Tuesday, August 3, 2010

বাংলাদেশের শ্রমিক কি অদক্ষ by খোন্দকার সিদ্দিক-ই-রব্বানী

মাঝেমধ্যে বিভিন্ন মহল থেকে বলা হয় যে বাংলাদেশের শ্রমিকের উৎপাদনক্ষমতা পাশের অন্যান্য দেশ থেকে অনেক কম, যার ফলে এখানকার প্রকৃত শ্রমের মূল্য সস্তা নয়। বক্তব্যটি সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মনে হয়। একজন কৃষককে পাওয়ার টিলারের সাহায্যে জমি চাষ করতে দিয়ে তার ফলাফলকে কলের ট্রাক্টরের সাহায্যে কাজ করতে দেওয়া আরেকজনের ফলাফলের সঙ্গে তুলনা করে যদি বলা হয় যে, কৃষকের উৎপাদনক্ষমতা অনেক কম, তা যেমন অযৌক্তিক, এ বিষয়টিও তাই। পাওয়ার টিলার দিয়ে একজন কৃষকের কাজ একই রকম পাওয়ার টিলার দিয়ে আরেকজন কৃষকের কাজের সঙ্গে তুলনা করা যুক্তিযুক্ত, কলের ট্রাক্টরের সাহায্যে করা কৃষকের কাজের সঙ্গে নয়। কিছুদিন আগে এক গ্রন্থাগারে বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠান প্রাইসওয়াটারহাউস কুপারসের জরিপের ভিত্তিতে তৈরি একটি প্রতিবেদন দেখি। তাতে একেকটি শার্ট তৈরিতে বিভিন্ন দেশে যে পরিমাণ সময় লাগে এবং শ্রমমূল্য পড়ে তার একটি তুলনামূলক চিত্র হাজির করা হয়েছে। এ কাজে বাংলাদেশে সময় লাগে ৬১ মিনিট আর শ্রমমূল্য পড়ে ০.২৩ ডলার। অর্থাৎ, বাংলাদেশে ঘণ্টাপ্রতি শ্রমমূল্য দাঁড়ায় ০.২৩ ডলার। ভারতে সময় লাগে ৬৩ মিনিট এবং শ্রমমূল্য ০.৪৩ ডলার। অর্থাৎ, ভারতে ঘণ্টাপ্রতি শ্রমমূল্য পড়ে ০.৪১ ডলার। চীনে সময় লাগে ৬০ মিনিট এবং শ্রমমূল্য ০.৭৭ ডলার। অর্থাৎ, চীনে ঘণ্টাপ্রতি শ্রমমূল্য পড়ে ০.৭৭ ডলার। অন্যদিকে, ইতালিতে সময় লাগে মাত্র ৩৫ মিনিট কিন্তু শ্রমমূল্য পড়ে ৮.৫৯ ডলার। অর্থাৎ ইতালিতে ঘণ্টাপ্রতি শ্রমমূল্য দাঁড়ায় ১৪.৭১ ডলার। প্রতিবেদনটিতে জিনস তৈরিবিষয়ক তথ্যও সন্নিবেশিত করা হয়।
পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে, ভারতের শ্রমিকদের তুলনায় বাংলাদেশের শ্রমিকেরা কম সময়ে একেকটি শার্ট ও জিনসের ট্রাউজার তৈরি করে। চীনের তুলনায় তা প্রায় সমান। ইতালিতে অনেক কম সময় লাগার কারণ হচ্ছে উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার। উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়টি শ্রমিকের হাতে নয়, এটি উদ্যোক্তার হাতে। তার পরও শার্ট বা জিনসপ্রতি প্রকৃত শ্রমমূল্যের বিচারে বাংলাদেশেরটি সবচেয়ে কম। এ জন্যই শুনি যে, পোশাক আমদানিকারক দেশগুলো বাংলাদেশের পণ্যের ওপর বেশি হারে কর আরোপ করে থাকে, যেন তাদের বাজারে সবার একটি প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান থাকে। এই করের টাকা না হলে ধনী দেশগুলোর কোনো যায় আসে না, তাই তাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে আমাদের শ্রমিকের মূল্য কেন বাড়ানো যাবে না, তা আমার বোধগম্য নয়।
আমি একসময় নিজস্ব প্রযুক্তিতে একটি ক্ষুদ্র ইলেকট্রনিকস শিল্প গড়ে তুলেছিলাম। প্রতিটি প্রিন্টেড সার্কিট বোর্ডে (পিসিবি) প্রায় শতাধিক ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশ বসাতে হতো। এর অনেকগুলোই দেখতে একরকম, সেগুলোর ওপর দেওয়া বিভিন্ন রঙের কয়েকটি দাগ দেখে হিসাব করে আলাদা করতে হয়। একটির জায়গায় অন্যটি বসলে কাজ হবে না। কোনো কোনো যন্ত্রাংশের দুটি পা উল্টো করে লাগালে সার্কিটটি কাজ করবে না। যারা এ কাজগুলো করত, তারা বেশির ভাগই অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত পড়ে ট্রেড কোর্স পাস করা। তাদের আমি বলতাম, একটি তৈরি পিসিবি সামনে রেখে তারা যেন দেখে দেখে কাজ করে। কিন্তু কারখানায় গিয়ে দেখতাম যে তাদের কারও সামনেই দেখার জন্য তৈরি করা পিসিবি নেই। কিন্তু বকা দিতে পারতাম না এ কারণে যে, সারা বছরের উৎপাদনে তাদের ভুলের পরিমাণ ছিল শূন্য।
সৃষ্টিকর্তা আমাদের দেশের মানুষকে পৃথিবীর সেরা মনন ও মেধা দিয়ে তৈরি করেছেন। দরিদ্র দেশ হিসেবে আমাদের পরিচয় থাকার কথা নয়। আমাদের মূল দুর্বলতা হচ্ছে ব্যবস্থাপনায়, হোক সে ব্যবসায়ে কিংবা সরকারে। আর সরকারের সামগ্রিক ব্যবস্থাপনার একটি বড় ব্যর্থতা হচ্ছে আয়ের বিশাল বৈষম্যের সৃষ্টি। একই সমান সময় পরিশ্রম করে একজন আরেকজনের থেকে কয়েক শ গুণ, এমনকি হাজার গুণ বেশি আয় করছে একই দেশে বসে। এটি কোনোভাবেই কাম্য নয়। এতে বেশি আয়ের মানুষও যে ভালো থাকবে, তা কিন্তু নয়, যা কবিগুরু বলে গেছেন অনেক আগে, ‘যাদের করেছ অপমান, অপমানে হতে হবে তাদের সবার সমান।’ পাশ্চাত্যের ভুল পরামর্শে আমরা আয় ও জীবনধারণের বৈষম্য কেবল বাড়িয়েই চলেছি, এখনই তার লাগাম টেনে পেছন দিকে নিতে হবে, না হলে কেউই এ দেশে ভালো থাকতে পারব না।
ড. খোন্দকার সিদ্দিক-ই-রব্বানী: অধ্যাপক ও চেয়ারপারসন, বায়োমেডিকেল ফিজিকস অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

