Sunday, April 4, 2010

কূটকৌশলের বিরুদ্ধে সজাগ থাকতে হবে by সৈয়দ বদরুল আহ্সান

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের মহাসচিব সরকারকে পরামর্শ দিয়েছেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিষয়টি নিয়ে যেন বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনা করা হয়। এখানে খুব একটা আলাপ-আলোচনা করার কিছু আছে বলে আমরা মনে করি না এবং সেটা এই কারণে যে ১৯৭১ সালে যারা গণহত্যায় অংশ নিয়েছিল, তাদের বিচার আন্তর্জাতিকভাবে গৃহীত আইন অনুযায়ী হবে। তত্কালীন পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সঙ্গে এ দেশীয় রাজাকার এবং আলবদরদের ব্যাপারে যেসব তথ্য-প্রমাণ রয়েছে, সেগুলোই এই বিচারের জন্য যথেষ্ট। ট্রাইব্যুনাল গঠিত হয়েছে এবং এখন আমাদের যে বিষয়টির ওপর লক্ষ রাখা দরকার তা হলো, বিচার যেন সুষ্ঠু ও নিখুঁতভাবে সম্পন্ন হয়। সতর্ক থাকতে হবে যেন নিরপরাধ ব্যক্তিকে অপরাধী না করা হয়। আরও সতর্ক থাকা প্রয়োজন ওই সব ব্যক্তির ব্যাপারে, যারা আমাদের চোখের সামনে অপরাধ করেছে অথচ এখন আত্মপক্ষ সমর্থনের এমন কৌশল অবলম্বন করতে চাইবে, যাতে করে বিচারপ্রক্রিয়াটা বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
এসব কথা এ জন্য বলা প্রয়োজন কেননা ইদানীং কয়েকজন যুদ্ধাপরাধীকে বলতে শোনা গেছে, তারা মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন পাকিস্তানের পক্ষে এ জন্য কাজ করেছে, যেহেতু তখন এই বাংলাদেশকে পূর্ব পাকিস্তান তথা পাকিস্তানের অংশ হিসেবে দেখা হতো। তাদের এই কু-যুক্তিটি খুব দ্রুত খণ্ডন করতে হবে এবং সেটা অত্যন্ত সহজভাবেই করা যায়। আর তা হলো, তাদের স্মরণ করিয়ে দেওয়া যে ২৬ মার্চ ১৯৭১-এর পর এই অঞ্চলে আইনগতভাবে পূর্ব পাকিস্তান নামের কোনো দেশ ছিল না। ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষণা এবং পরে মেজর জিয়াউর রহমানের সেই ঘোষণা জাতির জনকের পক্ষে আবার ব্যক্ত করা, এ সবই প্রমাণ করে যে নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশকে পাকিস্তান থেকে মুক্ত করার সংগ্রামে আমরা বাঙালিরা ব্যস্ত ছিলাম। এরই সঙ্গে আরেকটি কথা বলা প্রয়োজন সেটা হলো, এপ্রিল ১৯৭১-এ মুজিবনগর সরকার নতুন করে বাংলাদেশের স্বাধীনতার কথা ব্যক্ত করে। মোট কথা, ২৬ মার্চের পর পাকিস্তান হয়ে দাঁড়ায় একটি বিদেশি শক্তিরূপে, যে শক্তিকে এই দেশ থেকে বিতাড়িত করার দায়িত্ব বাঙালি জাতির ওপর বর্তায়। অতএব, ২৬ মার্চের পর যেসব বাঙালি প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে পাকিস্তানকে সমর্থন করেছে, তারা নিজ দেশের বিরুদ্ধেই কাজ করেছে। এবং এই আইনগত দিক থেকে ১৯৭১-এর পাকিস্তানি দোসরদের বিচার করতে হবে। মুক্তিযুদ্ধ যে কোনোক্রমেই গৃহযুদ্ধ ছিল না বরং দুটি পৃথক রাষ্ট্র যথা বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধ ছিল, সে বিষয়টিই দৃঢ়ভাবে তুলে ধরা অত্যন্ত দরকার।
এখন আসা যাক জামায়াতে ইসলামীর বিষয়টিতে। এই দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা যাদের মধ্যে যুদ্ধাপরাধীও আছে, আমাদের বোঝানোর চেষ্টা করছে যে তারা ১৯৭১-এ ভারতীয় ও হিন্দু সম্প্রসারণবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে। অত্যন্ত সুচতুরভাবে তারা বলার চেষ্টা করছে যে তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে ছিল না বরং এই দেশটি যাতে ভারত এবং হিন্দুদের দখলে চলে না যায়, সেই দৃষ্টিকোণ থেকে তারা কাজ করেছে। ইংরেজি ভাষায় একটি কথা রয়েছে, যা কিনা অসত্-যুক্তি হিসেবে দাঁড় করানো যায়। কথাটি হলো sophistry। এবং এই sophistry-ই আজকাল যুদ্ধাপরাধীরা ব্যবহার করে যাচ্ছে। কিন্তু তারা তো কখনোই বলতে পারছে না, কেন ওই ভারতীয় ও হিন্দু সম্প্রসারণকে ঠেকাতে গিয়ে তারা পাকিস্তান বাহিনীর হাতে ৩০ লাখ বাঙালিকে হত্যার কাজে সাহায্য করেছে। সাধারণ মানুষ পাকিস্তানি বাহিনী ও রাজাকারদের হাতে খুন হয়েছে। দেশের বরেণ্য ব্যক্তিদের অপহরণ করেছে এই রাজাকারের দল এবং পরে দেশের এই কৃতী সন্তানদের নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করা হয়েছে। এই সবকিছুরই প্রমাণ রয়েছে এবং সেই সময়কার দৈনিক পত্রিকা, বিদেশি সাপ্তাহিকী ও পত্রিকা দেখলেই সব সত্য বেরিয়ে আসবে। আমরা আশা করব যে সরকার পূর্ণ তথ্যাদি হাতে নিয়েই যুদ্ধাপরাধীদের বিচারপ্রক্রিয়ার সূচনা করবে।
এই বিচারকাজের অপর একটি মুখ্য বিষয় হলো ওই সব পাকিস্তানি সেনা কর্মকর্তাকে কেন্দ্র করে যারা অত্যন্ত সক্রিয় একটি ভূমিকা পালন করেছে বাঙালি নিধনকাজে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সরকার পুরো বিষয়টি যাচাই করে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয় যে মোট ১৯৫ জন পাকিস্তানি সামরিক কর্মকর্তাকে যুদ্ধাপরাধী হিসেবে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হবে। আমাদের দুঃখ এই যে অবশেষে বঙ্গবন্ধু বাধ্য হয়েছিলেন এই ১৯৫ জন কর্মকর্তাকে মুক্ত করে দিতে। কিন্তু আপনাদের নিশ্চয় স্মরণে আছে, এসব কর্মকর্তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়নি। এবং হয়নি বলেই এখন এদের বিচারের বিষয়টি নিয়েও চিন্তা-ভাবনা করতে হবে। এবং সেটা এই কারণে, যেসব বাঙালি রাজাকারকে আমরা যুদ্ধাপরাধী হিসেবে বিচার করতে চলেছি, তারা এমনও প্রশ্ন করতে পারে, যখন গণহত্যার মূল হোতাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, তখন তাদের স্থানীয় দোসরদের কোন যুক্তিতে বিচারে তোলা হবে? তারপর আরেকটি বিষয় রয়েছে, যুদ্ধাপরাধীর বিচারের আওতায় অনেকে আসবে এবং অনেকে আসবে না, সেটা হয় না। আর এ কারণেই বাংলাদেশ সরকারের উচিত হবে পাকিস্তান সরকারের কাছে অনুরোধ করা, যেন ওই ১৯৫ জন সামরিক কর্মকর্তাকে বাংলাদেশের কাছে তুলে দেওয়া হয়। অবশ্য পাকিস্তান যে অনুরোধটি মেনে নেবে, তেমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। এই ক্ষেত্রে আমাদের যেটি করণীয় হবে তা হলো, এই ১৯৫ জন কর্মকর্তার বিচার তাদের অনুপস্থিতিতে আরম্ভ এবং সম্পন্ন করা। প্রতীকী হলেও তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করা খুবই প্রয়োজন। এরা দোষী সাব্যস্ত হলে সমগ্র পৃথিবীর সামনে আনুষ্ঠানিকভাবে কলঙ্কিত নাম হয়ে থাকবে। খোদ পাকিস্তানের জনগণ জানতে পারবে তাদের এই বীর সৈনিকেরা কী ধরনের জঘন্য কাজ বাংলাদেশে করেছিল সেই ১৯৭১ সালে।
যুদ্ধাপরাধী কেবল ওই সব ব্যক্তি নয়, যারা সরাসরি গণহত্যায় অংশ নিয়েছে। যুদ্ধাপরাধী ওই সব মানুষও, যারা বিভিন্ন অবস্থানে থেকে ইয়াহিয়া খান, টিক্কা খান ও নিয়াজিকে সমর্থন করে গেছে। এদের মধ্যে রয়েছে বাঙালি রাজনীতিবিদ, কূটনীতিক, শিক্ষক, সাংবাদিক এবং আরও অনেকেই। এদের মধ্যে অনেকেই আবার বিদেশে গিয়ে পাকিস্তানের পক্ষে মিথ্যা তথ্য তুলে ধরেছে। এদের মধ্যে অনেকেই জীবিত আছে, আবার অনেকেই মৃত। কিন্তু মৃত হোক কিংবা জীবিত, এদের বিষয়টি যুদ্ধাপরাধীদের বিষয়ের গুরুত্বপূর্ণ একটি বাস্তবতা। যারা জীবিত নেই, তাদের ক্ষেত্রে মরণোত্তর বিচারের ব্যবস্থা করা খুবই প্রয়োজনীয়। একইভাবে যদি ইয়াহিয়া, টিক্কা, নিয়াজিকে মরণোত্তর বিচারের সম্মুখীন করা যেতে পারে; তেমনিভাবে আমাদের পাকিস্তান-পছন্দ বাঙালিদেরও বিচারে আনা আমাদের একটি বড় ধরনের নৈতিক দায়িত্ব।
যারা যুদ্ধাপরাধ করেছে, তাদের আমরা এই জন্য কাঠগড়ায় দাঁড় করাব, যেহেতু তারা মানুষ হত্যা করেছে কতগুলো জঘন্য অজুহাতে। এদের বিচার করা হবে ন্যায় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে, কোনো ধরনের প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য নয়।
আর একটি কথা। বর্তমানে বাংলাদেশের সিভিল প্রশাসন ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে এমন কর্তাব্যক্তি রয়েছে, যারা ১৯৭১-এ তাদের যৌবনে আলবদর ও আলশামস বাহিনীর হয়ে বাঙালি হত্যা করেছে। শোনা যায়, যারা অধ্যাপক গিয়াসউদ্দিনের মতো বাঙালিকে হত্যা করেছে, তারা বহাল তবিয়তে আছে। এদেরও খুঁজে বের করতে হবে।
শেষ একটি কথা। এক ব্যক্তি, যার বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ রয়েছে, ইতিমধ্যেই সে দেশত্যাগ করেছে। কীভাবে এ ঘটনা ঘটেছে, সে বিষয়ে কেউ কিছু বলতে পারছে না। এখানে আমাদের একটিই প্রশ্ন: আজ যারা দেশ শাসন করছেন, তাঁরা কি আমাদের আশ্বাস দিতে পারবেন যে আর কোনো যুদ্ধাপরাধী দেশ থেকে পালিয়ে যেতে পারবে না?
শেষ, একেবারে শেষ আর একটি কথা। যুদ্ধাপরাধী শুধু জামায়াত কেন, অন্য যে দলেই থাকুক না কেন, তাদেরও চিহ্নিত করতে হবে এবং বিচারের সম্মুখীন করতে হবে। কাউকে যদি ছাড় দেওয়া হয়, তাহলে বিচারের পক্ষে সব যুক্তি ধসে পড়বে।
সৈয়দ বদরুল আহ্সান: সাংবাদিক।

