Wednesday, December 27, 2017

ভারতীয় বংশোদ্ভুত এই কন্যাই আমেরিকার জনপ্রিয় পর্নস্টার

কালের কণ্ঠ অনলাইন, ২৭ ডিসেম্বর, ২০১৭: তিনি আমেরিকার অন্যতম জনপ্রিয় পর্ন তারকা। নাম প্রিয়া অঞ্জলি রাই। ভারতে জন্ম নিলেও, পশ্চিমী দুনিয়ার অন্যতম জনপ্রিয় পর্ন স্টার তিনি। ২৫ ডিসেম্বর ছিল প্রিয়া অঞ্জলি রাইয়ের জন্মদিন। ফলে সোমবার সকাল থেকেই সোশ্যাল সাইটে প্রিয়া অঞ্জলি রাইকে নিয়ে বেশ আলোচনা শুরু হয়।
জানা যায়, ১৯৭৭ সালের ২৫ ডিসেম্বর দিল্লিতে জন্ম হয় প্রিয়া অঞ্জলি রাইয়ের। মাত্র ২ বছর বয়সে ভারতীয় কন্যাকে দত্তক নেন আমেরিকার এক দম্পতি। তাঁরাই ছোট থেকে বড় করে তোলেন প্রিয়াকে। পড়াশোনা শেষ করার পর, পর্ন স্টার হিসেবে নিজের পরিচিতি গড়ে তোলেন প্রিয়া অঞ্জলি রাই। পর্ন ছবির জগতে পশ্চিমী দুনিয়ায় ঝড় তুললেও, নিজের ভারতীয় নাম বদলাননি প্রিয়া অঞ্জলি।
২০০৭ সাল থেকে পর্ন স্টার হিসেবে পশ্চিমী দুনিয়ায় জনপ্রিয়তার শিখরে ওঠে প্রিয়া অঞ্জলি রাইয়ের নাম। কিন্তু, ২০১৩ সাল থেকে পর্ন ছবির দুনিয়া থেকে বিদায় নিতে শুরু করেন ওই ভারতীয় বংশোদ্ভূত কন্যা।
বিগ বস ৬-এ বসের ঘরে হাজির হতে পারেন প্রিয়া অঞ্জলি রাই। এমন গুঞ্জনও শুরু হয়। কিন্তু, বিগ বস ৬-এর পর বিগ বস ১০ পার হয়ে গেলেও, প্রিয়া অঞ্জলি রাইকে ভারতের কোনো রিয়েলিটি শো'তে দেখা যায়নি। পর্ন স্টার হিসেবে জনপ্রিয় হলেও, ভারতীয় নাম কিন্তু কিছুতেই পরিবর্তন করেননি ওই পর্নস্টার।
এক ব্যবসায়ীর সঙ্গে গাটছড়া বেঁধে বর্তমানে সুখেই সংসার করছেন প্রিয়া। এমন গুঞ্জন শোনা গেলেও, এ বিষয়ে মুখে কখনো মুখ খুলেননি প্রিয়া অঞ্জলি। সূত্র: ইন্টারনেট

যেভাবে সৌদি আরবে নাজেহাল হয়েছিলেন সাদ হারিরি

লেবাননের প্রধানমন্ত্রী সাদ হারিরির গত মাসের সৌদি সফরের দ্বিতীয় দিনের কথা। ততক্ষণে তিনি বুঝতে পারলেন যে, কোথায় যেন গড়বড় আছে। এরই মাঝে সকাল সাড়ে ৮টায় সৌদি রাজকীয় দপ্তরে ডাক পড়লো তার। সৌদি আরবের মানসদে ওই সময়কে তাড়াতাড়িই বলতে হবে। হারিরি ভেবেছিলেন, তাকে হয়তো সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে মরুভূমিতে ক্যাম্পিং করতে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এ জন্য তিনি জিন্স আর টি-শার্ট পরেই সেখানে হাজির হন।
কিন্তু তার ঘোর কেটে যেতে সময় লাগে নি। প্রথমে, তার কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া হয় সেলফোন। সঙ্গে রাখতে দেওয়া হয় মাত্র একজন দেহরক্ষীকে। এমনকি হারিরিকে ধাক্কা দেন, অপমানও করেন সৌদি নিরাপত্তা রক্ষীরা। অসম্মানের ষোলকলা পূর্ণ হলো, যখন আগে থেকে লিখে রাখা একটি পদত্যাগপত্র ধরিয়ে দেওয়া হয় তার হাতে। সৌদি টেলিভিশনে তাকে এই পদত্যাগপত্র পড়তে বাধ্যও করা হয়।
পদত্যাগ করতে চাপ দেওয়া ও এজন্য ইরানকে দায়ী করতেই তাকে একদিন আগে রিয়াদে আসতে বলা হয়। ব্যাপারটা অনেকটা এমন ছিল যে, তিনি যেন কোনো স্বার্বভৌম রাষ্ট্রের নেতা নন। সৌদি আরবের কর্মচারী মাত্র। টেলিভিশনে সরাসরি নিজের পদত্যাগপত্র পড়তে যাওয়ার আগে, তাকে নিজের বাড়িতেও যেতে দেওয়া হয়নি। অগত্যা, দেহরক্ষীকে দিয়ে স্যুট কিনে আনিয়ে তিনি পরে নেন। এরপর পদত্যাগপত্র পড়েন, যা সম্প্রচার করা হয় সৌদি টিভিতে।
পুরো বিষয়টি যত অদ্ভুতই শোনাক না কেন, এটি ছিল সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের একটিমাত্র অধ্যায়। তার কর্মকা-ে শুধু তার নিজ দেশই নয়, পুরো মধ্যপ্রাচ্য কেঁপে উঠেছে। দেশে তিনি তার মতো শ’ শ’ প্রিন্স ও ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছেন। ইয়েমেনে যুদ্ধ বাঁধিয়েছেন। প্রতিবেশী কাতারকে অবরুদ্ধ করেছেন। আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী ইরানকে হটানোর লক্ষ্যে প্রিন্স মোহাম্মদের দাবার ছকে সাদ হারিরি একটি গুঁটি ছিলেন মাত্র।
এক ডজন পশ্চিমা, লেবানিজ ও আঞ্চলিক কর্মকর্তা এবং হারিরির সহযোগীদের বরাত দিয়ে এই বর্ণনা ছেপেছে নিউ ইয়র্ক টাইমস।
এতে আরও বলা হয়, হারিরি পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়ামাত্রই বৈরুতে তার স্তম্ভিত সহযোগীরা তার সঙ্গে যোগাযোগের বহু চেষ্টা চালিয়েও ব্যর্থ হন। অবশ্য, ওই দিন সন্ধ্যাটা প্রিন্স মোহাম্মদের সঙ্গে মরুভূমিতে ক্যাম্পিং করেই কাটান হারিরি। ওই দিন ও রাত বেশ অবিশ্বাস্য ছিল পুরো মধ্যপ্রাচ্যের জন্য। রাতে রিয়াদে মিসাইল নিক্ষেপ করে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা। একই দিন আটক করা হয় শ’ শ’ সৌদি প্রিন্স ও ব্যবসায়ীকে। আর ওদিকে সৌদি আরবে গিয়ে পদত্যাগের ঘোষণা দিলেন হারিরি। পুরো ঘটনাপ্রবাহ এতটাই অদ্ভুত ছিল যে, লেবানন একেবারে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়ে।
প্রিন্স মোহাম্মদ তার আগেই প্রতিবেশী ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেন। সেখান থেকে তিনি এখন না পারছেন ফিরে আসতে, না পারছেন থাকতে। পাশাপাশি প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশ কাতারকে অবরুদ্ধ করেন তিনি। কিন্তু বাগে আনার বদলে কাতারকে তিনি ইরানের দিকে আরও ঠেলে দিয়েছেন। এবার তিনি মনোনিবেশ করেছেন আরেক দেশের প্রধানমন্ত্রীকে জোর করে পদত্যাগ করাতে, যাকে কিনা যথেষ্ট আজ্ঞাবহ মনে হচ্ছিল না তার কাছে। প্রিন্স মোহাম্মদের উদ্দেশ্য ছিল একটি বার্তা পাঠানো যে, সময় এসেছে লেবাননে ইরানের ক্ষমতাধর মিত্র হিজবুল্লাহর প্রভাব ঠেকানোর।
প্রধানমন্ত্রী হারিরিকে যেভাবে পদত্যাগে রাজি করানো হয়েছে, তা হয়তো সৌদি আরবের ক্ষেত্রে খাটে। কিন্তু বিদেশী এক নেতাকে এই পদ্ধতিতে সামলানোর কিছু অনাকাক্সিক্ষত পরিণতিও থাকে। মধ্যপ্রাচ্যের মতো জটিল পরিবেশ হলে তো আর কথাই নেই। এত জল ঘোলা করে এখন দেখা যাচ্ছে, হারিরি এখনও সেই লেবাননের প্রধানমন্ত্রীই রয়ে গেছেন। তার জনপ্রিয়তাও এখন বেড়ে গেছে। অপরদিকে হিজবুল্লাহ এখন আগের চেয়েও শক্তিশালী।
সৌদি আরবের এমন অবিচক্ষণ কৌশলে দেশটির খুবই ঘনিষ্ঠ মিত্রদেশগুলো, যেমন: যুক্তরাষ্ট্র, কুয়েত, জর্দান, মিশর ও হারিরির লেবানিজ সুন্নি দলটির বড় অংশ চটেছে। এত কিছুর পর কিছুটা ছাড় হয়তো লেবাননের কাছ থেকে পাবে সৌদি আরব। কিন্তু এজন্য এই ঝড়ঝাপটা একটু বেশিই হয়ে গিয়েছিল।
পুরো বিষয়টি নিয়ে কোনো কর্মকর্তাই প্রকাশ্যে কথা বলতে রাজি হন নি। বিষয়বস্তু অত্যন্ত গোপনীয় বলেই নয় শুধু। হারিরির জন্যও পুরো ঘটনাপ্রবাহ ভীষণ বিব্রতকর। এখনও পুরো গল্পে কিছুটা ফাঁক রয়ে গেছে। কারণ, হারিরি ছাড়া আর কেউই পুর্ণাঙ্গ চিত্র সম্পর্কে পুরোপুরি অবহিত নন। সৌদি আরবে পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়ার পর বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক তৎপরতায় অবশেষে নিরাপদে দেশে ফিরেন হারিরি। ফিরেই তিনি নিজের পদত্যাগপত্র প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন।
হারিরিকে পদত্যাগে বাধ্য করার পর, রিয়াদে মিসাইল নিক্ষেপের জন্য ইরান ও লেবাননের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার অভিযোগ আনে সৌদি আরব। তারপরই দুর্নীতির অভিযোগে আটক করা শুরু হয় সৌদি প্রিন্স ও ব্যবসায়ীদের। এক সপ্তাহ পর, লেবাননে থাকা নিজ দেশের নাগরিকদের দেশে ফেরার নির্দেশ দেয় সৌদি আরব। পুরো ঘটনার তীব্রতা এত বেশি ছিল যে, মধ্যপ্রাচ্যের অনেকেই আরেকটি যুদ্ধ শুরুর আশঙ্কা করতে শুরু করেন।
লেবাননে তখন অস্থিরতা চরমে। তবে লেবাননের কর্মকর্তারা এরপর থেকেই মাঠে নেমে পড়েন। তারা ধরে নিয়েছিলেন, লেবাননের উত্তাল ফিলিস্তিনি শরণার্থী শিবিরকে অস্থিতিশীল করতে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা এঁটেছে সৌদি আরব। অনেকের আশঙ্কা ছিল, ওই শিবিরকে কেন্দ্র করে বা অন্যত্র হিজবুল্লাহ-বিরোধী মিলিশিয়া গঠনের চেষ্টা করছে সৌদি আরব ও দেশটির মিত্ররা। তবে এ ধরণের কোনো পরিকল্পনা ফলপ্রসূ হয়েছে বলে দেখা যায় নি। সৌদি আরব বলছে, এ ধরণের কোনো পরিকল্পনা তাদের ছিল না।
পশ্চিমা ও আরব কর্মকর্তারা বলছেন, তারা এখনও ঠাওরে উঠতে পারছেন না যে, ঠিক কী উদ্দেশ্যে এত ঝড় তুলেছিল সৌদি আরব। তবে কি লেবাননে অভ্যন্তরীণ উত্তেজনা সৃষ্টি করা বা এমনকি যুদ্ধ সৃষ্টির পরিকল্পনা ছিল? এই সম্ভাবনা অনেকেই উড়িয়ে দেন নি। একটি ব্যাপারে প্রায় সবাই একমত যে, সৌদি আরব চেয়েছিল হিজবুল্লাহ ও অন্যান্য দলকে নিয়ে গঠিত লেবাননের ঐক্যমতের সরকারের পতন ঘটিয়ে হিজবুল্লাহর প্রভাব হ্রাস করার। কিন্তু এ ধরণের ক্ষিপ্র পররাষ্ট্রনীতির জন্য যে ধরণের গভীর জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও কূটনৈতিক সম্পর্ক দরকার, তা রাতারাতি গড়ে উঠে না বলে মন্তব্য করেছেন আমেরিকার প্রসিদ্ধ থিংকট্যাংক সেন্টার ফর আমেরিকান প্রগ্রেস-এর জ্যেষ্ঠ ফেলো ব্রায়ান কাটুলিস। তিনি বলেন, এখন মধ্যপ্রাচ্যে ক্ষমতা ও প্রভাব অর্জনের প্রতিযোগিতা বহুলাংশে পরিবর্তিত হয়েছে। সৌদি আরব এখানে স্রেফ নিজের পিছিয়ে থাকার ব্যবধান কমানোর চেষ্টা চালাচ্ছে। এই প্রচেষ্টার ফল মিশ্র। সৌদি আরবের কৌশলের দুর্বলতা হলো, এতে ভুল চাল চালা ও পরিস্থিতি নাগালের বাইরে চলে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
(অনুবাদ: মাহমুদ ফেরদৌস)

সাড়ে ২৮ কোটি ডলার বাজেট কর্তন করছে জাতিসংঘ

বিরাট অংকের বাজেট কর্তন করছে জাতিসংঘ। এর পরিমাণ ২৮ কোটি ৫০ লাখ ডলার। এই বাজেট কর্তনে সমঝোতা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এপি। এতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র সরকার বলেছে, তারা জাতিসংঘের বাজেট উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কর্তনে সমঝোতা চালিয়েছে। জাতিসংঘে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের মিশন রোববার বলেছে, ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে জাতিসংঘের বাজেট কমানো হচ্ছে কমপক্ষে ২৮ কোটি ৫০ লাখ ডলার।
এসব অর্থ কর্তন হবে জাতিসংঘের ব্যবস্থাপনা ও বিভিন্ন সহযোগি কর্মকাণ্ডে। তবে মোট কি পরিমাণ অর্থের বাজেট আসছে সে বিষয়ে কিছু বলা হয় নি। বলা হয় নি এই বাজেট কর্তনের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের অনুদানের অর্থের পরিমাণ কমবে কিনা। এখানে উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে নিরাপত্তা পরিষদে ব্যর্থ হওয়ার পর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে যুক্তরাষ্ট্রের জেরুজালেম নীতির বিরুদ্ধে ভোট হয়। তাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের জেরুজালেম ঘোষণা প্রত্যাখ্যান করা হয়। এই ভোটের আগে সরাসরি হুমকি দেয়া হয়েছিল ট্রাম্পের পক্ষ থেকে। বলা হয়েছিল, যারা ট্রাম্পের ঘোষণার বিরুদ্ধে ভোট দেবে তাদের সহায়তা কর্তন করবে প্রশাসন। এ জন্য জাতিসংঘে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত নিকি হ্যালি সদস্য দেশগুলোকে চিঠি পর্যন্ত দেন। ট্রাম্প তার টুইটারে প্রকাশ্যে হুমকি দেন বলে মিডিয়ার খবরে প্রকাশিত হয়। কিন্তু তারা থামাতে পারেন নি জাতিসংঘকে। ৬ই ডিসেম্বর ট্রাম্প জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে ঘোষণা দেন। এ ঘোষণা বাতিল চেয়ে উত্থাপন করা হয় একটি প্রস্তাব। এর পক্ষে ভোট দেয় বাংলাদেশ সহ ১২৮টি দেশ। বিপক্ষে ভোট দেয় ৯টি দেশ। ভোটদানে বিরত থাকে ৩৫ টি দেশ। ফলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ঘোষণা সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে প্রত্যাখ্যাত হয়। এখন জাতিসংঘের বাজেট কর্তনে যুক্তরাষ্ট্র যে সমঝোতা করেছে তা কি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশোধ কিনা তা স্পষ্ট নয়। তবে নিকি হ্যালি বলেছেন, জাতিংঘের অকার্যকারিতা ও অতিরিক্ত অর্থ ব্যায়ের কথা সুপরিচিত।

রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়ায় অসঙ্গতি by পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তী

বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলেছে রোহিঙ্গা ইস্যু। প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী পালিয়ে, সীমান্ত অতিক্রম প্রবেশ করেছে বাংলাদেশে। এই সংকট প্রতিবেশী চীন, ভারত ও অন্যান্য বড় শক্তিগুলোর মধ্যেও ছড়িয়ে পড়েছে। মানবাধিকারবিষয়ক গ্রুপ ও বিভিন্ন দেশ মিয়ানমারের বিরুদ্ধে জাতি নিধনের অভিযোগ এনেছে। এক্ষেত্রে কিছু দেশ ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকারবিষয়ক সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে ত্রাণ সহায়তা পাচ্ছে বাংলাদেশ। তবে একই সঙ্গে তারা এটা চায় না, রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের ভূখ-ে স্থায়ীভাবে বসতি গড়ে তুলুক।
এ লক্ষ্যেই প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে সম্পাদিত হয়েছে সাম্প্রতিক চুক্তি। এটি ১৯৯২-৯৩ সালে সম্পাদিত চুক্তি অনুসারেই করা হয়েছে। ওই সময়ে ভয়াবহ নৃশংসতা থেকে বাঁচতে দলে দলে রোহিঙ্গারা পালিয়ে ছুটে এসেছেন বাংলাদেশে।
এই চুক্তিতে শরণার্থীদের ফিরে যাওয়ার শর্তগুলো রয়েছে। এতে জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ ও শরণার্থীদের ফেরত পাঠানোর বিষয়ে একটি ধারা রয়েছে। আশা করা হয়, এর অধীনে শিগগিরই শরণার্থী ফেরত পাঠানো শুরু হবে। তবে এক্ষেত্রে কোনো সুস্পষ্ট সময়সীমা নেই। চুক্তিতে শুধু বলা হয়েছে, প্রত্যাবর্তন সম্পন্ন হবে দ্রুততম উপায়ে। মিয়ানমার সরকারের একজন কর্মকর্তা ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, বাংলাদেশ শরণার্থীদের কাগজপত্র বা ডকুমেন্টেশন সম্পন্ন করার পর তা মিয়ানমারের কাছে তা হস্তান্তর শুরুর পরই শুরু হতে পারে প্রত্যাবর্তন।
এটা পরিষ্কার, আন্তর্জাতিক চাপ থেকে লঘু করতে চায় মিয়ানমার এবং তারা তা করতে চায় দ্বিপক্ষীয় পন্থায়। শরণার্থীদের ফেরত পাঠানোর পূর্বশর্ত কি তার বিস্তারিত এখনও নিরুপণ করা হয়নি। এমনকি রোহিঙ্গারা ফেরত যাওয়ার পর তাদের আইনগত মর্যাদা কি হবে সে বিষয়েও কোনো সুস্পষ্ট কথা বলা হয়নি। ফিরে যাওয়ার পর তারা আরো সহিংসতার শিকার হবেন না এ বিষয়ে দেয়া হয়নি কোনো নিশ্চয়তা (গ্যারান্টি)। চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই বলেছেন, এ ইস্যুটি (রোহিঙ্গা) আন্তর্জাতিকীকরণ না করা হবে উত্তম। রোহিঙ্গা সংকটে বেইজিং যে তিন দফা ফর্মুলা দিয়েছে তা তাদের নিজেদের স্বার্থেই করা হয়েছে।
আগস্টের শেষের দিকে রাখাইনের উত্তরাঞ্চলে রোহিঙ্গা উগ্রপন্থিদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান চালায় মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। এ সময় গণধর্ষণ, হত্যাযজ্ঞসহ নৃশংসতার অভিযোগ আনা হয়েছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে। এর ফলে মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সেলর ও শান্তিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী অং সান সুচি পড়েছেন আন্তর্জাতিক কড়া চাপের মুখে। সমালোচিত হচ্ছেন আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণভাবে। তিনিও সেই সেনাবাহিনীর সঙ্গে নোঙর ফেলার চেষ্টা করেছেন।
মিয়ানমারের সেনাপ্রধান জেনারেল মিন অং হ্লাইং এরই মধ্যে বিবৃতি দিয়েছেন। তাতে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, শেষ পর্যন্ত যেসব রোহিঙ্গাকে ফেরত যেতে দেয়া হবে তাদের সংখ্যা হবে সীমাবদ্ধ। রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে বাঙালি হিসেবে দেখা হয়। মনে করা হয় তারা অবৈধ অভিবাসী। মিয়ানমারের ১৯৮২ সালের নাগরিকত্ব আইনে এই রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্বের পূর্ণ অধিকার দেয়া হয়নি। তাদের রাখাইনে ফিরে যাওয়ার বিরুদ্ধে সেখানে ব্যাপক সংখ্যক বৌদ্ধ জনগোষ্ঠীর বিরোধিতা রয়েছে। মিয়ানমারের সরকারি মিডিয়া অব্যাহতভাবে রোহিঙ্গা উগ্রপন্থিদের ও আরাকান রোহিঙ্গা সালভেশন আর্মিকে (আরসা) ‘বাঙালি সন্ত্রাসী’ হিসেবে বর্ণনা করে যাচ্ছে। সুচিও সতর্কতার সঙ্গে সংখ্যাগরিষ্ঠ বৌদ্ধ দেশটিতে ‘আনচেকড’ মুসলিম অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনছেন। তিনি বলছেন, মিয়ানমারে সয়লাব হয়ে যাচ্ছে এসব রোহিঙ্গা। আন্তর্জাতিক আদর্শকে লঙ্ঘনকারী মিয়ানমারের সেনাবাহিনীকে সমর্থন করছে মৌলবাদী বৌদ্ধ ধর্মীয় নেতারা।
প্রাথমিকভাবে মিয়ানমারকে সমর্থন করেছে চীন। কিন্তু তাদের পক্ষপাতী আচরণে বাংলাদেশ অসন্তুষ্ট এটা বুঝতে পেরে তারা পরে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নিজেদের ব্যস্ত রেখেছে। মিয়ানমারে চীনের মূল কৌশল হলো বঙ্গোপসাগরে প্রবেশের সুবিধা আদায় করা। রাখাইনের কাইউকপু বন্দর থেকে চীনের ইউনান প্রদেশের রাজধানী কুনমিং পর্যন্ত এরই মধ্যে রয়েছে চীনের গ্যাস ও আলাদা তেলের পাইপলাইন। ওই কাইউকপু বন্দরে একটি স্পেশাল ইকোনমিক জোন ও সেখানে একটি মেগা বন্দর গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।
রোহিঙ্গা ইস্যুতে ভারতের অবস্থান সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা না থাকায় ভারতের বন্ধুপ্রতিম দেশ বাংলাদেশ অসন্তোষ প্রকাশ করে। এছাড়া রোহিঙ্গা সংকট এতটাই ভয়াবহ হয়ে দৃশ্যমান হয়ে ওঠার পরিপ্রেক্ষিতে ভারত তার প্রাথমিক দোদুল্যমান নীতি পরিবর্তন করেছে। মিয়ানমারে এখনও ক্ষমতার কেন্দ্রে রয়েছে সেনাবাহিনী। সেখানে স্বার্থ রয়েছে চীন ও ভারত উভয়েরই। এটাই ওই সহিংসতায় নিন্দা প্রকাশে ভারতের অনীহার কারণ। তবে দ্রুততার সঙ্গে ভারত তার নীতি পরিবর্তন করেছে। বাংলাদেশের ক্ষোভের বিষয়টি শান্ত করার উপায় খুঁজেছে। পরিবর্তিত নীতির অধীনে ভারত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মানবিক ত্রাণ সহায়তা দিয়েছে এবং মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর সঙ্গে যুক্ত থেকেছে।
মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর সঙ্গে যৌথ মহড়া ও প্রশিক্ষণের বিষয়ে যুক্ত হয়েছে ভারত। ভারতের যেসব বিদ্রোহী গ্রুপ মিয়ানমারের ভিতরে ক্যাম্প গড়েছে তাদের বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে মিয়ানমারের সহযোগিতা প্রয়োজন ভারতের। এ ছাড়া বড় দুটি কানেক্টিভিটি প্রজেক্টের অগ্রগতির জন্য মিয়ানমারের সহযোগিতা প্রয়োজন। ওই দুটি প্রজেক্ট হলোÑ এক. কালাদান মাল্টি-মডাল প্রজেক্ট। এটি রাখাইনের রাজধানী সিতওয়ের বন্দরকে ভারতে মিজোরাম রাজ্যের সঙ্গে সংযুক্ত করেছে। দুই. ত্রিপক্ষীয় মহাসড়ক প্রকল্প। এর মাধ্যমে ভারতের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মিয়ানমার ও থাইল্যান্ড। ভারতের ‘অ্যাক্ট ইস্ট পলিসি’ সাফল্যের জন্য এসব প্রকল্প অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
পশ্চিমারা কোনো অবরোধ বিবেচনায় নেয়নি। সম্প্রতি মিয়ানমার সফর করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন। এরপরই মাত্র জবাবদিহিতার আলোচনা এসেছে। আলোচনায় এসেছে, মিয়ানমারে ওই নৃশংসতার জন্য দায়ী সেনাবাহিনীর যেসব কর্মকর্তা তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অবরোধের কথা। এ ছাড়া সম্প্রতি মিয়ানমার সফর করেছেন ষষ্ঠ পোপ ফ্রাঁসিস। তিনি এ সফরে রোহিঙ্গা শব্দটি এড়িয়ে গেছেন। কারণ, রোহিঙ্গা শব্দটি ব্যবহারে কঠোর বিরোধিতা রয়েছে মিয়ানমারে। ফিলিপাইনের ম্যানিলায় অনুষ্ঠিত হয়েছে আসিয়ান সম্মেলন। সেখানে আসিয়ান চেয়ারম্যান যে বিবৃতি দিয়েছেন তাতে উল্লেখ করা হয়নি রোহিঙ্গা ইস্যু। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ব্রুনেইয়ের সঙ্গে বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ কম্বোডিয়া, লাওস, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামের মধ্যে যে বিভেদ বা ফাটল দেখা দিয়েছে তাতে উদ্বিগ্ন আসিয়ান। ইসলামিক দেশগুলোর পতাকাবাহী সংগঠন অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশন (ওআইসি) আরো একবার প্রমাণ করলো তারাও এ সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা রাখে না।  রোহিঙ্গারা বিশ্বের সবচেয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত জনগোষ্ঠীতে পরিণত হয়েছে এবং তাদের ভবিষ্যৎ দৃশ্যত একেবারে ম্লান। মিয়ানমার বেশির ভাগ শরণার্থীকে ফেরত নেবে বলে মনে হচ্ছে না। তাই তাদের নতুন শরণার্থী শিবিরে পুনর্বাসন করবে বাংলাদেশ। আশা করা হচ্ছে, কিছু শরণার্থীকে গ্রহণ করে অন্য দেশগুলো এই চাপ কিছুটা কমিয়ে আনবে।
(পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তী বাংলাদেশে ভারতের সাবেক হাইকমিশনার। অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের ‘ডিস্টিঙ্গুইজড ফেলো’। তিনি ওয়েস্ট এশিয়া ইনিশিয়েটিভ, বাংলাদেশ ও আসিয়ানভুক্ত বিভিন্ন ইস্যু দেখাশোনা করেন। ২০১৪ সালের অক্টোবরে যোগ দিয়েছেন অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনে। তার এ লেখাটি প্রকাশিত হয় ২৭শে ডিসেম্বর অনলাইন দ্য টেলিগ্রাফে। এখানে তার অনুবাদ প্রকাশ করা হলো)

হারিরির পদত্যাগে চাপ ছিল সৌদি ক্রাউন প্রিন্সের পদত্যাগপত্র লিখেও দিয়েছিলেন

ইরানের প্রভাবকে নিঃশেষ করে দিতে লেবাননের প্রধানমন্ত্রী সাদ আল হারিরিকে পদত্যাগে চাপ প্রয়োগ করেছিল সৌদি আরব। তিনি পদত্যাগের ঘোষণা দেয়ার যে ঘোষণা দিয়েছিলেন তাও নাকি লিখে দিয়েছিলেন সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান। উদ্দেশ্য, ইরানের ক্ষমতা খর্ব করা এবং আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করা। এ খবর দিয়েছে লন্ডনের অনলাইন ডেইলি মেইল। এতে বলা হয়, লেবাননের প্রধানমন্ত্রী সাদ আল হারিরিকে পদত্যাগে চাপ প্রয়োগ করেছিল সৌদি আরব সরকারের সদস্যরা। নিউ ইয়র্ক টাইমসের উদ্ধৃতি দিয়ে এ খবর প্রকাশ করেছে ডেইলি মেইল।
গত ৪ঠা নভেম্বর অকস্মাৎ সৌদি আরব থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন হারিরি। তার ঘনিষ্ঠ কয়েকজন কর্মকর্তা এ নিয়ে কথা বলেছেন নিউ ইয়র্ক টাইমসের সঙ্গে। তারা বলেছেন, পদত্যাগে ভীষণরকম চাপ দিয়েছিল সৌদি আরব সরকার। বিশেষ করে এ চাপ এসেছিল ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের তরফ থেকে। তিনিই হারিরির পদত্যাগপত্র লিখে দিয়েছিলেন বলে দাবি তাদের। তারা আরো অভিযোগ করেন, লেবাননের প্রধানমন্ত্রীকে আটক রাখা হয়েছিল এটা নিশ্চিত হতে যে, তিনি পদত্যাগের ঘোষণা দিচ্ছেন। সৌদি আরবের অভিযোগ আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করছে ইরান। বিশেষ করে তারা হিজবুল্লাহকে সমর্থন করছে। তাদের  প্রভাবকে নিঃশেষ করে দিতে হবে বলে মনে করে সৌদি আরব। হারিরি ঘনিষ্ঠ ওইসব কর্মকর্তা মনে হরেন, সৌদি আরবের এমন কর্মকাণ্ডে আঞ্চলিক সংকট আরো ছড়িয়ে পড়তে পারতো। কিন্তু লেবানন ও পশ্চিমা সরকারগুলোর প্রচণ্ড চাপে শেষ পর্যন্ত সাদ আল হারিরিকে দেশে ফিরতে দেয় সৌদি আরব। তাই তিনি দেশে ফিরেই দ্রুততার সঙ্গে প্রত্যাহার করে নিয়েছেন পদত্যাগপত্র। এখানে উল্লেখ্য, লেবাননের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী সাদ আল হারিরির পিতা রফিক হারিরি। তিনিও লেবাননের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। ২০০৫ সালে তাকে হত্যা করা হয়। পিতার পথ অনুসরণ করে প্রধানমন্ত্রী হন হারিরি। সৌদি আরবের সঙ্গে গড়ে তোলেন ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। তার রয়েছে লেবানন ও সৌদি আরবের দ্বৈত নাগরিকত্ব। তিনি জন্মেছেন এই সৌদি আরবেই। এই দেশেই তার ব্যবসায়ী কর্মকাণ্ডে প্রচুর অর্থ বিনিয়োগ করা। তাই সৌদি আরব তার কাছে ঘনিষ্ঠ ও গুরুত্বপূর্ণ মিত্র। লেবাননে বর্তমানে ক্ষমতায় জোট সরকার। এই জোটে রয়েছে হিজবুল্লাহ। রয়েছেন প্রেসিডেন্ট মাইকেল আউন। উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের প্রভাব নিয়ে উদ্বিগ্ন সৌদি আরব। তারা চায় ইরানের এই প্রভাব কমাতে। কিন্তু তাতে অনিচ্ছা প্রকাশ করছিলেন প্রধানমন্ত্রী সাদ আল হারিরি। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠতে থাকে সৌদি আরব। ইরানের একজন শীর্ষ কর্মকর্তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন সাদ আল হারিরি। এরপর ৩রা নভেম্বর তাকে রিয়াদে আমন্ত্রণ জানায় সৌদি আরব। বলা হয়, মরুভূমিতে ক্রাউন প্রিন্সের সঙ্গে একটি দিন কাটাতে। এটাকে ‘সমন’ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সাদ আল হারিরির ঘনিষ্ঠ ওই কর্মকর্তারা বলেছেন, ওই সময় তাকে সব কিছু করতে বাধ্য করে সৌদি কর্মকর্তারা। তার মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়। কেড়ে নেয়া হয় সব কিছু। তবে তার সঙ্গে শুধু একজন দেহরক্ষী থাকতে দেয়া হয়। ওইদিন বিকালেই আগে থেকে লিখে রাখা বক্তব্য অনুযায়ী সৌদি আরবের টেলিভিশনে পদত্যাগের ঘোষণা দেন সাদ আল হারিরি। এ ঘোষণা দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে দ্রুততার সঙ্গে পদক্ষেপ নেয় ফ্রান্স, যুক্তরাষ্ট্র ও মিশর। এমন পদক্ষেপের কারণে হারিরিকে ফেরত পাঠানো হয় লেবাননে। তবে সৌদি আরবের এক সরকারি কর্মকর্তা বলেছেন, সাদ আল হারিরিকে সর্বোচ্চ সম্মান দেখানো হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হন নি সাদ আল হারিরি। উল্লেখ্য, ক্রাউন প্রিন্সের দায়িত্ব নেয়ার আগেই ইয়েমেন যুুদ্ধের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন মোহাম্মদ বিন সালমান। তিনি ওই দেশে বোমা হামলার নির্দেশ দিয়েছেন। হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ দিয়েছেন। ইয়েমেনে হামলায় সেখানে এক মানবিক সংকট সৃষ্টি হয়েছে। ক্রাউন প্রিন্সের নির্দেশে সৌদি আরবে ধনী ও গুরুত্বপূর্ণ অনেক কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দুর্নীতির শিকড় উপড়ে ফেলার জন্য এটা করা হয় বলে প্রচার করা হয়েছে। পর্যবেক্ষকরা বলেন, মোহাম্মদ বিন সালমানের লক্ষ্য ছিল ক্ষমতা কুক্ষিগত করা ও সমালোচকদের মুখ বন্ধ করে দেয়া। কারণ, গ্রেপ্তার করা হয়েছে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের। অন্যদিকে সৌদি আরব সরকারের সঙ্গে উষ্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। বিশেষ করে তার ভালো সম্পর্ক রয়েছে ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে। ক্রাউন প্রিন্স হিসেবে অনুমোদন পাওয়ার পর সালমানকে টুইটারে প্রশংসা করেছেন ট্রাম্প। তিনি টুইটারে লিখেছেন, বাদশাহ সালমান ও ক্রাউন প্রিন্সের প্রতি তার রয়েছে মহৎ আস্থা। তার সঙ্গে রয়েছে জারেড কুশনারের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক।

বেতন–ভাতা বন্ধ, আটকে গেছে ছুটি ও ভর্তি পরীক্ষা

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. আসাদুজ্জামান যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটিতে এমএস ডিগ্রি অর্জন করার জন্য বৃত্তি পেয়েছেন। আগামী ৪ জানুয়ারি থেকে তাঁর ক্লাস শুরু হবে। গতকাল মঙ্গলবার তিনি ভিসাও পেয়েছেন। উপাচার্য না থাকায় তাঁর ছুটি মঞ্জুর হচ্ছে না। এ নিয়ে ওই শিক্ষক চরম হতাশায় ভুগছেন। আরও কয়েকজন শিক্ষকও শিক্ষাছুটির জন্য অপেক্ষায় আছেন। একই কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৩৪ জন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী ডিসেম্বর মাসের বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না। আটকে আছে প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষাও। অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তও আটকে আছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা দ্রুত উপাচার্য নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২ ডিসেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের পঞ্চম উপাচার্য অধ্যাপক মো. আলী আশরাফের মেয়াদ শেষ হয়। এর এক দিন আগেই তাঁর পুরোনো কর্মস্থল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে চলে যান তিনি। এরপর থেকে পদটি শূন্য। এ বিশ্ববিদ্যালয়ে সহ-উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষের পদও শূন্য। যে কারণে ভারপ্রাপ্ত কিংবা অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনেরও কেউ নেই। এতে করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮০ জন শিক্ষক, ৬৬ জন কর্মকর্তা ও ১৮৮ জন কর্মচারী বেতন-ভাতা পাবেন না। নিয়মানুযায়ী, উপাচার্যের অনুমোদন নিয়ে বেতন-ভাতা দেওয়া হয়। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে শীতকালীন ছুটি চলছে। ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ওই ছুটি চলবে। ছুটির কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। জানতে চাইলে শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান বলেন, ‘উপাচার্যের পদ শূন্য থাকায় ডিসেম্বর মাসের বেতন-ভাতা পাব না আমরা। এতে করে মাস চলতে হিমশিম খেতে হবে।’ এদিকে ভর্তি পরীক্ষা কমিটি সূত্রে জানা গেছে, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে প্রথম বর্ষ স্নাতক (সম্মান) শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষার জন্য ৫৪ হাজার ৮০৯ জন শিক্ষার্থী আবেদন করেছেন। এ বছর ১ হাজার ৯৭ আসনের বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন প্রায় ৫০ জন করে শিক্ষার্থী। তিনটি অনুষদে ১৯টি বিভাগে এবারও শিক্ষার্থী ভর্তি করানো হবে। গত ১৭ ও ১৮ নভেম্বর ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক মো. আলী আশরাফের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ এনে শিক্ষক সমিতি আন্দোলন করে। শিক্ষক সমিতির আন্দোলনের কারণে তৎকালীন উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে ঢুকতে পারেননি টানা ৪৭ দিন। ওই কারণে ভর্তি পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। এতে করে অনিশ্চয়তায় পড়েন ভর্তি-ইচ্ছুক শিক্ষার্থী ও তাঁদের অভিভাবকেরা। তখন কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষা কমিটি সিদ্ধান্ত নেয়, নতুন উপাচার্য এলে ভর্তি পরীক্ষার তারিখ নির্ধারণ করবে। সেই পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। কুমিল্লা নগরের ঝাউতলা এলাকার শিক্ষার্থী আনিকা তাবাসসুম, মোগলটুলি এলাকার জেরিন তাসনিম ও চৌধুরীপাড়া এলাকার রাকা ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের বেশির ভাগ পাবলিক ও সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিমধ্যে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের ভর্তিও শেষ। অথচ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় এখনো ভর্তি পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করেনি। নৃবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘ফুলফান্ডিং স্কলারশিপ পেয়েছি। কিন্তু উপাচার্য পদে কেউ না থাকায় আমার ছুটি হচ্ছে না। অথচ ৪ জানুয়ারি থেকে ক্লাস শুরু হবে।’ জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও বিজ্ঞান অনুষদের ডিন মো. আবু তাহের বলেন, উপাচার্যের পদ শূন্য থাকায় ভর্তি পরীক্ষার তারিখ নির্ধারণ করা যাচ্ছে না। এ মাসের মধ্যে উপাচার্য পদে নিয়োগ না দিলে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বন্ধ হয়ে যাবে। অনেকগুলো কমিটি উপাচার্যের অনুমোদনের পর করতে হয়, সেগুলোও আটকে আছে। ডিন নির্বাচন, শিক্ষকদের বিদেশ যাওয়া, বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও দীর্ঘদিন যাবৎ সিন্ডিকেট সভাও হচ্ছে না। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক গুরুত্বপূর্ণ কাজ আক্ষরিক অর্থে স্থবির হয়ে পড়েছে। পুরো বিশ্ববিদ্যালয় আক্ষরিক অর্থে অভিভাবকশূন্য। যত দ্রুত সম্ভব সরকারকে উপাচার্য পদে নিয়োগ দিতে হবে। কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষা কমিটির সদস্যসচিব ও বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. মজিবুর রহমান মজুমদার প্রথম আলোকে বলেন, ‘উপাচার্য নিয়োগের বিষয়টি সরকারের সর্বোচ্চ মহলে প্রক্রিয়াধীন। শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ডিসেম্বর মাসের বেতন-ভাতা দেওয়া নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সঙ্গে কথা বলেছি। উনারা বলেছেন, উপাচার্য এলেই বেতন-ভাতা দিতে হবে। সেই পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। উপাচার্য না থাকায় ভর্তি পরীক্ষাও আটকে আছে। আমরা আশা করছি, এ মাসের মধ্যেই সরকার কাউকে না কাউকে এ পদে নিয়োগ দেবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য রুটিনওয়ার্ক চলছে।’

