Thursday, July 29, 2010

ক্রিকেটার ডেভিড ক্যামেরন

রাজনীতিতে নয়, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন এবার তাঁর দক্ষতা দেখালেন ব্যাটসম্যান হিসেবে! ভারতের কিংবদন্তি বোলার কপিল দেবের বলে যেভাবে ব্যাট চালালেন, তাতে মনে হলো, রাজনীতি বাদ দিয়ে ক্রিকেটমাঠে নামলেও খুব একটা ভুল করতেন না তিনি।
আজ বৃহস্পতিবার দিল্লিতে কমনওয়েলথ গেমসের ভেন্যু হিসেবে ন্যাশনাল স্টেডিয়াম পরিদর্শন করতে এসে ক্রিকেটারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী। এরপর তিনি স্টেডিয়ামের সংস্কারকাজ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং আয়োজকদের শুভকামনা জানান।
এ সময় কপিল দেব ছাড়াও ভারতের আরেক সাবেক ক্রিকেটার বিষেন সিং বেদি, অ্যাথলেট মিলখা সিং ও পি টি ঊষা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, আগামী ৩ অক্টোবর থেকে ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত ভারতের রাজধানী দিল্লিতে কমনওয়েলথ গেমস অনুষ্ঠিত হবে।

চিরপথের সঙ্গী আমার by লায়লা হাসান

হাসান ইমাম মা অন্তঃপ্রাণ। বিয়ের বাসরে আমাদের প্রথম আলাপন মাকে কেন্দ্র করেই। চার বছরের আলী ইমাম আর দুই বছরের হাসান ইমামকে নিয়ে কুড়ি বছরের মা সৈয়দা সঈদা খাতুন বিধবা হন। মাত্র ছয় বছরের বিবাহিত জীবন ওর। বছর চারেক কলকাতায় চাকরিরত বাবা সৈয়দ সোলায়মান আলী সপ্তাহান্তের ছুটিতে বর্ধমানে শ্বশুরালয়ে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতেন। শেষ দুই বছর কলকাতায় তাঁরা একত্রে সংসারজীবন যাপন করেন। মা স্নেহশীলা, মমতাময়ী, সন্তান অন্তঃপ্রাণ। প্রাণপণে আগলে রেখে মানুষ করেছেন ছেলেদের।
ছাত্রজীবনে ১৯৫২ সালে অল ইন্ডিয়া ইয়ুথ ফেস্টিভালে উনি রবীন্দ্রসংগীতে প্রথম স্থান পেয়েছিলেন। মুস্তাফা মনোয়ার নির্দেশিত রক্তকরবী টেলিনাটকে বিশুর চরিত্রে অভিনয় করার সময় বিশুর গানগুলো হাসান ইমাম নিজেই গেয়েছিলেন। মোস্তফা কামাল সৈয়দ প্রযোজিত সংগীতপ্রধান নাটক স্বল্প বিলাস-এর মুখ্য চরিত্রে একাধারে গান ও অভিনয় দুই-ই করেন।
স্বামী হিসেবে হাসান ইমাম এক কথায় অতুলনীয়, যা প্রতিটি মেয়ের একান্ত কাম্য। পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ স্বামী, বন্ধু, গাইড ও অভিভাবক। উচ্চমাধ্যমিক পাসের পর তাঁর সঙ্গে আমার বিয়ে হয়। ওর ঐকান্তিক অনুপ্রেরণা ও ইচ্ছাই আমাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডি পেরোতে বাধ্য করেছে। বিবাহিত জীবনে শিল্পী হিসেবে যে প্রতিষ্ঠা আমি পেয়েছি, তার মূলেও তিনিই।
পিতা হাসান ইমাম অতিমাত্রায় সন্তানবৎসল, উপদেষ্টা, কর্তব্যপরায়ণ, দায়িত্বশীল ও সন্তানের আদর্শ। যাঁকে অনুসরণ করে ওরা নিজেদের নীতিনিষ্ঠ, সৎ, আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে সচেষ্ট। শত ব্যস্ততার মধ্যেও সন্তান ও সংসারের প্রতি সব সময় সজাগ দৃষ্টি। ওদের পড়াশোনা, চিকিৎসা, খাওয়া-দাওয়া সবকিছুতেই তাঁর কড়া নজর।
অকাল পিতৃবিয়োগের পর সৈয়দ হাসান ইমাম দাদাবাড়ি খুলনায় ফিরে না গিয়ে বাল্যকাল ও ছাত্রকাল তাঁর নানাবাড়িতেই কাটান। তাঁর শিক্ষাজীবন শুরু হয় বর্ধমান টাউন স্কুলে এবং ক্রমান্বয়ে রাজ কলেজ ও টেকনিক্যাল কলেজে। তারপর ১৯৫৭ সালে স্বদেশে প্রত্যাবর্তন। ছাত্রজীবনে ছাত্র আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। রাজ কলেজের সাংস্কৃতিক সম্পাদক, কমনরুম সম্পাদক নিযুক্ত হন। মাত্র ১৬ বছর বয়সে বর্ধমান জেলা গণনাট্য সংঘের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন হাসান ইমাম।
ছাত্রজীবনে বর্ধমানে হাসান ইমাম বিভিন্ন মঞ্চে সংগীত পরিবেশন করে বিশেষ প্রশংসিত হন। ১৯৫৫ সালে কলেজের অনুষ্ঠানে তাঁর গান শুনে দ্বিজেন মুখোপাধ্যায় তাঁকে বিনা পারিশ্রমিকে গান শেখানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেন। মাত্র এক বছর তিনি উচ্চাঙ্গসংগীতে তামিল নেন।
বেতার ও বাংলাদেশ টিভির জন্মলগ্ন থেকেই তিনি নাটকে নিয়মিত অংশ নেন। টিভির দুই শতাধিক নাটকের মধ্যে তাঁর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি নাটক, মুস্তাফা মনোয়ার নির্দেশিত শেক্সপিয়ারের মুখরা রমণী বশীকরণ, রবীন্দ্রনাথের রক্তকরবী, মোস্তফা কামাল সৈয়দ প্রযোজিত স্বপ্ন বিলাস ইত্যাদি।
ক্রমে তিনি মঞ্চনাট্য নির্দেশনায় নিয়োজিত হন। গোর্কির মা, রবীন্দ্রনাথের রক্তকরবী, সোমেন চন্দর না, আবর্ত ইত্যাদি তাঁর উল্লেখযোগ্য নির্দেশনা। মনে পড়ে ঊনসত্তরের গণ-আন্দোলনের সময় সংস্কৃতি সংসদ আয়োজিত প্রায় ১০ হাজার মানুষের উপস্থিতিতে বাংলা একাডেমীর বটমূলে মঞ্চায়িত রক্তকরবী নাটকটি কী বিপুল সাড়া জাগিয়েছিল!
একাত্তরে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের নাট্য বিভাগের প্রধানের দায়িত্বে নিযুক্ত হন। সৈয়দ হাসান ইমাম মুজিবনগর স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে সালেহ আহমেদ নামে বাংলা সংবাদ পাঠ করতেন। পরে তিনি বহু টিভি সিরিয়াল, টিভি নাটক পরিচালনা ও অভিনয় করেন। এ ছাড়া সৈয়দ হাসান ইমাম দেশে-বিদেশে প্রচুর নাটকে নির্দেশকের দায়িত্ব পালন করেন। আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরী বিরচিত পলাশী থেকে ধানমন্ডি তাঁর নির্দেশনায় সফলভাবে মঞ্চায়িত হয় ২০০৪ সালের ২৮ মার্চ লন্ডনের লোগান হলে।
হাসান ইমাম বাংলাদেশের একজন শীর্ষস্থানীয় আবৃত্তিকার। বেতার, দূরদর্শন ও মঞ্চের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে আবৃত্তিকার হিসেবে তাঁর অবাধ বিচরণ।
চলচ্চিত্রের কথায় আসার আগে একটি মজার গল্প বলি। হাসান ইমাম প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা শেষ করার পর দেশে ফিরে এসে ন্যাশনাল ব্যাংকে চাকরিতে যোগ দেন। ওই সময় ব্যাংকে এক ভদ্রলোক প্রায়ই আসতেন টাকা তোলা বা জমা দেওয়ার জন্য। ভদ্রলোক, অর্থাৎ আবদুল আওয়াল সাহেব ওকে সিনেমায় অভিনয় করার জন্য উৎসাহিত করতেন। বলতেন, ‘তোমার নাটক আমি নিয়মিত দেখি, তুমি এত সুদর্শন, ভালো অভিনয় করো, তুমি সিনেমায় অভিনয় করছ না কেন?’ এই আওয়াল সাহেবই (আমার আব্বা) পরবর্তীকালে হাসান ইমামের শ্বশুর হন।
হাসান ইমাম ১৯৬০ সালে প্রথম চলচ্চিত্রে যোগ দেন। তাঁর প্রথম দিককার ছবির মধ্যে রাজা এল শহরে, শীত বিকেল, জানাজানি, ধারাপাত ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। রাজা এল শহরের শুটিং করতে গিয়ে চাদরে আগুন লেগে প্রায় পুড়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল। অল্পের জন্য বেঁচে যান।
১৯৬৫ সালে সমগ্র পাকিস্তানের চলচ্চিত্র উৎসবে হাসান ইমাম শ্রেষ্ঠ অভিনেতার সম্মান লাভ করেন খান আতার অনেক দিনের চেনা ছবিতে অভিনয়ের জন্য।
সংগঠক হাসান ইমামের কৃতিত্ব আরও এক কাঠি ওপরে। একাত্তরের গণ-আন্দোলনে তিনি ছিলেন বিক্ষুব্ধ শিল্পীসমাজের আহ্বায়ক। একাত্তরের অসহযোগ আন্দোলনের সময় ৮ থেকে ২৫ মার্চ ওরা বেতার ও টেলিভিশন নিয়ন্ত্রণ করেন। তিনি টেলিভিশন নাট্যকার, নাট্যশিল্পী সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন সুদীর্ঘ ৩৮ বছর।
শহীদজননী জাহানারা ইমামের প্রয়াণের পর তিনি বাংলাদেশের প্রধান মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন ও ঘাতক দালাল নির্মূল জাতীয় সমন্বয় কমিটি’-এর আহ্বায়কের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন।
বাইরের জগতে হাসান ইমাম বেশ রাশভারী বলে পরিচিত, কিন্তু ব্যক্তিগত জীবনে দারুণ কৌতুকপ্রিয়, রোমান্টিক, বাকপটু, হাসি-ঠাট্টায় মাতিয়ে রাখেন বাড়িটাকে। বহু সময়ের পথ অতিক্রম করে আজ আমরা প্রায় শেষ প্রান্তে এসে পৌঁছেছি। আজ তাঁর জন্মদিন। ‘কি পাইনি তার হিসাব মেলাতে মন মোর নহে রাজি’, তবু যখন পেছন ফিরে তাকাই, তখন দেখি তিনি মানুষের অফুরান শ্রদ্ধা, ভালোবাসা, স্নেহ পেয়েছেন। সেটাই তাঁকে দিয়েছে চলার পথের প্রেরণা।

