Monday, April 21, 2025
বিশ্বকে চমকে দিতে প্রস্তুত ইরানের এআই অস্ত্রভাণ্ডার
শনিবার (১৯ এপ্রিল) স্থানীয় সময় ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেল আল আলমে হেইদারির দেওয়া প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকার থেকে এ তথ্য জানা যায়। খবর মেহের নিউজ।
সাক্ষাৎকারে হেইদারি জানান, আমাদের হাতে এমন অস্ত্র রয়েছে যেগুলো কৌশলগত কারণে এখনো প্রকাশ করা হয়নি, তবে সেগুলো সম্পূর্ণভাবে সক্রিয় এবং যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত। হেইদারি বলেন, যদিও এগুলো প্রচলিত অস্ত্র হিসেবেই শ্রেণিবদ্ধ, তবুও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংযুক্তির ফলে এসব অস্ত্র অসাধারণ সামরিক সক্ষমতা অর্জন করেছে।
তিনি আরও বলেন, ইরান-ইরাক যুদ্ধের (১৯৮০-৮৮) পর থেকে ইরানের স্থলবাহিনী একটি আমূল রূপান্তরের মধ্য দিয়ে গেছে। প্রথাগত কাঠামো ভেঙে বর্তমানে এটি এক আধুনিক, গতিশীল ও উচ্চমার্গের অভিযানে সক্ষম বাহিনীতে পরিণত হয়েছে।
হেইদারি জানান, বর্তমানে ইরানের স্থলবাহিনী যে কোনো সময়ে দ্রুত মোতায়েন হতে পারে, উচ্চমাত্রার আক্রমণ পরিচালনা করতে পারে এবং তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপে সক্ষম। দেশজুড়ে নজরদারি এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী সবচেয়ে উন্নত গোয়েন্দা প্রযুক্তি ও অস্ত্রব্যবস্থা ব্যবহার করছে।
তিনি বলেন, আমরা দেশের বিভিন্ন সীমান্তে ১০টি সামরিক ডিভিশন মোতায়েন করেছি। এসব ইউনিট কৌশলগত অবস্থানে থেকে সীমান্ত নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা নজরদারিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে এর মানে এই নয় যে সব ধরনের হুমকি শেষ হয়ে গেছে—বরং এটি স্থায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি প্রতিরোধমূলক উপস্থিতি।
গত পারস্য বর্ষপঞ্জির শেষ তিন মাসে ইরান সেনাবাহিনী দেশের পূর্বাঞ্চল, পশ্চিমাঞ্চল এবং উপকূলীয় এলাকায় ৩টি বৃহৎ সামরিক মহড়া চালিয়েছে বলে জানান হেইদারি। এই মহড়াগুলো বাহিনীর প্রস্তুতি, সমন্বয় এবং কৌশলগত সক্ষমতা যাচাইয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
তিনি বলেন, আমাদের চোখ সবসময় খোলা, আর আঙুল ট্রিগারে—যেকোনো হুমকি দেখা দিলে শত্রুকে বাঁচার সুযোগ দেওয়া হবে না।
আধুনিক যুদ্ধের সবচেয়ে বিপজ্জনক এক দিক হচ্ছে সাইবার হামলা। এই হুমকি মোকাবিলায় ইরান সেনাবাহিনী আলাদা সাইবার ইউনিট গঠন করেছে। হেইদারি জানান, আমাদের সাইবার ইউনিটগুলো এখন সর্বোচ্চ প্রযুক্তিগত সক্ষমতায় কাজ করছে এবং তারা প্রতিপক্ষের যে কোনো ডিজিটাল হুমকি প্রতিহত করতে প্রস্তুত।
ইরানের স্থলবাহিনী এবং ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)-এর মধ্যে রয়েছে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়। স্থল, সমুদ্র এবং আকাশপথ—সবখানেই এই দুই বাহিনী পারস্পরিক সহযোগিতায় কাজ করছে। এই সংহত শক্তি ইরানের সামরিক সক্ষমতাকে বহু গুণে বাড়িয়ে দিয়েছে।
সম্প্রতি ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ইরানের সেনাবাহিনীর প্রশংসা করে বলেন, ইরানের সেনাবাহিনী একটি শক্তিশালী ও দৃঢ় কাঠামোর বাহিনী, যা অন্যান্য দেশের জন্য অনুকরণীয় মডেল হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি আরও বলেন, সেনাবাহিনীর দৃঢ়তা ও দক্ষতার কারণেই ইরান এখন পশ্চিম এশিয়ায় একটি অবিসংবাদিত শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
![]() |
| প্রতীকী ছবি |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ভারতের সাম্প্রতিক দাঙ্গার দায় কার by শুভজিৎ বাগচী
ইংরেজিতে আরও একটি শব্দবন্ধ আছে, ‘আন-আইডেন্টিফায়েড মিসক্রিয়েন্টস’, অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতী। এই শব্দবন্ধ না থাকলে দক্ষিণ এশিয়ায় প্রশাসন চালানো যেত কি না, তা গবেষণার বিষয়। যা হবে সেটাই ‘অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতী’র ওপর চাপিয়ে নিষ্কৃতি পাওয়া যায়। কারও দায় নেই, সব দায় ‘অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতী’র। এই পরিচয়হীন দুষ্কৃতী যদি না থাকত, তাহলে বলতে হতো যাবতীয় দাঙ্গা-হাঙ্গামা কে ঘটাচ্ছে। সে কোন দল, গোষ্ঠী বা সংগঠনের প্রতিনিধি, আর কেনইবা তার পরিচয় গোপন করে সমাজের জন্য ২৪ ঘণ্টা কাজ করে চলেছে। প্রশাসনের সমস্যাও বাড়ত।
মুর্শিদাবাদে ১১ ও ১২ এপ্রিল দাঙ্গা ও হত্যার পর আবার সেই ‘অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতী’ মহাশয়ের কথা শোনা গেল। এই দুষ্কৃতকারীদের সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া দুষ্কর। গত ৩০ বছরের সাংবাদিক জীবনে ভারতের ছোট-বড় গোটা পনেরো দাঙ্গার পর ঘটনাস্থলে পৌঁছে বুঝেছি, কেন দাঙ্গা হয়েছিল এবং কে বা কারা ঘটিয়েছিল, তা কোনো সাংবাদিকের পক্ষে বোঝা সম্ভব নয়। কারণ, এর জন্য যতবার ঘটনাস্থলে যাওয়া প্রয়োজন বা যত অর্থ ব্যয় করে দীর্ঘ তদন্ত করা প্রয়োজন, তা এককভাবে একজন সাংবাদিক বা দক্ষিণ এশীয় সংবাদ সংস্থার পক্ষে করা সম্ভব নয়। একমাত্র প্রশাসন বা হয়তো বড় বেসরকারি নাগরিক সংগঠন এ কাজ করতে পারে, যদি তারা রাজনৈতিক চাপ অগ্রাহ্য করতে পারে, যা বর্তমানের দক্ষিণ এশিয়ায় প্রায় অসম্ভব একটা ব্যাপার।
দাঙ্গার পর সাধারণত কী হয়
সাধারণত দেখা যায়, এ ধরনের ঘটনার পর ভারতে স্থানীয় মানুষ অপর পক্ষকে দোষারোপ করেন অর্থাৎ হিন্দুরা মুসলমানের দোষ দেন এবং মুসলমানরা হিন্দুদের দোষ দেন। পশ্চিমবঙ্গের পরিপ্রেক্ষিতেও এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু ‘পার্টি সোসাইটি’ হওয়ার কারণে এখানে বিজেপি তৃণমূল কংগ্রেসের দোষ দেয় এবং তৃণমূল বিজেপির দোষ দেয়। এভাবেই দাঙ্গার দায় নির্ধারণের ঐতিহ্য অব্যাহত। সাংবাদিকেরা সাধারণত ঘটনাস্থলে এক বা বড়জোর দুই দিন থাকেন, ছবি তোলেন এবং কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলেন। এরপর সব দিক বাঁচিয়ে একটা প্রতিবেদন লেখেন।
স্বাভাবিকভাবেই এর মধ্যে নানা ফাঁক থাকে, যেটা এক বা দুই দিনে ধরা সম্ভব হয় না। মুর্শিদাবাদের ক্ষেত্রেও তা–ই। মনে রাখা প্রয়োজন, এ ধরনের ঘটনা যখন ঘটে, তখন হঠাৎ ঘটে না। একটা প্রস্তুতি থাকে। সেই প্রস্তুতি কে নিয়েছিলেন ও কেন নিয়েছিলেন, সেটা সাধারণত পাঠকের কাছে অধরাই থেকে যায়। প্রশাসন ‘অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতী’কে দোষ দেয় এবং বাধ্য হয়েই মানুষকে সেটা মেনে নিতে হয়।
কিন্তু রাজনৈতিক দলের এভাবে মেনে নিলে চলে না। তাদের অপর পক্ষকে দোষ দিতে হয় এবং সেভাবেই মুর্শিদাবাদে এক পক্ষ অপর পক্ষকে দোষ দিচ্ছে। ধরে নেওয়া যেতেই পারে, এভাবেই বেশ কিছু ঘটনা আগামী এক বছরে ঘটবে এবং দোষারোপের বহর বাড়বে। যাদের জেতার সম্ভাবনা নেই (বাম ফ্রন্ট এবং কংগ্রেস), তারা চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ—দুই পক্ষকেই দোষ দেবে।
