Sunday, August 21, 2011

গল্প- পৃথিবীর দীর্ঘতম হাত by হুমায়ূন মালিক

রোজ ভোরে উঠে তিনি মহামহিয়ান ঈরম আইকনের সামনে দাঁড়িয়ে প্রার্থনা করেন, আমি তোমার অসীম শক্তিতে বিলীন হয়ে হতে চাই দুনিয়ায় তোমারই মতন সর্বদ্রষ্টা, সর্বগামী, সর্বশক্তিমান। আমাকে তুমি তোমাতে বিলীন হতে দাও কিংবা তুমি তোমার সব গুণাবলিসমেত আমাতে আছর হও। তাহলে আমি যেকোনো সময় যেকোনো মানুষের, প্রয়োজনে শয়তানের রূপ ধরে যা ইচ্ছা তাই করতে পারি। এভাবে তিনি প্রার্থনায় এবং কর্মে ঈরমচর্চায় লিপ্ত থাকেন। তিনি তাঁর অতিকায় সাদা ভবনের চূড়ায় দাঁড়িয়ে দেখেন তাঁর একচ্ছত্র আধিপত্যের দুনিয়ায় কোথাও কোনো পাতা নড়ে কি না বা কোনো পতঙ্গ ওড়ে কি না তাঁর হুকুম কিংবা ইচ্ছার বাইরে।

ইতিহাস- কালা পানির অনশন by ইবনে মুতালিব

৯ মে ১৯৩৩, আন্দামান সেলুলার জেলে অনশনরত বিপ্লবী মহাবীর সিংকে ‘ফোর্সড ফিডিং’ জোর করে খাওয়ানোর নামে জেলখানার সেপাইরা তাঁকে মেরেই ফেলে। সেপাইরা কারা প্রকোষ্ঠে ঢুকে তাঁর বুকে, পেটে ও হাঁটুতে চেপে বসে, মাথাটা একজন সেপাইয়ের দুই পায়ের মাঝখানে ঠেসে ধরে, তারপর নাক দিয়ে ঢুকিয়ে দেওয়া হয় পুরু নল। মহাবীর সিং প্রতিরোধের আপ্রাণ চেষ্টা অব্যাহত রাখেন। কালিপদ চক্রবর্তী আন্দামানে মহাবীর সিংয়ের সহবন্দী লিখছেন: হিংস্র সেপাইদল এতটাই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে যে, তাদের বর্বরতা ও জবরদস্তি চরমে ওঠে।

সাক্ষাৎকার- লেখক না হলে গোয়েন্দা হতাম by রোবেরতো বোলানিও

লাতিন আমেরিকার অন্যতম শ্রেষ্ঠ লেখক রোবেরতো বোলানিওকে বলা হয় বোর্হেসের যোগ্য উত্তরসূরি। রোবেরতো বোলানিওর জন্ম ১৯৫৩ সালের ২৮ এপ্রিল চিলির সান্তিয়াগোতে। বাবা ছিলেন ট্রাকচালক আর মা স্কুলশিক্ষিকা। ১৯৬৮ সালে তাঁদের পরিবার মেক্সিকো সিটিতে চলে যায় জীবিকার অন্বেষণে। বোলানিওর পড়াশোনায় ছেদ পড়ে। তিনি সাংবাদিকতা শুরু করেন, যুক্ত হন বাম রাজনীতির সঙ্গে। চিলির প্রেসিডেন্ট সালবাদর আয়েন্দের নেতৃত্বাধীন সরকারের বিপ্লবী কর্মকাণ্ডে সহযোগিতার জন্য বোলানিও ১৯৭৩ সালে চিলিতে ফিরে আসেন আর সে বছরই মার্কিন সাম্রাজ্যবাদীদের সমর্থনপুষ্ট জেনারেল পিনেশে পরিচালিত রক্তক্ষয়ী সামরিক অভ্যুত্থানে নিহত হন আয়েন্দে।

বই পরিচিতি- অভিবাসী মানুষদের উপন্যাস by আখতার জামান

শীতপাখিরা: ওয়াসি আহমেদ \ প্রকাশক: শুদ্ধস্বর \ ফেব্রুয়ারি ২০১১ \ প্রচ্ছদ: শিবু কুমার শীল \ ১৩৬ পৃষ্ঠা \ ২২৫ টাকা শীতপাখিরা কি সুখের পাখি? কেবল প্রয়োজনে তারা স্থান বদলায়? তাদের সংবদ্ধতা আসলে স্বার্থপরতার নামান্তর? না, শীতপাখিদের নিয়মটাই এমন। এ তাদের অভ্যাস, অভিযোজন বা আসলে প্রকৃতিকে মোকাবিলা করার এক পন্থা। ফলে পাখিদের আর মানুষদের অভিবাসনের পার্থক্য তো থাকেই। ওয়াসি আহমেদ কেন তবে ইংল্যান্ড অভিবাসী মানুষদের শীতপাখি বললেন। পাখিদের যে জীবন, মানুষদের তো সে জীবন না।

বই পরিচিতি- আগুনের পরশমণি by কাজল রশীদ

জীবন ও মৃত্যুর তুল্যবিচারে মৃত্যু সহজ। দুঃখ-কষ্ট, বিপদ-আপদ, জ্বালা-যন্ত্রণা, জীবনে বহমান। মৃত্যু তা থেকে মুক্তি দেয়। অমোঘ বাস্তবতা হলো জীবন যোজন-যোজন স্বপ্ন-সম্ভাবনাকে ধারণ করে। জীবন থেকে তৈরি হয় আগুন, যার নিরিখে ব্যক্তি নন্দিত কিংবা নিন্দিত হয়। ইতিবাচক কিংবা নেতিবাচক মাত্রা নিরূপিত হয়। দ্বিবিধ এই প্রক্রিয়ার মধ্যেই কারও জীবন হয় আগুনের পরশমণি। তবে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আহ্বান, আগুনের পরশমণি ছোঁয়াও প্রাণে। ইলা মিত্র হলো আগুনের পরশমণির অনন্য এক উদাহরণ। নানা চড়াই-উতরাই আর প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে যিনি নিজের বিশ্বাস ও আদর্শকে উচ্চকিত ও মহিমান্বিত করেছেন। কৃষিপ্রধান এই শ্যামল মৃত্তিকার অবিস্মরণীয় চরিত্র ইলা মিত্রকে বিস্তৃত পরিসরে জানার সুযোগ করে দিয়েছেন মালেকা বেগম। তাঁর বই ইলা মিত্র:

চিকিৎসকেরা ভুল করেন না, অবহেলা তো নয়ই! by মশিউল আলম

বাংলাদেশের সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিকগুলোতে ভুল চিকিৎসায় ও চিকিৎসকদের অবহেলায় প্রতিবছর কত মানুষের মৃত্যু হয়? অঙ্গহানি ঘটে কতজনের? এ রকম জিজ্ঞাসার উদয় হতে পারে তাঁদের কারও কারও মনে, যাঁদের কোনো স্বজন এভাবে মারা যায়। কিন্তু এ প্রশ্নের উত্তর মেলে না। কারণ, এই দেশে এ বিষয়ে কোনো পরিসংখ্যান নেই। চিকিৎসা-প্রতিষ্ঠানগুলো বা চিকিৎসকেরা কেউই স্বীকার করেন না যে তাঁদের ভুল হয়, কর্তব্যপালনে অবহেলা ঘটে এবং তার ফলে রোগী মারা যায়। স্বীকার না করলে এ সম্পর্কে কোনো নথিপত্র তৈরি বা সংরক্ষণ করারও প্রশ্ন আসে না। তাই ভুল চিকিৎসায় বা চিকিৎসাক্ষেত্রে অবহেলার কারণে রোগীর মৃত্যু বলে যে একটা ব্যাপার আছে, বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে তার অস্তিত্ব নেই। তা হলে আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যাপারটা দাঁড়াচ্ছে এ রকম: বাংলাদেশে চিকিৎসকেরা ভুল করেন না, অবহেলা তো নয়ই!
প্রসঙ্গটি উঠল একজন প্রতিভাবান মানুষকে অপ্রত্যাশিতভাবে হারানোর কারণে। তিনি সংগীতশিল্পী, সংগীত-গবেষক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত ও নাট্যকলা বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মৃদুলকান্তি চক্রবর্তী। চলচ্চিত্রকার তারেক মাসুদ ও সিনেমাটোগ্রাফার-সাংবাদিক মিশুক মুনীরকে হারিয়ে জাতি যখন শোকগ্রস্ত, সংবাদমাধ্যমের প্রায়-সমস্ত মনোযোগই যখন তাঁদের ঘিরে দেশের সড়ক যোগাযোগব্যবস্থার বেহাল দশার প্রতি, তখন মাত্র দুই দিন ডায়রিয়ায় ভুগে মারা গেলেন মৃদুলকান্তি চক্রবর্তী। আক্রান্ত অবস্থায় তাঁকে রাজধানীর অন্যতম বেসরকারি হাসপাতাল ল্যাবএইডে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেখানে তিনি সুস্থ হননি, প্রাণ হারিয়েছেন। তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, ভুল চিকিৎসায় ও দীর্ঘসূত্রতার কারণে তিনি মারা গেছেন। কিন্তু ল্যাবএইড কর্তৃপক্ষ তাদের চিকিৎসকদের ভুল বা চিকিৎসায় দীর্ঘসূত্রতার অভিযোগ স্বীকার করেনি।
অধ্যাপক মৃদুলকান্তি চক্রবর্তী সাধারণ কেউ হলে এ ঘটনা হয়তো সংবাদমাধ্যমে স্থান পেত না। তাঁর আত্মীয়স্বজনের শত বিলাপ, শত অভিযোগ নিষ্ফলভাবে মিলিয়ে যেত বাতাসে। মৃদুলকান্তি চক্রবর্তীর এই আকস্মিক, অপ্রত্যাশিত মৃত্যুতে তাঁর পরিবারসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা প্রচণ্ড বিক্ষোভে ফেটে পড়েন; তাঁরা এই মৃত্যুর জন্য দায়ী চিকিৎসকদের নাম প্রকাশ, ল্যাবএইড হাসপাতাল থেকে তাঁদের বহিষ্কারের দাবি জানান। তাঁরা আরও দাবি করেন, ল্যাবএইড কর্তৃপক্ষকে গণমাধ্যমে বিবৃতি দিয়ে জাতির কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে এবং মৃদুলকান্তি চক্রবর্তীর পরিবারকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। বিষয়টি হাইকোর্ট পর্যন্ত গড়ায়; এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট ল্যাবএইড হাসপাতালের চেয়ারম্যান, সব পরিচালক, প্রধান কনসালন্ট্যান্ট ও সংশ্লিষ্ট চিকিৎসককে তলব করেন। ২৩ আগস্ট আদালতে হাজির হয়ে তাঁদের বিরুদ্ধে আনা চিকিৎসায় অবহেলার বা দীর্ঘসূত্রতার অভিযোগের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে হবে। এসব চাপের মুখে ল্যাবএইড কর্তৃপক্ষ মৃদুলকান্তি চক্রবর্তীর পরিবারকে ৫০ লাখ টাকা দিয়েছে, কিন্তু তারা বলছে, ভুল চিকিৎসা বা চিকিৎসায় অবহেলার কারণে রোগীর মৃত্যুর ক্ষতিপূরণ হিসেবে তারা এ টাকা দেয়নি, দিয়েছে করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার তহবিল থেকে ‘সহায়তা’ হিসেবে। অর্থাৎ, ল্যাবএইড কর্তৃপক্ষ তার আগের অবস্থানেই অটল রয়েছে—মৃদুলকান্তি চক্রবর্তীর চিকিৎসায় তাদের কোনো ভুল বা অবহেলাজনিত কালক্ষেপণ/ দীর্ঘসূত্রতা ছিল না।
ডায়রিয়া-আক্রান্ত মৃদুলকান্তি চক্রবর্তীকে সোমবার সকাল পৌনে ১০টায় ল্যাবএইড হাসপাতালে নেওয়া থেকে বেলা সাড়ে ১১টায় তাঁকে মৃত ঘোষণা করা পর্যন্ত ঘটনার বিবরণ দুই পক্ষে দুই রকম। তবে তাঁর চিকিৎসা-প্রক্রিয়া ও মৃত্যু সম্পর্কে ল্যাবএইড কর্তৃপক্ষ যে বক্তব্য সংবাদমাধ্যমে দিয়েছে, সেখানে এক জায়গায় বলা হয়েছে, ‘তাঁকে (মৃদুলকান্তি চক্রবর্তী) আইসিইউতে ভর্তি হতে বলা হলেও পারিবারিকভাবে সিদ্ধান্ত নিতে কিছুটা বিলম্ব হয়।’ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত, পানিশূন্যতায় মুমূর্ষু একজন রোগীকে হাসপাতালে নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেখানকার চিকিৎসক ও চিকিৎসা ব্যবস্থাপকদের দায়িত্ব তাঁকে বাঁচানোর জন্য যা করা দরকার, তা-ই করা। ভর্তিসংক্রান্ত আনুষ্ঠানিকতায় কালক্ষেপণের ফলে রোগীর মৃত্যু হলে ইমার্জেন্সি বা জরুরি চিকিৎসার থাকল কী? এ রকম আনুষ্ঠানিকতা শুধু ল্যাবএইড কেন, পুরো দেশের চিকিৎসাব্যবস্থাতেই এক বিরাট সমস্যা। কোনো কোনো বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক আগে টাকা নেয়, তারপর রোগীর দিকে তাকায়। প্রচুর অর্থ ব্যয় করে বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিকগুলোতে চিকিৎসা নিতে গিয়ে মানুষ চিকিৎসক ও সেবক-সেবিকাদের অবহেলা-অমনোযোগের শিকার হয়। এ সম্পর্কে তিক্ত অভিজ্ঞতা আমাদের সবারই কমবেশি আছে; সংবাদকর্মীদের লেখায় সে বিবরণ যথেষ্ট হবে না। সাধারণ মানুষ অসহায়, অসাধারণ যাঁরা, তাঁরাও যে ভুল চিকিৎসায় স্বজনের মৃত্যুর ক্ষতিপূরণ পান, তা নয়।
কিন্তু মাঝেমধ্যে এমন ব্যতিক্রমী পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, যা সতর্ক হওয়ার সুযোগ এনে দেয়। ল্যাবএইডের এ ঘটনা বাংলাদেশের সব চিকিৎসা-প্রতিষ্ঠানের চিকিৎসক ও ব্যবস্থাপকদের জন্য সেই সুযোগ এনে দিয়েছে। সতর্ক হতেই হবে, রোগীদের প্রতি মনোযোগ দিতেই হবে। চিকিৎসক বা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কেউই রোগীর মৃত্যু কামনা করে না বটে, কিন্তু রোগীর প্রতি মনোযোগের অভাব বা অবহেলা থাকলে এমন ভুলত্রুটি ঘটে যেতে পারে, যা রোগীর মৃত্যু ডেকে আনে। বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোর ব্যবস্থাপক ও চিকিৎসকেরা যদি মনে করেন চিকিৎসা শুধু ব্যবসা, ঠিক আছে, সেই ব্যবসাটাই আপনারা ভালোভাবে করুন, সৎভাবে করুন। মানুষ মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে আপনাদের কাছে চিকিৎসা কিনতে যায়, বিনা পয়সায় সেবা নিতে যায় না। মানুষ জানে এবং মানে, আপনারা চ্যারিটেবল ডিসপেনসারি খুলে বসেননি, টাকা বানাতে নেমেছেন। তো টাকা আপনারা বানান, কিন্তু সে টাকার বিনিময়ে রোগীকে মানসম্মত চিকিৎসা দেবেন না কেন? কেন রোগীর প্রতি অমনোযোগ? কেন অবহেলা?
আর চিকিৎসা-ব্যবসাটা যদি আপনারা ভালোভাবে করতে চান, ভুলত্রুটি হলে স্বীকার করুন, বিশ্লেষণ করে দেখুন কী কী ভুল হয়েছে। এ দেশে ওষুধের বেঠিক ব্যবহার, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, একাধিক ওষুধের মধ্যে মিথস্ক্রিয়ার বিরূপ প্রভাব ইত্যাদি নিরূপণের চর্চা নেই। ডায়রিয়া-আক্রান্ত মৃদুলকান্তি চক্রবর্তী ল্যাবএইড হাসপাতালে যখন পৌঁছান, তখন তাঁর শারীরিক অবস্থা এমন ছিল যে তিনি হাঁটতে পারছিলেন। সেই রোগীই মাত্র দেড় ঘণ্টা পরে কেন মারা গেলেন—এটা কি পরীক্ষা-নিরীক্ষার বিষয় নয়? কিন্তু সে রকম উদ্যোগ কি নেওয়া হবে? সংবাদপত্রে প্রকাশিত ল্যাবএইডের দেওয়া চিকিৎসার বিবরণ পড়ে একজন চিকিৎসক টেলিফোনে মন্তব্য করলেন: ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বা আন্তক্রিয়ার (ড্রাগ ইন্টার-অ্যাকশন) ফলে মৃদুলকান্তি চক্রবর্তীর মৃত্যু ঘটে থাকতে পারে। তাঁরা বলছেন, রোগীর হাইপার ক্যালিমিয়া ছিল, অর্থাৎ রোগীর কিডনি সঠিকভাবে কাজ করছিল না; ফলে অন্যান্য উপসর্গের পাশাপাশি হঠাৎ হূদ্যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে রোগী মারা গেছেন। কিন্তু রোগীর কিডনির কাজ ব্যাহত হচ্ছিল কখন থেকে? তাঁকে ওষুধ দেওয়ার পরই তাঁর অবস্থার অবনতি ঘটে। ডায়রিয়া রোগীর পটাশিয়ামের মাত্রা যেখানে কমে যায়, সেখানে তাঁর বেড়ে গিয়েছিল কেন—এই বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা দরকার। যেসব দেশ চিকিৎসাবিজ্ঞানে ও চিকিৎসাব্যবস্থায় উন্নতি করেছে, তারা নিয়মিতভাবে এ রকম পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে থাকে। ভুল চিকিৎসার নথিপত্র তারা সংরক্ষণ করে, বিশ্লেষণ করে। মৃত রোগীদের রোগের বিবরণ, ব্যবহূত ওষুধপত্রের উল্লেখসহ চিকিৎসার পুরো বিবরণ তারা নথিভুক্ত করে, চিকিৎসাবিজ্ঞানের শিক্ষার্থী ও গবেষকেরা সেগুলো কেস স্টাডি হিসেবে পাঠ করেন, তা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেন।
মৃদুলকান্তি চক্রবর্তীর প্রাণের বিনিময়ে যদি আমাদের হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোর কর্তৃপক্ষ ও চিকিৎসকদের মধ্যে এই বোধোদয় ঘটে যে তাঁদের কাজ বা ব্যবসা মানুষের প্রাণ ও স্বাস্থ্য নিয়ে, যদি তাঁদের মনে এই উপলব্ধি জাগে যে মানুষের প্রাণের মূল্য ৫০ লাখ কেন, কোনো অঙ্কের টাকাই হতে পারে না, তবেই মঙ্গল। এই বাবদে আমাদের সরকার বাহাদুরেরও টনক নড়া উচিত: বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলো মনিটর করা সরকারেরই দায়িত্ব। নজরদারি ও জবাবদিহির সম্পূর্ণ ঊর্ধ্বে থেকে কোনো ব্যবস্থাকেই চলতে দেওয়া উচিত নয়; চিকিৎসাব্যবস্থার মতো জরুরি ব্যবস্থাকে তো নয়ই।
মশিউল আলম: সাংবাদিক।
mashiul.alam@gmail.com

