Thursday, March 9, 2017

ট্রাম্পের বিরুদ্ধে প্রচারণায় নামছেন মোহাম্মদ আলী পরিবার

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ধর্মীয় স্বাধীনতার দাবিতে মাঠে নামছেন হেভিওয়েট চ্যাম্পিয়ন, কিংবদন্তি মোহাম্মদ আলীর ছেলে মোহাম্মদ আলী জুনিয়র ও তার মা খালিলাহ ক্যামাচো আলী। এ জন্য তারা ওয়াশিংটনে ছুটে গেছেন। এক মাস আগে তাদেরকে ফ্লোরিডার একটি বিমানবন্দরে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তাদের কাছে জানতে চাওয়া হয় তারা মুসলিম কিনা। এ বিষয়টি নিয়ে আইনজীবীদের সঙ্গে বৃহস্পতিবারই তাদের সাক্ষাত করার কথা রয়েছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন ইউএসএ টুডে। উল্লেখ্য, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভ্রমণ বিষয়ক যে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন তা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন তারা। এ জন্য তারা একটি প্রচার অভিযান চালাচ্ছেন। এর নাম দেয়া হয়েছে ‘স্টেপ ইনটু দ্য রিং’। এতে সমর্থন দিয়েছেন বক্সিংয়ের সাবেক সুপরিচিত মুখ ইভান্ডার হলিফিল্ড, ল্যারি হোমস ও রবার্টো দুরান। তারা সরকারি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিরুদ্ধে প্রচারণা শুরু করছেন। এক্ষেত্রে তারা হ্যাসট্যাগ ব্যবহার করছেন। এর নাম দেয়া হয়েছে #এলিভস ট্রাম্প। উল্লেখ্য, অতীতে মোহাম্মদ আলীর প্রতি আনুগত্য দেখিয়েছেন ডনাল্ড ট্রাম্প। জুনে পারকিনসন রোগে আক্রান্ত হয়ে মোহাম্মদ আলী মারা যাওয়ার পর তাকে ‘ট্রুলি গ্রেট চ্যাম্পিয়ন’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছিলেন তিনি। ওয়াশিংটনে ন্যাশনাল মিউজিয়াম অব আফ্রিকান-আমেরিকান হিস্টোরি অ্যান্ড কালচারে সাম্প্রতিক এক সফরে আলী বিষয়ক একটি প্রদর্শনীর ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প। ওদিকে সীমান্ত নিরাপত্তা বিষয়ক কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদের একটি সাব কমিটির এক ফোরামে আলী পরিবারকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ডেমোক্রেটরা। সেখানে আলী পরিবারের সদস্যরা কংগ্রেস সদস্যদের সামনে তাদের বক্তব্য উপস্থাপন করবেন। একই সঙ্গে বিমান বন্দরের অনাকাঙ্খিত ঘটনার একটি আনুষ্ঠানিক শুনানির আহ্বান জানাবেন। মোহাম্মদ আলীর স্ত্রী খালিলাহ ক্যামাচো আলী বলেছেন, ভ্রমণের ক্ষেত্রে কোনো নিষেধাজ্ঞা থাকা উচিত নয়। আমি যদি এখন এ বিষয়ে কথা না বলি তাহলে তারা তো আমাদেরকে আরও হয়রানি করবে। মোহাম্মদ আলীর স্ত্রী ও তার ছেলে দু’জনেরই জন্ম যুক্তরাষ্ট্রে। তারা গত ৭ই ফেব্রুয়ারি জ্যামাইকা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরছিলেন। কিন্তু ফ্লোরিডার ফোর্ট লডারডেল-হলিউড ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে তাদেরকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এ সময় তারা মুসলিম কিনা সেটা বার বার জানতে চাওয়া হয়। তারা বার বার সাবেক হেভিওয়েট চ্যাম্পিয়ন মোহাম্মদ আলীর পরিবারের সদস্য পরিচয় দেয়ার পরও এমন আচরণ করা হয়।

উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক বহাল থাকবে

উত্তর কোরীয় নেতা কিম জং উনের সৎভাই কিম জং ন্যামের হত্যাকাণ্ডের জেরে সৃষ্ট উত্তেজনা সত্ত্বেও দেশটির সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার কোনো পরিকল্পনা মালয়েশিয়ার নেই। বুধবার মালয়েশিয়ার পার্লামেন্টে এ কথা বলেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক। রয়টার্স এ খবর দিয়েছে। ন্যামের হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে বাড়তে থাকা বিরোধের জেরে মঙ্গলবার পরস্পরের নাগরিকদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে উত্তর কোরিয়া ও মালয়েশিয়া। গত ১৩ ফেব্রুয়ারি ন্যামকে কুয়ালালামপুর বিমানবন্দরে বিষাক্ত রাসায়নিক ভিএক্স নার্ভ এজেন্ট প্রয়োগে হত্যা করা হয়। জাতিসংঘের নিষিদ্ধ গণবিধ্বংসী অস্ত্রের তালিকায় এ রাসায়নিকটির নাম আছে। মালয়েশিয়া সরাসরি উত্তর কোরিয়াকে দায়ী করেনি, কিন্তু এ ঘটনার জন্য উত্তর কোরিয়াই দায়ী বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়া। এ ঘটনায় নিজেদের দায় জোরালোভাবে অস্বীকার করেছে উত্তর কোরিয়া।
কিন্তু ন্যামের হত্যা ও তার মৃতদেহের দাবি নিয়ে গত দুই সপ্তাহে মালয়েশিয়ার সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার সম্পর্ক ক্রমাগত নাজুক হয়ে উঠেছে। এ পরিস্থিতিতে পার্লামেন্টকে নাজিব বলেন, ‘আমরা এমন একটি দেশ যারা তাদের (উত্তর কোরিয়া) প্রতি বন্ধুভাবাপন্ন। আমরা তাদের সঙ্গে ঝগড়া করতে চাই না। কিন্তু যখন একটি অপরাধ সংঘটিত হয়েছে, বিশেষভাবে যেখানে মালয়েশিয়ায় রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে, সেখানে মালয়েশীয়দের স্বার্থের সুরক্ষা দেয়া আমাদের দায়িত্ব।’ উত্তর কোরিয়া ছাড়ার নিষেধাজ্ঞার মধ্যে পড়া ১১ মালয়েশীয় কোনো নিরাপত্তা হুমকিতে নেই, উত্তর কোরিয়াকে এটি পুনরায় নিশ্চিত করতে বলেছেন বলে জানান তিনি। এ নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার বিনিময়ে উত্তর কোরিয়া কী চায়, তিনি তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছেন বলেও পার্লামেন্টকে জানিয়েছেন। এদিকে মালয়েশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ। দেশ দুটিকে ‘কূটনৈতিক পথে’ দু’পক্ষের মতপার্থক্য দূর করার পরামর্শ দিয়েছে বিশ্ব সংস্থাটি।

১৬ বছর পর মাকে ফিরে পেল ছেলে

২০০১ সালের বন্যায় পরিবার পরিজন থেকে হারিয়ে যান আসামের ধেমাজি থেকে এক মা। এরপর দীর্ঘ ১৬ বছর পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কল্যাণে তাকে উত্তরাখণ্ডের দেহরাদুন থেকে ফিরে পেলেন ছেলে। ঘটনার শুরু ২০০১ সালে। মানসিক ভারসাম্য হারানোয় ধেমাজির সুভদ্রা পাতিকে তেজপুরের মানসিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু ক’দিন পরে শুরু হয় ভয়াবহ বন্যা। তখনই হাসপাতাল থেকে নিখোঁজ হন সুভদ্রা। এরপরে বহু জায়গায় খোঁজ করা হয়। একপর্যায়ে তাকে ফিরে পাওয়ার আশাও ছেড়ে দেয় পরিবার। ভেবে নেয় হয়তো বা সে মারা গেছে। এরপরের ঘটনা উত্তরাখণ্ডের দেহরাদুনে। তেহরিতে ২০১৫ সালে হড়পা বানের পরে উদ্ধার হওয়া মানুষদের মধ্যে বছর পঁয়তাল্লিশের এক মহিলাকে পাওয়া যায়। অসুস্থ, রুগ্ন ওই মহিলা শুধু বলতে পারতেন নিজের নাম সুভদ্রা। তার ভাষাও কেউ বুঝতে পারছিলেন না। ফলে তার ঠিকানা হয় নারী নিকেতন। ওখানেই চলতে থাকে তার চিকিৎসা। ক্রমে সুস্থ হয়ে ওঠেন ওই ভদ্রমহিলা। উত্তরাখণ্ডের বনকর্তা তথা বর্তমানে সমাজকল্যাণ দফতরের অতিরিক্ত সচিব মনোজ চন্দ্রন জানান,
এক অসমীয়াভাষীর সাহায্যে কথা বলে জানা যায়, সুভদ্রার বাড়ি অসমের ধেমাজি জেলায়। কীভাবে তিনি আসাম থেকে এখানে এলেন তার কোনো উত্তর দিতে পারেননি তিনি। ফেসবুকে ধেমাজির এক ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ করে উত্তরাখণ্ড সমাজকল্যাণ দফতর। নিজের মুখে ঠিকানা বলা সুভদ্রাদেবীর ‘ছোট্ট ভিডিও’-টি আপলোড করা হয় হোয়্যাটসঅ্যাপ ও ফেসবুকে। শেষ পর্যন্ত সেই ভিডিও দেখেই সুভদ্রার এক আত্মীয়ের ছেলে তাকে চিনতে পারেন। ছাত্র সংগঠনটির তরফে হেমচন্দ্র পেগু, রাজদীপ দোলেরা সুভদ্রার ছেলে দুর্লভ পাতিরকে সঙ্গে করে দেহরাদুন রওনা হন। ২০০১ সালে যখন মাকে হারিয়েছিল, তখন দুর্লভের বয়স ছিল বছর ছয়েক। এরপর গত ৬ মার্চ আবার মিলন হয় তাদের। মনোজ জানান, এত বছরের ব্যবধান, মানসিক রোগের ধাক্কার পরেও ছেলেকে ঠিক চিনতে পারেন মা। ছুটে গিয়ে জড়িয়ে ধরেন দুর্লভকে।

ভক্তিগীতি ভাইরাল, মুসলিম তরুণীকে তুলোধুনা

হিন্দু ভক্তিগীতি গেয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রবল সমালোচনার মুখে পড়েছেন ২২ বছরের মুসলিম সুহানা সাইদ। ভারতের কর্নাটকের একটি চ্যানেলের রিয়েলিটি শোতে গিয়েছিলেন তিনি। সেখানে সুহানার গানে বিচারকরা মুগ্ধ হয়ে মন্তব্য করেন, সুহানার গলায় হিন্দু ভক্তিগীতি সমস্ত বিভেদ মুছে দিয়েছে। সুহানার গান এবং বিচারকদের প্রশংসার ভিডিওটি গোটা কর্ণাটকে ভাইরাল হয়ে যায়। এরপর কট্টরপন্থী মুসলিমরা সুহানার সমালোচনায় মুখর হয়ে ওঠেন। ‘ম্যাঙ্গালোর মুসলিমস’ নামের একটি ফেসবুক পেজে তাকে তুলোধুনা করা হয়। মুসলিম হয়ে কেনো হিন্দু ধর্মের গান গাইলেন সুহানা এবং কোন অধিকারে অচেনা পুরুষদের সামনে গিয়ে গান গাইলেন- এমন প্রশ্ন তোলা হয়।
সুহানার উদ্দেশে কন্নড় ভাষায় লেখা হয়, ‘তুমি মোটেই বিরাট কিছু করনি...। তুমি যেভাবে নিজেকে অন্য পুরুষদের সামনে মেলে ধরেছ, তাতে তোমার বাবা-মা আর স্বর্গে যেতে পারবেন না। হিজাব পরা বন্ধ করে দাও, কারণ তুমি জান না ওটিকে কীভাবে সম্মান করতে হয়।’ তবে বিভিন্ন মহল থেকে তাদের এই অবস্থানের প্রতিবাদ আসতে থাকলে পোস্টটি মুছে ফেলে ম্যাঙ্গালোর মুসলিমস। নতুন একটি পোস্টে লেখা হয়েছে, কারও স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করতে তারা চান না।

আইএসবিরোধী লড়াইয়ে কুয়েত যাচ্ছে ১ হাজার মার্কিন সেনা

জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) বিরুদ্ধে লড়াইয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কুয়েতে এক হাজার সৈন্য মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এসব সৈন্য রিজার্ভ ফোর্স হিসেবে সিরিয়া ও ইরাকে আইএসের সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত মার্কিন সেনাদের সহায়তা করবে। মার্কিন সশস্ত্র বাহিনীর এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর দিয়েছে। রিজার্ভ সেনা মোতায়েতের ফলে যুদ্ধক্ষেত্রে কমান্ডাররা দ্রুত সিদ্ধান্ত কার্যকরের সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। অতিরিক্ত সৈন্য পাঠানোর এই সিদ্ধান্ত আগের প্রেসিডেন্ট ওবামা থেকে ভিন্ন। ওবামা চেয়েছিলেন অল্প কিছু আমেরিকান সৈন্য দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে স্থানীয়দের মাধ্যমেই বিরোধ মোকাবেলা করতে। মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগনের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন জেফ ডেভিস ট্রাম্প প্রশাসনের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন,
কুয়েত থেকে ওই সেনাদের প্রয়োজন অনুযায়ী সিরিয়া ও ইরাকে পাঠানো হবে। সিরিয়া ও ইরাকে আইএস-বিরোধী লড়াইয়ে ইতিমধ্যে দেশটির প্রায় ছয় হাজার সেনা উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োজিত রয়েছেন। তবে কুয়েতে পাঠানো সেনাদের কাজ কি হবে সেই সিদ্ধান্ত এখনো নেয়া হয়নি। ওই কর্মকর্তারা আরও জানান, সিরিয়ায় আইএসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা মার্কিন সমর্থিত আরব ও কুর্দি বিদ্রোহীরা ইতিমধ্যে জঙ্গি সংগঠনটির কথিত রাজধানী রাক্কার বিভিন্ন সংযোগ পথ বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছে। তবে আইএস-কে সেখান থেকে উচ্ছেদ করতে আরও শক্তিশালী পদক্ষেপ দরকার বলে তারা মনে করেন। ইরাকের মসুল থেকেও আইএসকে বিতাড়িত করা হচ্ছে। তবে সৈন্য পাঠানোর এই সিদ্ধান্তটি আমেরিকার প্রতিরক্ষা সচিব জিম ম্যাটিস সমর্থিত কিনা তা যাচাই করা যায়নি।

