাও এত্রুসকানদের মতো একই ধরনের পাত্র ব্যবহার করত। ওয়াইনের উৎপত্তি ও বিকাশের ইতিহাস নিয়ে নানা ধরনের তথ্য রয়েছে। বর্তমান ইরান, জর্জিয়া ও আর্মেনিয়া অঞ্চলে প্রথম ওয়াইন উৎপাদিত হয় বলে গবেষকদের ধারণা। তাঁদের মতে, পরে এই পানীয় উৎপাদনশিল্প ইউরোপে ঠাঁই করে নেয়। পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয় জাদুঘরের গবেষক প্যাট্রিক ম্যাকগভার্ন ২০০৪ সালে দাবি করেন, মধ্যপ্রাচ্যের আগেই চীনে চাল থেকে ওয়াইন উৎপাদন শুরু হয়েছিল। তবে কীভাবে তা ফ্রান্স ও মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়েছিল তা অস্পষ্ট। বিবিসি।

আইএসের আয় কমেছে এক–তৃতীয়াংশ

মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) আয় গত বছরের মাঝামাঝি থেকে প্রায় তিন ভাগের এক ভাগ কমে গেছে। বিভিন্ন ভূখণ্ডের ওপর থেকে নিয়ন্ত্রণ হারানোর ফলে কর আদায়ের খাত কমে যাওয়া এর কারণ বলে একটি গবেষণা গ্রুপ জানিয়েছে। গ্রুপটি বলছে, আয় কমে যাওয়ায় আইএস এখন নতুন কর আদায়ের পথে ঝুঁকছে। আইএইচএস নামের এ গ্রুপের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক লুদোভিকো কার্লিনো বলেন, ২০১৫ সালের মাঝামাঝি আইএসের মাসিক সার্বিক আয় ছিল প্রায় আট কোটি ডলার। আইএস-নিয়ন্ত্রিত এলাকার বিভিন্ন বিষয়ের ওপর নিয়মিতভাবে নানা প্রতিবেদন তৈরি করে থাকে আইএইচএস। কার্লিনো বলেন, ‘২০১৬-এর মার্চে এসে আইএসের মাসিক আয় কমে দাঁড়িয়েছে ৫ কোটি ৬০ লাখ ডলারে।’ আইএইচএসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইএস-নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোতে তেলের উৎপাদন দৈনিক ৩৩ হাজার ব্যারেল থেকে নেমে হয়েছে ২১ হাজার ব্যারেল। তেল উৎপাদন কমে গেছে প্রধানত যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন জোট বাহিনী ও রাশিয়ার বিমান হামলার কারণে। আইএইচএস অবশ্য সতর্ক করে বলেছে, তেলের উৎপাদন কমে যাওয়াটা ‘সাময়িক বিঘ্ন সৃষ্টিকারী’ ঘটনামাত্র। কেননা, আইএসের যোদ্ধারা ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো দ্রুত মেরামতের সামর্থ্য রাখেন। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, আইএসের আয়ের প্রায় ৫০ শতাংশ আসে কর এবং বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও সম্পদ জব্দের অর্থ থেকে। ৪৩ শতাংশ আসে তেল উৎপাদন থেকে। বাকিটা মাদকদ্রব্য, চোরাচালান, বিদ্যুৎ বিক্রি ও অনুদান থেকে। কার্লিনো বলেন, ‘ওই অঞ্চলে (মধ্যপ্রাচ্যে) আইএস এখনো একটি প্রতিষ্ঠিত শক্তি। তবে তাদের আয়ের এ কমতির বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। এর ফলে দীর্ঘ মেয়াদে নিজেদের দখলকৃত এলাকা পরিচালনায় তাদের চ্যালেঞ্জ বাড়বে।’ আইএইচএস বলেছে, গত ১৫ মাসে আইএস তাদের দখলকৃত এলাকার প্রায় ২২ শতাংশের নিয়ন্ত্রণ খুইয়েছে। এখন তাদের শাসনাধীনে রয়েছে ৬০ লাখের মতো মানুষ। আগে ছিল ৯০ লাখ। এর অর্থ হলো তাদের কর আদায়ের ভিত্তি গেছে সংকুচিত হয়ে। আইএসের এই ঘাটতি পুষিয়ে নেওয়ার পদক্ষেপ বর্ণনা করে কার্লিনো বলেন, ‘আমাদের গবেষণায় দেখা গেছে, আইএস মৌলিক সেবা খাত থেকে কর আদায় বাড়াচ্ছে এবং জনগণের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের নতুন পন্থা বের করছে।’

ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবি, ৫০০ অভিবাসীর প্রাণহানির আশঙ্কা

ইউরোপে যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবিতে পাঁচ শতাধিক অভিবাসীর প্রাণহানি হয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আজ সোমবার ইতালির প্রেসিডেন্ট সার্জিও মাত্তারেলা নৌকাডুবির বিষয়টি নিশ্চিত করেন। খবর বিবিসি ও ওয়াশিংটন পোস্টের।বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডুবে যাওয়া নৌকা থেকে ৪১ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রিসের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর কালামাতা থেকে তাঁদের উদ্ধার করা হয়। তাঁরা জানিয়েছেন, নৌকাটিতে বেশির ভাগ যাত্রীই ছিলেন পূর্ব আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের। তাঁরা ভূমধ্যসাগর হয়ে ইতালির দিকে যাচ্ছিলেন। এই যাত্রীরা বলছেন, তাঁদের সঙ্গে থাকার অন্তত ৫০০ যাত্রী ডুবে মারা গেছেন। তবে মৃত যাত্রীর সংখ্যা আনুষ্ঠানিক কোনো সূত্র থেকে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ​ওয়াশিংটন পোস্ট জানায়, ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রীও নৌকাডুবির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে, তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি। নৌকাটিতে সোমলিয়ারও কয়েকজন যাত্রী ছিলেন বলে জানিয়েছেন মিসরে থাকা সোমালিয়ার একজন নারী। তিনি বলেন, তাঁর তিনজন স্বজন গত বৃহস্পতিবার ওই নৌকায় ইউরোপের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন। তাঁরাও মারা গেছেন। নৌকাডুবির সোমলিয়ার প্রেসিডেন্ট হাসান শেখ মোহাম্মদ শোক প্রকাশ করেছেন। এর আগে আজ সকালে লিবিয়ার উপকূলে নৌকা ডুবির আরেকটি ঘটনায় ছয়জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। গত বছরের এপ্রিলে এই ভূমধ্যসাগরেই নৌযান ডুবিতে প্রায় ৮০০ অভিবাসীর প্রাণহানি ঘটে। জাতিসংঘের তথ্যমতে, চলতি বছর এ পর্যন্ত এক লাখ ৮০ হাজার অভিবাসী ঝুঁকিপূর্ণভাবে সাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে ঢোকার চেষ্টা করেছে। এর মধ্যে অন্তত ৮০০ জনের মৃত্যু হয়েছে।
ভূমধ্যসাগর দিয়ে কয়েক দশক ধরেই এভাবে অভিবাসীরা বিপজ্জনকভাবে ইউরোপ যাওয়ার চেষ্টা করছে। ইরাক, সিরিয়া ও লিবিয়া সংকটের জের ধরে সাম্প্রতিক সময়ে এভাবে সাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপের দেশগুলোতে যাওয়ার ঘটনা বেড়েছে। বিশেষ করে বছরের এই সময়ে সাগর কিছুটা শান্ত থাকায় বিভিন্ন আকারের ঝুঁকিপূর্ণ নৌযানে করে শত শত মাইল দূরের ইউরোপে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে অভিবাসীরা।

ইকুয়েডরে ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৫০

ইকুয়েডরে ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৫০ জনে দাঁড়িয়েছে। আহত হয়েছে অন্তত দুই হাজার। লাতিন আমেরিকার এই দেশটিতে গত কয়েক দশকের মধ্যে এটি সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প। খবর এএফপি ও বিবিসি অনলাইনের। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক দপ্তর (ইউএসজিএস) জানায়, স্থানীয় সময় গত শনিবার রাতে আঘাত হানে। রিখটার স্কেলে ওই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৮। ইউএসজিএস বলেছে, ইকুয়েডরের উত্তর-পশ্চিম উপকূলে ছিল এ ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল। ভূমিকম্পের পর হাজার হাজার মানুষ তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে। বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ছয়টি প্রদেশে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। সুইজারল্যান্ড, স্পেন ও লাতিন আমেরিকার কয়েকটি দেশের উদ্ধারকারী দল উদ্ধারকাজে অংশ নিয়েছে। রাতের ভূমিকম্পের পর ১৬৩টি পরাঘাত (ভূমিকম্প-পরবর্তী মৃদু কম্পন) অনুভূত হয়। প্রায় এক মিনিট স্থায়ী এ ভূমিকম্পের কম্পন ইকুয়েডর ছাড়াও প্রতিবেশী পেরু ও কলম্বিয়ার অংশবিশেষেও টের পাওয়া যায়। তবে ওই দুই দেশে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াইভিত্তিক প্রশান্ত মহাসাগরীয় সুনামি সতর্কীকরণ কেন্দ্র প্রশান্ত মহাসাগরের কাছাকাছি অঞ্চলে সুনামি সতর্কতা জারি করে। পরে অবশ্য তা তুলে নেওয়া হয়। ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্ট রাফায়েল কোরাইয়া রাষ্ট্রীয় সফরে ইতালিতে ছিলেন। ভূমিকম্পের পর সফর সংক্ষেপ করে তাৎক্ষণিকভাবে দেশে ফিরে আসেন। দুর্যোগে দেশবাসীকে শান্ত ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি। রাফায়েল কোরাইয়া বলেন, ভূমিকম্পের এ ঘটনায় দেশটির কয়েক বিলিয়ন ডলার অর্থিক ক্ষতি হয়েছে। এর আগে গতকাল রোববার দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট হোর্হে গ্লাস বলেছিলেন, ভূমিকম্পে অন্তত ২২৫ জন নিহত ও দেড় হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছে। তিনি বলেছিলেন, নিহত মানুষের সংখ্যা বাড়তে পারে। অনেকে বিধ্বস্ত বাড়িঘরের নিচে আটকে আছে। উদ্ধার তৎপরতায় নিয়োজিত পুলিশ, সেনাবাহিনী ও জরুরি পরিষেবা দানকারী সব সংস্থাকে জানমাল রক্ষায় সর্বোচ্চ চেষ্টার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইকুয়েডর কর্তৃপক্ষ জানায়, সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে পরিচালিত উদ্ধারকাজে ১৪ হাজার নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য, ২৪১ জন চিকিৎসাকর্মী ও দুটি ভ্রাম্যমাণ হাসপাতাল নিয়োজিত রয়েছে। অভিযানে কলম্বিয়া ও মেক্সিকো থেকে আরও কর্মী যোগ দিচ্ছেন। প্রায় এক মিনিটের কম্পনে সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে ইকুয়েডরের অনেকেই। এদের একজন রাজধানী কিটোর বাসিন্দা মারিয়া টোরেস। ষাটোর্ধ্ব এই নারী বলছিলেন, ‘ওহ ঈশ্বর! সারা জীবনে এত ভয়াবহ আর শক্তিশালী ভূমিকম্প দেখিনি। আমার মাথা ঘুরছিল। ছুটে রাস্তায় বের হওয়ার চেষ্টা করছিলাম। কিন্তু পারছিলাম না।’
ভূমিকম্পের পর কন্ট্রোল টাওয়ার পুরোপুরি বিধ্বস্ত হওয়ায় মান্টার বিমানবন্দর বন্ধ করে দেওয়া হয়। মান্টা ছাড়াও গুয়েইয়াকুইল বিমানবন্দরও বন্ধ করে দেওয়া হয়। ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত ইকুয়েডরবাসীর প্রতি শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন পোপ ফ্রান্সিস, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রধান কূটনীতিক ফ্রেদেরিকা মগেরিনি। দেশটিকে সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইইউ। ইকুয়েডরে আঘাত হানা এ ভূমিকম্পের আগে গত শনিবার জাপানে ভূমিকম্পে মারা যায় অন্তত ৪১ জন। গত ১০০ বছরে ইকুয়েডরে সাতটি বড় ধরনের ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এগুলোর মধ্যে ১৯৮৭ সালে ভূমিকম্পে প্রায় এক হাজার মানুষ প্রাণ হারায়।

