Friday, May 24, 2019

প্রধানমন্ত্রীর সফরে নিরাপত্তা সতর্কতা প্রত্যাহার চাইবে ঢাকা by মিজানুর রহমান

প্রায় ৩ বছর ধরে বহাল রয়েছে জাপানের নিরাপত্তা সতর্কতা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আসন্ন টোকিও সফরে এটি প্রত্যাহার চাইবে ঢাকা। আগামী ২৯শে মে জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বৈঠক হবে। ওই বৈঠককেই ‘নিরাপত্তা’র মত স্পর্শকাতর বিষয়ের আলোচনার উপযুক্ত ফোরাম মনে করছে বাংলাদেশ। সরকার প্রধানের সফর প্রস্তুতির সঙ্গে যুক্ত সেগুনবাগিচার দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, ২০১৬ সালের ১লা জুলাই হলি আর্টিজান বেকারীতে ইতিহাসের নিকৃষ্টতম জঙ্গী হামলার ঘটনায় সাত জাপানি নাগরিক নিহত হওয়ার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ভ্রমণে দেশটির নাগরিকদের জন্য ‘নিরাপত্তা সতর্কতা’ জারি করেছিল টোকিও। এটি এখনও বলবৎ আছে।
বিষয়টি বাংলাদেশের জন্য বিব্রতকর মন্তব্য করে সরকারের একজন কর্মকর্তা বলেন, হলি আর্টিজানের ঘটনার পর বাংলাদেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতির অনেক উন্নতি হয়েছে। গুলশান অ্যাটাকের পুনরাবৃত্তি তো নয়ই বরং দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও উগ্রপন্থিদের সংঘঠিত হওয়ার সব ধরণের চেষ্টা অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে মোকাবিলা করেছে ঢাকা। কিন্তু জাপান আজ অবধি বাংলাদেশ ভ্রমণে তাদের নাগরিকদের জন্য জারি করা নিরাপত্তা সতর্কতা শিথিল বা প্রত্যাহার করেনি।
ওই কর্মকর্তা বলেন, ওই ঘটনার পর পশ্চিমা দুনিয়াও নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছিল। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র, বৃটেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নভূক্ত রাষ্ট্রগুলো পর্যায়ক্রমে তা শিথিল করে এবং উঠিয়ে নেয়। সমপ্রতি নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে মর্মান্তিক সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় ৫০ জনেরও বেশি নিহত হলেও ওই দেশের জন্য ভ্রমণ সতর্কতা জারি করেনি জাপান। কিন্তু বাংলাদেশের বিষয়ে তারা এখনও উদ্বিগ্ন। ফলে এই যুক্তিও বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে উত্থাপন করা হবে এবং বিষয়টি পুনর্বিবেচনার জন্য অনুরোধ জানানো হবে। জাপানের সবচেয়ে বড় মিডিয়া প্রতিষ্ঠান নিকেই প্রতি বছরের মতো এবারও আগামী ৩০ ও ৩১শে মে টোকিওতে ফিউচার অব এশিয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করছে। ওই অনুষ্ঠানে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বিশেষ আমন্ত্রণ জানিয়েছেন বাংলাদেশের সরকার প্রধানকে। তার আমন্ত্রণ রক্ষায় আগামী ২৮শে মে জাপান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। ওই অনুষ্ঠানের আগের দিনে দুই দেশের সরকার প্রধান পর্যায়ে আনুষ্ঠানিক বৈঠক হবে। ওই বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনা হবে। জাপান প্রস্তাবিত বিগ-বি প্ল্যানের আওতায় জাপান মাতারবাড়িতে একটি সমুদ্র বন্দর, বিদ্যুৎ প্রকল্প এবং অন্যান্য অবকাঠামো তৈরি করছে। এখানে কিভাবে একটি শিল্পাঞ্চল তৈরি করা যায় সেটি নিয়ে আলোচনা করবে বাংলাদেশ।
এ অঞ্চলে টোকিও প্রচুর অর্থ বিনিয়োগ করছে। এ ক্ষেত্রে যোগাযোগের যাবতীয় সুবিধাসহ বাংলাদেশে জাপানীদের জন্য একটি শিল্পাঞ্চল তৈরির আলোচনায় আগ্রহী ঢাকা। শুধু জাপানের বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরির প্রস্তাবও আলোচনায় রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। তাছাড়া বাংলাদেশ ও জাপান ৪০তম ওডিএ প্যাকেজ নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হবে। এই প্যাকেজের আওতায় জাপান বাংলাদেশকে ২২০ কোটি ডলার সহায়তা দেবে যা মাতারবাড়ি বন্দর ও বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনে ব্যবহার হবে। এছাড়া ম্যাস র?্যাপিড ট্রান্সপোর্ট-এর একটি অংশ বাস্তবায়নে এখান থেকে অর্থ ব্যয় করা হবে। সব কিছু ঠিক থাকলে প্রধানমন্ত্রীর সফরে এ নিয়ে একটি চুক্তি স্বাক্ষর হবে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আলোচনা করবেন। সরকার প্রধান পর্যায়ের আনুষ্ঠানিক বৈঠকেও সংকট সমাধানে জাপানের আরও সক্রিয় সহযোগিতা চাওয়া ছাড়াও টোকিও সম্মেলনে এ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখবেন তিনি।
উল্লেখ্য, চলতি মাসের শেষের দিকে একসঙ্গে ৩ দেশ সফরে বের হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ৮-৯ দিনের প্রস্তাবিত ওই সফর শুরু হবে জাপান দিয়ে। মধ্যখানে সৌদি আরব আর সমাপ্তি ঘটবে ফিনল্যান্ড সফরের মধ্য দিয়ে। কূটনৈতিক সূত্র প্রধানমন্ত্রীর টোকিও এবং মক্কা সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তবে সরকার প্রধানের হেলসিঙ্কি সফরের বিষয়ের কর্মসূচি এখনও চূড়ান্ত হয়নি। একান্ত সরকারি সফরটিতে দ্বিপক্ষীয় উপাদান যুক্ত করতে কাজ করছেন ঢাকা। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন অবশ্য মানবজমিনকে বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর ফিনল্যান্ড সফরে দ্বিপক্ষীয় কমূসূচি মুখ্য নয়। রাষ্ট্র বা সরকার প্রধান যে কোন দেশ সফরে গেলে হোস্ট কান্ট্রির বিভিন্ন পর্যায়ে দেখা-সাক্ষাৎ তথা ভাবের আদান-প্রদান হয়।
হেলসিঙ্কিতেও সেটি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। জাপান সফর শেষে ৩০শে মে টোকিও থেকে সরাসরি সৌদি আরবের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ৩১শে মে মক্কায় অনুষ্ঠেয় ইসলামী সহযোগিতা সংস্থার শীর্ষ সম্মেলনে (ওআইসির) অংশ নেবেন। সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদ ১৪তম ওআইসি সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীকে বিশেষভাবে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। ওই সম্মেলনে রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী। সম্মেলন ছাড়াও সরকার প্রধানের ওমরাহ পালনের পরিকল্পনা রয়েছে।

