Friday, June 1, 2012

চারদিক-সাগরপাড়ের খুদে গানওয়ালা by বিপাশা চক্রবর্তী

কক্সবাজারে পা দিতেই উত্তাপ কামড় বসাল গায়ে। তখন মধ্যদুপুর। ঘোরাঘুরির জন্য বিকেল তো আছেই। সুদূর ঢাকা থেকে সমুদ্র টেনে এনেছে এত দূর। এখন হাতের কাছেই সাগর, নিরন্তর ঢেউয়ের গর্জন, সৈকতের পবন (বিলাতি ঝাউ) ঝাউয়ের বাগান আর ধু ধু বালিয়াড়ি। দেখতে দেখতে বিকেল নেমে এল। কিন্তু রোদের তেজ কমল না।

পোষাক শিল্প-২২০০ ক্যালরি ও বাঁচার মতো মজুরি by তানভীর মোকাম্মেল

সকালে কী খেয়ে এসেছ?—‘ভাত আর খেসারির ডাল।’ দুপুরে যেয়ে কী খাবে?—‘ভাত আর আলু-তরকারি।’ রাতেও কি ভাত খাবে?—‘না’। বলল খুরশীদা, ‘ফ্যাক্টরি থেকে এত রাতে বাসায় ফিরে আর রাঁধতে ইচ্ছে করে না। রাতে তাই পাউরুটি খাব।’ শুধু পাউরুটি? —‘না, চিনি দিয়ে।’

পরিবেশ-১৫ হাজার গাছের প্রাণভিক্ষা চাই by পাভেল পার্থ

বনবিভাগ, গণমাধ্যম ও পরিবেশকর্মীদের তীব্র আপত্তি সত্ত্বেও কক্সবাজারের দক্ষিণ বন বিভাগের আওতাধীন টেকনাফ উপজেলার জাহাজপুরা সংরক্ষিত বনের ভেতর দিয়ে পাকা সড়ক নির্মাণের জন্য প্রায় ৩৬টি প্রবীণ গর্জন বৃক্ষের মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করেছিল স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদপ্তর।

দেশহীন মানুষের কথা-ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী নয়, আদিবাসীরা আত্মপরিচয়ে মানুষ by সঞ্জীব দ্রং

বিচারপতি মোহাম্মদ গোলাম রাব্বানী (অব.) মহোদয়কে তাঁর আদিবাসী নাম-বিতর্ক লেখাটির জন্য ধন্যবাদ ও অভিনন্দন। লেখাটি প্রথম আলোয় ২৫ জুন ছাপা হয়েছে। বলতে গেলে, জোরালো ভাষা ও শব্দ ব্যবহার করে তিনি আদিবাসী বিতর্ক যাঁরা নতুন করে তুলেছেন, তাঁদের জবাব দিয়েছেন।

জরিমানাতেই নিষ্পত্তি!-ধর্ষণের বিচার

মাদারীপুরের কালকিনিতে ১২ বছরের এক কিশোরী ধর্ষণের বিচার করা হয়েছে এক সালিস বৈঠকে। স্থানীয় মাতবরেরা ধর্ষণের দায়ে অভিযুক্ত যুবককে জরিমানা করেছেন ৩০ হাজার টাকা। কয়েকজন প্রভাবশালী মিলে ঠিক করে দিলেন এক কিশোরীর শরীর ও তার লাঞ্ছনার মূল্য! রাষ্ট্রের প্রচলিত আইনে এমন বিচার নিষিদ্ধ।

প্রতিবাদ জানানোর শান্তিপূর্ণ পন্থা আছে-গুজব ও বিশৃঙ্খলা

গত শনিবার বিকেলে গাজীপুরের ভোগড়া এলাকায় উত্তেজিত কিছু মানুষ ঢাকা বাইপাস সড়ক ও ঢাকা-ময়মনসিংহ সড়ক অবরোধ করে যেভাবে শতাধিক গাড়ি ভাঙচুর করেছে, তা এককথায় চরম দায়িত্বহীনতার পরিচায়ক। বিভিন্ন সময় সড়ক অবরোধ বা গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা যে এ দেশে ঘটে না, তা নয়; কিন্তু সেসবের পেছনে কিছু না কিছু কারণ,

মানুষের মুখ-সব থেকেও কিছু নেই যাঁর by শর্মিলা সিনড্রেলা

মামার বাড়ি বেড়াতে গেছি। বিকেলবেলা খুব মন খারাপ। কী যে করি! বন্ধু সুর আর মামা মোস্তাকের সঙ্গে হাঁটতে হাঁটতে চলে গেছি চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর থানার চৌডালার ছোট্ট একটা ব্রিজে। মাথার ওপর বিস্তৃত আকাশ আর পায়ের নিচে সীমাহীন জল দেখে নিমেষেই ভালো হয়ে যায় মন। মামার আরও কিছু বন্ধুবান্ধব এসে জড়ো হয়েছেন ইতিমধ্যেই।

রমণীয় নয়-রাষ্ট্রের দায় কেন নারীর জরায়ুতে চাপিয়ে দেওয়া? by মালেকা বেগম

নারীবান্ধব প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক কয়েকটি নীতিগত ঘোষণার বিষয়ে চিন্তিত হতে বাধ্য হয়েছি। রাষ্ট্রের প্রধান অবস্থান থেকে প্রধানমন্ত্রী যখন কোনো বক্তব্য দেন, ঘোষণা দেন, তখন আমরা গুরুত্ব দিয়ে সেই বিষয়ে বিশ্লেষণ করি, সুদূরপ্রসারী ফলাফলের বিষয়ে বাস্তব পদক্ষেপ কী হতে পারে, সেসব নিয়েও আমরা না ভেবে পারি না।

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান-এমপিওভুক্তির ত্রুটিগুলো দূর করতে হলে by সৈয়দা শামসে আরা হোসেন

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিভুক্তি সম্পর্কে সম্প্রতি অনেক লেখালেখি হয়েছে। বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, কর্মচারী পদে প্রতি মাসে বেতন-ভাতা বাবদ সরকারি অর্থ স্থানান্তর করার পদ্ধতির নামকরণ হয়েছে ‘মান্থলি পেমেন্ট অর্ডার’, সংক্ষেপে এমপিও।

ঝুঁকিপূর্ণ পেশা-নজরুলদের নীরব মৃত্যু by মশিউল আলম

১১ জুন ‘বার্ন ইউনিটের পোড়া কপাল’ শিরোনামের লেখায় একজন নজরুলের কথা উল্লেখ করেছিলাম। ২৫ বছর বয়সী তরুণ। দরিদ্র নির্মাণশ্রমিক। তাকে প্রথম দেখেছিলাম জুনের ৬ তারিখে, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে; নিমতলী অগ্নিকাণ্ডের শিকার হওয়া রোগীদের দেখতে গিয়ে। নজরুল অবশ্য নিমতলীর রোগী ছিল না।

বিশেষ সাক্ষাৎকার-যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের এখনই উপযুক্ত সময় by পিটার কাস্টার্স

বুদ্ধিজীবী ও সমাজবদলের কর্মী পিটার কাস্টার্সের জন্ম ১৯৫০ সালে, হল্যান্ডের ছোট্ট শহর রুরমন্সে। ১৯৭৩ থেকে ’৭৬ সাল পর্যন্ত পিপলস ডেইলি, দ্য নিউ আমস্টারডামসসহ হল্যান্ডের প্রধান জাতীয় দৈনিকগুলোর বাংলাদেশ প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেছেন।

স্কুলের জমিতে মার্কেট বানানোর ‘সদ্ব্যবহার’ বন্ধ করুন-‘পরের জায়গা পরের জমি...’

জায়গাটি স্কুলের, কিন্তু তাতে বিএনপি করেছিল দলীয় কার্যালয় আর এখন আওয়ামী লীগ করেছে মার্কেট। মরমি গানের কথায়, ‘পরের জায়গা পরের জমি, ঘর বানাইয়া আমি রই/ আমি তো সেই ঘরের মালিক নই।’ দেখেশুনে মনে হয়, মালিকানা কার সেটা বড় নয়, বড় হলো কে দখলে রাখতে পারে! দলিল বড় নয়,

সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে হবে-অ্যামনেস্টির আহ্বান

গত ২৭ জুন হরতালের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ করেছেন বলে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল যে অভিযোগ করেছে, তা নাকচ করার সুযোগ নেই। এ ব্যাপারে সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া না গেলেও ক্ষমতাসীন দলের একাধিক দায়িত্বশীল নেতা ও মন্ত্রীর কথায় তার সত্যতা পাওয়া গেছে।

চারদিক-ফ্ল্যাটের বারান্দায় কাকের বাসা by কাজী আলী রেজা

বর্জ্যভুক প্রাণী কাক মানুষের অনেক উপকার করলেও এরা আমাদের পোষা পাখির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত নয়। নোংরা খাদ্যাভ্যাস, কর্কশ কণ্ঠ বা গায়ের রঙের কারণে হয়তো ওরা আমাদের অনেকের বিরক্তির কারণ। তাই কাক সম্ভবত বাসা বাঁধে মানুষের নাগালের বাইরে, গাছের মগডালে। তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে যে এর ব্যত্যয় ঘটে না, এমন নয়।

কালের পুরাণ-পাকিস্তানি নেত্রীর কণ্ঠে ‘জয় বাংলা’ এবং যুদ্ধাপরাধের বিচার by সোহরাব হাসান

পাকিস্তান সরকার যখন একাত্তরে সংঘটিত যুদ্ধাপরাধের দায় অস্বীকার করে চলেছে, দেশের ভেতরেও মতলববাজেরা ‘পুরোনো বিষয়’ নিয়ে জাতিকে বিভক্ত না করার উপদেশ দিচ্ছে, তখন পাকিস্তানি নাগরিকসমাজের দুই প্রতিনিধির বাংলাদেশে এসে যুদ্ধাপরাধের বিচারের দাবির সঙ্গে সংহতি প্রকাশ নিঃসন্দেহে আমাদের সাহসী করে তোলে।

সুশাসন-জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের স্বাধীনতা প্রশ্নবিদ্ধ by সাঈদ আহমেদ

একটি শক্তিশালী, স্বাধীন ও নিরপেক্ষ জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের আকাঙ্ক্ষা বহুদিন ধরে লালন করে আসছে দেশের মানুষ। সেই আশা-আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে আন্তর্জাতিক সমপ্রদায়ের আগ্রহ সব সময় মেলে না। কিন্তু জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের ক্ষেত্রে সেই মেলবন্ধনটা ছিল।

প্রতিক্রিয়া-ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান বিল

সম্প্রতি ‘নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান বিল, ২০০৯’ পরীক্ষাকরণ-সংক্রান্ত সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি বিলের কিছু বিষয় সংশোধনের জন্য সুপারিশ করে। এগুলোর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ হলো, ‘নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান বিল, ২০০৯’-এর স্থলে এ বিলটির নাম হবে ‘ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান বিল, ২০১০’।

বিশ্ব অর্থনীতি-একুশ শতকের মহামন্দা by পল ক্রুগম্যান

মন্দা (রিসেশন) সচরাচর দেখা যায়, কিন্তু মহামন্দার (ডিপ্রেশন) দেখা মেলে কদাচিৎ। আমি শুধু এতটুকুই বলতে পারি যে অর্থনৈতিক ইতিহাসে মাত্র দুবার এমন অবস্থা তৈরি হয়েছিল, যাকে সেই সময় ব্যাপকভাবে ‘মহামন্দা’ বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে: ১৮৭৩ সালের আতঙ্ক-পরবর্তী মূল্য সংকোচন ও অস্থিতিশীলতার বছরগুলোতে একবার,

যুক্তি তর্ক গল্প-ভুল বা বিলম্বের সুযোগ কম by আবুল মোমেন

নব্বইয়ের গণ-আন্দোলনের মাধ্যমে স্বৈরাচারের পতন ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা চালু হওয়ার পর থেকে প্রতিটি নির্বাচনেই জনগণ সরকারের পরিবর্তন ঘটিয়েছে। অর্থাৎ কোনো দলই পরপর দুই মেয়াদে সরকার গঠন করতে পারেনি, বড় দুই দলের মধ্যে ক্ষমতার পালাবদল ঘটছে।

আইন অমান্য করতে পারেন না আইনি সংস্থার সদস্যরাও-পুলিশি হেফাজতে মৃত্যু

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের হেফাজতে আসামির মৃত্যু তথা বিচারবহির্ভূত হত্যা নিয়ে দেশে-বিদেশে ব্যাপক প্রতিবাদ হওয়া সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ন্যূনতম চৈতন্যোদয় ঘটেছে বলা যাবে না। রাজধানীর রমনা থানায় পুলিশের হেফাজতে মারা যান বাবুল গাজী নামের অটোরিকশাচালক।

নির্বাহী বিভাগের দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে হবে-৩১ কর্মকর্তাকে হাইকোর্টে তলব

তিন মাসে ৩১ জন সরকারি কর্মকর্তার হাইকোর্টে হাজির হওয়ার ঘটনা সাধারণভাবে প্রমাণ করে যে বিচার বিভাগের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে জনপ্রশাসন অস্বস্তি অনুভব করছে। তাঁদের অনেকেই নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন। আদালত অনেক ক্ষেত্রে অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে উল্লেখযোগ্য সময় দাঁড় করিয়ে রাখছেন। সাম্প্রতিককালে এ ধরনের কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে।

পারমাণবিক দুর্ঘটনার দায় বিদেশী অপারেটরদের

সংসদ রিপোর্টার: বিদেশী অপারেটরদের পারমাণবিক দুর্ঘটনা-সম্পর্কিত দায়ের আওতায় রেখে জাতীয় সংসদে ‘বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ বিল-২০১২’ পাস হয়েছে। গতকাল সংসদে বিলটি পাসের প্রস্তাব করেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান। এ সময় বিএনপি নেতৃত্বাধীন বিরোধীদলীয় এমপিরা অনুপস্থিত ছিলেন। এর আগে বিলের ওপর দেয়া সংশোধনী, জনমত যাচাই ও বাছাই কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাব নাকচ হয়।  বিলে প্রযুুক্তি চুরি এবং গুপ্তচরবৃত্তির জন্য কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। গত ২৭শে মে বিলটি সংসদে উত্থাপন করা হয়। পরে এটি পরীক্ষা করে সংসদে রিপোর্ট দিতে সংসদীয় কমিটিতে পাঠানো হয়। বুধবার বিলটির ওপর সংসদে রিপোর্ট জমা দেয় কমিটি। বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী বলেন, পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ আইন প্রবর্তন হলে বাংলাদেশে পারমাণবিক শক্তির শাস্তিপূর্ণ ব্যবহারের পথ প্রশস্ত হবে। এতে রাশিয়ার সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী, পাবনার রূপপুরে পারমাণবিক বিদুৎকেন্দ্র নির্মাণকাজ ত্বরান্বিত হবে। তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমানে সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও পরমাণু শক্তি ও বিকিরণ উৎসের ব্যবহার ক্রমাগত বাড়ছে। বাংলাদেশে পরমাণু শক্তি ও বিকিরণ নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে ১৯৯৩ সালে পারমাণবিক নিরাপত্তা ও বিকিরণ নিয়ন্ত্রণ আইন প্রণয়ন করা হয়। ১৯৯৭ সালে এ আইনের অধীনে পারমাণবিক নিরপত্তা ও বিকিরণ নিয়ন্ত্রণ বিধিমালার মাধ্যমে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন এককভাবে পারমাণবিক নিরাপত্তা ও বিকিরণ নিয়ন্ত্রণের জন্য বাস্তবায়নকারী ও নিয়ন্ত্রণকারী হিসেবে দ্বৈত ভূমিকা পালন করছে। যা আন্তর্জাতিক চাহিদার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।’ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আন্তর্জাতিক মান ও চাহিদার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে একটি স্বাধীন পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা করার, নিউক্লীয় দায় ও পরিধি নির্ধারণ এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় সংক্রান্ত বিধান করতে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার গাইডলাইন ও কারিগরি  মতামত, দেশীয় বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে বিলের খসড়া করা হয়েছে।’ বিলের ৪৩ ধারায় বলা হয়েছে, ‘এই আইনের বিধানাবলী সাপেক্ষে যেখানেই ক্ষতি সংঘটিত হোক না কেন, নিউক্লীয় স্থাপনার অপারেটর বা বিদেশী অপারেটর কেবল নিউক্লীয় ক্ষতির জন্য দায়ী হবে। তবে প্রমাণিত হতে হবে যে ওই ক্ষতি অপারেটর বা বিদেশী অপারেটর কর্তৃক পরিচালিত নিউক্লীয় স্থাপনায় কোন ঘটনার ফলে সংঘটিত হয়েছে। কোন পদার্থ চুরি হলে তার দায়ও সর্বশেষ অপারেটরের ওপর বর্তাবে। বিলে বলা হয়েছে, একজন চেয়ারম্যান ও চারজন সদস্য নিয়ে পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ গঠন হবে। কর্তৃপক্ষের কাজ হবে নিউক্লীয় নিরাপত্তা, বিকিরণ সুরক্ষা, সিকিউরিটি, আমদানি ও রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ এবং ভৌত সুরক্ষা-সম্পর্কিত বিধান যথাযথভাবে পালন হচ্ছে কিনা, তা নিশ্চিত করা। মাটি, পানি ও বায়ু এবং মানুষ ও জীবজন্তুর আহার জাতীয় বস্তুর ওপর তেজষ্ক্রিয়ার মাত্রা নির্ধারণও কর্তৃপক্ষের কাজ হবে। বিলে কর্তৃপক্ষের ৩৬টি কাজের বিষয়ে বলা হয়েছে। বিলের ৬৬ ধারায় বলা হয়েছে, সরকারের অনুমতি নিয়ে কর্তৃপক্ষ নিউক্লীয় নিরাপত্তা এবং বিকিরণ সুরক্ষায় জাতীয়, আন্তর্জাতিক, আঞ্চলিক এবং বিদেশী সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান বা এজেন্সির সঙ্গে সহযোগিতা চুক্তি করতে পারবে। বিলের ৫৩ ধারায় এ আইনের অধীন অনুমোদন গ্রহণ করা ব্যক্তি বিধিনিষেধ লঙ্ঘন করলে সর্বনিম্ন এক বছর ও সর্বোচ্চ ৭ বছর সশ্রম কারাদণ্ড বা নর্বনিম্ন ১০ লাখ টাকা থেকে ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। এছাড়া বিলে আরও কিছু শাস্তির বিধান উল্লেখ করা হয়েছে। নিউক্লীয় স্থাপনায় কোন ব্যক্তি ইচ্ছাকৃত হামলা করলে তা অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করলে সর্বনিম্ন পাঁচ বছরের ও সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন। অথবা সর্বনিম্ন ৩০ লাখ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন। স্বতন্ত্র এমপি ফজলুল আজিম বিল নিয়ে কথা বলতে চাইলে সময় বৃদ্ধি না করায়  ওয়াক আউট করেন।

সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের দাফন সম্পন্ন, এলাকায় শোকের মাতম

শরীয়তপুর প্রতিনিধি: সড়ক দুর্ঘটনায় শরীয়তপুরে একই পরিবারের ৯ জনের লাশ বুধবার রাতে ও গতকাল দুপুরে দাফন করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে এখনও চলছে পুরো ইউনিয়নে শোকের মাতম। সমবেদনা জানাতে আসছে হাজার হাজার নারী-পুরুষ ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ। নিহতদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে আজ চেয়ারম্যানের বাড়িতে ও সখিপুর থানা বিএনপির পক্ষ থেকে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। বুধবার মুন্সীগঞ্জের আব্দুল্লাহপুর কদমতলা নামক স্থানে শরীয়তপুর জেলার ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুর থানার আর্শিনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও সখিপুর থানা বিএনপির সভাপতি চর ফেলিজ গ্রামের জাকির হোসেন সরদারের স্ত্রীসহ পরিবারের ৯ জন মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই মারা যান। বাকি ৩ জনকে গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতালে নেয়ার পর মারা যান। নিহতরা হলেন, জাকির সরদারের স্ত্রী বেবী (৪৫), মেয়ে নবম শ্রেণীর ছাত্রী দিলরুবা আক্তার লুবনা (১৫), বোন রোজিনা আক্তার (৩৮), আরেক বোন মিনা বেগম (৫০), ভগ্নিপতি লেলিন (৪০), ভাগিনা নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞানের ৩য়বর্ষের ছাত্র বাবু (২৫), ভাগিনা  ইয়াস (১০), ভাগ্নি তানজিয়া আক্তার মনি (১১), কাজের মেয়ে খুশি আক্তার (১৫), আরেক ভাগ্নে ২ বছরের শিশু ইসরাত ও আরেক কাজের মেয়ে স্বপ্না (১২)সহ ১২ জন। ড্রাইভারের নাম জানা যায়নি। ঢাকায় জানাজা শেষে ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুর থানার আর্শিনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও সখিপুর থানা বিএনপি’র সভাপতি চর ফেলিজ গ্রামের জাকির হোসেন সরদারের স্ত্রী বেবী, মেয়ে লুবনা, কাজের মেয়ে খুশি, বড় বোন ফেরদৌসি আক্তার মিনা, ভাগিনা বাবুকে চেয়ারম্যানের চর ফেলিজ গ্রামের বাড়ি ও ভাগিনা তাজিন কোদালপুরের খানপাড়া গ্রামে, ছোট বোন রোজিনা আক্তার, ভাগ্নিপতি লেলিন ভাগ্নি ইয়াস, ভাগ্নি তানজিয়াকে ঢাকার মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। দু’দিন ধরে নিহতদের পবিারসহ পুরো ইউনিয়নেজুড়ে চলছে শোকের মাতম। চেয়ারম্যান জাকির সরদার বারবার বিলাপ করতে করতে মূর্ছা যাচ্ছেন। তাকে সান্ত্বনা ও সমবেদনা জানাতে আসছে হাজার হাজার নারী-পুরুষ ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ। নিহতদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে আজ চেয়ারম্যানের বাড়ি ও সখিপুর থানা বিএনপি’র পক্ষ থেকে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত পরিবারদের প্রতি সমবেদনা জানান সাবেক এমপি শফিকুর রহমান কিরন, সাবেক এমপি সরদার একেএম নাসির উদ্দিন কালু, বিএনপি নেতা আলতাফ মাহমুদ সিকদার সিরাজুল হক মোল্লা, শাহ মোহাম্মদ আব্দুস সালাম, আরিফ-উজ্জামান মোল্লা, কাজী আমির হোসেন টমাস, হাজী বাচ্চু সরদার, মাহবুব আলম খায়েরসহ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।

মহেশখালীতে বন্দুকযুদ্ধ অস্ত্রসহ আটক ১

স্টাফ রিপোর্টার, কক্সবাজার থেকে: কক্সবাজার জেলার মহেশখালীতে ২ সন্ত্রাসী বাহিনীর মধ্যে ৩ ঘণ্টাব্যাপী বন্দুকযুদ্ধে। উভয়পক্ষের অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছে। গতকাল সকালে উপজেলার হোয়ানকে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় স্থানীয় জনতা এক সন্ত্রাসীকে অস্ত্রসহ আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। এলাকাবাসীরা জানায়, মহেশখালীর হোয়ানকের পাহাড়ি এলাকায় দু’টি সন্ত্রাসী বাহিনীর মধ্যে গতকাল সকাল ৭টায় বন্দুকযুদ্ধ শুরু হয়। ওই সময় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সকাল ১০টা পর্যন্ত চলা এ বন্দুকযুদ্ধে শতাধিক রাউন্ড গুলিবিনিময়ের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। স্থানীয়রা জানান, বুধবার সন্ধ্যায় পাহাড়ে পানের বরজের ভেতর এক যুবককে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে এক পক্ষ।  এ ঘটনা নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। এরই জের ধরে গতকাল সকালে স্থানীয় জুনাব আলী বাহিনী ও জালাল বাহিনীর ক্যাডাররা পূর্বঘোষণা দিয়ে বন্দুকযুদ্ধে লিপ্ত হয়। উভয়পক্ষে অর্ধশতাধিক ক্যাডার দেশীয় বন্দুক নিয়ে গোলাগুলিতে অংশ নেয়। এ সময় কাঁঠালতলী ও কালাগাজির পাড়ার দু’পক্ষের নিয়ন্ত্রিত দু’টি এলাকায় প্রায় ৩ ঘণ্টাব্যাপী বন্দুকযুদ্ধ চলে। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনাও ঘটে। এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধসহ উভয়পক্ষে অন্তত ২৫ জন আহত হয়। আহতরা বহু মামলার আসামি হওয়ায় চকরিয়া ও চট্টগ্রামে গোপনে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে জানা গেছে। স্থানীয়রা জানান, বন্দুকযুদ্ধ চলাকালে এলাকার পাহাড়ে অবস্থিত বহু পানের বরজ ভাঙচুর করা হয়। এ সময় স্থানীয় জনতা জুনাব আলী বাহিনীর প্রধান জুনাব আলীর ভাই গোলাম কুদ্দুছের ছেলে রবি উল্লাহ (১৮)কে অস্ত্রসহ আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। এ সময় তার কাছ থেকে দেশীয় একটি কাটারাইফেল ও ২ রাউন্ড গুলিও উদ্ধার করা হয়। উল্লেখ্য, প্রায় ৩ মাস আগে একই স্থানে সন্ত্রাসীদের গুলিতে মহেশখালী থানার এসআই পরেশ কুমার কারবারী নিহত হন। হোয়ানকে ২ সন্ত্রাসী বাহিনীর মধ্যে বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা নিশ্চিত করেছেন মহেশখালী থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) রণজিৎ কুমার বড়ুয়া। তিনি বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে এসআই পরেশ হত্যা মামলার এক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সন্ত্রাসীদের ধরতে পুলিশ অভিযান অব্যাহত রেখেছে।

মানিকগঞ্জে ব্যাবসায়ীর টাকা ছিনতাই

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি: ব্যাংকে টাকা জমা দিতে যাওয়ার পথে অস্ত্র ঠেকিয়ে এক ব্যসায়ীর কাছ থেকে  নগদ ৯২ হাজার টাকা ও একটি চেক বইয়ের পাতা ছিনিয়ে নিয়েছে সন্ত্রাসীরা। এ সময় স্থানীয় জনতা এগিয়ে এলে সন্ত্রাসীরা  ফাকা গুলি ছুড়ে প্রাইভেটকারযোগে দ্রুত পালিয়ে যায়। ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল দুপুরে  মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার টেপড়া -  রুপসা, মাচাইন সড়কের দশচিড়া মোড় এলাকায় এ ছিনদাইয়ের ঘটনা ঘটে।  নালী বাজারের প্রতিষ্ঠিত ব্যাবসায়ী বাবুল সাহাকে স্থানীয় জনতা আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করে। প্রতক্ষ্যদর্শীরা জানায়, নালীবাজারের  ব্যাবসায়ী বাবুল সাহা গতকাল দুপুরে টাকা জমা দেওয়ার জন্য  মোটর সাইকেল যোগে নালীবাজার থেকে টেপড়া সোনালী ব্যাংকে যাচ্ছিল। এ সময় প্রাইভেটকার নিয়ে ওঁত পেতে থাকা অস্ত্রধারী ৪ ছিনতাইকারী টেপড়া-রুপসা মাচাইন সড়কের দশচিড়া নামক স্থানে অস্ত্র ঠেকিয়ে তার কাছে থাকা নগদ ৯২ হাজার টাকা ও একটি ব্ল্যাংক চেক বইয়ের পাতা ছিনিয়ে নেয়।

সুপার গ্লু লাগিয়ে হত্যা করা হয় পরশকে

স্টাফ রিপোর্টার, খুলনা থেকে: দাবিকৃত ৫০ লাখ টাকা না দেয়ায় খুলনার পাবলিক কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের মেধাবী ছাত্র আল মাসুদ পরশকে হাত-পা বেঁধে মুখে সুপারগ্লু লাগিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। অপহরণের ১৪দিন পর গতকাল বিকালে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের সদর দপ্তরে প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানানো হয়েছে। পরশের সৎ-মামা সাইফুল ইসলাম বাবু, তার বন্ধু জামাল হোসেন ওরফে ডন মামা, ফিরোজ গাজীকে গ্রেপ্তারের পর পুলিশের কাছে হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা এভাবে দিয়েছে বলে ব্রিফিংয়ে জানানো হয়। কেএমপি’র ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. আওরঙ্গজেব মাহবুব সাংবাদিকদের আরও জানান, খুলনা মহানগরীর দৌলতপুর থানার মহেশ্বরপাশার পাট রপ্তানিকারক আলাউদ্দিন হাওলাদারের বড়পুত্র খুলনার পাবলিক কলেজের বাণিজ্যিক দ্বিতীয় বর্ষের মেধাবী ছাত্র আল মাসুদ পরশকে গত ১৭ই মে অপহরণ করে নিয়ে যায়। তার বন্ধু আশিকসহ কয়েকজন তাকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। তারপর থেকে তার মোবাইল বন্ধ এবং কোন সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। তবে পরশের বাড়িতে মোবাইল করে জানানো হয় তাকে অপহরণ করা হয়েছে একই সঙ্গে ৫০ লাখ টাকা মুক্তিপণেরও দাবি করা হয়। পরশের পিতা আলাউদ্দিন হাওলাদার বলেন, তাকে হুমকি দেয়া হয়েছে যে প্রশাসনকে জানানোর জন্য তার পরিণতি ভাল হবে না। ৫০ লাখ টাকা মুক্তিপণের মধ্যে তিনি ৫ লাখ টাকা দিতে রাজি হলেও তাদের পক্ষ হতে কোনরূপ সাড়া শব্দ পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি দৌলতপুর থানায় সৈয়দ আশরাফ হোসেন ওরফে আশিক, সৈয়দ আফতাব হোসেন, শেখ জুয়েল মাহমুদ, মো. আবদুল হালিম ও মো. রফিকুল ইসলামের নাম উল্লেখ করে মামলা করে। পরে পুলিশ তাদেরকে গ্রেপ্তার করে এবং রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে। এর মধ্যে আশিকের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী ও মোবাইল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে অপহরণকারীদের মূল হোতা পরশের সৎ-মামা সাইফুল ইসলাম বাবুকে গতকাল সকালে খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার গুটুদিয়া থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার স্বীকারোক্তি মোতাবেক জামাল হোসেন ওরফে ডন মামাকে কুষ্টিয়া থেকে এবং ফিরোজ গাজীকে খুলনার জিরো পয়েন্ট এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

চারদিক-গুণতীর্থ, কাশতলায় কবির জন্মদিনে by মামুনুর রশীদ

সেই ’৬৭ কি ’৬৮ সালের কথা। নির্মলেন্দু গুণের বাড়ি গিয়েছিলাম। সম্ভবত তখন ছিল শরৎকাল। সকালবেলায় মানুষজনের কোলাহলে বাইরে বেরিয়ে এলাম। শত শত মানুষ বারহাট্টা স্টেশনের দিকে ছুটছে। গুণও ছুটছে। কী ব্যাপার? গুণই এসে জানান দিল ডিজেলচালিত ট্রেন ইঞ্জিন এসেছে আজকেই। তাই মানুষের এত আনন্দ।

বরিশালের সঙ্গে ৫ রুটে বাস চলাচল বন্ধ



স্টাফ রিপোর্টার, বরিশাল থেকে: দুই মালিক সমিতির দ্বন্দ্বের জের ধরে বরিশাল-ঝালকাঠীসহ ৫ রুটে গত মঙ্গলবার থেকে সরাসরি বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। এ সময়ের মধ্যে বরিশাল-পটুয়াখালী মালিক সমিতির একটি বাস ঝালকাঠী সমিতির লোকজন ভাঙচুর করেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। বরিশালের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক পলাশ কান্তি বালা জানান, সমস্যা নিরসনের জন্য আগামী ৪ঠা জুন সভা আহ্বান করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল থেকে ঝালকাঠীর নলছিটির মোল্লারহাট রুটে গাড়ি চালানোর সংখ্যা নিয়ে বরিশাল-পটুয়াখালী মিনিবাস মালিক সমিতি এবং ঝালকাঠী বাস মালিক সমিতির দ্বন্দ্ব দীর্ঘদিনের। এ দ্বন্দ্বের জের জের ধরে দীর্ঘদিন ধরে বরিশাল-মোল্লারহাট রুটে গাড়ি চলাচল বন্ধ রয়েছে। বরিশাল সিটি মেয়র শওকত হোসেন হিরণের উপস্থিতিতে গত ১৭ই এপ্রিল দুই মালিক সমিতির সমঝোতা সভা হলেও পরবর্তীতে এ রুটে গাড়ি চলাচল শুরু হয়নি। ঝালকাঠী জেলা মালিক সমিতি গত মঙ্গলবার একতরফাভাবে মোল্লারহাট রুটে বাস চালানো শুরু করলে বরিশাল মালিক সমিতি বাধা দেয়। ফলে  দুই মালিক সমিতির দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব সংঘাতে রূপ নিয়েছে। গত মঙ্গলবার বিকাল থেকে বরিশাল মালিক সমিতির বাস ঝালকাঠী জেলায় ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না। ফলে বরিশাল নগরীর রূপাতলী বাস টার্মিনাল থেকে ঝালকাঠীসহ পিরোজপুর, মঠবাড়িয়া, ভাণ্ডারিয়া ও রাজাপুর রুটে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। অন্যদিকে ঝালকাঠী মালিক সমিতির বাস জেলার শেষ সীমানা বরিশাল নগরী সংলগ্ন কালিজিরা ব্রিজ পর্যন্ত এসে যাত্রীদের নামিয়ে দিচ্ছে। বরিশাল-পটুয়াখালী মিনিবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কাওছার হোসেন শিপন জানান, মঙ্গলবার বিকাল থেকে বরিশাল মালিক সমিতির বাস ঝালকাঠীতে ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না। বুধবার সকালে বরিশাল মালিক সমিতির একটি বাসযাত্রী নিয়ে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া যাওয়ার সময় ঝালকাঠীর গাবখান ব্রিজে ভাঙচুর করা হয়।

সিলেটে ৬ জনের যাবজ্জীবন

সিলেট অফিস: সিলেটে হত্যা মামলায় ৬ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড হয়েছে। অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ৩য় আদালতের বিচারক মো. মনজুরুল হক খান গতকাল এ দণ্ডাদেশ দেন। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন সিলেটের বিশ্বনাথ থানার সাখারিকোনার ইসহাক আলীর পুত্র আব্দুল করিম ও উমেদ আলী, একই গ্রামের মৃত রস্তুম আলীর পুত্র আলতাবুর রহমান, থানার পশ্চিম সাখরগাঁওয়ের মজর আলীর পুত্র আরাধন ওরফে হারাধন, একই গ্রামের মকরম আলীর পুত্র জমির আলী, সাখারিকোনার উমেদ আলী ইসাক আলী, সাখারিকোনার মৃত ইদ্রিস আলীর পুত্র বশির। এদের মধ্যে আব্দুল করিম ও উমেদ আলী পলাতক, আলতাবুর রহমান মৃত এবং অন্যরা সিলেট কারাগারে রয়েছে। ১৯৯৭ সালের ১৯শে এপ্রিল সকালে পশ্চিম সাখেরগাঁওয়ে ফসলের মাঠে এ ঘটনা ঘটে। জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে প্রতিপক্ষের লোকজন হামলা করে ওই গ্রামের আজমান আলীকে খুন করে।

