Friday, January 20, 2012

‘যে কোন সময় বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে’

স্টাফ রিপোর্টার: গত বছর ৩০শে জুন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং সে দেশের সম্পাদকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বলেছিলেন, যে কোন সময় বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বদলে যেতে পারে। বাংলাদেশে শেখ হাসিনার সরকারের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক খুবই গভীর  পৃষ্ঠা ১৭ কলাম ৬
। জঙ্গি নিয়ন্ত্রণে তারা আমাদের যথেষ্ট সহায়তা করছে। কিন্তু তারপরও ওই দেশের পরিস্থিতি খুবই সংবেদনশীল। মনমোহন বলেন, সব কিছুর পরেও মনে রাখতে হবে, সে দেশের ২৫ ভাগ মানুষ জামায়াতে ইসলামীর সমর্থক। যারা খুবই ভারতবিদ্বেষী। আইএসআই’র জালও ছড়িয়ে রয়েছে এ দেশে। তাই যে কোন সময় বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বদলে যেতে পারে। আর সেজন্যই ভারতও এই দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ককে স্থায়ী রূপ দিতে প্রয়াসী হয়েছে। ১লা জুলাই মনমোহনের এ মন্তব্য বাংলাদেশ ও ভারতের পত্র-পত্রিকায় ছাপা হলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। পরদিনই ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি ওয়েবসাইট থেকে এ মন্তব্য বাদ দেয়া হয়। ওয়েবসাইটে আগের ভাষ্যকে সরিয়ে নতুন করে সংশোধিত ভাষ্য প্রকাশ করা হয়। সেখানে বাংলাদেশের প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর কোন মন্তব্যই রাখা হয়নি। বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী যা বলেছিলেন তা অফ দ্য রেকর্ড।

নরসিংদীর মেয়র কামরুজ্জামান

নরসিংদী প্রতিনিধি: সন্ত্রাসীরা মেয়র লোকমান হোসেনকে হত্যা করে সবার কাছ থেকে কেড়ে নিলেও নরসিংদীবাসীর হৃদয় থেকে তার নাম মুছতে পারেনি। পৌর নির্বাচনে তারই ছোটভাই কামরুজ্জামান কামরুলকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করে তাই স্মরণ করিয়ে দিয়েছে নরসিংদীবাসী। পাশাপাশি তারা দাবি করলো প্রয়াত নেতার হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির। জেলার   পৃষ্ঠা ১৭ কলাম ৪
দায়িত্বশীল ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজুসহ জেলা আওয়ামী লীগের লোকমান বিরোধী নেতাদের সকল ষড়যন্ত্র ভেসে গেলে জনগণের ভালবাসায়। কামরুলের মাঝেই প্রয়াত মেয়র লোকমান হোসেনকেই খুঁজে নিয়েছে নরসিংদীবাসী।
নির্বাচিত হওয়ার পরই কামরুজ্জামান কামরুল এ বিজয়কে প্রয়াত মেয়র লোকমান হোসেনের প্রতি উৎসর্গ করেন। সব আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে দল থেকে সমর্থন দেয়ার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন দলের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি। পাশপাশি নির্বাচন কমিশন, মিডিয়া, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সদস্য ও স্থানীয় প্রশাসনকে কঠোর নজরদারি করার জন্য ধন্যবাদ জানান।
পৌর নির্বাচনে কামরুজ্জামান কামরুল ২১ হাজার ৭৫৬ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন। কাপ-পিরিচ প্রতীক নিয়ে কামরুল পেয়েছন ৩৫ হাজার ৫৬৯ ভোট। তার প্রতিদ্বন্ধী প্রার্থী শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি মোন্তাজ উদ্দিন ভূঁইয়া আনারস প্রতীক নিয়ে পেয়েছে ১৩ হাজার ৮২৩ ভোট। জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে বাকি ৪ প্রার্থীর ।
দেশের প্রথম পৌরসভা নির্বাচন হিসেবে নরসিংদীর পৌর উপনির্বাচন প্রযুক্তি ব্যবহারে ইতিহাস গড়েছে। এরই সুবাদে মাত্র দেড় ঘণ্টার মধ্যেই বেসরকারিভাবে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে।
শহরের ভেলানগর এলাকার বাসিন্দা শাহজাহান  (৮০) বেলা ১টায়  ভেলানগর ভোট কেন্দ্রে বেড়িয়ে আসছেন। প্রবেশ ফটকেই দেখা মিলে নিহত মেয়র লোকমান হোসেনের ছোটভাই মেয়র প্রার্থী কামরুজ্জামান কামরুলের। কামরুলকে দেখে দু’হাত বাড়িয়ে দিতেই জড়িয়ে ধরেন তিনি। কাঁপতে কাঁপতে বলেন- বাবা কামরুল, তোমার মাঝে খুঁজে পাই আমাদের লোকমানকে। আমার একটা অনুরোধ তুমি লোকমানের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখবা।
ওই বৃদ্ধ কামরুলের সঙ্গে থাকা প্রয়াত মেয়র লোকমান হোসেনের স্ত্রী তামান্না নুসরাত বুবলি মাথায় হাত বুলিয়ে দিতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন বুবলি। পাশেই দাঁড়িয়ে থাকা ষাটোর্ধ্ব বানেছা বেগম কামরুলকে মাথায় হাত বুলিয়ে বলেন, তোমার চেহারার লগে লোকমানের অনেক মিল রয়েছে, তোমাকে দেখলে মনে হয়- এই বুঝি আমাদের লোকমান ফিরে এসেছে।
ব্রাহ্মন্দী কেন্দ্রের ভোট দিতে আসা মারুফ বলেন, নরসিংদীর উন্নয়নের নায়ক লোকমানের অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করতেই ভোট দিছি। নরসিংদীর সন্ত্রাস এবং মাদক বন্ধে লোকমানের ভাইয়ের কোন বিকল্প নেই।
বীরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভোট দিতে আসা নাছিমা বেগম বলেন, র‌্যাব-পুলিশ কড়াকড়ি ব্যবস্থা নেয়ার কারণে সুষ্ঠু ভোট হইছে, আমরা নিরাপদে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারছি।
একই কেন্দ্রের আজগর হোসেন বলেন- কামরুলকে আমি কোনদিন সামনা সামনি কখনও দেখি নাই, কিন্তু পোস্টারে ছবি দেইখ্যাই ভোট দিছি। ওরে দেখলে লোকমানের কথা বেশি মনে হইয়া যায়। বড় ভাল মানুষ ছিলেন। ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট দিয়ে বেজায় খুশি বিলাসদী এলাকার নাহার সুলতানা। তিনি বলেন, এই পর্যন্ত যতবার ভোট দিয়েছি, দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে ভোগান্তির শিকার হয়ে ভোট দিতে হয়েছে কিন্তু এবার এসে কোন লাইনে না দাঁড়িয়ে ভোট দিয়ে বাসায় ফিরছি। একই এলাকার আলেয়া খাতুন বলেন, ভোট কেন্দ্রে কোন গোলমাল হওয়ার সুযোগ নাই, ভিতরে ক্যামেরা ফিট কইরা রাখছে।
শ্রমিক এবং গরিব মানুষের বন্ধু হিসেবে নরসিংদীতে অধিক পরিচিত ছিল মেয়র লোকমান হোসেন। লোকমানের কথা মনে করতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন সাটিরপাড়া ভোট কেন্দ্রে ভোট দিতে আসা মোয়াজ্জেম হোসেন (৬৫)। তিনি চোখের পানি মুছতে মুছতে বলেন, লোকমান যেমন শ্রমিকের ডাকে সাড়া দিতেন, তার ভাই কামরুলও আশা করি একই কাজ করবেন।
জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি জি এম তালেব হোসেন বলেন- এ বিজয় কামরুলের নয়, এ বিজয় লোকমানের। মন্ত্রীর বিরোধী সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কামরুলকে সমর্থন দিয়ে প্রমাণ করেছেন, তিনি সোনা চিনতে ভুল করেননি। 
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মতিন ভূঁইয়া সকালে ভোট দিয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ভোট সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হচ্ছে, ইনশাআল্লাহ বিজয়ী আমিই হবো। কিন্তু পরাজিত হওয়ার পর তার কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সদরের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম হীরু বলেন, দলের সভানেত্রী শেখ হাসিনার প্রার্থীকে নরসিংদীবাসী বিপুল ভোটে নির্বাচিত করেছেন। এটা লোকমানের উন্নয়নের বিজয়, নরসিংদীবাসীর বিজয়। আগামীতে সব ভেদাভেদ ভুলে নরসিংদীর উন্নয়নের সবার কাজ করতে হবে।
বিজয়ের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় কামরুজ্জামান কামরুল বলেন, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে নরসিংদীবাসীর রায় এটি। লোকমানের উন্নয়নকেই ভোট দিয়েছে পৌরবাসী। আমি প্রয়াত ভাইয়ের আদর্শ ও তার দেখানো উন্নয়নের পথে হাঁটতে চাই।

এনডিটিভি’র রিপোর্ট: ষড়যন্ত্রকারীরা ভারতবিরোধী গ্রুপের

মানবজমিন ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে উৎখাত ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করে দেয়ার ঘটনায় বিশ্বজুড়ে তোলপাড় চলছে। ভারতের অনলাইন এনডিটিভি জানায়, ভারতবিরোধী একটি গ্রুপ ওই ষড়যন্ত্র চেষ্টার সঙ্গে জড়িত। এই গ্রুপটি মনে করছিল, নয়া দিল্লির সঙ্গে ঢাকার সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হচ্ছিল। ওয়াশিংটন পোস্ট বলেছে, এ অভ্যুত্থান প্রচেষ্টায় জড়িতদের কি কারণে ধর্মীয় উগ্রপন্থি বলে বর্ণনা করা হচ্ছে তা পরিষ্কার নয়। গতকাল বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সংবাদ সম্মেলন করে ওই ষড়যন্ত্র চেষ্টা নস্যাৎ করে দেয়ার দাবি করে। এ নিয়ে দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট বার্তা সংস্থা এপি’র উদ্ধৃতি দিয়ে জানায়, ২০০৯ সালে বিডিআর বিদ্রোহের পর থেকে সেনাবাহিনীর সঙ্গে   পৃষ্ঠা ৮ কলাম ১ শেখ হাসিনা সরকারের যে টানাপড়েন চলছে এই অভ্যুত্থান পরিকল্পনা তাকে ছাপিয়ে গেছে। ভারতের অনলাইন এনডিটিভি জানায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কট্টরপন্থি মুসলিম কিছু অফিসার, তাদের অবসরপ্রাপ্ত সহযোগী এবং বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশী কিছু ষড়যন্ত্রকারীর পরিকল্পনা ব্যর্থ করে দিয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। গতকাল সেনাবাহিনীর এক মুখপাত্র এ কথা বলেছেন। ভারতের অনলাইন এনডিটিভি ‘বাংলাদেশ ক্যু ফয়েল্ড, ক্লেইমস মিলিটারি; এন্টি-ইন্ডিয়ান গ্রুপ প্লটেড ক্যু?’ শিরোনামে প্রকাশিত এক রিপোর্টে এসব কথা বলেছে। এতে বলা হয়, ষড়যন্ত্র পরিকল্পনাকারীরা ভারতবিরোধী একটি গ্রুপের। তারা মনে করছিল, ঢাকার সঙ্গে নয়া দিল্লির সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হচ্ছিল। গতকাল এক সংক্ষিপ্ত সংবাদ সম্মেলনে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মাদ মাসুদ রাজ্জাক সাংবাদিকদের বলেছেন, এ বিষয়ে সেনাবাহিনীর কাছে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ আছে যে, হীন এ ষড়যন্ত্রে জড়িত বাংলাদেশ  সেনাবাহিনীর বর্তমান ও সাবেক ১৬ জন কর্মকর্তা। তাদের রয়েছে কট্টর ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের বাইরে বসবাস করেন এমন ষড়যন্ত্রকারীদের এতে উস্কানি ছিল। মাসুদ রাজ্জাক বলেন, এ ঘটনায় অবসরপ্রাপ্ত দু’কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কিন্তু তিনি বলেননি কবে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ওই রিপোর্টে আরও বলা হয়, ১৯৯০ সাল থেকে বাংলাদেশে সংসদীয় গণতন্ত্র প্রচলিত। এ দেশে অভ্যুত্থান-পাল্টা অভ্যুত্থানের ইতিহাস আছে। দ্য ওয়াশিংটন পোস্টে বলা হয়, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মাদ মাসুদ রাজ্জাক বলেছেন, এ পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িত অবসরপ্রাপ্ত দুই কর্মকর্তা- লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) এহসান ইউসুফ ও মেজর জাকিরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ অপর পলাতক অথচ বর্তমান কর্মকর্তা মেজর জিয়াউল হককে খুঁজছে। ব্রিগেডিয়ার মাসুদ রাজ্জাক বলেন, ইউসুফ ও জাকিরকে গ্রেপ্তারের পর মেজর জিয়াউল হক তার কর্মস্থল থেকে পালিয়েছেন। ওই রিপোর্টে আরও বলা হয়, সাধারণ নির্বাচনে ব্যাপক বিজয়ের পর ক্ষমতায় আসার ঠিক দুই মাস পরে ২০০৯ সালে বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনীতে বিদ্রোহ দেখা দেয় কম বেতন, ভাতা ও পদোন্নতি বৈষম্যের অভিযোগে। তাতে কমপক্ষে ৭৪ জন সেনা কমান্ডারকে হত্যা করা হয়। নিহতদের মধ্যে অনেকেই ছিলেন বিদ্রোহীদের কমান্ডার। ওয়াশিংটন পোস্টে আরও বলা হয়, ৮ শতাধিক বর্ডার গার্ডের বিরুদ্ধে ঢাকায় হত্যা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের অভিযোগে বিচার করছে হাসিনার সরকার। রাজধানী ঢাকার বাইরে যে শ’ শ’ সদস্য বিদ্রোহ করেছিল তাদের বিচার এরই মধ্যে হয়েছে এবং তাদের জেল দেয়া হয়েছে। শেখ হাসিনা ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর ইসলামি জঙ্গি দলগুলোকে নিষিদ্ধ করেছেন এবং সামপ্রতিক ভাষণগুলোতে তিনি সতর্কতা উচ্চারণ করেছেন যে, ওই সব গ্রুপ তার নির্বাচিত সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। ওয়াশিংটন পোস্ট আরও বলেছে, ১৯৯০ সাল থেকে বাংলাদেশ সংসদীয় গণতন্ত্রের দেশ। এ দেশে দু’জন প্রেসিডেন্টকে সেনা অভ্যুত্থানে হত্যা করা হয়েছে। ১৯টি অভ্যুত্থান প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। শেখ হাসিনার পিতা, বাংলাদেশের স্থপতি শেখ মুজিবুর রহমানকে ১৯৭৫ সালে প্রথম সামরিক অভ্যুত্থানে হত্যা করা হয়। এর পরের অভ্যুত্থান ঘটে ১৯৮১ সালে। তখন  সেনাপ্রধান পরে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, যিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার স্বামী- তাকেও হত্যা করা হয়। খালেদা জিয়া শেখ হাসিনার মূল প্রতিদ্বন্দ্বী। বাংলাদেশের শেষ সামরিক শাসক জেনারেল (অব.) হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে ১৯৯০ সালে ক্ষমতা থেকে শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়ার যৌথ গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মাধ্যমে উৎখাত করা হয়। আল-জাজিরা অনলাইন ‘বাংলাদেশে সরকার উৎখাতের পরিকল্পনা নস্যাৎ’ শিরোনামে বলেছে, শেখ হাসিনার সরকারকে উৎখাতের একটি পরিকল্পনা বাংলাদেশ সেনাবাহিনী নস্যাৎ করে দিয়েছে। এর সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে অবসরপ্রাপ্ত দুই সামরিক কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আইরিশ টাইমস ‘বাংলাদেশে অভ্যুত্থানের পরিকল্পনা নস্যাৎ করেছে সেনাবাহিনী’ শিরোনামে লিখেছে, সামরিক এক মুখপাত্র জানিয়েছেন- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থান পরিকল্পনা সেনাবাহিনী নস্যাৎ করে দিয়েছে। ইকোনমিক টাইমস ‘বাংলাদেশে সামরিক অভ্যুত্থানের পরিকল্পনা নস্যাৎ, ষড়যন্ত্রে শীর্ষ কর্মকর্তারা জড়িত’ শিরোনামে লিখেছে- বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারকে উৎখাতের একটি পরিকল্পনা বাংলাদেশ সেনাবাহিনী নস্যাৎ করে দিয়েছে। শিকাগো ট্রিবিউন ‘ডিসেম্বরের অভ্যুত্থান নস্যাতের দাবি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর’ শিরোনামে লিখেছে- বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বৃহস্পতিবার বলেছে, বর্তমান এবং অবসরপ্রাপ্ত কিছু সামরিক কর্মকর্তার প্রচেষ্টায় একটি সরকার উৎখাতের পরিকল্পনা তারা নস্যাৎ করে দিয়েছেন। এএফপি ‘বাংলাদেশে ইসলামপন্থিদের অভ্যুত্থান পরিকল্পনা নস্যাৎ: সেনাবাহিনী’ শিরোনামে লিখেছে- বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বলেছে, তারা গত মাসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করার একটি পরিকল্পনা নস্যাৎ করে দিয়েছে।

কেরানীগঞ্জে দু’গ্রুপের বন্দুকযুদ্ধে শিশু নিহত

কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি: দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের পূর্ব আগানগরে একটি মার্কেট দখলকে কেন্দ্র করে গতকাল সকালে দু’গ্রুপের   পৃষ্ঠা ১৭ কলাম ৪
বন্দুকযুদ্ধে ২য় শ্রেণীর ছাত্র সোহেল (৭) নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অর্ধশতাধিক। আহতদের মিটফোর্ড হাসপাতালসহ স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। খবর পেয়ে ঢাকা জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফারুক হোসেন এএসপি কেরানীগঞ্জ সার্কেল মো. জাকারিয়া ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। ঘটনা-পরবর্তী সহিংসতা এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত ২ প্লাটুন পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। 
এলাকাবাসী জানায়, পূর্ব আগানগর মমতাজ মার্কেটের দখলদারিত্বকে কেন্দ্র করে জমির মালিকানা দাবিদার ও ব্যবসায়ীদের মাঝে গত রোজার ঈদের পর থেকেই দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। এ নিয়ে একাধিক বার সমঝোতার জন্য বসলেও বিষয়টি অমীমাংসিত থেকে যায়। গতকাল সকাল ৯টায় জমির মালিকানা দাবিদারের লোকজন মার্কেটের ব্যবসায়ীদের উচ্ছেদ করতে আসলে দু’পক্ষের মধ্যে প্রথমে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও পরে বন্দুকযুদ্ধে রূপ নেয়। সন্ত্রাসীদের গোলাগুলির ও ২ ঘণ্টাব্যাপী তাণ্ডবে এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের মার্কেটের দোকান-পাট বন্ধ করে দেয়। এ সময় আমবাগিচা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২য় শ্রেণীর ছাত্র মো. সোহেল স্কুলে যাওয়ার পথে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যায়। সোহেলের পিতার নাম হাফিজ মিয়া। এলাকাবাসী সোহেলের লাশ নিয়ে মিছিল করে। আহতরা হচ্ছেন- উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি মো. সাহিদুল হক সাহিদ, মমতাজ মাকেট গার্মেন্ট ব্যবসায়ী সমিতি সভাপতি কাজি মুযাম্মেল, ঝুট ব্যবসায়ী আলীম, জাহাঙ্গীর, বাবুল ঢালী, জামাল, গনি, কামাল, দেলোয়ার হোসেন দিলু, আবদুর রহিম, শফিক, দিদার, রকি, মাসুদ, রফিক, ফারুক, রায়হান, আবদুল হালিম, ইলিয়াস আলী, জহির, দেলোয়ারসহ প্রায় অর্ধশতাধিক লোক আহত হয়েছেন।  
এ ব্যাপারে মমতাজ মার্কেটের ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাজি মো. ফারুক হোসেন বলেন, ৭০ শতাংশ জমির ওপর নির্মিত মমতাজ মার্কেটে ২৪০টি টিন শেডের তৈরি পোশাক ও ঝুটের দোকান রয়েছে। যেখানে কয়েক হাজার লোকের কর্মসংস্থান। প্রায় ৩০ বছর ধরে এখানকার ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করে আসছে। কিন্তু গত ৮ মাস আগে স্থানীয় এক শ্রেণীর ভূমি ব্যবসায়ী মার্কেটের জায়গা খরিদ করে আমাদের উচ্ছেদের পাঁয়তারা চালায়। এ খবর আমরা জানতে পেরে গত ১৪ই নভেম্বর ঢাকার ৪র্থ যুগ্মজেলা জজ আদালতে দেওয়ানী মামলা দায়ের করি। যার নং-৮৫৬/২০১১। এ মামলায় ওই মালিকানা দ্বন্দ্ব নিয়ে আদালত ১৩ মাসের নিষেধাজ্ঞা জারি করে। প্রতিপক্ষ মালিকানা দাবিদাররা আদালতের নিষেধাজ্ঞাকে অমান্য করে কয়েক মাস ধরে ব্যবসায়ীদের উচ্ছেদের জন্য হুমকি ধমকি দিয়ে আসছিল। সর্বশেষ বুধবার রাত ১২টায় ওই ভূমি ব্যবসায়ীরা আমাদের মার্কেট সমিতির সহসভাপতি শাজাহান, ব্যবসায়ী সুমন ও ইয়াহিয়াকে পুলিশ দিয়ে ধরিয়ে থানায় নিয়ে যায়। এতে করে মার্কেটের সকল ব্যবসায়ীদের মাঝে উচ্ছেদ আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। যে কারণে গতকাল সকালে স্থানীয় আগানগর ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর শাহ খুশিসহ ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ মার্কেট এলাকায় এক সমঝোতা আলোচনায় বসে। এ সময় প্রতিপক্ষ মালিকানা দাবিদাররা অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত প্রায় দুই-আড়াইশ’ সন্ত্রাসী নিয়ে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা ও লুট তরাজ চালায়। এ সময় থানা পুলিশকে দূরত্ব বজায় রেখে নিরব ভূমিকা পালন করতে দেখা যায় বলে ব্যবসায়ী মন্টু মৃধা জানান। 
এ ব্যাপারে জমির মালিকানা দাবিদার হাজী মজিবুর রহমান বলেন, আমি ৮ মাস আগে মূল মালিকের কাছ থেকে মার্কেটটি ক্রয় করি। এরপর মার্কেট ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সমঝোতার জন্য একাধিক বার আলোচনায় বসে সমঝোতা হয়। স্থানীয় একটি কুচক্রী মহল ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আঁতাত করে ভুয়া কাগজপত্র প্রস্তুত করে আদালতে একটি মামলা দায়ের করে। এ সংক্রান্ত বিষয়ে গতকাল সকালে ওই মার্কেটে আলোচনার জন্য আসলে ব্যবসায়ীদের লেলিয়ে দেয়া সন্ত্রাসীরা আমাদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় হামলাকারীরা মমতাজ মার্কেটের ওষুধ ব্যবসায়ী মঞ্জুর মোরশেদ অপুর নির্মাণাধীন মার্কেট ও আবাসিক ভবনে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। এ ব্যাপারে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ওসি (প্রশাসন) মো. শাখাওয়াত হোসেন বলেন, মার্কেটর মালিকানা দ্বন্দ্বে এ ঘটনাটি ঘটেছে। সংবাদ পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছি। পরে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ঘটনাস্থলে ২ প্লাটুন অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

