Sunday, June 15, 2014

বাপি, তুমি কি শুনতে পাচ্ছ... by সুস্মিতা সরকার

বাপি, তুমি কি শুনতে পাচ্ছ তোমার অভাগা মেয়ের কথা? তোমার অসমাপ্ত প্যাডে তোমাকে নিয়ে লিখতে বসেছি৷ খুব পছন্দ ছিল তোমার এই স্পাইরাল বাইন্ডিং খাতাগুলো৷ বাপি, তোমার নিশ্চয়ই মনে আছে, আজ আমার জন্মদিন! কী করে ভুলবে প্রতিবছর এই দিনকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য কত রকম উপহার নিয়ে অপেক্ষায় থাকতে৷

>>নারায়ণগঞ্জের নিষ্ঠুর ও নির্মমভাবে নিহত আইনজীবী চন্দন সরকারের সঙ্গে মেয়ে সুস্মিতা সরকার
কী অদ্ভুত! আজকে আমিও তোমার জন্য উপহার নিয়ে বসে আছি৷ কেন বলো তো? আজ যে বাবা দিবস৷ ১৯১০ সালের এই দিনে একটি মেয়ে সনোরা স্মার্ট ডড সম্পূর্ণ নিজ উদ্যেগে তাঁর বাবার প্রতি অসীম ভালোবাসা থেকে দিবসটি পালন করা শুরু করেন; যদিও তিনি ১৯০৮ সালের ৫ জুলাই আমেরিকার পশ্চিম ভার্জিনিয়ার ফেয়ারমেন্টের এক গির্জায় দিনটি পালিত হওয়ার কথা কিছুই জানতেন না৷
বাবা দিবসে সন্তানের সামনে সুযোগ আসে তার বাবাকে অন্তরের অন্তস্তল থেকে কৃতজ্ঞতা জানানোর৷ দিবসটি নানা দেশে নানাভাবে পালিত হয়৷ কিন্তু একটি ক্ষেত্রে বিশেষ মিল রয়েছে৷ এদিন সব সন্তানই তার বাবাকে কিছু না কিছু উপহার দিতে পছন্দ করে৷
ভাগ্যের কী নির্মম পরিহাস! এই দুটি দিন এই প্রথম এক হয়ে গেল আমার জীবনে৷ কতটা স্মরণীয় হতে পারত, অথচ দুর্ভাগ্যের ভয়াল থাবায় উপহার তো দূরের বিষয়, তোমাকে একবার প্রাণভরে দেখব, তোমার ডাক শুনব, সেই সুযোগটুকুও হলো না এই অভাগা সন্তানের৷
সব সন্তানের মধ্যে বাবা আমাকে যেন একটু বেশিই স্নেহ করত, নাকি ছিল নির্ভরশীলতা, বিশ্বাস৷ কিন্তু তোমার এই বিশ্বাস, নির্ভরশীলতার কোনো কিছুই রক্ষা করতে পারিনি, বাপি৷ তুমি হারানোর পর ফিরে পাওয়ার আশায় দুয়ারে দুয়ারে ঘুরেছি৷ সবাই সান্ত্বনা দিয়েছে ফিরে পাওয়ার৷ ফিরিয়ে তো দিয়েছে, তবে জীবন্ত নয়৷ পিতৃহারা সন্তানের নিরবধি কান্না কি তারা শুনতে পাচ্ছে?
কিন্তু কেন? কেন মেনে নিতে হবে এই নির্মম পরিণতি? কী অপরাধ ছিল তার? যে মানুষটি জাত-ধর্মের ভেদাভেদ ভুলে সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে হৃদয় থেকে এত ভালোবাসা দিয়ে গেছে, বিনিময়ে তার এই পুরস্কার জুটল!
