Sunday, June 5, 2016

সাহস-বিশ্বাসের মশলায় ভারত-আফগান বাঁধ

আফগানিস্তানের হেরাত প্রদেশে নির্মিত ‘আফগান-ভারত মৈত্রী বাঁধ’ যৌথভাবে উদ্বোধন করেছেন সফররত ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি। শনিবার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মোদি বলেন, ইট-বালু-লোহার বুনিয়াদে নয়, বরং সাহসিকতা ও বিশ্বাসের মসলায় নির্মিত হয়েছে এ বাঁধ। ভারতের প্রযুক্তিগত ও লোকবলের সহায়তায় নির্মাণ করা হয়েছে ‘সালমা বাঁধ’ নামে পরিচিত এ বাঁধটি। খবর এএফপি, ফার্স্ট পোস্ট, দ্য ইকোনমিক টাইমস ও টাইমস অব ইন্ডিয়ার। পাঁচ দিনে পাঁচ দেশ সফরের অংশ হিসেবে শনিবার দুপুরে হেরাতে পৌঁছেন মোদি। এদিন সফররত ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকও করেন। এ বৈঠকে আফগানিস্তানের বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নে ১২ হাজার ৮০০ কোটি রুপি ব্যয়ের প্রতিশ্র“তি দিয়েছেন মোদি। এর আগে হেরাত প্রদেশে ১ হাজার ৭৭৫ কোটি রুপি (২৯ কোটি ডলার) ব্যয়ে নির্মিত আফগান-ভারত মৈত্রী বাঁধের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে যোগ দেন দুই নেতা। সেখানে মোদি বলেন, ১৯৭০ সাল থেকে এ প্রকল্প বাস্তবায়নের স্বপ্ন দেখত আফগানিস্তান ও ভারত। দু’দেশের মধ্যে সম্পর্ক জোরদার করতে এটা একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত।
আজ আফগান জনগণ এ বার্তা দিচ্ছে যে, ধ্বংস, মৃত্যু, ঝড়-ঝাপ্টা, বিপদ-আপদ সব সময়ই বিরাজমান নয়। এ সময় আফগানিস্তানের চাষাবাদ সম্পর্কে মোদি বলেন, ‘ইয়ে মুজে গুজরাত কি ইয়াদ দিলা রহো হায়’- অর্থাৎ আফগানিস্তানের কৃষি পদ্ধতি আমাকে গুজরাটের কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে। উদ্বোধনী এ অনুষ্ঠানে আশরাফ ঘানি ‘আফগানিস্তানকে মোদির দ্বিতীয় বাড়ি’ উল্লেখ করে বলেন, ভারতের সহায়তায় দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ করতে পেরেছে আফগানিস্তান। এ বাঁধ দু’দেশের মধ্যে সহযোগিতা ও উন্নতির নতুন দ্বার খুলে দিয়েছে। যতই হিংসা, ধ্বংস নেমে আসুক না কেন, দু’দেশের যৌথ প্রচেষ্টায় তা উত্তরণে চেষ্টা করে যাব। প্রতিবেশী ইরানের পার্শ্ববর্তী হোরাত শহর থেকে ১৬৫ কিলোমিটার দূরবর্তী চিস্ট-ই-শরিফ নদীতে ৭৫ হাজার হেক্টর এলাকা জলসেচন করতে হবে। তাহলে সেখান থেকে ৪২ মেগাওয়াট শক্তিসম্পন্ন বিদ্যুৎ উৎপন্ন সম্ভাবনা রয়েছে। প্রদেশটিকে কৃষিনির্ভর হিসেবে তৈরি করতে আফগান সরকার এ বাঁধ তৈরির পরিকল্পনা করে বলে খবরে প্রকাশ করা হয়েছে। প্রায় ১ হাজার ৫০০ ভারতীয় ও আফগান শ্রমিকের কয়েক বছরের শ্রমে এ বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। সব ধরনের যন্ত্রপাতি ও মালসামগ্রী ভারত থেকে ইরানের সমুদ্রবন্দর ‘বন্দর-ই-আব্বাস’ হয়ে ইরান-আফগানের ইসলাম কিলা সীমান্ত দিয়ে কাবুলে প্রবেশ করেছে। হেরাত প্রদেশটি মধ্যপাচ্য, মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার সঙ্গে সংযোগ রুট হওয়ায় খুবই গুরত্বপূর্ণ। আফগানিস্তান সফর শেষে শনিবার সন্ধ্যায় তেলসমৃদ্ধ কাতার সফরে গেছেন মোদি। সেখান থেকে আজ (রোববার) দু’দিনের সফরে সুইজারল্যান্ডের উদ্দেশ্যে উড়াল দেবেন তিনি। এরপর সেখান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমন্ত্রণে ৬ জুন ওয়াশিংটন পৌঁছবেন মোদি। যুক্তরাষ্ট্র সফরে তিনি পঞ্চম ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশটির কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে ভাষণ দেবেন। পাঁচ দেশ সফরের শেষ পর্বে ৮ জুন মেক্সিকো সফর করবেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদি। যুক্তরাষ্ট্র, সুইজারল্যান্ড ও মেক্সিকো সফরে পারমাণবিক সরবরাহকারী গ্র“প এনএসজির সদস্য হতে ভারতের উদ্যোগের পক্ষে সমর্থন জোগানোর চেষ্টা করবেন বিজেপির এই নেতা।

প্যারিস ডুবুডুবু জার্মানি ভাসছে

ভারি বষণ আর তেড়ে আসা নদীর বানে ডুবুডুবু ফ্রান্স।
সিন নদীর পানির উচ্চতা সাড়ে ছয় মিটার বেড়ে যাওয়ায়
নগরে ঢুকে পড়ছে পানি। থই থই পানিতে ভাসছে দেশটির
বিভিন্ন অঞ্চল। ফ্রান্সের দক্ষিণাঞ্চলীয় নিউমোরাস শহরের
একটি কম্পাউন্ড এলাকায় রাখা কারভ্যানগুলো জাহাজের
মতো ভেসে বেড়াচ্ছে। স্থানীয় সময় শুক্রবারের ছবি -এপি
ইউরোপে বন্যা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি ঘটেছে। অতিবর্ষণে নাকাল হয়ে পড়েছে ফ্রান্স-অস্ট্রিয়া-রোমানিয়া বেলজিয়াম। থই থই পানিতে ভাসছে জার্মানি। ঝড়-বৃষ্টি আঘাত হেনেছে নেদারল্যান্ডস ও পোল্যান্ডে। ফ্রান্সের সিন নদীর পানির উচ্চতা সাড়ে ছয় মিটার বেড়ে যাওয়ায় তলিয়ে যাওয়ার উপক্রম প্যারিস। প্যারিসের নিকটবর্তী সেন্ট জর্জেস শহর পানির নিচে চলে গেছে। ডুবুডুবু করছে আরও কয়েকটি অঞ্চল। এ অবস্থায় ‘জরুরি বন্যা পরিস্থিতি’ ঘোষণা করেছে ফরাসি সরকার। শনিবার এএফপির খবরে বলা হয়, টানা বৃষ্টিপাতে প্যারিসের সিন নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় বেশ কয়েকটি সেতুর ওপর দিয়ে যানচলাচল নিষিদ্ধ করেছে কর্তৃপক্ষ। এছাড়া নৌকা চলাচলেও নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। সিন নদীর তীরের লুভর মিউজিয়াম সবচেয়ে ক্ষতির শিকার হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিবিসি জানিয়েছে, ফ্রান্সে নদীর পানি বেড়ে ৩৪ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি করেছে। ১৯৮২ সালের পর সিন নদীর পানি এত ওপর দিয়ে কখনোই প্রবাহিত হয়নি। ১৯৮২ সালে সিন নদীর পানি ৬ দশমিক ১৮ মিটার, ১৯৫৫ সালে ৭ দশমিক ১ মিটার এবং ১৯১০ সালে ৮ দশমিক ৬২ মিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছিল। বন্যার কারণে কর্তৃপক্ষ রাস্তা, মেট্রো সিস্টেম ও দর্শনীয় স্থানগুলো বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে। লুভর ও ওরসে জাদুঘর এরই মধ্যে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। পানির পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় জাদুঘরের সামগ্রীগুলো নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া হয়। নদীটির পাশ দিয়ে প্যারিসের মধ্যাঞ্চলে যাওয়ার একটি রেলপথও বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। অতিবৃষ্টির কারণে কেন্দ্রীয় ইউরোপের ইউক্রেন থেকে ফ্রান্স পর্যন্ত ১৫ জন মারা গেছেন। এরই মধ্যে জার্মানির ১০ জন, ফ্রান্সের দু’জন, রোমানিয়ার দু’জন ও একজন বেলজিয়ামের। সাম্প্র্রতিক বন্যায় আক্রান্ত হয়েছে জার্মানির দক্ষিণাঞ্চল, রোমানিয়া, বেলজিয়াম, অস্ট্রিয়া, নেদারল্যান্ডস ও পোল্যান্ড। বন্যার কারণে কয়েক লাখ মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন।
ওয়াশিংটন পোস্ট জানায়, গত ৩০ বছরের মধ্যে রেকর্ড পরিমাণ ২১ ফুট পানি বেড়েছে সিন নদীতে। প্যারিসের অনেক এলাকায় মেট্রো চলাচল বন্ধ রয়েছে। লুভর এবং ওরসে মিউজিয়াম ছাড়াও বন্ধ রয়েছে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। রয়টার্স জানায়, লুভর মিউজিয়ামের মূল্যবান শিল্পকর্মগুলো সরিয়ে নেয়া হচ্ছে। জাদুঘরের একজন কর্মকর্তা শুক্রবার বলেন, ‘এ মুহূর্তে জাদুঘরের শিল্পকর্মগুলো ঠিক ঝুঁকির মধ্যে না থাকলেও, সিন নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার কথা ভেবে আমরা এগুলো আপাতত সরিয়ে নিচ্ছি। এ কাজ পুরোপুরি শেষ করতে আমাদের তিন দিনের মতো সময় লেগে যাবে।’ এদিকে প্যারিস ও এর আশপাশের এলাকায় আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর পাশাপাশি উদ্ধার অভিযানে পরিচালনা করছেন সেনাবাহিনীর সদস্যরা। ফ্রান্স ছাড়াও জার্মানি, বেলজিয়াম, অস্ট্রিয়া,
নেদারল্যান্ডস এবং পোল্যান্ডেও দেখা দিয়েছে বন্যা। বৃষ্টিপাত আগামী কয়েকদিন অব্যাহত থাকবে বলে ফ্রান্সের আবহাওয়া দফতরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে বন্যার পানিতে ট্রাক তলিয়ে ৯ সেনার মৃত্যু : যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে বন্যার পানির তোড়ে সেনাবাহিনীর একটি ট্রাক উল্টে তলিয়ে গিয়ে ৯ সেনাসদস্যের মৃত্যু হয়েছে। দেশটির সেনাবাহিনীর বরাতে সিএনএন জানিয়েছে, ওই ঘটনায় নিখোঁজ চার সেনার মৃতদেহ শুক্রবার উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে টেক্সাসের ফোর্ট হুডের আউল ক্রিক টেকটিক্যাল ক্রসিং পার হওয়ার সময় সেনা বহনকারী আড়াই টন একটি ট্রাক বন্যার পানির তোড়ে উল্টে গিয়ে ডুবে যায় বলে জানিয়েছেন মেজর জেনারেল জন উবের্তি। একটি প্রশিক্ষণ মিশনে ১২ জন সেনার দলটি ট্রাকটিতে টেকটিক্যাল ক্রসিংটি পার হচ্ছিলেন।

সবার চেয়ে আলাদা অনন্য আলী

দক্ষিণ আফ্রিকার অবিসংবাদিত নেতা নেলসন ম্যান্ডেলার
সঙ্গে মোহাম্মদ আলী। দু’জনই আজ প্রয়াত ফাইল -ছবি
যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাঙালি এক ভদ্রলোকের জন্যই কিংবদন্তি বক্সার মোহাম্মদ আলী ঢাকায় এসেছিলেন। তখন বিশ্বজুড়ে সবাই এক নামে চেনে আলীকে। এমন একজন ক্রীড়া তারকাকে বাংলাদেশ সফরে রাজি করানোর পর নিউইয়র্ক প্রবাসী ওই ভদ্রলোক সহযোগিতা চাইলেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের। তৎকালীন সরকার থেকে মিলল সবুজ সংকেত। ঢাকায় এলেন মোহাম্মদ আলী। বাংলাদেশের মাটিতে পা রাখা তিনিই প্রথম বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনের বড় তারকা। সালটা ছিল ১৯৭৮। ঢাকার মাটিতে মোহাম্মদ আলীর পা রাখার অনেক আগেই আমরা ছুটে গিয়েছিলাম বিমানবন্দরে। ক্রীড়া সাংবাদিকতা তখন আজকের মতো ছিল না। বেশির ভাগ পত্রিকাতেই খেলাধুলার জন্য আলাদা পাতা বরাদ্দ থাকত না। সাংবাদিক হিসেবে যারা সেদিন বিমানবন্দরে উপস্থিত হয়েছিলেন, তাদের বেশির ভাগই
কোনো না কোনো পত্রিকার সম্পাদক, কিংবা জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক। আলীকে একনজর দেখার জন্য ঢাকা বিমানবন্দরে সেদিন জনতার ঢল নেমেছিল। কী রকম, সেটা এই প্রজন্মের ক্রীড়ামোদিদের বলে বোঝানো মুশকিল। আলীর আগমনের দিনও একই অবস্থা হয়েছিল ঢাকার। তাকে একনজর দেখার জন্য রাস্তার দুই ধারে ঢল নেমেছিল মানুষের। পোস্টারে পোস্টারে ছেয়ে গিয়েছিল ঢাকা। রাস্তার মোড়ে মোড়ে টাঙানো হয়েছিল বড় বড় ব্যানার। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ থেকে বের করা হয়েছিল বিভিন্ন স্যুভেনির। ঢাকার পুরনো বিমানবন্দরে এক লাখ দর্শক তাকে যে অভূতপূর্ব সংবর্ধনা জানায়- আলী আর কোথাও তা পেয়েছেন কিনা সন্দেহ। ঢাকা বিমানবন্দর থেকে তার হোটেল ও অন্য স্থানে তার সংবাদ কভারের জন্য কোনো কোনো পত্রিকা চারজন থেকে ছয়জন সাংবাদিক নিয়োগ করে। বক্সার আলী বেছে বেছে প্রশ্নের উত্তর দেন। এত বড় মাপের একজন ক্রীড়াবিদকে সামনে পেয়ে কেউ কেউ সম্মোহনী দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিলেন তার দিকে। হাসির খোরাক জোগায়, এমন প্রশ্নও করা হলো তাকে, ‘মে আই নো, হাউ মেনি কাউস অ্যান্ড গোটস ইউ হ্যাভ ইটেন ইন ব্রেকফাস্ট।’ আমার স্পষ্ট মনে আছে, এমন প্রশ্নের জবাবে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে ছিলেন আলী।
আমারও প্রশ্ন করার সৌভাগ্য হয়েছিল। সে সময় তার প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বী জো ফ্রেজিয়ারের সঙ্গে প্রথম লড়াইয়ে হেরে গিয়েছিলেন। পরে টানা দুবার হারিয়েছিলেন ফ্রেজিয়ারকে।
: তুমি কি আবারও ফ্রেজিয়ারের সঙ্গে রিংয়ে নামতে চাও?
: না। তার সঙ্গে আর কখনোই লড়ব না আমি। ঢাকায় আসার আগের দিন নিউইয়র্কে এক লড়াইয়ে রিংয়ে নেমেছিলেন আলী। প্রতিপক্ষ ছিলেন লিওন স্পিংকস। দুর্ভাগ্য, পয়েন্টের ব্যবধানে হেরে গিয়েছিলেন। সে লড়াইয়ের ছাপ ছিল মুখাবয়বে। কালচিটে দাগ ছিল কোথাও কোথাও। কিন্তু সেসব ছাপিয়েও ঢাকার আতিথেয়তায় মুগ্ধতা ফুটে উঠেছিল তার অভিব্যক্তিতে। পরদিন ঢাকার বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে নাগরিক সংবর্ধনা দেয়া হল মোহাম্মদ আলীকে। সেখানেও জনতার ঢল। সে সময়ের ঢাকার মেয়র ছিলেন ব্যারিস্টার আবুল হাসনাত। তিনি সম্মানসূচক নাগরিকত্ব দিয়ে বরণ করে নেন অতিথিকে। পল্টনে আজ যে মোহাম্মদ আলী বক্সিং স্টেডিয়াম দেখতে পাই, সেটির উদ্বোধন করেন খোদ আলীই। সম্মান দেখিয়েই তার নামে স্টেডিয়ামের নামকরণ করা হয়। বক্সিং স্টেডিয়ামের উদ্বোধনের দিন গ্লাভস পরে রিংয়ে নেমেছিলেন আলী। প্রতিপক্ষ হিসেবে এক কিশোরকে নামিয়ে দেয়া হয়েছিল রিংয়ে। যতক্ষণ রিংয়ে ছিলেন আলী বেশ আনন্দ দিয়ে যাচ্ছিলেন দর্শকদের। কিশোর ওই বক্সারের পাঞ্চে একবার মেঝেতেও পড়ে গেলেন আলী! আলীকে ঘিরে ঢাকার দর্শকদের যে উন্মাদনা ও স্বতঃস্ফূর্ততা, তার সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করতেই যেন পেশাদারির খোলস ভেঙে রিংয়ে আলীর ওই পড়ে যাওয়া। এখানেই আলী অনন্য, সবার চেয়ে আলাদা।

নায়ক থেকে ব্যবসায়ী আরজু

শোবিজের তারকারা ইদানিং ব্যবসার দিকেই ঝুঁকছেন। অন্যদের মতো এবার সেই তালিকায় নাম লেখালেন চিত্রনায়ক কায়েস আরজু। এখন থেকে অভিনয়ের পাশাপাশি ব্যবসার দিকেও নিয়মিত নজর থাকবে তার। অনেক পরিকল্পনার পরই নিজেকে ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত করেছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। আজ তার জন্মদিন। এ দিনেই ব্যবসায়ী হিসেবে নতুন অধ্যায় শুরু করছেন এ নায়ক। এমকে গ্রুপ নামে একটি বহুমুখী ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন আরজু। এ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে জাপান থেকে দুটি প্রতিষ্ঠিত ব্র্যান্ডের (হিতাশি ও প্যানাসোনিক)
বিভিন্ন ধরনের ইলেকট্রনিক্স পণ্য বাংলাদেশে বাজারজাত করার পাশাপাশি গার্মেন্টস সম্পর্কিত নানা ধরনের পণ্য আমদানি ও রফতানি করা হয়। আজকের দিনটিতেই কেন ব্যবসায়ী হিসেবে নিজেকে সবার সামনে তুলে ধরছেন- এমন প্রশ্নের জবাবে আরজু বলেন, ‘আজ আমার জন্মদিন। তাই আজকের দিনেই জীবনের নতুন অধ্যায়ের সূচনা করলাম। আমার কাছে মনে হয়েছে, চলচ্চিত্রে অভিনয়ের পাশাপাশি ব্যবসার সঙ্গে নিজেকে সম্পৃক্ত করলে মন্দ হয় না। আশা করছি এখানেও আমি ভালো করতে পারব।’ জন্মদিন উপলক্ষে বিশেষ কোনো আয়োজন না থাকলেও বন্ধু-বন্ধবদের নিয়েই সময় কাটাবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