কোহিনূর চুরি বা লুট হয়নি!

মূল্যবান রত্ন কোহিনূর চুরিও হয়নি, লুটও হয়নি। ভারতের কোহিনূর ফিরে পাওয়ার আশা ভারত সরকারই প্রায় ক্ষীণ করে দিল। ফারসি ভাষায় যা ‘আলোর পর্বত’, ভারতে তার পোশাকি নাম স্রেফ কোহিনূর। এ সেই বিরল হীরা, যার কোনো ব্যাখ্যা বা বিশেষণে আজ পর্যন্ত কেউ আগ্রহীও হননি। কোহিনূরের এক ও অদ্বিতীয় অর্থ হীরাই। সেই কোহিনূরের অধিকার ফিরে পাওয়ার দাবি থেকে ভারত প্রায় পিছিয়েই এল। সোমবার সুপ্রিম কোর্টে ভারতের সলিসিটর জেনারেল রণজিৎ কুমার জানান, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় মনে করে, ইংরেজ শাসকেরা ভারত থেকে কোহিনূর চুরি যেমন করেননি, তেমনই লুট করেও নিয়ে যাননি। পাঞ্জাবের মহারাজা রণজিৎ সিং ১৮৪৯ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে নিজেই এই অমূল্য সম্পদ উপহার দিয়েছিলেন। হঠাৎই কোহিনূর আলোচনার শীর্ষে এক মামলার কারণে। মামলাটি করে অল ইন্ডিয়া হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড সোশ্যাল জাস্টিস ফ্রন্ট। কোহিনূর, টিপু সুলতানের তরবারি, আংটিসহ প্রাচীন অমূল্য সম্পদ ইংল্যান্ড থেকে ভারতে ফিরিয়ে আনার দাবিতেই এই মামলা। সুপ্রিম কোর্ট এ বিষয়ে ভারত সরকারের মনোভাব জানতে চাইলে সলিসিটর জেনারেল সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এই মনোভাব জানিয়ে বলেন, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অভিমতও এ রকম। যদিও তারা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এই অভিমত জানায়নি। ছয় সপ্তাহের মধ্যে এ বিষয়ে চূড়ান্ত মতামত জানানোর নির্দেশ দেওয়ার আগে সুপ্রিম কোর্ট সরকারকে সাবধান করে বলেন, ‘ভেবেচিন্তে মতামত দেবেন। কারণ, ভবিষ্যতে আর কোনো দাবি জানানোর উপায় কিন্তু সরকারের থাকবে না।’ তিন বছর আগে ভারত সফরের সময় ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন কোহিনূর ফেরত দেওয়ার দাবি উড়িয়ে দিয়েছিলেন। ভারত সরকারের যা মনোভাব, তাতে মনে হচ্ছে, কোহিনূরের দাবিই সরকার আর কোনো দিন জানাবে না। মহারানি ভিক্টোরিয়ার মুকুটে আনুষ্ঠানিকভাবে এই রত্ন শোভা পায়, টাওয়ার অব লন্ডনেও সাধারণের চোখে ধরা পড়ে। কিন্তু ত্রয়োদশ শতকে অন্ধ্র প্রদেশের গুন্টুর থেকে ৭৯৩ ক্যারেটের যে হীরা ‘আনকাট’ অবস্থায় তোলা হয়েছিল, কালে কালে বারবার কাটার পর তা এখন ১০৫ ক্যারেটের স্বচ্ছতম সম্পদ।

জীবন্ত চার্লি চ্যাপলিন!

চ্যাপলিন জাদুঘর
চোখের সামনে নড়াচড়া করছেন চার্লি চ্যাপলিন। সিনেমায় দেখা ভারী যন্ত্রের চাকার সঙ্গে ঘুরছেন। অথবা ঝড়ের কবলে পড়া জাহাজের কেবিনের মেঝেতে টলমল করে হাঁটছেন। দেখে হাসি চেপে রাখা দায়। চ্যাপলিনের এসব মজার দৃশ্যই জীবন্ত হয়ে উঠছে তাঁর স্মৃতিতে ঘেরা সুইজারল্যান্ডের জাদুঘর ‘চ্যাপলিনস ওয়ার্ল্ড’-এ। সম্প্রতি জাদুঘরটির উদ্বোধন করা হয়। লেক জেনেভার কাছে করসিয়ার সার ভেভে গ্রামে জাদুঘরটি নির্মাণ করা হয়েছে। চ্যাপলিনের ১২৭তম জন্মদিন উপলক্ষে জাদুঘরটির উদ্বোধন হয়। জাদুঘর দেখে আবেগে আপ্লুত চ্যাপলিনের ৬২ বছর বয়সী ছেলে ইউজেন। এএফপিকে বললেন, চ্যাপলিন মানুষের স্মৃতিতে বেঁচে থাকতে চেয়েছিলেন। চাইতেন মানুষ তাঁকে সব সময় মনে রাখুক। এই জাদুঘর তাঁর স্মৃতিকে অটুট রাখবে। লসান থেকে ২৬ কিলোমিটার দূরে ম্যানয়ের দ্য বানে জাদুঘরটি প্রতিষ্ঠিত। এখানেই চ্যাপলিনের জীবনের ২৫টি বছর কেটেছে। এখানেই ১৯৭৭ সালে ৮৮ বছর বয়সে মারা যান চ্যাপলিন। তিনি কমিউনিস্টঘেঁষা বলে সন্দেহে করে বসে যুক্তরাষ্ট্র। তাই পঞ্চাশের দশকে তাঁর জন্য সে দেশের দুয়ার বন্ধ হয়ে যায়। পরে সুইজারল্যান্ডে পাড়ি জমান তিনি। জাদুঘরের অর্ধেকটা জুড়ে চ্যাপলিন, তাঁর স্ত্রী উনা ও আট সন্তানের ব্যক্তিগত জীবনের ছবি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। চ্যাপলিনের ৭০ বছর বয়সী ছেলে মাইকেল বলেন, জাদুঘরে এসে মনে হচ্ছে এটি যেন তাঁদের বাড়ি। এখানে এসে তিনি তাঁর ছেলেবেলা খুঁজে পেয়েছেন। জাদুঘরের আরেক অংশ হলিউডের স্টুডিওর আদলে নির্মিত। এখানে চ্যাপলিনের পর্দার চরিত্র ও কাজ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ১৯১৪ সাল থেকে চ্যাপলিনের রুপালি পর্দার জীবন শুরু হয়। চ্যাপলিনের জনপ্রিয় চলচ্চিত্রের অসাধারণ দৃশ্যায়ন রয়েছে জাদুঘরে। দর্শনার্থীরা অনায়াসে হাঁটতে পারবেন ‘ইজি স্ট্রিট’ চলচ্চিত্রের রাস্তায়, দেখতে পারবেন ‘দ্য গ্রেট ডিক্টেটর’ সিনেমার সেই নরসুন্দরের দোকান। ‘দ্য ইমিগ্র্যান্ট’ সিনেমায় রেস্তোরাঁয় বসে চ্যাপলিনের সেই জুতো চিবিয়ে খাওয়ার দৃশ্যও জীবন্ত হয়ে উঠবে। মাইকেল বলেন, বাবাকে সব সময় তাঁরা ছটফটে দেখেছেন। এই জাদুঘরটিও যেন তাঁর বাবার মতোই ছটফটে। চ্যাপলিনস ওয়ার্ল্ড জাদুঘরের আরও একটি আকর্ষণীয় দিক ছিল মোমের তৈরি ৩০টিরও বেশি মূর্তি। ফ্রান্সের প্যারিসের গ্রেভিন ওয়াক্স জাদুঘর এই মূর্তিগুলো বানিয়েছে। এই জাদুঘরে রয়েছে চ্যাপলিনের স্ত্রী উনা, তাঁর চলচ্চিত্রের অভিনেতা, অভিনেত্রী, বন্ধুবান্ধব, চ্যাপলিনের অনুরাগী বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব, যেমন: বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইন, মাইকেল জ্যাকসন, উডি অ্যালেন প্রমুখের মূর্তি। জাদুঘরের রক্ষক ও পরিচালক ইভস ডুরান্ড বলেন, ‘জাদুঘরটি জীবন্ত করে তুলতে আমরা কঠোর পরিশ্রম করেছি।’ জাদুঘরের খিলানে চ্যাপলিন আরও জীবন্ত। এখানে রয়েছে তাঁর ব্যবহৃত শক্ত গোল টুপি, তাঁর সেই বিখ্যাত ছড়ি, অদ্ভুত পাজামা, ‘দ্য কিড’ চলচ্চিত্রে পরা বাঁকানো জুতো। চ্যাপলিনের ছেলে মাইকেল চ্যাপলিন বলেন, বাবার ব্যবহৃত জিনিসগুলো তিনি বহুদিন ধরে সযত্নে রেখেছিলেন। এসব জিনিস এত দিন সিনেমাতেই দেখেছেন। এখন জাদুঘরে এগুলো যেন তাঁর বাবাকে জীবন্ত করে তুলেছে। ১৯৭৫ সালে নাইট উপাধি পান চ্যাপলিন। জাদুঘরের একপাশে একটি শোকেসে রানি এলিজাবেথের সই করা সেই সনদ রয়েছে। রয়েছে চ্যাপলিনের অস্কার পুরস্কারটিও। ‘লাইমলাইট’ চলচ্চিত্রের জন্য এই পুরস্কার জেতেন চ্যাপলিন। তবে তিনি ১৯৭৩ সাল পর্যন্ত কোনো অস্কার পুরস্কার পাননি। এমনকি ১৯৫২ সালে যুক্তরাষ্ট্র এই সিনেমা আটকেও দেয়। চ্যাপলিনকে স্মরণ করে গড়ে ওঠা এই জাদুঘরও ১৫ বছর ধরে আটকে ছিল। জাদুঘরের জন্য ভবন নির্মাণের অনুমতি পেতেই সময় লাগে সাত বছর। সংগঠকদের আইনি প্রক্রিয়া পার হতে আরও পাঁচ বছর অপেক্ষা করতে হয়। চ্যাপলিনের ছেলে ইউজেন চ্যাপলিন বলেন, শুরুতে মনে হয়েছিল তাঁদের স্মৃতিময় বাড়িটি নষ্ট হয়ে যাবে। ঘাসের ওপর বুলডোজার চলাও তিনি সহ্য করতে পারেননি। জাদুঘর নির্মাণের সময় তিনি সেখানেই ছিলেন। এখন এই জাদুঘরও বাড়ির মতো স্মৃতিময় হয়ে উঠেছে। এখানে তিনি আবার তাঁর হারানো বাবাকে খুঁজে পাচ্ছেন।

