Thursday, September 19, 2024

লিকুর সবই স্ত্রী শ্যালকের নামে by মারুফ কিবরিয়া

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একান্ত সহকারী-২ ছিলেন গাজী হাফিজুর রহমান লিকু। দুর্নীতি-অনিয়মের কারণেই চাকরি হারান চলতি বছরের মে মাসে। চাকরি হারানোর সঙ্গে সঙ্গেই  সামনে চলে আসে লিকুর দুর্নীতি ও অনিয়মের তথ্য। অভিযোগ রয়েছে- ঘুষ, টেন্ডার বাণিজ্য, নিয়োগ বাণিজ্যসহ নানা অনিয়মের মাধ্যমে হাজার কোটি টাকা মূল্যের সম্পদ গড়েছেন লিকু। তবে বেশির ভাগ সম্পদই কিনেছেন স্ত্রী, ভাই ও শ্যালকের নামে। জানা যায়, চাকরি হারানোর আগেই লিকুর অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ জমা পড়ে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক)। তবে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকায় তার বিরুদ্ধে কোনো অনুসন্ধান শুরু করেনি সংস্থাটি। সম্প্রতি শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তার দলীয় এমপি মন্ত্রীদের সঙ্গে লিকুর অনুসন্ধানের সিদ্ধান্তও নেয় দুদক।

গতকাল কমিশনের সভায় লিকু ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা সম্পদের অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সংস্থাটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহর নেতৃত্বে দুই কমিশনার ও সচিব ওই সভায় উপস্থিত ছিলেন। দুদকের ঊর্ধ্বতন একটি সূত্র মানবজমিনকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গোপালগঞ্জের ছাত্রনেতা থেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সহকারী হওয়ার পরপরই যেন আলাদিনের চেরাগ পেয়ে যান লিকু। বিশেষ করে গত ছয় বছরে গোপালগঞ্জ, ঢাকা ও কুয়াকাটাসহ বিভিন্ন স্থানে নামে বেনামে বিপুল পরিমাণ সম্পদ গড়েন তিনি।

সূত্র মতে, শেখ হাসিনার এপিএস নিয়োগ পাওয়ার পর গাজী হাফিজুর রহমান লিকু তার প্রভাব খাটানো শুরু করেন। বিভিন্নভাবে অনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে অবৈধ উপায়ে অঢেল সম্পদের মালিক হয়েছেন তিনি। লিকু দীর্ঘদিন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দায়িত্ব পালন করে সরকারি প্রতিষ্ঠান ও দলের ভেতর বিশাল প্রভাব বলয় তৈরি করেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রীর নাম ভাঙিয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার, দলীয় পদ-পদবি বাণিজ্য ও তদবির বাণিজ্য করেন। চলতি বছর প্রথম ধাপে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ক্ষমতার অপব্যবহার করে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলায় তার নিজের প্রার্থীকে জোর করে পাস করতে প্রতিপক্ষের ওপর আগ্নেয়াস্ত্রসহ সশস্ত্র হামলা চালিয়েছেন। এতে ৯ জন গুলিবিদ্ধসহ অনেকেই মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন। নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী লিয়াকত ভূঁইয়া সর্বোচ্চ ভোট পেলেও গভীর রাতে তাকে পরাজিত দেখিয়ে লিকু সমর্থিত প্রার্থীকে পাস করানো হয়। এসব অভিযোগ তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়েও দেয়া হয়েছিল।

যেখানে যত সম্পদ লিকুর : লিকুর বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ জমা পড়ে গত মে মাসে। সে অভিযোগের সূত্র ধরে মানবজমিনও গোপালগঞ্জে সরজমিন তথ্য সংগ্রহ করে। এ সময় তার স্ত্রী রহিমা আক্তারের নামে একটি মৎস্য ঘের পাওয়া যায়। প্রায় ৫০০ শতাংশ জমিতে স্থাপিত এই ঘেরের নাম মেসার্স রাফি এগ্রো অ্যান্ড ফিশারিজ। গোপালগঞ্জের কাশিয়ানিতে প্রতিষ্ঠা করা ওই খামারের জমির দলিল মূল্য অর্ধকোটির মতো হলেও বাজারমূল্য কয়েক কোটি টাকা বলে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে। গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়া থানাধীন কুশলা ইউনিয়নের গোড়ার গ্রামসহ গোপালগঞ্জ সদর থানাধীন কাজুলিয়া গ্রামের ৪০০ বিঘা জমিতে মৎস্য ঘের রয়েছে লিকুর স্ত্রী রহিমা আক্তারের। গোপালগঞ্জ জেলার সদর থানাধীন থানাপাড়া ডিসি রোডে পৈতৃক জমিতে ৫ তলা ভবন নির্মাণ করেছেন লিকু। যার নির্মাণ ব্যয় দুই কোটি টাকারও বেশি।

এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নিজ বাড়ির পাশে থানাপাড়া রোডের অনির্বাণ স্কুলের দক্ষিণ পাশে লিকুর শ্যালক শেখ মো. ইকরাম ওরফে হালিম মোল্লার নামে-বেনামে ৬ তলা ভবন নির্মাণ করেছেন যেখানে শ্বশুর-শাশুড়ি বসবাস করে। হালিম মোল্লা গার্মেন্টস ব্যবসার আড়ালে মূলত হুন্ডি ব্যবসার মাধ্যমে অর্থ পাচারের সঙ্গে জড়িত বলে জানা যায়। তিনি ভিয়েতনামে বসবাস করেন। গাজী হাফিজুর রহমানের অবৈধ অর্থ বৈধ করার কাজে তিনি সহযোগিতা করেন।

এ ছাড়া গোপালগঞ্জ সদরের খ্রিষ্টানপাড়া এলাকায় ১০ শতাংশ জমির উপর লিকুর শ্যালক হালিম মোল্লা একটি সাততলা ভবন নির্মাণ করেছেন। সরজমিনে দেখা গেছে, ভবনটি আবাসিক ফ্ল্যাট হিসেবে ভাড়া দেয়া হয়েছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ভবনটি শ্যালকের নামে হলেও মূলত লিকুর অর্থায়নেই করা হয়েছে।

এদিকে গোপালগঞ্জ পৌরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে সোনাকুড় নামক স্থানে নিলের মাঠের পাশে ১৩ শতাংশ জমির আরেকটি দশতলা ভবন নির্মাণ করেছেন লিকু। এই ভবনটি স্বর্ণা টাওয়ার নামে পরিচিত। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, স্বর্ণা টাওয়ার লিকুর শ্যালক হালিম মোল্লার শ্যালকের স্ত্রীর নামে নামকরণ করা হয়েছে। এ ভবনে রয়েছে আধুনিক সুইমিংপুলসহ মোট ৪০টি ফ্ল্যাট। ২০১৫ সালে সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের দলিল নম্বর ২০০৮ মূলে ১৩ শতাংশ ভূমি জনৈক নূরে এলাহীর কাছ থেকে কিনে ২০১৯ সালে ৬তলা ভবনের প্ল্যান পাস করিয়ে বর্তমানে অবৈধভাবে ১০তলা সম্পন্ন করা হয়েছে। এই জমির ক্রয় মূল্য ১৭ লাখ টাকা দেখানো হলেও প্রকৃত মূল্য ২০ কোটি কোটি টাকার বেশি হবে।

এদিকে দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধানেও লিকু ও তার আত্মীয়দের নামে বেশ কিছু সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। অনুসন্ধান সূত্রে জানা যায়, ঢাকার মোহাম্মদপুরের বছিলায় ‘মধু সিটিতে’ এক বিঘার উপর একটি ছয়তলা বাড়ি নির্মাণ করেছেন লিকু। যার বাজার মূল্য কমপক্ষে ৩০ কোটি টাকা। এ ছাড়া স্ত্রী রহিমা আক্তারের নামে আদাবরের ৬ নম্বর রোডের ৫৮৩ নম্বর বাড়িতে একটি ফ্ল্যাট কিনেছেন। ওই ফ্ল্যাটটি রহিমা আক্তারের বন্ধু নজরুলের কাছ থেকেই কেনা বলে জানিয়েছে দুদক সূত্র। এছাড়া রাজধানীর ধানমণ্ডিতেও আরেকটি ফ্ল্যাট রয়েছে লিকুর নামে।

দুদকের অনুসন্ধানে জানা গেছে, গোপালগঞ্জের পৌর এলাকার ১৫ নং ওয়ার্ডে লিকু তার শ্যালক হালিম মোল্লার শ্যালক রিপন ফকিরের নামেও ১৩ শতাংশ পরিমাণ একটি জমি কেনেন। এর বাজারমূল্যও ৬০ লাখ টাকা। এই জমির উপর একটি ডুপ্লেক্স বাড়ি নির্মাণ করা হয়েছে। যার নির্মাণ ব্যয় হয়েছে প্রায় তিন কোটি টাকা।  এ ছাড়া একই ব্যক্তির নামে আরও একটি প্লটে তিনতলা বাড়ি নির্মাণ করেছেন লিকু।

গোপালগঞ্জ সদরের থানাপাড়া এলাকায় ছোটভাই শফিকুর রহমান ছোটনের নামে আরেকটি প্লট কিনেছেন লিকু। খ্রিষ্টান কবরস্থানের পাশে ২২ শতাংশ পরিমাণ এই জমির মূল্য সোয়া এক কোটি টাকা বলে দুদকের অনুসন্ধান সূত্র জানিয়েছে।  এ ছাড়া বেদগ্রাম এলাকায় আরও ১৫ বিঘা জমি কিনেছেন লিকু। একই মৌজায় জমি কিনেছেন ভায়রা ভাই ওমর আলীর নামেও।

দুদকের অনুসন্ধান বলছে, লিকুর সেজো ভাই গাজী মোস্তাফিজুর রহমানের নামে পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় একটি রিসোর্ট কিনেছেন। যার মালিকানায় ছিলেন মুমরেজ নামের এক ব্যক্তি। তিনি রিসোর্টটি বিক্রি করে দেন। এই রিসোর্টে সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমানেরও শেয়ার রয়েছে বলে জানিয়েছে দুদক।

পরিবহন ব্যবসায়ও নাম লেখান লিকু: দুদকের অনুসন্ধান সূত্রে জানা গেছে, দুর্নীতি ও অনিয়মের টাকা পরিবহন খাতেও বিনিয়োগ করেন লিকু। ঢাকা-খুলনা-সাতক্ষীরা-গোপালগঞ্জ রুটে  চলাচল করা ওয়েলকাম এক্সপ্রেস বাসের মালিকানা রয়েছে তার। ৪২টি বাসের মধ্যে সাতটি এরই মধ্যে বিক্রি করে দিয়েছেন। জানা যায়, কালু নামের এক ব্যবসায়ীর সঙ্গে যৌথ মালিকানা রয়েছে এই পরিবহন ব্যবসায়। এ ছাড়া সাভার থেকে আজিমপুর রুটে চলাচল করা ওয়েলকাম বাসেও লিকুর মালিকানা রয়েছে বলে দুদকের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।

অনিয়ম-দুর্নীতির বিষয়ে কথা বলতে লিকুর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তার মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। অনুসন্ধানের বিষয়ে দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সাবেক এপিএস-২ এর বিরুদ্ধে দুদক প্রকাশ্যে অনুসন্ধান শুরু করেছে। কর্মকর্তা নিয়োগ হলে অনুসন্ধান কাজ পুরোদমে চলবে।

mzamin


শ্রীলংকার নির্বাচনে যে কারণে ভারত জড়িত হয়েছে -ডিপ্লোম্যাটের প্রতিবেদন

শ্রীলংকার রাজনীতিতে সবসময়ই স্বার্থ ছিল ভারতের। ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে কৌশলগত অবস্থানে থাকা দ্বীপরাষ্ট্রটিতে শনিবার, ২১শে সেপ্টেম্বর আবার নির্বাচন। আবারও সেখানে তাদের সেই স্বার্থের বিষয়টি প্রামাণ্য হয়ে উঠেছে। সেখানকার নির্বাচনে ভারতের স্বার্থের মূল কারণগুলোর অন্যতম হলো তারা ভারতের খুব কাছাকাছি দ্বীপ। শ্রীলংকায় যেমন তেমনি ভারতেও বিপুল পরিমাণ তামিল জনগোষ্ঠী আছে। এসব জনগোষ্ঠীর শুধু ভাষাগত বা সাংস্কৃতিক দিক দিয়েই মিল আছে এমন নয়। একই সঙ্গে তাদের আছে আত্মীয়তার বন্ধন। তাই পক প্রণালীর যেকোনো পাশের রাজনীতি অন্যপাশের উন্নয়নের ওপর প্রভাব ফেলে। উপরন্তু দক্ষিণ ভারতের খুব কাছে শ্রীলংকা। এই দক্ষিণেই আছে ভারতের গুরুত্বপূর্ণ কিছু নিরাপত্তা ও বিজ্ঞান গবেষণা বিষয়ক প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে আছে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র এবং নৌঘাঁটি। তাই ভারতের প্রথামিক উদ্বেগের বিষয় হলো সেখানে যেন কোনো বিদেশি শক্তি শ্রীলংকার ওপর প্রভাব খাটাতে না পারে। এ কারণে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সাজিথ প্রেমাদাসাকে ভারত সমর্থন দিচ্ছে বলে বলা হয়েছে। প্রেমাদাসার দল শুধু যে অতিমাত্রায় ভারতপন্থি এমন নয়। একই সঙ্গে তারা সংবিধানের ১৩তম সংশোধনী বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। অনলাইন দ্য ডিপ্লোম্যাটে একথা জানিয়ে একটি প্রতিবেদন লিখেছেন সাংবাদিক রথিন্দ্র কুরুবিতা।

তিনি আরো লিখেছেন, গত দেড় দশক ধরে চীনকে বহিঃশক্তি হিসেবে দেখে আসছে ভারত। তাদেরকে নিয়ে ভারতের উদ্বেগ সবচেয়ে। এ কারণে শ্রীলংকার রাজনীতিবিদদের সমর্থনে উদ্বুদ্ধ হয়েছে ভারত। যে বা যারা চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব বিস্তারের সমালোচনা করছেন বা বিরোধিতা করছেন, তাদেরকেই সমর্থন দিচ্ছে ভারত। কলম্বোর রাজনৈতিক বলয়ে এটা সর্বজনবিদিত যে, ২০১০ এবং ২০১৫ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে শ্রীলংকার সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) শরত ফনসেকা এবং শ্রীলংকা ফ্রিডম পার্টির (এসএলএফপি) মাইথ্রিপালা সিরিসেনাকে সমর্থন দিয়েছিল ভারত। ওই সময় ভারত এই দু’জনকে সমর্থন দেয়ার জন্য বেছে নেয়। কারণ, তারা এক দশক ধরে চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করা মাহিন্দ রাজাপাকসের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। তাই এবারের নির্বাচনে ফ্রন্টরানারদের মধ্যে যেসব প্রার্থী বেশি মাত্রায় চীনবিরোধী দাদেরকে ভারত সমর্থন দেবে- এটা নিরাপদভাবেই বলা যায়। ২১শে সেপ্টেম্বরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রধান চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন ন্যাশনাল পিপলস পাওয়ারের (এনপিপি) অনুরা কুমারা দিশানায়েকে, স্বতন্ত্রপ্রার্থী প্রেসিডেন্ট রনিল বিক্রমাসিংহে, সামাগি জন বালেওয়েগ্যা (এসজেবি) পার্টির বিরোধী দলীয় নেতা সাজিথ প্রেমাদাসা এবং শ্রীলংকা পোদুজানা পেরামুনা (এসএলপিপি) দলের নামাল রাজাপাকসে। তাদের মধ্যে দিশানায়েকে এবং প্রেমাদাসা হলেন ফ্রন্টরানার। ২২শে সেপ্টেম্বর যখন নির্বাচনের ফল ঘোষণা হতে পারে, তখন শ্রীলংকার নবম প্রেসিডেন্ট হতে পারেন তাদের একজন। এর মধ্যে দিশানায়েকে’কে পছন্দ করে চীন। তার এনপিপি দলটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে মধ্য-বাম রাজনৈতিক ধারায়। তাদের সঙ্গে আছে জনতা বিমুক্তি পেরামুনা (জেভিপি)। তারাই মূলত এনপিপির মূল চালিকাশক্তি। ১৯৬০-এর দশকের শ্রীলঙ্কা কমিউনিস্ট পার্টির চীনপন্থি একটি অংশ হলো এর ভিত্তি। এ বছর শুরুর দিকে দিশানায়েকে ভারত সফর করেন। তা নিয়ে ব্যাপকভাবে প্রচার পান তনি। তবে ভারত বিরোধী অবস্থান তিনি বা তার দল পরিবর্তন করেনি। যদিও এনপিপি ভারতবিরোধী কোনো দল নয়, তবে জাতীয় সম্পদ বিদেশি কোম্পানিগুলোর কাছে বিক্রি করে দেয়ার কঠোর বিরোধিতা করে তারা। এ জন্য তাদের জনপ্রিয়তা বাড়ছেই। শ্রীলংকার বন্দর, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং বিমানবন্দরগুলোর মতো গুরুত্বপূর্ণ সেক্টরগুলোতে ভারতের আদানি গ্রুপ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়ায় তার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছে এনপিপি। ভারতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে এই আদানির নিবিড় সম্পর্ক।

আদানি গ্রুপের সঙ্গে জাতীয় স্বার্থের বিরুদ্ধে গিয়ে সরকার চুক্তি করেছে। এমন অভিযোগ তুলে কয়েকদিন আগে আদানির সঙ্গে বিতর্কিত বিদ্যুৎ বা জ্বালানি চুক্তি বাতিল করে দেয়ার হুমকি দেন দিশানায়েকে। টিভির এক টকশোতে উপস্থিত হয়ে তিনি বলেন, মান্নারে অবস্থিত উইন্ডফার্ম থেকে আদানিরা যেটুকু নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন করবে তার প্রতিটি ইউনিট কিনতে রাজি হয়েছে শ্রীলঙ্কা। তবে বাজারদরের চেয়ে দ্বিগুণ দামে তা কেনার চুক্তি হয়েছে। অনুরা দিশানায়েকে বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় জ্বালানি সংযুক্তিকে তিনি সমর্থন করেন। কিন্তু তিনি ওইসব চুক্তির বিরোধিতা করেন- যা শ্রীলংকার অর্থনীতি এবং ব্যবসার প্রতিযোগিতাকে দুর্বল করে দেবে। তিনি একই সঙ্গে শ্রীলংকার জলসীমা থেকে ভারতীয় জেলেদের সরিয়ে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। অন্যদিকে প্রেমাদাসা ও তার সহযোগীরা ভারতের প্রতি খুব বেশি অনুগত। তার এসজেবি হলো ডানপন্থি ইউনাইটেড ন্যাশনাল পার্টি (ইউএনপি)-এর একটি অংশ। তারা চীনের ব্যাপারে অধিকমাত্রায় সন্দিহান। ১৯৫০-এর দশকের শুরুর দিকে চীনের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার বিরুদ্ধে অবস্থান ছিল ইউএনপির। ১৯৬০-এর দশকে চীন-ভারত সীমান্ত যুদ্ধের সময়ে ভারতের বিরুদ্ধে চীনকে আগ্রাসী হিসেবে ঘোষণা দেয়ার জন্য শ্রীলংকার প্রতি আহ্বান জানিয়েছিল তারা।  চীনের প্রতি এখনও সন্দিহান এসজেপির বর্তমান প্রজন্মের নেতৃত্ব। চীন যে ঋণফাঁদ কূটনীতি অবলম্বন করছে তার সমালোচনাও করেছে এসজেপি। সংবিধানের ১৩তম সংশোধনী পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়নে একমাত্র প্রার্থী হিসেবে রাজি হয়েছেন প্রেমাদাসা। এই সংশোধনী বাস্তবায়নের জন্য শ্রীলংকার প্রতি অব্যাহতভাবে দাবি জানিয়ে আসছে ভারত।  ইলানকাই তামিল আরাসু কাদচি (আইটিএকে) দলেরও সমর্থন আছে প্রেমাদাসার ওপর। আইটিএকে হলো এমন একটি রাজনৈতিক দল, যাদের ভারতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আছে। জল্পনা আছে যে, প্রেমাদাসাকে সমর্থন দিতে তামিল দলগুলোর ওপর প্রভাব আছে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের। তিনি কয়েক সপ্তাহ আগে শ্রীলঙ্কা সফর করেছেন। এ সময় কলম্বো সিকিউরিটি কনক্লেভের (সিএসসি) এবং সিএসসি সচিবালয়েল প্রতিষ্ঠার একটি উদ্যোগের জন্য সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছেন সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে।