সবুজের সমারোহ রাঙ্গামাটিতে

কোথাও বেড়াতে যাওয়ার আগে তার আদ্যোপান্ত জেনে নেয়া ভালো। এতে দেখার তালিকায় বাদ পড়বে না কিছুই। বোনাস হিসেবে সময়টা উপভোগ করা যাবে উৎকণ্ঠাবিহীন। রাঙ্গামাটি ভ্রমণের আগে আমরাও সেটা করেছিলাম ভ্রমণ শুরুর বেশ কয়েক দিন আগে থেকেই। কিন্তু চট্টগ্রাম শহর থেকে রাঙ্গামাটির পথে ৩০-৩৫ কিলোমিটার অতিক্রম করার পরও মনের মধ্যে কল্পনার রঙে আঁকা গন্তব্যের মিল না দেখে একজন মন্তব্য করে বসলেন, এ রকম বিস্তীর্ণ সমতলভূমি দেশের বেশির ভাগ এলাকাতেই রয়েছে। ঋতুভেদে গ্রামবাংলার রূপ যারা ভালোভাবে দেখেছেন, তাদের জন্য এ ধরনের জায়গা আকর্ষণ করতে পারবে না। এ কথার কোনো উত্তর না দিয়ে গাড়ির জানালার ফোকর দিয়ে বাইরে তাকিয়ে আশপাশটা দেখতে দেখতে এগোতে থাকলাম। গুগল ম্যাপে একজন দেখছেন, রাঙ্গামাটি শহরের দূরত্ব কত বাকি। গাড়িতে থাকা অন্যরাও একে অন্যকে জিজ্ঞেস করছেন, সময় আর কত লাগতে পারে। অর্থাৎ সময়টা খুব ভালভাবে কাটছে না সেটা বোঝা যাচ্ছিল। এর মিনিট বিশেক পরই পাল্টে গেল অবস্থা।
সমতলভূমি পর গাড়ি প্রবেশ করল পাহাড়ি এলাকায়। গুমোট অবস্থা ভেঙে কয়েকজন উঠে দাঁড়ালেন জানালার বাইরে মাথা নেয়ার জন্য, যাতে করে আঁকাবাঁকা পাহাড়ি পথ মনের মধ্যে ভালোভাবে গেঁথে রাখা যায়। অবশ্য গাড়ি পাহাড়ের যে পাশ দিয়ে যাচ্ছে, সেখান থেকে নিচে তাকালে হঠাৎ কেউ ভয়ও পেয়ে যেতে পারেন। গাড়ি যে দিক দিয়ে যাচ্ছে, তার থেকে সমতল ভূমি অনেক নিচে। দূরের পাহাড়ি বসতিগুলো দেখলে মনে হবে খেলাঘর। নৈসর্গিক সৌন্দর্যে ঘেরা রাঙ্গামাটিতে এই আনন্দকে বোনাস হিসেবে ধরে নেয়া ভালো। কারণ সবুজে ঘেরা পর্যটন ওই জেলা শহরে এটাকে বলা যায়, মূল সৌন্দর্যের সংবর্ধনা। পর্যটকদের এখানকার যেসব জায়গা সবচেয়ে বেশি আকর্ষণ করে তা হলো কাপ্তাই হ্রদ, পর্যটন মোটেল, ডিসি বাংলো, ঝুলন্ত ব্রিজ, সাজেক, পেদা টিংটিং, সুবলং ঝরনা, রাজবাড়ি, রাজবন বিহার, উপজাতীয় জাদুঘর, কাপ্তাই হাইড্রো ইলেকট্রিক প্রজেক্ট, কাপ্তাই জাতীয় উদ্যান। রাঙ্গামাটিতে আমরা উঠেছিলাম পর্যটন মোটেলে।
এখানে ডাবল বেডের রুম ননএসি দুই হাজার ২০০ টাকা। আর এসিতে তিন হাজার ২০০ টাকা। অবশ্য পাশের পুরনো মোটেলে উঠলে আরেকটু কম খরচে এসি রুম পাওয় যাবে দুই হাজার ৯০০ টাকায়। পর্যটনে থাকার সুবিধা হলো, ভোরের নরম নীলাভ আলোয় চোখের সামনেই পাবেন ঝুলন্ত ব্রিজ। চার পাশে পাহাড় আর সবুজের সমারোহ। রাঙ্গামাটিতে সবচেয়ে সুন্দর সময় কাটবে কাপ্তাই লেকে নৌকায় ভ্রমণের সময়। স্বচ্ছ টলমল পানিতে যখন নৌকা চলবে, মনে হবে পর্যটকদের স্বাগত জানাতে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে পাহাড়গুলো। সিলেটে গেলে যারা প্রতিবেশী দেশের পাহাড় দেখে আফসোস করে বলেন, ‘ওই বড় পাহাড়গুলোতে যদি যাওয়া যেত!’ তাদের জন্য সুখবর হলো, কাপ্তাই লেকে যাত্রা শুরুর তিন-চার ঘণ্টা যাত্রা করার সময় চোখে যত দূরের পাহাড়ই পড়–ক না কেন সবই বাংলাদেশের।
তবে প্রকৃতির মাঝে ভাসমান একটি পাহাড়ি দ্বীপে পেদা টিংটিং (একটি চাকমা শব্দগুচ্ছ, যার অর্থ হচ্ছে পেট টান টান) রেস্তরাঁয় খাবারের পরিবেশ ছিল মনোমুগ্ধকর। এই দ্বীপে যতক্ষণ থাকা যাবে, মনে হবে নিজের পরিচিত পরিবেশ থেকে অনেক দূরের কোনো স্বপ্নের জায়গায় চলে এলাম। তবে এই স্বপ্নে বিভোর হলে চলেবে না, খাবার অর্ডার করার আগে অবশ্যই তালিকার পাশে লেখা দামটার দিকে খেয়াল রাখতে হবে। তা নাহলে বিব্রতকর অবস্থার মধ্যে পড়তে হতে পারে অনেকের। কারণ ওখানকার খাবারের দাম ঢাকার অনেক দামি রেস্তরাঁর চেয়ে বেশি। তবে স্বাদে তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলবেন সেটা নিশ্চিত। কাপ্তাই লেক : এটি বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের রাঙ্গামাটি জেলার একটি কৃত্রিম হ্রদ। কর্ণফুলী পানি বিদুৎকেন্দ্রের জন্য ১৯৫৬ সালে কর্ণফুলী নদীর ওপর কাপ্তাই বাঁধ নির্মাণ করা হলে রাঙ্গামাটি জেলার ৫৪ হাজার একর কৃষিজমি ডুবে যায় এবং এ হ্রদের সৃষ্টি হয়। পাকিস্তান সরকার ১৯৫৬ সালে আমেরিকার অর্থায়নে কাপ্তাই বাঁধ নির্মাণ শুরু করে। ১৯৬২ সালে এর নির্মাণ শেষ হয়। ইন্টারন্যাশনাল ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি এবং ইউতাহ ইন্টারন্যাশনাল ইনকরপোরেট ৬৭০.৬ মিটার দীর্ঘ ও ৫৪.৭ মিটার উচ্চতার এ বাঁধটি নির্মাণ করে।
এ বাঁধের পাশে ১৬টি পানিকপাট সংযুক্ত ৭৪৫ ফুট দীর্ঘ একটি পানি নির্গমন পথ বা ¯িপ্রলওয়ে রাখা হয়েছে। এ ¯িপ্রলওয়ে প্রতি সেকেন্ডে পাঁচ লাখ ২৫ হাজার কিউসেক ফিট পানি নির্গমন করতে পারে। এ প্রকল্পের জন্য তখন প্রায় ২৫ কোটি ৪০ লাখ টাকা বাজেট নির্ধারণ করা হলেও পরে তা ৪৮ কোটি ছাড়িয়ে যায়। প্রথমে এই কেন্দ্রের বিদ্যুৎ উৎপাদন মতা ধরা হয়েছিল এক লাখ ২০ হাজার কিলোওয়াট। প্রথমে ৪০ মেগাওয়াট মতাসম্পন্ন ১ ও ২ নম্বর ইউনিট স্থাপন করা হলেও পরে ১৯৬৯ সালের ৫০ মেগাওয়াট মতা সম্পন্ন ৩ নম্বর ইউনিটের কাজ শুরু হয়।
বর্তমানে মোট পাঁচটি ইউনিট চালু আছে যার মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনমতা ২৩০ মেগাওয়াট। যেভাবে রাঙ্গামাটি যাবেন ঢাকা থেকে ইচ্ছে করলে সরাসরি রাঙ্গামাটি আসতে পারেন অথবা চট্টগ্রাম হয়েও আসা যায়। চট্টগ্রাম থেকে এর দূরত্ব মাত্র ৭০ কিলোমিটার। আর ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম হয়ে রাঙ্গামাটি প্রায় সাড়ে ৩০০ কিলোমিটার। ঢাকার কমলাপুর থেকে এস আলম, শ্যামলী ও ইউনিকসহ বিভিন্ন পরিবহনে যাওয়া যায়। এ ছাড়া চট্টগ্রাম নগরীর অক্সিজেন থেকে এক ঘণ্টা পরপর পাহাড়িকা বাস এবং প্রতি আধা ঘণ্টা পর বিরতিহীন বাস ছেড়ে যায় রাঙ্গামাটির উদ্দেশে।

আমের হাট কানসাট

কানসাট আমের হাটে চলছে বেচাকেনা
আম পছন্দ করে না এমন মানুষের সংখ্যা খুবই কম। ভাল আম বলতেই আমরা বুঝ রাজশাহীর আম। সবচেয়ে বেশি আমের চাষ হয় চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলায়। এখানকার প্রতিটি পরিবার এই আমের সাথে প্রত্যেক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত। বিশেষ করে এ অঞ্চলের অর্থনীতির চাকা দিন দিন সচল হচ্ছে এই আম নিয়েই। আম বেচাকেনা করে মানুষের দিন বদলাচ্ছে। এ ছাড়া আম বেচাকেনা করে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অনেক শিল্পের বিকাশ ঘটছে এ অঞ্চলে। বছরের অন্তত তিনটি মাস সরগরম থাকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার কানসাট এলাকা। কানসাটই হচ্ছে দেশের বৃহত্তর আমের হাট। এ অঞ্চলের চাষিরা আম বেচাবিক্রির জন্য কানসাটের হাটে আসেন।চাঁপাইনবাবগঞ্জের রাস্তাঘাটগুলোতে ঘুরে বেড়ানোর সময় কাঁচাপাকা আমের ঘ্রাণ নাকে ভেসে না এলেও রাস্তার দু’পাশে সারি সারি আমগাছ আপনাকে মুগ্ধ করবেই। মনপ্রাণ জুড়িয়ে যাবে। আম খাওয়ার চেয়ে আমগুলো গাছে গাছে ঝুলে থাকলে দেখতে বেশ ভালো লাগে। কারণ এত অধিক আম গাছ দেশের অন্য কোনো অঞ্চলে দেখা মেলে না। স্থানীয় কৃষি বিভাগের কাছেও তথ্য নেই যে, এখানে আমগাছের সংখ্যা আসলে কত। তবে সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে, উৎপাদিত আম বিক্রি করে চাষিরা লাভবান হচ্ছেন। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবপুর উপজেলার আম চাষিরা বর্তমানে অত্যন্ত ব্যস্ত সময় পাড় করছেন।
কথা বলারও ফুরসত নেই যেন তাদের। কেউ গাছ থেকে আম পাড়ছেন, কেউ ঝুড়িতে আম সাজাচ্ছেন, আবার কেউ আম বিক্রির জন্য হাটে নিয়ে যাচ্ছেন। এ সবই যেন রুটিনমাফিক কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের আমচাষিদের। মে মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে বাজারে আম উঠতে শুরু করেছে। আগামী দুই মাস পুরোপুরিভাবে বাজারে পাওয়া যাবে আম। এ বছর আমের ভালো ফলন হওয়ায় চাষিরা সন্তুষ্ট। তবে পাইকারি বাজারে আমের দাম কম হওয়ায় কম লাভ হচ্ছে বলে জানান তারা। এ উপজেলার উৎপাদিত আম চাষিরা বিক্রির জন্য কানসাটের হাটে নিয়ে আসেন। এ হাট সারা দেশের মানুষের কাছে আমের হাট হিসেবে খুবই সুপরিচিত। কানসাট সড়কের পাশে প্রায় দুই কিলোমিটার লাইনে বাঁশের ঝুড়িতে করে সাইকেল ও ভ্যানের মধ্যে রেখে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আম বিক্রি করে থাকেন চাষিরা। আবার অনেকে ঝুড়ির মধ্যে রাস্তার দু’পাশে আম পসরা সাজান। আম কেনার জন্য দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পাইকাররা আসেন এখানে। আম বেচাকেনা হয় সকাল ৭টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। এ সময় লোকে লোকারণ্য থাকে রাস্তার দুই পাশে।
কানসাটের আমের হাটে আসা কাজল নামে এক বিক্রেতার সাথে কথা হয়। তিনি বলেন, আমাদের তিনটি আম বাগানে প্রায় ১০০ মতো আমগাছ রয়েছে। সারা বছর গাছের পরিচর্চা বাবদ যে খরচ তা বাদ দিলে প্রায় দেড় থেকে দুই লাখ টাকা লাভ করতে পারি। তিনি জানান, অনেক সময় আমের বাজার নি¤œমুখী হয়ে পড়ে, তখন আর সেভাবে লাভ হয় না। এরশাদ নামে এক ব্যক্তি জানান, আমই হচ্ছে এ অঞ্চলের প্রধান অর্থকরী ফসল। আম বিক্রি করে এ এলাকার মানুষের আশা-আকাক্সার প্রতিফলন ঘটছে। তিনি জানান, আমের বাজার সম্প্রসারণের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিলে এখানকার কৃষকেরা লাভবান হতে পারেন। আম বাজারে ওঠা শুরু থেকে দুই-আড়াই মাস পর্যন্ত বিক্রি হয়ে থাকে সাধারণত। তখন এখানে উৎসব শুরু হয়। বছরের অন্যান্য সময়ের তুলনায় আম মওসুমে অতিথি আপ্যায়ন থেকে শুরু করে অন্যান্য প্রয়োজনীয় কার্যাদি সম্পন্ন করে থাকেন। উৎসবের অংশ হিসেবে ঐতিহ্যবাহী গম্ভীরা গানের আয়োজন করা হয়ে থাকে স্থানীয়ভাবে। প্রথম ধাপে যে আমগুলো বাজারে আসে সেগুলো হচ্ছে হিমসাগর, গোপালভোগ, মোহনভোগ, লক্ষ্মা, ল্যাংড়া, ক্ষুদি খিরসা, খিরসা, আম্রপালি, বোম্বাই গুটি, মিছরিকান্ত। আর পরের ধাপে আসে চুষা, ফজলি ও আশ্বিনা।
গত এক সপ্তাহ আগে থেকে বাজারে আম উঠতে শুরু করেছে। আমের সিজেনটাই তাদের ব্যস্থতার সময়। অবশ্য এ ব্যস্ত সময়টাই তাদের সবচেয়ে সুখের সময়। আর এ জন্যই তারা অপেক্ষা করে থাকে সারা বছর। চাঁপাইনবাবগঞ্জে আমের হাটে যেতে চাইলে আপনাকে ঢাকার কল্যাণপুর অথবা গাবতলী থেকে বাসে যেতে হবে। প্রতিদিন বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চাঁপাইনবাবগঞ্জের উদ্দেশে বাস ছেড়ে যায়। সময় লাগে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা। ভাড়া ৫০০ টাকা। চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ইসিবাইকে যেতে পারবেন কানসাটের আমের হাটে। চাঁপাইনবাবগঞ্জে রাতে থাকার সুব্যবস্থা রয়েছে।

অবসরে ভাবি কী ভুল হলো

প্রচণ্ড ব্যস্ত যাদের জীবন। তাদেরও থাকে অবসর। সেই অবসর তাদের কিভাবে কাটে তা জানতেই এ আয়োজন। এবার কথা বলেছেন দেশের প্রখ্যাত অভিনেতা ও নাট্যব্যক্তিত্ব আবুল হায়াত। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সাকিবুল হাসান আবুল হায়াত। দেশীয় সাংস্কৃতিক অঙ্গনের জনপ্রিয় নাম। প্রকৌশল বিষয়ে পড়াশোনা করলেও তিনি ক্যারিয়ার হিসেবে বেছে নেন অভিনয়কে। নাট্যকার, নাট্যপরিচালক হিসেবেও তিনি সফল। লিখেন কলামও। পূর্বপুরুষের বাড়ি মুর্শিবাদ।
১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের সময় তাদের পরিবার এ দেশে চলে আসে। তার শৈশব, কৈশোর ও যৌবনের কিয়দাংশ কেটেছে চট্টগ্রামে। আর এখন রাজধানী ঢাকায়। গুণী এই মানুষটির কাছে জানতে চেয়েছিলাম অবসর কিভাবে কাটে? কিছুক্ষণ চিন্তা করে উত্তর দিলেন, অবসর কই, সারক্ষণই তো ব্যস্ত থাকতে হয় নানা কাজ নিয়ে। যখন ঘুমাতে যাই, মনে হয় একটা বই পড়ি, না হয় গান শুনি। আর অন্য সময় রুটিন কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকি। তাই বলার মতো কোনো অবসর আমার নেই। তাহলে ব্যস্ত এই সময় থেকে একটু অবসর খুঁজে নেয়ার ভাবনা কি কখনো চিন্তায় আসে না? চিন্তা তো সব সময়ই আসে। ইচ্ছে করলে সময় বেরও করা যায়, কিন্তু আমার কাছে অবসরে ‘নিজেকে বেকার’ মনে হয়। তাই ওই সময়টা ইচ্ছে করেই খুঁজতে যাই না। তবে হ্যাঁ, সামান্য অবসর পেলে ভাবি কী ভুল হলো সেটা নিয়ে। আবুল হায়াত বলেন, ভুল করে অনেকে পার পেয়ে যান, আবার অনেককে গুনতে হয় ভারী মাশুল।
আবার কিছু মানুষ আছেন, যারা অন্যের ভুলের ফসল অনায়াসে নিজের ঘরে তুলতে ওস্তাদ। প্রকৃতির প্রতিশোধের কারণে আবার কখনো তাদের এ অন্যায়ের ফলও ভোগ করতে হয়। গুণী এই অভিনেতা বলেন, ছোটবেলায় স্কুলে একটা ভুল করেছিলাম এবং হাতে হাতে তার শাস্তি পেয়েছিলাম এভাবেÑ পণ্ডিত স্যারের কাসে ভুল বানান লিখেছিলাম ভুল। চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুলে ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্র তখন আমি। অবশ্য এ ভুলটা তখন আমি একা করিনি। সঙ্গী ছিল আরো কয়েকজন। হাতে হাতে শাস্তি। স্যার বোর্ডে একটা বাক্য লিখে দিলেন এবং নির্দেশ দিলেন ওই বাক্যটা দশবার লিখে দেখাতে হবে তাকে। বাক্যটা ছিল এমনÑ ‘ভুল বানান লিখিতে জীবনে কোনো দিন ভুল করিয়াও ভুল করিব না।’ তারপর মনে হয় না আর কোনো দিন এ ভুল করেছি আমি। তবে নানা ভুল তো হরদম হয়েই থাকে। ইদানীং একই ভুল আমার নিয়মিত হচ্ছে। সকালে বাসা থেকে বেরিয়ে কিছু দূর যাওয়ার পর মনে পড়ে হয় মোবাইল ফেলে এসেছি না হয় হাতঘড়ি না হয় নাটকের স্ক্রিপ্ট। এগুলো নাকি বুড়ো হওয়ার লণ। তা বুড়ো তো হয়েছিই। একাত্তর চলছে না।
তবে ভুলের সাথে বয়সকে মেলাতে চান না। আমি যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। আমার এক বন্ধু খুলনায় থাকত। তাকে চিঠি লিখে জিপিওতে গিয়ে খাম কিনে ঠিকানা লেখে পোস্ট করে রাস্তায় বেরিয়ে এসে পকেট হাতড়ে দেখি, বাবার সদ্য পাঠানো এক শ’ টাকার নোটটা চিঠির সাথে বন্ধুর কাছে পোস্ট করে দিয়েছি। তার পরের ঘটনা আর কী বলব! পোস্ট অফিসে ফিরে গিয়ে তাদের হাতে-পায়ে ধরে মেলা রকম প্রমাণ দিয়ে বের করতে পেরেছিলাম টাকাটি। আসলে নিরুপায় ছিলাম আমি, কারণ ওই এক শ’ টাকা ছিল সারা মাসের খরচ। তিনি কথার শেষ প্রান্তে এসে জানান, ছুটির দিনে বাসায় যদি মেয়েরা নাতি-নাতনীদের নিয়ে আসে তা হলে সময়টা অনেক উপভোগ্য হয়। তা ছাড়া নাটকের সেটে সময় কাটাতেও ভালো লাগে তার।