সোনারগাঁয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় পুলিশের এসআই নিহত

সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি: ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কাঁচপুর নয়াবাড়ী এলাকায় রহিম স্টিল মিলের সামনে গতকাল সড়ক দুর্ঘটনায় রিপন দাস (২৭) নামের পুলিশের এক উপ-পরিদর্শক (এসআই) নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ঘাতক বাস ও চালককে আটক করেছে পুলিশ। সোনারগাঁ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আলেক খান জানান, রিপন দাস সোনারগাঁ থানায় কর্মরত ছিলেন, কিন্তু ১৫ দিন আগে তাকে নারায়ণগঞ্জ আদালতে বদলি করা হয়েছে। কিন্তু তার বাসা সোনারগাঁ থানা এলাকায় থেকে যায়। গতকাল দুপুর ২টায় ডিউটি শেষে আদালত থেকে মটরসাইকেলযোগে বাসায় ফেরার পথে কাঁচপুর নয়াবাড়ি এলাকার রহিম স্টিল মিলের সামনে আসলে পেছন থেকে ঢাকা-আড়াইহাজারের অভিলাষ পরিবহনের একটি দ্রুতগামী যাত্রাবাহী বাস পেছন থেকে ধাক্কা দিলে মোটরসাইকেল আরোহী এসআই রিপন দাস মাটিতে ছিটকে পড়েন। এতে তার ব্যবহৃত মটরসাইকেলটি দুমড়ে মুচড়ে যায়। এ সময় অভিলাস পরিবহনের চাকা তার মাথার ওপর দিয়ে চলে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই এসআই রিপন দাস নিহত হন।

টঙ্গীতে বাস চাপায় গার্মেন্টস শ্রমিক নিহত মহাসড়ক রণক্ষেত্র, ভাঙচুর

টঙ্গী (গাজীপুর) প্রতিনিধি: টঙ্গীর বড়বাড়ি এলাকায় বাসচাপায় এক গার্মেন্টস শ্রমিক নিহত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বোর্ডবাজার থেকে টঙ্গীর এরশাদনগর পর্যন্ত রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। নিহত গার্মেন্টস শ্রমিকের নাম শিউলি আক্তার (২৫)। সে স্থানীয় বড়বাড়ি মেসার্স বেস্ট শার্ট অব লিমিডেটের সুইং অপারেটর হিসেবে চাকরি করতো বলে জানা গেছে। গতকাল বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক প্রায় ৪ ঘণ্টা অবরোধ করে ৩টি গাড়ি পুড়িয়ে দেয়। এছাড়াও তারা প্রায় অর্ধ শতাধিক গাড়ি ভাঙচুর করে। টঙ্গী থেকে গাজীপুর চৌরাস্তা পর্যন্ত দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এসময় ইজতেমামুখী মুসল্লি ও সাধারণ যাত্রীরা চরম দুর্ভোগের শিকার হন। পুলিশ ও বিক্ষুব্ধ গার্মেন্টস শ্রমিকরা জানায়, গতকাল সকাল সাড়ে ৭টার দিকে বেস্ট শার্ট অব গার্মেন্টস শ্রমিকরা বড়বাড়ি এলাকায় রাস্তা পার হচ্ছিল। এসময় গাজীপুর থেকে ঢাকাগামী বলাকা সার্ভিসের একটি বাস শিউলিকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলে তার মৃত্যু হয়। এ খবর তার সহকর্মীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে শ্রমিকরা বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে মিছিল বের করলে তালগাছ এলাকার  ছাত্রলীগ নামধারী মনির ও সুলতানের নেতৃত্বে এলাকার ঝুট ব্যবসায়ীরা তাদেরকে ধাওয়া করে। এতে শ্রমিকরা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। খবর পেয়ে আশেপাশের গার্মেন্টস শ্রমিকরা বেস্ট শার্ট অব গার্মেন্টসের শ্রমিকদের সঙ্গে  যোগ দিয়ে রাস্তায় নেমে কয়েকটি গাড়ি আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়। এসময় শ্রমিকরা বড়বাড়ি থেকে টঙ্গীর এরশাদনগর পর্যন্ত বিআরটিসি’র বাসসহ অর্ধশতাধিক গাড়ি ভাঙচুর করে। ফলে টঙ্গী বাজার থেকে গাজীপুর চৌরাস্তা পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার এলাকায় যানজটের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে গাজীপুর জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে জয়দেবপুর ও টঙ্গী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। নিহত শিউলি ময়মনসিংহ জেলার মুক্তাগাছা থানার চণ্ডিমণ্ডল গ্রামের শামসুল হকের মেয়ে বলে জানা গেছে। নিহতের লাশ তার গ্রামের বাড়ি পাঠানো হয়েছে।

দুই বছরেও চূড়ান্ত হয়নি বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কের মহাপরিকল্পনা

স্টাফ রিপোর্টার: আন্তর্জাতিকমানের একটি সাফারি পার্ক গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল ২০১০ সালের মার্চে। গাজীপুর জেলার শ্রীপুর ও গাজীপুর উপজেলার বনাঞ্চলের ৩ হাজার ৬৯০ একর জমির উপর গড়ে উঠবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক। কিন্তু প্রায় দুই বছরেও মহাপরিকল্পনাটি চূড়ান্ত করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। অথচ ২০১২ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কথা। কিন্তু বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের কাজ যেভাবে চলছে আগামী বছরের মধ্যেও বাস্তব কাজ শুরু হবে কিনা সংশয় রয়েছে। ব্যয় ধরা হয়েছে ২৪৩ কোটি টাকা। এডিপিতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে মাত্র ২১ কোটি ৪০ লাখ টাকা। কিন্তু কাজ কিছুই হয়নি। বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, কোর সাফারি পার্ক, সাফারি পার্ক, সাফারি কিংডম, বায়োডাইভারসিটি পার্ক, এক্সটেনসিভ এশিয়ান সাফারি পার্ক, ফল ও পশুখাদ্য উপযোগী বাগান সৃজনের পরিকল্পনা এতে রয়েছে। এতে থাকবে পেলিকেন দ্বীপ, লেক জোন, ক্রাউন ফিজেন্ট পাখি পালা, টিয়া ও তোতা পাখি পালা, ধনেশ পাখি পালা, কুমির পার্ক, অর্কিড হাউজ, প্রজাপতি কর্নার, ভালচার কর্নার,  প্যাঁচা কর্নার, এগ ওয়ার্ল্ড, কচ্ছপ, কাছিম ব্রিডিং সেন্টার, ক্যাঙ্গারু বাগান, হাতী শো গ্যালারি, বন ছাগল/গড়াল হাউজ, বানর বেষ্টনী, ময়ূর/মেকাউ, সর্প পার্ক, ফেন্সি কার্প গার্ডেন, ওরাং ওটান হাউজ, গুইসাপ বাগান, জিরাফ ফিডিং স্পট, একুরিয়াম, সুইমিং পুল, জলাধার। ১৩৩৪ একর জমির উপর হবে কোর সাফারি পার্ক। ২৩ দশমিক ৫০ একরে বাঘ, ২৮ একরে সিংহ, ৮ দশমিক ৫০ একরে কালোভালুক, ১২ একরে চিতাবাঘ, ৮ একরে আফ্রিকান চিতা, ৮১ দশমিক ৫০ একরে চিতা হরিণ, ৮০ একরে গয়াল, ১০৫ একরে হাতী, ৩০ দশমিক ৫০ একরে জলহস্তী, ২২ একরে মায়া ও প্যারা হরিণ, ২৫ একরে নীল গাই ও বারো সিংহা, ১১৪ একরে ওরিয়েক্স গাকেল, ব্ল্যাক বকসহ পাখি দ্বীপ, ৪০৭ একরে বন্য মহিষ, ওয়াটার বাফেলো, ওয়াটার বক, ইন্ডিয়ান বাইসন ও ২৯০ একরে আফ্রিকান সাফারি পার্ক থাকবে। ১ লাখ বিলুপ্তপ্রায় ও দুর্লভ প্রজাতির বৃক্ষরোপণ করা হবে। সকল এশীয় তৃণভোজী, ছোট মাংসাসি প্রাণী, পাখি, সরিসৃপ, উভচর প্রাণী থাকবে ৮২৪ একরে। বাঁশ, বেত, পাহাড়ি বৃক্ষ সৃজন করা হবে ৯৬৫ একরে। সাফারি ওয়ার্ল্ড ব্যাংকক, থাইল্যান্ড, নেহেরু সাফারি পার্ক, হায়দরাবাদ, বালি সাফারি পার্ক ও ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ হওয়ার কথা বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক। প্রকল্প এলাকায় ব্যক্তি মালিকানার জমি রয়েছে ৬৫৮ একর। এই জমি অধিগ্রহণে কোন পদক্ষেপই নেয়া হয়নি। ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানের শালবনে ৬৩১ প্রজাতির গাছপালা ও ২২২ প্রজাতির বন্যপ্রাণী ছিল। বর্তমানে বনাঞ্চলে উদ্ভিদ ও পানি বৈচিত্র্য হুমকির মুখে।

আশা ইউনিভার্সিটির সেমিনারে বক্তারা- নিয়োগ দুর্নীতি বন্ধে প্রয়োজন রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত

বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার: শিক্ষকদের মধ্যে নৈতিকতাবোধ জাগ্রতা করতে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। রাজনৈতিক নিয়োগের কারণে শিক্ষা ব্যবস্থায় নৈতিকতা বিলুপ্ত হচ্ছে। শক্তিশালী রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে নিয়োগ দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে। শিক্ষকতা কেবল একটা পেশা নয়। এটা তার শিক্ষার্থীদের কাছে একটা অনুকরণীয় আদর্শ। গতকাল শিক্ষক দিবস উপলক্ষে আশা ইউনিভার্সিটির অ্যাপ্লায়িড সোশিওলজি বিভাগ আয়োজিত ‘শিক্ষকসময়: নীতি-অনীতি-উত্তরণপন্থা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। তারা আরও বলেন, বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিরা জমিদার, শিক্ষকরা দ্বিতীয় শ্রেণীর জমিদার। সাধারণ শিক্ষার্থীরা প্রজার ভূমিকায় থাকেন। সুন্দর জাতি গঠনে শিক্ষাঙ্গনকে এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে হবে। আশা ইউনিভার্সিটির ভিসি অধ্যাপক ড. মো. মইনউদ্দিন খান তার স্বাগত বক্তব্যে বলেন, বর্তমানে শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণ প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাচ্চাদের স্কুলগুলোয় এসে ঠেকেছে। বাচ্চাদের স্কুলে ভর্তি করার জন্য রণকৌশলে অবতীর্ণ হতে হয়। উন্নয়ন ফির নামে দ্বিতীয়, তৃতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৩০-৪০ হাজার টাকা নেয়া হচ্ছে। এটাই প্রমাণ করে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় গলদ আছে। গ্রামের স্কুল-কলেজগুলোয় শিক্ষক সঙ্কট প্রকট। যারা আছেন তারাও সবাই মান সম্পন্ন নন। এ ক্ষেত্রে বাস্তব পদক্ষেপ নিতে হবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে ভাল শিক্ষক সরবরাহ করতে হবে। ঢাবি’র দর্শন বিভাগের অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, ধর্ম বিশ্বাস থেকে মুক্ত হলেই নৈতিকতা থেকে মুক্ত হওয়া যায় না। নৈতিকতা বজায় রেখেই শিক্ষকদের সমাজ পরিবর্তনে কাজ করে যেতে হবে। নায়েমের মহাপরিচালক ড. শামসুর রহমান বলেন, নৈতিকতার ব্যাপারে অতীত ও বর্তমান শিক্ষকদের মধ্যে অনেক ব্যবধান আছে। আগের শিক্ষকদের কাছ থেকে নৈতিকতা সম্পর্কে অনেক কিছু শেখার আছে। শিক্ষকদের নৈতিক চরিত্রকে উন্নত করতে হবে যাতে শিক্ষার্থীরা অনুসরণ করতে পারে। ঢা.বি অধ্যাপক খলিলুর রহমান বলেন, বর্তমান শিক্ষা অনেকাংশেই কোচিংনির্ভর হয়ে পড়েছে। সরকার কোচিং ব্যবসা বন্ধে নেয়া ব্যবস্থা প্রশংসার দাবি রাখে। অধ্যাপক এম আমানুল্লাহ বলেন, সরকার ইংরেজি ও গণিতে অতিরিক্ত ক্লাস নিতে বলছে। প্রায় ৭০ ভাগ স্কুল সে নিয়ম মানছে না। রাষ্ট্রীয়ভাবে এ সমস্যা সমাধানে ভূমিকা রাখতে হবে। ঢা.বি’র আইন বিভাগের শিক্ষক হাফিজুর রহমান কার্জন বলেন, কোন মানুষ যদি ব্যক্তিগতভাবে অসৎ হন, তাহলে তা প্রতিকারের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা থাকতে হবে। নৈতিকতার জায়গাটি বর্তমানে ভেঙে পড়েছে। বাস্তবমুখী পদক্ষেপের ফলে এ থেকে বের হয়ে আসতে হবে। ঢা.বি’র সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক রুবায়েত ফেরদৌস বলেন, নৈতিকতার ক্ষেত্রে যার যার অবস্থান থেকে কাজ করতে হবে। সরকারকেও বিভিন্ন পদক্ষেপ নিতে হবে। সাড়ে তিন কোটি শিশুর হাতে সাড়ে তেইশ কোটি বই পৌঁছে দিয়ে সরকার যুগান্তকারী ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন অনেক বেশি। বাংলাদেশের শিক্ষকদের তা অনেক কম। অনুষ্ঠান আয়োজক কমিটির সভাপতি ও অ্যাপ্লায়িড সোশিওলজি বিভাগের চেয়ারম্যান ড. হেলাল মহিউদ্দিন বলেন, রেজিস্টার্ড প্রাইমারি শিক্ষকরা চাকরি জাতীয়করণের জন্য আন্দোলন করছেন। কাফনের কাপড় পরে আত্মাহুতির হুমকি দিচ্ছেন। অথচ সরকার তাদের অনেক আগেই বলেছে, তাদের একটি যোগ্যতার পরীক্ষায় অবতীর্র্ণ হতে। তারা এতে রাজি নন। তাহলে কোন নৈতিকতার ভিত্তিতে এসব শিক্ষকের চাকরি জাতীয়করণ করবে। মানবিক বিবেচনায় নিয়োগের কথা বললেও ন্যূনতম একটা যোগ্যতা থাকা দরকার। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ঢাবি শিক্ষক রুবায়েত ফেরদৌস ও আশা ইউনিভার্সিটির অ্যাপ্লায়িড সোশিওলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. হেলাল মহিউদ্দিন।

ফালু ও হাসেমের মামলা বাতিল

স্টাফ রিপোর্টার: বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সাবেক রাজনৈতিক সচিব মোসাদ্দেক আলী ফালু এবং সাবেক এমপি এমএ হাসেমের বিরুদ্ধে দায়ের করা আয়বহির্ভূত সম্পদের মামলা বাতিল ঘোষণা করেছে হাইকোর্ট। বিচারপতি একেএম ফজলুর রহমান এবং বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ গতকাল এ রায় দেয়। জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ২০০৭ সালে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) মোসাদ্দেক আলী ফালু এবং এমএ হাসেমের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। এ মামলা বাতিল চেয়ে তারা হাইকোর্টে আবেদন করেন। ২০০৯ সালে হাইকোর্ট মামলার কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করে। ওই সময় আদালত একই সঙ্গে রুল জারি করেছিলো। গতকাল ওই রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে রায় দেয় হাইকোর্ট। ফালু এবং এমএ হাসেমের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী আহসানুল করিম। তিনি বলেন, ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীরের মামলায় সুপ্রিম কোর্টের দেয়া রায় অনুযায়ী কারাগারে আটক অবস্থায় কাউকে সম্পদের হিসাব চেয়ে নোটিশ দিলে তা বৈধ হবে না। একইসঙ্গে দুদক বলতে চেয়ারম্যান এবং কমিশনারদের বুঝায়।  চেয়ারম্যান এবং কমিশনারদের অনুপস্থিতিতে দুদকের সচিবের নোটিশ দেয়ার কোন এখতিয়ার নেই। এ দুই বিবেচনায় ফালু এবং হাসেমকে দুদক যে নোটিশ দিয়েছে তা বৈধ নয়। দুদকের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী খুরশীদ আলম খান।

