Thursday, December 24, 2015
সবার অসুবিধা হচ্ছে মানে ইসি নিউট্রাল : রকিব উদ্দিন
তিনি বলেছেন, নিরপেক্ষতার প্রশ্নের মধ্যে আমাদের নিরপেক্ষতা (প্রমাণ) হবে। সব দলের যদি কিছু না কিছু অসুবিধা হচ্ছে তাহলে বুঝতে হবে আমরা অ্যাকশন নিচ্ছি। আমাদের অবস্থান নিউট্রাল। নিউট্রাল দিকটা আরো স্পষ্ট করে দিচ্ছি।
আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের নিজ কার্যালয় থেকে বের হয়ে যাওয়ার সময় তিনি সাংবাদিকদের একথা বলেন।
পৌর ভোটের প্রচারণার মাঠে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ, বিরোধী দল জাতীয় পার্টি ও দশম সংসদের বাইরে থাকা বিএনপির সমালোচনার মুখে এ কথা বললেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার।
দুপুরে আওয়ামী লীগ প্রতিনিধি দল সিইসির সাথে সাক্ষাৎ করে বিএনপির প্রতি সদয় হয়ে সরকারি দলের প্রতি নির্বাচন কমিশন নির্দয় আচরণ করছে বলে অভিযোগ করে। সেই সাথে বিএনপিকে বাড়তি সুবিধা দেয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করে দলটি।
বিকেলে জাতীয় পার্টির প্রতিনিধি এসে অভিযোগ করে, সুষ্ঠু পরিবেশে ভোট হওয়া দুরূহ হয়ে পড়েছে। ক্ষমতাসীনদের দ্বারা তারা আক্রান্ত হচ্ছেন।
এভাবে সব দল ইসির নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে- এই প্রসঙ্গে সিইসির দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, আমরা অ্যাকশন নিচ্ছি। সবার কিছু যখন অসুবিধা হচ্ছে, বুঝতেই হবে সবার প্রতি আমরা অ্যাকশন নিচ্ছি। আমাদের নিউট্রাল অবস্থা আরো স্পষ্ট হচ্ছে।
আওয়ামী লীগের অভিযোগ প্রসঙ্গে সিইসি বলেন, আমরা নিরপেক্ষ নির্বাচন চাই। কারো চেহেরা দেখে বা কারো প্রতি সদয় বা কারো প্রতি নির্দয়ের প্রশ্ন আসছে না। সবাইকে সাংবিধানিক অধিকার দেয়ার চেষ্টা করছি। ইতোমধ্যে অনিয়মের বিষয়ে জরিমানা, শোকজ, কর্মকর্তাদের বদলিসহ ইসির নেয়া ব্যবস্থাও তুলে ধরেন তিনি।
বিধিলঙ্ঘনকারী এমপি-মন্ত্রীর বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে- জানতে চাইলে তিনি বলেন, আচরণবিধি লঙ্ঘন হলে আমার সবারই বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেব। ইতোমধ্যে এমপিদের শোকজ করেছি। তারা দুঃখ প্রকাশ করেছেন। এছাড়া থানার ওসি ও নিজেদের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিয়েছি। আমরা সবদিক থেকে আইনটা প্রয়োগ করছি।
বিধি লঙ্ঘনকারী এমপি-মন্ত্রীদের তালিকা প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় থেকে চাওয়া হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, এমন কোনো চিঠি আমরা পাইনি।
ভোটে হানাহানি ও সংঘাতের বিষয়ে সিইসি বলেন, এগুলো বিচ্ছিন্ন ঘটনা। যদিও দুর্ভাগ্যবশত এটা কালচার হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে যতদিন যাবে পলিটিক্যাল কালচার ইমপ্রুভ করবে। এদিন এমন দিন আসবে সেন্টারে পুলিশ, বিজিবি ও র্যাবের টহলের প্রয়োজন হবে না।
ডেমোক্রেসি ওয়াচ ও অধিকারসহ ১০টি পর্যবেক্ষক সংস্থার বিষয়ে আওয়ামী লীগের আপত্তি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সিইসি রকিব উদ্দিন বলেন, এটা কমিশনের সিদ্ধান্তের বিষয়। কমিশন বৈঠকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মিরপুরে 'জঙ্গি আস্তানায়' অভিযান : সাতজন আটক : বিস্ফোরক উদ্ধার
পুলিশ জানিয়েছে, মিরপুর ব্লক-১ এর নয় নম্বর রোডের সেকশন-১’র শাহ আলী থানা এলাকার ঐ ভবনটিতে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।
ডিসি মিরপুর বিভাগের কমিশনার কায়েমুজ্জামান জানান, মধ্যরাতে পুলিশ সন্দেহভাজন জঙ্গি সন্দেহে মিরপুরের শাহ আলী থানা এলাকার একটি ছয়তলা ভবনে অভিযান চালায়। ঐ বাড়ির ছয়তলায় একটি মেসে জঙ্গিদের অবস্থান শনাক্ত করে। পুলিশ মেসের ভেতর ঢুকতে চাইলে মেসের জানালা দিয়ে তাদের লক্ষ্য করে তিন-চারটি ককটেল ছুড়ে মারে। এই অবস্থায় পুলিশ বাইরে ও ভিতরে অবস্থান নেয়।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম-কমিশনার মনিরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেছেন, গত কয়েকদিনের জঙ্গিবাদবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। আটককৃত এক জঙ্গির স্বীকারোক্তির ওপর ভিত্তি করে ভোররাতে পুলিশ ঐ ভবনের বাইরে অবস্থান নেয়। এ সময় সেখান থেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে গ্রেনেড ছোড়া হয়। এতে পুলিশও পাল্টা গুলি ছোড়ে। এতে কেউ হতাহত হয়নি।
তিনি আরো জানান, ভবনটির ছয়তলা ইউনিটের একটি মেস থেকে সাতজনকে আটক করা হয়েছে। এদের মধ্যে তিনজন জেএমবির গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে আছেন। বাকিদের জিজ্ঞাসাবাদ করে নিশ্চিত হওয়া যাবে। আটককৃতদের ডিবির কার্যালয়ে নেয়া হয়েছে।
গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম-কমিশনার বলেন, জঙ্গি আস্তানা থেকে বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়েছে। আরো বিস্ফোরক আছে কিনা সেটি খুঁজে দেখা হচ্ছে। কিছু অবিস্ফোরিত গ্রেনেড পড়ে আছে সেটি নিষ্ক্রিয় করতে বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট কাজ করছে।
বিস্ফোরক উদ্ধার সম্পর্কে মনিরুল ইসলাম বলেন, বিস্ফোরকগুলো হ্যান্ড গ্রেনেড। হোসনি দালান ও কামরাঙ্গির চরসহ সম্প্রতি হামলাগুলোতে যে বিস্ফোরক ব্যবহার করা হয়েছে সেগুলো আর উদ্ধারকৃত বিস্ফোরকগুলো একই।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
পৌর নির্বাচন থেকে বিএনপি সরে দাঁড়াবে না : মির্জা ফখরুল
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলার সৈয়দপুরে ধানের শীষের পক্ষে প্রচারণা চালানোর আগে সৈয়দপুর বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে স্থানীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে এ কথা বলেন। সেই সাথে তিনি গণতন্ত্র রক্ষার স্বার্থে জনগণকে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেয়ার আহবান জানান। সৈয়দপুর পৌরসভার বর্তমান মেয়র ও দলীয় প্রার্থী অধ্যক্ষ আমজাদ হোসেন সরকার ভজে’কে সাথে নিয়ে শহরের শহীদ ডাঃ জিকরুল হক সড়কে ধানের শীষের পক্ষে প্রচারণা চালান, লিফলেট বিতরণ করেন।
এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি’র সাবেক এমপি আখতারুজ্জামান মিয়া সহ স্থানীয় বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা কর্মীরা।
এর আগে তিনি ইউএস বাংলার একটি বিমানে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে পৌঁছালে দলীয় নেতাকর্মীরা তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। আজ বিকালেই বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব জেলার জলঢাকা পৌরসভা নির্বাচনে প্রচারণায় অংশ নেবেন।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ধানের শীষের বিজয় ঠেকাতে নীলনক্সা তৈরি করছে সরকার : ভিপি সাইফুল
তিনি বৃহস্পতিবার বগুড়ার সারিয়াকান্দি পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী টিপু সুলতানের ধানের শীষের পক্ষে এক নির্বাচনীসভায় একথা বলেন। এসময় তিনি টিপু সুলতানের হাতে ধানের শীষ তুলে দেন। সভায় টিপু সুলতান ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সহসভাপতি মন্জুরুল হক মন্জু , সারিয়াকান্দি উপজেলা বিএনপির সভাপতি সুজাউদ্দৌলা সন্জু, সাধারন সম্পাদক লুৎফুল হায়দার রুমি, বিএনপি নেতা সিরাজুল ইসলাম মানিক, শাজাহান আলী মুকুল , লুৎফর রহমান , ইকবাল কবির পলাশ, শহিদুল ইসলাম, তাহেরুল ইসলাম, শাহাদৎ হোসেন সনি প্রমুখ।
এর আগে বগুড়া পৌরসভার ২০ নং ওয়ার্ডে বিএনপির কাউন্সিলর প্রার্থী রোস্তম আলীর ইটপাখি মার্কা ও নারী কাউন্সিলর প্রার্থী রেহেনা আক্তার রানুর গ্যাসের চুলা মার্কায় ভোট চেয়ে সাবগ্রামে গণসংযোগ করেন ভিপি সাইফুল ইসলাম।
তিনি বিকেলে শেরপুর পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী ও বর্তমান মেয়র স্বাধীন কুমার কুন্ডুর ধানের শীষে ভোট চেয়ে শেরপুর বাসষ্ট্যান্ড এলাকায় গণসংযোগ করেন। এসময় মেয়র স্ব্যাধীন , জেলা বিএনপির উপদেষ্টা ও শেরপুর উপজেলা আহবায়ক জানে আলম খোকা, বিএনপি নেতা মনজুরুল হক মন্জু, পিয়ার হোসেন, বিএইচএম কামরুজ্জামান রাফু, আকতার আলম সেলিম, সালমা ইসলাম শেফা, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতা শাহাবুল ইসলাম সবুজ ও আব্দুল মোমিন জনি উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া বগুড়া পৌরসভার ১১নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী ও বর্তমান কাউন্সিলর কারাবন্দি সিপার আল বখতিয়ারের পান্জাবী মার্কায় মালতিনগরে ভোট চেয়ে প্রচারনায় অংশ নেন ভিপি সাইফুল ইসলাম। দিনব্যাপী গণসংযোগে তার সফর সঙ্গী ছিলেন স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মাহবুব হাসান লেমন, যুবদল নেতা আব্দুল মান্নান প্রমুখ।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বাম ও ইসলামপন্থীরা এক কাতারে দাঁড়াবে! by মাসুদ মজুমদার
ইরানি বিপ্লবের তত্ত্বীয় ধারণায় ডক্টর আলী শরিয়তির একটা অবস্থান ছিল বলে মনে করা হয়। তিনি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। একসময় ছিলেন বাম রাজনীতির তুখোড় প্রবক্তা। ধীরে ধীরে তার চিন্তার রূপান্তর ঘটে। যখন বাম রাজনীতির সাথে নিজেকে তত্ত্বীয়ভাবে জড়িয়ে ফেলেন, তখন তার ভাবনার প্রথম বিষয় ছিল মানুষের মুক্তি, কল্যাণ ও সামাজিক ইনসাফ প্রতিষ্ঠার আকুতি। মার্কসবাদের একটি ব্যবস্থাপত্র তাকে আকর্ষণ করেছিল। পরবর্তীকালে তার ধারণা পাল্টাতে থাকে। সাম্যবাদের তত্ত্বীয় ধারণাও প্রায়োগিক ব্যবস্থাপত্রের মধ্যে তিনি কিছু বৈসাদৃশ্য ও জটিলতা অনুভব করতে থাকেন। সে সময় তিনি ইসলামের প্রায়োগিক অঙ্গীকার, সামাজিক সুবিচার, ইরানি সমাজ ও মানুষ নিয়েও ভাবতেন। সমাজে প্রভাবক শ্রেণী কারা- কারাই বা জনগণের অঘোষিত নেতার আসনে বসে আছেন, সেটা খুঁজে পেতে চাইলেন; একসময় পেলেনও। ইসলামের রাজনৈতিক রূপ ও অর্থব্যবস্থা তাকে সাম্যবাদের চেয়ে বেশি আকৃষ্ট করল।
