Saturday, March 23, 2019

প্রেসিডেন্ট হতে চান ইভানকা, হোয়াইট হাউসের প্রত্যাখ্যান

বিস্ফোরক সব তথ্য প্রকাশিত হয়েছে নিউ ইয়র্ক ভিত্তিক সাংবাদিক ভিকি ওয়ার্ডের লেখা নতুন বইয়ে। ‘কুশনার ইনকরপোরেশন’ নামের বইয়ে তিনি দাবি করেছেন, প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের মেয়ে ইভানকা ট্রাম্প ভাবেন তিনি হবেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট। তার প্রতি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের রয়েছে সবচেয়ে বেশি দুর্বলতা। ইভানকা ও তার স্বামী জারেড কুশনার ক্ষমতার জন্য উদগ্রিব হয়ে আছেন। তাদেরকে যতটা ক্ষমতাবান দেখা যায় তার চেয়ে তাদের ক্ষমতা অনেক বেশি। বইতে এসব কথা দাবি করা হলেও তা জোরালোভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে হোয়াইট হাউস। প্রেস সেক্রেটারি সারাহ স্যান্ডার্স এক বিবৃতিতে বলেছেন, (বইয়ে) প্রকাশিত এসব তথ্য দুঃখজনক। কিন্তু বিস্ময়ের নয় যে, অজ্ঞাত সূত্রের ওপর ভিত্তি করে লেখা একটি বইকে প্রমোট করতে সময় ব্যয় করবে মিডিয়া।
জারেড কুশনার ও ইভানকা ট্রাম্প দেশের জন্য যেসব অবিশ্বাস্য কাজ করছেন তার পরিবর্তে এ বইয়ে তুলে ধরা হয়েছে মিথ্যা তথ্য। এ খবর দিয়েছে নিউজিল্যান্ডের অনলাইন নিউজিল্যান্ড হেরাল্ড। এতে বলা হয়েছে, অজ্ঞাত ২২০ জন ব্যক্তির সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে ওই বইটি লিখেছেন ভিকি ওয়ার্ড।
তিনি এসব সূত্রকে উদ্ধৃত করে দাবি প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করেছেন। ভিকি ওয়ার্ড লিখেছেন, অনেক মানুষ নোটিশ করেছেন যে, নিয়মিতই ওভাল অফিসে যান ইভানকা। অনেক সময় শিশুসুলভ আচরণ করেন তিনি। ট্রাম্পের সঙ্গে আদুরে কণ্ঠে কথা বলেন। এ সময় তাকে আদর করে ‘বেবি’ সম্বোধন করেন ট্রাম্প অথবা আদর করে পিঠ চাপড়ান। ইভানকা যখন ট্রাম্পের রুম থেকে বেরিয়ে যান, তখন কাজ ফেলে মাঝে মাঝেই তার দিকে তাকিয়ে থাকেন তিনি। রুমের ভিতর থাকা অন্যদের বলেনÑ ওকে অনেক সুন্দর লাগছে না?
ভিকি ওয়ার্ড এসব মন্তব্য তুলে এনেছেন অজ্ঞাত সূত্র থেকে। কিন্তু নিজের মেয়েকে নিয়ে বিভিন্ন রকম মন্তব্য করার জন্য ট্রাম্প অনেক সময় আলোচিত, সমালোচিত হয়েছেন। কখনও এমন মন্তব্য করেছেন যাতে অন্যদের চোখ আকাশে ওঠে। ‘দ্য ভিউ’কে ২০০৬ সালে তিনি বলেছেন, ‘ইভানকা যদি আমার মেয়ে না হতো, তাহলে সম্ভবত তার সঙ্গে আমি ডেটিং করতাম।’
এর তিন বছর আগে হাওয়ার্ড স্টার্নের রেডিও শোতেও তিনি নিজের মেয়ের সম্পর্কে মন্তব্য করেন। বলেন, তার মেয়ের শরীরটা অন্যদের চেয়ে বেস্ট। তিনি এ সময় ইভানকাকে ‘পিস অব অ্যাস’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। পরে স্টার্ন বলেছেন, নিজের মেয়ে ইভানকা সম্পর্কে ট্রাম্প তাকে বলেছেন, ‘আপনি জানেন কে সবচেয়ে বেশি সুন্দরী? সে হলো আমার মেয়ে ইভানকা।’
নিউজিল্যান্ড হেরাল্ড লিখেছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সির সময়কালে তার প্রশাসনের মূল কারিগরদের নেপথ্যে বড় ভূমিকা রাখছেন ইভানকা ও তার স্বামী জারেড কুশনার। কিন্তু ভিকি ওয়ার্ডের মতে, তাদের দু’জনের কেউই ট্রাম্পের জনপ্রিয় নীতি প্রকৃতপক্ষে শেয়ার করেন না। তারা সময়কে ব্যবহার করছেন নিজেদের আধিপত্যকে বৃদ্ধি করার ক্ষেত্রে এবং শক্তিশালী ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মধ্যে নিজেদের উপস্থাপনের চেষ্টা করতে।
একজন ঘনিষ্ঠ সাংবাদিক বলেছেন, তারা দুজন নিজেদেরকে দেখছেন নেটওয়ার্কিং সুযোগ হিসেবে। ভিকি ওয়ার্ডের মতে, তাদের শেষ লক্ষ্য কি? ইভানকা আসলেই নিজে প্রেসিডেন্ট হওয়ার উচ্চাভিলাষ দেখাচ্ছেন। ‘ইভানকা এ সত্যের বিষয়ে কোনোই গোপনীয়তা রাখছেন না যে, তিনি বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিধর নারী হবেন। তিনি বিশ্বাস করছেন, ওয়াশিংটনে তার পিতার শাসন যুক্তরাষ্ট্রে একটি বংশানুক্রমিক শাসন ব্যবস্থার সূচনা’।
হোয়াইট হাউস ছেড়ে যাওয়ার পর গ্যারি কোন বলেছেন, ‘ইভানকা মনে করছেন তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হতে চলেছেন। তিনি মনে করছেন বিষয়টি হবে কেনেডি, বুশ পরিবারের মতো ট্রাম্প পরিবারেরও’।
ইভানকা ও জারেড কুশনারকে শাসনের লজ্জাজনক ব্যক্তি হিসেবে এমএসএনবিসি’কে দেয়া এক সাক্ষাতকারে বর্ণনা করেছেন ভিকি ওয়ার্ড। তিনি বলেছেন, তাদের রয়েছে ব্যক্তিস্বার্থকে প্রাধান্য দেয়ার ব্যতিক্রমী এক প্রবণতা। তিনি এই বইয়ে আরো দাবি করেছেন, ইভানকা ও জারেড কুশনারের সম্পর্ক নিয়ে পুরোপুরি সন্তুষ্ট ছিল না টাম্প ও কুশনার পরিবার।

জাসিনদা আরডেনকে নোবেল পুরস্কার দেয়ার পিটিশন

নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জাসিনদা আরডেনকে শান্তিতে নোবেল পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন দেয়ার দাবি উঠেছে। এরই মধ্যে দুটি পিটিশন করা হয়েছে। একটি পিটিশন করা হয়েছে চেঞ্জ ডট অর্গ (Change.org)-এ। আরেকটি করা হয়েছে ফরাসি ওয়েবসাইট আভাজ ডট অর্গ (AVAAZ.org)-এ। অনলাইনে এ দুটি পিটিশনে এরই মধ্যে স্বাক্ষর করেছেন কয়েক হাজার মানুষ। এ খবর দিয়েছে অনলাইন নিউজিল্যান্ড হেরাল্ড।
গত সপ্তাহের শুক্রবারে দেশটির ক্রাইস্টচার্চে দুটি মসজিদে জুমার নামাজের সময় নামাজরত মুসল্লিদের ওপর এলোপাতাড়ি গুলি করে ৫০ জনকে হত্যা করে সন্ত্রাসী ব্রেনটন টেরেন্ট। এরপর পরিস্থিতি যেভাবে সামলেছেন প্রধানমন্ত্রী জাসিনদা আরডেন সে জন্য তাকে নোবেল পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন দেয়ার এই দাবি তোলা হয়েছে।
চার দিন আগে পিটিশন করা হয়েছে চেঞ্জ ডট অর্গে। এতে কমপক্ষে ৩০০০ মানুষ স্বাক্ষর করেছেন অনলাইনে। অন্যদিকে ফরাসি সাইট আভাজ ডট অর্গে স্বাক্ষর করেছেন কমপক্ষে ১০০০ মানুষ।
ফরাসি সাইটে লেখা হয়েছে, ক্রাইস্টচার্চে বিয়োগান্তক ঘটনার পর, উপযুক্ত, উন্মুক্ত ও শান্তিপূর্ণভাবে যে পদক্ষেপ নিয়েছেন নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জাসিনদা আরডেন, আমরা আশা করি তার জন্য আগামী শান্তিতে নোবেল পুরষ্কার তার হাতে তুলে দেয়া হবে।
ধারণা করা হচ্ছে, ফরাসি সাইটে এই আবেদনটির উদ্যোক্তা ফরাসি কবি ড. খাল তোরাবুলি। নিউজিল্যান্ড হেরাল্ড লিখেছে, গত সপ্তাহের ওই অনাকাঙ্খিত ঘটনার পর দেশকে যেভাবে নেতৃত্ব দিয়েছেন জাসিনদা তার জন্য সারা বিশ্ব তার প্রশংসা করেছে। তার এ কাজের স্বীকৃতি হিসেবে দুবাইয়ের বুর্জ খলিফায় তাকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। তাতে একজন মুসলিম নারীকে তিনি আলিঙ্গন করছেন এমন একটি ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। মুসলিমদের প্রতি তিনি যে আন্তরিক সহানুভূতি ও সমর্থন দেখিয়েছেন তার জন্য তাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন দুবাইয়ের শাসক শেখ মোহাম্মদ। বলেছেন, এর মধ্য দিয়ে বিশ্বের ১৫০ কোটি মুসলিমের শ্রদ্ধা অর্জন করেছেন জাসিনদা।
ওদিকে শুক্রবার রাতে জাসিনদার প্রশংসা করে নিউ ইয়র্ক টাইমসে একটি সম্পাদকীয় প্রকাশিত হয়েছে। এর শিরোনাম ‘আমেরিকা ডিজার্ভস এ লিডার অ্যাজ গুড অ্যাজ জাসিনদা আরডেন’। অর্থাৎ জাসিনদা আরডেনের মতো একজন উত্তম নেতা দাবি করে আমেরিকা। এতে বলা হয়, সন্ত্রাসের বিষয়ে যেভাবে পদক্ষেপ নিয়েছেন নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জাসিনদা আরডেন তার কাছ থেকে বিশ্বের শিক্ষা নেয়া উচিত। আরো বলা হয়েছে, আরডেন তার দেশের ওই এলাকার মানুষদের ক্ষোভের কথা শুনেছেন। মাত্র কয়েক দিনের মাথায় তিনি সামরিক ধরনের স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রের বিষয়ে ঘোষণা দিয়েছেন। বলেছেন, এ অস্ত্র নিষিদ্ধ করা হবে।