২০ রেল ইঞ্জিন ও ১৫০ কোচ কেনা হচ্ছে

ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটানো ও যাত্রীসুবিধা বাড়াতে ২০টি রেল ইঞ্জিন ও ১৫০টি কোচ কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এগুলো কেনা হবে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে। প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ১ হাজার ৭৯১ কোটি ১১ লাখ টাকা। রেল ইঞ্জিন ক্রয়সংক্রান্ত এ প্রকল্পসহ জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় আজ মঙ্গলবার ১৬ হাজার ১০ কোটি ২৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৬টি প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে একনেক চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে একনেকের সভায় এসব প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়। সভাশেষে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তাফা কামাল প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রকল্প সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন। খবর বাসস। পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ রেলওয়েতে ১ হাজার ১৬৫টি যাত্রীবাহী মিটারগেজ ক্যারেজ রয়েছে। যার মধ্যে ৪৫৬টি যাত্রীবাহী কোচের বয়স ৩৫ বছর অতিক্রম করেছে, ১৩৫টির মেয়াদ ৩১-৩৪ বছর। যাত্রী চাহিদার কারণে মেরামতের মাধ্যমে মেয়াদ উত্তীর্ণ যাত্রীবাহী কোচগুলো ব্যবহার করা হলেও তা আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন আরামদায়ক ও নিরাপদ নয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে ২০টি মিটারগেজ ডিজেল ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ এবং ১৫০টি মিটারগেজ যাত্রীবাহী ক্যারেজ সংগ্রহ, নিরাপদ ও উন্নত গুণসম্পন্ন লোকোমোটিভ এবং যাত্রীবাহী ক্যারেজ সরবরাহ; যাত্রী চাহিদা পূরণের জন্য নতুন ট্রেন পরিচালনা এবং রেলওয়ের রাজস্ব আয় বৃদ্ধি করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
একনেকে অনুমোদিত অন্য প্রকল্পগুলো হলো ময়মনসিংহ অঞ্চল পল্লি অবকাঠামো উন্নয়ন, রংপুর বিভাগ গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প-২য় পর্যায়, রাজশাহী বিভাগ (সিরাজগঞ্জ জেলা ব্যতীত) পল্লি অবকাঠামো উন্নয়ন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ‘বাংলাদেশ মেরিন ফিশারিজ ক্যাপাসিটি বিল্ডিং’ প্রকল্প, ‘কৃষিতথ্য সার্ভিস আধুনিকায়ন ও ডিজিটাল কৃষিতথ্য ও যোগাযোগ শক্তিশালীকরণ’, কারিগরি ও মাদ্রাসাশিক্ষা বিভাগের ‘অধিকসংখ্যক শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে বিদ্যমান পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটগুলোর অবকাঠামো উন্নয়ন’; ‘সিলেট, বরিশাল, রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগে চারটি মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট স্থাপন’ প্রকল্প, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের ‘জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প’; ‘শিশু ও নারী উন্নয়নে সচেতনতামূলক যোগাযোগ কার্যক্রম (পঞ্চম পর্যায়)’; ‘চক্ষু স্বাস্থ্যর উন্নয়ন এবং বাংলাদেশের নির্দিষ্ট কয়েকটি অঞ্চলে অন্ধত্ব প্রতিরোধ প্রকল্প’; চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক এবং ব্রিজগুলোর উন্নয়নসহ আধুনিক যান যন্ত্রপাতি সংগ্রহ ও সড়ক আলোকায়ন; ত্রিশাল-বালিপাড়া-নান্দাইল (কানুরামপুর) জেলা মহাসড়ক প্রশস্তকরণ ও মজবুতকরণ, মীরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহের লক্ষ্যে সঞ্চালন অবকাঠামো উন্নয়ন, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ‘সিরতা, ময়মনসিংহ ও কালকিনি, মাদারীপুর ইসলামিক মিশন হাসপাতাল কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ এবং বায়তুল মোকাররম ডায়াগনস্টিক সেন্টার শক্তিশালীকরণ’ প্রকল্প। এসব প্রকল্প ব্যয়ের মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ১১ হাজার ৮২৯ কোটি ৪৮ লাখ টাকা, বাস্তবায়নকারী সংস্থা থেকে ৩০০ কোটি ৩৪ লাখ টাকা এবং বৈদেশিক সহায়তা থেকে পাওয়া যাবে ৩ হাজার ৮৩৯ কোটি ৪২ লাখ টাকা।

হাতিরঝিলে নতুন তিনটি ওয়াটার ট্যাক্সি

চালুর পর থেকে জনপ্রিয় হয়ে ওঠা হাতিরঝিলের ওয়াটার ট্যাক্সির বহরে যুক্ত হয়েছে আরও তিনটি জলযান। এ নিয়ে হাতিরঝিলের এফডিসি প্রান্ত থেকে রামপুরা ও বাড্ডা লিংক রোড পর্যন্ত চলাচলকারী ওয়াটার ট্যাক্সির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৩টিতে। গত বছরের বিজয় দিবসে হাতিরঝিলে যাতায়াতের নতুন একটি মাধ্যম হিসেবে এই ওয়াটার ট্যাক্সি সেবা চালু হয়। শুরুতে বহরে ট্যাক্সির সংখ্যা ছিল চারটি। কিছুদিনের মধ্যে তা বাড়িয়ে ১০টিতে উন্নীত করা হয়।    হাতিরঝিল কর্তৃপক্ষ বলছে, এরপরও চাহিদার তুলনায় ট্যাক্সির সংখ্যা কম হওয়ায় এই পথে যাতায়াতকারী ব্যক্তিদের অনেকক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হতো। এর পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি নতুন ট্যাক্সিগুলো বহরে যুক্ত করা হয়েছে। হাতিরঝিল সমন্বিত উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক (রাজউক অংশ) জামাল আকতার ভূঁইয়া প্রথম আলোকে বলেন, নতুন যুক্ত হওয়া ওয়াটার ট্যাক্সিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড়টির আসনসংখ্যা ৮০টি। অন্য দুটির একটিতে ৫০ জন ও আরেকটিতে ৪২ জন বসার ব্যবস্থা আছে।
এই সেবা চালুর পর থেকে বাড্ডা, গুলশান, রামপুরা, খিলগাঁওসহ নগরীর পূর্বাংশের মানুষ যানজটের ঝক্কি এড়িয়ে কারওয়ান বাজার, মগবাজার, দিলু রোড, ইস্কাটন, বাংলামোটর, তেজগাঁও এলাকায় সহজে যাতায়াত করতে পারছেন। এ জন্য এফডিসি, গুলশান-১ ও রামপুরা ব্রিজ এলাকায় ট্যাক্সির তিনটি টার্মিনাল স্থাপন করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার এফডিসি মোড়সংলগ্ন টার্মিনালে কথা হয় রামপুরার বাসিন্দা রফিকুল হকের সঙ্গে। কারওয়ান বাজারে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ওই ব্যক্তি বলেন, ‘হাতিরঝিলে ওয়াটার ট্যাক্সি চালু হওয়ার পর থেকেই আমি এর নিয়মিত যাত্রী। কিন্তু এই পথে যাত্রীসংখ্যা বেশি হওয়ায় আসন পাওয়ার জন্য মাঝেমধ্যেই লম্বা সময় অপেক্ষা করতে হতো। নতুন তিনটি ট্যাক্সি চালু হওয়ার পর থেকে অপেক্ষার সময় খানিকটা কমেছে।’

টাঙ্গাইলে উৎসাহ নিয়ে গণিত উৎসবে শিক্ষার্থীরা

উৎসব শুরু হবে সকাল নয়টায়। কিন্তু আটটার আগ থেকেই শিক্ষার্থীরা আসতে থাকে টাঙ্গাইলের বিবেকানন্দ হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজে। সাড়ে আটটার মধ্যে মাঠ ভরে যায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকে। আজ বুধবার টাঙ্গাইলে ডাচ্‌-বাংলা ব্যাংক-প্রথম আলো গণিত উৎসবে এমন উৎসাহ দেখা গেছে সবার মধ্যে। টাঙ্গাইল বন্ধুসভার সদস্যদের জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে উৎসব শুরু হয়।
জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে উৎসবের উদ্বোধন ঘোষণা করেন বিবেকানন্দ হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ আনন্দ মোহন দে। এ সময় আন্তর্জাতিক গণিত উৎসবের পতাকা উত্তোলন করেন মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের চেয়ারম্যান মতিউর রহমান এবং জাতীয় গণিত উৎসবের পতাকা উত্তোলন করেন ডাচ্-বাংলা ব্যাংক টাঙ্গাইল শাখার ব্যবস্থাপক হাবিবুর রহমান। উদ্বোধন ঘোষণা করে আনন্দ মোহন দে বলেন, জীবনের সব ক্ষেত্রেই রয়েছে গণিত। গণিত ছাড়া কিছুই করার উপায় নেই। তাই সবাইকে গণিত বুঝতে হবে। গণিত নিয়ে স্বপ্ন দেখতে হবে। মতিউর রহমান বলেন, গণিতকে ভয় করলে চলবে না। জীবনে সফল হতে হলে গণিত চর্চা করতে হবে। গণিত বুঝতে হবে। হাবিবুর রহমান বলেন, গণিত উৎসব শিক্ষার্থীদের গণিতের প্রতি আগ্রহী করে তুলতে ভূমিকা রাখছে। শিক্ষার্থীদের কাছে গণিত এখন ভয়ের বিষয় নয়। উৎসবের বিষয়ে পরিণত হয়েছে। উৎসবে টাঙ্গাইলের ২৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৩০০ শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে।

নেপালে যেভাবে নিরঙ্কুশ প্রভাব খুঁইয়েছে ভারত by প্রশান্ত ঝা

নেপাল ২০১৫ সালে নিজেদের নতুন সংবিধান প্রণয়নে সক্ষম হয়। বছর না ফুরোতেই দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় সমতলভূমির মাধেসি জনগোষ্ঠী এই সংবিধানের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের কাঠামো ও যুক্তরাষ্ট্রবাদের সংশোধন চেয়ে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলে। ভারত-ঘেঁষা হিসেবে পরিচিত মাধেসি সম্প্রদায়ের নেতাদের যুক্তি ছিল, ওই সংবিধানের ফলে খুবই পক্ষপাতদুষ্ট রাজনৈতিক ব্যবস্থা সৃষ্টি হবে। ওই ঝঞ্ঝাটময় সময়ে এক ভারতীয় কূটনীতিক স্থানীয় এক মাধেসি নেতাকে বলেন, ‘আপনারা নিজেরাই একটা সংবিধান প্রনয়ণ করছেন না কেন? শুধু তাতেই কাঠমন্ডুর শিক্ষা হবে। আমরা আছি আপনাদের সঙ্গে।’
ঠিক দেড় বছর পর, অর্থাৎ ২০১৭ সালের মাঝামাঝিতে নেপালে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু, তখনও সংবিধান সংশোধনের দাবিতে অনড় মাধেসি দলগুলো ওই নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
কারণ, নির্বাচনে অংশ নেওয়া হবে সংবিধানকে মেনে নেওয়ার শামিল। এবারও একজন গুরুত্বপূর্ণ ভারতীয় কূটনীতিক ঠিক আগের ওই মাধেসি নেতার সঙ্গে কথা বলেন। এবার অবশ্য ভাষা আর সুর সম্পূর্ণ আলাদা। ওই কূটনীতিক বলেন, ‘মাধেসি এখন আমাদের বোঝা হয়ে উঠেছে। আপনাদের উচিত হবে কাঠমন্ডুর মূলধারার কাছে নতি স্বীকার করা। তা করতে গিয়ে যদি ‘দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক’ও হতে হয়, তবুও তা-ই করুন। ভারতের একমাত্র স্বার্থ হলো এখন কাঠমন্ডুকে খুশি রাখা, যাতে তারা চীনের দিকে না ঘেঁষে।’
এই পরস্পরবিরোধী বার্তাতেই নিহিত আছে ভারতের নেপাল-নীতির স্বরূপ। এ থেকেই বোঝা সম্ভব কেন নেপালের সাম্প্রতিক নির্বাচনে প্রকাশ্যে ভারত-বিরোধী বলে পরিচিত ‘কম্যুনিস্ট জোট’ জয় পেয়েছে। এটিও বোঝা যাবে, ভারতের অসামঞ্জস্যপূর্ণতা, অ্যাড-হক ভিত্তিতে নীতি প্রনয়ণ, ক্ষমতার ভারকেন্দ্রের বহুমুখীতা, পরস্পরবিরোধী বার্তা ও সদিচ্ছার অভাব কীভাবে এই নির্বাচনী ফলের জন্ম দিয়েছে।
নেপালে গত দুই বছরে ৫টি ধাপ অতিক্রম করেছে ভারতের কূটনীতি। প্রথমটি ছিল, নেপালের সংবিধান প্রনয়ণ প্রক্রিয়ায় নিজের মূল উদ্বেগকে সংজ্ঞায়িত করা। ২০১৫ সালের আগস্ট-সেপ্টেম্বরের দিকে নেপালের পার্বত্য অঞ্চলের অভিজাতরা খসড়া সংবিধান নিয়ে মতৈক্যের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেন। তখনই মাধেস অঞ্চলে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়। ওই সময়টাই দিল্লি কাঠমন্ডুকে ইঙ্গিত দিতে থাকে মাধেসিদের উদ্বেগকে আমলে নিয়ে সকলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে এমন সংবিধানই কাম্য। এটি ভালো পরামর্শই ছিল। অংশগ্রহণমূলক দু’ পক্ষের জন্যই মঙ্গলজনক ছিল। কারণ, নতুন সংবিধানে সকল নাগরিকের আশা আকাঙ্খার প্রতিফলন থাকতে হবে। ভারতের জন্যও ভাল হবে, কারণ অংশগ্রহণমূলক হলে ভারত-বিরোধী জাতীয়তাবাদী হিসেবে পরিচিত নেপালের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় ভারসাম্য আসবে। তবে ওই পরামর্শ দিতে দেরি হয়ে গেছে। নেপালের দলগুলোর সঙ্গে আলাপে নিজের প্রভাব ব্যবহার করেনি ভারত। পাশাপাশি, কেন একটি অংশগ্রহণমূলক সংবিধান প্রয়োজন, তা স্পষ্ট করে শক্ত রাজনৈতিক মত গড়তে পারেনি। নেপালের পার্বত্য অভিজাতরা এই সুযোগে প্রক্রিয়া এগিয়ে নেয়। তখনই ভারত সুযোগ হারিয়ে ফেলে।
কথায় আছে, সময়ের এক ফোঁড়, আর অসময়ের দশ ফোঁড়। এ কারণেই শেষমেশ নিজেদের চূড়ান্ত অস্ত্র ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেয় ভারত ও দেশটির মাধেসি মিত্ররা। ভারত-সীমান্তবর্তী মাধেসিরা সীমান্ত বন্ধ করে আন্দোলন করতে থাকে। স্থলবেষ্টিত নেপাল তৎক্ষণাৎ ব্যাপক চাপে পড়ে যায়। কিন্তু নতি স্বীকার করার বদলে, নেপাল বরং ক্ষুদ্ধ হয়ে ওঠে। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কেপি ওলি জাতীয়তাবাদী ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। পাশাপাশি, দ্বারস্থ হন অপেক্ষারত চীনের কাছে। ওদিকে পুরো ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে ভারতের অভ্যন্তরেও সমালোচনা শুরু হয়। কংগ্রেস বিষয়টি নিয়ে মোদি সরকারের ব্যাপক সমালোচনা করে।
সমালোচনায় জেরবার হয়ে মোদি সরকার নিজের উদ্দেশ্য পুরোপুরি হাসিল না করেই পিছু হটে। অবরোধ প্রত্যাহারে মাধেসিদের চাপ দিতে থাকে ভারত। পুরো বিষয়টিকে নিজেদের বিপুল বিজয় হিসেবে দেখে নেপাল সরকার। কারণ, তারা ভারতের ‘ব্রহ্মাস্ত্র’কে অকার্যকর করে দিতে সক্ষম হয়েছে। নেপাল বুঝতে পারে চীন কার্ড খেললেই দিল্লি ভয় পেয়ে পিছু হটবে।
এ পর্যায়ে এসে ভারত সিদ্ধান্ত নেয়, অংশগ্রহণমূলক সংবিধান আর তার মাথাব্যাথা নয়। এবারের মিশন কেপি ওলিকে ক্ষমতা থেকে অপসারণ, অথবা তাকে শিক্ষা দেওয়া। ভারত ভেতরে ভেতরে শাসক জোটের অংশীদার প্রচন্ডকে সরে গিয়ে নেপালি কংগ্রেসের সঙ্গে জোট বাঁধতে রাজি করায়। কেপিকেও শিক্ষা দেওয়া হলো, আর মুখও রক্ষা হলো যে, নেপালের সঙ্গে আর কোনো সমস্যা নেই।
ষোলকলা পূর্ণ হলো যখন ভারত মাধেসি দলগুলোকে নির্বাচিত অংশ নিতে চাপ দিতে থাকে। তারা তখনও সংবিধান নিয়ে খুবই অস্বস্তিতে ছিল। কিন্তু নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ফলে দুই বছর ধরে চলমান বয়কট ব্যর্থতায় পর্যবসিত হলো। পুরো সময়টাতে ভারতের আনুষ্ঠানিক নীতি ‘অংশগ্রহণমূলক সংবিধানে’র পক্ষে বলা হলেও, শাসক গোষ্ঠির বড় একটি অংশ নেপালকে এই বার্তাই দিচ্ছিল যে, ভারতের স্বার্থ হলো হিন্দু রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা, অংশগ্রহণমূলক সংবিধান স্রেফ মুখের কথা। কাঠমন্ডুর নেতারা ভারতের শাসক গোষ্ঠির এই বিভাজনকে নিজেদের পক্ষে কাজে লাগিয়েছে।
এভাবেই নেপালের অভিজাতদের ওপর নিজের প্রভাব হারায় ভারত। প্রথমে মাধেসিদের সমর্থন দিয়েও, পরে পিছু হটেছে ভারত। মাধেসি গোষ্ঠীকে এমন একটি সংবিধান মানতে রাজি করিয়েছে ভারত, যার জন্য তারা দীর্ঘদিন আন্দোলন করেছে। এ কারণে তাদের বিরাট এক অস্ত্র, অর্থাৎ সীমান্ত বন্ধ করে দেওয়ার ক্ষমতা অপ্রাসঙ্গিক হয়ে গেছে। পাশাপাশি, চীনাদের জন্যও নেপালের দ্বার খুলে গেছে।
এই জাতীয় নির্বাচনে ভারত-বিরোধী বলে পরিচিত কম্যুনিস্ট জোটের জয়ের ফলে ‘আংশিক স্বার্বভৌম’ রাষ্ট্র থেকে নেপাল ‘প্রায় সম্পূর্ণ স্বার্বভৌম’ রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। আগে নেপালের ঘরোয়া রাজনৈতিক সমীকরণে বড় ভূমিকা পালন করতো। আর এখন ওই প্রভাব তলানিতে।
নেপালে নিজের রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ হারানোর অন্যতম কারণ হতে পারে নতুন প্রজন্মের রাজনীতিক, সুশীল সমাজ ও জনমত গঠনকারীদের ওপর ভারতের প্রভাব খাটানোর সীমিত ক্ষমতা এবং দেশটির সঙ্গে ভারতের আবেগীয় সম্পর্কের ঘাটতি। অতীতে নেপালি রাজনীতিতে একাধিপত্যের কারণে ভারত চাইলে যা খুশি তা-ই করতে পারতো। কিন্তু এখন চীন বাম জোটকে জোরালোভাবে সমর্থন দেওয়ায়, ওই একাধিপত্য শেষ। এখন ভারতের সামনে বিকল্প আছে দুইটি। একটি হলো, নেপালের ঘরোয়া রাজনীতির অকার্যকর ও অক্ষম খেলোয়াড় হিসেবে নিজের ভূমিকা অব্যাহত রাখা। অপরটি হলো, সরে দাঁড়ানো এবং চীনকে শূন্যস্থান পূরণের সুযোগ করে দেওয়া। ভারত যে বিকল্পই বেছে নিক না কেন, হারানো বৈ অর্জনের কিছুই কোনটিতে নেই।
(প্রশান্ত ঝা ভারতের হিন্দুস্তান টাইমস পত্রিকার সহযোগী সম্পাদক। এই লেখাটি পত্রিকাটিতে প্রকাশিত তার একটি নিবন্ধের অনুবাদ। অনুবাদ করেছেন: মাহমুদ ফেরদৌস।)

