Friday, August 27, 2010

শেয়ারবাজারে দরপতন

অব্যাহত উত্থানের বিপরীতে গতকাল বুধবার দেশের শেয়ারবাজারে বড় ধরনের দরপতন ঘটেছে। একই সঙ্গে কমেছে লেনদেনের পরিমাণও।
শেয়ারে বিনিয়োগের জন্য ঋণের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) কঠোর অবস্থানের কারণেই এ দরপতন বলে এ খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন।
তাঁরা বলছেন, এসইসির সিদ্ধান্তে অনেক সাধারণ বিনিয়োগকারী ভীত হয়ে শেয়ার বিক্রির চাপ বাড়িয়ে দেন। আর এর প্রভাবেই বাজারে দরপতন ঘটে।
বাজারকে ঝুঁকিমুক্ত রাখার লক্ষ্যে অতিরিক্ত তারল্যপ্রবাহ কমানোর অংশ হিসেবে গত মঙ্গলবার এসইসি ঋণ বিতরণ ও ব্যবস্থাপনায় ২০০৬ সালে প্রণীত একটি বিধান পরিপালনে কড়াকড়ি আরোপের সিদ্ধান্ত নেয়।
এ বিধানে মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউসগুলোকে তাদের গ্রাহকদের ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সূত্র অনুসরণ করার কথা বলা হয়েছে। এ সূত্র অনুযায়ী, গ্রাহকদের শেয়ারের বাজারমূল্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির প্রকৃত সম্পদমূল্য (এনএভি) যোগ করে দুই দিয়ে ভাগ করলে যে ফল পাওয়া যাবে, সেই অনুপাতে ঋণ দিতে হবে।
তবে মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো বলছে, ঋণ বিতরণের এ নিয়ম প্রয়োগযোগ্য নয়।
যোগাযোগ করা হলে মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও আইডিএলসি ফাইন্যান্সের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক আরিফ খান প্রথম আলোকে বলেন, কোনো ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানেরই এনএভি দেখে ঋণ দেওয়ার মতো সফটওয়্যার নেই। এ ক্ষেত্রে প্রতিটি কোম্পানির এনএভি ধরে ধরে হিসাব করা বাস্তবসম্মত নয়।
অন্য আরেকটি মার্চেন্ট ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী বলেন, ঋণই যদি নিয়ন্ত্রণ করতে হয়, তাহলে সরাসরি অনুপাত অর্ধেকে নামিয়ে আনলেই হতো। এ ধরনের জটিল নিয়ম প্রয়োগের কোনো দরকার ছিল না।
আগামী রোববার এসইসির সঙ্গে বৈঠকে মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো এ নিয়ম প্রত্যাহারের দাবি জানাবে।
বাজার বিশ্লেষকদের অনেকে মনে করেন, ঋণ বিতরণ ও ব্যবস্থাপনায় এনএভি হিসাবে নেওয়ায় এখন অনেক কোম্পানিরই সম্পদ পুনর্মূল্যায়নের দিকে ঝুঁকে পড়ার প্রবণতা বাড়বে। কৃত্রিমভাবে সম্পদ অতিমূল্যায়িত করে এনএভি বাড়িয়ে দেখাতে পারলে শেয়ারের ঋণসুবিধা বেশি পাওয়া যাবে।
উদাহরণ হিসেবে বিশ্লেষকেরা বলেন, সম্প্রতি প্রাইম টেক্সটাইল লিমিটেডের সম্পদ পুনর্মূল্যায়ন করায় শেয়ার প্রতি এনএভি দাঁড়িয়েছে ৬৩২ টাকা। আর গত মঙ্গলবার শেয়ারটির সমাপনী মূল্য ছিল ৫৮১ টাকার মতো। এ হিসাবে নতুন নিয়মে শেয়ারটির বিপরীতে ঋণ পাওয়ার কথা ৬০৬ টাকা। অর্থাৎ কোম্পানিটির শেয়ারে বিনিয়োগের জন্য আগের নিয়মের চেয়ে বেশি হারে ঋণসুবিধা পাওয়া যাবে। এরপর দাম যত বাড়বে, ঋণের হারও তত বাড়বে।
স্বাভাবিকভাবে অন্য কোম্পানিগুলোও এ সুযোগ কাজে লাগাতে চাইবে। এতে শেয়ারবাজার অন্য ধরনের এক ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। এ ধরনের বিধান করার আগে এসইসির এ বিষয়গুলো মাথায় রাখা দরকার ছিল বলে তাঁরা মনে করেন।
বাজার পরিস্থিতি: ডিএসইতে গতকাল সাধারণ মূল্যসূচক আগের দিনের তুলনায় ১২৮ পয়েন্ট বা প্রায় ২ শতাংশ কমে ছয় হাজার ৬৪৯ পয়েন্টে নেমে এসেছে। লেনদেন হয়েছে এক হাজার ৬৮৫ কোটি টাকার, আগের দিনের চেয়ে যা ২৬১ কোটি টাকা কম।
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) গতকাল সার্বিক মূল্যসূচক আগের দিনের চেয়ে ৩৩৭ পয়েন্ট কমে ১৯ হাজার ৭৩৪ পয়েন্টে নেমে এসেছে। লেনদেন হয়েছে ১৪৭ কোটি টাকার শেয়ার।
এদিন দুই স্টক এক্সচেঞ্জেই লেনদেন হওয়া বেশির ভাগ শেয়ারের দামই কমেছে। তবে বিমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ারের দাম কমেছে সবচেয়ে বেশি।

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় রোজার ভূমিকা by মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান

ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের তৃতীয় হচ্ছে সিয়াম সাধনা বা রোজা তথা নির্ধারিত সময়ের জন্য খাওয়া-দাওয়া থেকে বিরত থেকে উপবাস যাপন। মানবজাতি এ রোজার মাধ্যমে মানসিকভাবে আত্মসংযমে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে, যা দেহকে পূতপবিত্র ও পরিচ্ছন্ন করে তোলে। রোজার দ্বারা মানুষের শারীরিক সুস্থতা হাসিল হয় ও মানসিক সর্বাঙ্গীণ কল্যাণ সাধিত হয়। রোজা একই সঙ্গে মানবদেহে রোগ প্রতিষেধক হিসেবে কাজ করে। রোজা পালনের ফলে দেহের রোগ-জীবাণু জীর্ণ অন্ত্রগুলো ধ্বংস হয় এবং ইউরিক এসিড বৃদ্ধি বাধাপ্রাপ্ত হয়। শরীরে ইউরিক এসিড বৃদ্ধি পেলে নানা প্রকার নার্ভ-সংক্রান্ত রোগ বৃদ্ধি পায়। দেহের বেশির ভাগ রোগের সৃষ্টির কারণ প্রয়োজনের অতিরিক্ত খাদ্য গ্রহণ। পক্ষান্তরে খাদ্যকে আয়ত্ত করার মাধ্যমে বিভিন্ন রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। আর এ আয়ত্ত করার অন্যতম মাধ্যম হলো রোজা। তাই নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘সুস্বাস্থ্যের জন্য রোজা রাখ।’
‘রমজান’ শব্দটি ‘রাম্দ’ ধাতু থেকে উৎপন্ন। এর অর্থ হচ্ছে জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে ছারখার করে দেওয়া। এভাবে ধ্বংস না হলে কিন্তু ওইসব বিষাক্ত পদার্থ শরীরে রক্তচাপ, অন্ত্র ও পেটের পীড়াসহ বিভিন্ন রোগব্যাধির জন্ম দিতে থাকত, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকিস্বরূপ। এ ছাড়া উপবাস কিডনি ও লিভারের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং শরীরে নতুন জীবনীশক্তি সৃষ্টি করে রোজাদারের মনে সজিব অনুভূতি এনে দেয়। সিয়াম সাধনায় দেহের পরিপাকযন্ত্র এক প্রকার পরিশুদ্ধি লাভের অবকাশ পায়। ফলে দেহের অপ্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্যের সারাংশ ও সঞ্চিত বিষাক্ত রস নিঃশেষ হয়ে যায়। দেহের বাড়তি ওজন, রস ও চর্বি ইত্যাদি হ্রাস পায়। পাকস্থলী-সংক্রান্ত রোগসমূহ যেমন—ক্ষুধামান্দ্য, পেট ফাঁপা, টক ঢেঁকুর, লিভারের দুর্বলতা, বমি বমি ভাব সিয়াম সাধনার ফলে স্বাভাবিকভাবেই উপশম হওয়ার সুযোগ পায়।
গৃহীত খাদ্যদ্রব্যের শতকরা ২৫ ভাগ বা এর অধিক অংশই অপ্রয়োজনীয়। দেহযন্ত্রে খাদ্যদ্রব্যের মাধ্যমে টকসিন নামক এক প্রকার রসজাতীয় বিষ সঞ্চিত হয়ে থাকে। বাড়তি খাদ্যদ্রব্যাদি ক্ষেত্রবিশেষে স্বাস্থ্য রক্ষায় বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। একনাগাড়ে কিছুদিন রোজার মাধ্যমে পরিপাকযন্ত্রকে খালি রাখলে দেহের ভেতর সঞ্চিত বিষাক্ত রস নিঃশেষ হয়ে যায় এবং উত্তম রস দেহের মধ্যে কোনো প্রকার ক্ষতি সাধনের অবকাশ রাখে না। এ জন্য দেহের ভেতর সঞ্চিত হরেক রকম বিষাক্ত উপাদান অতি সহজে ও দ্রুতগতিতে দূর করার মোক্ষম উপায় হলো রোজা। পরিমিত পানাহার সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আর তোমরা আহার করবে ও পান করবে, কিন্তু অপচয় করবে না; নিশ্চয়ই তিনি অপচয়কারীদের ভালোবাসেন না।’ (সূরা আল-আরাফ, আয়াত-৩১)
রোজা মানব স্ব্বাস্থ্যের বিরাট উপকার সাধন করে। সারা বছর অনিয়মিত বা অতিরিক্ত পানাহার বা অধিক চর্বিযুক্ত খাদ্য খেয়ে রক্তে যখন প্রচুর কোলেস্টেরল জমে প্রেসার বা অন্য যেকোনো হূৎপীড়া হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয় তখন রোজার উপবাস রক্তের কোলেস্টেরল ও হূৎপীড়ার আশঙ্কামুক্ত করে। অতিভোজনের অত্যাচারে পাকস্থ্থলী যখন হতোদ্যম ও দুর্বল হয়ে পড়ে তখন এক মাসের দিবাভাগের রোজা পাকস্থলীকে সবল করে নতুন জীবন দান করে, ফলে রক্ত ও রক্তনালিগুলো পরিষ্কার হয়ে যায়। রোজা শুরুর কিছুদিনের মধ্যে রোজাদার নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করে নিতে পারেন। কারণ ক্ষুধার চিরাচরিত অভ্যাস রোজা শুরুর প্রথম কয়েক দিনই একটু যন্ত্রণা দেয় মাত্র। পরে এটাও অভ্যাসের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়। এরপর সিয়াম সাধনা বা রোজা অনুশীলনকারী ব্যক্তি প্রতিদিনই মানসিকভাবে নিজেকে প্রাণময়, চঞ্চল ও উৎফুল্ল মনে করে। জীবন-চাঞ্চল্যের নবতর প্রবাহ শরীরে জীবনতরঙ্গের সৃষ্টি করে।
রোজার উপবাসের মাধ্যমে লিভার রক্ত সঞ্চালন দ্রুত হয় ফলে ত্বকের নিচে সঞ্চিত চর্বি, পেশির প্রোটিন, গ্রন্থিসমূহ এবং লিভারে কোষসমূহ আন্দোলিত হয়। অভ্যন্তরীণ দেহ যন্ত্রগুলোর সংরক্ষণ এবং হূৎপিণ্ডের নিরাপত্তার জন্য অন্য দেহাংশগুলোর বিক্রিয়া বন্ধ রাখে। খাদ্যাভাব বা আরাম-আয়েশের জন্য মানুষের শরীরের যে ক্ষতি হয়, রোজা তা পূরণ করে দেয়। এ ছাড়া মানুষের শরীরে রোগ নিরাময়ের ক্ষেত্রেও রোজা অনেক উপকার সাধন করে। তাই বর্তমানে অনেক দুরারোগ্য রোগ-ব্যাধি যেমন—হূদরোগ, চর্মরোগ, বাত, কোষ্ঠকাঠিন্য, স্থূলকায় রোগী, জ্বর, শ্বাসকষ্ট রোগ ইত্যাদি নিরাময়ে রোজা রাখার উপদেশ দেওয়া হচ্ছে। রোজা এসব রোগের কষ্ট দূর করে। এটি অতি স্বাভাবিক ও অত্যন্ত কার্যকর পন্থায় দেহের অভ্যন্তরে বিধৌত ও পরিচ্ছন্ন হয়। তাই আধ্যাত্মিক সুফি সাধকদের মতে, হূদয়ের স্বচ্ছতা হাসিলে স্বল্প খাদ্যগ্রহণের ব্যাপক ভূমিকা রয়েছে।
মাহে রমজান এলে অনেকে চিন্তিত হয়ে পড়েন এই ভেবে যে রোজা রাখলে নাকি শরীর-স্বাস্থ্য নষ্ট হয়ে যায়, কিন্তু রোজায় কারও স্বাস্থ্য বিনষ্ট হয়ে গেছে বা ক্ষুধা-তৃষ্ণায় কাতর হয়ে কোনো রোজাদারের মৃত্যু হয়েছে, এমন ঘটনা ঘটেনি। রমজান মাসের পরে দেখা যায় যে যার যেমন স্বাস্থ্য ঠিক তেমন আছে। রোজা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর নয়, বরং মঙ্গলজনকই বটে। তবে স্বাস্থ্য সুরক্ষায় খাবার হতে হবে পুষ্টিকর ও পরিমিত। রোজার সময় মানুষের শরীরের বিপাকক্রিয়া বছরের অন্যান্য সময়ের চেয়ে কিছুটা পরিবর্তিত নয় বলে সহজ পাচ্য অর্থাৎ সহজে হজম হয় এ জাতীয় খাবার গ্রহণ করা উচিত। রোজা একই সঙ্গে দেহে রোগ প্রতিষেধক ও প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে। রোজা পালনের ফলে দেহে রোগ-জীবাণুবর্ধক ও জীর্ণ জীবাণুগুলো ধ্বংস হয়। রোজাদারের শরীরে পানির পরিমাণ হ্রাস পাওয়ার দরুণ চর্মরোগ বৃদ্ধি পায় না। রোজার সামগ্রিক প্রভাব মানবস্বাস্থ্যের ওপর ধীরভাবে প্রতিফলিত হয়ে থাকে এবং রোজার মাধ্যমে শরীরের বিশেষ বিশেষ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলো যথেষ্ট শক্তিশালী হয়ে ওঠে।
সূর্যাস্তের পর রাত্রি শুরুর প্রাক্কালে গোধূলিলগ্নে রোজা শেষ করার মধ্যে মানসিক, আধ্যাত্মিক এমনকি শারীরিক নিগূঢ় রহস্য ও তাৎপর্য রয়েছে। সেহির থেকে ইফতার পর্যন্ত বেশ অনেকটা সময় পরে খাদ্য গ্রহণে সতর্ক থাকলে শারীরিকভাবে সুস্থ থেকে রোজা পালন সম্ভব। রোজার মাসে খাবার সাধারণত তিনবার খাওয়া হয়—ইফতার, কিছুক্ষণ পরে সন্ধ্যা রাতের খাবার এবং সেহির। স্বাস্থ্য খাবারের ওপর নির্ভরশীল, খাদ্য গ্রহণের সময়ে পরিবর্তনের দরুন স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে, তাই রমজান মাসে স্বাস্থ্য সুরক্ষায় খাদ্য গ্রহণের ব্যাপারে সচেতন হওয়া উচিত। প্রকৃতপক্ষে রোজা কোনো কোনো ক্ষেত্রে সুস্বাস্থ্যের সহায়ক। ডায়াবেটিস, পেপটিক আলসার, উচ্চ রক্তচাপ ও অন্যান্য রোগে আক্রান্ত রোগীরা নিয়মিত ওষুধ সেবন করে রোজা রাখতে পারেন। দেহ সুস্থ থাকলে মন ভালো থাকে, মন ভালো থাকলে ইচ্ছামাফিক আল্লাহর ইবাদত করতে পারবেন। সুতরাং স্বাস্থ্য সচেতন হয়ে ও পরিমিত পুষ্টিকর খাদ্যগ্রহণ করে রমজান মাসে রোজাদারদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা করা মোটেই কঠিন ব্যাপার নয়।
ড. মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান: সহকারী অধ্যাপক, ইসলামিক একাডেমি, দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়। পরিচালক, ইনস্টিটিউট অব হজরত মুহাম্মদ (সা.)।

