Sunday, April 6, 2014

ছাত্রলীগ কি আইনের ঊর্ধ্বে? by মো. আবু সালেহ সেকেন্দার

ছাত্রলীগের এক শ্রেণীর নেতা-কর্মীর সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। সম্প্রতি তাঁদের বেপরোয়া তৎপরতায় বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ও জনপ্রিয় শিক্ষার্থী সায়াদকে প্রাণ হারাতে হয়েছে। ওই ঘটনার রেশ কাটতে না-কাটতেই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নেতা রুস্তম নিহত হয়েছেন। অভিযোগের তির শিবিরের দিকে থাকলেও ছাত্রলীগের হলের কমিটি গঠনকেন্দ্রিক অভ্যন্তরীণ কোন্দলের বিষয়টিও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। আগেও ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার সঙ্গে ছাত্রলীগের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেছে। কিন্তু ওই সব ঘটনায় জড়িত অপরাধীদের শাস্তি হয়নি; বরং কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের মতো বহু শিক্ষক এখনো সন্ত্রাসীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেন বলে অভিযোগ আছে।

ইয়ালতার মুলো by ইউলিয়া তিমোশেনকো

১৯৩৯ সালে যুদ্ধ ঘোষণা ও ১৯৪০ সালে বেলজিয়াম ও ফ্রান্সে নাৎসিদের বোমা বর্ষণের মধ্যকার নীরব সময়টুকু প্রায়ই ‘ভুয়া যুদ্ধ’ নামে অভিহিত হয়ে থাকে। রাশিয়া কর্তৃক ক্রিমিয়া আগ্রাসন ও অধিগ্রহণ এবং আমাদের পূর্ব সীমান্তে সেনা সমাবেশ ও গোলাবারুদ মজুতকরণের ফলে আমরা ইউক্রেনে একধরনের ‘ভুয়া শান্তি’র মধ্যে আছি।

নির্বাচনী প্রচারণায় ভাষা-সন্ত্রাস by সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়

ভারতে এই মুহূর্তে ভাষা-সন্ত্রাস চলছে। রাজনৈতিক পালাবদল অথবা নির্বাচনের দিনগুলোতে সব সময় এমনটা হয়ে থাকে। এবারেও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। শুরুতেই এক-দুই-তিন-চার করে টাটকা-তাজা কয়েকটা নমুনা তুলে দেওয়া যাক। উত্তর প্রদেশের সমাজবাদী পার্টির বড় নেতা রাজ্যের মন্ত্রী আজম খান রামপুরের জনসভায় বললেন, বিজেপির প্রধানমন্ত্রিত্ব প্রত্যাশী নরেন্দ্র মোদি হলেন ‘কুত্তে কে বাচ্চে কা বড়া ভাই’। হঠাৎ তাঁকে কুকুরের বড় ভাই বলার কারণ, তৃতীয়বার গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর মোদির চোখে যখন প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারটা চরকি-ঘোরা ঘুরছিল, সেই সময় গোধরাকাণ্ডের ব্যাখ্যায় তিনি বলেছিলেন, ‘ধরুন, আমি গাড়ি চেপে যাচ্ছি, হঠাৎ আমার গাড়ির চাকায় কুকুরের বাচ্চা চাপা পড়ল। তা হলেও কষ্ট তো হবে।’ মোদি বাক্যটা শেষ করেননি। ফলে সে এক তুমুল হইচই। বলাবলি শুরু হলো, গুজরাটের দাঙ্গাপীড়িত মুসলমানদের মোদি কুকুরের বাচ্চা বলেছেন। আজম খান এবার তারই মোক্ষম শোধ তুললেন ও বললেন, ‘গুজরাট দাঙ্গা নিয়ে মোদি বা রাজনাথ সিংয়ের দুঃখ প্রকাশের আর কোনো প্রয়োজন নেই।’

বিশেষ সাক্ষাৎকারে ইকবাল হাবিব- নগর সরকারই ঢাকাকে রক্ষা করতে পারে

স্থপতি ইকবাল হাবিবের জন্ম ১৯৬৩ সালে। ১৯৯১ সালে তিনি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে স্থাপত্যে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। হাতিরঝিল প্রকল্পের এরিয়া ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড বিল্ডিং ডিজাইন প্রকল্প এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ভবন নকশার সঙ্গে জড়িত থাকার পাশাপাশি তিনি পরিবেশ ও সামাজিক আন্দোলনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) নগরায়ণ ও সুশাসন-সংক্রান্ত উপকমিটির যুগ্ম সম্পাদক। প্রথম আলোর সঙ্গে সাক্ষাৎকারে তিনি কথা বলেছেন ঢাকার বর্তমান অবস্থা ও নগরপরিকল্পনা বিষয়ে। l সাক্ষাৎকার নিয়েছেন এ কে এম জাকারিয়া

এখানেও তত্ত্বাবধায়ক সরকার লাগবে? by মিজানুর রহমান খান

৫ জানুয়ারি নির্বাচনের ক্ষত না শুকাতেই আরেকটি কলঙ্কিত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো। কেউ দাবি করবেন না যে নির্বাচনী কারচুপি ও সহিংসতার ব্যাপকতা দেখে যথেষ্ট বিস্মিত হয়েছেন। তবে বিএনপি আত্মতৃপ্তি পেতে চাইছে যে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন যে অবাধ হতে পারে না, সেটা আবারও প্রমাণিত হয়েছে। কিন্তু যেটা দেখার বিষয় সেটা হলো, দেশে তারা কেবল নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে জাতীয় সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠান করতে চাইছে।
একটা সময় দুই প্রধান দলই ক্ষীণ স্বরে হলেও নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে স্থানীয় সরকারের নির্বাচনটাও সেরে ফেলা উচিত বলে মত দিয়েছিল। কিন্তু তারা কোনো পক্ষ থেকে এর সুনির্দিষ্ট রূপরেখা দেয়নি বা দিতে পারেনি। তার কারণ, এটা খুব বাস্তবসম্মত নয়।

তবু বই পড়ুন by সাইফুর রহমান

সৈয়দ মুজতবা আলী বলেছিলেন, বই কিনে কেউ দেউলিয়া হয় না। বই পড়লে মনের দেউলিয়াত্ব ঘোচে। জীবন জগৎ সম্পর্কে জানা-শোনা বাড়ে। রবীন্দ্রনাথ লাইব্রেরিকে সভ্যতার সেতু হিসেবে আখ্যায়িত করেছিলেন। বই যেমন জীবনের পরিধি বাড়ায়, তেমনি স্বপ্ন দেখতে শেখায়।

মিথ্যা তথ্যে শিক্ষকরা গিলে খেয়েছেন ৪৬২ কোটি টাকা by শামীমুল হক

মিথ্যা তথ্য দিয়ে তেত্রিশ বছরে ৪৬২ কোটি ৪২ লাখ ৭২ হাজার ২০ টাকা অতিরিক্ত বেতন-ভাতা নিয়েছেন ৪৮,১৩০ জন শিক্ষক। কেউ কেউ ৬ বছরের স্থলে টাইম স্কেল নিয়েছেন ৮ বছরের, কেউবা স্কেল বেশি দেখিয়ে, কেউবা স্টাফিং বেতন দেখিয়ে এসব টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর তদন্ত করে বিশাল এ অনিয়ম উদঘাটন করেছে।