টার্কি চাষে সংসারে সচ্ছলতা ফিরছে

বাবার মৃত্যুর পর বেকার আলমগীর হোসেন ভেবে পাচ্ছিলেন না কী করবেন। সংসার কী করে চালাবেন। পরে বাড়িতে মুরগির একটি খামার করেন। কঠোর পরিশ্রম করেও যা আয় করতেন, তা দিয়ে ঠিকমতো সংসার চলছিল না। সাত-আট মাস আগে একটি টেলিভিশন চ্যানেলে টার্কি পাখির চাষবিষয়ক অনুষ্ঠান দেখেন। টার্কি চাষের ব্যাপারে তিনি আগ্রহী হয়ে ওঠেন। এরপর বাচ্চা সংগ্রহ করেন। মাত্র ছয় মাস হলো এই টার্কির খামার করেছেন। এরই মধ্যে ঘুরতে শুরু করেছে তাঁর জীবনের চাকা। সচ্ছলতা ফিরছে তাঁর সংসারে। আলমগীর হোসেনের (৩৭) বাড়ি ঝিনাইদহ শহরের হামদহ (ইসলামপাড়া) এলাকায়। সাত বছর আগে তাঁর বাবা আবেদ আলী বিশ্বাস মারা যান। মা হাসিনা বেগম, স্ত্রী নাজমুন নাহার, ছোট বোন মুক্তা, স্ত্রী ও ১১ বছরের ছেলে অনিককে নিয়ে তাঁর সংসার। অনিক চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ে। ছোট বোন নাহার পড়েন ঝিনাইদহ সরকারি কেসি কলেজে স্নাতক (সম্মান) শ্রেণিতে। সবার খাওয়া-পরার জোগান দেন তিনি। আলমগীর বলেন, বাবার মৃত্যুর পর গোটা সংসার তাঁর কাঁধে এসে পড়ে। মাঠে তাঁদের মাত্র ৩৩ শতক জমি ছিল। সেই জমিতে তেমন কোনো ফসলও হতো না।
কী করবেন ভেবে পাচ্ছিলেন না। হাতে তেমন কোনো পুঁজিও ছিল না। চার বছর আগে নিজের বাড়িতে মুরগির খামার করেন। সেখানে ছয় শতাধিক মুরগির লালন-পালন করতেন। ওই খামার থেকে যে আয় হতো, তা দিয়ে কোনো রকমে সংসার চলত। সাত-আট মাস আগে টেলিভিশনে টার্কি মুরগি চাষের সম্পর্কে একটি অনুষ্ঠান দেখেন। এরপর বহু খোঁজাখুঁজির পর মাগুরা জেলা থেকে চার মাসের ৬০টি বাচ্চা সংগ্রহ করেন। আগের খামারের খাঁচা তাঁর ছিলই। সেখানেই গড়ে তোলেন অনিক টার্কি ফার্ম। মাত্র দুই মাস পরই স্ত্রী জাতীয় টার্কি ডিম দিতে শুরু করে। বর্তমানে তাঁর খামারে ২০টি বড় টার্কি ও ৮৩টি বাচ্চা রয়েছে। ৮৪টি ডিম ফোটাতে দিয়েছেন, বাড়িতে ডিম আছে আরও ২২টি। টার্কি চাষ সম্পর্কে আলমগীর হোসেন বলেন, একটি ডিম মেশিনে দিলে ২৪ দিন পর বাচ্চা হয়। আর মুরগির তায়ে বাচ্চা ফোটালে লাগে ২৭ দিন। এই বাচ্চা ছয় মাসের মধ্যে খাওয়ার উপযোগী হয়। এ সময় ওজন হয় ৭ থেকে ১০ কেজি। পাশাপাশি স্ত্রী পাখি ডিম দিতে শুরু করে। একটি স্ত্রী টার্কি মাসে ২২ থেকে ২৫টি ডিম দেয়। এভাবে দুই বছর পর্যন্ত ডিম দেয়। বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমানে ১­ থেকে ১০ দিনের বাচ্চা ১ হাজার টাকা জোড়া বিক্রি হচ্ছে। আর ১০ থেকে ২০ দিনের বাচ্চা বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৫০০ টাকায়। ৬ মাসের টার্কি বিক্রি হচ্ছে সাড়ে ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার টাকায়। এক হালি ডিম বিক্রি হচ্ছে ৮০০ টাকায়। আলমগীর বলেন, বাজারদর কোনো কোনো সময় একটু ওঠানামা করে। তবে টার্কি চাষ করে তিনি লাভবান হচ্ছেন। ইতিমধ্যে তাঁর সংসার ভালোভাবে চালাতে পারছেন। কিছু টাকাও জমিয়েছেন।

মোবাইল অ্যাপে গাড়ি মেরামতের সেবা

ব্যক্তিগত ব্যবহারের গাড়ি নষ্ট হয়ে গেলে তা ঠিক করানো নিয়ে অনেকেই দুশ্চিন্তায় থাকেন। আবার গাড়ির যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়ে গেলে আসল যন্ত্রপাতি কোথায় পাওয়া যাবে সেটি নিয়েও অনেকে ঝামেলায় পড়েন। গাড়ির মালিকদের এসব সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনভিত্তিক একটি সেবা চালু হয়েছে। অ্যাপভিত্তিক এ সেবার নাম ‘ভ্রুম’। ভ্রুমের যাত্রা শুরু উপলক্ষে রাজধানীর একটি হোটেলে গতকাল মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বেসরকারি ইস্টার্ণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী আলী রেজা ইফতেখার। সেবাটির বিভিন্ন দিক তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন ভ্রুম সার্ভিসেস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ আহসান হাবিব। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, অ্যাপভিত্তিক এই সেবা পেতে গ্রাহককে ভ্রুমের সদস্য হতে হবে। এ জন্য খরচ হবে ৩ হাজার টাকা। নিবন্ধিত গ্রাহকদের একটি সদস্য বা মেম্বারশিপ কার্ড দেওয়া হবে।
এই কার্ড দিয়ে ভ্রুমের সদস্যরা নিবন্ধিত গাড়ির ওয়ার্কশপ, সেবাকেন্দ্র ও জ্বালানি স্টেশনে সেবা নিতে পারবেন। এ জন্য ঢাকার ৩০টি ওয়ার্কশপ বা গ্যারেজের সঙ্গে ভ্রুমের চুক্তি হয়েছে। আগ্রহী গ্রাহকেরা ভ্রুম অ্যাপ দিয়ে নিজের বাসাতেও গাড়ি সারাইয়ের কাজ করাতে পারবেন। আবার মহাসড়কে গাড়ি নষ্ট হয়ে গেলে জরুরি মেরামতকাজও করা যাবে এই অ্যাপ ব্যবহার করে। ভ্রুমের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ আহসান হাবিব বলেন, ব্যক্তিগত গাড়ির মালিকদের অনেকেই গাড়ি সারানোর সেবা নিয়ে বীতশ্রদ্ধ। ভ্রুমের মাধ্যমে গাড়ির মালিকেরা এক স্থান থেকেই এ বিষয়ক সব ধরনের সেবা সহজে পাবেন। ভ্রুমের এই উদ্যোগের সঙ্গে সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে ইস্টার্ণ ব্যাংক, মোবাইল ফোন অপারেটর রবি আজিয়াটা, রহিমআফরোজ, বিমা প্রতিষ্ঠান গ্রিন ডেলটা ইনস্যুরেন্স, সুপার শপ চেইন স্টোর স্বপ্ন ও ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান কিকসা ডটকম কাজ করবে। সংবাদ সম্মেলনে গ্রিন ডেলটা ইনস্যুরেন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারজানা চৌধুরীসহ অন্য সহযোগী প্রতিষ্ঠান ও ভ্রুমের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ভোজ্যতেল রপ্তানির অনুমতি!

দেশের ভোজ্যতেল পরিশোধনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতিবেশী তিনটি দেশে পরিশোধিত ভোজ্যতেল রপ্তানি করতে চায়। বিশেষ করে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে ভোজ্যতেল রপ্তানির সম্ভাবনা দেখছে তারা। কোম্পানিগুলো বলছে, ভারত সরকার সম্প্রতি ভোজ্যতেল আমদানিতে কর বাড়িয়েছে। কিন্তু ওই দেশে শুল্কমুক্তভাবে তেল রপ্তানির সুযোগ থাকায় মূল্য প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকবে বাংলাদেশি কোম্পানিগুলো। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে মেঘনা গ্রুপকে ২০ হাজার টন ভোজ্যতেল ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য এবং নেপাল ও ভুটানে রপ্তানির অনুমতি দিয়েছে। এরপর সিটি গ্রুপ ২৫ হাজার টন রপ্তানির অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছে, যা বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশনের (বিটিসি) সুপারিশের অপেক্ষায় আছে। রপ্তানি নীতি অনুযায়ী, বাংলাদেশ থেকে ভোজ্যতেলের মধ্যে সয়াবিন ও পাম তেল রপ্তানি নিষিদ্ধ। দেশে সরবরাহ ঠিক রাখতে এ বিধান করেছে সরকার। তবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় চাইলে রপ্তানির অনুমোদন দিতে পারে। এ খাতের উদ্যোক্তারা জানান, বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে একবার ভোজ্যতেল রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। মেঘনা গ্রুপকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ভোজ্যতেল রপ্তানির অনুমতি দেয় গত ৩ অক্টোবর। এ অনুমতির সঙ্গে কয়েকটি শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়। সেগুলো হলো রপ্তানি শেষে এ-সংক্রান্ত তথ্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে জানাতে হবে। আগামী ৩০ জুনের মধ্যে রপ্তানি শেষ করতে হবে। সিটি গ্রুপ আবেদনটি করেছে তাদের একটি প্রতিষ্ঠান দীপা ফুড প্রডাক্টসের নামে। আবেদনের পর গত ১৬ নভেম্বর বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে মতামত চেয়ে ট্যারিফ কমিশনকে চিঠি দেয়।
সিটি গ্রুপের মহাব্যবস্থাপক (হিসাব ও অর্থ) বিশ্বজিৎ সাহা প্রথম আলোকে বলেন, ‘মেঘনা গ্রুপকে ট্যারিফ কমিশনের মতামত ছাড়াই রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে আমাদের ক্ষেত্রে কেন মতামত চাওয়া হচ্ছে?’ সরকার ও ব্যবসায়ীদের হিসাবে, বাংলাদেশে বছরে প্রায় ১৫ লাখ টন সয়াবিন ও পাম তেলের চাহিদা আছে। এ চাহিদার প্রায় পুরোটা পূরণ করা হয় আমদানির মাধ্যমে। দেশের বড় বড় কয়েকটি শিল্পগোষ্ঠী বিদেশ থেকে অপরিশোধিত সয়াবিন ও পাম তেল এনে পরিশোধন করে। তাদের পরিশোধন ক্ষমতা প্রায় ৩০ লাখ টন, যা দেশের মোট চাহিদার দ্বিগুণ। ভোজ্যতেলের বাজারে মূল অংশীদার এখন সিটি গ্রুপ, মেঘনা, বাংলাদেশ এডিবল অয়েল, টিকে গ্রুপ ও এস আলম গ্রুপ। রপ্তানির সম্ভাবনা সম্পর্কে জানতে চাইলে সিটি গ্রুপের বিশ্বজিৎ সাহা আরও বলেন, ‘ভারত ভোজ্যতেল আমদানিতে শুল্ক দ্বিগুণ করেছে। এ কারণেই আমাদের সামনে রপ্তানির সুযোগটি তৈরি হয়েছে। কারণ বাংলাদেশ থেকে রপ্তানিতে শুল্ক দিতে হয় না।’ ভারতের ত্রিপুরাসহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে বাংলাদেশি ভোজ্যতেল প্রতিযোগিতায় টিকতে পারবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা পারব।’ এদিকে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক খবরে বলা হয়, ১৬ নভেম্বর ভারত সরকার অপরিশোধিত পাম তেল আমদানিতে শুল্কহার দ্বিগুণ করায় তা বেড়ে ৩০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। পরিশোধিত পাম তেলের শুল্ক ২৫ থেকে বাড়িয়ে ৪০ শতাংশ করা হয়েছে। অপরিশোধিত সয়াবিন তেলের আমদানি শুল্ক সাড়ে ১৭ থেকে বাড়িয়ে ৩০ শতাংশ এবং পরিশোধিত সয়াবিন তেলের শুল্ক ২০ থেকে বাড়িয়ে ৩৫ শতাংশ করা হয়েছে। রয়টার্স বলছে, ভারত ভোজ্যতেলের চাহিদার ৭০ শতাংশ মেটায় আমদানি করে। চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরে তাদের আমদানির পরিমাণ ১ কোটি ৫৫ লাখ টনে দাঁড়াতে পারে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি ও সাবেক বাণিজ্যসচিব গোলাম রহমান প্রথম আলোকে বলেন, পরিশোধন ক্ষমতা দেশের চাহিদার চেয়ে বেশি হলে রপ্তানির অনুমতি দিতে আপত্তির কিছু নেই। কিন্তু রপ্তানির কারণে দেশে যাতে সরবরাহ বিঘ্নিত না হয় এবং দাম অস্বাভাবিক বেড়ে না যায়, সেদিকেও লক্ষ রাখতে হবে।

বিএসটিআইয়ের কার্যালয় হবে প্রতিটি জেলায়

মানসম্মত পণ্য ও সেবা নিশ্চিত করতে প্রতিটি জেলায় বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) কার্যালয় চালুর উদ্যোগ নিতে নির্দেশনা দিয়েছেন শিল্পসচিব মোহাম্মদ আবদুল্লাহ। তিনি বলেন, শুধু কয়েকটি চিহ্নিত জেলায় কার্যালয় সম্প্রসারণ না করে দেশের সব জেলা ও আঞ্চলিক পর্যায়ে বিএসটিআইয়ের কার্যালয় থাকতে হবে। এ লক্ষ্যে আগামী ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে একটি আদর্শ জনবল কাঠামোর প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর নির্দেশনা দেন তিনি। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে শিল্প মন্ত্রণালয়ের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) অন্তর্ভুক্ত প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা সভায় সভাপতিত্বকালে শিল্পসচিব এ নির্দেশনা দেন। শিল্প মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে গতকাল মঙ্গলবার এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় শিল্প মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন সংস্থা ও করপোরেশনের প্রধান এবং সংশ্লিষ্ট প্রকল্প পরিচালকেরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় জানানো হয়, শিল্প মন্ত্রণালয়ের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে মোট ৪৩টি উন্নয়ন প্রকল্প রয়েছে। এর মধ্যে ৩৯টি বিনিয়োগ প্রকল্প,
৩টি কারিগরি ও ১টি নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়িত প্রকল্প রয়েছে। সব মিলিয়ে এসব প্রকল্পে বরাদ্দের পরিমাণ ১ হাজার ৩৭৬ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি খাতে ১ হাজার ৩২০ কোটি ৩৮ লাখ টাকা, প্রকল্প সাহায্য খাতে ৬ কোটি ৪০ লাখ টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন খাতে ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। সভায় শিল্পসচিব বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রকল্প পরিচালকদের আরও তৎপর হতে হবে। প্রকল্প বাস্তবায়নকালে উদ্ভূত যেকোনো সমস্যা সমাধানের জন্য ঘন ঘন স্টিয়ারিং কমিটির সভা আয়োজন করতে হবে। তিনি নতুন প্রকল্প প্রণয়ন ও তা সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নের জন্য মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা সেল ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরপ্রধানদের নিবিড় তদারকি চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশনা দেন। কারও দায়িত্বে অবহেলার কারণে প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব হলে তাঁর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি সতর্ক করেন। শিল্পসচিব বলেন, চিনিশিল্প লাভজনক করতে চিনিকলগুলোতে পণ্য বহুমুখীকরণের উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। এ লক্ষ্যে তিনি আন্তরিকতার সঙ্গে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে নতুন প্রকল্পগুলোর প্রাক্-সমীক্ষা কার্যক্রম শেষ করার পরামর্শ দেন।

অনলাইনে ৩৯তলা ভবন বিক্রি!