বাংলাদেশে মিত্র হারানোর পর দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের বন্ধুর সংখ্যা একেবারে কমে গেছে। এর জবাবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মালদ্বীপ এবং শ্রীলংকার সঙ্গে সম্পর্ককে মেরামত এবং শক্তিশালী করার জন্য কাজ করছে ভারত।  শ্রীলংকায় একটি বন্ধুপ্রতীম প্রশাসন ভারতের জন্য নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। শ্রীলংকায় চীনের প্রভাবকে মোকাবিলার মানসিকতা চালিত হয়েছে সেখানে আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভারতের জড়িত হওয়ার বিষয়। একদিকে প্রেমাদাসা ভারতপন্থি অবস্থান নিয়েছেন। অন্যদিকে অধিক পরিমাণ চীনপন্থি অবস্থান নিয়েছেন দিশানায়েকে। এই নির্বাচনের ওপর নির্ভর করছে শ্রীলংকার পররাষ্ট্রনীতির গতিবিধি। তাই ভূরাজনৈতিক কারণে প্রেমাদাসাকে সমর্থন করছে ভারত। 

mzamin

ইমনের মায়ের কান্না থামছে না by শুভ্র দেব

পরিবারের ছোট সন্তান ইমন মিয়া (১৭)। মা-বাবা, ভাই-বোনদের আদরের ছিলেন। বেশিদূর লেখাপড়া করতে পারেননি। বাবা মো. সেলিমের মৃত্যুর পর পরিবারে অভাব দেখা দেয়। তাই বড় ভাইয়ের সঙ্গে সংসারের হাল ধরেন ইমন। বড় ভাই অসুস্থ। সবসময় কাজে যেতে পারেন না। তাই তার আয় কম ছিল। প্রাপ্তবয়স্ক না হলেও ইমনের ওপর সংসারের পুরো দায়িত্ব ছিল। নিজের খরচ, বাড়িতে মায়েরও যাবতীয় খরচ চালাতেন। কিন্তু ১৯শে জুলাই বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে একটি বুলেটে ইমনের জীবন প্রদীপ অকালেই নিভে যায়। মিইয়ে যায় পরিবারের সব আনন্দ। ওইদিন গুলিবিদ্ধ হয়ে ১৬ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে ৩রা আগস্ট না ফেরার দেশে চলে যান ইমন। আদরের ছোট ছেলেকে হারিয়ে শোকে কাতর হয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে আছেন ইমনের মা। ছেলে হারানোর কষ্ট সইতে না পেরে তিনি এখন স্তব্ধ। নিহত ইমন মিয়া গুলশানের একটি হোটেলে চাকরি করতেন। রাজধানীর বাড্ডা নতুনবাজার এলাকার বাঁশেরটেক বস্তির একটি বাসায় বোনের সঙ্গে থাকতেন। তিনি কুমিল্লার মুরাদনগর থানা এলাকার মৃত সেলিম  মিয়া ও রেহেনা বেগমের ছেলে। চার ভাই-বোনের মধ্যে ইমন সবার ছোট ছিলেন।

১৯শে জুলাই সকালে ঘুম থেকে ওঠেন ইমন। নাস্তা করেই গুলশানের কর্মস্থলে যাওয়ার জন্য রওনা হন। বাসা থেকে বের হয়ে নতুনবাজারের পার্শ্ববর্তী ১০০ ফুট রাস্তা দিয়ে ভাটারা থানার দিকে আসামাত্রই একটি গুলি তার শরীরে লাগে। গুলি লাগা মাত্রই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন ইমন। তবে কে গুলি করেছে, কোথা থেকে গুলি করেছে তিনি টের পাননি। এদিক-ওদিক তাকানোর সময় পাননি। তবে ওই এলাকায় গত কয়েকদিন ধরে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ ও গুলির ঘটনা ঘটছিল। ইমনের পেছন পেছন অপরিচিত একজন সেদিক দিয়েই যাচ্ছিলেন। ইমনের গুলি লাগার দৃশ্য দেখে তিনি সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে বনশ্রীর ফরায়েজি হাসপাতালে নিয়ে যান। ইমনের কাছ থেকে মোবাইল নম্বর নিয়ে তার বোনকে ফোন করে জানান। খবর পেয়ে ইমনের বড় বোন তাহমিনা, তার স্বামী ও বড় বোন ইমরান হাসপাতালে গিয়ে পৌঁছান। তারা গিয়ে দেখতে পান ইমনের শরীর থেকে অঝোর ধারায় রক্ত পড়ছে। চিকিৎসকরা তার রক্ত বন্ধ করার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু কোনো লাভ হচ্ছিলো না। পরে সেখানকার চিকিৎসকরা তাদের জানিয়ে দেন উন্নত চিকিৎসার জন্য ইমনকে এভারকেয়ার হাসপাতালে নিতে হবে। পরে চিকিৎসকদের কথামতো স্বজনরা তাকে ওই হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু সেখানে চিকিৎসা খরচ সাধ্যের মধ্যে না হওয়াতে ১ ঘণ্টা রেখে প্রায় ১০ হাজার টাকা বিল পরিশোধ করেন। তাকে নেয়া হয় কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে। অবস্থা গুরুতর হওয়াতে স্বজনরা ইমনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসেন।

ইমনের বড় বোন তাহমিনা গতকাল মানবজমিনকে বলেন,  ঢাকা মেডিকেলে নেয়ার পর প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে চিকিৎসকরা আমাদেরকে রক্ত আনার কথা বলেন। ওইদিন চতুর্দিকে ঝামেলা ছিল। তাই কোথাও রক্ত পাওয়া যায়নি। আমার স্বামী অনেক কষ্ট করে রক্ত ম্যানেজ করেন। তারপর তার অস্ত্রোপচার শুরু হয়। রাত সাড়ে ৮টার দিকে তাকে আইসিইউতে নেয়া হয়। সাধারণ বেডে দেয়ার পরে তার সেলাই’র স্থান থেকে নীল বর্ণের পানি বের হচ্ছিল। চিকিৎসকরা পরীক্ষা করে দেখেন সেখানে ইনফেকশন হয়ে গেছে। এ রকম অবস্থায় তার আবার অস্ত্রোপচার করা হয়। কিন্তু অস্ত্রোপচারের পরে আবার সেখান দিয়ে রক্ত পড়া শুরু হয়। চিকিৎসকরা তখন বলেন, তার পায়খানার রাস্তায় গুলির আঘাত লেগেছে। তখন আবার অস্ত্রোপচার করা হয়। এভাবে একের পর এক অস্ত্রোপচারের পরও তার শরীরে কোনো পরিবর্তন আসছিল না। চিকিৎসকরা সব চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে আমাদের জানান, গুলিতে ইমনের শরীরের ভেতরটা ঝাঁঝরা হয়ে গেছে। এজন্য অস্ত্রোপচারের পরও কোনো উন্নতি হচ্ছে না। তাই আমরা যেন আর কোনো আশা না করি। এভাবে যে কয়দিন সম্ভব বেঁচে থাকবে। আমাদের তখন আর কোনো উপায় ছিল না। চিকিৎসকদের কথা শুনে আমরা আর সইতে পারছিলাম না। চোখের সামনে আদরের ছোট ভাইয়ের এমন অবস্থা দেখে আমরা সবাই ক্রমশ অসহায় হয়ে পড়ি। চিকিৎসকরাও কম চেষ্টা করেননি। এভাবে ৩রা আগস্ট হঠাৎ করে তার শরীর খুব খারাপ হয়ে যায়। তাকে আবার অস্ত্রোপচার করে বেডে দেয়া হয়। কিন্তু ততক্ষণে তার শরীর ঠাণ্ডা হয়ে আসে। ধীরে ধীরে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে।  

তিনি বলেন, ৯ বছর আগে আমার বাবা মারা গেছেন। বাবা মারা যাওয়ার পর আমাদের পরিবারের অবস্থা খুব খারাপ হয়ে যায়। আমার বিয়ে হয়েছিল আগেই। তাই আমি দুই ভাইকে ঢাকায় এনে একজনকে হোটেলে আরেকজনকে মুদির দোকানে কাজে দেই। আমার ভাই ইমরানের বাতজ্বরের সমস্যা। তাই সে বাসায় থাকতো। বেতন কম পেতো। আর ইমন প্রথমদিকে আমার হাজব্যান্ডের সঙ্গে একই হোটেলে চাকরি করতো। ১ মাস বাড়িতে থাকার কারণে তার জায়গায় অন্য লোক নেন হোটেল কর্তৃপক্ষ। পরে গুলি লাগার ১৭ দিন আগে গুলশানের ছোট্ট একটি হোটেলে কাজ নেয়। ১৮ দিনের মাথায় তার গুলি লাগে। হাসপাতালে ১৭ দিন থাকার পর তার মৃত্যু হয়। তাহমিনা আরও বলেন, ইমনকে হারিয়ে মায়ের অবস্থা খুবই খারাপ। তাকে কিছুতেই সান্ত্বনা দেয়া যাচ্ছে না। সবসময় তিনি কান্না করছেন। তার চোখ থেকে পানি পড়া বন্ধ হচ্ছে না। এমনিতেই অসুস্থ। উচ্চ রক্তচাপসহ নানা সমস্যায় তিনি ভুগছেন। বয়স ৬৫ পার হয়েছে। বয়সজনিত নানা সমস্যাও আছে। এরমধ্যে ছেলের মৃত্যুর খবর তিনি এখনো মেনে নিতে পারছেন না। একদিকে ইমনের মৃত্যু। অন্যদিকে সংসারে অভাব- অনটন। কারণ ইমন সংসারের বড় খরচ বহন করতো। কিন্তু এখন সবকিছু পাল্টে গেল।

mzamin

কোমায় টেলিটক by কাজী সোহাগ

বিগত ১৫ বছরে রাষ্ট্রায়ত্ত মোবাইল অপারেটর টেলিটকে শুধু লুটপাটই করা হয়েছে হাজার কোটি টাকার উপরে। প্রতিষ্ঠানটিতে যারাই দায়িত্ব নিয়ে এসেছেন তারাই অংশ নিয়েছেন লুটপাটে। যার কারণে রাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ সহযোগিতা থাকলেও কখনো উঠে দাঁড়াতে পারেনি টেলিটক। বরং দিন গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে আরও মুখ থুবড়ে পড়েছে প্রতিষ্ঠানটি। দেশের বেসরকারি মোবাইল অপারেটরদের গ্রাহক সংখ্যা দিন দিন বাড়লেও উল্টো চিত্র টেলিটকে। এর প্রধান কারণ টেলিটকের গ্রাহক সেবার মান সর্বনিম্ন। ২০০৪ সালের ২৬শে ডিসেম্বর যাত্রা শুরু করে রাষ্ট্রীয় মোবাইল অপারেটর টেলিটক। সেই সময় থেকে যতটা না সেবা দিতে পেরেছে তার চেয়ে বেশি সমালোচনার মুখে পড়েছে এই সরকারি অপারেটর। দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা নিয়ে অভিযোগের আঙ্গুল এই অপারেটরের দিকে। প্রতিষ্ঠানটির বেশির ভাগ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে মামলা হয়েছে। সেসব মামলার কোনোটা আদালতে বিচারাধীন অথবা কোনোটা দুর্নীতি দমন কমিশনের অধীনে তদন্তাধীন। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক এসোসিয়েশনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ মানবজমিনকে বলেন, টেলিটকের এমন কোনো প্রকল্প নেই যেখানে অনিয়ম আর দুর্নীতি হয়নি। বরং দুর্নীতি করার জন্যই টেলিটকে নানা ধরনের প্রকল্প নেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, গত কয়েক বছরে এই অপারেটরে হাজার কোটি টাকার বেশি লুটপাট হয়েছে। কিন্তু এসব নিয়ে অনেক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা হলেও তা নিষ্পত্তি হয়নি। কয়েকদিন দুদক নড়েচড়ে বসে ঢাকঢোল পিটিয়ে থেমে যায়। এসব কারণে যারা টেলিটকে দায়িত্ব নিয়ে আসেন তারা দুর্নীতি করতে সাহস পান।

এদিকে টেলিটকের গ্রাহক সেবার মান নিয়ে রয়েছে বিস্তর প্রশ্ন। পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করলেই টেলিটকের অবস্থান স্পষ্ট হয়। নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন এর জুলাই মাসের গ্রাহক হিসেবে দেখা যায়, গ্রামীণফোনের গ্রাহক-৮৫ দশমিক ২৪ মিলিয়ন অর্থাৎ প্রায় সাড়ে আট কোটির বেশি, রবি আজিয়াটার গ্রাহক ৫৮ দশমিক ৯২ মিলিয়ন, বাংলালিংকের ৪৩ দশমিক ৫৬ মিলিয়ন। অন্যদিকে রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিটকের গ্রাহক মাত্র ৬ দশমিক ৫৫ মিলিয়ন। অনুসন্ধানে দেখা যায়, টেলিটক নানাভাবে সরকারের দিক থেকে সুবিধা পেলেও ডিজিটাল দুর্নীতিতে মজে আছে শুরু থেকেই। অবস্থা এমন পর্যায়ে গেছে, ২০০৪ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে গত ১৭ বছরে টেলিটক এখন পর্যন্ত এক হাজার ৫০০ কোটি টাকার বেশি লোকসান গুনেছে। আর গত কয়েক বছরেই টেলিটক লোকসান করেছে ৯৯৩ কোটি টাকা। কেনাকাটা থেকে শুরু করে নিয়োগ, পছন্দের কোম্পানিকে কাজ দেয়া, পুরনো পদ্ধতির এসব লুটপাট তো রয়েছেই। সেই সঙ্গে যোগ হয়েছে নির্দিষ্ট কোম্পানির কাছ থেকে হাজার হাজার কোটি টাকার যন্ত্রপাতি আমদানি কমিশন ও বিটিএস স্থাপনে বাড়ি ভাড়ার অনিয়ম। কাগজে-কলমে কেনা হয়েছে, কিন্তু বাস্তবে নেই, স্ক্র্যাচ কার্ড এবং ক্যাশ কার্ডের হিসাবে এমন কোটি কোটি গরমিলের প্রমাণ মিলেছে।

নির্দিষ্ট কিছু সিমের মাধ্যমে বৈধ কায়দায় অবৈধ আয়ের সুযোগ করে দেয়ার বিষয়টি দেশের টেলিযোগাযোগ খাতে রীতিমতো আলোড়ন তুলেছে। টেলিটকের হাজার হাজার সিম দিয়ে অবৈধ ভিওআইপি করা হচ্ছে। সিম বায়োমেট্রিক নিবন্ধনের পরও অবৈধ ভিওআইপিতে হাজার হাজার টেলিটকের সিম ধরা পড়ছে। এসব সিম দিয়ে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ২ লাখ ৩০ হাজার মিনিট হারে অবৈধ ভিওআইপি কল করা হতো। এর আগে অনেক অভিযানে অবৈধ ভিওআইপিতে উদ্ধার করা সিমের মধ্যে টেলিটকের সিমই বেশি পাওয়া যেতো। ২০১৮ সালের নভেম্বরে টেলিটকের ৭৭ হাজার ৫৯০টি সিম বন্ধ করে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন। সিডিআর অ্যানালাইজার ও জিও-লোকেশন ডিটেকশন সিস্টেমের মাধ্যমে ওই সিমগুলো বন্ধ করে দেয় বিটিআরসি। টেলিটকে কর্মরত একটি সংঘবদ্ধ গ্রুপ এসব দুর্নীতির সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। ওই সময় গ্রামীণফোন আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের বিরুদ্ধে সরকার এবং বিটিআরসিসহ নানা পর্যায়ে এ অভিযোগও করে যে টেলিটকের অবৈধ কার্যক্রমের জন্য তাদের আয়ের সুযোগ নষ্ট হচ্ছে। বিল জেনারেট করে কোটি কোটি টাকা নিজেদের অ্যাকাউন্টে জমা দেয়ার মতো অভিনব ঘটনা বাংলাদেশে টেলিটকই প্রথম দেখিয়েছে। ২০১০ সালের ডিসেম্বর থেকে বেশ কিছুদিন পর্যন্ত টেলিটকের কয়েকজন কর্মকর্তা মিলে কয়েক হাজার গ্রাহককে প্রতি মাসে তিনশ’ টাকা নিয়ে তাদের অবিরাম কথা বলার সুযোগ দেন।

 এতে টেলিটক কর্তৃপক্ষের কোনো অনুমোদন ছিল না। এর মাধ্যমে অন্তত ১৬ কোটি টাকার ক্ষতি হয়। এ সম্পর্কিত অডিট প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, কাগজপত্রে থাকলেও বাস্তবে টেলিটকের ভাণ্ডারে কোটি কোটি টাকার সিম কার্ড এবং স্ক্র্যাচ কার্ডের হদিস নেই। টেলিটকের লেজার এবং অন্যান্য হিসাবে মজুত দুই ধাপে ৩১ কোটি টাকার বিভিন্ন মূল্যমানের স্ক্র্যাচ কার্ড এবং ক্যাশ কার্ড ঘাটতি রয়েছে। একইভাবে ৪৩ হাজার ২৭১টি সিম কার্ডে মজুত ঘাটতির ফলে কোম্পানি ক্ষতির পরিমাণ আরও ৩ কোটি ৮৯ লাখ ৪৪ হাজার ৪৯ টাকা। অন্যদিকে থ্রিজি প্রকল্প নিয়ে টেলিটক সবচেয়ে বেশি অনিয়ম ও দুর্নীতির আশ্রয় নিয়েছে। চায়নার এক্সিম ব্যাংক থেকে বড় অঙ্কের ঋণ নেয়া এবং নির্দিষ্ট দুটি কোম্পানির কাছ থেকে কেবল পণ্য কেনার ক্ষেত্রে বেশি অনিয়ম হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এ ছাড়া বিজ্ঞাপন প্রচারের ক্ষেত্রেও সবচেয়ে বেশি দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। সে সময় কোনো স্থান নির্ধারণ না করেই যত্রতত্র নির্বিচারে সাইনবোর্ড-বিলবোর্ড দিয়ে বিপণন বিভাগের কর্মকর্তারা কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেন। বিজ্ঞাপন প্রদানের ক্ষেত্রে সীমাহীন পক্ষপাতিত্বের আশ্রয় নেয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব প্রসঙ্গে টেলিটকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) নুরুল মাবুদ চৌধুরীকে একাধিকবার টেলিফোন করা হলে তিনি ধরেননি। এদিকে টেলিটকের সার্বিক করুন অবস্থা দেখে এর সংস্কারে ১০ দফা প্রস্তাব পেশ করে বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক এসোসিয়েশন।

 তারা জানায়, যাত্রা শুরুর পর থেকে টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেড দেশের আপামর জনসাধারণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে পারেনি। তুলনামূলক কম কলরেট ও ডাটা রেট থাকার পরও বিটিআরসি’র মাসিক গ্রাহক সংখ্যার পরিসংখ্যান অনুসারে ৬৫ লাখ গ্রাহক রয়েছে যা অন্যান্য প্রাইভেট অপারেটরের তুলনায় খুবই কম। এত কম গ্রাহক নিয়ে টেলিটক ব্যাবসায়িকভাবে টেকসই অবস্থানে যেতে পারবে না। আমাদের দীর্ঘদিনের পর্যবেক্ষণে দেখতে পারি, টেলিটকের টাওয়ার সংখ্যা ৬০০০ এর মতো আর পৃথিবীর প্রায় সকল দেশেই সরকারি মালিকানাধীন মোবাইল অপারেটর রয়েছে যেখানে অন্য অপারেটরদের টাওয়ার সংখ্যা ১৫০০০ এরও বেশি। সীমিত ফোর-জি কাভারেজ, মাঠপর্যায়ে সেলস কার্যক্রমের উদাসীনতা, গণমাধ্যম ও সোশ্যাল মাধ্যমে মার্কেটিং কার্যক্রম অনুপস্থিত, দুর্বল প্রশাসনিক কাঠামো ও স্বচ্ছতার অভাব, বিগত রাজনৈতিক সরকারের টেলিটক নিয়ে নেতিবাচক মনোভাবের কারণে টেলিটকের দেশের মানুষের চাহিদা পূরণে সফল হতে পারেনি। আপামর মোবাইল গ্রাহকদের স্বার্থকে বিবেচনায় নিয়ে, মোবাইল গ্রাহক এসোসিয়েশন মনে করে যে, বৈষম্যহীন স্বাধীন বাংলাদেশে টেলিটকের সেবার মান বাড়ানো ও গ্রাহকদের কম খরচে মোবাইল সেবা প্রদান করার জন্য টেলিটকের আমূল সংস্কার করা প্রয়োজন।