চার বছরে পুলিশে ৪৫০ কোটি টাকার গাড়ি by দীন ইসলাম

চার অর্থবছরে ৪৫০ কোটি টাকার বিভিন্ন ধরনের যানবাহন (গাড়ি) কিনেছে পুলিশ। এর মধ্যে র‌্যাবসহ পুলিশ বিভাগের জন্য ৩১৯ কোটি ৩৪ লাখ ৬৩ হাজার ৮১৩ টাকার এবং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের জন্য ১১৭ কোটি ৩৩ লাখ ৮৩ হাজার ৭০২ টাকার যানবাহন কেনা হয়েছে। গেল ২০০৯-১০, ২০১০-১১, ২০১১-১২, ২০১২-১৩ অর্থবছরে পুলিশ ও র‌্যাবের জন্য এসব গাড়ি কেনা হয়েছে।

কোন পথে শাহবাগ by সাজেদুল হক

তথ্যটি জানা গেল আচমকাই। শাহবাগে গণজাগরণ মঞ্চের সমাবেশ করতেও অনুমতির প্রয়োজন হয়। এখানেও ঘটনা শেষ হয়নি। অনুমতি না থাকায় মঞ্চকে সমাবেশ তো করতেই দেয়া হয়নি, এমনকি মঞ্চের কর্মীদের লাঠিপেটা আর গ্রেপ্তারও করেছে পুলিশ। অথচ গত এক বছরের বেশি সময় ধরে পুলিশি প্রোটেকশনে দিনের পর দিন শাহবাগে অবস্থান করেছে গণজাগরণ মঞ্চ।

রাবি’র হল সভাপতি প্রার্থী হওয়াই কাল হলো রোস্তমের by আসলাম-উদ-দৌলা

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলের আবাসিক শিক্ষার্থী বর্তমান হল কমিটির যুগ্ম সম্পাদক রোস্তম আলী আকন্দ এবার হল কমিটির সভাপতি প্রার্থী হিসেবে শক্ত অবস্থানে ছিলেন। এ নিয়ে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে নিজ কক্ষে প্রতিপক্ষের গুলিতে প্রাণ হারালেন তিনি। পথের কাঁটা সরিয়ে দিতে পরিকল্পনা অনুয়ায়ী জুমার নামাজের আগে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে বলে একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে।

জীবন বাঁচানোর শেষ চেষ্টায় হাসপাতালে ২১ মাস

জীবন বাঁচাতে হাসপাতালের মেঝেতে দিন কাটছে রসুল মিয়ার। একদিন দু’দিন নয়, মাসের পর মাস এভাবেই নিজেকে লোকচক্ষুর অন্তরালে রেখে জীবন বাঁচানোর শেষ চেষ্টা করছেন এই বৃদ্ধ। লক্ষ্য খুনিরা যেন তাকে হত্যা করতে না পারে। তারপরও রাত হলেই মৃত্যুযন্ত্রণা তাকে তাড়া করে ফিরছে। বিদ্যুৎ অফ হলেই রসুল মিয়া দৌড়ে টয়লেটে ঢুকে দরজা বন্ধ করে বসে থাকেন।

গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে করণীয় খতিয়ে দেখছে যুক্তরাষ্ট্র by কাউসার মুমিন

গণতন্ত্রের পক্ষে দুর্বার গণআন্দোলনই বাংলাদেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে পারে। গণতন্ত্রের দাবিতে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি খুব বেশি অস্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশ বিষয়ে ভারত তার অবস্থান পরিবর্তন করবে বলে মনে হয় না। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে ভারতের প্রেসক্রিপশন মোতাবেক চলে না। বাংলাদেশের ৫ই জানুয়ারির বিতর্কিত নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা বর্তমান সরকারের প্রতি চীন ও রাশিয়ার নিঃশর্ত সমর্থন দেশটিতে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকাকে ‘জটিল করে তুলেছে’ বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত থিংকট্যাংক প্রতিষ্ঠান ‘হেরিটেজ ফাউন্ডেশন’-এর দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক সিনিয়র রিসার্চ ফেলো লিসা কার্টিজ। বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র  দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, যুক্তরাষ্ট্র-ভারত সম্পর্ক, ভারতের সামপ্রতিক বাংলাদেশ নীতি এবং বাংলাদেশে গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ সম্পর্কিত বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে এ প্রতিনিধির কাছে লিখিত বার্তায় তিনি এসব মন্তব্য করেন।

শঙ্কায় আমিনুলের পরিবার by নুরুজ্জামান লাবু

শঙ্কায় গার্মেন্ট শ্রমিক নেতা আমিনুলের পরিবার। শঙ্কা নিজেদের জীবন নিয়ে। সংশয় আমিনুল হত্যার বিচার নিয়ে। ন্যায়বিচার পাবেন না বলেই ধরে নিয়েছেন তারা। কারণ, আমিনুল হত্যার দু’বছরের মাথায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তার হত্যাকারীদের খুঁজে বের করতে পারেনি। মামলার তদন্ত সংস্থা গোপনে আদালতে চার্জশিট জমা দিয়েছে। চার্জশিটে আমিনুলের এক সময়ের বন্ধু মোস্তাফিজকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

বিদেশি বন্ধু ও সংগঠনকে মুক্তিযুদ্ধের সম্মাননা- ক্রেস্টের স্বর্ণের ১২ আনাই মিছে! by রোজিনা ইসলাম

বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে অবিস্মরণীয় অবদানের জন্য বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রনায়ক, রাজনীতিবিদ, দার্শনিক, শিল্পী-সাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবী, বিশিষ্ট নাগরিক ও সংগঠনকে সম্মাননার সময় দেওয়া ক্রেস্টে যে পরিমাণ স্বর্ণ থাকার কথা ছিল, তা দেওয়া হয়নি। আর ক্রেস্টে রুপার বদলে দেওয়া হয় পিতল, তামা ও দস্তামিশ্রিত সংকর ধাতু।

কে হচ্ছেন কারজাইয়ের উত্তরসূরি?

