Sunday, March 20, 2011

উন্মুক্ত কয়লা উত্তোলন কতটা যুক্তিযুক্ত? by ম. ইনামুল হক

বাংলাদেশ সরকার সম্প্রতি বড়পুকুরিয়ায় একটি উন্মুক্ত খনি করার লক্ষ্যে প্রাথমিকভাবে ৬২৮ একর ভূমি অধিগ্রহণের তৎপরতা শুরু করেছে। ফলে এলাকাটি ক্রমেই অশান্ত হয়ে উঠছে। এই স্থানে বর্তমানে ছয় মিটার ব্যাসের ৩২৬ ও ৩২০ মিটার গভীর দুটি ধাতুর কুয়া পুঁতে পাতাল থেকে প্রলম্বিত আনুভূমিক সুড়ঙ্গ পদ্ধতিতে কয়লা তোলা চলছে। তবে China Machinery Export and Import Company (CMC) নামের চীনা কোম্পানির সঙ্গে সম্পাদিত এই উত্তোলন চুক্তির মধ্যে একটি বড় ধরনের ত্রুটি আছে; তা হলো, উত্তোলিত কয়লার ভূগর্ভস্থ ফাঁকা জায়গাটি বালু দিয়ে ভরাট করা হচ্ছে না। এর ফলে ওপরের মাটির চাপে এলাকাটি দুই থেকে তিন মিটার বসে অনাবাদি হয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে পার্বতীপুর উপজেলার হামিদপুর ইউনিয়নের একটি বিশাল এলাকা দেবে গিয়ে জলাশয়ে পরিণত হয়েছে। জনগণ সেখানে দেবে যাওয়া রাস্তার ওপর বাঁশের মাচা নির্মাণ করে (স্থানীয় ভাষায় ‘ধামাল’) যাতায়াত করছে। অনেক আন্দোলনের পর কয়লাখনি কর্তৃপক্ষ স্থানীয় অধিবাসীদের এক প্রকার ক্ষতিপূরণ দিয়ে আসছিল, কিন্তু ওপেন পিট করার সাম্প্রতিক উদ্যোগের ফলে বিগত আমন মৌসুম থেকে তা বন্ধ হয়ে গেছে। স্থানীয় জনগণ তাই এসব সরকারি তৎপরতায় অত্যন্ত শঙ্কিত ও ক্ষুব্ধ হয়ে উঠছে।
অপরদিকে এশিয়া এনার্জি বড়পুকুরিয়ায় নতুন করে উন্মুক্ত কয়লাখনি করার প্রস্তাব দিয়েছে। চলতি বছরের ৩১ আগস্ট চীনা কোম্পানির সঙ্গে বড়পুকুরিয়ার চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে। সরকার প্রাইভেট পাবলিক পার্টনারশিপের নামে তাদের পক্ষ হয়েই জমি অধিগ্রহণের জন্য একরপ্রতি ২০ লাখ টাকার প্যাকেজ ঘোষণা করেছে, যাতে গরিব সাধারণ মানুষের জীবিকা ও পুনর্বাসনের জন্য আকর্ষণীয় কিছুই নেই। বড়পুকুরিয়ায় উন্মুক্ত কয়লাখনি করা সম্ভব হবে কি না, সে ব্যাপারে কোনো সমীক্ষা ছাড়াই এ ধরনের উদ্যোগ সরকারি অর্থের লুটপাট আর বড় ধরনের ধ্বংসযজ্ঞ ছাড়া ভালো কিছু হবে না। অথচ স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং জেলা প্রশাসন উন্নয়নের প্রচার করে এলাকার মানুষকে দ্বিধাবিভক্ত করছে, যার ফলে বিগত ৩১ ডিসেম্বর এবং ২১ ফেব্রুয়ারি এলাকায় সংঘর্ষও হয়েছে। এখন বেশ কিছু স্থানীয় অধিবাসীর বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে।
বড়পুকুরিয়ায় ওপেন পিট মাইনিংয়ের সম্ভাবনার কথা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই প্রথম জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন (ডেইলি স্টার, ১১.০৪.২০১০)। জ্বালানি উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী এর পর বলেন, বড়পুকুরিয়ায় পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপের মাধ্যমে উন্মুক্ত খনি করার প্রস্তাব করা হচ্ছে (ডেইলি স্টার, ২৯.০৫.২০১০)। পরের মাসে প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিসভার বৈঠকে বলেন, জার্মানিতে ওপেন পিট মাইনিং সম্ভব হলেও বাংলাদেশে ঘনবসতির জন্য তা সম্ভব নয়, তাই সরকার জনস্বার্থের বিরুদ্ধে কোনো কাজ করবে না (ডেইলি স্টার, ২৮.০৬.২০১০)। এরপর ওপেন পিট মাইনিংয়ের বিষয়টি কিছুটা চাপা পড়ে যায়। কিন্তু জ্বালানিবিষয়ক সংসদীয় কমিটির প্রধান সুবিদ আলী ভূঁইয়ার নেতৃত্বে একটি দল জার্মানির Hambach Cologne-এর উন্মুক্ত কয়লাখনি পরিদর্শন করেন। তাঁরা ফিরে এসে বলেন, হামবাক কলোনের মাটি, কয়লার ধরন ও ভূগর্ভস্থ জলের সঙ্গে ফুলবাড়ী ও বড়পুকুরিয়ার মিল আছে, তাই এখানেও ওপেন পিট করা যাবে। তার পর থেকেই বড়পুকুরিয়ায় জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যায় (ডেইলি স্টার, ০৬.০২.২০১১)। তবে বাস্তব পরিস্থিতি অবশ্যই এক রকম নয়।
উল্লেখ্য, উন্মুক্ত পদ্ধতিতে খনির গভীরতা ১০০ মিটারের বেশি হলে তা লাভজনক হয় না। জার্মানির হামবাক এলাকায় লিগনাইট জাতের কয়লা ১০০ মিটার গভীর থেকে ঢাল হয়ে ৫০০ মিটার গভীর পর্যন্ত জমা আছে। সেখানে তাই ১০০ মিটার উন্মুক্ত সুড়ঙ্গ করে দূরবর্তী এলাকার লিগনাইট কয়লা তোলা হচ্ছে। বড়পুকুরিয়া ও ফুলবাড়ীর বিটুমিনাস কয়লার স্তর ১৫০ মিটার থেকে ৪৫০ মিটার গভীরে নৌকার আকারে অবস্থিত বিধায় উন্মুক্ত পদ্ধতি লাভজনক হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তা ছাড়া বড়পুকুরিয়া ও ফুলবাড়ীর কয়লা স্তরের ওপরের ১৫০ মিটার ধুপি টিলা পানির স্তর আছে, যার চাপ এত বেশি যে পাম্পে ক্রমাগত পানি তুলে বা অন্যভাবে ঠেকিয়ে রাখা মোটেই সম্ভব নয় বিধায় ব্রিটিশ কনসালট্যান্ট Wardell Armstrong মে ১৯৯১ কুয়া ও সুড়ঙ্গ পদ্ধতির সুপারিশ করে। হামবাক কলোন এলাকায় পানির চাপ খুবই কম, যা ক্রমাগত পানি তুলে সামাল দেওয়া গেছে। সংসদীয় কমিটির সদস্যরা সমীক্ষার প্রতি তোয়াক্কা না করে কাদের উদ্যোগে জার্মানির ওই কয়লাখনি পরিদর্শন করেছিলেন, তার তথ্য পেলে তাঁদের সুপারিশের গূঢ় কারণ স্পষ্ট হতে পারে।
আমরা সরকারি বা বেসরকারি প্রকল্পে জমি হুকুমদখলের প্রক্রিয়া শুরু করার আগে পর্যায়ক্রমে চার ধরনের সমীক্ষা করার কথা বলি। এসব হচ্ছে:
১. অর্থনৈতিক সম্ভাব্যতা: প্রকল্পটির ধারণাপত্রের পরিপ্রেক্ষিতে যেসব বিষয় বিবেচনা ও যাচাই করে এই সম্ভাব্যতা প্রস্তুত করতে হবে—(ক) বাজার ও জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতে বিদ্যমান চাহিদা, (খ) প্রকল্পের জন্য নির্মাণ উপকরণ, মিষ্টি পানি ও কাঁচামাল সরবরাহের উৎস, (গ) প্রকল্প দ্বারা উৎপাদন সম্ভাব্যতা এবং পণ্যের বাজার চাহিদা, (ঘ) প্রকল্প নির্মাণ বাবদ ব্যয় ও স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির ক্ষতি, (ঙ) প্রকল্প নির্মাণ বাবদ নবায়নযোগ্য কৃষি ও বনসম্পদের ক্ষতি, (চ) প্রকল্প নির্মাণ অর্থের উৎস, চুক্তির যৌক্তিকতা ও ফিরতি আয়, (ছ) প্রকল্প পরিচালন, সরবরাহ ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়। এর ফলে স্থানীয়ভাবে কিছু ক্ষতি হলেও জাতীয় ভিত্তিতে প্রকল্পটির অর্থনৈতিক লাভক্ষতি বেরিয়ে আসবে।
২. কারিগরি সম্ভাব্যতা: প্রকল্পটির অর্থনৈতিক সম্ভাব্যতার পরিপ্রেক্ষিতে যেসব বিষয় বিবেচনা ও যাচাই করে এই সম্ভাব্যতা প্রস্তুত করতে হবে—(ক) ভূতাত্ত্বিক গঠন এবং বিদ্যমান ভৌত কাঠামোর ভিত্তিতে স্থান নির্বাচন, (খ) নির্মাণ প্রযুক্তি, দক্ষ লোকবল, নির্মাণ উপকরণ প্রাপ্তির নিশ্চয়তা, (গ) প্রকল্প ও পুনর্বাসন নকশা প্রণয়ন, তদারকি ও জবাবদিহি, (ঘ) প্রকল্প পরিচালনায় নবায়নযোগ্য কাঁচামালের নির্ভরতা, (ঙ) প্রকল্পের জীবনকাল, জনগণের সম্পৃক্ততা ও সংরক্ষণ ব্যবস্থাপনা। এই সমীক্ষার ফলে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন পদ্ধতির সম্ভাব্য দিকগুলো বেরিয়ে আসবে।
৩. সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা: প্রকল্পটির স্থান নির্বাচনের পরিপ্রেক্ষিতে যেসব বিষয় বিবেচনা ও যাচাই করে এই সমীক্ষা প্রস্তুত করতে হবে—(ক) বিদ্যমান অবস্থায় স্থানীয় জনগণের জীবিকা ও প্রস্তাবিত জীবিকা, (খ) বিদ্যমান ঐতিহ্য, ধর্ম ও সংস্কৃতির ওপর অভিঘাত ও প্রস্তাবনা, (গ) স্থানীয় জনগণের আবাসন এবং প্রস্তাবিত বিকল্প আবাসনব্যবস্থা, (ঘ) বিদ্যমান অবস্থায় নারীর কর্মসংস্থান এবং প্রস্তাবিত কর্মসংস্থান, (ঙ) শিশু-কিশোরদের খেলার মাঠ, শিক্ষা ও বিনোদনের বিকল্প ব্যবস্থা। এর মাধ্যমে প্রকল্পটি স্থানীয় জনগণের জীবনধারণের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ হবে কি না এবং না হলে কীভাবে তা করা যাবে, জনগণের বিকল্প জীবিকা কী হবে, ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের কী কী ব্যবস্থা হবে, তার সুপারিশ থাকবে।
৪. পরিবেশগত অভিঘাত: প্রকল্পটির স্থান নির্বাচনের পরিপ্রেক্ষিতে যেসব বিষয় বিবেচনা ও যাচাই করে এই সমীক্ষা প্রস্তুত করতে হবে—(ক) প্রকল্পের জন্য পশু, পাখি, মাছ, জলজ উদ্ভিদ ও ভূমিজ গাছপালার ক্ষতি, (খ) প্রকল্পের কারণে চারপাশের জনজীবন ও পরিবেশের ওপর অভিঘাত, (গ) প্রকল্পের কারণে সাংবার্ষিক জলবায়ুর পরিক্রমণের ওপর অভিঘাত, (ঘ) দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পরিবেশগত আইনে প্রকল্পের গ্রহণযোগ্যতা, (ঙ) প্রকল্পের জন্য উত্তোলিত জল ব্যবহার এবং বর্জ্য শোধনব্যবস্থা ইত্যাদি। এই সমীক্ষার ফলে প্রকল্পটি পরিবেশবিমুখ হবে না।
বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির ওপর জনগণের মালিকানা ১০০ শতাংশ হলে তা উত্তোলন অবশ্যই যুক্তিসংগত হবে। তবে পর্যায়ক্রমে সমীক্ষা চালালে প্রকল্পটি প্রকৃতই দেশের জন্য লাভজনক কি না, তা পরিষ্কার হবে। বর্ণনা অনুযায়ী প্রতিটি ধাপের সম্ভাব্যতা যাচাই সম্পন্ন করে তা দেশবাসীর কাছে প্রকাশ করলে কারও মনে কোনো রকম ভুল বোঝাবুঝি থাকবে না।
প্রকৌশলী ম. ইনামুল হক। সাবেক মহাপরিচালক, পানিসম্পদ পরিকল্পনা সংস্থা। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়।
Email: minamul@gmail.com

মানবসভ্যতার জন্য দোয়া ও মোনাজাত - মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান

ইসলামে বিশ্বমানবতার জন্য দোয়া ও আশীর্বাদ কামনাকে একটি স্বতন্ত্র ইবাদতের মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। স্রষ্টার সঙ্গে বান্দার অন্তরঙ্গ মুহূর্তের অন্যতম মাধ্যম হচ্ছে দোয়া বা ক্ষমাপ্রার্থনা। দোয়ার মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর ঘনিষ্ঠতা অর্জন করতে পারে এবং তাঁর উষ্ণ পরশে ধন্য হতে পারে। ‘দোয়া’ শব্দের অর্থ প্রার্থনা করা, আহ্বান করা, কোনো কিছু পাওয়ার জন্য আকুতি-মিনতি করা প্রভৃতি। দোয়া হচ্ছে আল্লাহর সঙ্গে বান্দার কথোপকথনের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। বান্দার সঙ্গে তার মনিবের যোগসূত্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যম দোয়া। আল্লাহর কাছে এমনভাবে দোয়া করতে হবে যেন নিজেদের মন ও হূদয় পরস্পরের প্রতি সহানুভূতিশীল হয়। সব সময় আল্লাহর কাছে এভাবে দোয়া ও ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে, ‘হে আল্লাহ! তুমি ক্ষমাশীল, ক্ষমাকে তুমি পছন্দও করো, অতএব আমাকে ক্ষমা করো।’
দোয়ার মধ্যে মানুষের ইহকালীন ও পারলৌকিক সফলতা নিহিত। আল্লাহ তাআলা ওই মুহূর্তটিকে অধিক পছন্দ করেন, যখন বান্দা মানবসভ্যতার চরম বিপদ-আপদে ধৈর্যধারণ ও সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ করে কায়মনোবাক্যে আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করে, তাঁর কাছে মাগফিরাত কামনা করে। বান্দা কীভাবে তার চাহিদার কথা মহান প্রভুর দরবারে উপস্থাপন করবে, এর কৌশল সৃষ্টিকর্তাই শিখিয়ে দিয়েছেন। নিজের কাছে কোনো কিছু চাওয়ার আহ্বান করা এবং এর পদ্ধতি বাতলিয়ে দেওয়ার নজির একমাত্র আল্লাহর ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, ‘আর যখন আমার বান্দারা আমার সম্পর্কে তোমাকে জিজ্ঞাসা করে (তাদের জানিয়ে দাও) নিশ্চয়ই আমি তাদের কাছেই আছি। আহ্বানকারী (প্রার্থনাকারী) যখন আমাকে আহ্বান করে (দোয়া করে), আমি তার আহ্বানে সাড়া দিই (দোয়া কবুল করি)। সুতরাং তারাও আমার ডাকে সাড়া দিক এবং আমার ওপর ঈমান আনুক, যাতে তারা সঠিক পথে চলতে পারে।’ (সূরা আল-বাকারা, আয়াত-১৮৬) পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বান্দার আহ্বানে সাড়া দেবেন বলে ঘোষণা করেছেন, ‘অনন্তর তোমরা আমাকে স্মরণ করো, আমিও তোমাদের স্মরণ করব; আর তোমরা আমার শুকরিয়া আদায় করো এবং অকৃতজ্ঞ হয়ো না।’ (সূরা আল-বাকারা, আয়াত-১৫২)
পৃথিবীতে সৃষ্টির সেরা জীব বা ‘আশরাফুল মাখলুকাত’ হিসেবে মানবজাতি সৃষ্টির মূল উদ্দেশ্য আল্লাহর ইবাদত-বন্দেগি বা দাসত্ব করা। স্রষ্টার দিকনির্দেশনা মোতাবেক সঠিক পথে চলাই বান্দার প্রধান দায়িত্ব। প্রভুর সান্নিধ্য অর্জন গোলামের আরাধ্য। আল্লাহ তাআলা মানুষকে অত্যন্ত ভালোবেসে সৃষ্টি করেছেন। তিনি চান মানবসভ্যতা তাঁর দয়া ও করুণার শীতল স্পর্শে ধন্য হোক! রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘সিজদায় বান্দা তার প্রভুর অধিক নিকটবর্তী হয়ে থাকে। তাই তোমরা অধিক দোয়া করো।’ (মুসলিম)
আল্লাহ তাআলার অসংখ্য মহান গুণের একটি হলো ক্ষমা। আল্লাহ ‘গাফুরুর রাহিম’ অর্থাৎ তিনি পরম ক্ষমাশীল, অতি দয়ালু। মানুষ মহান আল্লাহর ক্ষমা ও দয়া লাভ করে পাপমুক্ত হতে পারে, সৌভাগ্যবান হতে পারে। পবিত্র কোরআনের বিভিন্ন আয়াতে পাপমুক্তির জন্য দোয়া কীভাবে করতে হবে, এর পদ্ধতি বর্ণনা করা হয়েছে। যেমন—ইহকাল ও পরকালের সফলতার জন্য কীভাবে দোয়া করতে হবে, এ মর্মে তিনি শিক্ষা দিয়েছেন, ‘হে আমার প্রতিপালক! তুমি আমাকে দুনিয়া এবং আখিরাত উভয়ের মধ্যে সফলতা দান করো এবং আমাকে জাহান্নামের কঠিন শাস্তি থেকে মুক্তি দাও।’ অন্যত্র দোয়া শিক্ষা দিয়েছেন এভাবে, ‘হে আমার প্রতিপালক! আমি আমার নিজের ওপর অত্যাচার করেছি; এখন যদি তুমি আমাকে মাফ না করো এবং আমার ওপর দয়া না করো; তবে নিশ্চয়ই আমি ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হব।’
মুসলমানদের যেকোনো বিপদ-আপদে আল্লাহর রাসুল দোয়ার মাধ্যমে স্রষ্টার সঙ্গে সম্পর্ক সৃষ্টি করে তা থেকে মুক্তি লাভ করতেন। মক্কায় অবস্থানকালীন কঠিন মুহূর্তে, ঐতিহাসিক বদরের যুদ্ধে অনিবার্য পরাজয়ের মুখে, হিজরতের সময় কাফেরদের হাতে ধরার পড়ার অতিশয় নিকটবর্তী সময়েও নবী করিম (সা.) যখনই আল্লাহর দরবারে দুই হাত উঠিয়েছেন, তখনই আল্লাহর ঐশী সাহায্য এসেছে এবং তাঁর অসীম রহমতের দরজা খুলে গেছে। আল্লাহ তাঁর কৃপার অশেষ রহমত প্রিয় হাবিবের সাহায্যার্থে বাড়িয়ে দিয়েছেন। প্রাকৃতিক কোনো দুর্যোগ-দুর্বিপাক বা মানবিক বিপর্যয়ের করুণ মুহূর্তে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর হাতিয়ার ছিল দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে আল্লাহর মনোযোগ আকর্ষণ করা। গভীর রাতে সমস্ত জগৎ যখন নিঝুমপুরী, সবাই যখন ঘুমে বিভোর, তখনো রাসুলে করিম (সা.) উম্মতের মুক্তির জন্য আল্লাহর দরবারে দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে কান্নাকাটি করতেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহ তাআলা (প্রতি রাতে) দুনিয়ার নিকটবর্তী আসমানে আসেন এবং ডেকে বলেন, ‘কে আছে এমন যে আমার কাছে নিজের গুনাহখাতা মাফ চাইবে আর আমি মাফ করে দেব।’ (বুখারি ও মুসলিম)
দোয়ার আদব হলো বান্দা নিজের সমস্ত দুর্বলতা ও কমজোরি অত্যন্ত বিনম্র ভাষায় আল্লাহর কাছে নিবেদন পেশ করবে। নিজের সমস্ত সত্তাকে আল্লাহর দরবারে বিলীন করে দেবে। নিজের চাওয়া-পাওয়া সবকিছুকে আল্লাহর ইচ্ছার সঙ্গে সম্পৃক্ত করে দেবে। নিজেকে সম্পূর্ণ আল্লাহর দরবারে সোপর্দ করে নিজের চাহিদার কথা, নিজের অভাব-অনটন ও অন্য মানুষের বিপদ-আপদের কথা প্রভুকে জানাবে। অপরাধী যখন অনুশোচনায় সিক্ত হয়, অন্যায় ও অপরাধকর্ম থেকে বিরত হওয়ার প্রতিশ্রুতিতে যখন আল্লাহর দরবারে হাজির হয়, তখন আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তিন ধরনের লোকের দোয়া কখনো ফেরত দেওয়া হয় না। ইফতারের সময় রোজাদারের দোয়া, জালেমের বিরুদ্ধে মজলুমের দোয়া, বাড়িতে ফিরে না আসা পর্যন্ত মুসাফিরের দোয়া।’ (তিরমিজি)
প্রকৃত ও যথার্থ দোয়ার ফল অবশ্যম্ভাবী। সঠিক নিয়মে দোয়া ও মোনাজাত করলে তা কখনো বিফলে যায় না। দোয়ার ফলাফলে বিলম্ব হলেও এতে হতাশ হওয়ার কারণ নেই। কোনো দোয়ার ফল যদি ইহকালে না পাওয়া যায়, তবে তা পরকালে অবশ্যই পাওয়া যাবে—সবাইকে এ বিশ্বাস রাখতে হবে। সর্বোপরি অন্তরকে স্বচ্ছ ও কলুষতামুক্ত করে আল্লাহর দরবারে হাজিরা দিতে পারলেই মানবজীবনে দোয়া কবুলের নিশ্চয়তা রয়েছে। এ জন্য মানুষের জন্য বেশি বেশি করে দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে আল্লাহর সঙ্গে মিলিত হওয়ার প্রচেষ্টা প্রত্যেক মুমিন মুসলমানের সব সময় করা উচিত।
ড. মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান: একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক।
dr.munimkhan@yahoo.com

ক্যানসারের চিকিৎসা

ক্যানসার-আক্রান্ত রোগীদের রেডিওথেরাপি দেওয়ার যন্ত্র লিনিয়ার এক্সিলারেটর (লিনিয়াক) চালাতে এ বিষয়ে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত দক্ষ লোকের প্রয়োজন হয়। কারণ, রোগীর দেহের ক্যানসার-আক্রান্ত কোষগুলোর ওপর রশ্মি প্রয়োগের সময় যেন আশপাশের সুস্থ কোষে রশ্মি না লাগে, তা নিশ্চিত করতে বেশ সূক্ষ্ম মাপজোকের প্রয়োজন হয়। এই ক্ষেত্রে ভুল হলে রোগীর ওপর প্রকট পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে। তাই সারা বিশ্বে এই যন্ত্র চালান মেডিকেল ফিজিসিস্ট বা চিকিৎসা-পদার্থবিদেরা। কিন্তু আমাদের দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা-পদার্থবিদের অভাবে লিনিয়ার এক্সিলারেটর যন্ত্রগুলোর সদ্ব্যবহার হচ্ছে না। ভুলভাবে রশ্মি প্রয়োগের ফলে অনেক ক্যানসার-আক্রান্ত রোগীর মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে, এমন অভিযোগ রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন দেশের একজন ক্যানসার বিশেষজ্ঞ।
অবস্থা যখন এই, তখন সরকার প্রায় ২০ কোটি টাকা ব্যয় করে আরও দুটি লিনিয়াক যন্ত্র কেনার উদ্যোগ নিয়েছে বলে বুধবারের প্রথম আলোয় খবর বেরিয়েছে। এর আগে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় ৬০ কোটি ২১ লাখ টাকায় কেনা হয়েছিল পাঁচটি লিনিয়াক যন্ত্র। কিন্তু উপযুক্ত লোকের অভাবে সেগুলোরই পরিপূর্ণ ব্যবহার হচ্ছে না। যেমন—জাতীয় ক্যানসার ইনস্টিটিউটে তিনটি লিনিয়াক যন্ত্রে গড়ে প্রতিদিন ১০০ জনের বেশি রোগীকে রেডিওথেরাপি দেওয়া সম্ভব হয় না। কারণ সেখানে কোনো মেডিকেল ফিজিসিস্ট নেই। যদি থাকতেন, তাহলে প্রতিদিন গড়ে ৩০০ জন রোগীকে রেডিওথেরাপি দেওয়া সম্ভব হতো। অর্থাৎ প্রশিক্ষিত লোকবল থাকলে এই যন্ত্রগুলোর পরিপূর্ণ সদ্ব্যবহার করা যেত, তাতে যেমন আরও বেশিসংখ্যক রোগী সেবা পেত, তেমনি রশ্মি প্রয়োগে ভুল হওয়ার ঝুঁকিও অনেক কমে যেত।
কিন্তু ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল বা জাতীয় ক্যানসার ইনস্টিটিউট—কোনো সরকারি চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠানেই চিকিৎসা-পদার্থবিদ নিয়োগের কোনো বিধান নেই বলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে বলা হয়েছে। তাঁরা বলছেন, চিকিৎসা-পদার্থবিদ নিয়োগের বিধি তৈরির কাজ চলছে, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পদ সৃষ্টির উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। বেশ ভালো কথা; তবে লোক নিয়োগের আগেই যন্ত্র কেনার কী প্রয়োজন, যখন আগের যন্ত্রগুলোরই সঠিক ব্যবহার হচ্ছে না লোকবলের অভাবে? চিকিৎসা-পদার্থবিদ নিয়োগের প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করে উপযুক্ত লোক নিয়োগ ত্বরান্বিত করা হোক। পর্যাপ্তসংখ্যক চিকিৎসা-পদার্থবিদ নিয়োগের পরেই কেবল আরও যন্ত্র কেনার উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।

মন্ত্রী-সাংসদদের সম্পদের হিসাব -নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে হবে

অবশেষে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত সংবাদ সম্মেলন করে জানালেন, মন্ত্রী-সাংসদদের সম্পদের হিসাব দিতে হবে। আগামী রোববার এ-সংক্রান্ত চিঠি মন্ত্রীদের কাছে পাঠানো হবে। স্পিকারের সঙ্গে পরামর্শ করে সাংসদদের এবং প্রধান বিচারপতির সঙ্গে কথা বলে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের চিঠি পাঠানোর কথাও জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।
কাজটি অনেক আগেই করা উচিত ছিল। কিন্তু দিনবদলের অঙ্গীকার নিয়ে ক্ষমতায় আসা সরকারের নীতিনির্ধারকেরা সম্পদের হিসাব দেওয়ার মতো অত্যাবশ্যকীয় বিষয়টি নিয়ে কেন অযথা গড়িমসি করলেন, তা বোধগম্য নয়। একজন জনপ্রতিনিধির প্রথম দায়িত্ব তাঁর জনগণের কাছে দেওয়া অঙ্গীকার প্রতিপালন করা। মহাজোট সরকারের প্রধান শরিক আওয়ামী লীগের নির্বাচনী অঙ্গীকার ছিল, ‘প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিসভার সদস্য ও সংসদ সদস্যরা এবং তাঁদের পরিবারের সম্পদের হিসাব ও আয়ের উৎস জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে।’
সরকার এখন এই প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসতে পারে না। সরকারের মেয়াদ ২৬ মাস পার হলেও মন্ত্রী-সাংসদদের সম্পদের হিসাব দেওয়া হয়নি। বরং ২০১০ সালের ১৮ জুন অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে সম্পদের হিসাব দিতে হবে না বলে একটি গণবিরোধী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। এ ব্যাপারে তাদের যুক্তিটি ছিল খোঁড়া ও অসার। মন্ত্রিসভা বলেছিল, যেহেতু মন্ত্রীরা নির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশনে সম্পদের বিবরণ পেশ করেছিলেন, সে জন্য নতুন করে হিসাব দেওয়ার প্রয়োজন নেই। তখনই বিভিন্ন মহল থেকে এর প্রতিবাদ উঠেছিল।
দেরিতে হলেও মন্ত্রী-সাংসদদের সম্পদের হিসাব সম্পর্কে অর্থমন্ত্রীর ঘোষণাকে আমরা স্বাগত জানাই। একই সঙ্গে বলতে চাই, হিসাব দেওয়াই যথেষ্ট নয়। কেননা, মন্ত্রী ও সাংসদদের সম্পদ কিংবা আয়-ব্যয়ের হিসাব মন্ত্রণালয়ে ফাইলবন্দী থাকলে দেশের মানুষ জানতে পারবে না। সে কারণে সেই হিসাব জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে। অর্থমন্ত্রী তো তাঁর সম্পদের হিসাব সংবাদ সম্মেলন করে জানিয়েছেন। ওয়েবসাইটেও দিয়েছেন। মন্ত্রিসভার অন্যান্য সদস্যের দিতে আপত্তি কোথায়? একই কথা প্রযোজ্য সাংসদদের ক্ষেত্রেও। সম্পদের হিসাব দেওয়া নিছক একটি বিবরণী নয়, এর সঙ্গে জনপ্রতিনিধিদের সততা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির প্রশ্নটিও জড়িত।
আমরা আশা করব, অর্থমন্ত্রীর চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে সব মন্ত্রী ও সাংসদ তাঁদের সম্পদ ও আয়-ব্যয়ের হিসাব জনসমক্ষে প্রকাশ করবেন এবং সেটি প্রতিবছর করতে হবে। জনগণের জানার অধিকার আছে, তাঁরা ভোট দিয়ে যাঁদের দেশ চালানোর দায়িত্ব দিয়েছেন, তাঁদের আর্থিক অবস্থা আগে কী ছিল এবং এখন কী?
জনপ্রতিনিধিরা সম্পদের হিসাব জনসমক্ষে প্রকাশ করলে রাষ্ট্র ও সরকার পরিচালনার দায়িত্বে নিয়োজিত অন্যরাও হিসাব দিতে আগ্রহী হবেন। আমাদের প্রত্যাশা, জনপ্রতিনিধিরা সম্পদের হিসাব দিয়ে এটাই প্রমাণ করবেন যে, তাঁদের কথায় ও কাজে মিল আছে। তাঁরা ক্ষমতায় আসার আগে জনগণের কাছে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তা কেবল কথার কথা নয়, সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষায় সত্যি সত্যি আগ্রহী।

