Wednesday, December 6, 2017

স্ত্রী-শ্যালিকাকে গুলি করে বিএসএফ কর্মকর্তার আত্মহত্যা

ভারতের হারিয়ানায় স্ত্রী ও শ্যালিকাকে গুলি করে আত্মহত্যা করেছেন ভারতীয় জাতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর কমান্ডো অফিসার জিতেন্দ্র যাদব(৩৪)। খবর হিন্দুস্তান টাইমসের। জিতেন্দ্র যাদব গত দুই বছর ধরে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী-বিএসএফে কর্মরত ছিলেন। গত মঙ্গলবার হারিয়ানার গুরুগ্রামে বিএসএফ ক্যাম্পে স্ত্রী গুড্ডন ও শ্যালিকা খুশবুকে গুলি করে আত্মহত্যা করেন ওই কর্মকর্তা। পুলিশ জানিয়েছে, বছর দুয়েক ধরে বিএসএফে  কর্মরত ছিলেন জিতেন্দ্র। ক্যাম্পের ৪২ নম্বর ফ্ল্যাটেই পরিবার নিয়ে থাকতেন তিনি। তদন্তকারী অফিসার রাহুল কুমার বলেন, মঙ্গলবার সকালে ওই ফ্ল্যাট থেকে জিতেন্দ্রের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকেই আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে জিতেন্দ্রের স্ত্রী গুড্ডন ও শ্যালিকা খুশবুকে। পেটে গুলি লাগলেও কোনোরকমে বেঁচে যান জিতেন্দ্রের স্ত্রী ও শ্যালিকা। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের স্থানীয় হাসপাতালের আইসিইউয়ে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। পুলিশের ধারণা, পারিবারিক অশান্তির জেরেই এই কাণ্ড ঘটিয়েছেন জিতেন্দ্র। জিতেন্দ্রের স্ত্রী ও শ্যালিকা কিছুটা সুস্থ হলেই পুলিশ তাদের বক্তব্য নেবে। তখনই এ ঘটনার আসল কারণ জানা যাবে বলে জানায় পুলিশ।

শাম্মী হত্যা মামলা তদন্ত করবে পিবিআই

রাজধানীর কল্যাণপুরে আলোচিত গৃহবধূ শাম্মী হত্যা মামলা তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে বর্তমান ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পর্যালোচনার জন্য তিনজন ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ দিয়ে কমিটি গঠন করতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অধ্যক্ষকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ কমিটিকে বর্তমান ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পর্যালোচনা করে নতুন করে প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে। বুধবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ সংক্রান্ত একটি রুল নিষ্পত্তি করে এ আদেশ দেন। এর আগে হাইকোর্টের তলবে রোববার ময়নাতদন্তকারী ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. সোহেল মাহমুদ আদালতে হাজির হয়ে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের বিষয়ে ব্যাখ্যা দেন। এছাড়া এদিন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মিরপুর মডেল থানার এসআই  নওশের আলী আদালতের তলবে হাজির ছিলেন। ময়নাতদন্ত রিপোর্টে ডা. সোহেল মাহমুদ নিহতের শরীরে আঘাতের চিহ্ন থাকলেও তা মৃত্যুর জন্য যথেষ্ট নয় বলে উল্লেখ করেছিলেন। একইসঙ্গে তিনি এই মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে অভিহিত করেছেন। পরবর্তীতে আদালত ময়নাতদন্ত রিপোর্ট দেখে উপরোক্ত আদেশ দেন। গণমাধ্যমের খবর নজরে আনা আইনজীবী খুরশীদ আলম খান ও রাষ্ট্রপক্ষে সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ইউসুফ মাহমুদ মোর্শেদ আদালতে উপস্থিত ছিলেন। দৈনিক যুগান্তর পত্রিকায় প্রকাশিত এ সংক্রান্ত একটি সংবাদ নজরে নিয়ে গত ৭ নভেম্বর আদালত স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে তলব করেন। প্রতিবেদনটি নজরে আনেন দুদকের আইনজীবী অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম খান। খুরশীদ আলম খান যুগান্তরকে বলেন, শাম্মী হত্যার ময়না তদন্তকারী ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. সোহেল মাহমুদকে আদালত তলব করেছেন। উল্লেখ্য, গত ৫ নভেম্বর দৈনিক যুগান্তর পত্রিকায় ‘‘গৃহবধূ শাম্মী হত্যা মামলা ‘মাকে বাবা অনেক কষ্ট দিয়ে মেরেছে’ তদন্ত কর্মকর্তার গড়িমসির অভিযোগ” শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ৭ জুন রাতে রাজধানীর কল্যাণপুরে ভাড়া বাসায় একটি বায়িং হাউসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেন টিটু তার স্ত্রী শামিমা লাইলা আরজুমান্না খান শাম্মীকে অমানবিক নির্যাতন করে হত্যা করে। পরে চিকিৎসার নামে হাসপাতালে নেয়ার পর চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় নিহত গৃহবধূর ছোট ভাই মো. ফরহাদ হোসেন খান বাবু বাদী হয়ে ৮ জুন মিরপুর মডেল থানায় মামলা করেন। পরে পুলিশ ঘাতক স্বামী আলমগীর ও তার তৃতীয় স্ত্রী ইসরাত জাহান মুক্তাকে গ্রেফতার করে। অভিযোগ উঠেছে, আলোচিত এ মামলার তদন্ত নিয়ে গড়িমসি করছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা মিরপুর মডেল থানার এসআই মো. নওশের আলী। মামলার বাদী মো. ফরহাদ হোসেন বলেন, ঢাকায় অবস্থানরত আসামির ধনাঢ্য ভগ্নিপতি মো. আবদুল বাছেদ অর্থের মাধ্যমে ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পরিবর্তন এবং মামলাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহে কাজ করছেন। আর তাই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই নওশের আলী প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে ঘাতক আসামির পক্ষে ভূমিকা রাখছেন।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার পরিকল্পনা নস্যাৎ

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মেকে হত্যাচেষ্টা নস্যাৎ করে দিয়েছে পুলিশ। হত্যার পরিকল্পনাকারী হিসেবে জাকারিয়া রহমান ও আকিব ইমরান নামে দুজনকে আটক করা হয়েছে। বুধবার তাদের ওয়েস্টমিনস্টার আদালতে নেয়া হবে বলে জানিয়েছে লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশ। এ খবর দিয়েছে ব্রিটিশ গণমাধ্যম স্কাই নিউজ। ডাউনিং স্ট্রিটে বোমা হামলা চালিয়ে মেকে হত্যার পরিকল্পনায় জড়িত থাকায় পুলিশের বিশেষায়িত গোয়েন্দা বাহিনী এম-৫ নভেম্বরের ২৮ তারিখে ওই দুজনকে গ্রেফতার করে। তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদে যুক্ত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে। তেরেসা মের মুখপাত্র জানিয়েছেন, গত ১২ মাসে ৯টি সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা নস্যাৎ করে দিয়েছেন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা।

বিজয় দিবস উপলক্ষে বিএনপির কর্মসূচি ঘোষণা

বুদ্ধিজীবী দিবস ও মহান বিজয় দিবস উদযাপনে ১০ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। বুধবার রাজধানীর নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ওই কর্মসূচি ঘোষণা করেন। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে ১৪ ডিসেম্বর সকালে মিরপুর বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে পুষ্পার্ঘ অর্পণ। দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এ পুষ্পার্ঘ অর্পণ করবেন। এ ছাড়া এ উপলক্ষে আলোচনাসভা করা হবে। মহান বিজয় দিবসে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারা দেশে দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে। এদিন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া সাভার স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন। এর পর তিনি নেতাকর্মীদের নিয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধা জানাবেন। সেখানে তিনি ফাতেহা পাঠ, দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেবেন। বিজয় দিবসে বিএনপির উদ্যোগে একটি আলোচনাসভা ও র‌্যালি বের করা হবে। এ ছাড়া দিবসটি উপলক্ষে মুক্তিযোদ্ধা দলের উদ্যোগে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে ২৪ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশ করা হবে। সমাবেশে প্রধান অতিথি থাকবেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। এ ছাড়া বিজয় দিবস উপলক্ষে সারা দেশে বিএনপি ও এর অঙ্গসহযোগী সংগঠনগুলো বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করবে।

এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের এমডি অপসারিত

এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের (এনআরবিসি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) দেওয়ান মুজিবর রহমানকে অপসারণ করা হয়েছে। অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রমাণ নিশ্চিত হওয়ায় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আগামী দুই বছর তার কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে যোগদানের ওপরও নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। আজ বুধবার সকালে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ব্যাংকটিতে পাঠানো এক নির্দেশনায় এ নির্দেশ দেওয়া হয়। এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র শুভঙ্কর সাহা। বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্তে ২০১৬ সালেই এনআরবিসির ৭০১ কোটি টাকা ঋণে গুরুতর অনিয়মের তথ্য বেরিয়ে আসে।
এর পরিপ্রেক্ষিতে ব্যাংকটিতে পর্যবেক্ষক নিয়োগ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। চলতি বছরের ২০ মার্চ ব্যাংকটির চেয়ারম্যান ও এমডির কাছে পাঠানো পৃথক নোটিশে বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, আমানতকারীদের স্বার্থে ও জনস্বার্থে এনআরবিসি ব্যাংক চালাতে ব্যর্থ হয়েছে ফরাছত আলীর নেতৃত্বাধীন পরিচালনা পর্ষদ। আর এমডি ব্যর্থ হয়েছেন ব্যাংকটিতে যথাযথ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে। এমনকি তারা গুরুতর প্রতারণা ও জালিয়াতি করেছেন, যা ফৌজদারি আইন অনুযায়ী দণ্ডনীয়।

রসিক নির্বাচন : বিএনপি প্রার্থীর কাছে ব্যাখা চেয়ে ইসির নোটিশ

রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী কাওছার জামান বাবলাকে পত্রিকায় প্রকাশিত একটি মিটিংয়ের ছবির বিষয়ে ব্যাখা চেয়েছে নির্বাচন কমিশন। বুধবার এ সংক্রান্ত একটি নোটিশ দেয়া হয়েছে তাকে। রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা সুভাষ চন্দ্র সরকার জানান, ‘একটি পত্রিকায় ছবি ছাপা হয়েছে বাবলা মিটিংয়ে বক্তব্য দিচ্ছেন। কিন্তু সেটি কিসের ছবি তা উল্লেখ নেই। এ বিষয়ে কোন প্রার্থী অভিযোগ করেননি। আমরা নিয়মানুযায়ী পত্রিকা দেখে তাকে কিসের মিটিং ছিল সে বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়েছি। তিনদিনের মধ্যে তাকে এ বিষয়ে জবাব দিতে বলা হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘প্রার্থীরা আচরণবিধি মেনে চলছেন।
এটা খুব আশার দিক। নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে মাঠে ১১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে কাজ চলছে। ’ এব্যপারে বাবলার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদষ্য সচিব শহিদুল ইসলাম মিজু বলেন, ‘আমরা নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সভা করেছি পার্টি অফিসে। সেই ছবি বিভিন্ন পত্রিকায় ছাপা হয়েছে। নিউজ ছাপা হয়েছে। সেখানে খুব স্পস্ট করেই বলা আছে কিসের মিটিং। তবুও নির্বাচন কমিশন স্ব-প্রণোদিত হয়ে ব্যাখ্যা চেয়ে আমাদের চিঠি দিয়েছে। আমরা চিঠির যথাযথ ব্যখ্যা যথাসময়ে দিবো। ’ তিনি বলেন, ‘অনেক প্রার্থী আচরণবিধি লঙ্ঘন করছেন। সে বিষয়টিকে নির্বাচন কমিশনের স্বপ্রণোদিত হয়ে ব্যাখা চাওয়া উচিত।’ প্রসঙ্গত, আগামী ২১ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে এই ভোট। এই নির্বাচনে মেয়র পদে লাঙ্গল, নৌকা এবং ধানের শীষ প্রতীকই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী।

মালদ্বীপ প্রশ্নে ভারতকে ধমক চীনের!

চীন ও মালদ্বীপের মধ্যে ঘনিষ্ঠ বাণিজ্য সম্পর্কে বাধা দানের চেষ্টা করলে ভারত শুধু নিজেরই ক্ষতি করবে। চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম গ্লোবাল টাইমস এ মন্তব্য করেছে। ক্ষুদ্র দ্বীপরাষ্ট্র মালদ্বীপ বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির সাথে মুক্তবাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) অনুমোদনের পর পত্রিকাটি ওই মন্তব্য করে। এই চুক্তি নয়াদিল্লিকে বেশ চমকে দিয়েছে। পত্রিকাটি বলছে, মালদ্বীপের পর্যটন শিল্পের সবচেয়ে বড় উৎস চীন এবং চুক্তিটি বাণিজ্যিক কারণেই হয়েছে, এতে কোনো ‘রাজনৈতিক চক্রান্ত’ নেই। ২ ডিসেম্বর প্রকাশিত এক নিবন্ধে বল হয়, মালদ্বীপের বাজারে সস্তায় চীনা পণ্য আমদানির মাধ্যমে চীনা পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে এফটিএ সই করা মালদ্বীপের জন্য একটি বোধগম্য পদক্ষেপ। ২০১৫ সালের শেষের দিকে এফটিএ নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হয় এবং গত সেপ্টেম্বরে তা শেষ হয়। চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, উভয় দেশের ৯৫ শতাংশের বেশি পণ্যের ওপর শুল্ক শূন্য হবে এবং ‘স্বাস্থ্যসেবা ও পর্যটন শিল্প বাজারে নতুন সেবা প্রতিষ্ঠান খোলার ক্ষেত্রে সহযোগিতায় সম্মত হয়েছে দুই দেশ।’ গ্লোবাল টাইমসের খবরে বলা হয়, ‘ভারতের নিজস্ব অর্থনৈতিক অবস্থা দুর্বল হলে দক্ষিণ এশিয়ায় তার রাজনৈতিক প্রভাব বজায় রাখা দুঃসাধ্য হবে। ভারত যদি মনে করে যে তার অবস্থান হুমকির মুখে রয়েছে, তবে তার বিবেচনা করা উচিত যে, কিভাবে ‘উইন-উইন’ অর্থনৈতিক সহযোগিতার মাধ্যমে তার প্রতিবেশীদের আরো উপকৃত করতে পারে তারা।’ প্রতিবেশীদের মধ্যে মালদ্বীপই একমাত্র দেশ যেখানে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সফর করেননি এবং দুই দেশের মধ্যে কোনো এফটিএর নেই। দিল্লির সাউথ ব্লক সূত্র ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে জানায়, মালেতে ভারতীয় হাইকমিশন সাম্প্রতিক ঘটনাবলির ব্যাপারে একটি রিপোর্ট পাঠিয়েছে, যা দিল্লিতে অনেককেই অবাক করেছে। এটি কোনো দেশের সাথে মালদ্বীপের প্রথম এফটিএ এবং দক্ষিণ এশিয়ার কোনো দেশের সাথে চীনের দ্বিতীয় এফটিএ। বিশেষ করে মালদ্বীপের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা: মোহাম্মদ আসিম গত বছর ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী সুষমা স্বরাজের সাথে বৈঠকে ভারত-প্রথম নীতি পুনর্ব্যক্ত করার পর এমন চুক্তি কিভাবে হলো সে ব্যাপারে বিস্ময় প্রকাশ করা হচ্ছে।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে ভারতের নীরবতা বিভ্রান্তিকর

বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসন ও পুনরেকত্রীকরণের উদ্দেশে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার সফর করে গেলেন পোপ। অভিবাসনবিষয়ক জাতিসঙ্ঘের সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশনের (আইএমও) মতে, চলতি বছরের ২৫ আগস্ট থেকে কমপক্ষে ছয় লাখ ২৩ হাজার রোহিঙ্গা মিয়ানমারে নৃশংসতা থেকে বাঁচতে পালিয়ে বাংলাদেশে এসেছেন। পোপ ছাড়াও গত মাসে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন মিয়ানমারে যান। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতরের একটি সিনিয়র টিম, ব্রিটিশ ও কানাডার আন্তর্জাতিক উন্নয়নবিষয়ক মন্ত্রীরা বাংলাদেশের কক্সবাজারে রোহিঙ্গা আশ্রয়কেন্দ্রগুলো পরিদর্শন করেছেন। সিঙ্গাপুরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মিয়ানমারের রাজধানী নেইপিডো এবং বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা সফর করেছেন। তিনি রোহিঙ্গা সঙ্কটে আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর জন্য সহায়তার ক্ষেত্র বের করায় ভূমিকা পালন করেছেন। নভেম্বরের শুরুর দিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র বিষয়ক উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি, জার্মানি, সুইডেন ও জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের নিয়ে রোহিঙ্গাশিবিরগুলো পরিদর্শনে যান বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। তবে ভারতীয় কোনো নেতা ওই আশ্রয়শিবিরগুলো পরিদর্শন করেননি। ভারতের প্রভাবশালী অনলাইন দ্য হিন্দুতে এক লেখায় এসব কথা বলা হয়েছে। এতে উল্লেখ করা হয়, চীন অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নিজেদের জড়িত করে না। কিন্তু রোহিঙ্গাইস্যুতে সেই অবস্থান থেকে সরে এসেছে দেশটি। এটা তাদের অবস্থানের এক বিরল পরিবর্তন। তারা রোহিঙ্গা ইস্যুতে মধ্যস্থতা করায় একটি ভূমিকা পালনের সিদ্ধান্ত নেয়। তাই চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই গিয়েছিলেন ঢাকায়। তিনি ১৮ নভেম্বর সাক্ষাৎ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে। এরপর তিনি নেইপিডোতে সাক্ষাৎ করেছেন মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট হতিন কাইওয়ার সাথে। রোহিঙ্গাদের দুই মাসের মধ্যে রাখাইন প্রদেশে ফিরিয়ে নেয়া শুরু করার বিষয়ে একটি চুক্তির ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার। চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই প্রস্তাবিত তিন দফার অংশ এ প্রক্রিয়া। এখানে উল্লেখ করার বিষয় হলো একই সপ্তাহে চীন সফরে গিয়েছিলেন মিয়ানমারের সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইং। উদ্দেশ্য রোহিঙ্গা সঙ্কট নিয়ে অধিকতর আলোচনা করা। অন্য দিকে মিয়ানমারের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু স্টেট কাউন্সিলর অং সান সু চি তিন দিনের জন্য উড়ে যান বেইজিং। কূটনৈতিক এ ব্যাপক তৎপরতায় ভারত কেন এতটা নীরব, এতটা কোমলতা প্রদর্শন করছে তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। এমনিতেই এ উপমহাদেশে সবচেয়ে বড় দুই প্রতিবেশী বাংলাদেশ ও মিয়ানমার। যদি রোহিঙ্গা শরণার্থীর সংখ্যা বাড়তেই থাকে তাহলে এতে আক্রান্ত হওয়ার বড় ঝুঁকিতে রয়েছে ভারতও। তাই ভারতের উচিত এ সঙ্কটে সবচেয়ে বেশি তৎপরতা দেখানো। তার পরিবর্তে ধারাবাহিক ভুল করে যাচ্ছে ভারত। এর শুরু হয়েছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নিজের মিয়ানমার সফরের মধ্য দিয়ে। মিয়ানমারকে তার সত্য গোপনে অনুমোদন দিয়েছে ভারত। নিজ দেশে ভয়াবহ সহিংসতায় যখন হাজার হাজার মানুষ পালাচ্ছিলেন তখন সেপ্টেম্বরের শুরুর দিকে নেইপিডোতে সংবাদ সম্মেলনে মোদি ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটি উচ্চারণ করতে অস্বীকৃতি জানান। যখন রাখাইনে সহিংসতা নিয়ে আলোচনার পর্ব আসে তখন শুধু আরাকান রোহিঙ্গা সালভেশন আর্মির সন্ত্রাসী হামলার কথা বাদে অন্য প্রসঙ্গ আনেনি ভারত। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সমালোচার পর দুই দিন পরে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে একটি বিবৃতি দেয়া হয়। তাতে শরণার্থীসঙ্কট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। উল্লেখ্য, রোহিঙ্গাসঙ্কট তখন উদ্বেগজনক হারে বা অ্যালার্মিং মাত্রায় পৌঁছেছে। এটাকে যুক্তরাষ্ট্র পর্যন্ত এখন জাতি নিধন বলে উল্লেখ করছে। উপরন্তু ইন্দোনেশিয়ার বালিতে ৫০ জাতির পার্লামেন্টারিয়ান কনফারেন্সের ঘোষণা অনুমোদন দিতে অস্বীকৃতি জানায় ভারত। কারণ ওই ঘোষণায় রোহিঙ্গা ইস্যুটি উল্লেখ করা হয়েছিল। এমনকি বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ ভুটান ও শ্রীলঙ্কাসহ দক্ষিণ এশিয়ার কিছু দেশ বালির ওই ঘোষণা অনুমোদন দিয়েছে। পরে সেপ্টেম্বরে সরকার ‘অপারেশন ইনসানিয়েত (হিউম্যানিটি)’ নামের অধীনে মানবিক ত্রাণ সহায়তা পাঠানো শুরু করে ভারত সরকার। এ অভিযানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, তুরস্ক, আজারবাইজান, মালয়েশিয়া ও অন্য আরো অনেকে। এর মধ্যে অন্যতম দেশ হলো ভারত।
গত সপ্তাহে সরকার মিয়ানমারে ৩০০০ পরিবারের কাছে সহায়তা হিসেবে ‘ফ্যামিলি ব্যাগ’ পাঠায়। কিন্তু রাখাইনের ভেতরে বাস্তচ্যুত বিপুল মানুষ ও তাদের জরুরি সহায়তার বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। ভারত যেসব প্রচেষ্টা চালিয়েছে তার মধ্যে রয়েছে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের বাংলাদেশ সফর। এ সফরে তিনি রোহিঙ্গাশিবিরগুলো পরিদর্শনের জন্য সময় পাননি। অন্য দেশগুলো যা করেছে এটা তার বিপরীতমুখীই নয় শুধু, একই সাথে ভারতের নিজের যে রেকর্ড রয়েছে তারও বিপরীত এটা। যেকোনো অর্থে রোহিঙ্গা সঙ্কট একটি ভয়াবহ বিষয়। এতে প্রায় ১০ লাখ নারী, পুরুষ ও শিশু অবর্ণনীয় দুর্দশায় বসবাস করছে মিয়ানমারে ও বাংলাদেশে। ভারতের একটি প্রচলিত রীতি আছে। তারা দ্রুততার সাথে মানবিক সহায়তা পাঠায়, চিকিৎসা সেবা, চিকিৎসক ও স্বেচ্ছাসেবক পাঠায় অন্য দেশগুলোতে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ২০০৪ সালের সুনামির পরের কথা, ২০০৮ সালে ঘূর্ণিঝড় নার্গিস মিয়ানমারে আঘাত করার পরের কথা, ২০১৫ সালে নেপালে ভূমিকম্পের পরের কথা। কিন্তু ভারত রোহিঙ্গা সঙ্কটে হাতপা গুটিয়ে বসে আছে বলেই দৃশ্যত দেখা যায়। অন্য দিকে জাতিসঙ্ঘেও ভারতের কণ্ঠ উচ্চকিত নয়। তারা অন্য দেশকে এ ইস্যুতে নেতৃত্ব দেয়ার সুযোগ করে দিচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, জাতিসঙ্ঘ সাধারণ অধিবেশনের পাশাপাশি মিয়ানমারের নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে নিয়ে একটি বৈঠক আয়োজন করে ব্রিটেন। এতে যোগ দেন ইন্দোনেশিয়া, তুরস্ক, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, সুইডেন, ডেনমার্ক ও যুক্তরাষ্ট্রের সিনিয়র কর্মকর্তারা। এরপর জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদে থার্ড কমিটির ভোটে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান বন্ধের আহ্বান সংবলিত একটি প্রস্তাবে ভোট দেয়া থেকে বিরত থাকে ভারত। মিয়ানমারে জাতিসঙ্ঘের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন পাঠানোর প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেয় ১৩৫টি দেশ। এ প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোটদানে বিরত থাকে ২৬টি দেশ। তার মধ্যে ভারত অন্যতম। হস্তক্ষেপমূলক এ প্রস্তাবে ভারতের গুরুত্বপূর্ণ ভোট ছিল। কিন্তু তারা কোনো রকম নেতৃত্ব প্রদর্শন করেনি। যদি তারা তা করত তাহলে তা বাংলাদেশের পক্ষে ভারতের অবস্থান সদৃঢ় করত। এ বাংলাদেশ এ অঞ্চলে ভারতের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ মিত্রদের অন্যতম। এ দেশটির নেতৃত্ব শরণার্থীর প্রবাহ নিয়ে এক রকম লড়াই করছে। আগামী বছর কঠোর নির্বাচনের মুখে প্রধানমন্ত্রী। সংক্ষেপে বলা যায়, মিয়ানমারে এবারের সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার পর ভারত যত পদক্ষেপ নিয়েছে আঞ্চলিক, উপমহাদেশীয় ও এশিয়ার নেতৃত্ব হিসেবে ভারতের সেসব পদক্ষেপ নেতিবাচক। এ মর্যাদা ফিরে পেতে সঙ্কট সমাধানের অংশ হতে অনেক বেশি কিছু করতে হবে। এটা করতে প্রথমেই যা করতে হবে তা হলো ২০১২ সাল থেকে ভারতে বসবাস করছে প্রায় ৪০ হাজার রোহিঙ্গা। সরকার তাদের ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বলা হচ্ছে, এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক কারণে। তবে এ বিষয়ে সরকারকে পরিষ্কার করতে হবে যে, ভারতের এমন সিদ্ধান্তের পেছনে কোনো আন্তর্জাতিক আকাক্সক্ষা নেই। এ ছাড়া বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের সাথে রোহিঙ্গা ফেরত পাঠানো ইস্যুতে যতক্ষণ ভারত কাজ করতে না পারছে ততক্ষণ পর্যন্ত ভারতকে এ প্রত্যাবর্তন ইস্যুতে তার উদ্বেগ জানিয়ে যেতে হবে। এ ক্ষেত্রে সমাধান হতে হবে ত্রিদেশীয়। এ কাজটি চীনের চেয়ে ভারতের জন্য সহজ হবে। কারণ বিমসটেকের অংশ হিসেবে এরই মধ্যে আঞ্চলিক বিভিন্ন ইস্যুতে তারা কাজ করেছে। সম্প্রতি প্রতিবেশী বাংলাদেশ, আফগানিস্তান ও পাকিস্তানে সহিংসতার কারণে যেসব সংখ্যালঘু পালিয়ে ভারতে যাচ্ছেন তাদের দীর্ঘ মেয়াদি ভিসা দেয়ার আইন পরিবর্তন করেছে মোদি সরকার। এখন যদি ভারত বলে যে, তারা রোহিঙ্গাদের সহায়তা করবে না, তারা মিয়ানমারের সংখ্যালঘু। তাহলে তারা হয়তো এটাই বলতে চায় যে, রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের মানুষ নন। আর না হয় ভারতের প্রতিবেশী নয় মিয়ানমার। এ দুইটি বিষয়ই ভারতের আগের অবস্থানের সাথে সঙ্ঘাতময়। সরকার আদালতে যুক্তি তুলে ধরেছে যে, রোহিঙ্গারা ভারতে সন্ত্রাসী হুমকি। তবে এমন কথা শ্রীলঙ্কান বা আফগানদের ক্ষেত্রে বলা হয়নি। আঞ্চলিক প্রতিটি ধর্ম চর্চার একটি দেশ ভারত। তাদের এ ভূমিকা জোরালো করতে হবে। এ জন্য ভারত একটি ব্যতিক্রমী দেশ। এসব কারণে, বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক শাসনযন্ত্রে উচ্চমাত্রায় ভূমিকা থাকায় ভারতকে অবশ্যই রোহিঙ্গা ইস্যুতে কণ্ঠ উচ্চকিত করতে হবে। সীমান্তের সাথে লাগোয়া একটি প্রতিবেশী দেশে যখন সবচেয়ে বড় মানবিক ট্র্যাজেডি চলছে তখন ভারত যদি আমতা আমতা করে তাহলে তাতে তার বৈশ্বিক নেতৃত্বের যে উচ্চাকাক্সক্ষা তা প্রকাশ পায় না।

পদত্যাগপত্র প্রত্যাহার করলেন লেবাননের প্রধানমন্ত্রী

লেবাননের প্রধানমন্ত্রী সাদ হারিরি মন্ত্রিসভার এক বৈঠকের পর আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র প্রত্যাহার করেছেন। আকস্মিক পদত্যাগের এক মাস পর আর নিজ আসনে ফিরে এলেন তিনি।
এর আগে গত ৪ নভেম্বর সৌদি আরবে গিয়ে সাদ হারিরি আকস্মিকভাবে পদত্যাগের গোষণা দিয়েছিলেন এবং তার এক মাস পরে তিনি পদত্যাগপত্র আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করলেন। প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর পর তিনি পদত্যাগপত্র প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন। এর আগে মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এ সম্পর্কে লেবাননের মন্ত্রিসভা থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সমস্ত রাজনৈতিক দল সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, লেবাননের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের স্বার্থে যেকোনো ধরনের দ্বন্দ্ব-সংঘাত, যুদ্ধ অথবা আরব দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা থেকে তারা নিজেদেরকে দূরে রাখবে। পদত্যাগের সময় হারিরি অভিযোগ করেছিলেন, লেবাননের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হিজবুল্লাহ ও ইরান আরব দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করছে। তবে হিজবুল্লাহ ও ইরান এ অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে নাকচ করেছে।