আফগানিস্তানের পাঞ্জসির প্রদেশের পাহাড়ি এলাকা শুতুলে ব্যালট
বাক্সসহ নির্বাচনের সরঞ্জাম গাধার পিঠে করে গন্তব্যে নিয়ে
যাওয়া হচ্ছে। দেশটির দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে যাতায়াতের
বড় মাধ্যম গাধা। ছবিটি গতকাল তোলা। রয়টার্স
আফগানিস্তানে আজ শনিবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। আফগানিস্তানে গণতান্ত্রিকভাবে এবারই প্রথম ক্ষমতার পালাবদল হতে যাচ্ছে। বর্তমান প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাইয়ের উত্তরসূরি হওয়ার দৌঁড়ে নির্বাচনের মাঠে ছিলেন ১১ জন। পরে অবশ্য তিনজন নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। বর্তমানে আটজন মাঠে থাকলেও মূলত লড়াই হবে তিনজনের মধ্যে। এঁরা হলেন আবদুল্লাহ আবদুল্লাহ, আশরাফ গনি ও জালমাই রসুল।
নতুন প্রেসিডেন্ট কে হবেন, তা নির্ধারণে নানা বিষয় গুরুত্ব পেলেও জাতিগত বিষয়টি সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নতুন প্রেসিডেন্টকে ন্যাটোর দক্ষ সেনাদলের সাহায্য ছাড়াই তালেবান জঙ্গিদের মোকাবিলা করতে হবে। আবদুল্লাহ আবদুল্লাহ: সংস্কৃতিমনা ও মার্জিত স্বভাবের আবদুল্লাহ আবদুল্লাহ (৫৩) তালেবান যুগের আগে বোরহানুদ্দিন রাব্বানি সরকারে ছিলেন। ২০০১ সালে তালেবান সরকারের পতনের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিযুক্ত হন আবদুল্লাহ। পরে হামিদ কারজাইয়ের সরকারেও একই পদে ছিলেন। ২০০৬ সালে তাঁকে বরখাস্ত করা হয়। পেশায় চক্ষু চিকিৎসক আবদুল্লাহর বাবা জাতিগত পশতুন ও মা তাজিক। তাঁর সমর্থনের ভিত্তি হচ্ছে, জাতিগত তাজিক অধ্যুষিত দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্ব এলাকা। ২০০৯ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে আবদুল্লাহ দ্বিতীয় হন। আশরাফ গনি: শিক্ষাবিদ ও বুদ্ধিজীবী হিসেবে দেশে-বিদেশে খ্যাতি রয়েছে আশরাফ গনির। ৬৪ বছর বয়সী গনি আশির দশকে আফগানিস্তান সোভিয়েত বাহিনীর দখলে থাকার সময় যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। তিনি আফগানিস্তানের সবচেয়ে বড় জাতিগত গোষ্ঠী পশতুন সম্প্রদায়ের সদস্য। গনি ১৯৯১ সাল থেকে টানা ১১ বছর বিশ্বব্যাংকে চাকরি করেন।
কারজাইয়ের নেতৃত্ব গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারে ২০০২ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত অর্থমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন গনি। পরে তিনি জাতীয় নিরাপত্তাসংক্রান্ত অন্তর্বর্তী কমিশনের নেতৃত্ব দেন। অল্পতেই চটে যাওয়ার জন্য পরিচিত গনি ২০০৯ সালের নির্বাচনে চতুর্থ হন। সেবার তিন শতাংশেরও কম ভোট পান। জালমাই রসুল: প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাইয়ের পছন্দের প্রার্থী হিসেবে মৃদুভাষী সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী জালমাই রসুলের সম্ভাবনাও কম নয়। অবশ্য কারজাই সব সময় বলে আসছেন, তিনি কাউকে সমর্থন দেবেন না। তবে তাঁর ভাই কাইয়ুম একপর্যায়ে নির্বাচন থেকে সরে জালমাইকে সমর্থন দেওয়ার ঘোষণা দিলে কারজাইয়ের পছন্দের প্রার্থী কে, তা পরিষ্কার হয়ে যায়। প্রেসিডেন্ট কারজাইয়ের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ ও অনুগতদের একজন জালমাই। কাবুলে জন্ম নেওয়া ৭০ বছর বয়সী রসুল পেশায় একজন চিকিৎসক। আফগানিস্তানের সাবেক বাদশা জহির শাহর চিফ অব স্টাফ ও ব্যক্তিগত চিকিৎসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ২০০২ সালে জালমাই বেসামরিক বিমানমন্ত্রী এবং পরে কারজাইয়ের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হন। অবিবাহিত জালমাই দারি, ইংরেজি, ফরাসি, ইতালীয় ও আরবি ভাষায় অনর্গল কথা বলতে পারেন। জাতিগত দিক দিয়ে তিনিও পশতুন। তবে পশতুন ভাষায় ঠিকমতো কথা বলতে পারেন না। এএফপি।

আফগান পুলিশের গুলি, নারী সাংবাদিক নিহত

আনজা নিদ্রিনঘস
আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় খোস্ত প্রদেশে গতকাল শুক্রবার পুলিশের গুলিতে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) এক নারী আলোকচিত্রী সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরেক নারী প্রতিবেদক। আজ শনিবার অনুষ্ঠেয় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রাক্কালে এ ঘটনা ঘটল। বার্তা সংস্থা এপির পক্ষ থেকে বলা হয়, আলোকচিত্রী আনজা নিদ্রিনঘস (৪৮) ও প্রতিবেদক ক্যাথি গানন (৬০) গাড়িতে বসা ছিলেন। এপি টেলিভিশনের একজন ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক বলেন, এ সময় পুলিশের গুলিতে ঘটনাস্থলে জার্মানির আলোকচিত্রী আনজা নিহত হন। খবরে বলা হয়, কানাডার নাগরিক আহত প্রতিবেদক ক্যাথি গানন ইসলামাবাদে কাজ করেন। গত ৩০ বছর তিনি আফগান যুদ্ধ নিয়ে প্রতিবেদন করছেন।
তাঁকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তিনি সুস্থ আছেন। এই দুই সাংবাদিক আফগানিস্তানে দীর্ঘদিন ধরে একসঙ্গে কাজ করছিলেন। নিউইয়র্কে এপির নির্বাহী সম্পাদক ক্যাথলিন ক্যারল বলেন, ‘আনজা একজন প্রাণবন্ত ও উদ্যমী সাংবাদিক ছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে আমরা মর্মাহত।’ ঘটনার সময় দুই সাংবাদিক পাকিস্তান সীমান্তবর্তী আফগানিস্তানের ছোট্ট একটি শহরে অবস্থান করছিলেন। বার্তা সংস্থা এপি জানায়, আনজা ও গানন নির্বাচন কর্মকর্তাদের একটি গাড়িবহরের সঙ্গে খোস্ত শহর থেকে সীমান্তবর্তী তানি এলাকায় যাচ্ছিলেন। নির্বাচন কর্মকর্তাদের সঙ্গে ভোটের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ছিল। রয়টার্স।

এবার দিল্লিতে ঘুষি খেলেন কেজরিওয়াল

অরবিন্দ কেজরিওয়াল
ভারতের আম আদমি পার্টির (এএপি) প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে এবার দিল্লিতে এক দুর্বৃত্ত ঘুষি মেরেছেন। গতকাল শুক্রবার দক্ষিণ দিল্লির দক্ষিণপুরী এলাকায় এই হামলার শিকার হন তিনি। দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী কেজরিওয়াল দলীয় কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে করমর্দন করার সময় তাঁকে পেছন থেকে ওই ব্যক্তি ঘুষি মারেন।
পরে তাঁর দলীয় লোকজন হামলাকারীকে পাকড়াও করে পুলিশে সোপর্দ করেন। দুর্নীতিবিরোধী অবস্থানের কারণে কেজরিওয়ালের এএপি অল্প সময়ের মধ্যে বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। কেজরিওয়াল বলেন, ‘ধর্ম আমাদের অহিংস হওয়ার শিক্ষা দিয়েছে। এর পরও আমরা যদি হাত তুলি, সহিংস হয়ে উঠি, তাহলে আমাদের লড়াই এখানেই শেষ হয়ে যাবে।’ নিজের সমর্থকদের তিনি শান্ত হওয়ার আহ্বান জানান। কোনো ধরনের সহিংসতায় না জড়ানোর পরামর্শ দেন। মাত্র কয়েক দিন আগে হরিয়ানায় এক ব্যক্তি কেজরিওয়ালের গাড়িতে উঠে তাঁর ঘাড়ে ঘুষি মারেন। গত মাসে বারানসিতে প্রচারণাকালে কেজরিওয়ালের গায়ে কালি ও ডিম ছুড়ে মারেন প্রতিপক্ষের সমর্থকেরা। লোকসভা নির্বাচনে ওই আসনে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন কেজরিওয়াল। এনডিটিভি।

