Tuesday, March 25, 2025

১০ ফেরাউন এক হলেও হাসিনার মতো হতে পারবে না : হাসনাত

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেছেন, আইয়েমি জাহিলিয়াতের সময় যেভাবে বিশৃঙ্খল পরিবেশ ছিল, গুম-খুন, হত্যা-নিপীড়ন আর নির্যাতন হতো, ঠিক একইভাবে আওয়ামী লীগের আমলেও সব অপকর্ম হয়। ১০ ফেরাউনকেও যদি একত্র করা হয়, তা-ও শেখ হাসিনার মতো এত বড় দুর্ধর্ষ, এত জুলুমকারী হতে পারবে না।

সোমবার (২৪ মার্চ) ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা মহিলা কলেজ মাঠে এনসিপির আয়োজনে জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্য, আহত যোদ্ধাসহ সব পেশাজীবীর সম্মানে ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ মন্তব্য করেন তিনি।

হাসনাত সব রাজনৈতিক দলের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনার রাজনীতির আদর্শ যেটাই হোক না কেন, আপনি যদি ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক দলের অংশ হয়ে থাকেন, তাহলে পরবর্তী বাংলাদেশে আপনার এবং আমার সহাবস্থান থাকবে। যারা ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগকে কোনোভাবে পুনর্বাসন করতে চাইবে এবং এখন যারা ভালো আওয়ামী লীগ এবং খারাপ আওয়ামী লীগের বয়ান দিচ্ছেন, আমরা তাদের শত্রু মনে করব।

কসবা উপজেলা নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক মো. মনিরুল হকের সভাপতিত্বে এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের যুগ্ম মুখ্য সংগঠক মো. আতাউল্লাহ, ডা. আশরাফুল ইসলাম সুমন, সংগঠক জিহান মাহমুদ। ইফতার মাহফিলে এনসিপির দলীয় নেতাকর্মীসহ বিএনপি, জামায়াত, হেফাজতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। 

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় ইফতার মাহফিলে বক্তব্য দেন হাসনাত আব্দুল্লাহ। ছবি : কালবেলা

এক চীন নীতিতে ঢাকাকে ২০০৫ সালের অবস্থানে চাইছে বেইজিং by রাহীদ এজাজ

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস চীনে তাঁর প্রথম দ্বিপক্ষীয় সফরে প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে শীর্ষ বৈঠকের পাশাপাশি ব্যবসা ও বিনিয়োগ নিয়ে চারটি আলাদা বৈঠক করতে যাচ্ছেন। ২৮ মার্চ বেইজিংয়ে শীর্ষ বৈঠকের পাশাপাশি দেশটির শীর্ষ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শীর্ষ প্রতিনিধিদের সঙ্গে ব্যবসা ও বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা করবেন।

দুই দেশের কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি সামনে রেখে সামগ্রিক রাজনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করা হলেও অর্থনৈতিক খাতে সহযোগিতায় অগ্রাধিকার থাকবে। আর চীনের দিক থেকে জোর থাকবে সামগ্রিক রাজনৈতিক সহযোগিতায়। রাজনৈতিক সহযোগিতার কেন্দ্রে থাকবে এক চীন নীতি এবং প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের বৈশ্বিক উন্নয়ন উদ্যোগে (জিডিআই) বাংলাদেশের যুক্ততা।

কূটনৈতিক সূত্রগুলোর সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, বাংলাদেশ আর্থিক ও উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় অর্থায়নের বিষয়টিতে গুরুত্ব দিলেও চীন অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে দুই দেশের সম্পর্কের বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে প্রাধান্য দিতে চায় না। চীন বলছে, আর্থিক সহযোগিতা সম্পর্কের একটি অংশ। ঢাকা–বেইজিং সম্পর্ককে পরবর্তী ধাপে উন্নতির স্বার্থে সহযোগিতাকে রাজনৈতিক পরিসরে দেখাটা বাঞ্ছনীয় এবং সেটাই বাস্তবসম্মত।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা প্রথম আলোকে জানিয়েছেন, ২৬ মার্চ দুপুরে চীনের পাঠানো চার্টার ফ্লাইটে হাইনান প্রদেশে যাবেন প্রধান উপদেষ্টা। ২৭ মার্চ হাইনানে অস্ট্রেলিয়া ও এশিয়ার ২৫ দেশের জোট বোয়াও ফোরাম ফর এশিয়ার (বিএফএ) সম্মেলনে যোগ দেবেন তিনি। এরপর সেখান থেকে বেইজিং যাবেন প্রধান উপদেষ্টা।

২৮ তারিখে বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে শীর্ষ বৈঠক করবেন। দুই শীর্ষ নেতার আলোচনা শেষে বেশ কয়েকটি সমঝোতা স্মারক সইয়ের পাশাপাশি সহযোগিতার কয়েকটি বিষয়ে ঘোষণা আসার কথা রয়েছে। বৈঠকের পর একই দিনে তিনি চীনের ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের ব্যবসায়ী সংলাপে যোগ দেবেন। এরপর আলাদা তিনটি ব্যবসা ও বিনিয়োগবিষয়ক গোলটেবিল বৈঠকে অংশ নেবেন। এই বৈঠকের প্রতিপাদ্য হচ্ছে, উৎপাদন ও নতুন সম্ভাবনার বিকাশ, সামাজিক ব্যবসা ও তরুণ উদ্যোক্তা এবং টেকসই অবকাঠামো ও জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ। ব্যবসা ও বিনিয়োগবিষয়ক ওই চারটি আলোচনা ছাড়াও প্রধান উপদেষ্টা চীনের শীর্ষস্থানীয় টেলিযোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হুয়াহুইয়ের দপ্তর পরিদর্শনে যাবেন। চীন সফরের শেষ দিনে অর্থাৎ ২৯ মার্চ তিনি পিকিং ইউনিভার্সিটিতে একটি বক্তৃতা দেবেন। ওই দিন বিকেলে তিনি ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেবেন।

প্রধান উপদেষ্টার চীন সফরের বিষয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্রসচিব মো. জসীম উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘দুই দেশের সম্পর্কের পাঁচ দশক পূর্তির বছরে এই সফরটি বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। সম্প্রতি চীনের চারটি বিশেষায়িত হাসপাতাল বাংলাদেশের রোগীদের জন্য নির্দিষ্ট করে দেওয়ার ফলে সহযোগিতায় নতুন দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার সফরের মধ্য দিয়ে সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় উত্তরণের পথ সুগম হবে বলে আমরা আশা করছি।’

এক চীন ও তাইওয়ান নিয়ে ২০০৫ সালে কী বলা হয়েছিল

এই সফরে চীনের পক্ষ থেকে রাজনৈতিক বিষয়ে যে অগ্রাধিকারের কথা বলা হচ্ছে, সেখানে এক চীন নীতি আর জিডিআইয়ে বাংলাদেশের যুক্ততার মতো বিষয়গুলো রয়েছে। কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, এবারের যৌথ বিবৃতিতে এক চীন নীতি নিয়ে বাংলাদেশ কিছুটা নমনীয় অবস্থানে থাকার নীতিতে হাঁটার বিষয়টি বিবেচনা করছিল।

কিন্তু চীন বলছে, বাংলাদেশ ২০০৫ সালে এক চীন নীতিতে যা বলেছে, সেখান থেকে কেন সরে আসবে বা সরে আসার যুক্তি কী? এ বিষয়টি উল্লেখ করে চীন সম্প্রতি বাংলাদেশের কাছে ২০০৫ সালে প্রচারিত যৌথ ইশতেহারের অনুলিপি বাংলাদেশকে দিয়েছে। ওই সময়ের ইশতেহারের অংশটি দিয়ে চীন এখন বাংলাদেশকে ২০০৫ সালের অবস্থান অনুযায়ী এক চীন এবং তাইওয়ানের ব্যাপারে বাংলাদেশের জোরালো সমর্থন চাইছে।

২০০৫ সালের ৭ এপ্রিল দুই দিনের সফরে ঢাকায় এসেছিলেন চীনের তখনকার প্রধানমন্ত্রী ওয়েন জিয়াবাও। ওই সফরের সময় দুই দেশের যৌথ ইশতেহারে বলা হয়েছিল, বাংলাদেশ স্বীকার করছে যে শুধু একটি চীন আছে এবং গণপ্রজাতন্ত্রী চীন সরকার সমগ্র চীনের প্রতিনিধিত্বকারী একমাত্র বৈধ সরকার। ওই যৌথ ইশতেহারে তাইওয়ান প্রসঙ্গে বলা হয়েছিল, তাইওয়ান চীনা ভূখণ্ডের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ।

বাংলাদেশ শুধু সার্বভৌম রাষ্ট্রগুলোর জন্য উন্মুক্ত যেকোনো আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সংস্থায় তাইওয়ানের সদস্যপদ গ্রহণের বিরোধিতা করে এবং চীনের শান্তিপূর্ণ পুনর্মিলনকে পূর্ণ সমর্থন করে।

ঢাকার কর্মকর্তারা বলছেন, ২০২৪ সালের ১০ জুলাই বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার যৌথ ঘোষণা অনুযায়ী, বাংলাদেশ এক চীন নীতির প্রতি দৃঢ় প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান হচ্ছে, চীন সরকার সমগ্র চীনের প্রতিনিধিত্ব করে এবং তাইওয়ান চীনের অংশ। চীনের মূল স্বার্থ–সম্পর্কিত বিষয়গুলোতে বাংলাদেশ চীনকে সমর্থন করে। একই সঙ্গে চীনের জাতীয় সার্বভৌমত্ব এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষার প্রচেষ্টাকেও সমর্থন করে বাংলাদেশ।

তবে সে সময় বিএনপি সরকারের আমলে ঢাকায় তাইওয়ানের মিশন খুলতে দেওয়ায় বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি ঘটে চীনের। তবে বর্তমানে, বিশেষ করে ৫ আগস্টের পর পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকার আর ক্ষমতায় নেই। ফলে বাংলাদেশকে আগের অবস্থানে ফিরে যেতে আহ্বান জানাবে চীন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক সরকারি কর্মকর্তা বলছেন, ২০০৫ সালে তৎকালীন সরকার যেভাবে এক চীন ও তাইওয়ান নীতি নিয়ে অবস্থান নিয়েছিল, হয়তো পুরোপুরি সেটার অনুরূপ কিছু করা বাংলাদেশের জন্য সমীচীন হবে না।

এখনই জিডিআইতে যোগ দেওয়া হচ্ছে না

প্রধান উপদেষ্টার এই সফরে চীনের অন্যতম অগ্রাধিকার জিডিআই নিয়ে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে ধারণা পাওয়া গেছে, এখনই বাংলাদেশ এই উদ্যোগে যুক্ত না হলেও অতীতের চেয়ে এক ধাপ এগোবে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জিডিআইয়ের প্রশংসা করা হতে পারে। বলা হতে পারে, এটি এসডিজি অর্জনে পরিপূরক, উন্নয়নের লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক বলে বলা হবে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলছেন, জিডিআইয়ে সমর্থনের অর্থ দাঁড়াবে এই প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ যুক্ত হতে যাচ্ছে। ফলে এবার অন্তত বাংলাদেশ জিডিআইয়ে সমর্থন করে এটি সরাসরি উল্লেখ করবে না।

আলোচনার প্রসঙ্গ ও সমঝোতার বিষয়বস্তু

ইউনূস–সি বৈঠকে সামগ্রিকভাবে গুরুত্ব পেতে পারে অর্থনীতি, বিনিয়োগ ও বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, ভূরাজনীতিসহ সামগ্রিক নানা প্রসঙ্গ। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে শিক্ষা খাতে সহযোগিতা, বিনিয়োগ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, শিল্পকারখানা স্থানান্তর, আকাশপথে সংযুক্তি, অতীতে ঘোষিত প্রকল্পগুলোতে অর্থ ছাড় ত্বরান্বিত করার বিষয়গুলোতে অগ্রাধিকার থাকতে পারে। সেই সঙ্গে থাকবে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের বিষয়টি।