‘তিন হাজার টাকা’ by শাহদীন মালিক

সংবিধান নিয়ে আলোচনায় এখন অনেকেই বলছেন বা প্রশ্ন তুলছেন যে এতকাল পর ‘সমাজতন্ত্র’ কথাটিই সংবিধানে কীভাবে ফিরিয়ে আনা সম্ভব। সমাজতন্ত্র তো উঠে গেছে সারা বিশ্ব থেকে। উনি মারা গেছেন। অতএব উনাকে (সমাজতন্ত্রকে) নিয়ে টানাহেঁচড়া অবাস্তব।
অর্থাৎ পোশাকশিল্প শ্রমিকদের মজুরি তিন হাজার টাকাই সই! (সূত্র: প্রথম আলো, ২৬ জুলাই) এখন ধনতন্ত্রের যুগ। দুপক্ষ আলাপ-আলোচনা করে যে সিদ্ধান্তে উপনীত হবে, সেটাই ঠিক। বাংলাদেশে শোষণ নেই। শোষণটোষণ সমাজতন্ত্রের অচল কথা। পোশাকশিল্পমালিকদের যদি তিন হাজার টাকার বেশি পারিশ্রমিক দিতে হয় শ্রমিকদের তাহলে ফ্যাক্টরি চলবে। আমাদের বৈদেশিক মুদ্রার সবচেয়ে বড় উৎস ধ্বংস হয়ে যাবে, লাখ লাখ শ্রমিক বেকার হয়ে পড়বে, অশান্তি-হানাহানি বাড়বে, ইত্যাদি ইত্যাদি।
আরও আছে, সংখ্যার হিসাব। কী কী যেন বলা হয়—একসময় ছিল ৬০০ টাকা। তারপর বেড়ে হলো ৯০০ টাকা। তারপর এক হাজার ১০০-র কিছু বেশি এবং সর্বসাকুল্যে এক হাজার ৬০০ টাকা বা তারও কিছু বেশি।
‘আর জানেন না। যারা শুরু করে, তারাই এক হাজার ৬০০ টাকা তারও কিছু বেশি পায়। অভিজ্ঞজনেরা অনেকে সাত-আট হাজার থেকে শুরু করে ভালো ফ্যাক্টরিতে ১৫ হাজার বা তারও বেশি পায়।’
তার পরও আমার তথ্যসমৃদ্ধি আরও ব্যাপকতর করা হয় অনেকটা এক নিঃশ্বাসেই ‘ওই কালো গাড়িটা পছন্দ হয়ে গেল। এক কোটি ১০ লাখের কমে কোনোমতেই দেবে না। কী আর করি। নিয়ে নিলাম।’ এ কথা ও কথার পর ‘ভাই, ভাবছি এবার ছেলেমেয়েদের নিয়ে তিন সপ্তাহ আমেরিকা ঘুরে আসব। এই তো দুই দিন আগে স্পেন থেকে এলাম। ওদের নিয়ে তো আর যাওয়া হয় না। সময় পেলে ভাবছি তিন দিনের জন্য হলেও কানাডা ঘুরে আসব।’
সমাজতন্ত্র-শোষণ আসলেই সেকেলে কথাবার্তা।
----২.----
প্রায় দুই দশক ধরেই দেখছি বিজেএমইএ হাচ্চু মারলেই সরকার কাঁপে! এতে তো আশ্চর্য হওয়ার মতো কিছুই নেই। বিজেএমইএ বলছে, এর বেশি আর দেওয়া যাবে না। সব ধরনের শুল্ক থেকে ছাড় পাই, গ্যাস-বিদ্যুৎ পাই, ইপিজেড পাই, যেখানে কোনো শ্রম আইন নেই, ব্যাংক থেকে লোন পাওয়ার সামান্য সুযোগ-সুবিধায় মন ভরে না, বহু বছর তাই নিজেরাই ব্যাংকমালিক হয়ে গেছি (বাধ্য হয়ে), আর নির্বাচন এলে ডজন দুয়েক আসন তাদের জন্য বরাদ্দ না থাকলে কেমনে চলবে দেশ।
দেশকে ডলার-পাউন্ডে ছয়লাব করে দিচ্ছেন। অতএব তিন হাজার টাকার এক পয়সা বেশি দেওয়া অসম্ভব?
সবই ঠিক, হক কথা।
ভাঙচুর আজকাল হচ্ছে প্রায় অহরহ। একটা ভাঙচুর হলে শ-পাঁচেক শ্রমিকের বিরুদ্ধে মামলা হয়নি, এমন ভাঙচুরের ঘটনা কেউ জানেন কি? গত দুই দশকের শ্রমিকের মৃত্যুর জন্য কোনো মালিক কি জেলের ভাত খেয়েছে?
খাবে না, এটা বলাবাহুল্য।
একটা ‘রাফ’ হিসাব।
এখন ঢাকা আর কাশিমপুর জেলে প্রায় ২০০-র মতো ‘কনডেমনড প্রিজনার’ আছে। অর্থাৎ বিচারিক আদালত যাদের দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন। মৃত্যুদণ্ড দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল বাধ্যতামূলক। হাইকোর্টে আপিলে এদের শতকরা পঁচাত্তর ভাগেরই নিজস্ব অ্যাডভোকেট নেই। সরকার তাদের উকিল দিচ্ছে। আর অন্যদিকে দুর্নীতি মামলায় যারা দোষী প্রমাণিত হয়ে কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছিলেন, তাঁদের দু-একজনও কি এখনো জেলে আছেন?
আমরা একটা সম্পূর্ণ শোষণমুক্ত সমাজব্যবস্থা গড়ে তুলেছি। অতএব তিন হাজার টাকা মজুরি পেলে পোশাকশ্রমিকদের উদ্বাহু হয়ে নৃত্য করা দরকার। আশা করব, নতুন মজুরি নির্ধারণের পর পোশাকশ্রমিকদের জন্য ‘ওপেন এয়ার কনসার্টে’র ব্যবস্থা হবে।
----৩.----
২৬ জুলাই প্রথম আলোর প্রথম পৃষ্ঠায় ‘উদ্ধৃতি’ অংশে কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীর একটা উদ্ধৃতি আছে—‘বেসরকারি খাত সরকারি খাতের চেয়েও বেশি দুর্নীতিবাজ।’
কথাটা আমলে নেওয়া দরকার। এটা অনস্বীকার্য যে ফ্যাক্টরির মালিকদের পথে-ঘাটে ঘুষ দিতে হয়। বন্দরে কাঁচামাল এনে সে কাঁচামাল খালাস করা থেকে শুরু করে ঢাকার ফ্যাক্টরিতে এনে পোশাক বানিয়ে এবং সেটাকে আবার বন্দরের জাহাজে তোলা পর্যন্ত কতটা ঘাটে যে ঘুষ দিতে হয়, তার হিসাব তারাই ভালো জানে।
মালিক সংগঠনের চোটপাট সব শ্রমিকের ওপর।
----৪.----
আমার ধারণা, পোশাকশ্রমিকেরা তিন হাজার টাকা মানবে না। সংখ্যার হিসাবে যাব না। কিছু তত্ত্ব কথা বলি। বলাবাহুল্য তাই দায়ভার আমার না, কিছু বইপত্তর ঘেঁটে যা বুঝেছি তা-ই বলছি।
১৯২০-এর দশকে হুগলি নদীর চারপাশে সে সময়ের সারা বিশ্বের অন্য সব জায়গার তুলনায় সে আমলের পাটশিল্পে যে শ্রমিকেরা কাজ করত, তাদের মোট সংখ্যা সে সময়ের ইউরোপ-আমেরিকার যেকোনো একক শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকের সংখ্যা থেকে ছিল বেশি। হুগলি নদীর তীরঘেঁষে গড়ে ওঠা পাটশিল্পের শ্রমিক ছিল হাজার হাজার, কিন্তু তৎকালীন ব্রিটিশ ইন্ডিয়ায় এত শ্রমিক মোটামুটি এক জায়গায় থাকা সত্ত্বেও বড়সড়ো কোনো শ্রমিক আন্দোলন গড়ে ওঠেনি।
কংগ্রেস-মুসলিম লীগ কোনো বৃহৎ দলে শ্রমিকদের দাবি-দাওয়ার প্রতিফলন ঘটেনি। ব্রিটিশদের হাত থেকে দেশ স্বাধীন করা ছিল ষড়যন্ত্র। সেই ষড়যন্ত্রে শ্রমিকদের দাবি-দাওয়া স্থান পায়নি।
এখন আসি কারণের কথায়। এত হাজার হাজার শ্রমিক কিন্তু তারা কেন কিছু করতে পারল না। কারণ হলো, সে সময়ের পাটশ্রমিকেরা যদিও পাটশিল্পে শ্রমিক হিসেবে কাজ করত, তথাপি মনে-প্রাণে তারা নিজেদের কৃষক ভাবত? অর্থাৎ কোলকাতা-হুগলিতে আসত অল্প সময়ের জন্য, কিছু বাড়তি রোজগারের আশায়। টাকা-পয়সা কিছু জমলে আবার গ্রামে ফিরে যাবে। ঋণটা শোধ করবে, জমি বন্ধকমুক্ত করবে, দুটো গরু কিনবে এবং আবার কৃষিকাজে মনোযোগী হবে। কৃষিতে ফিরে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় মূলধন বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই জমত না। শ্রমিক হিসেবেই পাঁচ, সাত, দশ, পনেরো বছর কেটে যেত। কিন্তু তা সত্ত্বেও মনে-প্রাণে সে কখনো শ্রমিক হয়নি। ফলে শ্রমিক হিসেবে তার দাবি-দাওয়ার প্রতি সে ছিল অমনোযোগী। শ্রমিক-আন্দোলনে শরিক হওয়ার মনমানসিকতা তার গড়ে ওঠেনি।
নিকট-অতীতের নারায়ণগঞ্জের আদমজী বা খুলনার পাটশিল্পের শ্রমিকেরা সরকারি সুযোগ-সুবিধা এবং অন্যান্য কারণে সম্ভবত নিজেদের নিতান্ত শ্রমিক ভাবত না। কিছুটা সরকারি বা সুবিধাভোগী ভাগ তাদের ছিল বা সে ধরনের মনমানসিকতা তৈরি করা হয়েছিল, তাদের ভেতরে যাতে তারা আন্দোলন-ফান্দোলন না করে।
আশির বা নব্বইয়ের দশকে যেসব মহিলা গ্রাম থেকে ঢাকায় বা শহরে এসে পোশাকশিল্পে কাজ শুরু করেছিল, তারাও আমার ধারণা, নিজেদের স্বল্পকালের শ্রমিক ভাবত। কিছু টাকা-পয়সা জমলে গ্রামে ফিরে গিয়ে বিয়ে-শাদি করে ঘর-সংসার করবে। যৌতুকের টাকা জোগাড় করাও পোশাকশিল্পে কাজ করার একটা কারণ ছিল, অনেক ক্ষেত্রেই।
অল্প কথায় বড় কেচ্ছা সারছি। ১৯২০ থেকে ১৯৯০-এর দশক পর্যন্ত কৃষি বা গ্রামে ফিরে যাওয়ার সে মনমানসিকতা বা স্বপ্ন, সেটা এ শতাব্দীর আশুলিয়ার গার্মেন্টস শ্রমিকদের আর নেই। অন্তত আমার তা-ই ধারণা। তারা ঢাকাতেই থাকবে (সেটা রামপুরা, মিরপুর, আশুলিয়া বা ইপিজেড এলাকা যেখানেই হোক না কেন)। আর যেকোনো অন্য চাকরিজীবীর মতো ঈদে-পরবে গ্রামে যাবে আত্মীয়স্বজন, বাবা-মা, ভাই-বোনদের সঙ্গে সময় কাটাতে। কিন্তু ছুটি শেষে ঢাকায় ফিরে আসবে।
আমাদের প্রবাসী শ্রমিকেরা যেমন দুই-চার-পাঁচ বছর বিদেশে সবকিছু সহ্য করে প্রতিদিন ১২-১৪ ঘণ্টা কাজ করে গাদাগাদি করে থাকে। পোশাকশিল্পের শ্রমিকেরা সেটা আর করবে না, অতীতের পাটশিল্পের মতোই প্রবাসী শ্রমিকেরা সবকিছু সহ্য করে। কারণ, তারাও গ্রামে (অর্থাৎ দেশে) ফিরে আসবে। প্রবাস-জীবন ক্ষণিকের।
পোশাকশিল্পের শ্রমিকের জীবন এখন তার সারা জীবন। এই কাজ সে সারা জীবন করবে। তার মনমানসিকতা বদলেছে। সে আর সহজে ছাড় দেবে না।
মালিক-রাজনীতিবিদ-পুলিশ সবাইকে এটা উপলব্ধি করতে হবে।
----৫.----
‘ক্রসফায়ার’ দিয়ে যেমন অপরাধ দমন করা যায়নি বরং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যেমন ক্রমেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে গিয়ে ক্রমান্বয়ে ভাড়াটে বাহিনীতে পরিণত হচ্ছে, তেমনিভাবে শ্রমিকদের দাবিদাওয়াকে ‘বিদেশি ষড়যন্ত্র’, ‘দেশ অস্থিতিশীল করার চক্রান্ত’ ইত্যাদি ভাবে আখ্যায়িত করার নিবুুর্দ্ধিতায় লিপ্ত না হয়ে শোষণের মাত্রা কমাতে হবে। তিন হাজার টাকায় দু-চার মাস সময় হয়তো ‘কেনা’ যাবে। ওই পর্যন্তই।
বড় পোশাকশিল্প আছে অথচ মানি লন্ডারিং আইনে অপরাধী হবেন না, বুকে হাত দিয়ে কয়জন পোশাকশিল্পমালিক বলতে পারবেন। পারতেন, যদি আপনার শ্রমিককে জিজ্ঞাসা করতেন—একই বেলায় মাছ-মাংস দিয়ে পেটপুরে শেষবার কখন খেয়েছিলে মনে পড়ে কি?
আমার হিসাবে, কোরবানির ঈদ এখনো মাস চারেক দূরে। তিন হাজার টাকা মাস হিসাবে একজন হেলপার আগামী চার মাসে কয়বার মাংস দিয়ে ভাত খেয়ে তৃপ্তিতে ঢেঁকুর তুলতে পারবে।
যারা বলে, সংবিধানে ‘সমাজতন্ত্র’ শব্দটা রাখা যাবে না, তারা নাকি রাজনৈতিক নেতা।
শাহদীন মালিক: অ্যাডভোকেট, সুপ্রিম কোর্ট।

শবে বরাত সৌভাগ্য ও মুক্তির রজনী -ধর্ম by মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান

শবে বরাত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিশেষ তাৎপর্যময় রজনী। পরম সৌভাগ্যের রাত। শবে বরাত বা লাইলাতুল বরাত সৌভাগ্যের রজনী হিসেবে ব্যাপক পরিচিত। ‘শব’ ফার্সি শব্দ, এর অর্থ রজনী বা রাত্রি। ‘বরাত’ শব্দটির ব্যবহার ফার্সি ও আরবি উভয় ভাষাতেই রয়েছে। ফার্সিতে ‘বরাত’ শব্দের অর্থ ভাগ্য বা সৌভাগ্য, এদিক থেকে ফার্সি ভাষায় ‘শবে বরাত’ অর্থ ভাগ্যের রজনী বা সৌভাগ্যের রাত। শব্দটির অন্য অর্থও আছে। শবে বরাতকে আরবিতে ‘লাইলাতুল বারাআত’ নামে অভিহিত করা হয়। ‘লাইলাতুন’ একটি আরবি শব্দ, যার অর্থ রাত বা রজনী, আরবিতে ‘বারাআত’ শব্দের অর্থ মুক্তি, নাজাত, নিষ্কৃতি, দায়মুক্তি, অব্যাহতি প্রভৃতি। ‘লাইলাতুল বারাআত’ মানে মুক্তির রজনী বা নিষ্কৃতির রজনী। এ রাতে আল্লাহর খাঁটি বান্দারা মহান সৃষ্টিকর্তার কাছ থেকে মার্জনা লাভ করে থাকেন, তাই এ রাতকে ‘লাইলাতুল বারাআত’ বা শবে বরাত বলা হয়।
নবী করিম (সা.) এ রাত্রিকে ‘লাইলাতুন নিস্ফ মিন শাবান’ অর্থাৎ অর্ধ শাবানের রাত্রি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাই ইসলামের অনুসারীদের কাছে শাবান মাসের ১৪ তারিখের দিবাগত রাত তথা হাদিসের পরিভাষায় নিসেফ শাবানের রাত্রিটি অত্যন্ত বরকতময় ও মহিমান্বিত বলে বিবেচিত। আল্লাহ তাআলা মানবজাতির জন্য তাঁর অসীম রহমতের দরজা এ রাতে খুলে দেন। শবে বরাত পরম করুণাময়ের দরবারে নিজের সারা জীবনের দোষ-ত্রুটি, পাপকাজ ও অন্যায়ের জন্য ক্ষমা প্রার্থনার রাত। এ রাতে মনে-প্রাণে একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর ইবাদত-বন্দেগি করে স্রষ্টার কাছে নিজের গুনাহ ও অপরাধের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করলে তিনি তা কবুল করেন এবং অনুতপ্ত বান্দাকে পাপ থেকে মুক্তি দিয়ে তাকে মাফ করে দেন। এ কারণেই এ রাত মুক্তির রজনী বা নিষ্কৃতির রজনী।
শবে বরাতকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চারটি রজনীর অন্যতম বলে বিবেচনা করা হয়। কেননা, এ রাতে সর্বশক্তিমান আল্লাহ পরবর্তী বছরের জন্য বান্দার রিজিক নির্ধারণ করে সবার ভাগ্যলিপি লেখেন এবং বান্দার সব গুনাহ মাফ করে দেন। এ রাতের গুরুত্ব সম্পর্কে হাদিস শরিফে বলা হয়েছে, পরবর্তী বছরের যাবতীয় ফয়সালা হায়াত, মউত, রিজিক, দৌলত, আমল ইত্যাদির সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত আদেশ-নিষেধসমূহ উক্ত রাত্রিতে লওহে মাহফুজ থেকে উদ্ধৃত করে কার্যনির্বাহক ফেরেশতাদের কাছে সোপর্দ করা হয়। এ রাতে মানুষের ভালো-মন্দ কাজকর্মের হিসাব-নিকাশ আল্লাহর কাছে পেশ করা হয়। নবী করিম (সা.)-এর নির্দেশনা অনুযায়ী এ পবিত্র রাতে নফল ইবাদত-বন্দেগির মধ্যে নিমগ্ন থাকাই প্রতিটি ধর্মপ্রাণ মুসলমানের কাজ।
লাইলাতুল বরাতের ফজিলত সম্পর্কে বলা হয়েছে, বরকতময় এ রাতে মুমিন বান্দাদের প্রতি আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ বর্ষিত হয়। মানুষের আমলগুলো আল্লাহর দরবারে পেশ করা হয়। মানব জাতির আগামী এক বছরের রিজিক নির্ধারিত হয়। এ রাতেই পরবর্তী বছরের মৃত্যুবরণকারী এবং পরবর্তী বছরের জন্মগ্রহণকারী শিশুদের নাম তালিকাভুক্ত করা হয়। এ রাতে ২০ ধরনের বিশেষ অপরাধী ছাড়া বাকি সবাইকে ক্ষমা প্রদর্শন করা হয়। এ রাতে আল্লাহ তাআলা মাখলুকাতের দিকে বিশেষ রহমতের দৃষ্টিতে তাকান। বান্দাদের আকুতি-মিনতি, আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণেরও রাত্রি এটা। আল্লাহ তাআলা ক্ষমা প্রার্থনাকারীদের ক্ষমা করেন এবং বিপদগ্রস্তদের উত্তরণের পথ দেখান। এ জন্যই মুসলমানদের কাছে শবে বরাত বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এ বরকতময় রজনীতে কী কী ঘটে, এ প্রসঙ্গে হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে উল্লেখ আছে যে, রাসুলে করিম (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘হে আয়েশা! তুমি কি জানো মধ্য শাবানের রজনীতে কী হয়?’ তিনি প্রশ্ন করলেন, ‘ইয়া রাসুলুল্লাহ! এতে কী হয়?’ নবী করিম (সা.) বললেন, ‘এ রাতে লেখা হয় সেসব আদমসন্তানের কথা, যারা আগামী এক বছরে মৃত্যুবরণ করবে। এ রাতে বান্দার আমল ঊর্ধ্বজগতে উত্তোলিত হয় এবং বান্দার রিজিক নাজিল করা হয়।’ (বায়হাকি)
শবে বরাতের এ রাতে মাগরিবের সময় থেকে আল্লাহ তাআলা আসমানে অবস্থান করেন এবং ফজর পর্যন্ত তাঁর অশেষ রহমত বিতরণ করেন। আল্লাহ তাঁর বান্দাদের কাছে আহ্বান করেন, কোনো ক্ষমা প্রার্থনাকারী আছে কি? আমি তাকে ক্ষমা করে দেব। কোনো জীবিকার সন্ধানী আছে কি? আমি তাকে জীবিকা দান করব। আছে কি কোনো ব্যথিত, বিপদগ্রস্ত, নিষ্কৃতি লাভের প্রত্যাশী? আমি তাকে নিষ্কৃতিদান করব। এভাবে সব শ্রেণীর মুমিনের জন্য মহান প্রতিপালক তাঁর সাধারণ ক্ষমা ও দানের দুয়ার অবারিত করে দেন এ রাতে। মানবজীবনের এক একটি সংকটের কথা উল্লেখ করে তিনি তা দূর করে দেওয়ার আশ্বাস দেন। একজন মানুষের একেকটি আকাঙ্ক্ষার কথা উল্লেখ করে করে তা মঞ্জুর করিয়ে নেওয়ার জন্য ডাকেন। হজরত আলী (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে উল্লেখ আছে যে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যখন অর্ধ শাবানের রাত্রি আসে, তখন তোমরা রাত জেগে ইবাদত কর এবং পরের দিনটিতে রোজা রাখ। কেননা এ রাতে সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গে মহান আল্লাহ পৃথিবীর আকাশে অবতরণ করেন এবং বলতে থাকেন, কোনো ক্ষমাপ্রার্থী আছে কি? আমি তাকে ক্ষমা করব। কোনো রিজিকপ্রার্থী আছে কি? আমি তাকে রিজিক দান করব। কোনো বিপদগ্রস্ত আছে কি? আমি তাকে বিপদমুক্ত করব। আর সুবহে সাদেক পর্যন্ত এ ডাক অব্যাহত থাকে।’ (ইবনে মাজা)
রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজেও গভীর স্রষ্টাপ্রেম আর আকুতি নিয়ে এ রাতে শয্যা ত্যাগ করে ইবাদতে নিমগ্ন হতেন। একদা উম্মুল মুমিনিন হজরত আয়েশা (রা.)-এর ঘুমের ব্যাঘাত না ঘটিয়ে তিনি নীরবে জান্নাতুল বাকির নির্জন সমাধিস্থলে চলে গিয়েছিলেন। ক্ষমা, মুক্তি ও ভাগ্যের রজনী শবে বরাতে কোনো ধরাবাঁধা ইবাদত নেই। তবে বিশেষভাবে নবী করিম (সা.)-এর তিনটি আমলের কথা জানা যায়; ১. কবরস্থানে গমন এবং মৃত ব্যক্তিদের জন্য বিশেষভাবে দোয়া ও দান-খয়রাতের মাধ্যমে ইসালে সওয়াব। ২. যথাসাধ্য রাত্রি জাগরণ করে নফল নামাজ আদায়, পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত, নিজের পরিবার-পরিজন, আত্মীয়স্ব্বজন, পাড়া-প্রতিবেশী, বন্ধু-বান্ধবসহ মুসলমানদের জন্য কল্যাণ কামনা ও ক্ষমা প্রার্থনা ইত্যাদি। ৩. শবে বরাতে সেহরি খেয়ে পরবর্তী দিনটিতে রোজা রাখা। এগুলো অনুসরণ করা আমাদের জন্য সুন্নত এবং তা বরকতের বিশেষ উপায়।
শবে বরাতে করণীয় আমলের সঙ্গে কতগুলো বর্জনীয় বিষয়ও সম্পৃক্ত আছে। এসব অনৈসলামিক বিদাআত কার্যকলাপ বর্জন না করলে শবে বরাতের বরকত থেকে বঞ্চিত হতে হয়। তাই এ রাতে অপব্যয় না করে এবং অযথা আতশবাজিতে অনর্থক অর্থ অপচয় না করে মানবতার কল্যাণকর কাজে বা গরিব-মিসকিনের মাঝে দান করে দেওয়া অনেক সওয়াব ও বরকতের কাজ। প্রকৃতপক্ষে শবে বরাতের বৈশিষ্ট্য অনুষ্ঠানের আড়ম্বরতার মধ্যে নয়, বরং চরিত্রবলের সাধনার মাধ্যমে দয়াময়ের করুণা লাভের আন্তরিক প্রয়াসই এর অন্তর্নিহিত তাৎপর্য। এ রাতে অহেতুক আলোকসজ্জা করা, তারাবাতি জ্বালানো, আতশবাজি পোড়ানো, পটকা ফোটানো প্রভৃতি শরিয়ত গর্হিত কাজ। এতে ইবাদতে বিঘ্ন ঘটে। শিশু-কিশোর ও তরুণ-তরুণীদের এ বিষয়ে সতর্ক করা অবশ্যকর্তব্য। এ পবিত্র রজনীর দিকে লক্ষ রেখে শরিয়ত বিবর্জিত ও অনাহূত অর্থের অপচয় করে ইবাদত-বন্দেগিরত ধর্মপ্রাণ মানুষের আল্লাহর ধ্যানে বিঘ্ন না ঘটে, সেদিকে সবার দৃষ্টি রাখা উচিত।
একজন সজাগ মুমিন মুসলমানকেও শবে বরাতের সব ধরনের গর্হিত কুসংস্কার এড়িয়ে চলতে হয়, অন্যথায় লাভের বদলে লোকসানের আশঙ্কা দেখা দেয়। সাবধানতা অবলম্বনের বিশেষ দিকগুলোর অন্যতম এই যে, রাতভর ইবাদত-বন্দেগি করে যেন ফজর নামাজ বা ফজরের জামাত ছুটে না যায়। কারণ ফজরের নামাজ হচ্ছে ফরজ এবং তা জামাতে আদায় করা সুন্নতে মুয়াক্কাদা। পক্ষান্তরে শবে বরাতের অতিরিক্ত ইবাদত-বন্দেগি হচ্ছে নফল। তাই নফলের আবেগে ফরজ বা সুন্নতে মুয়াক্কাদা ছুটে যাওয়ার বিষয়টি মোটেই লাভজনক নয়। অতএব, শবে বরাতের ইবাদত প্রত্যেকের দৈহিক ও মানসিক সাধ্য অনুপাতে হতে হবে। আর ভোজন-বিলাসিতার অতিরিক্ত আয়োজনও শবে বরাতে কাম্য নয়। কারণ শবে বরাত ভোজের উৎসব নয়, বরং ইবাদতের রজনী। পুণ্যময় এ রজনীর আলোকমালায় সবার অন্তর হোক উদ্ভাসিত, দূর হোক কালিমা, সুখ-সমৃদ্ধি আসুক দেশের প্রতিটি ঘরে, এ রাত্রি সমগ্র জাতির জন্য কল্যাণ বয়ে আনুক—স্রষ্টার কাছে কায়মনোবাক্যে এটাই হোক প্রার্থনা!
ড. মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান: সহকারী অধ্যাপক, ইসলামিক একাডেমী, দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়। পরিচালক, ইনস্টিটিউট অব হজরত মুহাম্মদ (সা.)।
dr.munimkhan@yahoo.com