রোববার শেরপুরে অর্ধদিবস হরতাল

শেরপুর প্রতিনিধি: পুলিশের দায়েরকৃত মামলায় শেরপুর জেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের ৯ জন নেতাকে জেলহাজতে পাঠানোর প্রতিবাদে আগামী রোববার অর্ধদিবস হরতাল ডেকেছে জেলা বিএনপি। গতকাল বিকালে জেলা বিএনপি কার্যালয়ে এক প্রতিবাদ সমাবেশ ও সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেয়া হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ এডভোকেট এ কে এম সাইফুল ইসলাম কালাম। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক এমপি মাহমুদুল হক রুবেল, আইনজীবী সমিতির সভাপতি এড. মো. সিরাজুল ইসলাম, মো. সাইফুল ইসলাম স্বপন প্রমুখ। সম্মেলনে জানানো হয়, জিআর ২২৭/২০১২ মামলায় তথাকথিত গাড়ি পোড়ানোর ঘটনায় শেরপুর সদর থানা পুলিশ দ্রুত বিচার আইনে জেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি ও পৌরপিতা মো. আবদুর রাজ্জাক আশীষ, থানা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক বিআরডিবির সভাপতি মো. ফজলুল হক বাদশা, শহর বিএনপির সভাপতি ফজলুর রহমান তারা, জেলা যুবদলের আহ্বায়ক সফিকুল ইসলাম মাসুদ, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আবু রায়হান রূপম, জেলা বিএনপির সদস্য ও যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক নূরে আলম, জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক দীজেন্দ্র চন্দ্র, জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আতাউর রহমান আতা ও জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাইদুর রহমান তালুকদারকে আসামি করে। নেতৃবৃন্দ উচ্চ আদালতে জামিন প্রার্থনা করলে উচ্চ আদালত তাদের জামিন মঞ্জুর করেন। এবং নিম্ন আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন। তারা গতকাল নিম্ন আদালতে হাজির হলে তাদের জেলহাজতে পাঠানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, যে গাড়িটি পোড়ানোর অভিযোগে মামলা করা হয়েছে, তার আদৌ কোন অস্তিত্ব নেই। এমনকি গাড়ি পোড়ানোর সংবাদ কোন মাধ্যমে প্রচার বা প্রকাশও হয়নি। কথিত গাড়ির মালিক ও চালক এফিডেভিটের মাধ্যমে ঘটনার সত্যতা অস্বীকার করেছেন।

রাজনীতি-আওয়ামী লীগকে বদলাতে হবে আগে by মাহমুদুর রহমান মান্না

১৯৭২ সালে আমি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ চাকসুর সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলাম। ছাত্র ইউনিয়ন প্রায় পুরো প্যানেলে জয়লাভ করেছিল। ছাত্রলীগ থেকে আমার প্যানেলের ভিপি প্রার্থী ছিলেন ঢাকা বিভাগের সাবেক কমিশনার মোবারক হোসেন।

রাজধানীজুড়ে রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি চরম জনদুর্ভোগ

লায়েকুজ্জামান: জনদুর্ভোগ। চরম ভোগান্তি। রাজধানীজুড়ে রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ির উৎসব চলছে। খোঁড়া হচ্ছে রাজধানীর ১৫০ কিলোমিটার পাকা সড়ক। ঢাকা শহরের বেশির ভাগ সড়কের এক পাশ কাটা, অন্য পাশের প্রায় অর্ধাংশ জুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখা মাটির ঢিবি, বালুর স্তূপ, উন্নয়ন সংস্থাগুলোর যন্ত্রপাতি, বিশাল আকৃতির সব ক্যাবল ড্রাম। আর তীব্র যানজট নগরজুড়ে। বাতাসে শহরজুড়ে ধুলাবালি, বৃষ্টিতে কাদা। নাকাল নগরের মানুষ। চরম জনদুর্ভোগের অপর নাম উন্নয়ন, সংস্কারের নামে রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি। প্রতি বছর পুরাতন বাজেট শেষের আগে নতুন বাজেট পাসের আগে, ঠিক বর্ষা মওসুম শুরুর সময়ে, নগরবাসীকে দেখতে হয় ওই জনদুর্ভোগের উন্নয়ন কাজ। এ কাজ শেষ মুহূর্তের দায়সারা কাজ হিসেবেই পরিচিত। গাবতলী থেকে সায়েদাবাদ, কুড়িল বিশ্বরোড, খিলক্ষেত থেকে এয়ারপোর্ট সড়ক, মিরপুরের অলিগলিতে রাস্তা কাটা হচ্ছে প্রতিযোগিতা করে। কোন সংস্থা সড়কের এক পাশ দিয়ে কাটা শুরু করলে অন্য সংস্থা কাটছে রাস্তার মাঝ বরাবর। রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি নিয়ে বিরক্ত এলাকার ভুক্তভোগী মানুষ। অনেকে জানিয়েছেন তাদের তীব্র ক্ষোভের কথা। গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সরজমিন গিয়ে দেখা গেছে রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ির উৎসব চলছে। কোন কোন এলাকায় রাস্তা খুঁড়ে ফেলে রাখা হয়েছে দীর্ঘদিন ধরে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর কাউকে দেখা যায় না খোঁড়া সড়কের পাশে। সিটি করপোরেশনের আইন অনুসারে রাজধানী শহরে কোন রাস্তা খোঁড়া হলে ২৮ দিনের মধ্যে কাজ সমাপ্ত করতে হবে। কিন্তু সে আইন মানার কোন বালাই নেই কারও মধ্যে। গত তিন মাস ধরে গাবতলী থেকে রাসেল স্কয়ার পর্যন্ত সড়ক খুঁড়ে পানির লাইন বসানোর কাজ চলছে। এখনও কাজ সমাপ্ত হয়নি। গতকাল সরজমিন গিয়ে দেখা যায়, কল্যাণপুর এলাকায় রাস্তার মাঝখানে ওয়াসা সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দিয়েছে, ডাইভারশনের কাজ চলছে। সরজমিন গিয়ে দেখা গেছে, রাজধানীতে কম করে হলেও ৩৫টি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে খোঁড়াখুঁড়ি চলছে। খোঁড়াখুঁড়ি করছে ৬টি প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে ওয়াসা, ডেসকো, বিটিসিএল, পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি, সামিট গ্রুপ এবং ফাইবার অ্যাট হোম। ওয়াসা রাস্তা খুঁড়ে পানির লাইন বসাচ্ছে, আন্ডারগ্রাউন্ড বিদ্যুৎ লাইনের কাজ করছে ডেসকো ও পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি। টেলিফোনের কাজ করছে বিটিসিএল। এনটিটিএন-এর অধীনে ইন্টারনেট সেবাদানে নতুন লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান সামিট গ্রুপ ও ফাইভার অ্যাট হোম রাস্তা খুঁড়ে আন্ডারগ্রাউন্ড ফাইবার অপটিক ক্যাবল লাইনের কাজ করছে। গতকাল এলাকা ঘুরে দেখা যায়, গাবতলী থেকে শ্যামলী পর্যন্ত সড়কের মাঝখান বরাবর কেটে পানির লাইন বসিয়েছে ওয়াসা। তিন মাস ধরে চলছে ওই লাইন বসানোর কাজ। লাইন বসানো শেষে কাটা রাস্তায় কেবল মাটি ভরাট করলেও এখনও যান চলাচলে বন্ধ রাস্তায় বেড়া দিয়ে ওয়াসার নামে সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দেয়া হয়েছে। রাস্তার মাঝখানে রাখা হয়েছে ক্যাবলের বিশাল বিশাল ড্রাম। রাস্তা বন্ধ থাকায় চরমভাবে ভোগান্তিতে পড়েছে দেশের দক্ষিণ, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল এলাকা থেকে ঢাকায় আসা লোকদের। কল্যাণপুর থেকে শ্যামলীর দিকে আসতে সড়কের দক্ষিণ পাশ খুঁড়ে পানির লাইনের কাজ চলছে ওয়াসার। রাস্তার এক পাশ পুরো বন্ধ। ওই এলাকার দোকানদার মালেক জানান, গত তিন মাস ধরে এখানে রাস্তা খোঁড়া হচ্ছে। আমিনবাজার থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত পুরো সড়কের উত্তর পাশ কেটে বসে আছে পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি। গাবতলী সড়ক থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত পাওয়ার গ্রিডের রাস্তা খোঁড়ার কারণে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। সরু সড়কে রাস্তার পাশে বিশাল গর্ত করে বিদ্যুতের লাইন বসানো হচ্ছে। এখানে দায়িত্বরত ট্রাফিক সদস্য বললেন, রাস্তা কাটার কারণে প্রতিদিন এখানে দুর্ঘটনা ঘটছে। মিরপুর ১০ নম্বর সেকশন থেকে ১৪ নম্বর পর্যন্ত সড়কের উত্তর পাশ কেটে কাজ করছে ডেসকো, সামিট গ্রুপ ও ফাইবার অ্যাট হোম। এখানে পথচারীদের দুর্ভোগ ছাড়াও ১০ নম্বর থেকে ১৪ নম্বর পর্যন্ত এলাকায় প্রায় সিকি শত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। মিরপুর ১৩ নম্বর সেকশনের মিন্টু সরণি কেটে ফেলে রাখা হয়েছে ফাইবার অপটিক ক্যাবলের বিশাল আকারের কয়েক ডজন ড্রাম। ক্ষুব্ধ এলাকার মানুষ। সড়ক বন্ধ থাকায় প্রায় আধাকিলোমিটার পায়ে হেঁটে বাজার নিয়ে বাসায় ফিরতে হয় তাদের। মিরপুর ১০ নম্বর গোলচক্করে খোঁড়া রাস্তা মেরামতের নামে ফেলে রাখা হয়েছে বালুর স্তূপ। সামান্য বাতাসে বিপাকে পড়তে হচ্ছে পথচারীদের। মালিবাগ থেকে রামপুরা, বাড্ডা হয়ে কুড়িল বিশ্বরোড পর্যন্ত এলাকার রাস্তা খুঁড়ে পানির লাইন বসাচ্ছে ওয়াসা। তেজগাঁও থেকে গুলশান শুটিং ক্লাব পর্যন্ত সড়ক এখান পুরোপুরি যান চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। একদিকে রাস্তা কাটা অন্যদিকে রাস্তার পাশে রাখা বালু আর ধুলো মিশে এক দুঃসহ অবস্থা তৈরি হয়েছে এখানে। রাজধানীর অন্যতম ভিআইপি এলাকা গুলশানেও চলছে রাস্তা খোঁড়ার উৎসব। গুলশান ২-এ দেখা যায়, গুলশান বাড্ডা লিংক রোড, গুলশানের ৮৬, ৯৪, ১০৪, ১১৬ নম্বর সড়ক, আজাদ মসজিদের পেছনের সড়কে চলছে খোঁড়াখুঁড়ি। গতকাল দুপুর থেকে রাস্তা খোঁড়া শুরু হয়েছে কাওরানবাজারের পেট্রোবাংলার সামনে। শ্যামলী এলাকার সাধারণ মানুষ জানিয়েছেন, শ্যামলীতে কাজী অফিসের পেছনের সড়কটি কাটার কারণে গত সপ্তাহে এখানে অগ্নিকাণ্ডের সময় ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি যেতে না পারায় পুড়ে ছাই হয়ে যায় একটি বস্তি। মিরপুর মিন্টু সরণির বাসিন্দা আবদুস সালাম, রমেন বিশ্বাস বললেন, আমাদের মূল রাস্তার আসার সংযোগস্থল কেটে রাখায় এখন তো আমাদের বিপদ হলে হাসপাতালেও যাওয়ার উপায় নেই। যেসব সড়ক কাটা হয়েছে সেখানে স্তূপ করে রাখা বালুর কারণে চলাচলই বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। ধুলাবালিতে নাকাল অবস্থা মানুষের। সামান্য বৃষ্টি হলেই স্তূপ করে রাখা মাটি পরিণত হচ্ছে কাদায়। কাদা মাটি ধুলো বালুতে ছড়াচ্ছে নানা রোগ জীবাণু। ঢাকা শিশু হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, রাজধানী জুড়ে যে পরিমাণ ধুলোবালু, এতে শিশুদের শ্বাসকষ্টের সঙ্গে আক্রান্ত হচ্ছে বয়স্করাও। রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ির বিষয়ে ঢাকা সিটি করপোরেশনের উত্তর প্রধান প্রকৌশলী আহসানুল হক বলেন, বিভিন্ন সংস্থা  সিটি করপোরেশন থেকে অনুমতি নিয়ে রাস্তা খুঁড়ে সেবামূলক কাজ করে। তিনি জানান, চলতি বছর ডিসিসি উত্তর থেকে মোট ৫৮ কিলোমিটার রাস্তা খোঁড়ার জন্য ওয়াসা, ডেসকো, বিটিসিএল, পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি, সামিট গ্রুপ ও ফাইবার অ্যাট হোম অনুমতি নিয়েছে। তারা কাজ করছে। ঢাকা সিটি করপোরেশন দক্ষিণের প্রধান প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম জানান, রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ির অনুমতি দেন আমাদের বিভিন্ন অঞ্চলের নির্বাহী প্রকৌশলীরা। কতটুকু রাস্তা খোঁড়ার অনুমতি দেয়া হয়েছে সেটা আমার জানা নেই। এটা পরে একসঙ্গে মিলিয়ে দিতে হবে। ডিসিসি দক্ষিণে রাস্তা খোঁড়া হচ্ছে ১শ’ কিলোমিটার। দুই সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলীই জানান, সবচেয়ে বেশি রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি করছে ওয়াসা। কিন্তু ওয়াসার প্রধান প্রকৌশলী জানালেন, বর্তমানে শুধু সায়েদাবাদ ওয়াটার প্ল্যান্টের অধীনে তাদের রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে মাত্র ১০ কিলোমিটার রাস্তা খোঁড়ার কাজ চলছে। বিটিসিএল নিজেও রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি করছে এবং তাদের কাছ থেকে লাইসেন্স পাওয়া ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান সামিট গ্রুপ ও ফাইবার অ্যাট হোম রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি করছে। এ বিষয়ে বিটিসিএল-এর পরিচালক রক্ষণাবেক্ষণ রফিকুল মতিন বলেন, ইন্টারনেট সেবাদানকারীদের বিষয় জানি না, বিটিসিএল এবার খুব কম রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি করছে।  পাওয়ার গ্রিড কোম্পানির পরিচালক (অপারেশন) নাজিমউদ্দিন জানান, বর্তমানে আগারগাঁও থেকে ক্যান্টনমেন্ট এবং আগারগাঁও থেকে ধানমন্ডির সাত মসজিদ রোড পর্যন্ত সড়ক খুঁড়ে আমাদের ভূগর্ভস্থ ক্যাবল বসানোর কাজ চলছে কিন্ত কাজ শেষ হতে আমাদের আরও ৬ মাস সময় লাগবে। কারণ বর্ষা মওসুমে কাজ করা নিষেধ আছে। তার কাছে জানতে চাওয়া হয়, কাজ হতে ৬ মাস লাগবে ওই পুরো সময় রাস্তা খোঁড়া অবস্থায় থাকবে কিনা? তিনি বলেন, আমরা এখন বালু দিয়ে গর্ত ভরাট করে দেবো। রাস্তার পুরো মেরামত কাজ করবে সিটি করপোরেশন। আমাদের কাজ শেষ হওয়ার পরে সে হিসেবে দেখা যাচ্ছে পাওয়ার গ্রিডের ওই সব খোঁড়া রাস্তা অ-মেরামতই থেকে যাবে আরও ৬ মাস। ন্যাশন ওয়াইড টেলিকম ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক (এনটিটিএন)’র আওতায় নতুন লাইসেন্সপ্রাপ্ত  ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান সামিট গ্রুপের চেয়ারম্যান আজিজ খান জানান, ঢাকা শহরে রাস্তা খুঁড়ে তাদের ক্যাবল বসানোর কাজ চলছে। তবে বর্তমান পর্যায়ে কতটুকু রাস্তা খোঁড়া হচ্ছে এটা তার জানা নেই। তিনি বলেন, পুরো দেশেই তাদের ক্যাবল বসানো হবে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার ভুক্তভোগী মানুষ প্রতি বছর বর্ষা মওসুমের শুরুতে রাস্তা খোঁড়ায় তাদের ভোগান্তি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। ঢাকা শহরকে নিয়ন্ত্রণ করে ১৯টি মন্ত্রণালয়ের ৫২টি সংস্থা। এ ভাবে অবাধে রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ির কারণে প্রশ্ন উঠেছে মন্ত্রণালয়গুলোর সমন্বয়হীনতা নিয়ে। সরজমিন দেখা গেছে, একই সড়ক ওয়াসা খুঁড়ে পানির লাইন বসানোর ক’দিনই পরেই ওই রাস্তার আরেক পাশ খুঁড়ে ক্যাবল বসাচ্ছে পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি। রাজধানীবাসীর দুর্ভোগের কথা চিন্তা না করেই নিজেদের খেয়াল খুশিমতো বর্ষা মওসুমে দেদারছে রাস্তা খোঁড়ার অনুমতি দিয়ে চলছে সিটি করপোরেশন। সিটি করপোরেশনের বিধান অনুসারে রাস্তা খোঁড়ার ২৮ দিনের মধ্যে কাজ শেষ করার বিধান থাকলেও তা দেখার কেউ নেই।