এর আগে বাংলাদেশ সরকার ৪টি লক্ষ্য নিয়ে টেলিটক প্রতিষ্ঠা করে। এসবের মধ্যে রয়েছে-দেশের জনগণকে সরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে মোবাইল টেলিযোগাযোগ সেবা প্রদান করা, প্রাইভেট ও পাবলিক সেক্টরের মধ্যে সুস্থ বাজার প্রতিযোগিতা নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে জনগণের স্বার্থ সংরক্ষণ করা, মোবাইল টেলিফোন নেটওয়ার্কের সুবিধাবঞ্চিত দেশের দুর্গম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলসমূহে যেমন হাওর অঞ্চল, দ্বীপাঞ্চল, পার্বত্য ও উপকূলীয় অঞ্চলের জনগণকে টেলিযোগাযোগ সেবা প্রদান করা ও সরকারের রাজস্ব আহরণের নতুন উৎস সৃষ্টি করা। কিন্তু টেলিটক ওই চার লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ হয়েছে বলে দাবি করেছেন দেশের টেলিকম বিশেষজ্ঞরা। তবে নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ প্রসঙ্গে টেলিটক জানিয়েছে, দ্রুত বর্ধনশীল মোবাইল টেলিযোগাযোগ চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে টেলিটক নিয়মিত নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ করে চলছে। নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের জন্য প্রয়োজনীয় বিনিয়োগের সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও ইতিমধ্যে দেশের ৬৪টি জেলা, ৪০২টি উপজেলাসহ বেশির ভাগ হাইওয়ে টেলিটকের কাভারেজের আওতায় এসেছে। এ ছাড়া দেশের প্রত্যন্ত ও দুর্গম হাওর, দ্বীপাঞ্চল, উপকূলীয় ও পার্বত্য অঞ্চলে টেলিটকের নেটওয়ার্ক স্থাপন এবং বিদ্যমান নেটওয়ার্ক শক্তিশালীকরণের কাজ চলছে।  ২০০৪ সালের ২৬শে ডিসেম্বর কোম্পানি আইন-১৯৯৪ এর অধীনে দুই হাজার কোটি টাকা অনুমোদিত মূলধন নিয়ে টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেড একটি পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি হিসেবে নিবন্ধিত হয় এবং উক্ত তারিখেই টেলিটক ‘কমেন্সমেন্ট অব বিজনেস’ সার্টিফিকেট অর্জন করে। ২০০৫ সালের ৩১শে মার্চ টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেড এর ব্যবসায়িক কার্যক্রম শুরু হয়।

mzamin

ডেঙ্গু: আক্রান্ত ও মৃত্যু বাড়ছে by ফরিদ উদ্দিন আহমেদ

সারা দেশে এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ও মৃত্যু বাড়ছে। আক্রান্ত ও মৃত্যুতে চলতি বছরের মধ্যে রেকর্ড সৃষ্টি করছে সেপ্টেম্বর মাস। এই মাসেই মারা গেছেন ৩৬ জন। এডিস মশার বংশবিস্তার নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে চলতি মাসের বাকি সময় এবং আগামী মাসে পরিস্থিতি আরও ভয়ানক রূপ ধারণ করতে পারে বলে মনে করছেন কীটতত্ত্ববিদ ও সংশ্লিষ্টরা। ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনে জনগণকে সম্পৃক্ত করে ডেঙ্গুবাহিত এডিস মশার প্রজনন নিয়ন্ত্রণ করার উপর জোর দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

সংশ্লিষ্টরা জানান, মশার প্রজনন ধ্বংস কার্যক্রম ভাটা পড়ায় পরিস্থিতি আবারো ভয়াল রূপ ধারণ করেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবও সে কথাই বলছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ১ হাজার ৫৫ এবং মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ১৪ জন। ফেব্রুয়ারিতে আক্রান্ত ৩৩৯, মৃত্যু ৩ জন। মার্চে আক্রান্ত ৩১১, মৃত্যু ৫ জন। এপ্রিলে আক্রান্ত ৫০৪, মৃত্যু ২ জন। মে মাসে আক্রান্ত ৬৪৪ জন এবং মারা গেছেন ১২ জন। জুনে আক্রান্ত ৭৯৮ এবং মৃত্যু ৮ জন। জুলাইয়ে আক্রান্ত ২ হাজার ৬৬৯ জন, মৃত্যু ১২ জন। আগস্টে আক্রান্ত ৬ হাজার ৫২১ জন এবং মারা গেছেন ২৭ জন। চলতি সেপ্টেম্বরের ১৮ দিনে চলতি বছরের রেকর্ড পরিমাণ আক্রান্ত ৮ হাজার ২৩৮ জন এবং মারা গেছেন ৩৬ জন। চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন মোট ২১ হাজার ৭৯ জন এবং মারা গেছেন ১১৯ জন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডেঙ্গুর মৌসুম শুরু হয় মূলত বর্ষাকালে। আগস্ট থেকে বাড়তে থাকে এর ভয়াবহতা। কিন্তু চলতি বছর মার্চের মাঝামাঝি থেকেই দেশের বিভিন্ন জায়গায় বৃষ্টি শুরু হয়। এতে এডিস মশারা তাদের প্রজননে উপযুক্ত আবহাওয়া পেয়ে গেছে বর্ষার আগেই। এখনো এর ধারাবাহিকতা অব্যাহত রয়েছে। আর এর অন্যতম কারণ হিসেবে ডেঙ্গুর প্রজননস্থল ধ্বংসে ব্যর্থতাকে দায়ী করছেন তারা। একইসঙ্গে আবহাওয়ার তারতম্যও সমানভাবে দায়ী উল্লেখ করে তারা বলছেন, এখনই এডিসের জীবাণুবাহী মশার প্রজননস্থল ধ্বংস না করতে পারলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।

কেন ডেঙ্গু রোগী বাড়ছে জানতে চাইলে কীটতত্ত্ববিদ ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. কবিরুল বাশার মানবজমিনকে বলেন, এ বছরের শুরু থেকে এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের আশঙ্কা করা হয়েছিল। মশার ঘনত্বের কথা বলা হয়েছিল। এডিসের প্রজনন ধ্বংসে সতর্কতা ও করণীয় সম্পর্কে পরামর্শ দেয়া হয়েছিল। কিন্তু কাজগুলো সেভাবে বাস্তবায়ন করা হয়নি। এজন্য পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। এডিসের প্রজনন ধ্বংসে এখনো কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আগামী মাসে আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। তিনি বলেন, বৃষ্টি ও তাপমাত্রার কারণেও এডিস  মশা বেড়েছে। সংশ্লিষ্টদের সঠিক সময়ে বিষয়টিতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত ছিল।

রাজধানীসহ সারা দেশের ডেঙ্গু পরিস্থিতি সম্পর্কে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা এ এফ হাসান আরিফ বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে আলোচনার চেয়ে অ্যাকশনে বেশি নজর দেয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে ঢাকাসহ দেশের সব সিটি করপোরেশন, পৌরসভাকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তারা সে অনুযায়ী কর্মপন্থা গ্রহণ করেছে। ৮ই সেপ্টেম্বর ডেঙ্গু ও মশাবাহিত অন্যান্য রোগ প্রতিরোধ বিষয়ক জাতীয় কমিটির সভা করা হয়েছে। সভা ফলপ্রসূ হয়েছে; ইতিমধ্যে দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলো এডিস মশার প্রজনন ধ্বংসে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

এদিকে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সঙ্গে এই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও ৮৬৫ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম সূত্র বলছে, হাসপাতালে নতুন ভর্তিদের মধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগে ১৪৫ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ১২১, ঢাকা উত্তর সিটিতে ২৫১, ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে ১৪২, খুলনা বিভাগে ৯৪ ও ময়মনসিংহ বিভাগে ১৮ জন রয়েছেন। এ ছাড়া বরিশাল বিভাগে ৪৬, রাজশাহী বিভাগে ২০ এবং রংপুর বিভাগে ২৮ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছর ছাড়পত্র পেয়েছেন ১৮ হাজার ৫০০ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, এ বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত সবমিলিয়ে ২১ হাজার ৭৯ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয়েছে ১১৯ জনের। তাদের মধ্যে ৫৪ দশমিক ৬ শতাংশ নারী ও ৪৫ দশমিক ৪ শতাংশ পুরুষ রয়েছেন। গত বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন। মারা যান ১ হাজার ৭০৫ জন।

mzamin

লেবাননে পেজার বিস্ফোরণ: ৫০০০ পেজারে বিস্ফোরক স্থাপন করে মোসাদ

লেবাননে পেজার বিস্ফোরণে বহু হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। পেজারগুলো কয়েক মাস আগে ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের কাছ থেকেই আমদানি করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে লেবাননের এক সিনিয়র নিরাপত্তা সূত্র। তারা প্রায় ৫ হাজার পেজার আমাদানি করেছিল। ওই সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। এতে বলা হয়, মঙ্গলবার পেজার বিস্ফোরণে কমপক্ষে ৯ জন নিহত এবং প্রায় ৩ হাজার মানুষ আহত হন। হিজবুল্লাহর জন্য এটি নজিরবিহীন একটি ঘটনা। বৈরুতে ইরানের দূত সহ এক মেয়ে শিশুও এই বিস্ফোরণে প্রাণ হারিয়েছেন বলে জানা গেছে। লেবাননের নিরাপত্তা সূত্রটি বলছে, তাইওয়ানভিত্তিক গোল্ড অ্যাপোলোর কাছ থেকে ওই পেজারগুলো আমদানি করেছিল লেবাননের নিরাপত্তা বাহীনি। তবে তাইওয়ানের ওই প্রতিষ্ঠানটি বলছে তারা এই ক্ষুদ্রাকার ডিভাইস তৈরি করেনি। তবে ডিভাইসগুলো পরীক্ষা করে জানা গেছে যে এই ব্রান্ডের ডিভাইস ইউরোপীয় কোনো প্রতিষ্ঠান তৈরি করেছে। এই বিস্ফোরণের পরপরই ইসরাইলকে দায়ী করেছে ইরান সমর্থিত হিজবুল্লাহ। সংগঠনটি প্রতিশোধ নেয়ারও হুঁশিয়ারি দিয়েছে। বেশ কয়েকটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে এই বিস্ফোরণের পরিকল্পনা কয়েক মাস ধরেই চলছিল। লেবাননের নিরাপত্তা বাহিনীর উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তা বলছে, তারা তাইওয়ানের গোল্ড অ্যাপোলোর কাছে ৫ হাজার পেজারের অর্ডার দিয়েছিল। যার ভিত্তিতে এ বছরেই এই ডিভাইসগুলো সেখান থেকে লেবাননে আমদানি করা হয়। তবে এসব পেজার তাইওয়ানের ওই প্রতিষ্ঠানের নয় বলে নিশ্চিত করেছে গোল্ড অ্যাপোলোর প্রতিষ্ঠাতা হশু চিং-কুয়াং। তিনি বলেছেন, বিস্ফোরিত পেজার ইউরোপের তৈরি। এগুলো তাইওয়ানের রাজধানী হয়ে বিভিন্ন দেশে আমদানি করা হয়। তবে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করেননি। তিনি বলেছেন, এসব ডিভাইস আমাদের তৈরি না। যদিও এই ডিভাইসে তাদের ব্রান্ডের নাম ব্যবহার করা হয়েছিল। বুধবার তিনি রয়টার্সকে এসব কথা জানান। সিনিয়র লেবানিজ নিরাপত্তা সূত্র পেজারের মডেলের একটি ছবি শনাক্ত করেছে, যেটির মডেল এপি-৯২৪। এই ডিভাইস অন্যান্য পেজারদের মতো ওয়্যারলেসভাবে বার্তা গ্রহণ এবং প্রেরণ করে কিন্তু টেলিফোন কল করতে পারে না। তবে সূত্র জানিয়েছে যে, ডিভাইসগুলো ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থা উৎপাদন পর্যায়ে পরিবর্তন করেছে। সূত্র বলেছে, মোসাদ ডিভাইসের ভিতর একটি ক্ষুদ্র বোর্ড স্থাপন করেছে যাতে বিস্ফোরক উপাদান রয়েছে। এর জন্য তারা একটি কোড ব্যবহার করেছে। যদি তারা কোড ব্যবহার না করতে পারতো তাহলে এই ডিভাইস যেকোনো উপায়ে শনাক্ত করা কঠিন। এমনকি কোনো ডিভাইস স্ক্যানার দিয়েও এই পেজার শনাক্ত করা প্রায় অসম্ভব। 
mzamin

সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রধান হয়ে আলী রীয়াজের ফেসবুক স্ট্যাটাস

সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির ডিস্টিংগুইশড অধ্যাপক আলী রীয়াজ। বুধবার (১৮ সেপ্টেম্বর) এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। দায়িত্ব পাওয়ার পর অন্তর্বর্তী সরকার এবং প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ফেসবুক পোস্ট দিয়েছেন তিনি।

ফেসবুক পোস্টে আলী রীয়াজ দেশবাসীর কাছে কৃতজ্ঞতা স্বীকার করে লিখেছেন, পনেরো বছর ধরে যারা স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছেন, আত্মদান করেছেন, বিশেষ করে জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে যারা প্রাণ দিয়েছেন, আহত হয়েছেন, অংশগ্রহণ করেছেন তাদের আত্মদানের প্রতি আমার শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা; তাদের কাছে আমি ঋণী।

তিনি লিখেছেন, এই গুরুদায়িত্ব পালনের জন্যে আমার এবং কমিশনের সকলের আন্তরিক প্রচেষ্টাই যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন দেশের সর্বস্তরের মানুষের, গণমাধ্যমের, রাজনৈতিক দলসমূহের, নাগরিক সমাজের সহযোগিতা, তাদের এই সহযোগিতাই হবে নির্ণায়ক।

আলী রীয়াজ লিখেন, সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় গণমানুষের যে গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে, বাংলাদেশের ইতিহাসের বিভিন্ন পর্যায়ে যা বিভিন্নভাবে প্রকাশিত হয়েছে, জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে যা প্রতিফলিত হয়েছে তার প্রতি বিশ্বস্ত থাকতে আমি অঙ্গীকারবদ্ধ।

কালবেলা পাঠকদের জন্য অধ্যাপক আলী রীয়াজের ফেসবুক পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হল-

“সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রধান হিসেবে আমাকে দায়িত্ব প্রদানের জন্যে অন্তর্বর্তী সরকার এবং প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মোহাম্মদ ইউনুসকে আমার আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা। পনেরো বছর ধরে যারা স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছেন, আত্মদান করেছেন, বিশেষ করে জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে যারা প্রাণ দিয়েছেন, আহত হয়েছেন, অংশগ্রহণ করেছেন তাদের আত্মদানের প্রতি আমার শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা; তাদের কাছে আমি ঋণী।

এই উপলক্ষ্যে বিভিন্ন মাধ্যমে যারা আমাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন, অভিনন্দন জানিয়েছেন তাদের প্রতিটি বার্তা আমি পাঠ করেছি। ব্যক্তিগতভাবে তাদের প্রত্যেককে উত্তর দিতে না পারলেও তাদের বার্তাগুলো আমি আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে গ্রহণ করেছি। এই গুরুদায়িত্ব পালনের জন্যে আমার এবং কমিশনের সকলের আন্তরিক প্রচেষ্টাই যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন দেশের সর্বস্তরের মানুষের, গণমাধ্যমের, রাজনৈতিক দলসমূহের, নাগরিক সমাজের সহযোগিতা, তাদের এই সহযোগিতাই হবে নির্ণায়ক। অতীতে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের সংগ্রামে অংশগ্রহণের সূত্রে গণমাধ্যমসহ সকলের যে সহযোগিতা আমি লাভ করেছি আশা করি তা আপনারা অব্যাহত রাখবেন। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় গণমানুষের যে গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে, বাংলাদেশের ইতিহাসের বিভিন্ন পর্যায়ে যা বিভিন্নভাবে প্রকাশিত হয়েছে, জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে যা প্রতিফলিত হয়েছে তার প্রতি বিশ্বস্ত থাকতে আমি অঙ্গীকারবদ্ধ।

সকলের সঙ্গে আলাদা আলাদা করে কথা বলতে পারলে আমি আনন্দিত হতাম, কিন্তু পেশাগত এবং ব্যক্তিগত ব্যস্ততার কারণে তা সম্ভব হচ্ছে না বলে আমি ক্ষমাপ্রার্থী। আশা করি শিগগিরই আপনাদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ হবে। সবাইকে ধন্যবাদ।”

অধ্যাপক আলী রীয়াজ। ছবি : সংগৃহীত

ছোট্ট জিহাদের জীবিকার সংগ্রাম

মো. জিহাদ। বয়স ১২ কিংবা ১৩। বয়সের হিসেবে সে এখনো শিশু। তার বয়সের অন্য শিশুরা রোজ বই-খাতা নিয়ে যায় স্কুল-মাদ্রাসায়। থাকে বাবা-মায়ের পরম যত্নে। তবে ছোট্ট জিহাদ এই বয়সেই ভীষণ দায়িত্বশীল। বয়সের হিসেবে এই বয়সে তারও থাকার কথা ছিল স্কুল বা মাদ্রাসায়। জিহাদও মাদ্রাসায় গিয়েছিল হাফেজি পড়তে তবে তা আর দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। সংসারের একমাত্র উপার্জনকারী বাবার অসুস্থতার কারণে তাকে ছেড়ে দিতে হয়েছে পড়ালেখা। বাবার অসুস্থতার কারণে এখন ছোট্ট জিহাদের কাঁধে পুরো পরিবারের দায়িত্ব। পরিবারে রয়েছে-অসুস্থ বাবা, মা এবং ছোট এক ভাই। ভোলার লালমোহন পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক মধুছন্দা সিনেমা হল সংলগ্ন একটি ভাড়া বাসায় গত দেড় বছরের মতো সময় ধরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে থাকে জিহাদ। তবে তার আসল ঠিকানা উপজেলার কালমা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের নতুন বাজার এলাকার ধনগাজী সরদার বাড়ি। সে ওই বাড়ির মোহাম্মদ আলীর ছেলে।