দেশীয় অস্ত্রের ঠাট by সৈয়দ আবুল মকসুদ

জসীমউদ্দীনের অবিস্মরণীয় কীর্তি—তাঁর দুটি কাব্যগ্রন্থ: নকশী কাঁথার মাঠ ও সোজন বাদিয়ার ঘাট। আজ যদি কবি বেঁচে থাকতেন তাহলে তাঁর কোনো কবিতার বইয়ের নামকরণ হতো: ‘দেশীয় অস্ত্রের ঠাট’। জসীমউদ্দীন যদিও পল্লির মানুষের কবি, সাজু ও রূপাদের প্রেম-পিরিতের কথাই যে শুধু লিখেছেন তাই নয়, মাথা-ফাটাফাটির কথাও আছে তাঁর কবিতায়। রূপার জবানীতে তাই আমরা শুনি: ‘লড়ায়ে আজিকে কত মাথা আমি ভাঙিয়াছি দুই হাতে/ আগে বুঝি নাই তোমার মাথার সিঁদুর ভেঙেছে তাতে।’
পত্রিকার ছবিটির ওপর চোখ পড়তেই আমি ভেবেছিলাম, আমার বন্ধু জনপ্রিয় নাট্যকার ও নাট্যশিল্পী মামুনুর রশীদ বা প্রয়াত বন্ধু সেলিম আল দীনের কোনো পথনাটকের দৃশ্য। সমকাল-এর শিরোনাম: ‘যেন যুদ্ধের ময়দান! সাজেদা পুত্রকে ঠেকানোর প্রস্তুতি’। তবে আল্লাহর অশেষ রহমতে কারও মাথা ফাটেনি। সড়কি ও বল্লমের আঘাতে কারও শরীর এফোঁড়-ওফোঁড় হয়নি। কোনো নারীর মাথার সিঁদুর মোছার মতো ঘটনা ঘটেনি। ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালের শয্যাগুলো ও মেঝে-বারান্দা ভরে যায়নি আহতে। মফঃস্বল হাসপাতালের স্টোরে যেটুকু ব্যান্ডেজের কাপড়, গজ, তুলা ও কাটগাট ছিল তাতে কুলাতো না। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ওগুলো রয়ে গেল অদূর ভবিষ্যতের জন্য।
শুক্রবারের পত্রিকায় লেখা হয়: ‘রাজবাড়ী রাস্তার মোড় ও চুঙ্গির মোড়সহ ফরিদপুর শহরের বিভিন্ন পয়েন্ট বৃহস্পতিবার যেন যুদ্ধের ময়দানে পরিণত হয়। জেলা আওয়ামী লীগের দুগ্রুপের দ্বন্দ্বের জের ধরে এ ঘটনা ঘটে। সংসদ উপনেতা সাজেদা চৌধুরীর ছেলে আয়মন আকবর বাবলুর ফরিদপুর আগমন ঠেকাতে শ্রমমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সমর্থকেরা সড়কি, দা, বল্লম, ঢালসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলে।’ [সমকাল]
শনিবারের কাগজে যে খবর বেরোয়, তা পড়ে দেশের মানুষ স্বস্তির নিঃশ্বাস ছাড়ে। প্রতিবেদনে বলা হয়: ‘জাতীয় সংসদের উপনেতা সাজেদা চৌধুরীর ছেলে আয়মন আকবরের ফরিদপুরে আগমন ঠেকাতে গত বৃহস্পতিবার শ্রমমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সমর্থকেরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে প্রতিরোধ গড়েছিলেন। ওই দিন আর আয়মন ফরিদপুরে আসেননি। তবে গতকাল শুক্রবার এসেছিলেন। সঙ্গে ছিলেন মা সাজেদা চৌধুরী।...দুই শতাধিক মাইক্রোবাস ও মোটরসাইকেলের বহর রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া ঘাটে সাজেদা ও আয়মনকে স্বাগত জানায়। পরে তাঁরা মোটর শোভাযাত্রা করে মা ও ছেলেকে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় নিয়ে আসেন।...ডাকবাংলোতে দুপুরের খাবার শেষ করে আয়মন আকবরসহ ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন সাজেদা।’ [প্রথম আলো]
পশ্চিমী প্রভু দেশগুলোর বিশেষ করে, আমেরিকা ও ইসরায়েলের তৈরি অস্ত্রেরই কদর আজ বিশ্বব্যাপী। আল-কায়েদা হোক অথবা তালেবান হোক বা মাওবাদী হোক—সবার কাছেই এখন আমেরিকার তৈরি অস্ত্র। অস্ত্র বিক্রি করেই আমেরিকা একমাত্র পরাশক্তি, ইসরায়েল ডেপুটি সুপার পাওয়ার। আমাদের দেশেও অস্ত্রের ব্যবহার আছে। প্রয়োজনে বিএনপি আমেরিকার অস্ত্রকেই অগ্রাধিকার দেবে। জামায়াত ও জেএমবি মধ্যযুগীয় অস্ত্র যেমন তলোয়ার, খঞ্জর, নেজা প্রভৃতি। বাঙালি জাতীয়তাবাদী আওয়ামী লীগ যে দেশি অস্ত্রকেই প্রাধান্য দিচ্ছে, তা প্রশংসনীয়। সড়কি, বল্লম, চাপাতি, রামদা প্রভৃতি আবহমান বাংলার অস্ত্র। ধারণা করি, জেএমবি কস্মিনকালেও রামদা ব্যবহার করবে না, কারণ ওতে হিন্দুয়ানি গন্ধ আছে। তারা তলোয়ার—তাতে আছে ধর্মীয় জোশ। আমাদের চিনি, পেঁয়াজ, ডাল, আলু আমদানি করতে হচ্ছে, কিন্তু সুখের বিষয়, দেশীয় অস্ত্রে আজ আমরা আত্মনির্ভরশীল। দেশব্যাপী কামারের হাপরগুলোতে আজ দিনরাত জ্বলছে আগুন। তৈরি হচ্ছে চাপাতি, রামদা, বল্লম, সড়কি প্রভৃতি।
তবে বাংলাদেশে সব মানুষের অস্ত্র এস্তেমালের অধিকার নেই। বাঘাইছড়ি থেকে পুড়িয়ে দেওয়া বাড়িঘর দেখে আমরা ফিরছিলাম খাগড়াছড়ি। পঙ্কজ ভট্টাচার্য, সারা হোসেন, সৌরভ সিকদার, রোবায়েত ফেরদৌস, আমি ও মিডিয়ার লোকজন। পথে এক চামকা বৃদ্ধা আমাদের গাড়ির সামনে এসে বিলাপ করতে লাগলেন। দুই দিন আগে তাঁর ছেলেকে নিরাপত্তা বাহিনীর লোকেরা ধরে নিয়ে গেছে। তাঁর কান্না দেখে গেলাম সেনাবাহিনীর ক্যাম্পে। সেনা কর্মকর্তা খুবই সৌজন্যমূলক ব্যবহার করলেন। বললাম, ছেলেটিকে আটক করেছেন কোন অপরাধে? তিনি বললেন, সে সন্ধ্যাবেলা অস্ত্র হাতে পাহাড়ে খাড়িতে বসে ছিল। বললাম, অস্ত্রটা কী? তিনি বারান্দায় আমাদের নিয়ে গেলেন। সেখানে একটি টেবিলের ওপর প্রদর্শিত হয়েছিল অস্ত্রটি: একটি পাখি মারার গুলতি ও মার্বেলের মতো মাটির তৈরি কয়েকটি গুলি। অফিসার আমাদের খাওয়াদাওয়ার জন্য পীড়াপীড়ি করছিলেন। বললাম, খাওয়া লাগবে না। ওকে তাড়াতাড়ি ছেড়ে দিন। ওর মা পাগল হয়ে গেছে।
অনুমান করছি, চুঙ্গির মোড়ে যারা বিপুল অস্ত্র নিয়ে মহড়া দিয়েছে, তারা সবাই এখন হাজতে আছে। গুলতির চেয়ে তাদের অস্ত্র বেশি ভয়াবহ। যদি এখনো তারা বহাল তবিয়তে থেকে থাকে, তা হলে বুঝব এই দেশে দুই রকম মানুষ আছে: একশ্রেণী অস্ত্র ব্যবহারের অধিকার রাখে; আর একশ্রেণী ওই চাকমা ছেলেটি, যার হাতে গুলতি থাকলেই বিরাট অপরাধ।
সৈয়দ আবুল মকসুুদ: গবেষক, প্রাবন্ধিক ও কলাম লেখক।

