Wednesday, April 30, 2014

পথ ভাবে ‘আমি দেব’, রথ ভাবে ‘আমি’ by আলী ইমাম মজুমদার

রবীন্দ্রনাথ আমাদের সত্তায় এমনভাবে বিরাজমান যে এ থেকে বের হয়ে আসা কঠিন। তিনি রয়েছেন আমাদের আনন্দ, বেদনা, মিলন, বিরহ আর সংকটে। তাঁর বাণী আমাদের ভাবনাকে করে জাগ্রত। শাণিত হয় ভাষা। আর এরই জন্য বারবার আমরা ছুটে যাই রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টির কাছে। তাঁর একটি ছোট্ট কবিতা ‘ভক্তিভাজন’। এ কবিতা থেকেই শিরোনামটির উদ্ধৃতি। প্রসঙ্গ পরে আলোচনায় আসবে।

তাজউদ্দীন কন্যার চোখে তখন জল

মেয়ে হিসেবে বাবা সম্পর্কে লেখা ভীষণ কষ্টের। বিশেষ করে যে বাবাকে হারাতে হয়েছে আমার কৈশোর ও যৌবনের সন্ধিক্ষণে। ফলে ভাবাবেগ তো চলেই আসবে। তার মধ্যেও আমি ইতিহাসকে উপস্থাপনা করার প্রয়াস নিয়েছি। সেখানে ঐতিহাসিক তথ্যে আমি যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি একনিবিষ্ট হতে। পয়েন্ট অব রেফারেন্স টানতে। ভুলত্রুটি হতেই পারে কিন্তু আমি আমার সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি।

পথ ভাবে ‘আমি দেব’, রথ ভাবে ‘আমি’

শুকিয়ে যাচ্ছে তিস্তা সেচ প্রকল্প
রবীন্দ্রনাথ আমাদের সত্তায় এমনভাবে বিরাজমান যে এ থেকে বের হয়ে আসা কঠিন। তিনি রয়েছেন আমাদের আনন্দ, বেদনা, মিলন, বিরহ আর সংকটে। তাঁর বাণী আমাদের ভাবনাকে করে জাগ্রত। শাণিত হয় ভাষা। আর এরই জন্য বারবার আমরা ছুটে যাই রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টির কাছে। তাঁর একটি ছোট্ট কবিতা ‘ভক্তিভাজন’। এ কবিতা থেকেই শিরোনামটির উদ্ধৃতি। প্রসঙ্গ পরে আলোচনায় আসবে। এ নিবন্ধে মূল আলোচ্য বিষয় তিস্তা। নদীটি দেশের উত্তরাঞ্চলের বাঁকে বাঁকে চললেও ছোট নয় মোটেই। আর বৈশাখ মাসে এতে হাঁটুজল থাকত না। পার হতে পারত না গরু আর গাড়ি। খরায় কিছুটা ক্ষীণস্রোতা হলেও প্রমত্তা ছিল এ নদী। হিমালয়ের একটি হিমবাহ এর উৎস। উৎসের ঠিকানা ভারতের সিকিম রাজ্য। সে রাজ্য ও পার্শ্ববর্তী পশ্চিমবঙ্গ পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। ৩০০ কিলোমিটারের অধিক দৈর্ঘ্যের এ নদীটি সব অর্থেই আন্তর্জাতিক। বাংলাদেশে বৃহত্তর রংপুর, দিনাজপুর আর বগুড়া জেলার প্রায় আড়াই কোটি লোক এর ওপর নির্ভরশীল। দীর্ঘ পথযাত্রা শেষ করে ব্রহ্মপুত্রের সঙ্গে মিলিত হয়েছে চিলমারী বন্দরের কাছে। এ নদীটিকে কেন্দ্র করে উত্তরাঞ্চলে গড়ে তোলা হয়েছিল একটি সুন্দর সেচব্যবস্থা। গত বছর সেচ দেওয়া হয়েছিল ৭০ হাজার হেক্টর জমিতে। আর এবার ২৫ হাজার হেক্টরে থেমে গেছে সেচের আওতাধীন জমির পরিমাণ। অবশ্য সীমান্তের ওপারে পশ্চিমবঙ্গের গজলডোবায় বাঁধ দিয়ে অনুরূপ আরেকটি সেচ প্রকল্প রয়েছে। জানা যায়, সিকিমে নির্মিত হয়েছে একাধিক জলবিদ্যুৎকেন্দ্র।
কিন্তু দুটো দেশ কী পরিমাণ পানি ব্যবহার করতে পারবে, তা নিয়ে কোনো চুক্তি হয়নি এখন পর্যন্ত। ফলে উজানের দেশ ইচ্ছেমতো পানি প্রত্যাহারের সুযোগ পাচ্ছে। বঞ্চিত হচ্ছে ভাটির দেশ বাংলাদেশ। আর সে বঞ্চনা উত্তরোত্তর বেড়েই চলছে। সমস্যা সমাধানের চেষ্টা মাঝেমধ্যে লক্ষণীয় হলেও তা তিমিরে মিলিয়ে যাচ্ছে। আওয়ামী লীগ সরকার ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে ভারতের সঙ্গে অল্প সময়ের মধ্যে ৩০ বছর মেয়াদি গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি করতে সক্ষম হয়। সেবার তিস্তা নিয়ে কোনো চুক্তি করা সম্ভব হয়নি। এর আগে ও পরের সরকারগুলোর এ বিষয়ে প্রচেষ্টাও সফল হয়নি। ২০০৯ সালে বর্তমান সরকার আবার ক্ষমতায় এলে জনগণ বিশ্বাস করতে থাকে যে তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি হবে। বিশ্বাস যৌক্তিক ছিল। এ সরকার ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোর নিরাপত্তা বিধানে ভারত সরকারকে সার্বিক নৈতিক ও বৈষয়িক সহায়তা দিয়ে চলেছে। ক্ষেত্রবিশেষে তাদের পণ্য আনা-নেওয়া করতে বাংলাদেশের স্থল ও নৌপথ ব্যবহার করতে দেওয়া হচ্ছে উদারভাবে। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি করতে সদিচ্ছা নিয়ে এগিয়ে এলেও এখন পর্যন্ত সফল হতে পারেনি। এর কারণও সবারই জানা। ২০১১ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ সফরকালে তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি হতে গিয়েও হয়নি। প্রস্তাবিত চুক্তি আপাতত হিমাগারে। চলমান লোকসভা নির্বাচনের পর নতুন সরকার

মোদি-হাওয়া কি বাংলাদেশেও ঝড় তুলবে?

জরিপ বলছে, ভারতের লোকসভা নির্বাচনে এবার বিজেপি জোট একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে। অবশ্য বিশেষ পরিস্থিতির উদ্ভব ঘটলে কংগ্রেসের পক্ষে কোয়ালিশন সরকার গঠনের সম্ভাবনার কথাও কেউ কেউ বলছেন। তবে বিজেপির দিকেই পাল্লা ভারী। বলা হয়, ভারতে এখন ‘মোদি-হাওয়া’ চলছে। এটা উদ্বেগের, কারণ বিজেপির গায়ে একটা কালো দাগ আছে। তারা, এককথায় একটি সাম্প্রদায়িক দল। ‘পুশব্যাকের’ কথা তারা বেশ জোরেশোরেই বলছে। উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা তাদের ঘনিষ্ঠ মিত্র। আর তাদের প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী নরেন্দ্র মোদি নিজের রাজ্য গুজরাটে চরম সাম্প্রদায়িক তৎপরতায় মূল ইন্ধনদাতারূপে চিহ্নিত। এখন প্রশ্ন হলো, ভারতের মতো অসাম্প্রদায়িক একটি দেশে যদি মোদি-হাওয়া স্থান করে নেয়, তাহলে কি তার ধাক্কা বাংলাদেশেও পড়তে পারে? যদিও আমাদের দেশে নির্বাচন একটা হয়ে গেছে এবং যেহেতু সেই নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে, তাই বলা যায়, সামনে আবার নির্বাচনের সম্ভাবনা রয়েছে। সে ক্ষেত্রে আমাদের দেশেও কি মোদি-হাওয়ার মতো ভবিষ্যতে ‘জামায়াতি-হাওয়া’ উঠতে পারে? এককথায় এর উত্তর হলো, না। ভারত ও বাংলাদেশের পরিস্থিতি এক নয়। এ বিষয়ে একটু পরেই আসছি।
ভারতে মোদির প্রতি ঝোঁক ক্রমেই বাড়ছে। এটা বোঝা যায়, যখন দেখি ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের সৎভাই দলজিৎ সিং কোহলিও মোদির হাত ধরে দাঁড়িয়ে গেছেন। গত শুক্রবার অমৃতসরে তিনি নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে এক মঞ্চে দাঁড়িয়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়ায় কংগ্রেস ভেতর থেকে বড় রকমের ধাক্কা খেয়েছে। এর আগের দিন আসামে ভোট দেওয়ার পর মনমোহন সিং বলেছিলেন, ‘মোদি-হওয়া’ বলে কিছু নেই, এটা গণমাধ্যমের সৃষ্টি। ভাইয়ের দলত্যাগে তিনি ব্যথিত হয়েছেন। কিন্তু দলজিৎ বলছেন, কংগ্রেস তাঁর ভাই মনমোহন সিংয়ের সঙ্গে যে ‘আচরণ’ করেছে, তাতে বিরক্ত হয়ে তিনি বিজেপিতে গেছেন। তবে দলজিৎ মুখে যা-ই বলুন, আদর্শিক কারণেই তিনি বিজেপিতে গেছেন। তিনি বিজেপির নেতা অনুপ জেটলির দর্শন পছন্দ করেন। এই আদর্শগত বিশ্বাস তাঁকে টেনে নিয়ে গেছে মোদির পাশে। কংগ্রেসের অসাম্প্রদায়িক ও ধর্মনিরপেক্ষ আদর্শ ছেড়ে তিনি একটি সাম্প্রদায়িক শিবিরে যোগ দিয়েছেন। গণতন্ত্রমনা যে কেউ এতে দুশ্চিন্তায় পড়বেন। মোদির মুখ্যমন্ত্রিত্বকালে ২০০২ সালে গুজরাটে সাম্প্রদায়িক হানাহানিতে এক হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়। তাদের বেশির ভাগই মুসলিম। যদিও আদালতে তিনি সুনির্দিষ্টভাবে দোষী সাব্যস্ত হননি, কিন্তু মানুষের ধারণায় সব দায় তাঁর ওপরই বর্তায়। আরএসএসের সদস্য থাকার সময় থেকে মোদির খুব কাছের বন্ধু, গুজরাটের সাবেক মন্ত্রী অমিত শাহ সপ্তাহ দুয়েক আগে উত্তর প্রদেশের পশ্চিমাংশে মোজাফফরনগরে নির্বাচনী জনসভায় হিন্দুদের ‘প্রতিশোধ’ গ্রহণের জন্য ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
গত বছরের সেপ্টেম্বরে সেখানে হিন্দু-মুসলিম রায়টে ৪০ জনের প্রাণহানির ঘটনার প্রতি প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত দিয়ে তিনি এভাবে উসকানি দেন। এ জন্য অবশ্য নির্বাচন কমিশন তাঁর প্রকাশ্য নির্বাচনী প্রচার পরিচালনার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। মোদির নির্বাচনী প্রচারের সাম্প্রদায়িক দিকটি প্রকটভাবেই সবার চোখে পড়ে। অসাম্প্রদায়িক ও ধর্মনিরপেক্ষ ভারতে মোদি-ঝড় উঠল কেন? হয়তো ১০ বছর ধরে কংগ্রেস ক্ষমতায়, তাই তাদের ভুলত্রুটি, ব্যর্থতায় বিরক্ত হয়ে ভোটাররা বিরোধীদের দিকে ঝুঁকছেন। সেটা একটা ব্যাখ্যা হতে পারে। কিন্তু ১৯৪৭ সালে ভারতের স্বাধীনতার পর ৬৭ বছরের মধ্যে অধিকাংশ সময়ই কংগ্রেস ক্ষমতায় ছিল। তাহলে আজ কেন সেখানে সাম্প্রদায়িক শক্তি মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে? বিজেপি আগেও পাঁচ বছর ক্ষমতায় ছিল। কিন্তু তখন নেতৃত্বে ছিলেন বাজপেয়ি, এল কে আদভানি প্রমুখ। তাঁরা বিজেপির মধ্যে অনেকটা উদারপন্থী ছিলেন। আর আজ নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে বিজেপি সম্পূর্ণ ভিন্ন চেহারায় এসেছে। কংগ্রেস সরকারের কিছু বড় ব্যর্থতা মোদির উত্থানের সুযোগ করে দিয়েছে। ভারতের ভোটাররা দক্ষ অর্থনীতিবিদ মনমোহন সিংয়ের ওপর আস্থা স্থাপন করেছিলেন। কিন্তু কী পেলেন তাঁরা? কংগ্রেস জোটের ১০ বছরে প্রবৃদ্ধি অর্ধেক কমে ৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এর অর্থ, চাকরির সুযোগ কমে গেছে। উপরন্তু রাজনীতিবিদ ও কর্মকর্তারা।

শিক্ষক কেন শিক্ষার্থীকে মারবেন?

৮ এপ্রিল প্রথম আলোর বিশাল বাংলা পাতায় প্রকাশিত ‘বেত্রাঘাতে ১৬ শিক্ষার্থী আহত’ শীর্ষক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘বগুড়া শহর, শেরপুর উপজেলা ও ঠাকুরগাঁও সদরে চারটি বিদ্যালয়ে শিক্ষকের পিটুনিতে ১৬ জন শিক্ষার্থী গুরুতর জখম হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৩ জনই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।’ কারণ অতি নগণ্য! ঠাকুরগাঁওয়ে টাকার জন্য স্কুল ইউনিফর্ম কিনতে না পারায় শিক্ষক এক শিক্ষার্থীকে বেত্রাঘাতে আহত করেছেন। বগুড়া শহরের জলেশ্বরীতলা প্রি-ক্যাডেট হাইস্কুলের মেধাবী শিক্ষার্থী সম্রাট হোসেনকে বেত্রাঘাতে রক্তাক্ত করেছেন খণ্ডকালীন এক শিক্ষক! সম্রাটের দোষ, ‘খণ্ডকালীন শিক্ষক’কে গল্পগুজব না করে পাঠদান করার জন্য অনুরোধ করেছিল সে। বগুড়া জেলার শেরপুর উপজেলার বিশ্বা দ্বিমুখী উচ্চবিদ্যালয় এবং কল্যাণী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুজন শিক্ষক ১৪ জন শিক্ষার্থীকে বেত দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম করেছেন। উপরিউক্ত বর্ণনা থেকে উদ্বিগ্ন হই। শিক্ষকেরা কেন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এমন নিষ্ঠুর আচরণ করেন? এই একুশ শতকেও কেন বিদ্যালয়ে বেত থাকে? এ রকম ঘটনা প্রায়ই ঘটতে দেখা যায়। শিক্ষার্থীদের মাথায় ইট মারা, শিকল দিয়ে মারা, চুল কেটে দেওয়া, বিবস্ত্র করা ইত্যাদি। নির্যাতনকারী শিক্ষকদের মধ্যে স্বয়ং প্রধান শিক্ষকও থাকেন। অথচ তাঁর দায়িত্ব হলো, কোনো শিক্ষক কোনো শিক্ষার্থীকে শারীরিকভাবে জখম না করেন, শাস্তি না দেন, তা দেখা এবং শিক্ষকদের সব কার্যক্রম শ্রেণীকক্ষে পাঠদান, অ্যাসেমব্লি, খেলাধুলা তত্ত্বাবধান করা। অথচ বগুড়ার ঘটনায় উল্টো চিত্রই দেখা যাচ্ছে।
বগুড়ার শিক্ষার্থীদের শাস্তি দেওয়ার ঘটনা কোনো বিচ্ছিন্ন চিত্র নয়। সারা দেশেই কমবেশি তা ঘটে চলেছে। স্কুল, মাদ্রাসার শিক্ষকদের নির্মম নির্যাতনের ক্ষেত্রে ছেলেমেয়ে পার্থক্য নেই। ছেলে শিক্ষার্থীদের মতো মেয়ে শিক্ষার্থীদেরও নির্যাতন করা হয়। সরকার বিদ্যালয়ে শাস্তি কমানোর জন্য বিধিবিধান করেছে। তার প্রয়োগ কতখানি হচ্ছে এবং শিক্ষার্থীরা কতখানি সুফল পাচ্ছে, এ বিষয়ে কোনো নজরদারি আছে কি? যদি তা না থাকে, তাহলে কেন নেই? তাহলে শিক্ষার্থী নির্যাতনের বিরুদ্ধে বিধিবিধান করার কী অর্থ হয়? এ কথা সত্য যে কিছু কিছু শিক্ষার্থী খুব দুষ্টু ও চঞ্চলপ্রকৃতির হয়ে থাকে। তারা শ্রেণীব্যবস্থাপনার কাজে বিঘ্ন ঘটায়, যে কারণে অন্য শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটে। কিন্তু সে জন্য তাদের শারীরিক নির্যাতন করা কোনো কাজের কথা নয়। শিক্ষার্থীদের সমস্যাগুলো শিক্ষকদের জানতে হবে, তাদের বোঝানোর চেষ্টা করতে হবে। নির্যাতন ছাড়াই তাদের নেতিবাচক আচরণ থেকে নিবৃত্ত করার উপায় শিক্ষকদের জানতে হবে। শিক্ষককে বোঝার চেষ্টা করতে হবে, কেন কোনো শিক্ষার্থী স্কুল ড্রেস পরে আসে না বা পরতে পারে না, কেন সে খেলাধুলা করে না, কেন মনমরা, কেন অসুস্থ, কেন অন্য ছেলেমেয়েদের সঙ্গে ভালোভাবে মেশে না বা মিশতে পারে না, কেন শ্রেণীর কাজে অংশ নিচ্ছে না, পরীক্ষায় ভালো ফল করছে না ইত্যাদি। যে শিক্ষকের নিজের আবেগের ওপর নিয়ন্ত্রণ নেই, তিনি কী করে শিক্ষকতার দায়িত্ব পালন করবেন? যে শিক্ষক বেত্রাঘাত করে শিক্ষার্থীদের

Tuesday, April 29, 2014

অর্থনৈতিক উন্নতি ও নৈতিক দায় by সৈয়দ আবুল মকসুদ

ভোরবেলা যাচ্ছিলাম কমলাপুর স্টেশনে। রাস্তায় খুব কম যানবাহন। তবু এক সিগন্যালে একটু থামতে হলো বাঁ দিক থেকে কয়েকটি গাড়ি ক্রসিং পার হয়ে ডান দিকে আসায়। একটি পিকআপ পাশ ঘেঁষে থামতে বাধ্য হলো। অত ভোরে কোনো বোকা চালকও লালবাতি মানেন না। পিকআপে দুটো চটের বস্তা। একটি বস্তার মুখের দিকে সামান্য ফাঁক দিয়ে দেখা গেল একটি মরা মুরগির পা ও পাখনা। চল্লিশ-পঞ্চাশ বছর আগে হলে মনে করতাম মরা মুরগি কুড়িয়ে কেউ ডাস্টবিনে ফেলে দিতে নিয়ে যাচ্ছে। এখন মনে পড়ল অন্য কথা। আমার কর্তব্য ছিল গাড়িটিকে আটকে পুলিশকে খবর দেওয়া। তা না করতে পারায় গ্লানি ও অপরাধ বোধ করি। শাঁ করে বস্তাওয়ালা গাড়ি চলে গেল। আমার মনে পড়ল কয়েক সপ্তাহ আগে প্রথম আলো ও অন্যান্য কাগজে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন:

উদার গণতান্ত্রিক শক্তির সামনে চ্যালেঞ্জ by কুলদীপ নায়ার

নির্বাচনী প্রচারণায় মুসলমানদের হুমকি দেওয়া ও পরে অভিযোগ করা যে মিডিয়া এটা ভুলভাবে বা প্রেক্ষিতহীনভাবে উপস্থাপন করেছে, এ বিষয় এখন রীতিমতো ফ্যাশনে পরিণত হয়েছে। বিজেপির এক প্রাদেশিক নেতা বলেছেন, যাঁরা মোদিকে ভোট দেবেন না, তাঁদের পাকিস্তানে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। ভালো ব্যাপার হচ্ছে, বিজেপি এ মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। ওই নেতাকে বহিষ্কার করলে দলটি আরও বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করত। অন্যদিকে জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ বলেছেন, তিনি মোদির রাজত্বে নির্জীব বসে থাকার চেয়ে পাকিস্তানে যাওয়া শ্রেয় মনে করেন। তাঁর এ মন্তব্যও রাজনৈতিক পরিপক্বতার পরিচয় বহন করে না।

‘খাঁচাবন্দী পাখি’ রাষ্ট্রপতি! by মিজানুর রহমান খান

রাষ্ট্রপতি নিজের ভালো না থাকার কথা অকপটে বলতে পেরেছেন। বাক্স্বাধীনতা অনুশীলন নির্মল আনন্দের বিষয়। নাগরিকদের সঙ্গে তিনি তাঁর নিরানন্দ প্রকাশের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিয়েছেন এমন সময়ে, যখন বাংলাদেশে অগ্নিস্নান চলছে।

ওষুধশিল্প পার্ক আর কত দূর? by আবুল হাসনাত ও মো. মোমিনুর রহমান

বাংলাদেশও ওষুধশিল্পে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। দুই দশক আগেও এ দেশ ছিল বিদেশি ওষুধের ওপর নির্ভরশীল। ওষুধশিল্পের মতো সংবেদনশীল শিল্পে আমাদের দেশে যে অগ্রগতি হয়েছে, তা বিস্ময়কর। বর্তমানে বাংলাদেশে যেসব ওষুধ উৎপাদিত হচ্ছে তা অভ্যন্তরীণ চাহিদার শতকরা ৯৭ ভাগ জোগান দেওয়ার পাশাপাশি বিশ্বের ৮০টি দেশে রপ্তানি হচ্ছে। দেশে উৎপাদিত ওষুধ আফ্রিকা, এশিয়ার বাজার ছাড়িয়ে এখন ইউরোপ-আমেরিকায় রপ্তানি হওয়ার পথে। ইউরোপ ও আমেরিকাসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশের ওষুধের বাজার ধরতে পারলে ২০১৫ সালের মধ্যে পাঁচ বিলিয়ন ডলার বা ৩৫ হাজার কোটি টাকা আয় করা সম্ভব বলে মতামত ব্যক্ত করেছেন ওষুধশিল্পের সঙ্গে জড়িত সংশ্লিষ্টরা। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রভাবশালী সাময়িকী ফোর্বস-এ গত ১৬ জানুয়ারি ‘উইন্ডো অন এ ডিফরেন্ট ঢাকা’ শিরোনামে বাংলাদেশে ওষুধশিল্পের ব্যাপক প্রশংসা করা হয়।

মিডিয়া বা রাষ্ট্র বাবুকে তাঁর প্রাপ্য মর্যাদা দিল না!!

