Tuesday, May 30, 2017

‘পাকিজা’খ্যাত অভিনেত্রীর দুর্বিষহ জীবন

মায়ের চাইতে পৃথিবীতে আপন কেউ নেই। কিন্তু মাঝেমধ্যে সন্তানদের কাছ থেকে এই বাস্তবতার মিল খুঁজে পাওয়া যায় না। তেমনই একটি ঘটনা ঘটলো এক ভারতীয় অভিনেত্রীর জীবনে। এক সময়ের নিয়মিত অভিনেত্রী গীতা কাপুর। তাকে হাসপাতালে রেখে পালিয়ে গেছেন তারই ছেলে। বর্তমানে হাসপাতালেই দুর্বিষহ দিন কাটাচ্ছেন ওই অভিনেত্রী। হৃদয়বিদারক এ ঘটনা নিজ মুখেই সংবাদমাধ্যমের কাছে জানিয়েছেন গীতা। রক্তচাপ কমে যাওয়ায় ২১শে এপ্রিল গীতাকে তার ছেলে ভারতের গোরেগাওয়ের এসআরভি হাসপাতালে ভর্তি করান। রাজা তার মা গীতাকে এটিএম বুথ থেকে টাকা তুলবেন বলে বের হন। কিন্তু আর ফেরেননি। মাকে এখানে ফেলে রেখেই নিরুদ্দেশ হয়ে যান। সেই তখন থেকে হাসপাতালেই রয়েছেন গীতা। পরে অনেকভাবে রাজার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন হাসপতাল কর্তৃপক্ষ। এরপর পুলিশে জানান বিষয়টি। তারপরেই খবরটি জানাজানি হয়ে যায়। একটি চ্যানেলকে দেয়া সাক্ষাৎকারে গীতা জানান, বেশ কিছু ছবিতে কাজ করেছি আমি। ‘পাকিজা’র মতো বিখ্যাত ছবিতেও কাজ করা হয়েছে আমার। কিন্তু পরিবার থেকে অবহেলা ছাড়া কিছুই পাইনি। ছেলে রাজা আমাকে রোজই মারধর করতো। কয়েকদিন পর পর খাবার দিতো। ঘরের মধ্যে আটকেও রাখতে। আমি বৃদ্ধাশ্রমে যেতে চাইনি। সে কারণেই পরিকল্পনা করে আমাকে হাসপাতালে ভর্তি করায় সে।

