Saturday, March 9, 2019

ভেনেজুয়েলায় স্মরণকালের বিদ্যুৎ বিপর্যয়

ভেনেজুয়েলায় ২৪ ঘণ্টার ব্ল্যাকআউটে (বিদ্যুৎ বিপর্যয়) জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। গত বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা ৫০ মিনিট থেকে গতকাল শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ–সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় পুরো দেশ অচল হয়ে পড়ে। প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো এই ব্ল্যাকআউটের ঘটনাকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘স্যাবোটেজ’ বলছেন।
আজ শনিবার বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে জানানো হয়, ভেনেজুয়েলায় এত দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যুৎ–সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঘটনা ঘটেনি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সব কার্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়। বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নের ঘটনায় ভেনেজুয়েলায় চলমান রাজনৈতিক সংকটে আরও উত্তাপ সৃষ্টি হয়। দেশটির স্বঘোষিত প্রেসিডেন্ট বিরোধী দলের নেতা হুয়ান গুয়াইদোর প্রতি সমর্থন রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের। প্রেসিডেন্ট মাদুরোর দাবি, তাঁর প্রতিপক্ষের সমর্থনে যুক্তরাষ্ট্র এই ‘স্যাবোটেজ’ করেছে।
দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ এই টুইট বার্তায় জানান, দেশব্যাপী বিদ্যুৎ–সংযোগ চালু করার কাজের জন্য প্রেসিডেন্ট মাদুরো সব কার্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করেছেন।
গতকাল স্থানীয় সময় বিকেলের দিকে অল্প অল্প করে রাজধানী কারাকাসের বেশ কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ–সংযোগ চালু হয়। পাশাপাশি মিরান্দা ও ভারগাসের কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ–সংযোগ চালু হয়। তবে চালু হওয়ার কিছু সময়ের মধ্যে বিদ্যুৎ–সংযোগ আবারও বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এ কারণে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন সময় ২৪ ঘণ্টা ছাপিয়ে যায়। রাত গভীর হলে রাজধানীজুড়ে লোকজন সসপ্যান পিটিয়ে শব্দ করা শুরু করে। এটা দক্ষিণ আমেরিকায় বিক্ষোভ প্রদর্শনের জনপ্রিয় একটি পন্থা।
কিছু জ্বালানি তেলের স্টেশনে লোকজনের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। তাঁরা জেনারেটর বা গাড়ির জন্য জ্বালানি তেল নিতে আসেন। অ্যান্টনিও বেলিসারিও নামের এক ব্যক্তি জানান, তিনি ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে পেট্রল নেওয়ার লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। বিদ্যুৎ–সংযোগ চালু হওয়া মাত্রই চলে যাচ্ছে।
দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নের ঘটনায় দেশটি জুড়ে বিশৃঙ্খলা লেগে যায়। অনেকে রাতের অন্ধকারে অসুস্থ রোগীকে হাসপাতাল থেকে জরুরি বিদ্যুৎ সরবরাহ রয়েছে—এমন ক্লিনিকগুলোয় স্থানান্তর করতে গিয়ে বিপাকে পড়েন। কৃত্রিম শ্বাসযন্ত্র বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কারাকাসে ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে মারিয়েলসি অ্যারে নামের এক রোগী মারা যান। তাঁর চাচা জোসে লুগো বলেন, চিকিৎসকেরা তাঁর ভাতিজাকে হাত দিয়ে পাম্প করাসহ যা করার সব রকম চেষ্টা করেছিলেন বাঁচানোর জন্য। কিন্তু বিদ্যুৎ–সংযোগ না থাকলে তাঁরা আর কতটুকুই কী করতে পারবেন?
ইমিলসে আরেলানো নামের এক মা জানান, তাঁর সন্তানের জরুরি ডায়ালাইসিস বাতিল হয়ে যায়। হাসপাতালের কর্মীরা মোবাইল ফোনের আলোতে কাজ করছিলেন।
কারাকাসের প্রধান মর্গ বেলো মন্টের রেফ্রিজারেটর বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মৃত ব্যক্তিদের স্বজনদের উদ্বেগ নিয়ে মর্গের বাইরে অবস্থান করতে দেখা যায়। তাঁরা সৎকারের জন্য মরদেহ নেওয়ার অনুমতির অপেক্ষা করছিলেন।
বিদ্যুৎ–সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় ট্রাফিক সংকেত অকার্যকর হয়ে পড়ে। সাবওয়ে সিস্টেম বন্ধ হয়ে যায়। ক্ষুব্ধ লোকজন অফিস থেকে দীর্ঘ পথ হেঁটে বাড়ির দিকে রওনা দেন। অপরাধপ্রবণ কারাকাস শহরে হাজার হাজার বাড়িঘরে বিদ্যুতের অভাবে পানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। শহরটিতে ২০ লাখ লোকের বাস রয়েছে। টেলিফোন ও ইন্টারনেট সেবাও বন্ধ হয়ে যায়। রাজধানীর সিমোন বলিভার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিদ্যুতের অভাবে কার্যক্রম ব্যাহত হয়। হুয়ান গুয়াইদোর পক্ষে সীমান্ত দিয়ে বিদেশি সাহায্য বন্ধে প্রেসিডেন্ট মাদুরো সীমান্ত বন্ধের ঘোষণার পর গতকাল বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে দেশটি পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

যাজক যখন যৌন নিপীড়ক

কমপক্ষে ১৩ জন নারী ভক্তকে শয্যাসঙ্গীনি করেছিলেন যাজক ফাদার রবার্তো কাভাজ্জানা (৪৩)। এমন অভিযোগে এক বছর দরিদ্রদের সঙ্গে ‘সংরক্ষিত অবস্থায়’ সময় কাটানোর পরে তিনি আবার ফিরেছেন ক্যাথোলিক চার্চে। এ ঘটনাটি ইতালির ভেনিসের কাছে কারবোনারা ডি রোভোলনের। সেখানে তিনি ধর্মীয় বাণী শোনাতেন। কিন্তু তাতে ছিল ক্যারিশমা। ফলে অনেক নারী তার প্রতি আকৃষ্ট হন। আশপাশের এলাকা থেকে তার বক্তব্য শুনতে মানুষ জমায়েত হতেন। তিনি ২০১৭ সালে টিভি উপস্থাপিকা বেলেন রড্রিগুয়েজকে পর্যন্ত বিয়ের আগে ধর্মীয় দিক নির্দেশনা দেন।
ফলে ওই উপস্থাপিকা তাকে উদার যাজক এবং একজন হ্যান্ডসাম ও চমৎকার মানুষ হিসেবে বর্ণনা করেন।
একই বছর তিনি স্বীকার করেন ফাদার আন্দ্রেয়া কন্টিনের আয়োজন করা একটি আনন্দ উৎসবে যোগ দেয়ার কথা। সাবেক তিনজন প্রেমিকা কর্তৃপক্ষের দ্বারস্থ হওয়ার পর সান লাজ্জারো চার্চের ফাদার কন্টিনের বিরুদ্ধে তদন্ত হয়। ধারণা করা হয়, ফাদার কন্টিনের ওই উৎসবে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেছিলেন ফাদার কাভাজ্জানা। ফলে উত্তর ইতালিতে অবস্থিত ফাদার কন্টিনের বাসায় তল্লাশি চালায় পুলিশ। উদ্ধার করা হয় বাসায় তৈরি পর্নো চবি ও বিভিন্ন রকম সেক্স টয়। ধারণা করা হয়, নারীদের প্রলুব্ধ করা যায় এমন অনেক ওয়েবসাইটের মাধ্যমে এই যাজক এমন সেবা নিতে প্রস্তাব দিতেন। জানা যায়, যখন বিয়ে ভেঙে গিয়েছিল তখন কমপক্ষে দু’জন নারী ফাদার কন্টিনের কাছে গিয়েছিলেন সাহায্যের জন্য।
তাদেরকে ধর্মীয় উপদেশ দেয়ার পরিবর্তে যৌন উত্তেজনা তৈরি করেন তাদের মাঝে এবং তাদেরকে চাপ দেন বাধাহীন যৌন সম্পর্কে। ৪৯ বছর বয়সী একজন নারী পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন যে, তাকে ফ্রান্সের একটি নগ্নতা বিষয়ক অবকাশ যাপন কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। এ সময় ফাদার কাভাজ্জানার সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করতে বলা হয়। এ ঘটনা ঘটার সময় তা ক্যামেরায় ধারণ করেন ফাদার কন্টিন।

লন্ডনে পতিতাদের র‌্যালি

আন্তর্জাতিক নারী দিবসে লন্ডনের রাস্তায় বিক্ষোভ করলেন পতিতারা। তারা দাবি তুলেছেন আইনে তাদের দেহব্যবসাকে বৈষম্যমুলকভাবে অপরাধ হিসেবে দেখানো হয়েছে। এ পেশাকে যাতে অপরাধ হিসেবে দেখা না হয়, তাদের নিরাপত্তাকে যেন বিপন্ন করা না হয়, সেই দাবিতে লন্ডনের বিভিন্ন রাস্তায় তারা বিক্ষোভ করেন। এ সময় তাদের স্লোগান ছিল ‘নো সেক্স প্লিজ, উই আর স্ট্রাইকিং’। বৃটেনে যৌনব্যবসা সংক্রান্ত আইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে লিস্টার স্কয়ারে বিক্ষোভ করেছেন বেশ কিছু নারী। এতে অংশ নেন ‘দ্য ইংলিশ কালেকটিভস অব প্রস্টিটিউটস’-এর কর্মীরা। এ সময় রিজেন্ট স্ট্রিটে তীব্র ঠান্ডাকে উপেক্ষা করে শুধু অন্তর্বাস পরে বেরিয়ে পড়েন অনেক নারী। তাদের শুক্রবারের এ কর্মসূচি সম্পর্কে খবর দিয়েছে লন্ডনের বিখ্যাত একটি ট্যাবলয়েড পত্রিকার অনলাইন সংস্কার।
এতে বলা হয়, অংশগ্রহণকারীদের অনেকের হাতে এ সময় ছিল ব্যানার ও প্লাকার্ড। তাতে লেখা ‘যৌনকর্মও একটি কাজ’ লেখা। তারা যৌনতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বর্ণবাদ ও অপরাধমূলক আইনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেন। বলেন, এসব আইন যৌনকর্মীদের জীবনকে বিপন্ন করে তুলছে। 
ওদিকে লন্ডনের রিজেন্ট স্ট্রিটে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে র‌্যালি করেছেন বিভিন্ন পেশার, ধর্ম, বর্ণের নারীরা। ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কড়া ঠান্ডার মধ্যে তারা সাহসী হয়ে শুধু আন্ডারওয়্যার পড়ে হাজির হন এতে। এর মধ্যে একজন নারী ছিলেন, যার একটি পা নেই। তিনি তাতে কৃত্রিম পা যুক্ত করেছেন। এটা প্রদর্শন করতে তিনি পরেছিলেন সংক্ষিপ্ত পোশাক। আরেকজন নারীকে দেখা গেছে হুইলচেয়ারে।

আগের রাতে ব্যালট ভর্তি বন্ধে ইভিএম চান সিইসি: প্রতিক্রিয়া বিশিষ্টজনদের

বাংলাদেশের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা গতকাল (শুক্রবার) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে নির্বাচন কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ কর্মশালায় মন্তব্য করেছেন, ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোট হলে ভোটের আগের রাতে ব্যালট বাক্সে ভরে রাখার কোনো সুযোগ থাকবে না।
তার আগে গত বুধবার উপজেলা পরিষদ নির্বাচন সামনে রেখে সুনামগঞ্জে বিশেষ আইনশৃঙ্খলা সভায় প্রধান অতিথি হয়ে নির্বাচন কমিশনার শাহাদাত হোসেন চৌধুরী বলেছিলেন, ‘আমি পরিষ্কারভাবে জানাতে চাই, নির্বাচনের আগের রাতে ব্যালট বাক্স ভরা কিংবা ভোটের দিন, ভোটের পর গণনার সময় কোনো অনিয়ম মেনে নেওয়া হবে না।’
নির্বাচনের আগের রাতে ব্যালট বাক্স ভরা প্রসঙ্গে খোদ প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং একজন দায়িত্বশীল কমিশনারের মন্তব্যের কারণে অনেকে কৌতুকবোধ করলেও বিরোধী রাজনৈতিক দল ও বিশ্লেষকেরা বলছেন- নির্বাচন কমিশন প্রকারান্তরে এ সংক্রান্ত অভিযোগ স্বীকার করেই নিয়েছেন।
বাংলাদেশে গত ৩০ ডিসেম্বর আনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন থেকেই নির্বাচনে আংশগ্রহণকারী দল বিএনপি, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট, বাম গণতান্ত্রিক জোট ও ইসলামী আন্দোলন আগের রাতে ব্যালট বাক্স ভরে রাখার অভিযোগ করে আসছে। এমনকি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪–দলীয় জোটের শরিক জাসদের (আম্বিয়া) পক্ষ থেকে বলা হয়, প্রশাসনের একশ্রেণির অত্যুৎসাহী অংশ ভোটের আগের রাতেই ভুয়া ভোটের মাধ্যমে ব্যালট বাক্স ভর্তি করে রাখাসহ নানা অনিয়ম সংঘটিত করেছে।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) পর্যবেক্ষণেও আগের রাতে ব্যালট বাক্স ভরে রাখার বিষয়টি গুরুত্বসহকারে উল্লেখ করা হয়েছে।
জাতীয় নির্বাচনে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গত ২২ ফেব্রুয়ারি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অনিয়ম প্রসঙ্গে গণশুনানি করে। এ গণশুনানিতে ফ্রন্টের মনোনীত ধানের শীষ প্রায় সব প্রার্থীই অভিযোগ করেছেন, নির্বাচনের আগের রাতেই তাঁদের নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় ভোটের বাক্স ভরে রাখা হয়।
ইতোমধ্যে জাতীয় নির্বাচনে ভোট কারচুপির অভিযোগ করে নির্বাচন বাতিলের দাবিতে হাইকোর্টের নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীরা ৭৪টি মামলা দায়ের করেছেন।
এছাড়া, আটটি বাম দলের সমন্বয়ে গঠিত বাম গণতান্ত্রিক জোট গত ১১ জানুয়ারি একাদশ সংসদ নির্বাচনে অনিয়ম নিয়ে গণশুনানি করে। এতে জোটের ১৩১ জন প্রার্থীর অধিকাংশই প্রার্থীই, আগের রাতে ব্যালট পেপারে সিল মেরে রাখা, ভোটের দিন সরকারি দলের লোকজনের কেন্দ্র দখল, বিরোধী দলের পোলিং এজেন্টকে কেন্দ্রের ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া- ইত্যাদি অভিযোগ করেছেন।
এ প্রসঙ্গে বাম গণতান্ত্রিক জোটের সমন্বয়ক ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক রেডিও তেহরানকে বলেন, নির্বাচন কমিশন আগের রাতে ব্যালটবাক্স ভরে ফেলার বিষয়টি স্বীকার করার পর এখন তাদের উচিত হবে কোথায় কিভাবে কারা এ কাজটি করেছে তা চিহ্নিত করা এবং সকল ব্যর্থতার দায় নিয়ে পদত্যাগ করা। তাছাড়া অবিলম্বে এ অবৈধ সংসদ বাতিল করে নিরপেক্ষ সরকারের মাধ্যমে দ্রুত একটি অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানেরও দাবি করেন তিনি।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন গণমাধ্যমকে বলেছেন,  সিইসি তার বক্তব্যে ২৯ ডিসেম্বর রাতে ব্যালট বাক্স ভরে যে ভোট ডাকাতি হয়েছিল, তা স্বীকার করে নিলেন। তবে ইভিএম চালু করলেও তা করা হবে ডাকাতির উদ্দেশ্যে।
এছাড়া, সাবেক নির্বাচন কমিশনার ড. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, নির্বাচনে আগের রাতে ব্যালট বাক্স ভরে রাখার প্রসঙ্গ টেনে সিইসি ও একজন কমিশনার যা বলেছেন, তাতে ধরে নিতে হবে যে এ সংক্রান্ত অভিযোগ সম্পর্কে তাঁরা নিশ্চিত হয়েছেন। প্রকারান্তরে তাঁরা এটা স্বীকার করেও নিয়েছেন। এখন নির্বাচন কমিশনেরই উচিত একটি তদন্ত করে দেশবাসীকে জানানো যে, ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে কোন কোন কেন্দ্রে এরকম ঘটনা ঘটেছিল। 
এদিকে, টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান গণমাধ্যমকে বলেছেন, গতকালের বক্তব্যের মাধ্যমে সিইসি প্রকারান্তরে স্বীকার করে নিলেন যে আগের রাতে সিল মেরে ব্যালট বাক্স ভরে রাখার ঘটনা ঘটেছে।
ইফতেখারুজ্জামানের মতে, ইভিএমে ভোট হলে এটা যে হবে না, তাও নির্ভর করছে ইসি ও ক্ষমতাসীন দলের ওপর। ইসি যদি তার ওপর দেওয়া সাংবিধানিক দায়িত্ব নিরপেক্ষভাবে পালন না করে, সরকারি দল যদি আন্তরিক না হয়, তাহলে ইভিএম কেন, যেকোনো পদ্ধতিতে ভোট হলে এর অপব্যবহারের সুযোগ থেকে যাবে।