নিজের জীবন বিপন্ন করে সাভারের রানা প্লাজা থেকে বাবু উদ্ধার করেছিলেন ৩০ জন জীবিত মানুষকে। বাংলাদেশের মিডিয়াগুলো তাকে সেদিন হিরো বানিয়েছিলো। ধ্বংশস্তুপ থেকে জীবিত/মৃত দেহগুলো কাঁধে নিয়ে বেড় হতে হতে এক সময় নিজেই অসূস্থ্য হয়ে যান বাবু, ঠাঁই হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজের বারান্দায়। ছোট লোকের বাচ্চা বাবুর জন্য সিঙ্গাপুর তো দূরের কথা, বাংলাদেশের সরকারী হাসপাতালের একটি বেডও যোগাড় করা যায় নাই। সেখান থেকে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হবার দুইদিন পর বাবুর লাশ পাওয়া গেল মেডিকেলেরই একটি তালাবদ্ধ বারান্দায়। গলায় শ্বাসরোধে হত্যার স্পষ্ট আলামত।

এখন কী মিডিয়াগুলো বাবু হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য রহস্য উম্মোচনে মাঠে নামবে? রাষ্ট্র কী তাঁর কফিনে একটি জাতীয় পতাকা দিয়ে তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানাবার সিদ্ধান্ত নেবে? মনে হয় না।
বাবু এখন আর পন্য নয়, বাবুর মৃতদেহ কোন সেলিব্রেটি চরিত্র নয়।

তবে একদা বাবু পন্য ছিলেন, তাই সেইদিন বাবু পত্রিকার শিরোনামও ছিলেন। তার অসূস্থ্যতা নিয়েও পত্রিকা লিখেছিলো "উদ্ধার করতে গিয়ে জমাটবাধা রক্তের গন্ধে একসময় বমি করে দেন বাবু। মাথা ঝিম ধরে ওঠে তার। চোখ আবছা হয়ে আসে। তারপরও বাবু উদ্ধার থামাননি। মনোবল নিয়ে আবারও নেমে পড়েন উদ্ধার কাজে।"

মিডিয়া বা রাষ্ট্র বাবুকে তাঁর প্রাপ্য মর্যাদা না দিলেও আসুন এই বিকল্প মিডিয়াতে আমরা বাবুকে যথাযোগ্য সম্মান জানাই।

অর্থনৈতিক উন্নতি ও নৈতিক দায়

ভোরবেলা যাচ্ছিলাম কমলাপুর স্টেশনে। রাস্তায় খুব কম যানবাহন। তবু এক সিগন্যালে একটু থামতে হলো বাঁ দিক থেকে কয়েকটি গাড়ি ক্রসিং পার হয়ে ডান দিকে আসায়। একটি পিকআপ পাশ ঘেঁষে থামতে বাধ্য হলো। অত ভোরে কোনো বোকা চালকও লালবাতি মানেন না। পিকআপে দুটো চটের বস্তা। একটি বস্তার মুখের দিকে সামান্য ফাঁক দিয়ে দেখা গেল একটি মরা মুরগির পা ও পাখনা। চল্লিশ-পঞ্চাশ বছর আগে হলে মনে করতাম মরা মুরগি কুড়িয়ে কেউ ডাস্টবিনে ফেলে দিতে নিয়ে যাচ্ছে। এখন মনে পড়ল অন্য কথা। আমার কর্তব্য ছিল গাড়িটিকে আটকে পুলিশকে খবর দেওয়া। তা না করতে পারায় গ্লানি ও অপরাধ বোধ করি। শাঁ করে বস্তাওয়ালা গাড়ি চলে গেল। আমার মনে পড়ল কয়েক সপ্তাহ আগে প্রথম আলো ও অন্যান্য কাগজে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন: ‘তেজগাঁও রেলগেট এলাকায় খাটের নিচে স্তূপ করে রাখা ১২০টি মরা মুরগি উদ্ধার করে র‌্যাব। দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রত্যেককে দুই বছরের কারাদণ্ড ও জরিমানা করা হয়। অনাদায়ে আরও তিন মাস জেল।’ প্রথম আলোর প্রতিবেদনে বলা হয়, দূরদূরান্ত থেকে প্রায় প্রতিদিন ট্রাকে করে আনা মুরগি বিভিন্ন কারণে মারা যায়। এই মুরগি তারা প্রতিটি ৫০ টাকা করে কিনে নেয়। তারপর গরিব মানুষের কাছে জ্যান্ত বলে বিক্রি করে। মরা মুরগি বিক্রির সাত সদস্যের একটি চক্র আছে। এরা বিভিন্ন রেস্তোরাঁয় ওই মুরগি বিক্রি করে। মোবাইল কোর্টের দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা জানায়, তারা প্রতিদিন এক লাখ টাকার মতো মরা মুরগি বিক্রি করে।
ওই যে মরা মুরগি বস্তায় ভরে আমার চোখের সামনে দিয়ে নিয়ে গেল, দুপুরে ওগুলো দিয়েই হবে সুস্বাদু চিকেন ফ্রাই, হাম্বার্গার বা চিকেন কারি। অতি কষ্ট করে এ রাজধানীতে থেকে যেসব ছেলেমেয়ে বিভিন্ন কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছে, তারা খাবে ওই হাম্বার্গার বা চিকেন ফ্রাই। আমার ছেলে ও মেয়েও যে খাবে না, তার নিশ্চয়তা কি? আমাদের সরকারের একমাত্র লক্ষ্য অতি দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়ন। যত বেশিসংখ্যক মানুষ যত দ্রুত অর্থনৈতিকভাবে উন্নতি করতে পারে। চাই টাকা, টাকা আর টাকা। যে যেদিক দিয়ে পারবে টাকা কামাই করবে। মরা মুরগির ব্যাপারীদের প্রশংসাই করতে হয়। দু-তিন বছরেই ২০-৫০ লাখ টাকার মালিক। পৃথিবীর ব্যবসা-বাণিজ্যের ইতিহাসে একটি নতুন সেক্টর খোলার কৃতিত্ব কম নয়। এই সেক্টরে ব্যবসা করে বস্তিবাসী থেকে বিত্তবান হওয়া কম যোগ্যতা নয়। এদেরই তো বন্ধুত্ব গড়ে উঠবে পরাক্রান্ত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে। তখন বস্তির বেড়ার ঘরে তাদের পক্ষে বাস করা সম্ভব হবে না। হয়ে যাবে বিশেষ মহল্লার স্বঘোষিত নেতা। বাসার সামনে ঝুলবে দলের সাইনবোর্ড, যা দেখলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা আর স্পর্শ করার স্পর্ধা দেখাবেন না। একপর্যায়ে তার দরকার পড়বে এক খণ্ড জমি। সে জমি যদি রাজউক থেকে না পাওয়া যায় তো দখলকৃত নদীর পাড়ের খাসজমি হলেও চলবে। উঠবে সেখানে দালান। একতলা,
তারপর দোতলা, তিনতলা বা আরও বেশি। সেসব ঘর ভাড়া দিয়ে টাকা আসবে, তখন আর মরা মুরগির ব্যবসা না করলেও হবে। গণতন্ত্র যখন আছে, তখন নিচের স্থানীয় পর্যায়ে কোথাও নির্বাচনে দাঁড়িয়ে মেম্বারটা হওয়া যাবে। হজ করে নাম হবে আলহাজ খেদামতুল্লাহ মোরগপুরী। তারপর যেকোনো সরকারি দলের স্থায়ী বন্ধু হতে বাধা থাকবে না মোরগপুরীর। দ্রুত মধ্যম আয়ের দেশ হতে গিয়ে অর্থনৈতিক দিকে জোর দিয়ে জাতির নৈতিক অবস্থানটা ধ্বংস করে দেওয়া হচ্ছে। তাতে কোনো জাতি দপ্ করে জ্বলে উঠে নিভে যাবে। তা ছাড়া, নিম্নমানের নিকৃষ্ট মানুষের মধ্যম আয়ের দেশ হলেই বা কী লাভ? কোন আয়ের দেশ, তার চেয়ে বড় কথা কোন মানের এবং কেমন চরিত্রের মানুষের দেশ। খাদ্যদ্রব্য ছাড়া মানুষ বাঁচে না। ভেজাল ও দূষিত খাদ্য খেলে সঙ্গে সঙ্গেই মানুষ মরে না—দ্রুত মৃত্যুর দিকে অগ্রসর হয়। করাতকলের ভুসি চলে যাচ্ছে মসলার কারখানায়। মেশানো হচ্ছে তা গুঁড়া মসলার সঙ্গে। ইটের গুঁড়া মিশছে হলুদ-মরিচের সঙ্গে। মানুষের পেটে যাচ্ছে। কখনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ওই সব কারখানায় হানা দিয়ে জেল-জরিমানাও করছেন। ৫০ লাখ টাকা মুনাফা করে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা গুনলে কী যায়-আসে। যেভাবেই টাকা রোজগার হোক না কেন, সমাজে টাকাওয়ালার জোর বেশি। যার টাকা আছে, যত বড় অভিযোগেই সে অভিযুক্ত হোক, রাষ্ট্র তার একটি লোমও ছিঁড়তে পারে না। যত উন্নয়ন তত প্রকল্প। যত প্রকল্প তত টাকা। প্রকল্পের টাকা বরাদ্দটাই বড়, কাজ কিছু হলে তো হলো, না হলে কিছু যায়-আসে না।
কাজ শেষ হওয়ার আগে টাকা তুলে ভাগাভাগি। সরকারি দলের ছাত্র যুব ক্যাডারদের আয়ের উৎস একাধিক। চাঁদাবাজি হলো সবচেয়ে সহজ পথ। একটু ঝুঁকিপূর্ণ বা ঝামেলার হলো টেন্ডারবাজি। চাঁদাবাজি করে হোক বা টেন্ডারবাজি করে হোক, বিত্তবান হলে তার চড়া বাজারদর শুধু হবু শ্বশুরবাড়ির লোকদের কাছে নয়, দলের কাছেও। কারণ, বিত্তবান হওয়ার মধ্যেই যোগ্যতা প্রমাণিত। বিনাশ্রমে বিত্তবান হওয়ায় আরও বেশি করে প্রমাণিত হয় যোগ্যতা। তিন-চার বছরের মধ্যে ডেসটিনির এক কর্তার অজপাড়াগাঁয়ে উঠে গেছে প্রাসাদ। (একটি অট্টালিকা আমাকে দেখিয়েছেন একজন)। উপজেলাজুড়ে অমন সুরম্য অট্টালিকা আর দ্বিতীয়টি নেই। কেউ প্রশ্ন করেনি কোথায় পেলেন টাকা। ১০ বছর আগে তো টিনের ঘর তোলার ক্ষমতা ছিল না। যে দেশের মানুষ মরা মুরগির ব্যবসা করে বড়লোক হতে জানে, সেখানে যেকোনো কিছু নিয়েই ব্যবসা হবে। উপার্জিত হবে অর্থ। মরা মুরগি বিক্রি আর পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস করে বিক্রির মধ্যে তফাত কী? তফাত হলো মরা মুরগির ব্যবসায়ীদের দু-এক বছর জেল খাটতে হয়, প্রশ্নপত্র ফাঁসকারীদের কিছুই হয় না। আর শাস্তি যদি হয়ও, বিজি প্রেসের পিয়ন বা মেশিনম্যানের হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পেছনে তোয়ালে দেওয়া গদিওয়ালা চেয়ারের কর্মকর্তার কিছু হবে না। এই বাংলার মাটিতে ব্যবসাটা হচ্ছে না কী নিয়ে? যারা মরা মুরগির ব্যবসা করে অর্থ উপার্জন করতে জানে, তারা মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে করবে না কেন? তারা মাদকের ব্যবসা করবে, শিশুদের জন্য কিন্ডারগার্টেন খুলে ব্যবসা করবে, মাদ্রাসা বানিয়ে ধর্ম নিয়ে ব্যবসা করবে, উচ্চশিক্ষার নামে কলেজ-বিদ্যালয় খুলে

উদার গণতান্ত্রিক শক্তির সামনে চ্যালেঞ্জ

নির্বাচনী প্রচারণায় মুসলমানদের হুমকি দেওয়া ও পরে অভিযোগ করা যে মিডিয়া এটা ভুলভাবে বা প্রেক্ষিতহীনভাবে উপস্থাপন করেছে, এ বিষয় এখন রীতিমতো ফ্যাশনে পরিণত হয়েছে। বিজেপির এক প্রাদেশিক নেতা বলেছেন, যাঁরা মোদিকে ভোট দেবেন না, তাঁদের পাকিস্তানে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। ভালো ব্যাপার হচ্ছে, বিজেপি এ মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। ওই নেতাকে বহিষ্কার করলে দলটি আরও বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করত। অন্যদিকে জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ বলেছেন, তিনি মোদির রাজত্বে নির্জীব বসে থাকার চেয়ে পাকিস্তানে যাওয়া শ্রেয় মনে করেন। তাঁর এ মন্তব্যও রাজনৈতিক পরিপক্বতার পরিচয় বহন করে না। প্রতিদিনই পাকিস্তান ও বাংলাদেশ থেকে আমার কাছে ফোন আসছে লোকসভা নির্বাচন নিয়ে অনুসন্ধানী নিবন্ধ লেখার জন্য। তাঁদের মনে ভয়, মোদি ভারতের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হবেন এবং এই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ধ্বংস করবেন, যার ব্যাপারে তাঁদের মনে ঈর্ষাও আছে। আমি আশা করি, মোদি পরবর্তী সরকারের প্রধান হবেন না। এটা সত্য, সব মতামত জরিপেই দেখা যাচ্ছে, ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স বা এনডিএ জোট ও এর নেতা মোদি পরিষ্কারভাবে এগিয়ে আছেন। কিন্তু এসব জরিপ নির্ভরযোগ্য নয়। কারণ, মোদির সমর্থনে দক্ষিণের রাজ্যগুলো, যেমন অন্ধ্র প্রদেশ, কর্ণাটক, কেরালা ও ওডিশায় মোদি-সমর্থনের কোনো তরঙ্গও দেখা যাচ্ছে না, ঢেউ তো বহু দূরের ব্যাপার। এমনকি পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ুতেও বিজেপির দশা করুণ হতে পারে; এসব স্থানে আঞ্চলিক দলগুলো ভোট কাটে। দেশের অন্যান্য স্থানেও আরএসএসের আশীর্বাদপুষ্ট নেতারা যে উত্তপ্ত ভাষা ব্যবহার করছেন, তাতে বুদ্ধিজীবী ও দোদুল্যমান ভোটাররাও বিজেপি থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন। তার পরও বিজেপি ও তার বুদ্ধিদাতা আরএসএস জনগণের প্রতিক্রিয়ার ভুল পাঠ করছে।
জনগণ হিন্দু ও মুসলমান হিসেবে বিভাজিত হতে চায় না। সমাজ এমন কোনো রাজনৈতিক নেতাকে চায় না, যাঁর রাজনীতি বিভাজনমূলক, এমনকি কর্তৃত্বপরায়ণ। বিজেপি ও আরএসএস যা-ই বলুক না কেন, তারা বহুত্ববাদিতাকে বিনষ্ট করতে পারবে—এটা আমার মনে হয় না। গুজরাটে ২০০২ সালের মুসলমানবিনাশী দাঙ্গায় মোদির সম্পৃক্ততা নাকচ করে দেওয়া যাবে না; যদিও গুজরাটের একটি ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তাঁকে নির্দোষ হিসেবে ঘোষণা করেছেন। সে সময় তিনি ওই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন,  ই হিসেবে সবকিছুর দায়দায়িত্ব তাঁর ওপরই বর্তায়। সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। তিনি এমনকি দুঃখ প্রকাশও করেননি, ক্ষমা চাওয়া তো বহু দূরের ব্যাপার। কিছুদিন আগে তিনি দুঃখ প্রকাশের একটি সুযোগ পেয়েছিলেন, কিন্তু তিনি তা করতে অপারগতা প্রকাশ করেন। তার পরও একজন হিন্দুত্ববাদী নেতা ভারতের প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন। মোদির বক্তব্য জাতীয়তাবাদী হলেও তাতে পাকিস্তানের উল্লেখ নেই। কিন্তু তিনি গুজরাটে উন্নয়নের আড়ালে তাঁর সাম্প্রদায়িক চেহারাটা ঢাকার চেষ্টা করছেন। অনেকেই বিশ্বাস করেন, তাঁকে ভারতের বৈচিত্র্যের মুখোমুখি হতে হবে এবং তিনি আরেকজন অটল বিহারি বাজপেয়িতে রূপান্তরিত হতে পারেন। বাজপেয়ি ছিলেন পাকিস্তানে ভারতের সবচেয়ে জনপ্রিয় প্রধানমন্ত্রী। মোদির রাজনৈতিক সূচি যা-ই হোক না কেন, প্রতিবেশী পাকিস্তানের সঙ্গে তিনি খারাপ সম্পর্ক রেখে চলতে পারবেন না। ২০০৮ সালে মুম্বাইয়ে সন্ত্রাসী হামলার পর বন্ধ হয়ে যাওয়া আলোচনাও তিনি আবার শুরু করতে পারেন। মোদি ও বিজেপির রাজনৈতিক বয়ান যা-ই হোক না কেন, উভয়েরই এই উপলব্ধি আছে যে ইসলামাবাদের সঙ্গে একটি কার্যকর সম্পর্ক গড়ে তোলা দরকার এবং তা নয়াদিল্লির স্বার্থেই। পাকিস্তানে মৌলবাদের ছায়া ক্রমেই দীর্ঘ হচ্ছে, সংবাদমাধ্যমের