বড় গ্রুপের নিয়ন্ত্রণ মানেই সিন্ডিকেট নয় by মোহাম্মদ হেলাল

রমজান মাস এলেই নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ে পত্রপত্রিকায় প্রচুর লেখালেখি হয়। কারণ একটাই। বাজারে এসবের দাম চড়া। চাহিদা বাড়লে দাম বাড়বে—এ কথা বোধ হয় কেউ মানতে চায় না। বরং সবার বক্তব্য, চাহিদা বাড়বে, তা তো ব্যবসায়ীদের অজানা নয়। তাহলে চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সরবরাহ বাড়ছে না কেন?
এটা ঠিক যে রমজান মাস উপলক্ষে প্রচুর পণ্য আমদানি হয়েছে। এতে বাজারে সরবরাহ বেড়েছে। তার পরও দাম বাড়তে থাকায় এটাকে বাজারে প্রতিযোগিতার অভাব বলে চিহ্নিত করছে কেউ কেউ। যেমন, প্রথম আলোর ১ আগস্ট সংখ্যায় ‘নিত্যপণ্যের বাজার পাঁচ শিল্প গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন ছাপা হয়েছে। এর মূল বক্তব্য ছিল এ রকম—দেশের ভোগ্যপণ্যের বাজার পাঁচ বড় ব্যবসায়ী গ্রুপের হাতে চলে গেছে। তারাই সবচেয়ে বেশি পণ্য আমদানি ও বাজার নিয়ন্ত্রণ করে। তাই বাজারে প্রতিযোগিতাও কমে গেছে।
বাজারের চাহিদার সিংহভাগ এই পাঁচ গ্রুপ মেটাচ্ছে, তাতে সন্দেহ নেই। কিন্তু এ কারণে বাজারে প্রতিযোগিতা কমে যাওয়ার উপসংহারটা মেনে নেওয়া কঠিন। বরং প্রতিযোগিতা বাড়ার ফলে অপেক্ষাকৃত ছোট ও কম দক্ষতাসম্পন্ন ব্যবসায়ীরা প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে ব্যবসা বন্ধ করে দিয়ে চলে গেছেন। আর তাই বাজারের সিংহভাগ চাহিদা এই গ্রুপগুলো মেটাচ্ছে বা মেটাতে পারছে, এটাই বেশি যুক্তিসংগত মনে হয়।
একসময় অর্থনীতির শাস্ত্রে অল্প কয়েকজনের হাতে বাজারের চাহিদার সিংহভাগ পূরণ হওয়াকে প্রতিযোগিতার অভাব হিসেবে চিহ্নিত করা হতো। এখন কিন্তু প্রতিযোগিতার অভাব উপসংহারে এত সহজে পৌঁছানো যায় না। বরং বাজারের নিয়ন্ত্রণ অল্প সংখ্যা হাতে যাওয়ার কারণকে প্রথমে অনুসন্ধান করা হয়। অল্প কজনের শক্তিশালী উপস্থিতি যখন খরচ সাশ্রয়ের কারণে হয়, তখন কিন্তু প্রতিযোগিতার অভাব হিসেবে একে দেখা হয় না। সরকারের কোনো নীতিনির্ধারণী বাধা কিংবা শক্তিশালী কোনো ব্যবসায়ী বা ব্যবসায়ী গ্রুপের কৌশলী বাধার কারণে অল্প কজন থাকলে তাকে প্রতিযোগিতার অভাব হিসেবে দেখা হয়।
তবে বাজারে অল্প কজনের উপস্থিতি এবং খরচ সাশ্রয় নির্ভর করে প্রযুক্তির ধরনের ওপর। অনেক সময় বড় আকারের উৎপাদন কিংবা বাণিজ্যিক কার্যক্রমে গড় খরচ অপেক্ষাকৃত কম পড়ে। ফলে অপেক্ষাকৃত ছোটরা ঝরে যায়। আবার মোট দেশজ চাহিদার পরিমাণ কম হলে অল্পসংখ্যক উৎপাদনকারীই বড় আকারের কার্যক্রম নিয়ে টিকে থাকে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও আসলে তা-ই ঘটেছে। আমরা যদি বিষয়টি বাংলাদেশের ভোজ্যতেলের ব্যবসায়ী/ পরিশোধনকারী/আমদানিকারকদের দিয়ে ব্যাখ্যা করি, তাহলে বুঝতে অনেক সহজ হবে।
আশির দশকের শেষ দিকে বাংলাদেশে ৬০-৭০টি ভোজ্যতেল শোধনাগার ছিল ২০-২৫ জন ব্যবসায়ীর মালিকানায়। এই শোধনাগারগুলোর প্রতিটির দৈনিক পরিশোধনক্ষমতা ছিল ৩০ থেকে ৫০ টন। বর্তমানে এগুলো প্রায় সবই বন্ধ হয়ে গেছে। অন্যদিকে বড় আকারের নতুন নতুন শোধনাগার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বর্তমানে ২০টির মতো শোধনাগার রয়েছে ৮-১০ জনের বা গ্রুপের মালিকানায়। এগুলোর দৈনিক পরিশোধনক্ষমতা ১৫০ থেকে এক হাজার টন। এই যে পরিবর্তন, তা এসেছে প্রযুক্তির ধরন পাল্টানোর কারণে। আর প্রযুক্তির ধরন পাল্টেছে খরচ সাশ্রয়ের জন্য।
অপরিশোধিত ভোজ্যতেল পরিশোধন করার সময় সাধারণত ৩ থেকে ৬ শতাংশ পর্যন্ত অপচয় হয়। এই অপচয় বা বিনষ্ট হওয়ার পরিমাণ কমে আসে যদি ভালো বড় শোধনাগারে তা পরিশোধন করা হয়। এ ছাড়া বিভিন্ন ধরনের খরচেরও সাশ্রয় হয় বড় শোধনাগারে।
অন্যদিকে বড় শোধনাগারের জন্য অনেক বেশি পরিমাণে অপরিশোধিত তেল আমদানির ক্ষেত্রেও খরচ সাশ্রয় হয়। বাংলাদেশে বর্তমানে দৈনিক হাজার টনের ক্ষমতাসম্পন্ন শোধনাগার রয়েছে অন্তত দুটি। দেশে বর্তমানে ১২ থেকে ১৪ লাখ টন ভোজ্যতেলের চাহিদা মেটানোর জন্য আমাদের এ রকম বড় আকারের চার-পাঁচটি শোধনাগার থাকলেই চলে। এখন যদি বড় আকারের অনেকগুলো শোধনাগার থাকে, তাহলে প্রতিটিই তার ক্ষমতার চেয়ে অনেক কম ব্যবহূত হবে। এতে করে প্রতিটি শোধনাগারে পরিশোধন ব্যয় বেড়ে যাবে। সে ক্ষেত্রে ৮-১০টি ব্যবসায়ী গ্রুপও ভবিষ্যতে সক্রিয় না-ও থাকতে পারে।
ফলে এ কথাই আসলে মানা উচিত যে অল্প কয়েকটি শিল্প গ্রুপের হাতে ভোজ্যতেলের আমদানি-পরিশোধন চলে যাওয়াটা কোনো কারসাজির ব্যাপার নয়, বরং নেহাতই দক্ষতাপ্রসূত ভারসাম্যের ফল। শুধু ভোজ্যতেল নয়; চিনিসহ অন্যান্য অনেক নিত্যপণ্যের ক্ষেত্রে এ দক্ষতার বিষয়টি সত্য।
আরেকটি প্রশ্নের উত্তর এখনো মেলেনি, তা হলো, এই পাঁচ গ্রুপের প্রতিটিই মোটামুটিভাবে সব নিত্যপণ্যের সঙ্গে জড়িত। সেটা কেন? এ ক্ষেত্রেও খরচ সাশ্রয়ই মূল কারণ। নিত্যপণ্যের উৎপাদন কিংবা পরিশোধনের ক্ষেত্রে কিছু উপকরণের একই সঙ্গে বিভিন্ন পণ্যের ব্যবহারের ফলে খরচ কমে আসে। অনেকগুলো পণ্য একসঙ্গে বিপণনের ক্ষেত্রেও খরচ সাশ্রয় হয়। কিছুদিন আগে আমার একটা গ্রুপের শিল্প স্থাপনা ঘুরে দেখার সুযোগ হয়। দেখলাম, ওই গ্রুপ একসঙ্গে অনেক পণ্য উৎপাদন করার জন্য নিজস্ব বিদ্যুৎ উৎপাদন প্ল্যান্ট বসিয়েছে। আর এই পাওয়ার প্ল্যান্টের স্টিম ব্যবহার করছে ভোজ্যতেল পরিশোধনের জন্য। এ ব্যবস্থাপনা অবশ্যই খরচ-সাশ্রয়ী।
এখন কেউ প্রশ্ন করতেই পারেন, এই খরচ সাশ্রয়ের ফল আমরা পাচ্ছি কি না। নাকি তারা একত্র হয়ে সিন্ডিকেট করে দাম বাড়াচ্ছে। এর উত্তর পেতে আমাদের বিশ্ববাজারের গতিবিধির সঙ্গে অভ্যন্তরীণ বাজারের পর্যাপ্ত তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে তাদের দাম-নির্ধারণী প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করতে হবে। অপ্রতুল তথ্য-উপাত্ত হাতে নিয়ে চট করে এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্তে আসা যাবে না। তবে এটুকু বলা যায়, প্রযুক্তির ধরন, উৎপাদন-দক্ষতা এবং সময়ের দাবিতেই এই পাঁচ গ্রুপের হাতে নিত্যপণ্যের বাজারের নিয়ন্ত্রণ এসেছে।
কিন্তু এ সুবিধা ব্যবহার করে নিজেরা যোগসাজশের মাধ্যমে বাজারকে অস্থিতিশীল করছে কি না, তা জানতে হলে আরও নিবিড় পর্যালোচনা প্রয়োজন, প্রয়োজন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ। সরকার যদি কম দামে পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে চায়, তাহলে কম খরচে উৎপাদন উৎসাহিত করতে হবে। অর্থাৎ প্রযুক্তির ধরনের কারণে অল্পসংখ্যক উৎপাদককে দিয়ে উৎপাদন কার্যক্রম চালাতে হবে। তারপর প্রয়োজন হলে খরচের কাছাকাছি দাম রাখার জন্য নিয়ন্ত্রণমূলক বা রেগুলেটরি পদক্ষেপ নিতে পারে। তাই কোনো ধরনের বিচার-বিবেচনা ছাড়া বাজারের দাম নিয়ন্ত্রণ করার আরোপিত চেষ্টা দীর্ঘ মেয়াদে সুফল বয়ে আনবে না।
মোহাম্মদ হেলাল: সহকারী অধ্যাপক, অর্থনীতি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
helalum@yahoo.com