ফল মেনে নিয়ে পদত্যাগের ইঙ্গিত রাহুলের

জনতার রায় শিরোধার্য বলে পরাজয় মেনে নিলেন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও বিজেপিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন তিনি ও তার বোন প্রিয়াংকা গান্ধী ভদ্র। দলের পরাজয়ের দায় নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন রাহুল। এ জন্য মা সোনিয়া গান্ধীর কাছে কংগ্রেস সভাপতি পদ ত্যাগ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন তিনি। এ খবর দিয়েছে অনলাইন ইন্ডিয়া টুডে, জি নিউজ, টাইমস অব ইন্ডিয়া। তবে কংগ্রেসের মুখপাত্র রণদীপ সিং সূর্যেওয়াল এই তথ্যকে অসত্য বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর গতকাল যখন দলের ভরাডুবি নিশ্চিত হয়ে যায়, তখন রাজধানী নয়াদিল্লিতে কংগ্রেসের প্রধান কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন রাহুল। মা সোনিয়া গান্ধী সহ দলীয় সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে আলোচনার সময় পদত্যাগের প্রস্তাব দেন তিনি।  বিশ্বস্ত সূত্রের বরাত দিয়ে এ খবর দিয়েছে ইন্ডিয়া টুডে।  এতে বলা হয়েছে, মা সোনিয়া গান্ধীসহ সিনিয়র কংগ্রেস নেতাদের কাছে পদত্যাগ করার কথা বলেছেন রাহুল গান্ধী। সংবাদ সম্মেলনে রাহুল বলেন, নির্বাচনে পরাজয়ের সমপূর্ণ দায় আমি আমার কাঁধে নিচ্ছি এবং দলের সভাপতি পদ থেকে ইস্তফা দিতে চাচ্ছি। অন্য এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, রাহুল গান্ধী পদত্যাগ করবেন কিনা সংবাদ সম্মেলনে তা জানতে চান সাংবাদিকরা। এর জবাবে তিনি বলেন, ৭ দিনের মধ্যে কংগ্রেসের ওয়ার্কিং কমিটির সদস্যরা বৈঠকে বসবেন। তারাই এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবেন।
সারা দেশে দলীয় পরাজয় ছাড়াও আমেথি আসনে বিজেপির প্রার্থী স্মৃতি ইরানির কাছে পরাজিত হয়েছেন রাহুল গান্ধী। এরপর সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, যা ঘটেছে তা হলো জনগণ নরেন্দ্র মোদিকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বেছে নিয়েছে। তাদের এ সিদ্ধান্তকে আমি সম্মান জানাই। রাহুল গান্ধী নির্বাচনী প্রচারণার সময় বলেছিলেন, জনগণ যে সিদ্ধান্ত দেবে আমি তার প্রতি সম্মান দেখাবো। শেষ পর্যন্ত জনগণ তাদের রায় জানিয়ে দিয়েছেন। এ জন্য বিজেপি ও প্রধানমন্ত্রীকে আমার অভিনন্দন। তবে আমাদের প্রার্থীরা সর্বান্তকরণে নির্বাচনী লড়াই চালিয়ে গেছেন।
রাহুল গান্ধী বলেন, নির্বাচনী রায় নিয়ে কথা বলার দিন আজ নয়। আজ আমরা শুধু প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে অভিনন্দন জানাতে চাই। স্মৃতি ইরানিকে ভোট দেয়ার বিষয়ে আমি আমেথির মানুষের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই। আমেথির মানুষের পক্ষে কাজ করার জন্য আমি তার প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। এ সময় নিজ দলীয় কর্মীদের নির্ভয় দিয়ে বলেন, আমি কংগ্রেসের সদস্য ও যারা আমাদের আদর্শে বিশ্বাস করেন তাদেরকে বলতে চাই যে, আপনাদের ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই। রাহুল গান্ধী বলেন, আশা করবো, স্মৃতি ইরানি আমেথির মানুষের দেখভাল করবেন।
আমেথিতে স্মৃতি ইরানি জিতেছেন, তাকে আমি অভিনন্দন জানাই। আমি বলবো, আমি তাদের সবার পাশে রয়েছি। দেশে অনেক মানুষই রয়েছেন, যারা কংগ্রেসকে চান। আমি আমার দেশের মানুষকে স্বাগত জানাই, শ্রদ্ধা করি। আমাদের দু’টো দলের ভাবনা ও মতাদর্শ আলাদা। কংগ্রেসের একনিষ্ঠ  যে কর্মীরা ভোটের সময় দলের জন্য প্রাণ দিয়ে কাজ করেছেন, তাদের প্রতি শুভেচ্ছা জানাই। ওদিকে উত্তর প্রদেশ (পূর্ব) কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক প্রিয়াংকা গান্ধী ভদ্রও জনগণের রায়ের প্রতি সম্মান দেখিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদি ও বিজেপির নেতাকর্মীদের অভিনন্দন জানান।

‘হাইকোর্টকে হাইকোর্ট দেখাচ্ছেন’