আলী শরিয়তির ‘মজলুম’ নামের একটি চটি বই পড়ে তার চিন্তার সাথে পরিচিতি ঘটে। বুঝলাম, তিনি মানুষ ও মানবতার মুক্তি চান। পিরামিডের প্রতিটি পাথরের মধ্যে মানুষ নামের দাসদের রক্ত ও ঘামের গন্ধ তিনি পেয়েছেন। ফেরাউনদের অত্যাচারের ক্ষতচিহ্নহ্ন তিনি হৃদয় দিয়ে স্পর্শ করতে চেয়েছেন। তাই শ্রমশোষণ ও পুঁজির দাসত্ব থেকে মানুষকে রক্ষা করতে চান। রেজা শাহের বাদশাহী বা রাজতন্ত্র নিয়ে তার কোনো নগদ আগ্রহ ছিল না। তবে বুঝতেন শাহ একনায়ক ও শোষক। একই সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বরকন্দাজ। তিনিও জানতেন তাসের রাজা ছাড়া একসময় আর কোনো রাজা হয়তো থাকবে না। কিন্তু অন্য যেকোনো তন্ত্রের ছিদ্র দিয়ে শাসকেরা রাজা হয়ে উঠবেন। যেমন নির্বাচিত স্বৈরাচার শব্দটি এখন আর অপরিচিত নয়। গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত হয়ে একনায়ক সেজে যাওয়ার উপমাও অনেক। ধারণা ছিল, আদি দাসপ্রথাও থাকবে না। কিন্তু মানুষের মানসিক দাসত্বের ঘোর কাটবে না। রূপান্তরিত দাসপ্রথাও ঘুরেফিরে থেকে যাবে। তিনি বুঝতেন মানুষ স্বভাবত কর্তৃত্ববাদী, আনুগত্যপরায়ণ ও দ্রোহচিন্তার মতো পরস্পরবিরোধী বৈশিষ্ট্য লালন করে।
আন্তর্জাতিকতাবাদে বিশ্বাসী ডক্টর শরিয়তি জাতিরাষ্ট্রের ধারণা অস্বীকার করতেন না। তবে মানবতার মুক্তির জন্য এটাকে কোনো সমাধান মনে করতেও দ্বিধান্বিত ছিলেন। এ ধরনের একটি বিশ্বাসের জায়গায় দাঁড়িয়ে ইরানি সমাজ ও আর্যাবর্তের মানুষ সম্পর্কে তিনি অনুসন্ধিৎসু হলেন। তিনি দেখলেন, পারস্য জাতীয়তাবাদের মন্ত্রমুগ্ধরা এক ধরনের জাতীয়তাবাদী অহংবোধ লালন করেন। প্রগতিশীল ও আধুনিকমনস্ক হয়েও তারা ‘মারজাহ’ নামে একটি প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মীয় চর্চাকেন্দ্রের সাথে জড়িত। এর মাধ্যমে ইরানি জাতি ধর্ম ও রাজনীতি আলাদা করে দেখার ভড়ং করে না, বরং ধর্মাচার ও লোকজ সংস্কৃতি চর্চাকে তারা জাতীয় সংস্কৃতির স্তরে উন্নীত করে নিয়েছে। তাই একজন বরেণ্য আলেমের সান্নিধ্য ও নির্দেশনা মেনেই তারা রাষ্ট্রাচারের সাথে মিলেমিশে থাকে। বিপ্লব ধর্মকে আরো কার্যকরভাবে সামনে এনে দেয়- রাজনীতি ধরন পাল্টায়। কিছু গুণগত পরিবর্তন এনে দেয়।
ইরানের জনগণের বিপ্লবী চৈতন্যের ভ্রুণটি জন্ম নেয় ইসলামের সূচনাপর্বে। সামাজিক শক্তি হিসেবে ধর্মীয় নেতাদের উপস্থিতিও ঐতিহ্য লালিত। আমাদের সমাজে সামাজিক শক্তি হিসেবে ধর্মীয় নেতারা সে তুলনায় অনগ্রসর। ঔপনিবেশিক শাসন এর একটি মৌলিক কারণ। তা ছাড়া পারস্যবাসীর আত্মস্থ করার ক্ষমতাও বেশি।
জার্মান প্রবাদ হচ্ছে- যৌবনে সাম্যবাদে দীক্ষা নেয়া তারুণ্যের ধর্ম। চল্লিশোর্ধ্ব বয়সে ধর্মে অনুরাগ বয়সের ধর্ম। আমরাও তরুণ থাকতে মার্কসবাদ-মাওবাদের স্বাপ্নিক জীবনঘনিষ্ঠতার ভেতর সর্বহারা শ্রেণীর মুক্তির প্রহর গুনতাম। ধর্মের লাগাম ছিঁড়ে সৃষ্টিকর্তাকে অস্বীকার করার মধ্যে বস্তুবাদের মোহনীয় গন্ধ শুঁকে দেখতাম। বয়স বাড়ার পর তুলনামূলক অধ্যয়নের কিছুটা সুযোগ ঘটে। তখন আলী শরিয়তির মতো চিন্তার ভ্রুণটিকে বিকশিত হতে দেখে টের পেলাম মানুষ ও মানবতার মুক্তি নিয়ে সবচেয়ে বেশি ভেবেছেন নবী-রাসূলরাই। তাঁরাই বেশি ভেবেছেন ন্যায়নীতি ও ইনসাফ নিয়ে। ওল্ড ও নিউ টেস্টামেন্ট এবং কুরআন এর সাক্ষ্য বহন করে। তুলনামূলক ধর্মতত্ত্বের ওপর খানিকটা চোখ বুলিয়ে মনে হলো, ধর্মগুলোর মিল অনেক বেশি। সৃষ্টিরহস্য ও মানুষ নিয়ে সামগ্রিক ভাবনা ধর্মের ভেতর বেশি জায়গা পেয়েছে। ওল্ড ও নিউ টেস্টামেন্টের মধ্যে বিকৃতি-বিচ্যুতির পরও সাযুজ্য এক উল্লেখযোগ্য বিষয়। বেদ যখন বলে সৃষ্টিকর্তা ওঁঙ্কার দিয়ে আসমান-জমিনের সব কিছুর অস্তিত্ব দিয়েদিলেন। তখন সব ক’টি আসমানি কিতাবের মূল সুর ‘কুন’ বলেই বিধাতা ‘হও’ বলেন, অমনি সব হয়ে যায়- এ ধারণার আশ্চর্য মিল খুঁজে পেলাম। আদম-হাওয়া থেকে আদালতে আখেরাতসহ মৃত্যুভাবনা ধর্মীয় চিন্তার বাইরে কিছুই নেই। চিকিৎসা বিজ্ঞান এখনো জন্ম-মৃত্যুর চূড়ান্ত সংজ্ঞা নিরূপণ করতে পারেনি। অথচ ধর্মচিন্তায় এর সহজ-সরল ব্যাখ্যা সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজে দেয়।
এ বক্তব্যে বিশ্বাসীদের নিজ নিজ বিশ্বাস পাল্টানোর কোনো তাগিদ নেই। একটি উপমা হিসেবে শুধু বলা যায়, সব ধর্মের ধার্মিক মানুষ সত্য-মিথ্যার একটি মানদণ্ড লালন করেন। ভালো-মন্দের ফারাক বুঝতে চান। স্বর্গ-নরকে বিশ্বাস রাখেন। শয়তান বা প্রবঞ্চকের ধারণা বোঝেন। একজন সৃষ্টিকর্তার একক সার্বভৌমত্ব মানেন। তবে কেউ কেউ স্রষ্টার কাছে পৌঁছার লক্ষ্যে মাধ্যম ধরে অগ্রসর হওয়ার মতো একটি ধারণা পোষণ করেন। এ ধারণাও আবার সর্বজনীন নয়। একেশ্বরবাদী ব্রাহ্মচিন্তার সাথে মূর্তিবাদীর সাদৃশ্য কমই দেখতে পাই। ত্রিত্ববাদের সাথে একমত নয়, এমন খ্রিষ্টানকেও জানি।
প্রসঙ্গটি টেনেছি বাংলাদেশের রাজনীতিতে ইসলামিস্ট ও লেফটিস্টদের মধ্যে যোজন যোজন দূরত্বের বিষয়টির ওপর খানিকটা আলোকপাতের জন্য। আলী শরিয়তির প্রসঙ্গ টানার কারণও অভিন্ন। প্রসঙ্গে প্রশ্নটা তুলতে চাই- জালেমের বিরুদ্ধে যারা মজলুমের বিজয় কামনা করেন, তারা এককাতারে দাঁড়াতে পারেন না কেন? বামরা মন্দের ভালো বাছাই করার সময় পুঁজিবাদ ও নিপীড়ক শাসকদের পৃষ্ঠপোষকতা দেন। আবার ইসলামিস্টরাও বামদের নাস্তিক ও খোদাদ্রোহী-ধর্মদ্রোহী আখ্যায়িত করে মন্দের ভালো বাছাই করার সময় সুবিধাবাদ আশ্রয়ী শক্তির পৃষ্ঠপোষকতা করেন। কায়েমি স্বার্থবাদকে প্রশ্রয় দেন। ধর্ম মানলে কতগুলো নৈতিক বিধিবিধান মানতে হয়। কতক মূল্যবোধ মেনে চলতে হয়। কমিউনিস্টদেরও নীতিবোধ ও মানবিক গুণাবলি অর্জনের তাগিদ আছে। ধর্মপন্থী ও বামপন্থীরা এসব ব্যাপারে যত্নশীলও। তাহলে ধর্মীয় ভাবধারাপুষ্ট নৈতিকতা ও বস্তুতান্ত্রিক চিন্তাপ্রসূত মানবিক গুণাবলির মেলবন্ধন হয় না কেন!
বাংলাদেশের রাজনীতিতে কতগুলো নতুন উপসর্গ দেখা যায়। জনগণের ওপর শাসন চলছে জনগণের সম্মতি ছাড়া। রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহৃত হচ্ছে জনগণের স্বার্থের বিরুদ্ধে। আগ্রাসী সম্প্রসারণবাদকে এতটাই প্রশ্রয় দেয়া হচ্ছে- যেখানে সার্বভৌমত্ব উপেক্ষিত হচ্ছে। জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত ও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। দেশ অত্যন্ত দ্রুতগতিতে বিদেশের বাজারে রূপান্তরিত হচ্ছে। একই সাথে জাতি ও জনগণের শত্রু ও বন্ধু পাল্টে দেয়ার অপচেষ্টা চলছে। বস্তুবাদকে ভোগবাদে উন্নীত করা হয়েছে। এই জাতির চিরায়ত মূল্যবোধ, ঐতিহ্য চেতনায় আঘাত হানা হচ্ছে। অর্থনৈতিক শোষণের সাথে রাজনৈতিক নিপীড়ন ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে দিচ্ছে। পরগাছা সংস্কৃতির সয়লাব বইয়ে দেয়া হয়েছে। নিরাপদে ও নিরুপদ্রবে থাকার মতো স্বস্তি ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে। ব্যক্তিস্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। জাতির মেরুদণ্ডই শুধু ভেঙে দেয়া হচ্ছে না- একটি জাতিরাষ্ট্রকে কৌশলগত দিক থেকেও বিপজ্জনক হুমকির মধ্যে ফেলে দেয়া হচ্ছে। বন্ধু না বাড়িয়ে শত্রুর সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে। ঐক্যবদ্ধ একটি জাতি, অসাম্প্রদায়িক চৈতন্য লালনকারী একটি জনগোষ্ঠীকে ভাগ-বিভাজন করে অন্যদের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সবার বিবেচনায় থাকা ভালো, রাজনৈতিক পরাজয় অর্থনৈতিক পরাজয়কে আবশ্যম্ভাবী করে। তখন সাংস্কৃতিক বিপর্যয় রোধ করা যায় না। আমরা কোন বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড়াচ্ছি সেটা মগজে রাখা ভালো।
মনে মনে স্বপ্ন দেখি, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বাম ও ইসলামিস্টরা যদি স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব প্রশ্নে আপসহীন থেকে ইনসাফের পক্ষে ও দুঃশাসনের বিরুদ্ধে একটি সমতল জায়গায় অবস্থান নিত, তাহলে সুবিধাবাদ, পুঁজিবাদ, সাম্রাজ্যবাদ ও সম্প্রসারণবাদ নিপাত যেত। মানুষের মর্যাদা বাড়ত। ন্যায়নীতি ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার পক্ষে একটি নতুন স্রোতের জন্ম নিত। জাতীয় ঐক্যের ফাটল মেরামতের একটি গ্রহণযোগ্য উপায়ও আমরা খুঁজে পেতাম। কবি গবেষক ফরহাদ মজহারের চিন্তাভাবনা ও গবেষণাপ্রসূত প্রবন্ধ-নিবন্ধে একটি সমন্বিত চিন্তার জায়গা দেখতে পাই। মওলানা ভাসানী এ পথে একটি পদচিহ্ন এঁকে গেছেন। কমরেড তোয়াহা, কমরেড নূরুল হক মেহেদী ও মেজর জলিলও বেশ অগ্রসর ভূমিকা পালন করতে সচেষ্ট ছিলেন। কমরেড হক ও সিরাজ শিকদার অনুসারীদের অনেকেই সাম্যবাদের ইসলামি মডেল নিয়ে ভাবছেন। অধ্যাপক মোজাফফর আহমদও বিলম্বিত চিন্তায় বাংলাদেশের বাস্তবতা বিবেচনায় নিতে চেয়েছেন। আরো কিছু উদ্যে যে কেউ নিতে পারেন। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সামাজিক শক্তি হিসেবে ইসলামিস্টদের উপড়ে ফেলা কিংবা অস্বীকার করার সাধ্য কারো নেই। লেফটিস্টদের সাংস্কৃতিক বিচরণ রোধ করাও কঠিন। সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বলয়ে দ্বন্দ্ব ও সঙ্ঘাত রেখে রাজনৈতিক ঐক্য হয় না। পরস্পরের ধ্বংস কামনা ও নিপাত যাওয়ার দাবি অর্থহীন। তাই মোটা দাগে কয়েকটি ইস্যুতে এক জায়গায় দাঁড়ানোর দায়বোধ সবারই থাকা উচিত। যে অর্থে ইসলামিস্টরা প্রতিক্রিয়াশীল, সংশোধনবাদী ও প্রগতিশীল নয়, একই অর্থে বামপন্থীরাও অভিযুক্ত। যারা ধর্মের তুলনামূলক পাঠে আগ্রহী তারা জানেন, মোশরেকের তুলনায় আহলে কিতাবধারীরা মন্দের ভালো। অভিশপ্ত ইহুদিবাদীদের তুলনায় খ্রিষ্টানরা অধিকতর গ্রহণযোগ্য। রাজনৈতিক ধর্মে পুঁজিবাদের বা ধনতন্ত্রের তুলনায় সাম্যবাদ ভালো হতে দোষ কি!
