Friday, September 6, 2013
যুক্তরাষ্ট্রকে পুতিনের হুশিয়ারি
ওবামাকে হিলারির সমর্থন : সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি রডহ্যাম ক্লিনটন বলেছেন, তিনি প্রেসিডেন্ট ওবামার সিরিয়া হামলাকে সমর্থন করেন। তবে এর আগে সিরিয়ায় সামরিক হামলার বিষয়ে মুখে কুলুপ এঁটে ছিলেন তিনি। মঙ্গলবারই প্রথম এ বিষয়ে মুখ খুলে সিরিয়ায় সামরিক হামলার ওবামার পরিকল্পনাকে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় সমর্থন জানান। বুধবার এ খবর জানিয়েছে অনলাইন টেলিগ্রাফ।
পোকার খেলছিলেন ম্যাককেইন!
মার্কিন সিনেটে সিরিয়া-বিষয়ক শুনানির সময় স্মার্ট ফোনে পোকার খেলছিলেন রিপাবলিকান দলের সিনেটর জন ম্যাককেইন! খবর এএফপির। প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, মঙ্গলবার মার্কিন প্রশাসন সিনেট সদস্যদের নিয়ে যখন রাসায়িক হামলা চালানোর অভিযোগে সিরিয়ায় বোমা নিক্ষেপের পরিকল্পনা করছেন, ম্যাককেইন তখন তার আইফোনে একমনে পোকার খেলছেন। ওয়াশিংটন পোস্টের ফটোগ্রাফার ম্যাককেইনের পোকার খেলার ওই ছবি ইন্টারনেটে পোস্ট করার পর ম্যাককেইনের টনক নড়েছে। তিনি অবশ্য এ ঘটনাকে উড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করছেন। এ ঘটনাকে ‘স্ক্যান্ডাল!’ লিখে টুইটও করেছেন তিনি। কিন্তু তা হলে কি হবে, এরইমধ্যে ওই ছবিটি হাজারবার রি-টুইট করা হয়েছে টুইটারে।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সিরিয়া ঘিরে ফেলেছে মার্কিন সামরিক শক্তি
অ্যাকরোতিরি বিমান ঘাঁটি
এই ঘাঁটি থেকে পশ্চিমাদের যৌথবাহিনী সিরিয়ার লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে খুব সহজেই। সোমবার থেকে এখানে হামলার জন্য তোড়জোড় শুরু হয়েছে। সামরিক পরিবহনের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ইউরোপ থেকে আসা জেট বিমান এখানে অহরহ অবতরণ করতে পারে। ঘাঁটিটি ব্রিটিশ নৌসেনাদের অধীনে। সিরিয়া থেকে এটি ১০০ কিলোমিটারের চেয়ে কম দূরত্বে অবস্থিত।
ইনসারলিক বিমান ঘাঁটি
এটি যুক্তরাষ্ট্রের ৩৯তম বিমান ঘাঁটির একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গঘাঁটি। এখানে রয়েছে ৫ হাজার মার্কিন নৌসেনা। সিরিয়ায় আগ্রাসনে এর ভূমিকা অনেক গুরুত্বপূর্ণ।
মার্কিন নৌবাহিনীর রণতরী
ইউএসএস মাহান : আরলেইহ ব্র“ক শ্রেণীর ডেস্ট্রয়ার ডিডিজি-৭২ যা টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে সজ্জিত। টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র সহজেই সিরিয়ায় আঘাত আনতে সক্ষম। ২০১১ সালে লিবিয়ার স্বৈরশাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফিকে হটাতে ন্যাটো পরিচালিত ‘অপারেশন ইউনিফায়েড প্রটেক্টর’ অভিযানে নৌ-রণতরী ইউএসএস মাহান ব্যবহার করা হয়। জিব্রাল্টার প্রণালি হয়ে সরাসরি ভূমধ্যসাগরে এ ডেস্ট্রয়ার রণতরীটি প্রবেশ করলেও সিরিয়া হামলায় সম্ভবত এটি ব্যবহৃত হবে না।
