Wednesday, January 6, 2010

দারুণ জায়গায় পাকিস্তান

বেচারা রিকি পন্টিং! হায় ব্রেট লি!
অস্ট্রেলিয়ার বোলাররা যখন পাকিস্তানি ব্যাটসম্যানদের আউট করতে হিমশিম খাচ্ছেন, অস্ট্রেলিয়ার একসময়ের এক নম্বর পেসার তখন স্যুট-টাই পরে মাঠের বাইরে ঘোরাঘুরি করছেন আর দর্শকদের অটোগ্রাফ দিচ্ছেন। লিগামেন্টের ইনজুরিতে অনেক দিন থেকেই মাঠের বাইরে থাকা লির দিকে তাকিয়ে নিশ্চয়ই দীর্ঘশ্বাস ফেলছিলেন পন্টিং। সতীর্থদের লড়াই করতে দেখে ভালো লাগার কথা নয় লিরও।
প্রথম দুই সেশনে উইকেটের জন্য লড়াই করা অস্ট্রেলিয়ান বোলাররা অবশ্য ঘুরে দাঁড়িয়েছে শেষ সেশনে, এক সেশনেই তুলে নিয়েছে ৭ উইকেট। কিন্তু ততক্ষণে দেরি হয়ে গেছে অনেক। সারা দিনে ৯ উইকেট হারালেও পাকিস্তান রান তুলেছে ৩১৭। সঙ্গে আগের দিনের ১৪ রান মিলিয়ে দ্বিতীয় দিন শেষেই পাকিস্তানের লিড ২০৪ রানের, হাতে রয়েছে শেষ উইকেটটা।
ব্যাটিংয়ে অস্ট্রেলিয়াকে শেষ করে দিয়েছিল পাকিস্তানের দুই উদ্বোধনী বোলার। আর কাল অস্ট্রেলিয়াকে হতাশ করেছে পাকিস্তানের দুই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান। আগের টেস্টে আড়াআড়ি ব্যাটে খেলতে গিয়ে দুই ইনিংসেই এলবিডব্লু হয়েছিলেন ইমরান ফারহাত ও সালমান বাট। কিন্তু এবার দুজনেই ছিলেন সতর্ক, খেলেছেন সোজা ব্যাটে। এতে রানরেটটা কম থাকলেও গড়তে পেরেছেন বড় জুটি। প্রথম দিনের শেষ বিকেলটা নির্বিঘ্নে কাটিয়ে দেওয়ার পর কাল প্রথম সেশনটাও ভালোভাবে পার করে দেন লাহোরের দুই বাঁহাতি।
ক্যারিয়ারের ত্রয়োদশ আর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম ফিফটি পাওয়া ফারহাতকে আউট করে ১০৯ রানের জুটি ভাঙেন হরিজ। চার বছর আগে এই সিডনিতেই টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরিটা পেয়েছিলেন বাট। কাল অবশ্য পুনরাবৃত্তি করতে পারেননি, ৭১ রানে আউট হয়েছেন জনসনের আউট সুইঙ্গারে। উদ্বোধনী জুটির পর পাকিস্তান অর্ধশত রানের জুটি গড়তে পেরেছে মাত্র একটি, সেটি তৃতীয় উইকেটে ফয়সাল-ইউসুফের। ফয়সাল ছিলেন সতর্ক আর ইউসুফ ইতিবাচক।
তবে মারমুখী ব্যাটিংয়ে ইউসুফকেও ছাড়িয়ে যান উমর আকমল। দারুণ আত্মবিশ্বাসী এই তরুণের ব্যাটে যেন প্রতিফলিত হয় এই প্রজন্মের ক্রিকেট-দর্শন। কাল উইকেটে এসেই হরিজের প্রথম দুই বলে চার মারলেন, তৃতীয় বলে রান হয়নি, পরের দুটি বলই মিড উইকেট দিয়ে করলেন সীমানাছাড়া।
উমর-ইউসুফ কেউই ফিফটি পাননি। পাকিস্তানের ধসেরও সূচনা হয় এই দুজনের বিদায়ের মাধ্যমে। এক সময় যে পাকিস্তান ছিল ৩ উইকেটে ২৩৭ রানে, সেখান থেকেই পরের ৬ উইকেট হারায় ৯৪ রানে। ছক্কা মেরে ক্যারিয়ারের এক হাজার রান পূর্ণ করা মিসবাহ উইকেটে থাকতে পারেননি বেশিক্ষণ, পারেননি কামরান-সামিরাও। দ্বিতীয় নতুন বলে উইকেট পেয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার সব পেসারই। ৩ উইকেট নিয়ে আরও সেরা একবার বলিঞ্জার।