masud2151@gmail.com
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
কথার পিঠে কথা, রাজনৈতিক by সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীর প্রতীক
রাজনৈতিক নেতৃত্ব সৃষ্টি করা প্রয়োজন
পীর হাবিব : ‘রাষ্ট্র পরিচালনার মতো কঠিন এবং রাজনীতির মতো দুর্বোধ্য বিষয় মোকাবেলা করেও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অনেক ছোটখাটো বিষয়ের সমস্যা সমাধানেও যখন ভূমিকা রাখতে দেখা যায়, তখন নেতৃত্বের সঙ্কট উন্মোচিত হয়।’ আমার মন্তব্য : আগামী দিনের জন্য নেতৃত্ব প্রস্তুত করা একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। বাংলাদেশের সংবিধানের মাধ্যমে এবং রেওয়াজের মাধ্যমেও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী অপরিসীম ক্ষমতার অধিকারী। এর সুফলের তুলনায় কুফল বহু গুণ বেশি। সংবিধানের সংস্কার প্রয়োজন, ইতোমধ্যে সংবিধান কয়েকবার সংশোধন করা হয়েছে। কিন্তু সেগুলো করা হয়েছে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের স্বার্থের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে। বাংলাদেশের জাতীয় ও রাষ্ট্রীয় স্বার্থ মাথায় রেখে সংবিধান সংশোধন করা প্রয়োজন।
দলীয়করণ বন্ধ করা প্রয়োজন
পীর হাবিব : ‘দেশে দলীয়করণের প্রতিযোগিতা প্রশাসনের ওপর মানুষের আস্থা ও সম্মানের জায়গা সরিয়ে দিয়েছে। ... নিয়োগবাণিজ্য বা রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ স্বীকৃত হয়েছে।’ আমার মন্তব্য : জনাব এইচটি ইমাম হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রীর অন্যতম ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা। কিছু দিন পূর্বে তিনি ছাত্রলীগের অনুষ্ঠানে যে কথাগুলো বলেছেন, সে কথাগুলো যেকোনো সচেতন নাগরিককেই উৎকণ্ঠিত করতে বাধ্য। বাংলাদেশের এমন কোনো মন্ত্রণালয় বা বিভাগ বা সংস্থা নেই যেখানে একান্তভাবেই আওয়ামী লীগের দলীয় দৃষ্টিভঙ্গি থেকে চাকরি দেয়া হয়নি। গুরুত্বপূর্ণ স্পর্শকাতর বাহিনী বা বিভাগগুলোতেও এই কাজ করা হয়েছে বলেই মানুষ বিশ্বাস করে। ওই বিশ্বাসের সমর্থন পাওয়া গেল এইচটি ইমামের কথা থেকে। দলীয় দৃষ্টিভঙ্গিতে মানুষকে সরকারি চাকরি দেয়ার কারণেই গত বছর ৫ জানুয়ারি অতি ন্যক্কারজনকভাবে সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠান করা সম্ভব হয়েছে। এতবড় একটা বেনিফিট বা লাভ পাওয়ার পর, কী কারণে বর্তমান ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল দলীয়করণ বন্ধ করবে বা কমিয়ে দেবে সেটা বোধগম্য নয়। প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো নিজ নিজ মেয়াদে দলীয়করণ করেছেন এটা সাধারণভাবে বিশ্বাস করা হয়। তবে বিগত সাত বছর ধরে সেটা সীমাহীনভাবে চলছে। বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্র এতবড় ভার বহন করতে পারবে কি না, এটা কঠিন প্রশ্ন।
দুর্নীতির ডালাপালা
পীর হাবিব : ‘দুর্নীতি দিনে দিনে বহু বেড়েছে।’ আমার মন্তব্য : দুর্নীতি এখন যে স্তরে আছে, সেই স্তরে একদিনে পৌঁছেনি। ১৯৭২ থেকে শুরু করে, প্রতিটি বছর, প্রতিটি রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক সরকারের মেয়াদেই, প্রতি সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির পৃষ্ঠপোষকতায় দুর্নীতি বিভিন্ন মাত্রা অর্জন করেছে। তবে বিগত ছয়-সাত বছর ধরে দুর্নীতি বাংলাদেশকে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে ফেলেছে। সবচেয়ে বিপজ্জনক হলো, বর্তমান রাজনৈতিক সরকারের একাধিক মন্ত্রীর কথাবার্তা ও কর্ম প্রত্যক্ষভাবেই দুর্নীতিকে উৎসাহিত করছে। ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক সরকারের জ্যেষ্ঠ ব্যক্তি, যারা নিজেরা দুর্নীতি করেননি, তাদের অপরাধ হচ্ছে, দায়িত্বে অবহেলা। আজ থেকে ছয়-সাত বছর আগের শেয়ার মার্কেট কেলেঙ্কারি, চার বছর আগের হলমার্ক ও ডেসটিনি কেলেঙ্কারি, বিসমিল্লাহ গ্রুপ কেলেঙ্কারি, বেসিক ব্যাংক কেলেঙ্কারি ইত্যাদির দায়িত্ব কে নেবে এটা একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ এবং সময়োপযোগী প্রশ্ন। বাংলাদেশের একটি দৈনিক পত্রিকা ‘মানবজমিন’ ১০ জানুয়ারি ২০১৫ সালে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সেই প্রতিবেদনের শিরোনামেই উল্লেখ করা হয়েছে, ‘এক বছরেই পাচার ৭৬ হাজার কোটি টাকা’।ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেগ্রিটি (জিএফআই) এই তথ্য প্রকাশ করেছে। জিএফআই সাত বছর ধরে উন্নয়নশীল দেশ থেকে কী পরিমাণ অর্থ অবৈধভাবে পাচার হয়ে গেছে, তা নিয়ে গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করে আসছে। তাদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী এক বছরেই বাংলাদেশ থেকে বিদেশে পাচার হয়েছে ৯৬৬ কোটি ৬০ লাখ ডলার। টাকার অঙ্কে তা ৭৬ হাজার ৩৬১ কোটি ৪০ লাখ টাকা। ২০১৩ সালে এ অর্থ পাচার হয়েছে। সমগ্র বাংলাদেশের সব নাগরিক অন্ধ বা বধির এবং চেতনাবিহীন হয়ে গেছে অথবা তাদের স্মৃতিশক্তি ও পর্যবেক্ষণ শক্তি লোপ পেয়েছে এরূপ কল্পনা করলে, ক্ষমতাসীন ব্যক্তিরা ভুল করবেন।
রাজনীতিতে সহনশীলতা বনাম প্রতিহিংসা
পীর হাবিব : ‘রাজনীতিতে সহনশীলতার উল্টো পথে আগ্রাসী রূপ নিয়েছে প্রতিহিংসা। গুম, খুন মানুষের জীবনকে নিরাপত্তাহীন করেছে।’ আমার মন্তব্য : রাজনীতিতে সহনশীলতা অপরিহার্য। সহনশীলতার অন্তত দু’টি আঙ্গিক আছে। যথা : কর্মে সহনশীলতা এবং মুখের বাক্য-বিনিময়ে সহনশীলতা। সাধারণভাবে যারা দেশ ও রাষ্ট্র চালান তারাই অনুকরণীয় ও অনুসরণীয় হন। অতএব, জ্যেষ্ঠতম নেতা প্রধানমন্ত্রীই সবার আগে অনুকরণীয় ও অনুসরণীয় হওয়ার কথা। কিন্তু অঙ্কের মতো জরিপ করে যদি বিশ্লেষণ করা হয়, তাহলে অবশ্যই বলা যাবে যে, প্রধানমন্ত্রী ঘন ঘন বিরোধী দলের প্রতি ও বিরোধীদলীয় রাজনীতির নেতৃত্বের প্রতি অত্যন্ত অসহনশীল ও আক্রমণাত্মক ভাষা ব্যবহার করে থাকেন। কর্মের সহনশীলতা প্রসঙ্গে আমার মন্তব্য, ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের অনৈতিক ও অবৈধ কর্মকাণ্ডের প্রতি সহনশীল হওয়া রাষ্ট্রের জন্য ক্ষতিকারক। অপর পক্ষে, ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের অঙ্গ সংগঠন (একটি বা একাধিক) এর ভেতরে যে আক্রমণাত্মক পরিবেশ, সেটা অন্য কাউকে সহনশীল হতে উৎসাহিত করে না। বরং অন্যদেরও উৎসাহিত করে আক্রমণাত্মক হতে। বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক নেতৃত্ব প্রতিহিংসাপরায়ণ- এ কথা বহু লোক বলছেন। কাউকে-না-কাউকে প্রতিহিংসা বাদ দিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে। বহু লোক বলছেন, আগামীতে যদি ২০ দলীয় জোট ক্ষমতায় আসে, তাহলে তারা বর্তমান ক্ষমতাসীনদের প্রতি প্রতিহিংসাপরায়ণ হবে। এই চিন্তার ধারাবাহিকতায় অনেকেই বলছেন, ২০ দলীয় জোট যদি অগ্রিম ঘোষণা দেয় যে, তারা প্রতিহিংসাপরায়ণ হবে না, তাহলে বর্তমানের ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল ঠাণ্ডা মাথায় নিজেদের ক্ষমতার বাইরে থাকার সময়ের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে কিছুটা হলেও নিশ্চিত হয়ে ভবিষ্যৎ নিয়ে রাজনৈতিক চিন্তা করতে পারে। আমার নিবেদন, শুভ কাজ যথাশীঘ্র শুরু করাই ভালো। পারলে ২০১৫ সালের বিজয় দিবসের পর থেকেই শুরু হোক; প্রতিহিংসার বদলে জাতীয় ভিত্তিতে মায়া-মমতা ও সহমর্মিতার পরিবেশ সৃষ্টি করা হোক।
বাংলাদেশে মাদকের আগ্রাসন
পীর হাবিব : ‘ইয়াবাসহ মাদকের আগ্রাসন একেকটি পরিবারকেই নয়, দেশের একটি প্রজন্মকে অন্ধকার পথে টেনে নিয়ে যাচ্ছে।’ আমার মন্তব্য : মাদকের আগ্রাসন নতুন নয়। মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর আছে। এই মুহূর্তে মাদকের আগ্রাসন থেকে দেশের তরুণ সম্প্রদায়কে বাঁচানোর জন্য এই অধিদফতর কোনো অবস্থাতেই যথেষ্ট উপযুক্ত, যথেষ্ট দক্ষ, যথেষ্ট আগ্রহী ও যথেষ্ট ক্ষমতাবান নয়। মাদক এখন একটি জাতীয় সমস্যা। মাদকের সমস্যা থেকে বাংলাদেশকে বাঁচাতে হলে রাজনৈতিক ও সামাজিক পর্যায়ে এমপিউটেশন প্রয়োজন। উদাহরণস্বরূপ, ডায়াবেটিস রোগীর হাতে সংক্রমণ এবং ঘা হয়েছে, চার-পাঁচটি আঙুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, হাতের কব্জি দুর্বল হয়ে গেছেÑ এ অবস্থায় হাতের কনুইয়ের নিচে কেটে ফেলতে হবে। মাদক সমস্যার মতোই অন্য একটি সমস্যা উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরছি। কিছু দিন ধরে সোনা চোরাচালান প্রচণ্ড বেড়ে গেছে। খবর পড়ি আর চিন্তা করি। দেশের মানুষ খবর পড়েন এবং চিন্তা করেন। কোনো সমাধানের কথাবার্তা পত্রিকায় দেখা যাচ্ছিল না। হঠাৎ বছর খানেক আগে একটি চোরাচালান ধরা পড়ার পর সেটার পিঠে পিঠে সূত্র ধরে আগাতে আগাতে দেখা গেল, মিডিয়ার মতে, এই অপকর্মটিতে বাংলাদেশ বিমানের কিছু গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংশ্লিষ্টতা আছে। যেখানে ঘরের ভেতরেই শত্রু, সেখানে বাইরের শত্রুর প্রয়োজন নেই। মাদক প্রসঙ্গে ফিরে আসি। মাদক বাংলাদেশকে শেষ করে দেবে। যারা মাদকের ব্যবসা করে, তারা টাকা অর্জনের জন্য মাদক ও ইয়াবার চোরাকারবার করে। আমার অনুভূতি বা মূল্যায়ন অনেকটা এ রকম। মোট ১২ থেকে ২০ জনের জাতীয় পর্যায়ের একটি সিন্ডিকেট পুরো বাংলাদেশে ইয়াবার চোরাচালান ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। তাদের অধীনে ১০০ থেকে ১৫০ জন উপ-নিয়ন্ত্রক আছে। এসব উপ-নিয়ন্ত্রকের অধীনে হাজার থেকে দেড় হাজার সহকারী নিয়ন্ত্রক রয়েছে। সহকারী নিয়ন্ত্রকদের নিচে ১০ থেকে ১২ হাজার খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ী সক্রিয়। দেশব্যাপী আনা-নেয়ার জন্য লাখ থেকে দেড় লাখ বহনকারী বা কুরিয়ার আছে, যারা অন্যান্য পেশায় জড়িত থাকতেও পারে বা নাও থাকতে পারে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে সাধারণত খুচরা ব্যবসায়ী ধরা পড়ে। বড় জোর, সহকারী নিয়ন্ত্রক ধরা পড়ে দু’একজন। এর উপরের স্তরের লোকেরা এ পর্যন্ত ধরা পড়েছে বলে কোনো দিন শুনিনি। মিডিয়ার রিপোর্ট মোতাবেক, বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চলের বহুলালোচিত একজন রাজনীতিবিদ মাদকের ব্যবসার ক্ষেত্রে ওই অঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করেন। আমার এ মন্তব্য শুধু এই ক্ষমতাসীন সরকারের জন্য নয় বরং সর্বজনীনভাবেই প্রযোজ্য। ক্ষমতাসীন রাজনীতিবিদ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী ব্যক্তিদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সহযোগিতা ব্যতীত মাদকের ব্যবসা সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে ক্ষমতাসীন রাজনীতিবিদ এবং ক্ষমতাসীন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী ব্যক্তিদের প্রভাব বা সংশ্লিষ্টতা নিশ্চিতভাবেই এই মুহূর্তেও আছে। তবে যেহেতু কোনো সরকারি বাহিনী বা কোনো সাংবাদিক এরূপ গভীরে অনুসন্ধান করেন না, সেহেতু ওই ব্যক্তিরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যান। কেউ যদি বেশি অনুসন্ধানের আগ্রহ প্রকাশ করে, তাহলে তার পরিণতি হয়তো খারাপ হবে। যদি কেউ এমন অবস্থার সম্মুখীন হয়, তাহলে তার পরিবার অসহায় হয়ে পড়ে। রাষ্ট্র ওই অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ায় না। এই অনুচ্ছেদ শেষ করতে চাই একটি কথা বলে। বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের ভূখণ্ড যেমন বঙ্গোপসাগরের পানির নিচে ডুবে যেতে পারে বিশ্বের উষ্ণতা বৃদ্ধির কারণে, তেমনি সারা জাতির বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নৈতিকতা, মেধা ও কর্মক্ষমতা ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে মাদক তথা ইয়াবার কারণে। একজন মানুষ যদি যক্ষ্মা বা ক্যান্সারে আক্রান্ত হয় এবং তার চিকিৎসা না করা হয়, তাহলে সে ধীরে ধীরে মারা যাবে। অনুরূপ মাদকের কারণে পুরো জাতি আক্রান্ত এবং অসুস্থ। দু’চারটি মিষ্টি কথা, দু’চারটি ক্লিনিকের বিজ্ঞাপন, দু’চারটি টকশোতে কিছু নসিহত কোনো মতেই মাদকের বা ইয়াবার আক্রমণ থেকে বাংলাদেশকে বাঁচাতে পারবে না। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে মাদক আগ্রাসন তথা ইয়াবা আক্রমণ যারা পরিচালনা করছেন, তাদের বেশির ভাগই শিক্ষিত এবং বিদেশে থাকেন।
কল্যাণের লক্ষ্যে পরিশীলিত রাজনীতি
কলাম শেষ করতে চাই সম্মানিত পাঠকের কাছ থেকে শুভেচ্ছা কামনা করে। কেন, তার বিনীত ব্যাখ্যা পরবর্তী লাইনগুলো। বাংলাদেশের হাজার বছরের ইতিহাসে সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন হলো ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধ। মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীনতা আমাদের শ্রেষ্ঠ সম্পদ। এই সম্পদ রক্ষা করতে হলে পরিশীলিত রাজনীতিবিদ, পরিশীলিত চিন্তাবিদ, পরিশীলিত আমলা, পরিশীলিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, পরিশীলিত বিনিয়োগকারী এবং পরিশীলিত শ্রমজীবী প্রয়োজন। তবে, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অর্থাৎ সবার আগে প্রয়োজন পরিশীলিত রাজনীতিবিদ। কারণ, সর্বশেষ বিচারে রাজনীতিবিদেরাই দেশ পরিচালনার জন্য দায়ী। ২০০৭ সালের ৪ ডিসেম্বর নিজে নাম লিখিয়েছিলাম একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির আত্মপ্রকাশের মাধ্যমে। সেই থেকে চেষ্টা করছি প্রচার করতে, পরিবেশন করতে একটি আহ্বান ও একটি প্রয়োজনীয়তা। সেটি হলো, বাংলাদেশের রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন প্রয়োজন। বাংলাদেশের মেধাবী ও সাহসী ব্যক্তিগণকে এবং তরুণ সম্প্রদায়কে রাজনীতিবিমুখ হতে দেয়া যাবে না। অপর দিকে, রাজনীতির পঙ্কিলতা ও দুর্গন্ধ তরুণ সম্প্রদায়কে দূরে ঠেলে দেয়। অতএব, প্রবীণদেরই দায়িত্ব উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করা। ওই সংগ্রামে লিপ্ত আছি নিজের অতি সীমিত শক্তিতে, সীমিত সংখ্যক বন্ধু ও শুভাকাক্সক্ষীর সহযোগিতায়। নতুন দলটির বয়স আট বছর হলো। কিছু না হোক, শুভেচ্ছা অবশ্যই কাম্য।
লেখক : চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি
www.generalibrahim.com
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আবের ‘আবেনোমিকস’র কি হাল?
