Saturday, September 20, 2014
ষোড়শ সংশোধনী- বিচার বিভাগের পায়ে বেড়ি পরানো? by মাহ্ফুজ আনাম

বাংলাদেশে আমরা দেখছি, প্রধানমন্ত্রীর ওপর কোনো মাথা নেই। না, শুধু ক্ষমতার দিক থেকে নয়, খ্যাতির দিক থেকেও (অধ্যাপক ইউনূসের কথা স্মরণ করুন)। এসব আমরা দেখে আসছি, সেটা আমাদের গা-সহাও হয়ে গেছে। কিন্তু গত বুধবার থেকে আমাদের পরিষ্কারভাবে বলা হলো, প্রধানমন্ত্রীর চেয়ে বড় কোনো প্রতিষ্ঠানও থাকতে পারে না।
সেদিন আমাদের সংবিধানে সর্বসম্মতভাবে পাস হলো যে সংসদই এখন থেকে বিচারপতিদের অভিশংসন করবে (এটা একটা অসাধারণ আইনই বটে, কারণ একজন সাংসদও এর অন্যথা ভাবেননি। ফলে আমাদের মাননীয় সংসদে গণতন্ত্রের কেমন চর্চা হয়, সেটাও বোঝা গেল)।
‘সংসদের ক্ষমতায়ন’ বলতে প্রকৃতই কী বোঝায়, তা নিয়ে ধোঁয়াশা সৃষ্টির কোনো সুযোগ নেই।
আমাদের দেশে সংসদীয় পদ্ধতির সরকার আছে। এই ব্যবস্থায় এর সব সদস্যই সমান আর তার মধ্যে প্রধানমন্ত্রী ‘সব সমানদের মধ্যে প্রথম’ হওয়ার কথা। শেখ হাসিনার প্রতি সুবিচার করলে বলতে হবে, এটা কখনোই আমাদের দেশে ছিল না। ১৯৯১ সালে আমরা সংসদীয় পদ্ধতির সরকারব্যবস্থায় ফিরে গেলেও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার চৌহদ্দি নির্ধারণ করতে গিয়ে আমরা এই ‘প্রথম’টা শুধু রেখে দিয়েছি, আর ‘সমানদের মধ্যে’ ব্যাপারটা ঝেড়ে ফেলে দিয়েছি। ফলে সংসদ কখনোই একটি স্বাধীন সত্তা ছিল না, সব সময়ই তা রাবার স্ট্যাম্পের মতো কাজ করেছে৷ যার ভূমিকা ছিল শুধু নেতার ইচ্ছার ‘বৈধতা’ দেওয়া, ‘অনুমোদন’ শব্দটা ব্যবহার করার কথা ভাববেনও না। সেখানে কোনো বিতর্ক, আলোচনা করার অবকাশ ছিল না, আর নেতার ইচ্ছা চ্যালেঞ্জ করার কথা তো ‘অচিন্তনীয়’—যেখান থেকে সবচেয়ে ভালো ‘সম্মিলিত সিদ্ধান্তে’ সবচেয়ে ভালো নীতিটা গ্রহণ করা যায়। কী দুঃসাহস, ‘নেতার সিদ্ধান্ত’ বাদ দিয়ে ‘সম্মিলিত সিদ্ধান্ত’!
দুঃখের বিষয় হচ্ছে, আমাদের সংসদে কখনো গঠনমূলক বিতর্ক হয়নি৷ যা হয়েছে, তা মূলত সরকারের তীব্র সমালোচনা ও গোলমাল সৃষ্টি করা, ওয়াকআউট, সংবাদ সম্মেলন ও রাজপথের কর্মসূচি। এসব কারণেই আমাদের সংসদ জীবন্ত (মূলত একটানা সংসদ বর্জনের কারণেই তা সরগরম থেকেছে, এটা ছিল মারাত্মক ভুল) থেকেছে, কোনো গঠনমূলক কারণে নয়। হ্যঁা, একটা নির্দিষ্ট পর্যায় পর্যন্ত বর্জন জনমত গঠনে সহায়ক হয়, কিন্তু ধারাবাহিক বর্জনের কারণে সবকিছু শেষ হয়ে গিয়েছে।
বর্তমান সংসদে এসবের কোনো বালাই নেই। যে সংসদের বিরোধী দল থেকেও মন্ত্রী আছেন (দুনিয়াতে এটাই একমাত্র নজির), সেখানে ‘সরকারদলীয় ও বিরোধীদলীয়’ আসনের মধ্যে কোনো ভেদরেখা থাকে না। এটা একটা প্রহসন, সংসদের জীবনীশক্তিও এর মধ্য দিয়ে নিঃশেষ হয়ে যায়।
ফলে ‘রাজার মাথার’ ওপর শুধু স্বাধীন বিচার বিভাগের মাথাই থাকতে পারত, কিন্তু এখন সেই বিচার বিভাগকেও সর্বক্ষমতাময় নির্বাহী বিভাগের কাছে মাথা নত করতে হবে।
প্রশ্ন উঠতে পারে, কেন এই ষোড়শ সংশোধনী আর কেনই বা সর্বোচ্চ আদালতের বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে থাকতে হবে। এমন কী হলো যে সংসদের হাতে এমন ক্ষমতা দরকার, যাতে তারা এ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করতে পারে। আমাদের সর্বোচ্চ বিচারালয় কি এতই অদক্ষ, অপরিপক্ব, নীতিবিবর্জিত, আস্থাহীন বা নিজের ওপর লাগাম টানতে অক্ষম হয়ে পড়েছেন যে সংসদের মতো ‘বাইরের’ একটি প্রতিষ্ঠানকে বিচার বিভাগের ‘আত্মমর্যাদা’ ফিরিয়ে আনতে হস্তক্ষেপ করতে হবে?
আমাদের সন্দেহ, এই সংশোধনীর উদ্দেশ্য হচ্ছে, বিচার বিভাগকে রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসা। সেটা হলে বিচার বিভাগের ‘রাজনৈতিকীকরণ’ ঘটবে এবং সেটা আর স্বাধীন থাকবে না। তখন আর আদালত থাকবে না, সেটা হয়ে যাবে ‘ক্যাঙারু আদালত’? তখন সভ্য জগতে ‘জঙ্গলের রাজত্ব’ সৃষ্টি হবে, যদিও আমরা এখন পর্যন্ত নিজেদের সেই সভ্য জগতের অধিবাসী হিসেবে দাবি করি।
আরও একবার সংবিধানে একটি মৌলিক পরিবর্তন এল তেমন কোনো আলাপ-আলোচনা ছাড়াই। এমনকি পঞ্চদশ সংশোধনীর সময় এর ছলচাতুরী নিয়ে যে আলাপ-আলোচনা হয়েছিল, সেটাও এবার হয়নি। এই ষোড়শ সংশোধনী একটি মৌলিক পরিবর্তন, কারণ এর মাধ্যমে ‘রাষ্ট্রের একটি অঙ্গ’ আরেকটি অঙ্গের নিয়ন্ত্রণে চলে যাবে। মানে বিচার বিভাগ চলে যাবে আইন বিভাগের অধীনে, যেটা আবার এখন পুরোপুরি নির্বাহী বিভাগের অধীনে। ফলে বিচার বিভাগকে আইন বিভাগের অধীনে নিয়ে আসার নামে আসলে এটাকে নির্বাহী বিভাগের অধীনে নিয়ে আসা হলো। ষোড়শ সংশোধনী পাস করার ধরনটাই এর সবচেয়ে বড় প্রমাণ।
এ সংশোধনীর পক্ষে যুক্তি দেওয়া হচ্ছে যে এর মাধ্যমে ১৯৭২-এর সংবিধানে ফেরত যাওয়া হলো। এটা কি কোনো যুক্তি হতে পারে? বাংলাদেশ রাষ্ট্রের বয়স এখন ৪৩ বছর, এই সময়ে আমরা অনেক কিছু শিখেছি। ১৯৭২-এর সংবিধানের সবকিছুই পূতপবিত্র, ব্যাপারটা তো এমন নয়। যেমন ২০১১ সালে আমাদের সংবিধানে একটি বিধান যুক্ত করে সামরিক আইন জারি দেশদ্রোহের শামিল হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে, যার জন্য যেকোনো সময় শাস্তি প্রদান করা যাবে। ১/১১-এর পরিপ্রেক্ষিতে এটা ঠিকই আছে বলে আমরা মনে করি। কিন্তু এ বিধানটি ১৯৭২-এর সংবিধানে ছিল না। কথা হচ্ছে, ১৯৭২-এর সংবিধানে ফিরে যাওয়ার নামে কি এই প্রাসঙ্গিক ও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনটিও কি আমরা বাদ দেব?