জনগণ আমাদের বিরোধী দল মনে করে না: ফিরোজ রশীদ

সংসদে নিজ দলের ভূমিকা নিয়ে আবারো ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জাতায় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশিদ। তিনি বলেছেন, জনগণ আমাদের বিরোধী দল মনে করে না। মনে করবেই বা  কি করে? আমরা কথা বলতে পারি না। আমি ১৭ অনুচ্ছেদের কারণে  নিজ দলের  বিপক্ষে ভোট দিতে পারি না। তিনি বলেন, সরকার হিমালয়ের উপরে উঠে যদি মনে করে আকাশ খুব কাছে। আসলে আকাশ তো কাছে না। সরকার মনে করছে জনগণ খুব কাছের, আসলে জনগণ তো কাছের না। জনগণ কারও না। জনগণ এইগুলো দেখে। দেখে একজনকে বেছে নেয়। সামনে নির্বাচন। তিনি আরও বলেন, দেশের কোথাও সুশানের ইঙ্গিত পাচ্ছি না। এটা কিসের আলামত? আমরা চুপ করে  থাকি। আমার কথা কম বলি। আমাদের বিরোধী দল বলেন, আর সরকার বলেন। আমাদের কি মনে করেন আমরা জানি না। জনগণ আমাদের বিরোধী দল মনে করেন না। এখানে আমার নেত্রী বসা আছেন, আমি বেশী কিছু বলতে চাই না। আপনি (স্পিকার) আমাদের কি মনে করেন সেটাই আমাদের প্রশ্ন। জনগণ আমাদের বিরোধী দল মনে করে না, কারণ আমরা কথা বলতে পারি না। মঙ্গলবার সংসদের ১৬তম অধিবেশনে অনির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিয়ে এভাবেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। তিনি বলেন, ব্যাংকের শত শত কোটি টাকা লুট হয়ে গেল? কোন কিছু বের করতে পারলো না। ব্যাংকের ওপর মানুষের কোনো বিশ্বাস নেই। একদিন পরেই বাজেট আসছে। এই যে ঘাটতি? এই ঘাটতি জনগণ কেনো মিটাবে। এই টাকাতো জনগণের টাকা। কারা লুটপাট করছে। কারা এজন্য দায়ী। আজ পর্যন্ত তার কোনো হিসাব পেলাম না। আমরা কথা বলি অর্থমন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী থাকেন না। আমাদের কথা আকাশ শোনে, জনগণ শোনে। তিনি বলেন, ব্যাংকের ভয়াবহ অবস্থা। কৃষি ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, সোনালী ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, অগ্রণী, রূপালী ব্যাংক। এছাড়া মূলধন ঘাটতির তালিকায় আইসিবি ইসলামী ব্যাংকের নাম রয়েছে।  এসব ব্যাংকের মূলধন নেই। ব্যাংক চলবে কি করে? কাজী ফিরোজ রশিদ বলেন, ক্ষমতায় থাকলে দুটি জিনিসের অভাব হয় না। উপদেশ দেয়া আর চাটুকার তোষামদকারী এবং বাঁশ দেয়া। দেশে গণতন্ত্র চলছে। অবাধ গণতন্ত্র যে যা ইচ্ছা বলতে পারছেন। কিন্তু আসল ঘটনা কি সুশাসন আছে? কোথাও সুশাসন নাই। সুশাসন থাকলে এই অরাজকতা চলতো না। আজ সর্বক্ষেত্রে অরাজকতা। আমরা যাব কোথায়। এই সংসদে যা কিছু বলতে পারি বাইরে তার থেকেও কম বলি। তিনি বলেন, আজ বাংলাদেশ ব্যাংক যে প্রতিবেদন দিয়েছে সেটা ভয়াবহ। অর্থনীতির জন্য অশনি সংকেত।  এই লুটপাট সরকারের পাশের লোক না হলে কেউ করতে পারে না। এখানে কেউ লুটপাট করতে পারে না।  এখন কথায় কথায় বলে আমরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী। যেখানে যাবেন শধু চেতনা জাগে। সরকার ক্ষমতায় আসলেই এসমস্ত লোকের চেতনা জাগে। চেতনার অভাব হয় না। সরকারকে পরামর্শ দেয়া, বাঁশ দেয়ার লোকের অভাব হয় না। সমস্ত টাকা কুক্ষিগত করছে একটি মহল। ভিওআইপি’র নামে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার হয়েছে।

শুভশ্রীকে ফ্ল্যাট থেকে বের করে দিলেন রাজ!

এবার বাগদত্তা নায়িকা শুভশ্রীকে বিদায় বলেছেন টালিগঞ্জের অন্যতম পরিচালক রাজ চক্রবর্তী। জানা গেছে, শুক্রবার সকালে রাজ শুভশ্রীকে তার হাইল্যান্ড পার্কের ফ্ল্যাট থেকে একরকম বের করে দিয়েছেন। পরিচালকের ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাতে ভারতীয় গণমাধ্যম জানায়, সকালে উঠে রাজ বলেন, আমি খুব ইমোশনাল মানুষ কিন্তু তোমার সঙ্গে থাকা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। আমার নানারকম মানসিক সমস্যা হচ্ছে। আমি এই সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে যাচ্ছি। তুমিও ফ্ল্যাট ছেড়ে চলে যাও। আমার ড্রাইভার তোমায় বাড়ি ছেড়ে আসবে। এদিকে ব্রেকআপের কারণে অসুস্থ হয়ে পড়েন নায়িকা শুভশ্রী। সারারাত তাকে অক্সিজেন দিয়ে রাখা হয় বলেও জানা গেছে। তবে এমন খারাপ অবস্থাতেও শুভশ্রীকে হাসপাতালে না নেয়ার পরামর্শ দেন রাজ। কারণ আর কিছুই নয়, মিডিয়া থেকে বেঁচে থাকার চেষ্টা। মিমিকে নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই রাজ ও শুভশ্রীর মধ্যে সমস্যা চলছিল। এ কারণে অভিমানের বশে গায়ে আগুন দিয়ে সুইসাইড করতে চেয়েছিলেন শুভশ্রী। আর রাজের সঙ্গে ব্রেক আপের কষ্ট সহ্য করতে না পেরে ঘুমের ঔষুধ খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন মিমি। এর আগে দেবের সঙ্গে ব্রেকআপের পরেও শুভশ্রী অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। শোনা গিয়েছিল সে সময়ও আত্মহত্যা করতে চেয়েছিলেন শুভশ্রী। সবচেয়ে বড় কথা হলো জানুয়ারিতে পিসি চন্দ্র গার্ডেনে রাজ-শুভশ্রীর বিয়ের কথা ছিল। তবে এখন আর সেটা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন না এই জুটির ঘনিষ্ঠজনরা। ‘রাজকাহিনী’র সানাইয়ের আওয়াজ যেন ক্রমেই দূরে সরে যাচ্ছে।

