Wednesday, July 8, 2015
স্বস্তির সময়ে ‘বিশেষ আইন’ কেন? by এ কে এম জাকারিয়া
২০০৯-১০ সালে দেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতি কী ছিল, সেটা আমাদের ভুলে যাওয়ার কথা নয়। যেভাবেই হোক, বিদ্যুৎ উৎপাদনের এমন একটি অবস্থান থেকে সরকার ‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) বিল, ২০১০’ সংসদে উত্থাপন করে। লক্ষ্য হচ্ছে, ‘কৃষি, শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্য ও গৃহস্থালি কাজের চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ ও জ্বালানির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করিবার লক্ষ্যে উহাদের উৎপাদন বৃদ্ধি, সঞ্চালন, পরিবহন ও বিপণনের নিমিত্ত দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের সুবিধার্থে এবং প্রয়োজনে বিদেশ হইতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি আমদানি করিবার পরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়ন এবং জ্বালানি-সম্পর্কিত খনিজ পদার্থের দ্রুত আহরণ ও ব্যবহারের নিমিত্ত অনুসরণীয় বিশেষ বিধান’ প্রণয়ন। সংসদে তা পাস হয়। তখন আইনটি হয়েছিল দুই বছরের জন্য।
যেকোনো ‘দ্রুত’ ও ‘বিশেষ’ আইনের নানা বিপদ থাকে। এ ধরনের আইনে দায়মুক্তির যে বিষয় থাকে, তা স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির নীতির সঙ্গে মেলে না। দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি বা ভাগ-বাঁটোয়ারার আশঙ্কা থাকে জোরালো। বিদ্যুৎ খাতের এই বিশেষ আইনে ‘সরকার ও সরকারি মালিকানাধীন বা নিয়ন্ত্রণাধীন সব প্রতিষ্ঠান, এই আইনের অধীন বিদ্যুৎ বা জ্বালানির দ্রুত উৎপাদন বৃদ্ধি, সঞ্চালন, পরিবহন ও বিপণন-সংক্রান্ত যেকোনো পরিকল্পনা গ্রহণ বা বিদেশ হইতে বিদ্যুৎ বা জ্বালানি আমদানি ও উহার সঞ্চালন, পরিবহন ও বিপণন-সংক্রান্ত যেকোনো পরিকল্পনা গ্রহণ ও উহার দ্রুত বাস্তবায়নের নিমিত্ত যেকোনো প্রস্তাব গ্রহণ’ করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে বলা আছে, ‘এই আইনের অধীনে কৃত বা কৃত বলিয়া বিবেচিত কোনো কার্য, গৃহীত কোনো ব্যবস্থা, প্রদত্ত কোনো আদেশ বা নির্দেশের বৈধতা সম্পর্কে কোনো আদালতের নিকট প্রশ্ন উত্থাপন করা যাইবে না।’ বা সবকিছুকেই ‘সরল বিশ্বাসে কৃত’ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। ‘এই আইন বা তদাধীন প্রণীত বিধি, সাধারণ বা বিশেষ আদেশের অধীন দায়িত্ব পালনকালে সরল বিশ্বাসে কৃত বা কৃত বলিয়া বিবেচিত কোনো কার্যের জন্য কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে দেওয়ানি বা ফৌজদারি মামলা বা অন্য কোনো প্রকার আইনগত কার্যধারা গ্রহণ করা যাইবে না।’
এ ধরনের বিধানসহ ২০১০ সালে বিলটি যখন সংসদে ওঠে, তখন আইনজীবী শাহদীন মালিক এ ধরনের বিধানকে সামরিক আইনের বিধিবিধানের সঙ্গে তুলনা করেছিলেন। বলেছিলেন, ‘এটা দুঃখজনক যে আমাদের সংসদ সামরিক আইনের মডেলে আইন প্রণয়ন করছে।’ (দ্য ডেইলি স্টার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১০)। দুই বছরের জন্য পাস হওয়া সেই আইন প্রথম দফায় আরও দুই বছর বেড়েছে, দ্বিতীয় দফায় বেড়েছে আরও চার বছর। শুরুতে এই আইনের আওতায় ছোট ছোট ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র হয়েছে। আর এখন চার হাজার ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়নের সমঝোতা স্মারক সই হচ্ছে!
‘বিশেষ’ আইন করা হয় বিশেষ পরিস্থিতিতে। বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য এই আইন যখন করতে হয়েছিল, তখন আসলেই ‘বিশেষ পরিস্থিতি’ বিরাজ করছিল। কমবেশি সাড়ে পাঁচ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদার বিপরীতে সর্বোচ্চ উৎপাদনক্ষমতা ছিল তিন হাজার ২০০ মেগাওয়াট। রাজধানী ঢাকায় তখন ১২ ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের রেকর্ড আছে। এমন পরিস্থিতিতে এই বিশেষ আইনের লক্ষ্য ছিল দ্রুত বিদ্যুৎ উৎপাদন। সমালোচনা থাকলেও এই আইন কাজে দিয়েছে। সরকারের পক্ষে দ্রুত অনেক সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়েছে। সেই দুঃসহ পরিস্থিতি সামাল দেওয়া গেছে।
আগেই বলেছি, ‘দ্রুত’ ও ‘বিশেষ’ আইনের কিছু বিপদ থাকে। দ্রুত বিদ্যুৎ উৎপাদন করা গেলেও বিশেষ আইনের সুযোগ নিয়ে অনেক অযোগ্য উদ্যোক্তা বিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ পেয়েছেন। নিয়ম মেনে ও নির্দিষ্ট সময়ে তাঁরা বিদ্যুৎ উৎপাদনে যেতে পারেননি। ফলে ‘দ্রুত’ উৎপাদনে যাওয়ার লক্ষ্যও সব ক্ষেত্রে পূরণ হয়নি। পরিস্থিতি বিবেচনায় এসব ‘বিপদ’ মেনে নেওয়া ছাড়া উপায় ছিল না। এসবের বিনিময়ে আমরা লোডশেডিং থেকে মুক্তি পেয়েছি। এই যে স্বস্তির পরিস্থিতি, এর কৃতিত্ব নিশ্চয়ই সরকারের। কিন্তু অবস্থা যদি সত্যিই ‘স্বস্তির’ হয়, তবে ‘বিশেষ’ আইনটির এখন কী দরকার!
বিশেষ আইন বা ব্যবস্থা সব সময়ই স্বল্পমেয়াদি বিষয়। বিদ্যুৎ খাতের ২০০৯-১০ সালের সেই ‘বিশেষ পরিস্থিতি’ এখন আর নেই। ফলে দফায় দফায় এই আইনের মেয়াদ বাড়ানো এবং এখনো সেই আইন কার্যকর রেখে বড় বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরির ক্ষেত্রে তা কাজে লাগানোর কোনো সুযোগ নেই। সাধারণভাবে বললে, এ আইনের মূল ব্যাপারটি ছিল টেন্ডার এড়ানো ও সময় বাঁচানো। এখন সেই পরিস্থিতি নেই। বিদ্যুৎ উৎপাদন নিয়ে সরকারের এখন একটি মহাপরিকল্পনা। সেখানে ২০৩০ সাল নাগাদ ৩৮ হাজার মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে ৪০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছে। কোন প্রাথমিক জ্বালানি থেকে কত শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে, তারও নির্দেশনা রয়েছে। এসব কোনো স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনা নয় যে এটা বাস্তবায়ন করতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিহীন এই বিশেষ আইনের দরকার পড়বে।
আর সবচেয়ে বড় কথা, দ্রুত বিদ্যুৎ উৎপাদনে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি আমরা সামাল দিয়ে এসেছি। বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে এখন আমরা যে বাস্তবতার মধ্যে রয়েছি, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিদ্যুৎ ও জ্বালানিবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. তামিমের ভাষায় তা হচ্ছে ‘লিস্ট কস্ট এক্সপানশন’, অর্থাৎ সাশ্রয়ী সম্প্রসারণ। কুইক রেন্টালের মতো দামি ও ছোট বিদ্যুৎকেন্দ্রের পরিবর্তে সাশ্রয়ী ও বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ। এগুলো আর যা-ই হোক, ‘দ্রুত’ বিদ্যুৎ উৎপাদনের আওতায় পড়বে না। ভারতের যে দুটি কোম্পানির সঙ্গে বিদ্যুৎ উৎপাদনে সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে, এই ‘বিশেষ’ ও ‘দ্রুত’ আইনের আওতায় তার ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশয় প্রকাশ পেয়েছে প্রথম আলোর এক প্রতিবেদনে (১০ জুন ২০১৫)। কিন্তু যদি তা বাস্তবায়নের দিকেও এগোয়, তার পরও সবকিছু ঠিক করে প্রকল্প বাস্তবায়ন ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে যেতে চার থেকে পাঁচ বছর সময় লাগবে। এসব বিদ্যুৎকেন্দ্র ‘দ্রুত’ বিদ্যুৎ উৎপাদন আইনের আওতায় পড়ে কীভাবে?
বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ভারতের দুই কোম্পানির সঙ্গে সই হওয়া সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী রিলায়েন্স গ্রুপ তৈরি করবে আমদানি করা এলএনজি (তরল গ্যাস)–নির্ভর বিদ্যুৎকেন্দ্র। চার ইউনিটে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে তিন হাজার মেগাওয়াট। অন্যদিকে, আদানি গ্রুপ তৈরি করবে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। দুই ইউনিটে মোট উৎপাদন হবে ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট।
বিদ্যুৎ খাতের মহাপরিকল্পনা অনুযায়ী ২০৩০ সালে যে ৪০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে, তার ২৫ ভাগ গ্যাস থেকে হওয়ার কথা। রিলায়েন্সের সঙ্গে সমঝোতার ক্ষেত্রে হয়তো এ বিষয়টি বিবেচনায় ছিল। কিন্তু আমদানি করা এলএনজিকে আবার গ্যাসে রূপান্তর করে বিদ্যুৎ উৎপাদন কতটা সাশ্রয়ী হবে, সেটা অবশ্যই বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। বিশ্ববাজারে তেলের দাম রেকর্ড পরিমাণ কমে যাওয়ায় এলএনজির দামও কমেছে। কিন্তু বর্তমান দামের ওপর ভিত্তি করে কোনো সিদ্ধান্তে আসা কঠিন। বছর খানেক ধরে তেলের দাম কম থাকলেও ২০১৬ সাল থেকে আবার তেলের দাম বাড়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। ৪ জুন ভিয়েনায় ওপেক তেলমন্ত্রীদের এক বৈঠকের সূত্রে তেল ও গ্যাসশিল্প-সংক্রান্ত নিউজ পোর্টাল রিগজোন এমনই ইঙ্গিত দিয়েছে। দেখা যাচ্ছে, বর্তমান দামেই ভারতের অন্ধ্রে তৈরি করা রিলায়েন্সের এলএনজি-নির্ভর বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন খরচ এত বেশি পড়ছে যে তা চালানো যাচ্ছে না। বাংলাদেশে এ ধরনের প্রকল্প পোষাবে কীভাবে?
সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ উৎপাদনের বিষয়টি মাথায় রেখেই মহাপরিকল্পনায় ৫০ ভাগ বিদ্যুতের উৎপাদন কয়লাভিত্তিক করার কথা বলা হয়েছে। আদানির সঙ্গে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের সমঝোতা স্মারকের বিষয়টি সেই বিবেচনায় মহাপরিকল্পনার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ। গুজরাটভিত্তিক এই প্রতিষ্ঠানটি এখন ভারতের বেসরকারি খাতে সবচেয়ে বড় বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান। গত মে মাসের হিসাব অনুযায়ী, আদানি এখন ভারতে কয়লাভিত্তিক মোট ১০ হাজার ৪৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে।
রিলায়েন্স বা আদানি—এ ধরনের যেকোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেই বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যাপারে সমঝোতায় যাওয়া যেতে পারে। কিন্তু প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প কী করে বিশেষ আইনের আওতায় (যা ‘সরল বিশ্বাসে কৃত’ হিসেবে বিবেচিত হবে) বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়, যা নিয়ে কোনো প্রশ্ন তোলা যাবে না, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির কোনো বালাই থাকবে না!
