Friday, December 14, 2018

"আমেরিকার আধিপত্যের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ইসলামি বিপ্লবের গুরুত্বপূর্ণ মোজেজা"

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী বলেছেন, বর্তমান বিপ্লবী ও মুমিন তরুণ প্রজন্মের সাহসিকতা ও শাহাদাতের যে প্রেরণা কাজ করছে তা ইসলামি বিপ্লবেরই একটি মোজেজা। তিনি তেহরানে শহীদ পরিবারের সদস্যদের এক সমাবেশে এ কথা বলেছেন।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা দখলদার ইসরাইল এবং মার্কিন নেতৃত্বাধীন সাম্রাজ্যবাদী শক্তির ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, "আমরা তাদের চেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছি। কারণ এখন পর্যন্ত শত্রুরা ইরানকে দমিয়ে রাখতে পারেনি এবং তাদের কোনো লক্ষ্যই অর্জিত হয়নি। আর আগামীতেও তারা কিছুই করতে পারবে না।" এ প্রসঙ্গে তিনি বিপ্লবের স্থপতি ইমাম খোমেনি(র.)এর একটি বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলেন, যে জাতির শাহাদাতের স্পৃহা রয়েছে তাদেরকে কেউ দমিয়ে রাখতে পারবে না।
ইরানে ইসলামি বিপ্লবের পরও আমেরিকা সবসময়ই চেষ্টা করেছে বিপ্লবপূর্ব অবস্থানের মতো এ দেশটির ওপর ফের আধিপত্য ও কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে। যেমনটি আমেরিকা এ অঞ্চলের কয়েকটি দুর্বল দেশের ওপর পূর্ণ আধিপত্য বিস্তার করে আছে এবং এ দেশগুলোকে তারা দুধ দেয়া গাভীর সঙ্গে তুলনা করেছে। ইরানকেও আমেরিকা তাদের করদ রাজ্যে পরিণত করতে চেয়েছিল কিন্তু সে লক্ষ্য তাদের পূরণ হয়নি এবং আগামীতেও হবে না। ইরানে বিপ্লবের প্রথম দিকের মতো বর্তমান বিপ্লবী ও মুমিন তরুণ প্রজন্মও সাহসিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে এবং তারা বিপ্লবী চেতনা, ধর্ম ও বিশ্বাসকে রক্ষায় দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। এই চেতনা ও বিশ্বাস ইসলামি ইরানকে যেমন টিকিয়ে রেখেছে তেমনি শত্রুদের ষড়যন্ত্র মোকাবেলায়ও ভূমিকা রাখছে। এ বিষয়টিকে দু'দিক থেকে মূল্যায়ন করা যায়। প্রথমত, শত্রুদের ইরানি জাতির ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন কোনো দিনই বাস্তবায়ন হবে না। আর দ্বিতীয়ত, প্রতিরোধের চেতনা ধরে রাখার