ইমরানকে ‘কুত্তার মতো’ পেটানোর হুমকি ছাত্রলীগ নেতার

গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকারকে ‘কুত্তার মতো’ পেটানোর হুমকি দিয়েছেন ছাত্রলীগ নেতারা। হেফাজতে ইসলামের দাবি মেনে সুপ্রিম কোর্ট থেকে ভাস্কর্য সরানোর প্রতিবাদে গণজাগরণমঞ্চের নেতাকর্মীদের মিছিল থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে স্লোগান ওঠায় সোমবার রাতে শাহবাগের জাতীয় জাদুঘরের সামনে এক বিক্ষোভ সমাবেশে ছাত্রলীগ নেতারা এ হুমকি দেন। এর আগে একটি মিছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে শাহবাগে গিয়ে শেষ হয়। মিছিল ও মিছিল পূর্ব সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির শিক্ষ ও পাঠচক্র বিষয়ক সম্পাদক গোলাম রব্বানী। তিনি বলেন, ইমরান এইচ সরকারকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আশেপাশে যেখানে পাওয়া যাবে সেখানে কুত্তার মতো পিটিয়ে ক্যাম্পাস ছাড়া করা হবে। একই সঙ্গে ইমরান এইচ সরকার ও তার ‘গংদের’ বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদোহীতার মামলা করারও হুমকি দেন তিনি। গোলাম রব্বানী বলেন, আমাদের নেত্রী ও ছাত্রলীগের বদন্যতায় ইমরানকে আমরা তার প্রাপ্য যোগ্যতার চেয়ে অনেক উপরে স্থান দিয়েছিলাম ভাই হিসেবে। কিন্তু এই বেঈমান কুত্তার ..... আমাদের মাকে নিয়ে আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে যে কটূক্তি করেছে তার জন্য কোনো ছাড় নয়। তার স্পর্ধা বেড়ে গেছে। তাই আর কোনো ছাড় নয়। তার বিরুদ্ধে এবং তার গংদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদোহীতার মামলা হবে। এর আগে মিছিল থেকে ‘ইমরানের দুই গালে জুতা মারো তালে তালে’ ইমরানের চামড়া, কুত্তা দিয়ে কামড়া’ হৈ হৈ রৈ রৈ ইমরান সরকার গেলি কই’, ‘একটা একটা ইমরান ধর, ধইরা ধইরা জবাই কর’, ‘একটা একটা গং ধর, ধইরা ধইরা জবাই কর’, ‘একটা একটা সনাতন ধর, ধইরা ধইরা জবাই কর’সহ নানা সেøাগান দেয় বিক্ষুব্ধ ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার ভাস্কর্যটি সরিয়ে নেওয়ার প্রতিক্রিয়ায় ইমরান বলেছিলেন, মৌলবাদীদের তুষ্ট করতে নোংরা রাজনৈতিক খেলায় নেমেছে সরকার। আখের গোছাতে ব্যবহার করছে ধর্মকে। ভাস্কর্য সরানোর প্রতিবাদে পরদিন শাহবাগে গণজাগরণের মিছিলে ‘ছি ছি হাসিনা, লজ্জায় বাঁচি না’ সেøাগান ওঠে; ওই মিছিলে ইমরান এইচ সরকার নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। ওই সেøাগানের ভিডিও ফেইসবুকে ভাইরাল হওয়ার পর ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। তার বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে সোমবার রাতে মিছিল বের করেন সংগঠনটির এক দল নেতা-কর্মী। এসময় শিক্ষা ও পাঠচক্র বিষয়ক সম্পাদক রাব্বানী বলেন, গণজাগরণ মঞ্চের নেতা-কর্মীরা প্রকাশ্যে জনসম্মুখে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে বিদ্রুপাত্মক সেøাগান দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর মানহানি করেছেন। এসময় ইমরানের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করারও হুমকি দেয়া হয়। একই সঙ্গে সমাবেশে ইমরান এইচ সরকারকে শাহবাগে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়। প্রসঙ্গত, গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার ছাত্রলীগেরই রংপুর মেডিকেল কলেজ শাখার আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ছিলেন। তিনি শেখ হাসিনা সরকারের শিক্ষামন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য নূরুল ইসলাম নাহিদের জামাতা।