লেবাননে সামরিক সহায়তা দিতে প্রস্তুত ইরান: প্রতিরক্ষামন্ত্রী

ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আহমাদ বাহিদি বলেছেন, লেবাননে সামরিক সহায়তা দিতে প্রস্তুত ইরান। গতকাল বুধবার তেহরানে মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। এর আগে লেবাননের গেরিলা সংগঠনের পক্ষ থেকে ইরানের প্রতি এ ধরনের সহায়তার আহ্বান জানানো হয়।
আহমাদ বাহিদি বলেন, লেবানন যেমন তাঁদের বন্ধু, তেমনি দেশটির সেনাবাহিনীও তাঁদের বন্ধু। তাঁরা লেবাননের সেনাবাহিনীকে সহায়তা করতে প্রস্তুত। এখন শুধু প্রয়োজন লেবানন সরকারের আনুষ্ঠানিক অনুরোধ।
ইরানের প্রস্তাবের ব্যাপারে লেবানন অবশ্য আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো কিছু বলেনি। তবে দেশটির সেনাবাহিনী বর্তমানে সামরিক সরঞ্জামের সংকটে আছে। সেনাবাহিনীর জন্য অস্ত্র কিনতে লেবাননের সরকার এরই মধ্যে দেশবাসীর সহায়তা চেয়েছে।