ক্ষমতা কীভাবে মানুষকে বিচ্ছিন্ন করে by আনিসুল হক

একটা মজার লেখা পেয়েছি দি আটলান্টিক নামের অন্তর্জাল পত্রিকার ডেইলি ডিশ সংস্করণে। জোনাহ লেহরার নামের একজন বিখ্যাত আমেরিকান মনোবিজ্ঞান-লেখক জানাচ্ছেন, ক্ষমতা কীভাবে মানুষকে দূষিত করে। তাঁর মতে, আমরা যখন সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ি, তখন আর দশজন মানুষের অনুভূতিগুলো উপলব্ধি করা বন্ধ করে দিই। ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞানী ড্যাচার কেল্টনার গবেষণা করে বের করেছেন, ‘বহু ক্ষেত্রে ক্ষমতাবান মানুষেরা মস্তিষ্কে গুরুতর আঘাত-পাওয়া মানুষদের মতো ব্যবহার করতে শুরু করেন। ক্ষমতাবান মানুষদের আচরণ এমন হয়, যেন কেউ তাঁদের মাথা খুলে মগজের সেই অংশ সরিয়ে নিয়েছে, যা একজন মানুষের সহানুভূতি ও সঠিক আচরণের জন্য জরুরি। তখন আপনি খ্যাপাটে ও সংবেদনহীন আচরণ করতে থাকবেন।’
জোনাহ লেহরার বলছেন, ‘ক্ষমতা মানুষকে দেয় অর্থকড়ি। তার তখন আলাদা গাড়িচালক থাকে, তিনি তখন আলাদা রেস্তোরাঁয় খান, আর তিনি বিমানে ভিড় এড়িয়ে আলাদাভাবে গিয়ে সবার আগে বসেন। এরা কোনো কাজেরই না। এই কারণেই প্রেসিডেন্ট ওবামা সর্বদা চেষ্টা করেন যেন তিনি বিচ্ছিন্ন হয়ে না পড়েন, যেন চারপাশের খবর তাঁর জানা থাকে, তাই তিনি প্রতিদিন অন্তত ১০টা চিঠি পড়েন, যেগুলো আসে তাঁর নিজের নির্বাচনী এলাকা থেকে আর চেষ্টা করেন যত বেশিসংখ্যক ব্লগ অনুসরণ করতে।’
২. বাংলাদেশ একটা গণতান্ত্রিক দেশ, এই দেশে আছে সংসদীয় গণতন্ত্র, আছে মন্ত্রিপরিষদচালিত সরকার, কিন্তু আমরা সবাই জানি, এটা আসলে চলছে রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকারের আদলে, শুধু রাষ্ট্রপতির জায়গায় প্রধানমন্ত্রী চালাচ্ছেন সরকার। আগে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হতেন সরাসরি জনগণের ভোটে, আর এখন প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের সংসদ সদস্যদের দ্বারা নির্বাচিত একজন সংসদ সদস্য।
মন্ত্রিপরিষদ সম্মিলিতভাবে দেশ চালাচ্ছে, আর মন্ত্রীদের সঙ্গে যোগাযোগ আছে জনগণের, তাঁরা জবাবদিহি করছেন সংসদের কাছে, আর দলের কাছে, আর প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে জনগণের কাছে—এটা হওয়া উচিত আদর্শ। জবাবদিহিটাও আসল নয়, আসল হলো জনগণের চাওয়া-পাওয়াটা উপলব্ধি করা, জনগণের মনের খবরটা পড়তে পারা। এই কাজটা, আমাদের মতো কলামলেখকদের চেয়েও অনেক ভালোভাবে পারেন রাজনীতিবিদেরা, জনঘনিষ্ঠ রাজনীতিকেরা। এবং আমাদের চেয়ে অনেক ভালোভাবে পারে আওয়ামী লীগ, টেবিলের তর্কে এটা আমি সব সময় বলে এসেছি।
আওয়ামী লীগ, তার নামের মধ্যেই আছে আম শব্দটা, যার মানে জনগণ, জনগণেরই দল ছিল চিরটাকাল—সেই পাকিস্তান গঠনের পর থেকেই, যেদিন আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠিত হয়েছিল, সেদিন থেকেই। মুসলিম লীগ ছিল অভিজাত বা আশরাফদের দল, তার বিপরীতে ভাসানী, সোহরাওয়ার্দী, আতাউর রহমান খান, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রমুখ যে দলটি গঠন করেন, তা ছিল বাংলাদেশের কৃষকদের দল, বাংলাদেশের মানুষের নাড়ি বোঝার এক অসাধারণ ক্ষমতা ছিল এই দলের, একই ক্ষমতা ছিল এই দলের তখনকার তরুণ নেতা, পরবর্তীকালে আমাদের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের।
বঙ্গবন্ধুর জনসম্পৃক্ততার কোনো তুলনা ছিল না। অসাধারণ ছিল তাঁর স্মৃতিশক্তি, একজন মানুষের সঙ্গে একবার পরিচয় হলে তার নাম ভুলতেন না, যেখানেই দেখা হতো, নাম ধরে ডেকে উঠতেন আর তাকে বুকে জড়িয়ে ধরতেন। বঙ্গবন্ধু তখন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। যুব ইউনিয়নের দুই নেতা গেছেন তাঁর ৩২ নম্বরের বাড়িতে। কী রে, তোরা কী চাস। বঙ্গবন্ধু, পাসপোর্ট লাগবে। দরখাস্ত এনেছিস? দে। তারা দরখাস্ত এগিয়ে দিলেন, বঙ্গবন্ধু তাতে লিখে দিলেন, পাসপোর্ট দেওয়া হোক। তারপর বললেন, তোরা আমার সঙ্গে গাড়িতে ওঠ। তাঁরা গাড়িতে উঠলেন এ দেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে। গাড়ি ৩২ নম্বর থেকে বেরিয়ে এলিফ্যান্ট রোড ধরে চলছে বঙ্গভবনের দিকে। এলিফ্যান্ট রোডের ট্রাফিক সিগনালে গাড়ি থামল। রাস্তার ভিক্ষুকেরা জানে, রোজ এই পথ দিয়ে বঙ্গবন্ধু যান। মোড়ে লালবাতি জ্বললে গাড়ি দাঁড়ায়। তারা বঙ্গবন্ধুর গাড়ি দেখলেই ছুটে যায়। বঙ্গবন্ধু গাড়িতে তাই রাখেন খুচরো টাকা। হাত বাড়িয়ে ভিক্ষুকদের টাকা দেন। হায়, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। এই ছিল তাঁর নিরাপত্তা আর প্রটোকল।
সেই বঙ্গবন্ধুও ক্রমাগতভাবে নিঃসঙ্গ ও বিচ্ছিন্ন হতে থাকেন।
সেখান থেকে আজকের প্রধানমন্ত্রী। মধ্যখানে অনেক বছর চলে গেছে। এখন প্রধানমন্ত্রীর কাছে কোনো ভিক্ষুক তো ভিক্ষুক, কোনো নেতা-কর্মীর পক্ষে ঘেঁষাও কঠিন।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশেই দেশ চলছে। তিনি দেশের খবর পাচ্ছেন কী করে? তাঁর অফিস আছে। তাঁকে খবর দেওয়ার পদ্ধতি আছে, নিয়ম আছে। সকালবেলাই তাঁর টেবিলে খবরের কাগজের চুম্বক অংশ, বিভিন্ন সংস্থার দেওয়া প্রতিবেদন, প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় যাচাই-বাছাই করা সংবাদ পৌঁছে যায়।
কিন্তু এই সংস্থাগুলো কি দেশের মানুষের মনের খবরটা দেশের সবচেয়ে ক্ষমতাশালী মানুষটার কান পর্যন্ত পৌঁছাতে দেয়? তারা কি সঠিক খবর দেয়? নাকি সেই খবরগুলোই দেয়, যা শুনলে কর্তা খুশি হবেন, তাঁর দিবসের প্রথম প্রহরটা ভালো যাবে?
এই সংস্থাগুলোর সংগৃহীত সংবাদ কি জনমতের প্রকৃত প্রতিফলন ঘটায়? আমরা জানি, ১৯৭০ সালের নির্বাচনের আগে ইয়াহিয়া খান সরকারের কাছে খবর দেওয়া হয়েছিল, আওয়ামী লীগ দুই প্রদেশ মিলে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে না। আমরা জানি, ২০০১-এর নির্বাচনের আগে শেখ হাসিনার সরকারের কাছে খবর দেওয়া হয়েছিল, নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিপুল ব্যবধানে জয়লাভ করতে যাচ্ছে। দুটো খবরের কোনোটাই ঠিক ছিল না।
আমি মোটামুটি একজন বিবরবাসী লেখক। দেশের সাধারণ মানুষ, কৃষক-শ্রমিক, গরিব মানুষ, প্রান্তিক মানুষের সঙ্গে আমার কোনো যোগাযোগ নেই। শুধু এক ধরনের যোগাযোগ আছে স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে, তরুণদের সঙ্গে। গল্প-উপন্যাস, টিভি-নাটক ইত্যাদি লেখার কারণে তাদের মনোভাবটা আমাদের যেমন বুঝতে হয়, তাদের মন তৈরিতেও গণমাধ্যমকর্মীদের একজন হিসেবে আমারও হয়তো ভূমিকা আছে। সেই অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, দেড় বছর আগের নির্বাচনে তরুণেরা ব্যাপকভাবে ভোট দিয়েছিল পরিবর্তনের পক্ষে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষে, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের পক্ষে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে, পরিবারতন্ত্রের বিরুদ্ধে, সন্ত্রাস-সাম্প্রদায়িকতা-জঙ্গিবাদের বিপক্ষে। কাজেই আজ যদি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করা হয়, আর সেটা যদি আন্তর্জাতিক মানের হয়, তাহলে দেশের বেশির ভাগ মানুষ, বিশেষ করে তরুণ-তরুণীরা সেটাকে সমর্থন দেবে। যেমন—এক ঐতিহাসিক মতৈক্য হয়েছিল বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার চূড়ান্ত রায়ের দিন, সব গণমাধ্যম একযোগে সেই রায়ের পক্ষে, ন্যায়বিচারের পক্ষে অনন্যসাধারণ সমর্থন ব্যক্ত করেছিল। বিচারপদ্ধতিতে ত্রুটি না থাকলে এবং অপরাধীদের সাজা পেতে দেখলে বেশির ভাগ মানুষ সন্তুষ্টই হবে। অপরদিকে, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ফলকে যতই মহিউদ্দিন চৌধুরীর ব্যক্তিগত পরাজয় বলে আমরা বিবেচনা করি না কেন, তার মাধ্যমে একটা বার্তা কিন্তু স্পষ্টতই ঘোষিত হয়েছে, এই দেশের ভোটারদের মনটা সাদা কাগজের মতো পরিষ্কার—তুমি সুশাসন দাও তো সমর্থন পাবে, না দিলে পাবে না। ‘ইসলাম গেল’ কি ‘ভারত এল’ বলেও ভোট পাওয়া যাবে না, আবার যুদ্ধাপরাধীরা ওদের সঙ্গে আছে বলেই ভোট পাওয়া থেকে ওদের বিরত রাখা যাবে না।
এখানে আসে জনগণের চাওয়াটা পূরণ করার প্রসঙ্গ। সেটা করতে পারতেই হবে। আর তা করতে হলে জনগণ কী চায়, সেটা জানতে হবে। সেটা করতে হলে সরকার ও সরকারপ্রধানের জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে হবে। প্রেসিডেন্ট ওবামা যদি রোজ সরাসরি সাধারণ নাগরিকের ১০টা চিঠি পড়তে পারেন, ইন্টারনেটে সাধারণ নাগরিকের ব্লগ পড়তে পারেন, আমাদের নেতারা কেন জনগণের সঙ্গে সংযোগ বাড়াবেন না?
রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকারের রাষ্ট্রপ্রধানের মতো প্রধানমন্ত্রীর যে একচ্ছত্র ক্ষমতা সেটা বদলে ব্যাপারটাকে আরও বেশি বহুবাচনিক করে তোলার কথাটা তাই সামনে আসছে, বিশেষ করে যখন সংবিধান বিষয়ে কমিটি গঠিত হয়েছে। সেটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ প্রসঙ্গ। কিন্তু আরেকটা প্রসঙ্গ বিবেচনায় নিতে বলি, যা ঠিক কাগুজে নয়, বাস্তবিক। সরকার ও সরকারপ্রধান কি তাঁর নিঃসঙ্গতা ও বিচ্ছিন্নতা ঘোচানোর জন্য সচেষ্ট থাকতে পারেন না? অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত, আমরা শুনতে পাই, দলের শীর্ষ নেতাদের, প্রধান নেতাদের অগোচরে নেওয়া হচ্ছে। মন্ত্রিপরিষদ জানে না অনেক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত কোত্থেকে আসছে। আবার দল জানে না, মন্ত্রিপরিষদ এই সিদ্ধান্ত কেন নিচ্ছে।
আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, যিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের কন্যা, পিতার অনেক ভালো, মানবিক গুণ লাভ করেছেন। নিমতলী দুর্ঘটনায় স্বজনহারা কন্যাদের নিজের মেয়ে হিসেবে যখন তিনি বরণ করে নেন, সেটা কেবল লোক-দেখানো নয়, এই পরার্থপরতা, এই মানবিকতা তার রক্তের মধ্যে নিহিত আছে বলেই আমরা বিশ্বাস করি। কিন্তু শুধু ছোটখাটো মানবিক বিষয়ে নয়, বড় বড় জাতীয়, আন্তর্জাতিক বা রাজনৈতিক সিদ্ধান্তগুলো গ্রহণের জন্য তিনি কি তাঁর পরিধিটা বাড়িয়ে নিতে পারেন না?
বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ, আইনবিদ, রাষ্ট্রচিন্তাবিদ, সাংবাদিক-সম্পাদক, লেখক, বুদ্ধিজীবী, শিল্পী, খেলোয়াড়, প্রযুক্তিবিদ—এরা স্বভাবতই মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে ও মুক্তবুদ্ধির পক্ষে। ক্ষমতায় যাওয়ার পরে এদের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি করা, এদের সক্ষমতাকে কাজে লাগানোর তেমন কোনো উদ্যোগ ক্ষমতাকেন্দ্র থেকে নেওয়া হয়েছে বলে মনে হয় না। এমনকি আওয়ামী লীগের নিজের দলের মধ্যেই অনেক যোগ্য দক্ষ নেতা আছেন, কর্মী আছেন। আগে দেখা যেত, আমলারা নেতাদের চেয়ে ভালো বলেন, ভালো কাজ করেন, কিন্তু বিভিন্ন সভা-সেমিনারে আন্তর্জাতিক সভায় দেখছি, আমলাদের চেয়ে ভালো কথা বলেন আওয়ামী লীগের অনেক নেতা এবং কথা শুনে স্পষ্ট বোঝা যায়, ব্যাপারটা তাঁরা বেশ ভালো বোঝেন। আওয়ামী লীগের নিজের এই সম্পদটাই কি সরকার দেশের কল্যাণে ঠিকভাবে ব্যবহার করছে?
সংবিধান সংশোধিত হয়ে আরও গণতান্ত্রিক, আরও আধুনিক আরও ভবিষ্যৎমুখী হোক। যারা বাড়ি থেকে চোখ বেঁধে পিঠমোড়া করে হাত বেঁধে নিয়ে গেছে শহীদুল্লাহ কায়সার, মুনীর চৌধুরী, সিরাজউদ্দীন হোসেন, সেলিনা পারভীন, ফজলে রাব্বি প্রমুখকে, তাদের বিচার হোক—দেশের মানুষ ন্যায়বিচারের পক্ষে থাকবে। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, ছাত্রলীগ প্রভৃতির টেন্ডারবাজি-চাঁদাবাজি-নৈরাজ্য বন্ধ, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, বিদ্যুৎ-গ্যাস-পানি সমস্যার সমাধান, যোগাযোগব্যবস্থার অধুনায়ন, শিক্ষাঙ্গনে শিল্পাঙ্গনে অফিসে আদালতে কাজের উপযুক্ত পরিবেশ বজায় রাখা, কর্মসংস্থান—এই কাজগুলোও করতে হবে দক্ষতার সঙ্গে। গত নির্বাচনে একটা প্রধান বিবেচ্য বিষয় ছিল দুর্নীতি, পরিবারকরণ, দলীয়করণ। সরকার কেন মন্ত্রী-এমপিদের সম্পদের হিসাব প্রকাশ করছে না? মন্ত্রিপরিষদের কাজের একটা মধ্যবর্তী মূল্যায়নও হওয়া উচিত। দুর্নীতি দুর্বৃত্তায়নকে নির্মূল করার চেষ্টা করা উচিত কঠোরতার সঙ্গে।
কাজগুলো কঠিন। এই ধরনের উদ্যোগ ক্ষমতাকেন্দ্রকে আরও নিঃসঙ্গও করতে পারে। কিন্তু প্লুরালিজম, সবাই মিলে চলা—দল, সংসদ, মন্ত্রিপরিষদ, নির্দলীয় বিশেষজ্ঞ, বিরোধী দল, নাগরিকসমাজ, জনগণ—সবাইকে দেশ গড়ার কর্মযজ্ঞে শামিল করতে পারলেই না ক্ষমতাকেন্দ্রের নিঃসঙ্গতা ও বিচ্ছিন্নতার ঝুঁকি হ্রাস পাবে। সেটা গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকেও নিষ্ক্রিয় করতে সাহায্য করবে।
আর বলি, বিরোধী দলকে কথা বলতে দিন। বিরোধী মতকে প্রকাশিত হতে দিন। আমি তার কথার সঙ্গে একমত হতে না পারি, কিন্তু আমি তার মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য জীবন দিয়ে দেব—এই আপ্তবাক্য কেবল একটা অবাস্তব আদর্শবচন নয়, বাস্তবে এর প্রয়োগ গণতন্ত্রকে সুসংহত করে, দেশকে সুন্দর করে। মনে রাখা দরকার, বিরোধী মত প্রকাশিত হতে না পারলে তা কেবল সরকারের জন্য বিচ্ছিন্নতা তৈরি করে না, সেটা প্রকাশের জন্য চোরাগোপ্তা পথ খোঁজে, যা জঙ্গিবাদ ও অগণতান্ত্রিক শক্তিকে উৎসাহিত করে। গণতন্ত্র মানে কেবল সংখ্যাগরিষ্ঠের শাসন নয়, সংখ্যালঘু, সে যদি একজনও হয়, তার মতকে, তার অবস্থানকে সম্মান করাটাও গণতন্ত্র।
আনিসুল হক: সাহিত্যিক ও সাংবাদিক।

শেয়ারবাজারে বড় দরপতনে আতঙ্ক -নিয়ন্ত্রকদের অস্থিরতা অগ্রহণযোগ্য, বিনিয়োগকারীর সতর্কতা জরুরি

শেয়ারবাজারে দর বাড়া ও কমা দুটোই স্বাভাবিক ঘটনা। তবে ক্রমাগত দাম বাড়তে থাকা যেমন ঝুঁকিপূর্ণ, তেমনি হঠাৎ ব্যাপকভাবে দরপতনও কাম্য নয়; বিশেষ করে এই দরপতন যদি হয় পুঁজিবাজারসংক্রান্ত নীতিতে ঘন ঘন পরিবর্তনের কারণে। গত রোববার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সাধারণ মূল্যসূচকের ১৪ বছরের মধ্যে এক দিনে সর্বোচ্চ পতন ঘটেছে। এর পেছনে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) দ্রুত নীতি পরিবর্তনই দায়ী। এটা ঠিক যে শেয়ারবাজার যেভাবে বেড়ে চলছিল, তাতে ঝুঁকির মাত্রাও বেড়ে যাচ্ছিল। কিন্তু বাজারের গতিতে লাগাম টানার জন্য এসইসির পরিকল্পিত পদক্ষেপ সেভাবে লক্ষ করা যায়নি। সর্বশেষ গত বুধবার ব্রোকারেজ হাউস থেকে ঋণ গ্রহণের নতুন সীমা নির্ধারণ করে তা ৩১ আগস্টের মধ্যে সমন্বয়ের নির্দেশ জারি করে এসইসি। রোববার বাজারে বিরাট দরপতনের পর এই সময় বাড়িয়ে ৩০ সেপ্টেম্বর করা হলো।
বস্তুত, এসইসির কর্মকাণ্ড অনেক দিন ধরেই প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। এই নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির দক্ষতা ও যোগ্যতা নিয়ে বারবার কথা উঠছে। কিন্তু সরকারের সেদিকে মনোযোগ আছে বলে মনে হয় না। ফলে বাজারে ফাটকাবাজিমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করা দূরে থাক, এসইসির বিভিন্ন পদক্ষেপ তা আরও উসকে দিচ্ছে। মাঝখান থেকে ক্ষুদ্র ও সাধারণ বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সবচেয়ে বেশি। যেসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান কোটি কোটি টাকা নিয়ে বাজারে এসেছে ও মুনাফা করছে, তাদের সঙ্গে কয়েক লাখ টাকা নিয়ে কিছু প্রাপ্তির আশায় বিনিয়োগ যারা করেছে, তারা কখনোই পেরে উঠবে না। তা ছাড়া দেশের শেয়ারবাজারের সঙ্গে এখন লাখ লাখ মানুষ বিভিন্নভাবে যুক্ত হয়ে পড়েছে। তাদের অনেকেরই নিয়মিত আয়-উপার্জনের প্রধান উৎসও হয়ে উঠেছে শেয়ারবাজার। এই বাস্তবতায় বাজারসংশ্লিষ্ট যেকোনো পদক্ষেপই সতর্কতার সঙ্গে নেওয়া প্রয়োজন।
পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের, বিশেষত ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদেরও এটা বুঝতে হবে যে শেয়ারবাজার অন্তর্নিহিতভাবে কিছুটা ফাটকামূলক। এখানে লাভ ও লোকসান দুটোরই সমান সম্ভাবনা আছে। কাজেই শুধু লাভ হবে ভেবে বিনিয়োগ করতে থাকলে তার মাশুল গুনতেই হবে। লোকসানের ঝুঁকির কথা মাথায় রাখতে হবে। বিভিন্ন সময়ে নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে যেসব সংকেত দেওয়া হচ্ছে, তাও বিবেচনায় নিতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক গত সপ্তাহে ঘোষিত ষাণ্মাসিক মুদ্রানীতিতে স্পষ্টভাবেই পুঁজিবাজারের ঝুঁকির মাত্রা সম্পর্কে সতর্কবার্তা দিয়েছে। পুঁজিবাজারে যেসব ব্যাংক নির্ধারিত সীমার অতিরিক্ত বিনিয়োগ করেছে, তাদেরও কারণ দর্শাতে বলেছে। আপাতদৃষ্টিতে এগুলো বাজারবিরোধী পদক্ষেপ মনে হলেও দীর্ঘ মেয়াদে বাজারের সুস্থিরতার স্বার্থের সঙ্গে সাযুজ্যপূর্ণ। সময় সময় মূল্য সংশোধনও বিনিয়োগকারীর জন্য প্রয়োজনীয়।