ইউএসএস গ্রেভলি : ইউএসএস মাহানের মতো ইউএসএস গ্রেভলিও আরলেইহ ব্র“ক শ্রেণীর ডেস্ট্রয়ার। ডিডিজে-১০৭ ডেস্ট্রয়ার এটি। রণতরীটি টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র বহন ও নিক্ষেপে সক্ষম। ২০১০ সালে এ যুদ্ধ জাহাজটি কমিশন লাভ করে। এটি যুক্তরাষ্ট্রের ‘ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্র“প টু’র অন্তর্ভুক্ত। সিরিয়ায় আঘাতে ব্যবহৃত হতে পারে গ্রেভলি।
ইউএসএস ব্যারি : এটিও আরলেইহ ব্র“ক শ্রেণীর ডিডিজে-৫২ ডেস্ট্রয়ার। এ রণতরীটি থেকেও টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে সিরিয়ায় হামলা চালানো সম্ভব। ২০১১ সালে ‘অপারেশন অডেসি ডন’র আওতায় গাদ্দাফির আকাশ প্রতিরক্ষা গুঁড়িয়ে দিতে ইউএসএস ব্যারি থেকে ৫৫টি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়।
মার্কিন সাবমেরিন : পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে আঘাত হানতে ওস্তাদ মার্কিন সাবমেরিনগুলো। এরই মধ্যে ভূমধ্যসাগরে সাবমেরিন মোতায়েন করা হয়েছে। ১৬শ’ কিলোমিটার দূরের কোনো লক্ষ্যবস্তুতে টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে আক্রমণ করতে সক্ষম এ সাবমেরিনগুলো।
ইউএসএস স্যান অ্যান্টানিও : দ্বৈত্যাকার এ উভচর জাহাজটি ৩০০ মেরিন ও দূরবর্তী যোগাযোগের সরঞ্জাম বহন করতে সক্ষম। এটি ভাসমান ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। বিশেষ অভিযানে এটি সাময়িক ঘাঁটির কাজও করতে পারে।
কেএএসওটিসি : এ বছরের জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও জর্ডান যৌথ সামরিক মহড়া চালায় জর্ডানের ‘কিং আবদুল্লাহ-২ স্পেশাল অপারেশন ট্রেনিং সেন্টারে’। এ সময় যুক্তরাষ্ট্র সেখানে এফ-১৬ যুদ্ধবিমান মোতায়েন করে। সম্ভাব্য সিরিয়া হামলায় তা ব্যবহার করা হবে।
ইউএসএস কিরসারজ : প্রশস্ত ডেকবিশিষ্ট এ নৌতরীটিও স্যান অ্যান্টানিও’র মতো উভচর। সংযুক্ত আরব আমিরাতের অনুমতি সাপেক্ষে এটি এখন লৌহিত সাগরে অবস্থান করছে। ২০১১ সালে লিবিয়ায় গাদ্দাফিবিরোধী অভিযানে এটি ব্যবহৃত হয়।
ইউএসএস হ্যারি ট্র–ম্যান : নরফোক ও ভার্জিনিয়া থেকে উড়ে আসা বিমানের জন্য এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়। সমুদ্র নিরাপত্তার অংশ হিসেবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম নৌবহরের অধীনে পরিচালিত হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় কোরিয়া, কিউবা, লিবিয়াসহ আরও কয়েকটি অঞ্চলে অভিযান চালায় এটি।