লন্ডনে ফ্ল্যাট থেকে ব্রিটিশ গোয়েন্দার লাশ উদ্ধার

লন্ডনের একটি আবাসিক ভবনের ফ্ল্যাট থেকে গত সোমবার একজন ব্রিটিশ গোয়েন্দার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত ব্যক্তি ব্রিটেনের গোয়েন্দা সংস্থা এমআই সিক্সের হয়ে কাজ করতেন। এমআই সিক্সের সদর দপ্তরের কাছে ওই আবাসিক ভবনের অবস্থান। ফ্ল্যাটের স্নানাগারে একটি ব্যাগে মৃতদেহটি রাখা ছিল। ঘটনাস্থল থেকে মুঠোফোন ও কয়েকটি সিম উদ্ধার করা হয়।
জানা গেছে, মৃত ব্যক্তি ব্রিটিশ সরকারের গোয়েন্দা তথ্য সংস্থা জিসিএইচকিউর হয়ে কাজ করতেন। তাঁকে এমআই সিক্সে পাঠানো হয়েছিল। তাঁর বয়স ত্রিশের কোঠায়। প্রতিবেশীরা জানান, ওই ব্যক্তির নামের প্রথম অংশ গ্যারেথ। তিনি ওয়েলস টানে ইংরেজি বলতেন।
পুলিশের ধারণা, ওই ব্রিটিশ গোয়েন্দাকে দুই সপ্তাহ আগে হত্যা করা হয়। সন্ত্রাসী হামলা নয়, বরং ব্যক্তিগত কারণে হয়তো তাঁকে হত্যা করা হয়েছে। লরা হটন নামের এক প্রতিবেশী ওই ব্যক্তিকে খুব বন্ধুবৎসল হিসেবে অভিহিত করেন।

মেক্সিকোর খামার থেকে ৭২টি মৃতদেহ উদ্ধার

মেক্সিকোর উত্তরাঞ্চলে একটি খামার থেকে ৭২টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল বুধবার ভোরে মেক্সিকোর সামরিক বাহিনী এ কথা জানায়। একটি মাদক পাচারকারী চক্রের সঙ্গে নৌবাহিনীর সদস্যদের বন্দুকযুদ্ধের পর সেনারা এই মৃতদেহগুলোর সন্ধান পায়।
নৌবাহিনী সূত্র জানিয়েছে, তামাউলিপাস প্রদেশের সান ফারনান্দো শহরের কাছে সংঘটিত ওই বন্দুকযুদ্ধে এক সেনাসদস্য ও তিনজন বন্দুকধারী নিহত হয়েছে। ওই বন্দুকযুদ্ধে আহত এক ব্যক্তি নিকটস্থ নৌবাহিনীর একটি তল্লাশি-চৌকিতে খবর দেন, খামারে তাঁর ওপর হামলা করেছে মাদক পাচারকারীরা। ওই খবরের ওপর ভিত্তি করে নৌসেনারা খামারে অভিযান চালায়। অভিযানে বিমান বাহিনীর সাহায্য নেওয়া হয়। সেনারা এক অপ্রাপ্ত বয়স্ক ছেলেকে আটক করেছে।
অভিযানে উদ্ধার করা ৭২টি মৃতদেহের মধ্যে ৫৮টি মৃতদেহ পুরুষের, ১৪টি নারীর। এ সময় সেখান থেকে ২১টি রাইফেল, প্রায় ছয় হাজার ৬০০টি গুলি এবং চারটি ট্রাক উদ্ধার করা হয়। গত চার বছরে মেক্সিকোতে মাদক পাচারসংশ্লিষ্ট সহিংসতায় ২৮ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। তামাউলিপাস মেক্সিকোর অন্যতম সহিংসতাপূর্ণ প্রদেশ।
নৌবাহিনীর এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর বর্বরোচিত কাজের নিন্দা জানাচ্ছে সরকার। সমাজের প্রত্যেকের উচিত, এ ধরনের কাজের নিন্দা জানানো। এই ঘটনা অপরাধীদের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অপরিহার্যতা নিশ্চিত করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে মেক্সিকোতে এ ধরনের গণকবরের সন্ধান পাওয়ার হার বেড়ে গেছে।

লেবাননের প্রতি পরমাণু চুল্লি তৈরির আহ্বান হাসান নাসরুল্লাহর

লেবাননভিত্তিক গেরিলা সংগঠন হিজবুল্লাহর প্রধান হাসান নাসরুল্লাহ ইরানের পদাঙ্ক অনুসরণ করে পারমাণবিক জ্বালানি চুল্লি তৈরির আহ্বান জানিয়েছেন সরকারের প্রতি।
হাসান নাসরুল্লাহ বলেন, লেবানন বিদ্যুৎ খাতে যে টাকা বিনিয়োগ করছে, এর চেয়ে কম খরচে ইরান বুশেহর শহরে ওই পারমাণবিক চুল্লি তৈরি করেছে। তিনি বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ইরানের মতো পারমাণবিক চুল্লি নির্মাণে লেবানন সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এতে লেবানন প্রতিবেশী দেশ সিরিয়া, সাইপ্রাসসহ অন্য দেশগুলোতে জ্বালানি বিক্রি করতে পারবে।
লেবাননে ইরানের রাষ্ট্রদূত গাদানফার রোকেন আবাদি গত মঙ্গলবার জানান, রমজানের পর ইরানের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ লেবানন সফরে আসবেন।

জন্মস্থানের নামের সঙ্গে মিলিয়ে মেয়ের নাম রাখলেন ক্যামেরন

যে অঞ্চলে জন্ম নিয়েছে, সেই অঞ্চলের নামের সঙ্গে মিলিয়েই মেয়ের নাম রেখেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন ও তাঁর স্ত্রী সামান্থা। মেয়ের নাম রাখা হয়েছে ফ্লোরেন্স রোজ এনডেলিওন। গতকাল বুধবার ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এ কথা জানানো হয়।
গত মঙ্গলবার ইংল্যান্ডের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় কর্নওয়াল কাউন্টির সেন্ট এনডেলিয়ন গ্রামের কাছে ক্যামেরন দম্পতির মেয়ে জন্ম নেয়। এই গ্রামের নামের সঙ্গে মিলিয়ে মেয়ের নাম রাখেন ক্যামেরন দম্পতি। দুই সপ্তাহের পারিবারিক ছুটি কাটাতে সেখানে বেড়াতে গিয়ে এই সন্তানের জন্ম দেন সামান্থা। সেন্ট এনডেলিয়ন গ্রামের নামকরণ করা হয় একজন সন্ন্যাসিনী সেন্ট এনডেলিয়েন্টার নামানুসারে।
৪৩ বছর বয়সী ডেভিড ক্যামেরন বলেন, তাঁর জীবনে অনিন্দ্যসুন্দর এই মেয়েটির জন্মগ্রহণ অত্যন্ত আনন্দের একটি ঘটনা।
ক্যামেরন দম্পতির ন্যান্সি (৬) ও আর্থার (৪) নামের আরও দুটি সন্তান রয়েছে। তাঁদের প্রথম সন্তান ইভান গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ছয় বছর বয়সে মারা যায়। সে সেরিব্রাল পালসিতে ভুগছিল।