হাইকোর্টের আদেশের পরেও বাজার থেকে মানহীন ৫২ পণ্য সরানোর নির্দেশ বাস্তবায়ন না করায় নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের প্রতি উষ্মা প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট। আদালত নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের আইনজীবীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আমাদের ভদ্রতাকে দুর্বলতা মনে করবেন না, ৫২ পণ্য নিয়ে হাইকোর্টকে হাইকোর্ট দেখাচ্ছেন? আপনাদের অফিসে রাখার দরকার কী? বড় বড় কোম্পানিকে যদি ভয় পান? যদি সেটা হয় তাহলে চেয়ার ছেড়ে দিয়ে বাড়িতে গিয়ে রান্না করলেই হয়। নইলে কোনো ব্যাংকের কেরানির চাকরি নিলেও হয়। গতকাল বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ মন্তব্য করেন। পরে আদালত নিম্নমানের ৫২ পণ্য বাজার থেকে না সরানোর কারণে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মাহফুজুল হককে আদালতে তলব করেন। আগামী ১৬ জুন তাকে আদালতে হাজির হয়ে বাজার থেকে ৫২টি পণ্য না সরানোর কারণ ব্যাখ্যা করতে বলা হয়েছে। একইসঙ্গে তার বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুলও জারি করেছেন হাইকোর্ট। আগামী ২ সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
শুনানিতে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের আইনজীবী ফরিদুল ইসলাম বলেন, আমরা সকল জেলা প্রশাসক, সিভিল সার্জন ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের চিঠি দিয়েছি। ৫২টি মামলা করেছি। আর সারাদেশ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিবেদন পাইনি। তাই এ মুহূর্তে আদালতকে জানাতে পারিনি। এরপর আদালত বলেন, ব্যবস্থা নিতে অন্যদের কাছে চিঠি দিতে আপনাদের কে বলেছে? আপনাদের প্রতি আমরা নির্দেশ দিলাম। আপনারা নিজেরা দায়িত্ব পালন না করে অন্যদের চিঠি দেন। আবার বলছেন, এখনও সারাদেশ থেকে প্রতিবেদন আসেনি। উল্টাপাল্টা বলবেন না। হাইকোর্টকে হাইকোর্ট দেখাচ্ছেন? আপনারা সোজা পথে যান না কেন? আপনারা যা করেছেন তা আই ওয়াশ মাত্র। শুনানিকালে রিট কারীর আইনজীবী ব্যারিস্টার শিহাব উদ্দিন খান আদালতে বলেন, ৪০৬টি পণ্য থেকে ৩১৩টির পরীক্ষার ফলাফল গত ২ মে প্রকাশ করে বিএসটিআই।
কিন্তু এখনও তারা অবশিষ্ট ৯৩টি পণ্যের মান নিয়ে করা পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করেনি। এরপর আদালত ওই ৯৩ পণ্য পরীক্ষার ফলাফল আগামী ১৬ জুন আদালতে দাখিল করতে নির্দেশ দেন। তিনি জানান, মানহীন ৫২ পণ্য সরানোর নির্দেশ বাস্তবায়ন না করায় নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের প্রতি আদালত উষ্মা প্রকাশ করেছেন। তিনি আরো জানান, নিম্নমানের ৫২ পণ্যের মধ্যে যদি কোনো প্রতিষ্ঠান তাদের পণ্য বাজারজাত করতে চায় তাহলে বিএসটিআই থেকে পুনরায় মান পরীক্ষা করাতে হবে। মান পরীক্ষার পর বিএসটিআই অনুমতি দিলে তা বাজারজাত করা যাবে। এমন নির্দেশনাও দিয়েছে হাইকোর্ট। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোখলেছুর রহমান। নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার মুহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম। ভোক্তা অধিকারের পক্ষে ছিলেন কামরুজ্জামান কচি। প্রাণ এ্যাগ্রোর পক্ষে ছিলেন এম কে রহমান, এসিআইর পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ, সান চিপসের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার তানজীব উল আলম, বাঘাবাড়ী ঘি’র পক্ষে মোমতাজ উদ্দিন আহমদ মেহেদী।
আদালত আরো বলেন, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ১৭ জন জনবল নিয়েও আপনারা একটা দোকান থেকে কোনো পণ্য সরাতে পারেননি। ১৭ জনের দলবল নিয়ে অফিসের পাশের কোনো দোকান থেকে একটা প্যাকেটও সরাতে পারেননি।
গত ১২ই মে হাইকোর্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ৫২টি মানহীন ও ভেজাল পণ্য ১০ দিনের মধ্যে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেন। সেইসঙ্গে তা প্রত্যাহার করে ধ্বংস করে ফেলারও আদেশ দেন আদালত। যাতে ওইসব পণ্য তৃতীয় কারও হাতে না যায়। উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ারও নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। আদেশের পর্যবেক্ষণে পণ্যের ভেজাল প্রতিরোধে প্রয়োজনে যুদ্ধ ঘোষণার আহ্বান জানান হাইকোর্ট। এছাড়া খাদ্য নিরাপদ রাখতে প্রয়োজনে দেশে জরুরি অবস্থা জারির জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি অনুরোধ জানান আদালত। এ সময় বাজারে প্রচলিত মানবদেহ ও জীবনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ মানহীন পণ্যের কারণে বাংলাদেশে বসবাস অনিরাপদ হয়ে উঠছে বলেও মন্তব্য করেন হাইকোর্ট। নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর এসব নির্দেশ বাস্তবায়ন করে ১০ দিনের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়। সে হিসেবে গতকাল আদেশের প্রতিপালন বিষয়ে প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল।
মানহীন ৫২টি পণ্য হলো: ১. গ্রীন ব্লিচিং এর সরিষার তেল,২. শবনমের সরিষার তেল, ৩. বাংলাদেশ এডিবল ওয়েলের রুপচাদা সরিষার তেল, ৪. কাশেম ফুডের চিপস, ৫. সিটি ওয়েলের তীর সরিষার তেল, ৬. আরা ফুডের ড্রিংকিং ওয়াটার,৭. আল সাফির ড্রিংকিং ওয়াটার, ৮. মিজান ড্রিংকিং ওয়াটার, ৯. মর্ণ ডিউয়ের ড্রিংকিং ওয়াটার, ১০. ডানকান ন্যাচারাল মিনারেল ওয়াটার, ১১. আরার ডিউ ড্রিংকিং ওয়াটার, ১২. দিঘী ড্রিংকিং ওয়াটার, ১৩. প্রাণের লাচ্ছা সেমাই, ১৪. ডুডলি নুডলস, ১৫. শান্ত ফুডের সফট ড্রিংক পাউডার, ১৬. জাহাঙ্গীর ফুড সফট ড্রিংক পাউডার, ১৭. ড্যানিশের হলুদের গুড়া, ১৮. প্রাণের হলুদ গুড়া,১৯. ফ্রেশের হলুদ গুড়া, ২০. এসিআইর ধনিয়ার গুড়া, ২১. প্রাণের কারি পাউডার, ২২. ড্যানিশের কারী পাউডার, ২৩. বনলতার ঘি, ২৪. পিওর হাটহাজারী মরিচ গুড়া, ২৫. মিস্টিমেলা লাচ্ছা সেমাই, ২৬. মধুবনের লাচ্ছা সেমাই, ২৭. মিঠাইর লাচ্ছা সেমাই, ২৮. ওয়েল ফুডের লাচ্ছা সেমাই, ২৯. এসিআইর আয়োডিন যুক্ত লবন, ৩০. মোল্লা সল্টের আয়োডিন যুক্ত লবন, ৩১. কিং’য়ের ময়দা,৩২. রুপসার দই, ৩৩. মক্কার চানাচুর, ৩৪. মেহেদীর বিস্কুট, ৩৫. বাঘাবাড়ীর স্পেশাল ঘি, ৩৬. নিশিতা ফুডস এর সুজি, ৩৭. মধুবনের লাচ্ছা সেমাই, ৩৮. মঞ্জিলের হলুদ গুড়া, ৩৯. মধুমতির আয়োডিন যুক্ত লবন, ৪০. সান ফুডের হলুদ গুড়া, ৪১. গ্রীন লেনের মধু, ৪২. কিরনের লাচ্ছা সেমাই, ৪৩. ডলফিনের মরিচের গুড়া, ৪৪. ডলফিনের হলুদের গুড়া, ৪৫. সূযের্র মরিচের গুড়া, ৪৬. জেদ্দার লাচ্ছা সেমাই, ৪৭. অমৃতের লাচ্ছা সেমাই, ৪৮. দাদা সুপারের আয়োডিনযুক্ত লবণ, ৪৯. মদীনার আয়োডিনযু্‌ক্ত লবন, ৫০. স্টারশীপ আয়োডিনযুক্ত লবণ ৫১. তাজ আয়োডিনযুক্ত লবণ, ৫২. নূর স্পেশাল আয়োডিনযুক্ত লবন।