অভ্যুত্থান চেষ্টা ব্যর্থ

স্টাফ রিপোর্টার: একটি অভ্যুত্থান প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। সেনাবাহিনীর একটি উগ্রবাদী অংশ এ অভ্যুত্থানের প্রচেষ্টা চালিয়েছিল। নজিরবিহীন এক সংবাদ সম্মেলনে সেনাবাহিনীর তরফে পারসনাল সার্ভিসেস পরিদপ্তরের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাসুদ রাজ্জাক এই ব্যর্থ অভ্যুত্থানের খবর জানিয়েছেন। ঊর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন। বলা হয়েছে কথিত এই অভ্যুত্থানে ১৫ থেকে ১৬ জন সেনা কর্মকর্তা জড়িত ছিলেন। যাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাও রয়েছেন। একটি ধর্মান্ধ গোষ্ঠী হংকংয়ে অবস্থানরত একজন প্রবাসী বাংলাদেশী ব্যবসায়ীর সহযোগিতায় এ অভ্যুত্থানের পরিকল্পনা করেছিল। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট  কর্নেল এহসান ইউসুফ ও মেজর জাকিরকে গ্রেপ্তার করা   পৃষ্ঠা ১৭ কলাম ১ হয়েছে। একই ঘটনায় ষড়যন্ত্রকারী মেজর সৈয়দ জিয়াউল হক পলাতক রয়েছেন বলে জানান তিনি। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাসুদ রাজ্জাক জানান, কিছু প্রবাসী বাংলাদেশী নাগরিকদের ইন্ধনে অবসরপ্রাপ্ত এবং সেনাবাহিনীতে কর্মরত কতিপয় ধর্মান্ধ কর্মকর্তা সেনাবাহিনীতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে দেশের গণতান্ত্রিক ধারাকে ব্যাহত করার একটি বিফল চেষ্টা চালায়। এ অপচেষ্টাকে প্রতিহত করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা। তিনি জানান, গত ডিসেম্বরে একজন অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেলের নেতৃত্বে সেনাবাহিনীর কিছু বিভ্রান্ত কর্মকর্তা এ অভ্যুত্থানের চেষ্টা চালান। এই অভ্যুত্থান প্রচেষ্টার সঙ্গে বিদেশী শক্তির ইন্ধন আছে কিনা জানতে চাইলে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাসুদ রাজ্জাক বলেন, বিষয়টি একেবারেই উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না। তিনি জানান, ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের বাইরে অন্য ক্যান্টনমেন্টের অফিসারদের সঙ্গেও এবিষয়ে যোগাযোগ করা হয়েছিল। গোটা প্রক্রিয়ায় মধ্যমসারির কতিপয় অফিসার জড়িত ছিলেন। তবে এ অভ্যুত্থান চেষ্টা ব্যর্থ করে দেয়া হয়েছে। ঘটনার অন্যতম পরিকল্পনাকারী মেজর রাজ্জাকের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে গত ২৮শে ডিসেম্বর একটি তদন্ত আদালত গঠন করা হয়েছে। জানানো হয়, মেজর সৈয়দ জিয়াউল হক পলাতক এবং  অপর একজন অভিযুক্ত সেনা কর্মকর্তা ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের বাসায় সপরিবারে রয়েছেন। তাকে গৃহবন্দি করা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাসুদ রাজ্জাক বলেন, সেনা আইনে গৃহবন্দি বলে কিছু নেই। তিনি ক্যান্টনমেন্টেই আছেন এটুকু বলতে পারি। প্রশ্ন করা হয় কতজন সেনা কর্মকর্তা এ অপচেষ্টার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাসুদ রাজ্জাক বলেন, এই মুহূর্তে নির্দিষ্ট করে সংখ্যাটা বলা যাচ্ছে না। তবে এটা ১৪ থেকে ১৬ জনের বেশি হবে না। এদের সবাই মধ্যমসারির কর্মকর্তা। অপরাধ প্রমাণিত হলে এসব কর্মকর্তার কি ধরনের শাস্তি হতে পারে তা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আর্মি অ্যাক্টের ৩১ ধারা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে সংশ্লিষ্টতার গভীরতাও পরিমাপ করা হবে। গতকাল এক অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষক বলেছেন, যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষা করতে সেনাবাহিনীর কিছু কর্মকর্তা কাজ করছে। এ মন্তব্যের প্রতি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাসুদ রাজ্জাকের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, এটি সম্মানিত ওই শিক্ষকের নিজস্ব মত। এ বিষয়ে আমরা কিছুই বলবো না। সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেন যে ক’জন সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে তারা সবাই এমআইএসটিতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। যাদের বিরুদ্ধে ধর্মান্ধতার অভিযোগও করছে সেনা সদর। তাহলে সিলেবাসে বা প্রশিক্ষণে কোন সমস্যা আছে কিনা-উত্তরে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাসুদ রাজ্জাক বলেন, এটি খুবই ভাল প্রশ্ন। তবে বলতে পারি সিলেবাসে কোন সমস্যা নেই। সমস্য দৃষ্টিভঙ্গির। সেখানে প্রশিক্ষণার্থী ৫ হাজারেরও বেশি। কিন্তু সবার সমস্যা হচ্ছে না। এই মুহূর্তে কতজন কথিত ধর্মান্ধ অফিসার সেনাবাহিনীতে রয়েছেন এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এ সংখ্যা এখনই বলা যাচ্ছে না। তবে ভবিষ্যতে তাদের আচরণের উপর এ সংখ্যা নির্ধারিত হবে। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাসুদ রাজ্জাক বলেন, একজন লে. কর্নেল পদবির অবসরপ্রাপ্ত অফিসার গত ১৩ই ডিসেম্বর কর্মরত একজন মেজরকে সেনাবাহিনীতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির ঘৃণ্য প্রস্তাব দেন। কিন্তু তিনি প্রস্তাবে সাড়া না দিয়ে বিষয়টি চেইন অব কমান্ডের মাধ্যমে অবগত করলে সাবেক ওই কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। অপর পরিকল্পনাকারী মেজর জিয়া গত ২২শে ডিসেম্বর কর্মরত আরেক অফিসারকে একই ধরনের প্রস্তাব দেন। বিষয়টি জানতে পেরে মেজর জিয়ার ছুটি বাতিল করে সেনা সদর দপ্তরে যোগ দিতে বলা হয়। কিন্তু সে পলাতক থেকে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে ‘সাবভারসিভ’ (রাষ্ট্রবিরোধী) কার্যক্রম চালাচ্ছে। সেনাবাহিনীতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির ষড়যন্ত্র ফাঁস হয়ে যাওয়ায় গত ২৬শে ডিসেম্বর পলাতক মেজর জিয়া তাকে গ্রেপ্তার ও নির্যাতন সংক্রান্ত কল্পিত গল্প তার পরিচিতজনদের কাছে ই-মেইল করে। এই ই-মেইলটি আবু সাঈদ নামের এক ব্যক্তি ফেইসবুকে ও ‘সোল্‌জারস ফোরাম’ নামের একটি ব্লকে ছড়িয়ে দেয়। পরে গত ৮ই জানুয়ারি ই-মেইল বার্তাটি নিষিদ্ধ ধর্মান্ধ সংগঠন হিজবুত তাহরীর লিফলেট আকারে ছড়িয়ে দেয়। একদিন পর ৯ই জানুয়ারি একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিভ্রান্তমূলক সংবাদের সঙ্গে তাল রেখে ‘সেনাবাহিনীতে গুমের ঘটনা ঘটছে’ বলে অভিযোগ করে। এছাড়া, ১০ই জানুয়ারি পলাতক মেজর জিয়া কল্পিত দুটি অপারেশন আদেশ কর্মরত অফিসারদের কাছে পাঠান। ১১ই জানুয়ারি তিনি তার সমমনা ও দলভুক্ত কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করে অভ্যুত্থান প্রস্তুতি জানতে চান এবং পরিকল্পনা বাস্তবায়নে উদ্বুদ্ধ করেন। ওই রাতেই ইশরাক আহমেদ নামের হংকং প্রবাসী একজন বাংলাদেশীর সঙ্গে যোগাযোগ করে মেজর জিয়া এবং অভ্যুত্থান অগ্রগতি সম্পর্কে আলোচনা করেন। ইশরাক আহমেদ অভ্যুত্থান শেষ হলেই তাকে অবহিত করার নির্দেশ দেন। যাতে তিনি অভ্যুত্থান পরবর্তী দ্রুততম সময়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারেন। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয় সেনাবাহিনীর কাঁধে ভর করে অতীতে বিভিন্ন অপশক্তি রাজনৈতিক সুবিধা লাভ করেছে। কিন্তু সেনাবাহিনী ঘটনার বদনামের দায়ভার বহন করছে। ‘তাই আর এ ধরনের দায়ভার আমাদের সংগঠন কাঁধে নিতে চায় না।’ গণতান্ত্রিক সরকারকে উৎখাতে জড়িত সেনা কর্মকর্তাদের সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য উদঘাটিত হয়েছে। তদন্ত চলছে। পলাতক মেজর জিয়ার সম্পর্কে কোন তথ্য থাকলে কর্তৃপক্ষকে অবগত করার অনুরোধ করা হয়েছে সংবাদ সম্মেলন থেকে।

ইরানে হামলা বিপর্যয় বয়ে আনবে: রাশিয়া

মানবজমিন ডেস্ক: ইরানে সামরিক হামলা হলে তা মারাত্মক বিপর্যয় বয়ে আনতে পারে। এমন সতর্কতা উচ্চারণ করেছেন, রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সার্গেই ল্যাভরভ। তিনি বলেন, ইরানে হামলা চালালে তাতে মানবিক বিপর্যয় নেমে আসবে। এর ফলে ইরান থেকে আশ্রয়প্রার্থী বা শরণার্থীর ঢল নামবে। মধ্যপ্রাচ্যে সামপ্রদায়িক বিরোধ তীব্রতর হয়ে দেখা দেবে। শিয়া-সুন্নি দ্বন্দ্ব দেশগুলোকে বিভক্ত করে ফেলবে। এদিকে এর আগে ইসরাইলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী এহুদ বারাক ইরানের ওপর ইসরাইলের হামলার যে কোন সিদ্ধান্তকে নাকচ করে দিয়েছিলেন। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আলি আকবর সালেহি বলেছেন, ইস্তাম্বুলে পরমাণু কর্মসূচির বিষয়ে আলোচনার সুনির্দিষ্ট দিন, তারিখ ও ক্ষণ অচিরেই জানানো হবে। তবে বৃটেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আলোচনার ব্যাপারে কোন তারিখ বা পরিকল্পনা নেয়া হয়নি। এদিকে ইরানের ওপর অর্থনৈতিক অবরোধের কারণে ইসরাইল ও ইরান, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বেড়েই চলেছে, যা রূপ নিতে পারে সামরিক যুদ্ধে। এ আশঙ্কাতেই রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ল্যাভরভ পশ্চিমা দেশ বিশেষত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে ইরানে হামলা চালানোর ব্যাপারে সতর্ক করে দিয়েছেন। যে কোন মূল্যে এ বিপর্যয় এড়ানোর পরামর্শ দেন তিনি।

খুলনা পাবলিক কলেজে রাতভর ডাকাতের তাণ্ডব

স্টাফ রিপোর্টার, খুলনা থেকে: খুলনা পাবলিক কলেজের রজতজয়ন্তির একদিন আগে কলেজের ১৮টি কক্ষ ও ৫৪টি আলমারি ভাঙচুর ও লুটপাট করে ডাকাতরা তাণ্ডব চালিয়েছে। গত বুধবার মধ্যরাতে সশস্ত্র ডাকাতরা কলেজের ৪ নৈশ প্রহরীকে বেঁধে প্রায় তিনঘণ্টা এ তাণ্ডব চালায়। এ সময় ডাকাতরা নগদ ৫২ হাজার টাকা, ল্যাবরেটরি থেকে একটি অত্যাধুনিক ল্যাপটপ ও ৫টি মাইক্রোস্কোপ লুট করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৪ নৈশ প্রহরীকে আটক করেছে। গতকাল সকালে ঘটনার সংবাদ পেয়ে কেএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এ ব্যাপারে খালিশপুর থানায় মামলা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বুধবার রাত ২টার দিকে ডাকাত দল নগরীর বয়রাস্থ খুলনা পাবলিক কলেজের প্রাচীর টপকে ভেতরে ঢুকে কিছু বুঝে উঠার আগেই জয়নাল আবেদীন (৫২), আজম (২৮), জোসেফ গায়েন (৫৫) ও সাগর (২০) নামের ৪ নৈশ প্রহরীকে বেঁধে ফেলে। পরে পর্যায়ক্রমে অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, সায়েন্স ল্যাবরেটরি, হিসাব শাখা, লাইব্রেরি ও প্রকৌশলীর কক্ষসহ ১৮টি কক্ষ ভাঙচুর করে। এ সময় ৫৪টি স্টিল ও কাঠের আলমারির তালা ভেঙে তছনছ করে। হিসাব শাখা থেকে নগদ ৫২ হাজার টাকা, ল্যাবরেটরি থেকে একটি অত্যাধুনিক ল্যাপটপ ও ৫টি মাইক্রোস্কোপ লুট করে নিয়ে যায়। রাত ২টা থেকে ৫টা পর্যন্ত ডাকাতরা নতুন ও পুরাতন প্রশাসনিক ভবনে তাণ্ডব চালায়। ভোর সাড়ে ৫টার দিকে নৈশ প্রহরী জোসেফ গাইন কৌশলে ছুটে গিয়ে কলেজের কেয়ারটেকার আলী আকবরকে খবর দিলে তিনি কলেজ অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষকে সঙ্গে নিয়ে ক্যাম্পাসে এসে নৈশ প্রহরীর কাছ থেকে ঘটনা শুনে পুলিশকে খবর দেন। নৈশ প্রহরী জোসেফ গাইন জানান, ১৬ জন সশস্ত্র ডাকাত কলেজের প্রাচীর টপকে ভেতরে ঢুকে তাদের বেঁধে পর্যায়ক্রমে কক্ষগুলো ভাঙচুর ও লুটপাট করে।

হাতিয়ায় এলজিইডি অফিসে হামলা, ভাঙচুর

হাতিয়া (নোয়াখালী) প্রতিনিধি: এডিবির বরাদ্দের ভাগবণ্টনকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগ কর্মীরা হাতিয়া উপজেলা প্রকৌশলী অফিসে হামলা করেছে। এ সময় সন্ত্রাসীদের হামলায় উপজেলা প্রকৌশলী ছাইদুর রহমান ও হিসাব রক্ষক মো. ইয়াকুব আহত হন। গতকাল উপজেলা পরিষদের এলজিইডি অফিসে এ ঘটনা ঘটে। মুমূর্ষু অবস্থায় ইয়াকুবকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে উপজেলা পরিষদের এক কর্মকর্তা জানান, এডিবির ভাগবণ্টনকে কেন্দ্র করে ৬নং চরকিং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আলহাজ মহিউদ্দিনের সঙ্গে এলজিইডি অফিসের হিসাব রক্ষক মো. ইয়াকুবের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। বিষয়টি জানাজানি হলে ছাত্রলীগ কর্মীরা উপজেলা এলজিইডি অফিসে গিয়ে ইয়াকুবের ওপর হামলা চালায়। উত্তেজিত কর্মীদেরকে বাধা দিতে গেলে উপজেলা প্রকৌশলী ছাইদুর রহমানুসহ অন্তত ৫ জন আহত হন। এ সময় ছাত্রলীগ কর্মীরা এলজিইডি অভিসে ভাঙচুর করে। তিনি আরও জানান, উভয় কর্মকর্তার হাতে থাকা মোবাইল ফোন ও সঙ্গে থাকা ৭ হাজার টাকা নিয়ে যায়। ঘটনার পরপর হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছাত্রীলীগ কর্মীদের ডেকে এনে পরে এ ধরনের ঘটনা না করার শর্তে স্বাক্ষর নিয়ে ছেড়ে দেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উপজেলা চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ সভাপতি অধ্যাপক মো. ওয়ালী উল্যাহ, চরকিং ইউপি চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন আহাম্মেদ, সোনাদিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আহছান উল্যাহ বাহার, নলচিরা ইউপি চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির বাবলু, তমরুদ্দি ইউপি চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন বাবু প্রমুখ।

গাইবান্ধায় মদ্যপানে ২ ব্যক্তির মৃত্যু অসুস্থ ২




উত্তরাঞ্চল প্রতিনিধি: গাইবান্ধায় মদ্যপানে বুধ ও বৃহস্পতিবার দুই দিনে ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। অসুস্থ হয়েছে আরও ২ জন। আহতদের রংপুর মেডিকেল কলেজে ভর্তি করা হয়েছে।  নিহতরা হলেন সদর উপজেলার দাড়িয়াপুর গ্রামের আমিনুল কসাই এবং সফিকুল ইসলাম। গ্রামবাসী জানায়, গাইবান্ধা সদর উপজেলার দাড়িয়াপুরে দীর্ঘদিন যাবৎ অবৈধভাবে মদের ব্যবসা করে আসছিল একই এলাকার আমিনুল নামের এক ব্যক্তি। বুধবার রাতে আমিনুল, আনিসুল ইসলাম, বাদশা মিয়া ও সফিকুল ইসলাম একসঙ্গে মদ্যপান করে। রাতে তারা ৪ জনই অসুস্থ হয়ে পড়লে  লোকলজ্জার ভয়ে তাদের গোপনভাবে চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। হাসপাতালে নেয়ার পথে আমিনুল কসাই মারা যায়। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সফিকুল ইসলামের মৃত্যু হয়। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় গুঞ্জন শুরু হলে পুলিশি বিষয় এড়াতে রাতেই গোপনভাবে কবর দেয়া হয় আমিনুল কসাইকে। গতকাল পর্যন্ত অপর নিহত সফিকুলের লাশ কবরস্থ করা হয়নি।

নিজের ওপর পরীক্ষা চালালেন কঙ্গনা

নিজের ওপর পরীক্ষা চালালেন কঙ্গনা রানাউত। নিজের অদ্ভুত রকমের কোঁকড়া চুলগুলো ছেঁটে ছোট করে সবাইকে অবাক করে দিলেন তিনি । সমপ্রতি মুম্বইয়ে একটি সংবাদ সম্মেলনে এসে কঙ্গনা তার নতুন রূপে সবাইকে চমকে দিলেন। কঙ্গনাকে পরে কৌতূহলী সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেন, এই নতুন রূপ কি কোন নতুন ছবির জন্য? জবাবে হাসিমুখে ‘গ্যাংস্টার’ গার্ল বলেন, না। সব সময় ছবির জন্যই যে নতুন নতুন রূপ ধরতে হবে তা কিন্তু না। আমি চাই অভিনয়ের বাইরেও মানুষ আমাকে আরেকভাবে চিনুক। ‘স্টাইলিশ’ একজন মানুষ হিসেবে জানুক। এজন্যই নতুন রূপে একটু পরীক্ষা চালালাম নিজের ওপর। নিজের এই অন্যরকম রূপধারণের পরের অনুভূতি জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি জানি না সবাই অবাক কেন হচ্ছে! আজকাল তো পরিবর্তন সবাই পছন্দ করে। কাউকে অবাক করার পরিকল্পনা আমার ছিল না। ছবির পাশাপাশি আমাকে কেউ যদি আমার ফ্যাশন এবং স্টাইলের ব্যাপারে বলে তাতে আমার ভালই লাগে। তাই আমি চাই অভিনয়ে আরও দক্ষ হওয়ার চেষ্টার পাশাপাশি ফ্যাশনের ব্যাপারেও আরও সচেতন হচ্ছি। আমি চাই সবাই আমাকে ভাল অভিনেত্রী এবং স্টাইলিশ মানুষ হিসেবে চিনুক।

ছেলের ছদ্মবেশে এক নারীর প্রেম প্রেম খেলা

মানবজমিন ডেস্ক: নিজের পরিচয় গোপন করে ছেলে সেজে দুই তরুণীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলার ঘটনায় বৃটেনে এখন তোলপাড় চলছে। সেমিং জেমা বার্কার কেবল দুই তরুণীকেই বোকা বানায়নি। তার পরিচিত জনরাও এ গোপন ছদ্মবেশ সম্পর্কে কিছু জানতো না। ছেলের ছদ্মবেশে জেমা বার্কার ইন্টারনেটের মাধ্যমে দুই তরুণীকে তার সঙ্গে দেখা করার জন্য উদ্বুদ্ধ করেছিল। ১৫ এবং ১৬ বছর বয়সী দুই তরুণীকে নিজের সঙ্গে সম্পর্ক গড়তে উদ্বুদ্ধ করতে জেমা নিজের শারীরিক গড়ন আড়াল করতে টিলেঢালা পোশাকের আশ্রয় নিতো। আর চেহারা আড়াল করতে সব সময় ব্যবহার করতো বেসবল ক্যাপ। সে ছেলেদের মতোই চলাফেরা করতো। এমন কি সে পুলিশের কাছে আটক হবার পর তাদেরকেও বোকা বানিয়েছে। কিন্তু একটি সেলে সে পোশাক খোলার পরই তার এ প্রতারণা ধরা পড়ে। বৃটেনের আদালতে বুধবার প্রতারণা এবং যৌন হয়রানির কথা স্বীকার করার পর তার এ ছদ্ম বেশের ঘটনা জানাজানি হয়। আইনজীবী রুবি সেলভা বলেছেন, প্রতারণার শিকার তরুণীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলার উদ্দেশেই ১৬ বছরের ছেলের ছদ্মবেশ ধারণ করেছিল। তার একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল তাদের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক গড়ে তোলা। বিচারক পিটার মস জেমাকে ‘নীচ এবং চতুর’ বলে উল্লেখ করে বলেছেন তার কারাদণ্ড হতে পারে। মেয়েদের সঙ্গে মেশার পর তাদের পছন্দের ছেলের ধরন সম্পর্কে জানার পর জেমা অ্যারন ল্যামপার্ড, কনর ম্যাক্করম্যাক এবং লুক জোনস নামে ফেসবুকে একাউন্ট করে মেয়েদের তার সঙ্গে সম্পর্ক গড়তে উদ্বুদ্ধ করতো। মেয়েদের আস্থা অর্জনের পর সে ছেলের ছদ্মবেশেই তাদের সঙ্গে মেলামেশা করতো এবং সময় কাটাতো। এসব পরিবারের সদস্যরা জেনাকে মেয়ে হিসেবে জানলেও তাকে কোন ধরনের সন্দেহ করতো না। এভাবে সে দু’টি মেয়ের সঙ্গে আলাদা আলাদা নামে সম্পর্ক গড়ে তুলেছিল। কিন্তুই কেউই তাকে কোন রকম সন্দেহ করেনি। অবশেষে ২০১০ সালের ৯ই জুন তাকে অ্যারন ল্যাম্পার্ড নামে গ্রেপ্তার করা হয়। আইনজীবী সেলভা বলেছেন, জেমাকে আটক করার পরেও পুলিশ বুঝতে পারেনি সে ছেলে নয় মেয়ে। পুলিশি হেফাজতে তার পোশাক খোলার পর আসল পরিচয় বেরিয়ে আসে। জেনার আইনজীবী চেটনা পাটেল বলেছেন, জেমা আসলে এক ধরনের মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত। ঘনিষ্ঠ বন্ধু-বান্ধবের সান্নিধ্য পেতেই সে এ ধরনের ছদ্মবেশের আশ্রয় নিয়েছিল। জেমাকে এখন জামিনে মুক্তি দেয়া হযেছে আগামী ২রা মার্চ তার মামলার রায় দেয়া হবে। নিজের সত্যি ফেসবুকে জেমা একজন অভিনেতা হিসেবে দাবি করেছেন। তিনি লিখেছেন, মানুষকে আনন্দ দেয়ার জন্যই আমি বেঁচে আছি। তার পরিবারের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে কোন মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানানো হয়েছে।