ওরা চারকি

গলায় পালক না থাকায় প্রথম দর্শনে মনে হবে, ওরা ‘গলা ছিলা মুরগি’। ভালো করে তাকালে দ্বিধায় পড়তে হবে। কারণ, পাখিগুলো কেবল আকারে বড় নয়, গায়ের পালকগুলোও সাধারণ মুরগির পালকের চেয়ে বড় আর ঘন। গলার পালকহীন অংশটুকুও যেন মুরগির সঙ্গে মেলানো যাচ্ছে না। বরং গলাটা যেন অনেকটা ‘টারকি’ বলে পরিচিত গৃহপালিত পাখির মতো।
আসলে এই পাখিটি সরাসরি মুরগি বা টারকি নয়। এটি হচ্ছে মুরগি ও টারকির সঙ্কর। মুরগির ইংরেজি শব্দ ‘চিকেন’ ও ‘টারকি’ থেকে বিজ্ঞানীরা পাখিটির নাম দিয়েছেন ‘চারকি’। মুরগি ও টারকির উন্নতমানের এই সঙ্করটিকে অনেকে ‘টারকেন’ বলে থাকে। কেতাবি ভাষায় বলা হয়, ‘ট্রানসিলভানিয়ান নেকেড নেক চিকেন’। চারকি এখনো শীতপ্রধান দেশের গৃহপালিত পাখি। তবে ভবিষ্যতে ওরা গরমের দেশের বাসিন্দাও হতে পারে।
চারকির বিশেষত্ব হচ্ছে, মুরগি বা টারকির চেয়ে এটির গরম সয়ে নেওয়ার ক্ষমতা বেশি। একটি ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা চারকির ডিএনএ পরীক্ষা করে দেখেছেন, শরীর ঠান্ডা রাখার স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য অর্জন করেছে পাখিটি। এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোজলিন ইনস্টিটিউটের ড. ডেনিস এই গবেষণার নেতৃত্ব দেন। তিনি বলেন, এই গুণটির কারণে চারকি নিজেকে গ্রীষ্মপ্রধান দেশের পরিবেশের সঙ্গে সুন্দর মানিয়ে নিতে পারবে।

নেপালে দুর্নীতির দায়ে সাবেক মন্ত্রীর কারাদণ্ড

দুর্নীতির দায়ে সাবেক মন্ত্রী ও নেপালি কংগ্রেস পার্টির শীর্ষস্থানীয় নেতা চিরঞ্জীবী ওয়েগেলকে (৫৮) দেড় বছরের কারাদণ্ড ও চার কোটি রুপি জরিমানা করা হয়েছে। আদালতের একজন মুখপাত্র গতকাল বৃহস্পতিবার এ কথা জানিয়েছেন। ঘুষ নেওয়ার অপরাধে কারাদণ্ডের ঘটনা দেশটিতে এটাই প্রথম।
চিরঞ্জীবী ১৯৯০ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত তথ্য ও যোগাযোগ, পরিকল্পনা ও শ্রম এবং ভূমি সংস্কার ও আবাসনমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
আদালতের মুখপাত্র হেমন্ত রাওয়াল জানান, দুর্নীতির দায়ে এই প্রথমবারের মতো কোনো মন্ত্রীকে কারাদণ্ড দিলেন সুপ্রিম কোর্ট।
২০০৪ সালে অভিযুক্ত হওয়ার পর ওয়েগেলের দায়ের করা আপিল আবেদন গত বুধবার নাকচ করে দেওয়া হয়। তাঁর বিরুদ্ধে সম্পদের পাহাড় গড়ে সেগুলো নিজের ছেলেসহ পরিবারের অন্য সদস্যদের নামে স্থানান্তরের অভিযোগ রয়েছে।

বাহরাইনে ছয় বিরোধী নেতা গ্রেপ্তার

বাহরাইনে অন্তত ছয়জন বিরোধী কট্টরপন্থী নেতাকে গতকাল বৃহস্পতিবার গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রাজনৈতিক সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারীদের রাজধানী মানামার পার্ল স্কয়ার থেকে হটিয়ে দেওয়ার পরের দিন তাঁদের গ্রেপ্তার করা হলো।
ওয়েফাক পার্টির নেতা ও পার্লামেন্ট সদস্য মাত্তার ইব্রাহিম টেলিফোনে রয়টার্সকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি আরও জানান, কট্টরপন্থী শিয়া হক মুভমেন্টের হাসান মুশাইমা, ধর্মনিরপেক্ষ বামপন্থী ওয়াদ পার্টির প্রধান ইব্রাহিম শরিফ ও ওয়াফা-নেতা আবদেল ওয়াহাব হোসেন গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন। তাঁরা সে দেশে রাজতন্ত্রের অবসানের দাবিতে চলমান আন্দোলনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
তবে গ্রেপ্তারের বিষয়ে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তাৎক্ষণিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া তাঁদের কী অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তা-ও জানা যায়নি।
এদিকে গ্রেপ্তার অভিযানের পর মানামার রাজপথ গতকাল শান্ত ছিল।
বাদশাহকে ক্যামেরনের টেলিফোন: এদিকে, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন বাহরাইনের বাদশাহর প্রতি দেশটির সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের ওপর দমনপীড়ন না চালানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি দেশটির প্রশাসনিক সংস্কারেরও আহ্বান জানান। ক্যামেরনের মুখপাত্র গত বুধবার এ কথা জানান। ক্যামেরন গত মঙ্গলবার রাতে টেলিফোনে বাহরাইনের বাদশাহ হামিদ বিন ইসা আল-খলিফার সঙ্গে কথা বলেন। তাঁর মুখপাত্র বলেন, এ সময় তিনি বাহরাইনের পরিস্থিতি নিয়ে তাঁর গভীর উদ্বেগের কথা জানান।

ইউরোপে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ

ভূমিকম্প ও সুনামির কারণে জাপানের ফুকুশিমা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের চুল্লিগুলোতে বিস্ফোরণ ও তেজস্ক্রিয়তা বিকিরণের পরিপ্রেক্ষিতে ইউরোপীয় পরিবেশবাদীরা গত এক সপ্তাহ ধরে ইউরোপের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ করছেন। তারা এর ভয়াবহতা নিয়ে জনসচেনতা সৃষ্টির চেষ্টা করছেন।
বিক্ষোভের মুখে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত জ্বালানিমন্ত্রীরা ইতিমধ্যেই ইউরোপীয় পারমাণবিক বিদ্যুৎ চুল্লিগুলোর নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি পরীক্ষাসহ এই বিষয়ে আরও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ফুকুশিমা পারমাণবিক বিদ্যুৎ চুল্লিগুলোতে বিস্ফোরণ ও তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ার প্রেক্ষাপটে ২৪ ও ২৫ মার্চ ইউরোপীয় সরকারপ্রধানেরা ব্রাসেলসে এক বৈঠকে মিলিত হতে যাচ্ছেন।
এই মুহূর্তে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোতে মোট ১৪৩টি পারমাণবিক চুল্লি থেকে ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর মোট ৪০ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়।

বেলারুশে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করছে রাশিয়া

জাপানে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিপর্যয়ের পর অনেক দেশই পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করেছে। কোনো কোনো দেশ ইতিমধ্যে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধের ঘোষণাও দিয়েছে। কিন্তু এর মধ্যেই রাশিয়া তাদের প্রতিবেশী বেলারুশকে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে অর্থ ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।
রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ভ্লাদিমির পুতিন ও বেলারুশের প্রধানমন্ত্রী মিখাইল মায়াসনিকোভিস গত মঙ্গলবার পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণবিষয়ক একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। চুক্তি অনুযায়ী বেলারুশের অস্ত্রোভেৎস এলাকায় একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে দেশটিকে ৯০০ কোটি মার্কিন ডলার ঋণ দেবে রাশিয়া। বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণ করবে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান আটোমস্ত্রায়োস্কপোর্ত। পরিকল্পনা অনুযায়ী কেন্দ্রের প্রথম চুল্লিটি চালু হবে ২০১৬ সাল নাগাদ। আরও চারটি চুল্লি চালু হবে ২০২৫ সালের মধ্যে।
জাপানে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিপর্যয়ের এই মুহূর্তে রাশিয়া এ ধরনের ঘোষণা দেওয়ায় বিস্তর সমালোচনা শুরু হয়েছে।

মহারাষ্ট্রে বাস নদীতে ১৭ তীর্থযাত্রীর মৃত্যু

ভারতের মহারাষ্ট্রে তীর্থযাত্রী বহনকারী একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নানগঙ্গা ব্রিজ থেকে নদীতে পড়ে গেলে ১৭ জনের মৃত্যু হয়।
মহারাষ্ট্রে বুলদানা জেলার তন্দুলদি গ্রামের কাছে গতকাল বৃহস্পতিবার এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে আহত হয়েছে আরও ২৮ তীর্থযাত্রী। বুলদানা জেলার পুলিশ জানিয়েছে, সিরিডি থেকে একদল তীর্থযাত্রী ফেরার পথে এই দুর্ঘটনায় পড়ে।

সিআইএর কর্মকর্তাকে ছেড়ে দিল পাকিস্তান

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার (সিআইএ) কর্মকর্তা মার্কিন নাগরিক রেমন্ড ডেভিসকে গত বুধবার মুক্তি দিয়েছে পাকিস্তান। মার্কিন ও পাকিস্তানের কর্মকর্তাদের মধ্যে কয়েক সপ্তাহ ধরে গোপন আলোচনার পর ক্ষতিপূরণের বিনিময়ে ডেভিসের মুক্তি মিলল। এদিকে ডেভিসের মুক্তির প্রতিবাদে পাকিস্তানে বিক্ষোভ হয়েছে।
গত ২৭ জানুয়ারি লাহোরে দুজন পাকিস্তানি নাগরিককে গুলি করে হত্যার অভিযোগে ডেভিসকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই দুজনের পরিবারকে প্রায় ২৩ লাখ মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণের অঙ্গীকার করার পর ডেভিসকে মুক্তি দিল পাকিস্তান। এর মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধে তার অন্যতম মিত্র বলে পরিচিত পাকিস্তানের মধ্যে কিছুদিন ধরে চলা সম্পর্কের টানাপোড়েন প্রশমিত হলো।
মার্কিন ও পাকিস্তানি কর্মকর্তারা জানান, ডেভিস লাহোরের কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের উদ্দেশে রওনা হন। সেখানে তিনি কারাগারে থাকার সময়ের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে পারেন। যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত ডেভিসের স্ত্রী রেবেকা ডেভিস জানান, টেলিফোনে তিনি তাঁর স্বামীর মুক্তির খবর পেয়েছেন। রেবেকা বলেন, ‘আমার বিশ্বাস ছিল, ডেভিস মুক্তি পাবে।’ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানান, ইরাক ও আফগানিস্তানে ভুল করে একজন বেসামরিক নাগরিককে মারা হলে যে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়, এ ক্ষেত্রে তার চেয়ে ৪০০ গুণ বেশি ক্ষতিপূরণ দেওয়ার অঙ্গীকার করা হয়েছে।

আসন সমঝোতার জন্য সময় চাইল কংগ্রেস

কংগ্রেস-তৃণমূল কংগ্রেসের জোট নিয়ে এখনো জট খোলেনি। বারবার বৈঠক করেও সমাধানে পৌঁছায়নি দুই পক্ষ। আসন ভাগাভাগি প্রশ্নে দল দুটি যে যার অবস্থানে অনড় থাকায় সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না।
এদিকে রাজধানী দিল্লি থেকে কংগ্রেস নেতারা সমঝোতার জন্য ২১ মার্চ পর্যন্ত তৃণমূলের কাছে সময় চেয়েছেন। তাঁরা জানিয়েছেন, সোনিয়া গান্ধী বিদেশে থাকায় এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ২১ মার্চের মধ্যে দেশে ফিরবেন তিনি। বুধবার রাতে দিল্লি থেকে তাঁর রাজনৈতিক সচিব আহমেদ প্যাটেল মমতাকে ফোন করে এই সময় চান।
ওই সময়ই মমতা জানিয়ে দেন, তিনি বৃহস্পতিবার পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন। এর মধ্যে কংগ্রেস সিদ্ধান্ত না নিলে তাঁর দল কংগ্রেসের জন্য ৬৫টি আসন রেখে শুক্রবার বাকি আসনে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে দেবে।