এ কে এম জাকারিয়া: সাংবাদিক।
akmzakaria@gmail.com
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বিভক্তির কবলে বিশ্বাস by উৎপল রায়
বাংলাদেশেও সিভিল সোসাইটির গৌরবোজ্জ্বল অতীত রয়েছে। মহান মুক্তিযুদ্ধে নিজেদের জীবন বলিদান করেছেন সিভিল সোসাইটির বহু মানুষ। তাদের মহান আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত হয় প্রিয় পতাকা। লোভ ছিল, কিছুটা হলেও বিভক্তি অতীতেও ছিল। তবে এখনকার মতো কখনওই নয়। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের শাসনামল থেকেই এ প্রচলন শুরু হয়। নানা সুযোগ-সুবিধার বিনিময়ে ‘রাজার’ প্রতি সমর্থন জানান সিভিল সোসাইটির কিছু কিছু সদস্য। এরপর ক্রমশ বিভক্তি জোরালো হয়েছে বাংলাদেশে। ভেতর থেকে অনেকটা দুই ভাগ হয়ে যান মানুষ। এ বিভক্তির কালো ছায়া এসে পড়ে সিভিল সোসাইটির ওপরও। কিছুদিন আগেতো অনেকটা ঘটা করেই দুই ভাগ হয়ে যান বাংলাদেশে সিভিল সোসাইটির একটি বড় অংশ। একদিকে শত নাগরিক, অন্যদিকে সহস্র নাগরিক। এ বিভক্তি সবচেয়ে বড় আঘাত হানে বিশ্বাসে। সিভিল সোসাইটির বক্তব্য এখন আর সেভাবে নাড়া দেয় না জনসাধারণকে। এ যেন বিভক্তির এক অন্ধকার কালো অধ্যায়। এ বিভক্তি নিয়ে কি বলছেন সিভিল সোসাইটির প্রতিনিধিরা। ধারাবাহিকভাবে এ প্রশ্নের জবাব খুঁজবে মানবজমিন। আজ ছাপা হলো সিভিল সোসাইটির পাঁচ উজ্জ্বল প্রতিনিধির বক্তব্য-
এ বিষয়ে সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) এম. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আমাদের দেশে শুরু থেকেই সিভিল সোসাইটি তেমনভাবে গড়ে ওঠেনি। সুশীল সমাজের বিভক্তির কারণটাও অত্যন্ত সহজ ও স্পষ্ট। কেউ এ দলের, নয়তো ও দলের রাজনৈতিক সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছে, নিচ্ছে। ছোটখাটো সুবিধার জন্যই মূলত এ বিভক্তি। এটা সবাই জানে। তিনি বলেন, দেশের কমন কোন ইস্যুতে সুশীল সমাজের উদ্যোগ যে একেবারে ছিল না তেমন নয়। দেশের স্বার্থে অনেকেই এগিয়ে এসেছেন। যেমন কিছুদিন আগে শামসুল হুদা সাহেবের (সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার ড. এটিএম শামসুল হুদা) একটি ভাল উদ্যোগ ছিল। সুশীল সমাজের অনেকেই তার ডাকে সাড়া দিয়ে তার সঙ্গে যোগ দিয়েছিলেন। এ ছাড়া টিআইবি (ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ), সুজন (সুশাসনের জন্য নাগরিক), সিপিডি (সেন্টার ফল পলিসি ডায়ালগ) এ ধরনের সংগঠনও জাতীয় ইস্যুতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তাই যোগ্য ব্যক্তি ও সংগঠন যদি উদ্যোগ নেয় তাহলে হয়তো সুশীল সমাজ বা বুদ্ধিজীবী শ্রেণীর বিভক্তিটা কমে আসবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. একে আজাদ চৌধুরী এ বিষয়ে বলেন, সুশীল সমাজ আলোকিত মানুষের একটা অংশ তারা ব্যক্তি বা দলের ঊর্ধ্বে ওঠে নিরপক্ষেভাবে কাজ করবে এটাই নিয়ম। তবে, বুদ্ধিভিত্তিক চর্চা সবসময়ই একই রকম হবে বিষয়টি এমন নয়। আমাদের দেশে যেমন বিভক্তি রয়েছে। পশ্চিমা দেশেও সুশীল সমাজে বিভক্তি রয়েছে। তিনি বলেন, বাংলদেশের সিভিল সোসাইটিতে বিভক্তিও দেখছি আবার একতাবদ্ধতাও দেখছি। ব্যক্তির আদর্শিক অবস্থান, দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য, একমুখিতার কারণে সুশীল সমাজে বিভক্তি থাকে। মতবাদে ভিন্নতা থাকে। তবে, একটা বিষয়ে তারা সবাই এক। তারা দেশের ও জনগণের মঙ্গল চায়। হয়তো একেকজন একেকভাবে চায়। কিন্তু গণতন্ত্রের স্বার্থে প্রায় সবাই কথা বলে। আশা করবো তারা ব্যক্তি ও দলের ঊর্ধ্বে ওঠে তারা কাজ করবে।
সুশাসনের জন্য নাগরিক- সুজনের সাধারণ সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার এ প্রসঙ্গে বলেন, আমিতো এখন কোন সিভিল সোসাইটি দেখি না। এখন সব রাজনৈতিক সোসাইটি। সব ফায়দাতন্ত্রের রাজনীতির কবলে পড়েছে। রাজনীতির কারণেই সিভিল সোসাইটি বিভক্ত হয়ে গেছে। রাজনীতির কবলে ফেলে আমাদের সিভিল সোসাইটি ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, আগে এতটা বিভক্তি ছিল না। ১৯৯১ সালের পর থেকেই সুশীল সমাজের অনেকেই রাজনৈতিক দলের পদলেহন করেছে। নিজের সুবিধার জন্য রাজনৈতিক দলের সাফাই গাইছে। শিক্ষক, চিকিৎসক, সাংবাদিক, আইনজীবী কেউ বাদ যাচ্ছে না। সবার মধ্যেই বিভক্তি। যখন যে দল সরকারে যায় তখনই সুশীল সমাজের কিছু অংশ সুযোগের সদ্ব্যবহার করেছে। বিভিন্ন সময়ে সুযোগ-সুবিধা নিচ্ছে। কেউ উত্তরা, গুলশানে প্লট নিচ্ছে, কেউ ইউনিভার্সিটির ভিসি হয়ে রাজনৈতিক দল ও সরকারের গুণগান করছে। এ কারণেই আমাদের সিভিল সোসাইটিটা এতদিনেও মাথা তুলে দাঁড়াতে পারছে না। ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, এ থেকে উত্তরণের কোন পথতো আমি দেখছি না। তবে, ফায়দাতন্ত্রের রাজনীতি যদি বন্ধ করা যায়, রাজনৈতিক সুবিধা নেয়া থেকে বিরত থাকা যায় তবেই সিভিল সোসাইটির বিভক্তি কমে আসবে। না হলে এ বিভক্তি ঘুচবে না।
সুশীল সমাজের বিভক্তির কারণ রাজনৈতিক বলে মনে করেন নারীনেত্রী খুশী কবির। তিনি বলেন, সুশীল সমাজের বিভক্তি আগেও ছিল, এখনও আছে। এরমধ্যে কিছুটা রাজনৈতিক কারণতো অবশ্যই আছে। তবে, সুশীল সমাজ যে একীভূত ছিলনা তা নয়। স্বৈরশাসক এরশাদের আমলে, শহীদ জননী জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে, নিকট অতীতে শাহবাগ জাগরণসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ইস্যুতে সুশীল সমাজের ইতিবাচক ভূমিকা আমরা দেখেছি। এক্ষেত্রে ব্যক্তি নিজেকে কিভাবে দেখছে সেটাই গুরুত্বপূর্ণ। খুশী কবির বলেন, যখন কেউ চিন্তা করে যে, তার কর্মকাণ্ড কোন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে তার মতপার্থক্যের কারণ হতে পারে বা তার কাজকর্মে তা প্রভাব হিসেবে কাজ করে তখনই তার চিন্তা-ভাবনা বদলে যায়। তাই আমাদের দেখতে হবে ব্যক্তি রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করছে না রাজনীতি ব্যক্তিকে নিয়ন্ত্রণ করছে।
বিশিষ্ট আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক বলেন, সুশীল সমাজ বলতে আমরা বুঝি যারা কোন রাজনৈতিক দলের নয়। তারা কোন দলও সমর্থন করে না। যারা মূলত কোন রাজনৈতিক দলের বক্তব্য সমর্থন করে, রাজনৈতিক দলের কথার পুনরাবৃত্তি করে তারা আসলে সুশীল সমাজের পর্যায়ে পড়ে না। যারা দলীয় সমর্থক তারাতো তাদের দলীয় অবস্থানটাকে পুনর্ব্যক্ত করার চেষ্টা করবেই। এর বাইরে যারা বিভিন্ন ইস্যুতে ভূমিকা পালন করে কিন্তু কোন দলের সমর্থক নন তাদের মধ্যে কিছুটা ভিন্নমত থাকতেই পারে। তবে, এটাকে আমি বিভক্তি বলবো না।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
খালি খালি গুজব রটেনি
একনেকের বৈঠকে উপস্থিত সূত্রে জানা গেছে, ঘড়িতে তখন সকাল ১১টা। একনেকের সাপ্তাহিক বৈঠক মাত্র শুরু হয়েছে। শুরুতেই নিয়মিত এজেন্ডা হিসেবে এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ের দুটি এজেন্ডা আলোচনার জন্য আসে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এ সময় বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন না। তার জন্য ২৫ মিনিটের মতো অপেক্ষা করা হয়। এর পরও মন্ত্রীর খোঁজ না মেলায় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত প্রকল্পটি প্রত্যাহারের কথা বলেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ ব্যাপারে অসম্মতি জানান। এ সময় একজন মন্ত্রী বলেন, সৈয়দ আশরাফ তো নিয়মিতই অনুপস্থিত থাকেন। তখন প্রধানমন্ত্রীও এ ব্যাপারে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি (আশরাফ) মিটিং-টিটিংয়ে আসেন না, এজন্য সরিয়ে দিলে ভালো হয়। এরপর প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়ার সঙ্গে কথা বলেন। একনেক সভা থেকে ফিরে মন্ত্রিপরিষদ সচিব সহকর্মীদের সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে অব্যাহতি দেয়া সংক্রান্ত সারসংক্ষেপ ও প্রজ্ঞাপন তৈরি করার নির্দেশ দেন। এরপর এক ঘণ্টা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে অনেকটা ঝড়ের বেগে কাজ হয়। সৈয়দ আশরাফের অব্যাহতির প্রজ্ঞাপন জারি নিয়ে পুরোপুরি প্রস্তুতি নেয় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। এ বিভাগের এক সিনিয়র কর্মকর্তা মারফত সারসংক্ষেপটি প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হয়। এ সময় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তাকে ফাইলটি রেখে যাওয়ার জন্য বলা হয়। এদিকে, মুহূর্তের মধ্যেই সৈয়দ আশরাফের অব্যাহতির খবর ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। আওয়ামী লীগের ভেতরে-বাইরে তৈরি হয় তোলপাড়। সৈয়দ আশরাফের শুভাকাঙ্ক্ষীরাও তৎপর হয়ে ওঠেন। বিকাল চারটার পর সৈয়দ আশরাফকে আপাতত অব্যাহতি দেয়া হচ্ছে না- এ বিষয়টি সম্পর্কে নিশ্চিত জানার পর মন্ত্রিপরিষদ সচিব নিজ অফিস ত্যাগ করেন। বাইরে বেরিয়ে যাওয়ার সময় অপেক্ষমাণ সাংবাদিকরা মন্ত্রিপরিষদ সচিবের কাছে মন্ত্রিসভার রদবদলের বিষয়ে জানতে চান। মোশাররফ হোসাইন বলেন, কিছু হয়নি, হলে আপনারা জানবেন। শোনা যাচ্ছে সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে সরিয়ে দেয়ার প্রক্রিয়া চলছে? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কিসের প্রক্রিয়া। আমি তো কিছু জানি না। আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করার মতো কোন তথ্য আমার কাছে নেই। আমি এ বিষয়ে কিছু জানি না।