ভারতে এলে আক্রান্ত হতে পারেন রুশদি



মানবজমিন ডেস্ক: ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার বিতর্কিত লেখক সালমান রুশদি রাজস্থানের জয়পুরে সাহিত্য উৎসবে যোগদান করতে গেলে মৌলবাদীদের আক্রমণের শিকার হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বুধবার ভারতের মৌলবাদী নিষিদ্ধ স্টুডেন্টস ইসলামিক মুভমেন্ট রুশদিকে টার্গেট করতে পারে বলে সতর্কতা জারি করেছে। রাজস্থানের রাজ্য সরকার ও দিল্লির কর্তৃপক্ষকে উদ্দেশ্য করে জারি করা ওই সতর্কতায় মুম্বইভিত্তিক রেজা একাডেমীও রুশদিকে অপদস্থ করতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে একাডেমীর মহাসচিব সাঈদ নুরী কেউ রুশদিকে জুতা মারতে পারলে তাকে ১ লাখ রুপি পুরস্কার দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। ওই সতর্কতায় বেআইনি ছাত্র আন্দোলনটির নেতা ২০০৩ সালে মুম্বইয়ে হামলা মামলায় অন্যতম অভিযুক্ত সাকিব নচন ভারত ভ্রমণকালে রুশদিকে হামলা করার পরিকল্পনা করছে বলে উল্লেখ করেছে। জঙ্গি নেতা নচন ২০১১ সালের জানুয়ারি থেকে জামিনে রয়েছেন। ফেডারেল সরকারের জারি করা সতর্কতায় রাজস্থান ও দিল্লিকে রুশদির নিরবচ্ছিন্ন নিরাপত্তা নিশ্চিতসহ শান্তি ও সামপ্রদায়িক সমপ্রতি বজায় রাখার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বলা হয়েছে। ওদিকে রাজ্য সরকার রুশদিকে সাহিত্য উৎসবে যোগদান থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করছে এমন অভিযোগে বিক্ষোভের আশঙ্কায় রয়েছে। রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলুট বলেন, ‘আমি নিশ্চিত যে উৎসবের আয়োজকরা স্থানীয় জনগণের সেন্টিমেন্টের প্রতি সম্মান দেখাবে।’

২০১২ সালে বিশ্ব অর্থনীতি আরও কঠিন সময় পার করবে: বিশ্বব্যাংক

মানবজমিন ডেস্ক: বিশ্বব্যাংকের ষান্মাসিক প্রতিবেদনে বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধির নিম্নগতির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরার পাশাপাশি ২০১২ সালে পৃথিবীতে অর্থনৈতিক অধোগতির পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। এই অবনমন বিশ্বের কোন অঞ্চল বা কোন দেশই এড়াতে পারবে না বলেও মঙ্গলবারে প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে  হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়েছে। বিশ্ব অর্থনীতির এই মন্থরগতি ইউরোপের বর্তমান ঋণ সঙ্কট থেকে উদ্ভব হলেও সারা বিশ্বই এর দ্বারা প্রভাবিত হবে বলেও জানানো হয়েছে। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতেও এক বিরাট ধাক্কা হানবে বলেও ইঙ্গিত করা হয়েছে। বিশ্ব অর্থনীতি এই বছরে ২.৫ ভাগ এবং আগামী বছর ৩.১ ভাগ সমপ্রসারিত হওয়ার পাশাপাশি কিছু উন্নয়নশীল দেশের অর্থনীতি উন্নত বিশ্বের দেশগুলোকে ছাড়িয়ে গেলেও বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির হার যথাক্রমে ৫.৪ ভাগ ও ৬ ভাগে দাঁড়ানোর আভাস দিয়েছে। ফলে ইউরোপে ঋণ সঙ্কট ও বিশ্ব জুড়ে দুর্বল প্রবৃদ্ধি উন্নয়নশীল বিশ্বের অর্থনীতিকে আরও খারাপ করে দিতে পারে বলে সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের এই প্রতিবেদনে বছর জুড়ে অর্থনীতির এমন মন্থরগতির পিছনে দু’টি কারণ রয়েছে বলে জানিয়েছে। ইউরোপের ঋণ সঙ্কট ঘনীভূত হওয়ার পাশাপাশি কয়েকটি বড় উন্নয়নশীল দেশ অতিমাত্রায় মুদ্রা স্ফীতি ঘটিয়ে প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর বিরুদ্ধে উদ্যোগ গ্রহণ করায় এহেন পরিস্থিতির জন্ম দিবে। বিশ্বব্যাংকের এই প্রতিবেদনটিতে উচ্চ ঋণ ও ঘাটতি মোকাবিলায় জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রের ব্যর্থতার কথা তুলে ধরে বিশ্বের অন্যান্য উচ্চ আয়ের দেশগুলোতে নিম্ন প্রবৃদ্ধির কারণে আকস্মিক পরিস্থিতির জন্ম দিতে পারে বলেও আশঙ্কা পোষণ করা হয়েছে।  এছাড়াও মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকায় রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে তেল সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলে বিশ্ব অর্থনীতি আবারও আঘাত পাবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

হয়ে গেল ‘রাজা সূর্য খাঁ’র প্রিমিয়ার

গত ১৮ই জানুয়ারি বিএফডিসি’র ভিআইপি প্রজেকশন  হলে ত্রিয়া’স মুভিজ প্রযোজিত গাজী মাহবুব পরিচালিত ‘রাজা সূর্য খাঁ’ ছবির প্রিমিয়ার শো অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন তথ্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ এমপি। তিনি তার বক্তব্যে ছবিটির প্রযোজক ফ্লা. লে. (অব.) এসএ সুলতান ও  পরিচালক গাজী মাহবুবকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। পাশাপাশি ‘রাজা সূর্য খাঁ’ ছবির সাফল্য কামনা করে এর নান্দনিকতায় ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ‘রাজা সূর্য খাঁ’র মতো পরিপূর্ণ বিনোদনমূলক নান্দনিক চলচ্চিত্র নির্মাণ হলে চলচ্চিত্রের বর্তমান প্রেক্ষাপট থেকে উত্তরণ সম্ভব। প্রযোজক ফ্লা. লে. (অব.) এসএ সুলতান  ছবির পরিচালক গাজী মাহবুব এবং কলাকুশলীদের প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে বলেন, চলচ্চিত্র নির্মাণে কারিগরি মান আরও উন্নত হওয়া অতীব জরুরি। তিনি ছবি তৈরির ক্ষেত্রে আরও কারিগরি মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বিএফডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ম. হামিদ ও ছবির পরিচালক গাজী মাহবুব।

মুঠোফোন বিড়ম্বনায় তারিন

স্টাফ রিপোর্টার: শুটিং স্পটে তিন ঘণ্টার জন্য মুঠোফোন হারিয়ে ফেলেছিলেন অভিনেত্রী তারিন। গত মঙ্গলবারের ঘটনা। উত্তরার একটি শুটিং হাউজে শুটিং চলাকালে তারিনের ব্যক্তিগত মুঠোফোনটি তিন ঘণ্টার জন্য গায়েব হয়ে যায়। তারিন বলেন, আব্বুকে অনেক দিন পর হাসপাতাল থেকে বাড়িতে আনা হয়েছিল। প্রতি মুহূর্তে খবর নেয়ার প্রয়োজন হচ্ছিল। মুঠোফোন হারিয়ে একরকম বিপাকেই পড়েছিলাম। অনেক তোড়জোড় শেষে  তিন ঘণ্টা পর হঠাৎ করেই সাজঘরের টেবিলের ওপর মুঠোফোন চলে আসে। ঘটনা এখানে শেষ হলেও কথা ছিল। কিন্তু তারপর থেকেই তারিন আবিষ্কার করেন তার বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজনদের কাছ থেকে বিস্ময় প্রকাশ করার মতো ফোন, এসএমএস। তারিন নাকি এদের সবাইকে অপ্রীতিকর এসএমএস পাঠিয়েছিলেন। অনেককে নাকি বন্ধু হওয়ারও আহ্বান করেছেন। তৎক্ষণাৎ মুঠোফোনের ‘সেন্ট আইটেম’-এ গিয়ে তারিন দেখেন , প্রায় ৩০ জনের মতো বন্ধুর কাছে এ ধরনের এসএমএস গেছে। তারিন বলেন, কে বা কারা এ ধরনের নোংরা কাজের সঙ্গে জড়িত ছিল তা জানতে পারিনি। তবে আমার মুঠোফোন থেকে কারও কাছে অপ্রত্যাশিত এসএমএস গিয়ে থাকলে তা একান্তই অনিচ্ছাকৃত। এর আগেও আমার ফেসবুক একাউন্ট একবার হ্যাক হয়েছিল। আমি বুঝি না অন্যের ক্ষতি করে কার কোন ধরনের স্বার্থসিদ্ধি হয়।

জন-প্রিয়ার বিয়ে!

বিনোদন ডেস্ক: গোপনে বিয়ে করেছেন বলিউডের হার্টথ্রব অভিনেতা জন আব্রাহাম। এমনটাই গুঞ্জন উঠেছে বলিউডপাড়ায়। তবে গুঞ্জন হলেও জনের বেশ কয়েকটি ঘনিষ্ঠ সূত্র তার বিয়ের খবরটি সত্য বলেই জানিয়েছেন। প্রেমিকা প্রিয়া রানচালকেই বিয়ে করেছেন তিনি। প্রিয়া বর্তমানে লস অ্যাঞ্জেলেসে ফিন্যানসিয়াল অ্যানালিস্ট হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। গতকাল থেকে জন-প্রিয়ার বিয়ের বিষয়টি নিয়ে বিশ্ব মিডিয়ায় তোলপাড় শুরু হলেও এখন পর্যন্ত জনের তরফ থেকে কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি এ সম্পর্কে। জানা গেছে, জন নিজের জন্মদিন প্রিয়া ও তার বাবা-মা’র সঙ্গে পালন করার জন্য বর্তমানে লস অ্যাঞ্জেলেসে অবস্থান করছেন। আর জন্মদিন উদযাপন করতে গিয়েই কোটি মেয়ে ভক্তের মন ভেঙে দিয়ে হার্টথ্রব জন আব্রাহাম বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন প্রিয়ার সঙ্গে। প্রিয়ার সঙ্গে জনের সম্পর্ক খুব বেশি দিনের না হলেও এ অল্প সময়েই বেশ ঘনিষ্ঠ হয়ে গিয়েছিলেন তারা। যার ফলে বিয়ের মাধ্যমে তাদের সম্পর্কের পরিণতি হলো বলে জানিয়েছেন কয়েকজনের ঘনিষ্ঠ বন্ধুবান্ধব। এদিকে প্রিয়ার আগে গত বছরই টানা নয় বছরের সম্পর্কের অবসান ঘটান জন আব্রাহাম ও বিপাশা বসু। বিপাশা বিয়ের মধ্য দিয়ে সম্পর্কের পরিণতি টানতে চাইলেও জন তাতে রাজি হননি। যার কারণে তাদের সম্পর্ক একপর্যায়ে শেষ হয়ে যায়। এদিকে জনের সঙ্গে সম্পর্ক ভাঙনের পর বিপাশা গুঞ্জনে জড়িয়েছেন ‘দাম মারো দাম’ ছবিতে তার কো-আর্টিস্ট হিসেবে কাজ করা রানা দাগুবাতির সঙ্গে। বেশ কয়েকবারই তাদের ডেটিং করতে দেখা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, এ বছরই তারা বিয়েও করতে যাচ্ছেন। তবে তার আগেই জন-প্রিয়ার বিয়ের গুঞ্জন বর্তমানে ভেসে বেড়াচ্ছে বিশ্ব মিডিয়ায়। এখন দেখার বিষয় নিজের বিয়ের ঘোষণা কখন ও কিভাবে দেন জন আব্রহাম। আর তাতে বিপাশা বসুর প্রতিক্রিয়াইবা কী হয়।

নিয়াজের ‘প্রিয়তমা শোন’র মোড়ক উন্মোচন

সমপ্রতি অগ্নিবীণার ব্যানারে প্রকাশিত হলো প্রবাসী সংগীতশিল্পী নিয়াজুল হক নিয়াজের একক অ্যালবাম ‘প্রিয়তমা শোন’। এ উপলক্ষে ১৮ই জানুয়ারি সন্ধ্যায় রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডের একটি রেস্টুরেন্টে অ্যালবামটির মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে অ্যালবামটির মোড়ক উন্মোচন করেন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী কুমার বিশ্বজিৎ, নিয়াজের মামা জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী আদনান বাবু, এমআইবি’র সিনিয়র সহ-সভাপতি সংগীতজ্ঞ হাসান মতিউর রহমান ও জি সিরিজ-অগ্নিবীণার স্বত্বাধিকারী নাজমুল হক ভুঁইয়া। এছাড়াও উপস্থিত থেকে শিল্পীকে শুভকামনা জানান এমআইবি’র সহ-সভাপতি আনোয়ার হোসেন ও মহাসচিব শেখ সাহেদ আলী পাপ্পু। নিয়াজ সম্পর্কে শিল্পী কুমার বিশ্বজিৎ বলেন, ‘আমি আসলে সংগীতের প্রতি নিয়াজের ভালবাসা দেখে সত্যিই অবাক হয়েছি। নিউ ইয়র্কে পড়াশোনা ও পুলিশে চাকরি করার পাশাপাশি অগাধ ভালবাসা থেকেই নিয়াজ সংগীতচর্চা চালিয়ে যাচ্ছে। এটা অত্যন্ত প্রশংসনীয় বিষয়, বাংলাদেশের জন্য গর্বের ব্যাপার। আমি চাইবো সামনেও যেন সে এভাবেই সংগীত ভুবনে নিয়মিত কাজ করে যায়।’ নিজের অ্যালবাম সম্পর্কে নিয়াজ বলেন, আমি অনেক সময় নিয়ে অ্যালবামের গানগুলো করেছি। এর আগে নিউ ইয়র্কেও আমার সলো অ্যালবাম প্রকাশ পেয়েছে। তবে এ অ্যালবামটিতে দেশের মানুষের জন্য কিছু ভিন্ন ধরনের গান করার চেষ্টা করেছি। আর আজ বিশ্বজিৎ স্যারের মতো একজন কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী আমার অ্যালবামের মোড়ক উন্মোচন করছেন- এর চেয়ে বড় পাওয়া আর কি হতে পারে। নিয়াজের ‘প্রিয়তমা শোন’ অ্যালবামে রয়েছে ৯টি বাংলা ও ১টি স্প্যানিশসহ মোট ১০টি গান। সবক’টি গানের কথা, সুর ও সংগীতায়োজন করেছেন শিল্পী নিজেই। অ্যালবামটির সবক’টি গানের কম্পোজিশন করা হয়েছে নিউ ইয়র্ক শহরের সাউন্ড জোন স্টুডিওতে।

চলচ্চিত্রে ফারজানা ছবি

স্টাফ রিপোর্টার: চলচ্চিত্রে অভিনয় করছেন টেলিভিশন নাটকের অভিনেত্রী ও নির্মাতা ফারজানা ছবি। ছবিটির নাম ‘জোছনা রাতের গল্প’। ফাইজুল হকের কাহিনী, সংলাপ ও চিত্রনাট্যে এটি পরিচালনা করছেন বিপ্লব হায়দার। ছবির গল্পে দেখা যাবে, একজন ফেরিওয়ালা নৌকায় গ্রামে গ্রামে ঘুরে হাঁড়ি-পাতিলসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বিক্রি করে বেড়ায়। এমনিভাবে নদী তীরবর্তী একটি চরে যায় বিক্রি করার উদ্দেশ্যে। সেখানে তার দেখা হয় বিবাহিত একজন মহিলার সঙ্গে। এক সময় তার সঙ্গে গভীর প্র্রেমের সম্পর্কও তৈরি হয়। এছাড়াও আরও কিছু ঘটনা ঘটে। ফারজানা ছবি বলেন, আমি এখানে নদী তীরবর্তী চরের বিবাহিত মহিলার চরিত্রে অভিনয় করছি। ছবির নায়ককে আমার প্রথমেই ভাল লেগে যায়। দুজনেই অনেক ঘটনার মধ্য দিয়ে প্রেমে জড়িয়ে যাই। পরে তার সঙ্গে গভীর প্রেমের সম্পর্কও গড়ে ওঠে। ছবিটির সংগীত পরিচালনা করছেন পার্থ মজুমদার। ইতিমধ্যে এ ছবির দুটি গানের রেকর্ডিং সম্পন্ন হয়েছে। গান দুটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন আসিফ আলতাফ। আগামীকাল স্বরূপকাঠিতে ছবিটির শুটিং শুরু হওয়ার কথা ছিল। পরিচালক সেই অনুযায়ী একটি বিশাল সেটও তৈরি করেছেন। কিন্তু ওপেন স্পেস-এ সেট করায় বৃষ্টিতে সেট নষ্ট হয়ে গেছে। পরিচালক বলেন, প্রথমেই একটি বাধা পেলাম। তারপরও ছবিটি আমি সঠিকভাবেই করতে চাই। তাই কিছুটা সময় নিচ্ছি। আসছে ২৮শে জানুয়ারি থেকে ছবিটির কাজ পূর্ণোদ্যমে শুরু করবো বলে আশা করছি।

সাগরদাঁড়িতে ‘মধুমেলা-২০১২’



স্টাফ রিপোর্টার: ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক উৎসব ‘মধুমেলা-২০১২’ আগামীকাল যশোরের কেশবপুরের সাগরদাঁড়িতে শুরু হচ্ছে। উৎসবটি এরই মধ্যে দেশের অন্যতম বৃহত্তম সাংস্কৃতিক উৎসবে পরিণত হয়েছে। মাইকেল মধুসূদন দত্ত (২৫শে জানুয়ারি ১৮২৪-২৯ জুন ১৮৭৩) উনিশ শতকের জনপ্রিয় বাঙালি কবি ও নাট্যকার। তিনি যশোর জেলার কেশবপুর উপজেলার সাগরদাঁড়ি গ্রামে কপোতাক্ষ নদের তীরে জন্মগ্রহণ করেন। মধুসূদন বাংলা ভাষার অন্যতম জনপ্রিয় কবি এবং বাংলা সনেটের জনক। তিনি চতুর্দশপদী অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক। বৃহত্তর পরিসরে এ কিংবদন্তি কবি-নাট্যকারের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের উদ্দেশ্যে ‘মধুমেলা’  আয়োজন করা হয়। সাত দিনব্যাপী আয়োজিত উৎসবে সংগীত পরিবেশনা, কবিতা আবৃত্তি, নাটক ও বিভিন্ন বিষয়ের ওপর আলোচনা করা হয়। এবার নিয়ে পরপর চতুর্থবারের মতো অন্যতম বৃহৎ টেলিকম প্রতিষ্ঠান বাংলালিংক এ উৎসবের পৃষ্ঠপোষকতা করছে। যশোর জেলা প্রশাসন এ উৎসবের গর্বিত আয়োজক। বহুড়বৎসর যাবৎ উদযাপিত হয়ে এ উৎসব সব শ্রেণীর মানুষের সম্মিলনী ও বিনোদনের অফুরন্ত এক কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। উৎসবে অংশগ্রহণের জন্য বরাবরের মতো এবারও সারাদেশের শত শত সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব-কর্মীসহ শ্রেণী-বয়স-পেশা নির্বিশেষে হাজার হাজার মানুষ যশোরের কেশবপুরের সাগরদাঁড়িতে সমবেত হবেন বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন।

পাকিস্তানের ভিসা পেলেন বিতর্কিত মনসুর ইজাজ

মেমোগেট কেলেঙ্কারীর কেন্দ্রে থাকা ও বহুল বিতর্কিত পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত মার্কিন ব্যবসায়ী মনসুর ইজাজকে ভিসা দিয়েছে পাকিস্তান। তিনি পাকিস্তানে একটি বিচার বিভাগীয় কমিশনের সামনে উপস্থিত হবেন। সেখানে মেমোগেট সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে তাকে। বৃটেনে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাই কমিশনার ওয়াজিদ শামসুল হাসান বলেন, গতকাল বিমানবন্দর থেকে মনসুর পাকিস্তান হাই কমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। গতকালই তার ভিসার আবেদনটি মঞ্জুর করে পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ। আগামী ২৪শে জানুয়ারি তাকে দেশটির বিচার বিভাগীয় একটি প্যানেলে উপস্থিত হবেন মনসুর। এদিকে মেমোগেট কেলেঙ্কারীর তদন্তের স্বার্থে পাকিস্তানি পার্লামেন্টের একটি প্যানেলও ২৬শে জানুয়ারি মনসুরকে জিজ্ঞাসাবাদের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এদিকে মনসুর ইজাজের আনীত রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগটি সত্য প্রমাণিত হলে তা ওয়াশিংটনে নিযুক্ত পাকিস্তানের সাবেক রাষ্ট্রদূত হুসেইন হাক্কানি ও  পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারির পতনকে ত্বরান্বিত করবে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এরই মধ্যে দেশটির সরকার ও শক্তিশালী সেনাবাহিনী এবং অন্যদিকে বিচার বিভাগ ও সরকারের মধ্যে যে টানাপড়েনের সম্পর্ক সৃষ্টি হয়েছে, তা আরও ঘোলাটে রূপ নেবে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