আরেকটি উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে। যেমন প্রস্তাবনাসহ প্রায় ৫০টি অনুচ্ছেদ সম্পর্কে বলা হয়েছে যে এগুলো কোনো ভবিষ্যৎ সংসদই সংশোধন করতে পারবে না। এটা গণতন্ত্রের নীতির সঙ্গে একেবারেই যায় না। আমরা যদি বিশ্বাস করি যে ‘জনগণই সব ক্ষমতার উৎস’, তাহলে একটি সংসদ (নবম সংসদ) কীভাবে ভবিষ্যতের ভোটার ও সংসদের কাছে প্রয়োজনীয় বোধ হয়, এমন আইন প্রণয়ন থেকে বিরত রাখতে পারে? আশা করি, আমরা জনগণের ক্ষমতায় বিশ্বাস করি।
এসব অনুচ্ছেদের ‘সংশোধন অযোগ্যতার’ বিধান আসলে অন্য সব সংসদের চেয়ে নবম সংসদই শ্রেয়তর, এই ধারণার ওপর ভিত্তি করে প্রণয়ন করা হয়েছে। আমরা আসলে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আদেশ দিচ্ছি, যেটা করার কোনো আইনি ও নৈতিক অধিকার আমাদের নেই। এটা অসংগত, ১৯৭২-এর সংবিধান থেকে মৌলিক ‘বিচ্যুতি’। ফলে ১৯৭২-এর সংবিধানের প্রতি এই দরদ আসলে একটা প্রহসন, ‘রাজার’ মাথার ওপর যে একটা মাথা ছিল, সেটা কেটে ফেলার লক্ষ্যে বারবার এর দোহাই দেওয়া হচ্ছে।
অন্যান্য দেশেও এ বিধান আছে বলে যুক্তি দেওয়া হচ্ছে, সেটাও আসলে অন্য যুক্তিগুলোর মতো খোঁড়া। আমাদের সংসদের নির্বাচিত সাংসদেরা (১৫৩ জন অনির্বাচিত সাংসদের কথা নাহয় ছেড়েই দিলাম) কি অন্য দেশের সংসদের সঙ্গে তুলনীয় হতে পারেন? ওসব দেশের সংসদ কি অকারণ বর্জনের মধ্য দিয়ে পঙ্গু হয়ে পড়েছে? সেসব দেশে কি আমাদের সংসদের মতো সরকারি ও বিরোধী নেতাদের নামে কুৎসা রটনা করা হয়? সেসব দেশের সাংসদদের শুধু অর্থ বিলে সরকারের পক্ষে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে নির্দেশনা থাকে। কিন্তু সেখানকার সাংসদেরা কি সব ক্ষেত্রে নিজ দলের পক্ষে ভোট দিতে বাধ্য, মানে ৭০ নম্বর অনুচ্ছেদ কি সেসব দেশে আছে? কোনো দেশের সংসদে ‘পয়েন্ট অব অর্ডার’ বা ‘বাজেট আলোচনায়’ অন্য দলের সদস্যদের গালি দেওয়া হয়? প্রায় সব দেশেই সংসদীয় রেওয়াজ প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে। আর আমরা কি পারস্পরিক গালাগাল দেওয়া ছাড়া আর কোনো প্রথা তৈরি করতে পেরেছি? কোন দেশের সংসদে অর্ধেকের বেশি সাংসদ বিনা নির্বাচনে নির্বাচিত হন?
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, আমাদের সংসদে একজন সদস্য তাঁর দলের বিরুদ্ধে ভোট দিতে পারেন না। ফলে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল কোনো বিচারপতিকে অপসারণের সিদ্ধান্ত নিলে সেটা বাস্তবায়িত হবেই, এর অন্যথা হওয়ার সুযোগ নেই। আর দলগুলোর ভেতরে কী হয়, আমরা তা জানি৷ ফলে কখন ও কেন এ রকম সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, তাও আমরা বুঝি।
ষোড়শ সংশোধনীর মাধ্যমে বিচার বিভাগ রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে, এর মাধ্যমে শুধু এটাই নিশ্চিত হবে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের জন্য আত্মঘাতী হবে। এরূপ অবস্থা থেকে বাঁচতে হলে একটি পৃথক আইন করে তার আওতায় এই সংশোধনী কার্যকর করতে হবে। আইনবিদদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করে এই আইন প্রণয়ন করতে হবে, যাতে কোনো বিচারপতির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে তার স্বচ্ছ ও সঠিক তদন্ত হয়৷ এ ক্ষেত্রে উচ্চ বিচারালয়কে যুক্ত করা যেতে পারে—ভারত, কানাডা, দক্ষিণ আফ্রিকা ও অন্যান্য দেশে যা করা হয়েছে।
এই লেখার উদ্দেশ্য হচ্ছে, নির্বাহী বিভাগ ও সংসদকে প্রাসঙ্গিক আইন প্রণয়নে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার তাগাদা দেওয়া।
ইংরেজি থেকে অনূদিত
মাহ্ফুজ আনাম: সম্পাদক, ডেইলি স্টার।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মুজিব-তাজউদ্দীনের বিচ্ছেদই বাংলাদেশের ট্র্যাজেডি by সোহরাব হাসান

বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসচর্চার সমস্যা হলো, এক পক্ষ অন্য সবাইকে বাদ দিয়ে একজন নেতা ও একটি দলকে পুরো কৃতিত্ব দিতে চায়, অন্যদের ভূমিকা খাটো ও অগ্রাহ্য করে। আরেক পক্ষ সেই নেতার অবদান অস্বীকার করতে নানা কল্পকাহিনির আশ্রয় নেয়। সাম্প্রতিক কালে আরও একটি বিষয় লক্ষ করা যাচ্ছে যে ইতিহাসের ঘটনাপরম্পরা বাদ দিয়ে অনেকে এর দাঁড়ি, কমা, সেমিকোলন নিয়ে অযথা বিতর্ক করছে। মুক্তিযুদ্ধকালীন ‘নতুন রাষ্ট্রপতিত্বও’ সেই কল্পকাহিনির অংশ।
দুই
একজন মানুষ তখনই নেতা হয়ে ওঠেন, যখন তিনি তাঁর নেতৃত্বগুণে একটি জনগোষ্ঠীকে এগিয়ে নেন; একজন মানুষ তখনই নেতা হয়ে ওঠেন, যখন তিনি নীতিতে অটল থাকেন, কোনো অবস্থায় হুমকি বা প্রলোভনের কাছে নতি স্বীকার করেন না; একজন মানুষ তখনই নেতা হয়ে ওঠেন, যখন জাতির চরম দুর্দিনেও সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পিছপা হন না।
কথাগুলো মনে পড়ল শারমিন আহমদের তাজউদ্দীন আহমদ: নেতা ও পিতা বইটি পাঠ করে। এ বইয়ে তিনি কেবল একজন স্নেহশীল পিতার প্রতিকৃতিই নয়, একটি জাতির জয়-পরাজয়ের প্রতিচ্ছবি এঁকেছেন; নানা ধাপ ও প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যে জাতি স্বাধীনতাসংগ্রামের দীর্ঘ ও দুরূহ পথ পাড়ি দিয়েছে। তিনি লিখেছেন, শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার স্বপ্নদ্রষ্টা হলে তাজউদ্দীন আহমদ তার সার্থক রূপকার।
শারমিন আহমদের বইটি লেখার সূচনা ১৯৭৯ সালে, জিয়াউর রহমানের শাসনামলে, যখন স্বাধীনতার সিপাহসালারদের নাম উচ্চারণ করা যেত না। ক্ষমতার ভারী বুটের নিচে চাপা দেওয়া হচ্ছিল মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও স্বাধীনতার গৌরব। শারমিন আহমদ বিস্ময়ের সঙ্গে লক্ষ করেন, বিভিন্ন দেশের স্বাধীনতাসংগ্রামের নায়কদের নিয়ে অনেক কাজ হলেও বাংলাদেশে কিছুই হয়নি। এমনকি পাঠ্যবইয়েও দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ ঠাঁই পাননি। তাঁকে নিয়ে কোনো গবেষণা বা বুদ্ধিবৃত্তিক আলোচনা নেই। সব দেশে এ কাজটি করে থাকেন দলীয় বৃত্তের বাইরের লেখক-বুদ্ধিজীবীরা, তথা নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। কিন্তু বাংলাদেশে এদলে-ওদলে বিভক্ত হয়ে তাঁদের কেউ ক্ষমতাসীন দলের, কেউবা বিরোধী দলের অনুগ্রহ লাভে ব্যস্ত। তাই, ইতিহাসের নামে ব্যক্তিস্তুতি কিংবা কুৎসা রচনাই প্রাধান্য পাচ্ছে।
আলাপচারিতায় শারমিন আহমদ জানান, এই বেদনাবোধই তাঁকে তাজউদ্দীন আহমদ: নেতা ও পিতা লিখতে উদ্বুদ্ধ করে। তাঁর ভাষায়, ‘বইটি সময়ানুক্রমিকভাবে শুরু করেছি ষাটের দশকের শুরুতে আমার জন্মলাভ হতে এবং শেষ করেছি ১৯৭৫ সালে নভেম্বর মাস আব্বুর অনন্তলোক যাত্রায়।’ শারমিন আরও জানান, দেশের বাইরে যখন তিনি নিজের পরিচয় দেন, তখন তাঁরা মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম নায়ক তাজউদ্দীন আহমদ সম্পর্কে জানতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। মানুষটির প্রতি শ্রদ্ধাবনত হন। তাঁর দৃঢ়বিশ্বাস, ‘বাংলাদেশ একদিন তার প্রয়োজনেই খুঁজে বের করবে তাজউদ্দীন আহমদকে।’