সুন্দরবনের মধুর রক্তাক্ত আখ্যান by পাভেল পার্থ

সুন্দরবনের মধু বাংলাদেশের এক অনন্য ভৌগোলিক নির্দেশনা। প্রতিবছর সুন্দরবন থেকে প্রায় ১৬ হাজার মণ মধু ও মোম আহরিত হয়, যার বাজারমূল্য প্রায় ১২-১৩ কোটি টাকা। দেশ ও দেশের বাইরে সুন্দরবনের মধুর বিপুল চাহিদা ও জনপ্রিয়তা থাকলেও এখন পর্যন্ত সুন্দরবনের মধু নিয়ে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে কোনো সমন্বিত পরিকল্পনা ও উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। গড়ে ওঠেনি সুন্দরবনের মধু ও মোমের প্রতিবেশবান্ধব ন্যায্য সুরক্ষিত বাজার।
বনজীবী মৌয়ালরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাঘ-কুমির-সাপ-কামঠ ও বনদস্যুদের আঘাত সয়ে সুন্দরবনের মধু সংগ্রহ ও সরকারের কোষাগারে বিপুল রাজস্ব জমা করলেও তাঁরা এখনো প্রভাবশালী মহাজন ও ঋণ কারবারিদের কাছে জিম্মি। মৌয়ালরা মধু সংগ্রহ মৌসুমের আগে মহাজন ও ঋণ কারবারিদের কাছ থেকে সংসারের খরচ, নৌকা বানানো, বন বিভাগের বোট লাইসেন্স সার্টিফিকেট (বিএলসি) খরচসহ আনুষঙ্গিক প্রস্তুতির জন্য নানান শর্তে ঋণ নেন। মধু সংগ্রহের পর ভান্ডারসহ আহরিত সব মধু ও মোম তাঁদের তুলে দিতে হয় মহাজনের ঘরে।
১৯৯৭ সালের ৬ ডিসেম্বর জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা ইউনেসকো সুন্দরবনকে বিশ্ব ঐতিহ্য এবং ১৯৯২ সালের ২১ মে বাংলাদেশ সুন্দরবনকে দেশের প্রথম রামসার এলাকা হিসেবে ঘোষণা করে। কিন্তু নির্মম সত্য হলো, এখানের গাছপালা থেকে শুরু করে জীবজন্তু কি মৌমাছি বা বনজীবী ও বন বিভাগ—কারও জীবনেরই কোনো নিরাপত্তা নিশ্চিত নয়। এক প্রশ্নহীন রক্তপ্রবাহের ওপর দাঁড়িয়ে আছে অরক্ষিত দুনিয়ার এই সবচেয়ে বড় জোয়ারভাটার অরণ্য।
সুন্দরবনের একেক ফুলের মধুর রং ও স্বাদ একেক রকম। সুন্দরবনের নানান মধুর ভেতর আগুনে মৌমাছিদের (Apis dorsata) চাকের খলসি ফুলের মধু সেরা। প্রায় ফুল থেকে আহরিত মধু সাদা রঙের। তবে গেওয়ার মধু কিছুটা সোনালি আভার। গরানের লাল রঙের মধুর স্বাদ ঝাঁজালো মিষ্টি। কেওড়ার মধু হালকা টক, গেওয়ার মধু একটু কষা তিতা স্বাদের।
মধু সংগ্রহের মৌসুমে এক একটি মৌয়াল দলের নৌকার জন্য বন বিভাগ একটি বিএলসি পাস দেয়। বনজীবী নারী-পুরুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এখনো পর্যন্ত নিজেদের আহরিত মধু তাঁরা নিজেদের নির্ধারণ করা দামে বিক্রি করতে পারেন না। এ ছাড়া একশ্রেণীর মধু ভেজালকারী চিনি মিশিয়ে সুন্দরবনের মধু নাম দিয়ে মধু বিক্রি করছে। সুন্দরবনের মধুর ওপর ঐতিহাসিকভাবে বনজীবী মৌয়ালদের প্রথাগত অধিকার থাকলেও বিভিন্ন করপোরেট কোম্পানি বোতলজাত করে বনজীবীদের কোনো ধরনের সম্মতি ছাড়াই প্রশ্নহীনভাবে সুন্দরবনের মধু বিক্রি করছে। বনে মধুর চাক খোঁজার সময় বনজীবীদের দৃষ্টি ওপরের দিকে থাকে বলে মৌয়ালরা খাদ্যহীন বাঘের হামলার শিকার হন সবচেয়ে বেশি। ২০০৯ সালের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত মধু সংগ্রহের মৌসুমে পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জেই ১১ জন বনজীবী বাঘের হামলায় নিহত হন। তাঁদের ভেতর পাঁচজন বিএলসি পাস নিয়ে মধু আহরণে গিয়েছিলেন। বেসরকারি পর্যায়ে জীবনবিমার একটি ব্যবস্থা থাকলেও তা পর্যাপ্ত ও সুস্পষ্ট নয়।
সুন্দরবনের মধুর রয়েছে এক বিশাল আন্তর্জাতিক বাজার। বন বিভাগ প্রতিবছর মধু মৌসুমে মধু ও মোম আহরণের একটি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করলেও তা কখনোই পূরণ করা সম্ভব হয়ে ওঠে না। কারণ, কোনো সুনির্দিষ্ট প্রতিবেশগত সূচকের ভিত্তিতে এই লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত হয় না। ২০০৮-০৯ এবং ২০০৭-০৮ অর্থবছরে সাতক্ষীরা রেঞ্জে মধুর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত হয়েছিল চার হাজার মণ এবং মোম এক হাজার মণ। কিন্তু ২০০৮-০৯ অর্থবছরে সাতক্ষীরা রেঞ্জে মোট দুই হাজার ১৯০ মণ মধু ও ৫৪৭ মণ ২০ কেজি মোম আহরিত হয়। ২০০৭-০৮ অর্থবছরে সাতক্ষীরা রেঞ্জে মোট দুই হাজার ৬৭৫ মণ মধু ও ৬৬৮ মণ ৩০ কেজি মোম আহরিত হয়। কেন রাষ্ট্রের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয় না বা আদতেই এই লক্ষ্যমাত্রার কোনো যৌক্তিক ভিত্তি আছে কি না, তা এখনো পর্যন্ত খতিয়ে দেখা হয়নি। অথচ সুন্দরবনের মধুর দিকে তাকিয়ে আছে মধুবিলাসী এক বিশাল পৃথিবী।
সুন্দরবনের সুবিশাল বনদস্যু দলের চাঁদাবাজি থেকে বাদ যায় না দরিদ্র জেলে থেকে শুরু করে মধু আহরণকারী কেউ। বনজীবীদের দীর্ঘদিনের দাবি, সুন্দরবনে পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা। সাতক্ষীরা রেঞ্জের বনজীবীরা দোবেকীর মুখে একটি নিরাপত্তা টহল ফাঁড়ির দাবি করেছেন, যা ফিরিঙ্গিখাল থেকে কলাগাছিয়ার ভেতর পর্যন্ত ২৫ কিলোমিটার এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবে বলে স্থানীয় জনগণের ধারণা। পাশাপাশি খাসিটানা খাল থেকে চুনকুড়ি খাল পর্যন্ত এই ২৫ কিলোমিটার এলাকার জন্য খাসিটানা খালের গোড়ায় এবং কাচিকাটা-ফুলখালী খালের মুখ থেকে আঠারবেকীর মুখ পর্যন্ত ৪০ কিলোমিটার এলাকার জন্য কাঁচিকাটা-ফুলখালী খালের মুখে আরও দুটি নিরাপত্তা টহল ফাঁড়ির দাবি তুলেছেন বনজীবীরা।
কোনো ধরনের সম্মানজনক বেতন, স্বীকৃতি, ঝুঁকি ও উৎসব ভাতা এবং নিরাপত্তাব্যবস্থা ছাড়াই বন বিভাগের স্থানীয় কার্যালয়সমূহ নিজেদের জীবন দিয়ে সুন্দরবনের শিরদাঁড়া সমুন্নত রাখছেন।
মধু থেকে সরকার প্রতিবছর যে পরিমাণে রাজস্ব পায়, তা দিয়েই বনজীবীদের জীবন ও মধুবিমা এবং বন বিভাগের স্থানীয় কার্যালয়ের জন্য মধুভাতা চালু করতে পারে।
সুন্দরবনের মধুর ভবিষ্যৎ এবং বিকাশমানতা রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্পূর্ণ উপেক্ষিত, অরক্ষিত ও রক্তাক্ত। দিন দিন আবহাওয়া ও জলবায়ু পঞ্জিকা বদলে যাচ্ছে, যার প্রভাব সুন্দরবনের ওপরও পড়েছে। তাই দেখা যাচ্ছে সুন্দরবনের প্রায় গাছগুলোতেই ফুল ফোটার সময়কাল এগিয়ে এসেছে। পাশাপাশি বৃষ্টির অভাবে খরার কারণে ফুল ও কুঁড়ি ঝরে যাচ্ছে। কিন্তু বন বিভাগ এখনো পর্যন্ত কোনো ধরনের যাচাই-বাছাই ছাড়াই সেই ১৮ চৈত্র থেকেই মধু সংগ্রহের পাস-পারমিট দিচ্ছে। সুন্দরবন এলাকায় অবৈধভাবে পাস-পারমিট ছাড়াই ফাল্গুনের শেষ থেকে মধুর চাক কাটা শুরু হয়ে যায়। বিপুল পরিমাণে এ ‘চোরাই মধুর’ কোনো হদিস রাষ্ট্রের কোষাগারে যেমন কোনো চিহ্ন রাখে না পাশাপাশি তা প্রথাগত বনজীবী মৌয়ালদের জীবিকার ওপরও এক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। সুন্দরবন অঞ্চলের বনজীবী মৌয়ালদের যৌক্তিক দাবি—চলমান আবহাওয়া ও জলবায়ু পঞ্জিকা অনুযায়ী মধু সংগ্রহের পাস-পারমিট ১৮ চৈত্র থেকে এগিয়ে চৈত্রের প্রথম সপ্তাহের ভেতর করা জরুরি।
সুন্দরবনে ফাল্গুন মাস থেকেই মৌচাষি-মৌ-ব্যবসায়ীরা মৌবাক্স নিয়ে ভিড় জমান। সুন্দরবনের আশপাশে নদী ও খালের কিনারে তাঁরা তাঁদের মৌবাক্সগুলো স্থাপন করেন। মৌবাক্স থেকে মৌমাছি সুন্দরবন থেকে মধু ও ফুলের রস নিয়ে বাক্সে জমা করে এবং এসব মৌ-কারবারিরা এই মধু ‘সুন্দরবনের মধু’ নামেই বিক্রি করেন। এখনো পর্যন্ত বন বিভাগ বা প্রশাসন এ বিষয়ে কোনো ধরনের সিদ্ধান্ত নেয়নি যে এভাবে সুন্দরবনের মধু আহরণ ও বিক্রি করা যাবে কি না। কারণ, সুন্দরবনের মধু যদি ‘সরকার সংরক্ষিত বনের’ সম্পদ হয়, তবে সেই মধু অন্যভাবে সংগ্রহ করা গেলে আর বিএলসি পাস-পারমিটের কি দরকার?
এভাবে কেবল বনজীবী বা সরকার নয়, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সুন্দরবনের জটিল প্রতিবেশ ব্যবস্থাও। কারণ, সুন্দরবনের মৌমাছি এবং বাক্সবদ্ধ মৌমাছি (Apis malifera) দুটি ভিন্ন প্রজাতি। যখন হাজারে হাজারে বাক্সের মৌমাছি সুন্দরবনে প্রবেশ করছে, সেখানে সুন্দরবনের স্থানীয় মৌমাছির জন্য খাদ্যঘাটতি এবং খাদ্যচক্রে বিশৃঙ্খলতা তৈরি হচ্ছে। সরকারকে এক পয়সাও রাজস্ব না দিয়ে এভাবে সরকারি বনভূমির সম্পদ সংগ্রহ করে দেদার বাণিজ্য করার কোনো ধরনের আইনগত অধিকার মৌবাক্স চাষিদের আছে কি না, তা আজকেই সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি। সরকারি বনভূমির কতটুকু দূরে ইটভাটা ও করাতকল স্থাপন করতে হবে, এ বিষয়ে আইন থাকলেও সরকারি বনভূমির কতটুকু দূরে এসব বাণিজ্যিক মৌবাক্স স্থাপন করা যাবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট নীতিমালা থাকা জরুরি। কারণ, এতে সুন্দরবনের মধুর ক্রেতারাও ‘সুন্দরবনের মধু’ কিনে প্রতারিত হচ্ছেন।
প্রতি মধু মৌসুমে বন বিভাগ সুন্দরবনের বেশ কিছু এলাকাকে মৌমাছি অভয়াশ্রম হিসেবে ঘোষণা করে। সেখান থেকে মধু সংগ্রহ এবং মৌচাক কাটা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। যেমন সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের মৌমাছি অভয়াশ্রম হলো ৫১(এ) ও ৫১(বি) কম্পার্টমেন্ট দোবেকী ও নটাবেকীর সম্পূর্ণ এলাকা। পাশাপাশি দক্ষিণ সুন্দরবন অভয়ারণ্যের ৪৩ ও ৪৪ নম্বর কম্পার্টমেন্ট। কিন্তু মৌবাক্স বসিয়ে এসব অভয়াশ্রমের বাস্তুসংস্থান এবং বৈশিষ্ট্যও নষ্ট করা হচ্ছে। কারণ, এসব অভয়াশ্রম থেকে বনজীবী মৌয়াল নয়, সরকারি নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করে মধু সংগ্রহ করছেন মধু-কারবারিরা।
আমরা প্রায় সবাই সুন্দরবনের মধুর প্রতি এক বিশেষ ধরনের মনোযোগ ও আকর্ষণ বোধ করি। কিন্তু এই মধুর প্রতিটি দানায় দানায় রক্ত আর লোনা ঘামের আহাজারি। চাকের ভেতর এক কেজি মধু জমাতে মৌমাছিদের চাক থেকে ফুলে যাতায়াত করতে হয় প্রায় দেড় লাখ বার। এক চাক মধু সংগ্রহ করতে অনিবার্যভাবে ঝরে বনজীবীর রক্ত। যে সম্পদ বাংলাদেশকে প্রতিবছর বিপুল অর্থের রাজস্ব জমা দিচ্ছে, তার প্রতি আমরা এখনো কোনো সুবিচার করিনি, দেখাইনি প্রতিবেশগত ন্যায়পরায়ণতা। আশা করি, সরকার এ বছরের মধু মৌসুমেই সুন্দরবনের মধু বিষয়ে এক সুস্পষ্ট সমন্বিত পরিকল্পনা ও উদ্যোগ গ্রহণ করবে। আমরা যদি দুনিয়ার বুকে সুন্দরবনকে আরও জোরদার কায়দায় মেলে ধরতে চাই, তবে এই মধু ও মোমের তৈরি নানান লোকজ পণ্যই হতে পারে এর একটি কার্যকরী পথনির্দেশিকা।
বনবিবি, বনজীবী ও বন বিভাগ সবাই মিলেই সুন্দরবনের মধুর ঐতিহাসিক আখ্যানের ন্যায়সংগত বিকাশে সহযোগী হওয়া জরুরি এখন থেকেই।
পাভেল পার্থ: প্রতিবেশ ও প্রাণবৈচিত্র্য বিষয়ক গবেষক।
animistbangla@yahoo.com