ডেসটিনি’র ১২ কর্মকর্তাকে দুদকের জিজ্ঞাসাবাদ

স্টাফ রিপোর্টার: ডেসটিনি’র বিষয়ে কর্মকর্তাদের দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এ তলব ও জিজ্ঞাসাবাদের তালিকা অধিকতর দীর্ঘ হচ্ছে। এ তালিকা হতে পারে ৪০ থেকে ৪৫ জনের। ইতিমধ্যে ডেসটিনি গ্রুপের চেয়ারম্যান রফিকুল আমিন এবং ডেসটিনি ২০০০ লিমিটেডের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ উল্লাহসহ ১২ জনকে জেরা করেছে দুদক। এদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী ৩রা জুন জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে আরও ৪ পরিচালককে। এদিকে সমবায় অধিদপ্তরের ২ কর্মকর্তা ও ডেসটিনি’র ২ উপদেষ্টাকে তলব করে গতকাল দুদক পৃথক চিঠি দিয়েছে। দুদক উপ-পরিচালক মোজাহার আলী সরদার স্বাক্ষরিত এসব চিঠি অনুযায়ী তাদেরকে ৫ই জুন দুদকে হাজির হতে হবে। আগামী সপ্তাহে ডেসটিনি’র ট্রি প্ল্যান্টেশনের চেয়ারম্যান ও গ্রুপের পরিচালক লে. জেনারেল হারুন-অর রশিদ (অব.) সহ কয়েকজনকে দুদকে হাজির হয়ে বক্তব্য প্রদানের জন্যে চিঠি দেয়া হতে পারে। ডেসিটিনি’র বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে গতকাল যাদের চিঠি দেয়া হয়েছে তারা হলেন- সমবায় অধিদফতরের উপ-পরিচালক (মার্কেটিং) খন্দকার রিয়াজুল ইসলাম, একই অধিদপ্তরের ঢাকা জেলা সমবায় কর্মকর্তা, বেস্ট এয়ারের উপদেষ্টা জয়নাল আবেদীন এবং ইঞ্জিনিয়ার শাম্‌স। দুদকের অনুসন্ধান সংশ্লিষ্ট সূত্র এসব তথ্য জানায়। সূত্র মতে, গত ৩ দিনে যেসব কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে তাদের দেয়া বক্তব্য, দুদকের দেড় মাসের অনুসন্ধানে প্রাপ্ত তথ্য এবং ডেসটিনি থেকে জব্দকৃত নথিপত্রের মধ্যে অসামঞ্জস্য ধরা পড়েছে। গতকাল জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় রফিকুল আমিনের স্ত্রী ফারাহ দিবাসহ ৪ পরিচালককে। অন্য পরিচালকরা হলেন- হোসনে আরা ইসলাম, সেলিমা রহমান, মিঠু রানী বিশ্বাস। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বেরিয়ে এসে ফারাহ দিবা দুদকে অপেক্ষমাণ সাংবাদিকদের জানান, দুদক আমাকে ব্যবসায়িক নানা বিষয়ে প্রশ্ন করেছে। আমি সব প্রশ্নের যথাযথ উত্তর দিয়েছি। দুদকের আচরণে আমি সন্তুষ্ট। একই ধরনের তথ্য জানিয়ে হোসনে আরা ইসলাম জানান, আমি দুদকে আমার ব্যাংক একাউন্ট নম্বর দিয়ে এসেছি। দুদক তদন্ত করে দেখুক কিছু পাওয়া যায় কিনা। আমার জানা মতে, কোন অনিয়ম, দুর্নীতি বা প্রতারণা করিনি। ব্যক্তিগত একাউন্টেও কোন টাকা সরিয়ে নিইনি। যা কিছু করেছি সব নিয়মের মধ্যে থেকেই। আমাদের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ এসেছে তা সত্য নয়। এদিকে আগামী রোববার দুদকের জেরার মুখোমুখি হতে হবে ডেসটিনি’র গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান শেখ তৈয়বুর রহমান, নেপাল চন্দ্র বিশ্বাস, বেস্ট এভিয়েশনের ডিরেক্টর আবুল কালাম আজাদ এবং ডেসটিনি মাল্টিপারপাসের পরিচালক জাকির হোসেনকে।
দুদক চেয়ারম্যান গোলাম রহমান গতকাল সাংবাদিকদের জানান, অনুসন্ধানাধীন বিষয়ে আগাম কথা বলে হ-য-ব-র-ল অবস্থা সৃষ্টি করতে চাই না। এর সঙ্গে দেশের অসংখ্য মানুষের স্বার্থ জড়িত। বিষয়টি বিবেচনা করে দুদক তদন্ত করছে। অনুসন্ধানে দুদকের তফসিলভুক্ত কোন অপরাধ ধরা পড়লে অপরাধীকে আইনের হাতে তুলে দেয়া হবে। তিনি জানান, জিজ্ঞাসাবাদ শেষ হলে অনুসন্ধানে প্রাপ্ত তথ্য ও ডেসটিনি কর্মকর্তাদের দেয়া তথ্য মিলিয়ে দেখা হবে। কোন ঘাপলা ধরা পড়লে মামলা হবে। জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে দুদক তাদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিচ্ছে। মামলা হলে আদালতে গিয়েও তারা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পাবে। দুদকের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বলেন, ডেসটিনি গ্রুপের কর্মকর্তারা গত তিন দিন যে বক্তব্য ও নথিপত্র জমা দিয়েছে এতে গরমিল পাওয়া গেছে। তাদের ১২ বছরের লেনদেন স্বচ্ছভাবে হয়েছে কিনা তা জানতে চাওয়ার পাশাপাশি, আমানতকারীদের কাছ থেকে টাকা নেয়ার বৈধতা, আইনসম্মতভাবে বিনিয়োগ হয়েছে কিনা, গ্রাহকদের বিশ্বাস ভঙ্গ করা হয়েছে কিনা, কেন বিতর্কিত সম্পত্তি কেনা হলো, সরকারি জমিতে গাছ লাগানো হয়েছে কেন, ব্যক্তিগত একাউন্টে টাকা সরানোর কারণ কি প্রভৃতি বিষয়সহ ৩৮টি প্রশ্নকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

সচেতন সাংবাদিক সমাজের ব্যানারে ওরা কারা?

স্টাফ রিপোর্টার: রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে সাংবাদিক নির্মূলের আহ্বান সংবলিত ব্যানার টাঙানো হয়েছে। গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবের উল্টো পাশে মৎস্য ভবন সংলগ্ন শিল্পকলা একাডেমীর প্রবেশ পথে, শাহবাগের জাতীয় জাদুঘরসহ বিভিন্ন স্থানে এ ব্যানার দেখা যায়। বুধবার সন্ধ্যায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের দ্বিতীয় গেটে সচেতন সাংবাদিক সমাজের নামে প্রথম এ ব্যানার চোখে পড়ে। পরে সাংবাদিকরা এটি খুলে নেন। ব্যানারে লেখা আছে ‘সাংবাদিকরা আইনের ঊর্ধ্বে নয়, বেআইনি সড়ক অবরোধ, গাড়ি ভাঙচুর ও বিনা কারণে পুলিশের ওপর আক্রমণ সমাজ সচেতন সাংবাদিকদের কাজ নয়, এদের চিহ্নিত করে নির্মূল করুন। ‘সচেতন সাংবাদিক সমাজ’।” তবে কারা এই সচেতন সাংবাদিক সমাজ তা জানা যায়নি। এ নিয়ে দিনভর আলোচনা হয় সাংবাদিক মহলে। ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন সংবাদকর্মী ও সাংবাদিক নেতারা। তারা ব্যানারওয়ালাদের কাপুরুষ আখ্যা দিয়ে সাহস থাকলে সামনে এসে নিজেদের পরিচয় খোলাসা করার আহ্বান জানান। সাংবাদিক নেতা ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেন, যারা নিজেদের পরিচয় দেয়ার সাহস রাখে না, এমন কাপুরুষদের টাঙানো ব্যানার নিয়ে কি মন্তব্য করবো? ব্যানারওয়ালারা কোনভাবেই সাংবাদিক নন মন্তব্য করে এ নেতা বলেন, একজন সাংবাদিক খুন হলে, নির্যাতনের শিকার হলে অন্য সহকর্মীরা ক্ষুব্ধ হবেন, এটা স্বাভাবিক। প্রতিকার না পেলে আন্দোলন করাটাও যৌক্তিক। সচেতন হলে ব্যানারওয়ালারাও এসব খুন-নির্যাতনের প্রতিবাদ করতেন। আসলে তারা সাংবাদিকই নন। ‘হয়তো এটা যাদের বিরুদ্ধে আমরা আন্দোলন করছি তাদেরই কাজ’- যোগ করেন এ নেতা। এসব ব্যানার সাংবাদিকদের চলমান আন্দোলনের বিরুদ্ধে একটি উদ্দেশ্যমূলক প্রচারণা বলে মত দেন তিনি। প্রবীণ সাংবাদিক, সম্পাদক আবেদ খান বলেন, ওরা কারা। আগে তাদের পরিচয় জানা দরকার।জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমদ বলেন, এটা কোন বিশেষ মহল থেকে করানো হচ্ছে। এর মাধ্যমে সংবাদিকদের চরিত্র হনন করে একটি মহল তাদের চলমান আন্দোলন বানচাল করতে চায়। দৈনিক আমাদের অর্থনীতি সম্পাদক নাঈমুল ইসলাম খান বলেন, নিজেদের সচেতন সাংবাদিক দাবিদার মুখগুলো আগে চেনা দরকার। তারা কোত্থেকে, কিভাবে এ ধারণা পেলো জানা জরুরি। তাদের সঙ্গে পরিচিত হতে পারলে উপকৃত হব। সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যা, সাংবাদিক নির্যাতন ও নতুন ওয়েজবোর্ড গঠনসহ নানা দাবিতে ফেব্রুয়ারি থেকে আন্দোলন করে আসছেন সাংবাদিক সমাজ। সমপ্রতি পুলিশ দ্বারা একাধিকবার সাংবাদিক নির্যাতন ও বিডি নিউজ অফিসে হামলার ঘটনা ঘটে। এর পরিপ্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মঙ্গলবার সাংবাদিকদের পুলিশ থেকে নিরাপদ দূরত্বে থেকে সংবাদ সংগ্রহ করার পরামর্শ দেন। বুধবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পুলিশ আগের চেয়ে ভাল হয়েছে বলে মন্তব্য করেন। সরকারের দায়িত্বশীলদের এমন বুলি আর টাঙানো ব্যানারের মধ্যে যোগসূত্র খুঁজছেন অনেকে।

ধর্ম-ব্যবসা-বাণিজ্যে সততা ও বিশ্বস্ততা by মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান

মানুষের দৈনন্দিন জীবন পরিচালনার জন্য জীবিকার প্রয়োজন। আর জীবনধারণের জন্য চাই প্রয়োজনীয় জীবনোপকরণ বা রিযিক। জীবনোপকরণের পর্যাপ্ত প্রাপ্তি জীবনকে উপভোগ্য ও ছন্দময় করে। মানবসমাজে সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্য জীবিকার্জনের যেসব মাধ্যম আছে তার মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য সর্বোত্তম পন্থা।

গাজীপুরে পুলিশি হেফাজতে খুন, এসআই সাসপেন্ড

স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুর থেকে: গাজীপুরের কালীগঞ্জের যুবক মামুন ভূঁইয়া খুনের ঘটনায় পুলিশের দারোগা নৃপেন চন্দ্র দে সাসপেন্ড হয়েছেন। এদিকে পুলিশের কাছ থেকে আসামি ছিনতাইয়ের ঘটনায় অজ্ঞাত ২০০ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা হয়েছে। বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছেন হেকিম মেম্বার। খুনের ঘটনায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পৌনে ৭টা পর্যন্ত কোন মামলা হয়নি। পুলিশের বর্ণনায় ওয়ান্টেড আসামি হলেও মামুন নৃশংসভাবে খুন হওয়ায় এলাকায় বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। পরিবারের লোকজনের দাবি, ওই খুনের পরও নানা ধরনের হুমকিতে রয়েছেন পরিবারের লোকজন। খুন আর আসামি ছিনতাইয়ের ঘটনায় এখনও কেউ গ্রেপ্তার হয়নি। সব পুরুষ লোক এখন বাড়িছাড়া। এ ঘটনাকে ঘিরে নিরীহ গ্রামবাসী যেন পুলিশি হয়রানির শিকার না হয় তা দেখার দাবি করছেন এলাকাবাসী। গাজীপুরের পুলিশ সুপার আবদুল বাতেন বৃহস্পতিবার বিকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। অভিযুক্ত এএস আই নৃপেন চন্দ্র দে-কে দিনভর খুঁজেও পাওয়া যায়নি। দুপুরে জেলা পুলিশ লাইনে গিয়ে তার খোঁজ নিলে সেখান থেকে জানানো হয়, নৃপেন চন্দ্র জেলার পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে গেছেন। সেখানে গিয়েও তার কোন সন্ধান মেলেনি। তার সেল ফোন বন্ধ রেখেছেন। বুধবার কালীগঞ্জ থানায় গিয়েও পাওয়া যায়নি তাকে। তার সহকর্মীদের কাছ থেকে জানা গেছে, সংবাদকর্মীদের এড়িয়ে চলছেন তিনি । এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, একটি পেয়ারা বাগানের পাশে সবুজ ঘাষে মামুনের ছোপ ছোপ রক্ত  লেগে আছে। এর পাশেই ইউনিয়নের সাবেক মেম্বার গোপালের বাড়ি। তিনি জানান, ঘটনার সময় ‘হৈচৈ, মার- মার’ এসব শুনে তিনি বাড়ি থেকে বের হন। ২০-২৫ জন লোক তাকে হত্যা করেছে। কিন্তু তিনি তাৎক্ষণিক বের হয়ে কাছে না আসায় কাউকে চিনতে পারেননি। পরে অবশ্য অনেক লোক জড়ো হলে কাছে গিয়ে তিনি ক্ষত বিক্ষত লাশ পড়ে থাকতে দেখেন। পাশের বাড়ির একজন মহিলা জানান, তিনি খুনের ঘটনার সময় ‘ডাকাত ডাকাত’ চিৎকার ও হৈচৈ-এর শব্দ শুনেছেন। আশপাশের বাড়ির প্রায় সবপুরুষ মানুষ এখন বাড়ি ছাড়া পুলিশি হয়রানির ভয়ে। আর অভিযুক্ত হেকিম মেম্বার ও তার গ্রামের বাড়ির লোকজন বাড়িতে তালা লাগিয়ে পালিয়েছেন।
গ্রেপ্তারের পর মামুন খুনের ঘটনায় জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আবুল হোসেন পিপিএম ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও তদন্ত শুরু করেছেন। তিনি জানান, মামুন হত্যা ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার কারণে বুধবার রাতে নৃপেন দে’কে  সাময়িক বরখাস্ত (সাসপেন্ড) করে কালীগঞ্জ থানা থেকে জেলা পুলিশ লাইনে ক্লোজ করা হয়েছে। তিনি জানান, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে একটি বাড়িতে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করায় মামুনের প্রতি লোকজন প্রচণ্ড ক্ষেপে ওঠে। এছাড়া নানা অপরাধের কারণে আগে থেকেই এলাকাবাসী তার ওপর ক্ষিপ্ত ছিল। কালীগঞ্জ থানার ওসি  এনায়েত হোসেন বলেন, নিহত মামুন মামলার পরোয়ানাভুক্ত আসামি ছিল। সে নিয়মিত ছিনতাই ও চাঁদাবাজি করতো। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ওই এলাকার সোলায়মান খানের বাড়িতে বগুড়া থেকে তার স্ত্রীসহ বেড়াতে আসা রিফাত নামের এক ব্যক্তির কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। পরে রাতেই নিখোঁজ হন রিফাত। চাঁদা না দেয়ায় রিফাতকে মামুনের সহযোগীরা অপহরণ করে নিয়ে যায়। এমন খবরে এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। খবর পেয়ে এসআই নৃপেন চন্দ্র দে এলাকায় গিয়ে মামুনকে আটক করে থানার উদ্দেশে রওনা দেন।  এরই মধ্যে বিক্ষুদ্ধ শ’ শ’ মানুষ রাতের আঁধারে পুলিশের কাছ থেকে মামুনকে ছিনিয়ে নিয়ে হত্যা করে। কিন্তু ছিনতাইয়ের পর তাকে কেন সাসপেন্ড করা হলো- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, নৃপেন চন্দ্রের দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেছে। পুলিশের মতো একই সুরে কথা বলছেন অভিযুক্ত মেম্বারের ঘনিষ্ট স্থানীয় মোক্তারপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শরিফুল ইসলাম তোরণ। তিনি বলছেন, মামুনের বিরুদ্ধে ডাকাতি, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজিসহ অনেক অভিযোগ রয়েছে। তার নানা অপকর্মে অতিষ্ঠ ছিল এলাকার লোকজন। ঘটনার দিনও  মামুন ও তার সহযোগী নাাছিরসহ ৩ জন বড়গাঁও গ্রামের সোলায়মান খানের বাড়িতে গিয়ে চাঁদা দাবি করে। এ ঘটনা ওই বাড়ির লোকজন মোবাইল ফোনে তিনিসহ গ্রামের লোকজনকে জানালে গ্রামবাসী জড়ো হয়। পরে কালীগঞ্জ পুলিশকে খবর দেয়া হয়। গভীর রাতে কালীগঞ্জ উপজেলার বড়গাঁও গ্রামের মামুন ভূঁইয়া (৩২)-র লাশ পাশের গ্রাম রামচন্দ্র পুর থেকে মঙ্গলবার রাতে উদ্ধার করা হয়। নিহতের স্ত্রী রেহেনা ও মা মনোয়ারা বেগম বলেছেন, স্থানীয় মেম্বার হেকিম-এর সঙ্গে আগে থেকেই বিরোধ ছিল মামুনের। পুলিশের সাসপেন্ড হওয়া দারোগার সহায়তায় পরিকল্পিতভাবে ওই মেম্বার ও তার লোকজন রাতের আঁধারে তাকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে খুন করেছে। তারা অবিলম্বে খুনিদের গ্রেপ্তার ও বিচার দাবি করেন। নিহতের স্ত্রীর বড় ভাই মোশারফ হোসেন জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় স্থানীয় বড়গাঁও বাজার থেকে থানার এএসআই নৃপেন চন্দ্র দে যুবলীগের রাজনীতিতে জড়িত মামুনকে প্রতিপক্ষের ইন্ধনে আটক করে নিয়ে যায়।এলাকাবাসী জানায়, মামুনের সঙ্গে ওয়ার্ডের সদস্য হেকিম ফরাজির ভাইপোর সঙ্গে কিছুদিন আগে একটি মারামারির ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় মামলাও হয় মামুনের বিরুদ্ধে। এছাড়া ডাকাতির মামলাও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ওইরাতে তাকে গ্রেপ্তারের পর পুলিশের দারোগা তাকে হাতকড়া লাগিয়ে একটি সিএনজি অটোরিকশায় তুলে থানার দিকে রওনা দেন। পরে পাশের গ্রামে খুন হওয়ার খবর পাওয়া যায়। অনেকেরই ধারণা মেম্বারের সঙ্গে বিরোধের কারণে পুলিশের গ্রেপ্তারের পর রাতের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে গণপিটুনি হিসেবে চালানোর উদ্দেশে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। মামুনের স্ত্রী রেহেনা বেগম শিশু  ছেলে ইমনকে বুকে জড়িয়ে ধরে এখন নির্বাক তাকিয়ে থাকেন। তার মুখে একটাই কথা- স্বামীর খুনিদের বিচার চাই। নিহতের পিতা হোসেন আলী কাজ করেন পার্শ্ববর্তী ঘোড়াশাল সার কারখানায়। তিনি বলেন, মামুন বড়গাঁও বাজারে মুদির ব্যবসা করতো। কয়েক মাস আগে ওই ব্যবসা ছেড়ে বালুর ব্যবসা শুরু করে। মামুনের বড় ভাই নাজমুল ভূঁইয়া বলেন, ছয়-সাত মাস আগে মামুনকে মেরে ফেলার হুমকি  দেয়া হয় মোবাইল ফোনে। এর পর কালীগঞ্জ থানায় তখন সাধারণ ডায়েরি করা হয়। জিডিতে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান শরিফুলের পক্ষের লোক ইউপি সদস্য হেকিম ফরাজিসহ কয়েকজনের নামও রয়েছে। তার অভিযোগ, মেম্বার ও তার লোকজন পুলিশের সঙ্গে  যোগসাজশ করে মামুনকে গ্রেপ্তার করায়। পরে মামুনকে তাদের হাতে তুলে দেয় পুলিশ এবং পুলিশের সামনেই মামুনকে হত্যা করে তারা। বুধবার সন্ধ্যায় তাকে পারিবারিক গোরস্থানে দাফন করা হয়। খুনের ঘটনায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পৌনে ৭টা পর্যন্ত কোন মামলা হয়নি। তবে ওই মেম্বার ও দারোগা নৃপেনসহ আরও কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করার প্রস্তুতি চলছে।