ক্যাপসুলবাহী রকেট উৎক্ষেপণ করেছে ইরান

ইরান মহাকাশে একটি রকেট উৎক্ষেপণ করেছে। এতে বানরের বাসযোগ্য একটি পরীক্ষামূলক ক্যাপসুল রয়েছে। ভবিষ্যতে মহাকাশে জীবন্ত বানর পাঠানোর প্রস্তুতি হিসেবে ইরান পরীক্ষামূলকভাবে ক্যাপসুল বহনকারী এই রকেট উৎক্ষেপণ করে। গতকাল বৃহস্পতিবার সংবাদ সংস্থা ইরনার এক কর্মকর্তা এ কথা জানান।
ইরানি প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের উদ্ধৃতি দিয়ে ইরনার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, কোনো আড়ম্বরপূর্ণ আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই ইরানের মহাকাশ সংস্থা ক্যাপসুল বহনকারী কাভোসগার-৪ নামের ওই রকেটটি গত মঙ্গলবার মহাকাশের কক্ষপথে উৎক্ষেপণ করেছে। গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা চালানোর উদ্দেশ্যে এটি পাঠানো হয়। গত ৭ ফেব্রুয়ারি প্রেসিডেন্ট আহমাদিনেজাদ এর ক্যাপসুলটির উদ্বোধন করেন। একটি বানরের বাসযোগ্য করে এটি তৈরি করা হয়। তবে উদ্বোধনের সময় এতে কোনো বানর ছিল না।
প্রতিবেদনে বলা হয়, উৎক্ষেপণের আগে মহাকাশ সংস্থা ক্যাপসুল ও তার বহনকারী রকেটটির যান্ত্রিক কার্যকারিতার পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন করে। পশ্চিমা বিশ্বের উদ্বেগের মধ্য দিয়েই ইরান তার উচ্চাকাঙ্ক্ষী মহাকাশ কর্মসূচি পরিচালনা করে আসছে। ২০০৯ সালে দেশটি কক্ষপথে একটি কৃত্রিম উপগ্রহ পাঠায়।
এর আগে গত শুক্রবার ইসলামি বিপ্লবের ৩২তম বর্ষপূর্তি উদ্যাপনের সময় প্রেসিডেন্ট আহমাদিনেজাদ ঘোষণা করেন, মহাকাশে একটি বানর পাঠানোর প্রস্তুতিমূলক পরীক্ষা হিসেবে ক্যাপসুল বহনকারী রকেট উৎক্ষেপণ করা হবে।

সাইবার হামলা ঠেকানোর ক্ষমতা নেই যুক্তরাষ্ট্রের

সাইবার হামলার মাধ্যমে স্পর্শকাতর তথ্য পাচার হয়ে যাওয়া ঠেকাতে যে পরিমাণ দক্ষ জনবল ও কারিগরি সুবিধা থাকা দরকার, তা যুক্তরাষ্ট্রের নেই বলে সতর্ক করে দিয়েছে মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সদর দপ্তর পেন্টাগন। পেন্টাগনের সাইবার কমান্ডের প্রধান জেনারেল কিথ আলেকজান্ডার মার্কিন কংগ্রেসে তাঁর বক্তব্যে এ হুঁশিয়ারি দেন।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, তাদের সরকারি তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থায় প্রতিদিন লক্ষাধিক বার সাইবার হামলা চালানো হয়। বিদেশি গুপ্তচর, হ্যাকার, সন্ত্রাসীসহ সাইবার অপরাধীরা এসব হামলা চালাচ্ছে। এ অবস্থা মোকাবিলায় অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা দপ্তর সম্প্রতি একটি নতুন সাইবার নিরাপত্তাব্যবস্থা প্রবর্তনের প্রস্তাব দেয়। এর বাজেট নিয়ে বিতর্ক উঠলে সে বাজেট অনুমোদন স্থগিত হয়ে যায়।
সরকারের অভ্যন্তরের অনেকে মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সাইবার হামলার আশঙ্কা নিয়ে যেসব বক্তব্য আসছে, তা অতিরঞ্জিত।
কংগ্রেসে কিথ আলেকজান্ডার বলেন, ‘আমরা খুবই দুর্বল এবং আমাদের সাইবার বাহিনী ক্রমশ চাপের মুখে পড়ে যাচ্ছে।

লিবিয়ায় নিউইয়র্ক টাইমসের চার সাংবাদিক নিখোঁজ

লিবিয়া থেকে নিউইয়র্ক টাইমস-এর চার সাংবাদিক নিখোঁজ হয়েছেন। সংবাদপত্রটি গত বুধবার এ কথা জানায়। ওই সাংবাদিকেরা লিবিয়ায় চলমান সংঘর্ষ নিয়ে প্রতিবেদন পাঠাচ্ছিলেন।
নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, নিখোঁজ চারজনের মধ্যে দুবার পুলিৎজার পুরস্কার বিজয়ী অ্যান্থোনি শাডিড ও ২০০৯ সালে তালেবানের হাতে অপহূত হওয়ার পর ব্রিটিশ সেনাদের সহায়তায় মুক্তি পাওয়া প্রতিবেদক ও ভিডিও গ্রাফার স্টোফানে ফারেল আছেন। শাডিডের সঙ্গে গত মঙ্গলবার সকালে সর্বশেষ তাঁর সম্পাদকদের কথা হয়। এ ছাড়া টেলর হিকস ও লিনসে আদ্দারিও নামের দুজন আলোকচিত্রীও নিখোঁজ হন।
নউইয়র্ক টাইমস-এর নির্বাহী সম্পাদক বিল কেলার এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আমরা ত্রিপোলিতে লিবিয়া সরকারের সঙ্গে কথা বলেছি। আমাদের সাংবাদিকেরা কোথায় আছে, তা নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে কর্তৃপক্ষ আমাদের জানিয়েছে।’ তিনি আরও জানান, ওই সাংবাদিকদের আটক করা হলে যত শিগগির সম্ভব তাঁদের অক্ষত অবস্থায় মুক্তি দেওয়া হবে বলে লিবিয়া সরকার সংবাদপত্রটিকে আশস্ত করেছে।
এর আগে লিবিয়ায় নিখোঁজ হওয়া ব্রাজিলের এক সাংবাদিককে গত সপ্তাহে দেশটির সরকার মুক্তি দিয়েছে। তবে যুক্তরাজ্যের গার্ডিয়ান পত্রিকার এক সাংবাদিক এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।
গত সপ্তাহান্তে বিবিসির একদল সাংবাদিক অভিযোগ করেন, একটি চেকপয়েন্ট থেকে তাঁদের আটকের পর লিবিয়ার নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন তাঁরা।

‘চূড়ান্ত যুদ্ধের’ ঘোষণা গাদ্দাফির

লিবিয়ার নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফি গত বুধবার বলেছেন, তাঁর বাহিনী বৃহস্পতিবার (গতকাল) ‘চূড়ান্ত যুদ্ধে’ অবতীর্ণ হবে। ওই ঘোষণার পর গতকাল তাঁর অনুগত বাহিনী বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত শহর আজদাবিয়া ঘিরে ফেলেছে। রকেট, অস্ত্র ও গুলি বোঝাই প্রায় ৪০০ ট্রাক নিয়ে তারা ওই এলাকায় পৌঁছে গেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। বিদ্রোহীদের প্রধান ঘাঁটি বেনগাজির দিকেও এগিয়ে যাচ্ছে তারা। অন্যদিকে গতকাল জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্র লিবিয়াকে ‘নো-ফ্লাই জোন’ ঘোষণা করার জোর দাবি জানিয়েছে। তবে রাশিয়া ও চীন যুক্তরাষ্ট্রের দাবি সমর্থন করেনি। জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত সুসান রাইস ‘নো-ফ্লাই জোন’ ঘোষণার প্রস্তাবের ওপর ভোটগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।
গত বুধবার রাতে লিবিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানায়, প্রেসিডেন্ট গাদ্দাফি বলেছেন, ‘মিসরাতায় আজ (বুধবার) লড়াই শুরু হয়েছে। আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) চূড়ান্ত লড়াই হবে।’ লিবিয়ার অধিবাসীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আজ রাতেই তোমাদের অস্ত্র হাতে নেওয়ার এবং আগামীকাল লড়াইয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ার নির্দেশ দিচ্ছি।’
বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত মঙ্গলবার গাদ্দাফি বাহিনী আজদাবিয়া দখল করে নেওয়ার ঘোষণা দিলেও প্রকৃতপক্ষে সেখানকার বড় অংশ এখনো বিদ্রোহীদের দখলে রয়েছে। সেনাবাহিনীকে প্রতিহত করতে সেখানে বিদ্রোহীরা প্রথমবারের মতো ট্যাংক, আর্টিলারি ও একটি হেলিকপ্টার মোতায়েন করেছে। তারা অপর্যাপ্ত অস্ত্র নিয়েই হামলা মোকাবিলা করার চেষ্টা করছে। আন্তর্জাতিক মহল এখনো বিদ্রোহীদের অস্ত্র দিয়ে সহয়তা না করায় তারা পশ্চিমা দেশগুলোর প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।
সংবাদমাধ্যমগুলো বলেছে, আজদাবিয়া ও বেনগাজিতে যেকোনো মুহূর্তে রক্তক্ষয়ী লড়াই বেধে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
কয়েক দিন আগে পদত্যাগ করা জাতিসংঘে লিবিয়ার উপরাষ্ট্রদূত ইব্রাহিম দাব্বাশি বলেছেন, আন্তর্জাতিক মহল ত্বরিৎ ব্যবস্থা না নিলে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে লিবিয়ায় গাদ্দাফি বাহিনী নির্বিচারে গণহত্যা শুরু করবে।
ইতিমধ্যেই সরকারি টেলিভিশনে বেনগাজির বেসামরিক লোকজনকে বিদ্রোহীদের ঘাঁটি থেকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে বলা হয়েছে। আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থা রেডক্রসের কার্যক্রম গতকালই সেখান থেকে সরিয়ে আনা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আজদাবিয়া ও বেনগাজিতে সর্বাত্মক হামলা চালানো হবে।
জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন বেসামরিক লোকদের স্বার্থে গাদ্দাফির সমর্থক ও বিদ্রোহীদের প্রতি অস্ত্রবিরতির আহ্বান জানিয়েছেন। তবে গাদ্দাফির সমর্থকেরা বলেছে, তারা কারও সঙ্গে কোনো আলোচনায় যাবে না। গাদ্দাফির ছেলে সাঈফ আল ইসলাম গত বুধবার ঘোষণা দেন, পশ্চিমা দেশগুলো যত কারসাজিই করুক, তারা বিদ্রোহীদের রক্ষা করতে পারবে না। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সবকিছুর অবসান হবে।
বিবিসি জাতিসংঘ প্রতিনিধি বারবারা প্লেট বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যে খসড়া প্রস্তাব দিয়েছে, তাতে সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার স্বার্থে সব ধরনের সামরিক পদক্ষেপ অনুমোদন করার সুপারিশ করা হয়েছে। প্রস্তাবটি অনুমোদিত হলে আন্তর্জাতিক সেনারা গাদ্দাফির অনুগত ব্যক্তিদের ওপর বিমান হামলার পাশাপাশি স্থল হামলাও চালাতে পারবে।

ইয়েনের দরে রেকর্ড

মার্কিন ডলারের বিপরীতে জাপানি মুদ্রা ইয়েনের দর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে উপনীত হয়েছে।
এশিয়ায় লেনদেন শেষ হওয়ার পর আমেরিকায় যখন বুধবারের লেনদেন শুরু হয়, তখন একপর্যায়ে প্রতি ডলার উন্নীত হয় ৭৬ দশমিক ২৫ ইয়েনে। অবশ্য গতকাল বৃহস্পতিবার এশিয়ায় লেনদেন চলাকালে একপর্যায়ে প্রতি ডলার ৭৯ দশমিক ১৪ ইয়েনে গিয়ে ঠেকে।
ইয়েন এভাবে শক্তিশালী হয়ে ওঠার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে দেশটির শেয়ারবাজারে। গতকাল টোকিও স্টক এক্সচেঞ্জের নিক্কি-২২৫ সূচক আগের দিনের চেয়ে ১ দশমিক ৪০ শতাংশ কমে গেছে।
গত শুক্রবার ভয়াবহ ভূমিকম্প ও সুনামি এবং এর জের ধরে পারমাণবিক বিদ্যুৎ চুল্লি বিস্ফোরণের ফলে জাপানের অর্থনীতিতে এক টালমাটাল অবস্থা দেখা দিয়েছে। ফলে আর্থিক খাত অস্থির হয়ে পড়েছে।
রপ্তানি আয়ের উচ্চ প্রবাহের কারণে জাপানের চলতি হিসাবের ভারসাম্যে সাধারণত উদ্বৃত্তাবস্থা বজায় থাকে। বিপর্যস্ত দেশের পুনর্গঠন কার্যক্রমের অর্থায়নে বিমা ও নির্মাণপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন জাপানি প্রতিষ্ঠান পুনরায় ইয়েন কিনে নিতে আরম্ভ করায় ইয়েন শক্তিশালী হয়ে উঠেছে।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, শক্তিশালী ইয়েন এক দিকে জাপানের রপ্তানি-আয়কে তুলনামূলকভাবে কমিয়ে দেবে। অন্যদিকে জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলো যখন ভিন দেশ থেকে মুনাফা স্বদেশে প্রত্যাবাসন করবে, তখন তাদের প্রকৃত মুনাফা কমে যাবে।
ইয়েন শক্তিশালী হয়ে ওঠায় জাপানে রপ্তানি খাতে বড় ধরনের আঘাত আসতে পারে বলে যে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, জাপান সরকার অবশ্য তা নাকচ করে দিয়েছে। সরকার বরং এই বলে আশ্বস্ত করেছে যে ইয়েন যেন অতিমূল্যায়িত না হয়, সে জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজারে প্রয়োজনীয় অর্থ জোগান দিয়ে যাবে।
গতকালও ব্যাংক অব জাপান সাত হাজার ৬০০ কোটি ডলার দিয়েছে। এ নিয়ে গত সোমবার থেকে চার দিনে ৭০ হাজার কোটি ডলারের বেশি ব্যাংকব্যবস্থার মাধ্যমে আর্থিক খাতে জোগান দিয়েছে।

বগুড়ায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও ন্যাশনাল ব্যাংকের মতবিনিময় সভা