‘খালেদাকে সানগ্লাস পরা দেখে অসুস্থ মনে হয় না’

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া আদালত প্রাঙ্গনে সানগ্লাস পরা দেখলে অসুস্থ বলে মনে করেন না তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ। আজ শনিবার  জাতীয় প্রেস ক্লাবের ঢাকা এডিটর কাউন্সিল আয়োজিত অভিষেক অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মান রেখে বলছি, তাকে যখন আদালত প্রাঙ্গণে নিয়ে আসা হয় তখন তার সানগ্লাস পরা দেখে আমাদের কারও মনে হয় না যে তিনি অসুস্থ।
হাছান মাহমুদ বলেন, এটা তার নতুন কোনও রোগ না। এ রোগ নিয়ে তিনি আগেও রাজনীতি করেছেন। তিনি কারাগারে যে সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন তা ভারতীয় উপমহাদেশে বিরল।
তিনি বলেন, বিএনপি নির্বাচন থেকে পালানোর পথ খুঁজছে। তাদের সব সময় উদ্দেশ্য থাকে কীভাবে নির্বাচন কমিশনকে বিতর্কিত করা যায়। এই কথা বলে তারা নির্বাচন থেকে পালানোর পথ খুঁজে। যেভাবে তারা নির্বাচন থেকে পালাচ্ছে তাতে তারা জনবিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে। আমি বিএনপিকে অনুরোধ জানাবো আপনারা নির্বাচন ভীতি দূর করে নির্বাচন থেকে পালানোর যে নীতি অনুসরণ করছেন, সেই নীতি থেকে সরে এসে নির্বাচনে আসুন।
এর আগেও আপনারা দেখেছেন বিভিন্ন নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার হয়েছে। সেখানের আমরা ফলাফল পেয়েছি এবং সেই কেন্দ্রের ভোটের ফলাফল নিয়ে কারও কোনও আপত্তি ছিল না।

কাশ্মিরের ইন্তিফাদা by বখতিয়ার উদ্দীন চৌধুরী

ইন্তিফাদা শব্দটি আরবি, ফার্সি, উর্দু তিন ভাষায় আছে। ইন্তিফাদার অর্থ সর্বাত্মক সংগ্রাম বা বিপ্লব। কাশ্মির আর ফিলিস্তিনিরা তাদের আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামকে ইন্তিফাদা বলে অভিহিত করে থাকেন। ইন্তিফাদা শব্দটা দিয়ে তারা তাদের মুক্তির সংগ্রামকে বোঝায়। গত ৭২ বছরব্যাপী কাশ্মিরি আর ফিলিস্তিনিরা ভারত আর ইসরায়েলের নির্মম নির্যাতনের শিকার। ইন্তিফাদায় সংশ্লিষ্ট লোকগুলো ধর্মবিশ্বাসে মুসলমান। তারাই তাদের এলাকায় সংখ্যাগরিষ্ঠ।
ফিলিপাইনেও অনুরূপ একটা মুসলিম জনগোষ্ঠী ছিল। তারাও মিন্দানাও দ্বীপে তাদের আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম করেছিলো। নূর মিসৌরী নামক এক বিপ্লবী পুরুষ মিন্দানাও দ্বীপে এ সংগ্রাম শুরু করেছিলেন। তারাও ৭২ বছর দীর্ঘ সংগ্রামের পর কিছুদিন আগে তাদের এলাকার পূর্ণ স্বায়ত্তশাসনের জন্য ফিলিপাইন সরকারের সঙ্গে এক চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন। পূর্ণ স্বায়ত্ত্বশাসন মানে পূর্ব-স্বাধীনতা নয়। নূর মিসৌরী এখন জীবিত নেই। তার পরবর্তী নেতৃবৃন্দ স্বাধীনতা থেকে সরে পূর্ণ-স্বায়ত্তশাসনেই সম্মত হলেন।
আমার এ লেখা কাশ্মির নিয়ে। ভারত-পাকিস্তানের জন্য এটা রাজনৈতিক ইস্যু। ১৯৪৭ সালে ভারত-পাকিস্তান স্বাধীন হওয়ার পর কাশ্মিরের রাজা হরিসিং ভারতে যোগদান করেছিলেন, তবে এতে বহু শর্ত ছিল। ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ ধারা এসব শর্ত মেনেই সংযোজিত হয়েছিলো। প্রথম প্রথম যে কোনও ভারতীয় নাগরিককে কাশ্মির যেতে হলে সীমান্ত ক্রস করার জন্য পারমিট নিতে হতো। পরবর্তী সময়ে লোকসভার সদস্য মওলানা হছরত মোহানীর প্রস্তাবক্রমে পারমিট প্রথা প্রত্যাহার করা হয়।

১৯৪৮ সালে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে প্রথম যে যুদ্ধ হয় তা কাশ্মির নিয়েই। এখন কাশ্মির ভারতের অধিকারে ২ লাখ ২২ হাজার ২শ ৩৬ বর্গ কিলোমিটার আর সেখানে লোকসংখ্যা ১ কোটি ২৫ লক্ষ ৫০ হাজার (২০১১ সালের আদমশুমারি)। পাকিস্তানের অধিকারে কাশ্মির রয়েছে ১৩ হাজার ২শ ৯৭ বর্গকিলোমিটার, তাদের লোকসংখ্যা হচ্ছে ৪০ লাখ ৪৫ হাজার (২০১৭ সালের আদমশুমারি)। কাশ্মিরের আরেকটি অংশ আছে সিয়াচেন এবং আকসাই, যা চীন তার নিজস্ব ভূখণ্ড বলে দাবি করছে। ১৯৪৮ সালে কাশ্মির নিয়ে পাক-ভারতের মাঝে যে যুদ্ধ হয়েছিলো সে যুদ্ধ বন্ধ হয়েছিলো জাতিসংঘের হস্তক্ষেপে।
জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ১৯৪৮ সালে ভারত কাশ্মির প্রসঙ্গ উত্থাপন করে। জাতিসংঘের ৪৭ নম্বর প্রস্তাবে কাশ্মিরে গণভোট, পাকিস্তানের সেনা প্রত্যাহার, এবং ভারতের সামরিক উপস্থিতি ন্যূনতম পর্যায়ে কমিয়ে আনতে আহ্বান জানানো হয়। তবে পাকিস্তান সেনা প্রত্যাহার করতে অস্বীকার করে। তখন থেকেই কাশ্মির কার্যত পাকিস্তান ও ভারত নিয়ন্ত্রিত দুই অংশে ভাগ হয়ে যায়। কথা ছিল গণভোটে স্থির হবে কাশ্মির কি পাকিস্তানের সঙ্গে যোগ দেবে না ভারতের সঙ্গে থাকবে। কিন্তু ভারতের জওহর লাল নেহরু থেকে নরেন্দ্র মোদি পর্যন্ত কেউই এ গণভোট অনুষ্ঠিত হতে দেয়নি। বরং ভারত সাম্প্রতিক সময়ে কাশ্মির ইস্যুটি আমেরিকার সহায়তা নিয়ে জাতিসংঘের কজলিস্ট থেকে বাদ দিতে সমর্থ হয়েছে।

কাশ্মিরের পাকিস্তান অধিকৃত অংশটি আজাদ কাশ্মির হিসেবে পরিচিত। সেখানে প্রেসিডেন্ট আছেন, প্রধানমন্ত্রী আছেন। এখন ভারত অধিকৃত অংশের অনেকেই চায় না যে এলাকাটি ভারতের শাসনে থাকুক। তারা চায় হয় পূর্ণ স্বাধীনতা অথবা পাকিস্তানের সঙ্গে সংযুক্তি। এজন্য তারা ইন্তিফাদা বা মুক্তির সংগ্রাম করছে। ২০১৮ সালে ভারত শাসিত কাশ্মির রাজ্যে ক্ষমতায় ছিল পিপলস ডেমোক্র্যাটিক পার্টির নেতৃত্বে কোয়ালিশন সরকার– যাতে বিজেপিও অংশীদার ছিল। কিন্তু জুন মাসে বিজেপি জোট থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নেয়, এবং তারপর থেকেই রাজ্যটি দিল্লির প্রত্যক্ষ শাসনের অধীনে। এতে সেখানে ক্ষোভ আরও বেড়েছে।
মুক্তির সংগ্রামে লিপ্ত কাশ্মিরিদের প্রত্যেকের হাতে অস্ত্র আছে। অস্ত্র না হোক দু-ভাঙা ইট হলেও আছে। এখন কাশ্মিরে ভারতের সৈন্য উপস্থিতির সংখ্যা ৫ লাখ। শুধু এতো বিপুল সংখ্যক সৈন্যের সমাবেশ ঘটিয়েছে তা নয়, এখন প্রয়োজনে বোমবিংও করা হবে। নিজের জনগণের ওপর পরিচালিত মানবতাবিরোধী কার্যকলাপে সমগ্র বিশ্ব নির্বাক। শুধু মার্চের ১/২ তারিখে অনুষ্ঠিত আবুধাবির ওআইসি সম্মেলনে কাশ্মিরের ওপর একটা কড়া ভাষায় প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছে। রোহিঙ্গা নিয়ে আন্তর্জাতিক আদালতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে মামলা করার সিদ্ধান্তও এ সম্মেলনে গৃহীত হয়েছে। মুসলমান রাষ্ট্রগুলোর এ বোধোদয়কে স্বাগত জানাই এবং কার্যকর ভূমিকায় অবতীর্ণ হোক তা কামনা করি। ওআইসি সম্মিলিত প্রচেষ্টায় উদ্যোগ নিলে মুসলিম বিশ্ব বহু বিপদ থেকে উদ্ধার পাবে।
আফগানিস্তানে সোভিয়েত রাশিয়ার উপস্থিতি প্রতিরোধের সময় পাকিস্তানের ভূমিতে বহু জঙ্গি সংগঠন গড়ে উঠেছে। তার সংখ্যা আল কায়েদা, লস্কর-ই-তৈয়বা, জইশ-ই-মোহাম্মদ ও তালেবানে পাকিস্তানসহ প্রায় ৩০টি। পাকিস্তান নিজের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলার প্রয়োজনে এবং আন্তর্জাতিক চাপের মুখে ৩০টি সন্ত্রাসী সংগঠনকে বে-আইনি ঘোষণা করেছিলো। ছোট ছোট সংগঠনগুলো অকার্যকর হলেও জইশ-ই-মোহাম্মদ, লস্কর-ই-তৈয়াবা এবং তালেবানে পাকিস্তান মজবুত করার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।