কিন্তু দাঙ্গার দায়িত্ব কার
এর বাইরে অর্থাৎ অজ্ঞাতপরিচয় কারও ওপর দোষ চাপিয়েও একটা প্রশ্ন থেকেই যায়। প্রশ্নটি হলো নির্দিষ্ট অঞ্চলে, রাজ্যে বা ওই দেশে কে বা কারা দাঙ্গার সময়ে ক্ষমতায় ছিলেন, তারা কি দায় এড়াতে পারেন? গুজরাট, উত্তর প্রদেশ থেকে পশ্চিমবঙ্গ—ভারতের সব রাজ্যের ক্ষেত্রেই এই প্রশ্ন তোলা যেতে পারে এবং নিশ্চিতভাবে কোথাওই শাসক দল দায়িত্ব এড়াতে পারে না। উত্তর প্রদেশ, গুজরাটে যেমন বিজেপি পারে না, তেমনই পশ্চিমবঙ্গে পারে না তৃণমূল কংগ্রেস।
ওপরের অনুচ্ছেদ থেকে এ সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যেতে পারে যে পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেস শাসিত সরকার মুর্শিদাবাদের ঘটনার জন্য দায়ী। এর কারণ শুধু এটা নয় যে ২০১১ সাল থেকে তারা রাজ্যে ক্ষমতায় আছে। অন্য কারণ আছে।
মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ মুর্শিদাবাদে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের প্রায় প্রত্যেকেই তৃণমূলের নেতা। বিজেপির প্রভাব সামান্যই। তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিনিধিত্ব কতটা গভীর, সেটা দেখে নেওয়া যাক। গত সপ্তাহান্তের সহিংসতার কেন্দ্রস্থল জঙ্গিপুর মহকুমাসহ গোটা
মুর্শিদাবাদ জেলায় তৃণমূল ২০২৪ সালে তিনটি সংসদীয় আসনের তিনটিতেই জিতেছিল। জেলার ২২টি বিধানসভা আসনের মধ্যে ২০টি বর্তমানে শাসক দলের দখলে; জেলার ২৬টি পঞ্চায়েত সমিতির সব কটি তৃণমূলের। একইভাবে মোটামুটি ২৫০টি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রায় প্রতিটি তৃণমূলের নিয়ন্ত্রণাধীন। শহরাঞ্চলের ৮টি পৌরসভার মধ্যে ৭টি তৃণমূলের। যে পৌরসভাটি (ডোমকল) দখলে নেই, সেটিও প্রশাসক হিসেবে চালাচ্ছেন তৃণমূলের এক বিধায়ক। অর্থাৎ মুর্শিদাবাদের সংঘাতের জন্য বিজেপিকে দায়ী করা যাচ্ছে না। কারণ, নির্বাচনী রাজনীতিতে গেরুয়া পার্টির প্রায় কোনো অস্তিত্বই জনসংখ্যার নিরিখে পশ্চিমবঙ্গের তৃতীয় বৃহত্তম রাজ্য মুর্শিদাবাদে (৭০ লাখের ওপর) নেই।
কিন্তু রাজনীতি সাম্প্রদায়িক চেহারা নিলে তার সুবিধা আবার মূলত পায় বিজেপি। এর প্রধান কারণ যখন পুরোপুরি ভোটের মেরুকরণ হয়ে যায়, অর্থাৎ ভোটাররা যখন রাজনৈতিক দলের ধর্মীয় চরিত্রের কথা মাথায় রেখে ভোট দেন, তখন প্রধানত লাভ হয় হিন্দুত্ববাদী দলের। কারণ, ভারতে প্রায় সর্বত্রই হিন্দুরা সংখ্যাগরিষ্ঠ। আর যেহেতু ভারতের প্রধান হিন্দুত্ববাদী দল বিজেপি, ফলে হিন্দু-মুসলমান লাইনে ভোট হলে তার সুবিধা পায় বিজেপি। মুর্শিদাবাদের মতো ঘটনা এ ধরনের মেরুকরণে গোটা রাজ্যে সাহায্য করে।
২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে যখন প্রবল ধর্মীয় মেরুকরণ ঘটেছিল, তখন বিজেপি মোট ৪২টি লোকসভা আসনের মধ্যে ১৮টি পেয়েছিল। নির্বাচনী পরিসংখ্যানবিদেরা বলেছিলেন, ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি হিন্দু ভোটের ২১ শতাংশ পেলেও ২০১৯ সালে পেয়েছিল ৫৭ শতাংশ; অর্থাৎ বিজেপির হিন্দু ভোট একলাফে ৩৬ শতাংশ বেড়ে গিয়েছিল। হিন্দু-মুসলিম লাইনে ভোট না হলে বিজেপির ভোট এতটা বাড়ত না। পরবর্তী দুটি নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হিন্দু ভোটের বড় অংশ নিজের দিকে টানতে পেরেছিলেন। ফলে বিজেপি তাদের ২০১৯-এর ফলের পুনরাবৃত্তি গত ছয় বছরে করতে পারেনি।
কিন্তু বিজেপি জানে যে সাম্প্রদায়িক লাইনে ভোট হলে তাদের হিন্দু ভোট বাড়ে, ফলও ভালো হয়। আশা করা যায়, আগামী দিনে তারা সেই লক্ষ্যেই কাজ করবে এবং যত করবে, তত সমাজ আরও ‘সেক্টেরিয়ান’—গোষ্ঠীকেন্দ্রিক হয়ে পড়বে। তার সঙ্গেই পাল্লা দিয়ে বাড়বে হিংসা, দ্বেষ, সংঘাত। আহত হবেন সাধারণ মানুষ, মৃত্যুও হবে অনেকের। স্বাভাবিকভাবেই দায়ী করা হবে ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেসকে। বিষয়টি মাথায় রেখে আগামী এক বছর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা কীভাবে সামলান, সেদিকে নজর থাকবে পশ্চিমবঙ্গ তো বটেই, গোটা ভারতের। বাংলাদেশেরও।
● শুভজিৎ বাগচী প্রথম আলোর কলকাতা সংবাদদাতা
![]() |
| মুর্শিদাবাদে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের প্রায় প্রত্যেকেই তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা। ছবি: এএনআই |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ফ্যাসিবাদের নতুন মুখ: প্রযুক্তি, ধর্ম ও ধ্বংসের জোট by নাওমি ক্লেইন ও এস্ট্রা টেইলর
আজকের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক পটভূমিতে ভবিষ্যতের এক অন্ধকার ও বিপর্যস্ত চিত্র উঠে আসছে। এই চিন্তার ওপর ভর করে গড়ে উঠছে এক বিশাল জোট। সেই জোটের মধ্যে আছে উগ্র ডানপন্থী আদর্শবাদী, বড় প্রযুক্তি কোম্পানির মালিক আর দুনিয়াকে ধ্বংস করতে তৎপর পুঁজিবাদ। এরা জলবায়ু পরিবর্তন, মহামারি বা অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মতো সংকট না সামলে বরং সংকটগুলোর মধ্যেই মুনাফা খোঁজে।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের নির্বাচনের প্রচারণার পেছনে ছিলেন পিটার থিয়েল ও ইলন মাস্কের মতো ধনকুবেররা। তাঁদের দৃষ্টিভঙ্গি এ রকমের এক ভবিষ্যতের ইঙ্গিত দেয়। তাঁদের যে রাজনৈতিক প্রকল্প, তা এখন আর সমাজের বাস্তব সমস্যাগুলোর সমাধান করার ভানও করছে না। তাঁরা বরং পরিকল্পিতভাবে সেসব প্রতিষ্ঠান ভেঙে দিচ্ছেন, যেগুলো জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করতে গঠিত হয়েছিল। এই ধনকুবেররা গড়ে তুলতে চান প্রযুক্তিনির্ভর এক কল্পনাবিলাসী দুনিয়া, যেখানে কর্তৃত্ববাদই একমাত্র নীতি।
* সিলিকন ভ্যালি থেকে আসছে নতুন নতুন তত্ত্ব। প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীরা ছড়িয়ে দিচ্ছেন এমন তত্ত্ব, যেখানে বলা হচ্ছে যে পৃথিবীতে মানুষ আর টিকবে না। সেখানে রাজত্ব করবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা।
* দুনিয়াজোড়া কর্তৃত্ববাদকে কেবল প্রতিহত করলেই হবে না। এমন এক ভবিষ্যতের আকাঙ্ক্ষাও সামনে আনতে হবে, যার জন্য লড়াই করা যায়। যে আকাঙ্ক্ষার ভিত্তি হবে মানুষের মর্যাদা।
এই ‘শেষ সময়ের ফ্যাসিবাদের’ কিছু মূল চালিকা শক্তি আছে। সেগুলো হলো দুনিয়া যে ধ্বংস হবে, তা নিয়তিনির্ধারিত। আর তাঁরাই হচ্ছেন সেই ধ্বংসের মধ্য দিয়েও টিকে থাকার মতো শ্রেষ্ঠ মানুষ। জলবায়ু বিপর্যয়, আন্তর্জাতিক অস্থিরতা এবং গণতান্ত্রিক নিয়মের অবক্ষয়ের মুখে এঁরা পৃথিবীকে বাঁচানোর চেষ্টা করছেন না। তাঁরা বরং ভাবছেন কীভাবে এই ধ্বংসপ্রাপ্ত পৃথিবী থেকে নিজে রক্ষা পেয়ে ক্ষমতার একচেটিয়া দখল নেওয়া যায় অথবা কীভাবে এই ধ্বংসাবশেষের ওপর আধিপত্য বজায় রাখা যায়।