বৈশ্বিক উষ্ণায়ন -কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস ও জলবায়ু: আমরা কী করব by আবেদ চৌধুরী

রসায়নের পুস্তক ও গবেষণাগারের গণ্ডি ছেড়ে কার্বন এখন এক বহুল প্রচলিত শব্দ। কারণ, জলবায়ুর পরিবর্তনে কার্বনসংশ্লিষ্ট যৌগ কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2) গ্যাসের ভূমিকা। কার্বনসংক্রান্ত নিরন্তর আলোচনায় এ কথা মনে রাখা দরকার, কার্বনের নিজের নিঃসৃত হওয়ার কোনো ক্ষমতা নেই। যা নিঃসৃত হয়ে পৃথিবীর তাপমাত্রা বাড়াচ্ছে, তা হলো কার্বন ও অক্সিজেনের সম্মিলনে গঠিত গ্যাস কার্বন ডাই-অক্সাইড। নির্ভেজাল কার্বন (C) কখনো কয়লা কিংবা দ্যুতিময় হীরা। কয়লা যখন পোড়ানো হয় কিংবা জ্বালানো হয় জীবাশ্ম জ্বালানি, তখন কার্বনের সঙ্গে অক্সিজেন যুক্ত হয়ে তৈরি হয় অতিবিষাক্ত কার্বন মনোক্সাইড কিংবা পরিবেশের জন্য দূষণকারী গ্যাস কার্বন ডাই-অক্সাইড। সাধারণত কোমল পানীয়তে যা বুদ্বুদে ভরে দেয়, তা হলো কার্বন ডাই-অক্সাইড।
পরিবেশ উষ্ণকারী গ্যাস কিন্তু শুধু কার্বন ডাই-অক্সাইড নয়, আরও দুটো গ্যাস আছে মিথেন (CH4) কিংবা নাইট্রাস অক্সাইড (N2O)। এই উষ্ণকরণে তারা ভূমিকা রাখছে। কিন্তু যেহেতু মূল ভূমিকায় আছে কার্বন ডাই-অক্সাইড, তাই কার্বন নিয়ে এত কথাবার্তা। মূলত এই তিনটি গ্যাসকে বলা হয়ে থাকে গ্রিনহাউস গ্যাস বা GHG। বিশ্ব উষ্ণকরণের পরিভাষা হিসেবে আলোচনায় তাই কার্বন নিঃসরণের কথা না বলে গ্রিনহাউস গ্যাস বা GHG-র কথা বলাই অধিকতর সংগত।
গ্রিনহাউসের সঙ্গে কিন্তু বিশ্বব্যাপী পরিবেশ আন্দোলন গ্রিন মুভমেন্ট বা গ্রিন আন্দোলনের কোনো সম্পর্ক নেই। শীতকালে প্রবল শৈত্যে যখন তাপমাত্রা গাছ, ফুল বা শাকসবজির বেড়ে ওঠার জন্য অনুকূল নয়, তখন কাচের ঢাকনা দিয়ে যে ঘর তৈরি হয়, সে ঘরকে বলা হয় গ্রিনহাউস। গ্রিনহাউসের কাচ কিংবা পরিষ্কার প্লাস্টিক ভেদ করে আলো এসে গ্রিনহাউসের ভেতরের স্থানকে করে তোলে উষ্ণ। এর কারণ হলো, সূর্যের আলোয় সৃষ্ট উষ্ণতা কাচ ভেদ করে চলে যেতে পারে না, উষ্ণতা গ্রিনহাউসের ঘেরে আটকা পড়ে। পৃথিবীর উষ্ণ হয়ে যাওয়া বর্ণনা করতে গিয়ে এই গ্রিনহাউসের গরম হয়ে থাকার ব্যাপারটি রূপক হিসেবে বর্ণিত হয়েছে।
কিন্তু পৃথিবীকে উষ্ণ করে রাখার জন্য মহাশূন্যে কোনো কাচের স্বচ্ছ ঢাকনা নেই, যা আছে তা হলো এমন সব গ্যাসের ক্ষীণ আস্তরণ, যা সূর্যরশ্মিকে পৃথিবীতে আসতে দেয়, কিন্তু রশ্মির কারণে পৃথিবী তেতে যখন আবার এই উষ্ণতাকে মহাশূন্যের দিকে পাঠায়, তখন এই গ্যাসগুলো সেই উষ্ণতাকে তাদের শরীরে আটকে রাখে। ঠিক যেমন রাখে গ্রিনহাউসের কাচ।