বাংলাদেশ ব্যাংকের ঢাকা অফিস ও ন্যাশনাল ব্যাংকের বগুড়া শাখার উদ্যোগে সম্প্রতি বগুড়ায় রেমিটেন্স বা প্রবাস-আয়ের সুবিধাভোগীদের নিয়ে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় উডবার্ন পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে এ সভার আয়োজন করা হয়।
সভায় ন্যাশনাল ব্যাংকের রাজশাহী অঞ্চলের প্রধান ওয়াসিফ আলী খান প্রধান অতিথি ও বাংলাদেশ ব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক আবদুল আউয়াল সরকার বিশেষ অতিথি ছিলেন।
ন্যাশনাল ব্যাংকের বগুড়া শাখার ব্যবস্থাপক ইমতিয়াজ আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের যুগ্ম পরিচালক শিকদার মো. সিরাজুল ইসলাম, সহকারী পরিচালক নাজমুল আরেফিন সরকার, উপপচািলক সানাউল্লাহ তালুকদার, ব্যাংকের গ্রাহক মির্জা মতিউর রহমান প্রমুখ বক্তব্য দেন।

বিদেশে ৪৪ মিশনের ২৫টির রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন

চলতি ২০১০-১১ অর্থবছরের প্রথম আট মাসে (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) দেশের পণ্য রপ্তানি আয় গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ বেশি হয়েছে। তবে এ সময়ে বিভিন্ন দেশে অবস্থিত বাংলাদেশের ৪৪টি মিশনের মধ্যে ২৫টি মিশন রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পেরেছে।
বিপরীতে ১৯টি মিশন রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। অবশ্য এগুলোর মধ্যে ১৩টি মিশন গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বেশি আয় করেছে। আর ছয়টি মিশন আগের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে কম রপ্তানি আয় করেছে।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হালনাগাদ পরিসংখ্যান থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
আলোচ্য সময়ে নয়াদিল্লি, দি হেগ, বার্লিন, আম্মান, অটোয়া, নাইরোবি, হ্যানয়, ক্যানবেরা, হংকং, কুয়েত, রিয়াদ, দুবাই, ব্রাসেলস, মস্কো, প্রিটোরিয়া, বেইজিং, প্যারিস, তাসখন্দ, ওয়াশিংটন, লন্ডন, স্টকহোম, কলম্বো, মাদ্রিদ, কাঠমান্ডু ও রোমের মিশন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পেরেছে।
অন্যদিকে লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ব্যর্থ হলেও যে ১৩টি মিশন গত বছরের একই মাসের তুলনায় বেশি আয় করেছে সেগুলো হলো: ত্রিপোলি, আঙ্কারা, মানামা, সিউল, সিঙ্গাপুর, ইসলামাবাদ, দোহা, ম্যানিলা, রাবাত, টোকিও, থিম্পু, কায়রো, তেহরান ও মাসকাট।
এ ছাড়া ব্যাংকক, ম্যানিলা, জাকার্তা, কুয়ালালামপুর, ব্রুনাই ও ইয়াঙ্গুন লক্ষ্যমাত্রা পূরণ তো করতে পারেইনি, আগের ২০০৯-১০ অর্থবছরের একই সময়ের চেয়েও কম রপ্তানি আয় করেছে।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হালনাগাদ পরিসংখ্যান অনুসারে, ২০১০-১১ অর্থবছরে জুলাই-ফেব্রুয়ারি সময়কালে পণ্য রপ্তানি বাবদ আয় হয়েছে এক হাজার ৪০৭ কোটি ডলার। আর গত ২০০৯-১০ অর্থবছরের একই সময়ে আয় হয়েছিল এক হাজার তিন কোটি ডলার। অর্থাৎ এই সময়কালে পণ্য রপ্তানি আয় বেড়েছে ৪০ দশমিক ২৮ শতাংশ।
চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে মিশনগুলো সামগ্রিক রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৯ দশমিক ৫৮ শতাংশ বেশি আয় করেছে। আলোচ্য সময়ে লক্ষ্যমাত্রা ছিল এক হাজার ১৭৬ কোটি ৬০ লাখ ৫০ হাজার ডলার।
আলোচ্য সময়ে মিশনগুলোর মধ্যে ওয়াশিংটন ৩৪৩ কোটি ১২ লাখ ডলার, বার্লিন ২০৯ কোটি ৯২ লাখ ডলার এবং লন্ডন ১৩৩ কোটি ৪১ লাখ ডলার রপ্তানি আয় করেছে। এরপর প্যারিস ৯৩ কোটি ৭৭ লাখ ডলার ও দি হেগ ৯২ কোটি ৪৮ লাখ ডলার আয় করেছে।
এ ছাড়া অটোয়া ৬০ কোটি ৯০ লাখ ডলার, মাদ্রিদ ৫৭ কোটি ৪৭ লাখ ডলার, রোম ৫৫ কোটি ৫১ লাখ ডলার, স্টকহোম ৪৭ কোটি ৫৩ লাখ ডলার, ব্রাসেলস ৪৪ কোটি ৪২ লাখ ডলার, টোকিও ২৫ কোটি ১৭ লাখ ডলার, বেইজিং ২০ কোটি ৪১ লাখ ডলার, হংকং ১৩ কোটি ৮৪ লাখ ডলার, সিউল নয় কোটি ৯২ লাখ ডলার, সিঙ্গাপুর পাঁচ কোটি ৪০ লাখ ডলার এবং কুয়ালালামপুর দুই কোটি ৩৭ লাখ ডলার আয় করেছে।
দক্ষিণ এশিয়ার মিশনগুলোর মধ্যে নয়াদিল্লি ৩১ কোটি ৭৯ লাখ ডলার, ইসলামাবাদ পাঁচ কোটি ৫১ লাখ ডলার, কলম্বো দুই কোটি ডলার, কাঠমান্ডু ৬২ লাখ ডলার ও থিম্পু ১৫ লাখ ডলার আয় করেছে।

বার্ষিক সভায় তোপের মুখে ডিএসইর সভাপতি, সিইও

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) সদস্যদের তোপের মুখে পড়েন সংস্থাটির সভাপতি শাকিল রিজভী, সাবেক সভাপতি ও পরিচালক রকিবুর রহমান এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সতীপতী মৈত্র।
রাজধানীর একটি হোটেলে গত বুধবার রাতে অনুষ্ঠিত এ সভায় সদস্যরা অভিযোগ করেন, শাকিল রিজভী সভাপতি হলেও গত এক বছর কার্যত ডিএসই চালিয়েছেন রকিবুর রহমান। এ সময় ডিএসইর আয়-ব্যয়ের হিসাবের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। একই সঙ্গে স্বাধীনভাবে কাজ না করায় সতীপতী মৈত্রর পদত্যাগও চান তাঁরা।
বার্ষিক সাধারণ সভায় সভাপতিত্ব করেন শাকিল রিজভী। এ সময় সদস্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন এম এ হাসেম, আহমেদ রশিদ, জহিরুল ইসলাম, এম এ মোতালেব চৌধুরী, আবদুল আওয়াল, রফিকুল ইসলাম, এ এস শাহুদুল হক, মোয়াজ্জেম হোসেন, এম আকবর আলী, রকিবুর রহমান প্রমুখ।
বৈঠক সূত্রে জানা যায়, সভার শুরুতেই ডিএসইর সদস্য এম এ হাসেম বলেন, বার্ষিক প্রতিবেদনে পরিচালকদের প্রতিবেদনে ভবন নির্মাণের অগ্রগতির বিষয়টি থাকা দরকার ছিল। পরিচালকদের প্রতিবেদনে ভবনের বিষয়টি থাকলে বার্ষিক প্রতিবেদন নিয়ে কথা বলার কোনো সুযোগ থাকত না।
জবাবে শাকিল রিজভী বলেন, বার্ষিক প্রতিবেদনে সভাপতির বাণীতে ভবন সম্পর্কে তথ্য দেওয়া আছে।
বৈঠকে আহমেদ রশিদ বলেন, গত এজিএমে অনুমোদন হওয়া সিদ্ধান্তগুলো কার্যবিবরণী আকারে সভায় বিতরণ করা হয়নি। তিনি প্রশ্ন রাখেন, তাহলে কি গত বার্ষিক সভায় অনুমোদিত বিষয়গুলো কার্যবিবরণীতে লিপিবদ্ধ হয়নি? না হলে কেন?
আহমেদ রশিদ আরও বলেন, সভায় ডিএসইর বাজেটের কোনো অনুলিপি দেওয়া হলে সদস্যরা বার্ষিক প্রতিবেদনের সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে পারতেন। কিন্তু কেন তা করা হলো না, তা বোধগম্য নয়। আবার গত এজিএমের সিদ্ধান্ত অনুসারে নিরীক্ষা কমিটি করার কথা থাকলেও তা হয়েছে কি না, জানা গেল না।
এই পর্যায়ে তিনি সতীপতী মৈত্রর কাছে জানতে চান, বার্ষিক প্রতিবেদনের সব বিষয় নিরীক্ষা কমিটি হয়ে এসেছে কি না।
বৈঠক সূত্র জানায়, জবাবে সতীপতী না-সূচক উত্তর দেন। এ সময় শাকিল রিজভী বলেন, নিরীক্ষা কমিটি করার কথা তাঁর জানা নেই। তখন ডিএসইর সভাপতিকে শুধরে দিয়ে সতীপতী জানান, নিরীক্ষা কমিটি আছে।
বৈঠকে উপস্থিত একজন সদস্য তখন শাকিল রিজভীর উদ্দেশে বলেন, তিনি কিসের সভাপতি যে নিরীক্ষা কমিটি আছে কি না জানেন না? জবাবে সতীপতী বলেন, কমিটি সম্প্রতি হয়েছে, সভাপতির হয়তো মনে নেই। তবে তিনি নিরীক্ষা কমিটির সদস্য ও সভা সম্পর্কে কোনো তথ্য দিতে ব্যর্থ হন।
এ পর্যায়ে একজন সদস্য তাঁকে পদত্যাগ করতে বলেন।
বৈঠকে বিদেশ ভ্রমণ, অন্যান্য সেমিনার ও কার্যালয়ের ব্যয় বৃদ্ধি মাত্রাতিরিক্ত উল্লেখ করে সদস্যরা এর ব্যাখ্যা চান। কিন্তু সভাপতি বা সিইও কেউই সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি বলে বৈঠক সূত্রে জানা গেছে।
একপর্যায়ে আহমেদ রশিদ অভিযোগ করেন, পরিচালনা পর্ষদকে পাশ কাটিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ খরচ করে পরে তার অনুমোদন নেওয়া হয় অস্বচ্ছতা ঢাকার জন্য। এ সময় তিনি বারবার বিদেশ সফর এবং তার সুফল কী, তা জানতে চান।
আরেকজন সদস্য বলেন, শাকিল রিজভী তো নামে সভাপতি। বাস্তবে রকিবুর রহমান ডিএসই চালান।
বিজ্ঞাপন বাবদ ৪৮ লাখ টাকা খরচের প্রসঙ্গ উত্থাপন করলে সতীপতী জানান, প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা (সিওও) নিয়োগের জন্য কয়েকটি পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছিল। এ সময় সদস্যদের পক্ষ থেকে বলা হয়, একজন সিওও থাকতে আরেকজন নিয়োগ দেওয়ার কোনো নিয়ম নেই।
আকবর আলী নামের একজন সদস্য বলেন, ডিএসইর টাকায় হানিমুন করা যাবে না। ‘এমএসএ প্লাস’ করার নামে কোটি কোটি টাকা নষ্ট করা হচ্ছে। ডিএসই পর্ষদে যাঁরা আছেন, তাঁদের ভোট দিয়ে বসানো হয় লুটপাট করার জন্য নয়।
সমালোচনার জবাবে রকিবুর রহমান বলেন, ডিএসইতে নির্বাচিত সভাপতির বাইরে অন্য কোনো সভাপতি নেই। যদি কেউ থেকে থাকেন, তাহলে তাঁর সরে যাওয়া উচিত।
রকিবুর রহমান দাবি করেন, তিনি সভাপতি থাকাকালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৮ সালে চার বিঘা জমি মাত্র চার কোটি টাকায় দিয়েছেন। যার এখনকার দাম ৩০ কোটি টাকা। স্বয়ংক্রিয় লেনদেন ব্যবস্থা চালুর জন্য ৫ শতাংশ সুদে আট কোটি টাকার ব্যবস্থাও তাঁর করা। এটি না করলে ডিএসইরই লাইসেন্স বাতিল হয়ে যেত।
শাকিল রিজভী অনেক ভালোভাবে স্টক এক্সচেঞ্জ চালাচ্ছেন উল্লেখ করে রকিবুর রহমান বলেন, তাঁকে সবার সাহায্য করা উচিত।
সভায় আওয়ামী লীগের সাংসদ ও ডিএসইর সদস্য আবদুর রহমান বলেন, সদস্যরা ভিন্ন ভিন্ন দলের সমর্থন করতে পারেন। কিন্তু ডিএসইর স্বার্থে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।
বৈঠক সূত্র জানায়, সভার শেষ পর্যায়ে আহমেদ ইকবাল হাসান পর্ষদের পক্ষ থেকে উপস্থিত সব সদস্যের কাছে ক্ষমা চান।
পরে এজিএমে ২০০৯-১০ অর্থবছরের পরিচালনা পর্ষদের প্রতিবেদন গ্রহণ, বিবেচনা ও ৩০ জুন ২০১০ তারিখে সমাপ্ত অর্থবছরের নিরীক্ষিত হিসাব এবং নিরীক্ষকের প্রতিবেদন গ্রহণ, বিবেচনা সর্বসম্মতভাবে অনুমোদিত হয়।