গুয়েতেমালায় আশ্রমে আগুন, ২১ কিশোরী নিহত

গুয়েতেমালার একটি সরকারি শিশু আশ্রমে অগ্নিকাণ্ডে ২১ কিশোরী নিহত ও অন্তত ৪০ জন দগ্ধ হয়েছে। গুয়েতেমালা সিটির দক্ষিণ-পূর্বের শহর সান হোসে পিনুলা থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে 'ভার্জিন দ্য আসুনসিয়ন' আশ্রমে এ ঘটনা ঘটে। খবর রয়টার্স, বিবিসির। আগুনের সূত্রপাত জানা না গেলেও পুলিশ বলছে, হয়তো আশ্রমের কেউ ইচ্ছা করে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। এর আগে মঙ্গলবার এই আশ্রমে দাঙ্গার ঘটনা ঘটে। সে সময় পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ নেয়। আশ্রমের বাসিন্দাদের অভিযোগ,
সেখানে তাদের ওপর নির্যাতন ও যৌন নিপীড়ন করা হতো। সরকারি আশ্রমটির ধারণ ক্ষমতা ৪০০ জন হলেও গত বছর সেখানে অন্তত ৭০০ মেয়ে শিশু ও কিশোরী ছিল। নির্যাতন ও পাচারের শিকার এবং পরিত্যক্ত শিশুদের জন্য তৈরি এই আশ্রমটিতে ১৮ বছর বয়স হওয়া পর্যন্ত থাকতে পারে একজন। আশ্রম কর্তৃপক্ষ বলছে, অন্তত ৬০ জন শিশু আশ্রম ছেড়ে পালিয়ে গেছে। এদের কেউ কেউ বলেছে, দাঙ্গার পর আশ্রমে কর্তৃপক্ষের হুমকি ও শাস্তির ভয়ে পালিয়েছে তারা। স্থানীয় গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, আশ্রমটিকে কিশোর সংশোধন কেন্দ্র হিসেবেও ব্যবহার করা হতো।

মসুল ছেড়ে পালিয়েছেন বাগদাদি

জান বাঁচাতে মসুল ছেড়ে পালিয়েছেন আইএস প্রধান আবু বকর আল বাগদাদি। রয়টার্স জানিয়েছে, আইএসের অন্যান্য নেতা ও অনুসারীর কাছে যুদ্ধের দায়ভার ছেড়ে দিয়ে মসুল ত্যাগ করেছেন তিনি। মার্কিন ও ইরাকি কর্মকর্তারা মনে করেন, জান বাঁচাতে আইএস নেতা এখন মরুভূমির কোথাও লুকিয়ে রয়েছেন। স্বঘোষিত খলিফা ঠিক কোথায় আছেন তা নিশ্চিত করে বলা অসম্ভব। তবে মার্কিন ও ইরাকি গোয়েন্দা সূত্রগুলো বলছে, গণমাধ্যমে তার অনুপস্থিতি ও মসুলের পতনই বলে দিচ্ছে যে, তিনি মসুল যুদ্ধক্ষেত্র ত্যাগ করেছেন। শত্রুপক্ষের টার্গেটের শিকার হতে পারেন এই আশংকায় তিনি অনবরত জায়গা পরিবর্তন করছেন।
গত সপ্তাহে এক বিবৃতিতে বাগদাদি ইরাকে নিজেদের পরাজয় ‘স্বীকার’ করে নিয়েছেন। ওই বিবৃতিতে তিনি অ-আরব যোদ্ধাদের নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার অথবা নিজেদের বোমায় উড়িয়ে দেয়ার নির্দেশ দেন। ইরাকি টেলিভিশন নেটওয়ার্ক আলসুমারিয়ার বরাত দিয়ে এ খবর জানায় সংবাদমাধ্যম আল-আরাবিয়া। আইএসের স্বঘোষিত খলিফা বাগদাদি মঙ্গলবার বিদায়ী ভাষণ শিরোনামে ওই বিবৃতি আইএস যোদ্ধা ও নেতাদের মধ্যে বিতরণ করা হয়। আইএসের সর্বশেষ শক্তিশালী ঘাঁটি মসুলের দিকে ইরাকি বাহিনীর অগ্রসর হওয়ার সময় এ বিবৃতি বিতরণ করা হয়। আইএস নেতা বাগদাদি এর আগে বেশ কয়েকবার আহত হয়েছেন। বেশ কয়েকবার তার মৃত্যুরও গুজব ছড়িয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্র তার মাথার দাম ১ কোটি ডলার ঘোষণা করেছে।

ভারতে সৈনিকদের সঙ্গে দাসের মতো আচরণ!

গত জানুয়ারি মাসে ভারতীয় সামরিক বাহিনীতে নিন্মমানের খাবার বরাদ্দের এক ভিডিও পোস্ট করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিলেন দেশটির সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের এক সদস্য। এরপর সেনাদের দুর্দশার কথা ইন্টারনেটে ছাড়লে কড়া ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন ভারতীয় সেনাপ্রধান। তবে তা সত্ত্বেও এবার আরো ভয়াবহ ভিডিও পোস্ট করে গণমাধ্যমে শিরোনাম হয়েছেন দেশটির আরেক সেনাসদস্য। ভারতীয় সেনাবাহিনীর সাধারণ সদস্যদের সঙ্গে কেমন আচরণ করা হয়- তা নিয়ে মঙ্গলবার ফেসবুকে একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন জওয়ান সিন্ধভ জগিদাস। এতে ভারতের সেনাবাহিনীতে সৈনিকদের সঙ্গে ‘দাসদের মতো আচরণ’ করা হয়, তাদের নিকৃষ্টমানের খাবার দেয়া হয় এবং কোনো ধরনের প্রতিবাদ করলে প্রহার করা হয় বলে উল্লেখ করেন তিনি। জগিদাস বলেন, ‘সৈনিকদের এমন নিন্মমানের খাবার দেয়া হয়, যা দিয়ে শুধু কোনোরকমে বেঁচে থাকা যায়। কিছু কর্মকর্তা জওয়ানদের দাসের মতো ব্যবহার করেন। কিন্তু কেউই তাদের বিরুদ্ধে কোনো কথা বলতে পারে না।’ এ ধরনের কথা বলার জন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন। কিন্তু এছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না বলেও জানান ভারতীয় এই তরুণ সেনা সদস্য।
তার ভাষায়, ‘অভিযোগ দেয়ার কারণে আমাকে শাস্তি দেয়া হয়েছিল। সৈনিকগিরিই একমাত্র চাকরি, যেখানে কর্মকর্তাদের সেবায় যোদ্ধাদের নিয়োজিত থাকতে হয়। ফেসবুকের ওই ভিডিওতে জগিদাস আরো বলেন, ‘আমি নিশ্চিত যে সেনাবাহিনী এসব অভিযোগ মেনে নেবে না। সেনাবাহিনী সম্পর্কে প্রকাশ্যে বা সামাজিক মাধ্যমে কোনো কথা বলার ইচ্ছা আমার ছিল না। কিন্তু প্রকাশ্যে নিজের অভিযোগ দেয়া ছাড়া আমার আর কোনো উপায় ছিল না।’ এদিকে ভারতীয় সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে এ ধরনের অভিযোগ উড়িয়ে দেয়া হয়েছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে ইন্ডিয়া টুডে। এ ব্যাপারে শিগগিরই একটি প্রতিক্রিয়া জানানো হবে বলেও সেনাবাহিনী জানিয়েছে। ভারতীয় সেনাবাহিনীতে সৈন্যদের সঙ্গে এ ধরনের আচরণের অভিযোগ এটাই প্রথম নয়। সম্প্র্রতি মাসগুলোতে নিজেদের অভিযোগের ব্যাপারে সোচ্চার হয়েছে দেশটির সাধারণ সেনাসদস্যরা। তাদের বেশিরভাগেরই অভিযোগ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আচরণ এবং কাজের পরিবেশ নিয়ে।

সন্দেহভাজন জেএমবি নেতা কলকাতায় গ্রেফতার

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার গুলশানে হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলায় জড়িত সন্দেহভাজন এক জেএমবি নেতাকে কলকাতার কেন্দ্রস্থলের এক আস্তানা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বুধবার কলকাতা থেকে প্রকাশিত দ্য টেলিগ্রাফের এক প্রতিবেদনে এ খবর জানানো হয়েছে। গ্রেফতার ওই জেএমবি নেতার নাম মোহাম্মদ ইদ্রিস। দিল্লি পুলিশের বিশেষ সেল থেকে কলকাতা পুলিশকে জানানো তথ্যের বরাতে দৈনিকটি জানিয়েছে, গত বছরের ১ জুলাই হলি আর্টিজানে হামলা চালিয়ে ২০ নিহত হওয়ার ঘটনায় তিনি অন্যতম মোস্ট ওয়ান্টেড ব্যক্তি। একটি সূত্র বলেছে, কলকাতা ও হায়দরাবাদের মধ্যে ইদ্রিসের যাতায়াতের সুনির্দিষ্ট তথ্য ছিল। তিনি রোহিঙ্গা অধিকার রক্ষার কাজের জন্য তরুণদের জোগাড় করার এবং তাদের উগ্রপন্থী করে তোলার চেষ্টা করছিলেন। গুলশান হামলার পর বাংলাদেশে আইনশৃংখলা বাহিনীর ব্যাপক জঙ্গি দমন অভিযান শুরু হওয়ায় জেএমবি এখন মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলমানদের নির্যাতিত হওয়ার বিষয়টি ব্যবহার করে কর্মী সংগ্রহ ও নতুন করে সংগঠিত হওয়ার চেষ্টায় আছে বলে ভারতীয় গোয়েন্দাদের তথ্য। জাতিসংঘের মতে, পশ্চিম মিয়ানমার কেন্দ্রিক রোহিঙ্গা মুসলমানরা বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে নির্যাতিত সংখ্যালঘু জাতি। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ বাংলাদেশে রোহিঙ্গা মুসলমানদের পক্ষে উল্লেখযোগ্য সমর্থন রয়েছে। গোয়েন্দা সূত্র মতে, রোহিঙ্গা নির্যাতনের বিষয়টি বাংলাদেশে আবেগপূর্ণ ইস্যু হওয়ায় একে কাজে লাগিয়ে পুনর্গঠিত হওয়র চেষ্টা করছে গুলশান হামলার ঘটনায় শেখ হাসিনা সরকারের অভিযানের মুখে কোণঠাসা হয়ে পড়া জঙ্গি সংগঠন জেএমবি। দিল্লি পুলিশের সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, ইদ্রিস গুলশান হামলায় সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন এবং ওই ঘটনার পরপরই তিনি বাংলাদেশের নিরাপত্তা বাহিনীর চোখ এড়িয়ে দেশ থেকে পালাতে সক্ষম হন।
একটি গোয়েন্দা সূত্র বলছে, ভারতে প্রবেশের পর অন্তত তিন মাস আগে তিনি বড়বাজারের নিকটবর্তী কলুটোলায় আশ্রয় পান। তিনি হায়দ্রাবাদ ও কলকাতার মধ্যে যাতায়াত করছিলেন এবং  জেএমবির শীর্ষ নেতা সালেহীনের কাছ থেকে নির্দেশনা নিয়ে রোহিঙ্গাদের পক্ষে কাজ করছিলেন। ভারতের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মতে, সালেহীন জেএমবির ভারত ও বাংলাদেশ শাখার প্রধান এবং তিনি ভারতের কোথাও লুকিয়ে আছেন। ১৫ দিন আগে দিল্লি পুলিশের একটি দল কলকাতায় এসে ভারতের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা ব্যুরার (আইবি) সঙ্গে যৌথ অভিযান চালিয়ে ইদ্রিসকে তুলে নিতে অভিযান চালায়। এই অভিযান সম্পর্কে কলকাতা পুলিশকে কিছুই জানানো হয়নি এবং তারা ইদ্রিসকে আটক করতেও ব্যর্থ হয়। এ ব্যর্থ অভিযানের পর কলকাতা পুলিশকে ইদ্রিসের তথ্য জানিয়ে তাদের সহযোগিতা চায় কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা। পরে কলকাতা পুলিশ চলতি সপ্তাহের শুরুতে কলুটোলা থেকে ইদ্রিসকে গ্রেফতার করে দিল্লি পুলিশের বিশেষ সেলে কাছে হস্তান্তর করে। গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে, ইদ্রিসকে গ্রেফতারের বিষয়টি অবহিত করে প্রয়োজনে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করার সুযোগ দেয়া হবে বলে বাংলাদেশের সন্ত্রাসবিরোধী ইউনিটকে।