এই গ্যাসগুলোর কারণে পৃথিবীতে জীবন সম্ভব হয়েছে। ১৮২৯ সালে ফরাসি বিজ্ঞানী জোসেফ ফুরিয়ারের মাথায় এ ধারণা আসে। গ্যাসের বায়বীয় পরিমণ্ডলের বাইরে তাপমাত্রা -১৯০C আর ভূপৃষ্ঠে ১৪.৪০C। কোনো গ্রিনহাইজ গ্যাস যদি না থাকত, তাহলে ভূপৃষ্ঠের তাপমাত্রা হতো -১৯০C, কোনো জীবনই তাহলে সম্ভব হতো না। ভূপৃষ্ঠ ও বায়বীয় পরিমণ্ডলের বাইরে তাপমাত্রার এই তফাতটা বিজ্ঞানীদের ভাবিয়ে তুলেছিল উনিশ শতকের গোড়ার দিকে। মনে হচ্ছে, পৃথিবী যেন লেপ মুড়ি দিয়ে আছে, কিন্তু সেই বায়বীয় লেপটি কী? ১৮৬০ সালে ব্রিটিশ বিজ্ঞানী জন টিন্ডাল বিভিন্ন গ্যাসের ওপর আলোর প্রভাব নিয়ে গবেষণা করছিলেন। টিন্ডাল দেখতে পেলেন, সূর্যরশ্মিকে কার্বন ডাই-অক্সাইড বা কয়লা গ্যাস (কয়লা পোড়ালে নির্গত হয় বলে এমন নাম) আটকায় না, কিন্তু তাপ যা ইনফ্রারেড রশ্মির মাধ্যমে সঞ্চালিত হয়, তা কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাসে আটকা পড়ে। বস্তুত টিন্ডালের এই গবেষণাই দেখিয়ে দেয় যে ভূপৃষ্ঠের উষ্ণতার মূল কারণ কী। আর দুটো গ্যাস অক্সিজেন কিংবা নাইট্রোজেন উষ্ণতাকে আটকাতে পারে না, তাই পৃথিবীকে উষ্ণ রাখতে তাদের কোনো ভূমিকা নেই।
বিশ্বব্যাপী এখন ভয়ের পাগলাঘণ্টা বাজিয়ে দিয়েছে গ্রিনহাউস গ্যাস কার্বন ডাই-অক্সাইড, মিথেন ও নাইট্রাস অক্সাইড। তার মধ্যে প্রধান কার্বন ডাই-অক্সাইড। বিশ্বব্যাপী জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহারের কারণে এই গ্যাস বাড়ছে। পৃথিবীকে রক্ষা করতে হলে নিঃসন্দেহে কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ কমাতে হবে। কিন্তু বাড়ছে আরও দুটো গ্রিনহাউস গ্যাস মিথেন ও নাইট্রাস অক্সাইড। শেষ দুটোর নিঃসরণের কারণ মূলত কৃষি। তাই তাদের নিঃসরণ কমাতে হলে বিশ্বব্যাপী কৃষিকে বদলাতে হবে।
আবহাওয়া থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড কীভাবে কমানো যায়? নিঃসন্দেহে কমাতে হবে জীবাশ্ম জ্বালানি যেমন পেট্রলের ব্যবহার। পৃথিবীর গর্ভ থেকে সব জ্বালানি বের করে এনে তাদের পুড়িয়ে লাখো-কোটি গাড়ি চালানোর যে জীবনব্যবস্থা আমরা পৃথিবীর মানুষ তৈরি করেছি, সেই অত্যাধুনিক গাড়িতে গাড়িময় পৃথিবী আমাদের জন্য হয়ে গেছে মরণফাঁদ। যেহেতু পৃথিবীর ধনী দেশগুলো সবচেয়ে বেশি গাড়ি চালাচ্ছে, সেহেতু তাদের কলকারখানা নিঃসরণ করছে সবচেয়ে বেশি কার্বন ডাই-অক্সাইড। তাই তারাই মূলত এ সমস্যার জন্য দায়ী।
এর সমাধানের জন্য এগিয়ে আসতে হবে বিজ্ঞানকে। বৃক্ষবিজ্ঞান (Plant Science) এ ব্যাপারে প্রধান ভূমিকা রাখতে পারে। ভূমিকা রাখবে নতুন ধরনের কৃষি। এই সমাধানে, হোক তা অভিযোজন কিংবা মিটিগেশন। এতে বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
যদিও আমরা ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর শীর্ষে, তবুও এর সমাধানের বিজ্ঞানে যোগদানে চিন্তা ও মেধা নিয়ে আমাদের এগিয়ে আসতে হবে।
আবেদ চৌধুরী: জিনবিজ্ঞানী।
kanihati@gmail.com

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রত্যাবর্তন