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বাংলাদেশ চায় রাষ্ট্রনায়ক by এমাজউদ্দীন আহমদ
রাজনীতিকেরা বাংলাদেশে রাজনীতিকে অসুস্থ করে তুলেছেন। জাতি আজ বিভক্ত। ধনী-দরিদ্র, গ্রামবাসী-নগরবাসী, শিক্ষিত-অশিক্ষিত পর্যায়ে যে বিভক্তি ছিল আজ তার ওপর এসেছে রাজনৈতিক বিভাজন। চুয়াল্লিশ বছর আগের স্বাধীনতাযুদ্ধকে কেন্দ্র করে আজো কেউ স্বাধীনতার পক্ষের, কেউ বা নতুনভাবে চিহ্নিত হচ্ছেন স্বাধীনতাবিরোধী রূপে। তা ছাড়াও শুরু হয়েছে নতুনভাবে জাতীয়তার প্রশ্নের বিভাজন। কেউ কেউ বাঙালি জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী। কেউ প্রচার করছেন বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের কথা। সব মিলিয়ে জাতির একাংশ হয়েছে আওয়ামীপন্থী এবং বাঙালি জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী। অন্য অংশটি জাতীয়তাবাদী, বাংলাদেশী জাতীয়তায় বিশ্বাসী। এই বিভাজন এমন প্রকট হয়ে উঠেছে যে, দুই-এর মধ্যে নেই কোনো যোগসূত্র, নেই কোনো ‘হাইফেন’। অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক ব্যাপার এই যে, এই বিভাজন প্রতিদিন যেমন দৃঢ়তর হচ্ছে, তেমনি সমাজ জীবনের প্রায় প্রতি ক্ষেত্রে তা পরিব্যাপ্ত হচ্ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে, সাংস্কৃতিক অঙ্গনে, শ্রমিক সংগঠনে, ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে, এমনকি প্রশাসনেও এর দীর্ঘ ছায়া সব কিছুকে মলিন করে তুলেছে। এর ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া শুধু জাতীয় ঐক্য নয়, জাতীয় অগ্রগতির গতিকে বাধাগ্রস্ত করছে এবং করবেও।
আজ থেকে পঞ্চাশ বছর পরে বাংলাদেশ অগ্রগতির কোন স্তরে উপনীত হবে, রোগব্যাধি-কুসংস্কার-দারিদ্র্যের ওপর কতটুকু বিজয় অর্জন করবে, শিল্প-বাণিজ্য ক্ষেত্রে উন্নতির স্পর্শ কতটুকু লাভ করবে এ সম্পর্কে রাজনীতিকেরা এতটুকু ভাবেননি। বাংলাদেশের জনশক্তিকে দক্ষ শ্রমশক্তিতে রূপান্তরের কোনো চিন্তাভাবনা তাদের নেই। দক্ষিণ এশিয়ার প্রান্তসীমায় অবস্থিত প্রান্তিক বাংলাদেশে দক্ষিণ এশিয়ার একটি অগ্রগামী রাষ্ট্র হিসেবে কিভাবে তারা দেখতে চান, এ বিষয়েও তাদের কোনো প্রস্তুতি নেই। প্রস্তুতি নেই আগামী শতাব্দীতে পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বৃহত্তর উন্নয়ন সমারোহে কিভাবে সংশ্লিষ্ট হবে সে সম্পর্কেও। তাই বলি, বাংলাদেশ অনেক রাজনীতিক দেখেছে। রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অচ্ছেদ্য গ্রন্থিতে আবদ্ধ হয়ে শ্বাসকষ্ট ভোগ করছে দীর্ঘ দিন। জ্বলন্ত অগ্নিকুণ্ড থেকে স্বাধীনতার পতাকা ছিনিয়ে এনেছে। আপন গৌরবে সার্বভৌমত্বের আশীর্বাদ লাভ করে বিজয়তিলক কপালে পরেছে। ওইসব সঙ্কটময় মুহূর্তে রাজনীতিকেরা যে ভূমিকা পালন করেছেন, এ দেশের সাদামাটা নিরক্ষর দরিদ্র জনসাধারণ তথা ছাত্র-শ্রমিকেরা তারচেয়ে কোনো অংশে কম গৌরবময় ভূমিকা পালন করেননি। রাজনীতিকদের স্বপ্ন জনগণকে যতটুকু প্রভাবিত করেছে, জনগণের অগ্রগামী পদক্ষেপ রাজনীতিকদের তার চেয়ে অনেক বেশি প্রেরণা জুগিয়েছে।
রাজনীতিকেরা ব্যক্তিস্বার্থে, কোনো কোনো সময় দলীয় স্বার্থে, এমনকি কখনো পারিবারিক স্বার্থে, রাজনীতি পরিচালনা করছেন। জনগণের কথা বলেছেন বটে, কিন্তু তাদের কর্মপ্রচেষ্টায় জনগণ কোনো দিন মুখ্য হয়ে ওঠেনি। রাজনীতি হয়নি জনকল্যাণমূলক সুসংহত উদ্যোগ। নিজেরা দলাদলি করেছেন। নিজেরা দল ভেঙেছেন। ভেঙেছেন পরের ঘরও। কখনো কিন্তু এ কারণে লজ্জায় তাদের মুখ লাল হয়ে ওঠেনি। সংসদে তারা যা বলেন এবং যেভাবে ও ভাষায় বলেন, কোনো দিন কেউ ভেবে দেখেননি যাদের জন্য এসব কথা, তারা কিভাবে তা গ্রহণ করবেন অথবা বক্তাদের সম্বন্ধে তারা কী ধারণা পোষণ করবেন। গাঁয়ের ঝগড়া গাঁয়ে মানায়। গ্রাম্য মুড়লিও গ্রামবাসীর জন্য। জাতি কিন্তু চায় উন্নতমানের বিতর্ক, সৃজনশীল ধারণার প্রকাশ। জাতি উত্তম কথা শুনতে চায়। অন্য দেশে যা ঘটে এবং যেভাবে, তার প্রতিফলন দেখতে চায় নিজেদের সমাজে। দেখতে চায় তুলনামূলক সৌকর্য, কৃতিত্বের অভিব্যক্তি, সুরুচিসম্পন্ন আলোচনা-পর্যালোচনা। মেঠো বাচালতায় তারা ক্লান্ত। নিম্নমানের ঝগড়াটে কথাবার্তায় তাদের তীব্র অনীহা। কোন নেতা কখন কী স্বপ্ন দেখলেন, সে সম্পর্কে জনগণের তেমন আগ্রহ নেই। তারা আগ্রহী মানবেতর জীবন থেকে কিভাবে রেহাই পাবেন। অশিক্ষা ও নিরক্ষরতার কবল থেকে কখন তারা মুক্ত হবেন। বেকারত্বের অভিশাপ থেকে কিভাবে তারা বেরিয়ে আসবেন। এসব বিষয়ে জনগণ আগ্রহী। সম্প্রতি অনেক নেতানেত্রী একুশ শতকের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার কথা বলে থাকেন। একুশ শতকের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার জন্য সবার আগে রাজনীতিকদের চিন্তা-ভাবনা, শিক্ষা-প্রশিক্ষণ, রুচিশীলতা-আন্তরিকতায় আমূল পরিবর্তন সাধিত হতে হবে। যে দৈন্যদশায় এখন রাজনীতিকেরা প্রপীড়িত, তার হাত থেকে তাদের অব্যাহতি পেতে হবে। নিজেদের মান উন্নত করতে হবে তাদের। ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে, দলীয় স্বার্থকে জাতীয় স্বার্থে রূপান্তরিত করতে হবে। জাতীয় স্বার্থ কিভাবে সমুন্নত রাখতে হবে, সে শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে। অন্তত পঞ্চাশ বছর সামনে দৃষ্টি দিতে হবে। প্রতিটি পদক্ষেপে সে লক্ষ্য যেন বাস্তবায়ন হয় তা চিন্তায় রাখা প্রয়োজন। বিরোধী দলের অবস্থানে যা বলেছি, ক্ষমতাসীন দলে তার আর প্রয়োজন নেই- এ মানসিকতা বলদর্পীর। ক্ষমতাসীন থেকে যা করেছি, বিরোধী দলে এসে তা ভুলে যাওয়া এক ধরনের হীনম্মন্যতা। দুই-এর মধ্যে সামঞ্জস্য বিধান করাই রাষ্ট্রনায়কোচিত কাজ। বাংলাদেশে এখন তাই প্রয়োজন রাষ্ট্রনায়কের। রাজনীতিকেরা রাষ্ট্রনায়কোচিত গুণে বিভূষিত না হলে শুকনো পাতার মতো তারা ঝরে পড়বেন বাংলাদেশ রাজনীতির আধমরা গাছ থেকে। তারা তখন এক ফোঁটা চোখের পানি ফেলার জন্য কাউকে পাবেন না। বাংলাদেশের অতীত ইতিহাস তা-ই বলে।
রাষ্ট্রনায়ক মাটিতে অবস্থান গ্রহণ করেও আকাশচারণ করেন। বর্তমানকে অবহেলা না করেও ভবিষ্যৎ দর্শন করেন। অতীত ও ভবিষ্যতের মধ্যে যোগসূত্র স্থাপন করেন। অনেকটা ওয়ার্ডসওয়ার্থের (Wordsworth) ভরত পাখির (Skylark) মতো, পা রয়েছে মাটিতে, কিন্তু অপূর্ব সুরের ঝঙ্কারে আকাশ-বাতাস মুখরিত করছে। দৈনন্দিন সমস্যা সমাধানে ব্যস্ত থেকেও সমগ্র জাতিকে আহ্বান করছেন ভবিষ্যতের স্বপ্নসাধ মেটানোর জন্য। জাতীয় ধী এবং মনীষার সৌধ নির্মাণে। সব সঙ্কীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে জাতীয় ঐক্যের চিরন্তন বাণী নিয়ে সবার মনে সৃষ্টিশীল প্রয়াসের ঐকতান সৃষ্টি করতে। প্রতিহিংসার স্পৃহা ত্যাগ করে আকাশের উদারতায় সবাইকে জাতীয় প্রয়োজনে ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগের আহ্বান। এটি রাজনীতিকদের নয়, রাষ্ট্রনায়কের ভাষা। আজ বাংলাদেশে তাই প্রয়োজন রাষ্ট্রনায়কের। সঙ্কীর্ণমনা, হিংসুটে, প্রতিহিংসাপরায়ণ, ঝগড়াটে, স্থূলবুদ্ধির রাজনীতিকের নয়। বাংলাদেশ চায় দূরদৃষ্টিসম্পন্ন, উদার হৃদয় বিচক্ষণ রাষ্ট্রনায়ক, কোন্দলপ্রিয় রাজনীতিক নয়।
লেখক : রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও সাবেক ভিসি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
প্যারিস চুক্তির ধোঁয়াশা ও বাংলাদেশের আশা
ইফতেখার মাহমুদ: সাংবাদিক।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আইন সংস্কারের সুপারিশ বিবেচনায় নিন
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ব্যবসার জন্য নীতিনৈতিকতা বিসর্জন দেয়ার এক গোপন কাহিনী by মোহাম্মদ হাসান শরীফ
এ প্রতিবেদনটি আসলে আরব আমিরাতের সবচেয়ে শক্তিশালী মানুষটি এবং পাঁচ বছর ধরে তার রাজনীতি কিভাবে ব্রিটিশ-আমিরাতি সম্পর্কে পরিচালিত করেছে, সে কাহিনীই উঠে এসেছে।
গত নভেম্বরে গার্ডিয়ানে প্রকাশিত খবরে বলা হয়, ব্রাদারহুডের ওপর দমনপীড়ন চালানোর বিনিময়ে আকর্ষণীয় অস্ত্র ও তেল চুক্তির জন্য ক্যামেরনকে রাজি করানোর চেষ্টা করেছিল আমিরাত।
ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই কার্যক্রমে আমিরাতের বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ ব্যক্তি জড়িত ছিলেন। তবে প্রধান ভূমিকায় ছিলেন আবুধাবির ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল-নাহিয়ান, উপসাগরীয় এলাকায় যিনি ‘এমবিজেড’ নামে পরিচিত।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট খলিফা বিন জায়েদ আল-নাহিয়ানকে সাম্প্রতিক সময়ে খুব কম দেখা যায়, বা তার কথা শোনা যায়। গুজব রয়েছে খুবই অসুস্থ। এমন প্রেক্ষাপটে ‘এমবিজেড’ কার্যত দেশটির প্রেসিডেন্ট হিসেবে সব কিছুর নিয়ন্ত্রণ করছেন বলে অনেকে মনে করছে।
ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা
ব্রিটিশ তদন্ত প্রতিবেদনটি বুঝতে হলে প্রথমে বুঝতে হবে ‘এমবিজেড’ এবং মুসলিম ব্রাদারহুডের প্রতি তার তীব্র বিদ্বেষের বিষয়টি।
অনেকে মনে করে, ২০১২ সালে ব্রাদারহুডের মোহাম্মদ মুরসির মিসরের প্রেসিডেন্ট হওয়ার ঘটনাটি ছিল মোড় পরিবর্তনকারী। এই ঘটনার রেশ ধরেই ব্রিটিশ সরকার ২০১৪ সালের ১ এপ্রিল জেনকিন্সকে তদন্ত করার দায়িত্ব দিতে উদ্বুদ্ধ করেছিল।
ঘটনাপরম্পরা এবং উদ্দেশ্যের দিক থেকে এটাকে পুরোপুরি সত্যিই বলা যায়। ‘এমবিজেড’-এর কাছে মুরসির জয়ী হওয়া ছিল পুরো অঞ্চলে ব্রাদারহুডের বন্যায় ভেসে যাওয়া এবং স্বৈরতান্ত্রিক উপসাগরীয় অঞ্চলকে তাদের ইসলামি গণতন্ত্রের পতাকাতলে নিয়ে আসার সম্ভাবনার সূচনা।
ব্রাদারহুডের প্রতি ‘এমবিজেড’র বিদ্বেষ প্রকাশ্যে তেমনভাবে জানা ছিল না। অবশ্য পদস্থ একটি ব্রিটিশ সূত্র মিডল ইস্ট আইকে জানিয়েছে, ‘এমবিজেড’ ব্রাদারহুডের সদস্যও হতে পারতেন, অথচ তিনি হয়েছেন তার ভাষায় তাদের বিরুদ্ধাচরণের ব্যাপারে একাট্টা ব্যক্তি। তিনি বিচারবুদ্ধিসম্পন্ন লোক কিন্তু বিষয়টিকে তিনি বহু দূর নিয়ে গেছেন।