বকেয়া রাজস্ব পরিশোধে ভর্তুকি চায় টেলিটক

ভর্তুকির টাকায় বকেয়া পড়ে থাকা মূল্য সংযোজন কর (মূসক) ও সম্পূরক শুল্ক অর্থাৎ রাজস্ব পরিশোধ করতে চায় সরকার মালিকানাধীন মোবাইল ফোন অপারেটর প্রতিষ্ঠান টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেড।
কিছুদিন আগে এই ভর্তুকি চেয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছে টেলিটক।
এ ছাড়া সিমকার্ড বিক্রির বিপরীতে মূসক ও সম্পূরক শুল্কের বকেয়া নিয়ে টেলিটক ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) মধ্যে মতবিরোধ চলছে।
এনবিআরের দাবি অনুযায়ী, বকেয়া মূসক ও সম্পূরক শুল্কের পরিমাণ প্রায় ৬১ কোটি টাকা। আর টেলিটকের হিসাব অনুযায়ী এর পরিমাণ ৪৬ কোটি টাকা।
এনবিআরের বৃহৎ করদাতা ইউনিটের (এলটিইউ) মূসক শাখায় টেলিটক নিবন্ধিত। ইতিমধ্যে বেশ কয়েক দফা চিঠি দিয়ে বকেয়া পরিশোধের জন্য তাগাদা দিয়েছে এলটিইউ কর্তৃপক্ষ। কিন্তু টেলিটকের পক্ষ থেকে সাড়া দেওয়া হয়নি। সর্বশেষ গত ২৩ ফেব্রুয়ারি বকেয়া রাজস্ব আদায়ে মূল্য সংযোজন কর আইন, ১৯৯১ এর ধারা ৫৬ অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে এলটিইউয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়।
প্রত্যুত্তরে ১৪ মার্চ টেলিটকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুজিবুর রহমান এক পত্রে এলটিইউ কমিশনারকে বকেয়া মূসক ও সম্পূরক শুল্ক আদায় স্থগিত করার পাশাপাশি অন্যান্য আইনগত কার্যক্রম বন্ধ রাখার জন্য আবেদন জানান।
চিঠিতে জানানো হয়, ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করা হয়েছে যেন সরকারি মোবাইল কোম্পানি টেলিটককে টিকিয়ে রাখার জন্য ভর্তুকি প্রদান করা হয়। ভর্তুকি প্রদানের ব্যাপারে সরকারের উচ্চ মহলের সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত সমুদয় অর্থ আদায়ের কার্যক্রম স্থগিত রাখার আদেশ দেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে চিঠিতে।
দেশীয় মোবাইল কোম্পানি টেলিটককে টিকিয়ে রাখার সর্বাত্মক সহায়তা দেওয়ার জন্য পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সুপারিশ রয়েছে বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ সম্পর্কে যোগাযোগ করা হলে টেলিটকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুজিবুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা চাই মোবাইল অপারেটরদের জন্য একটি সুসম প্রতিযোগিতার পরিবেশ। সরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে টেলিটককে প্রতিযোগিতায় সক্ষম করতে উদ্যোগ নিতে হবে। টেলিটকের বকেয়া রাজস্ব যাতে পুরোপুরি পরিশোধ করা সম্ভব হয় সে জন্য আমরা ভর্তুকি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছি।’ তিনি অবশ্য এও বলেন যে ভর্তুকি পাওয়া বেশ কঠিন।
টেলিটকের এমডি আরও বলেন, ‘এনবিআর একবার বলেছিল সিমকার্ডের ওপর মূসক দিতে হবে, আরেকবার বলেছিল দিতে হবে না। এসব কারণে সিমকার্ডের ওপর মূসক ও সম্পূরক শুল্ক বকেয়া পড়ে গেছে। আমরা কিস্তিতে কিস্তিতে সব বকেয়া রাজস্ব পরিশোধ করতে চাই। এ জন্য আমাদের সময় দিতে হবে।’
এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, মূসক ও সম্পূরক শুল্ক বাবদ ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০১১ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত প্রদেয় রাজস্বের পরিমাণ ৭১ কোটি ৪৪ লাখ ৮৪ হাজার টাকা। এর মধ্যে ২০১০ সালের মে মাস থেকে নভেম্বর মাস পর্যন্ত টেলিটক পরিশোধ করেছে মাত্র ১০ কোটি টাকা। মূসক ও সম্পূরক শুল্ক বাবদ বকেয়া পড়েছে প্রায় ৬১ কোটি টাকা।
কিন্তু টেলিটক এই হিসাব মানতে নারাজ। তারা এনবিআরের হিসাব সংশোধন করার অনুরোধ করেছে। টেলিটকের দাবি, এনবিআর তাদের কাছে মূসক বাবদ পাওনা রয়েছে ৬০ কোটি ৭৮ লাখ ৫২ হাজার ৮০০ টাকা। আর টেলিটক ৩ মার্চ পর্যন্ত পরিশোধ করেছে ১৪ কোটি ৫০ হাজার টাকা। সেই হিসাবে টেলিটকের বকেয়ার পরিমাণ ৪৬ কোটি ২৮ লাখ ৫২ হাজার ৮০০ টাকা। টেলিটকের পক্ষ থেকে নতুন এই হিসাব সমন্বয় করার অনুরোধ করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, আয়কর বিবরণী দাখিলের মাধ্যমে সিমকার্ডের ওপর মূসক ও সম্পূরক শুল্ক বাবদ প্রতিমাসে গড়ে দেড় কোটি টাকা পরিশোধ করে থাকে টেলিটক। সোনালী ব্যাংকের ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে এই অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়।
এলটিইউয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, নিয়মিত না হলেও বিলম্বিত পরিশোধের (ডেফার্ড পেমেন্ট) মাধ্যমে সব সরকারি প্রতিষ্ঠানকেই রাজস্ব দিতে হয়। সেই হিসেবে টেলিটককেও বকেয়া রাজস্ব পরিশোধ করতে হবে।
২০০৪ সালে সিমকার্ডের ওপর করারোপ করে এনবিআর। প্রথমে প্রতিটি সিমকার্ড বিক্রির ওপর এক হাজার ৩০০ টাকা মূসক নির্ধারণ করা হয়। পরে তা ক্রমান্বয়ে কমিয়ে ৮০০ টাকায় আনা হয়।
বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) সূত্রে জানা গেছে, গত ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত টেলিটকের সক্রিয় গ্রাহকসংখ্যা ১২ লাখ ১৬ হাজার। ২০০৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেড একমাত্র শতভাগ দেশীয় মালিকানার মোবাইল ফোন অপারেটর হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

জি ৭ ভুক্ত দেশগুলো জাপানে যৌথ সহযোগিতায় একমত

বিশ্বের সাতটি উন্নত রাষ্ট্র নিয়ে গঠিত জি ৭ ভুক্ত দেশগুলোর অর্থমন্ত্রীরা বলেছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা এবং ইউরোপিয়ান সেন্ট্রাল ব্যাংক জাপানে যৌথভাবে সহযোগিতা করতে সম্মত হয়েছে। গত শুক্রবার জাপানে ভয়াবহ ভূমিকম্প ও সুনামি আঘাত হানার পর জাপানের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে এ ঘোষণা দেওয়া হলো।
এক জরুরি বৈঠকে বসার প্রাক্কালে জি ৭-এর অর্থমন্ত্রীরা এক বিবৃতিতে বলেন, তাঁরা জাপানের অর্থনীতি ও অর্থনৈতিক সেক্টরকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় সব কিছু করতে প্রস্তুত রয়েছেন।
অর্থমন্ত্রীরা জাপানের স্থানীয় সময় সকাল সাতটায় এক টেলিকনফারেন্সের মাধ্যমে ভূমিকম্প ও পারমাণবিক বিপর্যয়ের কারণে দেশটির অর্থনীতির ওপর আসা প্রভাবের ব্যাপারে আলোচনা করেন।

বাংলাদেশে আসছেন পন্টিং

বিশ্রাম-টিশ্রাম নেবেন না। বিশ্বকাপের পরপরই বাংলাদেশ সফরে আসছে অস্ট্রেলিয়া দল। আসবেন অধিনায়ক রিকি পন্টিংও। ‘আমি বাংলাদেশে যাচ্ছি। গত দুই বছরে অনেক কিছু মিস করেছি। কিছু ওয়ানডে সিরিজে আমাকে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে। আর এ বছরের গ্রীষ্মেও পাঁচ-ছয় সপ্তাহ খেলতে পারিনি’—বলেছেন পন্টিং। ওয়েবসাইট।
এ বছরের জানুয়ারিতে হাতের আঙুল ভেঙে যাওয়ায় অ্যাশেজের পঞ্চম ম্যাচটি খেলতে পারেননি, মিস করেছেন ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজও। তবে ৯ এপ্রিল থেকে শুরু হতে যাওয়া ৩ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলতে উন্মুখ হয়ে আছেন পন্টিং। দুই ম্যাচের একটি টেস্ট সিরিজও হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু দুই বোর্ডের সমঝোতায় টেস্ট সিরিজটি আর হচ্ছে না। অস্ট্রেলিয়া দল ঢাকায় পৌঁছাবে বিশ্বকাপ শেষের দুই দিন পর, ৪ এপ্রিল।

সেই পাকিস্তানই থামাবে অস্ট্রেলিয়াকে

বৃষ্টি অস্ট্রেলিয়ার জররথ থামিয়েছে। কিন্তু বিশ্বকাপে টানা অপরাজেয় থাকার রেকর্ডের ক্যারাভান ছুটছেই অস্ট্রেলিয়ার। কে বধ করবে অবধ্য রিকি পন্টিংয়ের দলকে? পাকিস্তান! শহীদ আফ্রিদি দৃঢ়কণ্ঠেই বলছেন, বিশ্বকাপে টানা ৩৪ ম্যাচে অপরাজিত থাকার রেকর্ডটি থেমে যাবে আগামীকালই। কাল যে কলম্বোয় অস্ট্রেলিয়া মুখোমুখি হচ্ছে পাকিস্তানের।
আফ্রিদি এ কথা বলতেই পারেন। বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার সর্বশেষ পরাজয়টি যে এই পাকিস্তানের হাতেই। ১৯৯৯ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে অস্ট্রেলিয়াকে ১০ রানে হারিয়েছিল ওয়াসিম আকরামের পাকিস্তান। অবশ্য সেবারই ফাইনালে পাকিস্তানকে ৮ উইকেটে হারিয়ে প্রতিশোধ নেয় অস্ট্রেলিয়া। এরপর বিশ্বকাপে দুই দল আরেকবার মুখোমুখি হয়েছে। বলা বাহুল্য, ২০০৩ বিশ্বকাপের ওই ম্যাচেও জিতেছে অস্ট্রেলিয়া।
এবার আবার গ্রুপ পর্বে মুখোমুখি অস্ট্রেলিয়া-পাকিস্তান। আগামীকাল নিজেদের গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে দেখা হচ্ছে তাদের। মাঠে নামার আগেই যেন ফল দেখতে পাচ্ছেন আফ্রিদি, ‘অস্ট্রেলিয়ার অপরাজেয় থাকার দৌড় থামানোর জন্য প্রয়োজনীয় সামর্থ্য আর জ্বলে ওঠার রসদ আমাদের আছে।’
বিশ্বকাপে দুই দলের দেখা হয়েছে মোট সাতবার। ৪টি জিতে অস্ট্রেলিয়াই এগিয়ে। পাকিস্তানের এবার সমতা আনার পালা। অপরাজেয় অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে অনেক দুর্বলতা খুঁজে পাচ্ছেন বলেই আফ্রিদি আত্মবিশ্বাসী, মুখোমুখি লড়াইয়ের হিসাবটা এবার ৪-৪ হবে, ‘অস্ট্রেলিয়ার ম্যাচগুলো দেখে থাকলে হয়তো লক্ষ করেছেন, ব্যাটিং-বোলিং দুই জায়গাতেই কিছু দুর্বলতা আছে তাদের। অস্ট্রেলিয়ার এই দুর্বলতার সুযোগ নিতে হবে আমাদের। সেটা পারলেই আমরা জিতব।’
এমনিতেই নিয়মরক্ষার ম্যাচটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে এই ম্যাচ ‘এ’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন নির্ধারণে বড় প্রভাব রাখবে বলে। আফ্রিদিদের জন্য এটাও একটা প্রেরণা, ‘এই টুর্নামেন্টে আমাদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ এটি। গ্রুপে আমাদের অবস্থান নির্ধারিত হবে এই ম্যাচ দিয়ে। খেলোয়াড়েরা জানে, ম্যাচটি জিততেই হবে।’
অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক রিকি পন্টিংও জানেন, এই ম্যাচটি তাঁদের জন্য বড় এক পরীক্ষার নাম। তবে অস্ট্রেলিয়া যে পরীক্ষা দিতেই ভালোবাসে, পন্টিং জানাতে ভোলেননি সেটিও, ‘এখন পর্যন্ত বড় পরীক্ষার মুখে পড়িনি আমরা। তবে কলম্বোয় পাকিস্তানকে পাচ্ছি এবং এই ম্যাচের দিকে তাকিয়ে আছি আমরা।’
পাকিস্তানের কাছে ১৯৯৯ সালে পরাজিত দলের টিকে থাকা অস্ট্রেলিয়া দলের একমাত্র সদস্য পন্টিং। তাঁর ভালোই জানা আছে, নিজেদের দিনে কতটা ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারে পাকিস্তান। ম্যাচটি পন্টিংয়ের নিজের জন্যও পরীক্ষার। বিশ্বকাপে তাঁর ব্যাটে রানই নেই। নিজের ফর্ম নিয়ে পন্টিংয়ের কৌতুক, ‘আমি রানগুলো বড় ম্যাচের জন্যই জমিয়ে রেখেছি!’

ভিনদেশে আজ ‘স্বাগতিক’ শ্রীলঙ্কা

বাদ পড়ার টেনশন নেই। তবে পয়েন্ট তালিকার ওপরের দিকে থাকার তীব্র আকাঙ্ক্ষা আছে। আছে কোয়ার্টার ফাইনালের আগে মনোবল চাঙা রাখার তাড়না। দুই দলেরই কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত হয়েছে আগেই। আজ তাই মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে যখন মুখোমুখি হবে শ্রীলঙ্কা-নিউজিল্যান্ড, দুই দলের লক্ষ্যই থাকবে এক বিন্দুতে—‘জয় চাই’।
লক্ষ্য এক হলেও দুই শিবিরে দুই রকম আক্ষেপ। শ্রীলঙ্কার আক্ষেপ, টুর্নামেন্টের অন্যতম স্বাগতিক হয়েও আজ গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচটি তাদের খেলতে হচ্ছে ভারতে গিয়ে। নিউজিল্যান্ডের হতাশা—চোটের কারণে আজ খেলতে পারছেন না অধিনায়ক ড্যানিয়েল ভেট্টোরি ও কাইল মিলস। দলের প্রধান দুই বোলিং অস্ত্রকে হারিয়ে নিউজিল্যান্ড স্বভাবতই হতাশ। যদিও ভেট্টোরির অনুপস্থিতিতে দলের নেতৃত্বভার কাঁধে ওঠা রস টেলর এই দুজনের চোটকে দেখছেন অন্যদের প্রমাণের সুযোগ হিসেবে।
টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই শ্রীলঙ্কার গায়ে ফেবারিটের তকমা। অন্যদিকে ক্রিকেটে বাজে সময়ের মুখোমুখি নিউজিল্যান্ডকে নিয়ে টুর্নামেন্টের শুরুতেও কারও তেমন কৌতূহল ছিল না। অস্ট্রেলিয়ার কাছে হারলেও কেনিয়া, কানাডা, জিম্বাবুয়ের পর পাকিস্তানকে হারিয়ে কিউইরা বাধ্য করেছে তাদের দিকে নজর ফেরাতে। তবুও আজ ফেবারিট শ্রীলঙ্কাই। যদিও ম্যাচটি তারা খেলতে পারছে না নিজেদের মাঠে।
শ্রীলঙ্কা শুরুর দিকে এ নিয়ে প্রশ্নও তুলেছিল। সাঙ্গাকারা বলেছিলেন, ম্যাচটি ভারতে গিয়ে খেলতে হবে কেন? অবশ্য এখন তাদের কণ্ঠে অন্য সুর। ‘শ্রীলঙ্কার বাইরে গেলে আমরা আরও বেশি সময় একসঙ্গে থাকব। এটা দলের জন্য ভালো’—বলেছেন সাবেক অধিনায়ক মাহেলা জয়াবর্ধনে।
ভেট্টোরি-মিলসের চোট কিউইদের বোলিং আক্রমণ দুর্বল করে দিয়েছে অবশ্যই। তবে জয়াবর্ধনে বলছেন, ‘ওই দুজন সম্ভবত তাদের বোলিং লাইনআপের সবচেয়ে সিনিয়র। কিন্তু তার পরও ওদের আমরা হালকাভাবে নিচ্ছি না। নিউজিল্যান্ড কিন্তু সব সময়ই একটা দল হয়ে খেলে।’
বোলিং নিয়ে দুশ্চিন্তা আছে শ্রীলঙ্কারও। লাসিথ মালিঙ্গা আর মুরালিধরন ছাড়া বাকিরা সামর্থ্যের প্রমাণ দিতে পারছেন না। হাসিমুখে ভারতের আতিথ্য নিলেও ওয়াংখেড়ের উইকেট পছন্দ হচ্ছে না শ্রীলঙ্কার। জয়াবর্ধনে বলছেন, ‘উইকেট কিছুটা আলাদা। এটা মরা উইকেট। দেশে যেমনটায় খেলে এসেছি তার চেয়ে মাঠটাও কিছুটা ছোট। তবে আমরা মানিয়ে নেব।’