জইশ-ই-মোহাম্মদের প্রধান মাওলানা মাসুদ আজহার। তাকে জড়িয়ে ভারতের তিক্ত ইতিহাস আছে। মাওলানা আজহার ভারতের জেলে ছিল। ১৯৯৯ সালে পাকিস্তানি সন্ত্রাসীরা ভারতের কান্দাহারগামী একটা ভারতীয় বিমান হাইজ্যাক করেছিলো। সন্ত্রাসীরা মুক্তিপণ হিসেবে মাওলানা মাসুদ আজহারের মুক্তি চেয়েছিলো। আজহার এমনিভাবে ভারতের কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছিলেন। প্রচার আছে যে, এ তিন সংগঠনকে আইএসআই সহায়তা প্রদান করে থাকে এবং সামরিক প্রশিক্ষণও দেয়। আর এ তিন প্রতিষ্ঠানই কাশ্মিরের স্বাধীনতা সংগ্রামীদের প্রতি সহানুভূতিশীল। ভারতের অভিযোগ, কাশ্মিরের স্বাধীনতা সংগ্রামীদের পাকিস্তানও অস্ত্র সরবরাহ করে।
২০১৬ সালে ১৮ সেপ্টেম্বর ভারতের জম্মু ও কাশ্মির রাজ্যের উরি সামরিক ঘাঁটিতে জইশ-ই-মোহাম্মদের চার সন্ত্রাসী হামলা চালিয়েছিলো। এ হামলায় ভারতের ২৩ জন সামরিক বাহিনীর সদস্য নিহত হয়। ওই হামলার পর ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিতব্য ১৯ সার্ক সম্মেলন বন্ধ হয়ে যায়। এ হামলার ১০ দিন পর ১৯ সেপ্টেম্বর ভারতীয় সেনাবাহিনী জঙ্গিদের ঘাঁটিতে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক চালায়।  এর আগে ২০১৬ সালে ২ জানুয়ারি পাঠানকোটের বিমান ঘাঁটিতে আরেকটি জঙ্গি হামলা হয়েছিলো। এ হামলায়ও বিমান ঘাঁটির বহু ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিলো এবং এক কর্নেলসহ পাঁচজন ভারতীয় সেনা নিহত হয়েছিলো। এ হামলা করেছিলো জইশ-ই-মোহাম্মদের একটি উপ-দল। ২০০১ সালের ১৩ ডিসেম্বর দিল্লির পার্লামেন্ট হাউসে লস্কর-ই-তৈয়বা আরেকটা হামলা চালিয়েছিলো। ওই হামলায় ১৪ জন ভারতীয় বাহিনী সদস্য প্রাণ হারায়। ২০০৮ সালের নভেম্বরের ২৬ থেকে ২৯ মুম্বাইয়ের তাজমহল, ওবেরয় হোটেল ও রেলস্টেশনে হামলা চালানো হয়। হামলায় অংশ নেওয়া আজমল  ধরা পড়েছিলো। এ হামলায় ১৬৬ জন লোক প্রাণ হারায়। বিচারে আজমলের ফাঁসি হয়েছে।
২০১৯ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি কাশ্মিরের পুলওয়ামায় সেনাবাহিনীর লরি বহরে যে হামলা হয়েছে তাতে ৪৪ জন আধা-সামরিক বাহিনীর সদস্য নিহত হয়েছে। জইশ-ই-মোহাম্মদ এ হামলার দায় স্বীকার করেছে। কিন্তু যে ট্রাকটি ৩৫০ কেজি ওজনের বিস্ফোরক বহন করেছিলো তা ছিল স্থানীয় একটি ট্রাক, আর যে ড্রাইভার বিস্ফোরক নিয়ে সেনাবাহিনীর ট্রাকবহরে ঢুকে গিয়েছিলো সেই ড্রাইভারও ছিলো স্থানীয় কাশ্মিরি। সুতরাং মনে হয় এ হামলা চালিয়েছিলো ইন্তিফাদার লোকেরাই।

অবশ্য ইন্তিফাদার লোকদের সঙ্গে পাকিস্তানের নন-স্টেট অ্যাক্টরদের যোগাযোগ রয়েছে এবং কাশ্মিরের ইন্তিফাদার প্রতি তারা সহানুভূতিশীল। ১২ দিনের মাথায় ভারতীয় বিমানবাহিনী সার্জিক্যাল স্ট্রাইক হেনেছে বালাকোটে এবং দাবি করেছে তারা ৩০০ জঙ্গি হত্যা করেছে ও জইশ-ই-মোহাম্মদের বিভিন্ন ঘাঁটি উড়িয়ে দিয়েছে। আর জইশ-ই-মোহাম্মদ-এর প্রধান মাসুদ আজহারের শ্যালকও এ হামলায় নিহত হয়েছে। ভারত ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে যে বিবরণী দিয়েছে বিবিসি, আল জাজিরা সরেজমিন তার সত্যতা পায়নি। তারা বলেছে, একজন লোক আহত হয়েছে আর বালাকোটের জঙ্গলের কিছু গাছপালা ধ্বংস হয়েছে। বালাকোটের জইশ-ই-মোহাম্মদ-এর মাদ্রাসাটি পর্যন্ত অক্ষত রয়েছে।
ভারতের মিথ্যার পরিধি যদি এত ব্যাপক হয় তবে ভারত সরকারের পক্ষে তা ঢেকে রাখা তো সম্ভব হবে না। গণমাধ্যমের এক প্রশ্নের জবাবে ভারতীয় বিমানবাহিনী প্রধান বলেছেন, বিমান বাহিনীর কাজ অপারেশন চালানো, ক্ষয়ক্ষতির হিসাব দেবে সরকার। ২৭ ফেব্রুয়ারি বুধবার পাকিস্তান পাল্টা হামলা চালিয়ে দুটি বিমান ধ্বংস করেছে। একটা বিমান পড়েছে পাকিস্তানের অংশে এবং পাইলট অভিনন্দন পাকিস্তানির হাতে ধরা পড়ে। দ্বিতীয় বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে ভারতের কাশ্মিরে এবং পাইলট নিহত হয়েছে বলে বলা হচ্ছে। এটি ভারতের জন্য গৌরবের ছিল না।
পিঠ মাটিতে লেগেছে এরপর মোদি জেতার ভান করে একটা সাম্প্রদায়িক হুজুগ সৃষ্টির চেষ্টা করছে যার থেকে লোকসভা নির্বাচনে ফায়দা লোটা যায়। অনেক বিশ্লেষক বলছেন, এটা থেকে মোদি নির্বাচনে একটা ডিভিডেন্ট পাবেন। কিন্তু আমার মনে হয় পাকিস্তান ভারতে পাল্টা হামলা চালিয়ে বিমান বিধ্বস্ত করে এক পাইলটকে জীবিত ধরে ফেলে মোদির সব নিকাশ ফিকে করে দিয়েছে। পাইলটকে বন্দি করার দুই দিনের মাথায় ইমরান খান শান্তির কথা বলেছেন আর ধৃত পাইলটকে ভারতের হাতে হস্তান্তর করে ইমরান খান নিজের জন্য একটা সম্মানজনক ইমেজ সৃষ্টি করেছেন। সর্বোপরি ইমরান খান এখন সন্ত্রাসীদের ধরপাকড় শুরু করেছেন। জইশ-ই-মোহাম্মদ-এর প্রধান মাসুদ আজাহারের ভাইসহ ৪৪ জন সন্ত্রাসীকে আটক করেছেন। এখানে মোদির পাওয়া আমি মনে করি শূন্যের কোঠায়।
যারা বলছেন মোদি আগামী লোকসভা নির্বাচনে এ ঘটনা থেকে ডিভিডেন্ট পাবেন, আমার মনে হয় এটা তাদের ভুল ধারণা। অন্যান্য ক্ষেত্রে মোদির ব্যর্থতার বোঝা বেশি, এ ঘটনাটাও শেষ পর্যন্ত মোদির ব্যর্থতার খাতায় জমা হবে। মোদি গত পাঁচ বছর অজ্ঞতা আর গোঁড়ামির উত্থানকে সহায়তা করেছে। ভারতে এখন গরুর চনা বিক্রি হয় এবং তা দুধের চেয়ে চড়া দামে। বৈধিক যুগে নাকি ভারতে রকেট ছিল, দেবতারা আকাশে যে বান মারামারি করতো তাই নাকি রকেট আর ৩২০ ফুট লম্বা প্লেনও নাকি ছিল। দেবতারা যে রথে করে আকাশ মর্গে বিচরণ করতো তাই নাকি প্লেন। মোদি বোম্বের বৈজ্ঞানিক সম্মেলনে বলেছেন, ভারতে প্রাচীনকালে সার্জারির নাকি চূড়ান্ত উন্নতি হয়েছিলো, গণেশের মাথায় হাতির মাথায় লাগানো নাকি উন্নত সার্জারির নমুনা। সমগ্র ভারতটাকে উন্নত বিশ্বের কাছে হাস্যকর করে তুলেছে মোদি বাহিনী।
সংঘ পরিবার আর নরেন্দ্র মোদিরা অজ্ঞতা ও গোঁড়ামির উত্থান ঘটিয়ে ভারতকে কোথায় নিতে চায় কে জানে! সম্ভবত এ যাত্রার শেষ নকশা তাদেরও জানা নেই। ড. অমর্ত্য সেন বলেছেন, যতদিন নরেন্দ্র মোদিরা ভারতের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকবেন ততদিন তিনি ভারতে আসবেন না। এ সিদ্ধান্তটা তো নব প্রজন্মের ভারতীয় যুবকেরাও নিতে পারে।
লেখক: রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও কলাম লেখক
bakhtiaruddinchowdhury@gmail.com

আমাদের দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া আহত হৃদয়গুলো -অরুন্ধতী রায়ের কাশ্মির বিশ্লেষণ