নিজের খুনে লাল ছাত্রলীগ

সায়াদ হত্যার প্রতিবাদে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ সমাবেশ
প্রায় ৪০ বছর আগের ও পরের দুটি ঘটনা। প্রথমটি ঘটেছে ১৯৭৪ সালে, দ্বিতীয়টি ২০১৪ সালের ১ এপ্রিল। দুটো ঘটনারই ঘটক সরকারদলীয় ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগ এবং শিকারও ছাত্রলীগ। প্রথম ঘটনাটির স্থান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুহসীন হল। ঘাতকেরা রাতের বেলা টিভিকক্ষের সামনে ব্রাশফায়ার করে কোহিনুরসহ ছাত্রলীগের সাতজন নেতা-কর্মীকে হত্যা করে, যাঁরা সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক শফিউল আলমের বিরোধী হিসেবে পরিচিত। ঘটনার পরপরই শফিউল আলম প্রধান হত্যার বিচারের দাবিতে ক্যাম্পাসে মিছিল বের করেছিলেন। পরে জানা যায়, তিনিই হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা। বিচারে ১৪ বছর জেল হলেও পরবর্তীকালে জিয়াউর রহমানের অনুকম্পায় প্রধান মুক্তি পান এবং জাগপা নামে একটি রাজনৈতিক দল করেন। বর্তমানে তিনি খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন ১৯-দলীয় জোটের শরিক। দ্বিতীয় ঘটনার স্থল ময়মনসিংহের বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস। গত ৩১ মার্চ চতুর্থ বর্ষের ফিশারিজ বায়োলজি ও জেনেটিকস বিভাগের একটি কোর্সের ক্লাস পরীক্ষা শিক্ষককে বলে পেছানোর জন্য সায়াদ ইবনে মোমতাজকে চাপ দিয়েছিলেন ছাত্রলীগের দুই নেতা সুজয় ও রোকন। সায়াদ নিজেও ছাত্রলীগের কর্মী। তিনি শিক্ষককে বলে পরীক্ষা পেছানোর ব্যবস্থা করবেন বলেও আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু সংশ্লিষ্ট শিক্ষক পরীক্ষা পেছাতে রাজি হননি বলে নির্ধারিত সময়েই পরীক্ষা হয়। এ নিয়ে সায়াদের সঙ্গে সুজয়ের বাগিবতণ্ডা হয় এবং এর জের ধরে সোমবার সন্ধ্যায় আশরাফুল হক হলের ২০৫ কক্ষে সায়াদকে ডেকে নেন সুজয় কুমার কুণ্ডু ও রোকনুজ্জামান। তাঁদের সঙ্গে আরও ছিলেন ছাত্রলীগের নেতা স্বপন, রেজা, জাহিদ হাসান, রামচন্দ্র ও রাসেল। তাঁরা সবাই মিলে সায়াদকে রড, লাঠি ও হকিস্টিক দিয়ে বেধড়ক পেটান। সায়াদ পরদিন হাসপাতালে মারা যান।
ঘটনার পরই ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম সংবাদ সম্মেলন করে দাবি করেন যে ইসলামী ছাত্রশিবির এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। ভাগ্যিস, ১৯৭৪ সালে ইসলামী ছাত্রশিবির ছিল না। থাকলে শফিউল আলম প্রধানও শিবিরের ওপর দায় চাপিয়ে শাস্তি থেকে রেহাই পেতে পারতেন। সন্দেহ নেই, ইসলামী ছাত্রশিবির একটি সন্ত্রাসী সংগঠন। তাদের ক্যাডাররা শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে জন্মলগ্ন থেকেই। রগ কাটা ও হাত কাটা তাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতির অংশ। গত বছর যুদ্ধাপরাধের বিচার বন্ধে যে তারা দেশজুড়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি করে, তাও সবার জানা। আমরা তাদের এসব ঘৃণ্য কর্মকাণ্ডের নিন্দা ও প্রতিবাদ করি। বিচার চাই। কিন্তু যে হত্যাকাণ্ড ছাত্রলীগের অস্ত্রধারী ক্যাডাররা ঘটিয়েছেন, তার দায় শিবির বা অন্য সংগঠনের ওপর চাপালে মানুষ সেটি মানবে কেন? এটি অপরাধীদের রক্ষায় সেই প্রধানীয় অপকৌশল বৈকি। প্রধানেরা ছাত্রলীগ ছেড়ে গেলেও তাঁদের প্রেতাত্মা ভর করে আছে। সায়াদ হত্যার প্রতিবাদে যখন কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস উত্তাল, সাধারণ ছাত্রছাত্রী থেকে শিক্ষকেরাও আন্দোলনে নেমেছেন, তখন ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মুর্শেদউজ্জামান নতুন কথা শোনালেন। তাঁর ভাষায়, ‘সায়াদ হত্যার বিচার আমরাও চাই। কারণ, তিনি আমাদের সংগঠনের কর্মী। কিন্তু সমস্যা হলো, এ ঘটনা নিয়ে ক্যাম্পাসে ছাত্র ইউনিয়ন, ছাত্রশিবির, ছাত্রদলসহ বিভিন্ন সংগঠন ষড়যন্ত্র করছে। তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন অনেক শিক্ষক।’ (প্রথম আলো, ৪ এপ্রিল ২০১৪)
মুর্শেদউজ্জামানের দাবি অনুযায়ী ছাত্র ইউনিয়ন, ছাত্রদল ও শিবিরের সঙ্গে মিলে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে এবং সেই ষড়যন্ত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষকও যোগ দিয়েছেন। এর চেয়ে হাস্যকর দাবি আর কী হতে পারে? এরপর হয়তো ছাত্রলীগের নেতারা ‘ষড়যন্ত্রকারী ছাত্র ও শিক্ষকদের’ বিতাড়িত করতে আন্দোলনে নামবেন! কেননা, স্বাধীনতার পক্ষশক্তির প্রধান সিপাহশালার হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস পবিত্র রাখার দায়িত্ব তাঁদেরই। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, প্রশাসন, শিক্ষক ও অন্যান্য ছাত্রসংগঠন—এসব কিছুই না। এ রকম পবিত্র দায়িত্ব পালন করতেই ১৯৭৪ সালে মুহসীন হলে ব্রাশফায়ার করে সাতজনকে হত্যা করা হয়েছিল। ক্যাম্পাসকে পবিত্র রাখতেই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের এক গ্রুপ অপর গ্রুপের কর্মী জুবায়ের আহমেদকে হত্যা করে। সেখানে ছাত্রলীগের দুটি গ্রুপ ছিল। একটি তৎকালীন উপাচার্য শহীদ এনামুল কবিরের সমর্থক, অপরটি বিরোধী। জুবায়ের হত্যাকারীরা এনামুল কবিরের আশ্রয়-প্রশ্রয় পেয়েছিলেন বলেই তিনি উপাচার্যের দায়িত্বে থাকা অবস্থায় নিরাপদ ছিলেন। পরে কেউ কেউ গ্রেপ্তার হলেও এখন পর্যন্ত মামলার চার্জশিট হয়নি। আদৌ হবে কি না, কে জানে। এভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা মেডিকেল কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘বঙ্গবন্ধুর আদর্শের’ পতাকাবাহী ছাত্রসংগঠনটি অভ্যন্তরীণ কোন্দলে লিপ্ত হয়ে প্রতিপক্ষের ওপর হামলে পড়ছে। অনেকের তাজা প্রাণ ঝরে গেছে। অনেকে চিরতরে পঙ্গুত্ব বরণ করছে। আর ছাত্রলীগের নেতৃত্ব যথারীতি দোষ চাপাচ্ছেন অন্য ছাত্রসংগঠন কিংবা অদৃশ্য শক্তির ওপর। বর্তমানে কেউ ছাত্রলীগ বা যুবলীগের অন্যায় কাজের প্রতিবাদ করলেই তাঁকে জামায়াত-শিবিরের এজেন্ট বানানো হয়। স্বাধীনতাবিরোধী বলে গাল দেওয়া হয়।