কারণে ধর্মীয়, বিপ্লবী মূল্যবোধ ও শাহাদাতের প্রেরণা উজ্জীবিত রয়েছে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা যেমনটি বলেছেন, আমেরিকার উদ্দেশ্য ছিল নিষেধাজ্ঞা আরোপ  ও সন্ত্রাসীদের দিয়ে নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টির মাধ্যমে একদিকে ইরানের ভেতরে বিভিন্ন গ্রুপের মধ্যে দ্বন্দ্ব সংঘাত বাধানো এবং অন্যদিকে জনগণকে বিক্ষুব্ধ করে তাদেরকে রাস্তায় নামিয়ে আনা। আমেরিকা এটাকে সরকার বিরোধী আন্দোলন হিসেবে অভিহিত করে এর নাম দিতে চেয়েছিল হট সামার অর্থাৎ 'উত্তপ্ত গ্রীষ্ম'। কিন্তু তাদের সে প্রত্যাশা পূরণ হয়নি বরং এবারের গ্রীষ্মকাল ছিল সবচেয়ে আরামদায়ক।
বাস্তবতা হচ্ছে, ইসলামি বিপ্লবের পর গত ৪০ বছরের ইতিহাসে পরিপূর্ণতার পথে ইরানের যাত্রা অব্যাহত রয়েছে এবং সাম্রাজ্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে শক্তিশালী হয়েছে। ইরানের এ ধারাবাহিক সাফল্য শহীদদের রক্তের কাছে ঋণী যারা কিনা দায়েশ সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধেও বিরাট অবদান রেখেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ঘটনাবলীর দিকে লক্ষ্য করলে বোঝা যায়, যদি এই শাহাদাতকামী প্রেরণা না থাকত তাহলে এ অঞ্চলে সন্ত্রাসবাদের ভয়াবহ বিস্তার ঘটত এবং আরো নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি হত। অর্থাৎ এ অঞ্চল ইসরাইল ও পাশ্চাত্যের সমর্থিত সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হত। কিন্তু ইরানের সর্বোচ্চ নেতা যেমনটি বলেছেন, "যে জাতি যাবতীয় বিপদ-আপদ উপেক্ষা করে আল্লাহর রাস্তায় নিজেকে বিলিয়ে দেয়ার মধ্যে নিজেদের সৌভাগ্য ও সফলতা দেখতে পায় পৃথিবীর কোনো শক্তিই তাদেরকে দমিয়ে রাখতে পারবে না, তারাই বিজয়ী হবে এবং সেই জাতির উন্নতিকে কেউ ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না।"
যাইহোক, ইরানের সরকার ও জনগণ মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার আধিপত্যের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে। এটাকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা ইসলামি বিপ্লবের একটি গুরুত্বপূর্ণ মোজেজা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