ইউএসএস মিনিতজ : এটিও পঞ্চম নৌবহরের অংশ হিসেবে পরিচালিত। প্রশান্ত মহাসাগরীয় নিরাপত্তার জন্য এভারেট ও ওয়াশিংটনের বিমান ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে ‘ক্যারিয়ার এয়ার উইং ইলেভেন’ যা আফগান যুদ্ধের ‘অপারেশন এনডিওরিং ফ্রিডমে’ ব্যবহার করা হয়।
ইউডেইভ বিমান ঘাঁটি : এটি হল কাতারে যুক্তরাষ্ট্রের বৃহৎ পরিসরের বিমান ঘাঁটি। এখান থেকে বোমারু বিমান ‘বি-১’ সিরিয়ায় আক্রমণ করতে সক্ষম। সমুদ্র থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের চেয়ে এর ধ্বংসাÍক ক্ষমতা ঢের বেশি।তথ্যসূত্র : আল জাজিরা।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আফগান পুলিশের রকেট ছুড়ে মাছ শিকার : ৬ শিশু নিহত
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আমি ও সাব্রিনা এবং রফিক by মশিউল আলম
দুই কলম্বোর এক নারী অধিকার সংস্থার চিঠি আসে; সেখানে সেমিনার হবে। আমাদের সংস্থা থেকে একজন কর্মীকে ওরা চায়। সাব্রিনার সামনে আমি একটা মুলা দোলাতে আরম্ভ করি: ‘শ্রীলঙ্কা যাবে?’ কখনো বিদেশ যাওয়ার সুযোগ পায়নি যে মেয়ে, তার বড় বড় সুন্দর চোখ দুটি আরও বড় হয়ে ওঠে: ‘আমি? শ্রীলঙ্কা!...আমি শার..., আমাকে শার, পাঠাবেন? আমার ইংলিস প্রনানশিয়েশান যা খারাপ!’ ওর ঠোঁট কাঁপে। আমি বলি, ‘আজ বাসায় ফেরার সময় এক হালি আনারস কিনে নিয়ে যাবে। ব্লেন্ডার আছে বাসায়? জুস বানিয়ে মাকে খাওয়াবে। আবার যেন জ্বর না আসে।’ সাব্রিনা লজ্জা পেয়ে বাসায় ফিরে যায়। কিন্তু সাব্রিনা সুলতানার পাসপোর্ট নাই। সেমিনার শুরু হতে বাকি মাত্র তিন দিন। সাব্রিনা এক দৌড়ে পাসপোর্ট অফিসে যায়। গিয়ে জানতে পারে, এক দিনের মধ্যে পাসপোর্ট পেতে হলে নগদ সাড়ে ছয় হাজার টাকা দরকার। ফিরে এসে রণে ভঙ্গ দেওয়ার ভান করে আমাকে বলে, ‘থাক শার, আমার ভাগ্যে নাই।’ তখন আমি তার ভাগ্যবিধাতা সাজি। আমার টেলিফোনে দৌড়ে চলে আসে পাসপোর্ট অফিসের এক দালাল। আমি তাকে সাত হাজার টাকা দিই। পরদিন বেলা তিনটার মধ্যে সাব্রিনা সুলতানার পাসপোর্ট নিয়ে সে হাজির। আমি তাকে আরও ৫০০ টাকা বকশিশ দিলে সে আপাদমস্তক সালাম ঠুকে নিঃশব্দে পালায় (আমার ধারণা, বেটা সাব্রিনার সঙ্গে আমার ব্যাপার টের পেয়েছিল)। সাব্রিনা জীবনে প্রথম নিজের পাসপোর্ট হাতে পেয়ে আমার মুখের দিকে এমন চোখে তাকায়, যেন আমার গলা জড়িয়ে ধরে কান্না শুরু করে দেবে।