যেসব কারণে বাংলাদেশের সঙ্গে প্রতিবেশী মিয়ানমারের সম্পর্ক প্রায়ই শীতল হয়ে ওঠে, রোহিঙ্গা শরণার্থী সমস্যা এর অন্যতম। সঙ্গে সম্প্রতি যোগ হয়েছে সমুদ্রসীমা নিয়ে বিবাদের বিষয়টি। সম্প্রতি উভয় দেশের পররাষ্ট্রসচিব পর্যায়ের বৈঠকে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ফিরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে কিছু অগ্রগতি হয়েছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রসচিবের ভাষ্য অনুযায়ী, নয় হাজার নিবন্ধিত রোহিঙ্গা শরণার্থীকে ফিরিয়ে নেবে মিয়ানমার। আশ্বাসটি ইতিবাচক। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, বর্তমানের আশ্বাস ভবিষ্যতে বাস্তবায়িত হবে তো? এ বিষয়ে অতীতের অভিজ্ঞতা সুখকর নয়।
২০০৫ সালেও একইভাবে মিয়ানমার তাদের নয় হাজার শরণার্থীকে ফিরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে একমত হয়। কিন্তু সে সময় মাত্র ৯০ জনকে ফেরত পাঠানো গিয়েছিল। তা সত্ত্বেও নতুন করে শরণার্থী প্রত্যাবাসন-প্রক্রিয়া শুরু হওয়া ইতিবাচক ঘটনা। বাংলাদেশে রোহিঙ্গা সমস্যার জন্ম ১৯৯০-৯১ সালে। সে সময় ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী মিয়ানমারে রাজনৈতিক নিপীড়ন থেকে রক্ষা পেতে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। পরবর্তী সময়ে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের সহযোগিতায় তাদের বেশির ভাগকেই শান্তিপূর্ণভাবে ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়। বর্তমানে দুটি আশ্রয়-শিবিরে মোট ২৮ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থী রয়েছে। এর বাইরেও উপকূলীয় ও পার্বত্য জেলাগুলোতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে আরও অনেকে। আশ্রয়-শিবিরে নিবন্ধিত না থাকায় তাদের চিহ্নিত করা কঠিন। তাদের বেআইনি উপস্থিতি স্থানীয় সমাজে অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করছে, অন্যদিকে আইনশৃঙ্খলাজনিত সমস্যাও ঘটতে দেখা যাচ্ছে।
অর্থনৈতিক চাপ ছাড়াও রোহিঙ্গা সমস্যাটি বাংলাদেশের জন্য সমস্যার বীজ হিসেবে থেকে যাচ্ছে। বিষয়টির মানবিক পরিণতির স্বার্থে এবং বাংলাদেশের এই বিড়ম্বনা থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য যত দ্রুত তাদের স্বদেশে ফেরত পাঠানো যায়, ততই তাদের ও বাংলাদেশের মঙ্গল। সমস্যাটি প্রায় ২০ বছর ধরে ঝুলে থাকা খুবই অনাকাঙ্ক্ষিত। মূলত মিয়ানমারের সামরিক সরকারের অনীহা ও অসহযোগিতাই এর কারণ। তার চলতি উদাহরণ হলো, মোট ২৮ হাজারের মধ্যে মাত্র নয় হাজার শরণার্থীকে মিয়ানমারের নাগরিক বলে স্বীকার করা। বাংলাদেশের উচিত, মিয়ানমারের ওপর কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টি অব্যাহত রাখা। ভবিষ্যতে উভয় দেশের সম্পর্কে অধিকতর সহযোগিতার বাতাবরণ সৃষ্টির জন্যই শরণার্থী-সমস্যার স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন।