দুই বছর মেয়াদি এলএলবি ডিগ্রি বন্ধ হচ্ছে

সোলায়মান তুষার: দুই বছর মেয়াদি এলএলবি কোর্স  করে আইনজীবী হওয়ার সুযোগ বন্ধ হচ্ছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন বিভিন্ন কলেজ ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ২ বছরের কোর্সের পর এলএলবি ডিগ্রি দেয়া হয়। অন্যদিকে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ৪ বছরে এলএলবি ডিগ্রি শেষ করেন। ২ বছর মেয়াদি এলএলবি ডিগ্রির অনুমতি না দেয়া প্রসঙ্গে সমপ্রতি বার কাউন্সিল বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)-কে চিঠি দিয়েছে। এ নিয়ে ইউজিসি’র পূর্ণাঙ্গ কমিটির বৈঠকও হয়েছে। বৈঠকে দুই বছরের ডিগ্রির পক্ষে ও বিপক্ষে মতামত এসেছে। ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক একে আজাদ চৌধুরী বলেন, আমরা এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিইনি। দুই বছর মেয়াদি ডিগ্রির বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। পক্ষে-বিপক্ষে দু’টো মতামতই এসেছে। আমরা বার কাউন্সিলের সঙ্গেও আলোচনা করবো। এরপরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। ইউজিসি সূত্র জানায়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে বিভিন্ন কলেজে স্নাতক বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রির পর দুই বছরের এলএলবি কোর্স করানো হয়। বেসরকারি ইউনিভার্সিটিতেও স্নাতক বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রির পর এলএলবি ডিগ্রি দেয়া হয়। বিশেষ করে সমপ্রতি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় দুই বছরের এলএলবি কোর্স খোলার প্রবণতা বেড়েছে। অনেক সময় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)-এর অনুমতি ছাড়াই কোর্স খুলে ডিগ্রি দিয়ে দিচ্ছে অনেক বিশ্ববিদ্যালয়। এ নিয়ে হাইকোর্টে মামলা পর্যন্ত হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অবশ্যই চার বছরের স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর কোর্স ছাড়া অন্য কোন কোর্স অথবা শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি দেয়া হবে না। ইউজিসি’র পূর্ণাঙ্গ কমিশনের বৈঠকে এ আলোচনা হয়েছে। বিভিন্ন প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে বিভিন্ন শর্ট কোর্সগুলোকে নিরুৎসাহিত করতে এবং উচ্চ শিক্ষার মান নিশ্চিত করতে এ ধরনের আলোচনা হয়েছে। বিদেশী বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা খুলে দেশের কিছু অননুমোদিত প্রতিষ্ঠান আইন পেশার ডিগ্রির সনদ বিতরণ করছে। এ নিয়ে নানা অভিযোগ রয়েছে। সমপ্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয় বিদেশে বাংলাদেশী হাইকমিশন ও দূতাবাসের মাধ্যমে দেশে চালু বিদেশী বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা সম্পর্কে একটি জরিপ ও তথ্যানুসন্ধান করেছে। হাই কমিশন ও দূতাবাসের মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্যে দেখা গেছে, দেশে চালু বিদেশী বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখাসমূহের কোন অনুমোদন নেই। তাদের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনারও অনুমোদন দেয়া হয়নি শিক্ষা কার্যক্রমের মান নিয়ন্ত্রণকারী কোন দেশীয় সংস্থা থেকে। এরই প্রেক্ষিতে সমপ্রতি উচ্চ আদালত ইউজিসি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে বিদেশী বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা পরিচালনার একটি নীতিমালা প্রণয়নের নির্দেশ দিয়েছে। ইউজিসি’র পূর্ণাঙ্গ কমিশনের বৈঠকে এ ব্যাপারে আলোচনার পর উপরিউক্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বৈঠকে বলা হয়েছে, এলএলবি ও আইন সংক্রান্ত ডিপ্লোমা কোর্স পরিচালনা সম্পর্কে এবং অন্যান্য বিষয়ে দু’বছরের চালু কোর্স সম্পর্কে নতুন নীতি-মালা ও নির্দেশনা প্রণয়ন করা হবে। বার কাউন্সিল, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এবং অন্যান্য স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনা করে ইউজিসি এ ব্যাপারে একটি সুনির্দিষ্ট সুাপরিশ প্রণয়ন করবে। বর্তমানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে অধিভুক্ত কলেজে দুই বছরের এলএলবি কোর্স সম্পন্ন করে আইন পেশায় নিযুক্ত হওয়ার সুযোগ রয়েছে। এ ছাড়া আইন বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি দিচ্ছে পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। সমপ্রতি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলো দু’বছরের এলএলবি কোর্স চালুর প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। ইউজিসি’র সূত্র জানায়,  বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ দুই বছরের এলএলবি কোর্সসহ চার বছরের নিচে অন্য যে কোন কোর্স অথবা শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি এখন থেকে আর দেয়া হবে না। বর্তমানে চালু কোর্সগুলোর ব্যাপারে শিগগিরই একটি নির্দেশনা জারি করা হবে। ওই কোর্সগুলোয় নতুন করে কোন শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ ও অনুমতি দেয়া হবে না। বর্তমানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে চালু এলএলবি কোর্সের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে বার কাউন্সিল এবং অন্যান্য স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে ব্যাপারটি সমাধানের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে শর্ট কোর্স বন্ধের ব্যাপারে নির্দেশনা সংবলিত সুপারিশ জারির জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে জরুরি ভিত্তিতে প্রস্তাব পাঠানো হবে।

সমাজ-ক্ষমতায়নই নারীকে নিরাপদ করবে by রাশিদা সুলতানা

জাতিসংঘে নারীর ক্ষমতায়ন এবং নারীকে মূলধারায় আনা অতিগুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচনা করা হয়। জাতিসংঘ শান্তি মিশন দারফুরে কাজ করতে গিয়ে দেখেছি, নারীকে মূলধারায় আনা হচ্ছে লিঙ্গসমতা অর্জনের একটা স্ট্র্যাটেজি বা কৌশল। মূলধারায় আনয়ন লিঙ্গসাম্য অর্জনের একটা উপায়।

‘দেশের বেশির ভাগ মানুষ নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন চায়’

বিশিষ্ট আইনজীবী ব্যারিস্টার রফিক উল হক বলেছেন, দেশ এখন রাজনৈতিক সঙ্কটের মধ্যে আছে। এই সঙ্কট হল আগামী নির্বাচন কিভাবে হবে তা নিয়ে। বিরোধী দল চাইছে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন। আর সরকার বলছে তাদের অধীনে অর্ন্তবর্তীকালীন সরকারের কথা। তবে দেশের বেশিরভাগ মানুষ নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন চায়। আজ নাগরিক ঐক্য নামে একটি সংগঠনের আত্মপ্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত নাগরিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়নে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সাবেক ছাত্রনেতা মাহমুদুর রহমান মান্না। আলোচনায় অংশ নেন আইন বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক, অধ্যাপক ড. পিয়াস করিম, ড. আসিফ নজরুল,আইনজীবী ড. তুহিন মালিক ও রাজনীতিবিদ আবদুল্লাহ সরকার। ব্যারিস্টার রফিক উল হক অনুষ্ঠানের আয়োজক মাহমুদুর রহমান মান্নাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, দেশে যে রাজনৈতিক সঙ্কট চলছে এই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে দুই নেত্রীকে এক টেবিলে বসানোর উদ্যোগ নিন। জানি সেটা সম্ভব হবে না। কিন্তু এভাবে দুই নেতার বসা নতুন কিছু না। অনেক দেশে এ ধরনে সংলাপ হয়। প্রধান নেতারা এক টেবিলে বসে আলোচনা করেন। এক সঙ্গে টেলিভিশনের অনুষ্ঠানেও যান। তিনি বলেন, এখন দেশবাসীর প্রশ্ন সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন কিভাবে হবে? এ নিয়ে দুই দলের অবস্থান ভিন্ন। সেই ক্ষেত্রেও যদি মাহমুদুর রহমান মান্না উদ্যোগ নেন তাহলে স্বাগত জানাব। তবে অনুষ্ঠানের সভাপতির বক্তব্যে মাহমুদুর রহমান মান্না দুই নেত্রীর সংলাপের বিষয়ে অনেকটা হতাশা প্রকাশ করেই বলেন, আমাদের সবাইকে এমন চাপ দিতে যাতে তারা এক সঙ্গে বসতে বাধ্য হন। একই সঙ্গে তিনি ব্যারিস্টার রফিক উল হককে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনি যদি তাদের সংলাপে বসানোর আহবান জানিয়ে অনশনে বসেন এবং বলেন, তারা সংলাপে না বসলে আনশন ভাঙবেন না, সেই অনশনে ৫০ লাখ লোক সাপোর্ট দেয় তাহলে দেখবেন শেখ হাসিনা এবং খালেদা জিয়া দৌড়ে আপনার কাছে আসছেন। অনুষ্ঠানে বক্তারা আওয়ামী লীগ ও বিএনপি’র রাজনীতির সমালোচনা করে বলেন, এই দুই দলের রাজনীতির বিপরীতে তৃতীয় রাজনৈতিক ধারা গড়ে তুলতে হবে। দেশে তৃতীয় রাজনৈতিক শক্তি গড়ে উঠলে লুটপাটের রাজনীতির অবসান হবে।

চিরকুট-ফুটবলের ফায়দা by শাহাদুজ্জামান

বিশ্বকাপ ফুটবল শুরু হলে আমার ভেতর ঘুমিয়ে থাকা শিশুটিকে জেগে উঠতে দেখি। একটি বল নিয়ে কতিপয় মানুষের লড়াই দেখার জন্য শিশুদের মতো উদ্বেল হয়ে উঠি। দেখি পৃথিবীর নানা প্রান্তের মানুষেরাও আমার মতো শিশু হয়ে উঠেছে। স্টেডিয়ামে হাজার হাজার বুড়ো খোকা ভেঁপু বাজায়, রংবেরঙের কাপড় পরে নাচে।

কক্সবাজারে সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের ৫ জনসহ নিহত ৭

কক্সবাজারের চকোরিয়া উপজেলার মালমঘাট এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের ৫জনসহ ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এতে আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। আজ সকাল সাড়ে আটটার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আমাদের কক্সবাজার প্রতিনিধি জানিয়েছেন, ঢাকা থেকে কক্সবাজারগামী শ্যামলী পরিবহনের একটি বাস ঐএলাকায়  পৌঁছলে কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রামগামী একটি মাইক্রোবাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। দুর্ঘটনায় মাইক্রোবাসটি দুমড়ে মুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই মাইক্রোবাসের ছয় আরোহী মারা যান। পরে হাসপাতালে আরেক শিশুর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় আহত ১৫ জনকে ডুলাহাজরা মালুমঘাট ক্রিশ্চিয়ান মেমোরিয়াল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। জানা যায়, কক্সবাজার শহরের টেকপাড়ার ব্যবসায়ী মর্তুজা হোসেন তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে একটি মাইক্রোবাসে করে ফেনী শহরে যাচ্ছিলেন। দুর্ঘটনায় মর্তুজা হোসেন, তার ছোট ভাই ইরতেজা হোসেন, তার স্ত্রী স্কুলশিক্ষিকা রেনু আরা বেগম, মর্তুজা হোসেনের এক নাতনি, তাদের নিকটাত্মীয় ছেনোয়ারা বেগম, কলেজছাত্রী আলাভি ও গাড়ি চালক মারা যান।

মুক্তিপণ মিলেনি, তাই শিশু হত্যা

৫ম শ্রেণীর ছাত্র অনন্ত চক্রবর্তী অন্তু অপহরণের পর দাবি ছিল ৫লাখ টাকার। অন্তুর পিতা অশোক চক্রবর্তীর কাছে মোবাইল ফোনে এই দাবি জানানো হয়। তবে খুব বেশি সময়ও বেধে দেয়া হয়নি। রাতের মধ্যে টাকা চাওয়া হয়। বলা হয়, পুলিশে জানানো যাবে না। কিন্তু বাবা খবর দেয় পুলিশ-র‌্যাবে। অপহরণকারীরা জেনে যায় সেকথা। পুলিশ যখন রাতে তিন অপহরণকারীকে আটক করে, তখন তাদেরই স্বীকারোক্তিতে একটি পুকুর থেকে উদ্ধার করা হয় শিশু অন্তুর বস্তাবন্দী লাশ। ঘটনাটি ঘটেছে  নাটোর সদর উপজেলার হালসা বাজারে। পুলিশ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় হালসা গ্রামের অন্তু চক্রবর্তী বাড়ির পাশের বাজারে যায়। এসময় অপহরণকারীরা তাকে সাদা রঙের একটি মাইক্রোবাসে উঠিয়ে অজ্ঞাতস্থানে নিয়ে যায়। অন্তুর পিতা অশোক চক্রবর্তী জানান, রাত সাড়ে ৭টার দিকে ০১৭৪৭-৪৭৮৫১৩ নম্বর মোবাইল ফোন থেকে কল করে জানানো হয়- তার ছেলেকে অপহরণ করা হয়েছে। এসময় তারা ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। রাতেই র‌্যাব-৫ এর সদস্যরা হালসা গ্রামের মামুন, আশরাফ ও শাজাহান নামে তিন অপহরণকারীকে আটক করে। তাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী হালসা মাদ্রাসার পাশে পুকুর থেকে ওই ছাত্রের বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করা হয়।

‘জনগণের হাতে প্রকৃত ক্ষমতা নেই’

টিআইবি’র ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান এডভোকেট সুলতানা কামাল বলেছেন, অনেক স্বপ্ন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে আমরা একটি গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা চেয়েছিলাম, যেখানে জনগণই হবে সব ক্ষমতার মালিক। কিন্তু আজ জনগণের হাতে প্রকৃত ক্ষমতা নেই। সুশাসন, গণতন্ত্র, মানবাধিকার সব ক্ষেত্রে চরম অস্থিরতা। বেশির ভাগ মানুষ আশা হারিয়ে ফেলছে। অনেকেই ভাবছে, এ দেশের কিছু হবে না। এসব কিছুর কারণ দুর্নীতি। দুর্নীতি মানে কেবল অর্থনৈতিক দুর্নীতি নয়, ক্ষমতার অপব্যবহার থেকে শুরু করে সব অন্যায়ই দুর্নীতি। সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) ও ইয়েস জাতীয় সম্মেলন-২০১২-এর উদ্বোধন করে তিনি এসব কথা বলেন। আজ রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে দুই দিনব্যাপী এই সম্মেলন শুরু হয়েছে। অনুষ্ঠানে টিআইবির ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য ও সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ টি এম শামসুল হুদা বলেন, ২০০৮ সালের নির্বাচনে আমরা সৎ ও যোগ্য প্রার্থী  চেয়েছিলাম। এ জন্য আইনের পরিবর্তন ও সংস্কার করেছিলাম। কিন্তু দলগুলো যে প্রার্থী দিয়েছিলেন, তারা সবাই যোগ্য নন। তিনি বলেন, শুধু বড় বড় কথা বললে হবে না, ব্যক্তিজীবনে এর চর্চা করতে হবে। টিআইবির ট্রাস্টি বোর্ডের আরেক সদস্য এম হাফিজউদ্দিন খান বলেন, দুর্নীতি বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়েই এই সরকার ক্ষমতায় এসেছিল। কিন্তু আমরা দেখছি দুর্নীতি আরও  বেড়েছে, দুর্নীতি দমন কমিশনকে আরও দুর্বল করা হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে দুর্নীতি প্রতিরোধে জনগণকে একসঙ্গে আন্দোলন করতে হবে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবাইকে দুর্নীতিবিরোধী শপথ পাঠ করান প্রয়াত অধ্যাপক মোজাফফর আহমেদের স্ত্রী রওশন জামান। এই শপথ বাক্য পাঠ করানোর কথা ছিল প্রয়াত মোজাফফর আহমেদের।

খোলা চোখে-আফগানিস্তানে শান্তির জন্য চাই ভারত-পাকিস্তান মৈত্রী by হাসান ফেরদৌস

একটা কাণ্ডই করে ফেলেছেন পাকিস্তান ও ভারতের দুই টেনিস তারকা, আসিমুল ও রোহান। উইম্বলডন টেনিস প্রতিযোগিতায় এই দুই তারকা একসঙ্গে জুটি বেঁধে পুরুষদের দ্বৈত ম্যাচে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। শুধু খেলছেন না, দারুণ খেলছেন। ইতিমধ্যেই তাঁরা কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে গেছেন।

সাংবাদিক নির্যাতন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দুঃখ প্রকাশ