পবিত্র শবে বরাত -আগামী দিনগুলো মঙ্গলময় হয়ে উঠুক এই রাতের কল্যাণে

আজ পবিত্র শবে বরাত। মুসলমান সম্প্রদায়ের কাছে এটি ভাগ্য নির্ধারণের রাত। বরকতময় এই রাতে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের প্রতি আল্লাহর অশেষ রহমত ও দয়া বর্ষিত হয়। এই রাতে ক্ষমাপ্রার্থনার মাধ্যমে ভবিষ্যতে পরিশুদ্ধ জীবনযাপনের জন্য আল্লাহর অনুগ্রহ লাভ করা যায়। পুণ্যময় এই রাত মুসলমান সম্প্রদায়ের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
ইসলাম ধর্মে শবে বরাতকে চারটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রজনীর অন্যতম হিসেবে বিবেচনা করা হয়ে থাকে। এ রাতে আল্লাহ পরবর্তী বছরের জন্য মানবজাতির রিজিক নির্ধারণ করে সবার ভাগ্য নির্ধারণ করেন ও ধর্মপ্রাণদের সব পাপ ক্ষমা করে দেন। এই রাতেই যারা পরবর্তী বছরে জন্মগ্রহণ ও মৃত্যুবরণ করবে, তাদের তালিকা করা হয়। এ কারণেই রাতটি মুসলমানদের কাছে ভাগ্য নির্ধারণের রজনী হিসেবে বিবেচিত। এ রাতে মুসলমানরা আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করবে, যারা রিজিক অনুসন্ধানকারী, তারা প্রার্থনা করবে রিজিকের জন্য। বিপদ থেকে উদ্ধার পাওয়ার জন্য প্রার্থনা করবে বিপদগ্রস্ত মানুষ। ইসলামের নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) এই রাতে নফল ইবাদত-বন্দেগির মধ্যে নিমগ্ন থাকার জন্য মুসলমানদের নির্দেশনা দিয়ে গেছেন। এই রাতে আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের জন্য উন্মুক্ত করে দেন রহমত ও দয়ার ভান্ডার। তাই মুসলমান সম্প্রদায়ের কাছে এটি উৎসবের রাতও।
ধর্মীয় দিকের পাশাপাশি ঐতিহ্যগতভাবে এ উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেয় মুসলমান সম্প্রদায়। মুসলমানরা তাদের সাধ্যমতো ভালো খাবার তৈরি করে এই রাত সামনে রেখে। প্রতিবেশী, আত্মীয়স্বজন ও দরিদ্রদের মধ্যে খাবার বিতরণের মাধ্যমে এ আনন্দটুকু ভাগ করে নেওয়া হয়। পবিত্র শবে বরাত পালনের এটাও একটা বিশেষ দিক। তবে ভালো খাবারদাবারের এ আয়োজন কারও কারও কাছে লোক দেখানো বিষয়ে পরিণত হয়েছে, যা শবে বরাতের চেতনার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়। লোক দেখানো এসব আয়োজনের চেয়ে পবিত্র এই উপলক্ষকে সুযোগ হিসেবে নিয়ে গরিব-দুঃখীদের দান-খয়রাত করা ও তাদের জন্য কিছু ভালো খাবারের ব্যবস্থা করা ইসলামের শিক্ষার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ।
ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ পবিত্র এই রাতে পটকা ও আতশবাজি পোড়ানোর যে রেওয়াজ একসময় গড়ে উঠেছিল, তা এখন আর নেই। তবে এ ধরনের কাজ একেবারে বন্ধ হয়েছে, এমনটি বলা যাবে না। পটকা বা আতশবাজি পোড়ানোর বিষয়টি এই রাতের পবিত্রতা ও ভাবগাম্ভীর্যকে যেমন নষ্ট করে, তেমনি যাঁরা রাতব্যাপী প্রার্থনায় মগ্ন থাকেন তাঁদের ইবাদত-বন্দেগিতে চরম ব্যাঘাত ঘটায়। পরিবারের ছোটরা যাতে এ ধরনের কাজ করতে না পারে, সে ব্যাপারে অভিভাবকদের যেমন সচেতন থাকতে হবে, তেমনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকেও সজাগ থাকতে হবে, যাতে কেউ পবিত্র এই রাতের ভাবগাম্ভীর্য নষ্ট করতে না পারে।
আমাদের সমাজ যেমন সন্ত্রাস, অস্থিরতা ও হানাহানিমুক্ত হতে পারেনি; তেমনি এসব কারণে এখন সারা বিশ্বে মানুষের জীবন সংকটময় হয়ে উঠেছে। নিজের মঙ্গলের জন্য প্রার্থনার পাশাপাশি দেশ ও বিশ্বমানবতার মঙ্গলেও সর্বশক্তিমানের করুণা প্রার্থনার মধ্য দিয়ে আমাদের সবার আগামী দিনগুলো সুন্দর ও মঙ্গলময় হয়ে উঠুক এই রাতের কল্যাণে।

ভারতে মাওবাদী দমন অভিযানে বিদেশি কুকুর

ভারতে মাওবাদী দমন অভিযানে বিদেশি কুকুর ব্যবহার করার উদ্যোগ নিয়েছে যৌথ বাহিনী। ইতিমধ্যে বেলজিয়াম থেকে বিশেষ শ্রেণীর আটটি কুকুর আনা হয়েছে। এই কুকুরগুলোকে ভারতের কর্ণাটক রাজ্যের রাজধানী বেঙ্গালুরুতে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু হয়েছে। এই কুকুরগুলো ‘ম্যালিনয়োজ’ প্রজাতির| এরা লুকিয়ে থাকা মাইন খুঁজে বের করতে দক্ষ। এদের ঘ্রাণশক্তি প্রচণ্ড। অপরাধীদের তাড়া করতে এদের জুড়ি নেই। গাঁজা ভূখণ্ডে নাশকতা রুখতে এই জাতের কুকুর বিশেষ ভূমিকা নিয়েছিল। তা ছাড়া আফগানিস্তানে ন্যাটো বাহিনী তাদের অভিযানে এই প্রজাতির কুকুরকে ব্যবহার করে আসছে।

হাড়ের সঙ্গে ডায়াবেটিসের যোগসূত্র আবিষ্কার

যুক্তরাষ্ট্রের একদল বিজ্ঞানী বলেছেন, রক্তে শর্করা (ব্লাড সুগার) নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে কঙ্কাল বা হাড়ের বড় ধরনের ভূমিকা রয়েছে। কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটি মেডিকেল সেন্টারের একদল বিজ্ঞানী প্রাণীকোষ বিষয়ে ইঁদুরের ওপর গবেষণা চালানোর পর এ দাবি করেন।
তাঁদের গবেষণায় দেখা গেছে, পুরোনো হাড় ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে সেখানে নতুন অস্থিকণা জন্ম নেওয়ার অনবদ্য প্রক্রিয়া রক্তে শর্করার মাত্রা ঠিক রাখতে সহায়তা করে। আর হাড়ের ক্ষয় ও বৃদ্ধি-প্রক্রিয়ার সঙ্গে শর্করার যোগসূত্র স্থাপন করে অস্টিওক্যালসিন নামের এক ধরনের হরমোন। গবেষক দলের প্রধান গেরার্ড কার্সেন্টি অস্থিনিঃসৃত ওই হরমোন কীভাবে রক্তে শর্করার মাত্রা ঠিক রাখতে সহায়তা করে, তা আগেই প্রমাণ করেছিলেন। তিনি সে সময় দেখিয়েছিলেন, অস্টিওক্যালসিন নামের ওই হরমোন পাকস্থলীর নিকটবর্তী পরিপাকরস নিঃসরণকারী গ্রন্থি বা অগ্ন্যাশয়ে ইনসুলিনের উৎপাদন বাড়াতে সহয়তা করে। অগ্ন্যাশয়ে মাত্রা অনুযায়ী ইনসুলিন উৎপাদিত হলে তা দেহের অন্যান্য কোষকে রক্ত থেকে শর্করা শুষে নিতে সাহায্য করে।
তবে সর্বশেষ গবেষণায় গেরার্ড ও তাঁর সহকারীরা দেখেছেন, শুধু পুরোনো অস্থিকণা ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে নতুন কণা জন্ম নেওয়ার সময়ই অস্টিওক্যালসিন নামের ওই হরমোন কাজ করে।
বিজ্ঞানীরা বলেছেন, তাঁদের এ গবেষণা টাইপ-২ পর্যায়ের ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আরও ভালো ওষুধ উদ্ভাবন করার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে। তাঁরা মনে করছেন, এ গবেষণা ডায়াবেটিস ছাড়াও হাড়ক্ষয় বা অস্টিওপোরোসিস রোগে আক্রান্তদের চিকিৎসায় উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে।

কলম্বিয়াকে যুদ্ধে সমর্থন করলে তেল সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হবে

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট হুগো শাভেজ যুক্তরাষ্ট্রকে তেল সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে কলম্বিয়ার সামরিক হামলায় ওয়াশিংটন সমর্থন জানালে তাঁদের এক ফোঁটা তেলও দেওয়া হবে না। কলম্বিয়ার সঙ্গে ভেনেজুয়েলার আঞ্চলিক দ্বন্দ্বে না জড়ানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে দিয়েছেন তিনি।
হুগো শাভেজ গত রোববার বলেছেন, তাঁর কাছে গোয়েন্দা তথ্য আছে, ভেনেজুয়েলার মাটিতে প্রতিবেশী কলম্বিয়ার সামরিক হামলা চালানোর জোর সম্ভাবনা রয়েছে। এ সম্ভাবনা বিগত ১০০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি।
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট গত বৃহস্পতিবার বোগোটার সঙ্গে সব ধরনের কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দেন। কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলভারো ইউরাইব ওয়াশিংটনে এক বৈঠকে ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে তাঁর দেশের গেরিলাদের আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ আনার পর তিনি এ পদক্ষেপ নেন।
শাভেজ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ‘কলম্বিয়া যদি কারও উসকানিতে ভেনেজুয়েলায় সামরিক হামলা চালিয়েই বসে, তবে আমরা যুক্তরাষ্ট্রে তেল সরবরাহ বন্ধ করে দেব। এতে যদি ভেনেজুয়েলার নাগরিকদের পাথর খেয়েও বেঁচে থাকতে হয়, তবে তা-ই করা হবে। এক ফোঁটা তেলও যুক্তরাষ্ট্রকে দেওয়া হবে না।’
দক্ষিণ আমেরিকার সবচেয়ে বড় তেল উৎপাদনকারী ও রপ্তানিকারক দেশ হলো ভেনেজুয়েলা। এই ভেনেজুয়েলা থেকেই সবচেয়ে বেশি তেল আমদানি করে যুক্তরাষ্ট্র। গত বছর ভেনেজুয়েলার কাছ থেকে দুই হাজার ৭১২ কোটি ডলারের তেল আমদানি করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
কলম্বিয়ার সঙ্গে ভেনেজুয়েলার চলমান সাংঘর্ষিক অবস্থার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেছেন শাভেজ। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের উসকানিতেই আজকের এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
সম্ভাব্য যুদ্ধ মোকাবিলায় ইতিমধ্যে সীমান্তে সেনাবাহিনী মোতায়েন করেছে ভেনেজুয়েলা। কলম্বিয়ার সঙ্গে দুই হাজার কিলোমিটার সীমান্ত এলাকাজুড়ে ২০ হাজার সেনাসদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। শাভেজ তাঁর দেশের সেনাসদস্যদের সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় থাকার নির্দেশ দিয়েছেন।
ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে কলম্বিয়া সরকারের আনা অভিযোগের প্রতি সমর্থন জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, এসব অভিযোগ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া উচিত। ওয়াশিংটন কলম্বিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করা ও সীমান্তে সেনাবাহিনী মোতায়েনের ব্যাপারে শাভেজের সিদ্ধান্তকে অযৌক্তিক পদক্ষেপ বলে অভিহিত করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রকে হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি শাভেজ ইঙ্গিত দিয়েছেন, কলম্বিয়ার নতুন সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করলে উত্তেজনা প্রশমিত হতে পারে। আগামী ৭ আগস্ট ক্ষমতা গ্রহণ করবেন কলম্বিয়ার নতুন প্রেসিডেন্ট হুয়ান ম্যানুয়েল সান্তোস। বর্তমানে তিনি লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশ সফর করছেন। চলমান সংকট নিয়ে তিনি কথা বলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। এটা কলম্বিয়ার বর্তমান সরকারের ব্যাপার বলে তিনি মন্তব্য করেন।
জাতিসংঘ ও লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশ উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের জন্য ভেনেজুয়েলা ও কলম্বিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

পাকিস্তানে আত্মঘাতী বোমা হামলায় নিহত ৭

পাকিস্তানে এক মন্ত্রীর বাড়ির কাছে একটি আত্মঘাতী বোমা হামলায় সাতজন নিহত হয়েছে। সন্দেহভাজন তালেবান জঙ্গিদের হাতে নিহত ওই মন্ত্রীর ছেলের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করতে আসা লোকজনের ভিড়ের মধ্যে বোমা হামলা চালানো হয়।
জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা ইমরান কিশোর জানান, পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখাঁ প্রদেশের ছোট্ট শহর পাব্বিতে কেন্দ্রীয় তথ্যমন্ত্রী মিয়া ইফতিখার হুসেইনের বাড়ির কাছে ওই হামলায় তিন পুলিশ সদস্যসহ সাতজন নিহত ও ২১ জন আহত হয়েছে।
ইফতিখার হুসেইনের ছেলে মিয়া রশিদ (২৮) গত শনিবার গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রেহমান মালিক নিহত রশিদের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে তথ্যমন্ত্রীর বাড়ি আসার পরপরই ওই আত্মঘাতী বোমা হামলা চালানো হয়।
উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের মন্ত্রীদের মধ্যে ইফতিখার হুসেইনকে তালেবান জঙ্গিদের বিরুদ্ধে অত্যন্ত সোচ্চার কণ্ঠস্বর বলে বিবেচনা করা হয়। তিনি রাজ্য সরকারের মুখপাত্র হিসেবেও কাজ করেন।
আরেক জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা লিয়াকত আলী বলেন, আত্মঘাতী ওই হামলাকারী মন্ত্রীর বাসভবন চত্বরে প্রবেশের চেষ্টা করছিল। তখন সে বোমার বিস্ফোরণ ঘটালে তাকে বাধা দেওয়ার চেষ্টাকারী এক পুলিশ সদস্যসহ সাতজন নিহত হয়।

মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী সেনা কর্মকর্তাদের ক্ষমা নেই

চিলির প্রেসিডেন্ট সেবাস্তিয়ান পিনেরা মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে অভিযুক্ত সে দেশের সামরিক কর্মকর্তাদের ক্ষমা করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।
সম্প্রতি দেশটির রোমান ক্যাথলিক চার্চ অভিযুক্ত সামরিক কর্মকর্তাদের ক্ষমা করে দেওয়ার জন্য প্রেসিডেন্টের কাছে প্রস্তাব করেছিল। সেই প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে প্রেসিডেন্ট বলেছেন, এ প্রস্তাবের ফলে চিলিতে বিভাজনের সৃষ্টি হয়েছে এবং পুরোনো কষ্ট আবার জেগে উঠেছে। তিনি বলেন, হত্যা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো গুরুতর অপরাধের কোনো ক্ষমা হতে পারে না।
১৯৭৩ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত সামরিক শাসনের সময়ে চিলিতে তিন হাজারের বেশি লোককে হত্যা করা হয়। এ অপরাধে অনেক সেনা কর্মকর্তা বর্তমানে সাজা ভোগ করছেন।
চিলির বিশপরা বলেছেন, দেশের ২০০ বছর স্বাধীনতা পূর্তি উপলক্ষে অভিযুক্ত সামরিক কর্মকর্তাদের ক্ষমা করে দেওয়া হোক। বিশেষ করে যাঁরা ভুল স্বীকার করেছেন এবং অনুশোচনা করছেন।
কিন্তু প্রেসিডেন্ট পিনেরা বলেছেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে সাধারণ ক্ষমা প্রদর্শনপূর্বক একটি নতুন আইন প্রবর্তন করা যৌক্তিক হবে না বলে আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’ তিনি বলেন, অভিযুক্ত সেনা কর্মকর্তাদের ক্ষমা করে দেওয়ার প্রস্তাবটি উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে। এ প্রস্তাব চিলির লোকজনের মধ্যে বিভাজন তৈরি করেছে। পুরোনো কষ্ট নতুন করে জাগিয়ে তুলেছে।
পিনেরা আরও বলেন, কোনো কোনো অভিযুক্তের ব্যাপারে খুবই যৌক্তিকভাবে বিবেচনা করা হবে। তবে যাঁরা হত্যা, সন্ত্রাস, ধর্ষণ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো অপরাধ করেছেন তাঁদের ব্যাপারে বিন্দুমাত্র বিবেচনা করা হবে না।