সূত্র জানায়, প্রধান উপদেষ্টার সফরে অর্থনৈতিক ও কারিগরি সহযোগিতায় ১ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা, মানবসম্পদ উন্নয়নে সহায়তা, দুর্যোগ প্রশমনে সহায়তা, চীনা গ্রন্থকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা, চীনের চিরায়ত সাহিত্য অনুবাদ ও প্রকাশ, ক্রীড়াক্ষেত্রে সহযোগিতা এবং দুই দেশের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থার মধ্যে সহায়তাসহ বেশ কিছু সমঝোতা স্মারক সইয়ের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি উদ্‌যাপন, চীনের সহযোগিতায় রোবোটিক ফিজিওথেরাপি ও রিহ্যাবিলিটেশন কেন্দ্র স্থাপন, দ্বিপক্ষীয় বিনিয়োগ চুক্তি সইয়ের জন্য আলোচনা শুরুর ঘোষণা, ৫ বছরে বাংলাদেশের এক হাজার তরুণের চীন সফরের আমন্ত্রণ, চীনের বিশেষায়িত অর্থনৈতিক অঞ্চলসহ কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে বেশ কিছু ঘোষণা আসতে পারে।

পাশাপাশি দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানো, রোহিঙ্গা সংকট, পানিসংক্রান্ত সহযোগিতা ছাড়াও স্বল্প সুদে ঋণ ও অনুদান মিলিয়ে দেড় বিলিয়ন ডলারের সহায়তার বিষয়গুলো আলোচনায় আসার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।

সামরিক স্থাপনার আধুনিকায়ন বা সমরাস্ত্র সংগ্রহের মতো বিষয়গুলো উঠে আসতে পারে বৈঠকে।

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং

বিদেশিদের তাড়ানোর নীতি যুক্তরাষ্ট্রে মন্দা বাড়াবে by লরা টাইসন ও লেনি মেনডোনসা

ডোনাল্ড ট্রাম্প চলতি বছরের জানুয়ারিতে তাঁর অভিষেক ভাষণে অভিবাসনকে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে তুলে ধরেন। তিনি ঘোষণা দেন, ‘আমি আমাদের দেশের ওপর এই ভয়াবহ আগ্রাসন প্রতিহত করতে দক্ষিণ সীমান্তে সেনা মোতায়েন করব।’ এরপর তিনি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়কে সীমান্ত বন্ধ করার জন্য একটি পরিকল্পনা তৈরি করতে নির্দেশ দেন। সে নির্দেশে অবৈধ গণ-অভিবাসন, মাদক পাচার, মানব পাচার এবং অন্যান্য অনুপ্রবেশ ঠেকানোর ওপর জোর দেওয়া হয়।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২১টির বেশি নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসনব্যবস্থার বিভিন্ন দিক পরিবর্তনের চেষ্টা করছেন। এর মধ্যে অভিবাসীদের প্রসেসিং ও বহিষ্কারের নিয়মকানুন কঠোর করা অন্যতম। তবে ট্রাম্পের সবচেয়ে চরম আদেশ, জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বাতিলের নির্দেশ—ইতিমধ্যে একজন ফেডারেল বিচারক স্থগিত করেছেন; কারণ, এটি স্পষ্টতই অসাংবিধানিক। যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের চতুর্দশ সংশোধনীতে পরিষ্কারভাবে বলা হয়েছে, যদি কেউ যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ বা নাগরিকত্ব লাভ করেন এবং এখানকার আইনের অধীন থাকেন, তাহলে তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও তার অঙ্গরাজ্যের নাগরিক।

ট্রাম্প অভিবাসনবিরোধী যতই কঠোর ভাষা ব্যবহার করুন না কেন, বাস্তবে অবৈধ অভিবাসীদের আটক ও বহিষ্কারের সংখ্যা তার প্রতিশ্রুতির চেয়ে অনেক কম। এর আগে বাইডেন প্রশাসন গড়ে প্রতি মাসে যে সংখ্যক অভিবাসী বহিষ্কার করেছে, তা ট্রাম্পের প্রশাসনের চেয়ে অনেক বেশি। ট্রাম্প খুব ব্যয়বহুল সামরিক বিমান ব্যবহার করে অভিবাসীদের তাঁদের দেশে ফেরত পাঠাচ্ছেন এবং ভয় দেখানোর কৌশল হিসেবে অভিবাসীদের গুয়ানতানামো বে বন্দিশিবিরে পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছেন। তবে আমেরিকানদের জানা উচিত, অভিবাসীরা সাম্প্রতিক দুই বছরে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সাফল্যের প্রধান কারণ। অভিবাসীরা দেশীয় শ্রমিকদের চাকরি কেড়ে নেননি, বরং মোট শ্রমশক্তি বাড়িয়ে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করেছেন।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে অভিবাসীদের অবদান, এমনকি অবৈধ অভিবাসীদেরও অবদান বেশ গুরুত্বপূর্ণ। ক্যালিফোর্নিয়ার জনসংখ্যার ২৭ শতাংশই অভিবাসী, যা যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গড় ১৪ শতাংশের তুলনায় দ্বিগুণের বেশি।

ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতিশ্রুত বৃহৎ আকারের অভিবাসী বহিষ্কারের অর্থনৈতিক প্রভাব ব্যাপক হতে পারে। আমেরিকান ইমিগ্রেশন কাউন্সিলের হিসাব অনুযায়ী, এটি যুক্তরাষ্ট্রের বার্ষিক জিডিপির ৪ দশমিক ২ থেকে ৬ দশমিক ৮ শতাংশ কমিয়ে দিতে পারে। এর আর্থিক ক্ষতি ১ দশমিক ১ থেকে ১ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন ডলারের মধ্যে হতে পারে। তুলনামূলকভাবে ২০০৭-০৯ সালের মন্দার সময় যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ৪ দশমিক ৩ শতাংশ সংকুচিত হয়েছিল। অর্থাৎ ট্রাম্পের পরিকল্পিত অভিবাসন নীতি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে সেই সময়ের মন্দার চেয়েও বড় ধাক্কা দিতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে ব্যাপকভাবে অভিবাসী বহিষ্কারের ফলে যে অর্থনৈতিক ক্ষতি হবে, তার প্রায় অর্ধেকই বহন করবে ক্যালিফোর্নিয়া, টেক্সাস ও ফ্লোরিডা। টেক্সাস ও ফ্লোরিডা রিপাবলিকান-সমর্থিত রাজ্য। প্রশ্ন হচ্ছে, ট্রাম্পের এই নীতি যদি বাস্তবায়িত হয় এবং এর ফলে তাদের অর্থনৈতিক ক্ষতি বাড়তে থাকে, তাহলে তারা কি ট্রাম্প ও তার নীতিকে সমর্থন করা চালিয়ে যাবে?

ট্রাম্প প্রশাসন অভিবাসন নিয়ে দ্বিধাবিভক্ত। এক পক্ষ সব ধরনের অভিবাসনের বিরোধী, অন্য পক্ষ কিছু অভিবাসন সমর্থন করে। যেমন ইলন মাস্ক এইচ-ওয়ানবি ভিসা কর্মসূচিকে সমর্থন করেন। এর মাধ্যমে ভারত, চীনসহ বিভিন্ন দেশ থেকে হাজারো দক্ষ প্রকৌশলী ও পেশাদার কর্মী যুক্তরাষ্ট্রে কাজের সুযোগ পান। তবে এই নীতি ট্রাম্পের আমেরিকা ফার্স্ট মতাদর্শের সমর্থক স্টিভ ব্যাননের মতো কট্টর অভিবাসনবিরোধীদের তীব্র প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়েছে। যদিও অভিবাসন নীতি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল সরকারের দায়িত্ব, তবু কিছু অঙ্গরাজ্য ও শহর ট্রাম্পের বহিষ্কার নীতির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলছে। উদাহরণ হিসেবে ক্যালিফোর্নিয়া ২০১৭ সালে ক্যালিফোর্নিয়া ভ্যালুজ অ্যাক্ট পাস করে, যা কিনা রাজ্যের সম্পদ ও স্থানীয় সংস্থাগুলোকে ফেডারেল অভিবাসন আইন বাস্তবায়নে সহায়তা করা থেকে বিরত রাখে।

যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসনব্যবস্থায় বড় ধরনের সংস্কারের প্রয়োজন অনেক আগে থেকেই। কংগ্রেস সর্বশেষ ৩৮ বছর আগে বেশির ভাগ অনথিভুক্ত অভিবাসীদের জন্য স্থায়ী আইনি অবস্থার পথ তৈরি করেছিল। অথচ বর্তমানে অধিকাংশ অনথিভুক্ত অভিবাসী কমপক্ষে এক দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন, পরিবার গড়েছেন এবং জীবন গড়ে তুলেছেন। তাঁরা উচ্চবিদ্যালয় থেকে স্নাতক হচ্ছেন, কলেজে ভর্তি হচ্ছেন, কিন্তু তাঁদের অভিবাসনের অনিশ্চয়তার কারণে পুরোপুরি দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখতে পারছেন না।

অন্যদিকে কানাডার অভিবাসন নীতিকে অনেকে মডেল হিসেবে দেখতে চান। কানাডায় মোট জনসংখ্যার প্রায় এক–চতুর্থাংশই অভিবাসী এবং দেশটি চারটি মূল পথের মাধ্যমে নিয়মিতভাবে নতুন স্থায়ী বাসিন্দাদের গ্রহণ করে। ২০২২ সালে ৫৮ শতাংশ অভিবাসী অর্থনৈতিক ভিত্তিতে, ২২ শতাংশ পারিবারিক পুনর্মিলনের মাধ্যমে, ১৭ শতাংশ শরণার্থী ও সুরক্ষিত ব্যক্তির মর্যাদায় এবং ২ শতাংশ মানবিক বা অন্যান্য কারণে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পেয়েছে। কানাডার প্রাদেশিক মনোনয়ন কর্মসূচি ২০২২ সালে দেশটির অর্থনৈতিক অভিবাসনের প্রায় ৩৫ শতাংশ নিশ্চিত করেছে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে ব্যক্তিরা নির্দিষ্ট প্রদেশে আবেদন করেন এবং সংশ্লিষ্ট প্রদেশ তাঁদের অর্থনৈতিক চাহিদার ভিত্তিতে অভিবাসীদের বাছাই করে।

ট্রাম্পের ব্যাপক অভিবাসী বহিষ্কারের পরিকল্পনা নৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে ভুল। রাজ্য ও শহরগুলো স্বল্প মেয়াদে এই নীতির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে, তবে এটি যথেষ্ট নয়। যুক্তরাষ্ট্রের এখনই একটি আধুনিক অভিবাসন নীতি দরকার, যা দেশের অর্থনৈতিক চাহিদার সঙ্গে মানানসই হবে এবং বাস্তব পরিস্থিতির প্রতিফলন ঘটাবে।

আমাদের এমন একটি ব্যবস্থা তৈরি করতে হবে, যা একদিকে সীমান্ত সুরক্ষিত রাখবে, অন্যদিকে নির্দিষ্ট বার্ষিক লক্ষ্য অনুসারে অভিবাসীদের বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে আসার সুযোগ দেবে। একসময় এটি দ্বিদলীয় লক্ষ্য ছিল, এখন এটি আবার হওয়া উচিত।

লরা টাইসন ক্লিনটন প্রশাসনের সময় প্রেসিডেন্টের অর্থনৈতিক উপদেষ্টা পরিষদের সাবেক চেয়ার