সম্প্রতি পুলিশের হাতে সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এডভোকেট সাহারা খাতুন। একই সঙ্গে তিনি সাংবাদিকতের সহায়তাও কামনা করেছেন। নিজেদের ভুল হতে পারে এমন স্বীকারোক্তি করে তিনি বলেন, পুলিশ বাহিনীতে সবাই যে ভালো তা নয়। কিছু খারাপ পুলিশও রয়েছে। ১ লাখ ৪১,০০০ পুলিশের মধ্যে এটা স্বাভাবিক। এই খারাপ পুলিশদের বিরুদ্ধে গত সাড়ে তিন বছরে যখনই অভিযোগ উঠেছে, ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতেও নেয়া হবে। আজ ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা বলেন। পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের ব্যাপারে কেন ফৌজদারি ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না-জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পুলিশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের কিছু প্রক্রিয়া আছে। প্রথমে প্রত্যাহার করা হয়, তারপর বরখাস্ত করা হয়। এসব ধাপ শেষে বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হয়। সাম্প্রতিক সময়ে পুলিশের বিরুদ্ধে যতগুলো অভিযোগ উঠেছে, সবগুলো তদন্ত করা হচ্ছে। সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যাকাণ্ড তদন্ত সম্পর্কে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘তদন্ত চলছে। এখন আমি কিছু বলব না।’ বিএনপির নিখোঁজ নেতা ইলিয়াস আলীর বিষয়েও তদন্ত চলছে বলে তিনি জানান। স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু পুলিশ থেকে দূরত্ব বজায় রেখে সাংবাদিকদের দায়িত্ব পালন করতে বলেছেন- এ ব্যাপারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রতিমন্ত্রী এমন কোনো কথা বলেননি বলে জানিয়েছেন। তিনি যে কথা বলেননি সে কথাটা বারবার বলা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ের নানা অপ্রীতিকর ঘটনায় মহল-বিশেষের ইন্ধন থাকতে পারে বলে মনে করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘বিশেষ কোনো মহলের ষড়যন্ত্র হতে পারে।

দুর্যোগে বিপন্ন ও সেবায় উপেক্ষিত মানুষেরা কোথায় যাবে?-হাওর ও চরাঞ্চল

ক্ষমতা ও সুবিধার কেন্দ্র যখন রাজধানী, তখন যে এলাকা ঢাকা থেকে যত দূরে, সেবা ও সুযোগ-সুবিধা সেখানে তত কম। এর মধ্যে হাওর ও চরাঞ্চল হলো দূরতম। সেখানে সরকারের হাত ততটা প্রসারিত নয়। গত বুধবারের প্রথম আলোর দুটি সংবাদ তারই প্রমাণ।

‘মামলা ও গ্রেপ্তারে আন্দোলন স্তব্ধ হবে না’

‘মামলা ও গ্রেপ্তার করে রাজনৈতিক আন্দোলন স্তদ্ধ করা যায় না, যাবেও না’-বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান এমন মন্তব্য করে সরকারকে বলেছেন, যদি তাই হতো তাহলে এখনও আইয়ুব সরকার ক্ষমতায় থাকতো। সুতরাং, এ সরকার যতই নির্যাতন, নিপীড়ণ, মামলা করুক, জনগণের আন্দোলনের মুখে এ সরকারও ক্ষমতায় থাকতে পারবে না। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, সরকারের বোধোদয় হবে এবং বিএনপির নেতাকর্মীদের মুক্তি, মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও জনগণের দাবি মেনে নেবে। আজ সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, যদি জনগণের দাবি মেনে না নিয়ে সরকার প্রতিহিংসাপরায়ন হয়, তাহলে আন্দোলন করেই এ সরকারের কাছ থেকে ওই দাবি আদায় করে নেবে জনগণ। যদি আইন ও গণতন্ত্র দুটোকেই সরকার অগ্রাহ্য করে, তাহলে জনগণের আন্দোলন করা ছাড়া কোন পথ থাকবে না। কাশিমপুর কারাগারে বিএনপি নেতাদের নির্যাতন ও পুলিশের ভূমিকার কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, সরকার মিথ্যা মামলা দিয়ে বিএনপির সিনিয়র নেতাদের যেভাবে নির্যাতন করছে, তা রাজনৈতিক অপসংস্কৃতির সৃষ্টি করেছে। ঢাকা জেলার কেরানীগঞ্জ থানা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠন এই মানববন্ধনের আয়োজন করে।

দেশের বিশিষ্টজনেরা অন্ধ, চোখে দেখেন না’

‘দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অন্ধ। চোখ থাকতেও দেখেন না। চোখ বন্ধ করে তারা টকশোতে সরকারের শুধু নেতিবাচক দিকগুলোই তুলে ধরেন। আর দেন উপদেশ। অথচ আমরা বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে জাতির ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছি যে রাখছি,তা তারা বলার মতো মনে করেন না।’ এ অভিযোগ বাম রাজনীতিক ও সরকারের শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়ার। তার মতে, বর্তমান সরকারের সফলতা কেউ চোখে দেখছেন না। আজ সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে বঙ্গবন্ধু একাডেমি আয়োজিত ‘জননেত্রী শেখ হাসিনা সরকারের উন্নয়ন : দেশবাসীর প্রত্যাশা পূরণ ও বিরোধী দলের ধ্বংশাত্বক রাজনীতি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তৃতা করছিলেন তিনি। এ সময় শিল্পমন্ত্রী বলেন, বিগত সরকারের আমলে অনেক কৃষক সারের জন্য প্রাণ দিয়েছিলেন। কিন্তু এখন গণমাধ্যমই এ বিষয়ে কোনো নেতিবাচক রিপোর্ট করতে পারেনি। কারণ, আমরা সুষ্ঠুভাবে সার বিতরণে সক্ষম হয়েছি। খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ বাংলাদেশে এখন প্রতিটি মানুষ এখন পেট ভরে খেতে পারছেন। শিক্ষার্থীরা বছরের শুরুতেই বিনামূল্যের বই হাতে পাচ্ছে। সরকার জাতীয় গ্রিডে ৩ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যোগ করেছে। সামাজিক নিরাপত্তা নেটওয়ার্কের মাধ্যমে দুস্থ ভাতা, বিধবা ভাতা, বয়স্ক ভাতা দিয়ে গ্রামাঞ্চলের নিস্বদের খাবারের ব্যবস্থা করেছে। এসব কথা কেউ বলেন না। তিনি বলেন, বিরোধী দল ষড়যন্ত্র করে ঘোলা পানিতে মাছ ধরতে চায়। আন্দোলন-সংগ্রামের শক্তি দিয়ে তাদেরকে মোকাবিলা করতে হবে। ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাজী মো. সেলিমের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য সতিশ চন্দ্র রায়সহ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। আলোচনা সভায় হাজী সেলিম বলেন, এখন বিরোধী দল নির্যাতনের শিকার হচ্ছে বলে অভিযোগ করছে। অথচ আওয়ামী লীগ বিরোধী দলে থাকাকালে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় লঙ্গরখানায় পরিণত হয়েছিল। তাদের মামলা-নির্যাতনে কোনো কর্মী বাড়িতেও থাকতে পারতেন না।

প্রয়োজন সব পক্ষের সংযমী আচরণ-হরতালের নিরীহ শিকার

২৭ জুন বিএনপির হরতালের আগের রাতে গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের মধ্যে পড়ে গুরুতরভাবে দগ্ধ মোটর মেকানিক ফারুক হোসেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ঠাঁই পেয়েছিলেন। কিন্তু চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ চেষ্টায়ও তাঁর প্রাণ রক্ষা পেল না। তিনি মারা গেলেন।

শর্তহীন সংলাপে রাজি সরকার

শর্তহীন যে কোন সংলাপে সরকারের রাজি থাকার কথা জানিয়েছেন দপ্তরবিহীন মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেছেন, তবে এ সংলাপ হতে হবে সংবিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। সংবিধানের বাইরে কোনো সংলাপ হবে না। আজ সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে অনলাইন সংবাদ সংস্থা পিটিবি’র ‘স্বাধীনতার চারদশক প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সুরঞ্জিত বলেন, দেশের একমাত্র সংকট বিরোধীদল। তারা যদি সোজা পথে হাঁটে তাহলে গণতন্ত্রও সোজা পথে হাঁটতে পারবে, কোনো সংকট থাকবে না। গণতন্ত্রে সবসময় দ্বন্দ্ব থাকবে, তবে এগুলোর সমাধানের একমাত্র জায়গা হচ্ছে জাতীয় সংসদ। এখানে আসুন সংকট উত্তরণের পথ বের করে আপনাদের দায়িত্ব পালন করুন। তিনি বলেন, যে যত কথাই বলুক না কেন আগামী নিবার্চন খালেদা জিযার ১৫ই ফেব্রুয়ারির নিবার্চনের মতো হবে না। আমি এতোটুকু আশ্বাস দিতে পারি।  বিরোধীদলের উদ্দেশে বলেন, দেশে এতো সংকট থাকতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে আপনাদের এতো মাথা ব্যাথা কেন? আপনাদের এখন চিন্তা করতে হবে বিশেষ সরকার চান, নাকি গণতন্ত্র চান। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনের বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, বাংলাদেশে এসে অনেক ওয়াজ নসিহত করে গেছেন। হিলারি ক্লিনটনের কথায় আমাদের দেশে নির্বাচন হবে না। সাম্প্রতিক সময়ে পুলিশ কর্তৃক সাংবাদিক নির্যাতনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, পুলিশ গণমাধ্যমের উপর যেভাবে চড়াও হচ্ছে তা মোটেও কাম্য নয়। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা না থাকলে দেশে স্বেচ্ছাচারিতা বেড়ে যাবে। প্রকৌশলী ম. ইনামুল ইসলামের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন।

সংসদে যান, বিএনপিকে আকবর আলী

বিএনপিকে সংসদের বাজেট অধিবেশনে যোগ দিতে বলেছেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. আকবর আলী খান। সেখানে বিভিন্ন বিষয়ে অভিযোগ তুলে ধরারও আহ্বান জানান তিনি। বলেন, বাজেট আলোচনায় অংশ নেওয়া বিএনপির দায়িত্ব। এর মানে এই না সরকারে সব মতামতের সঙ্গে একমত পোষণ করা। আজ জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে ভোরের কাগজ আয়োজিত ‘বাজেট : ২০১২ কর প্রস্তাবনা’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন। বাজেটকে প্রাণহীন আচার-অনুষ্ঠান অভিহিত করে তিনি বলেন, সংসদে বাজেট বিষয়ে খুব বেশি হলে তিন সপ্তাহ আলোচনা হয়। এ সময় কালের মধ্যে আবার বড় একটা সময় বাজেট বহির্ভুত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করা হয়। তার ওপর এ আলোচনায় জনপ্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ নেই বললেই চলে। তাহলে তো একটা এসআরও (স্টেটিউটরি রেগুলেটরী অর্ডার) মাধ্যমেও বাজেট করা যায়। এ ধরনের অনিয়ম মেনে নেয়া যায় না। বাংলাদেশের বাজেট প্রক্রিয়া অগণতান্ত্রিক ও অস্বচ্ছ বলেও মন্তব্য তার। আকবর আলী খান বলেন, গত দুই বছরের বাজেট অধিবেশনে বিরোধী দল উপস্থিত ছিল না। বাজেট বিষয়ে বিস্তর আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় বাজেট করতে হলে তিনটি বিষয় নিশ্চিত করতে হবে। এগুলো হচ্ছে, বিরোধী দলের অংশগ্রহণ, এসআরও প্রি-পাবলিকেশন ও স্ট্যান্ডিং কমিটিগুলোতে আলোচনা। কর আদায় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘মানুষ যদি কর দিয়ে বিদ্যুৎ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, রাস্তাঘাট নির্মাণ ও মেরামতসহ অবকাঠামোগত এবং অন্যান্য নাগরিক সুযোগ-সুবিধা না পান তবে কর দিয়ে লাভ কি? যখন এসব পরিস্থিতির উন্নতি ঘটবে, অর্থাৎ মানুষ করের সুফল পাবেন তখন সকলেই কর দেবেন। বৈঠকে এনবিআর’র সাবেক চেয়ারম্যান বদিউর রহমান বলেন, রাজনীতিবিদরা ঠিকমতো কর দিলে এবং রাজস্ব আদায়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করলে নিয়মের বাইরে কেউ থাকবেন না। তখন দুই লাখ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করাও সম্ভব। কালো টাকা বিষয়ে তিনি বলেন, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, আইনজীবী, রাজনীতিবিদ সবার কাছেই কালো টাকা রয়েছে।

চারদিক-অন্য রকম আম উৎসব by আদনান মুকিত

সন্তানদের নিয়ে বাবা-মায়েরা সব সময় চিন্তার মধ্যে থাকেন। সন্তান কোথায় যায়, কার সঙ্গে মেশে—এসব নিয়ে তাঁদের চিন্তার শেষ নেই। ইদানীং এ ভাবনা পেয়েছে নতুন মাত্রা। ছেলেমেয়েরা ‘টেক্সটবুক’ বাদ দিয়ে সারা দিন ‘ফেসবুক’ নিয়ে মেতে আছে।

মানিক মিয়ার মৃত্যু বার্ষিকী আজ

দৈনিক ইত্তেফাকের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়ার ৪৩তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। তিনি ১৯৬৯ সালের ১লা জুন ইন্তেকাল করেন। মানিক মিয়ার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দৈনিক ইত্তেফাক এবং জাতীয় পার্টি (জেপি) বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করবে। তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়ার জন্ম ১৯১১ সালে পিরোজপুর জেলার ভান্ডারিয়া গ্রামে। তাঁর বাবার নাম মুসলেম উদ্দিন মিয়া। ১৯৩৫ সালে মানিক মিয়া ডিস্টিংশনসহ বরিশাল বিএম কলেজ থেকে বিএ ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৪৬ সালে আবুল মনসুর আহমেদের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় দৈনিক ইত্তেহাদ। ১৯৪৭ সালের আগস্ট মাসে দৈনিক ইত্তেহাদ-এর পরিচালনা পরিষদের সেক্রেটারি হিসেবে যোগ দেন মানিক মিয়া। এ পত্রিকার সঙ্গে মানিক মিয়া মাত্র দেড় বছর যুক্ত ছিলেন। এরপরই তিনি ইত্তেফাক প্রতিষ্ঠা করেন। তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়ার ৪৩তম মৃত্যবার্ষিকী উপলক্ষে দৈনিক ইত্তেফাকের পক্ষ থেকে শুক্রবার সকাল সাতটা থেকে মরহুমের আজিমপুর কবরস্থানের মাজারে কোরআনখানি অনুষ্ঠিত হয়। এ ছাড়া আগামীকাল দৈনিক ইত্তেফাকের কাজলারপাড়ের অফিসে সকাল আটটা থেকে কোরআনখানি ও বাদ জোহর মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। বিকাল সাড়ে ৩টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি কনফারেন্স হলে মরহুমের কর্মময় জীবনের ওপর আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভায় রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ আলোচনায় অংশ নেবেন।

নারী ও সংস্কৃতি-‘ইভ টিজিং’ আসলে যৌন হয়রানি-নির্যাতন by মনজুর রশীদ খান

সম্প্রতি বখাটেদের জ্বালাতনে অসহ্য হয়ে ঢাকা ও ঢাকার বাইরে কয়েকজন কিশোরী আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে। নির্যাতন-নিপীড়নে বাধ্য হয়ে নারীদের আত্মহননের খবর আসছে প্রায়ই। এসিড নিক্ষেপ, বিয়ের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় গায়ে পেট্রল ঢেলে আগুনে পোড়ানো, অপহরণ, ধর্ষণ ও খুনের মতো ভয়াবহ খবর তো আছেই।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-নব্বই বছরে আমাদের স্বপ্নযাত্রা by হারুন-অর-রশিদ

বঙ্গভঙ্গ রদের প্রেক্ষাপটে ১৯২০ সালের ১৮ মার্চ ‘দ্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যাক্ট’ পাস হয়। ১৯২১ সালের ১ জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু। স্যার পি জে হার্টগ ছিলেন এর প্রথম ভাইস চ্যান্সেলর। প্রায় ৬০০ একর জমি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়।

জীবন ও ফুটবল-ফুটবলে কী ঘটে by ফারুক ওয়াসিফ

ফুটবল যতটা খেলা ততটাই লীলা, জীবনের মতোই। জীবনের গোলপোস্টের সামনেও আমাদের নিঃসঙ্গ দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। মাঠে খেলছে নানান খেলোয়াড়, তাদের পায়ে পায়ে ছুটছে আপনার জয়-পরাজয়। কেবল অপেক্ষা, কখন আপনার ভাগ্যকে লাথি দিতে দিতে প্রতিপক্ষ ছুটে আসবে। সব বাধা ডিঙিয়ে আসবেই তারা নিয়তির মতো।

সময়ের আবর্তে-আফগানিস্তান সমস্যা by ফারুক চৌধুরী

যুক্তরাষ্ট্রে দুই মাস অবস্থানের পর ফিরে এসেই জানলাম, আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র তথা ন্যাটো বাহিনীর কমান্ডার জেনারেল ম্যাকক্রিস্টেলকে বরখাস্ত করা হয়েছে। সংগত কারণেই তাঁকে বরখাস্ত করা ছাড়া উপায় ছিল না প্রেসিডেন্ট ওবামার।

সময়ের প্রতিবিম্ব-হরতাল হয়েছে বা হয়নি, তাতে হয়েছেটা কী by এবিএম মূসা

ক্ষমতা হারানো দল হরতাল ডাকবে, ক্ষমতাসীন দল বিরোধিতা করবে। সরকারনিয়ন্ত্রিত সংস্থা ও অনুগত অঙ্গসংগঠনগুলো বলবে, প্রতিহত করা হবে। বিরোধী দল বলবে, প্রতিহত করলে বাধবে লড়াই। তার পরও হরতাল হয় অথবা হয়ে যায়, জনগণ করে অথবা করানো হয়।

অযত্ন-অবহেলার অবসান চাই-সমস্যার আবর্তে ঢাকা চিড়িয়াখানা

ঢাকা চিড়িয়াখানা দেশের প্রধানতম চিড়িয়াখানা। গুরুত্বপূর্ণ এই প্রতিষ্ঠানটি যে কতটা অযত্ন আর অবহেলার শিকার, তা ফুটে উঠেছে গত মঙ্গলবারের প্রথম আলোর বিশেষ প্রতিবেদনে। সেখানের দুই হাজার ৮২টি প্রাণীর বেশির ভাগই রুগ্ণ ও অসুস্থ। চিড়িয়াখানার জীবন্ত প্রাণীগুলোর স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জ প্রতিদিনের।

আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিন-অবৈধ আবাসন প্রকল্প

রাজউক যে কাজটি সম্প্রতি শুরু করল, সেটি আরও আগে শুরু করলে রাজধানীর নাগরিক জীবন অনেক স্বস্তি লাভ করত। ঢাকা ও এর আশপাশে ছোট-বড় যে ২০০টি আবাসন প্রকল্প রয়েছে, তার মধ্যে শতকরা মাত্র ১৩ ভাগ, অর্থাৎ ২৬টি অনুমোদিত, বাকি ১৭৪টি প্রকল্প অননুমোদিত; সোজা ভাষায় অবৈধ। এ তথ্য রাজউক সূত্রেই পাওয়া গেছে।

অদল-বদল

 একটি স্যামসাং এস৫২৩০ ওয়াই-ফাই মোবাইল ফোনসেটের বদলে স্যামসাং গ্যালাক্সি ওয়াই চাই। আসিফ
ফোন: ০১৬৭৬০৪৩৪২৫  একটি স্বল্প ব্যবহূত নিনটেনডো ডিএস লাইটের (সাদা রং) বদলে স্বল্প ব্যবহূত আইপড টাচ (৮ গিগাবাইট) চাই।

গেমস-উত্তরাধিকার by সুমন পাটওয়ারী

কিছু ব্যাপারের দায়ভার এড়িয়ে যাওয়া য়ায় না। পূর্বপুরুষের ঋণ সবাইকে শোধ করতে হবে। একটা সময় কাউকে না কাউকে পূর্বপুরুষের ফেলে যাওয়া কাজ শেষ করতে হয়। সেই ব্যাপারটি আরও বেশি প্রতীয়মান হয়ে উঠেছে কম্পিউটার গেমস এসাসিন ক্রিডে।

আকর্ষণীয় গেমস চরিত্র

কেউ আধা মানব-আধা দানব। কেউ ঘটনাচক্রে পেয়ে গেছেন অতিমানবীয় ক্ষমতা। কেউ আবার নিতান্তই সাধারণ রক্তমাংসের মানুষ। যে যেমনই হন, একটা জায়গায় মিল আছে—তাঁদের সবার বিচরণ ভার্চুয়াল জগতে। তাই বলে মানুষের মনে জায়গা নিতেও দেরি হয়নি তাঁদের। সবচেয়ে আকর্ষণীয় কয়েকজন গেমচরিত্র নিয়েই এই আয়োজন।

মনে এখনো মনরো

বেয়াড়া ঝোড়ো বাতাস বেমক্কা এসে হাজির। পরনের স্কার্টটাকে নিয়ে গেছে হাঁটুর খানিকটা ওপরে, একেবারে বিপজ্জনক সীমানায়! শশব্যস্ত হয়ে তিনি সেই স্কার্ট ধরে রাখার চেষ্টা করছেন। মুখে দুষ্টু মিষ্টি হাসি। দ্য সেভেন ইয়ার ইচ ছবির সেই বিখ্যাত দৃশ্য।

অপ্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ কেন?

সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সরকারের অঙ্গীকার; কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, বাস্তবে এর প্রতিফলন সন্তোষজনক নয়। চিকিৎসা ব্যবস্থার পথ মসৃণ নয় বিধায় দারিদ্র্যপীড়িত জনগোষ্ঠীকে এ জন্য বিরূপ ফল ভোগ করতে হয়। ১৯ মার্চ একটি দৈনিকে প্রকাশ, সরকারি হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে অপ্রয়োজনীয় ওষুধ।

অবহেলিত ইতিহাস

একাত্তরে বাংলাদেশের গ্রামে-গঞ্জে মানুষ খুন হয়েছে। খুনি ছিল পাকিস্তানি বাহিনীর সদস্যরা। সহযোগীর ভূমিকায় ছিল এ দেশেরই কিছু মানুষ। মানুষ খুন হয়েছে নিজের বাড়িতে, পথে-প্রান্তরে; যেখানেই মুখোমুখি হয়েছে পাকিস্তানি বাহিনীর। এর বাইরেও তারা মানুষ খুন করেছে। জল্লাদখানা কিংবা বধ্যভূমি ছিল সেসব খুনের জায়গা।

সিসিমপুর-হালুমের রাগ

টুকটুকি, শিকু ও হালুমকে নিয়ে সিসিমপুরের গল্প। সঙ্গে আছে আরও অনেকেই। সবাই মিলে নানা কাণ্ড ঘটায় এখানে। যা জানতে হলেপড়তে হবে। হালুম খড়ের গাদার পাশে দাঁড়িয়ে রাগে থর থর করে কাঁপছে। তার হাতে ছিপ ও খলুই।
এমন সময় সুমনা এসে বলল, হালুম কী করছ?

গরম যখন চরমে

বেশ কিছু দিন ধরে প্রচণ্ড গরম পড়েছে। বৃষ্টির দেখা নেই। মানুষ তবু পাখার বাতাস, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের হিমে গা জুড়াতে পারে, কিন্তু এমন কায়দা বিশাল প্রাণিজগতে আর কারও জানা নেই। এর পরও প্রাকৃতিক উপায়ে অনেক প্রাণী গরম থেকে রক্ষা পাওয়ার চেষ্টা করে।

রনিও ভূতকে ভয় পায় by হোসেন শহীদ

কামানিতলার জঙ্গলে কেউ যায় না। পাছে ভূতে ধরে, এই ভয়। জঙ্গলের মধ্যে আছে একটা খাল। ভূতেরা কাউকে একা পেলে, সেখানে নিয়ে নাকানি-চুবানি দেয়। জ্যান্ত পুঁতে ফেলে। দৈবাৎ ছেড়ে দিলেও, সে জ্যান্ত মরা হয়ে বেঁচে থাকে। চোখে দেখে না। কানে শোনে না।

পবিত্র কোরআনের আলো-চক্রবৃদ্ধি হারে সুদ খাওয়ার ওপর বিশেষ নিষেধাজ্ঞা

১৩০. ইয়া-আইয়্যুহাল্লাযীনা আ-মানূ লা-তা'কুলুর্ রিবা- আদ্বআ'-ফাম্ মুদ্বা-আ'ফাতান; ওয়াত্তাক্বুল্লাহা লাআ'ল্লাকুম তুফলিহূন। ১৩১. ওয়াত্তাক্বুন না-রাল্লাতী উয়ি'দ্দাত লিলকা-ফিরীন। ১৩২. ওয়া আত্বীউ'ল্লাহা ওয়ার্রাসূলা লাআ'ল্লাকুম তুরহামূন।

জাপানে দুর্যোগ এবং আমাদের ভাবনা by নেহাল আদেল

যেসব পরিবেশবাদী কয়লা ও তেল জ্বালানির পরিবর্তে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য পারমাণবিক চুলি্ল ব্যবহারের দাবি তুলছিলেন, তাঁদের ভাবনায় ধাক্কা দিল জাপানের ভূমিকম্প। পারমাণবিক রি-অ্যাক্টরের বিস্ফোরণ ঘটেছে। ধসে পড়েছে মার্কিন সপ্তম নৌবহরের কমান্ড।

কার কল্যাণে মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট by মোস্তফা হোসেইন

শেরপুর জেলার জগৎপুর গ্রামের গণহত্যা ও গণকবর বিষয়ে লেখার ইচ্ছা ছিল। মৌলভীবাজার জেলার শমশেরনগরের নির্যাতনকেন্দ্র কিংবা কুমিল্লা জেলার লাকসামের নির্যাতনকেন্দ্র ও বধ্যভূমির বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত থাকবে, এমনই ভাবনায় ছিল।

তেলের জন্য যুদ্ধ by ড. তারেক শামসুর রেহমান

লিবিয়ায় যেকোনো মুহূর্তে পশ্চিমা সামরিক অভিযান শুরু হতে পারে। জাতিসংঘ অনুমতি দিয়েছে। নতুন মোড় নিয়েছে লিবিয়া সংকট। লিবিয়ার সংকট যতই ঘনীভূত হচ্ছে, ততই একটা প্রশ্ন বড় হয়ে দেখা দিচ্ছে। আর তা হচ্ছে, তেলের জন্যই মূলত এ যুদ্ধ। আন্তর্জাতিক রাজনীতির বিশ্লেষকদের অভিমত তা-ই।

অ্যাদোনিস-আমার কবি হয়ে ওঠার গল্প-ভাষান্তর: দিলওয়ার হাসান

আধুনিক আরবি কবিতার পথিকৃৎ বলে খ্যাত অ্যাদোনিসের জন্ম ১৯৩০ সালের ১ জানুয়ারি, সিরিয়ার লাধকিয়া অঞ্চলের কাসাবিন গ্রামে। আরবি ভাষায় প্রকাশিত তাঁর গ্রন্থ ২০টিরও বেশি। তিন খণ্ডে প্রকাশিত তাঁর রচনা সমগ্রের নাম ইফ অনলি দ্য সি কুড স্লিপ।

শিল্পীর ভুবন-মেট্রোপল্লির মিহি মন্দিরা by সিলভিয়া নাজনীন

পরিযায়ী পাখির মতো তাঁর বিচরণ পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে। দেশ-বিদেশের শিল্প-সংস্কৃতির সব অন্ধিসন্ধির খবর নিয়ে তিনি ঋদ্ধ করেন তাঁর ভাবনাবলয়। শিল্পী কালিদাস কর্মকার বাংলার শেকড় থেকে রস আস্বাদন করে ছড়িয়ে পড়েন বিশ্বব্যাপী।

হামিদুজ্জামান খানের একক প্রদর্শনী-নীলের ভেতর শুভ্র প্রাণ by মোবাশ্বির আলম মজুমদার

নির্জন রাতের আকাশে মৃদু আলোর ঝলক এসে আছড়ে পড়েছে নদীর গায়ে। পাহাড়ের কোলে দুপুরের রোদ এসে দোল খায়। এ যেন শিল্প উদ্যাপন। শিল্পী হামিদুজ্জামান খান শিল্পের সঙ্গেই বসবাস করেন। প্রকৃতির শক্তির মাত্রাগুলো ধারণ করেন।

অক্তাবিও পাসের কবিতা-অনুবাদ: সাজ্জাদ শরিফ

মেহিকোর কবি অক্তাবিও পাস (১৯১৪-১৯৯৮) ছয় মাসের জন্য প্রথম ভারতবর্ষে আসেন ১৯৫১ সালে, অকিঞ্চিৎকর কূটনৈতিক কাজে। ১৯৬২ সালে দীর্ঘ ছয় বছরের জন্য আবার আসেন রাষ্ট্রদূত হয়ে—পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, নেপাল ও আফগানিস্তানের দায়িত্ব নিয়ে। ভারতবর্ষ তাঁর জীবন পাল্টে দেয়।

ঢাকার ব্রাহ্মসমাজ by অদিতি ফাল্গুনী

বাংলা সাহিত্যের একটু মনোযোগী পাঠক মাত্রই আঠারো শতকের মাঝামাঝি থেকে বিশ শতকের শুরু অবধি বাংলা কথাসাহিত্যে হিন্দু-ব্রাহ্ম মতাদর্শিক সংঘাত, হিন্দুসমাজের নানাবিধ পশ্চাৎপদতার বিরুদ্ধে সংস্কারবাদী আন্দোলন হিসেবে ব্রাহ্মধর্মের উত্থান আবার সমাজের বিপুলসংখ্যক মানুষকে সঙ্গে নিয়ে এগোতে না পারা কি ব্রাহ্মসমাজের

চারদিক-বৃষ্টিভেজা পানাম নগরে by শারমিন নাহার

বাংলা দেশের বর্ষা বলে কথা। সেই ছোটগল্পের মতো শেষ হইয়াও হইল না শেষ। আশ্বিনের প্রথম দিনকেও তাই মনে হচ্ছিল এ যেন ভরা বর্ষা। আগের রাতের শুরু হওয়া ঝুম বৃষ্টিতে মনে হচ্ছিলো ভ্রমণের আগে এমন বৃষ্টি তো যাত্রার জন্য শুভ। তবে সকাল অবধি টানা বৃষ্টিতে যখন ঘর থেকে বাইরে পা ফেলা বিড়ম্বনার,

ধর্ম-পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গাছ লাগান by মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান

ইসলামে পরিবেশ সংরক্ষণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষ সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ অবদান রাখে, তাই ইসলামের আলোকে বৃক্ষরোপণ ও পরিচর্যার দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। ইসলামের দৃষ্টিতে বৃক্ষরোপণ একটি অত্যাবশ্যকীয় কাজ।

আজ-কাল-পরশু-এক অনিশ্চিত পথে চলেছে স্বদেশ! by মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর

বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে উঠেছে। একদিকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি অপরদিকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে অস্বীকার—এই পরস্পরবিরোধী অবস্থানে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি সংঘাতের দিকেই এগোচ্ছে।

আর কত মৃত্যুর পর কর্তাব্যক্তিদের টনক নড়বে?-একসঙ্গে ১২টি প্রাণ

একটি দুর্ঘটনায় ১২ জনের মৃত্যু। এর মধ্যে এক পরিবারেরই নয়জন! এই পরিবারটি এখন কিসের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, সে সম্পর্কে ধারণা পাওয়া কি বাইরের কারও পক্ষে সম্ভব? আমরা শুধু অনুমানই করতে পারি! বুধবার কেরানীগঞ্জের কদমপুরে ঢাকা-মাওয়া সড়কে বাস ও মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে এমনই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে।

সময় থাকতে ঝাড়াই-বাছাই করুন-পুলিশের সহিংস আচরণ

মঙ্গলবার ঢাকা মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতসংলগ্ন চত্বরে কয়েকজন পুলিশ সদস্য এক নারীর শ্লীলতাহানি, তার মা-বাবাকে মারধর, সাংবাদিকসহ কয়েকজন আইনজীবীকে বেপরোয়া লাঠিপেটা করে পুলিশি হিংস্রতার ইতিহাসে এক কলঙ্কজনক অধ্যায় সংযোজন করলেন।

বীর মুক্তিযোদ্ধা-তোমাদের এ ঋণ শোধ হবে না

৪১২ স্বাধীনতার চার দশক উপলক্ষে খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে ধারাবাহিক এই আয়োজন। আলমগীর সাত্তার, বীর প্রতীক চৌকস এক বিমানসেনা ঘন বৃক্ষরাজিতে পূর্ণ এক পাহাড়ি এলাকায় ডাকোটা বিমান নিয়ে নিবিড়ভাবে প্রশিক্ষণ নিলেন আলমগীর সাত্তার (কাজী আবদুস সাত্তার)।

তেজগাঁও শিল্প এলাকা-প্লট পাওয়া ২০ ব্যক্তিকে তলব

হাতিরঝিল-বেগুনবাড়ি তেজগাঁও শিল্প এলাকায় প্লট বরাদ্দ পাওয়া ২০ ব্যক্তিকে তলব করেছেন হাইকোর্ট। প্লট বরাদ্দ পাওয়ার বিষয়ে ব্যাখ্যা জানাতে তাঁদের ১২ জুন আদালতে হাজির হতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী ও বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

রঙ্গব্যঙ্গ-আমিনীর কাল্পনিক সাক্ষাৎকার by মোস্তফা কামাল

ইসলামী ঐক্যজোটের নেতা ফজলুল হক আমিনী একের পর এক হুংকার দিচ্ছেন। তিনি সরকারকে হটিয়ে শিগগিরই ক্ষমতার মসনদে বসবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন। কী উপায়ে তিনি সরকারকে হটাবেন তা তাঁর কাছ থেকেই জানা যেতে পারে। আমরা তাঁর একটি কাল্পনিক সাক্ষাৎকার এখানে তুলে ধরছি।

গণমাধ্যম-জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জের সামনে কী? by মশিউল আলম

উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক, পরিপূর্ণ স্বচ্ছতার পক্ষে লড়াকু সাইবার-যোদ্ধা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জকে যাঁরা ভালোবাসেন, গত মঙ্গলবার ব্রিটিশ সুপ্রিম কোর্টের রায় শুনে তাঁরা উদ্বিগ্ন হয়ে ভাবছেন, অ্যাসাঞ্জের এখন কী হবে?
আর যাঁরা এই ‘হ্যাকার’কে মনে করেন ‘মোস্ট ডেঞ্জারাস ম্যান ইন দ্য ওয়ার্ল্ড’, তাঁকে আল-কায়েদার জঙ্গিদের মতো

নকশা অনুমোদন নেই  জমির মালিকানা বিষয়ে ভূমি অফিসের ছাড়পত্র নেই  নেই পরিবেশ ছাড়পত্র-ওয়েসিস হোটেল থেকে সাবধান by আব্দুল কুদ্দুস

১৪ তলা ভবন নির্মাণে নকশার অনুমোদন নেই, পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেই, জমির মালিকানা বিষয়ে ভূমি অফিসের প্রত্যয়ন বা ছাড়পত্র নেই। তার পরও কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের বিরোধপূর্ণ এবং প্রতিবেশ সংকটাপন্ন জমিতে পাঁচতারকা হোটেল নির্মাণের প্রক্রিয়া শুরু করেছে ওয়েসিস হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টস লিমিটেড।

এক অসমাপ্ত যুদ্ধের কাহিনি

‘বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু এই যুদ্ধক্ষেত্রে বেঁচে থাকাটা অত্যন্ত কষ্টের। সময় এসেছে সিয়াচেনকে মৃত্যু উপত্যকার পরিবর্তে শান্তির প্রতীকে পরিণত করার।’ সিয়াচেনের বেস ক্যাম্পের সেনাদের উদ্দেশে ২০০৫ সালের জুনে এ কথাগুলো বলছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং।

পুলিশ সদস্যদের কাউন্সেলিং করানো হচ্ছে by একরামুল হক

পুলিশের বিভিন্ন স্তরের সদস্যদের কাউন্সেলিং (পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা) করানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ গতকাল বৃহস্পতিবার তিন শতাধিক পুলিশ সদস্যকে কাউন্সেলিং করিয়েছে। আগামী এক সপ্তাহে পর্যায়ক্রমে প্রায় পাঁচ হাজার সদস্যকে কাউন্সেলিংয়ের আওতায় আনা হবে।

বিএনপির চার নারী সাংসদসহ ছয় সাংসদও আসামি-বিরোধী দলের ২৯ নেতার বিরুদ্ধে আরেক মামলায় অভিযোগপত্র

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটের ২৯ নেতার বিরুদ্ধে আরেকটি মামলায় অভিযোগপত্র দিয়েছে পুলিশ। সচিবালয়ে হাতবোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় করা মামলায় অভিযোগপত্র দিয়েছে পুলিশ।
হরতাল চলাকালে সচিবালয়ে ককটেল নিক্ষেপের মামলায় গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে এ অভিযোগপত্র দাখিল করে।