পশ্চিমবঙ্গে ক’টা মুসলিম ছেলে চাকরি পেয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী জবাব দিন: আব্দুল মান্নান

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ও কংগ্রেসের সিনিয়র নেতা আব্দুল মান্নান
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ও কংগ্রেসের সিনিয়র নেতা আব্দুল মান্নান বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গে ক’টা মুসলিম ছেলে চাকরি পেয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী জবাব দিন। তিনি আজ (বুধবার) পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কোলকাতায় দলীয় এক সমাবেশে ভাষণ দেয়ার সময় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশ্যে ওই প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছেন।
রাজস্থান, মধ্য প্রদেশ ও ছত্তিশগড়ে কংগ্রেস বিজেপিকে পরাজিত করে জয়ী হওয়ায় আজ কংগ্রেসের পক্ষ থেকে কোলকাতার রানী রাসমণি রোডে বিজয়  উৎসব পালন করতে এক জনসমাবেশ করা হয়। ওই সভায় কংগ্রেস নেতারা কেন্দ্রীয় সরকারে ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকারের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতাসীন তৃণমূল সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন।
কংগ্রেসের সিনিয়র নেতা আব্দুল্ল মান্নান মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে তাঁর ভাষণে বলেন, ‘(ফিরহাদ  হাকিমকে)কোলকাতার মেয়র করেছেন বলে যদি আপনি মনে করেন আপনি সব মুসলিমদের কিনে নিয়েছেন, তা ঠিক নয়। তাহলে তো  বিজেপি এ পি জে আব্দুল কালামকে রাষ্ট্রপতি করেছিল সব মুসলিমরা বিজেপি’র দিকে চলে যেত। মুসলিমদের কী অবস্থা আজ হয়ে রয়েছে? মুখ্যমন্ত্রীকে আমরা বারবার জিজ্ঞেস করেছি, আমাদের বিধায়করা বারবার জিজ্ঞেস করেছেন, মুখ্যমন্ত্রী জবাব দিন। ক’টা মুসলিম ছেলে (তৃণমূল সরকারের আমলে) চাকরি পেয়েছে? কোলকাতা পুলিশের পাঁচ বছরের হিসেবে দেখা যাচ্ছে একটা মুসলিম ছেলেও চাকরি পায়নি। এমনকি কনস্টেবলের চাকরি, তাও পায়নি।’ 
তিনি বলেন, ‘কংগ্রেসের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধার্থ শঙ্কর রায় মুসলিমদের চাকরি দিয়েছিলেন, কিন্তু সেজন্য তাঁকে বলতে হয়নি যে তিনি মুসলিম হয়েছেন। আজকে পশ্চিমবঙ্গের মানুষের কাছে ধর্মীয় মেরুকরণ একদিকে বিজেপি করছে, আর একদিকে তৃণমূল মেরুকরণের মধ্য দিয়ে মুসলিমদের ভোটব্যাঙ্ক হিসেবে ব্যবহার করতে চাচ্ছে।’
মুখ্যমন্ত্রীর নাম না করে তাঁকে কটাক্ষ করে আব্দুল্ল মান্নান বলেন, ‘উনি রোজা রেখে প্রসাদ খান, প্রসাদ খাওয়াটা অন্যায় কিছু নয়। কিন্তু রোজা রেখে তো প্রসাদ খাওয়া যায় না বাবা! মুসলিমদের এতই বেওকুফ ভাবেন? একদিকে বিজেপি যেমন ধর্মীয় মেরুকরণের রাজনীতি করার চেষ্টা করছে, হিন্দুদের বোঝাচ্ছে আমি তোমাদের হিন্দু। অন্যদিকে, মমতা মুসলিমদের ভোট নেয়ার জন্য বলছেন আমি মুসলিম হয়ে গেছি! দুটোই হিন্দু-মুসলিমের শত্রু। কেউ মুসলিমদের বন্ধু নয়, হিন্দুদেরও বন্ধু নয়।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে সমস্যা হচ্ছে হাসপাতাল, শিক্ষা ক্ষেত্র, মেয়েদের সম্মান রক্ষা করা। কিন্তু বিজেপি ও তৃণমূলের আমলে সবই ভূলুণ্ঠিত হয়ে গেছে।’ আব্দুল্ল মান্নান বলেন, ‘কংগ্রেসের এখন ঘুরে দাঁড়াবার সময় এসে গেছে। সেজন্য যারা কংগ্রেস ছেড়ে চলে গেছেন তারা ফিরে আসুন। যে কংগ্রেস একদিন সিপিএমের কাছে ত্রাস হয়ে গিয়েছিল, সেই কংগ্রেস আবার ভারতে বিজেপির কাছে ত্রাস হয়ে যাবে। কংগ্রেস আগামীদিনে তৃণমূলের কাছে ত্রাস হয়ে যাবে। তৃণমূল যতই চেষ্টা তা করুক রুখতে পারবে না।’   
আজ কোলকাতায় কংগ্রেসের ওই সভায় আব্দুল মান্নান, সোমেন মিত্র, গৌরব গগৈ, অধীর চৌধুরী, দীপা দাসমুন্সী-সহ অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

