Sunday, March 2, 2014

উপজেলা নির্বাচনের পর আন্দোলন by কাফি কামাল

উপজেলা নির্বাচনের পর সরকার পতনের আন্দোলনে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। বলেছেন, বিএনপি উপজেলা নির্বাচনে যাওয়াই সরকারের গায়ে জ্বালা ধরেছে। তারা উল্টা-পাল্টা বকছেন। আমাদের দল গোছানো শুরু হয়েছে।

ইউক্রেনে সামরিক হামলা চালাতে প্রস্তুত পুতিন, সতর্ক ইউক্রেন

ইউক্রেনে আগ্রাসন চালাতে প্রস্তুত রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এ বিষয়ে পার্লামেন্ট তাকে অনুমোদন দিয়েছে। ফলে যে কোন সময় ইউক্রেনে হামলা চালাতে পারেন তিনি।
এ খবরে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে যুদ্ধ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শীতল যুদ্ধের পর পশ্চিমা দুুনিয়ার সঙ্গে সরাসরি ভয়াবহ এক সংঘাতময় অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। এতে আরও বলা হয়েছে, ইউক্রেনের নতুন সরকার তার সেনাদের রেখেছে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায়। সহায়তার আহ্বান জানানো হয়েছে ন্যাটোর কাছে। এরই মধ্যে পুতিনের নির্দেশে অনেক সেনা এরই মধ্যে ইউক্রেনের ক্রিমিয়া অঞ্চল দখল করে নিয়েছে। ওইসব সেনা সদস্যের গায়ের ইউনিফর্ম দেখে বোঝার উপায় নেই যে তারা কোন দেশের। তবে এটুকু আন্দাজ করা যায় যে তারা রাশিয়ান। তাদের সঙ্গে যে সামরিক যান রয়েছে তাতে রয়েছে রাশিয়ান নাম্বার প্লেট। কৃষ্ণ সাগর অঞ্চলে আগে থেকেই রাশিয়ার রয়েছে বড় ধরণের সামরিক উপস্থিতি। তারা সামরিক হামলা করলে কিয়েভে যে নতুন সরকার ক্ষমতায় আছে তাদের পক্ষে তা মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। এমন হামলা করা হলে তা হবে ইউক্রেনের সার্বভৌমত্বের লংঘন। এ কথা জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, রাশিয়া এরই মধ্যে পরিষ্কার ভাবে ইউক্রেনের সার্বভৌমত্বকে লংঘন করেছে। পাশাপাশি রাশিয়ার সেনাদের প্রত্যাহার করে ক্রিমিয়াতে তাদের ঘাঁটিতে ফেরত আনার জন্য আহ্বান জানিয়েছে। ইউক্রেনে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকও আহ্বান করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এক সপ্তাহ আগে বিরোধীদের বিক্ষোভের মুখে ক্ষমতা চেড়ে পালিয়ে যান ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভিক্টর ইয়ানুকোভিচ। তিনি রাশিয়ার মিত্র বলে পরিচিত। তার পরেই ক্ষমতায় এসেছেন নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী আরসেনি ইয়াতসেনিউক। তিনি রাশিয়ার এমন সামরিক কর্মকাণ্ডকে যুদ্ধ শুরু বলে মন্তব্য করেছেন। বলেছেন, এতে ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে সম্পর্ক ছিন্ন হবে। ওদিকে রাশিয়ার হুমকির প্রেক্ষিতে ইউক্রেনের ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ওলেসান্দার তুরচিনভ তার সেনাদের যুদ্ধকালীন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। এরই মধ্যে উ™ভুত পরিস্থিতি নিয়ে ইউরোপীয় ও মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাত করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অঁদ্রি দেশচিতসিয়া। এ সময় তিনি ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব ও দেশের অখণ্ডতাকে রক্ষার জন্য ন্যাটোর সহায়তা চেয়েছেন। ওদিকে রাশিয়ার সোচি’তে আট জাতির শীর্ষ সম্মেলন জি-৮ অনুষ্ঠানে যোগ দেয়ার সিদ্ধান্ত স্থগিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের মধ্যে টেলিফোনে ৯০ মিনিট কথা হয়েছে। হোয়াইট হাউজ কড়া সতর্কতা উচ্চারণ করেছে। বলেছে, এমন আগ্রাসন চালানো হলে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে একপেশে করে রাখা হবে রাশিয়াকে। টেলিফোনে পুতিনকে ওবামা বলেন, ইউক্রেনের ভিতরে রাশিয়ান জাতিগোষ্ঠীকে নিয়ে যদি রাশিয়ার উদ্বেগ থাকে তাহলে তা শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান করা যায়। ওবামা সহ পশ্চিমা নেতারা ইউক্রেনে হস্তক্ষেপ না করতে পুতিনকে বার বার অনুরোধ করছেন। কিন্তু তাদের কথা না শুনে পুতিন নিজের মতো করে চলা শুরু করেছেন। ফোন কলে পুতিন ওবামাকে বলেছেন, ইউক্রেনে রাশিয়ানদের ও তাদের স্বার্থ রক্ষার দায়িত্ব সংরক্ষণ করে রাশিয়া। এর ফলে বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে পড়েছে যে, পশ্চিমারা বা অন্যরা যে যা-ই বলুক না কেন পুতিন ইউক্রেনে সামরিক হামলা চালাতে এখন মুক্ত। ইচ্ছে হলেই তিনি যে কোন সময় এমন হামলা চালাতে পারেন। পার্লামেন্টের অনুমোদনের ফলে তার হাতে এখন একক কর্তৃত্ব। বারাক ওবামার প্রস্তাবের জবাবে তার কথা তেমনই ইঙ্গিত দেয়।