বুকারজয়ী লেখক অরুন্ধতী রায় কেবল একজন বিশ্বখ্যাত উপন্যাসিক নন, সমতাভিত্তিক ন্যায়পরায়ণ পৃথিবীর পথে তিনি একজন নিবেদিতপ্রাণ অ্যাকটিভিস্ট। কাশ্মির প্রশ্নে তিনি সবসময়ই বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর। সেখানকার ভূখণ্ডকে কোনোভাবেই ভারতের অংশ মনে করেন না অরুন্ধতী। কাশ্মিরবাসীর আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের প্রশ্নে সবসময় সোচ্চার তিনি। ভারতের সংখ্যাগরিষ্ঠ নিপীড়িত মানুষের পক্ষে কথা বলার দায়ে মোদি সরকার তাকে রাষ্ট্রবিরোধী তকমাও দিয়েছে; তবুও ভয়ে থেমে যাননি তিনি। মাওবাদী গেরিলাদের সঙ্গেও পথ হেঁটেছেন, গোপন জঙ্গল থেকে খুঁজে আনতে চেয়েছেন জীবনের সত্য। ভারত-পাকিস্তান উত্তোজনার প্রেক্ষাপটে হাফিংটন পোস্টে লেখা সাম্প্রতিক এক নিবন্ধে অরুন্ধতী তুলে এনেছেন কাশ্মিরবাসীর দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া হৃদয়ের আর্তি। রাষ্ট্রীয় বাহিনীর নিপীড়নে পঙ্গুত্ব-অন্ধত্ব আর গুম কিংবা খুনের শিকার হওয়া কাশ্মিরি তরুণদের হৃদয়ে জন্ম নেওয়া স্বাধীনতার আর্তি কেমন করে জঙ্গিবাদে উন্মত্ত হয়, কেমন করে তা সমস্ত কাশ্মিরবাসীর আহত হৃদয়কে আন্দোলিত করে; ছোট্ট নিবন্ধে সেই কথাগুলোই বলেছেন অরুন্ধতী। দেখিয়েছেন, সংকট নিরসন প্রচেষ্টার নামে সামরিক বলপ্রয়োগ জোরালো করার মধ্য দিয়ে কী করে নরেন্দ্র মোদির সরকার ভবিষ্যতের সমাজকে সেই ভগ্ন হৃদয়ের উন্মত্ত তারুণ্যের হাতে  তুলে দিচ্ছে প্রতিদিন। বাংলা ট্রিবিউনের পাঠকদের জন্য 'আওয়ার ক্যাপচারড ওন্ডেড হার্টস' শিরোনামে হাফিংটন পোস্টে প্রকাশিত সেই নিবন্ধের ভাষান্তর। ভাষান্তর: বাধন অধিকারী
দশকের পর দশক জুড়ে ভারতের পূর্ববর্তী শাসকেরা যে পথে অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছেন; 'আক্রান্ত হওয়ার' অজুহাতে পাকিস্তানের বালকোটে নির্বিচারি বিমান হামলা চালিয়ে সেই পথ থেকে নিজের অজান্তেই সরে গেছেন নরেন্দ্র মোদি।সেই ১৯৪৭ সাল থেকেই কাশ্মিরের সংঘাতকে অভ্যন্তরীণ বিষয় দাবি করে ভারত আন্তর্জাতিক মধ্যস্ততার যে কোনও প্রস্তাবের প্রতি তাদের উন্নাসিকতা দেখিয়ে আসছে। পাকিস্তানকে পাল্টা হামলায় তাড়িত করে এবং পারমাণবিক অস্ত্রসমৃদ্ধ দু’টি দেশ হিসেবে পারস্পারিক বোমা বর্ষণের নতুন ইতিহাস সৃষ্টির মধ্য দিয়ে মোদি কাশ্মির বিতর্কের আন্তর্জাতীকরণ করেছেন। বিশ্বের সামনে তিনি কাশ্মিরকে হাজির করেছেন পরমাণু যুদ্ধের আশঙ্কাপূর্ণ সবথেকে ঝুঁকিপূর্ণ এক অঞ্চল হিসেবে। [সে কারণে] পরমাণু যুদ্ধের ভয়াবহতা নিয়ে যাদের ভাবনা-চিন্তা আছে, এমন প্রত্যেক ব্যক্তি, রাষ্ট্র কিংবা সংগঠনেরই [কাশ্মিরে] হস্তক্ষেপের অধিকারের প্রশ্নটি সামনে এসেছে, [সামনে এসেছে পরমাণু যুদ্ধ] রোধ করতে সামর্থের সবটুকু ব্যবহার করার প্রশ্ন।  
২০১৯ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি কাশ্মিরের পুলওয়ামায় আধা-সামরিক বাহিনীর ২৫০০ সদস্যের এক গাড়িবহরে হামলা হয়। পাকিস্তানভিত্তিক জইশ-ই-মুহাম্মদের হয়ে হামলার দায় স্বীকার করে কাশ্মিরের ২০ বছর বয়সী আত্মঘাতী তরুণ আদিল আহমেদ দার। ৪০ মানুষের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে উন্মোচিত হয় কাশ্মির ট্রাজেডির আরেক অধ্যায়। সেই ১৯৯০ সাল থেকে কাশ্মিরের সংঘাতে ৭০ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছে, গুম হয়েছে হাজার হাজার, লাখ লাখ মানুষ নিপীড়নের শিকার হয়েছে, ছররা গুলির আঘাতে বিকলাঙ্গ ও অন্ধ হয়ে গেছে হাজার হাজার তরুণ। ২০০৯ সালের পর গত ১২ মাসে সেখানে মৃতের সংখ্যা সর্বোচ্চতে পৌঁছেছে। অ্যাসোসিয়েট প্রেস (এপি) তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে ২৬০ জন ‘জঙ্গি’, ১৬০ জন বেসামরিক ছাড়াও রয়েছে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর ১৬০ সদস্য, যারা কর্তব্যরত অবস্থায় প্রাণ হারিয়েছে।
কাশ্মিরের সংঘাত বিবেচনার ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী সেখানকার বিদ্রোহী যোদ্ধাদের কেউ কেউ ‘সন্ত্রাসী’ আর ‘জঙ্গি’ নামে ডাকে। কেউ কেউ আবার তাদের ‘মুক্তিযোদ্ধা’  কিংবা ‘মুজাহিদ’ হিসেবে দেখে। তবে কমবেশি সব কাশ্মিরির চোখেই তারা মুজাহিদ। তাদের [লড়াইয়ের] পদ্ধতির সঙ্গে একমত হোক কিংবা ভিন্নমত পোষণ করুক;  হত্যাকাণ্ডের শিকার হলেই শতসহস্র কাশ্মিরি তাদের শেষকৃত্যে যোগ দেয় বিদায় ও শেষ শ্রদ্ধা জানাতে। গত বছর প্রাণ হারানো বেসামরিকদের বেশিরভাগই সেইসব মানুষ, যারা ভারতীয় সেনাদের অভিযান চলাকালে জঙ্গিদের পালানোর সুযোগ সৃষ্টি করে দিতে গিয়েই নিজেদের জীবন বিসর্জন দিয়েছেন।
[কাশ্মিরে] সুদীর্ঘ সময় ধরে জারি থাকা এই রক্তাক্ত আখ্যানে, হতাহতের বিবেচনায় পুলওয়ামার হামলা সবথেকে ভয়াবহ। এদিকে হাজারে হাজারে না হলেও কাশ্মিরে আদিল আহমেদ দারের মতো শত শত তরুণের জন্ম হয়েছে যুদ্ধাবস্থার মধ্যে। এমন এক ভীতির সংস্কৃতিতে তারা বাস করেন, যে স্বাধীনতার উন্মত্ত বাসনায় আত্মঘাতীও হয়ে উঠতে পারেন। যে কোনও দিন তাই আবারও পুলওয়ামার থেকে দুর্বল কিংবা শক্তিশালী আরও একটি হামলা হতে পারে। সরকার কি আত্মঘাতী এইসব তরুণের হাতে দেশসহ সমগ্র উপমহাদেশের ভবিষ্য নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা তুলে দিতে চাইছে? নাটুকে আর অন্তসারশূন্য প্রতিক্রিয়া জানানোর মধ্য দিয়ে নরেন্দ্র মোদি কিন্তু সেই কাজটাই করেছেন। তিনি আসলে ওই স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষায় আত্মাহুতিতে উন্মত্ত তরুণদের হাতেই আমাদের ভবিষ্যৎ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা তুলে দিয়েছেন। পুলওয়ামার তরুণ আত্মঘাতী বোমাবাজদের সম্পর্কে আর কিছু জানার চেষ্টা করা হয়নি।
ভারতীয়রা ব্রিটিশ শাসনের হাত থেকে স্বাধীন হওয়ার নিজস্ব সংগ্রামকে খুবই গুরুত্ব দেয়। স্বাধীনতা সংগ্রামের অগ্রনায়কদের এরা কার্যত দেবতাজ্ঞানে পূজা করে। তবে খুবই অদ্ভূত যে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কাশ্মিরের স্বাধীনতাকামীদের  তেমন করে দেখা হয় না, যারা একই [স্বাধীনতার] লড়াই করে যাচ্ছে। পাকিস্তান (একসময় রাষ্ট্রীয়ভাবে, এখন বিশেষত অরাষ্ট্রীয় ক্রীড়ানকদের দিয়ে ) অস্ত্র, জনবল ও সরঞ্জাম দিয়ে সেখানে যে সশস্ত্র গোষ্ঠীকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে তার মধ্যে গোপন কিছু নেই। তবে স্থানীয়দের প্রত্যক্ষ সমর্থন ছাড়া যে কাশ্মিরের মতো একটা যুদ্ধক্ষেত্রে জঙ্গি অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব নয়, সেটাও তো আর গোপন নেই।
সুস্থ মস্তিষ্কের কোনও মানুষটা চিন্তা করবে যে, নারকীয়-জটিল-নৃশংস যুদ্ধ নিরসন কিংবা উত্তেজনা প্রশমিত হতে পারে এককালীন দ্রুততর নাটুকে সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের মাধ্যমে? এই সার্জিক্যাল স্ট্রাইট মোটেও ততোটা লক্ষ্যভেদী নয়, যতোটা বলা হয়। ২০১৬ সালে উরির হামলার পর এরকম একটা অভিযান পরিচালিত হয়েছিল, যা দিয়ে বলিউডকে অ্যাকশন চলচ্চিত্র বানাতে উৎসাহিত করার চেয়ে বেশি কিছু করা যায়নি। বালাকোটের হামলাও যেন একই সেই চলচ্চিত্রেরই অনুপ্রেরণা। এখন সংবাদমাধ্যম খবর লিখছে, পরবর্তী চলচ্চিত্র নির্মাণ প্রজেক্টের অংশ হিসেবে ‘বালাকোট’ নামের কপিরাইট পেতে বলিউডের প্রযোজকরা এরইমধ্যে লাইন ধরেছে। সবমিলে, বলা দরকার, অদ্ভূত এই হামলার আগ্রহটি যতোটা না আক্রমণ ঠেকানোর পূর্ব কৌশল, তার চেয়ে বেশি 'প্রাক নির্বাচনি কৌশল'।
কোনও দেশের প্রধানমন্ত্রীর জন্য দেশের শক্তিশালী বিমানবাহিনীকে বিপজ্জনক নাটুকে অভিযানের দিকে ঠেলে দেওয়ার ঘটনা অসম্মানজনক। আর দুঃখের বিষয় হচ্ছে, আমাদের উপমহাদেশে যখন এই দায়িত্বজ্ঞানহীন পারমাণবিক উত্তেজনার খেলা চলছে,  যুক্তরাষ্ট্র তখন তালেবানদের সঙ্গে আলোচনায় ব্যস্ত; যাদের সঙ্গে ১৭ বছর ধরে যুদ্ধ চালিয়েও কোনও ফল আসেনি। উপমহাদেশের এই পেঁচানো সহিংস বাস্তবতা ততোটাই রক্তমুখর, যতখানি দৃশ্যত হাজির আছে। কিন্তু আসলেই এতোটা সরলভাবে দেখার সুযোগ আছে কী?
অরুন্ধতী রায়ের পরিচিতি
ন্যায়, সমতা আর মুক্ত পৃথিবীর পক্ষে বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর অরুন্ধতী রায় বুদ্ধিজীবী হিসেবে বিশ্বজুড়ে এক পরিচিত নাম।  জন্ম ১৯৬১ সালের ২৪ নভেম্বর ভারতের আসাম রাজ্যের শিলংয়ে। সিরিয়ান খ্রিস্টান মা ম্যারি রায়ও একজন নারী অধিকারকর্মী ছিলেন। শৈশবের দিনগুলোতে কেরালার আয়মানাম এলাকায় ছিলেন। সেখানকার কর্পাস ক্রিস্টি বিদ্যালয়ে শিক্ষাজীবন শুরু করেন। স্থাপত্যবিদ্যার পাঠ নেন দিল্লির পরিকল্পনা ও স্থাপত্য বিদ্যালয়ে। ১৯৯৭ সালে রচিত প্রথম উপন্যাস ‘গড অব স্মল থিংস’-এর জন্য বুকার পুরস্কার পান অরুন্ধতী। মানবাধিকারের পক্ষে সোচ্চার অবস্থানের জন্য সিডনি শান্তি পুরস্কারও পেয়েছেন তিনি।
ভারত থেকে শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের সব পরাক্রমশালী রাষ্ট্রের আগ্রাসী নীতির বিপক্ষে বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর অরুন্ধতী। ইরাক-আফগানিস্তানসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির বিরুদ্ধে অরুন্ধতী বলেছেন সোজাসাপ্টাভাবে। কাশ্মিরের জনতার আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের প্রশ্নে অরুন্ধতী দাঁড়িয়েছেন নিজ রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে। ভারতের মাওবাদী আন্দোলন নিয়ে মূলধারার বুদ্ধিজীবী এবং এস্টাবলিশমেন্টের বিরুদ্ধে ভয়াবহ অবস্থান নিয়েছেন তিনি। পেয়েছেন ‘রাষ্ট্রদ্রোহিতা’র খেতাব। এসব বিভিন্ন বিষয়ে লেখা তার বহু রচনা নিয়ে বই প্রকাশিত হয়েছে। বিপুল পরিমাণ পাঠক তা সাদরে গ্রহণও করেছেন। তবে ৯৭’ র  ‘গড অফ স্মল থিংস’-এর পর উপন্যাসের পথে হাঁটেননি আর, যেন থমকে ছিলেন ২০০৬ পর্যন্ত। ১০ বছরের বিরতি দিয়ে তিনি ২০০৭ এ লিখতে শুরু করেছিলেন দ্বিতীয় উপন্যাস ‘দ্য মিনিস্ট্রি অফ আটমোস্ট হ্যাপিনেস’। তার এই দ্বিতীয় উপন্যাসে বহু বছরের কাহিনী আবর্তিত হয় পুরনো দিল্লি থেকে শুরু করে অগ্নিকুণ্ড কাশ্মির হয়ে মধ্যভারতে। যেখানে যুদ্ধই শান্তি, অথবা শান্তিই যুদ্ধ। যেখানে কখনও কখনও ‘স্থিতাবস্থা’ ঘোষণা করা হয়।
গত বছর জুনে এই বই নিয়ে বিবিসির সাংবাদিক ইভান ডেভিসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অরুন্ধতী বলেন, ‘আমার মতো মানুষকে ভারতবিরোধী-জাতিবিরোধী আখ্যা দেওয়াটা একটা বড় রকমের তামাশা। অথচ আমরাই এই ভূখণ্ডকে ভালবাসি। একটা জাতি হিসেবে কিংবা সরকারের কিছু নীতি-পরিকল্পনার সমর্থক হিসেবে নয়।' মানবতার পক্ষে সোচ্চার এই অ্যাকটিভিস্ট বলেছিলেন, ‘আমরা ভালোবাসি এখানকার গান-কবিতা-নদী। আমরা লড়ছি এখানকার নদী-পাহাড়-মানুষ আর বৈচিত্র্যের জন্য, যা ভারতকে সুন্দর করে তুলেছে।’ অরুন্ধতী বলেন, ‘ভারতের জন্য তার মতো মানুষদের লড়াই সেই ভালোবাসারই সাক্ষ্য। লড়াই ছাড়া আমাদের আর কোনও পথ নাই। যা আমরা ভালোবাসি, তার সুরক্ষা নিশ্চিত করার লড়াইটাই বড় কথা।’