তাহলে তিনি কি প্রদেশের নেত্রী by সোহরাব হাসান

বিএনপির নতুন জাতীয় নির্বাহী কমিটির প্রথম বৈঠকে বেগম খালেদা জিয়া ১৮ মাস বয়সী মহাজোট সরকারের বিরুদ্ধে গণ-আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, সরকারের চতুর্মুখী ব্যর্থতার কারণে জনজীবনে যে নাভিশ্বাস উঠেছে, তাকে কাজে লাগাতে হবে। রোজার পর আন্দোলনের কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে বলেও আগাম ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপির নেত্রী। এর পাশাপাশি তিনি সরকারের পররাষ্ট্রনীতির সমালোচনা করে বলেছেন, ‘প্রতিবেশি দেশকে চট্টগ্রাম ও মংলাবন্দর ব্যবহার এবং ট্রানজিট দেওয়ার জন্য সরকার চুক্তি করেছে। এব বদলে আমরা পাইনি কিছুই।’ (নয়া দিগন্ত, ১ আগস্ট ২০১০) তাঁর এ বক্তব্যে দোষের কিছু নেই। সরকারের গৃহীত চুক্তি বা পদক্ষেপের সমালোচনা করার অধিকার তাঁর আছে।
গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় যেকোনো ব্যক্তি মতপ্রকাশ করতে পারেন। সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনেরও ডাক দিতে পারেন। কিন্তু একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশকে তিনি প্রদেশে পরিণত করতে পারেন না। অথচ খালেদা জিয়া সেই কাজটিই করেছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির বৈঠকে দেওয়া উদ্বোধনী ভাষণে। তিনি বলেছেন, ‘সরকারের নতজানু পররাষ্ট্রনীতির কারণে এ দেশ একটি অধীনস্থ প্রদেশে পরিণত হয়েছে।’ (নয়া দিগন্ত)
কোন দেশের অধীনস্থ হয়েছে, সেটি খালেদা জিয়া খোলসা না করলেও কী কারণে হয়েছে তা স্পষ্টই জানিয়ে দিয়েছেন—শেখ হাসিনা সরকারের নতজানুনীতির কারণে।
বিএনপির নেত্রী কি বুঝেশুনেই কথাটি বলেছেন? দেশ ‘অধীনস্থ প্রদেশ’ হলে তিনিও তো স্বাধীন দেশের সার্বভৌম সংসদের বিরোধী দলের নেত্রী থাকেন না। হয়ে যান অধীনস্থ প্রাদেশিক আইনসভার বিরোধী দলের নেত্রী। তাঁর পদমর্যাদাও স্বাধীন দেশের মন্ত্রীর নয়, প্রাদেশিক মন্ত্রীর। বেগম খালেদা জিয়া কি নিজেকে তা-ই মনে করেন? তিনি কি দেশের মানুষকে আহাম্মক ভাবেন? আবোল-তাবোল যা বলবেন, তারা সেটাই মুখ বুজে মেনে নেবে!
আমাদের মনে আছে, ১৯৯৭ সালে আওয়ামী লীগের সরকার যখন পার্বত্য চুক্তি সই করেছিল, তখন খালেদা জিয়া এর বিরোধিতা করতে গিয়ে বলেছিলেন, ‘এর ফলে বাংলাদেশের এক-দশমাংশ এলাকা বাংলাদেশের হাতছাড়া হয়ে যাবে। ফেনীর ওপারে ভারতীয় পতাকা উড়বে।’ পার্বত্য চুক্তির পর ১৩ বছর অতিবাহিত হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়নি। সেখানে ভারতীয় পতাকাও ওড়েনি। শান্তিচুক্তির পর খালেদা জিয়া পাঁচ বছর প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। তিনি চুক্তি বাতিল করেননি; বরং বাস্তবায়নের লক্ষ্যে লোক দেখানো হলেও একটি কমিটি গঠন করেছিলেন। তাঁর কাছে জানতে চাই, দেশের এক-দশমাংশ এলাকা হাতছাড়া করতেই কি তিনি কমিটি গঠন করেছিলেন? আমাদের নেতা-নেত্রীরা বিরোধী দলে থাকতে এক কথা বলেন, ক্ষমতায় গিয়ে উল্টো কাজ করেন।
প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হয়ে খালেদা জিয়া আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে বলেছিলেন, ‘তারা (আওয়ামী লীগ) ক্ষমতায় এলে মসজিদে আজান শোনা যাবে না, উলুধ্বনি শোনা যাবে।’ জনগণ তাঁর কথায় কান দেয়নি; তারা আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় এনেছিল এবং মসজিদে আজানও শোনা যাচ্ছে। আরেকবার ভারতকে হুঁশিয়ার করে দিয়ে বিএনপি নেত্রী বলেছিলেন, ‘বাংলাদেশ নেপাল ও ভুটান নয়, স্বাধীন দেশ। অতএব একে পদানত করার চেষ্টা করবেন না।’ নিজের দেশ নিয়ে গর্ব করার অধিকার সবারই আছে। দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের ওপর কেউ হস্তক্ষেপ করলে অবশ্যই আমরা তার সমুচিত জবাব দেব। কিন্তু নিজের দেশের মাহাত্ম্য প্রচার করতে গিয়ে অন্য দেশকে হেয় করার অধিকার কারও নেই। ওই সময় নেপাল ও ভুটান তাঁর বক্তব্যের প্রতিবাদও করেছিল।
আমাদের নেতা-নেত্রীরা কখন কী বলেন, তার ঠিক-ঠিকানা নেই। ক্ষমতা পেলে বিরোধীদের শায়েস্তা করতে তাঁদের হাত নিশপিশ করে। আর ক্ষমতা হারালে মুখ বেসামাল হয়ে যায়। তাঁরা যুক্তির ধার ধারেন না। বিএনপির নেতারা গরম বক্তৃতা দিয়ে দেশের মানুষকে ভারতের বিরুদ্ধে খেপিয়ে তুললেও তাঁদের আমলেই ভারতের জন্য বাংলাদেশের বাজার খুলে দেওয়া হয়। বিএনপির লোকজনও ভারতের সঙ্গে চুটিয়ে ব্যবসা-বাণিজ্য বেশি করছেন।
বিএনপির নেত্রী সরকারের কোন কোন চুক্তি দেশের স্বার্থ বিকিয়ে দিয়েছে তার একটি হিসাব দিতে পারতেন। সরকারের ভুল নীতির কুফল সম্পর্কে জনগণকে সজাগ করেও দিতে পারতেন। পারতেন সে সবের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলতে। কিন্তু একটি স্বাধীন দেশকে ‘অধীনস্থ প্রদেশ’ বানিয়ে ১৬ কোটি মানুষকে অপমান করতে পারেন না।
বিরোধীদলীয় নেত্রী যা বলেছেন, তা যদি সত্যি সত্যি তিনি বিশ্বাস করেন, তা হলে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে বসে তাঁর বক্তৃতা দেওয়ার কথা নয়। ‘দেশনেত্রী’ হিসেবে তাঁর প্রথম ও প্রধান কর্তব্য হচ্ছে ‘অধীনস্থ প্রদেশ’টিকে স্বাধীন করা। ১৯৭১ সালে জিয়াউর রহমান দেশের স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করেছিলেন। সে সময় খালেদা জিয়া যুদ্ধে যেতে পারেননি। এবারে সেই সুযোগ এসেছে। আর যদি তিনি যুদ্ধে যেতে রাজি না হন, তা হলে ভাবব এসব বুজরুকি, ধাপ্পাবাজি। জনগণকে বিভ্রান্ত করার অপকৌশল।
খালেদা জিয়ার মতো একজন নেত্রী, যিনি দু-দুবার দেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন এবং ভবিষ্যতেও হওয়ার আশা রাখেন, তাঁর কাছে দেশবাসী দায়িত্বশীল বক্তব্য ও আচরণই আশা করে।
শুনেছি, খালেদা জিয়া যেকোনো সভা-অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দেওয়ার আগে উপদেষ্টাদের ব্রিফ নেন। তাঁরা হয় পুরো বক্তৃতা লিখে দেন অথবা নোট দেন। পররাষ্ট্র বিষয়েও তাঁর একাধিক পরামর্শক আছেন। তাঁরা কি তাঁকে ঠিকমতো পরামর্শ দিয়েছেন? বুঝেশুনে দিয়েছেন? তাঁরা যে উপদেশ বা পরামর্শই দিন না কেন, বিপদে পড়লে দায় নেবেন না। নেত্রী হিসেবে জবাবদিহি করতে হবে খালেদা জিয়াকেই। অতএব কথাবার্তা ভেবেচিন্তেই বলা উচিত।
সোহরাব হাসান: কবি, সাংবাদিক।
sohrab03@dhaka.net

আফগানিস্তান থেকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে ওলন্দাজ সেনা

আফগানিস্তান থেকে ওলন্দাজ সেনা প্রত্যাহার করা হচ্ছে। গতকাল রোববার যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ার কাছে তাঁদের দায়িত্ব হস্তান্তর করার কথা। আফগান যুদ্ধে নেদারল্যান্ডের এক হাজার ৯৫০ জন সেনা চার বছর বেশ দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
ডাচ্ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল পিটার ভ্যান উম সেনা প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, উরুজগান প্রদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। তবে তিনি স্বীকার করেন, সেনা প্রত্যাহারের পর অনেক কিছু ঘটতে পারে।
ন্যাটো অবশ্য পরিস্থিতির তাৎপর্যপূর্ণ উন্নতির বিষয়টি নাকচ করেছে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, আফগানিস্তানে জোট বাহিনী এখন স্পর্শকাতর সময় পার করছে। তাদের মধ্যে হতাহতের সংখ্যা বাড়ছে। তাদের কৌশল নিয়েও রয়েছে সংশয়।

আমাকে হত্যায় সুইসাইড স্কোয়াড গঠন করা হয়েছে: মমতা

তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা ব্যানার্জি সিপিআইয়ের (এম) বিরুদ্ধে তাঁকে হত্যার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ করেছেন। এত দিন মমতা বলে আসছিলেন, দলটি টেলিফোনে আড়ি পেতে তাঁর ওপর নজরদারি চালাচ্ছে। এবার বললেন, আমাকে হত্যা করার জন্য সিপিএম সুইসাইড স্কোয়াড গঠন করেছে।
তাঁকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে না পেরে দলটি এই ষড়যন্ত্র করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘আমাকে হত্যার ষড়যন্ত্র চলছে।’
শনিবার বিকেলে তাঁর কালীঘাটের বাসভবনের পাশে দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রকাশ্যেই এই অভিযোগ তোলেন মমতা। বলেন, তাঁকে হত্যা করতে শাসক সিপিআইসহ আরও কয়েকটি দল ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। এই লক্ষ্যে তারা একটি আত্মঘাতী বাহিনী গঠন করেছে। শুধু তাই নয়, এই চক্রান্তে শামিল হয়েছেন সিপিএমের কয়েকজন মন্ত্রীও। মমতা বলেন, এই হিটলিস্টের তালিকায় তাঁর দলের যুবনেতা শুভেন্দু অধিকারীও রয়েছেন।
তৃণমূল নেত্রী আরও বলেন, এসব ষড়যন্ত্র করে তাঁর জঙ্গলমহলের লালগড় যাওয়া বন্ধ করা যাবে না। ৯ আগস্ট তিনি লালগড়ে সভা করবেনই। রাস্তা কেটে বা গাছ ফেলে আমার যাত্রা বন্ধ করতে পারবে না সিপিএম। মমতা বলেন, ‘আমার গতিবিধির ওপর নজর রেখে এখন ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করছে সিপিএম।’ তিনি বলেন, ‘এই ব্লু-প্রিন্ট তৈরির কাজে জড়িত আছেন সিপিএমের মন্ত্রীরাও।’ মমতা অভিযোগ করেন, ‘মাওবাদীদের নামে সিপিএম হত্যালীলা চালিয়ে যাচ্ছে জঙ্গলমহলে। হত্যার পর মৃতদেহের পাশে তারা নিজেরাই মাওবাদী পোস্টার লিখে তা ফেলে যাচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিকভাবে আমার সঙ্গে পেরে উঠতে না পেরে সিপিএম এখন আমাকে হত্যা করার ষড়যন্ত্রে মেতেছে। মরতে আমি ভয় পাই না। বহুবার আমাকে হত্যার চেষ্টা হয়েছে।’