দূরদেশ- ওবামার আফগান দোলাচল by আলী রীয়াজ

আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনাদের ২০১৪ সাল শেষ হওয়ার আগেই প্রত্যাহার করা হবে, এটা নতুন বিষয় নয়। কিন্তু গত মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা যখন তাঁর প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়কে ‘সব সেনা’ তুলে আনার প্রস্তুতি নিতে বললেন,

বিশেষ সাক্ষাৎকার : বিনায়ক সেন- রাজনীতিকে যে বাস্তবতা বুঝতে হবে by ফারুক ওয়াসিফ

ড. বিনায়ক সেন অর্থনীতিবিদ। এখন বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানে (বিআইডিএস) গবেষণা পরিচালকের দায়িত্বে রয়েছেন।

হয়রানিই যেখানে নিয়ম by সোলায়মান তুষার

মো. রফিকুল ইসলাম। নেত্রকোনার কেন্দুয়া কাওড়া আদর্শ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে ১০ বছর শিক্ষকতা করেছেন। বেতন-ভাতাও পেয়েছেন। এরপর কাচিমপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার প্রক্রিয়া চলছিল।

রাজনীতিকে যে বাস্তবতা বুঝতে হবে

বিনায়ক সেন
ড. বিনায়ক সেন অর্থনীতিবিদ। এখন বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানে (বিআইডিএস) গবেষণা পরিচালকের দায়িত্বে রয়েছেন। ২০০৪ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত ছিলেন ওয়াশিংটনে বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র ইকোনমিস্ট। ছিলেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের পরামর্শক কমিটির সদস্য (১৯৯৭-২০০১), সরকারি ব্যয় পর্যালোচনা কমিশনের সদস্য (২০০২-০৩)। বাংলাদেশের প্রথম অন্তর্বর্তীকালীন দারিদ্র্য নিরসন কৌশলপত্র (আইপিআরএসপি) প্রণয়নে জড়িত ছিলেন, ছিলেন ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার প্যানেল অব ইকোনমিস্টের সদস্য এবং বর্তমানে বেতন ও চাকরি কমিশনের সদস্য। দারিদ্র্য, বৈষম্য, মানব উন্নয়ন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি তাঁর গবেষণার বিষয়। এ নিয়ে তাঁর ৫০টিরও বেশি প্রবন্ধ আন্তর্জাতিক মানের গ্রন্থ ও জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। সাহিত্যে তাঁর অনুরাগের প্রকাশ হিসেবে লিখছেন সাহিত্য-ঘেঁষা প্রবন্ধ। তাঁর লেখালেখির ই-ঠিকানা binayaksenbd.com  সাক্ষাৎকার নিয়েছেন ফারুক ওয়াসিফ
প্রথম আলো  বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নতি যতটা, রাজনীতি তার বিপরীতে চলছে কেন?
বিনায়ক সেন  রাজনৈতিক উন্নতি কখনোই অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলেনি কোনো দেশে। আমি সেই আদি মার্ক্সীয় ধারণার বিশ্বাসী যে অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নতি অনেকটা ঘটার পরই রাজনৈতিক উন্নতি আসে। উন্নত দেশগুলোয় উনিশ শতকজুড়ে অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নতি হয়েছে, কিন্তু আজকের অর্থে সর্বজনীন ভোটাধিকারের গণতন্ত্র তখন ছিল না। পূর্ব এশিয়ার উত্থিত দেশগুলোতেও অর্থনৈতিক-সামাজিক উন্নতির পরই গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হয়েছে। প্রথমত, এখন বেশি করে গণতন্ত্রের প্রশ্নটা সর্বত্র উঠছে কেন? বাংলাদেশে গত দুই দশকে অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে কি না, যখন আমরা সত্যি সত্যি রাজনৈতিক উন্নতি আশা করতে পারি? আমার চলতি গবেষণা থেকে দেখতে পাচ্ছি, ১৯৯১-২০১০ পর্বে অর্থনৈতিক মধ্যবিত্ত শ্রেণী ৭ শতাংশ থেকে বেড়ে প্রায় ২০ শতাংশ হয়েছে (যাদের আয় মাথাপিছু দৈনিক দুই থেকে চার পিপিপি ডলারের মধ্যে)। প্রায় তিন গুণের মতো বৃদ্ধি পাওয়া এই মধ্যবিত্তের একটা অংশ আবার গত দুই দশকে শহরমুখী ও বিদেশমুখী হয়েছে। এই বিস্তৃত ও সক্রিয় অর্থনৈতিক ও সামাজিক মধ্যবিত্ত শ্রেণী গণতন্ত্রের উন্নতির জন্য অপরিহার্য। এরা পরিবর্তনের সামাজিক ভরকেন্দ্র। এদের মধ্যে রাজনীতির উন্নতি দেখার বাড়তি প্রত্যাশা সৃষ্টি হয়েছে।