ইলহান ওমর ও ইহুদি বিদ্বেষের অস্ত্র by মিসবাহুল হক

গত বছরের শেষের দিকে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে প্রথম মুসলিম নারী কংগ্রেস সদস্য হিসেবে কোরআন শরীফের ওপর হাত রেখে শপথ নিয়ে ইতিহাস গড়েন ইলহান ওমর। বিপুল সংখ্যক নারীর অংশগ্রহণ ও অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে দু’জন মুসলিম নারী শপথ নেয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রতিনিধি পরিষদ বৈচিত্রময় রূপ নিয়েছে। কিন্তু এরই মধ্যে শুরু হয়েছে নানা সমালোচনা ও ষড়যন্ত্র। ‘ইহুদি-বিদ্বেষের’ অস্ত্রে ঘায়েল হতে চলেছেন ইলহান ওমর। ইসরায়েল বিরোধী মন্তব্য করে এখন মার্কিন রাজনীতিতে বিপাকে রয়েছেন তিনি। বিশ্লেষকরা বলছেন- বক্তব্য না, বরং ব্যক্তি ইলহান ওমরই সমালোচকদের প্রধান টার্গেট। তারা ইহুদি-বিদ্বেষের অভিযোগকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে এমন একজন কংগ্রেস সদস্যের পতন ঘটানোর চেষ্টা করছেন, যিনি প্রতিনিধি পরিষদে ইসলামী বিধান অনুসারে হিজাব পরে মানুষের নজর কেড়েছেন।
যিনি মধ্যপ্রাচ্যের বিষয়ে, বিশেষ করে ইসরাইল ইস্যুতে স্পর্শকাতর সব তথ্য অকপটে প্রকাশ করেন।
সাম্প্রতিক সমালোচনা ও নিন্দার মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের ক্ষোভেরই বহিপ্রকাশ ঘটেছে।
সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহের শুরু একটি বইয়ের প্রকাশনা উৎসবে ইলহানের দেয়া বক্তব্যকে ঘিরে। সেখানে ইলহান বলেন, আমেরিকানদের মধ্যে বিদেশী আনুগত্য করার প্রবণতা রয়েছে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী ইহুদি লবির প্রতি ইঙ্গিত করেন।  এর আগেও ইলহান ইহুদিদের নিয়ে তীর্যক মন্তব্য করেছেন। গত মাসে তিনি টুইটারে দেয়া এক বার্তায় দাবি করেন, ইসরাইলের প্রতি মার্কিন আইন প্রণেতাদের অব্যাহত সমর্থনের মূল চালিকা শক্তি হলো ইহুদিবাদী লবিদের দান করা মোটা অংকের অর্থ। তিনি বুঝিয়েছেন, ইহুদি লবি আমেরিকান-ইসরাইল পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কমিটির (এআইপিসি) কাছ থেকে বিপুল অর্থ পাওয়ার কারনেই মার্কিন আইন প্রণেতারা অব্যাহতভাবে ইসরাইলকে সমর্থন করে। প্রসঙ্গত, এআইপিসি নামক সংগঠনটি যুক্তরাষ্ট্রে ইহুদিদের স্বার্থ দেখভাল করে।
ইলহান ওমরের এই বক্তব্যে তোলপাড় শুরু হয় মার্কিন রাজনীতিতে। স্বয়ং প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পও ইলহানের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে ইহুদি-বিদ্বেষের নিন্দা জানিয়ে একটি রেজ্যুলেশন পাস করে প্রতিনিধি পরিষদ। তখন ইলহান ওমর ক্ষমা চাইলে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়। কিন্তু গত সপ্তাহে ওয়াশিংটন ডিসিতে একটি বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে করা মন্তব্যের কারণে তিনি আবারো আলোচনায় আসেন। ইলহান ওমর দাবি করেন, আমেরিকানদের মধ্যে ভিন্ন দেশের আনুগত্য করার প্রবণতা রয়েছে। তার এই বক্তব্যে মার্কিন ইহুদিরা তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখায়। যুক্তরাষ্ট্রে সক্রিয় ইহুদিবাদী সংগঠন অ্যান্টি ডিফেমেশন লিগের ন্যাশনাল ডিরেক্টর জোনাথন গ্রিনব্ল্যাট প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসিকে একটি চিঠি লেখেন। এতে তিনি ইলহান ওমরের বিরুদ্ধে ইহুদি-বিদ্বেষের অভিযোগ করেন। ইলিয়ট এঞ্জেল ও নিতা লোয়ারিসহ যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী অনেক কংগ্রেস সদস্য ইলহানের সমালোচনায় সোচ্চার হন। তারা নিজের বক্তব্যের জন্য ইলাহনকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে বলেন।
এমন পরিস্থিতিতে ইলহানের পাশে দাড়িয়েছেন আলেক্সান্দ্রিয়া ওকাসিয়ো কর্টেজ সহ একাধিক প্রভাবশালী রাজনীতিক। তারা যুক্তি দেখান, ইলহান তার বক্তব্যে ইহুদি লবির কথা বলেছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইহুদিদের নিয়ে কিছু বলেন নি। কিন্তু পরিস্থিতি এতই জটিল রূপ নিয়েছে যে, নিজের দল ডেমোক্রেটিক পার্টিতেও সমালোচনার মুখে পড়তে হচ্ছে ইলহান ওমরকে। মূলত, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও রিপাবলিকানদের প্রবল চাপের মুখে ডেমোক্রেটরা এটা করতে বাধ্য হয়েছেন।
সম্প্রতি ডেমোক্রেট নিয়ন্ত্রিত প্রতিনিধি পরিষদে ইহুদি-বিদ্বেষের সমালোচনা করে আরেকটি রেজ্যুলেশন তোলা হয়েছে। কার্যত ইলহান ওমরকে তিরস্কার করা এই রেজ্যুলেশনের উদ্দেশ্য। কিন্তু কিছু ডেমোক্রেট নেতা ওই রেজ্যুলেশনে ইহুদি-বিদ্বেষের পাশাপাশি মুসলিম-বিরোধী আক্রমণেরও সমালোচনা করার দাবি তুলেছেন। ডেমোক্রেট সদস্যদের বিরোধীতার কারণে উত্থাপিত ওই রেজ্যুলেশনের ওপর ভোটাভোটি পিছিয়ে দেয়া হয়েছে। এখন প্রতিনিধি পরিষদ রেজ্যুলেশনে এমন শব্দ অন্তর্ভুক্ত করার কথা ভাবছে, যাতে শুধু ইহুদি-বিদ্বেষ না বুঝিয়ে সাধারণভাবে ধর্মান্ধতা বা গোড়ামি বুঝায়।
মেরিল্যান্ডের ডেমোক্রেট প্রতিনিধি স্টেনি হোয়ার জানান, ওই রেজ্যুলেশনের ওপর ভোটাভোটির দিনক্ষণ এখনো নির্ধারিত হয়নি। তিনি বলেন, ‘আমরা ভাষা নিয়ে কাজ করছি। আবারো বলছি, প্রত্যেক ডেমোক্রেটই এসব ‘ইজম’, বিদ্বেষ ও কুসংস্কারের বিরোধী। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে, প্রেসিডেন্ট নিয়মিত এগুলো উস্কে দেন।,  স্টেনি হোয়ার আরো বলেন- ‘এটা সুস্পষ্ট যে, ইসরাইল সবসময় রাষ্ট্র হিসেবে ছিল না। এটা নতুন কোন বিষয় না।’ ইলহান ওমরকে ইহুদি-বিদ্বেষী বলতেও নারাজ এই যুক্তরাষ্ট্রের এই কংগ্রেসম্যান।
তথাকথিত ইহুদি-বিদ্বেষী বক্তব্যের কারণে আফ্রিকান বংশোদ্ভুত আমেরিকান ইলহান ওমরের ওপর দিয়ে কয়েক সপ্তাহ ধরে সমালোচনার ঝড় বইছে। ব্যাপক পরিসরে বলতে গেলে, ইলহান এখন মুসলিম-বিদ্বেষী আক্রমণের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছেন। এমনকি ৯/১১ হামলার সঙ্গেও তাকে সম্পৃক্ত করা হচ্ছে। ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার রিপাবলিকান সংখ্যাগরিষ্ঠ একটি অঞ্চলে ৯/১১ হামলার সঙ্গে ইলহানের যোগসূত্র দেখিয়ে পোস্টারও টানানো হয়েছে।
হামলার শিকার টুইন টাওয়ারের ওপর ইলহানের ছবি ছাপানো হয়েছে। ইলহানকে বলতে দেখা যাচ্ছে যে, ‘আমিই সেই প্রমাণ যা তোমরা ভুলে গেছো।’ যদিও পরে ওই পোস্টারটি সরিয়ে ফেলা হয়। এছাড়াও, প্রতিনিয়ত ইলহানকে মৃত্যুর হুমকি দেয়া হচ্ছে। গত সপ্তাহে ইলহান ওমর নিজে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। সম্প্রতি কয়েক জায়গায় ‘ইলহানকে হত্যা করো’ এমন লেখাও দেখা গেছে। কে বা কারা এসব কার্যক্রম চালাচ্ছে, তা উদঘাটনে তদন্ত শুরু করেছে এফবিআই।
অধিকার সংগঠনগুলো উদ্বেগ জানিয়ে বলেছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও কংগ্রেসের অব্যাহত সমালোচনার কারণে ইলহান ওমরসহ অন্য মুসলিমদের ওপর বিদ্বেষী হামলা বেড়ে গেছে। ইন্সটিটিউট ফর পলিসি স্টাডিজের ফেলো ফিলিস বেনিস  গত সপ্তাহে ওয়াশিংটন ডিসিতে ওই প্রকাশনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। তিনি জানান, ইলহান ওমর ওই অনুষ্ঠানে সরাসরি ইহুদী-বিদ্বেষী কোন মন্তব্যই করেননি। তার ওপর যে আক্রমণ চালানো হচ্ছে, এজন্য তার বক্তব্যের চেয়ে ব্যক্তিত্ব বেশি দায়ী। এখন মানুষ তার পতন ঘটানোর চেষ্টা করছে।
মানবাধিকার কর্মী খালেদ বেইদুন মনে করেন, যদিও ইলহান মার্কিন কংগ্রেসের প্রথম মুসলিম সদস্য না, কিন্তু তার পরিধান করা হিজাব তাকে কংগ্রেসের সবচেয়ে আলোচিত মুসলিম ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছে। এর কারণেই তার বিরুদ্ধে নিন্দার ঝড় উঠেছে। লাগানো হয়েছে ‘ইহুদি-বিদ্বেষের’ লেবেল। আল জাজিরাকে খালেদ বেইদুন আরো বলেন, এখন ইসরাইল রাষ্ট্রের সমালোচনামূলক যে কোন বিষয়কে ইহুদি-বিদ্বেষের রূপ দেয়া হচ্ছে। চলমান নিন্দা ও সমালোচনার বিষয়ে ইলহান ওমরও অভিন্ন যুক্তি দেখিয়েছেন। তিনি বলেন- ‘আমি ও রাশিদা তিলাইব ( বর্তমান কংগ্রেসের আরেক মুসলিম নারী সদস্য) মুসলিম হওয়ার কারণে অনেক ইহুদী সহকর্মী, অনেক সমর্থক ও মিত্র চিন্তা করেন যে, আমরা যা-ই বলি তা ইহুদি-বিদ্বেষী। কেননা আমরা মুসলিম।’
বর্তমান পরিস্থিতিতে এটা সুস্পষ্ট যে, ইহুদি-বিদ্বেষকে এখন অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। আর রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীকে ঘায়েল করার জন্য এই অস্ত্র সবচেয়ে বেশি প্রয়োগ করছে রিপাবলিকানরা। তাহলে ইলহান ওমর কি ইহুদি-বিদ্বেষের অস্ত্রেই ঘায়েল হবেন? এই প্রশ্নের উত্তর ভবিষ্যতই বলে দেবে।

কীভাবে এত ডলার কামালেন ২১ বছরের তরুণী

সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোর কল্যাণে বিশ্বের তারকাদের সব খবর আমাদের হাতের মুঠোয় এসে যায়। আঙুলের নড়াচড়ায় মেলে হালনাগাদ তথ্য। ফোর্বস-এর প্রকাশ করা ধনকুবেরদের তালিকায় তেমনি এক তথ্য মিলল—মার্কিন মডেল কাইলি জেনার আছেন তালিকায়।
ওয়াশিংটন পোস্টের খবরে বলা হয়েছে, বিশ্বের সেরা ধনী জেফ বেজোস, বিল গেটস, ওয়ারেন বাফেট, কার্লোস স্লিম, মার্ক জাকারবার্গদের তালিকায় স্থান করে নিয়েছেন সারা বিশ্বের ২ হাজার ১৫৩ জন। তালিকায় আছেন কাইলি জেনার। ২০১৮ সাল শেষে কাইলি বিশ্বের ২ হাজার ৫৭ তম ধনী। ২১ বছর বয়সী এই তারকা এবার বিশ্বের সবচেয়ে কম বয়সী ধনকুবের হিসেবে নাম লিখিয়েছেন।
ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গের রেকর্ড ভেঙে দিলেন যুক্তরাষ্ট্রের রিয়েলিটি শো তারকা কাইলি জেনার। এই তারকা এখন বিশ্বের সবচেয়ে কম বয়সী বিলিয়নিয়ার। এমন রেকর্ডে জাকারবার্গ পৌঁছেছিলেন ২৩ বছর বয়সে। সেটা ২০০৮ সালে। তাঁর চেয়ে দুই বছর কম বয়সে বিশ্বের সবচেয়ে কনিষ্ঠ ধনকুবের হয়ে গেলেন জেনার। তিনি টিভি শো ‘কিপিং আপ উইথ দ্য কার্ডাশিয়ানস’-এর মাধ্যমে খ্যাতির শীর্ষে পৌঁছে যান।
যেভাবে কাইলির ব্যবসা শুরু
মার্কিন তারকা কিম কার্ডাশিয়ান পরিবারের সর্বকনিষ্ঠ সদস্য কাইলি জেনার বিপুল পরিমাণ সম্পদ আয় করেছেন প্রসাধনীর ব্যবসা থেকে। ‘কাইলি কসমেটিকস’–এর প্রতিষ্ঠাতা তিনি। কাইলি জেনার তাঁর আইফোন ব্যবহার করে পরিচালনা করেন তাঁর কোম্পানি। ব্যবসায় তাঁকে সহায়তা করছেন মা শ্রিউড ক্রিস (৬৩)। শতকরা ১০ ভাগ কর্তন সাপেক্ষে সন্তানদের আর্থিক কর্মকাণ্ডের দেখাশোনা করেন মা শ্রিউড। এ ব্যবসায় কাইলির মালিকানা ১০০ ভাগ। তিন বছর আগে তৈরি করা প্রতিষ্ঠানটি গত বছরে আনুমানিক ৩৬০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের প্রসাধন বিক্রি করেছে।
কিম কার্ডাশিয়ানের সৎবোন কাইলি জেনার তাঁর ব্যবসা শুরু করেন ২০১৫ সালে। এ সময় ব্যবসার কাজে সহায়তার জন্য সঙ্গে নেন সাতজন কর্মী। আর তাঁকে সহায়তার জন্য পাঁচ খণ্ডকালীন কর্মী আছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসাবিষয়ক ম্যাগাজিন ফোর্বসে বলা হয়েছে, কাইলি জেনারের মোট অর্থের পরিমাণ ১০০ কোটি ডলার। ধনীদের তালিকায় ঢোকা কাইলি ফোর্বসকে বলেছেন, ‘আমি এত সব চাইনি। আমি ভবিষ্যতের দিকে তাকাইওনি। তবে আমাকে যে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে, সেটা শুনে বাস্তবে ভালো লাগছে। আমি এ রকমটা কিছু আশা করিনি।’ কাইলি জেনার বলেন, ‘আমি ভবিষ্যৎ অনুমান করিনি। স্বীকৃতি পেয়ে ভালো লাগছে, মনে হচ্ছে, কেউ উৎসাহ দিয়ে পিঠ চাপড়ে দিল।
কাইলি জেনার তিন বছর আগে ব্যবসা শুরু করেছিলেন ২২ পাউন্ড দামের ‘লিপ কিটস’ দিয়ে। এর মধ্যে ছিল ম্যাচিং লিপস্টিক ও লিপ লাইনার। এক মিনিটের কম সময়ের মধ্যেই তাঁর স্টক শেষ হয়ে গিয়েছিল। ভক্তরা হামলে পড়ায় আর ওই সময় তাঁর ওয়েবসাইট ক্র্যাশ করেছিল। তাঁর কসমেটিকস পণ্যের বিক্রি হয়েছে মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর যে অ্যাকাউন্ট, সরাসরি তার মাধ্যমে। টুইটার, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রামে তাঁর অনুসারীর সংখ্যা সাড়ে ১৫ কোটির মতো। এর চার ভাগের মধ্যে তিন ভাগেরই বয়স ১৮ থেকে ২৪ বছরের মধ্যে।
মাত্র ১০ বছর বয়সে টেলিভিশনে রিয়েলিটি শোতে অভিষেক হয় কাইলির। এই তারকার ইনস্টাগ্রাম, স্ন্যাপচাট, টুইটার অ্যাকাউন্টও আছে। টুইটারে তাঁর অনুসারীর সংখ্যা ২ কোটি ৬৭ লাখের বেশি।
ধনকুবেরদের তালিকায় নারীর সংখ্যা মাত্র ২৫২ জন। নিজে প্রতিষ্ঠিত নারীদের মধ্যে সবচেয়ে ধনী চীনের ওউ ইয়াজুন। তাঁর সম্পদের আনুমানিক মূল্য ৯ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার। এবারই প্রথম নিজে প্রতিষ্ঠিত ধনকুবের নারীর সংখ্যা উন্নীত হয়েছে ৭২ জনে। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ৫৬ জন। এবারের তালিকায় থাকা ২ হাজার ১৫৩ জন অতি ধনীর মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮ লাখ ৬৯ হাজার ৯৯৯ কোটি ডলার, যা ২০১৮ সালের তুলনায় ৪০ হাজার কোটি ডলার কম। এ ছাড়া গত বছরের তালিকা থেকে এ বছর বাদ পড়েছেন ১১ শতাংশ বা ২৪৭ জন ধনী।
গত ৮ ফেব্রুয়ারি কার কত সম্পদ আছে, সে অনুযায়ী ফোর্বসের ধনকুবেরদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। ওই দিন বিশ্বের মুদ্রার বিনিময় হার এবং স্টকের মূল্য বিচার করে করা হয়েছে ধনীদের তালিকাটি। এবারের তালিকার ধনকুবেরদের মধ্যে ৬০৭ জন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। এরপরেই আছে চীন। দেশটির ৩২৪ জনের নাম এসেছে এ তালিকায়।
গত বছর বিশ্বায়নবিরোধী তৎপরতাসহ নানা কারণে বৈশ্বিক অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে বছরজুড়েই বিশ্বের বিভিন্ন শেয়ারবাজারে শেয়ারের দামের উত্থান-পতন ঘটেছে। ফোর্বস বলছে, এই দশকে কেবল দ্বিতীয়বারের মতো ২০১৯ সালের তালিকায় শতকোটি ডলারের মালিকের সংখ্যা যেমন কমেছে, তেমনি তাঁদের মোট সম্পদের পরিমাণও কমেছে। ২০১৯ সালের ফোর্বসের তালিকায় শতকোটি ডলারের মালিকের সংখ্যা ২ হাজার ১৫৩, সংখ্যার বিচারে আগের বছরের চেয়ে তা ৫৫ জন কম।
এক টুইটে আয় ১৩০ কোটি ডলার
মার্কিন মডেল কাইলি জেনার ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে এক টুইটে কোটি ডলার কমে যায় এক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের। এক টুইটে কোটি কোটি ডলারের বাজারমূল্য কমে যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম স্ন্যাপচ্যাটের। টুইটারে কাইলি লেখেন, ‘এমন কেউ কি আছেন, যিনি আর স্ন্যাপচ্যাট ব্যবহার করছেন না? নাকি শুধু আমি একা? আহা এটা খুব দুঃখজনক!’ আর তাঁর এ টুইটে কমে যেতে শুরু করে স্ন্যাপচ্যাটের বাজারমূল্য। কমতে কমতে একধাক্কায় ১৩০ কোটি ডলার পর্যন্ত কমে যায় বাজারমূল্য।
আসলে কাইলির এমন বক্তব্যের পেছনে দায়ী মূলত স্ন্যাপচ্যাট অ্যাপের নতুন নকশা। স্ন্যাপচ্যাট অ্যাপের নকশা পরিবর্তনের জন্য অনেকেই বলে আসছিলেন। তবে পরে অবশ্য স্ন্যাপচ্যাট নিয়ে নিজের ভালোবাসার কথা জানান কাইলি জেনার। তিনি আবারও টুইটে লেখেন, ‘তবু এখনো তোমাকে ভালোবাসি...আমার প্রথম প্রেম’। এতে অবশ্য স্ন্যাপচ্যাটের খুব একটা উপকার হয়েছে, তা বলা যাচ্ছে না। সেই ক্ষতি আর পোষানো যায়নি।
এক পোস্টের ১০ লাখ ডলার
কাইলি তাঁর প্রতি পোস্টের জন্য পকেটে পোরেন ১ মিলিয়ন বা ১০ লাখ ডলার। আর এটি বাংলাদেশের মুদ্রায় ৮ কোটি টাকার বেশি (১ ডলার সমান ৮৪ টাকা)। সৌন্দর্যপণ্যের অন্যতম সম্রাজ্ঞী কাইলি জেনার নানা পণ্যের মডেল হওয়ায় ডাকা হয় ‘বিউটি মুঘল’ নামেও। গত বছরের এপ্রিলে ৩০ দিনে ইনস্টাগ্রামে কাইলি জেনার পোস্ট দিয়েছেন ১৫৬টি। এসব পোস্টে পাঠক সম্পৃক্ততা হয়েছে ১৮ কোটি ৬১ লাখের বেশি। ওই বছরের ৪ মে পর্যন্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে (ফেসবুক, টুইটার ও ইনস্টাগ্রাম) জেনারের ফলোয়ার ১৫ কোটি ৪৭ লাখের ৭৫ হাজারের বেশি। দিন দিন তা বেড়েই চলেছে।