বিদ্যুৎ-সংকট: প্রধানমন্ত্রীর অনুরোধ

ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ-সংকট মোকাবিলার লক্ষ্যে সরকারের পক্ষ থেকে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের নানা উদ্যোগ-নির্দেশনার পর জানা গেল, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিদ্যুৎ-সমস্যা সমাধানে দেশবাসীর কাছে সময় চেয়েছেন। এই গুরুতর সমস্যাকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ-ক্ষোভ যাতে না বাড়ে, সে জন্য সরকারি, বিরোধী-নির্বিশেষে সব সাংসদের সহযোগিতা চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে খবরে প্রকাশ। এসবের মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ-পরিস্থিতির নাজুকতা আরও স্পষ্ট হয়েছে।
জনসাধারণকে ধৈর্য ধরার অনুরোধ জানানো, আরও সময় চাওয়া—প্রধানমন্ত্রীর তরফে যথার্থ বিনয়ের প্রকাশ। জনগণ নিশ্চয়ই ধৈর্য-সহিষ্ণুতা দেখাবে, যেমনটি এত দিন দেখিয়ে এসেছে। তবে আর কতটা সময় ধৈর্য ধরতে হবে, সে সম্পর্কেও একটা স্পষ্ট ধারণা তারা পেতে চাইবে; কারণ এই বিদ্যুৎ-সংকট অনির্দিষ্টকাল ধরে চললে তাদের জীবনজীবিকা আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। গরিব দেশে গরিব মানুষের অস্তিত্বের মৌলিকতম ক্ষেত্রে সংকট দীর্ঘায়িত হলে স্থিতিশীলতা ঝুঁকির মুখে পড়ে। অসন্তোষ ইতিমধ্যে কোথাও কোথাও যে ক্ষোভের আকারে প্রকাশিত হচ্ছে না, তা নয়। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বিদ্যুতের দাবিতে বিক্ষোভ, বিদ্যুৎ কার্যালয় ঘেরাও, এমনকি ভাঙচুরের সংবাদও আসছে।
বুধবার ঢাকায় বিসিএস ডিজিটাল এক্সপো উদ্বোধনকালে দেওয়া বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিদ্যুৎ-সমস্যা সমাধানের জন্য জনগণকে সাশ্রয়ী হওয়ার অনুরোধ জানানোর পাশাপাশি এই সমস্যার সব দায়ভার চাপিয়েছেন বিগত চারদলীয় জোট সরকার ও তার পরের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ওপর। এতে কোনো তথ্যগত ভ্রান্তি নেই যে উল্লিখিত দুই সরকারের আমলে বিদ্যুতের উৎপাদন বাড়েনি; সেজন্য তাদের উদ্যোগহীনতাই দায়ী—এই অভিযোগও সত্য। প্রধানমন্ত্রীর ভাষায়, ‘সাত বছরের জঞ্জাল কীভাবে রাতারাতি পরিষ্কার করা সম্ভব?’
কিন্তু এই জিজ্ঞাসার উত্তর জনসাধারণের কাছে প্রত্যাশা করা ঠিক হবে না। জনগণ বর্তমান সরকারের উপায়হীনতা উপলব্ধি করে ধৈর্য ধরে দীর্ঘ প্রহর গুনবে—এমন প্রত্যাশাও বাস্তবসম্মত নয়। তারা সমস্যার সমাধান চাইবে, এবং তা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব। কেননা বিদ্যুৎ-সমস্যা এমন এক সমস্যা, যা তাদের দৈনন্দিন জীবনজীবিকাকে প্রভাবিত করছে। এক বছরের মধ্যে সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়—এটা কেউ বোঝে না, তা নয়; কিন্তু এই এক বছরের অর্জন কি সন্তুষ্ট হওয়ার মতো? প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য গ্যাস প্রয়োজন, কিন্তু গ্যাসের উৎপাদন বাড়েনি। এটি অনেক বড় একটি ইঙ্গিত: নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধান ও উত্তোলন সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। সে জন্য বিদ্যুৎ-উৎপাদন থেমে থাকলে সংকট আরও ঘনীভূত হবে। ব্যাপকভাবে গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল না থেকে কয়লাসহ অন্যান্য জ্বালানি ব্যবহারের উদ্যোগ নিতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী জনসাধারণকে বিদ্যুৎ ব্যবহারে সায়শ্রী হওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন। সরকারি খাতে বিদ্যুতের অপচয় কতটা বন্ধ হয়েছে একই সঙ্গে তা-ও লক্ষ করা দরকার। নগরে ভোরের আলোয় রাস্তায় বাতি জ্বলতে দেখা যায়। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে সাশ্রয়ী মনোভাব দূরে থাক, মিতব্যয়ী মানসিকতারও প্রকট অভাব। সরকারের প্রতিটি বিভাগ বিদ্যুতের ব্যবহারে মিতব্যয়িতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করুক, জনগণ নিশ্চয়ই তাদের অনুসরণ করবে। সংকটটির গুরুত্ব উপলব্ধিতে জনসাধারণের দিক থেকে কোনো ঘাটতি আছে বলে মনে হয় না। সরকারের পক্ষ থেকে আন্তরিক ও কার্যকর উদ্যোগের বাস্তবিক ফল দৃশ্যমান হতে হবে; তবেই জনসাধারণ বুঝবে যে সীমাবদ্ধতা অনেক, তবু বিদ্যুৎ-সংকট মোকাবিলার জন্য সরকার আন্তরিক চেষ্টা চালাচ্ছে।

লস্কর-ই-তাইয়েবাসহ সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন

লস্কর-ই-তাইয়েবার মতো যেসব সন্ত্রাসী গোষ্ঠী পাকিস্তান সীমান্ত থেকে সন্ত্রাসী তৎপরতা চালাচ্ছে, সেগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পাকিস্তানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটি বলেছে, ওই সব গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়াটা শুধু ভারতের জন্য নয়, যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।
বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনে এক সংবাদ সম্মেলনে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী রবার্ট ব্লেক এ আহ্বান জানান। সংবাদ সম্মেলনে তিনি সোয়াত উপত্যকায় সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান পরিচালনা ও কয়েকজন ঊর্ধ্বতন তালেবান নেতাকে গ্রেপ্তারের জন্য পাকিস্তানের ভূয়সী প্রশংসা করেন। খবর পিটিআইয়ের।
সংবাদ সম্মেলনে ব্লেক বলেন, ‘লাহোরে হামলার জন্য জঙ্গি গোষ্ঠী জইশ-ই-মুহাম্মদ দায়ী। শ্রীলঙ্কার ক্রিকেট দলের ওপর হামলা চালিয়েছে এ গোষ্ঠীটি। কাজেই আমি মনে করছি এ ধরনের সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়াটা পাকিস্তানের জন্য অত্যন্ত জরুরি।’ তিনি পাঞ্জাবভিত্তিক জঙ্গি গোষ্ঠী লস্কর-ই-তাইয়েবার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে বলেন, এসব গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়াটা শুধু ভারত নয়, যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। এ ছাড়া পাকিস্তানের নিজের স্বার্থেও লস্করের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
ব্লেক বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তান সন্ত্রাসবিরোধী তৎপরতায় বেশ সাফল্য দেখিয়েছে। প্রথমে দেশটি সোয়াত উপত্যকায় এবং পরবর্তী সময়ে ওয়াজিরিস্তানে অভিযান চালিয়ে অনেক তালেবান নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটি। এ জন্য পাকিস্তানকে ধন্যবাদ দেওয়া প্রয়োজন, তবে লস্করসহ অন্য জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে পাকিস্তানকে আরও অনেক পদক্ষেপ নিতে হবে।