শারমিন বর্ণিত সময়টি ছিল বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ, সবচেয়ে আলোকসঞ্চারী ও ঘটনাবহুল। এই সময়েই শেখ মুজিবুর রহমান আওয়ামী লীগ পুনর্গঠনে তাজউদ্দীন আহমদকে বিশ্বস্ত সঙ্গী হিসেবে পান; এই সময়েই ছয় দফা কর্মসূচি ঘোষিত হয়, অাগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় অভিযুক্তরা জাতীয় বীরের মর্যাদা লাভ করেন; এই সময়েই উনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থানে আইয়ুবশাহির পতন ঘটে। এরপর সত্তরের নির্বাচন ও একাত্তরের অসহযোগ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে এ দেশের মানুষ স্বাধীনতার জন্য নিজেদের প্রস্তুত করে। এই আন্দোলন-সংগ্রামের প্রতিটি পর্বে তাজউদ্দীন আহমদ ছিলেন বঙ্গবন্ধুর ছায়াসঙ্গী। কিন্তু স্বাধীনতার পর তাঁদের সেই বন্ধন অটুট থাকেনি।
মেয়ে হিসেবে বাবা তাজউদ্দীন আহমদের প্রতি শারমিন ব্যক্তিগত আবেগ-অনুভূতি জানাবেন কিংবা স্মৃতিচারণা করবেন, এটাই স্বাভাবিক; বইয়ের বড় অংশজুড়ে আছে লেখকের শৈশব ও কৈশোরের স্মৃতিচারণা, আছে একটি রাজনৈতিক পরিবারের সুখ-দুঃখ ও আনন্দ-বেদনার ছবি। আছে ময়মনসিংহ কারাগারে বন্দী বাবা তাজউদ্দীন আহমদকে দেখতে যাওয়া, মুক্তিযুদ্ধের সময় কলকাতায় ফ্ল্যাটে মা-ভাইবোনদের সঙ্গে থাকলেও বাবার সান্নিধ্য থেকে দূরে থাকা—এ রকম টুকরা টুকরা অজস্র স্মৃতি।
কিন্তু শারমিন ইতিহাস বিচারে যথাসম্ভব বস্তুনিষ্ঠ থাকতে চেষ্টা করেছেন। বিশেষ করে স্বাধীনতার ঘোষণা নিয়ে যে বিতর্ক চলে আসছে ৪৩ বছর ধরে, লেখক তাঁর গবেষণার মাধ্যমে একটি উপসংহারে এসেছেন, যা ইতিহাসের প্রামাণ্য দলিল হতে পারে। তিনি এক জায়গায় লিখেছেন, ২৫ মার্চ রাতে তাজউদ্দীন আহমদ যখন বঙ্গবন্ধুকে স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়ার জন্য চাপ দিতে থাকেন, তখন তিনি পাকিস্তানিদের হাতে প্রমাণ রাখবেন না বলে এড়িয়ে যান। এমনকি বাসা ছেড়ে কোথাও আত্মগোপনে যেতেও অস্বীকৃতি জানান।
শারমিনের আক্ষেপ, বইয়ের এই তথ্যটুকু নিয়ে একশ্রেণির পাঠক তাঁর ওপর প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হয়েছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁকে গালাগাল করেছেন। তাঁর সঙ্গে দেশি-বিদেশি প্রতিক্রিয়াশীল শক্তির যোগসূত্র বের করার অপপ্রয়াস চালিয়েছেন। কিন্তু তাঁরা বইয়ের পরবর্তী অধ্যায়গুলো পাঠ করার প্রয়োজন বোধ করেননি। করলে এমন কিছু তথ্য পেতেন, যা এর আগে কেউ বলেননি, লিখেননি।
ইতিহাসের সত্যসন্ধানী হিসেবে শারমিন আহমদ দুজন ব্যক্তি ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের সাক্ষাৎকার নিয়ে দেখিয়েছেন যে বঙ্গবন্ধু তাঁর বিশ্বস্ত সহযোগী তাজউদ্দীন আহমদের অনুরোধে স্বাধীনতার লিখিত ঘোষণা পাঠ না করলেও বিকল্প উপায়ে তিনি সেই ঘোষণা দেন। এর সাক্ষী ছিলেন বঙ্গবন্ধুর ব্যক্তিগত সহযোগী হাজি গোলাম মোরশেদ। তাঁর সাক্ষাৎকার উদ্ধৃত করে লেখক আমাদের জানাচ্ছেন, ‘...এরপর এগারোটা বেজে গেল, বারোটা বাজে বাজে, এমন সময় একটি টেলিফোন আসল। বলে, “আমি বলধা গার্ডেন থেকে বলছি। মেসেজ পাঠানো হয়ে গিয়েছে, মেশিন নিয়ে কী করব?” অমি মুজিব ভাইয়ের কাছে দৌড়ে গেলাম। বললাম, মেসেজ পাঠানো হয়ে গিয়েছে। উনি (বঙ্গবন্ধু) বললেন, “মেশিনটা ভেঙে ফেলে পালিয়ে যেতে বল।”’ ২৫ মার্চ বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে হাজি গোলাম মোরশেদও ৩২ নম্বর থেকে গ্রেপ্তার হন।
বার্তাটি যিনি পাঠিয়েছিলেন, তিনি হলেন শহীদ প্রকৌশলী নুরুল হক। ২৯ মার্চ মহাখালীর ওয়্যারলেস কলোনির বাসভবনে ঢুকে পাকিস্তানি সেনারা তাঁকে ধরে নিয়ে গিয়ে হত্যা করে। ২৫ মার্চ দুপুরে তিনি বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে ট্রান্সমিটারটি খুলনা থেকে ঢাকায় নিয়ে এসেছিলেন।
এই হলো তাজউদ্দীনকন্যা শারমিনের অনুসন্ধান ও উদ্ঘাটন।
আমাদের স্বাধীনতাসংগ্রামের প্রধান নেতা শেখ মুজিবুর রহমানই। তিনি ধাপে ধাপে একটি নিরস্ত্র জাতিকে সশস্ত্র সংগ্রামের দিকে নিয়ে গেছেন। অন্য বাঙালি নেতাদের চেয়ে বেশি জেল–জুলুম সহ্য করেছেন (দেখুন অসমাপ্ত আত্মজীবনী)। এ কথা যেমন সত্য, তেমনি অসত্য নয় যে তাঁর অনুপস্থিতিতে শত প্রতিকূলতা সত্ত্বেও তাজউদ্দীন আহমদ মুক্তিযুদ্ধকালীন সরকারটি পরিচালনা করেছিলেন।
শারমিন আহমদের ভাষায়, বাংলাদেশের ইতিহাসে শেখ মুজিবুর রহমান ও তাজউদ্দীন আহমদ ছিলেন অনন্য সেতুবন্ধ। যত দিন তাঁরা ঐক্যবদ্ধ ছিলেন, অসম্ভবকে সম্ভব করে তুলেছিলেন। কিন্তু স্বাধীনতার পর কুচক্রী মহল তাঁদের মধ্যে বিচ্ছেদ তৈরি করে। আর দেশের সবচেয়ে বেদনাদায়ক ঘটনা হলো মুজিব ও তাজউদ্দীনের বিচ্ছেদ, যা কেবল এ দুই নেতাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়নি, জাতিকেও অনেক পিছিয়ে দিয়েছে।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধটি আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে পরিচালিত হলেও দলের ভেতরে সবার মত ও পথ এক ছিল না। কেউ বড় পাকিস্তান ভেঙে ছোট পাকিস্তান করতে চেয়েছিলেন। খন্দকার মোশতাক আহমদের নেতৃত্বে একাংশ পাকিস্তানের সঙ্গে কনফেডারেশনের চেষ্টা চালিয়েছিল। দলের যুব নেতাদের দাবি ছিল, বঙ্গবন্ধু তাঁদেরই সবকিছু করার দায়িত্ব দিয়ে গেছেন। তাঁরা মুজিব বাহিনী নামে আলাদা একটি বাহিনী গঠন করেন মুজিবনগর সরকারের অনুমোদন না নিয়েই। এসব নিয়ে আওয়ামী লীগের ভেতরে উপদলীয় কোন্দল মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। অনেকের মতে, এই কোন্দলে ভারত সরকারেরও ভূমিকা ছিল। ‘তারা সব ডিম এক ঝুড়িতে রাখতে চায়নি।’
এসব উপদলীয় কোন্দলের ঊর্ধ্বে থেকে এবং নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যে মানুষটি মুক্তিযুদ্ধকে সফল করতে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছেন, যুদ্ধের মধ্যেও সমৃদ্ধ বাংলাদেশের পরিকল্পনা করেছেন, তিনি তাজউদ্দীন আহমদ। তিনি মুক্তিযুদ্ধকে কেবল আওয়ামী লীগের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চাননি বলে মওলানা ভাসানী, মণি সিংহ প্রমুখকে নিয়ে সর্বদলীয় উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করেন, ভিন্ন দলের কর্মীদেরও মুক্তিবাহিনীতে নেন, দলীয় নেতা-কর্মীদের বিরোধিতা সত্ত্বেও। তিনি চেয়েছিলেন, সবার জন্য মানবিক মর্যাদাসম্পন্ন একটি দেশ।