জিহাদ জানায়, গত ৩ বছরেরও অধিক সময় ধরে আমার বাবা অসুস্থ। তিনি কোনো কাজ করতে পারেন না। তাই মা মানুষের বাসায় কাজ করে কোনো রকমে সংসার চালাতেন। আমিও পড়ালেখা করতাম। তবে সংসারে অভাবের কারণে আর পড়তে পারিনি। যার জন্য গত এক বছর আগ থেকে শুরু করি ভাঙারি মালামাল সংগ্রহ ও কেনার কাজ। প্রতিদিন সকালে একটি ভ্যানগাড়ি নিয়ে বাসা থেকে বের হয়ে পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে মানুষের কাছ থেকে পুরনো ভাঙারি মালামাল কিনি, একইসঙ্গে নিজেই আবার মানুষের ফেলে দেয়া অপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সংগ্রহ করি। এরপর ওইসব মালামাল বিকালে আড়তে নিয়ে বিক্রি করি। এতে করে দৈনিক এক হাজার থেকে বারো শত টাকার ভাঙারি মালামাল বিক্রি করতে পারি। সেখান থেকে লাভ হিসেবে থাকে তিনশত থেকে সাড়ে তিনশত টাকার মতো। লাভের এই টাকা থেকে নিজের জন্য কিছু রেখে বাকি টাকা বাবাকে দিই। ওই টাকা দিয়ে তিনিই সংসার চালান। এ কাজ করতে অনেক কষ্ট হয়। তবুও নিরুপায় হয়ে এ কাজ করছি।
জিহাদের ছোট আমার আরেক ছেলে রয়েছে। সন্তানদের মধ্যে সবার বড় ছিল মেয়ে। তাকে ধারদেনা করে বিয়ে দিয়েছি। তবে এখন যে দুই ছেলে রয়েছে তাদের ভবিষ্যৎ কী হবে? তাই ভাবতে পারছি না। আমার নিজস্ব তেমন কোনো সম্পদও নেই। গরিবদের জন্য তো সরকারি অনেক সাহায্য-সহযোগিতা রয়েছে। আমার অবস্থা বিবেচনা করে সেখান থেকে কোনো একটি সহযোগিতা দিলে আমার জন্য খুবই ভালো হতো।
এ বিষয়ে উপজেলা ইউএনও মো. তৌহিদুল ইসলাম জানান, তাদের পরিবারের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে তাদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতার চেষ্টা করবো।

mzamin

করোনার নতুন ভ্যারিয়্যান্ট ছড়িয়ে পড়েছে ২৭টি দেশে

বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন যে, কোভিড -১৯ এর একটি সংক্রামক রূপ যাকে XEC নামে ডাকা হচ্ছে সেটি ইউরোপ জুড়ে আরও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে এবং শীঘ্রই প্রভাবশালী স্ট্রেনে পরিণত হতে পারে। বিবিসি অনুসারে নতুন ভ্যারিয়্যান্টটি প্রথম জুনে জার্মানিতে শনাক্ত করা হয়েছিল এবং তারপর থেকে যুক্তরাজ্য, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ডেনমার্ক এবং অন্যান্য বেশ কয়েকটি দেশে XEC ছড়িয়ে পড়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলেছেন যে, নতুন ভ্যারিয়্যান্টটি ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টের একটি সাবলাইনেজ, কিন্তু এর মধ্যে কিছু নতুন মিউটেশন রয়েছে যা এটিকে  শরতকালে  ছড়িয়ে দিতে সাহায্য করতে পারে।  যদিও ভ্যাকসিনগুলি কোভিড -১৯-কে  গুরুতর ক্ষেত্রে প্রতিরোধ করতে সহায়তা করবে। XEC ভেরিয়েন্ট হলো আগের ওমিক্রন সাবভেরিয়েন্ট KS.1.1 এবং KP.3.3 এর একটি হাইব্রিড, যা বর্তমানে ইউরোপে প্রভাব বিস্তার করছে। এখনও পর্যন্ত - পোল্যান্ড, নরওয়ে, লুক্সেমবার্গ, ইউক্রেন, পর্তুগাল এবং চীন সহ ২৭ টি দেশের ৫০০ টি নমুনাতে XEC পাওয়া গেছে। বিশেষজ্ঞরা ডেনমার্ক, জার্মানি, যুক্তরাজ্য এবং নেদারল্যান্ডসে ভ্যারিয়্যান্টটির শক্তিশালী বৃদ্ধির দিকে ইঙ্গিত করেছেন। ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের জেনেটিক্স ইনস্টিটিউটের ডিরেক্টর প্রফেসর ফ্রাঁসোয়া ব্যালোক্স বিবিসিকে বলেন, যদিও সাম্প্রতিক অন্যান্য কোভিড ভ্যারিয়েন্টের তুলনায় XEC-এর ‘সামান্য ট্রান্সমিশন সুবিধা’ রয়েছে, তবুও ভ্যাকসিনগুলোকে ভালো সুরক্ষা দিতে পারে । তবে তিনি আরও যোগ করেছেন যে XEC শীতকালে প্রভাবশালী সাবভ্যারিয়েন্ট - এর রূপ নিতে পারে।

ক্যালিফোর্নিয়ার স্ক্রিপস রিসার্চ ট্রান্সলেশনাল ইনস্টিটিউটের পরিচালক, এরিক টোপোল বলেছেন - ' XEC  সবে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে। তবে এটি গোটা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়তে কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস পর্যন্ত  সময় নিতে  পারে। 'XEC ভেরিয়েন্টের উপসর্গগুলি আগের কোভিড ভ্যারিয়েন্টগুলির মতো, যার উপসর্গের মধ্যে রয়েছে জ্বর, গলা ব্যথা, কাশি, ঘ্রাণশক্তি হ্রাস, ক্ষুধা হ্রাস এবং শরীরে ব্যথা। কিন্তু যেহেতু এটি এখনও একই ওমিক্রন বংশের একটি উপ-পরিবারের অন্তর্ভুক্ত।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে ভ্যাকসিন এবং বুস্টার শটগুলি যথাযথ নিলে গুরুতর অসুস্থতা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব । ইউএস সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) জনগণকে ভাল স্বাস্থ্যবিধি অনুশীলন করার পরামর্শ দিচ্ছেন। তদুপরি, গবেষকরা এর লক্ষণগুলি আরও ভালভাবে বোঝার জন্য XEC কে আরও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

সূত্র : এনডিটিভি

mzamin

লেবাননে বিস্ফোরণ: তাইওয়ানের প্রতিষ্ঠান ‘তৈরি করেনি’, তাহলে পেজারগুলো এল কোথা থেকে

লেবাননে পেজার (যোগাযোগের যন্ত্র) বিস্ফোরণের পর এই যন্ত্রের নির্মাতা প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে নানা প্রশ্ন উঠছে। আজ বুধবার সকাল পর্যন্ত তাইওয়ানের যে প্রতিষ্ঠানের নাম অনেকেই জানত না, বিস্ফোরণের সে ঘটনার পর আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে প্রতিষ্ঠানটি।

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সদস্যদের নিশানা করে পেজার হামলার এ ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন প্রায় তিন হাজার মানুষ। হামলার এ ঘটনার পর মধ্যপ্রাচ্যে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও তোলপাড় শুরু হয়েছে।

পেজার বিস্ফোরণের ঘটনায় উদ্ভূত সংকটের মধ্যে পড়ে তাইওয়ানের প্রতিষ্ঠান গোল্ড অ্যাপোলোর প্রতিষ্ঠাতা হসু চিং–কুয়াং দাবি করেছেন, পেজার হামলার এ ঘটনায় তাঁদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

গোল্ড অ্যাপোলোর প্রতিষ্ঠাতার দাবি, এসব পেজার তৈরি করেছে বিএসি কনসাল্টিং নামের হাঙ্গেরির একটি প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটিকে গোল্ড অ্যাপোলোর ট্রেডমার্ক ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। এ অনুমতি থাকায় প্রতিষ্ঠানটি নিজেরা তৈরি করলেও পেজারে গোল্ড অ্যাপোলোর নাম ব্যবহার করেছে। বিবিসির পক্ষ থেকে বিএসি কনসাল্টিংয়ের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করে সাড়া পাওয়া যায়নি।

গোল্ড অ্যাপোলোর কার্যালয়ের বাইরে হসু চিং-কুয়াং আজ সাংবাদিকদের বলেন, ‘আপনি লেবানন থেকে আসা ছবিগুলো দেখুন। সেসবে (পেজারে) তাইওয়ানে তৈরি এমন কোনো চিহ্ন দেখতে পাবেন না। আমরা এসব পেজার তৈরি করিনি।’

তাওয়ানের রাজধানী তাইপের উপকণ্ঠে গোল্ড অ্যাপোলোর কার্যালয়। আজ অন্য অনেক প্রতিষ্ঠানের মতো প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয়ে গিয়ে ব্যতিক্রম কিছু দেখা যায়নি। কার্যালয়ের মূল ফটকে শুধু দুজন পুলিশ সদস্যকে দেখা গেল।

গোল্ড অ্যাপোলোর কার্যালয়ের দেয়ালে প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন পণ্যের পোস্টার সাঁটানো। এসব পণ্যের মধ্যে ছোট একটি বাক্সের মতো প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি যন্ত্র, যার মধ্যে ধূসররঙা ছোট একটি এলসিডি পর্দাও রয়েছে। এসবই হচ্ছে পেজার।

আজ সকাল পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটে অন্যান্য পণ্যের মতো পেজারের জন্যও একটি পৃথক পৃষ্ঠা (পেজ) ছিল। কিন্তু লেবাননে হামলার ঘটনার পর বিস্ফোরিত পেজারগুলোর নির্মাতা প্রতিষ্ঠান হিসেবে গোল্ড অ্যাপোলোর নাম আলোচনায় আসার পর থেকে প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটে প্রবেশ করা যাচ্ছে না।

লেবাননে হামলায় ব্যবহৃত পেজারগুলো বিএসি কনসাল্টিংয়ের তৈরি বলে জানিয়েছেন গোল্ড অ্যাপোলোর প্রতিষ্ঠাতা হসু চিং-কুয়াং। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, তিন বছর আগে তাঁর প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একটি চুক্তি করেছিল বিএসি কনসাল্টিং।

হসু চিং-কুয়াং বলেন, ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বিক্রির জন্য গোল্ড অ্যাপোলোর কাছ থেকে প্রথমে পেজার কিনতে চেয়েছিল বিএসি কনসাল্টিং। কিন্তু প্রায় এক বছর পর প্রতিষ্ঠানটি একটি নতুন প্রস্তাব দেয়। বিএসি কনসাল্টিং জানায়, গোল্ড অ্যাপোলো থেকে সরাসরি পেজার না কিনে তারা নিজেরাই তৈরি করবে; কিন্তু পেজারগুলো তৈরি হবে গোল্ড অ্যাপোলোর নামে।

বিএসি কনসাল্টিং থেকে অর্থ পাওয়ার বিষয়টি খুবই অদ্ভূত ছিল বলে জানান হসু চিং-কুয়াং। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ওই অর্থ আসত মধ্যপ্রাচ্য হয়ে। কিন্তু এ বিষয়ে আর বিস্তারিত জানাতে রাজি হননি গোল্ড অ্যাপোলোর প্রতিষ্ঠাতা।

গোল্ড অ্যাপোলো এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘আমরা শুধু পেজারে আমাদের ব্র্যান্ড নাম ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছি। পেজারের নকশা বা উৎপাদনে আমাদের কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না।’

কিন্তু গোল্ড অ্যাপোলের পক্ষ থেকে এসব দাবি করা হলেও লেবাননে বিস্ফোরণের ঘটনার পর তাইওয়ানের তদন্ত সংস্থার একদল তদন্ত কর্মকর্তা হাজির হয়েছেন হসু চিং-কুয়াংয়ের কার্যালয়ে। এতে বোঝা যাচ্ছে, গোল্ড অ্যাপোলোর পক্ষ থেকে যতই দাবি করা হোক, তাইওয়ানের কর্তৃপক্ষ তাতে আশ্বস্ত হতে পারছে না। তারা বিষয়টি তদন্ত করে দেখবে।

প্রযুক্তিপণ্য তৈরির ক্ষেত্রে বিশ্বজুড়ে খ্যাতি আছে তাইওয়ানের। তবে দেশটিতে প্রযুক্তিপণ্য তৈরির এ প্রক্রিয়া অবশ্য কিছুটা জটিলও। অনেক প্রতিষ্ঠান আছে, তারা যেসব পণ্য বিক্রি করে, সেসব পণ্য আদতে তারা তৈরি করে না। তারা ব্র্যান্ড নাম ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে।

পেজার তেমন কোনো আধুনিক প্রযুক্তিপণ্য নয়। এর ব্যবহার অনেক আগে থেকে আছে। বিশ্বের অনেক প্রতিষ্ঠান পেজার তৈরির সক্ষমতা রাখে।

পেজার মূলত ছোট একটি যন্ত্র, যা দিয়ে বেতার তরঙ্গের সাহায্যে যোগাযোগ করা হয়। এতে একটি এলসিডি পর্দা আছে। কথা বলার পাশাপাশি এই পর্দার মাধ্যমে বার্তা আদান–প্রদান করা যায়। গত শতকের আশি ও নব্বইয়ের দশকে পেজার ছিল যোগাযোগের আধুনিক একটি যন্ত্র। কোটি কোটি মানুষ ছোট এই যন্ত্র ব্যবহার করতেন। মুঠোফোন আসার আগে মাঠে থাকা কর্মীদের মধ্যে যোগাযোগের জন্য পেজারের ব্যবহার হতো বেশি।

কিন্তু গত দুই দশকে মুঠোফোন, বিশেষ করে স্মার্টফোনের ব্যবহারের কারণে পেজারের ব্যবহার প্রায় বিলুপ্তির পথে। বিশ্লেষকদের ধারণা, পেজার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান হিসেবে গোল্ড অ্যাপোলোর সুনামকে কাজে লাগানো হয়েছে, যাতে হিজবুল্লাহর মতো ক্রেতার কাছে বিক্রি করতে কোনো সমস্যা না হয়। কিন্তু লেবাননে পেজার বিস্ফোরণের এ ঘটনার পর এমন অনেক প্রশ্ন উঠেছে, যার উত্তর পাওয়া যাচ্ছে না।

বিএসি কনসাল্টিং কে বা কারা, এ বিষয়ে বিবিসির পক্ষ থেকে এখনো তেমন কিছুই জানা সম্ভব হয়নি। এর নেপথ্যে কে আছে বা ছিল, তা-ও জানা যায়নি। এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—লেবাননে হামলায় ব্যবহৃত এসব পেজার যদি গোল্ড অ্যাপোলো তৈরি না করে থাকে, তাহলে কে পেজারগুলো তৈরি করেছে বা কোথায় এগুলো তৈরি করা হয়েছে?

বিস্ফোরিত পেজারের টুকরা দেখাচ্ছেন এক লেবাননি। ছবি : সংগৃহীত
বিস্ফোরিত পেজারের টুকরা দেখাচ্ছেন এক লেবাননি

শেখ হাসিনা সরকারের আমলে বিদেশে ‘সরানো’ দুই লাখ কোটি টাকার খোঁজে বাংলাদেশ

বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাজ্যে পাচার হওয়া অর্থ-সম্পদের হদিস পেতে সে দেশের সরকারের দ্বারস্থ হয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের সহযোগীদের সম্পদ যুক্তরাজ্যে পাচার করা হয়েছে কি না, তা তদন্ত করতে অন্তর্বর্তী সরকার এই উদ্যোগ নিয়েছে। শেখ হাসিনার স্বৈরাচারী সরকারের সদস্যদের ওপর নতুন সরকার যে কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে, তার অংশ হিসেবে যুক্তরাজ্য সরকারের সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর ব্রিটিশ গণমাধ্যম ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে বলেছেন, নতুন প্রশাসন তদন্ত করছে যে শেখ হাসিনার সরকার বাংলাদেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে ১৩ বিলিয়ন বা ১ হাজার ৩০০ কোটি পাউন্ডের সমপরিমাণ ২ লাখ কোটি টাকা বিদেশে সরানো হয়েছে কি না। যুক্তরাজ্যসহ বেশ কয়েকটি দেশে বাংলাদেশের সাবেক সরকারের সহযোগীরা সম্পদ গড়েছেন বলে কর্তৃপক্ষ ধারণা করছে। যুক্তরাজ্য ছাড়াও সিঙ্গাপুর, যুক্তরাষ্ট্র ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে সম্পদ গড়ে তোলা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

আহসান এইচ মনসুর আরও বলেন, এ ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্য সরকার ‘বেশ সহায়তা’ করছে। বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার বাংলাদেশ ব্যাংকে এসেছিলেন; তাঁরা অনেক কারিগরি সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়েছেন।

বিশেষ করে শেখ হাসিনা সরকারের সাবেক ভূমিমন্ত্রীর কেনা ১৫০ মিলিয়ন বা ১৫ কোটি পাউন্ডের সম্পত্তির অর্থের উৎস সম্পর্কে বাংলাদেশ জানতে চেয়েছে বলে ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে জানিয়েছেন আহসান এইচ মনসুর। তিনি বলেন, এসব সম্পদ বাংলাদেশ পুনরুদ্ধার করতে চায়; সে লক্ষ্যে যুক্তরাজ্য সরকারের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন যুক্তরাজ্যের কর্মকর্তারা; কিন্তু বৈঠকে কী নিয়ে আলোচনা হয়েছে, সে বিষয়ে তাঁরা কিছু বলতে রাজি হননি।

শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে বড় ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ করে আসছেন বাংলাদেশের সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। বাংলাদেশ থেকে বিদেশে অর্থ নেওয়ার ক্ষেত্রেও অনেক বিধিনিষেধ আছে। প্রতি বছর বাংলাদেশের নাগরিকেরা বৈধভাবে মাত্র কয়েক হাজার ডলার বিদেশে নিতে পারেন।

আহসান মনসুর বলেন, ‘এই বিপুল পরিমাণ অর্থ প্রধানমন্ত্রীর অজ্ঞাতসারে দেশ থেকে নিয়ে যাওয়া সম্ভব ছিল না।’ তবে তিনি এ–ও বলেন, তদন্ত এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে আছে। গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যান। তিনি ভারতের কোথায় আছেন তা জানা যায়নি। ফলে ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের পক্ষে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

তবে এসব অভিযোগ যুক্তরাজ্যের স্যার কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্বাধীন লেবার পার্টির সরকারের জন্য কিছুটা অস্বস্তিকর হতে পারে। শেখ হাসিনার ভাগনি টিউলিপ সিদ্দিক লেবার সরকারের সিটি মিনিস্টার, যদিও এখন পর্যন্ত এমন কোনো ইঙ্গিত দেওয়া হয়নি যে টিউলিপ সিদ্দিক এসব অপকর্মের সঙ্গে কোনোভাবে জড়িত ছিলেন। এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য টিউলিপ সিদ্দিকের সঙ্গে ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস যোগাযোগ করলেও তিনি সাড়া দেননি।

শুধু বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর নন, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ও নোবেল পুরস্কার বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসও ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সঙ্গে এক সাক্ষাতে পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সহায়তা চেয়েছেন।

মুহাম্মদ ইউনূসের প্রেস সচিব শফিকুল আলম ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে বলেন, বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষ দেশটি থেকে ‘চুরি হওয়া ও বিদেশে পাচার করা অর্থ ফিরিয়ে আনবে। সরকারের যেসব অগ্রাধিকার রয়েছে, এটি তার মধ্যে অন্যতম।’

শেখ হাসিনা দুই দশক বাংলাদেশ শাসন করেছেন; কিন্তু তাঁর শাসনামলে ভোট চুরি, অধিকার লঙ্ঘন ও ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। এসব অভিযোগ থেকে ছাত্রবিক্ষোভ সৃষ্টি হয়; পরিণতিতে হাসিনা সরকারের পতন হয়।

চলতি বছরের শুরুতে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল ইউকে জানায়, যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর মালিকানাধীন কোম্পানির সম্পত্তি আছে। সে দেশে যে বাংলাদেশিদের এ রকম ‘অব্যাখ্যাত সম্পদ’ আছে, এটি তার নজির। তারা বলেছিল, যুক্তরাজ্য সরকারের উচিত হবে, এসব খতিয়ে দেখা।

এই পরিপ্রেক্ষিতে ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস যুক্তরাজ্যের ভূমি নিবন্ধন দপ্তর ও কোম্পানি–সংক্রান্ত দপ্তরের নথি খতিয়ে দেখেছে। তাদের অনুসন্ধানে পাওয়া যায়, সাইফুজ্জামান চৌধুরীর নিয়ন্ত্রণাধীন প্রতিষ্ঠানগুলো ১৫ কোটি পাউন্ডের বেশি মূল্যের অন্তত ২৮০টি সম্পত্তি কিনেছে।

এসব সম্পদ ২০১৬ সালের পর থেকে কেনা হয়েছে। যুক্তরাজ্যের ভূমি কার্যালয়ের তথ্যানুসারে, বেশির ভাগ সম্পদ কেনা হয়েছে ২০১৯ সাল থেকে ২০২২ সালের মধ্যে। সাইফুজ্জামান চৌধুরী ২০১৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত শেখ হাসিনা সরকারের ভূমিমন্ত্রী ছিলেন।

যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় সম্পদ কিনেছেন সাইফুজ্জামান চৌধুরী। এর মধ্যে ফ্রিহোল্ড বা চিরকালীন মালিকানার অধিকারের সম্পদ আছে, যার মধ্যে রয়েছে লন্ডনের মূলকেন্দ্রের ফিটজ্রোভিয়া এলাকার এমারসন বেইনব্রিজ হাউস, পূর্ব লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেটে ৬১টি বাড়ি ও ব্রিস্টলে একটি সমবায় সুপারমার্কেট।

যুক্তরাজ্যে এসব সম্পদ কেনার অর্থ কোত্থেকে এসেছে তা পরিষ্কার নয়। যদিও নথিপত্র দেখে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, কিছু সম্পদ কেনার ক্ষেত্রে বন্ধকি ঋণ নেওয়া হয়েছে।