আমার বন্ধু মিশুক by ম. তামিম

যে কজন মানুষের সান্নিধ্যে আমার আজকের ‘আমি’র বুনিয়াদ বা ভিত্তি তৈরি হয়েছিল, আশফাক মুনীর মিশুক ছিল তার অন্যতম। আজ থেকে ৪৬ বছর আগে ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুলে প্রথম শ্রেণীতে আমাদের জীবনের যাত্রা শুরু। আজ এই ২০১১ সালে এসে মিশুকের মৃত্যুতে আমার পরিণত এই দেহ ও মনের একটি গাঁথুনি যেন ভেঙে পড়ে গেল!
ছোটবেলার টুকরো টুকরো বেশ কিছু স্মৃতি হঠাৎ মনের কোণে উঁকি দিয়ে যায়—খেলার কথা, ক্লাস পালিয়ে মুহসীন হলের লিফটে ওঠানামা করা, নাটক, কবিতা, দেয়ালপত্রিকার প্রকাশনা ইত্যাদি। একটু বড় হওয়ার পর থেকেই ওর ছবি তোলা এবং ক্যামেরার প্রতি ঝোঁক মোটামুটি ওর পরিচয়ে পরিণত হয়। প্রথম থেকেই প্রথাগত লেখাপড়ার প্রতি ওর একটা অনাগ্রহ ছিল, যে কারণে ক্লাসের ভালো ছাত্র ওকে কখনোই বলা যেত না। কিন্তু তার পরও ওর সহজাত সৃষ্টিশীল প্রতিভাকে অস্বীকার করার উপায় ছিল না। ভালো ছাত্র না হয়েও বন্ধু ও শিক্ষকদের কাছে মিশুক ছিল অত্যন্ত প্রিয়। ওর সঙ্গের ছোটবেলার কোনো ঘটনা বা স্মৃতির বিস্তারিত বর্ণনা আমার মনে নেই, কিন্তু যেটি রক্তে-মাংসে-অস্থিতে প্রোথিত হয়ে আছে, সেটি হলো ওর ব্যক্তিত্ব; আর সেই সঙ্গে একটা প্রচণ্ড ভালো লাগার, ভালোবাসার ও বন্ধুতার অনুভূতি।
পৃথিবীতে সত্যিকার অর্থে চোখ ও মনখোলা উদারচিত্তের মানুষের খুবই অভাব। আর আমাদের দেশে তো সে রকম মানুষ পাওয়া এককথায় বিরল। মিশুক ছিল এ দেশের সেই সব বিরল মানুষের প্রকৃষ্ট উদাহরণ। সদা হাস্য, জ্ঞান, বুদ্ধি, প্রতিভায় উদ্ভাসিত মিশুককে কখনো রাগ করতে দেখিনি। নিরহংকার, সহজ ও সত্যভাষী ছেলেটি প্রতিটি মানুষকে মানুষ হিসেবে প্রাপ্য সম্মান ও মর্যাদা দিয়ে কথা বলত—তার সামাজিক অবস্থান বা পদ দেখে নয়। যে কারণে মুহূর্তেই সবাই তাকে বন্ধু হিসেবে বরণ করে নিত। ওর নামের সার্থকতা জীবনের শেষ দিনটি পর্যন্ত সবাইকে বুঝিয়ে দিয়ে গেছে।
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় আমরা সপ্তম শ্রেণীর ছাত্র। ওর বাবা শহীদ মুনীর চৌধুরীকে আমরা বন্ধুর বাবা হিসেবেই দেখেছি। তাঁর মৃত্যুতে কিশোর মিশুকের মানসিক যন্ত্রণা, পারিবারিক সংগ্রাম—আমরা কিছুই বুঝতে পারিনি। শুধু ওর পছন্দের কাজের একাগ্রতাকে আরও শাণিত হতে দেখেছি। স্কুল-কলেজ পেরিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে যখন ভর্তি হলো, তখন ওর জীবনের দিকনির্দেশনা ঠিক হয়ে গেছে। সেই ছোটবেলায় ক্যামেরা খুলে দেখার মধ্যে কারিগরি অনুসন্ধিৎসার যে অঙ্কুরের জন্ম, সেটা ধীরে ধীরে প্রস্ফুটিত হয়েছে গণমাধ্যমে প্রযুক্তির ব্যবহারের ব্যুৎপত্তি লাভের মধ্য দিয়ে। এই প্রযুক্তির জ্ঞান কিন্তু ওর স্বশিক্ষা আর অন্বেষার ফল; কোনো প্রাতিষ্ঠানিক সাহায্য ছাড়াই। সাত বছর জাতীয় জাদুঘরে আর ১০ বছর বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতার পর ওর সব অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান প্রয়োগের সুযোগ আসে একুশে টেলিভিশনের সংবাদ বিভাগের দায়িত্ব লাভের মাধ্যমে। প্রচারবিমুখ ক্যামেরার পেছনের মানুষটি শুরু করে নতুন প্রজন্মের ক্যামেরার সামনের সৈনিক তৈরিতে।
মিশুক ২০০১ সালে ব্যক্তিগত কারণে কানাডায় পাড়ি দেয়। ১০ বছর পর গত বছর এটিএন নিউজের প্রধান নির্বাহীর দায়িত্ব নিয়ে ঘরের ছেলে আবার ঘরে ফিরে আসে। প্রায় ১০ বছর পর, এই বছরের শুরুতে মুন্নী সাহার অফিসে ওর সঙ্গে আমার আবার দেখা। চলন, বলন, আচরণ, হূদ্যতা, আন্তরিকতা, বুদ্ধির দীপ্তিতে আমি ফিরে পেলাম আমার সেই বালকবেলার মিশুককে। আনন্দ-উচ্ছ্বাসে দুজনই উদ্বেলিত হলাম। দেখলাম, আরও পরিণত, দায়িত্বশীল, অভিজ্ঞ এবং সর্বোপরি কাজ-পাগল, কিছুটা নতুন মিশুককে। ১৫ মিনিটের কথা বলে টানা দুই ঘণ্টা আড্ডা চলল। এর মাঝেই দেখলাম টেকনিশিয়ান, ক্যামেরাম্যান, রিপোর্টার ও আইটির ছেলেমেয়েদের একের পর এক নতুন ধারণা, প্রযুক্তি, পদ্ধতি শেখানোর ত্বরিত তৎপরতা। মনে হলো, ওর হাতে বোধ হয় একদমই সময় নেই। শিশুর মতো উচ্ছ্বাস ও আগ্রহ।
আমার সঙ্গে শেষ দেখা হয়েছে মাস দেড়েক আগে আমাদের স্কুলের বান্ধবী ইয়াসমিনের বাসায়। সেদিন আমার স্ত্রী ও বড় কন্যাসহ আমরা তিন বন্ধু ওকে একরকম জোর করেই অফিস থেকে পাকড়াও করে ঘণ্টা চারেক আড্ডা দিয়েছি। কিছু পুরোনো স্মৃতি ছাড়া প্রায় পুরো সময়ই আমরা ওর অভিজ্ঞতা আর স্বপ্নের কথা শুনেছি। সেই স্বপ্ন ছিল বাংলার মানুষের সত্যিকারের মুক্তি ও সম্ভাবনার স্বপ্ন। মনে হয়েছে, এক জনমে ওর কাজ শেষ হবে না। এই প্রথমবারের মতো একাত্তর-পরবর্তী ওর ব্যক্তিগত সংগ্রামের অনেক কথা সেদিন আমাদের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছে। গভীর রাত হয়ে গিয়েছিল, কিন্তু বাড়ি ফিরতে ইচ্ছে করছিল না। মনে মনে ভাবছিলাম, আহ্! আমার কথা বলার বন্ধুটি ফিরে এসেছে; নানা না পাওয়ার মাঝে ঢাকায় থাকাটা আরেকটু আনন্দময়, অর্থময় হয়ে উঠবে। কিন্তু আলোকবাহী মিশুক আমাদের সবার জীবন আরেকটু অন্ধকার করে দিয়ে চলে গেল; কিছুতেই মানতে পারছি না!
ম. তামিম : মিশুকের বন্ধু ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী।

আত্মনিয়ন্ত্রণ ও পরিশুদ্ধি অর্জনে রোজা by মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান

আল্লাহ পাক তাঁর অসীম দয়া, ক্ষমা ও পরিত্রাণপ্রাপ্তির জন্য মাসব্যাপী রোজা নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন, যেন সংযমের মাধ্যমে বান্দারা আত্মনিয়ন্ত্রণ ও পরিশুদ্ধি অর্জন করেন। প্রকৃত রোজাদারেরা এতে অবগাহন করে ১১ মাসের পুঞ্জীভূত পাপ-পঙ্কিলতা ও কলুষ-কালিমা থেকে পরিশুদ্ধ ও পূতপবিত্র হয়ে যান। যাঁরা সতর্ক ও জ্ঞানী, তাঁরা এ সুবর্ণ সুযোগের পূর্ণ সদ্ব্যবহার করে একনিষ্ঠভাবে ও আন্তরিকতাসহকারে কায়মনোবাক্যে আল্লাহর দরবারে ক্ষমা প্রার্থনা করেন, দয়াময় আল্লাহ তাঁদের বঞ্চিত করেন না। হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে যে ‘রমজান মাসের শুরু থেকে একজন আহ্বানকারী ঘোষণা দিতে থাকেন, হে পুণ্যের অন্বেষণকারী! সামনে অগ্রসর হও এবং হে মন্দের অন্বেষণকারী! থেমে যাও। আল্লাহ তাআলা এ মাসে অনেককেই দোজখের আগুন থেকে মুক্তি দেন। আর এটা প্রতি রাতেই সংঘটিত হয়।’
রোজার উদ্দেশ্য হচ্ছে আত্মসংযম, আত্মসংশোধন ও কৃচ্ছ্র সাধন। মানবজীবনকে আত্মনিয়ন্ত্রণ ও পরিশুদ্ধ করে গড়ে তোলার একটি অত্যন্ত কার্যকরী দৈহিক ইবাদত রোজা। শারীরিক রোজার মূল ভিত্তি হচ্ছে অন্তরের রোজা। তাই রোজার জন্য নিজেদের মনমানসিকতা, চিন্তা-ভাবনা, ধ্যান-ধারণা ও প্রবৃত্তিকে দমন ও কলুষমুক্ত হতে হবে। সৎ নিয়ত, স্বচ্ছ চিন্তা-পরিকল্পনা, একনিষ্ঠতা, আত্মনিয়ন্ত্রণ ও পরিশুদ্ধতা তথা ইখলাস হচ্ছে অন্তরের মূল কথা। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘সাবধান! দেহের মধ্যে এক টুকরো গোশত আছে, যখন এটি সুস্থ থাকে, তখন পুরো দেহটি সুস্থ থাকে, আর যখন এটি অসুস্থ থাকে বা দূষিত হয়, তখন পুরো দেহই অসুস্থ হয়ে পড়ে। সাবধান! এটি হচ্ছে অন্তঃকরণ।’ (বুখারি ও মুসলিম)
অন্তরের রোজা হচ্ছে অন্তঃকরণকে শিরক, কুফর, বিদআত থেকে মুক্ত এবং যাবতীয় খারাপ, নিকৃষ্ট মনোভাব ও নিয়ত থেকে পরিশুদ্ধ রাখা। মনকে গর্ব-অহংকার থেকে মুক্ত ও পরিচ্ছন্ন করে লোভ-লালসা, হিংসা-বিদ্বেষ ও লোক দেখানোর মনোবৃত্তি থেকে নিয়ন্ত্রণে রাখা উচিত। কেননা তা নেক আমলকে ধ্বংস করে ও জ্বালিয়ে দেয়। মনকে সব খারাপ কাজ থেকে পরিশুদ্ধ রাখতে পারলেই অন্তরের রোজা হয়ে যায়। মানুষের দেহে অন্তঃকরণ এমন একটি অংশ, যার ওপর পুরো দেহকেই নির্ভর করতে হয়। দেহের পরিচালক হচ্ছে তার মন বা অন্তঃকরণ। অন্তরের শান্তির সঙ্গে দেহের প্রশান্তি বা সুস্থতা, পরিশুদ্ধতা এবং অন্তরের কষ্টের সঙ্গে দেহের কষ্ট বা অসুস্থতা ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই মানবদেহের এ মহামূল্যবান রত্নকে সব সময় সুস্থ ও পরিশুদ্ধ তথা কলুষমুক্ত রাখতে সচেষ্ট থাকতে হবে। কারণ, অন্তর সুস্থ থাকলে সবকিছুই সুস্থ ও সঠিক থাকবে। আর অন্তর অসুস্থ ও বিপথগামী হয়ে পড়লে অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গও অসুস্থ ও দিশেহারা হয়ে পড়বে।
রোজাদার সব ধরনের গুনাহের কাজ থেকে নিজেকে বিরত রেখে মহান আল্লাহর নির্দেশিত বিশুদ্ধ পথে চলার এক বিরাট সুযোগ লাভ করেন। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘কেউ কোনো মন্দ কাজ করে বা নিজের প্রতি জুলুম করে পরে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করলে আল্লাহকে সে ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু পাবে।’ (সূরা আন-নিসা, আয়াত-১১০)
সাধারণত মানুষ ন্যায়-অন্যায় উভয় পন্থা অবলম্বনের মাধ্যমে উপার্জন করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। কিন্তু রমজান মাসে যে ব্যক্তি বৈধ উপায়ে ও সৎভাবে জীবন-জীবিকা নির্বাহ করতে পারে, তার আত্মাই আল্লাহর ইবাদতের যোগ্যতা লাভ করতে সক্ষম, আর ওই শ্রেণীর রোজাদার লোকের ইবাদত আল্লাহর দরবারে কবুল হয়ে থাকে। পক্ষান্তরে রোজাদার মানুষের ধ্যান-ধারণা, চিন্তাভাবনা ও আত্মবিশ্বাস যদি খারাপ হয়ে পড়ে, তাহলে নিশ্চিতভাবে তাঁর কর্মতৎপরতা খারাপ হয়ে পড়বে। সুতরাং অন্তঃকরণ পরিশুদ্ধ হলে দেহমনও ঠিক থাকবে। আর অন্তঃকরণ দূষিত হলে পুরো দেহই মূল্যহীন হয়ে পড়বে। তাই হাদিস শরিফে রোজাকে দেহের জাকাত বলা হয়েছে। জাকাত আদায় করলে যেমন সব সম্পদ পবিত্র হয়ে যায়, তেমনি মাহে রমজানে রোজা রাখলে পুরো দেহ ও মন পূতপবিত্র হয়ে যায়।
রোজা মানুষকে আত্মনিয়ন্ত্রণ লাভের শিক্ষা দেয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেহির খাওয়া, ইফতার করা, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা, জামাতে খতমে তারাবি পড়া প্রভৃতি ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে নিয়মানুবর্তিতাও শেখায়। মাহে রমজানে ইফতার থেকে সেহির পর্যন্ত যে রুটিন অনুযায়ী দৈনন্দিন জীবনে ইসলাম ধর্মীয় কার্যক্রম পালন করতে হয়, তা আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি বিশেষ প্রশিক্ষণ। নফসকে নিয়ন্ত্রিত রাখার মাধ্যমেই মানুষ মানবিক মূল্যবোধে উজ্জীবিত হতে পারে এবং আল্লাহর প্রিয় বান্দায় উন্নীত হতে পারে। আল্লাহ পাক ঘোষণা করেন, ‘শপথ মানুষের এবং তাঁর, যিনি তাকে সুঠাম করেছেন, অতঃপর তাকে তার অসৎ কর্ম ও সৎ কর্মের জ্ঞান দান করেছেন। সেই সফলকাম হবে, যে নিজেকে পবিত্র করবে। আর সে ব্যর্থ হবে, যে নিজেকে কলুষিত করে।’ (সূরা আশ-শামস, আয়াত: ৭-১০)
মাহে রমজান মানুষকে সৎ, নির্লোভ ও আত্মসংযমী হতে শেখায়; কাজকর্মে, ব্যবসা-বাণিজ্যে, সর্বোপরি এমন এক আলোকিত মানুষ হতে শেখায়, যিনি ঘুষ-দুর্নীতি ও অপকর্ম থেকে মুক্ত। কাম, ক্রোধ, লোভ-মোহ, পরচর্চা, মিথ্যাচার, যেকোনো ধরনের অনিষ্টকর ও পাপ কাজ ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। রোজাদার ব্যক্তি তাঁর জাগতিক লোভ-লালসার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ও প্রবণতার সব খারাপ দিককে দূরে সরিয়ে রাখেন এবং নির্ধারিত পদ্ধতিতে কৃচ্ছ্র সাধন করে নিজেকে সর্বোত্তম মানুষে রূপান্তরিত হওয়ার এ সুবর্ণ সুযোগকে কাজে লাগান। ফলে তিনি নম্রতা, সংযম, উদারতা, শিষ্টতা ইত্যাদি সৎ গুণ চর্চার মাধ্যমে আল্লাহর প্রতিনিধিরূপে নিজেকে পরিপূর্ণতা দিতে পারেন। মানুষের জন্য তাই সিয়াম সাধনা একটি উৎকৃষ্ট আত্মশুদ্ধির কর্মকৌশল, যে কৌশল অবলম্ব্বনে একদল পরিশুদ্ধ মানুষ সব কলুষতার ঊর্ধ্বে উঠে, পূতপবিত্র পরিশীলিত মন নিয়ে নিজেকে মানবসেবায় উৎসর্গ করতে পারে।
রোজার মধ্যে এমন একটি অপ্রতিরোধ্য চেতনা আছে, এমন দয়া, করুণা ও কল্যাণময় উপাদান আছে, যা মানুষকে সব রকমের পাপাচার, অনাচার থেকে ঢালস্বরূপ রক্ষা করে, তেমনি তাকে করে তোলে পাপের কালিমামুক্ত এক পরিশুদ্ধ খাঁটি মানুষ; য্রে মানুষ প্রকৃতপক্ষে আল্লাহর প্রিয় বান্দা ও তাঁর নৈকট্য লাভে সৌভাগ্যবান একজন খাঁটি মুত্তাকি। মাহে রমজানে আত্মনিয়ন্ত্রণ ও পরিশুদ্ধি অর্জনের প্রশিক্ষণ গ্রহণের মাধ্যমে যাতে বছরের বাকি ১১ মাস তথা সারা জীবন আল্লাহর নিষিদ্ধ কাজ থেকে বিরত থেকে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রদর্শিত পথে নিজেদের জীবন তাকওয়াভিত্তিক পরিচালনা করে আদর্শ সুশীল সমাজ গঠন করা যায়, এ জন্য সবাইকে ঈমানের দৃঢ়তা ও আত্মবিশ্লেষণে সচেষ্ট হতে হবে।
ড. মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান: বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক ও কলাম লেখক।
dr.munimkhan@yahoo.com

পশ্চিমবঙ্গ নামই বহাল থাকছে

পশ্চিমবঙ্গের নাম বাংলায় পশ্চিমবঙ্গই থাকছে। তবে ইংরেজিতে ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল’-এর স্থলে রোমান হরফে লেখা হবে পশ্চিমবঙ্গ। গতকাল শুক্রবার বিকেলে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা ভবনে সর্বদলীয় এক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়েছে।
ভারতে পশ্চিমবঙ্গ ওয়েস্ট বেঙ্গল বা ডব্লিউ বি হিসেবে পরিচিত ছিল। এবার ইংরেজিতে করা হবে পশ্চিমবঙ্গ বা সংক্ষেপে পি বি।
এই নাম কেন্দ্রীয় সরকার ও ভারতের সংসদ অনুমোদন দিলে যানবাহন বা অন্যান্য নেমপ্লেট এবং সরকারি নথিপত্রে ডব্লিউ বি-এর স্থলে হবে পি বি। সর্বদলীয় বৈঠকে বামফ্রন্টসহ অন্যান্য দলের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থেকে সর্বসম্মতভাবে পশ্চিমবঙ্গ নামটিকেই বেছে নেন।
এই রাজ্যের নাম বদলে বাংলা, বেঙ্গল, বঙ্গ, বঙ্গপ্রদেশ, গৌড়বঙ্গ, বঙ্গদেশ, বঙ্গভূমি ইত্যাদি রাখার প্রস্তাব এসেছিল।
ক্ষমতা গ্রহণের পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গের নাম পরিবর্তনের ঘোষণা দেন।
সেই লক্ষ্যে ৩ আগস্ট মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকে পশ্চিমবঙ্গের সচিবালয় মহাকরণে রাজ্যের নাম পরিবর্তন নিয়ে প্রথম সর্বদলীয় বৈঠক হয়। বৈঠকে এ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়ায় পরবর্তী বৈঠকের জন্য দিন ধার্য হয় ১৯ আগস্ট। গতকাল সেই বৈঠকেই পশ্চিমবঙ্গ নাম চূড়ান্ত হয়।

তেজস্ক্রিয়া শুষে নিচ্ছে সূর্যমুখী!

জাপানের ফুকুশিমায় পরমাণু তেজস্ক্রিয়া মোকাবিলার জন্য একটি বৌদ্ধমন্দিরে হাজার হাজার সূর্যমুখী গাছ লাগানো হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এসব গাছ পরমাণু তেজস্ক্রিয়া শুষে নিচ্ছে।
এ বছরের মার্চে জাপানে ভূমিকম্প-পরবর্তী ভয়াবহ সুনামিতে ফুকুশিমা দাইচি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কয়েকটি চুল্লিতে মারাত্মক বিপর্যয় দেখা দেয়। এতে আশপাশের এলাকায় পরমাণু তেজস্ক্রিয়া ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় সেখানকার হাজার হাজার মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়। বিশ্বে ২৫ বছরের মধ্যে এটিই সবচেয়ে ভয়াবহ পরমাণু বিপর্যয়।
ফুকুশিমার জয়েনজি বৌদ্ধমন্দিরের প্রধান ভিক্ষু কোয়ু আবে বলেন, ‘আমরা মন্দিরে কমপক্ষে দুই লাখ সূর্যমুখী গাছ লাগিয়েছি এবং অনেক বীজও বিলি করেছি।’

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি আবার মজবুত অবস্থানে ফিরবে

চীনের প্রধানমন্ত্রী ওয়েন জিয়াবাও আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি আবার আগের মতো মজবুত অবস্থানে ফিরবে। গতকাল শুক্রবার চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
পারস্পরিক আস্থা বাড়ানোর মিশনে চীন সফর করছেন জো বাইডেন। সফরের দ্বিতীয় দিন গতকাল তিনি দেশটির প্রধানমন্ত্রী ওয়েন জিয়াবাওয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন। যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় ঋণদাতা দেশ চীন। এর আগে গত বৃহস্পতিবার চীনের ভাইস প্রেসিডেন্ট জি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন বাইডেন।
বাইডেনকে স্বাগত জানিয়ে জিয়াবাও বলেন, ‘চীনের জনগণের প্রতি আপনি যে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন, তা খুব গুরুত্বপূর্ণ। বার্তাটি হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র তার সরকারের ঋণ প্রসঙ্গে চীনকে দেওয়া অঙ্গীকার ও আইনি বাধ্যবাধকতা রক্ষা করবে। আমি নিশ্চিত, এই বার্তা যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াবে।’
বাইডেন বলেন, মার্কিন ঋণসংকট নিয়ে চীনের উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই।
এর আগে চীনের ভাইস প্রেসিডেন্ট জি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন বাইডেন। তিনি ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে এক গোলটেবিল বৈঠকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি নিজেই ঘুরে দাঁড়ানোর সামর্থ্য রাখে। মার্কিন অর্থনীতির সেই বৈশিষ্ট্য রয়েছে। জিনপিং বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, বর্তমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে মার্কিন অর্থনীতি আগের চেয়ে আরও ভালো অবস্থানে যাবে।’
জিনপিং জানান, গত বৃহস্পতিবার বাইডেনের সঙ্গে তাঁর বৈঠক হয়েছে। বাইডেন তাঁকে মার্কিন অর্থনীতির বর্তমান পরিস্থিতি, কর্মসংস্থান বাড়ানো, বাজেটে বরাদ্দ কমানো, ঋণসমস্যার সমাধান ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়ানোর বিভিন্ন পদক্ষেপের বিষয়ে জানান।
জিনপিংয়ের এ বক্তব্য মার্কিন অর্থনীতি নিয়ে তাঁর আগের মন্তব্যের বিপরীত। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের ঋণপরিস্থিতির প্রসঙ্গে কঠোর সমালোচনা করেন তিনি। চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমেও বারবার এই সমালোচনা করা হয়। বলা হয়, সরকারের বেপরোয়া রাজস্ব নীতির কারণে চীনের রিজার্ভ করে রাখা ডলার অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
বিশ্লেষকদের তথ্যমতে, চীনের ৩২ হাজার কোটি মার্কিন ডলার পরিমাণের বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ রয়েছে, যা বিশ্বে সর্বোচ্চ। এটাই চীনকে যুক্তরাষ্ট্রের বৃহৎ ঋণদাতা দেশ বানিয়েছে।
ভাইস প্রেসিডেন্ট জিনপিং যে গোলটেবিল বৈঠকে বক্তব্য দেন, সেখানে গতকাল বক্তব্য দেন ব্যাংক অব চায়নার প্রেসিডেন্ট লি লিহুই। তিনিও ঋণসংকট কাটিয়ে উঠতে যুক্তরাষ্ট্রের সামর্থ্যের প্রতি আস্থা প্রকাশ করেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে মার্কিন একজন কর্মকর্তা জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের কয়েকটি কোম্পানির মধ্যে ১০০ কোটি মার্কিন ডলারের বাণিজ্যিক চুক্তি হবে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এই চুক্তির ব্যাপারে ঘোষণা দেওয়া হবে।
গতকালই চীনের প্রেসিডেন্ট হু জিনতাওয়ের সঙ্গে বৈঠক করার কথা বাইডেনের। পাঁচ দিনের এশিয়ার সফরে গত বৃহস্পতিবার চীনে যান বাইডেন।

ভবানীপুর কেন্দ্র থেকে লড়ছেন মমতা

তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হলেও এখনো তিনি বিধায়ক পদ গ্রহণ করেননি। ভারতের সংবিধান অনুসারে, মমতাকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণের ছয় মাসের মধ্যে একটি বিধানসভা কেন্দ্রে নির্বাচন করে জয়ী হয়ে আসতে হবে। সে লক্ষ্যে মমতা এবার কলকাতার ভবানীপুর কেন্দ্রে লড়াই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
ভবানীপুর কেন্দ্রের তৃণমূল বিধায়ক সুব্রত বকসী গতকাল শুক্রবার মমতার ওই কেন্দ্রে লড়ার জন্য তাঁর বিধায়ক পদে ইস্তফা দিয়েছেন। ইতিমধ্যে তিনি বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে ইস্তফাপত্র পৌঁছে দিয়েছেন। সুব্রত বকসী অবশ্য এখনো রাজ্যের পূর্তমন্ত্রী।
এদিকে মমতা এখনো তাঁর লোকসভার সদস্যপদ ছাড়েননি। জানা গেছে, এ মাসের শেষের দিকে অথবা আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে বাংলাদেশ সফরের আগে মমতা নয়াদিল্লিতে গিয়ে লোকসভার স্পিকারের কাছে তাঁর সদস্যপদে ইস্তফা দেবেন।

নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে কমপক্ষে ১৪ জন নিহত

সিরিয়ায় গতকাল শুক্রবার জুমার নামাজের পর বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে কমপক্ষে ১৪ জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদকে পদত্যাগের আহ্বান জানানোর পর গতকাল দেশটিতে সরকারবিরোধীরা নতুন করে বিক্ষোভ করে। এদিকে বাশার আল-আসাদকে পদত্যাগের পশ্চিমি আহ্বানের বিরোধিতা করেছে রাশিয়া।
সিরিয়ায় মানবাধিকার-বিষয়ক পর্যবেক্ষক দল জানায়, গতকাল নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ দারায় দুই শিশুসহ ১০ জন, কেন্দ্রীয় শহর হোমসে তিনজন ও দামেস্কের উপশহরে একজন নিহত হয়।

পাকিস্তানে আবার মসজিদে আত্মঘাতী হামলা, নিহত ৪৩

পাকিস্তানের উপজাতি অধ্যুষিত খাইবার জেলার একটি মসজিদে গতকাল শুক্রবার আত্মঘাতী বোমা হামলায় কমপক্ষে ৪৩ জন নিহত ও ১১৭ জন আহত হয়েছে। গত তিন মাসের মধ্যে দেশটিতে এটাই সবচেয়ে বড় ধরনের হামলার ঘটনা।
সরকারি কর্মকর্তারা জানান, খাইবারের প্রধান শহর জামরুদের একটি মসজিদে জুমার নামাজের সময় ওই হামলা চালানো হয়। হামলার সময় মসজিদটিতে কমপক্ষে ৫০০ মুসল্লি নামাজ পড়ছিলেন। শহরটিতে জঙ্গিরা কয়েক বছর ধরেই সক্রিয় রয়েছে।
আধা স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল খাইবারের জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা সাইদ আহমেদ বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, জুমার নামাজ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বোমার বিস্ফোরণ ঘটে। তিনি নিহতের সংখ্যা ৪৩ ও আহতের সংখ্যা ১১৭ জন বলে নিশ্চিত করেন।
সরকারি কর্মকর্তা খালিদ মুমতাজ কুন্ডি বলেন, এটি একটি আত্মঘাতী হামলা। হামলাকারীর দেহে ৮ থেকে ১০ কেজি ওজনের বিস্ফোরক বাঁধা ছিল এবং তিনি পায়ে হেঁটে মসজিদের ভেতরে ঢুকে বিস্ফোরণ ঘটান।
অপর সরকারি কর্মকর্তা মুতাহার জেব বলেন, আহত ব্যক্তিদের নিকটস্থ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পেশোয়ারের হায়াতাবাদ মেডিকেল কমপ্লেক্সের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ইফতেখার খান জানান, সেখানে ৪০ জন আহতের চিকিৎসা চলছে।
স্থানীয় টেলিভিশনগুলোর ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, মসজিদটি বোমা হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানে ছোপ ছোপ রক্ত লেগে আছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো বলেছে, আত্মঘাতী ওই হামলাকারী বয়সে তরুণ। এই হামলার দায়িত্ব এখনো কেউ স্বীকার করেনি। এর আগেও পাকিস্তানে মসজিদে বেশ কয়েকটি আত্মঘাতী হামলার ঘটনা ঘটেছে।
ড্রোন হামলায় নিহত ৪: পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের উপজাতি অধ্যুষিত এলাকায় মার্কিন চালকবিহীন বিমানের হামলায় গতকাল শুক্রবার চারজন জঙ্গি নিহত ও দুজন হয়েছে। স্থানীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জানান, মার্কিন চালকবিহীন বিমান থেকে ছোড়া দুটি ক্ষেপণাস্ত্র দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তানের শিন ওয়ারাসাক এলাকার একটি বাড়িতে আঘাত হানলে ওই চার জঙ্গি নিহত হয়।

পিনোশের শাসনে আরও ১০ হাজার মানুষ নির্যাতিত

চিলির সাবেক সামরিক শাসক জেনারেল অগাস্তো পিনোশের শাসনামলে যেসব মানুষ নির্যাতনের শিকার হয়েছিল বলে তালিকাভুক্ত হয়েছে, তাদের চেয়ে অনেক বেশি লোক নির্যাতনের শিকার হয়েছে।
মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা তদন্তে গঠিত একটি কমিশন এ তথ্য পাওয়ার কথা দাবি করেছে। কমিশনের পরিচালক মারিয়া লুইসা সেপুলভেদা বলেন, তাঁরা আরও নয় হাজার ৮০০ ব্যক্তিকে শনাক্ত করেছেন, যাঁদের রাজনৈতিক বন্দী হিসেবে আটক করে নির্যাতন করা হয়েছিল। এ নিয়ে নির্যাতনের শিকার মানুষের সংখ্যা দাঁড়াল ৪০ হাজার ৮০ জনে।
নির্যাতনের শিকার ব্যক্তি হিসেবে যাঁদের স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে, তাঁরা পেনশন হিসেবে আজীবন প্রতি মাসে প্রায় ২৬০ ডলারের সমপরিমাণ অর্থ পাবেন। কমিশনের এর আগের প্রতিবেদনে ২৭ হাজার ১৫৩ জনকে শনাক্ত করা হয়েছিল, যাঁরা সামরিক শাসনামলে মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হয়েছেন।

লিবিয়ায় মানবিক পরিস্থিতির আরও অবনতি হচ্ছে

লিবিয়ার নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফি বাহিনীর সঙ্গে বিদ্রোহীদের চলমান লড়াইয়ে দেশটির বেশ কয়েকটি শহরে মানবিক পরিস্থিতির আরও অবনতি হচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার ইন্টারন্যাশনাল কমিটি অব দ্য রেডক্রসের (আইসিআরসি) এক বিবৃতিতে এ কথা বলা হয়।
লিবিয়ায় হতাহত ও বিভিন্ন হাসপাতালে হামলার ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় আইসিআরসি উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমরা শুনতে পাচ্ছি, হাসপাতালে হামলা চালানো হচ্ছে বা সামরিক উদ্দেশ্যে হাসপাতাল ব্যবহার করা হচ্ছে।’
আইসিআরসির ত্রিপোলির প্রধান জর্জেস কমনিনোস বলেন, ‘গত মঙ্গলবার ব্রেগায় বেশ কয়েকটি অ্যাম্বুলেন্সকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। এতে অসুস্থ ও আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসা ব্যাহত হচ্ছে।’
কমনিনোস বলেন, ‘বেসামরিক লোকদের রক্ষায় স্বাস্থ্যকর্মীদের নির্বিঘ্নে কাজ করার সুযোগ করে দিতে উভয় পক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। এতে অনেকের জীবন বাঁচানো সম্ভব হবে।’
ত্রিপোলিতে বিস্ফোরণ: লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলি গতকাল শুক্রবার বড় ধরনের বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে। গাদ্দাফির সরকার লিবিয়ায় অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার আহ্বান জানিয়েছে। বিদ্রোহীরা দাবি করেছে, তারা রাজধানীর নিকটবর্তী একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল শোধনাগার নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে।্

‘জাতীয় ঐক্যের ক্ষেত্রে এই বৈঠক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ’

‘জাতীয় ঐক্যের ক্ষেত্রে এই বৈঠক একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। আমাদের সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’
গতকাল শুক্রবার দুপুরে মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট থেইন সেইনের সঙ্গে দেশটির গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সু চির রুদ্ধদ্বার বৈঠকের পর একজন শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তা এ কথা বলেন। প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সু চির এটাই ছিল প্রথম বৈঠক।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন সরকারি কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, রাজধানী নেপিডোতে প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ে এই বৈঠক হয়। তবে কী নিয়ে তাঁদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে, তা জানা যায়নি।
মিয়ানমারে বিরোধীদের সঙ্গে সরকারের সম্পর্কের ক্ষেত্রে এটা এক অভিনব ঘটনা। বিশেষ করে, যেসব শীর্ষ সেনা কর্মকর্তা বছরের পর বছর ধরে সু চিকে গৃহবন্দী রেখেছেন, তাঁদের একজনের সঙ্গে বৈঠকে বসলেন তিনি।
প্রেসিডেন্টের প্রধান রাজনৈতিক উপদেষ্টা কো কো হেলেইং এই বৈঠককে জাতীয় ঐক্যের ক্ষেত্রে একটি বড় ধরনের পদক্ষেপ বলে অভিহিত করেন।
বিগত দুই দশকের মধ্যে প্রথম সাধারণ নির্বাচনের পর গত মার্চে থেইন সেইনের নেতৃত্বে একটি বেসামরিক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন সামরিক জান্তা। সাবেক এই জেনারেল জান্তা সরকারের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।
গত নভেম্বরে সাধারণ নির্বাচনের পর মুক্তি দেওয়া হয় সু চিকে। ওই নির্বাচনে জয়ী হয় সেনাসমর্থিত রাজনৈতিক জোট। সু চির দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) এর আগে ১৯৯০ সালে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে ব্যাপক ভোটে বিজয়ী হয়। তবে এনএলডির কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেনি সামরিক সরকার। এর পর থেকে গত দুই দশকের মধ্যে প্রায় ১৩ বছর বন্দী ছিলেন সু চি।

তায়কোয়ান্দোতে বাংলাদেশের ব্রোঞ্জ

গত সপ্তাহে দক্ষিণ কোরিয়ায় অনুষ্ঠিত বিশ্ব তায়কোয়ান্দো হানমাদাং প্রতিযোগিতায় ব্রোঞ্জ জিতেছেন বাংলাদেশের খেলোয়াড় ইমতিয়াজ ইবনে আলী। টুর্নামেন্টের সেড পাওয়ার কিক ইভেন্টে ব্রোঞ্জ জিতেছেন তিনি। টুর্নামেন্টে ৫৩টি দেশের প্রতিযোগী অংশ নেন।

ইন্টারের শিরোপা

কদিন আগে ইন্টার মিলানকে হারিয়ে মৌসুম সূচক সুপার কোপা শিরোপা জিতেছে এসি মিলান। দুই সপ্তাহের ব্যবধানেই সেই হারের প্রতিশোধ নিল ইন্টার। পরশু এসি মিলানকে হারিয়েই টিম কাপ জিতল ইন্টার মিলান। টিম কাপটা একটা ব্যতিক্রমী টুর্নামেন্ট। এসি মিলান, ইন্টার মিলান ও জুভেন্টাস—অংশ নেয় এতে। প্রতিটি দল অন্য দুই দলের সঙ্গে খেলেছে ৪৫ মিনিটের দুটি ম্যাচ। ১-১ গোলে ড্রয়ের পর জুভেন্টাসকে টাইব্রেকারে (৬-৫) হারিয়ে শুরু করে ইন্টার। জুভেন্টাস এসি মিলানকে হারায় ২-১ গোলে। ইন্টার শেষ ম্যাচে মিলানকে হারায় আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকার ডিয়েগো মিলিতোর একমাত্র গোলে।

সন্দেহ থেকে মালিকের নিষ্কৃতি

শোয়েব মালিকের দলে ফেরার পথ আরেকটু সুগম হলো। অবৈধ আয়ের অভিযোগ থেকে মুক্ত পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক। ফলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরতে আর কোনো বাধাই রইল না তাঁর। সংরক্ষিত তালিকায় নাম থাকা মালিক এখন অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন জিম্বাবুয়ে সফরের দলেও।
২৯ বছর বয়সী মালিক গত বছরের ইংল্যান্ড সফরের পর থেকেই দলের বাইরে। ওই সফরেই স্পট ফিক্সিং কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে দীর্ঘ মেয়াদে নিষিদ্ধ হন সাবেক টেস্ট অধিনায়ক সালমান বাট, মোহাম্মদ আমির ও মোহাম্মদ আসিফ।
এর পরই ক্রিকেটারদের কাছে তাঁদের আয়ের বিবরণী চায় পিসিবি। কিন্তু পিসিবির নৈতিক কমিটির কাছে নিজের ব্যাংক হিসাবে গচ্ছিত আয়ের উৎসের পরিচ্ছন্ন ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হয়েছিলেন মালিক। তাই পাকিস্তান দলে তাঁকে নেওয়া হচ্ছিল না। অবশেষে গত সোমবার কমিটির সামনে হাজির হয়ে ব্যাংক হিসাবের যাবতীয় প্রমাণ জমা দেন। তদন্তের পর গতকাল পিসিবি সভাপতি ইজাজ বাটের নেতৃত্বাধীন কমিটি ঘোষণা করে, মালিক সন্দেহমুক্ত।
সন্দেহের তালিকায় থাকা আরেক ক্রিকেটার দানিশ কানেরিয়া গত সোমবার কমিটির সামনে উপস্থিত হন। কিন্তু পিসিবির ছাড়পত্র না পেয়ে আদালতে করা কানেরিয়ার পিটিশনের রায় না হওয়া পর্যন্ত তাঁর বিষয়টি স্থগিত থাকবে।

