Sunday, January 20, 2019

মমতাকে পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির খোঁচা by অমর সাহা

আবার বাগ্‌যুদ্ধে জড়াল তৃণমূল ও বিজেপি। গতকাল শনিবার ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার ঐতিহাসিক ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে সফল মহাসমাবেশ করে তৃণমূল। এতে যোগ দেন ভারতের বিজেপি বিরোধী অন্তত ২২টি রাজনৈতিক দলের ২৩ নেতা।
তৃণমূল নেত্রী ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই সভা সফল হওয়াকে মেনে নিতে পারেননি রাজ্যের বিজেপি নেতৃবৃন্দ। দলের রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ কটাক্ষ করে বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী বাছতে তো এবার লটারি করতে হবে মমতার। যদিও মমতা গতকাল ব্রিগেড সমাবেশে বলেছিলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর অভাব নেই দেশে। প্রধানমন্ত্রিত্বের দৌড়ে নেই কোনো নেতা। ভাবছেনও না এগুলো নিয়ে। ২২-২৪টি পার্টি এই মঞ্চে এক হয়েছে গণতন্ত্র, অর্থনীতি ও বিজেপির হাত থেকে দেশকে রক্ষা করার দাবি নিয়ে। তাই দেশের প্রধানমন্ত্রী কে হবেন, তা এখন ভাবার দরকার নেই। ভোটে জয়ের পর সেসব ঠিক হবে।’
এসব কথার পরিপ্রেক্ষিতে এক সংবাদ সম্মেলনে দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘এতজন নেতা! প্রধানমন্ত্রী বাছতে তো লটারি করতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘মোদিজির কোনো এক্সপায়ার ডেট হয় না। মোদিজির হাত ধরেই দেশজুড়ে বিজেপির পতাকা উড়বে। চন্দ্রবাবু, অখিলেশদের কটা ভোট? এ রাজ্যের বাইরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়েরই–বা কী আছে? প্রধানমন্ত্রী বাছতে তো তাই লটারি করতে হবে। আমাদের দলের একটিই মুখ—মোদিজি।’ এ সময় তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করে বলেন, ‘মমতা নিজেই তো শাড়িপরা হিটলার। আমার নামে এক শ মামলা দিয়ে রেখেছে। বিজেপি কর্মীদের ধরে ধরে ভুয়া মামলা দিচ্ছে। ব্রিগেডে যে সার্কাস দেখলাম, মন ভরে গেল।’
গতকালের সমাবেশের পর ২৩ নেতার সম্মানে চা চক্রের আয়োজন করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে মমতা নিজেই অতিথিদের আপ্যায়ন করান। চা চক্রের পর সংবাদ সম্মেলনে নেতারা জানান, এবার তাঁরা ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) পরিবর্তে ব্যালটে ভোট দেওয়ার দাবিতে আন্দোলন শুরু করছেন। নেতারা বলছেন, ভোটযন্ত্রে কারচুপির শঙ্কা থাকে। নির্বাচন কমিশনে দাবি উপস্থাপনের জন্য চার সদস্যের কমিটিও গঠন করা হয়। তাঁরা হলেন, আম আদমি পার্টির নেতা ও দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল, সমাজবাদী পার্টির নেতা ও উত্তর প্রদেশের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদব, কংগ্রেস সাংসদ অভিষেক মনু সিংভি এবং বহুজন সমাজ পার্টির নেতা সতীশ মিশ্র।

টাকার বিনিময়ে যৌন সম্পর্ক

অনলাইনে সবকিছুই এখন বিক্রয় হয়। আর এই সুযোগ নিয়েছে এক তরুণী। ওয়েবসাইটের নাম ‘সিন্ড্রেলা এসকোর্ট’। অর্থের বিনিময়ে মেয়েদের প্রথমবারের মতো যৌন সম্পর্ক গড়ার সুযোগ দিতেই তৈরি হয়েছে এ ওয়েবসাইট। এতে প্রোফাইল খুলেছেন লন্ডনের এমি (১৯) নামের এক তরুণী। তিনি ১ মিলিয়ন পাউন্ডের বিনিময়ে কুমারিত্ব বিক্রির ঘোষণা দিয়েছেন। জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ফি ও পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দিতেই তিনি এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এরইমধ্যে তিন জনের সঙ্গে ডেট করেছেন এমি। তারা পেশায় একজন ফুটবলার, জার্মান ব্যবসায়ী ও ওয়াল স্ট্রিট ব্যাংকার।
এমি বলেছেন, আমি আমার কুমারীত্ব বিক্রি করতে চাই কারণ আমি ভ্রমণ করতে ভালোবাসি। আমি এ থেকে পাওয়া অর্থ পড়াশোনার জন্য ব্যবহার করতে পারব। সবচেয়ে গুরুতূপূর্ণ হল আমি আমার পরিবারকেও সহায়তা দিতে পারি। এটাই মূল কারণ। আমি বিশ্বাস করি এটা যদি আমি করি তাহলে আমার ভবিষ্যৎ আরও উজ্জ্বল হবে।
সিন্ড্রেলা এসকোর্ট এর মাধ্যমে কারও সঙ্গে ডেট করতে হলে অবশ্যই জার্মানি ভ্রমণ করতে হবে। কারণ সেখানে অবাধ যৌনতা বৈধ। সিন্ড্রেলা এসকোর্ট'র মাধ্যমে কোনো মেয়ে যে অর্থ উপার্জন করবে তার ১০ ভাগ ওয়েবসাইট কর্তৃপক্ষকে দিতে হবে।

লেডি বাইকারদের ছুটে চলা by মরিয়ম চম্পা

ঢাকার রাজপথে ছুটে চলছে হরদম। মাথায় হেলমেট। হাত শক্ত করে ধরা বাইকের হাতল। পেছনে যাত্রী। গলায় ওড়না পেঁচানো। তারা নারী বাইকার। অবলীলায় ছুটে চলছেন রাজধানীর এ মাথা থেকে ও মাথা। সমাজের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ছুটে চলা এসব নারী বাইকাররা নিজেদের নারী ভাবতে নারাজ।
তারা মানুষ হিসাবেই নিজেকে ভাবেন। তাইতো নারী বাইকার রাবেয়া বশরী বলেন, সমাজ বদলেছে। বদলেছে সভ্যতা। আধুনিক সমাজের সঙ্গে পিছিয়ে পড়া মানে চাপা পড়ে যাওয়া। সময়ের আগে চলতে হবে এমনটাই বিশ্বাস করেন তিনি। বাইক রাইডার অ্যাপস ‘ও বোন’-এর সঙ্গে যুক্ত রাবেয়া।
রাইড শেয়ারিং অ্যাপে যুক্ত হয়েছে নারীদের জন্য রাইড শেয়ারিং সেবা ‘ও বোন’। ‘ও ভাই সলিউশনস লিমিটেড’-এর রাইড শেয়ারিংয়ের একটি প্ল্যাটফর্ম ‘ও বোন’। এই সেবার সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০ নারী। প্রতিদিন ৪০ থেকে ৫০ জনের বেশি নারী বাইকার এই সেবার সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে ছুটে বেড়াচ্ছেন রাজধানীতে। গত বছরের ২৮শে এপ্রিল থেকে নারীদের জন্য এই বিশেষ সেবা চালু হয়েছে। সকাল ৮টা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত যেকোনো নারী ও ভাই অ্যাপের ‘ও বোন’ অপশনের মাধ্যমে খুঁজে নিতে পারবেন তার রাইডারকে।
‘ও বোন’-এর রাইডাররা খণ্ডকালীন ও পূর্ণকালীন দুভাবেই কাজের সুযোগ পাচ্ছেন। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানটি রাইডারদের আলাদা করে বাইক, হেলমেট, রেইনকোট সরবরাহ করছে। রাইড শেয়ারিংয়ে আগ্রহী হলে ‘ও ভাই সলিউশন লিমিটেড’-এর নিজস্ব তত্ত্বাবধানে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়।
রাইডার রাবেয়া বশরী বলেন, গত নয় মাস ধরে ‘ও বোনের’ সঙ্গে আছি। এটি চালু হয়েছে প্রায় ১ বছর। বলতে গেলে ‘ও বোন’-এর সবচেয়ে সিনিয়র রাইডার আমি। স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিবিএ সম্পন্ন করেছেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন সময় থেকে বাইক চালাতেন। গত ৪ বছর ধরে বাইক চালান রাবেয়া। তিনি বলেন, এটি যেহেতু শুধুমাত্র নারীদের জন্য সার্ভিস তাই পরবর্তীতে এক বড় ভাইয়ের পরামর্শে ‘ও বোন’ এ যোগ দেই। শুরুর দিকে বিষয়টি অনেকেই নেতিবাচকভাবে নিতেন। বলতেন, মেয়ে মানুষ।
এতো রিস্ক নিয়ে মোটরসাইকেল চালানো ঠিক নয়। তার ওপর আবার আরেকটি মেয়েকে সার্ভিস দেয়া। অনেক বখাটে ছেলে টিজ করে বলতো, ‘আপা মোটরসাইকেলের চাকা ঘুরছে’। প্রথম প্রথম খারাপ লাগলেও বিষয়গুলো এড়িয়ে যেতাম। রাস্তায় বাস ড্রাইভার কিংবা ছেলে বাইকারের উদ্দেশ্য খারাপ মনে হলে হয় তাদের সাইট দেই নয়তো আগে চালিয়ে যাই। তবে এখন যতো দিন যাচ্ছে ততো আমরা উন্নতি করছি। আর সব কিছুই সম্ভব হচ্ছে কোম্পানির ইতিবাচক সমর্থন পেয়ে। এখন নতুন নতুন অনেক নারী বাইকার আমাদের সঙ্গে কাজে যোগ দিচ্ছে। অনেকেই খুব সন্তুষ্ট। আমাদের অনেক নারী যাত্রী বলেন ‘ও বোন’ সেবা আরো আগে কেন এলো না। অনেকেই আবার আবদারের সুরে বলেন, এটা আপনারা কোনো ভাবেই বন্ধ করবেন না। যতো পারা যায় সেবাটা দ্রুত ছড়িয়ে দেবেন। ঢাকা শহরের সব জায়গায় যেন আমরা ‘ও বোন’ কে পাই।
তিনি বলেন, অফিস আমাকে ক্লাস করার সময় দিচ্ছে। অফিস থেকে বাইক দিয়েছে। এমনকি মেনটেনেন্স খরচও দিচ্ছে। তখনকার হ্যাঁ বলার কারণে আজকে আমার এই সাকসেসফুল জার্নি সম্ভব হয়েছে। প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে গড়ে ১০ ঘণ্টা করে সার্ভিস দিতে হয় আমাদের। কিন্তু প্রায় সময় আমরা নিজেদের দায়বদ্ধতা এবং ভালো লাগা থেকে বাড়তি সেবা দিয়ে থাকি। প্রথম দিকে পরিবারের লোকজন এ বিষয়ে সমর্থন না করলেও এখন তারা বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে দেখে। বন্ধুরা অনুপ্রাণিত করে। অনেক মেয়েই আমাকে দেখে অনুপ্রাণিত হয়। যে সকল মেয়েরা স্বাধীনভাবে বাঁচতে চায় ‘ও বোন’ হচ্ছে তাদের জন্য একটি টেকশই প্ল্যাটফর্ম। মেয়েদের বলবো আপনারা যারা কাজ করতে চান তারা এখানে এসে স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারেন।   
মরিয়ম আক্তার সুইটি বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স সম্পন্ন করেছি। স্বামী একজন প্রকৌশলী। ছোট্ট একটি ছেলে রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন বন্ধুদের বাইক দিয়ে বাইক চালানো শিখি। পরবর্তীতে নিজের পকেট মানি জমিয়ে পরিবারের সাহায্য ছাড়াই একটি বাইক কিনি। এরপর একটি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হই। সংগঠনের এক আপুর পরামর্শে ‘ও বোন’-এ যোগ দেই। গত ৮ মাস ধরে ‘ও বোন’-এর সঙ্গে আছি। সংগঠনের আপু যখন ‘ও বোন’ রাইড শেয়ারিংয়ের কথা বলেন তখন আমি ভাবি এও কি সম্ভব। আমি নিজে বাইক চালাই ভালো কথা। আরেকটি মেয়েকে তার গন্তব্যে নিয়ে যাবো কীভাবে সম্ভব এটা। বিষয়টি আমাকে বোঝাতে অনেক কষ্ট হয়েছে তার। ঢাকা শহরে সময় সাশ্রয় এবং পাবলিক বাসের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করলে ‘ও বোন’ হচ্ছে নিরাপদ বাহন। সে হিসেবে বলা যায় ‘ও বোন’ হচ্ছে মেয়েদের জন্য একটি আশীর্বাদ। ‘ও বোন’ এ যোগ দেয়ার আগে আমি ছিলাম ডিপেন্ডেন্ট। আর এখন আমি ইন্ডিপেন্ডেন্ট। বাইকের বিষয়ে প্রথম দিকে পরিবারের সমর্থন ছিল না।
আমার নিজের বাবাই বলতেন মেয়ে মানুষ, দুর্ঘটনার শিকার হয়ে কোথায় না কোথায় পড়ে থাকবে। এখন এটা শুনতে আমার ভালো লাগে যখন বাবা নিজেই বলে মা চল আমাকে একটু নামিয়ে দিয়ে আয়। সকাল হলেই ছেলে আমাকে ঘুম থেকে ডেকে তোলে। বলে ‘মা ওঠো। আজ তোমার কয়টি রাইড হয়েছে। ওঠো বাইক নিয়ে যাবে না।’ আগে আমি পরিবারের কাছ থেকে টাকা নিতাম। আর এখন আমি গিফট করি। এ জন্য ‘ও বোন’কে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাই। স্বামী-সন্তান এবং সংসার সব সামলে আমি এই চাকরি করছি। অফিসের কলিগরা সবাই সাপোর্ট করে। স্বামী পরামর্শ দেয় আরো কীভাবে ভালো করা যায়। কাজের সময় ছেলেকে মায়ের কাছে রেখে যাই।
রাইডের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে বলেন, আমাদের নারী যাত্রীরা খুবই হেল্পফুল। যখন একজন যাত্রী নিয়ে বাইক চালাই তখন আমার সতর্কতার লেভেল আরো বেড়ে যায়। কারণ তখন আমার নিজের সঙ্গে সঙ্গে আরেক জনের দায়িত্ব থাকে আমার কাঁধে। আল্লাহর রহমতে এখন পর্যন্ত কোনো দুর্ঘটনা হয়নি। তিনি বলেন, আমার জানা মতে ‘ও বোন’ সেবা বিশ্বের আর কোথাও নেই। শুধুমাত্র আমাদের দেশেই আছে। বাইরের দেশ থেকে সাংবাদিকরা এসে আমাদের ওপর ডকুমেন্টারি বানিয়ে নিয়ে গেছে। তাদের দেশের মেয়েদের উৎসাহী এবং অনুপ্রাণিত করতে। অন্য দেশের মানুষ যদি তাদের দেশের মেয়েদের এ ধরনের কাজে উৎসাহী করতে আমাদের উদাহরণ ব্যবহার করে তাহলে আমরা বাংলাদেশের মেয়েরা কেন পিছিয়ে থাকবো।
মনিরা বলেন, গত বছরের ২৫ই জুলাই ‘ও বোন’-এ যোগ দেই। এই ৫ মাসে ‘ও বোন’-এ আমি নতুন একটি পরিবার খুঁজে পেয়েছি। আমার নিজের বোন যেমন আমার ভালোমন্দ খোঁজখবর রাখে। একইভাবে আমার ইউজার যাত্রীরাও আমার খোঁজখবর রাখে। আমার কখনো মনে হয় না তারা আমার ইউজার। নতুন নতুন মানুষের সঙ্গে মিশতে আমি খুব মজা পাই। সে ক্ষেত্রে গ্রাহকরা যদি আরো ভালো হয় তাহলে ভালো লাগা আরো বেড়ে যায়। এসব কিছুর জন্য আমি ‘ও বোন’-এর কাছে খুবই কৃতজ্ঞ।
সুরাইয়া আক্তার বলেন, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে ইন্টারমিডিয়েটে পড়ছি। গত ১ মাস যাবত ‘ও বোন’ এর সঙ্গে আছি। আমাদের টিম লিডার রাবেয়া আপুই আমার চাকরি পেতে সাহায্য করেছিল। তখন আমার কিছুটা ক্রাইসিস যাচ্ছিল। আমি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দেই আমার একটি চাকরি দরকার। তখন রাবেয়া আপু ‘ও বোন’ সম্পর্কে বিস্তারিত জানায়। এবং পরবর্তীতে তিনি হাতে ধরে আমাকে বাইক চালানো শেখান। এখন আমি নিউ রাইডার হিসেবে কাজ করছি। ঢাকায় আমি একা থাকি। পরিবারের কাউকে আমার চাকরির বিষয়ে জানাইনি। কারণ তারা জানলে এ বিষয়ে কখনোই সমর্থন করবে না। তবে আশা করছি পরিবার যেদিন বুঝতে পারবে যে শুরু থেকে আমি কতোটা যুদ্ধ করে আসছি তখন নিশ্চয় সমর্থন করবে। মেয়েদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, পরিবারের সমর্থন না থাকলেও নিজেকে প্রকাশ করাটা খুব জরুরি। নিজের স্বপ্নকে চাপা দেয়া আর নিজেকে মেরে ফেলা একই কথা। 
‘ও ভাই’ সলিউশন্স লিমিটেডের চিফ অপারেটিং অফিসার কাজী ওমার ফেরদৌস বলেন, ‘ও ভাই’ বিশ্বাস করে নারী স্বাধীনতায়। আর সেই বিশ্বাস থেকে নারীদের এগিয়ে নেয়ার লক্ষ্যেই ‘ও ভাই’ শুরু করেছে মেয়েদের জন্য সময়োপযোগী ও স্বাচ্ছন্দ্যদায়ক সেবা ‘ও বোন’। এই সেবার মাধ্যমে উভয়ই (রাইডার এবং গ্রাহক) আধুনিক যুগের সঙ্গে সমানে তাল মিলিয়ে চলতে পারবে। ‘ও বোন’ নিয়ে ‘ও ভাইয়ের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা হলো নারীদের সড়কপথে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা, চলাচলের স্বাচ্ছন্দ্য ও  স্বাধীনতা  নিশ্চিত করা।’