ছাত্রলীগের ওই নেতার অভিযোগ, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে সংগঠনটি নাকি ছাত্রশিবিরের সঙ্গে মিলে তাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। অথচ বিভিন্ন স্থানে ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরাই আটক জামায়াত ও শিবিরের আটক নেতা-কর্মীদের ছাড়াতে তদবির করছেন। এসব তদবিরের আসল মাজেজাও কারও অজানা নয়। এখন ছাত্রলীগ চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও দখলবাজির সমার্থক শব্দ হয়ে পড়েছে। শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চের উদ্যোক্তা-কর্মীদের সঙ্গে ছাত্রলীগের সর্বশেষ বিরোধের কারণ হলো লাখো কণ্ঠে জাতীয় সংগীতের আয়োজনে জামায়াতের সমর্থক বলে পরিচিত ইসলামী ব্যাংকের টাকা নেওয়া না-নেওয়া নিয়ে। আরও অনেক প্রগতিশীল সংগঠনের সঙ্গে গণজাগরণ মঞ্চ ইসলামী ব্যাংক থেকে টাকা নিয়ে লাখো কণ্ঠে জাতীয় সংগীত গাওয়ার বিরোধিতা করেছিল। কিন্তু ছাত্রলীগের কর্মীরা এই বিরোধিতাকে সহজভাবে নেয়নি। এ নিয়ে দুই পক্ষের বাগিবতণ্ডা, মারধর, চায়ের গরম পানি গায়ে ছুড়ে মারা এবং থানায় মামলা পর্যন্ত গড়ায়। কেবল সায়াদ হত্যাই কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের একমাত্র ‘কৃতিত্ব’ নয়, ছাত্রী উত্ত্যক্ত করা থেকে শুরু করে গরিব দোকানদারের দোকানে ফাউ খাওয়া—এমন কোনো অপরাধ নেই যা তারা করেনি। গত বছর দুই গ্রুপের গোলাগুলিতে ১০ বছরের একটি শিশু নিহত হওয়ার পর ছাত্রলীগের কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। মাস কয়েক পর মুরাদউজ্জামান ও সাইফুল ইসলামকে নিয়ে নতুন কমিটি হওয়ার পর ক্যাম্পাসে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড আরও বেড়েছে। যাঁরাই ছাত্রলীগ নেতৃত্বের বিরোধিতা করছেন, তাঁদের বিভিন্ন হলে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন করা হচ্ছে। অন্তত তিনটি হলে তাদের টর্চার সেল আছে বলে পত্রিকায় খবর এসেছে। বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রাবাসে টর্চার সেল!
অনেক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনও ছাত্রলীগের অনুগত থাকতে পছন্দ করে। তারা ছাত্রলীগের সব দুষ্কর্ম বিনা বাধায় মেনে নিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর শহিদুর রহমান খান, ক্যাম্পাসে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা যাঁর দায়িত্ব, বলেছেন, তাঁর কাছে নাকি এসব অঘটন সম্পর্কে কেউ লিখিত অভিযোগ করেননি। মৌখিক অভিযোগ করলে যখন তিনি অভিযোগকারীর নামধাম অভিযুক্তকে বলে দেন, তখন কীভাবে তাঁরা লিখিত অভিযোগ করবেন। এঁরা শিক্ষক নামের কলঙ্ক। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আবু হাদী নূর আলী খান বলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি হলে টর্চার সেল রয়েছে বলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা বলেছেন, তাঁরা এসব থেকে মুক্তি চান। বিষয়টি নিয়ে তাঁরা উদ্বিগ্ন। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য রফিকুল হক প্রকারান্তরে ছাত্রলীগের মাস্তানির কথা স্বীকার করে বলেছেন, ‘সায়াদের মৃত্যুর ঘটনা আমাদের অনেক বোধোদয় ঘটিয়েছে।’ গত বছরের জানুয়ারিতে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে রাব্বী নামে ১০ বছরের এক শিশু গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গিয়েছিল। তার পরও উপাচার্য বা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বোধোদয় হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের চেয়ে পুলিশ অনেক বেশি সাহসী। বাসযোগে শেরপুরে পালানোর সময় তারা সুজয় ও রোকনকে গ্রেপ্তার করেছে। গত ৪০ বছরে রাজনীতিতে অনেক পরিবর্তন এসেছে। সামরিক শাসককে হটিয়ে আমরা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছি। কিন্তু ছাত্রলীগের চরিত্র ও আচরণে কোনো পরিবর্তন নেই। তারা এখনো সেই শফিউল আলম প্রধানদের ‘নীতি ও আদর্শ’ আঁকড়ে আছে।
সায়াদ হত্যার আগে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে জুবায়ের আহমেদ নামে এক ছাত্রলীগের কর্মীকে হত্যা করা হয়েছে। তারও আগে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হোস্টেল থেকে ছাত্রলীগের সভাপতিকে তিনতলা থেকে ফেলে হত্যা করা হয়। এ রকম হত্যা ও অঘটনের ঘটনা অনেক আছে। সায়াদ হত্যার পর সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদের মুখে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মামলা করলেও কাউকে আসামি করা হয়নি। ভাশুরের নাম নেওয়ার মতো বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও ছাত্রলীগের নাম নিতে ভয় পায়। সারা দেশেই এখন ভয়ের রাজত্ব কায়েম হয়েছে। প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান ২০০৯ সালের ১৯ জানুয়ারি এক মন্তব্য প্রতিবেদনে লিখেছিলেন, যার শিরোনাম ছিল ‘প্রধানমন্ত্রী ছাত্রলীগকে সামলান’। প্রধানমন্ত্রী তাঁদের সামলাতে চেষ্টা করেননি। তবে তিনি একবার ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে বিরক্ত হয়ে সংগঠনটির সাংবিধানিক প্রধানের পদ ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। আরেকবার তিনি ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে সাক্ষাৎ দেননি বলেও পত্রিকায় খবর এসেছিল। কিন্তু এসব মান-অভিমান বা সদুপদেশ যে কোনো কাজে আসেনি, ছাত্রলীগের কর্মী সায়াদ হত্যাই তার প্রমাণ। সম্প্রতি একজন প্রভাবশালী মন্ত্রী এক সমাবেশে বলেছেন, বিরোধী দলকে মোকাবিলা করতে ছাত্রলীগই যথেষ্ট। বিরোধী দল মাঠে নেই, ক্যাম্পাসে নেই। তাই, ছাত্রলীগ নিজেই নিজেকে মোকাবিলা করছে এবং নিজের খুনে নিজে লাল হচ্ছে।
সোহরাব হাসান: কবি, সাংবাদিক।
sohrab03@dhaka.net