হামাস ইসরায়েলে মারাত্মক আক্রমণ চালালে পুরো বিশ্ব বিস্মিত হয়ে দেখল যে প্রবল প্রতাপশালী ইসরায়েলের প্রায় ১ হাজার নাগরিক নিহত হলো। তাদের অনেকেই ছিল সাধারণ নাগরিক। ইসরায়েলের পক্ষ থেকে এর পাল্টা জবাব দিতে কোনো দেরি হলো না। এরপরের মাসেই আক্রমণ করল ইসরায়েল।
সেই আক্রমণ ছিল পৈশাচিক ও নির্মম। গাজায় লাগাতার সামরিক আক্রমণে প্রাণ হারাল প্রায় ৩৩ হাজার নাগরিক। এদের মধ্যে ছিলেন হাজার হাজার শিশু ও নারী। সেই সংখ্যা এখনো বেড়েই চলেছে। সেখান থেকে যে ছবি আর খবর পাওয়া যাচ্ছে, তাতে পুরো বিশ্ব শিউরে উঠছে।
গাজাতে এই মানবিক বিপর্যয়ে পৃথিবীর সব মনোযোগ স্বাভাবিকভাবেই সেদিকে গেছে। তবে এর মধ্যে লুকিয়ে আছে গভীর এক মতাদর্শিক সংগ্রাম। এই সংগ্রাম যে কেবল মধ্যপ্রাচ্যে বিরাজ করছে, এমন নয়। এই লড়াই চলছে আসলে দুনিয়াজুড়ে।
এসবের মধ্যে আমরা আসলে যা দেখছি, তাকে সবচেয়ে ভালোভাবে ব্যাখ্যা করা যায় যে নাম দিয়ে তা হলো—‘ফ্যাসিবাদের শেষ সময়’। এ ছাড়া আর কোনোভাবে একে ব্যাখ্যা করা যায় না। এর মধ্যে মিশে আছে কিছু বিষয়। একদিকে দুনিয়া কেমন করে শেষ হয়ে যাবে সেই বিষয়ে ধর্মীয় ধারণা। তার সঙ্গে এসে জুড়েছে অতিজাতীয়তাবাদী আর কর্তৃত্ববাদী রাজনীতি। এসবের মধ্য দিয়ে দুনিয়াজুড়ে বিভিন্ন দেশের মৈত্রী নতুন আকার পাচ্ছে। আর ফাঁকতালে দুনিয়াজুড়ে বিপদে পড়েছে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ।
পুরোনো মৈত্রী নতুন আদলে
বেশ কয়েক দশকজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের খ্রিষ্টান, জায়নবাদী ও ইসরায়েলি রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কট্টরপন্থী অংশ বিশ্বজুড়ে খুব অটুট এক বোঝাপড়ার মধ্যে ছিল। এটা খুব কৌতূহলোদ্দীপক ব্যাপার যে এদের মধ্যে সম্পর্ক ছিল খুব সুসংহত। জন হ্যাগির মতো ইভানজেলিক্যাল নেতা দাবি করেছিলেন যে হারিকেন ক্যাটারিনা ছিল ‘স্রষ্টার পাঠানো এক শাস্তি। অপরাধ কী?’
অপরাধ হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের ইসরায়েল–ফিলিস্তিন সমস্যার দুই রাষ্ট্র সমাধান সমর্থন করা। তাঁর মতে, যুক্তরাষ্ট্রের ইসরায়েলকে সমর্থন করার কারণ ইহুদিদের নিরাপত্তা দেওয়া নয়। এই সমর্থন দিতে হবে, কারণ দুনিয়া শেষের যে লড়াই আর যিশুর দ্বিতীয় আগমনের জন্য ইহুদিদের জমায়েত হওয়াটা পূর্বশর্ত। তাই ইসরায়েল রাষ্ট্রকে সমর্থন দিতে হবে, এই হলো জন হ্যাগির বিশ্বাস।
ওদিকে ইসরায়েলে জায়নবাদী ও কট্টর ডানপন্থী দলগুলো প্রতিনিধিত্ব করে ধর্মতত্ত্ব আর জাতীয়তাবাদের মিশ্রণের। এ রকম দুটি দল প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কোয়ালিশনের খুবই গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। এই দলগুলো তাদের মতাদর্শিক অনুপ্রেরণা পায়, যার কাছ থেকে তাঁর নাম মেইর কাহানে। একসময় এই কাহানেকে ইসরায়েল রাষ্ট্র নিষিদ্ধ করেছিল তাঁর অতি কট্টর খোলাখুলি বর্ণবাদী দৃষ্টিভঙ্গির জন্য। আর আজ কাহানের শিষ্যরা ইসরায়েলের নীতি নির্ধারণ করে।
কিন্তু ট্র্যাজেডি হলো এই ‘ত্রাতাবাদী’ জোট যে কেবল প্রতীকী, এমন নয়। এই মৈত্রীর আছে সরাসরি আর হিংসাত্মক ফলাফল। ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গেভির বলেছেন, তাঁর লক্ষ্য হচ্ছে ফিলিস্তিনিদের স্বেচ্ছায় গাজা থেকে চলে যেতে উৎসাহিত করা। আবার ইসরায়েলের ডাক দেন ফিলিস্তিনের সব শহরকে ধুলোয় মিশিয়ে দেওয়ার।
এই মন্ত্রীরা কিন্তু একটা ধর্মতাত্ত্বিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে কথা বলছেন। তাঁরা ফিলিস্তিনের ওপর চালানো এই পৈশাচিক হামলাকে দেখেন স্রষ্টানির্ধারিত এক কাজ হিসেবে। এই হিসেবেই তাঁদের কাছে কোনো শিশু বা নারী হত্যা অপরাধ বলে মনে হয় না।
দুনিয়া ধ্বংসের প্রস্তুতি থেকে কোটিপতিদের গোপন বাংকার
২০১৭ সালে নিউইয়র্কার পত্রিকায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উঠে আসে ধনীদের এক নতুন পরিকল্পনা। একে বলা হচ্ছে ‘ডুমসডে প্রিপারিং ফর দ্য সুপার রিচ।‘ অর্থাৎ সমাজে বড় ধস নামলে বেঁচে থাকার জন্য ধনীদের তৈরি বিশেষ পরিকল্পনা। যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি ধনকুবের ও হেজ ফান্ড মালিকেরা তখন নিউজিল্যান্ড ও হাওয়াইয়ে বিলাসবহুল বাংকার তৈরি করছিলেন। সেখানে থাকছে ব্যক্তিগত বিমানঘাঁটি, গোপন পালানোর পথ, এমনকি ভূগর্ভস্থ নিরাপদ কক্ষ।
হাওয়াই দ্বীপ কাওআইতে তৈরি মার্ক জাকারবার্গের ‘ছোট্ট আশ্রয়স্থল’ বা পিটার থিয়েলের বিশাল নিউজিল্যান্ড এস্টেট। এগুলোকে বিচ্ছিন্ন পরিকল্পনা বা হুজুগ বলে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। এগুলো একধরনের দৃষ্টিভঙ্গির প্রকাশ। এই ধনীরা মনে করছেন যে সমাজের ধস অনিবার্য। ফলে পুরোনো পৃথিবী বসবাসের একেবারে অযোগ্য হয়ে যাবে। ফলে তারা নিজেদের বাঁচিয়ে রাখার জন্য নিজেদের মতো করে ব্যবস্থা করে রাখছেন।
এই প্রবণতার সঙ্গে মিল রেখে সিলিকন ভ্যালি থেকে আসছে নতুন নতুন তত্ত্ব। প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীরা ছড়িয়ে দিচ্ছেন এমন তত্ত্ব, যেখানে বলা হচ্ছে যে পৃথিবীতে মানুষ আর টিকবে না। সেখানে রাজত্ব করবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। একটু খোঁজ নিলেই বোঝা যায়, এগুলোর মধ্যে মিশে আছে ইউজেনিকস বা জাতিগত শ্রেষ্ঠত্বের ধারণা। এসবের মূল কথা হচ্ছে—কে বাঁচবে আর কে মরবে, তা ঠিক করবে বাজার; যার হাতে বাজারের মালিকানা, তারাই টিকে থাকবে। যারা বাজারে দুর্বল তারা অনিবার্যভাবেই টিকে থাকার যোগ্য নয়।
এগুলোর মধ্যে ‘লংটারমিজম’ নামে এক মতবাদ বলে যে ভবিষ্যতে এক ট্রিলিয়ন মানুষের অস্তিত্ব রক্ষা করতে হবে। অথচ তারা বর্তমানের কোটি কোটি মানুষের দুঃখ-কষ্টকে তেমন গুরুত্ব দিতে রাজি নয়। এই মতাদর্শের সঙ্গে যুক্ত আরেকটি বিশ্বাস হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) একদিন মানুষের চেয়ে উন্নত হবে। তখন প্রযুক্তিই হবে নতুন সভ্যতা; পৃথিবীতে মানুষের গুরুত্বপূর্ণ থাকবে না।
ইলন মাস্ক তো একবার বলেই ফেলেছিলেন, ‘মানবজাতি হচ্ছে কেবল ডিজিটাল সুপারইন্টেলিজেন্সের জেনেটিক বুটলোডার।’ অর্থাৎ মানুষ হচ্ছে একধরনের অস্থায়ী যন্ত্র। এই মানুষকে অতিক্রম করে তৈরি হবে আরও উন্নত কিছু। এই দৃষ্টিভঙ্গিতে মানুষ ‘পরিত্যাজ্য’।
ধ্বংসই উদ্দেশ্য
এই আদর্শগুলো বা মতবাদগুলো কোনো সংকটের সমাধান দিতে রাজি নয়। তারা বরং সংকটকে সাদরে বরণ করছে। ট্রাম্প প্রশাসন পরিবেশ আইন, জনস্বাস্থ্য নিরাপত্তা বা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রতিষ্ঠান বা তহবিল অবলীলায় বন্ধ করে দিচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে তারা পরিকল্পিত এক বিপর্যয় তৈরি করতে চাইছে। এই অরাজকতা যত বাড়বে, মানুষ তত নিজেকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য ব্যক্তিগত প্রস্তুতি নেবে। সমাজ বা সামগ্রিক চিন্তা আর কারও মাথায় থাকবে না। তারা তখন কেবল প্রযুক্তিনির্ভর সমাধানের দিকে ঝুঁকে পড়বে। একবার এই চক্র শুরু হলে এতে লাভ হয় ধনীদের।