এ দৃশ্য চোখে পড়ে না কারও by মো. মতিউর রহমান

সাটুরিয়ার প্রধান নদী গাজীখালী এখন পানায় অবরুদ্ধ। প্রায় ১০ বছর ধরে গাজীখালী নদীর ১০ কিলোমিটার ঢাকা পড়েছে পানায়। গাজীখালী নদীর ব্রিজ থেকে যতদূর চোখ যায় ততদূর পানা আর পানা। ফলে গাজীখালী হারিয়ে ফেলেছে তার যৌবনের সেই স্রোতধারা। সাটুরিয়া উপজেলায় একটি নদী রক্ষা কমিটি থাকলেও তাদের চোখে এ দৃশ্য পড়ে না। জানা গেছে, সাটুরিয়া উপজেলার ধলেশ্বরী নদী থেকে গাজীখালী নদীতে পানি ঢোকানোর জন্য ১৯৯৬ সালে মানিকগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড ৯০ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প হাতে নেয়। ধলেশ্বরী নদী থেকে ছোট খালের মতো ড্রেন বের করে গাজীখালী নদীতে মিশে দেন পানি নিষ্কাশনের জন্য। কিন্তু ওই ধলেশ্বরী নদীর মুখ থেকে এক ফোটা পানিও আসেনি গাজীখালী নদীতে।
নামমাত্র খাল কেটে পুরো অর্থই অপচয় করা হয়েছে। ধলেশ্বরী নদীর মুখ বন্ধ ও ভরে যাওয়ায় এখন আর পানি আসে না গাজীখালী নদীতে। ফলে প্রায় ১০ বছর ধরে গাজীখালী নদীর পানির কী রং সাটুরিয়াবাসী তা দেখতে পায় না। দেখতে পান পানা আর পানা। গাজীখালীর নদীর দুকূলে বসবাসরত বাসিন্দারা অভিযোগ করে বলেন, এক সময় গাজীখালীর স্রোত ও কলকল শব্দে মানুষ ঘুমাতে পারতো না। এখন সেই নদী নিশ্চুপ ঘুমিয়ে থাকে। নেই কোনো স্রোতের কলকল শব্দ। গাজীখালীর তলানি থেকে আসে এখন পর্চা দুর্গন্ধ। সাটুরিয়া উপজেলার গাজীখালী নদীর দু’পাশে আবাদি ফসলের চাষাবাদ হতো এ নদীর পানি দিয়ে। কৃষকরা এখন গাজীখালী নদীর পানি না পেয়ে সেচের ব্যবস্থা করে চাষাবাদ করছেন। কয়েকজন কৃষকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এ নদীর পানি দিয়ে যখন চাষাবাদ করেছি তখন আমাদের খরচ কম হয়েছে। এখন চাষাবাদ করতে খরচ বেড়েছে।
গাজীখালী নদীর পাড়ে বসবাসরত ৮০ বছরের বৃদ্ধ মো. সামছুল আলম বলেন, হায়রে গাজীখালী তোকে কী দেখেছি আর এখন কী দেখছি। তোর বুকজুড়ে ছিল পানি আর পানির স্রোত। এখন শুধু পানা আর পানা। যে নদী দিয়ে বড় বড় জাহাজ চলাচল করতো। ভেসে উঠতো শিশু যা দেখতে সকাল বিকাল নদীর ধারে মানুষ জড়ো হতো। এখন তোর পচা দুর্গন্ধে কেউ আসে না তোর কাছে। এভাবেই মনের কষ্টে বললেন আলম।
এদিকে, সাটুরিয়াবাসীর প্রাণের দাবি নদীরক্ষা কমিটি গাজীখালী নদীকে পানা অবমুক্ত করে এর সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনা হোক। নইলে অচিরেই গাজীখালী নদী হারিয়ে যাবে সাটুরিয়ার মানচিত্র থেকে।

ধনী বৃদ্ধিতে তৃতীয় বাংলাদেশ: আয় বৈষম্য আরো বাড়ার লক্ষণ

দেশে অতি ধনী বাড়ার তথ্য প্রকাশের পর এবার খবর এলো ধনী বৃদ্ধির হারে বিশ্বে তৃতীয় অবস্থানে বাংলাদেশ। গত বুধবার বৈশ্বিক সংস্থা ওয়েলথ এক্স প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। অতি ধনী ও ধনী বৃদ্ধির এ তথ্য সামনে আয় বৈষম্য আরো বাড়ার লক্ষণ বলে মনে করছেন অর্থনীতি সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, দেশে উচ্চবিত্ত বাড়ার হার বেশি হলে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের চাপে পড়ার শঙ্কা   থাকে।
অর্থনীতিবিদ ও আর্থিক খাত সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, আয় বৈষম্য প্রচণ্ডভাবে বাড়ছে। জিডিপি প্রবৃদ্ধির সুফল একটা ক্ষুদ্র ধনাঢ্য গোষ্ঠীর কাছে গিয়ে জমছে। ওয়েলথ এক্সের প্রতিবেদনে তারই প্রতিফলন ঘটেছে। তারা বলেন, উন্নয়নশীল দেশের প্রথম ধাপে উত্তরণ, মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি, আয় বৈষম্য, ঋণ খেলাপি, দুর্নীতি ও অনিয়মের সামগ্রিক প্রভাবেই দেশে ‘ধনীর’ সংখ্যা বেড়েছে।
তাদের মতে, দেশে ধনীর উত্থান হঠাৎ কোনো বিষয় নয়। তবে, প্রবৃদ্ধির হারে বিশ্বের শীর্ষে থাকা ধনীর তালিকা বাংলাদেশের মতো দেশের জন্য অস্বস্তিকর। যারা বিপুল এই সম্পদ অর্জন করেছেন, তার উৎস ও প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখা উচিত। তাদের মতে, এটা পরিষ্কার যে বাংলাদেশের সম্পদ গুটিকয়েক মানুষের হাতে কেন্দ্রীভূত হচ্ছে। কিছু সংখ্যক ব্যক্তি বা গ্রুপ সম্পদের মালিক হচ্ছেন। এক্ষেত্রে ব্যাংক খাত থেকে টাকা নিয়ে ফেরত না দিয়ে অনেকে ধনী হচ্ছেন।
ওয়েলথ এক্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ধনী মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধির হারের দিক থেকে বাংলাদেশ বিশ্বে তৃতীয়। সংস্থাটি বলছে, আগামী পাঁচ বছর বাংলাদেশে ধনী মানুষের সংখ্যা ১১ দশমিক ৪ শতাংশ হারে বাড়বে। ১০ লাখ থেকে ৩ কোটি ডলারের সম্পদের মালিককে (সাড়ে ৮ কোটি থেকে ২৫০ কোটি টাকা) এ তালিকায় রেখেছে ওয়েলথ এক্স। প্রতিষ্ঠানটি তাদের উচ্চ সম্পদশালী বা হাই নেট ওর্থ (এইচএনডব্লিউ) বলে অভিহিত করেছে। গত বুধবার ‘গ্লোবাল এইচএনডব্লিউ অ্যানালাইসিস: দ্য হাই নেট ওর্থ হ্যান্ডবুক’ শীর্ষক এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, ২০১৮ থেকে ২০২৩ সাল সময়ে দেশের সমন্বিত বার্ষিক জাতীয় প্রবৃদ্ধি বাড়বে শতকরা ১১.৪ ভাগ। ধনী মানুষের সংখ্যার দিক থেকে আর মাত্র চারটি দেশ তাদের জাতীয় প্রবৃদ্ধি দুই অঙ্কে পৌঁছাবে। এর শীর্ষে রয়েছে নাইজেরিয়া। সেখানে এই হার শতকরা ১৬.৩ ভাগ। তার পরেই রয়েছে মিশর। সেখানে এই হার শতকরা ১২.৫ ভাগ। এর পরে বাংলাদেশ। এখানে এই হার শতকরা ১১.৪ ভাগ। এর পরে রয়েছে ভিয়েতনাম (১০.১ ভাগ), পোল্যান্ড (১০ ভাগ) চীন (৯.৮ ভাগ), কেনিয়া (৯.৮ ভাগ), ভারত (৯.৭ ভাগ), ফিলিপাইন (৯.৪ ভাগ) ও ইউক্রেন (৯.২ ভাগ)। ওই রিপোর্টে বলা হয়, এর অর্থ হলো, আগামী পাঁচ বছরে উচ্চমাত্রার নেট সম্পদের (এইচএনডব্লিউ) মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে। এইচএনডব্লিউ হিসেবে ওইসব ব্যক্তিকে ওয়েলথ এক্স সংজ্ঞায়িত করেছে, যাদের নেট সম্পদের পরিমাণ ১০ লাখ থেকে ৩ কোটি ডলার। আর যাদের ৩ কোটি ডলারের বেশি অর্থ রয়েছে তাদেরকে আল্ট্রা-হাই নেট ওয়ার্থ বা ইউএইচএনডব্লিউ হিসেবে শ্রেণিবিন্যাস করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত বছর সেপ্টেম্বরে একই রকম রিপোর্ট প্রকাশ করে ওয়েলথ এক্স। তাতে বাংলাদেশকে দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতি, যেখানে অধিক হারে ধনী এমন দেশের মধ্যে শীর্ষে রাখা হয়। বলা হয়, ২০১২ থেকে ২০১৭ সময়ে এখানে ইউএইচএনডব্লিউ জনসংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। এই বৃদ্ধির হার শতকরা ১৭.৩ ভাগ। ওদিকে ২০১৮ সালে বিশ্বে এইচএনডব্লিউ জনসংখ্যা শতকরা ১.৯ ভাগ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ২৪ লাখ। তাদের সমন্বিত সম্পদ শতকরা ১.৮ ভাগ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৬১.৩ ট্রিলিয়ন।
ধনী বৃদ্ধির বিষয়টিকে ‘স্বাভাবিক’ উল্লেখ করে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা মির্জ্জা এবি আজিজুল ইসলাম বলেন, এটা তো সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাড়বেই। এটা স্বাভাবিক। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আয়ের যে বৈষম্য সেটাও অনেক বেড়েছে। তবে, আমাদের দেশে ধনী বাড়ার প্রবৃদ্ধি হার বেশি। তিনি বলেন, আমাদের দেশের প্রেক্ষিতে যারা এই অর্থটা অর্জন করেছে, সেটা কী বৈধ না অবৈধ পথে- তা খতিয়ে দেখা দরকার। আবার এই সম্পদগুলো দেশে আছে, না দেশের বাইরে গেছে সেটাও দেখা দরকার। তিনি বলেন, এজন্য আমাদের করণীয় হবে কর্মসংস্থান, দক্ষ জনশক্তি তৈরি ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারে মনযোগ দেয়া।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশে ধনিক শ্রেণি সৃষ্টি হয়েছে দীর্ঘ সময় ধরে। কিন্তু বাংলাদেশে দেখা গেছে, হঠাৎ করেই একটি শ্রেণির জীবনধারা পাল্টে গেছে। কিন্তু এসব ব্যক্তি যে ব্যাপক উদ্ভাবনী কিছু করেছে তা কিন্তু নয়। এটা হয়েছে মূলত রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতার কারণে। যেসব ব্যক্তি রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা পেয়েছে, ব্যাংকের সুবিধা নিয়েছে, ক্ষমতার কাছাকাছি থেকেছে, তাদেরই এই পরিবর্তন হয়েছে। বিপরীতে অন্যদের মধ্যে যারা অনেক দক্ষ আছে তারা কিন্তু এসব সুযোগ সুবিধা পায়নি। এতে উন্নয়নের যে নেতিবাচক দিক সেটা প্রকাশ পেয়েছে। আমরা প্রবৃদ্ধি দেখছি, সুষম বণ্টন দেখছি না। সমতা ভিত্তিক উন্নয়ন দেখছি না। তার জন্য শিক্ষা-স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান সবদিকে আমাদের নজর দিতে হবে। আমাদের আর্থিক নীতি, বাজেট, রাজস্ব ব্যবস্থা ও কর কাঠামো সুষম উন্নয়নের জন্য সহায়ক নয়। এগুলোর সংস্কার হওয়া উচিত বলে মনে করেন সালেহ উদ্দিন।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিশেষ ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমরা বিভিন্ন সময়ে বলে আসছি আমাদের দেশে এক অর্থে সম্পদের বৈষম্য বাড়ছেই। বিবিএস’র ২০১০ এবং ২০১৬ সালের যে খানা জরিপ, সেখান থেকেও যেটা দেখা যাচ্ছে বাংলাদেশের আয় ও সম্পদ বৈষম্য বাড়ছে। আর সেটারই একটা প্রতিফলন ঘটেছে এই রিপোর্টে। ধনী বাড়ার কারণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনেকেই বিভিন্ন সম্পদ আয় করছেন যেগুলো দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত। সেগুলোর কারণেও আয় বৈষম্য বাড়ছে। ঋণ নিয়ে অনেকে ঋণ খেলাপি হচ্ছে। ঋণের টাকা ব্যাংকে ফেরত দেয়া হচ্ছে না। সেটার কারণেও কারো কারো হাতে অনেক সম্পদ জমা হচ্ছে। এসব কারণে আমাদের দেশে ধনীর সংখ্যা বাড়ছে। অর্থনৈতিক উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে কিছু কিছু মানুষের ধন-সম্পদ সৃষ্টি হবে, সেটা তো অস্বীকার করা যায় না। কিন্তু ধনী বাড়ার ক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধির হারে বিশ্বের শীর্ষে আছি সেটা কিন্তু স্বস্তিদায়ক কোনো ঘটনা নয়। এটা হচ্ছে দুর্নীতি, ঋণ খেলাপি, আয়কর না দেয়ার কারণে। আর এসব কারণেই একটা শ্রেণির কাছে অর্থের পাহাড় গড়ে উঠছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খন্দকার ইব্রাহিম খালেদ বলেন, দেশে ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হলেও সুবিধাভোগী হচ্ছে শীর্ষ ৫ শতাংশ মানুষ। তার মতে, দেশে বড় লোকই বড় লোক হচ্ছে। দরিদ্রের হাতে অর্থ থাকছে না। এমনকি নিম্ন মধ্যবিত্তরা মধ্যবিত্ত হতে পারছে না। নিচের স্তরের মানুষের কোনো উন্নতি হচ্ছে না। তিনি বলেন, এদের একটা বড় অংশ ব্যাংকের টাকা চুরি করে ধনী হচ্ছে। নিয়ম ও অনিয়মের মধ্য দিয়ে এরা ধনী হচ্ছে। বিভিন্ন প্রকল্পের টাকা চুরি করেও ধনী হচ্ছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল মজিদ বলেন, সাধারণত যখনই সামষ্টিক অর্থনীতিতে ন্যায়-নীতি, নিয়ম-কানুন এবং বিচারের ঠিক থাকে না, যখন প্রতিকার ঠিক মতো না হয়, তখনই এগুলো হয়। আর তখনই একটি শ্রেণি অতি ধনী হয়ে উঠে।
ঢাকা চেম্বারের সাবেক সভাপতি আবুল কাশেম খানের মতে, কেউ যদি কর দেয়, দিয়ে যদি ধনী হয়, এটাতে কোনো সমস্যা দেখছি না। নিশ্চয়ই এটা তার অধ্যবসায় ও কঠোর পরিশ্রমের ফসল। ধনী হওয়াতে দোষ নেই। তবে, যে লোকগুলো ধনী হচ্ছে, তাদের যেভাবে কর দেয়ার কথা সেভাবে দিচ্ছে কী না, সে সৎপথে ব্যবসা করছে কী না, শ্রমিকের মজুরি ঠিক মতো দিচ্ছে কী না তা খতিয়ে দেখা উচিত।