সবার মনে হয়তো প্রশ্ন, কেন তাকে নিয়ে এত জাগরণ সৃষ্টি হলো৷ সে যে সাধারণের মধ্যে একজন অসাধারণ মানুষ ছিল৷ সব সময় আমাদের কাছে বলত, ‘শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় বড় হওয়া কোনো কৃতিত্বের বিষয় নয়, তুমি বিভিন্ন বিষয়ে জ্ঞান অর্জন না করলে কখনোই প্রকৃত মানুষ হতে পারবে না৷’ নিজের জীবনে তার সার্থক প্রতিফলন ঘটিয়েছে৷ বাবা নিজেকে শুধু আইন পেশায় ব্যস্ত রেখেছে তা-ই নয়, একটু অবসর পেলেই তার সঙ্গী হতো কবিতা, গান অথবা বাঁশি৷ এত ব্যস্ততার মধ্যেও দুটি কবিতার বই প্রকাশ করেছে, রেখে গেছে আরও অনেক অসমাপ্ত লেখা৷
শুধু তা-ই নয়, তার মধ্যে প্রকৃতিপ্রেম ছিল অনেক গভীর৷ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের তার পৈতৃক বাড়িটি স্বাধীনতার সময়ে হারানোর পর প্রতিবছর সেখানে একবার করে ছুটে যেত শুধু তার হাতে লাগানো গাছগুলো একবার দেখার জন্য৷ তারপর অনেক আশা নিয়ে সিদ্ধিরগঞ্জের জালকুঁড়িতে সেই আদলে একটি বাড়ি বানাল৷ সেই দখিনা জানালা, গাছের নির্মল হাওয়ায় নিরিবিলি পরিবেশে সাহিত্যচর্চা করবে৷ অনেক বাধা দিয়েছিলাম, এত জনমানবশূন্য স্থান নিরাপদ হবে তো? প্রশান্তির হাসি হেসে বলত, ‘এখানে আমার কিছুই হবে না৷ নারায়ণগঞ্জ তো আমার অস্তিত্বের অংশ, এখানে সবাই আমাকে অনেক ভালোবাসে৷’
ছোটবেলায় বিদ্যুৎবিভ্রাট হলে আমাদের ছাদে নিয়ে যেত কখনো বা মুগ্ধ করত তার দরাজ গলায় গান অথবা সুরেলা বাঁশির শব্দে৷ এখনো অন্ধকার হলে আমি যেন শুনতে পাই তার সেই সুরেলা বাঁশির শব্দ৷ বাংলা, ইংরেজি উভয় ভাষাতেই নির্ভুলভাবে অনর্গল কথা বলতে পারত বাবা৷ তার জ্ঞানের গভীরতা আমাদের অবাক করত৷ আমরা তার নাম দিয়েছিলাম ‘চলন্ত লাইব্রেরি’! বলতাম, তোমার কাছে এলে তো সব বিষয়ই জানা যায়, বই দেখার প্রয়োজন নেই৷ তবে তার অসাম্প্রদায়িক মনোভাব আমাকে সবচেয়ে বেশি আকৃষ্ট করত৷ খুব ছোটবেলাতেই লক্ষ করতাম, তার লাইব্রেিরতে স্থান করে নিয়েছে পবিত্র ধর্মগ্রন্থ গীতা, আল কোরআন, বাইবেলসহ বিভিন্ন ধর্মের বহু বই৷ বলত, ‘যত দিন উপলব্ধি হবে না যে সব ধর্ম এক, সব মানুষ সমান, তত দিন প্রকৃত মানুষ হবে না৷’ যদি তা-ই হয়, তবে যারা তোমাকে নির্মমভাবে এই নিষ্ঠুর পরিণতি দিয়েছে, তাদের আর তোমার মধ্যে এত পার্থক্য হলো কীভাবে? কোনো জবাব নেই, জানি কোনো দিন পাবও না৷
তাই আজ তোমাকে হারানোর বেদনা দিয়ে তোমারই কবিতার মধ্যে তোমাকেই খুঁজে বেড়াই...
তিনি আজ নেই৷ মনে হয় সেই আঙুলের ছোঁয়া আজও
অস্তিত্বের অন্ধকারে
আলোর মিছিল৷ আমি টের পাই৷ কেউ ছুটে আসে—যেন
দেয়ালে ঝুলানো ছবি ফিরে পায় জীবন আবার৷
বলে, ‘ভয় নেই৷ আমি চিরকাল তোমার পাশেই৷ ঘন কালো
মেঘ৷ অমানিশা৷ অন্ধকার? মনে করো কিছু নয়৷ তুমি
ছুঁয়ে আছে আমার আঙুল৷’
সুস্মিতা সরকার: নারায়ণগঞ্জের নিহত আইনজীবী চন্দন সরকারের মেয়ে৷