প্রথম আলো  পঞ্চাশ-ষাটের দশকে এখনকার চেয়ে কম সংখ্যানুপাতে মধ্যবিত্ত থাকার পরও তো রাজনীতি বিকশিত হয়েছিল।
বিনায়ক সেন  হ্যাঁ, স্বাধিকার-স্বাধীনতা আন্দোলনের কালে ‘সংখ্যানুপাতের স্বল্পতা’ রাজনৈতিক উন্নতির বাধা হয়নি। এর কারণ সম্ভবত তখন ও এখনকার মধ্যবিত্তের চরিত্রের গুণগত পার্থক্য। তখনকার মধ্যবিত্ত ছিল প্রথম প্রজন্মের কৃষক সন্তান। তাদের পক্ষে কৃষকের জাতীয়তাবাদকে, তার আবেগ-অনুভূতিকে ধারণ করা সহজতর ছিল। গত ৫০ বছরে অর্থনৈতিকভাবে মধ্যবিত্ত যতই এগিয়েছে, কৃষকের সঙ্গে তার যোগসূত্র ততই দুর্বল হয়েছে। এই নতুন মধ্যবিত্তের বেড়ে ওঠা শহরে, পাশ্চাত্যের আধুনিকতার আবহে তারা লালিত। তারা থাকছে ঢাকা শহরে, কিন্তু মনটা পড়ে আছে নিউইয়র্ক, লন্ডন, সিডনি ও প্যারিসে। কৃষক বিচ্ছিন্নতা এদের কুল-লক্ষণ। তার পরও যতটা রাজনৈতিক উন্নতির জন্য তারা সোচ্চার হতে পারত, সেটা অনেক ক্ষেত্রে সম্ভব হয়ে ওঠে না বিলাসবহুল জীবনচর্চার কারণে। আমাদের এখানে চরিত্রের স্থিরতা নেই, শ্রেণী-চরিত্রেরও স্থিরতা নেই। শ্রেণী-বিভাজন ও সামাজিক সচলতা এত দ্রুত হলে বোধ করি এই হয়। এখানে বুদ্ধিজীবীরা আমলা হতে চায়, আমলারা হতে চায় ব্যবসায়ী আর ব্যবসায়ীরা রাজনীতিবিদ। এ অবস্থায় দ্রুত রাজনৈতিক উন্নতি আশা করা যায় না।
প্রথম আলো  তাহলে অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার রাজনৈতিক পূর্বশর্ত কীভাবে তৈরি হবে? স্থিতিশীলতা ও উন্নতির জন্য কী ধরনের পরিবর্তন দরকার হবে?
বিনায়ক সেন  আমরা প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় নজর কেড়েছি; কিন্তু রাজনৈতিক দুর্যোগ মোকাবিলা করতে না পারলে হুতু-তুতসি ধরনের বিরোধাত্মক সমাজে পরিণত হতে পারি। এরও মূলে রয়েছে দ্রুত হারে ও অবৈধ পন্থায় সংগৃহীত অর্থবিত্তের মাধ্যমে সৃষ্ট বৈষম্য। এই অবৈধ বৈষম্যই রাজনৈতিক বিরোধাত্মক সমাজের মূলে প্ররোচনা জোগাচ্ছে। শুধু আইনশৃঙ্খলা শক্ত হাতে প্রতিষ্ঠা করে এই অবৈধ বৈষম্যের মোকাবিলা করা যাবে না। যিনি আইন ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করতে যাবেন, তাঁর শাসনের নৈতিক বৈধতা থাকা জরুরি। মানুষ অবৈধ শাসনের আইন ও শৃঙ্খলার যুক্তি মানতে চায় না। এ অবস্থায় দার্শনিক মিশেল ফুকোর ভাষায় যেখানেই অবৈধ ক্ষমতা, সেখানেই প্রতিরোধ দানা বাঁধে। এ অবস্থা থেকে বেরোনোর দুটি বিপরীতমুখী চিন্তাধারা রয়েছে। একটি হচ্ছে, অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য কর্তৃত্ববাদী শাসন। এমন ছিল ষাট-সত্তরের দশকের পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোয় বা যেমনটা এখনো আছে চীনে ও ভিয়েতনামে। দ্বিতীয়টি হচ্ছে, পূর্ণতর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সুশাসন, যা কেবল গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাই দিতে পারে। এটি অবশ্যই শ্রেয়তর সমাধান, কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে বাস্তবতার নিরিখে এটা কার্যকর হতে পারে না। কর্তৃত্ববাদী শাসন বেশি দিন টেকে না, আবার পূর্ণ গণতন্ত্রেও হঠাৎ করে যাওয়া সম্ভব হয় না। ফলে বেশির ভাগ উন্নয়নশীল দেশেই একধরনের মাঝামাঝি রাজনৈতিক ব্যবস্থার বিকাশ ঘটে। সোনার পাথরবাটির মতো শোনালেও কেউ বলেছেন একে কর্তৃত্ববাদী গণতন্ত্র, আবার কেউ বলেছেন সংকর গণতন্ত্র। এর নানা