‘হ্যাকাররা বাংলাদেশ বা ফিলিপাইনের নয়’ by লিরা ফার্নান্দেজ

জন গোমেজ
বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরির ঘটনায় জড়িত হ্যাকাররা বাংলাদেশ বা ফিলিপাইনের নাগরিক নয়। ফিলিপাইনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত জন গোমেজ এমনটাই দাবি করেছেন। এক সাক্ষাৎকারে এই প্রতিবেদককে জন গোমেজ বলেন, ‘এ ব্যাপারে প্রাপ্ত তথ্য আমি প্রকাশ করতে পারছি না। তবে জেনেছি, বাংলাদেশ বা ফিলিপাইনের কেউ এই হ্যাকিংয়ে জড়িত নয়।’ জন গোমেজ বলেন, ‘অন্য দেশের কেউ এ কাজ করেছে। তবে কে এই কাজ করেছে, তা আমি প্রকাশ করতে পারছি না। সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে যা খুবই নিশ্চিত, তা হলো জড়িত হ্যাকাররা বাংলাদেশ বা ফিলিপাইনের কেউ নয়।’ জন গোমেজ জানান, অর্থ চুরির এই ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের কেউ সহযোগিতা করেছেন কি না, তা খুঁজে বের করতে তদন্ত চলছে। অর্থ চুরির ঘটনা নিয়ে আগামীকাল মঙ্গলবার ফিলিপাইনের ব্লু রিবন সিনেট কমিটির শুনানি ফের শুরু হচ্ছে।আসলে কী ঘটেছিল, সিনেটররা তা খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন বলে বিশ্বাস রাষ্ট্রদূত জন গোমেজের। গত ৪ ফেব্রুয়ারি রাতে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কে রক্ষিত বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি করা হয়। এর মধ্যে দুই কোটি ডলার যায় শ্রীলঙ্কায়। ওই অর্থ ফেরত পেয়েছে বাংলাদেশ। চুরি হওয়া বাকি ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার গেছে ফিলিপাইনে। দেশটির রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং করপোরেশনের (আরসিবিসি) মাকাতি শহরের জুপিটার স্ট্রিট শাখার মাধ্যমে এই অর্থ স্থানান্তর হয়। সিনেট কমিটির শুনানিতে আরসিবিসির প্রেসিডেন্ট লরেঞ্জো তান বলেছেন, তাঁর ব্যাংক অর্থ পাচারের অভিযোগে দোষী প্রমাণিত হলে চুরি যাওয়া ৮ কোটি ১০ লাখ ডলারের একটি নির্দিষ্ট অংশ জরিমানা হিসেবে ফেরত দেবে।

এ-ওয়ান পলিমারের ডিলার সম্মেলন

‘শীর্ষের পথে একসাথে’ এই মূলমন্ত্র ধারণ করে অনুষ্ঠিত হলো আনোয়ার গ্রুপের প্রতিষ্ঠান এ-ওয়ান পলিমার লিমিটেডের ডিলার সম্মেলন। রাজধানীর বসুন্ধরার আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটিতে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ছয় শতাধিক ডিলার অংশ নেন। প্রধান অতিথি ছিলেন আনোয়ার গ্রুপের গ্রুপ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মানোয়ার হোসেন। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আনোয়ার গ্রুপের ডিএমডি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ফেরদৌস হাসান খান, গ্রুপ সিএফও গোপাল চন্দ্র ঘোষ, এ-ওয়ান পলিমার লিমিটেডের ডিরেক্টর (সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং) আরিফুর রহমান, সেলস্ অ্যান্ড মার্কেটিং জিএম রফিকুল ইসলাম, মার্কেটিং অ্যান্ড কমিউনিকেশন ডিজিএম গালিব মোহাম্মদ প্রমুখ। অনুষ্ঠানে বাৎসরিক বিক্রয় লক্ষ্যমাত্রার ওপর নির্ভর করে ১৮ জন ডিলারকে অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়।

বিজয়ীদের বাইক দিল সিম্ফনি

সিম্ফনির ‘বোম্বাস্টিক অফার’-এর মোটরসাইকেল বিজয়ী চট্টগ্রামের সোহেল ও ঢাকার মিথুনের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়েছে। এডিসন গ্রুপের প্রধান কার্যালয়ে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই পুরস্কার তুলে দেন এডিসন গ্রুপের চেয়ারম্যান আমিনুর রশীদ, জ্যেষ্ঠ পরিচালক রেজোয়ানুল হক, ডিরেক্টর মার্কেটিং আশরাফুল হক, হেড অব করপোরেট অ্যাফেয়ার্স মেজর আব্দুল মালেক মিয়াজী এবং ন্যাশনাল সেলস ম্যানেজার এম এ হানিফ। আয়োজকেরা জানান, অন্য বিজয়ীদেরও খুব শিগগির পুরস্কার দেওয়া হবে। সিম্ফনির এই অফারটি গত ৮ মার্চ শুরু হয়ে এখনো চলছে। এতে হ্যান্ডসেটের ক্রেতারা স্ক্র্যাচ কার্ড ঘষে পেতে পারেন সর্বনিম্ন ২০০ টাকা (নিশ্চিত) থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ শতভাগ পর্যন্ত নগদ মূল্যছাড়; কিংবা গাড়ি, মোটরসাইকেল, ফ্রিজ, এসি জিতে নেওয়ার সুযোগ।

প্রান্তিক কৃষকদের ধান কাটায় এসিআইয়ের উদ্যোগ

হাওর এলাকার অসহায় কৃষকদের সহযোগিতার উদ্যোগ হিসেবে ‘এসিআই রিপার’ ব্যবহার করে বড়লেখা, জুড়ী, কুলাউড়া, রাজনগর ও মৌলভীবাজার সদর উপজেলার এক হাজার একর জমির ধান বিনা মূল্যে কাটার কর্মসূচি নিয়েছে এসিআই মোটরস্ লিমিটেড। উক্ত কর্মসূচির অংশ হিসেবে ১১ এপ্রিল জুড়ী ও কুলাউড়া উপজেলার অন্তর্বর্তী শাপলা ব্রিক ফিল্ড-সংলগ্ন নজরুল ইসলামের ধানি জমিতে ধান কাটা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন এসিআই মোটরস্ লিমিটেডের বিজনেস ডিরেক্টর সুব্রত রঞ্জন দাস, উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাসির উল্লাহ খান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক কাজী লুৎফুল বারী। উল্লেখ্য, তাৎক্ষণিক বন্যায় ফসলের ক্ষতি মোকাবিলায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কৃষকদের প্রণোদনা প্রদানের লক্ষ্যে ৩০ শতাংশ সরকারি ভর্তুকিতে এসিআই রিপার সরবরাহ করছে।