ব্রাজিল-পর্তুগালের শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই

ব্রাজিলের যুবারা কি পারবেন প্রতিশোধ নিতে? নাকি পর্তুগিজরা ফিরিয়ে আনবে তাদের সোনালি প্রজন্মের স্মৃতি? অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপের ফাইনালে এই সমীকরণেই দাঁড়িয়ে পর্তুগিজ ভাষাভাষী দুই দেশ ব্রাজিল ও পর্তুগাল। বাংলাদেশ সময় আগামীকাল সকাল ৭টায় কলম্বিয়ার বোগোটায় শুরু হবে ম্যাচটি।
২০ বছর আগে লিসবনের স্টেডিয়াম অব লাইটে ১ লাখ ২০ হাজার দর্শকের সামনে স্বাগতিক দল টাইব্রেকারে ৪-২ গোলে হারিয়েছিল ব্রাজিলকে। ওই ম্যাচে খেলেছিলেন উত্তরকালের দুই কীর্তিমান ফুটবলার লুই ফিগো ও রবার্তো কার্লোস। ওই টুর্নামেন্ট দিয়েই শুরু হয়েছিল তাঁদের ঝলমলে ক্যারিয়ারের।
ফাইনালের আসল লড়াইটা হবে ব্রাজিলের আক্রমণভাগের সঙ্গে পর্তুগালের রক্ষণভাগের। ছয় ম্যাচে এখন পর্যন্ত একটিও গোল খায়নি পর্তুগিজরা। অন্যদিকে ব্রাজিল করেছে ১৫ গোল। রক্ষণভাগের দৃঢ়তায় মাত্র ৫ গোল করেই ফাইনালে পর্তুগাল। আর ব্রাজিলের স্ট্রাইকার হেনরিক একাই করেছেন ৫ গোল।
গত ১৩ ম্যাচে অপরাজিত ব্রাজিলের কোচ নে ফ্রাঙ্কোর কথায়ও একই সুর, ‘আমরা জানি, রক্ষণকাজে পর্তুগাল দারুণ শক্তিশালী। ওদের গোলরক্ষক মাইকা একটি গোলও খায়নি। অন্যদিকে আমাদের কিছু সত্যিকারের মানসম্পন্ন স্ট্রাইকার আছে। আর এই বিপরীত স্টাইলই ম্যাচটার আকর্ষণ বাড়িয়েছে। এটা একটি কঠিন ম্যাচ হবে।

জাতীয় জুনিয়র দাবায় চ্যাম্পিয়ন সাইফ

শুধু ড্র করলেই চলত। তবে ড্র নয়, জিতেই জাতীয় জুনিয়রের শিরোপা ধরে রাখল আবদুল্লাহ আল সাইফ। ফেডারেশন কার্যালয়ে কাল শেষ রাউন্ডে সাইফ হারিয়েছে সাব-জুনিয়র চ্যাম্পিয়ন ফাহাদ রহমানকে। সাইফ কালো ঘুঁটি নিয়ে পেত্রোভ ওপেনিংয়ে ৪১ চালের মাথায় হারায় ফাহাদকে। নয় খেলায় ৯ পয়েন্ট সাইফের। সমান খেলায় সাড়ে সাত পয়েন্ট নিয়ে মাগুরার মোহাম্মদ সাগর হয়েছে রানারআপ। ৭ পয়েন্ট নিয়ে যুগ্মভাবে তৃতীয় শামসুল আরেফিন ও ইমদাদুল হক।

এবার কি লিভারপুলের ঘুরে দাঁড়ানোর সময়?

২০০০ সালের পর থেকে নিজেদের মাঠে লিভারপুলের কাছে হারেনি আর্সেনাল। আজ এমিরেটস স্টেডিয়ামে সেই লিভারপুলের সঙ্গে ম্যাচ আর্সেনালের। কিন্তু আর্সেনালে উচ্ছ্বাস নেই। আত্মবিশ্বাসের পালে হাওয়া ভরে তাতে উড়তে পারছে না ‘গানার’রা।
আর্সেনাল এটা পারছে না দলের শক্তি খর্ব হওয়ায়। সেস ফ্যাব্রিগাস এমিরেটস ছেড়ে পাড়ি জমিয়েছেন পুরোনো ঠিকানা ন্যু ক্যাম্পে, সামির নাসরিরও যাই-যাই অবস্থা। চোট থাবা বসিয়েছে, সঙ্গে আছে গার্ভিনহো আর অ্যালেক্স সংয়ের নিষেধাজ্ঞা। সব মিলিয়ে লিভারপুলের বিপক্ষে নামার আগে আর্সেনাল আছে মহা সমস্যায়।
ত্রিবিধ এই ধাক্কা সামলে আর্সেনাল কি আজ মাথা তুলে দাঁড়াতে পারবে নিজ আঙিনায়? উদিনেসের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়নস লিগ প্লে-অফের প্রথম লেগে একমাত্র গোল করে দলকে জেতানো থিও ওয়ালকট আত্মবিশ্বাসী। ইংলিশ উইঙ্গারের বিশ্বাস আর্সেনাল পারবে, ‘দলের মুড খুবই ভালো। আশা করি, ভালো করতে পারব।’
আর্সেনাল কোচ আর্সেন ওয়েঙ্গারের তরুণ সৈনিকদের একজন ওয়ালকট। তরুণ দলটির মূল পূঁজিই তারুণ্য। এটাই হয়তো এমিরেটসে লিভারপুলের কাছে নতুন সহস্রাব্দীতে আর্সেনালকে জোগাচ্ছে জয়ের প্রেরণা। কিন্তু লিভারপুল কি আগের সেই লিভারপুল আছে? প্রিমিয়ার লিগের সবচেয়ে দাপট দেখানো দলটি কয়েক মৌসুম ধরেই ধুঁকছে।
এই ধুঁকতে থাকার দিন শেষ করতে চায় লিভারপুল। এ উদ্দেশ্যেই নতুন করে সেজেছে ‘অল রেড’রা। নতুন কোচ কেনি ডালগ্লিস লিভারপুলে সুদিন ফেরাতে কিনেছেন নতুন নতুন খেলোয়াড়। লুইস সুয়ারেজ তাঁদের মধ্যে অন্যতম। উরুগুয়ের এই স্ট্রাইকারও শুনিয়েছেন আশার বাণী। তাহলে এই বড় ম্যাচ দিয়েই শুরু হবে লিভারপুলের পুনর্জাগরণ?
আর্সেনালের চোট আর নিষেধাজ্ঞা নিয়ে অবশ্য অত আহ্লাদিত মনে হচ্ছে না ডালগ্লিসকে, ‘আমি জানি না তারা (আর্সেনাল) কী প্রতিক্রিয়া দেখাবে। আমরা কী করব, সেটা আসলে আমাদেরই হাতে। হয়তো এমিরেটসে আমরা জিতব। তবে ম্যাচটি কঠিনই হবে।

ওভাল টেস্ট (৩য় দিন শেষে) : ভারত ১০৩/৫, ইংল্যান্ড ৫৯১/৬ ডিক্লেয়ার (প্রথম ইনিংস)

ওভাল টেস্ট (৩য় দিন শেষে) : ভারত ১০৩/৫, ইংল্যান্ড ৫৯১/৬ ডিক্লেয়ার (প্রথম ইনিংস)

কলকাতার খবরে ঢাকায় হূৎকম্প

‘ওই মাঠে অনুশীলন করতে গিয়ে যদি মেসির পা ভাঙে, তাহলে আমাদের গর্দান যাবে’—বক্তার নাম জুলিয়ান কামিনো।
আশির দশকে খেলে গেছেন কলকাতা ইস্টবেঙ্গলে। দুদিন আগে কলকাতায় পা রেখেছেন মেসিদের সহকারী কোচ। কলকাতার সল্টলেকে আগামী ২ সেপ্টেম্বর আর্জেন্টিনা-ভেনেজুয়েলা ম্যাচ আয়োজনের প্রস্তুতি দেখে তাঁর চক্ষু চড়কগাছ! অনুশীলনের জন্য মোহনবাগান মাঠ দেখে ওপরের মন্তব্যটি করেছেন।
আনন্দবাজার পত্রিকা লিখেছে, বিকেলে (পরশু) মোহনবাগান মাঠ দেখে বেশ বিরক্ত মনে হলো কামিনোসহ পুরো দলকে। মূলত বড় ঘাস আর অসমান মাঠ বলে। যুবভারতীতে খেলার পর মেসিদের পা ডুবিয়ে রাখার জন্য বরফজলের সুইমিংপুল (আইস বাথ) নেই জেনে চিন্তিত কামিনো। অন্তত পাঁচটি ড্রামের ব্যবস্থা রাখতে বলেছেন।
মেসিদের কোচ জানতে চেয়েছেন, যুবভারতীর ঘাস ফিফা স্বীকৃত কি না। উদ্যোক্তারা সার্টিফিকেট দেখানোর পরও কামিনো অনুশীলনের জন্য চাইলেন ঘাসের একটা মাঠ। এ অবস্থায় কাল সাইয়ের মাঠ দেখানোর কথা ছিল।
আমাদের কলকাতা প্রতিনিধি অমর সাহা জানিয়েছেন, মেসিরা কোথায় থাকবেন, নিরাপত্তাব্যবস্থা কেমন, বিমানবন্দর থেকে কীভাবে পুরো আর্জেন্টিনা দলকে আনা হবে—সেসব জানতে চেয়েছে টেকনিক্যাল কমিটি। কামিনো ছাড়া আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের দুজন টেকনিক্যাল কর্মকর্তাও আছেন এই সফরে। আনন্দবাজার পত্রিকার তথ্য, থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা দেখে কমিটি নাকি খুশি।
কলকাতার খবরাখবর পত্রিকায় জেনে ঢাকায় বাফুফে কর্তাদের হূৎকম্পন শুরু হয়েছে। এক দিন পিছিয়ে আগামীকাল কামিনোদের ঢাকায় আসার কথা। কলকাতায় কামিনো বলছেন, মেসিসহ পুরো শক্তির দলই কলকাতায় আসছে। একই দল ৩ সেপ্টেম্বর আসবে ঢাকায়।
ঢাকায় এসে কমলাপুর স্টেডিয়াম দেখে কী বলবেন আর্জেন্টাইন সহকারী কোচ? ভাঙাচোরা রাস্তা পেরিয়ে কমলাপুর স্টেডিয়ামে পৌঁছানোই বিরাট ঝক্কি। মাঠটা যেন ধানখেত। স্টেডিয়ামের ভেতরে অপরিচ্ছন্ন। ড্রেসিংরুম তৃতীয় বিভাগ ফুটবলেরও উপযোগী নয়! আইসবাথ দূর কল্পনা। এটা বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামেও নেই। শেষ মুহূর্তে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে বিসিবির পুরোনো অফিস ভেঙে ওটা করতে গিয়ে বিসিবির বাধার মুখে পড়েছে ক্রীড়া পরিষদ। তাই হচ্ছে না।
এ অবস্থায় বাফুফে ভবনে কর্তাদের ঘরোয়া আলোচনায় লজ্জার আগাম আভাস ভেসে বেড়াল কাল। কর্তাদের কেউ কেউ বললেন, ‘কমলাপুরে মেসিদের নেওয়াই যাবে না।’ তাহলে কী হবে, সেটি নিয়ে বিস্তর গবেষণা চলল।
ম্যাচটার সময়সূচি পাঁচ মাস আগে ঠিক হয়েছে। এত দিনেও বলার মতো কোনো কাজই হয়নি। আর সব বাদ দিন, মেসির মতো খেলোয়াড়কে একটা অনুশীলন মাঠ দিতে পারছে না বাংলাদেশ, এর চেয়ে বড় জাতীয় লজ্জা আর কী হতে পারে!
আগামী ৬ সেপ্টেম্বর ঢাকায় আর্জেন্টিনা-নাইজেরিয়া ম্যাচ আয়োজক কমিটির প্রধান আনোয়ারুল হক হেলালও শঙ্কিত। মুখে যদিও বলছেন, ‘আমি কলকাতায় ফোন করে জেনেছি, কোনো সাংবাদিকের সঙ্গে নাকি কামিনো কথাই বলেননি। কলকাতার ম্যাচের আয়োজক সেলিব্রিটি ম্যানেজমেন্টের মূল কর্মকর্তা মিস্টার পান্ডে আমাকে বলেছেন, যা কাগজে লেখা হয়েছে, ওগুলো সাংবাদিকদের নিজস্ব মতামত।’
তবে হেলাল স্বীকার করেছেন, ‘অবশ্যই আমরা সামগ্রিক আয়োজন নিয়ে চিন্তিত। বিশেষ করে অনুশীলন মাঠটা চিন্তার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে।’ এখন ভেতরের খবর হলো, প্রতিনিধিদলকে ‘ম্যানেজ’ করার ছক কষা হচ্ছে।
এতে কি লজ্জা এড়ানো যাবে?

ঢাকার ম্যাচে আর্জেন্টিনা দল
গোলরক্ষক: রোমেরো (সাম্পদোরিয়া), আন্দুজার (কাতানিয়া), আন্দ্রাদা (ল্যানুস)। ডিফেন্ডার: ডেমিকেলিস (মালাগা), ফার্নান্দেজ (নাপোলি), বুর্দিসো (রোমা), গ্যারে (বেনফিকা), ওটামেন্ডি (পোর্তো), জাবালেতা (ম্যান সিটি), গুতিয়েরেজ (নিউক্যাসল), আনসাল্ডি (রুবিন কাজান), পারেজা ও রোজো (স্পার্তাক মস্কো)। মিডফিল্ডার: মাচেরানো (বার্সেলোনা), ডি মারিয়া (রিয়াল মাদ্রিদ), বানেগা (ভ্যালেন্সিয়া), আলভারেজ (ইন্টার মিলান), রিনাউদো (স্পোর্টিং লিসবন), পাস্তোরে (প্যারিস সেন্ট-জার্মেই) গঞ্জালেজ (মার্সেই), সোসা (মেটালিস্ট)। স্ট্রাইকার: মেসি (বার্সেলোনা), হিগুয়েইন (রিয়াল মাদ্রিদ), সালভিও (অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ), আগুয়েরো (ম্যান সিটি), লোপেজ (লিওঁ)।