বৃত্তের ভেতর বৃত্ত-সংসদে যোগদান এবং বিরোধীদলীয় নেতার 'অঘটনের' শঙ্কা by দেবব্রত চক্রবর্তী বিষ্ণু

দীর্ঘদিন পর জাতীয় সংসদ প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে। বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোটের সদস্যরা একটানা ৭৪ কার্যদিবস সংসদে অনুপস্থিত থেকে চলতি অধিবেশনে আসন রক্ষার জন্য সংসদে যোগ দিয়েছেন কি না_এই বিতর্কে না গিয়েও জাতীয় সংসদে তাঁদের যোগদানকে গণতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধাশীল মানুষ ইতিবাচক দৃষ্টিতেই দেখছেন।

বিশ্বস্ত আমলাতন্ত্র by এ এম এম শওকত আলী

বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য বহুবিধ দিক নির্দেশনা দিচ্ছে। এর শুরু হয় প্রথমে প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ে। প্রাথমিকভাবে প্রধানমন্ত্রী সচিবদের সঙ্গে এক বৈঠকে বিষয়টির ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। ওই সময় তিনি এ কথাও বলেন, আইন ও বিধি যদি সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া ব্যাহত করে, তাহলে সচিবরা যেন বিষয়টি তাঁর নজরে নিয়ে আসেন।

ঢাকাকে নিতে হবে ঢাকার বাইরে!-যানজটে ৮০ লাখ কর্মঘণ্টা অপচয়

পৃথিবীর অনেক বড় শহর মূলত অফিসভিত্তিক। বাসিন্দাদের অনেকেই বাস করে বাইরে। ঢাকা নগরীর জন্যও এমন ব্যবস্থা করা যায়। ঢাকাকে পাঠানো যায় ঢাকার বাইরে! ঢাকার আশপাশের জেলাগুলোর সঙ্গে ট্রেন যোগাযোগ স্থাপন করলে মানুষকে রাজধানীতে থাকতে হবে না।

আদালত চত্বরে শ্লীলতাহানি-চার পুলিশ ও সোর্সের বিরুদ্ধে মামলা তদন্ত করবে ডিবি

ঢাকা মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালত চত্বরে পুলিশ ক্লাবে এক নারীর শ্লীলতাহানির ঘটনায় অবশেষে থানার সেকেন্ড অফিসারসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা নিয়েছে কোতোয়ালি থানা। মামলার বাদী নির্যাতিতার মা। গতকাল বৃহস্পতিবার মামলার তদন্তভার মহানগর গোয়েন্দা পুলিশে (ডিবি) ন্যস্ত করা হয়েছে।

৩২ বছর বয়সেও প্রতিবন্ধীরা চাকরিতে ঢুকতে পারবেন

শারীরিক প্রতিবন্ধীরা ৩২ বছর বয়সেও সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা ও করপোরেশনের চাকরিতে যোগ দিতে পারবেন। গতকাল বৃহস্পতিবার প্রতিবন্ধীদের চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা দুই বছর বাড়ানোর অফিস আদেশ জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

নতুন মিশন খোলার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে অগ্রগতি নেই by আশরাফুল হক রাজীব ও মেহেদী হাসান

লেবাননে বিভিন্ন সেক্টরে কর্মরত বাংলাদেশির সংখ্যা ২৫ হাজারেরও বেশি। এঁদের অধিকাংশই নারী। অথচ সেখানে বাংলাদেশের কোনো দূতাবাস নেই। ফলে প্রবাসীরা সেখানে দ্রুত কনস্যুলার সেবা পাচ্ছেন না। সরকার বিষয়টি অনুধাবন করে সেখানে দূতাবাস স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কিন্তু ওই পর্যন্তই। এরপর আর কোনো অগ্রগতি নেই।

স্থল সীমান্ত চুক্তি-সংসদে না তোলার কারণ জানেন না চিদাম্বরম

বাংলাদেশের সঙ্গে স্বাক্ষরিত স্থল সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য সংবিধান সংশোধনের বিল ভারতের সদ্য সমাপ্ত বাজেট অধিবেশনে না তোলার কারণ 'জানা নেই' বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পি চিদাম্বরম। গতকাল বৃহস্পতিবার দিল্লিতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ মন্তব্য করেন। দিল্লি থেকে বিবিসি এ খবর জানায়।

গাছ লাগানো সওয়াবের কাজ by কাজী সিকান্দার

আল্লাহতায়ালা মানুষকে সৃষ্টি করেছেন তার প্রতিনিধিরূপে। আর প্রত্যেক মাখলুককে সৃষ্টি করেছেন মানুষের খেদমতের উদ্দেশ্যে। মানুষ যাতে সুন্দরভাবে বসবাস করতে পারে, তৃপ্তি ও আনন্দের সঙ্গে আল্লাহর ইবাদত করতে পারে। মানবজাতির উপকারী একটি মাখলুক হলো গাছ। গাছ মানুষের জীবনে নানাভাবে উপকারে আসে।

মদিনাতুল উলুম মাদ্রাসা-স্বতন্ত্রধারার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান by ওয়ালী উল্লাহ আরমান

শিল্পাঞ্চল বলে খ্যাত গাজীপুর জেলার গাছা ইউনিয়নের আলাদা একটি সুনাম আছে দেশজুড়ে। ফলে উন্নয়নের ছোঁয়া দেখা যায় এ এলাকার সর্বত্রই। সেই গাছা ইউনিয়নের কামারজুরী গ্রামের শান্ত-নিবিড় পরিবেশে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে একটি দীনি মাদ্রাসা।

বাজেটে চাই মসজিদ-মাদ্রাসার জন্য আলাদা বরাদ্দ by মুফতি এনায়েতুল্লাহ

প্রতি বছর জুন মাস এলেই বাজেট সংক্রান্ত নতুন ভাবনায়, নতুন চিন্তায় গোটা জাতি আলোড়িত হয়। দেশে প্রতি বছর বাজেট ঘোষিত হয়। কোনো নির্দিষ্ট আর্থিক বছরের সম্ভাব্য আয়-ব্যয়ের বিস্তারিত হিসাবকে বাজেট বলে। প্রত্যেক আর্থিক বছরের গোড়াতে ওই বছরের বিভিন্ন উৎস থেকে কী পরিমাণ অর্থ আয় হবে এবং বিভিন্ন খাতে কী পরিমাণ অর্থ ব্যয় হবে তার একটি বিস্তারিত বিবরণী তৈরি করা হয়।

রেলে ই-টিকিটিং by একরামুল হক শামীম

বাংলাদেশ রেলওয়ের ই-টিকিটিং সেবা শুরু হয়েছে গত ২৯ মে থেকে। এর মাধ্যমে অনলাইনে রেলওয়ের টিকিট কাটা সম্ভব হবে। ই-টিকিটিংয়ের মাধ্যমে শুরুতে প্রতিদিন মোট টিকিটের ১০ শতাংশ ইন্টারনেটের মাধ্যমে কাটা যাবে। রেলমন্ত্রী অবশ্য আশা করছেন পর্যায়ক্রমে রেলওয়ের পুরো টিকিটিং ব্যবস্থা ইন্টারনেটের মাধ্যমে করা হবে।

স্মরণ-উপমহাদেশের সাংবাদিকতা জগতের পথিকৃৎ by শেখ আবদুস সালাম

বাঙালিকে গভীরভাবে ভালোবেসেছিলেন মানিক মিয়া। সাংবাদিকতা চর্চায়, তার লেখায় এই ভালোবাসা নানাভাবে প্রতিমূর্ত হয়ে উঠেছিল। সময় ও সমাজ বদলের মোক্ষম হাতিয়াররূপে তিনি বেছে নিয়েছিলেন সাংবাদিকতা পেশাকে। সুদূরপ্রসারী মিশন ও ভিশন নিয়ে একজন সুদক্ষ ও সত্যনিষ্ঠ সাংবাদিক হিসেবে তিনি তার পত্রিকা দৈনিক ইত্তেফাকের মাধ্যমে গড়ে তুলেছিলেন বিশাল পাঠকগোষ্ঠী

হৃদয়নন্দন বনে-সোনালি সূর্য, চড়ূইয়ের খেলা, ক্ষুধার দর্শন by আলী যাকের

একদিন সাইকেলে করে আশুলিয়ার পথ ধরলাম। পেঁৗছে গেলাম তুরাগ নদের ধারে সেই জায়গায়, যেখানে রাস্তাটি ত্রিধারায় বিভক্ত হয়েছে। একটি ঢাকা থেকে এসেছে, একটি চলে গেছে আশুলিয়া হয়ে নবীনগর-চন্দ্রা রাস্তার দিকে, আর একটি ঢাকার অদূরে অবস্থিত উদ্ভিদ উদ্যানের পাশ দিয়ে চলে গেছে মিরপুর। নিসর্গ আমার অতি প্রিয় একটি বিষয়।

বন্ধুর হাতে খুন-অবক্ষয়ের সীমান্তে সমাজ!

যে বা যারা বাসা থেকে ডেকে নিয়ে সহপাঠীকে অপহরণ করে তার পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করতে পারে এবং মুক্তিপণ না পেয়ে হত্যা করে লাশ গুমের চেষ্টা করতে পারে তাদের কোনোভাবেই বন্ধু বলা যায় কি-না সে প্রশ্ন উঠবে স্বাভাবিকভাবেই। কিন্তু পত্রিকায় প্রকাশিত খবরে অপহরণ ও হত্যাকারীদের 'বন্ধু' বলেই অভিহিত করা হয়েছে।

ব্যাংকিং খাত-সুদের হার নিয়ন্ত্রণে থাকুক

ব্যাংকগুলো আমানতের জন্য সুদ বেশি দিলে ঋণের জন্যও সুদ বেশি নিতে হবে_ এটা অর্থনীতির স্বাভাবিক নিয়ম। অন্যথায় লোকসানের সম্ভাবনা থাকে। আমানত গ্রহণ ও ঋণ প্রদানের জন্য সুদের হার নির্ধারণে বাংলাদেশ ব্যাংকের ভূমিকা কী হওয়া উচিত সেটা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।

সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনায় হানিফের দুঃখ প্রকাশ

সাম্প্রতিক সময়ে পুলিশের সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেছেন, গুটিকয়েক পুলিশ সাংবাদিক নির্যাতন করে গোটা পুলিশের গায়ে কালিমা লেপন করেছে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটির উন্নয়নকাজ স্থবির-'আলাপ' না করলেই গতি হারায় ফাইল by অমিতোষ পাল

ক্লিন এয়ার অ্যান্ড সাসটেইনেবল এনভায়রনমেন্ট (কেজ) বা নির্মল বায়ু ও টেকসই পরিবেশ প্রকল্পের আওতায় খিলগাঁও-বনশ্রী সড়কের উন্নয়নের জন্য ছয় মাস আগে দরপত্র বিজ্ঞপ্তি দিয়েছিল ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে দুই পর্যায়ে ৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে এই উন্নয়নকাজ সম্পন্ন হবে।

আন্তর্জাতিক মুদ্রণ শিল্প বাজারে বসুন্ধরা-ফিলিপাইনের পাঠ্যপুস্তক ছাপল ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া প্রেস

ফিলিপাইনের স্কুলগুলোর ছাত্রছাত্রীদের অনেকে ঝকঝকে যে নতুন পাঠ্যপুস্তক পড়বে তা বাংলাদেশের বসুন্ধরা গ্রুপের ছাপানো। বইগুলোর কাগজও বসুন্ধরার। ফিলিপাইন শিক্ষা বোর্ডের জন্য ছাপানো প্রায় এক লাখ বইয়ের প্রথম চালানটি গতকাল হস্তান্তর করেছে বসুন্ধরা।

সম্পাদকের কলাম-সাংবাদিকদের ওপর এত আক্রোশ কেন? by ইমদাদুল হক মিলন

দুপুরের খাওয়াদাওয়া সেরে চিলেকোঠার ছায়ায় বসে আছেন বঙ্গবন্ধু। লুঙ্গি-গেঞ্জি পরা। এক চেয়ারে বসে আরেক চেয়ারে পা তুলে দিয়েছেন। হাতে প্রিয় পাইপ। এরিন মোরের গন্ধে উতলা হয়েছে ছাদের হাওয়া। এ সময় একটি ছেলে দ্রুত সিঁড়ি ভেঙে ছাদে এলো। তার হাতে ক্যামেরা। সে ক্লিক ক্লিক করে বঙ্গবন্ধুর ছবি তুলতে লাগল।

ঢাকা-চট্টগ্রাম যাত্রীবাহী জাহাজ দরকার-কম খরচে ৭ ঘণ্টায় গন্তব্যে পৌঁছানো যাবে by টিটু দত্ত গুপ্ত

ঢাকা ও চট্টগ্রামের মধ্যে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা পর্যাপ্ত নয়। রেল যোগাযোগও উন্নত নয়। ফলে বিদ্যমান সড়কের ওপর পড়ছে অত্যধিক চাপ। হাইওয়ে বলতে যা বোঝায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম সড়ক তা নয়। ডিভাইডার নেই, রাস্তার ওপর বাজার বসে। যানজটের কারণে যাতায়াতে সময় বেশি লাগে।

সেনাপ্রধানের মেয়াদ আর দুই সপ্তাহ-মেয়াদ না বাড়লে সম্ভাব্যদের তালিকায় চার লে. জেনারেল by কাজী হাফিজ

সেনাবাহিনীর প্রধান হিসেবে জেনারেল মোহাম্মদ আব্দুল মুবীন, এনডিসি, পিএসসির মেয়াদ আগামী ১৫ জুন শেষ হতে যাচ্ছে। ২০০৯ সালের ১৫ জুন বর্তমান সরকার তাঁকে তিন বছর মেয়াদের জন্য সেনাবাহিনীপ্রধান হিসেবে নিয়োগ দেয় এবং ওই দিনই তিনি লে. জেনারেল থেকে জেনারেল পদে পদোন্নতি লাভ করেন।

২৯ রাজনীতিক ও ২৫ আইনজীবীর বিরুদ্ধে চার্জশিট-সচিবালয়ে ককটেল বিস্ফোরণ মামলা

গত ২৯ এপ্রিল হরতালের সময় সচিবালয়ে ককটেল বিস্ফোরণ মামলায় বিএনপিসহ ১৮ দলীয় জোটের শীর্ষস্থানীয় ২৯ নেতা এবং পরবর্তী সময়ে আদালতে ভাঙচুরের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় বিএনপিপন্থী ২৫ আইনজীবীর বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার পৃথক দুটি মামলায় চার্জশিট দেওয়া হয়।

আবারও মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা

প্রতিরোধের উপায় নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে প্রায়ই এমন সব মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে যে দেশব্যাপী শোকের ছায়া পড়ে যায়। চারটি পরিবারের নিকটাত্মীয়-পরিজন মিলে দুদিনের ছুটিতে গ্রামের বাড়ি শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ যাওয়ার পথে বুধবার ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কে দুর্ঘটনায় ড্রাইভারসহ তরতাজা ১২ জন মানুষের জীবনাবসান ঘটল।

এ আচরণ কাম্য নয়-ভালো পুলিশের এই কি নমুনা!

আবার অভিযোগের তীর পুলিশের দিকে। এবার গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে প্রতিপক্ষের হাতে তুলে দেওয়ার অভিযোগ। আগের দিন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সংবাদ মাধ্যমকে বলেছিলেন পুলিশ থেকে নিরাপদ দূরত্বে থাকতে। পরদিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বললেন, পুলিশ আগের চেয়ে অনেক ভালো হয়েছে।

স্মরণ-তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া by আহমেদ রিয়াজ

একবার মোনায়েম খাঁ ঘোষণা দিলেন, মানিক মিয়াকে ঢাকা শহরে খড়ম পায়ে হাঁটিয়ে ছাড়বেন। মানিক মিয়া রাগলেন না। ঘটনাটি ১৯৬৭ সালের মাঝামাঝির। আইয়ুব খান আর মোনায়েম খাঁ, দুজনই বেজায় নাখোশ মানিক মিয়ার ওপর। কত বড় সাহস! খান সাহেবের সমালোচনা হয় মানিক মিয়ার পত্রিকা ইত্তেফাকে? যদিও ইত্তেফাক তখনো বন্ধ।

আলোকের এই ঝরনাধারায় (পর্ব-৭৮)-'দেশে দেশে ভ্রমি তব দুখ গান গাহিয়ে' by আলী যাকের

কাজ থেকে অবসর পেলেই আমি মাঝেমধ্যে ১৪৪ লেনিন সরণিতে যেতাম। সেখানে কলকাতার শিল্পী-সাহিত্যিক-সাংবাদিকদের উদ্যোগে সৃষ্ট 'বাংলাদেশ সহায়ক সমিতি'র আনুকূল্যে আমাদের মুক্তিযাদ্ধা শিল্পীরা সমবেত হতেন একটি আয়তাকার বড় হলে। সেখানে প্রতিদিন মহড়া চলত গান, আবৃত্তি ইত্যাদির।

আর কত হিমুকে আমরা হারাব? by ড. নিয়াজ আহম্মেদ

চট্টগ্রামে হিমু হত্যাকাণ্ড সাম্প্রতিককালে কিশোর অপরাধপ্রবণতার মাত্রাকে এক চরম পর্যায়ে পৌঁছে দিয়েছে বলে সমাজ বিশ্লেষকদের অভিমত। হত্যাকাণ্ডটি শুধু নির্মমই নয়, মর্মস্পর্শীও বটে। হিমুকে হত্যা করার কৌশলগুলো আমাদের অপরাধ জগতে এক নতুনমাত্রা যোগ করেছে।

চৈতন্যের মুক্ত বাতায়ন-মোনাফেক মধ্যবিত্ত ও বাংলাদেশের পাকিস্তানীকরণ by যতীন সরকার

দেশের মুক্তিসংগ্রামে সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল যাঁদের, তাঁদের গরিষ্ঠসংখ্যকই ছিলেন গ্রামের কৃষক সমাজের মানুষ। অর্থনৈতিক বিচারে তাঁরা অধিকাংশই ছিলেন নিম্নবিত্ত গোষ্ঠীর, কারো কারো অবস্থান ছিল পুরোপুরি বিত্তহীনের কোটায়; কিন্তু সে সংগ্রামের নেতৃত্ব তাঁদের হাতে ছিল না।