নায়লা নাইমের মতই খোলামেলা হতে চাইছেন তৃণ?

নায়লা নাইম এখন একটি আলোচিত নাম। বার বারই খোলামেলা পোশাকের কারণে আলোচনায় আসছেন তিনি। বাঙালি মডেল হয়ে অন্তর্বাসের মডেলিং করার পর থেকেই তাকেই নিয়ে কানাঘুষা চলছে সবখানে। আর মাত্র কয়েকদিন আগেই তাকে নিয়ে আলোচনাটা আরো জমে উঠেছে যখন তিনি ব্রাজিলের পতাকার থিমে খুবই স্বল্প বসনে ফটোসেশন করেন। সেটা নিয়ে আলোচনা চলতে চলতেই আবার তিনি ফেসবুকে দেন আর্জেন্টিনার পতাকা পরা ছবি।

নায়লাকে নিয়ে আলোচনা এখনো চলছে। কিন্তু এই আলোচনাতেই বুঝি ভাগ বসাতে চাইছেন মডেল তৃণ। অনেকটা নায়লার অনুকরণেই তিনি ব্রাজিলের পতাকা গায়ে জড়িয়ে বেশ খোলামেলা ভাবেই ছবি তুলে ফেসবুকের প্রোফাইল ছবি দিয়েছেন। আর সেটা নিয়ে উঠেছে আলোচনা-সমালোচনার ঝড়। ছবিটি প্রসঙ্গে তৃণ জানিয়েছেন যে ব্রাজিল তার প্রিয় দল। নেইমারের খেলা দেখতে দেখতে কোথায় যেন হারিয়ে যান তিনি। আর তাই প্রিয় দলের পতাকা পরে ফটোসেশন করেছেন তিনি।

নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া তৃণ দীর্ঘদিন ধরে র‍্যাম্প মডেল হিসেবে কাজ করছেন। সম্প্রতি রাজধানীর হোটেল র্যানডিসনে বলিউড অভিনেত্রী সোহা আলী খানের সঙ্গে ‘পন্ডস প্রেজেন্টস দ্য লাস্ট্রস রানওয়ে’ শিরোনামের ফ্যাশন শোতে অংশ নেন তৃণ। মডেলিং এর পাশাপাশি তৃণ অভিনয়ও করছেন। এনটিভিতে শিগগিরই শুরু হবে তার অভিনীত প্রথম ধারাবাহিক নাটক ‘চলো হারিয়ে যাই’।

ছবিটি প্রসঙ্গে অনেকেই বলছেন তাহলে কি তৃণ নায়লার পথেই পা বাড়াচ্ছেন? নিজেকে খোলামেলা ভাবে উপস্থাপন করে জনপ্রিয়তা বাড়ানোর পথটা কি তাহলে তৃণও অনুসরণ করছেন? এসব তর্ক-বিতর্কের সমাধানটা এখন শুধু সময়ের ব্যাপার!

