Wednesday, January 13, 2010

চীনে ৫০০০ কোটি ডলার নিয়ে বিদেশে পালিয়েছেন কয়েক হাজার কর্মকর্তা

চীনের কয়েক হাজার কর্মকর্তা গত ৩০ বছরে সরকারি তহবিলের প্রায় পাঁচ হাজার কোটি ডলার নিয়ে দেশ থেকে পালিয়ে গেছেন। চীনা সরকারের দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের মধ্যেই এমন খবর প্রকাশ হলো।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম গ্লোবাল টাইমস-এর খবরে গতকাল সোমবার বলা হয়, চার হাজারেরও বেশি কর্মকর্তা দেশ থেকে পালিয়ে গেছেন। তাঁরা অপরাধী চক্রকে কাজে লাগিয়ে প্রধানত যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমিয়েছেন। সেখানে তাঁরা স্থাবর সম্পত্তি কিনছেন এবং ভুয়া পরিচয় দিয়ে চলাফেরা করছেন।
খবরে বলা হয়, সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে ঘুষের প্রবণতা রোধে দেশটিতে ১৫টি মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে একটি যৌথ টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। টাস্কফোর্স দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে খবরে বলা হয়, কর্তৃপক্ষ ২০০৯ সালে তিন শতাধিক কর্মকর্তার বিদেশ ভ্রমণ-সংশ্লিষ্ট ১০৩টি ঘটনা তদন্ত করেছে। এতে আরও বলা হয়, ২০০৮ সালে ওয়েনঝো নগরের কমিউনিস্ট পার্টির শীর্ষ কর্মকর্তা ইয়াং জিয়াংহং ফ্রান্সে পালিয়ে যান। তাঁর বিরুদ্ধে ২৯ লাখ ডলার পাচারের অভিযোগ রয়েছে। ওই ঘটনায় তাঁর স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে ওই পাঁচ হাজার কোটি ডলার কীভাবে বিদেশে পাচার করা হয়েছে কিংবা বিদেশে অপরাধী চক্রের সঙ্গে কর্মকর্তারা কীভাবে সম্পৃক্ত হচ্ছেন তার বিস্তারিত খবরে উল্লেখ করা হয়নি। এএফপি।
চীনের প্রেসিডেন্ট হু জিনতাও গত কয়েক বছর ধরে দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযানকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। চীন গত কয়েক বছরে সরকারি অর্থ নিয়ে বিদেশে পালিয়ে যাওয়া কর্মকর্তাদের প্রত্যাবাসন ও শাস্তি প্রদানে সহায়তা করতে পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে আসছে।

কোরীয় যুদ্ধের অবসানে আলোচনার প্রস্তাব উত্তর কোরিয়ার

আনুষ্ঠানিকভাবে কোরীয় যুদ্ধের অবসানের জন্য শান্তি আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছে উত্তর কোরিয়া। গত সোমবার পিয়ংইয়ংয়ের পক্ষ থেকে ওই প্রস্তাব দেওয়া হয়। তবে পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচির অবসানের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক আলোচনা আবার শুরু করার জন্য দেশটির ওপর আরোপিত অবরোধ তুলে নেওয়ার শর্ত জুড়ে দিয়েছে দেশটি।
উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ছয় জাতি পরমাণু আলোচনা আবারও শুরুর বিষয়টি নির্ভর করছে পিয়ংইয়ং এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে আস্থা তৈরির ওপর। বিবৃতিতে বলা হয়, কোরীয় উপদ্বীপকে পরমাণু অস্ত্রমুক্ত করার প্রক্রিয়া আবারও শুরু করতে উত্তর কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার আস্থা তৈরির ওপর মনোযোগ দেওয়া জরুরি।
কোরীয় যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক অবসানে সাময়িক যুদ্ধবিরতির স্থলে একটি শান্তিচুক্তির প্রস্তাব দিয়েছে উত্তর কোরিয়া। ১৯৫০-৫৩ সালের কোরীয় যুদ্ধের অবসান ঘটেছে সাময়িক যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে, কোনো শান্তিচুক্তির মাধ্যমে নয়। উত্তর কোরিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও চীন ওই অস্ত্র বিরতি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিল। দক্ষিণ কোরিয়া কখনো ওই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেনি।
দূরপাল্লার রকেট উেক্ষপণের পর আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে গত বছর ছয় জাতির আলোচনা থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নেয় পিয়ংইয়ং। ওই পরীক্ষার পর উত্তর কোরিয়ার ওপর অবরোধ আরোপ করেছিল জাতিসংঘ।
গত মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার উত্তর কোরিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত পিয়ংইয়ংয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি সফরের পর জানান, আলোচনায় ফেরার প্রয়োজনীয়তার ব্যাপারে ঐকমত্যে পৌঁছেছে পিয়ংইয়ং। তবে দেশটি কখন আলোচনায় ফিরবে, সেটা উল্লেখ করেনি।