ভারতকে ইসলামী দেশ করার চেষ্টা করবেন না: মেঘালয় হাইকোর্টের বিচারপতি

ভারতের মেঘালয় হাইকোর্টের বিচারপতি সুদীপ রঞ্জন সেন বলেছেন, ভারতকে একটি ইসলামী রাষ্ট্র তৈরির চেষ্টা করা উচিত নয়। তাঁর মতে, পাকিস্তান নিজেকে ইসলামী রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করেছিল। কিন্তু ভারত সেকুলার রাষ্ট্র হয়েছিল। ভারতকেও সেসময় ‘হিন্দু রাষ্ট্র’ ঘোষণা করা উচিত ছিল।
গত বুধবার বিচারপতি সেন এক মামলার শুনানিতে ওই মন্তব্য করেন। তাঁর ওই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।  
‘হিন্দু রাষ্ট্র’ ঘোষণা প্রসঙ্গে এনিসিপি নেতা মজিদ মেমন ওই বিচারপতির পদত্যাগ দাবি করে বলেছেন, ‘আমি খুব দুঃখিত যে কোনও বিচারকের মানসিকতা এধরণের হতে পারে! উনি সংবিধানের শপথ নিয়েছেন এজন্য তাঁর পদত্যাগ করা উচিত। বিচারপতি সেনকে এধরণের কথা বলা উচিত নয়।
ভারত বিভাজনের সময় কী পরিস্থিতি ছিল সেকথা বিচারপতির জানা উচিত। মনে হয় উনি ইতিহাসই পড়েননি। বিভাজনের সময় ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার মুসলিমরা জিন্নাহর নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানে বসতি স্থাপন করেছিলেন। যেসব মুসলিমরা সেসময় পাকিস্তানে যাননি তার কারণ কেবল এটাই ছিল যে ভারত একটি সেক্যুলার দেশ এবং সেক্যুলার সংবিধান অনুযায়ী দেশ চলবে।’  
অন্যদিকে, ভারতকে হিন্দু রাষ্ট্র ঘোষণা করা প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও বিজেপি নেতা গিরিরাজ সিং বলেছেন, ‘আমি বিচারপতি সেনের সঙ্গে সম্পূর্ণ একমত। আমি তাঁকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও বিজেপি নেতা গিরিরাজ সিং
শিবসেনা নেতা সঞ্জয় রাউত বলেছেন, ‘আমাদের দল সব সময় বলে আসছে যে এটা হিন্দু রাষ্ট্র। এটা এজন্য যে, ১৯৪৭ সালে ধর্মের ভিত্তিতে দেশ বিভাজন হয়েছিল। মুসলিমরা চেয়েছিলেন তাঁদের জন্য আলাদা রাষ্ট্র, সেজন্য তাঁদের জন্য পাকিস্তান তৈরি হয়েছিল। যেটা অবশিষ্ট আছে তা হিন্দুস্তান, হিন্দু রাষ্ট্র। এজন্য আদালতকে কোনও সার্টিফিকেট দেয়ার প্রয়োজন নেই।’
মজলিশ-ই-ইত্তেহাদুল মুসলেমিন প্রধান ব্যারিস্টার আসাদ উদ্দিন ওয়াইসি
মজলিশ-ই-ইত্তেহাদুল মুসলেমিন প্রধান ব্যারিস্টার আসাদ উদ্দিন ওয়াইসি বলেছেন, বিচারপতি যিনি সংবিধান অনুযায়ী শপথ নিয়েছেন, এজন্য তিনি কোনও ভুল সিদ্ধান্ত দিতে পারেন না। তিনি বলেন, ভারত ইসলামি দেশ হবে না। ভারত এক বহুত্ববাদী ও ‘সেক্যুলার দেশ’ হিসেবেই থাকবে।
জম্মু-কাশ্মিরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ডা. ফারুক আবদুল্লাহ বলেছেন, ‘ভারত একটি ‘সেক্যুলার দেশ’, সেক্যুলার হিসেবেই থাকবে। আমাদের পূর্বপুরুষরা এক সেক্যুলার রাষ্ট্র তৈরি করেছিলেন, এজন্য আমাদের দেশের সেক্যুলার চরিত্র সুরক্ষিত রাখতে হবে।’

‘দেশভাগের সময়ই ভারতকে হিন্দু রাষ্ট্র ঘোষণা করা উচিত ছিল’