সোনিয়া ও মনমোহনের ছবিসংবলিত সাইনবোর্ড খুলে ফেলা হচ্ছে

ভারতের ইউপিএর চেয়ারপারসন সোনিয়া গান্ধী এবং প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের ছবিযুক্ত বিভিন্ন ব্যানার বা সাইনবোর্ড জাতীয় সড়ক থেকে খুলে ফেলা হচ্ছে। সোনিয়া গান্ধী এবং মনমোহন সিং চাইছেন না তাঁদের ছবি দিয়ে সরকারি কোনো সাইনবোর্ড লাগানো হোক।
ভারতের জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ এর আগে সিদ্ধান্ত নেয়, ভারতের বিভিন্ন জাতীয় সড়কে ২৫ কিলোমিটার অন্তর সোনিয়া গান্ধী এবং মনমোহন সিংয়ের ছবি দিয়ে উন্নয়ন কর্মসূচির ব্যানার বা বোর্ড স্থাপন করবে। এগুলো লেখা হবে হিন্দি, ইংরেজি ও স্থানীয় ভাষায়। সেই লক্ষ্যে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ প্রাথমিক পর্যায়ে দেড় হাজার এ ধরনের সাইনবোর্ড তৈরি করে তা টানায়।
কিন্তু এটা জানার পর প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয় থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়, প্রধানমন্ত্রী বা ইউপিএর চেয়ারপারসন কেউই চান না তাঁদের ছবি দিয়ে কোনো সরকারি সাইনবোর্ড লাগানো হোক। এরপরই সড়ক কর্তৃপক্ষ ঠিক করে, যেখানে সোনিয়া গান্ধী ও মনমোহন সিংয়ের ছবিসহ বোর্ড লাগানো হয়েছে তা খুলে নেওয়া হবে।

সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা রুখতে ভারতে নতুন আইন আসছে

ভারতে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা রুখতে এবার আসছে দাঙ্গাবিরোধী এক নতুন আইন। ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পি চিদাম্বরম গত বুধবার দিল্লিতে স্টেট মাইনরিটিস কমিশনসের এক সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে এ আইন প্রণয়নের কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ বছরের শেষের দিকে এই আইন আসছে ভারতে। হায়দরাবাদ ও রায়বেরিলিতে সাম্প্রতিক দাঙ্গার পরিপ্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংখ্যালঘু লোকজনকে আশ্বস্ত করে বলেন, ভারত সরকার সর্বদাই দেশের সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার জন্য দায়বদ্ধ। নতুন আইন এলে এ সমস্যার সুরাহা হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। চিদাম্বরম বলেন, এই আইনে দাঙ্গায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ দেওয়াসহ পুনর্বাসনের বিধান রাখা হবে।

গিনি বিসাউয়ে সেনা অভ্যুত্থানের চেষ্টা, সেনাপ্রধানসহ ৪১ কর্মকর্তা গ্রেপ্তার

পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গিনি বিসাউয়ে গত বৃহস্পতিবার সামরিক অভ্যুত্থানের চেষ্টা করেছে বিদ্রোহী সেনারা। তারা সেনাপ্রধানসহ ৪১ সেনা কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করেছে। বিদ্রোহীরা একপর্যায়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রী কার্লোস গোমেজ জুনিয়রকে আটক করে গৃহবন্দী করে রাখে। পরে তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়।
সরকারের মুখপাত্র মামাদো দিজাউ বলেন, প্রধানমন্ত্রী কার্লোস গোমেজ জুনিয়রকে গৃহবন্দী থেকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। সেনাবাহিনী তাঁর বাড়ি ছেড়ে চলে গেছে। তবে নিরাপত্তার খাতিরে সেখানে পুলিশ রয়েছে।
গিনি বিসাউয়ের এ ঘটনায় ইতিমধ্যে জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্র, পর্তুগাল, ফ্রান্স, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, আফ্রিকান ইউনিয়ন, পশ্চিম আফ্রিকার দেশগুলোর জোট ইসিওডব্লিউএএসসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে নিন্দা জানিয়েছে। তারা শিগগিরই সাংবিধানিক শাসনব্যবস্থা প্রবর্তনের দাবি জানায়। পর্তুগাল ও ফ্রান্স ঘটনাটিকে সামরিক অভ্যুত্থান বলে অভিহিত করেছে।
তবে বিদ্রোহীদের নেতা উপসেনাপ্রধান অ্যান্তনি ইন্দজাই দাবি করেন, সামরিক সমস্যার কারণে ঘটনাটি ঘটেছে। এটা কোনো অভ্যুত্থান নয়।
সামরিক সূত্র জানায়, গত বৃহস্পতিবার সকালে গোমেজকে আটক করে সাবেক সেনা সদর দপ্তরে নেওয়া হয়। পরে তাঁকে তাঁর কার্যালয়ে আনা হয়। এর আগে গোমেজের বাড়ি ঘিরে রাখে সেনারা। সেনা সূত্র জানায়, ‘আমরা জানি না, তাঁর সঙ্গে কী করা হয়েছে।’
বিদ্রোহী সেনারা সেনাপ্রধান জেনারেল জোসে জামোরা ইন্দুতা ও ৪০ জন কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করে বিমানবন্দরের কাছে বিমান ঘাঁটিতে নিয়ে যায়। গ্রেপ্তারের সময় সামরিক সংগীত বাজিয়ে জাতীয় রেডিও সম্প্রচারে ব্যাঘাত ঘটানো হয়, যা সামরিক অভ্যুত্থানের লক্ষণ বলে মনে করা হয়।
এদিকে গোমেজের শত শত সমর্থক রাজধানী বিসাউয়ে জড়ো হয়ে তাঁকে মুক্তি দেওয়ার দাবি জানায়। বৃহস্পতিবার রাতে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া হয়।
এক সংবাদ সম্মেলনে জেনারেল ইন্দজাই বলেন, ‘রাস্তাঘাটে লোকজন জমায়েত হয়, এমন কোনো কিছু বলা থেকে বিরত থাকুন। যদি তা না করেন কাদোগো (গোমেজের ডাক নাম) হত্যা করব আমরা।’ রাগান্বিত ইন্দজাই বার্তা সংস্থা এএফপিকে সংক্ষিপ্ত এক টেলিফোন সাক্ষাত্কারে বলেন, ‘কাদোগো একজন অপরাধী। তাঁর বিচার হওয়া উচিত।’
পরে গিনি বিসাউয়ের পর্তুগুয়েজ রেডিওতে প্রচারিত বিবৃতিতে ইন্দজাই বলেন, রাজনৈতিক কর্তৃপক্ষের কাছে আত্মসমর্পণ করতে পারে সেনাবাহিনী। প্রেসিডেন্ট মালাম বাকাই সানহা জানেন যে সেনাপ্রধান ইন্দুতাকে ক্ষমতাচ্যুত করে বন্দী করা হয়েছে।
পর্তুগালস অ্যান্টেনা ওয়ান-এ প্রচারিত বিবৃতিতে প্রেসিডেন্ট সানহা বলেন, ‘পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সেনাদের মধ্যে সমস্যা থাকায় তা বেসামরিক সরকারকেও স্পর্শ করে। পরিস্থিতি শান্ত ও সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছি আমরা।’
জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন গিনি বিসাউয়ের সামরিক ও রাজনৈতিক নেতাদের বিরোধ শান্তিপূর্ণভাবে মীমাংসা করার আহ্বান জানিয়েছেন।
মাদকদ্রব্য বিশেষ করে কোকেন পাচারে দক্ষিণ আমেরিকা ও ইউরোপের মধ্যে মূল সংযোগস্থল হিসেবে কাজ করছে গিনি বিসাউ। পর্তুগিজদের উপনিবেশ থেকে ১৯৭৪ সালে স্বাধীনতা লাভ করে গিনি বিসাউ। এরপর বেশ কয়েকবার সামরিক অভ্যুত্থান ঘটেছে সে দেশে। গত বছরের মার্চ মাসে সশস্ত্র বাহিনীর প্রধানকে হত্যার পর এর প্রতিশোধ নিতে সেনারা প্রেসিডেন্ট জোয়াও বার্নারদো ভিয়েইরাকে হত্যা করে। এর পরেই গিনি বিসাউয়ে নতুন করে সংকট তৈরি হয়।

হামিদ কারজাইয়ের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ

আফগানিস্তানে গত বছরের নির্বাচনে কারচুপির ঘটনায় বিদেশি শক্তি জড়িত ছিল—এমন অভিযোগ তোলার পর পাল্টা অভিযোগের মুখে পড়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই। গত বৃহস্পতিবার কারজাই অভিযোগ করেন, প্রেসিডেন্ট ও প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনে সংঘটিত কারচুপির সঙ্গে বিদেশিরা জড়িত। তাঁর এই বক্তব্যের জবাবে গতকাল শুক্রবার জাতিসংঘের সাবেক দূত পিটার গ্যালব্রেইথ পাল্টা অভিযোগ করেছেন, প্রেসিডেন্ট কারজাই ও কয়েকজন নির্বাচনী কর্মকর্তা ওই কারচুপিতে জড়িত ছিলেন।
কাবুলে আফগানিস্তানের নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাদের কাছে কারজাই বলেন, নির্বাচনে ব্যাপক মাত্রায় কারচুপি হয়েছে। তবে আফগানরা এ কারচুপির সঙ্গে জড়িত ছিল না। বিদেশিরা এই কারচুপি করেছে। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনের সময় আফগানিস্তানে জাতিসংঘের দূত গ্যালব্রেইথ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন মিশনের প্রধান জেনারেল ফিলিপ মোরিলন কাবুলে একটি ‘পুতুল’ সরকারকে ক্ষমতায় আনার চেষ্টায় জড়িত ছিলেন।
এই অভিযোগের জবাবে গতকাল গ্যালব্রেইথ বলেন, জাতিসংঘ ভোট কারচুপির সঙ্গে জড়িত ছিল—এমন অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
গ্যালব্রেইথ আরও বলেন, ‘কারজাইয়ের এ বক্তব্য শোনার পর প্রথমে আমি ভেবেছিলাম এটি একটি “এপ্রিল ফুল” কৌতুক। কিন্তু পরে আমি বুঝলাম, এটি কৌতুক নয়। কারজাইয়ের সঙ্গে আমার ওই পর্যায়ের উষ্ণ সম্পর্ক নেই, যাতে তিনি এ ধরনের কৌতুক করবেন।’ নির্বাচনে কারচুপির জন্য তিনি কারজাইয়ের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ করেন।