রাষ্ট্র মেরামতে সুজনের ১৮ প্রস্তাব

জনকল্যাণমুখী রাজনীতি ফিরিয়ে আনতে রাজনৈতিক সংস্কৃতির ব্যাপক সংস্কার প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন সুজন-এর নেতৃবৃন্দ। একই সঙ্গে রাষ্ট্র সংস্কারে সুজনের পক্ষ থেকে ১৮টি প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। গতকাল রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে এক অনুষ্ঠানে তারা প্রস্তাব তুলে ধরেন। ‘বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কার ও নাগরিক ভাবনা’ শীর্ষক এই গোলটেবিল বৈঠকে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সুজন-এর কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী দিলীপ কুমার সরকার। রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে পরিবর্তন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একটি গণতান্ত্রিক, অসামপ্রদায়িক ও সামাজিক ন্যায় বিচারভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বাংলাদেশের সৃষ্টি, যার স্বীকৃতি আমাদের সংবিধানে রয়েছে। এছাড়াও আমাদের মূল সংবিধানে রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার ও ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ ছিল।
কিন্তু সংবিধানের সেই অসামপ্রদায়িক চরিত্র আমরা ধরে রাখতে পারিনি। প্রতিষ্ঠা করতে পারিনি সত্যিকারের গণতান্ত্রিক ও ন্যায়বিচারভিত্তিক সমাজ। তাই আমাদের রাজনীতিতে আজ জরুরি ভিত্তিতে ধর্ম নিরপেক্ষতা ও সুস্থ ধারার শোষণমুক্ত সমাজ গড়ার রাজনীতি ফিরিয়ে আনা দরকার, ‘যেখানে সকল নাগরিকের জন্য আইনের শাসন, মৌলিক মানবাধিকার এবং রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সাম্য, স্বাধীনতা ও সুবিচার নিশ্চিত হবে’ (বাংলাদেশ সংবিধানের প্রস্তাবনা)। প্রতিষ্ঠা করা দরকার প্রতিপক্ষকে নিশ্চিহ্ন করার পরিবর্তে অর্ন্তভুক্তিমূলক ও সহিষ্ণুতা গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি; দ্বিতীয়-নির্বাচনী সংস্কারের বিষয়ে বলেন, নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের সম্মতির শাসন তথা গণতান্ত্রিক শাসনের সূচনা হয়।
তাই এ নির্বাচন হওয়া দরকার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য। ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচনটি ছিলো একতরফা ও বিতর্কিত। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত কয়েকটি স্থানীয় সরকার ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ উঠেছে ব্যাপক কারচুপি ও মানুষের ভোটাধিকার অধিকার হরণের। তাই গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিকীকরণের লক্ষ্যে আমাদের নির্বাচনকালীন সরকারকে নিরপেক্ষ হওয়া জরুরি। আর নির্বাচন ব্যবস্থাকে ত্রুটিমুক্ত ও পরিশুদ্ধ করতে এবং নির্বাচন ব্যবস্থার ওপর জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজন এর কতগুলো সংস্কার, যার জন্য আবশ্যক হবে আইন সংশোধন ও নির্বাচন পদ্ধতির পরিবর্তন; তৃতীয়-কার্যকর জাতীয় সংসদ প্রসঙ্গে বলেন, জাতীয় সংসদকে একটি স্বাধীন ও কার্যকর প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা দরকার, যাতে এটি রাষ্ট্রের আইন প্রণয়ন ও নীতি নির্ধারণসহ নির্বাহী বিভাগের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে পারে। সংসদকে কার্যকর করার জন্য অনেকগুলো বিষয় সমপর্কে ভাবা দরকার। দরকার সংসদীয় কমিটিগুলো সংসদের প্রাণকেন্দ্র, তাই এগুলোকে সক্রিয় ও কার্যকর করা। কমিটির সদস্যদের যেন কোনোরূপ স্বার্থের দ্বন্দ্ব না থাকে তা নিশ্চিত করা আবশ্যক। সংখ্যাগত দিক থেকে বিরোধীদের শক্তি যত সীমিতই হোক, তাদের গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নেয়া আবশ্যক।
সংসদ সদস্যদের জন্য অনতিবিলম্বে ‘সংসদ সদস্য আচরণ আইন’ ও ‘সংসদ সদস্যদের অধিকার ও দায়মুক্তি আইন’ প্রণয়ন করা দরকার; চতুর্থ-স্বাধীন বিচার বিভাগ বিষয়ে তিনি বলেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতার জন্য প্রয়োজন বিচার বিভাগের সত্যিকারের পৃথকীকরণ এবং আইনের শাসন কায়েম করা। এর জন্য প্রযোজন হবে ধ্বংস প্রায় ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থাকে কার্যকর করা। উচ্চ আদালতে বিচারক নিয়োগ ও অপসারণের জন্য একটি আইন প্রণয়ন করা। আদালতকে, বিশেষত নিম্ন আদালতকে প্রভাবিত করার, রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা রুজুর ও রাজনৈতিক বিবেচনায় মামলা প্রত্যাহারের সংস্কৃতির অবসান করা; নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন বিষয়ে সুজনের প্রস্তাবে বলা হয়, নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতার জন্য প্রয়োজন কমিশন গঠনের লক্ষ্যে সাংবিধানিক নির্দেশনা অনুযায়ী আইন প্রণয়ন এবং তা যথাযথভাবে অনুসরণ করে স্বচ্ছতার সঙ্গে সঠিক ব্যক্তিদের প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নিয়োগ প্রদান। সকল নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করার জন্য কমিশনের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কমিশনকে প্রয়োজনীয় আর্থিক এবং জনবল নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বাধীনতা প্রদান ও আইনি কাঠামোতে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা। জনপ্রশাসন থেকে নির্বাচন কমিশনে প্রেষণে নিয়োগের পরিবর্তে পৃথক ক্যাডার সৃষ্টি করা।
এছাড়া সাংবিধানিক সংস্কার,গণতান্ত্রিক ও স্বচ্ছ রাজনৈতিক দল, স্বাধীন বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান, দুর্নীতি বিরোধী সর্বাত্মক অভিযান, যথাযথ প্রশাসনিক সংস্কার, বিকেন্দ্রীকরণ ও স্থানীয় সরকার,গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, শক্তিশালী নাগরিক সমাজ, মানবাধিকার সংরক্ষণ, একটি নতুন সামাজিক চুক্তি, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, আর্থিক খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং তরুণদের জন্য বিনিয়োগ প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। মূল প্রবন্ধে দিলীপ কুমার সরকার আরো বলেন, গত বছর নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের সময়ে আমাদের তরুণরা ‘রাষ্ট্র মেরামতের’ দাবি তুলেছিল। সামপ্রতিক নির্বাচন ও পরবর্তী সময়ের অভিজ্ঞতা থেকে এটি সুসপষ্ট যে, রাষ্ট্র মেরামতের বিষয়টি এখন সময়ের দাবি।
অনুষ্ঠানে সাবেক নির্বাচন কমিশনার বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আগের রাতে কেউ যাতে ভোট না দিতে পারে সেজন্য ভোট সকাল ৯টা থেকে ৫টা পর্যন্ত হওয়া দরকার এবং ভোটের দিন সকালেই ব্যালট বক্স কেন্দ্রে পাঠানো দরকার। তিনি বলেন, উদার গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে আমরা ক্রমেই সঙ্কুচিত করে ফেলছি। এর ফলে সংক্রামকের মতো উগ্রবাদের উত্থান ঘটতে পারে। বর্তমানে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে করায়ত্ব করে ফেলা হচ্ছে।
সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, আমরা মনে করি, আইন-কানুন সঠিকভাবে কাজ করলে দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়। আমাদের পর্যালোচনা করে দেখা দরকার, আইন-কানুন সঠিকভাবে প্রণয়ন হচ্ছে কি-না, আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলো কার্যকর কি-না এবং মূল্যবোধের অবক্ষয় ঘটেছে কিনা। তিনি বলেন, আমাদের শাসনব্যবস্থা প্রায় ভেঙে পড়েছে। তাই শাসনব্যবস্থা ঠিক করা তথা রাষ্ট্রকে মেরামতের জন্য আমাদের সম্মানিত রাজনীতিবিদ রাজনৈতিক সংস্কারগুলো বাস্তবায়নে সদিচ্ছা প্রদর্শন করবেন, যাতে বর্তমান সংকট থেকে উত্তরণ ঘটানো যায়। সুজন সভাপতি ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এম হাফিজউদ্দিন খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন সুজন নির্বাহী সদস্য সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, প্রকৌশলী মুসবাহ আলীম, সুজন-এর জাতীয় কমিটির সদস্য ড. সিআর আবরার প্রমুখ।