চীনে জমিসহ ৩৯তলা একটি ভবন অনলাইনে বিক্রি করা হবে। ভবনটি বিক্রির জন্য আগামী ২ জানুয়ারি একটি ই-কমার্স ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন প্রকাশিত হবে। আগ্রহী ব্যক্তিরা অনলাইনেই ভবনটি নিলামের মাধ্যমে কেনার সুযোগ পাবেন। চীনের স্থানীয় আদালত এই নিলামের তত্ত্বাবধান করবেন। বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়েছে, ই-কমার্স ওয়েবসাইট আলিবাবার আরেক প্ল্যাটফর্ম তাওবাও-এ ভবনটি কেনার সুযোগ মিলবে। ভবনটির ভিত্তিমূল্য ধরা হয়েছে ৫৫ কোটি ৩০ লাখ ইউয়ান (প্রায় ৮ কোটি ৪০ লাখ ডলার)। ৩৯তলা ভবনটি চীনের শানজি প্রদেশের উত্তরাঞ্চলের তাইইউয়ানে অবস্থিত। ২০০৬ সালে ভবনটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। ভবনটির উচ্চতা ১৫৬ মিটার। এর সব কটি তলার মোট আয়তন ৭৬ হাজার বর্গমিটার। চীনের সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া গতকাল সোমবার জানিয়েছে, মূলত হোটেল তৈরির জন্য ভবনটি নির্মাণ করা হচ্ছিল। কিন্তু একপর্যায়ে তহবিল-সংকটের কারণে নির্মাণকাজ বন্ধ হয়ে যায়।
পরে ২০১০ সালে ভবনটির নির্মাণকাজ শেষ হয়। নিলামের আগে চীনের আদালতে এই ভবনের কিছু ছবি প্রকাশিত হয়েছে। সেসব ছবিতে দেখা গেছে, ভবনটির মেঝে ধুলোয় ভরা। চারপাশে নির্মাণসামগ্রী রাখা। ভবনটির অনেক কাজ এখনো বাকি রয়েছে। তাওবাও-এ চীনের সব আদালতের অ্যাকাউন্ট খোলা আছে। দেশটিতে বিচারিক নিলাম প্রক্রিয়া এখন অনলাইনেই হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দাবি, এর ফলে নিলাম প্রক্রিয়া আরও দক্ষ ও স্বচ্ছ হবে। এরই মধ্যে জব্দ হওয়া অ্যাপার্টমেন্ট, গাড়ি, অলংকার ও মোবাইল ফোন ই-কমার্স ওয়েবসাইটে নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করা হচ্ছে। তবে অনলাইনে ভবন বিক্রির ঘটনা এটিই প্রথম নয়। গত নভেম্বর মাসে চীনের ঝেজিয়াং প্রদেশে ২৮তলা একটি ভবন অনলাইনে নিলামের জন্য তোলা হয়েছিল। কিন্তু সেই নিলামে কেউ অংশই নেয়নি।

নেতাজির জন্মদিন হোক ‘দেশপ্রেম দিবস’

ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামী নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসুর জন্মদিনকে দেশব্যাপী ‘দেশপ্রেম দিবস’ হিসেবে পালনের দাবি জানাল ফরোয়ার্ড ব্লক। নেতাজির তৈরি করা দল ফরোয়ার্ড ব্লকের কেন্দ্রীয় কমিটি এই দাবি তুলেছে। আগামী ২৩ জানুয়ারি নেতাজির জন্মদিন। ফরোয়ার্ড ব্লকের সাধারণ সম্পাদক দেবব্রত বিশ্বাস এই দাবিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে চিঠি লিখেছেন। চিঠিতে বলেছেন, ‘নেতাজির জীবন ও সংগ্রাম দশকের পর দশক ধরে দেশবাসীকে উদ্বুদ্ধ করেছে। দেশের মানুষ তাঁকে আপন বলে শ্রদ্ধা করছে। আপন বলে মনে করছে।
গান্ধীজিও তাঁকে বলেছিলেন “প্যাট্রিয়ট অব প্যাট্রিয়টস”। যেভাবে মহান ব্যক্তিদের জন্মদিন পালন করা হয়, সেভাবেই পালন করা হোক নেতাজির জন্মদিন। দিবসটিকে পালন করা হোক “দেশপ্রেম দিবস” হিসেবে।’ এর অগেও এই দাবি নিয়ে বহুবার সংসদের ভেতরে ও বাইরে আন্দোলন হয়েছে। দলটির অভিযোগ, ভারতের স্বাধীনতাসংগ্রামে নেতাজির অবিস্মরণীয় ভূমিকা থাকলেও স্বাধীনতার পর তাঁকে সেভাবে সম্মান দেওয়া হয়নি। বারবার এই দাবিতে সায় দেয়নি কেন্দ্রীয় সরকারও। এবার তাই ফরোয়ার্ড ব্লক ঘোষণা দিয়েছে, কেন্দ্রীয় সরকার ঘোষণা না দিলেও তারা ২৩ জানুয়ারি দেশের মানুষকে নিয়ে দেশপ্রেম দিবস হিসেবে পালন করবে নেতাজির জন্মদিন।

উত্তর কোরিয়ার স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের প্রস্তুতি

উত্তর কোরিয়া একটি স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর আড়ালে পারমাণবিক শক্তির অধিকারী দেশটি অস্ত্র পরীক্ষা চালাতে পারে বলে হুঁশিয়ার করেছেন বাইরের পর্যবেক্ষকেরা। আজ মঙ্গলবার দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলের একটি পত্রিকায় প্রকাশিত খবরে এ তথ্য জানা যায়। এএফপির খবরে জানানো হয়, নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে পারমাণবিক কর্মসূচি ও ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ায় উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে গত শুক্রবার নতুন নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ। এ নিয়ে ১০টি নিষেধাজ্ঞা ঝুলছে দেশটির ওপর। এ বছরই এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো দেশটির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলো। নতুন নিষেধাজ্ঞায় উত্তর কোরিয়ার পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানি ৯০ শতাংশ কমানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর সঙ্গে বিদেশে কর্মরত সব উত্তর কোরীয় নাগরিককে দুই বছরের মধ্যে দেশে ফেরত পাঠাতে বলা হয়েছে। দেশটির তৈরি পোশাক, বৈদ্যুতিক ও অন্যান্য যন্ত্র এবং সরঞ্জামসহ পণ্য রপ্তানি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। জুনগ্যাং ইলবু পত্রিকাটি দক্ষিণ কোরিয়ার সরকারের সূত্রের বরাত দিয়ে লিখেছে, ‘বিভিন্ন মাধ্যমে আমরা জানতে পেরেছি, উত্তর কোরিয়া নতুন স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের প্রস্তুতি শেষ করছে। এর নাম দিয়েছে কোয়াংমিয়ংসং-৫।
তাদের পরিকল্পনা হলো ক্যামেরা ও টেলিকমিউনিকেশন-সংবলিত ডিভাইসগুলো কক্ষপথে স্থাপন করা।’ গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে পিয়ংইয়ং কোয়াংমিয়ংসং-৪ নামের স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এর আড়ালে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালানোর অভিযোগ তোলে। দক্ষিণ কোরিয়ার সেনাবাহিনীর যুগ্ম প্রধানের একজন মুখপাত্র বলেন, এই মুহূর্তে এর বাইরে আর কোনো তথ্য নেই। তবে স্যাটেলাইটের আড়ালে উত্তর কোরিয়া দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়ে কোনো উত্তেজনা তৈরি করে কি না, এ বিষয়ে সিউল কড়া নজর রাখছে। উত্তর কোরিয়ার ক্ষমতাধর দলের পত্রিকা রোদং সিনমুন পুনরায় জানায় স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ ও মহাকাশ প্রযুক্তির উন্নয়নে কাজ করার অধিকার দেশটির আছে। গতকাল পত্রিকায় ‘মহাকাশ কর্মসূচি সার্বভৌম দেশগুলোর বৈধ অধিকার’ শিরোনামে একটি মন্তব্য প্রতিবেদন ছাপা হয়। সেখানে বলা হয়, পিয়ংইয়ংয়ের স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ মহাকাশ উন্নয়নে আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে পুরোপুরি সংগতিপূর্ণ। গত অক্টোবরে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে জাতিসংঘের উত্তর কোরিয়াবিষয়ক উপরাষ্ট্রদূত কিম-ইন-রাইয়ং বলেন, ২০১৬-২০২০ সাল পর্যন্ত তাঁর দেশের পরিকল্পনা হলো ব্যবহারিক স্যাটেলাইটের উন্নয়ন ঘটানো; যা তাঁদের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও মানুষের জীবনমান উন্নয়নের ভূমিকা রাখবে। তিনি জোর দিয়ে বলেছিলেন, স্যাটেলাইট তৈরি ও উৎক্ষেপণের অধিকার তাঁদের রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র চায় না বলেই তাঁদের সরে আসতে হবে, এমনটা নয়।

‘নতুন মাওয়ের’ পথে চীন

২০১৩ সালে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং গেলেন তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার খামারবাড়িতে। এ সময় ক্যালিফোর্নিয়ায় দুই প্রেসিডেন্টের পাশাপাশি হাঁটার একটি ছবি গণমাধ্যমে প্রকাশ পায়। এর সঙ্গে সাদৃশ্য পাওয়া যায় দুটি পরিচিত কার্টুন চরিত্র, পু আর তার বন্ধু টিগার নামের বাঘের পাশাপাশি হাঁটার দৃশ্যের। পু স্থূলকায় আর টিগার ছিমছাম এবং লম্বা। এ তুলনা নিয়ে মার্কিন ও চীনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীরা কম রসিকতা করেননি। সর্বশেষ গত নভেম্বরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এশিয়া সফরের অংশ হিসেবে চীনে গেলেন। এবার খোদ মার্কিন সংবাদমাধ্যমই স্বীকার করে নিল, রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে ট্রাম্পের তুলনায় সি বেশি যোগ্য। ট্রাম্পের আমলে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বনেতৃত্ব হারাচ্ছে। আর সির আমলে উত্থান ঘটছে চীনের। মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধান। এর মধ্যেই নিজের কাল্ট তৈরি করে ফেলেছেন চিন পিং। গেল অক্টোবরে ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির ১৯তম কংগ্রেসে তা আরও পাকাপোক্ত করেছেন। হয়ে উঠেছেন চীনের সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী। এই কংগ্রেসেই চীনের গঠনতন্ত্রে কমিউনিস্ট পার্টির চেয়ারম্যান মাওয়ের নামের পাশে দলটির বর্তমান সাধারণ সম্পাদক চিন পিংয়ের নাম ঠাঁই পায়। চিন পিংয়ের চিন্তাধারার পাঠ শুরু করতে চলেছে দেশটির শিক্ষাঙ্গনগুলো। ২০১২ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে ক্রমাগতভাবে ক্ষমতা সুসংহত করছেন চিন পিং।
গঠনতন্ত্রে তাঁর নাম যুক্ত করার ফলে ২০২২ সালে দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দ্বিতীয় মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও ‘শীর্ষ নেতা’ই থাকবেন তিনি। বিশ্বনেতা হতে গিয়ে নিজের দেশকে ভুলে যাননি চিন পিং। অর্থনৈতিক সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছেন। দেশে ব্যাপক আকারে দুর্নীতিবিরোধী অভিযান চালিয়েছেন। উচ্চপর্যায়ের ‘বাঘ’ এবং নিম্ন পর্যায়ের ‘মাছি’র বিরুদ্ধে দুর্নীতিবিরোধী অভিযান চলছে। জনসমক্ষে উপস্থিতির ক্ষেত্রে তাঁর পরিমিতিবোধ বেশ প্রশংসিত। তবে চিন পিংয়ের আমলে দেশটির ক্রমাবনতিশীল মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা রয়েছে। প্রায়ই মানবাধিকারকর্মীদের আটক ও হয়রানির খবর পাওয়া যায়। অনলাইন পরিসরের ওপর কড়া নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।  বৈশ্বিক পরিসরে চীনের উত্থান এমন একটা সময় হচ্ছে যখন অন্য বিশ্ব মোড়লেরা হাঁটছে উল্টো পথে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি নিয়ে সামনে এগোতে চাইছেন, যাতে যুক্তরাষ্ট্র মূলত একঘরে হয়ে যাচ্ছে। আর যুক্তরাজ্যও বেরিয়ে যাচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো বড় জোট থেকে। প্রতি পাঁচ বছর পরপর চীনের কমিউনিস্ট পার্টির কংগ্রেসে নতুন নেতৃত্ব ঠিক করার পাশাপাশি দেশের জন্য পরবর্তী করণীয় বিষয়ে পরিকল্পনা তৈরি করা হয়। এবারের পার্টির কংগ্রেসের উদ্বোধনীতে সি বলেন, ২০৫০ সালে মধ্যে ‘বিশ্বের নেতা’ হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে চীন ‘নতুন যুগে’ প্রবেশ করেছে।

শিশুটি নিভে যাবে অন্যের প্রদীপ জ্বেলে

গর্ভে আছে মেয়েশিশু। কিন্তু জন্মের পর সে বাঁচবে না। মরে যাবে পৃথিবীতে আসার কয়েক মিনিট পরই, কিংবা ভূমিষ্ঠ হওয়ার মুহূর্তেও থেমে যেতে পারে তার প্রাণের স্পন্দন। কারণ, গর্ভের ওই শিশুটির বিরল জিনগত সমস্যা রয়েছে। পরীক্ষা করে চিকিৎসকেরা হবু মাকে জানিয়ে দিয়েছেন এ কথা। এরপরও গর্ভপাতে অনিচ্ছুক হেলি মার্টিন। মরলে মরুক, এ শিশুর জন্ম দেবেন তিনি। তার হৃদ্‌যন্ত্রের টিস্যু কাজে লাগাবেন অন্য কোনো শিশুর প্রাণ রক্ষায়। মার্টিনের তিন সন্তান। গর্ভাবস্থার ২০ সপ্তাহে স্ক্যান করার পর মার্টিন ও তাঁর স্বামী স্কট জানতে পারেন, গর্ভের শিশুটির বাইল্যাটারাল রেনাল এজেনেসিস রয়েছে। অর্থাৎ শিশুটির দুটি কিডনির একটিও নেই এবং গর্ভের অ্যামনিওটিক ফ্লুইডের পরিমাণও কম। যে কারণে শিশুটির ফুসফুসও সঠিকভাবে গঠিত হয়নি। ওই দম্পতি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলেন। গর্ভপাত ঘটানোর সিদ্ধান্ত নিতে ওই দম্পতিকে এক সপ্তাহের সময় দেওয়া হয়। পরে মার্টিন সিদ্ধান্ত নেন, তিনি গর্ভপাত ঘটাবেন না। মার্টিন বলেন, ‘আমি তাকে এভাবে যেতে দিতে পারি না।’ ওই দম্পতি জানান, তাঁরা এরই মধ্যে শিশুটির নামও রেখেছেন। শিশুটির নাম আভা-জয়।
অঙ্গ প্রতিস্থাপন প্রয়োজন—এমন শিশুকে সহায়তা করতে তাঁরা মেয়েশিশুটিকে জন্ম দিতে চান। তাঁদের শিশুর হৃদ্‌যন্ত্রের ভালভ গুরুতর অসুস্থ অন্য শিশু ব্যবহার করতে পারবে। মার্টিন বলেন, ‘কিছুই না থাকার চেয়ে কিছু একটা থাকা ভালো। আমি জানি, আমার মেয়েটি উপযুক্ত কোনো অঙ্গ দিতে পারবে না। কিন্তু টিস্যু তো মূল্যবান।’ যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্বাস্থ্যসেবার অঙ্গদান ও প্রতিস্থাপনবিষয়ক নার্স অ্যানজি স্কেলস বলেন, প্রতিবছর ১০ থেকে ১৫টি পরিবার এ রকম পরিস্থিতিতে অঙ্গদান করতে চায়। যদিও প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া জটিল হওয়ার কারণে এ ধরনের ক্ষেত্রে প্রকৃত অঙ্গদানের ঘটনা বিরল। অ্যানজি স্কেলস জানান, যুক্তরাজ্যে দৈনিক অঙ্গ প্রতিস্থাপনের জন্য অপেক্ষমাণ শিশুসহ তিনজনের মৃত্যু ঘটে। মার্টিন বলেন, গর্ভে থাকা শিশু মারাত্মক রোগে আক্রান্ত বলে শনাক্ত হওয়ার পরও যেসব পরিবার গর্ভাবস্থার মেয়াদ পূর্ণ করার সিদ্ধান্ত নেবে বা শিশুকে জন্ম দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেবে, তাদের সহায়তা দিতে এবং আভা-জয়ের স্মৃতি রক্ষার্থে তাঁরা একটি দাতব্য কর্মসূচি হাতে নিয়েছেন। মার্টিন বলেন, ‘এটা কোনো সহজ সিদ্ধান্ত নয়। তবে এটা সঠিক সিদ্ধান্ত। আমি যে মর্মবেদনায় রয়েছি, এ সিদ্ধান্ত আমাকে তা থেকে মুক্তি পেতে সহায়তা করছে। মেয়েটির একটি অংশ বেঁচে থাকবে। সে পুরোপুরি চলে যাবে না। অন্য কারও শরীরে সে বেঁচে থাকবে।’

এ কেমন সমুদ্রবন্দর?

১৯৫০ সালে প্রতিষ্ঠিত মোংলা সমুদ্রবন্দরটি দীর্ঘ ৬৭ বছরেও পূর্ণাঙ্গ রূপ দিতে না পারা আমাদের প্রশাসনিক অদক্ষতা ও অযোগ্যতারই উদাহরণ। অতীতে ক্ষমতাসীনেরা পশুর নদের নাব্যতা কম—এই অজুহাত দেখিয়ে বন্দরটিকে প্রায় পরিত্যক্ত ঘোষণা করেছিল। বর্তমান সরকারের আমলে মোংলা বন্দরটি ফের সচল হয়েছে, উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পণ্য আমদানি–রপ্তানি হচ্ছে, সেটি ব্যবসা–বাণিজ্যের জন্য সুখবরই বটে। ষোলো কোটি মানুষের দেশ একটি সমুদ্রবন্দর দিয়ে চলতে পারে না।
মোংলা চালু থাকায় চট্টগ্রাম বন্দরের ওপর যেমন চাপ কমেছে, তেমনি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষও উপকৃত হচ্ছে। চট্টগ্রাম থেকে এসব অঞ্চলে পণ্য পরিবহনের খরচ যেমন বেশি, তেমনি সময়সাপেক্ষও। প্রথম আলোর খবর অনুযায়ী মোংলা বন্দরের কাস্টম হাউসটি রয়েছে ৫৮ কিলোমিটার দূরত্বে খুলনা শহরের খালিশপুরে, যেখানে শুল্ক নির্ধারণসহ দাপ্তরিক কাজ হয়ে থাকে। আর বন্দরে কাস্টমের যে একটি ইউনিট আছে, সেটি শুধু পণ্যের মান যাচাই-পরীক্ষা ও কনটেইনার খালাসের কাজে সহায়তা করে থাকে। এর ফলে বন্দর ব্যবহারকারী ব্যবসায়ীদের ভীষণ ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। কোনো কোনো পণ্য ছাড় করতে তাঁদের একাধিকবার খালিশপুরে দৌড়াদৌড়ি করতে হয়। আর ব্যবসায়ীদের ভোগান্তির শেষ ধকলটা গিয়ে পড়ে ভোক্তাদের ওপরই।  আমদানি-রপ্তানিকারকদের এই ভোগান্তি ও হয়রানি দূর করতে মোংলা বন্দরে পূর্ণাঙ্গ কাস্টম হাউস প্রতিষ্ঠা সময়ের দাবি। নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান ২০১১ সালে বন্দর উপদেষ্টা কমিটির সভায় কাস্টম হাউস স্থানান্তরের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। মন্ত্রী ছয় বছরেও দেশের দ্বিতীয় সমুদ্রবন্দরে কাস্টম হাউসের জন্য অবকাঠামো তৈরি করতে পারেননি। সাধারণত চেয়ার বদলালে কথা বদলে যায়,
কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, চেয়ার ঠিক থাকলেও কথা বদল হয়। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরসহ অনেক বেহুদা কাজে কোটি কোটি টাকা ফি বছর খরচ করে থাকে। অন্যদিকে যে মোংলা বন্দর দিয়ে হাজার হাজার কোটি টানার পণ্য আমদানি-রপ্তানি হয়, সেই বন্দরের অবকাঠামো উন্নয়নে অর্থ ব্যয় করতে পারে না, এটি অবিশ্বাস্য। বিগত অর্থবছরে মোংলা বন্দর ৭২ কোটি টাকা মুনাফা করেছে। সেই মুনাফার অন্তত একাংশ মন্ত্রণালয় বন্দরের উন্নয়নে ব্যয় করতে পারত। আর কাস্টমস কর্তৃপক্ষ খালিশপুর থেকে কাস্টম হাউস স্থানান্তর না করার পক্ষে যে যুক্তি দেখাচ্ছে, তা–ও গ্রহণযোগ্য নয়। আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির যুগে কাস্টমের দাপ্তরিক কার্যক্রম চালাতে বৃহৎ অবকাঠামো নির্মাণের প্রয়োজন হয় না। সংশ্লিষ্টদের সদিচ্ছা আছে কি না, সেটাই মূল প্রশ্ন। গেল ছয় বছরে মন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি রক্ষিত হয়নি। আর বিলম্ব নয়, অবিলম্বে মোংলায় কাস্টম হাউস সরানো হোক।