লেনি মেনডোনসা ম্যাকিনজি অ্যান্ড কোম্পানির সিনিয়র পার্টনার ইমেরিটাস এবং ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউজমের সাবেক প্রধান অর্থনৈতিক ও ব্যবসায়িক উপদেষ্টা

স্বত্ব: প্রজেক্ট সিন্ডিকেট, অনুবাদ: সারফুদ্দিন আহমেদ

ট্রাম্প খুব ব্যয়বহুল সামরিক বিমানে অভিবাসীদের দেশে ফেরত পাঠাচ্ছেন
ট্রাম্প খুব ব্যয়বহুল সামরিক বিমানে অভিবাসীদের দেশে ফেরত পাঠাচ্ছেন। ছবি: এএফপি

কৃষ্ণসাগরে যুদ্ধবিরতি ও রাশিয়া–ইউক্রেন নিয়ন্ত্রণরেখা নিয়ে সৌদিতে আলোচনা

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে সৌদি আরবে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার কর্মকর্তারা। সোমবার তাঁদের আলোচনার বিষয়বস্তু ছিল কৃষ্ণসাগরে সামুদ্রিক যুদ্ধবিরতি। বড় ধরনের যুদ্ধবিরতিতে যাওয়ার আগে আংশিক যুদ্ধবিরতির বিষয় নিয়ে এগোনোর চেষ্টা চালাচ্ছিলেন তাঁরা।

রোববার সৌদি আরবে ইউক্রেনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা। এর ধারাবাহিকতায় গতকাল রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে একে ‘শাটল কূটনীতি’ বলে মন্তব্য করা হয়। দুটি বিবদমান পক্ষের মধ্যে তৃতীয় পক্ষ যখন স্বেচ্ছায় দুই পক্ষেরই প্রতিনিধি হিসেবে শান্তি স্থাপনের চেষ্টা চালায়, তখন সেটাকে ‘শাটল কূটনীতি’ বলে।

হোয়াইট হাউসের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইল ওলাৎজ রোববার সিবিএস নিউজের ফেস দ্য নেশন অনুষ্ঠানে বলেন, রিয়াদে একই হোটেলে রাশিয়া ও ইউক্রেনের কর্মকর্তাদের রাখা হয়েছে। কৃষ্ণসাগরে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি কর্মকর্তারা দুই দেশের নিয়ন্ত্রণরেখা ঠিক করার বিষয় নিয়ে আলোচনা করবেন। এ আলোচনার মধ্যেই স্থান পাবে যাচাই উদ্যোগ, শান্তি রক্ষা ও যে স্থানে আছে, সেখানে স্থিতিশীল করে রাখার বিষয়টি।

ওলাৎজ আরও বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে আস্থা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েও আলোচনা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে ইউক্রেন থেকে তুলে নেওয়া শিশুদের ফেরত দেওয়ার বিষয়টিও।

রাশিয়া-ইউক্রেনের মধ্যে তিন বছরের বেশি সময় ধরে চলমান যুদ্ধ বন্ধে প্রচেষ্টা জোরদার করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত সপ্তাহে তিনি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে ফোনালাপ করেন। ওই ফোনালাপের ধারাবাহিকতায় সৌদি আরবে উভয় পক্ষের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির বিষয়গুলো ঠিক করতে বৈঠক হচ্ছে।

বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে অংশ নিচ্ছেন হোয়াইট হাউসের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের জ্যেষ্ঠ পরিচালক অ্যান্ড্রু পিক ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মাইকেল অ্যান্টন। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তাদের আলোচনার উদ্দেশ্য কৃষ্ণসাগরে সামুদ্রিক যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছানো। এতে ওই নৌপথে নির্বিঘ্নে জাহাজ চলাচল করতে পারবে। অবশ্য দীর্ঘদিন ধরে নৌপথে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে বড় ধরনের কোনো সংঘাত ঘটেনি।

আলোচনায় রাশিয়ার পক্ষ থেকে অংশ নিয়েছেন সাবেক কূটনীতিক গ্রেগরি কারাসিন ও ফেডারেল সিকিউরিটি সার্ভিসের পরিচালকের উপদেষ্টা সের্গেই বেসেডা।

রাশিয়া ও ইউক্রেনের সঙ্গে যে আলোচনা চলছে, তাতে সন্তুষ্ট যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। যুদ্ধবিরতিতে পুতিনের যুক্ত হওয়ার বিষয়টিকে তিনি সন্তোষজনক বলে মন্তব্য করেছেন। শনিবার ট্রাম্প বলেন, সংঘাত ও উত্তেজনা আরও ছড়ানোর বিষয়টি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে।

অবশ্য ইউক্রেনের মিত্র ও ইউরোপীয় অধিকাংশ দেশ যুদ্ধবিরতিতে পুতিনের ছাড় দেওয়ার বিষয়ে সন্দিহান। তাদের মতে, ২০২২ সালে ইউক্রেনের হামলার সময় থেকে পুতিন যেসব দাবি করেছেন, তা থেকে তিনি বিন্দুমাত্র সরে আসেননি।

পুতিনের দাবি, তিনি যুদ্ধবিরতিতে রাজি হবেন, তবে এর জন্য ইউক্রেনকে পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোতে যুক্ত হওয়ার প্রত্যাশা ছাড়তে হবে। এ ছাড়া যেসব এলাকা রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, সেখান থেকে ইউক্রেনের সেনা প্রত্যাহার করতে হবে। উল্লেখ্য, গত তিন বছরে ইউক্রেনের এক–পঞ্চমাংশ এলাকার নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে রাশিয়া।

ক্রেমলিন জানিয়েছে, আলোচনার মূল লক্ষ্য হবে কৃষ্ণসাগরে নৌযানের নিরাপত্তা–সম্পর্কিত উদ্যোগের সম্ভাব্য বাস্তবায়নের সম্ভাবনাগুলো খতিয়ে দেখা।

এর আগে তুরস্ক ও জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় ২০২২ সালের জুলাইয়ে কৃষ্ণসাগর দিয়ে শস্য রপ্তানি নিয়ে চুক্তি হয়। ২০২৩ সালে রাশিয়া ওই চুক্তি থেকে বের হয়ে যায়।

ইউক্রেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রুস্তেম উমেরভ সৌদি আরবে প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তিনি ফেসবুক পোস্টে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের আলোচনায় জ্বালানি ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো রক্ষার বিষয়টি নিয়েও আলোচনা হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এ মাসের শুরুতে পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। তিনি পশ্চিমা মিত্রদের পুতিনকে নিয়ে উদ্বেগে উড়িয়ে দিয়ে বলেছেন, প্রতিবেশী কোনো দেশে পুতিন হামলা করবেন না। উইটকফ বলেন, ‘পুরো ইউরোপ পুতিন নিতে চান, এমন কিছু আমি দেখি না। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় যে পরিস্থিতি ছিল, এখন পরিস্থিতি সম্পূর্ণ আলাদা।’

সৌদি আরবের এ হোটেলে রাশিয়ার কর্মকর্তাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা আলোচনা করছেন
সৌদি আরবের এ হোটেলে রাশিয়ার কর্মকর্তাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা আলোচনা করছেন। ছবি : রয়টার্স

জুলাই গণহত্যা: ট্রাইব্যুনালের সামনে শহীদ পরিবারের বিক্ষোভ

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর এডভোকেট মোহাম্মদ তাজুল ইসলামের পদত্যাগের দাবিতে ট্রাইব্যুনালের গেটের সামনে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছেন ‘জুলাই-২৪ শহীদ পরিবার সোসাইটি’ এবং ‘জুলাই মঞ্চ’। গতকাল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সামনে জড়ো হয়ে বিচারের দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় এ বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন শহীদ পরিবারের সদস্যরা। এখনো অনেক অপরাধী ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকায় তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এছাড়া হাজার কোটি টাকার লেনদেনের মাধ্যমে তাজুল ইসলাম ধীরগতিতে বিচার কাজ চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন তারা।  এ সময় আন্দোলনকারীরা নানা অভিযোগ উল্লেখ করে চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলামের পদত্যাগ দাবি করেন।

এ সময় শহীদ পরিবারের সদস্যরা আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ ও বিচারের দাবিতেও স্লোগান দেন। তারা দ্রুত গণহত্যা মামলার সব আসামি গ্রেপ্তার, অভিযোগ গঠন ও বিচার ত্বরান্বিত করে ফাঁসির দাবি তোলেন। ‘জুলাই-২৪ শহীদ পরিবার সোসাইটি’র ব্যানারে দুপুর ১টার পর থেকে তারা অবস্থান নেয়।  শহীদ পরিবারের অভিযোগ তারা মূলত মামলাগুলোর অগ্রগতি জানতে চিফ প্রসিকিউটর এডভোকেট মোহাম্মদ তাজুল ইসলামের সঙ্গে দেখা করতে চান। বিকাল  ৪টা পর্যন্ত ট্রাইব্যুনালের গেটের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করলেও চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম আন্দোলনকারীদের সঙ্গে দেখা করেননি।

এ সময় ’জুলাই-২৪ শহীদ পরিবার সোসাইটি’ সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিম মাহমুদ বলেন, আজকে ৮ মাস হয়ে গেল কিন্তু আসামিদের এখনো ধরা হচ্ছে না। আমরা তাজুল ইসলামের সঙ্গে দেখা করতে আসছি কিন্তু তিনি দেখা করেন নাই। আমরা বিভিন্ন মাধ্যম থেকে জানতে পেরেছি তাজুল ইসলাম আসামিদের কাছ থেকে ১০০০ কোটি টাকা নিয়েছেন। এই কারণে তার তদন্তের কাজ ধীর গতি হচ্ছে। ইতিমধ্যে এ সব ঘুষ বাণিজ্যর কথা পত্র-পত্রিকায় এসেছে। এসব টাকা বিদেশে পাচারও হয়ে গেছে। ’জুলাই-২৪ শহীদ পরিবার সোসাইটি’ আন্তজাতিক বিষয়ক সম্পাদক রাহাত আহমেদ খান মানবজমিনকে বলেন, আমরা এতক্ষণ পর্যন্ত অপেক্ষা করেছি। কিন্তু চিফ প্রসিকিউটর আসেন নাই। আমরা তার পদত্যাগ দাবী করি।

নিহতদের পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, প্রায় ৮ মাস অতিবাহিত হলেও এখনো জুলাই হত্যার বিচার হচ্ছে না। আমরা গণহত্যার সুষ্ঠু বিচার চাই। কিন্তু বিচারের নামে রঙ্গমঞ্চ ও তামাশা করা হচ্ছে। শেখ হাসিনাকে দেশে নিয়ে এসে ফাঁসির মঞ্চে দাঁড় করাতে হবে। তারা বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউটর ও তদন্ত সংস্থা তদন্তের নামে প্রহসন করছে। তদন্তের অগ্রগতি হবে কীভাবে? চিফ প্রসিকিউটর তো বিক্রি হয়ে গেছেন। গণহত্যার বিচার দ্রুত না হলে ট্রাইব্যুনাল ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ারও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন আন্দোলনকারীরা।

এ সময় শহীদ আমিনের মা বলেন, আমাদের সন্তানদের বিচার চাই। সরকার গদিতে বসে সব ভুলে গেছে। আমরা আমাদের সন্তান হারিয়েছি। তারা ক্ষমতা পেয়ে সব ভুলে গেছে। হাসিনার অত্যাচারের শিকার হয়েছি আমরা সবাই। শহীদ নাদিমুল হাসান সেলিমের বাবা বলেন, আমার ছেলেকে শেখ হাসিনা খুন করেছে। বিচারের দাবিতে আমাদের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হচ্ছে।