উদার গণতান্ত্রিক শক্তির সামনে চ্যালেঞ্জ

নির্বাচনী প্রচারণায় মুসলমানদের হুমকি দেওয়া ও পরে অভিযোগ করা যে মিডিয়া এটা ভুলভাবে বা প্রেক্ষিতহীনভাবে উপস্থাপন করেছে, এ বিষয় এখন রীতিমতো ফ্যাশনে পরিণত হয়েছে। বিজেপির এক প্রাদেশিক নেতা বলেছেন, যাঁরা মোদিকে ভোট দেবেন না, তাঁদের পাকিস্তানে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। ভালো ব্যাপার হচ্ছে, বিজেপি এ মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। ওই নেতাকে বহিষ্কার করলে দলটি আরও বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করত। অন্যদিকে জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ বলেছেন, তিনি মোদির রাজত্বে নির্জীব বসে থাকার চেয়ে পাকিস্তানে যাওয়া শ্রেয় মনে করেন। তাঁর এ মন্তব্যও রাজনৈতিক পরিপক্বতার পরিচয় বহন করে না। প্রতিদিনই পাকিস্তান ও বাংলাদেশ থেকে আমার কাছে ফোন আসছে লোকসভা নির্বাচন নিয়ে অনুসন্ধানী নিবন্ধ লেখার জন্য। তাঁদের মনে ভয়, মোদি ভারতের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হবেন এবং এই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ধ্বংস করবেন, যার ব্যাপারে তাঁদের মনে ঈর্ষাও আছে। আমি আশা করি, মোদি পরবর্তী সরকারের প্রধান হবেন না। এটা সত্য, সব মতামত জরিপেই দেখা যাচ্ছে, ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স বা এনডিএ জোট ও এর নেতা মোদি পরিষ্কারভাবে এগিয়ে আছেন। কিন্তু এসব জরিপ নির্ভরযোগ্য নয়। কারণ, মোদির সমর্থনে দক্ষিণের রাজ্যগুলো, যেমন অন্ধ্র প্রদেশ, কর্ণাটক, কেরালা ও ওডিশায় মোদি-সমর্থনের কোনো তরঙ্গও দেখা যাচ্ছে না, ঢেউ তো বহু দূরের ব্যাপার। এমনকি পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ুতেও বিজেপির দশা করুণ হতে পারে; এসব স্থানে আঞ্চলিক দলগুলো ভোট কাটে। দেশের অন্যান্য স্থানেও আরএসএসের আশীর্বাদপুষ্ট নেতারা যে উত্তপ্ত ভাষা ব্যবহার করছেন, তাতে বুদ্ধিজীবী ও দোদুল্যমান ভোটাররাও বিজেপি থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন। তার পরও বিজেপি ও তার বুদ্ধিদাতা আরএসএস জনগণের প্রতিক্রিয়ার ভুল পাঠ করছে।
জনগণ হিন্দু ও মুসলমান হিসেবে বিভাজিত হতে চায় না। সমাজ এমন কোনো রাজনৈতিক নেতাকে চায় না, যাঁর রাজনীতি বিভাজনমূলক, এমনকি কর্তৃত্বপরায়ণ। বিজেপি ও আরএসএস যা-ই বলুক না কেন, তারা বহুত্ববাদিতাকে বিনষ্ট করতে পারবে—এটা আমার মনে হয় না। গুজরাটে ২০০২ সালের মুসলমানবিনাশী দাঙ্গায় মোদির সম্পৃক্ততা নাকচ করে দেওয়া যাবে না; যদিও গুজরাটের একটি ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তাঁকে নির্দোষ হিসেবে ঘোষণা করেছেন। সে সময় তিনি ওই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন, এই হিসেবে সবকিছুর দায়দায়িত্ব তাঁর ওপরই বর্তায়। সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। তিনি এমনকি দুঃখ প্রকাশও করেননি, ক্ষমা চাওয়া তো বহু দূরের ব্যাপার। কিছুদিন আগে তিনি দুঃখ প্রকাশের একটি সুযোগ পেয়েছিলেন, কিন্তু তিনি তা করতে অপারগতা প্রকাশ করেন।তার পরও একজন হিন্দুত্ববাদী নেতা ভারতের প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন। মোদির বক্তব্য জাতীয়তাবাদী হলেও তাতে পাকিস্তানের উল্লেখ নেই। কিন্তু তিনি গুজরাটে উন্নয়নের আড়ালে তাঁর সাম্প্রদায়িক চেহারাটা ঢাকার চেষ্টা করছেন। অনেকেই বিশ্বাস করেন, তাঁকে ভারতের বৈচিত্র্যের মুখোমুখি হতে হবে এবং তিনি আরেকজন অটল বিহারি বাজপেয়িতে রূপান্তরিত হতে পারেন। বাজপেয়ি ছিলেন পাকিস্তানে ভারতের সবচেয়ে জনপ্রিয় প্রধানমন্ত্রী। মোদির রাজনৈতিক সূচি যা-ই হোক না কেন, প্রতিবেশী পাকিস্তানের সঙ্গে তিনি খারাপ সম্পর্ক রেখে চলতে পারবেন না। ২০০৮ সালে মুম্বাইয়ে সন্ত্রাসী হামলার পর বন্ধ হয়ে যাওয়া আলোচনাও তিনি আবার শুরু করতে পারেন। মোদি ও বিজেপির রাজনৈতিক বয়ান যা-ই হোক না কেন, উভয়েরই এই উপলব্ধি আছে যে ইসলামাবাদের সঙ্গে একটি কার্যকর সম্পর্ক গড়ে তোলা দরকার এবং তা নয়াদিল্লির স্বার্থেই। পাকিস্তানে মৌলবাদের ছায়া ক্রমেই দীর্ঘ হচ্ছে, সংবাদমাধ্যমের

পোশাক-বাণিজ্যে পরিবর্তনের হাওয়া? by কামাল আহমেদ

২৪ এপ্রিল রানা প্লাজা ধসে নিহত ব্যক্তিদের স্মরণে লন্ডনে যত ধরনের অনুষ্ঠান হয়েছে, সম্ভবত ঢাকার পর বিশ্বের অন্য আর কোনো শহরে এত আয়োজন হয়নি। এ রকম একটি আয়োজন ছিল বাংলা টাউনের র‌্যাগ ফ্যাক্টরিতে, যার আয়োজক ছিল ওয়ার্ল্ড ফেয়ার ট্রেড ফাউন্ডেশন। পুরোনো একটা গুদামঘরে অনুষ্ঠিত সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন শ দুয়েক শ্রোতা। তাঁদের সবাই এসেছিলেন ১০ পাউন্ড মূল্যের টিকিট কেটে। শ্রমিকদের নিরাপত্তা এবং বাঁচার মতো মজুরি নিশ্চিত করার বিষয়ে বৈশ্বিক ব্র্যান্ডের মালিক কোম্পানিগুলোকে আইনগতভাবে বাধ্য করার উপায় নিয়ে একপর্যায়ে সেখানে শুরু হলো প্রশ্নোত্তর পর্ব। দর্শকদের সারি থেকে একজন যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানি গ্যাপের পণ্য বর্জনের আহ্বান জানালে দেখা গেল মিলনায়তনের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ তাতে হাত তুলে সম্মতি জানালেন। তাঁদের ক্ষোভের কারণ, রানা প্লাজা ধসের হতাহত ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ এবং পুনর্বাসন তহবিলে অংশ নিতে গ্যাপের অস্বীকৃতি।

না'গঞ্জে কাউন্সিলরসহ সাতজন অপহরণ- সবাই চুপ, সবাই আতঙ্কে by গোলাম মর্তুজা ও আসিফ হোসেন

আট কিলোমিটার লম্বা ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডে দিনে-রাতে যান চলাচলের কোনো বিরাম নেই। দিনদুপুরে এই ব্যস্ত রাস্তা থেকে উধাও হয়ে গেল দুটি গাড়িসহ সাতজন মানুষ। পরে দুটি গাড়ি পরিত্যক্ত অবস্থায় মিললেও লোকগুলোর খোঁজ মেলেনি ২৪ ঘণ্টায়ও। এক গাড়িতে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামসহ পাঁচজন। আরেক গাড়িতে আইনজীবী চন্দনকুমার ও তাঁর গাড়িচালক।

Monday, April 28, 2014

শিক্ষাব্যবস্থায় ধর্মীয় আচ্ছাদন কেন? by কাবেরী গায়েন

প্রথম আলোর সাংবাদিক শরিফুজ্জামানকে ধন্যবাদ জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) অধীনে সাধারণ শিক্ষার মূল পাঠ্যবইগুলোকে ‘মাদ্রাসা শিক্ষার উপযোগী’ করে তুলতে গিয়ে বইগুলোর আঙ্গিক ও আদর্শিক যে পরিবর্তন হতে চলেছে, সেই ধরনটি তুলে ধরার জন্য (১০ এপ্রিল, ২০১৪)। প্রতিবেদনটি পড়ে খানিকক্ষণ বিমূঢ় হয়ে ছিলাম। দেশটি বাংলাদেশ, পঞ্চাশের দশকের পাকিস্তান নয় যে ভাষা সংস্কার কমিটি যা কিছু আছে ‘হিন্দুয়ানি’ ভাষার মধ্যে, তা কাটছাঁট করে ঝেঁটিয়ে বিদায় দেবে। পরিহাস আরও বড় যে শুধু ভাষা নয়, চিহ্নায়নের সব স্তরে ‘অমুসলিম’ বলে যা কিছু বিবেচিত হয়েছে বিশেষজ্ঞ কমিটির কাছে, তার সবকিছুই ঝেড়ে পবিত্র করা হচ্ছে সাধারণ শিক্ষার বইগুলোকে মাদ্রাসা উপযোগী করার জন্য!

পঞ্চায়েতের ‘বিচার’ নিয়ে তোলপাড় by রজত রায়

এই ভোটের বাজারে সবাই যখন দলের হয়ে প্রচারে ব্যস্ত, তখন পশ্চিমবঙ্গের প্রাচীন জনজাতি সাঁওতাল সমাজের মধ্যে আলোড়ন চলছে অন্য একটি বিষয় নিয়ে। বীরভূমের সুভলপুরের একটি গ্রামে গত জানুয়ারি মাসের ২১ তারিখে এক সাঁওতাল মেয়েকে একটি মুসলমান ছেলের সঙ্গে সম্পর্কের অভিযোগে প্রথমে সাঁওতাল গ্রাম পঞ্চায়েতে বিচার হয় এবং পরে তাদের অনুমতি পেয়ে মেয়েটিকে গণধর্ষণ করে ‘শাস্তি’ দেয় বলে অভিযোগ।

দারিদ্র্য বিচারপ্রাপ্তিতে বাধা নয় by মো. জসিম উদ্দিন

আজ জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস। সরকারি সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিবছর ২৮ এপ্রিল জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস হিসেবে উদ্যাপিত হয়। ২৮ এপ্রিলকে দিবসের জন্য বেছে নেওয়ার কারণ হলো ‘আইনগত সহায়তা প্রদান আইন, ২০০০’ এই দিনে কার্যকর হয়। যুক্তরাষ্ট্রসহ পৃথিবীর বহু দেশে আইনগত সহায়তা দিবস উদ্যাপিত হয়। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে ´Law Day´ এবং ´Legal Services Day´ দুটিই উদ্যাপিত হয়।

মিসরে ব্রাদারহুডের ৬৮৩ জনের ফাঁসির আদেশ

মিসরে মুসলিম ব্রাদারহুডের নেতা মোহামেদ বাদিসহ ৬৮৩ জনের ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। আজ সোমবার এ আদেশ দেওয়া হয়। বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে জানানো হয়, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় মিনা প্রদেশে গত বছরের ১৪ আগস্ট পুলিশ সদস্যদের হত্যা ও হত্যাচেষ্টার দায়ে মুসলিম ব্রাদারহুডের এই ৬৮৩ জনের ফাঁসির আদেশ দেওয়া হয়েছে। একই আদালত গত মার্চে মুসলিম ব্রাদারহুডের ৫২৯ জনকে ফাঁসির আদেশ দেন। তবে আজ সেই দণ্ড সংশোধন করেছেন আদালত। ৫২৯ জনের মধ্যে ৪৯২ জনের মৃত্যুদণ্ড সংশোধন করা হয়েছে। অধিকাংশেরই দণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

অভিবাসীকে মানুষ হিসেবে গণ্য করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, 'অভিবাসীকে শুধু অর্থনৈতিক কার্যক্রম বা উত্পাদনের উপাদান হিসেবে দেখলে চলবে না। তাঁদের মানুষ হিসেবে গণ্য করতে হবে। অন্যান্য নাগরিকের মতো তাঁদের জন্যও সব সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।'

আজ সোমবার রাজধানীর রূপসী বাংলা হোটেলে '২০১৫-পরবর্তী উন্নয়ন এজেন্ডায় অভিবাসন-সংক্রান্ত দুই দিনব্যাপী বৈশ্বিক বিশেষজ্ঞ সভায়' প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান। বাংলাদেশ ও সুইজারল্যান্ডের যৌথ উদ্যোগে ওই সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। খবর বাসসের।

২০১৫-পরবর্তী উন্নয়ন এজেন্ডায় অভিবাসন ইস্যুকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য বিশ্ব নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেছেন, প্রত্যেক অভিবাসীকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের উপাদানের পরিবর্তে একজন মানুষ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। তিনি বলেন, জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে সমাজ এবং অর্থনীতি বিভিন্ন ধরনের চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছে। প্রযুক্তির অগ্রগতি এবং উত্পাদন ব্যবস্থাপনার উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে মৌলিক সেবার চাহিদা ক্রমাগতভাবে বাড়ছে; যা বৈশ্বিক মানব স্থানান্তরের গতিধারাকে নিয়ন্ত্রণ করছে। পাশাপাশি অভিবাসী এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের সামাজিক নিরাপত্তা দেওয়ার মতো বিষয়গুলো জোরালো হচ্ছে।

বাংলাদেশের মতো পরিবেশ নাজুক এবং উন্নয়নশীল দেশগুলো এসব চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছে বলে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, এসব চ্যালেঞ্জ কার্যকরভাবে মোকাবিলা করার জন্য সব উন্নয়ন পরিকল্পনার কেন্দ্রবিন্দুতে অবশ্যই জনগণকে রাখতে হবে। জনগণের মর্যাদা এবং কল্যাণ নিশ্চিত করতে হবে। যেসব মানুষ এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যাচ্ছেন, তাঁদের ক্ষেত্রেও এটা সমানভাবে প্রযোজ্য।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন, পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।

জাতিসংঘের সেক্রেটারি জেনারেলের আন্তর্জাতিক অভিবাসন ও উন্নয়নবিষয়ক প্রতিনিধি স্যার পিটার সুথারলেন্ডর একটি ভিডিওবার্তা অনুষ্ঠানে উপস্থাপন করা হয়।

২০১৩ সালের মার্চ মাসে ঢাকায় অনুষ্ঠিত জনমিতি-সংক্রান্ত 'বৈশ্বিক নেতৃত্ব' বৈঠকে শেখ হাসিনা উন্নয়নের ওপর অভিবাসনের প্রভাব বিষয়ে যে মতামত দিয়েছিলেন তার উল্লেখ করেন। উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর বৈশ্বিক জনসংখ্যার পরিবর্তন এবং এর ফলজনিত চ্যালেঞ্জ কীভাবে কল্যাণকরভাবে মোকাবিলা করতে পারে এবং পাশাপাশি অভিবাসন এবং স্থানান্তরের সুফল কীভাবে কাজে লাগানো যায়, সে বিষয়ে তখন তিনি তাঁর বক্তব্য তুলে ধরেছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনেক দেশের মতো বাংলাদেশও জাতীয় ও বৈশ্বিক পর্যায়ে ২০১৫-পরবর্তী এজেন্ডায় টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বা এসডিজিএসের অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরছে।

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ সামাজিক এবং অর্থনৈতিক খাতে, বিশেষ করে দারিদ্র্য বিমোচন ও নারীর ক্ষমতায়নে প্রশংসনীয় অগ্রগতি অর্জন করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, 'বিশ্বমন্দা সত্ত্বেও ৬ শতাংশেরও বেশি হারে আমাদের জিডিপি বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমাদের অর্থনীতি এগিয়ে যাচ্ছে। অতিদরিদ্রের সংখ্যা ২৯ শতাংশে হ্রাসের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ইতোমধ্যেই ৩১ শতাংশ অর্জন করেছি।'

শেখ হাসিনা বলেন, তিনি অভিবাসীদের সঙ্গে কথা বলে বুঝতে পেরেছেন, অভিবাসন-প্রক্রিয়াকে আরও নিরাপদ, নিয়মতান্ত্রিক এবং কল্যাণমূলক করা প্রয়োজন। তিনি বলেন,  'আমাদের আলোচনার কেন্দ্রে থাকতে হবে অভিবাসীদের অধিকারের বিষয়টি। উত্স এবং গন্তব্য উভয় দেশে অভিবাসন এবং অভিবাসীকর্মীদের ইতিবাচকভাবে তুলে ধরতে হবে। আমাদের জনগণকে বলতে হবে, অভিবাসন সব সমাজের জন্যই একটি প্রয়োজনীয় উপাদান।'

এ ক্ষেত্রে তিনি ছয়টি বিষয়ের প্রস্তাব করে বলেন, এগুলো সম্ভাব্য লক্ষ্য এবং সূচক হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। সেগুলো হলো: প্রথমত, ২৫ কোটির কাছাকাছি অভিবাসী আজ বিশ্বব্যাপী কাজ করেন, বসবাস করেন অথবা ভ্রমণ করেন। নিজ দেশে বৈদেশিক মুদ্রা পাঠিয়ে তাঁরা অর্থনীতিতে অবদান রাখছেন। দেশে ফেরার সময় তাঁরা কাজ ও জীবনের যেসব অভিজ্ঞতা, দক্ষতা এবং ধ্যান-ধারণা নিয়ে ফিরে আসছেন, তার মাধ্যমেও নিজ দেশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন।

দ্বিতীয়ত, মানুষের এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যেতেই হয়। টেকসই অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য মানুষের অধিক হারে স্থানান্তরের প্রয়োজনীয়তা ক্রমাগতভাবেই গুরুত্ব পাচ্ছে। বিশেষ করে উন্নত দেশগুলোর জনসংখ্যার দৃশ্যপট পরিবর্তন এর অন্যতম কারণ। একজন অভিবাসীকর্মীকে উন্নয়নের অনুঘটক হিসেবে দেখতে হবে এবং প্রক্রিয়াটিতে প্রত্যেক ব্যক্তির মর্যাদা সমুন্নত রাখতে হবে।

তৃতীয়ত, একজন অভিবাসীকর্মী যখন বিদেশে যান, তখন তাঁকে সামাজিক-আবেগিক-সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে এক ধরনের ত্যাগ স্বীকার করতে হয়। বিশেষ করে অভিবাসী নারী এবং বালিকাদের ক্ষেত্রে এটা বেশি করে প্রযোজ্য। নিজ সমাজেও তাঁদের বিভিন্ন ধরনের ভুল ধারণার মুখোমুখি হতে হয়। তাঁদের জন্য আরও সুন্দর এবং সহায়ক পরিবেশ তৈরি করতে হবে।

চতুর্থত, বাংলাদেশের মতো দেশে ক্রমাগতভাবে বৃদ্ধিপ্রাপ্ত যুব জনসংখ্যার কর্মসংস্থান সৃষ্টি একটি বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ। বিশ্বকে এই প্রশিক্ষণযোগ্য যুব জনশক্তিকে সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। উন্নত দেশগুলোকে এশিয়া এবং আফ্রিকার যুব জনসংখ্যাকে জ্ঞান ও দক্ষতা বিষয়ে প্রস্তুত করতে এগিয়ে আসতে হবে। বাংলাদেশে আমরা এই বিশালসংখ্যক যুবক এবং যুব মহিলার দ্রুত প্রশিক্ষণের জন্য বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করেছি।

পঞ্চমত, ২০১৫-পরবর্তী উন্নয়ন কর্মপরিকল্পনায় অংশীদারিত্ব এবং সহযোগিতা দুটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। আমাদের সীমাবদ্ধতা এবং সম্পদের অপ্রতুলতা সত্ত্বেও আমরা সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য সম্পদ ও সামর্থ্যের জোগান দিয়ে যাচ্ছি। স্বল্পোন্নত দেশগুলোকে সহায়তা প্রদানের জন্য উন্নত দেশগুলোকে আরও বেশি করে তাদের অর্থ-জ্ঞান-প্রযুক্তি নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।

২০১২ সালে রিও-তে অভিবাসীদের সব ধরনের অধিকার প্রদানের বিষয়ে বিশ্ব সম্প্রদায় ঐকমত্য পোষণ করেছিল। কিন্তু বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। প্রত্যেক অভিবাসী পুরুষ ও নারীর অধিকারকে সমর্থন দিতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বিশ্ব নেতাদের এমন উপায় চিহ্নিত করার আহ্বান জানান, যাতে অভিবাসন দারিদ্র্য বিমোচনে ভূমিকা রাখতে পারে, প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধিতে সহায়ক হয়, অসমতা কমায় এবং বিশেষ করে নারীর ক্ষমতায়নে সহায়ক হয়। তিনি বলেন, অভিবাসন-প্রক্রিয়ায়, অভিবাসীদের বিশেষ করে নারী ও বালিকাদের জন্য সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। অভিবাসী এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের জন্য গুণগত মৌলিক শিক্ষা, ভকেশনাল ও কারিগরি শিক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে।

এ ছাড়া উত্স ও গন্তব্য উভয় দেশে যাতে তাঁরা অবদান রাখতে পারেন, সে জন্য অভিবাসীদের সব ধরনের প্রস্তুতিমূলক বিষয়ে সহায়তা প্রদান এবং অর্থ প্রেরণসহ তাঁদের সব ধরনের খরচের কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দারিদ্র্য বিমোচন এবং টেকসই ও সামগ্রিক উন্নয়নের সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়গুলোর সঙ্গে এগুলো ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এসব বাস্তবায়নের মাধ্যমেই আগামী ১৫ বছরে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা- এসডিজিএস সব দেশের জন্য একটি দূরদর্শী এবং বৈপ্লবিক লক্ষ্য হিসেবে প্রমাণিত হতে পারে।

শেখ হাসিনা বলেন, তিনি মনে করেন, এগুলো সর্বজনীন এবং প্রতিটি দেশের ভিন্ন ভিন্ন পরিস্থিতি ও চাহিদা বিবেচনায় সমস্যার সামগ্রিক সমাধান প্রয়োজন।

বঙ্গবন্ধুর খুনি রাশেদ চৌধুরীর সম্পত্তি জব্দ

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের খুনি লেফটেন্যান্ট  কর্নেল (অব.) এ এম রাশেদ চৌধুরীর সম্পত্তি জব্দ করেছে স্থানীয় প্রশাসন।

আজ সোমবার সকালে চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হোসনা আফরোজার নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর খুনি রাশেদ চৌধুরীর এক একর  সম্পত্তি জব্দ করা হয়। এর পরই এলাকাবাসী মিষ্টি বিতরণ করেন।