মৎস্য ও পোল্ট্রি খাদ্যের দাম ৫০ শতাংশ কমানো সম্ভব

মাছসহ মানুষ ও অন্যান্য জীবের জন্য খাদ্য হিসাবে স্পিরুলিনা বাণিজ্যিকভাবে চাষ করার পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে ময়মনসিংহে অবস্থিত বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের একোয়াকালচার বিভাগ। এ উপলক্ষে থাইল্যান্ডের ইনারগাইয়্যা কোম্পানীর সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই বিভাগের একটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। ফলে ওই কোম্পানীর কারিগরি ও আর্থিক সহায়তায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা বাণিজ্যিকভাবে স্পিরুলিনা চাষের দ্বার উন্মোচিত হতে যাচ্ছে। গবেষকরা আশা করেন স্পিরুলিনা থেকে প্রাপ্ত প্রোটিন মাছ ও পোল্ট্রি খাদ্যের দাম প্রায় ৫০ শতাংশ কমানো সম্ভব। মানুষের খাদ্য হিসেবেও এর ব্যবহার রয়েছে। বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের একোয়াকালচার বিভাগের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড. এম মাহফুজুল হক এবং থাইল্যান্ডের ইনারগাইয়্যা কোম্পানীর পক্ষে ব্যবস্থাপনা পরিচালক মি. সাউমিল শাহ চুক্তি পত্রে স্বাক্ষর করেন। এসময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. আনোয়ারুল ইসলাম, অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. গিয়াস উদ্দিন আহমদ, একোয়াকালচার বিভাগের প্রফেসর ড. মো. আহসান বিন হাবিব, প্রফেসর ড. এস এম রহমত উল্লাহ, প্রফেসর ড. মো. রুহুল আমীন, প্রফেসর ড. মো. আলী রেজা ফারুক, মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন, সহকারী প্রফেসর জান্নাতুল ফেরদৌস, সহকারী প্রফেসর কে এম শাকিল রানা। অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ভেটেরিনারি অনুষদের প্যারাসাইটোলজি বিভাগের প্রফেসর ড. মো. সহিদুজ্জামান, নয়া দিগন্তের বিশ্ববিদ্যালয় সংবাদদাতা কৃষিবিদ মো: আরিফুল ইসলাম প্রমুখ। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে গবেষকরা জানান, আমাদের দেশের মাছ ও পোল্ট্রির খাদ্য বিভিন্ন উপাদান আমদানিনির্ভর হওয়ায় খাদ্যের দাম অনেক বেশি হয়। ফলে লাভবান হতে পারছেন না চাষীরা। এদিকে খাদ্য উপাদান আমদানী করতে দেশ থেকে প্রতিবছর কোটি কোটি টাকা বিদেশ চলে যাচ্ছে। স্পিরুলিনা থেকে প্রাপ্ত প্রোটিন মাছ ও পোল্টির খাদ্যে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ ব্যবহার করা সম্ভব। ফলে এসব খাদ্যের দাম প্রায় ৫০ শতাংশ কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। এতে লাভবান হবেন দেশের দরিদ্র খামারীরা এবং কমে আসবে দেশের আমদানি ব্যয়।
স্পিরুলিনা গবেষক ও সমঝোতা চুক্তির প্রধান উদ্যোক্তা একোয়াকালচার বিভাগের প্রফেসর ড. মো. আহসান বিন হাবিব জানান, স্পিরুলিনা অত্যন্ত উন্নতমানের খাদ্য হিসাবে হ্রদের চারপাশের মানুষের কাছে বিশেষভাবে সমাদিত। কারণ এতে প্রায় ৫৫-৬০% প্রোটিন থাকে যা প্রায় মাছের প্রোটিনের সমান। এই প্রোটিন সমৃদ্ধ এককোষী নীলাভ-সবুজ উদ্ভিদতে লিপিডাস ৬-১০%, খনিজ লবণ ১২-১৬% ও শর্করা জাতীয় উপাদান রয়েছে। এছাড়া এতে প্রচুর পরিমাণে অত্যাবশ্যকীয় উপাদান যেমন লিগমেন্টাস, ফাইকোসায়ানিন, ভিটামিন, মিনারেলস ও হরোমোন তৈরী করে থাকে। তিনি আরও জানান, প্রোটিন ও লিপিডাসের সমন্বয়ে গঠিত ফাইকোসায়ানিন যা অত্যন্ত আকর্ষণীয় রং তৈরী করে। ফলে এ রং প্রসাধনী সামগ্রী, ঔষধ, পানীয় খাবার ইত্যাদিতে ব্যবহার করা হয়। যার দাম প্রতি কেজি প্রায় ৮ লাখ টাকা। মাছের প্রোটিনের প্রায় সমান প্রোটিন থাকার কারণে স্পিরুলিনা মানুষ ও অন্যান্য পশু-পাখি যেমন মুরগি, গরু, ছাগলের খাদ্যেও প্রোটিনের প্রধান উৎস মাংস ও হাড়ের গুড়ার বিকল্প হিসেবে ৭৫ শতাংশ স্পিরুলিনা ব্যবহার করা সম্ভব। গবেষণায় দেখা গেছে, মাছের খাদ্যে ৬০-৭০ শতাংশ স্পিরুলিনা ব্যবহারে ভালো ফল পাওয়া যাচ্ছে। ফলে ব্যাপক চাষ করে দেশের মৎস্য ও প্রাণীখাদ্যের দাম কমিয়ে খামারীদের লাভবান করা সম্ভব।

অনশনে যাচ্ছেন সহকারী শিক্ষকেরা

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের বেতন এক ধাপ বৃদ্ধির প্রস্তাব করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর (ডিপিই)। ডিপিই থেকে এ ধরনের একটি প্রস্তাব গত সপ্তাহে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। ডিপিই মহাপরিচালক ড. আবু হেনা মোস্তফা কামাল গতকাল নয়া দিগন্তকে এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। গত ৩০ নভেম্বর তিনি অধিদফতরে অনুষ্ঠিত গণশুনানিতেও এ কথা জানান। প্রধান শিক্ষকেরা এখন বেতন স্কেলের ১১ ও ১২তম গ্রেডে (প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও প্রশিক্ষণবিহীন) বেতন পাচ্ছেন। ডিপিইর সুপারিশ ও প্রস্তাব অনুসারে প্রধান শিক্ষকদের বেতন ১০ ও ১১ গ্রেডে উন্নীত হলে সহকারী শিক্ষকদের সাথে বেতনবৈষম্য আরেক ধাপ (চার ধাপ) বৃদ্ধি পাবে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন সহকারী শিক্ষকেরা। সহকারী শিক্ষকেরা এখন প্রধান শিক্ষকদের তিন ধাপ নিচে বেতন পাচ্ছেন। একে চরম বৈষম্য ও হতাশার বলে অভিহিত করেছেন তারা। শিক্ষক নেতারা জানান, সহকারী শিক্ষকদের মধ্যে যারা মেধাবী তারা এ পেশায় থাকতে নারাজ। অনেকেই পেশা পরিবর্তনও করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুসারে প্রধান শিক্ষকদের দ্বিতীয় শ্রেণীর মর্যাদা দেয়া হলেও বেতন স্কেল সমমর্যাদার না করার ওই সুপারিশ ও প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে বলে ডিপিই সূত্রে বলা হয়েছে। এর আগে গত ১৫ নভেম্বর অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে প্রধান শিক্ষকদের উন্নীত বেতন স্কেলে প্রদান করে জিও রাজি করে। এরপর আবারো বেতন স্কেল বাড়ানোর জন্য ডিপিই থেকে নতুন করে আরেক ধাপ বেতন স্কেল উন্নীত করার যে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে, তাতে সহকারী শিক্ষকেরা হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। সহকারী শিক্ষক নেতারা ৩০ নভেম্বর গণশুনানিতে ডিপিইর মহাপরিচালকের কাছে পরবর্তী এক সপ্তাহের মধ্যে সহকারী শিক্ষকদের বেতন স্কেল প্রধান শিক্ষকদের এক ধাপ নিচে নির্ধারণের প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে কি না জানতে চান। ডিপিইর ডিজি এ ব্যাপারে সরাসরি কোনো উত্তর দেননি। প্রধান শিক্ষকেরা বর্তমানে দ্বিতীয় শ্রেণীর কর্মকর্তার মর্যাদা ভোগ করলেও সহকারী শিক্ষকেরা এখনো তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারীর স্তরে রয়ে গেছেন বলে জানান। তারা বলেন, প্রধান শিক্ষকদের পদমর্যাদা এবং বেতন স্কেল বাড়লেও সহকারী শিক্ষকেরা এখনো আগের অবস্থায়ই রয়ে গেছেন। এটাকে বড় ধরনের হতাশার কারণ বলছেন একাধিক সহকারী শিক্ষক নেতা। অথচ কিছু দিন আগেও প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকেরা সমমর্যাদার (তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারী) ছিলেন। প্রাথমিক শিক্ষা জাতীয়করণের শুরু থেকেই সহকারী শিক্ষকের বেতন স্কেল প্রধান শিক্ষকের একধাপ নিচে ছিল। ২৯ আগস্ট ২০০৬ সাল থেকে সহকারী শিক্ষকদের বেতন স্কেল প্রধান শিক্ষকদের দুই ধাপ নিচে নির্ধারণ করা হয়। এ ধারা এখনো বিরাজমান। সর্বশেষ ২০১৫ সালে অষ্টম ও সর্বশেষ পে-স্কেলেও এ ধাপ বজায় রাখা হয়। এ নিয়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকেরা তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা ব্যক্ত করেছেন।
গত ৪ বছর ধরে বেতন স্কেল প্রধান শিক্ষকদের এক ধাপ নিচে নির্ধারণের জন্য অব্যাহত আন্দোলন করার পরও মন্ত্রণালয় এবং ডিপিইর কোনো ধরনের উদ্যোগ না থাকায় বিষয়টি নিয়ে সহকারী শিক্ষক নেতারা ৩০ নভেম্বর এবং পয়লা ডিসেম্বর দফায় দফায় বৈঠক করেছেন ঢাকায়। সংশ্লিষ্টরা গতকাল নয়া দিগন্তকে জানিয়েছেন, সহকারী শিক্ষকদের সব কয়টি সংগঠন এ ব্যাপারে (প্রধান শিক্ষকদের এক ধাপ নিচে বেতন স্কেল নির্ধারণ) একমত ও একাট্টা। এ দাবিতে তারা জোটবদ্ধ হয়েছেন এবং সম্ভাব্য আগামী ২৩ ডিসেম্বর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অনশন কর্মসূচি শুরুর ব্যাপারে একমত ও চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই এ ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসবে। সংশ্লিষ্টরা জানান, গত ৩০ নভেম্বর ও পয়লা ডিসেম্বর সহকারী শিক্ষক সংগঠনগুলোর নেতাদের যে বৈঠক হয়েছে তাতে শাসমুদ্দিন মাসুদের নেতৃত্বাধীন প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতি, তপনকুমার মণ্ডলের নেতৃত্বাধীন প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমাজ, শাহীনুর আল আমিন নেতৃত্বাধীন সহকারী শিক্ষক সমাজের অপর গ্রুপ, শাহীনুর আক্তার নেতৃত্বাধীন সহকারী শিক্ষক ফাউন্ডেশন, শিবাজী বিশ্বাসের নেতৃত্বাধীন সহকারী শিক্ষক পুল এবং রোজেল সাজু ও মিজানুর রহমান নেতৃত্বাধীন প্যানেল শিক্ষক সমিতির নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকের পর আরো তিন-চারটি সংগঠন ওই দাবি ও কর্মসূচির সাথে এক মত পোষণ করেছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

ঋণ কেলেঙ্কারি : বাচ্চুকে আবারো জিজ্ঞাসাবাদ

সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকার ঋণ কেলেঙ্কারি অভিযোগে বেসিক ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান শেখ আব্দুল হাই বাচ্চুকে আবারো জিজ্ঞাসাবাদ করছে দুর্নীতি দমন কমিশন। কমিশনের উপ-পরিচালক (জনসংযোগ) প্রনব কুমার ভট্টাচার্য্য সাংবাদিকদের জানান, আব্দুল হাই বাচ্চু বুধবার সকাল ১০টার দিকে দ্বিতীয় দিনের মত জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়। কমিশনের পরিচালক একেএম জায়েদ হোসেন খান ও সৈয়দ ইকবালের নেতৃত্বে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এর আগে গত সোমবার দুদকের সেগুনবাগিচার কার্যালয়ে প্রায় আড়াই ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় বাচ্চুকে। সেদিন সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নিজেকে তিনি দোষী বলে মনে করেন না। বেসিক ব্যাংকের দুর্নীতি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের কয়েক দফা পর্যবেক্ষণ আসার পর সম্প্রতি ব্যাংকটির সাবেক চেয়ারম্যান বাচ্চুকে জিজ্ঞাসাবাদের উদ্যোগ নেয় দুদক। বাচ্চুর আগে ব্যাংকের সাবেক ১০ পরিচালককেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এরা হলেন- ব্যাংকটির পরিচালনা পর্যদের সাবেক সদস্য আনোয়ারুল ইসলাম, আনিস আহমদ, কামরুন নাহার আহমেদ, অধ্যাপক কাজী আকতার হোসাইন, সাখাওয়াত হোসেন, ফখরুল ইসলাম, একেএম কামরুল ইসলাম, জাহাঙ্গীর আখন্দ সেলিম, শ্যাম সুন্দর শিকদার ও একেএম রেজাউর রহমান। দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ সোমবার সাংবাদিকদের বলেন, “এখন তদন্ত চলছে, তদন্ত কর্মকর্তারা কাজ শেষ করে সিদ্ধান্ত নেবেন- কে আসামি হবেন, আর কে হবেন না।”

আলতাফকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলতাফ হোসেন চৌধুরীর বড় পুকুরিয়া কয়লা খনি দুর্নীতি মামলা বাতিল চেয়ে করা আবেদনের প্রেক্ষিতে জারি করা রুল খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে, রায় হাতে পাওয়ার সাপেক্ষে আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে তাকে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করতে বলা হয়েছে। দুদকের আইনজীবী খোরশেদ আলম খান এ তথ্য জানিয়েছেন। আজ বুধবার হাইকোর্টের বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে আলতাফ হোসেনের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন। অন্যাদিকে দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী খুরশিদ আলম খান। রায়ের পরে আইনজীবী খুরশিদ আলম খান সাংবাদিকদের বলেন, মামলা বাতিলে রুল খারিজ করে দিয়েছেন। একইসঙ্গে চার সপ্তাহের মধ্যে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছেন। হাইকোর্টের এ রায়ের ফলে মামলা চলতেও আর বাধা নেই বলে জানান এ আইনজীবী। একই মামলায় বৈধতার প্রশ্নের চলতি বছরের ২২ মে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আবেদন খারিজ করে দিয়েছিলেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। সেনা সমর্থিত সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৮ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এবং তার মন্ত্রিসভার ১০ সদস্যসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে বড় পুকুরিয়া কয়লা খনি দুর্নীতি মামলা দায়ের করা হয়। চীনা প্রতিষ্ঠান কনসোর্টিয়াম অব চায়না ন্যাশনাল মেশিনারিজ ইম্পোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট করপোরেশনের (সিএমসি) সঙ্গে বড় পুকুরিয়া কয়লা খনির উৎপাদন, ব্যবস্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণ চুক্তি করার মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রের প্রায় ১৫৮ কোটি ৭১ লাখ টাকার ক্ষতির অভিযোগ আনা হয় এ মামলায়। ওই বছরের ৫ অক্টোবর ১৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করে দুদক।
বড় পুকুরিয়া কয়লা খনি দুর্নীতি মামলার বিচারিক কার্যক্রম ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৯ এ চলছে। খালেদা জিয়া, আলতাফ হোসেন চৌধুরী ছাড়াও ওই মামলায় আসামিরা হলেন- মতিউর রহমান নিজামী ও আলী আহসান মুজাহিদ(মৃত্যুদণ্ড কার্যাকর)এম সাইফুর রহমান (মৃত), আবদুল মান্নান ভূঁইয়া (মৃত), ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, এম কে আনোয়ার(মৃত), এম শামসুল ইসলাম (মৃত), ব্যারিস্টার আমিনুল হক, এ কে এম মোশাররফ হোসেন, জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব নজরুল ইসলাম, পেট্রোবাংলার সাবেক চেয়ারম্যান এস আর ওসমানী, সাবেক পরিচালক মঈনুল আহসান, বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম ও খনির কাজ পাওয়া কোম্পানির স্থানীয় এজেন্ট হোসাফ গ্রুপের চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন। পরে এ মামলা বাতিলে হাইকোর্টে আবেদন করেছিলেন আলতাফ হোসেন চৌধুরী। হাইকোর্ট মামলার কার্যরক্রমের ওপর স্থগিতাদেশ দিয়ে রুল জারি করেন । বুধবার সেই রুল খারিজ করে দেন হাইকোর্ট।

বিজয় দিবসে স্মৃতিসৌধে যাবেন খালেদা জিয়া

মহান বিজয় দিবস ও শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উদযাপন উপলক্ষে কর্মসূচীর ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। আজ বুধবার দুপরে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এসব জানিয়ে বলেন, মুক্তিযুদ্ধের মহান শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ১৬ ডিসেম্বর সকালে জাতীয় স্মৃতিসৌধে যাবেন বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। একইদিন তিনি শেরেবাংলা নগরে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মাজার জিয়ারত করবেন। বিজয় দিবসের পর দিন রাজধানীতে বিজয় র‌্যালি করা হবে। এসময় বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত থাকবেন। সংবাদ সম্মেলনের আগে দলের বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের সভাপতি সেক্রেটারি এবং দলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দকে নিয়ে যৌথসভা করেন মির্জা ফখরুল। এসময় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, মুজিবুর রহমান সারোয়ার, হাবিব উন নবী খান সোহেল, শামা ওবায়েদ, অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ সহ বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। মহান বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে ১০ দিনের কর্মসূচি নেয়া হয়েছে জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, মহান বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে ১৯ ডিসেম্বর মহানগর নাট্যমঞ্চে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। ২৪ ডিসেম্বর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। মির্জা ফখরুল বলেন, ১৬ ডিসেম্বর ভোরে খালেদা জিয়াসহ দলের শীর্ষ নেতারা সাভার স্মৃতিসৌধে যাবেন। যেখানে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে শেরেবাংলা নগরস্থ শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন ও সুরা ফাতিহা পাঠ করবেন। এছাড়া বিজয় দিবসের দিন রাজধানীতে অনেক কর্মসূচি থাকায় ১৭ ডিসেম্বর রাজধানীতে ঢাকা মহানগর বিএনপির উদ্যোগে বিজয় র‌্যালি অনুষ্ঠিত হবে। বর্ণাঢ্য এই র‌্যালিতে দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনসহ সর্বস্তরের নেকাকর্মীরা অংশ নেবেন। পাশাপাশি ১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষ্যে বিএনপি নানা কর্মসূচি পালন করবে বলে জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ১৪ ডিসেম্বর নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় এবং সারাদেশের কার্যালয়সমূহে জাতীয় পতাকা ও কালো পতাকা উত্তোলন করা হবে। মিরপুরে শহীদ বুদ্ধজীবী মাজারে যাবেন বেগম খালেদা জিয়া সহ দলের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ। ১৩ ডিসেম্বর মহানগর নাট্যমঞ্চে ঢাকা মহানগরীর উদ্যোগে আলোচনা সভা হবে। এছাড়া যৌথ সভায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এবং সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির প্রতিবাদে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়। একইসাথে গতকাল বেগম জিয়া আদালতে হাজিরা শেষে বাসায় ফেরার পথে হাইকোর্টের সামনে নেতাকর্মীদের ওপর পুলিশী হামলা, গ্রেফতার ও হামলার নিন্দা এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় ক্রিড়া সম্পাদক আমিনুল হককে গ্রেফতারের নিন্দা জানানো হয় যৌথসভা থেকে। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, এই মুহুর্তে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী দিবে কিনা তা নিয়ে আলোচনা হয়নি। দলীয় ফোরামে আলোচনার পর সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। তবে এই সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন যে সম্ভব নয় সেটা প্রমাণ করতেই বিএনপি সব স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিয়ে থাকে বলে জানান মহাসচিব।