’জুলাই-২৪ শহীদ পরিবার সোসাইটি’র সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম মানবজমিনকে বলেন, আমার ভাই কিংবা কারও সন্তান শহীদ হয়েছে। কিন্তু আমরা দেখছি এসব হত্যা মামলার আসামিরা জামিন নিয়ে বের হয়ে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে ২ জন হাইকোর্ট থেকে জামিন নিয়ে বের হওয়ার তথ্য আমাদের কাছে আছে।

তিনি বলেন, এটা গণ-আদালতের বিচার কিংবা মোবাইল কোর্টের বিচার নয়। আসামিকে পেলাম, আর ৩ মাসের মধ্যে সাজা দিয়ে দিলাম। বিচার একটা নির্দিষ্ট পদ্ধতি মেনে করতে হয়। আস্তর্জাতিক আইনের মানবতাবিরোধী অপরাধ সবচাইতে জটিলতম অপরাধ। এটার তদন্ত যদি গ্রহণযোগ্য এবং মানসম্পন্ন করতে হয় তবে সময় প্রয়োজন। ৫ থেকে ৬ মাস সময় মানবতাবিরোধী অপরাধ তদন্তের যথেষ্ট সময় নয়। কিন্তু আমাদের তদন্ত সংস্থা, প্রসিকিউশন টিম জাতীয় প্রয়োজনে দিন-রাত পরিশ্রম করে ৩ মাসের কাজ ১৫ দিন কিংবা এক সপ্তাহে করার চেষ্টা করছে। আমরা আন্তরিকভাবেই চেষ্টা করছি অভিযোগের তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার।

এর আগে ‘জুলাই-২৪ শহীদ পরিবারের সোসাইটি’র ব্যানারে বিভিন্ন দাবিতে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছেন। এবার তারা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাব্যুনালের সামনে বিক্ষোভ করেন। ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর গত ৫ই সেপ্টেম্বর এডভোকেট তাজুল ইসলামকে চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ দিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করে প্রজ্ঞাপন জারি করে আইন মন্ত্রণালয়। গত ১৮ই নভেম্বর বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪৬ জনের গ্রেপ্তারের বিষয়ে অগ্রগতি প্রতিবেদন ও তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার জন্য এক মাস সময় দিয়েছিলেন। বর্তমানে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ২৩টি মামলা বিচারাধীন। এর মধ্যে শুধু একটি মামলার তদন্ত শেষ হয়েছে।

এদিকে, গণহত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল অভিমুখে শহীদি মার্চ পালন করেছে জুলাই মঞ্চ। মার্চটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সামনে পৌঁছলে গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্যদের সংগঠন ‘জুলাই-২৪ শহীদ পরিবার সোসাইটি’র সঙ্গে সাক্ষাৎ হয় এবং উভয় সংগঠন একত্রে সংহতি প্রকাশ করে সম্মিলিতভাবে মার্চটি সম্পন্ন হয়।  জুলাই মঞ্চের প্রতিনিধি সাকিব হোসেন বলেন, ২৪ এর গণ-অভ্যুত্থানে দল হিসেবে আওয়ামী লীগ ও শৃঙ্খলা বাহিনীর বিবেক বিবর্জিত সদস্যরা গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত করেছে। যার প্রমাণ বাংলাদেশের জনগণের হাতে হাতে রয়েছে। স্পষ্ট প্রমাণ থাকার পরেও তদন্তে ধীরগতি ও গ্রেপ্তারে অপারগ পরিস্থিতি গণহত্যার বিচারকে অনিশ্চয়তায় দিকে নিয়ে যাচ্ছে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সক্ষমতাও প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। আমরা ট্রাইব্যুনালের কাছ থেকে ন্যায় বিচার প্রত্যাশা করি। মঞ্চের অপর প্রতিনিধি থোয়াই চিং মং চাক বলেন, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জুলাই আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে যারা গণহত্যা চালিয়েছে তাদের মধ্য হতে যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাদের বিচার কাজ শেষ করতে হবে। আওয়ামী লীগ নেতা ও পুলিশ, র?্যাব, বিজিবি সহ শৃঙ্খলাবাহিনীর যারা বাংলাদেশে গুম, খুন ও গণহত্যায় জড়িত ছিল তাদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করতে হবে। বাংলাদেশের নিরাপত্তার স্বার্থে গণহত্যাকারীদের বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

জুলাই মঞ্চের প্রতিনিধি আরিফুল ইসলাম তালুকদার বলেন, আমরা ন্যায় বিচার চাই। ন্যায়বিচার বাধাগ্রস্ত হবে এমন কোন প্রক্রিয়াকে আমরা সমর্থন করি না। অপর প্রতিনিধি অর্ণব হুসাইন বলেন, শহীদ পরিবারকে বিচারের জন্য আদালতের দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়াতে হচ্ছে, এটা ২৪-এর জুলাই স্পিরিট এর সঙ্গে সাংঘর্ষিক। বিচারের দীর্ঘসূত্রিতা কাটাতে বিচার কাজে নিয়োজিত সকল পক্ষকে আন্তরিক হবার আহ্বান জানাচ্ছি আমরা।

mzamin

ভারত-চীন সম্পর্ক: চ্যালেঞ্জ, সম্ভাবনা এবং দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতি

চারটি প্রতিবেশী দেশ ভারতের পররাষ্ট্রনীতির জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ। যার মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। এ ছাড়াও রয়েছে মালদ্বীপ, নেপাল এবং শ্রীলঙ্কা। সমপ্রতি এই দেশগুলোর নেতৃত্ব পরিবর্তন ভারতের মাথাব্যথার কারণ হয়েছে দাঁড়িয়েছে। যার মূলে চীন। যে দেশগুলোর কথা উল্লেখ করা হলো সেগুলোর প্রতিটিই চীনমুখী রাজনীতিতে বেশি আগ্রহী। কেননা, তাদের ভূখণ্ডে দিল্লির আধিপত্য ঠেকাতে বেইজিংই তাদের ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ অবস্থায় বিষয়টিতে গভীর মনোযোগ দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দক্ষিণ এশিয়ার বেশির ভাগ দেশ যখন চীনমুখী পররাষ্ট্রনীতিতে আগ্রহী তখন মোদির বেইজিংয়ের সঙ্গে উত্তেজনার বরফ না গলিয়ে আর উপায় থাকে না। বেইজিংয়ের সঙ্গে নয়াদিল্লির ভূ-রাজনৈতিক কৌশলগত সম্পর্কে এখন ইতিবাচকতা চান মোদি। তবে এটা কতোটা সম্ভব?

বৃটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিতে প্রকাশিত মাইকেল কুগেলম্যানের এক লেখায় বলা হয়েছে, সমপ্রতি সাক্ষাৎকারে দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী চীনের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক নিয়ে ইতিবাচক সুরে কথা বলেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ভারত-চীন সীমান্ত নিয়ে যে উত্তেজনা ছিল তা এখন স্বাভাবিক হয়েছে বলে মনে করেন তিনি। এর ভিত্তিতে দুই দেশের সম্পর্ক শক্তিশালী হিসেবে গড়ে তোলারও আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। উত্তর লাদাখের সীমান্ত নিয়ে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিন থেকেই উত্তেজনা চলছে। ২০২০ সালে ওই অঞ্চলে ভয়াবহ সীমান্ত সংঘর্ষে জড়ায় দুই দেশ। যা ১৯৬২ সালের যুদ্ধের পর সবচেয়ে মারাত্মক। এই ইতিহাস সামনে রেখে বিবেচনা করলে মোদির মন্তব্যগুলো বেশ আকর্ষণীয়। মোদির কথায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং। বলেছেন, দুই দেশের এমন অংশীদার হওয়া উচিত যারা একে অপরের সাফল্যে অবদান রাখে। দিল্লি-বেইজিংয়ের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের উন্নতির পরিপ্রেক্ষিতে কৌশলগত অংশীদারিত্বের জন্য মোদির প্রস্তাব যত বড় বলে মনে হলেও বিষয়টা এত সহজ নয়। কেননা, সম্পর্কের মধ্যে এখনো টানাপড়েন রয়েছে। দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উপভোগ করতে ভূ-রাজনৈতিক কৌশল দিয়ে অনেক বিষয় বিবেচনা করতে হবে।

দুই দেশের সম্পর্কের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কিছু জায়গা রয়েছে। যেমন দিল্লি এবং বেইজিংয়ের বাণিজ্য ধারাবাহিকভাবে শক্তিশালী। লাদাখ সংঘর্ষের পরেও চীনের শীর্ষ বাণিজ্য অংশীদার ভারত। এর মাধ্যমে এশিয়াতে অবকাঠামোগত উন্নয়নে বেশ বড় ভূমিকা রাখছে। এ ছাড়া পশ্চিমা অর্থনৈতিক মডেল প্রসার রোধ, ইসলামী চরমপন্থিদের বিরুদ্ধে লড়াই এবং মার্কিন মোরাল ক্রসেডিং প্রত্যাখ্যান করার মাধ্যমে দুই দেশের আগ্রহের মিল রয়েছে। লাদাখে সীমান্ত সংঘর্ষের ফলে কয়েক দশক ধরে সম্পর্কের মজবুতি তলানিতে ঠেকলেও উভয় দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ হয়। এতে তারা কিছুটা সফলতাও পেয়েছে। যেমন গত অক্টোবরে লাদাখ সীমান্তে পুনরায় টহল শুরু করার বিষয়ে একটি চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। সে সময় রাশিয়া অনুষ্ঠিত ব্রিকসের শীর্ষ সম্মেলনে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন মোদি। নিজেদের মধ্যে সহযোগিতাপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দেন উভয় নেতা। এ ছাড়া জানুয়ারি থেকে দুই দেশের মধ্যে সরাসরি বিমান চলাচল শুরুতে সম্মত হন তারা।

এরপরেও চীন ও ভারতের সম্পর্কে বেশ কিছু সমস্যা আছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। প্রতিটি দেশেই একে অপরের প্রধান শত্রু রাষ্ট্রের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক বজায় রেখেছে। চীনের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র, অন্যদিকে ভারতের ক্ষেত্রে পাকিস্তান। এখানে চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বৈরী সম্পর্ক থাকলেও ভারতের ওয়াশিংটনের বেশ সখ্যতা রয়েছে। আবার পাকিস্তানের সঙ্গে চীনের ভালো সম্পর্ক থাকলেও ইসলামাবাদ ভারতের চীর শত্রু। এই সমস্যার পাশাপাশি কাশ্মীর নিয়েও ভারতে সম্পর্ক বেশ জটিল। কেননা, কাশ্মীর ইস্যুতে ভারতের বিরোধিতা করে চীন। অন্যদিকে পারমাণবিক সরবরাহকারী দেশ হিসেবে ভারতের সদস্যপদ ঠেকাতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে স্থায়ী সদস্যপদ আটকে দিয়েছে বেইজিং। যাতে নয়াদিল্লির পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা আশাহত হয়েছে। এ ছাড়া ভারতের বৃহত্তর সামুদ্রিক এলাকায় চীনের বিশাল নৌ উপস্থিতি এবং একমাত্র বিদেশি সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। এশিয়া প্রভাব বিস্তারে চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ নিয়েও বেইজিংয়ের সঙ্গে নয়াদিল্লির উত্তেজনা চলছে। এখানেই শেষ নয়। দুই দেশের সম্পর্কের জটিলতা আরও গভীর। যেমন চীনের বিদ্রোহী প্রদেশ হিসেবে চিহ্নিত তাইওয়ানের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করছে ভারত। যা কখনই ভালোভাবে নেয় না চীন। এর সঙ্গে তিব্বতের দালাই লামার বিষয়েও বেইজিংয়ের সঙ্গে নয়াদিল্লির সম্পর্ক বেশ খারাপ। অন্যদিকে ভারত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর কাছে সুপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রির বিষয়ে আলোচনা করছে। এসব অস্ত্র দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের প্রভাব ঠেকাতে ব্যবহার করা যেতে পারে। ভারত যে কয়েকটি বৈশ্বিক ফোরামের সঙ্গে সম্পর্কিত, যেমন ইন্দো-প্যাসিফিক কোয়াড এবং মধ্যপ্রাচ্য ইউরোপ অর্থনৈতিক করিডোর; যা চীনের প্রভাব প্রতিহত করার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখে বেইজিং। দুই দেশের ভবিষ্যৎ গতিপথ সম্পর্কে জানতে আরও বেশ কয়েকটি বিষয়ে গভীর মনোযোগ দিতে হবে। যার মধ্যে একটি হচ্ছে সীমান্ত আলোচনা। ২১০০ মাইল দীর্ঘ সীমান্তের পঞ্চাশ হাজার বর্গমাইল নিয়ে উভয় দেশের মধ্যে এখনো বিতর্ক রয়েছে। এখন সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে সীমান্ত পরিস্থিতি। লাদাখ সংঘর্ষ দুই দেশের অনাস্থা জাগিয়ে দিয়েছে। যদিও গত বছরের টহল চুক্তি তা ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করেছে। উভয় পক্ষ আরও আস্থা তৈরির ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে, তবে এটি সম্পর্কের জন্য ভালো হবে।