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামিদের বিষয়ে সরকার কর্তৃক গঠিত টাস্কফোর্সের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ওই সম্পত্তি জব্দ করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উপজেলা কানুনগো আবুল কাশেম জানান, হাজীগঞ্জ উপজেলাধীন সোনাইমুড়ী ২৪৬ মৌজার  নাল, বাগান, ভিটি ও পুকুরে ১৩৬ নম্বর খতিয়ানে ৯.২২৫০ একর সম্পত্তি রয়েছে রাশেদ চৌধুরীর বাবা মৃত শিহাব উদ্দিন চৌধুরীর নামে। ওই হিস্যা অনুযায়ী রাশেদ চৌধুরীর নামে ১১৫ শতাংশ সম্পত্তি রয়েছে। তিনি আরও জানান, রাশেদ চৌধুরীর বাড়ির ৩৯৩ দাগে ১২ শতাংশ, নালা ৬৩১ দাগে ৭৫ শতাংশ ও মাঠে ১১৭২ দাগে ২৮ শতাংশ সম্পত্তি জব্দ করা হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হোসনা আফরোজা জানান, বঙ্গবন্ধুর খুনি রাশেদ চৌধুরীর সম্পত্তির ওপর লাল পতাকা ও সাইনবোর্ড টাঙানো হয়েছে।

সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল) আবু হানিফ বলেন, 'সম্পত্তির ওপর লাল পতাকা ও সাইনবোর্ড ঝোলানো হয়েছে। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত রয়েছি।'

এদিকে রাশেদ চৌধুরীর চাচাতো ভাই শোহেব আহমেদ বলেন, রাশেদ চৌধুরীর বাবার দুই বিয়ে। দুই পরিবারের মোট ২০ সন্তান রয়েছেন। তিনি বলেন, সম্পত্তির  সুষম বণ্টন হয়নি।

৩ এপ্রিল চাঁদপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন দক্ষিণ শাখার বিশেষ পুলিশ সুপার আবদুল বাহার আখন্দ সম্পত্তি জব্দ করার নির্দেশ দেন। পুলিশ সুপার ৮ এপ্রিল হাজীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহ আলমকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। হাজীগঞ্জ থানা পুলিশ স্মারকলিপির মাধ্যমে ৯ এপ্রিল সম্পত্তি শনাক্ত করার ব্যবস্থা সম্পর্কে  উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানান ।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক অধিশাখা-১ এর স্মারক নম্বর ৭৮৩ ও ৭৮৪-তে দেখা গেছে, সম্পত্তির বণ্টননামার ভিত্তিতে রাশেদ চৌধুরীর প্রাপ্য জমি পৃথক করে বাজেয়াপ্ত করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। রাশেদ চৌধুরীর এক বোন ও ৮ ভাই রয়েছে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন সহকারী পুলিশ সুপার নাজমুল হাছান, হাজীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহ আলম, ভূমি কর্মকর্তা মোয়াজ্জেম হোসেন প্রমুখ।

প্রশ্নপত্র ফাঁসের নমুনা দেখলেই আইনি ব্যবস্থা

উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষা চলার সময় সাজেশন আকারে, মুঠোফোনে খুদেবার্তা, হাতে লেখা ও টাইপ করা কোনো কাগজ বা তথ্য কারও কাছে পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে জরুরি এ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের অধীন এইচএসসির ইংরেজি দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রাথমিক সুপারিশ অনুযায়ী এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে নিরপরাধ কেউ যেন হেনস্তা না হয়, সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে বলা হবে।
তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন জমা দিতে কয়েক দিন দেরি হতে পারে। তাই এর মধ্যে প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকাতে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি।
জানতে চাইলে তদন্ত কমিটির প্রধান শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সোহরাব হোসাইন প্রথম আলোকে বলেন, 'আমরা প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় দোষীদের খুঁজে বের করা এবং ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে, সে জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। তাই দোষী চক্রটিকে চিহ্নিত করতে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা চাইব।'
এদিকে তদন্ত কমিটি গঠনের পরও একের পর এক প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ আসছে। গতকাল রোববার অনুষ্ঠিত পদার্থ বিজ্ঞানের দ্বিতীয় পত্রের সৃজনশীলের প্রশ্নপত্রও ফাঁস হয়েছে বলে অভিভাবক, শিক্ষক ও পরীক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন। পরীক্ষার আগের দু-তিন দিন ধরে প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ ওঠে। গতকাল পরীক্ষার পর দেখা যায়, ফাঁস হওয়া প্রশ্নের অধিকাংশই মূল প্রশ্নের সঙ্গে মিলেছে।
পদার্থ বিজ্ঞানের দ্বিতীয় পত্রের সৃজনশীল অংশের মোট নম্বর ৪০। এ পরীক্ষায় ছয়টি প্রশ্ন থেকে চারটির উত্তর দিতে বলা হয়। পরীক্ষার পর ফাঁস হওয়া প্রশ্নের সঙ্গে প্রশ্ন মিলিয়ে দেখা যায়, ফাঁস হওয়া প্রশ্নগুলোর থেকে চারটি শব্দগত ও ক্রমিক সংখ্যার কিছু পরিবর্তন ছাড়া বিষয়বস্তু মিলে গেছে। অর্থাৎ যারা ফাঁস হওয়া প্রশ্ন পেয়েছে, তারা ৪০ নম্বরের উত্তরই দিতে পেরেছে।
একাধিক অভিভাবক ও পরীক্ষার্থী প্রথম আলো কার্যালয়ে এসে এ ব্যাপারে তাঁদের ক্ষোভের কথা জানান। তাঁদের বক্তব্য হলো, এভাবে প্রশ্নপত্র ফাঁস হতে থাকলে শিক্ষার্থীরা দুই বছর ধরে পড়বে কেন? তাঁরা তো পরীক্ষার আগে প্রশ্নের পেছনে ছুটবে।
গতকালের প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান তাসলিমা বেগম বলেন, 'পদার্থ বিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্রের বিষয়টি আমি বলব সাজেশন। কারণ, আমিও ফেসবুকে দেখেছি। তাতে মনে হয়েছে, যেভাবে পরীক্ষার প্রশ্ন হয় সেভাবে হয়নি। তার পরও আমি বলব এ বিষয়ে গোয়েন্দাদের সক্রিয় হতে হবে। না হয় এ ধরনের ঘটনা বন্ধ করা কঠিন হবে।'
তদন্ত কমিটির প্রাথমিক সুপারিশ: শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল একাধিক কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, তদন্ত কমিটি মনে করে, পরীক্ষা চলাকালে জরুরি ভিত্তিতে কিছু ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। এর ভিত্তিতেই কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
তদন্ত কমিটি মনে করে, চক্রটিকে আইনের আওতায় আনার জন্য পুলিশ, র‌্যাব, এসবি এবং এনএসআইসহ সংশ্লিষ্ট সব আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অনুরোধ করা প্রয়োজন। তবে এ প্রক্রিয়ায় নিরাপরাধ কেউ যেন হেনস্থা না হয়, সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে।
এ ছাড়া পরীক্ষার দিন জেলা ট্রেজারি ও উপজেলা পর্যায়ে থানা ভল্ট বা ব্যাংকের ভল্ট থেকে কেন্দ্রে প্রশ্নপত্র সরবরাহের সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নিজেদের উপস্থিত থেকে আরও সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
ইংরেজি দ্বিতীয় পত্রের প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা প্রথম ধরা পড়ে ফরিদপুরের নগরকান্দায়। তদন্ত কমিটি মনে করে, ওই উপজেলায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগের তথ্য (ক্লু) খুঁজে বের করার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা দরকার। এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি বা চক্রকে চিহ্নিত করতে জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ, র‌্যাব, এসবি এবং এনএসআইয়ের তৎপরতা আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
এর আগে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের অধীন এইচএসসির ইংরেজি দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষার প্রশপত্র ফাঁসের অভিযোগে পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। ১০ এপ্রিল এই পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল। এ ঘটনায় দুটি তদন্ত কমিটি কাজ করছে। এরই মধ্যে পরবর্তী পরীক্ষাগুলোর প্রশ্নও ফাঁসের অভিযোগ উঠছে। গত ২৩ এপ্রিল অনুষ্ঠিত পদার্থবিজ্ঞানের প্রথম পত্রের সৃজনশীলের প্রশ্নও ফাঁস হয় বলে অভিযোগ করেন একাধিক পরীক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষক।

অভিবাসীকে মানুষ হিসেবে গণ্য করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘অভিবাসীকে শুধু অর্থনৈতিক কার্যক্রম বা উত্পাদনের উপাদান হিসেবে দেখলে চলবে না। তাঁদের মানুষ হিসেবে গণ্য করতে হবে। অন্যান্য নাগরিকের মতো তাঁদের জন্যও সব সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।’ আজ সোমবার রাজধানীর রূপসী বাংলা হোটেলে ‘২০১৫-পরবর্তী উন্নয়ন এজেন্ডায় অভিবাসন-সংক্রান্ত দুই দিনব্যাপী বৈশ্বিক বিশেষজ্ঞ সভায়’ প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান। বাংলাদেশ ও সুইজারল্যান্ডের যৌথ উদ্যোগে ওই সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। খবর বাসসের।

এক ছবিতে চল্লিশ পোশাকে মম!

লাক্স তারকা জাকিয়া বারী মম। দীর্ঘদিন ছোট পর্দায় নিয়মিত অভিনয়ের পর বর্তমানে তিনি ব্যস্ত সময় পার করছেন চলচ্চিত্রের কাজ নিয়ে। সম্প্রতি তিনি ‘প্রেম করব তোমার সাথে’ ছবির কাজ শেষ করেছেন। এখানে তাঁর সহ-অভিনেতা আনিসুর রহমান মিলন ও জায়েদ খান। এ ছাড়া শি‏হাব শাহীন পরিচালিত ‘ছুঁয়ে দিলে মন’ ছবিতে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন মম। ছবিটিতে নানা রঙের ৪০টি পোশাক পরবেন বলেই জানিয়েছেন জনপ্রিয় এ অভিনেত্রী।

পোশাক-বাণিজ্যে পরিবর্তনের হাওয়া?

২৪ এপ্রিল রানা প্লাজা ধসে নিহত ব্যক্তিদের স্মরণে লন্ডনে যত ধরনের অনুষ্ঠান হয়েছে, সম্ভবত ঢাকার পর বিশ্বের অন্য আর কোনো শহরে এত আয়োজন হয়নি। এ রকম একটি আয়োজন ছিল বাংলা টাউনের র‌্যাগ ফ্যাক্টরিতে, যার আয়োজক ছিল ওয়ার্ল্ড ফেয়ার ট্রেড ফাউন্ডেশন। পুরোনো একটা গুদামঘরে অনুষ্ঠিত সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন শ দুয়েক শ্রোতা। তাঁদের সবাই এসেছিলেন ১০ পাউন্ড মূল্যের টিকিট কেটে। শ্রমিকদের নিরাপত্তা এবং বাঁচার মতো মজুরি নিশ্চিত করার বিষয়ে বৈশ্বিক ব্র্যান্ডের মালিক কোম্পানিগুলোকে আইনগতভাবে বাধ্য করার উপায় নিয়ে একপর্যায়ে সেখানে শুরু হলো প্রশ্নোত্তর পর্ব। দর্শকদের সারি থেকে একজন যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানি গ্যাপের পণ্য বর্জনের আহ্বান জানালে দেখা গেল মিলনায়তনের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ তাতে হাত তুলে সম্মতি জানালেন। তাঁদের ক্ষোভের কারণ, রানা প্লাজা ধসের হতাহত ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ এবং পুনর্বাসন তহবিলে অংশ নিতে গ্যাপের অস্বীকৃতি। সেদিন লন্ডনের তিনটি আয়োজনে আমি উপস্থিত হতে পারলেও অন্তত আরও ছয়টি অনুষ্ঠানে যেতে পারিনি। এগুলোর মধ্যে ছিল সমারসেট হাউস এবং ব্রিকলেনে দুটো আলাদা সেমিনার, ওয়েস্টমিনস্টার ইউনিভার্সিটিতে একটি নতুন তথ্যচিত্রের প্রদর্শনী, কভেন্ট গার্ডেনে ফ্যাশনের নৈতিকতাবিষয়ক প্রদর্শনী। ধারণা করি, এসব আয়োজনে আরও কয়েক শ লোক অংশ নিয়েছেন। সকালের দিকে অক্সফোর্ড স্ট্রিটের ইউনাইটেড কালার্স অব বেনিট্টন ব্র্যান্ডের এক শোরুমে দুজন বিক্ষোভকারী দরজার সঙ্গে নিজের গলায় তালা লাগিয়ে বসে পড়ে প্রতিবাদ জানাতে শুরু করায় শেষ পর্যন্ত দোকানটি সেদিনের জন্য বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছিল কোম্পানির কর্তৃপক্ষ। অক্সফোর্ড স্ট্রিট ছাড়াও লন্ডনে আরও অনেক জায়গায় দিনভর এ ধরনের নানা প্রতিবাদ সংঘটিত হয়। বাইরে কেমব্রিজেও প্রতিবাদকারীদের কারণে গ্যাপের একটি দোকান বন্ধ হয়ে যায়। ফ্যাশন বিপ্লব দিবস নামে আরেক দল প্রতিবাদকারী কাপড় উল্টো করে পরে এক অভিনব প্রচারণায় শামিল হন। ‘কে বানিয়েছে আপনার কাপড়?’ এই প্রশ্নের জবাব জেনে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য ক্রেতা ও ভোক্তাদের উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যে এই ফ্যাশন বিপ্লব দিবস পালিত হয় বিশ্বের প্রায় ৫০টি দেশে। নৈতিক বাণিজ্যের প্রবক্তা, মানবাধিকার সংগঠন, ফ্যাশন তারকা, ছাত্রছাত্রী ও ভোক্তাদের পাশাপাশি রাজনীতিকেরাও এই প্রচারণায় অংশ নেন। তাঁদের প্রচারণার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো এঁরা কেউই বাংলাদেশকে বয়কটের কথা বলেননি, বরং বহুজাতিক ব্র্যান্ডগুলো যেখান থেকেই পোশাক আনুক, সেখানে কাজের নিরাপদ পরিবেশ এবং বাঁচার মতো মজুরি নিশ্চিত করার কথা বলেছেন।
রানা প্লাজার দুর্ঘটনায় পাশ্চাত্যের নাগরিকসমাজের মধ্যে এই প্রতিক্রিয়া রাজনীতিকদের পক্ষে উপেক্ষা করা অসম্ভব বলেই এসব দেশের মন্ত্রী এবং এমপিদের অনেককেই এখন এসব কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হতে দেখা যাচ্ছে। ব্রিটিশ আন্তর্জাতিক উন্নয়নমন্ত্রী জাস্টিন গ্রিনিং এবং তাঁর ডেপুটি অ্যালান ডানকান বিবৃতি দিয়ে বাংলাদেশের পোশাক খাতের সংস্কার এবং হতাহত শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনে কী কী করছেন, তার বিশদ বিবরণ তুলে ধরেন। বিরোধী দলের নেতাদের মধ্যে ছায়া মন্ত্রিসভার সদস্য জিম মারফি এবং রুশনারা আলী এসব প্রচারাভিযানের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেন। ‘ফ্যাশনের জন্য আর কোনো প্রাণহানি নয়’ (নো মোর ফ্যাশন ভিকটিমস) স্লোগান লেখা টি-শার্ট পরা ছবি তুলে তা প্রচারের ব্যবস্থা করেছেন। এই প্রচারাভিযানের আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো এটি মূলত সংগঠিত হয়েছে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুক এবং টুইটারের মাধ্যমে। ফলে, রাস্তাঘাটে প্রতিবাদকারীদের সশরীরী উপস্থিতি যতটা দেখা গেছে, সাইবারজগতে তাদের অশরীরী উপস্থিতি ছিল তার চেয়েও অনেক গুণ বেশি। বিপরীতে, বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন, বিজিএমইএর সভাপতি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে আগাম প্রচার করলেন যে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্টের ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে বিশ্বের নানা প্রান্তে কাপড় উল্টো করে পরার কর্মসূচি পালন করা হবে বলে তাঁরা জানতে পেরেছেন। তিনি বলেন, তারা বলবে ‘ডোন্ট বাই বাংলাদেশ গার্মেন্ট’ (প্রথম আলো অনলাইন, ২৩ এপ্রিল, ২০১৪)। বাংলাদেশের রাজনীতিকদের একটা বড় অংশ সুশীল সমাজের বিরুদ্ধে নানা ধরনের অপবাদ দিয়ে যেমন অভ্যস্ত, এটা ব্যবসায়ীদের মধ্যে সেই বদভ্যাসের সংক্রমণ কি না জানি না। তবে, তেমনটি ঘটলে তা বড়ই দুশ্চিন্তার বিষয়। বিশেষ করে, বিদেশের সুশীল সমাজের বিরুদ্ধে এ ধরনের অপপ্রচার কতটা বিবেচনাপ্রসূত কাজ হয়েছে সেটা কী তাঁরা ভেবে দেখবেন? তাঁদের উচিত হবে ওই বিবৃতি প্রত্যাহার।

দারিদ্র্য বিচারপ্রাপ্তিতে বাধা নয়

আজ জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস। সরকারি সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিবছর ২৮ এপ্রিল জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস হিসেবে উদ্যাপিত হয়। ২৮ এপ্রিলকে দিবসের জন্য বেছে নেওয়ার কারণ হলো ‘আইনগত সহায়তা প্রদান আইন, ২০০০’ এই দিনে কার্যকর হয়। যুক্তরাষ্ট্রসহ পৃথিবীর বহু দেশে আইনগত সহায়তা দিবস উদ্যাপিত হয়। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে ´Law Day´ এবং ´Legal Services Day´ দুটিই উদ্যাপিত হয়। বাংলাদেশে ‘আইনগত সহায়তা’র ধ্যান-ধারণা কাঠামোগতভাবে নতুন হলেও সাংবিধানিক আইনের ইতিহাসে এটি বেশ পুরোনো। রাষ্ট্র পরিচালনার অপরিহার্য মূলনীতি হিসেবে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ১৯(১) নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘সকল নাগরিকের জন্য সুযোগের সমতা নিশ্চিত করিতে রাষ্ট্র সচেষ্ট হইবে।’ আবার নাগরিকদের রক্ষাকবচ হিসেবে খ্যাত ২৭ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং আইনের সমান আশ্রয়লাভের অধিকারী।’ সাংবিধানিক তত্ত্ব অনুযায়ী ধনী-দরিদ্রকে এক কাতারে আনা হলেও বাস্তবতা কিন্তু ভিন্ন। সমাজের দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষ, যারা আর্থিক অসামর্থ্যের কারণে কিংবা সামাজিক প্রতিবন্ধকতার কারণে যাতে কেউ আইনের আশ্রয়লাভের অধিকার থেকে কোনোভাবে বঞ্চিত না হয়, তার জন্য লিগ্যাল এইড-ব্যবস্থার সৃষ্টি। শেষ আশ্রয়স্থল হিসেবে একমাত্র আইন-আদালতের মাধ্যমেই মানুষ তার ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারে।
আর্থিক দৈন্য বা অসচ্ছলতা একজন মানুষের ন্যায়বিচার প্রাপ্তির ক্ষেত্রে কোনোভাবেই প্রতিবন্ধকতা হতে পারে না। ১৯৬৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিখ্যাত মামলায় (Jackson v. Bishop, Eight Circuit Court of Appeal, USA) বিচারক Harry Blackmun বলেন, The concept of seeking justice cannot be equated with the value of dollars. Money plays no role in seeking justice. ভারতের সাবেক প্রধান বিচারপতি P N Bhagwati-র মতে, ‘তিনটি জিনিসের অভাব দেখা দিলে গরিবরা তাদের ন্যায়সংগত অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়। এগুলো হলো: ১. সচেতনতা, ২. অধিকার দাবি করা এবং ৩. সম্পদের অপ্রতুলতা।’ আইনগত সহায়তাকে এত দিন রাষ্ট্রের দান বা বদান্যতা মনে করা হলেও আধুনিক কল্যাণ রাষ্ট্রের ধারণা বিকশিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এ ধারণা সম্পূর্ণ পাল্টে গেছে। গরিব, অসহায় ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় আইনি সহায়তা দান করা এখন আর রাষ্ট্রের করুণা বা বদান্যতা নয়। বরং এটি নাগরিকদের প্রতি রাষ্ট্রের এক অপরিহার্য দায়িত্ব। বর্তমানে পৃথিবীর উন্নত দেশগুলোতে আইনগত শিক্ষার প্রসার, আইনগত তথ্য সহজলভ্যকরণ, আইনগত ক্ষমতায়ন, ন্যায়বিচারে সহজ অভিগম্যতা, বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি ইত্যাদিকে আইনগত সহায়তা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বাংলাদেশে দরিদ্রবান্ধব প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা খুবই কম। হাতে গোনা যে দু-একটি প্রতিষ্ঠান কার্যকরভাবে

ঢাকার ৬৫ শতাংশ ভূখণ্ড তপ্ত by ইফতেখার মাহমুদ

ভবনের ভেতরে ভাপসা গরম। বাইরে যেন আগুনের হলকা। আর গণপরিবহনগুলো অগ্নিচুল্লির মতো। সূর্য ডোবার পর সন্ধ্যা নামলেও গরম কমছে না। রাজধানীর পুরোটাই দিনে দিনে ‘তপ্ত ভূখণ্ড’ হয়ে উঠছে। পুরান ঢাকা থেকে উত্তরা, মোহাম্মদপুর থেকে মিরপুর, বাড্ডা থেকে বাসাবো, গাবতলী থেকে গুলশান—যেখানেই যান, অসহনীয় দাবদাহ। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) গবেষণা প্রতিবেদন বলছে, রাজধানীর আটটি অঞ্চলের ২৫টি এলাকা এরই মধ্যে তপ্ত ভূখণ্ড হয়ে উঠেছে। এখানকার গড় তাপমাত্রা অন্য এলাকার চেয়ে ৩ থেকে ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি।