ডেসকাট-ও’ব্রায়েনদের ইডেন-প্রেরণা

এবার বিশ্বকাপ ইডেনের জন্য একটা যন্ত্রণার নাম। ভারতের কোনো ম্যাচ পায়নি ক্রিকেটের বিখ্যাত এই মাঠ। এ নিয়ে হতাশ কলকাতাবাসী, ইডেনে অন্য দলের খেলা তাদের টানছে না। কিন্তু তাতে কী? এই মাঠে একটা ম্যাচ পেয়েই দারুণ খুশি হল্যান্ড। আয়ারল্যান্ড ১৫ মার্চ এই মাঠে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে খেলেছে। আইরিশরাও আবার ইডেনে খেলার সুযোগ পেয়ে রোমাঞ্চিত। আজ ইডেনেই ‘বি’ গ্রুপের ছোট দুই দল মুখোমুখি ‘বড়’ লড়াইয়ে। দুই দলই বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিলেও এটি যে তাদের মর্যাদার ম্যাচ।
আয়ারল্যান্ড হারিয়েছে ইংল্যান্ডকে। ম্যাচটি তাই হল্যান্ডের কাছেই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ‘মর্যাদা’র বাইরেও বিশ্বকাপ থেকে একটা জয় নিয়ে ফেরার উপলক্ষ এটি ডাচদের কাছে। আইরিশরা সেদিক থেকে একটু এগিয়ে। ইংল্যান্ডকে হারানোর সুখস্মৃতি সঙ্গী হচ্ছে দলটির। গত বিশ্বকাপের মতো এবারও সাড়া ফেলা আইরিশরা আজ হল্যান্ডকে হারাতে পারলে দুটি জয় নিয়ে ফিরবে দেশে। তাদের মর্যাদার মুকুটে তাহলে যোগ হবে আরেকটি পালক।
একটা লড়াইয়ের মধ্যে খণ্ড খণ্ড অনেক লড়াই থাকে। কিন্তু হল্যান্ড-আয়ারল্যান্ড অন্তর্গত লড়াইয়ে থাকবে একটা দ্বৈরথ। রায়ান টেন ডেসকাট বনাম কেভিন ও’ব্রায়েন। বলা হচ্ছে, বিশ্বকাপে আরেকবার নিজেদের ঔজ্জ্বল্য ছড়ানোর সুযোগ পাচ্ছেন দুই দলের দুই সেরা ক্রিকেটার। ব্যাটিং কিংবা বোলিংয়ে জ্বলে ওঠার জন্য ইডেনের চেয়ে বড় মঞ্চ আর কী হতে পারে!
নাগপুরে ব্যাট হাতে সেঞ্চুরি এবং ২ উইকেট নিয়ে ইংল্যান্ডকে কাঁপিয়ে দিয়েছিলেন ডেসকাট। ইংল্যান্ডের কানের পাশ দিয়ে চলে গেছে গুলি। এরপর বাংলাদেশের বিপক্ষে সতীর্থদের ব্যর্থতার মিছিলে ডেসকাটই ছিলেন উজ্জ্বল ব্যতিক্রম। এক প্রান্ত আগলে করেছেন অপরাজিত হাফ সেঞ্চুরি। ও’ব্রায়েন তো রেকর্ডের পাতায় ঢুকে গেছেন। বিশ্বকাপের দ্রুততম সেঞ্চুরি (৫০ বলে) করে হারিয়ে দিয়েছেন ইংল্যান্ডকে।
তাঁদের দল ছোট। কিন্তু বিশ্বকাপের আলো দুজনই কেড়েছেন। আজ নিশ্চয়ই ক্রিকেটের নন্দনকাননে আরেকটু আলো কাড়তে চাইবেন এই দুর্দান্ত ডাচ ও আইরিশ। কলকাতার মাঠ আরেকটি কারণেও প্রেরণা হতে পারে ডেসকাটের জন্য। আগামী আইপিএলে যে তিনি কলকাতারই দল কলকাতা নাইট রাইডার্সে খেলবেন!

তাঁদের পাশে সাকিবদের কিছু সময়

ওড়নায় ঢাকা পুরো মুখ। কেবল উঁকি দিচ্ছে এক জোড়া চোখ। যে চোখ দুটোতে সাকিব আল হাসানের মতো বড় তারকাকে দেখার ব্যাকুলতা ছাপিয়ে ফুটে উঠেছে ভয়, সংশয়। যদি ক্যামেরায় উঠে যায় ছবি! যদি নাম লিখে দেন কোনো সাংবাদিক! নিজেকে আড়াল করার কী এক নিদারুণ ব্যাকুলতা!
কাল রাজধানীর মোহাম্মদপুরে এইচআইভি-এইডস আক্রান্তদের সঙ্গে কিছুটা সময় কাটিয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের তিন তারকা সাকিব, জুনায়েদ সিদ্দিক ও ইমরুল কায়েস। ‘আশার আলো’ নামের একটি বেসরকারি সংস্থার ছোট্ট মিলনায়তনে মিলিত হয়েছিল সবাই। অনুষ্ঠান শুরুর আগে সেই মিলনায়তনে দেখা মিলল এইচআইভিতে আক্রান্ত ১০-১২ জন নারীর। আয়োজকদের কাছ থেকে যাঁরা বারবার একটাই আশ্বাস চাইছিলেন—পত্রিকা বা টিভিতে যেন দেখানো হয় না তাঁদের।
কেন এই লুকিয়ে থাকার আপ্রাণ চেষ্টা? উত্তরটা মিলে গেল সেই অনুষ্ঠানেই। বাংলাদেশে এইচআইভি-এইডসের প্রকৃত চিত্রটি তুলে ধরার জন্য সাকিব-ইমরুলসহ অনুষ্ঠানে আসা অতিথিদের দেখানো হলো ছোট্ট একটা প্রামাণ্যচিত্র। যেখানে এইচআইভিতে আক্রান্ত এক নারী তাঁর কান্নাভেজা কণ্ঠে জানালেন, স্বামীর কারণে তিনি আক্রান্ত হয়েছেন। স্বামীর যে এই রোগ আছে সেটি তাঁর জানা ছিল না। অথচ স্বামীর মৃত্যুর পর তাঁকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে শ্বশুরবাড়ি থেকে। আশ্রয় মেলেনি নিজের বাবার কাছেও। সেই নারীর একটাই জিজ্ঞাসা—‘কী আমার অপরাধ?’
পর্দায় দেখানো তথ্য থেকেই জানা গেল, এই দেশে এখনো এইচআইভিতে আক্রান্তদের অস্পৃশ্যের মতো দেখা হয়। অনেকেই তাঁদের ভয়ংকর পাপীও মনে করেন। সমাজপতি আর ফতোয়াবাজদের নির্যাতনের শিকার হতে হয় তাঁদের। কেবল বাবা বা মায়ের এইচআইভি ছিল—এই অপরাধে পুরোপুরি সুস্থ হওয়ার পরও বিয়ে হয় না অনেকের। বেশির ভাগ সময়েই করে রাখা হয় একঘরে। শুধু তা-ই নয়, সরকারি স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার ক্ষেত্রেও তারা শিকার হয় বৈষম্যের। সাম্প্রতিক একটি জরিপের ফলাফল বলছে, এইচআইভি-এইডস আক্রান্তদের ৭০ শতাংশই এই পরিস্থিতির জন্য নিজেদের দায়ী করে। এমনকি ২১ শতাংশ আত্মহত্যাও করতে চায়!
সমাজের বড় অংশটাই তাদের দিকে ভালোবাসার হাত বাড়ায়নি। কিন্তু সাকিবরা জানালেন, তাঁরা পাশেই আছেন। বাংলাদেশ অধিনায়ক যেমন তাঁর বক্তব্যে সবাইকে অনুরোধ করলেন, এইচআইভি-এইডস সম্পর্কে নিজে সচেতন হতে, অন্যদেরও সচেতন করে তুলতে। জুনায়েদ বললেন, ‘এইচআইভি-এইডস কিন্তু ছোঁয়াচে নয়। আক্রান্তদের সঙ্গে মেলামেশা করতে কোনো বাধা নেই। এমনকি এইচআইভি আক্রান্তরাও স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারেন।’ বাংলাদেশ দলের ম্যানেজার তানজীব আহসান প্রতিশ্রুতি দিলেন, এ ধরনের উদ্যোগে সব সময়ই বাংলাদেশ দল পাশে থাকবে।
এইচআইভি-এইডস নিয়ে সচেতনতা বাড়াতে ইউএনএইডস ও ইউনিসেফের সঙ্গে যুক্ত হয়ে আইসিসি ‘থিঙ্ক ওয়াইজ’ কর্মসূচি নিয়েছে। ক্রিকেট-বিশ্বের কয়েকজন তারকা ক্রিকেটারকে ‘থিঙ্ক ওয়াইজ চ্যাম্পিয়ন’ বা এই কর্মসূচির শুভেচ্ছাদূত করা হয়েছে। সাকিব তাঁদের একজন। ওই অনুষ্ঠানেই জানা গেল, ১৯৮৯ সালে প্রথম বাংলাদেশে এইচআইভি-এইডস আক্রান্ত রোগী শনাক্ত করা হয়। সরকারি হিসাবমতে, এখন পর্যন্ত এইচআইভি ভাইরাস বহনকারীর সংখ্যা ২০৮৮ জন। এদের মধ্যে এইডসে আক্রান্ত হয়েছে ৮৫০ জন। মারা গেছে ৪২১। বিশ্বের তুলনায় পরিস্থিতিটা হয়তো তেমন ভয়াবহ নয় কিন্তু ভয়ের কারণও আছে। কেবল গত বছর এইচআইভিতে আক্রান্ত হয়েছে ৩৪৩ জন।

ছুটির মেজাজে দক্ষিণ আফ্রিকা

পরশু সন্ধ্যায় ঢাকায় পৌঁছেও আজ দুপুরের আগে মাঠের ধারেকাছেও যাচ্ছে না দক্ষিণ আফ্রিকা দল। আগামীকাল ম্যাচ সামনে রেখে প্রোটিয়ারা অনুশীলন করবে কেবল আজ দুপুরেই। কাল সারা দিন বলতে গেলে হোটেলে বিশ্রামেই ছিল দল।
সকালের দিকে দু-চারজন জিম, সুইমিং করেছেন। ম্যাসাজ নিয়েছেন কেউ কেউ। বেলা ১২টায় হোটেলেই হয়েছে টিম মিটিং। এক ফাঁকে নিরাপত্তারক্ষীদের না জানিয়ে দলের দুই ক্রিকেটার চলে যায় শপিং করতে। পরে অবশ্য দলের সঙ্গে থাকা নিরাপত্তাকর্মীরা বাইরে যাওয়া ক্রিকেটারদের হোটেলে ডেকে নিয়ে আসেন।
খেলোয়াড়দের জন্য হোটেলের বাইরে যাওয়ায় কড়াকড়ি থাকলেও তাঁদের স্ত্রী-বান্ধবীদের জন্য সেটা নেই। খেলোয়াড়দের সঙ্গিনী হলেও তাঁদের কাছে তো বিশ্বকাপটা শুধু খেলা নয়, একটু ঘুরেফিরে দেখার উপলক্ষও। হাশিম আমলা আর ইমরান তাহিরের স্ত্রী তাই বিকেল বেলাটা ঘুরে এলেন বসুন্ধরা সিটিতে। দলের সঙ্গে আসা গ্রায়েম স্মিথ ও জ্যাক ক্যালিসের বান্ধবী অবশ্য হোটেলেই কাটিয়েছেন অলস সময়।