বাল্যবন্ধু জিয়া এখন প্রতিবন্ধী

সেই ছোট্টবেলা থেকে জিয়া আমার খুব কাছের একজন মানুষ। যখন ছিল না আমাদের কাসের কোনো নাম। দলবেঁধে যেতাম স্কুলে আর ঘুরেফিরে চলে আসতাম বাড়ি। সেই সময় থেকে এখন অবধি জিয়া আর আমার সম্পর্কটা সেই একই রকম রয়েছে। আমি এখন অনার্স ফাইনাল ইয়ারের ছাত্র। আমি যখন অনার্স ফার্স্ট ইয়ারে পড়ি, ২০১১ সালের কথা; সেই সময়ই জিয়া হারিয়ে ফেলেছে তার দুই হাত।
একসাথে পড়তাম দু’জনে। কাস সেভেন থেকে দারিদ্র্যের কারণে ছিটকে পড়ে জিয়া। গ্রামের এক রাজমিস্ত্রির সাথে কথা বলে যোগ দেয় রাজমিস্ত্রির কাজে। মন মানসিকতা, কথাবার্তায় জিয়া সেই ছোটো বেলা থেকেই অমায়িক। বাবা-মায়ের খুব আদরের সন্তান জিয়া। আমরা স্কুলে যেতাম আর জিয়া রোজ সকালে রাজমিস্ত্রির কাজে। কোনো দিন সকাল সকাল কাজ শেষ হলে বিকালে দেখা যেত খেলার মাঠে। জিয়া ভালো বল করত। বলের স্পিডও ছিল লাগামহীন।
মাঝে মাঝে গ্রামের বিবাহিত অবিবাহিতদের মধ্যে হা-ডু-ডু খেলা হলে তাতেও জিয়া অংশ নিত। জিয়া খুব ভালো ধরতে পারত। স্কুল প্রাইভেটের চাপে কয়েক দিন দেখা না হলেই রাতে চলে আসত আমার রুমে। আমি পড়তাম আর জিয়া বসে বসে ওর কাজের গল্প বলত। কোথায় কাজ করছে? কাদের বাড়ি কাজ করছে? বাড়িওয়ালারা কেমন? ভালো খেতে দেয় কি নাÑ এমন নানা বিষয়। জিয়া বলতÑ শুনতাম বেশির ভাগ পাকা বাড়িঅলারা কৃপণ টাইপের হয়। বাড়ি ইটের ঘর অথচ মিস্ত্রিদের খেতে দিতে চায় না। আশপাশে কোথাও মেলা কিংবা ঘোড়া দাবড় হলে জিয়া আমাকে নিয়ে যেত মেলায়। মেলায় গিয়ে সব খরচ বহন করত জিয়া। আমি যদিও টাকা দিতে যেতাম, জিয়া কড়া গলায় বলত, ‘এখন আমি রোজগার করি, বিল আমি দেবো। যে সময় তুই চাকরি-বাকরি করবি যখন তুই দিবি।’ তিন বছর রাজমিস্ত্রিতে গোজালে খাটার পরে অবশেষে জিয়া মিস্ত্রি হয়েছিল। স্পষ্ট মনে আছে, সেই দিন রাতে জিয়া সিঙ্গিয়ার হাট থেকে গরম গরম জিলাপি কিনে হাজির হয়েছিল। সারা সপ্তাহ কাজ করত আর হাটের দিন টাকা পেত। পরের তিন বছর জিয়া ফুল মিস্ত্রি ছিল। বেতনও ছিল একটু বেশি। টুকিটাকি করে পয়সাও জমাচ্ছিল। মাঝে মাঝে বিয়ে করার গল্পও শোনাত জিয়া।
আমি সেদিন যশোরে। বাড়ি থেকে আম্মু ফোন করে জানাল, ‘জিয়া রাজমিস্ত্রি কাজ করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মরতে বসেছে। বাজারের ভেতরের রাস্তার পাশেই একটি বিল্ডিংয়ের ছাদে কাজ করছিল জিয়া। ছাদ ঢালাই দেবে, তাই নিচ থেকে বড় বড় রড ওপরে উঠাচ্ছিল। কাছাকাছিই ছিল বিদ্যুতের মেইন তার। রড উঠাতে গিয়ে হঠাৎ একটি রড গিয়ে পড়ল মেইন তারের ওপর। চোখের পলকে কালবৈশাখী ঝড়ের মতো ছিন্নভিন্ন করে দিলো জিয়ার সব কিছু। জিয়ার মনের ব্ল্যাকবোর্ডে লিখে রাখা সব রঙিন স্বপ্ন মুছে যেতে শুরু করল আস্তে আস্তে। খুলনা আড়াই শ’ বেডের হাসপাতালের ঢাকা মেডিক্যালে শিফট করা হয়েছিল। ডাক্তার জানাল, জিয়ার দ্ইু হাতই ড্যামেজ হয়ে গেছে। তিন দিন পরে জ্ঞান ফিরলেও ডাক্তার বলল, রোগীর অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক। তিন মাস ২৭ দিন ঢাকা মেডিক্যালের এ-বেড থেকে ও-বেডে গড়িয়ে গড়িয়ে বাড়ি ফিরল জিয়া। তখন মোটামুটি সুস্থ ছিল। দিনের ভেতর যে জিয়ার মৃত্যুসংবাদ আসে তা কয়েকবার সেই জিয়াকে ফিরে পেয়ে গ্রামের মানুষ লাইন ধরেছিল জিয়াদের বাড়ি। জিয়া বেঁচে আছে কিন্তু জিয়ার দু’টি হাত নেই। যশোর থেকে বাড়ি এসে যেদিন জিয়াকে দেখতে গিয়েছিলাম, সেদিন আমার সাথে কথাই বলতে পারছিল।
চোখ দিয়ে শুধু অঝর ধারায় পানি ঝরছিল। মাস পাঁচেক জিয়া তার সব কাজের জন্য অন্যের ওপর নির্ভর ছিল। পরে আস্তে আস্তে চেষ্টা করে এখন প্রায় টুকিটাকি সব কাজ করতে পারে। দুই হাতের কনুই পর্যন্ত নাই জিয়ার। এই অ্যাকসিডেন্ট হওয়ার পরের চার বছরে জিয়া এখন অনেকটা স্বাভাবিক হয়ে উঠেছে। আমি বাড়ি এলেই বেশির ভাগ সময় কাজে জিয়াই সাথে থেকে। বিকেলে খেলার মাঠের এক প্রান্তে বসে সেই জীবনের খেলার উইকেট রানের হিসাব-নিকাশ করি। জিয়ার হাত নিয়ে লোকজনের হাসিতামাশা তাকে এখন আর তেমন কষ্ট দেয় না। নিজেকে মানিয়ে নিয়েছে জিয়া। তবুও মাঝে মাঝে কথায় কথায় বলে ফেলে জিয়া তার স্বপ্নের কথা। এখনো জিয়া স্বপ্ন দেখে তার দুই হাতই ভালো হয়ে গেছে। সব কাজ করতে পারছে আগের মতো। কিন্তু এ স্বপ্ন যে আর পূরণ হওয়ার নয়, সেটা জিয়ারও অজানা নয়। সেই সুস্থ সবল রাজমিস্ত্রি জিয়া এখন প্রতিবন্ধী পদবি ঘাড়ে করে ঘুরে বেড়ায় এখান থেকে ওখানে।
এস আর শানু খান
মাগুরা

৯৭ জন নারী সৈনিকের যাত্রা শুরু হচ্ছে বিজিবিতে

এই প্রথমবারের মত নারী সৈনিক নিয়োগ দিচ্ছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ। আজ থেকে সীমান্ত রক্ষী এই বাহিনীতে ৯৭ জন নারী সৈনিক তাদের প্রশিক্ষণ শেষ করে আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করবে। বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ বিবিসিকে বলছিলেন এই নারী সৈনিকেরা মূলত বিভিন্ন চেকপোস্ট ও বিভিন্ন অভিযানের দায়িত্বে থাকবেন। আজিজ আহমেদ বলেন, “সীমান্তে বিভিন্ন চেকপোস্টে যেদিক দিয়ে বৈধভাবে মানুষ আসা যাওয়া করে সেখানে কোনও সন্দেহভাজন নারীকে দেখলে তাকে তল্লাশিতে মাঝেমধ্যেই বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। সেখানে এখন নারী সৈনিকরা কাজ করবে”। “এছাড়া সীমান্তের যেসব এলাকা দিয়ে চোরাচালানকারীরা নারীদের ব্যবহার করে সেসব এলাকায় তল্লাশিতেও কাজ করবে নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত এই নারী সৈনিকরা”-বলেন আজিজ আহমেদ। তবে সীমান্ত পাহাড়ার কাজগুলোতে এখনই তাদের নিয়োজিত করা হচ্ছে না বলে জানান বিজিবি মহাপরিচালক। মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ আরো বলেন, “কোনও অভিযানে গেলে সেখানে অন্যদের সাথে নারী সৈনিকরাও থাকবে। এছাড়াও বিভিন্ন হাসপাতালগুলোতে মেডিক্যাল এসিস্টেন্ট হিসেবে তাদের নিয়োগ দেয়া হবে”। নানান ক্ষেত্রে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন জায়গায় এদের নিয়োগ দেয়া হবে বলে জানান বিজিবির মহাপরিচালক।

১২০ প্রাণ ঝরল যে নির্বাচনে by আবু সালেহ আকন

১২০ প্রাণ সংহারের মধ্য দিয়ে শেষ হলো ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। গতকাল শনিবার শেষ দফার নির্বাচনেও প্রাণ যায় চারজনের। মোট ছয় ধাপের নির্বাচনে আহত হয়েছেন ১২ হাজারের বেশি মানুষ। এর মধ্যে অনেকেই জীবনের তরে পঙ্গু হয়ে গেছেন। সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, ইতিহাসের সবচেয়ে সহিংস এবারের ইউপি নির্বাচন। এত হানাহানির নির্বাচন এ দেশে অতীতে হয়নি। গতকাল শেষ দফার নির্বাচন শেষ হলেও নির্বাচনকেন্দ্রিক আরো প্রাণ যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অনেকেই। গতকালের হানাহানির রেশ আরো কয়েক দিন থাকতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। সহিংসতারোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছেন বলে বিভিন্ন সময় অনেকেই মন্তব্য করেছেন।  নির্বাচনের দিন, নির্বাচন-পূর্ববর্তী ও নির্বাচন-পরবর্তী সহিংস ঘটনায় এসব প্রাণহানি হয়। এর মধ্যে কিছু রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে নিহতের ঘটনা। সহিংস ঘটনায় প্রকাশ্যে এ আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার হতে দেখা গেছে।
এমনকি কোন কোন এলাকায় বৈধ আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে খুনের ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। গত ২২ মার্চ প্রথম ধাপে ৭১২টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম ধাপের নির্বাচনের দিনে বিভিন্ন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলি এবং প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে নিহত হয় ১১ জন এবং আহত হয় হাজারের ওপরে। নির্বাচনের পরের দুই দিনে ও নির্বাচনের দিনে আহত আরো তিনজনসহ প্রথম ধাপের নির্বাচনী সহিংসতায় নিহত হয়েছেন ছয়জন। তফসিল ঘোষণার পর থেকে নির্বাচনের আগেই সারা দেশের অনেক এলাকায় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে নিহত হয় ১০ জন। সব মিলিয়ে প্রথম ধাপে নিহত হয় ২৭ জন এবং আহত হয় সাড়ে তিন হাজারেরও বেশি। দ্বিতীয় ধাপের ইউপি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ৩১ মার্চ। ওই দিন সাত উপজেলায় সহিংসতায় এক শিশু, বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রসহ আটজন নিহত হয়। নির্বাচনের আগে-পরে ও নির্বাচনের দিন মিলিয়ে দ্বিতীয় দফা শেষে নিহতের সংখ্যা দাঁড়ায় ৪৭ জনে। গত ২৩ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হয় তৃতীয় দফার নির্বাচন। ওই দিন বাগেরহাট সদর ও শরীয়তপুরের নড়িয়ায় দুইজন নিহত হন। বিভিন্ন এলাকায় ব্যালট ছিনতাই ও সংঘর্ষে আহত হয় দুই শতাধিক। তৃতীয় দফার আগে-পরেও দেশের বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক সহিংস ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় তৃতীয় দফা নির্বাচন শেষে নিহতের সংখ্যা দাঁড়ায় ৬৭ জন।
আহতের সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় ৫ হাজার। ৭ মে অনুষ্ঠিত হয় চতুর্থ ধাপের নির্বাচন। এ দিন পাঁচজন নিহত হয়। এর মধ্যে রাজশাহীর বাগমারায় দুইজনসহ নরসিংদী, কুমিল্লা ও ঠাকুরগাঁওয়ে একজন করে মোট পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়াও জামালপুরে নির্বাচনী দায়িত্ব পালনকালে নিজ গুলিতে একজন বিডিআর সদস্য নিহত হন। চতুর্থ ধাপ পর্যন্ত নির্বাচনী সহিংসতায় নিহত হন ৯০ জন এবং আহতের সংখ্যা ছয় হাজারেরও বেশি। ২৮ মে অনুষ্ঠিত হয় পঞ্চম ধাপের নির্বাচন। এই নির্বাচনেও ব্যাপক সহিংস ঘটনা ঘটে দেশের বিভিন্ন স্থানে। পঞ্চম দফার নির্বাচন শেষে হিসাব করে দেখা যায় নিহতের সংখ্যা ১১১। এর মধ্যে কিছু রয়েছেন, যারা বিভিন্ন ধাপের সহিংসতায় আহত হয়েছিলেন। তাদের মধ্যে কয়েকজনের মৃত্যুর ঘটনা যোগ হয়। এ ছাড়া ওই দিন পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার শাহপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে নির্বাচনী সহিংসতায় আহত আওয়ামী লীগ নেতা সিরাজুল ইসলাম কালু মারা গেছেন।
সর্বশেষ গতকাল ৪ জুন অনুষ্ঠিত হয় ষষ্ঠ ও শেষ ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। শেষ ধাপে দেশের ৪৬ জেলার ৯২ উপজেলার ৭১০টি ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। গতকালও ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে শাজাহান (৫২), সোনাগাজীতে নাসির (১৮) এবং নোয়াখালী সদরে আরাফাত (২৩) নামে তিনজনের প্রাণ গেছে। শেষ ধাপের নির্বাচনের আগে নিহত হয়েছেন আরো চারজন। এর মধ্যে নড়াইলের লোহাগড়ায় গত ২ জুন নিশান মুন্সি এবং গোবিন্দগঞ্জে একজন নিহত হন। ১ জুন নরসিংদীর রায়পুরায় সরকারদলীয় প্রার্থী ও বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে গুলিতে নিহত হন লিটন মিয়া নামে এক পথচারী। ৩ জুন চট্টগ্রামের আনোয়ারায় নিহত হন ফারুক নামে এক যুবক। অনুসন্ধানে দেখা গেছে নির্বাচন-পূর্ব সংঘর্ষে ৪৯ জন, ভোটের দিন সংঘর্ষে ৪৯ জন এবং ভোটের পর সংঘর্ষে ২০ জন নিহত হন। এর আগে দেশে ১৯৮৮ সালের নির্বাচন সবচেয়ে বেশি সহিংস ও প্রাণঘাতী ছিল। ওই নির্বাচনে ৮০ জনের প্রাণহানি হয়। ২০১১ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ইউপি নির্বাচনে ১০ জনের প্রাণহানি হয়। ২০০৩ সালে বিএনপি সরকারের আমলে ২৩ জন মারা যায়। এবারে অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে।

অবৈধ সরকার অভিশাপ হয়ে দেখা দিয়েছে : শিবির সভাপতি

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি আতিকুর রহমান বলেছেন, আওয়ামী সরকারের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অপশাসনে জনগণের নাভিশ্বাস উঠে গেছে। জনগণের জন্য অবৈধ সরকার অভিশাপ হয়ে দেখা দিয়েছে। তিনি আজ রাজধানীর এক মিলনায়তনে ছাত্রশিবিরের মাসিক সেক্রেটারিয়েট বৈঠকে সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। সেক্রেটারী জেনারেল ইয়াছিন আরাফাতের পরিচালনায় এসময় সেক্রেটারীয়েট সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। শিবির সভাপতি বলেন, আওয়ামী লীগ জনগণকে তাদের প্রতিপক্ষ বানিয়ে নিয়েছে। তাই ঘুরিয়ে ফিরিয়ে জনগণকে নানাভাবে নিপীড়ন করছে। এই নিপীড়ণের আরেকটি পদক্ষেপ হলো ২০১৬-১৭ সালের বাজেট। এই বাজেটে জনগণের কথা বলা হয়নি। বাজেটে শিক্ষাখাতে যে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে তা অপর্যাপ্ত।
শিক্ষাখাতে বরাদ্দ কিছুটা বাড়লেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। পার্শ্ববর্তী কয়েকটি দেশেও শিক্ষা খাতে বরাদ্দ অনেক বেশি। প্রস্তাবিত বাজেটে শিক্ষা উপকরণের দাম বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ করে বাজেটে শিশুদের ড্রয়িং বইয়ের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রকাশনা শিল্পে চিলড্রেন পিকচার, ড্রয়িং কালারিং বইয়ের শুল্ক ৫ থেকে ১০ শতাংশ ধার্য করার প্রস্তাব করা হয়। শতভাগ পাশ করানোর মনোবৃত্তি আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থাকে কোন পর্যায়ে নিয়ে গেছে, উচ্চ শিক্ষায় ভর্তি পরীক্ষার সময়ও তা দেখা যায়। এ কারণে শিক্ষিত বেকারত্বের হার দিন দিন বেড়েই চলছে। বাজেটে শিক্ষিত বেকারদের জন্য কোনো সুখবর নেই। দেশে বেকার জনগোষ্ঠির সমস্যা দূর করার জন্য কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। তিনি বলেন, ধোঁকাবাজির মাধ্যমে নিজেদের অযোগ্যতা ও ব্যর্থতাকে আড়াল করতে ৩ লক্ষ ৪০ হাজার ৬০৫ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। অথচ ৯৭ হাজার ৮৩৫ কোটি টাকার ঘাটতিই রয়েছে।
এই ঘাটতি পূরণে দেশ বিদেশ থেকে চড়া সুদে ঋণ নিতে হবে সরকারকে। আর এই বিশাল ঋণের বোঝা বহন করতে হবে জনগণকে। ইতিমধ্যেই মোবাইল কোম্পানিগুলো অতিরিক্ত টাকা কেটে নেয়া শুরু করেছে। ৯৫ মুসলমানের দেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের উন্নয়নের জন্য ২০০ কোটি টাকা বাজেট রাখলেও মুসলমানদের ধর্মীয় স্থান ও অবকাঠামোর জন্য কোনো বরাদ্দ রাখা হয়নি। সুতরাং এই বাজেটের মাধ্যমে জনগণের সাথে নির্মম তামাশা করেছে সরকার। অন্যদিকে মাহে রমজানকে সামনে রেখে সরকারের প্রত্যক্ষ মদদে ও সরকারি লোকদের ছত্রছায়ায় দ্রব্যমূল্যের ইতিমধ্যেই সাধারণ মানুষের ক্রয় সীমার বাইরে চলে গেছে। তিনি আরো বলেন, যাদের আদর্শ ও নৈতিকতা বলতে কিছু নেই তাদের কাছ থেকে ভালো কিছু আশা করা বোকামি ছাড়া কিছু নয়। জাতির ঘাড়ে চেপে বসা এই অভিশপ্ত অপশক্তিকে টেনে নামানো ছাড়া জাতির মুক্তি নেই। সুতরাং দেশ ও জনগণের শত্রু এই আদর্শহীন অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করতে কাজ করে যেতে হবে। তিনি সমাগত মাহে রমজানকে সুষ্ঠভাবে পালনের আহবান জানিয়ে বলেন, মাহে রমজান সেই কুরআন নাযিলের মাস যেই কুরআন বাতিলকে পরাজিত করে ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রে ইনসাফপূর্ণ জীবন ব্যবস্থা কায়েম করেছিল। সেই কুরআন আজও আছে। সুতরাং কুরআনের ঝান্ডা উঁচু করে রাখা কাফেলা ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের এই কুরআন নাযিলের মাসে নিজ, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রে কুরআন প্রতিষ্ঠায় সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাতে হবে।

রমজানে তাকওয়া ভিত্তিক চরিত্র গঠন করুন : জামায়াত

মাহে রমযানের পবিত্রতা রক্ষা এবং তাকওয়া ভিত্তিক চরিত্র গঠনের মাধ্যমে আত্মগঠনের জন্যে সযত্ন প্রচেষ্টা চালানোর আহবান জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত আমির মকবুল আহমাদ। আজ শনিবার এক বিবৃতিতে তিনি এ আহবান জানান।
তিনি বলেন, রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের সওগাত নিয়ে মাহে রমযান আবার সমাগত। রাসূলুলাহ (সাঃ) বলেছেন, এ মাসের প্রথম অংশ রহমতের, মধ্যবর্তী অংশ মাগফিরাতের ও শেষ অংশ নাজাতের। এ মাসের শেষ দশ দিনের মধ্যে রয়েছে একটি বরকতময় রাত যা হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। এ মাসে একটি ফরজ কাজ আঞ্জাম দিলে অন্য মাসের ৭০টি ফরজ কাজের সমান সওয়াব পাওয়া যায়; আর একটি নফল কাজের আঞ্জাম দিলে ফরজ কাজের সমপরিমাণ সওয়াব পাওয়া যায়। এ মাস সবর ও পরস্পরের প্রতি সহানুভূতিশীলতার মাস। এ মাসটি পূর্ণ মর্যাদাসহকারে পরিপূর্ণ আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সাথে পালন করার আহবান জানান এ জামায়াত নেতা। তিনি বলেন, পবিত্র এ রমযান মাস কুরআন নাজিলের মাস। কুরআন মানবজাতির প্রতি আল্লাহ তায়ালার সর্বশ্রেষ্ঠ নেয়ামত। পবিত্র কুরআন অধ্যয়নের মাধ্যমে কুরআনকে সঠিকভাবে জানা এবং সেই অনুযায়ী নিজের ব্যক্তি, পরিবার ও রাষ্ট্রীয় জীবন গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার মাধ্যমে সত্যিকার অর্থে পবিত্র রমযান মাসের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা সম্ভব। কুরআন থেকে হেদায়াত লাভের জন্য যে মন মানসিকতা ও চরিত্রের প্রয়োজন, সেই মন ও চরিত্র সৃষ্টির জন্য আল্লাহ তায়ালা মাহে রমজানের রোজা পালনকে আমাদের প্রতি ফরজ করেছেন।
এক মাসব্যাপী রোযা পালনের মাধ্যমে সে লক্ষ্য অর্জনে সচেষ্ট হওয়ার জন্য আমি সবার প্রতি আহবান জানাচ্ছি। জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমির বলেন, রমযানের পবিত্রতা রক্ষা, অশ্লীলতা, বেহায়াপনা ও নগ্নতা বন্ধ করার দায়িত্ব সরকারের। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে রেখে ও দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি করে মানুষের জানমাল-ইজ্জতের নিরাপত্তা বিধানের দায়িত্ব সরকারের। এ দায়িত্ব পালনের জন্য তিনি সরকারের প্রতি আহবান জানান। রোজাদারদের প্রতি শ্রদ্ধা দেখিয়ে দ্রব্যমূল্য জনগণের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে রেখে অধিক মুনাফা লাভের মানসিকতা পরিহার করার জন্য দেশের ব্যবসায়ী মহলের প্রতি আহবান জানান মকবুল আহমাদ।