দিল্লিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী যখন জানতে চাইলেন, আপনাদের স্বাধীনতাযুদ্ধে সহায়তা করতে হলে তো ‘আইনানুগ একটি সরকার প্রয়োজন, সেই মুহূর্তেই তাজউদ্দীন আহমদ অস্থায়ী বাংলাদেশ সরকার গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন, যার রাষ্ট্রপতি হবেন শেখ মুজিবুর রহমান, তাঁর অনুপস্থিতিতে সৈয়দ নজরুল ইসলাম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব থাকবে নিজের হাতে। তিনি একক সিদ্ধান্তে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র তৈরি করলেন, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলায় সরকারের শপথ অনুষ্ঠান করলেন। আর নতুন দেশের রাজধানীর নাম দিলেন মুজিবনগর, নেতা শেখ মুজিবের নামে।
তাজউদ্দীন আহমদ স্বপ্ন দেখেছিলেন, মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে গঠিত বাংলাদেশ হবে পৃথিবীর অন্যতম আদর্শ রাষ্ট্র, যেখানে ধর্মের বিভেদ থাকবে না, অর্থনৈতিক বৈষম্য থাকবে না, ধর্মনিরপেক্ষতা ও সমাজতন্ত্র হবে সেই রাষ্ট্রের মূল নীতি। তিনি সব মুক্তিযোদ্ধাকে নিয়ে জাতীয় মিলিশিয়া বাহিনী গঠনে উদ্যোগ নিয়েছিলেন; যদিও পরবর্তীকালে সেই উদ্যোগ পরিত্যক্ত হয়।
তিন
স্বাধীন বাংলাদেশে তাজউদ্দীন আহমদের অনেক স্বপ্নই অপূর্ণ থেকে গেছে। অর্থমন্ত্রী হিসেবে ধ্বংসপ্রাপ্ত একটি দেশের অর্থনৈতিক পুনর্গঠনে তিনি কতটা সফল হয়েছেন, তা নিয়ে তর্ক থাকতে পারে, কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের নয় মাসে কিংবা স্বাধীনতার পর পৌনে তিন বছর অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনকালে ব্যক্তি বা গোষ্ঠীস্বার্থে একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এমন দৃষ্টান্ত কেউ দিতে পারবেন না। এখানেই ছিল তাঁর বিশিষ্টতা ও অনন্যতা।
শারমিন এমন এক পিতা ও নেতাকে নিয়ে বই লিখেছেন, যিনি ছিলেন বাংলাদেশের রাজনীতির ব্যতিক্রমী মানুষ, যিনি মঞ্চের সামনে নয়, নেপথ্যে থেকে কাজ করতে ভালোবাসতেন, নিজে নয় মাস মুক্তিযুদ্ধটি পরিচালনা করলেও কখনো তাঁর কৃতিত্ব নিতে চাননি।
লেখককে অভিনন্দন।
সোহরাব হাসান: কবি, সাংবাদিক।
sohrabo3@dhaka.net
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আসুন, বেশি করে কথা বলি! by কে এম জাকারিয়া
সরকার দেশের উন্নয়ন করতে চায় আর এর জন্য দরকার যথেষ্ট অর্থকড়ি। অনেক ভেবেচিন্তে সরকার তার আয়-রোজগার বাড়ানোর একটি পথ খুঁজে পেয়েছে; মোবাইল ফোনে কথা বলার ওপর সারচার্জ। এটা আদায় হবে ‘উন্নয়ন সারচার্জ’ নামে। ১০০ টাকার কথা বললে এক টাকা সরকারকে দিতে হবে, খুবই সামান্য। যে বা যিনি কথা বলে ১০০ টাকা খরচ করতে পারবেন, তিনি এ জন্য এক টাকা বাড়তিও দিতে পারবেন। খুব চেপে হিসাব করে দেখা গেছে, এতে বছরে সরকারের বাড়তি আয় হতে পারে প্রায় ১৪০ কোটি টাকা। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে খরচ হবে এই টাকা।
উন্নয়ন চাইলে ও সরকারের উন্নয়নকাজে সহায়তা করতে চাইলে মুঠোফোনে বেশি কথা বলা এখন একটি পথ হতে পারে। যত বেশি ফোনে কথা বলা, ততই সরকারকে সহায়তা করা। মুঠোফোনে কথা বলার খরচ বেড়ে যাচ্ছে এই ভয় না পেয়ে মোবাইল কোম্পানিগুলোর বরং উচিত এই ‘দেশপ্রেম’ থিমকে কাজে লাগিয়ে নতুন বিজ্ঞাপন ও প্রচারণায় নেমে পড়া। তবে বিপদ হচ্ছে, যতই কম হোক এই সারচার্জ অনেকের মধ্যে মানসিক যন্ত্রণার সৃষ্টি করতে পারে। কেউ হয়তো ভাবতে পারেন, দেশ কোথায় গেল, কথা বলতে গেলেও ট্যাক্স গুনতে হবে!
প্লেটোর তত্ত্ব অনুযায়ী, জ্ঞানী বা বোকা কথা বলায় কেউ কম যান না। এর মধ্যে আমরা আবার তর্ক-বিতর্ক-কথাবার্তা পছন্দ করা জাতি। অমর্ত্য সেন তো ভারতীয়দের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও পরিচিতিসংক্রান্ত প্রবন্ধমালার বইয়ের শিরোনামই দিয়েছেন তর্কপ্রিয় ভারতীয়। অমর্ত্য সেন ভারতীয় বটে, তবে বাঙালিও। লিখেছেন ‘আমরা কথা বলতে ভালোবাসি।’ আমরা বাংলাদেশের লোকজনও কী কম যাই! কোনো বিষয়ে মত দেওয়া, প্রশ্ন তোলা ও তর্ক-বিতর্কে জড়িয়ে পড়তে আমাদের জুড়ি নেই। কারও মনে এই বেয়াড়া প্রশ্ন উঠতেই পারে; কথা বলার জন্য সারচার্জ নাহয় দিলাম, কিন্তু এই টাকার পুরোটা উন্নয়নের কাজে লাগবে তো? দুর্নীতির নানা খবরের শিরোনামগুলো ভেসে উঠবে কারও কারও মনে। স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতের নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থা মনে পড়ে যাবে অনেকের। এই টাকা ভাগ-বাঁটোয়ারা হয়ে যেতে পারে—এমন ভয়ও ঢুকবে কারও কারও মনে! এমন ভাবনাগুলো ঠেকানোর কোনো পথ নেই। ‘ভাবনার’ ওপর তো আর সারচার্জ বসানো যাবে না!
কথা বলার জন্য এই যে সারচার্জ গুনতে হবে জনগণকে, সেই টাকা অবশ্য সরাসরি আদায় করবে না জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। মোবাইল ফোন অপারেটররা গ্রাহকদের কাছ থেকে বিলের সঙ্গে কথা বলার সারচার্জ আদায় করে তা এনবিআরের কোষাগারে জমা দেবে। সরকার আয় বাড়ানোর এই যে একটি নতুন খাত খুঁজে পেয়েছে, তা খুবই সম্ভাবনাময়। আমরা এত বেশি কথা বলি যে সব ধরনের কথা বলার ওপর সারচার্জ আরোপ ও আদায় করতে পারলে সম্ভবত আমাদের আর বিদেশি সাহায্য বা বিশ্বব্যাংক ধরনের কারও ওপর কখনোই নির্ভর করতে হবে না।
তবে শুরুতে সব ধরনের কথা বলার ওপর ‘সারচার্জ’ আরোপ করা না গেলেও আপাতত আরও কিছু ক্ষেত্রে তা সম্প্রসারণ করা যেতে পারে। টিভি ‘টক শো’গুলো নিয়ে সরকারের বিরক্তি-অস্বস্তির শেষ নেই। এই টক শোগুলোতে কথা বলার ওপর ‘উন্নয়ন সারচার্জ’ আরোপ করলে কেমন হয়! টিভি টক শোতে কত মিনিট কথা বললে কত সারচার্জ দিতে হবে, তা সরকার বা এনবিআর ঠিক করে দিতে পারে। টিভি কর্তৃপক্ষ মাসের শেষে বক্তাদের সম্মানী থেকে সেই পরিমাণ টাকা কেটে এনবিআরের কোষাগারে জামা দেবে। এনবিআরের তেমন কিছুই করতে হবে না, লোকবল বাড়ানোরও দরকার পড়বে না। সরকার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে ভেবে দেখতে পারে।
তবে এই সারচার্জ শুধু সরকারবিরোধী বা ভিন্নমতের টক শো বক্তাদের ওপর কার্যকর করলেই ভালো (সরকারবিরোধী টক শো বক্তারা এতে খুব নাখোশ হবেন বলে মনে হয় না। ‘সারচার্জ’ দিয়ে হলেও যদি সরকারের বিরুদ্ধে বেশি কথা বলার সুযোগ পাওয়া যায়, ক্ষতি কী!)। সরকারের বিরুদ্ধে যত বেশি কথা বলতে চাও বলো, সমালোচনা করতে চাইলে করো, কিন্তু সারচার্জ দাও! এতে গণতন্ত্রের প্রতি সরকারের শ্রদ্ধা-ভক্তির বিষয়টি যেমন নিশ্চিত হবে, আবার কিছু আয়ও হবে! এটা দিয়ে শুরু হোক, পরে নাহয় আওতা আরও বাড়ানো যাবে। সামনের কোনো সন ঠিক করে সরকার ‘গোল’ নির্ধারণ করতে পারে, যখন সব ধরনের কথা বলার ওপর সারচার্জ বসানো যাবে!
জ্ঞানী বা বোকা কেউই যেহেতু কথা না বলে থাকতে পারে না, তাই আসুন, আমরা সবাই বেশি করে কথা বলি, সারচার্জ দিই ও সরকারের উন্নয়নকাজে সহায়তা করি!