তিন আমার জন্য গ্রিন টি নিয়ে কলম্বো থেকে ফিরে আসে সাব্রিনা: ‘আপনি শার, এমনিতেই সবুজ। গ্রিন টি আপনাকে চিরসবুজ করে দিবে!’ আমি বলি, ‘এইবার কক্সবাজার যাওয়া যাক।’ সাব্রিনা এমন চোখে আমার চোখের দিকে তাকায়, যেন আমি একটা বাঘ আর ও হরিণের বাচ্চা। তবু সে আমার সঙ্গে কক্সবাজার রওনা করে। তার পাশে বসে শীতাতপ-নিয়ন্ত্রিত বাসেও গরম লাগে আমার। কক্সবাজারে বাস থেকে নেমে দুজনে রিকশায় উঠলে সমুদ্র থেকে দমকা বাতাস এসে ঝাপটা মারে চোখে-মুখে। আমি বলি, ‘বাতাসে জ্বালা।’ সাব্রিনা হেসে ভুরু নাচিয়ে বলে: ‘কিসের জ্বালা, শার?’ হোটেলে আমাদের দুজনার জন্য বরাদ্দ কক্ষ একটি, কিন্তু খাটের সংখ্যা দুই। একটি খাটের কিনারে বসে সাব্রিনা বলে, ‘এটা কি ঠিক হলো, শার? এক রুমে দুই বেড?’ আমি বিভ্রান্ত: তবে কি এক বেডের রুম নিলেই ও খুশি হতো? সাব্রিনা বলে চলে, ‘রিশিপসানের লোকেরা কী ভাবল, বলেন তো? হাজবেন্ড-ওয়াইফ কি আলাদা বেডে সোয়?’ আমি ওর গা ঘেঁষে বসে ওর ঠোঁটের একদম কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বলি, ‘কে কী ভাবল তাতে কী এসে যায়?’ সাব্রিনা সরে বসে সাপের মতো ফণা তুলে বলে, ‘আলাদা রুম নিলে কী ক্ষতি ছিল বলেন তো?’ আমি কৌশলী নেউলের মতো ওর পাশ থেকে উঠে এসে বসি অন্য খাটটির কিনারে। তাকাই ওর দিকে, আমার চোখে চোখ পড়তেই ও মুখ নামিয়ে নেয়। নিচের দিকে চেয়ে মোজাইকের মেঝেতে পায়ের বুড়ো আঙুলে মাটি খোঁড়ার চেষ্টা করে।
চার সন্ধ্যায় আমরা সৈকতে যাই। উত্তাল ফেনিল ঢেউ সবেগে ছুটে আসতে দেখে কোনো দিন সমুদ্র-না-দেখা সাব্রিনা সভয়ে আমার একটা হাত চেপে ধরে বলে, ‘উফ্্ শার! এ কী শিন!’ ঢেউ ফিরে গেলে সে আমার হাতের মুঠি থেকে নিজের হাত ছাড়িয়ে নিতে চায়, কিন্তু আমি ছাড়ি না। জোড়া হাত দোলাতে দোলাতে বলি, ‘চলো হাঁটি।’ সাব্রিনা তার মরাল গ্রীবা দুলিয়ে সায় দিয়ে শুভ্র দাঁতের সারি বিকশিত করে হাসে; ফিরে যাওয়া শেষ ঢেউয়ের স্মৃতিধর ভেজা বালুরেখা ধরে আমরা পাশাপাশি হেঁটে চলি। সাব্রিনা আবছায়া সমুদ্রের দিকে চেয়ে বলে, ‘এত সব্দ কী করে হয়, শার?’ সমুদ্রের নিনাদ কথাটা আমার মনে পড়ে, কিন্তু আমি কিছু বলি না। জানি, এমন অনেক মুহূর্ত আসে যখন কিছু একটা বলা দরকার বলে মনে হয়, তখন আমরা সবাই এ রকম কথা বলি, এমন প্রশ্ন তুলি যার উত্তর জানতেই হবে এমন কোনো কথা নাই। সমুদ্রের বাতাস আমাদের ক্ষুধার্ত করে। আমরা দ্বিতীয়বারের মতো খেতে যাই। রেস্টুরেন্টে পূর্ণ চাঁদের মতো বড় বড় রুপচাঁদা ভাজা হয়, আমরা হাউমাউ করে খাই। রাত্রি ১১টা বাজে, আমি হোটেলে ফিরতে চাই কিন্তু সাব্রিনা আবার সৈকতে। সেখানে গিয়ে ওর হাত ধরে কাব্য করে বলি, ‘চলো জলে নামি।’ শিউরে ওঠে সাব্রিনা, ‘উউউ, আমার ভয় করে!’ ‘ভয় কিসের? আমি আছি না?’ আমি ওর দুই কাঁধে দুহাত রেখে মুখের দিকে তাকাই: ওর ধবধবে পরিপাটি দাঁতের সারি দেখে আমার আপন বউয়ের কথা মনে পড়ে যায়। ‘তোমার দাঁতগুলি ভীষণ সুন্দর,’ বলি আমি, ‘আমার মন চাচ্ছে ওই দাঁতগুলি আমার দুই ঠোঁট কামড়ে কামড়ে খেয়ে ফেলুক!’ ‘ওহ্্ শার, আপনি এত দুষ্টু!’