বিশ্ব নেতৃত্বের আদর্শ জেসিন্দা আরডেন by অনিম আরাফাত

বিশ্বের সবথেকে কম বয়সী নারী প্রধানমন্ত্রী নিউজিল্যান্ডের জেসিন্দা আরডেন। মতাদর্শিকভাবে নিজেকে সোশ্যাল ডেমোক্রেট দাবি করা এই নেতা মাত্র ৩৮ বছর বয়সেই তিনি নিজ দল ও দেশের মধ্যে হয়ে উঠেছেন সবথেকে জনপ্রিয় ব্যক্তি। সামপ্রতিক সময়ে বিরোধী দলের কাছ থেকেও কুড়িয়েছেন ব্যাপক প্রশংসা। কিন্তু তিনি সমগ্র বিশ্বে আলোচিত ও প্রশংসিত হয়েছেন গত সপ্তাহে ক্রাইস্টচার্চে সন্ত্রাসী হামলার পর। নিউজিল্যান্ডের মতো শান্তিপূর্ণ ও পৃথিবীর অন্যতম নিরাপদ রাষ্ট্রে যখন বন্দুকধারীর গুলিতে ৫০ জন নিরীহ মানুষ নিহত হলো তারপর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে যে ভূমিকা জেসিন্দা আরডেন রেখেছেন তা সকল রাষ্ট্রপ্রধানের জন্য অনুকরণীয়। হামলার শিকার শরণার্থী মুসলিমদের পাশে গিয়ে দাঁড়িয়েছেন তিনি, জরিয়ে ধরে সান্ত্বনা দিয়েছেন। স্পষ্ট করে এই হামলাকে সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ড আখ্যা দিয়েছেন। সঙ্গে নিশ্চিত করেছেন নিউজিল্যান্ড বৈচিত্র্যতায় বিশ্বাসী, অভিবাসীরা সেদেশে নিজেদেরই মানুষ।
হামলার এক সপ্তাহের মধ্যে কোনো ধরনের কড়া বাক্য উচ্চারণ ছাড়াই সে এই ঘৃণার বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করে দিয়েছেন। দেশটির অস্ত্র আইন পরিবর্তন করার ঘোষণা দিয়েছেন যা এখন বাস্তবায়নের পথে। মুসলিমদেরকে আরো কাছে টেনে নিয়েছেন। তাদের জুমার নামাজ সরাসরি সমপ্রচার করা হয়েছে নিউজিল্যান্ডের টিভি চ্যানেলগুলোতে। নিউজিল্যান্ডের হাজার হাজার অধিবাসীকে উদ্বুদ্ধ করেছেন শরণার্থীদের পাশে দাঁড়াতে। স্থাপন করেছেন অনন্য এক নজির। নিউজিল্যান্ডের একদম প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে উঠে এসেছেন জেসিন্দা আরডেন। ১৯৮০ সালের ২৬শে শুলাই নিউজিল্যান্ডের হ্যামিল্টনে জন্মগ্রহণ করেছেন মহান এই নেতা। তার বাবা ছিলেন একজন পুলিশ কর্মকর্তা ও তার মা একটি স্কুলের খাবার পরিবেশনের দায়িত্বে ছিলেন। জেসিন্দা মরিন্সভিল্লে কলেজে পড়াশুনা করেছেন। ২০০১ সালে তিনি ওয়াইকাটো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করেন। এরপর তিনি দেশটির তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী হেলেন ক্লার্কের অফিসে গবেষণা কাজে নিয়োজিত হন। এছাড়া তিনি বৃটেনে প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারের উপদেষ্টা হিসেবেও কাজ করেছেন। রাজনীতির সঙ্গে এভাবেই যুক্ত হন তিনি। তবে তার ফুপি ম্যারি আরডেন লেবার পার্টির সঙ্গে সংযুক্ত থাকায় কিশোরী বয়সেই রাজনীতির সঙ্গে পরিচিত হয়ে উঠেন তিনি।
২০০৮ সালে সমাজতান্ত্রিক তরুণদের আন্তর্জাতিক সংগঠনের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন জেসিন্দা আরডেন। সে বছরই তিনি প্রথমবারের মতো নিউজিল্যান্ডের বাম ঘরানার দল লেবার পার্টির একজন এমপি নির্বাচিত হন। এর ঠিক দশ বছরের মধ্যেই তিনি নিজেকে লেবার পার্টির সবথেকে যোগ্য নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হন। ২০১৭ সালের ১লা মার্চ তিনি লেবার পার্টির ডেপুটি প্রধান নির্বাচিত হন। ওই বছরের ১লা আগস্ট তিনি লেবার পার্টির প্রধান নেতা নির্বাচিত হন। সেপ্টেম্বরের নির্বাচনে তিনি জোট গঠনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসতে সক্ষম হন। এখানে উল্লেখ্য যে, জেসিন্দা আরডেন পার্টির প্রধান হওয়ার আগে আন্ড্রু লিটল ছিলেন এ পদের অধিকারী। তার সময়ে লেবার পার্টির জনপ্রিয়তায় ব্যাপক ধস নামে ফলে তাকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়। দলের কঠিন সময়ে এর হাল ধরে তাকে পুনরায় জনপ্রিয় করে তোলেন জেসিন্দা আরডেন। রাজনৈতিক নানা সমীকরণ মিলিয়ে ২০১৭ সালের ২৬শে অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করেন আরডেন। ক্ষমতায় বসেই তিনি ঘোষণা দেন, তার সরকার হবে শক্তিশালী ও সংবেদনশীল। ক্ষমতায় বসার কিছুদিন পরেই গর্ভবতী হন জেসিন্দা আরডেন। জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নিয়েছেন উপস্থাপক ক্লার্ক গেফোর্ডকে। তবে এজন্য তিনি দায়িত্বে গাফিলতি দেননি। গর্ভবতী অবস্থায়ই তিনি ইউরোপ সফর করেছেন, রাষ্ট্র নায়কের দায়িত্বও পালন করেছেন সফলভাবে। শেষদিনে মাত্র ৬ সপ্তাহের মাতৃত্বকালীন ছুটি নিয়েছেন আরডেন। ২০১৮ সালে ‘ফোর্বসের পাওয়ার উইমেনের’ তালিকায় জায়গা করে নেন তিনি। আছেন টাইম ম্যাগাজিনে সবচেয়ে প্রভাবশালী ১০০ ব্যক্তির তালিকাতেও। জেসিন্দা আরডেন সমকামী বিবাহের সমর্থক। সমকামীদের অধিকারের পক্ষে কথা বলেছেন তিনি। জলবায়ু পরিবর্তন, শিশু দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে কাজ করছেন। নিজ দেশে প্রতিষ্ঠিত করেছেন একট সহানুভূতিশীল সরকার। ক্রাইস্টচার্চে হামলার পর তিনি যেভাবে ছুটে গিয়েছেন তাতে আমরা এর প্রমাণ পেয়েছি। একজন প্রকৃত রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে যা যা করা দরকার তেমন করেই তিনি সকল মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। আর এভাবেই নিজেকে বিশ্ব নেতৃত্বের আদর্শ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন জেসিন্দা আরডেন।