রোহিঙ্গাদের অর্থের প্রস্তাব দেওয়া হয়নি: চীন

বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের মিয়মানমারে  ফিরে যাওয়ার ব্যাপারে কোনও অর্থ প্রস্তাব হয়নি বলে দাবি করছে চীন। একদিন আগেই বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, মিয়ানমারের রাখাইনে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে রোহিঙ্গাদের প্রত্যেক পরিবারকে অর্থ সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছিলো চীন।
২০১৭ সালের আগস্টে নিরাপত্তা বাহিনীর তল্লাশি চৌকিতে হামলার পর রাখাইনে পূর্ব পরিকল্পিত ও কাঠামোবদ্ধ সহিংসতা জোরালো করে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। নিপীড়নের মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে প্রায় সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গা। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ওই অভিযানে জাতিগত নিধনযজ্ঞের আলামত পেয়েছে। পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের ফেরাতে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার চুক্তি করলেও এখনও শুরু হয়নি প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া।
চীন সরকারের এশিয়া বিষয়ক দূত সুন গোজিয়াংয়ের নেতৃত্বে কক্সবাজার রোহিঙ্গা ও অন্যান্যদের সাথে আলোচনা করে। কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং শরণার্থী শিবিরে রবিবার ২৯ জন রোহিঙ্গা নারী-পুরুষের সাথে বৈঠক করেন তিনি।সেখানে রোহিঙ্গাদের ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে ৬ হাজার ডলার আর্থিক সহায়তার প্রস্তাব দেয় চীন।  রোহিঙ্গাদের নিয়ে কাজ করা েএকটি এনজিও তার ভিডিও অনলাইনে প্রকাশ করে।
ঢাকার চীনা দূতাবাসের পলিটিক্যাল ডেস্কের প্রধান ভেরা হু’র সাথে ওইদিন যোগাযোগ করা হলে পরদিন বুধবার এক ইমেইল বার্তায় তিনি চীনের পক্ষ থেকে রোহিঙ্গাদের টাকা দেবার প্রস্তাব অস্বীকার করেন।  আমি ভিডিওটি দেখিনি এবং সেখানে ছিলামও না। তবে চীন কখনো রোহিঙ্গাদের অর্থ প্রস্তাব দিতে পারে না।’ বলে জানান তিনি। বলেন, রোহিঙ্গাদের রাখাইন ফিরে যাবার জন্য চীন কখনো টাকা দেবার প্রস্তাব করেনি, বরং এই টাকা মিয়ানমারের দেওয়ার কথা বলে বেনারকে জানায় ঢাকার চীনা দূতাবাস।
রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারের পক্ষ থেকে টাকা দেওয়া হবে কি না এই তথ্যের সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের কোনও মন্তব্য পাওয়া যায়নি। বৃহস্পতিবার মিয়ানমার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ড. উইন মিয়াত আয়ে এবং রাখাইন তদন্ত কমিশনের সদস্য ড. অং তুন থেটকে কয়েকবার ফোন করেও সাড়া পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে রেডিও ফ্রি এশিয়া।
রোহিঙ্গাদের ওপর নিপীড়নের ঘটনাকে জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র  জাতিগত নিধনযজ্ঞ বলে আখ্যা দিলেও মিয়ানমারকে সমর্থন দিয়ে আসছে চীন। সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ওই অভিযান চালানো হয়েছে বলে করা মিয়ানমারের দাবিকে সমর্থন করছে এশিয়ার অন্যতম পরাশক্তি চীন। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ এ নিয়ে যে পদক্ষেপই নিতে চেষ্টা করুক না কেন, তাতে বাধ সাধে স্থায়ী সদস্য চীন, তার সাথে রাশিয়াও।

৭ই মার্চের ভাষণে স্বাধীনতার সব দিকনির্দেশনা ছিল

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণের মাধ্যমেই স্বাধীনতার মূল ঘোষণা দিয়েছিলেন এবং স্বাধীনতাপ্রিয় মানুষদের সশস্ত্র যুদ্ধে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন। ৭ই মার্চের ভাষণের মাধ্যমেই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার মূল ঘোষণা দেন এবং পাকিস্তানের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করেন।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্ট ও বঙ্গবন্ধু স্মৃতি যাদুঘর আয়োজিত ৭ই মার্চের ওপর এক সেমিনারে সভাপতির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, এই ভাষণের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু জাতির সামনে কেবল একটি স্বাধীন রাষ্ট্রই উপস্থাপন করেননি, বরং এর ভবিষ্যৎ কী হবে তাও তুলে ধরেন। শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর নির্দেশনা ও আদর্শ অনুসরণ করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান।
‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণ: রাজনীতির কবি ও অমর কবিতা’- শীর্ষক এই সেমিনারে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান প্রফেসর আবদুল মান্নান মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।
জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. ফারজানা ইসলাম ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নিলয় রঞ্জন বিশ্বাস এবং বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরের চেয়ারপার্সন শিল্পী হাসেম খান মূল প্রবন্ধের ওপর আলোচনায় অংশ নেন। বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাশুরা হোসেন অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৭ই মার্চের ভাষণের মাধ্যমে জাতির পিতা জাতিকে সকল দিক-নির্দেশনা প্রদান করেন। ‘বাঙালিদের কী করতে হবে, তাও তিনি বলেছেন। শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধু আশঙ্কা করেছিলেন যে, ভাষণের পর তিনি জীবিত নাও থাকতে পারেন। তাঁকে হত্যা করা হতে পারে, যেহেতু পাকিস্তানিরা বহুবার সে অপচেষ্টা করেছে।
তিনি বলেন, ‘সে কারণে বঙ্গবন্ধু যুদ্ধের সকল ব্যবস্থা করে রাখেন। আমি তার নীরব সাক্ষী।
শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধুর ভাষণ নিয়ে অনেকে অনেক রকম ব্যাখ্যা দেন। তখনকার ছাত্রনেতা এখন যারা জীবিত আছেন, আমি আজকেও একজনের ইন্টারভিউ দেখছিলাম। সেখানে কেউ নানাভাবে ব্যাখ্যা দিয়ে দিচ্ছেন। আসলে এই ব্যাখ্যাগুলো শুনলে হাসি পায় যে, এরা আসলে কতটা অর্বাচীনের মতো কথা বলে। ‘তিনি (বঙ্গবন্ধু) নাকি নিউক্লিয়াসের সঙ্গে আলোচনা করলেন’ ভাষণে এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম এখানে মুক্তির সংগ্রাম আগে বলবে না স্বাধীনতার সংগ্রাম আগে বলবে সেটাও নাকি ‘নিউক্লিয়াস’ আলোচনা করেছে। এগুলো সম্পূর্ণ ডাহা মিথ্যা কথা। এর কোনও যৌক্তিকতা নেই।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই যে একেকজন একেকটা ব্যাখ্যা দেন, আসলে তো তা নয়। হ্যাঁ, ভাষণে যাওয়ার আগে অনেকেই দিন-রাত পরিশ্রম করেছেন, অনেকে অনেক পয়েন্ট তৈরি করেছেন, অনেকে বলেছেন এটা বলতে হবে, ওটা বলতে হবে, এভাবে বলতে হবে, সেভাবে বলতে হবে, এটা না বললে হতাশ হয়ে ফিরে যাবে। নানা ধরনের কথার মধ্যে আমরা জর্জরিত ছিলাম। কাগজে কাগজে অনেক কাগজ আমাদের বাসায় জমা হয়েছিল। শেষ কথা বলেছিলেন আমার মা। যে কথাটি আমি সবসময় বলি। আমার মা একটা কথাই বলেছিলেন- ‘সারাটা জীবন তুমি সংগ্রাম করেছো, তুমি জানো বাংলাদেশের মানুষ কী চায় এবং তার জন্য কি করতে হবে। তোমার থেকে ভালো আর কেউ জানে না। কাজেই তোমার মনে যে কথাটা আসবে, তুমি শুধু সেই কথাই বলবে আর কোনও কথা না।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই ভাষণে দেখবেন, এখানে কোনো পয়েন্ট নেই, কোনো কাগজ নেই। কারণ, তিনি তো সংগ্রাম করে গেছেন সেই ১৯৪৮ সাল থেকে। তখন থেকেই তিনি বাঙালি জাতির মুক্তির জন্য সংগ্রাম করে গেছেন। স্বাভাবিকভাবেই তিনি জানেন মুক্তির পথটি কোথায়, কীভাবে আসবে। তিনি যেসব ব্যবস্থা করে গেছেন, সেটাও তিনি জানেন। সেভাবেই তিনি নির্দেশনা দিয়েছিলেন, যা বাঙালি জাতি অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছে।