সাইফুজ্জামান চৌধুরীর আইনজীবী আজমালুল হোসেন ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে বলেন, তাঁর মক্কেলের ‘লুকানোর কিছু নেই’ এবং তিনি কোনো কিছু চুরি করেননি। তিনি আরও বলেন, সাইফুজ্জামান চৌধুরী চতুর্থ প্রজন্মের ব্যবসায়ী। রাজনীতিতে আসার আগে সেই ১৯৯০-এর দশক থেকে তিনি যুক্তরাজ্যে সম্পদ কিনছেন।

সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী চলতি বছরের শুরুতে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আন্তর্জাতিক ব্যবসার অর্থ থেকে তিনি বিদেশে সম্পদ কিনেছেন। আজমালুল হোসেন বলেন, ড. ইউনূসের ‘অসাংবিধানিক সরকার’ আওয়ামী লীগ সদস্য ও নেতাদের নিপীড়ন করছে। তিনি আরও বলেন, যথেষ্ট আশঙ্কা আছে, সাইফুজ্জামান চৌধুরী ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।

শেখ হাসিনার সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আরাফাত ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে বলেন, তদন্ত হলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সহযোগীরা নির্দোষ প্রমাণিত হবেন। তিনি আরও বলেন, ‘(নতুন সরকার) সব কিছুকে বড় দুর্নীতি হিসেবে দেখাতে চাইছে। তাঁরা সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে দোষী করতে চাইছেন। তবে এটা ভালো যে যথাযথ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে তা হচ্ছে ...এসব অভিযোগ তাঁদের প্রমাণ করতে হবে।’

যুক্তরাজ্য সরকার জানিয়েছে, বাংলাদেশ সরকার পারস্পরিক আইনি সহায়তার অনুরোধ করেছে কি না, সে বিষয়ে তারা কিছু বলবে না। এ বিষয়ে তাদের অনেক পুরোনো নীতি রয়েছে।

ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাজ্যেই ৩৬০টি বাড়ির মালিক সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী -আল–জাজিরার অনুসন্ধান

ক্ষমতাচ্যুৎ শেখ হাসিনা সরকারের ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী (জাভেদ) শুধু যুক্তরাজ্যেই ৩৬০টি বাড়ির মালিক। এর বেশির ভাগই বার্কলি গ্রুপের মতো শীর্ষস্থানীয় নির্মাতা প্রতিষ্ঠান থেকে কেনা। বাড়িগুলোর বর্তমান বাজারমূল্য ৩২ কোটি ডলার। বাংলাদেশি টাকায় এই অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ৩ হাজার ৮২৪ কোটি টাকার বেশি। এর বাইরে যুক্তরাষ্ট্র ও দুবাইয়েও তাঁর সম্পদ রয়েছে।

কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সম্প্রচারমাধ্যম আল–জাজিরার এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। আজ বুধবার রাতে ‘দ্য মিনিস্টার্স মিলিয়নস’ শিরোনামের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে আল–জাজিরা। অনুসন্ধান করেছে আল–জাজিরার অনুসন্ধানী দল ‘আই ইউনিট’।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান লন্ডনের বাইরে দুবাইয়ে ২০২০ সালের মধ্যে অন্তত ৫৪টি সম্পদের মালিক হন। যুক্তরাষ্ট্রেও তাঁর সম্পত্তি আছে। সেখানে তিনি নয়টি বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট কিনেছেন। এর মধ্যে পাঁচটি ম্যানহাটানসহ নিউইয়র্কের প্রধান এলাকায় এবং চারটি নদীর ওপারে নিউ জার্সিতে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সাইফুজ্জামান দেশের বাইরের এত পরিমাণ সম্পদ তাঁর নির্বাচনী হলফনামা ও ট্যাক্স ফাইলে গোপন করেছেন।

আল–জাজিরা অনুসন্ধান বলছে, লন্ডনে সাইফুজ্জামান চৌধুরীর হয়ে সব সম্পদ দেখাশোনা করেন চট্টগ্রামের রিপন মাহমুদ। সাইফুজ্জামান সিঙ্গাপুরের ব্যাংক ডিবিএস থেকে ঋণ নিয়েছেন। ওই ব্যাংকের কর্মী রাহুল মার্টের বর্ণনায়ও সাইফুজ্জামানের সম্পদের বর্ণনা উঠে এসেছে। কীভাবে তিনি বিদেশে এত সম্পদ গড়েছেন, সেই ধারণাও পাওয়া গেছে।

এ ছাড়া সাইফুজ্জামান চৌধুরীর বর্ণনায়ও তাঁর সম্পদ ও ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে ধারণা পাওয়া গেছে। শেখ হাসিনা দেশের বাইরে তাঁর ব্যবসার কথা জানতেন উল্লেখ করে সাইফুজ্জামান আল-জাজিরার অনুসন্ধানী দলকে বলেছেন, ‘আমার এখানে ব্যবসা আছে, সেটা তিনি জানতেন।’

প্রতিবেদনে বলা হয়, সাইফুজ্জামান ছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার খুবই কাছের ও বিশ্বস্ত। তিনি ২০১৪ সালে সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী হন। ২০১৯ সালে শেখ হাসিনা তাঁকে পদোন্নতি দিয়ে ভূমিমন্ত্রী করেন। সাইফুজ্জামানও আল–জাজিরাকে বলেছেন, ‘আমার বাবা প্রধানমন্ত্রীর খুব ঘনিষ্ঠ ছিলেন। সত্যি বলতে আমিও।’

আল–জাজিরার অনুসন্ধানী দলের কাছে বাংলাদেশের সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান তাঁর বিলাসী জীবনের গল্পও করেছেন। সেখানে নিজের জুতার বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘এটা টেইলর-মেডের জুতা। আমি হেরডসেও কাস্টম মেড (নির্দিষ্ট গ্রাহকের জন্য বিশেষভাবে তৈরি) জুতা অর্ডার দিয়েছি। এটি তৈরি হতে চার মাস সময় লাগে। আমি কিনেছি প্রতিটি তিন হাজার পাউন্ডের বেশি দিয়ে।’

এই বিশেষ জুতা তৈরির বিষয়ে সাইফুজ্জামান বলেন, এগুলো উটপাখি ও কুমিরের বুকের চামড়া দিয়ে তৈরি জুতা। সম্পূর্ণ বুকের চামড়া দিয়ে তৈরি জুতাগুলোর দাম ছয় হাজার পাউন্ড। আর অর্ধেক কুমিরের বুকের চামড়া ও বাছুরের চামড়ার অর্ধেক দিয়ে তৈরি জুতার দাম তিন হাজার পাউন্ড। এটা খুবই ভালো। চার মাস লাগে তৈরি হতে।

স্যুট পছন্দ করেন জানিয়ে সাইফুজ্জামান বলেন, প্রতিবার তিনি লন্ডনে গেলে দু–তিন হাজার পাউন্ড স্যুট কিনতে ব্যয় করেন। সুপার ২০০, সুপার ১৮০—এগুলো কেনা হয়। সুপার ২০০–এর দাম ছয় হাজার পাউন্ড। কেনালি বন্ড স্ট্রিটে গিয়ে কেনেন তিনি। এরপর তারাই বাসায় পৌঁছে দেয়।
চমকে ওঠার মতো সম্পদের সন্ধান

আল–জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের আগে থেকে সাইফুজ্জামান চৌধুরীকে অনুসরণ করছিল তাদের অনুসন্ধানী দল। তাঁর বেতন (বার্ষিক) ছিল ১৩ হাজার ডলার। অথচ তিনি যুক্তরাজ্যে বিপুল সম্পদের সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন। আই ইউনিট মন্ত্রীর বৈশ্বিক সম্পদের অনুসন্ধানে নেমে চমকে ওঠার মতো সম্পদের সন্ধান পায়। বাংলাদেশে সাইফুজ্জামানের সম্পদের উৎস তাঁর ব্যবসা ও ইউসিবি ব্যাংকের শেয়ার।

বাংলাদেশর মুদ্রানীতি অনুযায়ী, দেশের নাগরিকেরা বছরে ১২ হাজার ডলারের বেশি বিদেশে নিতে পারেন না। এই মুদ্রানীতি হয়েছে বাংলাদেশের অর্থনীতির সুরক্ষার জন্য।
বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শাহদীন মালিক বলেন, ‘আমাদের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ব্যপকহারে কমে গেছে। কেউ বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি ছাড়া বিদেশে টাকা নিয়ে গেলে সেটা মানি লন্ডারিং আইনে অপরাধ।’

লন্ডনে বাড়িগুলো তৈরির বিষয়ে আল–জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, সাইফুজ্জামান ডেভেলপারদের কাছ থেকে বাড়ি কেনার জন্য বেশ কিছু কোম্পানি তৈরি করেন। ২০১৬ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে তিনি যুক্তরাজ্যে ২৬৫টি বাড়ি কেনেন। তাঁর বাড়িগুলোর বেশির ভাগই বার্কলি গ্রুপের মতো শীর্ষ ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে কেনা।

সাইফুজ্জামানের কেনাকাটা সেখানেই থেমে থাকেনি। ২০২১ সালে ১ কোটি ৬০ লাখ ডলারে লন্ডনে আরও সম্পদ কেনেন তিনি। তাঁর বেশির ভাগ সম্পদই ভাড়া দিয়ে থাকেন। ২০২০ সালে আরও ৮৯টি বাড়ি কিনলে মোট বাড়ির সংখ্যা দাঁড়ায় ৩৬০টি, যার বাজারমূল্য ৩২ কোটি ডলার।

প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজনৈতিকভাবে পরিচিত ব্যক্তিদের যুক্তরাজ্যে কঠোর যাচাইয়ের মুখোমুখি হওয়ার কথা। সেখানে সাইফুজ্জামান চৌধুরী কীভাবে এই যাচাইপ্রক্রিয়া অতিক্রম করেছিলেন, তা যাচাইয়ে তার একটি সম্পত্তি দেখতে যায় আল–জাজিরার অনুসন্ধানী দল।

সেখানে রিপন মাহমুদ বলেন, ‘আমাদের গ্রাহকের (সাইফুজ্জামানের) লন্ডনে ৩০০টি বাড়ি আছে। তিনি লন্ডনে আসেন, কয়েকটি বাড়ি কেনেন, আবার চলে যান। লকডাউনের সময় যুক্তরাজ্যে নতুন বাড়ি কেনার জন্য ২০ কোটি পাউন্ড ব্যয় করেন তিনি।’

এই রিপন মাহমুদ সম্পর্কে সাইফুজ্জামান চৌধুরীর বক্তব্য হলো—লন্ডন ও যুক্তরাজ্যের সব সম্পত্তি রিপনের মাধ্যমেই তিনি কিনেছেন। রিপন তাঁর প্রধান লোক। তিনি তাঁর ভাই।
যেভাবে দেখা করেন আল–জাজিরার সাংবাদিকেরা

আল–জাজিরার অনুসন্ধানী দলের সদস্যরা চীন থেকে ১০ কোটি ডলার যুক্তরাজ্যের বাজারে স্থানান্তর করতে চান, এ কথা বলে প্রকাশ করে সাইফুজ্জামানের ঘনিষ্ঠ রিপনের সঙ্গে কথা এগোতে থাকেন। তাঁরা ধনী বিদেশি বিনিয়োগকারী হিসেবে অভিনয় করে সাইফুজ্জামানের সম্পদের গোপন তথ্য বের করেন।

লন্ডনের একটি হোটেলে রিপন আল–জাজিরার অনুসন্ধানী দলের সঙ্গে দেখা করতে যান। সেখানে আলাপচারিতায় তাঁর বিষয়ে বোঝানোর জন্য সাইফুজ্জামান চৌধুরীর প্রসঙ্গ টানেন। তখন রিপন বলেন, ‘আমার ভালো বন্ধু সাইফুজ্জামান। আপনি যেটা আমার কাছে চাচ্ছেন, সেটাই আমি তাঁর (সাইফুজ্জামান) জন্য করেছি।’ তাঁর পরিচয় সম্পর্কে রিপন বলেন, ‘তিনি একজন ক্ষমতাধর মন্ত্রী। তিনি বুদ্ধিমান। তিনি বড় প্রকল্পে যান না। যখন আপনি বড় প্রকল্পে যান, কর্তৃপক্ষ সতর্ক হয়ে যায়। বড় টাকা, বড় সংখ্যা সবাইকে সতর্ক করে দেয়। আপনি বুঝতেই পারছেন কী বলছি। তিনি এক কোটি আনেন এবং বলেন, আমি নগদে কিনিনি। ব্যাংক আমাকে টাকা দিয়েছে।’

লন্ডনে অনুসন্ধানের মধ্যেই আল–জাজিরা জানতে পারে, যুক্তরাষ্ট্রেও সাইফুজ্জামান চৌধুরীর সম্পত্তি আছে। সেখানে তিনি নয়টি বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট কিনেছেন। পাঁচটি ম্যানহাটানসহ নিউইয়র্কের প্রধান এলাকায় এবং চারটি নদীর ওপারে নিউ জার্সিতে।

আরও কয়েক দফা সাক্ষাতের পর রিপন স্বীকার করেন, তাঁর সবচেয়ে বড় গ্রাহক সাইফুজ্জামান চৌধুরী। তিনি বাংলাদেশ থেকে আসছেন। চার বছর আগে তাঁর জন্য সবকিছু ঠিক করেছেন। প্রতিবছর তিনি (সাইফুজ্জামান) তাঁর মাধ্যমে ১০ কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ করেন।

সাইফুজ্জামান চৌধুরী বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার আগে তাঁর সঙ্গে দেখা করে আল–জাজিরার অনুসন্ধানী দল। তার আগে রিপনের পরামর্শে সাইফুজ্জামান চৌধুরীর পরামর্শকদের সঙ্গে দেখা করে। প্রথমেই সাইফুজ্জামানের আইনজীবীর সঙ্গে দেখা করে অনুসন্ধানী দল। ওই আইনজীবী একটি কোম্পানির মানি লন্ডারিং রিপোর্টিং কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেন। যার কাজ হচ্ছে কোম্পানি পরিচালনায় যুক্তরাজ্যের নিয়ম–নীতি মেনে চলাটা নিশ্চিত করা। ২০২১ সাল থেকে সাইফুজ্জামান চৌধুরীর প্রতিষ্ঠানের ১০০টির বেশি ঋণের আইনি কাজগুলো করেছেন তিনি।

এরপর রিপন পরিচয় করিয়ে দেন এশিয়ার বৃহত্তম ব্যাংক ডিবিএসের রাহুল মার্টের সঙ্গে, যিনি ব্যক্তিগত সম্পদ ব্যবস্থাপকদের একজন। রিপন বলেন, সাইফুজ্জামান চৌধুরীকে ব্যাংকের গ্রাহক করতে গিয়ে রাহুল কিছু চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছিলেন। সিঙ্গাপুরের ব্যাংকটিতে অত্যন্ত কড়াকড়ি থাকায় তাঁর স্ত্রীকে এর গ্রাহক করা হয়েছিল।

২০২৪ সালের জানুয়ারির মধ্যে ডিবিএস সাইফুজ্জামান চৌধুরীর কোম্পানিগুলোকে ২০টি ঋণ দিয়েছিল, যা তাঁর সাম্রাজ্যকে অর্থায়নে সহায়তা করেছিল। অবশেষে রিপন অনুসন্ধানী দলকে মার্কেট ফাইন্যান্সিয়াল সলিউশনের সিইও পারেশ রাজার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। তিনি সাইফুজ্জামানের জন্য শত শত ঋণের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন।

সাইফুজ্জামান চৌধুরী তাঁর মোট সম্পত্তির এক–চতুর্থাংশ, ৮০টির বেশি যুক্তরাজ্যের শীর্ষ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বার্কলি হোমস থেকে কিনেছেন। বার্কলি হোমসের একটি বিপণন অনুষ্ঠানে আল–জাজিরার একজনকে রিপন বলেন, তাঁর ৩০০–এর বেশি বাড়ি আছে। তিনি দুবাইয়ে এগুলো তাঁর (সাইফুজ্জামান) জন্য কিনেছেন।

দুবাইয়ের সূত্র অনুসরণ করে নতুন আরও অনেক সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়। দুবাইয়ে ২০২০ সালের মধ্যে অন্তত ৫৪টি সম্পদের তালিকাভুক্ত মালিক হন সাইফুজ্জামান চৌধুরী।

সাইফুজ্জামান চৌধুরী যা বললেন

এরপর রিপনকে সঙ্গে নিয়ে একদিন সাইফুজ্জামানের সঙ্গে তাঁর লন্ডনের বাড়িতে সাক্ষাৎ করে অনুসন্ধানী দল। সেখানে সাইফুজ্জামান জানান, তিনি ব্যবসা থেকে তাঁর সব লাভ দুবাই ও লন্ডনে বিনিয়োগ করেছেন। তিনি বলেন, ‘দুবাইয়ের ডাউনটাউনে আমি সেরা সম্পত্তি পেয়েছি। দুবাই মলের কাছে অপেরা এলাকায় আমার খুব সুন্দর একটি পেন্ট হাউস আছে। আমি একটি ভিলাও কিনেছি, যার একটায় ব্যক্তিগত হ্রদ আছে। সবকিছু আছে। সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় বাড়ি আছে। ম্যানহাটানে (যুক্তরাষ্ট্র) আমার খুব সুন্দর সম্পত্তি আছে।’

বাংলাদেশ থেকে এত টাকা কীভাবে আনলেন, এ প্রশ্নের জবাবে সাইফুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ‘আমার দুবাইয়ে রিয়েল স্টেট কেনাবেচার ব্যবসা আছে। দুবাই থেকে এখানে টাকা আনি। তারপর এখান থেকে একটা ঋণ নিই।’

আল–জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি সাইফুজ্জামান চৌধুরীর ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক ব্যাংক অ্যাকাউন্টগুলোতে লেনদেন স্থগিতের নির্দেশ দিয়েছে। সাইফুজ্জামানের বর্তমান অবস্থান অজানা। তবে বাংলাদেশ ছেড়েছেন বলে সাম্প্রতিক একটি কথোপকথনে তিনি উল্লেখ করেছেন।

সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী। ছবি : সংগৃহীত
সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী

খাদ্য সরবরাহে অস্থিরতা তৈরির পাঁয়তারা

খাদ্য সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটিয়ে দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করার পাঁয়তারা করছে একটি পক্ষ। খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থা অস্থিতিশীল করার পেছনে খোদ খাদ্য মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তা ও কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর যোগসাজশ রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। গত ৫ই  আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর খাদ্য সরবরাহ নিয়ে ঘন ঘন সার্কুলার জারি ও পরিবর্তন করা হচ্ছে। এতে সরবরাহ ব্যবস্থায় বিশৃঙ্খলা তৈরির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

গত ২৪শে আগস্ট খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সরবরাহ-১ শাখার উপসচিব কুল প্রদীপ চাকমা স্বাক্ষরিত সার্কুলারে বলা হয়, বিভিন্ন কর্মসূচি কাবিখা, ভিডব্লিউবি, ভিজিএফ, ওএমএস, খাদ্যবান্ধব, টিআর, জিআরসহ অন্যান্য রেশনিং খাতে বরাদ্দকৃত খাদ্যশস্য খাদ্য মন্ত্রণালয় তথা খাদ্য অধিদপ্তরের বিভিন্ন গুদাম হতে বিতরণ করা হয়। বরাদ্দকৃত খাদ্যশস্য গুদাম হতে উত্তোলন/বিতরণের জন্য সংশ্লিষ্ট উপজেলা/জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় থেকে বিতরণ আদেশ (ডিও) জারি করা হয়। খাদ্যশস্যের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার স্বার্থে বিতরণ আদেশ (ডিও) জারি করার তারিখেই অর্থাৎ একই কর্মদিবসের মধ্যে গুদাম হতে খাদ্যশস্য বিতরণ/উত্তোলন করা আবশ্যক।
ওই সার্কুলারে সিদ্ধান্ত গ্রহণের কথা বলা হয়। যেমন: খাদ্যশস্যের বিতরণ আদেশ (ডিও) জারি করার পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গুদাম হতে খাদ্যশস্য বিতরণ/উত্তোলন করতে হবে; বিতরণ আদেশাধীন খাদ্যশস্য কোনোভাবেই গুদামে মজুত রাখা যাবে না; বিতরণ আদেশাধীন খাদ্যশস্য কোনো গুদামে মজুত পাওয়া গেলে অনিয়মের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আবার গত ৯ই সেপ্টেম্বর স্মারক নং ১৭২ মোতাবেক বলা হয়, খাদ্যশস্যের বিতরণ আদেশ (ডিও) জারি করার পরবর্তী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে গুদাম হতে খাদ্যশস্য বিতরণ/উত্তোলন করতে হবে। একইসঙ্গে গত ২৪শে আগস্টের পত্রটি বাতিল করা হলো।
এর আগের সার্কুলারে সাধারণত সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, আনসার ডেলিভারি আদেশ (ডিও) জারির পর এসব বাহিনীর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা মাসের যেকোনো দিন পছন্দমাফিক সময়ে খাদ্য গুদাম থেকে মালামাল উত্তোলন করতে পারতেন। খাদ্য বিভাগের দীর্ঘদিনের রীতি ভেঙে ৫ই আগস্টের পর মালামাল উত্তোলন সংক্রান্ত এমন নির্দেশনা কেন জারি করতে হলো সে সম্পর্কে খাদ্য সচিব কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।