নেপালে মাওবাদীদের ভারতবিরোধী বিক্ষোভ

ভারতের বিরুদ্ধে নেপালি ভূখণ্ড দখলের অভিযোগ তুলে গতকাল সোমবার ভারতবিরোধী বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু করেছে নেপালের সাবেক মাওবাদী বিদ্রোহীরা। ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস এম কৃষ্ণার নেপাল সফর সামনে রেখে মাওবাদীরা এ বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা দেয়।
কাঞ্চনপুর জেলায় অনুষ্ঠিত ভারতবিরোধী বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেন মাওবাদীপ্রধান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী পুষ্প কমল দহল প্রচণ্ড। ওই এলাকার ভারতীয় অংশে মহাকলি নদীর ওপর টনকপুর বাঁধ তৈরি করছে ভারত। বাঁধ নির্মাণের তীব্র নিন্দা করেছে মাওবাদীরা। তাঁদের অভিযোগ, ওই বাঁধ নির্মাণের ফলে ভারতীয় পক্ষ বেশি সেচসুবিধা পাবে। বিক্ষোভে প্রচণ্ড বলেন, নেপালের সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য নতুন আন্দোলনের পুরোভাগে থাকবে তাঁর দল। তাঁর অভিযোগ, বিদেশি শক্তিগুলো প্রধানমন্ত্রী মাধব কুমার নেপালের নেতৃত্বাধীন জোট সরকারকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করছে।
নেপালের পশ্চিমাঞ্চলীয় নাওয়ালপারাশি জেলায় একই ধরনের একটি বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেন প্রচণ্ডর ডেপুটি ও সাবেক অর্থমন্ত্রী বাবুরাম ভট্টরাই। নেপালিদের অভিযোগ, ওই এলাকায় সুসতা নামের একটি গ্রাম অবৈধভাবে দখলে নিয়েছে ভারতীয়রা।
পূর্বাঞ্চলীয় আইলাম জেলার পশুপতিনগরে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেন মাওবাদীদের অপর প্রভাবশালী নেতা মোহন ভাইদইয়া কিরাণ। বিরোধপূর্ণ আরও দুটি জায়গায় বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেন সাবেক মাওবাদী প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাম বাহাদুর থাপা বাদল এবং জ্যেষ্ঠ মাওবাদী নেতা নারায়ণ কাজি শ্রেষ্ঠা। ‘ভারতীয় দখলদারির’ বিরুদ্ধে বিক্ষোভ আজ মঙ্গলবারও অব্যাহত থাকবে।
ভারত ও নেপালের মধ্যে এক হাজার ৮০০ কিলোমিটারের যৌথ সীমান্ত রয়েছে। সীমান্ত নিয়ে দুই দেশের মধ্যে কমপক্ষে ৫০ জায়গায় বিরোধ রয়েছে। সবচেয়ে ভয়াবহ বিরোধ চলছে নেপালের দারচুলা জেলার কালাপানি সীমান্তে। চীন ভারত আক্রমণ করার পর ১৯৬২ সালে ভারতীয় সেনারা সেখানে ঘাঁটি স্থাপন করে। ঘাঁটিটি এখনো রয়েছে।
কালাপানিতে একটি বিক্ষোভ মিছিলে নেতৃত্ব দেওয়ার কথা ছিল প্রচণ্ডর। কিন্তু পরে ওই কর্মসূচি বাতিল করা হয়। ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস এম কৃষ্ণার তিন দিনের নেপাল সফর সামনে রেখে মাওবাদীরা এই বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছে। ১৫ জানুয়ারি নেপালে প্রথম সরকারি সফর শুরু করবেন তিনি।
১৪ জানুয়ারি ১৯৫০ সালের ভারত-নেপাল শান্তি ও বন্ধুত্ব চুক্তিসহ ভারতের সঙ্গে সম্পাদিত ‘অসম’ চুক্তিগুলোর অনুলিপিতে অগ্নিসংযোগের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে মাওবাদীরা।
১৯ জানুয়ারি ভারতীয় সেনাপ্রধান জেনারেল দীপক কাপুরও নেপাল সফরে যাচ্ছেন। নেপালের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সিংহ দরবারের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা করেছে সাবেক মাওবাদী বিদ্রোহীরা। সিংহ দরবারে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ছাড়াও বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় অবস্থিত।