সাবেলার দলে রিকেলমে-ভেরন

দুবারের ফিফা বর্ষসেরা ফুটবলার লিওনেল মেসি শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশে আসবে কি না, এ নিয়ে আপনার মনে কোনো সংশয় আছে? একটুও যদি থেকে থাকে, একেবারেই মুছে ফেলুন। মেসি আসছেন। ফুটবলে অনুর্বর ভুবন ভারত ও বাংলাদেশে এই গ্রহের বর্তমান সেরা খেলোয়াড়ের পা পড়ছে।
চুক্তির প্রধান শর্তই ছিল মেসিকে দলে থাকতে হবে। প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে দুই বাংলার আয়োজকদের স্বস্তি দিয়েছেন আর্জেন্টিনার নতুন কোচ আলেজান্দ্রো সাবেলা। শুধু মেসিই নন, গত পরশু কলকাতা ও ঢাকার ম্যাচের জন্য সাবেলার ঘোষিত দলে আছেন গঞ্জালো হিগুয়েইন, সার্জিও আগুয়েরোও। কার্লোস তেভেজ নেই। ম্যানচেস্টার সিটির স্ট্রাইকারকে দলে রাখেননি সাবেলা।
ডিয়েগো ম্যারাডোনার পর সার্জিও বাতিস্তা, বাতিস্তার বিদায়ের পর ৫৬ বছর বয়সী সাবেলার আর্জেন্টিনার কোচ হওয়াটাই ছিল চমক। তো তাঁর কাজকর্মেও চমক থাকার কথা। তবে সাবেলা একটু বেশিই ‘চমক’ উপহার দিলেন। ফুটবলে যা সচরাচর দেখা যায় না, সাবেলা হাঁটলেন সেই রাস্তায়। আগামী চারটি প্রীতি ম্যাচের জন্য তিনি দুই রকম করে দল গড়েছেন আলাদা আলাদা খেলোয়াড় নিয়ে! আধুনিক ক্রিকেটে টেস্ট এবং ওয়ানডে কিংবা টি-টোয়েন্টির জন্য যেমনটা করা হয় আরকি! না, তুলনাটা ঠিক হলো না। ক্রিকেটে তবুও এক-দুজন দুই দলেই থাকে। সাবেলার দল দুটি সম্পূর্ণই আলাদা! ব্রাজিলের চ্যালেঞ্জে সাবেলা নামছেন মেসি-হিগুয়েইন-মাচেরানোদের ছাড়াই।
আগামী মাসে ব্রাজিলের বিপক্ষে দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে আর্জেন্টিনা। ১৪ সেপ্টেম্বর নিজেদের মাটিতে, দুই সপ্তাহ পর অ্যাওয়ে ম্যাচ খেলতে যাবে ব্রাজিলে। এই দুই ম্যাচের জন্য সাবেলা দল গড়েছেন আর্জেন্টিনার ঘরোয়া লিগভিত্তিক খেলোয়াড়দের সমন্বয়ে। আর এশিয়া সফর অর্থাৎ কলকাতা ও ঢাকা ম্যাচের দল গড়েছেন ইউরোপভিত্তিক খেলোয়াড়দের নিয়ে।
সেই আলাদা আলাদা দলেও অনেক চমক। সবচেয়ে বড় চমক হুয়ান রোমান রিকেলমে। ২০০৬ বিশ্বকাপে অসাধারণ খেলা এই মিডফিল্ডার কদিন আগেই বলেছিলেন, ডাকলে তিনি অবসর থেৃেক ফিরতে রাজি। ঠিকই ৩৩ বছর বয়সী বোকা জুনিয়র্সের এই তারকাকে ব্রাজিল ম্যাচের দলে ডেকেছেন সাবেলা। রিকেলমে জাতীয় দলের হয়ে সর্বশেষ ম্যাচটি খেলেছিলেন তিন বছর আগে। ম্যারাডোনার অধীনে খেলতে অস্বীকৃতি জানানো রিকেলমের দিকে ফিরে তাকাননি কোপা ব্যর্থতার দায়ে সরে যাওয়া বাতিস্তাও। রিকেলমের সঙ্গে গত বিশ্বকাপে শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা হুয়ান সেবাস্তিয়ান ভেরনও আছেন।
শুধু রিকেলমে-ভেরন কেন, অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের কাকে ডাকেননি সাবেলা? ২০০৬ বিশ্বকাপ খেলা অলিম্পিক মার্শেইয়ের মিডফিল্ডার লুকো গঞ্জালেস, অলিম্পিক লিওঁ স্ট্রাইকার লিসান্দ্রো লোপেজ, ডিফেন্ডার হুনাস গুতিয়েরেজ, মার্টিন ডেমিকেলিস এবং লিকোলাস ওটামেন্ডিরাও মেসিদের সঙ্গে আসছেন উপমহাদেশে। তবে জায়গা হয়নি ইন্টার মিলান তারকা ডিয়েগো মিলিতোর।
ভেলেজ সার্সফিল্ডের লেফটব্যাক এমিলিয়ানো পাপা, বোকার ডিফেন্ডার ক্লেমেন্তে রদ্রিগেজদের ঠাঁই হয়েছে ব্রাজিল ম্যাচের দলে।
বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের প্রস্তুতির জন্য খুব কম সময়ই পাবেন সপ্তাহ দুয়েক আগে দায়িত্ব নেওয়া সাবেলা। আগামী ৭ অক্টোবর নিজেদের মাটিতে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ চিলি। এর চার দিন পরই উড়ে যেতে হবে কোপার ভেনেজুয়েলায়।
উল্লেখ্য, কোপার সেমিফাইনালিস্ট ভেনেজুয়েলার বিপক্ষেই কলকাতায় মেসিরা খেলবে ২ সেপ্টেম্বর। নাইজেরিয়ার বিপক্ষে ঢাকার ম্যাচটি চার দিন পর।

পাওয়ার প্লের রুবেল

চালচলনে, কথাবার্তায় ফাস্ট বোলারসুলভ কোনো ব্যাপারই নেই। এমনই মিনমিন করে কথা বলেন যে দুহাত দূরে দাঁড়িয়েও সেটি কান পেতে শুনতে হয়। শারীরিকভাবে খুব ডাকাবুকোও বলা যাবে না। একটু দীর্ঘ বিমানযাত্রার সফর হলে সেই ধকল কাটাতে দু-তিন দিন লেগে যায়। তবে রুবেল হোসেন বোলিংটা করতে জানেন!
দুঃস্বপ্নের এই জিম্বাবুয়ে সফর থেকে বাংলাদেশ যদি একটি সুখস্মৃতিও সঙ্গে নিয়ে যায়, সেটি হবে রুবেলের বোলিং। সব শেষ হয়ে যাওয়ার কাল চতুর্থ ওয়ানডেতে ভুলে যাওয়া জয়ের স্বাদ। টানা সাতটি ওয়ানডে হারার পর এই জয়, যাতে সবচেয়ে বড় অবদান রাখলেন রুবেল হোসেন।
চার ম্যাচে দ্বিতীয়বার ৪ উইকেট। বুলাওয়ের ব্যাটিং উইকেটে জিম্বাবুয়ের হাতে প্রথমে ব্যাট তুলে দেওয়ার রক্ষণাত্মক সিদ্ধান্তটা বুমেরাং হয়নি তাঁর কল্যাণেই। ৪৪তম ওভারে জিম্বাবুয়ে যখন ব্যাটিং পাওয়ার প্লে নিল, সেই আশঙ্কা ছিলই। রান ৪ উইকেটে ১৮০। উইকেটে দুই সেট ব্যাটসম্যান ব্রেন্ডন টেলর ও এলটন চিগুম্বুরা। বাকি ৭ ওভারে ৬০-৭০ রান উঠে যাওয়াও অসম্ভব কিছু ছিল না।
অথচ অলআউট হওয়ার আগে জিম্বাবুয়ে করতে পারল আর মাত্র ১৯ রান। মূলে সেই রুবেল। ওয়ানডের পাওয়ার প্লেতে বোলিং এখন বিশেষজ্ঞ বোলার দাবি করে। রুবেল এখন সেই স্বীকৃতি পেতেই পারেন। বিশেষ করে কালকের পারফরম্যান্সের পর। প্রথম ৬ ওভারে ২৫ রান দিয়ে কোনো উইকেট নেই। পাওয়ার প্লের প্রথম ওভারে ফিরেই ২ উইকেট। পরের ওভারে আরও দুটি।
চার বলের (মাঝখানে একটি ওয়াইড ছিল) মধ্যে চিগুম্বুরা ও টেলরকে ফিরিয়ে জিম্বাবুয়েকে জোর ঝাঁকুনি দিয়েছিলেন। পরের ওভারে তিন বলের মধ্যেই ওয়ালার ও প্রাইসকে আউট করে মাটিতেই ফেলে দিলেন জিম্বাবুয়েকে। ওই দুই ওভার আলাদা করে নিলে ৫ রানে রুবেলের ৪ উইকেট। দ্বিতীয় ওভারে তো ডাবল উইকেট মেডেন।
প্রথম ওয়ানডেতে যৎসামান্য পুঁজি নিয়েও বিনা প্রতিরোধে হার মানেননি রুবেল। সেদিনও ৪ উইকেট নিয়েছিলেন। জেতাতে না পারলেও ম্যাচটাকে একেবারে একপেশে হতে দেননি। পুরোনো বলে রিভার্স সুইংয়ের জাদু দেখিয়েছিলেন সেদিন। দেখালেন কালও। জোরে বল করার সহজাত ক্ষমতাই তাঁকে পাদপ্রদীপের আলোয় এনেছিল। বন্ধুদের সঙ্গে মনের আনন্দে খেলে বেড়ানো তরুণের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার হয়ে যাওয়া গ্রামীণফোন পেসার হান্ট প্রকল্পের সবচেয়ে বড় বিজ্ঞাপন। বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে দ্রুততম বোলারের স্বীকৃতিটা সম্ভবত তাঁরই প্রাপ্য। রুবেলকে আরও অনন্য করেছে পুরোনো বলে ওই রিভার্স সুইং করানোর ক্ষমতা। মোহাম্মদ শরীফের পর পুরোনো বলে এমন কার্যকর পেস বোলার আর পায়নি বাংলাদেশ।
এই সফরটা ছিল স্টুয়ার্ট ল-র জন্য বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের চেনা-জানার মিশন। এত দিনে অনেককেই চিনেছেন, অনেক কিছুই জেনেছেন। তবে রুবেলকে চিনতে একদমই সময় লাগেনি তাঁর। রুবেলকে কোনো প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে দেখার আগেই দরাজ সার্টিফিকেট দিয়ে ফেলেছিলেন, ‘বিধ্বংসী এক ফাস্ট বোলার হয়ে ওঠার মতো প্রতিভা।’ এই সিরিজ শেষে স্টুয়ার্ট ল-র নিজের ধারণার ওপর আরও বিশ্বাস জন্মাবে।
ক্যারিয়ারে চতুর্থ বারের মতো ৪ উইকেট নিলেন কাল। বাংলাদেশের পক্ষে ওয়ানডেতে তাঁর চেয়ে বেশিবার ৪ উইকেট নিয়েছেন মাত্র দুজন। আবদুর রাজ্জাক ও মাশরাফি বিন মুর্তজা। তবে ৮ বার ম্যাচে ৪ উইকেট নিতে রাজ্জাককে যেখানে ১২৩ ম্যাচ খেলতে হয়েছে, ৬ বার ৪ উইকেট নিতে মাশরাফিকে ১১৮ ম্যাচ, রুবেলের ৪ বার হয়ে গেল মাত্র ৩২ ম্যাচেই।
ওয়ানডেতে চারবার ৪ উইকেট নেওয়ার কৃতিত্ব আছে বাংলাদেশের আর একজন বোলারেরই। রাজ্জাকের মতো তিনিও ছিলেন কালকের ম্যাচে। শফিউল ইসলামের চারবার ৪ উইকেট ৩৬ ম্যাচে। এই দুজনের সঙ্গে মাশরাফি যোগ হলে বাংলাদেশের পেস আক্রমণটা ব্যাটসম্যানদের পরীক্ষা নেওয়ার মতোই হবে।
রুবেলের শুরুটাই হয়েছিল ম্যাচে ৪ উইকেট নিয়ে। স্মরণীয় এক জয় দিয়েও। ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে ঢাকায় শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে অভিষেকেই ৩৩ রানে ৪ উইকেট। বাংলাদেশের পক্ষে ওয়ানডে অভিষেকে ৪ উইকেট আছে শুধু তাঁরই। মুদ্রার উল্টো পিঠটা দেখতে একটুও সময় লাগেনি। প্রথম ম্যাচের হিরো পরের ম্যাচেই হয়ে গেলেন ভিলেন। ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে প্রতিপক্ষ সেই শ্রীলঙ্কাই। রুবেলের এক ওভারে ২০ রান তুলে নিয়ে মুরালিধরন কেড়ে নিয়েছিলেন বাংলাদেশের মুখের গ্রাস। সেটি যদি পাওয়ার প্লেতে রুবেলের সবচেয়ে যন্ত্রণার স্মৃতি হয়, সবচেয়ে সুখস্মৃতি নিঃসন্দেহে কালকের বুলাওয়ে।
অভিষেক ম্যাচ আর এই সিরিজের মাঝখানে যে ৪ উইকেট, সেটিও বড় আনন্দের বার্তা বয়ে এনেছিল। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ২৫ রানে ৪ উইকেট এখনো রুবেলের ক্যারিয়ার-সেরা বোলিং। সেই অর্জন তাঁর ব্যক্তিগত আনন্দের সীমা ছাড়িয়ে উৎসবের রং ছড়িয়ে দিয়েছিল পুরো দেশেই। কাইল মিলসের স্টাম্প উপড়ে ফেলার মাধ্যমে রুবেলের হাতেই যে সম্পন্ন হয়েছিল নিউজিল্যান্ডকে ‘বাংলাওয়াশ’।
সেই ম্যাচের পর কালই আবার প্রথম ম্যান অব দ্য ম্যাচ। দুই ম্যাচেই ‘হোয়াইটওয়াশ’ শব্দটা উড়ে বেড়াচ্ছিল বাতাসে। ঢাকায় রুবেল হোয়াইটওয়াশ নিশ্চিত করেছিলেন। বুলাওয়েতে উড়িয়ে দিলেন হোয়াইটওয়াশের আশঙ্কা।