উচ্ছ্বসিত নাসির



স্পোর্টস রিপোর্টার: দেশীয় প্রেক্ষাপটে নিলামের সবচেয়ে দামী ক্রিকেটার হিসেবে বিক্রি হয়েছেন ২ লাখ ডলারে নাসির হোসেন। এটিও নিশ্চয়ই কম প্রাপ্তি বা অর্জন নয়! তাকে কিনে নিয়েছে খুলনা রয়েল বেঙ্গলস। তাই উচ্ছ্বসিত তিনি। আর এই উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি বলেছেন, ‘দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অর্থে বিক্রি হয়েছি, এতে অবশ্যই দারুণ খুশি। এতে ভাগ্যেরও হাত ছিল বলবো। তবে ইচ্ছা রংপুর দলের হয়ে খেলবো। কিন্তু তারা তো বিপিএলে নেই! আরও জানালেন, ‘আমি মনে করি সামপ্রতিক সময়ে ভাল ক্রিকেট খেলার কারণেই আমাকে এত দাম দিয়ে কিনতে আগ্রহী হয়েছে দলগুলো। চেষ্টা করবো এই ফর্মে বিপিএলেও খেলতে। যদিও এখন কোন প্ল্যান করিনি দল ও নিজের টার্গেট সম্পর্কে।’ কয়েক দিনের মধ্যেই খুলনা দলের অনুশীলন ক্যাম্প শুরু হবে। তাতে যোগ দিচ্ছেন নাসির। বিপিএলে বিদেশী ক্রিকেটারদের আধিক্য প্রসঙ্গে নাসিরের ভাষ্য, ‘এতে বরং দেশী প্লেয়ারদের মধ্যে প্রতিযোগিতার মনোভাব গড়ে উঠবে ও তাদের খেলার মানেরও উন্নতি হবে।’

অব্যাহতি দিয়ে অভিযোগপত্র দাখিল-বাকি দুই মামলায়ও কাদের নির্দোষ by নজরুল ইসলাম

পুলিশের করা বাকি দুই মামলার তদন্তেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবদুল কাদের নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছেন। তাই তাঁকে এ দুই মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার আবেদন জানিয়ে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তদন্ত শেষে এ দুই মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করেছে।

মেসিকে আঁচড় কেটে আলোচনায় পেপে

লিওনেল মেসিকে আঁচড় কেটে শাস্তি পেতে যাচ্ছেন রিয়াল মাদ্রিদ ডিফেন্ডার পেপে। বুধবার কিংস কাপের কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগের খেলায় এমন কাণ্ড করেন রিয়ালের পর্তুগিজ ডিফেন্ডার পেপে। সান্টিয়াগো বার্নাব্যুর এ ম্যাচের ৬৮ মিনিটের ঘটনা এটি। শেষে বার্সা কোচ পেপ গার্দিওলা পেপের এমন অখেলোয়াড়োচিত আচরণের সমালোচনা করেন ম্যাচ। অবশ্য ঘটনাটি পরিষ্কার দেখেননি বলেছেন হোসে মরিনহো। তবে এটাও স্পষ্ট বলেছেন, যদি ইচ্ছাকৃত এমন কাণ্ড করে থাকে, তবে নিশ্চিত শাস্তি পেতে হবে পেপেকে। মেসির সতীর্থ জাভি হার্নান্দেজের প্রতিক্রিয়াও ছিল তীব্র। বলেন, পেপের আচরণ ছিল এক কথায় ‘হিংস্র’। পেপের আচরণের সমালোচনা করেছেন বিশ্ব ফুটবলের অন্য তারকারাও। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ইংলিশ সুপারস্টার ওয়েইন রুনি টুইটারে পেপেকে ‘ইডিয়ট’ আখ্যা দিয়েছেন। সামপ্রতিক এল ক্ল্যাসিকোগুলোয় পেপের উজ্জ্বল নৈপুণ্যের সঙ্গে তার রাফ ফুটবলও চোখে পড়ে সবার। গত চ্যাম্পিয়ন্স লীগের সেমিফাইনালে লালকার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় তাকে।

মীরাক্কেল কাঁপাচ্ছে চার বাংলাদেশী

ছন্দ-রসে টইটুম্বর মীরের চমক মীরাক্কেল। যার প্রেক্ষাপট নতুন করে বলার কিছু নেই। এরই মধ্যে সবাই জেনে গেছেন জোকস ওয়ার্ল্ডে মীরের অমরত্বের কথা। তবে জি-বাংলায় প্রচার চলতি ‘মীরাক্কেল আক্কেল চ্যালেঞ্জার্স-সিজন সিক্স’-এ এসে বাংলাদেশে যেন বাড়তি মাত্রা যোগ করে দিলো। বাংলাদেশের গৃহবধূরাও এখন সনি-স্টারপ্লাসের বউ-শাশুড়ির অসহনীয় সিরিয়াল থেকে মুখ ঘুরিয়ে চোখ রাখছেন জি-বাংলায় সোম থেকে বুধবার পর্যন্ত। কারণ, এবারের মীরাক্কেল নতুন করে হাসির ছটায় কাঁপাচ্ছে চার বাংলাদেশী তরুণ। মোহাম্মদ জামিল হোসেন, ইশতিয়াক নাসির, আনোয়ারুল আলম সজল ও আবু হেনা রনির দুর্বার চিত্রনাট্য আর অনবদ্য প্রেজেন্টেশনে মীরাক্কেল কর্তৃপক্ষও খানিক নড়েচড়ে বসেছেন। তাই তো বাংলাদেশের রসপ্রিয় আরও কিছু প্রতিবেশী খুুঁজে বের করতে ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহেই মীরাক্কেল কর্তৃপক্ষ ঢাকায় হাজির হচ্ছেন মহাতারকা মীরের নেতৃত্বে। তবে তার আগেই বাংলাদেশের গর্বিত চার প্রতিযোগী দু’দিনের ছুটি নিয়ে বেড়াতে এসেছিলেন নিজ মাটিতে। দেশে এসে চারদিকে উষ্ণ অভ্যর্থনা আর মিডিয়ার আগ্রহ দেখে চারজনই মুগ্ধ। এরই মধ্যে চারজনই আবার ফিরে গেছেন মীরাক্কেল ক্যাম্পে। তারা চারজনই নিজেদের অনুভূতি আর অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন মানবজমিন-এর কাছে। বর্তমান সময় নিয়ে চারজনের একটাই মত- মাত্র সাত মাসে মীরাক্কেল আমাদের জীবনধারা বদলে দিয়েছে। গড়ে তুলেছে সাধারণ থেকে অসাধারণে। এবার দেশে ফিরে সবার সঙ্গে ছবি তোলা, অটোগ্রাফ দেয়া, ইন্টারভিউ দেয়া আর বন্ধু-স্বজনদের গর্বিত কণ্ঠস্বরে যারপরনাই মুগ্ধ তারা। অথচ সাত মাস আগে যখন বাংলাদেশের এ চার তরুণ কলকাতার উদ্দেশে উড়াল দেন তখন চিত্রটা ছিল একেবারেই উল্টো। কথা প্রসঙ্গে আবু হেনা রনি তো বলেই ফেললেন, তখন আমাদের অবস্থান ছিল অনেকটা বখাটে, অকর্মন্য আর ইচড়েপাকাদের দলে। আর এখন আমরা অনেকটা মহানায়ক। রনির কথার সুরে সুর মিলিয়ে জামিল বলেন, তবে আজকের এ অবস্থানে আসার জন্য আমাদের অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। রাতের পর রাত স্ক্রিপ্ট তৈরি, আইডিয়া জেনারেট করা আর সেটা স্টেজে এসে প্রেজেন্ট করা চাট্টিখানি কথা নয়। তার ওপর আমরা ছিলাম সেখানে অনেকটা অতিথির মতো। প্রথম প্রথম তো নিজেদের খুব একা মনে হতো। এখন অবশ্য মীরাক্কেল ক্যাম্পটাকে নিজের ঘরের মতোই মনে হয়। বরং এবার দেশে ফিরে মনে হলো বিদেশে এলাম বুঝি! সব মিলিয়ে জামিল, নাসির, সজল আর রনির জীবন পাল্টে দিয়েছে ‘মীরাক্কেল আক্কেল চ্যালেঞ্জার-৬’। ভারতীয় টিভি চ্যানেল জি বাংলার জনপ্রিয় এ রিয়েলিটি শোর চূড়ান্ত পর্বে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বাংলাদেশের এই চার স্বর্ণসন্তান। তাদের সঙ্গে আছেন পশ্চিমবঙ্গের আরও পাঁচজন তুখোড় প্রতিযোগী। চারজনের সঙ্গে একান্ত আলাপে জানা যায়, ইশতিয়াক স্নাতক করে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি নেন মীরাক্কেলে যাওয়ার দু’মাস আগে। জামিল ঢাকায় একটি সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানের বিপণন ব্যবস্থাপক। রনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে নাট্যকলা ও সংগীত বিভাগে স্নাতকোত্তর পড়ছেন। আর সজল এশিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ে বিবিএ করছেন। মজার তথ্য হলো, চারজনের একজনও এর আগে জোকার হিসেবে কোন প্রফেশনাল জায়গায় দাঁড়াননি কিংবা এ নিয়ে সামনে এগুনোর কথাও ভাবেননি। চারজনেরই বেশ জনপ্রিয়তা ছিল স্রেফ বন্ধুমহলে মজার মানুষ হিসেবে। তবে মীরাক্কেলে যাওয়ার পর চারজনেরই পুরনো ভাবনা বদলেছে। চারজনই ভাবছেন মীরাক্কেলের চূড়ান্ত ফলাফল যাই হোক না কেন, দেশে ফিরে এ নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার নতুন ছক আঁকবেন। এদিকে মীরাক্কেল স্টেজে সবাইকে যারা আনন্দ দিয়ে চলেছেন শেষ সাত মাস ধরে, দূরদেশে-পরবাসে কেমন কেটেছে তাদের দিন? এমন প্রশ্নে সজল বললেন, সেখানে যাওয়ার পর ভেবেছিলাম ওনারা আমাদের জোকসগুলো তৈরি করে দেবেন। আমরা সেগুলো প্র্যাকটিস করে নিজেদের মতো করে তুলে ধরবো। অথচ যাওয়ার পর জানলাম তারা কিছুই দেবেন না, সাহস আর উৎসাহ ছাড়া। বাদবাকি সবটাই নিজেদের তৈরি করতে হবে। কি আর করা, ঢাকা থেকে জোকসের বই পাঠাতে বললাম। সজলের মুখ থেকে কথা কেড়ে নিয়ে ইশতিয়াক বললেন, জোকসের বই আমদানি করেও লাভ হলো না। কারণ, মীরাক্কেল ক্যাম্পে জোকসের বই নিষিদ্ধ। ফলে সব জোকস নিজেদের নতুন করে তৈরি করতে হলো। এটা যে কি পরিমাণ চ্যালেঞ্জিং একটা কাজ সেটা ভাবলে এখনও আঁতকে উঠি। নিজেদের ধন্যবাদ দেই আমরা সেই দুঃসময়টা অতিক্রম করতে পেরেছি। এদিকে রনি আর জামিল বলেন, মীরাক্কেলের ক্যাম্প লেকল্যান্ডের একটা রিসোর্টে। রিসোর্টের সামনে আছে বড় একটা পুকুর। আর পুকুর পাড়ে রয়েছে সারি সারি নারকেল গাছ। প্র্যাকটিসের সময় আমাদের সবার বসার জায়গা ওই নারকেল গাছের নিচে। নিজের খুশিমতো নারকেল গাছের নিচে বসলে হবে না। প্রত্যেকের জন্য আলাদা নারকেল গাছ বরাদ্দ রয়েছে। এর ব্যত্যয় ঘটানো যাবে না। আমরা ঘুমের জন্য সময় পাই রাতে মাত্র চার-পাঁচ ঘণ্টা। বাকি সময়টা আমরা সবাই মিলে আড্ডার মধ্যে থাকি। এ আড্ডার মধ্য দিয়েই নতুন নতুন ভাবনা আর জোকস তৈরি করে ফেলি যে যার মতো করে। এদিকে ‘মীরাক্কেল’ অনুষ্ঠানটির অন্যতম আকর্ষণ উপস্থাপক মীর। চার বাংলাদেশী তুর্কির কণ্ঠে মীর প্রসঙ্গে মন্তব্য এমন- এই মীরদাকে প্রথম প্রথম সবাই ভীষণ ভয় পেতাম। টিভিতে যে মানুষটিকে এতো হাশিখুশি দেখেছি, অথচ সেখানে যাওয়ার পর দেখলাম ঠিক তার উল্টোটা। জানলাম, ক্যামেরার পেছনে এলে মীরদা পুরো গুরুগম্ভীর হয়ে যান। মীর প্রসঙ্গে চার প্রতিযোগী সমস্বরে আরও বলেন, মীরাক্কেলের সব প্রতিযোগীকে মুহূর্তেই আপন করে নেয়ার একটা অসাধারণ ক্ষমতা রয়েছে মীরদার মধ্যে। তিনি আমাদের বটগাছের মতো ছায়া দিয়ে রাখেন। স্টেজের সামনে-পেছনে তার উৎসাহ এবং টিপস আমাদের এতদূর নিয়ে এসেছে। এদিকে ‘মীরাক্কেল’-এর তিন বিচারক রজতাভ দত্ত, শ্রীলেখা মিত্র ও পরান বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যাপারেও চারজনের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা ফুটেছে কথায় কথায়। মানবজমিনের সঙ্গে একান্ত আলাপ শেষে এই চার মীরাক্কেল তারকা বাংলাদেশের দর্শকদের অনুরোধ করেন তাদের জন্য দেশে বসেই এসএমএসে ভোট করার জন্য। তারা আবেদন জানান, বাংলাদেশ থেকে যে কোন মুঠোফোন থেকে ২২৩৩ নম্বরে যে কেউ ভোট দিতে পারবেন যত খুশি। সবার এসএমএস ভালবাসায় হয়তো আরও একধাপ এগুবেন এই হাসির চার ফেরিওয়ালা।

সুনজর প্রার্থনা...

স্টাফ রিপোর্টার: শুধু মডেলিং ও অভিনয় নয়, উপস্থাপনায়ও নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন। এসব পরিচয়ের পর তিনি সমপ্রতি রুপালি পর্দায় নাম লিখিয়েছেন। অভিনয়কে ভালবাসেন যারা, তাদের সবারই একটা স্বপ্ন থাকে একদিন চলচ্চিত্রে অভিনয় করবেন। তেমনি স্বপ্ন ছিল ফারাহ রুমারও। সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতেই তিনি রুপালি পর্দায় নাম লিখিয়েছেন। তবে এ সুযোগ নেয়ার আগে সময় নিয়েছেন প্রায় ১০টি বছর। উদ্দেশ্য ছিল চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য নিজেকে যোগ্য করে তোলা এবং মনের মতো গল্প আর চরিত্র নিয়ে চলচ্চিত্রে পা রাখা। অভিনয় ক্যারিয়ারের শুরু থেকে তিনি নিজের একটা দর্শন মেনে পথ চলছেন। ফারাহ রুমার ভাষ্য, আমি কখনও এমনটি চাইনি যে, আমাকে অনেক অনেক নাটকে অভিনয় করতে হবে, সব সময় টিভিপর্দায় নিজেকে দেখতে হবে। এ ভাবনা আমাকে কখনও তাড়া করেনি। আমি আসলে নিজেকে দেখতে চেয়েছি ভালও কাজের একজন অভিনেত্রী হিসেবে। অভিনয় ও মডেলিং দু’টিতেই কাজ করে সফল হয়েছেন ফারাহ রুমা। ‘পুত্র এখন পয়সাওয়ালা’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে রুপালি পর্দায় তার যাত্রা শুরু হয়েছে। নারগিস আক্তারের পরিচালনায় এ ছবিতে রুমার বিপরীতে নায়ক হিসেবে অভিনয় করেছেন ওমর আয়াজ অনি। সেই সঙ্গে অভিনয় করেছেন ববিতা। বর্তমানে ছবির শেষ লটের কাজ চলছে। চলচ্চিত্রে অভিনয় সম্পর্কে রুমা বলেন, অনেক দিন ধরে চলচ্চিত্রে কাজ করার ইচ্ছা ছিল। কিন্তু সেভাবে ব্যাটে-বলে মিল না হওয়ার কারণে অভিনয় করা হয়নি। তবে সিদ্ধান্তটি হঠাৎ করেই নেয়া হয়েছে। প্রথমবারের মতো চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছি ভেবে খুবই ভাল লাগছে। আর  গল্পটা অসাধারণ লেগেছে। তাছাড়া প্রথম ছবিতে নারগিস আকতারের মতো পরিচালকের সঙ্গে কাজ করতে পেরে নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করছি। ভবিষ্যতে চলচ্চিত্রে নিয়মিত হবেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, দর্শকরা আমার ছবি পছন্দ করলে অবশ্যই চলচ্চিত্রের মতো বড় মাধ্যমে কাজ করে যাবো। এর জন্য চিত্রপরিচালকদের সুনজর প্রার্থনা করছি। কারণ, চলচ্চিত্রে এযাবৎকাল কম অফার পাইনি। সমস্যা হলো গল্প ভাবনা আর নির্মাণ ভাবনা আমাকে টানেনি বলে সেসব চলচ্চিত্রে এতদিন কাজ করা হয়নি। সে জন্যই ভাল গল্প আর গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র নিয়ে শ্রদ্ধেয় চলচ্চিত্র পরিচালকদের আমার প্রতি সুনজর কামনা করছি।

তৃতীয় বিয়ের পরিকল্পনা করছেন ম্যাডোনা



বিনোদন ডেস্ক: তৃতীয় বিয়ের পরিকল্পনা করছেন পপসম্রাজ্ঞী ম্যাডোনা। সমপ্রতি একথা জানালেন তিনি নিজেই। ৫৩ বছর বয়সে এসেও ‘মি. রাইট’-এর অপেক্ষায় রয়েছেন পপসম্রাজ্ঞী। দুটি বিয়ে ও একাধিক পুরুষের সঙ্গে সম্পর্কের করার পরও এ জীবনে সঠিক মানুষটির অপেক্ষা এখনও তার শেষ হয়নি। এ প্রসঙ্গে ম্যাডোনা বলেছেন, এখনও ‘মি রাইট’-এর অপেক্ষায় আছি আমি। আর ১০ জন সাধারণ নারীর মতো আমার অবচেতন মনও এরকম একজন সঠিক পুরুষের স্বপ্নে বিভোর হয়ে আছে, যে আমাকে সুখের সমুদ্রে ভাসিয়ে নিয়ে যাবে এবং বাকিটা জীবন তার সঙ্গে অনেক সুখে কাটাবো আমি। ম্যাডোনা আরও বলেন, মনে হয় আমি মানুষ চেনায় বেশ ওস্তাদ। তবে এক্ষেত্রে কয়েকটি ভুলও করেছি। শন পেন ও গাই রিচির সঙ্গে বিয়ে ভেঙে যাওয়া এবং কয়েকটি  প্রেমের সম্পর্ক কাটিয়ে আসার পরও তৃতীয়বার বিয়ে করার পরিকল্পনা করছি আমি। বর্তমানে ফরাসি নৃত্যশিল্পী ২৪ বছর বয়সী ব্রাহিম জেইবাটের সঙ্গে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে প্রেম করছেন চার সন্তানের জননী ম্যাডোনা।

টেল এন্ড টিউনের আয়োজনে ‘কথা ও গান’

স্টাফ রিপোর্টার: বুধবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর সংগীত ও নৃত্যকলা মিলনায়তনে টেল এন্ড টিউনের উদ্যোগে ‘কথা ও গান’ নামে এক মনোরম সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। এটি ছিল টেল এন্ড টিউনের চতুর্থ আয়োজন। এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর সাবেক মহাপরিচালক ও টেল এন্ড টিউনের সভাপতি কামরুল হাসান এনডিসি, বিশিষ্ট নাট্যব্যক্তিত্ব খায়রুল আলম সবুজসহ অন্যান্য সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব। এ অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করেন দেশবরেণ্য নজরুলসংগীত শিল্পী ফেরদৌস আরা। এর বাইরে সংগীত পরিবেশন করেন জনপ্রিয় কৌতুক অভিনেতা ও সংগীত শিল্পী রেজাউল করিম হিটলু। এ অনুষ্ঠানে অংশ নেয়ার মাধ্যমে ফেরদৌস আরা টানা চতুর্থবারের মতো এ আয়োজনে সংগীত পরিবেশন করলেন। বেশ কয়েকটি নজরুলসংগীত ছাড়াও অনুষ্ঠানে হারানো দিনের গান ও আধুনিক গান পরিবেশন করে আগত অতিথিদের অন্যরকম এক ভুবনে নিয়ে যান ফেরদৌস আরা। গানের ফাঁকে ফাঁকে নজরুলের প্রতি ভালবাসার কথাও জানান দেন তিনি। এরপর বেশ কিছু গান পরিবেশন করেন রেজাউর করিম হিটলু। পাশাপাশি কয়েকটি কৌতুক পরিবেশন করে দর্শকদের আনন্দে মাতিয়ে রাখেন হিটলু। গান ও কৌতুকের ফাঁকে ফাঁকে অনুষ্ঠানে চলে মনোজ্ঞ নৃত্য পরিবেশনা। অনুষ্ঠানে বেশ কয়েকটি নৃত্য পরিবেশন করেন দেশের প্রথিতযশা নৃত্যশিল্পী তামান্না রহমান ও তাহনিনা ইসলাম ঝুমি। ‘কথা ও গান’ শীর্ষক এ অনুষ্ঠানটির মিডিয়া পার্টনার ছিল চ্যানেল আই। আর অনুষ্ঠানটির সার্বিক সহযোগিতায় ছিল বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী।