প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর

দুই সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে এশিয়ার দুটি প্রধান অর্থনৈতিক শক্তি জাপান ও চীনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফর কূটনৈতিক দৃষ্টিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করি৷ কিন্তু এই সফরের বহিরাঙ্গের উচ্ছ্বাস ঝেড়ে ফেলে বাংলাদেশের সত্যিকার অর্জন কতটা হয়েছে, তাও আলোচনার দাবি রাখে৷ প্রধানমন্ত্রীর বেইজিং সফরের সময় পটুয়াখালীতে বিদ্যুৎ প্ল্যান্ট নির্মাণ, কর্নফুলী নদীর তলদেশে টানেল তৈরিসহ পঁাচটি প্রকল্পে সহায়তা চুক্তি সই হয়েছে৷ যদিও বহুলা আলোচিত সোনাদিয়া গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের বিষয়ে যে চুক্তি হওয়ার কথা ছিল, শেষ মুহূর্তে তা আটকে যায়৷ প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, চীনের পক্ষ থেকে কিছু শর্ত জুড়ে দেওয়ায় বাংলাদেশ চুক্তি সইয়ে সম্মত হয়নি৷ প্রধানমন্ত্রী তাঁর সফরের সময়ে চীনের সঙ্গে বাণিজ্যবৈষম্য কমানোর অনুরোধের পাশাপাশি দেশটির ব্যবসায়ীদের প্রতি বাংলাদেশে আরও বিনিয়োগেরও আহ্বান জানিয়েছেন৷ বাণিজ্য ও বিনিয়োগ পরস্পর সম্পর্কযুক্ত৷ চীনের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে হলে সেখানে যেসব পণ্যের চাহিদা আছে সেগুলোর জোগান বাড়াতে হবে, বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে বিদ্যুৎ সুবিধাসহ অবকাঠামো উন্নয়নও নিশ্চিত করতে হবে৷
চীন, জাপান, যুক্তরাষ্ট্রসহ শক্তিধর রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে আমরা যে কৌশলগত সহযোগিতার অংশীদারি বাড়িয়ে চলেছি, তার প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার না করেও দেখতে হবে এতে আমাদের কী লাভ হচ্ছে, জটিল ও বিবদমান বিশ্বে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক গড়তে বাংলাদেশ কোনোভাবেই তৃতীয় পক্ষের সন্দেহের লক্ষ্যবস্তু হতে পারে না৷ দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার ক্ষেত্রে দেবে আর নেবে নীতি যেমন জরুরি, তেমনি সম্পর্কের ভারসাম্য রক্ষার বিষয়টিও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়৷ আমরা প্রতিবেশীসহ সব দেশের সঙ্গে সহযোগিতা ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলতে চাই৷ কিন্তু সেই সহযোগিতা কেবল প্রকল্পভিত্তিক হলে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দেওয়া স্বাভাবিক৷ বড় প্রকল্প মানে বড় কমিশন—এই ধারণা অপনোদনের জন্যই বিদেশি ঋণের চেয়ে বিদেশি বিনিয়োগের দিকেই মনোযোগ বাড়াতে হবে৷ আর সে জন্য চাই রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা৷ গত ৫ জানুয়ারি বিতর্কিত নির্বাচন নিয়ে আপত্তি জানিয়েও জাপান যে পরিমাণ ঋণ ও সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে, নির্বাচনের সমর্থক চীনের কাছ থেকেও তা পাওয়া যায়নি৷ এ ক্ষেত্রে আমাদের কোনো কূটনৈতিক ঘাটতি ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন৷