স্পেনে একদল জলবায়ু অধিকারকর্মী প্রতিবাদ করে বলছেন, ‘তোমাদের ক্লাউড সিস্টেম টেকাতে গিয়ে আমাদের নদী শুকিয়ে যাচ্ছে।’ অর্থাৎ এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালাতে যে বিপুল ডেটা সেন্টার লাগছে, তা স্থানীয় পানি শেষ করে দিচ্ছে। এখানে ‘ক্লাউড’ বা ‘তথ্যমেঘ’ কেবল রূপক নয়, এটি একটি বাস্তব সত্যের প্রতীক।
শেষ সময়ের পুঁজিবাদ আসলে এই পৃথিবীকে ধ্বংস করে গড়ে তুলছে এক ভার্চ্যুয়াল দুনিয়া। আগামী কয়েক বছরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জন্য বিদ্যুতের চাহিদা তিন গুণ বাড়বে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। নবায়নযোগ্য বা পারমাণবিক জ্বালানি যথেষ্ট দ্রুত বাড়ছে না। ফলে এখনো মূল ভরসা জীবাশ্ম জ্বালানি।
গুগলের সাবেক সিইও এরিক শ্মিট স্বীকার করেছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিস্তারের জন্য লাগবে বিশাল পরিমাণ বিদ্যুৎ প্রকল্প, পানি ও বিরল খনিজ। তারা (প্রযুক্তনির্ভর ধনিক শ্রেণি) যেন পৃথিবীকে টিকিয়ে রাখতে বিশেষ আগ্রহী নন। কারণ, তারা আর এই পৃথিবীকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছে না। একে কাজে লাগিয়ে কেবল অল্প কয়েকজন টিকে থাকাই তাদের কৌশল।
তবে এই প্রযুক্তিনির্ভর অতিধনীরা চিন্তিত অন্য কিছু নিয়ে। আর তা হলো তাঁদের এসব পরিকল্পনার মধ্যে সরকারের হস্তক্ষেপ। তাঁদের ভয়, যদি সরকার কর চাপানো শুরু করে, যদি নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়, যদি তাঁদের এসব বেহিসাবি কাজ বন্ধ করতে বলা হয়, তখন কী হবে? তাদের কাছে আসল মহাপ্রলয় হলো জবাবদিহির ভয়।
সংকটের পর সংকট
সম্প্রতি কয়েকটি সংকট এই সমস্যাগুলো সামনে নিয়ে এসেছে। এর মধ্যে আছে পরিবেশ। একে আর লুকিয়ে রাখা যাচ্ছে না। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ছে। তাপমাত্রা গত কয়েক বছরে বিশ্বজুড়ে হয়ে উঠেছে অসহনীয়। বাস্তুতন্ত্র পড়ছে ভেঙে। এসব সমস্যা এড়িয়ে যাওয়া বা ঢেকে রাখার এখন আর কোনো উপায় নেই। আর আমাদের অতিধনীরা মুখে মুখে এসব বিশেষ গুরুত্ব না দিলেও তলেতলে তাঁরা নিজেদের জন্য বিশেষ প্রস্তুতি নিয়ে রাখছেন।
এই তো কিছুদিন আগে, কোভিড-১৯ মহামারির সময় দেখা গেল যে আমাদের এই মানুষের পৃথিবী কত সহজে উলটপালট হয়ে যেতে পারে। দেখা গেল কেমন করে ভয়কে কাজে লাগিয়ে চমৎকার ব্যবসা করা যায়। সেই অতিমারি কেবল এক স্বাস্থ্যসংকট ছিল না। এটা ছিল নজরদারি, কর্তৃত্ববাদী নিয়ন্ত্রণ আর মানুষের ওপর মানুষের আস্থা ধসিয়ে দেওয়ার নতুন পরীক্ষা।
এসবের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নামের আরেক বাস্তবতা। যন্ত্র কোনো একসময় মানুষকে ছাপিয়ে যাবে—এই ভয় আজ যেন বাস্তব হয়ে দেখা দিচ্ছে। যারা এই ভয় দেখিয়ে বেড়াচ্ছে, সেই নতুন প্রযুক্তি অভিজাতেরাই এই ভয়কে বাস্তব করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। আর এসবের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে পুরোনো এক ভয়—পারমাণবিক অস্ত্রের ভয়। রিচার্ড সেইমুর যেমন বলেন, ‘দুনিয়া ধ্বংস হবে কবে, তা আর বিষয় নয়, আমরা এক ধ্বংস হওয়া পৃথিবীতেই বাস করছি।’
এই ভয়াবহ ছুটে চলার শেষ কোথায়? এর জন্য তো দরকার দুনিয়াকে দেখার এক বিকল্প দৃষ্টি। সেই দৃষ্টি কেবল রাজনৈতিক হলে হবে না। তাঁকে হতে হবে একই সঙ্গে নৈতিক ও আত্মিক। দুনিয়াজোড়া কর্তৃত্ববাদকে কেবল প্রতিহত করলেই হবে না। এমন এক ভবিষ্যতের আকাঙ্ক্ষাও সামনে আনতে হবে, যার জন্য লড়াই করা যায়। যে আকাঙ্ক্ষার ভিত্তি হবে মানুষের মর্যাদা। যেখানে সব বিশ্বাসের মানুষ কেবল মানুষ হিসেবেই একে অপরকে শ্রদ্ধা করবে। মনে রাখতে হবে, পৃথিবীর সব বিশ্বাসের শিকড় হচ্ছে ন্যায্যতা।
এই প্রতিরোধের ইশারা পাওয়া যাচ্ছে ইতিমধ্যে। রাষ্ট্রের হিংস্রতাকে উপেক্ষা করে দুনিয়াজুড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে, সিনাগগ আর চার্চে, অন্য অনেক সামাজিক প্রতিষ্ঠানে মানুষ নিজের আকাঙ্ক্ষার কথা জানাচ্ছেন।
* নাওমি ক্লেইন লেখক ও অধিকারকর্মী
* এস্ট্রা টেইলর লেখক ও তথ্যচিত্র নির্মাতা
- গার্ডিয়ান থেকে নেওয়া। ইংরেজি থেকে সংক্ষেপিত অনুবাদ জাভেদ হুসেন

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ট্রাম্পের খসড়া নির্বাহী আদেশঃ পররাষ্ট্র দপ্তরে হবে ব্যাপক পরিবর্তন, থাকবে না গণতন্ত্র ও মানবাধিকার ব্যুরো
খসড়া নির্বাহী আদেশে জলবায়ু পরিবর্তন ও শরণার্থী নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সদর দপ্তরে কাজ করা দপ্তরগুলোর পাশাপাশি গণতন্ত্র ও মানবাধিকার নিয়ে কাজ করা দপ্তরগুলোও বন্ধ করে দিতে বলা হয়েছে।
চলতি সপ্তাহে এই নির্বাহী আদেশে সই করতে পারেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ১৬ পৃষ্ঠার খসড়া আদেশটির একটি অনুলিপি নিউইয়র্ক টাইমসের হাতে এসেছে। এই অনুলিপি অনুযায়ী, ‘পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুশৃঙ্খল পুনর্গঠন নিশ্চিত করা এবং অপচয়, জালিয়াতি ও অপব্যবহার কমিয়ে এর কাজের প্রক্রিয়া সহজতর ও গতিশীল করা নির্বাহী আদেশটির লক্ষ্য।’ আগামী ১ অক্টোবর নাগাদ পররাষ্ট্র দপ্তর এই পরিবর্তন আনতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই পরিকল্পনার বিষয়ে জানাশোনা আছে, এমন কয়েকজন সাবেক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, নির্বাহী আদেশটি সইয়ের পাশাপাশি পররাষ্ট্র কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত পেশাদার কূটনীতিক এবং অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তাদেরও ছাঁটাইয়ের চেষ্টা করা হবে। এসব কর্মকর্তা সাধারণত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়াশিংটন সদর দপ্তরে কাজ করে থাকেন। এই মন্ত্রণালয় বিপুলসংখ্যক কর্মীকে বেতনসহ ছুটিতে পাঠানো এবং বরখাস্তের নোটিশ পাঠানো শুরু করতে পারে বলেও সাবেক এই মার্কিন কর্মকর্তারা জানান।
খসড়া নির্বাহী আদেশে নিয়োগপ্রত্যাশী কূটনীতিকদের পররাষ্ট্র দপ্তরে নিয়োগের পরীক্ষা নেওয়া বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নিয়োগের ক্ষেত্রে ‘প্রেসিডেন্টের পররাষ্ট্রনীতির সঙ্গে মতের মিল থাকা’— এ ধরনের নতুন কিছু মানদণ্ড ঠিক করে দেওয়া হয়েছে।
খসড়া আদেশে বলা হয়েছে, নথিপত্র তৈরিতে সাহায্য করার জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার অবশ্যই ব্যাপকভাবে বাড়াতে হবে। ‘নীতি প্রণয়ন ও পর্যালোচনা এবং বাস্তবায়নযোগ্য পরিকল্পনা’ গ্রহণ করতে হবে।
প্রেসিডেন্ট সই করার আগে নির্বাহী আদেশের বিষয়বস্তুতে পরিবর্তনও আসতে পারে। গতকাল রোববার দিনের শুরুতে তাৎক্ষণিক এই নির্বাহী আদেশের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি পররাষ্ট্র দপ্তর কিংবা হোয়াইট হাউসের জাতীয় নিরাপত্তা পর্ষদ।