সামাজিক ব্যবসা ডিজাইন ল্যাবে ছয়টি নতুন ব্যবসা

ঢাকায় গ্রামীণ ব্যাংক মিলনায়তনে গতকাল সামাজিক ব্যবসা ডিজাইন
ল্যাবে নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে নবীন উদ্যোক্তারা
ইউনূস সেন্টার আয়োজিত ২২৯তম সামাজিক ব্যবসা ডিজাইন ল্যাবে ছয়টি নতুন ব্যবসা পরিকল্পনা অর্থায়নের জন্য অনুমোদিত হয়েছে। ঢাকায় গ্রামীণ ব্যাংক মিলনায়তনে গতকাল সোমবার এ ল্যাব অনুষ্ঠিত হয়। এতে নবীন উদ্যোক্তারা প্রত্যেকেই পণ্য বাজারজাতকরণ ও আত্মনির্ভরশীলতা অর্জনের লক্ষ্যসহ তাঁদের ব্যবসায়িক পরিকল্পনাগুলো উপস্থাপন করেন। এ ডিজাইন ল্যাবে সভাপতিত্ব করেন নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। এতে স্বাগতিক বাংলাদেশ ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র, মালয়েশিয়া, বেলজিয়াম, ব্রাজিলসহ বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের ১২০ জন প্রতিনিধি অংশ নেন। অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস জানান, এ পর্যন্ত ৪ হাজার ৬৫৪টি প্রকল্প ডিজাইন ল্যাবে বিনিয়োগের জন্য অনুমোদিত হয়েছে। গতকালের ডিজাইন ল্যাবে যে ছয়জন নবীন উদ্যোক্তার ব্যবসা পরিকল্পনা অনুমোদিত হয়, তাঁরা সবাই গ্রামীণ ব্যাংকের ঋণগ্রহীতা পরিবারের সন্তান। এর মধ্যে মিজানুর রহমান রঙিন তাঁতের লুঙ্গি (সারং) তৈরি ও মো. মাসুদ পরিত্যক্ত সুতা পুনঃপ্রক্রিয়াজাত করে বিক্রির পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন। নারী উদ্যোক্তা তাসলিমা স্টেশনারি ব্যবসার জন্য ও শারীরিক প্রতিবন্ধী উদ্যোক্তা মো. আমজাদ জামদানি শাড়ি বয়নে একটি তাঁত কেনার মূলধন চান। এ ছাড়া পরান সুর তাঁর শাঁখা (বিবাহিত হিন্দু মহিলাদের হাতের বালা) তৈরি ও শ্রীকান্ত কুমার গৌড় তাঁর ফার্মেসি (ওষুধ) ব্যবসা সম্প্রসারণে মূলধন চেয়ে পরিকল্পনা পেশ করেন। ডিজাইন ল্যাবটির যাত্রা শুরু হয় ২০১৩ সালের জানুয়ারিতে।

বদলির নীতিমালা মানা হচ্ছে না

বদলি নীতিমালা মানা হচ্ছে না বাংলাদেশ ব্যাংকে। বছরের পর বছর বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা একই বিভাগে বহাল থাকছেন। একই সঙ্গে দুটি বিভাগেও দায়িত্ব পালন করছেন কোনো কোনো কর্মকর্তা। ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের মধ্যে এক ধরনের শিথিলতা তৈরি হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্র জানায়, ২০০০ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের ২১২তম সভায় বদলি নীতিমালা পর্যালোচনা ও অনুমোদিত হয়। সভায় আন্তবিভাগীয় বদলির ক্ষেত্রে পরিদর্শন বিভাগে পাঁচ বছর ও অন্যান্য বিভাগে তিন বছর বহাল রাখার নীতিমালা অনুমোদিত হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগ সূত্র বলছে, বর্তমানে কমপক্ষে ১৫টি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক পর্যায়ের কর্মকর্তা তিন বছরের বেশি সময় ধরে একই বিভাগে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। এ ছাড়া উপমহাব্যবস্থাপক পর্যায়ের কমপক্ষে শতাধিক কর্মকর্তা তিন বছর ধরে একই বিভাগে বহাল আছেন। উপমহাব্যবস্থাপক পর্যায়ের নিচের পদের কর্মকর্তাদেরও বদলির ক্ষেত্রে একই অবস্থা। জানা গেছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকে বর্তমানে নির্বাহী পরিচালক রয়েছেন ২০ জন। এ ছাড়া মহাব্যবস্থাপক পর্যায়ের কর্মকর্তা রয়েছেন ৭২ জন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র শুভঙ্কর সাহা বলেন, সময়ের প্রয়োজনেই এ ধরনের নীতিমালা করা হয়েছিল। এখনো নিশ্চয়ই প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে অনেকে বহাল আছেন। এর বেশি কিছু বলতে রাজি হননি তিনি। তবে পরে আবার জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়োগ, পদোন্নতি নীতিমালা যেকোনো প্রতিষ্ঠানের চেয়ে স্বচ্ছ।

৫৭ শাখায় অর্ধেকের বেশি ঋণ এখন খেলাপি

রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন অগ্রণী ব্যাংকের ৫৭টি শাখার বিতরণ করা মোট ঋণের ৫০ শতাংশের বা অর্ধেকেরও বেশি খেলাপি হয়ে গেছে। এর মধ্যে ১০টি শাখায় খেলাপি ঋণের হার ৮০ শতাংশের ওপরে। ব্যাংকের শাখাভিত্তিক খেলাপি ঋণসংক্রান্ত এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে। এতে ২০১৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ঋণের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। ব্যাংকটির যে ১০টি শাখায় ৮০ শতাংশের ওপরে খেলাপি ঋণ রয়েছে, সেগুলো হচ্ছে চট্টগ্রামের আমিরাবাদ ও খাতুনগঞ্জ, কক্সবাজার, ঢাকার হাটখোলা ও জয়পাড়া, মুন্সিগঞ্জের মুক্তারপুর ও রামগোপালপুর, সাতক্ষীরার শ্যামনগর, ঠাকুরগাঁওয়ের মির্জাপুর ও বরগুনা শাখা। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী এই ব্যাংকের দেওয়া মোট ঋণের পরিমাণ ২০১৫ সাল শেষে দাঁড়িয়েছে ২১ হাজার ৫৬৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি হয়েছে ৪ হাজার ২২৪ কোটি টাকা বা ১৯ দশমিক ৫৮ শতাংশ ঋণ। তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, শতকরা হিসাবে সর্বোচ্চ ৯৪ শতাংশ খেলাপি ঋণ নিয়ে চলছে ব্যাংকটির কক্সবাজার শাখা। এ শাখার দেওয়া ২১ কোটি টাকা ঋণের মধ্যে ২০ কোটি টাকাই এখন খেলাপি। এর মধ্যে কনস্ট্রাকশন সি ফুড লিমিটেড নামে একটি প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণের পরিমাণ প্রায় সাড়ে ১১ কোটি টাকা। যোগাযোগ করা হলে অগ্রণী ব্যাংকের কক্সবাজার শাখার ব্যবস্থাপক মোস্তাক আহমেদ সম্প্রতি প্রথম আলোকে বলেন, বড় অঙ্কের ঋণ নেওয়া একজন গ্রাহক খেলাপি হয়ে পড়ায় এমন অবস্থা হয়েছে। তবে ঋণটি নিয়মিত করার প্রক্রিয়া চলছে। তা হয়ে গেলে খেলাপি ঋণ ৫০ শতাংশের নিচে নেমে আসবে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৯২ শতাংশ বা ১৩ কোটি টাকা খেলাপি হয়েছে রাজধানীর হাটখোলা শাখায়। এ শাখা মোট ঋণ দিয়েছে ১৪ কোটি টাকা। ৯০ শতাংশ ঋণখেলাপি হয়েছে ঢাকার জয়পাড়া শাখায়। এ শাখার দেওয়া চার কোটি টাকার ঋণের মধ্যে সাড়ে তিন কোটি টাকাই খেলাপি। রাজধানীর গ্রিনরোড শাখার দেওয়া ১৪০ কোটি টাকার মধ্যে ১০৪ কোটি টাকাই (৭৪ শতাংশ) এখন খেলাপি। তবে পরিমাণের দিক থেকে সর্বোচ্চ ৩৪৩ কোটি টাকা (৫৩ শতাংশ) ঋণখেলাপি হয়েছে চট্টগ্রামের লালদীঘি পূর্ব শাখার। এ শাখার দেওয়া মোট ঋণের পরিমাণ ৬৫২ কোটি টাকা। চট্টগ্রামের আগ্রাবাদের জাহান বিল্ডিং শাখার বিতরণ করা ২৮৯ কোটি টাকার মধ্যে ১৭৬ কোটি টাকা (৬১ শতাংশ) খেলাপি ঋণ। এ ছাড়া চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ শাখার ১২ কোটি টাকার ঋণের মধ্যে ১১ কোটি খেলাপি। বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে সম্পাদিত সমঝোতা স্মারকের শর্ত মেনে চলছে না অগ্রণী ব্যাংক। যেমন, নিয়ম অনুযায়ী কোনো প্রতিষ্ঠানকে ব্যাংকের মোট মূলধনের ১৫ শতাংশের বেশি ঋণ দিতে হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন লাগে। কিন্তু অগ্রণী ব্যাংক তা না মেনে চারটি প্রতিষ্ঠানকে ঋণ দিয়েছে। এ কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এক চিঠিতে ব্যাংকটিকে সতর্ক করে দিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, ২০১৫ সালে অগ্রণী ব্যাংকের ৫১২ কোটি টাকা ঋণ পুনঃ তফসিল করা হয়েছে। তা না হলে খেলাপি ঋণের পরিমাণ আরও বাড়ত। আলোচ্য বছরে ব্যাংকটি শীর্ষ ২০ খেলাপি গ্রহীতার কাছ থেকে আদায় করেছে ৫১ কোটি টাকা, যা লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় মাত্র ২২ দশমিক ৩৬ শতাংশ। এ ছাড়া অন্যান্য খেলাপি গ্রহীতার কাছ থেকে আদায় হয়েছে ৩১৪ কোটি টাকা, যা লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ৪৫ দশমিক ৩১ শতাংশ। এসব সন্তোষজনক নয়। আর অবলোপনকৃত ঋণ থেকে আদায় হয়েছে ৪০ কোটি টাকা, যা লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় মাত্র ৭ দশমিক ৮০ শতাংশ। এটি হতাশাজনক। এ ছাড়া অর্থঋণ আদালতে ৭ হাজার ৪৮২ কোটি টাকার দাবি সংবলিত ৭ হাজার ৬৭৩টি মামলা অনিষ্পন্ন অবস্থায় রয়েছে। এসব বিষয়ে সম্প্রতি যোগাযোগ করা হলে অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান জায়েদ বখ্ত বলেন, ‘খেলাপি ঋণ কমিয়ে আনতে আমরা বাংলাদেশ ব্যাংক ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে চুক্তি করেছি। এ জন্য মহাব্যবস্থাপক থেকে এমডি পর্যন্ত সবাইকে লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। আমরা তা নিয়মিত তদারক করছি। তবে আইনি বাধায় অনেক সময় অর্থ আদায় বিঘ্নিত হচ্ছে। এ ছাড়া চট্টগ্রামের বড় খেলাপি গ্রহীতাদের সম্পদ ব্যাংকে সংযুক্ত করার চেষ্টা চলছে।’ বর্তমানে দেশব্যাপী অগ্রণী ব্যাংকের ৯৩০টি শাখা রয়েছে।