ইন্দোনেশিয়া থেকে অস্ট্রেলিয়ায় ফেরত গেলেন ‘গাঞ্জা কুইন’

ইন্দোনেশিয়ায় দোষী সাব্যস্ত অস্ট্রেলিয়ান মাদক পাচারকারী শ্যাপেল করবি ৯ বছরের কারাদণ্ড ও ৩ বছরের প্যারল শেষে নিজ দেশে ফেরত গেছেন। সাবেক এই বিউটি থেরাপিস্টকে ২০০৪ সালে বালি বিমানবন্দরে আটক করা হয়। কারণ, তার সার্ফিং গিয়ারে লুকানো অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল ৪.২ কেজি গাঁজা। পরের বছরই তার সাজা হয়। এ মামলার ফলে দুই প্রতিবেশী অস্ট্রেলিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে রাষ্ট্রীয় সম্পর্কে অবনতি ঘটে। অনেক অস্ট্রেলিয়ান করবির কড়া সাজায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তবে শ্যাপেল করবি নিজেকে সবসময়ই নির্দোষ দাবি করে এসেছেন। করবিকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর সময় শ’ শ’ পুলিশ মোতায়েন করা হয়। তার বোন মার্সিডিস তাকে সাংবাদিকদের ক্যামেরা থেকে আড়ালে রেখে গাড়িতে তোলেন। করবি নিজে পরে এক ইন্সট্রাগ্রাম ভিডিওতে গাড়ির ভেতর থেকে সাংবাদিকদের কাণ্ড ধারণ করে পোস্ট করেন। বালিতে নিজের বিরাট বাড়ি থেকে ব্রিজবেনে পাড়ি জমিয়েছেন তিনি।
বিবিসির খবরে বলা হয়, ইন্দোনেশিয়ার মাদক আইন অস্ট্রেলিয়ার চেয়ে অনেক কঠোর। ইন্দোনেশিয়ার আইনে গাঁজা ও অন্যান্য বিপজ্জনক মাদক হেরোইন ও কোকেনের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। ২০১৫ সালে, দুই অস্ট্রেলিয়ানকে ইন্দোনেশিয়ায় মাদক বহনের দায়ে ফাঁসি দেয়া হয়। তবে করবি নিজ দেশে সহানুভূতিই পেয়েছেন। অস্ট্রেলিয়ান সংবাদমাধ্যম কারাগারে করবির মানসিক অসুস্থতাসহ বিভিন্ন সংগ্রামের গল্প ফলাও করে ছাপে। তবে ইন্দোনেশিয়ায় তাকে অপরাধী হিসেবেই দেখা হয়। বালি কারাগার প্রধান সুরুং পাসারিবু বলেন, ‘আমরা প্রার্থনা করবো যাতে তিনি অনুতপ্ত হন। খোদা চান মানুষ সঠিক পথে যাক।’ উল্লেখ্য, ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের কাছে আপিলের পর করবির সাজা ৫ বছর কমানো হয়। এছাড়া ভালো আচরণের জন্য কিছুটা সাজা মওকুফ করা হয়েছে। ২০০৭ সালে তাকে নিয়ে ‘গাঞ্জা কুইন’ নামে একটি তথ্যচিত্র নির্মিত হয়।