প্রস্তাবিত এই পুনর্গঠন বাস্তবায়িত হলে বিশ্বের বড় একটি অংশে নীতি গ্রহণ ও প্রণয়নে যুক্ত আঞ্চলিক ব্যুরোগুলো আর থাকবে না। এর পরিবর্তে এখন থেকে চারটি উপবিভাগের অধীনে এই ব্যুরোগুলোর কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
উপবিভাগগুলোর মধ্যে ‘ইউরেশিয়া’ ইউরোপ, রাশিয়া ও মধ্য এশিয়া নিয়ে গঠিত। ‘মিড–ইস্ট’ উপবিভাগের অধীনে পড়েছে আরব দেশগুলো, ইরান, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান। ‘লাতিন আমেরিকা’ উপবিভাগে পড়েছে মধ্য আমেরিকা, দক্ষিণ আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চল। ‘ইন্দো–প্যাসিফিক’ উপবিভাগ পূর্ব এশিয়া, দক্ষিণ–পূর্ব এশিয়া, ভারত, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, ভুটান ও মালদ্বীপ সম্পর্কিত বিষয়গুলোর দেখভাল করবে।
সবচেয়ে বড় যে পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে, সেটা হলো আফ্রিকা মহাদেশসম্পর্কিত ব্যুরো বাদ দেওয়া। এটি সাব–সাহারা আফ্রিকা সম্পর্কিত নীতি দেখভাল করে থাকে। এর পরিবর্তে অনেক ছোট পরিসরে গঠিত বিশেষ দূতের দপ্তর আফ্রিকা সম্পর্কিত বিষয়গুলো দেখবে। এই দপ্তর হোয়াইট হাউসের জাতীয় নিরাপত্তা পর্ষদের অধীনে কাজ করবে। ‘সমন্বিত সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রমের’ মতো হাতে গোনা কিছু বিষয়ের ওপর এই দপ্তর জোর দেবে।
খসড়ায় আরও বলা হয়েছে, সাব–সাহারা আফ্রিকায় থাকা গুরুত্বপূর্ণ নয়, এমন দূতাবাস ও কনস্যুলেটগুলো আগামী ১ অক্টোবরের মধ্যে বন্ধ করে দেওয়া হবে। এতে বলা হয়, সুনির্দিষ্ট এবং দেশের স্বার্থের প্রয়োজনীয়তার সঙ্গে সংগতি রেখেই আফ্রিকায় কূটনীতিক পাঠানো হবে।
নির্বাহী আদেশের খসড়া অনুযায়ী, কানাডা সম্পর্কিত কার্যক্রম নবগঠিত নর্থ আমেরিকা–বিষয়ক দপ্তরের মাধ্যমে পরিচালিত হবে। এটি পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর অধীনে কাজ করবে। এই দপ্তর অনেক কম লোক দিয়ে পরিচালিত হবে। এ ছাড়া অটোয়ায় মার্কিন দূতাবাসের কাজের পরিসর ব্যাপকভাবে কমিয়ে আনবে পররাষ্ট্র দপ্তর।
গণতন্ত্র ও মানবাধিকার নিয়ে কাজ করা ব্যুরো বিলুপ্ত করবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বাদ পড়বে শরণার্থী ও অভিবাসনের বিষয়টি দেখভাল করা এবং আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলোর সঙ্গে কাজ করা ব্যুরোও। প্রথম দুটি ব্যুরোর আন্ডার সেক্রেটারি পদ বাদ দেওয়া হবে। একইভাবে বাদ পড়বে পাবলিক ডিপ্লোমেসি অ্যান্ড পাবলিক অ্যাফেয়ার্স দপ্তরের আন্ডার সেক্রেটারি পদও।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জলবায়ুবিষয়ক বিশেষ দূতের পদও আর থাকবে না।
খসড়া আদেশ অনুযায়ী, ‘আন্ডার সেক্রেটারি ফর ট্রান্সন্যাশনাল থ্রেট এলিমিনেশন’ নামে নতুন একটি জ্যেষ্ঠ পদ তৈরি করতে যাচ্ছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এই দপ্তর মাদকবিরোরোধী নীতি এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো দেখভাল করবে।
যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা–ইউএসএআইডির অবশিষ্ট অংশের দায়িত্ব নিতে যাচ্ছে মানবিক সহায়তাবিষয়ক ব্যুরো। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও এবং ট্রাম্প প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তার হাতে এই সংস্থা (ইউএসএআইডি) রীতিমতো বিলুপ্ত হয়ে গেছে।
কর্মীদের প্রসঙ্গে খসড়া নথিতে বলা হয়েছে, বৈশ্বিকভাবে পালাক্রমে দায়িত্ব পালনের এখনকার সেকেলে ও বিশৃঙ্খল প্রথা থেকে বের হয়ে দক্ষতাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে আরও দক্ষ, পরিকল্পিত ও আঞ্চলিক বিশেষায়িত চাকরিকাঠামোর দিকে অগ্রসর হতে হবে। এর মানে হলো, পররাষ্ট্র বিভাগে চাকরিপ্রত্যাশীদের আবেদনের সময় উল্লেখ করতে হবে, তাঁরা কোন আঞ্চলিক উপবিভাগে কাজ করতে চান।
খসড়ায় বলা হয়েছে, পররাষ্ট্র বিভাগ ও অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তাদের আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অর্থের বিনিমেয় স্বেচ্ছায় অবসর বা পদত্যাগের প্রস্তাব দেবে পররাষ্ট্র দপ্তর।
এই নির্বাহী আদেশের খসড়ায় ফুলব্রাইট বৃত্তির অধীনে অধ্যয়নের ক্ষেত্র সীমিত করতে বলা হয়েছে, যাতে জাতীয় নিরাপত্তার মতো বিষয় নিয়ে মাস্টার্স পর্যায়ে অধ্যয়ন করা শিক্ষার্থীদের কেবল এই সুবিধা দেওয়া যায়।
খসড়া নথিতে বলা হয়েছে, পররাষ্ট্র দপ্তর হাওয়ার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করবে। ফলে ঐতিহাসিকভাবে এই কৃষ্ণাঙ্গ প্রতিষ্ঠানটি র্যাঞ্জেল অ্যান্ড পিকারিং বৃত্তির জন্য প্রার্থী নির্বাচনের সুযোগ হারাতে যাচ্ছে। এই বৃত্তির লক্ষ্য ছিল স্নাতক শেষের পরই সমাজের পিছিয়ে পড়া গোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের পররাষ্ট্র বিভাগে প্রবেশে সহায়তা করা।
পররাষ্ট্র দপ্তরে পরিবর্তন আনার বিভিন্ন প্রস্তাবসংবলিত কয়েকটি অভ্যন্তরীণ নথি সাম্প্রতিক দিনগুলোতে বিতরণ করা হয়েছে। এর মধ্যে এই খসড়া নির্বাহী আদেশ একটি। আরেকটি নথিতে এই মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ আগামী অর্থবছরে প্রায় ৫০ শতাংশ কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ছাড়া আরেকটি অভ্যন্তরীণ নথিতে ১০টি দূতাবাস এবং ১৭টি কনস্যুলেট বন্ধ করে দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
![]() |
| প্রেসিডেন্ট পদে শপথ নিয়ে একের পর এক নির্বাহী আদেশ জারি করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফাইল ছবি: রয়টার্স |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সমঝোতা না হলে রাস্তা দখলের রাজনীতি ফিরবে: বিশেষ সাক্ষাৎকারে মির্জা হাসান
মির্জা হাসান: সংস্কারের ব্যাপারে খুব বেশি অগ্রগতি হয়নি। তবে গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার কমিশনগুলো তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। আমরা এখন এটুকু জানি, কোন ধরনের সংস্কার করতে হবে; বিষয়গুলো আলোচনার টেবিলে এসেছে, বিভিন্ন দল তাদের মতামত দিচ্ছে। ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর আলোচনা চলছে।
সংস্কারের ক্ষেত্রে বিএনপি চাইছে নির্ধারক ভূমিকা পালন করতে। এর কারণ, সম্ভবত বিএনপি মনে করছে তারাই ক্ষমতায় যাবে। আর প্রস্তাবিত সংস্কারগুলোর লক্ষ্য যেহেতু ক্ষমতাসীন দলকে কঠোর চেক অ্যান্ড ব্যালান্সের মধ্যে রাখা, তাই সেটা বিএনপি পছন্দ করছে না। আমার ধারণা, তারা আগের শাসনপদ্ধতির গুণগত কোনো পরিবর্তন চাইছে না। অথচ আগের এই কাঠামো পরিবর্তনই এবারের গণ–অভ্যুত্থানের স্পিরিট (চেতনা) ছিল।
প্রথম আলো: কিছু সংস্কারের জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যের প্রয়োজন। আর কিছু সংস্কার আছে, যেগুলো প্রশাসনিক নির্দেশেই বাস্তবায়ন করা যায়। প্রশাসনিক নির্দেশে যে সংস্কারগুলো করা যেত, অন্তর্বর্তী সরকার কি সেগুলো করছে, নাকি সে ক্ষেত্রে কোনো ঘাটতি লক্ষ করা যাচ্ছে?
