Sunday, April 27, 2014

গণতন্ত্রায়ণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা by মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর

বাংলাদেশের রাজনীতি, গণতন্ত্র ও রাজনৈতিক দল নিয়ে সাধারণ আলোচনা হরহামেশাই হচ্ছে। বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের আলোচনা তেমন শোনা যায় না। সম্প্রতি এশিয়াটিক সোসাইটিতে বিশিষ্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞানী রওনক জাহান ‘বাংলাদেশের রাজনৈতিক দল: গণতন্ত্রায়ণের চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক একটি বক্তৃতা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘বাংলাদেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর নেতৃত্বে পরিবারতন্ত্র ক্রমাগত সুদৃঢ় হচ্ছে। এতে দলগুলোর মধ্যে গণতান্ত্রিক আচরণ কমে আসছে।’ আমাদের ধারণা, পরিবারতন্ত্র থেকে বড় দলগুলো আর সহজে বেরোতে পারবে না। কারণ, দলের একটি প্রভাবশালী অংশ ইতিমধ্যে বুঝে ফেলেছে, এতে ঝুঁকি কম, লাভ বেশি। এদের কারণেই দলে পরিবারতন্ত্র প্রশ্রয় পাচ্ছে। বড় দুটি দলের প্রধান নেত্রী পরিবারের উত্তরাধিকার হিসেবে দলের শীর্ষ পদ অর্জন করেছেন। দলের ভেতরে এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে, যাতে দল ও নেত্রী একাকার। নেত্রীর ইচ্ছাতেই এখন দল পরিচালিত হয়। কাজেই দলে গুরুত্ব সহকারে থাকতে হলে দলের সব প্রবীণ বা ত্যাগী নেতাদের নেত্রীর বশংবদ হয়েই থাকতে হবে। এভাবেই বড় দুটি দল পরিচালিত হচ্ছে।

তিস্তা প্রশ্নের সমাধান হতে হবে রাজনৈতিক- বিশেষ সাক্ষাৎকারে ড. আইনুন নিশাত

পানি ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ ড. আইনুন নিশাত বর্তমানে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য। ১৯৯৮ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত ছিলেন আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ ইউনিয়নের (আইইউসিএন) বাংলাদেশ প্রতিনিধি। এর আগে তিনি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে পানিসম্পদ কৌশল বিভাগে অধ্যাপনা করেন। ১৯৮১ সালে যুক্তরাজ্যের গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পুরকৌশলে পিএইচডি ডিগ্রি নেন। তিনি দীর্ঘ সময় ধরে পানিসম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা, নদী ব্যবস্থাপনা ও নদীশাসন, উপকূলীয় অঞ্চল ও জলাভূমি সংরক্ষণ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কিত বিষয় নিয়ে কর্মরত। তিনি বাংলাদেশ সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাসংক্রান্ত স্ট্যান্ডিং অর্ডার প্রণয়ন, গঙ্গা পানি চুক্তি, জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক সরকারের কর্মপরিকল্পনা থেকে শুরু করে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় কাজে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ভূমিকা রেখেছেন।