প্রকারভেদ আছে। সিঙ্গাপুরে দীর্ঘ ৫০ বছর যাবৎ এক দলই ক্ষমতায় ছিল। ভারতে কংগ্রেস প্রথম দিকে প্রায় টানা ৩৫ বছর ক্ষমতায় ছিল। মিশ্র অর্থনীতির ক্ষেত্রে যেমন মিশ্র গণতন্ত্রের ক্ষেত্রেও রাজনৈতিক উন্নতির পথ-বিকল্প খোঁজার সুযোগ রয়ে গেছে। আমাদের দেশে গত দুই দশকে যা ছিল তা হলো কর্তৃত্ববাদী গণতন্ত্র। একে নির্জলা কর্তৃত্ববাদী শাসন বলাও ভুল, আবার বিশুদ্ধ গণতন্ত্র বলাও ভুল। উন্নয়নের এই পর্যায়ে এটাই আমাদের বিধিলিপি। এই ধারাকে রাজনৈতিকভাবে আরও উন্নত করে সহনীয় ধারার মিশ্র বা কর্তৃত্ববাদী গণতন্ত্রের বিকাশ ঘটানো সম্ভব। তা করা গেলে দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নতি আরও বেগবান হবে। এ ব্যাপারে আমরাই হতে পারি তৃতীয় বিশ্বের কাছে মিশ্র গণতন্ত্রের এক নতুন রোল মডেল। কিন্তু ব্যর্থ হলে তৃতীয় বিশ্বের অনেক দেশের মতো আমরাও অসহিঞ্চু বা অত্যাচারী গণতন্ত্রের স্থায়ী ঝুঁকিতে পড়ে যাব।
প্রথম আলো  কিন্তু এই প্রক্রিয়া কি নির্বাচনকে এড়িয়ে চালানো সম্ভব? বর্তমান নির্বাচনী ব্যবস্থায় ক্ষমতাসীনদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা কি সম্ভব?
বিনায়ক সেন  কারা ক্ষমতাসীন হবে, তার জন্য অবাধে নির্বাচন করাই যথেষ্ট নয়, ক্ষমতার শাসনেরও রাজনৈতিক উন্নতি চাই। কর্তৃত্ববাদী সংকর গণতন্ত্রের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক উন্নতি আনতে হলে দলীয় প্রার্থীদের গুণগত মান বৃদ্ধি করাই পরীক্ষিত পথ। নির্বাচনী প্রচারণার ব্যয় ও অর্থায়ন (ক্যামপেইন ফাইন্যান্স) ব্যবস্থার সংস্কার করা এর পূর্বশর্ত। ২০০৭ সালের দিকে এ নিয়ে আলাপ শুরু হলে প্রধান দুই দলের শীর্ষ নেতৃত্ব প্রাথমিক আগ্রহও দেখিয়েছিলেন। সেই আগ্রহ আবার জাগানো দরকার। এখন তো মনোনয়নের ক্ষেত্রে প্রার্থীর গুণগত মানের চেয়ে অর্থবিত্ত ও পেশিশক্তিকে প্রায়ই বিবেচনায় নেওয়া হয়। এর ফলে খারাপ প্রার্থীদের জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা কাঠামোগতভাবে থেকে যায়। মনোনয়ন-বাণিজ্যের সূত্রপাত ঘটে এই সূত্রেই। এতে রাজনৈতিক প্রক্রিয়া শুধু দুর্নীতিগ্রস্তই হয় না, রাজনৈতিক উন্নতিও বাধাগ্রস্ত হয়। সহনীয় ধারার কর্তৃত্ববাদী গণতন্ত্রের আরও একটি দিক হচ্ছে রাজনৈতিক সংস্কৃতির আমূল না হলেও কিছুটা পরিবর্তন। যেমন, দলে ধারাবাহিকভাবে অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্রের বিকাশ সাধন করা। আমরা গণমাধ্যমে অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্রের চর্চার দৃশ্য দেখতে চাই—সেটা শুধু প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে নয়, নীতিমালা নিয়ে দলের ভেতরে বিতর্ক বা মতপার্থক্য বিষয়েও। কর্তৃত্ববাদী মিশ্র গণতন্ত্র মানে এককেন্দ্রিক শাসন নয়। ১৬ কোটি মানুষের দেশকে এক কেন্দ্র থেকে যথাযথ শাসন করা সম্ভব নয়। কেন উপজেলা-কাঠামো শুধু নির্বাচনসর্বস্ব হয়ে থাকবে? কেন বিভাগীয় পার্লামেন্ট ধরনের কাঠামো গড়ে তোলা যাবে না? কেন শহর-প্রশাসনে আরও গভীরে বিকেন্দ্রীভবন হবে না? এর ফলে শুধু প্রশাসনের মানই বাড়বে না, জাতীয় সংসদেরও মান বাড়বে। আরেকটি অনালোচিত দিক হচ্ছে নির্বাচনী ব্যবস্থার সংস্কার। আওয়ামী লীগ জোটের পক্ষে সমর্থন ৪০ শতাংশ, বিএনপি জোটের পক্ষে সমর্থন ৪০ শতাংশ, আর বাদবাকি ২০ শতাংশ দলীয় সমর্থক নন—তাঁরা পারফরম্যান্স বুঝে ভোট দেন। এই সুইং ভোটাররাই সরকারের বদল আনেন। কিন্তু সংসদে আসনের ফলাফলে এটা প্রতিফলিত হয় না। এই ব্যবস্থার পরিবর্তন হওয়া দরকার। একটা প্রস্তাব হচ্ছে, ৩০০টি আসনে যেমন হচ্ছে তেমনই ধারার ভোট হোক; কিন্তু এর অতিরিক্ত আরও ১৫০টি