পাকিস্তানে বন্যাদুর্গত এলাকায় খাদ্য ও পানীয়জলের তীব্র সংকট

পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায় গতকাল রোববার পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়ে গেছে। বন্যায় আটকা পড়েছে ২৭ হাজার লোক। উদ্ধারকারীরা তাদের উদ্ধারের জন্য প্রাণান্তকর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বন্যাকবলিত স্থানগুলোতে পানিবাহিত রোগ মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়েছে। খাদ্য ও খাওয়ার পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা জরুরি ভিত্তিতে সাহায্য পাঠানো শুরু করেছে।
বেসরকারি সাহায্য সংস্থা ইদি ফাউন্ডেশনের প্রধান মুজাহিদ খান জানিয়েছেন, বন্যায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে গতকাল পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়ে গেছে। এ প্রদেশের সোয়াত ও সাঙ্গালা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যায় এ দুই এলাকাতেই মারা গেছে ৪০০ জন। এখানে এক হাজার ৫০০ পর্যটক আটকা পড়েছেন।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতায় ৪৩টি সামরিক হেলিকপ্টার ও ১০০টি নৌযান নিয়োজিত করেছে। উদ্ধারকারীরা বন্যার পানিতে আটকে পড়া ২৭ হাজার ৭০০ জন লোককে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেওয়ার প্রাণান্তকর চেষ্টা করে যাচ্ছেন। সোয়াত ও সাঙ্গালায় এখনো ১১৫ জন নিখোঁজ রয়েছে। এ প্রদেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের মুখপাত্র লতিফুর রহমান জানিয়েছেন, বন্যার পানিতে গ্রামের পর গ্রাম তলিয়ে গেছে। হাজার হাজার ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। অনেক গবাদিপশু মারা গেছে। ফসলের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ব্যাপক। স্থানীয় একটি টেলিভিশনকে তিনি বলেন, সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার লোকজনকে উদ্ধার ও দুর্গতদের সহায়তায় সর্বাত্মক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে স্থানীয় লোকজন সরকারের উদ্ধার কার্যক্রমের সমালোচনা করেছে। চরসাদা এলাকার বাসিন্দা হাকিমুল্লাহ খান জানান, বন্যায় তাঁর স্ত্রী ও তিন সন্তান হারিয়ে গেছে। অথচ সরকারি লোকজন তাদের খুঁজে বের করতে কোনো সহযোগিতাই করছে না।
সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মেজর জেনারেল আতাহার আব্বাস জানিয়েছেন, উদ্ধারকাজে সাহায্য করার জন্য এ প্রদেশে ৩০ হাজার সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। গত শনিবার রাত পর্যন্ত পানিবন্দী ১৯ হাজার লোককে সরিয়ে নিয়েছে তারা।
বন্যার কারণে এ প্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় খাবার, ফলমূল ও শাকসবজির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। জ্বর, ডায়রিয়া, চর্মরোগসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।
বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা ত্রাণ তৎপরতা শুরু করেছে। যুক্তরাষ্ট্র দুর্গত এলাকায় তিন লাখ ৮০ হাজার খাবার প্যাকেট বিতরণ করেছে। ইসলামাবাদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস বন্যার পানিতে ভেসে যাওয়া ১২টি সেতু স্টিল দিয়ে তৈরি করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন দুর্গতদের জন্য তিন কোটি ৯০ লাখ মার্কিন ডলার সাহায্য দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
পাকিস্তানে নিয়োজিত জাতিসংঘ মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের প্রধান ম্যানুয়েল ব্যাসেলার জানিয়েছেন, তাঁদের হিসাব অনুসারে বন্যায় ১০ লাখ লোক সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে যোগাযোগব্যবস্থা ভেঙে পড়ার কারণে ক্ষয়ক্ষতির সঠিক হিসাব নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি। এমনকি সোয়াতের নওশেয়ারে অবস্থিত তাঁদের কার্যালয়ে পর্যন্ত যেতে পারছেন না তাঁরা।

গুচ্ছবোমা নিষিদ্ধের চুক্তি কার্যকর

ক্লাস্টার বা গুচ্ছবোমার উৎপাদন, বিক্রি ও ব্যবহার নিষিদ্ধ করার বৈশ্বিক চুক্তি গতকাল রোববার থেকে কার্যকর হয়েছে। ‘কনভেনশন অন ক্লাস্টার মিউনিশনস’ নামের ওই চুক্তি গতকাল আন্তর্জাতিক আইনে পরিণত হয়। ব্রিটেন, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, জার্মানিসহ মোট ১০৮টি দেশ প্রাথমিকভাবে এ আইনকে সমর্থন জানিয়েছে। এদের মধ্যে ৩৮টি দেশ এ আইন মেনে নেওয়ার বিষয়টি চূড়ান্তভাবে অনুমোদন করেছে। চুক্তি অনুযায়ী স্বাক্ষরকারী দেশগুলো নতুন করে গুচ্ছবোমা তৈরি করবে না এবং তাদের মজুদকৃত বোমাগুলো ধ্বংস করে ফেলবে।
তবে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়া ও ইসরায়েলের মতো ক্ষমতাধর ও বিপুল পরিমাণে গুচ্ছবোমা উৎপাদনকারী কিছু দেশ চুক্তিতে সই করতে রাজি হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যুদ্ধক্ষেত্রে এ বোমার ব্যবহারকে তারা অবৈধ বলে মনে করে না। তাদের অস্ত্রভান্ডারে বর্তমানে ৮০ কোটির বেশি গুচ্ছবোমা মজুদ রয়েছে।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো দীর্ঘদিন ধরে গুচ্ছবোমা নিষিদ্ধ করার জন্য প্রচারণা চালিয়ে আসছিল। সুশীল সমাজের প্রায় ২০০ সংগঠনের নেটওয়ার্ক ক্লাস্টার মিউনিশন কোয়ালিশনের প্রতিনিধি টমাস ন্যাশ এ নিষেধাজ্ঞাকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ১০ বছর আগে ভূমিমাইন নিষিদ্ধ হওয়ার পর এটাই সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ মানবাধিকার আইন।
গুচ্ছবোমা বিশেষ প্রক্রিয়ায় বানানো এক ভয়াবহ মারণাস্ত্র। অনেকগুলো অণুবোমা বা বোমব্লেটসমৃদ্ধ কনটেইনার বিমান থেকে ফেলে আকাশেই কনটেইনারে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। বোমব্লেটগুলোর প্রতিটিই একেকটি আলাদা বোমা। কনটেইনার থেকে বোমব্লেটগুলো বিশাল এলাকাজুড়ে মাটিতে ছড়িয়ে পড়ে। এগুলোর কিছু বিস্ফোরিত হয়। কিছু অবিস্ফোরিত হয়ে বছরের পর বছর ভূমিমাইনের মতো সক্রিয় হয়ে পড়ে থাকে।
মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলেছে, যুদ্ধের সময় এ বোমা ব্যবহার করা হলেও যুদ্ধ শেষে বহু বছর পর্যন্ত এর কারণে নিরীহ মানুষ মারা যায়।

কমনওয়েলথ গেমসকে ঘিরে আরও অনিয়মের অভিযোগ

ভারতে আসন্ন কমনওয়েলথ গেমসকে ঘিরে আরও একটি অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভারতীয় হাইকমিশন গত শনিবার লন্ডনে একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নতুন ওই অভিযোগের কথা প্রকাশ করেছে।
হাইকমিশন বলেছে, তারা কমনওয়েলথ গেমসের (সিজি) কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রে এএম ফিল্ম নামের প্রতিষ্ঠানটির জন্য কোনো সুপারিশ করেনি। এর আগে অরগানাইজিং কমিটির চেয়ারম্যান সুরেশ কলমাদি সিজির কাজ পেতে তাঁদের পক্ষে ভারতীয় হাইকমিশনের সুপারিশ আছে বলে দাবি করেছিলেন।
দিল্লিতে এক সংবাদ সম্মেলনে কমলাদির বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ভারতীয় হাইকমিশনের মুখপাত্র বলেন, হাইকমিশনের সুপারিশে গঠিত প্যানেলে এএম ফিল্মের নাম নেই।
ভারতে আসন্ন কমনওয়েলথ গেমসকে ঘিরে ব্যাপক অনিয়ম খুঁজে পাওয়ার কথা প্রকাশের এক দিন পর কমলাদি দাবি করেন, সিজির কাজ পাওয়ার জন্য ভারতীয় মিশন এএম ফিল্মের নাম সুপারিশ করেছে। এ কথা বলে তিনি কমিশনের এক সহকারী রাজু সেবাস্তিয়ানের পাঠানো একটি ই-মেইল বার্তা দেখান। এতে এএম ফিল্মের নামে সুপারিশ করা হয়েছে। জবাবে মুখপাত্র বলেন, রাজু অত্যন্ত জুনিয়র একজন কর্মী। এ কাজের দায়িত্ব তাঁকে দেওয়ার মতো অবস্থা এখনো হয়নি। তিনি বলেন, ‘আমরা ই-মেইল বার্তাটি পরীক্ষা করে দেখব।’
এএম ফিল্মকে যথাযথ টেন্ডার প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে এবং কোনো কাগজপত্র ছাড়াই অরগানাইজিং কমিটির (ওসি) মাধ্যমে সাড়ে চার লাখ পাউন্ড দেওয়া হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে কলমাদি এ কথা স্বীকারও করেছেন।