ভারতে ডাইনি অপবাদ দিয়ে প্রতিবছর ২০০ নারী হত্যা

ভারতে ডাইনি অপবাদ দিয়ে প্রতি বছর প্রায় ২০০ নারীকে হত্যা করা হয়। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন রুরাল লিটিগেশন অ্যান্ড এনটাইটলমেন্টস কেন্দ্রের এক সমীক্ষায় (আরএলইকে) এ তথ্য জানানো হয়। গতকাল সোমবার এই সমীক্ষাবিষয়ক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।
ভারতের উত্তরাঞ্চলীয় ঝাড়খণ্ড রাজ্যের দারিদ্র্যপীড়িত আদিবাসী অধ্যুষিত গ্রামগুলোয় ডাইনি সন্দেহে নারী হত্যার ঘটনা বেশি ঘটেছে। অন্ধ্র প্রদেশ, হরিয়ানা ও ওডিশায়ও এই ডাইনি অপবাদে অনেক নারীকে হত্যা করা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
আরএলইকে-এর চেয়ারম্যান অবধাশ কৌশল বলেন, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে কুমারী বা বিধবারা এসব ঘটনার শিকার হন। তাদের জমি বা অর্থ আত্মসাতের লক্ষ্যে ডাইনি অপবাদ দিয়ে চরম শাস্তি দেওয়া হয়। ডাইনি অপবাদ দিয়ে এসব নারীকে মলমূত্রের মতো ঘৃণ্য জিনিস খাওয়ানো হয়। বিবস্ত্র করে ঘোরানো হয় গ্রামজুড়ে। এই অপমান সইতে না পেরে অনেক নারী আত্মহত্যা করেন।
কৌশল বলেন, ‘আদিবাসী গ্রামগুলোয় সাক্ষরতা কর্মসূচি বাস্তবায়নের সময় নারীদের ডাইনি অপবাদ দিয়ে হত্যা করার বিষয়টি আমাদের নজরে আসে। পরে এ বিষয়ে আমরা সমীক্ষা চালাই। পুলিশ, রাজ্য প্রশাসন ও অন্যান্য সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী বছরে প্রায় ২০০ নারী এ ঘটনার শিকার হয়। গত ১৫ বছরে আড়াই হাজারের বেশি নারীকে ডাইনি অপবাদ দিয়ে হত্যা করা হয়েছে।’
অবধাশ কৌশল ডাইনি অপবাদে নারী হত্যা বন্ধে ভারত সরকারের কাছে নতুন একটি আইন প্রণয়নের দাবি জানিয়েছেন।

আইএসআই তালেবানকে সহায়তা করছে

‘পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা ইন্টার সার্ভিসেস ইনটেলিজেন্স (আইএসআই) আফগান যুদ্ধে তালেবানকে সহযোগিতা করছে। ফাঁস হয়ে যাওয়া মার্কিন সামরিক বাহিনীর নথিতে এই তথ্য বেরিয়ে এসেছে।’ উইকিলিকস নামের একটি সংস্থার বরাত দিয়ে গত রোববার তিনটি গণমাধ্যমে এ খবর প্রকাশ করা হয়েছে।
সামরিক বাহিনীর স্পর্শকাতর তথ্য ফাঁস করাকে দায়িত্বজ্ঞানহীন কাজ বলে আখ্যা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানায়। তবে পাকিস্তান আইএসআইয়ের বিরুদ্ধে ওঠা এই অভিযোগ দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে।
উইকিলিকস তাদের ওয়েবসাইটে মার্কিন সামরিক বাহিনীর ৯২ হাজারেরও বেশি নথি ফাঁস করে দেয়। ‘আফগান যুদ্ধের দিনপঞ্জি’ শিরোনামে উইকিলিকসের ওয়েবসাইটে বলা হয়, এসব নথিতে তালেবানকে পাকিস্তান ও ইরান সহায়তার বিষয়ে ন্যাটোর উদ্বেগের বিষয়টি উঠে এসেছে। ন্যাটো বাহিনীর হামলায় আফগানিস্তানে বহু বেসামরিক মানুষ নিহত হওয়ার বিষয়েও বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে। আফগানিস্তানে ভবিষ্যতে ন্যাটো বাহিনীর ওপর হামলা আরও বাড়বে বলে মার্কিন সেনাবাহিনীর জয়েন্ট চিফ অব স্টাফ অ্যাডমিরাল মাইক মুলেনকে সতর্ক করে দেওয়া হয়।
ফাঁস হওয়া একটি নথিতে উল্লেখ করা হয়, আইএসআইয়ের সাবেক প্রধান হামিদ গুল গত বছরের জানুয়ারি মাসে একটি জঙ্গি গোষ্ঠীর নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। মার্কিন বিমান হামলায় সংগঠনটির অন্যতম নেতা জামারাই ওরফে ওসামা আল কিনি নিহত হওয়ার পর হামিদ গুল ওই বৈঠক করেন। গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, এই প্রথম স্বীকার করা হয় জঙ্গিদের হাতে ভূমি থেকে আকাশে উৎক্ষেপণের মতো ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে, যা দিয়ে তারা হেলিকপ্টার ভূপাতিত করতে সক্ষম।
প্রতিবেদনে ইরান তালেবান জঙ্গিদের অর্থ, অস্ত্র, প্রশিক্ষণ ও আশ্রয় দিয়ে সহায়তা করছে বলে অভিযোগ করা হয়। ইরানের তৎপরতা খতিয়ে দেখে গার্ডিয়ান পত্রিকায় প্রকাশিত খবরে বলা হয়, এসব হুমকিমূলক প্রতিবেদন সত্য বলে সমর্থনযোগ্য নয়। তবে উচ্চপর্যায়ের মার্কিন কূটনৈতিক সূত্রে আভাস পাওয়া গেছে, আফগানিস্তানের সঙ্গে ইরান দিন দিন যেভাবে জড়িয়ে যাচ্ছে, এ নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন।
এই পরিস্থিতির ব্যাপারে কাবুলে মার্কিন দূতাবাসে কর্মরত একজন ডেপুটি জেনারেলের লেখা সংক্ষিপ্ত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, আফগানিস্তানে নিজ প্রভাব বাড়াতে ও গভীর করতে ধারাবাহিক পদক্ষেপ নিয়েছে ইরান। একটি গোপন সূত্রে এ খবর জানা যায়।
আফগান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে ওই সূত্রের দাবি, আফগান সাংসদদের দলে ভেড়াতে কোটি কোটি মার্কিন ডলার ঘুষ দিচ্ছে ইরান। চেষ্টা চালাচ্ছে সে দেশের সংস্কারবাদী মন্ত্রীদের উৎখাত করতে।
ওয়াশিংটনে নিযুক্ত পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত হুসেন হাক্কানি বলেন, ‘ইউকিলিকস যে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, তাতে বর্তমান বাস্তবতা উঠে আসেনি। আমি মনে করি, পাকিস্তান কী করছে মার্কিন নেতারা সে বিষয়টি খুব ভালোভাবেই জানেন।’
হোয়াইট হাউস তথ্য ফাঁসের ঘটনাকে দায়িত্বজ্ঞানহীন কাজ বলে আখ্যা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক টাইমস, ব্রিটেনের দ্য গার্ডিয়ান ও জার্মানির ডার স্পিগেল তথ্য ফাঁসের খবর প্রকাশ করে। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জেনারেল জেমস জোনস এক বিবৃতিতে বলেন, স্পর্শকাতর এমন তথ্য ফাঁসের ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র রাষ্ট্র ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে। এতে জাতীয় নিরাপত্তাও হুমকির সম্মুখীন হতে পারে।

ইরানের বিরুদ্ধে নতুন অবরোধ আরোপ ইইউর

পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায় ফেরার ব্যাপারে ইরানের ওপর চাপ বাড়াতে দেশটির ওপর নতুন অবরোধ আরোপ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। গতকাল সোমবার বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে এক বৈঠকে ইইউর সদস্যদেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা আনুষ্ঠানিকভাবে এই অবরোধ প্রস্তাব গ্রহণ করেন। গত মাসে ইইউর নেতারা অবরোধ প্রস্তাবটি অনুমোদন করেন।
ইইউর পররাষ্ট্র সম্পর্কবিষয়ক প্রধান ক্যাথেরিন অ্যাস্টন বলেন, ‘পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে দ্রুত আলোচনা শুরু করতে চাই আমরা। তবে ওই পর্যায় পর্যন্ত পৌঁছার আগে গুরুত্ব দিয়েই আমাদের দায়িত্ব পালন করে যাব আমরা। এই অবরোধের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে ইরানকে বিষয়টি বোঝানো। বিষয়টি নিয়ে আমাদের আলোচনা করতে হবে এবং এগিয়ে যেতে হবে।’
এই অবরোধ আরোপ করায় ইইউর সদস্যদেশগুলো ইরানের জ্বালানি খাতের জন্য সরঞ্জাম, প্রযুক্তি ও সেবা বিক্রি করতে পারবে না। কূটনীতিকেরা বলছেন, এতে ইরানের তেল-গ্যাস অনুসন্ধান, প্রাকৃতিক গ্যাস তরলীকরণ ও তেল পরিশোধন কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত হবে। অবরোধের মাধ্যমে দেশটির জ্বালানি খাতে নতুন বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা আবার শুরু করার জন্য সম্প্রতি ইরানের পক্ষে প্রধান মধ্যস্থতাকারী সাইদ জলিলির কাছে চিঠি দিয়েছেন অ্যাস্টন। এর পরিপ্রেক্ষিতে তেহরানের পক্ষ থেকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, আগামী সেপ্টেম্বরে আলোচনা শুরু হতে পারে। ইরান ও পশ্চিমা বিশ্বের মধ্যে সর্বশেষ আলোচনা হয়েছে গত বছরের অক্টোবরে।
এ ব্যাপারে জার্মানির উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ভেরনার হয়ের বলেন, ‘আমরা হাত বাড়িয়ে দেওয়ার নীতি গ্রহণ করেছি, কিন্তু ইরানকেও তা গ্রহণ করতে হবে। আমার ধারণা, ইরানের একটি অংশ আশা করেনি, ইইউ অবরোধ আরোপ করবে। তারা এখন নিশ্চয়ই আলোচনার ব্যাপারে ভাবতে শুরু করেছে।’
চলতি সপ্তাহের শুরুতে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মানুচেহের মোত্তাকি বলেছিলেন, গত মে মাসে ব্রাজিলের মধ্যস্থতায় তুরস্কের সঙ্গে পরমাণু জ্বালানি বিনিময়ের যে চুক্তি হয়েছে, তা নিয়ে দ্রুত আলোচনায় বসতে প্রস্তুত তেহরান।

আমেরিকান এক্সপ্রেসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ঢাকায় এসেছেন

আমেরিকান এক্সপ্রেস ইন্টারন্যাশনালের এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং জাপান এশিয়া প্যাসিফিক অস্ট্রেলিয়া অঞ্চলের প্রধান কুলা কুলেন্দ্রান এক দিনের সফরে গতকাল সোমবার ঢাকায় এসেছেন। তিনি হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আমেরিকান এক্সপ্রেস লাউঞ্জ উদ্বোধন করবেন।
কুলা কুলেন্দ্রান ১৯৮৯ সাল থেকে এ অঞ্চলে আমেরিকান এক্সপ্রেসের ব্যবসা সম্প্রসারণে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে আসছেন। এর মধ্যে তিনি ২০০৫ সালে আমেরিকান এক্সপ্রেসে সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ২০০৯ সালে এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট পদ লাভ করেন।

নতুন প্যানাসনিক এলইডি এলসিডি ও প্লাজমা টিভি এখন দেশের বাজারে

দেশের বাজারে এখন পাওয়া যাচ্ছে প্যানাসনিক ব্র্যান্ডের নতুন ভিয়েরা এলইডি, এলসিডি ও প্লাজমা টেলিভিশন।
ঢাকার একটি হোটেলে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত প্যানাসনিক অডিও ভিজ্যুয়াল পণ্যের পরিবেশক এসিআই কনজ্যুমার ইলেকট্রনিকস এভির ডিলার বা পরিবেশক সম্মেলনে নতুন এই পণ্যগুলো বাজারজাতকরণের ঘোষণা দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে প্যানাসনিক সিঙ্গাপুরের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পল অং, প্যানাসনিক এশিয়া ও ওশেনিয়া অঞ্চলের করপোরেট ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সহযোগী পরিচালক মাসারু মারুও, এসিআই লিমিটেডের নির্বাহী পরিচালক সাঈদ আলমগীর এবং এসিআই কনজ্যুমার ব্র্যান্ডসের বিজনেস ডিরেক্টর আশরাফ বিন তাজ উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া সম্মেলনে এসিআই কনজ্যুমার ইলেকট্রনিকসের ২০০৯-১০ সালের সেরা ডিলারদের বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে পুরস্কার দেওয়া হয়।

সাত দিনে আসছে ৮০ হাজার টন ভোজ্যতেল, তবু দাম ঊর্ধ্বমুখী

চট্টগ্রাম বন্দরে মাত্র এক সপ্তাহে নয়টি জাহাজে আসছে প্রায় ৮০ হাজার টন ভোজ্যতেল। এই ভোজ্যতেলের ৩০ হাজার টনই পরিশোধিত পামতেল। অথচ পাইকারি বাজারে গত তিন দিনে ভোজ্যতেল পামের দাম বেড়েছে মণপ্রতি ৫০ টাকা।
চট্টগ্রাম বন্দর বেতার নিয়ন্ত্রণকক্ষ সূত্রে জানা যায়, গত রোববার এমটি ইস্টার্ন গ্লোরি ও গতকাল সোমবার গ্লোবাল সি জাহাজ দুটি প্রায় ১১ হাজার টন ভোজ্যতেল খালাস করে বন্দর ত্যাগ করেছে। আর মোট ১৫ হাজার টন ভোজ্যতেলবাহী এমটি স্টার এশিয়া ও এশিয়ান গ্লোরি জাহাজ দুটি থেকে এখন ভোজ্যতেল খালাস হচ্ছে।
আরও পাঁচটি জাহাজে খালাসের অপেক্ষায় আছে প্রায় ৫৪ হাজার টন ভোজ্যতেল। এই পাঁচটি জাহাজ আগামী বুধবারের মধ্যে পর্যায়ক্রমে বন্দরে আসছে বলে জানা গেছে।
এসব ভোজ্যতেলের মধ্যে রয়েছে অপরিশোধিত সয়াবিন ও পামতেল এবং পরিশোধিত পামতেল।
চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব সৈয়দ ফরহাদ উদ্দিন আহমেদ গতকাল সোমবার প্রথম আলোকে জানান, এ সপ্তাহে সবচেয়ে বেশিসংখ্যক ভোজ্যতেলের জাহাজ বন্দরে এসেছে। জাহাজ থেকে ভোজ্যতেল দ্রুত খালাস হচ্ছে।
পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জ সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সোমবার পাইকারি বাজারে পামতেলের সরবরাহ আদেশ (ডিও) বিক্রি হয়েছে মণপ্রতি দুই হাজার ৫২০ টাকায় আর কেজিপ্রতি ৬৭ টাকা ৫২ পয়সায়। শনিবার দাম ছিল মণপ্রতি দুই হাজার ৪৭৫ টাকা আর কেজিপ্রতি ৬৬ টাকা ৩১ পয়সা। অর্থাৎ মণপ্রতি দাম বেড়েছে ৪৫ টাকা।
একইভাবে দুই দিন আগে সয়াবিনের সরবরাহ আদেশ বিক্রি হয়েছিল মণপ্রতি দুই হাজার ৬৮০ টাকা আর কেজিপ্রতি ৭১ টাকা ৮১ পয়সা। গতকাল সয়াবিনের সরবরাহ আদেশ বিক্রি হয় মণপ্রতি দুই হাজার ৭৪০ টাকা আর কেজিপ্রতি ৭৩ টাকা ৪১ পয়সায়। দাম বেড়েছে প্রতি মণে ৬০ টাকা।
এই সরবরাহ আদেশ নিয়ে কারখানা থেকে ভোজ্যতেল খালাস করে আনতে প্রতিমণে ২০ থেকে ৩০ টাকা খরচ হয়। পাইকারি ব্যবসায়ীরা পণ্যের ক্রয়মূল্যের সঙ্গে এই খরচ যোগ করে খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করেন।
চট্টগ্রাম চেম্বারের পরিচালক ও খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ ছগীর আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, ভোজ্যতেলের সরবরাহ ভালো। তাই সংকট নেই। পরিশোধন কারখানা থেকে সরবরাহ স্বাভাবিক হলে দাম বাড়ার কোনো কারণ নেই। পাহাড়তলী বাজারের ব্যবসায়ী নেতা মো. মোজাহের আলম প্রথম আলোকে বলেন, পাইকারি বাজারে দাম বাড়ার প্রভাবে খুচরায় কেজিপ্রতি এক-দুই টাকা বেড়েছে ভোজ্যতেলের দাম। বাজারে কেজিপ্রতি খোলা পামতেল ৭০ টাকা এবং সয়াবিন ৭৬ থেকে ৭৭ টাকায় বিক্রি হচ্ছে বলে তিনি জানান।
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস থেকে পাওয়া তথ্যে দেখা গেছে, চলতি বছরের প্রথম চার মাসে ভোজ্যতেল আমদানি হয় তিন লাখ ৬৮ হাজার ১৯৬ টন। দেশে ভোজ্যতেলের চাহিদা ১২ লাখ টনের বেশি ধরা হলেও বছরের প্রথমার্ধে চাহিদার চেয়ে কম আমদানি হয়েছে।
তবে রমজানকে সামনে রেখে গত মে মাস থেকে ভোজ্যতেল আমদানি বাড়তে থাকে। মে ও জুন এই দুই মাসে ভোজ্যতেল আমদানি হয় প্রায় দুই লাখ টন। চলতি মাসে আমদানির পরিমাণ প্রায় দেড় লাখ টনের কাছাকাছি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কাস্টম হাউসের তথ্যে দেখা যায়, গত মে মাসে যেসব পামতেল আমদানি হয়, সেগুলো শুল্কায়ন হয় অর্থাৎ আন্তর্জাতিক দর দেখানো হয় ৫৪ টাকা ১৫ পয়সা। জুন মাসে পামতেলের দর দেখানো হয় ৫১ টাকা ৩১ পয়সা থেকে ৫৩ টাকা ৮১ পয়সা পর্যন্ত। অর্থাৎ কাস্টম হাউসের তথ্য অনুসারে আগের চেয়ে কম দামে ভোজ্যতেল খালাস হয়েছে। একইভাবে মে মাসের চেয়ে জুন মাসে কম দামে সয়াবিন তেল খালাস হয়েছে। একদিকে আমদানি বেড়েছে অন্যদিকে দাম কমেছে। তাই ভোজ্যতেলের দাম বাড়ার কথা নয় বলে মনে করেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
ভোজ্যতেল আমদানিকারক ও নুরজাহান গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জহির আহমেদ রতন গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, পরিশোধন কারখানার মালিকেরা ভোজ্যতেলে লোকসান দিয়ে আসছে। এরপরও সরবরাহ বাড়ায় বাজার সহনীয় আছে।