পাঁচ সাব্রিনা যখন সারাটা রাত সৈকতেই কাটিয়ে দেওয়ার ফন্দি আঁটে, তখন আমি ওকে পাকড়াও করে ফিরে আসি হোটেলে। কক্ষে ঢুকি ওর কোমর জড়িয়ে ধরে। সাব্রিনা বলে, ‘শার, যা হওয়ার যথেষ্ট হয়েছে, এখন কিন্তু সংযম দরকার।’ আমি দুই হাতে ওকে জাপটে ধরে একটি খাটে দড়াম করে শুয়ে পড়ে আমার হাতঘড়ি ওর চোখের সামনে ধরে বলি, ‘দ্যাখো, সংযমের বারোটা বেজে গেছে!’ আমার প্রবল বেষ্টনী থেকে নিজেকে মুক্ত করতে সচেষ্ট সাব্রিনা কঠিন স্বরে বলে, ‘আপনি কি সত্যিই আমার সর্বনাস করতে চান?’ আমি ওর ওষ্ঠাধরের দিকে আমার চঞ্চু বাড়িয়ে বলি, ‘না, আমি চাই তুমিই আমার সর্বনাশ কর!’ সাব্রিনা মুখ সরিয়ে নিয়ে বলে, ‘আমার সম্পর্কে আপনার ধারণা একদমই ঠিক না কিন্তু!’ আমি ওর লম্বাটে থুতনিতে মৃদু কামড় বসিয়ে বলি, ‘কিন্তু আমার সম্পর্কে তোমার ধারণা হান্ড্রেড পার্সেন্ট নির্ভুল।’ সাব্রিনা ঠান্ডা স্বরে বলে, ‘তাহলে কি আপনি জোর খাটাবেন?’ আমার বলতে ইচ্ছা করে, ‘হ্যাঁ, দরকার হলে অবশ্যই জোর খাটাব। কেন তুমি আমার সঙ্গে প্রেমের ভাব কর, আর রফিকের সঙ্গে শোও?’ কিন্তু আমার বুকের ভেতর থেকে এই কথাগুলো বের হতে পারে না। আমার শরীর ঠান্ডা হয়ে আসে। সাব্রিনাকে ছেড়ে দিয়ে উঠে গিয়ে এসির সুইচটা অফ করি। তারপর শুয়ে পড়ি অন্য খাটটিতে। ওর দিকে আর ফিরেও তাকাতে ইচ্ছা করে না। কিছুক্ষণ পর ঘরের বাতি নিভে যায়। অনেকক্ষণ পর শুনতে পাই সাব্রিনার তরল স্বর, ‘শার কি রাগ করলেন?’ আমি সাড়া দিতে পারি না, নিঃসাড় পড়ে থাকি, চোখ বন্ধ। ‘শার? ও শার! শাআর!’ সাব্রিনার স্বর এবার ফিসফিসানির মতো শোনায়।
ছয় দরজায় ধাক্কার শব্দে ঘুম ছুটে গেল। বাইরে ভোর। দরজায় ধপ্ ধপ্ বেড়ে উঠলে অন্য খাটে হুড়মুড় শব্দ করে উঠে বসল সাব্রিনা: চোখে-মুখে আতঙ্ক ও বিস্ময়। আমি উঠে গিয়ে দরজার কাছে দাঁড়াই। ‘কে?’ দরজায় আবার ধপ্্ ধপ্্, যেন কেউ ঘুষি মারছে। আমি রেগে দরজা খুলি: সামনে দাঁড়িয়ে রফিক। কোনো কথা না বলে সে আমার কপাল বরাবর এমন প্রবল এক ঘুষি বসিয়ে দিল যে আমি ছিটকে পড়লাম তিন হাত দূরে গিয়ে। চৌঁওও শব্দ করে একটা আলু গজিয়ে উঠল আমার ডান ভুরুর ঠিক ওপরে।