ডিলারদের অভিযোগ, এভাবে বার বার সার্কুলার পরিবর্তন করা হলে আমাদের গুদাম থেকে খাদ্য উত্তোলন করা অসম্ভব। মালামাল গুদাম থেকে বের করার জন্য পরিবহন, শ্রমিক ও অফিসের কাগজপত্র তৈরি করার বিষয় থাকে, যা সময়সাপেক্ষ। সার্কুলার জারি করে একদিনেই মালামাল উত্তোলন করা বেশ চ্যালেঞ্জ। এটা নিঃসন্দেহে সরকারকে বেকায়দায় ফেলার ষড়যন্ত্র।
খাদ্যপণ্য উত্তোলনের নিয়ম: চাল/আটা/গম উত্তোলনের জন্য ডিলারকে চাহিদাপত্র দেয়ার সময় আগের দিনের অবিক্রীত খাদ্যশস্য (যদি থাকে) সমন্বয় করে পরবর্তী দিনের চাহিদাপত্র তৈরি করতে হয়। প্রতিটি দোকানে কমপক্ষে ২ দিনের বিক্রয়যোগ্য খাদ্যশস্য একসঙ্গে উত্তোলন করতে হয়। তবে কোনো ডিলার ইচ্ছা করলে ও সংরক্ষণ সুবিধা থাকলে একসঙ্গে সর্বোচ্চ ৩ দিনের বিক্রয়যোগ্য খাদ্যশস্য উত্তোলন করতে পারে। বিক্রির দিনে খাদ্যশস্যের মূল্য কমপক্ষে একদিন আগে সরকারি কোষাগারে ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে টাকা জমা দিয়ে চাল/আটা/গম উত্তোলন করতে হয়। সরকারি গুদাম হতে সরবরাহকালে চাল/আটা/গমের নমুনা গ্রহণ করতে হয়। গুদাম কর্মকর্তা ও ডিলারের যৌথ স্বাক্ষরে সিলগালাকৃত একটি করে নমুনা গুদামে ও অপরটি ডিলারের নিকট সংরক্ষণের ব্যবস্থা করতে হয়।

নাম প্রকাশ না করে একজন ডিলার বলেন, আগের সরকারে সুবিধাভোগী মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের কারণেই এমন অবস্থা তৈরি হয়েছে।
সাবির্ক বিষয়ে খাদ্য সচিব ইসমাইল হোসেন বলেন, বর্তমানে অফিসিয়াল কাজকর্ম অনেক সহজ হয়েছে। দিনে দিনেই খাদ্য উত্তোলন করা সম্ভব। আর স্বচ্ছতা আনয়নের জন্যই আগেরটা বাতিল করে নতুন নিয়মে সার্কুলার দেয়া হয়েছে। এখানে ষড়যন্ত্র দেখার সুয়োগ নেই।
খাদ্য মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, খাদ্য সচিব ইসমাইল হোসেন তার সিনিয়রকে সুপারসিড করে সচিব হন। খাদ্য অধিদপ্তরের ডিজি ছিলেন ১০ম বিসিএসের কর্মকর্তা শাখাওয়াত হোসেন। আর ইসমাইল হোসেন এনডিসি নিজে ১১তম বিসিএসের কর্মকর্তা।
সচিব ইসমাইল হোসেন সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনির আস্থাভাজন হিসেবে চাঁদপুরের ডিসির দায়িত্ব পালন করার সময় বালুখেকো সেলিম চেয়ারম্যানের মাধ্যমে মেঘনা নদী ধ্বংস করে বালু বিক্রি করে শত শত কোটি টাকা অবৈধভাবে আয় করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

আওয়ামী সরকারের পতনের পর খাদ্য অধিদপ্তরের ক্যাডার কর্মকর্তাদের সময়ের আগে বদলি করার অভিযোগ উঠেছে সচিব ইসমাইল হোসেনের বিরুদ্ধে।
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের আরেক কর্মকর্তা বলেন, মাঠপর্যায়ে বদলি বাণিজ্য করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বদলির তথ্য সংগ্রহের জন্য গত কয়েক দিন আগে জরুরিভিত্তিতে তালিকা দিতে অধিদপ্তরকে পত্র দিয়েছেন ইসমাইল হোসেন। তার এই বদলি বাণিজ্যের সঙ্গে এজেন্ট হিসেবে খাদ্য অধিদপ্তরের একজন কথিত জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রককে দায়িত্ব প্রদান করেছেন তিনি। বদলি প্রত্যাশীদের কাছ থেকে অর্থ নেয়ারও অভিযোগ রয়েছে। এ কারণে মাঠপর্যায়ে বদলি আতঙ্ক বিরাজ করছে বলে জানান এই কর্মকর্তারা। মন্ত্রণালয়ে এমন কার্যকলাপে স্থিতিশীল খাদ্য বিভাগ এখন অস্থিতিশীল হয়ে উঠছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ইসমাইল হোসেন মানবজমিনকে বলেন, এসব গল্প ভিত্তিহীন। যারা এসব বলছেন তারা আমার বিরুদ্ধে লেগেছে।

mzamin

সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও কবি পরিচয়ে ফ্যাসিবাদ রেহাই পাবে না

গণহত্যায় উস্কানিদাতাদের বিচারের আওতায় আনার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে তথ্য ও সমপ্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম বলেছেন- কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের মধ্যে যারা ফ্যাসিবাদের সঙ্গে জড়িত ছিলেন কিংবা গণহত্যায় উস্কানি দিয়েছেন, তাদের অবশ্যই বিচারের আওতায় আনা হবে। গতকাল সচিবালয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি। নাহিদ বলেন, যারা বিভিন্ন লেখনী ও মতামতের মাধ্যমে জনমত তৈরি করে গণহত্যার পক্ষে পরোক্ষভাবে কাজ করেছেন এবং গণহত্যার জন্য উস্কানি দিয়েছেন, তাদের অবশ্যই বিচারের আওতায় আনা হবে। কেবল সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও কবি পরিচয়ে কেউ রেহাই পাবেন না। সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত হত্যা মামলা সম্পর্কিত প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মামলাগুলো সরকার করছে না; জনগণ তাদের জায়গা থেকে করছে। অনেক ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত শত্রুতার জায়গা থেকেও মামলা করা হচ্ছে। সেই জায়গা থেকে আমরা নির্দেশনা দিয়েছি এবং আশ্বস্ত করেছি যে, এই মামলাগুলো দ্রুত সময়ের মধ্যে পর্যালোচনা করা হবে। তদন্ত করে কারও বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত না হলে তাকে মামলা থেকে রেহাই দেয়া হবে। নাহিদ ইসলাম বলেন, সাংবাদিক ফোরামের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় করেছি। আমি তাদের বলেছি, যদি কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করা হয় বা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয় থাকে; তাহলে তার ব্যাপারে তথ্য মন্ত্রণালয়ে বিস্তারিত পাঠাবেন। আমরা তার বিষয়টি দেখবো। এ সময় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দেয়ার প্রসঙ্গে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ধীরে ধীরে উন্নতির দিকে যাচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যাতে দ্রুত সময়ের মধ্যে ঠিক হয়ে যায়; জননিরাপত্তা যাতে নিশ্চিত হয়; আমরা যেহেতু একটি জরুরি পরিস্থিতিতে আছি; দেশ পুনর্গঠন করতে হচ্ছে; সেহেতু সেনাবাহিনীকে এই ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। আগামী দুই মাসের জন্য এই ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, এই সময়ের মধ্যে পুলিশ বাহিনীকে সম্পূর্ণ সংস্কার করে আরও শক্তিশালী ও আস্থার জায়গায় নিয়ে এসে তাদের মাঠে ফিরিয়ে আনা হবে। এ কারণেই এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তথ্য মন্ত্রণালয়ের ‘গুজব শনাক্তকরণ সেল’ সম্পর্কে জানতে চাইলে নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা ফ্যাক্টচেকিং নিয়ে বিভিন্ন অংশীজন ও মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলছি। কীভাবে ফ্যাক্টচেকিং বিষয়টি আরও শক্তিশালী করা যায়; সেটা নিয়ে ভাবছি। একটি ফ্যাক্টচেকিং সেল করার পরিকল্পনা রয়েছে জানিয়ে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যাতে এই ধরনের গুজবের সত্যতা যাচাই করে মানুষের কাছে সত্য তুলে ধরা যায়; মানুষ যাতে গুজব ও মিথ্যায় প্রভাবিত না হয়; সে জন্য আমরা ফ্যাক্টচেকিং নিয়ে ভাবছি। এর আগে নাহিদ ইসলাম ‘বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ড’ এবং জুরি বোর্ডের নবনির্বাচিত কমিটির সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
mzamin

সাবেক পুলিশ কর্মকর্তার অবৈধ সম্পদের পাহাড়

নাটোরের এক সাবেক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অবৈধ উপায়ে অর্ধশত বিঘা জমি, ঢাকা ও নিজ গ্রামসহ বিভিন্ন স্থানে ৫টি বিলাসবহুল বাড়ি, একাধিক প্লট ও ফ্ল্যাটের পাশাপাশি টাকার পাহাড় গড়ে তোলার অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী। বিষয়গুলো তদন্ত করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা, পুলিশ প্রধান ও দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। আলোচিত এই পুলিশ কর্মকর্তা আবেদ আলী নাটোরের লালপুর উপজেলার কদিমচিলান ইউনিয়নের গোধড়া গ্রামের মৃত শাহাদত আলী মোল্লার ছেলে। তিনি ট্রাফিক পরিদর্শক হিসেবে দু’বছর আগে চাকরি থেকে অবসর নিয়েছেন।

বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানো আবেদনগুলোতে বলা হয়, স্থানীয় রাজাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক আবেদ আলী শিক্ষকতা শুরুর কিছুদিন পর পুলিশের সার্জেন্ট হিসেবে যোগদান করেন। তৎকালীন স্থানীয় সংসদ সদস্য ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ফজলুর রহমান পটলের সুপারিশে তিনি ঢাকা মহানগরে বদলি হন। সেখান থেকেই তিনি অবৈধ টাকা উপার্জন শুরু করেন। এই আসনের সাবেক প্রায় প্রতিটি সংসদ সদ্যসের সঙ্গেই তিনি নিজের সুবিধার জন্য সখ্যতা গড়ে তোলেন। এই সখ্যতাকে পুঁজি করে চালিয়ে যান অবৈধ উপার্জন। এলাকার গোধড়া মৌজায় নিজের নামে এবং স্ত্রী-সন্তানদের নামে ৫ কোটি টাকা দিয়ে কিনেছেন আঠারো বিঘা জমি। স্থানীয় কদিমচিলান, ধলা, দাইড়পাড়া, মানিকপুর, ধানইদহ ও চাঁদপুর মৌজায় কিনেছেন প্রায় ৫০বিঘা জমি। বনপাড়া শহরের মিশন স্কুলের  পাশে ৫ কাঠার প্লট, বনপাড়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির পূর্ব পাশে তিন বিঘা জমি, হিরামন সিনেমা হলের পাশে আফতাবের বাড়ি সংলগ্ন ১০ কাঠার প্লট, মহিষভাঙ্গা মৌজায় জনৈক অশিত পাশের দেড় বিঘা জমি কিনেছেন। সরকারকে কর ফাঁকি দিতে এসব প্রতিটি জমি খুবই কমদাম দেখিয়ে রেজিস্ট্রি করেছেন। পৈতৃক বাড়ি ছাড়াও বনপাড়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির পেছনে দুটি ও হিরামন সিনেমা হলের পাশে আফতাবের বাড়ি সংলগ্ন একটিসহ তার মোট ৫টি বাড়ি ও ঢাকার মোহাম্মদপুরে ফ্ল্যাট রয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। এলাকায় নিজের অবস্থান মজবুত করতে যেকোনো মসজিদ মাদ্রাসায় দানের পাশাপাশি তিনি যেকোনো নির্বাচন আসলে এলাকার প্রভাবশালী প্রার্থীদের পোস্টার ছাপিয়ে দেয়াসহ নানাভাবে অর্থ সহযোগিতা করে আস্থাভাজন হয়ে ওঠেন। প্রধান উপদেষ্টা, পুলিশ প্রধান ও দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগকারীরা আবেদ আলী ও তার স্ত্রীসহ পরিবারের সদস্য এবং স্বজনদের সকল ব্যাংক হিসাব অনুসন্ধানের পাশাপাশি তার সকল আয়ের বৈধতা যাচাই করে তাকে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
এসব বিষয়ে এলাকার সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বললে তারাও এই পুলিশ কর্মকর্তার বিপুল সম্পদ ও বাড়ি-গাড়ি থাকার অভিযোগ করেন।
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে ওই পুলিশ কর্মকর্তা সাংবাদিকদের বলেন, তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হয়েছে তা সঠিক নয়। সারাজীবন বেতনের টাকায় তিনি নিজের ও স্ত্রীর নামে ৫-৭ বিঘা জমি কিনেছেন। শান্তি মিশন থেকে ফিরে সেই টাকায় বাড়ি করেছেন। পৈতৃক সূত্রে কয়েক বিঘা জমি পেয়েছেন। নিজের জমি বিক্রি করে ঢাকার মোহাম্মদপুরে বসবাসের জন্য একটি ঠিকানা গড়েছেন বলে জানান তিনি।

mzamin

দুদক মাঠে, রেহাই পাচ্ছে না ওসমানীর সেই দুর্নীতিবাজরা by ওয়েছ খছরু

দুর্নীতিতে নিমজ্জিত সিলেটের ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। যুগ যুগ ধরে গড়ে ওঠা সিন্ডিকেট ভাঙতে ব্যর্থ সবাই। কোনো কোনো ফাঁক দিয়ে বেরিয়ে যায় দুর্নীতিবাজরা। ফলে ব্রাদার ইসরাইল আলী সাদেকের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা সিন্ডিকেট সব সময়ই ছিল ধরা-ছোঁয়ার বাইরে। গত একতরফা সংসদ নির্বাচনে নার্সেস এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সাদেক ভোটকেন্দ্রে নার্সদের ঘণ্টার পর ঘণ্টার দাঁড় করিয়ে ফটোসেশনে রেখেছিলেন। ঘটনাটি দেশজুড়ে আলোচিত হয়। এরপর থেকে সাদেকের ওপর নজর পড়ে গোয়েন্দাদের। হাতেনাতে দুর্নীতির টাকা সহ দু’সহযোগী গ্রেপ্তার হওয়ার পর সাদেক আড়ালে গিয়েছিল। পরে অবশ্য সে আদালতে হাজির হতে গিয়ে আটক হয়েছে। কয়েক মাস ধরে কারাগারে রয়েছে। তবে; এখনো ওসমানীতে তার চক্র সক্রিয়। এপ্রিল মাসে চক্রের ৮ সদস্যের বিরুদ্ধে দুদক আইনে সিলেটের বিশেষ আদালতে মামলা করেছিলেন ইসলাম উদ্দিন নামের এক ভুক্তভোগী। মামলাটি আদালত থেকে তদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছিল দুদকে। এদিকে- ওই মামলার আলোকে গতকাল সিলেটের স্পেশাল আদালতের বিচারক হাবিবুর রহমানের আদালতের দুদকের পক্ষ থেকে আরেকটি মামলা করা হয়েছে। ইসলাম উদ্দিনের দায়ের করা অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর দুদক প্রধান কার্যালয়ের অনুমতিক্রমে মামলাটি দায়ের করেন সিলেটের উপ-সহকারী পরিচালক নিঝুম রায় প্রান্ত। আইনজীবী কানন আলম জানিয়েছেন- দুদক ইসলাম উদ্দিনের এজাহারের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর তারা নিজেদের মামলা হিসেবে সেটিকে এজাহার হিসেবে গণ্য করেছেন। গতকাল এ সংক্রান্ত একটি মামলা আদালতে করা হয়েছে। এখন থেকে দুদক অভিযুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তার, তাদের মালামাল ক্রোক সহ সবকিছু করতে পারবেন। তিনি জানান- ইসলাম উদ্দিনের দায়ের করা অভিযোগটি এখন থেকে দুদকের মামলা হিসেবে গণ্য করা হবে। এটি দুদকের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী চলবে। মামলায় অভিযুক্তরা হলেন- হাসপাতালে স্টাফ নার্স কারাবন্দি ইসরাইল আলী সাদেক, স্টাফ নার্স আমিনুল ইসলাম, স্টাফ নার্স সুমন চন্দ্র দেব, পুলিশ কনস্টেবল জনী চৌধুরী, ওসমানী মেডিকেল কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হাসান, হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার রওশন হাবীব, হাসপাতালের কর্মচারী আব্দুল জব্বার ও আব্দুল হাকিম সুমন। মামলার এজাহারে উল্লেখ রয়েছে- দীর্ঘ ৭ বছর ইসলাম উদ্দিন হাসপাতালের কোম্পানি যমুনা, সানমুন ক্লিনিং অ্যান্ড সিকিউরিটি সার্ভিস এবং আউট সোর্সিং কোম্পানির মাধ্যমে পরিছন্নতাকর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তারা সেবামূলক এ হাসপাতালের সংঘবদ্ধ দুর্নীতি চক্রের সক্রিয় সদস্যও। এই চক্রের সদস্যেরা দুর্নীতি করে অবৈধভাবে শ’ শ’ কোটি টাকার মালিক হয়েছে। প্রধান অভিযুক্ত ইসরাইল আলী সাদেক, অপর আসামি রওশন হাবিব ও আব্দুল জব্বারের কাছে হাসপাতালের শত শত কর্মচারী জিম্মি। অভিযুক্তরা সীমাহীন অনিয়ম, দুর্নীতি, হাসপাতালে ঘুষ বাণিজ্য, সরকারি ওষুধ চুরি, দালাল সিন্ডিকেট গড়ে তুলে অনিয়ম-দুর্নীতির মতো, অপরাধ করে এবং বিভিন্ন শ্রেণির কর্মচারীদের কাছ থেকে দৈনিক, সাপ্তাহিক, মাসিক ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা বখরা আদায় করে। এমনকি ওসমানী হাসপাতালে ভর্তিকৃত রোগীদের ওয়ার্ড, কেবিন, বেড, বারান্দা বেড ও উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থা করার কথা বলে রোগী ও স্বজনদের কাছ থেকে টাকা আদায় করে থাকে। এ ছাড়া ভর্তি রোগীদের অপারেশনের সিরিয়াল পাইয়ে দেয়া ও দ্রুত অপারেশন করিয়ে দিবে বলে টাকা গ্রহণও করে। হাসপাতালে দুর্নীতিবাজ চক্রের সঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে শুরু করে হাসপাতালের কয়েকজনের সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়। এজাহারে আরও উল্লেখ রয়েছে- অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ করতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনদের সঙ্গে প্রতারণা, দুর্নীতি, টাকা আত্মসাৎ, চুরি, বাটপারি, টেন্ডার বাণিজ্য, অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা, বিনামূল্যে সরকারি ওষুধ প্রদান না করে, ওটি থেকে ওষুধ চুরি করে দালাল দিয়ে বাইরের ফার্মেসিতে বিক্রি করে ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ করেছে। তাদের অন্যায় আচরণে, অপরাধে, দুর্নীতিতে, প্রতারণায় জনগণের কাছে সরকারি এই সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের সুনাম দিন দিন ক্ষুণ্ন্ন হচ্ছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়। এদিকে- গত ৯ই জানুয়ারি ওসমানী হাসপাতালে গোয়েন্দাা অভিযান চালিয়ে ঘুষের টাকা লেনদেনের সময় স্টাফ নার্স আমিনুল ও সুমনকে গ্রেপ্তার করে। এ ঘটনায় হাসপাতালের দুর্নীতির হোতা সাদেককে প্রধান আসামি এবং গ্রেপ্তার হওয়া আমিনুল ও সুমনকে আসামি করে মামলা করেছিলেন হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ হানিফ। এ মামলায় সাদেক প্রথমে পলাতক থাকলেও পরে উচ্চ আদালতের নির্দেশে নিম্ন্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করে। পূর্বের এজাহারের বাদী ইসলাম উদ্দিন জানিয়েছেন- সাদেক ও ওই চক্রের সদস্যদের কাছে জিম্মি হাসপাতাল। তারা আগের মতোই হাসপাতালে নিয়ন্ত্রণ নেয়ার চেষ্টা করছে। মামলা দায়ের করার কারণে তাকে ক্রমাগত হুমকি দেয়া হচ্ছে। ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকায় পেলে তার উপর হামলা করা হবে বলে আসামি জব্বার, রওশন সহ কয়েকজন হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন। এ ব্যাপারে তিনি আইনের আশ্রয় নেবেন। এছাড়া হাসপাতালের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুল জব্বার ও ওয়ার্ডমাস্টার রওশন হাবিবের বিরুদ্ধে আরেকটি অভিযোগের তদন্ত করেছিলেন হাসপাতালের তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি। ওই রিপোর্টে তাদেরকে দোষী সাব্যস্ত করা হলেও রহস্যজনক কারণে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে না। হাসপাতালে বলাবলি হচ্ছে; স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট শাখার কর্মকর্তাদের টাকা দিয়ে ওই রিপোর্ট তামাদি করে রাখা হয়েছে।
mzamin