মমতার দুর্গেও বিজেপির হানা by পরিতোষ পাল

পশ্চিমবঙ্গে উল্কার গতিতে বিজেপির উত্থান হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে প্রায় সমানে সমানে টক্কর দিয়ে বিজেপি ১৮টি আসন দখল করতে চলেছে। গতবার বিজেপি মাত্র ২টি আসন পেয়েছিল । ভোটের হারের নিরিখেও বিজেপির উত্থান সকলের কাছে ঈর্ষণীয়। গতবার বিজেপির ভোটের হার ছিল কয়েক শতাংশ মাত্র। সেখানে এবার বিজেপির ভোটের হার ৪০ শতাংশকে ছুঁয়ে ফেলেছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই উত্থান অভূতপূর্ব। বিজেপি থেকে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেয়া চন্দন মিত্র বিজেপির সাফল্যকে স্বীকার করে নিয়ে বলেছেন, অবিশ্বাস্য জয়। রাজ্যে বিজেপির জয়ের গতিপ্রকৃতিতে নির্বাচন শেষে ঘোষিত বুথফেরত সমীক্ষাই প্রায় সঠিক বলে পরিগণিত হয়েছে। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, তৃণমূল কংগ্রেস ২২টি আসন পেতে চলেছে।
গতবার তারা পেয়েছিল ৩৪টি আসন।  তবে ভোটের হার তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রীকে খানিকটা স্বস্তিতে রেখেছে। তৃণমূল কংগ্রেস পেয়েছে প্রায় ৪৩ শতাংশ ভোট। অন্যদিকে বিজেপি পেতে চলেছে ১৮টি আসন। কংগ্রেস ২টি আসনে জয় নিশ্চিত করেছে। তবে বামরা একসময়ের দুর্গ থেকে ধুয়ে মুছে গিয়েছে। ২০০৯ সালেও বামরা ৪৩ শতাংশের বেশি ভোট পেয়েছিল। সেখানে তারা এবার পেয়েছে মাত্র ৭ শতাংশ ভোট। ভোট ফল প্রকাশ চূড়ান্ত হওয়ার আগেই বিজেপির একের পর এক নেতা বলেছেন, শান্তি এবং নিরাপত্তার লক্ষ্যে ভোট দিয়েছেন বাংলার মানুষ। আর ভোট গণনা চলাকালীন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়  টুইটারে বলেছেন, জয়ীদের অভিনন্দন। কিন্তু যারা হেরেছেন, তারা সবাই হারেন নি।
এদিকে কলকাতার ভোটের ফলাফল বিজেপিকে হতাশ করেছে। উত্তর কলকাতা থেকে বিজেপির জাতীয় সাধারণ সম্পাদক রাহুল সিনহা দ্বিতীয়বারের মতো পরাজিত হয়েছেন। জয়ী হয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের গতবারের সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। অন্যদিকে দক্ষিণ কলকাতা থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের মালা রায় রেকর্ড ভোটে জয় নিশ্চিত করেছেন। এই কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী নেতাজির প্রপৌত্র চন্দ্র বসু অভিযোগ করেছেন, ভোট যা পড়েছে তার চেয়ে বেশি ভোট গণনায় পাওয়া গিয়েছে।
যাদবপুর কেন্দ্রে সিপিআইএমের বিকাশ ভট্টাচার্য জোর লড়াই দিয়েছেন বলা হলেও অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তী ফল গণনার পরে বিপুল ভোটে জয় নিশ্চিত করেছেন। একইভাবে বসিরহাটে তৃণমূল কংগ্রেসের অভিনেত্রী নুসরাত জাহানও বিপুল ভোটে জয়ী হতে চলেছেন। তৃণমূলের অভিনেতা প্রার্থী দেবও জয়ী হতে চলেছেন। তবে সুচিত্রা কন্যা মুনমুন সেন পরাজিত হয়েছেন বিজেপির গায়ক বাবুল সুপ্রিয়’র কাছে। বিজেপির অভিনেত্রী প্রার্থী লকেট চট্টোপাধ্যায়ও জয়ী হয়েছেন। বিজেপির উত্তরবঙ্গে এবং দক্ষিণ বঙ্গে জয় স্পষ্ট করে দিয়েছে গত কয়েক বছরে বিজেপি কত দ্রুত সংগঠিত হয়েছে। রাজ্যে শাসক দলের পালটা শক্তি প্রদর্শনের ক্ষেত্রে বিজেপি জোরদার হয়ে উঠেছে। আর তাই বামরাও বিজেপিতেই ভরসা করেছেন তৃণমূল কংগ্রেসকে ঠেকাতে।