সাঁওতালপল্লীতে দুই পুলিশ আগুন দেয়

পুলিশের এক উপপরিদর্শক (এসআই) ও এক কনস্টেবল গাইবান্ধার সাঁওতালপল্লীতে আগুন দিয়েছেন উল্লেখ করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথের হাইকোর্ট বেঞ্চে এ প্রতিবেদন দাখিল করেন পুলিশের রংপুর রেঞ্জের অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) চৌধুরী মঞ্জুরুল কবির।প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়,
অগ্নিসংযোগে সরাসরি জড়িত ছিলেন গাইবান্ধা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) উপপরিদর্শক (এসআই) মাহবুবুর রহমান ও জেলা পুলিশ লাইনসের কনস্টেবল সাজ্জাদ হোসেন। আদালতে দাখিল করা প্রতিবেদনে জানানো হয়, দুই পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এছাড়া গাইবান্ধার পুলিশ সুপার (এসপি) আশরাফুল ইসলামকে খাগড়াছড়িতে বদলি করা হয়েছে। আর প্রত্যাহার করা হয়েছে ঘটনার দিন দায়িত্বরত আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর ৫৮ জন সদস্যকে। ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু জানান, পুলিশের রংপুর রেঞ্জের অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) চৌধুরী মঞ্জুরুল কবিরের নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের কমিটি আজ প্রতিবেদন দাখিল করেছে।
এর আগে গত ৭ ফেব্রুয়ারি সাঁওতালপল্লীর ঘটনায় গাইবান্ধার এসপি আশরাফুল ইসলামকে প্রত্যাহারের নির্দেশসহ আরও কিছু নির্দেশনা দেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ৪ সপ্তাহের মধ্যে জড়িতদের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে তা আদালতে জানাতে বলা হয়। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী আদালতে প্রতিবেদন জমা দিল গঠিত তদন্ত কমিটি। উল্লেখ্য, গত বছরের ৬ নভেম্বর গোবিন্দগঞ্জে পুলিশ ও চিনিকলের শ্রমিক-কর্মচারীদের সঙ্গে সাঁওতালদের সংঘর্ষ হয়। ওইদিন সাঁওতালপল্লীতে আগুন দেয়ার ঘটনা ঘটে। এতে তিন সাঁওতাল নিহত ও অনেকে হতাহত হন।

ঠেঙ্গারচর নয়, মিয়ানমারে ফিরবে রোহিঙ্গারা

সহিংসতা থেকে বাঁচতে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় নেয়া কয়েক হাজার সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলমান নিজ দেশে ফিরে গেছে। বাংলাদেশ সরকার রোহিঙ্গাদের নোয়াখালী জেলার বন্যা কবলিত  ঠেঙ্গারচরে পাঠানোর পরিকল্পনা করার খবরে তারা নির্যাতিত হওয়ার ভয় সত্ত্বেও মিয়ানমারে ফিরে যান। বুধবার রোহিঙ্গা নেতারা একথা জানিয়েছেন বলে সংবাদ সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে গত বছরের অক্টোবরে শুরু হওয়া দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর দমনাভিযানের মুখে প্রায় ৭৩ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছিল। তাদের মধ্যে অনেকেই তুলে ধরেছেন কিভাবে মিয়ানমারের সরকারি বাহিনী রোহিঙ্গাদের গ্রামে আগুন লাগিয়েছে এবং নারীদের গণধর্ষণ করেছে। পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা ধারণক্ষমতা ছাড়িয়ে যাওয়া কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নিয়েছিল। তবে বাংলাদেশের প্রধান পর্যটন জেলায় না রেখে রোহিঙ্গাদের বঙ্গোপসাগরের বসবাসের অযোগ্য ঠেঙ্গারচরে পাঠিয়ে দেয়ার পরিকল্পনা করে সরকার। এমন প্রেক্ষাপটে পাঁচ হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা ফের নির্যাতনের আশংকা সত্ত্বেও মিয়ানমার ফিরে যায় বলে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়টির নেতারা জানিয়েছেন।
কেন পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে ফিরছে তার কারণ সম্পর্কে রোহিঙ্গা নেতা নুর হাফিজ বলেন, 'তারা প্রকৃতির হাতে মৃত্যুর চেয়ে মিয়ানমারের গুলিতে মৃত্যুকে বেছে নিয়েছে।' তিনি বলেন, ঠেঙ্গারচরে পাঠানোর পরিকল্পনার কথা জানার পর থেকে রোহিঙ্গারা খুবই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে। আমরা শুনেছি বর্ষা মৌসুমে ওই চরটি পানিতে তলিয়ে যায়। এ কারণে আমরা মনে করছি দেশে ফিরে যাওয়াই উত্তম। হাফিজ জানিয়েছেন, তার শরণার্থী শিবির থেকে তিন হাজার এবং অন্য দুটি নবনির্মিত শিবির থেকে দুই হাজার রোহিঙ্গা মিয়ানমারে ফিরে গেছে। লেদা শিবিরের প্রধান দুদু মিয়া বলেন, মিয়ানমারে ফিরে যাওয়া রোহিঙ্গারা বলেছেন তারা বন্যার পানিতে ডুবে মরতে চান না। বঙ্গোপসাগরে প্রায় সময়েই ঘূর্ণিঝড় হয়ে থাকে। বাংলাদেশ সরকার ছয় হাজার আয়তনের ঠেঙ্গারচরে একটি জেটি, হেলিপ্যাড এবং দর্শনার্থীদের থাকার অবকাঠামো নির্মাণের নির্দেশ দিয়েছে। এদিকে ঠেঙ্গারচরে রোহিঙ্গাদের পাঠানোর পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চাওয়ার পর গত সপ্তাহে রোহিঙ্গা শুমারি শুরু করেছে।

বিজিএমইএ ভবন ভাঙার সময় বৃদ্ধির শুনানি রোববার

বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক সমিতি- বিজিএমইএ'র ভবন ভাঙতে তিন বছর সময় চেয়ে করা আবেদনের ওপর শুনানির জন্য আগামী রোববার দিন ধার্য করেছেন আদালত। বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ নতুন এ তারিখ দেন। আজ আবেদনটির ওপর শুনানি হওয়ার কথা ছিল।
এর আগে গতকাল বুধবার অবৈধ ভবনটি ভাঙতে তিন বছরের সময় চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন দাখিল করে বিজিএমইএ কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে আদালতের আদেশ অনুযায়ী ভবনটি এখনও না ভাঙায় রাজউক চেয়ারম্যানকে আদালত অবমাননার নোটিশ পাঠিয়েছেন অ্যাডভোকেট মনজিল মোর্সেদ। নোটিশে বলা হয়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ভবন ভেঙে ফেলার সময় পার হয়েছে। কিন্তু এখনও ভবনটি ভাঙার বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। এটি সর্বোচ্চ আদালতের রায়ের প্রতি অশ্রদ্ধা ও আদালত অবমাননার শামিল। এতে আরও বলা হয়, নোটিশ পাওয়ার ৭ দিনের মধ্যে ভবনটি ভাঙার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য জানানো হল। অন্যথায় আপনার বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। হাইকোর্ট ২০১১ সালের ৩ এপ্রিল ভূমির মালিকানা স্বত্ত্ব না থাকা এবং ইমারত নির্মাণ বিধিমালা ও জলাধার আইন ভঙ্গ করায় বিজিএমইএ ভবন নির্মাণ অবৈধ ঘোষণা করে। রায়ের ৯০ দিনের মধ্যে ভবনটি ভেঙে মাটির সঙ্গে গুঁড়িয়ে ফেলার নির্দেশ ছিল। এর বিরুদ্ধে বিজিএমইএ লিভ টু আপিল করে।
গত বছরের ২ জুন আপিল বিভাগ আবেদন খারিজ করে দেয়। ওই খারিজের রায়ে বলা হয়, ভবন ভাঙার যাবতীয় খরচ বিজিএমইএকেই বহন করতে হবে। বিজিএমইএ না ভাঙলে রায়ের কপি পাওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে রাজউককে ভবনটি ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেয়া হয়। এ জন্য যে অর্থ প্রয়োজন তা বিজিএমইএর কাছ থেকে নিতে বলা হয় ওই রায়ে। পরে গত ৫ মার্চ প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ ভবন ভেঙে ফেলতে দেয়া রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউয়ের) আবেদন খারিজ করে দেন। এ সময় আদালত বিজিএমইএ'র আইনজীবীকে বলেন, আপনাদের সময় প্রয়োজন বলে আদালতকে অবহিত করেছেন। বৃহস্পতিবারের মধ্যে একটি আবেদন দাখিল করুন। সেই মোতাবেক বুধবার এই সময় আবেদন দাখিল করা হয় বলে সাংবাদিকদের জানান, ব্যারিস্টার ইমতিয়াজ মাইনুল ইসলাম।

আদনান হত্যায় গ্রেফতার আরও তিন

উত্তরায় স্কুলছাত্র আদনান কবির হত্যায় আরও তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বুধবার গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন- রাজীন মোহাম্মদ হৃদয় (২০), শাকিল সরকার (১৯), ফখরুল ইসলাম শ্রাবণ (১৮)। উত্তরা পশ্চিম থানার পরিদর্শক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহ আলম জানান, তার নেতৃত্বাধীন একটি টিম তাদের গ্রেফতার করে। বুধবার রাত ১২টার পর আটক আসামিদের উত্তরা পশ্চিম থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। এরআগে আদনান হত্যা মামলায় ১৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়। এ নিয়ে ওই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মোট ১৯ জনকে গ্রেফতার করলো পুলিশ।
এখন পর্যন্ত গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে ৮জন স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দী দিয়েছে। নতুন গ্রেফতারকৃতরাও স্বীকারোক্তি দিতে রাজি হয়েছে বলে জানান পুলিশ কর্মকর্তা শাহআলম। গত ৬ জানুয়ারি সন্ধ্যায় উত্তরা ১৩ নম্বর সেক্টরে ট্রাস্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির ছাত্র আদনান কবীর খুন হয়। এ ঘটনায় আদনানের বাবা কবীর হোসেন ৯ জনের নামোল্লেখ করে উত্তরা পশ্চিম থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

গাছে বেঁধে দুই কিশোর নির্যাতন: ২ ইউপি সদস্য গ্রেফতার

রাজশাহীর দুর্গাপুরে ছাগল চুরির অভিযোগে দুই কিশোরকে গাছে বেঁধে নির্যাতনের ঘটনায় দুই ইউপি সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার দুপুরে ইউপি কমপ্লেক্স থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এরা হলেন- উপজেলার ঝালুকা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য আবদুল মোতালেব ও মির্জা আবদুল লতিফ। পুঠিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) আসলাম আলী জানান, বুধবার ওই দুই কিশোরকে নির্যাতনের ঘটনায় রাত সাড়ে ১১টার দিকে থানায় একটি মামলা করেন নির্যাতিত কিশোর জার্জিস আলীর বাবা জিয়াউর রহমান। বৃহস্পতিবার অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত ওই দুই ইউপি সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়।
জেলা পুলিশ সুপার মোয়াজ্জেম হোসেন ভুঞা জানান, মামলায় ওই দুই ইউপি সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান মোজাহার আলী মণ্ডলসহ মোট ৮ জনকে আসামি করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। এর আগে বুধবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার হাড়িয়াপাড়া গ্রামের জিয়াউর রহমানের ছেলে জার্জিস হোসেন (১৬) ও পলাশবাড়ি গ্রামের সেকু আলীর ছেলে রতন আলীকে (১৫) গাছে বেঁধে নির্যাতন করা হয়। পরে তাদের পরিবারের কাছ থেকে ১৬ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করে। দুই কিশোর উপজেলার আমগাছী সাহার বাণু উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র।

পুত্রবধূ ধর্ষণ মামলায় শ্বশুরের যাবজ্জীবন

নাটোরে পুত্রবধূকে ধর্ষণের মামলায় শ্বশুর জামাল হোসেনকে (৫৫) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার বেলা ১২টার দিকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন আদালতের বিচারক রেজাউল করীম এ রায় দেন। এসময় আসামিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানাও করা হয়। রায় ঘোষণার সময় আসামি জামাল হোসেন আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
তিনি নাটোরের লালপুর উপজেলার নারায়ণপুর গ্রামের মৃত আকবর আলীর ছেলে। আদালতের পিপি সিরাজুল ইসলাস জানান, ২০০৭ সালের ২১ মে লালপুর উপজেলায় পুত্রবধূকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে তার শ্বশুর জামাল হোসেনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার পরই লালপুর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে একটি ধর্ষণের মামলা করেন ধর্ষিতা গৃহবধূ। পরে শ্বশুরকে গ্রেফতার করে পুলিশ। দীর্ঘ প্রায় ১০ বছরে মামলার তদন্ত, শুনানি ও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় নাটোরের নারী ও শিশু নির্যাতন আইন আদালতের বিচারক আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা দেন।

রাগীব আলী ও তার ছেলের এক বছরের কারাদণ্ড

পলাতক থেকে প্রতারণার মাধ্যমে পত্রিকা সম্পাদনা ও প্রকাশের দায়ে রাগীব আলী এবং তার ছেলে আবদুল হাইকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার সিলেট মুখ্য মহানগর হাকিম সাইফুজ্জামান হিরোর আদালত এ রায় দেন। কারাদণ্ডের পাশাপাশি আদালত তাদের ৫ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও এক মাস কারাবাসের আদেশ দেন। অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি অ্যাডভোকেট মফুর আলী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এদিকে, রাগীব আলী ও তার ছেলে আবদুল হাই পলাতক থাকাবস্থায় পত্রিকা প্রকাশ করলেও অবৈধ প্রকাশনার ব্যাপারে দায়িত্বশীলরা কোনো ব্যবস্থা নেননি। এ বিষয়ে দুদকে অভিযোগ দেয়ার জন্য নালিশকারী গিয়াস উদ্দিনকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। নালিশকারীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট শহীদুজ্জামান চৌধুরী ও বাদী ছাতক প্রেসক্লাবের সভাপতি গিয়াস উদ্দিন তালুকদার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০১৬ সালের ৮ সেপ্টেম্বর রাগীব আলী ও আবদুল হাইয়ের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ এনে মামলা করেন গিয়াস উদ্দিন তালুকদার।
পলাতক অবস্থায় সম্পাদনাজনিত প্রতারণার অভিযোগ এনে রাগীব আলীর ৫৮ বছর ও তার ছেলে আবদুল হাইয়ের ২৯ বছরের কারাদণ্ডের আবেদন করেন বাদী। আদালত ওইদিন মামলাটি আমলে নিয়ে দণ্ডবিধির ৪১৭ ধারায় তাদের বিরুদ্ধে সমন জারির আদেশ দেন। তবে সমন পাওয়ার পর জবাব না দেয়ায় পরের মাসে তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। সিলেটের হাজার কোটি টাকার দেবোত্তর সম্পত্তি তারাপুর চা বাগান দখলের অভিযোগে দুটি মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পর গতবছরের ১০ আগস্ট রাগীব আলী ও তার একমাত্র ছেলে আবদুল হাই ভারতে পালিয়ে যান। সেই সময় রাগীব আলী সিলেটের ডাক পত্রিকার সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি এবং তার ছেলে আবদুল হাই সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন। পরে আবদুল হাইকে সম্পাদকের পদ থেকে সরানো হলেও রাগীব আলী স্বপদে বহাল থাকেন।

মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান, হামলায় আনসার নিহত

ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার ভারতীয় সীমান্তে মাদকের বিরুদ্ধে অভিযানে গিয়ে হামলার শিকার হয়ে নিহত হয়েছেন এক আনসার সদস্য। এ সময় ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সোহেল রানাসহ তিনজন আহত হয়েছেন। বুধবার রাতে উপজেলার মুন্সিরহাটের বদরপুর সীমান্তের খানবাড়ী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত আনসার সদস্যের নাম নওশের আলী। তার লাশ ভারতের অভ্যন্তরে রয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার দুপুরের মধ্যে নওশের আলীর লাশ বিএসএফ বিজিবির কাছে হস্তান্তর করবে বলে জানা গেছে। অভিযানের সময় মাদক ব্যবসায়ীদের হামলার পর নওশের আলী ও সুমন নামে দু'জন নিখোঁজ ছিলেন। এ ঘটনায় বুধবার দিনগত রাত ৩টার দিকে বিজিবি ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের সঙ্গে পতাকা বৈঠক করে।
সেখানে আনসার সদস্য নওশের আলীর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে ভারতীয় বাহিনী। এ সময় সুমনের বিষয়ে কিছু জানাতে না পারলেও বৃহস্পতিবার সকালে তিনি আহত অবস্থায় দেশে ফিরে আসেন। আহত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সোহেল রানা জানান, বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ফুলগাজী উপজেলার মুন্সীরহাট ইউনিয়নের বদরপুর সীমান্তের খানবাড়ী এলাকায় ১৪ জন আনসার ও পুলিশসহ তিনি অভিযান চালান। এ সময় মাদক ব্যবসায়ীরা তাদের ওপর হামলা চালায়। আত্মরক্ষার্থে পুলিশ ১৬ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে। পুলিশ ও আনসার সদস্যদের বাঁচাতে গেলে মাদক ব্যবসায়ীরা সোহেল রানাকে কুপিয়ে জখম করেন। তার হাতসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে কোপের চিহ্ন রয়েছে। বর্তমানে তিনি ফেনী আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। খানবাড়ী এলাকা ভারত সীমান্ত ঘেঁষা হওয়ায় আইনশৃংখলা বাহিনীর যেকোনো অভিযানের সময় মাদক ব্যবসায়ী ও সন্ত্রাসীরা সেখানকার বসতিদের বাড়িতে আশ্রয় নেয়।

রাগীব আলীর মামলায় রায়ের অপেক্ষা

সিলেটে রাগীব আলী ও তার ছেলে আবদুল হাইয়ের বিরুদ্ধে পলাতক থেকে প্রতারণার মাধ্যমে পত্রিকা সম্পাদনা ও প্রকাশনার অভিযোগে দায়ের করা মামলার রায় দেয়া হবে। বৃহস্পতিবার সিলেট মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক সাইফুজ্জামান হিরোর আদালতে এ রায় ঘোষণা করা হবে। সিলেটের হাজার কোটি টাকার দেবোত্তর সম্পত্তি তারাপুর চা বাগান দখলের অভিযোগে করা দুটি মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পর গত বছরের ১০ আগস্ট রাগীব আলী ও তার একমাত্র ছেলে আবদুল হাই ভারতে পালিয়ে যান। সে সময় রাগীব আলী সিলেটের ডাক পত্রিকার সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি ও তার ছেলে আবদুল হাই সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন। পরে আবদুল হাইকে সম্পাদকের পদ থেকে সরানো হলেও রাগীব আলী এখনও স্বপদে বহাল আছেন।

চুরির অভিযোগে ২ কিশোরকে গাছে বেঁধে নির্যাতন

ছাগল চুরির অভিযোগে দুই কিশোরকে গাছে বেঁধে নির্যাতন চালিয়েছেন আব্দুল মোতালেব নামে ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) এক সদস্য ও তার সহযোগীরা। বুধবার দুপুরে রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার আন্দুয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নির্যাতিত ওই দুই কিশোর হল- উপজেলার হাড়িয়াপাড়া গ্রামের জিয়াউর রহমানের ছেলে জার্জিস হোসেন (১৫) ও পলাশবাড়ি গ্রামের সেকু আলীর ছেলে রতন আলী (১৪)। তারা উপজেলার আমগাছী সাহারবাণু উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র। স্থানীয়রা জানান, চুরির অভিযোগে কথিত গ্রাম্য সালিশে আন্দুয়া গ্রামের ওই ইউপি সদস্য দুই কিশোরকে পিটিয়েই ক্ষ্যান্ত হননি, তাদের পরিবারের কাছ থেকে আদায় করেছেন নগদ ১৬ হাজার টাকা। জরিমানার এ টাকা তিনি নিজের পকেটেই পুরেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই সালিশ বৈঠকে ঝালুকা ইউপি চেয়ারম্যান মোজাহার আলী মণ্ডল ও ইউপি সদস্য মির্জা আব্দুল লতিফও উপস্থিত ছিলেন। বুধবার রাতে সালিশে ওই দুই কিশোরকে নির্যাতনের একটি ভিডিও এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার দিনগত রাতে জার্জিস ও রতন আন্দুয়া গ্রামের রেজাউল করিমের বাড়ি থেকে একটি ছাগল চুরি করে বলে অভিযোগ করেন ছাগলের মালিক। ভোরে মতিহারের হরিয়ান বাজার দিয়ে যাওয়ার সময় বাজারের নৈশপ্রহরীরা ছাগলসহ যেতে দেখে সন্দেহ হলে ওই দুই কিশোরকে আটক করে। পরে তাদের কাছ থেকে বিস্তারিত জেনে আন্দুয়া গ্রামে খবর দিলে সকালে ইউপি সদস্য আব্দুল মোতলেব তাদের নিজ জিম্মায় ছাড়িয়ে আনেন। এরপর বুধবার দুপুরে ছাগল মালিক রেজাউলের বাড়ির পাশে সালিশ বসানো হয়। সালিশ বৈঠকে ওই দুই কিশোরকে গাছে বেঁধে বেধড়ক পেটানো হয়।
পরে তাদের পরিবারের লোকজনকে ডেকে পাঠানো হয়। তারা এলে ১৬ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। জরিমানার এ টাকার মধ্যে আড়াই হাজার টাকা ছাগল মালিককে দেয়া হয়। বাকি টাকা নিজের কাছেই রেখে দেন ইউপি সদস্য আব্দুল মোতালেব। এরপর ওই দুই কিশোরকে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। নির্যাতিত ওই দুই কিশোরের পরিবার জানায়, অল্প বয়সী ওই কিশোরেরা ভুল করতেই পারে। তাই বলে তাদের গাছে বেঁধে নির্মমভাবে পেটানো ঠিক হয়নি। এ ব্যাপারে ওই কিশোরদের পরিবার আইনের আশ্রয় নেবে বলেও জানিয়েছে। নির্যাতনের বিষয়ে জানতে চাইলে ইউপি সদস্য আব্দুল মোতালেব বলেন, ছাগল চুরির কথা প্রথমে তারা স্বীকার না করায় গাছে বেঁধে রাখা হয়। তবে তাদের নির্যাতন করা হয়নি বলে তিনি দাবি করেন। জরিমানার ১৬ হাজার টাকা কার কাছে আছে জানতে চাইলে আব্দুল মোতালেব বলেন, আড়াই হাজার টাকা ছাগল মালিককে দেয়া হয়েছে। আর বাকি টাকার মধ্যে কিছু টাকা দুই চোরকে ধরতে সাহায্যকারীরা পেয়েছেন। আর বাকি টাকা গ্রামের মসজিদে দান করা হয়েছে। সালিশে উপস্থিত ইউপি চেয়ারম্যান মোজাহার আলী মণ্ডলের সঙ্গে পরামর্শ করেই এসব করা হয়েছে বলেও জানান আব্দুল মোতালেব। যোগাযোগ করা হলে ইউপি চেয়ারম্যান মোজাহার আলী মণ্ডল জানান, তিনি ব্যস্ত আছেন। এ ব্যাপারে কথা বলতে পারবেন না। দুর্গাপুর থানার ওসি রুহুল আলম জানান, এখন পর্যন্ত কেউ থানায় অভিযোগ করেনি। অভিয়োগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

জাতীয়তাবাদী প্যানেলে সভাপতি প্রার্থী জয়নাল, সম্পাদক খোকন

সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতি নির্বাচনে অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদিনকে সভাপতি এবং ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকনকে সম্পাদক প্রার্থী করে বিএনপি সমর্থিত জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য পরিষদের প্যানেল ঘোষণা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মিডিয়া উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান যুগান্তরকে এ তথ্য জানান। তিনি জানান, বুধবার রাতে রাজধানীর গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে দলের জ্যেষ্ঠ নেতা এবং আইনজীবীদের নিয়ে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে খালেদা জিয়ার সঙ্গে সমিতির নির্বাচনে প্রার্থী নিয়ে আলোচনা করেন সুপ্রিমকোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবীরা। বৈঠক শেষে মনোনীতদের নাম ঘোষণা করেন তারা। বৈঠকে সুপ্রিমককোর্ট আইনজীবী সমিতি নির্বাচনে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য প্যানেলের সভাপতি প্রার্থী হিসেবে অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদিনকে এবং সম্পাদক পদে ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকনকে মনোনয়ন দেয়া হয় বলে জানান শায়রুল কবির। উল্লেখ্য, গত ২৩ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির ২০১৭-২০১৮ মেয়াদে নির্বাচনের জন্য তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। এতে আগামী ২২ ও ২৩ মার্চ ভোট গ্রহণের দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। তফসিল অনুযায়ী, ১ মার্চ থেকে ১১ মার্চ পযন্ত মনোনয়নপত্র দাখিল এবং মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করা যাবে ১৪ মার্চ। ২০১৬-২০১৭ সেশনের নির্বাচন গত বছরের ২৩ ও ২৪ মার্চ অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন ও সম্পাদক পদে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মাহবুব উদ্দিন খোকন।

অধিকতর তদন্তে খালেদার আবেদন খারিজ

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার অধিকতর তদন্ত চেয়ে করা খালেদা জিয়ার আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ আবেদনটি খারিজ করে দেন। দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে বুধবার একই বেঞ্চে আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী আব্দুর রেজাক খান। সঙ্গে ছিলেন জাকির হোসেন ভূঁইয়া। আদালতে দুদকের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী খুরশীদ আলম খান।
উল্লেখ্য, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়া, তারেক রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় একটি মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মামলায় খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন- মাগুরার সাবেক সংসদ সদস্য কাজী সালিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান।

নির্বাচনের প্রতীক থেকে দাঁড়িপাল্লা বাদ



জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য সংরক্ষিত প্রতীক তালিকা থেকে বাদ দেয়া হয়েছে দাঁড়িপাল্লা। নিবন্ধন অবৈধ হওয়া জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী এ প্রতীক বাদ দিয়ে বুধবার নির্বাচন কমিশন সচিবালয় নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা সংশোধনের গেজেট প্রকাশ করেছে। সুপ্রিমকোর্টের ফুলকোর্ট সভার সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে এ পদক্ষেপ নেয়া হল। সংসদ নির্বাচনের জন্য এতদিন ৬৫টি প্রতীক সংরক্ষিত থাকলেও ‘দাঁড়িপাল্লা’ বাদ দেয়ায় তা এখন ৬৪টিতে নেমে এলো। ১২ ডিসেম্বর সুপ্রিমকোর্টের ফুলকোর্ট সভায় সিদ্ধান্ত হয়, দাঁড়িপাল্লা ন্যায়বিচারের প্রতীক হিসেবে সুপ্রিমকোর্টের মনোগ্রামে ব্যবহৃত হবে এবং কোনো ব্যক্তি,
প্রতিষ্ঠান ও দলের প্রতীক হিসেবে তা ব্যবহার করা যাবে না। এ সিদ্ধান্ত ইসি সচিবালয়ে পাঠানোর পর নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা ২০০৮-এর বিধি ৯-এর উপবিধি(১)-এর ৩২ নম্বর ক্রমিক থেকে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীক বাতিল করার প্রস্তাব কমিশন সভায় অনুমোদিত হয়। সেই পরিপ্রেক্ষিতে প্রতীকটি বাদ দিয়ে বিধিমালায় সংশোধন প্রস্তাব আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিংয়ের পর তা গেজেট আকারে প্রকাশ করা হল। ২০০৮ সালের ৪ নভেম্বর দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে ১৪ নম্বর দল হিসেবে নিবন্ধন পায় জামায়াত। হাইকোর্ট বিভাগে এক রিটের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৩ সালের ১ আগস্ট দেয়া রায়ে দলটির নিবন্ধন অবৈধ ঘোষিত হয়। জামায়াত ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছে, যা নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে।