এ কে এম জাকারিয়া: সাংবাদিক।
akmzakaria@gmail.com
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
কিশোরী কন্যাদের যৌন হয়রানির কথা শুনুন by শান্ত নূরুননবী

খুলনার সংস্কৃতিকর্মী টুকুর নেতৃত্বে এই স্কুলের মেয়েরা একটি মর্মস্পর্শী নাটক মঞ্চস্থ করছে তাদের স্কুল ক্যাচমেন্টস এলাকায়। নিজেদের ও সহপাঠীদের জীবনের তিক্ত অভিজ্ঞতাকে উপজীব্য করেই এ নাটক তৈরি হয়েছে। স্কুলের মিলনায়তনে বসে মাত্র ২০ মিনিটের এই মঞ্চনাটক দেখে শত শত দর্শকের মতো আমারও চোখ ভিজে উঠেছিল। নাটকের শুরুতে আছে প্রতীকী অন্ধকারের আবহ। কিশোরী মেয়েরা স্কুলে যেতে ভয় পাচ্ছে। কারণ, পথের ধারের চায়ের দোকানে বখাটেরা যৌন হয়রানি করার জন্য ওত পেতে বসে থাকে। প্রতিবেশী চাচাতো ভাই বা বন্ধুর সঙ্গে স্কুলে যেতে অস্বীকার করছে, কেননা সেও যৌন হয়রানকারী হিসেবে ইতিমধ্যেই চিহ্নিত হয়েছে কিশোরীর কাছে। প্রাইভেট শিক্ষকের রূপও কিশোরীদের কাছে হয়ে উঠেছে ভীতিকর। আমাদের কিশোরী কন্যাদের আত্মস্থ দৃষ্টির সামনে কেবলই অন্ধকার।
যদিও এসব কথা মা-বাবা ও শিক্ষকদের জানিয়ে লাভ হয় না। তাঁরা মনে করেন, এসবে কিশোরীদেরই দোষ আছে। কিশোরীরা আজকাল এমন সব পোশাক পরছে, এমনভাবে মাথা উঁচু করে চলতে শুরু করেছে যে বখাটে ছেলেরা, এমনকি বয়স্ক পুরুষেরাও যৌন হয়রানকারী হয়ে উঠতে প্ররোচিত হচ্ছে। পাড়ার মুরব্বিরাও এসব নিয়ে বলাবলি করছেন।
কিন্তু কিশোরীর যে স্কুলে যেতে ইচ্ছে করে, খেলতে মন চায়, বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলে বাঁচতে ইচ্ছে করে জীবনের ছোট ছোট আনন্দের মধ্যে। নিজের মতো করে স্বপ্ন দেখতে, চলতে পারে না বলে কিশোরী হতাশ হয়। অথচ ঘরেই যখন আত্মীয় পুরুষ যৌন হয়রানকারী হিসেবে আবির্ভূত হয়, সে কথা কাউকে বলা যায় না। প্রথা ভেঙে মা-বাবার কাছে এ ধরনের ভীতিকর ঘটনার কথা বললেও তাঁরা বিশ্বাস করেন না অথবা অবিশ্বাস করার ভান করে চুপ করে থাকেন। কোনো কোনো কিশোরী বা কন্যাশিশু এভাবে এতটাই হতাশ হয়ে পড়ে যে আত্মহত্যার মতো ভয়ংকর সিদ্ধান্ত নেয়। তখন কি মা-বাবার সামনে মেয়েটির আত্মা উপস্থিত হয়ে মনে করিয়ে দেয় না যে এ ধরনের অমানবিক মৃত্যুর জন্য দুর্ভাগা কিশোরীর মা-বাবা তাঁদের দায় এড়াতে পারেন না? শিক্ষক ও ব্যবস্থাপনা কমিটির গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা কি আদৌ অনুতপ্ত হন কিশোরীর এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিণতির জন্য? অনুতাপ চোখে পড়ে কি আইন প্রয়োগকারী রাষ্ট্রীয় সংস্থা বা রাষ্ট্রের অভিভাবকদের?
খুলনা রেলওয়ে গার্লস স্কুলের কিশোরীরা সবাই নিম্নবিত্ত পরিবারের। তাদের অভিভাবকদের ৯০ শতাংশই শ্রমজীবী, জানালেন স্থানীয় কাউন্সিলর এবং এই স্কুলের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি। তাই বলে এটা ভাবার কারণ নেই যে কেবল নিম্নবিত্ত পরিবারের মেয়েরাই যৌন হয়রানির শিকার হয়। খুলনার ঢাকা ম্যাচ ফ্যাক্টরি স্কুলের শিক্ষার্থী মুন্নির বাবা বিশিষ্ট ব্যবসায়ী। মুন্নিদের এক সহপাঠী ওদের স্কুলের সব মেয়ের সঙ্গেই বেপরোয়া আচরণ করছিল। মুন্নি বাবাকে বলারই সাহস পায়নি এ কথা। মাকে বলার পর মা পরামর্শ দিয়েছিলেন প্রধান শিক্ষককে জানাতে।
ঢাকা ম্যাচ ফ্যাক্টরি স্কুলের প্রধান শিক্ষক তাঁর সহকর্মী ও ব্যবস্থাপনা কমিটির সঙ্গে পরামর্শ করে স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হিসেবে পরিচিত এক বাবার সেই ছেলেটিকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। ঝুঁকির কথা মাথায় রেখেও তিনি এটা করেছিলেন। তিনি বলেন, আমার শিক্ষার্থীরা আমার সন্তানের মতো। তাদের ভালোর জন্য প্রয়োজনে কঠোর সিদ্ধান্ত তো নিতেই হবে। অবশ্য ছেলেটির মা চান তার আচরণের জন্য এবং শর্ত সাপেক্ষে তার বহিষ্কারাদেশ যেন প্রত্যাহার করা হয়। এ ঘটনা মুন্নিদের উদ্বুদ্ধ করে স্কুলে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে সব মেয়েদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে। এরপর মুন্নি তার পাড়ায়ও বন্ধুদের নিয়ে যৌন হয়রানি প্রতিরোধের কমিটি গঠন করেছে। প্রথম প্রথম পাড়ার লোকদের কটাক্ষ তো ছিলই, এমনকি মা-বাবাও খুব একটা উৎসাহ দেননি। এখন মুন্নিদের পাশে দাঁড়িয়েছেন অনেকেই।
কেবল খুলনা নয়, সারা দেশেই আমাদের কিশোরী কন্যারা অনিরাপদ। একা চলার স্বাধীনতা ও সাহস তারা প্রায় হারিয়ে ফেলেছে। আমরাও কোনো দিন আমাদের কিশোরী কন্যাদের অন্তর্গত বিপর্যয়ের গল্প শোনার সময় করে উঠতে পারি না! আমরা দরিদ্ররা তো বটেই, এমনকি সচ্ছলরাও এ পরিস্থিতির সহজ সমাধান হিসেবে কন্যার অল্প বয়সে বিয়ে দেওয়াকে বিকল্প ভাবছি। ধ্বংস করছি তার শিক্ষার অধিকার, স্বপ্ন দেখার অধিকার ও প্রতিভাকে কাজে লাগিয়ে উন্নত ভবিষ্যৎ রচনা করার সম্ভাবনাকে। অথচ আমরা তো ব্যস্ত থাকি কিশোরী কন্যার ভবিষ্যৎ সুখের কথা ভেবে কেবলই রোজগারের পেছনে। কিন্তু যখন দেশের দুই-তৃতীয়াংশ কিশোরীকে ১৮ বছর হওয়ার আগেই বিয়ের বন্ধনে বন্দী হতে হয়, তখন সুখ ভেসে যায় সংসারের ভারে, প্রজননস্বাস্থ্য ঝুঁকির বিপদগ্রস্ততায়।
মা-বাবা হওয়ার দায় অনেক। কন্যাশিশুর যৌন নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, জীবন-দক্ষতা ও আত্মনির্ভরশীল ভবিষ্যৎ জীবনের পথ রচনা করার দায়িত্ব আমাদের সবার। কেবল নিজের কন্যার ভবিষ্যৎই সব নয়। দেশের সব কিশোরী কন্যার কথা শোনার সময় আমাদের থাকতে হবে। তাদের দোষ না দিয়ে তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে। কিশোরীদের যৌন হয়রানির আক্রমণ থেকে নিরাপদ রাখতে শিক্ষাব্যবস্থায় যথাযথ প্রক্রিয়া অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। স্কুলগুলোতে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটি বেশ ঘটা করেই গঠন করা হয়েছিল। সেগুলো সক্রিয় করে তোলার ও বজায় রাখার ব্যবস্থাপনা কিংবা তদারকি কোনোটাই চোখে পড়ে না। কেন আমরা আমাদের সন্তানদের প্রতি এতটা উদাসীন? আসুন, কিশোরী কন্যার কথা শুনি, বিশ্বাস করি, পাশে থাকি।
শান্ত নূরুননবী: উন্নয়নকর্মী।
shantonabi@gmail.com
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
দড়ি লাফের দারুণ ৭ স্বাস্থ্য উপকারিতা by কাজী আরিফ আহমেদ

১) অতিরিক্ত ওজন ও পেট কমাতে: মাত্র ৩০ মিনিট দড়ি লাফিয়ে আপনি ৪৫০ ক্যালোরি পোড়াতে পারেন। শুনলে অবাক হবেন যে, ১০ মিনিট দড়ি লাফাতে আপনার যে শারীরিক পরিশ্রম হয়, তা মাত্র ৮ মিনিটে ১ মাইল দৌড়ানোর সমান। পুরো শরীরের অতিরিক্ত ওজন বা পেট যেটাই কমাতে চান, সেটা নিয়মিত স্কিপিংয়ের মাধ্যমে সম্ভব। তাই আজই একটি স্কিপিং রোপ বা লাফানোর দড়ি বানিয়ে নিন বা কিনে নিন। তবে প্রথমদিকে শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক রেখে যতোটা স্কিপিং করা সম্ভব, ততোটা স্কিপিং করুন। দম অনুযায়ী আস্তে আস্তে সময়টা বাড়ান।
২) সুস্থ-সবল হার্ট ও ফুসফুসের জন্য: হার্ট ও ফুসফুসের কার্যক্ষমতা বহুগুণে বাড়িয়ে দেবে নিয়মিত দড়ি লাফের অভ্যাস। দম বাড়াতে, শ্বাস-প্রশ্বাস নেয়া ও ছাড়ার ক্ষেত্রে দড়ি লাফ বেশ কার্যকরী। হার্টও সারা শরীরে বেশি রক্ত সরবরাহ করবে, যা আপনার শরীরের বিভিন্ন অংশের টিস্যুগুলোতে প্রয়োজনীয় অক্সিজেন ও পুষ্টি-উপাদান পৌঁছে দেবে।
৩) মাংসপেশীর গঠন সুন্দর ও বলিষ্ঠ করতে: নিয়মিত স্কিপিংয়ের ফলে আপনার শরীরের ওপরের ও নিচের অংশ অর্থাৎ কোমর থেকে পায়ের পাতার মাংসপেশীর গঠন সুন্দর ও দৃঢ় হয়। ওপরের অংশও বলিষ্ঠ হয় যেহেতু আপনি দড়ি লাফানোর জন্য আপনার হাত ও কাঁধ ব্যবহার করছেন।