রুশ নিরাপত্তাকর্মীদের গুলিতে নিহত ৫

রাশিয়ার নিরাপত্তা বাহিনী সন্দেহভাজন পাঁচজন বিচ্ছিন্নতাবাদী জঙ্গিকে গুলি করে হত্যা করেছে। বিক্ষুব্ধ উত্তর ককেশাসের দাগেস্তানে তাদের হত্যা করা হয়। রুশ কর্মকর্তারা গতকাল বুধবার এ কথা জানিয়েছেন।
কর্মকর্তারা জানান, তল্লাশির জন্য পুলিশ বিচ্ছিন্নতাবাদী জঙ্গিদের একটি গাড়ি থামানোর চেষ্টা করলে তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি করে। পুলিশ পাল্টা গুলি করলে জঙ্গিরা সবাই নিহত হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে বলা হয়েছে, নিহত জঙ্গিরা অবৈধ অস্ত্রব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিল। তাদের গাড়ি তল্লাশি করে তিনটি স্বয়ংক্রিয় রাইফেল ও গোলাবারুদ পাওয়া গেছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, নিহত পাঁচজনের বয়স ২০ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে। দাগেস্তান ও প্রতিবেশী চেচনিয়ার বিদ্রোহীরা রাশিয়ার কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভের জন্য দীর্ঘদিন ধরে লড়াই করে আসছে।

বিদেশ থেকে পরমাণু প্রযুক্তি কিনতে পারবে ভারত

ভারতীয় পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ গতকাল বুধবার সে দেশের বহুল আলোচিত পরমাণু বিলটি অনুমোদন করেছে। এ বিল অনুমোদনের মধ্য দিয়ে বিদেশি বেসরকারি পরমাণু প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ভারতের দেড় হাজার কোটি বিলিয়ন মার্কিন ডলারের আণবিক শক্তি বাজারে ঢোকার সুযোগ সৃষ্টি হলো।
২০০৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের ঐতিহাসিক পরমাণু চুক্তির একটি অংশ হচ্ছে এ পরমাণু বিল। বিলটি নিয়ে ক্ষমতাসীন দল কংগ্রেস ও বিরোধী দল বিজেপির মধ্যে দীর্ঘদিন বিরোধ চলে আসছিল। পার্লামেন্টে দীর্ঘ বিতর্কের পর সাংসদদের কণ্ঠভোটের মাধ্যমে বিলটি অনুমোদিত হয়েছে।
বিলটি অনুমোদনের পর প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে বলেছেন, এ বিল অনুমোদনের ফলে তিন দশকের বিতর্কের অবসান হয়েছে। বিলটি ঝুলে থাকায় ভারত বিদেশ থেকে পরমাণু চুল্লি ও জ্বালানি কিনতে পারেনি। ভারত এখন তার পরমাণু উন্নয়ন কর্মসূচির আরও বিস্তৃতির জন্য অন্য আগ্রহী দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্যে অংশ নিতে পারবে।
বিলটি এখন পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষে পাঠানো হবে। সেখানে বিলটি অনায়াসে পাস হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর পর রাষ্ট্রপতি সই করলে বিলটি আইনে পরিণত হবে।
১৯৭৪ সাল থেকে বিদেশ হতে ভারতের পরমাণু প্রযুক্তি ও জ্বালানি কেনা বন্ধ রয়েছে। নিজেদের পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচি ও পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ চুক্তিতে (এনপিটি) স্বাক্ষর না করায় এ জটিলতার সৃষ্টি হয়েছিল। কিন্তু এ জটিলতার অবসান হয় দুই বছর আগে, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং ঐতিহাসিক সেই পরমাণু চুক্তি স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে। এ চুক্তির ফলে বিদেশ থেকে বেসামরিক পরমাণু প্রযুক্তি আমদানির বিশেষ অধিকার পায় ভারত।
অনুমোদনের আগে বিলটিতে একটি সংশোধনী আনা হয়েছে। আগে বিলের আলোচ্য ধারায় বলা হয়েছিল, বিদেশি কোনো কোম্পানি তখনই ক্ষতিপূরণ দেবে যদি ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি ‘ইচ্ছাকৃত’ বলে প্রমাণিত হয়। দুর্ঘটনা ইচ্ছাকৃত কি না, তা প্রমাণ করা দুঃসাধ্য বলে এ বিলের বিরোধিতা করেছিল বিরোধী দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। কিন্তু কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন জোট সরকার এ ধারাটি পরিবর্তন করায় তাতে সমর্থন জানিয়েছে বিজেপি। সংশোধিত ধারায় ‘ইচ্ছাকৃত’ প্রত্যয়টি বাদ দেওয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে বিজেপির একজন জ্যেষ্ঠ নেতা বলেছেন, ‘আমরা খুবই সন্তুষ্ট, সরকার বিজেপির দেওয়া পরামর্শ বিলে সংযোজন করেছে।’