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নয়া অবরোধের পরিকল্পনা

ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে কঠোর অবরোধ আরোপের কথা চিন্তাভাবনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটন মনে করে, সাম্প্রতিক সময় ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে অস্থিতিশীলতা এবং সেখানকার পরমাণু কর্মসূচিতে কিছু অপ্রত্যাশিত সমস্যা তৈরি হয়েছে। কাজেই এই সুযোগে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবরোধ আরোপ করা গেলে দেশটির রাজনীতিবিদেরা পরমাণু কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে নাজুক অবস্থায় পড়বেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সংবাদপত্র নিউইয়র্ক টাইমস গত শনিবার তাঁদের এক প্রতিবেদনে এ কথা জানায়। খবর এএফপির।
ওবামা প্রশাসনের কয়েকজন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে পত্রিকাটি বলেছে, ইরানের পরমাণু কর্মসূচির অগ্রগতি নতুন করে পর্যালোচনার পরিপ্রেক্ষিতে ওবামা প্রশাসন তেহরানের বিরুদ্ধে নতুন করে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তাবটি বিবেচনা করছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার নীতিনির্ধারকদের বিশ্বাস, ইরানে সাম্প্রতিক বিক্ষোভ ও রাজনৈতিক অন্তর্দ্বন্দ্বের কারণে সেখানকার শীর্ষ রাজনৈতিক এবং সামরিক নেতারা পরমাণু জ্বালানি তৈরির কর্মসূচির পথে অনেকটা হোঁচট খেয়েছেন।
নিউইয়র্ক টাইমস বলেছে, হোয়াইট হাউস মনে করে, ইরানের পরমাণু কর্মসূচির নিয়ন্ত্রণ সে দেশের ইসলামিক রেভ্যুলুশনারি গার্ডের হাতে। তাই ওবামা প্রশাসন ইরানের রেভ্যুলুশনারি গার্ডের বিরুদ্ধেই অবরোধ আরোপের ব্যাপারে গুরুত্ব আরোপ করছে। গত জুনে বিতর্কিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর থেকে রাজপথে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে রেভ্যুলুশনারি গার্ড গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
অতীতে বিভিন্ন সময় ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেও তেহরানকে পারমাণবিক কর্মসূচি থেকে বিরত রাখা যায়নি। ইরান নীতিবিষয়ক একজন মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, চলমান রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে ইরানের বিরুদ্ধে অবরোধ আরোপের সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে।
ওবামা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, তিন মাস আগে ইরানের পবিত্র নগর ক্বোমে নির্মাণাধীন ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের একটি স্থাপনার খবর ফাঁস হয়ে যাওয়ায় ইরানের পারমাণবিক বোমা তৈরির প্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। এ কারণে পরমাণু বোমা তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের গোপন তত্পরতা বন্ধ হয়ে যায় তেহরানের।