মৎস্যজীবী দল নেতা আটক

রাজধানীর নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দলের এক নেতাকে আটক করেছে পুলিশ। আজ বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তাকে আটক করা হয়। আটক ব্যক্তির নাম নাদিম চৌধুরী। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ফকিরাপুলের দিক থেকে নয়াপল্টন দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আসার পথে পুলিশ তাকে আটক করে। প্রসঙ্গত, সকালে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠন ও দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের নিয়ে যৌথসভা করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

রাঙ্গামাটির গুলিতে যুবলীগ নেতা নিহত : চলছে হরতাল

রাঙ্গামাটির জুরাছড়িতে দুর্বৃত্তের গুলিতে উপজেলা যুবলীগ নেতা অরবিন্দু চাকমা নিহত হয়েছেন। আজ মঙ্গলবার রাতে এই ঘটনা ঘটে। উল্লেখ্য, রাঙ্গামাটির নানিয়ারচরে দুর্বৃত্তের গুলিতে একজন ইউপি সদস্য নিহত হওয়ার ১০ ঘন্টার মাথায় রাঙ্গামাটির অপর উপজেলা জুরাছড়িতে এই হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটলো। জুরাছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল বাসেত জানান, জুরাছড়ি উপজেলা সদরে দলের বর্ধিত সভায় যোগদান শেষে অরবিন্দু চাকমা নিজ বাড়ী ফেরার পথে মিতিঙ্গাছড়ি বাজারে সন্ত্রাসীরা তার উপর গুলি বর্ষণ করে। ঘটনাস্থলে তিনি মারা যান। পরে পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। এদিকে রাঙ্গামাটি জেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি ও সাবেক পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদার এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে তিনি এ হত্যাকান্ডের জন্য পাহাড়ের আঞ্চলিক দল গুলোকে দায়ী করে দোষীদের দ্রুত খুঁজে বের করে দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তির দাবী করেছেন। সকাল-সন্ধ্যা হরতাল চলছে রাঙ্গামাটির জুরাছড়িতে দুর্বৃত্তের গুলিতে উপজেলা যুবলীগ নেতা অরবিন্দ চাকমা হত্যার প্রতিবাদে আজ বুধবার জুরাছড়ি উপজেলায় সকাল-সন্ধ্যা হরতাল চলছে। ঘটনার প্রতিবাদে স্থানীয় আওয়ামীলীগ জুরাছড়ি উপজেলায় সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ডাক দেয় । হরতাল চলাকালে সকাল থেকে উপজেলা সদরের দোকানপাট বন্ধ রয়েছে। স্থানীয়ভাবে নৌ পথে যাত্রীবাহী লঞ্চ, টেম্পু বোট ও অভ্যন্তরীণ সড়কে মোটর সাইকেল চলাচল বন্ধ রয়েছে। হরতাল চলাকালে কোন অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। উপজেলায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন শতাধিক যাত্রী

পিরোজপুরে ফেরিকে ট্যাংকারের আঘাতের পর অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন শতাধিক যাত্রী। গভীর রাতে একটি তেলবাহি ট্যাংকারের আঘাতে পিরোজপুরের কচা নদীর বেকুটিয়া ফেরির ব্যাক প্লেট ফেটে যাওয়ায় ফেরিটি নিমজ্জিত হয়েছে। তবে কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে রাত একটায় ফেরিতে ডিউটি রত ঘাট সুপারভাইজার মোঃ রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন। তেলবাহি ট্যাংকারের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্থ ফেরির বিষয়টি নিশ্চিত করে বরিশাল বিভাগের ফেরি ডিভিষণের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ শামিমুল হক ও পিরোজপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী (সওজ) মোঃ নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, রাত সাড়ে বার টায় কচা নদীর বেকুটিয়ার ২৬ নম্বর ফেরিটি পিরোজপুরের প্রান্ত থেকে একটি যাত্রীবাহি বাস (পরিবহন) ও গরু বোঝাই ট্রাক নিয়ে বলিশাল প্রান্তে যাওয়ার সময় মাঝ নদীতে বরিশালগামী একটি বৃহদাকার তেলবাহি ট্যাংকার ফেরিটিকে আঘাত করলে ব্যাক প্লেট ফেটে যায়। এ সময় ফেরিটি নিমজ্জিত হওয়ার উক্রম হলে চালক দ্রুত ফেরি চালিয়ে কিনারে নিতে সক্ষম হন।
এক পর্যায়ে বরিশাল প্রান্তে ফেরিটি নিমজ্জিত হলে যানবাহন গুলো আটকা পড়লেও যাত্রীদের উদ্ধার করা হয়। প্রকৌশলী শামিমুল হক জানিয়েছেন বরিশাল থেকে ক্রেইন নিয়ে উদ্ধারকারি দল আসলে ফেরি উদ্ধার তৎপরতা শুরু হবে। এ রির্পোট লেখা পর্যন্ত ফেরি চলা চল বন্ধ রয়েছে। ফলে বিভাগীয় শহর বরিশালসহ এ অঞ্চলের ১৮ রুটে এ ঘাট থেকে সকল প্রকার যানবাহন চলাচলা বন্ধ রয়েছেন। ফেরি কতৃপক্ষ জানিয়েছেন ফেরি আঘাত করে ট্যাংকারটি দ্রুত চালিয়ে যাওয়ায় আটক করা সম্ভব হয়নি। ফেরির ক্ষয়-ক্ষতি সম্পর্কে জানতে চাইলে ফেরি ডিভিশনের প্রকৌশলী জানান ইঞ্জিনের আংশিক ক্ষতিসহ মোট কত টাকার ক্ষতি হয়েছে তা এখনই বলা যাবেনা।

বনানীতে ব্যবসায়ী হত্যায় গ্রেপ্তার ১

রাজধানীর বনানীতে ব্যবসায়ী সিদ্দিক হোসেন মুন্সি হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে হেলাল নামের একজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। গতকাল মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে তাঁকে পাঁচটি আগ্নেয়াস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করে ডিবি (উত্তর)।
ডিবির (উত্তর) উপকমিশনার সাংবাদিকদের জানান, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ও তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানীর গুলশানের কালাচাঁদপুর এলাকা থেকে হেলালকে থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনিই সিদ্দিক মুন্সি হত্যার পরিকল্পনাকারী। আজ বুধবার সকালে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানানো হবে।

মূল হোতা অস্ত্রসহ গ্রেফতার

রাজধানীর বনানীতে রিক্রুটিং এজেন্সির মালিক সিদ্দিক মুন্সি হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী হেলালকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে গুলশান থানার কালাচাঁদপুর এলাকা থেকে ৫টি আগ্নেয়াস্ত্রসহ তাকে আটক করা হয়। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (এডিসি) শাজাহান সাজু গ্রেফতারের বিষয়টি যুগান্তরকে নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, আরও বড় কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ঘটনোর জন্য তারা কালাচাঁদপুর এলাকায় অবস্থান করছিল। গ্রেফতারের সময় তার সঙ্গে আরও বেশ কয়েকজন সন্ত্রাসী ছিল। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা পালিয়ে যায়। তবে রাত পোনে ১টায় যোগাযোগ করা হলে গোয়েন্দা পুলিশের এ কর্মকর্তা বলেন, হেলালের সঙ্গীদের খোঁজে অভিযান চলছে।

এডিসি ও ইউএনওকে হাইকোর্টে তলব

লক্ষ্মীপুরের সাবেক সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন শরীফকে মোবাইল কোর্টে তিন মাসের সাজা দেয়ার ঘটনার ব্যাখ্যা দিতে জেলার এডিসি ও সাজা প্রদানকারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে তলব করেছেন হাইকোর্ট। তারা হচ্ছেন- লক্ষ্মীপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) শেখ মুর্শিদুল ইসলাম এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সদর উপজেলার ইউএনও মোহাম্মদ নুরুজ্জামান। আগামী ১৩ ডিসেম্বর হাইকোর্টে হাজির হয়ে এ বিষয়ে তাদের ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। ডা. সালাহ উদ্দিন শরীফকেও আদালতে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে। এদিকে লক্ষ্মীপুরের এডিসি মুর্শিদুলকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা করে মঙ্গলবার এক আদেশ জারি করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব দেওয়ান মাহবুবুর রহমানের স্বাক্ষরিত এক আদেশে জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব মুর্শিদুলকে ওএসডি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হয়। আদেশে বলা হয়েছে, জনস্বার্থে জারিকৃত এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে। মঙ্গলবার এক রিট আবেদনের ওপর শুনানি শেষে বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহর সমন্বয়ে হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ দেন। আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার হাসান এমএস আজীম। রিট আবেদন করেন সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী কামাল হোসেন মিয়াজী ও আশফাকুর রহমান।
আদেশের পর ব্যারিস্টার হাসান এমএস আজীম সাংবাদিকদের বলেন, পত্রিকায় এসেছে লক্ষ্মীপুরের একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোবাইল কোর্টে একজন সাবেক সিভিল সার্জনকে সাজা দিয়েছেন। এডিসির সঙ্গে ওই ডাক্তারের বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে সেটা হাতাহাতি পর্যন্ত গড়ায়। পরে তাকে ডিসি অফিসে নিয়ে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে সাজা দিয়ে জেলে পাঠানো হয়। তিনি বলেন, এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন গণমাধ্যমে প্রকাশের পর দু’জন আইনজীবী সংক্ষুব্ধ হয়ে রিট করেন। রিটের পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক ব্যক্তি আক্রোশের কারণে মোবাইল কোর্টের কার্যক্রমের যে অপব্যবহার, সেটা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে আদালত রুল জারি করেছেন। প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্রও সঙ্গে আনতে বলেছেন। ওই সাবেক ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জনও ব্যক্তিগতভাবে আসবেন এবং আদালতের সামনে ওনারা বক্তব্য রাখতে পারবেন। ব্যারিস্টার আজীম বলেন, মোবাইল কোর্টের অপব্যবহার করে ব্যক্তিগত আক্রোশের কারণে যেভাবে একজন চিকিৎসককে অপদস্থ করা হয়েছে, সেটা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং এতে আইনের শাসনের চরম ব্যত্যয় হয়েছে। উল্লেখ্য, ৪ ডিসেম্বর সকালে লক্ষ্মীপুর শহরের কাকলি শিশু অঙ্গন বিদ্যালয়ে প্রবেশ করাকে কেন্দ্র করে বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনায় লক্ষ্মীপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) শেখ মুর্শিদুল ইসলামের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগ এনে সাবেক ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. সালাহ উদ্দিন শরীফকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়। পরে পুলিশ সালাহ উদ্দিনকে কারাগারে পাঠায়। পরদিন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মীর শওকত হোসেন তার জামিন মঞ্জুর করেন।

আনিসুল হকের কুলখানি আজ

প্রয়াত ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আনিসুল হকের কুলখানি আজ। গুলশানের আজাদ মসজিদে বাদ আসর তার রুহের  মাগফিরাত কামনা করে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মেয়র আনিসুল হকের ছেলে নাভিদুল হক এ কথা জানিয়েছেন। ৩০ নভেম্বর বাংলাদেশ সময় রাত ১০টা ২৩ মিনিটে লন্ডনের দি ওয়েলিংটন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আনিসুল হক মারা যান। জানাজা শেষে শনিবার বনানী কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হয়। এর আগে আর্মি স্টেডিয়ামে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে সর্বস্তরের মানুষ তার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানান।

প্রযুক্তির বিকাশে নতুন বিপ্লবের সুযোগ তৈরি হয়েছে

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তথ্যপ্রযুক্তির বিকাশের ফলে আমাদের সামনে এক নতুন বিপ্লবের সুযোগ তৈরি হয়েছে। এই বিপ্লবের প্রধান রসদ হল তরুণ-তরুণী, যা আমাদের আছে। বুধবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড-২০১৭’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার রোবট সোফিয়ার সঙ্গে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে চার দিনের এ প্রদর্শনীতে প্রধান আকর্ষণ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার রোবট সোফিয়া। বেলা আড়াইটা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত সোফিয়াকে সম্মেলন কেন্দ্রের হল অব ফেমে রাখা হবে।
‘টেক টক উইথ সোফিয়া’ শিরোনামের এক অনুষ্ঠানে ১ হাজার ৭০০ দর্শনার্থী তাকে দেখার সুযোগ পাবেন। সোমবার মধ্যরাতে তথ্যপ্রযুক্তির এ উৎসবে অংশ নিতে থাই এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে ঢাকায় আসে সোফিয়া। গত অক্টোবরে সৌদি আরবের নাগরিকত্ব পাওয়া এই রোবটের সৃষ্টি হংকংয়ের ডেভিড হ্যানসনের মালিকানাধীন হ্যানসন্স রোবটিক্সে। এটি অন্য মানুষের মুখের ভাব বুঝতেও সক্ষম। বাংলাদেশে আসা উপলক্ষে সোফিয়া একটি ভিডিওবার্তাও দিয়েছে।

বেসিক ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান বাচ্চুকে ফের জিজ্ঞাসাবাদ