আসনের বণ্টন বা নির্বাচন হোক জাতীয়ভাবে মোট প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতের ভিত্তিতে। এভাবে দলগুলো কেন্দ্রীয়ভাবে মেধাবী ও যোগ্য ব্যক্তিদের নির্বাচিত সদস্য হিসেবে মনোনয়ন দিতে পারবে। এই ‘মিশ্র’ নির্বাচনী ব্যবস্থার মাধ্যমে যেমন রাজনীতিতে ভারসাম্যআসবে, তেমনি দুই প্রধান দলের মধ্যে সাংঘর্ষিক উত্তাপও কমে আসবে বলে অনুমান করি। এককথায়, কর্তৃত্ববাদী শাসন ও পূর্ণ গণতন্ত্রের মাঝামাঝি যে সহনীয় ধারার কর্তৃত্ববাদী সংকর গণতন্ত্রের কথা বললাম, সেখানে রাজনৈতিক উন্নতি ঘটানোর ও তা নিয়ে চিন্তাভাবনা করার অনেক অবকাশ রয়ে গেছে।
প্রথম আলো  দুটি ক্ষমতাকেন্দ্রের মধ্যে অন্তহীন শত্রুতার রাজনৈতিক ব্যাকরণ না বদলিয়ে তা কি সম্ভব?
বিনায়ক সেন  কেবল ৪০ শতাংশ সমর্থন নিয়ে আওয়ামী লীগের পক্ষে গোটা জাতির প্রতিনিধিত্ব করা যেমন সম্ভব নয়, অন্যদিকে ৪০ শতাংশ নিয়ে বিএনপির পক্ষেও জাতির প্রতিনিধিত্ব করা সম্ভব নয়। এটি হচ্ছে মৌলিক সমকক্ষতার প্রশ্ন। এর থেকে চারটি কথা বলতে চাই। এক. আ.লীগকে যত দ্রুত সম্ভব সব দলের অংশগ্রহণে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠান এবং তার পরিবেশ সৃষ্টির জন্য সুনির্দিষ্ট উদ্যোগ ও আলোচনা শুরু করতে হবে। এ পথেই দলের দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণ নিহিত। দুই. বিএনপিকে ইতিহাসের দাবিকে বুঝতে হবে। ঐতিহাসিকভাবে বিএনপি ছিল মুক্তিযুদ্ধের ধারারই অংশ। তাদের এই ক্ষেত্রটিকে পুনরায় অধিকার করতে হবে। গত দুই দশকে যে তরুণ প্রজন্ম আধুনিকতার ধারায় বিকশিত হয়েছে, এটি তাদেরও প্রাণের দাবি। তিন. ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা’র একটি মাত্র অর্থ বা ব্যাখ্যা হতে পারে না। ভারতে ১৯৪৭-র ‘স্বাধীনতার চেতনা’ নিয়ে বিতর্ক নেই। সেখানে গান্ধীর পাশাপাশি ‘বামপন্থী’ নেহরু ও ‘ডানপন্থী’ প্যাটেলের চেতনাও আছে, দলিত প্রতিনিধি আম্বেদকরে নেতাজি সুভাষ বসুর চেতনাও আছে। রবীন্দ্রনাথের চিন্তাভাবনাও আছে। সেভাবে আ.লীগের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ছাড়াও বিএনপির মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, মুজিবের পাশাপাশি ভাসানীর চেতনার বিশিষ্টতার অবকাশ রয়ে গেছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ওপর কোনো দলের একচেটিয়া চলতে পারে না। অন্যদিকে সব দলকেই দলীয় মতপার্থক্য সত্ত্বেও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ভাবাদর্শিক জমিনেই দাঁড়াতে হবে। চার. জন রাউলস তাঁর ‘রিজনেবল প্লুরালিজম’-এর ধারণায় ধর্মীয় দল ও ধারাকেও স্থান দিয়েছেন—যদি তারা বর্ণবাদী, সামপ্রদায়িক বা জাতিবিদ্বেষী মতবাদ প্রচার না করে। সাম্রাজ্যবাদের বিশ্ব-বাস্তবতায় ‘রাজনৈতিক ইসলাম’ নির্যাতিতের পক্ষে যেমন দাঁড়িয়েছে, আবার অনেক ক্ষেত্রে সাম্রাজ্যবাদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে। আমাদের দেশে জামায়াতে ইসলামী ‘রাজনৈতিক ইসলাম’-এর ধারায় রয়েছে এবং এর সম্ভাবনাও রয়েছে। কিন্তু একাত্তরকে অস্বীকার করে স্বীয় মতাদর্শের ধারাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া দলটির পক্ষে কী করে সম্ভব? একাত্তরের কৃত অপরাধ ও ভুলত্রুটি এবং প্রকৃত যুদ্ধাপরাধের স্বচ্ছ বিচারের বিষয়ে দলটিকে নতুন করে ভাবতে হবে। গণতান্ত্রিক ও ভিন্নমত-সহিষ্ণুু সমাজের বিকাশের স্বার্থে এটাই তো কাম্য। দেশটা তো সবার—‘৩৬ জাতি না হলে নাকি রাজ্য চলে না।’ দেশে অর্থনৈতিক ও সামাজিক শান্তি নেমে আসুক, সেটা তো আমরা সবাই চাই। চাই কি?
প্রথম আলো  আপনাকে ধন্যবাদ।
বিনায়ক সেন  ধন্যবাদ।

