Sunday, March 20, 2016

রাতারাতি বদলে যান সালাহ আবদেসালাম?

সালাহ আবদেসালাম
ইসলামিক স্টেট বা আইএসের হয়ে প্যারিসে গত নভেম্বরের রক্তক্ষয়ী হামলা চালানোয় বড় ধরনের ভূমিকা রেখেছিলেন সালাহ আবদেসালাম। হামলার সময় তাঁর ভাই ব্রাহিম আবদেসালাম শরীরে বাঁধা বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে নিজেকে উড়িয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু ফরাসি গোয়েন্দাদের নথিপত্র বলছে, ইসলামিক স্টেটের সমর্থক হলেও হামলার আগে আবদেসালাম ভাইয়েরা মোটেও ইসলামের ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলতেন না। বেলজিয়ামের ব্রাসেলসের কাছে মলেনবিক এলাকায় তাঁদের একটি মদের দোকান ছিল। প্রত্যক্ষদর্শী ও পরিচিতজনেরা বলেছেন, দুই ভাই-ই সেখানে আড্ডার সময় হরহামেশাই পান করতেন। তাঁরা ফুর্তিবাজ যুবক ছিলেন। গোয়েন্দা তথ্যমতে, সম্পূর্ণ পশ্চিমা জীবনযাপনে বেড়ে ওঠা সালাহ আবদেসালাম জুয়াতে আসক্ত ছিলেন। একবার ডাকাতি করতে গিয়ে ধরাও পড়েছিলেন। গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, মরক্কোর বংশোদ্ভূত ২৬ বছর বয়সী সালাহ আবদেসালাম সিরিয়ায় গিয়ে আইএসের সংস্পর্শে আসেন। সেখান থেকে মলেনবিকে ফিরে আসেন। তবে তাঁর পশ্চিমা জীবনযাপন পরিবর্তিত হয়নি। ১৩ নভেম্বর প্যারিসে হামলা চালানোর মাত্র দুই সপ্তাহ আগে সালাম ভাইদের পানশালায় অবৈধ মাদকদ্রব্য বিক্রির অভিযোগ ওঠে।
তখন পুলিশ পানশালাটি বন্ধ করে দেয়। হামলার পরপরই ইউসুফ নামের মলেনবিকের একজন বাসিন্দা এএফপিকে বলেছিলেন, সালাহ ও ব্রাহিম দুই ভাই-ই তাঁর বন্ধু ছিলেন। ইউসুফ বলেন, দুই ভাই-ই প্রচুর ধূমপান ও মদ্যপান করতেন। তাঁরা কট্টরপন্থী মুসলিম ছিলেন না। তবে তদন্তকারীরা বলেছেন, মলেনবিকের বাসিন্দা আবদেলহামিদ আবাউদের সঙ্গে একসময় সালাহ আবদেসালামের সখ্য হয়। আবাউদ গাঁজায় আসক্ত ছিলেন। ২০১১ সালে তাঁর সঙ্গে ডাকাতি করতে গিয়ে ধরা পড়ে কিছুদিন জেল খাটেন সালাহ। এই আবাউদকেই প্যারিস হামলার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে মনে করা হয়। প্যারিস হামলার প্রস্তুতি হিসেবে ২০১৫ সালে সালাহ গ্রিস, অস্ট্রিয়া ও হাঙ্গেরি যান। কৌঁসুলিরা বলেছেন, ব্রাসেলসে বসে প্যারিস হামলার ছক কষা হয়। আর এই হামলার অস্ত্র, আনুষঙ্গিক সরঞ্জাম জোগাড় ও সরবরাহের দায়িত্ব ছিল সালাহ আবদেসালামের ওপর।

মন্ত্রী ডানকানের পদত্যাগ, বেকায়দায় ক্যামেরন

ইয়ান ডানকান স্মিথ
যুক্তরাজ্যের মন্ত্রিসভার প্রভাবশালী সদস্য ইয়ান ডানকান স্মিথ গত শুক্রবার পদত্যাগ করেছেন। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কল্যাণ তহবিলে কাটছাঁটের পদক্ষেপকে ‘অসমর্থনযোগ্য’ আখ্যা দিয়ে পদত্যাগ করেন তিনি। ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে যুক্তরাজ্যের বেরিয়ে যাওয়া না-যাওয়া প্রশ্নে গণভোট অনুষ্ঠান সামনে রেখে ডানকান স্মিথের এ পদত্যাগকে ক্যামেরনের রক্ষণশীল সরকারের জন্য বড় ধাক্কা বলে মনে করা হচ্ছে। কল্যাণ ভাতা-বিষয়ক মন্ত্রী ডানকান স্মিথ অভিযোগ করেন, রাষ্ট্রীয় কল্যাণ খাত সংকুচিত করার লক্ষ্যে সরকার এ রকম কাটছাঁটের পদক্ষেপ গ্রহণ করে একধরনের চাপ তৈরি করছে। ডানকানের পদত্যাগে ‘বিস্ময় ও হতাশা’ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন।
প্রতিবন্ধীদের কল্যাণ খাতের প্রস্তাবিত কিছু পরিবর্তন পুনর্বিবেচনার আভাস দিয়েছিল তাঁর সরকার। গতকাল শনিবার ওয়েলস-বিষয়ক মন্ত্রী স্টিফেন ক্র্যাবকে নতুন কল্যাণ ভাতা-বিষয়ক মন্ত্রী করেছেন ক্যামেরন।  কল্যাণ খাতের আরও বেশি বিতর্কিত কিছু সংস্কার বিষয়ে মাঝেমধ্যেই অর্থমন্ত্রী জর্জ অসবোর্ন ও ডানকান স্মিথের মধ্যে বিবাদ লক্ষ করা গেছে। কিন্তু বাজেট ঘোষণার মাত্র ৪৮ ঘণ্টা পর ডানকানের পদত্যাগ ছিল অপ্রত্যাশিত। ক্ষমতাসীন রক্ষণশীল দলের সাবেক প্রধান ডানকান স্মিথ ২০০১-০৩ সালে যুক্তরাজ্যের বিরোধীদলীয় নেতার দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর পদত্যাগকে ‘খুবই স্পর্শকাতর সময়ে এক বোমার আঘাত’ বলে আখ্যায়িত করেছেন প্রধানমন্ত্রী ক্যামেরন।