প্রস্তাবিত বাজেটে রফতানিমুখি শিল্প স্থবির হয়ে পড়বে : ইএবি

প্রস্তাবিত ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেটে রফতানিমুখি শিল্পের স্বাভাবিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়বে বলে মনে করে রফতানিকারকদের সংগঠন এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইএবি)। আজ শনিবার সংগঠনটির পক্ষ থেকে দেয়া এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা বলা হয়। সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়, গভীর উদ্বেগ ও বিস্ময়ের বিষয় হচ্ছে, বাজেটে শিল্পকে উৎসাহিত করার পাশাপাশি শিল্পের বিকাশের পথে নিরুৎসাহিতকরণের কিছু পদক্ষেপও রয়েছে। সংগঠনের সভাপতি আবদুস সালাম মুর্শেদী স্বাক্ষরিত এ বিবৃতিকে বলা হয়, বিস্ময়ের ব্যাপার হলো বর্তমান প্রেক্ষাপটে তীব্র প্রতিযোগিতামূলক বাজারে রফতানিখাতের উৎস কর শূন্য দশমিক ৬০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে এক দশমিক ৫০ শতাংশ করায় রফতানিমুখি শিল্পের স্বাভাবিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়বে, শিল্পের সক্ষমতা কমে যাবে। অর্থনৈতিক উন্নয়ন প্রবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হবে, বিনিয়োগ তথা কর্মসংস্থান সৃষ্টি নিশ্চিতভাবে নিরুৎসাহিত হয়ে উঠবে। এতে বলা হয়, বাজেটে রফতানিখাতে বিশেষ মুদ্রানীতি সর্ম্পকে কোনো নির্দেশনা নেই।
তৈরি পোশাক খাতের কর্পোরেট কর ৩৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশ করা হয়েছে। তৈরি পোশাক রফতানিখাতের যৌক্তিক দাবি ছিল পূর্বের ন্যায় ১০ শতাংশ, যা বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থানে আরো সক্ষমতা বৃদ্ধি পেতো। শিল্পের স্বার্থে কর্পোরেট কর ১০শতাংশ করার অনুরোধ করা হয়। প্রস্তাবিত বাজেটে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং উৎসাহিতকরণের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কোনো দিক নির্দেশনা পরিলক্ষিত হয়নি। ইএবির পক্ষ থেকে বলা হয়, প্রস্তাবিত বাজেট বাস্তবায়নে একদিকে সম্ভাবনা যেমন আছে, বিপরীতে আছে বিরাজমান কঠিন বাস্তবতা। এবারের বাজেটে শিল্পকে উৎসাহিত করার জন্য বেশ কিছু পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে রফতানিখাতের প্রণোদনা বাবদ ৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা, মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানির রেয়াতি হারে শুল্কায়ন সুবিধা বহাল রাখা, অগ্নি-নির্বাপক যন্ত্রপাতি-উপকরণ ও প্রি-ফেব্রিক্যাটেড বিল্ডিং তৈরির উপকরণে শুল্ক রেয়াতের প্রস্তাব করা, দক্ষ মানবসম্পদ গঠনে বাজেটে উল্লেখযোগ্য বরাদ্দ রাখা, তৈরি পোশাক খাতের কর্পোরেট কর ৩৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশ করা এবং বেসরকারি খাতের চাকরিজীবীদের পেনশন প্রদানের উদ্যেগ অত্যন্ত সময়োপযোগী।
এছাড়া বিদ্যুৎ, জ্বালানি এবং সার্বিক যোগাযোগ অবগকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষা খাতে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে এবং ১০টি মেগা প্রকল্পে উল্লেখযোগ্য তহবিল বরাদ্দ শিল্পে সহায়ক হবে। ইএবি সভাপতি আরো বলেন, বাজেটে রপ্তানীখাতে বিশেষ মুদ্রানীতি সর্ম্পকে কোনো নির্দেশনা নেই, এ ব্যাপারে রফতানিকারকদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা বিশেষ মুদ্রানীতি এবং বিষয়টি অর্থমন্ত্রীর সুবিবেচনার জন্য বিনীত অনুরোধ রইল। এছাড়া প্রস্তাবিত বাজেটে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং উৎসাহিতকরণের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কোন দিক নির্দেশনা পরিলক্ষিত হয়নি। বিষয়টি পূণ:বিবেচনার জোরালো দাবি জানাচ্ছি।

ব্যাগে চকোলেটের নামে গুলি : লন্ডন থেকে আসা বিমানযাত্রী গ্রেফতার

সিলেটের ওসমানি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একজন বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিকের ব্যাগেজে দেড় শতাধিক রাউন্ড শটগানের কার্তুজ পাওয়া যাওয়ার পর তাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। কর্মকর্তারা বলছেন, স্ক্যানার ফাঁকি দিতে কার্তুজগুলোকে সিগারেটের প্যাকেটের রাঙতা দিয়ে মোড়ানো ছিল, যা দেখতে লাগছিল অনেকটা চকলেটেরে মতো।
আব্দুস সবুর নামে এই ব্রিটিশ পাসপোর্টধারী লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে একটি সরাসরি ফ্লাইটে করে সিলেটে এসেছিলেন। গোলাবারুদসহ গ্রেফতারের পর সবুরকে ওসমানি বিমানবন্দর থানা হাজতে নিয়ে রাখা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে বাংলাদেশের অস্ত্র আইনে মামলা হয়েছে। আগামীকাল তাকে সিলেটের আদালতে সোপর্দ করা হবে। কর্মকর্তারা বলছেন, বাংলাদেশে বিমানের সরাসরি ফ্লাইটে চড়ে লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে সিলেটের ওসমানি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে নামেন আব্দুস সবুর। তিনি বাংলাদেশী ব্রিটিশ নাগরিক হলেও তার আদি নিবাস সিলেটের বিয়ানিবাজার। সেখানেই সবুরের আরো দুই ভাই বসবাস করেন এবং তাদের কাছেই বেড়াতে এসেছিলেন তিনি। শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগেরে কর্মকর্তা প্রবাদ কুমার সিংহ বলেন, আগে থেকেই তাদের কাছে খবর ছিল এই ব্যক্তির ব্যাগেজে গোলাবারুদ রয়েছে। প্রবাদ কুমার বলেন, গ্রিন চ্যানেল পার হবার পর সবুরকে প্রথমে চ্যালেঞ্জ করলে তিনি জবাব দেন এগুলো চকোলেট। তারপর আবারো চ্যালেঞ্জ করলে তিনি জবাব দেন এগুলো সিগারেটের রাঙতায় মোড়ানো চকলেট।
পরে কর্মকর্তা ব্যাগ খুলে দেখতে পান সেখানে রয়েছে সিগারেটের রাঙতায় মোড়ানো দেড়শ’টি শটগানের গুলি। প্রবাদ কুমার আরো বলেন, অনেক সময় স্ক্যানারকে ফাঁকি দেয়ার জন্য অনেকেই সিগারেটের রাঙতায় জিনিসপত্র মুড়িয়ে নেন। কর্মকর্তারা বলেছেন, বিমানে অস্ত্র-গোলাবারুদ বহনের সুনির্দিষ্ট নীতিমালা রয়েছে, ভ্রমণকালে যেসব বিমানবন্দর ব্যাবহার করা হবে প্রতিটি বিমানবন্দরে এই অস্ত্রগোলাবারুদের ঘোষণা দিতে হবে এবং নির্দিষ্ট ফর্মে আবেদন করতে হবে, কিন্তু সবুর এসবের কিছুই করেননি। তিনি ওসমানী বিমানবন্দরের কর্মকর্তাদের বলেছেন, বিয়ানিবাজারে তার ভাইয়ের লাইসেন্সধারী শটগানের জন্য এগুলো তিনি এনেছেন এবং লন্ডনে অবস্থানরত আরেক ভাইয়ের শটগানের লাইসেন্স ব্যাবহার করে এগুলো তিনি কিনেছেন। কিন্তু কোনো ঘোষণা ছাড়া কিভাবে তিনি লন্ডন হিথ্রোর নিরাপত্তাজাল অতিক্রম করলেন এগুলো নিয়ে? সেই প্রশ্ন তুলছেন ওসমানী বিমানবন্দরের কর্মকর্তারাও।
জবাবে সবুর বলেছেন, তিনি হিথ্রোর নিরাপত্তা বাধা অতিক্রম করবার জন্য সেখানে তার ভাইয়ের অস্ত্রের লাইসেন্স দেখিয়েছেন। কিন্তু ওসমানি বিমানবন্দরে তিনি সেই লাইসেন্স দেখাতে পারেননি। বিমানবন্দরে দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর আব্দুস সবুরকে গ্রেফতার করে ওসমানি বিমানবন্দর থানা হাজতে নিয়ে রাখা হয়। ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ গউসুল হোসেন বলছেন, সবুরের ব্যাপারে প্রাথমিকভাবে ঢাকার ব্রিটিশ হাইকমিশনকে অবগত করা হয়েছে। আগামিকাল এ ব্যাপারে বিস্তারিত একটি চিঠি পাঠানো হবে হাইকমিশনের উদ্দেশে।

দাঁড়ির জন্য চাকরি হারিয়ে আদালতে মুসলিম জওয়ান

সেনাবিহিনীতে থাকতে গেলে হতে হবে একদম ‘ক্লিন শেভ’। দাড়ি রাখা চলবে না। ভারতীয় সেনাবাহিনীতে এমনই নিয়ম। আবার মুসলমানরা ধর্মীয় কারণে দাড়ি রেখে থাকেন। দাড়ি রাখতে গিয়ে চাকরি হারিয়েছেন ভারতীয় সেনাবাহিনীর সদস্য মাক্তুম হোসেন।
৩৪ বছর বয়সী ভারতীয় সেনাবাহিনীর জওয়ান মাক্তুম হোসেন কর্ণাটকের বাসিন্দা। ভারতীয় সেনাবাহিনীতে শিখ ধর্মাবলম্বী ছাড়া আর কোনো ধর্মের লোকেদের দাড়ি রাখার অধিকার নেই। কিন্তু ইসলাম ধর্ম অনুসরণ করে দাড়ি রাখার অপরাধে চাকরি থেকে সরিয়ে দেয়া হয় মাক্তুম হোসেনকে। ২০০১ সালে ধর্মীয় কারণে দাড়ি রাখার জন্য কমান্ডিং অফিসারের কাছে আবেদন করেছিলেন মাক্তুম হোসেন। সেই আবেদনে কর্ণপাত করেননি কমান্ডিং অফিসার। উল্টা চাকরি থেকেই বসিয়ে দেয়া হয়েছিল ওই জওয়ানকে। কোচির আর্মড ফোর্স আদালতও মাক্তুম হোসেনের দাড়ি রাখার বিরুদ্ধেই রায় দিয়েছিল।
এরপর কর্ণাটক হাই কোর্টের শরণাপন্ন হয়েছিলেন মাক্তুম হোসেন। সেখানেও আদালত তার বিপক্ষেই রায় শুনিয়েছিল। তারপর তাকে পুনেতে অবস্থিত সেনাবাহিনীর হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। সেখানেও একই সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় জওয়ান মাক্তুম হোসেনকে। সেনাবাহিনীর নিয়ম অমান্য করে দাড়ি রাখার অপরাধে তাকে ১৪ দিনের জন্য সাসপেন্ড করা হয়। কোনোদিকেই কোনো সুরাহা না হওয়ায় এবার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার পরিকল্পনা করেছেন ওই মুসলিম জওয়ান। যদিও দেশের সর্বোচ্চ আদালত সেনাবাহিনীর নিয়ম শিথিল করে তার পক্ষে রায় দেবে কিনা সেদিকেই তাকিয়ে মাক্তুম হোসেন।

পাকিস্তানের প্রতিরক্ষায় বরাদ্দ বাড়ল ১১ ভাগ

পাকিস্তান তার সামরিক বাজেট প্রায় ১১ শতাংশ বাড়িয়েছে৷ জানা গিয়েছে, ২০১৬-১৭ আর্থিক বছরের জন্য পাক সরকার প্রতিরক্ষা খাতে প্রায় ৮৬ হাজার কোটি রুপি বরাদ্দ করেছে৷ যা গত আর্থিক বছরের তুলনায় ৮ হাজার ৫০০ কোটি রুপি বেশি৷
পাকিস্তান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সূত্রে খবর, এই বাজেটে পাক সেনাবাহিনীর জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ৪৭ শতাংশ, বিমানবাহিনীর জন্য বরাদ্দ ২০ শতাংশ ও নৌ-বাহিনীর জন্য বরাদ্দ হয়েছে দশ শতাংশ অর্থ৷ এছাড়া, ৮৬ হাজার কোটি রুপির মধ্যে ৩২ হাজার ৭০০ কোটি রুপি কর্মচারীদের জন্য বরাদ্দ রয়েছে, ২১ হাজার ৬০০ কোটি রুপি পরিচালন ব্যয়ের খাতে রাখা হয়েছে ও বাকি ২১ হাজার ১০০ কোটি রুপি সেনা সামর্থ্য বাড়ানোর জন্য বরাদ্দ হয়েছে৷ জানা গেছে, এই বছরে যে পরিমাণ অর্থ প্রতিরক্ষা খাতে বরাদ্দ হয়েছে তা মোট বাজেটের মাত্র আট শতাংশ৷ যদিও পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা খাতে এই বরাদ্দ বিশ্বের অনেক দেশের বরাদ্দের তুলনায় কম৷ যেমন, পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রত্যেক সেনা সদস্য পিছু বছরে যেখানে খরচ করে ৮ হাজার ৭৭ ডলার, সেখানে ভারত করে ১৭ হাজার ৫৫৮ ডলার, ন্যাটোভুক্ত তুরস্ক ৩১ হাজার ডলার, খনিজ তেলনির্ভর সৌদি আরব ২ লাখ ৬৯ হাজার ৬০ ডলার এবং বিশ্বের সব থেকে বড় সামরিক শক্তি আমেরিকা নিজে খরচ করে ৪ লাখ ২৬ হাজার ৮১৪ ডলার৷

৯৬ বছর বয়সে স্নাতক ডিগ্রি পেয়ে বিশ্বরেকর্ড

জাপানের ৯৬ বছর বয়সী এক নাগরিক আগের সকল রেকর্ড ভেঙে সবচেয়ে বেশি বয়সে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছেন। মৃৎশিল্পে তিনি এ ডিগ্রি পান। এর ফলে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক স্নাতক ডিগ্রিধারীর স্বীকৃতি পান।
শনিবার স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, এ বছরের গোড়ার দিকে কিয়োটো ইউনিভার্সিটির আর্টস এ্যান্ড ডিজাইন থেকে ব্যাচেলর অব আর্টস ডিগ্রি অর্জনের পর শুক্রবার জাপানি নাগরিক শিগেমি হিরাতা গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডের সনদ অর্জন করেন। এর ফলে ১৯১৯ সালের হিরোশিমার একটি খামার বাড়িতে জন্ম নেয়া হিরাতার নাম ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়ে। তিনি জাপানের ইয়োমিউরি পত্রিকাকে বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা না চিনলেও তাদের অনেকে আমাকে শুভেচ্ছা জানাতে ফোন করেছে। যা আমাকে শক্তি যুগিয়েছে। ’ একশ বছর বাঁচার স্বপ্ন দেখা হিরাতার এ ডিগ্রি অর্জনে সময় লেগেছে ১১ বছর। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালে তিনি নৌবাহিনীতে কাজ করেন।

প্রেমিকের মোটরবাইক চেপে কেটে পড়লেন সদ্য বিবাহিতা

শ্বশুরমশাই ভেবেছিলেন, তাঁই চোখের সামনে দিয়ে নতুন বৌমাকে তুলে নিয়ে পালাল অপহরণকারীরা। কপাল চাপড়াতে বসেন তিনি। থানায় অভিযোগ করেন। কিন্তু পরে জানা যায়, গাড়ি থামিয়ে অপহরণের নাটক ফেঁদে বৌমা নিজেই পালিয়েছে প্রেমিকের সঙ্গে! পশ্চিমবঙ্গের দেগঙ্গার এই ঘটনায় ‘অপহরণকারী’দের এক জনকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ। জানা গেছে, বন্ধুত্বের প্রতি সম্মান দেখাতেই সে নাটকের কুশীলব সেজেছিল। পুলিশ ওই তরুণী, তার প্রেমিক ও বাকি তিনজনের খোঁজ করছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের খবর, গত ২৫ মে বিয়ে হয়েছিল সদ্য সাবালিকা মেয়েটির। শ্বশুরবাড়ি বসিরহাটে। এ বার উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়ে পাস করতে পারেননি তরুণী। বাড়ি থেকে বিয়ের চাপ আসছিল। প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, মেয়ের ইচ্ছে ছিল না বিয়েতে।
কিন্তু পরিবারের চাপের কাছে নতি স্বীকার করতে বাধ্য হয়। বিয়ের পরে নানা আনুষ্ঠানিকতা সারতে সোমবার পর্যন্ত মেয়ে-জামাই ছিল দেগঙ্গায় তরুণীর বাপের বাড়িতে। মঙ্গলবার সকালে নতুন জামাই কাজে বেরিয়ে যান। ওই দিনই বিকেলে বৌমাকে ফিরিয়ে আনতে গাড়ি নিয়ে গিয়েছিলেন শ্বশুরমশাই এবং তার দুই আত্মীয়। তরুণীকে নিয়ে দেগঙ্গার দিকে রওনা দেয় গাড়ি। বেলা তখন প্রায় সাড়ে ৪টে। দেগঙ্গার কালিয়ানী বিল এলাকায় টাকি রোড ধরে এগোচ্ছিল গাড়ি। একটি পেট্রোল পাম্পের কাছে আসতেই লাঠি হাতে গাড়ি থামায় এক বৃহন্নলা। মেয়েটিকে হাত ধরে গাড়ির ভিতর থেকে টেনে বের করতে চায়। ইতিমধ্যে সেখানে তিনটি মোটর বাইকে হাজির হয় তিন যুবক। অভিযোগ, তরুণীর শ্বশুরমশাই ও আত্মীয়েরা প্রতিবাদ করলে ধাক্কধাক্কি করা হয় তাদের। তারই মধ্যে এক যুবক তরুণীকে গাড়ি থেকে বের করে একটি মোটর বাইকে বসিয়ে চম্পট দেয়। বাইকে উঠে পালায় ওই বৃহন্নলা-সহ বাকিরাও।
অপহরণের অভিযোগ পেয়ে তদন্তে নামে পুলিশ। বুধবার দেগঙ্গা থেকেই ধরা পড়ে এক যুবক। বৃহস্পতিবার বারাসত জেলা আদালতে হাজির করানো হলে বিচারক তাকে ৭ দিন পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন। পুলিশের দাবি, জেরায় ওই যুবক জানিয়েছে, তার এক বন্ধুর সঙ্গে ওই তরুণীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বিয়ে করবে বলেও ঠিক করেছিলেন দু’জনে। মেয়েটির প্রেমিক তাঁর বন্ধুদের বলেন, জোর করে বাড়ি থেকে বিয়ে দিয়ে দেওয়া হয়েছে মেয়েটির। তাকে তুলে আনতে হবে। সেই মতোই অপহরণের ছক কষা হয়। পুলিশ জানতে পেরেছে, এক আত্মীয়ের মোবাইল থেকে ফোনে প্রেমিকের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিল সদ্য বিবাহিতা তরুণীটি। তরুণীর বাবার দাবি, মেয়ের সম্পর্কের কথা জানতেন না তিনি।
তাঁর কথায়, ‘‘জানলে সম্বন্ধ করে ওর বিয়ের ঠিক করতাম না।’’ যদিও এ কথা কতটা বিশ্বাসযোগ্য, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। মেয়ের প্রেমের কথা জানলেও তাতে পরিবারটি রাজি হতো কি না, সে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। আর কী বলছেন তরুণীর স্বামী? খানিকটা ভেঙে পড়েছেন তো বটেই। গোটা ঘটনাটা এখনও যেন ঠিক বিশ্বাস করে উঠতে পারছেন না। বললেন, ‘‘পাঁচটা দিন ওর সঙ্গে ঘর করলাম। কিছু তো বুঝতে পারিনি। আমার মনে হচ্ছে, ওকে কেউ জোর করেই নিয়ে গেছে।’’