মার্কেটের দখল নিয়ে সংঘর্ষ, গুলিতে শিশু নিহত

মার্কেটের দখল নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ চলাকালে গুলিবিদ্ধ হয়ে এক শিশু নিহত হয়েছে। আহত হয়েছেন উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতিসহ অন্তত ৩০ জন। রাজধানীর উপকণ্ঠে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের পূর্ব আগানগর এলাকায় গতকাল বৃহস্পতিবার এ ঘটনা ঘটে।

‘পরিচালকদের শেয়ার কেনায় ছাড় নেই’

অর্থনৈতিক রিপোর্টার:  উদ্যোক্তা-পরিচালকদের শেয়ার কেনায় কোন ছাড় দেয়া হবে না বলে আবারও জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। ব্যবসায়ীদের এক প্রশ্নের জবাবে গতকাল তিনি একথা বলেন। তিনি জানান, বর্তমানে ১৫শ’ উদ্যোক্তা পরিচালক রয়েছে। তাদের ২% শেয়ার ক্রয়ের ক্ষেত্রে কোন সমস্যা নেই। সুতরাং এ ব্যাপারে কোন এক্সকিউজ শুনতে চাই না। এর আগে সেমিনারে ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে নীতিটি বাতিল করার অনুরোধ জানানো হয়। সেমিনারে পুঁজিবাজারের পরিপত্র জারির অস্থিরতা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটির নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষ রয়েছে তারা তাদের মতো করে যা ভালো মনে করে তাই করবে। এ ব্যাপারে তিনি কোন মন্তব্য করবেন না বলে সাংবাদিকদের জানান। গতকাল মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি আয়োজিত দেশের অর্থনীতি নিয়ে এক আলোচনা সভায় অর্থমন্ত্রী এ কথা বলেন। ডিসিশন অন ইকোনমিক সিচুয়েশন শীর্ষক ওই সেমিনারে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অর্থসচিব তারেক, এমসিসিআই সভাপতি অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল আমজাদ হোসেন চৌধুরীসহ আরও অনেকে। সেমিনারে মন্ত্রী বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন। এগুলোর মধ্যে রয়েছে বিদায়ী বছরের অর্থনৈতিক প্রাপ্তি, মূল্যস্ফীতি দুই অঙ্কের নিচে নামানোর পরিকল্পনা, বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আগামীতে করণীয়, বাজেট ঘাটতি কমানো, কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনে কয়লার ঘাটতি ইত্যাদি। এছাড়াও তিনি আইএমএফ’র অতিরিক্ত শর্তের  ব্যাপারেও সমালোচনা করেন। মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে মূল্যস্ফীতির হার দুই অঙ্কে রয়েছে। কিভাবে এটাকে এক অঙ্কে নামিয়ে আনা যায় সরকার সেই চেষ্টাই করছে। বর্তমানে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য। তিনি বলেন, এর আগে ১৯৮১ ও ২০০৪ সালে মূল্যস্ফীতির হার দুই অঙ্কে উঠেছিল। ’৮১ সালে মূল্যস্ফীতির হার ১৬% পর্যন্ত উঠেছিল এবং এটা বেশ অনেকদিন ছিল। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে দু’টি পদ্ধতি নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভর্তুকি তুলে দিয়ে বাজেট ঘাটতি কমানো ও বৈদেশিক সাহায্যের সঠিক ব্যবহার। অর্থমন্ত্রী বলেন, চলতি অর্থবছরে বাজেট ঘাটতির পরিমাণ জিডিপি’র ৫% পর্যন্ত লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

৩০ বছরে দেশে চায়ের উৎপাদন বেড়েছে দ্বিগুণ

স্টাফ রিপোর্টার: গত ৩০ বছরে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্য চায়ের উৎপাদন বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। সংখ্যার হিসেবে এর পরিমাণ শতকরা ৪৯ ভাগ। ১৯৮০ সালে বাণিজ্যিক ভাবে ৪০ মিলিয়ন কেজি চায়ের উৎপাদন হতো। আর ২০১০ সালে এসে তা ৫৮ দশমিক ১৬ মিলিয়ন কেজিতে পৌঁছেছে। একই ভাবে উৎপাদন বাড়ার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক উভয় বাজারেই তার চাহিদা বেড়েছে। তবে এই সময়ে উৎপাদনের তুলনায় চাহিদা বাড়ার হার কয়েকগুণ বেশি। তাই এখন রপ্তানি না করে চা আমদানি করতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। ১৯৮০ সালে ৯ দশমিক ১ মিলিয়ন কেজির চাহিদা ২০১০ সালে এসে দাঁড়িয়েছে ৬২ দশমিক ৯৮ মিলিয়ন কেজিতে। টি ট্রেডার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ জানিয়েছে, চাহিদা, উৎপাদন ও সরবরাহ বাড়ায় লাভের অঙ্কটাও সমান ভাবে বেড়েছে। এটি বাংলাদেশের অর্থনীতিতে যথেষ্ট ভালো অবদান রেখেছে। সংগঠনের কর্মকর্তারা অভিযোগ করেন, চাহিদা মেটাতে চায়ের আমদানিকে বাধাগ্রস্ত করতে একটি স্বার্থান্বেষী মহল তৎপর হয়ে উঠেছে। তারা আমদানি চায়ের উপর শতকরা ৬০ ভাগ শুল্ক সুরক্ষার উপর নতুন করে বর্ধিত কর বাড়াতে সরকারকে নানা ভাবে চাপ দিচ্ছে। সংগঠনের নিজস্ব প্যাডে নেতারা অভিযোগ করেন, চায়ের উৎপাদন কম অথচ চাহিদা বেশি হওয়ায় ঘাটতি রয়েছে। এ জন্য পণ্যটি আমদানি করা হয়। কিন্তু ওই মহল অধিক মুনাফা লাভের উদ্দেশে চক্রান্ত করছে। এটি চা ব্যবসাকে কঠিন পরিস্থিতির দিকে নিয়ে যাবে। তারা বলেন, চায়ের ক্রেতা ধনী-গরিব সবাই। কর বাড়লে সবার উপরই এর চাপ পড়বে। এটি অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

গণতন্ত্র বজায় রাখতে ঐক্যবদ্ধ হোন: আশরাফ

ওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম দেশের গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা নেওয়ার জন্য রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ ও গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
সৈয়দ আশরাফ বলেন, ‘গণতন্ত্র বিনষ্ট হলে সবার ক্ষতি হবে। আমাদের মধ্যে ভিন্নমত থাকতে পারে, কিন্তু গণতন্ত্রের ক্ষেত্রে কোনো দ্বিমত নেই। সুতরাং, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা রক্ষা করা সবার দায়িত্ব।’

সাংবাদিকদের মতামত নিয়েছে স্কিম কমিটি

পুঁজিবাজার ধসের কারণে যেসব বিনিয়োগকারী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তাদের ক্ষতিপূরণ দেয়ার লক্ষ্যে গঠিত বিশেষ স্কিম কমিটি সাংবাদিকদের মতামত নিয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি) কার্যালয়ে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের মতামত নেন আইসিবি চেয়ারম্যান ড. ফায়েকুজ্জামান। এ সময় স্কিম কমিটির সদস্য ড. শুভ্র কান্তি উপস্থিত ছিলেন। বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকরা এ সময় বিনিয়োগকারীদের অবস্থাসহ ক্ষতিপূরণের বিষয়ে তাদের মতামত তুলে ধরেন। এর আগে কমিটি সকল মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউসের কাছে মার্জিন ও নন মার্জিন হিসাবসমূহের তথ্য চেয়ে যে চিঠি ইস্যু করেছিল তা জমা দেয়ার সময় ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছিল। উল্লেখ্য, গত ১৮ই ডিসেম্বর প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের চিহ্নিত করতে গঠিত বিশেষ স্কিম কমিটি সকল মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউসের কাছে মার্জিন ও নন-মার্জিন হিসাবসমূহের তথ্য চেয়ে চিঠি ইস্যু করে। গত ৫ই ডিসেম্বর বিশেষ স্কিম কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় এবং ২৭শে নভেম্বর সরকারের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে পুঁজিবাজারের ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণে বিশেষ স্কিম তৈরির লক্ষ্যে ৬ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়।

একটি নম্বরে সব ব্যাংক বীমার বিরুদ্ধে অভিযোগ

অর্থনৈতিক রিপোর্টার: দেশের ব্যাংক ও আর্থিক খাতে আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষায় বাংলাদেশ ব্যাংকে ‘গ্রাহক স্বার্থ সংরক্ষণ কেন্দ্র’ উদ্বোধন করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় রাজধানীতে বাংলাদেশ ব্যাংকের মূল ভবনের ৫ম তলায় সম্মেলন কক্ষে এ সেবা কেন্দ্রের  উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান। এ সময় তথ্য কমিশনার সাদেকা হালিম, নাট্য ব্যক্তিত্ব মামুনুর রশীদ, দৈনিক প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক আবদুল কাইয়ুম এবং বিভিন্ন বেসরকারি ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। আতিউর রহমান বলেন, গ্রাহক স্বার্থ সংরক্ষণ কেন্দ্রের মাধ্যমে ব্যাংকিং সেবার মান আরও বাড়াতে চাই। এ সেবা কেন্দ্রের লক্ষ্যই হচ্ছে ব্যাংকের ওপর জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস দৃঢ় করা, ব্যাংক ও তার গ্রাহকের মধ্যে সুসম্পর্ক স্থাপন এবং সর্বোপরি উন্নত ও দক্ষ গ্রাহক সেবা নিশ্চিত করার মাধ্যমে ব্যাংকিং সেক্টরকে অধিকতর মানবিক করা। বেসরকারি ব্যাংক কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এখন জনগণের অভিযোগগুলো আমাদের কাছে সরাসরি আসবে। শুধু ব্যবসায়িক মুনাফার দিকে না তাকিয়ে সেবার মান বাড়ানো জন্য তাদের প্রতি আহ্বান জানান গভর্নর। পরে ১৬২৩৬ নম্বরে ফোন করে এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

কামরুজ্জামান বিজয়ী-ইভিএমে ভোট সোয়া ঘণ্টায় ফল by হারুন আল রশীদ, সুমন মোল্লা ও মনিরুজ্জামান

রসিংদী পৌরসভার উপনির্বাচনে মেয়র পদে কামরুজ্জামান বিজয়ী হয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল আটটা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত সব কেন্দ্রে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) মাধ্যমে ভোট গ্রহণ করা হয়। এর সোয়া ঘণ্টার মধ্যে বিকেল পাঁচটা ১৫ মিনিটে রিটার্নিং কর্মকর্তা আবদুল অদুদ আনুষ্ঠানিকভাবে বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করেন।

কষ্ট নেই মাশরাফির

স্পোর্টস রিপোর্টার: আফ্রিদি ও ক্রিস গেইলকে নিয়ে যেমন কাড়াকাড়ি শুরু হয়েছিল তেমন কাড়াকাড়ি দেখা গেলো বাংলাদেশের নাসির হোসেনকে নিয়েও। নবাগত নাসিরের এই দামের পরও সবার দৃষ্টি ছিল ‘নড়াইল এক্সপ্রেস’ মাশরাফির দিকে। তবে মাশরাফির ভক্তদের মনে অনেক জল্পনা-কল্পনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত হতাশই হতে হয়েছে। কেবল হতাশ নন তিনি। খুব কম মানুষই আছেন, যারা তাদের নিজের অনুভূতি লুকিয়ে রাখতে পারেন। মাশরাফি বিন মর্তুজাও কি তেমনই একজন? তা না হলে কেন তিনি বলবেন, ‘না, আমার কোন অনুভূতি নেই! তাকে নিয়ে ধারণা করেছিলেন হয়তো কমপক্ষে এক লাখ ডলারে এই ‘স্পিডস্টার’কে কিনে নেয়ার জন্য প্রতিযোগিতা হবে ছয় দলের মধ্যে। কিন্তু বাস্তবে সেটা আর হলো কই! এক লাখ তো দূরের কথা, এর অর্ধেক মূল্যও ধরা হয়নি ৩৬ টেস্ট, ১২০ ওয়ানডে ও ১৩ টি-২০ ম্যাচে যথাক্রমে ৭৮, ১৫১ ও ১০ উইকেটের মালিক ২৮ বছর বয়সী সাবেক বাংলাদেশের অধিনায়ক মাশরাফির ক্ষেত্রে! ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লীগ (আইপিএল)-এ খেলার অভিজ্ঞতাসম্পন্ন মাশরাফির বিষয়ে অংশ নেয়া ছয় দল যে এত কম আগ্রহ দেখাবে, এটা যেন অনেকটা অবাক করার মতোই ব্যাপার। ‘ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরস’ মাশরাফিকে কিনে নিয়েছে মাত্র ৪৫ হাজার ডলারের বিনিময়ে!

শাবিতে সকল পরীক্ষা স্থগিত, ছাত্রলীগের শো-ডাউন

সিলেট অফিস: শাহ্‌জালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে সঙ্কট আরও ঘনীভূত হচ্ছে। গতকাল একাডেমিক    পৃষ্ঠা ৫ কলাম ১
 কাউন্সিলের বৈঠকে ২৬শে জানুয়ারি পর্যন্ত পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে এবং বলা হয়েছে, এই সময়ের মধ্যে গঠিত তদন্ত কমিটি ছাত্রদের সব অংশের নেতার সঙ্গে বৈঠক করে শান্তিপূর্ণ সমাধানে যাবেন। এবং এরই মধ্য দিয়ে শিক্ষার পরিবেশ আবার স্বাভাবিক হবে। কিন্তু গতকাল ক্যাম্পাসে বিশাল শো-ডাউন করেছে ছাত্রলীগ। আর এই শো-ডাউন থেকে ছাত্রলীগ ক্যাম্পাসে শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ করেছে। অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি কর্তৃক গঠন করা কমিটিকে একপেশে বলে দাবি করেছে ছাত্রশিবির। ১১ই জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহ্‌পরাণ হলের কর্তৃত্ব নিয়ে শিবির ও ছাত্রলীগের সংঘর্ষকালে হলের ভেতরে ব্যাপক তাণ্ডব ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। এ ঘটনার পর ক্যাম্পাস ছাড়া ছাত্রশিবির ৩ দফা দাবিতে রোববার থেকে ক্যাম্পাসে ছাত্র ধর্মঘটের ডাক দেয়। ছাত্র ধর্মঘটের কারণে ৫ দিন ধরে ক্যাম্পাস খোলা থাকলেও কোন ক্লাস কিংবা পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। এরই মধ্যে শিবির বাসে হামলা এবং শহরের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালিয়ে আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। এ কারণে ক্যাম্পাসে সাধারণ শিক্ষার্থী আসতে ভয় পাচ্ছে বলে জানিয়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। গতকাল ক্যাম্পাসে গিয়ে দেখা গেছে, ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাসে অবস্থান করলেও শিবিরের কেউ নেই। বিশ্ববিদ্যালয় চালু থাকলেও ধর্মঘটের কারণে কোন ক্লাস ও পরীক্ষা হচ্ছে না। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে দিনভর একটার পর একটা বাস ছেড়ে গেলেও তাতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল কম। এবং প্রতিটি বাসই ছাড়ে পুলিশ প্রহরায়। এই পরিস্থিতি বেলা ১১টায় ভিসি’র নেতৃত্বে একাডেমিক কাউন্সিলের বৈঠক শুরু হয়। বৈঠকে সকল বিভাগের বিভাগীয় প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে বেরিয়ে এসে সমাজবিজ্ঞানের বিভাগীয় প্রধান ও বিএনপিপন্থি শিক্ষকের নেতা প্রফেসর কামাল আহমদ চৌধুরী মানবজমিনকে জানান, আমরা চাই ক্যাম্পাস সচল করতে। এখানে কর্তৃত্বের কোন বিষয় নয়। ভিসি আমাদের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন। আমরা তাকে সার্বিক সহায়তা করবো। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসে ফেরাতে উদ্যোগ নিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে না। পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক নাজিয়া চৌধুরী জানান, আমরা চাই শান্ত পরিবেশ। পরিবেশ স্বাভাবিক হতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যে উদ্যোগ নিবে তাতে আমরা সর্বাত্মক সহযোগিতা করবো। আর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ উপদেষ্টা আনোয়ারুল ইকবাল জানালেন, ভিসি যে কমিটি দিয়েছেন সে কমিটি সবার সঙ্গে কথা বলবে। এবং সবার মতামত নিয়ে ক্যাম্পাসকে স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। ওদিকে, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি নাঈম হাসান জানিয়েছেন, তারা সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দিতে প্রস্তুত। কোন অপশক্তি বিশ্ববিদ্যালয়কে অচল করতে চাইলে তাদের প্রতিহত করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের আহ্বায়ক শামসুজ্জামান চৌধুরী সুমন জানান, ১১ তারিখ রাতে ছাত্রশিবির ক্যাম্পাসে থাকতে পারবে না ভেবে হলে ব্যাপক লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করে। তিনি জানান, হলের ভেতরে জঙ্গি কার্যক্রমের প্রমাণ নস্যাৎ করতে তারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে। তবে ইসলামী ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মোজাহিদ রুমী গতকাল মানবজমিনকে জানান, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যে কমিটি গঠন করেছে তা একপেশে। তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে পুলিশ, র‌্যাব ও ছাত্রলীগ একসঙ্গে তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। এ পর্যন্ত তাদের ৩২ জন নেতাকর্মীকে আটক করেছে। তিনি বলেন, তারা অস্তিত্বে রক্ষার্থে শাহ্‌পরাণ হলে সহাবস্থান চাইবেন। তা না হলে কোনভাবেই এ ঘটনার নিষ্পত্তি হবে না। এদিকে, শাহ্‌জালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ করে শিবিরমুক্ত ক্যাম্পাস ঘোষণা করেছে ছাত্রলীগ। দুপুর ২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে মিছিল পরবর্তী সমাবেশে ছাত্রলীগ এ ঘোষণা দেয়। শিবিরের ডাকা ধর্মঘটের প্রতিবাদে দুপুরে শাহ্‌জালাল বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট জেলা ও মহানগর শাখা ছাত্রলীগ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এক প্রতিবাদ মিছিলের আয়োজন করে। মিছিল-পরবর্তী সমাবেশে জামায়াত-শিবিরকে প্রতিহত করার জন্য সর্বদলীয় ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ গঠনের দাবি ওঠে। শাবি ছাত্রলীগের আহ্বায়ক শামসুজ্জামান চৌধুরী সুমনের সভাপতিত্বে সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-সভাপতি নাঈম হাসান, সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি পঙ্কজ পুরকায়স্থ, সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেন খান, সিলেট মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি রাহাত তরফদার, সাধারণ সম্পাদক ইমরুল হাসান, শাবি শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক আসাদুজ্জামান আসাদ, কামরুজ্জামান খান সুইট, আতিকুর রহমান আতিক। শাহ্‌জালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল বিভাগের চূড়ান্ত পরীক্ষা আগামী ২৬শে জানুয়ারি পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে।  বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের ডাকা অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটে ক্যাম্পাসে অচলাবস্থা বিরাজ করায় বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলের এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় ৩ ঘণ্টাব্যাপী এ সভায় পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্ত হয়। তবে এ সময়ের মধ্যে সব ক্লাস ও দাপ্তরিক কাজ চলবে বলে রেজিস্ট্রার ইসফাকুল হোসেন জানান। আর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. সালেহউদ্দিন আহমদ মানবজমিনকে জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ স্বাভাবিক করতে পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে এবং যে কমিটি গঠন করা হয়েছে সে কমিটি ঘটনার নিষ্পত্তি করলে আবার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে জানান তিনি। ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেশ ও নির্দেশনা পরিচালক অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল ইসলামকে আহ্বায়ক করে ৭ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য  সদস্যরা হলেন- শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. কবির হোসেন, প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক হিমাদ্রি শেখর রায়, শাহ্‌পরাণ হলের প্রভোস্ট সহযোগী অধ্যাপক ড. মস্তাবুর রহমান, সৈয়দ মুজতবা আলী হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ, প্রথম ছাত্রী হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. নাজিয়া চৌধুরী, সিরাজুন্নেসা চৌধুরী হলের প্রভোস্ট সহযোগী অধ্যাপক ড. রোকসানা বেগম। ক্যাম্পাস শান্ত রাখতে এ কমিটি বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করবে বলে প্রক্টর হিমাদ্রি শেখর রায় জানান। এদিকে, সন্ত্রাস-দখলদারিত্বমুক্ত শিক্ষার গণতান্ত্রিক অধিকার ও সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবিতে প্রগতিশীল ছাত্রজোটের ব্যানারে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্র ইউনিয়ন ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট বৃহস্পতিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. মো. সালেহ উদ্দিন বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করেছে। শিবিরের প্রেস বিজ্ঞপ্তি: ছাত্রশিবির শাবিপ্রবি শাখার নেতাকর্মীদের ওপর ছাত্রলীগ কর্মীদের হামলা ও আবাসিক হলে শিবির নিয়ন্ত্রিত কক্ষগুলোতে ব্যাপক লুটপাটের ৯ দিনেও বৈধ ছাত্রদের হলে উঠানো এবং লুটপাটকারী সন্ত্রাসীদের বিচার প্রশাসন করতে পারেনি। দীর্ঘদিন পরে গত ১৮ই জানুয়ারি  বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র উপদেশ ও নির্দেশনা পরিচালক অধ্যাপক ড. মো: আনোয়ারুল ইসলামকে আহ্বায়ক করে ৬ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়ে। কমিটির সদস্যরা হলেন- অধ্যাপক ড. মো: কবির হোসেন, হিমাদ্রি শেখর রায়, অধ্যাপক ড. নিয়াজ, ড. মস্তাবুর রহমান, ড. নাজিয়া চৌধুরী এবং ড. রোকসানা বেগম। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক গঠিত কমিটি একটি বিতর্কিত কমিটি হিসেবে এর তীব্র প্রতিবাদ জানান শিবির নেতারা। কারণ হিসেবে তারা বলেন, গঠিত তদন্ত কমিটির বিষয়টি অপূর্ণাঙ্গ এবং টার্মস অব রেফারেন্স অসঙ্গতিপূর্ণ। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ ও গ্রহণযোগ্য এবং বিভিন্ন সময় যারা তদন্ত কমিটিতে সাফল্যে দেখিয়েছেন শিক্ষকদের কমিটিতে উপেক্ষা করা হয়েছে। তারা জানান, সংঘর্ষের ঘটনার সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত মদতদাতা শিক্ষকবৃন্দের কমিটিতে  রেখে একপেশে  কমিটিতে পরিণত করেছে। ছাত্রশিবির শাবিপ্রবি শাখার গঠিত কমিটির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানায় এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে এ কমিটি বাতিল করে সর্বজনীন ও গ্রহণযোগ্য কমিটি গঠনের দাবি জানায় তারা।