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের আবারও দরপতন

বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দরে নিন্মমুখী প্রবণতা দেখা যায় বুধবার। নিউইয়র্ক, লন্ডন ও এশিয়ার বাজারে দাম কমেছে পণ্যটির। তেল উত্তোলনে ওপেকভুক্ত এবং ওপেকবহির্ভূত সদস্যদের নির্দিষ্ট সীমা থাকার পরও অতিরিক্ত সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগের কারণে দাম বেড়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্লেষকরা। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের শেল (পাথরের খাঁজে জমে থাকা তেল) উত্তোলন খাতের চাঙ্গাভাবের কারণেও পণ্যটির দর নিন্মমুখী রয়েছে। খবর রয়টার্স। নিউইয়র্ক মার্কেন্টাইল এক্সচেঞ্জে (নিমেক্স) গতকাল ২৯ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ কমেছে যুক্তরাষ্ট্রের বাজার আদর্শ ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটে (ডব্লিউটিআই)। এপ্রিলে সরবরাহ চুক্তিতে গতকাল পণ্যটির বাজার স্থির হয় প্রতি ব্যারেল ৫২ ডলার ৮৫ সেন্ট দামে। সারা দিনের লেনদেনে পণ্যটির দরপতনের হার দশমিক ২ শতাংশ। সিডনির আইয়ার্স জোটের প্রধান বিনিয়োগ কর্মকর্তা জোনাথন বারেট বলেন, তেল উত্তোলনের পরিসীমা নির্দিষ্ট আছে।
দাম যদি ব্যারেলপ্রতি ৫০ ডলারের নিচে নেমে যায় তাহলে ওপেকভুক্ত দেশগুলো উত্তোলন কমাবে। আর যদি ব্যারেলপ্রতি ৫৫ ডলারের ওপরে উঠে তাহলে যুক্তরাষ্ট্র উৎপাদন বাড়াবে। আমেরিকান পেট্রোলিয়াম ইন্সটিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে গত সপ্তাহে অপরিশোধিত তেলের মজুদ ছিল ১১ দশমিক ৬ মিলিয়ন ব্যারেল, যা বিশ্লেষকদের অনুমানের চেয়ে পাঁচগুণ বেশি। লন্ডন ইন্টারকন্টিনেন্টাল এক্সচেঞ্জে (আইসিই) আন্তর্জাতিক বাজার আদর্শ ব্রেন্টের দাম কমেছে ব্যারেলপ্রতি ১১ সেন্ট। মে মাসে সরবরাহ চুক্তিতে এ দিন পণ্যটির সর্বশেষ বিক্রয়মূল্য নেমে আসে প্রতি ব্যারেল ৫৬ ডলার ১ সেন্টে। দিনব্যাপী লেনদেনে পণ্যটির দরপতনের হার দশমিক ২ শতাংশ। বাজারগুলোয় এ দিন জ্বালানি তেলের দাম কমাতে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেল উত্তোলনরত কূপের সংখ্যা বৃদ্ধির তথ্যও ভূমিকা রেখেছে। জ্বালানি তথ্যসেবা প্রতিষ্ঠান বেকার হিউজেসের গত শুক্রবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গত সপ্তাহে দেশটিতে জ্বালানি তেল উত্তোলনরত কূপের সংখ্যা বেড়েছে সাতটি।

শুল্কের টাকায় এফডিআর

গ্রাহকের কাছ থেকে গ্যাস সরবরাহের বিপরীতে ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক আদায় করলেও তা সরকারি কোষাগারে জমা দিচ্ছে না পেট্রোবাংলা। লোকসানের অজুহাত দেখিয়ে দীর্ঘদিন থেকে আদায় করা ভ্যাট জমা না দেয়ায় প্রতিষ্ঠানটির কাছে এনবিআরের পাওনা দাঁড়িয়েছে ৩০ হাজার ৭২১ কোটি টাকা। বহু তাগাদা দিয়েও এ অর্থ আদায়ে ব্যর্থ জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। সর্বশেষ বিষয়টি অর্থমন্ত্রী পর্যন্ত গড়িয়েছে। কিন্তু তাতেও কাজ হচ্ছে না। অভিযোগ আছে, পেট্রোবাংলা এনবিআরের বকেয়া পরিশোধ না করে ওই টাকা সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন ব্যাংকে এফডিআর করে মোটা অংকের লাভ নিচ্ছে। মন্ত্রণালয় থেকে ভ্যাট পরিশোধের পদ্ধতিও ঠিক করে দেয়া হয়েছিল পেট্রোবাংলাকে। কিন্তু সে অনুযায়ী কাজ না করায় বকেয়া ভ্যাটের পরিমাণ দিন দিন বাড়ছেই। এ পরিস্থিতিতে বকেয়া আদায়ে হার্ডলাইনে যাচ্ছে এনবিআর। ভ্যাট আদায়ে তারা পেট্রোবাংলার ব্যাংক হিসাব জব্দ করার চিন্তা করছে। ২০০৯ থেকে ২০১৪ সালের মার্চ পর্যন্ত বকেয়ার পরিমাণ ২২ হাজার ৩৫৮ কোটি টাকা।
এ টাকা পরিশোধ করা হয়নি। এরপর ২০১৪ সালের এপ্রিল থেকে ২০১৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত আরও ৮ হাজার ৩৬৩ কোটি টাকা ভ্যাট জমা হয়। সব মিলে বকেয়ার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩০ হাজার ৭২১ কোটি টাকা। এর সধ্যে সুদ-আসল উভয় টাকাই আছে। পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান আবুল মনসুর মো. ফয়েজউল্লাহ যুগান্তরকে বলেন, এনবিআরের পাওনা টাকা পরিশোধের বিষয় নিয়ে গত সপ্তাহে দু’সংস্থার মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে দু’পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে। এনবিআরকে কিছু টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। আস্তে আস্তে বাকি টাকাও পরিশোধ করা হবে। তিনি বলেন, পেট্রোবাংলা আন্তর্জাতিক তেল কোম্পানি (আইওসি) থেকে যে দামে গ্যাস কিনছে তার চেয়ে ঘনমিটার প্রতি ৩-৪ টাকা কমে গ্রাহকদের কাছে বিক্রি করছে। এতে কোম্পানিগুলোর আয় কমে যাচ্ছে। আগে সরকার এ টাকা ভর্তুকি হিসেবে দিত। সম্প্রতি ভর্তুকিও বন্ধ করে দিয়েছে সরকার। তার মতে, সরকার যদি ভর্তুকি দিত তবে এনবিআরের বকেয়া পরিশোধ সহজ হতো। তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন ব্যাংকে এফডিআর আছে। কিন্তু কোন ব্যাংকে কত টাকার এফডিআর আছে তা কাগজপত্র না দেখে বলা যাচ্ছে না। এ ব্যাপারে পরিচালক ফাইন্যান্স বিস্তারিত বলতে পারবেন। সম্প্রতি পাওনা ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক পরিশোধের তাগাদা দিয়ে পেট্রোবাংলায় আধা-সরকারিপত্র পাঠিয়েছেন এনবিআর চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান। এর অনুলিপি অর্থ সচিবকেও পাঠানো হয়েছে। সেখানে বুক অ্যাডজাস্টমেন্টের মাধ্যমে পেট্রোবাংলার ভর্তুকির অর্থ এনবিআরের কোডে জমার ক্ষেত্রে সহায়তা চাওয়া হয়। সূত্র জানায়, নিয়ম মাফিক ভ্যাট পরিশোধ না করায় ২০০৯ সালের জুলাই থেকে ২০১৪ সালের মার্চ পর্যন্ত পেট্রোবাংলার কাছে এনবিআরের ভ্যাট বকেয়া দাঁড়ায় ২২ হাজার ৩৫৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক বাবদ পাওনা ১৩ হাজার ২৭৮ কোটি টাকা এবং সুদ বাবদ ৯ হাজার ৮০ কোটি টাকা। এ অর্থ আদায়ে বিতরণকারী ৪টি কোম্পানির বিরুদ্ধে রাজস্ব ফাঁকির মামলা করে ভ্যাটের বৃহৎ করদাতা ইউনিট। এরপর বিষয়টি অর্থমন্ত্রীকে জানানো হলে তিনি পাওনা আদায়ে জ্বালানি উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
২০১৫ সালের ৮ মার্চ এ জটিলতা নিরসনে বিদ্যুৎ সচিবকে আহ্বায়ক করে ৫ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়। সর্বশেষ সুদ ব্যতীত ১৩ হাজার ২৭৮ কোটি টাকা বুক অ্যাডজাস্টমেন্টের মাধ্যমে পরিশোধের ব্যাপারে দু’পক্ষ একমত পোষণ করে। অর্থ বিভাগকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সুপারিশ করা হয়। একই সঙ্গে আইওসির (ইন্টারন্যাশনাল অয়েল কর্পোরেশন) বিল পরিশোধের পর প্রতি মাসে যে অর্থ থাকবে তা দিয়ে ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক পরিশোধের সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু পরে ওই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন না করায় ২০১৪ সালের এপ্রিল থেকে ২০১৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত আরও ৮ হাজার ৩৬৩ কোটি টাকা ভ্যাট জমা হয়। ৬ ডিসেম্বর ভ্যাটের অর্থ পরিশোধ করতে পেট্রোবাংলা থেকে অর্থ বিভাগের কাছে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা চাওয়া হয়। অর্থ বিভাগ থেকে ভর্তুকি না দিয়ে সুদযুক্ত ১ হাজার কোটি টাকা ঋণ দেয়া হয়। কিন্তু ওই ঋণের অর্থ দিয়ে ভ্যাট পরিশোধ করেনি পেট্রোবাংলা। ফলে সামগ্রিকভাবে পাওনা আদায় অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে গত মাসে অর্থ সচিবের কাছে পাওনা পরিশোধে চিঠি দেন এনবিআর চেয়ারম্যান। চিঠিতে অর্থমন্ত্রীর অনুশাসন মোতাবেক সুদ ছাড়া ১৩ হাজার ২৭৮ কোটি টাকা থেকে ১২ হাজার কোটি টাকা জানুয়ারির মধ্যে বুক অ্যাডজাস্টমেন্টের মাধ্যমে পরিশোধের অনুরোধ জানান। এছাড়া ৮ হাজার ৩৬৩ কোটি টাকার মধ্যে পেট্রোবাংলার চাহিদা মোতাবেক ভর্তুতির সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা ফেব্রুয়ারির মধ্যে পরিশোধের অনুরোধ করা হয়। এনবিআরের দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, লোকসান দেখিয়ে পেট্রোবাংলা বহু বছর ধরে ভ্যাটের অর্থ পরিশোধ করেনি। অন্যদিকে লোকসানের অজুহাতে সরকারের কাছ থেকে প্রতি বছর মোটা অংকের ভর্তুকি নিয়েছে। যেহেতু গ্রাহকদের কাছ থেকে ভ্যাট আদায় করা হয়েছে তাই পেট্রোবাংলাকে ভ্যাট পরিশোধ করতে হবে। বারবার তাগাদা দেয়া হলেও ভ্যাট পরিশোধে গড়িমসি করছে পেট্রোবাংলা। সর্বশেষ সরকার গঠিত উচ্চপর্যায়ের কমিটির সুপারিশও বাস্তবায়ন না করায় প্রায় ৩১ হাজার কোটি টাকার মতো ভ্যাট জমা পড়েছে। এ অর্থ আদায় করতে না পারলে চলতি অর্থবছরের রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে শংকা দেখা দেবে। তাই পাওয়া ভ্যাট আদায়ে কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে এনবিআর।
সে ক্ষেত্রে পেট্রোবাংলার ব্যাংক হিসাব জব্দ করারও চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। অন্যদিকে পেট্রোবাংলা বলছে, বেশি দামে গ্যাস কিনে তা ভর্তুকির মাধ্যমে সরকারি বিদ্যুৎ কোম্পানিতে বিতরণ করায় তাদের পক্ষে ভ্যাট পরিশোধ করা সম্ভব হয়নি। এছাড়া এনবিআর যেভাবে ভ্যাট দাবি করছে তা গ্যাস বিতরণ কোম্পানিগুলোর বিক্রয় প্রক্রিয়ার সঙ্গে মেলে না। জানা গেছে, আন্তর্জাতিক তেল কোম্পানি (আইওসি) উৎপাদিত গ্যাস কিনে নেয় পেট্রোবাংলা। পরে তা তিতাস, বাখরাবাদ, জালালাবাদ এবং কর্ণফুলী এ চারটি গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির মাধ্যমে গ্রাহকদের মাঝে বিতরণ করা হয়। গ্যাস বিলের সঙ্গে গ্রাহকদের কাছ থেকে ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক আদায় করা হয়। এনবিআর বলছে, আইওসির উৎপাদিত গ্যাসের বিপরীতে কোনো ভ্যাট বা সম্পূরক শুল্ক পরিশোধ করতে হচ্ছে না। কিন্তু আইওসি থেকে কেনা গ্যাস সরবরাহের সময় ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক পরিশোধের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। যা গ্রাহকদের কাছ থেকে আদায় করা হয়। গ্যাস বিতরণকারী কোম্পানিগুলো পেট্রোবাংলাকে এ রাজস্ব পরিশোধ করে থাকে। কিন্তু সংস্থাটি তা সরকারি কোষাগারে জমা দেয় না। এ অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা না দেয়া ভ্যাট আইনে গুরুতর অপরাধ।