ফুঁসে উঠেছে সিন, ডুবে যাচ্ছে প্যারিস

প্যারিসে ভারী বৃষ্টিতে বেড়ে গেছে সিন নদীর পানি। গত ৩০ বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ফুঁসে উঠেছে এ নদী। বন্যার পানি এই নগরের পাতালরেলের কাছাকাছি চলে এসেছে। আলমা সেতুর জুয়াভু ভাস্কর্য তলিয়ে যাচ্ছে বন্যার পানিতে।
বন্যার পানি ৬ মিটারের বেশি হওয়ায় ল্যুভর ও অরসে জাদুঘর বন্ধ করে দেয়া হয়েছে এবং জাদুঘরের কর্মীরা শিল্পকর্মগুলো নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছেন। সিন নদীর পানি ৬ দশমিক ৫ মিটার উঁচুতে পৌঁছেছে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, চলতি সপ্তাহান্তে পানি নামবে না। এদিকে আবহাওয়ার পূর্বাভাসে প্যারিসে আরও বৃষ্টিপাতের আশংকা করা হয়েছে। ফ্রান্স, ইউক্রেনসহ ইউরোপের মধ্যাঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে সৃষ্ট বন্যায় কমপক্ষে ১৫ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। এর মধ্যে ফ্রান্সে দুজন মারা গেছে। জার্মানির দক্ষিণাঞ্চলে ১০ জন মারা গেছে। সেখানকার বেশ কয়েকটি শহর ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রোমানিয়ায় দুজন ও বেলজিয়ামে একজন মারা গেছে। অস্ট্রিয়া, নেদারল্যান্ডস ও পোল্যান্ডেও বন্যা হয়েছে। হাজার হাজার লোককে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। প্যারিসে বন্যায় ফ্রান্সের ইনস্যুরেন্স কোম্পানীগুলোর ৬০ কোটি ইউরোর বেশি ক্ষতি হতে পারে।
পূর্ব সতর্কতা হিসেবে প্যারিসের ক্লুনি, লা সর্বোন ও সান শেল পাতাল রেলস্টেশনগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। নগরীর বিভিন্ন সড়ক পানিতে সয়লাব হয়ে গেছে। বিভিন্ন সেতু বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং সিন নদীতে জরুরী নয় এমন নৌকা চলাচলও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পানি বেড়ে যাওয়ায় বিভিন্ন জাদুঘর, পার্ক ও সমাধি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। বন্যার আশংকায় ল্যুভর জাদুঘরের কর্মীরা প্রায় দুই লাখ ৫০ হাজার শিল্পকর্ম নিচু স্থান থেকে উঁচু স্থানে সরিয়ে নিয়েছেন। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদ একে ‘ব্যতিক্রমী বন্যা’ বলে অভিহিত করেন। ১৮৭৩ সালের পর গত মে মাসে ফ্রান্সে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। এর আগে ১৯১০ সালের বন্যায় দুই মাস প্যারিস ডুবে ছিল। ওই বছর নদীর পানি ৮.৬২, ১৯৫৫ সালে ৭.১ ও ১৯৮২ সালে ৬.১৮ মিটার পানি বেড়েছিল।

ন্যাটোর জবাব দেবে রাশিয়া

পূর্ব ইউরোপে সেনা উপস্থিতি বাড়ানোর বিষয়ে সম্প্রতি ন্যাটোর নেয়া সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে এর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার হুমকি দিয়েছে রাশিয়া।
ন্যাটোতে নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার গ্রুশকো গতকাল (শুক্রবার) বলেছেন, পোল্যান্ড ও বাল্টিক সাগর এলাকার দেশগুলোতে ন্যাটো জোট আরো বেশি সেনা মোতায়েনের পরিকল্পনা নেয়ার পর আঞ্চলিক নিরাপত্তার গুণগত মান ভেঙে পড়েছে। তিনি বলেন, এ ধরনের পরিকল্পনার বিরুদ্ধে রাশিয়া অবশ্যই শুধুমাত্র রাজনৈতিক জবাব দেবে না বরং উপযুক্ত সামরিক জবাব দেবে। গ্রুশকো বলেন, ন্যাটোর সামরিক তৎপরতার বিষয়ে রাশিয়ার সেনারা গভীর মনযোগ দিয়ে পর্যবক্ষেণ করবে এবং ঝুঁকি বিনষ্ট করতে প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে। পোল্যান্ডের প্রতিরক্ষামন্ত্রী অ্যান্টনি ম্যাকিয়ারভিচ চার দিন আগে ঘোষণা করেছেন যে, তার দেশ ও বাল্টিক সাগর এলাকার লিথুয়ানিয়া, এস্তোনিয়া এবং লাটভিয়ায় চার ব্যাটালিয়ন সেনা মোতায়েন করবে ন্যাটো সামরিক জোট। এরপর রুশ রাষ্ট্রদূত সামরিক ব্যবস্থা নেয়ার হুমকি দিলেন। ন্যাটো মহাসচিব জেন্স স্টোলটেনবার্গের পোল্যান্ড সফরের পর দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ন্যাটো সেনা মোতায়েনের ঘোষণা দেন।

কিডনি চক্রের খপ্পরে ভারতের বিখ্যাত হাসপাতাল

ভারতের অ্যাপলো হসপিটাল না বুঝে কিডনি পাচার চক্রের উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করে আসছিলো। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। একপর্যায়ে ঘটনা ফাঁস হয়ে পড়ে এবং পুলিশ চক্রের পাঁচজনকে গ্রেফতার করে। শনিবার হাসপাতালের একজন মুখপাত্র এ কথা জানান।
চক্রটি কিডনির প্রয়োজন এরকম অসুস্থ ব্যক্তির আত্মীয় সাজিয়ে গরিব লোকজনকে কিডনি বিক্রিতে প্রলুব্ধ করে। এসব লোকজনের কাছ থেকে চক্রটি তিন লাখ রুপি (সাড়ে চার হাজার ডলার) দিয়ে কিডনি কিনে তা বেশি দামে বিক্রি করতো। এদিকে চক্রের সাথে জড়িত দুজন হাসপাতালে কিডনি বিশেষজ্ঞের সহকারী হিসেবেও কাজ করতো। তবে এ দুজন হাসপাতালের বেতনভুক কর্মী ছিল না বলে জানান মুখপাত্র। যার শরীরে কিডনি প্রতিস্থাপন করা হবে কিডনি দাতা তার আত্মীয় এটা প্রমাণের জন্যে তারা ভুয়া কাগজপত্র ব্যবহার করতো। এক্ষেত্রে তারা হাসপাতালের স্টাফদের বোকা বানিয়ে কাজটি করে যেতো। মুখপাত্র জানান, আমরা পুলিশকে ডেকে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার কথা বলেছি। ভারতে শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বেচাকেনা নিষিদ্ধ। এছাড়া অনাত্মীয় কারো অঙ্গ নিতে হলে তা অবশ্যই বিশেষ কমিটি দ্বারা অনুমোদিত হতে হবে।
যেসব লোক কিডনি চক্রের কাছে বিক্রিতে প্রলুব্ধ হয় তারা সাধারণত ভারতের তামিলনাড়– ও পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য থেকে আসে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দিল্লী পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, চলতি বছর আমরা চক্রটির কিডনি বিক্রির পাঁচটি ঘটনা চিহ্নিত করেছি। আমরা পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছি। ভুয়া আইডি কার্ড, সিডি ও অন্যান্য কাগজপত্র উদ্ধার করেছি। তিনি জানান, পুলিশ প্রথমে হাসপাতালে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে আটক করে। ভারতে অঙ্গপ্রত্যঙ্গের অব্যাহত ঘাটতির কারণে এসব নিয়ে কালোবাজারি দিন দিনই বাড়ছে। এছাড়া দেশটিতে ডায়াবেটিস রোগীর উচ্চ হার থাকার কারণে কিডনি রোগীও বেশি হওয়ায় প্রতিস্থাপন চাহিদাও বেশি।

বেশি প্রশ্ন করলেই আত্মহত্যা করব : পরীক্ষকদের হুমকি ফার্স্ট বয়ের

বেশি প্রশ্ন করবেন না, তা হলে এখানেই আত্মহত্যা করব’। ভারতের বিহার রাজ্যের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার শীর্ষ স্থানাধিকারী সৌরভ শ্রেষ্ঠের এই কথায় রীতিমতো ঘাবড়ে যান পরীক্ষকেরা। বেশি কিছু প্রশ্ন না করেই তাকে বাইরে পাঠিয়ে দেন তারা। রাজ্যের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার শীর্ষ স্থানাধিকারীদের নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় শিক্ষা দফতর তাদের দ্বিতীয় বার পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
পরীক্ষা দিতে আসেননি কলা বিভাগের প্রথম স্থানাধিকারী রুবি রাই। বিজ্ঞান বিভাগের প্রথম স্থানাধিকারী সৌরভ শ্রেষ্ঠ পরীক্ষা দিতে আসেন। ১৫ জনের একটি বিশেষজ্ঞ দল পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা নেয়ার জন্য উপস্থিত ছিলেন। পরীক্ষায় অবজেক্টিভ ও সাবজেক্টিভ দু’ধরনেরই প্রশ্ন ছিল। লেখা পরীক্ষার পর এক এক করে পরীক্ষার্থীদের ইন্টারভিউয়ের জন্য ডাকা হয়। সৌরভও হাজির হন। হলে ঢুকেই পরীক্ষকদের বলেন, “গত কয়েক দিন ধরে মানসিক দিক থেকে খুব চাপে রয়েছেন। উত্তর দেয়ার অবস্থায় নেই।” এই পর্যন্ত ঠিক ছিল। কিন্তু এর পরেই ঘরে থাকা সব পরীক্ষককে চমকে দিয়ে বলেন, “এমন কিছু প্রশ্ন করবেন না যাতে আত্মহত্যা করতে বাধ্য হই।” তার এই কথা শুনেই পরীক্ষকেরা ঘাবড়ে যান। তাকে পানি পান করিয়ে বাইরে পাঠিয়ে দেন। ১৫ জনের বিশেষজ্ঞ পরীক্ষকদের মধ্যে ১২ জন ছিলেন সাবজেক্ট এক্সপার্ট এবং তিনজন ছিলেন হ্যান্ডরাইটিং এক্সপার্ট। পরীক্ষা শেষে বিশেষজ্ঞ দলটি জানিয়েছে, বেশির ভাগ ছাত্রছাত্রীই সঠিক উত্তর দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞ দলের সবুজ সঙ্কেতের পর উচ্চমাধ্যমিক বোর্ডের অধ্যক্ষ লালকেশ্বর প্রসাদ সিংহ বলেন, “ভালো লেখক ভালো বক্তা হতে পারেন না।” শীর্ষ স্থানাধিকারীদের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি আরো বলেন, “টিভি চ্যানেলের ক্যামেরা দেখে নার্ভাস হয়ে গিয়ে ছেলেমেয়েরা ভুল বলে ফেলেছে।” রুবি রাই তা হলে কেন পরীক্ষা দিতে এলেন না? এই প্রশ্ন করাতে লালকেশ্বরবাবু বলেন, “শরীর খারাপের জন্য সে পরীক্ষা দিতে পারেনি।” উচ্চমাধ্যমিকের ফল বেরনোর পর কলা বিভাগের প্রথম স্থানাধিকারী রুবি রাইকে পলিটিক্যাল সায়েন্স কী তা নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। জবাবে রুবি বলেন, “এটি একটি রান্না শেখানোর বিষয়।” এ ছাড়াও তিনি পলিটিক্যাল সায়েন্সকে প্রডিক্যাল সায়েন্স বলেন। অন্য দিকে, বিজ্ঞান বিভাগের প্রথম স্থানাধিকারী সৌরভ শ্রেষ্ঠকে বিজ্ঞান সংক্রান্ত সাধারণ মানের প্রশ্ন করায় যে উত্তর দেন, তাতে গোটা দেশে হইচই পড়ে যায়। প্রশ্ন ওঠে কী ভাবে এরা বোর্ডের পরীক্ষায় প্রথম হয়েছেন। তার পরেই নড়েচড়ে বসে রাজ্য শিক্ষা দফতর। ফের পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

পরিবেশ যখন বিপন্ন by প্রকৌশলী এস এম ফজলে আলী

আমাদের চার পাশের সব জড় ও জীবকে নিয়ে গড়ে উঠেছে পরিবেশ। এই জীব ও জড়ের মধ্যে রয়েছে নিত্যদিনের সম্পর্ক এবং এ কারণে আমাদের চার পাশে ঘটছে নিত্যদিনের বিচিত্র সব কর্মকাণ্ড। অনেক সময় কর্মকাণ্ড যখন স্বাভাবিক নিয়মে চলতে পারে না, তখন দেখা দেয় পরিবেশের সঙ্কট। আসলে এই সঙ্কটের বেশির ভাগই সৃষ্টি করেছে মানুষেরাই তাদের নানা কর্মকাণ্ডে পরিবেশের বিভিন্ন উপাদানের ভারসাম্য বিনষ্ট করে। ফলে মানুষের জীবনযাত্রা হুমকির মুখোমুখি হচ্ছে। আর একেই আমরা বলি ‘পরিবেশদূষণ। ’ জীব জগতে যখন প্রাণীর সংখ্যা দ্রুত বেড়ে যায়, তখন তারা এমন সব কাজ করে যা তার চার পাশের জগৎকে স্বাভাবিকভাবে চলতে দেয় না। মানুষের কথাই আগে বলা যাক। একটি দেশের মানুষের সংখ্যা যখন বেড়ে চলে তারা তখন নানা রকম অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়। বাড়তি মানুষের জন্য বাড়তি খাবারের দরকার পড়ে। তাই তারা উচ্চফলনের ধানের চাষ করে থাকে। এর হাত ধরে আসে সার, বীজ, কীটনাশক আরো কত কী!
চাষের জমি বাড়াতে, মানুষের পড়তি জমিতে বাড়ি তৈরিতে কাটতে হয় বন। এতে হুমকির সম্মুখীন হয় বন্যপ্রাণী। বায়ুমণ্ডলে বেড়ে যায় কার্বন, ক্ষতিগ্রস্ত হয় ওজোনস্তর ও বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা যায় বেড়ে। বাড়তি মানুষের চাহিদা কেবল খাদ্যে সীমিত নয়, তাদের জন্য পণ্যসামগ্রীর সরবরাহও বাড়াতে হয়। ফলে গড়ে ওঠে নতুন নতুন কল-কারখানা, ইঞ্জিনচালিত নানা প্রকার যানবাহন এসব কলকারখানার রাসায়নিক বর্জ্য আর যানবাহনের কালো ধোঁয়া দূষিত করে পরিবেশ। উন্নয়নের নাম করে আমরা পরিবেশকে তার স্বাভাবিক নিয়মে চলতে দেই না। পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে; কারণ মানুষ তাকে তার বিরাট চাহিদার জন্য স্বেচ্ছাচারীভাবে ব্যবহার করছে। ফলে পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে। এটা সারা বিশ্বের উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠছে। পরিবেশদূষণকে আমরা চারটি প্রধান ভাগে ভাগ করতে পারি। এগুলো হচ্ছেÑ মৃত্তিকাদূষণ, পানিদূষণ, বায়ুদূষণ ও শব্দদূষণ। মাটি জীবনকে ধারণ, লালন ও বিকশিত করে।
কেবল উদ্ভিদ নয়, মানুষ ও অপর সব প্রাণীরও জীবন, লালনপালন ও বিকাশ মাটির ওপর নির্ভরশীল। তাই কবি বলেছেন ‘মাটি তো নয়, জীবনকাঠিÑ কণায় কণায় জীবন তার;/মাটির মাঝে প্রাণের মেলাÑ মাটিই প্রাণের পারাপার।’ কবি মাটির নানা গুণের কথা বললেও আমরা এর প্রতি তেমন যতœশীল নই। মাটি আজ আমাদের হাতে বড় দূষণের শিকার হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর অন্যতম প্রধান কারণ হচ্ছে মাটিতে বর্জ্যরে পরিমাণ অধিক পরিমাণে বেড়ে যাওয়া। এই দূষণের জন্য দু’টি কারণ প্রধানÑ কঠিন ও রাসায়নিক বর্জ্য। আমরা প্রতিদিন চার পাশেই জমিয়ে তুলছি আবর্জনার স্তূপ। দিনে দিনে জমে ওঠা এসব আবর্জনা আমাদের পরিবেশের ক্ষতি করছে। মানুষ, প্রাণী ও উদ্ভিদের নানা রোগের সৃষ্টি হচ্ছে। অন্যান্য দূষণের সাথে পলিথিনরূপী মারাত্মক দূষণ যোগ হয়েছে। এটা পচে মাটিতে মিশে যেতে প্রায় ৪০০ বছর লাগে। এবং জমিতে ফসল উৎপাদনে বাধার সৃষ্টি করে। মাটির ওপর আস্তরণ পড়ছে। অচল করে দিচ্ছে নর্দমা ও পয়ঃনিষ্কাশনের পথগুলো। ফলে দেখা দিচ্ছে জলাবদ্ধতা। পলিথিন ও কঠিন বর্জ্যগুলো নদী দিয়ে সাগরে পতিত হচ্ছে।
ফলে নদী ও সাগরের মাছ ও অন্যান্য প্রাণী দারুণ বিপদে পড়ছে। রাসায়নিক বর্জ্যও মাটির অশেষ ক্ষতি করছে। মাটি তার উৎপাদনের ক্ষমতা হারাচ্ছে। মাটিতে যেসব প্রাণীর বাস এবং যেসব প্রাণী মাটির ওপরে বসবাস করে তাদের ক্ষতি হচ্ছে সবচেয়ে বেশি। মূলত কৃষি ও শিল্প থেকে যে রাসায়নিক বর্জ্য সৃষ্টি হচ্ছে, তা মৃত্তিকা দূষণের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমাদের দেশে কীটনাশকের ব্যবহার শুরু হয় ষাটের দশকে। উচ্চ ফলনশীল জাতের ফসল উৎপাদন বাড়াতে এ কীটনাশকের ব্যবহার বেড়েই যাচ্ছে। কীটনাশক শুধু ক্ষতিকারক কীটকেই বিনাশ করছে না, শেষ করছে উপকারী কীটপতঙ্গকেও। উন্নত বিশ্বে কিছু কীটনাশক মানুষ ও প্রাণীর ক্ষতি করে বলে তার ব্যবহার নিষিদ্ধ হয়ে গেছে। অথচ সেসব ক্ষতিকারক কীটনাশক আমাদের দেশে দেদার ব্যবহার হচ্ছে। কীটনাশকের সাথে আগাছানাশক ওষুধ ব্যবহার করা হচ্ছে। এগুলোর ব্যবহার কমিয়ে প্রাকৃতিক নিয়মে বালাইনাশক ব্যবহার করা উচিত, যা স্বাস্থ্যের ও মাটির জন্য ভালো। যেসব উপাদান মাটিকে দূষিত করছে, তা পরে মিশে যাচ্ছে পানিতে ও বায়ুতে।
শিল্পকারখানার বর্জ্য প্রথমে জমি ও পরে মাটিকে দূষিত করে। কলকারখানার বিষাক্ত কালো ধোঁয়া আকাশের অনেক ওপরে উঠে গেলেও বৃষ্টির পানিতে মিশে তা ‘এসিড বৃষ্টি’ হয়ে মাটিতে ফিরে আসে। আমাদের পৃথিবীকে ঘিরে আছে বায়ুমণ্ডল। এ বায়ুমণ্ডল ধারণ ও পোষণ করছে জীবনকে। বায়ু আছে বলেই পৃথিবীর বুকে গড়ে উঠেছে মানুষের বসতি, প্রাণী ও উদ্ভিদের বিপুল ও বিচিত্র সমারোহ। আমরা অনেকে মনে করে থাকি এ বিশাল বায়ুমণ্ডলের ভাণ্ডার ক্ষতির মুখোমুখি হওয়ার তেমন কোনো সম্ভাবনা নেই। যেসব গ্যাস অনবরত উদগিরণ হচ্ছে তার সব কিছুই নিজের সাথে মিশিয়ে নেয়ার আশ্চর্য ক্ষমতা আছে বায়ুর। এ ধারণা ভুল প্রমাণিত হয়েছে। বায়ুর গ্রহণ ক্ষমতা যে সীমিত, তা আমাদের চার পাশের জগৎটির দিকে তাকালেই বোঝা যাবে। আমাদের বড় শহরগুলোতে অসংখ্য মোটরযান যখন ধোঁয়া ছড়ায় তখন আমরা কেমন হাঁসফাঁস করি, যেন দম আটকে গেল। এমন ধারা কিছু দিন চলার পরই শুরু হতে পারে রীতিমতো শ্বাসকষ্ট এবং তা থেকে আরো সব জটিল রোগ। শিল্পকারখানার কালো ধোঁয়া উঠছে অনেক ওপরের আকাশে।
বাতাসে ভেসে বেড়ানো সে ধোঁয়া বৃষ্টির পানিতে মিশে নেমে আসছে পৃথিবীর বুকেই। বিষিয়ে দিচ্ছে নদী ও হ্রদের পানি, ধ্বংস করছে বনভূমি, ঘরছাড়া করছে যেসব প্রাণী বনে বাসা বাঁধছে তাদের। বিষাক্ত ধোঁয়া মেশানো এই বৃষ্টিই পরিচিত এসিড বৃষ্টি হিসেবে। পৃথিবীর চার পাশের বায়ুর বিশাল ভাণ্ডার দূষিত হচ্ছে আরো নানা কারণে। অসংখ্য যানবাহন রোজ রোজ বাতাসে ছড়িয়ে দিচ্ছে কার্বন মনো-অক্সাইড ও হাড্রোকার্বন নামে বিষাক্ত গ্যাস। এসব গ্যাস সবচেয়ে ক্ষতি করছে মানুষের। এতে শ্বাসজনিত রোগ থেকে শুরু করে ক্যান্সারের মতো মারাত্মক রোগ পর্যন্ত হতে পারে। যানবাহন ও কারখানাগুলো থেকে বেরিয়ে আসে কার্বন ডাই-অক্সাইড ও কার্বন মনো-অক্সাইড। আমরা জানি, শক্তির একটা প্রধান উৎস হলো কয়লা। নাইট্রোজেন ও সালফার অক্সাইড উৎপন্ন হয় কয়লা পোড়ানো থেকে। এগুলো বাতাসকে দূষিত করে। নাইট্রোজেন ও সালফার অক্সাইড (So) বায়ুমণ্ডলের আর্দ্রতায় যথাক্রমে নাইট্রিক এসিড ও সালফিউরিক এসিডে পরিণত হয়। শীতকালে ধোঁয়া ও কুয়াশা একসাথে মিশে যে ‘ধোঁয়াশা’ তৈরি হয় তা-ও যানবাহন থেকে বেরিয়ে আসা ধোঁয়া ও হাইড্রো কার্বন থেকেই সৃষ্টি হয়। শিল্পকারখানা থেকে নির্গত ধোঁয়া বায়ুদূষণের একটি বড় কারণ।
দুনিয়ার শিল্পায়িত দেশগুলোতে এসিড বৃষ্টি জলজ প্রতিবেশকে দারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এসিড বৃষ্টি বনভূমি নষ্ট করারও কারণ বটে। শিল্পকারখানা, খনি ও যান্ত্রিক কৃষিব্যবস্থা থেকে নির্গত সিসা, নিকেল, তামা ও লোহা মানুষের শরীরের জন্য খুবই ক্ষতিকর বলে প্রমাণিত হয়েছে। বায়ুদূষণের কারণে এসব সমস্যা দেখা দিয়েছে। আমরা যখন ‘নীল গ্রহ’ বলি, তখন বোঝাই আমাদের পৃথিবীটাকেই। আকাশ থেকে পৃথিবীকে দেখায় নীল আর নীল। আর নীল দেখার কারণ হচ্ছে পৃথিবীজুড়ে বিশাল পানির জগৎÑ নদী, হ্রদ আর সাগর। ভূভাগের ৭১ শতাংশ জুড়ে আছে সাগর, মহাসাগর, আর মাত্র ২৯ শতাংশ জুড়ে আছে স্থল। পৃথিবীর বেশির ভাগই তিনটি মহাসাগরের দখলে রয়েছে। এগুলো হচ্ছেÑ প্রশান্ত মহাসাগর, আটলান্টিক মহাসাগর ও ভারত মহাসাগর। এগুলো আছে বলেই আমাদের পৃথিবী অন্য সব গ্রহ থেকে আলাদা। এদের কারণেই এখানে জন্মেছে উদ্ভিদ ও প্রাণী। পৃথিবীর যে মেঘমালার বিস্তার ওপরে তাও সম্ভব হয়েছে পৃথিবীজুড়ে পানির কারণেই। পানি রয়েছে স্থলভাগের অসংখ্য নদীসহ নানান জলাধারে, পানি রয়েছে পৃথিবীর অভ্যন্তরেÑ ভূগর্ভে। এসবই জীব ও উদ্ভিদকে বাঁচিয়ে রেখেছে আদিকাল থেকে। পানি ও জীবন বাঁধা পড়েছে একই সুতোয়।
পানির অপর নাম জীবন বলা হলেও মানুষ পানিকে ঠেলে দিচ্ছে বিপদ থেকে মহা বিপদের দিকে। অন্য কথায় মানুষ নিজেই তৈরি করছে নিজের জন্য সমস্যা। আর এ বিপদ তৈরি হচ্ছে অর্থনেতিক কর্মকাণ্ডের কারণে। পানিদূষণ আজকে আমাদের জন্য একটি মহা ভাবনার কারণ। আমরা মহাসাগর নামের যে বিশাল জগতের কথা বলি, সে জগৎটিও আজ সমস্যার মুখোমুখি। নগরায়ন ও শিল্পায়নের ফলে পয়ঃনিষ্কাশন ও শিল্পবর্জ্য দ্রুত বেড়ে চলেছে। এসব বর্জ্য নদীতে এবং নদী থেকে সাগরে পতিত হচ্ছে। ফলে বেলাভূমিতে ও সাগরতীরে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া বেড়ে যাচ্ছে। জলযানও দূষিত করছে নদীর পানি। জলযান থেকে নদীতে নিক্ষেপ করা বর্জ্য বিষাক্ত করছে পানিকে। এটা মানুষ ও অন্যান্য প্রাণীর রোগের কারণ হচ্ছে। তেলবাহী জাহাজ দুর্ঘটনায় পড়লে তেল ছড়িয়ে পড়ে নদী ও সাগরে। এ ধরনের তেল নদীর উপরিস্তরে ভেসে থাকে। ফলে নদী ও সাগরের প্রাণী, বিশেষ করে পাখি ও নদীর মাছ মারাত্মক বিপদের সম্মুখীন হচ্ছে।
এ ছাড়া জাহাজগুলো বন্দরে ভেড়ার পর তার বর্জ্য নদীতে ফেলে। এ বর্জ্য দূষিত করছে নদী ও সাগরের পরিবেশ। উন্নয়নশীল দেশগুলোতে কৃষিফলন বাড়ানোর প্রয়োজনে প্রচুর রাসায়নিক সার ব্যবহার করা হয়। এসব সার ও কীটনাশক শেষ পর্যন্ত পানিতে মিশে নদীতে পতিত হয়। সেখান থেকে সাগরে যায়। এগুলো মাটির নিচের পানিতেও মিশে যায়। এসব বিষাক্ত বর্জ্য ভূগর্ভস্থ পানি এবং সেই সাথে নদনদী, হ্রদ ও সাগরের পানিকে দূষিত করেছে। পারমাণবিক স্থাপনা পানিদূষণের একটি বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থাপনাগুলো থেকে পারমাণবিক বর্জ্য নিক্ষেপ করা হচ্ছে সাগরে। ফলে সাগরের প্রাণী ও উদ্ভিদকুল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। রাসায়নিক বর্জ্য ভূগর্ভস্থের পানিদূষণের মধ্য দিয়ে খাদ্যচক্রের মধ্যেও ঢুকে পড়ছে। আমরা যে সামুদ্রিক মাছ ধরে থাকি, তারা সমুদ্রের জলজ উদ্ভিদ খেয়ে বেঁচে থাকে। এসব উদ্ভিদ সংক্রমিত করছে রাসায়নিক দূষণ। মাছ থেকে তা মানুষের দেহে প্রবেশ করে মারাত্মক সমস্যার সৃষ্টি করে থাকে।
অপর দিকে, ভূগর্ভস্থ পানিতে রাসায়নিক বর্জ্য স্থান করে নেয়। সে পানি পান করে আমরা নানা রোগে আক্রান্ত হই। চিকিৎসাবিদেরা অন্ত্রের ক্যান্সারের জন্য, শিশুদের নিউমোনিয়া ও স্তন ক্যান্সারের জন্য পানির রাসায়নিক দূষণকে অনেকাংশে দায়ী বলে মনে করেন। আজ বাংলাদেশে দূষিত পানির দরুন বহু লোক আর্সেনিকে আক্রান্ত হচ্ছে। জীবজগতের প্রায় সবাই কমবেশি শব্দ তৈরি করছে। শুকনো পাতা মর্মর করে ঝরে পড়ে, বিকট শব্দে বাজ পড়ে, সাগর ফুঁসে ওঠে মহাগর্জনে। সেসব ঘটছে হামেশা। প্রয়োজনে মানুষ নানা প্রকার শব্দ করার যন্ত্র আবিষ্কার করেছে। রেলগাড়ি ও লঞ্চ-জাহাজ সিটি বাজায়; মোটরগাড়ি ও কলকারখানা শব্দ না করে চলতে পারে না। শব্দ করছে রেডিও-টেলিভিশন। এগুলো এখন আমাদের নিত্যদিনের সাথী। আমরা শব্দ করছি, আরো শব্দ করছে অনেক জীব। কিন্তু এ শব্দ যখন বেশি জোরে তৈরি হয় তখন হয় বিপত্তি। শব্দ প্রতি সেকেন্ডে ৩৫০ মিটার পথ চলতে পারে। শব্দের কারণে যে কম্পন তৈরি হয়, এর হারকে বলা হয় ফ্রিকোয়েন্সি। একজন সুস্থ মানুষ ২০ থেকে ২০০০০ পর্যন্ত ফ্রিকোয়েন্সিতে শুনতে পায়।
শব্দ যত কাছাকাছি থেকে করা হবে, ততই এর তীব্রতা অনুভূত হবে। চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা মনে করেন, ৫০ শতাংশ রোগের উৎস হচ্ছে শব্দ। তারা এ সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েছেন যে শব্দের তীব্রতার কারণে রক্তের নালীর সঙ্কোচন হয়ে থাকে এবং কারো রক্তচাপ বেড়ে যায়। এতে রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধি পায়, যা হৃদরোগের কারণ। কলকারখানায় যারা কাজ করেন, তারা অনেক সময় শব্দ বধিরতায় ভোগেন। শব্দের সবচেয়ে ক্ষতিকর দিকটি হলো মানসিক। উচ্চ শব্দে মস্তিষ্কের দারুণ চাপের সৃষ্টি হয়। এতে মানুষের কাজ করার ইচ্ছা ও উদ্যম কমে যেতে পারে। শব্দদূষণ থেকে রক্ষা পেতে হলেÑ খুব জোরে গানবাজনা বন্ধ করতে হবে। বেশি দিন একনাগাড়ে ১১০-১২০ ডেসিবল তীব্রতায় শব্দের মধ্যে থাকলে স্থায়ীভাবে শ্রবণশক্তি নষ্ট হয়ে যেতে পারে। জোরে শব্দ হয় এমন যন্ত্র বা আগ্নেয়াস্ত্র চালানোর সময় কানে কানবন্ধ বা প্লাগ ব্যবহার করতে হবে। কার্পেট বিছিয়ে বা দেয়ালে টাইলস লাগিয়ে ঘরে শব্দদূষণ কমানো যায়। শব্দ কমানোর ব্যাপারে নিজে সতর্ক হতে হবে, অন্যকেও সতর্ক করতে হবে। আজ সারা বিশ্বের পরিবেশ মারাত্মক হুমকির মুখে।
বিশ্বের উষ্ণতা বাড়ছে। হিমালয় ও মেরুদেশের বরফ গলে সমুদ্রের পানি বাড়ছে। বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে ঝড়, বৃষ্টি, বন্যা, খরা, প্লাবন ইত্যাদি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ছে। এখন আরব দেশের মতো মরুভূমিতে পর্যন্ত প্রবল বৃষ্টিতে বন্যা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপকে প্রবল তুষারঝড়ে লণ্ডভণ্ড করে দিচ্ছে, অথচ দুই দশক আগেও এ অবস্থা ছিল না। আর এর জন্য অন্য গ্রহের কোনো কিছু নয়; মানুষের কর্মকাণ্ডেই এই মারাত্মক সমস্যা দেখা দিয়েছে। এর সমাধান মানুষেরই হাতে। তারা যদি ভোগবাদী চাহিদা কমিয়ে আনে, তাহলে ফার্নেস তেল পোড়ানো কমে যাবে, কার্বন নির্গমন কম হবে। বিশ্বের আবহাওয়া স্বাভাবিক থাকবে। মানুষের রোগব্যাধি কমে যাবে। সারা বিশ্বে সবাইকে ‘বাঁচাও, বাঁচতে দাও’ নীতিতে অটল থেকে কাজ করতে হবে। শুধু ইউরোপ, আমেরিকার দিকে তাকিয়ে থাকলে চলবে না; উন্নয়নশীল ও অনুন্নত দেশগুলোকেও আচরণবিধি মেনে চলতে হবে। বিশেষত ভারত, চীন ও দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলোকে খনিজ তেল পোড়ানো কমাতে হবে। বৈশ্বিক জলবায়ু ঠিক রাখার জন্য আমাদের প্রচুর বনায়ন করতে হবে।
লেখক : পরিবেশবিদ ও পানিবিশেষজ্ঞ

চরমপন্থা দমনে ব্রাদারহুডের ভূমিকা প্রকাশ করেনি ব্রিটেন by মোহাম্মদ হাসান শরীফ

মিসরে ‘আরব বসন্ত’ সাম্প্রতিক ইতিহাসের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা। একনায়কতান্ত্রিক, স্থবির একটি অঞ্চলে নতুন করে প্রাণের সঞ্চার করেছিল গণ-আন্দোলনটি। কেবল মিসর কিংবা মুসলিম বিশ্বেই ঘটনাটি আলোড়ন সৃষ্টি করেনি, পুরো দুনিয়াতেই তার ছোঁয়া লেগেছিল। তিউনিশিয়ায় এর সূত্রপাত হলেও হোসনি মোবারকের পতনই ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। কিন্তু সেই বসন্ত স্থায়ী হয়নি। মিসরের ‘জানুয়ারি ২৫’ নামে পরিচিত বিপ্লবটিতে মূল ভূমিকা পালন করেছিল মুসলিম ব্রাদারহুড। তাদের ওপরই চলে আধুনিক ইতিহাসের জঘন্যতম স্ট্রিমরোলার।
দলটির শীর্ষপর্যায়ের সব নেতাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে। একটি আদর্শের জন্য গঠিত আন্দোলনটিকে পুরোপুরি শেষ করে দেয়ার সব চেষ্টাই করা হয়েছে। কিন্তু তা সম্ভব হয়নি। ব্রাদারহুডও হাল ছাড়েনি। তবে তারা এখন কী ভাবছে? কিন্তু কোন পথে তারা ঘুরে দাঁড়াবে। এ নিয়ে আন্দোলনটির অন্যতম নেতা, সাবেক পরিকল্পনা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতাবিষয়ক মন্ত্রী আমর দারাগ সম্প্রতি আল-মনিটর নামে একটি পত্রিকায় সাাৎকার দিয়েছেন। সাাৎকারটি নিয়েছিলেন আবদেল রহমান ইউসুফ। বর্তমান সময়ের প্রোপটে সাাৎকারটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা করে এখানে তা অনুবাদ করা হলো। অনুবাদ করেছেন মোহাম্মদ হাসান শরীফ (গত সংখ্যার পর)
আল-মনিটর : রাবিয়া আল-আদবিয়ায় ছত্রভঙ্গ করার আগে ক্যাথেরিন অ্যাশটনের সাথে যে আলোচনা হয়েছিল, তাতে আপনি অন্যতম প্রথম অংশগ্রহণকারী ছিলেন। রাবিয়া আল-আদবিয়ার ছত্রভঙ্গ থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের ভূমিকা সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন কী? এবং কেন? আমর দারাগ : উভয় েেত্রই এর কাজকারবার খুবই হতাশাজনক। কারণ রাবিয়ায় ছত্রভঙ্গ করার আগে পর্যন্ত আলোচনা মূলত যেসব বিষয়ে ঘুরপাক খাচ্ছিল সেগুলো হলো বর্তমান সমস্যা কিভাবে সমাধান করা যাবে এবং কিভাবে শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান ধর্মঘটের অবসান ঘটবে এবং একই সাথে রাজপথের ‘বিপ্লবী’দের দাবিও পূরণ হবে। কিন্তু অ্যাশটন এবং ইউরোপিয়ান ও মার্কিন অন্যান্য কর্মকর্তা যে বার্তা বহন করছিলেন তাতে বলা হয়েছিল, আমাদের বর্তমানে বিরাজমান (অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে) স্থিতাবস্থা গ্রহণ করতে হবে, এমনকি জনগণের নির্বাচিত একজন প্রেসিডেন্ট এবং একটি সংবিধান থাকা সত্ত্বেও, সামরিক বাহিনী উভয়টিই বাতিল করে দিয়েছিল। এটা দুর্ভাগ্যজনকভাবে প্রমাণ করেছিল, অপরাধকারীদের কোনো ধরনের জবাবদিহিতার আওতায় আনা ছাড়াই চলমান গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা উল্টিয়ে দেয়ার বিষয়টি গ্রহণ করতে আন্তর্জাতিক প্রস্তুতি ছিল।
পরেও এটা চলতে থাকে। এমনকি অভ্যুত্থান চালানো সরকারকে সরাসরি সমর্থন প্রদান এবং বৈধতাও দেয়া হয়। এখনো তা দেখা যায় এবং চলছে। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং মানবাধিকারের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের সবধরনের রীতিনীতির পুরোপুরি লঙ্ঘন এটা। অথচ বিরাজমান স্বার্থ রা, অস্ত্র বিক্রি কিংবা অর্থনৈতিক চুক্তির সময় এসব মূলনীতি বাস্তবায়নের জন্য ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন সবসময় আহ্বান জানিয়ে আসছিল। এমনকি অভ্যুত্থানের দুই মাস পর ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন মিসরে বিােভ দমনে ব্যবহার হতে পারে এমন অস্ত্র ও সরঞ্জাম বিক্রি না করার যেসব বিধিনিষেধ ও সুপারিশ পেশ করেছিল, সেগুলোও বাস্তবায়িত হয়নি। বাস্তবতা হলো, তারা যেসব কাগজ ছাপিয়েছিল, তারা নিজেরাই সেগুলোর ন্যূনতম দামও দেয়নি। সাধারণ অবস্থান ছিল, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও নীতিমালার সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়ানোর বদলে অভ্যুত্থানের হোতাদের সমর্থন দেয়া। এমনকি দমন কার্যক্রমের ফলে ইউরোপিয়ান নাগরিকদের পর্যন্ত, গুইলিও রেগেনি বা এরিক লাঙ, আটকাবস্থায় এই ফরাসি নাগরিক নিহত হয়েছিলেন, আঘাত হানছিল।
ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন এই নিপীড়নকারী সরকারের নির্মমতা থেকে তার নাগরিকদের রা করতে দৃঢ় কোনো অবস্থান নিতে পারেনি। আল-মনিটর : ব্রাদারহুড নিয়ে হাউস জুডিশিয়ারি কমিটির ব্রিটিশ রিপোর্ট ও সুপারিশমালা আমেরিকান কংগ্রেসে নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারটি নিয়ে কিছু বলুন? আমর দারাগ : নীতিগতভাবে, রাজনৈতিক পর্যায়ে দু’টি অবস্থার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। তবে দু’টির মধ্যে অভিন্ন যে রূপটি রয়েছে তা হলো, উভয় প্রতিবেদনই উপসাগরীয় দেশগুলো এবং বিশেষ করে (সংযুক্ত আরব) আমিরাতের কাছ থেকে, আমেরিকায় তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকা লবির মাধ্যমে, চাপের ফসল। প্রতিবেদন দু’টির ভাষ্য কিংবা তাতে প্রতিফলিত বিষয়বস্তুতে ভিন্নতা থাকলেও আসল বিষয় সেটাই। আল-মনিটর : পার্থক্যটা বুঝিয়ে বলবেন কি? আমর দারাগ : ব্রিটিশ প্রতিবেদনের েেত্র বলা যায়, প্রত্যেকেই জানে, ব্রিটেনের অভ্যন্তরে আমিরাতের অর্থনৈতিক ও আর্থিক স্বার্থের বিশাল অবকাশ রয়েছে।
তারা সরাসরি চাপ প্রয়োগ করেছে, এর ফলেই ব্রিটেনে মুসলিম ব্রাদারহুডের তথাকথিত পুনর্মূল্যায়ন শুরু হয়। অধিকন্তু, তদন্তের ঘটনাস্থল ছিল খোদ ব্রিটেন এবং ব্রিটেনের ওপর স্থানীয় মুসলিম ব্রাদারহুডের প্রভাব। এই প্রতিবেদনের রাজনৈতিক দিক থেকে প্রাথমিক ল্য ছিল ব্রিটিশ সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগকারী দেশগুলো। এ কারণেই তারা বছর দেড়েক প্রতিবেদনটি নিয়ে কাজ করে কেবল হঠকারী সারাংশটুকু প্রকাশ করেছে। তারা মূলত মূল তদন্ত শেষ হওয়ার পর এবং অন্য কাউকে নতুন করে তদন্ত শুরু করার সুযোগ না দিয়ে প্রাপ্ত তথ্যের ওপর নির্ভর করেছিল। স্বাভাবিকভাবেই এটা সবচেয়ে দুর্ভাগ্যজনক, বিশেষ করে মূল প্রতিবেদনে মুসলিম ব্রাদারহুড-সম্পর্কিত ইতিবাচক দিকগুলো প্রকাশ না করাটা। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, চরমপন্থা মোকাবেলায় ব্রাদারহুড যে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করেছিল, তার বেশ কয়েকটি জোরালো প্রমাণ মূল প্রতিবেদনে থাকলেও তা প্রকাশ করা হয়নি। তা সত্ত্বেও প্রতিবেদনটিতে মন্তব্য করা হয়েছে (ব্রাদারহুডের) কিছু কার্যক্রম চরমপন্থার দিকে চালিত করতে পারে, যদিও এসবের কোনো কিছুর জন্যই ব্রাদারহুডকে দায়ী করা হয়নি। (চলবে)