ব্যারিস্টার না হয়েও লিখতেন ব্যারিস্টার

কুষ্টিয়া-৪ (খোকসা-কুমারখালী) আসনে ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হঠাৎ করেই নতুন মুখ সেলিম আলতাফ জর্জ নৌকার টিকিট পান। প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিতও হন তিনি। ওই সময় পর্যন্ত কখনো কোনো রাজনৈতিক পদ-পদবি না থাকলেও বর্তমানে তিনি কেন্দ্রীয় যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য। ব্যারিস্টার না হয়েও নামের পাশে ব্যারিস্টার ব্যবহার করতেন জর্জ।

সূত্র মতে, ২০১৮’র নির্বাচনে সাধারণ মানুষের কাছে জর্জ একেবারেই অচেনা একজন মানুষ। অনেকে আগে তার নাম কখনো শোনেননি। নিজেকে ব্যারিস্টার হিসেবে পরিচয় দিলেও আদতে তিনি তা নন। জানা গেছে, সেলিম আলতাফ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগের ছাত্র ছিলেন। এরপর কিছুদিন ছিলেন লন্ডনে। তবে সূত্র বলছে, তিনি বার অ্যাট ’ল শেষ করেননি। যদিও ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পোস্টার-ব্যানারসহ সর্বত্র তিনি তার নামের আগে ব্যারিস্টার ব্যবহার করেছেন। তারপর প্রশ্ন উঠলে ২০২৪ দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পোস্টার-ব্যানারে তার নামের আগে আর ব্যারিস্টার ব্যবহার দেখা যায়নি। নির্বাচনী হলফনামায় তিনি বার অ্যাট ’ল এর সনদ জমা দেননি।

এদিকে নির্বাচনের আগে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসকের দপ্তরে দাখিল করা সেলিম আলতাফের হলফনামা সূত্রে জানা যায়, তার সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতার ঘরে ‘এলএলবি (অনার্স), এলএলএম’ উল্লেখ করেছেন। এর সঙ্গে মূল সনদের সত্যায়িত ফটোকপি সংযুক্তির কথাও বলা হয়েছে। পোস্টারে হলফনামার ব্যতিক্রম শিক্ষা ডিগ্রি যোগ করায় তখন থেকেই সাধারণ মানুষের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। এছাড়াও দলীয় কার্যালয় থেকে তার নামে পঠানো সাংগঠনিক চিঠিগুলোতেও দেখা যায় সেলিম আলতাফ জর্জ ব্যবহার হতো, সেগুলোতে ব্যারিস্টার ব্যবহার হতো না। তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচনী হলফনামায় তিনি বার অ্যাট ’ল-এর সনদ জমা দেননি, ইংল্যান্ডের অনেক বিশ্ববিদ্যালয় বার প্রফেশনাল ট্রেনিং কোর্স করায়। তাদের যে কোনো একটি হতে বার প্রফেশনাল ট্রেনিং কোর্স শেষ করার পর ইংল্যান্ডের ৪টি ইনসের যে কোনো একটি থেকে বার অ্যাট ’ল-র সনদ প্রদান করে। অর্থাৎ লিঙ্কনস ইন, গ্রেস ইন, ইনার টেম্পল ও মিডল টেম্পল এই চারটি ইনস রয়েছে। তবে যে কোনো ইনস থেকে ডিগ্রি পেলেও লন্ডনের বার কাউন্সিলের ব্যারিস্টার রেকর্ডসে তথ্য এবং পরিচয় সংরক্ষিত থাকে। কর্তৃপক্ষ জানান, এই রেকর্ডসের বাইরে কারও নামের সঙ্গে ব্যারিস্টার ব্যবহার করার সুযোগ নেই, আইনগতভাবে তা বৈধ নয়। বিষয়টি সম্পর্কে নিশ্চিত হতে যোগাযোগ করা হয় লন্ডনের বার কাউন্সিলের ব্যারিস্টার রেকর্ডসে। মেইলের মাধ্যমে সেলিম আলতাফ সম্পর্কে জানতে চাইলে ফিরতি মেইলে ব্যারিস্টার রেকর্ডস জানায়, সেলিম আলতাফ জর্জ নামের কোনো ব্যারিস্টার তাদের তালিকায় নেই।

সেলিম আলতাফ আওয়ামী লীগ পরিবারের সন্তান। কুমারখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম কিবরিয়ার দৌহিত্র তিনি। তার চাচা আবুল হোসেন ও চাচি সুলতানা তরুণও এমপি ছিলেন। আরেক চাচা সামছুজ্জামান অরুণ কুমারখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক পৌর মেয়র ছিলেন। তার বাবা প্রয়াত আলতাফ হোসেন কিরণ মুক্তিযোদ্ধা ও স্কুলশিক্ষক ছিলেন। মা মমতাজ বেগম অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক।

মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে রাজধানীর লালমাটিয়া এলাকা থেকে সেলিম আলতাফকে গ্রেপ্তার করা হয়, সেলিমের বিরুদ্ধে কুষ্টিয়া ও ঢাকায় একাধিক হত্যা মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে। সেলিম আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়ী হয়ে কুষ্টিয়া-৪ (খোকসা-কুমারখালী) আসনের এমপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তবে সর্বশেষ দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি নৌকার মনোনয়ন পেলেও সতন্ত্র প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন।

mzamin

উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে হাজার কোটি ডলার সহায়তার আশ্বাস

শেখ হাসিনার সরকারের পদত্যাগের পর অন্তর্বর্তী সরকার উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে সিরিজ বৈঠক করছেন অর্থ ও বাণিজ্য উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ। এ ছাড়া প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর পৃথক পৃথক বৈঠক করেছেন। এসব বৈঠকে বড় অঙ্কের বৈদেশিক সহায়তা পাওয়ার আশ্বাস পেয়েছে বাংলাদেশ। বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক (আইএসডিবি) ও যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার (ইউএসএআইডি) সঙ্গে অর্থ উপদেষ্টার বৈঠক হয়েছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে জুম প্ল্যাটফরমে একটি বৈঠক হয়েছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাপান, ভারত, চীন প্রভৃতি দেশের রাষ্ট্রদূত এবং হাইকমিশনারদেরও অর্থ উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। সবার কাছ থেকে মোট ১ হাজার ২০ কোটি ডলার পাওয়া যেতে পারে বলে জানা গেছে।

বিভিন্ন দেশ ও উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে বৈঠকের ধারাবাহিকতায় গত মঙ্গলবার বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক কান্ট্রি ডিরেক্টর ম্যাথিউ এ ভারগিসের নেতৃত্বে একটি দল সচিবালয়ে অর্থ উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক করেন।
প্রায় ১০০ কোটি ডলার বাজেট সহায়তা চেয়ে বিশ্বব্যাংকের কাছে চিঠি দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। ২ কিস্তিতে ৫০ কোটি ডলার করে এ অর্থ চেয়েছে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)। এ ছাড়া আর্থিক খাত সংস্কারে বাংলাদেশকে ১০০ কোটি ডলারের ঋণ সহায়তা দিতে পারে বিশ্বব্যাংক। এই ঋণ আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে বিশ্বব্যাংকের পর্ষদে অনুমোদিত হওয়ার কথা।
সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, সংস্কার কার্যক্রমের জন্য সহায়তা দরকার। তাৎক্ষণিক বাজেট সহায়তাও প্রয়োজন। সেই সঙ্গে দরকার কারিগরি সহায়তা। তারল্য সহায়তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। আলোচনা ‘মোটামুটি’ ইতিবাচক হয়েছে। তারা উন্মুক্ত মন নিয়েই আলোচনা করতে এসেছিলেন, আরও আলোচনা হবে। তবে আলোচনার মূল নজর ছিল সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন নিয়ে। তিনি বলেন, এ বছর আমরা বাজেট সহায়তা প্রত্যাশা করছি। সালেহউদ্দিন আহমেদ সচিবালয়ে আইএসডিবি’র রিজিওনাল হাব ম্যানেজার নাসিস সোলাইমানের সঙ্গেও বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে তিনি বলেন, আগামী তিন বছরে একটা প্যাকেজের আওতায় বাংলাদেশকে ৪০০ থেকে ৫০০ কোটি ডলার ঋণ দেবে ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক (আইএসডিবি)। বিভিন্ন খাতের জন্য এ অর্থ দেবে তারা। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাঘাটসহ ভৌত অবকাঠামো নির্মাণে এ ঋণ দেয়া হবে। প্রান্তিক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের পাশাপাশি আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণেও ঋণের অর্থ ব্যয় করা যাবে। এ ছাড়া জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে ঋণ দেবে তারা। এদিকে গত রোববার সচিবালয়ে অর্থ উপদেষ্টা এডিবি’র কান্ট্রি ডিরেক্টর এডিমন গিনটিংয়ের নেতৃত্বাধীন একটি দলের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, ডিসেম্বরের মধ্যে বাজেট সহায়তা হিসেবে বাংলাদেশকে ৪০ কোটি ডলার ঋণ দেবে এডিবি। সংস্থাটি ব্যাংকসহ আরও কয়েকটি খাতে সংস্কারের জন্য দেবে ৫০ কোটি ডলার। এটা পাওয়া যাবে ২০২৫ সালের মার্চের মধ্যে। এর বাইরে জ্বালানি খাতের উন্নয়নেও এডিবি’র কাছে ১০০ কোটি ডলার চেয়েছে বাংলাদেশ।
সংস্থাটি চলমান প্রকল্পগুলোও অব্যাহত রাখবে।
যুক্তরাষ্ট্রও বাংলাদেশকে ২০ কোটি ডলারের বেশি উন্নয়ন সহায়তা দিচ্ছে। রোববার সে দেশের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার (ইউএসএআইডি) সঙ্গে একটি চুক্তি সই হয়েছে। স্বাস্থ্য, সুশাসন, মানবিক ও অর্থনৈতিক সুযোগ সৃষ্টি এবং মানুষের ঘুরে দাঁড়ানোর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে এ অর্থ কাজে লাগানো হবে। ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত এক চুক্তির আলোকে এ সহায়তা দেয়া হচ্ছে।
এদিকে আইএমএফের কাছ থেকে বাড়তি ৩০০ কোটি ডলার বাজেট সহায়তা পাওয়ার বিষয়ে আশাবাদী সরকার। আইএমএফের আবাসিক প্রতিনিধি জয়েন্দু দে’র সঙ্গে অনলাইনে বৈঠকের পর অর্থ উপদেষ্টা ১লা সেপ্টেম্বর সাংবাদিকদের জানান, বাড়তি সহায়তা অনুমোদনের বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে আইএমএফ। সংস্থাটির সঙ্গে বাংলাদেশের বর্তমানে ৪৭০ কোটি ডলারের একটি ঋণ কর্মসূচি চলমান। আগামী মাসে যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠেয় আইএমএফের বার্ষিক সাধারণ সভায় এ বিষয়ে বিশদ আলোচনা হবে।
যুক্তরাজ্য, ভারত, চীন ও জাপানের কাছ থেকে বাড়তি বৈদেশিক সাহায্যের আশ্বাস না মিললেও অর্থ উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক করে দেশগুলোর রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনাররা বলে গেছেন, বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য বৃদ্ধিতে তারা আগ্রহী এবং তাদের দেশের অর্থায়নে চলমান প্রকল্পগুলো অব্যাহত থাকবে।
এদিকে বুধবার ঢাকার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে একনেক সভা শেষে পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ জানিয়েছেন, দাতাগোষ্ঠী হাত খুলে টাকা দিতে চাচ্ছে। ইউএসএডি বলছে, তোমরা প্রকল্প তৈরি করো; আমরা টাকা দেবো। যেসব প্রকল্পে বরাদ্দ ছিল কিন্তু টাকা নেয়া হয়নি এসব টাকা বাজেট সহায়তায় দিতে চায় বিশ্বব্যাংক।

mzamin

পিআইবির মহাপরিচালক হলেন ফারুক ওয়াসিফ

প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের (পিআইবি) মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন সাংবাদিক ফারুক ওয়াসিফ। অন্যান্য প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে তাকে দুই বছরের জন্য এ নিয়োগ দিয়ে বুধবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

‘প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) আইন, ২০১৮’ এর ধারা ৯(২) অনুযায়ী তিনি এ নিয়োগ পেয়েছেন। যোগদানের তারিখ থেকে নিয়োগ কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত ১৩ আগস্ট পিআইবির মহাপরিচালকের পদ থেকে পদত্যাগ করেন জাফর ওয়াজেদ। পরে তার নিয়োগ বাতিল করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের এমডি মুহাম্মদ আবদুল্লাহ: বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক এমডি নিয়োগ পেয়েছেন মুহাম্মদ আবদুল্লাহ। অন্যান্য প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে তাকে দুই বছরের জন্য এ নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।  

mzamin

হবিগঞ্জ শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ: যন্ত্রপাতি ক্রয়েই গায়েব ৯ কোটি টাকা

হবিগঞ্জ শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ। যেন ঢাল-তলোয়ারবিহীন ঠায় দাঁড়িয়ে থাকা নিধিরাম সর্দার। কলেজের নিজস্ব ভবন বা ক্যাম্পাস কিছুই নেই। নেই শিক্ষার্থীদের প্র্যাকটিকেলের সঠিক যন্ত্রপাতি, শ্রেণিকক্ষ ও প্রয়োজনীয় শিক্ষক। এতে ডাক্তার হওয়ার ভবিষ্যৎ নিয়ে একেবারেই চিন্তিত ও বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। আর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রতিষ্ঠিত না হওয়ায় স্বাস্থ্যসেবায় কোনো সুফল পাচ্ছেন না জেলাবাসী। তবে এতসব না থাকলেও এ কলেজে আছে শুধু দুর্নীতি ও লুটপাট।

শুরুতেই শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজের যন্ত্রপাতি ক্রয়ের নামে লুটপাট করা হয়েছে অন্তত ৯ কোটি টাকা। অভিযোগ রয়েছে, কলেজের অধ্যক্ষ, শিক্ষক ও স্থানীয় প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতারা ভাগবাটোয়ারা করে খেয়েছেন লুটপাটের সকল অর্থ। যদিও সে সময় এসব লুটপাটের বিরুদ্ধে দুদক তদন্ত করে সত্যতা পেয়ে মামলাও করেছিল। কিন্তু স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও সরকারদলীয় দোর্দণ্ড প্রতাপশালী নেতার হস্তক্ষেপে আলোর মুখ দেখেনি দুদকের মামলা। রাজনৈতিক জোরালো তদবীর ও মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে পার পেয়ে যান তৎকালীন অধ্যক্ষ ডা. আবু সুফিয়ান। প্রাথমিকভাবে তিনি সাময়িক বরখাস্ত হলেও পরে তদবীরের জোরে অবসর নেয়ার আগ পর্যন্ত বহাল তবিয়তে থাকেন স্বপদে। তবে বর্তমান বৈষম্যহীন অন্তবর্তীকালীন সরকারের আমলে পূর্বের এসব পুকুর চুরির পুনঃতদন্তপূর্বক রাঘববোয়ালদের আইনের আওতায় এনে কঠিন শাস্তির দাবি শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের। এ ছাড়া ছাত্রদের আন্দোলনের তোপের মুখে পদত্যাগকারী কলেজের বর্তমান অধ্যক্ষ ডা. সুনির্মল রায় ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধেও রয়েছে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ। তাদের দুর্নীতির বিচারও চান শিক্ষার্থীরা।

সূত্র জানায়, হবিগঞ্জে শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজটি ২০১৫ সালের ১লা জানুয়ারি অনুমোদন লাভ করে। ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে ৫১ জন শিক্ষার্থী ভর্তির মাধ্যমে ২০১৮ সালের ১০ই জানুয়ারি কলেজটির আনুষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়। নিজস্ব জায়গা ও ভবন না থাকায় হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালের একটি ভবনে কার্যক্রম শুরু হয়। কলেজ প্রতিষ্ঠার পরই জোর তদবীর ও অর্থের বিনিময়ে কলেজের প্রতিষ্ঠাকালীন অধ্যক্ষ নিয়োগপ্রাপ্ত হন ডা. আবু সুফিয়ান। অভিযোগ রয়েছে, যোগদানের পর থেকেই স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক আবু জাহিরের শক্তির বলে কলেজে রাম রাজত্ব কায়েম করেন অধ্যক্ষ। এরপর শুরু হয় নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি। এ সময় কলেজের যন্ত্রপাতি ক্রয়ে পুকুর চুরির ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে কর্তৃপক্ষের যোগসাজশে প্রায় ১৪ কোটি টাকার টেন্ডারের অর্ধেক টাকাই লুটপাট করেন অধ্যক্ষ ও তার সহযোগীরা। যেসব জিনিস কেনা হয়েছে তার মূল্য ধরা হয় বাস্তব মূল্যের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি। দেশের সে সময়ের সরকার প্রধানের নামে মেডিকেল কলেজটি প্রতিষ্ঠা হওয়ায় ধরাকে সরা করে চলতে থাকেন অধ্যক্ষ। কিন্তু একপর্যায়ে ব্যাপক দুর্নীতির খবর প্রকাশিত হলে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন এলাকাবাসী। গণমাধ্যমে এসব দুর্নীতির খবর প্রকাশিত হলে তদন্তে নামে দুদকও। অনুসন্ধানে জানা যায়, মালামাল ক্রয় বাবদ ব্যয় দেখানো হয় ১৩ কোটি ৮৭ লাখ ৮১ হাজার টাকা। কিন্তু বাস্তবে ওই মালামালের মূল্য ৫ কোটি টাকার বেশি ছিল না। সরবরাহকৃত মালামালের মধ্যে ৬৭টি লেনেভো ১১০ মডেলের ল্যাপটপের মূল্য দেখানো হয় ৯৯ লাখ ৪৯ হাজার টাকা। প্রতিটির মূল্য পড়েছে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৫শ’ টাকা। অথচ বাজারে একই মডেলের ল্যাপটপ বিক্রি মূল্য ছিল মাত্র ৪২ হাজার টাকায়। ৬০ হাজার টাকা মূল্যের এইচপি কালার প্রিন্টার এর দাম নেয়া হয়েছে ২ লাখ ৪৮ হাজার ৯শ’ টাকা। ১ লাখ ৩৮ হাজার টাকার ইন্টারেক্টিভ বোর্ড কেনা হয়েছে ১৫ লাখ ৩৫ হাজার টাকায়। ৬ হাজার ৪শ’ ৭৫টি বইয়ের জন্য বিলে দেখানো হয়েছিল ৪ কোটি ৪৯ লাখ ৮ হাজার ৬৬৪ টাকা। এ ছাড়াও মানবদেহের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রতঙ্গের ১০৪টি প্লাস্টিক মডেলের মূল্য ধরা হয় ১ কোটি ১৪ লাখ ৮৬ হাজার ৩১৩ টাকা। যেগুলোর বাজার মূল্য ছিল অর্ধেকের চেয়েও কম। ৩ লাখ ২৫ হাজার টাকা দরে ৮১টি কার্লজিস প্রিমো স্টার বাইনোকুলার মাইক্রোস্কোপ সরবরাহ করা হয়। যার মূল্য ধরা হয় ২ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। অথচ এর বাজার মূল্য ছিল ১ লাখ ৩৯ হাজার টাকা। ৫০ জন বসার জন্য কনফারেন্স টেবিল, এক্সিকিউটিভ চেয়ার ও সাউন্ড সিস্টেমে ব্যয় দেখানো হয় ৬১ লাখ ২৯ হাজার টাকা। দেশের নামিদামি ফার্নিচার প্রতিষ্ঠান হাতিল ও রিগ্যালে এসব চেয়ারের মূল্য ছিল দামের অর্ধেকের চেয়েও কম। ওয়ালটনের যে মডেলের ফ্রিজ ৩৯ হাজার ৩৯০ টাকা, একই মডেলের ফ্রিজের মূল্য গুনতে হয়েছে ৮৫ হাজার টাকা। এরকম ৬টি ফ্রিজ কেনা হয়। বাজারমূল্য থেকে কয়েকগুণ বেশি দরে এসব যন্ত্রপাতি ও সামগ্রী সরবরাহ করে ঢাকার নির্ঝরা এন্টারপ্রাইজ ও পুনম ট্রেড ইন্টার ন্যাশনাল নামে দুটি প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ প্রদান করেন। পরে দুর্নীতির সংবাদ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশের পর কর্মস্থল থেকে আত্মগোপনে চলে যান অধ্যক্ষ সুফিয়ান। একপর্যায়ে তৎকালীন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের একান্ত সহকারীর সঙ্গে দহরম মহরম সম্পর্কের কারণে তাকে দিয়ে তদবীর করিয়ে দুদকের মুখ বন্ধ করাতে সক্ষম হন অভিযুক্ত অধ্যক্ষ। একই ক্ষমতার বলে নিজের অধ্যক্ষ পদও টিকিয়ে রাখেন ডা. সুফিয়ান।