নির্বাচনী প্রচারণায় ভাষা-সন্ত্রাস

ভারতে এই মুহূর্তে ভাষা-সন্ত্রাস চলছে। রাজনৈতিক পালাবদল অথবা নির্বাচনের দিনগুলোতে সব সময় এমনটা হয়ে থাকে। এবারেও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। শুরুতেই এক-দুই-তিন-চার করে টাটকা-তাজা কয়েকটা নমুনা তুলে দেওয়া যাক। উত্তর প্রদেশের সমাজবাদী পার্টির বড় নেতা রাজ্যের মন্ত্রী আজম খান রামপুরের জনসভায় বললেন, বিজেপির প্রধানমন্ত্রিত্ব প্রত্যাশী নরেন্দ্র মোদি হলেন ‘কুত্তে কে বাচ্চে কা বড়া ভাই’। হঠাৎ তাঁকে কুকুরের বড় ভাই বলার কারণ, তৃতীয়বার গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর মোদির চোখে যখন প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারটা চরকি-ঘোরা ঘুরছিল, সেই সময় গোধরাকাণ্ডের ব্যাখ্যায় তিনি বলেছিলেন, ‘ধরুন, আমি গাড়ি চেপে যাচ্ছি, হঠাৎ আমার গাড়ির চাকায় কুকুরের বাচ্চা চাপা পড়ল। তা হলেও কষ্ট তো হবে।’ মোদি বাক্যটা শেষ করেননি। ফলে সে এক তুমুল হইচই। বলাবলি শুরু হলো, গুজরাটের দাঙ্গাপীড়িত মুসলমানদের মোদি কুকুরের বাচ্চা বলেছেন। আজম খান এবার তারই মোক্ষম শোধ তুললেন ও বললেন, ‘গুজরাট দাঙ্গা নিয়ে মোদি বা রাজনাথ সিংয়ের দুঃখ প্রকাশের আর কোনো প্রয়োজন নেই।’ nআজম খান যে দলের নেতা, কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বেনিপ্রসাদ ভার্মা একটা সময় সেই দলেরই সদস্য ছিলেন। ভোট-প্রচারে বেরিয়ে দিন কয়েক আগে তিনি বললেন, ‘মোদি হলেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘের সবচেয়ে বড় গুন্ডা। রাজনাথ সিং বিজেপির সভাপতি হতে পারেন, তবে তিনি মোদির চাকর।’
দক্ষিণ দিল্লির বিজেপির প্রার্থী রমেশ বিধুরিও কম যান না। মোদি-মাহাত্ম্য প্রচারে তিনি বললেন, ওঁকে প্রধানমন্ত্রী করা খুবই জরুরি। কারণ, পিএম হয়ে উনি শুধু পাকিস্তানকেই নয়, আমেরিকাকেও ‘ঠোক দেঙ্গে’। এমনিতে ‘ঠোকা’ শব্দ নিয়ে বাঙালির আপত্তির কারণ না থাকারই কথা। কিন্তু ভরা জনসভায় হিন্দিতে ‘ঠোক দেঙ্গে’ বলার সঙ্গে সঙ্গে হাত মুঠো করে প্রচলিত ভঙ্গি দেখানোর ফলে শব্দটি অসংসদীয়র পাশাপাশি অশালীনও হয়ে ওঠে। এ নিয়ে শোরগোল উঠতে বিধুরি বিনয়ের অবতার সেজে বললেন, ‘ঠোক দেঙ্গে মানে উচিত শিক্ষা দেওয়ার কথাই আমি বলেছি।’ সোনিয়া গান্ধী কিছুকাল আগে গুজরাটে গিয়ে মোদিকে ‘মৌত কা সওদাগর’ বলেছিলেন। এবার প্রচারের প্রথম দিকে তাঁকে ‘জহের কি খেতি’ বা বিষের খেত-এর সঙ্গে তুলনা করলেন। সোনিয়ার কথার রেশ টেনেই কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ফারুক আবদুল্লা বললেন, মোদি হলেন ‘দেশের বিষ’। ওঁর আস্তিনের নিচে লুকোনো রয়েছে একটা ধারালো ছুরি। লোকটা সারাক্ষণ মিথ্যে কথা বলে যাচ্ছেন তো যাচ্ছেনই। ভোট-পর্ব শুরু হওয়া ইস্তক দেশজুড়ে ফি দিন এই-ই চলছে। প্রতিদিন নতুন নতুন বিশেষণের জন্ম হচ্ছে, ভাষা-সন্ত্রাসে আক্রান্ত হচ্ছেন প্রাদেশিক ও জাতীয় স্তরের নেতা-নেত্রীরা। কেউ কারও চেয়ে কম নন। নির্বাচন কমিশনের কাছে প্রতিদিন জমা পড়ছে একাধিক অভিযোগ।
কমিশন গন্ডা গন্ডা শোকজ নোটিশ পাঠাচ্ছে। অভিযুক্তরা জবাবও দিচ্ছেন। কেউ দুঃখ প্রকাশ করছেন, কেউ তা না করে কমিশনকে ব্যাখ্যা শোনাচ্ছেন, কিন্তু অকথা-কুকথায় আগল পড়ছে না। উত্তর প্রদেশের সাহারানপুরের কংগ্রেস প্রার্থী ইমরান মাসুদ কোনো একসময় মোদিকে ‘কুচি কুচি করে কেটে ফেলার’ কথা বলেছিলেন। সেই ভিডিও পুরোনো না নতুন বিচার না করেই তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ জমা পড়া মাত্র উত্তর প্রদেশের পুলিশ ঝটপট ইমরানকে গ্রেপ্তার করে। আদালত তাঁকে ১৪ দিনের জেল হেফাজত দেন। দিন তিনেক আগে ইমরান জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। একই ধরনের অভিযোগ একাধিকবার জমা পড়লেও পশ্চিমবঙ্গের পুলিশ বীরভূম জেলার তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডলের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থাই কিন্তু অনেক দিন পর্যন্ত নেয়নি। একে দিদির রাজ্য, তায় দিদি আবার মুখ্যমন্ত্রী কাম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। রাজ্যের পুলিশরাও কেউ দশানন রাবণ নয় যে একটা মাথা কাটলে বাকি নটা থাকবে। পিতৃদত্ত নামমাত্র মাথা বাঁচাতে তারা তাই দিদিরই কৃপাপ্রার্থী। ফলে অনুব্রত কী বলল না বলল, পুলিশের তা কানে তুলতে ভারি বয়ে গেছে। সে যখন বলে, সিপিএমকে জ্বালিয়ে দাও, তখন সিপিএম করা লোকেরা সত্যিই প্রমাদ গোনে। সাগর দত্ত নামে তাঁর বিরুদ্ধ গোষ্ঠীর একজন তো খুনই হয়ে গেল। নিহতের বাড়ির লোকজন অনুব্রতর বিরুদ্ধে এফআইআরও করল। অনুব্রত কিন্তু দিব্যি দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন। বেড়াবে না-ই বা কেন? দিদি তো বলেই দিয়েছেন, অনুব্রত ভালো সংগঠক। মাঝেমধ্যে শুধু একটু-আধটু ভুল করে ফেলে। সেটা ওর দোষ নয়। ওর ব্রেইনে অক্সিজেন কম যায়!
অনুব্রত লাই পেলে অন্যরাই বা কেন চুপ থাকবেন? মালদহের রূপকার বরকত গনি খান চৌধুরীর আঙুল ধরে রাজনীতিতে আসা সাবিত্রী মিত্র কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে গিয়ে মন্ত্রী হয়েছেন। তিনি বললেন, বরকতদাকে আমরা শ্রদ্ধা করি। কিন্তু তাঁর পরিবারের যে দুজন সাংসদ হয়েছেন, তাঁরা কচ্ছপের মতো সারাক্ষণ হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকেন। শুধু ভোট এলে ওঁদের হাত-পা দেখা যায়। অনুব্রতরা বুনো ওল হলে সিপিএমের সাবেক মন্ত্রী আনিসুর রহমান বাঘা তেঁতুল। তাঁর লক্ষ্য খোদ মুখ্যমন্ত্রী। মমতা সম্পর্কে তিনি বললেন, উনি তো সব রং পাল্টে দিচ্ছেন। লাল রং ওঁর অসহ্য। লাল দেখলেই হয় সবুজ করে দিচ্ছেন, নতুবা নীল-সাদা। উনি বিয়েই করলেন না লাল সিঁদুর পরতে হবে বলে। সিঁদুর তো আর সবুজ হয় না! এঁদের কারও কোনো শাস্তি হয়নি। অথচ নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ জানানো হয়েছিল। কমিশন তাঁদের ভাষা প্রয়োগে সতর্ক থাকার উপদেশ শুনিয়ে সতর্ক করে দিয়েছে শুধু। ভোটের সময় প্রতিপক্ষকে কমবেশি কটূক্তি ৪০-৫০ বছর আগেও করা হতো। কিন্তু সেই তরজায় একটা মজা ছিল। পশ্চিমবঙ্গের দেয়ালে ভোটের সময় ছড়ার প্রতিযোগিতাও দেখা যেত। ১৯৭১ সালে কংগ্রেস-সিপিআই জোটের বিরুদ্ধে সিপিএম লিখেছিল, ‘দিল্লি থেকে এল গাই, সঙ্গে বাছুর সিপিআই।’ তখন কংগ্রেসের প্রতীক ছিল গাই-বাছুর। অবশ্য শালীনতার সীমাও যে কেউ কেউ টপকাত না, তা নয়। যেমন অকৃতদার মুখ্যমন্ত্রী বিধানচন্দ্র রায় ও তাঁর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নলিন সরকারকে কটাক্ষ করে কমিউনিস্টদের দেয়াললিখন ছিল, ‘বাংলার মসনদে নলিন-বিধান, বাংলার কুলবধূ হও সাবধান।’
১৯৭২ সালের ভোটের আগে কংগ্রেসিরা জ্যোতি বসুকে ব্যঙ্গ করল। টিয়া পাখির শরীরে জ্যোতি বসুর মুখ, মাথায় টোপর। ছবির নিচে লেখা, ‘বন থেকে বেরোলো টিয়ে, শোলার টোপর মাথায় দিয়ে, আবার জ্যোতি করবে বিয়ে’। সিপিএমও কম যেত না। ছবির নিচে তারা লিখল, ‘ঠিক বলেছিস ঠিক বলেছিস, ইন্দিরাকে সাজিয়ে রাখিস’। সেই সব ব্যঙ্গ, সেই সব তির্যক বিদ্রূপের জায়গায় আজ হিংসা ও কদর্যতার রমরমা। অনুব্রত মণ্ডল তাই বলতে পারেন, ‘সিপিএম হলো ইঁদুরের জাত। ইঁদুর মারতে গর্তে বিষ দেন যেমন, তেমনভাবে সিপিএমকে বিষ দিয়ে মেরে ফেলুন।’ কতটা কী করতে পারে নির্বাচন কমিশন? কমিশনের এক সূত্র প্রথম আলোকে বলেন, ‘ভারতীয় ফৌজদারি দণ্ডবিধি এবং জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের আওতায় যে বিধান আছে, সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা আমরা নিতে পারি। যেমন কারও মানহানি হলে অথবা সম্প্রীতি নষ্ট কিংবা সহিংসতা ছড়ানোর প্ররোচনার অভিযোগ পেলে পুলিশকে ব্যবস্থা নিতে বলা যায়। সরকারি অফিসারদের বিরুদ্ধেও কমিশন ব্যবস্থা নিতে পারে। কিন্তু আইনের আওতায় যা নেই তেমন কোনো নির্দেশ আমরা দিতে পারি না। যেমন, এই ধরনের অভিযোগে কারও প্রার্থী পদ বাতিল করতে কমিশন পারে না।’ সূত্রটি বলেন, নব্বইয়ের দশকে তৎকালীন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার টি এন সেশন এ ধরনের কিছু অভিযোগের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছিলেন। বিষয়গুলো সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়ায়। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি তাঁকে বলেছিলেন, এমন নির্দেশ কেন দেন, যা প্রচলিত আইনের আওতায় পড়ে না? অর্থাৎ, ভাষা-সন্ত্রাসে রাশ টানতে হলে হয় মানুষের ভাষা বা রুচির বদল ঘটাতে হবে, নয়তো পাল্টাতে হবে ভারতীয় ফৌজদারি দণ্ডবিধি ও জনপ্রতিনিধিত্ব আইনকে। নচেৎ, সেই ট্র্যাডিশন সমানে চলেছে। চলবেও।
সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়: প্রথম আলোর নয়াদিল্লি প্রতিনিধি।