গাজায় ইসরায়েলি বিমান হামলা

ইসরায়েল গতকাল রোববার গাজার দক্ষিণাঞ্চলে দুটি সুড়ঙ্গের (টানেল) ওপর বিমান হামলা চালিয়েছে। ফিলিস্তিনি জঙ্গিদের রকেট হামলার জবাবে এই হামলা চালানো হয়েছে। এর আগে গত শনিবার রাতে ইসরায়েলের একটি শহরে গাজার জঙ্গিরা রকেট হামলা চালায়। এতে একটি বিশ্ববিদ্যালয় ভবনের ক্ষতি হলেও কেউ হতাহত হয়নি। এ হামলার জন্য ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু হামাসকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
ইসরায়েলের সেনাবাহিনীর একজন মুখপাত্র বিমান হামলার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ওই সুড়ঙ্গপথে হামাসের কাছে অস্ত্র পাচার করা হতো।
বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গত রোববার মন্ত্রিসভার বৈঠকে বলেন, ‘ইসরায়েলে রকেট হামলার জন্য হামাসই দায়ী। এ জন্য তেলআবিব তার জনগণকে রক্ষা করতে সর্বশক্তি প্রয়োগ অব্যাহত রাখবে।’ তবে ফিলিস্তিনি কোনো সংগঠন ইসরায়েলে হামলার দায়িত্ব স্বীকার করেনি।
গত শুক্রবার গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় হামাসের একজন কমান্ডার নিহত হন। এর আগে গাজার উত্তরে ইসরায়েলের ভূ-মধ্যসাগরীয় উপকূল আশকেলনে হামাস জঙ্গিরা রকেট হামলা চালায়। তবে ওই হামলায় কেউ হতাহত হয়নি।
শিমন পেরেজ মিসরে গেছেন : এদিকে ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট শিমন পেরেজ গতকাল সকালে মিসরের রাজধানী কায়রো গেছেন। সেখানে মিসরের প্রেসিডেন্ট হোসনি মুবারকের সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি-প্রক্রিয়া নিয়ে তিনি বৈঠক করবেন।
পেরেজের কার্যালয়ের একজন মুখপাত্র জানান, বৈঠকে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনি শান্তি-প্রক্রিয়ার অগ্রগতির বিষয়ে দুই নেতা আলোচনা করবেন। এ ছাড়া বিভিন্ন পর্যায়ে মিসর ও ইসরায়েলের পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়েও কথা বলবেন তাঁরা।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় পরোক্ষ শান্তি আলোচনার আবর্তে আটকে গেছে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন।

লেবাননের ঐক্য রক্ষার আহ্বান

লেবাননে উত্তেজনা নিরসনে দেশটির নেতাদের সঙ্গে বৈরুতে বৈঠক করেছেন সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ ও সৌদি আরবের বাদশাহ আবদুল্লাহ। গত বুধবার তাঁরা বৈরুতে যান।
লেবাননের সাবেক প্রধানমন্ত্রী রফিক আল-হারিরি হত্যাকাণ্ডের পর দেশটি থেকে সিরিয়া তাদের সেনা প্রত্যাহারে বাধ্য হওয়ার পর এটিই বৈরুতে আসাদের প্রথম সফর। হারিরি নিহত হন ২০০৫ সালে।
হারিরি হত্যাকাণ্ড নিয়ে জাতিসংঘ-তদন্তের অভিযোগপত্র শিগগির দেওয়া হবে। এর আগেই লেবাননে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। একই সঙ্গে আবার জাতিগত সংঘাত শুরু হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
লেবাননের প্রেসিডেন্ট মাইকেল সুলাইমান এবং প্রধানমন্ত্রী শাদ আল-হারিরি বৈরুত বিমানবন্দরে বাশার আল-আসাদ এবং বাদশাহ আবদুল্লাহকে স্বাগত জানান। এরপর তাঁরা প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে আলোচনায় বসেন।
আলোচনার পর প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, আলোচনায় দেশের স্থিতিশীলতার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। আবার যাতে সহিংসতা শুরু না হয় এবং দেশের স্বার্থকে সব ধরনের জাতিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে রাখার অঙ্গীকার করেছেন নেতারা।
আলোচনা শেষে প্রেসিডেন্ট আসাদ যখন প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ থেকে বের হচ্ছিলেন, তখন আলোচনার ফলাফল সম্পর্কে তাঁর কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, চমৎকার আলোচনা হয়েছে।
বৈরুতে নিযুক্ত আল-জাজিরা টেলিভিশনের সাংবাদিক রুলা আমিন বলেন, সিরিয়া এবং সৌদি নেতার এই সফর অনেকটাই প্রতীকী। দুই নেতার একসঙ্গে বৈরুতে আসায় তাঁরা অনুধাবন করতে পেরেছেন, লেবাননের জন্য সামনে খারাপ দিন আসছে।
বিভিন্ন খবর থেকে আগাম জানা যাচ্ছে, জাতিসংঘ তদন্তে হারিরি হত্যাকাণ্ডের জন্য হিজবুল্লাহর সদস্যদের অভিযুক্ত করা হচ্ছে। এ ধরনের খবরের পরিপ্রেক্ষিতে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন হিজবুল্লাহর নেতা হাসান নাসরাল্লাহ। শিয়াপন্থী সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহর সঙ্গে সিরিয়ার বেশ ভালো সম্পর্ক আছে।
নাসরাল্লাহর ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ার ফলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, লেবাননে আবার নতুন করে জাতিগত সংঘাত শুরু হয়ে যেতে পারে। দেশটিতে শিয়া হিজবুল্লাহ এবং হারিরির সুন্নিপন্থীদের মধ্যে সংঘাত দীর্ঘদিনের। ২০০৮ সালের মে মাসে দুই পক্ষের সহিংসতায় দেশটিতে প্রায় গৃহযুদ্ধ বেধে গিয়েছিল।

সাত ঘণ্টার বেশি বা কম ঘুম দুটোই ক্ষতিকর

যাঁরা ঈষৎ ঘুমসহ দিনে সাত ঘণ্টার বেশি বা কম ঘুমান তাঁদের হূদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। গতকাল রোববার প্রকাশিত একটি গবেষণা প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে।
ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাকাল্টি অব মেডিসিনের গবেষকেরা ওই প্রতিবেদনে বলেন, যাঁরা ঈষৎ ঘুমসহ দিনে পাঁচ ঘণ্টার কম
ঘুমান তাঁদের অ্যানজাইনা, করোনারি হূদরোগ, হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে যায়। স্লিপ ম্যাগাজিনে এই গবেষণা প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, দিনে সাত ঘণ্টার বেশি ঘুমের কারণেও হূদরোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়।
গবেষণায় দেখা গেছে, যাঁরা নয় ঘণ্টা কিংবা তার চেয়েও বেশি ঘুমান, তাঁদের হূদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি সাত ঘণ্টা ঘুমানোদের চেয়ে দেড় গুণ বেশি।
৬০ বছরের কম বয়সীদের মধ্যে যাঁরা রাতে পাঁচ ঘণ্টার কম ঘুমান তাঁরা সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ শ্রেণীতে রয়েছেন। যাঁরা সাত ঘণ্টা ঘুমান, তাঁদের চেয়ে এই শ্রেণীভুক্ত মানুষের হূদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি তিন গুণ বেশি।
নারীদের মধ্যে যাঁরা ঈষৎ ঘুমসহ পাঁচ ঘণ্টা বা তার চেয়েও কম ঘুমান, তাঁদের হূদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি আড়াই গুণ বেশি।
গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, বেশি কিংবা কম ঘুম উভয়ের সঙ্গেই হার্ট অ্যাটাক কিংবা স্ট্রোকের সম্পর্ক রয়েছে।