গুজব রয়েছে, আমিরাতি ক্রাউন প্রিন্স ব্রাদারহুড সম্পর্কে বিদ্বেষপরায়ণ হওয়ার কারণ, তিনি মনে করেন, গ্রুপটি তাদের রাজনৈতিক ক্ষমতা হাসিলের জন্য ধর্মকে সঙ্গী করে নিয়েছে।
‘এমবিজেড’-এর অবস্থান বোঝা যেতে পারে স্বৈরতান্ত্রিক শাসকের প্রিজম দিয়ে। এ ধরনের শাসক মনে করতে পারেন, তার ব্যাপকভাবে রক্ষণশীল ও ধার্মিক প্রজারা ব্রাদারহুডকে আকর্ষণীয় গ্রুপ বিবেচনা করে বসতে পারে। সে ক্ষেত্রে তাদের আসন টলে যেতে পারে।
কায়রোতে মুরসির নির্বাচন ‘এমবিজেড’র এই আশঙ্কা জোরদার করেছিল। তবে তিনি আরো আগে থেকেই বেশ দীর্ঘ সময় ধরে অভ্যন্তরীণ ফ্রন্টে ব্রাদারহুডকে মোকাবেলা করে আসছিলেন।
‘এমবিজেড’ ২০০৩ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ব্রাদারহুড গ্রুপ আল-ইসলাহকে (তারা দাবি করে, তারা পুরোপুরি স্থানীয় সংগঠন, তাদের নজর কেবল সামাজিক ও রাজনৈতিক সংস্কারের দিকেই) আন্তর্জাতিক সব সমমনা সংগঠনের সাথে তাদের কার্যক্রম ও সম্পর্ক ছিন্ন করতে বলেছিলেন।
ইসলাহ এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে তাদের নিজস্ব কার্যক্রম চালিয়ে গিয়েছিল, রাজনৈতিক সংস্কারের আহ্বান বাড়াচ্ছিল। পরবর্তী দশকে ইসলাহ ক্রমবর্ধমান নির্যাতনের মুখে পড়ে, তারা এখন নিষিদ্ধ, সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে নিষিদ্ধ, এর নেতারা হয় কারারুদ্ধ কিংবা বাধ্যতামূলকভাবে প্রবাসে রয়েছেন।
উইকিলিকসে প্রকাশিত মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের ক্যাবলে দেখা যাচ্ছে, ‘এমবিজেড’ বিশ্বাস করছেন, আমিরাতি সরকারে ইসলাহ অনুপ্রবেশ করেছে। তিনি আমেরিকান কর্মকর্তাদের বলেন, আমিরাতে নির্বাচন হলে ইসলাহ সহজেই জয়ী হবে।
আরব বিশ্বে ২০১১ সালে বিপ্লব প্লাবিত হওয়ার পর এসব অভ্যন্তরীণ উদ্বেগ আঞ্চলিক বিষয়ে পরিণত হয়। ‘এমবিজেড’ দেখছিলেন, কিভাবে ব্রাদারহুডের সমর্থকেরা গণবিক্ষোভের সুযোগ নিয়ে আড়াল থেকে বের হয়ে আসছে, লিবিয়া থেকে তিউনিসিয়া এবং মিসর থেকে ইয়েমেন পর্যন্ত দেশে দেশে সম্ভাব্য রাজনৈতিক নেতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে।
মুরসি যখন ২০১২ সালের ২৪ জুন মিসরের প্রথম গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘোষিত হন, তখন ‘এমবিজেড’ আমিরাতে ইসলাহর বিরুদ্ধে অভিযানের তদারকি করছিলেন। ইসলাহর নেতাদের গ্রেফতার, কারারুদ্ধ করা হয়, গ্র“পটির নেতারা ক্ষমতাসীন পরিবারের হাত থেকে ক্ষমতা গ্রহণ করতে গোপন ক্যু করার চক্রান্তে লিপ্ত বলে ব্যাপকভাবে প্রচার করা হয়।
ঠিক এই পর্যায়ে মুসলিম ব্রাদারহুডের ব্যাপারে তদন্ত শুরু করতে ব্রিটিশ সরকার উদ্বুদ্ধ হয়।
আমিরাতের মুলা ও লাঠিনীতি
২০১৫ সালের নভেম্বরে গার্ডিয়ানে আবুধাবির গণসংযোগবিষয়ক নাটের গুরু এবং ব্রিটিশ নাগরিক সাইমন পিয়ার্সের একটি লিখিত নোট প্রকাশিত হয়। এতে ব্রাদারহুডের বিরুদ্ধে দমন অভিযান চালানোর বিনিময়ে ব্রিটেনকে কয়েক শ’ কোটি পাউন্ডের তেল ও অস্ত্রচুক্তির লোভ দেখানো হয়।
‘এমবিজেড’ যেসব স্থানে ব্রিটিশ সরকারকে শুদ্ধি অভিযান চালাতে বলেছিলেন, তার অন্যতম ছিল বিবিসি। তার মতে এই প্রতিষ্ঠানটিতে ‘ইসলামপন্থী সহানুভূতিশীলদের’ অনুপ্রবেশ ঘটেছে।
যুক্তরাজ্যের প্রতি আমিরাতের মুলা ও লাঠি নীতিটি সূচিত হয় ২০১২ সালের জুলাই মাসে। ওই সময় আবুধাবির জাতীয় তেল কোম্পানির মহাপরিচালক আবদুল্লাহ নাসের আল-সুওয়াইদি স্পষ্টভাবে জানান, ওয়েল জায়ান্ট বিপিকে আমিরাতের নতুন ও আকর্ষণীয় তেলচুক্তির দরপত্রে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি, যদিও দেশটিতে বিপি দীর্ঘ দিন ধরে কাজ করেছে।
আগস্টে প্রকাশিত প্রতিবেদনে অনুমান করা হয়, তেল দরপত্র থেকে বিপিকে বাদ (অন্তত আংশিকভাবে হলেও) রাখার কারণ হতে পারে, আরব বসন্তের প্রতি ব্রিটিশ সমর্থনে আমিরাতি ক্রোধ। আরো তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, ঠিক এই সময়টাতেই বেশ কয়েকজন ইসলাহ নেতা লন্ডনে অবতরণ করে রাজনৈতিক আশ্রয়ের জন্য আবেদন করে।
একই সময়ে মানবাধিকার গ্রুপগুলো এই অভিযোগ প্রকাশ করতে থাকে, আমিরাতি কর্তৃপক্ষ ইসলাহ নেতাদের ওপর নির্যাতন চালাচ্ছে। ব্রিটিশ পত্রিকাগুলোতে এসব প্রতিবেদন ফলাও করে প্রচারিত হওয়ায় আবুধাবির মধ্যে এই ধারণা দানা বেঁধে ওঠে, লন্ডন তাদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে।
অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন, সম্ভাব্য বিশ্বাসঘাতকতার এই অনুভূতি সম্ভবত শিকড় গেড়েছিল যখন আবুধাবি দেখছিল, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য অত্যন্ত দ্রুতগতিতে তাদের দীর্ঘ দিনের মিত্র হোসনি মোবারকের (২০১১ সালে গণবিক্ষোভের মুখে পদচ্যুত হওয়ার সময়) দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।
মুরসির নির্বাচনের পর, রাজনৈতিক জোটের কূটনীতি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে ২০১২ সালের সেপ্টেম্বরে। ওই সময় বিপি মিসরের গ্যাস খাতে ১১ বিলিয়ন ডলার প্রদানের প্রতিশ্র“তি দেয়। এই ঘোষণা দেয়ার সংবাদ সম্মেলনে ব্রাদারহুড নেতা ও ওই সময়ের মিসরের প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারক উপস্থিত ছিলেন।
‘এমবিজেড’-এর অসহায় অনুভূতি আরেক দফা বাড়ে ওই মাসেই। বিপির ঘোষণার পরপরই ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইলিয়াম হেগ যুক্তরাষ্ট্র সফর এবং ক্যামেরনের সাথে সাক্ষাতের জন্য মুরসিকে আমন্ত্রণ জানান।
পরের মাসে ইসলাহ নেতা সাইয়িদ নাসের আল তেনিজি (তিনি আমিরাতের বাইরে প্রবাস জীবনযাপন করছিলেন) ব্রাদারহুডের বিরুদ্ধে আমিরাতি দমন অভিযান নিয়ে গার্ডিয়ানের মতামত কলামে একটি লেখা প্রকাশ করেন। ইসলাহ নেতাদের গ্রেফতার ও নির্যাতনের অভিযোগ সম্পর্কে আলোচনার করা জন্য তেনিজিকে বিবিসি আরবি বিভাগে আমন্ত্রণ জানানো হয়। একের পর এক ঘটা এসব ঘটনা যুক্তরাজ্যের বিরুদ্ধে আমিরাতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বড় ধরনের প্রচারণায় নামতে উদ্বুদ্ধ করে।
আমিরাত জুড়ে টুইটার হ্যাশট্যাগ #UK_supports_traitors ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। তাদের ভাষায় ইসলাহর প্রতি যুক্তরাজ্যের সমর্থনের নিন্দা জানানো হয় এতে। ২০১২ সালের অক্টোবরের মাঝামাঝিতে ইসলাহের বিরুদ্ধে চালিত নির্যাতনের আলোকে ব্রিটিশ-আমিরাত জোটের তীব্র সমালোচনা করে সম্পাদকীয় লেখা হয়। এতে আবুধাবিতে লন্ডনের প্রতি ক্ষোভ বরং আরেক দফা বাড়ে।
ওই সম্পাদকীয় প্রকাশের এক সপ্তাহ পর ফিন্যান্সিয়াল টাইমস আমিরাতের এক কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে জানান, তেলবাণিজ্য থেকে বিপির বহিষ্কার ‘চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়’। তবে সাথে সাথে এই হুঁশিয়ারিও উচ্চারণ করা হয়, ‘পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে দিলে’ যুক্তরাজ্যের কাছ থেকে ‘সরে যাবে’ আমিরাত।
ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, বিপির বিরুদ্ধে হুমকি সম্ভবত আমিরাতের বিরুদ্ধে মিডিয়াকে সমালোচনা করার সুযোগ দেয়ায় ব্রিটেনের প্রতি ক্রোধের বহিঃপ্রকাশ। ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দফতরের কর্মকর্তারা যদিও আবুধাবিকে বোঝানোর চেষ্টা করেন, তারা মিডিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন না, তবুও আমিরাতের ক্রোধ বাড়তেই থাকে।
খবরে প্রকাশ, ২০১২ সালের নভেম্বরেও বিপি আশা করছিল, তাদেরকে আবুধাবির কাছে আবারো উষ্ণভাবে গ্রহণযোগ্য করতে ব্রিটিশ সরকার সহায়তা করতে পারে। তখন, ৫ নভেম্বর, যুক্তরাজ্যের কাছ থেকে ৬০০ বিলিয়ন পাউন্ড মূল্যে ১০০টি সামরিক বিমান কিনতে আবুধাবিকে রাজি করানোর চেষ্টায় ক্যামেরন আমিরাত পৌঁছেন।
মিডিয়ায় এ সফরটিকে উচ্চকিত করা হয়নি। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গী হতে মাত্র দু’জন সাংবাদিককে অনুমতি দেয়া হয়। লক্ষ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম মিত্র হিসেবে আমিরাতের সাথে সম্পর্ক আবার ঝালিয়ে নেয়া।
৬ নভেম্বর ব্রিটিশ ও আমিরাত আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিরক্ষা ও শিল্প অংশীদারিত্ব ঘোষণা করে, কয়েক শ’ কোটি পাউন্ডের বিমান কেনার চুক্তিও আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত থাকার কথা বলা হয়, যদিও এই পর্যায়ে তা নিশ্চিত করা হয়নি। এটা সম্ভবত পিয়ার্সের (যারা তাকে চেনেন, তাদের মতে তিনি রাজনৈতিক খেলাটা বেশ ভালোই বোঝেন) নেতৃত্বাধীন আমিরাতের গণসংযোগ কৌশলবিদদের মুলা ও লাঠি নীতির সাথে সামঞ্জস্য রক্ষা করে করা হয়েছিল।
২০১২ সালের ২৮ নভেম্বর আবুধাবি ঘোষণা করে, তারা বিপির ১.৩ বিলিয়ন ডলার মূল্যের সম্পদ কিনছে। এতে সুস্পষ্টভাবেই মনে হয়, যুক্তরাজ্য ও আমিরাতের মধ্যকার সম্পর্কের জটিলতা দূর হয়েছে। বিপিকে তখনো আমিরাতের তেল খেলায় ফিরতে দেয়া হয়নি, তবে তাদের খুব বেশি দিন দূরেও রাখা হয়নি। ডিসেম্বরের মাঝামাঝিতে ইতঃপূর্বে যে তেলচুক্তি থেকে তাদের বঞ্চিত করা হয়েছিল, সেটাতে আমন্ত্রণ জানানো হয়।
ব্রিটিশ আপস ও পরিবর্তন
২০১৩ সালের প্রথম ছয় মাসে যুক্তরাজ্যের জটিল ও পরস্পর সাংঘর্ষিক রাজনৈতিক জোটে ভারসাম্য রক্ষা করা হয়েছিল আমিরাতি প্রেসিডেন্ট খলিফা রাষ্ট্রীয় সফরের দিয়ে এবং মিসরের ব্রাদারহুডের নেতাদের সাথে ক্যামেরনের একটি গোপন লাঞ্জ মিটিংয়ের মাধ্যমে।
ওই বছরের জুনে মিসরের সিনিয়র কর্মকর্তারা লন্ডনে ব্রিটিশ কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক করেন পরবর্তী মাসে মুরসির পরিকল্পিত সফর নিয়ে। ওই সফরটি আর হতে পারেনি, কারণ ৩ জুলাইয়ের গণসমর্থিত সামরিক অভ্যুত্থানে সেনাপ্রধান আবদেল ফাত্তাহ আল সিসি ক্ষমতা দখল করে মুরসিকে কারারুদ্ধ করেন।
মিসরে যেদিন মুরসিকে অপসারণ করার অভ্যুত্থানটি ঘটে, ওই একই দিনে আমিরাত তাদের দেশের সংক্ষিপ্ত ইতিহাসের বৃহত্তম রাজনৈতিক বিচারের রায় প্রকাশ করে। রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে ইসলাহের ৬৯ নেতাকে সাত থেকে ১৫ বছরের সাজা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়।