সোনার গয়না বেচাকেনায় ছাড় চায় জুয়েলার্স সমিতি

সোনার গয়না বেচাকেনায় মূল্য সংযোজন কর (মূসক) ছাড় চায় বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি। বর্তমানে সোনার গয়না কিনলে বিক্রয়মূল্যের ওপর ক্রেতাকে ৫ শতাংশ মূসক দিতে হয়। সমিতির প্রস্তাব হলো, এ মূসক হার দেড় শতাংশ করা। গতকাল সোমবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সঙ্গে প্রাক্-বাজেট আলোচনায় এ প্রস্তাব করেছেন জুয়েলার্স সমিতির নেতারা। এনবিআর সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন এনবিআর চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান। বর্তমানে ব্যবসায়ী পর্যায়ে স্বর্ণ আমদানি করলে প্রতি ভরিতে তিন হাজার টাকা, অগ্রিম ব্যবসায় কর (এটিভি) হিসেবে ৪ শতাংশ শুল্ককর আরোপ আছে। জুয়েলার্স সমিতি প্রতি ভরিতে ১৫০ টাকা শুল্ক দিয়ে স্বর্ণ আমদানির প্রস্তাব দিয়েছে। এ ছাড়া যাত্রী ব্যাগেজ রুলস আরও শিথিল করার প্রস্তাব দিয়েছে সমিতি। জুয়েলার্স সমিতির সভাপতি কাজী সিরাজুল ইসলাম এসব প্রস্তাব করেন। তিনি বলেন, ভারতে স্বর্ণালংকার কেনায় ১ শতাংশ মূসক। তাই ভারতে গিয়ে স্বর্ণালংকার কেনার প্রবণতা বেড়েছে বাংলাদেশিদের। ১০ লাখ টাকার গয়না কিনলে বাংলাদেশে ৫০ হাজার টাকা মূসক দিতে হয়। ভারতে এর পরিমাণ মাত্র ১০ হাজার টাকা। এতে দেশের জুয়েলারি ব্যবসায় নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। মিষ্টিতেও ছাড়: মিষ্টি উৎপাদকেরা তাঁদের মুনাফার ওপর কর রেয়াত বৃদ্ধির সুপারিশ করেছেন। সমিতির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বর্তমানে গ্রাম থেকে দুধ সংগ্রহ করে মিষ্টি তৈরি করে তা বিক্রির উপযোগী করতে যে খরচ করেন, এর ৩০ শতাংশ মুনাফা ধরা হয়। এই মুনাফার হার ২৫ শতাংশ ধরে করারোপের প্রস্তাব করেছেন সমিতির নেতারা। সমিতির মহাসচিব খন্দকার আবদুল মোমেন বলেন, প্রতিবছর রিটার্ন দাখিলের পর কর নথি আবার যাচাই-বাছাই করা হয়। এতে হয়রানির শিকার হন মিষ্টি উৎপাদকেরা। চামড়াশিল্প: চামড়া খাতকে উৎসে কর ও মূসক হতে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করেছে ফিনিশড লেদার, লেদারগুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন। এ ছাড়া সাভারের চামড়া শিল্পনগরীতে যেসব শিল্পপ্রতিষ্ঠান যাবে, সেসব প্রতিষ্ঠানকে ছয় বছরের কর অবকাশ সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। চামড়া শিল্পনগরীকে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল ঘোষণা দিয়ে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার সুপারিশও করা হয়। কৃষি যন্ত্রপাতি: দেশীয় কৃষি যন্ত্রপাতি উৎপাদকদের বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব করেছে কৃষি যন্ত্রপাতি উৎপাদক সমিতি। এ সমিতির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত কৃষি যন্ত্রপাতির বেশ কিছু খুচরা যন্ত্রাংশ বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। এসব যন্ত্রাংশের আমদানি খরচ কমানো হলে উৎপাদন খরচ কমবে। এতে কৃষকেরা কম দামে কৃষি যন্ত্রপাতি পাবেন। সমিতি দাবি করেছে, পূর্ণাঙ্গ কৃষিযন্ত্রের চেয়ে সম্পূর্ণ খোলা অবস্থায় যন্ত্রপাতির শুল্ক হার বেশি। এতে এ খাতের স্থানীয় শিল্প বাণিজ্যিকভাবে লাভবান হতে পারছে না। বিস্কুট-কেক: বর্তমানে হাতে তৈরি ১০০ টাকার বিস্কুট ও কেক কিনলে মূসক দিতে হয় না। আগামী বাজেটে দেড় শ টাকার বিস্কুট ও কেক কিনলে তা মূসকমুক্ত রাখার দাবি জানিয়েছে ব্রেড, বিস্কুট ও কনফেকশনারি প্রস্তুতকারক সমিতি। সমিতির পক্ষ থেকে যুক্তি দেখিয়ে বলা হয়েছে, হাতে তৈরি বিস্কুট ও কেকের প্রাথমিক উপকরণ চিনি, তেল, ময়দাসহ যাবতীয় উপকরণের দাম বেড়েছে। শ্রমিকদের বেতনও বেড়েছে। তাই ১০০ টাকায় এক কেজি বিস্কুট বা কেক বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না। এ ছাড়া গতকালের বাজেট আলোচনায় বাংলাদেশীয় চা সংসদ, বাংলাদেশ সিড অ্যাসোসিয়েশন, ব্রিডাস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ, ফিড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সভায় ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি আবদুল মাতলুব আহমাদ উপস্থিত ছিলেন।

উদ্যোগগুলোকে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোয় আনতে হবে

রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে গতকাল অ্যাকশনএইড আয়োজিত
সংলাপে বক্তব্য দেন সংস্থাটির এ দেশীয় পরিচালক ফারাহ কবির
রানা প্লাজা ধসের পর আহত শ্রমিকেরা অর্থসহায়তা পেয়েছেন। তবে সহায়তার অধিকাংশ তাঁদের দৈনন্দিন খরচ ও ঋণ দিতেই ব্যয় হয়েছে। ফলে সেটি বিনিয়োগ পর্যায়ে যায়নি। তা ছাড়া আহত শ্রমিকদের স্বাস্থ্যগত মূল্যায়ন করে যে অর্থ দেওয়া হয়েছে, সেটিও পর্যাপ্ত নয়। বেসরকারি সংস্থা অ্যাকশনএইড আয়োজিত ‘বহুপাক্ষিক সংলাপ: রানা প্লাজা ধসের তিন বছর ও পোশাকশিল্পের অগ্রগতি’ শীর্ষক আলোচনায় বক্তারা এসব কথা বলেন। তাঁরা বলেন, আর্থসামাজিক চাহিদা বিবেচনা করে জাতীয় ক্ষতিপূরণকাঠামো করা দরকার। কারণ, শ্রম আইন অনুযায়ী বর্তমানে ক্ষতিপূরণের হার খুবই কম। পাশাপাশি আহতের দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসায় সরকারকে নীতিমালা করতে হবে। এ ছাড়া স্বাধীনভাবে ট্রেড ইউনিয়ন নিবন্ধন ও অনুশীলন, কারখানার কর্মপরিবেশ উন্নয়নসহ বিভিন্ন উদ্যোগকে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসা দরকার। না হলে ভবিষ্যতে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে আবারও পেছন থেকে শুরু করতে হবে বলেও সাবধান করে দেন আলোচকেরা। রাজধানীর মহাখালীতে ব্র্যাক সেন্টার ইনে গতকাল শনিবার সংলাপটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন সংস্থার এদেশীয় পরিচালক ফারাহ কবির। উপস্থিত ছিলেন কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক সৈয়দ আহম্মদ। আহত শ্রমিক ও নিহতের পরিবারের সদস্যদের ক্ষতিপূরণের বিষয়ে মানবাধিকারকর্মী হামিদা হোসেন বলেন, ‘ইউরোপীয় কিছু ট্রেড ইউনিয়নের চাপে পড়ে ব্র্যান্ডগুলো কিছু অর্থসহায়তা দিয়েছে। এটি ক্ষতিপূরণ না।’ তিনি বলেন, ক্ষতিপূরণের বিষয়ে কারখানার মালিক ও বিজিএমইএকে আরও বেশি দায়বদ্ধতায় আনতে হবে।ক্ষতিপূরণ নির্ধারণের জন্য হাইকোর্টের দুই বিচারপতি স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে রুল জারি করেন। সে অনুযায়ী সরকার উচ্চপর্যায়ে কমিটি গঠন করে। কমিটি ক্ষতিপূরণের একটি নির্দিষ্ট অঙ্ক নির্ধারণ করে হাইকোর্টে জমা দেয়। এসব তথ্য দিয়ে হামিদা হোসেন বলেন, ‘ক্ষতিপূরণের বিষয়টি হাইকোর্টে এখনো ঝুলে আছে। সিদ্ধান্ত আসেনি।’ রানা প্লাজা ধসের পর ভুক্তভোগীদের সহায়তায় নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের মধ্যে সমন্বয় নেই বলে অভিযোগ করেন বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। তিনি বলেন, একটি তথ্যভান্ডার করা দরকার। কারা সুবিধা পাচ্ছে, কারা সুবিধার বাইরে রয়ে গেছে, এ জন্য মন্ত্রণালয় উদ্যোগ নিতে পারে। ইউরোপীয় ক্রেতাদের জোট অ্যাকর্ড ও উত্তর আমেরিকার ক্রেতাদের জোট অ্যালায়েন্স বাংলাদেশের পোশাক কারখানার কর্মপরিবেশ উন্নয়নের কাজটি ২০১৮ সালে শেষ করবে। সেটি স্মরণ করিয়ে দিয়ে গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, উদ্যোগ দুটোকে এগিয়ে নিতে না পারলে আবার বড় দুর্ঘটনা ঘটলে নতুন করে সবকিছু শুরু করতে হবে। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) বাংলাদেশের আরএমজি প্রোগ্রাম ম্যানেজার টিউমো পটিআইনেন বলেন, সরকার সংশোধন সমন্বয় কেন্দ্র (আরসিসি) করতে যাচ্ছে। অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্সের কারখানার সংশোধন কার্যক্রমকে চলমান ও এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েই এটি করা হচ্ছে। অ্যালায়েন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মেসবাহ রবিন বলেন, ‘২০১৮ সালের ১১ জুলাইয়ের পর একদিন থাকবে না অ্যালায়েন্স। তবে যে সংস্থা এটির দায়িত্ব নেবে, তাদের ওপর বিদেশি ক্রেতা ও ব্র্যান্ডের ভরসা কতটুকু আছে, সেটিও দেখতে হবে। কারণ, তারা কেবল শ্রম আইন বাস্তবায়ন করে। সংস্কার কাজ তদারকিতে অনেক প্রযুক্তিগত সহায়তা লাগবে। আশা করি, দুই বছরের মধ্যে সেই সক্ষমতা তৈরি হবে।’ অ্যাকশনএইড রানা প্লাজা ধসে আহত শ্রমিক ও নিহত শ্রমিক পরিবারের সদস্যদের ওপর একটি জরিপ চালায়। অনুষ্ঠানে জরিপের বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরেন সংস্থার কর্মকর্তা নুজহাত জেবিন। তিনি রানা প্লাজার সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে কারখানার নিয়মিত পরিদর্শন কার্যক্রমকে শক্তিশালী, কারখানায় স্বাধীনভাবে ইউনিয়ন করার অধিকার নিশ্চিত, শ্রম আইনের দুর্বল দিকগুলো সংশোধন এবং ব্র্যান্ডগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত করার সুপারিশ করেন। অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক সৈয়দ আহম্মদ রানা প্লাজা ধসের শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণের কথা বলেন। তিনি জানান, শ্রম আইন সংশোধনের পর পোশাকশিল্পে ট্রেড ইউনিয়ন নিবন্ধনের হার বাড়ছে। এখন পর্যন্ত ৪৮১টি ইউনিয়ন নিবন্ধিত হয়েছে। ট্রেড ইউনিয়নের বিষয়ে হামিদা হোসেন বলেন, বাংলাদেশে ট্রেড ইউনিয়নের দুটি সমস্যা। এক. ইউনিয়ন অনেক বেশি রাজনৈতিকীকরণ হয়ে আছে। দুই. মালিকেরাও ট্রেড ইউনিয়ন করছেন। ফলে স্বাধীনভাবে শ্রমিকেরা ট্রেড ইউনিয়ন করতে পারেন না। অ্যাকশনএইডের এদেশীয় পরিচালক ফারাহ কবির বলেন, ‘যে ট্র্যাজেডি ঘটেছিল, সেটি ঘটার কথা ছিল না। ১০-১৫ বছর পরও আমরা যেন ভুলে না যাই, এটি আমাদের ব্যর্থতা ছিল। ব্যর্থতাটি সরকারের সংস্থা, ভবনমালিক, কারখানার মালিক ও ব্র্যান্ডের।’ তিনি বলেন, ‘যতটুকু ইতিবাচক পরিবর্তন হয়েছে, বাকিটার জন্য যাতে আরেকটি রানা প্লাজা ধস দেখতে না হয় আমাদের।’