ডা. আবু সুফিয়ান অবসরে যাওয়ার পর কলেজের নতুন অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদান করেন ডা. সুনির্মল রায়। এরপর থেকে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলতে থাকে মেডিকেল কলেজের কার্যক্রম। অনেকটা নামসর্বস্ব মেডিকেল কলেজ হিসেবে সীমিত আকারে ক্লাস চলে এ কলেজে। বর্তমানে ওই প্রতিষ্ঠানে ৩ শতাধিক শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত। কিন্তু প্রতিষ্ঠার ১০ বছর পূর্ণ হতে চললেও এখনো প্রতিষ্ঠা হয়নি স্থায়ী ক্যাম্পাস। ৭৬টি শিক্ষকের পদের অনুমোদন থাকলেও কর্মরত আছেন ৪২ জন। শিক্ষকের ৩৪টি পদই রয়েছে শূন্য। কলেজে স্থায়ী কোনো ক্যাম্পাস না থাকায় নানা সমস্যায় পাঠ কার্যক্রম ব্যাঘাত ঘটছে বলে অভিযোগ শিক্ষক ও ছাত্র-ছাত্রীদের। যদিও কলেজ প্রতিষ্ঠার দাবিদার সংসদ সদস্য আবু জাহিরের ক্ষমতার বলে হবিগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতালের ২য় ও ৩য় তলায় সীমিত আকারে চলেছে শিক্ষা কার্যক্রম। অন্যদিকে সদর হাসপাতালে কলেজের কার্যক্রম চলায় রোগীদের জায়গা দেয়া যাচ্ছে না। সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মোহাম্মদ আমিনুল হক সরকার জানান, হাসপাতালটি ২৫০ শয্যার হলেও জেলা সদরের একমাত্র এ হাসপাতালটিতে প্রতিদিন রোগী ভর্তি থাকে ৪শ’ থেকে ৫শ’ জন। হাসপাতালের দুটি তলায় মেডিকেল কলেজের কার্যক্রম পরিচালনা করায় রোগীদের স্থান সংকুলানে মারাত্মক ব্যাঘাত সৃষ্টি হচ্ছে।

এদিকে স্থান সংকুলানের অভাবে কলেজের অনেক বিভাগের কার্যক্রমই রয়েছে বন্ধ। নেই শিক্ষার্থীদের ক্রীড়া ও সংস্কৃতি চর্চার কোনো স্থান। এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ কাজ করছে। শিক্ষার্থীরা জানান, ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে প্রথম পাঠদান শুরু হয়। ইতিমধ্যে কলেজটির প্রথম ব্যাচ বের হয়েছে। অথচ স্থায়ী ক্যাম্পাস না থাকায় পর্যাপ্ত পরিমাণে ক্লাসরুম নেই, হল নেই, ক্যান্টিন নেই, নেই সংস্কৃতি ও ক্রীড়াচর্চার কোনো ব্যবস্থাও। সীমিত আকারে চলে পাঠদান। ছোট ছোট কয়েকটি কক্ষে চলে প্রশাসনিক কার্যক্রম। ক্লাসরুমের সংকটে শিক্ষার্র্থীদের অপেক্ষায় থাকতে হয়। ছোট ছোট কক্ষে চলে ল্যাবরেটরি ও লাইব্রেরির কার্যক্রম। ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা জানান, সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো এ কলেজে ক্লিনিক্যাল শিক্ষকের সংখ্যা খুবই নগণ্য। ফলে শিক্ষকদের চেষ্টার পরও সমস্যা থেকেই যাচ্ছে। কিছু ডিপার্টমেন্ট রয়েছে, যেগুলোতে কোনো শিক্ষকই নেই। অন্যদিকে স্থায়ী ক্যাম্পাস না থাকায় মেয়েদের নিরাপদ আবাসনের ব্যবস্থা হচ্ছে না। বর্তমানে শহর থেকে অনেকটা দূরে ছাত্রীদের আবাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেখানে যাতায়াতে প্রচুর সমস্যা হয়। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর অনেকটা ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হয় তাদের।

অভিযোগ রয়েছে, যোগদানের পর থেকেই পূর্বসূরির পথ ধরে নানা অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন অধ্যক্ষ ডা. সুনির্মল রায়। ২০২৩-২০২৪ এর অর্থবছরের বাজেটে বিভিন্ন বরাদ্দ দেখিয়ে কয়েক কোটি টাকা আত্মসাৎ করেন অধ্যক্ষ। বিভিন্ন সময়ে এর প্রতিবাদ করলেও কলেজের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি সংসদ সদস্য আবু জাহিরের খুঁটির জোর ও মন্ত্রণালয়ে তদবীরের মাধ্যমে স্বপদে বহাল থাকেন অধ্যক্ষ নির্মল। সর্বশেষ বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে সরকার পরিবর্তনের পর অধ্যক্ষের দুর্নীতি ও নানা অনিয়ম নিয়ে জোরালো আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা। তারা প্রথমে অধ্যক্ষ ডা. সুনির্মল রায় ও একাডেমিক কো-অর্ডিনেটর ডা. কান্তি প্রিয় দাশের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসন ব্যবস্থা, নিরাপত্তা সেবা, বিদ্যুৎ বিল, বইপত্র, জ্বালানি, ক্রীড়াসামগ্রী, রাসায়নিক সামগ্রী ক্রয়সহ বিভিন্ন খাত থেকে বছরে অন্তত ২ কোটি ৫০ লাখ টাকা আত্মসাৎ অভিযোগ করেন। তারা জানান, ছাত্র আন্দোলন চলাকালে ওই দুই শিক্ষক শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে প্রকাশ্য বিরোধিতা করেন। তাদের হল ত্যাগে বাধ্য করেন। অন্যথায় পুলিশ পাঠিয়ে হল থেকে বের করে দেয়ার হুমকি দেন। তাদের পলাতক স্বৈরশাসক শেখ হাসিনার দোসর দাবি করেন শিক্ষার্থীরা।  বিদ্যুৎ, পানি বন্ধ করে দেয়ার হুমকি দেন। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে প্রথমে বিভিন্ন আর্থিক অনিয়মের হিসাব দিতে আল্টিমেটাম দেন তারা। কিন্তু এ সময়ের মধ্যে অভিযুক্ত অধ্যক্ষ কোনো সাড়া না দেয়ায় তাদের পদত্যাগের একদফা আন্দোলনে নামেন তারা। পরে শিক্ষার্থীরা কলেজের সকল কার্যক্রম বন্ধ করে মঙ্গলবার (৩রা সেপ্টেম্বর) বিকাল ৫টার মধ্যে পদত্যাগ করতে আল্টিমেটাম দেয়। এরপরও পদত্যাগ না করায় ক্যাম্পাসের সামনে বিক্ষোভ, অবস্থান ধর্মঘট ও অধ্যক্ষের কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেয় শিক্ষার্থীরা। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে রোববার (৮ই সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বরাবর এ পদত্যাগপত্র জমা দেন হবিগঞ্জ শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. সুনির্মল রায়। এর পর থেকে অধ্যক্ষবিহীন খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে এ কলেজের কার্যক্রম। দ্রুত অধ্যক্ষ নিয়োগ ও স্থায়ী ক্যাম্পাসসহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করে জেলাবাসীর স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

mzamin

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রথম একনেক সভা: রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে আর প্রকল্প নয়

পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা আপাতত স্থগিত করা হয়েছে উল্লেখ করে পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেছেন, এটি এক ধরনের রাজনৈতিক দলিল। রাজনৈতিক সরকার তাদের মতো করে পরিকল্পনা করবে, নীতি নির্ধারণ করবে। এতে রাজনৈতিক দিকদর্শন থাকে। আমরা বড় রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেবো না। তারা ক্ষমতায় এসে সিদ্ধান্ত নেবে। এ ছাড়া আগের সরকারের রাজনৈতিক কারণে নেয়া প্রকল্পগুলো পুনর্বিবেচনা করা হবে বলেও জানিয়েছেন পরিকল্পনা উপদেষ্টা।

গতকাল প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে একনেক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে বিকাল ৩টায় শেরে-বাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। রীতি অনুযায়ী সবসময় একনেক সভা পরিকল্পনা কমিশনের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হলেও এবার প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হলো। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

তিনি বলেন, বিগত সরকারের সময়ে একনেক সভায় বিপুলসংখ্যক প্রকল্প নেয়া হয়েছে। কিন্তু সব ক্ষেত্রে বাস্তবায়নের গতি এক থাকতো না। অপ্রয়োজনীয় রাজনৈতিক প্রকল্পও থাকতো। এখন সেসব যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। কাজেই আগে একনেক সভা মানেই যেখানে অর্থ ব্যয়ের কর্মযজ্ঞ ছিল, এখন সে পরিধি কমে আসবে।

ড. ওয়াহিদউদ্দিন বলেন, বিদেশি অর্থায়ন পাওয়া যাবে এমন প্রকল্প গ্রহণে গুরুত্ব দেবে সরকার। বহু বছর আগের অনেক প্রকল্প পড়ে আছে। এগুলোতে বিদেশি সহযোগীদের নজরদারি বেশি থাকে। অনিয়ম করা যায় না। তাই ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে আগ্রহ কম থাকে। বর্তমান সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা ও অগ্রাধিকারের সঙ্গে মেলে- এমন কিছু নতুন প্রকল্প হাতে নেয়া হবে।

দাতা সংস্থাগুলো হাতখুলে টাকা দিতে চাচ্ছে জানিয়ে পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, ইউএসএইড বলছে, তোমরা যে প্রকল্পই আনো, আমরা টাকা দিয়ে দেবো। দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় যেসব সংস্থা আছে, তারা আমাদের আশ্বস্ত করেছে। চলমান প্রকল্পের বিষয়ে তাদের কোনো অসুবিধা নাই। তারপরও বলছে, তোমাদের চাহিদা বলো, আমরা অর্থায়নের চেষ্টা করবো। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারের কথা হচ্ছে আস্তে চলা বিষয়টি তুলে ধরে পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, আমাদের হাতে এখন একদমই প্রকল্প নেই। আমরা কিছুদিন আস্তে আস্তেই চলবো। আমরা আরও চার-পাঁচ মাস পর বুঝতে পারবো যে, আমাদের উন্নয়ন বাজেট কতো হওয়া উচিত।

দেশের যেসব উন্নয়ন প্রকল্পে বিদেশি ঋণ বা সহায়তা আসবে না, সেগুলোর ক্ষেত্রে রাজস্ব আদায় বাড়ানোর ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, রাজস্ব আদায়ে সব বছরেই অনিশ্চয়তা থাকেই, এই বছরে অনেক কিছু পরিবর্তনের মধ্যদিয়ে গেল। অর্থনীতির অনেক অস্থিরতা গেল, এখনো আছে। প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয়ের দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতে চায় অন্তর্বর্তী সরকার-এমনটি তুলে ধরে এই উপদেষ্টা বলেন, এখনকার উপদেষ্টা যারা আছেন, তারাই বলছেন- আমরাই দায়বদ্ধ হতে চাই। তিনি বলেন, পরিবেশ ধ্বংস করে এমন কোনো প্রকল্প নেয়া যাবে না।

এদিকে নতুন সরকারের প্রথম একনেক সভায় মোট চারটি প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ২২২ কোটি ১৪ লাখ টাকা। এরমধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ৯৬৩ কোটি ৮২ লাখ টাকা, প্রকল্প ঋণ থেকে পাওয়া যাবে ১০০ কোটি ১৬ লাখ টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব তহবিল থেকে ১৫৮ কোটি ১৬ লাখ পাওয়া যাবে। প্রকল্পগুলোর মধ্যে দুটি সংশোধিত ও দুটি নতুন প্রকল্প রয়েছে।

একনেকে অনুমোদিত চারটি প্রকল্প হলো- শিল্প ও শক্তি বিভাগের ‘বাখরাবাদ-মেঘনাঘাট-হরিপুর গ্যাস সঞ্চালন পাইপলাইন নির্মাণ শীর্ষক প্রকল্প (১ম সংশোধিত)’, ‘২টি মূল্যায়ন কাম উন্নয়ন কূপ (সুন্দলপুর-৪ ও শ্রীকাইল-৫) এবং ২টি অনুসন্ধান কূপ (সুন্দরপুর সাউথ-১ ও জামালপুর-১) খনন প্রকল্প’, আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো বিভাগের ‘তথ্য আপা: ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তির মাধ্যমে মহিলাদের ক্ষমতায়ন (২য় পর্যায়) (২য় সংশোধিত) প্রকল্প’ এবং কৃষি, পানি সম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগের ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকায় টেকসই সামাজিক সেবা প্রদান প্রকল্প (২য় পর্যায়)’ প্রকল্প।

mzamin

‘নিজেকে সবসময় তৈরি রাখি’ by ফয়সাল রাব্বিকীন

সবশেষ ‘পরাণ’ সিনেমার মাধ্যমে দর্শকদের মাঝে বেশ সাড়া ফেলেন চিত্রনায়িকা বিদ্যা সিনহা মিম। রায়হান রাফী পরিচালিত এ ছবিটি সে বছরের অন্যতম ব্যবসা সফল ছবিতে পরিণত হয়। এরপর একই পরিচালকের ‘দামাল’ সিনেমার মাধ্যমেও প্রশংসিত হন তিনি। পরবর্তীতে একাধিক নতুন সিনেমায় কাজ করার কথা হয় তার। সেগুলো এরইমধ্যে শুরু হয়ে যাওয়ার কথা। তবে গত দুই মাসে দেশের সার্বিক পরিস্থিতির কারণে সিনেমার সব কাজই পিছিয়ে যায়। যার ফলে মিমও শুটিং থেকে দূরে ছিলেন। তবে সিনেমার শুটিং থেকে দূরে থাকলেও নিজেকে সবসময় প্রস্তুত রাখেন বলে মানবজমিনকে জানালেন এই গ্ল্যামারাস নায়িকা। গতকাল দুপুরে মিমের সঙ্গে যখন কথা হয় তখনও জিম করছিলেন তিনি। নিজেকে প্রস্তুত করা প্রসঙ্গে এ নায়িকা বলেন, সার্বিক পরিস্থিতির কারণে তো গত দুই মাসে কাজ হয়নি কোনো। আমার যে কয়েকটি সিনেমা শুরুর কথা, তার শুটিং বেশির ভাগই ঢাকার বাইরে হবে। সুতরাং, এখনই হয়তো কাজ শুরু করা সম্ভব নয়। হয়তো পরিস্থিতি আরও একটু স্বাভাবিক হলে নভেম্বর-ডিসেম্বর নাগাদ শুটিং শুরু হতে পারে। তবে সম্প্রতি কিছু ব্র্যান্ডের কাজ করেছি। মিম কথা প্রসঙ্গে বলেন, শুটিং না করলেও নিজেকে সবসময় তৈরি রাখি আমি। যেন যেকোনো সময় শুটিং শুরু করতে পারি।

যেমন- এখনো জিম করছি। পাশাপাশি অভিনয় কিংবা ফিটনেসের জন্য যা যা প্রস্তুতি দরকার সেগুলো করতে থাকি। এটা অনেক আগে থেকেই করি। এদিকে মিমের হাতে রয়েছে একাধিক সিনেমার কাজ। এরমধ্যে ওয়াহিদ তারেক পরিচালিত সিনেমা ‘দিগন্তে ফুলের আগুন’র কাজ শেষ করেছেন তিনি। পাশাপাশি সুমন ধর পরিচালিত ‘আমি ইয়াসমিন বলছি’ সিনেমার কাজ শুরু করবেন তিনি। ১৯৯৫ সালের ২৩শে আগস্ট দিনাজপুরের ইয়াসমিন নামে এক তরুণী ধর্ষণ, হত্যা ও সেই সময়ের আন্দোলন নিয়ে তৈরি হবে এ সিনেমা। এতে ইয়াসমিন চরিত্রে অভিনয় করবেন মিম।

mzamin

‘আপা, আপা’ বলা সেই আওয়ামী লীগ কর্মী বহিষ্কার

ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফোনে ‘আপা, আপা’ বলা সেই আওয়ামী লীগ কর্মীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। শেখ হাসিনার সঙ্গে ফোনে কথা বলার পর অডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার অভিযোগে মো. তানভীর কায়সারকে বহিস্কার করা হয়। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগ জ্যাকসন হাইটস ইউনিট কমিটি-এর সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

নিউ ইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি রফিকুর রহমান মঙ্গলবার একটি লিখিত আদেশে মো. তানভীর কায়সারকে বহিষ্কার করেন। ওই বহিষ্কারাদেশে উল্লেখ করা হয় বার বার সতর্ক করা সত্ত্বেও তানভীর কায়সার দলের নীতি, আদর্শ, চেতনা ও মূল্যবোধ বিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকায় তাকে দলীয় সিদ্ধান্তে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। রফিকুর রহমান জানান, গত ১২ই সেপ্টেম্বর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ফোনালাপের পর তানভীর কায়সার সেই অডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হেয় করেছেন। একজন দলীয় কর্মী হয়ে এমন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তি দলে থাকার কোনো অধিকার নেই। তাই গত সোমবার নিউ ইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সিদ্ধান্তে তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
জানা যায়, তিনি নিজেই বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের হাতে ‘নির্যাতিত’ দাবি করে যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আশ্রয় নিয়েছেন। তানভীর কায়সার ২০১৯ সালের ৪ঠা জুন লস অ্যাঞ্জেলস হয়ে ভ্রমণ ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে ঢোকেন। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে ঢোকার পর বাংলাদেশে তিনি আওয়ামী লীগ দ্বারা নির্যাতিত বলে দাবী করে নিজের নিরাপত্তা চান। পরে ২০২০ সালের ৭ই মে দেশটিতে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেন। এরপর ২০২১ সালের ২৪শে জানুয়ারি তার বাংলাদেশি পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে বলেও জানা গেছে।  

mzamin