শিশুর ডায়বেটিস বুঝবেন কীভাবে

বর্তমানে খেলাধুলা, সুষম খাদ্য এবং ব্যায়ামের অভাবে শিশুরা ডায়বেটিস রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। অনেক সময় সচেতনতার অভাবও এ রোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। অনেক বাবা-মা আছেন যারা প্রথম দিকে বুঝতেই পারেন না তাদের সন্তান টাইপ-১ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হয়েছে। ফলে রোগ নিজের মতো করে বাড়তেই থাকে।
তাহলে এখন কি করবেন বাবা-মা? বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুর প্যানক্রিয়াস বা অগ্ন্যাশয় যখন ঠিক মতো ইনসুলিন তৈরি করতে পারে না, তখনই দেখা দেয় টাইপ-১ ডায়াবেটিস। শিশু ডায়াবেটিস রোগে আক্রান্ত হলে বাইরে থেকে ইনসুলিন দেয়ার প্রয়োজন পড়ে। সেই কারণেই টাইপ-১ ডায়াবেটিসকে ইনসুলিন ডিপেনডেন্ট ডায়াবেটিস নামেও ডাকা হয়ে থাকে। এই রোগে আক্রান্ত হলে প্রথমেই যে লক্ষণগুলো দেখা দেবে, তা নিম্নে আলোচনা করা হল;
* টাইপ-১ ডায়াবেটিস হলে শিশু অল্পতেই ক্লান্ত হয়ে পড়বে। সব সময়ই কেমন যেন ঝিমিয়ে থাকবে সে।
* ডায়াবেটিস হলে আপনার সন্তান বারংবার সংক্রমণে আক্রান্ত হবে।
* অনেক সময় এ রোগে আক্রান্ত শিশুরা চোখে কম দেখতে শুরু করে। কিছু ক্ষেত্রে দৃষ্টিশক্তি মারাত্মক ঝাপসা হয়ে যায়।
* ডায়াবেটিস হলে আপনার সন্তান খিটখিটে মেজাজের হয়ে যাবে। সেই সঙ্গে অবসাদে ভুগতে শুরু করতে পারে।
* পরিমাণ মতো খাবার খাওয়া সত্ত্বেও ওজন মারাত্মকভাবে কমে যাবে। অনেক অনেক খাবার খেলেও বাচ্চার ওজন বাড়তে চায় না।
* টাইপ-১ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হলে শিশুর ক্ষিদে বেড়ে যাবে। কিছু ক্ষেত্রে তো এমন অবস্থা হয় যে ক্ষিদে মেটাতে এরা যা হাতের কাছে পায় তাই খেয়ে ফেলে।
* পানির তেষ্টা বেড়ে যাবে। সেই সঙ্গে ঘন ঘন প্রস্রাব করার প্রবণতা দেখা দেবে। আপনি যখনই জানতে পারবেন সন্তান ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হয়েছে, তখন থেকেই তার সুগার মাপতে শুরু করুন। সেই সঙ্গে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত ইনসুলিন দেবেন। আর শিশু যাতে ঠিক পরিমাণে কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার খায়, সেদিকেও খেয়াল রাখবেন।

ভেটো ছাড়াই স্থায়ী সদস্য হতে চায় ভারত

সাময়িকভাবে ভেটো দেয়ার ক্ষমতা ছাড়াই জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যপদ পেতে চায় ভারত। জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যপদ নিয়ে সংস্কার আলোচনায় ভারত এই প্রস্তাব দিয়েছে। বহুদিন ধরেই দিল্লি এই সদস্যপদ পাওয়ার ব্যাপারে তদ্বির চালাচ্ছে। নিজেদের দাবিকে জোরালো করতে ব্রাজিল, জার্মানি এবং জাপানকে নিয়ে জি ফোর নামে একটি আন্তর্জাতিক মঞ্চ তৈরি করেছে দিল্লি।
জি ফোর-ভুক্ত দেশগুলো স্থায়ী সদস্যপদ পাওয়ার ব্যাপারে একে অপরের দাবিকে সমর্থন করবে বলে চুক্তিবদ্ধ। ভারতের যুক্তি, জাতিসঙ্ঘ গঠনের পর ৭০ বছর অতিক্রান্ত। ইতিমধ্যে বিশ্বের ক্ষমতার সমীকরণের তারতম্য ঘটেছে। তার প্রতিফলন জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যপদে পড়ুক। বাড়ানো হোক সদস্যপদ। এখন পর্যন্ত নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য-দেশ হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, চীন, ফ্রান্স এবং রাশিয়া ভেটো প্রয়োগের ক্ষমতা ভোগ করে। মঙ্গলবার কাউন্সিলের সংস্কার নিয়ে আলোচনায় বসে জি ফোর–এর ইন্টার গভর্নমেন্টাল নিগোশেয়েশন (‌আইজিএন)‌। বৈঠকের পর জাতিসঙ্ঘে নিযুক্ত ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি সৈয়দ আকবরউদ্দিন বলেন, ‘‌ভেটো ক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ। তবে পরিষদের সংস্কার করতে গিয়ে হয়ত আমাদের সেই ক্ষমতা দেয়া হবে না।’‌ পরিষদে পাঁচ স্থায়ী সদস্য দেশ ছাড়াও নামের আদ্যক্ষর অনুযায়ী ঘুরিয়ে ফিরিয়ে আরো দশ দেশ দু'বছরের জন্য নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যপদ পায়। তবে এই দেশগুলোর ভেটো ক্ষমতা থাকে না। জি ফোর–কে প্রস্তাব দেয়া হয়েছে এই মেয়াদ আরো বাড়িয়ে তাদের নির্বাচিত সদস্য করতে। যা খারিজ করেছেন আকবরউদ্দিন।
ভারত যাতে সদস্যপদ না পায় তার চেষ্টা চালাচ্ছে পাকিস্তান। ইউনাইটিং ফর কনসেনসাস (‌ইউএফসি)‌ নামে ১৩ দেশের গোষ্ঠী গড়ে নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য দেশ না বাড়ানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে তারা। প্রধানত ইউএফসি–র পক্ষ থেকেই মেয়াদ আরো বাড়িয়ে নির্বাচিত সদস্য করার প্রস্তাব দেয়া হচ্ছে। ‌ইউএফসি–র সদস্য দেশ ইতালির জাতিসঙ্ঘ স্থায়ী প্রতিনিধি সিবাস্তিয়ানো কার্ডি বলেছেন নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী ১১ দেশের মধ্যে নয়টি দেশকে আরো দীর্ঘ সময় দায়িত্বে রাখা যেতে পারে। আকবরউদ্দিন বলেছেন, ‘‌এটা পুরনো টুপি’‌। তার কথায় এশিয়া–প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ৫৩ সদস্য দেশের স্থায়ী প্রতিনিধি মাত্র দুই। অপরিদিকে পশ্চিম ইউরোপ গ্রুপের ২৬ সদস্যেরও প্রতিনিধি দুই। এটা এক কথায় অসাম্য।

'যুক্তরাষ্ট্রে আরো ভালো নেতৃত্ব প্রয়োজন'

আমেরিকা থেকে অবৈধ অভিবাসীদের বের করে দেয়ার বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেয়া সিদ্ধান্তকে মানবাধিকারের লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছে জাতিসঙ্ঘ। জাতিসঙ্ঘের মানবাধিকার বিষয়ক প্রধান জেইদ রা’দ আল-হোসেইন বুধবার এ কথা বলেছেন। জাতিসঙ্ঘ মানবাধিকার পরিষদে দেয়া ৩৭ মিনিটের ভাষণে এ কথা বলেন রা’দ আল-হোসেইন।
ছয় মুসলিম দেশের নাগরিকদের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের ভিসা নিষেধাজ্ঞায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। একইসাথে আমেরিকায় মুসলমান-বিরোধী বৈষম্য এবং সহিংসতা বেড়ে যাওয়ারও কঠোর সমালোচনা করেন তিনি। দেশটিতে এ রকম সমস্যা মোকাবেলায় আরো ভালো নেতৃত্ব প্রয়োজন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এছাড়া, সাংবাদিক ও বিচারকদের প্রতি ট্রাম্প প্রশাসনের হুমকি দেয়ার মনোভাবেও হতাশা ব্যক্ত করেন জাতিসঙ্ঘের এ কর্মকর্তা।

কাশ্মির সীমান্তে ভারতের নজরদারি ড্রোন

ভারত নিয়ন্ত্রণ রেখা বা এলওসি নামে পরিচিত কাশ্মির সীমান্তে ড্রোন মোতায়েন করেছে। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে নজরদারির লক্ষ্যে পুঞ্চ এবং রাজৌরি সীমান্তে আমেরিকার তৈরি ড্রোন মোতায়েন করা হয়েছে। পাকিস্তানি একটি ইংরেজি দৈনিক কয়েকটি সূত্রের বরাতি দিয়ে আজ বৃহস্পতিবার এ খবর দিয়েছে।
এতে আরো বলা হয়েছে, ড্রোন নিয়ে নজরদারি চালানো, ড্রোন দিয়ে সংগৃহীত তথ্য প্রক্রিয়াকরণ এবং মোতায়েন করা সেনাদের এ সব তথ্য জানানোর জন্য ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরে শ্রীনগরে ডাটা কেন্দ্র বসানো হয়েছে। ভারতের বহরে যে সব ড্রোন রয়েছে তার বেশিরভাগই শুধুমাত্র নজরদারি কাজ চালানোর উপযোগী। অবশ্য সম্প্রতি ভারত সশস্ত্র ড্রোন সংগ্রহ করেছে।

হামলা চালালে শত্রুরা ‘বিস্ময়কর জবাব’ পাবে : ইরান

ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন দেহকান বলেছেন, শত্রুরা যদি কোনো রকম আগ্রাসন চালানোর চেষ্টা করে তাহলে তেহরানের পক্ষ থেকে বিস্ময়কর জবাব পাবে। তিনি বলেন, ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সামরিক খাতে যে বিনিয়োগ করছে তা তার দেশের সামরিক বাহিনীকে যেকোনো যুদ্ধের ঘটনায় শত্রুর চেয়ে ভালো অবস্থান রাখবে। জেনারেল দেহকান বলেন, “প্রতিরক্ষা নীতির আওতায় আমরা ধারাবাহিকভাবে কিছু প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটিয়েছি যাতে আমরা শত্রুর কাছে পরাজিত না হই।”
তিনি জোর দিয়ে বলেন, হামলার ঘটনা ঘটলে শত্রুরা বিস্মিত হবে। জেনারেল দেহকান বলেন, ইরানের সামরিক শক্তি দুর্বল বলে মনে করলে কিংবা সামরিক সক্ষমতা সম্পর্কে সন্দেহ থাকলে আমেরিকা ও ইসরাইল এতদিন ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করত। তিনি জানান, যুদ্ধের কোনো ঘটনা ঘটলে ইরান যাতে জিততে পারে সে লক্ষ্যকে সামনে রেখে তেহরান তার প্রতিরক্ষা কর্মসূচি পরিচালনা করছে। শত্রুর পক্ষ থেকে আসা বিভিন্ন ধরনের হুমকিকে শনাক্ত ও ব্যর্থ করতে সক্ষম ইরান। তিনি বলেন, ইরানের জনগণ এখন যেকোনো হুমকির বিরুদ্ধে দাঁড়াতে নিরাপদ বোধ করেন।
সূত্র : ওয়েবসাইট

গুয়াতেমালায় আশ্রমে আগুন : ১৯ কিশোরীর মৃত্যু

গুয়াতেমালায় এক সরকারী আশ্রমে অগ্নিদগ্ধ হয়ে ১৯ কিশোরী মারা গেছে। দমকল কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, অন্তত ২৫ জন গুরুতর আহ হয়েছেন। কীভাবে আগুনের সূত্রপাত হলো সেটি জানা না গেলেও, সন্দেহ করা হচ্ছে হয়ত কেউ ইচ্ছা করেই আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। এর আগে মঙ্গলবার ঐ আশ্রমটিতে দাঙ্গার ঘটনা ঘটে, এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে সেসময় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। গুয়াতেমালা সিটির দক্ষিণ পূর্বের শহর সান হোসে পিনুলার এই সরকারী আশ্রমটির ধারণ ক্ষমতা ৪০০ জনের হলেও, গত বছর সেখানে প্রায় ৭০০ মেয়ে শিশু ও কিশোরী ছিল। মঙ্গলবার সেখানে দাঙ্গার ঘটনা ঘটলে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সেসময় আশ্রমের ভেতরে শিশুদের ওপর নিপীড়নের অভিযোগ শোনা যায়। সাংবাদিকদের কাছে আশ্রমের ছোট ছোট বাসিন্দারা অভিযোগ করে তাদের নিয়মিত পেটানো এবং যৌন নিপীড়ন করা হতো। এর মধ্যেই অগ্নিকান্ডের এই ঘটনা ঘটল।
কীভাবে আগুনের সূত্রপাত তা এখনো জানতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। তবে পুলিশ বলছে, আশ্রমের বাসিন্দাদের কেউই হয়ত আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। ভবনের বাইরে অপেক্ষমাণ অভিভাবকদের একজনও সেরকমই জানাচ্ছেন। কর্তৃপক্ষ বলছে, প্রায় ৬০ জন শিশু আশ্রম ছেড়ে পালিয়ে গেছে। পালিয়ে যাওয়া শিশুদের কেউ কেউ বলেছে, দাঙ্গার পর আশ্রমে কর্তৃপক্ষের হুমকি ও শাস্তির ভয়ে পালিয়েছে তারা। নির্যাতন ও পাচারের শিকার, এবং পরিত্যক্ত শিশুদের জন্য তৈরি এই আশ্রমটিতে ১৮ বছর বয়স হওয়া পর্যন্ত থাকতে পারে একজন। স্থানীয় গণমাধ্যম সূত্রে জানা যাচ্ছে, আশ্রমটিকে কিশোর সংশোধন কেন্দ্র হিসেবেও ব্যবহার করা হতো।
সূত্র : বিবিসি