আন্তর্জাতিক পরমাণু পরিদর্শক দল তাঁদের এক প্রতিবেদনে বলেছে, ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের কেন্দ্র নাতাঞ্জে পারমাণবিক জ্বালানি তৈরির যন্ত্রপাতির কার্যক্রম গত গ্রীষ্ম থেকে ২০ শতাংশ কমেছে। তাছাড়া পরমাণু বিশেষজ্ঞদের সংখ্যা কমে যাওয়ায় সেখানে কারিগরি ত্রুটি দেখা দিয়েছে।
ইউরোপীয় কর্মকর্তারা মনে করেন, ইরানকে পারমাণবিক কর্মসূচি থেকে বিরত রাখতে পশ্চিমা বিশ্ব তেহরানের আমদানি করা যন্ত্রপাতি ও অবকাঠামোর ওপর গোপনে যে তত্পরতা চালাচ্ছে, তাতেও ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ব্যাহত হয়ে থাকতে পারে।
এসব কারণেই ইরানের বিরুদ্ধে দীর্ঘ সময়ের জন্য অবরোধ আরোপের বিষয়টি মার্কিন কর্মকর্তাদের উত্সাহিত করছে।
নিউইয়র্ক টাইমস ওবামা প্রশাসনের একজন শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলেছে, ‘পরমাণু অস্ত্র তৈরি করার মতো অবস্থা এখন ইরানের নেই। এ জন্য দেড় থেকে তিন বছর সময় দরকার হতে পারে। তাই ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করার আগেই দীর্ঘমেয়াদি অবরোধ আরোপ করা গেলে তা কাজে আসবে।’

মালয়েশিয়ায় নারীর জীবন বাঁচাতে দক্ষিণ কোরিয়ার দুই পর্যটকের মৃত্যু

মালয়েশিয়ায় সমুদ্র উপকূলে এক নারীর জীবন বাঁচাতে গিয়ে গত শনিবার পানিতে ডুবে দক্ষিণ কোরিয়ার দুই পর্যটক মারা গেছেন। ওই নারী তাঁদের ২৪ সদস্যবিশিষ্ট পর্যটক দলের সদস্য ছিলেন। গতকাল রোববার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে। খবর এএফপির।
মারা যাওয়া দুই পর্যটকের নাম কিম সাং হিউন (২০) ও জাং ইউ হান (২৪)।
নিউ স্ট্রেইটস টাইমস-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, ২৪ সদস্যবিশিষ্ট দক্ষিণ কোরিয়ার পর্যটক দলটি গত শনিবার সারায়াক রাজ্যের সমুদ্র উপকূলের সান্তুবং রিসোর্টে আসে। সমুদ্রের বিপজ্জনক অবস্থার নির্দেশ, লাল পতাকা দেখার পরও পর্যটকেরা গোসল করতে সমুদ্রে নামেন। তখনই এ দুর্ঘটনা ঘটে।
জেলার উপপুলিশ প্রধান মান কোক কিয়ং জানান, সমুদ্রে নেমে পর্যটক দলের এক নারী বিপদে পড়েন। তাঁকে বাঁচাতে গিয়ে দুই পর্যটক পানিতে তলিয়ে যান। আশঙ্কাজনক অবস্থায় ওই নারীকে উদ্ধার করা গেলেও দুই পর্যটককে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা যায়নি।

ইরাক যুদ্ধে ব্রিটেন অংশ নিক তা চাননি প্রিন্স চার্লস

ইরাক যুদ্ধে ব্রিটেন অংশ নিক, এটা কখনোই চাননি প্রিন্স চার্লস। সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারের ইরাক যুদ্ধে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রাক্কালে তিনি এর কড়া বিরোধিতা করেন। এমনকি ব্রিটিশ রাজতন্ত্রের অলিখিত নিয়ম ভঙ্গ করে ইরাক যুদ্ধ থেকে বিরত থাকতে সে সময়কার জ্যেষ্ঠ রাজনীতিবিদদের প্রভাবিত করেছিলেন তিনি। কিন্তু সব বাধা উপেক্ষা করে ব্লেয়ার সরকার যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন ইরাক যুদ্ধে অংশ নিয়েছিল।