দেশভাগের সময়ই ভারতকে হিন্দু রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করা উচিত ছিল- এমন মন্তব্য করেছেন মেঘালয় হাইকোর্টের বিচারক এসআর সেন। সোমবার আমন রানা নামের এক ব্যক্তির স্থায়ীভাবে বসবাসের আবেদনের শুনানিকালে এ মন্তব্য করেন তিনি। আমন রানাকে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে স্থায়ী বসবাসের অনুমোদন দেয়া হচ্ছিল না। তার আবেদনের প্রেক্ষিতে করা এ শুনানিকালে বিচারক সেন হিন্দুত্ববাদসহ আরো অনেক বিষয় তুলে ধরেন।  এ খবর দিয়েছে অনলাইন টাইমস অব ইন্ডিয়া।
আমন রানার শুনানিকালে বিচারক বলেন, পাকিস্তান নিজেদের মুসলিম রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করেছে। ভারত যেহেতু ধর্মের ভিত্তিতে বিভক্ত হয়েছিল, তাই ভারতের উচিত ছিল নিজেদের হিন্দু রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করা। কিন্তু দেশটি এখনও ধর্মনিরপেক্ষই রয়ে গেছে।
এসময় মোদি সরকারের হিন্দুত্ববাদের প্রশংসা করে তিনি বলেন, আমি স্পষ্টভাবে বলতে চাই, ভারতকে আরেকটি মুসলিম রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করা কারোই উচিত হবে না।
তাহলে সেটা ভারত এবং বিশ্বের জন্য ধ্বংসাত্মক হয়ে উঠবে। আমি নিশ্চিত এই বিষয়ের গুরুত্ব শুধু মোদি সরকারই বুঝবে এবং এ জন্য  যাবতীয় কিছু করবে। আর আমাদের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দেশের স্বার্থে সকল প্রকার সহায়তা চালিয়ে যাবেন।
এ সময় সকল নাগরিকের জন্য অভিন্ন আইনের দাবি করেন বিচারক সেন। তিনি বলেন, ভারতের আইন এবং সংবিধানের বিরোধিতাকারীদের দেশের নাগরিক হিসেবে গণ্য করা উচিত নয়। আমাদের অবশ্যই মনে রাখতে হবে, সর্বপ্রথম আমরা ভারতীয়, পরে আমরা ভালো মানুষ। এরপরে আসে আমরা কোন সম্প্রদায়ের।
বিচারক এসআর সেন আরো বলেন, অনেক রক্তপাতের পর ভারত স্বাধীনতা অর্জন করেছে। আর এর সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী ছিল হিন্দু এবং শিখরা। তাদেরকে নিজেদের পৈতৃকভিটা, জন্মস্থান ছেড়ে যেতে হয়েছে। আমরা তাদের অবদান কোনোদিন ভুলব না। তাদেরকে হয়ত কখনও ভারতে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি দিয়ে নাগরিকত্ব দেয়া হয়েছিল। একইভাবে ভারতের বাইরে অবস্থানকারী ভারতীয় বংশোদ্ভূত হিন্দু এবং শিখরা যখন ইচ্ছা ভারতে আসতে পারেন। তাদেরকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভারতের নাগরিক হিসেবে গণ্য করা উচিত। এছাড়া ভারতে বসবাসরত মুসলিম নাগরিক, যারা ভারতের আইন মেনে চলে, তাদেরকে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাসের অনুমতি দেয়ার প্রতি জোর দেন তিনি।
ভারতে মুসলিম বিস্তার নিয়ে তিনি বলেন, আমরা সবাই জানি ভারত বিশ্বের অন্যতম বড় দেশ ছিল। এখানে পাকিস্তান, বাংলাদেশ কিংবা আফগানিস্তান বলে কিছু ছিল না। সব মিলিয়ে ছিল একটি দেশ যা হিন্দুরাজাদের অধীনস্থ ছিল। এরপর মুঘলরা এসে বিভিন্ন অংশ দখল করে নেয় এবং দেশ শাসন শুরু করে। সে সময়টাতে অনেক জোরপূর্বক ধর্মান্তরের ঘটনা ঘটে।