রোহিঙ্গা সংকট: কথা বেশি, কাজ কম by মিজানুর রহমান

রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে বিশ্বের দেশে দেশে আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে। কিন্তু সংকট সমাধানে বৈশ্বিক বা আঞ্চলিক অ্যাকশন বা কার্যকর পদক্ষেপ যৎ সামান্যই! হয়তো এ কারণে সদ্য সমাপ্ত আসিয়ান ফরেন মিনিস্টার্স রিট্রিটের আলোচনা শেষে এমন হেডলাইন করেছে থাইল্যান্ডের সংবাদ মাধ্যম দ্য ন্যাশন।
ওই পোর্টালে গতকালের টপ নিউজ ছিল ‘বিগ টক বাট লিটল অ্যাকশন অন রোহিঙ্গা’। বঙ্গানুবাদ করলে যা দাঁড়ায় তা হলো- রোহিঙ্গা বিষয়ক কথা বেশি হচ্ছে, উদ্যোগ সামান্যই। থাইল্যান্ডে চিয়াংমাই শহরে সাউথইস্ট এশিয়ার ১০ দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা একান্ত আলোচনায় বসেছিলেন। রিট্রিট সেশনে ছিলেন এটি। তারা সেখানে নানা বিষয়ে আলোচনা করেছেন। আঞ্চলিক তথা বৈশ্বিক বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেছেন। রিট্রিটে মোটা দাগে আলোচনা হয়েছে মিয়ানমারের রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে।
এর আগের বছর সিঙ্গাপুরে আসিয়ান পররাষ্ট্র মন্ত্রীদের সর্বশেষ সম্মেলনেও এ নিয়ে আলোচনা হয়েছিল।
সেই আলোচনার ধারাবাহিকতায় এবারো কিছু সুপারিশ এসেছে আসিয়ান পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক থেকে। কিন্তু সেটি প্রয়োজন এবং বাস্তবতার তুলনায় নিতান্তই নগন্য। এমনটা উল্লেখ করে থাই সংবাদ মাধ্যমগুলো বলছে, এটি তাদের পূর্বানুমান বা আগে পাওয়া ধারণাকে ছাড়িয়ে যেতে পারেনি। ওই বৈঠকে আসিয়ান জোটের প্রভাবশালী অংশীদার মিয়ানমার, যেখানে রোহিঙ্গা সংকটের শিকড় সেই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও কার্যকর নেতা অং সান সুচি অংশ নেননি।
তার অংশ না নেয়ার সিদ্ধান্তের খবরেই ধারণা মিলেছিল যে ইস্যুটি রিট্রিটে আন্ডার মাইন্ড বা ডাউন প্লে হবে। তা-ই হয়েছে। আসিয়ান পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনে যে আলোচনা হয়েছে তার সারবেত্তা তুলে ধরা হয়েছে বৈঠকের চেয়ারম্যানের বিবৃতিতে। হোস্ট কান্ট্রি থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডন প্রামুউইনাই তার বিবৃতিতে বলেছেন, আসিয়ান জোটের প্রায় সবাই রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানে বিশেষ করে বাস্তুচ্যুত বা শরণার্থী হিসেবে থাকা লাখও রোহিঙ্গার রাখাইনে নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিশ্চিতে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সর্বাত্মক সহায়তার আগ্রহ এবং প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন। কিন্তু তারা এ-ও বলেছেন, বাস্তুচ্যুতদের প্রত্যাবাসনের জন্য বিশেষ করে স্টেক হোল্ডারদের কাজ কর্ম পাওয়ার জন্য রাখাইনের পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি নিরাপদ নয়। পুঞ্জিভূত রোহিঙ্গা সংকটের গভীরতা নিয়ে আসিয়ান ফরেন মিনিস্টার্স মিটিংয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়েছে, তবে সেখানে অল্প ক’টি সিদ্ধান্ত হয়েছে। সেই সিদ্ধান্তের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে ঝুঁকিতে থাকা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রতি আসিয়ানের তরফে মানবিক সহায়তা প্রদান।
আসিয়ান ফরেন মিনিস্টার্স রিট্রিট সেশন বিষয়ে ব্যাংকক পোস্টের রিপোর্টের শিরোনাম ছিল ‘আসিয়ান ফরেন মিনিস্টার্স প্লেজ ভাইটাল রোল ইন রোহিঙ্গা ক্রাইসিস’। তারা যেটা বলার চেষ্টা করে তা হলো- দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার ১০ জাতি রাষ্ট্রের জোট আসিয়ানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা শুক্রবার এক অনানুষ্ঠানিক আলোচনায় বসেছিলেন। রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানে তারা কে কি ভূমিকা রাখতে পারেন- তা নিয়ে তাদের মধ্যে কথাবার্তা হয়। সেখানে রাখাইনে মানবিক সাহায্য-মূল্যায়ন বিষয়ক একটি মিশন (প্রতিনিধিদল) পাঠানোর বিষয়ে মন্ত্রীরা একমত হন।
আসিয়ানের মন্ত্রীরা বাস্তুচ্যুতদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াকে সহায়তা দিতেই ওই মিশন পাঠাচ্ছেন বলে উল্লেখ করেন। তবে কবে নাগাদ রাখাইনে সহায়তা-মূল্যায়ন মিশন পাঠানো হচ্ছে সেই দিন-ক্ষণ বলতে পারেননি চেয়ারম্যান। তারা বিষয়টি রাখাইন পরিস্থিতির ওপর (গ্রাউন্ড রিয়েলিটি)র ওপর ছেড়ে দিয়েছেন। উল্লেখ্য, বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর বর্মীদের ব্যাপক নিধনযজ্ঞ চলার প্রেক্ষিতে প্রাণে বাঁচতে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে অস্থায়ী আশ্রয় নিয়েছে প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ-শিশু। বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও ওই জনগোষ্ঠীর একটি অংশ ছড়িয়ে পড়েছে।
রাখাইনে তাদের নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসনে রোহিঙ্গা সংকটের সবচেয়ে বড় ভিকটিম বাংলাদেশ চেষ্টা করে যাচ্ছে। অবশ্য এতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থনও পাচ্ছে ঢাকা। কিন্তু এত চাপের মুখেও মিয়ানমার তথা সুচি সরকার প্রত্যাবাসনে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করছে না। বরং তারা নানা কৌশলে, বক্তৃতা-বিবৃতি আর প্রোপাগান্ডা ছড়ানোর মধ্য দিয়ে কালক্ষেপণ করে চলেছে। স্মরণ করা যায়, রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে শুক্রবার জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরাঁ কথা বলেছেন। প্রত্যাবাসনে কোন অগ্রগতি না হওয়া তিনি গভীর হতাশা ব্যক্ত করেছেন। এ অবস্থায় জাতিসংঘের বিশেষ দূত ইয়াং হি লি সর্বশেষ পরিস্থিতি সরজমিন ফের পরিদর্শনে মিয়ানমার যেতে ব্যর্থ হয়ে বাংলাদেশে আসছেন। তিনি কক্সবাজারস্থ রোহিঙ্গা ক্যাম্পেও যাবেন।

গুলিস্তানের সেকাল-একাল by মোহাম্মদ ওমর ফারুক

জিরো পয়েন্ট। সারা দেশের সড়ক পথের দূরত্বের শুরুর প্রান্ত। আবার সব সড়কের শেষ প্রান্তও বলা যায় এটিকে। দিনভর ব্যস্ততা। হরেক রকম মানুষ। হরেক রকম পেশা। কেউ কাছের, কেউ দূরের। গিজগিজ করা    মানুষের ভিড় যেন জনবহুল বাংলাদেশেরই প্রতিচ্ছবি।
‘ঢাকার রাজধানী’ খ্যাত ‘গুলিস্তান’ এলাকা এটি। ঢাকার প্রশাসনিক কাঠামোয় এ নামের কোনো স্থানের অস্তিত্ব না থাকলেও আদি আর আধুনিক এই দুই ঢাকারই কেন্দ্রে আছে এই গুলিস্তান। এক সময় ঢাকায় আসা মানেই ছিল গুলিস্তানে নামা। বাসে, ট্রেনে বা লঞ্চে। যে যেভাবেই আসুক প্রথম গন্তব্য এই গুলিস্তান। আর এখনো রাজধানীর সব রাজপথের শেষ ঠিকানা ওই গুলিস্তানই। তিল ধারণের জায়গা নেই, একদিকে ফুটপাথে হরেক রকম পণ্যের পসরা, আরেক দিকে বিভিন্ন জেলা থেকে রাজধানীতে আসা মানুষের ভিড়, আন্তঃবাসের কন্ডাক্টররা ডাকছেন মীরপুর, শেওড়াপাড়া, ফার্মগেইট, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ।
ঢাকা শহরে আসা যাওয়ার ক্ষেত্রে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের ২২ জেলা ছাড়াও ঢাকার পার্শ্ববর্তী নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, কিশোরগঞ্জ, আশুগঞ্জ, ভৈরব, সাভার, মুন্সীগঞ্জে লোকাল গাড়িতে চলাচলের অস্থায়ী বাসস্ট্যান্ড গুলিস্তান। প্রতিদিন লাখ লাখ মানুষের আসা যাওয়া এখানে। নানা পেশার নানা মানুষ কেউ কাজ করছেন, কেউ করাচ্ছেন। কেউ ক্রেতা কেউ বিক্রেতা। আজকের ব্যস্ত এই গুলিস্তান আগেও এমনই ছিল। এখন যেমন রূপ পাল্টেছে। দৃশ্য বদলে গেছে। আকাশ ছোঁয়া ইমারতের পাশে গড়িয়ে গেছে কনক্রিটের উড়াল সেতু। গুলিস্তানের একাল আর সেকালের বিস্তর তফাত থাকলেও আদিকালে ব্যস্ত গুলিস্তান আধুনিক ঢাকারও ব্যস্ততম স্থান হয়েই আছে। ঢাকা সিটি করপোরেশনের হোল্ডিংয়ের তালিকায় গুলিস্তান নামের কোনো জায়গা নেই। যা আছে তা হচ্ছে বঙ্গবন্ধু এভিনিউ। পাকিস্তান আমলে জিন্নাহ এভিনিউ নামে পরিচিত ছিল এটি।
কাগজপত্রে গুলিস্তান নামে কোনো জায়গার নাম না থাকলেও গুলিস্তান নামে একটি সিনেমা হল থেকেই এর নাম হয় গুলিস্তান। হলটির প্রতিষ্ঠার সময় ‘লিবার্টি সিনেমা হল’ নামে পরিচিত ছিল। বর্তমানে সিনেমা হলটি বন্ধ হয়ে গেলেও গুলিস্তান নামটির সঙ্গে দেশের সবাই পরিচিত। ১৯৫২ সালের শেষ দিকে ফজলে দোসানি নামের এক পাকিস্তানি চলচ্চিত্র ব্যবসায়ী গুলিস্তান সিনেমা হলটি নির্মাণ করেন। এর আগে তিনি কলকাতায় একই ব্যবসা করতেন। ৪৭ সালে দেশ ভাগের ফলে কলকাতার চেয়ে ঢাকায় চলচ্চিত্র ব্যবসা জমজমাট হয়ে ওঠে। সেই সূত্রে ফজলে দোসানি তার ব্যবসা ঢাকায় স্থানান্তর করেন। শরীফ উদ্দিন আহমেদ সম্পাদিত ঢাকা কোষ গ্রন্থে বলা হয়েছে, গুলিস্তান সিনেমা হলের নাম অনুসারে এই জায়গার নাম হয়ে যায় গুলিস্তান। রাজধানী ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ এলাকা রমনার ফুলবাড়িয়া রেলস্টেশনের উত্তরে ঢাকা জেলা ক্রীড়া মিলনায়তন এবং পল্টন মাঠের পাশে ১৯৫৩ সালে গুলিস্তান নামের এই সিনেমা হল প্রতিষ্ঠা হয়।
গুলিস্তান সিনেমা হল নির্মাণ সম্পর্কে মনোয়ার আহমদ তার ঢাকার পুরোনো কথা গ্রন্থে লিখেছেন, ১৯৫২ সালের শেষের দিকে রমনা এলাকায় ফজলে দোসানি নির্মাণ করেন গুলিস্তান সিনেমা হল। পরে এই সিনেমা হলের উপরে অল্প আসনের একটি ছোট হল নির্মাণ করে এর নাম দেন নাজ সিনেমা হল। এই হলে প্রথম দিকে শুধু ইংরেজি সিনেমা দেখানো হতো। বর্তমানে দুটি সিনেমা হলই বিলুপ্ত। পুরান ঢাকার স্মৃতি নিয়ে লেখা ঢাকা পুরানগ্রন্থ-এ মিজানুর রহমান লিখেছেন, ‘গুলিস্তান সিনেমার উল্টোদিকে, ওই যেখানে সাধারণ বীমা সদন, সেখানে ছিল ব্রিটানিয়া হল। তখন তো পুরো এলাকাটাই ছিল ন্যাড়া। ঘরবাড়ি বলতে তেমন কিছু ছিল না। কিছু ক্লাবঘর, এসএ গ্রাউন্ড আর বাকিটা সবুজ। এই সবুজের পটে ওই একরত্তি সিনেমা হল।’
চলচ্চিত্রবিষয়ক খ্যাতিমান সাংবাদিক অনুপম হায়াৎ লিখেছেন, ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর কলকাতার চিত্র ব্যবসায়ী খান বাহাদুর ফজলে দোসানি ঢাকায় চলে আসেন এবং এই প্রেক্ষাগৃহ নির্মাণ করেন। ১৯৫৩ সালে আগা খান এই হলের উদ্বোধন করেন। এটি ছিল ঢাকার প্রথম শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত আধুনিক প্রেক্ষাগৃহ। প্রথমে হলটির নাম ছিল লিবার্টি। পরে গুলিস্তান করা হয়। এখানে দেশি-বিদেশি সব সিনেমা দেখানো হতো। গুলিস্তান শব্দের অর্থ ফুলের বাগান। সিনেমা হল ছাড়াও মোগল আমলের একটি কামানের জন্য জায়গাটি বিখ্যাত ছিল। ১৯৫৫ সালে গুলিস্তান হলের উপর তলায় নাজ নামে আরেকটি সিনেমা হল চালু হয়। পঞ্চাশ ও ষাটের দশকে চলচ্চিত্র এবং শিল্প-সংস্কৃতির জন্য গুলিস্তান খুব বিখ্যাত ছিল। তবে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর গুলিস্তানের মালিক পাকিস্থানে চলে যাওয়ায় এটি পরিত্যক্ত সম্পত্তিতে পরিণত হয় এবং ১৯৭২ সালে তা দেয়া হয় মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টকে।
২০০৫ সালে তারা পুরোনো ভবনটি ভেঙে একটি নতুন শপিং কমপ্লেক্স স্থাপনের কাজ শুরু করে। শাব্দিক দিক থেকে ‘গুলসিতান’ শব্দটির অর্থ ফুলের বাগান। গুলসিতান লোকমুখে কালক্রমে আজকের গুলিস্তান হিসেবে খ্যাত হয়। পঞ্চাশ-ষাটের দশকে এ এলাকায় একটি ফুলের বাগান ছিল। সেই ফুলের বাগানকে কেন্দ্র করে সংস্কৃতিপ্রেমীরা আড্ডা দিতেন। সে আড্ডা কখনো কখনো চলতো গভীর রাত পর্যন্ত। মাঝে মাঝে সিনেমা হলটির দক্ষিণ পাশের ফুলবাড়িয়া রেলস্টেশন থেকে ট্রেনের হুইসেলে তাদের ধ্যান ভাঙতো। মোঘল আমলের একটি কামান রাখা ছিল হলের পূর্ব দিকে। সে কামানের গায়ে ঠেস দিয়ে চলতো অবিরাম আড্ডা। তবে এখন সেই সিনেমা হল বা রেলস্টেশন কিছুই নেই।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০ তলা শপিং কমপ্লেক্সটির উপরের তলায় একটি সিনেমা হল নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। কিন্তু মার্কেটের কাজই সম্পূর্ণ না হওয়ায় হল স্থাপনের পরিকল্পনা আর বাস্তবে রূপ পায়নি। ১৯৮৭ সালের ১০ই নভেম্বর স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী আন্দোলনের অংশ হিসেবে বুকে ও পিঠে ‘স্বৈরাচার নিপাত যাক, গণতন্ত্র মুক্তি পাক’ লিখে ঢাকা অবরোধ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন নূর হোসেন।
গণমিছিলের একপর্যায়ে গুলিস্তানে জিরো পয়েন্ট এলাকায় গুলিবিদ্ধ হন তিনি। নূর হোসেনের আত্মত্যাগে আন্দোলন আরো জোরালো হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৯০ সালের ৬ই ডিসেম্বর স্বৈরাচার সরকারের পতন ঘটে। জিরো পয়েন্টের নামকরণ করা হয় নূর হোসেন স্কয়ার।
একসময় রাজধানীর প্রাণকেন্দ্র গুলিস্তান ছিল ব্যস্ততম জায়গা। যানজটও লেগে থাকতো রাত দিন। কেনাকাটা, সিনেমা দেখা, ভালো রেস্তরাঁয় খাওয়া-দাওয়ার চিন্তা মানেই আসতে হতো এখানে। এই শহরের প্রথম চাইনিজ রেস্টুরেন্ট ছিল চৌ চিন চাও. যেখানে আদি ঢাকার মানুষজন চাইনিজ খেতে আসতেন। ছিল বিখ্যাত রেস্টুরেন্ট লা সানি, রেক্স রেস্তরাঁ। শুধু তাই নয় ঢাকার প্রথম আইসক্রিম পার্লারটিও ছিল এখানে, যার নাম ছিল বেবী আইসক্রিম।
এখন যেমন গুলিস্তান: আদিকালের ব্যস্ত গুলিস্তানের ব্যস্ততা আজও আছে। গুলিস্তান এখন আগের চেয়েও ব্যস্ত। নানা পেশা, নানা ব্যবসার মানুষজন এখানে ভিড় করেন। আসেন দেশের নানা প্রান্ত থেকে। কাকডাকা ভোর থেকে গভীর রাত। সব সময় মানুষ আর যানবাহনের ভিড়ে লাখ লাখ মানুষ কেউ নিজের জীবিকা উপার্জন আবার কেউ প্রয়োজনটুকু মিটিয়ে নেন এখান থেকে। আধুনিক গুলিস্তানে আদির সেই রূপের কিছুই নেই। চওড়া সড়কের দুই পাশে এখন সারি সারি ইমারত। দিগন্ত বিস্তৃত সবুজ পল্টন এখন ইট পাথরে ঢাকা। বাণিজ্যের ঘরবসতি গুলিস্তানে আদির চিহ্ন বলতে আছে সেই ঘোড়ার গাড়ির টম টম, টক্কর শব্দ। গুলিস্তানে আচার বিক্রি করেন ওবায়েদ হোসেন।
গত পাঁচ বছর ধরে তিনি এখানে ফেরি করেন। তিনি বলেন, এখানে প্রচুর মানুষ আসে। তাই বিক্রিও হয় বেশি। নিয়মিত হাজার দুয়েক বিক্রি করতে পারি। ফুটপাতে নতুন পুরনো টাকা কেনাবেচা করেন নোয়াখালীর জহির মিয়া। প্রায় পনেরো বছর ধরে তিনি এই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তিনি বলেন গুলিস্তানে টাকা ব্যবসা হয় প্রায় বিশ পঁচিশ বছর ধরে। এখান থেকে সব ধরনের মানুষ টাকা নিয়ে যায়। বিশেষ করে ঈদ, পুজো, নববর্ষের সময় টাকার কাটতি বেশি থাকে। এর বাইরেও নিয়মিত ছেঁড়াফাটা টাকা কিনি আমরা। তবে তিনি অভিযোগ করেন ব্যাংক থেকে তাদেরকে সরাসরি টাকা দেয়া হয় না। দালালের মাধ্যমে তাদেরকে টাকা কিনতে হয়। শুধু তাই নয় এখানে ব্যবসা করতে গেলেও গুনতে হয় চাঁদার টাকা।
গুলিস্তানের রমনা ভবনটি সুপরিচিত এখানকার দর্জি দোকানের জন্য। ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় থেকেও এখনও লোকজন এখানে আসেন জামা কাপড় বানাতে।ু পীর ইয়ামেনী মার্কেটে এখনও মানুষ যান পাঞ্জাবি, টুপিসহ জামা কাপড় কিনতে। এ এলাকাতে আছে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নগর ভবন, বাংলাদেশ সচিবালয়, বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়াম, হকি স্টেডিয়াম, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়, জিপিও, জাতীয় মসজিদ, জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র, হলমার্কেট, হোটেল রমনা, টিএনটির প্রধান কার্যালয়, বিটিসিএল এর প্রধান কর্মাধক্ষ্যের কার্যালয়, মহানগর নাঠ্যমঞ্চসহ নানা গুরত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। পীর ইয়ামেনী মার্কেট, খদ্দর বাজার শপিং কমপ্লেক্সসহ বেশ কিছু শপিং মল আছে এখানে। খুব পরিচিত গোলাপশাহর মাজারটিও গুলিস্তানে। এসব কিছুকে কেন্দ্র করে এখানে প্রতিনিয়ত জমজমাট নানা ব্যবসা। নানা পেশা। এখানে নানান কিসিমের হকাররা তাদের ব্যবসা করছে। কেউ ফুটপাতে কাপড় বিক্রি করছে, কেউ পারফিউম, মোবাইলের এক্সেসরিস, সিডি, কেউ খাদ্যদ্রব্য নানান পণ্যের সমাহার এখানে।
হকারদের পাশাপাশি শপিংমল গুলোতে আছে নামিদামি ব্রান্ডের দোকান। রিকশা, বাস, পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী ঘোড়ার গাড়ি, লেগুনা, সিএনজিসহ পাবলিক যানবাহন চালকরা নিয়মিত ভিড় জমায় গুলিস্তানে। ঘোড়ার গাড়ি চালক পনেরো বছর বয়সী আবিদ জানান, তিনি প্রায় দুই বছর ধরে টমটম চালান। তার বাবা এই টমটমটির মালিক। বাবার অসুস্থতার কারণে এই টমটমের ভার তার ওপরে। ঘোড়ার গাড়ি চালিয়ে তার নিয়মিত আয় হয় হাজার তিনেক টাকা।
সেই টাকার একটি বড় অংশ চলে যায় ঘোড়ার খাবার বাবদ। জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের বিপরীত পাশে ফুটপাতে আছে ছোট ছোট কয়েকটি খাবারের দোকান। দোকানদার আজগর মিয়া বলেন, এখানে বেশির ভাগই বাসের হেলপার, কন্ডাক্টর, হকাররা খায়। এর বাইরেও আছে বেশ কয়েকটি দোকান। তবে অনেক সময় ঢাকার বাইরে থেকে আসা নানান মানুষও এখানে খেয়ে থাকে। কথা হয় এমন একজনের সঙ্গে, বরিশাল থেকে মুক্তিযোদ্ধ মন্ত্রণালয়ে কাজে আসা রহিম আলী বলেন, সকালে কাজ ছিল, দুপুরের মধ্যেই কাজ শেষ। ঢাকার কিছু তেমন তার চেনা জানা নেই। তাই এখানে তিনি খেতে বসেছেন। এই তো গেলো দিনের চিত্র। বিকালে দিনের আলো যখন নিভতে শুরু করে তখন পুরো গুলিস্তানের চিত্রও বদলাতে থাকে। ভিড় বাড়ে ভিন্ন ভিন্ন পেশার মানুষের। কাজ আর জীবিকার তাগিদে এখানে আসা মানুষজন খুব নির্বিগ্নে যে কাজ করতে পারেন তা নয়। মানুষের প্রয়োজনকে ঘিরে এখানে আছে প্রতারণা আর শঠতার নানা ফন্দি ফিকির। চাঁদাবাজি, ছিনতাই, পকেটমার, ভেজাল পণ্য দিয়ে ঠকানোর মতো ঠিকাদারি কারবারও হয় এখানে অহরহ।
দোকানগুলোর পরিসর বড় নয়। ছোট ছোট কাঠের চকি কিংবা কংক্রিটের মেঝেতে প্লাস্টিকের ছালা-চটি বিছিয়ে বসানো হয়েছে পসরা। এসব দোকানে মিলে সব কিছু। ল্যাপটপ, কম্পিউটার, ক্যামেরা, মোবাইল, ঘড়ি, ইলেক্ট্রনিক সামগ্রী, জুতা, কাপড়-চোপড়, কেমিক্যাল সামগ্রী সবই আছে। সব জিনিস দামি, কিন্তু এখানে দাম একেবেরই কম।
যাকে বলে পানির দাম। ভাসানী হকি স্টেডিয়াম ঘিরে রেখেছে চোরাই মোবাইল ফোন আর ইলেক্ট্রনিক্স সামগ্রীর দোকান। হেন কোনো জিনিস নেই, যা এখানে পাওয়া যায় না। ল্যাপটপ, কম্পিউটার, টিভি-ভিসিডি, মোবাইল ফোন, টেলিফোন, ক্যালকুলেটর, ঘড়ি, দেশি-বিদেশি লাইটার থেকে সবই পাওয়া যায় এখানে। দু’চার কিলোমিটার এলাকার মধ্যে কারও দামি কোনো জিনিস হারালে এ মার্কেটে এসে খোঁজ নিলে পাওয়া যায় এমন ঘটনাও আছে শ’ শ’। হকি স্টেডিয়াম থেকে একটু সামনে এলেই মিলে গুলিস্তান পাতাল মার্কেট, এই মার্কেটে প্রায় ১শ’ ২০টির  মতো  মোবাইল ফোন মেরামতের দোকান রয়েছে। মূলত এ সবই বিক্রি হয় নতুন-পুরান নানা কিসিমের মোবাইল ফোন।
এখানেওে হয় চুরি হওয়া মোবাইল বেচাকেনা। এখানে নেই রাত দিন। সবসময়ই বিক্রি হয় চোরাই পণ্য। বিভিন্নভাবে জানা যায়, গুলিস্তান এলাকায় মোবাইল ফোনসেট মেরামতকারী এ ধরনের এক হাজারেরও বেশি দোকান রয়েছে। এসব দোকানে চোরাই ও ছিনতাই হওয়া মোবাইল ফোনসেট বিক্রি হয় এখানে আসা সবার এটা জানা। এজন্য রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় তাদের নিজস্ব শক্তিশালী সিন্ডিকেট রয়েছে। সিন্ডিকেট সদস্যরা মোবাইল ফোন সেট চুরি বা ছিনতাই করে আগে থেকে চুক্তিবদ্ধ দোকানে বিক্রি করে। শুধু তাই নয় গোলাপশাহ মাজারের অপরপাশে গুলিস্তানের মসজিদের পাশে বসে মোবাইল ও বিভিন্ন যন্ত্রাংশের দোকান। এসব দোকান গুলোতেও রয়েছে চোরাই পণ্যের আধিপত্য।
গুলিস্তানে গোলাপশাহ মাজারের পাশের গলিতেই বসে জুতার দোকান। এখানে নতুন জুতার পাশাপাশি পুরনো  জুতাও বিক্রি করা হয়। আর এ সব জুতা মানুষ কিনে নিয়ে যায় খুব সুলভ মূল্যে। রাজধানীর বিভিন্ন মসজিদ ও মার্কেট থেকে চুরি যাওয়া জুতার একটি অংশ এখানে আসে বলে ক্রেতা-বিক্রেতাদের ভাষ্য।