ব্রিটেনে ব্রাদারহুডের জন্য এটা ছিল সন্ধিক্ষণ। মিসরের ক্ষমতা থেকে অপসৃত হওয়ার পর ব্রিটিশ সরকার গ্রুপটির সাথে সম্পর্ক রাখেনি বললেই চলে।
আবুধাবির সাথে বাণিজ্য বাড়ানোর চেষ্টায় আমিরাত-যুক্তরাজ্য-ব্রাদারহুডের রাজনৈতিক ত্রিভুজে আমূল পরিবর্তন ঘটে। আবুধাবির মুলা আর লাঠিনীতির জের ধরে কয়েক বিলিয়ন পাউন্ডের বিমান চুক্তিটি হওয়ার কথা থাকলেও আর কখনো সেটা আলোর মুখ দেখেনি। চুক্তিটি বাস্তবে রূপ দিতে ক্যামেরনের আরেকবার আমিরাত সফরের জন্য তুলে রাখা হয়।
কিন্তু ক্যামেরনের চেষ্টা বিফল হয়। ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে ঘোষণা করা হয়, ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা কোম্পানি বিএই সিস্টেমস আমিরাতি চুক্তি পেতে ব্যর্থ হয়েছে। কিন্তু অন্তত প্রকাশ্যে এ নিয়ে ক্রুদ্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করার মতো অবস্থায় যুক্তরাজ্য ছিল না। কারণ চলমান ও আকর্ষণীয় সুযোগ সুবিধা দেয়ার সামর্থ্য থাকায় আমিরাত দেশটির গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদার বিবেচিত হচ্ছিল।
২০০৯ সালে দুই দেশের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ছিল প্রায় ১১ বিলিয়ন ডলারের। ২০১৩ সাল নাগাদ তা বেড়ে দাঁড়ায় ১৮ বিলিয়ন। এই বাণিজ্যের দুই-তৃতীয়াংশ হচ্ছিল যুক্তরাজ্যের পক্ষে।
২০১৪ সালের মার্চে নেদারল্যান্ডসে অনুষ্ঠিত ‘নিউক্লিয়ার সিকিউরিটি সামিটের’ ফাঁকে ‘এমবিজেড’ ও ক্যামেরন বসে ‘আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অনেক ইস্যু’ নিয়ে আলোচনা করেন। এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে, ১৭ এপ্রিল ক্যামেরন ঘোষণা করেন, ব্রাদারহুডের ব্যাপারে তদন্ত করার কথা ঘোষণা করেন। এর ৯ দিন পর এই তদন্তের অংশ হিসেবে জেনকিনস তার প্রথম আমিরাত সফরে আবু ধাবিতে সিনিয়র কর্মকর্তা খালদুন আল মুবারকের সাথে বৈঠক করেন।
যুক্তরাজ্য মিসরীয় ব্রাদারহুড থেকে দূরে সরে গেলেও ২০১৪ সালের জানুয়ারিতে নিশ্চিত করা হয়, বেশ কয়েকজন ইসলাহ নেতাকে লন্ডনে রাজনৈতিক আশ্রয় দেয়া হয়েছে। এই ঘটনা স্পষ্টভাবেই আবুধাবিকে ক্রুদ্ধ করে।
মে মাসে আমিরাত ঘোষণা করে, তারা সামরিক প্রশিক্ষক হিসেবে ব্রিটিশ কর্মকর্তাদের ব্যবহার বন্ধ করে দেবে। ফিন্যান্সিয়াল টাইমসে বলা হয়, যুক্তরাজ্য ইসলাহসহ ইসলামপন্থী গ্র“পগুলোর হুমকির বিষয়টি নীরবে মেনে নিয়েছে ধরে আমিরাত ক্রুদ্ধ হয়েছে।
অল্প সময়ের মধ্যে আবু ধাবির হতাশা আরো বেড়ে যায় এই গুজবে যে যুক্তরাজ্য ব্রাদারহুড-বিষয়ক তদন্ত গ্রুপটিকে সন্ত্রাসী হিসেবে অভিহিত করতে অস্বীকার করেছে। তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে আবুধাবি ক্ষুব্ধ হতে পারে, এই আশঙ্কায় প্রতিবেদন প্রকাশ বিলম্বিত হতে পারে বলে খবর প্রকাশিত হতে থাকে।
কয়েক মাস পর এমবিজেড লন্ডনে ক্যামেরনের সাথে বৈঠক করেন। এর তিন দিন পর ১৯ অক্টোবর টেলিগ্রাফে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাজ্যে ব্রাদারহুডের বিরুদ্ধে ব্যাপক দমন অভিযান শুরু হবে।
তবে এর পরপরই মিডিয়ায় যা প্রকাশিত হয়, সেটা ছিল টেলিগ্রাফ ভাষ্যের বিপরীত। তাতে নিশ্চিত করা হয়, সন্ত্রাসবাদের অভিযোগ থেকে ব্রাদারহুডকে মুক্তি দেয়া হচ্ছে।
তবে ব্রাদারহুডকে সন্ত্রাসী হিসেবে ঘোষণা করা যাচ্ছিল না বলে আমিরাতের সাথে সম্পর্ক ঠিক রাখতে ব্রিটিশ সরকার হিমশিম খাচ্ছিল। এটাই মিডিয়ায় বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছিল।
তেল মন্ত্র
জেনকিন্সের প্রতিবেদন প্রকাশের প্রেক্ষাপটে বিপি এখন অপেক্ষা করছে, তারা আবুধাবিতে তেল সুবিধাটি পায় কি না তা দেখার জন্য। আমিরাতি জ্বালানিমন্ত্রী সুহাইল আল মাজরুই টেলিগ্রাফকে বলেছেন, বিপি এখনো প্রতিযোগিতায় আছে, তবে এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এতে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে, আমিরাত এখনো মুলা আর লাঠিনীতির পথটিই আঁকড়ে ধরে আছে।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে বিমান চুক্তির মতো বিপিকেও জানানো হয়, আবুধাবির তেলে তাদের সুবিধা দেয়া হবে না। টেলিগ্রাফে খবর প্রকাশিত হয়, আমিরাতকে প্রভাবিত করতে যুক্তরাজ্যের ব্যর্থতার জের ধরে বিপি ৭ বিলিয়ন ডলারের চুক্তিটি পেতে ব্যর্থ হলো।
২০১৫ সাল জুড়ে জেনকিন্স রিপোর্ট নিয়ে নানা রকম গুজব শোনা যেতে থাকে। কিন্তু ব্রিটিশ-আমিরাত সম্পর্ক নষ্ট হতে পারে মনে করে তা প্রকাশ করা হয়নি। একই সময় যুক্তরাজ্য সফরকারী আমিরাতি কর্মকর্তারা প্রকাশ্যে বলতে থাকেন, তাদের দেশে ব্যবসা করে যুক্তরাজ্য দ্বিগুণ টাকা বানাতে পারে।
এই রাজনৈতিক খেলার পুরোটাই এমবিজেড এবং ব্রাদারহুডের প্রতি তার ব্যক্তিগত ঘৃণার সাথে সংশ্লিষ্ট। তার দেশের অর্থ এবং যুক্তরাজ্য এবং অন্যান্য দেশে প্রভাব বিস্তারে তার সামর্থ্যই জেনকিন্সের তদন্ত শুরুর কাজ করেছে।
ব্রাদারহুডের ‘চরমপন্থীদের সাথে অত্যন্ত দ্ব্যর্থবোধক সম্পর্ক’ রয়েছে বলে পার্লামেন্টে ক্যামেরনের দেয়া মৃদুভাষার বিবৃতিটি আবু ধাবির ক্রাউন প্রিন্সকে সন্তুষ্ট করতে পারে কি না তা এখন দেখার বিষয়।
(মিডল ইস্ট আই অবলম্বনে)
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ফুটবলে মেয়েদের শালীন পোশাক পরা by শাহ্ আব্দুল হান্নান
বেশির ভাগ মুসলিম দেশের মেয়ে ফুটবলাররা হাফপ্যান্টের পরিবর্তে ফুলপ্যান্ট পরে খেলে থাকে। অথচ এই প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে দেখা গেল বাংলাদেশের মেয়েরা হাফপ্যান্ট পরে ফুটবল খেলছে। এটি মুসলিম দর্শকদের চোখে বিব্রতকর মনে হয়েছে। বাংলাদেশের ফুটবল টিমের বেশির ভাগ মেয়েই মুসলিম। মুসলিম মেয়েদের জন্য শালীন পোশাক পরার নির্দেশনা রয়েছে। যার ব্যতিক্রম ইসলামি শরিয়াহ অনুমোদন করে না।
ইরান, আফগানিস্তান, সৌদি আরব, কাতার, পাকিস্তানসহ অনেক দেশের মেয়ে প্রতিযোগিতামূলক দেশীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে থাকে। এসব দেশের মুসলিম মেয়েরা ফুলপ্যান্ট এবং অনেক ক্ষেত্রে মাথা ঢেকে ফুটবল খেলে থাকেন। ফুটবল খেলতে গিয়ে দৌড়ানো বা বল নিয়ে পায়ের কারুকাজে তাদের কোনো সমস্যা লক্ষ করা যায় না। এসব দেশের কোনো কোনো টিম আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সাফল্যও লাভ করেছে। এর মধ্যে কোনো কোনো দেশকে মেয়েদের প্রতিযোগিতার জন্য আলাদা স্টেডিয়াম তৈরি অথবা তাদের জন্য নির্ধারিত দিন সংরক্ষণ করতেও দেখা যায়।
ফুটবলের মতো ক্রিকেটও একটি জনপ্রিয় খেলা। এই প্রতিযোগিতায় সব দেশেই ছেলেদের মতো মেয়ে ক্রিকেটাররাও ফুলপ্যান্ট পরে খেলেন। বাংলাদেশী মেয়েরাও ফুলপ্যান্ট পরে বিভিন্ন ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছেন।
ইরান, আফগানিস্তান, সৌদি আরব, কাতারের মেয়েরা ফুলপ্যান্ট এবং ওড়না দিয়ে মাথা ঢেকে ফুটবল খেলে অনেক সাফল্যও পেয়েছেন। পর্দা বা শালীন পোশাক তাদের জয়ে কোনো সমস্যা হচ্ছে না। এ ছাড়া একটি প্রতিযোগিতায় জয়ের চেয়েও মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর নির্দেশের প্রতি অনুগত থাকার গুরুত্ব কম নয়।
প্রয়োজন বোধে কর্তৃপক্ষ মেয়েদের জন্য সপ্তাহে তিন দিন স্টেডিয়াম সংরক্ষিত করার বিষয় বিবেচনা করতে পারে। এটি হয়তো এ মুহূর্তে সম্ভব মনে নাও হতে পারে। তবে চাহিদা দেখা দিলে এটি বিবেচনা করা যেতে পারে। আর সব স্টেডিয়াম না হলেও যেখানে সম্ভব সেখানে এটি বিবেচনা করা যেতে পারে। আমি বাংলাদেশের ক্রীড়া কর্তৃপক্ষকে শরিয়াহর বিধানের বিষয়টিতে সম্মান জানানোর জন্য বিশেষভাবে আহ্বান জানাচ্ছি।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
জোটে যোগ দিলেও সিরিয়া, ইরানের বিরুদ্ধে অভিযানে সমর্থন দেবে না পাকিস্তান
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সব মামলায় জামিন পেলেন অনুপ চেটিয়া
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ব্লু-ফিল্ম: তদন্তে নেমে পুলিশ দেখছে সল্টলেক হিমশৈলের চূড়া মাত্র
ঠাকুরনগর থেকে সপ্তাহভর ওই তরুণী কাজের জন্য শহরে আসেন। সল্টলেকে একটা সংস্থায় টেলি কলার হিসেবে কাজ করেন। সাতসকালে বাড়ি থেকে বেরোতে হয়। ফিরতে ফিরতে সেই রাত। আর দূরত্বটাও তো কম নয়, প্রায় ৬৫ কিলোমিটার! তাঁর স্বামীও একটি বেসরকারি সংস্থায় কাজ করেন। সাধারণ গৃহবধূর জীবন চাননি বলেই কাজটা নিয়েছিলেন সুনীতা। আসলে, ছোটবেলা থেকেই তাঁর স্বপ্ন ছিল, সিনেমার অভিনেত্রী হবেন। তাই বিজ্ঞাপনটা দেখেই মোবাইলে সেফ করে রেখেছিলেন যোগাযোগের নম্বরটা। ওই রাতেই বাড়ি ফিরে মোবাইল থেকে যোগাযোগ করেন তিনি। বেশ কয়েকটা ধাপ পেরিয়ে কাজে যোগ দেন। কিন্তু, ব্লু-ফিল্ম করার অভিযোগে গত সোমবার সল্টলেক থেকে বিধাননগর পুলিশ সুনীতা-সহ ২৮ জনকে গ্রেফতার করে।
আশ্চর্যের আরও বাকি ছিল। পুলিশের কাছে সুনীতা জানিয়েছেন, এ ব্যাপারে তাঁর কোনও অপরাধ বোধ নেই। কারণ এটা তাঁর পেশা।
আর এটাতেই চিন্তার ভাঁজ পড়েছে পুলিশ কর্তাদের কপালে। তাঁদের মতে, সল্টলেকে ‘ব্লু ফিল্ম’-এর শুটিং আসলে হিমশৈলের চূড়া মাত্র। শুধু এখানে নয়, কলকাতা-সহ রাজ্যের বিভিন্ন জেলা মিলিয়ে প্রায় ১০০টি এমন ছোট ছোট শুটিং-ইউনিট জাল বিছিয়ে রেখেছে। তাদের সেই ‘ব্লু-ফিল্ম’ বিক্রি হয় বিদেশে। কম বাজেটের এই সব ঘরোয়া পর্ন-ছবির আন্তর্জাতিক বাজারে বিশাল চাহিদা। কাজেই ফিচার এবং টেলি ফিল্মের পাশাপাশি একটা সমান্তরাল ইন্ডাস্ট্রি চলছে গোটা রাজ্যে। আর সেই শিল্পের সঙ্গে জড়িয়ে আছেন, সাদামাটা মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলেমেয়েরাও। বাদ যাচ্ছেন না সাধারণ পরিবারের গৃহবধূরাও। যেমন সুনীতা। তদন্তকারীদের একটা সূত্র জানাচ্ছে, টি-শার্ট, জিন্স পরা সুনীতার চেহারায় মফস্সলীয় কোনও ছাপ নেই। বরং তাঁকে দেখলে মনে হয়, শহরেরই কোনও প্রতিষ্ঠানের কর্মরত মহিলা।
কী ভাবে সুনীতাদের এই ইন্ডাস্ট্রিতে নিয়ে আসা হয়?