এ বছর মোদি-শি’র মধ্যে সাক্ষাতের বেশ কয়েকটি সুযোগ রয়েছে। যেমন জুলাইতে ব্রিকস সম্মেলন, নভেম্বরে জি-২০ এর শীর্ষ সম্মেলন এবং বছর শেষে সাংহাই কো-অপারেশন গ্রুপের (এসসিও) সম্মেলন। এসব সম্মেলনে উভয় দেশের নেতাই অংশগ্রহণ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। তারা চাইলে সম্মেলনগুলোর ফাঁকে বৈঠক করতে পারেন। যেখানে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিষয়ে বিশেষ জোর দেয়া যেতে পারে। কেননা, এগুলো দুই দেশের ভবিষ্যতের জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ। অন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে চীনের বিনিয়োগ। দুই দেশের সম্পর্কের মধ্যে আঞ্চলিক এবং বৈশ্বিক সম্পর্কগুলোও উল্লেখযোগ্য। ভারতের চার প্রতিবেশী হচ্ছে বাংলাদেশ, মালদ্বীপ, নেপাল এবং শ্রীলঙ্কা। সমপ্রতি দেশগুলোর নেতৃত্বে পরিবর্তন এসেছে। যারা তাদের পূর্বসূরিদের তুলনায় অধিক চীনঘেঁষা। যদিও এখন পর্যন্ত, উক্ত দেশগুলো চীনের সঙ্গে জোট বাঁধার পরিবর্তে বেইজিং ও দিল্লির সঙ্গে সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করেছে। যদি এভাবে চলতে থাকে, তাহলে ভারতের প্রতিবেশী দেশগুলোতে বেইজিংয়ের প্রভাব সম্পর্কে দিল্লির উদ্বেগ কিছুটা কমতে পারে। উপরন্তু, যদি চীন ভারতের ঘনিষ্ঠ বন্ধু রাশিয়ার সঙ্গে তার ক্রমবর্ধমান অংশীদারিত্ব থেকে সরে আসে তাহলে ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান ঘটবে, যা বেইজিংয়ের ওপর মস্কোর নির্ভরতা আরও গভীর করবে। এটি ভারত-চীন সম্পর্ককে প্রভাবিত করতে পারে। দুই দেশের সম্পর্কের জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পও এখন বড় ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়িয়েছেন। চীনের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা সত্ত্বেও বেইজিংয়ের সঙ্গে বাণিজ্যিক সুসম্পর্ক বজায় রাখার ইঙ্গিত দিয়েছে দিল্লি। এক্ষেত্রে ট্রাম্প যদি শুল্ক নীতিতে অটল থাকেন তাহলে চীনের বিরুদ্ধে ভারত ওয়াশিংটনের সহায়তা পাবে না বলেই ধরে নেয়া যায়। এতে ভারত চীনের সঙ্গেই সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা চালাবে।

mzamin

বিপন্ন তুরস্কের গণতন্ত্র by মোহাম্মদ আবুল হোসেন

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান তার রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী একরেম ইমামোগলুকে জেলে পাঠিয়েছেন। এর মধ্যদিয়ে বিপন্ন করে তুলেছেন তুরস্কের গণতন্ত্রকে। তুরস্কের বর্তমান পরিস্থিতিকে মূল্যায়ন করে বলা যায়, মেয়র একরেম ইমামোগলু তুরস্কে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিরোধী দল রিপাবলিকান পিপলস পার্টির (সিএইচপি) প্রার্থী। তার দল বলছে, প্রায় দেড় কোটি ভোটার আছে তার। সামনের নির্বাচনে তিনি বিরোধী দলের তারকা রাজনীতিক। তার নির্বাচিত হয়ে আসার সম্ভাবনা প্রবল। কিন্তু তাকে দমিয়ে রাখতে প্রেসিডেন্ট এরদোগান বিচারবিভাগকে ব্যবহার করছেন। গ্রেপ্তারের পর তাকে পাঠানো হয়েছে জেলে। এই জেল কয়েক মাসের হতে পারে। আবার কয়েক বছরেরও হতে পারে। তাকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে ২৩শে মার্চ ইস্তাম্বুলের সিটি হলের বাইরে প্রতিবাদ বিক্ষোভ করেছে বিপুল সংখ্যক মানুষ।

ইমামোগলুকে আরও অনেক সময় জেলে থাকতে হতে পারে। কয়েকদিন আগে আদালতের আদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিচার রয়েছে মুলতবি। বিচারে দোষী প্রমাণিত হলে দীর্ঘ কয়েক বছর সাজা হতে পারে তার। ওদিকে সিটি কাউন্সিল আগামী ২৬শে মার্চ নতুন একজন মেয়ার নির্বাচন করবে। এই সিটি কাউন্সিলে সংখ্যাগরিষ্ঠতা আছে সিএইচপি’র। গত সপ্তাহে সিএইচপি প্রেসিডেন্ট পদে প্রার্থীদের অংশগ্রহণের সুযোগ উন্মুক্ত করে দেয়। এরপরই অনেক প্রার্থী আগ্রহ প্রকাশ করেন। তার মধ্যে প্রাইমারিতে একটিমাত্র নাম ব্যালটে উঠে আসে। সেই নামটি হলো একরেম ইমামোগলু। ইকোনমিস্ট লিখেছে, তুরস্ক এমন একটি পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখান থেকে আর ফেরা সম্ভব নয়। গত সপ্তাহে এ দেশটির সরকারকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা প্রতিযোগিতামূলক এক কর্তৃত্ববাদী শাসকগোষ্ঠীর বলে অভিহিত করছিলেন। দেশের নির্বাহী ক্ষমতায় একচ্ছত্র ক্ষমতা ছিল প্রেসিডেন্ট এরদোগানের। আদালত এবং বেশির ভাগ মিডিয়ার ওপর ছিল অবাধ নিয়ন্ত্রণ। তা সত্ত্বেও তুরস্কের নির্বাচন কিছুটা অবাধ ছিল। কিন্তু ১৯শে মার্চ একরেম ইমামোগলুকে পুলিশ আটক করে। তিনিই অন্য কয়েকডজন প্রার্থীর মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠেছিলেন।
দেশটিতে এখন যা আছে তা হলো নগ্ন স্বৈরতন্ত্রের কাছাকাছি।  দেশটিতে পরবর্তী নির্বাচন হওয়ার কথা ২০২৮ সালে বা তারও আগে। আসন্ন ওই নির্বাচনের আগে যদি একরেম ইমামোগলু মুক্তিও পান, তবু তাকে অপরিসীম বাধার মুখোমুখি হতে হবে। তাকে আটক করার আগের দিন কর্তৃপক্ষ তার বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিপ্লোমা ডিগ্রি বাতিল করেছে। তুরস্কের আইন অনুযায়ী, কাউকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করতে হলে ন্যূনতম এই ডিগ্রি থাকতেই হবে। এর নিচে ডিগ্রি থাকলে তিনি প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচনের অযোগ্য হবেন। একরেম ইমামোগলুর বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপকে নিতান্তই রাজনৈতিক বলে বর্ণনা করছেন বিরোধীরা ও স্বতন্ত্র পর্যবেক্ষকরা। তারা আরও বলছেন, এই মেয়রের বিরুদ্ধে একই কারণে ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে আছে সন্ত্রাসী সংগঠনে জড়িয়ে পড়া, দুর্নীতি এবং সরকারি টেন্ডারে জালিয়াতি। তাকে গ্রেপ্তারের ফলে তুরস্কে এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে তীব্র প্রতিবাদ বিক্ষোভ দেখা দিয়েছে। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়েছে পুলিশের। এ সময় পুলিশ জলকামান ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করেছে। কোনোই সুযোগ দিচ্ছে না কর্তৃপক্ষ। এরই মধ্যে কমপক্ষে ৩৪০ জন বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে। এক সপ্তাহের জন্য গণজমায়েত নিষিদ্ধ করে নির্দেশ জারি করেছে সরকার। কিন্তু বিক্ষোভকারীরা তা তোয়াক্কাই করছে না। বহু সড়ক বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর গলা টিপে ধরা হয়েছে। এ অবস্থায় ইস্তাম্বুলের গভর্নর সতর্ক করে বলেছে, প্রতিবাদ বিক্ষোভে অংশ নিতে বিক্ষোভকারীদের শহরের ভেতরে প্রবেশ করতে বা বের হতে দেয়া হবে না।

কয়েক বছর ধরে আদালতে অভিযোগের বিরুদ্ধে লড়াই করছেন একরেম ইমামোগলু। ২০১৯ সালের মেয়র নির্বাচনে এরদোগানের প্রার্থীকে তিনি পরাজিত করেন। কিন্তু কর্তৃপক্ষ ফলকে উল্টে দেয়। এর ফলে কয়েক মাস পরে আবারো তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে বাধ্য হন। তাতে তিনি বড় ব্যবধানে জয়ী হন। প্রথমবার তার জয় কেড়ে নেয়া ব্যক্তিদের তিনি ‘বোকা’ বলে অভিহিত করেন। এ কারণে তাকে কমপক্ষে দুই বছরের জেল দেয়া হয় ২০২২ সালে। এ ছাড়া কয়েক ডজন অভিযোগের তদন্ত চলছে তার বিরুদ্ধে। গত বছর স্থানীয় নির্বাচনে তিনি বড় ব্যবধানে জয় পান। ১৯৭০-এর দশকের পর সিএইচপি সবচেয়ে ভালো ফল দেখায় এ সময়।
দীর্ঘদিন লড়াইয়ে টিকে আছেন ইমামোগলু। ফলে তুরস্কের নেতা এরদোগানের জন্য তিনি খুব বেশি বিপজ্জনক বলে পরিগণিত হতে থাকেন। কয়েক মাস ধরে জনমত জরিপে এরদোগানের চেয়ে স্বস্তিদায়কভাবে এগিয়ে ছিলেন তিনি। প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে তার আছে বিপুল শক্তি। তিনি একটি ধর্মনিরপেক্ষ দলের প্রার্থী। ইউরোপের সবচেয়ে বড় শহর চালান তিনি। তার আছে বিপুল ক্যারিশমা। আমেরিকান থিংক-ট্যাংক ওয়াশিংটন ইনস্টিটিউটের ছোনার ক্যাগাপটায় বলেন, এরদোগান এবং তার লোকজন ইমামোগলুকে দেখেছে অপ্রতিরোধ্য শক্তি হিসেবে। শীর্ষ একজন প্রতিদ্বন্দ্বীকে সরিয়ে দিয়ে তুরস্কের গণতন্ত্রের জন্য বড় ক্ষতি করবেন। এটা জেনেই বড় রকমের ঝুঁকি নিয়েছেন এরদোগান। অন্তত একইভাবে বলা যায়, তিনি সঠিক। সেটা হলো ইউরোপ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া আসেনি। এর কারণ আছে। তা হলো ইউক্রেনে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতির পর সেখানে শান্তিরক্ষী বাহিনী পাঠাতে চায় ইউরোপিয়ান শক্তিধররা। তাতে তুরস্কের অংশগ্রহণ চায় তারা। মনে করে ইউরোপের নিরাপত্তায় তুরস্ক বড় ভূমিকা রাখতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রও তার পক্ষ থেকে খুব কমই প্রতিক্রিয়া দিয়েছে। ২১শে মার্চ ফক্স নিউজ রিপোর্টে বলেছে, তুরস্কের কাছে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রি বন্ধ না করার কথা বিবেচনা করছেন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। আগামী মাসে হোয়াইট হাউস সফরের আশা করছেন এরদোগান। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া লঙ্ঘন করা নিয়ে ট্রাম্পের যেহেতু কমই উদ্বেগ আছে, তাই তুরস্কের স্ট্রংম্যান এরদোগান তার কৌশল প্রয়োগের টিকিট হাতে পেয়ে গেছেন।