আলোচনায় রাতের ভোট by জিয়া চৌধুরী

ভোটের আগের রাতে ব্যালট পেপারে সিল মেরে বাক্স ভর্তির অভিযোগ তুলেছেন একাদশ সংসদ নির্বাচনের প্রায় সব পরাজিত প্রার্থী। এই প্রার্থীরা দল ও জোটের কাছে নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকার এমন অনিয়মের অভিযোগের তথ্য প্রমাণও জমা দিয়েছেন। নির্বাচনের পর রাতের ভোট নিয়ে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা হলেও নির্বাচনে জয়ী আওয়ামী লীগ এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। শুরুতে নির্বাচন কমিশনও এ বিষয়ে সতর্ক অবস্থান প্রকাশ করলেও এখন কমিশন সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যই রাতের ভোট নিয়ে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একের পর এক কর্মকর্তারা রাতের ভোট নিয়ে কথা বলছেন। রাতের ভোট ঠেকাতে ইভিএম চালু, সকালে কেন্দ্রে ব্যালট পাঠানোর মতো প্রস্তাবনা রাখছেন তারা। তাদের এমন বক্তব্যে বিগত নির্বাচনগুলোতে রাতে ভোট পড়েছে বিরোধীদের এমন দাবি প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে বলে মনে করছেন নির্বাচন বিশ্লেষকরা।
তারা বলছেন, নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের এমন বক্তব্য তাদের ব্যর্থতারই বহিঃপ্রকাশ। এমন ঘটনার দায় কমিশন এড়াতে পারে না।
উপজেলা পরিষদের নির্বাচনের প্রথম ধাপের আগে গত ৮ই মার্চ এক বক্তব্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদা রাতে জোর করে ব্যালট পেপারে সিল মারার বিষয়টি তুলে আনেন। সিইসির বক্তব্যের সূত্র ধরে কয়েকজন নির্বাচন কমিশনার ও ইসির কর্মকর্তারাও তাদের বক্তব্যে রাতে ভোটের বিষয়টি যে ঘটছে তা অনেকটা স্বীকার করে নেন। রাতে ভোট ঠেকাতে ইভিএমের ব্যবহার ও সবশেষ নির্বাচন কমিশন সচিব সকালে কেন্দ্রে ব্যালট পাঠানোরও প্রস্তাব দেন।
তবে, নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বশীলদের এমন বক্তব্য ও রাতে ভোট দেয়ার মতো ঘটনাকে পুরোপুরি নির্বাচন কমিশনের ব্যর্থতা বলে মনে করেন নির্বাচন পর্যবেক্ষক ও বিশেষজ্ঞরা। দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করছেন এমন ব্যক্তিরা মানবজমিনকে জানিয়েছেন, নির্বাচন কমিশন নিজেদের দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন করতে না পারার কারণে রাতে ভোট দেয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে। ইসি এক্ষেত্রে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে বলেও মন্তব্য নির্বাচন পর্যবেক্ষক ও বিশেষজ্ঞদের। কমিশনের ব্যর্থতায় নির্বাচন নিয়ে ভোটারদের মধ্যেও এক ধরনের অনাস্থা তৈরি হয়েছে।
গত ৮ই মার্চ নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে এক কর্মশালায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নুরুল হুদা বলেন, ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোট হলে আগের রাতে ব্যালট বাক্স ভরে রাখার কোনো সুযোগ থাকবে না। সিইসি বলেন, জেলা-উপজেলা সদর থেকে অনেক দূরে দূরে ভোটকেন্দ্র হয়।
এ কারণে আগের দিন এসব কেন্দ্রে ব্যালট পেপার ও ব্যালট বাক্স পাঠাতে হয়। এখানে ভোটের দিন সকালে ব্যালট পেপার ও ব্যালট বাক্স নিয়ে যাওয়া যায় না। কিন্তু যদি ইভিএমে ভোটের ব্যবস্থা করা যায়, তাহলে আর ভোটের আগের দিন রাতে ব্যালট পেপারে সিল মেরে বাক্স ভর্তি করার সুযোগ থাকবে না। তিনি বলেন, সমাজের মধ্যে অনিয়ম ঢোকে। তা প্রতিহত করতে পদক্ষেপ নিতে হয়। এ কারণে কমিশন ভাবছে ইভিএমে ভোট নেয়া শুরু করবে। নির্বাচনের পরিবেশ ধীরে ধীরে অবনতির দিকে যাচ্ছে বলেও ওই অনুষ্ঠানে মন্তব্য করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার। তিনি বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু করতে কমিশনকে আচরণবিধি তৈরি করতে হয়, নির্বাচনে আইন প্রণয়ন করতে হয়, কঠোর পদক্ষেপ নিতে হয়।
তারপরও সামাল দেয়া যায় না। এমন অবস্থা থেকে উত্তরণ দরকার। খোদ প্রধান নির্বাচন কমিশনারের এমন বক্তব্যের পর মূলত দেশজুড়ে রাতে ভোটের বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসে। অনেকে প্রশ্ন করেন তাহলে, কমিশন কি অবাধ,  সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোটগ্রহণে নিজেদের অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরছে কি না? সিইসির এমন বক্তব্যের পাঁচ দিন পরই নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম আরেক অনুষ্ঠানে নির্বাচনে অনিয়ম ও কমিশনের অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরেন। গত ১৪ই মার্চ কিশোরগঞ্জে এক অনুষ্ঠানে কমিশনার রফিকুল ইসলাম বলেন, উপজেলা নির্বাচনে কোনো অনিয়ম সহ্য করা হবে না। প্রয়োজনে গুলি চলবে, ভোটগ্রহণ বার বার বন্ধ হবে। কিন্তু অনিয়ম মেনে নেয়া হবে না। কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মসূচির সমাপনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। রফিকুল ইসলাম বলেন, আমরা কোনো দলীয় সরকারের অধীনে নই।
আমরা সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কাছে দায়বদ্ধ। বিবেকের কাছে দায়বদ্ধ। তাই নিজের বিবেকের তাড়নায় সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের অংশীদার হোন। তিনি বলেন, ব্যালট যদি কেউ ছিনতাই করে আপনারা ঠেকানোর জন্য চেষ্টা করবেন। যদি ঠেকাতে না পারেন তাহলে নির্বাচন বন্ধ করে দিন। ভোট চুরি ঠেকাতে না পারলে আমার নির্বাচন করার দরকার নাই। যদি নির্বাচন চলার সময়ে কেউ স্ট্যাম্পিং করার চেষ্টা করে আমি কিন্তু আমার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশ দিচ্ছি জাস্ট ওপেন ফায়ার। তারপরও যদি না পারেন কী দরকার জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নির্বাচন করার, জাস্ট স্টপ, বন্ধ করে দেন আপনার নির্বাচন। এরপর আরো একজন নির্বাচন কমিশনার তার বক্তব্যে রাতে ভোট দেয়ার বিষয়ে বক্তব্য দেন।