গহীন জঙ্গলে চিতার আক্রমণে ধ্যানরত বৌদ্ধ ভিক্ষুর মৃত্যু

ভারতে মহারাষ্ট্রে গহীন জঙ্গলে চিতাবাঘের আক্রমণে এক বৌদ্ধ ভিক্ষু নিহত হয়েছেন। তাদোবা ফরেস্ট নামের এই জঙ্গলে তিনি দীর্ঘদিন ধরে জনবিচ্ছিন্ন হয়ে ধ্যান করতেন। এটি বাঘের অভয়ারণ্য হিসেবে সুপরিচিত। বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, ভিক্ষু রাহুল ওয়াকে তাদোবা ফরেস্টের গহীনে একটি গাছের নিচে বসে ধ্যান করতেন । তিনি জঙ্গলের ভেতরে অবস্থিত একটি বৌদ্ধ মন্দিরের ভিক্ষু ছিলেন। কিন্তু প্রায়ই মন্দির থেকে অনেক দুরে গহীন জঙ্গলে চলে যেতেন। সেখানে একটি গাছের নীচে বসে গভীর ধ্যানে মগ্ন থাকতেন। জঙ্গলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গহীন জঙ্গলে যাওয়ার বিষয়ে তাকে সতর্ক করা হয়েছে।
কিন্তু ভিক্ষু রাহুল এই সতর্কবার্তা আমলে না নিয়ে সেখানে যাওয়া অব্যাহত রাখেন। এর ফলে তাকে জীবন দিতে হলো। সংশ্লিষ্ট মন্দিরের আরেকজন ভিক্ষু জানান, বুধবার সকালে গহীন জঙ্গলে ধ্যানরত রাহুলকে খাবার দিতে যাওয়ার সময় তিনি চিতাবাঘকে আক্রমণ করতে দেখেছেন। পরে আতঙ্কিত হয়ে সাহায্যের জন্য মন্দিরে ফিরে আসেন তিনি। পরে অন্যদের সঙ্গে নিয়ে যখন আবারো গহীন জঙ্গলে প্রবেশ করেন, তখন রাহুলকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান।
এখন ওই চিতাবাঘটিকে বন্দি করার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন ফরেস্ট অফিসার জিপি নারায়ণ। তিনি বলেন, বাঘটিকে ধরার জন্য আমরা দুইটি ফাঁদ পেতেছি। এছাড়া বাঘের অবস্থান শনাক্ত করতে জঙ্গলের ভেতরে  ক্যামেরা বসানো হয়েছে। মহারাষ্ট্রের রাজ্য সরকার ভিক্ষু রাহুলের পরিবারকে ১২ লাখ রুপি ক্ষতিপূরণ প্রদানের ঘোষণা দিয়েছে। উল্লেখ্য, কর্তৃপক্ষের হিসাব অনুযায়ী তাদোবা ফরেস্টে প্রায় ৮৮টি বাঘ রয়েছে। এই জঙ্গলে ভল্লুক, হায়েনাসহ আরো হিংস্র প্রাণীর বসবাস রয়েছে।

সম্পর্ক চাইলে সৌদি যুবরাজকে পাল্টাতে হবে: ২ সিনেটরের দাবি

রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম
আমেরিকার ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান ও বিরোধী ডেমোক্র্যাট দলের প্রভাবশালী দুই সিনেটর বলেছেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে সুসম্পর্ক চাইলে সৌদি যুবরাজ মুহাম্মাদ বিন সালমানকে ক্ষমতা থেকে সরাতে হবে। তারা বলেছেন, যুবরাজ মুহাম্মাদ বিন সালমান “অনেক বেশি বিষাক্ত” হয়ে উঠেছেন।
আগে থেকেই রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম ও ডেমাক্র্যাট দলের সিনেটর বব মেনেন্ডিজ সৌদি যুবরাজের সমালোচনা করে আসছেন তবে গতকাল তারা সবচেয়ে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেছেন। দুই সিনেটর বলেছেন, সৌদি যুবরাজকে তারা ক্ষমতায় দেখতে চান না।
রাজা সালমান বিন আবদুল আজিজ হচ্ছেন সৌদি আরবের শাসক তবে যুবরাজ হচ্ছেন ‘কার্যত’ শাসক। সৌদি সরকারের প্রতি মার্কিন কংগ্রেসের এতদিন যে সমর্থন ছিল চলতি সপ্তাহে তাতে পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদ- দুই কক্ষই তাদের মনোভাবে পরিবর্তন এনেছে বলে পরিলক্ষিত হচ্ছে।
সিনেটর গ্রাহাম কংগ্রেসে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “আমাদের সৌদি আরবের বন্ধুরা কিছু জিনিসে পরিবর্তন না আনলে কখনই আপনারা আমাদের বন্ধুত্ব পাবেন না এবং কাকে পরিবর্তন করবেন তা আপনাদেরকেই ঠিক করতে হবে।”
সেনা কর্মকর্তার সঙ্গে আলাপ করছেন সৌদি যুবরাজ বিন সালমান