মির্জা হাসান: আমার মনে হয় সরকার ভাবছে, নির্বাচনের পর রাজনৈতিক দলগুলোই গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারগুলো করবে। কিছু কাজ, যেমন অর্থনীতি ও ব্যাংক খাতে সংস্কার হচ্ছে। এ ছাড়া দুর্নীতি, অর্থ পাচার ইত্যাদি বিষয়ে সরকার কিছু ব্যবস্থা নিয়েছে। তবে প্রশাসনিক নির্দেশে করা যেত, এমন অনেক সংস্কার সরকার করছে না, এটাও স্বীকার করতে হবে।
প্রথম আলো: অনেকে এমন বলেছেন, এই সরকার আমলাতন্ত্রের খপ্পরে পড়েছে। আমরা পুলিশ সংস্কারের ক্ষেত্রে দেখেছি যে সবচেয়ে ‘বড়’ বাধা আসছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে। এ বিষয়ে আপনার মতামত কী?
মির্জা হাসান: এর পেছনে কোনো রাজনীতি আছে কি না, তা জানি না। পুলিশ সংস্কারে আন্তক্যাডার দ্বন্দ্বের বিষয়টা আমরা সবাই মোটামুটি জানি। একটা বিষয় স্পষ্ট, প্রশাসন ক্যাডারের প্রভাব এই পুলিশ সংস্কার কমিশনের ওপরও ছিল। ২০০৭-০৮ সালেও ব্যাপক আকারে পুলিশ সংস্কারের ব্যাপারে চেষ্টা করা হয়েছিল। তখনো বাধা দিয়েছে প্রশাসন ক্যাডার। পুলিশ চায় অ্যাডমিনের নিয়ন্ত্রণমুক্ত থাকতে; তখনো তারা স্বাধীন পুলিশ কমিশন চেয়েছিল। রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ থেকে মুক্তি পেতে তারা এ ধরনের স্বাধীন কমিশনের দাবি তুলেছিল।
রাজনৈতিকভাবে ব্যবহৃত হওয়ার কারণে সবচেয়ে বড় ক্ষতি হয়েছে পুলিশের। তাই এবারও তারা স্বাধীন কমিশন চেয়েছে। কিন্তু পুলিশ সংস্কার কমিশনের সুপারিশে বলা হলো, এ বিষয়ে আরও বেশি পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও বিচার–বিশ্লেষণ করতে হবে। এটা খুবই উদ্ভট যুক্তি। কারণ, তাদের তো বিশেষজ্ঞ হিসেবেই নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।
সবচেয়ে বেশি দরকার, ‘রেজিম’ পুলিশের পরিবর্তে ‘গণতান্ত্রিক’ পুলিশ তৈরি করা এবং থানা পর্যায়ে পুলিশের সংস্কার করা। সাধারণ মানুষ প্রধানমন্ত্রীর স্বৈরাচারী কর্মকাণ্ড খুব বেশি টের পায় না। কিন্তু থানার ওসির স্বৈরাচারী কর্মকাণ্ড টের পায় প্রতিনিয়ত। এর ফলে থানা পর্যায়ে নাগরিক কমিটি গঠন করে পুলিশের চেক অ্যান্ড ব্যালান্স করা ছাড়া ‘গণতান্ত্রিক’ পুলিশ প্রতিষ্ঠা করা যাবে না।
প্রথম আলো: রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ঐকমত্য কমিশনের আলোচনার এজেন্ডায় পুলিশ সংস্কারের বিষয়টি রাখা হয়নি। এ ছাড়া স্থানীয় সরকার সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন এখনো জমা দেওয়া হয়নি। তাহলে কি এ দুটি বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ঐকমত্যের প্রয়োজন নেই?
মির্জা হাসান: সংস্কার কমিশন যাঁদের নিয়ে গঠিত হয়েছে, তাঁরা মনে করছেন রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ সংস্কার এবং সরকারের মধ্যে ‘চেক অ্যান্ড ব্যালান্স’ তৈরি করাই হলো সংস্কার। বিশেষ করে সংবিধান সংস্কার কমিশন এবং নির্বাচন সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন থেকে এমন ধারণা পাওয়া যায়।
বাংলাদেশে যিনি প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন, তিনি অনেক বেশি ক্ষমতার অধিকারী। ফলে তাঁর ক্ষমতা কমানো এবং এই ক্ষমতার মধ্যে চেক অ্যান্ড ব্যালান্স তৈরি করার জন্য বিভিন্ন ধরনের সুপারিশ তাঁরা করেছেন। সংস্কার কমিশনগুলো ধরে নিচ্ছে যে নির্বাচন, সংসদ, নির্বাহী বিভাগ ইত্যাদি বিষয় ঠিকঠাক হয়ে গেলেই হয়তো গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে। এটা হয়তো অনেকাংশেই সত্য। সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন করতে পারলে ভবিষ্যতে স্বৈরাচারীব্যবস্থা কায়েম করা অনেক বেশি কঠিন হয়ে পড়বে। কিন্তু শুধু এগুলোর মাধ্যমে প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সরকার সংস্কারের বিষয়টি যেমন এজেন্ডায় নেই, একইভাবে নারী, স্বাস্থ্য, শিক্ষার মতো বিষয়গুলোও গণতন্ত্রের অংশ হিসেবে গুরুত্ব পাচ্ছে না। এগুলোর সঙ্গে সম্পর্কিত অধিকার এবং জবাবদিহির বিষয়গুলোকে গণতান্ত্রিক কাঠামোর অংশ বলে মনে করা হচ্ছে না। কারখানার ভেতরে–বাইরে শ্রমিকদের যেসব অধিকার রয়েছে, আমাদের এলিটরা সেটাকে গণতন্ত্রের অংশ বলে মনে করেন না। ধরে নেওয়া হচ্ছে, এগুলো ‘বিশেষায়িত’ কিছু ব্যাপারমাত্র। কিন্তু এগুলোই হলো প্রকৃত গণতন্ত্র নিশ্চিত করার অপরিহার্য উপাদান।
প্রথম আলো: আপনি যে গণতন্ত্রের কথা বলছেন, তা প্রতিষ্ঠার জন্য আসলে কী করা উচিত?