সংসদে না থাকলেও বিরোধী দল হয় by সোহরাব হাসান

গত ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে আটটি আসনে জয়ী জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচিত সাংসদেরা শপথ নেবেন কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক চলছে। সরকারি দলের নেতারা ‘গণতন্ত্রের স্বার্থে’ তাঁদের সংসদে যাওয়ার সদুপদেশ দিয়ে যাচ্ছেন। আর বিএনপির নেতারা প্রশ্ন তুলেছেন, যেখানে বিরোধী দল ভোটই করতে পারেনি, সেখানে সংসদে গিয়ে কী হবে? সংসদে গিয়ে কী হবে, সেই প্রশ্নের উত্তর পাওয়ার আগেই সরকারি দল নির্বাচনোত্তর সংলাপ নিয়ে নতুন বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছে। এক নেতা বলেছেন, সংলাপ নয়, শুভেচ্ছা বিনিময়। আরেক নেতা বলেছেন, না প্রধানমন্ত্রী সংলাপই করবেন। দেখা যাক, কোথাকার পানি কোথায় গড়ায়।
বিরোধী দল থাকা না–থাকার বিতর্কটি এখন রাজনৈতিক অঙ্গন ছাড়িয়ে আদালতে গিয়ে ঠেকেছে। ১২ জানুয়ারি কেন্দ্রীয় কারাগারের ভেতরে স্থাপিত ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৯-এ নাইকো দুর্নীতির মামলার শুনানিকালে অন্যতম আসামি ও বিএনপির নেতা মওদুদ আহমদ শুনানিতে অংশ নিয়ে বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকারই নাইকোর সঙ্গে চুক্তি করেছিল। আমরা শুধু ধারাবাহিকতা রক্ষা করেছি। যারা করেছে তারা আজ আসামির বাইরে। বলতে দ্বিধা নেই, আমরা এখন বিরোধী দলে তাই...।’
এ সময় দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন ওরফে কাজল বলেন, ‘আপনারা তো এখন বিরোধী দলে নেই।’ জবাবে হুইলচেয়ারে বসে থাকা খালেদা জিয়া বলে ওঠেন, বিরোধী দল শুধু পার্লামেন্টের ভেতরে থাকলেই হয় না, বাইরে থাকলেও হয়। আবার এখন দেখি, বিরোধী দল সরকারের সঙ্গে থেকেও হয়। যারা জনগণের জন্য কথা বলে, তারাই বিরোধী দল।
বিএনপি দেশের অন্যতম জনপ্রিয় দল। ১৯৭৯ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণ করলে যে পরিসংখ্যান পাওয়া যায়, তাতে সেটাই প্রমাণিত হয়। বিএনপি এ পর্যন্ত সাতটি সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে চারটিতে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করেছে। আর আওয়ামী লীগ ১৯৭৩ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত নয়টি সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে পাঁচবার সরকার গঠন করেছে। বিএনপি নির্বাচন বর্জন করেছে ১৯৮৬, ১৯৮৮ ও ২০১৪ সালে। আর আওয়ামী লীগ বর্জন করেছে ১৯৮৮ ও ১৯৯৬ (১৫ ফেব্রুয়ারি) সালের নির্বাচন। অতএব, নির্বাচন বর্জন কিংবা সংসদ বর্জনের খতিয়ান নিয়ে বিরোধী দলের অস্তিত্ব নিরূপণ করা যায় না।
বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি উভয়ই নির্বাচন বর্জন করেছে, কখনো একে অপরের বিরুদ্ধে, কখনো একযোগে। ১৯৮৬ সালে এরশাদনিয়ন্ত্রিত নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশ নিলেও বিএনপি বর্জন করে। আবার ১৯৮৮ সালের নির্বাচন আওয়ামী লীগ ও বিএনপি একযোগে বর্জন করেছে। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন বর্জন করে আওয়ামী লীগ। ২০১৪ সালের নির্বাচন বর্জন করে বিএনপি। ১৯৮৮ সালের নির্বাচন বর্জন করায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির বিরোধী দল হিসেবে পরিচয় দিতে কোনো সমস্যা হয়েছে বলে আমাদের জানা নেই। বরং সংসদের বাইরের বিরোধী দল হয়ে তারা যুগপৎ আন্দোলন করে দুই বছরের মাথায় স্বৈরাচারী এরশাদকে পদত্যাগে বাধ্য করেছিল।
যদি নির্বাচন বর্জন করা বা সংসদে না থাকার কারণে বিরোধী দল না হয়, তাহলে তো ওই সময়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি অস্তিত্বহীন হয়ে পড়ার কথা। এর চেয়েও মোক্ষম উদাহরণ হলো ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন বর্জন করেছিল আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি, জামায়াতে ইসলামী, জাসদ, কমিউনিস্ট পার্টিসহ প্রায় সব বিরোধী দল। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ ১৯৯১ সালের নির্বাচনে অংশ নিলেও সংসদে ছিল তিন বছর। বাকি দুই বছর সংসদের বাইরে থেকে রাজপথে আন্দোলন করেছে। এমনকি ১৯৯৪ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে গড়ে তোলা আন্দোলনের একপর্যায়ে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে বিরোধী দলের ১৪৭ জন সাংসদ পদত্যাগ করেছিলেন। এরপরও বছর দেড় সংসদ বহাল ছিল। সংসদে না গেলে যদি বিরোধী দল না থাকে তাহলে তো তাদের কী পরিচয় ছিল? একইভাবে সপ্তম সংসদেও দীর্ঘ সময় তৎকালীন বিরোধী দল বিএনপি, জাতীয় পার্টির একাংশ, জামায়াতে ইসলামীর সাংসদেরা বর্জন করেছিলেন। প্রায় অনুরূপ ঘটনা ঘটেছে অষ্টম সংসদে বিএনপি ক্ষমতায় থাকতে। আওয়ামী লীগ ও তাদের সহযোগীরা দীর্ঘ সময় সংসদ বর্জন করে আন্দোলনের জন্য রাজপথকেই বেছে নিয়েছিল। সেই আন্দোলনে সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী দল যেমন ছিল, তেমনি সংসদে প্রতিনিধিত্ব নেই, তারাও ছিল।
২০০৯-২০১৩ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকতে বিএনপি ও তার সহযোগীরা অনুরূপ দৃষ্টান্ত অনুসরণ করে। দুই আমলেই বিরোধী দলের পরিচয় নিয়ে কোনো প্রশ্ন ওঠেনি। বিরোধী দলের পরিচয় নিয়ে জোরালো প্রশ্ন উঠল ২০১৪ সালের একতরফা নির্বাচনের পর। সেই নির্বাচন বিএনপিসহ নিবন্ধিত অধিকাংশ দল বর্জন করলেও আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ১৪ দল ও জাতীয় পার্টি অংশ নেয়। মহাজোটের শরিক জাতীয় পার্টি থেকে তিনজন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী হয়েছিলেন। আর দলের প্রধান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ হয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত। সংসদে স্বীকৃত বিরোধী দল কার্যক্ষেত্রে যে বিরোধী দলের ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হয়েছে, সে কথা এরশাদ ও তাঁর পত্নী রওশন এরশাদ বহুবার বলেছেন। তখন সংসদে না থেকেও বিএনপিই বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করেছিল, অতীতে যেমনটি করেছিল আওয়ামী লীগ।
বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া আদালতে পার্লামেন্টে না থাকলেও বিরোধী দল হয় বলে যে মন্তব্য করেছেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় তার যথার্থতা অস্বীকার করা যায় না। সংসদীয় গণতন্ত্রে বিরোধী দলের ভূমিকা হওয়া উচিত সরকারের ভুলত্রুটি তুলে ধরা এবং সরকার যাতে জনস্বার্থবিরোধী কোনো আইন করতে না পারে, সেসব বিষয়ে প্রতিবাদী হওয়া। কিন্তু বাংলাদেশে সরকারি দল কখনোই বিরোধী দলের সমালোচনা শুনতে চায় না। উন্নত গণতান্ত্রিক দেশগুলোতে সরকারি দলের সাংসদেরাও সরকারের সমালোচনা করেন, বিলের বিরুদ্ধে ভোটও দিয়ে থাকেন। কিন্তু আমাদের সংবিধানে ৭০ অনুচ্ছেদ জুড়ে দিয়ে সাংসদদের সেই অধিকার পুরোপুরি খর্ব করা হয়েছে। তাঁরা সরকারের বিরুদ্ধে ভোট দেওয়া দূরে থাক, টুঁ–শব্দও করতে পারেন না বা করতে দেওয়া হয় না।
বিস্ময়কর হলেও সত্য, বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিরোধী দলগুলো সংসদের চেয়ে সংসদের বাইরেই বেশি ভূমিকা রেখেছে। আন্দোলন করে সরকারের কাছ থেকে দাবি আদায় করেছে। এটি আওয়ামী লীগের জন্য যতটা সত্য, বিএনপির জন্যও ততটা সত্য। দশম সংসদে যাঁরা বিরোধী দলে ছিলেন, বলতে গেলে ধন্যবাদ জ্ঞাপন ছাড়া তাঁদের কোনো ভূমিকাই ছিল না। অনেকে ঠাট্টা করে বলতেন, দো-আঁশলা বিরোধী দল। এবার কী আদলের বিরোধী দল হবে, তা দেখার জন্য আমাদের আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে।
সংসদে বিরোধী দলের সদস্যের সংখ্যা যত কমই হোক, গণতান্ত্রিক রীতিনীতি মেনে চললে তাঁরাও কার্যকর ভূমিকা নিতে পারেন। বাংলাদেশ গণপরিষদে বিরোধী দলের সদস্য ছিলেন দুজন—সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত ও মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা। এই দুজনই যে গণপরিষদকে কতটা সরগরম রেখেছিলেন, পদে পদে সরকারের সমালোচনা করেছেন, তার প্রমাণ পাওয়া যায় সংসদের কার্যবিবরণীতে। জিয়াউর রহমানের আমলে গঠিত দ্বিতীয় সংসদে ৩০০ আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগের সাংসদ ছিলেন মাত্র ৩৯ জন। তাঁদের প্রতিবাদী ভূমিকায় অনেক সময় সরকারি দলকে বিচলিত হতে দেখেছি। এমনকি পঞ্চম ও সপ্তম সংসদের প্রথমদিকে যথাক্রমে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি পালাক্রমে কার্যকর বিরোধী দলের ভূমিকা রাখতে চেষ্টা করেছে। পরবর্তীকালে সংসদের বাইরেই আওয়ামী লীগ ও বিএনপি রাজনৈতিক সমস্যার সমাধান খুঁজেছে।
সংসদে বিরোধী দল কাঙ্ক্ষিত ভূমিকা রাখতে না পারলে সেটি যেমন সরকারি দলের দায়, তেমনি বিরোধী দলের সাংসদেরা নির্বাচিত হয়েও যদি সংসদে না যান, তার পেছনের কারণটিও অনুসন্ধান করা জরুরি। বিরোধী দল ছাড়া গণতন্ত্র হয় না। বিরোধী দল ছাড়া সংসদ হবে কী করে?
সোহরাব হাসান: প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক ও কবি
sohrabhassan55@gmail.com

ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল: ১ কোটি ২০ লাখ টাকার ওষুধ নষ্ট ব্যবস্থা নেয়ার দাবি by ফরিদ উদ্দিন আহমেদ