বাঁদরের জন্য রেস্তোরাঁ

বাঁদরের জন্য রেস্তোরাঁ! কথাটা একটু অদ্ভুত শোনালেও সত্যি সত্যিই বাঁদরের জন্য গড়ে তোলা হচ্ছে একটি রেস্তোরাঁ। ভারতের মধ্যপ্রদেশের ওমকারেশ্বর শহরে এই রেস্তোরাঁ নির্মাণের কাজ চলছে।
এই শহরে রয়েছে যেমন অসংখ্য মন্দির, তেমনই রয়েছে বাঁদর। শহরটিতে এখন কমপক্ষে পাঁচ হাজার বাঁদরের বাস। প্রতিবছর হাজার হাজার মানুষ আসেন এই শহরের বিভিন্ন মন্দিরে পূজা দিতে, আসেন বহু পর্যটকও। আর এ সময় এই বাঁদরগুলো ঘটায় নানা অঘটন। কারও খাবার নিয়ে পালিয়ে যায়; কারও মোবাইল ফোন বা মানিব্যাগ নিয়ে যায়। এমনকি এই বাঁদরগুলো মাঝেমধ্যে তীর্থযাত্রী ও পর্যটকদের ওপর হামলা চালিয়ে তাঁদের আহত করার ঘটনাও ঘটায়। আর এসবের পেছনে রয়েছে বাঁদরের ক্ষুধা।
এই দিকটা ভেবে এবার দুজন সমাজসেবী এগিয়ে এসেছেন বাঁদরগুলোর জন্য একটি রেস্তোরাঁ খোলার জন্য। তাঁরা হলেন অনিল খান্ডেওয়াল ও হরিশ গেহলট। তাঁরা কয়েক দিন আগে হনুমানজয়ন্তীর দিনে বাঁদর বা হনুমানের জন্য একটি সাময়িক রেস্তোরাঁ খোলেন। এতে ব্যাপক সাড়া মেলে। বাঁদরগুলো সারি বেঁধে এসে ওই রেস্তোরাঁয় খাবার গ্রহণ করে। এখন এ দুজন সমাজসেবী বাঁদরগুলোর জন্য একটি স্থায়ী রেস্তোরাঁ খোলার উদ্যোগ নিয়েছেন। এখন এটির নির্মাণকাজ চলছে। তাঁরা জানান, বাঁদরগুলো যা খেতে ভালোবাসে, সেসব খাবার দেওয়া হবে এই রেস্তোরাঁয়।

পাকিস্তানের পার্লামেন্টে সংবিধান সংশোধন বিল উত্থাপন

পাকিস্তানের পার্লামেন্টে গতকাল শুক্রবার সংবিধান সংশোধনবিষয়ক একটি বিল উত্থাপন করা হয়েছে। ওই বিলে দেশটির প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোসহ বেশ কিছু প্রস্তাব করা হয়।
সংবিধান সংস্কারবিষয়ক সংসদীয় কমিটির (পিসিসিআর) প্রধান রাজা রাব্বানি ‘১৮তম সংশোধনী বিল’ নামের ওই বিল পার্লামেন্টে উত্থাপন করেন। এর আগে পার্লামেন্টে ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রাজা গিলানি। তিনি বলেন, ‘সংবিধান সংশোধনের প্রাক্কালে আমি সবাইকে অভিনন্দন জানাচ্ছি। এটি একটি ঐতিহাসিক ব্যাপার। অনেকে ভাবছেন, সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে। আমি বলব, এই সংশোধনের মাধ্যমে পার্লামেন্ট শক্তিশালী হবে।’
রাজা রাব্বানি বলেন, সংবিধানের এই সংশোধনী পার্লামেন্টের সর্বোচ্চ ক্ষমতা নিশ্চিত করবে।
বিলটি পাস হলে প্রেসিডেন্ট পার্লামেন্ট ভেঙে দিতে বা প্রধানমন্ত্রীকে বরখাস্ত করতে পারবেন না। তিনি সেনাবাহিনীর প্রধান, প্রধান নির্বাচন কমিশনার বা বিচারক নিয়োগ দেওয়ার ক্ষমতাও হারাবেন। এতে বিচারক নিয়োগ দেওয়ার ক্ষেত্রে জ্যেষ্ঠ বিচারক ও সরকারি কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত একটি কমিশনকে ক্ষমতা দেওয়া হবে।
পাকিস্তানে বর্তমানে কোনো ব্যক্তি দুবারের বেশি প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন না। উত্থাপিত বিলে এই বিধান তুলে দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মাধ্যমে দেশটির বিরোধীদলীয় নেতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের আবারও প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথে আইনি বাধা দূর হবে।
সংবিধান সংশোধন হলে পাকিস্তানের প্রদেশগুলো আরও বেশি স্বায়ত্তশাসন ভোগ করবে। বিলে পশতু জনগোষ্ঠী অধ্যুষিত উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশের নাম পরিবর্তন করে খাইবার-পাখতুনখাঁ করারও প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
এখন বিল নিয়ে পার্লামেন্টে আলোচনা হবে। সব দলের প্রতিনিধি নিয়ে গঠিত সংবিধান সংস্কারবিষয়ক কমিটি ওই বিলের খসড়া তৈরি করে। তাই খুব সহজেই পার্লামেন্টের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন পেয়ে এটি পাস হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আগামী সোমবার প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারির পার্লামেন্টে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে।
ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের দক্ষিণ এশিয়ার পরিচালক সামিনা আহমেদ বলেন, এর মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট জারদারি বিরোধী দলগুলোকে শান্ত করতে পারবেন। কিন্তু তাঁর (জারদারি) বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা পুনরায় চালু হওয়ায় সরকারের মধ্যেই একটা চাপ কাজ করবে।
রাজা রাব্বানির নেতৃত্বে প্রায় নয় মাস কাজ করে সংবিধান সংস্কারবিষয়ক সংসদীয় কমিটি এই বিলের খসড়া তৈরি করে। এতে পাকিস্তানের সংবিধানের ইতিহাসে একবারে সবচেয়ে বেশি ধারায় সংশোধনীর প্রস্তাব করা হয়েছে। বিলে মোট ৭০টি ধারা সংশোধনের কথা উল্লেখ করা হয়।

পপকর্নের দাম নিয়ন্ত্রণে আইন

ইসরায়েলের আইনসভায় পপকর্নের দাম নিয়ন্ত্রণের জন্য সম্প্রতি একটি আইন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভুট্টা থেকে তৈরি করা এক ধরনের হালকা খাবার পপকর্ন। ইসরায়েলের আইনসভার সদস্য কারমেল শামা বলেছেন, দেশের সিনেমা হলগুলোয় চড়া দামে পপকর্ন বিক্রি করা হচ্ছে। সিনেমা হলগুলোতে হালকা খাবার ও পানীয়র দাম নিয়ন্ত্রণে একটি আইন করা হবে বলে উল্লেখ করেছেন ক্ষমতাসীন লিকুদ পার্টির ওই সদস্য।
তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, আইনটি প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। এটি চূড়ান্ত করতে কয়েক মাস লাগবে। সিনেমা কোম্পানিগুলো প্রস্তাবিত এই আইনের সমালোচনা করেছে। তাদের বক্তব্য, বেশির ভাগ সিনেমা হলের মুনাফা আসে হালকা খাবার ও পানীয় বিক্রি করে।
কারমেল শামা হিব্রু ভাষার সংবাদপত্র ইয়েদিয়োথ আহারোনোথকে বলেন, ‘এই অতিরিক্ত দামের একটি সমাপ্তি টানতে হবে আমাদের। স্ন্যাকস আর কোমল পানীয় কিনতে গিয়ে নাগরিকেরা ঘরবাড়ি বন্ধক রাখুক—এমন পরিস্থিতি তৈরি করতে চাই না আমরা।’
ইসরায়েলের সিনেমা হলগুলোতে পপকর্নের একটি বড় বাক্স বিক্রি হয় পাঁচ ডলারে। সেখানে একটি সুপার মার্কেটে এই পপকর্নের দাম এর অর্ধেক, আর বাড়িতে এই পপকর্ন তৈরি করতে খরচ পড়ে মাত্র ১০ ভাগের এক ভাগ

হু জিনতাওয়ের সমর্থন চাইলেন ওবামা

ইরানের ওপর অবরোধ আরোপের প্রস্তাব সমর্থন করতে চীনের প্রেসিডেন্ট হু জিনতাওয়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। গত বৃহস্পতিবার রাতে সরাসরি টেলিফোন করে এ আহ্বান জানান ওবামা।
হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিশেষ বিমান এয়ারফোর্স ওয়ান থেকে প্রায় এক ঘণ্টা টেলিফোনে হু জিনতাওয়ের সঙ্গে আলাপ করেন ওবামা। ইরান যাতে আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা মেনে চলে, তা নিশ্চিত করতে একসঙ্গে কাজ করার ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করেন তিনি। পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বজায় রাখার ব্যাপারেও তাঁদের মধ্যে আলাপ হয়েছে।
এই টেলিফোন আলাপের বিষয়ে এক বিবৃতিতে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট হু জিনতাও দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক স্থিতিশীল ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ রাখার ব্যাপারে জোর দিয়েছেন। তাইওয়ান ও তিব্বতের বিষয়ে বেইজিংয়ের সঙ্গে দ্বন্দ্ব না বাড়ানোর ব্যাপারে ওবামাকে সতর্ক করেছেন তিনি। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়াতে জি-২০ সম্মেলনের চুক্তি বাস্তবায়নের বিষয়েও কথা বলেছেন দুই নেতা।
ওবামাকে হু আরও বলেছেন, দুই পক্ষেরই উচিত পরস্পরের মূল স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোর প্রতি সম্মান দেখানো এবং স্পর্শকাতর বিষয়গুলো নিয়ে পারস্পরিক মতপার্থক্যগুলোর প্রতি যথাযথভাবে গুরুত্বারোপ করা। তাইওয়ান ও তিব্বতের বিষয়টি চীনের স্বার্বভৌমত্বের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সুসম্পর্ক ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এসব বিষয় নিয়ে বাড়াবাড়ি করাটা ঠিক হবে না।
ওবামার আহ্বানের জবাবে চীনা প্রেসিডেন্ট বলেছেন, পরমাণু অস্ত্রের বিস্তার ও পরমাণু সন্ত্রাস সমর্থন করে না বেইজিং। পরমাণু অস্ত্রের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা জোরদারের আন্তর্জাতিক উদ্যোগকে সমর্থন করেন তাঁরা। তবে ইরানের ওপর অবরোধ আরোপের পক্ষে কোনো মন্তব্য করা হয়নি ওই বিবৃতিতে।
এর আগে বৃহস্পতিবার মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, ইরানের ওপর অবরোধ আরোপ নিয়ে জাতিসংঘে আলাদা বৈঠক করার ব্যাপারে রাজি হয়েছে চীন। ইরানের ওপর অবরোধ আরোপের প্রস্তাবের বিরোধিতা করে আসছে চীন। তাদের বক্তব্য, আলোচনার মাধ্যমেই এই সমস্যার সমাধান করা সম্ভব।
পশ্চিমা বিশ্ব ও ইসরায়েলের দাবি, ইরান পরমাণু বোমা তৈরির চেষ্টা করছে। কিন্তু ইরান বরাবর বলে আসছে, তাদের পরমাণু কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত। ইরানের এই বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে যুক্তরাষ্ট্র ও এর মিত্র দেশগুলো পরমাণু কর্মসূচি বন্ধ করার ব্যাপারে চাপ দিয়ে আসছে। আর এরই ধারাবাহিকতায় ইরানের ওপর চতুর্থবারের মতো জাতিসংঘের অবরোধ আরোপ করতে চাইছে তারা। এ জন্য চীনের সমর্থন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ইরানের সঙ্গে চীনের গভীর বাণিজ্য ও কূটনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। পাশাপাশি চীন জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ‘ভেটো’ ক্ষমতার অধিকারী সদস্য।
তাইওয়ানের কাছে অস্ত্র বিক্রি, তিব্বতি আধ্যাত্মিক নেতা দালাই লামার সঙ্গে ওবামার বৈঠক, মার্কিন ডলারের বিপরীতে চীনের মুদ্রার বিনিময় হার ইত্যাদি বিষয় নিয়ে ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে টানাপোড়েন চলছে। দুই নেতার এই টেলিফোন আলাপ যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্ককে কিছুটা স্বাভাবিক করবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন বিশ্লেষকেরা।