তিস্তা প্রশ্নের সমাধান হতে হবে রাজনৈতিক

আইনুন নিশাত
পানি ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ ড. আইনুন নিশাত বর্তমানে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য। ১৯৯৮ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত ছিলেন আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ ইউনিয়নের (আইইউসিএন) বাংলাদেশ প্রতিনিধি। এর আগে তিনি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে পানিসম্পদ কৌশল বিভাগে অধ্যাপনা করেন। ১৯৮১ সালে যুক্তরাজ্যের গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পুরকৌশলে পিএইচডি ডিগ্রি নেন। তিনি দীর্ঘ সময় ধরে পানিসম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা, নদী ব্যবস্থাপনা ও নদীশাসন, উপকূলীয় অঞ্চল ও জলাভূমি সংরক্ষণ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কিত বিষয় নিয়ে কর্মরত। তিনি বাংলাদেশ সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাসংক্রান্ত স্ট্যান্ডিং অর্ডার প্রণয়ন, গঙ্গা পানি চুক্তি, জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক সরকারের কর্মপরিকল্পনা থেকে শুরু করে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় কাজে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ভূমিকা রেখেছেন
প্রথম আলো : তিস্তার পানিপ্রবাহ প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে ভারত। আপনার প্রতিক্রিয়া কী?
আইনুন নিশাত : তিস্তায় ডালিয়া ব্যারাজে উজান থেকে আসা পানিপ্রবাহ প্রায় শূন্য। এখন ৬০০-৭০০ কিউসেক পানি যা আসছে তা, ধারণা করি, ভারতের গজলডোবা ব্যারাজের ভাটির উপনদী থেকে। আসল কথা হলো তিস্তার মূল প্রবাহ ভারত প্রত্যাহার করে নিয়েছে। এটা কোনো সৎ প্রতিবেশীসুলভ আচরণ নয়। অতীতেও এ রকম সর্বাত্মক প্রত্যাহারের ঘটনা ঘটেনি। ১৯৮৮ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত গঙ্গার পানিবণ্টন নিয়ে চুক্তি ছিল না। ভারত সে সময় বলত, চুক্তি না থাকলেও কাছাকাছি পরিমাণ পানি পাবে। চুক্তি সম্পাদনের পর গঙ্গার পানিপ্রবাহের বড় রকমের পরিবর্তন হয়নি।
প্রথম আলো : চুক্তি সম্পাদনের লক্ষণও দেখা যাচ্ছে না। এখন বাংলাদেশ কী করবে?
আইনুন নিশাত : ভারতে পানিসম্পদ পুরোপুরি প্রাদেশিক ব্যাপার। ভারতের প্রতিটি প্রদেশই মনে করে, তাদের অঞ্চল দিয়ে প্রবাহিত নদীর পানি পুরোপুরি তাদেরই। দক্ষিণ ভারতের একটি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী অপর রাজ্যের বৈরী আচরণের বিরুদ্ধে অনশন করেছিলেন। রাজধানীতে পানির ঘাটতি মেটাতে মুখ্যমন্ত্রীকে অপর রাজ্যের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে যেতে হয়েছিল। ভারতের ১৯৫৮-এর আইন নদী ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে সুচারু ফ্রেমওয়ার্ক। একটি নদী দুই বা ততোধিক স্বাধীন দেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হলে