কবরের জায়গা খুঁজছেন এরশাদ by শফিকুল ইসলাম সোহাগ

চিরস্থায়ীভাবে শায়িত হওয়ার জন্য জায়গা খুঁজছেন এক সময়ের প্রতাপশালী সেনাশাসক নব্বই বছর বয়সী জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। পরিবারের পক্ষ থেকে রংপুরে চিরনিদ্রায় শায়িত করার প্রস্তাব করলে তাতে সায় দেননি সাবেক এই রাষ্ট্রপতি। রাজধানীতে শায়িত হওয়ার বাসনা জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় এই নেতার। এজন্য রাজধানীতে একবিঘা জায়গা কেনার চেষ্টা করা হচ্ছে। যেখানে থাকবে মসজিদ, মাদ্রাসাসহ স্থায়ী কমপ্লেক্স। এরকম একটি জায়গা পছন্দ করার জন্য পূর্বাচলে এইচ এম এরশাদ অতি সম্প্রতি দুইবার জমি দেখেছেন। কিন্তু জায়গা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এ ছাড়াও বনানী কবরস্থান, সামরিক কবরস্থান ও জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় শায়িত হওয়ার কথা রয়েছে আলোচিত এই প্রবীণ রাজনীতিবিদের। জানতে চাইলে পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদের ছোট ভাই গোলাম মোহাম্মদ কাদের বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, পরিবারের পক্ষ থেকে রংপুরে সমাহিত করার ইচ্ছা থাকলেও রাজধানী ঢাকাতেই সমাহিত হওয়ার বাসনা এইচ এম এরশাদের। প্রাইভেট জমি কিনে বড় পরিসরে সমাহিত হওয়ার ইচ্ছা রয়েছে এইচ এম এরশাদের। এর জন্য একবিঘা জায়গার প্রয়োজন। কবরের পাশে থাকবে মসজিদ, মাদ্রাসাসহ কমপ্লেক্স। ভাই এইচ এম এরশাদসহ আমি রাজধানীর পূর্বাচলে দুটি জায়গা দেখেছি। কিন্তু এমন একটি কবরস্থান ভবিষ্যতে মেনটেইন করা অনেক কঠিন হয়ে পড়বে। বিষয়টি  ভাইকে অবহিত করলে তিনিও এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেননি। এ ছাড়াও আমাদের বনানী কবরস্থানে জায়গা কিনে সমাহিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। সাবেক সেনাপ্রধান হিসেবে সামরিক কবরস্থানে এইচ এম এরশাদ চাইলেই সমাহিত হতে পারেন। জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় আটজনের কবরস্থান রয়েছে। আমরাও স্পিকারের কাছে অনুমতি চাইব। অনুমতি পেলে সংসদ ভবন এলাকাতেও কবর হতে পারে সাবেক এই রাষ্ট্রপতির। এই অপশনগুলো রয়েছে। তবে কোনোটিই এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
জানা যায়, জাতীয় সংসদ ভবনের চত্বর থেকে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানসহ আটজনের কবর সরিয়ে  নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। নতুন করে আর সংসদ ভবন এলাকায় কবর দেওয়ার অনুমতি পাওয়া যাবে না বলে মনে করছেন এরশাদ ঘনিষ্ঠরা। ভবিষ্যতে বিভিন্ন দিবসে এইচ এম এরশাদের কবরে ভিড় জমানো যাবে না এম আশঙ্কায় সামরিক কবরস্থানেও যেতে চান না। এরশাদের ঘনিষ্ঠজনরা জানান, এইচ এম এরশাদের দীর্ঘদিনের বাসনা রাজধানীতে একটু নিরিবিলি জায়গায় শায়িত হবেন। যেখানে কবরের পাশেই থাকবে মসজিদ। মাদ্রাসায় নিয়মিত আল কোরআনের বাণী উচ্চারিত হবে। প্রচুর গাছ-পালা থাকবে। পার্টির নেতা-কর্মীরা যেন নিয়মিত যেতে পারেন সেজন্য নির্মাণ করা হবে একটি কমপ্লেক্স। এরকম জায়গা রাজধানীতে দেখেছেন এইচ এম এরশাদ। যার মূল্য ১০ কোটি টাকা। এমন একটি প্রকল্পের পরবর্তী ব্যয়ভার বহন করা কঠিন হবে সেজন্য এমন সিদ্ধান্ত থেকেও সরে আসা হচ্ছে। রংপুরেও যেতে চান না এরশাদ। সবমিলিয়ে প্রভাবশালী প্রবীণ এই রাজনীতিবিদের শেষ ঠিকানা কোথায় হবে তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। জানা যায়, আগামী সপ্তাহে আবারও উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর যাচ্ছেন তিনি। ছোটভাই জিএম কাদের, প্রেসিডিয়াম সদস্য জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু, যুগ্ম মহাসচিব হাসিবুল ইসলাম জয় সঙ্গে যাবেন। দলের এই শীর্ষ নেতারা সিঙ্গাপুর থেকে ফিরে ৩০ মে রাজধানীর ওয়েস্টিনে কূটনীতিকদের সম্মানে ইফতারে অংশ নেবেন। এর আগে ২৭ তারিখে দলীয় নেতা-কর্মীদের নিয়ে ইফতারে অংশ নেবেন। এইচ এম এরশাদ অসুস্থ থাকায় ইফতার পার্টিতে নেতৃত্ব দেবেন পার্টির ভবিষ্যৎ চেয়ারম্যান জিএম কাদের। অন্য বছরগুলোতে রমজানের প্রথম রোজা থেকে ইফতার পার্টিতে ব্যস্ত থাকতেন এইচ এম এরশাদ। এরশাদের অসুস্থতার কারণে রহমতের দশ রোজায় এবার দলের কোনো ইফতার পার্টি নেই জাতীয় পার্টির। তবে, বরাবরের মতো প্রথম রোজা এতিমদের সঙ্গে করেছেন এরশাদ। গোলাম মোহাম্মদ কাদের বলেন, এইচ এম এরশাদের প্রায় সারা দিনই বাসায় কাটে। শরীরটা খারাপ বোধ করলে ডাক্তারের কাছে যান। কাজের লোকেরা  পরিচর্যা করেন। আমরা প্রায়ই দেখা করতে যাই।

