Thursday, August 10, 2017

মার্কিন ঘাঁটিতে সত্যিই হামলা হবে?

উত্তর কোরিয়া এ মাসের মাঝামাঝি সময়ে গুয়ামে মার্কিন ঘাঁটির কাছে চারটি মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার কথা বলেছে। বিবিসি অনলাইনসহ অন্যান্য সংবাদমাধ্যমে আজ বৃহস্পতিবার উত্তর কোরিয়ার এ হুমকির কথা জানানো হয়। এর আগে গতকাল বুধবার তারা বেশ তেড়েফুঁড়েই বলেছে যে গুয়ামে মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর বিষয়টি বিবেচনা করছে তারা। এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকায় গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত মার্কিন অবস্থান হচ্ছে গুয়াম। একই সঙ্গে বিমান ও নৌঘাঁটি রয়েছে কোরীয় উপদ্বীপ আর দক্ষিণ চীন সাগরের মধ্যবর্তী এই স্থানে। উত্তর কোরিয়ার বার্তা সংস্থা কেসিএনএর বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গুয়ামে মার্কিন অবস্থানে মাঝারি থেকে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার কথা সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করছে পিয়ংইয়ং। এই ক্ষেপণাস্ত্র পারমাণবিক যুদ্ধাস্ত্র (ওয়ারহেড) বহনে সক্ষম। এমন ঘটনা যদি ঘটে, তাহলে তা হবে রাজগোখরার লেজে কোপ মারার মতো একটা বিষয়। পরিণতি ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ যে ডেকে আনবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে এর আগেও উত্তর কোরিয়া অনেক হুমকি-ধমকি দিয়েছে। কিছুদিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে আঘাত হানার মতো সক্ষমতা অর্জনের কথাও জানান দিয়েছে। কিন্তু কোনো নির্দিষ্ট মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালানোর দুঃসাহস প্রদর্শন এটাই প্রথম। প্রশ্ন উঠেছে, উত্তর কোরিয়া সত্যিই কি মার্কিন ওই ঘাঁটিতে হামলা চালাবে? কেন চালাবে? একটু গভীরে যাওয়া যাক। মার্কিন ছত্রচ্ছায়ায় একের পর এক নিষেধাজ্ঞার জালে উত্তর কোরিয়া আষ্টেপৃষ্ঠে কোণঠাসা। সে দেশের মানুষ খেতে পায় না, দুর্ভিক্ষে প্রাণ যায়—এমন খবর প্রায়ই শোনা যায়। তাই বলে তাদের উচ্চাভিলাষী পারমাণবিক কর্মসূচি থেমে নেই। মরব, তবু বশ্যতা নয়—বাবার এই নীতিতে অটল থেকে একনায়কত্বের হাতল শক্ত করে ধরে রেখেছেন কিম জং-উন। ইরাক, লিবিয়া, তিউনিসিয়া, ইয়েমেন, মিসর—এসব দেশের একনায়কেরা পরাজয়ের পর কী পরিণতি বরণ করেছেন, তা তো তাঁর ভালো করেই জানা। এ কারণে পিছু হটার চেয়ে লড়াই করে টিকে থাকার পথ বেছে নিয়েছেন কিম জং-উন। এখানে দেশটির লক্ষ্যের চেয়ে বরং নেতা উনের একগুঁয়েমিটাই মুখ্য। এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের আরেক বড় দেশ চীন দেখছে, এখানে উড়ে এসে জুড়ে বসা মার্কিন আধিপত্য যদি কিঞ্চিৎ পরিমাণও খর্ব হয়, তবে তার প্রভাব বিস্তারের সুযোগটা বাড়ে। এ জন্য ঠারেঠোরে উত্তর কোরিয়াকে মদদ দিচ্ছে তারা। ভাবগতিক পরিষ্কার,Ñএগিয়ে যাও, বন্ধু। আমরা আছি তোমার সঙ্গে। ট্রাম্প এরই মধ্যে চীনের নীরব থাকার ভূমিকার কঠোর নিন্দা করেছেন। চীন সোজাসুজি বলেছ, তারা এসব ঝুটঝামেলায় নেই। এই সাহস আরও উসকে দিয়েছে উত্তর কোরিয়াকে। উনের এখন একটাই ব্রত—লড়ো না হয় মরো। গত সোমবার উত্তর কোরিয়ার ওপর জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়টি বিদ্যমান উত্তেজনায় বারুদে ঠাসা স্ফুলিঙ্গ। বিশেষ করে উত্তর কোরিয়ার জন্য। সে দেশের মানুষ নানা নিষেধাজ্ঞায় এমনিতেই স্বাভাবিক সুন্দর জীবন থেকে বঞ্চিত, এর মধ্যে নতুন নিষেধাজ্ঞা তাদের জীবনকে আরও বিষিয়ে তুলবে। উত্তর কোরিয়ার অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দিতেই এসব নিষেধাজ্ঞা। তাদের কোনো মানবসম্পদ বিদেশে যাবে না। তাদের সামুদ্রিক খাবার কেউ কিনবে না। খনিজ সম্পদ কেউ নেবে না। অবশ্য চীন আর রাশিয়া তলে তলে তাদের অপরিশোধিত তেল নিয়ে আর্থিক ক্ষেত্রে কিছুটা হলেও সহায়তা করছে। জাতিসংঘ নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার পরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘটালেন আরেক বিস্ফোরণ। গত মঙ্গলবার তিনি বলেছেন, উত্তর কোরিয়া সবচেয়ে ভালো করবে আমেরিকাকে আরও কোনো হুমকি না দিলে। তাহলে তারা এমন গুলি আর আতঙ্কের মুখে পড়বে, যা এর আগে বিশ্ব কখনো দেখেনি। ট্রাম্পের এই হুমকির পরই গতকাল যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন করে হুমকি দিয়েছে উত্তর কোরিয়া। এই হুমকিকে ‘ফালতু বড়াই’ বলে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। মঙ্গলবার ওয়াশিংটন পোস্টে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, উত্তর কোরিয়া এই প্রথম এমন এক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করেছে, যা ছোটখাটো হলেও পারমাণবিক যুদ্ধাস্ত্র বহনে সক্ষম। সে ক্ষেত্রে উত্তর কোরিয়া তাদের পলে পলে চেপে ধরা যুক্তরাষ্ট্রকে পাল্টা জবাব দেওয়ার হিম্মত দেখাতে পারে। কিম জং-উন অন্যান্য একনায়কের মতো এই নীতিতে এককাট্টা হতে পারেন, মরেছি যখন মেরেই মরি! সে ক্ষেত্রে হামলার জন্য সবচেয়ে কাছের মার্কিন ভূখণ্ড গুয়ামকে বেছে নেওয়াটা বিচিত্র কিছু নয়। কোরীয় উপদ্বীপ ও দক্ষিণ চীন সাগরের মাঝখানে থাকা গুয়াম একটি প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপ। সেখানে দেড় লাখের বেশি মানুষের বাস। তারা মার্কিন নাগরিক বটে, তবে তারা প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোট দিতে পারেন না। সেখানে মার্কিন বিমানঘাঁটি রয়েছে, যা অ্যান্ডারসেন এয়ার ফোর্স বেস নামে পরিচিত। এ ছাড়া একটি নৌঘাঁটিও রয়েছে। মার্কিন সেনা রয়েছে ছয় হাজারের মতো। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার প্রতিরক্ষামন্ত্রী অ্যাশটন কার্টার এই এলাকাকে ‘পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অবস্থান’ বলে বর্ণনা করেন। ১৮৯৮ সালে স্প্যানিশ-আমেরিকান যুদ্ধের পর এই ভূখণ্ড যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। ১৯৪১ সালের ডিসেম্বরে পার্ল হারবারে হামলার দুদিন পর এটি চলে যায় জাপানি সেনাদের কবজায়। জাপানি সেনাদের ওই হামলায় প্রায় এক হাজার মানুষ নিহত হয়। ১৯৪৪ সালে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর গুয়াম আবার দখল করে নেয় যুক্তরাষ্ট্র। কাজেই এই ভূখণ্ড তাদের অনেক কষ্টের ফসল। গুয়ামে কোনো হামলা যেমন যুক্তরাষ্ট্র মেনে নেবে না, তেমনি উত্তর কোরিয়ার হুমকিকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দেওয়ারও কোনো কারণ নেই। কারণ, শত বাধার মুখেও কিন্তু তারা পারমাণবিক কর্মসূচি অটলভাবে এগিয়ে নিয়ে গেছে। কেবল তা-ই নয়, কাঙ্ক্ষিত সাফল্যও এসেছে। কিম জং-উন যেমন খ্যাপাটে, ট্রাম্পও কিন্তু যথেষ্ট গোলমেলে। কথায় আর কাজে একের পর এক ফারাক দেখিয়ে এর মধ্যে আন্তর্জাতিক মহলে একটা ধূম্রজাল তিনি তৈরি করে ফেলেছেন। এই ধোঁয়া থেকে যে কী হয়, তা দেখার বিষয়।
শরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া: সাংবাদিক, সাহিত্যিক
sharifrari@gmail.com

ভারতে গ্রেপ্তার আনসারুল্লাহর সদস্য বোমা বিশেষজ্ঞ

ভারতের উত্তর প্রদেশের মুজাফফরনগর থেকে গ্রেপ্তার হওয়া আনসারউল্লাহ বাংলা টিমের (এবিটি) সদস্য আবদুল্লাহ আল মামুন একজন বোমা বিশেষজ্ঞ বলে জানিয়েছে পুলিশ। ৬ আগস্ট চারথাওয়ালের কুটেসারা এলাকা থেকে তাঁকে আটক করে সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ স্কোয়াড বা অ্যান্টিটেররিস্ট স্কোয়াড (এটিএস)। ভারতের জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা (এনআইএ) বলছে, আবদুল্লাহ বাংলাদেশি। ২০১১ সাল থেকে এ রাজ্যের শাহরানপুরের দেওবন্দ এলাকায় বাস করছেন তিনি। তবে তিনি এক মাস ধরে মুজাফফরনগরে আছেন। এটিএস বলছে, বোমা তৈরিতে অভিজ্ঞ আবদুল্লাহ। তাঁর কাছ থেকে সার্ক দেশগুলোর মানচিত্রসহ অন্যান্য কাগজপত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগে তিনি ফৈজান নামের এক বাংলাদেশিকে তাঁর কাছে আশ্রয় দিয়েছিলেন। আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে পাসপোর্ট ও আধারকার্ড তৈরি করার অভিযোগও তুলেছে উত্তর প্রদেশের ওই স্কোয়াড। তাঁর কাছে থেকে ১১টি ভুয়া পরিচয়পত্র উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পশ্চিমবঙ্গের কোনো জঙ্গিগোষ্ঠীর সঙ্গে আবদুল্লাহর যোগাযোগ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

আল-জাজিরা বন্ধের চেষ্টা কেন?

ইসরায়েলি সরকার যে জেরুজালেমে আল-জাজিরার কার্যালয় বন্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা করছে তাতে বোঝা যায়, সমালোচনামূলক গণমাধ্যমের ক্ষমতা ও ভূমিকায় সুদূরপ্রসারী পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। সেটা শুধু ইসরায়েল অধিকৃত ফিলিস্তিনে নয়, আরব বিশ্ব ও উত্তর আফ্রিকাতেও ব্যাপারটা ঘটতে পারে। ইসরায়েলের এই উদ্যোগ কিছুটা উদ্ভট। কারণ, আল-জাজিরা ও ইসরায়েলের মধ্যে দীর্ঘদিনের একটা মিথোজীবিতামূলক সম্পর্ক রয়েছে, যদিও মাঝেমধ্যে তাদের মধ্যে নানা কিছু নিয়ে লেগে যেত। আল-জাজিরা ইসরায়েলের দখলদারি ও নীতির কঠোর সমালোচনা করলেও দেশটি এই চ্যানেলের সংবাদ পরিবেশনে নানা সহযোগিতা করেছে। কয়েক বছর ধরে বারবার অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। ইসরায়েল চ্যানেলটির ব্যুরো বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে। কিন্তু এতে আল-জাজিরার সংবাদ পরিবেশন এবং কর্মী ও প্রদায়ক-লেখকদের থামানো যায়নি। সরকারের তথ্য কার্যালয়ের মতো আল-জাজিরার কার্যালয়ও বছরের পর বছর ধরে একই জায়গায় রয়েছে, অন্যান্য গণমাধ্যমের বেলায়ও একই কথা প্রযোজ্য। কথা হচ্ছে ইসরায়েলে আল-জাজিরার পক্ষ থেকে প্রেস পাস পাওয়ার জন্য আবেদন করলে কখনোই তেমন সমস্যা হয়নি, তুলনামূলকভাবে মার্কিন গণমাধ্যমের হয়ে প্রেস পাস চাইতে গেলে বরং বেশি ঝামেলা হয়েছে। বস্তুত কখনো কখনো মনে হয়েছে, আল-জাজিরার সঙ্গে সম্পর্ক থাকাটা ইসরায়েলি গণমাধ্যমের জন্য গর্বের ব্যাপার ছিল। এতে উভয় পক্ষেরই লাভ হয়েছে। ইসরায়েলের বেলায় হয়েছে কী, মূল আল-জাজিরা নেটওয়ার্কের কল্যাণে দেশটি আরব বিশ্বের জনগণের কাছে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছে। বস্তুত, আল-জাজিরা প্রতিবেদনের মাধ্যমে ইসরায়েলি কর্মকর্তা এবং সাধারণ জনগণকে নির্বিঘ্নে বহির্বিশ্বের কাছে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। অন্যদিকে ইসরায়েলি সরকারি কর্মকর্তা ও ভাষ্যকারদের সঙ্গে আল-জাজিরার সংস্রবের কারণে আরব দুনিয়ায় ইসরায়েল সম্পর্কে যে সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে, তা সম্প্রসারণের সুযোগ পেয়ে যায় নেটওয়ার্কটি। একই সঙ্গে টিভির পর্দায় তারা ইসরায়েলের আনুষ্ঠানিক ভাষ্যের প্রতি চ্যালেঞ্জ জানাতে পারে। দখলদারিজনিত ব্যাপক সহিংসতার সময় ইসরায়েল যখন আল-জাজিরাকে সে দেশে কাজ করতে দিল, তাহলে এখন কেন তারা মনে করছে যে জেরুজালেমে আল-জাজিরার উপস্থিতি নিষিদ্ধ করতে হবে? ব্যাপারটা হলো বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে দুর্নীতিবিষয়ক দুটি তদন্ত হচ্ছে, যেটাকে কিছু গণমাধ্যম সবচেয়ে গুরুতর ‘রাজনৈতিক সংকট’ হিসেবে আখ্যা দিচ্ছে। মানুষের দৃষ্টি সেখান থেকে ঘুরিয়ে দিতেই ইসরায়েল এই কাণ্ড করেছে। সম্ভবত নেতানিয়াহুর ব্যর্থতা ও জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে সবচেয়ে সহজ বলির পাঁঠা বানানো হয়েছে আল-জাজিরাকে। অথবা এটাও হতে পারে যে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত আল-জাজিরার বিরদ্ধে যে প্রচারণা শুরু করেছে, ইসরায়েল নিজেও সেই প্রচারণায় যোগ দিচ্ছে। আবার এমনও হতে পারে যে ইসরায়েলের গণমাধ্যম বিশেষজ্ঞরা বুঝতে পারছেন, কিছু কিছু আরব দেশ কাতার ও আল-জাজিরার বিরুদ্ধে যে আক্রমণ শুরু করেছে, তা আরব বিশ্বের গণপরিসরে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। সে কারণে ইসরায়েল নিজের মতো করে বিকৃতভাবে তাদের সহযোগিতা করার চেষ্টা করছে। আরবের সরকারি গণমাধ্যমগুলোতে ইতিবাচক প্রচারণা পাওয়াই তার লক্ষ্য। ইসরায়েলের যোগাযোগমন্ত্রী আইয়ুব কারা এর যৌক্তিকতা প্রতিপন্ন করার চেষ্টায় অভিযোগ তুলেছেন, আল-জাজিরার কারণে ‘ইসরায়েলের সেরা সন্তানদের জীবনহানি ঘটেছে।’ তিনি আরও বলেছেন, ‘আমরা যখন দেখছি, এসব দেশ এটা সত্য বলে ধরে নিয়েছে যে আল-জাজিরা আইএস, হামাস, হিজবুল্লাহ ও ইরানের ক্রীড়নক, যেটা আমরা মনে করি না, সে ক্ষেত্রে এখানে হাস্যকর কিছু ঘটছে।’ আল-জাজিরার কারণে ইসরায়েলি সেনারা মারা পড়ছে, এই অভিযোগের অসাড়তা এখানে প্রাসঙ্গিক নয়। ইসরায়েল কীভাবে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আরব নেতৃত্বাধীন বৃহত্তর জোটের মধ্যে নিজেকে স্থাপন করছে, সেটাই গুরুত্বপূর্ণ। আবার এমনও হতে পারে যে ইসরায়েলি সরকার আরব দেশের সঙ্গে এতটা ভালো ও খোলামেলা সম্পর্ক তৈরি করেছে যে তার আর আল-জাজিরার দর্শকদের কাছে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। সম্ভবত ইসরায়েলি সরকার এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে আরবদের সঙ্গে তার সরাসরি যোগাযোগের দরকার নেই। কারণ, তীব্র উদারনীতিবাদ, সেন্সরশিপ ও উপদলীয় রাজনীতির উত্থানে এ-জাতীয় নীতি অনর্থক হয়ে পড়েছে। ওদিকে আরবের গণপরিসরে মানুষের মনোভাব বদলে গেছে। অর্থাৎ অনেক আরব নাগরিকই এখন ইসরায়েল ও দখলদারি নিয়ে মাথা ঘামায় না। সে কারণে আল-জাজিরা ইসরায়েলি নাগরিকদের যে প্রচারণা দিত, সেটাও অপ্রয়োজনীয় হয়ে গেছে। আরও একটি সম্ভাবনা আছে, সেটা হলো আল-জাজিরা আগের চেয়ে বেশি বিপজ্জনক হয়ে গেছে। বিশ্বজুড়ে দখলদারির বিরুদ্ধে যে বয়কট ডাইভেস্টমেন্ট স্যাংশনস আন্দোলন গড়ে উঠেছে, তার কারণ হচ্ছে ফিলিস্তিনে ইসরায়েলের দখলদারি তীব্র হওয়া—এই মর্মে যে প্রচারণা চালানো হয়েছে, তার বড় ভূমিকা রয়েছে। আল-জাজিরা ও দ্য গার্ডিয়ান-এর মতো আর কোনো সংবাদমাধ্যম দখলদারির বাস্তবতা বিশ্বদরবারে এতটা তুলে ধরতে পারেনি। অর্থাৎ আল-জাজিরার প্রচারণার কারণে ইসরায়েলের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে, সে কারণেই হয়তো তাকে নিষিদ্ধের চেষ্টা চলছে। কারণ, তারা গাজার ওপর সর্বাত্মক হামলা চালালে বা পশ্চিম তীরের ভূমি দখল করলে আল-জাজিরাতেই খবর আসে। কিন্তু এই সমালোচনা তারা আর সহ্য করতে পারছে না। ইসরায়েলের নীতি পরিবর্তনের কারণ যা-ই হোক না কেন, আল-জাজিরাকে জেরুজালেম থেকে চলে যেতে বাধ্য করার মধ্য দিয়ে বোঝা যায়, ইসরায়েলের কৌশলগতহিসাব-নিকাশে পরিবর্তন এসেছে। এটা শুধু গণমাধ্যমের স্বাধীনতারই ব্যাপার নয়, উদ্বেগের আরও গুরুতর কারণ হচ্ছে, ইসরায়েল-ফিলিস্তিন যুদ্ধ লেগে যেতে পারে।
আল-জাজিরা অনলাইন থেকে নেওয়া, অনুবাদ: প্রতীক বর্ধন।
মার্ক লে ভাইন: ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার মধ্যপ্রাচ্য ইতিহাসের অধ্যাপক।

পদ্মায় ট্রলারডুবিতে নিখোঁজ ৩

শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলায় পদ্মা নদীতে ট্রলার ডুবে তিনজন নিখোঁজ হয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাতটার দিকে উপজেলার ঈশ্বরকাটি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিখোঁজ ব্যক্তিরা হলেন জাজিরা উপজেলার বড়কান্দি গ্রামের বাসিন্দা শিরীন বেগম (৬০), রোমান মিয়া (১৪) ও আড়াই বছরের শিশু আয়েশা। পুলিশ ও স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সকালে ১৪ জন যাত্রী নিয়ে নড়িয়ার সাদুরবাজার ঘাট থেকে ট্রলারটি জাজিরার বড়কান্দি এলাকায় যাচ্ছিল। যাত্রীরা নড়িয়ার একটি মাজারে ওরস শেষে বাড়ি ফিরছিলেন। ঈশ্বরকাটি এলাকায় পৌঁছার পর ট্রলারটির জ্বালানি শেষ হয়ে যায়। এরপর মাঝি ট্রলারটিকে তীরে নিয়ে যান এবং তিনি তেল আনতে যান। ওই এলাকাটি ছিল ভাঙনপ্রবণ। হঠাৎ বড় ধরনের ভাঙনের কারণে সৃষ্ট ঢেউয়ের আঘাতে ট্রলারটি ডুবে যায়। যাত্রীদের ১১ জন সাঁতরে তীরে পৌঁছাতে সক্ষম হন। তিনজন নিখোঁজ হন। সকাল সাড়ে নয়টার দিকে নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসলাম উদ্দিন বলেন, স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ নিখোঁজ তিনজনের সন্ধান চালাচ্ছে।

নোয়াখালীতে ‘গরুচোর’ সন্দেহে গণপিটুনিতে নিহত ৪

নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় ‘গরুচোর’ সন্দেহে গণপিটুনিতে চারজন মারা গেছে। গতকাল বুধবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে চরজুবলী ইউনিয়নের উত্তর কচ্ছপিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আজ বৃহস্পতিবার ভোরের দিকে ঘটনাস্থলের কিছুটা দূরের এলাকা থেকে সন্দেহভাজন আরও দুই ব্যক্তিকে আটক করে পিটুনি দেয় স্থানীয় লোকজন। পুলিশ তাদের আহত অবস্থায় উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। গণপিটুনিতে ‘গরুচোর’ সন্দেহে চার ব্যক্তি নিহত হওয়ার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন সুবর্ণচরের চরজব্বর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নিজাম উদ্দিন। আজ সকাল সাড়ে সাতটার দিকে প্রথম আলোকে তিনি বলেন, নিহত চারজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ওসি জানান, ঘটনাস্থলের কিছুটা দূরের এলাকা থেকে সন্দেহভাজন আরও দুই ব্যক্তিকে আটক করে পিটুনি দেয় স্থানীয় লোকজন। পরে পুলিশ তাদের আহত অবস্থায় উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। তাদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। হতাহত ব্যক্তিদের নাম-পরিচয়ের বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। নিজাম উদ্দিনের ভাষ্য, গতকাল রাত আড়াইটার দিকে একটি পিকআপ ভ্যান নিয়ে কয়েকজন ব্যক্তি চরজুবলীর উত্তর কচ্ছপিয়া গ্রামে ঢুকলে লোকজন চারদিক থেকে তাদের ঘেরাও করে। এ সময় পিকআপ থেকে নেমে তারা পালানোর চেষ্টা করলে স্থানীয় লোকজন তাদের পিটুনি দেয়। এতে ঘটনাস্থলে তিনজন নিহত হয়। স্থানীয় এক স্কুলশিক্ষক জানান, কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে কয়েক দিন ধরেই সুবর্ণচরের বিভিন্ন এলাকায় গরু চুরি বেড়ে গেছে। তিন দিন আগেও চরজুবলী থেকে সাতটি ও চরজব্বর এলাকা থেকে পাঁচটি গরু চুরি হয়।
সংঘবদ্ধ চোরেরা পিকআপ ভ্যান নিয়ে রাতের অন্ধকারে এসে গরু চুরি করে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে গ্রামে গ্রামে লোকজন পাহারা বসিয়েছে। ওই শিক্ষক আরও জানান, গতকাল রাত আড়াইটার দিকে চরজুবলীর সোয়েটার ফ্যাক্টরিসংলগ্ন সোনাপুর-স্টিমারঘাট সড়ক থেকে একটি পিকআপ ভ্যানকে গ্রামে ঢুকতে দেখা যায়। এ সময় সেখানে পাহারারত লোকজন অন্যদের ঘটনাটি জানিয়ে দেয়। তারা উত্তর কচ্ছপিয়া গ্রামের জব্বর আলী পণ্ডিতের দোকানের সামনের কালভার্টের ওপর গাছের গুঁড়ি ফেলে ব্যারিকেড দেয়। পিকআপ ভ্যানটি সেখানে গিয়ে আটকে যায়। স্থানীয় সূত্র থেকে আরও জানা যায়, চারদিক থেকে লোকজন আসতে দেখে পিকআপে থাকা ব্যক্তিরা দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় ছয়জনের মধ্যে তিনজন পালিয়ে যায়। অন্য তিনজনকে উত্তেজিত জনতা ‘গরুচোর সন্দেহে’ গণপিটুনি দেয়। ঘটনাস্থলে তিনজন মারা যায়। পরে ভোরের দিকে গ্রামের একটি ‘কাছারিঘরে’ লুকিয়ে থাকা আরও এক ব্যক্তিকে গণপিটুনি দিলে সেও মারা যায়। পরে ঘটনাস্থল থেকে কিছুটা দূরের এলাকা থেকে আরও অপরিচিত দুজনকে আটক করে চোর সন্দেহে পিটুনি দেওয়া হয়। পরে পুলিশ তাদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। ক্ষুব্ধ লোকজন ওই একটি পিকআপ ভ্যান ভাঙচুরের পর পুড়িয়ে দেয়।

কারও ট্র্যাপে আমরা পড়ব না: প্রধান বিচারপতি

‘সরকার বা বিরোধী দল-কারও ট্র্যাপে আমরা পড়ব না’ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা। আজ বৃহস্পতিবার ষোড়শ সংশোধনীর রায় নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত আইন কমিশনের বক্তব্য আইনজীবীদের তুলে ধরার প্রেক্ষাপটে প্রধান বিচারপতি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, রায় ঘোষণার পর রায়ের গঠনমূলক সমালোচনা যে-কেউ করতে পারেন। গঠনমূলক সমালোচনাকে আমরা স্বাগত জানাই। গতকাল বুধবার বিকেলে আইন কমিশনের কার্যালয়ে ডাকা এক সংবাদ সম্মেলনে ষোড়শ সংশোধনীর রায় সম্পর্কে আইন কমিশনের চেয়ারম্যান ও সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক বলেন, বাংলাদেশ এখন আর জনগণের প্রজাতন্ত্র নয়, বরং এটা বিচারকদের প্রজাতন্ত্রে পরিণত হয়েছে। তিনি মনে করেন, ষোড়শ সংশোধনী নিয়ে দেওয়া ওই রায় ছিল পূর্বধারণাপ্রসূত এবং আগে থেকে চিন্তাভাবনার ফসল। আজ সকালে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি জয়নুল আবেদীন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন তুলে ধরে বলেন, ‘রায় পূর্বধারণাপ্রসূত এবং বাংলাদেশ এখন বিচারকদের প্রজাতন্ত্রে পরিণত হয়েছে-আইন কমিশনের পক্ষ থেকে এমনটি বলা হয়েছে। আমরা বিচার বিভাগের মর্যাদা ও ভাবমূর্তি সমুন্নত রাখার জন্য বলছি।’ এ সময় প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘ঠিক আছে। আপনারা জ্যেষ্ঠ আইনজীবী। আপনারা বিচার বিভাগের স্বাধীনতার জন্য বলছেন। তবে রায় ঘোষণার পর গঠনমূলক সমালোচনা করা যায়। রায় হওয়ার পর আমরা গঠনমূলক সমালোচনা গ্রহণ করি।’ এ সময় জয়নুল আবেদীন বলেন, সর্বোচ্চ বিচারালয়কে নিয়ে যেভাবে বলা হয়েছে, তা আদালত অবমাননাকর। এ সময় প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘এই বিচার বিভাগকে রক্ষা করতে হলে কোনো রাজনীতি আনবেন না। আমরা রায় দিয়ে দিয়েছি। বিচার বিভাগ কোনো রিজয়েন্ডারও দেবে না।’ জয়নুল আবেদীন আরও বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি হিসেবে বলছি।’ তখন আইনজীবী শ ম রেজাউল করিম বলেন, সমিতির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো রেজল্যুশন আনা হয়নি। প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘আমরা সচেতন, আমরা দেখছি।’
এ সময় সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক মাহবুব উদ্দিন খোকন আইন কমিশনের বক্তব্যকে আদালত অবমাননাকর উল্লেখ করে আদালত অবমাননার রুল ইস্যুর কথা বলেন। প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘আমি অনুরোধ করব, আপনারা সংযত আচরণ করবেন, যা সবার জন্য মঙ্গল। সরকার বা বিরোধী দল-কারও ট্র্যাপে পড়ব না। আমরা সচেতন। সাতজন বিচারপতি চিন্তাভাবনা করে রায় দিয়েছি। রায় নিয়ে কেউ পলিটিকস করবেন না।’ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, আদালতকে নিয়ে কুৎসা রটানো হয়েছে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণের এই পর্যায়ে আইনজীবীদের উদ্দেশে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘আপনারা সংযত আচরণ করবেন, যাতে কেউ ফায়দা লুটতে না পারে। আপনারা আরও সচেতন হবেন।’ এরপর জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘আমরা আমাদের কাজ করছি। আইন কমিশনের চেয়ারম্যান দায়িত্বশীল পদে আছেন। তিনি এভাবে বলতে পারেন না।’ প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘উই কনসার্ন।’ বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আইনজীবী মওদুদ আহমদ বলেন, ওই বক্তব্য অবমাননাকর। প্রধান বিচারপতি বলেন, রায়ের গঠনমূলক সমালোচনা যে-কেউ করতে পারেন। একদিন ইতহাস বিচার করবে। আজ আদালতের কার্যক্রম শুরু হলে সকাল নয়টার দিকে বিএনপিপন্থী এই আইনজীবীরা গতকাল আইন কমিশনের চেয়ারম্যানের দেওয়া বক্তব্য যা গণমাধ্যমে এসেছে, তা তুলে ধরেন।

রেজিস্ট্রারের পদত্যাগের সুপারিশ

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সংকট সমাধান ও শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে পুনর্গঠিত অনুসন্ধান কমিটি সুপারিশসহ প্রতিবেদন দিয়েছে। গতকাল বুধবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সৈয়দ সাদ আন্দালিবের কাছে এই প্রতিবেদন পেশ করে অনুসন্ধান কমিটি। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ৩ আগস্ট থেকে কাজ শুরু করে কমিটি। পাঁচ কর্মদিবসে সাধারণ শিক্ষার্থী, শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আলাপ-আলোচনার পর কমিটি প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। কমিটির প্রতিবেদনে দুটি প্রধান সুপারিশ রয়েছে। একটিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের পদত্যাগ সুপারিশ করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে তিনি অপারগ হলে আইন অনুসারে তাকে অব্যাহতি দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। অন্য সুপারিশে বলা হয়েছে, আইন বিভাগের শিক্ষক ফারহান উদ্দিন আহমেদের অব্যাহতি বা স্থায়ীকরণ সংক্রান্ত বিষয়ের সমাধান তাঁর একাডেমিক গবেষণা, শিক্ষকতা-মূল্যায়ন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি দায়িত্ব, সামাজিক দায়িত্ব ও আত্মবিকাশের ওপর ভিত্তি করে হওয়া প্রয়োজন। তাঁর নিয়োগপত্রের ৭ নম্বর অনুচ্ছেদ প্রয়োগ এবং প্রফেশনাল ডেভেলপমেন্ট সেন্টার (ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন)-এর মূল্যায়নের ওপর ভিত্তিতে তাঁকে অব্যাহতি দেওয়া যাবে না। কমিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালা ও নির্দেশনাবলিতে পরিবর্তনের জন্য কিছু সুপারিশ দিয়েছে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়নে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যত দ্রুত সম্ভব পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। পাঁচ সদস্যের পুনর্গঠিত অনুসন্ধান কমিটির সদস্যরা হলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সহ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এফ এম ইউসূফ হায়দার, শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আফসান চৌধুরী, বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট তাজদিন হাসান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র প্রতিনিধি মাইমুনা সৈয়দ আহমেদ। চুক্তিতে থাকা ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষক ফারহানকে চাকরিচ্যুতির নোটিশের জের ধরে সম্প্রতি শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামেন। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, শিক্ষক ফারহান উদ্দিন আহমেদকে গত ৩০ জুলাই মানবসম্পদ বিভাগ থেকে চাকরিচ্যুতির নোটিশ দেওয়া হয়। কিন্তু তিনি তা নিতে অস্বীকৃতি জানালে রেজিস্ট্রার বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা তাঁর আইডি কার্ড নিয়ে নেন এবং তাঁকে লাঞ্ছিত করেন। এরপর শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শুরু করেন। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. শাহুল আফজালকে দীর্ঘ মেয়াদে ছুটি দেওয়া হয়। শিক্ষক ফারহানের অব্যাহতিপত্রও প্রত্যাহার করা হয়। এ ছাড়া শিক্ষককে লাঞ্ছনার অভিযোগে অভিযুক্ত সহকারী রেজিস্ট্রার মো. মাহিউদ্দিন ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জাভেদ রাসেল পদত্যাগ করেন।

কাশিমপুর কারা কমপ্লেক্সে হঠাৎ হেলিকপ্টার

গাজীপুরে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারা কমপ্লেক্সের ভেতর আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে একটি হেলিকপ্টার অবতরণ করেছে। ওই হেলিকপ্টারে মালয়েশিয়াপ্রবাসী এক ব্যক্তি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা ছিলেন। প্রবাসী ওই ব্যক্তি বলছেন, ভুলবশত এমন ঘটনা ঘটেছে। কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২-এর জেল সুপার সুব্রত কুমার বণিকের ভাষ্য, প্রবাসী ওই ব্যক্তির নাম বিল্লাল হোসেন। বাড়ি কুমিল্লার হোমনা এলাকায়। বিল্লাল জানান, পরিবারের সদস্যদের নিয়ে হেলিকপ্টার ভাড়া করে ঢাকা থেকে তিনি কোনাবাড়ী কুদ্দুসনগর এলাকায় বিয়ের অনুষ্ঠানে যাচ্ছিলেন। হেলিকপ্টারের চালক ভুল করে কারা কমপ্লেক্স স্কুলের মাঠে অবতরণ করেন। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। প্রবাসী বিল্লাল হোসেন জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে মালয়েশিয়ায় বাস করেন। তাঁর স্ত্রীও মালয়েশীয়। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারযোগে কোনাবাড়ী আমবাগ এলাকায় তাঁর এক আত্মীয়ের বিয়েতে যাচ্ছিলেন। পথে চালক ভুল করে কোনাবাড়ী কুদ্দুসনগর স্কুলের পরিবর্তে কারা কমপ্লেক্সের ভেতরের স্কুলের মাঠে অবতরণ করেন।

প্রধান বিচারপতির রায় ‘বিদ্বেষতাড়িত’

আপিল বিভাগ যে যুক্তিতে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করেছেন, সেই যুক্তি তাঁদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয় বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। তিনি বলেন, তবে রায়ের সঙ্গে দ্বিমত থাকলেও রায়ের প্রতি তাঁরা শ্রদ্ধাশীল। সংবিধানের ১৬ অনুচ্ছেদ প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আমার মনে হয়, প্রধান বিচারপতির যে রায়, তা যুক্তিতাড়িত নয়; বরং আবেগ ও বিদ্বেষতাড়িত। আমাদের সকলকে মনে রাখতে হবে, প্রধান বিচারপতির আসন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান এবং যেকোনো ব্যক্তি সেই আসন অলংকৃত করলে তাঁকেও আমরা সেই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এক করে ফেলি। তাই আমাদের সবার দায়িত্ব এই প্রাতিষ্ঠানিক আসনটির মর্যাদা রক্ষা করা। আমি শুধু বলতে চাই, ব্যক্তির চেয়ে প্রতিষ্ঠান বড় এবং প্রতিষ্ঠানের চেয়ে দেশ বড়।’ আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে রায় নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে ব্যাখ্যা দিতে ডাকা সংবাদ সম্মেলনে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এ কথা বলেন। আইনমন্ত্রী বলেন, রায়ের প্রেক্ষাপটে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা যেসব অবজারভেশন বা বক্তব্য দিয়েছেন, এতে অনেক অপ্রাসঙ্গিক কথা বলা হয়েছে। তিনি বলেন, প্রধান বিচারপতি জাতীয় সংসদ সম্পর্কে কটূক্তি করেছেন। এই প্রতিষ্ঠানকে হেয়প্রতিপন্ন করেছেন। এ ছাড়া বাংলাদেশের স্বাধীনতা কোনো একক ব্যক্তির কারণে হয়নি বলে যে বক্তব্য দেওয়া হয়েছে, তাতে তিনি মর্মাহত। আনিসুল হক বলেন, ‘আমাদের নিরীক্ষায় মাননীয় প্রধান বিচারপতির রায়ে যেসব “আপত্তিকর” ও “অপ্রাসঙ্গিক” বক্তব্য আছে, সেগুলো এক্সপাঞ্জ করার উদ্যোগও আমরা নেব।’ আনিসুল হক বলেন, সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল পদ্ধতি অত্যন্ত অস্বচ্ছ ও নাজুক। তবে তিনি এও বলেন, ষোড়শ সংশোধনী নিয়ে সংসদ বিচার বিভাগের সঙ্গে কোনো পাওয়ার কনটেস্টে অবতীর্ণ হয়নি। এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, রায়ের পরপরই তড়িঘড়ি করে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের বৈঠক ডাকা দুঃখজনক। এই রায়ে রিভিউ করার বিষয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যেহেতু এই রায়ে সংক্ষুব্ধ, তাই আমরা নিশ্চয়ই চিন্তাভাবনা করছি যে এই রায়ে রিভিউ করা হবে কি না। তবে এখনো কোনো সিদ্ধান্তে উপনীত হইনি। কারণ, রায়ের খুঁটিনাটি বিষয়গুলো এখনো নিবিড়ভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে।’

৭ বছরের শিশুকে আমগাছে লটকে নির্যাতন

সাত বছরের জুয়েলের কচি হাত দুটো দড়ি দিয়ে বেঁধে তাকে লটকানো হয়েছে আমগাছের ডালে। তার সামনে গাছের ডাল হাতে এক যুবক। শিশুটি কেঁদেই যাচ্ছে। আর বলছে, ‘ও কাকা, আমি জানি না। কিচ্ছু জানি না। ও আল্লাহ, আমারে বাঁচাও।’ জুয়েলকে ঘিরে নারী-পুরুষ-শিশুসহ আরও বেশ কিছু মানুষের জটলা। সবার সামনে জুয়েলের শরীরে সপাসপ ডালের আঘাত পড়ে। তার আর্তচিৎকার চারদিকে ছড়িয়ে যায়। কিন্তু তাকে রক্ষা করতে কেউ এগিয়ে আসে না। শিশুটিকে মারধর করতে করতে যুবক বলতে থাকেন, ‘সত্যি করি ক, মোবাইল কনে?’ শিশুটি যতবার ‘জানি না’ বলে, ততবার তার শরীরে জোরে জোরে ডালের বাড়ি পড়ে। মোবাইল চুরির অভিযোগে গতকাল বুধবার কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার ছেঁউড়িয়ায় মণ্ডলপাড়া এলাকায় শিশু জুয়েলের ওপর এভাবেই নির্যাতন চলে। পরে শিশুটিকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। জুয়েলকে মারধরের ঘটনায় গতকাল রাতেই কুমারখালী থানায় মামলা হয়। এই মামলায় দুজনকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ। তাঁরা হলেন ছেঁউড়িয়া এলাকার তানজেল (৩৫) ও তাঁর শাশুড়ি রোকেয়া খাতুন (৪৮)। স্থানীয় লোকজন জানায়, বছর তিনেক আগে জুয়েলের বাবা মারা যান। মা অন্যত্র চলে যান। জুয়েলরা তিন ভাই মিলে ছেঁউড়িয়া এলাকায় থাকে। বড় ভাই রব্বেল (২১) স্থানীয় একটি দোকানে কাজ করেন। জুয়েল আরেকটি দোকানে কাজ করে। গত বৃহস্পতিবার ছেঁউড়িয়া এলাকার বাসিন্দা তানজেলের এক নিকটাত্মীয়ের মোবাইল ফোন সেট চুরি যায়। জুয়েলসহ আরেক শিশুর বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ আনেন তিনি। কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে জুয়েল প্রথম আলোকে বলে, গতকাল বেলা আড়াইটার দিকে তাকে এক যুবক দোকান থেকে ধরে তানজেলের বাড়ির সামনে নিয়ে যান। তার দুই হাত দড়ি দিয়ে বেঁধে আমগাছের সঙ্গে টানানো হয়। মোবাইল ফোন সেট চুরির অভিযোগ তুলে তানজেল আমগাছের ডাল ভেঙে তাকে মারতে থাকেন। জুয়েল জানায়, মারধরের সময় আশপাশের লোকজন দাঁড়িয়ে ছিল। কেউ কিছু বলেনি। মারধরে তানজেলের সঙ্গে মিরু ও এক নারী যোগ দেন। জুয়েল বলে, ‘আমাকে অনেকক্ষণ ধরি মারিছে। আমি কিছু জানি না বললেও তারা থামেনি।’ প্রত্যক্ষদর্শী আবদুল মান্নান বলেন, তিনি ঠেকাতে গিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁকে বাধা দেন তানজেল। চোরের পক্ষ নেওয়ার অভিযোগ তুলে ধাক্কা মারেন। খবর পেয়ে বিকেলে ঘটনাস্থলে যান জুয়েলের ভাই রব্বেল। তিনি জুয়েলকে উদ্ধার করে সন্ধ্যার দিকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নেন। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক হোসাইন মো. শিহাব জানান, শিশুটির শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারধরের চিহ্ন দেখা গেছে। শরীরের অনেক জায়গা ফোলা। দেখে মনে হয়েছে, শক্ত কিছু দিয়ে তাকে আঘাত করা হয়েছে। আঘাতের স্থানগুলোতে রক্ত জমাট বেঁধে যেতে পারে। তাকে ব্যবস্থাপত্র দেওয়া হয়েছে। জুয়েলকে মারধরের ভিডিও সন্ধ্যার পর সাংবাদিকদের হাতে আসে। বিষয়টি জানতে পেরে রাতে কুমারখালী থানার পুলিশ তানজেল ও তাঁর শাশুড়িকে আটক করে থানায় নেয়। কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল খালেক বলেন, জুয়েলকে মারধরের অভিযোগে তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এই মামলায় তানজেল ও তাঁর শাশুড়িকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মারধরের ভিডিওচিত্রে তানজেল ও তাঁর শাশুড়ি রোকেয়াকে দেখা গেছে। পুলিশি হেফাজতে থাকায় ঘটনার বিষয়ে তানজেলের বক্তব্য নেওয়া যায়নি।

মার্কিন ঘাঁটিতে ‘হামলা চালাতে প্রস্তুত’ উ.কোরিয়া

উত্তর কোরিয়া বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল গুয়ামের কাছাকাছি এলাকায় তারা চারটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাতে প্রস্তুত। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা জানাচ্ছে , কিম জং-উন যদি এই পরিকল্পনা পাশ করেন তাহলে হুয়াসং-১২ রকেট জাপানের ওপর দিয়ে গুয়াম থেকে ৩০ কিলোমিটার (১৭ মাইল) দূরে সাগরে গিয়ে পড়বে। এর আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দেন যুক্তরাষ্ট্রকে আবার পারমাণবিক হামলার হুমকি দিলে, সমুচিত জবাব দেয়া হবে। তারপরই বুধবার উত্তর কোরিয়া জানায়, কৌশলগতভাবে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থাপনা হিসেবে পরিচিত গুয়ামে দেশটি দূর পাল্লার রকেট নিক্ষেপ করার পরিকল্পনা করছে। এরপর থেকে নতুন করে উত্তেজনা শুরু হয়। উত্তর কোরিয়ার অনবরত এমন হুমকির আবারো পাল্টা জবাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটি বলছে, উত্তর কোরিয়ার এমন যেকোনো পদক্ষেপ হবে তাদের নিজেদের 'শাসনক্ষমতা শেষ হতে দেখা'। মার্কিন হুমকি বন্ধ না হলে আলোচনা নয় : উত্তর কোরিয়া অস্ত্র কর্মসূচির শাস্তি হিসাবে জাতিসংঘের আরোপ করা নতুন নিষেধাজ্ঞার তীব্র নিন্দা করেছে উত্তর কোরিয়া। পিয়ংইয়ং বলছে. যতক্ষণ পর্যন্ত আমেরিকা তাদেরকে হুমকি দিতে থাকবে ততক্ষণ পর্যন্ত তারা তাদের পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে কোনো ধরণের আলোচনায় বসবে না। অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়া জানিয়েছে, সামরিক বিষয়ে আলাপ আলোচনা আবার শুরু করার এক প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে উত্তর কোরিয়া। উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থায় প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জাতিসংঘে গৃহীত নিষেধাজ্ঞা প্রস্তাব তাদের সার্বভৌমত্বের বড় ধরনের লঙ্ঘন এবং এর জবাবে তারা ন্যায়নিষ্ঠ ব্যবস্থাই গ্রহণ করবে। পিয়ং ইয়ং এই বক্তব্য থেকে এটা পরিষ্কার যে নিষেধাজ্ঞার পরেও উত্তর কোরিয়া দমে যাওয়ার পাত্র নয়। শুধু তাই নয়, ওয়াশিংটনকে হুঁশিয়ার করে দিয়ে তারা আরো বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি তাদের প্রতি শত্রুতা অব্যাহত রাখে তাহলে তারা সেভাবেই তার জবাব দেবে। তাদের ভাষায়, অ্যামেরিকা যদি মনে করে যে সাগরের ওপাশে তারা নিরাপদে আছে - তাহলে সেটা হবে বড় ধরনের ভুল। উত্তর কোরিয়া বলছে, নিষেধাজ্ঞার খসড়া তৈরির কারণে আমেরিকাকে এর মূল্য দিতে হবে। নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর উত্তর কোরিয়ার দিক থেকে এটাই প্রথম প্রতিক্রিয়া। পিয়ং ইয়ং বলছে, তাদের অস্ত্র তৈরির কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। তাদের সাফ কথা- নিজেদের রক্ষাকবচ নিয়ে কোনো আলোচনা নয়। সম্প্রতি উত্তর কোরিয়ার আন্তমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষাকে কেন্দ্র করেই এই উত্তেজনা। তার পরেই দেশটির রপ্তানীর ওপর জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা। এই প্রেক্ষিতে উত্তর কোরিয়ার পরমাণু ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বন্ধ করতে দেশটির ওপর আন্তর্জাতিক চাপ ক্রমশই জোরালো হচ্ছে। এমনকি তাদের ঘনিষ্ঠ মিত্র ও বাণিজ্যিক অংশীদার চীনও তাদেরকে অস্ত্র কর্মসূচি বন্ধ করতে বলেছে। উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এসব নিয়ে ম্যানিলাতে কথাবার্তাও বলেছেন। তবে দক্ষিণের এক কর্মকর্তা বিবিসিকে জানিয়েছেন যে উত্তর কোরিয়া এবিষয়ে সংলাপের প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছে। উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র থেকে নিজেকে বাঁচাতে পারবে যুক্তরাষ্ট্র? সাম্প্রতিক সময়ে পরীক্ষা করা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর সক্ষমতা যাই হোক, এটা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই যে পারমানবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির লক্ষ্যের দিকেই ক্রমশ এগিয়ে যাচ্ছে উত্তর কোরিয়া। আর সেই ক্ষেপণাস্ত্র নি:সন্দেহে হুমকি তৈরি করবে আমেরিকা মহাদেশের জন্য। "পারমানবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম"- বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এটি করতে হলে পিয়ংইয়ংকে প্রথমে পারমানবিক অস্ত্র আকারে ছোট করতে হবে এবং সব ধরনের প্রতিকূলতা থেকে এটিকে সুরক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। উত্তর কোরিয়ার পারমানবিক কর্মসূচিতে এ বিষয়টিকে কিভাবে দেখা হয় সেটি কারও জানা নেই তবে চাইলে উত্তর কোরিয়া এ ধরনের সক্ষমতা অর্জন করতে পারে এবং এটি সম্ভব প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সময়সীমাতেই। দেশটি অবশ্য ইতোমধ্যেই দাবি করেছে যে তারা আমেরিকার যে কোন স্থানে যে কোন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষমতা অর্জন করেছে। এটা এখন পাল্টা একটা প্রশ্ন তৈরি করেছে যে যুক্তরাষ্ট্র এ ধরনের হামলা মোকাবেলায় সক্ষম কি-না। যদিও দেশটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষায় বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করেছে। বিশ্বব্যাপী স্যাটেলাইট সেন্সর নেটওয়ার্ক রয়েছে এবং এর মাধ্যমে ক্ষেপণাস্ত্র গতিপথ ও পর্যবেক্ষণ ও চিহ্নিত করার সুযোগ আছে দেশটির জন্য। আর ক্ষেপণাস্ত্র বিধ্বংসী পাল্টা ব্যবস্থা তো রয়েছেই। কিন্তু তারপরেও সমালোচকদের অনেকেই বিশ্বাস করেন যুক্তরাষ্ট্রের এই ব্যবস্থায় অনেক ঘাটতি রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন এখন পুরো বিষয়টি পর্যালোচনা করে দেখছে। নতুন প্রজন্মের ক্ষেপণাস্ত্রও আসতে যাচ্ছে দেশটির প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায়। কিন্তু নিকট ভবিষ্যতে উত্তর কোরিয়ার সম্ভাব্য হুমকি মোকাবেলা জন্য দেশটির হাতে ব্যবস্থা আছে যে অল্পই। প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যান এক সময় আশা করেছিলেন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধক ব্যবস্থা। তবে এ ধরনের ব্যবস্থা ছিলো ব্যয়বহুল এবং প্রযুক্তির ক্ষেত্রেও ঘাটতি ছিলো। পরে কয়েক দশকে প্রযুক্তির নাটকীয় উন্নতি হয়েছে যাতে বিশেষ ভূমিকা রেখেছে ইসরায়েল। যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক সহায়তায় প্রতিষ্ঠিত ইসরায়েলের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থা ও রাডার সিস্টেম দারুণভাবে সফল ও পরীক্ষিত। অন্যদিকে সমালোচকদের মতে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এখনো যথাযথ পর্যায়ে পৌঁছেনি,এমনকি পরীক্ষাগুলোতেও মিশ্র ফল পাওয়া গেছে। সমালোচনা রয়েছে যে এমনকি যুক্তরাষ্ট্র একটি পরিপূর্ণ পরীক্ষাও চালায়নি তার প্রতিরোধ সক্ষমতা যাচাইয়ের জন্য। সামরিক কমান্ডাররাও স্বীকার করেন যে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পুরোটা ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধক হয়ে উঠেনি। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখন উত্তর কোরিয়া ও এর ক্রম বিকাশমান ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা বিষয়ে যাই ভাবুন, সময় আসলে বয়ে যাচ্ছে দ্রুত। একটি বিকল্প অবশ্য আছে আর সেটি হলো দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করে সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রতিরোধ জোরদার করা।

মাঝরাতে আনন্দ-ফূর্তির সেলফি কেন শেয়ার করছেন ভারতীয় নারীরা?

মেয়েরা রাতে ঘুরে বেড়ানোর ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করায় একজন রাজনীতিকের "মেয়েদের বেশি রাতে বের হওয়া উচিত নয়" মন্তব্যে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে ভারতে। ভারতের চন্ডিগড়ে ডিজে-র কাজ করেন বর্ণিকা কুণ্ডু। গত শুক্রবার রাতে তিনি যখন বাসায় ফিরছিলেন কয়েকজন ছেলে তার গাড়ি ধাওয়া করে বলে অভিযোগ করেন। ওই ছেলেদের মধ্যে একজন ছিলেন ভারতে ক্ষমতাসীন বিজেপির একজন প্রথম সারির রাজনীতিকের ছেলে, বিকাশ বারালা। বারালাকে বুধবার পুলিশ গ্রেফতার করেছে এবং পুলিশ বলছে তার বিরুদ্ধে "উত্যক্ত করা, মদ খেয়ে গাড়ি চালানো এবং অপহরণের চেষ্টার" অভিযোগ আনা হয়েছে। বর্ণিকার অভিযোগ তাকে "গাড়ি নিয়ে পেছু-ধাওয়া এবং প্রায় অপহরণের" চেষ্টা করা হয় এবং তাকে যে "ধর্ষণ ও হত্যা করে কোনো খানা-খন্দে ফেলে দেয়া হয়নি" তার কারণ তিনি বিপদে বলে পুলিশের সাহায্য চাওয়ার পর দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে তাকে উদ্ধার করে। বর্ণিকা ফেসবুকে তার এই ঘটনা সম্পর্কে পোস্ট দেয়ার পর তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায় এবং এই ঘটনার জন্য হরিয়ানা রাজ্যের শীর্ষ বিজেপি রাজনীতিক রামবীর ভাট্টি মেয়েটির ওপরই দোষারোপ করেন। "মেয়েদের মাঝরাতে বাইরে বেরন উচিত নয়," সিএনএন নিউজ এইট চ্যানেলকে একথা বলেন ভাট্টি। "মেয়েটি এত রাতে গাড়ি চালাচ্ছিল কেন? দিনকাল ভাল না। আমাদের নিজেদের দেখাশোনা নিজেদেরই করতে হবে।" ভাট্টি এরপর টাইমস অফ ইন্ডিয়াকে বলেন "বাপ-মায়েদের উচিত তাদের সন্তানদের দেখা। সন্তানদের রাতে ঘুরে বেড়াতে দেয়া তাদের উচিত নয়। বাচ্চাদের সময়ে ঘরে ফেরা উচিত। রাতের বেলা কেন তারা বাইরে ঘুরবে?" ঘটনার শিকার যে মেয়ে তাকে "লজ্জা দিয়ে" রাজনীতিকের এই মন্তব্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। এবং মেয়েরা রাতের বেলা তাদের ঘুরে বেড়ানোর ছবি পোস্ট করছে #AintNoCinderalla এই হ্যাশট্যাগে- অর্থাৎ আমি রূপকথার সেই সিন্ডারেলা নই যে রাত ১২টা বাজার আগেই আমাকে বাসায় ফিরতে হবে। গীতা পাণ্ডে বলছেন এই প্রচারণার উদ্যোক্তা বিরোধী কংগ্রেস দলের সোসাল মিডিয়া সেলের প্রধান দিব্যা স্পন্দনা। তিনি দক্ষিণ ভারতের কর্ণাটক রাজ্যের জনপ্রিয় চলচ্চিত্রাভিনেত্রী পর্দায় যার নাম রম্যা। তিনি প্রশ্ন তোলেন মেয়েরা কেন মাঝরাতের পর বেরতে পারবে না? "ভাট্টির কাছে আমার প্রশ্ন মেয়েদের উপর কারফিউ জারি করার তিনি কে? আমি জানতে চাই আমাদের দিকে তিনি কেন প্রশ্ন ছুঁড়ে দিচ্ছেন? এটা খুবই পশ্চাদপদ মনোভাব," বিবিসিকে বলেন স্পন্দনা। দিব্যা স্পন্দনা সোমবার তার হোয়াটসআপ গ্রুপে কিছু মেয়েদের উদ্দেশ্যে বার্তা পাঠান: "একজন 'নেতা' যার যে কোন বিষয়ে কথা বলা সাজে না, তার মুখে এমন পশ্চাদপদ মন্তব্য তোমরা কতবার শুনেছো? আমার উত্তর হবে- প্রায়ই।" "এখন তারা বলছে আমরা কখন বাসা থেকে বেরব অথবা বেরব না- এটা বন্ধ হওয়া দরকার," তিনি বলেন। এরপর তিনি টুইটারে তার রাতে বেরনর ছবি পোস্ট করেন এবং অন্যদেরও তা করার আহ্বান জানান। তার এই আহ্বান মেয়েদের মধ্যে দ্রুত সাড়া ফেলে এবং এধরনের ঘটনায় সবসময় মেয়েদের উপর দোষ চাপানোর প্রতিবাদ জানাতে শত শত মেয়ে ফেসবুক, টুইটার ও ইনস্টাগ্রামে তাদের ছবি পোস্ট করতে শুরু করে। প্রথম যে কয়জন মেয়ে 'মাঝরাতের সেলফি' পোস্ট করেন তাদের মধ্যে ছিলেন ভারতের সাবেক প্রেসিডেন্ট প্রণব মুখার্জ্জীর মেয়ে শর্মিষ্ঠা মুখার্জ্জী। তিনি লেখেন : "আমি রাত ১২টায় বাড়ির বাইরে- তার মানে এই নয় যে আমাকে ধর্ষিতা, নির্যাতিতা বা ধাওয়ার শিকার হতে হবে। আমার সাতদিন ২৪ ঘণ্টা সম্মান পাওয়ার অধিকার আছে।" অনেকেই এরপর নানাধরনের প্রতিবাদী মন্তব্য পোস্ট করেন সামাজিক মাধ্যমে। যেমন নিচের বার্তায় পূজা লেখেন: "প্রিয় পশ্চাদপদ ভারত- আমার যা খুশি আমি তাই করব- রাতে অথবা দিনে। ভুলেও ভেবো না আমাকে থামানোর অধিকার তোমার আছে।" সাংবাদিক পালক শর্মা তার যে ছবি পোস্ট করেন তাতে দেখা যায় তিনি পানীয়ে চুমুক দিচ্ছেন এবং ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে চোখ মারছেন । তিনি লেখেন -এখন মাঝরাত- আমি বাইরে। তার এই ছবি ও বার্তাকে ''দু:সাহসী'' মন্তব্য করে অনেকেই তাকে অভিনন্দন জানিয়েছে। তবে বিবিসিকে পালক শর্মা বলেছেন, ''গত দুদিনে আমি প্রচুর হুমকিও পেয়েছি। লোকে আমাকে পতিতা-এধরনের মন্তব্যও করেছে।'' ''ভাবুন- আমি একজন সাংবাদিক, আমি সরকার নিয়ন্ত্রিত মিডিয়াতে কাজ করি। তা সত্ত্বেও আমার টুইটের জন্য আমাকে হুমকি শুনতে হচ্ছে,'' তিনি বলেন। ''তবে আমি ভয় পাই না,'' পালক শর্মা বলেন। ''এসব আমাদের দমিয়ে রাখতে পারবে না, আমরা এদের ভয়ে গুটিয়ে যাব না। আমরা সিন্ডারেলা নই - যে বারোটার আগেই আমাদের ঘরে ফিরে আসতে হবে।'' এই প্রচারণায় সুর মেলাচ্ছেন অনেক নারী।

মাকে বাঁচাতে বাবাকে হত্যা

ভারতের দিল্লীর নিহাল বিহারে বাবাকে হত্যার অভিযোগে ১৯ বছর বয়সী এক তরুণকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সে তার মাকে বাঁচানোর জন্য বুধবার বাবাকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে বলে জানা যায়। পুলিশ একথা জানিয়েছে। পুলিশ জানায়, তরুণটির নাম রাহুল। বাবাকে হত্যার পর সে পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তাকে গ্রেফতার করে। রাহুলের বাবা দিনেশ প্রায়ই মদ খেয়ে মাতাল অবস্থায় বাড়ি ফিরত এবং তার মাকে মারধর করতো। বুধবারও তার বাবা বাড়ি ফিরে স্ত্রীকে পিটাতে শুরু করে। এ সময় রাহুল তাকে শান্ত করার চেষ্টা করলে দিনেশ তার কথা শুনেননি। তখন রেগে গিয়ে রাহুল ছুরিকাঘাত করে তার বাবাকে হত্যা করে।

কিউবার কূটনীতিককে বহিষ্কার করেছে যুক্তরাষ্ট্র

দীর্ঘ ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে চলতে থাকা কিউবার সাথে মার্কিন বৈরি সম্পর্কের উন্নতি যেখানে শুরু হয়েছিল ২০১৫ সালে, সেই সম্পর্কে আবারো অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে এক রহস্যময় কারণে। ওয়াশিংটন থেকে দু'জন কিউবান কূটনীতিককে বহিষ্কার করা হয়েছে। আর তার কারণ হিসেবে হাভানাতে থাকা কয়েকজন মার্কিন দূতাবাস কর্মকর্তার রহস্যময় শারীরিক সমস্যাকে তুলে ধরা হচ্ছে। মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র হিদার নুরেট বলছেন, গত বছরের শেষ দিকে বেশ কিউবায় থাকা কয়েকজন মার্কিন দূতাবাসের কর্মকর্তা কানে কম শুনতে থাকেন। তাদেরকে তখন জোর করেই দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। মার্কিন মুখপাত্র সংবাদ সংস্থা এপি-কে এর কারণ হিসেবে নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেননি। তবে তাদের সন্দেহ যে, কিউবার গোয়েন্দা সংস্থা হয়তো এমন কোনো যন্ত্র সেইসব কর্মকর্তার বাসায় বা কর্মস্থলের কাছাকাছি ব্যবহার করেছিল যার কারণে তাদের এমন শ্রবণ সমস্যা দেখা দিতে পারে। সন্দেহ করা হচ্ছে, সেসব যন্ত্রের সাহায্যে উচ্চ কম্পাঙ্কের শব্দ তরঙ্গ প্রবাহ হয়ে এমন শারীরিক সমস্যা সৃষ্টি করেছে। মিজ নুরেট আরো জানান, যদিও সেসব সমস্যা প্রাণঘাতী নয়, তবু মার্কিন কূটনীতিকদের দেশে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত হয়। আর এই বিষয়টিকে যুক্তরাষ্ট্র সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে নিয়ে তদন্ত করছে। এখন পর্যন্ত দুই কূটনীতিকের বহিষ্কারের বিষয়ে কিউবা সরকার কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

সংসদীয় গণতন্ত্র যেভাবে চলার কথা আমাদের সংসদ তা পারছে না

প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা বলেছেন, সংসদীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা যেভাবে চলার কথা আমাদের সংসদ তা পারছে না। বিভিন্ন কারণে এটি খুবই পরিষ্কার। আমাদের সংবিধানে শুধু মানুষের গণতন্ত্রের কথা বলা হয়নি, বরং প্রতিষ্ঠানের গণতন্ত্রের কথা বিবেচনা করা হয়েছে। কোনো অফিস বা প্রতিষ্ঠানেরই চূড়ান্ত কর্তৃত্ব বা নিরঙ্কুশ ক্ষমতা দেয়া হয়নি। অকার্যকর আর অপরিপক্ব সংসদ, কেনাবেচার সংস্কৃতি প্রভৃতি কারণে উচ্চ আদালতের বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে থাকা উচিত নয়; কারণ সেটি হলে বিচার বিভাগ অতিমাত্রায় রাজনীতিকরণের শিকার হবে। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের কারণে এবং বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিচার বিভাগের এ রাজনীতিকরণ আরো তীব্র আকার ধারণ করবে। বিচার বিভাগ দলীয় হাইকমান্ডের অনুগ্রহের পাত্রে পরিণত হবে। যেসব দেশে গণতন্ত্র সংহত, সংসদীয় ব্যবস্থা ঠিকভাবে কাজ করছে; সেসব দেশেও সংসদ কর্তৃক বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষেত্রে রাজনীতিকরণ হচ্ছে এবং নিরপেক্ষতা বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে না। এ প্রেক্ষিতে আমাদের দেশে বিদ্যমান অবস্থায় সংসদের হাতে এ ক্ষমতা দেয়া হবে চরম আত্মঘাতী পদক্ষেপ। সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করে দেয়া রায়ে প্রধান বিচারপতি এ পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছেন। উচ্চ আদালতের বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে ন্যস্ত করে বর্তমান সরকার সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী পাস করে। উচ্চ আদালতের বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা কেন সংসদের ওপর থাকা উচিত নয়, সে বিষয়ে দীর্ঘ ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে রায়ে। সেখানে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ নিয়ে আলোচনা। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে কোনো দল থেকে কোনো ব্যক্তি মনোনয়ন নিয়ে যদি নির্বাচনে পাস করেন এবং তিনি যদি সংসদে দলের বিরুদ্ধে ভোট দেন তাহলে তার সংসদ সদস্যপদ বাতিল হয়ে যাবে। প্রধান বিচারপতি রায়ে লিখেছেন, সরকার তার মেয়াদ পূর্ণ করা, দলের মধ্যে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং রাজনৈতিক কেনাবেচা বন্ধের জন্য যে এ বিধান করা হয়েছে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু রাজনৈতিক কেনাবেচার সংস্কৃতির কারণে যেখানে একজন সংসদ সদস্যকে তার দলই বিশ্বাস করতে পারে না, সেখানে তারা কী করে বিচারপতিদের অপসারণের মতো গুরুদায়িত্ব পালন করবে? সংবিধানের ১৫তম সংশোধনীর আগে সংসদে সংসদ সদস্য কর্তৃক দলের বিরুদ্ধে ভোট দেয়ার ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে যদি কোনো সংসদ সদস্য সংসদে উপস্থিত থাকেন এবং তিনি দলীয় কোনো বিষয়ে ভোটাভুটির সময় ভোট দানে বিরত থাকেন অথবা দলের নির্দেশনা উপেক্ষা করে সংসদে উপস্থিত না হন তাহলে এটি ধরে নেয়া হবে যে, তিনি দলের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছেন। প্রধান বিচারপতি লিখেছেন, এ মামলায় নিযুক্ত অ্যামিকাস কিউরিদের মধ্যে একমাত্র আজমালুল হক ছাড়া বাকি সব অ্যামিকাস কিউরি এবং মামলার বাদিপক্ষের আইনজীবী মনজিল মোরশেদ একমত যে, উচ্চ আদালতের বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের ওপর ন্যস্ত করে সংবিধানের যে ষোড়শ সংশোধনী পাস হয়েছে তা অতিমাত্রায় রাজনীতিকরণের দিকে নিয়ে যাবে বিচার বিভাগকে। আর সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের কারণে বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিচার বিভাগের এ রাজনীতিকরণ আরো তীব্র আকার ধারণ করবে। প্রধান বিচারপতি বলেন, আমাদের সংসদে নারীদের জন্য ৫০টি সংরক্ষিত আসন রয়েছে যারা সরাসরি জনগণ কর্তৃক নির্বাচিত নন। এ নারী সংসদ সদস্যরাও বিচারপতিদের অপসারণের কাজে জড়িত হবেন, যা কোনোভাবেই পরিপক্ব সংসদীয় ব্যবস্থায় গ্রহণযোগ্য নয়। এরপর তিনি লিখেছেন, অন্যভাবে দেখলে এটি খুবই পরিষ্কার (ন্যাকেডলি কিয়ার) যে, সংসদীয় গণতন্ত্র যেভাবে কাজ করার কথা, আমাদের সংসদ তা করতে পারছে না। সংসদে নতুন আইন তৈরির পরিবর্তে বিভিন্ন সময়ে একের পর এক অধ্যাদেশকে আইনে পরিণত করার দৃষ্টান্ত দিয়ে প্রধান বিচারপতি বলেছেন, নির্মম সত্য হলো সংসদ তার মূল কার্যক্রম পরিচালনায় পুরোপুরি অক্ষম, অথচ তারা এখন সুপ্রিম কোর্টকে শেখাতে চায়। তিনি বলেন, সংসদে ৫০টি সংরক্ষিত মহিলা আসনের বিধান রাখার পেছনের কারণ হিসেবে যেটি প্রাধান্য পেয়েছে তা হলো সংসদের আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় নারীদের অংশগ্রহণে উদ্বুদ্ধ করা। আর যেহেতু আমাদের গণতন্ত্র এখনো যথেষ্ট পরিপক্ব হয়নি, তাই সংসদে আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় নারীদের অংশগ্রহণ করার জন্য সরাসরি নির্বাচনের পরিবর্তে তাদের জন্য আসন সংরক্ষণ করা হয়েছে। তারা নির্বাচিত হন অপর ৩০০ নির্বাচিত সংসদ সদস্যের মাধ্যমে। তিনি বলেন, যেসব দেশে বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে রয়েছে, সেসব দেশের অভিজ্ঞতা খুবই মর্মান্তিক। উচ্চ আদালতের বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষেত্রে যেসব পদ্ধতি অনুসরণ করার কথা তার পরিবর্তে ওই সব দেশে রাজনীতিকরণই বেশি হয়েছে এবং দেশে-বিদেশে তা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা রয়েছে। প্রধান বিচারপতি লিখেছেন, সংসদের সার্বভৌমত্ব বিষয়ে ভুল ধারণা প্রচলিত রয়েছে। মূলত সংসদীয় গণতন্ত্রে সংসদ এবং সংসদের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে মন্ত্রিসভা। যতক্ষণ পর্যন্ত দল ক্ষমতায় ততক্ষণ পর্যন্ত দলই সংসদের বেশির ভাগ সদস্যদের নিয়ন্ত্রণ করে। মন্ত্রিসভাই সংসদের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখে। সংসদে কী আলোচনা হবে, কখন তা আলোচনা হবে, কতক্ষণ ধরে আলোচনা চলবে এবং শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত হবে সবই নিয়ন্ত্রণ করে মন্ত্রিসভা। সংসদের সব বিলই পাস হয় মন্ত্রীদের সৌজন্যে- যাদের ওপর বিভিন্ন সঙ্ঘবদ্ধ শ্রেণী ও স্বার্থান্বেষী মহলের চাপ থাকে, যারা সংসদের মাধ্যমে অনেক কিছু প্রতিকার করতে চায়। মন্ত্রী ছাড়াও একজন সংসদ সদস্য সংসদে আইন পাসের জন্য বিল আনতে পারেন। কিন্তু সরকারের সমর্থন ছাড়া তা পাস হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। সংসদের বেশির ভাগ সময় ব্যয় হয় সরকারি কার্যক্রমের মাধ্যমে। সপ্তাহে এক দিন মাত্র বরাদ্দ থাকে প্রাইভেট বিলের জন্য। প্রধান বিচারপতি লিখেছেন, অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম আদালতে যুক্তি পেশ করে বলেছেন, বিচারপতিদের জবাবদিহির ব্যবস্থা জনপ্রতিনিধিদের হাতে থাকা উচিত। তাদের নিজেদের জবাবদিহি নিজেদের কাছে থাকা আইনের শাসনের লঙ্ঘন। ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডার উদাহরণ টেনে তিনি বলেছেন, সেসব দেশের বিচারপতিরা গর্ববোধ করেন যে, তারা অন্য কারো কাছে নয় বরং জনপ্রতিনিধিদের কাছে দায়বদ্ধ। তিনি বলেছেন, বিচারপতি হতে আগ্রহী কোনো সম্ভাব্য প্রার্থী যদি নিজেকে জনপ্রতিনিধির তুলনায় অতি বড়, অতি মহান ও অতি উচ্চতর ভেবে থাকেন; তাহলে তাকে বিচার বিভাগে স্বাগত জানাই না। এমন কেউ থাকলে তিনি পদত্যাগ করতে পারেন। আজমালুল হকও তার সাথে সুর মিলিয়ে বলেছেন, বিচারপতিদের অপসারণের বিষয় বিচার বিভাগের হাতে ন্যস্ত থাকলে তাদের বিষয়ে জনসাধারণের যে ধারণা রয়েছে তা মুছে যাবে। তিনি লর্ড অ্যাকটনের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছেন, সর্বময় ক্ষমতা দুর্নীতিতে উদ্বুদ্ধ করে আর নিরঙ্কুশ ক্ষমতা নিরঙ্কুশ দুর্নীতির জন্ম দেয়। প্রধান বিচারপতি বলেন, এখন প্রশ্ন হলো ক্ষমতার চর্চা নিয়ন্ত্রণ করবে কে? লর্ড ড্যানিং বলেছেন, কাউকে না কাউকে অবশ্যই বিশ্বাস করতে হবে। চলুন আমরা বিচারপতিদের বিশ্বাস করি। অ্যাটর্নি জেনারেল খুবই নির্দয় মন্তব্য করেছেন বিচারপতিদের সম্পর্কে। যদি বিচারপতিদের প্রতি তার বা সরকারের আস্থা না থাকে তাহলে আমি বলব তিনি (অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম) ভ্রান্ত (রং)। অ্যাটর্নি জেনারেলের উচিত তার মক্কেলকে (সরকার) এ কথা বলা যে, সরকারের মনোভাব যদি এই হয় যে, বিচারপতিরা স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নন তাহলে দেশে বিশ্বাস করার মতো আর কেউ নেই। অধিকন্তু আমরা যদি অ্যাটর্নি জেনারেলের যুক্তি মেনে নেই তাহলে বলতে হয় বিশ্বের বেশির ভাগ দেশের সংবিধান বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষেত্রে সংসদের হাতে ক্ষমতা না দিয়ে ভুল করেছে। এ ছাড়া আজমালুল হকও বিচারপতি ও উচ্চ আদালতের বিচারপতিদের সম্পর্কে নির্দয় ও ক্ষতিকর মন্তব্য করেছেন। লিখিত আর্গুমেন্টে তিনি বলেছেন, যেহেতু এ মামলায় বিচার বিভাগের স্বার্থ জড়িত রয়েছে তাই খুবই সতর্কতার সাথে এর সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত। প্রধান বিচারপতি লিখেছেন, তার (আজমালুল হক) এ মন্তব্যে আমরা হতবাক ও বিস্মিত। তার মতো একজন সিনিয়র আইনজীবী যদি বিচার বিভাগ সম্পর্কে এ ধারণা পোষণ করেন, তাহলে আমরা বলব- উই ফিল স্যরি ফর হিম। প্রধান বিচারপতি এরপর বলেন, বিচারপতিদের যদি কোনো বিষয়ে কোনো স্বার্থ থাকে তাহলে সংবিধান থেকে ৭ (২), ২৬, ৯৪ (৪), ১০২ ও ১১৬ ক ধারা মুছে ফেলা উচিত। প্রধান বিচারপতি লিখেছেন, বরং রাজনৈতিক সরকারের স্বার্থ রয়েছে বিবদমান অনেক বিষয়ে। প্রধান বিচারপতি লিখেছেন, সংবিধান অনুযায়ী উচ্চ আদালত নির্বাহী ও আইন বিভাগ থেকে আলাদা এবং সম্পূর্ণ স্বাধীন। সংবিধান ও আইনানুযায়ী বিচারপতিরা তাদের অর্পিত দায়িত্ব পালন ও ক্ষমতা প্রয়োগে বিবেক ছাড়া কারো কাছে দায়বদ্ধ নন। এরপর বিচারপতি, বিচারকদের দায়-দায়িত্ব, জবাবদিহিতা বিষয়ে বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করে তিনি বলেছেন- আইন, সংবিধান ও জনগণের কাছে তারা দায়বদ্ধ হতে পারেন। আর জনসাধারণ ও গণমাধ্যম বিচার বিভাগের সমালোচনা করতে পারে। প্রধান বিচারপতি লিখেছেন, নির্বাহী বিভাগের অনেকের বিরুদ্ধে এবং অনেক সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধেও মামলা রয়েছে। বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদ সদস্যদের হাতে থাকলে এসব মামলা নিরপেক্ষভাবে পরিচালিত হতে পারে না। তা ছাড়া কোনো সংসদ সদস্য নির্বাচনে কারচুপি বা যেকোনো অনিয়মের অভিযোগের মামলাও নিষ্পন্ন করতে হয় হাইকোর্টে। এ অবস্থায় উচ্চ আদালতের বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে ন্যস্ত করার উদ্যোগ বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে ধ্বংস করার শামিল। তিনি বলেন, একমাত্র জনগণই হলো সার্বভৌম এবং সংবিধানই হলো সর্বোচ্চ। অন্য সব প্রতিষ্ঠান সংবিধানে বর্ণিত বিষয়াবলি বাস্তবায়নের হাতিয়ার বা সংস্থা মাত্র। আমাদের সংবিধানে শুধু মানুষের গণতন্ত্রের কথা বলা হয়নি, বরং প্রতিষ্ঠানের গণতন্ত্রের কথা বিবেচনা করা হয়েছে। কোনো অফিস বা প্রতিষ্ঠানেরই চূড়ান্ত কর্তৃত্ব বা নিরঙ্কুশ ক্ষমতা নেই। প্রধান বিচারপতি লিখেছেন, সংসদকে সার্বভৌম দাবি করা হলে তা হবে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত আইনের সাথে সরাসরি সাংঘার্ষিক এবং এ আদালত এর সাথে একমত পোষণ করছে।

খালেদা জিয়ার চোখে অস্ত্রোপচার

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার চোখে অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার বিএনপির চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, ৮ আগস্ট লন্ডনের মাইনহেড হাসপাতালে তাঁর ডান চোখে অস্ত্রোপচার করা হয়। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, এই অস্ত্রোপচার সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। খালেদা জিয়া দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন। গত ১৫ জুলাই চোখ ও পায়ের চিকিৎসা করাতে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া যুক্তরাজ্যে যান। গত ১৫ জুলাই সন্ধ্যার পর লন্ডনের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন খালেদা জিয়া। এরপর বাংলাদেশ সময় ১২টা ৫০ মিনিটে  হিথ্রো বিমানবন্দরে নামেন খালেদা। এসময় দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ও বড় ছেলে তারেক রহমান তাকে বিমানন্দরে স্বাগত জানান। সঙ্গে নেতাকর্মীরাও ছিলেন। খালেদা জিয়ার লন্ডন যাত্রা উপলক্ষে তাঁকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিদায় জানান দলের নেতারা। পরে সাংবাদিকদের বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘আমরা পরিষ্কার বলতে চাই, তিনি (খালেদা জিয়া) চিকিৎসার জন্য যাচ্ছেন। চিকিৎসাই একমাত্র উদ্দেশ্য। সেখানে যেহেতু আমাদের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান আছেন এবং তিনি আমাদের নেত্রীর সন্তান। সেখানে আলাপ-আলোচনা হবে এ নিয়ে জল্পনা-কল্পনার কিছু নেই।’ খন্দকার মোশাররফ সেদিন আরো বলেন, ‘অতি শিগগির খালেদা জিয়া চিকিৎসা শেষ করে দেশে ফিরে আসবেন। দেশে ফিরে এসে নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের রূপরেখা দেওয়ার কথা। তিনি ফিরে এসে সে রূপরেখা দেবেন।’ কিন্তু এর দুদিনের মাথায় সচিবালয়ে এক অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘মামলার ভয়ে একজন অনেক আগে থেকেই লন্ডনে আছেন। আর দলের শীর্ষ নেত্রী মামলার ভয়েই লন্ডনে টেমস নদীর পাড়ে চলে গেছেন।
তিনি (খালেদা জিয়া) আর ফিরে আসবেন কি না, এ নিয়ে চারদিকে সন্দেহ ঘনীভূত হচ্ছে। সবার মধ্যে আলোচনা চলছে।’ এরপর গত ৩০ জুলাই ওবায়দুল কাদের খালেদা জিয়ার সফর নিয়ে আবারো মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডন সফরে থাকা বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া সেখানে কী করছেন, সেই ব্যাপারে খোঁজ-খবর নেওয়া হচ্ছে।  তিনি বলেন, খালেদা জিয়া ও তাঁর ছেলে তারেক রহমানের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। ‘তারা (বিএনপি) ষড়যন্ত্রের চোরাবালি খুঁজছে। লন্ডনে তাঁরা (খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান) কী করছে, তার খোঁজখবর আমরা নিচ্ছি। সরকারি ও দলীয়ভাবে আমরা বিভিন্নভাবে খোঁজখবর নিচ্ছি।’ দুপুরে রাজধানীর ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের সম্পাদকমণ্ডলীর সভা শেষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান ওবায়দুল কাদের। খালেদা জিয়া ২০১৫ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্য গিয়ে খালেদা জিয়া প্রায় দুই মাস ছিলেন। সেখানে বড় ছেলে তারেক রহমান, তাঁর স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান, তারেকের মেয়ে জাইমা রহমান ছাড়াও ছোট ছেলে প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শার্মিলা রহমান, দুই মেয়ে জাহিয়া রহমান ও জাফিয়া রহমানও আছেন। যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনে প্রায় দুই মাস অবস্থান করবেন বিএনপি চেয়ারপারসন। ২০০৬ সালে ক্ষমতা হারানোর পর যুক্তরাজ্যে খালেদা জিয়ার এটি তৃতীয় সফর।

বেসিক ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ও হার উভয়ই বেড়েছে

বেসিক ব্যাংকের আর্থিক পরিস্থিতির অবনতি অব্যাহত রয়েছে। গত এক বছরে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ ও হার উভয়ই বেড়েছে। কিন্তু আদায় কমে গেছে। সরকার মূলধন ঘাটতি মেটাতে কয়েক দফা অর্থ বরাদ্দ দিয়েছে। কিন্তু তাতেও ব্যাংকটিতে পরিস্থিতির পতন থামছে না। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যানে দেখা যায়, গত জুন শেষে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ বেড়ে হয়েছে ৭ হাজার ৩৯০ কোটি টাকা, যেখানে আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৬ হাজার ৭৫২ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৬৩৮ কোটি টাকা, যা শতকরা হিসেবে প্রায় ৫৩ ভাগ। বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বেসিক ব্যাংকের খেলাপি ঋণ বেড়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ- যে সব ঋণ নবায়ন করা হয়েছিল ওই ঋণ আদায় না হওয়ায়। অপর দিকে অনেকেই ঋণ নবায়ন করার পর মিল কারখানা চালু করেছিল। কিন্তু দুদকের ভয়ে আবার তাদের অনেকেই পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। ফলে তারা ঋণ পরিশোধ করতে পারছেন না। সবমিলে সামগ্রিক খেলাপি ঋণ বেড়ে গেছে। ব্যাংকটির সামগ্রিক চিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, গত তিন মাসেই (এপ্রিল-জুন) ব্যাংকটি খেলাপি ঋণ অবলোপন করেছে ২১৩ কোটি টাকা। কিন্তু অবলোপনকৃত ঋণের বিপরীতে এক টাকাও আদায় হয়নি। আর তিন মাসে খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিল করেছে ২৯১ কোটি টাকা। কিন্তু আদায়ের হার আগের মতো বাড়েনি। এক পরিসংখ্যান মতে, গত তিন মাসে খেলাপি ঋণ আদায় হয়েছে মাত্র ৬০ কোটি টাকা, আর অশ্রেণীকৃত ঋণ আদায় হয়েছে ৭৮৭ কোটি টাকা। এ বিষয়ে বেসিক ব্যাংকের চেয়ারম্যান আলাউদ্দীন এ মজীদ গতকাল নয়া দিগন্তকে জানিয়েছেন, প্রধান দু’টি কারণে খেলাপি ঋণ বেড়ে গেছে। এর একটি কারণ হলো খেলাপি ঋণের বিপরীতে প্রতি বছরই সুদ আরোপ হচ্ছে। বছর শেষ হলেই আরোপিত সুদ মূল খেলাপি ঋণের সাথে যুক্ত হয়ে সামগ্রিক পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে। অপর দিকে, গত আমলে যেসব ঋণ বিতরণ করা হয়েছিল ওইসব ঋণের একটি বড় অংশ বেনামি বা ভুয়া প্রকল্পে বিতরণ করা হয়েছিল। এসব ঋণের স্বীকৃতি দেয়ার জন্য ওইসব ঋণ পুনঃতফসিল করার সুযোগ দেয়া হয়েছিল। এতে আদায় কিছুটা বেড়েছিল।
কিন্তু পুনঃতফসিলকৃত ঋণের কিছু অংশ আদায় না হওয়ায় ওইসব ঋণ আবার নতুন করে খেলাপি হচ্ছে। সবমিলিয়ে খেলাপি ঋণ বেড়ে গেছে। তবে নতুন করে ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে খুবই সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। গ্রাহকের ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা যাচাই- বাছাই শেষে বিতরণ করায় নতুন বিতরণ করা ঋণ আর খেলাপি হচ্ছে না। বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, খেলাপি ঋণ কাক্সিত হারে আদায় না হলেও গত বছর (২০১৬) ব্যাংকটি পরিচালন মুনাফা দেখিয়েছে ১৫ কোটি টাকা। বেসিক ব্যাংককে ঋণের বিপরীতে আয় করতে হলে আমানতের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি সুদে ঋণ দিতে হবে। কেননা আমানতের বিপরীতে যে ব্যয় হচ্ছে খেলাপি বাদ দিয়ে বাকি ঋণের বিপরীতে তার চেয়ে বেশি আয় করতে হবে। আমানতের খরচ তোলা তো দূরের কথা, উল্টো ঋণের গড় সুদহারের তুলনায় আমানতে বেশি খরচ হচ্ছে ব্যাংকটির। এতে গত বছরের অনেক মাসে এই ব্যাংক আমানতের গড় যে সুদহার ছিল, ঋণ বিতরণ করেছে তার চেয়ে কম সুদে। ঋণ ও বিনিয়োগের বাইরে ব্যাংকগুলোর আয়ের আরেকটি উৎস কমিশন ও চার্জ থেকে পাওয়া অর্থ। নানা অনিয়ম নিয়ে ব্যাপক আলোচনায় থাকায় দেশের বাইরে বেশির ভাগ ব্যাংক এখন আর সরাসরি বেসিক ব্যাংকের এলসি নিচ্ছে না। যে কারণে ব্যাংকটি এখন সোনালীসহ বিভিন্ন ব্যাংকের মাধ্যমে এলসি খুলছে। ফলে কমিশন বা চার্জ থেকেও তেমন আয় হয় না। আবার খেলাপি ঋণের বিপরীতে প্রভিশন সংরক্ষণ করতে হয়। আর এ প্রভিশন সংরক্ষণ করা হয় ব্যাংকের আয় খাত থেকে অর্থ এনে। ব্যাংকটি বিভিন্ন খাত থেকে যে আয় করছে খেলাপি ঋণের বিপরীতে প্রভিশন সংরক্ষণ করতেই তার একটি বড় অংশ চলে যাচ্ছে। সব মিলিয়ে সামগ্রিকভাবে ব্যাংকটির আয়ের ওপর প্রভাব পড়ছে।

সড়ক দুর্ঘটনায় রাজধানীতে নিহত ৩

রাজধানীতে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় তিনজন নিহত হয়েছেন। গতকাল বুধবার রাতে কাওলা, মিরপুর ও উত্তরায় এসব দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত তিনজনের মধ্যে দুজনের পরিচয় জানা গেছে। তাঁরা হলেন হাবিবুর রহমান ও হাবিবুর রহমান হাবু (১৪)। অপরজন নারী। তাঁর পরিচয় পাওয়া যায়নি। ঢাকা মেডিকেল কলেজ পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) বাচ্চু মিয়া এসব ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। গতকাল রাত ১০টার দিকে মিরপুরের শাহআলী মাজারের সামনে ট্রাকচাপায় আহত হন হাবিবুর রহমান নামের এক পোশাকশ্রমিক। পরে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হলে রাত ১২টায় কর্তব্যরত চিকিৎসা কর্মকর্তা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। তাঁর লাশ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। নিহত হাবিবুর রহমান সাভারের হেমায়েতপুরে একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। বিমানবন্দর থানাধীন কাওলা এলাকা থেকে গতকাল রাতে অজ্ঞাত এক নারীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বিমানবন্দর থানার এএসআই জাহাঙ্গীর জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় ওই নারীর মৃত্যু হয়েছে। তবে কীভাবে এ ঘটনা ঘটেছে, তা এখনো জানা যায়নি। তার লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রাখা হয়েছে।  গতকাল রাত ১২টার দিকে উত্তরা ১ নম্বর সেক্টরে ভিআইপি পরিবহনের চাপায় এক কিশোর নিহত হয়। দিবাগত রাত দুইটায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাঁর লাশ আনা হয়।  নিহত কিশোরের নাম হাবিবুর রহমান হাবু। সে তুরাগ এলাকার জর্দা তৈরির একটি কারখানায় কাজ করত। বাবার নাম আনোয়ারুল ইসলাম।

‘মাসে এক-দুই হাজার করে টাকা জমিয়ে হজে’

বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর যে হাজার হাজার মানুষ সৌদি আরবে হজ পালন করতে যান, তাদের একটি বিরাট অংশই সারাজীবনের উপার্জন থেকে অল্প অল্প করে সঞ্চয় করেন এর অর্থ। বেশিরভাগেরই থাকেনা বিদেশে যাবার পূর্ব অভিজ্ঞতা। চলতি বছর বহু বাংলাদেশীর হজযাত্রা নিয়ে যে বিড়ম্বনার খবর আসছে, তাদেরও অধিকাংশই এরকম বাংলাদেশী মধ্যবিত্ত, যারা প্রায় সারাজীবন ধরে আর্থিক, মানসিক ও শারিরীক প্রস্তুতি নিয়েছেন। তেমনই একজন ঢাকার দনিয়া এলাকার একটি বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মোহাম্মদ রাশেদুল হাসান। তিনি এবার হজ্বে যাচ্ছেন। শিক্ষক রাশেদুল হাসান বহু বছর ধরে হজযাত্রার প্রস্তুতি নিয়েছেন। তার হজযাত্রায় ব্যয় হচ্ছে প্রায় আড়াই লাখ টাকার মতো। আর সাথে নিয়ে যাবেন সত্তর হাজার টাকার মতো। "এই টাকা জোগাড় করা সহজ ছিল না। কঠিন ছিল আমার জন্য। অনেক বছর ধরে আমি টাকা জমাচ্ছিলাম। মানুষ ফ্ল্যাট কেনার জন্য টাকা জমায়। আমি হজের জন্য জমাইছি। আমার ইনকাম থেকে প্রতি মাসে এক-দুই হাজার করে টাকা জমিয়েছি"- বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন রাশেদুল হাসান। নিজের বাবার হজ করার ইচ্ছা থেকে রাশেদুল হাসানের তাড়াতাড়ি হজের প্রতি আগ্রহ জন্মায়। "আমার আব্বার খুব ইচ্ছা ছিল হজ করবার। তিনিও টাকা জমিয়েছিলেন অনেকদিন ধরে। এই মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন তিনি। অবসরগ্রহণের শেষ পর্যন্ত লাখখানেক টাকা জমাতে পারলেও শারিরীক অবস্থার জন্য তিনি আর হজে যেতে পারলেন না। এটা ২০০৯ সালের কথা। আব্বার অবস্থা দেখে আমার মনে হলো তাড়াতাড়ি আমাকে যেতে হবে। কারণ আমিও শারিরীক সক্ষমতা হারিয়ে ফেলতে পারি"- বলছিলেন শিক্ষক রাশেদুল হাসান। কষ্ট করে টাকা জমিয়ে হজের ইচ্ছা পূরণ করছেন এই শিক্ষক।
পরিবারের জন্য দুই মাসের খরচ রেখে হজে যাচ্ছেন মি: হাসান। "মনের মধ্যে ভিন্ন এক অনুভূতি কাজ করছে। এর আগেতো কখনো বিদেশ যাইনি। তারপর হজ করতে যাচ্ছি। কেমন যে একটা ফিলিংস বুঝানো যাচ্ছে না" -নিজের অনুভূতি এভাবেই প্রকাশ করেছেন শিক্ষক রাশেদুল হাসান। হজ থেকে কত টাকা আয় করে সৌদি আরব? সারা পৃথিবী থেকে লক্ষ লক্ষ মুসলমান প্রতি বছর হজ করতে সৌদি আরবে যান। আর ঠিক ওই সময়টাতেই সৌদি আরবের আর্থিক লেনদেনের হার অনেকটাই বেড়ে যায়। অনেকের মনেই এই প্রশ্নটা আসে যে সৌদি আরবে হজ আর আল-উমরাহ-করতে যেসব মুসলমান যান, তাঁদের কাছ থেকে দেশটি আসলে কত অর্থ রোজগার করে? সৌদি আরবের অর্থনীতির কত ভাগ এই রোজগার থেকে আসে? এই বিষয় নিয়ে বিবিসির ফার্সি বিভাগের আলী কাদিমি বিশেষ প্রতিবেদন তৈরি করেছেন। অর্থের অঙ্ক বের করতে গেলে প্রথমেই দেখা দরকার -হজ করতে ঠিক কত সংখ্যক মুসলমান সৌদি আরবে যান? গত বছর মোট ৮৩ লক্ষ মানুষ হজ করতে গিয়েছিলেন। এঁদের মধ্যে ৬০ লাখেরও বেশি মানুষ আল-উমরাহতেও গিয়েছিলেন। গত এক দশকে গড়ে ২৫ লক্ষ মুসলমান হজ করেছেন। এর মধ্যে আবার দুটি বিষয় খেয়াল রাখতে হবে। প্রথমত, বছরে একটা নির্দিষ্ট সময়েই হজ করা যায়। আর দ্বিতীয়ত, প্রতিটি দেশ থেকে কত মানুষ হজে আসবেন, তার একটা কোটা নির্ধারণ করে দেয় সৌদি আরব। এটাও মাথায় রাখতে হবে যে সৌদি আরবের বাসিন্দাদের একটা বড় অংশও কিন্তু হজে যান। যদিও তাঁরা বিভিন্ন দেশের নাগরিক হতেই পারেন। গত বছর সৌদি আরবের যত বাসিন্দা হজে গিয়েছিলেন, সেই সংখ্যাটা অন্যান্য দেশ থেকে আসা মুসলমানদের সংখ্যার প্রায় অর্ধেক। কিন্তু গত দশ বছর ধরেই মোটামুটিভাবে হাজিদের এক তৃতীয়াংশই সৌদি আরবের বাসিন্দা। এর একটা কারণ মক্কা খুব কাছে। তাই ধর্মীয় কর্তব্য মনে করে বেশ সস্তায় হজ সেরে নেন অনেকে। হজে একটা নির্দিষ্ট সময়ে যাওয়া গেলেও সারা বছর ধরে উমরাহ করতে যাওয়া যায়। যেমন গত বছরই প্রায় ৬০ লক্ষ মানুষ উমরাহ করতে গিয়েছিলেন। নানা দেশ থেকে যাঁরা সৌদি আরবে গেছেন, তাঁদের প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষই উমরাহ করতে গেছেন। সাত বছর আগে উমরাহ করতে যাওয়া মানুষের সংখ্যা ছিল ৪০ লক্ষের কাছাকাছি। সৌদি আরবের হিসাব অনুযায়ী আগামী চার বছরের মধ্যে সংখ্যাটা বেড়ে এক কোটি ২০ লক্ষ হয়ে যাবে। গত বছর হজ থেকে সৌদি আরবের সরাসরি রোজগার হয়েছিল প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলার। সৌদি আরবে যাওয়া তীর্থযাত্রীরা মোট ২৩ বিলিয়ন ডলার খরচ করেছিলেন ওখানে গিয়ে। এই অর্থের একটা বড় অংশ কিন্তু সৌদি অর্থনীতিতেই যোগ হচ্ছে। মক্কার চেম্বার অব কমার্সের পরিসংখ্যান অনুযায়ী বাইরের দেশ থেকে আসা মুসলমানরা মাথাপিছু ব্যয় করেন ৪৬০০ ডলার, আর স্থানীয়রা মাথাপিছু প্রায় ১৫০০ ডলার ব্যয় করেন। তবে একেক দেশ থেকে আসা হজযাত্রীদের জন্য আবার একেক রকম খরচ। যেমন ইরান থেকে আসা মানুষদের মাথাপিছু ৩০০০ ডলার খরচ লাগে। এর মধ্যে যাত্রা, খাওয়া, কেনাকাটা সব খরচই ধরা হয়। পাকিস্তান, বাংলাদেশের যাত্রীদেরও মোটামুটি একইরকম খরচ হয়। ইরান থেকে আসা এক হজ যাত্রী নাম উল্লেখ না করার শর্তে বিবিসির ফার্সী বিভাগকে জানিয়েছেন যে এ বছর তাঁর হজের বাজেট প্রায় আট হাজার ডলার। এর মধ্যে নিশ্চয়ই তাঁর ব্যক্তিগত খরচও ধরা আছে। তবে কোনো না কোনোভাবে অর্থটা সৌদি অর্থনীতিতেই ঢুকছে। বিভিন্ন দেশের মধ্যে ইন্দোনেশিয়ার কোটাই সবচেয়ে বেশি। সেখান থেকে দুই লক্ষ কুড়ি হাজার মানুষ প্রতি বছর হজে যান। এটা মোট হজযাত্রী সংখ্যার প্রায় ১৪ শতাংশ। এরপরেই রয়েছে পাকিস্তান (১১%), ভারত (১১%) আর বাংলাদেশ (৮%)। নাইজেরিয়া, ইরান, তুর্কি, মিশর -এই দেশগুলোরও কোটা মোটামুটি একই রকম। অপরিশোধিত তেল বিক্রি করে সৌদি আরবের যা রোজগার হয়, তার থেকেও বেশি আয় করে তারা হজ থেকে। তবে তারা চেষ্টা করছে তেল বিক্রি করে তাদের আয় আরও বাড়াতে। ইন্টারন্যাশনাল মনিটারি ফান্ড বা আইএমএফ ধারণা করছে, তেল উৎপাদন কম করার ব্যাপারে ওপেক যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তার ফলে সৌদি আরবের অর্থনৈতিক উন্নয়নের হার এ বছর শূন্যে নেমে যাবে। সেদেশের সরকার সেই ক্ষতিটা অন্যান্য ক্ষেত্র থেকে পুষিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করবে। যার মধ্যে একটা বড় ক্ষেত্র হলো ধর্মীয় পর্যটন থেকে আয়।

রাজধানীতে যুবক খুন

ঢাকার মোহাম্মদপুরে ছুরিকাঘাতে এক যুবক খুন হয়েছেন। বুধবার রাত ১টার দিকে চান মিয়া হাউজিং এলাকায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। মোহাম্মদপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. হাফিজুর রহমান জানান, মো. তসির নামের ২৮ বছর বয়সী ওই যুবকের লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। স্থানীয়দের বরাত দিয়ে এই পুলিশ কর্মকর্তা জানান, ওই এলাকার ‘চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা’ তসিরকে ছুরি মেরে পালিয়ে যায়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তসিরকে মৃত ঘোষণা করেন। তিনি জানান, কেবল টিভির ব্যবসায় থাকা একটি গ্রুপের সঙ্গে সে কাজ করত বলে জানতে পেরেছি। ওই ব্যবসায় বিরোধের জেরেই তাকে খুন করা হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

রোগীর চোখের ভেতরে ৮ পাথর

ঠাকুরগাঁওয়ে এক রোগীর চোখের ভেতরে আটটি পাথর পাওয়া গেছে। ডায়াবেটিক সমিতি’র হাসপাতালে আগত এই রোগীর এক চোখ অপারেশন করে ৮ টি পাথর বের করা হয়েছে বলে চিকিৎসকরা জানান। বুধবার চক্ষু বিশেষজ্ঞ ও সার্জন ডা. ইসলাম হোসেন সরকার এই অপারেশন করে পাথর বের করেন। এবিষয়ে জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট চিকিৎসকরা জানান, দেশে চক্ষু বিজ্ঞানে বিরল একটি ঘটনা। একটি চোখ থেকে অপারেশন করে ৮ পাথর বের করা সম্ভবত বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম। রোগীর স্বজনরা জানান, ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা দৌলতপুর গ্রামের পুতুল রানী (২৪) দীর্ঘদিন থেকে চোখের সমস্যায় ভুগছিলেন। মঙ্গলবার স্বাস্থ্যসেবা হাসপাতালে চক্ষু চিকিৎসক ডা. ইসলাম হোসেন সরকার তার চোখ দেখালে ডাক্তার অপারেশন করানোর পরামর্শ দেন। বুধবার অপারেশন করতে গিয়ে ডাক্তার রোগীর চোখে বেশ কিছু পাখরের সন্ধান পান। পরে চোখ অপারেশন করলে এক চোখের ভেতরেই আটটি পাথর পাওয়া যায়। ঠাকুরগাঁও স্বাস্থ্যসেবা হাসপাতালের চিপ কনসালটেন্ট, চক্ষু বিশেষজ্ঞ ও সার্জন ডা. ইসলাম হোসেন সরকার বলেন, প্রাথমিকভাবে চোখের নীচে ফোলা দেখে আমরা মনে করেছিলাম চোখে টিউমার রয়েছে। পরে অপারেশন করে ছোট ছোট অনেকগুলো সাদা রঙের ৮ পাথর বের হয়। বুধবার ঠাকুরগাঁও স্বাস্থ্যসেবা হাসপাতালে এ বিষয়ে সাংবাদিকদের সাথে চিকিৎসকরা কথা বলেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন- ঠাকুরগাঁও স্বাস্থ্যসেবা হাসপাতাল ডায়াবেটিস সমিতির সভাপতি অধ্যক্ষ রাজিউর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল গোফরান, চিকিৎসক ডা. ইসলাম হোসেন সরকার, সাংবাদিক মনসুর আলী প্রমুখ।
চোখের বিভিন্ন সমস্যায় চিকিৎসকরা যা বলেন
চিকিৎসকরা চোখের কিছু রোগ সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা দিয়েছেন। তারা বলছেন লক্ষণ ভেদে খুব সহজেই চোখের অনেক সমস্যা অল্পতেই সমাধান সম্ভব।   চোখ দিয়ে পানি পড়ার কারণ সম্পর্কে তারা বলছেন, স্বাভাবিক চোখ সবসময় একটু ভেজা থাকে। অতিরিক্ত পানি চোখের ভেতরের কোনায় অবস্থিত নল (নেত্রনালী) দিয়ে নাকে চলে যায় এবং শোষিত হয়। কোন কারণে চোখে অতিরিক্ত পানি তৈরী হলে, অথবা নেত্রনালী বন্ধ হয়ে গেলে চোখের পানি উপচে পড়ে, একে লেক্রিমেশন বা এপিফোরা বলে। শিশুর জন্মের পর পর যদি নেত্রনালী বন্ধ থাকে, সেক্ষেত্রে চোখ হতে পানি পড়তে পারে। এক্ষেত্রে সাধারণত: এক বছরের মধ্যে আপনি আপনিই নেত্রনালী খুলে গিয়ে পানি পড়া ভাল হয়ে যায়। তরুণ বয়সে নেত্রনালীর প্রদাহজনিত কারণে নেত্রনালী সরু হয়ে চোখ হতে পানি পড়তে পারে। এইক্ষেত্রে নেত্রনালীতে ইনফেকশন হয়ে পূঁজ জমতে পারে। চোখের ভেতরের কোনায় চাপ দিলে পানি ও পূঁজ বের হতে পারে। বয়স্ক লোকের নেত্রনালী বয়সজনীত পরিবর্তনের কারণে সরু হয়ে যেতে পারে। এছাড়াও বয়সের কারণে চোখের চারদিকের মাংশপেশী দূর্বল হবার কারণেও নেত্রনালী অকার্যকর হয়ে চোখ হতে পানি পড়তে পারে। এছাড়াও নেত্রনালীর সমস্যা  ছাড়াও চোখের এ্যালার্জী, চোখ ওঠা রোগ, গ্লুকোমা, কর্ণিয়ার ঘা, চোখের আঘাত ইত্যাদি বিভিন্ন কারণে যে কোন বয়স চোখ দিয়ে পানি পড়তে পারে। অতিরিক্ত সর্দি হলে নাকের প্রদাহের কারণে নেত্রনালীর ছিদ্র মুখ বন্ধ হয়ে চোখ হতে পানি পড়তে পারে। এর করণীয় সম্পর্কে তারা বলেন, শিশুদের ক্ষেত্রে নেত্রনালীর সমস্যার কারণে চোখ হতে পানি পড়লে ডাক্তারের পরামর্শে চোখের কোনায় মালিশ এবং এন্টিবায়োটিক ড্রপ ব্যবহারে বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে পানি পড়া বন্ধ হয়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে প্রোবিং সার্জারীর মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান করতে হয়। তরুণ বয়সে নেত্রনালীর সমস্যার কারণে চোখ হতে পানি পড়লে নিয়মিত ডাক্তারের পরামর্শে এন্টিবায়োটিক ড্রপ, কোন কোন ক্ষেত্রে এন্টিবায়োটিক / স্টেরইড এর মিশ্রন ব্যবহার করলে এ সমস্যা অনেকাংশে লাঘব হয়। চোখে জমে থাকা পূঁজ চোখের কোনায় চাপ দিয়ে নিয়মিত পরিস্কার করা প্রয়োজন। ওষুধে ভাল না হলে 'ডিসিআর' অপারেশনের মাধ্যমে বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই এ সমস্যার সম্পূর্ণ সমাধান সম্ভব। বেশী বয়স্কদের নেত্রনালী সংকুচিত হওয়ার কারণে ডিসিআর অপারেশন করা সম্ভব হয়না। সেক্ষেত্রে ডিসিটি অপারেশন করা হয়। এক্ষেত্রে পূঁজ জমা বন্ধ হয়, কিন্তু পানি পড়া বন্ধ হয়না। যে সব বয়স্ক লোকের ছানিরোগ আছে, আবার তাদের যদি নেত্রনালীর সমস্যার কারণে চোখ হতে পানি ও পূঁজ পড়ে, সে ক্ষেত্রে অবশ্যই ছানি অপারেশনের পূর্বে ডাক্তারের পরামর্শে বয়সভেদে ডিসিআর অথবা ডিসিটি অপারেশন করতে হবে, না হলে চোখের কোনায় জমে থাকা জীবানু ছানি অপারেশনের সময় চোখের ভেতরে ঢুকে মারাত্মক ইনফেকশন করতে পারে। নেত্রনালী সমস্যা ব্যতিত অন্য কারণে পানি পড়লে সে কারণ চিহ্নিত করে ডাক্তারের পরামর্শে তার চিকিত্সা করাতে হবে। বর্তমানে লেজার রশ্নির সাহায্যে চামড়া না কেটে অল্পসময়ে ডিসিআর অপারেশন করা সম্ভব, ফলে অপারেশনের পরে চামড়ায় দাগ পড়েনা।  চোখ চুলকানো এবং পানি পড়ার বিষয়ে তারা বলেন, এ ধরনের সমস্যায় দুই চোখ চুলকায় এবং চোখ থেকে পানি পড়তে থাকে। চোখ লাল হয়ে যায়। মূলত এলার্জির কারণে এমনটা হয়। বিড়ালের সংস্পর্শে কিংবা ফুলের পরাগের সংস্পর্শে গেলে অথবা ধুলার কারণে এই অ্যালার্জির সৃষ্টি হয়। আর তাই অ্যালার্জির হাত থেকে রক্ষা পেতে হলে পশমযুক্ত প্রাণী থেকে দূরে থাকতে হবে, ঘরের ধুলো পরিষ্কারক যন্ত্র বা ভ্যাকুম ক্লিনার সাবধানে ব্যবহার করতে হবে এবং ফুলের রেণুর সংস্পর্শে কম থাকতে হবে। নিউইয়র্ক সিটির ওয়েইয়েল কর্নেল মেডিসিন-এর বিশেষজ্ঞ টিম মায়ারার্ডি এ ব্যাপারে বলেন, অ্যালার্জি থেকে রক্ষা পেতে এবং দেহের ইমিউন সিস্টেমকে প্রদাহ থেকে রক্ষা করতে একটি অ্যান্টিহিস্টামাইন ট্যাবলেট গ্রহণ করা উচিত। এছাড়াও অ্যালার্জি প্রতিরোধক আইড্রপও চোখের জ্বালাপোড়া থেকে সরাসরি সুরক্ষা দিবে। তবে একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ মোতাবেক ড্রপ ব্যবহার করা উচিত। চোখ লালের ড্রপ ব্যবহার না করাটাই ভালো। কারণ এই ড্রপ চোখ লাল হওয়ার মূল সমস্যাকে প্রতিরোধ করতে পারে না বরং সেটার প্রদাহকে আরো বাড়িয়ে দিতে পারে। যদি আপনার চোখের এই অ্যালার্জিগত সমস্যা ঋতুগত কারণে হয়ে থাকে কিংবা আপনি যদি আরো বেশি সমস্যার সম্মুখীন হন তাহলে এর চিকিৎসার জন্য একজন অ্যালার্জি বিশেষজ্ঞের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
চোখের পাতা ফুলে যাওয়া : চোখের সমস্যাগুলোর মধ্যে চোখের পাতা ফুলে যাওয়া অন্যতম একটি ব্যাধি। এ কারণে চোখ লাল হয়ে যায়। দুটি কারণে এই সংক্রমণ হতে পারে। ভাইরাল সংক্রমণ কিংবা ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ। ভাইরাল সংক্রমণ এর কারণে চোখের পাতা ফুলে যাওয়া চোখের একটি সাধারণ সমস্যা। তবে এর যন্ত্রণা সাধারণ নয় বলে জানিয়েছেন ডা. ম্যারিও নিয়াক্স। ঠান্ডা পানি দিয়ে চোখ পরিষ্কার করলে এর যন্ত্রণা কিছুটা কমে। তবে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের প্রদাহ তার নিজ নিয়ম অনুসারেই কমতে থাকবে। এক্ষেত্রে আপনার চোখের ডাক্তার সংক্রমণের উপশম বৃদ্ধিতে অ্যান্টিবায়োটিক ড্রপ ব্যবহার করার নির্দেশ দিতে পারেন। যদি আপনার চোখ থেকে অনবরত পানি পড়ে, চোখে হালকা অথবা তীব্র ব্যথা অনুভব করেন, কোনো কিছু দেখতে সমস্যা হয় কিংবা চোখ লাল হয়ে যায় তাহলে শিগগির একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
চোখের কোণায় বা চোখের পাতায় ঘা : চোখের পাতায় কিংবা পাতার সংযোগস্থলের একেবারে কোণায় মাঝে মাঝেই ব্রণ এর মতো আকারে কিছুটা বড় গোটা দেখা যায়। এটি মূলত চোখের পাতার লোমকূপ এর ময়লার কারণে সৃষ্টি হয়। ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ করলে এমনটা হয়। চোখের স্বাভাবিক কার্যক্রমকে সচল রাখতে উষ্ণ পরিষ্কার কাপড় দিয়ে চোখের পাতা মুছলে উপকার হবে। তবে যদি এই সংক্রমণ আরো বেদনাদায়ক কিংবা বিরক্তিকর হয় তাহলে একজন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। এক্ষেত্রে চক্ষু বিশেষজ্ঞ আপনাকে অ্যান্টিবায়োটিক ওয়েন্টমেন্ট ব্যবহার করার নির্দেশনা দিবেন। ডা. ম্যারিও নিয়াক্স জানান, যদি ঘরের ট্রিটমেন্টে চোখের এই সংক্রমণের আশানুরূপ উপশম না হয় এবং সেই সঙ্গে যদি চোখের পাতার ঘা শক্ত রূপ ধারণ করে এবং যন্ত্রণা বৃদ্ধি করে দেয় তাহলে শিগগির একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হতে হবে। বিশেষজ্ঞ আপনার চোখের ঘা তে ইনজেকশন দিয়ে এর যন্ত্রণা কমিয়ে আনতে পারবেন।
চোখের শুষ্কতা ও শুকনো ভাব : চোখে যদি পর্যাপ্ত পরিমাণ আর্দ্রতা না থাকে কিংবা চোখে জলের উপস্থিতি না থাকে তাহলে এই সমস্যা হয়ে থাকে। অথবা আপনার চোখের ভেতরের লিকুইড যদি স্বাভাবিক না হয় কিংবা যদি চোখের জল জলদি শুকিয়ে যায় তাহলে এ সমস্যা হতে পারে। মূলত চোখের পাতার তেল উৎপাদনকারী গ্রন্থিগুলো বাধাগ্রস্ত হলে চোখের তরল উপাদান শুকিয়ে গিয়ে এই সমস্যা হয়। ডা. ম্যারিও নিয়াক্স বলেন, যদি প্রতি ৪ সেকেন্ডে চোখের পলক না ফেলা হয় তাহলে চোখে উৎপাদিত তেল সেখান থেকে চলাচলে বাঁধার সম্মুখীন হয় এবং এর ফলে চোখের পানি শুকিয়ে যায়। তিনি আরো বলেন, যদি কখনো কোনো কারণ ছাড়াই চোখে পানি চলে আসে তবে সেটা তাৎক্ষণিক কোনো সমস্যা সমাধানের জন্যই আসে। চোখের শুষ্কতা বিভিন্ন কারণে হতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে- ওষুধের প্রভাব, শরীরের হরমোনের পরিবর্তন এবং দীর্ঘ সময় ধরে চোখে কন্টাক্ট লেন্সের ব্যবহার। চোখের এই শুষ্কতার সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পেতে নিত্যদিনের খাদ্যতালিকায় ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড (এই অ্যাসিডের ভালো উৎস হল স্যালমন মাছ) সমৃদ্ধ খাবারের পরিমাণ বাড়িয়ে দিতে পারেন এবং সেই সঙ্গে আপনার বাসার বাতাসে জলীয়ের পরিমাণ বাড়িয়ে দিতে একটি হিউমিডিফায়ার ব্যবহার করতে পারেন। তবে সমস্যা যদি বেশি জটিল হয়ে থাকে সেক্ষেত্রে ডাক্তারের পরামর্শ মোতাবেক অয়েন্টমেন্ট ব্যবহার করতে হবে, সেই সঙ্গে আর এক্স আই ড্রপস চোখের তরল নিঃসরণে লম্বা সময় ধরে সাহায্য করে। চোখের শুষ্কতার ব্যাপারটিকে কখনোই অবহেলা করা উচিত নয়। কেননা এটি কর্ণিয়ার ক্ষতি করার পাশাপাশি অন্ধত্বের কারণও হতে পারে।
চোখে জ্বালা অথবা ব্যথা : চোখের এই সমস্যাকে ব্লেফারিটিস বলা হয়ে থাকে। চোখের পাতার পাপড়িতে যেই তেল উৎপাদন গ্রন্থি থাকে সেগুলো যদি বন্ধ হয়ে যায় তাহলে এই সমস্যা দেখা দেয়। যুক্তরাষ্ট্রের এনওয়াইইউ লেঙ্গুন মেডিক্যাল সেন্টারের চক্ষু বিভাগের বিশেষজ্ঞ পায়েল প্যাটেল জানান, এ ধরনের সমস্যায় চোখের পাতা হালকা গরম পানিতে ভেজানো কাপড় দিয়ে বার বার মুছলে রক্ত চলাচল আরো গতিশীল হয় এবং গ্রন্থির তেল কমিয়ে চোখের তরলের চলাচলের রাস্তাকে সহজ করে। এই সমস্যা থেকে পরিত্রাণে তিনি এই ট্রিটমেন্ট দিনে ৩ থেকে ৪ বার করার পরামর্শও দেন। এছাড়াও যে কেউ চোখের জন্য তৈরি শ্যাম্পু দিয়ে আস্তে আস্তে ম্যাসাজ করে চোখের পাতা পরিষ্কার করতে পারবেন। এতে করে চোখের এই সমস্যার সংক্রমণ কমে যাবে।
চোখে ঝাপসা দেখা, চোখে ব্যথা হওয়া : চোখের কর্ণিয়ায় আঘাত লাগলে এ ধরনের সমস্যা হতে পারে। এক্ষেত্রে কোনো সময়ক্ষেপণ না করে দ্রুত একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হওয়াটা জরুরি।

আটক ব্যক্তি ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। নিহত মামুন মিয়া (৩৫) ওই গ্রামেরই বাসিন্দা। এর আগে বুধবার বিকেলে তাকে গ্রেফতার করা হয় বলে সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রূপক কুমার সাহা। ওসী জানান, গতকাল বুধবার গভীর রাতে সরাইল উপজেলার দেওড়া গ্রামে এ ‘বন্দুকযুদ্ধের’ ঘটনা ঘটে। ওসি আরো জানান, একটি মামলায় বিকেলে পুলিশ মামুনকে গ্রেপ্তার করে। পরে রাতে তাঁকে নিয়ে দেওড়া গ্রামে অভিযানে যায় পুলিশ সদস্যরা। এ সময় সেখানে ওত পেতে থাকা সন্ত্রাসীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে। আত্মরক্ষার্থে পুলিশও গুলি ছুড়ে। তখন মামুন নিহত হন। আজ বৃহস্পতিবার সকালে মামুনের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। তবে নিহতের স্ত্রী তানিয়া সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন, তাঁর স্বামীর নামে তেমন কোনো অভিযোগ নেই।

দক্ষিণ আফ্রিকায় গুলিতে বাংলাদেশী নিহত

দক্ষিণ আফ্রিকার মালেতে সন্ত্রাসীদের গুলিতে এক বাংলাদেশী নিহত হয়েছেন। তার নাম রাসেল (৩৮)। নোয়াখালীর সেনবাগে তার বাড়ী। বুধবার রাত ১১ টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।  রাশেল সেনবাগ উপজেলার কাবিলপুর ইউপির ডোমনাকান্দি গ্রামের আবদুর রাজ্জাক খানের পুত্র।  নিহত রাসেলের ভাই সারোয়ারুল আলম খান সারু গনমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, নিহত রাসেলের লাশ ওই দেশের আনুষ্ঠানিকতা শেষে দেশে আনতে কয়েক দিন সময় লাগবে। রাত ১২টারদিকে তার মৃত্যুর সংবাদ দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে ডোমনাকান্দি সহ আশপাশে এলাকায় আত্বীয় স্বজন ও প্রতিবেশীদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে আসে। একমাত্র সন্তান কে হারিয়ে পিতা মাতা ও স্বজদের মাঝে শুরু শোকের মাতম।

গরুচোর সন্দেহে পিটিয়ে চারজনকে হত্যা

নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় গরুচোর সন্দেহে পিটিয়ে চারজনকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। নিহতদের নাম-পরিচয় এখনো জানা যায়নি। আজ বৃহস্পতিবার ভোরে উপজেলার চরজুবলি ইউনিয়নের উত্তর কচ্চপিয়া গ্রামের নোয়ালিয়া বাড়ির সামনের রাস্তায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন চরজব্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিজাম উদ্দিন। ওসি জানান, গত তিন মাসে এসব এলাকায় তিন থেকে চারশ গরু চুরি হয়। আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে গরু চুরির উৎপাত বেড়ে যায়। শেষ রাতের দিকে একটি পিকআপ কচ্চপিয়া গ্রামের ভেতর ঢোকে। সেখানকার পাহারাদাররা গ্রামের লোকজনকে সেটি জানিয়ে দেন। একপর্যায়ে ব্যারিকেড দিয়ে আটকে দেওয়া হয়। তখন পিকআপে থাকা লোকজন পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে তাঁদের গণপিটুনি দেওয়া হয়। এতে চারজন ঘটনাস্থলেই নিহত হন। কয়েকজন পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। এ ঘটনায় তাঁদের সঙ্গে থাকা আরো একজন গুরুতর আহত হন। তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চারটি লাশ উদ্ধার করে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

গরুচোর সন্দেহে পিটিয়ে চারজনকে হত্যা

নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় গরুচোর সন্দেহে পিটিয়ে চারজনকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। নিহতদের নাম-পরিচয় এখনো জানা যায়নি। আজ বৃহস্পতিবার ভোরে উপজেলার চরজুবলি ইউনিয়নের উত্তর কচ্চপিয়া গ্রামের নোয়ালিয়া বাড়ির সামনের রাস্তায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন চরজব্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিজাম উদ্দিন। ওসি জানান, গত তিন মাসে এসব এলাকায় তিন থেকে চারশ গরু চুরি হয়। আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে গরু চুরির উৎপাত বেড়ে যায়। শেষ রাতের দিকে একটি পিকআপ কচ্চপিয়া গ্রামের ভেতর ঢোকে। সেখানকার পাহারাদাররা গ্রামের লোকজনকে সেটি জানিয়ে দেন। একপর্যায়ে ব্যারিকেড দিয়ে আটকে দেওয়া হয়। তখন পিকআপে থাকা লোকজন পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে তাঁদের গণপিটুনি দেওয়া হয়। এতে চারজন ঘটনাস্থলেই নিহত হন। কয়েকজন পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। এ ঘটনায় তাঁদের সঙ্গে থাকা আরো একজন গুরুতর আহত হন। তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চারটি লাশ উদ্ধার করে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

পূর্ণ সূর্যগ্রহণ ২১ আগস্ট

আগামী ২১ আগস্ট পূর্ণ সূর্যগ্রহণ ঘটবে। তবে বাংলাদেশে গ্রহণটি দেখা যাবে না। শুধু তাই নয় এশিয়ার কোনো দেশ থেকেই এই গ্রহণ দেখা যাবে না। এবার সূর্যগ্রহণ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ, উত্তর-পূর্ব এশিয়া (রাশিয়া) ও উত্তর-পশ্চিম আফ্রিকার বিভিন্ন অংশে দেখা যাবে। প্রায় ৯৯ বছর পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে দেখা যাবে এই পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ। যুক্তরাষ্ট্রে সর্বশেষ ১৯১৮ সালে সূর্যগ্রহণ দেখা গেছে। এ কারণে মার্কিন মহাকাশ বিজ্ঞানকেন্দ্র ‘নাসা’ এবার পূর্ণ সূর্যগ্রহণ সরাসরি সম্প্রচার করবে। খালি চোখে এই গ্রহণ দেখতে নিষেধ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। কোনো এক্সরে প্লেট নিয়ে বা বিশেষ চশমা পরে দেখার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। সে সময় তাপমাত্রা কমে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা। সেই দিন কিছুক্ষণের জন্য সন্ধ্যা নামার মতো অন্ধকার নেমে আসবে। নাসা’র পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রায় ৩৭৫ বছর পর আমেরিকায় এবার পূর্ণ সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে। এই ঘটনার নেপথ্যে থাকছে পৃথিবী, চাঁদ ও সূর্যের একই রেখায় অবস্থান। ৪০ বছর আগেও এই ঘটনা আমরিকার আকাশে দেখা যায়। তবে সেই গ্রহণ ছিল অর্ধ সূর্যগ্রহণ। ১৯১৮ সালে ৮ জুন শেষবার পূর্ণ সূর্যগ্রহণ দেখে আমেরিকাবাসী।

চলতি মাসেই মার্কিন স্থাপনায় হামলা চালাবে উ. কোরিয়া!

যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়ার উত্তেজনায় নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। চলতি মাসেই উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র যুক্তরাষ্ট্রের স্থপনায় হামলা চালাতে পারে এমন হুমকিতে উত্তেজনার পারদ চড়েছে। বুধবারই উত্তর কোরিয়ার তরফ থেকে এ ঘোষণা করা হয়। দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কেসিএনএ জানায়, পিয়ংইয়ংয়ের নেতা কিম জং-উন এই পরিকল্পনা অনুমোদন করলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশান্ত মহাসাগরীয় গুয়াম বিমান ঘাঁটির কাছাকাছি এলাকায় উত্তর কোরিয়া চারটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাতে পারে। খবর বিবিসির। যুক্তরাষ্ট্রের ওই গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় বিমান বাহিনীর একটি ঘাঁটি, কৌশলগত বোমারু বিমান এবং প্রায় ১ লাখ ৬৩ হাজার মানুষ রয়েছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলে সমুচিত জবাব দেয়া হবে বলে হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর পাল্টা জবাব হিসেবেই গুয়ামে হামলার হুমকি দিয়েছে উত্তর কোরিয়া। এদিকে হামলার হুমকি দিয়ে উত্তর কোরিয়া নিজেদের ধ্বংস ডেকে আনছে বলে হুশিয়ার করেছেন মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব জিম ম্যাটিস।

৯১ বছর বয়সে স্নাতক ডিগ্রি

থাইল্যান্ডের উত্তরাঞ্চলীয় প্রদেশ হায়াওয়ের এক নারী ৯১ বছর বয়সে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছেন। দীর্ঘ দশ বছরের পড়াশোনা শেষে বুধবার তিনি তার স্নাতক ডিগ্রির সার্টিফিকেট গ্রহণ করেছেন। নতুন স্নাতক কিমলান জিনাকুল বলেন, ‘আমার মধ্যে সবসময় শিক্ষা গ্রহণের প্রতি আলাদা একটা আকর্ষণ কাজ করত। সবসময় ভাবতাম শিক্ষা গ্রহণের কোনো বয়স নেই, যে কোনো সময়েই এটা করা যায়। আত্মবিশ্বাসী এই নারী সন্তান হারিয়েও এই বয়সে নিজের স্বপ্ন পূরণ করতে পেরেছেন। খবর বিবিসির। থাইল্যান্ডের সুখোথাই থাম্মাথিরাত ওপেন ইউনিভার্সিটির হাজার হাজার শিক্ষার্থীদের একজন কিমলান জিনাকুল। তার পড়াশোনার বিষয় হিউম্যান অ্যান্ড ফ্যামিলি ডেভেলপমেন্ট। তার জীবনের আরেকটা বিশেষ দিন ৯ আগস্ট বুধবার। এদিন তার হাতে স্নাতক ডিগ্রির সার্টিফিকেট তুলে দেন থাই রাজা দশম রাম। কিমলান লামপাং প্রদেশের বাসিন্দা ছিলেন। কিন্তু পরে তিনি হায়াও প্রদেশে বসবাস শুরু করেন।
তিনি বলেন, এই বিশ্ব কখনও থামে না। নিজস্ব গতিতে সে চলছে। আমাদের কাছে নতুন নতুন তথ্য আসছে, বিজ্ঞান ও গবেষণা নিত্যনতুন আবিষ্কার দেখছি। পুরনো সমস্যা সমাধানের জন্য সবসময় আমাদের সামনে নিত্যনতুন উপায় আসছে। যখন বিজ্ঞান-গবেষণায় নতুন কিছু আর থাকবে না, এই বিশ্বও থেমে যাবে। চীনা বংশোদ্ভূত পরিবারে জন্ম নেয়া কিমলান বেড়ে উঠেছেন লামপাংয়ে। এ প্রদেশের শীর্ষ স্কুলে তিনি ছিলেন মেধাবী শিক্ষার্থীদের একজন। কিন্তু রাজনৈতিক কারণে তার পরিবার ব্যাংককে চলে আসতে বাধ্য হয় এবং সেখানেই তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর নিজের পড়ালেখাটাও আবার শুরু করেন কিমলান। পাঁচ সন্তানের মা কিমলানের চার সন্তানই মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেছেন এবং একজন যুক্তরাষ্ট্র থেকে পিএইচডি করেন। কিমলানের এক মেয়ে তাকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনে উৎসাহ জোগায়। সুখোথাই থাম্মাথিরাত ওপেন ইউনিভার্সিটিতে তার মেয়েই তাকে ভর্তি করেন।

উভচর বাস!

ড্যানিউব নদীর ওপর নৌকাবিহার নতুন কিছু নয়, কিন্তু হাঙ্গেরির রাজধানী বুদাপেস্ট শহরের ওই নদীতে আরও একটি মাত্রা যোগ হয়েছে। তা হল বাসে চড়ে নৌকাবিহার। ডিডব্লিউ। শহরের কেন্দ্র থেকে যখন যাত্রা শুরু হয়, তখন মনে হবে আর পাঁচটা বাসের মতোই। কিন্তু এ বাস স্থলেও চলে, আবার পানিতেও। অর্থাৎ একটি অ্যাম্ফিবিয়ান বা উভচর যান। ঠিক সে কারণেই পর্যটকরা এ অভিনব সাইটসিইং টুর পছন্দ করেন। ড্যানিউব নদীর এ প্যানোরামা ইউনেস্কোর বিশ্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় রয়েছে। দেড় ঘণ্টার টুরে ওই বাসে করে বুদাপেস্টের প্রাচীন টুরিস্ট স্পট ‘সেন্ট স্টেফানের বাসিলিকা বা গির্জায় যাওয়া যায়। যেখানে প্রাচীন রাজা ও সাধুদের পাশাপাশি হাঙ্গেরির ফুটবল কিংবদন্তি ফেরেঞ্চ পুস্কাসের সমাধিও রয়েছে। এরপরই বাসটি স্টিমার হয়ে যায়- যা অনেক যাত্রীর কাছে ভয়ের ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। এক যাত্রী বলছেন, ‘ড্যানিউবে বেশ ঢেউ আছে। বাস সেই ঢেউ সামলে যেতে পারবে নাকি ডুবে যাবে, কে বলবে।’ বাসচালক টামাস নাহোচকি মজা করে জানান, বাসটি ডাঙায় চলে বাসের মতো আর পানিতে সুবিশাল জেট-স্কির মতো। তবে এর গতি পানিতে কম।

কাতার এখন ‘আক্রমণাত্মক’

ক্ষুদ্র দেশ কাতার তার চার প্রতিবেশী দেশের বয়কটকে দৃঢ়তার সঙ্গেই মোকাবেলা করে চলেছে। উপসাগরীয় দেশগুলোর এ সংকট ক্রমেই পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ছে। জুনের শুরুতে কাতারের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে দেশটির ওপর অর্থনৈতিক অবরোধ দেয় সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও মিসর। কাতারের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসে মদদ দেয়ার অভিযোগ আনা হয়। কাতার এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ‘আক্রমণাত্মক’ অবস্থান নিয়েছে। কাতারকে বিচ্ছিন্ন করে রাখার প্রচারণায় দু’মাস পার হল। জ্বালানিসমৃদ্ধ দেশটি তার হাজার হাজার কোটি ডলারকে তার অর্থনীতি ও নিরাপত্তা শক্তিশালী করার কাজে ব্যয় করছে। দোহা সংস্কার কর্মসূচি ঘোষণা করেছে এবং তুরস্ক ও ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক মজবুত করেছে যার প্রভাব সম্ভবত ওই অঞ্চলকে এবং তাদের জোটকে নতুন আকার দেবে। মিত্র দেশগুলোর এ সংকট নিরসনে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতার চেষ্টা কোনো কাজে আসেনি। বরং এ সংকট নেতিবাচকভাবে কূটনৈতিক ও আইনি অঙ্গনেও বিস্তৃত হয়েছে। কার্নেগি এনডাউনমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিসের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশ্লেষক পেরি ক্যামাক বলেন, ‘এটা এখন ব্যক্তিগত পর্যায়ে চলে গিয়েছে, ফলে উভয়পক্ষেরই পিছু হটা কঠিন হয়ে পড়েছে। এটা আরও কিছুদিন হয়তো দুর্গন্ধ ছড়াবে।’ কাতারের ইসলামপন্থীদের সমর্থন এবং সরকারি অর্থে প্রতিষ্ঠিত আলজাজিরায় ইসলামপন্থীদের বক্তব্য প্রচারের সুযোগ দেয়াটা সৌদি জোটের বড় মাথাব্যথার কারণ। এ জন্য আলজাজিরার সম্প্রচার বন্ধ করার দাবি সৌদি জোটের। তবে কাতার বলেছে, এ দাবি ‘যুক্তিসঙ্গত ও বাস্তবায়নযোগ্য নয়।’ বিশ্বের অন্যতম প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদনকারী কাতার এখন তার অর্থনীতিকে বহুমুখী ও প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর খাদ্য ও অন্যান্য পণ্যের জন্য নির্ভরশীলতা কমাতে উঠেপড়ে লেগেছে। এক সময় সৌদি আরব ও আমিরাতের খাদ্যসামগ্রীতে ভরা থাকত কাতারের সুপার মার্কেটগুলো। সেই জায়গা এখন দখল করেছে তুরস্ক ও ইরান। একজন কাতারি ব্যবসায়ী দুধ উৎপাদনের জন্য বিমানে করে ৪ হাজার গাভী আমদানি করছেন। গত সপ্তাহে কাতার খ্যাতনামা ফুটবল তারকা নেইমারকে রেকর্ড ২৬ কোটি ২০ লাখ ডলারে কাতারের মালিকানাধীন সেইন্ট জার্মেইন টিমের জন্য কিনে নেয়। ২০২০ সালে কাতারে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপের আগে এটা কাতারের জন্য ভালো বিনিয়োগ। এটা তার জনসংযোগ বাড়াতে কাজে লাগবে।
গত সপ্তাহেই কাতার নতুন খসড়া আইন প্রকাশ করেছে যাতে বিদেশিদের জন্য কাতারে স্থায়ী বসবাসের পথ সুগম হবে। এছাড়া প্রথমবারের মতো কাতারে বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের পড়াশোনার সুযোগ থাকছে। কাতারে জমি কেনা যাবে এবং কোনো কাতারি পার্টনার ছাড়াই ব্যবসা করা যাবে। এটা আইনে পরিণত হলে উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য তা হবে নজিরবিহীন। উপসাগরীয় দেশগুলো বিদেশি শ্রমিকদের ওপর বহুলাংশে নির্ভরশীল হলেও তাদের নাগরিকত্ব দিতে নারাজ। কাতারের ২৭ লাখ জনসংখ্যার ৯০ ভাগই বিদেশি। সৌদি জোটের অবরোধের মুখে কাতার এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে বিদেশিদের তার দেশে আকৃষ্ট করতে এবং কাতারে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে সচেষ্ট। দোহাকে আঞ্চলিক বাণিজ্যের কেন্দ্রে পরিণত করতে চায় কাতার। বিশ্লেষকরা বলছেন, এসব সংস্কারের অর্থ কাতার দেখাতে চাইছে যে তারা প্রতিবেশী দেশগুলোর চেয়ে আধুনিক ও সংস্কারমুখী। কাতারের বিরুদ্ধে অবরোধের বিষয়ে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে লড়াই করে যাচ্ছে দোহা। অন্যদিকে পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক মজবুত করতে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে দোহা। গত সপ্তাহে ইতালি থেকে ৬০০ কোটি ডলারে সাতটি রণতরী কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কাতার। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১২০০ কোটি ডলার ব্যয়ে এফ-ফিফটিন জঙ্গিবিমান কেনার চুক্তি করেছে দোহা। এরই মধ্যে তুরস্কের সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়াও চালিয়েছে কাতার। সৌদি জোট কাতার থেকে তুরস্কের সামরিক ঘাঁটি গুটিয়ে নেয়ার দাবি করলেও আংকারা কাতারি ঘাঁটিতে আরও হাজার হাজার সেনা পাঠানোর সবুজ সংকেত দিয়েছে। ওয়াশিংটন পোস্ট থেকে ভাষান্তর ইলিয়াস হোসেন

ট্রাফিক জ্যামের নষ্ট শ্রমঘণ্টা বনাম অন্যান্য পণ্ডশ্রম

ট্রাফিক জ্যামে প্রতিদিন ঢাকাবাসীর কত শ্রমঘণ্টা নষ্ট হয়, সেই হিসাবে বসবো না আমরা এখন। নন-ট্রাফিক অন্যান্য পণ্ডশ্রমের খতিয়ানটা একটু যাচাই করা হবে এ লেখায়। আগেই বলে দেয়া যায়, হিসাব শেষে দেখা যাবে ট্রাফিক জ্যামে নষ্ট হওয়া শ্রমঘণ্টার চেয়ে অন্যান্য পণ্ডশ্রমের সময়ের পরিমাণ অনেক অনেক বেশি। অথচ ট্রাফিক জ্যাম নিয়েই যত দুশ্চিন্তা আমাদের। হতে পারে পণ্ড হয়ে যাওয়া অন্যান্য শ্রমঘণ্টা যে আসলেই বৃথা গেছে, সেটাই বুঝতে পারছি না আমরা। প্রথম যে কথা- যে কেউই হতে পারেন, তিনি কতক্ষণ পড়েন তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তিনি কী পড়েন; কতক্ষণ কথা বললেন তার চেয়ে মূল্যবান তিনি কী বলেছেন; কোথায় যাচ্ছেন তার চেয়ে বেশি বিবেচ্য তিনি কেন সেখানে যাচ্ছেন। একইভাবে কত কাজ করলাম তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কী করলাম। রাজনীতির ওপর ত্যক্ত-বিরক্ত হয়ে কিছুদিন গ্রামে থাকব বলে পাটগ্রামে গেলাম যখন, কয়েকদিন পর এক সুহৃদ বলল- অমুক ভাবীর সঙ্গে আপনার পরিচয় ঘটা উচিত। উনি খুব পড়ুয়া। তো সরল বিশ্বাসে গেলাম একদিন তার কাছে। দু’টি শেলফে গাদাগাদি করে রাখা বইয়ের স্তূপ। কিন্তু বইগুলোর পুটে মুদ্রিত বই ও লেখকের নাম দেখে মনে মনে আওড়াতেই হল- water, water everywhere, nor any drop to drink. কোনো প্রতিষ্ঠানের বই হলে ভিন্ন কথা, ব্যক্তি-লেখকের বই প্রকাশ করতে কোনো যোগ্য কর্তৃপক্ষের অনুমোদন লাগে না, সেজন্যই বোধকরি যুক্তিবিদ্যার একটি কথা এমন যে- All the printed words are not true - মুদ্রিত সব কথাই সত্য নয়। এই সত্য মানে শুধু facts নয়- শুদ্ধ চিন্তা, মনোরঞ্জনের খোরাক ইত্যাদিও এর সঙ্গে যুক্ত। আমি নিশ্চিত হলাম, অতিরিক্ত সুগার যেমন কিডনি ড্যামেজ করে, এই বইগুলোর অতিরিক্ত পাঠ ওই নারীর মাথা নষ্ট করে দিয়েছে। শুধু চা খেয়েই চলে এসেছিলাম সেদিন। এ পর্যায়ে পাঠকের একটা ধমক খাওয়ার আশংকা তৈরি হয়েছে। পাঠক বলবেনই- যার মানসিক স্তর যেমন, সে তো তেমন বই-ই পড়বে এবং তা থেকে আনন্দ পাওয়ার চেষ্টা করবে। আপনার অসুবিধা কী? না, আমার কোনো অসুবিধা নেই। কত লোকই তো মিথ্যাকে সত্য জানছে, যে কথায় বা কাজে বিরক্তি উৎপাদন হওয়ার কথা, সে কথায় হাসছে তো হাসছেই এবং এভাবে আনন্দ পেতে পেতে একদিন মরেও যাচ্ছে। কখনও বা মরছে তৃপ্তি সহকারেই, হলি আর্টিজানের পাঁচ যুবক যেমন মরেছিল। তারা যে শ্রম দিয়েছে, সেটা তাদের দৃষ্টিতে সার্থক অবশ্যই। তবে তাদের এই উপলব্ধি বা দৃষ্টিভঙ্গি মানবজাতির এক বড় নির্মমতা। কত নিষ্পাপ মনে মানুষ অল্পকে বড় জ্ঞান করে, কখনও বা ভ্রান্তিকে জড়ায় মায়াবন্ধনে! দেশের এক জনপ্রিয় ঔপন্যাসিকের যত বই পড়েছি আমি, শব্দার্থেই সেই সংখ্যা বহুবচন হয়নি। তার একটির বেশি বই না পড়লেও আমার মধ্যে কোনোই বঞ্চনাবোধ নেই যে, আমি বাংলা সাহিত্যের কণামাত্র মিস করছি। হ্যাঁ, তার আরও বই পড়তাম, পড়তে বাধ্য হতাম, যদি সেসবের চেয়ে মূল্যবান ও উপকারী বই পৃথিবীতে আর না থাকত। আমার সময় কম, মহাকালের প্রেক্ষাপটে বিদ্যুৎ ঝলকের মতো স্থায়িত্ব আমার এই ভুবনে- আমি তাই ডারউইনের ‘অরিজিন অফ স্পেসিস’ পড়ব, নাকি একজন মধ্যবিত্ত হিসেবে যা আমার অভিজ্ঞতার মধ্যেই রয়েছে, সেগুলো নতুন করে কথিত জনপ্রিয় উপন্যাসটির মধ্যে খুঁজব? হ্যাঁ, উপন্যাসও পড়তে হবে আমাকে, তবে নষ্ট করার মতো অতিরিক্ত সময় নেই বলে পড়ব মানিক, বিভূতি অথবা পরবর্তীকালের আরও অনেক বাংলা উপন্যাস, ন-বাংলার বিশাল ভাণ্ডারের দিকেও বাড়াব হাত। মরতে তো একদিন হবেই, এই জগৎ ও তার প্রাণীকুল সম্পর্কে মোটামুটি একটা ধারণা নিয়ে মরলে ভালো হয় না? সময়টা তাই ভাগ করা চাই যথেষ্ট অনুপাত জ্ঞান নিয়ে। তবে হ্যাঁ, উন্নতমানের গ্রন্থ পড়ার মানসিক উৎকর্ষ যদি এই লেখকসহ কারও না থাকে, সেটা ভিন্ন কথা। এটা দুর্ভাগ্য। কে যেন বলেছেন- দিনভর ঝুম বৃষ্টি, অথচ পড়তে জানে না, তার মতো দুর্ভাগা আর কেউ নেই। নতুন লেখকরা কি ক্ষেপলেন? কেন ক্ষেপবেন? আমি সবই পড়তে রাজি আছি, তবে প্রথমে দেখতে হবে লেখাটিতে যা রয়েছে বলে ধারণা করি, তা সময়ের মূল্যের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ কিনা। অথবা লেখাটি পাঠযোগ্য না হলেও পড়তে হতে পারে, যদি সেটা আমার বিশেষ কোনো কাজে আসে। পড়ার প্রশ্নটা শেষ করে নিই আগে। আমরা যে একটা অসুস্থ জাতিতে পরিণত হয়েছি, তার বড় প্রমাণ এই রাজধানীতে কদম ফেললেই পাওয়া যাবে ওষুধের দোকান; কিন্তু বই কেনার দোকান নেই, থাকলেও রিকশা ভাড়া দিতে হবে একশ’ টাকা। ইউরোপ-আমেরিকায় ওষুধ কিনতে হলে প্রেসক্রিপশন এক হাতে নিয়ে অন্য হাতে ড্রাইভ করতে হবে অন্তত আধঘণ্টা। সুস্থরা তো কালেভদ্রেই ওষুধ খাবে, নাকি? আপনি লাজ ফার্মায় যান, এমন কোনো ওষুধ নেই যা পাবেন না, কিন্তু গেল বছর নোবেল পেয়েছে যে বইটি, সেটি তন্ন তন্ন করে খুঁজে দেখুন, অনুবাদ তো নেই-ই, অরিজিনালিটিও কেউ আমদানি করেনি। কলেজে পড়া অবস্থাতেই আমার একটা অহঙ্কার ছিল যে, আমি অনেক কিছুই জানি। ব্রিটিশ মিউজিয়াম লাইব্রেরি ও আমেরিকার কংগ্রেস লাইব্রেরিটি ঘুরে দেখার পর মনে হয়েছে ছাগলেরও অধম আমি। এখন মনে হয়, জানি হয়তো অনেক কিছুই; কিন্তু যেসব বিষয় জানি না, সেগুলো দিয়ে কমপক্ষে একশ’ কোটি গ্রন্থ রচিত হতে পারে। পড়া প্রসঙ্গে শেষ কথা- সময় যেহেতু খুবই কম, পঠিতব্যের একটা অগ্রাধিকার তালিকা থাকা চাই। তা না হলে পঠিত বইয়ের তালিকা যত দীর্ঘই হোক, তাতে সময়ের অপটিমাম সদ্ব্যবহার হয় না। দেশটায় একটা আজব কাণ্ড ঘটে চলেছে। এখানে অনবরত কথা বলে যেতে পারেন যিনি, তিনিই বনে যাচ্ছেন সেলিব্রিটি; কথাগুলো কী, তাতে কিছুই যাচ্ছে-আসছে না কারও। ব্যাপারটা এমন দাঁড়িয়েছে, মানুষকে উত্তেজিত করতে পারলেই হল, কোন্ ইনজেকশন পুশ করে শ্রোতার শরীরে স্টিমুলি অর্থাৎ উত্তেজক ঢোকানো হয়েছে- কেউ ব্যাখ্যা করতে চাইবে না। বক্তার এই শ্রমকে শুধুই পণ্ডশ্রম বলা যাবে না, এ তারও অতিরিক্ত কিছু- সর্বনাশা শ্রম। আবার দেখুন, এ দেশে সবাই ব্যস্ত; কিন্তু কোনো ব্যস্তকে যদি বলা হয়- আপনার অ্যাচিভমেন্টগুলো একটু শুনি- তিনি কিছুই বলতে পারেন না। আমার এক অনুজপ্রতিমকে ফোন করলে হঠাৎ হঠাৎ রিসিভ করে, ম্যাক্সিমাম ক্ষেত্রে ফোনব্যাকও করে না। তো একদিন তারই কাজে লাগবে এমন একটা কল রিসিভ না করে অনেক পরে ব্যাক করল যখন, তাকে বললাম- তুমি কি ড. ইউনূস অথবা ফজলে হোসেন আবেদ? যদি না হও, তাহলে কীসের এত ব্যস্ততা? রাগ কমছিল না, আরও বললাম- দ্যাখো, বাঙালির কাজের চেয়ে কাজের আড়ম্বর বেশি। আমি তোমার চেয়ে অনেক বেশি কাজ করি, কই তারপরও তো আমার প্রচুর অবসর। অল্প সময়ে বেশি কাজ করার কিছু ফর্মুলাও শিখিয়েছি তাকে। তেমন একটা হতে পারে- ডান হাতে লিখছি, আর বাঁ হাতে প্রয়োজনীয় কলগুলো টিপছি অথবা রিসিভ করছি। রবীন্দ্রনাথ আটের পিঠে শূন্যের জীবন পেয়েছিলেন। এই সময়ে অ্যাপ্রেশিয়েটেড-আন্ডার অ্যাপ্রিশিয়েটেড প্রায় আড়াই হাজার পেইন্টিংসহ যা করেছেন, একই প্রতিভার অন্য কাউকে একই কাজ করতে হলে আটের পিঠে দুই শূন্যের জীবন দরকার হবে তার। আরেক ধরনের পণ্ডশ্রম লক্ষ করুন। সম্পাদকীয় বিভাগে কাজ করি বলে নতুন-পুরনো নির্বিশেষে লেখকদের ডিল করতে হয়। ধরা যাক, একটা চাঞ্চল্যকর ধর্ষণের খবর ছাপা হল। মেইল খুললেই দেখা যাবে একের পর এক আসছে সেই ধর্ষণের ওপর লেখা। এতে দোষের কিছু নেই, ধর্ষণের প্রতিক্রিয়া ভয়াবহ হবে- এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু পণ্ডশ্রম বলছি এজন্য যে, লেখাগুলোয় বর্বর, অমানবিক, নরপিশাচ, মূল্যবোধের অবক্ষয় ইত্যাদি কিছু নেতিবাচক কথা ছাড়া আর কিছুই নেই। ধর্ষক যে বর্বর অথবা এ ধরনের ঘটনার জন্য যে মূল্যবোধের অবক্ষয়ই দায়ী- এই অতি জানা কথাগুলো আবারও জানানোর যে চেষ্টা, সেটা পণ্ডশ্রম নয়তো কী? মূল্যবোধের অবক্ষয়ের কারণগুলো ও তার প্রতিকারের যদি সুনির্দিষ্ট রিকমেন্ডেশন থাকত লেখাগুলোয়, তাহলেই না বলা যেত তা সার্থক শ্রম। অথচ তারপরও ছাপাতে হবে সেসব। না ছাপালে তারা ভাবেন, প্রতিভার মূল্যায়ন করিনি আমরা! পুরনো, জরাজীর্ণ, ক্লিশে, একঘেয়ে কথায় জর্জরিত হয়ে পড়েছে দেশ। তবে কি নতুন যারা বেড়ে উঠছে, তাদের জন্যই এসব পুরনো কথা? আমরা যেমন বারংবার বলে যাই বঙ্গবন্ধুর কথা, তা না হলে নতুন প্রজন্ম জানতেই পারবে না তাকে, তেমন? তাহলে তো সেসব কথা বলার আগে বলে নিতে হবে- এখন যে কথাগুলো বলা হবে, সেগুলো শুধু নতুন প্রজন্মের জন্য। আমরা একটা কাজ করতে পারি কিনা, ভেবে দেখা দরকার। পত্রিকার পাতা ও টেলিভিশনের পর্দা- লেখা ও অনুষ্ঠানগুলো নতুন ও পুরনো প্রজন্মে ভাগ করে ফেলতে পারি। পুরনোকে পুরনো কথা শুনিয়ে কী লাভ! হ্যাঁ, পুরনো কথা নতুন ঢংয়ে বললেও একটা কথা থাকত। রাজনৈতিক নেতাদের সব কথাই কেন পত্রিকার পাতায় অথবা টেলিভিশনে প্রকাশ করা হয়, সেটাও এক বড় ধন্দ। কিছু নিরর্থক কথা ব্ল্যাকআউট করলে কী এমন ক্ষতি! এসব কথা অনেকটা পত্রিকার বিনোদনের পাতায় প্রকাশিত কোনো উঠতি নায়িকা কোন্ মলে শপিং করতে যায় অথবা সে নানিকে না দাদিকে বেশি ভালোবাসে ইত্যাদি খবরের মতো গুরুত্বহীন। হুমায়ুন আজাদকে প্রায়ই মনে পড়ে। আশির দশকে রঙিন টেলিভিশনের সূচনা হল যখন, বলেছিলেন- বিটিভির আবর্জনাগুলো এবার রঙিন হল! কখনও কখনও আমার এমন মনে হয়, আচ্ছা একটা সপ্তাহ মিডিয়া বন্ধ থাকলে দেশটার কী হাল হবে, একবার পরীক্ষা করে দেখলে কেমন হয়? আমার ধারণা, তখনকার মিডিয়াহীন দেশ মিডিয়াসমেত দেশের চেয়ে ভালোই চলবে। উদ্বেগ নেই, উৎকণ্ঠা নেই, ফালতু কথার রিপ্রোডাকশন নেই, নিস্তেজ-নিস্তরঙ্গ সেই সমাজ এই কোলাহলপূর্ণ পরিবেশের চেয়ে খারাপ কীসে? কেউ হয়তো বলবেন, মিডিয়া না থাকলে তো অপরাধীদের পোয়াবারো। আমার প্রশ্ন- এখন কি তবে তাদের পোয়াতেরো? কী লাভটা হচ্ছে মিডিয়ার ভূমিকায়? আমরা তো ফাইনাল ব্যালান্সশিট দেখতে চাই, সেটাই বুদ্ধিমানের কাজ। সেখানে তো দেখছি একটা বিগ জিরো। বলাইয়া বইলা যায়, করাইয়া কইরা খায়! আমি আসলে লিখতে চেয়েছিলাম রাজনীতির পণ্ডশ্রম নিয়ে। এই পণ্ডশ্রমের পরিমাণ এত বেশি যে, সেজন্য আলাদা একটি লেখা হতে পারে। যেমন, জিয়াউর রহমান যখন একজন স্মার্ট প্রেসিডেন্ট হিসেবে কোদাল হাতে খালকাটা কর্মসূচির উদ্বোধন করেছিলেন- অনেকে ভাবলেন না জানি কী একটা মহাযজ্ঞ শুরু হবে এবার। কিছুদিন পর এক অর্থনীতিবিদ বললেন, এই পণ্ডশ্রমগুলো না করলেই কি চলত না প্রেসিডেন্ট সাহেবের! যাকগে, কেউ যেন আবার বুঝে না বসেন, অ্যামিউজমেন্ট অর্থাৎ আনন্দ-ফুর্তি পণ্ডশ্রমের অংশবিশেষ। মোটেও না, যেমন পণ্ডশ্রম নয় বার্ধক্যের পিতা-মাতার সেবা করা কিংবা অন্যের বিপদে এগিয়ে যাওয়া। বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডায় হাসাহাসি, অলস সময়ে সঙ্গীতে মনোনিবেশ কিংবা লং জার্নির ক্লেদ গায়ে মেখে কক্সবাজারের সমুদ্র সৈকতে সেই ক্লেদ ধুয়ে ফেলা- এ সবই চিত্তসুখ। সুখের আয়োজন কখনও পণ্ড হয় না। আমি একবার বাসে রংপুর যাচ্ছিলাম, পড়ছিলাম কী যেন একটা মূল্যবান লেখা। এক সময় ড্রাইভার সাঈদীর ওয়াজের ক্যাসেট ছেড়ে দিল। পড়া বন্ধ করে মহানন্দে শুনতে থাকলাম সেই ওয়াজ। ওটাকে পণ্ডশ্রম বলব না আমি। মিথ্যা ও অপযুক্তি এত মধুর হতে পারে! আমাদের ‘মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে’র শক্তি সত্যও বলতে পারে না এত মধুর স্বরে। জনসংখ্যার একটা উল্লেখযোগ্য অংশ তাই সাঈদীর মধুর মিথ্যাই শোনে, কর্কশ সত্য শুনতে চায় না। সাঈদীর প্রসঙ্গ যখন এলোই, তখন আরেকটু বলি। এদিক-সেদিক তাকাতে থাকলে কখনও না কখনও পাঠক দেখতে পারবেন- দুই লোক তর্ক করে যাচ্ছে। একজন বলছে- তিনি ঈশ্বরে বিশ্বাস করেন না। অন্যজন ধর্মের বিধিবিধান পালন তো করেনই না, বরং উল্টো পথে হাঁটেন; কিন্তু উপরের নাস্তিকের সঙ্গে তর্কযুদ্ধে বলছেন- আপনি যা-ই বলেন ভাই, আমি কিন্তু বিশ্বাসী, ধর্মও মানি। দু’জনই আসলে ফ্যাশনসর্বস্ব। দ্বিতীয়জনেরটা ফ্যাশন এ কারণে যে, তার বিশ্বাসে যদি খাদ না থাকে, তাহলে স্বর্গ-নরকের কথা ভেবে তাকে ধর্মের বিধান মানলেই চলবে না শুধু, তা পালনও করতে হবে। এর অন্যথা হওয়া মানে তা চরম বোকামি। তো এই দু’য়ের মধ্যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যে তর্কটা চলছে, সে তো পণ্ডশ্রমই। প্রকৃতপক্ষে সেই সহজ-সরল মানুষটিই ভালো আছেন, যিনি কারও সঙ্গে তর্কে লিপ্ত না হয়ে গভীর বিশ্বাসে ধর্মাচার পালন করে যাচ্ছেন। তার আত্মা থাকে পরম শান্তিতে। এই শ্রম নিঃসন্দেহে সার্থক শ্রম। শেষের প্যারাটায় লিখতে হচ্ছে- জাকারবার্গ নামের এক আমেরিকান ভদ্রলোক বিশ্ববাসীর লাইফ স্টাইলে ব্যাপক পরিবর্তন ঘটিয়ে তাদের শ্রমঘণ্টা নষ্ট করার এক জাদুকরী আয়োজন সম্পন্ন করেছেন। দোষটা অবশ্য তাকে দেয়া চলে না। ট্রাফিক জ্যামঘটিত নষ্ট শ্রমঘণ্টার জন্য যেমন গাড়ি দায়ী নয়, দায়ী মানুষ; অনুরূপে ফেসবুকজনিত পণ্ডশ্রমের জন্য যোগাযোগের এই চমৎকার মাধ্যমটি দায়ী নয়; মাত্রাজ্ঞানলুপ্ত কাণ্ডজ্ঞানহীন এর ব্যবহারকারীরাই স্বেচ্ছায় পণ্ড করছে তাদের শ্রম। বল্গাহীন এই গ্লোবাল মিডিয়ার নেই কোনো সম্পাদক, নেই সেন্সরশিপও। সময় নষ্ট করার ধুম লেগেছে তাই সর্বত্রই।
পুনশ্চ : ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের পূর্ণাঙ্গ রায় পড়ার পর দেখলাম সর্বোচ্চ আদালতের বেশকিছু পর্যবেক্ষণের সঙ্গে আমারগুলো মেলে না। তবে একটি অন্তত মিলে গেছে। সর্বোচ্চ আদালত বলেছেন- পার্লামেন্ট সার্বভৌম নয়, জনগণ ও সংবিধানই সার্বভৌম। ১৯৯৫ সালে আওয়ামী লীগ যখন তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা প্রবর্তনের জন্য আন্দোলন করছিল এবং ক্ষমতাসীন বিএনপি পার্লামেন্টে তেমন একটি বিল পাস করতে চাচ্ছিল না, আমি সাপ্তাহিক যায়যায়দিনে আমার নিয়মিত কলাম ‘চতুর্থ মাত্রা’য় একই কথা লিখেছিলাম। বলেছিলাম, পার্লামেন্টের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য যদি তুমুল বাকবিতণ্ডার পর এই মর্মে সিদ্ধান্তে পৌঁছেন যে, এখন থেকে বাংলাদেশের যেসব জমিতে ধান চাষ হয়, সেগুলোয় পপি (আফিমের উৎসফুল) চাষ করতে হবে- তাহলে কি আমাদের তা-ই মেনে নিতে হবে? আরও লিখেছিলাম- জনগণ যখন কোনো প্রার্থীকে ভোট দেয়, তখন তার ওপর পাঁচ বছরের জন্য নিজের ইচ্ছা-অনিচ্ছার ভার অর্পণ করে; কিন্তু সত্তা বন্ধক রাখে না। এই পাঁচ বছরের মধ্যে পার্লামেন্ট যদি এমন কোনো বিল পাস করে, যা ভোটারদের জীবন বিপন্ন করে তুলতে পারে, তাহলে তারা রাস্তার আন্দোলনের মাধ্যমে সেই পার্লামেন্টকে ভেঙে ফেলতে চাইতে পারে এবং তাতে সফল হওয়াও সম্ভব। বাস্তবে ঘটেওছিল তাই। আন্দোলনের চাপে বিএনপি ১৯৯৬-এর ১৫ ফেব্রুয়ারি একটি একতরফা নির্বাচন করে সংখ্যাগরিষ্ঠতার সুবাদে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিল পাস করিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পার্লামেন্ট ভেঙে ফেলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারপ্রধানের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে বাধ্য হয়েছিল। ২২ বছর পর সর্বোচ্চ আদালতের পর্যবেক্ষণে আমার সেই লেখার প্রতিচ্ছবি দেখতে পেয়ে খুব ভালো লেগেছে।
মাহবুব কামাল : সাংবাদিক
mahbubkamal08@yahoo.com

বিশ্বজিতের বাবার প্রতিক্রিয়ার প্রতিক্রিয়া কী?

বিশ্বজিৎ হত্যাকাণ্ড সাম্প্রতিককালের একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা। সে সময়ে এ অমানবিক ঘটনাটি দেশের সর্বত্র আলোড়ন তুলেছিল। নির্মম, নিষ্ঠুর ও নৃশংস এ ঘটনা বিচলিত করেছিল নাগরিক সাধারণকে। ২০১২ সালের ৯ ডিসেম্বর সকালে পথচারি বিশ্বজিৎ দাসকে বাহাদুর শাহ পার্কের কাছে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়। ২০১৩ সালের ১৮ ডিসেম্বর দেশব্যাপী আলোড়ন তোলা এ মামলার রায় প্রদান করেন ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৪। বিচারিক আদালতের রায়ে ২১ আসামির মধ্যে ৮ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ১৩ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়। এ হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স তথা মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন ও আসামিদের আপিলের ওপর শুনানি শেষে ৬ আগস্ট হাইকোর্টের একটি ডিভিশন বেঞ্চ রায় প্রদান করেন। প্রদত্ত রায়ে উচ্চ আদালত নিন্ম আদালতে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া ৮ আসামির মধ্যে দু’জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল, ৪ জনের মৃত্যুদণ্ড পরিবর্তন করে যাবজ্জীবন ও অপর দু’জনকে খালাস দেন। নিন্ম আদালতে যাবজ্জীবন দণ্ডিত ১৩ আসামির মধ্যে ২ জন খালাস পেয়েছেন। যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত সব আসামি পলাতক। তাদের ব্যাপারে উচ্চ আদালত কোনো মন্তব্য করেনি। আসামিদের সবাই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের কর্মী। ২০১২ সালের ৯ ডিসেম্বর সকাল ৯টার আগে ঢাকার জজকোর্ট এলাকায় ১৮ দলীয় জোট ডাকা অবরোধ কর্মসূচির পক্ষে আইনজীবীরা মিছিল বের করেন। ভিক্টোরিয়া পার্কের কাছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ও কবি নজরুল কলেজের ছাত্রলীগ নেতারা তাদের ধাওয়া করেন। ছাত্রলীগের ধাওয়া খেয়ে মিছিলকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। সে সময় ভিক্টোরিয়া পার্কসংলগ্ন তেলের পাম্পের কাছে ৩টি ককটেল ফোটে। তখন বিশ্বজিৎ ওই পথ দিয়ে যাচ্ছিল। সে ভয়ে দৌড়ে একটি ডেন্টাল ক্লিনিকের দোতলায় উঠে যায়। তার দৌড় দেখে ছাত্রলীগের নেতারা ককটেল ফোটানোর জন্য তাকে দায়ী করে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা তাকে রড দিয়ে পেটাতে থাকেন। ধারালো চাপাতি দিয়ে হাতের নিচে কোপ দেয়ার পর প্রাণে বাঁচতে বিশ্বজিৎ দৌড়ে নিচে নামেন। নিজের পরিচয় দেন; কিন্তু ঘাতকচক্র তার কোনো কথায় বিশ্বাস করতে চায়নি। বিশ্বজিৎ দাস হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের রায় শুনে হতাশা ব্যক্ত করেছেন তার মা-বাবা। তারা বলেন, রাষ্ট্রের কাছে তাদের চাওয়া বিশ্বজিতের হত্যাকারীরা যাতে পার পেয়ে না যায়। বিশ্বজিতের বাবা অনন্ত দাস বলেন, প্রকাশ্যে ১০ থেকে ১২ জন আমার ছেলেটাকে কুপিয়ে হত্যা করল। ছেলেটা বাঁচার জন্য কতই না আকুতি করেছিল। পাষণ্ডরা দানবের মতো কুপিয়ে তাকে হত্যা করে। তাদের ছবি দেশের পত্রিকা ও টেলিভিশনে প্রকাশিত হল। তারপরও তাদের মৃত্যুদণ্ড পরিবর্তন করা হল! তাদের খালাস দিতে হল? বিশ্বজিতের মা বলেন, আশায় বুক বেঁধেছিলাম অপরাধীদের শাস্তি বাস্তবায়িত হবে। কিন্তু এখন কী হল! তাদের সাজা কমল, খালাস পেল। আমরা এ রায় মানি না। উচ্চ আদালতের রায় বের হওয়ার পর বিশ্বজিতের বাবা-মায়ের সঙ্গে একই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছে সাধারণ মানুষ। গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একই ক্ষোভ, কীভাবে এ ধরনের জঘন্য খুনিরা আইনের হাত থেকে রেহাই পেতে পারে! ঘটনার সময়ে তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মন্তব্য করেছিলেন, বিশ্বজিতের পরিবার ন্যায়বিচার পাবে না। বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক অবস্থা বিবেচনা করে তারা ওই সময়ে যে মন্তব্য করেছিলেন, বিশ্বজিতের বাবার মুখে সে কথারই প্রতিধ্বনি শোনা গেছে। যারা বিচার ব্যবস্থা সম্পর্কে একটু-আধটু ধারণা রাখেন তারা সবাই জানেন, বিচারক রায় দেন আদালতে প্রদত্ত তদন্ত প্রতিবেদন, সাক্ষ্য-প্রমাণ ও পারিপার্শ্বিকতা বিবেচনা করে। অবশেষে উচ্চ আদালত এ মামলায় অদক্ষতা, অবিশ্বস্ততা ও অলসতার বাস্তব প্রমাণ পেয়েছে। মামলার তদন্তকারী সূত্রাপুর থানার উপপরিদর্শক দায়িত্বে অবহেলা ও পেশাগত অসদাচরণ করেছেন কিনা তা তদন্ত করতে আদালত পুলিশের মহাপরিদর্শককে নির্দেশ দিয়েছেন। বিশ্বজিতের লাশের ময়নাতদন্তকারী সলিমুল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তৎকালীন ফরেনসিক বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী অধ্যাপক সম্পর্কে একই নির্দেশ দেয়া হয়েছে। উচ্চ আদালত স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব ও বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিলের প্রতিও অনুরূপ নির্দেশ দেন। এ নির্দেশনা বাস্তবায়নের অগ্রগতি ও সময়ে সময়ে আদালতকে অবহিত করতে একজন আইনজীবীকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। রায়ের পর সরকার পক্ষ থেকে স্বীকার করা হয়, বিশ্বজিতের লাশের সুরতহাল রিপোর্ট ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে যে গুরুতর আঘাতের কথা উল্লেখ আছে, এর সঙ্গে সাক্ষ্য, আসামিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি, ভিডিও ফুটেজ ও গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে প্রতীয়মান হয়েছে, দুটো আইনি তদন্ত রিপোর্টই অসামঞ্জস্যপূর্ণ। তাই সঙ্গতভাবেই বিশ্বজিতের পিতার জিজ্ঞাসা ‘এত কিছুর পর যে রায় হল- আমার মনে বড় কষ্ট। আমি নিজে দেখেছি ছেলের সারা শরীর ক্ষতবিক্ষত। হাতের নিচে কোপ, পিঠে কোপের সংখ্যা ৮টি। সারা শরীর রডের আঘাতে থেঁতলে গেছে। সুরতহাল করা পুলিশ সদস্য কিংবা ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক কেন এসব খুঁজে পেলেন না?’ উল্লেখ্য, সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের কারণে খুনিরা ছাড় পেতে পারে- এ আশঙ্কা থেকে বিশ্বজিতের বাবা ২০১৩ সালের ৪ জানুয়ারি ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলন করে তাদের আশঙ্কার কথা বলেছিলেন। ওই সময়ে বিশ্বজিতের পরিবার থেকে তদন্ত প্রতিবেদন দুটি প্রত্যাখ্যান করা হয়। তারা আরও অভিযোগ করেন, হত্যাকারীদের বাঁচানোর চেষ্টা চলছে। প্রথম থেকেই সরকারের তরফ থেকে অপরাধীদের প্রতি প্রশ্রয় লক্ষ্য করা যায়।
ঘটনাস্থলের কাছেই পুলিশের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা হত্যাকাণ্ড প্রত্যক্ষ করলেও নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেন। সে সময়ের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ‘রানাপ্লাজার ঝাকা’ খ্যাত মহীউদ্দীন খান আলমগীর বলেছিলেন, ‘এ হত্যাকাণ্ডে ছাত্রলীগের জড়িত থাকার কোনো সম্ভাবনা নেই’। ঘটনা সম্পর্কে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রামাণ্য প্রতিবেদনের পর তার এ মন্তব্য নাগরিক সমাজে ক্ষোভ সৃষ্টি করে। ঘটনার পর থেকে আজ পর্যন্ত মামলার বিভিন্ন পর্যায়ে পুলিশের বিরুদ্ধে অসহযোগিতা ও প্রশ্রয়ের অভিযোগ উত্থাপিত হয়। ওই মামলার ২১ আসামির মধ্যে ১৩ জন এখনও অধরা রয়ে গেছে। পুলিশ বলছে তারা পলাতক। অথচ পত্রিকার প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, তারা ঢাকা শহরে ঘোরাফেরা করছে, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিচ্ছে। উচ্চ আদালতের মামলার পর সরকারি প্রতিক্রিয়াও এক রকম নেতিবাচক। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের দু’জনের মৃত্যুদণ্ডের উল্লেখ করলেও অধিকাংশ আসামির সাজা হ্রাস বা ধরাছোঁয়ার বাইরের বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন। উল্লেখ্য, ছাত্রলীগের ওইসব নেতা বলে আসছিলেন, তাদের কিছুই হবে না। এখন ঘটনাক্রমে তাদের বড়াই সত্যে পরিণত হতে চলেছে। ক্ষমতাসীন সরকারের দলপ্রীতি সম্পর্কে ধারণা রাখেন এমন পর্যবেক্ষকদের মন্তব্য, চূড়ান্ত পর্যায়ে যে দু’জনের ফাঁসি হয়েছে, তারাও হয়তো মাফ পেয়ে যাবেন। ক্ষমতাসীন সরকারের এ ধরনের আসামিদের মাফ করার নজির রয়েছে। সাম্প্রতিককালে দণ্ডপ্রাপ্ত দলীয় ভয়ংকর অপরাধীদের মাফ করার একটি প্রক্রিয়ার কথা পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। প্রকাশিত রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, ‘ইদানীং ছাত্ররাজনীতি তার জৌলুস হারিয়ে দূষিত হয়ে পড়েছে। কিছু বিপথগামী তরুণ যারা চাঁদাবাজি, অস্ত্র-মাদক ব্যবসা, খুন, রক্তারক্তিতে জড়িয়ে পড়েছে, ওপরের সারির কিছু নেতা তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়ে থাকেন।’ এ পর্যবেক্ষণ যে অসত্য নয়, চারপাশে তাকালেই তার প্রমাণ মিলবে। আর কতদিন এরকম বিশ্বজিৎরা হত্যার শিকার হয়েও বিচার পাবে না? ন্যায়বিচার এমনি এমনি প্রতিষ্ঠিত হয় না। সেজন্য সমাজেরও দায় আছে, দায়িত্ব আছে।
আবদুল লতিফ মাসুম : অধ্যাপক, সরকার ও রাজনীতি বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
mal55ju@yahoo.com