অথবা ফেডারেল ধরনের কোনো রাষ্ট্রের দুটি রাজ্যের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হলে একই ঘটনা ঘটে। এ ব্যাপারে আন্তর্জাতিক স্বীকৃত রীতি হলো অন্য দেশের ক্ষতি না করা। তিস্তার বেলায় ২০১৩ সাল পর্যন্ত মূল পানিপ্রবাহের বড় অংশ বাংলাদেশে এসেছে। তিস্তার পানিপ্রবাহ গজলডোবায় ভাগ হতে হবে, কারিগরিভাবে এর কোনো বিকল্প নেই। কাজেই গজলডোবায় প্রবাহের পরিমাণ কত, তা জানা দরকার। প্রবাহের ধারা দেখে অনুমান করি যে শুকনো মৌসুমে জানুয়ারি থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত বাংলাদেশের ডালিয়া পয়েন্টে হয়তো পাঁচ-ছয় হাজার কিউসেক পানি থাকে। প্রাকৃতিকভাবে মে মাস থেকে পানি বাড়বে এবং জুলাই থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত প্রচুর পানি থাকবে। গজলডোবায় এই প্রবাহ আড়াই লাখ থেকে সাড়ে চার লাখ কিউসেকে উঠে যেতে পারে। অতীতে বর্ষাকালে কিংবা শুকনো মৌসুমে গজলডোবা ও ডালিয়ার প্রবাহে তেমন একটা পার্থক্য থাকত না। আশির দশকের শেষে ভারতে ব্যারাজ চালু হওয়ার পর শুকনো মৌসুমে পানি অর্ধেকের মতো হয়ে গেছে। বর্ষাকালেও কমেছে। এই কথাগুলো মনে রেখে বাংলাদেশে তিস্তা ব্যারাজের ব্যাপারে আরও কিছু আলোচনা প্রয়োজন। প্রথমত, দুই দেশের ব্যারাজেরই উদ্দেশ্য সম্পূরক সেচ দেওয়ার প্রকল্প চালানো। ভারতের ব্যারাজের ডান তীরের চাহিদা হলো ১৬ হাজার কিউসেক পানি। বাঁ তীরের চাহিদা আনুমানিক ছয় হাজার কিউসেক। ভারতের একার চাহিদাই ২২ হাজার কিউসেক। আর বাংলাদেশের ডান তীরের চাহিদা আট হাজার কিউসেক। অর্থাৎ তিস্তা থেকে সর্বমোট ৩০ হাজার কিউসেক পানি দরকার। এই পরিমাণ পানি ডিসেম্বর থেকে মে মাস পর্যন্ত নদীতে থাকে না। সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসেও ঘাটতি থাকে। বাংলাদেশের জন্য এ সময়টায় পানি পাওয়াটা সবচেয়ে বেশি জরুরি। কারণ, তাতে করে তিস্তার প্রায় ৭.৫ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকায় চাষ দেওয়া সম্ভব হবে। আমাদের জুলাই থেকে অক্টোবরে আমন মৌসুমে সম্পূরক সেচ নিশ্চিত করতে হবে। অন্যদিকে টিকে থাকার জন্য নদীর নিজেরও পানি প্রয়োজন। তার জন্য ডালিয়া ব্যারাজের কিছুটা প্রবাহ ছাড়তেই হবে। সবার আগে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে তিস্তা নদীর জন্য যে চুক্তিটির খসড়া অনুস্বাক্ষরিত হয়েছে, তা এখন কার্যকর করা দরকার
প্রথম আলো : চাহিদার তুলনায় এত কম পানি থাকা অবস্থায় ভাগাভাগি হবে কীভাবে?
আইনুন নিশাত : আমি সব সময় অববাহিকাভিত্তিক ও নদীভিত্তিক ব্যবস্থাপনার কথা বলে থাকি। বর্ষাকালে নদীর পানি সুবিধাজনক স্থানে ধরে রেখে শুকনো মৌসুমে ছাড়তে হবে। তিস্তা অববাহিকায় ভারতের ছোট-বড় অনেক প্রকল্প রয়েছে। এ প্রকল্পগুলোর ক্ষেত্রে তথ্যপ্রবাহে স্বচ্ছতা এনে সহযোগিতার পথ অবলম্বন করতে হবে। তার জন্য বর্ষা মৌসুমে পানিপ্রবাহের বড় অংশ।