সিআইএর আরও নথি প্রকাশ করছে উইকিলিকস

আফগানিস্তান যুদ্ধসংক্রান্ত মার্কিন নথিপত্র প্রকাশকারী প্রতিষ্ঠান উইকিলিকস তার ওয়েবসাইটে সিআইএর আরও কিছু গোপন নথি প্রকাশ করার ঘোষণা দিয়েছে। গতকাল বুধবারই ওই সাইটে নথিগুলো প্রকাশ করার কথা। গত মঙ্গলবার উইকিলিকসের ওয়েবসাইটে বলা হয়, ‘উইকিলিকস আগামীকাল (বুধবার) সিআইএর কাগজপত্র প্রকাশ করতে যাচ্ছে।’
উইকিলিসকের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসেঞ্জ তাঁর বিরুদ্ধে আনীত ধর্ষণের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। অ্যাসেঞ্জের অভিযোগ, তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অংশ হিসেবে পেন্টাগনের উসকানিতে এই অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে পেন্টাগনের কর্মকর্তারা অ্যাসেঞ্জের অভিযোগকে ‘হাস্যকর’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। সম্প্রতি সুইডেনের দুই নারী অ্যাসেঞ্জের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ আনেন।
সম্প্রতি উইকিলিকসে আফগান যুদ্ধসংক্রান্ত কয়েক হাজার গোপন নথিপত্র প্রকাশ করা হয়। এর আগে প্রকাশিত সব নথিপত্র ফেরত দেওয়ার জন্য উইকিলিকসের প্রতি আহ্বান জানায় পেন্টাগন।

অস্ট্রেলিয়ায় তিন ‘কিং মেকার’ স্বতন্ত্র ঐক্যের ডাক দিলেন

অস্ট্রেলিয়ার সাধারণ নির্বাচনে বিজয়ী স্বতন্ত্র তিনজন আইনপ্রণেতা গতকাল বুধবার ‘ঐকমত্যের রাজনীতির নতুন যুগের’ আহ্বান জানিয়েছেন।
গত শনিবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে কোনো দলই সরকার গঠনের মতো প্রয়োজনীয় আসন না পাওয়ায় এই স্বতন্ত্র বিজয়ীরা ‘কিং মেকার’ হয়ে উঠেছেন। প্রধানমন্ত্রী জুলিয়া গিলার্ড ভোটের দিনই বলেছিলেন, সরকার গঠনে স্বতন্ত্র এমপিরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।
তিন স্বতন্ত্র বিজয়ী হলেন টনি উইন্ডসর, রব ওকেশট ও বব ক্যাটার। আরও একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী জিততে চলেছেন।
প্রধানমন্ত্রী জুলিয়া গিলার্ড ও বিরোধী নেতা টনি অ্যাবটের সঙ্গে আলোচনার আগে উচ্চাকাঙ্ক্ষী পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছেন ওই তিন প্রার্থী।
টনি উইন্ডসর ক্যানবেরা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘আমরা অস্ট্রেলিয়ায় সম্ভবত ওয়েস্টমিনস্টার পদ্ধতির অন্যতম খারাপ নজির সৃষ্টি করেছি, যা খুবই সংঘাতমূলক হয়ে উঠেছে।’
এ তিন এমপি ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, দুই পক্ষকে মুখোমুখি দাঁড় করানোর যে প্রথা চালু হয়েছে, তা দুই কুকুরের ঘেউ ঘেউয়ের মতো।
এমপি ক্যাটার বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়ার জনগণ রায় দিয়েছে। তাদের রায় হচ্ছে অন্যদেরও কথা বলার অধিকার আছে। কোলস-উলওয়ার্থ গণতন্ত্রের দিন শেষ।’
কোলস আর উলওয়ার্থ হচ্ছে অস্ট্রেলিয়ায় একচেটিয়া ব্যবসা করা দুই প্রধান সুপারমার্কেট চেইন।
অস্ট্রেলিয়ায় কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী গিলার্ডের লেবার পার্টি কিংবা অ্যাবটের লিবারেল-ন্যাশনাল জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে ব্যর্থ হয়। ৭৯ দশমিক ৮ শতাংশ ভোট গণনা শেষে লেবার পার্টি ও প্রতিপক্ষ জোট উভয়ে ৭১টি করে আসন পেয়েছে।

সেনা প্রত্যাহারের সময়সীমা জঙ্গিদের উৎসাহিত করছে

যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় একজন সেনা কর্মকর্তা সতর্ক করে বলেছেন, প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের সময়সীমা বেঁধে দেওয়ায় তালেবান জঙ্গিরা উৎসাহিত হচ্ছে। মার্কিন মেরিন কোরের জেনারেল জেমস কনওয়ে আরও বলেন, ‘সময়সীমা বেঁধে দেওয়ায় আমাদের শত্রুরা চাঙ্গা হয়ে উঠছে।’ আফগানিস্তানের দক্ষিণাঞ্চলে মার্কিন সেনাদের আরও কয়েক বছর থাকতে হবে বলেও তিনি মত দেন।
জেনারেল কনওয়ের এই মন্তব্য আফগানিস্তানে মার্কিন নীতি এবং ২০১১ সালের জুলাইয়ের মধ্যে দেশটি থেকে মার্কিন সেনা ফিরিয়ে নেওয়া-সংক্রান্ত ওবামার ঘোষণা নিয়ে বিতর্ককে আরও উসেক দিতে পারে।
এ ব্যাপারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা বলেছেন, জেনারেল কনওয়ের মন্তব্যে তাঁরা অবাক হননি। কনওয়েকে স্থূলবুদ্ধির মেরিন কর্মকর্তা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ ছাড়া তাঁর অবসরে যাওয়ারও সময় হয়েছে।
সম্প্রতি আফগানিস্তান থেকে ফিরে পেন্টাগনে এক সংবাদ সম্মেলনে জেনারেল কনওয়ে বলেন, ‘আমরা মনে করছি, কোনো না কোনোভাবে শত্রুরা শক্তি অর্জন করছে। আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহারের মতো পরিবেশ তৈরি হতে আরও কয়েক বছর সময় লাগবে।’ তিনি বলেন, আফগান বাহিনী অন্য অঞ্চলের নিরাপত্তার নেতৃত্ব গ্রহণ করতে পারলেও দক্ষিণাঞ্চলে পারবে না। ওই অঞ্চলকে তিনি তালেবান জঙ্গিদের ঘাঁটি বলে উল্লেখ করেন।
হোয়াইট হাউস গত মঙ্গলবার জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ওবামা আগামী ডিসেম্বর মাসে আফগান যুদ্ধ পরিকল্পনা পর্যালোচনা করবেন।
তিন স্প্যানিশ নিহত: আফগানিস্তানে স্পেনের দুজন পুলিশ কর্মকর্তা ও একজন দোভাষী নিহত হয়েছেন। স্পেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলফ্রিদো পেরেজ রুবালকাবা গতকাল বুধবার এ কথা জানিয়েছেন।
ক্যাডেনা সের রেডিওতে দেওয়া বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় বাদগিস প্রদেশে প্রশিক্ষণের সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে দুজন পুলিশ কর্মকর্তার নিহত হওয়ার কথা জানান।