ওদিকে একরেম ইমামোগলুকে গ্রেপ্তারের ফলে অর্থবাজার এলার্ম বাজিয়ে দিয়েছে। ইমামোগলুকে আটকের তিন দিন পর তুরস্কের  শেয়ারবাজারের সূচকের পতন হয়েছে শতকরা ১৬.৩ ভাগ। তুরস্কের মুদ্রা লিরা’র অবনমন হচ্ছে। এর ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক হিসাব করছে ২৬০০ কোটি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে টান পড়তে পারে।

(দ্য ইকোনমিস্ট অবলম্বনে)

mzamin

যেভাবে ধরা পড়লো মুসকান সাহিল

পাপে ছাড়ে না বাপেরে। অপরাধী তার অপরাধ করার সময় এমন কিছু চিহ্ন বা লক্ষণ রেখে যায়, যার কারণে তাকে চেনা সহজ হয়ে যায়। তেমনই এক অপরাধে জড়িয়ে পড়েন ভারতের মিরাটের এক যুবতী। তিনি পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে স্বামীকে হত্যা করেন। সঙ্গে নেন প্রেমিককে। এরপর মৃতদেহ পনেরো টুকরো করে একটি ড্রামে ভরেন। পরবর্তীতে প্রেমিককে সঙ্গে নিয়ে প্রেমের উড়ন্ত বাতাসে ভাসতে ছুটি কাটাতে চলে যান হিমাচলে। পরিকল্পনা করেন ফিরে এসে মৃতদেহটি গুম করে দেবেন। সবই পরিকল্পনামাফিক চলছিল। তবে বাদ সাধে ছোট্ট একটি ভুল। মাটিতে পুঁতে ফেলার উদ্দেশ্যে উঁচু করার সময় কয়েকজন শ্রমিক ড্রামের ঢাকনা খুলে ফেলেন। দুর্গন্ধে ছেয়ে যায় চারপাশ। এরপরই ঘটনা মোড় নেয় অন্যদিকে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন এনডিটিভি। ঘটনাটি ভারতের উত্তর প্রদেশের নারী মুসকান রাস্তোগি ও তার প্রেমিক সাহিল শুক্লার। পরকীয়া প্রেমে আসক্ত হয়ে প্রেমিকের সঙ্গে একযোগে স্বামী সৌরভ রাজপুতকে নৃশংসভাবে হত্যা করেন মুসকান। তদন্ত অনুযায়ী, মুসকান ও সাহিল ৩রা মার্চ  সৌরভকে হত্যা করেন। এরপর তা পনেরো টুকরো করে প্লাসিকের ড্রামে ভরে এর ওপর ভেজা সিমেন্ট দিয়ে ঢেকে দেন। মুসকান ও সাহিলের পাহাড়ে একান্তে কাটানো সময়ের ভিডিওগুলো উদ্ধার করেছে পুলিশ। তাদের দেখে মনেই হয়নি এত বড় একটি হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। ওই ভিডিওতে দুজনকে খুবই প্রাণবন্ত দেখায়। ছুটি কাটিয়ে ১৭ই মার্চ মিরাটে ফিরে আসেন ওই যুগল। সিদ্ধান্ত নেন মৃতদেহটি গুম করে দেবেন। এজন্য কয়েকজন শ্রমিককে ডাকেন এবং তাদেরকে ড্রামটি কোথাও পুঁতে ফেলতে বলেন। তবে তা খুবই ভারী হওয়ায় শ্রমিকরা উঁচু করতে ব্যর্থ হয়। এক পর্যায়ে ড্রামের ঢাকনা খুলে যায় এবং চারদিক পচা গন্ধে ছেয়ে যায়। ড্রাম উঁচু করতে না পারা আর গন্ধ নিয়ে সন্দেহ হয় শ্রমিকদের। তারা সেখান থেকে চলে যান। এমতাবস্থায় মুসকান ঘাবড়ে যান। এক পর্যায়ে তিনি তার পিতার বাড়ি চলে যান। প্রথমে তিনি হত্যার দায় তার ননদ ও ননদের স্বামীর ওপর চাপানোর চেষ্টা করেন। তবে তার পিতা-মাতা যখন তাকে জেরা করতে শুরু করেন তখন হত্যার দায় স্বীকার করেন মুসকান। পিতা-মাতা তাকে থানায় নিয়ে গেলে সেখানে নিজের ও সাহিলের অপকর্মের কথা স্বীকার করেন। তাদেরকে পরবর্তীতে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে ওই যুগল বিচার বিভাগীয় হেফাজতে আছেন। উল্লেখ্য, সৌরভ একজন নৌ কর্মকর্তা ছিলেন। ২০১৬ সালে একে অপরকে ভালোবেসে বিয়ে করেন সৌরভ ও মুসকান। তাদের ছয় বছর বয়সী এক মেয়ে আছে। বিয়ের পর থেকেই সৌরভের পরিবারের সঙ্গে মুসকানের সম্পর্ক সাপে নেউলে। এর পরিপ্রেক্ষিতে স্ত্রী নিয়ে এক পর্যায়ে ভাড়া বাড়িতে ওঠেন তিনি। ২০১৯ সালে স্ত্রীর পরকীয়া প্রেমের বিষয়ে জানতে পারেন সৌরভ। যদিও তিনি বিবাহ বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেন তবে মেয়ের ভবিষ্যতের কথা ভেবে ওই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন। নৌবাহিনীর চাকরি ছেড়ে দেয়ার পর লন্ডনে কাজ শুরু করেন সৌরভ।  মেয়ের জন্মদিন উপলক্ষে দেশে এলে স্ত্রীর ও প্রেমিকের মাধ্যমে নৃশংস হত্যার শিকার হন তিনি। মুসকানের পিতা-মাতার ভাষ্য অনুযায়ী, সৌরভ তাদেরকে মাদক গ্রহণে বাধা দেবে- এ ভয় থেকেই তাকে হত্যা করেন মুসকান ও সাহিল। উল্লেখ্য, সৌরভের পরিবারের দাবি- টাকার জন্য সৌরভকে বিয়ে করেন মুসকান। তারা শুরু থেকেই মুসকানকে অপছন্দ করতেন।
mzamin

সার্বভৌমত্ব, অখণ্ডতা সহ পাকিস্তানের প্রতি পূর্ণ সমর্থন চীনের

পাকিস্তানের প্রতি পূর্ণ সমর্থন আছে চীনের। পাকিস্তানের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষা, জাতীয় অবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ উন্নয়নের পথ অনুসরণ করা, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করা, আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার বিষয়ে বৃহত্তর ভূমিকা পালন করার ক্ষেত্রে দেশটির প্রতি দৃঢ় সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে চীন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন জিও নিউজ। রোববার সিল্ক রোড কালচার সেন্টারে ‘এস্থেটিক ব্রিজ’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে চীনা রাষ্ট্রদূত জিয়াং জেইদং এই সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। চীনা ও ইসলামি সভ্যতার মধ্যে বিনিময় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একে অন্যের আলোয় জ্বলে উঠুক। পাকিস্তানই প্রথম কোনো মুসলিম দেশ, যা গণপ্রজাতন্ত্রী চীনকে স্বীকৃতি দেয়। আরো বলেন, পাকিস্তানকে ‘কারাকোরাম হাইওয়ে’ তৈরিতে সাহায্য করেছে চীন। যা বিশ্বের অষ্টম আশ্চর্য হিসেবে পরিচিত। ২০০৮ সালে ভয়াবহ ‘ওয়েনচুয়ান’ ভূমিকম্পের কবলে পড়ে চীন। ওই সময় চীনকে তাঁবু পাঠিয়ে সাহায্য করে পাকিস্তান। অনুষ্ঠানে ওই ঘটনা স্মরণ করেন জিয়াং জেইদং। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০১০ ও ২০২২ সালের বন্যায় সবক্ষেত্রে বেশি চীনা সমর্থন পায় পাকিস্তান।

জিয়াং বলেন, এক সঙ্গে এগিয়ে চলার পথে দুই দেশের মধ্যে ঐতিহ্যবাহী বন্ধুত্ব ক্রমাগত সুসংহত হয়েছে। তিনি  দু’দেশের মধ্যে বন্ধুত্বকে পাহাড়ের চেয়ে সুউচ্চ, সাগরের চেয়ে গভীর ও মধুর থেকেও মিষ্টি বলে অভিহিত করেন। বলেন, বর্তমানে পাকিস্তান সরকার পুরোদমে সংস্কার ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন কাজে মনোযোগ দিয়েছে। বলেন, দেশটিতে রপ্তানি ও বিনিয়োগ, রেমিট্যান্স ও বৈদেশিক রিজার্ভে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। এছাড়া বার্ষিক ৩ শতাংশের বেশি জাতীয় প্রবৃদ্ধির আশা করা হচ্ছে। ১১ বছর ধরে চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর (সিপিইসি), পাকিস্তানের উন্নয়নের ভিত্তি শক্তিশালীকরণ ও দেশটির মানুষের সার্বিক কল্যাণে কিছু গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। জিয়াং বলেন, ৮৫ বছর ধরে পাকিস্তানের ভ্রাতৃসুলভ মানুষ একটি শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ জাতি গঠনের স্বপ্ন দেখে এসেছে।