গাজীপুরে দুটি সেতু ঝুঁকিপূর্ণ

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার লতিফপুর এলাকায় ঘাটাখালী নদীর ওপর নির্মিত দুটি সেতুই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকলেও তা মেরামতে কারও কোনো মাথাব্যথা আছে বলে মনে হয় না।মঙ্গলবার প্রথম আলোর খবরে প্রকাশ, ঘাটাখালী নদীর ওপর পাশাপাশি নির্মিত দুটি সেতুর একটি আরসিসি ঢালাইয়ে নির্মিত। অন্যটি ইস্পাতের বেইলি সেতু। সেতু দুটির ওপর দিয়ে প্রতিদিন প্রচুর যানবাহন চলাচল করে। বেইলি সেতুর বেশ কয়েকটি প্লেট উঠে গেছে। দুবার প্লেটের ফাঁকা অংশে ট্রাকের চাকা ঢুকে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। প্লেটগুলো ঠিক করা হলেও আবার উঠে যায়। আর ইস্পাত সেতুর পশ্চিম অংশের মাঝখানে ফাঁকা হয়ে গেছে। আগে একবার এই ফাঁকা অংশের ওপর ইস্পাত বসিয়ে মেরামত করা হয়েছিল কিন্তু যানবাহনের চাপে আবার সেটা ভেঙে গেছে।
দুটি সেতুরই রেলিং জায়গায় জায়গায় ভেঙে গেছে। যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। আর এখন শুধু বেইলি সেতুটি জোড়াতালি দিয়ে মেরামত করা হচ্ছে। দু-দুটি সেতু ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে অথচ তা মেরামতে কারও কোনো উদ্যোগ না থাকাটা দুঃখজনক। সেতু নির্মাণ বা মেরামতের দায়িত্ব সড়ক ও জনপথ বিভাগের। তাদের টনক নড়বে কবে? স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনই-বা কী করছে? তারা সক্রিয় ও দায়িত্বশীল না হলে এ ধরনের সমস্যার সমাধান করা যায় না। ফলে তাদের উদ্যোগী ভূমিকা জরুরি। আর এভাবে জোড়াতালি দিয়ে সেতু মেরামত মানে অর্থ ও সময়ের অপচয়। প্রথম আলোর খবর অনুযায়ী প্রায় ৭০ বছর আগে আরসিসি সেতুটি নির্মিত হয়। আর বেইলি সেতুটি নির্মিত হয়েছে ২৫ বছর আগে। দুটিই যথেষ্ট পুরোনো হয়েছে। এভাবে মেরামত না করে সড়ক ও জনপথ বিভাগের উচিত এখানে নতুন করে সেতু নির্মাণ করা। গাজীপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের সেকশন অফিসার বশির আহম্মেদ বলেছেন, প্রকল্প গ্রহণ করা হলে নতুন করে সেতু নির্মাণ করা হবে। আমরা আশা করব, ঘাটাখালী নদীর ওপর দ্রুত সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হবে।

২০১৭ সালে আমরা কী শিখলাম?

আরেকটি বছর পেরিয়ে আমরা নতুন বছরে পা দেব দেব করছি। মনে মনে ভাবছি, কত দ্রুত সময় কেটে গেল। প্রতিবছরই এটা মনে হয়। তার সঙ্গে সঙ্গে মনে পড়ে ঘটে যাওয়া সব ঘটনার কথা। নববর্ষের গানের মতো ভাবতে হয়: কোন গ্লানি মুছে দেব এবার? আমার মতে, এ বছরের অন্যতম আলোচিত ঘটনা হলো যৌন নিপীড়ন। তার সঙ্গে অবশ্য গ্লানিও জড়িত। পুরুষ মানুষের গ্লানি। এই গ্লানি বহন করতে হয় নারীকেও, যদিও সে আক্রান্ত। তবে এ গ্লানি আমরা যেন না মুছি। তার পরিবর্তে আমরা সেখান থেকে কিছু শেখার চেষ্টা করি। এ বছর অনেক পুরুষ মানুষের মুখোশ খুলে এসেছে। আমরা জানতে পেরেছি তাঁদের যৌন নিপীড়ন করার যত ঘটনা। এটা অবশ্য নতুন কিছু নয়। যৌন নিপীড়ন পুরুষতান্ত্রিক পৃথিবীতে সচরাচর ঘটে, ঘটেছে। কিন্তু সে ঘটনাগুলো আড়াল করাও চলে প্রতিনিয়ত। সে কারণে যৌন নিপীড়নের কথা ভাবলে মানুষ হয়তো ভাবে, এটা সভ্য সমাজে ঘটে না। অথবা ভাবে, এটার কারণ হলো শিক্ষার অভাব। অথবা এসব হয় বস্তিতে, গরিব ঘরে। কিন্তু এই বছর আমরা যাঁদের কথা জেনেছি, তাঁরা অনেকেই বিভিন্ন ক্ষেত্রের তারকা। হলিউড, বলিউড থেকে শুরু করে বিখ্যাত শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক, অনেকেই আছেন জনগণের গড়া যৌন নিপীড়নের তালিকায়। এতটাই ভয় পেয়েছেন একশ্রেণির পুরুষেরা যে তাঁরা প্রতিবাদও করছেন। বলছেন, পুরুষদের মানহানি করার প্রচেষ্টা এটা। কিন্তু আমরা যারা এ বিষয় গবেষণা করি, জানি, এ ধরনের কথাবার্তার উদ্দেশ্য হলো আবার নারীদের দোষারোপ করা। যেন তাঁদের নিপীড়িত হওয়ার কারণ তাঁরা নিজেরাই। তবে এটাও বলা প্রয়োজন, যৌন নিপীড়ন শুধু তারকারা করেন, তা নয়; বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) করা এক জরিপে অংশগ্রহণকারী ৮০ শতাংশ নারী বলেছেন, তাঁরা যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। তার মানে সাধারণ মানুষ—গরিব-ধনীনির্বিশেষে যাঁরা আমাদের আশপাশেই আছেন, তাঁদের অনেকেই যৌন নিপীড়ন করছেন। ৮০ শতাংশ নারী যদি বলে থাকেন, তাঁরা যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছেন, যেমনটি তাঁরা বলেছেন, তাহলে পুরুষদের বড় একটা অংশই এই নিপীড়নের দায়িত্ব বহন করেন।
যৌন নিপীড়ন করার পেছনে কারণ তাহলে কী?
গবেষণায় দেখা গেছে, নানান ধরনের কারণে যৌন নিপীড়ন অনিবার্য, তবে সব কারণের মূল হলো পুরুষতন্ত্র। যে সমাজ পুরুষতন্ত্র দ্বারা শাসিত, সেই সমাজে মেয়েদের স্থান ছেলেদের থেকে নিচে, নারীর স্থান পুরুষদের থেকে নিচে। যাঁদের অবস্থান নিচে ধরা হয়, তাঁরা নিপীড়িত হওয়ার ঝুঁকিতে বেশি থাকেন। এ রকম সমাজে অনেক (তবে সবাই নন) পুরুষ মানুষ নারীদের নিজের সম্পত্তি মনে করেন। বিয়ে বা ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকলে তো কথাই নেই। নিজের সম্পত্তি মনে করেন বলে তাঁরা নারীদের ঠিক মানুষ ভাবতে পারেন না, গরু-ছাগল ভেবে বসেন। তাঁদের মতো না চলাফেরা করলে বা কথা না শুনলে সেটাতে তাঁরা অপমানিত হন। সেখানেই সমস্যা। সেই অপমানবোধ রোধ করতেই অনেকে মারধর করেন, যৌন সহিংসতার আশ্রয় নেন। এভাবে তাঁরা নিজেদের উচ্চস্থান বজায় রাখার চেষ্টা করেন। এটা হয়ে ওঠে নারীদের নিয়ন্ত্রণ করার কলকাঠি। আরেকটা কথাও মনে হয়। এ রকম পুরুষতান্ত্রিক সমাজে অনেক মানুষ জানেই না যৌন নিপীড়ন কী জিনিস। যেমন ধরুন, অনেকেই ভাবেন, বিবাহিত হলে যৌন নির্যাতনের কথা বলা অবান্তর, কারণ বিবাহিত জীবনে স্বামীর সঙ্গে এটা হতেই পারে না। এই ধারণা শুধু ভুল না, একেবারেই ভুল। বিবাহিত নারীরা শুধু যৌন নিপীড়ন না, নানা ধরনের নিপীড়নের শিকার হন: মানসিক, শারীরিক, আর্থিক। খুব তীব্র হয়ে উঠলে তার খবর হয়, কিন্তু তারপরও মানুষ এটাকে বিবাহিত জীবনের অংশ ভেবে ভুলে থাকার চেষ্টা করেন। ছেলেমেয়ে থাকলে আরও বেশি করে মেনে নেন। অথচ ছেলেমেয়েরা যে তাদের মা-বাবার সম্পর্ক দেখে সম্পর্ক গঠনের নিয়মাবলি শেখে তা খেয়াল থাকে না। অন্যদিকে, নানা ধরনের সামাজিক ও ব্যক্তিগত চাপের কারণে অনেকেই মেনে নেন অসহনীয় বিবাহিত সম্পর্ক। আর্থিক ও মানসিক নির্ভরতার কারণেও অনেকে থেকে যান সহিংসতাপূর্ণ সম্পর্কের ভেতর। তবে তাঁরা প্রতিবাদ করছেন না মানে এই না যে এ কোনোটাই ঠিক। এ ধরনের নিপীড়ন শুধু বাড়িতে হয় তাও না। কর্মক্ষেত্রে, রাস্তাঘাটে, স্কুল-বিশ্ববিদ্যালয়—সবখানেই যৌন নিপীড়নের ঘটনা ঘটে।
তবে প্রশ্ন থেকেই যায়: যৌন নিপীড়ন কেন এত বিদ্যমান, ব্যাপক?
আমি বলব, এর কারণ হলো সম্মতি গঠন সম্পর্কে আমাদের ধারণা স্পষ্ট না। এ বিষয়ে আমাদের আইনি ব্যবস্থাও সমস্যাপূর্ণ ভূমিকা রাখে—বিবাহিত সম্পর্কে জবরদস্তি করা বা ধর্ষণকে অপরাধ হিসেবে গণ্য না করে যে ভয়াবহ ইঙ্গিত তাঁরা দেন, তার প্রতিফলনই বোধ হয় আমরা দেখছি বৈবাহিক যৌন নিপীড়নের বাড়াবাড়ির মধ্যে। এই অস্পষ্টতার কারণে আমরা দেখি মানুষ, বিশেষ করে পুরুষ মানুষ, বোঝে না নারীর ‘না’ মানে কী। কিছু প্রচলিত ধারণা এখানে তুলে ধরলাম:
১. ‘না’ মানে ‘হ্যাঁ’
কেউ কেউ মনে করেন, নারীর ‘না’ মানে ‘হ্যাঁ’। তাঁরা ভাবেন, লজ্জা পেয়ে মেয়েমানুষ যখন ‘না’ বলেন, তখন তাঁরা আসলে ‘হ্যাঁ’ বলতে চান। কিন্তু, না। কখনো না। আপনি, পাঠক, যদি তা মনে করেন, আমি এখনই বলে দিই, আপনার সাহায্য প্রয়োজন। ধর্ষণের অজুহাত হিসেবে এটা বহু ব্যবহৃত উক্তি হতে পারে, তবে কাউকে জবরদস্তি করা কখনোই যৌক্তিক হতে পারে না। এই ভুল ধারণা মাথায় নিয়ে আপন মনে কাউকে ধর্ষণ না করাটাই শ্রেয়।
২. কিছু ‘না’ বলা মানে ‘হ্যাঁ’
অনেকে মনে করেন, চুপ করে থাকা মানেও ‘হ্যাঁ’। তার মানে মেনে নাওয়া। এটাও ভুল ধারণা।
৩. ‘না’ মানে ‘না’
‘না’ মানে ‘না’, সেটা ঠিক। তবে আমাদের এটাও জানা ও ভাবা দরকার যে সবার ‘না’ বলার ক্ষমতা থাকে না। হলিউডের যেসব যৌন নিপীড়নের ঘটনার কথা আমরা জেনেছি, তা আমাদের পরিষ্কার বুঝিয়ে দেয়, যখন প্রভাবশালী একজন যৌন নিপীড়ন করেন, তখন তাঁকে অনেকেই কিছু বলতে পারেন না, তার বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপও নিতে পারেন না। তার মানেই কিন্তু এই না যে তাঁদের মত ছিল; বরং এর মানে হলো তাঁদের ‘না’ বলার সাধ্য নেই।
৪. ‘হ্যাঁ’ মানে ‘হ্যাঁ’
যেকোনো শারীরিক সম্পর্কে জড়ানোর জন্য দুটো মানুষের মত লাগে। তার মানে দুজনেরই ‘হ্যাঁ’ বলা চাই। তবে আবার আমাদের মনে রাখতে হবে, যেহেতু সবার ‘না’ বলার ক্ষমতা নেই, বিশেষ করে যখন নিপীড়ক হন প্রভাবশালী কেউ, অনেকেই হয়তো ‘হ্যাঁ’ বলা ছাড়া কোনো উপায় দেখেন না। এই কারণেই শুধু মুখের কথা নয়, আকার-ইঙ্গিতে নারী কী বলছেন, সেটাও যাচাই করা প্রয়োজন। মিডিয়া ও টেলিভিশনে যে হিংস্র ধর্ষণ দেখানো হয়, বাস্তবের সঙ্গে তা হয়তো অনেক সময় মেলে না। অনেকেই মানসিক চাপের মাধ্যমে জোর খাটিয়ে যৌন আকাঙ্ক্ষা পূরণ করেন, যা আসলে নিপীড়ন। নারী যে পোশাকই পরে থাকুন না কেন, যেহেতু ধর্ষণ এবং জোর খাটানো থেকে বিরত থাকা ভীষণ জরুরি, সেহেতু নারীর ‘না’ বিষয়ে সূক্ষ্ম পর্যালোচনা করা দরকার বলেই মনে করি। আর শেষমেশ মনে রাখা প্রয়োজন, শুধু ‘হ্যাঁ’ মানেই ‘হ্যাঁ’।
নাদিন শান্তা মুরশিদ: সহকারী অধ্যাপক, ইউনিভার্সিটি অ্যাট বাফালো।

উপাচার্যের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আসন্ন রেজিস্টার্ড গ্র্যাজুয়েট প্রতিনিধি নির্বাচন সামনে রেখে উপাচার্যের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ করেছেন সাবেক একজন উপাচার্য। গতকাল মঙ্গলবার নির্বাচনে আওয়ামী লীগপন্থী প্রাক্তন গ্র্যাজুয়েটদের একাংশের প্যানেল ‘বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী প্রগতিশীল জোট’-এর ব্যানারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাবেক উপাচার্য শরীফ এনামুল কবির এই অভিযোগ করেন। গতকাল বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়ার দ্বিতীয় তলায় অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন শরীফ এনামুল কবির। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘নির্ধারিত সময়ের ১৬ বছর পর এ বিশ্ববিদ্যালয়ে সিনেটে রেজিস্টার্ড গ্র্যাজুয়েট প্রতিনিধি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আগামী ৩০ ডিসেম্বর। নির্বাচনে আমাদের প্যানেল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। সাধারণত নির্বাচনপ্রক্রিয়া চলাকালে প্রশাসন বা রিটার্নিং কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট সব দলের পরামর্শ গ্রহণ করেন। কিন্তু প্রশাসন এই রীতির ব্যত্যয় ঘটিয়েছে। নির্বাচনের কোনো পর্যায়েই আমাদের প্যানেলে কাউকে মত প্রকাশ করতে দেওয়া হয়নি।’ সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, ‘নির্বাচনী সংবিধি অনুযায়ী উপাচার্যের অনুমোদনক্রমে রিটার্নিং কর্মকর্তা নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করবেন। কিন্তু উপাচার্য ফারজানা ইসলাম রিটার্নিং কর্মকর্তা নিয়োগের আগেই নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেন। এ ছাড়া রিটার্নিং কর্মকর্তাকে পাশ কাটিয়ে লিখিত আদেশের মাধ্যমে তিনি ভোটারদের ব্যক্তিগত তথ্য উন্মুক্ত করেছেন।’ শরীফ এনামুল কবির বলেন, জোট মনে করে, কোনো পক্ষকে বিশেষ সুবিধা দিতে উপাচার্য এমন করেছেন। এটি সুস্পষ্ট নির্বাচনবিধি লঙ্ঘন। বক্তব্যপাঠ শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,
‘এখনো লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড আছে। আমি চাই নির্বাচন হোক।’ সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জোটের প্রার্থী ও বাংলাদেশ কৃষক লীগের সভাপতি মো. মোতাহার হোসেন, শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ফরিদ আহমদ এবং সাধারণ সম্পাদক ফরিদ আহমেদ, ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজির পরিচালক কে এম আককাছ আলী, ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক মো. শাহেদুর রশিদ। প্রসঙ্গত, অধ্যাপক শরীফ এনামুল কবির রেজিস্টার্ড গ্র্যাজুয়েট প্রতিনিধি নির্বাচনের প্রার্থী। উপাচার্য ফারজানা ইসলাম সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘কোনো সংবিধি লঙ্ঘিত হয়নি। কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক শেখ মো. মনজুরুল হককে ১১ সেপ্টেম্বর রিটার্নিং কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনি ১২ সেপ্টেম্বর নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘ভোটারদের ব্যক্তিগত তথ্য বলতে যা বোঝানো হচ্ছে, তা হলো ভোটারদের মুঠোফোন নম্বর। শুরুতে কোনো প্রার্থীকে এসব নম্বর না দেওয়ার সিদ্ধান্ত ছিল। কিন্তু কেউ কেউ নম্বর পেয়ে গেছেন, এমন অভিযোগের পর আমি সব প্রার্থীকে এসব নম্বর দিতে বলেছি। ১৭ ডিসেম্বর এটা হয়েছে। তাঁরাও (প্রগতিশীল জোট) এসব নম্বর পেয়েছেন।’ উপাচার্য বলেন, ‘দীর্ঘ ১৯ বছর পর এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এ নিয়ে অনেকের অনেক রকম অনুভূতি থাকতে পারে। কিন্তু আমি আশা করি নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হবে।’