লক্ষ্য অর্জনে প্রাইভেটাইজেশন কমিশনের কাজ চলবে

বেসরকারীকরণ নীতিমালায় এ কর্মসূচির যে পাঁচটি লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে, তা অর্জনে অব্যাহতভাবে কাজ করে যাবে প্রাইভেটাইজেশন কমিশন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও এই কার্যক্রম চালু রাখতে বলেছেন।
কমিশনের চেয়ারম্যান মির্জা আবদুল জলিল গতকাল সোমবার সকালে কমিশনের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি আরও বলেন, ‘আমি রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠান বিক্রি করে দেওয়ার জন্য কমিশনে আসিনি। এসেছি শিল্প বাঁচাতে।’ তিনি আরও বলেন, সরকারের পক্ষে লাভজনকভাবে শিল্পপ্রতিষ্ঠান চালানো সম্ভব হয়নি। লোকসানের মাত্রাও এত বেশি যে তার দায় বহন করা সম্ভব নয়। তাই শিল্প বাঁচাতে বেসরকারীকরণ কর্মসূচি চালু রাখতে হবে।
লক্ষ্য-উদ্দেশ্য কী: ২০০০ সালের বেসরকারীকরণ আইনের আলোকে ২০০৭ সালে প্রণীত নীতিমালায় বেসরকারীকরণের পাঁচটি লক্ষ্য-উদ্দেশ্য নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। এগুলো হচ্ছে দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সামাজিক কল্যাণসাধন; দেশি-বিদেশি বিনিয়োগে আকর্ষণ ও পারস্পরিক সম্পর্কোন্নয়ন; বেসরকারীকরণের মাধ্যমে রাজস্ব প্রাপ্তি; লোকসানি প্রতিষ্ঠান থেকে সম্পদ অবমুক্ত করে অন্যান্য সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং প্রতিযোগিতা বৃদ্ধির মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি ও তা সংরক্ষণ।
এ লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য কতটা সফল হয়েছে জানতে চাইলে কমিশনের চেয়ারম্যান বলেন, ‘এটি অব্যাহতভাবে চলমান একটি প্রক্রিয়া। তবে বেসরকারীকরণ কার্যক্রম যথাযথভাবে চললে সাফল্যের হার বর্তমানের চেয়ে অনেক বেশি হতো।’
৪৪টি লাভজনক: সংবাদ সম্মেলনে ১৯৯৩ সাল থেকে এখন পর্যন্ত বেসরকারীকরণ করা মোট ৭৫টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে একটি জরিপ প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। এ প্রতিবেদন অনুযায়ী ৭৫টির মধ্যে ৪৪টি শিল্প লাভজনকভাবে চলছে। চালুর প্রক্রিয়ায় আছে ১৬টি। বাকি ১৫টি প্রতিষ্ঠান বন্ধ।
ওই ৭৫টির মধ্যে ৫৫টি প্রতিষ্ঠান সরাসরি বিক্রির মাধ্যমে এবং বাকি ২০টি শেয়ার হস্তান্তরের মাধ্যমে বেসরকারীকরণ করা হয়। এ থেকে সরকারি কোষাগারে মোট অর্থ এসেছে ৭০৯ কোটি ৯০ লাখ টাকা। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ১৯৯৩ সালের আগে আরও ৪৯২টি প্রতিষ্ঠান বেসরকারি খাতে হস্তান্তর করা হয়। সেগুলোর বর্তমান অবস্থা জানার জন্য নতুন সমীক্ষা চালাবে কমিশন।
দেশে বেসরকারীকরণ কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর অবস্থা সম্পর্কে জানার জন্য এটিই প্রথম সমীক্ষা। যদিও বেসরকারীকরণ আইনের ১০ ধারার ১(ট) উপধারা অনুযায়ী এ ধরনের সমীক্ষা চালিয়ে সংশ্লিষ্ট শিল্পগুলোর সামগ্রিক অবস্থা সরকারকে নিয়মিতভাবে জানানোর কথা, কিন্তু এর আগে কখনোই তা করা হয়নি।
কর্মসংস্থান: প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেসরকারীকরণ করার আগে এই ৭৫টি শিল্পে কর্মরত মোট জনবল ছিল ৩১ হাজার। এখন তা ৯০ হাজারে উন্নীত হয়েছে। এদের মধ্যে বেসরকারীকরণ করার আগের কর্মক্ষম ও দক্ষ জনবল রয়েছে। গ্রামীণ পর্যায়ে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে—যেমন মাদারীপুর টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড—বেশ কিছু নারীরও কর্মসংস্থান হয়েছে।
ওই ৭৫টি শিল্পের মধ্যে বেসরকারীকরণ করার আগে প্রায় ৪৫টি দুই থেকে পাঁচ বছর ধরে বন্ধ ছিল। হস্তান্তরের পর এগুলো চালু করতে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের দুই থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত সময় লেগেছে।
বিক্রয়মূল্য: প্রতিবেদন অনুযায়ী ৭৫টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৬৫টির ক্ষেত্রে বিক্রয়মূল্য প্রযোজ্য ছিল। এর মধ্যে ৬২টি প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ মূল্য পরিশোধ করেছে। একটি প্রতিষ্ঠানের মূল্য পরিশোধ মামলার কারণে স্থগিত ছিল। এখন আবার তা চালু করেছে। বাকি দুটি প্রতিষ্ঠান প্রাথমিক কিস্তি পরিশোধের পর আর বিক্রয়মূল্য দিচ্ছে না।
বাকি ১০টির মধ্যে দুটি প্রতিষ্ঠান সেনা ও নৌবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে কোনো বিক্রয়মূল্য প্রযোজ্য ছিল না। পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের অধীন অন্য আটটি প্রতিষ্ঠান মন্ত্রণালয়ই সংশ্লিষ্ট শ্রমিক-কর্মচারীদের কাছে হস্তান্তর করে। এ ক্ষেত্রেও বিক্রয়মূল্য প্রযোজ্য ছিল না। চুক্তি অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানের ‘স্টক অ্যান্ড স্টোরস’-এর মূল্য তাদের পরিশোধ করার কথা। তবে অর্ধেক প্রতিষ্ঠান তা পরিশোধ করেনি। কমিশন এখন তা আদায়ের উদ্যোগ নিয়েছে।
উৎপাদনশীলতা: চালু প্রতিষ্ঠানগুলোর অধিকাংশই শিল্পের আধুনিকায়ন, সম্প্রসারণ ও সুষমকরণ (বিএমআরই) সম্পন্ন করেছে। ফলে বিনিয়োগ ও উৎপাদনশীলতা বেড়েছে। এদের পণ্যের গুণগত মান উন্নত হয়েছে। বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান নিজ নিজ ক্ষেত্রে নেতৃস্থানীয় পর্যায়ে (মার্কেট লিডার) উন্নীত হয়েছে। এর মধ্যে শারমিন টেক্সটাইল, হাফিজ টেক্সটাইল, বাংলাদেশ সাইকেল ইন্ডাস্ট্রিজ, বার্জার পেইন্ট, চিটাগাং সিমেন্ট অ্যান্ড ক্লিংকার ইন্ডাস্ট্রিজ, রেকিট অ্যান্ড বেনকিজার, জিনাত টেক্সটাইল প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তবে অনেক প্রতিষ্ঠানই তাদের ভূমির সর্বোচ্চ ব্যবহার এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি। এর মধ্যে কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানের জমি নিষ্কণ্টক করে হস্তান্তরেও বিলম্ব হয়েছে। চালুর প্রক্রিয়াধীন ও বন্ধ প্রতিষ্ঠানের কোনো কোনোটি ভালো ব্যবসা পরিকল্পনা নিয়ে অগ্রসর হচ্ছে।
চাপে আছে কমিশন: লক্ষ্য অর্জনে কাজ করে যাওয়ার প্রত্যয় ঘোষণা করলেও বেশ চাপের মধ্যে আছে কমিশন। সুনির্দিষ্ট আইন, নীতি ও প্রবিধানমালার অধীন বেসরকারীকরণ কার্যক্রম চললেও বিষয়টি নিয়ে বেশ জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। শিল্প মন্ত্রণালয় থেকে বলা হছে, আর কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠান বেসরকারীকরণ করা হবে না। বন্ধ শিল্পপ্রতিষ্ঠান চালু করা হবে। পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয় এরই মধ্যে বেসরকারীকরণের জন্য কমিশনের কাছে হস্তান্তরিত কয়েকটি শিল্পপ্রতিষ্ঠান ফেরত চাইছে চালু করার জন্য। ১০ জুলাই অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত কমিশনের চেয়ারম্যানের কাছে লেখা চিঠিতে জানতে চেয়েছেন, কমিশন গুটিয়ে ফেলা হলে কমিশনের বর্তমান কাজ কী করে সম্পাদন করা যাবে।
বর্তমানে যে ২৩টি প্রতিষ্ঠান বেসরকারীকরণের জন্য কমিশনে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে, সেগুলো আদৌ বেসরকারীকরণ করা হবে কি না তাও নিশ্চিত নয়।

আবারও দরপতন, সাধারণ সূচক কমেছে ৩৮.২৪ পয়েন্ট

ঘুরে দাঁড়ানোর এক দিন পর আবারও ঢাকার শেয়ারবাজারে দরপতন হয়েছে। গতকাল সোমবার ঢাকার শেয়ারবাজারে (ডিএসই) সাধারণ সূচকের কিছুটা ঊর্ধ্বগতি হলেও আজ তা আবার নেমে গেছে। আজ লেনদেন শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত সাধারণ মূল্যসূচক ৩৮.২৪ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৬২৮৭ পয়েন্টে।
আজ শেয়ারবাজারে মোট ১৬০৫ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। লেনদেন হওয়া ২৪৭টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দাম বেড়েছে ১১৭টির, কমেছে ১২৫টির। পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম অপরিবর্তিত ছিল।
আজ লেনদেনে শীর্ষে থাকা পাঁচটি প্রতিষ্ঠান হলো—তিতাস গ্যাস, লঙ্কাবাংলা ফিন্যান্স, প্রাইম ফিন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড, নাভানা সিএনজি ও ইউনিয়ন ক্যাপিটাল।
দাম বৃদ্ধিতে শীর্ষে থাকা পাঁচটি প্রতিষ্ঠান হলো—মুন্নু ফেব্রিক্স, আরএন স্পিনিং মিলস, দেশ গার্মেন্টস, সোনালী আঁশ ও সাফকো স্পিনিংস।
দাম কমে যাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে শীর্ষ পাঁচটি হলো—পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্স সার্ভিসেস লিমিটেড, এসিআই ফর্মুলেশনস, ব্যাংক এশিয়া ও পূবালী ব্যাংক লিমিটেড।

শেয়ারবাজার আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে

১৪ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ দরপতনের পরের দিন গতকাল সোমবার কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়েছে দেশের শেয়ারবাজার। আগের দিন যে হারে কমেছিল, সে হারে না বাড়লেও সূচকের এ বাড়া কিছুটা হলেও স্বস্তি জুগিয়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের।
তবে এ স্বস্তি বিনিয়োগকারীদের পুরোপুরি দুশ্চিন্তামুক্ত করতে পারেনি। তাঁদের ভয়, বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) আবার কী হস্তক্ষেপ করে তা নিয়ে। কারণ এসইসির নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের প্রভাবে টানা দুই দিন বড় ধরনের দরপতন ঘটেছে শেয়ারবাজারে। এতে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের যে আর্থিক ক্ষতি হয়েছে এক দিনের উত্থানে তা পুষিয়ে নেওয়া কোনোভাবেই সম্ভব হয়নি।
এ পরিস্থিতিতে ভালো সময়ের জন্য অপেক্ষা করা ছাড়া তেমন কোনো আশ্বাসও দিতে পারছেন না বাজারসংশ্লিষ্টরা।
তবে বাজারের এ ঘুরে দাঁড়ানোকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন বাজারবিশ্লেষকেরা। তাঁদের মতে, এসইসির বিধিনিষেধের কারণে বড় বিনিয়োগকারীরা বাজারে শেয়ার বিক্রির চাপ বাড়িয়ে দিয়েছেন। কিন্তু কয়েকটি বিধিনিষেধ শিথিল করার এ চাপ কিছুটা হলেও কমেছে। মূলত এ কারণেই বাজার বেড়েছে।
তাঁরা আরও বলেন, সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এক ধরনের ধারণা রয়েছে, বড় বিনিয়োগকারীরা সক্রিয় না থাকলে বাজারে তার প্রভাব পড়বেই।
এসইসি গত রোববার বাজারে তারল্যপ্রবাহ কমাতে ব্রোকারেজ হাউসের জন্য যে ঋণের সীমা বেঁধে দিয়েছিল, তা কিছুটা শিথিল করেছে। মার্চেন্ট ব্যাংকের মতো ব্রোকারেজ হাউসগুলোর জন্যও সর্বোচ্চ ঋণসীমা ১০ কোটি টাকা করা হয়েছে। এর আগে গত বুধবার জারি করা এক আদেশে ব্রোকারেজ হাউসের একজন গ্রাহকের জন্য সর্বোচ্চ ঋণসীমা পাঁচ কোটি টাকা করা হয়েছিল।
এ ছাড়া ইতিমধ্যে যেসব বিনিয়োগকারীর ঋণের পরিমাণ নতুন করে বেঁধে দেওয়া সীমা অতিক্রম করেছে, তাঁদের তা সমন্বয়ের মেয়াদ ৩১ আগস্টের পরিবর্তে ৩০ সেপ্টেম্বর করা হয়েছে।
বাজার পরিস্থিতি: গতকাল সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দিয়েই ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয়। মাত্র কয়েক মিনিটের ব্যবধানে সূচক আগের দিনের তুলনায় প্রায় ১৪০ পয়েন্ট বেড়ে যায়। এরপর উত্থান-পতনের ভেতর দিয়ে সূচক এগোতে থাকে। দিনশেষে তা আগের দিনের চেয়ে প্রায় ১২৬ পয়েন্ট বেড়ে ছয় হাজার ৩২৫ পয়েন্ট অতিক্রম করে।
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক আগের দিনের চেয়ে ৩৪২ পয়েন্ট বেড়ে হয় ১৮ হাজার ৭৯৯ পয়েন্ট।
তবে উভয় স্টক এক্সচেঞ্জেই লেনদেনের পরিমাণ আগের দিনের চেয়ে কমেছে। গতকাল ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে এক হাজার ২৮৬ কোটি টাকার শেয়ার, যা আগের দিনের চেয়ে ১৬৪ কোটি টাকা কম। সিএসইতে ১০৪ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে।

ঝাড়খণ্ড ও বিহারের অর্থনৈতিক অবস্থান অনুন্নত কঙ্গোর সমপর্যায়ের

যুক্তরাজ্যভিত্তিক অক্সফোর্ড পোভার্টি অ্যান্ড হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ (ওপিএইচআই) এবং ইউএনডিপি যৌথভাবে ভারতের কয়েকটি রাজ্যের উন্নয়ন-অনুন্নয়নের চিত্র তুলে ধরেছে। সম্প্রতি প্রকাশিত এ প্রতিবেদনে দেখা যায়, কেরালা ও গোয়ার অর্থনৈতিক অবস্থান ইন্দোনেশিয়ার মতো মাঝারি আয়ের দেশের সমপর্যায়ে। অন্যদিকে কঙ্গোর মতো অনুন্নত দেশের সমপর্যায়ে আছে ঝাড়খণ্ড ও বিহারের মতো রাজ্যগুলোর অর্থনীতি। এ প্রতিবেদনে রাজ্যগুলোর জনগণের আয়-রোজগারের চিত্রের বাইরে গিয়ে আরও বৃৎ পরিসরে তাদের অর্থনৈতিক অবস্থাকে বিচার করার চেষ্টা করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে এসব রাজ্যের জনগণের সামাজিক অবস্থা, তারা জীবনাচারে কী ধরনের বঞ্চনা ও অসামঞ্জস্যতার মুখোমুখি হচ্ছে ইত্যাদি।
ওপিএইচআইর গবেষকেরা পরবর্তীকালে ভারতের দারিদ্র্য পরিমাপক সূচক (এমপিআই) বিশ্লেষণ করেছে। এখানে ভারতের বিভিন্ন রাষ্ট্রের দারিদ্র্যসূচকের সঙ্গে আরও ১০৩টি উন্নয়নশীল দেশের দারিদ্র্যসূচকের তুলনা করা হয়েছে।
এ প্রতিবেদনে দেখা যায়, ভারতের রাজ্যগুলোর মধ্যে কেরালা অর্থনৈতিকভাবে সবচেয়ে ভালো অবস্থানে আছে। কেরালা এমপিআই ০.০৬৫ পেয়ে প্যারাগুয়ে ও ফিলিপাইনের সম-অবস্থানে রয়েছে। এর পরবর্তী অবস্থানে আছে গোয়া। গোয়ার এমপিআই ০.০৯৪ যা কি না ইন্দোনেশিয়ার নিকটবর্তী। পাঞ্জাব মধ্য আমেরিকার দেশ গুয়েতেমালার সমতুল্য। একসময় যা হিমাচল প্রদেশের নিকটবর্তী ছিল। অন্যদিকে তামিলনাড়ুর এমপিএ ০.৪১৪, যা ঘানার সমপর্যায়ের। ঘানা পৃথিবীর নিম্ন আয়ভুক্ত একটি দেশ।
ভারতের উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলোর উন্নয়নের অবস্থান হাইতির সমপর্যায়ে। উল্লেখ্য, ভূমিকম্পের আগেই হাইতি উত্তর আমেরিকার দরিদ্রতম দেশে পরিণত হয়েছে। আইভরিকোস্টের এমপিআইর সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের এমপিআইর তুলনা করা হচ্ছে। ওড়িশা ও শাদের তুলনা করা হচ্ছে তানজানিয়া ও মৌরিতানিয়ার সঙ্গে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, রুয়ান্ডা মধ্যপ্রদেশের তুলনায় কম উন্নত। কিন্তু এ দেশগুলো ঝাড়খণ্ড ও বিহারের তুলনায় ভালো অবস্থানে রয়েছে।