আইন ও নৈতিকতার এক ‘নীলমণি’ সংকট

রাজনীতিতে এর আগে কখনও এমন বিচিত্র সংকট দেখা যায়নি। যার মুখোমুখি হয়েছেন সুলতান মোহাম্মদ মনসুর। সংসদে তিনি তার নামকরণ করেছেন, ‘নীলমণি।’ এখন অনেকেই জানতে চাইবেন, তিনি নিজকে নীলকণ্ঠ ভাবেন কিনা। ইতিমধ্যে কি পরিমাণ হলাহল তিনি গলাধঃকরণ করেছেন?
টিভি টকশো ও সামাজিক মিডিয়ায় তার বর্তমান অবস্থান কিছুটা সমর্থিত হলেও বেশ জোরালোভাবে তাকে প্রতারণা ও বিশ্বাসঘাতকতার দায়ে অভিযুক্ত করা হচ্ছে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের প্রতি তার সুবচনকে অনেকেই বসন্তের কোকিলের কণ্ঠে কুহু ধ্বনির সঙ্গে তুলনা করছেন। কেউ কেউ অবশ্য বলেন, সুলতান নিশ্চয় শেষ পর্যন্ত বিচক্ষণতার পরিচয় দিতেই পারেন না, তা ধরে নেয়া সমীচীন হবে না!
সংবিধান ও আইন বিশ্লেষণ করলে যা দাঁড়ায়, আবার নৈতিকতার মাপকাঠিতে ফেললে যা দাঁড়ায়, তাতে বলা যায়, তিনি এক সত্যিকারের সুলতানি সংকটে পড়েছেন। এক দল থেকে জিতে পরে দল বদলের কিছু উদাহরণ আছে। তাতে কারো আসন শূন্য হয়েছে।
কারো হয়নি। কিন্তু সুলতানের মতো বিপদে এর আগে কেউ পড়েননি। তার মতো বড় মাপের কোনো নেতাকে নিয়ে এর আগে বাংলাদেশের রাজনীতি এমন ফাঁপরে পড়েনি।
অনেকের মতে, তিনি আইনি প্রশ্নেও কাটা পড়েন। নৈতিকতার প্রশ্নেও কাটা পড়েন। রাজনীতির প্রশ্নেও কাটা পড়েন। এসব কাটাকুটির প্রশ্ন এড়ানো সম্ভব হতে পারে যদি তিনি ঘরের ছেলে ঘরে ফেরেন। কিন্তু সেটা যদি সংসদের পদ বাঁচিয়ে রাখা সাপেক্ষে হয়, তাহলে সংকট আরো বড় হয়ে উঠবে। তিনি সংসদের আসন ছেড়ে মূল দলে ফিরতে পারেন। যদিও দলের প্রতি তার যে গভীর আকুতি সেটা ক্ষমতাসীন দলের এই ভরা জোয়ারের সময় এখনও পর্যন্ত প্রকাশ্য হয়নি। তবে অনেকেই ধরে নেবেন, সংসদের পদ চলে গেলে তিনি শুধু জয় বাংলা বলতে দলে ফিরতে না-ও আগ্রহী হতে পারেন। কারণ তাকে টানা পাঁচ বছর অপেক্ষা করতে হবে। তখন কি হয় তা কে জানে? সুতরাং অনেকের মতে, সুলতান এখন যেটা করছেন, যেটা বলছেন, তার মূলে রয়েছে, সংসদে তার পদ ধরে রাখা। একূল-ওকূল দুকূল হারাতে কে-ই বা রাজি হতে পারে?
আইনের বড় প্রশ্ন হলো, তিনি এখন আর গণফোরামের পরিচয় দিতে পারবেন না। আগে স্বতন্ত্র পরিচয় দেয়ার সুযোগ ছিল। ২০০৮ সালে আইন সংশোধনের ফলে সেই সুযাগও রহিত। কারণ তিনি ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থন নিয়ে ভোটে প্রার্থী হননি। তিনি সংসদে তাহলে কি পরিচয়ে কথা বলবেন? গণফোরামের পরিচয় দিলে তিনি আইনি বাধার কবলে পড়বেন। আবার আওয়ামী লীগে যোগদান করে সংসদ সদস্য থাকার পথও রুদ্ধ। অবশ্য অভিজ্ঞরা বলেন, সুলতান এতবড় ঝুঁকি যে নিলেন, সেটা নিশ্চয় হিসেব করেই নিয়েছেন। কেউ কেউ বলছেন, তাকে মন্ত্রিসভায় দেখার একটা গুঞ্জনও ছিল। কিন্তু সেটা প্রথম রাতে হলে না হয় একটা কথা ছিল। এখন যখন তাকে বিশ্বাসঘাতকের তকমা নিতে হচ্ছে, তখন তাকে মন্ত্রী করার মানে হবে প্রধান বিরোধী দলের প্রতি আরো একটা অবিচার করা। আর আওয়ামী লীগের বর্তমান গোলাভরা ধানের মওসুমে তেমন একটা অবস্থার খুব দরকার আছে কিংবা সেটা কতটা বাস্তবসম্মত, সেটা কম গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন নয়।
ডিবিসিসহ বিভিন্ন টকশোতে সুলতানের যোগদান বেশ রসালো আলোচনার খোরাক যুগিয়েছে। কেউ বলছেন, তিনি প্রতারণা করে থাকলে বিএনপি কি জেনেশুনে তাকে নমিনেশন দিয়ে দলের প্রার্থীদের সঙ্গে প্রতারণা করেনি?
সুলতান সংসদে গিয়েই বলছেন, তার আদর্শবিচ্যুতি ঘটেনি। ৩০শে ডিসেম্বরের নির্বাচন তো আদর্শের ওপর হয়নি। ড. কামাল হোসেন গণফোরাম করেছেন বলে কখনও দাবি করেননি যে, তিনি বঙ্গবন্ধুর রাজনীতির আদর্শ বিচ্যুত হয়েছেন। বরং তিনি দল ছেড়েছিলেন প্রধানত এই কারণে যে, তিনি আওয়ামী লীগের প্রকৃত আদর্শ বিচ্যুতি মানতে পারছেন না। এই আওয়ামী লীগ তার অচেনা। তিনি সবসময় বঙ্গবন্ধু, তাজউদ্দীন আহমেদ, কামরুজ্জামান, সৈয়দ নাজরুল ইসলামদের আদর্শভিত্তিক রাজনীতি থেকে বহু দূরে সরে গিয়ে গণতন্ত্রহীনতা এবং আইনের শাসনের বিপরীত রাজনীতিতে গা ভাসিয়ে দেয়ার জন্য তার মূল আদর্শের দলের সমালোচনা করেন। অনেকে তাই বলছেন, সুলতান তাহলে এতদিন কি বলে আসছিলেন? আওয়ামী লীগের বর্তমান ত্রুটিপূর্ণ শাসন ব্যবস্থার অবসান ঘটানোই ছিল ঐক্যফ্রন্ট গঠনের মূল লক্ষ্য। এখানে যে যেখান থেকে এসেছেন, সবাই তার তার দলের পতাকা হাতেই এসেছেন।
সুলতান তুখোড় ছাত্রনেতা, স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম উজ্জ্বল তারকা। এ সবই ঠিক আছে।
কিন্তু সুলতান মোহাম্মদ মনসুর জীবনের শেষ প্রান্তে এসে এমন অভাবনীয় বিতর্কের মুখোমুখি হবেন, তা আশা করা যায়নি। তার বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে সবথেকে জোরালো প্রশ্নটি যতটা না আইনি তার থেকে অনেক বেশি নৈতিকতার।
সংসদের প্রথম দিনের উদ্বোধনী বক্তৃতায় তার জ্ঞাতসারে কিংবা অজ্ঞাতসারে একটি গভীর আকুতির বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। সেই আকুতি, অনেকের চোখে, তার সংসদীয় এলাকার ধানের শীষের সমর্থক ভোটারদের চেনাজানা আবেগ অনুভূতির সঙ্গে পরিচিত নয়। তার সংক্ষিপ্ত বক্তৃতায় একটি মাত্র সুর অন্যসব কিছুকে ছাপিয়ে গেছে।
আর সেটি হলো তার সরাজীবনের চিন্তাচেতনা দলের প্রতি তার ব্যক্তিগত আবেগ-অনুভূতি। অনেকের মতে, সুলতানের অনেক বড় নিন্দুকও অস্বীকার করতে পারবেন না যে, সুলতানের হৃদয়ে আওয়ামী লীগের প্রতি গভীর হাহাকার বিরাজমান। প্রকারান্তরে তিনি এই আফসোসটাই করছেন যে, কেন তাকে ধানের শীষ নিয়ে ভোট করে সংসদে আসতে হলো। কেন তিনি জয় বাংলার স্লোগানধারী হয়ে তার রাজনৈতিক বিশ্বাসের প্রধান প্রতিপক্ষের প্রতীক নিয়ে জয়ী হতে হল। তিনি মরিয়া হয়ে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন, আমি তো তোমাদেরই লোক। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, সুলতান কতটা সতর্ক ছিলেন, তা পরিষ্কার নয়। তবে তিনি নিজকে যে এক অসাধারণ সংঘাতের মুখোমুখি করেছেন, তাতে কোনো সন্দহ নেই।
এলাকার যে মানুষেরা তাকে ভোট দিয়েছেন, তার দাবিমতে তারা অবাধে ভোট দিতে পেরেছেন। তার আসনে “সেভাবে কোনো অপ্রীতিকির ঘটনা” ঘটেনি বলে তিনি প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ দিয়েছেন। সতর্ক সুলতান কৈফিয়ত একটি দিয়েছেন। বলেছেন, অন্য জায়গায় কী ঘটেছে, সেটা বলবে “অন্যদের বিবেকের আদালত।”
তবে অনেকেই আশঙ্কা করছেন যে, দল থেকে বহিষ্কার হওয়ার কারণে তিনি সংসদ সদস্য পদ হারাবেন কিনা। এর উত্তরে অনেকেই ২০০৮ সালের সাধারণ নির্বাচনের আগের ও পরের বাংলাদেশের বাস্তবতাকে বিবেচনায় নিচ্ছেন।
তিনি ভেবেছিলেন, তিনি তার থেকে অনেক অপরিচিত একজন মোকাব্বির খানকে সঙ্গে পাবেন। কিন্তু তার সেই আশা পূরণ হয়নি। অবশ্য মোকাব্বির খান এখনও পর্যন্ত কোনো নৈতিক অবস্থান নেয়ার ঘোষণা দেননি। তিনি বলেছেন, গণফোরামের সিদ্ধান্তে তিনি ওইদিন শপথ নেননি।
রাজনীতির পূর্ব নজির বলছে সুলতান মোহাম্মদ মনসুর টিকে যেতে পারেন। হজ নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করায় দল থেকে লতিফ সিদ্দিকী বহিষ্কৃত হন। এই বিষয়ে ইসিতে শুনানি গ্রহণ করা হলেও রায় দেয়ার আগেই তিনি পদত্যাগ করেন। বর্তমান অবস্থায় গণফোরাম থেকে ওই দুজনকে বহিষ্কার করা হলে কী হবে- সেটা তাই বর্তমান ইসির ওপর নির্ভর করছে।
নবম সংসদে সাতক্ষীরা-৪ আসনের জাতীয় পার্টির এমপি এইচ এম গোলাম রেজা দল থেকে বহিষ্কৃত হন। এ-সংক্রান্ত চিঠি স্পিকারের দপ্তর হয়ে নির্বাচন কমিশনে পৌঁছায়নি। সংসদের ওয়েবসাইট বলছে তিনি এখনও জাপা এমপি।
২০০৮ সালের আগে বিএনপির দুজন সংসদ সদস্য স্বপন ও আলাউদ্দিন মন্ত্রী হওয়ার পরে তৎকালীন ইসি তাদের পদ শূন্য ঘোষণা করেছিল।

‘কী চেক করলেন, আমার কাছে তো পিস্তল আছে’ by চৌধুরী আকবর হোসেন

খেলনা পিস্তল দিয়ে বিমান ছিনতাইয়ের চেষ্টা, চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চনের পিস্তল ধরতে না পারা—এই দুটো ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ফের প্রশ্নের মুখে পড়েছে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। শুক্রবার (৮ মার্চ) সকালে বিমানবন্দরের অভ্যন্তরীণ টার্মিনালে প্রথম চেকিং পার হওয়ার পর নিজের সঙ্গে অস্ত্র থাকার কথা সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তকর্মীকে জানান যাত্রী মামুন আলী। বিমানবন্দর সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
সূত্র জানায়, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের বিএস ১৩১ ফ্লাইটে সিলেটে যাওয়ার জন্য সকাল সাড়ে ১১টার দিকে অভ্যন্তরীণ টার্মিনালে আসেন মোহাম্মদ মামুন আলী। তার সঙ্গে পিস্তল ও সাত রাউন্ড গুলি থাকলেও বিমানবন্দরে প্রবেশের সময় কোনও ঘোষণা না দিয়েই ভেতরে প্রবেশ করেন তিনি। অভ্যন্তরীণ টার্মিনালের প্রথম গেটের আর্চওয়েতে তার শরীর তল্লাশি করেন আনসার সদস্য রিপন। আর্চওয়ে পার হওয়ার পরেও মামুনের সঙ্গে থাকা অস্ত্র শনাক্ত করতে পারেননি সেখানের নিরাপত্তা কর্মীরা। তখন মামুন নিরাপত্তা কর্মীদের কাছে জানতে চান, ‘আপনাদের চেকিং কি শেষ হয়েছে? ওই আনসার সদস্য জবাবে হ্যাঁ বললে যাত্রী মামুন বলেন, ‘আপনি কী চেক করলেন, আমার কাছে তো পিস্তল আছে।’ এরপর তিনি পিস্তল বের করেন এবং লাইসেন্সও দেখান। কিছু সময় পরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন শাহজালালের এভিয়েশন সিকিউরিটির (এভসেক) পরিচালক নূরে আলম সিদ্দিকী। সে সময় এভসেক থেকে ইউএস-বাংলাকে বলা হয় ওই যাত্রীকে অফলোড করার জন্য। তবে এভসেক থেকে লিখিত কোনও ডকুমেন্ট না দেওয়ায় মামুন আলীকে অফলোড করেনি ইউএস-বাংলা। পরবর্তীতে যাত্রী মামুন পিস্তল ও গুলি এয়ারলাইন্সের মাধ্যমে নিয়ম মেনে সঙ্গে করে সিলেটে নিয়ে যান।
সূত্রমতে, মামুন আলী নিজেকে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে পরিচয় দেন।
তবে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে ভাইস চেয়ারম্যানের কোনও পদ নেই বলে জানান সংস্থাটির সচিব হিরন্ময় বাড়ৈ। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে ভাইস চেয়ারম্যানের পদ নেই। তাছাড়া, মামুন আলী নামে এখানে কেউ নেই। এটা হয়তো বেসরকারি কোনও সংস্থার হতে পারে।’
তবে যাত্রীর মামুনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পারায় তার বক্তব্য জানা যায়নি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে এভিয়েশন সিকিউরিটির (এভসেক) পরিচালক নূরে আলম সিদ্দিকী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘যাত্রী অস্ত্র থাকার বিষয়টি আগে ঘোষণা দেননি। তবে নিরাপত্তা কর্মীরা অস্ত্র শনাক্ত করার পর তাকে যথাযথ নিয়মে অস্ত্র নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করেন। বিভিন্ন সময়ে অনেকেই অস্ত্র সঙ্গে থাকলেও ঘোষণা দেন না, পরবর্তীতে স্ক্যানিংয়ে তা ধরা পড়ে।’

ডাকসু নির্বাচন: সংবাদ প্রচারে কড়াকড়ি শেষ মুহূর্তে সরব প্রচারণা by শাহনেওয়াজ বাবলু ও মুনির হোসেন