করের বোঝা বাড়তি উৎপাদনকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে by গোলাম রাব্বানী

বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি প্রফেসর খন্দকার মুস্তাহিদুর রহমান কর্মজীবনের দীর্ঘ সময় ধরে অর্থনীতিতে অধ্যাপনা করেছেন। দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতি, রাজস্ব ব্যবস্থাপনা এবং আর্থিক খাতের সংস্কার নিয়েও তিনি কাজ করেছেন। বাংলাদেশের বাজেট এবং অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার গতি-প্রকৃতির ওপর নজর রাখেন তিনি। ২০১৬-১৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের বিভিন্ন দিক নিয়ে নয়া দিগন্তের সাথে কথা বলেছেন তিনি। ড. মুস্তাহিদের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন গোলাম রাব্বানী
প্রশ্ন : নতুন অর্থবছরের বাজেটের কোন দিকটিকে দেশের চলমান অর্থনীতির জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন? অনেকেই এবারের বাজেটের লক্ষ্যগুলোকে উচ্চাভিলাষী বলতে চাইছেন। এ ব্যাপারে আপনার বক্তব্য কী? প্রফেসর খন্দকার মুস্তাহিদ : গত অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের তুলনায় এবার বাজেটের আকার ১৫ শতাংশ বেশি। গত বছরের বাজেট সংশোধন করে দুই লাখ ৬৪ হাজার ৫৬৫ কোটি টাকায় নিয়ে আসা হয়েছিল। সে হিসাবে গত অর্থবছরের তুলনায় এই বাজেট প্রায় ৭৬ হাজার কোটি টাকা বেশি। এটা থেকে ধারণা করা যায়, আমরা জাতি হিসেবে অত্যন্ত উচ্চভিলাষী হয়ে গেছি। বাজেটে অর্থমন্ত্রী তার উচ্চাভিলাষ চরিতার্থ করার চেষ্টা করেছেন; কিন্তু সেই সাথে সামর্থ্যরে দিকটুকুও দেখতে হবে। আমাদের সামর্থ্য এত নেই। অর্থমন্ত্রী প্রস্তাব করেছেন যে, দেশের ভেতর থেকেই তিনি আয় করবেন ২ লাখ ৪৮ হাজার ২৬৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে এনবিআরকে আদায় করতে হবে দুই লাখ তিন হাজার ১৫২ কোটি টাকা। এ ছাড়া এনবিআরবহির্ভূত কর হচ্ছে প্রায় সাত হাজার ২৫০ কোটি টাকা ও এনবিআরবহির্ভূত আয় আসবে প্রায় ৩৮ হাজার কোটি টাকা। বাকি অর্থ অর্থাৎ প্রায় ২৮-২৯ শতাংশ আসবে অভ্যন্তরীণ ঋণ ও বৈদেশিক অনুদান থেকে।
সরকার চাচ্ছে, এর মধ্যে প্রায় ৩৯ হাজার কোটি টাকা ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে, ১৯ হাজার কোটি টাকা সঞ্চয়পত্র থেকে সংগ্রহ করতে এবং প্রায় ৩২ হাজার কোটি বৈদেশিক ঋণ পেতে। এর ফলে অনুদান ছাড়া ঘাটতি হবে প্রায় সাড়ে ৯২ হাজার কোটি টাকা। এই ঘাটতি আমাদের জিডিপির তুলনায় প্রায় ৫ শতাংশ। ঘাটতির এই পরিমাণ বাজেটের যে নীতি প্রণয়ন করা হয়, তার মধ্যেই আছে; কিন্তু সম্ভবত একধরনের সম্প্রসারণশীলতা এই বাজেটের মধ্যে থেকে যাচ্ছে। অর্থাৎ আমরা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়াতে চাই, সমতাভিত্তিক অর্থনীতি চালু করতে চাই। এসব বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বাজেটের প্রথম দিকে কিছু কথা বলেছেন, তিনি প্রবৃদ্ধি চান, উন্নয়ন ও সমতাভিত্তিক সমাজ চান।
এর জন্য কতগুলো অনুমান তিনি করে নিয়েছেন যে, দেশের বিনিয়োগ পরিস্থিতি আরো বাড়বে। বিশ্ব অর্থনীতিতে শ্লথগতি চলছে এবং তেলসহ বেশ কিছু জিনিসপত্রের দাম পড়ে গেছে। সেই অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেও অনেক বেশি রফতানি প্রবৃদ্ধি হবে বলে তিনি মনে করছেন। তিনি মনে করছেন যে, অনেক বেশি রেমিট্যান্স আসবে, মূল্যস্ফীতি কম থাকবে, বিনিয়োগের একটা পরিস্থিতি বজায় থাকবে। বাস্তবতাটা কী? বাস্তবতার নিরিখে আমরা যদি চিন্তা করি তাহলে এখানে একটা সমস্যা দেখতে পাই। সমস্যাটা হলো বাস্তবতার নিরিখে বাজেট বাস্তবায়নের জন্য আমার কৌশলটা কী, সেটা। তার জন্য আমার সক্ষমতা আছে কি না? অর্থমন্ত্রী বলছেন, তার সক্ষমতা আছে। তার দাবি তিনি এনবিআরকে শক্তিশালী করেছেন ইত্যাদি; কিন্তু এনবিআরকে যতই শক্তিশালী করা হোক না কেন, আমরা দেখেছি, কোনো অবস্থাতেই রাজস্বের প্রবৃদ্ধি ১৬ শতাংশ অতিক্রম করেনি। গত অর্থবছরে এনবিআরের নির্ধারিত টার্গেট ছিল এক লাখ ৭৬ হাজার ৩৭০ কোটি টাকা। সেখানে লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে ধরা হয়েছে এক লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকা, সেটাও আদায় হয় কিনা সন্দেহ আছে। আমার ধারণা, সব মিলিয়ে প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি হবে।
এবার বাজেটে ৩৫ শতাংশের বেশি রাজস্ব বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে। এই টার্গেট পূরণ সম্ভব নয় এ কারণে যে, সেটা গত বছরই আমাদের প্রমাণ করে দিয়েছে। গত বছর রাজস্ব আদায়ের যে টার্গেট আমরা নির্ধারণ করেছিলাম, সেটি অর্জিত হয়নি। বরং ঘাটতি রয়ে গেছে ১৫-১৬ শতাংশ। সে কারণে আমার ধারণা যে, অর্থমন্ত্রী যে এসব বলছেন, তা কেবল বলার জন্য বলা। তাকে বলতেই হবে। কারণ একটি ভোটারবিহীন নির্বাচনে তারা সাংবিধানিকভাবে একটা বৈধ সংসদ পেয়েছে। সেই সংসদই বাজেটটা তৈরি করছে গত দু-তিন বছর ধরে। তারা রূপকল্প দিতেই পারেন। বাস্তবতা আরো কঠিন। এই কঠিনের মধ্যে আমরা সবচেয়ে বেশি অনুভব করি, কেন দেশীয় বিনিয়োগ এখন শ্লথগতিতে নেমে এসেছে। সরকার বলছে, বিনিয়োগের হার হচ্ছে ২১.৭৮ শতাংশ। এটা হচ্ছে বেসরকারি বিনিয়োগ। আমার ধারণা, এখানে কিছুটা বেশি করে দেখানো হয়েছে। এটা ২০ শতাংশের কাছাকাছি।
প্রশ্ন : বিনিয়োগে কেন এই স্থবিরতা নেমেছে বলে আপনি মনে করেন? প্রফেসর খন্দকার মুস্তাহিদ : এর কারণ হচ্ছে, জ্বালানি এবং বিদ্যুতের যে সঙ্কট আছে আমাদের, সেটার কোনো সমাধান দিতে পারছে না সরকার। বিনিয়োগকারী যারা, তারা কোনো জমি পাচ্ছেন না। আমাদের দেশে যেটাকে আমরা বলি কস্ট অব ডুয়িং বিজনেস, সেটা অনেক দেশের তুলনায় আমাদের দেশে বেশি। যেকোনো বিষয়ে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এখানে বেশি। ছয় মাসের বেশি লাগে বিদ্যুতের অনুমোদন পেতে। যেটা পাকিস্তান, ভারত, নেপাল এমনকি শ্রীলঙ্কার তুলনায়ও আমরা অনেক বেশি সময় নিয়ে থাকি। বিনিয়োগকারীরা যখন বিনিয়োগ করতে আসেন, তখন যদি দেখেন যে, তার অত্যন্ত প্রয়োজনীয় সামগ্রী যেটা দরকার, গ্যাস, বিদ্যুৎ, জ্বালানি, জমি ইত্যাদি এবং তার সাথে যদি আমি কস্ট অব ডুয়িং বিজনেস চিন্তা করি, তাহলে বিনিয়োগটা তাদের জন্য আকর্ষণীয় থাকে না। সে কারণেই অনেক সময় আমাদের দেশ থেকে অর্থ পাচার হয়ে যায়। কারণ, এখানে সুযোগ না পেয়ে যারা বিত্তশালী মানুষ, যারা বিনিয়োগ করতে চান, তারা দেশে বিনিয়োগ না করে বাইরে অর্থ পাঠিয়ে দিচ্ছেন। সরকার আশা করছে যে, বৈদেশিক বিনিয়োগ আমাদের দেশে হবে। যেখানে দেশের মানুষই স্বস্তি পাচ্ছে না, সেখানে বিদেশী বিনিয়োগ কী করে আসবে? এটা অবাস্তব কল্পনা ছাড়া আর কিছুই নয়।
বিনিয়োগ আসার অনেক বড় সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে বর্তমান বিশ্বে। চীনের অনেক বিনিয়োগ আশপাশের দেশে চলে যাচ্ছে। তারা এতদিন ভিয়েতনামে গেছে, এখন ভিয়েতনাম থেকে অন্যান্য দেশে যাচ্ছে। বাংলাদেশে একটা বড় সুযোগ ছিল; কিন্তু সেখানে আসবে কি না সন্দেহ আছে। এমনকি ভারতে প্রচুর বিনিয়োগ যাচ্ছে। থাইল্যান্ডে যাচ্ছে। পার্শ্ববর্তী দেশ মিয়ানমারেও যাচ্ছে। শ্রীলঙ্কাতে তো এত দিন ছিলই। এই বিনিয়োগগুলো কিন্তু আমাদের দেশে আসত, যদি আমরা পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারতাম। অর্থাৎ বিনিয়োগের জন্য যে অনুকূল পরিবেশ, সে পরিবেশ সৃষ্টি করতে আমরা ব্যর্থ হয়েছি। কথা হচ্ছে যে, দেশের মানুষ কেমন আছে? বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি কী? এটা অর্থনীতির ওপর প্রচণ্ড একটা প্রভাব ফেলে। আমরা যদি খেয়াল করি যে, বর্তমান সময়ে দেশের মানুষ কথা বলতে পারছে না। স্বাধীনভাবে কথা বলা এবং লেখার ওপর কতখানি নিয়ন্ত্রণ সরকার প্রতিষ্ঠা করেছে, এটা বাইরে থেকে আমরা হয়তো ততটা বুঝতে পারব না। গণমাধ্যমকর্মীরা তিলে তিলে সেটি টের পাচ্ছেন। দেশের এরকম একটা অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিনিয়োগ করতে কে আসবে। কে তার টাকা খরচ করে বিনিয়োগটা করতে যাবে?
প্রশ্ন : এর পরও তো দেশে উৎপাদন বেড়েই চলেছে। জিডিপির প্রবৃদ্ধিতে অন্তত আমরা তাই দেখছি। প্রফেসর খন্দকার মুস্তাহিদ : প্রযুক্তিগত উন্নয়নের ফলে এখন শ্রমের দক্ষতা ও উৎপাদনশীলতা অনেক বেড়েছে। আমাদের দেশের যে অসুবিধাটা হলো- আমাদের দক্ষ শ্রমিকও কিন্তু উন্নত প্রযুক্তির যন্ত্রপাতি চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন। আমাদের যে তরুণ সম্প্রদায়, তাদের আমরা প্রযুক্তিগত দিকে আকর্ষণ করিয়েছি ঠিকই, কিন্তু এই উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করার জন্য তাদের যে প্রশিক্ষণ সেই প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে পারিনি। অর্থমন্ত্রী বলেছেন, তিনি শ্রমিকের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য এবং উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করবেন; কিন্তু প্রশিক্ষণের জন্য তিনি কত টাকা দেবেন, কোথায় সে প্রশিক্ষণ হবে, সেসব কিন্তু স্পষ্ট নয়। এই অস্পষ্টতার কারণে একটা ধোঁয়াশা অবস্থায় আমরা আছি। এ কারণেই প্রশ্ন উঠছে, জনগণের কাছে কি এই সরকারের কোনো দায়দায়িত্ব আছে? তারা কি সত্যিই জনগণের প্রতিনিধি? তারা তো আসলে জনগণের প্রতিনিধি নন। জনগণ ভোট দিয়ে এই সরকারকে প্রতিষ্ঠা করেনি। সুতরাং তাদের সেই দায়িত্বও নেই। তারা একটি দায়সারা কাজ করে যাচ্ছেন। তবে অর্থমন্ত্রীকে দোষ দিয়ে লাভ নাই। তিনি অত্যন্ত মেধাবী একজন মানুষ। অত্যন্ত সংবেদনশীলও। সাথে তার বক্তব্য, কথা ও কাজকর্মে সব সময় তাকে অত্যন্ত দেশপ্রেমিক একটি মানুষ মনে হয়েছে; কিন্তু তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের অর্থমন্ত্রী হিসেবে কাজ করছেন।
প্রশ্ন : সরকার রাজস্ব আদায়ের জন্য মূল্য সংযোজন করের ওপর বেশি জোর দিচ্ছে। এ খাতের লক্ষ্যমাত্রা এবার আয়করকে ছাড়িয়ে গেছে। এভাবে পরোক্ষ করের ওপর নির্ভরতা নি¤œ ও মধ্যবিত্তের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে বলে অনেকে মনে করছেন। এটাকে আপনি কিভাবে দেখেন। প্রফেসর খন্দকার মুস্তাহিদ : একটা দিক হয়তো বলা যায় যে, সরকার নিশ্চিতভাবেই হয়তো কিছু রাজস্ব পাবে। আয়করের তুলনায় ভ্যাটে প্রাধান্য চলে গেছে। যদিও ভ্যাট আইন সংশোধন করার কথা ছিল এ বছর, তাতে ১৫ শতাংশ ভ্যাট করার যে প্রস্তাব ছিল, সেটা এক বছর পিছিয়ে দেয়া হয়েছে। এই ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন করতে হলে মুদির দোকানেও অটোমেটিক ক্যাশ রেজিস্টার লাগবে। সেখানে কত টাকা বিক্রি হলো সে রেকর্ডটা থেকে যাবে। সে রেকর্ড থেকে এনবিআরের লোকজন এসে ডাটা কালেক্ট করবেন। অথবা এটা কম্পিউটারের সাথে যুক্ত থাকবে, অটোমেটিক্যালি জানা হবে যে, একটা দোকানে কত টাকা বিক্রি হয়েছে এবং সেই দোকানে কয়জন কর্মচারী কাজ করেন। এ ধরনের ব্যবস্থা থাকলেই শুধু নতুন ধরনের ভ্যাট-ব্যবস্থা কার্যকর করা সম্ভব। যেটা উন্নত দেশে থাকে। তা না হলে প্যাকেজ ভ্যাটই (যেটা চলছে) আমাদের জন্য সুবিধাজনক। সেখানে যেটা বাড়ানো হয়েছে সেটা হলোÑ আগে যেটা ১৪ হাজার টাকা ছিল প্যাকেজ, সেটা জাস্ট দ্বিগুণ হয়েছে, অর্থাৎ ২৮ হাজার টাকা হয়েছে।
এরকমভাবে ুদ্র ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ভ্যাট বেশি আদায় হবে। এনবিআর আয়করের ব্যাপারে নতুন কোনো কৌশল নিয়েছে কি না আমার জানা নেই। তবে অনেক দিন থেকেই তারা জাতীয় পরিচয়পত্র ও টিআইএন দিয়ে দেখার চেষ্টা করছে যে, কেউ কর ফাঁকি দিচ্ছে কি না। এভাবে যতটা বেশি আদায় করা যায়, এ ধরনের একটা পলিসি তারা নিয়েছে। আয়করের আওতা বাড়বে যেহেতু এখনো আয়করের সীমানা দুই লাখ ৫০ হাজার টাকা রাখা হয়েছে। অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যে অনেক কিছু না ও থাকতে পারে; কিন্তু বক্তব্যে এই ইঙ্গিত থাকা উচিত যে, তিনি যে বাজেট দিলেন, সেখানে কত টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে, সেই টাকা তুলতে কী কী প্রক্রিয়ায় ট্যাক্স আদায় করা হবে। অর্থাৎ একটি সম্পূর্ণ রূপরেখা থাকা দরকার। প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা না থাকলে, দক্ষতা বৃদ্ধির কথা স্বীকার করা যে, আমি এটা বৃদ্ধি করতে চাই। রাতারাতিতো দক্ষতা বৃদ্ধি করা যাবে না। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এখন অনলাইনে ভ্যাট এবং অন্যান্য ফি আদায় হয়। অনলাইনে আয়কর দেয়া হয়। আমাদের দেশে তো সেই সুযোগ সুবিধা নেই। ফলে আমরা অনেক পিছিয়ে আছি। তবে এই জায়গাগুলো অতিক্রম না করতে পারলে আমরা যত বড় বাজেটই দিই না কেন, তার বাস্তবায়নে আমাদের পক্ষে সমস্যা হবেই।
প্রশ্ন : এবারের বাজেটে ৭.২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যমাত্রার কথা জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। বিদায়ী বছরেও এর কাছাকাছি প্রবৃদ্ধি প্রাক্কলন করা হয়েছে; কিন্তু বাস্তবে দেশে বিদেশী বা দেশী কোনো বিনিয়োগই বাড়ছে না। সার্বিক অর্থনৈতিক চাহিদাও স্থবির মনে হয়। কর্মসংস্থানের অবস্থাও ভালো নয়। রফতানির প্রবৃদ্ধি কমছে। এ কেমন অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হচ্ছে সাধারণ মানুষ তাদের জীবনযাত্রায় এটি অনুভব করতে পারছে না। প্রফেসর খন্দকার মুস্তাহিদ : যদি গত বছর আমরা সাড়ে ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করে থাকি তা থেকে যদি পপুলেশন গ্রোথের জন্য ২ শতাংশ বাদ দেই, তাহলে সেটা হবে সাড়ে ৪ শতাংশ কিংবা ৫ শতাংশ। ১৬ কোটি লোক হিসাবে গত বছর কর ছিল মাথাপিছু ১১ হাজার ৮৭ টাকা, এই বছর মাথাপিছু কর ধরা হয়েছে ১৫ হাজার ১৭২ টাকা। ১৯ লাখ ৬১ হাজার কোটি টাকা যদি জিডিপি হয়, তা থেকে যদি মাথাপিছু আয় বের করতে চাই, তাহলে মাথাপিছু আয় হয় প্রায় এক লাখ ৩০ হাজার টাকা। এই টাকার ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হলে তাহলে সেটা দাঁড়াবে আরো প্রায় সাড়ে ছয় হাজার টাকা বেশি। বর্ধিত যে মাথাপিছু আয় হবে তার বেশির ভাগই কিন্তু সরকার নিয়ে নিচ্ছে অতিরিক্ত কর আদায়ে। সেই সাথে মূল্যস্ফীতি যদি ধরি ৫-৬ শতাংশ তাহলে সাধারণ মানুষ ব্যয় করতে গেলে আগের তুলনায় আরো দরিদ্র হবে বলে আমার কাছে মনে হচ্ছে। অর্থাৎ সাধারণ ভোক্তার ভোগব্যয় বাড়বে বলে মনে হলেও প্রকৃত অর্থে তাদের ভোগব্যয় বাড়ার সম্ভাবনা কম।