মৌসুমের শুরুতেই চড়া ‘হালি’ পেঁয়াজের দর

বাজারে আসতে না আসতেই বেড়ে গেছে দেশি পেঁয়াজের দাম। বছরের এ সময়টায় যে পেঁয়াজ সাধারণত ২৫ থেকে ৩০ টাকার মধ্যে পাওয়া যায়, তা এবার কেজিপ্রতি ৪৫ টাকায় উঠেছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, গত চৈত্র মাসের বৃষ্টিতে পেঁয়াজ উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি দাম বাড়ার আশায় একশ্রেণির ব্যবসায়ী পেঁয়াজ কিনে মজুত করছেন। এতে সরবরাহে চাপ পড়ে দাম বেড়ে গেছে। তবে বাজারে ভারতীয় পেঁয়াজের প্রচুর সরবরাহ থাকায় আসন্ন রমজান মাসে দাম অস্বাভাবিক হওয়ার সুযোগ নেই বলেও জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। দেশে পেঁয়াজের মৌসুম শুরু হয় ডিসেম্বরে। প্রথম বাজারে আসে কন্দ থেকে উৎপাদিত পেঁয়াজ। ‘মুড়িকাটা’ নামে পরিচিত ওই পেঁয়াজ সংরক্ষণ করা যায় না, কয়েক দিনের মধ্যেই পচে যায়। ঘরে রেখে দেওয়ার মতো পেঁয়াজ আসে মার্চের মাঝামাঝিতে। বীজ থেকে উৎপাদিত ওই পেঁয়াজকে ব্যবসায়ীরা ‘হালি’ পেঁয়াজ নামে ডাকেন। সাধারণ মানুষের কাছে তা ‘রাখী’ পেঁয়াজ নামেও পরিচিত। রাজধানীর কারওয়ান বাজারে গতকাল শনিবার প্রতি কেজি দেশি ‘হালি’ পেঁয়াজ ৪৫ টাকা চেয়েছেন খুচরা ব্যবসায়ীরা। শেওড়াপাড়া ও মহাখালী বাজারেও একই দরে ওই পেঁয়াজ বিক্রি করতে দেখা গেছে। অন্যদিকে ভারতীয় পেঁয়াজ বিকোচ্ছে ৩০ থেকে ৩৫ টাকা কেজি দরে। কাজীপাড়া ও শেওড়াপাড়া এলাকার ভাসমান ব্যবসায়ী মো. সাহির গতকাল প্রথম আলোকে জানান, তিনি বেশ কয়েকজন ক্রেতার কাছ থেকে সরবরাহ আদেশ নিয়েও পেঁয়াজ দিতে পারেননি। কারণ, তিনি দর চেয়েছিলেন কেজিপ্রতি ৩৫ টাকা, বাজারে গিয়ে দেখেন তাঁর নিজেরই কেনা পড়ছে কেজিপ্রতি ৪০ টাকা। কারওয়ান বাজারের লাকসাম বাণিজ্যালয় নামের একটি পেঁয়াজের আড়তের বিক্রয়কর্মী বাবু শেখ প্রথম আলোকে জানান, হালি পেঁয়াজ আসতে শুরু করেছে মাসখানেক হলো। প্রথমে কিছুদিন তা ২৮ থেকে ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছিল। কিন্তু কয়েক দিন পরেই দাম বাড়তে শুরু করে। তিনি বলেন, ‘দুই দিন আগে হালি পেঁয়াজ কেজিপ্রতি ৩০ টাকা (পাইকারি) কেজি দরে বিক্রি করেছি, এখন সেটা ৩৫ টাকা।’ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, দেশে বছরে পেঁয়াজের চাহিদা ২২ লাখ টন। এর মধ্যে ১৭ থেকে ১৮ লাখ টন দেশে উৎপাদিত হয়। পেঁয়াজ বেশি চাষ হয় ফরিদপুর অঞ্চলে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ফরিদপুর জেলার উপপরিচালক আবদুর রউফ জানান, জেলার নয়টি ইউনিয়নে শিলাবৃষ্টি হয়েছিল। এতে মোট উৎপাদনের ৫ শতাংশ পেঁয়াজ নষ্ট হয়েছে। এ ছাড়া কিছু পেঁয়াজের মান খারাপ হয়ে গেছে। রাজধানীর শ্যামবাজারের নবীন ট্রেডার্সের মালিক নারায়ণ সাহা বলেন, বৃষ্টিতে পেঁয়াজ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় অনেকে মনে করছেন পেঁয়াজের দাম বাড়বে। এ কারণে মফস্বলের স্টক পার্টিরা (মজুতদার) প্রচুর পরিমাণে পেঁয়াজ কিনে মজুত করছেন। এতে দাম বেড়ে গেছে। নারায়ণ সাহা বলেন, এখন ভারতীয় পেঁয়াজের সরবরাহ ভালো। তাই দাম অস্বাভাবিক হওয়ার আশঙ্কা নেই। কয়েকটি পণ্যের দাম বেড়েছে: রাজধানীর বাজারগুলোতে গত সপ্তাহে ছোলা, মসুর ডাল, পাম তেল ও দেশি রসুনের দাম বেড়েছে। কমেছে ডিমের দাম। কারওয়ান বাজারে ছোলার কেজি ৮০ টাকা চাইছেন বিক্রেতারা। শেওড়াপাড়া বাজারের নূর জেনারেল স্টোরে তা ৮৫ টাকা দরে বিক্রি করতে দেখা গেছে। ওই দোকানের বিক্রেতা মো. সুজন বলেন, গত সপ্তাহে তাঁর দোকানেও ছোলা ৮০ টাকাই ছিল। কিন্তু গত শুক্রবার তিনি বাড়তি দরে কিনেছেন। এ কারণে কেজিপ্রতি ৫ টাকা বাড়াতে হয়েছে। মো. সুজন জানান, গত এক সপ্তাহে কেজিপ্রতি ১০ টাকা বেড়ে সরু দানার মসুর ডালের দাম ১৬০ টাকা ও মোটা দানার মসুর ডালের দাম ১১০ টাকায় উঠেছে। খোলা চিনির দাম কেজিপ্রতি ২-৩ টাকা বেড়ে ৫৫ টাকা হয়েছে। দেশি রসুনের দাম কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে হয়েছে ১২০ টাকা।

এখনো ভালো বন্ধু!