তবু বই পড়ুন

বইমেলা উদ্বোধন করছেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর
সৈয়দ মুজতবা আলী বলেছিলেন, বই কিনে কেউ দেউলিয়া হয় না। বই পড়লে মনের দেউলিয়াত্ব ঘোচে। জীবন জগৎ সম্পর্কে জানা-শোনা বাড়ে। রবীন্দ্রনাথ লাইব্রেরিকে সভ্যতার সেতু হিসেবে আখ্যায়িত করেছিলেন। বই যেমন জীবনের পরিধি বাড়ায়, তেমনি স্বপ্ন দেখতে শেখায়। তাই, এই ইন্টারনেট এবং ই-মেইলের যুগেও বইয়ের প্রয়োজনীয়তা ফুরিয়ে যায়নি। অন্তত আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশে বইয়ের প্রচার, প্রসার বেড়েছে। বাড়ছে পাঠকের সংখ্যাও। আগে শহরে পাড়ায় পাড়ায় যেমন পাঠাগার ছিল, এখন আর সেটি চোখে পড়ে না। মানুষ নিজের আগ্রহেই পছন্দের বইটি খুঁজে নেয়।
আগে স্কুল-কলেজে পাঠ্যবইয়ের বাইরেও পাঠচক্রের আয়োজন করা হতো। প্রতিটি স্কুল ও কলেজে লাইব্রেরি ছিল; যেখান থেকে শিক্ষার্থীরা বই বাসায় নিয়ে যেতে পারত। এখন অনেক স্কুলেই লাইব্রেরি নেই। তা ছাড়া স্কুলের শিক্ষার্থীদের মাথায় পাঠ্যবইয়ের বোঝা এত ভারী যে তারা এর বাইরে কিছু পড়ার কথা ভাবতেই পারে না। এমনই প্রেক্ষাপটে বরিশালে শুরু হয়েছে ১২ দিনব্যাপী বিভাগীয় বইমেলা। ঢাকার নামীদামি ৬৩টি প্রকাশনা সংস্থা যোগ দিয়েছে এই মেলায়। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে মেলা উদ্বোধন করেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। বইয়ের স্টল, সাজসজ্জা—সবই আছে। বইমেলা নিয়ে বরিশালের বইপ্রেমী মানুষ তথা ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ করা গেছে। তবে এই মেলা প্রতিবছর হওয়া উচিত। কালেভদ্রে হলে ছাত্র-ছাত্রীদের মনে দাগ কাটবে না। বরিশালের একটি নামী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বইমেলা নিয়ে কথা হলো। তারাও পাঠ্যবইয়ের বাইরের বিচিত্র বিষয়ে বইয়ের প্রতি আগ্রহ দেখাল। বলল, আমরাও গল্প, উপন্যাস কিংবা সাহিত্যের বই পড়তে চাই। কিন্তু সারা বছরই পরীক্ষার চাপ। বরিশাল একসময় লেখাপড়ায় অগ্রসর ছিল। এখানে শিক্ষার হারও বেশি। বরিশাল ব্রজমোহন কলেজে অনেক খ্যাতিমান শিক্ষাবিদ ছিলেন। ছিলেন কবি জীবনানন্দ দাশের মতো কবি। বিভিন্ন সংগঠন পাঠচক্রের আয়োজন করত।
ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে পাঠের আগ্রহ বাড়ত। আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় একধরনের অসুস্থ প্রতিযোগিতা লক্ষ করা যাচ্ছে। অভিভাবকেরা বলছেন, পাশের বাসার ছেলেটি বা মেয়েটি পাঁচজন শিক্ষকের কাছে কোচিং করে। আমার সন্তান যদি চার জায়গায়ও না যায়, তাহলে তো মেধাতালিকায় নাম থাকবে না। একসময় বরিশালের পাড়া-মহল্লায় এলাকাবাসী গড়ে তুলতেন পাঠাগার, ক্লাব। যেখানে থাকত কবিতা, গল্প, উপন্যাস, ভ্রমণকাহিনি, বিজ্ঞানের কল্পকাহিনিসহ নানা ধরনের বই এবং বিভিন্ন খেলার সামগ্রী। বই পড়ুয়ারা বিকেলে ঘুরেফিরে চলে যেত সেখানে। সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে সবাই বসত পাঠ্যবইয়ের টেবিলে। আজ সেই রেওয়াজ অনেকটাই ফিকে হয়ে আসছে। যদিও খেলাঘর, উদীচীসহ কয়েকটি সংগঠন পাঠচক্রের আয়োজন করে। তবে তা নিয়মিত নয়। বই পাঠের অভ্যাস বাড়াতে হলে বরিশালে নিয়মিত পাঠচক্র, ভাষা প্রতিযোগের আয়োজন করা প্রয়োজন বলে জানালেন একজন সাংস্কৃতিক কর্মী। তবে বরিশালের পাবলিক লাইব্রেরির অবস্থাও খুব ভালো নয়। সেখানে নতুন বই তেমন নেই। পাবলিক লাইব্রেরি হিসেবে পরিচিত জাহানারা হল দখল হয়ে গেছে। বরিশালে সর্বশেষ কবে বইমেলা হয়েছে তা হিসাব করে বের করতে হবে।
বাংলা একাডেমির সঙ্গে তাল মিলিয়ে উদীচী বরিশালে আয়োজন করেছিল সাত দিনের বইমেলার। ১৯৮৯ সাল থেকে একটানা সাত-আট বছর চলে ওই মেলা। ঢাকার প্রখ্যাত কবি, সাহিত্যিক, লেখকদের পদচারণে মুখর থাকত তখন বরিশাল। হঠাৎ করেই আয়োজকেরা বন্ধ করে দিলেন মেলা। এরপর দু-একবার বরিশাল সাংস্কৃতিক সংগঠন সমন্বয় পরিষদের উদ্যোগে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে আয়োজন করা হয় বইমেলার। এখন তাও বন্ধ। বরিশালের এই শূন্যতা পূর্ণ করতে হলে দরকার সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় জেলায় জেলায় বইমেলার আয়োজন। তার আগে দরকার শিক্ষার্থীদের মাথার ওপর থেকে অসুস্থ প্রতিযোগিতার বোঝা নামানো। তা না হলে বইমেলার আয়োজন করেও শিক্ষার্থীদের বা আগামী প্রজন্মকে বইয়ের প্রতি আগ্রহী করা সম্ভব হবে না। এই দায় আমাদের সবার। শিক্ষক, প্রতিষ্ঠান, অভিভাবক, সমাজ, রাষ্ট্র—সবাইকেই এই দায় নিতে হবে। একই সঙ্গে বইয়ের প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহী করে তুলতে হবে। তাহলেই অঞ্চল সমৃদ্ধ হবে। আঞ্চলিক ইতিহাস থেকেই জাতীয় ইতিহাস গড়ে ওঠে। তবু বই পড়ুন।
সাইফুর রহমান: সাংবাদিক ও সংস্কৃতিকর্মী, বরিশাল।