গুজবে কান না দেয়াই ভাল: সৈয়দ আশরাফ
স্টাফ রিপোর্টার, কিশোরগঞ্জ থেকে জানান, মন্ত্রিত্ব থেকে অব্যাহতির বিষয়টিকে ‘মিডিয়ার খবর’ বলে উল্লেখ করেছেন সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। তিনি বলেন, মিডিয়ার খবর মিডিয়ার কাছ থেকেই জেনে নিন। এ ব্যাপারে কিছুই জানেন না জানিয়ে তিনি বলেন, গুজবে কান না দেয়াই ভাল। গতকাল বিকালে কিশোরগঞ্জ শহরের খরমপট্টি এলাকার বাসভবনে এসে পৌঁছানোর পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সৈয়দ আশরাফ এসব কথা বলেন। নিজ আসন কিশোরগঞ্জ-১ (কিশোরগঞ্জ সদর-হোসেনপুর) এ দুই দিনের সরকারি সফরের প্রথম দিনে মঙ্গলবার বিকাল সোয়া ৬টায় কিশোরগঞ্জের বাসভবনে এসে পৌঁছান। সেখানে কিছুক্ষণ অবস্থানের পর বিকাল ৬টা ৪০ মিনিটে তিনি শহরের সমবায় কমিউনিটি সেন্টারে কিশোরগঞ্জ জেলা ও সদর উপজেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত ইফতার পার্টিতে যোগ দেন। সেখানে ইফতারের আগে মাত্র এক মিনিট বক্তৃতা করেন সৈয়দ আশরাফ। বক্তৃতায় তিনি কিশোরগঞ্জ ও হোসেনপুর উপজেলায় দুই দিন দুটি ইফতারে অংশ নিতে এসেছেন জানিয়ে ইফতার আয়োজকদের কৃতজ্ঞতা জানান। ইফতারে কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিক, জেলা প্রশাসক জিএসএম জাফরউল্লাহ্, পুলিশ সুপার মো. আনোয়ার হোসেন খানসহ দলীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এলজিআরডিমন্ত্রীর সফরসূচি সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সার্কিট হাউসে রাত্রিযাপন শেষে আজ দুপুরে সার্কিট হাউস সম্মেলন কক্ষে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। পরে যশোদল গ্রামের নিজ বাড়ি পরিদর্শন ও সেখান থেকে ফিরে জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে দুস্থ নারীদের মধ্যে সেলাই মেশিন বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেবেন। পরে সন্ধ্যায় হোসেনপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের ইফতার ও দোয়ার মাহফিলে যোগদান শেষে রাতেই ঢাকার বেইলি রোডের বাসভবনে ফিরবেন।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ইউরোজোনের নেতারা বললেনঃ গ্রিসের সর্বশেষ প্রস্তাবে ‘নতুন কিছু’ নেই
![]() |
| অ্যালেক্সিস সিপ্রাস |
ঋণদাতাদের দেওয়া কৃচ্ছ্রসাধনের প্রস্তাব বিপুল ভোটে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর দাতারা নতুন প্রস্তাব চায় গ্রিসের কাছে। তাতে সাড়া দিয়ে গ্রিসের প্রধানমন্ত্রী অ্যালেক্সিস সিপ্রাস গতকাল ব্রাসেলসে ইউরোজোনের অর্থমন্ত্রীদের সম্মেলনে যান। খবর এএফপি ও বিবিসির। ব্রাসেলসে মূল সম্মেলন শুরু হওয়ার আগে গতকাল ইউরোজোনের বাকি ১৮ দেশের সামনে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তাব তুলে ধরে গ্রিস। দেশটির পক্ষ থেকে বলা হয়, সর্বশেষ প্রস্তাবে তারা বেশ কিছু পরিবর্তন এনেছে। গ্রিস আশা করে, ‘গণভোটের ফলের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে পারস্পরিক লাভের একটি সমঝোতা হবে’। কিন্তু গতকালের বৈঠকের প্রসঙ্গ টেনে ইউরোজোনের অন্যতম অংশীদার জার্মানি বলছে, নতুন করে আলোচনার ‘এখন পর্যন্ত কোনো ভিত্তি’ নেই।
ব্রাসেলসে মূল সম্মেলন শুরু হওয়ার আগে গতকাল জার্মানির চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল ও ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন গ্রিসের প্রধানমন্ত্রী।
এদিকে গ্রিসের সংস্কার প্রশ্নে ইউরোজোনের দুই প্রধান অর্থনীতির দেশ জার্মানি ও ফ্রান্সের নেতাদের মতো শক্ত অবস্থানের প্রতিধ্বনি শোনা গেছে ইউরোজোনের মন্ত্রীদের মুখেও। গতকাল মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিক বৈঠক শুরু হওয়ার আগে তাঁরা সাবধান করে দিয়ে বলেছেন, গ্রিসের কাছে থেকে ‘যৌক্তিক সংস্কার’ প্রস্তাব না পেলে কোনো ফল হবে না। স্লোভাক অর্থমন্ত্রী পিটার কাজিমির বলেছেন, ‘একটি চুক্তি হবে, তা নিয়ে আমি ব্যক্তিগতভাবে সন্দিহান।’
ইউরোজোন থেকে গ্রিসের বিদায় হচ্ছে কি না, এ প্রশ্নের উত্তরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কমিশনার ভালদিস দমব্রোভসকিস বলেন, ‘যদি একে অপরের প্রতি বিশ্বাসী না হয়, যদি সংস্কার প্রশ্নে একটি যুক্তিযুক্ত প্রস্তাব না আসে, তবে বের হয়ে যাওয়ার প্রশ্ন অবান্তর নয়।’
গ্রিসের গত রোববারের গণভোটে ‘না’ বিজয়ী হলে নড়েচড়ে বসে ইউরোপ। সোমবারই জার্মানির চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল এবং ফরাসি প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদ বৈঠক করেন প্যারিসে। বৃহৎ ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান ইউরোপিয়ান সেন্ট্রাল ব্যাংকের (ইসিবি) পরিচালনা পরিষদ জরুরি বৈঠক করে। তখন গতকালের বৈঠকের সিদ্ধান্ত হয়।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বি. চৌধুরীকে ঠেকাতে মরিয়া জামায়াত by কাজী সুমন
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ওবামাকে খুন করা সাংবিধানিক দায়িত্ব
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
থাইল্যান্ডে স্বৈরশাসনে পাল্টে গেছে গান গাওয়ার ধরন!
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ফাঁড়া কাটলেও ফাঁস নামেনি
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
জোড়া শতকে জয় দেখছে পাকিস্তান
স্কোর কার্ড
শ্রীলংকা প্রথম ইনিংস ২৭৮
পাকিস্তান প্রথম ইনিংস ২১৫
শ্রীলংকা দ্বিতীয় ইনিংস ৩১৩ (থারাঙ্গা ৪৮, অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউস ১২২, জেহান মুবারক ৩৫, চান্দিমাল ৬৭। ইমরান খান ৫/৫৮)
পাকিস্তান দ্বিতীয় ইনিংস
রান বল ৪ ৬
শান মাসুদ নটআউট ১১৪ ১৯৮ ১১ ১
শোহজাদ ব লাকমাল ০ ৩ ০ ০
আজহার ক চান্দিমাল ব প্রসাদ ৫ ১৪ ০ ০
ইউনুস খান নটআউট ১০১ ১৬৬ ৯ ০
অতিরিক্ত ১০
মোট (২ উইকেটে, ৬৩ ওভারে) ২৩০
উইকেট পতন : ১/০, ২/১৩।
বোলিং : প্রসাদ ১৩-২-৪২-১, লাকমাল ১২-২-৩৪-১, প্রদীপ ১০-২-৩২-০, ম্যাথিউস ৬-১-১৫-০, কৌশাল ২০-১-৯২-০, মুবারক ২-০-৯-০।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আসছে তিন তারকার ব্ল্যাকমানি
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সংযুক্তি চাই পানিরও -বিশেষ সাক্ষাৎকারে : আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী by সোহরাব হাসান ও রাহীদ এজাজ
![]() |
| আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী |
প্রথম আলো : চার দেশের মধ্যে সই হওয়া মোটরযান চলাচল চুক্তিকে কীভাবে দেখেন?
আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী : বিশ্বায়নের যুগে আঞ্চলিক সমৃদ্ধির সুফল পেতে হলে সংযুক্তির (কানেকটিভিটি) প্রয়োজন। এটি শুধু সড়কপথে হলে হবে না, সব মাধ্যমে হতে হবে। সংযুক্তি যেমন সড়ক, রেল, নৌ ও আকাশপথে হতে হবে, তেমনি বিদ্যুৎ-জ্বালানি, পানিরও অবাধ প্রবাহ বা সংযোগ জরুরি। অববাহিকাগত সহযোগিতার মাধ্যমে পানি ব্যবস্থাপনা কীভাবে করা যায়, এর মাধ্যমে কীভাবে সব দেশ সুফল পেতে পারে, তা ভাবা উচিত। সড়ক সংযোগে হয়তো এক পক্ষ বেশি লাভবান হলো, অন্য সংযোগে আরেক পক্ষের লাভটা বেশি হবে। সব মিলিয়ে আঞ্চলিক যোগাযোগের মাধ্যমে সবার সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে আন্তরিক চেষ্টা চালাতে হবে। এ অঞ্চলের সব অভিন্ন নদীর পানিপ্রবাহ ও ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে। আমাদের সামনে মেকং নদী কমিশনের উদাহরণ রয়েছে। মেকং নদী অববাহিকার দেশগুলো নিজেদের পানি বণ্টন ও ব্যবস্থাপনা পরিচালনা করছে। সমস্যা মিটিয়ে ফেলেছে। ভারতের সঙ্গে আমাদের যে অভিন্ন ৫৪টি নদী আছে, সেগুলোর জন্য একটি স্বাধীন তদারকি সংস্থার দরকার। পণ্যের চলাচলের পাশাপাশি পুঁজি ও মানুষের চলাচলও হয়ে থাকে। সুতরাং, সংযুক্তিটা সামগ্রিক হতে হবে। আর কাজগুলো করতে হবে সুনির্দিষ্ট সময় বেঁধে দিয়ে।
প্রথম আলো : এই যান চলাচল চুক্তি আঞ্চলিক বাণিজ্যে কতটা প্রভাব ফেলবে?