দেব প্যাটেল ও ফ্রিদা পিন্টো
‘স্লামডগ মিলিয়নিয়ার’ তারকা দেব প্যাটেল আর ফ্রিদা পিন্টো প্রেম করেছেন টানা ছয় বছর। ২০১৪ সালে তাঁদের সেই প্রেম ভেঙে যায়। অবশ্য তাঁরা শুধু প্রেমিক-প্রেমিকা ছিলেন না, ভালো বন্ধুও ছিলেন বটে। তাই প্রেম চলে গেলেও বন্ধুত্বের সম্পর্কে নাকি আজও কোনো চিড় ধরেনি। সম্প্রতি ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ অভিনেতা দেব প্যাটেল এমনটাই দাবি করেছেন। ২০০৯ সালের অস্কারজয়ী ‘স্লামডগ মিলিয়নিয়ার’ ছবিতে কাজ করতে গিয়েই দেব ও পিন্টোর পরিচয়। বন্ধুত্ব থেকে প্রেম। পরে যেকোনো কারণেই হোক তাঁদের সেই সম্পর্ক আর টেকেনি। কিন্তু এখনো পিন্টোর সঙ্গে কাটানো অসাধারণ সেই মুহূর্তগুলোর কথা মনে করেন দেব প্যাটেল। দেব প্যাটেল বলেছেন, ‘সে (ফ্রিদা পিন্টো) অসাধারণ। আমার জীবনে যে কয়জন মানুষের প্রভাব আছে, তার মধ্যে ও একজন। আমরা একসঙ্গে খুব ভালো কিছু সময় কাটিয়েছি। শুধু চলচ্চিত্রে কাজের সময় নয়, ব্যক্তিগত জীবনেও তাঁর সঙ্গে আমার খুব সুন্দর কিছু অভিজ্ঞতা আছে। তাঁকে আমি শ্রদ্ধা করি।’ এই ‘স্লামডগ মিলিয়নিয়ার’ তারকা আরও জানিয়েছেন, তিনি প্রেম, পরিবার, সন্তান—এসব বিষয় নিয়ে এখনো সেভাবে ভাবছেন না। তারকা নয়, বরং নিজেকে সাধারণ ভাবতেই পছন্দ করেন। ভালোবাসেন সপ্তাহ শেষে বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরে বেড়াতে। তাঁর বয়সী আর দশজন সাধারণ তরুণের জীবন যেমন, তিনিও তেমন জীবনেই অভ্যস্ত। বর্তমানের এই একাকী জীবন ভালোই উপভোগ করছেন দেব। যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসের নতুন বাড়িতে থাকছেন এখন। আর মাঝেমধ্যে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে লন্ডনে যান তিনি। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।

জয়পুরহাটের শিশুদের আঁকা ছবির প্রদর্শনী ঢাকায়

জয়নুল গ্যালারিতে ছবি দেখছেন অভিনয়শিল্পী আফজাল হোসেন
ছবি আঁকা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করা যায়, সেটা অনেকেরই জানা ছিল না। না শিশু, না তাদের বাবা-মায়ের। জয়পুরহাটে আর্টক্যাম্প শুরুর পরই তাঁদের অনেকে ব্যাপারটা জানতে পারেন। এরপর তাঁদের অনেকেরই মত বদলেছে। বড় হয়ে প্রচলিত বিষয়গুলোর বদলে চারুকলায় উচ্চশিক্ষা নেবে তারা। বাবা-মায়েদেরও সে ব্যাপারে আপত্তি নেই। জয়পুরহাটের তেঘর উচ্চবিদ্যালয়ের মাঠে গত ১৫ মার্চ শুরু হয় পাঁচ দিনের আর্টক্যাম্প। সেখানকার ১২টি স্কুলের শিশুদের সঙ্গে সেই চারুকলা উৎসবে যোগ দিয়েছিলেন ঢাকার প্রতিষ্ঠিত চিত্রশিল্পী ও চারুকলার শিক্ষার্থীরা। নিসর্গে ছড়িয়ে বসে আঁকা সেসব ছবি নিয়ে গতকাল সোমবার ঢাকায় শুরু হয়েছে প্রদর্শনী। বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের জয়নুল গ্যালারির সামনে অতিথিরা এই প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন। এখানেই প্রদর্শিত হয়েছে জয়পুরহাটের স্কুলশিক্ষার্থীদের আঁকা শতাধিক ছবি। আর বড়দের ছবিগুলো ঠাঁই পেয়েছে পাশের জয়নুল গ্যালারিতে। দুটি গ্যালারিতেই রয়েছে সেসব ছবি ও কয়েকটি স্থাপত্যশিল্প। গ্রাম ও মফস্বলের শিশুদের রুচি গঠন ও সাংস্কৃতিক ভিত তৈরির তাগিদে আর্টক্যাম্পটি শুরু করা হয়েছিল। এখন সারা দেশে সেটি ছড়িয়ে দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছেন আয়োজকেরা। প্রধান অতিথি হিসেবে শিল্পকর্ম প্রদর্শনী উদ্বোধনে এসে সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর বলেন, ‘এ ধরনের আর্টক্যাম্প সারা দেশে করা প্রয়োজন। এ ব্যাপারে যতটুকু সহযোগিতা করা যায়, সেই চেষ্টা থাকবে আমাদের।’ চারুকলা অনুষদের ডিন নিসার হোসেনের সভাপতিত্বে প্রদর্শনী উদ্বোধনে বিশেষ অতিথি ছিলেন শিল্পী সৈয়দ জাহাঙ্গীর ও সমরজিৎ রায়চৌধুরী। তাঁরা ছাড়াও অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন অভিনয়শিল্পী আফজাল হোসেন। প্রদর্শনীটি চলবে ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত। গ্যালারি খোলা থাকবে প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত।

শাহরুখের ‘স্বর্গীয় ছুটি’

শাহরুখ খান
বেশ কিছুদিন ধরেই দম ফেলার ফুরসুতটাও পাচ্ছিলেন না বলিউডের ‘কিং খান’ শাহরুখ। কয়েক দিন আগেই তাঁর অভিনীত ‘ফ্যান’ ছবিটি মুক্তি পেয়েছে। এই ছবির প্রচারে ব্যস্ত সময় পার করতে হয়েছে তাঁকে। একই সঙ্গে তাঁকে এখন নতুন ছবি ‘রইস’-এর শুটিংয়েও সময় দিতে হচ্ছে। কাজেই পরিবারকে সেভাবে সময় দিতে পারছিলেন না তিনি। অবশেষে অনেক দিন পর গতকাল রোববার ছুটি কাটালেন শাহরুখ। সন্তানদের সঙ্গে সুন্দর কিছু মুহূর্ত কাটাতে পেরে বেজায় খুশি এই তারকা। এ প্রসঙ্গে শাহরুখ খান গতকাল একটি টুইট বার্তায় লিখেছেন, ‘অনেক দিন পর আমার সন্তানদের সঙ্গে বসে আছি। টিভি দেখছি। গান শুনছি। গল্প করছি। যেন এক স্বর্গীয় ছুটি। এই ছুটিটা আমার খুব দরকার ছিল। ওদেরকে অনেক মিস করব।’ এক দিন ছুটি কাটিয়েই শাহরুখকে আজ থেকে আবারও কাজে নেমে পড়তে হয়েছে। এখন ‘রইস’ ছবির শুটিং চলছে ভারতের গুজরাটে। এটি এবার ঈদে মুক্তি পাবে ।

মৃন্ময়ী সাবিলা

সাবিলা নূর
বেশভূষা ছেলেদের মতোই। চটপটে, চঞ্চল। পাড়ায় পাড়ায় ছেলেদের সঙ্গে মার্বেল, ডাংগুলি খেলা আর আড্ডা দিয়ে দিন কাটে মৃন্ময়ীর। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোটগল্প ‘সমাপ্তি’র চঞ্চলা সেই তরুণী। শ্রাবণী ফেরদৌসের নাট্যরূপ ও পরিচালনায় সমাপ্তি নামেই এক ঘণ্টার একটি নাটক তৈরি হচ্ছে। সেখানে মৃন্ময়ী চরিত্রে অভিনয় করছেন এই প্রজন্মের অভিনেত্রী সাবিলা নূর। এ ধরনের চরিত্রে কাজ সাবিলার কাছে নতুন অভিজ্ঞতা। আগে এ ধরনের কাজ কখনো করা হয়নি তাঁর। তিনি বলেন, ‘ব্যক্তিজীবনে আমি নিজেও একটু চঞ্চল স্বভাবের। তাই চরিত্রটি করতে বেশ মজা পাচ্ছি। চরিত্রটিও শতভাগ ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করছি।’ শুটিংয়ের আগে আগে সমাপ্তি গল্পটি পড়া হয়েছে কি? সাবিলা বলেন, ‘ছোটবেলায় অনেকবার পড়েছি। তবে শুটিংয়ের আগে আগে একাধিকবার নাট্যরূপটি পড়েছি।’ শ্রাবণী ফেরদৌস জানান, সমাপ্তি গল্পটি বর্তমান সময়ের সঙ্গে দারুণ মানিয়ে যায়। আর চরিত্রের সঙ্গে সাবিলা নূর। এ কারণেই তাঁকে নেওয়া। নাটকটিতে সাবিলা নূরের বিপরীতে অভিনয় করছেন সজল। পরিচালক জানান, গতকাল থেকে মানিকগঞ্জে সমাপ্তির শুটিং শুরু হয়েছে।

আজ থেকে ‘নয় ছয়’

নয় ছয় নাটকের দৃশ্যে নাদিয়া নদী ও আরফান আহমেদ
মাছরাঙা টেলিভিশনে গতকাল সোমবার শেষ হয়েছে মোহাম্মদ মোস্তফা কামারাবাহিক দোস্ত দুশমন। একই সময়ে চ্যানেলটিতে শুরু হচ্ছে নতুন ধারাবাহিক নয় ছয়। এটির পরিচালকও মোস্তফা কামাল রাজ। নতুন ধারাবাহিক প্রসঙ্গে রাজ বলেন, ‘একটি বাড়ির নম্বর ৯৬। মানে নয় ছয়। এই বাড়ির গল্প, বাড়ির মানুষের বৈচিত্র্যময় সব কর্মকাণ্ড নিয়েই এগিয়েছে নাটকটি।’ এতে অভিনয় করছেন আমিরুল হক চৌধুরী, সাজু খাদেম, ইরফান সাজ্জাদ, আফরান আহমেদ, অ্যালেন শুভ্র, ফারহান আহমেদ জোভান, শাওন, ঈশিকা খান, তানজিকা, নাদিয়া নদী, নাবিলা ইসলাম প্রমুখ। উল্লেখ্য, নয় ছয় মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজের নির্মিত দশম ধারাবাহিক। তিনি জানান, ধারাবাহিকটির প্রথম পর্ব প্রচার হবে আজ রাত ৯টা ২০ মিনিটে।

সাইমনের ‘প্রজাপতি মানুষ’

সাইমন সাদিক
অটিস্টিক শিশুরা কিছু কিছু বিষয়ে অন্য অনেকের চেয়ে ভালো জ্ঞান রাখে। তাই তারা বিশেষ শিশু। অটিজম নিয়ে তৈরি হবে চলচ্চিত্র প্রজাপতি মানুষ। পরিচালনা করবেন পি এ কাজল। ছবিতে মুখ্য একটি চরিত্রে অভিনয় করবেন সাইমন সাদিক। গতকাল সোমবার ছবিটিতে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন তিনি। সাইমন বলেন, ‘সামাজিক দায়বদ্ধতার ছবি হবে এটি। কোনো কিছু না ভেবে পরিচালকের কাছ থেকে শুধু ছবির গল্প শুনেই কাজটি করতে রাজি হয়েছি। সমাজের জন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে—এ ধরনের ভালো কিছু কাজ করতে চাই।’ এদিকে পি এ কাজল জানিয়েছেন, অটিস্টিক একজন শিশুকে নিয়ে ছবির গল্প হলেও ছবিতে নায়ক-নায়িকার প্রেমও থাকবে। তবে এই ছবির নায়িকা হিসেবে এখনো কাউকে চূড়ান্ত করা হয়নি। আগামী জুনের মাঝামাঝি প্রজাপতি মানুষ ছবির শুটিং শুরু হবে।