স্থগিত হওয়া ভিটামিন-এ ক্যাম্পেইন কর্মসূচির এক কোটি ২০ লাখ টাকার ওষুধ নষ্ট হয়েছে। সারা দেশে বহুল আলোচিত ভিটামিন-এ ক্যাম্পেইন চলতি মাসেই দেশীয় ওষুধ দিয়ে অনুষ্ঠিত হবে। শনিবার দেশব্যাপী ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের ভিটামিন-এ ক্যাপসুল খাওয়ানোর দিনক্ষণ নির্ধারিত ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে ভারতের একটি কোম্পানি থেকে আমদানিকৃত ভিটামিন-এ ক্যাপসুলের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কর্মসূচিটি স্থগিত করে। ভিটামিন-এ ক্যাপসুল খেয়ে শিশুদের অসুস্থ হওয়ার অভিযোগ ছিল ২০১৩ সালেও। এর পরেও বিচ্ছিন্নভাবে অভিযোগ এসেছে। রাতকানা রোগ প্রতিরোধে জাতীয় পুষ্টি কর্মসূচির আওতায় দেশে এই কর্মসূচি পালন করে আসছে সরকার।
স্বাস্থ্য খাতের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এবার ওষুধ না খাইয়ে সরকার ভালো উদ্যোগ নিয়েছে। তবে, যেহেতু আগেই মানের প্রশ্ন এসেছে তাই ঘটনার সঠিক তদন্ত করে যারা এর সঙ্গে জড়িত তাদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সারা দেশের  শিশুরদের সম্মিলিত একটি স্পর্শকাতর বিষয়। এ বিষয়ে এ ধরনের হেলাফেলা অনিয়মে যারা জড়িত তাদের শাস্তি হওয়া উচিত দৃষ্টান্তমূলক।
এদিকে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম মানবজমিনকে বলেন, ভিটামিন-এ নিয়ে অভিভাবকদের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। সম্পূর্ণ নতুন ওষুধ দিয়ে সম্ভাব্য ২৬শে জানুয়ারি এই পর্বের ভিটামিন-এ ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হবে। ভয়ের কোনো কারণ নেই। পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়া কোনো ওষুধ খাওয়ানো হবে না। দেশীয় প্রতিষ্ঠানের সরবরাহকৃত ক্যাপসুল দিয়ে এই প্রচারাভিযান চলবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এই ক্যাম্পইনে দেশীয় রেনেটা লিমিটেডের ওষুধ খাওয়ানো হবে। তিনি আরো জানান, ভারতীয় প্রতিষ্ঠানের ক্যাপসুলের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে। তাই তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত ওই প্রতিষ্ঠানের ক্যাপসুল শিশুদের খাওয়ানো হবে না। এক প্রশ্নের জবাবে মহাপরিচালক বলেন, ১ কোটি ২০ লাখ টাকার ওষুধ নষ্ট হয়েছে। আগেও ভিটামিন-এ ক্যাপসুল খাওয়ার ফলে শিশুর অসুস্থ হওয়ার অভিযোগ বাংলাদেশে ছিল- এ প্রসঙ্গে মহাপরিচালক বলেন, গণমাধ্যমের খবরের কারণেই সন্দেহ  তৈরি হয়।
জাতীয় পুষ্টি কর্মসূচির আওতায় প্রতিবছর দু’বার দুই রাউন্ডে ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী শিশুদের নীল এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের লাল রঙের ভিটামিন-এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়। মূলত রাতকানা রোগ প্রতিরোধের জন্য ১৯৯৪ সাল থেকে দেশের শিশুদের ভিটামিন-এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়। এই পর্বে দু’কোটির উপরে শিশুকে ভিটামিন খাওয়ানো হবে।
আগেও ভিটামিন-এ ক্যাপসুল খাওয়ার ফলে শিশুর অসুস্থ হওয়ার অভিযোগ বাংলাদেশে ছিল- এই প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক ও চক্ষু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. দীন মোহাম্মদ নুরুল হক মানবজমিনকে বলেন, ভিটামিন-এ ক্যাপসুল খাওয়ার ফলে শিশু অসুস্থ হওয়ার অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত হয়েছিল। প্রতিটি ক্ষেত্রে তদন্ত হয়েছে। সারা দেশে এখন ভিটামিন-এ ক্যাম্পেইন-এর প্রয়োজনীয়তা আছে বলে মনে করেন না এই চক্ষু বিশেষজ্ঞ।
বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশন  (বিএমএ) সাবেক সভাপতি এবং ডক্টরস ফর হেলথ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টের সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ডা. রশিদ-ই-মাহবুব এই ব্যাপারে মানবজমিনকে বলেন, এবার ওষুধ না খাইয়ে সরকার ভালো উদ্যোগ নিয়েছে। এই ওষুধ যারা সরবরাহ করেছে দায় তাদের। তবে, যেহেতু আগেই মানের প্রশ্ন এসেছে তাই ঘটনার সঠিক তদন্ত করে যারা এর সঙ্গে জড়িত তাদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। জনগণ ও রাষ্টের স্বার্থের কথা চিন্তা করতে হবে। আদালত গুণগতের কথা চিন্তা করেন নি, করেছেন প্রক্রিয়ার।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানায়, ২০১৬ সালের মার্চ মাসে বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে ১ লাখ ৪১ হাজার ডলারে (বাংলাদেশি ১ কোটি ২০ লাখ টাকা) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অধীন সেন্ট্রাল মেডিসিন স্টোর (সিএমএসডি) মাধ্যমে ভিটামিন-এ ক্যাপসুল কেনার প্রক্রিয়া শুরু হয়। বিশ্ব ব্যাংকের শর্তানুসারে ভিটামিন এ ক্যাপসুল কেনার জন্য আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হয়। শর্তানুসারে দরপত্র আহ্বান করলে ভারতের অ্যাজটেক নামে একটি প্রতিষ্ঠান সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে কার্যাদেশ পায়। সেখানে আরো শর্ত ছিল ভিটামিন-এ ক্যাপসুল সরবরাহের ক্ষেত্রে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের কাছ থেকে এনওসি সংগ্রহ করতে হবে। নিয়মানুসারে তাদের এনওসি পাওয়ার কথা। এই বিষয়ে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের পরিচালক রুহুল আমিন মানবজমিনকে বলেন, আদালতের নির্দেশনা অনুসারে যে কোম্পানি পেয়েছে ওই কোম্পানিকে ওষুধ প্রশাসন এনওসি দিয়েছে।
সূত্র জানায়, ১৯৯৭ সালে প্রধানমন্ত্রীর একটি নির্দেশনা ও পরবর্তীতে পিপিআরে ভিটামিন-এ ক্যাপসুল কেনার ক্ষেত্রে দেশীয় প্রতিষ্ঠানকে অগ্রাধিকার দেয়ার নির্দেশনা রয়েছে। এ কারণে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর ভারতের ওই প্রতিষ্ঠানকে এনওসি দিতে অস্বীকৃতি জানালে মালামাল সরবরাহ করা নিয়ে জটিলতার সৃষ্টি হয়। বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়। সর্বশেষ আদালত ভারতীয় প্রতিষ্ঠানকে এনওসি দিতে নির্দেশ দেয়।
শনিবার থেকে ভিটামিন-এ ক্যাপসুলের জাতীয় কর্মসূচি শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু গত সপ্তাহে তারা বিভিন্ন জেলা থেকে খবর পান সরবরাহকৃত ভিটামিন-এ ক্যাপসুল একটি আরেকটির গায়ে লেগে যাচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা সরজমিন গিয়ে এ তথ্যের প্রমাণও পান। এ কারণে ভিটামিন-এ ক্যাম্পেইন স্থগিত করা হয়।
প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালের মার্চে দিকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল ও কৃমিনাশক বড়ি খেয়ে শিশুদের অসুস্থ হয়ে পড়ার ব্যাপক অভিযোগ ছিল দেশব্যাপী। এই নিয়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। নিকটস্থ হাসপাতালে শিশুদের নিয়ে অভিভাবকদের ভিড় বাড়ে।

প্রথম মা হচ্ছেন লুসি, সন্তানের পিতার পরিচয় গোপন রাখবেন

প্রথম সন্তানের মা হচ্ছেন বৃটিশ রিয়েলিটি টেলিভিশন তারকা ও গ্লামারাস মডেল জেমা লুসি। কিন্তু তার গর্ভে যে সন্তান রয়েছে তার পিতা কে তা প্রকাশ করবেন না তিনি। তবে জানিয়েছেন, অপ্রত্যাশিতভাবে তিনি সন্তান সম্ভাবা হয়ে পড়েছেন এবং এটাই তার জীবনে প্রথম এমন ঘটনা। জেমা লুসির বয়স এখন ৩০ বছর। তিনি এ সম্পর্কে বৃটেনের দ্য সান অনলাইনের সঙ্গে খোলামেলা কথা বলেছেন। তবে একটি জায়গায় রহস্য লুকিয়ে রেখেছেন। তাহলো কার সন্তান তার পেতে ধারণ করছেন তা তিনি কাউকে বলবেন না। তবে সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে তিনি জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময় পাড় করছেন এবং এতে প্রচন্ড এক বিষন্নতা কাজ করে তা স্বীকার করেছেন।
সম্প্রতি তিনি দেখতে পান সকালে ঘুম থেকে উঠতে গিয়ে অসুস্থ বোধ করছেন। তারপর পরীক্ষা নিরীক্ষায় দেয়া যায় তিনি মা হতে চলেছেন। এ কথা শুনেই যেন চমকে গিয়েছিলেন। ‘সেলিব্রেটি বিগ ব্রাদার’ তারকা জেমা লুসি এমন খবর শোনার পর নিজেকে একা ও বিপন্ন ভাবতে থাকেন। বন্ধুবান্ধব ও পরিবার থেকে নিজেকে আলাদা করে ফেলেন। ঘোরাঘুরি করতে থাকেন অন্ধকারের মধ্যে। এমন এক বিষন্ন অবস্থা থেকে তিনি বেরিয়ে এসেছেন। নিজে নিজে উপলব্ধি করেছেন- হ্যাঁ, আমিও সন্তান ধারণ করতে পারি।
নিজের মুখে স্বীকার করেছেন, যখন আমি নিজেকে অন্তঃসত্ত্বা দেখতে পেলাম তখন প্রচন্ড এক হতাশা আমাকে গ্রাস করে। প্রথমেই কি করতে হবে আমি কিছুই বুঝতে পারছিলাম না। আমার মনে হয় না, কারো জীবনে অকস্মাৎ এভাবে একটি পরিবর্তনের জন্য কেউ প্রস্তুত থাকে। বিশেষ করে, যখন তা ঘটে যায় পরিকল্পনাবিহীন। এ বিষয়ে অনেক দিন ধরে আমি ভেবেছি। তারপর সিদ্ধান্ত নিয়েছি, বাচ্চাটাকে ধারণ করার জন্য। কিন্তু প্রথম তিনটি মাস ছিল খুবই কষ্টের। আমি কোনো কৌতুক করছি না। কারণ, এর সঙ্গে যুক্ত ছিল আবেগ।

যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক মনিরের মামলায় ঘনিষ্ঠ নজর রাখছে যুক্তরাষ্ট্র

সিলেটের সুনামগঞ্জ থেকে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নাগরিক মোহাম্মদ জুবাইর মনিরের মামলার বিষয়ে ঘনিষ্ঠ নজরদারি করছে যুক্তরাষ্ট্র। নিউ ইয়র্কের সিনেটর কার্স্টেন গিলিব্রান্ডকে লেখা এক চিঠিতে এ কথা জানিয়েছে ঢাকায় অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস। এতে বলা হয়েছে, আমরা ২০১৯ সালের ১০ই জানুয়ারি সাক্ষাৎ করেছি মিস্টার মনিরের সঙ্গে। তিনি বলেছেন, তিনি সুস্থ আছেন। আমরা জানতে পেরেছি, জুবাইর মনিরের মামলাটি আইসিটিতে উঠবে ২০শে জানুয়ারি। এ বিষয়ে পরিবর্তিত অবস্থার দিকে ঘনিষ্ঠভাবে নজর রাখছে দূতাবাস। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।
গত ১৯শে ডিসেম্বর জুবাইর মনিরকে সিলেটের সুনামগঞ্জ থেকে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে আসার চার দিন পরেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি পরিবার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করেন। তার পরিবারের দাবি, যুদ্ধের সময় তার বয়স ছিল মাত্র ১৩ বছর। এর স্বপক্ষে তাদের কাছে প্রমাণ আছে। তাদের আরো অভিযোগ, তাকে গ্রেপ্তারের পর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে দেয়া হচ্ছে না তাকে। জুবাইর মনিরকে গ্রেপ্তারের ২২ দিনেরও বেশি পরে গত ১০ই জানুয়ারি তার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের কনসুলার সুবিধা দেয়া হয়েছে। তার পরিবারের সদস্যরা যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কের সিনেটর কার্স্টেন গিলিব্রান্ডের কাছে সহায়তার জন্য যাওয়ার পরই এ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। তার অফিসের মাধ্যমেই পরিবারটি জুবাইর মনির বিষয়ে কিছু তথ্য পাচ্ছে।
ওয়াশিংটন থেকে বিবিসির সাংবাদিক ব্রজেশ উপাধ্যায় এসব নিয়ে একটি প্রতিবেদনে লিখেছেন। তিনি লিখেছেন, ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের কাছ থেকে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে জুবাইর মনিরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ওই সময় তিনি নিজের দেশ সফরে ছিলেন। তার পরিবার বলছে, ১৯৭১ সালের ওই যুদ্ধের সময় তার বয়স ছিল মাত্র ১৩ বছর।
১৮ই জানুয়ারি ‘ইউএস সিটিজেন অ্যারেস্টেড ফর ওয়ার ক্রাইমস ইন বাংলাদেশ ওয়াজ অনলি ১৩’ শীর্ষক প্রতিবেদনে ব্রজেশ আরো লিখেছেন, মোহাম্মদ জুবাইর মনির নিউ ইয়র্কভিত্তিক একজন ব্যবসায়ী। তিনি বাংলাদেশে অবতরণের চার সপ্তাহ পরে ১৯শে ডিসেম্বর তার গ্রামের বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত তার পরিবার বলছে, তাকে পরিবারের সঙ্গে একটি ফোনও করতে দেয়া হচ্ছে না।
জুবাইর মনিরের বিচার হবে ২০১০ সালে বাংলাদেশ সরকার প্রতিষ্ঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত আইসিটিতে। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় যারা যুদ্ধাপরাধ করেছিল তাদের বিরুদ্ধে বিচার করার জন্য এ আদালত গঠন করা হয়েছে।
ওই প্রতিবেদনে ব্রজেশ আরো লিখেছেন, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর পাকিস্তান ভেঙে জন্ম হয়েছে স্বাধীন বাংলাদেশের। ওই যুদ্ধে ‘হান্ড্রেডস অব থাইজেন্ডস’ মানুষ নিহত হয়েছেন। কমপক্ষে এক কোটি মানুষ বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়েছিলেন। বাংলাদেশ সরকার বলে, যুদ্ধে ত্রিশ লাখ মানুষ নিহত হয়েছেন।

যুদ্ধে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে সহায়তা করেছিল স্থানীয় দোসররা। তাদের অনেককে এরই মধ্যে আইসিটি আদালত যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। তবে অনেক মানবাধিকার কর্মী ও আইনি বিশেষজ্ঞ এই বিচারকে ত্রুটিপূর্ণ বলে অভিহিত করেছেন।
ব্রজেশ আরো লিখেছেন, নিন্দুকেরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারকে অভিযুক্ত করে, সরকার এই বিচারকে বিরোধীদের শাস্তি দিতে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। যাদের বিরুদ্ধে এই বিচার করা হচ্ছে বা হয়েছে তার বেশির ভাগই প্রধান বিরোধী দল বিএনপির।
তবে সরকারি প্রসিকিউটর জায়েদ আল মালুম বিবিসির কাছে জুবাইর মনিরের মামলার বিষয়ে বলেছেন, তিনি অনেক বছর ধরে তদন্তের অধীনে ছিলেন।
জুবাইর মনির ২৭ বছরের বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। দেশে তার রয়েছে রাইস মিল ও ফিশারি ব্যবসা। তা দেখাশোনা করতে প্রায় বছরই তিনি বাংলাদেশ সফর করেন। তার পরিবারের আশঙ্কা, এবার ৩০শে ডিসেম্বর নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক বিরোধীদের বিরুদ্ধে সরকার যে দমনপীড়ন শুরু করেছিল তার অংশ হিসেবেই জুবাইর মনিরকে টার্গেট করা হয়েছে। তার মেয়ে শ্রাবণ মনির বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে তার পিতার কিছু করার নেই। তাকে গ্রামে পুরনো একজন বন্ধুর সঙ্গে চা পান করতে দেখা গিয়েছিল। তার পিতার ওই পুরনো বন্ধু এবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির টিকিটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। এ জন্যই হয়তো সরকারের মধ্যে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
শ্রাবণ মনির বলেন, তার দাদা আবদুল মনির যুদ্ধের সময় পরাজিত পক্ষ অর্থাৎ পাকিস্তানকে সমর্থন করেছিলেন। এ জন্যও তাদের পরিবারকে টার্গেট করা হয়ে থাকতে পারে।
তবে ঢাকা থেকে টেলিফোনে বিবিসিকে জায়েদ আল মালুম বলেন, বেশ কয়েক বছরের তদন্তের পরে মোহাম্মদ জুবাইর মনিরের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা দিয়েছে আইসিটি। তার বিরুদ্ধে সুনামগঞ্জের কাছে দিরাইয়ে হিন্দু এলাকায় অপহরণ, জিম্মি করে রাখা, হত্যা, নির্যাতন, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ আনা হয়েছে। জায়েদ আল মালুম আরো বলেন, জুবাইর মনির রাজাকার বাহিনীর একটি অংশ ছিল।
তিনি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেন। জায়েদ আল মালুম বলেন, তিনি (মনির) রাজনৈতিক বড় কোনো নেতা নন। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় যারা অপরাধ করেছিল তাদের বিচারের প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছি আমরা। যদি মনির অভিযুক্ত হন তাহলে তার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অথবা মৃত্যু পর্যন্ত সাজা হতে পারে।
ব্রজেশ আরো লিখেছেন, মোহাম্মদ জুবাইর মনির ১৯৮২ সালে যুক্তরাষ্ট্রে যান। সেভানে বেশ কিছু ছোটখাটো কাজ করেন। এরপর একজন ক্যাব চালক হন তিনি। ২০০১ সালে শুরু করেন একটি ছোটখাটো ব্যবসা। নিউ ইয়র্কে ধুপ কাঠি ও সুগন্ধি বিক্রি করতে থাকেন। পরে দুটি ছোট ফার্ম কেনেন।এর একটি নিউ ইয়র্কের হ্যামিলটনে। অন্যটি ফ্লোরিডায়।
তার অন্য মেয়ে মনিরা মনির বলেছেন, স্থানীয় বাজারে, বিশেষত বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের কাছে বিক্রি করতে ওই ফার্মে আমরা শাকসবজি ও ফলমূল চাল করতে শুরু করি। তিনি বলেন, যুদ্ধের সময় তার পিতার বয়স যে ১৩ বছর ছিল এ বিষয়ে তাদের কাছে যাচাই করা তথ্যপ্রমাণ রয়েছে। তার দাবি, তার পিতাকে মিথ্যা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এবং যথাযথ প্রমাণ ছাড়াই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, ‘আমার পিতার জন্ম ১৯৫৮ সালের ৩রা জানুয়ারি। যুদ্ধের সময় তিনি বাংলাদেশে ছিলেন না। তিনি তখন পাকিস্তানে ছিলেন’।
তবে জুবাইর মনির যে পাকিস্তানে ছিলেন ওই সময়ে এর স্বপক্ষে পরিবারটির কাছে কোনো তথ্যপ্রমাণ নেই। তবে তাদের কাছে আছে তার জন্ম সনদ, ন্যাচারালাইজেশন সার্টিফিকেট, যুক্তরাষ্ট্রে ড্রাইভিং লাইসেন্স। এসব দিয়ে তার বয়স প্রমাণ করা যায়।
জুবাইর মনিরের মেয়ে বলেন, জীবনে অনেক পরে ধর্মের দিকে আকৃষ্ট হন তার পিতা। সেটা ১৯৯০ এর দশকের মাঝামাঝি নিউ ইয়র্কে এক গাড়ি দুর্ঘটনার পরে। তবে তিনি যে যুদ্ধের সময় পাকিস্তানকে সমর্থনকারী ইসলামপন্থি গ্রুপগুলোর পক্ষ নিয়েছিলেন এ কথা সত্য নয় বলে দাবি তার। তিনি বলেন, আমি শুধু বাংলাদেশ সরকারকে বলতে চাই, বিএনপি বা অন্য কোনো রাজনৈতিক দল বা ধর্মীয় গ্রুপের সঙ্গে আমার পিতার কোনো যোগসূত্র নেই।
ওদিকে প্রসিকিউটর মালুম বলেছেন, যদি ওই পরিবারটির কাছে প্রমাণ থাকে তাহলে ‘মিডিয়া ট্রায়ালের’ পরিবর্তে তারা তা আদালতে উপস্থাপন করতে পারেন।