আমীর খসরু : আমি বৃহত্তর আঞ্চলিক সহযোগিতার পক্ষে। একে চার দেশের, এমনকি দক্ষিণ এশিয়ার বাইরে নিয়ে যেতে হবে। তা না হলে সুফলটা আমরা পাব আংশিক, পুরোপুরি নয়। এখানেও সময়সীমা মাথায় রাখতে হবে। সড়কের পর সংযুক্তির বাকি ধাপগুলো কীভাবে হবে, সেটি ঠিক করতে হবে। যেমন নেপাল ও ভুটান থেকে বিদ্যুৎ পাওয়ার জন্য বাংলাদেশের বিনিয়োগের সুযোগ আছে। ভারত ভুটান থেকে বিদ্যুৎ নিচ্ছে, আমরাও এ প্রক্রিয়ার অংশীদার হতে পারি। আঞ্চলিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিনিয়োগের মাধ্যমে সব দেশ উপকৃত হতে পারে।
প্রথম আলো : বাণিজ্যের ক্ষেত্রে এই সংযুক্তির সুফল বাংলাদেশ কতটা পাবে, এ নিয়ে বিএনপির মূল্যায়ন কী?
আমীর খসরু : বিএনপি সব সময় আঞ্চলিক সহযোগিতার পক্ষে। এ জন্যই রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সার্ক সৃষ্টি করেছিলেন। সার্ক নিয়ে তাঁর চিন্তা ছিল এ অঞ্চলের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন। আমরা খুশি যে নেহরুর দ্বিপক্ষীয় কূটনীতি থেকে বেরিয়ে এসে ভারত বহুমাত্রিক আঞ্চলিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে চাইছে।
প্রথম আলো : বিএনপি তো দুবার ক্ষমতায় ছিল। সে সময়ে এসব উদ্যোগ দৃশ্যমান হয়নি কেন?
আমীর খসরু : বাংলাদেশ একা চাইলে তো পারবে না। আঞ্চলিক সহযোগিতার জন্য ভারতসহ অন্য সব দেশকেও এগিয়ে আসতে হবে। মোদি আঞ্চলিক সহযোগিতার ওপর জোর দিচ্ছেন, আগে তো ভারতের নীতিতে এটি ছিল না।
প্রথম আলো : বলা হচ্ছে, চারদেশীয় যান চলাচল চুক্তিতে ভারতের সুবিধা বেশি হবে। আপনি কি মনে করেন?
আমীর খসরু : ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে পণ্য পরিবহনের জন্য অনেক সময় ও টাকা খরচ হয়। এখন বাংলাদেশের ওপর দিয়ে ওই অঞ্চলে পণ্য পরিবহনে ভারতের অনেক সাশ্রয় হবে, অর্থ ও সময় দুটোই। কাজেই চুক্তিতে ভারত লাভবান হবেই। প্রশ্ন হচ্ছে, এর বিনিময়ে বাংলাদেশ কী পাবে। সুয়েজ খাল হওয়ার আগে আফ্রিকার দেশগুলোকে অনেকটা পথ পাড়ি দিতে হতো। সুয়েজ খাল হওয়ার পর একটি নির্দিষ্ট হারে মাশুল ধরা হলো। প্রতিটি জাহাজকে ওই মাশুল দিতে হয়। সময় ও খরচের বিষয়টিকে বিবেচনায় এনে এই মাশুল ঠিক করা হয়েছে। প্রতিবেশীর সঙ্গে বন্ধুত্ব বজায় রাখতে হলে নিজের পাওনাটাও বুঝে নিতে হবে।
প্রথম আলো : আপনি এখন সংযুক্তিকে দক্ষিণ এশিয়ার বাইরে নেওয়ার কথা বলছেন। অথচ বিএনপি ক্ষমতায় থাকার সময় ট্রান্স-এশিয়ান হাইওয়ে ও রেলওয়ের রুট নিয়ে অনেক সময় নষ্ট করেছেন।
আমীর খসরু : বিএনপি তো সিদ্ধান্ত দিয়েছিল। ট্রান্স-এশিয়ান হাইওয়েতে আমাদের প্রথম রুটটা টেকনাফ থেকে মিয়ানমার হয়ে যাওয়ার কথা ছিল।
প্রথম আলো : কিন্তু ভারত চেয়েছিল তামাবিল রুট হোক।
আমীর খসরু : ভারত তো চাইবেই। আমরা আমাদেরটা চাইব। আমরা যখন টেকনাফ হয়ে ট্রান্স-এশিয়ান হাইওয়েতে যেতে পারছি, তখন কেন উত্তর-পূর্ব ভারতের জটিল ও দুর্গম পথ ভারত ঘুরে যাব?
প্রথম আলো : কিন্তু এই বিতর্কে আমরা সময় নষ্ট করেছি কি না?
আমীর খসরু : রুট ঠিক করার জন্য এ প্রক্রিয়ায় যুক্ত সব দেশকে এগিয়ে আসতে হবে। আমরা মিয়ানমারের সঙ্গে রুটটি চালু করতে পারিনি তাদের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির কারণে।
প্রথম আলো : এবার মোদির ঢাকা সফরের সময় কলকাতা-ঢাকা-আগরতলা বাস সার্ভিস চালু হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ভাড়ার বাইরে অন্য কোনো মাশুল ধরা হচ্ছে না। একবার মাশুল না নিলে পরে সব ক্ষেত্রেই তা প্রযোজ্য হবে কি না?
আমীর খসরু : দেখুন, মহাসড়কে চলাচলের জন্য আমরা টোল দিয়ে থাকি। আপনি যদি অবকাঠামো ব্যবহার করেন, তার জন্য তো আপনাকে পয়সা দিতে হবে। নাগরিকেরা যদি তাঁর দেশের অবকাঠামো ব্যবহারের জন্য পয়সা দেন, তবে অন্য দেশের লোকজন কেন দেবেন না! কাজেই ভারতের যাত্রীরাও বাংলাদেশের অবকাঠামো ব্যবহারের জন্য টোল দেবেন, এই নিয়মই হওয়া উচিত।
প্রথম আলো : মাশুলের বিষয়টি কীভাবে ফয়সালা হবে?
আমীর খসরু : সরকার নিজেই তো ট্যারিফ কমিশনকে দিয়ে এটি করিয়েছে। পরে কমিশনের ওই প্রতিবেদন তারা নেয়নি। এ ব্যাপারে স্বচ্ছতা থাকতে হবে। বিনিয়োগের কতটা, কীভাবে ফেরত পাব, সেটি দেখতে হবে। সামাজিক ও অর্থনৈতিক লাভের বিষয়টিও দেখতে হবে। চুক্তির বিষয়টি জনগণকে স্বচ্ছতার সঙ্গে জানাতে হবে। বিনিয়োগে আমার লাভ কী, এর অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রতিক্রিয়া কী সেসবও জনগণকে জানাতে হবে। সহযোগিতার জন্য একটি বিষয়ের সুরাহা করে বসে থাকলে চলবে না। নদীর পানি বণ্টনের সমস্যার সমাধান করতে হবে। সীমান্ত হত্যা বন্ধ করতে হবে।
প্রথম আলো : বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য আদানি ও রিলায়েন্সকে দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে। এটিকে কীভাবে দেখেন?
আমীর খসরু : এখানে আইনের শাসন বড় বিষয়। দায়মুক্তি পুরোপুরি আইনের শাসনের বিরুদ্ধে। অর্থনীতি, সমাজ, রাজনীতি—সবখানে দায়মুক্তি দিয়ে আমরা আইনের শাসন থেকে দূরে সরে যাচ্ছি। দায়মুক্তি সাময়িক সুফল আনে, কিন্তু তা টেকসই হয় না। বিনিয়োগের ক্ষেত্রে দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তাদের সুবিধা দেওয়ার বেলায়ও ভারসাম্য রাখতে হবে।
প্রথম আলো : আপনি বাণিজ্যমন্ত্রী থাকতে ভারতের সঙ্গে ট্রান্সশিপমেন্টের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। সফল হলেন না কেন?
আমীর খসরু : ভারত উন্নত দেশ আর বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ। এই পরিপ্রেক্ষিতে যে তফাত ছিল, সেই জন্য এটি আর এগিয়ে নেওয়া যায়নি। তা ছাড়া এখন আঞ্চলিক উদ্যোগে ভারত যেভাবে সহযোগিতা করছে, তখন সেভাবে সহযোগিতা পাওয়া যায়নি।
প্রথম আলো : ভারতের প্রতি বিএনপির অবস্থান দৃশ্যত কি পরিবর্তন হয়েছে?
আমীর খসরু : ভারত কেন, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ সবার প্রতি বিএনপির নীতি অপরিবর্তনীয় রয়েছে। সবার সঙ্গে সুসম্পর্ক রেখে দেশ ও জনগণের মঙ্গলের কথা ভেবে এগিয়ে চলার নীতি আমাদের। সুতরাং, বিশেষ কোনো দেশের প্রতি বেশি, কোনো দেশের প্রতি কম, এমনটা হওয়ার সুযোগ নেই।
প্রথম আলো : এটাই যদি হয়, তবে মোদির সফরের আগে কেন বিএনপি জোর দিয়ে বলেছে, ‘আমরা ভারতবিরোধী নই?’
আমীর খসরু : এক পক্ষ যেহেতু এ সফরকে রাজনৈতিক মূলধন হিসেবে প্রচার করেছে, তার জবাবেই বিএনপি এটা বলেছে। ভারতের কাছে সরকারের নিজেকে আরও ঘনিষ্ঠ করার যে চেষ্টা, সেটার জবাব দিয়েছে বিএনপি। বিএনপি নিজে থেকে কিছু বলেনি।
প্রথম আলো : পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণের চুক্তির সুফল কতটা আসবে?
আমীর খসরু : পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণের সমাধান অনেক আগেই হওয়া উচিত ছিল। কারণ বাংলাদেশ থেকে ভারতে পণ্য যায় সীমিত আকারে। ভারত থেকে পণ্য আসে বিপুল পরিমাণে। ভারত রপ্তানির ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা না পেলেও বাংলাদেশ পাচ্ছে। এ ছাড়া রয়েছে অশুল্ক বাধার সমস্যা। বাণিজ্য বাড়াতে হলে দ্রুত এই সমস্যার সমাধান জরুরি।
প্রথম আলো : বিশেষায়িত শিল্পাঞ্চলের সুফল কীভাবে আসবে।
আমীর খসরু : বিনিয়োগ আমরা সব সময় চাই। বিনিয়োগ হলে কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে। সেবা খাতের সুযোগ বাড়বে, রপ্তানিও বাড়বে।
প্রথম আলো : দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে নতুন করে মাশুল নির্ধারণের কথা বলা হচ্ছে। এটিও কি সময়সীমা বেঁধে দিয়ে করা উচিত?