কাজ না করেই টাকা পকেটে

ঝিনাইদহ সদর উপজেলার পদ্মকর ইউনিয়নের গোপীনাথপুরের একটি সড়ক সংস্কার প্রকল্পের শ্রমিক ছিলেন তাকের আলী। কত দিনে, কী কাজ করলেন—জানতে চাইলে গোবিন্দপুর গ্রামের এই বাসিন্দা বললেন, রাস্তাটিতে মোট ১৭-১৮ দিন মাটি ভরাটের কাজ হয়েছে। পাশের জমি থেকে মাটি কেটে রাস্তায় ফেলা হয়। তিনিসহ ১৫-১৬ জন এ কাজ করেছেন। একজন শ্রমিকের দিনমজুরি ৩০০-৪০০ টাকা। তাকের আলীর হিসাব ধরলেও এই প্রকল্পে সোয়া লাখ টাকার বেশি ব্যয় হয়নি। অথচ কাবিটার (কাজের বিনিময়ে টাকা) এ প্রকল্পে বরাদ্দ ছিল ৭ লাখ ৪১ হাজার ৯৪১ টাকা। ঝিনাইদহের পাঁচটি ইউনিয়নে এ রকম ৬৪টি প্রকল্পে মোট বরাদ্দ ছিল প্রায় ৬ কোটি টাকা। প্রায় সব প্রকল্পেই বরাদ্দের টাকা নয়ছয় করার অভিযোগ উঠেছে। এর একটি ইউনিয়নে ১৬টি প্রকল্পের একটিতেও কাজ না করেই টাকা তুলে নেওয়া হয়। বাকিগুলোতে নামমাত্র কাজ করে প্রকল্প সম্পন্ন দেখানো হয়েছে। এলাকাবাসী বলেছেন, জনগণের স্বার্থে এসব প্রকল্পে বরাদ্দ দিয়েছিল সরকার।
কিন্তু সেই বরাদ্দ জনগণের কাজে আসেনি। মূলত প্রকল্পগুলো ছিল সরকারি টাকা আত্মসাতের হাতিয়ার। বেশির ভাগ প্রকল্পের সভাপতি ছিলেন সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান। কয়েকটি প্রকল্পে সভাপতি করা হয় তাঁদের আস্থাভাজন ব্যক্তিদের। প্রকল্প সভাপতিরা রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা থেকে শুরু করে এলাকাবাসী কিছু বলার সাহস পান না। জানতে চাইলে ঝিনাইদহ সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) শুভাগত বিশ্বাস প্রথম আলোকে বলেন, তিনি এখানে নতুন যোগ দিয়েছেন। এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তাঁর জানা নেই। সদর উপজেলা পিআইওর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত মে মাসে ঝিনাইদহ সদরের পাঁচটি ইউনিয়নে গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার (কাবিটা) প্রকল্পের নামে বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হয়। ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের পাঁচটি চিঠিতে এই বরাদ্দের কথা জানানো হয়। একই সঙ্গে জেলার কালীগঞ্জ, শৈলকুপা ও হরিণাকুণ্ডু উপজেলারও কয়েকটি প্রকল্প রয়েছে। সবই ছিল মাটির কাজ। সদর উপজেলার হরিশংকরপুর, পদ্মকর, ঘোড়শাল, ফুরসন্ধী ও নলডাঙ্গা ইউনিয়নের ৬৪টি প্রকল্পের মধ্যে ১২টি ছিল বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের আঙিনায় মাটির কাজ। বাকি ৫২টিই রাস্তায় মাটি ভরাটের কাজ। ৬৪ প্রকল্পে মোট বরাদ্দ ছিল ৫ কোটি ৬৯ লাখ ৪১ হাজার ৬৮৫ টাকা। কাজ শেষ করার সময়সীমা ছিল চলতি বছরের ৩০ জুন। নিয়মানুযায়ী, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর থেকে বরাদ্দপত্র পাওয়ার পর স্থানীয় প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয় প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করবে। এরপর একটি প্রকল্প কমিটি জমা হবে। তারপর কিছু টাকা সেই কমিটিকে দেওয়া হবে। এই টাকা হাতে পাওয়ার পর কমিটি কাজ শুরু করবে। কিছুটা কাজ করার পর দ্বিতীয় কিস্তির টাকা পাবে। কাজ শেষে দেওয়া হবে বাকি টাকা।
কাজই হয়নি হরিশংকরপুরে
হরিশংকরপুর ইউনিয়নে ১৬টি প্রকল্পে বরাদ্দ দেওয়া হয় ১ কোটি ৯৬ লাখ ৬১ হাজার ৪৫২ টাকা। এই ইউনিয়নের ছয়টি প্রকল্প এলাকা ঘুরে এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রাস্তাগুলোতে কোনো মাটির কাজই হয়নি। পানামী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মনজুর আহম্মদ বলেন, তাঁর বাড়ি আর্য্য-নারায়ণপুরে। ওই গ্রামে রয়েছে দুটি প্রকল্প। প্রকল্প দুটি হলো ‘আর্য্য-নারায়ণপুর বটগাছ হইতে কাঁচার শেষ মাথা পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার ও আর্য্য-নারায়ণপুর বটগাছ হইতে নারায়ণপুর ঈদগাহ হয়ে নদী পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার’। এ দুটি রাস্তায় বরাদ্দ রয়েছে ২৯ লাখ ৬৭ হাজার ৭৬৬ টাকা ৪০ পয়সা। কিন্তু এ দুটি রাস্তায় সম্প্রতি কোনো মাটির কাজ হয়নি। আনুমানিক দুই বছর আগে সামান্য কিছু মাটির কাজ হয়েছিল। এখন এই রাস্তা চলাচলের অনুপযোগী। হুদা-বাকড়ি ভাগাড় থেকে খালের ব্রিজ পর্যন্ত রাস্তায় মাটির কাজের জন্য দুটি প্রকল্পে বরাদ্দ হয় ২২ লাখ ২৫ হাজার ৮২৪ দশমিক ৮০ টাকা। ওই এলাকার বাসিন্দা বাবলুর রহমান বলেন, গত এক বছরে এই রাস্তায় এক ঝুড়ি মাটিও পড়েনি। রাস্তার পাশেই রয়েছে মুক্তিযোদ্ধা নবের আলী শেখদের পারিবারিক কবরস্থান। নবের আলীও বলেন, এই রাস্তার কোনো কাজই হয়নি। তবে পাঁচ-ছয় বছর আগে একবার সামান্য কিছু কাজ হয়েছিল। এই ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুর রাজ্জাক বলেন, একটি টাকার কাজও হয়নি এই রাস্তাটিতে। এলাকার মানুষ কষ্ট করে ফসল ঘরে তুলছেন। এই ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য খন্দকার ইমামুল হোসেন বলেন, ওই দুই রাস্তায় ২২ লাখ টাকার বরাদ্দ হলেও ২২ টাকারও কাজ হয়নি। পরানপুর বিল্লালের বাড়ি থেকে পূর্ব বিলের মালেকের জমির কাছাকাছি পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার ও পরানপুর শওকতের বাড়ির ব্রিজ থেকে মাঠের রফির জমি পর্যন্ত দুটি প্রকল্পে বরাদ্দ রয়েছে ২২ লাখ ২৫ হাজার ৮২৪ টাকা ৮০ পয়সা। এই গ্রামের বাসিন্দা ৪ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আরিফ মোল্লা জানান, দুটি রাস্তার একটিতেও কোনো মাটি পড়েনি। চার-পাঁচ বছর আগে কিছু মাটির কাজ হয়েছিল। তাঁর অভিযোগ, কোনো কাজ না করেই টাকা পকেটস্থ করা হয়েছে।
ঘোড়শাল ইউনিয়ন
সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ দেওয়া হয় ঘোড়শাল ইউনিয়নে। এখানে ২৪টি প্রকল্পে ২ কোটি ২ লাখ ১৫ হাজার ৬১১ টাকা বরাদ্দ হয়। ইউনিয়নের পূর্ব তেঁতুলবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের খেলার মাঠে মাটি ভরাটের প্রকল্পে বরাদ্দ ১১ লাখ ১২ হাজার ৯১২ টাকা। সরেজমিনে দেখা গেছে, বিদ্যালয়টির একটি নতুন ভবন ও ঈদগাহের সামনে সামান্য কিছু মাটি ফেলা হয়েছে। মুনুড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে মাটি ভরাটের প্রকল্পেও ১১ লাখ ১২ হাজার ৯১২ টাকা বরাদ্দ ছিল। বিদ্যালয়টির মাঠের দক্ষিণ প্রান্তে সামান্য মাটি ছিটিয়ে দেওয়া হয়েছে। মুনুড়িয়া গ্রামের সনৎ বিশ্বাস বলেন, এই স্কুলমাঠে মাটি দেওয়া হয়েছে ১২০-১৩০ ট্রাক। প্রতি ট্রাক মাটি আনতে খরচ হয় ৮০০-৯০০ টাকা। আবার মাটি ছিটিয়ে সেটা সমানও করা হয়নি। ফলে মাঠে কেউ খেলাধুলা করতে পারছে না। নারিকেলবাড়িয়া জেড এ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে মাটি ভরাটে বরাদ্দ ২ লাখ ৮৯ হাজার ৯৪৮ টাকা। সেখানেও কোনো রকমে মাটি ছিটানো হয়েছে। নারিকেলবাড়িয়া বটতলা থেকে কালীতলা পর্যন্ত রাস্তা পুনর্নির্মাণ প্রকল্পে বরাদ্দ হয় ২ লাখ ৮৯ হাজার ৯৪৮ টাকা। ওই রাস্তায়ও সামান্য মাটি ছিটিয়ে দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় এক ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সব প্রকল্পেই এমন লোক দেখানো কাজ হয়েছে। মূলত বরাদ্দের টাকা পকেটে ভরতেই এমন প্রকল্প। তবে ঘোড়শাল ইউপির চেয়ারম্যান পারভেজ মাসুদ বলেন, তিনি পরিমাণমতো কাজ করেছেন। তা ছাড়া প্রকল্প অফিস থেকে কাজ বুঝে নেওয়া হয়েছে। টাকা আত্মসাতের উদ্দেশ্যেই প্রকল্প, কথাটি সঠিক নয়।
পদ্মাকর ইউনিয়নে নামমাত্র কাজ
পদ্মাকর ইউনিয়নে ছয়টি প্রকল্পে ৪৮ লাখ ২২ হাজার ৬২০ টাকা বরাদ্দ আসে। তিওরদাহ ত্রিমোহনী থেকে পূর্ব গোপীনাথপুর খাইরুলের বাড়ি পর্যন্ত পাকা রাস্তার দুই পাশে মাটি ভরাটে বরাদ্দ দেওয়া হয় ৭ লাখ ৪১ হাজার ৯৪১ টাকা। এলাকার কয়েকজন বলেন, রাস্তার পাশে জঙ্গল পরিষ্কারের পর মাটি কেটে সমান করে এই বিপুল পরিমাণ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। ইউনিয়নের খুলুম বেড়বাড়ি বটতলা বেড়বাড়ি শেষ সীমানা পর্যন্ত রাস্তার সংস্কারকাজে বরাদ্দ হয় ১১ লাখ ১২ হাজার ৯১২ টাকা। এই রাস্তাতেও মাটি কেটে সমান করা হয়েছে মাত্র। কয়েক স্থানে রাস্তার পাশ থেকে মাটি কেটে ওপরে ছিটিয়ে দেওয়া হয়েছে। ইউনিয়নের রায়চরণ-তারিনীচরণ ডিগ্রি কলেজের আঙিনার কাছে গর্তে মাটি ভরাটের প্রকল্পে বরাদ্দ ছিল ১৪ লাখ ৮৩ হাজার ৮৮৩ টাকা। স্থানীয় বাসিন্দা মশিয়ার রহমান বলেন, ভেকু দিয়ে কিছু মাটি দেওয়া হয়েছে। বরাদ্দ করা টাকার হিসাব করলে এটা কোনো কাজই নয়। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে পদ্মাকর ইউপির চেয়ারম্যান নিজামুল গনির মুঠোফোন নম্বরে বারবার ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি।
নলডাঙ্গা ও ফুরসন্ধীতেও একই চিত্র
নলডাঙ্গা ইউনিয়নের বাগুটিয়া গ্রামের দুটি প্রকল্পে ২২ লাখ ২৪ হাজার টাকা বরাদ্দ হয়। বাগুটিয়া গ্রামের রবিউল ইসলাম বলেন, সেখানে একটি ভেকু দিয়ে ১০-১২ দিন মাটি কাটার কাজ হয়েছে। রাস্তার পাশের মাটি কেটে রাস্তার ওপর ফেলা হয়েছে। এতে স্থানীয় মানুষের তেমন কোনো উপকার হয়নি। উল্টো ভেকু দিয়ে মাটি কাটায় রাস্তার পাশে থাকা বেশ কিছু গাছ কাটা পড়েছে। একইভাবে এই ইউনিয়নের আড়মুখ গ্রামের দুটি প্রকল্পেও নামমাত্র কাজ হয়েছে।ফুরসন্ধী ইউনিয়নের জিথোড় মন্টুর বাড়ির পাশের রাস্তায় প্রায় সাড়ে ৭ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। ওই রাস্তায় কিছুটা কাজ হয়েছে। তবে তা বরাদ্দের তুলনায় অনেক কম। একইভাবে মুক্তারামপুর ব্রিজ থেকে টিকারী বাজারের রাস্তায় বরাদ্দ দেওয়া হয় প্রায় ১৫ লাখ টাকার। এখানেও সামান্যই কাজ হয়েছে। স্থানীয় কয়েকজন বরাদ্দের পরিমাণ শুনে বিস্ময় প্রকাশ করেন। তাঁরা বলেন, আগে থেকে বরাদ্দের পরিমাণ জানলে তাঁরা কাজ বুঝে নিতে পারতেন। জানতে চাইলে ঝিনাইদহ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাম্মী ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, তিনি এখানে কয়েক মাস আগে যোগ দিয়েছেন। কাজগুলো কীভাবে হয়েছে তা তাঁর জানা নেই। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। জেলা প্রশাসক মো. জাকির হোসেন বলেন, বিষয়টি তিনি খোঁজ নিয়ে দেখবেন। ইউএনওকে প্রকল্পগুলো যাচাইয়ের জন্য বলবেন।

বিএমডব্লিউ আটকে বিপাকে সার্জেন্ট

উল্টো পথে চলা একটি বিলাসবহুল বিএমডব্লিউ গাড়ি আটকে বিপাকে পড়েছিলেন সার্জেন্ট মোহাম্মদ মহিবুল্লাহ। গাড়িটির মালিক দাবিদার বেসরকারি ঢাকা বিজ্ঞান কলেজের মালিক ও অধ্যক্ষ এস এ মালেক সার্জেন্টের ওপর চড়াও হন। এরপর সার্জেন্টের কাছ থেকে কাগজপত্র ছিনিয়ে নেন এবং গাড়ি নিয়ে চলে যান। তবে কিছুদূর যাওযার পরে শাহবাগ থানার পুলিশ হাইকোর্ট এলাকা থেকে গাড়িটি আটক করে। গত রোববার এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মহিবুল্লাহ পুলিশের ওপর হামলা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে এস এ মালেকের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেছেন। পরে আদালত তাঁকে (মালেক) কারাগারে পাঠান। জার্মানিতে তৈরি বিএমডব্লিউ বিলাসবহুল গাড়ি হিসেবে পরিচিত। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে গাড়ির দাম, ট্যাক্স সবকিছু মিলিয়ে কোটি টাকার নিচে বিএমডব্লিউ কেনা যায় না। মালেকের গাড়িটি গুলশানের একটি প্রতিষ্ঠানের নামে নিবন্ধিত। কিন্তু গাড়ির নিবন্ধনের সনদ (ব্লু বুক) পুলিশকে দেখাতে পারেননি মালেক। তবে গাড়িটির ট্যাক্স পরিশোধ, ফিটনেস ও ইনস্যুরেন্সের সনদ পেয়েছে পুলিশ।
শাহবাগ থানার ওসি আবুল হাসান বলেন, মামলার পর এস এ মালেককে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হলে আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠান। তাঁর ব্যবহৃত বিএমডব্লিউ গাড়িটি জব্দ করে থানায় রাখা হয়েছে। মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, রোববার সার্জেন্ট মহিবুল্লাহ নিমতলি এলাকায় কর্তব্য পালন করছিলেন। বেলা একটার দিকে উল্টো পথে একটি গাড়ি আসতে দেখে তিনি তা থামান। তিনি গাড়ির কাগজ চাইলে গাড়ির চালক ট্যাক্স টোকেন ও ফিটনেসের কাগজ বের করে দেন। এরপর সার্জেন্ট বাকি কাগজ চাইলে চালক ইনস্যুরেন্সের সনদ বের করে দেন। সার্জেন্ট ইনস্যুরেন্স সনদ জব্দ দেখিয়ে মামলা করতে গেলে এস এ মালেক গাড়ি থেকে বের হয়ে এসে সার্জেন্টকে হুমকি-ধমকি দিতে থাকেন। একপর্যায়ে তিনি সার্জেন্টের ইউনিফর্মের কলার চেপে ধরে নামের ব্যাজটি ছিড়ে ফেলেন। পরে তিনি সার্জেন্টের হাত থেকে ওয়্যারলেস ও জব্দ করা ইনস্যুরেন্সের কাগজ ছিনিয়ে নিয়ে গাড়িতে উঠে চলে যান। সার্জেন্ট তাঁর সহকর্মীর ওয়্যারলেসে শাহবাগ থানাকে বিষয়টি জানালে হাইকোর্টের সামনে পুলিশ গাড়িটি আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

কটিদেশের নিচে কোটি টাকার সোনা

ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভারতীয় দুই নাগরিকের কাছ থেকে আড়াই কেজির বেশি সোনা উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার রাত আটটার দিকে দুবাই থেকে ঢাকামুখী এমিরেটসের একটি ফ্লাইটের দুই যাত্রীর কাছ থেকে এগুলো উদ্ধার করেন কাস্টমস কর্মকর্তারা। কাস্টম কর্তৃপক্ষ জানায়, উদ্ধার করা ১২টি সোনার বারের ওজন ২ কেজি ৬২০ গ্রাম।
বাজারমূল্য প্রায় ১ কোটি ৩১ লাখ টাকা। কাস্টম হাউসের প্রিভেনটিভ দলের প্রধান ও ঢাকা কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার সাইদুল ইসলাম বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাস্টমের একটি দল গ্রিন চ্যানেলে দুই যাত্রীকে শনাক্ত করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাঁরা নিজেদের কাছে সোনা থাকার কথা অস্বীকার করেন। এক্স-রে করে নিশ্চিত হওয়া যায়, তাঁদের কটিদেশের নিচে (পায়ুপথ) সোনার বার লুকানো আছে। রাত ১১টার দিকে ঈশ্বর দাসের কাছ থেকে ১ কেজি ২৯৫ গ্রাম ও গুরজান সিংয়ের কাছ থেকে ১ কেজি ৩২৫ গ্রাম সোনা উদ্ধার করা হয়। এ ব্যাপারে শুল্ক আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে এই কর্মকর্তা জানান।

পুতিনবিরোধী নেতা নাভালনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে নিষিদ্ধ