লেজেগোবরে অবস্থা চামড়া শিল্পে

হাজারীবাগ থেকে ট্যানারি শিল্প সরিয়ে নিতে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ নির্দেশ দিয়েছিলেন ২০০১ সালে। ওই আদেশ বাস্তবায়িত না হওয়ায় ট্যানারি শিল্প অন্যত্র সরিয়ে নিতে ২০০৯ সালের ২৩ জুন হাইকোর্ট ফের সময় নির্ধারণ করে দিয়েছিলেন ২০১০ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। সরকার পরে আবেদনে ওই সময়সীমা কয়েক দফা বাড়িয়ে ২০১১ সালের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানো হয়। নানা কৌশলে আদালতের নির্দেশনা ১৭ বছরেও বাস্তবায়িত না হওয়ায় গত সোমবার এক আদেশে সব ট্যানারি অবিলম্বে বন্ধ করার পাশাপাশি কারখানাগুলোর বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করাসহ সব সুযোগ-সুবিধা বন্ধ করে দেয়ার নির্দেশ দেন আদালত।
২০০১ সালে দেয়া আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী কারখানাগুলো সাভারের হরিণধরায় সরিয়ে নিতে ২০০৩ সালে তিন বছর মেয়াদি যে প্রকল্প হাতে নেয়া হয় তার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে এক যুগ আগে। ইতোমধ্যে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে সাতবার। ১৭৫ কোটি ৭৫ লাখ টাকার প্রকল্পের ব্যয় বাড়তে বাড়তে দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৭৮ কোটি ৭১ লাখ টাকায়। ইতোমধ্যে দীর্ঘ সময় পার হলেও প্রকল্পের অগ্রগতি এখনো হতাশাজনক বলে জানান উপকারভোগিরা। গত মাস পর্যন্ত চামড়া শিল্প নগরীর কাজে অগ্রগতি মাত্র ৫৪ শতাংশ, টাকার অঙ্কে মাত্র ৫৭৩ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। প্রকল্পের এখনো ৪৯৪ কোটি ৯৩ লাখ খরচ করা হয়নি বলে জানিয়েছে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি)। তবে বেশ কিছু বিল অপরিশোধিত থাকায় প্রকৃত কাজের চেয়ে আর্থিক অগ্রগতি কম দেখা যাচ্ছে বলে জানান প্রকল্পের সাথে সংশ্লিষ্টরা।
আইনের ফাঁক খোঁজা হচ্ছে এখনো
একটি রিট আবেদনের পরিপ্রেেিত ২০০১ সালে ট্যানারি শিল্প হাজারীবাগ থেকে সরিয়ে নিতে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। দীর্ঘ দিন ধরে ওই আদেশটি বাস্তবায়িত না হওয়ায় অন্য এক আবেদনে ২০০৯ সালের ২৩ জুন আবারো ২০১০ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে হাজারীবাগের ট্যানারিগুলো অন্যত্র সরিয়ে নিতে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। সরকারপরে আবেদনে ওই সময়সীমা কয়েক দফা বাড়িয়ে ২০১১ সালের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানো হয়। কিন্তু এ সময়ের মধ্যেও ট্যানারি স্থানান্তরিত না হওয়ায় সরকারের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা দায়ের করে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ নামের একটি সংগঠন। ওই মামলার প্রোপটে ২০১৪ সালের ১৫ এপ্রিল আদালত অবমাননার রুল জারি করেন হাইকোর্ট। ২০১৫ সালের ২১ এপ্রিল আদালতে হাজির হয়ে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দেন শিল্প সচিব। কোনোভাবেই কাজ না হলে আদালত অবমাননার অভিযোগ আনা হয় কয়েকটি ট্যানারির বিরুদ্ধে। এ আবেদনের শুনানি শেষে ২০১৫ সালের ১১ আগস্ট ১০ কারখানা মালিকের বিরুদ্ধে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। এখনো যেসব ট্যানারি হাজারীবাগে রয়েছে সেগুলোর তালিকা দিতে ১৩ এপ্রিল শিল্প সচিবকে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। তার পরিপ্রেক্ষিতে শিল্প সচিবের পে আদালতে ১৫৫টি ট্যানারির তালিকা দাখিল করা হয়। কারখানা স্থানান্তরে ব্যর্থ মালিকদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে প্রতিদিন ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানার নির্দেশও দেন হাইকোর্ট। ওই আদেশের বিরুদ্ধে ট্যানারি মালিকেরা আপিল করেন। পরে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের চার বিচারপতির বেঞ্চ জরিমানার পরিমাণ এক-পঞ্চমাংশ কমিয়ে দৈনিক ১০ হাজার টাকা ধার্য করেন। কিন্তু সে টাকাও তারা জমা না দিলে পুনরায় পরিশোধের সময়সীমা বেঁধে দেন আদালত।
এখন তারা আইনের ফাঁক খুঁজছেন, কিভাবে জরিমানার হাত থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। পূর্ণাঙ্গ রায় হাতে পেলে এ রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ আবেদন করবেন বলেন জানান সংশ্লিষ্টরা। অতিরিক্ত এক যুগ সময় পার : রাজধানীর হাজারীবাগ থেকে দুই শতাধিক ট্যানারি সাভারের হরিণধরায় স্থানান্তরের উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল ২০০২ সালে। ২০০৩ সালে শুরু হয় তিন বছর মেয়াদি প্রকল্পের কাজ। জমি অধিগ্রহণ, মাটি ভরাট, রাস্তাঘাট তৈরিসহ ৭০ শতাংশ কাজ শেষ হয় নির্ধারিত তিন বছরের মধ্যেই। বাকি ৩০ শতাংশ, বিশেষ করে কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার (সিইটিপি) স্থাপনে বিলম্বই কাল হয়ে দাঁড়ায় পুরো প্রকল্পের জন্য। এরই মধ্যে প্রকল্পের মেয়াদ বেড়েছে সাতবার। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বদল হয়েছেন ছয়বার। প্রকল্প পরিচালক পরিবর্তন হয়েছেন নয় বার। কারখানাগুলো হাজারীবাগ থেকে সাভারে স্থানান্তরের জন্য মালিকদের যে পরিমাণ আর্থিক সামর্থ্য দরকার তাও হারিয়ে ফেলেছেন তারা দীর্ঘ দিন ধুঁকতে ধুঁকতে। সরকারের পক্ষ থেকে কারখানা স্থানান্তরে তীব্র চাপের সাথে আদালতের কঠোর অবস্থান ত্রিমুখী সঙ্কটে ফেলে দিয়েছে দেশের সম্ভাবনাময় চামড়া শিল্প উদ্যোক্তাদের। পানির দরে চামড়া বিক্রি : চামড়া শিল্পে বিপর্যয়ের চিত্র ফুটে ওঠে কাঁচা চামড়ার অস্বাভাবিক দরপতনের মাধ্যমেও। পাঁচ বছর আগে যে গরুর চামড়া তিন থেকে চার হাজার টাকায় বিক্রি হতো তার দাম নামতে নামতে ৮০০ থেকে এক হাজার টাকায় নেমে এসেছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। ২০১৩ সালে ঢাকায় প্রতি বর্গফুট গরুর চামড়ার দাম ছিল ৮৫ থেকে ৯০ টাকা। ২০১৪ সালে এ দাম ১৫ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয় ৭০ থেকে ৭৫ টাকা। ২০১৫ সালে দর নির্ধারণ না করে গরিব-মিসকিনদের বঞ্চিত করে নামমাত্র মূল্যে চামড়া কিনেছেন ব্যবসায়ীরা। ২০১৬ সালে দাম নির্ধারণ করলেও তা ছিল অস্বাভাবিক কম। সেবার রাজধানী ঢাকায় প্রতি বর্গফুট লবণযুক্ত গরুর চামড়ার দর নির্ধারণ করা হয় মাত্র ৫০ টাকা। ঢাকার বাইরে এ দাম ছিল ৪০ টাকা। যদিও এ দামও পাননি চামড়ার প্রকৃত মালিক গরিব মানুষ। চামড়ার দর নিয়ে চরম অসন্তোষ দেখা দেয় গত ফেব্রুয়ারি মাসে। তিন হাজার টাকার চামড়ার দর ৮০০ থেকে এক হাজার টাকায় নেমে আসায় টানা ছয় দিন ঢাকায় ধর্মঘটও পালন করে বাংলাদেশ মাংস ব্যবসায়ী সমিতি। ইমেজ সঙ্কটে পুরো শিল্প : চামড়া শিল্পের বিপর্যয়ের কথা বলতে গিয়ে বাংলাদেশ ফিনিশড লেদার, লেদারগুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবু তাহের নয়া দিগন্তকে বলেন, সাভারের চামড়া শিল্পনগরী এখনো পুরোপুরি প্রস্তুত নয়। এ কারণে আমরা চাইলেও কারখানা স্থানান্তর করতে পারছি না।
তিনি বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ২০১৪ সালের মধ্যে হাজারীবাগের ট্যানারিগুলো সাভারে স্থানান্তরের জন্য সময় বেঁধে দিয়েছিল। অন্যথায় তারা আর আমাদের অর্ডার দেবে না বলে সতর্ক করেছিল। কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ে আমরা সাভারের চামড়া শিল্প পার্কে যেতে না পারায় ইমেজ সঙ্কটের সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্ববিখ্যাত কোম্পানি অ্যাপেক্সসহ অনেক আন্তর্জাতিক ক্রেতাই সম্প্রতি মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে বাংলাদেশের চামড়া থেকে। এখনই কার্যকর উদ্যোগ নেয়া না হলে চামড়া শিল্প চরম বিপর্যয়ে পড়বে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। হাল ছেড়ে দিয়েছেন অনেকে : হাজারীবাগের ট্যানারিগুলো সাভারে স্থানান্তরের ঘোষণা দেয়ার পরপরই এ খাতে ব্যাংকের বিনিয়োগ অনেকটা বন্ধ হয়ে যায়। ফলে কারখানা সম্প্রসারণ তো দূরের কথা মেশিনগুলো চালু রাখাই চ্যালেঞ্জ হয়ে দেখা দিয়েছে উদ্যোক্তাদের কাছে। পরিবেশ উন্নয়নে চাপ অব্যাহত রাখার পাশাপাশি সময়মতো পণ্য সরবরাহে ব্যর্থ হওয়ায় একের পর এক সম্পর্ক নষ্ট হচ্ছে ইউরোপ-আমেরিকান বায়ারদের সাথে। সর্বোপরি সরকারের পক্ষ থেকে কারখানা স্থানান্তরে তীব্র চাপের সাথে আদালতের কঠোর অবস্থান ত্রিমুখী সঙ্কটে ফেলে দিয়েছে চামড়া শিল্পের উদ্যোক্তাদের। এরই মধ্যে আইন মেনে যারা সাভারে কারখানা স্থানান্তর করেছেন নানা সঙ্কটে পড়ে তারাও ভালো নেই। আবার যারা স্থানান্তরে ব্যর্থ হয়েছেন তাদের ওপর নেমে আসছে নানামুখী চাপ। এই চাপ সামলাতে ব্যর্থ হয়ে ইতোমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে শত শত কারখানা। চাকরি হারিয়েছেন হাজার হাজার শ্রমিক। অন্তর্জাতিক বাজারে ভাবমর্যাদা সঙ্কটে পড়ে কমতে থাকে রফতানি। কমতে থাকে এ খাত থেকে রফতানি আয়। এসব কারণে উদ্যোক্তারা অনেকটাই হতাশ এবং হাল ছেড়ে দিয়েছেন বলে জানান অনেকে।

ছাত্রদল ধানমন্ডি থানা কমিটি বিলুপ্ত

বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে রাতেই ধানমন্ডি থানা কমিটি বিলুপ্তি করেছে জাতীয়তাবাদী ছাত্র দল। গতরাতে কেন্দ্রীয় দফতর সম্পাদক আবদুস সাত্তার পাটোয়ারি স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঢাকা মহানগর পূর্ব ছাত্রদলের সিদ্ধান্ত মোতাবেক ধানমন্ডি থানা ছাত্র দলের কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। ঢাকা মহানগর পূর্ব ছাত্রদলের সভাপতি খন্দকার এনামুল হক এনাম ও সাধারন সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন মানিক এ সিগ্ধান্ত অনুমোদন করেন। বুধবার বিকালে রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে ছাত্র দলের উদ্যোগে তারেক রহমানের ১১তম কারাবন্দি দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ছিলো। এতে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রধান অতিথি বক্তব্য দেবার শেষ পর্যায়ে মিলনায়তনে পেছনে ধানমন্ডি থানা ছাত্র দলের নেতা-কর্মীরা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। নেতারা বার বার সর্তক করার পরও তারা একাধিকবার হৈ-চৈ করে। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল, স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়সহ ছাত্র দলের কেন্দ্রীয় নেতারা ধানমন্ডি কমিটির নেতা-কর্মীদের এহেন আচরণে ক্ষুব্ধ হন। এই পরিপ্রেক্ষিতে আলোচনা সভার পরপরই সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নেতারা বসে এই সিদ্ধান্ত নেন।

সুপ্রিম কোর্ট বার নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী ঘোষণা

আসন্ন সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচনে বিএনপি প্যানেল থেকে প্রার্থী মনোনায়ন চুড়ান্ত করা হয়েছে। গতরাতে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সাথে আলোচনা শেষে এই সিদ্ধান্ত হয়। এবারের সুপ্রিম কোর্ট বার নির্বাচনে বিএনপির প্যানেল থেকে সভাপতি পদে অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদিন এবং সম্পাদক পদে ব্যারিস্টার মাহবুবউদ্দিন খোকনকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে।
বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান আজ বৃহস্পতিবার জানান, দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া আলোচনার মাধ্যমে অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদিনকে সভাপতি এবং ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকনকে সম্পাদক পদে সুপ্রিম কোর্ট বার নির্বাচনে মনোনয়ন দিয়েছেন। উল্লেখ্য, আগামী ২২ এবং ২৩ মার্চ সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে।