আমীর খসরু : এটি যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সুরাহা করা উচিত। এটি দীর্ঘদিন ঝুলিয়ে রাখলে বাংলাদেশই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তবে ভারতের সঙ্গে বসার আগে বাংলাদেশকে এসব বিষয়ে নিজের অবস্থান ঠিক করতে হবে। কারণ সরকার ট্যারিফ কমিশনের প্রস্তাব মেনে নেয়নি। বিকল্প কী হবে সেটি তাহলে সরকারের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। এ ক্ষেত্রে বিনিয়োগের বিষয়টি বিবেচনায় নিতে হবে। সবগুলো বিষয় জনসমক্ষে আনতে হবে।
প্রথম আলো : আপনাকে ধন্যবাদ।
আমীর খসরু : ধন্যবাদ।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
নাজিব রাজাকের দুর্নীতির ৯টি ডকুমেন্ট প্রকাশ
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
গাফফারের বিচার ও নাগরিকত্ব বাতিলের দাবি আল্লামা শফীর
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
‘বিচার করা যাবে, অপমান করার অধিকার নেই’ -মুক্তিযোদ্ধাদের বিবৃতি
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
দেশ-জাতির স্বার্থেই রেলকে চাঙ্গা করা জরুরি by সৈয়দ মাহবুবুর রশিদ
বঙ্গবন্ধুর পর যে সরকারগুলো ক্ষমতায় এসেছিল তারা রেলপথের উন্নতির তেমন কিছুই করেনি বরং এ ব্যাপারে উদাসীন ছিল। শুধু তাই নয়, একে পেছনে ঠেলে দিয়েছে। পূর্বে রেলওয়ে মন্ত্রণালয় ছিল। এর জন্য সংসদে পৃথক বাজেট উপস্থাপন করা হতো। পরে রেলবিভাগকে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের অধীনে আনা হলো। পৃথক বাজেট তো পরের কথা ইতোমধ্যে বিশ্বব্যাংকের ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী দক্ষ কর্মচারীদের গোল্ডেন হ্যান্ডশেকে বিদায় দেয়া হলো। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ২০১১ সালে রেলওয়ের জন্য পৃথক মন্ত্রণালয় চালু করলেন। রেলপথের উন্নতির জন্য তার আগ্রহের ২০ শালা পরিকল্পনা নেয়া হলো। এর অধীনে ২ লাখ ৩৩ হাজার ৯৪৬ কোটি টাকা ব্যয় হওয়ার কথা। এই পরিকল্পনায় বড় একটা দিক হলো পদ্মা সেতুর মাধ্যমে দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে ঢাকার রেল যোগাযোগ স্থাপন করা। উল্লেখ্য, ঢাকার দক্ষিণে কোনো রেলপথ নেই। এছাড়া ট্রান্স এশিয়ার রেলপথের সঙ্গে বাংলাদেশের রেলওয়ের সংযোগ স্থাপনের কথা রয়েছে। এমন পরিকল্পনার কথা শুনে আনন্দিতই হওয়ার কথা। কিন্তু রেলওয়ের বর্তমান অবস্থা চিন্তা করলে এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন কতটা সম্ভব এ ব্যাপারে সবার মনে সন্দেহ দেখা দেয়ারই কথা। রেল দুর্ঘটনা একটি নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। গড়ে প্রতি ঘণ্টায় একটি ট্রেনও চলে না অথচ এর মধ্যেই একই লাইনে দুটি গাড়ি ঢুকে পড়ছে। কয়েকদিন আগে উত্তরবঙ্গের বগুড়া রেলস্টেশনে এ রকম ঘটনা ঘটে। একটি ট্রেনের চালকের উপস্থিত বুদ্ধির ফলে কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি বা জানমালের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। কয়েক সপ্তাহ আগে রাজবাড়ী স্টেশন থেকে একটি ইঞ্জিন চালক ছাড়া ২৭ কিমি. পথ অতিক্রম করে। এ একটি অভূতপূর্ব ঘটনা। কত বড় মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটতে পারত তা কল্পনা করলেও শিউরে উঠতে হয়। জানি না এটি গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে স্থান পেয়েছে কিনা। বহু রেলগেট একদম খোলা এবং এসব ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে দুর্ঘটনা ঘটে চলছে। জনবলের অভাবে এসব গেট অরক্ষিত রয়েছে। দু’বৎসরের বেশি সময় ধরে প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে কয়েকশ’ কর্মী নিয়োগ করার জন্য। কিন্তু রাজনৈতিক চাপে নিয়োগ দেয়া বন্ধ করা দেয়া হয়। এর চেয়ে লজ্জার বিষয় আর কী হতে পারে। একজন সরকারি কর্মকর্তা যার পদবি মহাপরিচালক তিনি রেল বিভাগের দণ্ডমুণ্ডের কর্তা। পদমর্যাদায় বোধহয় সরকারের সচিব। উপমহাদেশের আমলাদের অনেকেই ঐতিহ্যগতভাবে দুর্নীতিপরায়ণ, অদক্ষ, মন্থর এবং জনবিমুখ। ইংরেজরা শিখিয়ে দিয়েছে যে আমলারা জনগণের প্রভু, সেবক নয়। ব্রিটিশরা প্রায় সাত যুগ আগে চলে গেলেও এই মানসিকতার কোনো পরিবর্তন হয়নি। অতএব সরকারি অফিসের কাজকর্মের যে স্টাইল তাতে উন্নয়ন বা গণমুখী বা জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ত কোনো কাজ-কর্ম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব নয়। এ জন্য বিভিন্ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ বা কর্পোরেশন গঠন করে স্বায়ত্তশাসন প্রদান করা হয়। আমাদের বাংলাদেশের কথা ধরা যাক। নদী পথের নাব্য সংরক্ষণ এবং নৌযান চলাচলের জন্য দুটো কর্তৃপক্ষ রয়েছে যাদের নাম বিআইডব্লিউটিএ এবং বিআইডব্লিউটিসি। বিমান চলাচলের জন্য রয়েছে বিমান কর্পোরেশন। বিমানবন্দর রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ। সড়ক পরিবহনে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের দৌরাত্ম্য অনেক। তারপরও ১৯৬১ সাল থেকে সড়ক পরিবহন কর্পোরেশন চালু রয়েছে।
প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতে রেল বিভাগের জন্য রয়েছে অত্যন্ত শক্তিশালী রেলওয়ে বোর্ড। পৃথক মন্ত্রণালয় এবং পৃথক বাজেট দুই-ই রয়েছে। আমাদের এখানেও রেলওয়ে বোর্ড ছিল। এছাড়া পরামর্শ প্রদানের জন্য একটি পরামর্শ কমিটি ছিল যেখানে সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্য থেকে সদস্য নেয়া হতো। আমাদের এখানে রেলওয়েকে একটা কর্পোরেশনে পরিণত করা হবে এমন কথা রাষ্ট্রের উচ্চপর্যায় থেকে বলা হয়েছিল। ২০১৩-২০১৪ সালের বাজেট বক্তৃতায়ও এর উল্লেখ ছিল। এবারে বাজেট বক্তৃতায় কোনো উল্লেখ নাই। এখানেই সবার প্রশ্ন। আবার কি রেলপথ কোনো ষড়যন্ত্রের শিকার হচ্ছে? রেলওয়ের মতো একটি গণপরিবহনকে পঙ্গু করার সব প্রচেষ্টা করা হয়েছিল। রেলপথে যাত্রী এবং পণ্য পরিবহনে ব্যয় কম। তাছাড়া তুলনামূলকভাবে নিরাপদ। যাত্রীদের মধ্যে যারা অধিক উচ্চ শ্রেণীতে ভ্রমণ করেন তাদের সুযোগ-সুবিধা ও আরাম অনেক বেশি। স্বাধীনতার পর কোথায় রেলপথ এবং রেলকে আধুনিকীকরণ করা হবে তা না করে সুপরিকল্পিতভাবে একে ধ্বংসের দিকেই ঠেলে দেয়া হচ্ছে অথচ বিশ্বের সর্বত্র সড়কপথ ও আকাশপথের ব্যাপক উন্নতি হলেও রেলপথকে কিন্তু একই ধরনের গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে এবং হয়েছেও। উন্নত দেশ যেমন ব্রিটেন, ফ্রান্স, জাপান এবং চীনের ভেতর প্রতিযোগিতা চলে কে, কত দ্রুতগামী ট্রেন চালু করতে পারে। বেইজিং থেকে লন্ডন পর্যন্ত ট্রেন চালু করার প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। পৃথিবীর বড় তিনটি শহর যথা লন্ডন, নিউইয়র্ক এবং টোকিও শহর দেখার সৌভাগ্য আমার হয়েছে। ওখানে পাতাল রেলে যে পরিমাণ যাত্রী বহন করা হয়, তা যদি না করা হতো, তাহলে তিনটি শহর অচল হয়ে যেত। অবশ্য দিল্লি শহরের আকাশ এবং রেলপথেরও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে যাত্রী পরিবহনের ক্ষেত্রে। ঢাকা এখনই প্রায় অচল হয়ে গেছে। কিছুদিনের ভেতর একেবারে অচল হয়ে যাবে যদি অত্যন্ত দ্রুতভাবে মেট্রোরেল চালু করা না হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ধ্বংসপ্রায় রেলপথকে উদ্ধার করার জন্য রেল মন্ত্রণালয় চালু করেছেন। তারই উৎসাহে রেলকে ঘিরে মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। তবে কোনো অবস্থাতেই এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না যদি রেলওয়ের বর্তমান প্রশাসনিক কাঠামো না বদলানো হয়। আমরা প্রত্যাশা করব যে, সরকার এই অচলায়তন ভেঙে ফেলতে সক্ষম হবে। লেখাটি শেষ করার আগে আবারো চীনের নেতা দেং কে স্মরণ করতে চাই। রেল বিভাগের ভিতকে মজবুত করতে হবে যেন উন্নয়ন প্রকল্পের ভার বহন করতে সক্ষম হয়। রেল বিভাগের দায়িত্বশীলদের সেই শক্তি ও মানসিকতা অর্জন করতে হবে।
লেখক: সাবেক ইপিএস ও কলামিস্ট। ব্যাংক, শেয়ারবাজার ও বীমাখাত বিশ্লেষক
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আবারও সাংসদদের ইচ্ছাপূরণের প্রকল্প
সাংসদেরা এই অর্থ সরাসরি নিজেরা খরচ করতে পারবেন না। তাঁরা নিজ এলাকায় কোন কোন সড়ক তৈরি করতে হবে, কোন খালের ওপর সেতু লাগবে, কোথায় বাজার লাগবে, কোথায় নৌঘাট করতে হবে, তা ঠিক করে দেবেন। এখানে ওই সাংসদের ইচ্ছাই চূড়ান্ত। এরপর স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সাংসদের সেই ইচ্ছা পূরণ করবে। এর আগে এ সরকারই একই ধরনের আরেকটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। পাঁচ বছর মেয়াদি সেই প্রকল্পে প্রতিবছর সাংসদেরা তিন কোটি টাকা করে বরাদ্দ পেয়েছেন।
গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এ-সংক্রান্ত ‘অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ পল্লি অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প-২’ অনুমোদন দেওয়া হয়। এ প্রকল্পে ব্যয় হবে ৬ হাজার ৭৬ কোটি টাকা। সাংসদদের ইচ্ছাপূরণে এ বিপুল অর্থ ব্যয় করা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে একটি মনিটরিং সেল থাকবে বলে জানা গেছে।
প্রকল্পটির আওতায় ২৮৪ জন সাংসদ নিজেদের এলাকায় প্রকল্প তৈরি করতে পারবেন। তবে দেশের বিভিন্ন সিটি করপোরেশন এলাকাভুক্ত ১৬ জন সাংসদ এবং সংরক্ষিত আসনের মহিলা সাংসদেরা এ প্রকল্পের অর্থ ব্যবহার করতে পারবেন না। তাঁদের জন্য আলাদা প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে বলে পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে।