Sunday, April 27, 2014

গণতন্ত্রায়ণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা by মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর

বাংলাদেশের রাজনীতি, গণতন্ত্র ও রাজনৈতিক দল নিয়ে সাধারণ আলোচনা হরহামেশাই হচ্ছে। বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের আলোচনা তেমন শোনা যায় না। সম্প্রতি এশিয়াটিক সোসাইটিতে বিশিষ্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞানী রওনক জাহান ‘বাংলাদেশের রাজনৈতিক দল: গণতন্ত্রায়ণের চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক একটি বক্তৃতা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘বাংলাদেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর নেতৃত্বে পরিবারতন্ত্র ক্রমাগত সুদৃঢ় হচ্ছে। এতে দলগুলোর মধ্যে গণতান্ত্রিক আচরণ কমে আসছে।’ আমাদের ধারণা, পরিবারতন্ত্র থেকে বড় দলগুলো আর সহজে বেরোতে পারবে না। কারণ, দলের একটি প্রভাবশালী অংশ ইতিমধ্যে বুঝে ফেলেছে, এতে ঝুঁকি কম, লাভ বেশি। এদের কারণেই দলে পরিবারতন্ত্র প্রশ্রয় পাচ্ছে। বড় দুটি দলের প্রধান নেত্রী পরিবারের উত্তরাধিকার হিসেবে দলের শীর্ষ পদ অর্জন করেছেন। দলের ভেতরে এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে, যাতে দল ও নেত্রী একাকার। নেত্রীর ইচ্ছাতেই এখন দল পরিচালিত হয়। কাজেই দলে গুরুত্ব সহকারে থাকতে হলে দলের সব প্রবীণ বা ত্যাগী নেতাদের নেত্রীর বশংবদ হয়েই থাকতে হবে। এভাবেই বড় দুটি দল পরিচালিত হচ্ছে।

তিস্তা প্রশ্নের সমাধান হতে হবে রাজনৈতিক- বিশেষ সাক্ষাৎকারে ড. আইনুন নিশাত

পানি ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ ড. আইনুন নিশাত বর্তমানে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য। ১৯৯৮ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত ছিলেন আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ ইউনিয়নের (আইইউসিএন) বাংলাদেশ প্রতিনিধি। এর আগে তিনি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে পানিসম্পদ কৌশল বিভাগে অধ্যাপনা করেন। ১৯৮১ সালে যুক্তরাজ্যের গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পুরকৌশলে পিএইচডি ডিগ্রি নেন। তিনি দীর্ঘ সময় ধরে পানিসম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা, নদী ব্যবস্থাপনা ও নদীশাসন, উপকূলীয় অঞ্চল ও জলাভূমি সংরক্ষণ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কিত বিষয় নিয়ে কর্মরত। তিনি বাংলাদেশ সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাসংক্রান্ত স্ট্যান্ডিং অর্ডার প্রণয়ন, গঙ্গা পানি চুক্তি, জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক সরকারের কর্মপরিকল্পনা থেকে শুরু করে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় কাজে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ভূমিকা রেখেছেন।

তিস্তা প্রশ্নের সমাধান হতে হবে রাজনৈতিক

আইনুন নিশাত
পানি ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ ড. আইনুন নিশাত বর্তমানে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য। ১৯৯৮ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত ছিলেন আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ ইউনিয়নের (আইইউসিএন) বাংলাদেশ প্রতিনিধি। এর আগে তিনি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে পানিসম্পদ কৌশল বিভাগে অধ্যাপনা করেন। ১৯৮১ সালে যুক্তরাজ্যের গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পুরকৌশলে পিএইচডি ডিগ্রি নেন। তিনি দীর্ঘ সময় ধরে পানিসম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা, নদী ব্যবস্থাপনা ও নদীশাসন, উপকূলীয় অঞ্চল ও জলাভূমি সংরক্ষণ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কিত বিষয় নিয়ে কর্মরত। তিনি বাংলাদেশ সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাসংক্রান্ত স্ট্যান্ডিং অর্ডার প্রণয়ন, গঙ্গা পানি চুক্তি, জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক সরকারের কর্মপরিকল্পনা থেকে শুরু করে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় কাজে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ভূমিকা রেখেছেন
প্রথম আলো : তিস্তার পানিপ্রবাহ প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে ভারত। আপনার প্রতিক্রিয়া কী?
আইনুন নিশাত : তিস্তায় ডালিয়া ব্যারাজে উজান থেকে আসা পানিপ্রবাহ প্রায় শূন্য। এখন ৬০০-৭০০ কিউসেক পানি যা আসছে তা, ধারণা করি, ভারতের গজলডোবা ব্যারাজের ভাটির উপনদী থেকে। আসল কথা হলো তিস্তার মূল প্রবাহ ভারত প্রত্যাহার করে নিয়েছে। এটা কোনো সৎ প্রতিবেশীসুলভ আচরণ নয়। অতীতেও এ রকম সর্বাত্মক প্রত্যাহারের ঘটনা ঘটেনি। ১৯৮৮ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত গঙ্গার পানিবণ্টন নিয়ে চুক্তি ছিল না। ভারত সে সময় বলত, চুক্তি না থাকলেও কাছাকাছি পরিমাণ পানি পাবে। চুক্তি সম্পাদনের পর গঙ্গার পানিপ্রবাহের বড় রকমের পরিবর্তন হয়নি।
প্রথম আলো : চুক্তি সম্পাদনের লক্ষণও দেখা যাচ্ছে না। এখন বাংলাদেশ কী করবে?
আইনুন নিশাত : ভারতে পানিসম্পদ পুরোপুরি প্রাদেশিক ব্যাপার। ভারতের প্রতিটি প্রদেশই মনে করে, তাদের অঞ্চল দিয়ে প্রবাহিত নদীর পানি পুরোপুরি তাদেরই। দক্ষিণ ভারতের একটি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী অপর রাজ্যের বৈরী আচরণের বিরুদ্ধে অনশন করেছিলেন। রাজধানীতে পানির ঘাটতি মেটাতে মুখ্যমন্ত্রীকে অপর রাজ্যের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে যেতে হয়েছিল। ভারতের ১৯৫৮-এর আইন নদী ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে সুচারু ফ্রেমওয়ার্ক। একটি নদী দুই বা ততোধিক স্বাধীন দেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হলে অথবা ফেডারেল ধরনের কোনো রাষ্ট্রের দুটি রাজ্যের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হলে একই ঘটনা ঘটে। এ ব্যাপারে আন্তর্জাতিক স্বীকৃত রীতি হলো অন্য দেশের ক্ষতি না করা। তিস্তার বেলায় ২০১৩ সাল পর্যন্ত মূল পানিপ্রবাহের বড় অংশ বাংলাদেশে এসেছে। তিস্তার পানিপ্রবাহ গজলডোবায় ভাগ হতে হবে, কারিগরিভাবে এর কোনো বিকল্প নেই। কাজেই গজলডোবায় প্রবাহের পরিমাণ কত, তা জানা দরকার। প্রবাহের ধারা দেখে অনুমান করি যে শুকনো মৌসুমে জানুয়ারি থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত বাংলাদেশের ডালিয়া পয়েন্টে হয়তো পাঁচ-ছয় হাজার কিউসেক পানি থাকে। প্রাকৃতিকভাবে মে মাস থেকে পানি বাড়বে এবং জুলাই থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত প্রচুর পানি থাকবে। গজলডোবায় এই প্রবাহ আড়াই লাখ থেকে সাড়ে চার লাখ কিউসেকে উঠে যেতে পারে। অতীতে বর্ষাকালে কিংবা শুকনো মৌসুমে গজলডোবা ও ডালিয়ার প্রবাহে তেমন একটা পার্থক্য থাকত না। আশির দশকের শেষে ভারতে ব্যারাজ চালু হওয়ার পর শুকনো মৌসুমে পানি অর্ধেকের মতো হয়ে গেছে। বর্ষাকালেও কমেছে। এই কথাগুলো মনে রেখে বাংলাদেশে তিস্তা ব্যারাজের ব্যাপারে আরও কিছু আলোচনা প্রয়োজন। প্রথমত, দুই দেশের ব্যারাজেরই উদ্দেশ্য সম্পূরক সেচ দেওয়ার প্রকল্প চালানো। ভারতের ব্যারাজের ডান তীরের চাহিদা হলো ১৬ হাজার কিউসেক পানি। বাঁ তীরের চাহিদা আনুমানিক ছয় হাজার কিউসেক। ভারতের একার চাহিদাই ২২ হাজার কিউসেক। আর বাংলাদেশের ডান তীরের চাহিদা আট হাজার কিউসেক। অর্থাৎ তিস্তা থেকে সর্বমোট ৩০ হাজার কিউসেক পানি দরকার। এই পরিমাণ পানি ডিসেম্বর থেকে মে মাস পর্যন্ত নদীতে থাকে না। সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসেও ঘাটতি থাকে। বাংলাদেশের জন্য এ সময়টায় পানি পাওয়াটা সবচেয়ে বেশি জরুরি। কারণ, তাতে করে তিস্তার প্রায় ৭.৫ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকায় চাষ দেওয়া সম্ভব হবে। আমাদের জুলাই থেকে অক্টোবরে আমন মৌসুমে সম্পূরক সেচ নিশ্চিত করতে হবে। অন্যদিকে টিকে থাকার জন্য নদীর নিজেরও পানি প্রয়োজন। তার জন্য ডালিয়া ব্যারাজের কিছুটা প্রবাহ ছাড়তেই হবে। সবার আগে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে তিস্তা নদীর জন্য যে চুক্তিটির খসড়া অনুস্বাক্ষরিত হয়েছে, তা এখন কার্যকর করা দরকার
প্রথম আলো : চাহিদার তুলনায় এত কম পানি থাকা অবস্থায় ভাগাভাগি হবে কীভাবে?
আইনুন নিশাত : আমি সব সময় অববাহিকাভিত্তিক ও নদীভিত্তিক ব্যবস্থাপনার কথা বলে থাকি। বর্ষাকালে নদীর পানি সুবিধাজনক স্থানে ধরে রেখে শুকনো মৌসুমে ছাড়তে হবে। তিস্তা অববাহিকায় ভারতের ছোট-বড় অনেক প্রকল্প রয়েছে। এ প্রকল্পগুলোর ক্ষেত্রে তথ্যপ্রবাহে স্বচ্ছতা এনে সহযোগিতার পথ অবলম্বন করতে হবে। তার জন্য বর্ষা মৌসুমে পানিপ্রবাহের বড় অংশ।

নবায়নযোগ্য উৎস থেকে বিদ্যুৎ

সরকার ২০১৫ সালে মোট উৎপাদিত বিদ্যুতের ৫ শতাংশ এবং ২০২০ সালে ১০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে জোগান দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করেছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিভিন্ন উৎস বিভিন্ন দেশে ব্যবহূত হলেও বাংলাদেশে প্রধানত সৌরশক্তি ও বায়ুশক্তিকে কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাস্তবানুগ বিবেচনা করা হচ্ছে। ভৌগোলিক কারণে জলবিদ্যুতের সম্ভাবনা আমাদের দেশে সীমিত। কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের উৎপাদনক্ষমতা ২৩০ মেগাওয়াট, যা লেকে পানির প্রাপ্যতার ওপর নির্ভরশীল। এ দেশে ইতিমধ্যে ‘সোলার হোম সিস্টেমস’ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে, বিশেষ করে গ্রিড বিদ্যুৎবঞ্চিত এলাকায়। এ পর্যন্ত প্রায় ২৮ লাখ সোলার হোম সিস্টেম বিক্রি হয়েছে (সম্মিলিত বিদ্যুৎ উৎপাদনক্ষমতা প্রায় ১১৫ মেগাওয়াট)। আশা করা হয়, এর প্রায় সবগুলো সূর্যের আলো থেকে সীমিত পরিসরে বিদ্যুৎশক্তির জোগান দেয়। ব্যয়বহুল হলেও বিদ্যুৎহীন অন্ধকারের চেয়ে সে আলো অনেক আকাঙ্ক্ষিত। সৌর, বায়ু ও জলবিদ্যুতের মিলিত উৎপাদনক্ষমতা ও অন্যান্য পরীক্ষামূলক নবায়নযোগ্য জ্বালানিনির্ভর বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্মিলিত স্থাপিত ক্ষমতা এখন দেশে প্রায় ৩৬০ মেগাওয়াট। দেশে মোট স্থাপিত বিদ্যুৎ উৎপাদনক্ষমতা প্রায় ১১ হাজার মেগাওয়াট হিসেবে নিলে নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে ৫ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য পূরণ থেকে আমরা বেশ খানিক দূরেই দাঁড়িয়ে আছি। এই পটভূমিতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতি ২০১৪-এর খসড়া প্রকাশ করা হয়েছে।
২০০৮ সালে প্রথম যে নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতি প্রণীত হয়েছিল, এত দিনে তার অনেক পরিমার্জন প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়নে যে ব্যাপক উন্নয়ন ঘটেছে, সে অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নিতে বিদ্যমান নীতিমালা সংশোধন এবং তা আরও বিনিয়োগবান্ধব করা অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। এ প্রসঙ্গে লক্ষ করা যেতে পারে যে ভারত কেবল সৌরবিদ্যুতের সাহায্যে প্রায় ১৭ হাজার মেগাওয়াট ও বায়ুশক্তি থেকে প্রায় ২০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে। জলবিদ্যুৎ ছাড়াই ভারতের নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদিত বিদ্যুতের পরিমাণ মোট উৎপাদিত বিদ্যুতের ১২ শতাংশ। জার্মানি নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারে প্রাগ্রসর একটি দেশ এবং ২০২০ সাল নাগাদ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে জার্মানি প্রায় ৩৫ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। তবে মনে রাখা ভালো, নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ সস্তা নয়। প্রযুক্তির ব্যাপক উন্নয়ন হলেও নবায়নযোগ্য জ্বালানির ওপর জোর দেওয়ায় জার্মানদের প্রতি মাসে বিদ্যুৎ বিল দিতে হয় ইউরোপে সর্বোচ্চ। তা ছাড়া, জমিস্বল্পতার দেশে সৌর বিদ্যুতের সম্ভাবনা এখনো সীমিত (এক মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পেতে প্রায় পাঁচ একর জায়গাজুড়ে সৌর প্যানেল বসাতে হয়)। বাংলাদেশে কোথায় বাতাসের প্রবাহ।

ইউক্রেন নিয়ে ইসরায়েলের দোলাচল by ইতামার রাবিনোভিচ

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকার ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার প্রশাসনের মধ্যে সম্পর্ক এমনিতেই বেশ নাজুক। এ অবস্থায় ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের সঙ্গে যোগ দিয়ে রাশিয়ার ক্রিমিয়াকে সংযুক্ত করার বিষয়কে নিন্দা করতে রাজি হয়নি। তবে ঝুঁকিপূর্ণ হলেও ইসরায়েলের এ সিদ্ধান্ত অবাক করার মতো নয়। যত যা-ই হোক, মধ্যপ্রাচ্যে রাশিয়ার উপস্থিতির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো কার্যকর নীতি নেই। এর ফলে ইসরায়েলের মতো দেশগুলোর পক্ষে ক্রেমলিনের মোকাবিলা করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

MERIT Bangladesh Foundation, MERN Foundation স্বাধীনতা দিবস ও জাতীয় শিশু দিবসের অনুষ্ঠান

MERIT Bangladesh Foundation, MERN Foundation স্বাধীনতা দিবস ও জাতীয় শিশু দিবসের অনুষ্ঠান

মেরন সান স্কুল এন্ড কলেজের মহান স্বাধীনতা দিবস পালন

নগরীর মেরন সান স্কুল এন্ড কলেজ এর চকবাজার ক্যাম্পাস-এর উদ্যোগে মহান স্বাধীনতা দিবস উদযাপন, বার্ষিক ক্রিড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার পুরস্কার ও সনদপত্র প্রদান এবং মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান গতকাল প্রতিষ্ঠান সংলগ্ন মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। সকালে কোরআন তেলাওয়াত এর পর অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম টিচার্স ট্রেনিং কলেজ এর অধ্যক্ষ প্রফেসর রূপেশ চন্দ্র চৌধুরী। এর পরপরই শুরু হয় ক্ষুদে শিল্পীদের অংশগ্রহণে উন্মুক্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্টিত হয় ।অতপর রাষ্ট্রীয় কর্মসুচির সাথে একাত্ম হয়ে লাখো কণ্ঠে শরীক হয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থী-অভিভাবক সবাই একযোগে পরিবেশন করেন জাতীয় সংগীত “আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালবাসি” । অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মা, শিশু ও জেনারেল হাসপাতাল এবং মেডিকেল কলেজ- এর কার্যনির্বাহী কমিটির জেনারেল সেক্রেটারি, বিশিষ্ট চিকিৎসক, সমাজসেবক ও শিক্ষানুরাগী ডা. আনজুমান আরা ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মহিলা কাউন্সিলর শাহেদা কাসেম সাথী, মেরন সান স্কুল এন্ড কলেজের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি লায়ন সৈয়দ মো. মোরশেদ হোসেন,চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুল এন্ড কলেজের ইংরেজি বিষয়ের প্রভাষক শাহনাজ পারভীন,মেরন সান চকবাজার ক্যাম্পাসের উপাধ্যক্ষ রাজেশ কান্তি পাল, চান্দগাঁও ক্যাম্পাসের উপাধ্যক্ষ নুর কাসেম তালুকদার, মেরিট বাংলাদেশ স্কুল এন্ড কলেজের উপাধ্যক্ষ সাইফুল ইসলাম বুলবুল, মেরন সান বালিকা ক্যাম্পাসের উপাধ্যক্ষ মনোয়ারা বেগম, মেরন সান ও মেরিট বাংলাদেশ স্কুল এন্ড কলেজের চিফ একাডেমিক কো-অর্ডিনেটর শিহাব ইকবাল, প্রত্বতত্ত্ব আলোকচিত্র মিউজিয়ামের মহাসচিব সোহেল মোহাম্মদ ফখরুদ-দীন প্রমুখ। আলোচনা সভার পর আমন্ত্রিত অতিথি ও অভিভাবকদের অংশগ্রহণে আকর্ষণীয় বেলুন ফোলানো প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয় এবং অনুষ্ঠান শেষে ক্রিড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় কৃতিত্ব অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের হাতে প্রধান অতিথি পুরস্কার তুলে দেন। প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে বলেন- “শিক্ষা হচ্ছে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকের সমন্বয়ে একটি ত্রিমুখী প্রয়াস। প্রতিটি শিশুকে আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজন আদর্শ শিক্ষক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। অধ্যক্ষ ড. মোহাম্মদ সানাউল্লাহ্র নেতৃত্বে পরিচালিত মেরন সান স্কুল এন্ড কলেজ তারই এক উৎকৃষ্ট দৃষ্টান্ত। আদর্শ ও নৈতিক শিক্ষার বিস্তার ও প্রসারে এই প্রতিষ্ঠান অল্প সময়ে বৃহত্তর চট্টগ্রাম ও এর বাইরে প্রশংসিত হয়েছে । অধ্যক্ষ ড. মোহাম্মদ সানাউল্লাহ্ বক্তব্যে শিক্ষার্থীদেরকে বলেন সত্যিকারের মানুষ হিসাবে গড়ে জীবনে প্রথম হওয়ার জন্য আত্মপ্রত্যয়ী হতে হবে । আলোচনা সভা শেষে শুরু হয় মেরন সান সাংস্কৃতিক স্কোয়াডের অংশগ্রহণে শিক্ষক ইউসুফ আলী খান এর পরিবেশনায় নাচ, গান, কৌতুক ইত্যাদিতে সমৃদ্ধ মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সমগ্র অনুষ্ঠানের সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন শিক্ষক পংকজ দাশ, শওকত ওসমান ও স্বপ্না রাণী দত্ত। অনুষ্ঠানে মেরন সান স্কুল এন্ড কলেজ-এর সকল শিক্ষক-শিক্ষিকা, ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবকমণ্ডলী উপস্থিত ছিলেন।

লেমশীখালীতে ব্যবসায়ী অপহৃত

শনিবার রাত ১১টার দিকে কুতুবদিয়ার লেমশীখালী ইউনিয়নের সতরউদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশের একটি এলাকা থেকে ব্যবসায়ী আবু মুসাকে (৪৩) অপহরণ করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।

কুতুবদিয়া থানার ওসি জহিরুল ইসলাম বলেন, রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পুলিশ। বিষয়টি উপকূলরক্ষা বাহিনীকে (কোস্টগার্ড) জানানো হয়েছে। তাদের পক্ষ থেকে সাগরে অনুসন্ধান চলছে।

অপহৃতের ভাতিজা ও লেমশীখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আক্তার হোসেইন জানান, সতরউদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশের একটি এলাকায় আবু মুসার মালিকানাধীন কয়েকটি মাছ ধরার ট্রলার মেরামতের কাজ চলছিল। ২০ জনের মতো শ্রমিক সেখানে কাজ করছিলেন।

“রাতে চাচা কাজ তদারকির সময় সাগর থেকে আসা ১০/১৫ জন মুখোশধারী তাদের উপর হামলা করে। এ সময় শ্রমিকদের মারধর করে চাচাকে তুলে নিয়ে যায় তারা,” বলেন তিনি।

ওসি জহিরুল ইসলাম বলেন, মাস দুয়েক আগে ওই ব্যবসায়ীর এক ছেলে অপহৃত হয়েছিলেন। পরে এক লাখ টাকা মুক্তিপণ নিয়ে তাকে ফিরিয়ে দেয় অপহরণকারীরা। তবে কারা তাকে অপহরণ করেছিল সে বিষয়ে কিছু জানা যায়নি।

Saturday, April 26, 2014

সবকিছু ঠিক রাখলে বাংলাদেশের জন্য সুযোগ by অ্যামি ইয়ে

বাংলাদেশে কর্মস্থলে নিরাপত্তাব্যবস্থা খুবই নাজুক। এর মধ্যে ব্যতিক্রম হিসেবে চট্টগ্রামের জাহাজ প্রস্তুতকারী শিল্প ওয়েস্টার্ন মেরিনের নাম উল্লেখ করা যায়। এই প্রতিষ্ঠান শুধু দেশের জন্যই জাহাজ বানায় না, ডেনমার্ক ও জার্মানিতেও জাহাজ রপ্তানি করে।

সংবাদমাধ্যম বনাম সেনাবাহিনী by মশিউল আলম

করাচির আগা খান হাসপাতালের শল্যচিকিৎসকেরা সাংবাদিক হামিদ মিরের শরীর থেকে মোট ছয়টি বুলেট বের করেছেন। হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে হামিদ মির আবারও বলেছেন, তাঁকে হত্যা করতে চেয়েছে আইএসআই। তাঁর ছোট ভাই আমির মির বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলন ডেকে সেই অভিযোগ আবার প্রচার করেছেন।

আওয়ামী লীগ-জামায়াত-হেফাজত একাকার! by সোহরাব হাসান

সম্প্রতি ২০০ নেতা-কর্মীসহ পাবনা জেলার আতাইকুলা ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির রাজ্জাক হোসেন রাজার ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগে যোগদানের খবরটি অনেককে বিস্মিত করেছে। এ কী করে সম্ভব? যেখানে আওয়ামী লীগের নেতারা কথায় কথায় জামায়াতে ইসলামীকে রাজাকার, আলবদর, স্বাধীনতাবিরোধী, মৌলবাদী ও পাকিস্তানের দালাল বলে গালমন্দ করেন, সেখানে তাঁরা সেই দলের নেতা-কর্মীদের এভাবে সাদরে বরণ করেন কীভাবে?