নবায়নযোগ্য উৎস থেকে বিদ্যুৎ

সরকার ২০১৫ সালে মোট উৎপাদিত বিদ্যুতের ৫ শতাংশ এবং ২০২০ সালে ১০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে জোগান দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করেছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিভিন্ন উৎস বিভিন্ন দেশে ব্যবহূত হলেও বাংলাদেশে প্রধানত সৌরশক্তি ও বায়ুশক্তিকে কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাস্তবানুগ বিবেচনা করা হচ্ছে। ভৌগোলিক কারণে জলবিদ্যুতের সম্ভাবনা আমাদের দেশে সীমিত। কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের উৎপাদনক্ষমতা ২৩০ মেগাওয়াট, যা লেকে পানির প্রাপ্যতার ওপর নির্ভরশীল। এ দেশে ইতিমধ্যে ‘সোলার হোম সিস্টেমস’ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে, বিশেষ করে গ্রিড বিদ্যুৎবঞ্চিত এলাকায়। এ পর্যন্ত প্রায় ২৮ লাখ সোলার হোম সিস্টেম বিক্রি হয়েছে (সম্মিলিত বিদ্যুৎ উৎপাদনক্ষমতা প্রায় ১১৫ মেগাওয়াট)। আশা করা হয়, এর প্রায় সবগুলো সূর্যের আলো থেকে সীমিত পরিসরে বিদ্যুৎশক্তির জোগান দেয়। ব্যয়বহুল হলেও বিদ্যুৎহীন অন্ধকারের চেয়ে সে আলো অনেক আকাঙ্ক্ষিত। সৌর, বায়ু ও জলবিদ্যুতের মিলিত উৎপাদনক্ষমতা ও অন্যান্য পরীক্ষামূলক নবায়নযোগ্য জ্বালানিনির্ভর বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্মিলিত স্থাপিত ক্ষমতা এখন দেশে প্রায় ৩৬০ মেগাওয়াট। দেশে মোট স্থাপিত বিদ্যুৎ উৎপাদনক্ষমতা প্রায় ১১ হাজার মেগাওয়াট হিসেবে নিলে নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে ৫ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য পূরণ থেকে আমরা বেশ খানিক দূরেই দাঁড়িয়ে আছি। এই পটভূমিতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতি ২০১৪-এর খসড়া প্রকাশ করা হয়েছে।
২০০৮ সালে প্রথম যে নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতি প্রণীত হয়েছিল, এত দিনে তার অনেক পরিমার্জন প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়নে যে ব্যাপক উন্নয়ন ঘটেছে, সে অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নিতে বিদ্যমান নীতিমালা সংশোধন এবং তা আরও বিনিয়োগবান্ধব করা অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। এ প্রসঙ্গে লক্ষ করা যেতে পারে যে ভারত কেবল সৌরবিদ্যুতের সাহায্যে প্রায় ১৭ হাজার মেগাওয়াট ও বায়ুশক্তি থেকে প্রায় ২০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে। জলবিদ্যুৎ ছাড়াই ভারতের নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদিত বিদ্যুতের পরিমাণ মোট উৎপাদিত বিদ্যুতের ১২ শতাংশ। জার্মানি নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারে প্রাগ্রসর একটি দেশ এবং ২০২০ সাল নাগাদ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে জার্মানি প্রায় ৩৫ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। তবে মনে রাখা ভালো, নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ সস্তা নয়। প্রযুক্তির ব্যাপক উন্নয়ন হলেও নবায়নযোগ্য জ্বালানির ওপর জোর দেওয়ায় জার্মানদের প্রতি মাসে বিদ্যুৎ বিল দিতে হয় ইউরোপে সর্বোচ্চ। তা ছাড়া, জমিস্বল্পতার দেশে সৌর বিদ্যুতের সম্ভাবনা এখনো সীমিত (এক মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পেতে প্রায় পাঁচ একর জায়গাজুড়ে সৌর প্যানেল বসাতে হয়)। বাংলাদেশে কোথায় বাতাসের প্রবাহ।