বেসিক ব্যাংক কেলেঙ্কারির অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির সাবেক চেয়ারম্যান শেখ আবদুল হাই বাচ্চুকে আবারও জিজ্ঞাসাবাদ করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বুধবার সকাল ১০টায় রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদক কার্যালয়ে যান আবদুল হাই বাচ্চু। এর পরই তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা শুরু হয়। দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) প্রণব কুমার ভট্ট্রাচার্য এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে সোমবার দুই পরিচালকের নেতৃত্বে ১২ সদস্যের তদন্ত টিম তাকে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বেলা দেড়টা পর্যন্ত টানা চার ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করে। সেদিন ব্যাংকের সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা ঋণ অনিয়ম ও জালিয়াতির ঘটনা জানেন বলে স্বীকার করেন বাচ্চু। তবে এর জন্য তিনি ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) কাজী ফখরুল ইসলাম, তিন ডিএমডি ও তিন শাখা ব্যবস্থাপকের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা তিনটি সিন্ডিকেটকে দায়ী করেন। দুদকের নবনির্মিত জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষে ব্যাংকটির সাবেক চেয়ারম্যান তদন্ত কর্মকর্তাদের বলেছিলেন- ‘আমাকে পুনরায় বেসিক ব্যাংকের দায়িত্ব দেয়া হলে আমি ব্যাংক থেকে বের হয়ে যাওয়া টাকা পুনরুদ্ধার করে দেব।’ তার এমন দাবিকে এক ধরনের ‘মশকারা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন তদন্তসংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা। নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বাচ্চু বলেন, ‘আমার অনেক টাকার সম্পদ আছে। প্রায় ২০০ কোটি টাকা। তাই বেসিক ব্যাংকের টাকা আত্মসাৎ করার প্রশ্নই ওঠে না।’  বাচ্চু বলেন, ‘ঋণ জালিয়াতির ঘটনা আমি জানি। মেয়াদের শেষ পর্যায়ে এসে বুঝতে পারি যে, বড় ধরনের লুটপাট হয়েছে। তখন আর কিছুই করার ছিল না।’  তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেন, ঋণ অনুমোদনে অনিয়মের ঘটনায় বেসিক ব্যাংকের পরিচালনা বোর্ডের জড়িয়ে পড়ার বিষয়ে তিনি (বাচ্চু) সন্তোষজনক কোনো জবাব দিতে পারেননি, তাই তাকে আবার জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। বাচ্চুকে মামলার আসামি করা হবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেন, ‘অভিযোগের তদন্ত চলছে। তদন্ত কর্মকর্তারা সিদ্ধান্ত নেবেন কে আসামি হবেন, কে হবেন না।’ আবদুল হাই বাচ্চুকে ২০০৯ সালে বেসিক ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ দেয় সরকার। ২০১২ সালে তার নিয়োগ নবায়নও হয়। কিন্তু ঋণ কেলেঙ্কারির অভিযোগ উঠলে ২০১৪ সালে ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী ফখরুল ইসলামকে অপসারণ করার পর চাপের মুখে থাকা বাচ্চু পদত্যাগ করেন। ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে বেসিক ব্যাংকের দুর্নীতির ঘটনায় ৫৬টি মামলা করে দুদক। সবকটি মামলায় ব্যাংকের সাবেক এমডি কাজী ফখরুল ইসলামসহ ব্যাংকের পদস্থ কর্মকর্তা ও শাখা ম্যানেজারদের আসামি করা হলেও বাচ্চু কিংবা পর্ষদের কাউকে তখন আসামি করা হয়নি। এ নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়ে দুদক।
এমনকি বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়। উচ্চ আদালত থেকে প্রশ্ন তোলা হয়, বোর্ড সদস্যরা কেন আসামির তালিকায় নেই। তাদের বিষয়ে তদন্তের নির্দেশ আসার পর দুদক থেকে সিদ্ধান্ত হয়, বাচ্চুসহ বোর্ড সদস্যদের আইনের আওতায় এনে তদন্ত করা হবে। দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদও বিষয়টি স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন। সে মোতাবেক বাচ্চুসহ এ পর্যন্ত ১০ পর্ষদ সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদ করল দুদক। এর মধ্যে একজন সদস্য বাচ্চুর বিরুদ্ধে দুদকের কাছে মৌখিক ও লিখিতভাবে জবানবন্দি দিয়েছেন। বলেছেন, বাচ্চুর প্রভাবে সব কিছু হতো। অন্য ৮ সদস্য বোর্ডের গাফিলতি বা দুর্নীতির ঘটনা এড়িয়ে যান। প্রসঙ্গত, ২০০৯ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত বেসিক ব্যাংকের গুলশান, দিলকুশা ও শান্তিনগর শাখা থেকে সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা ঋণ অনিয়মের মাধ্যমে বিতরণের অভিযোগ ওঠার পর তদন্তে নামে দুদক। ঋণপত্র যাচাই না করে জামানত ছাড়া, জাল দলিলে ভুয়া ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ঋণদানসহ নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে বিধিবহির্ভূতভাবে ঋণ অনুমোদনের অভিযোগ ওঠে ব্যাংকটির তৎকালীন পরিচালনা পর্ষদের বিরুদ্ধে। অনুসন্ধান শেষে ওই অনিয়ম ও দুর্নীতির ঘটনায় ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে ১২৯ জনকে আসামি করে ৫৬টি মামলা করে দুদক। আসামিদের মধ্যে ২৬ ব্যাংক কর্মকর্তা এবং বাকিরা ঋণগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান ও ব্যাংক জরিপ প্রতিষ্ঠানে যুক্ত।

আদালতের নির্দেশ অমান্য করে মাছ লুটের মচ্ছব

সিলেটে পাথরখেকোদের থাবা এবার জলমহালে। প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর সিলেটের জৈন্তাপুরে পাথরের পর এবার জলমহালে চোখ পড়েছে ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালীদের। শাসক দলের ওই নেতাদের নেতৃত্বে হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে উতলা, লেপটেন, হ্রাসমনি ও বর্নি বিল হরিলুটের আয়োজন করা হয়েছে। হাইকোর্ট লিজ বাতিল করে রায় দেয়ার পরপরই সশস্ত্র ক্যাডারদের প্রহরায় শুরু হয়েছে জলমহাল লুটপাটের আয়োজন। অবৈধভাবে মৎস্য আহরণ করে লাখ লাখ টাকার মাছ লুট করে নিয়ে যাচ্ছে ক্যাডাররা। গত এক সপ্তাহে প্রায় অর্ধকোটি টাকার মাছ লুটপাট হয়েছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা দুর্গম হওয়ায় হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার ব্যাপারে প্রশাসনেরও তেমন কোনো গরজ নেই। পুলিশ সব কিছু জানলেও অজ্ঞাতকারণে নিশ্চুপ। সরকারি জলমহাল থেকে মাছ লুটপাট হওয়ার প্রক্রিয়ায় স্থানীয় মৎস্যজীবী সম্প্রদায়ের মধ্যে বিরাজ করছে চরম উত্তেজনা। মাছ লুটের ঘটনাকে কেন্দ্র করে যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের অঘটনের আশঙ্কা রয়েছে। সরেজমিন গেলে দেখা যায়, বর্নি বিলের পাশে একটি নোহা মাইক্রোবাস। এ গাড়ির অদূরে একটি স্থাপনা তৈরি করা হয়েছে। ওই স্থাপনায় সশস্ত্র ক্যাডাররা অবস্থান করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কালীনগর গ্রামের স্থানীয় একজন জানান, জলদস্যুরা মাছ লুটে নিতে দুটি অস্ত্রাগার তৈরি করেছে প্রতিপক্ষকে মোকাবেলা করার জন্য। ক্যাডাররা দেশীয় অস্ত্রের মজুদ রেখেছে। দিনরাত অর্ধশতাধিক ক্যাডার সেখানে থাকে। তিনি জানান, এ মাইক্রোবাস দিয়ে সিলেট শহর থেকে অস্ত্র নেয়া হয়েছে গত বুধবার। দুর্বৃত্তরা শক্তি বৃদ্ধি করার পর বিলে মাছ ধরা শুরু করেছে। পুরো বিলের মাছ ধরতে প্রায় দুই আড়াই মাস সময় লেগে যেতে পারে। নলজুড়ি গ্রামের মোহব্বত আলী অভিযোগ করে বলেন, বিলের মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে মারামারি হতে পারে- এ আতঙ্কে রয়েছেন এলাকাবাসী। অপরিচিত লোকদের হাওরে আনাগোনা বেড়েছে। ফলে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ হাওরে যাচ্ছেন না। শিশুদেরও হাওরে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। বর্নি বিলের বাসিন্দা ইউনুস মিয়া বলেন, কয়েক প্রভাবশালী বিলের লাখ লাখ টাকার মাছ জোর করে ধরে নিয়ে যাচ্ছে। প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।
গত বুধবার থেকে বিলের পানি ছেড়ে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। ক্যাডারদের প্রহরায় প্রায় শতাধিক জেলে হাওরে মাছ আহরণ করছেন। প্রায়  দুইশ’ আট একর জায়গাজুড়ে রয়েছে বর্নি বিল। এ বিলে রয়েছে ছোট-বড় নানা প্রজাতির মাছ। হাইকোর্টের রায় দেয়ার পর ওই মাছ লুটে নিতে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে ৯ দুর্বৃত্ত। এ বিল উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় সর্বোচ্চ দরদাতাকে না দিয়ে প্রায় সোয়া লাখ টাকা কম দরদাতাকে ৫ বছরের জন্য লিজ দেয়া হয়। এ বিল থেকে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয় করে। পাথর আর হাওর ও বিলে পরিবেষ্টিত জৈন্তাপুর উপজেলা। এ উপজেলায় ছোট-বড় ৬৮টি জলমহাল রয়েছে। এ বিল থেকে সরকার প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা রাজস্ব আয় করে। স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে বিভিন্ন স্থানে মাছ বিক্রি করা হয়। মৎস্য আহরণ করে স্থানীয় জেলে সম্প্রদায় জীবিকা নির্বাহ করে। জানা যায়, ২০১৬ সালে এই বিল লিজের জন্য আবেদন আহ্বান করা হয়। নিয়মনীতি মেনে ১২ লাখ ৪৩ হাজার টাকা দর দিয়ে আবেদন করে একতা মৎস্যজীবী সমিতি এবং ১১ লাখ ১৯ হাজার টাকা দর দিয়ে আবেদন করে শেওলারটুক মৎস্যজীবী সমিতি। কিন্তু অজ্ঞাতকারণে সর্বোচ্চ দরদাতা একতা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতিকে ইজারা না দিয়ে তার চেয়ে ১ লাখ ২৪ হাজার টাকা কমে দ্বিতীয় দরদাতা শেওলারটুক মৎস্যজীবী সমবায় সমিতিকে বিল ইজারা দেয় মন্ত্রণালয়। এ লিজের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট আবেদন করে একতা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেড। হাইকোর্ট শুনানি শেষে শেওলারটুক মৎস্যজীবী লিমিটেডের ইজারা বাতিল করে একতা সমবায় সমিতি লিমিটেডকে ইজারা দেয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন। পরে সরকার পক্ষ এ রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিমকোর্টে আপিল করে। সুপ্রিমকোর্ট কার্যতালিকায় মামলাটি শুনানির জন্য আগামী বছরের ৬ মে দিন ধার্য করেন। এদিকে গত রোববার জেলা প্রশাসকের কাছে একতা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সভাপতি ময়না মিয়া অভিযোগ করেন। সেখানে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক লিয়াকত আলী, এখলাছুর রহমান, ফরিদ, শাহ আলম, আলাল, ফিরোজ, ফারুক সোবহান ও ওমরের বিরুদ্ধে সশস্ত্র অবস্থায় মাছ লুটের অভিযোগ করা হয়েছে। জৈন্তাপুর উপজেলার ইউএনও মৌরীন করিম যুগান্তরকে বলেন, কেউ মাছ না ধরতে হাইকোর্টের নির্দেশ রয়েছে। আদালতের নির্দেশমতে পুলিশ কাজ করছে। যারা আইন আমান্য করে বিলে মাছ ধরতে যাবেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। থানার ওসি খান মোহাম্মদ মইনুল জাকির বলেন, আদালতের নিষেধাজ্ঞার কথা জানিয়ে দেয়া হয়েছে। বেআইনিভাবে মাছ লুটপাটকারীদের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না- জানতে চাইলে তিনি বলেন, কেউ মাছ লুটপাট করেছে কিনা তার জানা নেই। একতা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সভাপতি ময়না মিয়া জানান, লিয়াকতের নেতৃত্বে পাথর লুটের পর এবার জলমহালে হাত দেয়া হয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, শেওলারটুক সমবায় সমিতি লিয়াকত বাহিনীর কাছে প্রায় আড়াই কোটি টাকায় বিলটি বিক্রি করে দিয়েছে। শেওলারটুক সমবায় সমিতির সভাপতি ফজর আহমদ মাছ লুটপাটের কথা স্বীকার করে বলেন, হাইকোর্ট আমাদের বিপক্ষে গেলেও লিয়াকত সঙ্গে আছেন, তাই আমরা মাছ ধরছি। কত টাকায় লিয়াকত আলীর কাছে বিক্রি করা হয়েছে- জানতে চাইলে বলেন, এটা আমি জানি না, এগুলো সমিতির সাধারণ সম্পাদক আকবর জানেন। উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক লিয়াকত আলী তার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ করা হয়েছে এগুলোর সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই দাবি করে বলেন, এগুলো প্রতিপক্ষের অপপ্রচার। এ ব্যাপারে শেওলারটুক মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক আকবর হোসেন বলেন, হাইকোর্ট তো আমাদের কিছু জানায়নি। নিয়মনীতি ভঙ্গ করে মাছ লুটপাটের অভিযোগের ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘কী করমু হাওর উন্নয়ন করতে হলে প্রতি বছরই মাছ বিক্রি করতেই হবে।’

নাজিরপুরে ছাগল চুরির দায়ে আ’লীগ নেতার জরিমানা

পিরোজপুরের নাজিরপুরে ছাগল চুরির অভিযোগে লোকমান বেপারি নামে এক আওয়ামী লীগ নেতার ১০ হাজার টাকা জরিমানা ও শারীরিক শাস্তি দেয়া হয়েছে। সোমবার রাতে সালিশ বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সে শ্রীরামকাঠী ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলে ওই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সুনীল হালদার যুগান্তরকে নিশ্চিত করেছেন। ইউপি চেয়ারম্যান উত্তম কুমার মৈত্রের সভাপতিত্বে ওই  ইউনিয়নের বন্দরের দলীয় কার্যালয়ে এ সালিশ  বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সালিশ বৈঠক ও ইউপি চেয়ারম্যানের দেয়া তথ্য সূত্রে জানা গেছে, ওই ইউনিয়নের উদয়তারা গ্রামের বিধবা ফিরোজা বেগমের (৬০) একটি গর্ভবতী ছাগল ১ নভেম্বর একই গ্রামের মৃত মন্নান বেপারির ছেলে লোকমান বেপারি চুরি করে। এ ঘটনায় ওই চুরি হওয়া ছাগলের মালিক ২৫ নভেম্বর স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে চেয়ারম্যান অভিযুক্ত ওই নেতাকে ১৬ ও ২৬ নভেম্বর ২ বার নোটিশ করেন। ওই নোটিশের পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার সন্ধ্যায় উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মো. খোকন কাজী, স্থানীয় বন্দর ব্যবসায়ী সমিতি ও যুবলীগ সহসভাপতি ফারুক হোসেন হাওলাদার, আওয়ামী লীগ নেতা নিত্যানন্দ হালদার, মনোজ কান্তি মণ্ডল, লিটন হালদারসহ সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে এ বিচার কার্য অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় ছাগল মালিক ফিরোজা বেগম জানান, তিনি অসহায় হওয়ায় গত ২ বছর আগে ছাগলটি স্থানীয় একটি এনজিও তাকে সাহায্য হিসেবে প্রদান করে। বিচারকার্য অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগ নেতা লোকমান বেপারি ছাগলটি ১৫ দিন আগে ২৫শ’ টাকায় স্থানীয় শ্রীরামকাঠী বাজারে বিক্রি করেছেন বলে নিজে দোষী স্বীকার করেন।

নওগাঁয় ৫০ টাকার জন্য ক্রেতার গায়ে আগুন

নওগাঁর পত্নীতলায় পাওনা ৫০ টাকা না দেয়ায় এক ক্রেতার গায়ে পেট্রুল দিয়ে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে চা দোকানি। মারাত্মক দগ্ধাবস্থায় ক্রেতা আলিমুলকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার শরীরের ৩০ শতাংশ পুড়ে গেছে। মঙ্গলবার সকালে উপজেলার নজিপুর পৌর সদরের ঠুকনীপাড়া মোড়ে চায়ের দোকানে এ ঘটনা ঘটে। ক্রেতা আলিমুল উপজেলার কাশিপুর দক্ষিণপাড়া গ্রামের বেলাল হোসেনের ছেলে। আর চা দোকানি তাপস কুমার মহন্ত উপজেলার একই গ্রামের তপন চন্দ্রের ছেলে। ঘটনার পর থেকে দোকানি তাপস কুমার পলাতক রয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে আলিমুল দোকানে চা পান করতে গেলে দোকানি তাপস কুমার তাকে বকেয়া ৫০ টাকা পরিশোধের জন্য তাগাদা দেয়। দোকানিকে আলিমুল পরে টাকা পরিশোধ করবে জানিয়ে দোকান থেকে চলে যাওয়ার জন্য উদ্যত হয়। এতে দোকানি তাপস কুমার উত্তেজিত হয়ে পাশের দোকানে থাকা পেট্রুল নিয়ে এসে আলিমুলের গায়ে ছুড়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। স্থানীয়রা দগ্ধ আলিমুলকে সঙ্গে সঙ্গে পাশের ডোবার পানিতে নামিয়ে দেয়। এতে আগুন নিভে গেলে তাকে পত্নীতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পত্নীতলা থানার ওসি মাজহারুল ইসলাম বলেন, ভুক্তভোগীর পরিবার থেকে কোনো মামলা হয়নি। দোকানি তাপস কুমার পলাতক থাকায় তাকে আটকের চেষ্টা চলছে।