ডান্ডাবেড়িসহ আদালতে আসামী : হাইকোর্টে ব্যাখ্যা দিলেন জেল সুপার

ডান্ডাবেড়ি পরিয়ে আসামিকে আদালতে হাজির করায় হাইকোর্টে এসে ব্যাখ্যা দিয়েছেন ঢাকার সিনিয়র জেল সুপার জাহাঙ্গীর কবির। আজ বৃহস্পতিবার বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথের হাইকোর্ট বেঞ্চে তিনি এ ব্যাখ্যা দেন। ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, ‘চার আসামির সবাই জেএমবির সদস্য হওয়ায় নিরাপত্তার স্বার্থে তাদেরকে ডান্ডাবেড়ি পরানো হয়েছিল।’ গত ২৩ ফেব্রুয়ারি এ ঘটনার ব্যাখ্যা দিতে ঢাকার ডিআইজিকে (প্রিজন) তলব করেছিলেন হাইকোর্ট। কিন্তু তিনি দেশের বাইরে থাকায় তার পরিবর্তে সিনিয়র জেল সুপার সশরীরে হাইকোর্টে এসে আজ ব্যাখ্যা দাখিল করেন। আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন সৈয়দা সাবিনা আহমদ (মলি)।
পরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘গত ৭ ফেব্রুয়ারি বিনাবিচারে কারাগারে থাকা ১০ আসামির জামিন প্রশ্নে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে ২৩ ফেব্রুয়ারি তাদের হাজির করার নির্দেশ দিয়েছিলেন বিচারপতি মো. নূরুজ্জামান ও বিচারপতি এস এইচ মো. নূরুল হুদা জায়গীরদারের হাইকোর্ট বেঞ্চ। কিন্তু এরই মধ্যে ওই বেঞ্চের এখতিয়ার পরিবর্তন হওয়ায় বৃহস্পতিবার মামলাটি বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের বেঞ্চে শুনানির জন্য কার্যতালিকায় আসে।’ এদিন ১০ আসামিকে পূর্বনির্দেশনা অনুযায়ী আদালতে হাজির করা হয়। এর মধ্যে হাবিবুর রহমান ওরফে ইসমাইল, মনিরুজ্জামান ওরফে মুন্না, নাসির উদ্দিন ও গিয়াস উদ্দিনকে ডান্ডাবেড়ি পরিয়ে আনা হয়। এই চারজনকে ডান্ডাবেড়ি পরিয়ে হাজির করার ঘটনায় ডিআইজি প্রিজনকে আজ ৯ মার্চ উপস্থিত হয়ে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়।

আদালতে প্রতিবেদন : সাঁওতাল পল্লীতে অগ্নিসংযোগে দুই পুলিশ জড়িত

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের সাঁওতাল পল্লীতে অগ্নিসংযোগের সংগে পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) ও এক কনস্টেবল জড়িত বলে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। অগ্নিসংযোগে জড়িত দুই পুলিশ সদস্য হলেন- উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাহবুবুর রহমান ও কনস্টেবল সাজ্জাদুর রহমান। আজ বৃহস্পতিবার বিচারপতি ওবায়েদুল হাসান ও বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু  এ প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন। আদালত প্রতিবেদনটি নথিভুক্ত করে রেখেছেন। অগ্নিসংযোগের ঘটনায় রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি পুলিশের পক্ষ থেকে এ তদন্ত প্রতিবেদনটি আদালতের সংশ্লিষ্ট শাখায় জমা দেওয়া হয়। এর আগে ২৯ জানুয়ারি গাইবান্ধার মূখ্য বিচারিক হাকিম মো. শহিদুল্লাহ অগ্নিসংযোগের ঘটনায় সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছে বিচারিক তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, গোবিন্দগঞ্জে সাঁওতালপল্লীতে আগুন দেওয়ার ঘটনায় গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) একজনসহ পুলিশের তিন সদস্য জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলেও তাদের চেনা যায়নি। ওই সময় তাদের মাথায় হেলমেট থাকায় এবং ঘটনার যেসব ভিডিও ধারণ করা হয়েছে,
তা দূর থেকে ধারণ করায় জড়িতদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিচারিক তদন্তে সহযোগিতা না করায় গত ৭ ফেব্রুয়ারি পুলিশ সুপার মো. আশরাফুল ইসলামকে অবিলম্বে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলেও বলেও পুলিশ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। গত ৭ ফেব্রুয়ারি আদালত তার বলেছিলেন, কয়েকজন পুলিশ সদস্যর জন্য পুরো বাহিনী দায়ী হতে পারে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জনগণের আস্থা অর্জন করতে হবে। তবে আগুন দেওয়া লোকদের মধ্যে স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে দুজন পুলিশ সদস্য ও একজন ডিবি লেখা ব্যক্তিকেও দেখা গেছে বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। উল্লেখ্য, গত বছর ৬ নভেম্বর গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের সাঁওতাল পল্লীর চিনিকল কর্তৃপক্ষের জমি দখল কেন্দ্র করে পুলিশ ও স্থানীয়দের সঙ্গে সাঁওতালদের সংঘর্ষ হয়। সাঁওতাল পল্লীতে আগুন লাগানোর ঘটনাও ঘটে। সংঘর্ষের সময় গোলাগুলিতে তিন সাঁওতাল নিহত ও অন্তত ৩০ জন আহত হন। এই হামলার ঘটনায় বিভিন্ন সময়ে আইন ও সালিশ কেন্দ্র এবং সাঁওতালরা হাইকোর্টে তিনটি পৃথক রিট আবেদন করেন। যার মধ্যে দুটি বর্তমানে চলমান রয়েছে।

ভিসার নামে ১১ হাজার ৬শ'কোটি টাকা পাচার : টিআইবি

বাংলাদেশ থেকে শ্রম অভিবাসন প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও দুর্নীতি বিদ্যমান। সুশাসনের অভাবের কারনে অভিবাসী কর্মীদের নিকট থেকে অতিরিক্ত মূল্য আদায় করা হচ্ছে। ফলে এই ভিসা কেনা বাবদ গত ২০১৬ সালে সাত দেশেই অর্থ পাচার হয়েছে ১১ হাজার ৬শ' কোটি টাকা বলে জানিয়েছে ট্রান্সপারেসি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ বা টিআইবি। শ্রম অভিবাসন প্রক্রিয়ায় সুশাসন: সমস্যা ও উত্তোরনের উপায় নিয়ে আজ বৃহস্পতিবার টিআইবির এক গবেষনা জরীপে এই তথ্য বেরিয়ে এসেছে। টিআইবি অফিসে এই তথ্য তুলে ধরেন মনজুর ই খোদা ও শাহজাদা এম আকরাম। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন টিআইবি সাবেক চেয়ারম্যান এম. হাফিজউদ্দিন খান ও নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। টিআইবি বলছে, ভিসা কেনার নামে যে সাতটি দেশে অর্থ পাচার হয়েছে সেগুলো হলো, সৌদিআরব, বাহরাইন, ওমান, কাতার, আরব আমীরাত, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুর। তবে সবচেয়ে বেশি অর্থ পাচার হয়েছে ওমানে। এখানে ২ হাজার ৮৪০ কোটি টাকা। সৌদিআরবে ২ হাজার ৬শ' কোটি টাকা, কাতারে ২ হাজার ৪শ' কোটি টাকা।
গবেষনায় বলা হচ্ছে, গন্তব্য দেশে ভিসা কেনার জন্য অর্থ হুন্ডির মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে পাচার হচ্ছে। গন্তব্য দেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দুতাবাসে অবৈধভাবে অর্থের বিনিময়ে চাহিদাপত্র সত্যায়নের অভিযোগ রয়েছে। এমনকি তারা তথ্যও যাচাই না করে সত্যায়ন করছে। আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে স্বদিচ্ছার ঘাটতি রয়েছে। ইফতেখারুজ্জামান বলেন, দালালদের কাছে জিম্মী হয়ে আছে এই খাতটি। অতিরিক্ত সরবরাহ ও আগ্রহের কারনে মানুষ প্রতারিত হচ্ছে। নি:স্ব হচ্ছে পরিবারগুলো। আইনী দুর্বলতার কারনে দালালরা সুযোগ পাচ্ছে। তিনি বলেন, অজ্ঞতা ও তথ্য না জানার কারনে দালাল ও এজেন্সিরা দ্বিগুণ থেকে ৫ গুণ অর্থ আদায় করছে। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশের চেয়ে অনেক বেশি অর্থ নেয়া হচ্ছে। ৯০ শতাংশের বেশি দুর্নীতির শিকার হচ্ছে।

বিজিএমইএ ভবন ভাঙ্গার কাজ শুরু না করায় রাজউক চেয়ারম্যানকে লিগ্যাল নোটিশ

আপিল বিভাগের চূড়ান্ত রায়ের পরও বিজিএমইএ এর অবৈধ ভবন ভাঙ্গার কাজ শুরু না করায় রাজউক এর চেয়ারম্যানকে লিগ্যাল নোটিশ দেয়া হয়েছে। নোটিশ প্রাপ্তির সাতদিনের মধ্যে এই বহুতল ভবনটি ভাঙার কাজ শুরু করতে বলা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মঞ্জিল মোর্শেদ ডাক যোগে এ নোটিশ পাঠান। এতে বলা হয়েছে, আপিল বিভাগের রায়ে বিজিএমইএকে অবিলম্বে ভবনটি ভাঙ্গার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
যদি তারা ভবনটি না ভাঙ্গে তবে রাজউক চেয়ারম্যানকে ৯০ দিনের মধ্যে ভবনটি ভেঙ্গে ফেলতে বলা হয়। কিন্তু বিজিএমইএ যেহেতু ভবনটি ভাঙ্গেনি সেহেতু রাজউককেরই এ ভবনটি ভাঙ্গার কাজ শুরু করা উচিত ছিল। কিন্তু তিনি এ কাজ না করে আপিল বিভাগের রায় লঙ্ঘন করেছেন।

দমকা হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টি হতে পারে

ঢাকাসহ কয়েকটি বিভাগে দমকা হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রাজশাহী ও ঢাকা বিভাগের দু’এক জায়গায় অস্থায়ী দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। আবহাওয়া অধিদফতর আজ সকালে এ কথা জানিয়ে বলেছে,
সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে। সিনপটিক অবস্থা সম্পর্কে অধিদফতর জানিয়েছে, লঘুচাপের বর্ধিতাংশ গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ এবং তৎসংলগ্ন বাংলাদেশ এলাকায় অবস্থান করছে। মৌসুমী লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। এদিকে আজ সকাল ৬টায় ঢাকায় বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৯২ শতাংশ।

শিশুদের আশ্রয়কেন্দ্রে অগ্নিকান্ডে নিহত ২২



গুয়াতেমালায় শিশুদের একটি আশ্রয়কেন্দ্রে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে কমপক্ষে ২২টি কন্যাশিশু মারা গেছে। আহত হয়েছে কয়েক ডজন শিশু। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এপি। এতে বলা হয়, বুধবার সকালের দিকে গুয়াতেমালা সিটিতে ওই আশ্রয়শিবিরে অগ্নিকান্ডের সূচনা জয়। এতে দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে মেয়েরা যে অংশে থাকে সেখানে। ওই আশ্রয়কেন্দ্রটিতে গাদাগাদি করে অবস্থান করে শিশুরা। অগ্নিকান্ডের পও ওই আশ্রয়শিবির থেকে একের পর এক মৃতদেহ বের করে আনা হয়। তা নীল রঙেরএকটি চাদর দিয়ে ঢেকে রাখা হয়। অগ্নিকান্ডের খবর পেয়ে দূর থেকে ছুটে যান নিকট আত্মীয়রা। তারা সেখানে গিয়ে শিশুদের লাশ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন। ফলে সৃষ্টি হয় এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের। গুয়াতেমালা সমাজ কল্যাণ বিষয়ক এজেন্সির প্রধান কার্লোস রোডাস বলেছেন, আগের দিন মঙ্গলবার আশ্রয় কেন্দ্র থেকে পালানোর জন্য সেখানকার তরুণরা একরকম দাঙ্গা শুরু করে। সেখানে নির্যাতন ও বসবাসের নাজুক পরিবেশের রিপোর্ট পাওয়া যায় মাঝে মধ্যেই। এরপর বুধবার সকাল ৯টার দিকে কিছু উশৃংখল ছেলেমেয়ে আশ্রয়কেন্দ্রের তোষক বা লেপ-কাঁথায় আগুন ধরিয়ে দেয়। তাই আমরা এর দায় এড়াতে পারি না। ওইসব জীবন এখন আমরা আর ফিরিয়ে আনতে পারি না।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দূর্ঘটনায় ৩ মোটর সাইকেল আরোহী নিহত

মঙ্গলবার রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে সড়ক দুর্ঘটনায় তিন মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। রাত সাড়ে ৭টার দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের উপজেলার রামপুরা নামক এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন জেলার সরাইল উপজেলার কুট্টাপাড়া এলাকার মনু মিয়ার ছেলে সোহাগ (৩০) ও একই এলাকার বাছিত মিয়ার ছেলে মনির (২৭) এবং আশুগঞ্জ উপজেলার সোহাগপুর এলাকার নাজির মিয়ার ছেলে রফিক (২৫)।
বিজয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ আলী আরশাদ জানান, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের রামপুরা এলাকায় কোনো একটি যানবাহনের চাপায় ওই তিন মোটরসাইকেল আরোহী ঘটনাস্থলেই মারা যান। খবর পেয়ে বিজয়নগর থানা পুলিশ ও হাইওয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরন করে। দুর্ঘটনাকবলিত মোটরসাইকেলটির সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে গেছে। ধারণা করা হচ্ছে-বড় কোনো গাড়ির মোটরসাইকেলটিকে চাপা দিয়েছে।