ইউক্রেন নিয়ে ইসরায়েলের দোলাচল by ইতামার রাবিনোভিচ

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকার ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার প্রশাসনের মধ্যে সম্পর্ক এমনিতেই বেশ নাজুক। এ অবস্থায় ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের সঙ্গে যোগ দিয়ে রাশিয়ার ক্রিমিয়াকে সংযুক্ত করার বিষয়কে নিন্দা করতে রাজি হয়নি। তবে ঝুঁকিপূর্ণ হলেও ইসরায়েলের এ সিদ্ধান্ত অবাক করার মতো নয়। যত যা-ই হোক, মধ্যপ্রাচ্যে রাশিয়ার উপস্থিতির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো কার্যকর নীতি নেই। এর ফলে ইসরায়েলের মতো দেশগুলোর পক্ষে ক্রেমলিনের মোকাবিলা করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

MERIT Bangladesh Foundation, MERN Foundation স্বাধীনতা দিবস ও জাতীয় শিশু দিবসের অনুষ্ঠান

MERIT Bangladesh Foundation, MERN Foundation স্বাধীনতা দিবস ও জাতীয় শিশু দিবসের অনুষ্ঠান

মেরন সান স্কুল এন্ড কলেজের মহান স্বাধীনতা দিবস পালন

নগরীর মেরন সান স্কুল এন্ড কলেজ এর চকবাজার ক্যাম্পাস-এর উদ্যোগে মহান স্বাধীনতা দিবস উদযাপন, বার্ষিক ক্রিড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার পুরস্কার ও সনদপত্র প্রদান এবং মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান গতকাল প্রতিষ্ঠান সংলগ্ন মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। সকালে কোরআন তেলাওয়াত এর পর অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম টিচার্স ট্রেনিং কলেজ এর অধ্যক্ষ প্রফেসর রূপেশ চন্দ্র চৌধুরী। এর পরপরই শুরু হয় ক্ষুদে শিল্পীদের অংশগ্রহণে উন্মুক্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্টিত হয় ।অতপর রাষ্ট্রীয় কর্মসুচির সাথে একাত্ম হয়ে লাখো কণ্ঠে শরীক হয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থী-অভিভাবক সবাই একযোগে পরিবেশন করেন জাতীয় সংগীত “আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালবাসি” । অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মা, শিশু ও জেনারেল হাসপাতাল এবং মেডিকেল কলেজ- এর কার্যনির্বাহী কমিটির জেনারেল সেক্রেটারি, বিশিষ্ট চিকিৎসক, সমাজসেবক ও শিক্ষানুরাগী ডা. আনজুমান আরা ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মহিলা কাউন্সিলর শাহেদা কাসেম সাথী, মেরন সান স্কুল এন্ড কলেজের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি লায়ন সৈয়দ মো. মোরশেদ হোসেন,চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুল এন্ড কলেজের ইংরেজি বিষয়ের প্রভাষক শাহনাজ পারভীন,মেরন সান চকবাজার ক্যাম্পাসের উপাধ্যক্ষ রাজেশ কান্তি পাল, চান্দগাঁও ক্যাম্পাসের উপাধ্যক্ষ নুর কাসেম তালুকদার, মেরিট বাংলাদেশ স্কুল এন্ড কলেজের উপাধ্যক্ষ সাইফুল ইসলাম বুলবুল, মেরন সান বালিকা ক্যাম্পাসের উপাধ্যক্ষ মনোয়ারা বেগম, মেরন সান ও মেরিট বাংলাদেশ স্কুল এন্ড কলেজের চিফ একাডেমিক কো-অর্ডিনেটর শিহাব ইকবাল, প্রত্বতত্ত্ব আলোকচিত্র মিউজিয়ামের মহাসচিব সোহেল মোহাম্মদ ফখরুদ-দীন প্রমুখ। আলোচনা সভার পর আমন্ত্রিত অতিথি ও অভিভাবকদের অংশগ্রহণে আকর্ষণীয় বেলুন ফোলানো প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয় এবং অনুষ্ঠান শেষে ক্রিড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় কৃতিত্ব অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের হাতে প্রধান অতিথি পুরস্কার তুলে দেন। প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে বলেন- “শিক্ষা হচ্ছে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকের সমন্বয়ে একটি ত্রিমুখী প্রয়াস। প্রতিটি শিশুকে আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজন আদর্শ শিক্ষক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। অধ্যক্ষ ড. মোহাম্মদ সানাউল্লাহ্র নেতৃত্বে পরিচালিত মেরন সান স্কুল এন্ড কলেজ তারই এক উৎকৃষ্ট দৃষ্টান্ত। আদর্শ ও নৈতিক শিক্ষার বিস্তার ও প্রসারে এই প্রতিষ্ঠান অল্প সময়ে বৃহত্তর চট্টগ্রাম ও এর বাইরে প্রশংসিত হয়েছে । অধ্যক্ষ ড. মোহাম্মদ সানাউল্লাহ্ বক্তব্যে শিক্ষার্থীদেরকে বলেন সত্যিকারের মানুষ হিসাবে গড়ে জীবনে প্রথম হওয়ার জন্য আত্মপ্রত্যয়ী হতে হবে । আলোচনা সভা শেষে শুরু হয় মেরন সান সাংস্কৃতিক স্কোয়াডের অংশগ্রহণে শিক্ষক ইউসুফ আলী খান এর পরিবেশনায় নাচ, গান, কৌতুক ইত্যাদিতে সমৃদ্ধ মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সমগ্র অনুষ্ঠানের সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন শিক্ষক পংকজ দাশ, শওকত ওসমান ও স্বপ্না রাণী দত্ত। অনুষ্ঠানে মেরন সান স্কুল এন্ড কলেজ-এর সকল শিক্ষক-শিক্ষিকা, ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবকমণ্ডলী উপস্থিত ছিলেন।

লেমশীখালীতে ব্যবসায়ী অপহৃত

শনিবার রাত ১১টার দিকে কুতুবদিয়ার লেমশীখালী ইউনিয়নের সতরউদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশের একটি এলাকা থেকে ব্যবসায়ী আবু মুসাকে (৪৩) অপহরণ করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।

কুতুবদিয়া থানার ওসি জহিরুল ইসলাম বলেন, রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পুলিশ। বিষয়টি উপকূলরক্ষা বাহিনীকে (কোস্টগার্ড) জানানো হয়েছে। তাদের পক্ষ থেকে সাগরে অনুসন্ধান চলছে।

অপহৃতের ভাতিজা ও লেমশীখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আক্তার হোসেইন জানান, সতরউদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশের একটি এলাকায় আবু মুসার মালিকানাধীন কয়েকটি মাছ ধরার ট্রলার মেরামতের কাজ চলছিল। ২০ জনের মতো শ্রমিক সেখানে কাজ করছিলেন।

“রাতে চাচা কাজ তদারকির সময় সাগর থেকে আসা ১০/১৫ জন মুখোশধারী তাদের উপর হামলা করে। এ সময় শ্রমিকদের মারধর করে চাচাকে তুলে নিয়ে যায় তারা,” বলেন তিনি।

ওসি জহিরুল ইসলাম বলেন, মাস দুয়েক আগে ওই ব্যবসায়ীর এক ছেলে অপহৃত হয়েছিলেন। পরে এক লাখ টাকা মুক্তিপণ নিয়ে তাকে ফিরিয়ে দেয় অপহরণকারীরা। তবে কারা তাকে অপহরণ করেছিল সে বিষয়ে কিছু জানা যায়নি।