তিনি আরও বলেন, পাকিস্তান শুধু গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনকারী প্রথম দেশই না, বরং যেকোনো সংকটে চীনের পাশে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, জাতিসংঘে চীনের বৈধ আসন পুনরুদ্ধারের বিষয়টি। ওই ঘটনাগুলো উল্লেখ করে জিয়াং বলেন, আমরা তাদের এ সমর্থনের বিষয়টি কখনো ভুলবো না। অনুরূপভাবে, পাকিস্তান যখন কোনো সংকটের সম্মুখীন হয়েছে - তখন দেশটির পাশে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছে চীন। একটি উজ্জ্বল আগামীর জন্য আমরা হাতে হাত রেখে এগিয়ে যাচ্ছি বলে মন্তব্য করেন জিয়াং। বলেন, গত বছর পাকিস্তানের বর্তমান সরকার প্রতিষ্ঠার পর থেকে আমরা উচ্চস্তরের লেনদেনের একটি সম্পর্ক বজায় রেখেছি। জুনে চীন সফরে যান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ। অক্টোবরে পাকিস্তান সফর করেন চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং। ফেব্রুয়ারিতে চীন সফর করেন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি। জিয়াং বলেন, এ সকল সফর দুই দেশের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের দিকেই ইঙ্গিত দেয়। সন্তোষ প্রকাশ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, দুই দেশের নেতাদের তত্ত্বাবধানে সিপিইসি এক নতুন দিগন্তে প্রবেশ করেছে। ভবিষ্যতে চীন-পাকিস্তানের মধ্যে আরো ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব তৈরি, দুই দেশের মধ্যে সর্বকালীন কৌশলগত সহযোগিতা ক্রমাগত সুসংহত করতে হাতে হাত ও কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। 

mzamin

ডিভোর্সের পর ছেলেকে স্বামীর কাছে ফেরাতে চাননি, রাগে ছেলের গলা কেটে দিলেন মা

১১ বছরের পুত্রসন্তানকে গলা কেটে খুন করার অভিযোগ উঠলো ভারতীয় বংশোদ্ভূত এক নারীর বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত ওই নারীর নাম সরিতা রামারাজু। বয়স ৪৮ বছর। ২০১৮ সালে স্বামী প্রকাশ রাজুর সঙ্গে তার বিবাহ বিচ্ছেদ হয়ে যায়। আদালতের অনুমতিতে তাদের ছেলে থাকত বাবার কাছে। তবে নির্দিষ্ট সময় অন্তর ছেলেকে নিজের কাছে রাখার অনুমতি পেয়েছিলেন রামারাজুও। গত বছর থেকে ছেলেকে নিজের কাছে পাকাপাকিভাবে রাখা নিয়ে প্রাক্তন স্বামীর সঙ্গে বচসা তুঙ্গে ওঠে রামারাজুর। সম্প্রতি তিনি ছেলেকে কাছে পান। এরপর তারা ডিজনিল্যান্ডে যান। সেখানে তিনদিন কাটানোর পর যে মোটেলে তারা উঠেছিলেন সেখানেই নিজের ছেলের গলা কেটে তাকে খুন করেন বলেই অভিযোগ। তারপর ৯১১ নম্বরে ফোন করে জানান, খুন করার কথা। সান্তা আনা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ছুরিটি উদ্ধার করেছে। জানা গেছে, সেদিনই ছেলেকে স্বামীর কাছে ফেরত দেওয়ার কথা ছিল রামারাজুর। ক্যালিফোর্নিয়ার অরেঞ্জ কাউন্টি, ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির অফিস থেকে একটি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অভিযোগ প্রমাণিত হলে ২৬ বছরের সাজা হতে পারে রামারাজুর। অরেঞ্জ কাউন্টির জেলা অ্যাটর্নি টড স্পিৎজার বলেন, অভিভাবকদের মধ্যে সম্পর্কের অবনতির কারণে সন্তানের প্রাণসংশয় হওয়া কখনওই কাম্য নয়। ক্রোধ এখানে ভালোবাসাকেও টপকে গিয়েছে। সন্তানের কাছে সবচেয়ে নিরাপদ স্থান হল মা-বাবার কোল। তাকে আদরে জড়িয়ে না ধরে গলা কেটে ফেলায় ছেলেটি তার হাতেই প্রাণ হারাল যিনি ওকে পৃথিবীর আলো দেখিয়েছিলেন।' এদিকে সরিতা রামারাজুর দাবি,  তার প্রাক্তন স্বামী অ্যালকোহল, ড্রাগ এবং ধূমপানে আসক্ত। সেই কারণে তিনি মাঝে মাঝেই খুব আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন। ছেলে বাবার কাছে ভয়ে ভয়ে থাকতো বলেও  অভিযোগ সরিতার। যদিও প্রাক্তন স্ত্রীর সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রকাশ রাজু।

সূত্র : এনডিটিভি

mzamin

গুজবের রাত

এ যন্ত্রের বয়স কতো? নিশ্চিত করে বলা দুষ্কর। ধারণা করা যায়, প্রায় মানব সভ্যতার বয়সী। গুজব উৎপাদন যন্ত্রটি বাংলাদেশেও সক্রিয়। সেই স্বাধীনতার আগ থেকেই। তবে গেল সাত মাসের মতো সম্ভবত কখনোই নয়। দিনের বেলা এ যন্ত্র কিছুটা বিরাম নেয়। রাত হলেই সচল হয় পুরো মাত্রায়। বিশেষত ফেসবুকে। একের পর এক ছড়াতে থাকে গুজব। কেউ বিশ্বাস করেন, কেউ করেন না। বহু মানুষের মধ্যে তৈরি হয় অস্থিরতা।

রোববার দিবাগত রাতটি ছিল পুরো মাত্রাতেই গুজবের দখলে। একের পর এক গুজব আসতে থাকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। কলকাতাকেন্দ্রিক ভারতীয় মিডিয়ার একটি অংশ এতে রাখে বড় ভূমিকা। এসব মিডিয়া থেকে একের পর এক গুজব ছড়ানো হয়। বিশেষত সেনা তৎপরতাকে কেন্দ্র করে। ঢাকার রাস্তার পরিস্থিতির বিভিন্ন বিবরণও আসতে থাকে। আওয়ামী লীগ সমর্থক হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিরা দেশ-বিদেশ থেকে নানা পোস্ট দিতে থাকেন। বলতে থাকেন, ‘আপা (অভ্যুত্থানের মুখে ভারতে পালিয়ে যাওয়া প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা) যেকোনো মুহূর্তে দেশে প্রবেশ করবেন।’ দলীয় নেতাকর্মীদের প্রস্তুত থাকতে বলেন তারা। অনেকে বলেন, সকাল নাগাদই সুখবর আসছে। এবি পার্টির মহাসচিব ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ গ্রেপ্তার হয়েছেন এমন গুজব ছিল রাতভর। রাত চারটার কিছু পরে এ নিয়ে দলটির প্রধান মজিবুর রহমান মঞ্জুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ ধরনের খবর নাকচ করে দেন। বলে রাখা দরকার, সম্প্রতি ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ সেনাপ্রধানের কঠোর সমালোচনা করে একটি বক্তব্য রাখেন।
রাতভর সবচেয়ে বড় গুজবটি ছিল জরুরি অবস্থা জারিকে ঘিরে। বলা হয়, সেনাপ্রধান গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করছেন। সোমবারও বৈঠক রয়েছে। এরপর জরুরি অবস্থা জারি করা হবে। রাতের শেষদিকে আওয়ামী লীগের সমালোচক হিসেবে পরিচিত সাংবাদিক কনক সরওয়ার যখন ‘জরুরি অবস্থা জারির পাঁয়তারা’ শীর্ষক লাইভ ভিডিও আপ করেন তখন গুঞ্জনের মাত্রা আরও তীব্র হয়। তবে পরে এক ব্যাখ্যায় তিনি উল্লেখ করেন, ‘আমার ভিডিওর কোথাও বলা হয়নি জরুরি অবস্থা জারি হবে, বলা হয়েছে পাঁয়তারা চলছে। সুনির্দিষ্ট তথ্য বিশ্লেষণ করেই এ প্রসঙ্গটি তুলে ধরা হয়েছে।’ সোমবার অবশ্য দিনের আলো যত তীব্র হয়েছে জরুরি অবস্থার গুজব ততই মিইয়ে গেছে। স্বরাষ্ট্র সচিব নাসিমুল গনিও বিষয়টি নাকচ করেছেন। জরুরি অবস্থা জারি সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন ‘এই সম্পর্কে আমার কোনো কমেন্ট  নেই। এগুলো মেয়ার গসিপ।’ জরুরি অবস্থা ছাড়াও উপদেষ্টা এবং গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের নিয়েও নানা গুজব ছিল।  

এবারের টেনশনের সূত্রপাত হয় অবশ্য জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহর একটি পোস্টকে ঘিরে। ২১শে মার্চ  ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন তিনি। লিখেন, ‘কিছুদিন আগে আমি আপনাদের বলেছিলাম যে, ‘রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ’ নামে নতুন একটি ষড়যন্ত্র নিয়ে আসার পরিকল্পনা চলছে। এই পরিকল্পনা পুরোপুরি ভারতের। সাবের  হোসেন চৌধুরী, শিরিন শারমিন, তাপসকে সামনে রেখে এই পরিকল্পনা সাজানো হচ্ছে। আমি সহ আরও দুইজনের কাছে ক্যান্টনমেন্ট থেকে এই পরিকল্পনা উপস্থাপন করা হয় ১১ই মার্চ দুপুর ২:৩০-এ।’

তার এই পোস্ট ঘিরে রাষ্ট্রের সর্বত্র ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়। দেখা দেয় তীব্র বিতর্ক। জাতীয় নাগরিক পার্টির আরেক নেতা সারজিস আলম কিছুটা ভিন্নমত পোষণ করে আরেকটি পোস্ট দেন। আর ঘটনা নিয়ে সেনাসদরের বক্তব্য প্রকাশ করে নেত্র নিউজ। সংবাদমাধ্যমটির রিপোর্টে বলা হয়, শনিবার নেত্র নিউজকে দেয়া  সেনাসদরের এক বিবৃতিতে স্বীকার করে নেয়া হয়েছে যে  সেনানিবাসে খোদ সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামানের সঙ্গেই ১১ই মার্চ বৈঠকটি হয়েছিল। তবে হাসনাত আব্দুল্লাহকে “ডেকে নিয়ে যাওয়া এবং আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনের বিষয় নিয়ে তাদেরকে প্রস্তাব বা চাপ প্রয়োগের অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। বরং হাসনাত আব্দুল্লাহ ও তার দলের আরেক মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলমের আগ্রহেই ওই বৈঠকটি হয়েছিল বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।  এ ছাড়া ২৭ বছর বয়সী এই ছাত্রনেতার বক্তব্যকে “অত্যন্ত হাস্যকর ও অপরিপক্ব গল্পের সম্ভার” হিসেবেও আখ্যা দিয়েছে সেনাবাহিনী।

বিবৃতিতে সেনাপ্রধানের বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, “আওয়ামী লীগের যেসব নেতারা ফৌজদারি মামলায় জড়িত নন ও ক্লিন ইমেজের অধিকারী তাদের সমন্বয়ে নতুন আওয়ামী লীগ আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলে নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক, ফলপ্রসূ ও আন্তর্জাতিক মহলে অধিকতর গ্রহণযোগ্যতা পাবে। কিন্তু এ ব্যাপারে সরকার ও সব রাজনৈতিক দল মিলে আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।”
আওয়ামী লীগের প্রসঙ্গে দেয়া বক্তব্য সেনাপ্রধানের নিজস্ব অভিমত হিসেবে আখ্যা দিয়ে ছাত্রনেতাদের ওপর চাপ প্রয়োগের অভিযোগ বিবৃতিতে অস্বীকার করা হয়েছে।

জরুরি অবস্থা জারির বিষয়টি গসিপ: স্বরাষ্ট্র সচিব
দেশে জরুরি অবস্থা জারি নিয়ে গুজব ছড়ানো হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্র সচিব নাসিমুল গনি। তিনি বলেন, দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রয়েছে। তাই জরুরি অবস্থা জারির বিষয়টি গসিপ। এ সম্পর্কে আমার কোনো কমেন্টস নেই। গতকাল সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি। মানব পাচার ও অবৈধ অভিবাসন প্রতিরোধে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে এসওপি (স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর) স্বাক্ষর শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্র সচিব।