মালয়েশীয় সেই মডেলের শাস্তি শুরু

বিয়ার পানের অপরাধে মালয়েশিয়ার সেই মুসলিম মডেলের সাজা গতকাল শুক্রবার থেকে শুরু হয়েছে। কার্তিকা সারি দেবী সুকর্ণ (৩৩) নামের ওই মডেল একটি শিশুসদনে গতকাল সমাজসেবামূলক কাজ শুরু করেছেন। কার্তিকার ওই অপরাধের জন্য সে দেশের একটি মুসলিম আদালত তাঁকে ছয়টি বেত্রাঘাত ও জরিমানা করেছিলেন। পরে পাহাং প্রদেশের সুলতান এই সাজা পরিবর্তন করে তিন সপ্তাহ সমাজসেবামূলক কাজ করার নির্দেশ দেন।
কার্তিকা সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি শাস্তি মেনে নিতে প্রস্তুত। কারণ মনের দিক দিয়ে আমি একজন দৃঢ়চেতা মানুষ।’ কার্তিকার বাবা জানান, তাকে আগামী ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত ওই শিশুসদনে সাহায্যকারী হিসেবে কাজ করে যেতে হবে।

মরিচ তো নয় যেন ‘আগুনের গোলা’

মরিচটি মুখে দেওয়া মাত্র আগুনের জ্বালা অনুভূত হবে। এ জ্বালা সর্বোচ্চ প্রতিষেধক ওষুধ, দুধ বা মিষ্টি কোনো কিছু দিয়েই দূর করা সম্ভব নয়। ভারতের ভোট জোলোকিয়ার চেয়েও এ মরিচের ঝাল বেশি। মুখে দিলে নিশ্চিত হাসপাতালে ছুটতে হবে। ব্রিটেনের লিঙ্কোশায়ার কাউন্টিতে নতুন উদ্ভাবিত এ মরিচের নাম ‘ইনফিনিটি’।
পূর্ব ইংল্যান্ডের কাউন্টি শহর লিঙ্কোশায়ারের গ্রান্থাম নগরে ইনফিনিটি মরিচের উদ্ভাবন। এ মরিচ উৎপাদনকারী কৃষক উডি উডস বলেন, ‘ইনফিনিটি খাওয়া মানে জ্বলন্ত কয়লা মুখে নেওয়া। ইংল্যান্ডের মতো জলবায়ুতে তীব্র ঝালের এ মরিচের উৎপাদন সত্যিই অবিশ্বাস্য।’
ওয়ারউইক ইউনিভার্সিটির গবেষকেরা ইতিমধ্যে এ মরিচের গুণাগুণ নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছেন। তাঁরা ইনফিনিটি মরিচের স্কভিল স্কেল (মসলার ঝাল পরিমাপের একক) নির্ধারণ করেছেন এক লাখ ৬৭ হাজার ২৮৬। আর ভারতে উৎপাদিত ভোট জোলোকিয়ার স্কভিল স্কেল হলো এক লাখ ৪১ হাজার ৪২৭। তীব্র ঝাঁজের বিবেচনায় ইনফিনিটি মরিচের অবস্থান এখন সবার ওপরে। আগে এ রেকর্ডের মালিক ছিল ভোট জোলোকিয়া।

পার্সোনাল কম্পিউটারের জনক হেনরি এডওয়ার্ড রবার্টসের জীবনাবসান

পার্সোনাল কম্পিউটারের জনক হেনরি এডওয়ার্ড রবার্টস আর নেই। গত বৃহস্পতিবার জর্জিয়ার একটি হাসপাতালে তিনি মারা গেছেন।
রবার্টসের পরিবার সূত্র জানায়, তিনি দীর্ঘদিন নিউমোনিয়ায় ভুগছিলেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৮ বছর। আগামী সোমবার রবার্টসের শেষকৃত্যানুষ্ঠান হবে।
রবার্টসের মৃত্যুর খবর পেয়ে তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে জর্জিয়া পৌঁছেছেন মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস। রবার্টসের কাজ দেখেই অনুপ্রাণিত হয়ে বন্ধু জন অ্যালেনকে সঙ্গে নিয়ে বিশ্বখ্যাত সফটওয়্যার কোম্পানি মাইক্রোসফট প্রতিষ্ঠা করেন গেটস।
গেটস ও অ্যালেন এক যুক্ত বিবৃতিতে রবার্টসের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন ও তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
হেনরি রবার্টস অলটেয়ার ৮৮০০ মডেলের একটি মাইক্রোকম্পিউটার আবিষ্কার করেন। ওই কম্পিউটারে গেটসের তৈরি প্রথম সফটওয়্যার ব্যবহার করা হয়।
রবার্টস ১৯৪১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামি শহরে জন্মগ্রহণ করেন।

বিমানবন্দরে নতুন নিরাপত্তাব্যবস্থা চালু করছে যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রে চলতি মাসে বিমানবন্দরগুলোতে নতুন নিরাপত্তাব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে। নতুন এই ব্যবস্থায় এখন সে দেশে ভ্রমণ করতে যাওয়া বিমানযাত্রীদের যে কাউকে অতিরিক্ত তল্লাশি করা হতে পারে। গত বৃহস্পতিবার মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, সন্দেহভাজন সন্ত্রাসী ও সন্ত্রাসবাদীদের সঙ্গে মিল থাকা বা এ ধরনের কোনো তথ্যের সঙ্গে যেকোনো দেশের যাত্রীর তথ্যের বা চেহারার মিল পাওয়া গেলে তাকে তল্লাশি করা হবে।
বর্তমানে তালিকাভুক্ত ১৪টি দেশের বিমানযাত্রীদের বাধ্যতামূলক তল্লাশি করার নিয়মের পরিবর্তে নতুন এই নিয়ম চালু করা হচ্ছে। গত ডিসেম্বরে একটি মার্কিন বিমানে নাইজেরীয় এক নাগরিকের বোমা হামলা চালানোর ব্যর্থ চেষ্টার পর আগের নিয়মটি চালু করা হয়েছিল।
মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, নতুন এই আইন চালু করা হলে তল্লাশির মুখোমুখি হওয়া যাত্রীদের সংখ্যা অনেক কমে যাবে। বিশেষ করে তালিকাভুক্ত ১৪টি দেশের নাগরিকদের হয়রানি কমবে। দেশগুলো হচ্ছে আফগানিস্তান, আলজেরিয়া, কিউবা, ইরান, ইরাক, লেবানন, লিবিয়া, নাইজেরিয়া, পাকিস্তান, সৌদি আরব, সুদান, সিরিয়া, সোমালিয়া ও ইয়েমেন।
মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, নতুন এই ব্যবস্থায় কোনো একটি বিশেষ দেশের সব নাগরিককে তল্লাশি করতে হবে না। ফলে তুলনামূলক কমসংখ্যক যাত্রীকে অতিরিক্ত তল্লাশির মুখোমুখি হতে হবে।

গাজায় ইসরায়েলের ১৩ দফা বিমান হামলা

ফিলিস্তিনের হামাসশাসিত গাজায় গত বৃহস্পতিবার রাতে ইসরায়েল ১৩ বার বিমান হামলা চালিয়েছে। এতে বেশ কিছু স্থাপনা ধ্বংস হয়েছে, আহত হয়েছে তিন শিশু। এদিকে গতকাল শুক্রবার আবারও বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর হুমকি দিয়েছে ইসরায়েল।
ইসরায়েলি কর্মকর্তারা দাবি করেন, ফিলিস্তিনি জঙ্গিরা বৃহস্পতিবার রাতে ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর আসকেলোন লক্ষ্য করে রকেট হামলা চালায়। এরপর ইসরায়েল গাজায় বিমান হামলা শুরু করে। তাঁরা বলেন, হামাসের অস্ত্র উৎপাদনের কারখানা লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালানো হয়েছে। এতে কারখানাটির সামান্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে প্রত্যক্ষদর্শী ও হামাস কর্মকর্তারা জানান, গাজায় বেশ কয়েকটি খামার, দুধ উৎপাদনের কারখানা, লৌহসরঞ্জাম নির্মাণের কারখানা ও হামাসের সামরিক শাখার ছোট একটি স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে।
খান ইউনুস শহরের কাছে একটি এলাকায় চার দফায় হামলা চালানো হয়েছে। গত সপ্তাহে এখানে ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে সংঘর্ষে ইসরায়েলি দুজন সেনাসদস্য নিহত হন। এ ছাড়া নুসেইরাত ও সাবরা এলাকায় হামলা চালানো হয়েছে।
গাজায় ফিলিস্তিনের জরুরি বিভাগের প্রধান মাওউয়া হাসানেইন জানান, হামলায় তিন শিশু আহত হয়েছে। এদের একজনের বয়স মাত্র দুই বছর। অপর দুজনের বয়স চার ও ১১ বছর।
ফিলিস্তিনের একটি সংবাদ সংস্থা জানায়, গাজায় হামলা চালানোর আগে সেখানে হেলিকপ্টার থেকে প্রচারপত্র ফেলা হয়। ওই প্রচারপত্রে বলা হয়, খান ইউনুস এলাকায় ইসরায়েলি দুজন সেনাসদস্যের নিহত হওয়ার প্রতিশোধ নিতে গাজায় হামলা চালানো হবে।
ইসরায়েলের উপপ্রধানমন্ত্রী সিলভান সালোম বলেন, ইসরায়েলে রকেট হামলা বন্ধ করা না হলে গাজায় শিগগিরই সামরিক অভিযান চালানো হবে। গতকাল ইসরায়েলের সরকারি বেতারে তিনি আরও বলেন, ‘হামাস আমাদের সামরিক অভিযান চালাতে বাধ্য করছে। আশা করি, আমরা এটা (অভিযান) এড়াতে পারব।’
এদিকে হামাস নেতা ইসমাইল হানিয়া এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘ইসরায়েলের এই আগ্রাসন বন্ধের ব্যবস্থা নিতে আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।’ তিনি বলেন, এই আগ্রাসন দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বাড়াবে।
চলতি বছরের জানুয়ারির পর গাজায় এটাই ইসরায়েলের প্রথম বড় ধরনের হামলা। ইসরায়েল এর আগে ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে ফিলিস্তিনে ভয়াবহ সামরিক অভিযান চালায়। এতে এক হাজার ৪০০ ফিলিস্তিনি এবং ১৩ জন ইসরায়েলি সেনাসদস্য নিহত হন।