আলো ছড়ানোর ক্ষুধা

সামনে কোনো ব্যাটসম্যান নেই। নির্দিষ্ট একটা জায়গায় বল ফেলে টার্ন করানোর চেষ্টা করছেন, সফলও হচ্ছেন। বিশ্বকাপ তাঁর কাছ থেকে যা চেয়েছিল এখন পর্যন্ত সেটা দিতে পারেননি বাংলাদেশ অধিনায়ক। কিছু দেওয়ার ক্ষুধাটাই হয়তো আরও বেশি করে সাকিব আল হাসানকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে নেটে। হয়তো সে কারণেই মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের ইনডোরে পর পর দুই দিন এতটা সময় নিয়ে বোলিং করলেন।
নেট প্র্যাকটিসে নিয়মিত ব্যাটিং করলেও অনুশীলনে সাকিবকে বল করতে দেখাটা একটা খবর বটে। দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচের আগে এমন খবরের জোগান দিলেন পরপর দুই দিন। তবে বাইরের নেটে ব্যাটসম্যানদের বল না করে ইনডোরের নেটে হাত ঘোরালেন নিজে নিজেই। সাকিব নিজেও কি তাহলে উপলব্ধি করতে পারছেন পাওনা মেটাতে না পারার তাড়না?
বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত খেলে ফেলা পাঁচ ম্যাচে সাকিব ছিলেন নিজের ছায়া। ভারতের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে ৫৫ রান করলেও পরের চার ম্যাচে রান ১৬, ৮, ৩২ ও ১। বল হাতেও তাঁর বাঁহাতি স্পিনের জাদু দেখছে না বিশ্বকাপ। পাঁচ ম্যাচে বোলিং—১/৬১, ২/২৮, ০/১, ২/৪৯ ও ১/৩৮। ওয়ানডের বিশ্বকাপে ওয়ানডের এক নম্বর অলরাউন্ডারের সঙ্গে এই পারফরম্যান্সটা যায় না। যদিও হল্যান্ড ম্যাচের পর সংবাদ সম্মেলনে সাকিব বলেছেন, ব্যাটিং নিয়ে চিন্তা করছেন না। ব্যাটিং ভালো হচ্ছে বলেই তাঁর বিশ্বাস।
স্কোর বোর্ড সব সময় ক্রিকেটের আসল ছবিটা বোঝাতে পারে না। সাকিবও হয়তো বোঝাতে চেয়েছেন ১৬, ৮, ৩২—স্কোরগুলো তাঁর ব্যাটিংয়ের সচিত্র প্রতিবেদন নয়। দ্রুত আউট হয়ে গেলেও তার আগ পর্যন্ত উইকেটে থাকছেন আত্মবিশ্বাসী হয়ে। খারাপ ব্যাটিংয়ের অভিযোগ মানবেন কেন?
বল হাতে ঔজ্জ্বল্য ছড়াতে না পারার ব্যাখ্যা সাকিবের হয়ে আরেক বাঁহাতি স্পিনার আবদুর রাজ্জাকই দিয়েছেন এক সাক্ষাৎকারে, ‘উইকেট না পেলেই আমরা মনে করি বল হয়তো খারাপ হচ্ছে। ব্যাপারটা সে রকম নয়। এটা নিজের কাছে। ও যদি মনে করে বোলিং যেটা করছে ঠিক আছে, তাহলেই ধরে নিতে হবে ঠিক আছে। আপনি উইকেটের জন্য বল করছেন নাকি রান কম দেওয়ার জন্য, সেটাও এখানে একটা ব্যাপার।’ কিন্তু সাকিবের ক্ষুধাটা টের পাওয়া যায় হল্যান্ড ম্যাচের পরদিন বলা কথায়। শুরুর দিকে ভালো বল করার তৃপ্তি যেমন ছিল, ছিল পরের দিকে সেটা করতে না পারার অতৃপ্তিও।
দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচে কি এসব অপূর্ণতাই দূর করে ফেলার মিশন নিলেন সাকিব আল হাসান! বাংলাদেশের আলোকিত বিশ্বকাপে সাকিব অন্ধকারে থেকে যাবেন, তা কী করে হয়?

লক্ষ্য পূরণেও অতৃপ্তির বোধ

ওল্ড ট্রাফোর্ডই কি ফিরে এল বিশ্বকাপে?
গত বছরের জুনে ওল্ড ট্রাফোর্ড টেস্টের প্রথম ইনিংসে তামিম ইকবালের ১০৮ রানের ইনিংসটি শেষ হয়েছিল কট বিহাইন্ড হয়ে। জেমস অ্যান্ডারসনের অফ স্টাম্পের বাইরের বল ব্যাটের কানা ছুঁয়ে জমা পড়ল উইকেটকিপার ম্যাট প্রিয়রের গ্লাভসে। দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ২ রান করেই একই বোলারের বলে ঠিক একই আউট!
দুটি প্রস্তুতি ম্যাচসহ বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ খেলেছে সাতটি ম্যাচ, তার চারটিতেই বোল্ড তামিম! কানাডা ও পাকিস্তানের বিপক্ষে পরপর দুটি প্রস্তুতি ম্যাচে এবং এরপর বিশ্বকাপের সর্বশেষ দুটি ম্যাচে, ইংল্যান্ড ও হল্যান্ডের বিপক্ষে। কাল স্মৃতি হাতড়ে বাঁহাতি এই ওপেনার চলে গেলেন পেছনে, ‘গত বছর ওল্ড ট্রাফোর্ড টেস্টের দুই ইনিংসেই কট বিহাইন্ড হয়েছিলাম। একইভাবে পরপর দুই ইনিংসে আউট হওয়ার ঘটনা আর মনে পড়ে না।’
বারবার একইভাবে আউট হওয়াটা অনেক সময় ব্যাটসম্যানদের দুশ্চিন্তার মধ্যে ফেলে দেয়। কেন এমন হচ্ছে—অনুশীলনে গবেষণার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। তামিমের বেলায় দেখা যাচ্ছে বারবার বোল্ড হলেও ব্যাপারটা ব্যতিক্রম, ‘গত ম্যাচে বলটা ভেতরের ঊরুতে লেগে ঢুকেছে। আর প্রথম ম্যাচে শট সিলেকশনটা ছিল বাজে। সামনের বল আমি পেছনে খেলতে গেছি। কাজেই টেকনিক নিয়ে কোনো সমস্যা নেই। একটা আউট দুর্ভাগ্যজনক, আরেকটা আমার বোকামি।’ ব্যাটিংয়ের যেকোনো সমস্যা নিয়ে যে দুজনের সঙ্গে আলোচনা করে স্বস্তি পান, তাঁরাও সবুজ সংকেত দিয়েছেন। কোচ জেমি সিডন্স এবং সম্প্রতি মালয়েশিয়ায় চলে যাওয়া বাংলাদেশ দলের সাবেক সহকারী কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিনও নাকি টেলিফোনে তামিমকে বলেছেন, বারবার বোল্ড হওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু নেই। ওটা এমনিই হয়ে গেছে।
বাংলাদেশের বিশ্বকাপটা তামিমের হবে, না সাকিবের—বিশ্বকাপের শুরু থেকেই প্রশ্নটা ছিল। পাঁচ ম্যাচে এটা অনেকটাই পরিষ্কার যে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের বিশ্বকাপ তামিম-সাকিব কারোরই নয়। পাঁচ ম্যাচে ৭০, ৪৪, ০, ৩৮, ০—তামিমের কাছে নিশ্চয়ই এটা বিশ্বকাপের প্রত্যাশা নয়। তামিম নিজেও সেটা বুঝছেন, ‘এক ম্যাচে ৭০ করেছি, দুই ম্যাচে ৪০-এর মতো করে করেছি। তিন বছর আগে হলেও আমি বা অন্য কোনো খেলোয়াড় এটা নিয়ে খুশি থাকত। কিন্তু আমার স্ট্যান্ডার্ড আমি এমন একটা পর্যায়ে নিয়ে গেছি যে, ৪০ রান করলেও মনে হয় ব্যর্থ হয়েছি। আজ (গতকাল) কোচকেও বলেছি কথাটা।’
বারবার একইভাবে আউট হওয়ার মতো এই ব্যাপারটা নিয়েও কোনো ভাবনা নেই। তামিম বরং চিন্তায় পড়ে গেছেন সেঞ্চুরি নিয়ে! বিশ্বকাপে বাংলাদেশের কোনো ব্যাটসম্যানের সেঞ্চুরি নেই, এখন পর্যন্ত নেই ১০০ রানের কোনো জুটিও। আশপাশের মানুষজন নাকি প্রতিদিনই তামিমকে এটা মনে করিয়ে দিচ্ছে। সেঞ্চুরিটা তাই এখন স্বপ্নের মধ্যেও ঢুকে যাচ্ছে তাঁর, ‘অনেকেই আমাকে কথাটা বলেছে। গত দুই দিনে আমি এত এক শর কথা শুনেছি যে, স্বপ্নেও এখন ১০০ দেখছি! দোয়া করবেন উল্টো যেন না হয়ে যায়। তবে ১০০ রানের জুটি অবশ্যই দেখবেন।’
সেঞ্চুরি, ১০০ রানের জুটি—১৯ মার্চের দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচেই সব হয়ে গেলে মন্দ কী? বাংলাদেশ কোয়ার্টার ফাইনালে খেলবে কি না, খেললে কী অবস্থান নিয়ে খেলবে—এসব হিসাব মেলানোরই যে সমীকরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ম্যাচটা! গতকাল হয়ে যাওয়া ওয়েস্ট ইন্ডিজ-ইংল্যান্ড ম্যাচের ওপরও অবশ্য নির্ভর করছিল অনেক কিছু। তবে চেন্নাইয়ের এই ম্যাচটার আগে তামিম বলেছিলেন, ‘হল্যান্ডের বিপক্ষে যেভাবে খেলেছি, ওভাবেই খেলব পরের ম্যাচে। জেতার জন্যই খেলব। ইংল্যান্ডের ম্যাচ নিয়ে যদি এতই আগ্রহী থাকতাম, তাহলে তো আজ (গতকাল) সকাল আটটা থেকে প্র্যাকটিস করে দুপুরে খেলা দেখতাম।’
কোয়ার্টার ফাইনাল, সেমিফাইনাল, ফাইনাল—কাল পর্যন্ত বাংলাদেশ যে জায়গায় দাঁড়িয়ে, যেকোনো স্বপ্ন দেখাই সম্ভব ছিল। তবে প্রথম স্বপ্নটা পূরণ যদি নাও হয়, আক্ষেপ থাকবে না তামিমের, ‘আমাদের চিন্তা ছিল কমপক্ষে তিনটা ম্যাচ জিতব এবং সেটা জিতেছি। চারটা জিততে পারলে তো খুবই ভালো। আরও একটা ম্যাচ আছে। এটাও যদি ভালোভাবে খেলতে পারি, এর চেয়ে ভালো কিছু হতে পারে না। পরের রাউন্ডে যেতে পারলে এটা হবে আমাদের সেরা বিশ্বকাপ।’ কোয়ার্টার ফাইনালের দিকে অনেকটাই এগিয়ে গেলেও তামিম ভুগছেন সেরা খেলা খেলতে না পারার অতৃপ্তিতে, ‘দল হিসেবে টার্গেট ছিল কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা। আমরা সেদিকেই যাচ্ছি। তবে এখন পর্যন্ত নিজেদের সেরা ক্রিকেট খেলিনি আমরা। এখন পর্যন্ত সবই ঠিক আছে, তবে এর চেয়ে ভালো হতে পারত।’
আশরাফুল-মাশরাফির পর এখন সাকিব-তামিমের দিকেও তাকিয়ে থাকে না বাংলাদেশের জয়। ইমরুল-মাহমুদউল্লাহ-শফিউলরাও পারেন সাফল্যের মশাল জ্বালাতে। আর সবার মতো তামিমের মুখ থেকেও তাই বেরিয়ে আসে টিম স্পিরিটের কথা। ভালো কিছু করার তাগিদটা সবার মনের মধ্যেই একই রকম বুদ্বুদ তুলছে। তামিম তো বললেনই, ‘সত্যি বলতে কি, আমরা অনেক অ-নে-ক ক্ষুধার্ত ভালো কিছু করার জন্য।’

পাকিস্তানের রণকৌশলের সমর্থনে আকিব জাভেদ

স্পট ফিক্সিং কেলেঙ্কারি, অধিনায়ক নির্বাচনে দ্বিধা-দ্বন্দ্বসহ নানা ধরনের বিতর্কের আবরণে নিজেদেরকে মুড়েই বিশ্বকাপের আসরে অংশ নিয়েছিল পাকিস্তান। ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় এই আসরটিতে পাকিস্তান ভালো কিছু করতে পারবে এমন আশা করেন নি খুব বেশি মানুষ। কিন্তু খেলা মাঠে গড়ানোর পর নিজেদেরকে একেবারেই পালটে ফেলেছে ‘আনপ্রেডিক্টেবল’ পাকিস্তান। দুর্দান্ত দাপট দেখিয়ে নির্বিঘ্নেই পা রেখেছে শেষ আটের লড়াইয়ে। কিন্তু তারপরও সমালোচনা পিছু ছাড়ছে না ৯২-এর শিরোপাজয়ীদের। সমালোচনাটা এসেছে পাকিস্তানের সাবেক দুই অধিনায়ক ইমরান খান ও ওয়াসিম আকরামের কাছ থেকে। বড় দলগুলোর বিপক্ষে পাকিস্তানের এখনকার বোলিং কৌশল খুব বেশি কাজে লাগবে না বলে মত দিয়েছেন সাবেক এই পাকিস্তানি ক্রিকেটাররা।
বিশ্বকাপের শুরু থেকেই চারজন বিশেষজ্ঞ বোলার নিয়ে মাঠে নামছে পাকিস্তান। উমর গুল, শোয়েব আকতার, আব্দুর রেহমানই মূলত পাকিস্তানের প্রধান বোলার। সঙ্গে আছেন আবদুল রাজ্জাক ও শহীদ আফ্রিদির মতো অলরাউন্ডাররা। এই কৌশল দিয়ে ছোট দলগুলোর বিপক্ষে পার পেয়ে গেলেও পরবর্তী রাউন্ডের বড় ম্যাচগুলোয় পাকিস্তানকে ঝামেলায় পড়তে হতে পারে বলে মত দিয়েছেন ইমরান খান, ওয়াসিম আকরামরা। তবে পাকিস্তানের সহকারী কোচ আকিব জাভেদ এই সমালোচনা একেবারেই মানতে পারছেন না।
পাকিস্তানের নড়বড়ে ব্যাটিং লাইন আপ শক্ত করতে এ ছাড়া আর কোন উপায় ছিল না বলে উল্লেখ করেছেন পাকিস্তানের সাবেক এই পেসার। আর এতে বোলিং আক্রমণও খুব একটা খারাপ হবে না বলেও মনে করেন তিনি। গতকাল সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আকিব জাভেদ বলেছেন, ‘কোন দলই এখন পাঁচজন বিশেষজ্ঞ বোলার নিয়ে মাঠে নামে না। সবাই একটা ব্যাপারে ভুল করছে যে, আমরা শুধু তিনজন বিশেষজ্ঞ বোলার নিয়েই খেলছি না। শহীদ আফ্রিদিকে যদিও অলরাউন্ডার হিসেবেই দেখা হয়, তারপরও সে কিন্তু একজন ভালো বোলার। আর এরপর আমরা নির্বাচন করেছি একজন অলরাউন্ডারকে। এমন একজন বোলার, যে ব্যাট হাতেও ভালো করতে পারে। রাজ্জাককে এই ক্যাটাগরিতে নির্দ্বিধায় ফেলা যায়।’
এখনও পর্যন্ত পাকিস্তানের এই কৌশল যে বেশ ভালো মতোই কাজে লেগেছে, এতে সন্দেহের কোন অবকাশ নেই। শহীদ আফ্রিদি দুর্দান্তভাবেই তাঁর দায়িত্বটা পালন করে যাচ্ছেন। এখন নাক-আউট পর্বে সাবেকদের সন্দেহটা তাঁরা দূর করতে পারেন কিনা, সেটাই দেখার বিষয়।