সিইসি ও তার কমিশনের অন্য সদস্যদের বক্তব্যে জনমনে প্রশ্ন উঠে তাহলে ইসির কাজটা কি? এদিকে, উপজেলা নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে গত ১৮ই মার্চ ভোটগ্রহণ শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, আপনারা জানেন ভোটকেন্দ্রে যে সব অনিয়ম হয়ে থাকে তা রোধ করার জন্য নির্বাচন কমিশন বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করে থাকে। তার মধ্যে অন্যতম একটা পদক্ষেপ হলো ভোটে প্রযুক্তির ব্যবহার। আর দুই নম্বর হলো, যেখানে কেন্দ্রগুলো খুব কাছে সেখানে সকালে ব্যালট পেপার পাঠানোর ব্যবস্থা করছি। ইসি সচিব আরো বলেন, আর আমরা একটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি, সেটি হলো, আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে ব্যালট পেপারগুলো সকালে পাঠাব। এবং সকাল ৮টার পরিবর্তে সকাল ৯টায় ভোটগ্রহণ শুরু হবে। প্রিজাইডিং অফিসাররাও সকালে কেন্দ্রে যাবেন। যে যে কেন্দ্রগুলোতে সকালে ব্যালট পেপার পাঠানো সম্ভব সেখানে অবশ্যই সকালে পাঠানো হবে। হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, আগামী পৌরসভা নির্বাচনে সব কেন্দ্রে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার করার চিন্তা আমাদের আছে। ইভিএম সকালে কিংবা রাতে যখনই পৌঁছাবে অনিয়মের কোনো সুযোগ নেই।
কারণ সফটওয়্যারের ব্যবহারের ফলে নির্দিষ্ট সময়ের আগে ইভিএম মেশিন কোনো কাজ করবে না। এসব বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ ও নির্বাচন পর্যবেক্ষক তোফায়েল আহমেদ মানবজমিনকে জানান, আমরা জাতীয় নির্বাচন থেকেই বলে আসছি যে নির্বাচন ভালো হয় নাই। নির্বাচন কমিশন যে পুরোপুরিভাবে ব্যর্থ হয়েছে এতে কোনো সন্দেহ নেই। রাতে ভোট বলেন আর ভোটারহীন কেন্দ্র বলেন এর সম্পূর্ণ ব্যর্থতা নির্বাচন কমিশনের। জাতীয় নির্বাচনেরও আগ থেকে সকালে কেন্দ্রে ব্যালট পাঠানোর দাবি জানিয়েছিলাম আমরা। কমিশন তা আমলে নেয়নি। তবে রাতে ভোটের বিষয়টি স্বীকার করে নতুন করে সকালে কেন্দ্রে ব্যালট পাঠিয়েও খুব একটা লাভ হবে বলে মনে হয় না। কারণ আমরা ধীরে ধীরে আমাদের নির্বাচন পদ্ধতিটাকে নষ্ট করে ফেলেছি। নির্বাচন কমিশনের ব্যর্থতার কারণেই এমন সব হতে চলেছে। এবং ভোটাররা কমিশনের ওপর পুরোপুরি আস্থা হারিয়েছে। কেউ আর এখন কেন্দ্রে যেতে চাইছেন না।
এর দায়ভার ইসিকেও নিতে হবে। এক ঘণ্টা ভোটের সময় পিছিয়ে দিয়ে সকালে কেন্দ্রে ব্যালট পাঠালেও তেমন একটা লাভ হবে না বলে মন্তব্য এই নির্বাচন বিশেষজ্ঞের। তোফায়েল আহমেদ বলেন, নির্বাচন যেরকমভাবে চলছে সেভাবেই চলবে। এতে করে ভোটের পরিস্থিতি খুব একটা হেরফের হবে না। কারণ, প্রতিদ্বন্দ্বী দলের প্রার্থীরা এখন আর নির্বাচনে আসতে চাইছেন না। রাতের ভোট বন্ধ করার উদ্যোগে বড় জোর ভোটের হার কমবে। এর থেকে বেশি কিছু হওয়ার সম্ভাবনা দেখি না। সবচেয়ে বড় বিষয় মানুষ ভোটবিমুখ হয়ে গেছে। রাজনৈতিক ব্যবস্থার পরিবর্তন এর জন্য দায়ী। এখনকার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী ও কনটেস্টের প্রয়োজন হয় না। নির্বাচন কমিশন সে ধরনের পরিবেশ তৈরি করতে পারেনি। নির্বাচনের জন্য অসমতল পরিবেশ করাটা কমিশনের প্রধান কাজ, তারা সে কাজে ব্যর্থ হয়েছে।
খুব শিগগির এমন অবস্থার পরিত্রাণ ঘটবে বলেও মনে করছি না। এদিকে, সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াৎ হোসেন ভোটের আগের রাতে ব্যালট বাক্স ভরে রাখার ঘটনায় তদন্তের দাবি করেছেন। তিনি মনে করেন, সিইসি হয়তো ইভিএম-এর বৈধতার জন্য আগের রাতে ব্যালট বাক্স ভরে রাখার কথা বলেছেন। কিন্তু এখন প্রশ্ন উঠেছে আগের নির্বাচনে এরকম হয়েছে কি না। কারণ গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আগের রাতে ব্যালট বাক্স ভরে রাখা নিয়ে অভিযোগ এবং ব্যাপক আলোচনা হয়েছে। এখন নির্বাচন কমিশনের কাজ হলো এটা নিয়ে তদন্ত করা। তারা তো আর পরের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় থাকবেন না। তাদের এই তদন্ত প্রতিবেদন ধরে তখন যারা নির্বাচন পরিচালনা করবেন তারা ব্যবস্থা নিতে পারবে। আর যদি তদন্তে আগের রাতে ব্যালট বাক্স ভরে রাখার অভিযোগ প্রমাণ হয় তাহলে আইন ও সংবিধান অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।
এসব বিষয় নিয়ে জানতে চাইলে জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষণ পরিষদের (জানিপপ) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. নাজমুল আহছান কলিমুল্লাহ মনে করেন সিইসিসহ অনান্য নির্বাচন কমিশনাররা রাতে ব্যালট পেপারে সিল মারা নিয়ে যে বক্তব্য দিয়েছেন তা আসলে জনগণের ধারণা। তিনি মানবজমিনকে বলেন, আমাদের বুঝতে হবে বাস্তবে কি ঘটেছে আর পাবলিক পারসেপশন কি? আমি বলবো, পাবলিক পারসেপশন এরকম বলেই হয়তো নির্বাচন কমিশন সেখান থেকে পরিত্রাণ চায়। তারা সকালে ব্যালট পেপার পাঠিয়ে নির্বাচন করতে চাইছে। মূলত রাতে ভোট হয় এরকম পাবলিক পারসেপশন যাতে আর না থাকে সেজন্য এসব বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়ার কথা বলতে গিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এমন বক্তব্য দিয়েছেন।