আসন্ন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনের সংবাদ প্রচারে কড়াকড়ি আরোপ করেছে প্রশাসন। গতকাল সর্বশেষ নির্দেশনায় বলা হয়েছে নির্বাচনের সংবাদ সরাসরি সম্প্রচার করা যাবে না। একইসঙ্গে প্রত্যেক পত্রিকার জন্য দুই জন এবং টেলিভিশনের জন্য চারজন প্রতিনিধিকে নির্বাচনের খবর সংগ্রহের পরিচয়পত্র দেবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এ নির্দেশনায় বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত সাংবাদিকরা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। এ ছাড়া বিরোধী প্রার্থীরাও এমন নির্দেশনাকে উদ্দেশ্যমূলক বলে মনে করছেন। গতকাল গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানের সভাপতিত্বে হল প্রাধ্যক্ষবৃন্দের এক সভা গত ৬ই মার্চ ভিসির কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় প্রো-ভিসি (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. নাসরীন আহমাদ, প্রো-ভিসি (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ, চিফ রিটার্নিং অফিসার অধ্যাপক ড. এস. এম. মাহফুজুর রহমান, প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রব্বানী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। সভায় আগামী ১১ই মার্চ অনুষ্ঠেয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে আর্চওয়ে আই মেটাল ডিটেক্টর স্থাপন করা হবে। শিক্ষার্থীদের আইডি কার্ড দেখিয়ে নিজ নিজ ভোট কেন্দ্রে প্রবেশ করতে হবে। দুপুর ২টার মধ্যে যারা কেন্দ্রে প্রবেশ করবে তাদের সকলেরই ভোট গ্রহণ করা হবে। ভোটার নিজের আইডি কার্ড দেখিয়ে ব্যালট পেপার সংগ্রহ করে প্রার্থীর নামের ডানপাশে নির্ধারিত ঘরে ক্রস চিহ্ন দিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবে। দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ বুথ ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতার ব্যবস্থা রাখা হবে।
নির্বাচনের দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩টি প্রবেশ পথ (নীলক্ষেত, শাহবাগ ও হাইকোর্ট) বিশেষ নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় থাকবে। এই ৩টি প্রবেশ পথ দিয়ে শুধুমাত্র ভোটার ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ নিজ নিজ পরিচয়পত্র দেখিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রবেশ ও বাহির হবে। ভোট কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পাসযুক্ত যানবাহন বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত এই ৩টি গেট দিয়ে চলাচল করবে। শিক্ষার্থীদের অবাধ চলাচল ও শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত ও স্টিকারযুক্ত যানবাহন ব্যতীত অন্য কোনো যানবাহন ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারবে না। ঐদিন সর্বসাধারণকে রাত ১০টা পর্যন্ত বিকল্প রাস্তা ব্যবহারের জন্য অনুরোধ জানানো যাচ্ছে। নির্বাচনের দিন গণমাধ্যম কর্মীরা চিফ রিটার্নিং অফিসার কর্তৃক ইস্যুকৃত পরিচয় পত্র দেখিয়ে সংশ্লিষ্ট হলের রিটার্নিং অফিসারের অনুমতি নিয়ে ভোট কেন্দ্রের গেস্টরুম/নির্ধারিত স্থান পর্যন্ত প্রবেশ করতে পারবেন।
ভোট কেন্দ্র থেকে সরাসরি সম্প্রচার করা যাবে না। ভোট গ্রহণ কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হতে পারে এমন কোনো কাজ করা যাবে না। ভোট কেন্দ্রে মোবাইল ফোনসহ সকল ধরনের ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার নিষিদ্ধ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সদস্যবৃন্দ এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার নির্ধারিত সংখ্যক প্রতিনিধি (পাস পাওয়া সাপেক্ষে) ভোট কেন্দ্রের নির্ধারিত স্থানে উপস্থিত থাকতে পারবেন। আবেদন সাপেক্ষে একটি টেলিভিশন চ্যানেলের জন্য সর্বোচ্চ ৪টি ক্যামেরা ইউনিটকে এবং প্রতিটি প্রিন্ট মিডিয়ার সর্বাধিক ২জন সাংবাদিককে পরিচয়পত্র প্রদান করা হবে। পরিচয়পত্র প্রাপ্তির জন্য চিফ রিটার্নিং অফিসার বরাবর আবেদন করতে হবে। আবেদনপত্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া কর্তৃপক্ষের প্রত্যয়নপত্র, জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি ও ২ কপি স্ট্যাম্প সাইজের ছবি সংযুক্ত করতে হবে। আগামী ১০ই মার্চ রোববার দুপুর ২টার মধ্যে পরিচয়পত্র সংগ্রহ করতে হবে। উল্লেখ্য, নির্বাচনের দিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ থাকবে।
সরগরম প্রচারণা: মধ্যরাতের পরই থেমে যাচ্ছে ডাকসু নির্বাচনের প্রচার প্রচারণা। হলগুলোতে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রচার। গতকাল দিনভর প্রচার চালিয়েছেন প্রার্থীরা। ছুটির দিন হওয়ায় সকাল থেকেই প্রচারণার কেন্দ্র ছিল হলগুলো। আজও হলে হলে হবে প্রচার। শেষ মুহূর্তে সরগরম প্রচার প্রচারণা চললেও আছে শঙ্কাও। গতকাল বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকার কারণে হলগুলোতে তেমন কোনো প্রচারণা দেখা যায়নি। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রার্থীরা তাদের লোকজন দিয়ে হলগুলোর সামনে জমায়েত হন। পরে তারা রুমে রুমে গিয়ে ভোটারদের কাছে ভোট চান এবং বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দেন। জুমার নামাজ শেষে মসজিদে অনেক প্রার্থী দাঁড়িয়ে ভোট প্রার্থনা করেন। নামাজ শেষে বের হওয়া মুসল্লিদের মাঝে লিফলেট বিতরণ করেন।
গত রোববার প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পরই পুরোদমে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন প্রার্থীরা। ছাত্রলীগ, ছাত্রদল, বামসহ বিভিন্ন প্যানেলের প্রার্থীরা নির্বিঘ্নে প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোয়। সেখানে নিজ নিজ হলের প্রার্থীরা হলের গেট, ক্যান্টিন এবং টিভি রুমে নিজেদের ব্যানার-পোস্টার টানিয়েছেন। রুমে রুমে গিয়ে বিতরণ করছেন লিফলেট।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নির্বাচনের বিষয়ে প্রশাসনের উদ্যোগকে স্বাগত জানান। যদিও ভোটের পরিবেশ নিয়ে শঙ্কাবোধ করেন তারা। তবে, ভোটের সুষ্ঠু পরিবেশ সৃষ্টি করতে তারা উভয় পক্ষকেই দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আশা করেন।
ইসলাম ইতিহাস বিভাগের ছাত্র সোহেল বলেন, ডাকসু নির্বাচনে হলে ভোট কেন্দ্র করায় অনেকেই হলে ভোট দিতে যাবেন না। কেননা, এ নির্বাচন ‘জাতীয় নির্বাচনের’ মতো হতে পারে। কিন্তু এমনটা হলে বিশ্ববিদ্যালয় তার ঐতিহ্য হারাবে।
জিয়া হলের শিক্ষার্থী মাহাবুব আলম বলেন, আমি ছাত্রলীগের একজন কর্মী। আমি চাই এবারের ডাকসু নির্বাচন দেশের ইতিহাসে একটি রোল মডেল হয়ে থাকবে। যে প্রার্থীই জয়ী হোক, আমি চাই একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এসএম হলের এক শিক্ষার্থী বলেন, ডাকসু নির্বাচনে ভোট দিব এটা ভাবতেই অনেক আনন্দ লাগছে। পাশাপাশি শঙ্কাও লাগছে। কারণ আমি আমার ভোট দিতে পারবোতো? বাইরে ভোট কেন্দ্র হলে সুবিধা হতো। হলে ভোট কেন্দ্র হওয়ার কারণে কারচুপি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি রয়েছে।
তবে নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার আশা প্রকাশ করেন ডাকসু ও হল নির্বাচনের চীফ রিটার্নিং অফিসার অধ্যাপক এস এম মাহফুজুর রহমান। তিনি বলেন, এই নির্বাচনকে ঘিরে আমরা সদা সজাগ দৃষ্টি রাখছি। বিদ্যমান শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল পরিবেশ যাতে কোনোক্রমেই বিঘ্নিত না হয়, সে বিষয়ে প্রশাসন সতর্ক থাকবে। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থীর আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করছি।

রাইসা নাসের: একটি ‘মাধ্যম’ হয়ে ঢাবি শিক্ষার্থীদের মধ্যে থাকব by আতিক নয়ন

১১ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে ‘সম্মিলিত শিক্ষার্থী সংসদ’ প্যানেল থেকে সদস্য পদে (ব্যালট-৭২) লড়ছেন রাইসা নাসের। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ে স্বপ্ন দেখেন এই তরুণী। নারী অধিকার, নারীর ক্ষমতায়ন প্রতিষ্ঠায় কাজ করতে আগ্রহী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সায়েন্স ফ্যাকাল্টির এই শিক্ষার্থী। নির্বাচিত হলে ঢাবির শিক্ষার্থীদের জন্য করণীয় নিজের নানামুখি ভাবনা নিয়ে মানবজমিনের সঙ্গে কথা বলেছেন রাইসা নাসের।
শুরুতেই রাইসা নাসেরের কাছে জানতে চাওয়া হয় তার প্রার্থী হওয়ার লক্ষ্য-উদ্দেশ্য সম্পর্কে। এ প্রসঙ্গে রাইসা বলেন, ডাকসু প্রকৃত অর্থে কেবল একটি রাজনৈতিক প্লাটফর্ম- বিষয়টি তা নয়, ডাকসুর ইতিহাসের দিকে তাকালে আমরা দেখবো, ডাকসু রাজনৈতিকভাবে যেমন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রতিনিত্ব করেছে তেমনি সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও সহশিক্ষার দিক থেকে ডাকসু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রতিনিধিত্ব করেছে। আমি দীর্ঘদিন যাবত সামাজিক-সাংস্কৃতিক বিভন্ন ক্ষেত্রে কাজ করছি। আমার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করতে চাই।
রাইসা বলেন, আমি কার্জল হলের শিক্ষার্থী, আমি দেখেছি বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীদের কী কী ধরনের সমস্যা হতে পারে। সেখানে গবেষণার সুযোগ খুবই কম। গবেষণার ব্যপারে প্রণোদনা দেয়া হয় কম। কার্জন হলের লাইব্রেরির পরিবেশ, খাবারের পরিবেশ, কোনো কিছুই সেখানে ঠিক নেই। সবার প্রতিনিধি হয়ে আসতে পারলে, আমি যে সমস্যাগুলোর সম্মুখিন হয়েছি, সেগুলোর সমাধানে কাজ করব।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সায়েন্স সোসাইটির বর্তমান প্রেসিডেন্ট রাইসা বলেন, আমি যেহেতু এই সংগঠনে অনেক দিন থেকে যুক্ত, আমি দেখেছি টিএসসিতে এমনও সংগঠন আছে, যেথানে শিক্ষার্থীরা কাজের জন্য রুম পর্যন্ত পায় না, ইন্টারনেটের ভালো সুবিধা নেই। তারা অনেক কষ্ট করে কাজ করে।
নারী নেতৃত্বের ওপর গুরুত্বারোপ করে সুফিয়া কামাল হলের শিক্ষার্থী বলেন, আমাকে একজন নারী হিসেবে প্রায়ই শুনতে হয়, টিএসসিতে যত রকম সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন আছে, তার মধ্যে আমিই একমাত্র নারী সভাপতি। আসলে এটা শুনতে আমার খারাপ লাগে। আমি চাই নারী নেতৃত্ব, নারীদের অংশগ্রহণ সবকিছু আরও বিস্তৃত হোক। স্বাভাবিকভাবে আমি যে সমস্যাগুলো ফেস করেছি, তার সবগুলো নিয়ে আমি কজ করতে চাই।
এক প্রশ্নের জবাবে রাইসা বলেন, শিক্ষার্থীদের সমস্যাগুলো তুলে ধরার জন্য তাদের এখন কোনো প্লাটফর্ম নেই। তারা চাইলেই যে কোনো সমস্যা প্রশাসনকে জানাতে পারে না। আমি অবশ্যই একটি মাধ্যম হয়ে তাদের মধ্যে থাকব, যাতে তারা নির্ভয়ে, বিনা সংকোচে তাদের সমস্যাগুলোর কথা জানাতে পারে। আমি তাদের সমস্যাগুলো শোনার জন্য সবসময় প্রস্তুত থাকব। এবং তাদের যেকোনো সমস্যা, যে কোনো যৌক্তিক দাবি সাধ্যমতো সমাধানের চেষ্টা করব।
ক্যারিয়ার সম্পর্কে জানতে চাইলে বিজ্ঞানের এই শিক্ষার্থী বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দেশ সেরা বিদ্যাপিঠ হওয়া স্বত্ত্বেও বিজ্ঞান ও গবেষণায় অনেকটাই পিছিয়ে আছে। এ বিষয়গুলোতে উন্নতি না করলে আসলে জাতিগতভাবে কখনোই আমাদের উন্নতি করা সম্ভব না। আমার নিজেরও ইচ্ছে, গবেষণায় ক্যারিয়ার গড়ার, হয়তো বিজ্ঞান নিয়ে কোনো কিছু করব।
নিজের প্রচারণার অগ্রগতি নিয়ে তিনি জানান, প্রচারণার শেষ সময়ে সকল প্রার্থীই ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন, ব্যতিক্রম নন তিনিও। ভোটার শিক্ষার্থীদের কাছ থেকেও ভালো সাড়া পাচ্ছেন বলে জানান তিনি। ১১ মার্চ নির্বাচনে সকল ভোটার শিক্ষার্থীকে ভোটকেন্দ্রে এসে ভোটাধিকার প্রয়োগেরও অনুরোধ জানান রাইসা। পাশাপাশি যোগ্য প্রার্থীর বিষয়ে বিচার বিশ্লেষণ করে পূর্ব প্রস্তুতি নিয়ে ভোটারদের ভোট কেন্দ্র যাওয়ার অনুরোধ জানান ভিকারুননিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী রাইসা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাপ্লাইড কেমিস্ট্রি বিভাগে মাস্টার্সে অধ্যয়নরত রাইসা নাসের। বর্তমানে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সায়েন্স সোসাইটির প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। কলেজের শিক্ষা জীবন থেকে ভালো বিতার্কিক হিসেবে বেশ সুনাম কুড়িয়েছেন রাইসা। ভিকারুননিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজ ডিবেটিং ক্লাবে শীর্ষ পর্যায়ের দায়িত্ব পালন করেছেন এই তরুণী। বিশ্ববিদ্যালয়ে বিতর্কসহ বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে কাজ করে বেশ সুপরিচিত মুখ রাইসা নাসের।