ফেরিতে জাহাজের ধাক্কা, বাস-ট্রাক নদীতে

পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলায় তেলবাহী লাইটারেজ জাহাজের ধাক্কায় ফেরির তলা ফেটে নদীতে তলিয়ে গেছে চার বাস-ট্রাক। এ ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও বরিশালসহ এ অঞ্চলের ১৮ রুটে ওই ঘাট থেকে সকল প্রকার নৌযান চলাচলা বন্ধ রয়েছে। মঙ্গলবার রাত ১টার দিকে উপজেলার বেকুটিয়া ঘাট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। পিরোজপুর সড়ক বিভাগের উপ-সহকারী ও ফেরির দায়িত্বে থাকা আবদুল হামিদ জানান, পিরোজপুরের কুমিরমারা প্রান্ত থেকে রাতে একটি যাত্রীবাহী বাস ও ৮টি ট্রাক নিয়ে ফেরিটি কঁচা নদীর মাঝ বরাবর পৌঁছালে বাগেরহাটের দিক থেকে আসা একটি লাইটারেজ জাহাজ ধাক্কা দেয়। এতে ফেরির একটি  ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়।  ফেরিতে থাকা অন্য ইঞ্জিনের সাহায্যে চালক ফেরিটিকে একটি ডুব চরে তুলে দিলে সেটির একাংশ ডুবে কাত হয়ে ফেরির একটি বাস ও তিনটি ট্রাক নদীতে ডুবে যায়। কাউখালী দমকল বিভাগের ইনচার্জ আবুবক্কর সিদ্দিক জানান, ফেরিচালক দ্রুত ফেরিটি চরে উঠিয়ে দেয়ায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। ক্রেন দিয়ে ফেরিতে থাকা ট্রাকগুলো উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। আরেকটি ফেরি আনা হয়েছে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার জন্য। কাউখালী থানার ওসি মনিরুজ্জামান জানান, ফেরিকে ধাক্কা দেয়া লাইটারেজ জাহাজটিকে আটকের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও বরিশালসহ এ অঞ্চলের ১৮ রুটে ওই ঘাট থেকে সকল প্রকার নৌযান চলাচলা বন্ধ রয়েছে বলে জানান ওসি।

গর্ভের সন্তান নষ্ট না করায় স্ত্রীকে নির্যাতন করে রাস্তায় ফেলে স্বামী

গর্ভের সন্তান নষ্ট করতে রাজি না হওয়ায় স্ত্রীর ওপর নির্মম নির্যাতন চালিয়ে তাকে রাস্তায় ফেলে যায় এক পাষণ্ড স্বামী। পরে মুমূর্ষু অবস্থায় হালিমা বেগম (৩৬) নামে ওই নারীকে উদ্ধার করে প্রথমে আড়াইহাজার উপজেলার স্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসা দেয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অন্যদিকে ঘটনাস্থল থেকে তার নবজাতকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে এ ঘটনা ঘটে। চিকিৎসক জানিয়েছেন, উপর্যুপরি শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনে হালিমা মানসিক ভারসাম্য হারাতে বসেছেন। মুমূর্ষু অবস্থায় হালিমাকে উদ্ধার করেছেন আড়াইহাজা উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হাবিব ইসমাঈল ভূঁইয়া। তিনি বলেন, হালিমা বেগমের স্বামী তাকে রাস্তায় ফেলে পালিয়ে যায়। রাস্তাতেই সন্তান প্রসব করেন তিনি। পরে সন্তান মারা গেলে হালিমা সন্তান ফেলে নিজেকে বাঁচাতে ছটফট করতে থাকেন। তখন আমি তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসা করি। পরে অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, বন্দর উপজেলার লাঙ্গলবন্ধ এলাকার বাসিন্দা হালিমা বেগমের সঙ্গে বরিশালের আল আমিন নামের এক যুবকের বিয়ে হয়। তারা সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল এলাকায় ভাড়া থাকতেন। হালিমা যখন গর্ভবতী হন তখন তার স্বামী আলামিন তাকে সন্তান নষ্ট করতে বলে। এতে হালিমা অনীহা প্রকাশ করলে তার ওপর অমানবিক নির্যাতন শুরু করে আলামিন। হালিমাকে এক প্রকারের ইনজেকশন দিয়ে তার গর্ভের সন্তান নষ্ট করারও প্রচেষ্টা চালায় সে। নির্যাতনে হালিমা অসুস্থ হয়ে পড়েন। মঙ্গলবার দুপুরে হালিমার প্রচণ্ড ব্যথা অনুভূত হলে তার স্বামী তাকে তুলে নিয়ে আড়াইহাজার উপজেলার স্বাস্থ্য কেন্দ্রের পেছনে ফেলে চলে যায়। ওই সময় সম্ভবত রাস্তায় হালিমার সন্তান প্রসব হয়ে শিশুটি মারা যায়। আর হালিমা রক্তাক্ত অবস্থায় ছটফট করতে থাকেন।
হালিমাকে রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখে উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রের মাঠকর্মী নজরুল ইসলাম ছুটে যান ডা. হাবিব ইসমাঈল ভূঁইয়ার কাছে। তিনি হালিমার চিকিৎসার সব দায়িত্ব নেন। পরে উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়ার পর হালিমাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রের ডা. শান্তা ত্রিবিদী বলেন, হালিমা বেগমের সঙ্গে কথা বলে ও নিরীক্ষণ করে আমরা বুঝতে পেরেছি, তিনি ৭-৮ মাসে সন্তানটি প্রসব করেছেন। তার ওপর অনেক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়েছে। ফলে তিনি প্রায় মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলার অবস্থায় আছেন। হালিমা বেগমের অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হওয়ায় তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। আড়াইহাজার থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মজিবুর রহমান জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রের একটু দূর থেকে নবজাতকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। নবজাতকের পরিচয় পাওয়া না গেলেও উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রের কর্তৃপক্ষ বলছে নবজাতকের লাশটি হালিমার সন্তান। ঘটনার তদন্ত করে বিস্তারিত জানার চেষ্টা চলছে।

এমপি কেয়া চৌধুরীর ওপর হামলার ঘটনায় গ্রেফতার ২

বাহুবলে এমপি কেয়া চৌধুরীর ওপর হামলার ঘটনায় অবশেষে বাহুবল উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক তারা মিয়া এবং হবিগঞ্জ জেলা পরিষদ সদস্য আলাউর রহমান সাহেদকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার গভীর রাতে ঢাকার কদমতলী থেকে হবিগঞ্জ গোয়েন্দা পুলিশের ওসি মো. শাহ আলমের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম তাকে আটক করে। গোয়েন্দা পুলিশের ওসি মো. শাহ্ আলম জানান, তাদের আদালতে হাজির করে আজ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদন করা হবে। গত ১০ নভেম্বর শুক্রবার বিকালে উপজেলার মিরপুরে বেদেপল্লীতে সরকারি চেক বিতরণ করতে যান কেয়া চৌধুরী। এ সময় নবনির্বাচিত উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও যুবলীগ নেতা তারা মিয়ার মার্কেটের ম্যানেজার জসিমউদ্দিন আপত্তিকর অঙ্গভঙ্গি করে ছবি তুলছিল। এ নিয়ে এমপি কেয়া চৌধুরীর সমর্থকদের সঙ্গে তার কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে কেয়া চৌধুরীর ওপর তারা মিয়া ও জেলা পরিষদের সদস্য আলাউর রহমান সাহেদসহ তাদের সমর্থকরা হামলা চালায়। এ সময় কেয়া চৌধুরী ছাড়াও হামলার শিকার হন ইউপি সদস্য পারভীন আক্তার, সাবেক ইউপি সদস্য রাহেলা আক্তারসহ আরও কয়েকজন। খবর পেয়ে পুলিশের পাশাপাশি শ্রীমঙ্গল থেকে র‌্যাব ৯-এর একদল সদস্য ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করেন। এ ব্যাপারে গত ১৮ নভেম্বর রাতে ইউপি সদস্য পারভীন আক্তার বাদী হয়ে তারা ও সাহেদের নাম উল্লেখ্য করে অজ্ঞাত আরো ১৪-১৫ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন।

মহাকাশ স্টেশনে পিৎজা উৎসব

আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে প্রথমবারের জন্য পিৎজা উৎসব করেছেন একদল নভোচারী। পাঁচটি মহাকাশ গবেষণা সংস্থার প্রকল্প মহাকাশ স্টেশনের পিৎজা উৎসবে মেতেছিলেন ছয় নভোচারী। এদের মধ্যে তিনজন মার্কিন, একজন ইতালিয়ান ও দু’জন রাশিয়ান। পৃথিবী থেকে পাঠানো উপকরণ দিয়ে মহাকাশে বসে পিৎজা তৈরি করেন তারা। চলতি বছরের নভেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া থেকে পিৎজা তৈরির উপকরণ, আইসক্রিম এবং আরও নানা ধরনের খাবার পাঠানো হয় মহাকাশ স্টেশনে। এপি জানায়, ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশন বা বাসযোগ্য কৃত্রিম এ উপগ্রহে অবস্থানরত ইতালির নভোচারী পাওলো নেসপলি বেশ কিছুদিন ধরেই পিৎজা খেতে চাচ্ছিলেন। তাই পিৎজা উৎসবের আয়োজন করেন মহাকাশ কেন্দ্রের ম্যানেজার কির্ক শারম্যান। নাসার জনসন স্পেস সেন্টারের ইউটিউব চ্যানেল থেকে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, মহাকাশ কেন্দ্রে বসে নভোচারীদের পিৎজা তৈরির দৃশ্য। মধ্যাকর্ষণহীন পরিবেশে পিৎজা তৈরিও কম বিড়ম্বনার নয়। শূন্যে ভাসতে থাকা উপকরণগুলো যেন কখনই স্থির থাকতে চায় না। গোল গোল পিৎজাগুলো ছোটাছুটি করতে থাকে স্পেস স্টেশনের এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে। এত সাধের পিৎজাটি খেতে কেমন? পাওলো নেসপলি বলেন, পিৎজাটি আশ্চর্যজনক সুস্বাদু।