টেস্ট দলে ডাক পেলেন শফিউল-শাহরিয়ার

য়ানডের পর টেস্টেও অভিষেক হয়ে যেতে পারে পেসার শফিউল ইসলামের। ভারতের বিপক্ষে শুরু হতে যাওয়া দুই টেস্টের সিরিজে বাংলাদেশ দলে ডাক পেয়েছেন তিনি। ১৪ সদস্যের দলে তিনি ছাড়াও ডাক পেয়েছেন আইসিএল-ফেরত শাহরিয়ার নাফীস। জানাই ছিল, ইনজুরির কারণে মাশরাফি বিন মুর্তজা টেস্ট সিরিজটাও মিস করতে পারেন। ইনজুরিই দলে আসতে দেয়নি গত ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে ইনজুরিতে পড়া অধিনায়ক। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের দল থেকে বাদ পড়েছেন আসলে মেহরাব হোসেন জুনিয়র ও সগীর হোসেন। ১৪ সদস্যের দলে যথারীতি সাকিব আল হাসানই অধিনায়ক।
চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে প্রথম টেস্ট শুরু হবে ১৭ জানুয়ারি। ঢাকায় মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় টেস্ট শুরু হবে ২৪ জানুয়ারি।
বাংলাদেশ দল
সাকিব আল হাসান (অধিনায়ক), মুশফিকুর রহিম (সহ-অধিনায়ক), তামিম ইকবাল, ইমরুল কায়েস, জুনায়েদ সিদ্দিক, মোহাম্মদ আশরাফুল, রকিবুল হাসান, মাহমুদউল্লাহ, শাহরিয়ার নাফীস, শাহাদাত হোসেন, রুবেল হোসেন, এনামুল হক জুনিয়র, মাহবুবুল আলম ও শফিউল ইসলাম।