মির্জা হাসান: নাগরিকদের নিজস্ব সংগঠন তৈরি করতে হবে। যেমন ব্যবসায়ী, শ্রমিক, কৃষক, নারী, ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীসহ সমাজের সব শ্রেণি–পেশার মানুষের সংগঠন তৈরি করতে হবে। এরপর তাঁদের প্রতিনিধিদের পাঠাতে হবে সংসদের উচ্চকক্ষে। তাহলেই শুধু ‘নির্বাচনী’ গণতন্ত্রের চেয়ে বেশি কিছু অর্জন করা সম্ভব। এ ছাড়া স্থানীয় পর্যায়ে নাগরিক পরিষদ তৈরি করতে হবে। এগুলোর সাংবিধানিক বৈধতা দিতে হবে। এগুলো আবার জাতীয় পর্যায়ের কমিশনের অধীনে জবাবদিহির আওতায় থাকবে। তাহলে জাতীয় ও স্থানীয়—দুই ক্ষেত্রেই চেক অ্যান্ড ব্যালান্স নিশ্চিত করা যাবে।
বাংলাদেশে ওয়ার্ড সভা আছে। এদের ক্ষমতা খুবই সীমিত। ইউপি চেয়ারম্যান-মেম্বাররা এদের উপেক্ষা করে। কারণ, এদের কোনো আইনি–সাংবিধানিক ক্ষমতা নেই। জাতীয় পর্যায়ে যেমন ক্ষমতাসীন দল সংসদ দখল করে নেয়, ঠিক একইভাবে স্থানীয় পর্যায়ের এই ওয়ার্ড সভাগুলোও দখল করে ফেলে ক্ষমতাসীন ইউপির চেয়ারম্যান-মেম্বাররা। তাই এদের আইনি ভিত্তি থাকা প্রয়োজন। কিন্তু দুঃখজনক হলো এ বিষয়গুলো আলোচনার মধ্যেই নেই। সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনগুলোতে এ বিষয়ে কিছু বলা হয়নি।
প্রথম আলো: জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের প্রস্তাবিত সংস্কারগুলো নিয়ে বিএনপি, জামায়াত এবং নবগঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টির মধ্যে মতভিন্নতা লক্ষ করা যাচ্ছে। রাজনৈতিক দলগুলো ঐকমত্যে পৌঁছাতে না পারলে আদৌ কোনো সংস্কার কি হবে?
মির্জা হাসান: সাধারণ মানুষ পুরোনো রাজনীতি দেখতে চায় না। তাদের কথা হলো আমরা চাই না আবার স্বৈরাচার কায়েম হোক কিংবা রাজনীতিবিদেরা ক্ষমতায় গিয়ে জনগণকে সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষা করুক। সবাই চায় এবার কিছু ‘একটা’ হওয়া উচিত। সেই কিছু ‘একটা’র প্রতিফলন আমরা সংস্কার কমিশনগুলোর প্রতিবেদনে দেখতে পাচ্ছি। আমরা চাই, সব রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত সংস্কার নিয়ে তাদের পরিকল্পনা জনসমক্ষে প্রকাশ করা। সেসব বিবেচনা করেই মানুষ তাদের ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেবে।
বাংলাদেশে বেশির ভাগ সময় আওয়ামী লীগ ও বিএনপি প্রধান রাজনৈতিক দল ছিল। এবার দুটির মধ্যে একটি দল নেই। জামায়াতে ইসলামীকে আমি বলব না তেমন শক্তিশালী দল, তবে দলটির শক্তি বাড়ানোর চেষ্টা আছে। এখন এনসিপিকে আমরা দেখছি। আমার ধারণা, সংস্কার নিয়ে এনসিপি, জামায়াতে ইসলামীসহ ছোট দলগুলোর সঙ্গে সরকারের একটা সমঝোতা হবে। তাদের মূল প্রতিপক্ষ বিএনপি। দলটি (বিএনপি) চাইবে বাকিদের ঐক্য ভাঙতে। সেটা পারবে কি না, তা এখনই বলা যাবে না।
বর্তমান সরকার সেই অর্থে তত্ত্বাবধায়ক সরকার নয়, বরং অভ্যুত্থান-পরবর্তী সরকার। এই অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দিয়েছে যারা, তারাই এনসিপি গঠন করেছে। যেসব সংস্কার প্রস্তাব এসেছে, সেগুলো দিয়েছে সরকার নিজেই। সরকার এখানে একটা পক্ষ। তারা রাজনৈতিক দলগুলোকে বলেছে যে সবাই একটা সমঝোতায় এলে সেই অনুযায়ী সরকার এগোবে। এখন পর্যন্ত আমরা যা দেখছি, তেমন সমঝোতার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।
বিএনপি স্পষ্টভাবেই বলছে যে নির্বাচিত রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় গিয়ে সংস্কার করবে। অন্তর্বর্তী এ সরকারের এ ধরনের সংস্কার করার কোনো এখতিয়ার নেই। এটা তারা বলতে পারছে, কারণ আমাদের দেশে রাজনীতিবিদেরা মনে করেন গণতন্ত্র মানে শুধুই নির্বাচন; এর বাইরে আর কিছু নেই।
বিএনপি যেমন বলে দিয়েছে আলোচনায় সমাধান না হলে তারা রাস্তায় নামবে। রাস্তার শক্তির মাধ্যমেই ফয়সালা করতে চায় তারা। কিন্তু বিএনপির প্রতিপক্ষও খুব দুর্বল নয়। বিশেষ করে অন্য যারা রাজনৈতিক পক্ষ রয়েছে, যেমন এনসিপি, জামায়াতে ইসলামী ও বর্তমান সরকার। ফলে প্রত্যেকের শক্তির ভারসাম্যের মাধ্যমে একটা ফয়সালা হবে বোঝা যাচ্ছে। কিন্তু সেটা কী হবে, বলা মুশকিল। একটা বিষয় ইতিবাচক যে সেনাবাহিনী বলে দিয়েছে রাজনীতিতে ঢুকে তাদের তিক্ত অভিজ্ঞতা হয়েছে; তারা আর এর মধ্যে ঢুকতে চায় না। তারা নিরপেক্ষ থাকতে চায়।
প্রথম আলো: অন্তর্বর্তী সরকার নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে পারছে না—বিএনপির পক্ষ থেকে একাধিকবার এ রকম কথা বলা হয়েছে। সম্প্রতি এনসিপির আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম বললেন, প্রশাসন বিএনপির পক্ষে, এদের অধীন নির্বাচন করা সম্ভব নয়। তাঁদের এ বক্তব্যগুলোকে কীভাবে দেখছেন?
মির্জা হাসান: রাজনীতিতে অনেক ধরনের ‘রেটরিক’ (পোশাকি ব্যাপার) আছে। নাহিদ ইসলামের সর্বশেষ কথা আমার কাছে এ রকম একটা রেটরিক মনে হয়েছে। এটা সত্য যে সরকার ও প্রশাসনের অনেক জায়গায় বিএনপির প্রভাব আছে। কিন্তু নাহিদ ইসলাম যেভাবে বিষয়টিকে সামনে নিয়ে এসেছেন, মনে হচ্ছে বিএনপি একটা ‘কিংস পার্টি’।
বিএনপি যেমন এনসিপিকে ‘কিংস পার্টি’ বলেছিল, এবার এনসিপিও উল্টো সেই চাপটা বিএনপির ওপর প্রয়োগ করার চেষ্টা করছে। এনসিপি এর মাধ্যমে রাজনৈতিক বক্তব্য-পাল্টাবক্তব্যে একধরনের ভারসাম্য আনার চেষ্টা করছে। তারা (এনসিপি) জনগণকে বোঝাতে চাইছে, বর্তমান সরকার তাদের ক্ষমতায় বসাবে—এমন ধারণা ঠিক নয়।
প্রথম আলো: আওয়ামী লীগ দেশে ‘একটা দলীয় শাসনব্যবস্থা’ কায়েম করেছিল। তাদের নেতা–কর্মীদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধসহ আরও অনেক ধরনের অভিযোগে মামলা হয়েছে। আবার দলটির নেতা–কর্মী–সমর্থকের সংখ্যাও কম নয়। এ রকম পরিস্থিতিতে দলটিকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে দেওয়া না–দেওয়া নিয়ে ভিন্নমত রয়েছে। এ ক্ষেত্রে বিবেচনাটা কী হওয়া উচিত?
মির্জা হাসান: আমরা অনেকে একই সঙ্গে দুই ধরনের কথা বলছি। আমরা আওয়ামী লীগের উচ্চপর্যায়ের নেতাদের বিচার চাইছি; একই সঙ্গে তাদের নির্বাচনে আসার কথা বলছি। নীতিগত জায়গা থেকে আমি দল নিষিদ্ধ করার পক্ষে নই। এর পরিবর্তে রাজনৈতিকভাবেই এর সমাধান হওয়া উচিত। যদি এর মধ্যে বিচার হয়ে যেত, তাহলে আমরা জানতাম যে আওয়ামী লীগের কারা নির্বাচনে অযোগ্য।
শেখ হাসিনার পরিবারের বাইরে অন্য কারও নেতৃত্বে যদি আওয়ামী লীগ নির্বাচনে আসতে চায়, সে ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের ভেতর থেকেই বাধা দেওয়া হবে বলে আমার মনে হয়। আওয়ামী লীগের সমর্থক গোষ্ঠীর কাছে তাদের গ্রহণযোগ্যতা থাকবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ আছে। আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে আনতে অন্য দলগুলোও খুব একটা হইচই করবে না বলে আমার ধারণা। তারা (বিএনপি) বরং আওয়ামী লীগকে ছাড়াই নির্বাচনে যেতে আগ্রহী হবে। তাই এ বিষয়ে এখনো আলোচনার সময় আসেনি বলে আমার মনে হয়।
প্রথম আলো: অন্তর্বর্তী সরকারের পাঁচ বছর ক্ষমতায় থাকার বিষয়ে সম্প্রতি কিছু আলোচনা উঠেছিল। সরকারের ভেতরে–বাইরে কেউ কেউ এ নিয়ে মন্তব্য করেছেন। এ বিষয়কে কীভাবে দেখেন?