ক্রাইস্টচার্চ হামলা: দুই মিনিট স্তব্ধ নিউজিল্যান্ড, সংহতি অস্ট্রেলিয়ারও

শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদে বিশ্বাসী ব্রেন্টন ট্যারেন্ট ক্রাইস্টচার্চের যে মসজিদে হামলা করে মুসলিম-বিদ্বেষ উস্কে দিতে চেয়েছিলেন, মাত্র সাতদিনের ব্যবধানে সেই মসজিদেই নতুন উদ্যমে সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়েছেন হাজারো মানুষ। ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে ২০ হাজারেরও বেশি মানুষ গতকাল ক্রাইস্টচার্চের আল নুর মসজিদ প্রাঙ্গণে জড়ো হয়ে মুসলিমদের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করেছেন। নিজেরা পাহারা দিয়ে হাজারো মুসল্লিকে নির্বিঘ্নে জুমার নামাজ আদায় করার সুযোগ দিয়েছেন। এমনকি মুসল্লিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এগিয়ে আসে কিউই বাইকারদের একটি দল। তারা নামাজরত মুসল্লিদের ঘিরে টহল দিতে থাকে। প্রধানমন্ত্রী জাসিন্দা আরডেনসহ শোক অনুষ্ঠানে অংশ নেয়া নারীরা মুসলিম বিধান অনুসারে তাদের মাথা ঢেকে রাখেন। ক্রাইস্টচার্চে নিহতদের প্রতি সম্মান দেখাতে পুরো দেশে ২ মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। শুধু নিউজিল্যান্ডই না, একই রকম শোক পালন করা হয়েছে অস্ট্রেলিয়াতেও।
গতকাল অস্ট্রেলিয়ার মসজিদ থেকে আজানের ধ্বনি আসার সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় অধিবাসীরা ক্রাইস্টচার্চে নিহতদের সম্মানে দাঁড়িয়ে যান। এমনকি যারা বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত ছিলেন, তারাও নিউজিল্যান্ডের অনুকরণে ২ মিনিট নীরবতা পালন করেন। 
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, ক্রাইস্টচার্চের মসজিদে সন্ত্রাসী হামলার পর গতকাল সেখানে হাজার হাজার মুসল্লি জুমার নামাজে অংশ নিয়ে সে ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছেন। শুধু মুসল্লিরা নয় তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও সহমর্মিতা জানাতে সেখানে উপস্থিত ছিল নিউজিল্যান্ডের হাজারো অধিবাসী। গত শুক্রবার নিহত হওয়া ৫০ জনের স্মরণে ২ মিনিট নীরবতা পালন করেন তারা। উপস্থিত প্রায় ২০ হাজার মানুষের মধ্যে হ্যাগলি পার্কে বক্তৃতা দেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী জাসিন্দা আরডেন। আল-নুর মসজিদের সামনে যখন তিনি বক্তৃতা দিচ্ছিলেন তখন সেই সমাবেশ জুড়ে ছিল পিনপতন নীরবতা।
নিউজিল্যান্ডের ঘটনায় নিহতদের বেশিরভাগই ছিল শরণার্থী কিংবা অভিবাসী। তাদের মধ্যে রয়েছে পাকিস্তান, ভারত, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, তুরস্ক, সোমালিয়া, আফগানিস্তান ও বাংলাদেশের নাগরিক। বক্তব্যের শুরুতেই নিহতদের পরিবারের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী আরডেন বলেন, নিউজিল্যান্ডের সব মানুষ আপনাদের সঙ্গে শোকাহত। আমরা আজ এক।
নামাজের ইমামতি করা ইমাম গামাল ফৌদা সমাবেশে বলেন, আমাদের হৃদয় ভেঙে গেছে কিন্তু আমরা ভেঙে পড়িনি। আমরা এখনো বেঁচে আছি, একসঙ্গে। আমরা কাউকে আমাদের মাঝের এ বন্ধন ভাঙতে দেব না। তার বক্তব্যের সমর্থনে উপস্থিত মানুষ সবাই হাত তুলে ঐক্য প্রদর্শন করে। তিনি আরো বলেন, যারা স্বজন হারিয়েছেন তাদের বলতে চাই আপনি যাকে ভালোবাসতেন তাদের রক্ত বৃথা যায়নি। সেই রক্ত আশার বীজ রোপণ করেছে। জুমার নামাজ হতে শুরু করে সমাবেশ ও নীরবতা পালন পর্যন্ত নিউজিল্যান্ডের রাষ্ট্রীয় চ্যানেল ও রেডিওতে সমপ্রচার করা হয়েছে।
নিউজিল্যান্ড জুড়ে প্রায় ১০ হাজার মানুষ মানববন্ধন করে মুসল্লিদের প্রতি সংহতি জানিয়েছেন। একইসঙ্গে দেশটির স্কুল, ক্যাফে এমনকি অফিসেও নিহতদের জন্য আলাদা আলাদা প্রার্থনা করা হয়েছে। ক্রাইস্টচার্চে ৩০ মৃতদেহ দাফন করা হয়েছে। নিউজিল্যান্ডের মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মুসল্লি বলেন, এটি এক বিশেষ বেহেস্ত। এখানে আমরা প্রতিদিন লাশ দাফন করি না। প্রতিদিন আমরা আমাদের ২৭ ভাই-বোনকে কবর দেই না। প্রথমে কবর দেয়া হয় নায়িম রাশিদ নামের একজনকে। তিনি ওই হামলাকারীকে আটকাতে গিয়ে নিহত হয়েছিলেন।
হামলাকারী ব্রেনটন ট্যারেন্ট (২৮) একজন সন্দেহভাজন শেতাঙ্গ আধিপত্যবাদী। বর্তমানে সে রিমান্ডে রয়েছে। আগামী ৫ই এপ্রিল তাকে আদালতে হাজির করা হবে। ধারণা করা হচ্ছে তখন তার বিরুদ্ধে আরো অভিযোগ আনা হবে।
টিভি-রেডিওতে আজান ও নামাজ সরাসরি প্রচার, ২ মিনিট নীরবতা পালন: গতকাল ক্রাইস্টচার্চের সেই মসজিদে মুসল্লিদের ঢল নামে। এ সময় মুসলিমদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে স্থানীয় সময় দুপুর দেড়টার দিকে আজান এবং জুমার নামাজ রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন এবং রেডিওতে সরাসরি সমপ্রচার করা হয়েছে। একইসঙ্গে রাষ্ট্রীয়ভাবে হতাহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দুই মিনিট নীরবতাও পালন করেছে নিউজিল্যান্ডের মানুষ। এমনকি রেডিও, টেলিভিশনেও দুই মিনিট সম্প্রচার বন্ধ রাখা হয়। গতকাল আল নুর মসজিদের কাছে হ্যাগলি পার্কে সমবেত হন হাজার হাজার মানুষ। তারা মুসলিমদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন। সেখানে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী জাসিন্দা আরডেনও। মুসলিম সম্প্রদায়কে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, নিউজিল্যান্ড আপনাদের দুঃখে ব্যথিত।
জুমার নামাজের ইমামতি করেন ইমাম গামাল ফৌদা। ওই সময় তিনি বলেন, বন্দুকধারী বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের হৃদয় ভেঙে দিয়েছে। আজ একই জায়গা থেকে তাকিয়ে মানুষের ভালোবাসা ও সহানুভূতি দেখতে পাচ্ছি। আমাদের হৃদয় ভেঙেছে। কিন্তু আমরা ভেঙে পড়িনি। আমরা বেঁচে আছি, আমরা একসঙ্গে আছি। আমাদের মধ্যে বিভক্তি আনতে দেব না কাউকে।
প্রধানমন্ত্রীর হাদিস পাঠ: গতকাল ক্রাইস্টচার্চে আবেগঘন বক্তৃতা করেছেন প্রধানমন্ত্রী জাসিন্দা আরডেন। মুসলিমদের প্রতি সহমর্মিতা দেখিয়ে তিনি মহানবী হজরত মুহম্মদ (সা.) এর হাদিসের উদ্ধৃতি দেন। মাথায় ওড়না পরিহিতা আরডেন পাঠ করেন- ‘নবী মুহম্মদ (সা.) বলেছেন, মুসলিমরা এক শরীরের মতো। যখন শরীরের কোনো অংশ আক্রান্ত হয়, পুরো শরীর তার ব্যথা অনুভব করে।’ তেমনি আপনাদের ওপর হামলায় গোটা নিউজিল্যান্ড শোকাহত। আমরা আজ এক। প্রধানমন্ত্রীর এই আবেগঘন বক্তৃতা বিশ্ববাসীর হৃদয়ে দাগ কেটেছে। স্থানীয় অধিবাসী জন ক্লার্ক বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বার্তা খুবই পরিষ্কার। আমরা নিজেদের উদার সম্প্রদায় মনে করি। কিন্তু আমরা জানি যে, এখানে অন্ধকারাচ্ছন্ন অংশও আছে। প্রধানমন্ত্রীর বক্তৃতা এর ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বিশ্বকে এখনো অনেক কিছু দেয়ার আছে।
৩০ জনের দাফন: আল নুর মসজিদে বন্দুকধারীর হামলায় নিহতের এক সপ্তাহ পর গতকাল ৩০ জনের মরদেহ দাফন করা হয়। গতকাল এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাদের দাফন প্রক্রিয়া চলছিল। এদের মধ্যে হত্যাকাণ্ডের সর্বকনিষ্ঠ শিকার তিন বছরের মুকাদ ইবরাহীদের মরদেহও রয়েছে।
হিজাব পরে সংহতি প্রকাশ: গতকাল দর্শনার্থীদের জন্য আল নুর মসজিদ উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। সেখানে জড়ো হন হাজার হাজার মানুষ। তারা শোকাহত ও আতঙ্কিত মুসলিমদের সমবেদনা জানান। মুসলিম না হওয়ার পরেও অনেক নারী ইসলামী বিধান অনুসরণ করে মাথায় ওড়না বা হিজাব পরে আসেন। আর খোদ প্রধানমন্ত্রী জাসিন্দা আরডেন তো বেশিরভাগ সময়ই মাথায় ওড়না পরছেন। শোক অনুষ্ঠানে অংশ নেয়া মেলোডি নামের এক নারী বলেন, ‘একাত্মতা প্রকাশের জন্য আজ এটা পরেছি। শুধু আমি না, আমার মতো আরো হাজারো নারী মাথা ঢেকে এসেছেন। আমরা মুসলিমদের সঙ্গে সমব্যথী।’
আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, নিউজিল্যান্ডের বিভিন্ন শহর থেকে মানুষ ক্রাইস্টচার্চের আল নুর মসজিদ প্রাঙ্গণে জড়ো হন। এমনকি অনেকে নিউজিল্যান্ডের বাইরে বিভিন্ন দেশ থেকেও এসছেন। গতকাল সেখানে জুমার নামাজের সময় মুসল্লিদের ঘিরে একটি বড় বেষ্টনী তৈরি করা হয়। মুসল্লিদের জুতা দিয়ে জমায়েতের চতুর্পাশে অস্থায়ী রেখা তৈরি করা হয়। মুসল্লি ব্যতীত বাকি সবাই জুতা দিয়ে তৈরি ওই রেখার বাইরে অবস্থান করে। এর মাধ্যমে বার্তা দেয়া হয়- আপনারা নামাজ আদায় করুন। আমরা আপনাদের নিরাপত্তায় আছি।
অকল্যান্ড থেকে গতকালের নামাজ ও এর পূর্ববর্তী শোক সভায় যোগদানকারী ইমরান খান জানান, তার বন্ধু আশরাফ আজাদ নিহত ৫০ জনের একজন। যারা সন্ত্রাসী হামলায় নিহত হয়েছেন। তার পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশের জন্য এখানে আসা জরুরি ছিল। তিনি বলেন, অন্যান্য সম্প্রদায়ের মানুষের কাছ থেকে আমরা যে সহানুভূতি পাচ্ছি, এটা অবিশ্বাস্য। এতে প্রমাণ হয় যে, ধর্মই সব না। ভালোবাসা ও একতাই বড় বিষয়, যার ওপর মানুষের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। স্থানীয় মুসলিম অধিবাসী আহমেদ ওসমানসহ অন্যরা বলছেন, গতকালের বিশাল অনুষ্ঠান ও গণজমায়েতই প্রমাণ করে যে, বন্দুকধারী আসলে ব্যর্থ হয়েছেন। সামাজিক বিভেদ তৈরির যে উদ্দেশ্য নিয়ে সে হামলা চালিয়েছে, তা সে অর্জন করতে পারেনি। আমাদের জন্য আজ বিশেষ দিন। ক্রাইস্টচার্চের মানুষ একতাবদ্ধ থাকবে।

হৃদয় ভেঙেছে কিন্তু আমরা ভেঙে পড়িনি -আবেগময়ী ভাষণে ক্রাইস্টচার্চের ইমাম by শাহিদুল ইসলাম