মস্কোয় আত্মঘাতী হামলাকারীদের একজনকে শনাক্ত

মস্কোর পাতালরেলে গত সোমবার আত্মঘাতী বোমা হামলাকারীদের একজনকে চিহ্নিত করেছেন রুশ তদন্তকারীরা। তার নাম ডিজেন্নেত আবদুরাখমানোভা (১৭)। সে ককেসাসের এক জঙ্গির বিধবা স্ত্রী। গতকাল শুক্রবার কোমেরসান্ত ডেইলি এ কথা জানায়।
কোমেরসান্ত পত্রিকায় স্বামী উমালাত মাগোমেদভের সঙ্গে স্কার্ফ পরিহিত শিশুসুলভ চেহারার কিশোরী ডিজেন্নেত আবদুরাখমানোভার একটি ছবি প্রকাশিত হয়েছে। তদন্তকারীদের উদ্ধৃত করে পত্রিকাটি জানায়, দাগেস্তানি ইসলামি জঙ্গি মাগোমেদভ গত বছর নিরাপত্তা বাহিনীর চালানো এক বিশেষ অভিযানে নিহত হয়েছেন।
এই যুগল আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ে করেছেন কি না, তা পরিষ্কার নয়। কারণ প্রকাশিত ছবিতে মাগোমেদভের আঙুলে আংটি দেখা যায়নি। কোমেরসান্ত জানায়, সম্ভবত আবদুরাখমানোভার আবদুলায়েভ নামে অন্য একটি নাম রয়েছে।
কোমেরসান্ত আরও জানায়, আবদুরাখমানোভাকে প্রাথমিকভাবে ছবি দেখে শনাক্ত করা হয়েছে। রুশ তদন্তকারীদের ধারণা, গত সোমবার চালানো দুটি আত্মঘাতী হামলার প্রথমটি চালিয়েছিল আবদুরাখমানোভা।
দ্বিতীয় আত্মঘাতী হামলাকারীকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে চিহ্নিত করেননি তদন্তকারীরা। তবে বলা হচ্ছে, দ্বিতীয় হামলাকারীর নাম মারখা উস্তারখানোভা। তিনিও ককেসাসের এক জঙ্গিকে বিয়ে করেছিলেন।
কোমেরসান্ত পত্রিকা জানায়, মারখা উস্তারখানোভা জঙ্গি এমিন খিজরিয়েভের বিধবা স্ত্রী। খিজরিয়েভের বাড়ি চেচেন শহর গুদেরমেসে।

হারের বৃত্তেই পাঞ্জাব

আবারও হারল কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব। যুবরাজ সিংয়ের দলের টানা চতুর্থ পরাজয়টি এসেছে কাল রাজস্থান রয়্যালসের বিপক্ষে। ম্যাচটি তারা হেরেছে ৬ উইকেটে।
আবারও শুধু একটা বিভাগেই জ্বলে উঠল পাঞ্জাব। এবার ব্যাটিংয়ে। টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে কুমার সাঙ্গাকারা (৪৫), রবি বোপারা (৪২*) ও যুবরাজের (৩৬) কল্যাণে ৫ উইকেটে ১৮১ রান তোলে পাঞ্জাব। তবে ব্রেট লি, শ্রীশান্তরা জয় পাওয়ার মতো বোলিং করতে পারেননি। ১৯.১ ওভারে মাত্র ৪ উইকেট হারিয়েই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় বেঙ্গালুরু। কেভিন পিটারসেন বেঙ্গালুরুর পক্ষে সর্বোচ্চ ৬৬* রান করেছেন। বিরাট কোহলি করেছেন ৪২ রান।
৮ ম্যাচে পাঞ্জাবের এটি সপ্তম পরাজয়। ১টি জয় থেকে ২ পয়েন্ট পেয়ে পয়েন্ট তালিকার সবার নিচের দল তারা। আর বেঙ্গালুরুর এটা পঞ্চম জয়। ১০ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে বেঙ্গালুরু।

আবারও ঊষার ১০ গোল

হকিতে গোল-উৎসব চলছেই। ঘরোয়া হকির পরাশক্তি আবাহনী, মোহামেডান ও ঊষা যেন দুর্বল প্রতিপক্ষকে যত বেশি সম্ভব গোল দেওয়ার প্রতিযোগিতায় নেমেছে। গ্রুপ পর্বে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ওয়ারীকে ১০-০ গোলে হারিয়েছিল ঊষা, আবাহনী পুলিশকে দিয়েছিল ৭ গোল, মোহামেডান অ্যাজাক্সকে হারায় ৯ গোলে। এবার সাধারণ বীমাকেও ১০-০ গোলে উড়িয়ে দিল ঊষা। টানা দুই জয়ে সেমিফাইনাল তাদের নিশ্চিতই বলা যায়।
অধিনায়ক মাকসুদুল আলম (হাবুল) ৩টি, কৃষ্ণকুমার ও মাজহারুল ২টি করে গোল করেছেন। মওদুদুর রহমান (শুভ) ও শেখ নান্নুর গোল ১টি করে।
মওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়ামে দিনের অন্য ম্যাচে সোনালী ব্যাংক ৫-০ গোলে হারিয়েছে ওয়ারী ক্লাবকে। প্রিন্স ২টি, মাসুম ও রিমন করেছেন ১টি করে গোল।

আজ তামিম-নাফিস ফাইনাল

বাংলাদেশ কিংবা ভারতের মতো আরব আমিরাতের এখানে-ওখানে ক্রিকেট দেখা যায় না, যা একটু চোখে পড়ে ফুটবল। কারণ এ খেলাটি এখানে বহুল জনপ্রিয়। তবে কাল সকালে দুবাইয়ের বিখ্যাত পর্যটনকেন্দ্র জুমেইরা সমুদ্রসৈকতে গিয়ে ক্রিকেট দর্শন করা গেছে। ফুটবলের পাশাপাশি পর্যটকদের কেউ কেউ মেতেছিল ক্রিকেট নিয়েও। অবশ্যই শৌখিন ক্রিকেট।
জুমেইরা থেকে শারজা মাঠে এসে দেখা গেছে আসল ক্রিকেট। যেখানে ইমরান নাজিরের তাণ্ডবে উড়ে গেছে টুর্নামেন্টের বহুল আলোচিত দল পাইরেটস অব চিটাগাং। নাজিরের ৮৭ রানের ঝড়ে ৭ উইকেটে জিতে গতবারের চ্যাম্পিয়ন ব্রাদার্স পৌঁছেছে ফাইনালে। ফাইনালে ব্রাদার্সের প্রতিপক্ষ চিটাগং টাইগার্স। দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ভারতের বাংলা টাইগার্সদের ১১৭ রানে হারিয়েছে তারা। আজ অনুষ্ঠিত হবে আলোচিত-সমালোচিত পিসিএলের ফাইনাল। আর এটি হবে তামিম ও নাফিস ইকবালের দ্বৈরথ।
আগের দিন মোহামেডানের বিপক্ষে গ্রুপ লিগের ম্যাচে ইমরান খেলেছিলেন অপরাজিত ৬৩ রানের ঝোড়ো ইনিংস। ৪২ বলের এই ইনিংসে তাঁর দুটি ছক্কায় বলও হারিয়ে গিয়েছিল। কাল যেন সেখান থেকেই শুরু করলেন আবার। ১৮০ রানের জয়ের লক্ষ্য নিয়ে ব্যাট করতে নেমে ব্রাদার্স প্রথম ওভারেই জুনায়েদ সিদ্দিকের উইকেট হারালেও ইমরান নাজির তা বুঝতেই দেননি। ৪১ বলের ইনিংসটিতে ১০টি ছক্কা ও ৪টি চার। এদিনও একবার বল বদলাতে হয় তাঁর ছক্কার কারণে। ২১ বলে ফিফটি। ১১তম ওভারে আরাফাত সানির বলে যখন আউট হয়ে ফিরছেন, ব্রাদার্সের রান ১১৯—ম্যাচের মীমাংসা হয়েই গেছে। বাকি কাজটা সেরেছেন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দলে ডাক পাওয়া ইমরুল কায়েস (৩৩) ও জহুরুল ইসলাম (৩১)। ব্রাদার্স ১৯ বল বাকি থাকতেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায়।
এর আগে টস হেরে ব্যাটিং করতে নেমে পাইরেটস করেছিল ৮ উইকেটে ১৭৯ রান। এখানেও পাকিস্তানিদের ব্যাটে রান—রাশেদ হানিফ করেছেন সর্বোচ্চ ৪১ রান, ইয়াসির হামিদ ২৫।
ম্যাচ শেষে ইমরান নাজির ভিআইপি গ্যালারিতে বসা কিছু পাকিস্তানি ভক্তের সঙ্গে করমর্দন করেন। যেটিকে বলা যেতে পারে কৃতজ্ঞতার প্রকাশ। তাঁর ব্যাটিংয়ের সময় সারাক্ষণই তাঁরা নেচেছেন, করেছেন হইহুল্লোড়। পাশের গ্যালারিতে ছিলেন ব্রাদার্সের আজহার মাহমুদের স্ত্রীও। ইমরানের পর তামিমও গ্যালারিতে এসে তাঁর মা-ভাবিদের সঙ্গে দেখা করেছেন। তাঁর দল চিটাগং টাইগার্সের ৬ উইকেটে ১৮৯ রানের জবাবে বাংলা টাইগার্স অলআউট হয় মাত্র ৭২ রানে।
তবে গতকাল তাঁদের ছাপিয়ে এই প্রথম শারজাহ স্টেডিয়াম মাতিয়েছেন প্রবাসী বাঙালিরা। সংখ্যায় বেশি না হলেও কাল শুক্রবার হওয়ায় অন্যান্য দিনের তুলনায় উপস্থিতি ছিল বেশি। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে এই সংখ্যা বাড়ছিল। ইমরান নাজিরের ইনিংসের পর দ্বিতীয় ম্যাচে তামিম ইকবালের ছক্কা-চারের সময়ও তারা মেতেছিল উল্লাসে। তাদের হাতে ছিল প্লাকার্ড। যেসবে লেখা ছিল—‘যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দ্রুত সম্পন্ন করো—প্রবাসী বাঙালি’, ‘রাজাকারদের ফাঁসি চাই’।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
পাইরেটস অব চিটাগং: ২০ ওভারে ১৭৯/৮ (রাশেদ হানিফ ৪১, ইয়াসির হামিদ ২৫, জেনিসার খান ২৪, অলক ২৪; রাজ্জাক ৪-০-৩৯-২, রফিক ৪-০-৩২-১, জিয়াউর ৪-০-৩৯-১, তারেক ৪-০-৪৫-১, আজহার মাহমুদ ৪-০-১৪-১)। ব্রাদার্স: ১৬.৫ ওভারে ১৮০/৩ (ইমরান নাজির ৮৭, ইমরুল অপ. ৩৩, জহিরুল অপ. ৩১; রাশেদ ৪-০-৩৫-১, আরাফাত সানি ৪-০-৩১-১)।
ম্যান অব দ্য ম্যাচ: ইমরান নাজির।
চিটাগং টাইগার্স: ২০ ওভারে ১৮৯/৬ (তামিম ইকবাল ৫৫, লু ভিনসেন্ট ৩৪, শামসুর রহমান ৩২, খুররম মঞ্জুর ৩০, শচীন রানা ১/২০, রাজেশ শর্মা ১/১৯)। বাংলা টাইগার্স, ইন্ডিয়া : ১৪.৪ ওভারে ৭২/৯ (হেমন্ত কুমার ৩০, এনামুল হক ২/৯, মাহমুদুল্লাহ ২/১৮, আলাউদ্দিন ২/২৩)। ম্যান অব দ্য ম্যাচ: তামিম ইকবাল