আ’লীগ ও বিএনপির জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ

জয়ের বিকল্প ভাবছে না কোনো দলই * ইসির জন্যও অগ্নিপরীক্ষা * সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে দেশের বড় দুই দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীকে হতে যাওয়া ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) উপনির্বাচন দুই দলকে নতুন এক চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিয়েছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, জয়ের বিকল্প ভাবছে না দুই দলই। কারণ স্থানীয় সরকার নির্বাচন হলেও বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এটি এখন জাতীয় নির্বাচনের অন্যতম ‘ব্যারোমিটার’ হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকসহ সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, এ নির্বাচনের ফল জাতীয় নির্বাচনে ভোটারদের ওপর এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব ফেলবে। ফলে যে দলই জয়ী হবে, তারা আগামী সংসদ নির্বাচনে কিছুটা হলেও ভালো অবস্থানে থাকবে। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে এ নির্বাচনে জয়ী হতে দু’দলই ব্যাপক পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নামার চিন্তাভাবনা করছে। বিশ্লেষকদের আরও অভিমত, সবার কাছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনে ইসিকে নিরপেক্ষভাবে সব ধরনের সহযোগিতা দেয়ার পাশাপাশি জয়ী হয়ে বিএনপির জনবিচ্ছিন্নতার অভিযোগ খণ্ডন করতে হবে ক্ষতাসীনদের। অন্যদিকে নির্বাচনে জয়ী হয়ে মাঠের বিরোধী দল বিএনপিকেও প্রমাণ করতে হবে তাদের দাবি সঠিক অর্থাৎ আওয়ামী লীগের সঙ্গে জনগণ নেই। এছাড়া নির্বাচন কমিশনের (ইসি) জন্যও ঢাকা উত্তর সিটি নির্বাচন একটি ‘অগ্নিপরীক্ষা’ বলে মনে করছেন তারা। কারণ এ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে তাদের নিরপেক্ষতার প্রমাণ দিতে হবে। কোনো কারণে এটি প্রশ্নবিদ্ধ হলে ইসি ভাবমূর্তি সংকটে পড়তে পারে। সেক্ষেত্রে নির্দলীয়-নিরপেক্ষ সরকারের দাবিকে আরও জোরালোভাবে তুলে ধরার সুযোগ পাবে বিএনপি। জানা গেছে, উত্তর সিটি কর্পোরেশনে আটটি সংসদীয় আসন রয়েছে। আর এ নির্বাচন দলীয় প্রতীকে হওয়ায় এসব আসনেও ব্যাপক ছোঁয়া লাগবে। আর প্রতিটি আসনের দুই দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা ভবিষ্যতে জাতীয় নির্বাচনে মনোনয়ন পেতে নিজেরাও বিশেষ ভূমিকা রেখে তাদের জনপ্রিয়তা প্রমাণে হাইকমান্ডের নজরে আসার চেষ্টা করবেন। পাশাপাশি আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটভুক্ত বিভিন্ন দলের প্রকৃত অবস্থানও স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার যুগান্তরকে বলেন, ৫ জানুয়ারির একতরফা জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং পরবর্তী সময়ে অনুষ্ঠিত স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নানা অনিয়মের পর সরকার ও ইসির সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। নির্বাচন নিয়ে ভোটারদের মাঝেও নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। তাই নতুন ইসি দায়িত্ব নেয়ার পর জাতীয় নির্বাচনের আগে ঢাকা উত্তর সিটির উপনির্বাচন নিঃসন্দেহে তাদের জন্য অগ্নিপরীক্ষা। তিনি বলেন, এ নির্বাচনকে দেশের বড় দুটি দলও চ্যালেঞ্জ হিসেবে নেবে। কারণ এ জয়-পরাজয়ের প্রভাব পড়বে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও। তাই দুই দলই চাইবে নির্বাচনে জয়ী হয়ে নিজেদের আস্থা ও বিশ্বাস বাড়াতে। বদিউল আলম আরও বলেন, এ নির্বাচনের ওপর দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অনেক কিছুই নির্ভর করবে। বিপরীত মেরুতে থাকা দুই দল নির্বাচনকালীন সরকার ইস্যুতে আলোচনায় বসার একটা ক্ষেত্রও তৈরি হতে পারে এ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে। আনিসুল হক মারা যাওয়ায় মেয়র পদটি ১ ডিসেম্বর থেকে শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে। এখন তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের বাধ্যবাধকতা সৃষ্টি হয়েছে। ফলে এরই মধ্যে নেতাকর্মী, সমর্থক ও সাধারণ ভোটারদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে- কারা হচ্ছেন মেয়র প্রার্থী। গত দু’দিন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নির্বাচনে উভয় দলই অংশগ্রহণ করবে। তবে প্রার্থীর ব্যাপারে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো আলোচনা হয়নি। রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন যুগান্তরকে বলেন, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন ছোট পরিসরে হলেও রাজনৈতিকভাবে এর গুরুত্ব রয়েছে। প্রয়াত মেয়র আনিসুল হকের মতো সর্বজনগ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকে দুই দল মনোনয়ন দিলে নির্বাচন বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে। কারণ মানুষ পরিবর্তন চায়। এ নির্বাচনে যে দলই জয়ী হউক, তা আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কিছুটা হলেও প্রভাব পড়বে। তাই বড় দলগুলো নির্বাচনে জয়ী হতে চাইবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলের পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের জন্য এ নির্বাচন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সবার আস্থা অর্জন করতে হলে এ নির্বাচন অবশ্যই অবাধ ও নিরপেক্ষ করতে হবে। তাছাড়া এই প্রথমবার তারা বড় ধরনের পরীক্ষার মুখোমুখি হচ্ছে। ইসিকে বিতর্কের ঊর্ধ্বে রেখেই জয় চায় আওয়ামী লীগ : ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের উপনির্বাচন নিয়ে সতর্ক পদক্ষেপে এগোতে চায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ।
এ মুহূর্তেই প্রার্থী নির্বাচন নয়, নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সবকিছু পর্যবেক্ষণ করবে দলটি। ক্ষমতাসীনরা মনে করছেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে খোদ রাজধানীতে এ উপনির্বাচনের গুরুত্বই আলাদা। এর ফল প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জাতীয় নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারে। কেননা ঢাকা উত্তরে আছে জাতীয় নির্বাচনের আটটি সংসদীয় আসন। এখানে জয়-পরাজয় জাতীয় নির্বাচনের জন্য হবে একটি বার্তা। তাই উত্তরের মেয়র পদে যে কোনো মূল্যে জয়ই চাইবেন তারা। আর তা হতে হবে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে। কারণ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এ ধরনের যে কোনো নির্বাচন নির্বাচন কমিশনের (ইসি) জন্য এসিড টেস্ট। কারচুপির অভিযোগ উঠলে ইসিকে বিতর্কিত করার অস্ত্র পেয়ে যাবে বিএনপিসহ অন্য দলগুলো। আর সেটা দেশে-বিদেশে প্রচার করে এই ইসির অধীনে জাতীয় নির্বাচন সম্ভব নয় বলে আবার সুর তোলার সুযোগ নেবে তারা। কিন্তু ক্ষমতাসীনরা এ সুযোগ দিতে নারাজ। তাই জয়ের জন্য দলের ইস্পাত-কঠিন ঐক্য এবং সাংগঠনিকভাবে সর্বশক্তি নিয়োগের কথাই ভাবছেন নীতিনির্ধারকরা। অবশ্য এ উপনির্বাচন নিয়ে আরও দুটি বাড়তি ভাবনাও কাজ করছে ক্ষমতাসীনদের মধ্যে। এর একটি হল- নতুন যে ১৮ ওয়ার্ড উত্তর সিটি কর্পোরেশনে যুক্ত হয়েছে, তারা এখনও ভোটার হননি। এক্ষেত্রে আইনি জটিলতার বিষয়টিও পর্যবেক্ষণে থাকছে বলে আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় একটি সূত্র যুগান্তরকে জানায়। সূত্র মতে, অপরটি হলো নির্বাচনের সম্ভাব্য সময় ফেব্রুয়ারি। কিন্তু সে সময় এসএসসি পরীক্ষা চলবে। এ সময়ে শহরের অর্ধেকজুড়ে নির্বাচন এ পরীক্ষায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই দৈব ব্যাখ্যার সুযোগ থাকায় নির্বাচন পেছাতেও পারে- এমন শঙ্কাও কাজ করছে দলটির নীতিনির্ধারকদের। এদিকে দলটির শীর্ষনেতারা বলছেন, সিডিউল ঘোষণার আগে প্রার্থী নিয়ে প্রকাশ্য বা দলীয় ফোরামে আনুষ্ঠানিক কোনো আলোচনা হবে না। তবে সদ্যপ্রয়াত আনিসুল হকের মতো ক্লিন ইমেজধারী এবং তিনি যেসব চ্যালেঞ্জিং উন্নয়ন করেছেন, সেগুলোর ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে পারেন- এমন প্রার্থীর সন্ধান চলছে নীরবে। এরই মধ্যে মঙ্গলবার আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের একটি অনুষ্ঠানে জানিয়েছেন, তারা এ উপনির্বাচনে জয়ের ক্ষমতা রাখেন- এমন প্রার্থী দেবেন।
এ নিয়ে জানতে চাইলে, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং গত সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে উত্তরের সমন্বয়কারী কর্নেল (অব.) ফারুক খান যুগান্তরকে বলেন, মাত্র কয়েকদিন হল উত্তরের মেয়র প্রয়াত হয়েছেন। এখনও কুলখানি হয়নি। তাই এ নিয়ে এখনও আলোচনা হয়নি। তবে বাস্তবতা হচ্ছে, উত্তর সিটি কর্পোরেশন যেহেতু মেয়রশূন্য অবস্থায় আছে, তাই সেখানে নিয়ম অনুযায়ী উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আওয়ামী লীগ সেখানে অংশ নেবে এবং জনপ্রিয় ও গ্রহণযোগ্য প্রার্থী দেবে। তিনি বলেন, এ উপনির্বাচনের জন্য এমন প্রার্থীই দেয়া হবে, যিনি আনিসুল হকের ব্যাপক এবং চ্যালেঞ্জিং উন্নয়ন পদক্ষেপগুলোর ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে পারবেন। ফারুক খান বলেন, দলের সভাপতি আজ (মঙ্গলবার) দেশে ফিরেছেন, তিনি নিশ্চয়ই সময়-সুযোগ মতো এ নিয়ে খোঁজখবর এবং প্রয়োজনে আলোচনা করবেন। তিনি বলেন, আশা করি, অন্যান্য দলও এ উপনির্বাচনে অংশ নেবে। আওয়ামী লীগ সূত্র জানায়, এ উপনির্বাচনের আগেই ঢাকা উত্তর আওয়ামী লীগকে সংগঠিত করার চিন্তাও কাজ করছে দলটির শীর্ষ নেতাদের মাথায়। কেননা রাজধানীর দক্ষিণ অংশের মতো উত্তর অংশের শুধু থানা ও ওয়ার্ড সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক দিয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে। পূর্ণাঙ্গ কমিটি না থাকায় থানা-ওয়ার্ড-পাড়া-মহল্লায় নির্বাচন সমন্বয় ও তদারকি কঠিন হবে। অবশ্য আরেকটি পক্ষ বলছে, এ নির্বাচনে ‘পারফরম্যান্স’ দেখেই নেতাকর্মীদের পদ দিয়ে মূল্যায়িত করার বিষয়টিও মাথায় থাকছে। সেক্ষত্রে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হবে নির্বাচনের পর। এরই মধ্যে উত্তর সিটির উপনির্বাচনে ক্ষমতাসীনদের মধ্য থেকে কে প্রার্থী হচ্ছেন, তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন অনানুষ্ঠানিক বৈঠক ও অনুষ্ঠানে এ নিয়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা। নির্বাচন করতে আগ্রহীরাও তোড়জোড় শুরু করেছেন। তারা দলের প্রভাবশালী নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছেন। সমর্থক ও শুভ্যানুধ্যায়ীদের মাধ্যমে বার্তা দিচ্ছেন গণমাধ্যমসহ সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রগুলোয়। র্যবেক্ষণে দেখা যায়, আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও ঢাকার একটি আসনের এমপি সাবের হোসেন চৌধুরী, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, ঢাকা-১৫ আসনের এমপি কামাল আহমেদ মজুমদার, নারায়ণগঞ্জের সাবেক এমপি ও চিত্রনায়িকা সারাহ বেগম কবরী, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি একেএম রহমতুল্লাহ, সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান ও আওয়ামী লীগ নেতা আলাউদ্দিন চৌধুরী নাছিমের নাম প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় এসেছে। তবে আনিসুল হকের পরিবারের কেউ প্রার্থী হলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। এক্ষেত্রে তার স্ত্রী রুবানা হক এবং ছেলে নাভিদুল হকের নাম নিয়েও জল্পনা-কল্পনা চলছে। উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিল ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সমর্থনে আনিসুল হক মেয়র নির্বাচিত হন। তার কর্মপরিকল্পনা ও বিভিন্ন পদক্ষেপের কারণে খুব অল্প সময়ে জনগণের আস্থা ও প্রশংসা অর্জন করেন তিনি। জয়ের বিকল্প ভাবছে না বিএনপি : ৫ জানুয়ারির একতরফা নির্বাচনের পর বিএনপিসহ তাদের মিত্ররা সরকারের বিরুদ্ধে জনবিচ্ছিন্নতার অভিযোগ করে আসছেন। আসন্ন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনকে অস্তিত্ব রক্ষার চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে বিএনপি। দলটির নীতিনির্ধারকরা মনে করেন, এ নির্বাচনে অংশগ্রহণে জয়-পরাজয় উভয় দিকেই লাভবান হবে বিএনপি। ভোটে ধানের শীষের প্রার্থী জয়ী হলে নেতাকর্মীদের মনোবল বাড়বে। পাশাপাশি বিএনপির জনপ্রিয়তার প্রমাণ পাওয়া যাবে। অপরদিকে অনিয়মের মাধ্যমে জোর করে ধানের শীষের প্রার্থীকে পরাজিত করলে তাতেও লাভবান হবেন তারা। দলীয় সরকারের অধীনে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়- তাদের এ দাবি আরও যৌক্তিকতা পাবে। জাতীয় নির্বাচনের আগে এ ইস্যুতে তারা মাঠ গরম করতে পারবে। জানা গেছে, জোটগতভাবেই মেয়র পদে নির্বাচন করবে বিএনপি। আগামী সংসদ নির্বাচনের আগে জোটের শরিকদের মানসিকতার বিষয়টি স্পষ্ট হবে। আগামী নির্বাচন জোটগতভাবে করার ক্ষেত্রে কোনো সংকট সৃষ্টি হতে পারে কিনা, তা ইঙ্গিতও পাওয়া যেতে পারে এ নির্বাচনে। বিএনপিসহ ২০ দলীয় জোট ঐক্যবদ্ধভাবেই এ নির্বাচনে অংশ নেবে। জোটের প্রার্থীকে জয়ের মুখ দেখাতে এ নির্বাচনকে রীতিমতো বাঁচা-মরার লড়াই হিসেবে দেখছেন তারা।
তাই এ নির্বাচনে জয়লাভ ছাড়া আপাতত বিকল্প কোনো চিন্তা নেই তাদের। দলটির নীতিনির্ধারণী সূত্রে জানা গেছে, সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনার শীর্ষে আছেন গতবারের মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়াল। গত নির্বাচনে নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটারদের মাঝে একটা ইতিবাচক ইমেজ গড়ে তুলছেন বলে অনেকেই মনে করছেন। গত নির্বাচন বয়কট করার পরও তাবিথ আউয়াল প্রায় তিন লাখ ভোট পেয়েছেন। তাই সাধারণ নেতাকর্মীরা চাচ্ছেন এবারও তাবিথকেই মনোনয়ন দেয়া হউক। তাবিথ ছাড়াও উত্তরের মেয়র পদে যাদের নাম আলোচনায় রয়েছে তারা হলেন, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু, বরকত উল্লাহ বুলু প্রমুখ। জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যুগান্তরকে বলেন, বিএনপি সব সময় স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে থাকে। ডিএনসিসি নির্বাচনে অংশ নেয়ার ব্যাপারে এখনও দলীয়ভাবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তিনি বলেন, বিএনপি যে কোনো নির্বাচনকেই চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়ে থাকে। জনগণ এ সরকারের অন্যায়, অত্যাচার, জুলুম ও নির্যাতনের জবাব দিতে প্রস্তুত। সুযোগ পেলেই তারা এসব অন্যায়ের জবাব দেবে। অবাধ ও সুষ্ঠু হলে যে কোনো নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থী বিপুল ভোটে জয়ী হবেন বলে জানান ফখরুল।

জটিলতা এড়িয়ে নির্বাচনের পথ খুঁজছে ইসি

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আনিসুল হকের মৃত্যুতে শূন্য হওয়া ওই পদে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নির্বাচনের পথ খুঁজছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এই সিটিতে নতুন ১৮টি ওয়ার্ড যুক্ত হওয়ায় মেয়র উপনির্বাচনের ক্ষেত্রে যাতে আইনি জটিলতা সৃষ্টি না হয়, সেজন্য আইন ও বিধি নিয়ে খুব শিগগিরই স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বসবে কমিশন। এক্ষেত্রে আইন ও বিধিতে প্রয়োজনীয় সংশোধনের পক্ষেও মত রয়েছে কমিশনের। এ নিয়ে কমিশনারদের মধ্যে অনানুষ্ঠানিক আলোচনাও হয়েছে। এদিকে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটিতে নতুন যুক্ত হওয়া মোট ৩৬টি ওয়ার্ডের ভোটার তালিকা তৈরি করেছে কমিশন সচিবালয়। এতে দুই সিটিতে নতুন সাড়ে দশ লাখ ভোটার যুক্ত হয়েছেন। ঢাকা উত্তর সিটিতে মেয়র পদে উপনির্বাচনে নতুন ভোটাররাও ভোট দেয়ার সুযোগ পাবেন। ইসি সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইসির একজন কর্মকর্তা বলেন, স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) আইনে ওয়ার্ড সম্প্রসারণ করা হলে সেগুলোতে নির্বাচনের সময়সীমার বিষয়ে স্পষ্ট বিধান নেই। ওই আইনের ৩৪ অনুচ্ছেদ এ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন কখন করতে হবে তার বর্ণনা রয়েছে। সেখানে নতুন সিটি কর্পোরেশন গঠনের ক্ষেত্রে ১৮০ দিন, কর্পোরেশনের মেয়াদ শেষ হওয়ার ক্ষেত্রে আগের ১৮০ দিনের মধ্যে নির্বাচনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এছাড়া কর্পোরেশন গঠন বাতিল ও কর্পোরেশন বিভক্তির ক্ষেত্রেও ১৮০ দিনের মধ্যে নির্বাচনের বিধান রয়েছে। কিন্তু সিটি কর্পোরেশনের সঙ্গে নতুন ওয়ার্ড অন্তর্ভুক্তের ক্ষেত্রে সেগুলোতে কতদিনের মধ্যে নির্বাচন করতে হবে এবং সেসব ওয়ার্ডের জনপ্রতিনিধিদের মেয়াদ কতদিন হবে সে বিষয়ে কিছু বলা হয়নি। মূলত এ কারণেই ঢাকা উত্তর সিটিতে নতুন যুক্ত হওয়া ১৮টি ওয়ার্ডে নির্বাচন অনুষ্ঠানে আইনগত জটিলতার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদাত হোসেন চৌধুরী মঙ্গলবার যুগান্তরকে বলেন, ঢাকা উত্তর সিটির বর্ধিত অংশ সংক্রান্ত সমস্যা নিরসনের জন্য ইসি ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় আলোচনা করবে। এজন্য আইন-বিধিতে সংশোধনের প্রয়োজন হলে, তা সমাধান করে নির্বাচনের জন্য কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হবে। প্রসঙ্গত, ৩০ নভেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ঢাকা উত্তরের মেয়র আনিসুল হক। পহেলা ডিসেম্বর থেকে পদটি শূন্য ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। আইন অনুযায়ী শূন্য ঘোষণার ৯০ দিনের মধ্যে ওই পদে উপনির্বাচন করতে হবে। জানা গেছে, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে নতুন ১৮টি ও দক্ষিণ সিটিতে ১৮টি ওয়ার্ড যুক্ত করে গত জুলাইয়ে গেজেট প্রকাশ করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। পরে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব মো. শহীদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত চিঠিতে ওয়ার্ডগুলোতে নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য ২০ আগস্ট ইসিকে অনুরোধ জানানো হয়। নতুন যুক্ত হওয়া ওয়ার্ডগুলোতে সাধারণ নির্বাচন করতে হবে। কিন্তু নির্বাচিত ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের মেয়াদ কতদিন হবে তা আইনে উল্লেখ নেই। এ কারণে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হলে মামলাজনিত আইনি জটিলতার আশঙ্কায় দুই সিটির ৩৬টি ওয়ার্ডে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেনি ইসি।
আরও জানা গেছে, ঢাকা উত্তর সিটিতে নতুন ওয়ার্ডগুলো যুক্ত হওয়ার পর পুরনো ওয়ার্ডগুলোর কিছু কিছু অংশ নতুন ওয়ার্ডে যুক্ত হয়ে গেছে। এবং সে অনুযায়ী ভোটার তালিকাও তৈরি করা হয়েছে। এতে ঢাকা উত্তর সিটিতে নতুন ভোটার যুক্ত হয়েছে ৫ লাখ ৭৮ হাজার এবং দক্ষিণ সিটিতে যুক্ত হয়েছে ৪ লাখ ৭৫ হাজার। ইসির কর্মকর্তারা জানান, স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) আইন, ২০০৯-এ একটি সংশোধনী আনা হলেই ঢাকা উত্তর সিটির নির্বাচনের জটিলতা কেটে যাবে। ওই সংশোধনীতে সংযুক্ত হওয়া ওয়ার্ডের নির্বাচিত মেয়রদের কার্যকাল হবে বর্তমান পরিষদের মেয়াদ পর্যন্ত। অর্থাৎ বর্তমান পরিষদের ভেঙে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নতুন যুক্ত হওয়া কাউন্সিলরদের মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে এমন বিধান যুক্ত করা হলেই নির্বাচনের জটিলতা কেটে যাবে। তারা আরও বলেন, ভোটার তালিকা হালনাগাদ এ নির্বাচনের জন্য সমস্যা হয়ে দাঁড়াবে না। ঢাকা উত্তর সিটির তফসিল এমনভাবে ঘোষণা করতে হবে যাতে আগামী ৩১ জানুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পর মনোনয়নের দাখিলের সুযোগ থাকে। তাহলে ভোটার তালিকা প্রকাশ সংক্রান্তও কোনো সমস্যা দেখা দেবে না।