অনূর্ধ্ব-১৯ দলের শুভসূচনা

নিউজিল্যান্ড যাওয়ার আগে অনূর্ধ্ব-১৯ দলের কোচ মিনহাজুল আবেদিন বলেছিলেন, দলের মূল শক্তি ব্যাটিং। কোচের কথার কিছুটা প্রমাণ পাওয়া গেল প্রস্তুতি ম্যাচেও। ব্যাটসম্যানদের নৈপুণ্যে বাংলাদেশ যুবদলের নিউজিল্যান্ড অভিযান শুরু হয়েছে জয় দিয়ে। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেটের প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচে লিংকনে স্বাগতিকদের ডাকওয়ার্থ-লুইস পদ্ধতিতে ৩৬ রানে হারিয়েছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল।
টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নামা নিউজিল্যান্ড নির্ধারিত ৪৫ ওভারে ২৪২ রান করে তিন ব্যাটসম্যানের ফিফটিতে। দলীয় ২৬ রানে ওপেনার ব্রেসওয়েলকে হারানোর পর দ্বিতীয় উইকেটে আরেক ওপেনার টম লাথাম ও জিমি নিশাম গড়েন ৯৪ রানের জুটি। চার নম্বরে নামা কোরে অ্যান্ডারসন ৬২ রান করেন ৪৯ বলে। দুই উইকেট নিয়েছেন বাংলাদেশের পেসার কামরুল ইসলাম।
২৪২ রান তাড়া করতে নেমে নিশামের করা ইনিংসের প্রথম বলেই বোল্ড হয়ে যান উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান আনামুল হক। দ্বিতীয় উইকেটে পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে ৮৮ বলে ৯৯ রানের জুটি গড়েন অমিত মজুমদার ও সৈকত আলী। ৬ চার ও ৩ ছয়ে ৪৪ বলে ৪৭ রান করেন অমিত। সৈকতের ৬১ বলে ৭১ রানের ৫০-ই এসেছে বাউন্ডারি থেকে (১১ চার, ১ ছয়)। এই দুজনের বিদায়ের পর অধিনায়ক মাহমুদুল হাসানকে নিয়ে ম্যাচের একমাত্র সেঞ্চুরি জুটিটা (১০১) গড়েন মমিনুল সৌরভ।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
নিউজিল্যান্ড অনূর্ধ্ব-১৯: ৪৫ ওভারে ২৪২/৬ (অ্যান্ডারসন ৬২, নিশাম ৬০, ল্যাথাম ৫১; কামরুল ২/৩১, শাকের ১/৩৬, সাব্বির ১/৩৭, রাজু ১/৫৫)।
বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯: ৩৯.১ ওভারে ২২৯/৪ (সৈকত ৭২, মমিনুল ৬৬, অমিত ৪৭, মাহমুদুল ৩৭*, আনামুল ০)।

বিশ্বকাপে কোনো ভয় নেই!