চেলসির জাঁকালো বিয়ে

কঠোর নিরাপত্তা আর গোপনীয়তার মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হলো চেলসি ক্লিনটন ও মার্ক মেজভিনস্কির বিয়ে। গত শনিবার সন্ধ্যায় নিউইয়র্ক শহরের বাইরে রাইনবেক গ্রামে জাঁকালো এ বিয়ের অনুষ্ঠান হয়। বহুল আলোচিত এ বিয়েতে ক্লিনটন দম্পতি ও নবদম্পতির বন্ধুবান্ধব ও তাঁদের কাছের মানুষজন উপস্থিত ছিলেন।
একমাত্র মেয়ের বিয়ে সম্পন্ন হওয়ার পর এক বিবৃতিতে ক্লিনটন দম্পতি বলেছেন, ‘পরিবারের সদস্য ও বন্ধুদের উপস্থিতিতে চমৎকার পরিবেশে চেলসি ও মেজভিনস্কির বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। আমরা খুবই গর্বিত ও আবেগাপ্লুত।’ তাঁরা আরও বলেন, ‘আমরা চেলসি ও মেজভিনস্কির সুখী ও সমৃদ্ধ দাম্পত্য জীবন কামনা করছি। মেজভিনস্কিকে আমাদের পরিবারে স্বাগত জানিয়ে আমরা আনন্দিত। নবদম্পতির সূচনা উদ্যাপনে আমরা এর চেয়ে বেশি আনন্দময় দিনের প্রত্যাশা করতে পারি না।’
বিবৃতিতে ক্লিনটন দম্পতি হাডসন নদী তীরের গ্রাম রাইনবেকের জনগণের উদ্দেশে বলেন, ‘আমাদের স্বাগত জানানোর জন্য এবং মঙ্গল কামনা করায় নবদম্পতির পক্ষ থেকে আমরা রাইনবেকের বাসিন্দাদের জানাই ধন্যবাদ।’
সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন ও বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনের মেয়ের এই বিয়ের অনুষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের মধ্যে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ম্যাডেলিন অলব্রাইট, জনপ্রিয় টেলিভিশন উপস্থাপিকা অপরাহ উইনফ্রে, হলিউড পরিচালক স্টিভেন স্পিলবার্গ, অভিনেতা টম হ্যাঙ্কস, কণ্ঠশিল্পী বারবারা স্ট্রেইস্যান্ড ও ফ্যাশন ডিজাইনার ভেরা ওয়াং উপস্থিত ছিলেন বলে খবর বেরিয়েছে। তবে এতে উপস্থিত ছিলেন না যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। মোট প্রায় ৫০০ নিমন্ত্রিত অতিথি বিয়েতে যোগ দেন।
বর মেজভিনস্কি ইহুদি ও কনে খ্রিষ্টান হওয়ায় বিয়েতে উভয় ধর্মেরই প্রথা অনুসরণ করা হয়। মন্ত্র পাঠের সময় উভয় ধর্মেরই পুরোহিত উপস্থিত ছিলেন।
বিয়ের মূল অনুষ্ঠানের সময় চেলসি পরেছিলেন ভেরা ওয়াংয়ের নকশা করা সাদা গাউন। আর মেজভিনস্কি কালো স্যুট। মন্ত্র পাঠের পর আংটি বিনিময় করে তাঁরা পবিত্র চুম্বন করেন। এ সময় ইহুদি ধর্মের প্রথা অনুযায়ী নবদম্পতিকে ‘ধর্মীয় বাণী’ পড়ে শোনানো হয়। মেজভিনস্কির বন্ধু ও পরিবারের সদস্যরা এ পাঠে যোগ দেন। এ ছাড়া নবদম্পতির ঘনিষ্ঠ বন্ধু লিও মার্কের লেখা ‘দ্য লাইফ দ্যাট আই হ্যাভ’ কবিতাটি আবৃত্তি করা হয়।
কড়া নিরাপত্তা আর গোপনীয়তার কারণে বিয়েতে কে কে গিয়েছিলেন, তা যেমন স্পষ্ট করে জানা যায়নি তেমনি অতিথিদের কী দিয়ে আপ্যায়ন করা হয়েছে, তাও জানা যায়নি। বিয়ের আগেই খাবার সরবরাহ থেকে শুরু করে অনুষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে গোপনীয়তা রক্ষায় শপথ নিতে হয়েছে। অতিথিদের মোবাইল ফোন ও ক্যামেরা ব্যবহার ছিল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
নিরাপত্তাব্যবস্থা এতটাই জোরদার ছিল যে দুই দিন আগে থেকেই অনুষ্ঠানস্থলের আশপাশে কাউকে ঘেঁষতে দেওয়া হয়নি। তার পরও শত শত সাংবাদিক ও উৎসুক লোকজন অনুষ্ঠানস্থলের বাইরে ভিড় করেন। তবে সেখানে কোনো গাড়ি ঢুকতে দেওয়া হয়নি। রাইনবেকের আকাশে বিমান ও হেলিকপ্টার চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়।
আলোচিত এ বিয়ে উপলক্ষে রাইনবেক সেজেছিল নতুন সাজে। পুরো গ্রাম হয়ে ওঠে চেলসিময়। দোকান, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বাড়িগুলো চেলসির ছবিসংবলিত পোস্টারে ছেয়ে যায়। কিছু কিছু পোস্টারে চেলসির পাশাপাশি মেজভিনস্কির ছবিও দেখা যায়। এসব পোস্টারে নবদম্পতিকে শুভকামনা জানানো হয়।
নিরাপত্তার কারণে ক্লিনটন পরিবারকে দেখতে না পেয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন অনেকে। তাঁদেরই একজন হলেন স্থানীয় বাসিন্দা অ্যানি ম্যাককনেল। ক্লিনটন পরিবারকে দেখার জন্য তাঁরা যে হোটেলে উঠেছেন, সেই হোটেলের পাশে ‘কায়দামতো’ জায়গায় অবস্থান নিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু তার পরও কাউকে দেখতে পারেননি।
হতাশ ম্যাককনেল বলেন, ‘টেলিভিশনে এই বিয়ের অনুষ্ঠান সরাসরি সম্প্রচার করা হচ্ছে না, এটা লজ্জার বিষয়। প্রিন্সেস ডায়ানার বিয়ে যেমন টেলিভিশনে সম্প্রচার করা হয়েছিল, তেমনি চেলসির বিয়েও সম্প্রচার করা উচিত ছিল।’
বিয়েতে সর্বমোট কত খরচ হয়েছে, তা জানা যায়নি। তবে অন্তত ৩০ লাখ মার্কিন ডলার খরচ হয়েছে বলে গণমাধ্যমে দাবি করা হচ্ছে।

সৌদি আরব ও আমিরাতে নিয়ন্ত্রিত হতে যাচ্ছে ব্ল্যাক বেরি প্রযুক্তি

ব্ল্যাক বেরি
তথ্য নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে ব্ল্যাক বেরি প্রযুক্তির কিছু ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হচ্ছে।
বিবিসি অনলাইন পরিবেশিত এক সংবাদে জানা গেছে, সৌদি আরব ব্ল্যাক বেরি থেকে ব্ল্যাক বেরিতে বার্তা প্রেরণ নিষিদ্ধ করছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত আরও এক ধাপ এগিয়ে নিষিদ্ধ করতে যাচ্ছে ব্ল্যাক বেরি হ্যান্ডসেটের মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহার, ই-মেইল বার্তা ও সংক্ষিপ্ত বার্তা প্রেরণ।
মধ্যপ্রাচ্যের এ দুটি দেশই জানিয়েছে, ব্ল্যাক বেরির মাধ্যমে প্রেরিত বার্তা, ই-মেইল ইত্যাদি মনিটর করার কোনো উপায় না থাকায় দেশ দুটির তথ্য নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ব্ল্যাক বেরি প্রযুক্তির মাধ্যমে অনেক অনভিপ্রেত বার্তা আদান-প্রদান হওয়ায় দেশ দুটি শেষ পর্যন্ত ব্ল্যাক বেরি প্রযুক্তির অনেক ব্যবহার বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে।
সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় টেলিযোগাযোগ সংস্থার একজন বোর্ড সদস্য আবদুল রাহমান মাজি সৌদি সরকারের ব্ল্যাব বেরি প্রযুক্তির ব্যবহার সীমিতকরণের এ সিদ্ধান্ত সম্পর্কে বলেছেন, তথ্য নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ায় সৌদি সরকার এ সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ সংস্থা জানিয়েছে, বিচারিক, সামাজিক ও জাতীয় নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে আমিরাত সরকার ব্ল্যাক বেরিকে নিয়ন্ত্রণ করতে যাচ্ছে।

শেয়ারবাজারে লেনদেন বাড়লেও সূচক কমেছে

ঢাকা শেয়ারবাজারে আজ সোমবার সাধারণ সূচক কিছুটা কমলেও লেনদেন বেড়েছে। বেলা তিনটার সময় লেনদেন শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত সাধারণ মূল্যসূচক ২ দশমিক ৩৩ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৪৩৯ পয়েন্টে। তবে আজ মোট লেনদেন হয়েছে এক হাজার ৬১৮ কোটি টাকার, যা আগের দিনের চেয়ে ১৮২ কোটি টাকা বেশি।
আজ শেয়ারবাজারে লেনদেন হওয়া বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বেড়েছে। মোট ২৫৪টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দাম বেড়েছে ১৩৬টি প্রতিষ্ঠানের, কমেছে ১১২টি প্রতিষ্ঠানের এবং অপরিবর্তিত রয়েছে মোট ছয়টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম।
লেনদেনে শীর্ষে থাকা পাঁচটি প্রতিষ্ঠান হলো বেক্সিমকো, বিএসআরএম স্টিলস, লঙ্কাবাংলা ফিন্যান্স, আফতাব অটোমোবাইলস ও পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্স সার্ভিসেস।
দাম বৃদ্ধিতে শীর্ষে থাকা পাঁচটি প্রতিষ্ঠান হলো মালেক স্পিনিং, স্টাইলক্রাফট, আরএন স্পিনিং মিলস, এইম ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড ও ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানি।
দাম কমে যাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে শীর্ষ পাঁচটি হলো যমুনা ব্যাংক, মুন্নু ফেব্রিকস, দেশ গার্মেন্টস, সোনালী আঁশ ও সিএমসি কমল।

দুই বছর সময় চাইলেন মরিনহো

শীর্ষ পর্যায়ের কোচ হিসেবে আট মৌসুম কাজ করেছেন। এই আট মৌসুমে লিগ শিরোপা জিতেছেন ছয়টি, একটি উয়েফা কাপ ও দুটি চ্যাম্পিয়নস লিগ। ২০০২ সালের পর থেকে প্রতিটি মৌসুম বা পঞ্জিকাবর্ষে অন্তত একটি শিরোপা জেতার কৃতিত্ব আছে তাঁর। হোসে মরিনহো মানেই যেন সাফল্যের নিশ্চয়তা। মরিনহো মানে যে ‘দ্য স্পেশাল ওয়ান’।
গুচ্ছের টাকা ঢেলে রিয়াল মাদ্রিদ যে এবার নিয়ে এল তাঁকে ইন্টার মিলান থেকে, সে তাঁর এমন শিরোপা-বিধৌত রেকর্ডের জন্যই। মরিনহো নিজেও সেটা ভালো করেই জানেন। প্রথম মৌসুম থেকেই চাপটা টের পেতে শুরুও করেছেন।
কথাবার্তায় সেটি স্পষ্ট। এই যেমন এই পর্তুগিজ কোচ এবার বলে বসলেন, এই মৌসুমে তাঁর দলের কাছ থেকে শিরোপার বন্যা আশা করা অন্যায়। ২০১২ মৌসুমের আগে রিয়াল নাকি তার সেরাটা খেলার জন্য প্রস্তুত হবে না।
‘খেলার ধরন আর দর্শন পুরোপুরি আত্মস্থ করে সঠিকভাবে কাজ করতে আসলে অন্তত দ্বিতীয় মৌসুম পর্যন্ত সময় লাগে। আমি সব সময়ই বলে এসেছে, আমার অধীনে কাজ করা দলগুলো তাদের খেলার শীর্ষে পৌঁছায় দ্বিতীয় মৌসুম থেকে’—বলেছেন ৪৭ বছর বয়সী পর্তুগিজ কোচ।
কথাটা শুনে রিয়াল সমর্থকদের হতাশ হওয়ারই কথা। বার্সেলোনাকে এবার পাল্টা জবাব দেওয়ার জন্য তৈরি হয়ে আছে সবাই। অথচ এর মধ্যে মরিনহো এসব কী বলছেন! না, একেবারেই হতাশ হবে না। কারণ প্রথম মৌসুমে মরিনহো একেবারে খালি হাতে ফেরাতেও চান না। শিরোপাহীন হয়ে থাকাটা যে সহ্যই হয় না তাঁর! ‘অবশ্য আমার অধীনে খেলা দলগুলো প্রথম মৌসুমেই কোনো না-কোনো শিরোপা জেতে। আশা করি, রিয়ালের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটবে’—বলেছেন তিনি।
শিরোপা জেতার জন্য রিয়াল আসলে বুভুক্ষুর মতো তাকিয়ে আছে তাঁর দিকে। বিশেষ করে চ্যাম্পিয়ন লিগ শিরোপা। ইউরোপ-সেরার এই ট্রফিটি রেকর্ড নয়বার জিতেছে রিয়াল। কিন্তু এর কোনোটাই ২০০১-০২ মৌসুমের পরে নয়। অন্যান্য শিরোপাও যে দুহাত ভরে পেয়েছে এমনও নয়। ২০০৩ সাল থেকে এই সাত বছরে সব মিলে পাঁচটি শিরোপা জিতেছে রিয়াল। তিনটি লিগ, দুটি সুপার কোপা ডি স্পানা। এর সঙ্গে চ্যাম্পিয়নস লিগে গত আট বছরে শিরোপা জিততে না পারার হতাশা তো আছেই।
রেকর্ড দামে কেনা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, কাকাসহ আরও অনেক প্রতিভাবান তারকা ফুটবলার তো আছেই, বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ইকার ক্যাসিয়াসই এবার তাদের নতুন অধিনায়ক। সাফল্য না আসাটা তো অবশ্যই হতাশার। তবে মরিনহো জানালেন, তিনি খেলোয়াড়ের নামের দিকে তাকান না। যুক্তরাষ্ট্রে পুরো দলকে নিয়ে প্রাক-মৌসুম সফর করে, একদম কাছে থেকে চেখে দেখার পর তাঁর উপলব্ধি, ‘এমন অনেক খেলোয়াড় এই দলে আছে যারা আমার প্রত্যাশার চেয়ে ভালো মানের। আবার কেউ কেউ আছে ঠিক এর উল্টো।’
তবে শেষ পর্যন্ত রিয়াল থেকেও সাফল্য নিয়েই ফিরবেন নিশ্চয়ই। না হলে তিনি মরিনহো কেন। কিন্তু এরপর তাঁর গন্তব্য কোথায়? ওয়েসলি স্নাইডারের ধারণা, মরিনহো ফিরবেন ইংল্যান্ডে। শুধু তা-ই নয়, ইংল্যান্ড দলের কোচ হওয়ার স্বপ্নও নাকি পুষে রেখেছেন তিনি!

শেবাগকে সরিয়ে শীর্ষে সাঙ্গাকারা

২১৯ ও অপরাজিত ৪২, এএসসি টেস্টের এই ব্যাটিং কুমার সাঙ্গাকারাকে তুলে এনেছে আইসিসি টেস্ট র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে। আগের র‌্যাঙ্কিংয়ে দুইয়ে থাকা শ্রীলঙ্কান অধিনায়ক শীর্ষে ওঠায় দুইয়ে নেমে গেছেন বীরেন্দর শেবাগ। এএসসি টেস্টে খুব একটা খারাপ করেননি ভারতীয় ওপেনারও, একমাত্র ইনিংসে করেছেন ৯৯। এই টেস্টেই ১৭৪ ও ৫ রান করা মাহেলা জয়াবর্ধনে জায়গা ধরে রেখেছেন তিনে। এসএসসির আরেক ডাবল সেঞ্চুরিয়ান শচীন টেন্ডুলকার এগিয়েছেন দুই ধাপ। ছয় থেকে এগিয়ে ‘লিটল মাস্টার’ এখন চারে।
বোলিংয়ের শীর্ষ চারে কোনো পরিবর্তন নেই। এক থেকে চারে আছেন ডেল স্টেইন, মোহাম্মদ আসিফ, মুত্তিয়া মুরালিধরন, গ্রায়েম সোয়ান। ট্রেন্টব্রিজে ১১ উইকেট নিয়ে চার ধাপ এগিয়ে পাঁচে উঠে এসেছেন জেমস অ্যান্ডারসন। ট্রেন্টব্রিজে ৪ উইকেট পাওয়া মোহাম্মদ আমির চার ধাপ এগিয়ে এখন ৩৪-এ। আর এই টেস্টেই ৩৩ ওভারে ১৭১ রান দিয়ে ১ উইকেট পাওয়া দানিশ কানেরিয়া ৬ ধাপ পিছিয়ে নেমে গেছেন ২১-এ। টেস্ট অলরাউন্ডারদের র‌্যাঙ্কিংয়ে কোনো পরিবর্তন নেই। শীর্ষ পাঁচে আগের মতোই আছেন জ্যাক ক্যালিস, ড্যানিয়েল ভেট্টোরি, সাকিব আল হাসান, গ্রায়েম সোয়ান ও ডোয়াইন ব্রাভো।