ঠিক এক সপ্তাহ আগে শুক্রবারে জুমার নামাজের সময়ই ক্রাইস্টচার্চের আল-নূর মসজিদে সন্ত্রাসবাদী হামলায় নিহত হন ৫০ জন মুসলিম নারী-পুরুষ ও শিশু। তার ঠিক এক সপ্তাহ পরে সেই মসজিদ ঘিরে জড়ো হয়েছিলেন হাজার হাজার মানুষ। শুধু মুসলিমরা নন, নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে নানা জাতি-ধর্মের মানুষের ঢল নেমেছিল সেখানে। ক্রাইস্টচার্চের  দু’টি মসজিদে হামলায় নিহতদের স্মরণে নিউজিল্যান্ড জুড়েই দুই মিনিটের নীরবতা পালন করা হয়।
আল-নূর মসজিদে হাজার হাজার মানুষের সামনে ইমাম জামাল ফাওদা যে বক্তৃতা দেন, সেটি আলোড়িত করেছে সব মানুষকে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সে তার বক্তব্যের বিস্তারিত প্রকাশ করেছে। ইমাম জামাল ফাওদার বক্তব্যের উল্লেখযোগ্য অংশ:
গত শুক্রবার আমি এ মসজিদটিতে দাঁড়িয়েছিলাম এবং সন্ত্রাসীর চোখে মুখে ঘৃণা ও ক্ষোভ দেখেছি। এতে ৫০ জন মানুষ নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন ৪২ জন আর বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ মানুষের মন ভেঙে গেছে। আজ সেই একই জায়গায় দাঁড়িয়ে যখন চারপাশে তাকিয়েছি, তখন নিউজিল্যান্ড ও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত  থেকে আসা হাজার হাজার মানুষের চোখে ভালোবাসা ও সহানুভূতি দেখেছি। এতে আরও লাখ লাখ মানুষের হৃদয় ভরে গেছে, যারা আমাদের সঙ্গে এখানে শারীরিকভাবে নেই, কিন্তু তাদের আত্মা আমাদের সঙ্গেই আছে।
সন্ত্রাসী আমাদের দেশকে তার অশুভ মতাদর্শ দিয়ে বিভক্ত করে দিতে চেয়েছিল।
কিন্তু তার বদলে আমরা তাকে দেখিয়ে দিতে পেরেছি যে, নিউজিল্যান্ড ভেঙে টুকরো হয়ে যায়নি। বরং বিশ্ব আমাদের ভালোবাসা আর ঐক্যের উদাহরণ হিসেবে দেখছে। আমাদের মন ভেঙে গেছে, কিন্তু আমরা ভেঙে পড়িনি। আমরা বেঁচে আছি। আমরা ঐক্যবদ্ধ। আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ যে কেউ আমাদের বিভক্ত করতে পারবে না। শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদের অশুভ এই মতাদর্শের প্রথম শিকার আমরা হইনি, কিন্তু তবু তা আমাদের ভীষণভাবে আঘাত করেছে। নিহত মানুষের সংখ্যা হয়তো অসাধারণ নয় বরং নিউজিল্যান্ডের মানুষের যে সংহতি আমাদের সঙ্গে তা অসাধারণ।
এই হামলায় যারা হতাহত হয়েছেন, তাদের পরিবারকে বলছি আপনাদের স্বজনের মৃত্যু বৃথা যায়নি। আশার বীজে জল সঞ্চার করেছে তাদের রক্ত। তাদের মাধ্যমে বিশ্ববাসী ইসলাম এবং আমাদের ঐক্যের সৌন্দর্য দেখতে পাবেন। আল্লাহ্‌র রাস্তায় গিয়ে যাদের মৃত্যু হয়েছে, দয়া করে বলবেন না তারা মৃত, তারা বেঁচে আছে, তাদের প্রভুর কাছে আনন্দে আছে।
আপনাদের হারিয়ে নিউজিল্যান্ডের ঐক্য ও শক্তি জোরদার হয়েছে। কিন্তু আপনাদের চলে যাওয়াটা যেন নিউজিল্যান্ড এবং বিশ্ব মানবতার জন্য একটি সতর্কবার্তা ছিল।
ইসলামোফোবিয়া বা ইসলাম বিদ্বেষ হন্তারক। মুসলমানেরা আগেও এর শিকার হয়েছে। কানাডা, নরওয়ে, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশেই ইসলাম বিদ্বেষের শিকার হয়েছেন অনেক মানুষ।
কিন্তু ইসলাম বিদ্বেষ খুবই বাস্তব। এ মতাদর্শ মানুষের মানবতা ভুলে অযৌক্তিকভাবে মুসলমানদের সম্পর্কে ভীতি ছড়ায়। আমরা কী কাপড় পরি, কোন ধরনের খাবার খাই, যেভাবে আমরা নামাজ পড়ি আর যেভাবে নিজেদের বিশ্বাস আমরা লালন করি, তা সম্পর্কে ভীতি ছড়ায়। আমরা নিউজিল্যান্ডের সরকার এবং আশপাশের প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছে আহ্বান জানাই হেটস্পিচ বা হিংসাত্মক বক্তৃতা ও ভয়ের রাজনীতির ইতি টানার জন্য যেন উদ্যোগ নেয়া হয়।
শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদের উত্থান এবং ডানপন্থী প্রতিক্রিয়াশীলতা বিশ্ব মানবতার জন্য বিরাট এক হুমকি এবং এর অবসান এক্ষুনি হতে হবে।
ইমাম তার বক্তব্যে গত শুক্রবারের ঘটনায় হতাহতদের প্রতি নিউজিল্যান্ডের মুসলমান ও অমুসলমানদের ভালোবাসা এবং চোখের জলের জন্য ধন্যবাদ জানান। নিউজিল্যান্ডের মানুষ মুসলমানদের সাথে সংহতি জানিয়ে যে ঐতিহ্যবাহী হাঁকা নৃত্যের আয়োজন করেছে সেজন্য ধন্যবাদ জানান।

ডাকসুর নেতৃত্ব দেবেন নুর, থাকবেন আন্দোলনেও

দীর্ঘ ২৮ বছর পর অনুষ্ঠিত হওয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী নতুন নেতৃত্বের প্রথম কার্যকরী পরিষদ সভা আজ। সকাল ১১টায় কেন্দ্রীয় সংসদের সভা ভিসির কার্যালয় সংলগ্ন আবদুল মতিন ভার্চুয়াল ক্লাসরুমে এবং হল সংসদের সভা স্ব স্ব হলের প্রাধ্যক্ষের কক্ষে অনুষ্ঠিত হবে। এদিকে নির্বাচনে নানা অনিয়মের অভিযোগ এনে পুনঃনির্বাচনের দাবি করা ভিপি নুরুল হক নুর দায়িত্ব গ্রহণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে দায়িত্ব গ্রহণ করলেও পুনঃনির্বাচনের দাবির যে আন্দোলন সে আন্দোলনে সম্পৃক্ত থাকার কথা জানিয়েছেন তিনি। গতকাল মধুর ক্যান্টিনে এক সংবাদ সম্মেলনে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের প্ল্যাটফরম ‘বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ’র আহ্বায়ক হাসান আল মামুন বলেন, ‘ডাকসু নির্বাচনে নির্বাচিত ভিপি নুরুল হক নুর ও সমাজসেবা বিষয়ক সম্পাদক আখতার হোসেনের দায়িত্ব গ্রহণের বিষয়ে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ নীতিগতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশির ভাগ শিক্ষার্থীর মেনডেটকে প্রাধান্য দিয়েই দায়িত্ব নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়।’ নুর এবং আখতার ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- ডাকসু ভিপি ও বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হক নুর, যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খান, যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক হোসেন, ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক আখতার হোসেন প্রমুখ। এ সময় ভিপি নুরুল হক নুর বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের চাওয়া-পাওয়াকে প্রাধান্য দিয়ে আগামীকাল অনুষ্ঠেয় ডাকসুর কার্যকরী সভায় আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করবো। পুনঃনির্বাচনের দাবিসহ শিক্ষার্থীদের অন্য যেসব সমস্যা রয়েছে, সেগুলো সমাধান করতে আমাদের নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রাম চলবে।
পুনঃনির্বাচনের চাওয়া আমাদের বরাবরের মতোই রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনিয়ম এবং ডাকসু নির্বাচনের অনিয়মের বিরুদ্ধে আন্দোলনকে আরো বেগবান করার জন্য আমরা দায়িত্ব নিচ্ছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের যেসব অঙ্গসংগঠন বা কথা বলার জায়গা রয়েছে, সেসব জায়গায় অনিয়ম নিয়ে কথা বলতেই আমরা দায়িত্ব নিচ্ছি।’ তিনি বলেন, ‘আমরা দেখেছি জাতীয় নির্বাচনের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে যখন মানুষের মধ্যে ভোটের প্রতি অনাস্থা ও বিরূপ ধারণার চিত্র ফুটে উঠেছে, মানুষ ভোট কেন্দ্রে যাচ্ছে না কিংবা একজনের ভোট আরেকজন দিয়ে দিচ্ছে সেরকম একটা পরিস্থিতিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচন হয়েছে। সে জায়গা থেকে সমগ্র জাতির প্রত্যাশা ছিল এই বিশ্ববিদ্যালয় এমন একটি নির্বাচন হবে যেটি পরবর্তীতে জাতীয় রাজনীতির ক্ষেত্রে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। কিন্তু খুব হতাশার সঙ্গে লক্ষ্য করলাম, শুধু আমরা নয় সমগ্র জাতি দেখেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটা প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন হয়েছে।
আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশ্নবিদ্ধ হলে পুরো বাংলাদেশ প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।’ এ সময় তিনি রোকেয়া হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক জিনাত হুদার আবারো পদত্যাগ দাবি করেন। বলেন, ‘নির্বাচনের দিন রোকেয়া হলের প্রাধ্যক্ষ ম্যাম আমিসহ অন্যান্য প্রার্থী ও সাধারণ ছাত্রীদের সঙ্গে যে আচরণ করেছেন তা শিক্ষকসুলভ ছিল না। নৈতিকতার জায়গা থেকে তিনি প্রাধ্যক্ষ থাকতে পারেন না। আমি তার পদত্যাগ দাবি করছি।’ দেশের সব কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচন দাবি করে নুরুল হক নুর বলেন, ‘দীর্ঘদিন ছাত্র সংসদ নির্বাচন না হওয়ায় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে মেধাভিত্তিক সুস্থধারার ছাত্র রাজনীতির পরিবর্তে অর্থ ও পেশীশক্তি নির্ভর অপরাজনীতির বিকাশ ঘটেছে। সেই জায়গা থেকে আমরা বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে অতি দ্রুত ছাত্র সংসদ নির্বাচনের আহ্বান জানাই।’ তিনি বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচটি ছাত্রী হল আর বিজয় একাত্তর হল ছাড়া অন্য হলগুলো প্রশাসন যেন ক্ষমতাসীন ছাত্রসংগঠনের কাছে ইজারা দিয়েছে। যে মেধা অনুযায়ী শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেয়েছে, সেই মেধা ও অর্থনৈতিক অবস্থা দেখেই হলে তাদের আসন নিশ্চিত করতে হবে।
কোনো শিক্ষার্থীকে জোর করে মিছিল-মিটিং করানো যাবে না এবং রাজনৈতিক বিবেচনায় কাউকে হলে সিট দেয়া যাবে না।’ সংবাদ সম্মেলনে ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক ও ডাকসুতে এজিএস পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ফারুক হোসেন বলেন, ‘সাধারণ শিক্ষার্থীরা নুরুল হককে ভিপি পদে নির্বাচিত করেছে। আমরা তিন দিন ধরে শিক্ষার্থীদের মোটিভ ও মতামত জানার চেষ্টা করেছি। অধিকাংশ শিক্ষার্থী মনে করে, নুরের দায়িত্বভার গ্রহণ করা উচিত। কলঙ্কিত নির্বাচন বাতিল করে পুনঃনির্বাচনের দাবিতে যে আন্দোলন চলছে, তাকে ত্বরান্বিত করার জন্য নুরের দায়িত্ব নেয়া উচিত। এ ছাড়া, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অন্যান্য সমস্যা সমাধানেও তিনি কাজ করে যাবেন।’