এ বছরটা আফ্রিকান ফুটবলের জন্য ঐতিহাসিক বছর। বিশ্বকাপের আট দশকের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো আফ্রিকা মহাদেশে বসছে ফুটবলের মহাযজ্ঞ। সেই গৌরবের রঙে কলঙ্কের তিলক পড়ল অ্যাঙ্গোলায় টোগো দলের ওপর হামলায়। এ ঘটনাকে ‘শোকাবহ’ বলছে দক্ষিণ আফ্রিকা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। তবে ২০১০ বিশ্বকাপের আয়োজকেরা জোর দিয়েই বলছে, এর কোনো প্রভাব ১১ জুন শুরু বিশ্বকাপে পড়বে না।
‘অ্যাঙ্গোলায় যা হয়েছে সেটিকে আমরা বিচ্ছিন্ন সন্ত্রাসী হামলা হিসেবেই বিবেচনা করছি। এটিকে এভাবেই দেখা উচিত। এর কোনো প্রভাব দক্ষিণ আফ্রিকায় পড়বে না। দক্ষিণ আফ্রিকা তো আর অ্যাঙ্গোলা নয়’—বলেছেন স্থানীয় আয়োজকদের মুখপাত্র রিচ এমকোন্ডো।
বিশ্বকাপের স্বাগতিক হওয়ার পর অনেকেই দক্ষিণ আফ্রিকার সামর্থ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। দেশটির অপরাধপ্রবণতা, বর্ণবাদ সমস্যার পাশাপাশি অবকাঠামো নিয়েই সংশয় ছিল অনেকের। সংশয় আরও বেড়ে যায় স্টেডিয়াম নির্মাণশ্রমিকেরা ধর্মঘট শুরু করায়। কিন্তু সব মুছে দিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপের মতো বিশাল যজ্ঞ আয়োজনে প্রস্তুত।
এর আগে দেশটি আয়োজন করেছে ১৯৯৫ রাগবি বিশ্বকাপ। ২০০৩ ক্রিকেট বিশ্বকাপও সাফল্যের সঙ্গে আয়োজন করেছে তারা। ২০০৭ সালে প্রথম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেরও আয়োজক ছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। গত বছর ভারত থেকে সরে এসে এখানেই সফলভাবে হয়েছে আইপিএলের দ্বিতীয় আসর।
অ্যাঙ্গোলা থেকে আড়াই হাজার কিলোমিটার দূরের দেশ দক্ষিণ আফ্রিকাকে এক কাতারে মেলালে চলবে না বলে মত দিচ্ছেন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ জ্যাকি সিলিয়ার্সও, ‘সক্ষমতা, সীমান্তরক্ষা, সম্পদ, অবকাঠামো এবং বাকি সবদিক দিয়ে এই দুটো দেশ সম্পূর্ণ আলাদা। অ্যাঙ্গোলার চেয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার নিরাপত্তাব্যবস্থা শতগুণ ভালো।’
অ্যাঙ্গোলায় ওই অপ্রত্যাশিত ঘটনার পর দক্ষিণ আফ্রিকায় আগামী বিশ্বকাপ নিয়ে প্রথম সংশয় প্রকাশ করেছেন ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের হাল সিটি কোচ ফিল ব্রাউন, ‘আমি আতঙ্কিত। এ ঘটনা আগামী বিশ্বকাপের সফল আয়োজনকেই প্রশ্নবিদ্ধ করল। খেলোয়াড়, কর্মকর্তা আর সমর্থকদের নিয়ে সামান্য ঝুঁকিও আপনি নিতে পারেন না। এটা মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়।’
তবে বিশ্বকাপ সামনে রেখে দেশটির পুরো অবকাঠামোতে পরিবর্তন নিয়ে আসা দক্ষিণ আফ্রিকা প্রস্তুত সাড়ে চার লাখ পর্যটক-সমর্থককে বরণ করে নিতে। আয়োজকদের মুখপাত্র এমকোন্ডো জোর দিয়েই বলছেন, ‘যারা টিকিট কেটেছে এবং দক্ষিণ আফ্রিকায় আসছে তাদের আমরা এই ভ্রমণ উপভোগ করার আহ্বান জানাচ্ছি। তারা অবশ্যই নিরাপদ থাকবে।’
দক্ষিণ আফ্রিকা সরকারের পক্ষ থেকেও নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। টোগো ফুটবল দলের ওপর হামলাকে ‘দুঃখজনক ও অগ্রহণযোগ্য’ জানিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট জ্যাকব জুমা বলেছেন, এ ঘটনা দক্ষিণ আফ্রিকার বিশ্বকাপ আয়োজনে কোনো প্রভাব ফেলবে না। ফিফা সভাপতি সেপ ব্ল্যাটারও জানিয়েছেন, এ ঘটনার পরও দক্ষিণ আফ্রিকার ওপর থেকে বিন্দুমাত্র আস্থা কমেনি তাঁর।