মির্জা হাসান: আসলে মানুষ যখন অর্থনৈতিকভাবে স্বস্তির মধ্যে থাকে, তখন তারা অন্য ব্যাপার নিয়ে খুব একটা মাথা ঘামায় না। তখন তারা চায়, যে সরকার আছে, সেটাই থাকুক। তা ছাড়া দুই বড় দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির পারফরম্যান্স নিয়ে মানুষ তো খুব একটা সন্তুষ্ট নয়। আমরা দেখেছি, রমজানের সময় দ্রব্যমূল্য সহনীয় পর্যায়ে ছিল। ঈদে মানুষ ভালোভাবে বাড়িতে যাওয়া-আসা করতে পেরেছে। সব মিলিয়ে মানুষের মধ্যে একধরনের সন্তুষ্টিবোধ তৈরি হয়েছিল। এ কারণেই হয়তো কেউ কেউ অন্তর্বর্তী সরকারের পাঁচ বছর ক্ষমতায় থাকা নিয়ে মন্তব্য করেন।
প্রথম আলো: সম্প্রতি নিউইয়র্ক টাইমস পত্রিকায় বাংলাদেশে উগ্রপন্থার উত্থানের আশঙ্কা নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। এ বিষয়কে আপনি কীভাবে দেখছেন?
মির্জা হাসান: নিউইয়র্ক টাইমস–এর প্রতিবেদনটি অসত্য নয়, তবে কিছুটা ‘একপক্ষীয়’ বলে মনে হয়েছে। গণ–অভ্যুত্থানের পর নানা ধরনের শক্তির উদ্ভব হওয়াই স্বাভাবিক। উগ্রপন্থীদের নিয়ন্ত্রণে সরকারের ঘাটতি আছে, সক্ষমতার অভাব আছে এবং সেগুলো নিয়ে সমালোচনা করাও জরুরি। কিন্তু সরকার এগুলো উসকে দিচ্ছে, বিষয়টা এমন নয়।
সরকার নিজেই উগ্রপন্থীদের পক্ষে—এমন প্রচারণার ব্যাপারে আমাদের সচেতন থাকতে হবে। কারণ, ভারতীয় গণমাধ্যমকে আমরা দেখেছি বাংলাদেশের এসব বিষয় নিয়ে নানা রকম ভুল প্রচারণা চালিয়েছে। এ রাজনীতিটা আমাদের মাথায় রাখতে হবে।
প্রথম আলো: সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আপনার মন্তব্য দিয়ে শেষ করতে চাই।
মির্জা হাসান: আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতা আসবে কি না, তা নিয়ে আমার সন্দেহ রয়েছে। এর ফলে পুরো বিষয়টা আবারও রাজপথ বা রাস্তা দখলের রাজনীতির দিকে গড়াতে পারে। এককথায়, আমরা একধরনের অনিশ্চয়তার মধ্যে আছি।
প্রথম আলো: আপনাকে ধন্যবাদ।
মির্জা হাসান: আপনাদেরও ধন্যবাদ।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
অভিযানসংক্রান্ত ভুল বোঝাবুঝি থেকে গাজায় চিকিৎসকদের হত্যা : আইডিএফ
ইসরায়েলি বাহিনী তদন্ত করে বলেছে, তাদের নির্দেশ সংক্রান্ত ভুল বোঝাবুঝি ও আদেশ লঙ্ঘনের কারণে এ ঘটনা ঘটে।
ইসরায়েল প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) এ ঘটনার তদন্তে বেশ কিছু ব্যর্থতার কথা উঠে এসেছে। তদন্তের সময় অসম্পূর্ণ এবং ভুল প্রতিবেদন দেওয়ার সঙ্গে জড়িত ইউনিটের ডেপুটি কমান্ডারকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
গত ২৩শে মার্চ ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির (পিআরসিএস) অ্যাম্বুলেন্স, জাতিসংঘের একটি গাড়ি এবং একটি ফায়ার সার্ভিস ট্রাকের একটি বহরে হামলা করে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। এতে জাতিসংঘের এক কর্মীসহ ১৫ জন নিহত হন।
এক বিবৃতিতে আইডিএফ জানিয়েছে, তাদের সৈন্যরা শত্রু বাহিনীর হুমকির সম্মুখিন হয়েছে ভেবে গুলি চালিয়েছে। তারা তদন্ত করে দেখেছে, নিহতদের মধ্যে ছয়জন হামাস সদস্য ছিলেন। সেখানে কোনো বাছবিচার ছাড়াই হত্যার বিচারের বিষয়টি অস্বীকার করেছে।
নিহতদের নাম প্রকাশ্যে থাকা সত্ত্বেও, হামাসের সঙ্গে তাদের কোনও সম্পৃক্ততার প্রমাণ তারা উপস্থাপন করতে পারেনি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনাটি প্রতিকূল এবং বিপজ্জনক যুদ্ধক্ষেত্র হিসেবে এলাকায় ঘটেছে অভিহিত করা হয়েছে এবং দ্রুতগতিতে যান এগিয়ে আসার পর ঘটনাস্থলে থাকা কমান্ডার তাৎক্ষণিক এবং স্পষ্ট হুমকি অনুভব করেছিলেন।
এ ছাড়া সেখানে যথেষ্ট আলো ছিল না বলেও আইডিএফ দাবি করেছে। তারা বলেছে, অ্যাম্বুলেন্স শনাক্ত করতে পারেনি তারা।
ইসরায়েল প্রথমে দাবি করেছিল, সন্দেহজনক গাড়ি অন্ধকারে আসতে দেখে সৈন্যরা গুলি চালিয়েছে । গাড়িতে হেডলাইট জ্বালানো ছিল না। এ ছাড়া গাড়ি চালানোর আগে অনুমতিও নেওয়া হয়নি।
ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, তারা হামলায় নিহত চিকিৎসাকর্মী রিফাত রাদওয়ানের মুঠোফোন থেকে সম্পূর্ণ ভিডিওটি উদ্ধার করেছে। আইডিএফ তাঁকে হত্যা করে ছোট একটি গর্তে কবর দিয়ে দেয়।
রিফাত রাদওয়ানের ধারণ করা ভিডিওতে দেখা গেছে, রাতে সম্মুখ বাতি ও জরুরি ফ্লাশলাইট জ্বালিয়ে গাড়িতে করে যাচ্ছিলেন চিকিৎসাকর্মীদের ওই দল। এ সময় হাই-ভিউ জ্যাকেট পরে থাকায় কমপক্ষে একজন কর্মীকে হলেও দেখা যাওয়ার কথা।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছিল, গাড়িতে থাকা ওই দলটির গতিবিধি সন্দেহজনক ছিল এবং তাঁরা গাড়ির বাতি নিভিয়ে অগ্রসর হচ্ছিল। কিন্তু রিফাত রাদওয়ানের করা ভিডিওটি প্রকাশিত হওয়ার পর সেনাবাহিনী তাদের বক্তব্য পরিবর্তন করে স্বীকার করেছে যে তাদের দাবি ভুল ছিল।
১৫ জন নিহত কর্মীর মৃতদেহ বালিতে পুঁতে রাখা হয়েছিল। ঘটনার এক সপ্তাহ পরেও তাদের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়নি। জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো ওই এলাকায় নিরাপদে যাতায়াতের ব্যবস্থা করতে পারেনি বা ঘটনাস্থল সনাক্ত করতে পারেনি।
রেড ক্রিসেন্ট এবং আরও বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংস্থা এ ঘটনার স্বাধীন তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে।
এর আগে বিবিসি জানায়, গাজায় ১৫ জন চিকিৎসাকর্মীকে হত্যার সময় ইসরায়েলি সেনারা ১০০টিরও বেশি গুলি ছুড়েছে। এর মধ্যে কিছু গুলি মাত্র ১২ মিটার (৩৯ ফুট) দূর থেকে করা হয়েছে। একটি মুঠোফোনে ধারণ করা ভিডিওর ফরেনসিক অডিও বিশ্লেষণে এমনটি দেখা গেছে।
একজন কমান্ডারকে বরখাস্ত করা এবং অন্য একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে শাস্তি দেওয়ার আইডিএফের সিদ্ধান্ত অস্বাভাবিক নয় - গত বছরের এপ্রিলে ওয়ার্ল্ড সেন্ট্রাল কিচেনের সাতজন সাহায্য কর্মী নিহত হওয়ার পর সামরিক বাহিনী দুই কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করে এবং অন্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1403)
-
▼
2025
(3281)
-
▼
April
(427)
-
▼
Apr 21
(6)
- বিশ্বকে চমকে দিতে প্রস্তুত ইরানের এআই অস্ত্রভাণ্ডার
- ভারতের সাম্প্রতিক দাঙ্গার দায় কার by শুভজিৎ বাগচী
- ফ্যাসিবাদের নতুন মুখ: প্রযুক্তি, ধর্ম ও ধ্বংসের জো...
- ট্রাম্পের খসড়া নির্বাহী আদেশঃ পররাষ্ট্র দপ্তরে হবে...
- সমঝোতা না হলে রাস্তা দখলের রাজনীতি ফিরবে: বিশেষ সা...
- অভিযানসংক্রান্ত ভুল বোঝাবুঝি থেকে গাজায় চিকিৎসকদের...
-
▼
Apr 21
(6)
-
▼
April
(427)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...