তিন ডব্লু নেই

ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেটের স্বর্ণযুগকে মনে করিয়ে দিল ক্রিকইনফোর নির্বাচিত সর্বকালের সেরা ওয়েস্ট ইন্ডিজ টেস্ট একাদশ। গত বছরের জুন থেকে টেস্ট খেলুড়ে দেশগুলোর সর্বকালের সেরা একাদশ বাছাই-প্রক্রিয়া শুরু করেছে ক্রিকেটের জনপ্রিয় ওয়েবসাইট ক্রিকইনফো। অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার পর এবার বেছে নেওয়া হয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সেরা একাদশ। আশির দশকে বিশ্ব ক্রিকেটে রাজত্ব করা ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের পাঁচজন জায়গা পেয়েছেন একাদশে—ভিভ রিচার্ডস, মাইকেল হোল্ডিং, গর্ডন গ্রিনিজ, কার্টলি অ্যামব্রোস ও ম্যালকম মার্শাল।
সবচেয়ে কঠিন কাজটি ছিল মনে হয় ওয়েস্ট ইন্ডিজের সেরা দল বাছাই করাই। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেটের ভান্ডার একসময় কতটা সমৃদ্ধ ছিল, সেটাও জানিয়ে দিল এই দলটি। জায়গা হয়নি বিখ্যাত ‘থ্রি ডব্লু’ ফ্রাঙ্ক ওরেল, ক্লাইড ওয়ালকট ও এভারটন উইকসের। নেই ডেসমন্ড হেইন্স, অ্যান্ডি রবার্টস, ক্লাইভ লয়েড, জোয়েল গার্নারের মতো আরও অনেক বিখ্যাত নামই। বর্তমান ওয়েস্ট ইন্ডিজের দুর্দশাও ফুটে উঠেছে এই দলে, একাদশে নেই বর্তমান দলের কেউ। ক্রিকইনফোর সেরা একাদশগুলোর মধ্যে আর একমাত্র পাকিস্তানেই ছিল না বর্তমান দলের কেউ।
১০ সদস্যের জুরি বোর্ডে ছিলেন সাবেক অধিনায়ক জিমি অ্যাডামস, ক্রিকেট সাংবাদিক ফাজির মোহাম্মদ, টনি বেকা, ক্রিকেট ইতিহাসবিদ হিলারি বেকেলস, ক্রীড়া মনোবিদ রুডি ওয়েবস্টার ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাবেক মিডিয়া ম্যানেজার ইমরান খানের মতো ব্যক্তিত্বরা। ১০ জুরির সবার ভোট পেয়েছেন তিনজন—রিচার্ডস, যাঁকে মনে করা হয় সর্বকালের সেরা অলরাউন্ডার সেই স্যার গ্যারি সোবার্স ও ‘ব্ল্যাক ব্রাডম্যান’ জর্জ হেডলি। ব্রায়ান লারা পেয়েছেন ৬ ভোট।
‘থ্রি ডব্লু’ ছাড়া না থাকাদের মধ্যে সবচেয়ে অবাক করা নামটি মনে হয় হেইন্সই। গ্রিনিজের সঙ্গে তাঁর জুটিটিকে মনে করা হয় সর্বকালের সেরা ওপেনিং জুটিগুলোর একটি। কিন্তু এই দলে গ্রিনিজের সঙ্গী স্যার কনরাড হান্ট। অবাক করতে পারে উইকেটের পেছনে জ্যাকি হেনড্রিকসের নামটাও। জেফ ডুজন ও ওয়ালকট ব্যাটিংয়ে অনেক ভালো ছিলেন, তবে হেনড্রিকসকে নেওয়া হয়েছে কিপিংয়ে বেশি দক্ষতার জন্য। জুরিদের যুক্তি, যে দলের মিডল-অর্ডারে বিখ্যাত সব নাম, সেই দলে বাড়তি ব্যাটসম্যানের চেয়ে ভালো কিপার থাকাটাই বেশি জরুরি। দলের তিন পেসার মার্শাল, হোল্ডিং ও অ্যামব্রোস। আর একমাত্র স্পিনার ৩০০ উইকেট নেওয়া প্রথম স্পিনার ল্যান্স গিবস।
পাঠক ভোটের দলে জুরিদের দল থেকে পরিবর্তন আছে দুটি। ওপেনিংয়ে গ্রিনিজের সঙ্গী হেইন্স, আর উইকেটের পেছনে ডুজন।

বেসিকতাসে গুতি

গুতি এখন বেসিকতাসের। গত রোববার রিয়াল মাদ্রিদ ছেড়ে যাওয়া স্প্যানিশ এই ফুটবলার তুরস্কের ক্লাব বেসিকতাসে যোগ দিয়েছেন বলে গতকাল ক্লাবটি জানিয়েছে। গুতির সঙ্গে বেসিকতাসের চুক্তি দুই বছরের। গুতির বার্ষিক পারিশ্রমিক ২৭ লাখ ইউরো বলে জানিয়েছে ক্লাব কর্তৃপক্ষ। ১৯৮৫ সালে রিয়াল মাদ্রিদের যুবদলে যোগ দেওয়া গুতি রিয়ালের হয়ে পাঁচবার লিগ শিরোপা জিতেছেন, তিনবার ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নস লিগ। তুরস্কের লিগে গত মৌসুমে চতুর্থ হওয়া বেসিকতাসের হয়ে গুতি এবার কী করেন, এটাই দেখার।

আকরামের চোখে হেডিংলির জয়

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এক জয়েই প্রায় বিশ্বজয়ের আনন্দে মেতেছে পাকিস্তান। বর্তমান-সাবেক ক্রিকেটার থেকে শুরু করে গোটা পাকিস্তানই বলতে গেলে ভেসে যাচ্ছে আবেগে। তবে সেই আবেগে বাঁধ দিতে বলছেন ওয়াসিম আকরাম। সাবেক পাকিস্তান অধিনায়ক বলছেন, পাকিস্তানের এই তরুণ দলের আসল পরীক্ষা সামনের ইংল্যান্ড সিরিজেই।
আকরামের এই সাবধানবাণী হয়তো নিজের অভিজ্ঞতা থেকেই। ১৯৯৫ সালের নভেম্বরে তাঁর নেতৃত্বেই সিডনিতে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়েছিল পাকিস্তান। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে পরবর্তী জয়টির জন্য অপেক্ষা করতে হলো ১৫ বছর। সাবেক এই বাঁহাতি পেসার তাই দলকে ফিরতে বলছেন বাস্তবতার মাটিতে, ‘ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওদের মাটিতেই খেলাটা হবে বড় একটা চ্যালেঞ্জ। দেশের মাটিতে ওরা দুর্দান্ত দল, ওদের হারানো খুব কঠিন হবে।’
টেস্টে পাকিস্তানের সর্বোচ্চ উইকেটের মালিক (৪১৪) অবশ্য মানছেন হেডিংলির জয়টা দলকে আত্মবিশ্বাস জোগাবে, ‘আমার ধারণা, এটা বড় একটা অর্জন। বিপজ্জনক ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হওয়ার আগে এই জয় নিশ্চিতভাবেই তরুণ দলটাকে আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে।’ হেডিংলির জয়ে কন্ডিশনের ভূমিকা আছে, মানছেন আকরাম। তবে তাঁর দাবি, দেশের মাটিতেও এই বোলারদের ভালো করার সামর্থ্য আছে, ‘খেলাটা যদি করাচি কিংবা লাহোরে হতো, তাহলে স্পিন বা রিভার্স সুইং আরও কার্যকর হতো।’
দলে অভিজ্ঞতা বাড়াতে মোহাম্মদ ইউসুফ ও ইউনুস খানকে ফেরানো নিয়ে কিছুদিন ধরেই অনেক কথাবার্তা হচ্ছে। আকরাম কিন্তু সালমান বাট ও তাঁর তরুণ দলটার ওপরই ভরসা রাখতে বলছেন, ‘আফ্রিদির অবসর ও লর্ডসে নাস্তানাবুদ হওয়ার পর যেভাবে ফিরল, তরুণ দলটার মানসিক দৃঢ়তা পরিষ্কার এতেই। বাটের মতো তরুণ অধিনায়কের জন্য সূচনাটা হলো দারুণ। পিসিবির উচিত তার ওপর আস্থা রাখা। তরুণ দলটাকে যথেষ্ট ভালো মনে হচ্ছে, নির্বাচকদের উচিত টেস্ট ক্রিকেটে বড় শক্তি হয়ে ওঠার জন্য ওদের অন্তত এক বছর সময় দেওয়া।’

তোরেসের জন্য প্রস্তাব দেবে ম্যানসিটি

ফার্নান্ডো তোরেসকে পাওয়ার ইচ্ছা আগেই জানিয়েছে ম্যানচেস্টার সিটি। তবে এখন আর ব্যাপারটি ইচ্ছা প্রকাশের মধ্যে নেই, তাঁকে পাওয়ার জন্য মাঠে নামার প্রস্তুতিই নিচ্ছে ক্লাবটি। ক্লাব কোচ রবার্তো মানচিনি জানিয়ে দিলেন, তোরেসের জন্য আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিতে তারা তৈরি।
আবুধাবির এক ধনকুবের মালিক হওয়ার পর গত মৌসুমেই বড় অঙ্কের বাজেট নিয়ে মাঠে নামে ম্যানসিটি। চ্যাম্পিয়নস লিগে জায়গা করে নেওয়ার আশায় দলও গড়েছিল ভালোই। অল্পের জন্য সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। চ্যাম্পিয়নস লিগে খেলার প্রবেশপত্র পেতে দরকার ছিল চতুর্থ স্থান। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে তারা হলো পঞ্চম।
দলের শক্তি বাড়াতে এবার আরও বেশি উদ্যোগী ম্যানসিটি। জেরম বোয়েটাং, আলেক্সান্দার কোলারভ, ইয়াইয়া তোরে ও ডেভিড সিলভা—এই চার খেলোয়াড়কে কিনতে এরই মধ্যে ৯ কোটি পাউন্ড খরচ হয়ে গেছে। আবার তোরেসকেও তাদের চাই। মানচিনি বলছেন, তোরেসকে হয়তো তাঁরা সই করাতে পারবেন। তাঁকে জোর আশাবাদী করছে দুটি বিষয়।
প্রথমত, গত মৌসুমে ঝামেলার কারণে তোরেসের সঙ্গে লিভারপুলের সম্পর্কটা ভালো নেই। তোরেস নিজেও জনসমক্ষে এমন কিছু বলেননি যাতে মনে হতে পারে লাল দলেই তাঁর ভবিষ্যৎ বাঁধা। দ্বিতীয়ত, তোরেসকে পেতে মোটা অঙ্কের পাউন্ড ঢালতেও রাজি ক্লাবের মালিক। তোরেসকে আনতে ৫ কোটি পাউন্ড ট্রান্সফার ফি দিতেও রাজি তিনি! কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, তোরেস ম্যানসিটিতে যেতে রাজি হবেন তো? চেলসির মতো ক্লাবও স্প্যানিশ স্ট্রাইকারকে পাওয়ার জন্য ওত পেতে আছে!
ম্যানসিটির ইতালিয়ান কোচ মানচিনির ভয়টা এখানেই, ‘তোরেস ইউরোপের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার। সে প্রিমিয়ার লিগে তিন মৌসুম খেলে ফেলেছে। এখানকার ফুটবলটা সে ভালো করেই জানে। কিন্তু সবকিছুই নির্ভর করছে তার ওপর—তার দাম ও সে আসতে চায় কি না তার ওপর।

পাকিস্তানকেই দুষছেন মানি

১৬ মাস হতে চলল। পাকিস্তানে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের দেখা নেই। ২০০৯ সালের ৩ মার্চ সেই যে শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটারদের ওপর সশস্ত্র আক্রমণ হলো লাহোরে; তারপরই ক্রিকেটের জন্য যেন এক নিষিদ্ধ ভূমির নাম হয়ে গেল পাকিস্তান। সে দেশের ক্রিকেট দলকে এখন ‘হোম’ ম্যাচ খেলতে হয় আরব আমিরাত, শ্রীলঙ্কা, নিউজিল্যান্ড বা ইংল্যান্ডে।
কিন্তু এমন করে আর কতকাল? এত দিন ধরে কেন সেই ‘লাহোর পাপ’-এর বোঝা বইবে পাকিস্তান! এই প্রসঙ্গে পাকিস্তানের প্রতি সহানুভূতি থাকতে পারে। কিন্তু আইসিসির সাবেক প্রেসিডেন্ট, পাকিস্তানি সংগঠক এহসান মানিই বলছেন, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ব্রাত্য হয়ে থাকার দায় এখন পাকিস্তানেরই।
২০০৩ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত আইসিসি প্রধানের দায়িত্ব পালন করা মানি বলছেন, পাকিস্তানের অবহেলার কারণেই তাদের সম্পর্কে আন্তর্জাতিক আস্থা তৈরি হচ্ছে না। আইসিসির কাছে লাহোর আক্রমণ নিয়ে যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা ছিল, তা নাকি দেয়নি পিসিবি, ‘পিসিবি এখনো আইসিসিকে লাহোরবিষয়ক প্রতিবেদনটা জমা দেয়নি। আর এটা যতক্ষণ না জমা পড়ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত দলগুলো পাকিস্তান সফরে যেতে আপত্তি করবে। এই প্রতিবেদনটা জমা না দিলে আইসিসির সঙ্গে বসে পিসিবি কোনো পরিকল্পনা করতে পারবে না। এই প্রতিবেদন বিশ্লেষণ না করতে পারা পর্যন্ত দলগুলোও পাকিস্তান সফর নিয়ে ইতস্তত করতে থাকবে।’
লাহোর হামলার আগে থেকেই পাকিস্তান আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে, বিশেষ করে ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশের কাছে ব্রাত্য হয়ে পড়েছিল। শ্রীলঙ্কা পাকিস্তান সফরে এসেছিল তাদের ভাবমূর্তি উদ্ধার করতে। সেই সফরেই ঘটল ওই দুর্ঘটনা।
এখন পাকিস্তানের ভাবমূর্তি উদ্ধার করতে গেলে অন্তত ছোট দলগুলোর কিছু সফর আগে শুরু করাতে হবে বলে মনে করছেন মানি, ‘পাকিস্তানে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আবার চালু করতে আরও অন্তত বছর দুয়েক সময় লাগবে। তার আগে কেনিয়া, জিম্বাবুয়ে, আফগানিস্তানের মতো কিছু দলকে সফর করিয়ে অন্যান্য দলের বিশ্বাসটা ফিরিয়ে আনতে হবে।’
মোদ্দা কথা, উদ্যোগটা পিসিবিকেই নিতে হবে।

মানচিনির চোখে ম্যান সিটির ব্যয়

ফাঁকা চেক লিখে নিয়ে খেলোয়াড়দের পেছনে ঘুরে বেড়ানোর প্রবণতাটা কমেছে ম্যানচেস্টার সিটির। তবে কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা দিয়ে খেলোয়াড় কেনা বন্ধ হয়নি ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবটির। এই তো কদিন আগেই লাৎসিও থেকে আলেক্সান্দার কোলারভকে এনেছে তারা ৮০ মিলিয়ন পাউন্ডে। এখন টাকার বস্তা নিয়ে ঘুরছে জেমস মিলনার, মারিও বালোতেল্লি ও ফার্নান্দো তোরেসের জন্য। এ নিয়ে প্রিমিয়ার লিগের অন্য ক্লাবগুলো এটা-ওটা বলেই যাচ্ছে। ম্যানসিটি কোচ রবার্তো মানচিনির কথা, বড় ক্লাবগুলো আসলে তাদের ভয় পাচ্ছে।
ভয় তো পাওয়ারই কথা। মানচিনি ম্যানসিটিতে এসেছেন মাত্রই ৭ মাস হলো, এর মধ্যেই তাঁর ক্লাব যে টাকা খেলোয়াড় কিনতে খরচ করেছে, সেটা নাকি প্রিমিয়ার লিগের ওপরের দিকের ১৪টি ক্লাবের মিলিত ব্যয়ের সমান। কিন্তু মানচিনির কথা, ‘এটাই তো স্বাভাবিক। কারণ ম্যানসিটি এখন উন্নতি করতে চাইছে। আর অন্য বড় দলগুলো এরই মধ্যে উন্নতি করে ফেলেছে।’

সিনিয়র ডিভিশন ফুটবল

সিনিয়র ডিভিশন ফুটবলের সুপার লিগে কাল ভিক্টোরিয়া স্পোর্টিং ক্লাব ২-০ গোলে হারিয়েছে উত্তর বারিধারাকে। গোল করেছেন সোহাগ ও শামীম। কমলাপুর বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে রেলিগেশনের ম্যাচে ঢাকা ওয়ান্ডারার্স ১-১ গোলে ড্র করেছে অগ্রণী ব্যাংকের সঙ্গে। ওয়ান্ডারার্সের গোলটি শাহাদাতের, অগ্রণী ব্যাংকের পক্ষে গোল করেছেন সুজন।