বাবরি মসজিদে হামলা পরিকল্পিত

রাম জন্মভূমি আন্দোলনের নামে ষোড়শ শতকের স্থাপত্য উত্তর প্রদেশের ফৈজাবাদ জেলার অযোধ্যায় বাবরি মসজিদকে ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর গুঁড়িয়ে দিয়েছিল ধর্মান্ধ কিছু লোক। এতদিন পর্যন্ত দাবি করা হতো নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া উন্মত্ত জনতাই নাকি ঐতিহাসিক এই স্থাপত্য ধ্বংসের জন্য দায়ী। কিন্তু ভারতের সংবাদ ভিত্তিক ওয়েব পোটাল কোবরা পোপের তদন্তে বেরিয়ে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। কোবরা পোস্টের ২৩ জনের ওপর করা একটি স্টিং অপারেশন বদলে দিল বাবরি মসজিদ ধ্বংসের নেপথ্যটাই। স্টিং অপারেশনে দাবি করা হয়েছে, সংঘপরিবার বাবরি মসজিদ ধ্বংসের নীলনকশা তৈরি করেছিল অনেক আগেই। উন্মত্ত জনতা নয়, সেই নকশার বাস্তব রূপ দিয়েছিল সংঘপরিবারের স্বেচ্ছাসেবকরাই। খবর ২৪ ঘণ্টার। কোবরা পোস্টের তদন্তের ফলাফল অনুযায়ী রাম জন্মভূমি আন্দোলনের মুখ্য চরিত্র সাক্ষী মহারাজ, আচার্য্য ধর্মেন্দ্র, উমা ভারতী, মহান্ত বেদান্তী, বিনয় কাটিয়ার সঙ্গেই শীর্ষ বিজেপি নেতা লালকৃষ্ণ আদভানি, উত্তর প্রদেশের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী কল্যাণ সিং এমনকি তদানীন্তন ভারতের প্রধানমন্ত্রী পিভি নরসিমা রাও সংঘপরিবারের বাবরি ধ্বংসের পরিকল্পনার কথা আগে থেকেই জানতেন।
কোবরা পোস্টের সহকারী সম্পাদক কে আশিস উত্তরপ্রদেশের অযোধ্যা, ফৈজাবাদ, তান্ডা, লক্ষ্ণৌ, গোরখপুর, মথুরা, মোরাদাবাদসহ জয়পুর, ঔরঙ্গাবাদ, মুম্বাই, গোয়ালিয়র ঘুরে ঘুরে এমন ২৩ জনের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন যারা বাবরি মসজিদ ধ্বংসকাণ্ডে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিলেন। কে আশিস এই ২৩ জনের সঙ্গে তার কথোপকথন রেকর্ড করেছেন। যদি এই ২৩ জনের দাবি সত্যি হয়- তাহলে প্রমাণিত হবে রাম জন্মভূমি আন্দোলনের নেতা ও কর্মীরা মাসের পর মাস ধরে গোপনে বাবরি মসজিদ ধ্বংসের পরিকল্পনা করেছিলেন। স্বেচ্ছাসেবকদের রীতিমত প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। ছক করে ঘটনাটিকে এমন ভাবে সাজানো হয় যাতে মনে হয় উন্মত্ত জনতাই বাবরি মসজিদ ধ্বংসের জন্য দায়ী। রীতিমত মিলিটারি কায়দায় সমগ্র পরিকল্পনাটিকে বাস্তব রূপ দেয়া হয়। ১৯৯০ সালে কর সেবকদের ওপর পুলিশের গুলি চালনা সম্পর্কে বলা হয়, কিছু নেতা মনে করতেন, কিছু হিন্দু না মরলে আন্দোলন তুঙ্গে উঠবে না। এদিকে স্বাভাবিকভাবেই বিজেপি এই স্টিং অপারেশনের তীব্র সমালোচনা করেছে। এর বাস্তবতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। তবে নির্বাচনের আগে দিয়েই এ ধরনের তথ্য বিজেপিকে যে বিপাকে ফেলবে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। উল্লেখ্য, ১৯৯২ সালে বাবরি মসজিদ ধ্বংসের প্রতিক্রিয়ায় ভারতের প্রধান শহরগুলোতে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ে।