বেল-পিটারসেনে পিষ্ট ভারত

পরিসংখ্যান বলছে, উইকেটে একজনের সঙ্গ বেশ পছন্দ অন্যজনের। চলতি সিরিজে যেন আরও বেশি মানিকজোড় হয়ে উঠেছেন ইয়ান বেল ও কেভিন পিটারসেন। কালকের সকালটা সম্ভাবনা নিয়ে এসেছিল ভারতের জন্য। কিন্তু সব সম্ভাবনা উবে গেছে বেল-পিটারসেনের ব্যাটে। দুজনের আরেকটি রেকর্ড জুটিতে পিষ্ট ভারতীয় বোলিং। সিরিজে দ্বিতীয় সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন দুজনই। তুলে নিয়েছেন সিরিজে দুজনের টানা তৃতীয় সেঞ্চুরি জুটি।
দিন শেষে ইংল্যান্ডের রান ৩ উইকেটে ৪৫৭। ১৬তম সেঞ্চুরি করা বেলের চোখ এখন ডাবল সেঞ্চুরিতে। খেলছেন ১৮১ রান নিয়ে। চা-বিরতির পর প্রথম বলেই পিটারসেন তুলে নিয়েছিলেন ১৯তম টেস্ট সেঞ্চুরি। ১৭৫ রানের মাথায় তাঁকে অবশ্য ফিরিয়েছেন সুরেশ রায়না। তবে তাঁর ফেরার আগে তৃতীয় উইকেটে একটা রেকর্ডও হয়ে গেছে ইংল্যান্ডের। ভারতের বিপক্ষে সর্বোচ্চ অবিচ্ছিন্ন ৩৫০ রানের জুটি গড়েন দুজন। শুধু তা-ই নয়, এটা যেকোনো উইকেটে ইংল্যান্ডের সপ্তম বৃহত্তম জুটিও।
বৃষ্টিতে প্রথম দিন মাত্র এক সেশন খেলা হওয়ার পর কালকের রৌদ্রোজ্জ্বল সকাল সত্যিই আলোর রেখা দেখিয়েছিল ভারতকে। আগের দিন নির্বিষ মনে হওয়া বোলিং আক্রমণ হঠাৎ করেই যেন জ্বলে ওঠে। অ্যালিস্টার কুককে দিনের পঞ্চম বলেই তুলে নেন ইশান্ত শর্মা। দিনের প্রথম রানের দেখা পেতে ইংল্যান্ডকে অপেক্ষা করতে হয় ২৪ বল। আঁটসাঁট বোলিংয়ে হাঁসফাঁস করে শ্রীশান্তের অনেক বাইরের বলে ব্যাট ছুঁইয়ে ফিরে গেছেন স্ট্রাউস। কাল ৩২ বল খেলে আর ২ রান করতে পেরেছেন ইংলিশ অধিনায়ক। প্রথম সেশনে ২৫ ওভারে মাত্র ৫১ তোলে ইংল্যান্ড।
ভারতীয়দের সাজানো বাগান দ্বিতীয় সেশনেই এলোমেলো করে দেন পিটারসেন। প্রথম সেশনে অস্বস্তিতে থাকা বেলও খুঁজে পান নিজেকে। সঙ্গে ভারতীয় বোলারদের অনুপ্রেরণাহীন বোলিং তো ছিলই। লাঞ্চের পর প্রথম ঘণ্টায়ই ৮৪ রান তুলে নেন এই দুজন। বলের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে রান করেছেন পিটারসেন, ফিফটি তুলে নিয়েছেন ৬২ বলে। বেল খেলেছেন নিজের মতোই, বাজে বলকে দিয়েছেন উপযুক্ত শাস্তি। একসময় দুজনের রানের চাকাও ছুটছিল সমান গতিতে। দুজনেরই রান যখন ৭২, রুদ্র প্রতাপ সিংকে টানা দুটো চার মেরে এগিয়ে যান বেল। পরে পিটারসেনকে ৮১-তে রেখে ১৮১ বলে তুলে নেন নিজের সেঞ্চুরি। পিটারসেন চা-বিরতিতে যান ৯৮ রান নিয়ে। এই ইনিংসের আগে দুজনের সর্বশেষ ৯ জুটি—২৮৬, ৪৪, ৩৪, ৪০, ৭০, ১১৬, ৭১, ১১০, ১৬২!
চা-বিরতির এক ওভার আগে নতুন বল নেন মহেন্দ্র সিং ধোনি। এই নতুন বলটিই এখন ভারতীয়দের ভরসা। এক ইশান্ত শর্মা মাঝেমধ্যে যা একটু অস্বস্তিতে ফেলেছেন, এ ছাড়া বেল-পিটারসেনের বিপক্ষে অসহায়ই মনে হয়েছে ভারতীয় বোলারদের! ওয়েবসাইট।

গড়
এই ইনিংসে ৬৬ করলেই ব্যাটিং গড় ৫০ হয়ে যেত কুকের। কুক না পারলেও সেঞ্চুরি করে ব্যাটিং গড় আবার ৫০-এর ওপর নিয়ে গেছেন পিটারসেন!

অবশেষে জয়ের দেখা

জিম্বাবুয়ে: ৪৮.২ ওভারে ১৯৯
বাংলাদেশ: ৩৬.৪ ওভারে ২০৩/৪
ফল: বাংলাদেশ ৬ উইকেটে জয়ী
ভবিষ্যতে জিম্বাবুয়ে সফরের সূচি ঠিক করার সময় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের উচিত হবে বুলাওয়েতে বেশি ম্যাচ রাখার অনুরোধ করা। দেশের বাইরে প্রথম টেস্ট ম্যাচের ভেন্যু বলেই কিনা কুইন্স ক্লাব মাঠটি বাংলাদেশের জন্য বড় পয়া। হারারেতে হারতে হারতে বিপর্যস্ত দল বুলাওয়েতে এসে তাই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলার সুযোগ পেল।
ওয়ানডে সিরিজ ‘শেষ’ হয়ে গেছে হারারেতেই। বৃহত্তর ছবিতে এই জয়ের তাই কোনো প্রভাব নেই। তাতেও কি আর এর মহিমা কমে? গলায় পরাজয়ের পর পরাজয়ের মালা জড়ানো একটা দলকে প্রায় ভুলে যাওয়া আনন্দ উপহার দিল এই জয়। আসল মহিমাটা আপনিও জানেন। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হোয়াইটওয়াশ হওয়ার যে আশঙ্কা মুখ ব্যাদান করে তাকিয়ে ছিল, সেটিকে তো উড়িয়ে দেওয়া গেছে। এই জয়ে তাই যত না আনন্দ, তার চেয়ে বেশি স্বস্তি।
দুই বছর আগে এই বুলাওয়েতে পাঁচ ম্যাচের সিরিজের চার ম্যাচই জিতেছিল বাংলাদেশ। সাকিব-আশরাফুলরা তখন ‘উই লাভ বুলাওয়ে’ জাতীয় কিছু হয়তো বলেছিলেন, স্থানীয় সাংবাদিকেরা এখনো তা মনে রেখেছেন। ৪০ রানে জিম্বাবুয়ের প্রথম উইকেট পড়ার আগ পর্যন্ত প্রেসবক্সে ‘এবার দেখব, বুলাওয়েকে কেমন ভালোবাসো’ শুনতে শুনতে কান ঝালাপালা হয়ে যাওয়ার উপক্রম।
সিবান্দা-টেলর যেভাবে খেলছিলেন, তাতে কথাটা হেসে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছিল না। অস্বস্তির একটা কাণ্ড যে ঘটে গেছে ম্যাচ শুরুর আধঘণ্টা আগেই—টস জিতে ফিল্ডিং নিয়েছেন সাকিব। কুইন্স ক্লাবের উইকেট চিরদিনই ব্যাটসম্যানদের দিকে তাকিয়ে ‘চিরসখা হে’ গেয়ে ওঠে। এখানে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং করাই নিয়ম। সাকিবের ওই সিদ্ধান্তের একটাই ব্যাখ্যা—হারতে হারতে তলানিতে চলে যাওয়া আত্মবিশ্বাসের একটা দলের প্রথমে ব্যাটিং করার সাহস থাকে না। এমনকি ব্রায়ান ভিটরিকে বিশ্রাম দেওয়া হলেও।
হারারের উইকেট স্পিনারদের জন্য কিছুই ছিল না। এখানে বড় টার্ন না থাকলেও হাতে ফ্লাইট আর লেংথের বৈচিত্র্য থাকলে ব্যাটসম্যানদের একটু ভোগানো সম্ভব। বাংলাদেশের স্পিনাররা ভোগালেনও। যদিও সাকিব আল হাসানের বোলিং এই ম্যাচেও দুশ্চিন্তা বাড়ানোর কাজটাই করল। টানা দুই ম্যাচে মাত্র ৬ ওভার করে করলেন। কাল একটি উইকেট পেলেও সাকিবকে কখনোই সাকিবের মতো লাগেনি। একটা কারণ অবশ্য অনুমান করাই যায়। বলের সিমে ঘষা খেতে খেতে স্পিনিং ফিঙ্গারে একটা ক্ষত হয়ে গেছে। বল ধরতেই সমস্যা হচ্ছে তাঁর।
কাল সেটি বড় কোনো সমস্যা হয়নি অন্য স্পিনাররা কাজ চালিয়ে দেওয়ায়। আসল কাজটা অবশ্য করেছেন এক পেসার। স্কোর বোর্ডে ৪ উইকেটে ১৮০ রান নিয়ে ৪৪তম ওভারে ব্যাটিং পাওয়ার প্লে নিল জিম্বাবুয়ে। প্রথম তিন ম্যাচে মাত্র ১৭ রান করা টেলরের সেঞ্চুরি হয়ে গেছে ততক্ষণে। সঙ্গে আছেন পাওয়ার প্লের আদর্শ ব্যাটসম্যান চিগুম্বুরা। ২৬০-৭০ খুবই সম্ভব বলে মনে হচ্ছিল। হয়নি রুবেলের কারণেই। পরপর দুই ওভারে দুটি করে উইকেট নিয়ে পাওয়ার প্লেকে রানপ্রসবিনীর বদলে জিম্বাবুয়ের দুঃস্বপ্ন বানিয়ে দিয়েছেন রুবেল। মাত্র ১৬ রানে শেষ ৬ উইকেট হারিয়ে জিম্বাবুয়ে তাই ১৯৯ রানে অলআউট!
ওয়ানডে সিরিজের প্রথম দুটি ম্যাচ যেমন প্রথম ইনিংসের পরই শেষ হয়ে গিয়েছিল, এটিও একরকম তাই-ই। এই উইকেটে ২০০ রান কোনো ব্যাপার হতে পারত শুধু বিধ্বংসী বোলিং বা জঘন্য ব্যাটিং হলেই। ভিটরি নেই বলে প্রথম সম্ভাবনাটা শুরুতেই প্রায় শূন্যের কোঠায়। দ্বিতীয় সম্ভাবনাটাও উড়ে গেল তামিম ইকবালের ব্যাটের ঝলকানিতে। ৫৩ বলে ৬১ রানের ইনিংসটি একটা মাইলফলকেও পৌঁছে দিয়েছে তাঁকে। মোহাম্মদ আশরাফুল ও সাকিব আল হাসানের পর বাংলাদেশের তৃতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে ওয়ানডেতে তিন হাজার রান হয়ে গেল তামিমের। তিনজনের মধ্যে তিনিই দ্রুততম তিন হাজারি। সাকিবের তিন হাজার হয়েছিল ১০৫ ইনিংসে। তামিমের লাগল ১০২ ইনিংস।
বাংলাদেশের ইনিংসের শুরুতে অবশ্য ইমরুল কায়েসকে তামিম মনে হচ্ছিল, তামিমকে ইমরুল। আগের তিন ম্যাচে ব্যর্থতা থেকে বেরোতে চালিয়ে খেলাটাকেই উপায় মানলেন ইমরুল। ঘটনাবহুল ২০ মিনিটেই অবশ্য তাঁর ইনিংসের সমাপ্তি। ওটুকু সময়ের মধ্যেই দুবার ক্যাচ দিয়েও বেঁচে গেলেন, তিনটি চার ও দুটি ছক্কাও মারলেন।
জুনায়েদও বেশ মারমুখী মেজাজে আছেন বলে মনে হলো। তবে ১৪ রানেই শেষ তাঁর অ্যাডভেঞ্চার। তামিম ও মুশফিকুরকেও হারিয়ে রান যখন ৪ উইকেটে ১২৯, ম্যাচে একটু অনিশ্চয়তার দোলাচল। ধীরে ধীরে সেটি মুছে গেছে শুভাগতর সঙ্গে সাকিবের অপরাজিত ৭৪ রানের জুটিতে।
তৃতীয় ওয়ানডেতে হারার পর সংবাদ সম্মেলনে এসে অন্ধকারেও আলোর রেখা খুঁজছিলেন স্টুয়ার্ট ল। ভেবে ভেবে পেয়েছিলেন নাসির হোসেন ও শুভাগত হোম চৌধুরীকে, ‘নতুন দুজনকে দেখে মনে হচ্ছে, ওরা এই পর্যায়ে খেলার জন্য তৈরি।’ কাল শুভাগতর ইনিংসটি ছোট্ট হলেও তা ল-র উপলব্ধিটাকে সঠিক বলে প্রমাণ করার মতোই।

নাম প্রত্যাহার ক্লাইস্টার্সের

ইউএস ওপেন থেকে নাম প্রত্যাহার করতে বাধ্য হলেন বর্তমান চ্যাম্পিয়ন কিম ক্লাইস্টার্স। ইনজুরির কাছে হার মেনেই এই প্রত্যাহার বলে জানালেন ২৮ বছর বয়সী বেলজিয়ান, ‘পাকস্থলীর ইনজুরির কারণে দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমি এবারের ইউএস ওপেন শিরোপা ধরে রাখার লড়াইয়ে নামতে পারছি না।’ ২৯ আগস্ট শুরু হবে ইউএস ওপেন। কিন্তু সুস্থ হওয়ার জন্য এই সময়টা পর্যাপ্ত বলে মনে হচ্ছে না তাঁর, ‘সেরে ওঠার জন্য দুই সপ্তাহও যথেষ্ট সময় নয়। অবশ্যই আমি খুব হতাশ। এই গ্রীষ্মে কঠোর অনুশীলন করেছিলাম। এবং মনে হচ্ছিল ইউএস ওপেনে বেশ স্বাচ্ছন্দ্যেই খেলতে পারব।’

ওয়ানডে অধিনায়ক মরগান

ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হয়েছেন এউইন মরগান। তবে মাত্র একটি ম্যাচের জন্য, সেটাও আবার জন্মভূমি আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে। ২৫ আগস্ট ডাবলিনে হবে দুই দলের একমাত্র ওয়ানডে ম্যাচটি। তাতে খর্বশক্তির ও অনভিজ্ঞ ইংল্যান্ড দলকে নেতৃত্ব দেবেন মরগান। গতকাল ঘোষিত ১৩ সদস্যের দলে ভারতের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ খেলা বেশির ভাগ খেলোয়াড়ই নেই। আগামী মাসের ৫ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের আগে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে তাঁদের। মরগান ছাড়া টেস্ট দলের রবি বোপারা ও জোনাথন ট্রটই শুধু আছেন এই দলে।