মাদুরো এক সময়ে ইসলাম গ্রহণ করবেন: তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত চাভুসওগ্লু বলেছেন, ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এক সময়ে ইসলাম গ্রহণ করবেন বলে প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন। গত বছর চাভুসওগ্লু'র সঙ্গে বৈঠকের সময়ে এ প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন তিনি। ওসমানিয়া সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতাকে নিয়ে নির্মিত একটি টিভি সিরিজ দেখার পর এ প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছিলেন মাদুরো।
তুরস্কের আলিনিয়া শহরে অবস্থিত আলাদ্দিন কেইকুবাত বিশ্ববিদ্যালয়ে আজ ভাষণ দেয়ার সময় এ কথা জানান চাভুসওগ্লু। ভেনিজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে মাদুরোর সঙ্গে আলাপ হয়েছিলো বলে জানান তিনি। আলাপের সময়ে ওই টিভি সিরিজ নিয়ে ইতিবাচক মন্তব্য করছিলেন মাদুরো।
ভেনিজুয়েলার বিরোধী নেতা ও স্বঘোষিত প্রেসিডেন্ট হুয়ান গুয়াডোর সঙ্গে মাদুরোর টানাপড়েন তুঙ্গে তখন এ মন্তব্য প্রকাশ করলেন তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

মুনমুন সেন আশাবাদী by পরিতোষ পাল

মহানায়িকা সুচিত্রা সেনের কন্যা তিনি। মায়ের নামকে সম্বল করেই মুনমুন সেন ওরফে শ্রীমতী দেববর্মা নতুন কেন্দ্র আসানসোলে ভোটের প্রচার শুরু করেছেন। গতবার বাঁকুড়া কেন্দ্রে প্রার্থী হিসেবে প্রচারেও সুচিত্রা সেনের কন্যা হিসেবেই নিজেকে তুলে ধরেছিলেন। এবার আসানসোলে পা দিয়ে মুনমুন প্রথমেই স্বীকার করে নিয়েছেন, আসানসোল সম্পর্কে বিশেষ কিছু জানেন না। ফলে তার ভরসা দলের জেলা নেতৃত্ব। সেই সঙ্গে দলের কর্মিসভায় মুনমুন একটিই আবেদন রেখেছেন, সব দ্বন্দ্ব দূরে সরিয়ে আসুন আমরা একসঙ্গে কাজ করি। আসলে গতবার আসানসোল কেন্দ্রে পরাজয়ের প্রধান কারণ ছিল দলীয় গোষ্ঠী কোন্দল। সেটা মুনমুন জানেন বলেই সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার বার্তা দিয়েছেন প্রথমেই।
সেই সঙ্গে জানিয়েছেন, তৃণমূল কংগ্রেস খুবই সংগঠিত দল। ফলে দলীয় নেতাদের সঙ্গে নিয়ে ঘরে ঘরে পৌঁছে যাবেন সহজেই। বলেছেন, বাঁকুড়ার মানুষ জানে, আমি তাদের জন্য কী করেছি। তবে আসানসোলে আমাকে আরো পরিশ্রম করতে হবে। এই কেন্দ্রের উন্নয়নের গতিকে ত্বরান্বিত করার সুযোগও রয়েছে। আমি জিতে সেই কাজটিই করতে চাই।
গতবার বাঁকুড়া কেন্দ্র থেকে সিপিআইএমের জাঁদরেল প্রার্থী বাসুদেব আচারিয়াকে পরাজিত করেছিলেন রাজনীতিতে নবাগতা অভিনেত্রী মুনমুন সেন। কিন্তু এবার তাকে প্রার্থী করা হবে কিনা তা নিয়ে বিস্তর গুঞ্জন তৈরি হয়েছিল। দলের মধ্যেও মুনমুন সেনকে নিয়ে ক্ষোভ পুঞ্জীভূত হয়েছিল। সাধারণ মানুষের অভিযোগ, সেলিব্রিটি হওয়ায় তাকে বিপদে আপদে খুব একটা পান নি। তাকে নিয়ে যে দলের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে সেটা মুনমুনের কানেও গিয়েছিল। সংসদে এলাকার বিভিন্ন দাবির কথা যেমন তোলেন নি, তেমনি বিতর্ক ও প্রশ্ন পর্বেও মুনমুন গত ৫ বছরে অংশ নেননি। অবশ্য সাংসদ তহবিলের প্রায় সবটা অর্থই খরচ করে উন্নয়নের কাজ করেছেন। কিছুদিন ধরেই মিডিয়াতে যেভাবে বলা হচ্ছিল যে, দেব বাদে সব সেলিব্রিটি প্রার্থীদেরই বাদ দেয়া হবে- তা শুনে মুনমুন ব্যথিতই হয়েছিলেন। তবে মুম্বই থাকাকালীনই স্বামী ভরত দেববর্মণ ফোনে তাকে জানান যে, দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
তাকে ফের প্রার্থী করেছেন। অবশ্য কেন্দ্র বদল করে তাকে নিয়ে আসা হয়েছে আসানসোলে। খবরটা জানার পর মুনমুন কি করে উঠবেন তা ভেবে পাননি। পরে ঠিক করেছেন, দিদি যখন আস্থা রেখেছেন তখন তিনি আসানসোল থেকেই লড়াই করবেন। আসানসোল অবশ্য বিজেপির জয়ী আসন। এই কেন্দ্র থেকে গতবার জয়ী হয়েছেন বিজেপির সেলিব্রিটি প্রার্থী গায়ক বাবুল সুপ্রিয়। এবারও তিনিই এই কেন্দ্রে প্রার্থী হবেন বলে ঠিক রয়েছে। তাই বাবুলের বিরুদ্ধে তার লড়াইটা যে চ্যালেঞ্জ সেটা মুনমুন জানেন। তবে আত্মপ্রত্যয় রেখেই বলেছেন, আমি এই কেন্দ্র থেকে জিতবোই। রোববার মুম্বই থেকে কলকাতা বিমানবন্দরে পা দিয়ে সোজা চলে যান আসানসোলে। সেখানে কল্যাণেশ্বরী মন্দিরে পুজো দিয়ে শুরু করেছেন প্রচার। সেলিব্রিটি বলেই তাকে ঘিরে সহজেই মানুষের ভিড় তৈরি হচ্ছে।  কেন্দ্র পরিবর্তন নিয়ে মুনমুনের সাফ জবাব, দিদি চান, তাই আসানসোলে এসেছি। আসানসোলের বিশেষ কিছু জানি না। কিছু কয়লাখনি আছে বলে জানি। এক সময় এখানে অনেক অনুষ্ঠান করেছি। কাজ করতে এসেছি। তবে আমি জিতবোই।
বাংলা চলচ্চিত্রে মহানায়িকা সুচিত্রা সেনের কন্যা হয়েও অভিনয়ে তার পদার্পণ ঘটেছিল বিয়ের পর। বাংলা, হিন্দি সহ অনেক দক্ষিণী চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। টিভি ধারাবাহিকেও অভিনয় করেছেন। তবে অন্য অভিনেত্রীদের মতো গ্ল্যামার কুইন না হয়ে উঠলেও সুচিত্রার কন্যা হিসেবে আলাদা আভিজাত্য ছিল মুনমুনের। সুচিত্রার মৃত্যুর আগে হাসপাতালে থাকাকালীন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। সুচিত্রার চিকিৎসার জন্য মমতা যেভাবে হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন তাতে মুনমুন কৃতজ্ঞ। এই কৃতজ্ঞতার জন্যই ২০১৪ সালে প্রার্থী হওয়ার প্রস্তাবে মুনমুন না বলতে পারেন নি। প্রথম নির্বাচনেই সিপিআইএমের ৯ বারের সাংসদকে পরাজিত করে হৈচৈ ফেলে দিয়েছিলেন। অন্যদের মতো মুনমুন ভোকাল নন। কথা বলেন বিনীতভাবে। নেপথ্যে থাকতেই বেশি পছন্দ করেন। রাজনীতির ক্ষেত্রে যা অনেকটাই বেমানান। আসানসোল কেন্দ্রে প্রচার শুরু করে গতবারের বিজয়ী প্রার্থী বিজেপির বাবুল সুপ্র্রিয়কে নিয়ে কোনো কথাই বলেন নি। সাংবাদিকদের পীড়াপীড়িতেও বাবুল সম্পর্কে কোনো রাঁ করেন নি। অথচ মুনমুন সেনকে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণার পরেই বাবুল টুইট করে লিখেছিলেন, নির্বাচনে মমতাদি সবসময়ই আমাকে সেনসন্যাল প্রার্থী উপহার দেন। আগের বার দিয়েছিলেন দোলা সেন, এবার মুনমুন সেন। বাবুলের এই কটাক্ষ শুনে তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী বাবুলকে আনকালচারড বললেও মুনমুন কোনো মন্তব্য করেন নি। বরং বিনয়ীই থেকেছেন। দলীয় সহ প্রার্থী শতাব্দী রায়ের মত প্রচারে ঝড় তোলার চেয়ে মুনমুন ধীর লয়েই চলতে আগ্রহী। বিতর্ক এড়িয়ে চলতেও আগ্রহী। কেন্দ্র চেনার দিকেই প্রথমে তিনি জোর দিয়েছেন। ভোটারদের কাছে তার একটিই আবেদন, আমাকে ভালোবেসে ভোট দিন। মহানায়িকার কথাও মনে করিয়ে দিয়েছেন ভোটারদের। সুচিত্রার দুই নাতিও যে এই কেন্দ্রে প্রচারে থাকবেন সেটাও প্রকাশ্যে জানিয়ে দিয়েছেন। মমতাদির ক্যারিশমার পাশাপাশি মা ও মেয়েদের ক্যারিশমাকেও মুনমুন কাজে লাগানোর জন্য তৈরি। তিনি বলেছেন, কোনো দিন তার অভিনেত্রী দুই মেয়ে রিয়া ও রাইমাও রাজনীতিতে আসবে। তার আগে গতবারের মতো এবারও মায়ের নতুন কেন্দ্রে ঝড় তুলবেন দুই কন্যা।