উপজেলা নির্বাচন

সদ্য সমাপ্ত ১১৫টি উপজেলায় নির্বাচন অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশনকে আগের তুলনায় বেশি সরকারি দল-ঘেঁষা বলে প্রতীয়মান হয়েছে। গত সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানে রিটার্নিং কর্মকর্তা পদে ডিসিরা নিয়োগ পেয়েছিলেন। এবারও ইসি অবোধগম্য কারণে উপজেলা নির্বাচন অনুষ্ঠানে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা ও কারণ ছাড়াই এডিসিদের নিয়োগ দিয়েছে। এই নির্বাচন ক্যাডার যখন ছিল না, তখন আমরা এর সপক্ষে যুক্তি দিয়েছিলাম। এমনকি ইসি ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরাও সমস্বরে বলেছেন, নির্বাহী বিভাগের ওপর নির্ভরশীলতা যত হ্রাস করা যাবে, ততই ইসি স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবে। এ জন্য নির্বাচন কমিশন সচিবালয়কে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের নিয়ন্ত্রণমুক্ত করার ধারণাও জনপ্রিয় হয়েছিল। তাই সাধারণ নির্বাচনের পর স্থানীয় সরকারের নির্বাচন অনুষ্ঠানেও ইসির সরকারের খাস তালুকের কর্মকর্তা প্রীতি গ্রহণযোগ্য নয়। এটা ঠিক যে, ৫ জানুয়ারির নির্বাচন প্রধান বিরোধী দল বর্জন করেছিল। সে সময়ে দেশে একটি সহিংস অবস্থাও চলছিল। সে কারণে ভোট গ্রহণ করতে ইসি তার নিজস্ব কর্মকর্তাদের বাদ দিয়ে সরকারের ওপর অধিকতর নির্ভরশীল হওয়ার প্রবণতা দেখিয়েছে। কিন্তু উপজেলা নির্বাচন অনুষ্ঠানে নিজস্ব কর্মকর্তাদের গুরুত্ব না দেওয়ার সম্ভবত অর্থ হলো সরকারের নিয়ন্ত্রণের পথ সুগম রাখা। গত বৃহস্পতিবারের নির্বাচনে ব্যালট বাক্স ছিনতাইসহ নির্বাচনী অনিয়মের আধিক্য এবং ইসির দায়সারা মনোভাব আমাদের হতবাক করেছে। এমনকি তারা সরকারি দলের প্রশ্রয়ে সংঘটিত অনিয়মের লাগাম টানতেও অনীহা প্রকাশ করেছে। ইসি অদ্ভুত যুক্তি দিয়েছে যে তাদের ক্ষমতা অতীব সীমিত।
সব ক্ষমতা নাকি তাদেরই নিয়োগ করা রিটার্নিং ও প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের। তাদের এই মনোভাব বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের ভোটকেন্দ্র দখলসহ নানা অপকর্মে উৎসাহ জুগিয়েছে। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট বলেছেন যে সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য ইসি যা যা করা দরকার তাই করতে পারবে। ভারত ও বাংলাদেশের সংবিধান প্রায় একই ভাষায় নির্বাচন কমিশনকে এখতিয়ার দিয়েছে। আর ভারতীয় সুপ্রিম কোর্টও বলেছেন, প্রচলিত আইনে কোনো নির্দিষ্ট বিধান না থাকলেও উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশন উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে পারবে। অন্যের মুখাপেক্ষী হতে হবে না। কিন্তু এ ক্ষেত্রে ইসির দায়সারা মনোভাব নতুন করে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা সৃষ্টির জন্য যথেষ্ট। বিএনপি ৫ জানুয়ারির সাধারণ নির্বাচনে অংশ নিলে কী হতে পারত কিংবা দলীয় সরকারের অধীনে ভবিষ্যৎ নির্বাচন করার বিষয়ে বর্তমান ইসির সম্ভাব্য ভূমিকা মূল্যায়নের বিষয়টিও এবার নতুন করে সামনে চলে এসেছে। এর দায়দায়িত্ব ইসিকেই নিতে হবে। আমরা আশা করব, পরের দফার নির্বাচনগুলো যাতে সুষ্ঠু ও অবাধ হয়, সে জন্য ইসি কার্যকর পদক্ষেপ নেবে এবং রিটার্নিং কর্মকর্তা পদে নিজস্ব কর্মকর্তা নিয়োগ করা হবে। অন্যথায় ইসি যেমন স্বকীয়তা হারাবে, তেমনি সাংবিধানিক এই প্রতিষ্ঠানটির প্রতি জনগণের অনাস্থাও বাড়বে।

সিলেটে এরশাদ এলেন নীরবে, চলে গেলেন বসন্ত উৎসবে by ওয়েছ খছরু

এরশাদ এলেন নীরবে, চলে গেলেন বসন্ত উৎসবে। নেই নেতাকর্মীদের হুড়োহুড়ি কিংবা দৌড়ঝাঁপ। নেই আগ্রহও। মিডিয়াকর্মীদেরও ভিড় নেই। প্রটোকলে একজন সাব-ইন্সপেক্টরের নেতৃত্বে পুলিশের একটি ভ্যান। গতকাল সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের দৃশ্য এটি।

নতুন করে কূটনীতিক চাপ আসছে by মিজানুর রহমান

দশম সংসদ নির্বাচনের পর গঠিত সরকারের প্রথম কূটনৈতিক ব্রিফিংয়ে দ্রুত নতুন নির্বাচনের তাগিদ দিয়েছিলেন বিদেশী দূতরা। জুনের মধ্যে পরবর্তী নির্বাচন দেখতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। ঢাকায় নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজিনা অন্য দূতদের সামনে যুক্তরাষ্ট্রের এমন মনোভাব প্রকাশ করেছিলেন।

ক্রিমিয়ায় রাশিয়ার ‘সশস্ত্র আগ্রাসন’