বাংলাদেশ ‘এক শতে আশি’! by আরিফ রনি

টুর্নামেন্টের শুরুতে তো আপনাদের লক্ষ্য ছিল একটা জয়’—কেউ একজন এটুকু বলতেই ভুল ধরিয়ে দিলেন সাকিব আল হাসান, ‘লক্ষ্য কিন্তু ছিল চারটা ম্যাচই জেতা!’
কিন্তু হয়েছে তো ঠিক উল্টো। হারতে হয়েছে প্রতিটি ম্যাচ। সেটাও আবার এমন এক টুর্নামেন্টে, যেটিকে মনে করা হচ্ছিল বাংলাদেশের জন্য বড় এক পরীক্ষা। তো এই পরীক্ষায় মোট নম্বর যদি থাকে ১০০, কত পেল বাংলাদেশ? সাকিবের উত্তরটা নিশ্চিতভাবেই চমকে দেবে আপনাকে, ‘৮০!’
লেটার মার্কসের কথা চমক দেওয়ার জন্য তো আর বলেননি, ব্যাখ্যাটাও দিয়েছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক, ‘এই টুর্নামেন্ট থেকে ইতিবাচক অনেক কিছুই নেওয়ার আছে। ব্যাটসম্যানরা নিয়মিত ভালো করেছে। গত তিনটি ম্যাচে খুব বাজে কন্ডিশনে বোলিং করেছি, কিন্তু আজ কন্ডিশন ভালো থাকায় আমাদের বোলাররাও ভালা করেছে। এই বিশ্বাসটা পেয়েছি, আমাদের বোলাররা গত মৌসুমের ফর্মটা হারিয়ে ফেলেনি। সবচেয়ে ইতিবাচক দিক হলো—খুব ভালো খেলছি না, তারপরও প্রতি ম্যাচে আড়াই শ রান করছি, যেটা আগে কখনো দেখা যায়নি বাংলাদেশ ক্রিকেটে।’ সাকিবের কথায় আস্থা পাচ্ছেন না? তাহলে শুনুন এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বড় তারকা বিরাট কোহলির কথা, ‘বাংলাদেশের দুর্ভাগ্য যে প্রতিটি ম্যাচে পরে বোলিং করতে হয়েছে। না হলে ফলাফল অন্যরকম হতে পারত!’
ব্যাটসম্যানদের নিয়ে হয়তো কারও কোনো প্রশ্ন নেই। কেউ সেঞ্চুরি পাননি, তবে টেস্ট খেলুড়ে দেশগুলোর বিপক্ষে ব্যাটসম্যানদের এই ধারাবাহিকতা দেখা যায়নি আগে কখনো। এই টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে হতাশাজনক অধ্যায় ছিল বোলিং। তবে বোলারদের নিয়ে সাকিবের ‘কন্ডিশন’-সংক্রান্ত দাবিটা যে অমূলক নয়, তার কিছুটা প্রমাণ দিতে পারে পরিসংখ্যানও।
টুর্নামেন্টে কালই সবচেয়ে বেশি উইকেট নিয়েছেন বাংলাদেশের বোলাররা। আগের তিন ম্যাচ মিলে স্পিনাররা সাকল্যে নিতে পেরেছিলেন ৩ উইকেট, কাল এক ম্যাচেই নিয়েছেন ৩টি। সাকিবের দাবিকে তাই উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। কিন্তু ওয়ানডেতে যে হাতটার দিকে দল সবচেয়ে বেশি তাকিয়ে থাকে, সেই আবদুর রাজ্জাক উইকেট পেলেন না কালও। উইকেটশূন্য থাকলেন পুরো টুর্নামেন্টেই। তবে অধিনায়ককে পাশেই পেয়েছেন এই বাঁহাতি, ‘আগের ম্যাচগুলোর কথা বলব না, তবে আজ রাজ ভাইয়ের (রাজ্জাক) আরও ভালো বোলিং করা উচিত ছিল। তিনি অভিজ্ঞ স্পিনার। অবশ্যই ঘুরে দাঁড়াবেন।’
ফাইনালের আশা শেষ আগেই, শেষ ম্যাচে তাই শাহরিয়ার নাফীস-আফতাব আহমেদদের সেরা একাদশে দেখার প্রত্যাশা করেছিলেন কেউ কেউ। তবে সাকিব জানালেন, ব্যাটসম্যানরা রান পাচ্ছেন, পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তাই ব্যাটিং লাইনআপে ছন্দপতন ঘটাতে চাননি। আর সবচেয়ে বড় হতাশা? এবার সাকিব অসহায়, ‘ফিল্ডিংয়ে আমাদের সীমাবদ্ধতা আছে, কখনোই আমরা একটা ভালো ফিল্ডিং দল ছিলাম না। এ নিয়ে তাই আর কথা বলতে চাই না।’
‘আশি ভাগ সাফল্যে’র টুর্নামেন্টেও ফাইনালে স্বাগতিকেরা শুধুই দর্শক। তবে একদিক থেকে এটাকেও ‘ইতিবাচক দৃষ্টিতে’ দেখতে পারেন, টেস্ট সিরিজ নিয়ে ভাবার জন্য বেশি সময় তো পাওয়া গেল!