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, মূলত তিন ভাবে ‘অভিনেতা-অভিনেত্রী’দের এই ধরনের কাজে নিয়ে আসা হয়। এক, ‘ফিল্ম-সিরিয়ালে নতুন মুখ চাই’ বলে বিজ্ঞাপন। দুই, যাঁরা এক বার এই পেশায় আসেন তাঁদের পরিচিতদের মধ্যে যাঁরা আগ্রহী তাঁদের ব্যবহার করা। তিন, এলাকাভিত্তিক ভাবে ‘এজেন্ট’ নিয়োগ করে ‘টোপ ফেলে’ ছেলেমেয়েদের এই কাজে নিয়ে আসা। যেমন বিজ্ঞাপন দেখে এসেছিলেন সুনীতা।
কী ভাবে?
তদন্তকারীদের তিনি জানিয়েছেন, প্রথম বার ফোন করার কয়েক দিন পর তাঁকে ইন্টারভিউয়ের জন্য ডেকে পাঠানো হয়। ইন্টারভিউ শেষে ফোটো প্রোফাইল করানো হয় তাঁর। এরও দিন তিনেক পরে এক ভদ্রলোকের সঙ্গে দেখা হয়। নিজেকে ছবির পরিচালক বলে পরিচয় দিয়ে সেই ভদ্রলোক জানান, গোটা কয়েক শর্ট ফিল্মে অভিনয় করার পর সুনীতা ফিচার ফিল্মে সুযোগ পাবেন। আর এই সব স্বল্প দৈর্ঘের ছবির শুটিং হবে সল্টলেকে। ফিল্মে কোন ভূমিকায় অভিনয় করতে হবে তাঁকে? জবাব মেলে, ছোট ছোট গল্পের উপর ভিত্তি করে মূলত ‘বোল্ড’ প্রেমের দৃশ্য নির্ভর তৈরি হবে। মূল চরিত্রেই অভিনয় করবেন সুনীতা। ছোট ছোট সংলাপও থাকবে তাঁর মুখে। পুলিশের কাছে সুনীতা বলেন, ‘‘আমি কোনও হার্ডকোর পর্ন ছবিতে কাজ করিনি। ক্যামেরার সামনে শরীরের কোনও গোপন অঙ্গ তুলে ধরিনি।’’ তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, যে বিয়েবাড়ি ভাড়া করে ব্লু-ফিল্মের শুটিং চলছিল সেখান থেকে গোটা পঞ্চাশেক ভিডিও ক্লিপ উদ্ধার হয়েছে। তার ভেতর কী ধরনের ভিডিও আছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে, সল্টলেকের ওই ইউনিট এখনও পর্যন্ত যে ভিডিওগুলি ওয়েবসাইটে আপলোড করেছে তা মূলত সফ্ট-পর্ন বলে পুলিশের দাবি। ইন্ডাস্ট্রির কাছে যা মূলত ‘মশালা মুভি’ নামেই পরিচিত।
শুধু গৃহবধূ নন, নানা পেশার ছেলেমেয়েরাই ব্লু-ফিল্মে কাজ করতে আসছেন বলে পুলিশের দাবি। সল্টলেক-কাণ্ডে যাঁরা গ্রেফতার হয়েছেন তাঁরা সেই অর্থে পরিচিত কেউ নন। এমনকী পরিচালক বলে যে তিন জন দাবি করেছেন, তাঁদেরও টলিউড ইন্ডাস্ট্রি চেনে না। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, কেরিয়ারের শুরুর দিকে টলিউডের মাটিতে কোনও ভাবেই পা রাখতে পারেননি এঁরা। পরে দিল্লির একটা ওয়েবসাইটের তরফে এমন ছবি বানানোর প্রস্তাব আসে। এর পরই ‘ফিল্ম-সিরিয়ালে নতুন মুখ চাই’ বলে বিজ্ঞাপন দিয়ে অভিনেতা-অভিনেত্রী জোগাড়ের কাজ শুরু হয়। অভিনেত্রীদের প্রতি দিনের পারিশ্রমিক আড়াই থেকে তিন হাজার টাকা। অভিনেতাদের জন্য বরাদ্দ পারিশ্রমিক যদিও বেশ কম, এক থেকে দেড় হাজার টাকা মাত্র। পরিচালকদের দাবি, একটা ১০ মিনিটের পর্ন-ছবির জন্য সারা দিনের শুটিং যথেষ্ট। এমনকী, কোনও ভাল ক্যামেরারও প্রয়োজন নেই এই কাজে। গোটা ছবির জন্য বাজেট ৩৫ হাজার টাকা মতন। পরিচালকের জন্য বরাদ্দ ২০ হাজার টাকা। দিল্লির ওই ওয়েবসাইট কোম্পানি এই ভিডিও নিয়ে কী করে? পরিচালকদের দাবি, তারা বিদেশি বিভিন্ন পর্ন-ওয়েবসাইট কোম্পানির কাছে এই ভিডিওগুলি বিক্রি করে।
ইন্ডাস্ট্রি যখন সমান্তরাল, টাকাপয়সা লেনদেনের ব্যবস্থা যখন বিশ্বব্যাপী— তখন হিমশৈলের এই চূড়া দেখে চোখে সরষের ফুল দেখছে পুলিশ।
সুত্রঃ আনন্দবাজার পত্রিকা
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সুরুচির সবুজ নায়ক by আখতার হুসেন
সত্যি কথাই বলেছিলেন। যেখানেই যেতেন, সভা কিংবা সমিতিতে, ঘরোয়া কিংবা আড়ম্বরপূর্ণ কোনো অনুষ্ঠানে, এখলাস ভাইয়ের অমন চেহারা ও সুন্দর দেহসৌষ্ঠব সহজেই যে কারও চোখে পড়ত। সেই এখলাস ভাই শেষের দিকে নিজেকে একেবারে গুটিয়েই নিয়েছিলেন। কিছুটা শারীরিক কারণে, মূলত অকস্মাৎ চাকরি হারানোর অভিমানে। অথচ এমনটা হওয়ার কথা ছিল না। বাসায় গেলে সে কথাই বলতেন।
কিন্তু এখলাস ভাইয়ের জীবনের শেষ দিকের কথা এখন থাক। আমরা আসল মানুষটার কাছে ফিরে যাই। এখলাস ভাই মূলত পশ্চিমবঙ্গের মানুষ। এ দেশে এসেছিলেন বিংশ শতকের ছয়ের দশকের প্রায় গোড়ার দিকে। পশ্চিমবঙ্গে থাকতে বামপন্থার রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। কিন্তু বাংলাদেশে আসার পর কেমন-কেমন করে যেন তাঁর সঙ্গে একটা সুন্দর সম্পর্ক গড়ে ওঠে চট্টগ্রামের বইঘরের স্বত্বাধিকারী সৈয়দ মোহাম্মদ সফির। আমি তাঁদের পরিচয় ও সম্পর্কগত এই বন্ধনকে বরাবর অভিহিত করেছি আমাদের সাহিত্যজগতের একটা ঐতিহাসিক বন্ধন বলে।
সত্যিই তো তাই! যখন আমাদের প্রকাশনা জগতে রীতিমতো অনুর্বরতা চলছে, চলছে নিষ্ফলতার কাল, নতুন কিছু করার প্রবণতা রহিত, তখন চট্টগ্রামের বইঘর থেকে যেসব বই বের হচ্ছে বিংশ শতকের ছয়ের দশকজুড়ে, তার মূলে আর কেউ নন, এখলাস উদ্দিন আহমদ। কবি আল মাহমুদকে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে নিয়ে যাচ্ছেন গ্রন্থ-সম্পাদক হিসেবে তিনিই। আর ঢাকায় বসে পাণ্ডুলিপি সংগ্রহ করছেন এখলাস উদ্দিন আহমদ। ঘুরছেন লেখক-কবিদের দরজা থেকে দরজায়। আর প্রকাশিত বই, কি মুদ্রণ পরিপাট্যে, কি শিল্প-সৌকর্যে, যাকে বলে ‘ব্রেকথ্রো’ ব্যাপার। অবশ্য এ কথা না বললেই নয়, বইঘর থেকে প্রকাশিত যে বইটি প্রথম দেশজুড়ে সাড়া ফেলে দিয়েছিল, সেটির নাম ছড়ায় ছড়ায় ছন্দ (১৯৬৫)। দুই বাংলার ছড়াকারদের লেখায় সমৃদ্ধ সেই সংকলন। সম্পাদক এখলাস উদ্দিন আহমদ। ছড়ার সঙ্গে অলংকরণ করেছিলেন শিল্পী হাশেম খান। তুলনারহিত সেসব ছবি। আর প্রচ্ছদ করেছিলেন শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন। তারপর বের হয় টাপুর টুপুর সংকলন। আর্ট পেপারে ছাপা। বোর্ড বাঁধাই। এ উপলক্ষে বাংলা একাডেমিতে যে অনুষ্ঠান হয়, তা–ও স্মরণীয় হয়ে আছে অনেকের স্মৃতিতে। তারপর এখলাস উদ্দিন আহমদের সম্পাদনায় বের হয় আমাদের শিশুসাহিত্যের সামগ্রিক ইতিহাসে যে পত্রিকার অবদান অপরিসীম, সেই মাসিক টাপুর টুপুর। এই পত্রিকাটিকে ঘিরে জড়ো হয়েছিলেন কত যে শিশুসাহিত্যিক, সাহিত্যিক, শিল্পী—তার ইয়ত্তা নেই। কাইয়ুম চৌধুরী, হাশেম খান, রফিকুন নবীদের পরপরই আছেন আবুল বারক আলভী ও আসেম আনসারী। সৈয়দ শামসুল হক তাঁর ছোটদের জন্য প্রথম উপন্যাস ধারাবাহিকভাবে লিখছেন এই টাপুর টুপুর-এ। লিখছেন শওকত আলী। আমাদের যৌবনকালে আমরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতাম পত্রিকাটির জন্য।
এ পত্রিকা প্রকাশ করতে গিয়ে একবার এখলাস ভাইকে তখনকার পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর মোনেম খানের ধমক নাকি শুনতে হয়েছিল। কারণ আর কিছু নয়, ছড়াকার প্রণব চৌধুরীর ‘লাট সাহেবের জুতো’ শিরোনামে ছড়া প্রকাশ করার জন্য। তাতে ব্যঙ্গ করা হয়েছিল বাঙালিপুঙ্গব ওই গভর্নরকে, তবে লাট সাহেবের প্রতীকে।
আইয়ুববিরোধী আন্দোলন, বিশেষত আটষট্টি থেকে উনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান, এমনকি অসহযোগ আন্দোলনের সময়ও আমরা এখলাস ভাইকে শুধু আইয়ুবকে চটকানো ছড়া লিখতেই দেখিনি, তাঁকে সক্রিয়ভাবে রাজপথেও দেখেছি। লেখক-শিল্পীদের কাতারে শামিল। স্লোগান দিচ্ছেন।
এখলাস ভাই এত কিছু করার পাশাপাশি নিজের লেখালেখিও চালিয়ে গেছেন সমান তালে। তাঁর বইয়ের সংখ্যাও কম নয়। সম্পাদিত সংকলনের সংখ্যাও অনেক। সাহিত্য-কৃতির স্বীকৃতিস্বরূপ পেয়েছেন বাংলা একাডেমি, একুশে পদকসহ আরও অনেক দেশি-বিদেশি পুরস্কার ও সম্মাননা।
সত্যিই ভাবতে অবাক লাগে, অমন জীবন্ত, সুঠামদেহী মানুষটির হঠাৎ করে চলে যাওয়া। তাঁদের চারজনের একটা জুটি ছিল—হাশেম ভাই, নবী ভাই, এখলাস ভাই ও শাহাদত চৌধুরী। এই চারজনের জুটির মাথায় নানা প্ল্যান-প্রোগ্রাম গিজগিজ করত। হাসিখুশি থাকতেন সব সময়। সেই জুটির মধ্যমণি এখলাস ভাই নেই, নেই শাহাদত চৌধুরীও। বেঁচে আছেন কেবল হাশেম ভাই ও নবী ভাই। এই তো জীবন!