আবরারের মা–বাবাকে প্রধানমন্ত্রীর সান্ত্বনা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাসচাপায় নিহত বিশ্ববিদ্যালয়ছাত্র আবরার আহমেদ চৌধুরীর মা-বাবাকে সান্ত্বনা দিয়েছেন। আবরারের মা–বাবা শুক্রবার রাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবনে সাক্ষাৎ করতে যান।
প্রধানমন্ত্রীর উপ–প্রেসসচিব সাখাওয়াত মুন বাসসকে বলেন, আবরারের বাবা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আরিফ আহমেদ চৌধুরী ও মা ফরিদা ফাতেমী আজ রাত সোয়া ৮টার দিকে গণভবনে যান এবং সেখানে তাঁরা প্রায় এক ঘণ্টা অবস্থান করেন।
উপপ্রেসসচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রী আবরারের মা-বাবাকে সান্ত্বনা দেন এবং তাঁদের সন্তানের মর্মান্তিক মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করেন।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল মিয়া মোহাম্মদ জয়নুল আবেদীন ও আবরারের ভাই এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র আবরার মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার কাছে নর্দ্দায় সুপ্রভাত পরিবহনের একটি বাসের চাপায় নিহত হন।

শত শত লোকের সামনে তিনি ডুবে গেলেন

শত শত লোকের সামনে মো. হানিফ নামের এক ব্যক্তি লঞ্চ থেকে মেঘনা নদীর অথই পানিতে পড়ে গেলেন। অনেকে মোবাইল ফোনে সেই ছবি তুলেছেন, ভিডিও করেছেন। কেউবা আবার ছবি কিংবা ভিডিও পোস্ট করেছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে। হানিফের পানিতে তলিয়ে যাওয়ার করুণ দৃশ্য দেখে অনেকে হাহুতাশ করেছেন। কিন্তু তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে কেউ বাঁচাতে আসেননি। বৃহস্পতিবার ভোলা জেলার চরফ্যাশন উপজেলার বেতুয়া লঞ্চঘাটে এ ঘটনা ঘটে। শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত তাঁর কোনো খোঁজ মেলেনি।
নিখোঁজ হানিফের (৬৮) বাড়ি চরফ্যাশন উপজেলার জিন্নাগড় ইউনিয়নের পশ্চিম জিন্নাগড় গ্রামে। হানিফ তাঁর ছেলের ঘরের নাতি মো. রাকিবকে (৬) নিয়ে লঞ্চে উঠে ঢাকার কেরানীগঞ্জে মেয়ের বাসায় যাচ্ছিলেন। তাঁর মেয়ে সালেকা বেগম সদরঘাটে পানি বিক্রি করেন। প্রায় দেড় মাস ধরে মেয়ের কাছে আছেন হানিফের স্ত্রী নূর ভানু।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকেল পাঁচটার দিকে চরফ্যাশনে বেতুয়া লঞ্চঘাট (মেঘনা নদীর তীরে) থেকে এমভি ফারহান-৫ নামে লঞ্চটি ছেড়ে দেয়। ঘাটে তখনো কর্ণফুলী-১২ লঞ্চটি ছিল। যাত্রী হানিফ অনেক আগেই ফারহান লঞ্চের ডেকে নাতিকে নিয়ে বিছানা পেতে বসে ছিলেন। এরই মধ্যে নাতিকে বসিয়ে আসরের নামাজ আদায় করতে যান তিনি। নামাজ শেষ করে ফিরে এসে দেখেন, লঞ্চ ছেড়ে দিয়েছে। লঞ্চে ওঠার জন্য দৌড়ে কর্ণফুলী লঞ্চে ওঠেন তিনি। পরে লাফ দিয়ে ওই লঞ্চে উঠতে যান হানিফ, কিন্তু তাল সামলাতে পারেননি। হাত ফসকে পানিতে পড়ে যান তিনি। পরে জোয়ারের স্রোতে কিছুক্ষণ সাঁতরে ভেসে থাকার পর তলিয়ে যান তিনি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শত শত মানুষ তাকিয়ে তাকিয়ে যাত্রী হানিফের ডুবে যাওয়া দেখলেও কেউ বাঁচাতে আসেননি। সবাই যেন কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েন। ভেসে যাওয়ার সময় লোকটি হাত উঠিয়ে বাঁচার আকুতি জানান। কেউ তাঁর আকুতিতে সাড়া দেননি। ঘাটে অবস্থানরত কর্ণফুলী-১২ এবং ছেড়ে যাওয়া ফারহান-৫ লঞ্চে দক্ষ ডুবুরি ছিলেন, বয়া ছিল, দড়ি ছিল। কিন্তু কোনো সাড়া মেলেনি। কোনো ডুবুরি এগিয়ে এলে হয়তো তাঁকে উদ্ধার করা সম্ভব হতো। সেখানকার লোকজন হানিফের ডুবে যাওয়া মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও ফেসবুকে ছেড়ে দিয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষক আবু সিদ্দিক প্রথম আলোকে বলেন, সঠিক সময়ে লঞ্চের কেউ বয়া ফেলেননি। প্রায় ১০ মিনিট ধরে হানিফ সাঁতরে ভেসে থাকার চেষ্টা করেছেন। ভেসে যাওয়ার পরে যাত্রীদের তোপের মুখে ফারহান লঞ্চের কর্মচারী একটি রশির মাথায় বয়া বেঁধে পানিতে ফেলেছিলেন। কিন্তু ততক্ষণে আর হানিফকে পাওয়া যায়নি। তবে হানিফের নাতি রাকিবকে তাঁর পরিবারের কাছে পৌঁছে দিয়েছে লঞ্চ কর্তৃপক্ষ।
চরফ্যাশন উপজেলা দমকল বাহিনীর (ফায়ার সার্ভিস) স্টেশন অফিসার মো. ইমরান হোসেন বলেন, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে ফেসবুকের তথ্যের ভিত্তিতে আমরা বিষয়টি জানতে পেরে ঘটনাস্থলে যাই। তারপর থেকেই উদ্ধারের চেষ্টা করছি। সঠিক সময়ে লঞ্চ কর্তৃপক্ষ ঘটনাটি জানালে হয়তো উদ্ধার করা যেত। তারপরও চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
চরফ্যাশন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এনামুল হক বলেন, দুই দিনে হানিফের কোনো হদিস মেলেনি। সবাই মিলে তাঁকে উদ্ধারের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
নিখোঁজ ব্যক্তির সন্ধানে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা নদীতে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছেন বলেও জানান চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রুহুল আমিন।