বাংলাদেশের নির্বাচন ‘যথাযথ’ ছিল না -জাতিসংঘ মহাসচিব

সুস্পষ্টভাবেই বাংলাদেশের নির্বাচন ‘যথাযথ’ ছিল না বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরাঁ। শুক্রবার নিউ ইয়র্কে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশে রাজনৈতিক জীবনে ইতিবাচক সমাধানের জন্য আমরা অংশীদারদের অর্থপূর্ণ সংলাপে বসতে উৎসাহিত করছি। বাংলাদেশি সাংবাদিক মুশফিকুল ফজলের এক প্রশ্নের জবাবে জাতিসংঘ মহাসচিব এ কথা বলেন। এসময় তিনি রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়ার জন্য বাংলাদেশের উদারতার প্রশংসা করেন। বাংলাদেশকে জাতিসংঘের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার বলেও আখ্যা দেন তিনি।
মিস্টার ফজল তার প্রশ্নে নির্বাচনে বিরোধী দলের ওপর দমনপীড়ন ও ভীতি প্রদর্শনের কথা উল্লেখ করে বলেন, আপনি জানেন গত ৩০শে ডিসেম্বর বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন হয়েছে। ওই নির্বাচনে ভোট কারচুপি হয়েছে। ভীতি প্রদর্শন করা হয়েছে।
বিরোধীদের ওপর দমনপীড়ন চালানো হয়েছে। আর বিরোধীরা নির্বাচনকে প্রত্যাখ্যান করেছে। এমনকি আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের বাংলাদেশে স্বাগত জানানো হয়নি। পরে তারা আর বাংলাদেশের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করেনি।  মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আওতাভুক্ত ১৭টি সংগঠনকেও নির্বাচন পর্যবেক্ষণের অনুমতি দেয়নি বাংলাদেশ সরকার। বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে আপনার পর্যবেক্ষণ কি? আপনি কি সার্বিক বিষয় তদন্ত করতে এবং বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে কোনো দূত বা বিশেষ কোনো টিমকে পাঠাচ্ছেন?
জবাবে জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, ম্যান্ডেট ছাড়া এ রকম তদন্ত করার অধিকার আমাদের নেই। তবে সবার আগে আমি বলতে চাই, রোহিঙ্গা শরণার্থী সম্পর্কিত ইস্যুতে জাতিসংঘের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হলো বাংলাদেশ। দেশটি ভয়াবহ জটিল অবস্থার মধ্যে এত বিপুল পরিমাণ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দেয়ার যে উদারতা দেখিয়েছে তার জন্য বাংলাদেশের প্রতি আমরা ভীষণভাবে কৃতজ্ঞ। এ সমস্যা রয়ে গেছে। এখন, অবশ্যই নির্বাচন ‘যথাযথ’ ছিল না। তাই আমরা বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনের বিভিন্ন পক্ষকে অর্থপূর্ণ একটি সংলাপের জন্য উৎসাহিত করি। যাতে যতটা সম্ভব বাংলাদেশের রাজনৈতিক জীবনে  ইতিবাচক শৃঙ্খলা আনা যায়।   
ওদিকে ওই একই প্রেস ব্রিফিংয়ে রোহিঙ্গা শরণার্থী ইস্যুতে প্রশ্ন রাখেন বার্তা সংস্থা রয়টার্সের সাংবাদিক মাইকেল নিকোলাস। তিনি অ্যান্তোনিও গুতেরাঁর কাছে জানতে চান, মিয়ানমার ইস্যুর প্রশ্নটি। এ সংকট শুরুর পর ১৮ মাস পার হয়েছে। অনুল্লেখ্য সংখ্যক শরণার্থীই ফিরে গেছেন। জাতিসংঘ সেখানে যে সুবিধা চেয়েছিল তা পাচ্ছে না। পরিস্থিতি কীভাবে মোকাবিলা করতে হবে সে বিষয়ে নিরাপত্তা পরিষদও কিছুটা সিদ্ধান্তহীনতায়। সর্বশেষ কখন মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সুচির সঙ্গে আপনি কথা বলেছেন? তাকে আপনি কি বার্তা দিয়েছেন?
এ প্রশ্নের জবাবে জাতিসংঘ মহাসচিব। বলেন, খুব ভালো। বেশ কিছুটা সময় পেরিয়ে গেছে, যখন আমরা সর্বশেষ কথা বলেছি। আমার বার্তা সব সময়ই একই রকম। এতে অবশ্যই আস্থা ও বিশ্বাসের পরিবেশ সৃষ্টির গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। এটা শুধু ‘ফিজিক্যাল’ পুনর্গঠনের বিষয় নয়। এটা হলো সম্প্রদায়ের মধ্যে একটি পুনর্জাগরণের বিষয়। সরকারের শক্তিশালী প্রতিশ্রুতির বিষয়, যেটা হলো সম্প্রদায়গুলোর মধ্যে যতটা সম্ভব পুনরেকত্রীকরণ ও রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে নিরাপত্তা দেয়া। কিন্তু দুঃখজনক বিষয় হলো, পরিস্থিতি যেমন হওয়ার কথা ছিল এখনো তেমন নয়। সবকিছু চলছে খুবই ধীরগতিতে। যদি এই সমস্যার মূল কারণ সমাধান করতে ব্যর্থ হন তাহলে সহিংসতা আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে এবং এমনটা আমরা মিয়ানমারে সম্প্রতি দেখেছি।
তাই আমি মিয়ানমারের সঙ্গে সম্পর্কের অগ্রগতিতে ঘাটতির বিষয়ে এবং এসব মানুষের দুর্ভোগের বিষয়ে ভীষণ রকম হতাশাগ্রস্ত। বিশেষ করে, চরম, অত্যন্ত চরম অবস্থার মধ্যে এখন বাংলাদেশে বসবাস করছেন এ সম্প্রদায়ের বিপুল সংখ্যক মানুষ। আমি তাদেরকে ভুলে যেতে পারি না। আমরা চাই, এমন একটি পরিবেশ সৃষ্টি করতে যাতে তারা স্বেচ্ছায় ফিরে যান। এক্ষেত্রে প্রথম যে পদক্ষেপটা হওয়া উচিত অবশ্যই তা হলো অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুতদের সমস্যা সমাধান। এসব মানুষের সমস্যার বিশ্বাসযোগ্য সমাধান দেয়ার ফলেই ভবিষ্যৎ প্রত্যাবর্তনের পথ সুগম হবে।

মমতার ব্রিগেডে মোদি হটানোর ডাক বিরোধীদের

‘মোদি হটাও দেশ বাঁচাও’ এই স্লোগান তুলে শনিবার কলকাতায় ব্রিগেড ময়দানের মঞ্চে হাজির কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারী, গুজরাত থেকে অরুণাচল প্রদেশের বিজেপি বিরোধী নেতারা ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের অঙ্গীকার করেছেন। ঐক্যবদ্ধ ভারতের ছবিটাই এদিনের মঞ্চে উজ্জ্বল হয়ে উঠেছিল। সকলেই এই দিনটিকে ঐতিহাসিক দিন বলে চিহ্নিত করেছেন।  নিজেদের ভাষণে  কোনো নেতা বলেছেন, এই নির্বাচন প্রধানমন্ত্রী হওয়ার নির্বাচন নয়। এই নির্বাচন দেশ বাঁচানোর, গণতন্ত্র বাঁচানোর। তাই এক হয়ে লড়াই করতে হবে। আবার কোনো নেতা বলেছেন, মতের পার্থক্য থাকলেও সরকারে পরিবর্তন আনতে আমরা এক জোট থাকবো। মোদি সরকারের বিভিন্ন নীতি ও দুর্নীতির প্রশ্নেও সোচ্চার ছিলেন বিরোধী নেতারা।
মোদির আমলে কীভাবে দেশের অর্থনীতি ধ্বংস করা হয়েছে, কৃষক ও যুবসমাজের সর্বনাশ করা হয়েছে এবং করপোরেটদের তোষণ করা হয়েছে সেই অভিযোগও করেছেন সকলে। এদিনের সমাবেশের আহ্বায়ক তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তার ভাষণে আগামী দিনে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই আরো সুসংহত করতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সভা করার আহ্বান জানিয়েছেন।
একই সঙ্গে জানিয়ে দিয়েছেন, কে প্রধানমন্ত্রী হবেন, সেটা ভোটের পরেও ঠিক করা যেতে পারে, আপাতত বিজেপির বিরুদ্ধে একজোট হয়ে লড়াই করাটাই বড় কথা। এদিন ব্রিগেড থেকে মমতার নতুন স্লোগান,  ‘অনেক হয়েছে অচ্ছে দিন, এবার বিজেপিকে বাদ দিন’। তিনি আরো বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মোদির এক্সপায়ারি ডেট চলে এসেছে। সমাবেশে সাবেক বিজেপি নেতা যশবন্ত সিনহা বলেছেন, গত ৫৬ মাসে দেশে গণতন্ত্র বিপন্ন হয়েছে। দেশ আজ এক ভয়ঙ্কর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। এমনকি বিজেপির বিক্ষুব্ধ সাংসদ শত্রুঘ্ন সিংহ বলেছেন, এখানে এসে ভারতের জনগণের মুড বোঝা যাচ্ছে।
দেশের নয়া নেতৃত্বের প্রয়োজন। মোদিকে কটাক্ষ করে তিনি বলেছেন, রাফায়েল কেনা সংক্রান্ত তথ্য লুকিয়ে রাখবেন না। তাহলে মানুষ ঠিকই বলবে চৌকিদার চোর হ্যায়। ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এইচডি দেবগৌড়া উপদেশের ভঙ্গিতে বলেছেন, জোট সরকার আসলেই অনেক শক্তিশালী হয়। তাই ভাষা-ধর্ম নির্বিশেষে মহাজোটের এই শরিকদের উপর ভরসা রাখতে বলেছেন তিনি। সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব বলেছেন, বাংলা থেকে আজ যা শুরু হলো, গোটা দেশে এবার তা-ই চলবে।
কংগ্রেস নেত্রীর লেখা চিঠি নিয়ে সমাবেশে এসেছিলেন কংগ্রেস নেতা মল্লিকার্জুন খাড়গে। সেই চিঠিতে সোনিয়া বলেছেন, সংবিধানকে ধ্বংস করা হচ্ছে। তাই সকলের এক হয়ে লড়াই করাকে তিনি সমর্থন জানিয়েছেন। এর আগে কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধীও মমতার উদ্যোগকে সমর্থন জানিয়ে বার্তা পাঠিয়েছেন।
আগামী লোকসভা নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে বিজেপি বিরোধী প্রায় সব শক্তির মধ্যে সমঝোতা তৈরির প্রয়াস বছরখানেক ধরেই চলছে। কখনো অখিলেশ বা কেজরিবালের ডাকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছুটে গিয়েছেন লক্ষ্ণৌ বা দিল্লিতে। কখনো সনিয়া গান্ধীর ডাকে দিল্লিতে  বৈঠকে বসেছে বিভিন্ন বিরোধী দল। কখনো চন্দ্রবাবু নাইডু সচেষ্ট হয়েছেন। কিন্তু বিজেপি বিরোধী প্রায় সব দলকে এক মঞ্চে এনে এত বড় প্রকাশ্য সমাবেশ এই প্রথম। সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেবগৌড়া থেকে মারাঠা স্ট্রংম্যান শরদ পাওয়ার, লোকসভার বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়গে থেকে তেলুগু দেশম সুপ্রিমো চন্দ্রবাবু নাইডু, অরবিন্দ কেজরিবাল থেকে ডিএমকে প্রধান এম কে স্ট্যালিন, প্রত্যেকেই এদিন এই মহাসমাবেশের জন্য প্রশংসা করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। এদিনের মঞ্চে শরদ যাদব, শারদ পাওয়ার, যশবন্ত সিনহা, এইচডি দেবগৌড়া, ফারুখ আবদুল্লার মতো প্রবীণ নেতাদের পাশাপাশি হাজির ছিলেন অখিলেশ যাদব, তেজস্বী যাদব, এমকে স্ট্যালিন, জয়ন্ত সিং, হার্দিক পটেল, জিগ্নেশ মেবাণীর মতো তরুণ নেতারাও। তারা একযোগে মোদি সরকারের সমালোচনা করে কেন্দ্রে বদলের ডাক দিয়ে বিরোধীদের একজোট হতে আহ্বান জানিয়েছেন। একই কথা বলেছেন, লোকতান্ত্রিক জনতা দলের প্রধান শরদ যাদব।
তিনি  বলেছেন, দেশ সংকটে। মুক্তি চাই এই অবস্থা থেকে। উপায় একটাই, সবাইকে একজোট হতে হবে। তবে দেশ থেকে কালো মেঘরূপী মোদি সরকার সরে যাবে।
নোট বাতিলসহ একাধিক ইস্যুতে মোদিকে আক্রমণ করে কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী এইচডি কুমারস্বামী বলেছেন, মোদি সরকার মূক এবং বধির। মানুষের কথা শোনার মতো সময় নেই। পুঁজিপতিদের হয়ে কাজ করছে। সাধারণ মানুষের বক্তব্য উপক্ষিত। বহুজন সমাজ পার্টির নেতা সতীশ মিশ্র বলেছেন, আর সহ্য করা যাচ্ছে না এই সরকারকে। কেন্দ্রে অসফল মোদি সরকার। প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থ মোদি সরকার।
কর্মসংস্থান হয়নি, কাজ হারিয়েছে সাধারণ মানুষ। ব্রিগেডের মঞ্চ থেকেই এই সরকারকে উচ্ছেদের ডাক দিয়েছেন তিনি। ডিএমকে নেতা স্ট্যালিন বলেছেন, আগামী লোকসভা নির্বাচন হলো দ্বিতীয় স্বাধীনতা সংগ্রাম। তিনি বলেছেন, দেশের সাম্প্রদায়িকতার বিষ ছড়ানো হচ্ছে। সবার একটাই স্লোগান হওয়া উচিত, বিজেপি হঠাও দেশ বাঁচাও। আমরা একজোট, তাই মোদি ভয় পাচ্ছেন। ফারুখ আবদুল্লাহ বলেছেন, দেশে ধর্মের নামে বিভেদ চলছে। সবার আগে নেতাদের একজোট হতে হবে। দেশরক্ষায় আত্মত্যাগ প্রয়োজন। কংগ্রেস নেতা অভিষেক মনু সিংভি বলেছেন,  মানুষের দাবি, আর নয় মোদি সরকার। এই সরকারের মধ্যে বিশাল প্রতিশোধ স্পৃহা। জনহিতের কথা বললেই দেশদ্রোহীর তকমা দেয়া হচ্ছে। এবার রামধনুর মতো সব রঙ একসঙ্গে। ভোট ভাগাভাগির সুবিধা পায় বিজেপি। ভোট ভাগাভাগি রুখে দিলেই ওরা হেরে যাবে।

‘বেস্ট সেলিং ব্রান্ড’ হলো আতঙ্ক -জাতিসংঘ মহাসচিব

বিশ্বজুড়ে ব্যাপক বিস্তৃত আতঙ্ক ও অবিশ্বাসের ভয়াবহতা সম্পর্কে সতর্ক করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তনিও গুতেরাঁ। তিনি বলেছেন, এখন বিশ্বজুড়ে ‘বেস্ট-সেলিং ব্রান্ড’ বা সবচেয়ে বেশি প্রচলিত বিষয় হলো আতঙ্ক। আস্থার ঘাটতি সমস্যা সমাধানে জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ নেয়া উচিত। ‘ব্রোকেন ওয়ার্ল্ডে’ বা ভেঙে যাওয়া বিশ্বে ভেঙে যাওয়া আস্থাকে ফিরিয়ে আনার জন্য তিনি জাতিসংঘকে একটি প্লাটফর্ম হিসেবে দেখতে চান বলে আবারও মত দেন। শুক্রবার নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দফতরে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা ইউএনবি।
অ্যান্তনিও গুতেরাঁ এতে আতঙ্ক ও অবিশ্বাসের বিষয়ে বলেন, এ বিষয় রেটিং পাচ্ছে। ভোটে বিজয়ী হচ্ছে এসব বিষয়।
তিনি আরো বলেন, আমি বিশ্বাস করি সরকারগুলো ও প্রতিষ্ঠানগুলো এখন সবচেয়ে বড় যে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি তাতে দেখাতে হবে, আমরা এসব সমস্যার বিষয়ে মাথা ঘামাই। জনসাধারণের আতঙ্ক ও উদ্বেগের বিষয়ে উত্তর, কংক্রিটের মতো উত্তর নিয়ে তাদের সামনে সাড়া দিতে হবে। সমাধান দিতে হবে।
২০১৯ সালের জন্য জাতিসংঘের অধীনে নিজের কর্মকান্ডের বিষয়ে ১৯৩ টি সদস্য রাষ্ট্রের সামনে তুলে ধরার দু’দিন পরে মহাসচিব ওই সংবাদ সম্মেলন করেন। ওই সব সদস্য দেশ তার বহুত্ববাদের বিষয় হাইলাইট করার বিষয়ে ব্যাপক সাড়া দিয়েছে। অ্যান্তনিও গুতেরাঁ বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন থেকে অভিবাসন, অভিবাসন থেকে সন্ত্রাস, সন্ত্রাস থেকে বৈশ্বিকীকরণের অবনমিত দিক পর্যন্ত অনেক চ্যালেঞ্জ আমরা মোকাবিলা করছি। বৈশ্বিক এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য প্রয়োজন বৈশ্বিক পর্যায়ের সমাধান। এ বিষয়ে আমার মনে কোনোই সন্দেহ নেই। এ কাজটি কোনো একটি দেশ একা করতে পারে না। অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে অধিক হারে আমাদের প্রয়োজন বহুত্ববাদ।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, বহুত্ববাদকে প্রত্যাখ্যান করার মধ্য দিয়ে আমরা কোথাও যেতে পারব না। তিনি এদিন বিশ্বজুড়ে কেন বহু মানুষ ক্ষমতা ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিষয়ে আশস্ত নন সে বিষয়েও গুরুত্ব দিয়ে মন্তব্য করেন। তিনি এ সময় বৈশ্বিকীকরণ ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতি, বহু মানুষ, সেক্টর, পুরো অঞ্চল পশ্চাতে পড়ে আছে বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, এই ব্যাপক বিস্তৃত অবিশ্বাস, হতাশা, ক্ষোভ ও আতঙ্কের মূল কারণ উদঘাটনের দিকে দৃষ্টি দেয়া উচিত। এক্ষেত্রে রয়েছে কাজ করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ তিনটি খাত। তা হলো, টেকসই উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা, সংস্কারের মাধ্যমে জাতিসংঘের মূল্যায়ন শক্তিশালী করা এবং ঘৃণাপ্রসূত বক্তব্য, বিদেশীবিদ্বেষ ও অসহিষ্ণুতার ইতি ঘটাতে নাগরিক সমাজের সঙ্গে সম্পর্ক বাড়ানো।
অ্যান্তোনিও গুতেরাঁ বলেন, আমরা অনেক দিন ধরে বিরক্তিকর, ঘৃণামূলক কথাবার্তা শুনে আসছি। বিষাক্ত সব দৃষ্টিভঙ্গি রাজনৈতিক বিতর্কে ঢুকে গেছে। এতে মূলধারার রাজনীতি দূষিত হচ্ছে। এক্ষেত্রে তিনি ১৯৩০এর দশক ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি বলেন, ঘৃণাপ্রসূত বক্তব্য ও ঘৃণাপ্রসূত অপরাধ সরাসরি মানবাধিকার, টেকসই উন্নয়ন, শান্তি ও নিরাপত্তার হুমকি।
জাতিসংঘ মহাসচিব আরো বলেন, কথাই যথেষ্ট নয়। তিনি ঘোষণা করেন, তার গণহত্যা প্রতিরোধ বিষয়ক বিশেষ উপদেষ্টা এডাম ডিয়েঙ্গকে একটি দায়িত্ব দিয়েছেন। তা হলো, জাতিসংঘের বিস্তৃত দৃষ্টিভঙ্গি সম্পন্ন একটি কৌশল প্রণয়ন করতে সবাইকে এক করতে একটি টিম গঠন করতে এবং ঘৃণাপ্রসূত বক্তব্য ও ঘৃণাপ্রসূত অপরাধের বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে জরুরি পরিকল্পনা গ্রহণের জন্য।