৪) নমনীয়তা, ভারসাম্য, সমন্বয় ও মনোযোগ বাড়াতে: দড়ি লাফের অভ্যাসে আপনার শরীর আগের চেয়ে অনেক বেশি নমনীয় হবে এবং আপনার শরীরের ভারসাম্য ও সমন্বয় রাখতে সাহায্য করবে। স্কিপিংয়ের সময় যেহেতু আপনার মস্তিষ্কের দুটি অংশই সমানভাবে সক্রিয় থাকে, সেজন্য যে কোন কাজে আপনার মনোযোগও বাড়তে থাকে।
৫) অস্টিওপোরোসিস প্রতিরোধে: স্কিপিংয়ের ফলে আপনার শরীরের হাড়ের ঘনত্ব বৃদ্ধি পায়, হাড়ের ক্ষয় রোধ করে এবং অস্টিওপোরোসিস জাতীয় মারাত্মক সমস্যা থেকে দূরে রাখে।
৬) মসৃণ, উজ্জ্বল ও সজীব ত্বকের জন্য: দড়ি লাফের সময় আপনার ক্যালোরি খরচ হয় এবং অল্প সময়ে পর্যাপ্ত পরিশ্রম হয়। শরীর থেকে ঘামের মাধ্যমে বিষাক্ত উপাদানগুলোর অনেকটাই বেরিয়ে যায়। এতে আপনার ত্বকের উজ্জ্বলতা, মসৃণতা ও সজীবতা বৃদ্ধি পায়।
৭) রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ও ইতিবাচক মানসিকতার জন্য: যে কোন ব্যায়ামই রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। স্কিপিংটা হতে পারে যে কোন খেলার বেশ সহজ বিকল্প। বেশি সময়েরও প্রয়োজন নেই এতে। কিন্তু, নিয়মিত দড়ি লাফের চর্চাতে আপনার শরীরের রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেকটা বেড়ে যাবে এবং মনও থাকবে স্বতঃস্ফূর্ত, চাঙ্গা, প্রাণবন্ত ও ফুরফুরে। মানসিকতা নেতিবাচক থাকলে, তা হয়ে উঠবে ইতিবাচক। তাই আজ থেকেই স্কিপিংটা আপনার নিত্যদিনের চর্চার তালিকায় যোগ করে নিন এবং সুস্থ থাকুন।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
যুক্তরাজ্যে রয়ে গেল স্কটল্যান্ড
![]() |
| ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন ও স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতাকামী নেতা অ্যালেক্স স্যামন্ড। ফল ঘোষণার পর। রয়টার্স |
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বন্ধ হয়ে যাচ্ছে গার্মেন্টের দরজা by হাফিজ উদ্দিন

About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ভারতের মুসলমানরা ভারতের জন্য বাঁচবে: নরেন্দ্র মোদি
![]() |
| নরেন্দ্র মোদি |
নয়াদিল্লি ছেড়েছেন জিনপিং: তিন দিনের আলোচিত ভারত সফর শেষে গতকাল নয়াদিল্লি ছেড়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। পিটিআই জানায়, বিদায়ের আগে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদিকে নিজের শহর জিয়ান সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন চীনা প্রেসিডেন্ট।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ভাঙনের মুখে বিএনপি জোট by সেলিম জাহিদ
জোটের একাধিক দায়িত্বশীল নেতা জানান, বিএনপি জোট থেকে অন্তত পাঁচটি শরিক দলকে বের করে আনার চেষ্টা চালাচ্ছে সরকার। এ কাজে সরকারের একটি গোয়েন্দা সংস্থার পাশাপাশি অবসরে যাওয়া একাধিক সামরিক কর্মকর্তা কাজ করছেন বলে তাঁদের কাছে তথ্য আছে। এরই মধ্যে শরিক দুটি দল ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এনডিপি) ও বাংলাদেশ ইসলামিক পার্টির ২০-দলীয় জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়াটা প্রায় চূড়ান্ত হয়ে গেছে।
বিএনপির একটি সূত্র জানায়, বিষয়টি নিয়ে জোটনেত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াও ওয়াকিবহাল। তিনি পরিস্থিতি সামাল দিতে পাল্টা কৌশল নিয়েও ভাবছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, ৫ জানুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেও বিএনপি এবং ১৮-দলীয় জোটে ভাঙন ধরানোর চেষ্টা হয়। তখন একাধিক শরিক দলকে নির্বাচনে আনতে ওই সব দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের সাংসদ ও মন্ত্রী করার টোপ দেওয়া হয়েছিল। সে চেষ্টা ব্যর্থ হয়। এখন আবার নতুন করে একই তৎপরতা গতি পেয়েছে। তবে এবার বিএনপিকে সরাসরি না ভেঙে দলটির শীর্ষ নেতাদের মামলা দিয়ে বিপর্যস্ত করার কৌশল নেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন দলটির নেতারা। পাশাপাশি বিএনপিকে মানসিকভাবে দুর্বল বা নিঃসঙ্গ করতে জোটে বড় আকারে ভাঙন ধরানোর তৎপরতা চালানো হচ্ছে।
এর মধ্যে ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এনডিপি) ও বাংলাদেশ ইসলামিক পার্টি যৌথভাবে আজ শনিবার দুপুর ১২টায় রাজধানীর একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলন আহ্বান করেছে। সংবাদ সম্মেলনে এনডিপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আলমগীর মজুমদার ও ইসলামিক পার্টির মহাসচিব এম এ রশীদ প্রধান জোট ছাড়ার ঘোষণা দিতে পারেন বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে গত রাতে এম এ রশীদ প্রধান প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিএনপি জোটে অনেক দিন ধরে আছি। সেখানে আমরা উপযুক্ত সম্মান পাচ্ছি না। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আন্দোলন করেও কিছুই করতে পারলাম না। এখন দেশ-জাতির কল্যাণে এবং গণতন্ত্র রক্ষায় নতুন কিছু তো করতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের কিছু চিন্তাভাবনা আছে। সংবাদ সম্মেলনে সেগুলো জানাব।’
আর আলমগীর মজুমদার আজ শনিবারই জোট ছাড়ার ঘোষণা দেবেন কি না, তা নিশ্চিত করেননি। তিনি গত রাতে প্রথম আলোকে বলেন, ‘এত দিনেও জোটে আমাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোর কোনো সুরাহা হয়নি। সংবাদ সম্মেলনে দলের চেয়ারম্যান এবং জোটের প্রধান দল বিএনপির সমালোচনা করব।’
এর মধ্যে ইসলামিক পার্টির চেয়ারম্যান আবদুল মোবিন সস্ত্রীক হজে গেছেন। আর এনডিপির চেয়ারম্যান গোলাম মোর্তুজাকে বাদ দিয়েই আলমগীর মজুমদারের নেতৃত্বে দলটি জোট ছাড়ছে বলে জানা গেছে। গোলাম মোর্তুজা আজকের সংবাদ সম্মেলনকে ‘২০-দলীয় জোটকে ভাঙার চক্রান্ত’ বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘কেউ সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় জোট ছেড়ে যেতে চাইলে যেতে পারে, তবে এনডিপির নেতা-কর্মীরা বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটেই থাকবেন। এটা আমাদের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত।’
এ ছাড়া জোবায়দা কাদের চৌধুরী (সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বোন) ও আতিকুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ মুসলিম লীগও ২০-দলীয় জোট থেকে বের হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে।
এর আগে গত ২৪ আগস্ট বিএনপি জোট ছাড়ার ঘোষণা দেন ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) চেয়ারম্যান শেখ শওকত হোসেন নিলু। তারও আগে শেখ আনোয়ারুল হকের নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ভাসানী-ন্যাপ) ২০-দলীয় জোট ছেড়ে যায়। যদিও শওকত হোসেন জোট ছাড়ার আগেই ১১ আগস্ট জোটের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে তাঁকে ডাকা হয়নি। বিএনপির পক্ষ থেকে তাঁকে বৈঠকে আসতে মানা করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, বিএনপির জোট থেকে বের হওয়া দলগুলোকে নিয়ে ‘ডেমোক্রেটিক ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট’ নামে আরেকটি জোট গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। শেখ শওকত হোসেন এর নেপথ্যে কাজ করছেন। ২৫ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলন করে এ জোটের আত্মপ্রকাশ ঘটবে বলে প্রথম আলোকে জানিয়েছেন শওকত হোসেন।