দেশাইয়ের বিশ্বকাপ

খেলা ছেড়েছেন অনেক দিন হলো। কিন্তু খেলা পিছু ছাড়ছে না তাঁর। ফ্রান্স ছেড়ে চলে গেছেন জন্মভূমি ঘানায়। আক্রায় বসে টিভিতে খেলা দেখেন। চলতি পথে হঠাৎ থেমে যান পাশের দোকানে সাজিয়ে রাখা টিভির সামনে। জনা পঞ্চাশেক মানুষের ভিড়ে মার্সেল দেশাইও তখন সাধারণ এক দর্শক।
ছয় বছর খেলেছেন চেলসিতে। এর আগে খেলেছেন অলিম্পিক মার্শেই আর এসি মিলানের হয়ে। এই দুটো ক্লাবের হয়ে জিতেছেন চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপা। ক্লাবের পাশাপাশি সাবেক এই ডিফেন্ডারের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারও ছিল বর্ণাঢ্য। ১৯৯৮ বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য ছিলেন। ফ্রান্সের হয়ে জিতেছেন ২০০০ ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ, ২০০১ আর ২০০৩ কনফেডারেশনস কাপের শিরোপাও।
গত বিশ্বকাপে বিবিসির ভাষ্যকার হিসেবে কাছে থেকে দেখেছেন ফাইনালে উঠেও কীভাবে শিরোপা মুঠো থেকে বেরিয়ে গিয়েছিল ফ্রান্সের। এবার অবশ্য ফরাসিদের শিরোপা জয়ের তেমন কোনো সম্ভাবনাই দেশাই দেখছেন না, ‘২০০৬ সালের অবস্থায় এখন আর আমরা নেই। তখন আমাদের অনেক অভিজ্ঞ খেলোয়াড় ছিল, যারা ছিল নিজেদের সেরা ফর্মে। ভিয়েরা, ম্যাকেলেলে, থুরাম, বার্থেজ, জিদান...এদের মতো কেউ আর এখন নেই।’
আর্জেন্টিনাকেই এবার শিরোপার মূল দাবিদার মনে করছেন এই ৪১ বছর বয়সী, ‘অবশ্যই আর্জেন্টিনা। আর্জেন্টিনাই জিতবে। কোচ হিসেবে ম্যারাডোনাকে নিয়ে লোকে প্রশ্ন তুলতে পারে। কিন্তু আর্জেন্টিনার খেলোয়াড় তালিকার দিকে তাকিয়েছেন? লিওনেল মেসির কথা যদি বাদও দেন, এর বাইরেও ওদের অনেক প্রতিভাবান খেলোয়াড় আছে।’
দেশাইয়ের দ্বিতীয় পছন্দের নাম ইংল্যান্ড এবং তিনি মনে করেন, ফাইনালটা হবে আর্জেন্টিনা বনাম ইংল্যান্ড। ফ্যাবিও ক্যাপেলোকে কোচ হিসেবে পেয়েছিলেন মিলানে। সেই অভিজ্ঞতা থেকে বলছেন, ‘ক্যাপেলো দলকে অনেক সংগঠিত করে তোলেন। ইংল্যান্ড দলটা সুসংগঠিত হলে কতটা দুর্ধর্ষ, সেটা বাছাইপর্বেই দেখা গেছে। তিনি আসার আগে ইংল্যান্ডের এই একই দল কিন্তু ইউরোতেই যেতে পারেনি। কারণ তাদের মধ্যে শৃঙ্খলা ছিল না।’
ফ্রান্সের হয়ে খেলেছেন, ক্লাব ফুটবলের প্রায় পুরোটাই ইউরোপে। তাঁর পরও নাড়ির টান বলে কথা। সব সময়ই আফ্রিকার জন্য তাঁর হূদয়ে আলাদা জায়গা ছিল বরাদ্দ। সেই আফ্রিকাতেই প্রথমবারের মতো বসছে বিশ্বকাপের আসর। দেশাই নিশ্চয়ই উচ্ছ্বসিত? উচ্ছ্বাস-আনন্দ আছেই। বাস্তববাদী দেশাই এ-ও স্বীকার করছেন, আফ্রিকার বিশ্বকাপে আফ্রিকান কোনো দল সাফল্য না পেলে ম্যাড়মেড়েই হয়ে যাবে সব আয়োজন। ‘মিসর বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করতে পারলে ভালো হতো। হয়তো ওরা ফাইনালেও যেতে পারত। নিজেদের দেশে খেলবে বলে দক্ষিণ আফ্রিকা হয়তো বাড়তি একটা শক্তি পাবে। কিন্তু তাতে খুব একটা কাজ হবে না। আইভরিকোস্ট, ঘানা, এমনকি ক্যামেরুনও নিজেদের দিনে যেকোনো দলকে হারাতে পারে। কিন্তু সব মিলে আফ্রিকান দেশগুলোর জন্য বিশ্বকাপটা কঠিনই হবে’—বোঝাই যাচ্ছে, খুব বেশি আশা নিয়ে বিশ্বকাপ দেখতে বসবেন না দেশাই!

‘ইতিহাসের সবচেয়ে দামি ১০০ মিটার’

আয়োজকেরা এটিকে বলছেন, ‘অ্যাথলেটিকসের ইতিহাসে সবচেয়ে দামি ১০০ মিটার দৌড়’। বলতেই পারেন। যে ১০০ মিটারে উসাইন বোল্ট, আসাফা পাওয়েল ও টাইসন গে নামে তিন প্রতিদ্বন্দ্বী আছেন, সেটির তো এমন মর্যাদা পাওয়ারই কথা। তিন গতিদানবের বহু প্রতীক্ষিত এই লড়াইটা হবে আগামী ২৭ আগস্ট, ব্রাসেলসে।
১০০ ও ২০০ মিটারের বর্তমান বিশ্ব রেকর্ড উসাইন বোল্টের। ২০০ মিটারে বোল্ট প্রায় অপ্রতিদ্বন্দ্বী হলেও ১০০ মিটারে পাওয়েল ও গে খুব পিছিয়ে নেই। ১০০ মিটার স্প্রিন্টের ইতিহাসে দ্রুততম ১০টি টাইমিংই এই ত্রিমূর্তির দখলে। এই মিটের অন্যতম আয়োজক উইলফ্রাইড মির্ট যা বলছেন, সেটি তাই সবারই মনের কথা, ‘আবহাওয়া যদি ভালো থাকে, আমরা বিশ্বমানের কিছু পারফরম্যান্স দেখার আশা করতে পারি।’
ব্রাসেলসের মিটটি হবে নতুন প্রবর্তিত ডায়মন্ড লিগ সিরিজের শেষ পর্ব। ইন্টারন্যাশনাল অ্যামেচার অ্যাথলেটিকস ফেডারেশন (আইএএএফ) ১৪ পর্বের এই ডায়মন্ড লিগ শুরু করছে এত দিন ধরে আয়োজিত ছয় পর্বের গোল্ডেন লিগের পরিবর্তে। উদ্দেশ্য, অ্যাথলেটিকসের আবেদন পুরো বিশ্বে আরও ছড়িয়ে দেওয়া। এই প্রথম ইউরোপের বাইরেও হচ্ছে প্রতিযোগিতা। ১৪ মে প্রথম মিটটিই হবে কাতারের দোহায়।

শিরোপার কাছাকাছি রোনালদো-কার্লোস

রবার্তো কার্লোসের অর্জনের খাতাটা কানায় কানায় পূর্ণ বলতে পারেন। বিশ্বকাপ পদক আছে ঘরে। ৪টি লা লিগা ও ৩টি চ্যাম্পিয়নস লিগসহ ক্লাব ফুটবলে জিতেছেন প্রায় ২৫টির মতো শিরোপা। রোনালদো বিশ্বকাপ জিতলেও চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতেননি। ক্লাব ফুটবলের আর প্রায় সব শিরোপাই জিতেছেন। এর পরও এই দুই ব্রাজিলিয়ান তারকার একটি সাধারণ চাওয়া আছে—একটি লিবার্তোদোরেস কাপ জেতা।
ব্রাজিল দলে একসঙ্গে খেলেছেন দুই ‘আর’। একসঙ্গে খেলেছেন রিয়াল মাদ্রিদে। কার্লোস জাতীয় দল থেকে অবসর নিয়েছেন আর রোনালদো ২০০৬ বিশ্বকাপের পর ব্রাজিল দলে আর সুযোগ পাননি। রিয়াল ছেড়ে গিয়েছিলেন এসি মিলানে। কার্লোসও রিয়াল ছেড়ে যোগ দিয়েছিলেন তুরস্কের ক্লাব ফেনেরবাচেতে।
ভাগ্য ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে আবার এক জায়গায় করে দিয়েছে দুজনকে। রোনালদো আর কার্লোস এখন একসঙ্গে খেলেন ব্রাজিলের ক্লাব করিন্থিয়ানসে। একসঙ্গে জিততে চান লিবার্তোদোরেস কাপ। সে পথে অনেকটাই এগিয়ে গেছে রোনালদো-রবার্তোর দল। পরশু প্যারাগুয়ের সেরো পোর্তেনোর বিপক্ষে ২-১ গোলে জিতে পয়েন্ট গ্রুপের শীর্ষে উঠে গেছে করিন্থিয়ানস। ৪ ম্যাচে ১০ পয়েন্ট তাদের। উরুগুয়ের রেসিংয়ের চেয়ে ৩ পয়েন্ট বেশি।
পরশু পোর্তেনোর বিপক্ষে করিন্থিয়ানসের ২-১ গোলের জয়ে অবদান আছে রোনালদোর। তাঁর গোলেই প্রথম এগিয়ে যায় করিন্থিয়ানস (১-০)

প্রধানমন্ত্রীর পুরস্কারের আশায় দিন গোনা

দক্ষিণ এশীয় গেমস শেষ হয়েছে প্রায় দুই মাস হতে চলল। অথচ এখনো প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত আর্থিক পুরস্কার পেলেন না পদকজয়ী খেলোয়াড়েরা।
গত ২৯ জানুয়ারি থেকে ৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এসএ গেমসের আগে বাংলাদেশ দলের পদকজয়ীদের অর্থ পুরস্কারের ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী। সোনা-রুপা-ব্রোঞ্জের জন্য ঘোষিত পুরস্কার ছিল ৫ লাখ, ২ লাখ ও ৫০ হাজার টাকা। দলীয় সোনার জন্য ছিল বড় অঙ্কের পুরস্কার।
বাংলাদেশ দল ১৮টি সোনা জিতেছে এবং সব মিলিয়ে পদকজয়ী খেলোয়াড় ৯৭ জন। দলীয় খেলায় সোনা জিতেছে ফুটবল ও ক্রিকেট। দুই দলেরই ১৫ লাখ টাকা করে পাওয়ার কথা। তবে দলের সব সদস্যই যাতে এক লাখ টাকা করে পান, তা নিয়ে সরকারের উচ্চমহলে কথা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
প্রশ্ন হচ্ছে, কবে এই টাকা পাবেন খেলোয়াড়েরা? তাঁদের অনেকেই হতাশ মনে বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর দিকে তাকিয়ে আছি। যেভাবে দিন যাচ্ছে, তাতে সন্দেহ হয় টাকা পাব কি না!’
বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন (বিওএ) সেনাপ্রধান জেনারেল আবদুল মুবীন এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলবেন বলে বিওএ কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন। তিনি কথা বললেই সময়ক্ষণ চূড়ান্ত হবে বলে তাঁদের ধারণা। কারও কারও অনুমান, রাশিয়া সফরের পর সময় দিতে পারেন প্রধানমন্ত্রী।