তিনি বলেন, দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার আশঙ্কার কোনো তথ্য নেই। পরিস্থিতি সরকারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে, দেশে জরুরি অবস্থা জারি হচ্ছে-এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র সচিবের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, এসব গসিপ আলাপ-আলোচনা হচ্ছে। তিনি বলেন, আমরা সতর্ক আছি, পুলিশ সতর্ক আছে, সবাই চেষ্টা করছি- যে স্থিতিশীলতা আছে, সেটা যেন রক্ষা করতে পারি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে প্রতি রাতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দুজন কর্মকর্তা  পেট্রোলিং করছেন বলেও জানান তিনি। স্বরাষ্ট্র সচিব জানান, আসন্ন ঈদুল ফিতরের পর ঢাকায় অবস্থিত হাইকমিশন থেকে বাংলাদেশের নাগরিকদের ভিসা দেয়ার প্রক্রিয়া শুরু করবে অস্ট্রেলিয়া। এর আগে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.) সাংবাদিকদের বলেন, অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের সহযোগিতার ক্ষেত্র বিস্তৃত। দুই দেশের পারস্পরিক বাণিজ্য, উন্নয়ন ও প্রযুক্তিগত অংশীদারিত্ব রয়েছে। বাংলাদেশের রয়েছে বৈচিত্র্যময় কর্মীবাহিনী। যার মধ্যে আছে দক্ষ পেশাদার থেকে শুরু করে আধা-দক্ষ ও অদক্ষ শ্রমিক, যারা অস্ট্রেলিয়ার শ্রমবাজারের চাহিদা পূরণে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে পারে।
অবৈধ অভিবাসন ও মানব পাচার মোকাবিলায় একটি সামগ্রিক ও সমন্বিত আঞ্চলিক পদ্ধতির প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা। ঢাকায় অস্ট্রেলিয়ার ভিসা আবেদন প্রক্রিয়াকরণের সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য অস্ট্রেলিয়া সরকারের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, এই এসওপি অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবে কাজ করবে। প্রযুক্তিগত দক্ষতা বিনিময়, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় এবং মানব পাচার ও অবৈধ অভিবাসন প্রতিরোধে কার্যকর সহায়তা প্রদান করবে বলেও আশাবাদ জানান তিনি।

এর আগে রোববার রাতে জরুরি অবস্থা জারি হচ্ছে বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সমর্থকদের নানা ধরনের তথ্য প্রচার করতে দেখা যায়। একই সঙ্গে কেউ কেউ দাবি করেন যে, শিগগিরই বাংলাদেশে ফেরত আসছে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

mzamin

ঘরে-বাইরে অস্বস্তি, সামলানোর চেষ্টায় এনসিপি

কেন্দ্রীয় নেতাদের পরস্পরবিরোধী ফেসবুক পোস্ট ও বক্তব্যে অস্বস্তিতে রয়েছে নবগঠিত রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি। দলীয় ফোরামে আলাপ-আলোচনা না করে ফেসবুকের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে বক্তব্য প্রচার করছেন নেতারা। এছাড়াও বিভিন্ন সভা-সমাবেশেও নেতাদের কেউ কেউ এমন বক্তব্য দিচ্ছেন- যাতে অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে পড়তে হচ্ছে দলটিকে। যেটিকে দলীয় শৃঙ্খলার পরিপন্থি বলে মনে করছেন অনেকে। আবার এসব বক্তব্যের কারণে দলের বাইরে অন্যান্য রাজনৈতিক দল ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও দূরত্ব বাড়ছে এনসিপি’র। দলটির অনেক নেতা মনে করেন- রাজনীতির টেবিলে এমন অনেক বিষয়ে আলোচনা হয় যার সবই জনসম্মুখে আসা উচিত নয়। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার ও সভা-সমাবেশে বক্তব্য দেয়ার ক্ষেত্রে আরও বেশি সচেতন হতে হবে। কারণ এসব বক্তব্যে সাধারণ মানুষের আস্থা নষ্ট হবে নতুন রাজনৈতিক শক্তি এনসিপি’র ওপর। এ বিষয়ে দলের অভ্যন্তরে নেতাকর্মীদের নির্দেশনাও দেয়া হয়েছে। বিশেষ করে কেন্দ্রীয় নেতাদের কড়াভাবে সচেতন করা হয়েছে। দলটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব মানবজমিনকে বলেন, এনসিপি’র নতুন নেতৃত্ব এক্টিভিজমের (কার্যক্রম) মাধ্যমে উঠে আসা। তারা গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দিয়েছে, এক্টিভিজম করেছে। এখন তারা রাজনীতি করছেন। রাজনীতি আর এক্টিভিজম এক না। কারণ তখন ব্যক্তিগত বক্তব্যটাও দলীয় বক্তব্যে রূপ পায়। আমাদের কারও কারও বক্তব্যে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তারা তাদের বক্তব্য প্রত্যাহারও করে নিয়েছেন। আশা করি ভবিষ্যতে এমন বক্তব্য দেয়া থেকে সবাই সতর্ক থাকবেন। এ পরিবর্তনটা দ্রুত হয়ে যাবে বলে মনে করি। আমরা আমাদের অভ্যন্তরীণ মিটিংয়েও সবাইকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দিয়েছি। আশা করছি এক্টিভিজমের আর পলিলিটিক্সের পার্থক্য তারা দ্রুত বুঝতে পারবেন। তবে আওয়ামী লীগ, নৌকা এবং ভারতের বিষয়ে আমাদের সবার বক্তব্য এক। এতে কোনো মতানৈক্য নেই। 

সম্প্রতি ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার এক বক্তব্য ঘিরে রাজনীতিতে উত্তাপ সৃষ্টি হয়। যেখানে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস প্রতিনিধিদলকে জানিয়েছেন, আওয়ামী লীগকে নিষেদ্ধের কোনো পরিকল্পনা তার সরকারের নেই। প্রধান উপদেষ্টার এ বক্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টের মাধ্যমে রিফাইন্ড আওয়ামী লীগের বিষয়টি সামনে আনেন এনসিপি’র দক্ষিণাঞ্চলের মুখপাত্র হাসনাত আব্দুল্লাহ। যেখানে তিনি দাবি করেন, ১১ই মার্চ ক্যান্টনমেন্টে তাদের ডেকে রিফাইন্ড আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ফেরা নিয়ে প্রস্তাব করা হয়। হাসনাত আবদুল্লাহ তার ভেরিফাইড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেয়া পোস্টে বলেন, ‘রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ’- নামে নতুন একটি ষড়যন্ত্র নিয়ে আসার পরিকল্পনা চলছে। এই পরিকল্পনা পুরোপুরি ভারতের। সাবের হোসেন চৌধুরী, শিরীন শারমিন ও তাপসকে সামনে রেখে এই পরিকল্পনা সাজানো হচ্ছে। ১১ই মার্চ সেনানিবাসে হাসনাত আবদুল্লাহসহ দু’জনের কাছে এমন একটি পরিকল্পনা উপস্থাপন করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি লিখেছিলেন, আমাদের প্রস্তাব দেয়া হয়, আসন সমঝোতার বিনিময়ে আমরা যেন এই প্রস্তাব মেনে নিই। আমাদের বলা হয়, ইতিমধ্যে একাধিক রাজনৈতিক দলকেও এই প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। তারা শর্তসাপেক্ষে আওয়ামী লীগ পুনর্বাসনে রাজি হয়েছে। একটি বিরোধী দল থাকার চেয়ে একটি দুর্বল আওয়ামী লীগসহ একাধিক বিরোধী দল থাকা না কি ভালো। হাসনাতের এমন দাবির পর কড়া প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় এনসিপি ও জনসাধারণের মধ্যে। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভও করেছেন শিক্ষার্থীরা। বক্তব্য দিয়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবিতে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে এনসিপি। দলটির অনেক নেতাকর্মী সেনাবাহিনী নিয়ে প্রকাশ্যে নিজেদের মতামত প্রকাশ করেন। বিষয়টি নিয়ে চরম অস্বস্তিতে পড়ে এনসিপি। দলটির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী সাংবাদিকদের বলেন, তার (হাসনাত আবদুল্লাহ) এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসা উচিত হয়নি। আমরা মনে করি, এটা শিষ্টাচারবর্জিত একটি স্ট্যাটাস হয়েছে এবং রাষ্ট্রের ফাংশনাল জায়গায় আমরা দেখি যে, ক্যান্টনমেন্টের বিভিন্ন ব্যক্তিবর্গ রাজনৈতিক জায়গায় হস্তক্ষেপ করছেন। আমাদের কাছে এই ধরনের হস্তক্ষেপ কাম্য নয়। এই সিদ্ধান্তগুলো রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ নেবে এবং সরকারি যে প্রতিষ্ঠানগুলো আছে, সেগুলোর এতে জড়িত না হওয়ার জন্য আমরা আহ্বান জানাচ্ছি। অন্যদিকে সুইডেনভিত্তিক নেত্র নিউজের এক প্রতিবেদনে সেনাসদরকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, হাসনাত আবদুল্লাহর পোস্ট ‘সম্পূর্ণ রাজনৈতিক স্ট্যান্টবাজি বৈ অন্য কিছু নয়’। এছাড়া তার বক্তব্যকে ‘অত্যন্ত হাস্যকর ও অপরিপক্ব গল্পের সম্ভার’ হিসেবেও আখ্যা দিয়েছে সেনাবাহিনী। এরপর গত রোববার এনসিপি’র উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলম হাসনাতের বক্তব্যের বিরোধিতা করে পৃথক স্ট্যাটাস দেন। ১১ই মার্চ ক্যান্টনমেন্টের ওই বৈঠকে হাসনাতের সঙ্গে সারজিসও উপস্থিত ছিলেন। তিনি তার স্ট্যাটাসে লিখেছেন, যেভাবে এই কথাগুলো ফেসবুকে স্ট্যাটাসের মাধ্যমে এসেছে, এই প্রক্রিয়াটি আমার সমীচীন মনে হয়নি। বরং এর ফলে পরবর্তীতে যেকোনো স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে আমাদের গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা আস্থার সংকটে পড়তে পারে। তিনি বলেন, যে টোনে হাসনাতের ফেসবুকের লেখা উপস্থাপন করা হয়েছে, আমি মনে করি কনভারসেশন ততটা এক্সট্রিম ছিল না। তবে অন্য কোনো একদিনের চেয়ে অবশ্যই স্ট্রেইট-ফরওয়ার্ড এবং সো-কনফিডেন্ট ছিল।

হাসনাত-সারজিসের পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে অস্বস্তিতে পড়েছে এনসিপি। বিশেষ করে সেনাবাহিনীর সঙ্গেও দলটির প্রকাশ্য বিরোধে জড়ানো স্পষ্ট হয়। এমনকি এমন গোপন বৈঠকের বিষয় প্রকাশ্যে আনায় দলটির প্রতি আস্থার সংকট তৈরি হয় রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যেও। বিষয়টি নিয়ে খোদ এনসিপি’র হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপেও সমলোচনা করা হয়। বিষয়টির সমাধানে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গেও পরামর্শ নেয়া হয়। সূত্রের দাবি, সেনাবাহিনীর উচ্চপর্যায়ের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টাও করেন নেতারা। আনঅফিসিয়ালি নিজেদের ভুল স্বীকার করে বার্তাও দেয়া হয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে।

এদিকে শুক্রবার এক ফেসবুক পোস্টে এনসিপি’র মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে সেনা জনতার অভ্যুত্থানের ফসল লুটকারী হিসেবে মন্তব্য করেন। একই স্ট্যাটাসে তিনি রাজনীতিতে জামায়াতে ইসলামীর পুনর্বাসন নিয়েও অস্বস্তিকর মন্তব্য করেন। নাসীরের দেয়া ওই স্ট্যাটাসের যখন কড়া সমালোচনা হচ্ছে তখন তিনি তার বক্তব্য প্রত্যাহার করে নেন। এরপর ওইদিন রাতে এনসিপি তাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে নেতাকর্মীদের ফেসবুক ব্যবহারে সতর্ক থাকতে কড়া নির্দেশনা দেয়। দলটি মনে করছে, অযাচিত বক্তব্য দিলে জনগণের মধ্যে এনসিপি নিয়ে প্রত্যাশা আছে সেটিও ভাটা পড়বে। তাই নেতাকর্মীদের ফেসবুক ব্যবহারে সতর্ক হওয়ার বিকল্প নেই।

mzamin