অরবিন্দ কেজরিওয়াল আম আদমির খাস সম্পদ

ভারতের জাতীয় রাজনীতির ‘নতুন চমক’ আম আদমি পার্টির খাসনেতা অরবিন্দ কেজরিওয়াল। একাধারে তিনি ভারতীয় রাজনীতিতে এক নতুন ধারার জন্মদাতা, অন্যদিকে তিনি তার বেশকিছু সিদ্ধান্তের জন্য রাজনৈতিক মহলের সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা এক ব্যক্তিত্ব।

আওয়ামী লীগ-জামায়াত-হেফাজত একাকার!

আল্লামা শফীর দোয়া নিচ্ছেন মহাজোটের
শরিক জাতীয় পার্টির প্রধান এরশাদ
সম্প্রতি ২০০ নেতা-কর্মীসহ পাবনা জেলার আতাইকুলা ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির রাজ্জাক হোসেন রাজার ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগে যোগদানের খবরটি অনেককে বিস্মিত করেছে। এ কী করে সম্ভব? যেখানে আওয়ামী লীগের নেতারা কথায় কথায় জামায়াতে ইসলামীকে রাজাকার, আলবদর, স্বাধীনতাবিরোধী, মৌলবাদী ও পাকিস্তানের দালাল বলে গালমন্দ করেন, সেখানে তাঁরা সেই দলের নেতা-কর্মীদের এভাবে সাদরে বরণ করেন কীভাবে? তবে বাংলাদেশে সবকিছুই সম্ভব। পত্রিকায় দেখলাম, এখন সোনার বাংলা গড়ার দায়িত্ব নিয়েছেন হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফী; তিনি সোনার বাংলা করার জন্য সরকারকে তাঁদের ১৩ দফা দাবি মেনে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। অথচ কিছুদিন আগেও এই ধর্মীয় নেতা বর্তমান সরকারকে মুরতাদ ও নাস্তিক ইত্যাদি বলে সম্বোধন করতেন। ১১ এপ্রিল চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে হেফাজদের সম্মেলনে আহমদ শফী বলেছেন, ‘হাসিনা সরকার, আওয়ামী লীগ বলেন আর ছাত্রলীগ বলেন, সবাই আমাদের বন্ধু। এদের সঙ্গে কোনো আদাওয়াত (শত্রুতা) নাই। কেউ যদি বলে, হাসিনা সরকার আমাদের দুশমন, এটা আপনাদের বোঝাটা ভুল হবে। এদের কাউকে কোনো দিন আমি গাল দিই নাই।’ (প্রথম আলো, ১২ এপ্রিল, ২০১৪)
এর পাশাপাশি পত্রিকায় হেফাজতে ইসলামের আরও একটি খবর ছাপা হয়েছে, ১৯ এপ্রিল মানবজমিনে প্রকাশিত খবরে বলা হয়, ‘অবশেষে রেলওয়ের ৩২ কোটি টাকার জমি গিফট দেওয়া হচ্ছে হেফাজত ইসলাম নেতা আল্লামা শফীকে। হাটহাজারী মাদ্রাসার নামে দুই বছর আগেই জায়গাটিতে সাইনবোর্ড টাঙ্গিয়ে রাখা হয়েছে।...রেলওয়ের জায়গাটি নিজেদের জন্য বরাদ্দ চেয়ে কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছেন আল্লামা শফী।’ (মানবজমিন, ১৯ এপ্রিল, ২০১৪) আল্লামা শফী জমি পেয়েছেন কি না কিংবা সরকারের সঙ্গে তাঁর কোনো আঁতাত হয়েছে কি না, সেটি তিনিই ভালো বলতে পারবেন। ধর্মীয় নেতারা আইয়ুব খান থেকে শুরু করে এরশাদ পর্যন্ত সব সামরিক শাসকের খেদমত করেছেন। যদিও বর্তমানে দেশে একটা ‘গণতান্ত্রিক সরকারই’ ক্ষমতায় আছে। আমাদের জিজ্ঞাসা, জামায়াতে ইসলামী ও হেফাজতে ইসলামের ব্যাপারে আওয়ামী লীগের অবস্থানটা কী? এত দিন যে দলটি বিএনপিকে হেফাজতি-জামায়াতিদের দোসর হিসেবে গালমন্দ করে আসছে, সেই দলটি কীভাবে কট্টর সাম্প্রদায়িক দলটির নেতা-কর্মীদের ফুলের মালা দিয়ে বরণ করে নেয়। গতকাল জামায়াতের যে নেতা-কর্মীরা মওদুদীর আদর্শে উজ্জীবিত ছিলেন, আজ তাঁরা বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক হয়ে গেলেন কীভাবে? কয়েক মাস আগেও আওয়ামী লীগের নেতা ও মন্ত্রীরা আহমদ শফীকে ‘তেঁতুল হুজুর’ বলে ঠাট্টা-মশকরা করতেন। এরই মধ্যে এমন কী ঘটল যে হেফাজতের নেতা ‘শত্রু’ আওয়ামী লীগকে ‘বন্ধু’ ঘোষণা করলেন? জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীদের আওয়ামী লীগে যোগদান কিংবা হেফাজতের আমিরের বন্ধুত্বের আহ্বান দেশের রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ ঘটাবে কি না, সেটি জানার জন্য আমাদের আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে। তবে এর ফলে দেশের মুক্তচিন্তার ও মুক্তমনের মানুষের যেটুকু আশা-ভরসা ছিল, সেটুকুও তিরোহিত হবে—এ কথা নির্দ্বিধায় বলা যায়। উদ্বেগের জায়গাটা হলো, জাতীয় পার্টির সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধার কারণে সেক্যুলার আওয়ামী লীগ সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম বহাল রেখেছে। জামায়াতে ইসলামের সঙ্গে সমঝোতা হলে যুদ্ধাপরাধের বিচার বন্ধ হয়ে যাবে কি না, সেই প্রশ্নও সামনে এসেছে। সাম্প্রতিক গণজাগরণ মঞ্চ নিয়ে যে কাণ্ড ঘটেছে, তা অশনিসংকেত বলেই মনে করি।
শাহবাগের দ্বিখণ্ডিত হওয়া এবং হেফাজতের নেতার বন্ধুত্ব কামনার বিষয়টি কাকতালীয় ভাবার কারণ নেই। আতাইকুলার বাসিন্দাদের মতে, জামায়াতে ইসলামীর উল্লিখিত নেতা-কর্মীরা মামলা থেকে বাঁচার জন্য আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছেন। এই বক্তব্য সঠিক হলে প্রথম যে সত্যটি বেরিয়ে আসে, তাহলো যাঁর বিরুদ্ধে যত মামলাই থাকুক না কেন, আওয়ামী লীগে যোগ দিলে সাত খুন মাফ। তাঁর কোনো শাস্তি হবে না। দ্বিতীয়ত, আওয়ামী লীগের নেতারা জেনে-শুনে হত্যা-লুটতরাজ ও অগ্নিসংযোগের আসামিদের নিজ দলে এনে যে সাংগঠনিক শক্তি বাড়াতে চান, সেই শক্তি ভবিষ্যতে কার বা কাদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করবেন? জামায়াত নেতাদের আওয়ামী লীগে যোগদান এটাই প্রথম নয়। গত ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে কুষ্টিয়ায় জামায়াতের নেতাকে ফুলের মালা দিয়ে বরণ করে নিয়েছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ। সম্প্রতি ১৯ দলের এক সভায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া জামায়াতের নেতাদের বিরুদ্ধে প্রচণ্ড ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। আওয়ামী লীগের সঙ্গে তাঁদের আঁতাত হয়েছে বলেও তিনি সন্দেহ করে বলেছেন, জামায়াতে ইসলামী ১৯-দলীয় জোটে থাকবে কি না, সে ব্যাপারে তাদেরই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। একই সঙ্গে তিনি তাদের হুঁশিয়ার করে দিয়ে বলেছেন, আওয়ামী লীগের সঙ্গে গেলে লাভ হবে না। কাজ ফুরালে তারা ছুড়ে ফেলে দেবে। বিভিন্ন স্থানে নির্বাচনপূর্ব হত্যা, লুট, জ্বালাও-পোড়াওসহ গুরুতর অপরাধের দায়ে বিরোধী দলের, বিশেষ করে জামায়াতের যেসব নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছিল, আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতারা তা নিয়ে প্রত্যয়ন-বাণিজ্য করছেন বলে পত্রিকায় খবর এসেছে। মামলার ধরনভেদে তাঁরা মোটা অঙ্কের উৎকোচের বিনিময়ে জামায়াতে ইসলামী ও শিবিরের নেতাদের আওয়ামী লীগের একনিষ্ঠ কর্মী ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক বলে প্রত্যয়নপত্র থানায় জমা দেন। মামলা নিয়ে পুলিশ করে আটক-বাণিজ্য আর আওয়ামী লীগের নেতারা করেন প্রত্যয়ন-বাণিজ্য। মামলা করার সময় পুলিশের হিসাব থাকে, কত কম মামলায় কত বেশি আসামি দেখানো যায়। তাতে লাভ বেশি। বগুড়ায় পুলিশের এক কর্মকর্তা তো জামায়াতের নেতাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার বিনিময়ে জমি দলিল করিয়ে নিয়েছিলেন। যদিও প্রথম আলোয় সেই খবর প্রকাশিত হওয়ার পর তিনি ফেঁসে যান। এ রকম পুলিশ কর্মকর্তা যে প্রশাসনে দ্বিতীয়টি নেই, সে কথা কি সরকার জোর দিয়ে বলতে পারবে? ২০১৩ সালে যুদ্ধাপরাধের বিচার ও নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যে হাজার হাজার বিরোধী দলের নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে।

দৈবচয়নে প্রশ্নপত্র তৈরি হোক

আমাদের মতো সীমিত সম্পদের মাত্রাতিরিক্ত চাহিদার দেশে ডিজিটাল বাংলাদেশ ধারণাটি খুবই সময়োপযোগী। সম্পদের সর্বোত্তম সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করতে তথ্যপ্রযুক্তির বিকল্প নেই। তবে আমরা এই ধারণার প্রতি যে নিবেদিত, অঙ্গীকারবদ্ধ, তার প্রশ্নাতীত প্রমাণ নেই। সম্ভবত এ জন্যই কোনো কিছু ঠিকমতো না চললেই নিন্দুকেরা ডিজিটাল বলে টিপ্পনী কাটতে পছন্দ করে, যা নিশ্চয়ই ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার অনুকূলে নয়। তথ্যপ্রযুক্তির ধারাকে বেগবান করতে আমরা এই নামে মন্ত্রণালয় করেছি। তারপর ভাবলাম, যে বেগে অগ্রসর হওয়া উচিত তা নিশ্চয়ই মন্ত্রণালয় করতে পারবে না। এর জন্য প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্স তৈরি হলো, যা কদাচিৎ সভা করতে বসে। আবার সেই টাস্কফোর্সের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য আইসিটি মন্ত্রণালয়কে যোগ্য মনে করা হলো না, তাই পরিকল্পনা কমিশনে সাপোর্ট টু আইসিটি টাস্কফোর্স নামের একটি প্রতিষ্ঠান করা হলো। তারও আবার সাপোর্ট টু এস আইসিটি নামের সাহায্যকারী সংস্থা আছে। শক্তিশালী একটি খুঁটিই যথেষ্ট আর হেলানো খুঁটি, যার নিজেরই অনেক সাপোর্ট দরকার তা অনেক হলেও হয় না, যার প্রমাণ হলো আমাদের তথ্যপ্রযুক্তিসংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ড।
এ ছাড়া রয়েছে এ টু আই নামের একটি প্রতিষ্ঠান। তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে এবং সরকারের কর্মকাণ্ডে জনগণের আস্থা প্রতিষ্ঠিত হবে। তবে এ টু আইয়ের বিশেষজ্ঞদের সম্পর্কে কিছুই জানা যায় না। সুতরাং আমরাও তাদের কর্মকাণ্ডে আস্থা স্থাপন করতে পারছি না। উপরন্তু নানা আন্তর্জাতিক রেটিংয়ে আমরা ক্রমেই পিছিয়ে পড়ছি। শত শত কোটি টাকা ব্যয় করেও কোনো মানদণ্ডেই বিশ্ব তালিকায় সম্মানজনক স্থান পাওয়া যাচ্ছে না। তথ্যপ্রযুক্তির জুতসই ব্যবহারে মানুষের একটু স্বস্তি হোক, তার জন্য সবাই উন্মুখ হয়ে আছে। যা হোক আজকের বিষয়, প্রশ্নপত্র ফাঁসের গোলক ধাঁধায় পড়েছে আমাদের দেশ, তা নিচু শ্রেণী থেকে উচ্চ শ্রেণী, এমনকি বিসিএস পরীক্ষা পর্যন্ত বিস্তৃত। ভর্তি পরীক্ষা তো ডাল-ভাত। এর ঋণাত্মক প্রভাব সর্বব্যাপী, তাই দ্রুত নিরসনের প্রয়োজন। পরীক্ষার প্রশ্নপত্র যাতে ফাঁস না হয়, তার জন্য কর্তৃপক্ষ

Friday, April 25, 2014

কিছুই দিই না, শুধু নিই by আনিসুল হক

ছোট্ট ছেলেমেয়েগুলোর চোখমুখ উজ্জ্বল। দেখলে আদর করতে ইচ্ছা করে, এমন সব বাচ্চা। এসেছে প্রথম আলোর কার্যালয়ে। এদের কারও বাবা, কারও মা মারা গেছে এক বছর আগে। রানা প্লাজা দুর্ঘটনায়।
আমি ওই বাচ্চাদের মুখের দিকে তাকাতে পারি না।
এই বাচ্চাদের শিক্ষাবৃত্তি দেওয়া হচ্ছে।
একজন বাবা চোখের পানি ফেলতে ফেলতে বলেন, ‘আপনারা কত টাকা দিচ্ছেন এটা ব্যাপার নয়, আপনারা যে বলছেন, এই বাচ্চা যত দিন পড়াশোনা করবে, তত দিন আপনারা আমাদের পাশে থাকবেন, এই কথাটা কোটি টাকার চেয়ে বেশি।’
আমার বুকে ব্যথা করে।

শ্রমিকের অধিকার ও নিশ্চুপ শ্রম আইন by আদনান সৈয়দ

বাংলাদেশের শ্রম আইন, ২০০৬-এর পাতায় পাতায় শ্রমিকদের অধিকারের কথা বলা হয়েছে, কিন্তু বাস্তবে এর তেমন কোনো রকম প্রয়োগ লক্ষ করা যায় না। কলকারখানায় কাজ করতে গিয়ে শ্রমিকের মৃত্যু এখন যেন একেবারেই দুধভাতের একটি বিষয়ে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন খবরের কাগজের পাতা উল্টালেই পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে শ্রমিকের মৃত্যুসংবাদের খবরে এখন আমরা সবাই কম-বেশি অভ্যস্ত হয়ে গেছি। যে শ্রমিক তাঁদের জীবন বাজি রেখে আমাদের এই সভ্য দুনিয়ার চাকা নিত্য সচল রাখেন, দেশের বৈদেশিক অর্থের জোগান দেন এবং শিল্পোন্নয়ন ঘটিয়ে আমাদের মতন আধুনিক মানুষদের আয়েশি জীবনের সন্ধান জোগান, সেখানে খুব দুঃখজনক হলেও সত্য যে দেশের অবহেলিত সেই শ্রমিক সমাজের জীবনযাপনের মান উন্নয়নে তেমন কোনো অগ্রগতি ঘটেনি।

‘অতিমাত্রায় পলিটিক্যাল’ সিনড্রোম by আবদুল মান্নান

২০০০ সালের কথা। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার উপাচার্যের দায়িত্ব পালনের চতুর্থ বর্ষ চলছে। চিন্তা করছি, চ্যান্সেলরকে বলে পদ থেকে ইস্তফা দেব। কারণ, ইতিমধ্যে আমার দু-একজন নিকটজন চ্যান্সেলরের কাছে চিঠিপত্র দিয়েছেন এই বলে যে আমার মতো অযোগ্য উপাচার্য আর হয় না। সুতরাং, আমাকে সরিয়ে যেন তাঁদের পছন্দমতো আরেকজনকে উপাচার্য করা হয়। কারণ, আমি তাঁদের কথামতো নিয়মনীতি ভঙ্গ করে চলতে অস্বীকার করেছি। পরবর্তীকালে সেসব চিঠির কিছু কপি আমার হাতে এসেছিল এবং সেগুলোর আবেদনের ভাষা দেখে আমি অবাকও হয়েছিলাম।

রানা প্লাজা ধসের এক বছর পূর্তিতে বিজিএমইএর স্মরণসভা- এমন মৃত্যু আর নয়

রানা প্লাজা ধসের মতো আর যেন ঘটনা না ঘটে। এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন কার্মকাণ্ডের জন্য আর কেউ যেন স্বজনহারা না হয়, সন্তানেরা যেন এতিম না হয়। এমন কথা বারবার ফিরে এল রানা প্লাজা ধসের এক বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর স্মরণসভায়।

বিচ্ছিন্ন গাজার অবরুদ্ধ জীবন

গাজার জাবালা শরণার্থী শিবিরে সাত সদস্যের পরিবার নিয়ে দুই কক্ষের খুপরিতে বসবাস মোস্তাফিজের। জাতিসংঘের দেওয়া চাল, আটা, টিনজাত মাংস, সূর্যমুখী তেল, সীমিত স্বাস্থ্যসেবার ওপর বেঁচে আছে এই পরিবার। শুধু মোস্তাফিজের পরিবারই নয়, পৈতৃক ভিটা ছেড়ে শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নেওয়া এমন পরিবারগুলোর না আছে অর্থ, না আছে আয়রোজগারের কাজ। এমনকি কোনো আশাও নেই।

রানা প্লাজাধসের এক বছর- ‘পা তো দ্যাশে পাঠাইয়া দিছি’ by মানসুরা হোসাইন

রেহানা বলেন, ‘আমার পা তো দ্যাশে পাঠাইয়া দিছি। পায়ের অনেক ওজন। লুজও (ঢিলা) হইয়া গেছে। একটু হাঁটলেই মনে হয় পা খুইল্যা পইড়া যাইবো। পা কাজে লাগে না। এখন আমার হুইল চেয়ারই ভরসা।’ রানা প্লাজার ধসে আহত রেহানার বাবা নেই। মা আর ছোট দুই ভাই আছে। এক ভাই পড়াশোনা করছে, অন্য ভাই বেকার। রেহানা বর্তমানে সিআরপিতে আছেন।