প্রশ্ন : শুধু অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি দারিদ্র্য দূর করতে পারে না বলে বিশ্বের অনেক শীর্ষ অর্থনীতিবিদই মন্তব্য করছেন। অর্থমন্ত্রীও তার বাজেট বক্তব্যে ‘প্রবৃদ্ধি উন্নয়ন ও সমতার’ কথা বলেছেন। অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক বিকাশের জন্য বাজেটে কী কী পদক্ষেপ আপনি দেখতে পাচ্ছেন। প্রফেসর খন্দকার মুস্তাহিদ : প্রবৃদ্ধি বাড়লেই যে সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়ন হয়, এটা ঠিক নয়। জীবনমান উন্নয়নের জন্য দেখতে হবে, যে বাড়তি জাতীয় আয় হলো সেটা কিভাবে বণ্টন হচ্ছে শ্রমিকের মধ্যে, শ্রমিকের মালিকের মধ্যে, সরকার কতটা নিচ্ছে। তার ওপরই নির্ভর করবে বিষয়টি। আমাদের সরকারের এমন কোনো পরিকল্পনা নেই, যার মাধ্যমে কর্মসংস্থান বাড়ানোর একটি চিন্তা আছে। অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে এই বাধাগুলো এখনো রয়ে গেছে। মুখে বলছি যে, আমরা কৃষির ওপর জোর দিয়েছি, শিল্পের ওপরও জোর দিচ্ছি; কিন্তু শিল্পায়নের জন্য যে প্রয়োজনীয় কাজগুলো, সে কাজগুলো কিন্তু আমরা করতে পারিনি।
ফলে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির যে আশা করছে সরকার, সেটা না হলে এবং বর্ধিত জাতীয় আয় যদি সমভাবে বণ্টন না হয়, তাহলে মানুষের জীবনমান কখনোই উন্নত হবে না। তবে হ্যাঁ, এই বাজেটের বেশ কিছু জায়গায় আছে যে, যারা দরিদ্র জনগোষ্ঠী, যারা সিঙ্গেল প্যারেন্ট ফ্যামিলি কিংবা কিছু জনগোষ্ঠী আছে, যাদের জন্য সরকার ভাতা বাড়িয়েছে, বিধবাভাতা বাড়িয়েছে। সম্ভবত এ ধরনের সামাজিক ব্যয়ের জন্য ১৮ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ ধরা হয়েছে; কিন্তু সত্যিকার অর্থে যদি আমি উৎপাদনশীলতা বাড়াতে চাই, শ্রমিকের মান বাড়াতে চাই এবং কর্মসংস্থান বাড়াতে চাই, তাহলে কিন্তু আমার প্রয়োজন হবে উন্নত প্রযুক্তির শ্রমিকদের আরো অধিকতর দক্ষতা অর্জনের জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা। একটা থিওরি ছিল আগে যেটাকে বলা হতো ট্রিকল ডাউন। মনে করা হতো যে, বিনিয়োগকারী লাভ পাবে, সে লাভ সে পুনরায় বিনিয়োগ করবে, বিনিয়োগ করলে সেখান থেকে কর্মসংস্থান হবে, সুতরাং সবাই লাভটা পেয়ে যাবে।
সেটা থাকলেও বাংলাদেশে বর্তমানে কর্মসংস্থানের সুযোগ নেই। এনবিআর প্রতিবেদন দিয়েছে, গত তিন বছরে মাত্র ছয় লাখ লোকের কর্মসংস্থান হয়েছে। অথচ আমাদের দেশে লাখ লাখ শিক্ষিত বেকার, এদের কর্মসংস্থানের সুযোগটা কোথায়? তারা যদি কর্মসংস্থানের যোগ্য না হয়ে থাকে, কিভাবে তারা যোগ্য হবে, তার ব্যবস্থাটা কোথায়? বিদেশে আমাদের যেসব শ্রমিক ভাইয়েরা কাজ করেন তাদেরও দক্ষতা কম। অদক্ষ শ্রমিক হিসাবে যায়, কেউ কেউ আধা-দক্ষ শ্রমিক হিসেবে যায়। ফলে আমাদের দেশের যে পরিমাণ মানুষ বিদেশে কাজ করেন তার তুলনায় অনেক কম রেমিট্যান্স পাই। সেখানেও অনেক কাজ করার সুযোগ আছে। দেশের লাখ লাখ লোক বিদেশে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তাদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণ আমরা দিতে পারছি না।
প্রশ্ন : এবারের বাজেটের উন্নয়ন বরাদ্দের ব্যাপারে আপনার মতামত কী? বিশেষত শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কৃষির চেয়েও বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে বড় বড় অবকাঠামো প্রকল্পে বিনিয়োগ। এই অগ্রাধিকার থেকে অর্থনীতি কতটা লাভবান হতে পারবে? প্রফেসর খন্দকার মুস্তাহিদ : উন্নয়নকে আমরা কেবল রাস্তাঘাট, পুল, কালভার্ট, ব্রিজÑ এটা দিয়েই পরিমাপ করি না। উন্নয়ন হলোÑ আমার শিক্ষাব্যবস্থা কেমন, আমার স্বাস্থ্যের সুরক্ষা কেমন, আমার সামাজিক নিরাপত্তা কেমন। এই জিনিসগুলোর বিচারে উন্নয়নকে দেখতে হবে। ১০টি বড় প্রকল্পে প্রায় ১৯ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এই প্রকল্পগুলো থেকে সরকার আশা করছে, এখানে মাল্টিপ্লায়ার এফেক্ট হবে। ফলে প্রতিটি স্তরেই কর্মসংস্থান হবে। তারা মনে করছে যে, পদ্মা ব্রিজ হলে মানুষের মাঝে মাল্টিপ্লায়ার এফেক্ট তৈরি হবে, উন্নয়নে গতি সঞ্চার হবে; কিন্তু আসল উন্নয়ন কি কেবল ব্রিজ-কালভার্টে। আসল উন্নয়নতো নিশ্চয়তা দেয় গ্যাস-বিদ্যুতের।
আসল উন্নয়নতো নিশ্চয়তা দেয় একটা ভালো শিক্ষাব্যবস্থার, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার জোরদার করার। এ ক্ষেত্রে কিন্তু সরকার অনেক পিছিয়ে আছে। সুতরাং সরকার যখন বলছে, প্রবৃদ্ধি উচ্চ হারে পৌঁছতে হলে এ ধরনের মেগা প্রকল্প নিতে হবে; কিন্তু এসব প্রকল্প করতে গিয়ে সরকার ঘাটতি করছে প্রায় ৯২ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে দেশজ অর্থনীতির ব্যাংক থেকে নিচ্ছে ৩৯ হাজার কোটি টাকা এবং সাড়ে ১৯ হাজার কোটি নিচ্ছে সঞ্চয়পত্র থেকে। অথচ ভালোভাবে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা গেলে মানুষের হাতে অর্থ থাকত। সেটা ভ্যাটের মাধ্যমে সরকারের কাছে ফিরিয়ে দেয়া যেত; কিন্তু এখন তারা কিভাবে দেবে? এখন অনেক মানুষই সঞ্চয় ভেঙে ভোগব্যয় করবে। সেখান থেকে এই টাকা ফেরত দেবে। মেগা প্রকল্প করলে তার টাকা সাধারণত বিশ্বব্যাংক কিংবা অন্যান্য জায়গা থেকে নেয়া প্রয়োজন। যেখানে সুদের হার কম। ১০ বছরের রেয়াত পাওয়া যায় এবং ৪০ বছরে শোধ করা যায়। মেগা প্রকল্পে নিজের সঞ্চয় থেকে ব্যয় করার একটি বড় এফেক্ট তৈরি হবে। এটা এখন বোঝা যাবে না। এই ঋণের বোঝাটা আমরা প্রজন্মের পর প্রজন্ম চাপিয়ে দিচ্ছি। আজ আমি যে ঋণ করছি, সেটা আমি আমার সন্তানকে দিয়ে যাচ্ছি। ৪০ বছর পর আমার সন্তানেরা প্রশ্ন করতে পারে যে, তুমি যে এত ঋণ করে আমার ওপর এত বড় বোঝা দিয়েছ, তুমি কি যথার্থ কাজ করেছ? তুমি তো এই কাজটা ঠিক করোনি। আমি কেন টানতে যাবো এই ঋণের বোঝা। এই প্রশ্ন কিন্তু ভবিষ্যতে আসবে।
প্রশ্ন : জিডিপির তুলনায় বাজেটের আকার এখনো ১৪ শতাংশের কোঠায় রয়ে গেছে। যা তুলনীয় দেশগুলোর চেয়ে অনেক পেছনে। জিডিপি-রাজস্ব অনুপাতের ক্ষেত্রেও দক্ষিণ এশিয়ার অধিকাংশ দেশের চেয়ে বাংলাদেশ পেছনে। এ অবস্থার উন্নয়ন কিভাবে সম্ভব? প্রফেসর খন্দকার মুস্তাহিদ : বাজেটের প্রস্তাবনায় কিছু কিছু বিষয় উল্লেখ থাকার প্রয়োজন ছিল। সেটি হচ্ছে, সরকার আয় করতে চাচ্ছে অনেক বেশি। সে আয় বাড়ানোর জন্য কৌশলটা কী, সক্ষমতা আছে কি না, যদি কৌশল থাকে সে কৌশলও বলা দরকার। যদি না বলতে চায়, তার পরও সরকারের বলা উচিত যে, আমার একটা কৌশল আছে। আর সক্ষমতাও বাড়ানো দরকার। সেখানে স্বীকার করা উচিত, আমাদের সে ধরনের সক্ষমতা নেই, আমাদের তা বাড়াতে হবে। এর নিরিখেই রাজস্ব আদায়ের ব্যবস্থাপনাটা থাকলে ভালো হতো।
আমরা এখনো জিডিপির ১৪ শতাংশের বেশি বাজেট দিতে পারছি না। অনেক দেশে অনেক বড় বাজেট তৈরি হয়। উন্নত দেশে কিন্তু জিডিপির প্রায় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাজেট দিয়ে থাকে। এর মধ্যে নরওয়ে, সুইডেন উল্লেখযোগ্য। এসব দেশ কল্যাণ রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত। ওইসব দেশে ছোট্ট দোকানদারও তার আয়ের ৩৫ শতাংশ করা হিসেবে সরকারকে দিয়ে থাকে। অর্থাৎ ওইসব দেশে প্রায় সবাই কর দিয়ে থাকে। সবাই করের ফলটাও ভোগ করে। এখন আমাদের দেশের সাধারণ নাগরিক এই প্রশ্ন করতে পারেন যে, আজকে যে আমি মাথা পিছু কর ১৫ হাজার ১৭২ টাকা দিচ্ছি, আমি তার বিনিময়ে কত টাকা ফেরত পাচ্ছি? এই কারণে এই প্রশ্ন আসতে পারে যে, শিক্ষার সুযোগ আমরা তৈরি করেছি, কিন্তু শিক্ষার মানের অবস্থা খুবই খারাপ। ফলে একটা লোক কর দিয়ে যে শিক্ষার সুযোগটি নিশ্চিতভাবে পাবে, সেটি হচ্ছে না। বড় শহর, বন্দর বা থানা এলাকার লোকেরাই কেবল এই সুযোগটা পাচ্ছে। আনুমানিক ৩০ শতাংশ মানুষ এই সুযোগটা পাচ্ছে। বাকি ৭০ শতাংশ বঞ্চিত হচ্ছে। ফলে তারা কর দিতে অনুৎসাহিত হচ্ছে। এই সমস্ত ব্যবস্থাপনার বিষয় বাজেট বক্তব্যে থাকা প্রয়োজন ছিল।
প্রশ্ন : বাংলাদেশের গ্যাস ও বিদ্যুৎ সঙ্কট উত্তরণের জন্য আঞ্চলিক উদ্যোগের প্রতি অনেকেই গুরুত্ব দিতে চান। এ বিষয়টিকে আপনি কিভাবে দেখেন। প্রফেসর খন্দকার মুস্তাহিদ : বিনিয়োগ বাড়াতে গ্যাস এবং বিদ্যুতের সরবরাহ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। অনেকেই বলেন, আমাদের দেশে গ্যাস সীমিত হয়ে আসছে এবং আগামী ১০ কিংবা ১৫ বছরের মধ্যে গ্যাস থাকবে না। রিনিউয়েবল এনার্জির ক্ষেত্রে সাধারণত এমনই হয়। একটা সময় পর সেই এনার্জি ফুরিয়ে যায়। গ্যাস পাওয়ার জন্য যে ধরনের বিনিয়োগ করতে হয়, সে ধরনের বিনিয়োগ করি নাই আমরা।
এখনো স্থলভাগে প্রচুর জায়গা আছে যেখানে অনুসন্ধান চালালে আমরা গ্যাস পাবো। সমুদ্রের মতো বিশাল জায়গায় আমরা অনুসন্ধান করলে গ্যাস এবং তেল পাবো; কিন্তু আমরা সে দিকে নজর দিচ্ছি না। অথচ গ্যাস ও তেল পাওয়ার ক্ষেত্রে আমাদের অফুরন্ত সম্ভাবনা আছে। এই সম্ভাবনা কাজে লাগাতে হলে বিনিয়োগ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে আরো একটি বড় সম্ভাবনা আমরা কখনো ভেবে দেখছি না। সেটা হলোÑ বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও ভুটানে জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের বিশাল সম্ভাবনা আছে। যদি আমরা যথাযথ আন্তর্জাতিক চুক্তি করতে পারি এবং সেটি যদি অংশগ্রহণমূলক হয়, তাহলে কেউ কেউ ধারণা করেন, সেখানে দেড় লাখ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। যেটা এই অঞ্চলের বিদ্যুতের চাহিদা মোটামুটি আগামী ৩০-৪০ বছরের মধ্যে মিটিয়ে ফেলতে পারবে; কিন্তু সেদিকে আমরা যাচ্ছি না।
প্রশ্ন : একসময় অনেক অর্থনীতিবিদ বলতেন বাংলাদেশ ভারতকে ট্রানজিট বা কানেকটিভিটি দিলে দু’দেশের বাণিজ্য ঘাটতি আর থাকবে না। বাংলাদেশ মধ্য আয়ের রাষ্ট্রে পরিণত হবে। এই বক্তব্যের সাথে এখনকার বাস্তবতার ব্যবধান কোথায়? প্রফেসর খন্দকার মুস্তাহিদ : দেশের সীমান্ত কেবল ভারতের জন্য নয়, সবার জন্যই উন্মুক্ত করা দরকার। সেখানে বিশ্বাস এবং আস্থা স্থাপন করা উচিত। যেখানে এক টন মাল বহন করতে আমাদের খরচ হয় প্রায় দুই হাজার টাকা, সেখানে ভারতকে মাত্র ১৯২ টাকা দিয়ে এক টন মাল পরিবহনের সুযোগ দেয়া হলো। কলকাতার দিক থেকে শুরু করবে, আগরতলায় গিয়ে শেষ করবে। মাঝখানের রাস্তাঘাট তারা ব্যবহার করবে।
এইভাবে দরজা খুুলে দেয়া হয়েছে। সেভেন সিস্টার্সে বিদ্রোহীদের নিয়ে ভারত যে সমস্যায় ছিল, বাংলাদেশের দিক থেকে এখন সে ব্যাপারে নিরাপত্তা পাচ্ছে। ফলে ভারত নিরাপত্তার দিক থেকেও একটা বড় সুবিধা পাচ্ছে। আবার ভারত বাংলাদেশকে যে ঋণ দিচ্ছে তার ৮০ শতাংশই ভারতে ব্যয় করার শর্তে দিচ্ছে। তাহলে এই ঋণের লাভটা কী? তাই আন্তঃদেশীয় একটা চুক্তি করা উচিত যেখানে অন্যান্য দেশও যুক্ত থাকবে, সেটা ভেবে দেখা দরকার। কানেকটিভিটি দেয়ার পর ভারতের সাথে বাণিজ্যিক বাধা দূর হয়ে যাবে বা আমরা সমানে সমানে যাবো, এই চিন্তা সঠিক নয়। বাংলাদেশ যেসব পণ্য রফতানি করতে চায় ভারতে সেসব ক্ষেত্রে শুল্ক বাধা কমিয়েছে; কিন্তু অশুল্ক বাধা প্রচুর রয়ে গেছে। সে কারণে বাংলাদেশ থেকে রফতানি দ্রব্য ভারতে পেঁছে না। পৌঁছলে সেটার জন্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে ১০ মাস বা ১১ মাস সময় লাগে।
এখন এসব পরীক্ষার প্রতিবেদন ইন্টারনেটের মাধ্যমে মুহূর্তে পাঠিয়ে দেয়া সম্ভব; কিন্তু ভারতে এই প্রতিবেদন পাঠাতে হয় পোস্ট-অফিসের মাধ্যমে। ফলে আমাদের দেশের কোনো রফতানিা পণ্য পাঠাতে চাইলে তার জন্য পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য যে ব্যবস্থাপনা ভারত রেখে দিয়েছে, সেগুলোর সবই অশুল্ক বাধা। সে কারণে বাংলাদেশ পোশাক রফতানি শিল্পে এত উন্নতি হওয়ার পরও ভারতে পোশাক রফতানি করতে পারছে না। ভারত যখন মনে করল যে, বাংলাদেশ থেকে ইলিশ আনা প্রয়োজন তখন হঠাৎ করে এই অশুল্ক বাধাগুলো উঠে গেল। আমাদের ব্যবসায়ীরা এক কেজি ইলিশের দাম পেল প্রায় ছয় ডলার। অথচ দেশের মানুষ ইলিশ খেতে পারছে না। এ ছাড়া ভারতে আমরা আরো যেসব জিনিস পাঠাতে চাই, ভারত নিজেই সেটার কমপিটিটর। সে কারণে তারা অশুল্ক বাধা সৃষ্টি করে রেখেছে।
ফলে কানেকটিভিটি দেয়ার পর ভারতের সাথে বাণিজ্যিক বাধা দূর হয়ে যাবে বা আমরা সমানে সমানে যাবো, এই চিন্তা সঠিক নয়। আমাদেরও উচিত ছিল এমন অশুল্ক বাধা তৈরি করা; কিন্তু আমাদের দেশে ভারতীয় পণ্যের জন্য কোনো অশুল্ক বাধা নেই। ভারত যেটা চায় সেটা হলো, বাংলাদেশের টেস্টিং ইনস্টিটিউটগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য তারা ব্যয় করতে চাচ্ছে। করেছেও তাই। যেমন প্রাণের জুস যায় ভারতে। প্রাণকে সে জন্য প্রায় ১৪ মাস সময় ব্যয় করতে হয়েছে। অথচ এটা তিন-চার দিনের ব্যাপার। এই বাধাগুলোর কারণে আমরা বাণিজ্যিক ভারসাম্য ভারতের সাথে কখনোই করতে পারব না। তখনই করতে পারব, যখন আমাদের দরকষাকষির ক্ষমতা বাড়বে।
প্রশ্ন : রিয়েল সেক্টর এবারের বাজেটে গুরুত্ব হারিয়েছে বলে কেউ কেউ মনে করছেন। আপনার মন্তব্য কী? প্রফেসর খন্দকার মুস্তাহিদ : বাজেটে কৃষিতে ভর্তুকি কমিয়ে দেয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমে যাওয়ায় ভর্তুকি কমতেই পারে। তবে ভর্তুকি দেয়া হতো কেবল দানাদার শস্য উৎপাদনের ক্ষেত্রে; কিন্তু কৃষির অফুরন্ত সম্ভাবনা আছে আরো কয়েকটি জায়গায়। যে জায়গাগুলোর উল্লেখ বাজেটে থাকা উচিত ছিল। একটা হচ্ছে পোলট্রি শিল্প। এই শিল্পটাকে ভালোভাবে সমর্থন দিলে এর থেকে অনেক কিছু পাওয়া সম্ভব। এখান থেকে আমাদের প্রোটিন চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রফতানি করাও সম্ভব। দ্বিতীয় হচ্ছে মৎস্য। সাধারণ খেটেখাওয়া মানুষ প্রোটিন পেতই না, যদি পুকুরে রুই মাছ, তেলাপিয়া কিংবা পাঙ্গাশ চাষ না হতো। কৃষির এই দিকটিতেও প্রচুর সম্ভাবনা আছে।
তাদের বিভিন্ন সুবিধা দেয়া প্রয়োজন। এ ছাড়া বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় ছোট ছোট খামার আছে। এসব খামারে গরু ও মহিষ চাষ হচ্ছে। এসব খামার থেকে দেশের গোশত ও দুধের চাহিদার একটা বড় অংশ পূরণ হচ্ছে। তাই তাদেরও প্রণোদনা দেয়া প্রয়োজন। কারণ এমন হাজার হাজার খামার তৈরি হতে পারে বাংলাদেশে। মহিষ খুব কষ্টসহিষ্ণু প্রাণী। এসব প্রাণী থেকে যে দুধ পাওয়া যায় সেসব দুধে প্রচুর প্রোটিন ও ফ্যাট থাকে। তাই দানাদার শস্য উৎপাদন থেকে কৃষির নজরটা যদি আমরা পোলট্রি, মৎস্য ও খামারিদের ওপর নিয়ে যাই তাহলে কৃষির ব্যাপক উন্নতি হবে। এর দ্বারা মোটামুটিভাবে প্রোটিনের যে সমস্যা, খাদ্য নিরাপত্তার যে সমস্যা সেটা আমরা মেটাতে পারব এবং বিদেশেও রফতানি করতে পারব।