রেকর্ড জয় কুর্সিতে মোদিই

ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তন। ভারতের মানুষ নরেন্দ্র দামোদর দাস মোদির হাতেই নিজেদের সমর্পণ করেছেন। ফলে ফের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সরকার গঠন করতে চলেছেন মোদি। রেকর্ড জয়ে মোদির ফের কুর্সিতে বসার খবরে উল্লাসের বন্যা বইছে বিজেপি শিবিরে। গতবারের অর্জিত ফলকেও ছাপিয়ে গেছে এবারের ব্র্যান্ড মোদিকে সামনে রেখে লড়াই করা বিজেপির ফল। বিজেপির গেরুয়া ঝড় হিন্দি বলয় থেকে শুরু করে পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, এমনকি উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলোতেও। তবে ভোটের চূড়ান্ত ফল ঘোষণা হতে রাত পেরিয়ে সকাল হয়ে যেতে পারে বলে জানা গেছে। কমিশন সূত্রে বলা হয়েছে, ইভিএমের ভোট গণনার পরে ভিভিপ্যাটের ভোট গণনা শুরু হয়েছে। ফলে বেশ কয়েক ঘণ্টা সময় লাগবে চূড়ান্ত ফল ঘোষণা করতে।
ফলাফল ঘোষণার মধ্যেই গতকাল টুইট করে নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, ফের ভারতের জয় হলো। সকলকে নিয়েই আমরা শক্তিশালী দেশ গড়ে তুলবো। সর্বশেষ জানা গেছে, একক ভাবে বিজেপি আগের বারের ২৮২ কে টপকে ৩০০ ছুঁয়ে ফেলেছে। ভারতীয় জনতা পার্টির নেতৃত্বে জাতীয় গণতান্ত্রিক জোট এনডিএ-র পেতে চলেছে ৩৫০টি আসন। এনডিএ-র শরিকরা সকলেই ভালো ফল করার দিকে এগিয়ে চলেছে বলে জানা গেছে। বিজেপির প্রায় সব রথী মহারথীরাই জয় নিশ্চিত করেছেন। এবারই প্রথম নির্বাচনে দাঁড়িয়ে গান্ধীনগর থেকে বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ ৫ লাখের বেশি ভোটে জয় নিশ্চিত করেছেন।  অন্যদিকে বিরোধীরা বিপর্যয়ের মুখে। কংগ্রেস গতবারের চেয়ে ৮টি আসন বেশি পেয়ে ৫২টিতে এগিয়ে থাকলেও জোট হিসেবে সংযুক্ত প্রগতিশীল জোট ইউপিএ-র ৯২ আসনে আটকে থাকার সম্ভাবনাই প্রবল। কংগ্রেসের সোনিয়া গান্ধী ছাড়া সব রথী মহারথীরাই পরাজিত হয়েছেন।
কংগ্রেস নির্বাচনে প্রবলভাবে ধাক্কা খাবার পরে এক সংবাদ সম্মেলনে সমস্ত হারের দায় নিজে মাথা পেতে নিয়েছেন সভাপতি রাহুল গান্ধী। আমেথিতে তিনি পরাজয় স্বীকার করে নিয়েছেন। তিনি বলেছেন, জনগণ সুনির্দিষ্টভাবে রায় দিয়েছেন। সেই রায়কে স্বাগত জানাচ্ছি। সূত্রের খবর, ফলাফলে হতাশ রাহুল গান্ধী সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দেবার ইচ্ছে প্রকাশ করেছেন। আঞ্চলিক দলগুলোর অবস্থাও এবারের নির্বাচনে খুব ভালো নয়। তারা পেতে চলেছে ১০০টি আসন। তেলেগু দেশম নেতা চন্দ্রবাবু নাইডু, তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, বহুজন সমাজ পার্টির নেত্রী মায়াবতী বা সমাজবাদী পার্টির অখিলেশ যাদবরা যে মহাজোট গড়ার চেষ্টায় ছিলেন, তাদের নিজেদের রাজ্যেই শোচনীয় ফলের মুখোমুখি হতে হয়েছে।  যে উত্তরপ্রদেশে মায়াবতী ও অখিলেশের জোটের কাছে বিজেপি উড়ে যাবে বলে বলা হচ্ছিল তাও ভুল প্রমাণ করে বিজেপি ৫০-র বেশি আসনে জয়ের দিকে এগিয়ে চলেছে। জোট পেতে পারে মাত্র ২৫টির মতো আসন। কংগ্রেসের সঙ্গে জোট না গড়ার মাশুল যে মায়াবতী ও অখিলেশকে দিতে হচ্ছে সেটা স্পষ্ট হয়েছে। তবে এনডিএ এবং ইউপিএ জোটের বাইরে থাকা বিজু জনতা দল তেলেঙ্গানা রাষ্ট্র সমিতি এবং ওয়াইএসআর কংগ্রেস এবারের নির্বাচনে ভালো ফল করতে চলেছে।  মাত্র একমাসের বেশি সময় আগে রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ এবং ছত্তিশগড়ে কংগ্রেস ক্ষমতায় এলেও লোকসভা নির্বাচনে এই রাজ্যগুলোতে বিজেপি ভালো ফল করতে চলেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। আসামে এনআরসি নিয়ে প্রবল বিতর্ক তৈরি হলেও সেখানে বিজেপি শরিকদের সঙ্গে নিয়ে ভালো ফলের দিকে এগিয়ে চলেছে।
বিজেপি তথা এনডিএর এই ভূমিধস সাফল্যের পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে বলে মনে করেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। তাদের মতে, প্রথমত, অঞ্চলভিত্তিক ভাগ করলে গো-বলয়ে বিজেপির ভোটবাক্সে ব্যাপক ধসের ইঙ্গিত থাকলেও, তা হয়নি। দ্বিতীয়ত, উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলোতে নিজেদের আসন ধরে রেখেছে বিজেপি এবং তাদের সহযোগী দলগুলো। গোবলয়ে যে সামান্য সংখ্যক আসন কমেছে, সেই ক্ষতি মেরামত হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা ও বিহারের মতো রাজ্যে। দাক্ষিণাত্যে বিজেপি কখনই শক্তিশালী ছিল না। তবু, কর্নাটকে ভালো করতে চলেছে এনডিএ জোট। এই সব কিছুর যোগফলেই বিপর্যয়ের মুখে কংগ্রেসসহ বিরোধী দলগুলো। রাজনৈতিক পর্যক্ষেকদের মতে, বিজেপির পেশাদারিত্বের কাছে হেরে গেছে অন্য দলগুলো। তাছাড়া বিজেপি যে পরিমাণ রিসোর্স নিয়োগ করেছিল তা আর কেউ করতে পারেনি। এ সবেরই যোগফল এই ফলাফল।
‘এই ফকিরের ঝোলা ভর্তি করে দিয়েছেন দেশবাসী’
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ফলাফল কার্যত স্পষ্ট হয়ে যায়। আগের বারের চেয়েও বেশি আসন নিয়ে সরকার গঠন করছে বিজেপি। বিপুল ভোটে জিতে ফের ক্ষমতায় বিজেপি তথা এনডিএ। সপ্তদশ লোকসভা ভোটের ফল স্পষ্ট হতেই সংবাদ সম্মেলনে হাজির হয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেখানে তিনি বলেছেন, এই ফকিরের ঝোলা ভর্তি করে দিয়েছেন দেশবাসী। এ বিজয় উপহার দেয়ার জন্য দেশবাসীকে আমি প্রণাম করি। তিনি আরো উল্লেখ করেন, তার দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও তিনি জোটের শরিক অন্য দলগুলোকে নিয়ে গঠন করবেন নতুন সরকার। সংবাদ সম্মেলনে মোদি বলেছেন, গণতন্ত্রের ইতিহাসে গণতন্ত্রের জন্য মৃত্যু বরণ করা, আগামী প্রজন্মকে প্রেরণা দেবে। গণতন্ত্রের এই উৎসবে, গণতন্ত্রের জন্য যেসব মানুষ প্রাণ দিয়েছেন, যেসব মানুষ আহত হয়েছেন, তাদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান মোদি। তিনি বলেন, গণতন্ত্রের প্রতি ভারতবাসীর দায়-দায়িত্ব স্বীকার করতে হবে সারাবিশ্বকে। 
এতে বক্তব্য রাখেন বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ। তিনি বলেন, আপনাদের সবার পক্ষ থেকে আমি প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ দিতে চাই। যেসব কর্মকর্তা এখানে এসেছেন, তাদেরও ধন্যবাদ দিতে চাই, আপনাদের পরিশ্রমেই বিজেপির এই বিপুল সাফল্য।