প্রার্থী নিয়ে স্বস্তিতে জাতীয় পার্টি আ’লীগ চায় ধরে রাখতে

কালীগঞ্জ ও আদিতমারী উপজেলা নিয়ে গঠিত লালমনিরহাট-২ আসনটি জাতীয় পার্টির আসন হিসেবেই পরিচিত ছিল এতদিন। তিন দশকের বেশি সময় ধরে এ আসনে একাই রাজত্ব করেন মজিবুর রহমান। জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য থাকাকালে ২০১৬ সালে তিনি মারা যান। তবে গত বছর এ আসনে বিজয়ী হন আওয়ামী লীগ নেতা নুরুজ্জামান আহমেদ। তিনি বর্তমান সরকারের সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী। বিএনপির সাংগঠনিক অবস্থা ভালো থাকলেও নেতৃত্বের দ্বন্দ্বের কারণে দলের নেতাকর্মীরা বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। এর প্রভাব পড়েছে দলের তৃণমূলেও। নিজেদের মধ্যে গ্রুপিং বিএনপিকে ভীষণভাবে দুর্বল করে দিয়েছে। জামায়াতের অবস্থান সেভাবে না থাকলেও একটি দলকে বিজয়ী করতে জামায়াতের ভোট এখনও ‘ফ্যাক্টর’। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি সে সুযোগটিই কাজে লাগাতে চায়। নানা হিসাব-নিকাশের পর ক্ষমতাসীন দল তাদের জয়ের ধারা অব্যাহত রাখতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। অপরদিকে জাতীয় পার্টির প্রার্থী দলের চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের ইমেজ কাজে লাগিয়ে দলকে জয়ের শিবিরে নিয়ে যেতে চায়। পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব মিটিয়ে বিএনপিও চাইছে ভোটযুদ্ধে জয়ী হতে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের এক বছর বাকি থাকার পরও এরই মধ্যে প্রার্থীরা নির্বাচনী মাঠে সরব হয়ে উঠেছেন। এদিকে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের দিক থেকে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে জাতীয় পার্টি। আগামী নির্বাচনে দলের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সমাজকল্যাণ সম্পাদক রোকন উদ্দিন বাবুল দলের একক প্রার্থী। আওয়ামী লীগের একাধিক প্রার্থী আগামী নির্বাচনে দলের মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন। প্রার্থীদের ভিড়ে বর্তমান এমপি ও সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদের অবস্থান শক্ত। তিনি ছাড়াও আদিতমারী উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সভাপতি সিরাজুল হক মনোনয়ন প্রত্যাশী। তবে নুরুজ্জামান আহমেদ সবদিক থেকে এগিয়ে আছেন বলে দাবি স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের। অপরদিকে বিএনপি থেকে মনোনয়ন চাচ্ছেন সাবেক এমপি সালেহ উদ্দিন আহমেদ হেলাল। তবে দলের একটি অংশ এ আসনে সাবেক উপমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় নেতা ও লালমনিরহাট জেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলুকে প্রার্থী হিসেবে দেখতে চাচ্ছেন।
দুই উপজেলার আটটি করে ১৬টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত লালমনিরহাট-২ আসনের বর্তমান এমপি নুরুজ্জামান আহমেদ ২০১৪ সালের নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। কালীগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা নুরুজ্জামানের বাবা প্রয়াত করিম উদ্দিন আহমেদ ১৯৭০ ও ১৯৭৩ সালে এ আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হন। বাবার হাত ধরেই তার রাজনীতিতে আসা। একাধিকবার ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, দু’বার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন তিনি। ১৯৯৬ সালে প্রথমবারের মতো আওয়ামী লীগের টিকিটে ভোটে অংশ নিয়ে জাতীয় পার্টির প্রার্থী প্রয়াত মজিবুর রহমানের কাছে পরাজিত হন। ২০০১ সালেও আওয়ামী লীগের টিকিট পান নুরুজ্জামান আহমেদ। কিন্তু ঋণখেলাপির অভিযোগে প্রথমে তার মনোনয়নপত্র বাতিল হয়ে যায়। পরে দলীয় প্রতীক তুলে দেয়া হয় ওই সময়ে জোটের গণফোরামের প্রার্থীর কাছে। পরে উচ্চ আদালত ভোট গ্রহণের কয়েকদিন আগে নুরুজ্জামানকে বৈধ প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দেয়। পরে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভোট যুদ্ধে নেমে সামান্য ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন প্রয়াত মজিবুর রহমানের কাছে। ২০০৮ সালের নির্বাচনে মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে জাতীয় পার্টির মজিবুর রহমান বিজয়ী হন। ২০১৪ সালের নির্বাচনে এমপি হওয়ার পর প্রথমে তাকে খাদ্য প্রতিমন্ত্রী পরে তাকে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেয়া হয়। গত প্রায় চার বছরে তিনি রাস্তাঘাট থেকে শুরু করে নানা উন্নয়নমূলক কাজ করেন। আগামী নির্বাচন নিয়ে জানতে চাইলে নুরুজ্জামান বলেন, নির্বাচন সম্পর্কে নতুন করে কিছু বলার নেই। দলীয় মনোনয়ন নয়, জোটগত নির্বাচন হলেও আমি মনোনয়ন পাব বলে বিশ্বাস করি। নিশ্চয়ই এলাকার মানুষ বর্তমান সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড দেখে আমাকে ভোট দেবেন। তাদের পাশাপাশি জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সিরাজুল হকও মনোনয়ন প্রত্যাশী। এর আগে দুই দফায় আদিতমারী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সিরাজুল হক। তবে সর্বশেষ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী হিসেবে অংশ নিয়েও বিএনপি প্রার্থীর কাছে হেরে যান। সিরাজুল হক বলেন, মনোনয়নের জন্য অবশ্যই আবেদন করব। তবে এক্ষেত্রে দল যে সিদ্ধান্ত দেবেন, তাই মেনে নেব। এর আগে কালীগঞ্জের চাপারহাটের এক জনসভায় জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ লালমনিরহাট-২ আসনে দলীয় প্রার্থী হিসেবে রোকন উদ্দিন বাবুলকে পরিচয় করিয়ে দেন। একাদশ সংসদ নির্বাচনকে টার্গেট করে তখন থেকেই দল গোছানোর কাজে নামেন বাবুল। নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত গণসংযোগ করছেন তিনি। কালীগঞ্জের পাশাপশি আদিতমারীতেও সমান তালে দলীয় কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন। ইতিমধ্যেই দুই উপজেলার ওয়ার্ড-ইউনিয়ন কমিটিগুলো নতুন করে গঠিত হওয়ায় চাঙ্গা হয়ে উঠছে এখানকার জাতীয় পার্টি। ফলে আগামী নির্বাচনে আসনটি পুনরুদ্ধারে জাতীয় পার্টি শক্ত অবস্থানে আছে বলে স্থানীয় নেতাকর্মীরা মনে করেন। বর্তমানে লালমনিরহাট-২ আসনে জাতীয় পার্টির একক প্রার্থী হিসেবে তিনি যেভাবে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন, তাতে করে বাবুলকে দিয়েই হারানো আসন পুনরুদ্ধার ‘সম্ভব’ বলে মনে করেন জাতীয় পার্টির স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। জানতে চাইলে রোকন উদ্দিন বাবুল বলেন, ‘আসনটি দীর্ঘদিন ধরেই জাতীয় পার্টির ছিল। এখনও এখানকার মানুষজন জাতীয় পার্টির সঙ্গে আছে। তাই আগামী নির্বাচনে জয়ের লক্ষ্যেই জাতীয় পার্টি কাজ করে যাচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সালেহ উদ্দিন আহমেদ হেলাল দলীয় মনোনয়ন পেতে কাজ করে যাচ্ছেন। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির বিতর্কিত নির্বাচনে তিনি এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। ব্যক্তিগতভাবে তিনি ক্লিন ইমেজের অধিকারী। তাই আগামী নির্বাচনে তিনি বিএনপির শক্ত প্রার্থী। তবে সম্প্রতি কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির কমিটি গঠন নিয়ে দল বিভক্ত হয়ে পড়েছে। স্থানীয় বিএনপির একটি অংশ সাবেক উপমন্ত্রী ও লালমনিরহাট জেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলুকে প্রার্থী হিসেবে পেতে চাইছেন। দুলুরও এলাকায় জনপ্রিয়তা রয়েছে। এর পাশাপাশি তিনি কেন্দ্রীয় কমিটির রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। এ সম্পর্কে জানতে চাইলে বিএনপি নেতা সালেহ উদ্দিন আহমেদ হেলাল বলেন, আমি যুগ যুগ ধরে এ আসনের মানুষের সঙ্গে আছি, তাদের জন্য কাজ করছি। আগামী নির্বাচনেও আমি দলীয় মনোনয়ন পাব বলে বিশ্বাস করি। আর নির্বাচনী মাঠে নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবেই তার পক্ষে কাজ করবেন বলে মনে করি। তবে কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব ও চন্দ্রপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলমও বিএনপির মনোনয়ন চাইবেন বলে শোনা যাচ্ছে। জাহাঙ্গীর জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক উপমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলুর অনুসারী হিসেবে পরিচিত। সর্বশেষ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে অংশ নিয়ে পরাজিত হন। বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর আলমের কাছে জানতে চাইলে তিনি যুগান্তরকে বলেন, এখানকার নেতাকর্মীরা লালমনিরহাট জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক উপমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু ভাইকে এ আসনে প্রার্থী হিসেবে দেখতে চাইছেন। এরপরও যদি দুলু ভাই অপারগতা প্রকাশ করেন, তাহলে সেক্ষেত্রে আমি মনোনয়ন চাইব।

পুলিশের সঙ্গে বিএনপির নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ

দুর্নীতির মামলায় আদালতে হাজিরা দিয়ে ফেরার পথে খালেদা জিয়ার গাড়িবহরের পেছনে থাকা বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া চলে পুলিশ ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে। বিক্ষুব্ধ কর্মীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জের পাশাপাশি টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। এতে আহত হয়েছেন বিএনপির প্রায় ৩০ নেতাকর্মীসহ একাধিক পুলিশ সদস্য। সংঘর্ষ চলার সময় বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা বেশকিছু যানবাহন ভাংচুর করে। এ সময় এক ট্রাফিক সার্জেন্টের মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। মঙ্গলবার রাজধানীর হাইকোর্ট সংলগ্ন কদম ফোয়ারা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এনপির নেতারা বলেছেন, পুলিশ বিনা উসকানিতে তাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছে। সংঘর্ষের সময় ঘটনাস্থল থেকে বিএনপির ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক ও জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল হকসহ প্রায় ৫০ জনকে পুলিশ আটক করেছে বলে বিএনপির নেতারা দাবি করেন। তবে পুলিশ ওই ঘটনায় ১৫ জনকে আটকের কথা স্বীকার করেছে। শাহবাগ থানার ওসি আবুল হাসান যুগান্তরকে বলেন, অগ্নিসংযোগ এবং গাড়ি ভাংচুরের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে চার শতাধিক নেতাকর্মীকে আসামি করে শাহবাগ থানায় মামলা করেছে। জানা গেছে, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় আত্মসমর্পণের জন্য মঙ্গলবার সকালে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া পুরান ঢাকার বকশীবাজারের আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত অস্থায়ী আদালতে যান। এর আগে আদালত চত্বরে বিপুলসংখ্যক দলীয় নেতাকর্মী হাজির হন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, দুপুর আড়াইটার দিকে বিএনপির চেয়ারপারসন আদালত চত্বর থেকে গাড়িবহর নিয়ে বের হন। এ সময় নেতাকর্মীরাও বিএনপির চেয়ারপারসনের গাড়িবহরের পিছু নেন। তাদের একটি দল জিরো পয়েন্ট ধরে আবদুল গণি সড়কে আসার সময় পুলিশ তাদের বাধা দেয়। এর পরপরই কিছু নেতাকর্মী হঠাৎ করে গাড়ি ভাংচুর শুরু করেন। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী রিকশাচালক আনোয়ার হোসেন যুগান্তরকে জানান, সচিবালয়ের সামনে দিয়ে শিক্ষা ভবনের দিকের রাস্তায় আসার পথে হঠাৎ করেই পুলিশ বিএনপির কর্মীদের ধাওয়া করে। ধাওয়ার মুখে দৌড়ে পালানোর সময় বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা রাস্তায় চলাচলরত ও পার্ক করে রাখা সরকারি-বেসরকারি গাড়ির কাচ ভাংচুর করেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেছেন, বিএনপির নেতাকর্মীরা এ সময় অর্ধশতাধিক গাড়ির সামনে ও পেছনের গ্লাস ভাংচুর করেছেন। সংঘর্ষের সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী শরীফ জানান, বেলা ৩টার দিকে শিক্ষা ভবন এলাকায় ৫ শতাধিক লোক মিছিল নিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশ এগিয়ে এলে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। পুলিশ ধাওয়া দিলে অপর পক্ষ ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে। এ সময় তারা পুলিশের প্রতি ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। পুলিশের দৃঢ় অবস্থানের কারণে পিছু হটে বিক্ষুব্ধ কর্মীরা। এ সময়ই পুলিশ প্রথমে লাঠিচার্জ করে। এরপর টিয়ারশেল ছুড়তে থাকে। বিএনপির চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান বলেন, আত্মপক্ষ সমর্থনে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বকশীবাজারে নিন্ম আদালতে হাজিরা দিতে যান। সেখান থেকে ফেরার পথে হাইকোর্ট-সংলগ্ন কদম ফোয়ারার কাছ থেকে আমিনুল হকসহ ১৫-২০ নেতাকর্মীকে আটক করে পুলিশ। আটকের পর তাদের প্রিজন ভ্যানে করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পুলিশের দাবি, আদালতে হাজিরা দিয়ে খালেদা জিয়া ফেরার সময় গাড়ি ভাংচুর করেছেন বিএনপির কর্মীরা। এ সময় সেখান থেকে বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। এদের মধ্যে বিএনপি কর্মী রফিকুল ইসলাম, আমিনুল ইসলাম, নূরুন্নবী, জুয়েল ও দুলালের নাম জানা গেছে। এ ব্যাপারে পুলিশের রমনা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মারুফ হোসেন সরদার বলেন, খালেদা জিয়ার ফেরার সময় বিএনপির নেতাকর্মীরা গাড়ি ভাংচুর করেছেন। এর মধ্যে পুলিশের গাড়িও রয়েছে।
ঘটনাস্থল থেকে কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ঢাকা মহানগর (উত্তর) ও জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, পুলিশের লাঠিচার্জে তাদের ৩০ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। এরা হলেন : ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আহসান উল্লাহ হাসান, সিনিয়র সহসভাপতি মুন্সি বজলুল বাছিত আঞ্জু, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু, সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েল, যুগ্ম সম্পাদক সাদরেজ জামান, ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি ফখরুল ইসলাম রবিন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম, সিনিয়র সহসভাপতি রফিক হাওলাদার, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনু মোহাম্মদ শামীম আজাদ, কামরুজ্জামান বিপ্লব, এসএম সোহেল আহম্মেদ কাঞ্চন, মাসুম বিল্লাহ খান, ডালিম সিকদার, মাহফুজসহ আরও অনেকে। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেছেন, বিএনপির চেয়ারপারসন আদালত থেকে ফেরার সময় বিএনপির কর্মী-সমর্থকরা রাস্তার পাশে দাঁড়িয়েছিল। পুলিশ সম্পূর্ণ বিনা উসকানিতে অতর্কিত তাদের লক্ষ্য করে টিয়ার গ্যাস ছোড়ে, লাঠিচার্জ করে এবং ধরপাকড়-গ্রেফতার করে। এর মধ্য দিয়ে সরকারের ‘স্বৈরাচারী মনোভাব’ আবারও প্রকাশ পেল বলে মন্তব্য করেন তিনি। রাতে চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।