কারওয়ান বাজারে ‘উড়াল প্রেম’

উড়াল প্রেম নাটকে অভিনয় করেছেন সো​নিয়া হোসেন
(বাঁয়ে), সায়েম খান ও তারিক আনাম খান (ডানে)
‘আরে ওনারে তো চিনি, নাটক করেন। এইখানে কি শুটিং নাকি!’ খানিকটা আপন মনে কথাগুলো বলেই ভদ্রলোক দাঁড়িয়ে গেলেন কারওয়ান বাজারে টিসিবি ভবনের সামনে। কিন্তু লোকজনের ভিড়ে শুটিং দেখা দায়। তাই আরেকটু আরাম করে দেখার আশায় কয়েক ধাপ সিঁড়ি ডিঙিয়ে দাঁড়ালেন টিসিবি ভবনের সামনের জায়গাটায়। দেখতে লাগলেন উৎসাহী চোখে। সম্ভবত কোথাও যাচ্ছিলেন ভদ্রলোক। জানা গেল, এই ভবনেই একটি কাজে এসেছিলেন; কিন্তু শুটিং দেখে আটকে গেছেন। তাঁর সামনেই মোটরবাইক থেকে নামলেন তারিক আনাম খান। নেমেই উল্টো দিকে দৌড়। ঠিক ক্যামেরা বরাবর। তাঁর দৌড়ানো দেখে সিঁড়িতে দাঁড়ানো ভদ্রলোকের মুখে হাসি। হাসতে হাসতে বললেন, ‘ওনারে কিছুদিন আগে এক নাটকে দেখলাম। লেখক ছিলেন। নাটকের শেষে তিনি মারা যান।’ গতকাল সোমবার কারওয়ান বাজারের সোনারগাঁও হোটেল ও টিসিবি ভবনের মাঝের রাস্তায় শুটিং চলছিল মাহমুদ দিদারের নতুন নাটক উড়াল প্রেম-এর। সকাল থেকেই শুটিংয়ে অংশ নিয়েছেন তারিক আনাম খান ও সোনিয়া হোসেন। কথা প্রসঙ্গে তারিক আনাম বললেন, ‘কারওয়ান বাজার এলাকায় শেষ কবে শুটিং করেছি মনে পড়ে না। লোকজনের ভিড়ে একটু কষ্ট তো হচ্ছেই। তবে গল্পটি ভালো, তাই খারাপ লাগছে না।’ সোনিয়ারও কারওয়ান বাজারে শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা নেই। বেশ কষ্ট হচ্ছে এটা বোঝা গেল। নাটকে তিনি এই এলাকারই এক ভাড়াটে খুনি। চরিত্রটি ঠিকঠাক ফুটিয়ে তুলতে মেকআপে আনতে হয়েছে আমূল পরিবর্তন। সোনারগাঁও হোটেলের সামনের রাস্তার মাঝে দাঁড়িয়ে অভিনয় করলেন সোনিয়া। শট শেষ করেই দিদার দলবল নিয়ে ছুটলেন তেজগাঁও রেললাইন ও স্টেশনে। সেখানেও চলল দৃশ্য ধারণ। যাওয়ার আগে বলে গেলেন, ‘আজকের ওয়েদারটা দারুণ। এমন ওয়েদারে বাইরে শুটিং করলে কষ্ট কম হয়।’ দিদার জানালেন, আসছে ঈদেই প্রচার করা হবে উড়াল প্রেম। এই দুজনের সঙ্গে আরও অভিনয় করছেন আফরান নিশো। নাটকে তিনি রিকশা পেইন্টার। কারওয়ান বাজারকেন্দ্রিক এমন তিনটি চরিত্র নিয়েই এগিয়েছে গল্প।

অন্য এক হোমস

কেটি হোমস
‘টম ক্রুজের স্ত্রী’ পরিচয়ের আড়ালেই হারিয়ে যেতে বসেছিল তাঁর নিজের শিল্পীসত্তা। এমনকি দুজনের ছাড়াছাড়ি হওয়ার পরও। কেটি হোমস যেন অবশেষে ফিনিক্স পাখির মতো জেগে উঠলেন। নতুন এক পরিচয়ে এবার হাজির হচ্ছেন তিনি। আর পরিচালক হিসেবে তাঁর এই আবির্ভাব হচ্ছে বেশ সাড়া জাগিয়েই। হোমসের প্রথম ছবি অল উই হ্যাড রীতিমতো ধন্য ধন্য ফেলে দিয়েছে চারদিকে। পরিচালনার পাশাপাশি ৩৭ বছর বয়সী হোমস ছবিতে নেশাগ্রস্ত, ছন্নছাড়া গৃহহীন এক মায়ের ভূমিকায় অভিনয়ও করেছেন। বলা হচ্ছে, এটাই হোমসের ক্যারিয়ারের সেরা অভিনয়। ছবিটিতে হোমস অভিনয় করেছেন রিটা নামের ভাগ্যবিড়ম্বিত এক নারীর ভূমিকায়। প্রেমিকের বাড়ি থেকে পালিয়ে নিজের কিশোরী মেয়েকে নিয়ে ভাঙাচোরা একটি গাড়িতে করে ভাগ্যকে পিছু তাড়া করার গল্প নিয়েই এই ছবি। ছবির আরেক অভিনেত্রী জুডি গিয়ার বলেছেন, ‘আমি ওর সঙ্গে আরও অনেক কাজ করতে চাই। ও অসাধারণ এক পরিচালক।’

ভক্তের বাড়িতে জেমস

প্রিন্স মোহাম্মদ ও তাঁর মায়ের সঙ্গে জেমস
দেশে-বিদেশে ছড়িয়ে আছেন নগরবাউলখ্যাত গায়ক জেমসের অসংখ্য ভক্ত। এত ভক্তের মধ্য থেকে প্রিন্স মোহাম্মদ নামের একজনের কীর্তির খবর গত বছরের অক্টোবরে প্রথম আলোর মাধ্যমে পাঠকেরা জেনেছেন। ২০ বছর ধরে জানাশোনা ওই ভক্তের বাড়িতে সম্প্রতি বেড়াতে গিয়েছিলেন জেমস। কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে ওই ভক্তের বাড়িতে ছিলেন ঘণ্টা খানেক। ভক্তের মা নাসিমা আকতারের হাতের রান্না খেয়ে তৃপ্তই হয়েছেন জনপ্রিয় এই ব্যান্ডশিল্পী। জেমস সম্প্রতি প্রিন্স মোহাম্মদের আমন্ত্রণে তাঁর এলাকায় গিয়ে একটি কনসার্টে গান করেন। কনসার্ট শুরুর আগে দুপুরের খাবার খেতে জেমস হাজির হন প্রিন্সের বাড়িতে। প্রথম আলোকে জেমস বলেন, ‘প্রিন্সের দীর্ঘদিনের ইচ্ছা ছিল তাঁর এলাকায় আমাকে দিয়ে একটি গানের অনুষ্ঠান আয়োজনের। এবার আর “না” করতে পারিনি। কনসার্টের আগে প্রিন্সের বাড়িতে খেয়েছি। তাঁর মায়ের হাতের রান্না ছিল দারুণ।’ গতকাল সোমবার প্রিন্স প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার এখনো বিশ্বাসই হচ্ছে না, গুরু আমার এলাকায় বেড়াতে গেছেন! আমার বাড়িতে মায়ের হাতে রান্না করা খাবার খেয়েছেন!’ প্রিন্স ও তাঁর বন্ধুরা হোসেনপুর উপজেলা সদরের একটি সড়কের নাম প্রিয় শিল্পী জেমসের নামে করার উদ্যোগও নিয়েছেন। যদিও সরকারি নথিতে তা নেই, কিন্তু এলাকাটির অনেকের মনের নথিজুড়েই আছেন জেমস।

বিয়ের আনন্দে ভাসছেন করন-বিপাশা

বিপাশা বসু ও করন সিং গ্রোভার
মাত্র আর কদিন বাদেই বিয়ে করছেন বলিউডের অভিনেত্রী বিপাশা বসু ও অভিনেতা করন সিং গ্রোভার। ৩০ এপ্রিল তাঁদের বিয়ের অনুষ্ঠান। তবে এখন থেকেই বিয়ের আনন্দ উদযাপনের শুরু হয়ে গেছে। বিপাশার বন্ধু ও তাঁর বিয়ের পোশাকের ডিজাইনার রকি এস বিপাশার সৌজন্যে ভারতের গোয়ায় আয়োজন করেছিলেন ‘ব্রাইডাল শাওয়ার’-এর। সেই অনুষ্ঠানেরই কিছু ছবি বিপাশা তাঁর ইনস্টাগ্রাম আর টুইটার অ্যাকাউন্টে প্রকাশ করেছেন। বিপাশা ও করনের বিয়ের আগে তাঁদের ঘনিষ্ঠ কয়েকজন বন্ধু ও পরিবারের খুব কাছের মানুষদের নিয়েই ছিল এই আয়োজন। খুব ঘরোয়া পরিবেশে বিপাশার ‘ব্রাইডাল শাওয়ার’-এর আয়োজন করা হয়। ছবিতে হবু কনেকে অনেক উচ্ছ্বসিত ও আনন্দিত দেখাচ্ছে। আয়োজন ছোট পরিসরে হলেও সেখানে বিপাশার বন্ধুদের ভালোবাসার কোনো কমতি ছিল না। হাসি, মজা, নাচ, গান আর ফুর্তিতে ভালোই কেটেছে বিপাশার বিয়ের এই ‘ব্যাচেলর পার্টি’। বিপাশা তাঁর প্রিয়জনদের ভালোবাসায় মুগ্ধ। এমন উষ্ণ আয়োজনের জন্য তিনি সবাইকে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।