সবার জন্য কাজ করবো -প্রধানমন্ত্রী

বিজয় সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
বিজয় সমাবেশ থেকে দল-মত নির্বিশেষে সবার জন্য কাজ করার অঙ্গীকার করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, দেশের প্রতিটি নাগরিকের রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করবে আওয়ামী লীগ। একই সঙ্গে দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে সব শ্রেণি- পেশার মানুষের সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী। গতকাল রাজধানীর সোহ্‌রাওয়ার্দী উদ্যাণে লাখো মানুষের বিশাল বিজয় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী। টানা তৃতীয় মেয়াদে নিরঙ্কুশ বিজয় উপলক্ষে আওয়ামী লীগ এ সমাবেশের আয়োজন করে। সমাবেশ উপলক্ষে আশপাশের এলাকায় ছিল সাজ সাজ রব, রঙবেরঙের ব্যানার, পোস্টার ও প্ল্যাকার্ডে সাজানো হয়েছিল উদ্যানসহ পুরো এলাকা। বিপুল জনসমাগমেও ছিল উৎসবের আমেজ।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, একাদশ সংসদ নির্বাচনে বিজয় শুধু আওয়ামী লীগের নয়, এই বিজয় স্বাধীনতার পক্ষের শক্তির, আপামর জনগণের।
জনগণ এবার স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিয়েছে। বাংলাদেশের মানুষের ভোটের মর্যাদা রক্ষা করে তাদের জীবন-মান উন্নত করবার জন্য প্রয়োজনে আমি আমার বুকের রক্ত দিতে প্রস্তুত। আমি সেই ওয়াদা আজকে করে যেতে চাই। তিনি বলেন, আমি এটুকুই বলবো- দেশের মানুষ যে বিশ্বাস রেখেছে তার মর্যাদা আমি আমার জীবন দিয়ে হলেও করে যাবো। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ জয় পেয়েছে এটা সত্য।
যখন দায়িত্ব পেয়েছি, দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলতে চাই-দল মত নির্বিশেষ প্রত্যেকের জন্য কাজ করবো। সবার রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করবো। প্রতিটি নাগরিক আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। আমরা সকলের তরে, সকলের জন্য। সকলের জন্য কাজ করবো। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষ আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারের পক্ষে রায় দিয়েছে। আমরা বিজয়ের সম্মান রক্ষা করে সুষম উন্নয়ন করে যাবো। এই রায় সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও মাদকের বিরুদ্ধে রায়। নির্বাচিত প্রতিনিধিদের এটি মাথায় রাখতে হবে। কঠিন দায়িত্ব আমরা পেয়েছি। সেই দায়িত্ব আমাদের নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করতে হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় গড়ে উঠবে। সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তুলব এটাই হচ্ছে আমাদের অঙ্গীকার। আমরা যে অঙ্গীকার করেছি তা অক্ষরে অক্ষরে পূরণ করবো। এই সমাবেশে আমি এটিই বলে যেতে চাই।
গত ৩০শে ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ সংসদ নির্বাচনে ২৫৭টি আসনে জয় নিয়ে টানা তৃতীয়বার সরকার গঠন করেছে আওয়ামী লীগ। ভোটের ১৯ দিন পর গতকাল বিজয় উৎসব পালন করে দলটি। বেলা ৩টার পরপরই শেখ হাসিনা অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত হলে স্লোগানে স্ল্লোগানে তাকে স্বাগত জানান নেতা-কর্মী, সমর্থকরা। উদ্যানের ভেতরে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রতীক নৌকার আদলে তৈরি করা হয় ‘বিজয় মঞ্চ’, তার পেছনের ব্যানার সাজানো হয় দলের এবারের ইশতেহারের মলাটের রঙে। বৈঠাসহ ছোট-বড় ৪০টিরও বেশি নৌকা, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার ছবি সংবলিত ফেস্টুনে সাজানো হয় সমাবেশ মাঠ। মঞ্চে শেখ হাসিনার সঙ্গে ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, প্রেসিডিয়াম সদস্য মতিয়া চৌধুরী, মোহাম্মদ নাসিম, এডভোকেট সাহারা খাতুন, লে. কর্নেল অব. ফারুক খান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব-উল আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান, ডা. দীপু মনি। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানসহ আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের নেতা ও মন্ত্রিপরিষদের বেশির ভাগ সদস্য মঞ্চে ছিলেন। আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ ও উপ-প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন যৌথভাবে সভা পরিচালনা করেন। এদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতির বক্তব্যের আগে অভিনন্দন বার্তা পাঠ করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। জনসভায় যোগ দিতে সকাল ৯ টায় সোহ্‌রাওয়ার্দী উদ্যান অভিমুখী মিছিল দেখা যায় ঢাকার নানা স্থানে।
বাংলা একাডেমির বিপরীত দিক দিয়ে উদ্যানে ঢোকার পথে ছিল দীর্ঘ সারি। জয় বাংলা স্লোগানের সঙ্গে ঢাক-ঢোলের বাদ্যে মুখর নেতা-কর্মীদের দুপুরে মাতিয়ে তোলেন জনপ্রিয় সব সঙ্গীতশিল্পী। গানে গানে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বন্দনা যেমন ছিল,  তেমনি ছিল গত এক দশকে আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কথাও।
এদিকে ১৯ মিনিটের বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়া সব দলকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, সব দল নির্বাচনে অংশ নিয়ে নির্বাচনকে অর্থবহ করেছে। ভোটে আসা দলগুলোর উদ্দেশে তিনি বলেন, নির্বাচনে জয়-পরাজয় একটা স্বাভাবিক ব্যাপার। আমি বলতে চাই, আওয়ামী লীগ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছে এটা সত্য। ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে নৌকায় ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে ও মহাজোটকে বিজয়ী করেছে। তিনি বলেন, এই বিজয় কেবল আওয়ামী লীগের নয়, এ বিজয় স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তির, এ বিজয় সকল জনগণের। বিজয় উৎসবে আসার জন্য তিনি সেখানে উপস্থিত সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে পুলিশ, বিজিবি, আনসারসহ সকল সংস্থা ও গোয়েন্দা সংস্থাসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং নির্বাচন কমিশনকে সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য ধন্যবাদ জানান। তিনি ভোটার ও তৃণমূলের নেতা-কর্মীদেরও ধন্যবাদ জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা এবার ঐক্যবদ্ধ হয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছেন। নিশ্চয়ই একটি কথা উপলব্ধি করেছে, ঐক্যবদ্ধ শক্তি সব সময় বিজয় অর্জন করে- এই নির্বাচনে এটা প্রমাণ হয়েছে। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, নির্বাচনী ইশতেহারের পক্ষে জনগণ রায় দিয়েছে।
জনগণ ভোট দিয়েছে, সে ভোটের সম্মান যাতে থাকে অবশ্যই আমরা মাথায় রেখে সার্বিকভাবে সুষম উন্নয়ন করে যাব। এ রায় সন্ত্রাসের, জঙ্গিবাদের, মাদকের বিরুদ্ধে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে রায়। নির্বাচিত প্রতিনিধি যারা তাদের এটা মনে রাখতে হবে। দেশের মানুষের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করা আমাদের কর্তব্য। বিজয় পাওয়া যত কঠিন, তা রক্ষা করে জনগণের জন্য কাজ করা আরও কঠিন। সে কঠিন কাজের দায়িত্ব পেয়েছি, তা পালন করতে হবে, সেটাই আমি স্মরণ করিয়ে দিতে চাই। শেখ হাসিনা বলেন, একাদশ সংসদ নির্বাচনে জনগণ জঙ্গি, মাদক, সন্ত্রাস ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে রায় দিয়েছে। শান্তি ও উন্নয়নের স্বপক্ষে রায় দিয়েছে। অন্ধকার থেকে আলোর পথে যাত্রার জন্য রায় দিয়েছে। তিনি বলেন, তরুণদের জন্য সুন্দর বাংলাদেশ, ডিজিটাল বাংলাদেশ ও আধুনিক বাংলাদেশ গড়ার এবং মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষে রায় দিয়েছে জনগণ। তিনি বলেন, আমরা যে অঙ্গীকার করেছি, সেই অঙ্গীকার আমরা অক্ষরে অক্ষরে পালন করবো। ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলার পক্ষে রায় দিয়েছে দেশের মানুষ। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী দেশকে সম্পূর্ণ দারিদ্র্যমুক্ত করতে সবার সহযোগিতা চান।
তিনি বলেন, একজন রাজনৈতিক নেতা হিসেবে এটাই মূল লক্ষ্য যে, মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের চেতনা নিয়ে দেশ শাসন করে যাব। একটি উন্নত দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে গড়ে তুলব। যেখানে দেশের মানুষের সকলের সহযোগিতা চাই। ছাত্র-শিক্ষকসহ সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে আহ্বান জানাই, আসুন সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে আমাদের বর্তমানকে উৎসর্গ করি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য। যাতে তারা একটি উন্নত ও সুন্দর সমাজ পায়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এখন যেমন বিশ্বে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে এবং যেন বিশ্বে মাথা উঁচু করে চলতে পারে সেভাবে আমরা আমাদের দেশকে গড়ে তুলতে চাই। সেজন্য যা যা করা দরকার করবো। প্রতিটি গ্রাম শহরের সকল নাগরিক সুবিধা পাবে। তৃণমূলে মানুষের জীবন উন্নত করবো। শিক্ষার আলো প্রতিটি ঘরে ঘরে পৌঁছে যাবে।
প্রতিটি জেলায় বিশ্ববিদ্যালয় হবে, প্রতিটি উপজেলায় কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হবে। অর্থনৈতিক অঞ্চলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বেকারত্বের অভিশাপ থেকে মুক্তি পাবে। ২০২০ সালে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকীতে ও ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে ক্ষুধামুক্ত দারিদ্র্যমুক্ত হয়ে বাংলাদেশ এগুলো উদযাপন করবে বলে ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাংলাদেশ হবে উন্নত সমৃদ্ধ সেটাই আমাদের প্রতিজ্ঞা। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়ন করতে হলে দেশ থেকে যেমন দুর্নীতি দূর করতে হবে, সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে। একই সঙ্গে মাদকমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত দেশ করতে হবে- যেখানে মানুষের শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। শেখ হাসিনা বলেন, ৪র্থবারের মতো মানুষ আমাকে তাদের সেবা করার সুযোগ দিয়েছে। ’৭৫-এর ১৫ই আগস্টের স্মৃতিচারণ করে শেখ হাসিনা বলেন, খুনিরা ভেবেছিল বঙ্গবন্ধুর কোনো রক্ত বেঁচে থাকবে না, যাতে করে বাংলাদেশ আবার উঠে দাঁড়াতে না পারে। আমি আর আমার ছোট বোন ছয় বছর বিদেশে ছিলাম। সে সময় দেখেছি বাংলাদেশের সেই চিত্র।
ছিন্ন বস্ত্র, দেখেছি মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই, পেটে ক্ষুধার জ্বালা। তখন প্রতিজ্ঞা করেছিলাম যে স্বপ্ন নিয়ে আদর্শ নিয়ে বাবা স্বাধীন করেছেন, সেটা পূরণ করে যেতে পারেননি, যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশকে নিয়ে যখন উন্নয়নের পথে যাত্রা শুরু করেন তখনই সেই ১৫ই আগস্টের ঘটনা ঘটে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি আমার জীবন উৎসর্গ করেছি। স্বজন হারানোর বেদনা নিয়েও প্রতিজ্ঞা করেছি এ দেশকে গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেছি। যে বাংলাদেশে একটি মানুষও ক্ষুধার্ত থাকবে না, গৃহহীন থাকবে না, সবাই চিকিৎসা পাবে, তরুণেরা কর্মসংস্থান পাবে। বাংলাদেশ হবে একটি উন্নত সমৃদ্ধ দেশ। এটাই আমাদের প্রতিজ্ঞা, লক্ষ্য। তিনি বলেন, রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে মনে করি দেশের মানুষের জন্য কতটুকু কী করতে পারলাম- সেটাই বড় কথা। কী পেলাম সেটা বড় কথা নয়। আমি আমার জীবনকে উৎসর্গ করছি। ব্যক্তিগত কোনো চাওয়া-পাওয়া নেই। সকল শ্রেণী-পেশার মানুষের সহযোগিতা চাই। আমি বিশ্বাস করি বাংলাদেশের জনগণ বিশ্বাস করে আমাদের মূল্যবান ভোট দিয়েছে। এই ভোটের সম্মান আমি রক্ষা করবো।
এই দেশের মানুষের উন্নয়ন করতে গিয়ে জীবন দিয়ে গেছেন আমার মা ও ভাইয়েরা। অনেক মানুষ জীবন দিয়েছেন মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে। কবি সুকান্তের কবিতার পংক্তি উদ্ধৃত করে প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্য শেষ করেন। বলেন, ‘তবু যতক্ষণ দেহে আছে প্রাণ, প্রাণপণে পৃথিবীর সরাবো জঞ্জাল, এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি- নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।’
সমাবেশে আমির হোসেন আমু বলেন, দেশের জনগণ বারবার বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বিজয়ী করে তার ওপর আস্থা জানিয়ে আসছে। এ আস্থার স্থাপনই প্রমান করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষেই বঙ্গবন্ধু আদর্শ বাস্তবায়ন করা সম্ভব। তিনি বলেন, ১৯৮১ সালে ১৭ই মে দেশে ফেরার পর বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা দেশের মানুষের রাজনৈতিক অধিকার আদায়ের সংগ্রাম শুরু করেছিলেন। এখন তিনি বঙ্গবন্ধুর দ্বিতীয় বিপ্লবে দেশের মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তির সংগ্রামে নেতৃত্ব দান করছেন। তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘দেশের মানুষ উন্নয়নের পক্ষে এবং সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে রায় দিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ সকল ক্ষেত্রে পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে।’ বঙ্গবন্ধুর মতো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও লক্ষ্য নির্ধারণ করে কাজ করেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ হবে জামায়াত, যুদ্ধাপরাধী, খুনি ও সন্ত্রাসীমুক্ত সংসদ। ’৭০ সালের মতো গণজোয়ার সৃষ্টি করে বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত কাজ শেষ করার জন্য দেশের মানুষ আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়েছে। মতিয়া চৌধুরী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নের অদম্য আকাঙ্ক্ষা নিয়ে দেশের জনগণ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অবিস্মরণীয় বিজয় এনে দিয়েছে।’ মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ৫ বছর সামপ্রদায়িকতা ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ভিত্তিতে উন্নত দেশ গঠনে নেতৃত্ব দেবেন। যারা নির্বাচনে হেরে যায়, তারা মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে না।’
‘আমার শেখ হাসিনাই ভালা’
শেখ হাসিনা যখন বিজয় সমাবেশের মঞ্চে বসেছিলেন সামনের মঞ্চে গান গাইছিলেন শিল্পী ও এমপি মমতাজ বেগম। তিনি গাইছিলেন ‘সব নেতার চাইতে আমার শেখ হাসিনাই ভালা’। মমতাজের গানটি শুনে তালি দিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। উন্নয়নের পথে দিলো নৌকা মার্কায় ভোট এই মূল বক্তব্য নিয়ে কয়েক মিনিট ধরে গান গাইছিলেন মমতাজ।  গানের কথাগুলো ছিল, বাড়ি বাড়ি মিষ্টি বিলায় মিয়া ভাইয়ের শালা, সব নেতার চাইতে আমার শেখ হাসিনা ভালা। সব মার্কার চেয়ে আমার নৌকা মার্কা ভালা। এরপরই তিনি গান শুকরিয়া শুকরিয়া, কোটি কোটি মুকরিয়া, নৌকা মার্কায় ভোট দিয়া, বঙ্গবন্ধুর নৌকা মার্কায় ভোট দিয়া, শেখ হাসিনার নৌকা মার্কায় ভোট দিয়া।
একসময় প্রধানমন্ত্রী গানের মধ্যে হাতে তালি দিয়ে দিয়ে উচ্ছ্বাস জানান। জয় বাংলা জিতবে এবার নৌকা গানে মুখরিত ছিল পুরো নির্বাচনের প্রচারের সময়টা। মমতাজের গানের পরপরই সেই গানটি পরিবেশন করেন শিল্পীরা। জনসভার কারণে সকাল ১১টা থেকে শাহবাগের রূপসী বাংলা সিগন্যাল, কাঁটাবন মার্কেট মোড়, নীলক্ষেত মোড়, চান খাঁরপুল, জিপিও ও মৎস্য ভবন মোড় থেকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানমুখী সব রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ করে দেয় পুলিশ। জনসভায় যোগ দিতে সকাল ৯টায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অভিমুখী মিছিল দেখা যায় ঢাকার নানা স্থানে। বাংলা একাডেমির বিপরীত দিক দিয়ে উদ্যানে ঢোকার পথে ছিল দীর্ঘ সারি।‘জয় বাংলা’ স্লোগানের সঙ্গে ঢাক-ঢোলের বাদ্যে মুখর এই নেতা-কর্মীদের দুপুরে মাতিয়ে তোলেন জনপ্রিয় সব সঙ্গীত শিল্পী।
সকাল থেকেই নেতাকর্মীদের স্রোত, কড়া নিরাপত্তা: আওয়ামী লীগের বিজয় সমাবেশ ঘিরে সকাল থেকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান এলাকায় আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের ভিড় বাড়তে থাকে। সকাল ১১টার দিকে শাহবাগ, রূপসী বাংলা মোড়, কাঁটাবন, নীলক্ষেত, চান খাঁরপুল, জিপিও ও মৎস ভবন মোড় থেকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানমুখী যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়। পাশাপাশি ওই এলাকার সড়কগুলোতে গণপরিবহন ও সাধারণ যানবাহন চলাচল সীমিত ছিল। এ সময় শুধু সমাবেশে আসা নেতাকর্মীদের বহনকারী ট্র্যাক, পিকআপ ও বাস চলাচল করে। মাথায় টুপি, হাতে পতাকা, লাল, নীল, সাদা টি-শার্ট পরে ঢাকা ও আশপাশের এলাকা থেকে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, তরুণ লীগ, তাঁতী লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, যুব মহিলা লীগ, শ্রমিক লীগসহ অন্যান্য সংগঠনের নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে আসেন।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) পক্ষ থেকে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল সমাবেশ ঘিরে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও তার আশপাশের এলাকায় পুলিশের পাশাপাশি, র‌্যাব, মহানগর গোয়েন্দা সংস্থা ও সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে। শাহবাগ, মৎস্য ভবন, হাইকোর্ট এলাকা, টিএসসি, দোয়েল চত্বর, নীলক্ষেত, আইইবিসহ সবকটি সড়কে বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। সমাবেশস্থলের প্রবেশ পথে আর্চওয়ে গেট বসানো হয়েছিল। হ্যান্ড মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে তল্লাশি করে নেতাকর্মীদের ভেতরে প্রবেশ করতে দেয়া হয়। মহানগর পুলিশের রমনা জোনের উপ-কমিশনার মারুফ হোসেন সরদার বলেন, আওয়ামী লীগের সমাবেশে বিপুল পরিমাণ মানুষের উপস্থিতির কথা চিন্তা করে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এদিকে সমাবেশ ঘিরে রাজধানীর কিছু অংশে যানজট এবং কিছু অংশে গণপরিবহন সংকটে সাধারণ মানুষকে ভোগান্তি পোহাতে হয়। কিছু কিছু সড়কে বাসসহ অন্যান্য যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। আর যেসব সড়তে অল্পসংখ্যক বাস চলাচল ছিল, এসব বাসে তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না। শাহবাগ থেকে মৎস ভবন, টিএসসি থেকে দোয়েল চত্বর।
এসব সড়কে কোনো ধরনের যানবাহন চলাচল ছিল না। ব্যারিকেড বসিয়ে পুলিশ সদস্যরা যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করছিলেন। এছাড়া বাংলামোটর, রূপসী বাংলা মোড়, শাহবাগ, কাঁটাবন, নীলক্ষেত, পলাশী, বকশিবাজার, চানখারপুল, গোলাপশাহ মাজারম জিরো পয়েন্ট, পল্টন, কাকরাইল চার্চ, অফিসার্স ক্লাব, মিন্টু রোড ক্রসিং থেকে যানবাহন ডাইভারশন করে দেয়া হয়েছে। এদিকে সায়েদাবাদ, গুলিস্তান, মতিঝিল ও সদরঘাট থেকে বিমানবন্দর, আব্দুল্লাহপুর, গাজীপুর রুটে অন্যান্য দিনের মতো বাস চলাচল ছিল না। পাশাপাশি মিরপুর সড়কেও গণপরিবহন চলেছে কম।