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে গতকাল ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট
ইয়ানুকোভিচবিরোধীদের বিক্ষোভের দুটি প্ল্যাকার্ড। বাঁয়েরটিতে
ইয়ানুকোভিচের ছবি। অপর প্ল্যাকার্ডে সোভিয়েত আমলের
আর্মি জেনারেলের পোশাক পরা রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির
পুতিনের ছবি। কয়েক দিন আগে ক্ষমতা ছেড়ে রাশিয়ায়
পালিয়ে গেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভিক্তর ইয়ানুকোভিচ।
আর গতকাল রাশিয়ার বিরুদ্ধে ‘সশস্ত্র আগ্রাসনের’
অভিযোগ তুলেছে ইউক্রেন সরকার। এএফপি
ইউক্রেনের সরকার গতকাল শুক্রবার অভিযোগ করেছে, তাদের ক্রিমিয়া অঞ্চলে ‘সশস্ত্র আগ্রাসন’ চালিয়েছে রাশিয়া। দেশটির নৌবাহিনী ক্রিমিয়ার দুটি বিমানবন্দর দখল করে নিয়েছিল। তবে পুনরায় বিমানবন্দর দুটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে সক্ষম হয়েছে ইউক্রেনের বাহিনী। এই অবস্থায় দেশের ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষায় নিশ্চয়তা দিতে পশ্চিমা দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ইউক্রেন সরকার। এদিকে ইউক্রেনে ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট ভিক্তর ইয়ানুকোভিচ গতকাল শুক্রবার রাশিয়ার এক শহরে সংবাদ সম্মেলনে নিজের দেশের জন্য লড়াইয়ের অঙ্গীকার করেন। প্রায় তিন মাসের গণ-আন্দোলনের মুখে গত সপ্তাহে পালিয়ে যাওয়ার পর এই প্রথম ইয়ানুকোভিচ প্রকাশ্যে কথা বললেন। তিনি দাবি করেন, তিনি ক্ষমতাচ্যুত নন। জীবন রক্ষার স্বার্থে দেশ থেকে পালাতে বাধ্য হয়েছেন।
তবে দেশের ভবিষ্যতের জন্য লড়াই করবেন তিনি। ইউক্রেনের বর্তমান পার্লামেন্ট ‘অসাংবিধানিক’ বলেও মন্তব্য করেন ইয়ানুকোভিচ। ইউক্রেনের সীমান্তরক্ষী বাহিনী জানায়, তাদের স্বায়ত্তশাসিত ক্রিমিয়ার আকাশে গতকাল ১০টিরও বেশি রুশ সামরিক হেলিকপ্টার চক্কর দেয়। রুশ বাহিনীর বিরুদ্ধে ক্রিমিয়ার বিমানবন্দর দখলের অভিযোগ এবং এরপর রাশিয়ারই একটি শহর থেকে ইয়ানুকোভিচের সংবাদ সম্মেলনের ঘটনায় পশ্চিমা বিশ্ব ও মস্কোর মধ্যে নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। ইউক্রেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরসেন আভাকভ অভিযোগ করেন, রুশ নৌবাহিনী গত বৃহস্পতিবার রাতে ক্রিমিয়ার সেভাস্তোপোল বিমানবন্দর অবরোধ করে এবং অন্য একটি বিমানবন্দরেও ঢুকে পড়ে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরসেন তাঁর ফেসবুক পেজে এক বিবৃতিতে বলেন, ‘যা ঘটছে, একে আমি রুশ বাহিনীর সশস্ত্র আগ্রাসন এবং দখলদারিত্ব বলেই মনে করি।’ তবে বিমানবন্দর দুটি পুনরায় নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে সক্ষম হয়েছে বলে দাবি করেন ইউক্রেন সরকার। ইউক্রেন সরকার আরও জানায়, গতকাল দক্ষিণ-পশ্চিম ক্রিমিয়ার সিমফারোপোল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরও অস্ত্রধারীরা দখল করে। আগের দিন রাশিয়াপন্থী অস্ত্রধারীরা ক্রিমিয়ার পার্লামেন্ট ও কয়েকটি সরকারি দপ্তর দখল করে সেখানে রাশিয়ার পতাকা উত্তোলন করে। তবে ক্রিমিয়ার বিমানবন্দর দখলের অভিযোগ অস্বীকার করেছে রুশ নৌবাহিনী। কৃষ্ণ সাগরে রুশ নৌঘাঁটি সি ফ্লিটের এক মুখপাত্রের বরাত দিয়ে রাশিয়ার বার্তা সংস্থা ইন্টারফেক্সের এক খবরে বলা হয়, বিমানবন্দর দখল তো দূরে থাক, তাঁদের নৌঘাঁটির কোনো ইউনিট বিমানবন্দরের দিকে অগ্রসরই হয়নি। গত সপ্তাহে ইয়ানুকোভিচ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে ইউক্রেনের সঙ্গে রাশিয়ার সম্পর্কের ব্যাপক অবনতি হয়।
রুশ ভাষাভাষীদের অধ্যুষিত ক্রিমিয়ার পার্লামেন্ট ভবন, সরকারি দপ্তর ও সর্বশেষ দুটি বিমানবন্দর দখলের ঘটনায় দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতি লিথুয়ানিয়া বলেছে, আগামী অধিবেশনে ক্রিমিয়ার-সংকট বিষয়টি উত্থাপন করা হবে। পশ্চিমা বিশ্ব ক্রিমিয়ার ঘটনাবলিকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানা গেছে। ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রীকে মার্কিন সমর্থন: যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ইউক্রেনের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানমন্ত্রী আর্সেনি ইয়াতসেনইউকের সঙ্গে গত বৃহস্পতিবার কথা বলে তাঁর প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ সমর্থন দেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। দেশটির নতুন নেতারা রাশিয়ার প্রভাব থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা অব্যাহত রাখার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র এমন অঙ্গীকার ব্যক্ত করল। হোয়াইট হাউসের এক বিবৃতিতে বলা হয়, বাইডেন আবারও ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রীকে আশ্বস্ত করেছেন, কিয়েভের প্রতি পূর্ণ সমর্থন অব্যাহত রাখবে ওয়াশিংটন। এএফপি, বিবিসি ও রয়টার্স।