শীর্ষ বাছাই ওজনিয়াকি-নাদাল

২০০৯ সালের ইউএস ওপেনের ফাইনাল। সেরেনা, ভেনাস, সাফিনা, শারাপোভাদের ছিটকে দিয়ে মুখোমুখি অবসর ভেঙে ফেরা কিম ক্লাইস্টার্স আর ক্যারোলিন ওজনিয়াকি। বছর ঘুরে আবার যখন ইউএস ওপেনের মঞ্চ প্রস্তুত, আলোচনায় সেই দুজন। এবারের ইউএস ওপেনের শীর্ষ বাছাই ডেনমার্কের ওজনিয়াকি। আর গতবারের চ্যাম্পিয়ন ক্লাইস্টার্স দ্বিতীয় বাছাই। এক নম্বর সেরেনা উইলিয়ামস চোটের কারণে সরে দাঁড়ানোর ফলেই ওজনিয়াকি শীর্ষ বাছাই।
দুজনকে টেনে আনছে আরও একটি দিক। ২০০৩ সালে ইতিহাসের প্রথম মহিলা তারকা হিসেবে কোনো গ্র্যান্ড স্লাম না জিতেই র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে উঠেছিলেন ক্লাইস্টার্স। ফলে তিনি কোনো গ্র্যান্ড স্লাম শিরোপা না জেতা তারকা হিসেবে ইউএস ওপেনে খেলেছিলেন শীর্ষ বাছাই হিসেবে। সাত বছর পর এবার আবার এমন একজন তারকা নামছেন শীর্ষ বাছাই হয়ে, যাঁর কাছে গ্র্যান্ড স্লাম এখনো অধরা। দুবারের ইউএস ওপেন চ্যাম্পিয়ন ভেনাস তৃতীয়, ইয়েলেনা জাঙ্কোভিচ চতুর্থ, অস্ট্রেলিয়ার সামান্থা স্টোসুর থাকছেন পঞ্চম বাছাই।
পুরুষ এককে এমন ব্যতিক্রমী কিছু নেই। নাদাল এক, ফেদেরার নামবেন দ্বিতীয় বাছাই হিসেবে। টুর্নামেন্টের ড্র আজ।

ক্লার্কের চোখ পন্টিংয়ের দিকে

রোমাঞ্চ নিয়ে রিকি পন্টিং তাকিয়ে আছেন সামনের দিকে। অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়কের ধারণা, এই সময়ের মধ্যে ‘বিশেষ কিছু’ উপহার দিতে চলেছে তাঁর দল। এরই মধ্যে পন্টিংয়ের ডেপুটি মাইকেল ক্লার্ক জানিয়ে দিলেন, তাঁরা তাকিয়ে আছেন পন্টিংয়ের দিকে। এবং তাঁদের ধারণা, অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটের সামনের এই গুরুত্বপূর্ণ দিনগুলোয় ‘বিশেষ কিছু’ উপহার দিতে চলেছেন পন্টিং।
‘নেতা হিসেবে ও তো অসাধারণ, এতগুলো বছর ধরে টানা দুর্দান্ত খেলেও আসছে। বড় টুর্নামেন্টগুলোতেই সাধারণত সে তার সেরাটা খেলে। আমি জানি, সামনের আট মাসের জন্য ও নিজেও দারুণ রোমাঞ্চিত’—কদিন আগে করা পন্টিংয়ের মন্তব্যই যেন এবার প্রতিধ্বনিত হলো ক্লার্কের কণ্ঠে।
কী আছে এই ‘আট মাসে’, যার কথা পন্টিং-ক্লার্ক সবাই কোরাস তুলে বলছেন? অক্টোবরে ভারতের বিপক্ষে দুই টেস্ট ও তিন ওয়ানডের সিরিজ। এরপর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি ও ওয়ানডে সিরিজ। নভেম্বরে শুরু অ্যাশেজের ৫ টেস্ট। এরপর ইংল্যান্ডের বিপক্ষেই ৭ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ। ফেব্রুয়ারিতে শুরু দশম বিশ্বকাপ। ব্যস্ত সে সময়টাকে পন্টিং তাঁর ক্যারিয়ারের সবচেয়ে আকর্ষক অংশ বলে মানছেন।
এই সময়টা পন্টিংয়ের জন্য বড় পরীক্ষারও। এটাই ঠিক করে দেবে, ২০১৩ অ্যাশেজ পর্যন্ত দলকে নেতৃত্ব দিয়ে এরপর অবসর নেওয়া যে পরিকল্পনা পন্টিং করেছেন, সেটি পূর্ণ হবে কি না। টেস্ট-ওয়ানডে মিলে গত ১৪টি ইনিংসে যে মাত্র দুটি ফিফটি দেখেছে তাঁর ব্যাট! সর্বশেষ চারটি টেস্ট সিরিজের তিনটিতেই তাঁর ব্যাটিং-গড় একেবারেই পন্টিং-সুলভ নয় (ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৩৪, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ২৩ এবং পাকিস্তানের বিপক্ষে ২৪.৫০)। এই সময়টাতেই শর্ট বলে পন্টিংয়ের প্রাণভোমরাকে খুঁজে বের করেছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের কেমার রোচ।
ফর্ম খারাপ—এই সরল উপসংহারে পন্টিং যেতে রাজি নন। তবে মানছেন, এই সময়টাই ভাগ্য পাশে ছিল না তাঁর, ‘এই সময়টায় সম্ভবত তিনবার রানআউট হয়েছি, তিনবার ব্যাট-প্যাড হয়ে ক্যাচ দিয়ে আউট হয়েছি। তবে আমি কিন্তু আগের মতোই কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছি। আমার ব্যাটিং-গড় এখনো ৫৪। আমি সেটা ওপরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছি, সেই পর্যায়ে, যেটা আমার পক্ষে করা সম্ভব। এটাই এখন আমার জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।’
কঠিন চ্যালেঞ্জ সামনের এই ব্যস্ত সময়টায় দলের নেতৃত্বের পাশাপাশি ফর্মের মরচে কাটিয়ে ওঠাও। তবে এই জায়গায় পন্টিং আশ্বস্ত হতে পারেন। তাঁর ভার বয়ে নিতে কাঁধ পেতে দিচ্ছেন ক্লার্ক, ‘আমি ওকে (পন্টিংকে) পরিষ্কার করেই বলেছি, ওর সেবায় আমি সপ্তাহের সাত দিন, দিনের ২৪ ঘণ্টাই প্রস্তুত আছি।’