মার্কেসের জনপ্রিয় চারটি বইয়ের কথা by রুহুল মাহফুজ জয়

কথাসাহিত্যের বিচিত্র সব দুনিয়া আর অলিগলির আবিষ্কারক গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস। দ্বিতীয় উপন্যাস ওয়ান হান্ড্রেড ইয়ার্স অফ সলিটিউড প্রকাশ হওয়ার পর থেকে এ যাবৎকালের সবচেয়ে পঠিত লেখক হিসেবে গণ্য। ম্যাজিক রিয়ালিজমের ওস্তাদ মার্কেজের প্রকাশিত ২২টি গ্রন্থের সবগুলোই পাঠকপ্রিয় হয়েছে। তার ভেতর থেকে সর্বাধিক জনপ্রিয় বই বেছে নেয়া কঠিন। তবে দুনিয়াব্যাপী সাহিত্যবোদ্ধারা নিুোক্ত বইগুলোকেই মনে করেন গাবোর সেরা রচনা...
১. ওয়ান হান্ড্রেড ইয়ার্স অফ সলিটিউড (১৯৬৭) :
১৯৬৭ সালে প্রকাশিত এ উপন্যাসটিই বিশ্বখ্যাতি এনে দেয় মার্কেসকে। দুনিয়ার সব প্রধান ভাষাতেই অনুদিত হয়েছে উপন্যাসটি। সাহিত্য বিশেষজ্ঞদের ধারণা, মার্কেজের নির্জনতার একশ বছর বিংশ শতাব্দীর সর্বাধিক পঠিত সাহিত্যকর্ম। সাহিত্যবোদ্ধা থেকে সাধারণ পাঠকের বহুল প্রশংসিত উপন্যাসটি বদলে দেয় ল্যাটিন আমেরিকার কথাসাহিত্যের ধারা। সাহিত্যে প্রতিষ্ঠিত হয় জাদুবাস্তবতা।
বুয়েন্দিয়া পরিবারের মাধ্যমে মাকোন্দো নামের এক পৌরাণিক শহরের উত্থান ও পতনের গল্প বলে এ উপন্যাস। যা হয়ে উঠেছে মানবজাতির বাঁচা-মরা আর হর্ষ-বিষাদের মিশেলে রচিত এক অনন্য উপাখ্যান। মাকোন্দো মার্কেজের সৃষ্ট কল্পিত শহর, কিন্তু এ উপন্যাসের জন্য ল্যাটিন সাহিত্যের তীর্থস্থান হিসেবে চিহ্নিত করা হয় এ শহরকেই! বনেদি, হাস্যরসে ভরপুর ও সুন্দর একটি পরিবারের চটকদার গল্পে, একের চোখে মানবতার সকল দিক দেখা, যা শুধু মাকোন্দোর ইতিহাস, পুরাণ, ক্রমবিকাশ আর অবক্ষয় নয়, কেউ চাইলে তা মিলিয়ে নিতে পারেন পুরো ল্যাটিন আমেরিকার সঙ্গে। মাকোন্দো মার্কেজের জাদুবাস্তবতার শহর হলেও, তা যেনো ল্যাটিন সমাজের পরতে পরতে বিদ্যমান।
প্রেম-লালসা, যুদ্ধ-বিপ্লব, ধনী-দরিদ্র, যৌবন ও বার্ধক্য, জীবনের বৈচিত্র্য আর অন্ত্যহীন মুত্যু, শান্তি আর সত্যের খোঁজ নির্জনতার একশ বছর উপন্যাসে সার্বজনীন এ থিমের প্রবল বিস্তার ঘটেছে। মার্কেস তার নিজের সরল, খাঁটি আর বিশুদ্ধ ঢঙে বর্ণনা করেছেন পুঁজিবাদের লিপ্সা, সরকারের দুর্নীতি আর আবেগময় প্রণয়। সশ্রদ্ধ ও হাস্যরসাত্মক উপায়ে রাজনৈতিক, ব্যক্তিগত আর আধ্যাত্মিক বিষয়গুলো জালের মতো বুনেছে নির্জনতার একশ বছর উপন্যাসটি। যার মাধ্যমে গল্প বলার নতুন এক ঘরানা সৃষ্টি করেছেন গ্যাবো।
২. লাভ ইন দ্য টাইম অফ কলেরা (১৯৮৫) :
গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজের সবচেয়ে সহজবোধ্য উপন্যাস হিসেবে পরিচিত। দ্য নিউইয়র্ক টাইমস উপন্যাসটিকে বর্ণিত করেছে এভাবে, সুপরিসরে লেখা সমৃদ্ধ এক উপন্যাস, যার অন্তর্নিহিত আখ্যান শক্তি দূরদর্শিতা দিয়ে উপলব্ধি করতে হবে। লাভ ইন দ্য টাইম অফ কলেরা উপন্যাসটির নামেই ইঙ্গিত আছে, এটি প্রথাগত কোনো প্রেমকাহিনী নয়। উপন্যাসে দুজন প্রেমিককে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন গাবো। ফ্লোরেন্তিনো অ্যারিযা আর ফেরমিনা দ্যাযা, দুজন জীবনের সোনালি সময়ে একে অপরের প্রেমে মজেছিলেন। কিন্তু ঘটনাক্রমে ঐশ্বর্যশালী পরিবারের সন্তান এক চিকিৎসককে বিয়ে করে ফেরমিনা, বিচ্ছিন্ন হন তারা।
এ বিচ্ছেদে ফ্লোরেন্তিনো শারীরিক-মানসিকভাবে বিধ্বস্ত হলেও তার প্রেমিক হৃদয় মরে না। এর মধ্যেই ফ্লোরেন্তিনো নিজের ব্যবসা দাড় করায়, কয়েক বছরে ৬২২ জন রমণীর সঙ্গে মিলিত হয় সে। কিন্তু ফেরমিনার জন্য তার হৃদয় কাঁদে। হঠাৎই ফেরমিনার স্বামীর মৃত্যু হয়। উদ্দেশ্যমূলকভাবেই সাবেক প্রেমিকার স্বামীর শেষকৃত্যানুষ্ঠানে হাজির হয় ফ্লোরেন্তিনো। পঞ্চাশ বছর নয় মাস চার দিন পর ফেরমিনাকে আবারো ভালোবাসার প্রস্তাব দেয়। মানুষের অঝর আবেগের বিষয় নিয়ে শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ লেখকের এক কালজয়ী উপাখ্যানের নাম লাভ ইন দ্য টাইম অফ কলেরা।
৩. দ্য জেনারেল ইন হিজ লেবরিন্থ (১৯৮৯) :
উনিশ শতকের ল্যাটিন আমেরিকার অন্যতম মুক্তিকামী নেতা সাইমন বলিভারের জীবনের শেষ কটা মাসের কল্পিত আখ্যান। স্প্যানিশ স্বৈরশাসন থেকে ল্যাটিন আমেরিকার অর্ধেক অঞ্চল মুক্ত করলেও, রাজতান্ত্রিক উচ্চাশা তাকে জনসাধারণ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়। স্বদেশ ভেনিজুয়েলা থেকে নির্বাসিত অবস্থায় একটি দ্বীপে ১৮৩০ সালে মারা যান বলিভার। আধুনিককালে যিনি অনেকের হ্যাজিওগ্রাফির বিষয়, গার্সিয়া মার্কেজের কাছে সেই বলিভার একজন মানব চরিত্র: দুর্দান্ত মেধা আর উচ্চাভিলাষী মানুষ, আশঙ্কাজনকভাবে ইতিহাসে যিনি আবার জেনারেল হিসেবে চিহ্নিত।
যে মানুষটি পুরো ল্যাটিন আমেরিকাকে এক সুতায় বাঁধতে চেয়েছিলেন সাইমন বলিভারকে নিয়ে গাবো রচিত দ্য জেনারেল ইন হিজ লিবরিন্থ উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৮৯ সালে। বলিভার, দুনিয়ার পশ্চিম গোলার্ধের অধিকাংশ মানুষের কাছে যিনি সুপার হিরো, দক্ষিণ আমেরিকার ছয়টি দেশকে যিনি পরাধীনতার শৃংখল থেকে মুক্ত করেছিলেন, মার্কেজের কলমে চমৎকারভাবে উঠে এসেছে তার ভুলগুলো। ম্যাগদালেনা নদীর সমুদ্রের দিকে যাত্রার মতো বলিভারের শেষযাত্রার সঙ্গে সঙ্গে আমেরিকা জাতিকে একত্র করার স্বপ্নও যেনো বিলীন হয়ে যায়। জোরপূর্বক ক্ষমতাচ্যুত, গুপ্তঘাতকের টার্গেট, জীবনক্ষয়ী অসুখে অকাল বার্ধক্যে ক্ষয়িত হওয়ার পরও জেনারেল একজন অতিশয় গুরুত্বপূর্ণ ও তেজস্বী মানুষ। অতীতে যুদ্ধক্ষেত্র আর প্রেমের জয়ই যেন তাকে নেতৃত্বের সাহস আর বাঁচতে দিয়েছে। ক্ষমতার ব্যর্থতা আর এক সময়ের অপরাজেয় স্মৃতি শেষ বয়সে বলিভারকে এক গোলকধাঁধায় ফেলে। সেই গোলকধাঁধার মধ্যেই বলিভারের মৃত্যু। এ মানুষটির শেষ জীবনের ট্র্যাজেডি নিপুণভাবে উঠে এসেছে গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজের দ্য জেনারেল ইন হিজ লেবরিন্থ উপন্যাসে।
৪. মেমোরিজ অফ মাই মেলানকোলি হোরস (২০০৪) :
বাংলায় তর্জমা করলে উপন্যাসটির নাম হয় আমার বিষন্ণ বেশ্যাদের স্মৃতি। সবগুলো রচনার মতো মার্কেজের প্রকাশিত সবশেষ উপন্যাসের নামকরণেও একটা আলাদা স্বর আছে। যে নিজস্বতা লেখক মায়েস্ত্রোর বড় শক্তি। সদ্যযৌবনা কুমারী এক মেয়ের সঙ্গে উন্মত্ত ভালোবাসার রাত কাটিয়ে আমি নিজেকে আমার নব্বইতম জন্মদিনের উপহার দিতে চেয়েছিলাম। এভাবেই মেমোরিজ অফ মাই মেলানকোলি হোরস শুরু; যা কিছুটা হলেও উপন্যাসটির ভেতরটা কিছুটা খুলে দেয়।
আকারে ক্ষুদ্র এ উপন্যাসের গল্প সাজানো হয়েছে একজন বেনামি, কখনোই বিয়ে বা প্রেমের সম্পর্কে না জড়ানো নব্বই বছর বয়সী একজন কলম্বিয়ান সাংবাদিক ও শিক্ষককে নিয়ে। যিনি এক ধর্মযাজকের পরিত্যক্ত বাড়িতে বাস করেন। তাকে সহায়তা করার জন্য শহরের সবচেয়ে নামজাদা পতিতালয়ের মাসি রোযা কাবারকাসকে ডাকেন। রোযা জানায়, বয়সের কারণে তার ইচ্ছাপূরণ সম্ভব নয়। তবে কিছুদিন পরেই জানানো হয়, তার জন্য দারুণ এক মেয়ে খুঁজে পেয়েছে সে।
উপন্যাসের একপর্যায়ে নায়ক উচ্চারণ করেছেন, আমি কখনও গাঁটের পয়সা খরচ করে নারীর সঙ্গে বিছানায় যাইনি। কিন্তু পঞ্চাশ বছর বয়স পর্যন্ত ৫১৪ জন নারীর সঙ্গে অন্তত একবার হলেও মিলিত হয়েছি। আমার সামাজিক জীবন বলতে কিছু ছিল না। অন্যদিকে বাবা-মা দুজনকেই হারানো ছাপোষা সাংবাদিক, ক্যারিকেচারে মজে থাকা ভবিষ্যৎহীন কুৎসিত যুবক হওয়ায় ভালোবাসার প্রতি ভয় ছিল আমার। সেই মানুষটিই জীবনের শেষ সময়ে এসে প্রেমে পড়েন ১৪ বছর বয়সী এক বালিকার। রোযার সৌজন্যে খুঁজে পাওয়া সে বালিকার সঙ্গে মিলিত হতে গিয়ে অন্যরকম এক প্রেম মজে যান তিনি। উপন্যাসের প্লট অপ্রচলিত আর প্রথাবিরোধী হলেও, মার্কেজের লেখার ধারে অনন্য এক বিষণ্নতা আর জীবনবোধের পরিচয় পান পাঠক।
এছাড়া নিউজ অফ অ্যা কিডন্যাপিং, অফ লাভ অ্যান্ড আদার ডেমনস, নো ওয়ান রাইটস টু দ্য কর্নেল : অ্যান্ড আদার স্টোরিজ, স্ট্রেঞ্জ পিলগ্রিমস, গল্প সংগ্রহ মার্কেজের অন্যান্য আলোচিত বই। আর গাবোর সমগ্র জীবনকে জানতে পড়ে ফেলুন তার আত্মজীবনী গ্রন্থ গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস : অ্যা লাইফ।