ফাস্ট বোলারদের নিয়ে চিন্তিত ওয়াকার

পাকিস্তানের পেস আক্রমণ যেন সোনার ডিমপাড়া হাঁস। একের পর এক ম্যাচে ভালো বোলিং করে যাচ্ছে, আর তাদের দিয়ে আরও বেশি বোলিং করানো হচ্ছে। বলার অপেক্ষা রাখে না, তাদের শরীরের ওপর দিয়ে ঝড়ও বয়ে যাচ্ছে। দলের ফাস্ট বোলারদের ওপর এই অত্যধিক চাপে চিন্তিত ওয়াকার ইউনুস। পাকিস্তান কোচের আশঙ্কা, বড় কোনো ইনজুরিতেই না আবার পড়ে যান আমির-গুল-আসিফরা!
ব্যাটসম্যানরা যতটা ব্যর্থ, ইংল্যান্ড সফরে ততটাই উজ্জ্বল পাকিস্তানের পেসাররা। মোহাম্মদ আমির, মোহাম্মদ আসিফ ও উমর গুল—পাকিস্তানের তিন পেসারই বোলিং করছেন সর্বস্ব উজাড় করে। সাফল্যও পাচ্ছেন নিয়মিত। সাফল্যের জন্যই তাঁদের ওপর পাকিস্তান অধিনায়কের নির্ভরতাও বেড়েছে। পরিস্থিতিটা আরও জটিল হয়েছে দানিশ কানেরিয়ার খারাপ ফর্মে। পেসারদের তাই নিতে হচ্ছে বাড়তি দায়িত্ব। নিজে ফাস্ট বোলার ছিলেন, ওয়াকারকে পুরো ক্যারিয়ারেই লড়াই করতে হয়েছে ইনজুরির সঙ্গে। উত্তরসূরিদের নিয়ে তাই চিন্তিত পাকিস্তান কোচ, ‘ওরা সত্যিই ভীষণ ক্লান্ত হয়ে পড়েছে। অস্ট্রেলিয়া সিরিজ থেকেই ফাস্ট বোলাররা খুব বেশি বোলিং করছে। আমরা চাই না এদের কেউ ইনজুরিতে পড়ুক, এই তিনজনই আমাদের জন্য দারুণ গুরুত্বপূর্ণ বোলার।’
১৮ বছর বয়সী আমিরকে এরই মধ্যে তিনটি ‘স্ট্রেস ফ্র্যাকচারের’ ধাক্কা সামলাতে হয়েছে। শরীররটা এখনো সেভাবে গড়ে ওঠেনি, কিন্তু এখনই দলের সেরা বোলার হয়ে ওঠায় ওভারের পর ওভার বোলিং করতে হচ্ছে আমিরকে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে লর্ডসে ৩৭.৫ ওভার ও হেডিংলিতে ৩৮ ওভার বোলিং করেছেন এই তরুণ, কাল শেষ হওয়া ট্রেন্টব্রিজে বোলিং করেছেন ৪০ ওভার। আসিফ ও গুল তুলনায় বেশ অভিজ্ঞ, কিন্তু ধকলটা কম যাচ্ছে না তাঁদের ওপর দিয়েও। লর্ডসে ৪০, হেডিংলিতে ৩৭.১ ও ট্রেন্টব্রিজে ৪৪ ওভার বোলিং করেছেন আসিফ, গুল করেছেন লর্ডসে ৩৮, হেডিংলিতে ২৪.৩, ট্রেন্টব্রিজে ৩৩.১ ওভার।
যাঁর সবচেয়ে বেশি বোলিং করার কথা, সেই কানেরিয়ার অবস্থা সবচেয়ে খারাপ। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুই টেস্টে বেশ রান দিলেও উইকেট পেয়েছিলেন ৭টি। কিন্তু ট্রেন্টব্রিজে পাকিস্তানের ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি উইকেটশিকারি স্পিনারকে রামধোলাইয়ের শিকার হতে হয়েছে ইংলিশদের কাছে। ৩৩ ওভার বোলিং করে মেডেন পাননি একটিও, এক উইকেট পেয়েছেন ১৭১ রান খরচায়। দলের সবচেয়ে অভিজ্ঞ বোলারকে নিয়ে সবচেয়ে বেশি হতাশ ওয়াকার, ‘কানেরিয়ার জন্য আমাদের ভুগতে হয়েছে। ওর আত্মবিশ্বাস চলে গেছে তলানিতে এবং ছন্দ ধরে রাখতেই লড়াই করতে হচ্ছে, আমাদের জন্য পরিস্থিতি এতে কঠিন হয়ে গেছে।

বড় নামের প্রয়োজন নেই ম্যানইউর!

গেল মৌসুমে শুধু লিগ কাপের ট্রফিটাই ঘরে তুলতে পেরেছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। তার পরও নিজেদের সামর্থ্যের প্রতি এতটুকু আস্থা হারায়নি ফার্গুসনের শিষ্যরা। দলের অভিজ্ঞ কান্ডারি রায়ান গিগস তো বলেই দিলেন, বড় নামের তারকার প্রয়োজন নেই তাদের।
প্রয়োজন যে নেই, সেটা এবারের দলবদলের বাজারের দিকে তাকালেই স্পষ্ট। খেলোয়াড় কেনাবেচা চলছে। কিন্তু ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড সেই কেনাবেচার বাজারে প্রায় নিশ্চুপ। নামডাক আছে, এমন তারকার দিকে ছোটেইনি। মৌসুমে মাত্র দুজন খেলোয়াড়ের সঙ্গেই নতুন করে গাঁটছড়া বেঁধেছে ইংলিশ ক্লাবটি, হাভিয়ের হার্নান্দেজ ও ক্রিস স্মালিং। ম্যানচেস্টার নগরেরই অন্য দল ম্যানচেস্টার সিটি দলবদলের বাজারে ছুটেছে টাকার বস্তা নিয়ে। ম্যানইউর সহ-অধিনায়ক গিগস বলছেন, এতে তাদের কোনো আগ্রহ নেই, ‘দলবদলের নির্ধারিত সময়ের আগে নামকরা কোনো খেলোয়াড়ের প্রয়োজন আমাদের নেই।’
বর্তমানের দল নিয়েই সন্তুষ্ট তিনি, ‘এই মুহূর্তে আমাদের অবস্থা ভালো। ভালো মানের খেলোয়াড়ই আছে আমাদের। চোট থেকেও ফিরছেন অনেকে।’ দলে যেমন তাঁর মতো অভিজ্ঞ খেলোয়াড় আছে, তেমনই তরুণ ফুটবলারেরও অভাব নেই। এমনই কিছু তরুণ খেলোয়াড়কে বিভিন্ন ক্লাবে ধারে খেলতে দিয়েছিল ম্যানইউ। ধারে বাইরে খেলতে যাওয়া এসব তরুণ আবার ম্যানইউতে ফিরতে শুরু করেছেন। গিগস দলের শক্তিবৃদ্ধির উৎস ভাবছেন এটাকেই, ‘আমাদের আরও কিছু খেলোয়াড় আছে, যাদের ধারে বাইরে খেলতে দেওয়া হয়েছিল। তারা ফিরলেই দল শক্তিশালী হবে।’

টেস্ট দলে ডাক পেলেন ইউসুফ

প্রথমে ‘আজীবন নিষিদ্ধ’, মুহূর্তেই সেটা সংশোধন করে মোহাম্মদ ইউসুফ ও ইউনুস খানকে অনির্দিষ্টকালের জন্য নিষিদ্ধ করে পাকিস্তান ক্রিকেট। পিসিবির সেই ‘অনির্দিষ্ট মেয়াদকাল’ মাত্র পাঁচ মাসেই শেষ! অন্তত মোহাম্মদ ইউসুফের ক্ষেত্রে ঘটনাটা তাই ঘটল। নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়ে ইংল্যান্ড সফরের জন্যই ইউসুফকে টেস্ট দলে অন্তর্ভুক্ত করেছে পিসিবি।
গতকাল ট্রেন্টব্রিজ টেস্টে লজ্জাজনক হারের পরই ইউসুফকে দলভুক্ত করেছে মহসীন খানের নির্বাচক কমিটি। মানে, সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে ৬ আগস্ট বার্মিংহামে শুরু হতে যাওয়া চার টেস্ট সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টেই খেলবেন ইউসুফ। ১২ বছরের ক্রিকেট ক্যারিয়ারে নাটক ইউসুফও কম করেননি।
এক যুগের ক্রিকেটার জীবনে ‘সাবেক’ বনেছেন অনেকবারই। তবে গত ২৯ মার্চ বিদায়ের সর্বশেষ ঘোষণাটি দিয়ে বলেছিলেন, আর কখনোই পাকিস্তান দলে ফিরবেন না তিনি। উপেক্ষা করেছিলেন তৎকালীন অধিনায়ক শহীদ আফ্রিদির অনুরোধ। সময়ের ব্যবধানে নিজের কথা গিলে সেই ইউসুফই আবার ফেরার ইঙ্গিত দিয়ে দিন কয়েক আগে জানিয়ে দেন, কারও অধীনেই খেলতে আপত্তি নেই তাঁর।
পাকিস্তান দলের নড়বড়ে ব্যাটিং লাইনআপ একটু শক্ত করতেই দলে ডাকা হয়েছে ইউসুফকে। ট্রেন্টব্রিজে শেষ সুযোগটিও কাজে লাগাতে না পেরে ইংল্যান্ড সফর থেকেই বাদ পড়েছেন স্পিনার দানিশ কানেরিয়া। তাঁর পরিবর্তে দলে ডাকা হয়েছে পাকিস্তান ‘এ’ দলে খেলা পাঞ্জাবের বাঁ-হাতি স্পিনার রাজা হাসানকে। প্রধান নির্বাচক মহসীন খান জানিয়েছেন, ইংল্যান্ড সফররত পাকিস্তান টিম ম্যানেজমেন্টের অনুরোধেই দলে ফিরিয়ে আনা হয়েছে ইউসুফকে।

লিভারপুল কিনতে চান চাইনিজ ব্যবসায়ী

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের অন্যতম সেরা ক্লাব লিভারপুল কেনার প্রস্তাব দিয়েছেন চিনের ব্যবসায়ী কেনি হুয়াং। বর্তমানে ক্লাবটি একটি ব্রিটিশ ব্যাংকের কাছে ৩৭৪ মিলিয়ন ডলার ঋণগ্রস্ত অবস্থায় আছে। এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি জানিয়েছেন, হুয়াং ক্লাবটি কেনার ব্যাপারে স্কটল্যান্ডের রয়্যাল ব্যাংকের সঙ্গে কথাবার্তা বলছেন। তবে হুয়াং এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেননি।
হুয়াং বর্তমানে চীনের বাস্কেটবল লিগ ও বেসবল লিগের সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
লিভারপুলের বর্তমান দুই আমেরিকান মালিক টম হিকস ও জর্জ গিলেট ২০০৭ সালে ৪৩১ মিলিয়ন ডলার দিয়ে ক্লাবটি কিনেছিলেন।
লিভারপুলের কোচ রয় হজসন যত দ্রুত সম্ভব এই অনিশ্চয়তা দূর করার জন্য ক্লাবের কর্তৃপক্ষকে তাগাদা দিয়েছেন।

চেলসি ছাড়তে চান কোল

বিশ্বকাপের পর থেকেই শোনা যাচ্ছে চেলসি ছেড়ে রিয়াল মাদ্রিদে পাড়ি জমাতে চলেছেন অ্যাশলি কোল। এই লেফটব্যাককে নিয়ে দুই ক্লাবের দুই কোচের বিতণ্ডাও হয়ে গেছে কয়েক দফা। ‘কোলকে কোনোভাবেই ছাড়ছি না’ দিনকয়েক আগে চেলসি কোচ কার্লো আনচেলত্তি এটা বলে দেওয়ার পর আপাতত গুঞ্জন থেমেছিল। কিন্তু এবার কোল নিজেই জানালেন, চেলসি ছাড়তে চান তিনি। গত সপ্তাহে চেলসির অনুশীলনে আনচেলত্তির সঙ্গে নাকি মিনিট বিশেক কথা হয়েছে কোলের। ২৯ বছর বয়সী ডিফেন্ডার কোচকে জানিয়েছেন, শুধু নিজের ক্যারিয়ারটাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য নয়, ব্যক্তিগত কারণেও ইংল্যান্ড ছাড়তে চান তিনি। সম্প্রতি স্ত্রী শেরিলের সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হয়ে গেছে তাঁর, স্মৃতি ভোলার জন্য হলেও পাড়ি জমাতে চান স্পেনে।

নতুন চেহারার ইতালি দল

বিশ্বকাপে চরম ব্যর্থতার পর ইতালি দলের খোলনলচে পাল্টে যাওয়াটা অনুমিতই ছিল। ইতালির পত্রিকা লা গেজেত্তা দেল্লো স্পোর্ত-এর যা খবর, তাতে হতে যাচ্ছে সে রকমই। নতুন কোচ সিজার প্রাণদেল্লির ঘোষিত প্রথম দলে থাকবে নতুন মুখের ভিড়। বিশ্বকাপ দলে না থাকা আন্তোনিও কাসানো, মারিও বালোতেল্লি, থিয়াগো মোত্তা, ক্রিশ্চিয়ান লেডসেমারা থাকছেন এই দলে। জায়গা হারাচ্ছেন আন্তোনিও ডি নাতালে ও ভিনসেঞ্জো ইকুইন্তা। বিশ্বকাপের সময় পাওয়া চোটটা জিয়ানলুইজি বুফনকে আরও কিছুদিন মাঠের বাইরে রাখবে। দলে যে চার গোলরক্ষককে রাখছেন প্রাণদেল্লি, তাঁদের কারও আন্তর্জাতিক ম্যাচে অভিষেকও হয়নি। ওই পত্রিকাটিরই খবর, ইতালি পা বাড়াচ্ছে জার্মানির পথে। দলে দেখা যেতে পারে অন্য দেশে জন্ম নেওয়া ইতালিয়ানদের।

যুব মহিলা বিশ্বকাপ জার্মানির

আসল বিশ্বকাপে তারা অনেক কাছাকাছি গিয়েও পারেনি। কিন্তু মেয়েদের অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবল বিশ্বকাপ ঠিকই জিতে নিল জার্মানি। কাল নাইজেরিয়াকে নিজেদের মাঠে টুর্নামেন্টের ফাইনালে ২-০ গোলে হারিয়েছে জার্মানির মেয়েরা। এই প্রথম টুর্নামেন্টের স্বাগতিকেরাই জিতল শিরোপা।
৮ মিনিটে জার্মানির প্রথম গোলটি করেন আলেক্সান্ড্রা পপ। টুর্নামেন্টে নিজের দশম গোলটি করে সর্বোচ্চ গোলদাতাও হয়েছেন এই উইঙ্গার। গোল্ডেন বুটের পাশাপাশি সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার গোল্ডেন বলও জিতেছেন। ২০০২ সালে চালু হওয়া দ্বিবার্ষিক এই টুর্নামেন্ট জার্মানি প্রথম জিতেছিল ২০০৪-এ। এটি তাদের দ্বিতীয় শিরোপা।

সবচেয়ে ছোট ইনিংস, সবচেয়ে বড় হার

বড় জয় নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল তৃতীয় দিন বিকেলেই। কিন্তু সেটা এত বড় হবে, তা হয়তো ইংল্যান্ডও ভাবেনি। কাল দিনের প্রথম আধঘণ্টায় কোনো উইকেটই নিতে পারেনি ইংল্যান্ড। কিন্তু পরের ঘণ্টাখানেকের মধ্যে ৭ উইকেট তুলে নিয়ে লাঞ্চের আগেই পাকিস্তানকে গুটিয়ে দিল তারা ৮০ রানে। জিতল ৩৫৪ রানে। অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে উড়তে থাকা পাকিস্তান এক ধাক্কায় নেমে এল মাটিতে, হারল বেশ কিছু রেকর্ড গড়ে।
এই ৮০ রানের ইনিংসটি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পাকিস্তানের সবচেয়ে ছোট ইনিংস। ৫৬ বছর আগে লর্ডসে করা ৮৭ রানই এত দিন ছিল সর্বনিম্ন। ৩৫৪ রানের পরাজয় রানের হিসেবে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় পরাজয়, সব দেশ মিলিয়ে এই পরাজয় দ্বিতীয় বৃহত্তম। এই জয় আবার ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় বৃহত্তম। ১৯২৮ সালে ব্রিসবেনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৬৭৫ রানের জয়টি শুধু ইংল্যান্ডের নয়, টেস্ট ইতিহাসেই রানের হিসেবে সবচেয়ে বড় জয়।
প্রথম ইনিংসের মতো দ্বিতীয় ইনিংসেও পাকিস্তানের মূল হন্তারক জেমস অ্যান্ডারসন। অতীতে ইংলিশ কন্ডিশনে সুইং বোলিংয়ের বিপক্ষে ভুগেছেন পাকিস্তানের অনেক বিখ্যাত ব্যাটসম্যান। সেখানে এই দলের ব্যাটিং লাইনআপ অনভিজ্ঞ সব নাম দিয়ে সাজানো। সহায়ক কন্ডিশনে সুইং বোলিংয়ের এক অপূর্ব প্রদর্শনীতে ৪৯তম টেস্টে এসে ক্যারিয়ারে প্রথম ১০ উইকেটের দেখা পেয়ে গেলেন অ্যান্ডারসন। আরও একবার পাকিস্তানি ব্যাটসম্যানদের টেকনিকের দৈন্য দেখিয়ে দিয়েছেন চোখে আঙুল দিয়ে।
কাল প্রথম ৭ ওভার কাটিয়ে দিতে পেরেছিলেন আগের দিনের দুই অপরাজিত ব্যাটসম্যান ইমরান ফারহাত ও মোহাম্মদ আমির। অ্যান্ডারসনের সাপের মতো ছোবল দেওয়া এক বলে ফারহাতের আউটে বিপর্যয়ের শুরু, ৩ উইকেটে ৩১ থেকে মুহূর্তেই পাকিস্তান পরিণত হয় ৭ উইকেটে ৪১। পরপর দুটি চার দিয়ে শুরু করলেও গুল পারেননি প্রথম ইনিংসের পুনরাবৃত্তি করতে। দশে নামা কানেরিয়ার অপরাজিত ১৬ পাকিস্তানকে বাঁচিয়েছে সবচেয়ে কম রানে অলআউট হওয়ার লজ্জা থেকে। কানেরিয়া ছাড়া দুই অঙ্ক ছুঁতে পেরেছেন আর কেবল ফারহাত।
খেলা ছাড়ার পর থেকেই ধারাভাষ্য কক্ষে বসে পাকিস্তানের প্রায় সব খেলা দেখেছেন রমিজ রাজা। কালকের ব্যাটিং দেখার পর সাবেক পাকিস্তান অধিনায়ক ও ওপেনারের উপলব্ধি, ‘জঘন্য ব্যাটিং। এই ব্যাটিং পাকিস্তানের হূদয়ে ক্ষতের সৃষ্টি করবে।’ ক্ষত সারানোয় সালমান বাটের ভরসা সর্বশেষ সিরিজের ইতিহাস, ‘অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম টেস্টেও অনেকটা এমনভাবে হেরেছিলাম। কিন্তু ভুলে যাবেন না, পরের টেস্টটাই আবার জিতেছিলাম।’ তবে এবার যে বাটদের কাজটা সহজ হবে না, তা জানিয়ে দিয়েছেন স্ট্রাউস, ‘বড় জয়ে আমরা সন্তুষ্ট। তবে ভালোভাবেই জানা আছে চার ম্যাচ সিরিজের এটি মাত্র প্রথম ম্যাচ।’ দ্বিতীয় টেস্ট শুরু আগামী শুক্রবার, এজবাস্টনে।