Tuesday, October 20, 2020

গরমে এনার্জি ড্রিঙ্কের চেয়ে উপকারী পানি

এনার্জি ড্রিঙ্কের চেয়ে উপকারী পানি
অনেকেই দিনে আট গ্লাস পানি পানের কথা বলেন। অনেকেই বলেন, ২৪ ঘণ্টায় কম করে দু-লিটার পানি পান করা উচিত। চিকিতসকেরা বলেন, যতটা পানি আপনি নিতে পারবেন ততটাই খাবেন। এবং পারলে বারেবারে পানি পান করুন। এতে যেমন, পানি পানের অভ্যেস তৈরি হবে তেমনি এই গরমে শরীরে পানির ঘাটতি মিটবে। একই সঙ্গে ঘাম, প্রস্রাবের মাধ্যমে শরীর থেকে বেরিয়ে যাবে সমস্ত দূষিত পদার্থ। যা এনার্জি ড্রিঙ্কও করতে পারে না। তাই সুস্থ থাকতে, তাজা থাকতে নিয়মিত পানিপান করুন । তাতে আখেরে লাভ আপনারই----
সারাদিন পানি খেলে কী কী উপকার মেলে :
১. ফোলাভাব কমায় : অনেকেরই ভুল ধারণা, বেশি পানি খেলে নাকি শরীর ফুলে যায়। এই ধারণার বশবর্তী হয়ে আপনি একেবারেই পানি খাওয়া কমাবেন না। কারণ, প্রচুর পানি পান মানেই শরীরের দূষিত পদার্থ ঘাম, প্রস্রাবের মাধ্যমে বেরিয়ে এসে শরীরকে দূষণমুক্ত রাখে। এাড়া, শরীরে সঠিক পরিমাণে পনি থাকলে লালা নিঃসরণ বেশি হয়। এতে খাবার দ্রুত নরম হয়। চিবোতে সুবিধে হয়। আর হজমও হয় তাড়াতাড়ি। এছাড়া, গরমে শরীরে পানির ঘাটতি মেটাতে পারে নিয়মিত পানি পান। তাহলে আর দেরি কেন? শুরু হোক পানিপান।
২. অক্সিজেন জোগায় : শরীরে পানি বেশি থাকলে রক্তের মাধ্যমে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে তত বেশি ভিটামিন, মিনারেলস আর অক্সিজেনের সরবরাহ বাড়বে। ফলে, গরমেও আপনি সূর্যমুখী ফুলের মতোই তাজা। একই সঙ্গে মাসল ক্র্যাম্প থেকেও রেহাই পাবেন। এবার বুঝলেন, পানি কতটা উপকার করে শরীরের?
৩. শরীর ঠাণ্ডা রাখে : খুব গরমে এসি ছাড়াই ঠাণ্ডা থাকুন। কীভাবে? প্রচুর পানি পান করলে। যত পানি খাবেন ততই ঘাম হবে। আর তাতে শরীরের তাপমাত্রা কমবে। আরামে থাকবেন আপনিই।
৪. শরীরচর্চায় পানিচর্চা: দুটোই যদি একসঙ্গে চলে তাহলে রোজ যে সময় পর্যন্ত আপনি এক্সারসাইজ করেন তার থেকেও বাড়তি আধঘণ্টা এনার্জি পাবেন শরীরচর্চার। বিশ্বাস না হলে অবশ্যই পরীক্ষা প্রার্থনীয়।
৫. এনার্জি ড্রিঙ্ক বনাম পানি : কার্যকারিতা একই। বরং, অতিরিক্ত চিনি মেশানো এনার্জি ড্রিঙ্ক আখেরে ক্ষতি করে আপনার। এর বদলে পানি খেলে শরীর তাজা থাকে বেশি।
৬. ত্বক থাকে তুলতুলে : তুলোর মতো নরম ত্বকের স্বপ্ন সব মেয়েই দেখেন। এ ধরনের ত্বক পান শুধু তারাই, যারা নিয়মিত পানিপান করেন

ঝিঙে চাষের জন্য কোন মাটি বেশি ভালো?

ঝিঙে বাংলাদেশের একটি জনপ্রিয় গ্রীষ্মকালীন সবজি। তরকারি বা ভাজি হিসেবে এটি খুবই সুস্বাদু। দেশের প্রায় সব অঞ্চলেই ঝিঙে চাষ হয়। বাড়ির আঙিনায় বা আশেপাশে ঝিঙে চাষ করে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির পাশাপাশি পরিবারের চাহিদা মেটানো সম্ভব। তবে চাষের জন্য দরকার উপযুক্ত মাটি।
কৃষিবিদরা জানান, দীর্ঘ সময় উষ্ণ ও আর্দ্র আবহাওয়া, প্রচুর সূর্যের আলো থাকে এমন জায়গা ঝিঙে চাষের জন্য উত্তম। এছাড়া সুনিষ্কাশিত উচ্চ জৈব পদার্থ সমৃদ্ধ দোঁআশ মাটি ঝিঙে চাষের জন্য উপযুক্ত। এতে হেক্টর প্রতি ১০-১৫ টন ফলন হতে পারে।
তাই ঝিঙে চাষে সেচ ও নিকাশের উত্তম সুবিধাযুক্ত এবং পর্যাপ্ত সূর্যালোক পায় এমন জমি নির্বাচন করতে হবে। একই গাছের শেকড় বাড়ার জন্য জমি এবং গর্ত ভালোভাবে তৈরি করতে হয়। এ জন্য জমিকে প্রথমে ভালোভাবে চাষ ও মই দিয়ে এমনভাবে তৈরি করতে হবে, যেন কোন বড় ঢিলা ও আগাছা না থাকে।
জমিতে বেডের উচ্চতা হবে ১৫-২০ সেন্টিমিটার। বেডের প্রস্থ হবে ১.২ মিটার এবং লম্বা জমির দৈর্ঘ অনুসারে সুবিধামত নিতে হবে। এভাবে পরপর বেড তৈরি করতে হবে। এভাবে পাশাপাশি দু’টি বেডের মাঝখানে ৬০ সেন্টিমিটার ব্যাসের সেচ ও নিকাশ নালা থাকবে। ফসল পরিচর্যার সুবিধার্থে প্রতি দু’ বেড পরপর ৩০ সেন্টিমিটার প্রশস্ত নালা থাকতে হবে।
মাটিতে মাদার আকারে ৫০ সেন্টিমিটার করে ব্যাস, গভীরতা ও তলদেশ রাখতে হবে। ৬০ সেন্টিমিটার প্রশস্ত সেচ ও নিকাশ নালা সংলগ্ন উভয় বেডের কিনারা থেকে ৬০ সেন্টিমিটার বাদ দিয়ে মাদার কেন্দ্র ধরে ২ মিটার পরপর এক সারিতে মাদা তৈরি করতে হবে। প্রতি বেডে এক সারিতে ১৬-১৭ দিন বয়সের চারা লাগাতে হবে।
এ প্রক্রিয়ায় ঝিঙের ভালো জাত উর্বর মাটিতে ভালোভাবে চাষ করতে পারলে হেক্টর প্রতি ১০-১৫ টন (শতাংশ প্রতি ৪০-৬০ কেজি) ফলন পাওয়া সম্ভব।