সাবেক ব্যয় পর্যালোচনা কমিশনের সদস্য ও বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) গবেষণা পরিচালক জায়েদ বখ্ত প্রথম আলোকে বলেন, রাজনৈতিক বিবেচনায় এ ধরনের প্রকল্প নিলে অর্থ অপচয়ের ঝুঁকি থাকে। এ জন্য নজরদারি বাড়াতে হবে। তিনি মনে করেন, এ প্রকল্পের মাধ্যমে রাজনীতিবিদেরা চেষ্টা করবেন, যে এলাকায় তাঁর ভোট বেশি, সেখানে নতুন রাস্তাঘাট করবেন। হয়তো ওই এলাকায় একেবারেই রাস্তাঘাটের প্রয়োজন নেই।
জায়েদ বখ্ত-এর মতে, আগের প্রকল্পটিতে প্রথম পর্যায়ের কাজের প্রভাব মূল্যায়ন করা হয়নি। কাঙ্ক্ষিত ব্যক্তি, বিশেষ করে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর কাছে প্রকল্পের সুফল পৌঁছেছে কি না, তা দেখা দরকার।
গতকাল অনুমোদন পাওয়া প্রকল্পের মেয়াদকাল ২০১৫ সালের জুলাই থেকে ২০১৯ সালের জুন মাস পর্যন্ত। প্রতি অর্থবছরে এ প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হবে ১ হাজার ৫১৯ কোটি টাকা। এ প্রকল্পের আওতায় ৬৪ জেলার ৪৬৬ কিলোমিটার উপজেলা সড়ক, ১ হাজার ৪৩০ কিলোমিটার ইউনিয়ন সড়ক এবং ৬ হাজার ১৭৩ কিলোমিটার গ্রাম সড়ক নির্মাণ করা হবে। এ ছাড়া প্রায় ৪ হাজার ৫৯৭ কিলোমিটার গ্রামীণ সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ করা হবে। এর পাশাপাশি ১১১টি গ্রামীণ বাজার ও ৬৪টি নৌঘাট হবে। আর ১৫ হাজার ৩৫৫ মিটার সেতু নির্মাণ করা হবে।
প্রকল্পটি নিয়ে একনেক সভার পরে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, ‘বরাদ্দকৃত অর্থ সাংসদেরা নিজেরা সরাসরি ব্যয় করতে পারবেন না। তাঁরা তাঁদের পছন্দমতো তালিকা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠাবেন। এলজিইডি তা বাস্তবায়ন করবে।’
আওয়ামী লীগ সরকারের গত আমলে ২০১০ সালের ৯ মার্চ নেওয়া ৪ হাজার ৬৯১ কোটি টাকার একই ধরনের প্রকল্পে ২৭৯ জন সাংসদের অনুকূলে প্রতিবছর ৩ কোটি টাকা করে পাঁচ বছরে ১৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। গত ডিসেম্বর মাসে প্রকল্পটি শেষ হয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত প্রকল্পটির ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছিল ৪ হাজার ৮৯২ কোটি টাকা। কিন্তু এখনো প্রকল্পটির মূল্যায়ন করেনি পরিকল্পনা কমিশনের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি)।
মন্ত্রীদের আগ্রহ: প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে পরিকল্পনা কমিশনের এনইসি সম্মেলনকক্ষে গতকালের একনেক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রথমেই প্রকল্পটি পাসের জন্য ওঠানো হলে সেখানে অংশ নেওয়া একাধিক মন্ত্রী প্রকল্পটি নিয়ে আগ্রহ দেখিয়ে বক্তব্য দেন।
সভার দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, ‘এ প্রকল্পটি দলের ভবিষ্যৎ। কেননা আমরাই বৃহত্তম জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি। এ প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে এটা আমাদের প্রমাণ করতে হবে।’
বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, নির্বাচনের আগে জনগণকে প্রতিশ্রুতি দিতে হয় যে নির্বাচিত হলে এ রাস্তা, ওই রাস্তা করব। এখন এসব রাস্তা তৈরির জন্য প্রধান প্রকৌশলীদের চাপ দিতে হবে না।’ কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বলেন, এ প্রকল্পটি নেওয়ার ফলে সাংসদদের পছন্দকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। এটা ভালো।
গতকাল মোট আটটি প্রকল্প অনুমোদিত হয়। এতে মোট ব্যয় হবে ১০ হাজার ৫৫৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ৮ হাজার ৭১০ কোটি টাকা, বাস্তবায়নকারী সংস্থা দেবে ৩৯৫ কোটি টাকা। আর প্রকল্প সাহায্য হিসেবে পাওয়া যাবে ১ হাজার ৪৪৮ কোটি টাকা।
পাস হওয়া প্রকল্পগুলোর অন্যতম হলো বর্ডার ম্যানেজমেন্ট ইকুইপমেন্ট ফর বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ প্রকল্প (সংশোধিত), সীমান্ত এলাকায় বিজিবির ৬০টি বিওপি নির্মাণ, পুলিশ বাহিনীর ১৯টি ইউনিটে ১৯টি আধুনিক অস্ত্রাগার নির্মাণ, জাতীয় সংসদ ভবনের পূর্ত, বৈদ্যুতিক ও যান্ত্রিক সিস্টেমের উন্নয়ন, ছয়টি নতুন জাহাজ ক্রয়, উপজেলা ও ইউনিয়ন সড়কে দীর্ঘ সেতু নির্মাণ এবং হাইটেক পার্কের জন্য মির্জাপুর ও মৌচাক স্টেশনের মধ্যবর্তী কালিয়াকৈরে একটি বি ক্লাস স্টেশন নির্মাণ প্রকল্প।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ভেজাল দুধের ৯টি কারখানা বন্ধ
![]() |
| ননির পানিতে পাওয়া যায় বড় বড় পোকা |
এ দিন জেলার ফরিদপুর উপজেলার ডেমরা এলাকায় আটটি নকল দুগ্ধজাত পণ্য তৈরির কারখানার সন্ধান পেয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এসব কারখানা সিলগালা (বন্ধ) করে দিয়েছেন এবং ১ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করেছেন।
আদালতসংশ্লিষ্ট তিন-চারজন কর্মকর্তা বলেন, বেড়া উপজেলার হাটুরিয়া গ্রামের আমিরুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে ভেজাল দুধ তৈরি করে আসছিলেন। এ জন্য তিনি তাঁর বাড়িতে গোপন কারখানা তৈরি করেন। সেখানে তিনি খামারিদের কাছ থেকে দুধ সংগ্রহ করে প্রথমে তা থেকে আসল ননি তুলে নিতেন। এরপর ননিবিহীন দুধে নকল ননি মিশিয়ে ভেজাল দুধ তৈরি করতেন। নকল ননি তৈরি করার জন্য আধা লিটার নিম্নমানের পাম অয়েলের সঙ্গে আধা লিটার ভালো দুধ মিশিয়ে ব্লেন্ডারে ব্লেন্ড করা হতো।
গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বেড়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস এম ফেরদৌস ইসলামের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত গতকাল সোমবার সকাল নয়টার দিকে আমিরুলের কারখানায় অভিযান চালান। আদালত সেখানে নয়টি ক্যান (প্রতি ক্যানে ৪০ লিটার) ও তিনটি প্লাস্টিকের ড্রামভর্তি (প্রতিটিতে ২০ লিটার) ভেজাল দুধ পান। এ ছাড়া সেখান থেকে প্রায় ২৫ লিটার পাম অয়েল, দুটি ব্লেন্ডার, দুধ থেকে ননি বের করার দুটি মেশিন উদ্ধার করা হয়। ভেজাল দুধ ঘটনাস্থলে নষ্ট করা হয়। অন্যান্য সামগ্রী আটকে থানায় সোপর্দ করা হয়।
গত বছরের ১১ ডিসেম্বর ভ্রাম্যমাণ আদালত আমিরুল ইসলামের কারখানায় অভিযান চালিয়ে প্রচুর ভেজাল দুধসহ দুধ তৈরির উপকরণ জব্দ করেন।
ভ্রাম্যমাণ আদালতে অন্যান্য কর্মকর্তার মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ফজলুল হক ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্যানিটারি ইন্সপেক্টর আবদুস সালাম।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস এম ফেরদৌস ইসলাম বলেন, যে জায়গাটিতে ভেজাল দুধ তৈরির কারখানা স্থাপন করা হয়েছিল, সেখানে গাড়িতে তো দূরের কথা, হেঁটে পৌঁছানোও কঠিন। ফলে সেখানে পৌঁছানোর আগেই কারখানার লোকজন পালিয়ে যান। তবে তাঁদের ধরা না গেলেও এ ব্যাপারে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বেড়া ও সাঁথিয়া উপজেলাসহ পাবনার কয়েকটি উপজেলা থেকে পাঁচ-ছয়টি দুগ্ধ প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠান দুধ সংগ্রহ করে থাকে। দুধে কী পরিমাণ ননি আছে, তার ওপর ভিত্তি করেই প্রতিষ্ঠানগুলো দুধের মান ও দাম নির্ধারণ করে। এই সুযোগে অসাধু দুধ ব্যবসায়ীরা আসল দুধের সঙ্গে নকল ননিযুক্ত ভেজাল দুধ মিশিয়ে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে সরবরাহ করে থাকে বলে অভিযোগ রয়েছে। রমজান মাস ও ঈদুল ফিতর সামনে রেখে সম্প্রতি বেড়া ও সাঁথিয়া উপজেলায় ভেজাল দুধের উৎপাদন ব্যাপক বেড়ে গেছে। এ নিয়ে গত শনিবার প্রথম আলোয় একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ছাপা হয়।
![]() |
| ভ্রাম্যমাণ আদালত গতকাল পাবনার ফরিদপুর উপজেলার ডেমরা গ্রামে অভিযান চালিয়ে নকল দুধ ও ঘি জব্দ করেন। পরে সেগুলো কারখানার আঙিনা ও আশপাশের পুকুরে ফেলে দেওয়া হয় l ছবি: প্রথম আলো |
ইউএনও শাহ মোমিন বলেন, দাম ও চাহিদা বাড়ায় একশ্রেণির ব্যবসায়ী নকল দুধ ও ঘি তৈরি শুরু করেছে। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ডেমরা গ্রামের রবিউল হোসেনের কারখানায় ভেজাল দুধ ও ঘি তৈরির প্রায় আড়াই লাখ টাকার ছানা, নাগ ডেমরা গ্রামের মুকুল হোসেনের কারখানার প্রায় ৩ লাখ টাকার ছানা, গোলকাটা গ্রামের জুয়েল ঘোষের কারখানায় দুধের ননির পানিতে পোকা ও তেলাপোকাসহ কীটপতঙ্গ পাওয়ায় কারখানার সকল মালামাল, নবঘোষের কারখানায় অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে ছানা সংরক্ষণ করায় সকল মালামাল এবং রতনপুর গ্রামের সুমন ঘোষের কারখানার সব দুগ্ধজাত পণ্য বাজেয়াপ্ত এবং কারখানাগুলো সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে। এসব কারখানার মালিকেরা পালিয়ে যান।
তবে নকল ঘি তৈরির সময় হাতেনাতে ধরা পড়ায় দুলাল ঘোষের কারখানা থেকে ৫০ কেজি ঘি বাজেয়াপ্ত এবং কারখানাটি সিলগালা করে ১ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।
অভিযান চলাকালে উপজেলার গোলকাটা গ্রামের নবঘোষের স্ত্রী লক্ষ্মী রানী ঘোষ বলেন, ‘আমরা নকল ঘি তৈরি করি না। ঘি তৈরির পর যে উচ্ছিষ্ট থাকে, সেই থেকে আবার ঘি বাইর হয়। এ জন্যি উচ্ছিষ্ট রাখি দেই।’
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ভারতের সঙ্গে চলমান বাণিজ্য বৈষম্য শিগগিরই দূর হবে না -সংসদে বাণিজ্যমন্ত্রী
একই প্রশ্নের জবাবে তোফায়েল আহমেদ বলেন, ভারত-চীন ও পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে। তবে এ বাণিজ্য ঘাটতিতে বাংলাদেশের তেমন ক্ষতি হচ্ছে না। মন্ত্রী বলেন, ভারতের সঙ্গে প্রধান বাণিজ্য ঘাটতি তৈরি পোশাকে। তবে ভারতের বাজারে আমাদের তৈরি পোশাক রপ্তানি করেন না ব্যবসায়ীরা। কারণ তাদের বাজারে তৈরি পোশাক এতো বেশি উৎপাদন হয় যে আমাদের তৈরি পোশাক সেখানে রপ্তানি করা লাগে না।