‘সন্ত', ‘বাবা', ‘গুরু' আর ‘স্বামী'-তে ভরা ভারত

ভারতে ধার্মিক নেতাদের সংখ্যা বেড়েই চলেছে, আর সেই সঙ্গে বাড়ছে যৌন নির্যাতন থেকে শুরু করে হত্যা, সব ধরনের অপরাধের ঘটনা৷ কিন্তু এর কারণ কী?
গত সপ্তাহে দক্ষিণ ভারতের কেরালা রাজ্যে এক স্বঘোষিত ‘সাধু' এক ২৩ বছর বয়সি আইনের ছাত্রীকে ধর্ষণ করার প্রচেষ্টা করার পর, নির্যাতিত তরুণীটি ‘সাধুটির' লিঙ্গকর্তন করে৷ তথাকথিত সাধুটি গত আট বছর ধরে তরুণীটির যৌন অপব্যবহার করছিল৷ পলায়নের আর কোনো পথ না দেখে মেয়েটি নাকি এই চরম পন্থা অবলম্বন করতে বাধ্য হয়৷
ঘটনাটি ঘটে তিরুবনন্তপুরম শহরে৷ গঙ্গেশানন্দ তীর্থপদ নামের সাধুটি নাকি প্রায়ই মেয়েটির বাড়িতে আসতেন তার শয্যাশায়ী পিতাকে নিরাময় করার ছলে৷ তীর্থপদর আরেক নাম হলো শ্রীহরি৷ কেরালা রাজ্যে তার শত শত ভক্ত পরিবার ছিল৷ আজ তিনি ধর্ষণের অভিযোগের আসামী৷
যৌন কেলেংকারি বাড়ছে
হিন্দু অধ্যুষিত ভারতে সাধু-মহাত্মাদের আধিপত্য চিরকালের৷ তাদের উপর মানুষজনের অসীম বিশ্বাস৷ সেই বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে তথাকথিত ‘দৈবী মানুষরা' কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি বানিয়ে ফেলেছেন৷
বছর তিনেক আগে উত্তরের হরিয়ানা রাজ্যে রামপাল সিং যতীন নামের এক বিতর্কিত গুরুকে গ্রেপ্তার করার জন্য পুলিশকে তার সমর্থকদের সঙ্গে বেশ কয়েক ঘণ্টা যুঝতে হয়৷ পরের তদন্তে গুরুর যৌনজীবন সম্পর্কে যে সব খুঁটিনাটি বেরিয়েছিল, তা রোমহর্ষক৷ গুরুজী নাকি ‘‘সাধিকা'' নাম দিয়ে ‘‘হোস্টেস'' পুষতেন৷
২০০৩ সালে আসারাম বাপু নামের এক স্বঘোষিত ‘গডম্যান'-কে গ্রেপ্তার করা হয়, কেননা তার বিরুদ্ধে এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ ছিল৷ ‘বাপু' নাকি পাপ খণ্ডন করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে কিশোরীটিকে কবলে এনেছিলেন৷
২০১৩ সালে মহেন্দ্র গিরি নামের এক ‘সাধু'-কে গ্রেপ্তার করা হয়, কেননা তিনি নাকি এক ২৪ বছর বয়সের মহিলাকে চার মাস ধরে আটকে রেখে বারংবার ধর্ষণ করেছিলেন৷ মহিলাটির স্বামী ও শ্বাশুড়ি নাকি গিরির সহযোগী ছিলেন৷ তিনজনেই আজ জেলে৷
২০১০ সালে বিতর্কিত হিন্দু গডম্যান স্বামী নিত্যানন্দকে গ্রেপ্তার করা হয়, কেননা একটি ফাঁস করা ভিডিও-য় তাঁকে দক্ষিণ ভারতের এক অভিনেত্রীর সঙ্গে যৌন কার্যকলাপে লিপ্ত হতে দেখা গিয়েছিল৷
বিশেষজ্ঞদের বিশ্বাস যে, গুরুদের উপর তাদের ভক্তবৃন্দের অপরিসীম বিশ্বাস ও আস্থার কারণেই এ ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে৷ বিজ্ঞানে যাদের আস্থা, তারা বলেন, ভারতীয়রা কোনো দৈব আশ্চর্যের মাধ্যমে তাদের দুঃখ-দুর্দশার সমাধান খোঁজে৷ সেটাই হলো গুরুদের ক্ষমতার উৎস৷