সাত
‘ডেকেছেন কেন?’ ঢাকায়, অফিসে আমার টেবিলের সামনে এক পায়ে ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে, কোমরে একটা হাত রেখে অন্য হাতের তর্জনীতে কপালের একগাছি চুল পেঁচাতে পেঁচাতে জিজ্ঞাসা ছুড়ে দিল সাব্রিনা। তার কণ্ঠে এখন আর ‘শার’ সম্বোধন নেই। আমি ধমকের সুরে জিজ্ঞাসা করলাম, ‘আমরা কোন হোটেলে কত নাম্বার রুমে উঠেছিলাম, রফিক সেটা জানতে পেরেছিল কীভাবে?’ ‘আমিই জানিয়েছিলাম।’ ‘তুমি? কীভাবে, কখন? কেন?’ ‘মোবাইলে। আপনি তখন বাথরুমে ছিলেন...’ ‘আশ্চর্য! অন্য এক পুরুষের সঙ্গে হোটেলে উঠেছ, এক রুমে তার সঙ্গে রাত কাটাচ্ছ—এটা তুমি জানিয়ে দিলে তোমার প্রেমিককে? তোমার মাথায় কি কিছু আছে?’ ‘ভাবতাম যে আছে। কিন্তু এখন দেখছি নাই।’ হঠাৎ আমার মেজাজ আরও তিরিক্ষি হয়ে উঠল। ইচ্ছা হলো গেট আউট বলে চেঁচিয়ে উঠি। কিন্তু নিজেকে সামলে নিয়ে বললাম, ‘ঠিক আছে। এখন যাও।’ ‘ডেকেছিলেন কি এই জন্যেই?’ ‘তো? আবার কী জন্যে?’ ‘আচ্ছা।’ সাব্রিনা বেরিয়ে যাওয়ার জন্য দরজার দিকে পা বাড়াল। তারপর হঠাৎ থেমে ঘাড় ফিরিয়ে তাকাল আমার দিকে। ‘আবার কী?’ আমি ধমক দিয়ে উঠলাম। ওকে আর আমার সহ্যই হচ্ছিল না। ‘রফিক আর আপনার মধ্যে কোনো পার্থক্য নাই!’ বিষাক্ত কণ্ঠে বলল সে। ‘মানে?’ ‘দুজনই শেইম টাইপের ইতর!’ মেঝেতে গুড়ি মেরে গট গট করে হেঁটে বেরিয়ে গেলেন মিস সাব্রিনা সুলতানা।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
নিসর্গে নির্জন গণেশ হালুই by আমিমুল এহসান
![]() |
| শিল্পী: গণেশ হালুই, ‘শিরোনামহীন-৪৭’ |
![]() |
| ‘শিরোনামহীন-৬৭’ |
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1421)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ▼ 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...