‘ডেমোক্রেটিক ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট’-এ ২০-দলীয় জোটের আরও অন্তত তিনটি দলের যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা আছে। নতুন এ জোট গঠনের নেপথ্যে একটি গোয়েন্দা সংস্থার পৃষ্ঠপোষকতা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে। সরকারের একজন প্রভাবশালী উপদেষ্টা এ কাজের তত্ত্বাবধান করছেন এবং তিনি গত কয়েক মাসে বিএনপি জোটের শরিক একাধিক দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতার সঙ্গে সরাসরি কথা বলেছেন বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার মনে হয় জোটে ভাঙন ধরাতে সরকারের ইন্ধন আছে। ভবিষ্যতে আন্দোলন এবং নির্বাচনে বিএনপি জোটকে দুর্বল করতেই এটি করা হচ্ছে।’ তিনি বলেন, অতীতেও এ ধরনের অনেক তৎপরতা দেখা গেছে। কিন্তু শেষ বিচারে তাতে কোনো সাফল্য অর্জিত হয় না। কারণ, জনগণ এসব বুঝতে পারে।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
‘নীতিমালা নয় ন্যায়মালা চাই’
সাংবাদিক মিজানুর রহমান খান বলেন, সম্প্রচার নীতিমালা সংবিধানের সঙ্গেও সাংঘর্ষিক। সাংবাদিক আশরাফ কায়সার বলেন, সম্প্রচার নীতিমালা নিয়ন্ত্রণমূলক। কি যোগ্যতার ভিত্তিতে লাইসেন্স দেয়া হবে তার জন্যই নীতিমালা চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু নীতিমালায় তা নিয়ে শুধু একটিমাত্র বাক্য আছে। সাপ্তাহিক সম্পাদক গোলাম মোর্তোজা বলেন, যে উদ্দেশ্যে নীতিমালা চাওয়া হয়েছিল সে উদ্দেশ্যে নীতিমালা দেয়া হয়নি। গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্যই এ নীতিমালা দেয়া হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শামীম রেজা বলেন, টকশো বহুমাত্রিক আলোচনার জায়গা তৈরি করেছে। যদিও টকশোতে বেশির ভাগ আলোচনা হয় রাজনীতি নিয়ে। আনন্দ আলো সম্পাদক রেজানুর রহমান বলেন, শহরের গণ্ডি পেরিয়ে গ্রামেও টকশো জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। চ্যানেল আই ভবনে অনুষ্ঠিত আলোচনায় শুরুতে সবাইকে স্বাগত জানান সাংবাদিক কাজল ঘোষ।
মূল প্রবন্ধে রোবায়েত ফেরদৌস আরও বলেন, গণতন্ত্র শুধু একটি শাসন ব্যবস্থা নয়। গণতন্ত্র একটি মূল্যবোধের নাম। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় যে সাংবাদিক সরকারের বিরুদ্ধে তথ্য প্রকাশ করবে সরকারেরই দায়িত্ব সে সাংবাদিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। যেমন সংসদে সরকারি দলের দায়িত্ব বিরোধী দল যেন তাদের সমালোচনা করতে পারবে সে পরিবেশ নিশ্চিত করা। তিনি বলেন, টকশোকে আমরা ব্যাখ্যা করতে পারি জনপরিসর বা পাবলিক স্ফেয়ার হিসেবে। জনপরিসর এমন পাটাতন যেখানে নাগরিকরা রাষ্ট্র সরকার ও সমাজের বিবিধ সমস্যা বা ইস্যু নিয়ে কথা বলতে পারবে। টিভি টকশো সে কাজটিই করে থাকে। টকশোর মধ্য দিয়ে টেলিভিশন নাগরিকদের বুদ্ধিবৃত্তিক বিতর্ক তোলার সুযোগ তৈরি করে দেয়। কেউ কেউ টকশোকে বিকল্প পার্লামেন্ট হিসেবে চিহ্নিত করেছেন এ অর্থে, যখন আমাদের সংসদ ঠিকমতো কাজ করে না, সংসদে যখন সরকারি দল ও বিরোধী দলের কোন বিতর্ক হয় না, সংসদের বাইরেও তাদের মধ্যে যখন কোন সম্মুখ সংলাপ হয় না, তখন টকশোই একমাত্র ফ্লাটফর্ম হিসেবে দাঁড়িয়ে গেছে, যেখানে সরকারি দল, বিরোধী দল তো বটেই সংসদে কখনও আসন পায়নি এমন অনেক রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরাও কথা বলার, বিতর্ক তোলার সুযোগ পাচ্ছেন। কিন্তু এর পরও প্রশ্ন থাকে আমাদের টিভি টকশোগুলো কি সত্যিকার অর্থেই জনপরিসরের শর্ত পূরণ করতে পারছে। এখানে কি সবার কথা বলার সুযোগ আছে? গ্রামের প্রান্তিক মানুষ, শিক্ষাবঞ্চিত নারী-পুরুষ কিংবা ঢাকার বাইরে জনবুদ্ধিজীবীদের কতজন টকশোতে অংশ নিতে পারেন? কতজন নারী রাষ্ট্রবিজ্ঞানী, নারী অর্থনীতিবিদ টকশোতে অংশ নেন। মোটা দাগে আমাদের টকশো তো শহর অভিমুখী, ধনিক অভিমুখী, এলিট অভিমুখী, পুরুষ অভিমুখী এবং তথাকথিত শিক্ষক অভিমুখী। বাংলাদেশে গ্রামীণ সমাজে পুকুরঘাটের আড্ডাকে কি আমরা জনপরিসর বলতে পারি? আমাদের চা স্টল, হাটবাজার বা নাপিত শালা কি আসলেই জনপরিসর? ভারতীয় প্রেক্ষাপটে দীপেশ চক্রবর্তী আড্ডাকে জনপরিসর হিসেবে উল্লেখ করেছেন। বৃটিশবিরোধী স্বদেশী আন্দোলনের সময় ঘরে ঘরে গোপন আলোচনা হতো, সেখানে আলোচনার এজেন্ডা ঠিক করতেন পুরুষ, আলোচকও থাকতেন পুরুষ, নারীও থাকতেন তবে তা কেবল চা-চানাচুর পরিবেশনের সময়। তিনি বলেন, অনেকে বলেন টকশোগুলো গণতন্ত্রের প্রহরীর ভূমিকা পালন করছে। টকশোর মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় ও দর্শকপ্রিয়তা পায় পলিটিক্যাল টকশো। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে টকশো নিয়ে বিস্তর গবেষণা হওয়ার সুযোগ রয়েছে। কিভাবে টকশোগুলোতে আলোচনার এজেন্ডা ঠিক হয়? কারা ঠিক করেন? এজেন্ডা ঠিক থাকলেই কি আলোচকরা সে ফ্রেমে কথা বলেন। টকশো উপস্থাপনা করতে গিয়ে দেখেছি অনেককে প্রশ্ন করলে তারা বলেন, আমি আমার কথাটা বলি, তারপর আপনার প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছি। রোবায়েত ফেরদৌস সম্প্রচার নীতিমালার তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি একে নিয়ন্ত্রণমূলক হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে কি কোন বন্ধুরাষ্ট্র এবং শত্রুরাষ্ট্রের তালিকা আছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উচিত সে তালিকা প্রকাশ করা। তিনি বলেন, আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার পথে আমাদের আরও অনেক দূর অবধি যেতে হবে। যেতে হবে গণতন্ত্রকে সতেজ টাটকা আর ফুরফুরে রাখার তাগিদে। আমরা চাই জানালা খোলা থাকুক- এতে ধুলোবালি কিছু আসবে। কিন্তু বিশ্বাস করুন সবচেয়ে বেশি আসবে আলো।
অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, গ্রামসীর তত্ত্ব অনুযায়ী যখন কোন দেশে ফ্যাসিজম চালু হয় তখন রাজনৈতিক দল বলে কিছু থাকে না, তখন গণমাধ্যমকে রাজনৈতিক দলের ভূমিকা পালন করতে হয়। বাংলাদেশে যেহেতু কোন দলের মধ্যে গণতন্ত্র নেই, তাই মিডিয়াকে ভূমিকা পালন করতে হচ্ছে। তবে টকশো বিকল্প সংসদ নয়। কারণ সংসদের দায়িত্ব হচ্ছে আইন তৈরি করা। টকশো কোন আইন তৈরি করে না। তিনি বলেন, আমাদের রাজনীতিবিদদের কোন লেখার প্রয়োজন হয় না। তাদের ভাষণ দিতে জানলেই চলে। তিনি বাংলাদেশ রাষ্ট্রের পিপলস রিপাবলিক অব বাংলাদেশ নামকরণের যথার্থতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। বলেন, রিপাবলিকের মধ্যেই তো পাবলিক রয়েছে। তিনি গণমাধ্যমের জন্য ন্যায়মালা প্রণয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন দুটি নীতি সব সময়ই অনুসরণ করতে হবে। প্রথমত, কোন ব্যক্তিগত আক্রমণ করা যাবে না। দ্বিতীয়ত, ঘৃণা প্রচার করা যাবে না।
অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বলেন, সরকারের চিন্তায় বড় ধরনের জট লেগেছে। সম্প্রচার নীতিমালা এক ধরনের ভীতিমালা। সরকার ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে এ নীতিমালা প্রণয়ন করেছে। এ নীতিমালা প্রণয়নের পর সব মিডিয়া ভয়ে আছে। তাই একে ভীতিমালা বলাই যৌক্তিক। তিনি বলেন, আমার খুব প্রিয় একটি কবিতা আছে। লোকের কথায় নয় ঘটনায় মন দাও।
সাবেক উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, টকশো এবং খবর দুটোই জনপ্রিয়। ২০-২৫ বছর ধরে শত সমস্যার পরও জনগণ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পেতো। কিন্তু ৫ই জানুয়ারির বিতর্কিত নির্বাচনের পর রাজনৈতিক অগ্রযাত্রায় নতুন উপাদান তৈরি হয়েছে। কর্তৃত্ববাদী আকাঙ্ক্ষা নতুন মাত্রা পেয়েছে। জনগণের কণ্ঠ উচ্চকিত হয় কিন্তু কোন ফল হয় না। এক দশক পর নাগরিক সমাজও অসহায় অবস্থায় রয়েছে। কর্তৃত্ববাদী শাসকরা নাগরিক সমাজের চেয়ে অনেক চালাক। শাসকরা এখন অনেক অস্ত্র ব্যবহার করছে। এ অবস্থায় এখন পরামর্শের মূহুর্ত নয় এখন হচ্ছে উপলব্ধির সময়। আমাদের বলতে হবে আমরা ভয় পাইনি।