প্রিয় গাবো, কল্পরাজ্যের অধিশ্বরকে বিদায়ী কুর্নিশ by প্রিয় গাবো,

নিয়তির অমোঘ নিয়মে অবশেষে লোকান্তরিত হলেন আপনি। আমার এই চিঠি কোনো দিন আপনার কাছে পৌঁছুবে না। শুধু ভিন্ন ভাষায় লেখা বলে নয়, যে-মানুষটি বেঁচে নেই, তার কাছে এরকমভাবে চিঠি লেখা কারও কারও কাছে বালখিল্য বলে মনে হতে পারে। মনে হতে পারে মূঢ়তা কিংবা চমক দেওয়ার খেলা। এর সবই আংশিক সত্যি, কিন্তু আপনাকে নিয়ে প্রথাসিদ্ধ রীতিতে সমালোচনামূলক লেখা লিখতে ইচ্ছে হলো না। কেননা, আপনিই সেই লেখক যিনি ক্রমাগত প্রথা বা প্রচলিত রীতিকে ভেঙে নিরন্তর নতুন নতুন উপন্যাস লিখে গেছেন। রচনা করে গেছেন অসংখ্য গল্প। চিত্রনাট্য রচনাতেও সিদ্ধহস্ত ছিলেন আপনি। চলচ্চিত্রকে ভালোবাসতেন বলে আজীবন যুক্ত ছিলেন শিল্পের এই আধুনিকতম মাধ্যমটির সঙ্গে। নাটকের প্রতিও অনুরাগ ছিল আপনার। সংবাদ প্রতিবেদনকে সৃষ্টিশীল রচনা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয় না। কিন্তু এই মাধ্যমটিও আপনার প্রতিভার স্পর্শে সৃষ্টিশীলতার মহিমা পেয়ে গেছে। আসলে আপনার প্রতিভার সূচনাবিন্দু আছে, শেষকথা বলে কিছু নেই। এতটাই অনিঃশেষ আর প্রসারিত ছিল আপনার সৃজনীবোধ।
রাষ্ট্রনায়ক থেকে শুরু করে দেশে দেশে যেসব গল্পযশোপ্রার্থী ছড়িয়ে আছেন, তাদের সবার কাছেই আপনি ছিলেন সমাদৃত। কুবার কিংবদন্তী কমিউনিস্ট নেতা ফিডেল ক্যাস্ত্রোর সঙ্গে আপনার বন্ধুতাতো সবসময় সংবাদমাধ্যমগুলোর মুখরোচক কাহিনি হয়ে উঠেছে। আপনার মৃত্যুর পর সংবাদপত্রে শোকবাণীর যে স্তূপ জমেছে তার মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামারও একটা শোকবাণী আছে : পৃথিবী আজ বিশ্বের একজন স্বাপ্নিক দূরদর্শী লেখককে হারালো। বিল ক্লিনটন যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট তখন অনেকবার আপনি হোয়াইট হাউজে তার আতিথ্য গ্রহণ করেছেন। আপনার দীর্ঘদিনের বন্ধু এই রাষ্ট্রনায়ক শোকবার্তা পাঠিয়ে বলেছেন, আমি সবসময় তাঁর অনন্য কল্পনাশক্তি, পরিচ্ছন্ন ভাবনা আর আবেগিক সততার দ্বারা আচ্ছন্ন ছিলাম। অধিকাংশ প্রাজ্ঞ সমালোচকের ধারণা, জনপ্রিয়তা শিল্পের শত্র“। কিন্তু আপনি সেই লেখক যিনি একদিকে যেমন ছিলেন জনপ্রিয়, তেমনি শিল্পের শুদ্ধতম বরপুত্র।
কিন্তু খুব সহজ ছিল কী আপনার এই উত্থান? গাবোর বর্ণময় জীবনেতিহাস সেকথা বলে না। এই সেদিনও আপনার জন্মবর্ষ নিয়ে ছিল অনিশ্চয়তা। নোবেল পুরস্কার পাওয়ার চৌদ্দ বছর পর জানা গেল আপনার সঠিক জন্ম তারিখ : ১৯২৮ সাল নয়, ১৯২৭ সালের ৬ মার্চে জন্মেছিলেন আপনি। নোবেল পুরস্কার পারিষদও ব্যাপারটা খেয়াল করেনি। প্রখ্যাত মার্কিন সাময়িকী নিউ ইয়র্কার-এ ২০০১ সালে স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে আপনিই জানিয়ে দিয়েছেন সঠিক তারিখটি। ভিভির পারা কন্তারলা শীর্ষক আত্মজীবনীতে আপনি লিখেছেন, দিনটি ছিল রবিবার, বর্ষণমুখর ছুটির দিন। বারো ভাইবোনের প্রথম ভাইটির সেদিন জন্ম হয়।
মনে পড়ছে ১৯৩০ সালের প্রথম দিককার আরও একটা দিনের কথা। উত্তর কলোম্বিয়ার গ্রীষ্মমণ্ডলীয় সমুদ্র উপকূল দিয়ে ছুটে চলেছে একটা ট্রেন। ওই ট্রেনের জানালা দিয়ে বাইরের সারি সারি কলাবাগানের দিকে তাকিয়ে আছে এক তরুণী। আগের রাতে স্টিমারে চেপে, মশার কামড় খেয়ে, সিয়েনাগা জলাভূমি পেরিয়ে তবেই উঠতে পেরেছিলেন এই ট্রেনে। গন্তব্য আরাকাতাকা। কয়েক বছর আগে এই আরাকাতাকাতেই তিনি তার সদ্য-ভূমিষ্ঠ প্রথম সন্তানকে বাবা ও মায়ের কাছে রেখে স্বামী গাবরিয়েল এলিহিও গার্সিয়ার সঙ্গে পাড়ি দিয়েছিলেন র্বারানকুইলায়। সন্তানটি ছিল ছেলে সন্তান, সবাই তাকে আদর করে ডাকতো গাবিতো বা গাবো। এখন আমরা জানি, এই গাবোই হচ্ছেন আপনি, বিশ্বখ্যাত কথাসাহিত্যিক গাবরিয়েল গার্সিয়া মার্কেস। সেদিন ওই তরুণী, অর্থাৎ আপনার মা লুইসা সান্তিয়াগা মার্কেস ইগুয়ারাঁ দে গার্সিয়া আপনার নানার মৃত্যু হলে আপনাকে নিজের কাছে নিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু জন্মের কিছুদিন পর বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া মাকে সেদিন খুবই অচেনা মনে হয়েছিল আপনার। ঘরে ঢুকেই দেখলেন অনিন্দ্যসুন্দর এক রমণী দাঁড়িয়ে আছেন, মাথায় খড়ের হ্যাট, গায়ে ঢিলেঢালা পোশাক। তখন কতই-বা বয়স হবে আপনার, আট পেরিয়ে নয়ে পা দিয়েছেন মাত্র। এর আগে নানা কর্নেল নিকোলাস মার্কেস মেহিয়া আর নানী ত্রানকুইলিনা ইগুয়ারাঁ এবং নানীর বোনদের সঙ্গে চমৎকার দিন কাটছিল আপনার। নানা ছিলেন, আপনার ভাষ্য অনুসারে, চমৎকার গল্পকথক। নানীর কাছেও শুনেছেন আজগুবি সব গল্প। নানার চরিত্রটাও ছিল দারুণ চিত্তাকর্ষক। বিশশতকের প্রথম দিকে হাজার দিনের যে গৃহযুদ্ধ হয়েছিল সেই যুদ্ধে বীরের মতো যুদ্ধ করে ছোট্ট ওই শহরে কিংবদন্তী হয়ে উঠেছিলেন তিনি।
আপনার মা ছিলেন এই আরাকাতাকার অভিজাত এই কর্নেল পরিবারের দীর্ঘাঙ্গি, প্রাণচঞ্চল, সুন্দরী মেয়ে। অথচ আক্ষরিক অর্থে আপনার বাবার কোনো চালচুলো নেই। আপনার দাদী, অর্থাৎ আর্হেমিরা গারসিয়া পাতেরনিনার সন্তান তিনি। কুমারী অবস্থায় মাত্র চৌদ্দবছর বয়সে সাতাশ বছরের স্কুলশিক্ষক গাবরিয়েল মার্তিনেস গাররিদোর সঙ্গে সম্পর্কের সূত্রে আপনার বাবার জন্ম। অর্থের অভাবে পড়াশোনা ছেড়ে দিয়ে টেলিগ্রাফ অফিসে চাকরি নিয়ে এসেছিলেন আরাকাতাকায়। চমৎকার বেহালা বাজাতে পারতেন, গানের গলাটাও ছিল দারুণ, কবিতাও আবৃত্তি করতেন চমৎকার। অল্প দিনের মধ্যে দীর্ঘকায়, বুদ্ধিদীপ্ত, সুদর্শন এই যুবক রমণীমোহন হিসেবে খ্যাতি অর্জন করলেও আপনার মা ওর প্রেমেই হাবুডুবু খেতে থাকেন। অনেক চেষ্টা করে সেই সম্পর্কে চিড় ধরাতে না পেরে আপনার নানা ও নানী বিয়েটা মেনে নেন, কিন্তু বিয়ের অনুষ্ঠানে তারা উপস্থিত হননি। জেরাল্ড মার্টিন আপনার যে জীবনীটি লিখেছেন, তাতে এই প্রেমের চমৎকার বিবরণ আছে।
এতকিছুর পরও এই নানার বাড়িতেই জন্মেছিলেন আপনি। কিন্তু আপনার জন্মের কিছুদিন পর বাবা-মা দুজনেই বাররানকুইলায় চলে গেলে নানার বাড়িই হয়ে ওঠে আপনার ছেলেবেলার জমজমাট সাম্রাজ্য। নানার কাছে শোনা যুদ্ধের গল্প আর নানীর কাছে শোনা ভূত-প্রেত দৈত্য-দানোর কল্পকাহিনি আপনার মনে যে মায়াজাল বিস্তার করেছিল, পরে সেসবই নানা ভঙ্গি আর শৈলীতে উপস্থিত হয়েছে আপনার সৃষ্টিশীল রচনায়। নিজেই এপ্রসঙ্গে আমাদের জানিয়েছেন, “নির্বিকার মুখে, নানী আমাকে সারাক্ষণ আশ্চর্য ও আজগুবি সব গল্প শোনাতেন, অথচ মাথার চুল খাড়া হতো না, মনে হতো যা বর্ণনা করছেন তা যেন তিনি এইমাত্র দেখতে পেয়েছেন। আমি বুঝতে পেরেছিলাম তাঁর ওই অবিচল নির্বিকার ভঙ্গি আর তার চিত্রকল্পগুলোর ঐশ্বর্যই তাঁর গল্পগুলোকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতো। আমি একশো বছরের নিঃসঙ্গতা লিখেছিলাম আমার নানীর (গল্প বলার) কৌশল ব্যবহার করেই।”
ছেলেবেলায় এইভাবে গল্প শুনে-শুনেই কী আপনার মধ্যে লেখক হয়ে উঠবার বাসনা জেগেছিল? কোনো লেখায় বা সাক্ষাৎকারে সরাসরি এ সম্পর্কে কিছু বলেননি আপনি। কিন্তু আপনি যে লেখক হওয়ার সংকল্প নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনায় ইতি টেনেছিলেন, আÍজীবনীতে এর স্পষ্ট উল্লেখ আছে : “আজ, পঁচাত্তর বছর পেরিয়ে আসার পর মনে হচ্ছে, জীবনে যত ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি, পেশা হিসেবে লেখক হয়ে ওঠার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করাটাই ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এটাই ছিল. বলা যায়, আমার সমগ্র জীবনের গুরুত্বপূর্ণ বাঁক পরিবর্তন।” বিশ্ববিদ্যালয়ের দিনগুলোতে হিস্পানি স্বর্ণযুগের কবিতা নিয়ে আপনি মশগুল ছিলেন। আইন পড়া ছেড়ে দিয়ে গোগ্রাসে পড়তে শুরু করলেন সফোক্লিস, হেমিংওয়ে, জয়েস, উলফ, ফকনার, কাফকার লেখা। ফকনারের ইয়োকনাপাটাফার আদলেই পরে আপনার মাথায় এসেছিল মাকোন্দো নামের কল্পজনপদের কথা। সফোক্লিস পড়ে বুঝতে পেরেছিলেন রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার প্রতাপ কীভাবে ব্যক্তিমানুষের জীবনকে নিয়ন্ত্রণ করে। অন্যদিকে ফকনারের কাছ থেকে পেয়েছিলেন বাস্তবতার প্রথম পাঠ। এইসময়ে, ১৯৪৭ সালে, প্রকাশিত হলো আপনার প্রথম ছোটগল্প লা তেরেসের রেজিগনেশন (তৃতীয় ত্যাগ)। ১৯৫৫ সালে প্রকাশিত আপনার প্রথম উপন্যাস লা ওয়ারাস্কাতেও (পাতার ঝড়) আছে মাকোন্দোর উপস্থিতি। পরে এই মাকোন্দোই হয়ে উঠেছে আপনার উপন্যাসের প্রভাবশালী চরিত্র।
এইসময়েই বোহেমিয়ান জীবনটা দারুণ উপভোগ করছিলেন আপনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের পর্ব চুকিয়ে দিয়ে বিশ্বকোষ বিক্রির চাকরি কিংবা বলা যায় জীবনাভিজ্ঞতা সঞ্চয়ের জন্য কোনো জায়গাতেই থিতু হননি, এখানে সেখানে ঘুরে বেরিয়েছেন। এরকম অস্থির মুক্ত অবস্থাতেই প্রেমিকা মের্সেদেস বারখা পারদোর সঙ্গে সেরে ফেলেন আনুষ্ঠানিক বাগদান। বোগোতায় ফিরে যোগ দিলেন এল এসপেক্তাদোর পত্রিকায়। সবকিছু ছাপিয়ে সাংবাদিকতাকেই আপনার মনে হয়েছিল লেখালেখি চালিয়ে যাওয়ার উপযুক্ত পেশা। তবে সাদামাঠা অর্থে আমাদের মনে রিপোর্টারদের যে ছবি ভেসে ওঠে সেরকম সাংবাদিক ছিলেন না আপনি। সংবাদের পেছনে লুকিয়ে থাকা যে ঘটনা সংবাদের জন্ম দেয়, ব্যক্তিক বিপন্নতা বা রাষ্ট্রীয় সংকট তৈরি হয়, সেই ধরনের সংবাদের প্রতি আগ্রহ ছিল আপনার। ফলে সংবাদ নয়, সংবাদভাষ্যের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠেছিলেন আপনি। আমার অ্যাডভেঞ্চারের অন্তর্নিহিত সত্য শিরোনামে প্রকাশিত এরকম একটা সংবাদ প্রকাশের জন্য এল এসপেক্তাদোর পত্রিকাটি বন্ধ করে দেওয়া হয় আর আপনাকে দেশ ছেড়ে পাড়ি জমাতে হয় ইউরোপে।
আপনার ইউরোপের দিনগুলো ছিল অর্থনৈতিক দৈন্য, পেশাগত অনিশ্চয়তা আর রোমাঞ্চকর ঘটনায় পূর্ণ। কিন্তু যতই অনিশ্চয়তা থাকুক, অভিজ্ঞতা সঞ্চয়ে এতটুকু পিছপা হননি আপনি। কিন্তু বিস্ময়কর হচ্ছে, ইউরোপ কোনদিনই আপনাকে সেইভাবে টানেনি, তাহলে কেন এতটা ঝুঁকি নিয়ে ইউরোপ ঘুরে বেরিয়েছিলেন আপনি? আসলে কে কীভাবে ব্যাখ্যা করবেন জানিনা, আপনি যে পুঁজিবাদী-গণতান্ত্রিক, গণতান্ত্রিক-রাজতান্ত্রিক এবং সমাজতান্ত্রিক দেশগুলোকে খুব কাছে থেকে দেখে আন্তঃমহাদেশীয় রাজনীতির অন্তর্নিহিত পরিস্থিতিকে প্রত্যক্ষভাবে বুঝতে চাইছিলেন, চল্লিশ বছর বাদে নিজেই সেকথা জানিয়েছেন আমাদের : “উনিশশো ছাপ্পান্নর গোড়ায় ইউরোপে আমার চাকরি চলে যায়। চেষ্টা করলে অন্য কোনো পত্রপত্রিকার একটা কাজ হয়তো খুঁজে নেওয়া যেত। কিন্তু নিজের ভেতরকার আবেগকে মর্যাদা দিয়ে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাকে সমৃদ্ধ করার কাজে ব্যস্ত ছিলাম।”
আপনার লেখক সত্তাকে বুঝতে হলে এই রাজনীতিকে বাদ দিয়ে কখনও বোঝা যাবে না। সমগ্র লাতিন আমেরিকা জুড়ে যে স্বৈরশাসন বছরের পর বছর কোটি কোটি সাধারণ মানুষের জীবনকে বিপন্ন করে তুলেছে, হত্যা করা হয়েছে লাখ লাখ মানুষকে, আপনি ছিলেন তার বিরুদ্ধে প্রচণ্ড সোচ্চার। ইউরোপে থাকতেই আরেকটি কাজ আপনি করেছিলেন। চলচ্চিত্রের প্রতি আপনার প্যাশন সুবিদিত। এরই টানে রোমের বিখ্যাত সেন্ত্রো স্পেরিমেন্তালে দে সিনেমায় চলচ্চিত্র সম্বন্ধে
প্রাতিষ্ঠানিক পাঠ নিলেন। ভিক্তেরিও ডি সিকা, সিজার জাভাত্তিনি, ফ্রেদেরিকো ফেলিনি, অর্থাৎ ইতালীয় নব্যবাস্তববাদী বিশ্বখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতাদের সাহচর্যে এসে আপনি বুঝতে পেরেছিলেন চলচ্চিত্র হচ্ছে সেই মাধ্যম যা দুনিয়াকে বদলে দিতে পারে। চলচ্চিত্রের প্রতি এই অনুরাগের পাশাপাশি চলছিল ধারাবাহিকভাবে সাংবাদিক প্রতিবেদন লেখালেখি আর প্রকাশের কাজ।
একবার লন্ডনে ছসপ্তাহ আটকে যাওয়ায় হোটেলে বসেই লিখে ফেললেন বেশ কয়েকটি অসাধারণ ছোটগল্প। দুম করে কলোম্বিয়ায় ফিরে মের্সেদেসকে বিয়ে করে ফেললেন। মের্সেদেসের বহুদিনের অপেক্ষার অবসান হলো। কিন্তু আবার তাকে মায়ের কাছে রেখে ছুটলেন ভেনিজুয়েলায়। সেখান থেকে কলোম্বিয়ায় ফিরে কিউবা সরকারের মুখপাত্র হিসেবে বোগোতায় স্থাপন করলেন প্রেনসা লাতিনা। পরে ফিদেল ক্যাস্ত্রোর দ্বারা অনুরুদ্ধ হয়ে এরই একটা শাখা খোলার জন্য সপরিবারে ছুটলেন নিউ ইয়র্ক। কিছুদিন পর সেই দায়িত্ব ছেড়ে দিয়ে ইতিমধ্যে জন্ম নেয়া বড় ছেলে রোদরিগো আর স্ত্রীকে নিয়ে চলে গেলেন মেহিকোতে।
মেহিকোতে দারিদ্র্য ছিল আপনার নিত্যসঙ্গী। বেঁচে থাকবার জন্যে তাই শুরু করেছিলেন সিনেমার সাবটাইটেল আর চিত্রনাট্য লেখা। সময়টা ১৯৬২ সাল, এই সময়েই মেহিকোতে বসেই লিখলেন কর্নেলকে কেউ চিঠি লেখে না শীর্ষক অসাধারণ বড় গল্প বা নোভেলা। প্রকাশিত হলো প্রথম গল্পসংকলন বিগ মামাস ফ্যুন্যারেল। অনন্য বর্ণনারীতি আর লাতিন সমাজজীবনের দ্বারা সমৃদ্ধ এর গল্পগুলো বিশ্বের গল্পপাঠকদের দিল নতুনত্বের স্বাদ। ওই বছরই জন্ম নিল আপনার দ্বিতীয় পুত্র গোনসালো। চলচ্চিত্রের জন্য পর পর লিখলেন দুটি চিত্রনাট্য : তিয়েম্পো দে মোরিরে (সহচিত্রনাট্যকার কার্লোস ফুয়েন্তেস) এবং হোগো পেরিগোজো।
চলচ্চিত্র, গল্প, নোভেলা, নানা মাধ্যমে আপনার প্রতিভা বিকশিত হলেও প্রকাশিত বইগুলো তেমন বিক্রি হচ্ছিল না। দারিদ্র্য আর হতাশা তাই আপনার জীবনে এসে ভর করলো। বেঁচে থাকার জন্য কাজ নিতে হলো বিজ্ঞাপনী সংস্থায় আর জড়িয়ে পড়লেন পত্রিকা সম্পাদনার সঙ্গে। এর পর এলো সেই অভূতপূর্ব সময়। অবকাশ কাটাবার জন্যে গাড়ি চালিয়ে মেহিকো থেকে আকাপুলকোর দিকে চলেছেন আপনি। হঠাৎ আপনার মানসপটে ভেসে উঠলো কল্পিত সেই মাকান্দো জনপদের ছবি, বিগত কুড়ি বছর ধরে যা নিয়ে ভাবছিলেন আপনি। এ প্রসঙ্গে পরে স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে লিখেছেন : “অকস্মাৎ জানিনা কীভাবে যেন উপন্যাসটার সম্পূর্ণ খসড়াটা চোখের সামনে ভেসে উঠলো। আমার চিন্তাস্রোতটা এতটাই স্বচ্ছ, স্পষ্ট আর সম্পৃক্ত লাগছিল যেন আমি একের পর এক এর প্রতিটি শব্দ কোনো এক টাইপিস্টকে গড় গড় করে বলে যেতে পারছি।” সংসার আর বাচ্চাদের সব দায়-দায়িত্ব মের্সেদেসের হাতে তুলে দিয়ে অজ্ঞাতবাসে চলে গেলেন আপনি। জগৎ সংসার থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিয়ে একটানা আঠারো মাস ধরে লিখে ফেললেন আপনার স্বপ্নের উপন্যাস : শতবর্ষের নিঃসঙ্গতা। সামান্য উদরপূর্তি আর ছয় প্যাকেট সিগারেটই ছিল তখন আপনার সঙ্গী। এদিকে ধারদেনায় জেরবার মের্সেদেস। গাড়িতো বটেই, বিক্রি করতে হলো আসবাবপত্র, বাসনকোসন। প্রতিবেশীরা বুঝতে পারলো, গাবো কোনো গুরুত্বপূর্ণ লেখায় ব্যস্ত। কিছুদিন বাদে উপন্যাসটির প্রথম তিনটি অধ্যায়ের খসড়া পাঠিয়ে দিলেন বন্ধু কার্লোস ফুয়েন্তেসকে। ফুয়েন্তেসতো পড়েই রীতিমতো বিমুগ্ধ। সংবাদমাধ্যমে বলেই ফেললেন, এইমাত্র আমি আসন্ন চিরায়ত সাহিত্যের প্রথম আশি পৃষ্ঠা পড়ে শেষ করলাম।
অবশেষে আঠারো মাসের অজ্ঞাতবাস ছেড়ে বেরিয়ে এলেন আপনি। হাতে তেরোশো পৃষ্ঠার পাণ্ডুলিপি। কী কঠোর অধ্যবসায় আর পরিশ্রমই-না আপনাকে করতে হয়েছিল এই বইটি লিখবার জন্য! স্ত্রী এবং বন্ধুদের শোনাবার একপর্যায়ে শেষপৃষ্ঠায় পৌঁছে পেয়ে গেলেন উপন্যাসের নাম - সিয়েন আনিয়োস দে সোলেদাদ। প্রকাশকের কাছে পাঠাবার ডাকমাশুলও তখন আপনার নেই। বৌয়ের চুল শুকোবার যন্ত্র আর বৈদ্যুতিক স্টোভ বিক্রি করে জোগাড় করতে হলো সেই টাকা। ১৯৬৭ সালের জুন মাসে আর্হেন্তিনার বুয়েনোস আইরেসের সুদামেরিকানা প্রকাশনা সংস্থা থেকে বেরুলো সিয়েন আনিয়োস দে সোলেদাদ। প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে সারা লাতিন আমেরিকা জুড়ে হৈচৈ পড়ে গেল। প্রথম সপ্তাহে বিক্রি হলো আট হাজার কপি, এর পর প্রতিমাসে কয়েকটি মুদ্রণ। তিন বছরে বিক্রি হলো পাঁচ লাখ বই। ১৯৭০ সালে গ্রেগরি রাবাসার অনুবাদে বেরুলো এর ইংরেজি অনুবাদ : ওয়ান হান্ড্রেড ইয়ার্স অব সলিচ্যুড। গত পঁয়তাল্লিশ বছরে পৃথিবীর এমন কোনো ভাষা নেই যে ভাষায় উপন্যাসটি অনূদিত হয়নি। ইংরেজি অনুবাদসহ এ পর্যন্ত এই বইয়ের বিক্রির সংখ্যা প্রায় আড়াই কোটি। এই উপন্যাসটির রাষ্ট্রীয় ও সাহিত্য পুরস্কার যেমন জুটেছে, তেমনি আপনাকে যুক্তরাষ্ট্রের কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় সম্মানসূচক ডিলিট উপাধিতে ভূষিত করেছে। মারিও ভার্গাস ইয়োসা আপনার জীবনের প্রথম তেতাল্লিশ বছরকে নিয়ে লিখে ফেললেন একটি বই। এরপর সাড়া পৃথিবী জুড়ে এই উপন্যাসটিকে সর্বকালের সেরা উপন্যাস বা মাস্টারপিস হিসেবে স্বীকৃতি পেতে তেমন দেরি হয়নি। অর্থ, খ্যাতি আর পুরস্কারের মধ্যে যখন আপনি ডুবে যাচ্ছেন, তখনই স্বৈরাচারের চেহারা চাক্ষুস প্রত্যক্ষ করবার জন্য চলে গেলেন ফ্রাঙ্কোর স্পেনে। কী সাহস আপনার!
বিশ্বসাহিত্যের পাঠকমাত্রই আমরা জানি, লাতিন আমেরিকার কথাসাহিত্যের প্রধান অংশ জুড়ে আছে স্বৈরাচারের বিচিত্র প্রসঙ্গ। এই স্বৈরাচারের চমৎকার ছবি পাওয়া যায় আপনার কুলপতির হেমন্তকাল উপন্যাসে। একসময়ের দোর্দণ্ড প্রতাপের স্বৈরাচারী শাসক কীভাবে একাকীত্বের মধ্যে নিঃশেষ হয়ে যেতে পাওে, এতে আছে সেরকমি একটা গল্প। ব্যক্তিমানুষের এই সংকট, বিশেষ করে নারীর হাতে নারীর বা পুরুষের দ্বারা নারীলাঞ্ছনার দুঃসহ কাহিনি হচ্ছে আপনার বেচারি এরেন্দিরা আর তারহিৃদয়হীন দাদীমার অবিশ্বাস্য করুণ কাহিনি। দেশপ্রেম ও স্বপ্নভঙ্গের কাহিনি হিসেবে আপনার গোলকধাঁধায় সেনাপতি উপন্যাসটিও অসাধারণ।
ভাবতে অবাক লাগে, আপনি শুধু কলোম্বিয়া নয়, হয়ে উঠেছেন সমগ্র লাতিন আমেরিকার কণ্ঠস্বর। সমগ্র মহাদেশের মানুষ সেই ঔপনিবেশিক কাল থেকে যে অবিশ্বাস্য নিপীড়িন, নির্যাতন, হত্যা, লুণ্ঠন, ধর্ষণের দ্বারা মানবেতর জীবনযাপন করে আসছে, সেই নির্মম বাস্তবতারই করুণ ছবি কথাসাহিত্যে তুলে ধরেছেন। নোবেল পুরস্কার গ্রহণের মুহূর্তেও এসব কথা ভুলে যাননি আপনি। সেই সঙ্গে আপনার গুরু ফকনারের মতোই উচ্চারণ করেছিলেন মানুষের অজেয় সম্ভাবনা ও মুক্তির কথা : “এই ভয়াল বাস্তবতার সামনে - সমস্ত মানুষী কালে যাকে মনে হয়েছিল নিছক কোনো কল্পলোক বলেই, আমরা যারা কথা বানাই, কাহন গড়ি, আমরা তবু কিন্তু বিশ্বাস করি সবকিছু, বিশ্বাস করবার দাবি ও অনুভূতি রাখি যে এখনও এক বিকল্প/বিরুদ্ধ কল্পরাজ্য গড়বার কাজে আত্মনিয়োগ করার সময় আছে - এখনও সময় চলে যায়নি।” একশো বছরের রাজনৈতিক নিঃসঙ্গতার দণ্ড পেয়ে যে মহাদেশের মানুষ ভেঙে পড়েছে, সেই মানুষকেই আবার উঠে দাঁড়াবার আহ্বান জানালেন আপনি।
কিন্তু প্রশ্ন করতে ইচ্ছে হয়, এ কী শুধু একমহাদেশের কথা? নাকি আপনি নির্যাতিত বিশ্বমানবতার কথা ধনিত হলো আপনার কণ্ঠে? জানি, আজ আর এই প্রশ্নের সরাসরি উত্তর পাওয়া যাবে না, যা কিছু উত্তর তা উৎকীর্ণ হয়ে আছে আপনার লেখা রচনাবলিতে, বিশেষ করে কথাসাহিত্যে। সেই মর্মবাণীটি হলো - মানুষ অজেয়, মানবের কোনো অবসান নেই। এই হচ্ছে আপনার অসাধারণত্ব, এই হচ্ছে সর্বকালের সেরা কথাসাহিত্যিক গাবরিয়েল গার্সিয়া মার্কেস, যার দেহ নশ্বর, কিন্তু ভাবনা মানবিক জয়গাথা হিসেবে অবিনশ্বর হয়ে থাকবে।
গাবো, আপনাকে কুর্নিশ করে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছি।