Saturday, August 22, 2026
এক স্রষ্টায় বিশ্বাসীদের জন্য ‘বন্দে মাতরম’ পাঠ অস্বস্তিকর: শর্মিলা ঠাকুর
শর্মিলা ঠাকুর বলেন, ভারতে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ বসবাস করেন। তাদের মধ্যে অনেকে এক ঈশ্বরে বিশ্বাসী। কিন্তু ‘বন্দে মাতরম’-এর পরবর্তী কিছু স্তবকে একাধিক হিন্দু দেবদেবীর উল্লেখ রয়েছে। যারা এক ও অদ্বিতীয় স্রষ্টায় বিশ্বাস করেন, তাদের জন্য ‘বন্দে কালী’ বা ‘বন্দে দুর্গা’র মতো বাক্য বলা অসুবিধাজনক হতে পারে। তাই দেশের সব ধর্মের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে চলতে হলে গানটির প্রথম দুই স্তবকই ভালো এবং গ্রহণযোগ্য।
বিজ্ঞাপন
শর্মিলা ঠাকুরের মন্তব্য ভারতের জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’ নিয়ে চলমান রাজনৈতিক বিতর্কে নতুন মাত্রা পেয়েছে। কংগ্রেস দলীয় অনুষ্ঠানে গানটির প্রথম দুই স্তবক গাওয়ার অবস্থানে রয়েছে। অন্যদিকে বিজেপির নেতারা এ নিয়ে কংগ্রেসের সমালোচনা করছেন। ভারতের স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের পর জাতীয় গানটির পরিবেশন ও এর ঐতিহাসিক ব্যাখ্যা নিয়ে বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে।
সূত্র: জি নিউজ ও সিটি এয়ার নিউজ

Sunday, July 19, 2026
ইরানের গুপ্তচরবৃত্তি ঠেকাতে মাঠে নামানো হলো ইহুদি ধর্মগুরুদের
রাব্বিদের মাধ্যমে সচেতনতা
ইসরাইলের প্রধান রাব্বিনিকাল কাউন্সিলের সদস্য ও প্রভাবশালী সোশ্যাল মিডিয়া ব্যক্তিত্ব রাব্বি ইগ্যাল কোহেন অনুসারীদের সতর্ক করে একটি ভিডিও বার্তা দিয়েছেন। সেখানে তিনি বলেন, ইরানি এজেন্টরা ছবি তোলা, অস্ত্র লুকিয়ে রাখা বা হত্যার মতো কাজের জন্য ইসরাইলের ভেতরে লোক নিয়োগের চেষ্টা করছে।
তিনি অনুসারীদের এই ফাঁদে পা না দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, এটি চরম ধর্মদ্রোহিতা এবং এর পরিণতি হবে জেল ও জীবন ধ্বংস।
নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের অনুরোধেই তিনি এই পদক্ষেপ নিয়েছেন। এছাড়া কট্টর রক্ষণশীল (হারিদি) সম্প্রদায়ের পরিচিত মুখ ও সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার ইসরাইল কোহেনও রাব্বিদের সঙ্গে নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের যোগাযোগ করিয়ে দিয়ে এই প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন। জুলাইয়ের শুরুতে হারিদি সম্প্রদায়ের আরেক সাংবাদিক উইদ্দিশ ভাষায় এই সতর্কবার্তা প্রচার করেছেন।
৬০টির বেশি মামলা
ইসরাইলি পুলিশ ও প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সেনা, বেসামরিক নাগরিক, ধর্মীয় ও ধর্মনিরপেক্ষ ইহুদি এবং আরবদের বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে ৬০টিরও বেশি মামলা করা হয়েছে।
পুলিশ তদন্তকারী আমিচাই প্যানেট্টা জানান, সন্দেহভাজনদের অনেকেই যুদ্ধের সময়েও শত্রুকে সাহায্য করেছেন।
টেলিগ্রাম ও এসএমএসের ফাঁদ
২০২৩ সালের অক্টোবরে হামাসের হামলা এবং ২০২৫ সালের জুনে ইরানের ওপর ইসরাইলের প্রথম হামলার পর তেহরান এই তৎপরতা বাড়িয়েছে। মূলত টেলিগ্রাম অ্যাপ ও ভুয়া নামে এসএমএস পাঠিয়ে সাধারণ মানুষকে টার্গেট করা হয়। প্রথমে নিজের এলাকার সাধারণ ছবি বা ভিডিওর বিনিময়ে সহজ উপায়ে টাকা দেওয়ার লোভ দেখানো হয়। পরে ধীরে ধীরে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মতো সংবেদনশীল তথ্য চাওয়া হয়।
সাবেক শিন বেত কর্মকর্তা শালোম বেন হানান জানান, তার স্ত্রীও প্রতিনিয়ত বড় পুরস্কারের লোভ দেখিয়ে ইরানি গোয়েন্দাদের কাছ থেকে এমন বার্তা পান। হাজারো চেষ্টার মধ্যে দু-একটি সফল হওয়াই ইরানের জন্য বড় সাফল্য।
উল্লেখযোগ্য কিছু গুপ্তচরবৃত্তির ঘটনা
মার্কিন শিক্ষার্থী গ্রেপ্তার
গত ৯ জুন জেরুজালেমের একটি ধর্মীয় শিক্ষালয় থেকে এক মার্কিন নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়। টাকার বিনিময়ে সংবেদনশীল ছবি তোলার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে মার্কিন দূতাবাস কোনো মন্তব্য করেনি।
সেনার কারাদণ্ড
২০২৫ সালের সংঘাতের সময় ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধের ভিডিও ইরানি এজেন্টের কাছে পাঠানোর দায়ে চলতি মাসে এক ইসরাইলি সেনাকে ৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে সামরিক আদালত।
আয়রন ডোম ও বিমানবাহিনীর তথ্য ফাঁস
আইরন ডোম ইউনিটের এক রিজার্ভ সেনা ব্যাটারির অবস্থান, ৭টি বিমান ঘাঁটি ও পরিচালনা পদ্ধতির ভিডিও পাচারের অভিযোগে আটক হয়েছেন। এছাড়া বিমানবাহিনীর দুই টেকনিশিয়ান সার্জেন্ট টেলিগ্রামে তথ্য পাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছেন।
নেতা হত্যার ষড়যন্ত্র
হাইফা থেকে ২২ বছর বয়সি এক যুবককে রাজনৈতিক নেতা হত্যা ও বিস্ফোরক তৈরির প্লটে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি হাইফা বন্দর ও ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতের স্থানের ছবি তুলেছিলেন।
চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করে জালিয়াতি
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর মামলাটি ঘটেছে ২৪ বছর বয়সি হারিদি শিক্ষার্থী মেইর নাহুম ও তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে। তিনি চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করে ইসরাইলের বিশেষ '৮২০০' গোয়েন্দা ইউনিটের ভুয়া নথিপত্র তৈরি করেন।
তিনি ইরানি এজেন্টকে জানান, ২০২৪ সালে ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসির হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় নিহত হওয়ার পেছনে ইসরাইল জড়িত ছিল।
এছাড়া এক সাধারণ ইরানি নাগরিকের নাম ইসরাইলি তথ্যদাতা হিসেবে দেন, যাকে পরে ইরান জিজ্ঞাসাবাদ করে ছেড়ে দেয়। এই কাজের জন্য তারা ডিজিটাল কারেন্সিতে ১ লাখ শেকেল (৩৫ হাজার ডলারের বেশি) নেন।
তাদের আইনজীবী আরিয়েল আতারি দাবি করেছেন, তারা মিথ্যা তথ্য দিয়ে ইরানকে ঠকিয়ে টাকা নিয়েছেন এবং ইসরাইলকে ঝুঁকিতে ফেলেননি।
তবে পুলিশ বলছে, রাইসিকে নিয়ে করা মিথ্যা দাবি যুদ্ধ লাগিয়ে দিতে পারত। আজ রোববার আদালতে এই দুই ভাইয়ের শুনানি রয়েছে।
সূত্র: দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস
![]() |
| ছবি: সংগৃহীত |
Monday, July 6, 2026
খামেনির শেষবিদায়ের অনুষ্ঠানে ধর্মীয় ও রাজনৈতিকভাবে কী বার্তা দিচ্ছে ইরান
সুচিন্তিত বক্তব্য, পরিকল্পিত কর্মসূচি এবং সংগঠিত জনসমাবেশের মাধ্যমে তেহরান এমন একটি বয়ান প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে, যেন ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে ক্ষমতায় থাকা ইরানি সরকারের সমর্থকদের মধ্যে ঐক্যের চিত্র ফুটে উঠছে।
তেহরানে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালনের মধ্য দিয়ে খামেনির শেষবিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। শোকযাত্রার মধ্য দিয়ে তাঁর মরদেহ ইরানের বিভিন্ন শহরে নেওয়া হবে। ইরাকের বিভিন্ন শহরেও হবে শোকযাত্রা। এই শোকযাত্রার প্রতিটি ধাপে খামেনির জীবন, রাজনৈতিক উত্তরাধিকার এবং সামগ্রিকভাবে শিয়া সম্প্রদায়ের নানা প্রতীকী দিককে গুরুত্ব দিয়ে উপস্থাপন করা হবে।
আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ১৯৮৯ সাল থেকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা ছিলেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ আগ্রাসনে তিনি নিহত হন। এরপর গত মার্চ মাসে তাঁর ছেলে মোজতবা খামেনি দেশের সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
ইরানে সরকারিভাবে দেওয়া বার্তাগুলোতে খামেনির মৃত্যুকে ‘শাহাদাত’ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে তাঁর মৃত্যুতে শোক প্রকাশকে জাতীয় দায়িত্ব হিসেবে উপস্থাপন করছে ইরানি কর্তৃপক্ষ।
শেষবিদায়ের আয়োজনের আনুষ্ঠানিক স্লোগান ‘আমাদের উঠে দাঁড়াতে হবে’। ইরানের বিভিন্ন স্থানে টানানো ব্যানার এবং শোকহত মানুষের বহন করা পোস্টারে এ স্লোগান দেখা যাচ্ছে।
খামেনির মুষ্টিবদ্ধ হাত
মুষ্টিবদ্ধ হাতের একটি প্রতীকী চিত্র খামেনির শেষকৃত্যের সবচেয়ে পরিচিত প্রতীকে পরিণত হয়েছে। তাঁর মৃত্যুর পর থেকে ইরানের সরকারি প্রচারে এই প্রতীক ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এটি আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনির নামে প্রচারিত একটি খুদে বার্তা থেকে অনুপ্রাণিত বলে জানানো হচ্ছে। সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে মোজতবা খামেনিকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি এবং তাঁর কোনো প্রকাশ্য বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।
নিরাপত্তাপ্রধান আলী লারিজানিকে হত্যার কিছুদিন আগে গত ১২ মার্চ ওই খুদে বার্তা প্রকাশ করা হয়। সেখানে বলা হয়, ১৯৮১ সালে বোমা হামলায় হত্যাচেষ্টার সময় স্প্লিন্টারের গুরুতর আঘাত ও দগ্ধ হওয়ার কারণে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি তাঁর ডান হাতের কার্যক্ষমতা হারিয়েছিলেন। মোজতবা নাকি শুনেছেন, ওই সময় খামেনির সুস্থ হাতের মুষ্টি শক্ত করে বন্ধ ছিল।
নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি এবং সম্ভাব্য হত্যাচেষ্টা এড়ানোর জন্য মোজতবা খামেনি তাঁর বাবার শেষবিদায়ের আনুষ্ঠানিক কর্মসূচিগুলোতে প্রকাশ্যে অংশ নেবেন না বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
শেষবিদায়–সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিকতার অংশ হিসেবে বিভিন্ন সাজসজ্জা ও প্রচারে কালো ও লাল রঙের ব্যাপক ব্যবহার করা হয়েছে। এই দুই রঙের মাধ্যমে শোক, শাহাদাত এবং প্রতিশোধের আহ্বান—এই তিন বার্তা একসঙ্গে তুলে ধরা হচ্ছে।
গতকাল রোববার বিকেলে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ বলেছে, ‘নিজেদের নেতাকে শেষবিদায় জানাতে এবং তাঁর শোকযাত্রায় অংশ নিতে সমবেত এই জনসমুদ্র দুটি স্লোগান উচ্চারণ করছে—শত্রুদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ এবং ইরানের শহীদ নেতার রক্তের প্রতিশোধ।’
আজ সোমবার তেহরানে মূল শোকযাত্রা শুরুর আগে শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন ও রাষ্ট্রীয় প্রার্থনার জন্য গত শনিবার ও গতকাল রোববার খামেনির মরদেহ রাজধানীর বৃহত্তম ধর্মীয় কমপ্লেক্স গ্র্যান্ড মোসাল্লা মসজিদে রাখা হয়। সেখানে একটি বিশাল লাল পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে।
পতাকাটিতে আরবি ভাষায় লেখা হয়, ‘হে, হুসেনের প্রতিশোধ গ্রহণকারীরা’, এই স্লোগানের মাধ্যমে খামেনির হত্যাকাণ্ডকে প্রতিবেশী দেশ ইরাকের কারবালার ঘটনার সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে। প্রায় ১ হাজার ৩০০ বছর আগে সেখানে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)–এর দৌহিত্র ইমাম হুসেনকে প্রথম উমাইয়া খলিফা মুয়াবিয়া প্রতিষ্ঠিত বাহিনীর হাতে নিহত হতে হয়েছিল। বহু শিয়া মুসলিমের কাছে উমাইয়া রাজবংশের শাসন অবৈধ ও নিপীড়নমূলক শাসনের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়।
খামেনির শেষবিদায়ের আনুষ্ঠানিকতায় বিভিন্ন প্রতীকী বার্তার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়াকে ধর্মীয় দায়িত্ব হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। তবে ইরানি কর্তৃপক্ষ কীভাবে সেই প্রতিশোধ নিতে চায়, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলায় ইরানের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা জেনারেল কাসেম সোলেইমানি নিহত হওয়ার পর ইরানি সেনাবাহিনী ইরাকে অবস্থিত কয়েকটি মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছিল। তবে ওই হামলায় কোনো মার্কিন সেনা নিহত হয়নি। এরপরও ইরান বলেছিল, অঞ্চল থেকে মার্কিন বাহিনীকে পুরোপুরি বিতাড়িত করাটাই তাদের দীর্ঘমেয়াদি প্রতিশোধের কৌশল।
শিয়া সম্প্রদায়ের রাজনৈতিক মানচিত্র
খামেনির মরদেহ বহনের জন্য যে পথ বেছে নেওয়া হয়েছে, সেটিও একটি রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বার্তা বহন করছে। এই পথ তেহরানের দক্ষিণে অবস্থিত শিয়া সম্প্রদায়ের পবিত্র শহর কোম থেকে শুরু হয়ে ইরাকে শিয়াদের দুটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র নাজাফ ও কারবালা অতিক্রম করবে। এরপর তাঁকে সমাহিত করা হবে মাশহাদে, ইমাম রেজার মাজারে।
শেষবিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা মসজিদ থেকে। এই মসজিদ ইরানের প্রথম সর্বোচ্চ নেতা রুহুল্লাহ খোমেনিকে সম্মান জানাতে নির্মাণ করা হয়েছিল। বিশ্লেষকদের মতে, এর মাধ্যমে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের এই দুই গুরুত্বপূর্ণ নেতার মধ্যে একটি প্রতীকী ধারাবাহিকতা ও সংযোগ তুলে ধরার চেষ্টা করা হচ্ছে।
কোম শহরটি ইরানের ধর্মীয় নেতৃত্বের বৈধতা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সমর্থনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখানকার মাদ্রাসা ও ধর্মীয় শিক্ষাকেন্দ্রগুলোই ইরানের ধর্মতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার অন্যতম ভিত্তি। খোমেনির সমর্থনে পাহলভি রাজবংশের বিরুদ্ধে বড় ধরনের প্রতিবাদও এই শহর থেকেই শুরু হয়েছিল। ওই আন্দোলন এক বছর পর ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবে রূপ নেয়।
ইরাকের নাজাফ ইরানের বাইরে শিয়া মুসলিমদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় কর্তৃত্বের কেন্দ্র। এই শহরের সঙ্গে শিয়া সম্প্রদায়ের ১২ ইমামের প্রথম ইমাম হজরত আলী (রা.)-এর ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় সম্পর্ক আছে। তাঁর মাজারকে কেন্দ্র করেই নাজাফ শহরের বিকাশ ঘটেছে। বর্তমানে এটি শিয়া মুসলিমদের সবচেয়ে পবিত্র স্থানগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হয়।
কারবালা ও মাশহাদে শোকযাত্রা শেষে খামেনির মরদেহ এমন এক প্রতীকী সফর সম্পন্ন করবে, যা ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের আদর্শিক ভিত্তি এবং শিয়া ধর্মীয় নেতৃত্বের প্রধান প্রধান কেন্দ্রের প্রতিনিধিত্ব করে।
বিশ্লেষকদের মতে, পাঁচ দশক ধরে সীমান্ত ছাড়িয়ে শিয়া সম্প্রদায়ের আদর্শ ও প্রভাব বিস্তারে ইরানি ধর্মীয় নেতৃত্ব যে প্রচেষ্টা চালিয়ে এসেছে, এই শোকযাত্রা সেই আদর্শিক ধারাকেই প্রতীকীভাবে তুলে ধরছে।
ইরাকের নাজাফ হলো ইরানের বাইরে শিয়া মুসলিমদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় কেন্দ্র। শিয়া মুসলিমদের কাছে শ্রদ্ধাভাজন হিসেবে বিবেচিত ১২ ইমামের মধ্যে প্রথম ইমাম হজরত আলী (রা.)-এর সঙ্গে এই শহরের গভীর সম্পর্ক আছে। তাঁর মাজারকে ঘিরেই নাজাফ নগরীর বিকাশ হয়েছে। বর্তমানে এটি শিয়া মুসলিমদের কাছে সবচেয়ে পবিত্র স্থানগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত।
কারবালা ও মাশহাদে শোকযাত্রার মধ্য দিয়ে খামেনির মরদেহ এমন একটি প্রতীকী সফর শেষ করবে, যা ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের আদর্শিক ভিত্তি এবং শিয়া ধর্মীয় নেতৃত্বের প্রধান কেন্দ্রগুলোর প্রতিনিধিত্ব করে। বিশ্লেষকদের মতে, পাঁচ দশক ধরে জাতীয় সীমানার বাইরে শিয়া ইসলামের আদর্শ ও প্রভাব বিস্তারে ইরানের ধর্মীয় নেতৃত্ব যে প্রচেষ্টা চালিয়ে এসেছে, এই শোকযাত্রা সেই আদর্শিক ধারারই প্রতীক।
গত শুক্রবার খামেনির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আয়োজিত রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ, ফিলিস্তিনের হামাস ও ইসলামিক জিহাদ এবং ইয়েমেনের হুতি আন্দোলনের প্রতিনিধিদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়।
খামেনির কফিনের সামনে উপস্থিত প্রতিটি বিদেশি প্রতিনিধিদলের জন্য সরকার-নির্ধারিত একজন পবিত্র কোরআনের একটি করে নির্দিষ্ট আয়াত তিলাওয়াত করেন। এরপর তাঁরা ইরানের নেতাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
হামাস, হিজবুল্লাহ এবং পাকিস্তানের প্রতিনিধিদলের জন্য নির্বাচিত আয়াতগুলোতে অঙ্গীকারের প্রতি আনুগত্য, অবিচলতা এবং আল্লাহর প্রতি একনিষ্ঠতার বার্তা তুলে ধরা হয়। ইরানি কর্তৃপক্ষ পাকিস্তানকে ‘ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। একই সঙ্গে ওয়াশিংটনের সঙ্গে চলমান আলোচনায় ইসলামাবাদ যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে, সেটিও তুলে ধরা হয়েছে।
রিয়াদ থেকে আসা প্রতিনিধিদলের জন্য নির্বাচিত একটি কোরআনের আয়াত নিয়ে আরবি ভাষার গণমাধ্যমে বিশেষভাবে আলোচনা হয়েছে। ওই আয়াতে বর্তমান সৌদি আরবের মদিনার কাছে সপ্তম শতকে সংঘটিত বদরের যুদ্ধে মুখোমুখি হওয়া মুসলিম ও কাফিরদের দুই পক্ষের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
আয়াতটির অর্থ হলো: ‘মুমিনেরা নিজেদের চোখে দেখেছিলেন, তাঁদের শত্রুদের সংখ্যা তাঁদের তুলনায় দ্বিগুণ। কিন্তু আল্লাহ যাকে ইচ্ছা, তাঁকে সাহায্যের মাধ্যমে বিজয় দান করেন। নিশ্চয়ই এর মধ্যে অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন মানুষদের জন্য শিক্ষা রয়েছে।’
এই নির্দিষ্ট আয়াত বেছে নেওয়ার বিষয়টিকে বিশ্লেষকেরা বিভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করেছেন।
![]() |
| ইসলামি বিপ্লবের প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি (বাঁয়ে), প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি (মাঝখানে) এবং তাঁর ছেলে ও বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির ছবি-সংবলিত একটি বিলবোর্ড। ছবি: এএফপি ফাইল ছবি |
Saturday, June 27, 2026
ভারতে ধর্মান্তরবিরোধী কঠোর আইনের ঘোষণা দিলেন শুভেন্দু
অর্থাৎ এ আইন কার্যকর হলে ভারতে হিন্দুদের মধ্যে ভিন্ন ধর্ম গ্রহণের যে প্রবণাতা লক্ষ্য করা যাচ্ছিল তা আর ইচ্ছামত তারা গ্রহণ করতে পারবেন না। এ বিষয়ে রাষ্ট্র যে সিদ্ধান্ত নেবে সে আলোকে তাদের সিন্ধান্ত নিতে হবে।
শুক্রবার কলকাতার রবীন্দ্র সদনে ‘বন্দে মাতরম’-এর সার্ধশতবর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ করেন, আন্তর্জাতিক সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশের ফলে পশ্চিমবঙ্গে ধর্মান্তরের প্রবণতা এবং জনসংখ্যার ভারসাম্যে পরিবর্তন দেখা দিচ্ছে। তার মতে, এ পরিস্থিতি রাজ্যের সামাজিক কাঠামো ও দেশের নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের কারণ।
তিনি বলেন, কিছু সময়ের মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গে ধর্মান্তরবিরোধী কঠোর আইন, অভিন্ন দেওয়ানি বিধি এবং এনআরসি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
শুভেন্দুর দাবি, বিজেপি সরকার সীমান্ত এলাকায় অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় জমি দিয়েছে এবং অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের শনাক্ত ও ফেরত পাঠানোর লক্ষ্যে সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে আটক কেন্দ্রও গড়ে তুলেছে।
তিনি আরও বলেন, যারা অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করে দেশের সংস্কৃতি ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে।
নাগরিকত্ব (সংশোধন) আইন বা সিএএ প্রসঙ্গে শুভেন্দু বলেন, ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার হয়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়া হিন্দুরা অনুপ্রবেশকারী নন। সিএএ অনুযায়ী তারা ভারতীয় নাগরিকত্ব পাওয়ার অধিকারী।
বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি বলেন, যারা ভারতে বসবাস করেও দেশটির সশস্ত্র বাহিনীকে অসম্মান করে, ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর বিরোধিতা করে বা পেহেলগাম ইস্যুতে নীরব থেকে শুধু মানবতার কথা বলে, তাদের এমন কর্মকাণ্ড পশ্চিমবঙ্গে বরদাশত করা হবে না।
সূত্র: এনডিটিভি

Friday, June 26, 2026
ধর্মীয় উগ্রতা নয়, ১৪০০ বছরের আইনি ভিত্তিতে চলে ইরান
এক নিবন্ধে এমনটাই দাবি করেছেন বিশিষ্ট গবেষক ও আইনজীবী লিম টিন।
তার মতে, পশ্চিমা প্রচারণার কারণে ইরানের প্রাতিষ্ঠানিক ও সাংবিধানিক জটিল কাঠামো এবং এর পেছনের আইনি ভিত্তি বিশ্ববাসীর কাছে আড়ালে রয়ে গেছে।
নিবন্ধে লিম টিন উল্লেখ করেন, ইরানের একটি নিজস্ব সংবিধান, নির্বাচিত সংসদ, জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ও সুপ্রিম কোর্ট রয়েছে। এছাড়া সেখানে একটি সাংবিধানিক পর্যালোচনা কাউন্সিল রয়েছে। এই পুরো ব্যবস্থার প্রতিষ্ঠাতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি ছিলেন বিংশ শতাব্দীর অন্যতম সেরা আইনজ্ঞ।
শব্দ চয়ন ও পশ্চিমা প্রচারণা
লিম টিন বলেন, পশ্চিমা এস্টাবলিশমেন্ট ইরানকে হেয় করতে অত্যন্ত সচেতনভাবে ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্র’ শব্দটি বেছে নিয়েছে। এই শব্দটির মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে এমন একটি ধারণা তৈরি করা হয়েছে যে, ইরান কোনো আইন ছাড়াই কেবল ধর্মীয় উগ্রতা দিয়ে পরিচালিত হয়। অথচ ইরানের শাসনব্যবস্থা গড়ে উঠেছে ১৪ শ বছরের পুরোনো এবং অত্যন্ত সমৃদ্ধ ইসলামি আইনশাস্ত্রের (ফিকহ) ওপর ভিত্তি করে। পশ্চিমা সংবাদমাধ্যম ইরানকে এমনভাবে উপস্থাপন করে যাতে দেশটির ওপর নিষেধাজ্ঞা চাপানো বা হামলা চালানো সহজ হয় এবং মানুষের মনে কোনো অপরাধবোধ না জাগে।
খোমেনির পড়াশোনা
ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের মূল ভিত্তি হলো ‘ভেলায়েত-ই-ফকিহ’ বা ইসলামি আইনজ্ঞের অভিভাবকত্ব। আয়াতুল্লাহ খোমেনি কেবল একজন ধর্মীয় প্রচারক ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন ‘ফকিহ’ বা আইনশাস্ত্রের মাস্টার। ১৯২২ সালে তিনি পবিত্র শহর কোমে যান। সেখানে তিনি আয়াতুল্লাহ আবদুল করিম হায়েরি ইয়াজদির অধীনে পড়াশোনা শুরু করেন। ৩০ দশকের মাঝামাঝি সময়ে তিনি ‘ইজতিহাদ’ বা স্বাধীন আইনি যুক্তির সনদ লাভ করেন এবং একজন ‘মুজতাহিদ’ হন। এর ফলে তিনি কোরআন ও হাদিস থেকে সরাসরি নতুন আইনি সিদ্ধান্ত নেওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেন।
আইনশাস্ত্রের পাশাপাশি তিনি দর্শন, নীতিশাস্ত্র এবং ইসলামি আধ্যাত্মবাদ শিক্ষা দিতেন। ১৯৬১ ও ১৯৭০ সালে যথাক্রমে গ্র্যান্ড আয়াতুল্লাহ বোরুজেরদি এবং গ্র্যান্ড আয়াতুল্লাহ হাকিমের মৃত্যুর পর খোমেনি লাখ লাখ মানুষের কাছে অনুসরণের উৎস হিসেবে স্বীকৃতি পান। এই পদটি কোনো রাজনৈতিক বা মনোনীত পদ নয়, বরং পণ্ডিতদের মধ্যে সর্বোচ্চ পাণ্ডিত্যের ভিত্তিতে এই স্বীকৃতি মেলে। নির্বাসনে থাকা অবস্থাতেও তার আইনি নির্দেশনাবলী অনুসারীদের কাছে বাধ্যতামূলক ছিল।
১৯৬৩ সালে শাহের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেওয়ায় খোমেনি গ্রেফতার হন। ওই সময় রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে তার মৃত্যুদণ্ড হতে পারত। কিন্তু ১৯০৬ সালের ইরানি সংবিধানের একটি ধারা অনুযায়ী জ্যেষ্ঠ ধর্মীয় নেতাদের মৃত্যুদণ্ড থেকে দায়মুক্তি দেওয়া হতো। আয়াতুল্লাহ মোহাম্মদ কাজেম শরিয়তমাদারিসহ জ্যেষ্ঠ আলেমদের প্রতিবাদের মুখে শাহের সরকার তার মৃত্যুদণ্ড মওকুফ করে এবং তাকে নির্বাসনে পাঠাতে বাধ্য হয়।
যা প্রমাণ করে ১৯৭৯ সালের আগেই ইরানে সাংবিধানিক চিন্তাভাবনা বিদ্যমান ছিল। খোমেনি আইনশাস্ত্র, আইনি দর্শন এবং আধ্যাত্মবাদের ওপর ৪০টিরও বেশি বই লিখেছেন। তার লেখা ‘কিতাব আল-বায়’ বা ক্রয়-বিক্রয় সংক্রান্ত আইন এবং দুই খণ্ডের ‘তাহরির আল-ওয়াসিলা’ অত্যন্ত বিখ্যাত ও জটিল আইনি গ্রন্থ।
জনগণের রায় ও সাংবিধানিক কাঠামো
১৯৭৯ সালের মার্চ ও এপ্রিলে ইরানে ইসলামি প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য একটি জাতীয় গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। এতে রেকর্ডসংখ্যক ভোটার অংশ নেন এবং ৯৮ দশমিক ২ শতাংশ মানুষ ‘হ্যাঁ’ ভোট দেন।
লিম টিন এটিকে ২০১৬ সালের ব্রিটেনের ব্রেক্সিট গণভোটের সাথে তুলনা করে বলেন, ব্রেক্সিটকে বিশ্ব গণতান্ত্রিক স্বীকৃতি দিলেও ইরানের গণভোটকে স্বৈরতন্ত্র হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে। অথচ ইরান ১৯৫৩ সালে সিআইএ-র অভ্যুত্থানের মাধ্যমে বসানো শাহের স্বৈরশাসন থেকে মুক্ত হয়ে এই ব্যবস্থা বেছে নিয়েছিল।
ইরানের সংবিধানে একটি চমৎকার ভারসাম্য রয়েছে। এর সর্বোচ্চ নেতা জনগণের দ্বারা নির্বাচিত, বিশেষজ্ঞ পরিষদ দ্বারা মনোনীত হন। ২৯০ সদস্যের একটি নির্বাচিত সংসদ (মজলিস) আইন পাস করে এবং প্রশাসনকে জবাবদিহিতার আওতায় আনে। গার্ডিয়ান কাউন্সিল আইনগুলোর সাংবিধানিক বৈধতা পরীক্ষা করে, যা যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট বা ফ্রান্সের কনস্টিটিউশনাল কাউন্সিলের মতো কাজ করে।
আইনজীবীর দৃষ্টিভঙ্গি ও আন্তর্জাতিক আইন
ব্রিটিশ কমন ‘ল’ ঐতিহ্যে প্রশিক্ষিত একজন আইনজীবী হিসেবে লিম টিন বলেন, আন্তর্জাতিক আইনের মূল ভিত্তি হলো ‘কমিটি অব লজ’ বা অন্য দেশের আইনি ব্যবস্থার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা। তিনি ইতালির ফৌজদারি আদালতের উদাহরণ দিয়ে বলেন, সেখানে আসামিদের শপথ নিয়ে সাক্ষ্য দিতে হয় না, যা কমন ‘ল’-এর চেয়ে আলাদা হলেও নিকৃষ্ট নয়। একইভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সূচনাকালে দাসদের মানুষের তিন-পঞ্চমাংশ ধরা হতো, নারীদের ভোটাধিকার ছিল না এবং পূর্ণ নাগরিক অধিকার পেতে প্রায় দুই শতাব্দী লেগেছে। সেই তুলনায় ইরানের শাসনব্যবস্থার বয়স মাত্র ৪৬ বছর।
লিম টিন স্বীকার করেন, ইরানে রাজনৈতিক স্বাধীনতার অভাব, নারী ও সংখ্যালঘুদের অধিকারের সীমাবদ্ধতা এবং গার্ডিয়ান কাউন্সিলের প্রার্থী বাছাইয়ের কড়াকড়ির মতো প্রাতিষ্ঠানিক সমস্যা ও গণতান্ত্রিক ঘাটতি রয়েছে। তবে সমালোচনা করতে হবে প্রকৃত সত্যকে সামনে রেখে, প্রচারণার ওপর ভিত্তি করে নয়। ইরান ৯ কোটি ৩০ লাখ মানুষের একটি সাংবিধানিক প্রজাতন্ত্র, যা একটি সুপ্রতিষ্ঠিত আইনি ঐতিহ্যের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। পশ্চিমা প্রচারণা এই সত্য অস্বীকার করতে চায়, কারণ ধর্মান্ধদের একটি দেশকে ধ্বংস করা সহজ, কিন্তু একটি বৃহৎ সাংবিধানিক প্রজাতন্ত্রকে সহজে মুছে ফেলা যায় না।
গবেষণার জন্য তিনি হামিদ আলগারের অনূদিত খোমেনির রাজনৈতিক লেখা এবং সাইদ আমির আরজোমান্দের 'দ্য টারবান ফর দ্য ক্রাউন' বইটি পড়ার পরামর্শ দেন। লিম টিনের এই নিবন্ধের সাথে নাজাফে নির্বাসনে থাকার সময় খোমেনির পড়াশোনার একটি ছবিও যুক্ত রয়েছে।
![]() |
| ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা রুহুল্লাহ খোমেনি। ছবি: সংগৃহীত |
Friday, June 12, 2026
উত্তর প্রদেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ‘ধর্মান্তরবিরোধী’ সেল গঠন হচ্ছে, কাকে লক্ষ্য করে এই পদক্ষেপ
রাজ্যপালের সচিবালয় থেকে রাজ্যের সব বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠানের উপাচার্য এবং পরিচালকদের কাছে পাঠানো একটি চিঠিতে মেডিক্যাল ইনস্টিটিউটসহ সব উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে কাউন্সেলিং সেবা, নজরদারিব্যবস্থা, ছাত্রকল্যাণ পদ্ধতি, তথ্য জানানোর প্রোটোকল জোরদার করতে এবং প্রতিরোধমূলক সুরক্ষাকবচ তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তথাকথিত প্রলোভন, মানসিক চাপ বা অন্য কোনো অনৈতিক উপায়ে শিক্ষার্থীদের (ধর্মান্তর করার জন্য) প্রভাবিত করার অভিযোগ আসার পর রাজ্যপালের দপ্তর থেকে এই নির্দেশ দেওয়া হলো।
আরেক সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, ‘শিক্ষার্থীদের প্রভাবিত করে, ভয় দেখিয়ে, মানসিক চাপ তৈরি করে বা অনৈতিক প্রলোভন দেখিয়ে যেকোনো ধরনের অবৈধ বা জোরপূর্বক ধর্মান্তরকরণের চেষ্টা সম্পূর্ণভাবে অগ্রহণযোগ্য, অনৈতিক এবং আইনবিরোধী।’
চিঠিতে দাবি করা হয়েছে, ‘প্রলোভন বা মানসিক চাপের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ধর্মান্তরিত করার চেষ্টার’ বিষয়ে ঘন ঘন প্রতিবেদন বা তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রাতিষ্ঠানিক স্তরে ‘র্যাডিক্যালাইজেশনবিরোধী’ (উগ্রবাদবিরোধী) ইউনিট বা ছাত্রকল্যাণ সেলগুলোকে অত্যন্ত সক্রিয় করতে হবে।’
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো যাতে ‘নৈতিক মূল্যবোধ, যৌক্তিক চিন্তাভাবনা এবং আইনি অধিকার’ বিষয়ে বক্তৃতা ও সেমিনারের আয়োজন করে, চিঠিতে সেই পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কোনো সংস্থা, গোষ্ঠী বা ব্যক্তি যদি ধর্মান্তরের চেষ্টার সঙ্গে জড়িত কোনো সন্দেহজনক কার্যকলাপে লিপ্ত থাকে, তবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে অবিলম্বে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশকে জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, এ ধরনের ক্ষেত্রে রাজ্যের ধর্মান্তরবিরোধী আইনের অধীনে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ওয়্যার’ এর আগেও প্রতিবেদন করেছিল, কীভাবে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাগুলো স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে এবং রাজনৈতিক নির্দেশে এই ধর্মান্তরবিরোধী আইনের অপব্যবহার করেছে। উগ্র হিন্দুত্ববাদী বজরং দল, বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি) ও অন্যান্য সংগঠনের নজরদারি দলগুলো সংখ্যালঘুদের, বিশেষ করে মুসলমানদের হয়রানি করতে এই আইন ব্যবহার করছে।
কোনো অ-হিন্দু প্রতিষ্ঠান বা গোষ্ঠী যদি বিনা মূল্যে ক্লিনিক, বৃত্তি বা এমনকি একটি সৌহার্দ্যপূর্ণ প্রার্থনাসভার আয়োজন করে, তবে তা নজরদারির আওতায় আসে এবং এরপর আইনি ও বেআইনি পথে হিন্দুত্ববাদীরা প্রশাসনের সহায়তায় হয়রানি শুরু করে।
এমন বেশ কয়েকটি ঘটনা দেখা গেছে, যেখানে হিন্দুত্ববাদী কোনো গোষ্ঠী অভিযোগ দায়ের করেছে এবং প্রমাণ দুর্বল বা অনুপস্থিত থাকা সত্ত্বেও পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে। কম সাজা হওয়ার হারের কারণে এ ধরনের গ্রেপ্তার, আদালতের মামলা এবং সহিংসতা সামাজিক সম্প্রীতি নষ্ট করছে। আইনগুলো ধর্মান্তর রোধ করার জন্য নয়, বরং সংখ্যালঘুদের ভয় দেখানোর একটি হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে বলে মনে হচ্ছে।
চলতি বছরের এপ্রিলে ভারতের উত্তর প্রদেশের বেআইনি ধর্মান্তরকরণ নিষেধাজ্ঞা আইন, ২০২১-এর অধীনে মিথ্যা এফআইআর দায়ের করার বিষয়টিকে ‘উদ্বেগজনক প্রবণতা’ বলে নিন্দা জানিয়েছেন এলাহাবাদ হাইকোর্ট। রাজ্যের অতিরিক্ত মুখ্য সচিবকে (স্বরাষ্ট্র) এ ধরনের মামলায় কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, তা উল্লেখ করে একটি ব্যক্তিগত হলফনামা (এফিডেভিট) দাখিল করার নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট।
![]() |
| ভারতের উত্তর প্রদেশের উগ্র হিন্দুত্ববাদী যোগী আদিত্যনাথের রাজ্যে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘ধর্মান্তরবিরোধী সেল’ গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে. ছবি। এএনআই |
Friday, May 1, 2026
কবরে মাটি দেওয়ার নিয়ম ও দোয়া
রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজে জানাজায় অংশগ্রহণ করেছেন, কবর খনন করেছেন এবং মাটি দিয়েছেন। তাই মুসলিমদের জন্য এ বিষয়টি জানা ও সঠিকভাবে পালন করা জরুরি।
কবর দেওয়ার নিয়ম
দাফন প্রক্রিয়ার মূলনীতি হলো:
১. মৃতদেহকে গোসল করানো, কাফন দেওয়া ও জানাজা পড়ানো।
২. কবর যথেষ্ট গভীর করা যাতে মৃতদেহ নিরাপদ থাকে।
৩. মৃতদেহকে ডান দিকে কিবলামুখী করে রাখা।
৪. কবর ঢেকে দেওয়া ও মাটি চাপা দেওয়া।
নবীজি (সা.) বলেছেন: “তোমরা মৃতদেহকে সম্মানের সাথে দাফন করো।” (সুনান আবু দাউদ, হাদিস: ৩২২১)
কবরে মাটি দেওয়ার নিয়ম
কবর ঢাকতে গিয়ে প্রথমে সাধারণত ৩ মুঠো করে মাটি দেওয়া সুন্নাহ। প্রত্যেকে পালাক্রমে মৃতের দিকে মুখ করে কবরের ভেতর প্রথম তিন মুঠো মাটি দেন। প্রতিবার মুঠো খোলার সময় সুরা ত্বাহার ৫৫ নম্বর আয়াতের একটি করে অংশ পড়তে হয়।
* প্রথম মুঠোয় পড়তে হয়: “মিনহা খালাক্না–কুম।” অর্থ: “আমি তোমাদেরকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছি।”
* দ্বিতীয় মুঠোয় পড়তে হয়: “ওয়া ফীহা নু‘ঈদুকুম।” অর্থ: “এবং আমি তোমাদেরকে তাতে ফিরিয়ে দেব।”
* তৃতীয় মুঠোয় পড়তে হয়: “ওয়া মিনহা নুখরিজুকুম তারাতান উখরা।” অর্থ: “এবং সেখান থেকে আবার তোমাদেরকে একবার বের করব।”
এটি রাসুল (সা.) ও সাহাবিদের আমল। (তাফসির ইবন কাসির, সুরা ত্বাহা. আয়াত ৫৫ এর ব্যাখ্যা)
দাফনের পর দোয়া
দাফন শেষে মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া করা সুন্নাহ। নবীজি প্রতিবার দাফনের পর সাহাবিদের বলতেন: “তোমরা তোমাদের ভাইয়ের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করো এবং তার জন্য স্থিরতার দোয়া করো, কারণ এখন তাকে প্রশ্ন করা হচ্ছে।” (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৩২২১; সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ১৫৩১)
এ সময় সাধারণত বলা হয়:
উচ্চারণ: “আল্লাহুম্মাগ্ফির লাহু, আল্লাহুম্মা সাব্বিতহু, আল্লাহুম্মাজ্‘আল কবরাহু রাওযাতান মিন রিয়াযিল জান্নাহ।”
অর্থ: “হে আল্লাহ, তাকে ক্ষমা করুন, তাকে স্থির রাখুন এবং তার কবরকে জান্নাতের বাগানসমূহের একটি বাগানে পরিণত করুন।”
কবরের মাটি দেওয়ার নিয়ম ও দোয়া ইসলামি শিষ্টাচারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এতে রয়েছে মৃতের প্রতি সম্মান, আখিরাতের স্মরণ এবং জীবিতদের জন্য শিক্ষা। আমাদের উচিত নবীজির (সা.) প্রদর্শিত এ সুন্নাহ যথাযথভাবে পালন করা।

Wednesday, March 25, 2026
ইরানে ট্রাম্পের আমেরিকার ধর্মযুদ্ধ! by রায়ান জিকগ্রাফ
প্রায় ৫০ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের ইভানজেলিক্যাল খ্রিষ্টানদের মধ্যে একটি বিশ্বাস প্রচলিত আছে। তারা মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে শুধু রাজনীতি বা ভূরাজনীতির ঘটনা হিসেবে দেখে না; তাদের অনেকেই মনে করে, এসব ঘটনার মধ্যেই বাইবেলের ভবিষ্যদ্বাণী বাস্তব হয়ে উঠছে। এ বিশ্বাসে লাখ লাখ মানুষকে বড় করা হয়েছে। একসময় আমিও সেই বিশ্বাসে বিশ্বাসীদের একজন ছিলাম।
সম্প্রতি
খবর এসেছে, যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক ইউনিটের কমান্ডার গত সোমবার এক
ব্রিফিংয়ে কর্মকর্তাদের বলেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ নাকি ঈশ্বরের পরিকল্পনারই
অংশ। তাঁর মতে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে যিশু বেছে নিয়েছেন ইরানে
সেই আগুন জ্বালানোর জন্য, যেখান থেকে আরমাগেডনের শুরু হবে এবং যিশুর
পৃথিবীতে ফিরে আসার পথ তৈরি হবে।
খ্রিষ্টান বিশ্বাস অনুযায়ী,
আরমাগেডন হচ্ছে শেষ সময়ের এক চূড়ান্ত যুদ্ধ। বাইবেলের রেভেলেশন গ্রন্থে বলা
আছে, পৃথিবীর শেষ দিকে ভালো ও মন্দ শক্তির মধ্যে একটি বড় যুদ্ধ হবে। এ
যুদ্ধকে আরমাগেডন বলা হয়। অনেকের বিশ্বাস, এই যুদ্ধের পর যিশু ফিরে আসবেন
এবং পৃথিবীতে নতুন শান্তির যুগ শুরু হবে।
ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক
অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর বিভিন্ন সদস্য এমন
আরও অনেক ঘটনা নিয়ে অভিযোগ করেছেন। এসব অভিযোগ পেয়েছে মিলিটারি রিলিজিয়াস
ফ্রিডম ফাউন্ডেশন নামের একটি সংগঠন। সেনাবাহিনীর বিভিন্ন শাখার সদস্যরা
জানিয়েছেন, কিছু কমান্ডারের মধ্যে অদ্ভুত এক উচ্ছ্বাস দেখা যাচ্ছে। অনেকে
মনে করছেন, তাঁরা শুধু যুদ্ধ করছেন না, বরং বাইবেলের ‘বুক অব রেভেলেশন’-এ
বলা শেষ সময়ের ভবিষ্যদ্বাণী বাস্তবায়নের কাজ করছেন।
আয়ারল্যান্ডে
জন্ম নেওয়া প্রচারক জন নেলসন ডারবি আঠারো শতকের ত্রিশের দশকে বাইবেল
ব্যাখ্যার একটি নতুন ধারণা দেন। এ ধারণার নাম ডিসপেনসেশনালিজম। তাঁর মতে,
মানব ইতিহাস সাতটি আলাদা যুগে ভাগ করা। প্রতিটি যুগে ঈশ্বর মানুষের সঙ্গে
ভিন্নভাবে সম্পর্ক রাখেন। যেমন আদম ও হাওয়ার সময়, মহাপ্লাবনের সময় ও যিশুর
ক্রুশবিদ্ধ হওয়ার সময়।
এই বিশ্বাস অনুযায়ী, শেষ জামানায় পৃথিবীতে বড়
অস্থিরতা দেখা দেবে। এরপর ঘটবে ‘র্যাপচার’। অর্থাৎ বিশ্বাসীরা অলৌকিকভাবে
স্বর্গে চলে যাবেন। তারপর কিছু সময় পৃথিবী শাসন করবে অ্যান্টিক্রাইস্ট বা
ধর্মদ্রোহীরা। শেষে যিশু ফিরে এসে পৃথিবীতে হাজার বছরের শান্তির রাজত্ব
প্রতিষ্ঠা করবেন।
ডারবির এ ধারণাই পরে যুক্তরাষ্ট্রে ছড়িয়ে পড়ে এবং
ইভানজেলিক্যাল সম্প্রদায়ের মধ্যে বেশ প্রভাব ফেলে। তবে অধিকাংশ খ্রিষ্টান
এই ব্যাখ্যা মানেন না। ক্যাথলিক, অর্থোডক্স ও অনেক প্রোটেস্ট্যান্ট গির্জা
‘রেভেলেশন’ গ্রন্থকে প্রতীকীভাবে ব্যাখ্যা করে। অনেক গবেষকের মতে, সেখানে
উল্লেখিত ‘বিস্ট’ বা পশু আসলে রোমান সম্রাট নিরোর প্রতীক, যিনি প্রাচীন
খ্রিষ্টানদের ওপর নির্যাতনের জন্য কুখ্যাত ছিলেন।
১৯০৯ সালে
প্রকাশিত ‘স্কোফিল্ড রেফারেন্স বাইবেল’-এ ডারবির ব্যাখ্যাগুলো বাইবেলের
পাশে নোট হিসেবে ছাপা হয়। এতে অনেক পাঠক বাইবেলের ভবিষ্যদ্বাণীকে
বিশ্বরাজনীতির একধরনের সংকেত হিসেবে দেখতে শুরু করেন। এই ধারণা আরও জনপ্রিয়
হয় ১৯৭০ সালে প্রকাশিত হাল লিন্ডসের বই ‘দ্য লেট গ্রেট প্ল্যানেট আর্থ’-এর
মাধ্যমে। বইটিতে তিনি বলেন, ১৯৪৮ সালে ইসরায়েল রাষ্ট্রের সৃষ্টি এবং পরে
জেরুজালেমের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়া শেষ যুগের গুরুত্বপূর্ণ সংকেত।
এ
ব্যাখ্যার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ বাইবেলের ‘ইজেকিয়েল’ গ্রন্থের ৩৮ নম্বর
অধ্যায়। সেখানে বলা হয়েছে, কিছু দেশ ইসরায়েলের বিরুদ্ধে জোট বাঁধবে। অনেকের
মতে, সেখানে উল্লেখ করা পারস্য বলতে আজকের ইরানকে বোঝানো হয়েছে। লিন্ডসে
মনে করেছিলেন, সেই জোটের উত্তরের শক্তি হতে পারে সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং আশির
দশকেই আরমাগেডন ঘটতে পারে।
আজ অনেকেই ভুলে গেছেন, কিন্তু ষাটের
দশকের অস্থিরতা, শীতল যুদ্ধের ভয় ও পারমাণবিক যুদ্ধের আশঙ্কার সময় এই বই
আমেরিকায় বড় আলোড়ন তুলেছিল। ১৯৭৪ সালে হাল লিন্ডসে এ বিষয়ে একটি টেলিভিশন
অনুষ্ঠান করেন, যা প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ মানুষ দেখেছিল। পরে এ নিয়ে একটি
প্রামাণ্যচিত্রও তৈরি হয়।
১৯৭৬ সালের হরর চলচ্চিত্র ‘দ্য ওমেন’-এ
অ্যান্টিক্রাইস্টকে শয়তানের সন্তান হিসেবে দেখানো হয়, যার শরীরে ৬৬৬
সংখ্যার জন্মচিহ্ন থাকে। আশির দশকে কিছু হেভি মেটাল ব্যান্ডও বাইবেলের
ভবিষ্যদ্বাণী নিয়ে গান করে। এর একটি উদাহরণ হলো জনপ্রিয় মেটাল ব্যান্ড আয়রন
মেইডেনের গান ‘নাম্বার অব দ্য বিস্ট’।
আমার বাবা স্কোফিল্ড বাইবেল ও
হাল লিন্ডসের বই পড়ে ধীরে ধীরে এই ধরনের ভবিষ্যদ্বাণীমুখী ভাবনায় আচ্ছন্ন
হয়ে পড়েন। একসময় তিনি বিশ্বাস করতে শুরু করেন যে বারাক ওবামা হলেন
অ্যান্টিক্রাইস্ট।
ওবামা মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর
অনেক ভবিষ্যদ্বাণী বিশ্লেষকের কাছে ঘটনাটি বিশেষ গুরুত্ব পায়। শীতল যুদ্ধ
শেষ হওয়ার পর তারা নতুন প্রতিপক্ষ খুঁজতে থাকে এবং ধীরে ধীরে তাদের দৃষ্টি
ঘুরে যায় ইরানের দিকে।
এই ধারার একজন পরিচিত প্রচারক ওকলাহোমার
পাদ্রি মার্ক হিচকক। তিনি বিভিন্ন বইয়ে দাবি করেছেন, আধুনিক ইরানই বাইবেলে
উল্লেখ করা পারস্য এবং ইরানই ভবিষ্যতের শেষ যুদ্ধের কেন্দ্র হতে পারে। তাঁর
মতে, বর্তমান আন্তর্জাতিক উত্তেজনা সেই ঘটনারই প্রস্তুতি।
অনেক
ইভানজেলিক্যাল গির্জায় যে খ্রিষ্টান জায়নবাদ দেখা যায়, তার শিকড়ও এই
বিশ্বাসে। সেখানে মনে করা হয়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল মিলেই শেষ যুগের
ঘটনাগুলো শুরু করবে, যার মধ্যে ইরানের সঙ্গে সংঘাত গুরুত্বপূর্ণ।
ডোনাল্ড
ট্রাম্পের প্রথম প্রশাসনে এই গোষ্ঠীর রাজনৈতিক প্রভাবও বাড়ে। ভাইস
প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স তাদের ঘনিষ্ঠ ছিলেন। ২০১৮ সালে ইসরায়েল সফরে গিয়ে
তিনি ইরান চুক্তি বাতিল এবং জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাস দ্রুত খোলার
প্রতিশ্রুতি দেন। তখন ইসরায়েলের একটি পত্রিকা লিখেছিল, অনেক ইভানজেলিক্যাল ও
মেসিয়ানিক ইহুদির কাছে এটি যেন নতুন যুগের ইঙ্গিত।
কিছু বছর এই
ধর্মীয় ভাষা কম শোনা গেলেও ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর তা আবার
জোরালো হয়েছে। মিলিটারি রিলিজিয়াস ফ্রিডম ফাউন্ডেশন জানিয়েছে,
যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ৩০টি সামরিক ঘাঁটির ৪০টির বেশি ইউনিট থেকে এ ধরনের
অভিযোগ এসেছে। এতে বোঝা যায়, ধর্মীয় বিশ্বাস ও রাষ্ট্রনীতির মিশ্রণ এখন
পেন্টাগন পর্যন্ত পৌঁছেছে।
এদিকে সম্প্রতি সিনেটর জন করনিন সান
আন্তোনিওতে একটি ধর্মসভায় অংশ নেন, যার শিরোনাম ছিল ‘এন্ড অব ডেজ অপারেশন
এপিক ফিউরি’। যার অর্থ দাঁড়ায় ‘শেষ সময়ের মহা অভিযান’। সভাটি পরিচালনা করেন
টেলিভিশন প্রচারক জন হাগি, যিনি ‘ক্রিশ্চিয়ানস ইউনাইটেড ফর ইসরায়েল’-এর
প্রতিষ্ঠাতা।
ট্রাম্প নিজে ধর্মতত্ত্বে খুব একটা আগ্রহী নন। তবে
তিনি ধর্মীয় প্রতীকের রাজনৈতিক গুরুত্ব বোঝেন। বাইবেল হাতে ছবি তোলা বা
নিজের বেঁচে যাওয়াকে ঈশ্বরের ইচ্ছা বলা—এ ধরনের কাজ তিনি প্রায়ই করেছেন।
তাই ইরান যুদ্ধ ঘিরে তৈরি হওয়া ভবিষ্যদ্বাণীর আলোচনায় ট্রাম্প এক অদ্ভুত
অবস্থানে আছেন। কারও কাছে তিনি বাইবেলের সাইরাস রাজার মতো, যাঁকে ঈশ্বর
ইতিহাসের শেষ অধ্যায় শুরু করার জন্য ব্যবহার করছেন। আবার অন্যদের কাছে তিনি
সেই আকর্ষণীয় নেতার প্রতীক, যাঁর কথা ‘রেভেলেশন’ গ্রন্থে বলা হয়েছে; যিনি
বিশৃঙ্খলার সময়ে উঠে এসে মানুষের আনুগত্য অর্জন করেন।
মার্কিন
সিনেটর মার্কো রুবিও প্রায়ই বলেন, ইরানের শিয়া ধর্মগুরুদের ধর্মীয় বিশ্বাস
তাঁদের নীতিকে প্রভাবিত করছে। কিছু ক্ষেত্রে তা সত্যও হতে পারে।
কিন্তু
যখন মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারাই ব্রিফিংয়ে আরমাগেডনের কথা বলেন এবং
সিনেটররা ‘শেষ দিনের’ ধর্মসভায় অংশ নেন, তখন মনে হয়, ভবিষ্যদ্বাণীর প্রভাব
শুধু এক পক্ষের রাজনীতিতেই সীমাবদ্ধ নয়।
* রায়ান জিকগ্রাফ, আটলান্টাভিত্তিক একজন সাংবাদিক
- ইংরেজি সাময়িকী জ্যাকবান থেকে নেওয়া, সংক্ষিপ্তাকারে অনূদিত
![]() |
| বাইবেল ছুঁয়ে শপথ নিচ্ছেন ট্রাম্প। ছবি: রয়টার্স |
৬ বছরের সাধনা, হাতে লেখা বিশাল কোরআন
লক্ষ্য ছিল পবিত্র কোরআনের এক অনন্য পাণ্ডুলিপি তৈরি করা। দীর্ঘ শ্রম ও শৈল্পিক নৈপুণ্যের পর অবশেষে সেই মহৎ কাজ শেষ করেছেন ইরাকি ক্যালিগ্রাফার আলী জামান।
৫৪ বছর বয়সী এই শিল্পীর তৈরি করা কোরআনের পাণ্ডুলিপিটি এখন ইস্তাম্বুলের ওই মসজিদেই সংরক্ষিত আছে। পাণ্ডুলিপিটির বিশালত্ব যে কাউকেই চমকে দেবে। এতে রয়েছে ৩০২টি দ্বিমুখী স্ক্রল বা পাতা, যার প্রতিটির দৈর্ঘ্য ৪ মিটার (১৩ ফুট) এবং প্রস্থ ১ দশমিক ৫ মিটার (৫ ফুট)।
আলী জামান বার্তা সংস্থা এপিকে বলেন, ‘যখনই আমি এই কোরআনটির কথা ভাবি, আমার এক অদ্ভুত প্রশান্তি লাগে। মহান আল্লাহ আমাকে এটি শেষ করার তৌফিক দিয়েছেন, এ জন্য আমি গর্বিত।’
অদম্য স্পৃহা
এই বিশাল কর্মযজ্ঞের জন্য সাধারণ কাগজ ব্যবহার করেননি জামান। ডিমের সাদা অংশ, কর্ন স্টার্চ (ভুট্টার আটা) এবং ফিটকিরির বিশেষ মিশ্রণে তৈরি করা হয়েছিল টেকসই বিশেষ কাগজ।
১২ বছর বয়স থেকে ক্যালিগ্রাফির প্রেমে পড়া জামান মূলত ইরাকের সোলাইমানিয়া প্রদেশের বাসিন্দা। তবে ক্যালিগ্রাফি বা হস্তশিল্পের কদর তুরস্কে বেশি হওয়ায় ২০১৭ সালে সপরিবারে ইস্তাম্বুলে চলে আসেন তিনি।
আলী জামানের এই দীর্ঘ সাধনায় বড় ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে তাঁর পরিবারকেও।
তাঁর ছেলে রেকার জামান স্মৃতিচারণা করে বলেন, ‘বাবার এই প্রকল্পের কাজ চলাকালীন আমরা তাঁকে খুব কমই কাছে পেয়েছি। শুধু তাঁর খাবার পৌঁছে দেওয়ার সময় অথবা রাতে যখন তিনি ঘুমাতে আসতেন, তখনই তাঁর দেখা মিলত। আলহামদুলিল্লাহ, কাজ শেষ হওয়ার পর এখন আমরা তাঁকে বেশি সময় পাচ্ছি।’
বিশ্ব রেকর্ডের হাতছানি
আলী জামানের দাবি, এটি বিশ্বের বৃহত্তম হাতে লেখা কোরআন। যদিও গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস কর্তৃপক্ষ এখনো এর আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়নি।
রেকর্ড অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মার্চে সৌদি আরবের মক্কার ‘হলি কোরআন মিউজিয়ামে’ সংরক্ষিত একটি কোরআনকে বিশ্বের বৃহত্তম ছাপানো কোরআন হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। তবে জামানের শিল্পকর্মটি হাতে লেখা হওয়ার কারণে এর গুরুত্ব আলাদা।
শিল্প বিশেষজ্ঞ উমিত কোসকুনসু বলেন, ‘ইসলামি ক্যালিগ্রাফি কেবল সাধারণ কোনো লেখা নয়, এটি একধরনের ইবাদত। আল্লাহর নৈকট্য লাভের একটি মাধ্যম।’
বর্তমানে এই বিশাল পাণ্ডুলিপিটি ধুলাবালি ও আর্দ্রতা থেকে বাঁচাতে বিশেষ আবরণে ঢেকে রাখা হয়েছে।
আলী জামানের শেষ ইচ্ছা, কোনো বিশেষ জাদুঘর বা শিল্পসংগ্রাহক যেন এটি সংগ্রহ করেন, যেখানে সাধারণ মানুষ এই অনন্য শিল্পকর্মটি দেখার ও মূল্যায়ন করার সুযোগ পাবে।
সূত্র: এপি
![]() |
| নিবিষ্ট মনে কোরআনের ক্যালিগ্রাফি আঁকছেন আলী জামান। ছবি: এপি |
Friday, March 20, 2026
যশোরে এক মসজিদে ইতিকাফে বসেছেন দেড় হাজারেরও বেশি মুসল্লি
এতে ভারত, পাকিস্তান, মিয়ানমার, সিঙ্গাপুর, ইংল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, যুক্তরাষ্ট্র ও পানামাসহ বিভিন্ন দেশের ৭৫ জন বিদেশি নাগরিক অংশ নিয়েছেন।
সাধারণত ২০ রমজান থেকে সুন্নত ইতিকাফ শুরু হলেও এই মসজিদে প্রথম রমজান থেকেই অনেকে নফল ইতিকাফ শুরু করেন। দিন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মুসল্লির সংখ্যাও বেড়েছে। ২২ রমজান পর্যন্ত পাওয়া তথ্যানুযায়ী, সুন্নত ইতিকাফে অংশ নিয়েছেন প্রায় ১ হাজার ৬০০ জন মুসল্লি। চারতলা বিশিষ্ট এই মসজিদে সহস্রাধিক মুসল্লির অবস্থানের জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
বিপুল সংখ্যক মুসল্লির সুবিধার্থে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। ইফতার, রাতের খাবার ও সাহরির আয়োজন করা হচ্ছে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায়। মাদ্রাসার শিক্ষক, কর্মচারী এবং প্রায় ১ হাজার ৮০০ শিক্ষার্থীর একটি বড় অংশ স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে দিনরাত কাজ করছেন।
আশরাফুল মাদারিসের শিক্ষা সচিব হাফেজ মাওলানা সাব্বির আহমাদ জানান, শায়খুল হাদিস মাহমুদুল হাসান গাঙ্গুহি (রহ.)-এর সিলসিলার অনুসারীরা মূলত এখানে সমবেত হয়েছেন। বর্তমানে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রখ্যাত আলেম শায়খ ইব্রাহিম আফ্রিকি এ সিলসিলার অন্যতম শীর্ষ ব্যক্তিত্ব। তিনি যেখানে অবস্থান করেন, দেশ-বিদেশের অনুসারীরা সেখানে ছুটে আসেন। এবার তিনি যশোরে অবস্থান করায় দেশি-বিদেশি বহু আলেম ও ধর্মপ্রাণ মানুষ এখানে ইতিকাফে যোগ দিয়েছেন।
মাদ্রাসার মহাপরিচালক মাওলানা নাসীরুল্লাহ জানান, ২০২৩ সাল থেকে এখানে বৃহৎ পরিসরে ইতিকাফের আয়োজন করা হচ্ছে। এরপর থেকে প্রতিবছরই অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা বাড়ছে। এর আগে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রাম ও সিলেটের বিভিন্ন স্থানে এ ধরনের বড় জমায়েত হলেও এবার যশোরের এই মাদারিস প্রাঙ্গণ মুখরিত হয়ে উঠেছে দেশি-বিদেশি মুসল্লিদের পদচারণায়।
![]() |
| যশোরের সদর উপজেলায় এক মসজিদে ইতিকাফে বসেছেন দেশি-বিদেশি নাগরিকসহ প্রায় ১ হাজার ৬০০ মুসল্লি। ছবি : কালবেলা |
Wednesday, March 18, 2026
ঈদের নামাজ কোথায় পড়া উত্তম, জেনে নিন
এই প্রশ্নের উত্তরে রাজধানীর জামিয়া মাহমুদিয়া যাত্রাবাড়ীর প্রধান মুফতি রেজাউল করীম আবরার কালবেলাকে বলেন, ঈদের নামাজ ঈদগাহে ও খোলা মাঠে পড়া সুন্নত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং খোলাফায়ে রাশেদিন সকলেই ঈদের নামাজ ঈদগাহে পড়তেন।
হজরত আবু সাঈদ খুদরী (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার দিন (ঈদের নামাজের জন্য) ঈদগাহে যেতেন (বোখারি : ৯৬৫)। হজরত আলী (রা.) বলেন, দুই ঈদে (ঈদের নামাজের জন্য) খোলা মাঠে যাওয়া সুন্নত। (আলমুজামুল আওসাত, তবারানি : ৪০৪০)
মুফতি আবরার বলেন, মাঠে ঈদের নামাজ পড়ার ব্যবস্থা থাকলে বিনা ওজরে মসজিদে ঈদের জামাত করবে না। তবে কোথাও বিনা জরুরতে এমনটি করা হলে ঈদের নামাজ আদায় হয়ে যাবে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে শহরে ঈদগাহ কম, বিধায় অধিকাংশ মসজিদে ঈদের জামাত হয়। জায়গা সংকুলান না হওয়া বা বৃষ্টি ইত্যাদির কারণে মসজিদে ঈদের নামাজ পড়লে সুন্নতের খেলাফ হবে না। ওজরের সময় মসজিদে পড়া হাদিস দ্বারা প্রমাণিত।
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, কোনো এক ঈদের দিন বৃষ্টি তাঁদেরকে পেয়ে বসে। ফলে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবিদের নিয়ে মসজিদে ঈদের নামাজ আদায় করেন। (আবু দাউদ : ১১৫৩)
উল্লেখ্য, যাদের ওপর জুমার নামাজ ফরজ, তাদের ওপর ঈদের নামাজ ওয়াজিব। অর্থাৎ, প্রাপ্ত বয়স্ক, সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন, যেসকল মুসলিম পুরুষ জামাতে উপস্থিত হয়ে ঈদের নামাজ আদায়ের সক্ষমতা রাখে, তাদেরকে ঈদের নামাজ পড়তে হবে। (আলমুহীতুল বুরহানী : ২/৪৭৬, বাদায়েউস সানায়ে : ১/৬১৭, শরহুল মুনইয়া : পৃ. ৫৬৫)
![]() |
| যাদের ওপর জুমার নামাজ ফরজ, তাদের ওপর ঈদের নামাজ ওয়াজিব। ছবি : সংগৃহীত |
Sunday, March 8, 2026
আফগানিস্তানের গ্রাহকের দাড়ি ছাঁটা নিয়ে বিপদে নরসুন্দরেরা, ব্যবসায় মন্দা
গত মাসে আফগানিস্তানের ‘ভালো কাজের আদেশ ও খারাপ কাজের নিষেধ’ মন্ত্রণালয় এক আদেশে জানায়, এখন থেকে দাড়ি এক মুষ্টির চেয়ে বড় রাখা ‘আবশ্যক’। আগের একটি আদেশকে আরও কঠোর করে নতুন এই নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে মন্ত্রী খালিদ হানাফি বলেন, ‘শরিয়াহ বা ইসলামি আইন অনুযায়ী জনগণের বাহ্যিক অবয়ব নিশ্চিতে দিকনির্দেশনা দেওয়া সরকারের দায়িত্ব।’
মন্ত্রী বলেন, ভালো কাজের আদেশ প্রচারে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের ‘ইসলামি ব্যবস্থা বাস্তবায়নের বাধ্যবাধকতা’ রয়েছে।
নিয়ম মানা হচ্ছে কি না, তা যাচাইয়ে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা এখন শহরের রাস্তায় রাস্তায় টহল দিচ্ছেন। নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে এএফপির সঙ্গে কথা বলা ব্যক্তিদের কেউ নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি।
দক্ষিণ–পূর্ব গজনি প্রদেশের ৩০ বছর বয়সী এক নরসুন্দর বলেন, তাঁকে তিন রাত আটকে রাখা হয়েছিল। তাঁর এক কর্মচারী এক গ্রাহকের চুল ‘পশ্চিমা ধাঁচে’ কেটেছিলেন, এমন খবর পাওয়ার পর কর্মকর্তারা তাঁকে ধরে নিয়ে গিয়েছিলেন।
ওই নরসুন্দর বলেন, ‘প্রথমে আমাকে একটি ঠান্ডা হলরুমে রাখা হয়েছিল। পরে আমি মুক্তির জন্য জোরাজুরি করলে তাঁরা আমাকে একটি শীতল (শিপিং) কনটেইনারে পাঠিয়ে দেন।’
তবে শেষ পর্যন্ত কোনো অভিযোগ ছাড়াই ওই নরসুন্দর ছাড়া পান। বর্তমানে তিনি কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু টহল দল পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তিনি তাঁর গ্রাহকদের নিয়ে লুকিয়ে পড়েন।
ওই নরসুন্দর বলেন, ‘বিষয় হলো, মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কেউ তর্ক বা কোনো প্রশ্ন করতে পারেন না। সবাই তাঁদের ভয় পান।’
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এই নরসুন্দর আরও বলেন, কোনো ক্ষেত্রে নরসুন্দর ও গ্রাহক উভয়কে আটক করা হলেও ‘গ্রাহকদের ছেড়ে দেওয়া হয়, কিন্তু নরসুন্দরকে’ আটকে রাখা হয়।
জাতিসংঘের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছর কুনার প্রদেশে মন্ত্রণালয়ের নিয়ম লঙ্ঘনের দায়ে তিন নরসুন্দরকে তিন থেকে পাঁচ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।
‘ব্যক্তিগত পরিসর’
কড়াকড়ি বৃদ্ধির পাশাপাশি ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় আরও কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে। গত নভেম্বরে ইমামদের জন্য প্রকাশিত আট পৃষ্ঠার এক নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, জুমার খুতবায় দাড়ি কামানোকে যেন ‘কবিরা গুনাহ’ বা মহাপাপ হিসেবে অভিহিত করা হয়।
দাড়ি ছাঁটার বিপক্ষে যুক্তি দিয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয় বলেছে, দাড়ি কামানোর মাধ্যমে পুরুষেরা আসলে ‘নারীদের মতো হওয়ার চেষ্টা’ করছে।
এই নিয়ম এরই মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয়ও পৌঁছে গেছে। দেশটিতে নারী শিক্ষা নিষিদ্ধ হওয়ায় এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে কেবল ছেলেরা পড়াশোনা করেন।
কাবুল বিশ্ববিদ্যালয়ের ২২ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী বলেন, শিক্ষকেরা আমাদের ‘সতর্ক করে দিয়েছেন।... তাঁরা বলেছেন, আমাদের অবয়ব যদি যথাযথ ইসলামি না হয়, তথা মুখে দাড়ি ও মাথায় টুপি না থাকে, তাহলে নম্বর কেটে নেওয়া হবে।’
রাজধানী কাবুলের ২৫ বছর বয়সী এক নরসুন্দর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘অনেক বিধিনিষেধ।’ এসব বিধিনিষেধ তাঁর তরুণ গ্রাহকেরা পছন্দ করেন না। কারণ, তাঁরা দাড়ি ছোট করে ছাঁটতেই বেশি পছন্দ করেন।
ওই নরসুন্দর আরও বলেন, ‘নরসুন্দরের কাজ একধরনের ব্যক্তিগত (প্রাইভেট) ব্যবসা। দাড়ি বা চুল রাখা মানুষের একান্ত ব্যক্তিগত বিষয়। যে যেভাবে চায়, সেভাবে কাটার সুযোগ থাকা উচিত।’
কিন্তু ‘ভালো কাজের আদেশ ও খারাপ কাজের নিষেধ’ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হানাফি এ ধরনের যুক্তি নাকচ করে দিয়েছেন। গত মাসে তিনি বলেন, পুরুষদের ‘শরিয়াহ অনুযায়ী দাড়ি বড় করতে’ বলাকে ‘ব্যক্তিগত পরিসরে হস্তক্ষেপ’ হিসেবে গণ্য করা যায় না।
ব্যবসায় মন্দা
আফগানিস্তানের অধিকাংশ মানুষ ধর্মপ্রাণ মুসলিম। তবে ২০২১ সালে তালেবান আবার ক্ষমতায় আসার আগে দেশটির বড় শহরগুলোর বাসিন্দারা নিজেদের পছন্দমতো পোশাক বা অবয়ব বেছে নিতে পারতেন।
তবে যেসব এলাকায় তালেবান যোদ্ধারা মার্কিন–সমর্থিত আফগান সরকারের বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করছিলেন, সেখানকার পুরুষেরা ভয়ে বা স্বেচ্ছায় দাড়ি রাখতেন।
এখন দাড়ি কামানোর চল কমে আসায় কাবুলের ২৫ বছর বয়সী ওই নরসুন্দর বলছিলেন, তাঁর ব্যবসায় এরই মধ্যে মন্দা শুরু হয়েছে।
উদাহরণ হিসেবে নরসুন্দর বলেন, অনেক সরকারি কর্মকর্তা ‘আগে সপ্তাহে কয়েকবার চুল–দাড়ি ছাঁটাতেন। কিন্তু এখন তাঁদের অনেকে দাড়ি রেখেছেন। এখন তাঁরা মাসে একবারও দোকানে আসেন না।’
কাবুলের ৫০ বছর বয়সী এক নরসুন্দর বলেন, নীতি পুলিশের টহল দল প্রতিদিন পরিদর্শনে আসে এবং সবকিছু পরীক্ষা করে দেখে।
চলতি মাসের এক ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ওই নরসুন্দর বলেন, এক কর্মকর্তা দোকানে ঢুকে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘চুল এভাবে কাটলে কেন?’
ওই নরসুন্দর বলেন, ‘আমি যখন তাঁকে বোঝানোর চেষ্টা করলাম, ও তো একটা শিশু। তখন তিনি (কর্মকর্তা) আমাদের বললেন, ‘না, ইসলামি ধাঁচে চুল কাটবে, ইংরেজি ধাঁচে নয়।’
![]() |
| পুলিশের কড়াকড়ি উপেক্ষা করে এক গ্রাহকের দাড়ি ছাঁটাই করছেন এক নরসুন্দর। আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ছবি: এএফপি |
Wednesday, February 11, 2026
মক্কা–মদিনার পবিত্র মসজিদে এবারও তারাবি ১০ রাকাত
মক্কা ও মদিনার দুই পবিত্র মসজিদের পরিচালনা পর্ষদ ২০২৬ সালের (১৪৪৭ হিজরি) রমজানের জন্য এই বিশেষ সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেছে। খবর হারামাইন শরিফাইনের।
কর্তৃপক্ষের ঘোষণা অনুযায়ী, দুই পবিত্র মসজিদে প্রতি রাতে তারাবির নামাজ ১০ রাকাত এবং এরপর ৩ রাকাত বিতর নামাজ পড়ানো হবে। তারাবির ১০ রাকাত নামাজে মোট পাঁচটি ‘তাসলিম’ বা সালাম ফেরানো হবে। এর মাধ্যমে দুই মসজিদে দীর্ঘদিনের প্রচলিত সুন্নি রীতিনীতি বজায় রাখা হচ্ছে।
সাধারণত রমজান মাস শুরুর আগেই দুই পবিত্র মসজিদের পরিচালনা পর্ষদ তারাবির নামাজের পূর্ণাঙ্গ সময়সূচি এবং ইমামদের তালিকা প্রকাশ করে। এবারও তার ব্যতিক্রম হবে না।
বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ মানুষ প্রতিবছর টেলিভিশন ও ইন্টারনেটের মাধ্যমে মক্কা-মদিনার এই তারাবির নামাজ সরাসরি সম্প্রচার দেখেন।
উল্লেখ্য, গত কয়েক বছর ধরে বিশেষ ব্যবস্থাপনায় দুই পবিত্র মসজিদে ১০ রাকাত তারাবির রেওয়াজ চালু রয়েছে। মূলত মুসুল্লিদের দীর্ঘ সময় ভিড়ের মধ্যে থাকার ধকল কমাতে এবং ইবাদত সহজতর করতে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হচ্ছে।
সূত্র: দি ইসলামিক ইনফর্মেশন ডট কম
![]() |
| ছবি: পেক্সেলস |
Sunday, January 18, 2026
মাথায় টুপি কি কেবল ভোটের আগেই! by সারফুদ্দিন আহমেদ
প্রার্থীর সঙ্গে একজন ভোটারের আলাপ হচ্ছে। উৎসুক লোকেরা তাঁদের কথা শুনছেন। কেউ কেউ মুঠোফোনে আলাপটি ভিডিও করছেন। প্রার্থী এবং ভোটার দুজনেরই গায়ে পাঞ্জাবি। মাথায় টুপি।
একই আসনে একটি বড় দলের টিকিট নিয়ে অন্য একজন প্রভাবশালী নেতা নির্বাচন করছেন। সেই নেতার লোকজনের কারণে এলাকার লোক কতটা অতিষ্ঠ, তাই নিয়ে দুজনের কথা হচ্ছে।
ভোটার বলছিলেন, বড় দলটির প্রভাবশালী ওই নেতার অনুসারীরা সমানে দুর্নীতি-চাঁদাবাজি করে যাচ্ছেন।
নবীন দলের তরুণ প্রার্থী বললেন, ‘তাঁর (প্রতিপক্ষ প্রার্থীর) লোকজন এসব করছেন, তাহলে উনি এত ভদ্র সাজেন কেন?’
তখন ভোটার তাঁকে যথেষ্ট শ্লেষ মেশানো গলায় খোঁচা মেরে বললেন, ‘ভদ্র মানে, আমার আপনার মতো ভদ্র। আমি আপনি ভদ্র না! এই যে আপনি নির্বাচনের কারণে টুপি পরছেন, এত দিন কিন্তু আপনার মাথায় টুপি ছিল না! এখন আপনার মাথায় টুপি।’
ভোটার মুখের ওপর এমন কথা বলবেন, তা তরুণ প্রার্থীটি আশা করেননি। তিনি থতমত খেলেন, তারপর বেশ জোরের সঙ্গে বললেন, ‘দ্যাখেন, আমি মাদ্রাসায় লেখাপড়া করছি...।’
ভোটার বললেন, ‘আপনি মাদ্রাসায় পড়ছেন, আমি কিন্তু মাদ্রাসায় পড়ি নাই। আমি জেনারেল লাইনে পড়ছি।’
ভোটারের দীর্ঘ শ্মশ্রুমণ্ডিত মুখের অনুযোগমিশ্রিত অভিব্যক্তি যেন অব্যক্ত ভাষায় প্রার্থীকে বলল, ‘আমি জেনারেল লাইনে পড়েও ভোটের জন্য মাথায় টুপি দিইনি, আমি আগে থেকেই টুপি পরি।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভোটার ও প্রার্থীর এই কথোপকথনের ভিডিওটি ভাইরাল হলেও ভোটের আগে প্রার্থীর পোশাক–পরিচ্ছদে আঁতকা পরিবর্তন আসাটা নতুন কিছু না। ভোটের সময় পুরুষ প্রার্থীর মাথায় টুপি ও নারী প্রার্থীর মাথায় হিজাব পরার ঐতিহ্য অতি সাধারণ। টুপি-পাঞ্জাবি পরে তোলা ছবিসহ পোস্টার সাঁটানো পুরোনো রেওয়াজ।
ভোটের পর যথারীতি নেতাদের বেশির ভাগেরই আগের ‘চেহারা-সুরতে’ ফিরে যাওয়ার ঘটনাও নতুন কিছু না। কারণ, এই দেশে নির্বাচন মানে শুধু ভোট না, এটি আসলে একধরনের বাস্তব জীবন-নাটকের ‘সামাজিক রিহার্সাল’। এখানে ভোট এলে রাজনীতিবিদ আর শুধু নাগরিক প্রতিনিধির ভূমিকায় থাকেন না, তিনি হয়ে ওঠেন অভিনেতা।
যে মানুষটিকে বছরের পর বছর ধর্মচর্চা নিয়ে উদাসীন ও নির্বিকার থাকতে দেখা যায়, ভোটের মঞ্চে উঠে সেই তাঁকেই হঠাৎ পোশাকে-আশাকে ‘ধার্মিক’ হয়ে উঠতে দেখা যায়; ঠিক যেমন নাটকের পর্দা উঠলে যাত্রাদলের অভিনেতারা কস্টিউম পরে ‘রাজা’ বা ‘সন্ন্যাসী’ হয়ে যান।
ভোটের আগে রাজনীতিকদের এই পোশাক পরিবর্তনে ধর্ম আর বিশ্বাসের প্রকাশ থাকে না, তা হয়ে ওঠে কৌশলের উপাদান। ধর্ম এখানে নৈতিক অনুশীলন থাকে না, তা হয়ে ওঠে ভোটের ভাষা। এই ভাষা দিয়ে ভোটারকে বলা হয়, ‘আমি তোমাদেরই লোক।’
২.
সাধারণ মানুষ বাস্তবতাকে সরাসরি যতটা না বোঝেন, তার চেয়ে বেশি বোঝেন প্রতীক, মিথ ও চিহ্নের মধ্য দিয়ে।
ধর্মীয় পোশাক (টুপি, হিজাব, গেরুয়া বসন, ক্রস, তিলক) কিংবা প্রতীক (চাঁদ-তারা, ক্রস, ত্রিশূল) ব্যক্তি বা দলের সম্পর্কে তিনটি বার্তা একসঙ্গে দেয়—১. নৈতিক শুদ্ধতা (‘আমি ধার্মিক, আমাকে বিশ্বাস করো’) ২. পরিচয়ের নিশ্চয়তা (‘আমি তোমাদেরই লোক’) ৩. অতীতের সংযোগ (‘আমি তোমাদেরই ইতিহাস ও বিশ্বাস বহন করি’)।
এই ধর্মীয় চিহ্ন বা সংকেত ব্যবহারের মনস্তত্ত্ব খুব সরল। প্রার্থী জানেন, ভোটার যুক্তির চেয়ে পরিচয়ে বেশি সাড়া দেন। তাই তিনি নিজেকে বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ করতে চান আচরণ দিয়ে নয়, চিহ্ন দিয়ে। তিনি টুপি, দাড়ি, নামাজ, ধর্মীয় শব্দ—এসব অনুষঙ্গকে সংকেত হিসেবে ব্যবহার করেন।
এই ধর্মীয় পোশাক ও চিহ্ন যুক্তির চেয়ে আবেগের ওপর বেশি তাড়াতাড়ি কাজ করে। ভোটার যখন জটিল অর্থনীতি বোঝেন না, দীর্ঘ নীতিনথি পড়েন না কিংবা রাষ্ট্রীয় কাঠামো নিয়ে ভাবার সময় পান না, তখন তিনি সহজ প্রশ্নে আশ্রয় নেন: ‘এই লোকটা কি আমার মতো?’ বা ‘লোকটা কি আমার ধর্ম-সংস্কৃতির লোক?’
ভোটার যাতে শর্টকাটে বুঝতে পারেন, ‘আমি তোমাদেরই লোক’, সে জন্যই এই চিহ্ন-প্রতীকের আশ্রয় নেওয়া হয়। রাজনৈতিক মনোবিজ্ঞানে একে বলা হয় কগনিটিভ শর্টকাট।
এই পরিচয়গুলো টেকসই নয়, কিন্তু কার্যকর। এগুলো টেকসই বিশ্বাস তৈরি করে না, বিভ্রম তৈরি করে।
অনেক সময় ভোটার বুঝে যান, প্রার্থীর এই টুপি পরার মধ্যে কোনো ধর্মীয় বা নৈতিক দায় নেই, আছে কেবল ভোট হাতিয়ে নেওয়ার মতলব। তখন তিনি বিরক্ত হয়ে বলে ফেলেন, ‘এই যে আপনি নির্বাচনের কারণে টুপি পরছেন, এত দিন কিন্তু আপনার মাথায় টুপি ছিল না!’
প্রার্থী তখন অস্বস্তিতে পড়েন। কারণ, এতে তাঁর সাজানো পরিচয় প্রশ্নের মুখে পড়ে যায়। তখন তিনি খেপে গিয়ে বলেন, ‘আমি মাদ্রাসায় পড়েছি।’
তাঁর এই বক্তব্য আসলে আত্মপরিচয়ের ঘোষণা নয়, এটি আত্মরক্ষার চেষ্টা। যেন বলা হচ্ছে, ‘আমি এই পোশাক পরার অধিকার রাখি।’ কিন্তু ভোটার ততক্ষণে বুঝে গেছেন, অধিকার আর আন্তরিক অভ্যাস এক জিনিস নয়।
প্রার্থী যখন ‘আমি মাদ্রাসায় পড়াশোনা করছি’ বলে পরিচয়ের অস্ত্র বের করেন, তখন ভোটারের জবাব হয় আরও নির্মম। ভোটার তখন জবাব দেন, ‘আমি মাদ্রাসায় পড়িনি, তবু আগে থেকেই টুপি পরি।’ এটি তাঁর নিঃশব্দ কিন্তু তীব্র প্রতিক্রিয়া। তিনি জানিয়ে দেন, তিনি মাদ্রাসায় পড়েননি, তবু আগে থেকেই টুপি পরেন। অর্থাৎ তাঁর টুপি পরার ইচ্ছা নির্বাচনের হাওয়া দেখে জাগ্রত হয় না।
ভোটারের এই প্রতিক্রিয়াকে শুধু প্রত্যাখ্যান বলা যায় না। একই সঙ্গে তা প্রতারণামূলক ভোট কৌশলের বিরুদ্ধে এক নীরব কিন্তু শক্তিশালী দার্শনিক রায়।
আমরা নির্বাচনের আগে টুপি ও হিজাব পরার এবং ভোটের পর তা খুলে ফেলার অসংখ্য ঘটনা দেখেছি। অনেক নেতাকে তাঁর মার্কায় ভোট দিলে জান্নাত পাওয়া যাবে বলে নিশ্চয়তা পর্যন্ত দিতে দেখা গেছে।
এই অবস্থায় ভোট আর নাগরিকের সচেতন সিদ্ধান্ত থাকে না; তা হয়ে ওঠে পরকালীন প্যাকেজ ডিল। ব্যালট পেপার রূপ নেয় আমলনামায়, সিলমোহর হয়ে ওঠে সওয়াবের সনদ।
পোশাক যে চরিত্রের প্রমাণ নয়, প্রতীক যে নীতির বিকল্প নয়, এই সহজ যুক্তিকেও ধর্মীয় পোশাক ও প্রতীক আবেগের আঘাতে দুর্বল করে দেয়। রাজনীতিকেরা এই দুর্বলতাকে কৌশলে ব্যবহার করেন। তাঁরা জানেন, এ ধরনের পোশাক ও প্রতীক দিয়ে ‘আমরা বনাম তারা’ বিভাজন তৈরি করা সহজ হয়; নিজেকে নৈতিক দিক থেকে উচ্চ শ্রেণির দাবি করা যায় এবং বিরোধীদের ‘অধার্মিক’ বা ‘শত্রু’ বানানো যায়; সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, এসব দিয়ে দিন শেষে জবাবদিহি এড়ানো যায়।
প্রতীক প্রয়োজনীয়, কিন্তু প্রতীক যখন রাজনীতিকে গ্রাস করে যুক্তির জায়গা দখল করে নেয়, তখনই বিপদ। যে সমাজ ভোট দেয় পোশাক দেখে, সে সমাজ একসময় নীতি যাচাইয়ের ক্ষমতা অধিকার হারিয়ে ফেলে। যখন ধর্মীয় পোশাক ও প্রতীক রাষ্ট্রক্ষমতার সিঁড়ি হয়ে ওঠে, তখন সচেতন নাগরিক অচেতন ভক্তে পরিণত হয়। ভক্তের ভোট থাকে, প্রশ্ন থাকে না।
সবচেয়ে ভয়ের কথা হলো, ভোটে এই পোশাক ও প্রতীকের অপব্যবহার ধর্মকে ক্ষতিগ্রস্ত করে নীরবে, আর রাজনীতিকে দুর্বল করে ধীরে। পাঞ্জাবি-টুপি-হিজাব যখন ভোট আকর্ষণের টোপ হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তখন ধর্মের নৈতিক শক্তির আবেদন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আর রাজনীতি যখন অভিনয় হয়ে দাঁড়ায়, তখন তার জবাবদিহি হারিয়ে যায়। দিন শেষে দুটোই টিকে থাকে, কিন্তু দুটোই হয়ে ওঠে ফাঁপা।
ভোটার তখন বুঝে যান, এই টুপি বিশ্বাসের নয়, এই নামাজ আত্মা পরিশুদ্ধির নয়, এই জান্নাতের প্রতিশ্রুতির পেছনে আছে ক্ষমতার উদগ্র বাসনা। নির্বাচন তখন আর যোগ্য প্রার্থী বাছাইয়ের প্রক্রিয়া থাকে না, এটি হয়ে ওঠে সমষ্টিগত আত্মপ্রতারণার উৎসব।
* সারফুদ্দিন আহমেদ, প্রথম আলোর সহকারী সম্পাদক
- ই-মেইল: sarfuddin2003@gmail.com
- মতামত লেখকের নিজস্ব

Wednesday, November 26, 2025
আল্লাহকে নিয়ে বাউলের করা ‘কটূক্তি’র অভিযোগের প্রতিবাদ দ্য রেড জুলাইয়ের
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উদ্দেশে মো. সজীব হোসাইন বলেন, ‘আপনারা আপনাদের ভুল স্বীকার করবেন কি না, তা জানান।’ প্রতিবাদী বাউল সন্ধ্যা আয়োজন নিয়ে তিনি বলেন, ‘ছাত্রদলের একজন সেখানে এসে গান গেয়েছেন এবং পক্ষ নিয়েছেন। আমরা তাঁর কাছে জানতে চাই, কোন উদ্দেশ্যে তিনি ওনার পক্ষ নিয়েছেন।’
ছাত্রশিবির ও জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের উদ্দেশে করে মো. সজীব হোসাইন বলেন, ‘আপনারা ধর্মভিত্তিক রাজনীতি করেন। অথচ আল্লাহকে নিয়েই গালি দেওয়া হলো, কিন্তু আপনারা পক্ষেও গেলেন না, বিপক্ষেও গেলেন না। আপনারা যাবেন কোন দিকে?’ তিনি আরও বলেন, ‘যে ব্যক্তি অভিযুক্ত তাদের শাস্তি দিন। অন্যদের ওপর মব করবেন না। একজনের শাস্তি আরেকজনকে দেবেন না।’
পরে দ্য রেড জুলাইয়ের পাঠানো এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘অত্যন্ত উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ করছি যে মহান আল্লাহর শানে জঘন্য শব্দ ব্যবহার করে ধর্ম অবমাননার সুস্পষ্ট অভিযোগে আবুল সরকার নামক এক বাউলকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গ্রেপ্তারের ঘটনায় এক শ্রেণির লোক পরিস্থিতি ঘোলাটে করার চেষ্টা করছে।’
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমরা দ্ব্যর্থহীন ভাষায় ঘোষণা করছি, এটি কেবল ফৌজদারি অপরাধ নয়, বরং বাংলাদেশের কোটি কোটি ধর্মপ্রাণ মুসলিমের হৃদয়ে আঘাত হানার শামিল। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের এই গুরুতর অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ আইনি শাস্তি নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অপরিহার্য দায়িত্ব। আমরা আরও উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ করছি যে মূল অপরাধকে আড়াল করে “কথিত ধর্ম অবমাননার অভিযোগে গ্রেপ্তার” এমন শিরোনাম ব্যবহার করে মিডিয়ায় পরিকল্পিত বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে।’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘উদ্দেশ্যমূলকভাবে বিষয়টিকে “সংস্কৃতি”, “বাক্স্বাধীনতা” বা “শিল্প ও শিল্পীর ওপর আঘাত” হিসেবে দেখানোর অপচেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে অভিযুক্ত ব্যক্তি ও তাঁর সমর্থকেরা ‘ভিক্টিম কার্ড’ ব্যবহার করে অপরাধ ঢাকতে এবং জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করে যাচ্ছেন। কিছু প্রভাবশালী মিডিয়া ও গোষ্ঠী এ ধরনের অপপ্রয়াসে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করছে, যা ন্যায়বিচারের পথে বড় বাধা তৈরি করছে। আমরা এই দায়িত্বহীনতা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণার তীব্র নিন্দা জানাই।’
এতে আরও বলা হয়, ‘দ্য রেড জুলাই সুস্পষ্টভাবে জানাচ্ছে, আমরা কোনোভাবেই আইন হাতে নেওয়ার প্রবণতাকে সমর্থন করি না। যদি কোথাও বিচ্ছিন্নভাবে এমন কোনো ঘটনা ঘটে থাকে, তা–ও রাষ্ট্রের সুশাসনের ঘাটতির কারণে ঘটেছে। আমাদের অবস্থান হলো, রাষ্ট্রে শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার পাশাপাশি অপরাধীর বিরুদ্ধে দ্রুত যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। অপরাধীকে রক্ষা করা, তার দোষ লঘু করা কিংবা জনতার ন্যায়সংগত ক্ষোভকে উল্টো দোষারোপ করার চেষ্টা—এসবই ন্যায়বিচার থেকে সরে আসার শামিল।’
এতে বলা হয়, ‘আমরা রাষ্ট্রের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি, সমস্ত বিভ্রান্তি ও ভ্রান্ত প্রচারণার অবসান ঘটিয়ে, কোনো রাজনৈতিক, সামাজিক বা সাংস্কৃতিক গোষ্ঠীর চাপ বিবেচনা না করে মহান আল্লাহর অবমাননাকারীর বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী দৃষ্টান্তমূলক, কঠোর ও সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে অত্যন্ত সংবেদনশীল এই বিষয়কে কেন্দ্র করে সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টি ও বিভ্রান্তি ছড়ানোর যেসব অপপ্রয়াস চলছে, তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।’
![]() |
| ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে ‘বাউল কর্তৃক আল্লাহকে নিয়ে কটূক্তি’র প্রতিবাদে কোরআন তেলাওয়াতের আয়োজন করে দ্য রেড জুলাই নামের একটি প্ল্যাটফর্ম। ছবি: প্রথম আলো |
Sunday, October 26, 2025
ধর্মনিরপেক্ষতার বদলে বহুত্ববাদ: ভাবের ঘরে চুরি by মহিউদ্দিন আহমদ
কটূক্তি, ধর্ম অবমাননা, অনুভূতিতে আঘাত দেওয়া—এসব অভিযোগ তুলে হামলা-মামলা চলে আসছে অনেক দিন ধরে। নিকট অতীতে রামু, নাসিরনগর, কুমিল্লাসহ বিভিন্ন জায়গায় দেখা গেছে, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার ধুয়া তুলে দুর্বল সম্প্রদায়ের লোকদের ওপর জুলুম হয়েছে। অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার নালিশ জানালেই হলো। পুলিশ বিদ্যুৎগতিতে তাকে ধরে নিয়ে যাবে। আদালতে রিমান্ড চাইবে। আদালত সঙ্গে সঙ্গেই দিয়ে দেবেন। এই ফর্মুলার নড়চড় হতে দেখছি না।
ধর্ম একটি স্পর্শকাতর বিষয়। সম্প্রতি একটি পুরোনো বাংলা ছবির সংলাপ শুনলাম। উত্তমকুমার বলছেন, ‘ভগবানে আমার বিশ্বাস নেই।’ এতে তো ধর্মপ্রাণ হিন্দুর অনুভূতিতে প্রচণ্ড আঘাত লাগার কথা; কিন্তু সে রকম কিছু হয়েছে বলে শুনিনি। উত্তমকুমারের জনপ্রিয়তায় একটুও ভাটা পড়েনি।
এ অঞ্চলে হিন্দু-মুসলমানের ঝগড়া বেশ পুরোনো। একসময় ভারতের মুসলমানরা মনে করলেন, তাঁরা একটি জাতি। হিন্দুদের সঙ্গে বসবাস করলে ইমান-আকিদা নিয়ে বাঁচা যাবে না। আলাদা দেশ চাই। তো আলাদা দেশ ‘পাকিস্তান’ হলো। দেখা গেল পাকিস্তানের এক অঞ্চলের মুসলমানের সঙ্গে আরেক অঞ্চলের মুসলমানের অনেক দ্বন্দ্ব। এক ছাদের নিচে বসে তার সুরাহা হবে না। তাই পাকিস্তান ভেঙে ‘বাংলাদেশ’ হলো। এখন দেখা যাচ্ছে, তাতেও সব সমস্যার সমাধান হয়নি। হিন্দু-মুসলমান ভাগটা রয়েই গেল।
একসময় এ দেশে ছিল পৃথক নির্বাচনব্যবস্থা। মুসলমানরা ভোট দিত মুসলমানকে আর হিন্দুরা দিত হিন্দুকে। ১৯৫৪ সালের নির্বাচনের আগে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ হিন্দু নেতাদের বোঝাল, ‘আমাদের ভোট দিলে দেশে সাম্প্রদায়িকতা থাকবে না, ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র হবে।’
হিন্দু নেতারা বললেন, তাহলে আগে তোমরা অসাম্প্রদায়িক হও। আওয়ামী লীগ রাজি হলো। নির্বাচনে মুসলিম লীগের ভরাডুবি হলো।
১৯৫৫ সালে আওয়ামী লীগ দলের নাম থেকে ‘মুসলিম’ শব্দটা বাদ দিয়ে ‘অসাম্প্রদায়িক’ হওয়ার দাবি করল। ১৯৫৬ সালের সংবিধানে পৃথক নির্বাচনব্যবস্থা বিলুপ্ত হয়ে চালু হলো যুক্ত নির্বাচনব্যবস্থা। তবে কাগজে-কলমে অসাম্প্রদায়িক হলেও আচরণে আওয়ামী লীগ মুসলমানের দলই থেকে গেল।
১৯৭০ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে শেখ মুজিব ঘোষণা দিলেন, ‘কাউকে কোরআন ও সুন্নাহবিরোধী আইন করতে দেওয়া হবে না।’ কার্যত হিন্দুরা হলেন আওয়ামী লীগের ভোটব্যাংক।
অনেক মুসলমান মনে করেন, হিন্দুরা সব ভারতের দালাল। কিছু হলেই তাঁরা দৌড় দেন ভারতের দিকে। ‘ভারতের দালাল’ কথাটা এ দেশে খুব খায়। পাকিস্তানি শাসকেরা মনে করতেন, বাঙালি মুসলমান খাঁটি মুসলমান নয়। নামে মুসলমান হলেও কার্যত তারা হিন্দু। তারা হিন্দু সংস্কৃতি লালন-পালন করে। শহীদ মিনার, পয়লা বৈশাখ উদ্যাপন—এসব হচ্ছে হিন্দু সংস্কৃতি।
১৯৭১ সালে এ দেশে গণহত্যা হয়েছিল। প্রধান টার্গেট ছিল হিন্দু সম্প্রদায়। পাকিস্তানিদের হাতে যত মুসলমান মারা গেছে, পাকিস্তানিরা তাদের হিন্দু মনে করেই মেরেছে। যে এক কোটি লোক ভারতে শরণার্থী হয়েছিল, তাদের ৮০ ভাগই ছিল হিন্দু।
দেশ স্বাধীন হওয়ার পর মুসলমানের চোখে হিন্দুরা হিন্দুই থেকে গেল, বাঙালি হতে পারেনি। রেডিও-টেলিভিশনে আর সরকারি অনুষ্ঠানে একজন পুরুত ডেকে গীতা পাঠ করিয়ে সরকার দায়িত্ব সারল। বলল ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’ হয়ে গেছে। ১৯৭২ সাল থেকেই দেশের নানা জায়গায় পূজামণ্ডপে হামলা আর প্রতিমা ভাঙচুর হতে থাকে।
১৯৭৫ সালের পর কাগজে–কলমে বাংলাদেশ হয়ে যায় মুসলমানের দেশ। রাষ্ট্রের অনানুষ্ঠানিক ইসলামীকরণ জিয়াউর রহমানের হাত দিয়ে শুরু, এরশাদের হাতে তার মোক্ষলাভ।
শেখ হাসিনা ২০ বছর ক্ষমতায় থেকে জিয়া-এরশাদের তৈরি স্থিতাবস্থা বজায় রাখলেন। হিন্দুদের প্রতি তাঁর দরদ ছিল না। তাঁর দরকার ছিল হিন্দু ভোট। মুসলমানের প্রতিও যে তাঁর দরদ ছিল, এমনটি বলা যাবে না।
আসলে তাঁর একমাত্র চাওয়া ছিল ক্ষমতার চূড়ায় থাকা। সে জন্য সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানের অনুভূতি নিয়ে তিনি ডুগডুগি বাজিয়েছেন আর হিন্দুদের রেখে দিয়েছেন জিম্মি করে। ক্ষমতার ভিত টিকিয়ে রাখতে নির্ভর করেছেন ভারতের ওপর। সরকার চালিয়েছেন সামরিক-অসামরিক গোয়েন্দা আর সরকারি-বেসরকারি লাঠিয়াল দিয়ে।
এ দেশের হিন্দুদের আরও বিপদে ফেলে দিয়েছে ভারতের হিন্দুত্ববাদী মোদি সরকার। ভারত সরকার ঘোষণা দিয়েছে, বাংলাদেশ থেকে অমুসলিম কেউ ভারতে (২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে যাঁরা গিয়েছেন) গেলে তাঁকে নাগরিকত্ব দেওয়া হবে। এর ফলে অনেকের কাছে মনে হতে পারে, বাংলাদেশের হিন্দুদের স্বয়ংক্রিয়ভাবেই ভারতের নাগরিক হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়ে যায়।
মুসলমানদের বলতে সুবিধা হলো—তোমরা তো ভারতে এক পা দিয়েই রেখেছ। আমাদের নেতারা প্রায়ই জোরগলায় বলেন, এ দেশে সংখ্যালঘু নেই। সবাই বাংলাদেশি। কথাটা যে ফাঁকা আর ফাঁকি, সেটি বলার অবকাশ রাখে না। সমস্যাকে স্বীকার করে নিয়ে তার সমাধানের দিকে না গিয়ে তাঁরা সমস্যাটাকে অস্বীকার করে প্রকারান্তরে এটাকে জিইয়ে রেখেছেন। বাংলাদেশি মুসলমানের একটি বড় অংশের চোখে বাংলাদেশি হিন্দুরা হলো ‘আটকে পড়া ভারতীয়’।
সংখাগুরুর আধিপত্যবাদের বিপরীতে সংখ্যালঘু মনস্তত্ত্ব বলে একটি কথা আছে। এর পেছনে কাজ করে নিরাপত্তাহীনতার শঙ্কা। হিন্দুদের বাড়ি, জমি ও ব্যবসা দখলের মচ্ছব চলছে ১৯৪৭ সাল থেকে। যাঁদের বাড়িতে উঠতি বয়সী মেয়ে আছে, তাঁরা অনেকেই তাদের ভারতে পাঠিয়ে দেন এ দেশে তারা নিরাপদ নয় ভেবেই। অনেকে তাঁদের সঞ্চয়ও পাঠিয়ে দেন দেশের বাইরে। মুসলমানও টাকা পাচার করে। সে করে দুবাই, সিঙ্গাপুর, ইংল্যান্ড, কানাডা বা যুক্তরাষ্ট্রে। হিন্দু করে ভারতে। সে মনে করে, একদিন যদি সে এ দেশে থাকতে না পারে, সে তো যাবে ভারতেই। অতি অল্পসংখ্যক ভাগ্যবান যেতে পারবে পশ্চিমের দেশগুলোতে। এই সংখ্যালঘু মনস্তত্ত্ব বোঝা দরকার।
একই কথা প্রযোজ্য ভারতীয় মুসলমানের ক্ষেত্রে। তারা সবাই পাকিস্তানে যাবে না; কিন্তু তারা মনে করে, একটি শক্তিশালী পাকিস্তান হচ্ছে তাদের রক্ষাকবচ। সে জন্য অনেক ভারতীয় মুসলমানকে ‘পাকিস্তানি এজেন্ট’ গাল শুনতে হয়।
ইদানীং নেতারা গলদঘর্ম হচ্ছেন সংবিধান নিয়ে। কারও কারও মনে হয়েছে, ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’ শব্দটি রাখার দরকার নেই। সে জায়গায় বসাতে হবে ‘বহুত্ববাদ’। দুটির অর্থ যে দুই রকম, এটা তাঁদের মাথায় ঢোকে না। ধর্মনিরপেক্ষতা হচ্ছে রাষ্ট্র কোনো বিশেষ ধর্মকে পৃষ্ঠপোষকতা দেবে না। রাষ্ট্রের চোখে সবাই সমান। ‘বহুত্ববাদ’ হচ্ছে বহু মতবাদের সহাবস্থান। একটি রাষ্ট্রধর্ম রেখে সত্যিকারের বহুত্ববাদ হয় না। যাঁরা বহুত্ববাদের কথা বলছেন; কিন্তু ধর্মনিরপেক্ষতার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন, তাঁরা সমাজে সাম্প্রদায়িকতার বীজটা যত্ন করে রেখে দিতে চাইছেন। এটা ‘ভাবের ঘরে চুরি’ ছাড়া আর কিছু নয়।
* মহিউদ্দিন আহমদ, লেখক ও গবেষক
- মতামত লেখকের নিজস্ব
![]() |
| সম্প্রতি ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে রংপুরের গঙ্গাচড়ায় হিন্দুদের বাড়িঘরে হামলা করা হয়। প্রথম আলো |
Saturday, October 25, 2025
পবিত্র ভূমি সিনাই পর্বতে বিলাসবহুল মেগা রিসোর্ট নিয়ে কেন এত আলোচনা
মিসরের অন্যতম এই পবিত্র স্থান ইহুদি, খ্রিষ্টান ও মুসলিমরা সমানভাবে শ্রদ্ধা করে থাকেন। সেই সিনাই এবার বদলে যাচ্ছে। বদলে যাচ্ছে দৃশ্যপট, মুছে যাচ্ছে বহু প্রজন্ম ধরে থাকা মানুষের জীবনযাত্রা। এখানে নির্মিত হচ্ছে বিলাসবহুল হোটেল, ভিলা ও শপিং সেন্টার। সিনাই পবর্তের এ স্থানে একটি নতুন পর্যটন মেগা প্রকল্পে রূপান্তরের পরিকল্পনা ঘিরে তুমুল বিতর্কও চলছে।
স্থানীয়ভাবে সিনাই পর্বত জাবাল মূসা নামে পরিচিত। পবিত্র কোরআন ও বাইবেলের বর্ণনা অনুযায়ী, এখানে নবী মুসা (আ.) আল্লাহর কাছ থেকে ১০টি আদেশ পেয়েছিলেন। অনেকের বিশ্বাস, এখানেই পবিত্র কোরআন ও বাইবেল অনুযায়ী এখানেই আল্লাহ মুসা (আ.)-এর সঙ্গে জ্বলন্ত ঝোপের মধ্য থেকে কথা বলেছিলেন।
বিশ্বের সবচেয়ে প্রাচীন খ্রিষ্টান মঠগুলোর একটি হলো ষষ্ঠ শতাব্দীতে নির্মিত সেন্ট ক্যাথরিন মঠ। গ্রিক অর্থোডক্স চার্চের অধীন পরিচালিত এই মঠও এখানে অবস্থিত। গ্রিসের চাপের কারণে মিসরীয় কর্তৃপক্ষ এই মঠটি বন্ধ করার কথা অস্বীকার করেছে। তাই মঠের সন্ন্যাসীরা এখনো সেখানে অবস্থান করছেন।
দীর্ঘদিন ধরে বিচ্ছিন্ন এই মরুভূমি অঞ্চল যা মঠ, শহর ও পর্বত নিয়ে গঠিত ইউনেসকোর বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান, তা বদলে যাচ্ছে। সেখানে এখন বিলাসবহুল হোটেল, ভিলা ও শপিং মল নির্মিত হচ্ছে। এ নিয়ে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
বেদুইনদের কান্না
এ অঞ্চলে জেবেলিয়া নামের একটি ঐহিত্যবাহী বেদুইন জনগোষ্ঠীর বাস। প্রাচীনকাল থেকে তারা সেন্ট ক্যাথরিনের অভিভাবক হিসেবে পরিচিত। এই জনগোষ্ঠীর ঘরবাড়ি এবং পর্যটন ইকো-ক্যাম্পগুলো প্রায় ক্ষতিপূরণ ছাড়াই ভেঙে ফেলা হয়েছে। এ ছাড়া পার্কিংয়ের জায়গা করার জন্য স্থানীয় কবরস্থান থেকে মৃতদেহ সরাতে তাদের বাধ্য করা হয়েছে।
ব্রিটিশ ভ্রমণ লেখক বেন হফলার সিনাই উপজাতিদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছেন। তিনি বলেন, প্রকল্পটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় টেকসই উন্নয়ন হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এটি পর্যটনকে আরও উৎসাহিত করবে ঠিকই। তবে এটি বেদুইনদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।
বেন হফলার বলেন, জেবেলিয়ারা যে রকম চেয়েছিল, এটি ঠিক সে রকম কোনো উন্নয়ন নয়। বাইরের মানুষের স্বার্থরক্ষার জন্য এটি স্থানীয় সম্প্রদায়ের ওপর চাপিয়ে দেওয়া একটি পরিকল্পনা।
এই ভ্রমণ লেখক আরও বলেন, ‘যাযাবর ঐতিহ্যের বেদুইন উপজাতির চারপাশে গড়ে তোলা হচ্ছে এক নতুন নগরসভ্যতা। এটি এমন একটি নগর, যা থেকে তারা সব সময় বিচ্ছিন্ন থেকেছে, যা নির্মাণে তারা কোনো সম্মতি দেয়নি। এ ছাড়া এটি মাতৃভূমিতে তাদের অবস্থান চিরতরে বদলে দেবে।’
স্থানীয় বাসিন্দাদের নীরবতা
এই অঞ্চলে প্রায় চার হাজার বেদুইন বাস করে। তাদের কণ্ঠ চাপা পড়ে গেছে। এই পরিবর্তন নিয়ে তারা কেউ প্রকাশ্যে কিছু বলছে না।
এ পর্যন্ত গ্রিস হলো একমাত্র বিদেশি শক্তি, যারা এই মিসরীয় পরিকল্পনার বিরুদ্ধে সবচেয়ে সরব। কারণ, এখানকার মঠের সঙ্গে তাদের সরাসরি সম্পর্ক আছে।
গত মে মাসে মিসরের একটি আদালত বিশ্বের প্রাচীনতম ও বহুল ব্যবহৃত খ্রিষ্টান মঠ সেন্ট ক্যাথেরিনসকে রাষ্ট্রীয় জমিতে অবস্থিত বলে রায় দেওয়ার পর এথেন্স ও কায়রোর মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়।
কয়েক দশক ধরে চলা বিরোধের পর বিচারকেরা বলেন, মঠটি শুধু এর জমি ও আশপাশের প্রত্নতাত্ত্বিক ধর্মীয় স্থানগুলো ‘ব্যবহারের অধিকার’ রাখে।
গ্রিসের চার্চপ্রধান আর্চবিশপ দ্বিতীয় ইয়েরোনিমোস দ্বিতীয় এই রায়ের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, মঠের সম্পত্তি দখল ও বাজেয়াপ্ত করা হচ্ছে। অর্থোডক্স ও হেলেনিজমের এই আধ্যাত্মিক বাতিঘর এখন অস্তিত্ব–সংকটের মুখে।
দীর্ঘদিন আর্চবিশপের দায়িত্ব পালন করা দামিয়ানোস গ্রিক সংবাদপত্রকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, এ সিদ্ধান্ত ‘আমাদের জন্য মারাত্মক আঘাত...এবং এক লজ্জাজনক ঘটনা।’ বিষয়টি সামলাতে গিয়ে যাজকদের ভেতরে বিভাজন তৈরি হয়েছে। এ কারণে তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন বলেও জানিয়েছেন।
আদালতের বিতর্কিত রায় বহাল থাকলেও কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পর গ্রিস ও মিসর একটি যৌথ ঘোষণায় সেন্ট ক্যাথরিনের গ্রিক অর্থোডক্স পরিচয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
উন্নয়ন, নাকি ধ্বংস
মিসর সরকার ২০২১ সালে গ্রেট ট্রান্সফিগারেশন নামের এই প্রকল্প শুরু করে। পর্যটকদের জন্য করা এই পরিকল্পনার মধ্যে আছে হোটেল, ইকো লজ ও একটি বৃহৎ দর্শনার্থীকেন্দ্র খোলার পাশাপাশি কাছাকাছি ছোট বিমানবন্দর ও মাউন্ট মোজেসা পর্যন্ত একটি কেব্ল কার স্থাপন।
সরকার এ উন্নয়নকে ‘পুরো বিশ্বের ও সব ধর্মের জন্য মিসরের উপহার’ হিসেবে প্রচার করছে।
গত বছর মিসরের গৃহায়ণমন্ত্রী শেরিফ এল-শেরবিনি বলেন, ‘প্রকল্পটি দর্শনার্থীদের সব পর্যটন ও বিনোদনমূলক সেবা দেবে; সেন্ট ক্যাথরিন শহর ও আশপাশের এলাকার উন্নয়ন করবে, পরিবেশগত, নান্দনিক ও ঐতিহ্যগত বৈশিষ্ট্য সংরক্ষণ করবে এবং প্রকল্পে কাজ করা ব্যক্তিদের জন্য বাসস্থানের ব্যবস্থা করবে।’
অর্থসংকটের কারণে এই প্রকল্পের কাজ আপাতত থেমে থাকলেও সেন্ট ক্যাথরিন মঠের সামনে এল-রাহা সমভূমি ইতিমধ্যেই বদলে গেছে। সেখানে নতুন সড়ক নির্মাণের কাজ চলছে। তবে সমালোচকেরা বলছেন, এ অঞ্চলের বিশেষ প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে ইউনেসকো উদ্বেগ জানালেও প্রকল্প থেমে নেই। ইউনেসকোর নথিতে লেখা হয়েছে, মঠের চারপাশের দুর্গম পাহাড়ি প্রাকৃতিক দৃশ্য মঠের জন্য এক নিখুঁত পটভূমি তৈরি করেছে। স্থানটির অবস্থান প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও নির্জনতা একদিকে এবং মানুষের আধ্যাত্মিক অঙ্গীকার অন্যদিকে—এই দুয়ের এক অন্তরঙ্গ বন্ধন প্রকাশ করে।
২০২৩ সালে ইউনেসকো উদ্বেগ প্রকাশ করে মিসরকে এই উন্নয়ন বন্ধ করতে, প্রভাব যাচাই করতে ও সংরক্ষণ পরিকল্পনা করার আহ্বান জানায়; কিন্তু তা হয়নি।
চলতি বছরের জুলাই মাসে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ ওয়াচ ইউনেসকোর বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটি সেন্ট ক্যাথরিনকে বিপদাপন্ন বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় রাখার আহ্বান জানিয়ে একটি খোলাচিঠি দেয়।
সেন্ট ক্যাথেরিন ফাউন্ডেশনের পৃষ্ঠপোষক হিসেবে যুক্তরাজ্যের রাজা চার্লসের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়েছে। ফাউন্ডেশন মঠের ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও প্রাচীন খ্রিষ্টান পাণ্ডুলিপি নিয়ে কাজ করে এবং তহবিল সংগ্রহ করে। রাজা চার্লস এ স্থানকে ‘একটি মহান আধ্যাত্মিক সম্পদ, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য রক্ষা করা উচিত’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
অর্থনীতি বনাম ঐতিহ্য
এ মেগা প্রকল্প মিসরে এটিই প্রথম নয়। দেশের অনন্য ইতিহাসের প্রতি সংবেদনশীল না হওয়ায় সরকারের এমন প্রকল্প নিয়ে আগেও সমালোচনা হয়েছে। তবে সরকার এসব বড় প্রকল্পকে দুর্বল অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করার মূল হাতিয়ার হিসেবে দেখছে।
কোভিড-১৯ মহামারি থেকে পুনরুদ্ধারের পথে থাকা মিসরের সমৃদ্ধ পর্যটন খাত গাজার যুদ্ধ ও নতুন আঞ্চলিক অস্থিরতায় আবার মুখ থুবড়ে পড়েছে। এরই মধ্যে সরকার ২০২৮ সালের মধ্যে ৩ কোটি পর্যটক আকর্ষণের লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করেছে।
মিসরের বিভিন্ন সরকারের সময়ে সিনাইয়ের ক্রমাগত বাণিজ্যিক উন্নয়ন স্থানীয় বেদুইন সম্প্রদায়ের সঙ্গে কোনো পরামর্শ ছাড়াই করা হয়েছে।
১৯৬৭ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধে ইসরায়েল সিনাই উপদ্বীপ দখল করে। ১৯৭৯ সালে দুই দেশের মধ্যে এক শান্তিচুক্তির পর তা আবার মিসরের কাছে ফেরত আসে। তখন থেকেই বেদুইনরা অভিযোগ করে আসছে, তাদের সঙ্গে দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিকের মতো আচরণ করা হচ্ছে।
১৯৮০-এর দশকে দক্ষিণ সিনাইয়ে শারম আল–শেখসহ জনপ্রিয় লোহিত সাগরের পর্যটনকেন্দ্রগুলোর নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে। অনেকে বলছেন, সেন্ট ক্যাথরিনে যা ঘটছে, তার সঙ্গে এর মিল আছে।
মিসরীয় সাংবাদিক মোহান্নাদ সাবরি বলেন, বেদুইনরা এ অঞ্চলের মানুষ। তারা ছিল পথপ্রদর্শক ও শ্রমিক। এরপর শিল্পপর্যটন এসে তাদের সরিয়ে দিল—শুধু ব্যবসা থেকে নয়, সমুদ্রের কাছ থেকেও শারীরিকভাবে তাদের পেছনে ঠেলে দেওয়া হলো।
ধারণা করা হচ্ছে, লোহিত সাগরের পর্যটনকেন্দ্রগুলোর মতোই দেশের অন্য প্রান্ত থেকে এই উন্নয়ন প্রকল্পে কাজ করার জন্য শ্রমিক নিয়ে আসা হবে। তবে সরকার বলছে, তারা বেদুইন আবাসিক এলাকাগুলোরও ‘উন্নয়ন’ করছে।
আধ্যাত্মিক ভুবনের ভাঙন
গত দেড় সহস্রাব্দ ধরে সেন্ট ক্যাথরিন মঠ বহু উত্থান-পতন সহ্য করে টিকে আছে। শুরুতের এটি ছিল এক নির্জন আশ্রয়স্থল। তবে লোহিত সাগরের পর্যটন সম্প্রসারণের পর থেকে হাজারো দর্শনার্থী এখানে এক দিনের জন্য ভ্রমণে আসতে শুরু করে। আর এতেই এর প্রাচীন পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটতে শুরু করে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সেই জ্বলন্ত ঝোপের অবশেষ বলে পরিচিত স্থান কিংবা নিউ টেস্টামেন্টের প্রাচীনতম প্রায় পূর্ণাঙ্গ হস্তলিপি কোডেক্স সিনাইটিকাসের পৃষ্ঠা প্রদর্শনকারী জাদুঘরে মানুষের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে।
এতে সেন্ট ক্যাথরিন ও এই স্থানের গভীর ধর্মীয় তাৎপর্য অটুট হয়তো থাকবে। তবে চারপাশের পরিবেশ ও শতাব্দীপ্রাচীন জীবনযাত্রা চিরতরে বদলে যাবে। তবু স্থানীয় অনেকের কাছে এখন একটাই প্রশ্ন—পবিত্র ভূমি কি টিকে থাকবে বিলাসবহুল রিসোর্টের ভিড়ে? এর উত্তর তাদের জানা নেই। -বিবিসি
![]() |
| মিসরের দক্ষিণ সিনাইয়ে অবস্থিত সেন্ট ক্যাথেরিন মঠ। ফাইল ছবি: রয়টার্স |
Monday, August 11, 2025
নারীর ভোটাধিকার বাতিল চেয়ে যাজকদের মন্তব্যে হেগসেথের সমর্থন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট
ভিডিওতে একটি খ্রিষ্টান জাতীয়তাবাদী গির্জার একাধিক যাজক মত দেন, নারীদের আর ভোট দেওয়ার অনুমতি দেওয়া উচিত নয়।
গত বৃহস্পতিবার রাতে এক্সে পুনঃপ্রকাশ করা হেগসেথের পোস্টে দেখা গেছে, তিনি খ্রিষ্টান জাতীয়তাবাদী এক যাজকের সঙ্গে গভীর ও ব্যক্তিগত সম্পর্ক রাখেন, যাঁর ধর্ম ও নারীর ভূমিকা বিষয়ে চরমপন্থী দৃষ্টিভঙ্গি আছে।
হেগসেথ তাঁর পোস্টে সিএনএনের প্রায় সাত মিনিটের এক প্রতিবেদন নিয়ে মন্তব্য করেন। কমিউনিয়ন অব রিফর্মড ইভানজেলিক্যাল চার্চেসের (সিআরইসি) সহপ্রতিষ্ঠাতা ডগ উইলসনের কর্মকাণ্ড নিয়ে এই প্রতিবেদন তৈরি করেছে সিএনএন। প্রতিবেদনে উইলসনস চার্চের একজন যাজক মার্কিন সংবিধান থেকে নারীর ভোটাধিকার বাতিলের পক্ষে মত দেন। অন্য আরেকজন যাজক বলেন, তাঁর প্রত্যাশিত ‘আদর্শ সমাজে’ মানুষ পরিবারভিত্তিক ভোট দেবে। ভিডিওতে একজন নারী সদস্যকেও বলতে শোনা যায়, তিনি তাঁর স্বামীর প্রতি অনুগত।
ভিডিওটি পোস্ট করে হেগসেথ লিখেছেন, জীবনের সব ক্ষেত্রে খ্রিষ্টধর্মের বিধান প্রভাব বিস্তার করবে। হেগসেথের পোস্টে ১২ হাজারের বেশি লাইক ও ২ হাজারের বেশি শেয়ার হয়। কিছু ব্যবহারকারী ভিডিওতে থাকা যাজকদের মতের সঙ্গে একমত হলেও অনেকে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর খ্রিষ্টান জাতীয়তাবাদী ধারণা প্রচারের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
তবে প্রগ্রেসিভ ইভানজেলিকাল সংগঠন ‘ভোট কমন গুড’-এর নির্বাহী পরিচালক ও যাজক ডগ পাগিট বলেন, ভিডিওতে প্রচারিত মতামত শুধু ‘খ্রিষ্টানদের এক ক্ষুদ্র প্রান্তিক অংশের’ ধারণা এবং হেগসেথের এগুলো প্রচার করাকে তিনি ‘খুবই বিরক্তিকর’ বলে উল্লেখ করেন।
পেন্টাগনের প্রধান মুখপাত্র শন পারনেল গত শুক্রবার অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে বলেছেন, হেগসেথ এমন ‘একটি চার্চের গর্বিত সদস্য’, যা সিআরইসির সঙ্গে যুক্ত। তিনি উইলসনের অনেক লেখা ও শিক্ষাকে অত্যন্ত মূল্যায়ন করেন।
গত মে মাসে হেগসেথ তাঁর ব্যক্তিগত যাজক ব্রুকস পোটেইগারকে পেন্টাগনে আমন্ত্রণ জানান। সেখানে তিনি সরকারি কর্মঘণ্টায় একাধিক খ্রিষ্টান প্রার্থনাসভার প্রথমটি পরিচালনা করেন। প্রতিরক্ষা দপ্তরের কর্মী ও সামরিক সদস্যরা বলেন, তাঁরা এ অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্র সরকারি ই–মেইলে পেয়েছিলেন।
সিএনএনের প্রতিবেদনে উইলসন বলেন, ‘আমি এ দেশকে একটি খ্রিষ্টান দেশ হিসেবে দেখতে চাই এবং চাই বিশ্বও খ্রিষ্টান বিশ্ব হোক।’
![]() |
| মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। ছবি: এএফপি |
Wednesday, August 6, 2025
মুসলিম পুলিশ কর্মকর্তার জানাজায় হেডস্কার্ফ পরায় আমেরিকায় রাজনৈতিক বিতর্ক
গভর্নর হোকুলও সেই প্রথা মেনে মাথায় কালো ওড়না পরেন। একজন বেনামী ব্যবহারকারী সেই ছবি সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করে অশালীন ভাষায় প্রশ্ন তোলে, কেন হোকুল ‘হিজাব’ পরেছেন। পরে সেই পোস্ট শেয়ার করে সিনেটর টেড ক্রুজ বিদ্রূপ করে লেখেন, ‘কি হচ্ছে এসব?’
হোকুলের জবাব ছিল স্পষ্ট, ‘‘একজন শহীদ মুসলিম কর্মকর্তার ধর্মবিশ্বাসকে সম্মান জানানোই হল ‘একজন নেতা ও ন্যূনতম মানবিকতা সম্পন্ন মানুষের কাজ।”
ছবিতে দেখা যায়, গভর্নর হোকুল ও মেয়র এরিক অ্যাডামস মসজিদের ভেতরে জানাজায় অংশ নিচ্ছেন। পাশে বসা পুরুষরা কেউ ইউনিফর্মে, কেউবা ধর্মীয় পাশাকে। গভর্নর হোকুলের মাথায় ছিল কালো ওড়না, মুখে গম্ভীরতা।
সম্প্রতি নিউ ইয়র্ক সিটির মিডমানহাটানে গণগুলিতে নিহত ৫ জনের অন্যতম দিদারুল ইসলাম, ৩৬ বছর বয়সী এনওয়াইপিডি কর্মকর্তা, বাংলাদেশ থেকে প্রায় ১৬ বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। হামলার সময় তিনি অতিরিক্ত শিফটে ছিলেন এবং নিউ ইয়র্কের সবচেয়ে বড় পুলিশ বাহিনীর বাংলাদেশি সদস্যদের একজন ছিলেন তিনি। নিউ ইয়র্ক সিটি এবং এনওয়াইপিডি তার জানাজা অভূতপূর্বভাবে আয়োজন করে যা কয়েক ঘণ্টাব্যাপী চলে এবং সেখানে নারীদের ও পুরুষদের জন্য আলাদা সময় নির্ধারণ ছিল। অনেক নারী ও পুরুষ ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী মাথা ঢেকে অংশগ্রহণ করেন।
পুলিশ কমিশনার জেসিকা টিশও হেডস্কার্ফ পরে বক্তব্য রাখেন। মসজিদের বাইরে শতাধিক নারী পুলিশ কর্মকর্তারা মাথা ঢেকে জানাজায় অংশ নিতে অপেক্ষা করছিলেন।
এ বিষয়ে শনিবার, আমেরিকায় মুসলমানদের বৃহত্তম সংগঠন কাউন্সিল অব ইসলামিক রিলেশন্স (সিএআইআর) এক বিবৃতিতে সিনেটর ক্রুজের মন্তব্যকে ‘ঘৃণ্য ও অসম্মানজনক’ বলে নিন্দা জানায় এবং গভর্নর হোকুল ও অফিসার ইসলামের পরিবারের কাছে তাকে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানায়। সংস্থাটি আরও জানায়, অতীতে টেড ক্রুজ নিজেও একটি ইহুদি অনুষ্ঠানে টুপি পরে অংশ নিয়েছিলেন, তাই হোকুলের প্রতি তার সমালোচনাকে তারা ‘দ্বিচারিতা ও বিদ্বেষপূর্ণ’ বলে মনে করে।
তবে রোববার সিনেটর ক্রুজ আরও এক ধাপ এগিয়ে গভর্নর হোকূলকে কটাক্ষ করে বলেন, ‘‘আপনার তো প্রতিদিন হিজাব পরা উচিত, কারণ আপনি এতটাই ‘ভদ্র’।” একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, গভর্নর হোকুল নারীদের অধিকার রক্ষায় উদাসীনতার পরিচয় দিয়েছেন। গভর্নর হোকুল টেড ক্রুজের মন্তব্যের জবাবে কঠোর ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি বলেন, ‘তার কাছে মাথা ঢেকে জানাজায় অংশ নেওয়া ছিল শহীদ পুলিশ কর্মকর্তার প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর একটি সাধারণ ও স্বাভাবিক কাজ।’
উল্লেখ্য, শহীদ ডিটেকটিভ দিদারুল ইসলামের জানাজায় নিউ ইয়র্ক ইসলামিক কালচারাল সেন্টারের ইমাম ড. জাকির আহমেদ বলেছিলেন, ‘এই শহর, এই জাতির প্রতি আমাদের বার্তা হলো—আপনারা আমাদের সেবা নিতে এবং একই সঙ্গে আমাদের কণ্ঠ রোধ করতে পারেন না। আপনারা আমাদের আত্মত্যাগ গ্রহণ করতে এবং একইসঙ্গে আমাদের কষ্টকে উপেক্ষাও করতে পারেন না।’ তিনি সেদিন আরও বলেছিলেন, ‘‘ডিটেকটিভ দিদারুল ইসলাম এমন এক সময়ে জীবন কাটিয়েছেন, যখন তার মতো মানুষদের অপমানিত করা হয়েছে এবং “বহিরাগত হিসেবে অনুভব করতে বাধ্য করা হয়েছে।’’
ডিটেকটিভ দিদারুল ইসলামের জানাজার সপ্তাহ না যেতেই তার ধর্মীয় বিশ্বাসকে রাজনীতির বিষয়ে পরিণত করা এবং তার ধর্মীয় রীতিকে নিয়ে রাজনৈতিক কটাক্ষ করার মাধ্যমে মূলত তার আমেরিকান পরিচিতিকে ‘বহিরাগত’ হিসেবে প্রমাণ করারই একটি ঘৃণ্য চেষ্টা করা হচ্ছে বলে মনে করেন নিউইয়র্কের সাধারণ মুসলিমরা।

Tuesday, August 5, 2025
আল-আকসা মসজিদ চত্বরে প্রার্থনা ইসরায়েলি কট্টরপন্থী মন্ত্রীর
মিডল ইস্ট আই এ ঘটনার বেশ কিছু ভিডিও দেখেছে। ভিডিওতে শত শত বসতিস্থাপনকারীকে আল-আকসা মসজিদ চত্বরে অনুপ্রবেশ করতে দেখা গেছে। এ সময় কিছু লোককে নাচতে ও হৈহুল্লোড় করতে দেখা যায়। এ ধরনের কর্মকাণ্ড মসজিদের পবিত্রতা লঙ্ঘন করে।
ইসরায়েলের দখলে থাকা পূর্ব জেরুজালেমের ওল্ড সিটিতে আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে ইহুদি ধর্মাবলম্বীদের প্রার্থনায় নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে মেনে আসা হচ্ছিল। যদিও ইহুদি গোষ্ঠীগুলো গত শতকে বারবার এই ভঙ্গুর ব্যবস্থাপনা লঙ্ঘন করেছে। শুধু তাই নয়, ইসলাম ধর্মের অন্যতম পবিত্র স্থানটির ওপর নজিরবিহীন হামলা চালিয়েছে তারা।
জেরুজালেমের ওল্ড সিটির বাসিন্দারা জানান, বেন গভির আসার আগে ও পরে পুরো এলাকাটিকে ‘একটি সামরিক ঘাঁটির’ মতো মনে হচ্ছিল। সেখানে অসংখ্য তল্লাশিচৌকি বসানো হয়। ইসরায়েলি সেনারা নিরাপত্তাব্যবস্থা ব্যাপকভাবে জোরদার করেছিল।
স্থানীয় বাসিন্দারা আরও জানান, বেন গভিরের পরিদর্শনের সময় ইসরায়েলি বাহিনী ফিলিস্তিনিদের মসজিদে প্রবেশ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করে। শুধু অল্পসংখ্যক স্থানীয় বাসিন্দাকে ওই স্থানে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়।
পরিদর্শনের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় বেন গভির বলেন, ‘টেম্পল মাউন্ট ইহুদিদের জন্য। আমরা চিরদিন এখানে থাকব।’
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকারের মন্ত্রী হওয়ার পর থেকে বেন গভির অন্তত ১১ বার আল-আকসা মসজিদ চত্বরে অনুপ্রবেশ করেন। এদিকে বেশ কয়েকজন কট্টর ডানপন্থী রাজনীতিবিদ আল-আকসা ধ্বংস করে সেখানে একটি ইহুদি উপাসনালয় নির্মাণের পক্ষে মত দিয়েছেন। তাদের দাবি অনুযায়ী, সেখানে একসময় ইহুদি উপাসনালয় ছিল।
রোববার আল আকসা পরিদর্শনের সময় ডানপন্থী লিকুদ পার্টির আইনপ্রণেতা আমিত হালেভিও উপস্থিত ছিলেন। তিনি গাজায় পানি, খাদ্য ও জ্বালানির সব উৎস ধ্বংস করতে বারবার ইসরায়েল সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আসছেন।
| ইসরায়েলের কট্টরপন্থী নেতা ও জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গভির আল-আকসা মসজিদ চত্বরে প্রার্থনা করেছেন। ০৩ আগস্ট। ছবি: এএফপি |
BNM Special
BNM Archive
BNM Archive
-
▼
2026
(1763)
-
▼
August
(310)
-
▼
Aug 28
(6)
- পুরুষের প্রোস্টেট স্ফীত হওয়ার সমস্যা by ডা. কাজী জ...
- নেপালে বিপর্যয়: ‘নিমেষেই চোখের সামনে নিশ্চিহ্ন হয়ে...
- ইরান-ন্যাটো নিয়ে আলোচনা করতেই রাশিয়া সফরে গিয়েছিলে...
- ‘বসনিয়ার কসাই’ সার্ব জেনারেল মারা গেছেন
- বিশ্বসেরা দেশের সঙ্গে পাল্লা দিচ্ছে ইরানের পারমাণব...
- শারীরিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত, সেটে ফিরবেন না নায়িকা
-
▼
Aug 28
(6)
-
▼
August
(310)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (129)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...