দূতাবাসে ভাঙচুরের জের: কুয়েত থেকে ফেরত পাঠানো হচ্ছে ৩০০ বাংলাদেশিকে by দীন ইসলাম

কুয়েতস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে হামলার দায়ে তিন শতাধিক শ্রমিককে দেশে ফেরত পাঠানো হবে। হাঙ্গামাসহ নানা বিশৃঙ্খলাপূর্ণ কাজে জড়িত থাকার দায়ে কুয়েতের আইন অনুযায়ী তাদের ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে দেশটির সরকার। ভবিষ্যতে যাতে তারা কুয়েতে ঢুকতে না পারেন সেজন্য ফিঙ্গারপ্রিন্ট নেয়া হয়েছে। বাংলাদেশ দূতাবাস তাদের রাখার অনুরোধ করলেও তা গ্রহণ করবে না কুয়েত সরকার।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কুয়েতস্থ বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এসএম আবুল কালাম মুঠোফোনে মানবজমিনকে বলেন, কুয়েতে বাংলাদেশ দূতাবাসে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় কয়েক শতাধিক বাংলাদেশিকে আটক করেছে দেশটির আইন-প্রয়োগকারী সংস্থা। দূতাবাসের মতো স্পর্শকাতর স্থানে হামলার তদন্ত করছে কুয়েতের বিভিন্ন সংস্থা।
বাংলাদেশিদের বিষয়ে আইন অনুযায়ী তারা ব্যবস্থা নেবে। এ বিষয়ে আমাদের কোনো কথা গ্রাহ্য হবে না। দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে, গতকাল ও আজ কুয়েতে সরকারি ছুটি।
গতকাল কুয়েতের বিভিন্ন আইন-প্রয়োগকারী সংস্থা বাংলাদেশ দূতাবাসের তছনছকৃত অংশ দেখে গেছেন। এছাড়া সিসিটিভি’র ভিডিও ফুটেজ নিয়ে গেছেন। দূতাবাসের তরফ থেকে ভাঙচুরকৃত অংশগুলো মেরামত করা হচ্ছে। রাষ্ট্রদূত এসএম আবুল কালাম বলেন, রোববার থেকে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সেবা দিতে কোনো সমস্যা হবে না বলে আশা করছি। কারণ নেটওয়ার্ক কানেকটিং ছাড়া সব কাজ এরই মধ্যে করা হয়েছে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশি শ্রমিকরা কুয়েতস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস ঘেরাও করে ভাঙচুর করে। তারা দূতাবাসের এইচওসি এবং কনস্যুলার আনিসুজ্জামানকে মারধর করেছে। এ ছাড়া কনস্যুলারকে বাঁচাতে গিয়ে পাসপোর্ট ও ভিসা শাখার আরো দুই কর্মকর্তা মারধরের শিকার হন। এসব ঘটনা দূতাবাসের সিসিটিভি’র ভিডিও ফুটেজে রয়েছে। এসব ফুটেজ কুয়েতের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার সকালে কুয়েতস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস ঘেরাও করার আগে ফেসবুকে লাইভ করেন ঘেরাওকারী বাংলাদেশিরা। এসব লাইভে তারা জানান, সাত থেকে আট লাখ টাকা খরচ করে কুয়েতে এসেও ভালো নেই আমরা।
দালালদের খপ্পরে পড়ে কুয়েতে এসেছি। হযরত আলী নামে এক বাংলাদেশি নিজেদের দুর্দশার কথা তুলে ধরে বলেন, আমাদের বসবাসের ব্যারাকে পানি নেই, কারেন্টসহ কিছু নেই। আমাদের খাদ্য নেই, অনাহারে দিন কাটাচ্ছি। বাংলাদেশ অ্যাম্বাসির ব্যবহার আমাদের ঘাড় ধাক্কা মেরে বাইরে ফেলে দিচ্ছে। দয়া করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের সুব্যবস্থা করবেন। না হলে আত্মহত্যা ছাড়া আমাদের কোনো উপায় থাকবে না। সবার তরফ থেকে এ দাবি করছি। তারা বলেন, লেসকো কোম্পানির জালিয়াতি সব সীমা ছাড়িয়ে গেছে। ওরা আমাদের মানুষ হিসেবে গণ্য করছে না। আমাদের আকামা নেই। থাকা ও খাবার জায়গা নেই।
বাংলাদেশ অ্যাম্বাসির কাছে কোনো বিচার পাচ্ছি না। তাদের হাত থেকে বাংলাদেশিদের উদ্ধার করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিন। দূতাবাসের বিরুদ্ধে বিষোদগার করে তারা বলেন, প্রবাসীদের টাকা নিয়ে তারা রাজকীয় জীবনযাপন করেন। আমাদের খোঁজ নেয়ার সময় তাদের পা মাটিতে পড়তে চায় না। এ অবস্থার অবসান চাই। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকাল সাতটা থেকেই ঘেরাও করে বাংলাদেশিরা। এরপর সারা দিন দেন দরবার চলে। বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধানও হয়। কিন্তু কে বা কার উস্কানিতে বাংলাদেশি শ্রমিকরা দূতাবাস কর্মকর্তাদের উপর হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে তা খুঁজে দেখছে বাংলাদেশ দূতাবাস। কারণ এর মাধ্যমে বাংলাদেশের মান মর্যাদা বিদেশে ক্ষুণ্ন হয়েছে।

ন্যান্সি পেলোসির বিদেশ সফর আটকে দিলেন ট্রাম্প

মার্কিন কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্রেট স্পিকার ন্যান্সি পেলোসির বিদেশ সফর আটকে দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ট ট্রাম্প। এক চিঠিতে তিনি পেলোসিকে বলেন- ‘দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, সরকারে অচলাবস্থার কারণে আপনার ব্রাসেলস, মিসর ও আফগানিস্তান সফর স্থগিত করা হয়েছে। অচলাবস্থা নিরসনের পর আবারো এই সফরের সময় নির্ধারণ করা হবে।’ সামরিক বাহিনীর সরকারি বিমানে পেলোসির বিদেশ সফরে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ট্রাম্প শেষ মুহূর্তে পেলোসি ও তার সফরসঙ্গীদের সে বিমান ব্যবহারের অনুমতি দেন নি। বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্প এর মাধ্যমে পেলোসির ওপর ক্ষোভ মিটিয়েছেন। কেননা, সাম্প্রতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে প্রেসিডেন্টকে তার স্টেট অব দ্য ইউনিয়নের ভাষণ না দেয়ার অনুরোধ করেছিলেন পেলোসি। তার পাল্টা জবাব দিতেই এই পদক্ষেপ নিয়েছেন ট্রাম্প। প্রসঙ্গত, প্রতিবছর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট প্রথম কার্যদিবসে কংগ্রেসে ভাষণ দেন।
তার এই বক্তৃতা স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন নামে পরিচিত। এটি যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহাসিক রীতি।
বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, দীর্ঘ ২৭ দিন ধরে মার্কিন সরকারে অচলাবস্থা চলছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার বহুল আকাঙ্ক্ষিত মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নির্মাণ প্রকল্পে ৫.৭ বিলিয়ন ডলার অর্থ বরাদ্দ চেয়েছেন। প্রথমে মেক্সিকো সরকার দেয়াল নির্মাণের খরচ দেয়ার কথা বললেও পরে দেশটি এতে অস্বীকৃতি জানায়। ফলে ট্রাম্প এই প্রকল্পের ব্যয় বহন করার জন্য কংগ্রেসের কাছে অর্থ বরাদ্দের আরজি জানান। কিন্তু জনগণের করের টাকায় অহেতুক প্রকল্পে এত বিপুল অর্থ দিতে রাজি হয়নি ডেমোক্রেট নিয়ন্ত্রিত প্রতিনিধি পরিষদ। উভয়পক্ষের অনড় অবস্থানের ফলে মার্কিন সরকারে অনির্দিষ্টকালের অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার বিকালে প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসির প্রথম বিদেশ সফরে যাওয়ার কথা ছিল। সফর শুরুর এক ঘণ্টারও কম সময় আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এ সফর স্থগিত ঘোষণা করেন। পেলোসিকে লেখা ট্রাম্পের চিঠি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করেন হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি সারাহ স্যান্ডার্স। এতে ট্রাম্প লেখেন, ‘আমি মনে করি- এমন পরিস্থিতিতে আপনি ওয়াশিংটনে থেকে আমার সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা করলে, সরকারে অচলাবস্থা নিরসনের জন্য কঠোর সীমান্ত নিরাপত্তার উদ্যোগে শামিল হলে তুলনামূলক বেশি ভালো হতো।’ তিনি আরো বলেন, যদি একান্তই সিপকার যেতে চান, তাহলে তিনি বেসামরিক বিমানে ভ্রমণ করতে পারে। শুধু সরকারি সামরিক বিমান উড্ডয়ন স্থগিত করা হয়েছে, পেলোসির যাত্রা নয়।
চিঠির বিষয়ে এখনো সরাসরি কোনো প্রতিক্রিয়া জানান নি ন্যান্সি পেলোসি। তবে, প্রেসিডেন্টের এই আচরণে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পেলোসির মুখপাত্র ড্রিউ হ্যামিল। এক টুইটার বার্তায় তিনি বলেন, এই সফর আফগানিস্তানের উদ্দেশ্যেই ছিল। পথে ব্রাসেলসে থামার কারণ ছিল দুটো। চালককে বিশ্রাম দেয়া ও ব্রাসেলসে ন্যাটোর সদর দপ্তরে যাওয়া। সেখানে মার্কিন নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ আস্থা আছে সেটা পুনঃপ্রকাশ করা। পরে এক সংবাদ সম্মেলনে ড্রিউ হ্যামিল বলেন, প্রেসিডেন্ট যে অচলাবস্থার কথা বলে পেলোসির সফর বাতিল করলেন, সেই অবস্থা চলাকালে তিনি পুরো দল নিয়ে ইরাক সফর করে এসেছেন। একইসঙ্গে সুইজারল্যান্ডের দাভোসে অনুষ্ঠিতব্য ওয়ার্ল্ড ইকোনোমিক ফোরামের আয়োজনেও প্রতিনিধি পাঠাচ্ছেন। তবে, পরে হোয়াইট হাউস এক বিবৃতিতে ওয়ার্ল্ড ইকোনোমিক ফোরামের সম্মেলনে অংশগ্রহণের জন্য দাভোসে কোনো প্রতিনিধি না পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে।
এদিকে, ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মার্কিন সরকারের তিন চতুর্থাংশ কার্যক্রম পরিচালনার অর্থ বরাদ্দ করা আছে। বাকি এক চতুর্থাংশের বাজেট ফুরিয়ে যাওয়ায় অচলাবস্থা ঠেকাতে গত ২১শে ডিসেম্বর নতুন অস্থায়ী বাজেট বরাদ্দ অপরিহার্য ছিল। তখন ট্রামপ ঘোষণা দেন দেয়াল নির্মাণের বরাদ্দ ছাড়া তিনি কোনো বাজেট বিলে স্বাক্ষর করবেন না। দুইপক্ষের অনড় অবস্থানে বাজেট অনুমোদিত না হওয়ায় ডিসেম্বরের ২২ তারিখ থেকে মার্কিন কেন্দ্রীয় সরকারের এক চতুর্থাংশ বিভাগ ও সংস্থার কার্যক্রম বন্ধ হয়ে রয়েছে।

ইসরাইলিদের মালয়েশিয়ায় আসা উচিত নয় -মাহাথির মোহাম্মদ

যেহেতু কোনো কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই তাই কোনো ইসরাইলির মালয়েশিয়া আসা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ড. মাহাথির মোহাম্মদ। তিনি বলেছেন, সুনির্দিষ্ট কিছু মানুষের জন্য নিজের সীমান্তকে বন্ধ রাখার অধিকার আছে মালয়েশিয়ার। বিশেষ করে ওই সব দেশের মানুষ, যেসব দেশ প্রচুর পরিমাণে অন্যায় কাজ করছে বলে মনে করে মালয়েশিয়া। জুলাইতে মালয়েশিয়ার সারাওয়াকে হওয়ার কথা রয়েছে বিশ্ব প্যারা সুইমিং চ্যাম্পিয়নশিপ প্রতিযোগিতা। তাতে ইসরাইলি অংশগ্রহণকারীদের অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করেছে মালয়েশিয়া। এ বিষয়ে ড. মাহাথির মোহাম্মদকে প্রশ্ন করেন অক্সফোর্ড ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট ডানিয়েল উইলকিনসন। লন্ডনের অক্সফোর্ড ইউনিয়নে এসব প্রশ্নের উত্তর দেন মাহাথির। শনিবার তা সরাসরি সম্প্রচার করে  অ্যাস্ট্রো আওয়ানী।
তার সঙ্গে ওই কথোকথন ও সাক্ষাতকার পরে ড. মাহাথির মোহাম্মদের অফিসিয়াল ফেসবুক একাউন্টে প্রকাশ করা হয়েছে। এ খবর দিয়েছে মালয়েশিয়ার স্টার অনলাইন।
ড. মাহাথির মোহাম্মদ বলেছেন, ইসরাইলের সঙ্গে আমাদের মোটেও কোনো কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। আমরা মনে করি, দেশটি ভুরি ভুরি অন্যায় কাজ করছে। তাদের বিরুদ্ধে কেউ কিছু বলার সাহস পায় না। উল্লেখ্য, ২৯ শে জুলাই থেকে ৪ঠা আগস্ট পর্যন্ত ওই ক্রীড়া উৎসব হবে মালয়েশিয়ায়। এতে প্রায় ৭০টি দেশ অংশ নেবে। আগামী বছর হবে টোকিও প্যারাঅলিম্পিক। তার আগে এই প্রতিযোগিতাকে দেখা হচ্ছে মাইলস্টোন হিসেবে।
মাহাথির মোহাম্মদের কাছে জানতে চাওয়া হয়, ইসরাইলি সরকারের চেয়ে সেদেশের নাগরিককে শাস্তি দেয়া উচিত কিনা। এর জবাবে মাহাথির মোহাম্মদ বলেন, দৃশ্যত ইসরাইলের বেশির ভাগ মানুষ সেদেশের সরকারের গৃহীত পদক্ষেপকে সমর্থন করে। আমরা ইসরাইলি সরকারের বিরুদ্ধে বড় কিছু করতে পারি না। কারণ, তারা অত্যন্ত শক্তিধর। তাই আমরা ইসরাইলি সরকারের বিরুদ্ধে কিছুই বলতে পারি না। তাই বলে তাদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক দেখাতে পারি না।