পবিত্র শবে বরাত

বছর ঘুরে মুসলমানদের জন্য আবার সৌভাগ্যের বার্তা নিয়ে হাজির হয়েছে পবিত্র শবে বরাত৷ অত্যন্ত মহিমান্বিত এই রাতে আল্লাহ মানবজাতির জন্য তাঁর অসীম রহমতের দরজা খুলে দেন। পবিত্র এই রাতে ক্ষমাপ্রার্থনার মাধ্যমে ভবিষ্যতে পরিশুদ্ধ জীবনযাপনের জন্য আল্লাহর অনুগ্রহ লাভ করার সুযোগ ঘটে। শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতটি মুসলমানদের কাছে লাইলাতুল বরাত। ইসলাম ধর্মে এ রাত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চারটি রজনীর একটি হিসেবে বিবেচিত। লাইলাতুল বরাতের অর্থ মুক্তির বা নিষ্কৃতির রজনী। এ রাতে আল্লাহ পরবর্তী বছরের জন্য মানবজাতির রিজিক ও ভাগ্য নির্ধারণ করেন এবং ধর্মপ্রাণ মুসলমানের সব পাপ ক্ষমা করে দেন। এ রাতে মুসলমানরা আল্লাহর কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা করবেন আর রিজিক অনুসন্ধানকারীরা প্রার্থনা করবেন রিজিকের জন্য। বিপদগ্রস্ত মানুষেরা চাইবেন বিপদ থেকে মুক্তি৷ নিজের সারা জীবনের দোষ-ত্রুটি, পাপ ও অন্যায়ের জন্য ক্ষমাপ্রার্থনার এ রাত মানুষের নৈতিক চরিত্র গড়ে তুলতে উদ্বুদ্ধ করার রাতও। ইসলামের মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) এ রাতে নফল ইবাদত বন্দেগিতে নিমগ্ন থাকতে মুসলমানদের নির্দেশনা দিয়ে গেছেন। আল্লাহ তাআলা যেহেতু এই রাতে তাঁর বান্দাদের জন্য উন্মুক্ত করে দেন রহমত ও দয়ার ভান্ডার, তাই মুসলমানদের কাছে এটি উৎসবের রাতও বটে।
আল্লাহর রহমত কামনার পাশাপাশি ঐতিহ্যগতভাবে এ উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেয় মুসলিম সম্প্রদায়। সাধ্যমতো ভালো খাবার তৈরি করে এবং প্রতিবেশী, আত্মীয়স্বজন ও দরিদ্র ব্যক্তিদের মধ্যে তা বিতরণের মাধ্যমে তা পালিত হয়ে থাকে। তবে ভালো খাবারদাবারের এ আয়োজন লোকদেখানো বিষয়ে পরিণত হলে তা এই পবিত্র রাতের মহিমাকে ক্ষুণ্ন করবে৷ ফলে এ রাতে গরিব-দুঃখীদের দান-খয়রাত করা এবং যারা সব সময় ভালো কিছু খেতে পারে না, তাদের জন্য কিছু করার সুযোগই নেওয়া উচিত৷ একসময় ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ পবিত্র এ রাতে পটকা ও আতশবাজি পোড়ানো হতো৷ আশার কথা যে তা থেকে এখন আমাদের সমাজ সরে এসেছে৷ বিচ্ছিন্নভাবেও যাতে কেউ তা এখন করতে না পারে, সে জন্য সবার সচেতন থাকা জরুরি৷ এ রাতে পটকা বা আতশবাজি পোড়ানো একদিকে যেমন রাতটির পবিত্রতা ও ভাবগাম্ভীর্য ক্ষুণ্ন করে, তেমনি যাঁরা রাতব্যাপী প্রার্থনায় মগ্ন থাকেন, তাঁদের ইবাদত বন্দেগিতে ব্যাঘাত ঘটায়। শিশু-কিশোরদের অভিভাবক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সজাগ থাকলে এটা এখন আর তেমন সমস্যা হওয়ার কথা নয়৷ বিশ্বের সব মুসলমান নিজের জন্য প্রার্থনার পাশাপাশি নিশ্চয়ই দেশ ও বিশ্বমানবতার মঙ্গলের জন্যও সর্বশক্তিমানের দয়া কামনা করবেন৷ সবার কল্যাণ প্রার্থনায় পবিত্র এই রাতের কল্যাণে আমাদের সবার জীবন হয়ে উঠুক মঙ্গলময়৷