বাংলাদেশী যুবককে বিএসএফ’র নির্যাতন, ঢাকার প্রতিবাদ

কূটনৈতিক রিপোর্টার: বাংলাদেশী যুবককে বিবস্ত্র করে নির্মমভাবে পেটানোর ঘটনার পূর্ণ তদন্ত চেয়ে এর প্রতিবাদ জানিয়েছে ঢাকা। গতকাল সন্ধ্যায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দিল্লিতে   পৃষ্ঠা ৫ কলাম ৫
পাঠানো এক প্রতিবাদ পত্রে সীমান্তে এ ধরনের নৃশংস ঘটনা বন্ধে ভারত সরকারকে অনুরোধ জানায়। এদিকে ঢাকাস্থ ভারতীয় হাই কমিশন সূত্র জানিয়েছে, এ ঘটনার তদন্ত করতে ইতোমধ্যে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)কে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। স্থানীয় বিএসএফ কমান্ডারকে ঘটনাস্থল সরেজমিন পরিদর্শন করে তদন্ত প্রতিবেদ জমা দিতে বলা হয়েছে। বিএসএফের কয়েক জন জওয়ান বাংলাদেশের এক গরু ব্যবসায়ী তরুণকে বিবস্ত্র করে নির্মমভাবে পেটাচ্ছে এমন একটি ভিডিও চিত্র বুধবার ভারতের এনডিটিভিসহ কয়েকটি টেলিভিশনে প্রচারিত হয়। বিষয়টি ফাসের পর বিএসএফ সদর দপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট মহলে হইচই পড়ে যায়। প্রাথমিক অনুসন্ধানে ঘটনার সতত্যা নিশ্চিত হয়ে জড়িত ৮ সদস্যকে জওয়ানকে তাৎক্ষণিক বরখাস্ত করা হয়। অভিযুক্ত বিএসএফ জওয়ানদের বরখাস্তের ঘটনার প্রায় ১৬ ঘণ্টা পর  স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এডভোকেট সাহারা খাতুন জানিয়েছেন, সরকারের পক্ষ থেকে এ ঘটনার প্রতিবাদ পাঠানো হয়েছে। তার দাবি, বাংলাদেশের প্রতিবাদের পরিপ্রেক্ষিতেই জড়িত ৮ বিএসএফ জওয়ানকে বরখাস্ত করা হয়েছে। ঘটনাটি গত ৯ই ডিসেম্বর ঘটেছে বলে গণমাধ্যমে স্বীকার করেছে বিএসএফ কর্তৃপক্ষ। মোবাইল ফোনে ধারণ করা ওই ভিডিও চিত্রকে বিএসএফের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ভয়াবহ ও অমানবিক হিসেবে বর্ণনা করে দ্রুত তদন্ত এবং দোষী জওয়ানদের কঠোর সাজা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। স্থানীয় সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে এনডিটিভি বলছে, পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার কাহারপাড়া সীমান্ত তল্লাশি চৌকিতে নির্যাতনের ওই ঘটনা ঘটে। এনডিটিভির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ঘুষ দিতে রাজি না হওয়ায় ওই বাংলাদেশীকে নির্দয়ভাবে পেটায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী-বিএসএফের জওয়ানরা। তার জননাঙ্গে পেট্রোলও ঢেলে দেয়। নির্যাতনের পর ওই তরুণকে বাংলাদেশে পুশব্যাক করা হয়েছে। সীমান্তে বিএসএফের নির্যাতন বন্ধে দীর্ঘদিন ধরেই দাবি জানিয়ে আসছে বাংলাদেশ। বিএসএফের নির্যাতনের প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোও। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ-২০১০ সালের ডিসেম্বরে এক প্রতিবেদনে বলেছে, হত্যা এবং অন্য মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) বিচার হওয়া উচিত। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর হিসেবে, গত এক দশকে প্রায় এক হাজার বাংলাদেশী বিএসএফের গুলিতে নিহত হয়েছে। নির্যাতনের ঘটনা অসংখ্য। এক বছর আগে ফেলানী নামে এক কিশোরীকে বিএসএফ গুলি চালিয়ে হত্যা করলে তা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। গুলিবিদ্ধ ফেলানীর লাশ দীর্ঘক্ষণ কাঁটাতারের বেড়ায় ঝুলছিল।  সীমান্তে নির্যাতন বন্ধে দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রতিবাদ জানানোর পর সমপ্রতি বিএসএফকে প্রাণঘাতী নয়- এমন অস্ত্র দিয়েছে ভারত সরকার।
পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রতিবাদ: এদিকে ঘটনা ফাঁসের প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর গতকাল সন্ধ্যায় দিল্লির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ পাঠিয়েছে ঢাকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। প্রতিবাদ পাঠানোর পর সন্ধ্যা সোয়া ৭টায় পররাষ্ট্র দপ্তরের  বহিঃপ্রচার অণুবিভাগের মহাপরিচালক প্রেরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত বিএসএফ সদস্যদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির পাশাপাশি ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে সে ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে দিল্লিকে অনুরোধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ওই নির্যাতনের পূর্ণ তদন্ত চালানোর অনুরোধ করা হয়েছে। ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশন ও দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের মাধ্যমে বাংলাদেশের এ প্রতিবাদ ভারতের কাছে পাঠানো হয়েছে বলে পররাষ্ট্র দপ্তর সূত্র জানিয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি: বিএসএফ জওয়ানদের কবলে বাংলাদেশী তরুণ নির্যাতনের ঘটনায় বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিবাদ পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এডভোকেট সাহারা খাতুন। বৃহস্পতিবার দুপুরে ডেফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সটি অডিটরিয়ামে আয়োজিত ‘বাংলাদেশে তরুণ সমাজের মাদকাশক্তি প্রতিরোধ’ বিষয়ক সেমিনার শেষে সাংবাদিকদের বিভন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। তবে কবে এ প্রতিবাদ পাঠানো হয়েছে সে বিষয়ে কোনও তথ্য দিতে রাজি হননি তিনি। একইভাবে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রীয়ভাবে কোন দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে কি না সে বিষয়েও নিশ্চুপ ছিলেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের প্রতিবাদের পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি নিয়ে একজন ক্যাপ্টেনের নেতৃত্বে ভারত সরকার ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে। ঘটনাটি বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো জানতো কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উত্তর আগে দিয়েছেন বলে তা এড়িয়ে যান। নির্যাতিত যুবকের মুখে নৃশংসতার বর্ণনা
সীমান্তে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষা বাহিনী-বিএসএফ জওয়ানদের নির্যাতনের শিকার বাংলাদেশী যুবকটির সন্ধান মিলেছে। তিনি হলেন- চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার দুর্লভপুর ইউনিয়নের সতের রশিয়া গ্রামের সাইদুর রহমানের ছেলে হাবিবুর রহমান (২২)। গত ৯ই ডিসেম্বর রাজশাহীর পবা উপজেলার খানপুর সীমান্ত দিয়ে গরু আনার সময় বিএসএফের নির্যাতনের শিকার হন। চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার মনকষা বিওপিতে দায়িত্বরত বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের এক কর্মকর্তাও নিশ্চিত করেছেন, হাবিবুরই সেই যুবক। হাবিবুর গতকাল দুপুরে মনকষা বিওপি’র সামনে জানান, তিনি নিয়মিত গরু আনার জন্য রাজশাহী সীমান্ত পেরিয়ে ভারতের মুর্শিদাবাদ জেলায় যেতেন। গত ৯ই ডিসেম্বরও হাবিবুর রাজশাহীর পবা উপজেলার খানপুর সীমান্ত দিয়ে গরু আনতে যান।  সেখানে গরু না পেয়ে ফিরে আসার সময় ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর মুর্শিদাবাদ জেলার রানীনগর ক্যাম্পের জওয়ানরা তাকে ধরে ফেলে। হাবিবুর জানান, রাত ১১টার দিকে তাকে আটক করে মোবাইল ফোনসেট, টর্চ লাইট ও ১ হাজার টাকা দাবি করে বিএসএফ। এসব দিতে অসম্মতি জানালে জওয়ানরা একটি ট্রাক্টরে তুলে ক্যাম্পে নিয়ে যায়।  সেখানে ৬/৭ জওয়ান প্রায় ১ ঘণ্টা ধরে মারধর করে। সকালেও মারধর চলতে থাকে একপর্যায়ে আমার লুঙ্গিও খুলে নেয় তারা। মারের চোটে হাবিবুর জ্ঞান হারিয়ে ফেললে ক্যাম্পের কাছে একটি সরিষা  ক্ষেতে হাবিবুরকে ফেলে রাখে বিএসএফ জওয়ানরা। পরে জ্ঞান ফিরলে সীমান্ত পেরিয়ে দেশে ফেরেন হাবিবুর। বাড়িতে এসে গোপনে চিকিৎসা নেন বলে জানান তিনি। সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় হাবিবুর তার শরীরের ক্ষতচিহ্নগুলো দেখিয়ে বলেন, এর সবই বিএসএফের নির্যাতনের চিহ্ন। হাবিবুরের ওপর নির্যাতনের জন্য আট জনকে চিহ্নিত করে বরখাস্তের কথা জানিয়েছে বিএসএফ। তারা হলেন, কনস্টেবল বিরেন্দ্রর তিওয়ারি, ভিএস ভিক্টর, ধনঞ্জয় কুমার, আনন্দ সিং, অমর জ্যোতি, সঞ্জীব কুমার, সুরেশ চাঁদ ও সুনীল কুমার।

অস্ট্রেলিয়ান ওপেন-তৃতীয় রাউন্ডে জোকোভিচ

স্ট্রেলিয়ান ওপেনে কাল জিতেছেন হলিউডের এক উদীয়মান অভিনেতা। সিনেমার মতোই প্রতিপক্ষ সান্তিয়াগো জিরালডোকে একরকম দুমড়ে-মুচড়ে দিয়ে তৃতীয় রাউন্ডে উঠেছেন দি এক্সপেনডবলস ২ সিনেমায় অভিনয় করতে যাওয়া নোভাক জোকোভিচ। বিশ্বের ১ নম্বর তারকা ও অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন এই সার্বিয়ান জিতেছেন ৬-৩, ৬-২, ৬-১ গেমে।

বিজেএমসির সামনে সতর্ক মুক্তিযোদ্ধা

তিহাসের হাতছানি বিজেএমসির সামনে। এর আগে এককালের ঐতিহ্যবাহী দলটির কখনোই ফেডারেশন কাপের ফাইনালে ওঠা হয়নি। ‘পুনর্জন্ম’ হওয়া বিজেএমসি আজ সেই ফাইনালেই চোখ রেখে ফেডারেশন কাপের প্রথম সেমিফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে শক্তিশালী মুক্তিযোদ্ধার। জিতেই তারা নাম লেখাতে চায় ইতিহাসে। তবে ছয়বার ফেডারেশন কাপের ফাইনাল খেলা মুক্তিযোদ্ধার সঙ্গে কি পেরে উঠবে বিজেএমসি?

ঘুরে দাঁড়ালো পুঁজিবাজার

স্টাফ রিপোর্টার: আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেছেন, দেশে গণতন্ত্র না থাকলে সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই গণতন্ত্র রক্ষায় দলমত নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। সরকার উৎখাতে কিছু  সেনা কর্মকর্তার অভ্যুত্থানের চেষ্টার তথ্য প্রকাশের পর গতকাল সন্ধ্যায় তিনি এ আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে সৈয়দ আশরাফ বলেন, আমাদের মধ্যে ভিন্নমত থাকতে পারে। তবে গণতন্ত্রের প্রশ্নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। কারণ গণতন্ত্র ব্যাহত হলে সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই গণতন্ত্র সমুন্নত ও সাংবিধানিক ধারা অব্যাহত রাখতে হবে। তিনি বলেন, অতীতে ষড়যন্ত্র সফল হলেও বর্তমান বাংলাদেশে ষড়যন্ত্রকারীদের স্থান আর নেই। অভ্যুত্থানের চেষ্টা নস্যাৎ এবং তা প্রকাশের জন্য সেনাবাহিনীকে ধন্যবাদ জানান আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক। সেনা অভ্যুত্থানের ষড়যন্ত্রে জড়িতদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি বলেন, এর আগেও বিষয়টি নিয়ে অনেক কানাঘুষা চলছিল। এ ধরনের ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে যারা দেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে চায় সে যেই হোক আইনের আওতায় আনা হবে। কোন প্রকার ছাড় দেয়া হবে না। খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামী লীগের তৃণমুল নেতা-কর্মীদের সঙ্গে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর বৈঠকের বিষয় সাংবাদিকদের অবহিত করতে ডাকা সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আশরাফ বলেন, সেনাবাহিনীতে যে ঘটনা ঘটেছে তা তারা নিজেরা সমাধান করবে। আমরা আইএসপিআরের সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে ঘটনা জানতে পারলাম। সেনাবাহিনীর ওই ঘটনায় যারা পলাতক আছেন তাদের দ্রুত আত্মসমর্পণের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অন্যথায় তাদের কঠোর শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে। আশরাফ বলেন, দেশের মানুষ সংবিধান, গণতন্ত্র এবং আইনের শাসনে বিশ্বাস করে। আমরা সমালোচনা করতে করতে এমন অবস্থায় পৌঁছে যাই যে নিজেদের দায়িত্ব ভুলে যাই। এ সময় তিনি পাকিস্তানের উদাহরণ দিয়ে বলেন, তাদের গণতন্ত্র হুমকির মুখে। কিন্তু বাংলাদেশের গণতন্ত্র এখনো সমুন্নত। আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করার। সরকার যাবে সরকার আসবে, জনগণ তাদের ভোট দেবে এটাই গণতন্ত্রের মূল ধারা। এটা ব্যাহত হলে দেশ পৃথিবীর বুকে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হবে। গতকাল খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের বিষয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, বৈঠকে সাংগঠনিক, সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা এবং পার্বত্য শান্তিচুক্তিসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এরপর থেকে প্রধানমন্ত্রী সকল সাংগঠনিক জেলার নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। তিনি বলেন, এ মতবিনিময় সভা তৃণমূলের সংগঠনকে শক্তিশালী করা, সরকার এবং দল পরিচালনার জন্য সহায়ক হবে। সংবাদ সম্মেলনে দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, দপ্তর সম্পাদক আবদুল মান্নান খান, উপ-দপ্তর সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস, কেন্ত্রীয় নেতা সুজিত রায় নন্দী উপস্থিত ছিলেন।

বার্সেলোনা ২: ১ রিয়াল-এল ক্লাসিকো মানেই রিয়ালের হার!

লিওনেল মেসির চিপটা যেন রংধনু এঁকে বাঁক নিয়ে পড়ল অরক্ষিত এরিক আবিদালের কাছে। মেসিকে আটকানোর জন্য সর্বস্ব বিনিয়োগ করার মূল্য দিল রিয়াল মাদ্রিদ। বক্সের কোনায় সুযোগের অপেক্ষায় ওত পেতে থাকা আবিদালের নিখুঁত ফিনিশিং। ম্যাচের তখনো ১৫ মিনিটের মতো বাকি। কিন্তু বার্সেলোনা আর অপেক্ষায় থাকতে চাইল না।

তিন দিনে উড়ে গেল ইংল্যান্ড

ম্যাচে তখন দারুণ উত্তেজনা। দাঁতে দাঁত চেপে লড়ছে ইংল্যান্ডের শেষ জুটি। ম্যাচ বাঁচাতে নয়, ইনিংস পরাজয় এড়াতে! লড়াই চলছিল পাকিস্তানের দুই বোলারের মধ্যেও। ৫ উইকেটের হাতছানি উমর গুলের, ম্যাচে ১০ উইকেটের দোরগোড়ায় সাঈদ আজমল!

সবচেয়ে বেশি দাম আফ্রিদির

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে আফ্রিদি-গেইলদের বাড়তি কদর থাকাটাই স্বাভাবিক। বিপিএলের নিলামে পাকিস্তানের শহীদ আফ্রিদি ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিস গেইলের সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রি হওয়াটা তাই বড় কোনো চমক নয়। আফ্রিদিকে সাত লাখ ডলারে কিনেছে ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরস। পাঁচ লাখ ৫১ হাজার ডলারে গেইলের মালিক বরিশাল বার্নার্স।

অভ্যন্তরীণ নৌপথে পণ্য পরিবহন বৃদ্ধির সুপারিশ

ভ্যন্তরীণ নৌপথের মধ্য দিয়ে পণ্যবাহী কনটেইনার পরিবহন করা হলে খরচ ও সময় যেমন কমবে, তেমনি পণ্য জাহাজিকরণও সহজ হবে। দেশে আরও নৌ কনটেইনার টার্মিনাল গড়ে উঠলে চট্টগ্রাম বন্দরের ওপরও চাপ কমে আসবে।
‘অভ্যন্তরীণ নৌপথে আমদানি-রপ্তানি কনটেইনার পরিবহনের সম্ভাবনা ও ঝুঁকি’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর একটি হোটেলে এ সেমিনারের আয়োজন করে শিপরাইটস বাংলাদেশ লিমিটেড।

মেরিনটেক উদ্বোধনকালে শিল্পমন্ত্রী-জাহাজ নির্মাণশিল্পের নীতিমালা চূড়ান্ত হচ্ছে

শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া বলেছেন, জাহাজ-ভাঙাশিল্পের নীতিমালা হয়েছে। এখন জাহাজ নির্মাণশিল্পের জন্য নীতিমালা প্রণয়নের কাজ এগিয়ে চলেছে। শিগগিরই নীতিমালাটি চূড়ান্ত করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করে তিনি।জাহাজ নির্মাণসামগ্রী, প্রযুক্তি ও নৌস্থাপত্যের আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী ‘মেরিনটেক বাংলাদেশ’ উদ্বোধনকালে শিল্পমন্ত্রী গতকাল বৃহস্পতিবার এসব কথা বলেন।

বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি-সহায়ক প্যানেল চূড়ান্ত করেছে রাজস্ব বোর্ড

রাজস্বসংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তিতে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর) প্রথার সহায়তাকারী প্যানেল চূড়ান্ত করা হয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশন (এফবিসিসিআই) যৌথভাবে ১২ জনের এই প্যানেল তৈরি করেছে। আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে এডিআরের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু হচ্ছে।

মোশাররফের দেশে ফেরা বিলম্বিত হতে পারে

পাকিস্তানের সাবেক সামরিক শাসক পারভেজ মোশাররফ দেশে ফেরার পরিকল্পনা বিলম্বিত করতে পারেন। কারণ, দেশে ফিরলে তিনি বিপদে পড়তে পারেন। গতকাল বৃহস্পতিবার মোশাররফের একজন ঘনিষ্ঠ সহযোগী এ কথা জানিয়েছেন।

সিবিএস নিউজ/নিউইয়র্ক টাইমসের জরিপ-ওবামা-রমনি সমানে সমান

মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের এখনো প্রায় ১০ মাস বাকি। প্রেসিডেন্ট পদে প্রার্থী হতে বর্তমান বিরোধী দল রিপাবলিকান পার্টির মনোনয়নপ্রত্যাশীরা কেবল প্রাথমিক বাছাইয়ের লড়াইয়ে নেমেছেন। অবশ্য একটি ককাশ ও এক অঙ্গরাজ্যের প্রাথমিক বাছাইয়ে জিতে অন্যদের চেয়ে এগিয়ে গেছেন ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের সাবেক গভর্নর ধনকুবের মিট রমনি।

ইরানের সঙ্গে আলোচনায় বসছে পশ্চিমা শক্তি?

পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে শিগগির আলোচনা শুরুর জন্য বিশ্ব শক্তিগুলোর সঙ্গে তাদের যোগাযোগ চলছে বলে দাবি করেছে ইরান। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ওই দাবি নাকচ করে বলেছে, তেহরান যে আন্তরিকভাবে আলোচনার জন্য প্রস্তুত, এটা দেখার অপেক্ষায় আছে তারা।

ফের ময়নাতদন্তের জন্য ১৩ দিন পর লাশ তোলা হলো

হাইকোর্টের নির্দেশে দাফনের ১৩ দিন পর ফের গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে উত্তরা ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগের মেধাবী ছাত্রী নুসরাৎ জাহান মেঘনার লাশ কবর থেকে তোলা হয়েছে। এ সময় গাজীপুর জেলার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোসা. কামরুন্নাহারসহ স্থানীয় গণ্যমান্য লোকজন উপস্থিত ছিলেন। পরে পুলিশের সহায়তায় লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগে পাঠানো হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জে বাসচালক ও সহকারীকে লাঠিপেটা-পরিবহন-শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ, যাত্রী ভোগান্তি

নারায়ণগঞ্জে সহকারী পুলিশ সুপার ক অঞ্চলের (সার্কেল এএসপি) দেহরক্ষীর লাঠিপেটায় বাসচালক ও তাঁর সহকারী আহত হয়েছেন। এ ঘটনার প্রতিবাদে পরিবহন-শ্রমিকেরা আধাঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে রাখেন। এ সময় ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ হলে ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা। পরে পুলিশ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে সমাধানের আশ্বাস দিলে পরিবহন-শ্রমিকেরা অবরোধ তুলে নেন।

গাজীপুরে বাসচাপায় শ্রমিক নিহত-মহাসড়ক তিন ঘণ্টা অবরুদ্ধ ভাঙচুর, পুলিশসহ আহত ২০

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের গাজীপুর সদর উপজেলার বড়বাড়ী এলাকায় গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে বাসচাপায় একজন পোশাকশ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। তাঁর নাম শিউলী আক্তার (২০)। তিনি ছিলেন স্থানীয় বেস্ট শার্ট কারখানার সুইং অপারেটর এবং ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা থানার চণ্ডীমণ্ডল গ্রামের শামসুল হকের মেয়ে। শ্রমিক নিহতের জের ধরে বিক্ষুব্ধ স্থানীয় শ্রমিকেরা প্রায় তিন ঘণ্টা ওই মহাসড়ক অবরোধ করে অর্ধশতাধিক গাড়ি ভাঙচুর ও দুটিতে অগ্নিসংযোগ করেন।

বরিশালে নৌ-দুর্ঘটনা লঞ্চ ও পন্টুনের ক্ষতি

ঢাকা-বরিশাল নৌপথে চলাচলকারী বিলাসবহুল যাত্রীবাহী লঞ্চ সুন্দরবন-৮-এর ধাক্কায় একই পথে চলাচলকারী পারাবত-২ লঞ্চের ক্ষতি হয়েছে। ভেঙে গেছে বরিশাল নদীবন্দরের পন্টুন, পন্টুন বেঁধে রাখার বড় থাম ও গ্যাংওয়েসহ বিভিন্ন স্থাপনা। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে নয়টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

তিন দিনেও মৃত্যুর কারণ জানা যায়নি!

হুতল ভবন থেকে নিচে পড়ে বেসরকারি ব্যাংক কর্মকর্তা এনামুল হক ওরফে রতনের (৪৫) মৃত্যুর কারণ তিন দিনেও উদ্ঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। পরিবারও এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ করেনি। গত ১৬ জানুয়ারি সকালে মতিঝিলের দিলকুশায় আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের নয়তলা ভবন থেকে নিচে পড়ে মারা যান ব্যাংকটির ফার্স্ট অ্যাসিসট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট (এফএভিপি) এনামুল হক।

রেলের উন্নয়নে প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছা

রেলকে বেসরকারীকরণ নয়, সরকারের অধীনে রেখেই এর যাত্রীসেবা বাড়াতে হবে। রেলের উন্নয়নে নেওয়া উদ্যোগগুলোর ধারাবাহিকতা রাখতে হবে। এর জন্য রাজনৈতিক সদিচ্ছা দরকার। রেলকে শক্তিশালী করা গেলে দেশের দারিদ্র্য বিমোচন কার্যক্রমও গতি পাবে।

মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান বললেন-গোলাম আযমকে জেলহাজতে পাঠানো হচ্ছে না কেন?

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বলেছেন, গোলাম আযমকে হাসপাতালে রাখার প্রয়োজন নেই—মেডিকেল বোর্ডের এমন ঘোষণার পরও তাঁকে জেলহাজতে পাঠানো হচ্ছে না কেন? তিনি বলেন, গোলাম আযমকে হাসপাতালে রেখে ফলমূল না খাইয়ে কারাগারে পাঠানো হোক।

ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের আহ্বান খালেদা জিয়ার

বিচ্ছিন্নভাবে নয়, ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলন করার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। ‘জাতীয় শিক্ষক দিবস’ উপলক্ষে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় খালেদা জিয়া এই আহ্বান জানান। তিনি আগামী ১২ মার্চ ঢাকায় চারদলীয় জোটের মহাসমাবেশে যোগ দিতে শিক্ষকসহ সব পেশাজীবীর প্রতি আহ্বান জানান।

চারদিক-‘বাবার চোখে যুদ্ধ লেগে আছে’

মাদের বাবা প্রচারবিমুখ সাহসী, দৃঢ়চেতা স্পষ্টভাষী একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। তাঁর নাম বললেই আপনারা চিনে যাবেন, যাঁকে বন্ধুবান্ধব আত্মীয়-পরিজন সবাই ’কমল’ নামে চেনে। হ্যাঁ, কমল সিদ্দিকী বীর উত্তম; যদিও বাবার পোশাকি নাম একটা আছে। সেই নাম মাসরুর-উল-হক সিদ্দিকী। এই নাম শুধু সরকারি কাগজপত্রে ও পাসপোর্টে। মুক্তিযুদ্ধ আমাদের গৌরব, আমাদের অহংকার। আমাদের দুই বোনের জন্য আরও বেশি গৌরবের।

আন্তরাষ্ট্র সংযোগ-ভারতের জন্য ট্রানশিপমেন্ট, নাকি ট্রানজিট? by মাহবুবুর রহমান

মাদের এই অঞ্চলে বাংলাদেশের রয়েছে অভিনব ভৌগোলিক অবস্থান। ব্যাপকতর আঞ্চলিক বাণিজ্য সম্প্রসারণে আমাদের এ অবস্থান সুদৃঢ় করা প্রয়োজন। এ জন্য চাই অবকাঠামো ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সুবিধা। বাংলাদেশ সরকার শুধু ভারত, নেপাল ও ভুটানের জন্য নয়, চীন ও মিয়ানমার এবং আরও দূরের দেশগুলোর জন্যও বহুমাত্রিক পরিবহন-সংযোগ গড়ে তুলতে সচেষ্ট রয়েছে। ব্যবসায়ী সমাজ সরকারের এ ধরনের দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে সম্পূর্ণ একমত। তবে এর বাস্তবায়ন-প্রক্রিয়া নিয়ে কিছু সতর্কতা প্রয়োজন। এটা ঠিক যে, দক্ষিণ এশিয়া বিশ্বের অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল ও উন্মুক্ত অর্থনৈতিক অঞ্চল। কিন্তু এখানকার দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক বাণিজ্য খুবই কম—তাদের মোট বাণিজ্যের মাত্র পাঁচ শতাংশ। অথচ আসিয়ান দেশগুলোর আন্তবাণিজ্য তাদের মোট বাণিজ্যের ২৬ শতাংশ, নাফটায় ৫২ শতাংশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নে ৫৮ শতাংশ।
বাংলাদেশ ও তার নিকট-প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে সীমিত মাত্রার আঞ্চলিক বাণিজ্যের কারণে সংশ্লিষ্ট সব দেশই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই অঞ্চলভিত্তিক অর্থনৈতিক বিকাশে তাদের সম্ভাবনা অনেকাংশে অব্যবহূত রয়ে গেছে। অথচ আজকের প্রতিযোগিতামূলক বিশ্ব অর্থনীতিতে পরিবহনখরচ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নির্ধারক হিসেবে বিবেচিত হয়। যেকোনো পর্যায়ে অর্থনৈতিক একীভূতকরণে সমন্বিত ও সুদক্ষ ভূতল পরিবহন (সড়ক ও রেল) নেটওয়ার্ক অপরিহার্য। দক্ষিণ এশিয়ার পরিবহনব্যবস্থা একীভূতকরণে অপূর্ণতা থাকায় এখানে ব্যবসা-বাণিজ্যে পরিবহনব্যয় অনেক বেশি, যা মোট মূল্যের ১৩ থেকে ১৪ শতাংশ, যুক্তরাষ্ট্রে যা মাত্র আট শতাংশ।
২০১০ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে স্বাক্ষরিত যুক্ত ইশতেহার অনুযায়ী ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর সঙ্গে ভারতের মূল ভূখণ্ডের সরাসরি সংযোগ স্থাপনের লক্ষ্যে বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে ট্রানজিট প্রদানের সমঝোতা হয়।
তবে এই ট্রানজিট বাস্তবায়নের আগে অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, আন্ত-আঞ্চলিক উন্নয়ন কৌশল নিবিড়ভাবে পর্যালোচনার প্রয়োজন রয়েছে। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে অভিন্ন নদ-নদীর পানি বণ্টন ও সমুদ্রসীমা এবং স্থল সীমান্ত চিহ্নিত করার সমস্যা ছাড়াও জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু ইস্যু এখনো অমীমাংসিত রয়ে গেছে। প্রতিবেশী দেশগুলোকে ট্রানজিটসুবিধা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়ার প্রক্রিয়ায় এসব অনিষ্পন্ন বিষয়ও বিবেচনায় নিতে হবে।
কোনো কোনো বিশেষজ্ঞ মহল মনে করে, গত সেপ্টেম্বরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের ঢাকা সফরের সময় ট্রানজিট চুক্তি সই না হওয়া বাংলাদেশের জন্য আশীর্বাদস্বরূপ হয়েছে। এতে করে সরকার পুরো বিষয়টি আবার পুনর্বিবেচনা করার জন্য পর্যাপ্ত সময় পাবে এবং চুক্তির ইতিবাচক ও নেতিবাচক দিকগুলো পর্যালোচনা করতে পারবে।
ট্রানজিটসুবিধা ভারতের ‘সেভেন সিস্টার্স’ নামে পরিচিত উত্তর-পূর্ব সাতটি রাজ্যের জন্য অনেক বেশি সুবিধা বয়ে আনবে। এর ফলে পণ্য পরিবহনে দূরত্ব ও সময় প্রায় তিন ভাগের এক ভাগে নেমে আসবে এবং একই কারণে পরিবহনখরচও প্রচুর সাশ্রয় হবে। এ ব্যবস্থায় ভারতের উৎপাদনকারীরা তাদের পণ্যগুলো ওই রাজ্যগুলোতে অনেক কমমূল্যে বিক্রি করতে পারবে। কিন্তু বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা পূর্ব ভারতে তাদের ব্যবসা বাড়ানোর সুযোগ হারাবে।
বিভিন্ন সময় বলা হয়েছে, ভারতকে ট্রানজিটসুবিধা দিয়ে বাংলাদেশ ট্রানজিট ফি ও আনুষঙ্গিক মাশুল হিসেবে প্রতিবছর শত শত মিলিয়ন ডলার আয় করবে। কিন্তু সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সাম্প্রতিক এক গবেষণায় উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশ যদি ভারতকে ট্রানজিটসুবিধা দেয় তাহলে ৩০ বছরে মাত্র ২৮০ কোটি ডলারের মতো আয় আশা করতে পারে। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য যে বিনিয়োগের প্রয়োজন হবে তার তুলনায় এটা একেবারেই নগণ্য।
ট্রানজিটব্যবস্থায় পণ্য পরিবহনের জন্য বিদ্যমান অবকাঠামো সুবিধার উন্নয়ন ও নতুন সুবিধা গড়ে তুলতে বাংলাদেশকে প্রায় ৭০০ কোটি ডলার ব্যয় করতে হবে বলে বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশনের আওতায় কোর কমিটির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এই অর্থ ব্যয়ের প্রধান খাতগুলো হবে সড়ক ও রেলপথ এবং চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দরের উন্নয়ন। রক্ষণাবেক্ষণ খাতেও প্রচুর অর্থ ব্যয় করতে হবে। এ ধরনের বিনিয়োগ থেকে বাংলাদেশ প্রথম পাঁচ বছরের প্রতিবছরে আনুমানিক মাত্র পাঁচ কোটি ডলার আয় করবে। তবে দীর্ঘ মেয়াদে তা ১০০ কোটি ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের প্রতিবেদনে প্রাক্কলন করা হয়েছে। সে ক্ষেত্রে উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলোর অর্থনৈতিক উন্নয়ন তথা অধিক পরিমাণে পণ্য কেনার ক্ষমতাও বাড়তে হবে।
অবকাঠামো নির্মাণসহ প্রয়োজনীয় কাজ শুরু হলে প্রকৃত মূলধন বিনিয়োগ প্রাথমিক হিসাবের চেয়েও বেশি হবে বলে মনে করা হচ্ছে। পদ্মা সেতুর নির্মাণব্যয়ের দিকে তাকালে এটা স্পষ্ট হবে। ২০০৭ সালে একনেকের সভায় ব্যয় হিসাব করা হয়েছিল ১০ হাজার ১৬২ কোটি টাকা (প্রায় ১৫০ কোটি ডলার)। কিন্তু চার বছর পর ২০১১ সালের জানুয়ারিতে ব্যয় হিসাব করা হয় প্রায় দ্বিগুণ—২০ হাজার ৫০৭ কোটি টাকা (২৯৩ কোটি ডলার)। এটাও মনে রাখতে হবে, সেতুর নির্মাণকাজ এখনো শুরুই হয়নি!
সড়ক অবকাঠামো উন্নয়নের প্রক্রিয়ায় বিদ্যমান মহাসড়ক সম্প্রসারণ ও নতুন সড়ক নির্মাণই শুধু নয়, প্রকল্প এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত অনেক লোকের পুনর্বাসনেরও ব্যবস্থা করতে হবে। বহু কৃষি জমিও হারাতে হবে, যা ইতিমধ্যেই নতুন নতুন আবাসন, শিল্প স্থাপন ও অবকাঠামো উন্নয়নের কারণে সংকুচিত হয়ে আসছে। এ কারণে সরকারের উচিত হবে সার্বিক বিষয়টি পর্যালোচনার জন্য কোনো আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেওয়া। তাদের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পরই বিশেষজ্ঞ পর্যায়ে পর্যালোচনা সাপেক্ষে কেবল ট্রানজিট বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে।
যখন থেকে বিশ্বব্যাপী দেশগুলোর সীমানার বাইরে বাণিজ্য সম্প্রসারিত হয়েছে তখন থেকেই পণ্য পরিবহনে ট্রানশিপমেন্ট পদ্ধতির ব্যবহার শুরু হয়েছে। এমতাবস্থায়, ট্রানশিপমেন্ট চুক্তি হলে ভারতের প্রত্যাশিত ট্রানজিটসুবিধার বিষয়ে একটি আশু সমাধান হবে। ট্রানশিপমেন্টের মাধ্যমে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রচুর কর্মসংস্থান সৃষ্টিসহ বিভিন্ন মাত্রার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পাবে, ব্যবসার সুযোগ বাড়বে ও নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি বহুলাংশে হ্রাস পাবে। ট্রানজিটের ক্ষেত্রে এ ধরনের ব্যাপক অর্থনৈতিক মুনাফা থেকে বাংলাদেশ বঞ্চিত হবে।
মোদ্দা কথায় বলতে গেলে ‘ট্রানজিট’ হচ্ছে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া সম্পত্তি ‘ভাড়া’ খাটিয়ে জীবিকা নির্বাহ করা। আর ‘ট্রানশিপমেন্ট’ হচ্ছে শিল্প-কলকারখানা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড, কর্মসংস্থান ও সম্পদ সৃষ্টি এবং দেশের ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে বিনিয়োগ করা।
ভারত সড়ক, রেল ও জলপথে তার উত্তর-পূর্বাংশের রাজ্যগুলোতে বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে যাওয়ার জন্য ট্রানজিটসুবিধা চাইছে। ভারত ইতিমধ্যে নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে বাংলাদেশের রেল ও সড়কপথে যোগাযোগের সুবিধাও ঘোষণা করেছে। এখন বলা হচ্ছে, নেপাল ও ভুটানকে ট্রানজিটসুবিধা দিয়েও বাংলাদেশ যথেষ্ট পরিমাণে রাজস্ব আয় করতে পারবে। কিন্তু এ তথ্যও জানা জরুরি যে, ভুটানের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ২০০ কোটি ডলারের কম এবং নেপালের অর্থনীতিও তেমন উন্নত নয়। তা ছাড়া তাদের সার্বিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ভারতের ওপর নিবিড়ভাবে নির্ভরশীল। নেপাল ও ভুটান থেকে প্রচুর পরিমাণ পণ্য বাংলাদেশের ওপর দিয়ে বাইরের অন্য দেশে রপ্তানি হবে—এমনটি আশা করা যায় না। কারণ তাদের দেশীয় পণ্য উৎপাদন তেমন বেশি নয়। তাদের আমদানির পরিমাণও সীমিত।
কারও কারও ধারণা, ট্রানশিপমেন্ট প্রক্রিয়া জটিল এবং পরিবহনখরচ ও সময় বেশি লাগবে। কিন্তু সারা বিশ্বে আধুনিক পরিবহন কনটেইনারের মাধ্যমেই হয়ে থাকে এবং এ ক্ষেত্রেও কনটেইনারের কোনো বিকল্প নেই। এ ব্যবস্থায় চোরাচালান রোধ ও পণ্য পরিবহনে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাবে। সীমান্তে এক ট্রাক থেকে আরেক ট্রাকে পণ্যবাহী কনটেইনার স্থানান্তরের সহজ উপায় বের করতে সমস্যা হওয়ার কোনো কারণ নেই। প্রয়োজনে বাংলাদেশি ট্রাক ভারতের ওয়্যারহাউসে গিয়ে পণ্য এনে তা বাংলাদেশের ভূখণ্ড অতিক্রম করে ভারতের আরেক অংশে পৌঁছে দিতে পারে। রেলে মালামাল পরিবহনের ক্ষেত্রেও একই পদ্ধতি অনুসরণ করা যায়।
বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) এক গবেষণায় কে এ এস মুরশিদ দেখিয়েছেন, ট্রানজিট থেকে বাংলাদেশের প্রত্যক্ষ লাভ আসলে সীমিত। শুধু রেল সংযোগের মাধ্যমেই তা কিছুটা অর্থবহ হতে পারে। আর তা কার্যত ট্রানশিপমেন্ট। ট্রানজিটবিষয়ক কোর কমিটিও প্রাথমিকভাবে তিন বছরের জন্য ট্রানশিপমেন্ট দেওয়ার সুপারিশ করেছে।
১৯৯২-৯৪ সালে আমি বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) সভাপতির দায়িত্ব পালন করছিলাম। তখন একবার ভারতের তৎকালীন বাণিজ্যমন্ত্রী প্রণব মুখার্জি (বর্তমানে অর্থমন্ত্রী) ঢাকা সফরে এলে দুই দেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণের বিষয়ে তাঁর সঙ্গে ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের এক আনুষ্ঠানিক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় আমি ভারতীয় ট্রানজিটের প্রস্তাবের বিপরীতে ট্রানশিপমেন্টের মাধ্যমে উত্তর-পূর্ব ভারতে তাদের পণ্য পরিবহনের প্রস্তাব করি। এ কারণে তখন একটি সংবাদপত্রে আমার কঠোর সমালোচনা করা হয়। আমার জন্য সন্তোষের বিষয় এই যে, সিপিডির চেয়ারম্যান অধ্যাপক রেহমান সোবহানও সম্প্রতি ট্রানজিটের পরিবর্তে ট্রানশিপমেন্টের যৌক্তিকতা বিবেচনার পরামর্শ দিয়েছেন।
আমি মনে করি, ট্রানজিট ধারণা পুনর্বিবেচনা করা একান্ত প্রয়োজন। বাংলাদেশকে ভারতের সঙ্গে ট্রানশিপমেন্টের বিষয়ে সমঝোতায় আসতে হবে এবং এভাবেই ভারত তার উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে সহজে পণ্য পরিবহনের সুবিধা ভোগ করবে।
ইতিমধ্যে সংবাদপত্রের খবরে আমরা জেনেছি যে, আশুগঞ্জ নদীবন্দর ব্যবহার করে ভারতকে ট্রানজিটসুবিধা প্রদানের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে! আমরা আরও জেনেছি, আমাদের ভূখণ্ড অতিক্রম করার সময় বাংলাদেশি রপ্তানি পণ্যের চেয়ে ভারতীয় পণ্যবাহী পরিবহন অগ্রাধিকার পেয়ে থাকে। এ ধরনের ঘটনা আমাদের জন্য বিশেষভাবে উদ্বেগজনক।
ভারতকে ট্রান্সশিপমেন্ট বা ট্রানজিটসুবিধা প্রদানের বিষয়টি মোটেই সহজ নয়। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত পেশাজীবী ও পরামর্শকদের কাজে লাগাতে হবে। আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ট্রানশিপমেন্ট/ট্রানজিটের আইনি, প্রশাসনিক ও লজিস্টিক বিষয়েও যথাযথ পর্যালোচনা জরুরি।
মাহবুবুর রহমান: সভাপতি, ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স (আইসিসি)-বাংলাদেশ।