শাইখ সিরাজ বলেন, বাংলাদেশের গণমাধ্যমগুলোর নিজস্ব কোন নীতিমালা নেই। এটা সত্য, আমরা নীতিমালা চেয়েছিলাম। কিন্তু কি প্রেক্ষাপটে তা চেয়েছিলাম তা-ও বিবেচনায় নিতে হবে। তিনি বলেন, ওয়ান-ইলেভেনের আগ থেকেই নানা জায়গা থেকে নানা রকমের নির্দেশনা আসতো। নানা দুর্যোগের সময় আমাদের নানা রকম নির্যাতনের স্বীকার হতে হয়েছে। তিনি বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে টকশো নিয়ে নতুন করে ভাবার প্রয়োজন রয়েছে। ঢাকার বাইরেও অনেক প্রতিভাবান মানুষ রয়েছে। আমাদের উচিত সেইসব মানুষদের টকশোতে নিয়ে আসা। বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গণমাধ্যমের অবদানের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, আইন করে কেউ গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণে সফল হয়নি। আইয়ুব খানের সামরিক শাসনের সময়ও আমরা আমাদের অধিকার রক্ষায় সোচ্চার ছিলাম। এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময়ও সাংবাদিকরা সাহসী ও বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেছেন। সম্প্রচার নীতিমালা একটি বাজে আইন। এ আইন বাতিল ঘোষণা করা প্রয়োজন। মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, বর্তমান সরকার তিনটি টিভি চ্যানেল বন্ধ করেছে। জরুরি অবস্থার সরকার একটি এবং বিএনপি সরকার একটি টিভি চ্যানেল বন্ধ করেছিল। এজন্য তাদের কোন নীতিমালা লাগেনি। তিনি বলেন, দুই জন রাজনীতিবিদ বই লিখে কি বিপদে পড়েছেন তা আপনারা দেখেছেন। টকশো’র কারণেও অনেকে বিপদে পড়েন। নানা ধরনের লিস্ট আসছে। এখন আবার অনেকে নিজ থেকেও টকশোতে আসতে চাচ্ছেন না। আসলে রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন না হলে কোন কিছুরই পরিবর্তন হবে না। তিনি বলেন, বাংলাদেশের টিভি চ্যানেলের ইতিহাস যখন লেখা হবে তখন দুটি কারণে সেখানে চ্যানেল আই’র নাম অবশ্যই থাকবে। একটি হচ্ছে টকশো এবং অন্যটি বিনোদন। মোজাম্মেল হোসেন মঞ্জু বলেন, আজ বাসায় বসে বিস্মিত হয়ে স্কটল্যান্ডের গণভোট দেখছিলাম। কিভাবে একটি দেশের স্বাধীনতা নিয়ে ভোটের মাধ্যমে মানুষ তাদের মতামত দিয়েছে। যুদ্ধ নেই, লড়াই নেই। অথচ আমরা এখানে কেউ কাউকে মানি না। সামান্য নির্বাচন নিয়েও লিপ্ত হই রক্তক্ষয়ী সংঘাতে। তিনি বলেন, সম্প্রচার নীতিমালা অনাবশ্যক। এটি হয়তো বিরোধীদের ক্ষেত্রেই প্রয়োগ করা হবে। সংবাদপত্রের পর্যালোচনার ক্ষেত্রে একটি আওয়ামী লীগ একটি বিএনপির সংবাদ নিয়ে আলোচনার প্রয়োজন নেই। শামীম রেজা বলেন, টকশোকে আমি বিকল্প সংসদ বলতে রাজি নই। ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, আমরা কথা বলতে পছন্দ করি। পেটে ভাত না থাকলেও আমরা কথা বলতে চাই। যে কারণে আমাদের এখানে টকশোগুলো বিপুল জনপ্রিয়তা পেয়েছে। মিজানুর রহমান খান বলেন, সাংবাদিক নিজেরা যদি একটি নীতিমালা প্রণয়ন করে রাখতেন তাহলে সরকার নীতিমালা চাপিয়ে দিতে পারতো না। সরকারের কাছে সবকিছু চাওয়ার একটি অভ্যাস আমাদের রয়ে গেছে। অজয় দাশগুপ্ত বলেন, ১/১১ এর রাতে জরুরি অবস্থা জারির পরপরই সংবাদ মাধ্যমের ওপর কোন ধরনের নিয়ন্ত্রণ আসেনি। সে রাতে আমরা সমকাল অফিসে বসে আলোচনা করছিলাম সেন্সরশিপ ছাড়া জরুরি আইন বা সামরিক শাসন টিকে কি না। বাংলাদেশে ২০০১ সাল ব্যতীত কখনোই শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতার হস্তান্তর হয়নি। এ বিষয়টিও আমাদের খেয়াল রাখতে হবে। ফরিদ হোসেন বলেন, আমরা যারা টকশোতে অংশ নেই আমাদেরও সমালোচনা রয়েছে। একই দিনে আমরা একই পোশাকে একাধিক টকশোতে অংশ নিয়ে থাকি। এটা হয়তো ঠিক প্রধানমন্ত্রীকে সাংবাদিকদেরই কেউ কেউ সম্প্রচার নীতিমালা করার পরামর্শ দিয়েছেন। সম্পাদক পরিষদ এখন নীতিমালার কথা বলছেন, কিন্তু আগে কেন তারা নীতিমালা তৈরির কথা বলেননি। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফর সঙ্গী হিসেবে জনগণের ট্যাক্সের টাকায় অনেক সাংবাদিক-সম্পাদককে আমরা বিদেশ যেতে দেখি। তাদের দ্বারা কি নিরপেক্ষ সাংবাদিকতা সম্ভব। পৃথিবীর কোন দেশে দুস্থ সাংবাদিকদের অর্থ দেয়া হয় এবং তা প্রচারিত-প্রকাশিত হয় তা আমি কখনোই শুনিনি। আশরাফ কায়সার বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতির পেছনে সংবাদ মাধ্যমের কি কোন অবদান নেই। গণমাধ্যমের সে অবদান কেন আজ অস্বীকার করা হচ্ছে। যখন নীতিমালা ছিল না তখন কি গণমাধ্যম দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেনি। অলিখিত নীতিমালার মাধ্যমে আমাদের সম্পাদকরা সব-সময়ই দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে আসছেন। নীতিমালা লাইসেন্সের ব্যাপারে বিস্তারিত কোন কিছু না বলার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের আমলে আওয়ামী লীগের লোকেরা লাইসেন্স পান, বিএনপির আমলে বিএনপির লোকেরা লাইসেন্স পান। দক্ষ ও যোগ্য লোকরা টিভি চ্যানেলের লাইসেন্স পান না। গোলাম মোর্তোজা বলেন, সম্প্রচার নীতিমালা প্রণয়নে অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনার কথা বলা হয়েছে। অথচ যেসব বিষয়ে কখনোই কোন আলোচনা হয়নি সেসব বিষয়ও সম্প্রচার নীতিমালায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ নীতিমালা কঠোর নিয়ন্ত্রণমূলক। পুরো ধমক ও গায়ের জোরে মিডিয়াকে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা হচ্ছে। রেজানুর রহমান বলেন, গ্রামের মানুষও এখন গভীর রাত জেগে টকশো দেখে থাকে। টকশো আলোচকদের সবাইকেই তারা চিনেন। তবে অনেক ক্ষেত্রে একইদিন এক আলোচক একাধিক টকশোতে অংশ নেন। এটা বন্ধ হওয়া প্রয়োজন। টকশোতে নতুন মানুষ আনা প্রয়োজন। গ্রামের মানুষকেও টকশোতে আলোচনায় অংশ নেয়া প্রয়োজন।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ওয়ান অ্যান্ড অনলি ওয়ান শেখ হাসিনা

About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বিশেষ দূতের কাজ কি? by নিয়াজ মাহমুদ

About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
অনিশ্চয়তায় অর্ধলক্ষ শিক্ষার্থী by নুর মোহাম্মদ
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
লম্পট বন্ধুর পাল্লায় পড়ে সম্ভ্রম হারিয়ে কলেজছাত্রী দিশাহারা

About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বস্তিতে বেড়ে ওঠা বিশ্বসেরা এক ফিল্ম স্টার by ইমরান আলী

About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
শিক্ষায় বৈষম্য by শামীমুল হক
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1372)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
-
▼
2014
(9799)
-
▼
September
(447)
-
▼
Sep 20
(16)
- ষোড়শ সংশোধনী- বিচার বিভাগের পায়ে বেড়ি পরানো? b...
- মুজিব-তাজউদ্দীনের বিচ্ছেদই বাংলাদেশের ট্র্যাজেডি b...
- আসুন, বেশি করে কথা বলি! by কে এম জাকারিয়া
- কিশোরী কন্যাদের যৌন হয়রানির কথা শুনুন by শান্ত ন...
- দড়ি লাফের দারুণ ৭ স্বাস্থ্য উপকারিতা by কাজী আরিফ ...
- যুক্তরাজ্যে রয়ে গেল স্কটল্যান্ড
- বন্ধ হয়ে যাচ্ছে গার্মেন্টের দরজা by হাফিজ উদ্দিন
- ভারতের মুসলমানরা ভারতের জন্য বাঁচবে: নরেন্দ্র মোদি
- ভাঙনের মুখে বিএনপি জোট by সেলিম জাহিদ
- ‘নীতিমালা নয় ন্যায়মালা চাই’
- ওয়ান অ্যান্ড অনলি ওয়ান শেখ হাসিনা
- বিশেষ দূতের কাজ কি? by নিয়াজ মাহমুদ
- অনিশ্চয়তায় অর্ধলক্ষ শিক্ষার্থী by নুর মোহাম্মদ
- লম্পট বন্ধুর পাল্লায় পড়ে সম্ভ্রম হারিয়ে কলেজছাত্রী...
- বস্তিতে বেড়ে ওঠা বিশ্বসেরা এক ফিল্ম স্টার by ইমরান...
- শিক্ষায় বৈষম্য by শামীমুল হক
-
▼
Sep 20
(16)
-
▼
September
(447)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...