লর্ডসেই ফিরে এল পাকিস্তান

লর্ডসেই শুরু হয়েছিল। টেস্ট ক্রিকেটে অতিথি পাখি হয়ে ওঠা পাকিস্তান তাদের ইংল্যান্ড সফরে সাদা পোশাকের শেষ লড়াইয়ের জন্য ফিরে এল সেই লর্ডসেই। এর মধ্যে চরিত্র অনুযায়ী পাকিস্তান এক ম্যাচে ভরাডুবির পর পরের ম্যাচে দুর্দান্ত জয় পেয়েছে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে। এরপর ইংল্যান্ডের বিপক্ষেও দুটি লজ্জাবনত পরাজয়ের পর ওভালে স্নায়ুক্ষয়ী ৪ উইকেটের জয়। ফলে আজ ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের শেষ ম্যাচ হয়ে উঠল সিরিজ নির্ধারণী। একতরফা থেকে রূপ বদলে এভাবে শেষ ম্যাচ পর্যন্ত সিরিজ মীমাংসার জন্য অপেক্ষা করতে হবে—কে জানত!
জানা উচিত ছিল। কারণ দলটার নাম পাকিস্তান। যে দলটি তাদের দেশের রাজনীতির চেয়েও অনেক বেশি অস্থিতিশীল। ৩৫৪ রান আর ৯ উইকেটের দুটি বিশাল জয় দিয়ে শুরু করেছিল যে ইংল্যান্ড, সেই তারাই আজ মাঠে নামার আগে জোর দিয়ে বলতে পারছে না, ‘আমরা জিতব’। বরং কোচ অ্যান্ডি ফ্লাওয়ার জয়ের আগে বেঁধে দিলেন বেশ কিছু শর্ত। তার প্রথমটা অবশ্যই গত ওভাল টেস্টে মতো ব্যাটিং না করা। ‘এত ভালো কন্ডিশনে ২৩০ আর ২২০ রান করে টেস্ট জেতার আশা করা যায় না’—ইংল্যান্ড কোচের সাফ জবাব।
এই সিরিজের পরই ‘মহান’ অ্যাশেজ। এ বছর টানা ছয়টি টেস্ট জিতেছিল বলে এবার অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে অ্যাশেজ জিতে আসার স্বপ্ন বুনেছিল ইংল্যান্ড। কিন্তু ওভাল টেস্টটা মনে হচ্ছে বাস্তবতার মাটিতে নামিয়ে এনেছে অ্যান্ড্রু স্ট্রাউসের দলকে। লর্ডস টেস্টটা তাই হয়ে যাচ্ছে ইংল্যান্ডের যোগ্যতা পরিমাপের শেষ মঞ্চ—আদৌ পন্টিংদের ডেরায় গিয়ে দাঁত বসানোর শক্তি স্ট্রাউসদের আছে কি না।
সিরিজের ফলাফল অনুযায়ী ইংল্যান্ড অবশ্যই সুবিধাজনক অবস্থানে। ২-১-এ এগিয়ে থাকায় লর্ডস টেস্ট ড্র হলেও সিরিজ জিতবে তারাই। কিন্তু শেষ ম্যাচ জিতে সিরিজে সমতা ফেরানোর দৃষ্টান্ত তো পাকিস্তান গড়ে দেখিয়েছে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আগের সিরিজেই।
ইংল্যান্ডের দুশ্চিন্তা তাই থেকেই যাচ্ছে। তাদের সবচেয়ে বেশি দুশ্চিন্তা ব্যাটসম্যানদের নিয়ে। এই সিরিজেই ইংলিশদের ব্যাটিং লাইনআপের ভঙ্গুরতা দেখা গেছে তিনটি টেস্টেই। ট্রেন্ট ব্রিজ টেস্টের প্রথম ইনিংসে ১৭ রানে পড়ে গিয়েছিল শেষ ৬ উইকেট, এজবাস্টনে ৮ রানের ব্যবধানে হারিয়েছিল ৫ উইকেট, গত ওভাল টেস্টের প্রথম ইনিংসে তো ৯৪ রানে ইংল্যান্ড হারিয়ে ফেলেছিল প্রথম ৭ উইকেট!
পাকিস্তানের দুশ্চিন্তার কেন্দ্রেও ব্যাটিং। এই সিরিজেই দুবার ৮০ ও ৭২ রানে অলআউট হয়েছে তারা। সিরিজে এখন পর্যন্ত পাকিস্তানের ‘সফল’ ব্যাটসম্যানটির (আজহার আলী) মোট রান ১৩০, গড় মাত্র ২৬। পাকিস্তানের পক্ষে সিরিজে ১০০ রান আর আছে কেবল ইমরান ফারহাতের (১০৭)।
সিরিজে পাকিস্তানের জন্য সবচেয়ে আশার প্রদীপ জ্বালিয়েছে তাদের বোলিং আক্রমণ। বোলাররাই বারবার ম্যাচে ফিরিয়েছেন দলকে। ওভালের জয়টাও বোলারদের সৌজন্যেই। মোহাম্মদ আসিফের নিরীহ পেসের মধ্যে লুকিয়ে থাকা সুইং, আঠারোর উদ্ধত অহংকার নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়া মোহাম্মদ আমির, আরেক নতুন আবিষ্কার ওয়াহাব রিয়াজ...পেসার-ত্রয়ীর সঙ্গে দুসরা নিয়ে আছেন সাঈদ আজমল। এরই মধ্যে পাকিস্তানের জন্য ‘মধুর সমস্যা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে উমর গুলের ফিট হয়ে ওঠার ইঙ্গিত! গত দুই টেস্টে পঞ্চম বোলারের ব্যবহার পাকিস্তান করেছে যৎসামান্যই। ফলে গুল ফিট হয়ে উঠলেও দলে জায়গা কীভাবে ফিরে পান সেটাই এখন দেখার।