ভারতের অন্যতম শিল্পগোষ্ঠী সাহারার সুব্রত রায় গ্রেপ্তার

আদালতে নেওয়া হচ্ছে সুব্রত রায়কে
ভারতে আদালত অবমাননার দায়ে শেষ পর্যন্ত গ্রেপ্তার হলেন দেশের অন্যতম শিল্পগোষ্ঠী সাহারা গ্রুপের প্রধান সুব্রত রায় সাহারা। গতকাল শুক্রবার লক্ষেৗয়ে তিনি উত্তর প্রদেশ পুলিশের কাছে ধরা দেন। সুব্রত রায়কে আগামী মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে হাজির করা হবে বলে জানা গেছে। তাঁকে গ্রেপ্তারের খবরে এক দিনেই সাহারার শেয়ারের দাম ৪ শতাংশ কমে যায়। এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে ৪ মার্চ। তত দিন পর্যন্ত পুলিমের হেফাজতে থাকবেন সাহারা গ্রুপের প্রধান।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে সর্বোচ্চ আদালতে হাজির না হওয়ায় সুব্রত রায়ের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। তাঁকে গ্রেপ্তার করতে গত বৃহস্পতিবার লক্ষেৗয়ে ২৫০ একর জমির ওপর তাঁর ব্যক্তিগত শহর সাহারা নগরে অভিযান চালায় উত্ত প্রদেশের পুলিশ। কিন্তু তন্নতন্ন করে খুঁজেও পুলিশ তাঁর হদিস পায়নি। এরপর গতকাল সকালে তিনি পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। একই সময়ে দিল্লিতে সুব্রতর ছেলে সীমন্ত রায় বাবার আত্মসমর্পণের কথা জানিয়ে বাবার একটি লিখিত বিবৃতি পাঠ করেন। তিনি বলেছেন, এই গ্রেপ্তার তাঁদের ব্যবসার ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে না। সাহারা গোষ্ঠীর একাধিক কোম্পানির বিরুদ্ধে বেআইনিভাবে বাজার থেকে অর্থ সংগ্রহের অভিযোগে সিকিউরিটি এক্সচেঞ্জ বোর্ড অব ইন্ডিয়া (সেবি) মামলা করে। আদালত তাঁকে ২৪ হাজার কোটি রুপি আমানতকারীদের ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেন।
নানা টালবাহানায় সাহারা গোষ্ঠী সেই মামলা বিলম্বিত করে চলছিল। বিরক্ত সুপ্রিম কোর্ট সম্প্রতি তাঁর বিদেশ যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন এবং তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন। কিন্তু মায়ের অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে সুব্রত রায় হাজিরা থেকে অব্যাহতি চান। সুপ্রিম কোর্ট তা অগ্রাহ্য করলেও ২৬ ফেব্রুয়ারি আদালতে গরহাজির থাকেন সুব্রত রায়। এ কারণে বিচারপতি কে এস রাধাকৃষ্ণন ও বিচারপতি জে এস কেহর তাঁর বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। গতকাল সকালে আত্মসমর্পণ করার সঙ্গে সঙ্গে সুব্রত রায়ের আইনজীবী রাম জেঠমালানি সুপ্রিম কোর্টে শুনানি এগিয়ে আনার আবেদন করেন। সুপ্রিম কোর্ট সেই আবেদন খারিজ করে দেন। নিজের বাড়িতে তাঁকে নজরবন্দি রাখার আবেদনও সুব্রত রায় জানিয়েছিলেন। সেই আবেদনও খারিজ হয়ে যায়।

রাশিয়ার বিরোধী নেতা নাভালনি গৃহবন্দী

আলেক্সি নাভালনি
রাশিয়ার বিরোধী নেতা আলেক্সি নাভালনিকে গৃহবন্দী করা হয়েছে। তাঁকে ইন্টারনেট ব্যবহার এবং তাঁর নিজ বাড়িতে বাইরের কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। নাভালনির গৃহবন্দিত্বের মেয়াদ দুই মাসের জন্য। তবে তা বাড়ানো হতে পারে। রাশিয়ার নেতৃস্থানীয় বিরোধী নেতা ও দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনের কর্মী নাভালনির এর আগে একটি মামলায় সাজা হয়েছিল।
তবে কিছু শর্তের আওতায় ওই সাজা স্থগিত করা হয়। সেসব শর্ত তিনি লঙ্ঘন করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন রাষ্টীয় তদন্তকারীরা। তবে নাভালনি তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোকে হাস্যকর ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে নাকচ করে দিয়েছেন। যে মামলায় নাভালনির শাস্তি হয়েছিল, সেটি ছিল একটি চুরির ঘটনার মামলা। ২০০৯ সালে একটি কাঠের প্রতিষ্ঠান থেকে ১৬ মিলিয়ন রুবল (সাড়ে চার লাখ মার্কিন ডলার) চুরির অভিযোগে ওই মামলা হয়। মামলার রায়ে তাঁর পাঁচ বছরের কারাদণ্ড হলেও কিছু শর্তে তা স্থগিত রাখা হয়। এর মধ্যে একটি শর্ত ছিল, তিনি মস্কোর বাইরে কোথাও যেতে পারবেন না। এখন কর্মকর্তাদের অভিযোগ, নাভালনি এরই মধ্যে বেশ কয়েকবার মস্কোর বাইরে সফর করেছেন, যা তাঁর সাজা স্থগিত রাখার শর্তের স্পষ্ট লঙ্ঘন। পাশাপাশি গত সোমবার সন্ধ্যায় একটি বিক্ষোভের সময় নিরাপত্তাকর্মীদের গ্রেপ্তার অভিযানে বাধা দেন তিনি। ওই বিক্ষোভের সময় কয়েক শ ব্যক্তিকে ধরে নিয়ে যায় পুলিশ। বিবিসি।