মন্ত্রী বলেন, বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে সার্কভুক্ত দেশ ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়ানোর লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার ২০১১ সালের ৯ নভেম্বর ভারত থেকে বাংলাদেশকে তামাক ও মদ জাতীয় পণ্য ব্যতীত সব পণ্যের ক্ষেত্রে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকারের সুযোগ দেয়া হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে ও বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনার মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের মধ্যকার শুল্ক ও অশুল্ক বাধা দূরীকরণের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। সাউথ এশিয়ান ফ্রি ট্রেড এরিয়ার (সাফটা) আওতায় অন্য সার্কভুক্ত দেশ থেকে বহু পণ্যের শুল্কুমুক্ত সুবিধা পাওয়ার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
মন্ত্রী আরো বলেন, ভারতে রপ্তানি বাড়ানোর লক্ষ্যে ভারতের গৌহাটি, কলকাতা, নয়াদিল্লী, শিলচর, মুম্বাই, রাঁচি ও ভুবনেশ্বরে বাংলাদেশি পণ্য সম্ভার পরিচিত করার জন্য নিয়মিতভাবে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় অংশ নেয়া হচ্ছে। সার্কভুক্ত অন্য দেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায়ও নিয়মিতভাবে অংশ নেয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে।
এ কে এম শাহজাহান কামালের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, ২০১৪-১৫ অর্থবছরের জুলাই-মে সময়ে রপ্তানির পরিমাণ ২৮ হাজার ১৪৪ দশমিক ৩৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। আর চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত আমদানির পরিমাণ ৩১ হাজার ৯৬৭ দশমিক ৯৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। ভবিষ্যতে রপ্তানি আয় বৃদ্ধির জন্য সরকার নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বিশ্ব বাণিজ্য ব্যবস্থায় বাংলাদেশের রপ্তানি প্রবৃদ্ধিকে সুসংহত ও টেকসই রাখার পাশাপাশি সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকান্ডকে গতিশীল, বহির্মুখীকরণ ও রপ্তানি বাণিজ্য সম্প্রসারণের লক্ষ্যে প্রতি তিন বছর অন্তর রপ্তানি নীতি তৈরি করা হয়। ত্রিবার্ষিক রপ্তানি নীতি ২০১৫-২০১৮-এর খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। দেশের রপ্তানি বাণিজ্যকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে অধিক সংখ্যক পণ্যকে ভর্তুকি ও নগদ সহায়তার আওতায় আনার বিষয়টি বিবেচনাধীন রয়েছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের রপ্তানি বাজারকে সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ইউরোপ, আমেরিকা, কানাডা ছাড়াও অস্ট্রেলিয়া, জাপান, হংকং, ভারত, চীন, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, রাশিয়া, সিআইএসভুক্ত বিভিন্ন দেশ, দক্ষিণ কোরিয়া, ব্রাজিলসহ নতুন নতুন বাজারে অনুষ্ঠিতব্য আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় অংশগ্রহণ করা হচ্ছে। এ ছাড়া কোন কোন দেশে বাংলাদেশি পণ্যের একক প্রদর্শনীর আয়োজন করা হচ্ছে। মন্ত্রী বলেন, বিদেশে নতুন নতুন বাজার অন্বেষণের লক্ষ্যে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধির সমন্বয়ে বাণিজ্যক মিশন পাঠানো হচ্ছে। পণ্য পরিচিতি ও বহুমুখীকরণের জন্য প্রতি বছর জানুয়ারিতে এক মাসব্যাপী ঢাকায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার আয়োজন করা হয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানসমূহ এ মেলায় অংশগ্রহণ করায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রপ্তানি আদেশ পাওয়া যায়। একই সাথে পণ্য পরিচিত বৃদ্ধি পায়।
তোফায়েল আহমেদ বলেন, সিঙ্গাপুর ও দক্ষিণ কোরিয়ায় বাণিজ্যিক মিশন খোলা হয়েছে। এ ছাড়া তুরস্ক, চীন এবং দক্ষিণ আফ্রিকায় কমার্শিয়াল উইং খোলার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। বর্তমান সরকারের প্রচেষ্টায় ইউরোপিয়ানভুক্ত সকল দেশ, ভারত, জাপান, চীন অস্ট্রেলিয়া, কানাডা ইত্যাদি দেশে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাওয়া গেছে। বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন দেশের সাথে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি সম্পাদনের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
ফরমালিনের অপব্যবহার রোধে আমদানি নিয়ন্ত্রণ
নিজাম উদ্দিন হাজারীর এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, মানব দেহের জন্য ক্ষতিকর ফরমালিনের অপব্যবহার রোধে ফরমালিন আমদানিতে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে। ইতিপূর্বে ফরমালিন অবাধে আমদানিযোগ্য হলেও বর্তমানে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ব্যতিরেকে বিদেশ থেকে ফরমালিন আমদানি বন্ধে ২০১৪ সালের ১৩ আগস্টে এস আর ও জারি করা হয়েছে। এ ছাড়া ফরমালিনের অপব্যবহার রোধে ফরমালিন নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৫ প্রণয়ন করা হয়েছে এবং এ সংক্রান্ত বিধিমালা জারির বিষয়টিও বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
তোফায়েল আহমেদ বলেন, ফলমূলসহ খাদ্যদ্রব্যে কেমিক্যালের অপব্যবহার রোধে হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী ২০১৫ সালের ১ জানুয়ারিতে বিভিন্ন কেমিক্যালের মাধ্যমে ফল পাকানো বন্ধকরণে গাইডলাইন প্রণয়ন করা হয়েছে। নিরাপদ খাদ্য গাইডলাইনটি বাস্তবায়ন ২০১৫ থেকে শুরু হয়েছে। এছাড়া রাসায়নিক জাতীয় দ্রব্যাদি আমদানির ক্ষেত্রেও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। খাদ্যদ্রব্যে ফরমালিন ও রাসায়নিক ব্যবহারের বিরুদ্ধে নিয়মিত ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ- অভিযোগ গুরুতর, তদন্ত হবে কী?
২০১৩-১৪ ও ২০১৪-১৫ অর্থবছরে কাবিখা ও কাবিটা কর্মসূচির অর্থে চারটি সড়কের কাজ হাতে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কাজ না হলেও সব টাকা তুলে নিয়ে গেছেন সাংসদ পিনু খান ও তাঁর ঘনিষ্ঠ লোকেরা। বরাদ্দের ১৩ লাখ ৮৭ হাজার টাকা ও ৫০ মেট্রিক টন গম নির্ধারিত কাজে ব্যয় না করে তিনি কী করেছেন, তা জানা দরকার। পিনু খান একাধারে আওয়ামী লীগের সাংসদ ও মহিলা আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক। সুতরাং তিনি কোনো অপকর্মে জড়িয়ে পড়লে এর দায় সরকার ও ক্ষমতাসীন দল—উভয়ের ওপরই বর্তায়। পিনু খানের পুত্র নেশাগ্রস্ত অবস্থায় দুই শ্রমজীবীকে হত্যার দায়ে বিচারের মুখোমুখি। সপরিবারে এত দুর্নীতি ও অনাচারে জড়িত থাকার অভিযোগ যাঁর বিরুদ্ধে, কী করে তিনি সাংসদ ও দলের পদে বহাল থাকছেন? পিনু খানের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত প্রয়োজন।
কাবিখা ও কাবিটার প্রচলন হয়েছিল তৃণমূলে একই সঙ্গে অবকাঠামো উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে। কিন্তু দেখা যায় এটাই হয়ে উঠেছে সাংসদ থেকে শুরু করে উপজেলা ও ইউনিয়ন চেয়ারম্যান এবং তৃণমূল প্রশাসনের দুর্নীতির অন্যতম ক্ষেত্র। এই দুর্নীতি বন্ধ করতে না পারলে যে প্রান্তিক মানুষের জন্য উন্নয়ন কর্মসূচি, তা থেকে তাঁরা যেমন বঞ্চিত হবেন, তেমনি ব্যাহত হবে দেশের সামগ্রিক উন্নয়নও।
স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, ২০১৩-১৪ ও ২০১৪-১৫ অর্থবছরে কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা) ও কাজের বিনিময়ে টাকা (কাবিটা) কর্মসূচির টাকায় দুটি নতুন সড়কসহ মোট চারটি সড়কের কাজ হাতে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেখানে কাজ করা হয়নি। সব টাকাই তুলে নিয়ে গেছেন স্থানীয় সাংসদ পিনু খান ও তাঁর ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিরা।
মহিলা আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির এই ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সম্প্রতি আলোচিত হয়েছেন জোড়া খুনের ঘটনায়। তাঁর ছেলে বখতিয়ার আলম রনি নেশাগ্রস্ত অবস্থায় রাজধানীর নিউ ইস্কাটনে গুলি করে দুই শ্রমজীবী মানুষকে খুন করেছেন। মামলা তদন্তে তিনি প্রভাব খাটিয়েছেন বলে অভিযোগ আছে। সাংসদ নিজেও সন্তানকে ছাড়িয়ে নিতে বিভিন্ন মহলে চেষ্টা-তদবিরও করছেন।
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে সাংসদ পিনু খান গত শনিবার প্রথম আলোকে বলেন, প্রকল্পের সব কাজই তো হয়েছে। আর এ কাজ দেখার জন্য প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি ও বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আছেন। অতিবৃষ্টিতে রাস্তা কাদা হয়ে যাওয়ায় এমন অভিযোগ উঠতে পারে। পিনু খান তাঁর সন্তানকে বাঁচাতে প্রভাব খাটানোর কথাও অস্বীকার করে বলেন, তিনি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আইন তার গতিতে চলছে।
ঢাকার জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্র জানায়, সংরক্ষিত মহিলা আসন-২৩-এর সাংসদ (দোহার-নবাবগঞ্জের দায়িত্ব) পিনু খান গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কারকাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচির (কাবিখা ও কাবিটা) আওতায় ঢাকা জেলার দোহার-নবাবগঞ্জে চারটি রাস্তা নির্মাণ, সংস্কার ও দুটি সোলার প্যানেল স্থাপনে ১৩ লাখ ৮৭ হাজার টাকা ও ৫০ মেট্রিক টন গম বরাদ্দ পান।
প্রথম আলোর অনুসন্ধান ও সরেজমিনে দেখা গেছে, রাস্তা নির্মাণ-সংস্কার এবং সোলার প্যানেল বসানোর পুরো টাকা তুললেও কোনো কাজ করা হয়নি। এর মধ্যে দোহারে সড়কের কাজ গত বছরের ৩০ জুন এবং নবাবগঞ্জের সড়কের কাজ চলতি বছরের ৩০ জুনের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা।