রাশিয়ায় সরকারবিরোধী রাজনৈতিক নেতা আলেক্সেই নাভালনিকে আগামী বছরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের কট্টর সমালোচক নাভালনিকে নির্বাচনে রুখতে সব চেষ্টা করছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য, দুর্নীতি মামলায় নাভালনির কারাদণ্ড হয়েছে। যে কারণে তিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার যোগ্য নন। তবে নাভালনি এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলছেন, রাজনৈতিক কারণে তাঁকে দণ্ড দেওয়া হয়েছিল। সম্প্রতি রাশিয়ার মোট ২০টি শহরে নাভালনির সমর্থকেরা তাঁর পক্ষে স্বাক্ষর সংগ্রহ করেন। আর মস্কোতে সমর্থকদের সমাবেশে তিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, পুতিন খুবই বাজে প্রেসিডেন্ট। এরপরই নির্বাচন কমিশন তাঁকে অযোগ্য ঘোষণা করে। কমিশনের সদস্য বরিস এবজিভ বলেন, নাগরিকদের মধ্যে যিনি বা যাঁরা অপরাধের দায়ে কারাদণ্ড ভোগ করেছেন, তাঁরা রুশ ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট পদের জন্য নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। এই সিদ্ধান্ত অবশ্য অনেকখানি প্রত্যাশিত ছিল। কারণ পুতিনের অন্যতম এই সমালোচকে নির্বাচনে আটকে দেওয়া হবে, তা আগে থেকেই ধারণা করা হচ্ছিল। কমিশনের এই সিদ্ধান্তকে প্রত্যাখ্যান করে দেশব্যাপী বিক্ষোভের ডাক দিয়েছেন নাভালনি। এর পাশাপাশি নির্বাচন বর্জনের আহ্বান জানিয়েছেন।
কারণ যে প্রক্রিয়ার প্রতি জনগণকে আহ্বান জানানো হচ্ছে, তা আর যা-ই হোক নির্বাচন নয়। আর নাভালনির প্রচারণা শিবিরের কর্মকর্তা রুসলান শাভেদ্দিনোভ বলেছেন, ওই সাজা ছিল রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য। তাঁরা কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করবেন। সরকারবিরোধী আন্দোলনের জন্য নাভালনিকে গত জুনে গ্রেপ্তার এবং কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। ২০১১-১২ সালে পুতিনবিরোধী বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেওয়ার কারণে নাভালনিকে তিনবার জেল খাটতে হয়েছে। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পুতিনের প্রতি শক্ত চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেওয়ার সক্ষমতা একমাত্র নাভালনিরই রয়েছে বলে মনে করা হয়। বিবিসি জানায়, নির্বাচনে পুতিনের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আরেকজন প্রার্থী আছেন, টিভির অনুষ্ঠান উপস্থাপিকা কসেনিয়া সোবচাক। সমাজের ওপরের মহলে তাঁর যোগাযোগ। নাভালনিসহ অনেকের ধারণা, কসেনিয়া মূলত ক্রেমলিনেরই ঘুঁটি। ২০১৮ সালের মার্চে রাশিয়ায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। ২০০০ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত টানা দুই মেয়াদে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করেন পুতিন। সাংবিধানিক বাধার কারণে ২০০৮ সালের নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি পুতিন। সেবার তাঁর অন্যতম সহযোগী দিমিত্রি মেদভেদেভ প্রেসিডেন্ট হন এবং পুতিন প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেন।

যশোরে আঞ্চলিক ইজতেমা কাল শুরু

আগামীকাল বৃহস্পতিবার ফজরের নামাজের পর আম বয়ানের মধ্যদিয়ে যশোরে শুরু হচ্ছে আঞ্চলিক বিশ্ব ইজতেমা। যা আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে ৩০ ডিসেম্বর শনিবার শেষ হবে। আগের মতো এবারো আঞ্চলিক ইজতেমা হবে উপশহরে। ইতিমধ্যে প্রস্ততি শেষ হয়েছে বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন। ইজতেমার প্রধান জিম্মাদার রেজাউল ইসলাম রাজু জানান, টঙ্গির বিশ্ব ইজতেমায় বিপুল লোকসমাগমের কারণে তাবলিগের মুরব্বিদের পরমর্শক্রমে ২০১১ সাল থেকে দেশের ৬৪টি জেলাকে দুইটি অংশে ভাগ করা হয়।
৩২ জেলার মুসল্লিরা একবছর টঙ্গির বিশ্ব ইজতেমায় অংশ নেন। অন্য ৩২ জেলা সংশ্লিষ্ট এলাকায় অঞ্চলভিত্তিক বিশ্ব ইজতেমার আয়োজন করে। গতবছর যশোর টঙ্গিতে বিশ্ব ইজতেমায় যোগ দিয়েছিল। সেই কারণে এবার স্থানীয়ভাবে আঞ্চলিক বিশ্ব ইজতেমা হচ্ছে এই জেলায়। আয়োজকরা জানান, ইজতেমার মিম্বরের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণায় নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র করা হয়েছে। এখান থেকে ইজতেমার যাবতীয় ঘোষণা প্রচার করা হবে। উত্তর-দক্ষিণ কোণ বিদেশি মেহমানদের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। মূল ইজতেমার মাঠে (উপশহর ক্রীড়া উদ্যান) এক নম্বর খিত্তায় অবস্থান করবে বাঘারপাড়া উপজেলা; দুই নম্বরে ও তিন নম্বরে সদর উপজেলা। পাঁচ নম্বরে কেশবপুর উপজেলা, ছয় নম্বরে অভয়নগর উপজেলা; সাত নম্বরে মণিরামপুর উপজেলা; আট নম্বরে ঝিকরগাছা উপজেলা; নয় নম্বরে চৌগাছা এবং দশ নম্বর খিত্তায় অবস্থান করবেন শার্শা উপজেলার মুসল্লিরা। যশোর জেলার বাইরে থেকে আসা মুসল্লিরা আবস্থান করবেন পার্কে। মুসল্লিদর যানবাহন রাখার জন্য বিরামপুর স্কুল মাঠ নির্ধারণ করা হয়েছে।

কাশ্মিরে নিয়ন্ত্রণরেখায় ভারতীয় কমান্ডো হামলা, ৩ পাকিস্তানি সেনা নিহত

কাশ্মিরে ক্রস বর্ডার সার্জিক্যাল অপারেশন চালিয়েছে ভারতীয় সেনারা। এ ঘটনায় তিন পাকিস্তানি সেনা নিহত এবং আরো একজন গুরুতর আহত হয়েছে। নিয়ন্ত্রণরেখার রাওয়ালকোট সেক্টরে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। ভারতীয় সূত্রের বরাত দিয়ে এনডিটিভি এ খবর জানিয়েছে।  তবে ডনের খবরে ক্রস বর্ডার সার্জিক্যাল অপারেশন চালানোর কথা উল্লেখ করা হয়নি। ভারতের সেনাবাহিনী বলেছে, সোমবার সন্ধ্যা ৬টায় ভারতীয় বাহিনীর ঘাতক ব্যাটালিয়নের পাঁচ কমান্ডো জম্মু ও কাশ্মিরের নিয়ন্ত্রণরেখার পুঞ্চ সেক্টর অতিক্রম করে আজাদ কাশ্মিরের কমপক্ষে ৩০০ মিটার ভিতরে ঢুকে টহলরত পাকিস্তানি সেনাদের ওপর হামলা চালায় এবং পাকিস্তানের তিন সেনাকে হত্যা করে। এর আগে শনিবার পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বর্ডার অ্যাকশন টিম রাজৌরি সেক্টরে হামলা চালিয়ে চার ভারতীয় সেনাকে হত্যা করে। এ ঘটনার প্রতিশোধ নেয়ার হুমকি দিয়েছিল ভারত। এর তিন দিনের মাথায় তাদের কমান্ডোদের হামলায় তিন পাকিস্তানি সেনা নিহত হন। এ ঘটনাকে ‘লোকালাইজড ট্যাক্টিক্যাল লেভেল অপারেশন’ বলে বর্ণনা করেছে ভারতীয় বাহিনী। ওই এলাকায় মোতায়েন একজন ভারতীয় আর্মি কমান্ডারের অধীনে পরিচালিত হয় ওই অভিযান। ৪৫ মিনিটের ওই অভিযানকে সার্জিক্যাল অপারেশন (সীমান্ত অতিক্রম করে নির্দিষ্ট পোস্টে হামলা) বলে বর্ণনা করতে নারাজ তারা। সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য পূরণে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সূত্রগুলো। এ অভিযানের সময় ভারতের কোনো সেনা হতাহত হয়নি। তবে অভিযানের বিস্তারিত বিষয় সম্পর্কে এখনো পরিষ্কার কিছু জানা যায়নি। পাকিস্তানি সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে বলেছে, স্থানীয় সময় সোমবার সন্ধ্যা ৬টায় আজাদ কাশ্মিরের রাওয়ালকোটের রুখ চাকরি সেক্টরে হামলা চালায় ভারতীয় সেনাবাহিনী। নিহত পাকিস্তানি সেনারা হলেন সাজ্জাদ, আবদুর রহমান ও এম উসমান। আহত হয়েছেন এ হুসেন নামের এক সেনা। রোববার রাতে কাশ্মিরের নিয়ন্ত্রণরেখায় পাকিস্তানি সেনাদের গুলিতে তিন ভারতীয় সেনা নিহত হয়েছিল। শনিবার সকালের দিকে রাজৌরি সেক্টরে পাকিস্তানের গুলিতে নিহত হয়েছিল চার ভারতীয় সেনা। ভারতীয় সেনাবাহিনী দাবি করে, পাকিস্তানি সেনারা ইচ্ছাকৃত গোলাগুলি শুরু করে। সেই ঘটনারই পাল্টা জবাব দিতে ক্রস বর্ডার রেড করল ভারত।
জইশ-ই-মোহাম্মদ কমান্ডার নিহত
এ দিকে ভারত অধিকৃত কাশ্মিরে ভারতীয় বাহিনী ও গেরিলাদের মধ্যে মঙ্গলবার এক ভয়াবহ বন্দুকযুদ্ধে জইশ-ই-মোহাম্মদ (জেইএম) শীর্ষ কমান্ডার নূর মোহাম্মদ তান্ত্রে নিহত হয়েছেন। ভারতীয় পুলিশ জানিয়েছে, কাশ্মিরের গ্রীষ্মকালীন রাজধানী শ্রীনগর থেকে ২৮ কিলোমিটার দক্ষিণে পুলওয়ামা জেলার শ্যামবুরা এলাকায় এই বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। জম্মু ও কাশ্মিরে পুলওয়ামা জেলার শ্যামবুরা এলাকায় একটি বাড়িতে জইশ-ই-মোহাম্মদের (জেইএম) দুই সদস্যকে ঘিরে ফেলে ভারতীয় পুলিশ। পুলিশের অভিযানে জেইএমের কমান্ডার নূর মোহাম্মদ তান্ত্রে নিহত হন। ২০১৫ সালে প্যারোলে মুক্তি পেয়ে ফেরার হন তিনি। এ বছরের প্রথম দিকে শ্রীনগর বিমানবন্দরে হামলার জন্য তাকে দায়ী করা হয়। পুলওয়ামা জেলার একজন ভারতীয় সিনিয়র পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘সেনা ও পুলিশের এ যৌথ বাহিনীর সাথে রাতভর বন্দুকযুদ্ধে জইশ-ই-মোহাম্মদের শীর্ষ কমান্ডার নিহত হন।’ ভারতীয় পুলিশের দাবি, নিহত তান্ত্রে ছিলেন সংগঠনটির আঞ্চলিক কমান্ডার।

বেনজির ভুট্টো হত্যাকাণ্ড যেভাবে চাপা পড়ে যায়

২০০৭ সালের ২৭শে জানুয়ারি ১৫ বছর বয়সী এক আত্নঘাতি বোমারুর হামলায় নিহত হন পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টো। যে কিশোর সে আত্নঘাতি হামলা চালিয়েছিল তার নাম বিলাল। রাওয়ালপিন্ডিতে এক নির্বাচনী জনসভা শেষ করে বেনজির ভুট্টো যখন তাঁর গাড়ির দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন সে সময় বিলাল তাকে গুলি করে এবং পরে আত্নঘাতি হামলা চালায়। পাকিস্তানী তালিবান সে হামলার নির্দেশ দিয়েছিল।
বেনজির ভুট্টোর বাবা জুলফিকার আলী ভুট্টো ছিলেন পাকিস্তানে গণতান্ত্রিক-ভাবে নির্বাচিত প্রথম প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু তিনিও অকালে রাজনীতি থেকে বিদায় নিয়েছিলেন। সামরিক শাসক জেনারেল জিয়াউল হক তাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়েছিল। জুলফিকার আলী ভুট্টোর মেয়ে বেনজির ভুট্টো ১৯৯০'র দশকে দুইবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছিলেন। কিন্তু সেনাবাহিনী তাকে স্বস্তিতে থাকতে দেয়নি। বেনজির ভুট্টোকে ক্ষমতা থেকে সরানোর জন্য তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আনা হয়েছিল। তাকে যখন হত্যা করা হয় তখন তিনি তৃতীয়বার প্রধানমন্ত্রী হবার দৌঁড়ে নেমেছিলেন বেনজির ভুট্টোর সে হত্যাকাণ্ড তাঁর সমর্থকদের মাঝে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে তারা রাস্তায় নেমে আসে। বেনজির ভুট্টোর হত্যাকাণ্ডের সময় পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ছিলেন জেনারেল পারভেজ মুশাররফ। হত্যাকাণ্ডের ১০ বছর পর মি: মুশাররফ বলছেন, সে ঘটনার সাথে পাকিস্তানের রাষ্ট্র-যন্ত্রের কোন অংশ জড়িত থাকতে পারে। তিনি মনে করেন, রাষ্ট্র-যন্ত্রের সে দুষ্টু অংশটি তালিবানের সাথে যোগাযোগ থাকতে পারে। পাকিস্তানের সাবেক একজন প্রেসিডেন্ট মুখ থেকে এ ধরনের কথা বেশ অবাক করার মতো। মি: মুশাররফকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল যে এ সম্পর্কে তাঁর কাছে কোন সুনির্দিষ্ট তথ্য আছে কি না?বাবে তিনি বলেন, " আমার কাছে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোন তথ্য নেই। কিন্তু আমরা ধারনা বিষয়টিতে আমার মূল্যায়ন সঠিক। একজন নারী, পশ্চিমের প্রতি যার ঝোঁক আছে, তাকে রাষ্ট্রের সে অংশটি সন্দেহের চোখে দেখে।" বেনজির ভুট্টো হত্যাকাণ্ডে পারভেজ মুশাররফকেও অভিযুক্ত করা হয়েছে। আইনজীবীরা বলছেন, ২০০৭ সালের ২৫ শে সেপ্টেম্বর তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জেনারেল পারভেজ মুশাররফ ওয়াশিংটনে অবস্থানরত বেনজির ভুট্টোকে টেলিফোন ফোন করেছিলেন। মিস ভুট্টো তখন স্বেচ্ছা নির্বাসনে। এর তিন সপ্তাহ পরে তিনি পাকিস্তানে ফিরে আসেন। টেলিফোনে পারভেজ মুশাররফ সাথে কথা বলার পর বেনজির ভুট্টো তাঁর সহযোগীদের বলেছিলেন, " সে আমাকে হুমকি দিয়েছে। সে আমাকে পাকিস্তানে যাবার বিষয়ে সতর্ক করে দিয়েছে।" বেনজির ভুট্টোর একজন ঘনিষ্ঠ সহযোগী মার্ক শেঘাল সম্প্রতি বলেছেন, জেনারেল মুশাররফ টেলিফোনে মিস ভুট্টোকে জানিয়েছিলেন যে তিনি পাকিস্তানে ফেরার পর যদি কিছু ঘটে তাহলে সেজন্য তাকে দায়ী করা যাবেনা। কিন্তু এ ধরনের বিষয় অস্বীকার করছেন পারভেজ মুশারফ। তিনি বলেন, বেনজির ভুট্টোকে তিনি কোন টেলিফোন করেন নি। সম্প্রতি বিবিসিকে মি: মুশারফ বলেন, " এ ধরনের কথায় আমার হাসি পায়। আমি কেন তাকে হত্যা করবো?" পারভেজ মুশাররফের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া আদালতে আটকে আছে কারণ তিনি স্বেচ্ছা নির্বাসনে দুবাইতে অবস্থান করছেন। বেনজির ভুট্টোর ছেলে এবং তাঁর রাজনৈতিক উত্তরাধিকার বিলাওয়াল ভুট্টো মি: মোশারফের বক্তব্যকে খারিজ করে দিয়েছেন। মুশারফের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া যখন আটকে আছে তখন বাকিদের এ মামলা থেকে খালাস দেয়া হয়েছে। বেনজির ভুট্টো হত্যাকাণ্ডের কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই পাঁচজন সন্দেহভাজন স্বীকারোক্তিতে বলেছিল, তারা আত্নঘাতি হামলাকারী বিলালকে সহায়তা করেছে। প্রথমে যে ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছিল তার নাম ছিল আইতজাজ শাহ। পাকিস্তানী তালেবান প্রথমে তাকে আত্নঘাতি বোমারু হিসবে বাচাই করেছিল। কিন্তু এনিয়ে তার অসন্তোষ থাকায় পরে তাকে রিজার্ভ হিসেবে রাখা হয়েছিল। আটককৃতদের মধ্যে আরো দুজন স্বীকার করেছিল যে তারা ঘটনার মধ্যম সারীর আয়োজক। তারা পুলিশের কাছে স্বীকার করেছিল যে হত্যাকাণ্ডের আগের রাতে তারা হামলাকারীকে তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছে। যদিও এসব স্বীকারোক্তি তারা পরবর্তীতে প্রত্যাহার করে নেয়। কিন্তু অভিযুক্তদের ফোনালাপ এবং ঘটনার আগে তাদের অবস্থান যাচাই করে দেখা যায় যে এ হত্যাকাণ্ডের সাথে তাদের সম্পৃক্ততা দেখা যায়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আদালতে এসব কিছু প্রমাণিত হয়নি।
বিচারক বলেছেন, যে প্রক্রিয়ায় তথ্য-প্রমাণ জোগাড় এবং উপস্থাপন করা হয়েছে তাতে অভিযুক্তদের তিনি খালাস দিতে বাধ্য হচ্ছেন।কিন্তু অভিযুক্তরা এখনও কারাগারে। কারণ আপীল এখনো নিষ্পত্তি হয়নি। বেনজির ভুট্টো ছিলেন মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোর প্রথম নারী সরকার প্রধান। পাকিস্তানের রাজনীতিতে তিনি ছিলেন বেশ প্রভাবশালী। মিস ভুট্টো প্রথমবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ১৯৮৮ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত এবং দ্বিতীয়বার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ১৯৯৩ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত। পাকিস্তানের পুরুষ শাসিত রাজনীতিতে তিনি নিজেকে একজন সফর নারী নেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। কিন্তু দ্বিতীয় দফায় ক্ষমতা থেকে বিদায় নেবার পর থেকে দুর্নীতি এবং অপশাসনের বিস্তর অভিযোগ উঠে তার বিরুদ্ধে। ১৯৯৯ সালে তিনি পাকিস্তান ছেড়ে যান এবং ২০০৭ সালের অক্টোবর মাসে আবার ফিরে আসেন। তিনি যখন দেশ ফিরে আসেন তখন তাকে সংবর্ধনার জন্য করাচীতে যে র‍্যালির আয়োজন করা হয়েছিল সেখানে সন্দেহভাজন জঙ্গিরা হামলা চালায়। সে ঘটনায় মিস ভুট্টো প্রাণে বেচে গেলেও অন্তত ১৫০জন নিহত হয়েছিল। বেনজির ভুট্টো হত্যাকাণ্ডে এখনো পর্যন্ত যে দু'জন ব্যক্তির সাজা হয়েছে তারা হচ্ছেন পুলিশ কর্মকর্তা। দায়িত্বে অবহেলার কারণে তাদের সাজা দিয়েছে আদালত। পাকিস্তানে অনেকে মনে করেন, তাদের প্রতি সুবিচার করা হয়নি। কারণ পুলিশ তাদের প্রতি নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করেছে। এ ঘটনার মাধ্যমে বোঝা যায়, পাকিস্তানে রাষ্ট্রের ভেতরে আরেকটি রাষ্ট্র বিদ্যমান। সাবেক এবং বর্তমান সামরিক কর্তাদের সমন্বয়ে এ নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছে যেটি বাইরে থেকে দৃশ্যমান নয়।