দেখতে দেখতে এখলাস ভাইয়ের চিরপ্রয়াণের এক বছর পূর্ণ হচ্ছে আজ ২৪ ডিসেম্বর। ২০১৪ সালের এই দিনেই তো তিনি আমাদের কাঁদিয়ে চলে গিয়েছিলেন।
আখতার হুসেন: শিশুসাহিত্যিক।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ইয়েমেনে বিমান হামলা: যুক্তরাষ্ট্র-সৌদি আরব ‘মতভেদ’
ইয়েমেনে হামলার প্রসঙ্গ নিয়ে সবশেষ কিছু ঘটনাপ্রবাহের ভিত্তিতে পর্যবেক্ষকেরা ওই মত দেন।
ইয়েমেনে হামলার বিষয়টি নিয়ে গত মঙ্গলবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে একটি অধিবেশন হয়। অধিবেশনটি যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধে আহ্বান করা হয়েছিল। সেখানে সমালোচনার মুখে পড়ে সৌদি আরব।
সপ্তাহকাল আগে ঢাকঢোল পিটিয়ে সৌদি আরব ৩৪ জাতির সন্ত্রাসবিরোধী জোট গঠনের কথা ঘোষণা করে। সন্ত্রাস দমনে সৌদি আরব যথেষ্ট করছে না—এই সমালোচনার জবাব দিতে তারা এমন পদক্ষেপ নিয়েছে বলে অনেকের ধারণা। তবে এবার দেশটি এক ভিন্ন বিষয়ে সমালোচনার মুখে পড়ল।
জাতিসংঘ ছাড়াও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার অভিযোগ, চলমান গৃহযুদ্ধের কারণে ইয়েমেনে ভয়াবহ মানবিক দুর্যোগ সৃষ্টি হয়েছে। দেশটিতে সৌদি আরবের যুদ্ধবিমানের বেপরোয়া বোমা বর্ষণের ফলে সেখানে লাখো মানুষ দুর্ভিক্ষের মুখে।
জাতিসংঘের হিসাব অনুসারে, নথিবদ্ধ করা গেছে—এমন নিহত ইয়েমেনির সংখ্যা দুই হাজার ৭০০ ছাড়িয়েছে। অনেক স্কুল ও হাসপাতাল হয় সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে, নয়তো ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।
গত মঙ্গলবার নিরাপত্তা পরিষদের অধিবেশনে জাতিসংঘের মানবাধিকার-বিষয়ক হাইকমিশনার ইয়েমেনে এই মানবিক বিপর্যয়ের জন্য সরাসরি সৌদি আরবের দিকে আঙুল তোলেন।
জাতিসংঘের মানবাধিকার-বিষয়ক হাইকমিশনার বলেন, বেসামরিক নাগরিকের ওপর বিদ্রোহীরাও হামলা চালাচ্ছে। তবে অধিকাংশ হামলার জন্য দায়ী সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোট।
একই বৈঠকে জাতিসংঘের ত্রাণবিষয়ক দপ্তরের সহকারী প্রধান কিউং-ওয়াকাং জানান, অব্যাহত বিমান হামলার কারণে ইয়েমেনে কমপক্ষে ২০ লাখ শিশু অপুষ্টিতে ভুগছে। সেখানকার স্বাস্থ্যব্যবস্থাও প্রায় ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে।
বৈঠক শেষে নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্য এক যৌথ বিবৃতিতে ইয়েমেনে সংঘর্ষ থামাতে অবিলম্বে শান্তি আলোচনা শুরু করার জন্য সব পক্ষের কাছে আবেদন জানান। কোনো পূর্বশর্ত ছাড়াই আলোচনা শুরুর আবেদন জানিয়ে ওই বিবৃতিতে বলা হয়, শুধু আলাপ-আলোচনার মাধ্যমেই এই সমস্যার সমাধান সম্ভব।
ইয়েমেনে হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সৌদি আরব জোটের পরিচালিত বিমান হামলায় যুক্তরাষ্ট্র গোড়া থেকেই সমর্থন দিয়ে আসছে। সৌদি আরবের যুদ্ধবিমানগুলোকে জ্বালানি সরবরাহ ছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে এই অভিযানে সাহায্য করছে যুক্তরাষ্ট্র।
ইয়েমেনের যুদ্ধে বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় বিভিন্ন মহল থেকে সমালোচিত হচ্ছে সৌদি আরব। দেশটিতে সৌদি জোটের হামলার পেছনে মার্কিন সমর্থন থাকায় যুক্তরাষ্ট্রের দিকেও সমালোচনার তর্জনী তাক করা আছে।
বৈঠকে জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত সামান্থা পাওয়ার স্বীকার করেন, সৌদি জোটের বিমান হামলার ফলে বেসামরিক জানমালের ক্ষয়ক্ষতি উদ্বেগের কারণ সৃষ্টি করেছে। বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতি যাতে না ঘটে, সে ব্যাপারে সতর্কতা গ্রহণের জন্য সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন রাখেন তিনি।
এর আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় সামান্থা পাওয়ার বলেন, ইয়েমেনে যাতে সব আন্তর্জাতিক মানবিক আইন মেনে চলা হয়, রিয়াদের কাছে নানাভাবে সে কথার গুরুত্ব প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
যুক্তরাষ্ট্রের আমন্ত্রণেই নিরাপত্তা পরিষদে বক্তব্য দেন জাতিসংঘের মানবাধিকার-বিষয়ক হাইকমিশনার।
কোনো কোনো পর্যবেক্ষকের মতে, ইয়েমেন নিয়ে সবশেষ এই ঘটনাপ্রবাহ থেকে অনুমান হয়, ওয়াশিংটন ও রিয়াদের মধ্যে চলতি আঁতাতে সম্ভবত চিড় ধরেছে।
পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রসহ ছয় বিশ্বশক্তির সমঝোতার ব্যাপারে ওবামা প্রশাসনের আগ্রহ সৌদি আরবের মোটেই মনঃপূত হয়নি। এ ব্যাপারে নিজেদের অসন্তোষ প্রকাশ করতে নতুন সৌদি বাদশাহ সালমান চলতি বছরের মে মাসে ক্যাম্প ডেভিডে ওবামার ডাকা আরব দেশগুলোর শীর্ষ বৈঠকে যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানান।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক চিন্তন প্রতিষ্ঠান কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসের জ্যেষ্ঠ ফেলো স্টুয়ার্ট প্যাট্রিক নিউইয়র্ক টাইমসের কাছে মন্তব্য করেছেন, সৌদি আরব ইয়েমেনে যেসব অস্ত্র ব্যবহার করছে, তার অধিকাংশই যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি। সেখানে মানবিক পরিস্থিতির অবনমন ঘটলে তা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অবশ্যই বিব্রতকর হবে।
ইয়েমেনে সৌদি বোমা বর্ষণে উদ্বিগ্ন হলেও সে দেশে অবশ্য মার্কিন অস্ত্র বিক্রি বন্ধের কোনো লক্ষণ নেই।
সৌদি বাদশাহকে খুশি করতেই ওয়াশিংটন গত সেপ্টেম্বরে এক বিলিয়ন ডলারের এক নতুন অস্ত্র সরবরাহ চুক্তি স্বাক্ষর করে। ওই চুক্তির অংশ হিসেবে প্রথমবারের মতো সর্বাধুনিক মার্কিন যুদ্ধবিমান এফ-৩৫ সৌদি আরবের কাছে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আচরণবিধি লঙ্ঘন চলছেই: কুষ্টিয়ায় থানার সামনে নারীদের ওপর হামলা
নরসিংদীতে আওয়ামী লীগ ও দলের বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে তিনজন আহত হয়েছে। এ ছাড়া অন্তত ১১টি পৌরসভায় আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনেছেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী এবং বিএনপির প্রার্থীরা।
কুষ্টিয়ার খোকসা পৌরসভায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আলাউদ্দীন ও আল মাছুম মোর্শেদ এবং কাউন্সিলর প্রার্থী নাফিজ আহম্মেদের স্বজনদের চাঁদাবাজি মামলায় আসামি করার প্রতিবাদে গতকাল বুধবার কয়েক শ নারী থানা ঘেরাও করেন। এ সময় আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী তারিকুল ইসলামের ৫০-৬০ জন সমর্থক লাঠিসোঁটা নিয়ে নারীদের ওপর হামলা চালায়। এতে অন্তত ৩০ জন আহত হন। তবে প্রার্থী তারিকুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী, কাউন্সিলর প্রার্থী এবং তাঁদের স্বজনদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও মারধরের অভিযোগে দুটি পৃথক মামলা হওয়ায় তাঁদের নির্বাচনী প্রচার কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে।
এর আগে গত মঙ্গলবার রাতে খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলা কৃষক দলের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি নজরুল ইসলাম বিএনপির নির্বাচনী প্রচারণা শেষে বাড়ি ফেরার পথে খুন হন। একই রাতে দিনাজপুরের বিরামপুর পৌরসভায় বিএনপির প্রার্থী ও বর্তমান মেয়র আজাদুল ইসলামকে কুপিয়ে জখম করে দুর্বৃত্তরা।
শাহজাদপুর: সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর পৌরসভায় আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী হালিমুল হকের বিরুদ্ধে প্রচারের মাইক ভাঙচুর, পোস্টার ছেঁড়া, নির্বাচনী কার্যালয় ভাঙচুর, কর্মী-সমর্থকদের মারপিট ও অস্ত্র দেখিয়ে হুমকির অভিযোগ করেছেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী মেয়র প্রার্থী মো. আবদুর রহিম।
যশোর: যশোরের কেশবপুর পৌরসভায় বিএনপি প্রার্থী ও বর্তমান মেয়র আবদুস সামাদ অভিযোগ করেছেন, তাঁর বিরুদ্ধে অরুচিকর প্রচারণা চালানো এবং কর্মীদের ভয় দেখানো হচ্ছে। আওয়ামী লীগের প্রার্থী রফিকুল ইসলাম পাল্টা অভিযোগ করেছেন, মেয়রের ভাগনে বুলবুল আহম্মেদ তাঁর কর্মীদের হুমকি দিচ্ছে। নওয়াপাড়া পৌরসভায় স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী ফারুক হোসেন অভিযোগ করেছেন, আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী সুশান্ত দাসের কর্মীরা তাঁর কর্মীদের মারপিট করেছে এবং নির্বাচনী কার্যালয় স্থাপন করতে দিচ্ছে না।
মৌলভীবাজার: মৌলভীবাজার পৌরসভায় আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী ফজলুর রহমানের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট সংখ্যার বেশি নির্বাচনী কার্যালয় করার এবং কর্মীদের ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ এনেছেন বিএনপির মেয়র প্রার্থী অলিউর রহমান। এ নিয়ে অলিউর রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পৃথক দুটি লিখিত অভিযোগ করেছেন।
শিবগঞ্জ: চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ পৌরসভায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী কারিবুল হক অভিযোগ করেছেন, আওয়ামী লীগের প্রার্থী ময়েন খান ও তাঁর লোকজন তাঁকে হুমকি এবং তাঁর কর্মীদের মিথ্যা মামলায় জড়ানোর হুমকি দিচ্ছেন।
নাটোর: নাটোরে বিএনপির মেয়র প্রার্থী শেখ এমদাদুল হক আল মামুন অভিযোগ করেছেন, স্থানীয় সাংসদ মো. শফিকুল ইসলামের ছোট ভাই সাগর ইসলাম তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছেন। তবে সাংসদ বলেছেন, এই অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।
কলাপাড়া: পটুয়াখালীর বাউফল পৌরসভার মেয়র জিয়াউল হক গাড়িবহর নিয়ে কলাপাড়া পৌরসভায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী বিপুল চন্দ্র হাওলাদারের পক্ষে গণসংযোগ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
লাকসাম: কুমিল্লার লাকসাম পৌরসভায় বিএনপির মেয়র প্রার্থী শাহনাজ আক্তারের পক্ষে গতকাল পুলিশি পাহারায় প্রচারণা চালিয়েছেন বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির প্রচার সম্পাদক জয়নুল আবদীন ফারুক।
বরগুনা: বরগুনা সদরে ২১ ডিসেম্বর জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত বিজয় শোভাযাত্রা ও সমাবেশে সাংসদ ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুর উপস্থিতিতে ভোট চাওয়ার অভিযোগে আওয়ামী লীগের প্রার্থী কামরুল আহসানকে কারণ দর্শানো নোটিশ দিয়েছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। বরগুনার বেতাগীতে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে পাঁচ মেয়র ও সাত কাউন্সিলর প্রার্থীকে কারণ দর্শানো নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
পঞ্চগড়: গত মঙ্গলবার রাত আটটার পর শব্দবর্ধনকারী যন্ত্রাংশ ব্যবহার করে জনসভা করায় পঞ্চগড় পৌরসভার আওয়ামী লীগের প্রার্থী জাকিয়া খাতুনকে কারণ দর্শানো নোটিশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1406)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
-
▼
2015
(11541)
-
▼
December
(688)
-
▼
Dec 24
(23)
- সবার অসুবিধা হচ্ছে মানে ইসি নিউট্রাল : রকিব উদ্দিন
- মিরপুরে 'জঙ্গি আস্তানায়' অভিযান : সাতজন আটক : বিস্...
- পৌর নির্বাচন থেকে বিএনপি সরে দাঁড়াবে না : মির্জা ফ...
- ধানের শীষের বিজয় ঠেকাতে নীলনক্সা তৈরি করছে সরকার :...
- বাম ও ইসলামপন্থীরা এক কাতারে দাঁড়াবে! by মাসুদ মজু...
- কথার পিঠে কথা, রাজনৈতিক by সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম ব...
- আবের ‘আবেনোমিকস’র কি হাল?
- বাংলাদেশ চায় রাষ্ট্রনায়ক by এমাজউদ্দীন আহমদ
- প্যারিস চুক্তির ধোঁয়াশা ও বাংলাদেশের আশা
- আইন সংস্কারের সুপারিশ বিবেচনায় নিন
- ব্যবসার জন্য নীতিনৈতিকতা বিসর্জন দেয়ার এক গোপন কাহ...
- ফুটবলে মেয়েদের শালীন পোশাক পরা by শাহ্ আব্দুল হান্নান
- জোটে যোগ দিলেও সিরিয়া, ইরানের বিরুদ্ধে অভিযানে সমর...
- সব মামলায় জামিন পেলেন অনুপ চেটিয়া
- ব্লু-ফিল্ম: তদন্তে নেমে পুলিশ দেখছে সল্টলেক হিমশৈল...
- সুরুচির সবুজ নায়ক by আখতার হুসেন
- ইয়েমেনে বিমান হামলা: যুক্তরাষ্ট্র-সৌদি আরব ‘মতভেদ’
- আচরণবিধি লঙ্ঘন চলছেই: কুষ্টিয়ায় থানার সামনে নারীদে...
- অ্যান্টিবায়োটিক ‘নেশা’ ঘরে-ঘরে by ফরিদ উদ্দিন আহমেদ
- এবার পতনের মুখে হেলমান্দ? আফগান সেনাদের সহায়তায় ব্...
- নারী সেক্রেটারি ও তার বস
- শিশুদের জন্য ‘না’ বলুন by শরীফ বিল্লাহ
- যুক্তরাষ্ট্রে যেতে দেয়া হচ্ছে না ব্রিটিশ মুসলিমদের?
-
▼
Dec 24
(23)
-
▼
December
(688)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...