প্রিন্স চার্লসের কয়েকজন ঘনিষ্ঠ সহযোগী এসব কথা বলেছেন। ব্রিটেনের সর্বাধিক বিক্রীত সংবাদপত্র নিউজ অব দ্য ওয়ার্ল্ড প্রিন্স চার্লসের সহযোগীদের বরাত দিয়ে এসব কথা জানিয়েছে। খবর এএনআই ও ডেইলি ইন্ডিয়া ডটকমের।
পত্রিকাটি বলেছে, প্রিন্স চার্লস নেপথ্যে থেকে সব সময়ই ইরাক যুদ্ধের বিরোধিতা করেন। চার্লস মনে করতেন, ইরাক যুদ্ধে অংশ নিয়ে টনি ব্লেয়ার বড় ধরনের ভুল করছেন। ইরাক যুদ্ধের ব্যাপারে ব্রিটেনের প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব ও রাজনীতিবিদদের কাছে চার্লস তাঁর অবস্থান স্পষ্ট করে তুলে ধরেন। তিনি বিশ্বাস করতেন, ব্রিটিশ সেনাদের ইরাকে পাঠানোটা হবে বড় ধরনের একটা বিপর্যয়। পরবর্তী সময়ে তাঁর কথাই সত্য প্রমাণিত হয়েছে।
পত্রিকাটি আরও বলেছে, ইরাক যুদ্ধ ঘিরে প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারের কড়া সমালোচক ছিলেন প্রিন্স চার্লস। তিনি শ্লেষাত্মক সুরে ব্লেয়ারকে ‘আওয়ার গ্লোরিয়াস লিডার’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
প্রিন্স চার্লস ইরাক যুদ্ধে মার্কিন নীতিরও কড়া সমালোচক ছিলেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের ভুল সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানান। ইরাক যুদ্ধ নিয়ে শুরু থেকেই প্রেসিডেন্ট বুশ ও তাঁর প্রশাসনের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করতেন তিনি। তাঁর মতে, ইরাক যুদ্ধের ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপই সঠিক ছিল না। ইরাকে হামলা চালিয়ে বুশ ও বুশ প্রশাসনের নীতি চার্লসকে হতবুদ্ধি করে তোলে। অপর একটি সূত্র দাবি করেছে, বুশের হঠকারী সিদ্ধান্তে ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন চার্লস।
ইরাক যুদ্ধে অংশ নেওয়া না-নেওয়া নিয়ে ব্রিটিশ সরকার যখন দোলাচলে ভুগছিল, তখন প্রিন্স চার্লস বারবার এ বিষয়ে গভীরভাবে চিন্তাভাবনা করার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের চাপ দিয়েছিলেন বলে খবরে বলা হয়েছে।
ইরাক যুদ্ধের প্রাক্কালে পিন্স চার্লস আরব দেশগুলোতে সফর করেন। সেসব দেশের নেতাদের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করেন তিনি। ইরাক যুদ্ধের ব্যাপারে চার্লস তাঁর উদ্বেগের কথা তুলে ধরেন। চার্লস চাচ্ছিলেন, আরব দেশের নেতারা যেন ইরাক যুদ্ধের ব্যাপারে একটা কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেন।
চার্লসের একজন ঘনিষ্ঠ সহযোগী বলেছেন, তখনকার ব্রিটিশ সরকার প্রিন্স চার্লসের কথা কানে নিলে পুরো বিষয়টিই আজ অন্য রকম হতে পারত। নিঃসন্দেহে তা একটি ইতিবাচক বিষয়ের অবতারণা করত