২০১৪ সালের জুনে দোহারের উত্তর জয়পাড়ায় হাকিমের বাড়ির মাথা থেকে হরমুজ আলী এবং মতি মোল্লার জমি থেকে চকের রাস্তা পর্যন্ত সড়ক নির্মাণ ও সংস্কারের জন্য সাংসদ পিনু খান ৫ লাখ ৯৩ হাজার ৫০০ টাকা বরাদ্দ পান। গত ২১ জুন দোহারের উত্তর জয়পাড়া এলাকায় গিয়ে কোনো রাস্তা দেখা যায়ানি। নিচু জায়গায় ধঞ্চেগাছ, বড় বড় ঘাস ও আগাছা জন্মেছে। অথচ প্রকল্পের নথিপত্র অনুযায়ী সেখানে গাড়ি চলার উপযোগী এক নম্বর ইটের সলিং করা ২০ ফুট চওড়া রাস্তা করার কথা। এই রাস্তার ভাঙন রোধে নিরাপত্তা দেয়াল তৈরিরও কথা ছিল।
উত্তর জয়পাড়ার মোশারফ হোসেন বলেন, কাজ না করেই পিনু খান ও তাঁর লোকজন বিল তুলেছেন। তাঁর জমির ওপর দিয়ে কথিত রাস্তা দেখিয়ে টাকা তুলে মেরে দিয়েছেন তাঁরা।
এর পাশেই দোহারের উত্তর জয়পাড়ায় খুদি মুনশি ও বাদশার বাড়ি থেকে মহিউদ্দিনের বাড়ি পর্যন্ত সড়ক নির্মাণ ও সংস্কারে ২০১৪ সালের জুনে পিনু খানের অনুকূলে কাবিখার আওতায় রাস্তা নির্মাণে ৫ লাখ ৯৩ হাজার ৫০০ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। কাগজপত্রে সেখানে ইটের সলিং করে ২০ ফুট রাস্তা থাকার কথা। এ ছাড়া গজারি কাঠ ও ড্রামশিট গেঁথে রাস্তা রক্ষাকারী দেয়াল নির্মাণের শর্ত ছিল। কিন্তু সরেজমিনে রাস্তায় ইট ফেলার কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। রাস্তাটির প্রস্থ ছয় ফুটের মতো। সেখানে দু-একটি বাঁশ ও কড়ইগাছের ডাল দিয়ে নামমাত্র নিরাপত্তা প্রাচীর করা হলেও বর্ষা শুরু হওয়ার আগেই তা ভেঙে গেছে। ওই সড়ক দিয়ে যানবাহন চলাচল দূরের কথা, একসঙ্গে কয়েকজন হেঁটে চলাও কষ্টকর।
স্থানীয় বাসিন্দা হৃদয় হোসেন বলেন, ইটের সলিং করা তো দূরের কথা, এখানে অল্প কিছু বালু ফেলা হয়েছে। একটু বৃষ্টিতেই রাস্তা দিয়ে চলাচলের অবস্থা থাকে না। বর্ষায় রাস্তা হাঁটুপানিতে ডুবে যায়। এলাকার অন্তত ১০ জন বাসিন্দা প্রথম আলোকে বলেন, সাংসদ পিনু খান ও দোহার উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান (বর্তমান ঢাকা জেলার ভাইস চেয়ারম্যান) আনারকলি ওরফে পুতুল কাজ না করে এসব টাকা আত্মসাৎ করেছেন।
পাঁচজন করে সদস্য নিয়ে দুটি প্রকল্পের বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি ছিলেন দোহার পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. আলমাছ উদ্দিন। তিনি দোহার উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক। আওয়ামী লীগের এই নেতা প্রথম আলোকে বলেন, দোহার উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আনারকলি ওরফে পুতুলের অনুরোধে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার এক দিন আগে তাঁকে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি করা হয়। তিনি বলেন, ‘প্রকল্প নিয়ে আসলে আমার কিছুই করার ছিল না। কাজ করার শর্তেই তাঁকে টাকা তোলার অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।’
অভিযোগের বিষয়ে আনারকলি দাবি করেন, বছর দেড়েক আগে উত্তর জয়পাড়ায় দুটি রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু বৃষ্টির পানিতে তা ধুয়ে গেছে। ইটের সলিং করে রাস্তা করার কথা ছিল না। কিন্তু পিআইও কাজে ইটের সলিংয়ের রাস্তা করার শর্ত জুড়ে দেন।
দোহার উপজেলার পিআইও মো. হাবীব উল্লাহ মিঞা বলেন, প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার কয়েক দিন আগে সংসদ পিনু খানের প্রভাব খাঁটিয়ে তাঁর লোকজন বিল তুলে নেন। প্রকল্পের কাজ শেষ করবেন বলেও প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন পিনু খানের লোকজন।
সরেজমিন নবাবগঞ্জের চার প্রকল্প: নবাবগঞ্জের ঝনঝনিয়া কবরস্থান থেকে শোল্লা ভবেশের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা পুনর্নির্মাণে সাংসদ পিনু খানের অনুকূলে কাবিখা কর্মসূচির আওতায় ২০ মেট্রিক টন গম বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর বাজারমূল্য চার লাখ টাকা। তবে সেখানে কোনো রাস্তা খুঁজে পাওয়া যায়নি। প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ খেত। এই জমিতে ধান চাষ করা হয়।
নবাবগঞ্জের শোল্লার নকুমুদ্দিনের বাড়ি থেকে বোয়ালি কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ পর্যন্ত রাস্তা পুনর্নির্মাণে কাবিখার আওতায় গত ২৫ মে পিনু খানের অনুকূলে ২০ মেট্রিক টন গম বরাদ্দ দেওয়া হয়। সেখানেও দেখা গেল এক কিলোমিটার দীর্ঘ কাঁচা রাস্তায় বেশির ভাগ অংশ খানাখন্দে ভরা।
পশ্চিম শোল্লার জামে মসজিদ, বোয়ালি কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ ও ঝনঝনিয়া কালীমন্দিরে সোলার প্যানেল নির্মাণে গত ২৫ মে পিনু খানের অনুকূলে কাবিখার আওতায় ১০ টন গম বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু ঝনঝনিয়ায় গিয়ে কালীমন্দির খুঁজে পাওয়া যায়নি। গ্রামের বাসিন্দা রতন সরকারের বাড়িতে একটি লক্ষ্মীমন্দিরের খোঁজ মেলে। তবে বোয়ালি কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে কিছুদিন আগে সোলার প্যানেল বসানো হয়েছে।
দক্ষিণ শোল্লা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সোলার প্যানেল স্থাপনে পিনু খানের নামে কাবিটার আওতায় দুই লাখ টাকা বরাদ্দ হয়। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জহির উদ্দিন জানান, রোজার আগে স্কুলে সোলার প্যানেল স্থাপনের কথা শুনেছেন, কিন্তু এখনো স্থাপন করা হয়নি।
কাজ না করে টাকা তুলে নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে নবাবগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. হাবীবউল্লাহ প্রথম আলোকে বলেন, ‘কাজ হয়েছে কি না, তা তদারক করতে যাওয়ার সুযোগ হয়নি আমার। তা ছাড়া এমপি যেভাবে চান, সেভাবেই আমাদের চলতে হয়।’
নবাবগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাজিবুল আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, সাংসদ পিনু খান তাঁর প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছেন কি না, সে বিষয়ে সরেজমিনে পরিদর্শন করা হবে।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1330)
- ► 2025 (3280)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
-
▼
2015
(11541)
-
▼
July
(1347)
-
▼
Jul 08
(60)
- স্বস্তির সময়ে ‘বিশেষ আইন’ কেন? by এ কে এম জাকারিয়া
- বিভক্তির কবলে বিশ্বাস by উৎপল রায়
- খালি খালি গুজব রটেনি
- ইউরোজোনের নেতারা বললেনঃ গ্রিসের সর্বশেষ প্রস্তাবে ...
- বি. চৌধুরীকে ঠেকাতে মরিয়া জামায়াত by কাজী সুমন
- ওবামাকে খুন করা সাংবিধানিক দায়িত্ব
- ইরাক বাহিনীর বাগদাদ হামলা!
- থাইল্যান্ডে স্বৈরশাসনে পাল্টে গেছে গান গাওয়ার ধরন!
- ফাঁড়া কাটলেও ফাঁস নামেনি
- জোড়া শতকে জয় দেখছে পাকিস্তান
- আসছে তিন তারকার ব্ল্যাকমানি
- সংযুক্তি চাই পানিরও -বিশেষ সাক্ষাৎকারে : আমীর খসর...
- নাজিব রাজাকের দুর্নীতির ৯টি ডকুমেন্ট প্রকাশ
- গাফফারের বিচার ও নাগরিকত্ব বাতিলের দাবি আল্লামা শফীর
- ‘বিচার করা যাবে, অপমান করার অধিকার নেই’ -মুক্তিযোদ...
- দেশ-জাতির স্বার্থেই রেলকে চাঙ্গা করা জরুরি by সৈয়দ...
- আবারও সাংসদদের ইচ্ছাপূরণের প্রকল্প
- ভেজাল দুধের ৯টি কারখানা বন্ধ
- ভারতের সঙ্গে চলমান বাণিজ্য বৈষম্য শিগগিরই দূর হবে ...
- প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ- অভিযোগ গুরুতর, তদন্ত হবে কী?
- সালাউদ্দিন কাদেরের চূড়ান্ত রায় ২৯শে জুলাই
- সিলেট নগরে অবৈধ যানে যানজট প্রকট
- ঋণদাতাদের কঠিন শর্ত প্রত্যাখ্যান করল গ্রিস: সামনের...
- তহবিল শূন্য করে গেছেন প্রশাসকেরা by শরিফুজ্জামান
- টক শো নিয়ে ‘শো টক’
- ৮ মাস পর চিঠি পৌঁছালো স্পিকারের দপ্তরে
- পুরনো যান নতুন মোড়কে
- শিশুর জন্মসনদে বাবার নাম বাধ্যতামূলক নয়
- যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত খুনি কামালের সাজা মাফের প্রক...
- সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা: লাখ টাকার আমদানি বাঁচে ৫...
- বুয়েট ক্যানটিনে ছাত্রলীগের চাঁদা দাবি! by কাজী আনিছ
- ১১৪ গোল খাওয়ার পর আকুতি, ‘আমাদের বাঁচাও!’
- টালমাটাল বিশ্ব পুঁজিবাজার
- ভূমিকম্পের আগাম সংকেত দেবে মুরগি-মাছ
- ছিটমহলে সমীক্ষা চলবে ১১ই জুলাই পর্যন্ত
- সেলফি তুলতে গিয়ে মৃত্যু
- ঈদকে সামনে রেখে বেনারসি পল্লীর শ্রমিকদের নির্ঘুম র...
- ফ্রান্স–জার্মানির চাপেই কাতারে বিশ্বকাপ?
- সুন্দরবনে বাঘ কমেছে ৬৯ শতাংশ
- ভৈরবের পাদুকা ব্যবসা: ঈদ মৌসুমে পৌনে ৪০০ কোটি টাকা...
- সচিবের ‘গলা ধাক্কার অপমান’ সইতে না পেরে মুক্তিযোদ্...
- বোমারু বিমানের কারিগরি সমস্যায় গেল ৮ প্রাণ
- গঙ্গাচড়া বেনারসি পল্লী খুট খুট শব্দে মুখরিত by আব্...
- মৌলভীবাজারে কিরণমালা পিকো, মন্টু ও পাটলুর দাপট by ...
- বিশ্ব মন্দা অনিবার্য
- আট দিনেও খোঁজ মেলেনি বিধ্বস্ত যুদ্ধবিমানের পাইলট ...
- ইফতারে মজাদার চিকেন কোরমা পিঠা
- দক্ষিণ চীন সাগর নিয়ে ফিলিপাইনের মামলা- জাতিসংঘ ট্...
- হাসপাতাল ব্যবস্থাপনার মান আশানুরূপ নয়: স্বাস্থ্যমন...
- ফ্রান্স চায় না গ্রিস ইউরোজোন ছাড়ুক
- সবচেয়ে বয়স্ক পুরুষের মৃত্যু
- সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে আবারো নাজমুল হুদার রূপরেখা
- হবিগঞ্জে বাজার চড়া, তারপরও...
- ‘সিপি গ্যাং’-এর অ্যাডমিন গ্রেপ্তার
- টিউলিপকে হারাতে খালেদাপুত্র সব চেষ্টাই করেছে
- গ্রিসের কাছ থেকে নতুন প্রস্তাব চায় ঋণদাতারা
- দ্বিতীয় খেলাতেও হার বাংলাদেশের by ইশতিয়াক পারভেজ
- তিন আফ্রিকানের নাগরিকত্ব: সিদ্ধান্ত থেকে সরে এল বা...
- বিশ্বকাপ নিয়ে ভাবতে হচ্ছে এখনই by রানা আব্বাস
- নাইজেরিয়া ও কেনিয়ায় ‘জঙ্গি হামলায়’ নিহত ৩৯
-
▼
Jul 08
(60)
-
▼
July
(1347)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...


