‘আমেরিকা যুদ্ধ শুরু করতে পারে কিন্তু যুদ্ধের নিয়ন্ত্রণ তার হাতে থাকবে না’

ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর প্রধান মেজর জেনারেল হোসেইন সালামি বলেছেন, মার্কিন সাম্রাজ্যের পতন অবশ্যম্ভাবী হয়ে পড়েছে এবং অচিরেই আমেরিকার দম্ভ ও অহংকার চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যাবে। তিনি গত শনিবার তেহরানে আইআরজিসি’র শীর্ষস্থানীয় কমান্ডারদের এক অনুষ্ঠানে ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকার হুমকি-ধমকির কথা উল্লেখ করে এ মন্তব্য করেন।
তিনি ইরানের সামরিক অবস্থানকে যথোপযুক্ত হিসেবে তুলে ধরে বলেন, ইরানের সামরিক শক্তি অত্যন্ত স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে। ইরানি সেনাবাহিনী শত্রু  বলতে সব সময় আমেরিকাকে বুঝে থাকে এবং এই শত্রুর দম্ভ চূর্ণ করার জন্য সব সময় প্রস্তুত রয়েছে।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ইরান কখনো মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি করেনি বা সামরিক সংঘাত চায়নি। কিন্তু তেহরান শত্রুকে একথা বুঝিয়ে দিয়েছে, যখন যেখানে প্রয়োজন হবে তখন সেখানে নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টিকারী শক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে এবং সামরিক সক্ষমতা শক্তিশালী করতে ইরান কারো অনুমতি নেবে না। ইরান শত্রুর বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেবে সেটি একান্তই তার নিজস্ব ব্যাপার এবং সংঘাত বাধলেই কেবল শত্রু  তা দেখতে পাবে এবং বিস্মিত হবে।
তারা ইরানের সামরিক শক্তির একাংশ হিসেবে এদেশের ক্ষেপণাস্ত্র শক্তিকে তুলে ধরেছেন। তারা বলছেন, শুধুমাত্র ক্ষেপণাস্ত্র শক্তি দিয়ে ইরান বিশ্বের যেকোনো পরাশক্তিকে নাস্তানাবুদ করে দিতে সক্ষম। 
সম্প্রতি ওয়াশিংটনের পররাষ্ট্র সম্পর্ক পরিষদের একটি মূল্যায়নের বরাত দিয়ে আরবি বার্তা সংস্থা আল-মুহিত জানিয়েছে, ইরানের রয়েছে স্বল্প, মাঝারি ও দূরপাল্লার হাজার হাজার ক্ষেপণাস্ত্র। এর মধ্যে শাহাব-১, ২ ও ৩ ক্ষেপণাস্ত্রের সর্বনিম্ন পাল্লা ২,০০০ কিলোমিটার।  এ ছাড়া, সমগ্র ইরানে শত শত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করে রেখেছে তেহরান। এসব ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার অত্যাধুনিক রাডার শত্রুর শত শত বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অত্যন্ত সাফল্যের সঙ্গে ব্যর্থ করে দিতে সক্ষম। সেইসঙ্গে, ইরানের রয়েছে বিশাল নৌশক্তি যা দিয়ে পারস্য উপসাগরে শত্রুর যেকোনো কাপুরুষোচিত পদক্ষেপের পরিণতি নির্ধারণী জবাব দেয়া হবে।
আইআরজিসি’র কমান্ডার জেনারেল সালামি এ সম্পর্কে বলেছেন, আমেরিকার রাজনৈতিক দর্শনের মধ্যেই দেশটির পরাজয়ের মূল কারণ নিহীত রয়েছে। দেশটির রাজনৈতিক দর্শনের মূল ভিত্তি হচ্ছে জবরদখল, ভীতি প্রদর্শন ও জাতিগুলোকে পরনির্ভরশীল করে রাখা। কিন্তু অন্য দেশের ওপর এসব বিষয় চাপিয়ে দেয়ার যুগ শেষ হয়ে গেছে। এখনো জমিদারের অঙ্গুলি হেলনে প্রজাদের ওঠবস করার দিবাস্বপ্নে বিভোর থাকাই আমেরিকার জন্য কাল হয়ে দাঁড়াবে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী এক ভাষণে বলেছেন, তার দেশের ওপর আগ্রাসন চালাতে আসার আগে শত্রু  যেন একশ’বার চিন্তাভাবনা করে আসে। কারণ, যুদ্ধ সে শুরু করতে পারে কিন্তু যুদ্ধের সমাপ্তি তার নিয়ন্ত্রণে থাকবে না।

পদবঞ্চিত ও বহিষ্কৃত ছাত্রলীগ নেত্রীর আত্মহত্যার চেষ্টা

বাংলাদেশ ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে পদ না পেয়ে সদ্য বহিষ্কৃত সংগঠনটির বিগত কমিটির সদস্য জারিন দিয়া আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন।
ছাত্রলীগের পদবঞ্চিত নেতারা জানান, গত সোমবার দিনগত রাতে ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন জারিন দিয়া। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেলের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়। তবে এখন তিনি শঙ্কামুক্ত রয়েছেন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
গত ১৩ মে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে পদবঞ্চিতদের ওপর হামলার ঘটনায় গতকালই ছাত্রলীগ থেকে জারিন দিয়াকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়। হামলার দিন রাতে জারিন দিয়া ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকে অভিযুক্ত করে ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন। যেটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। এই ঘটনায় তাকে বিভিন্ন জায়গা থেকে হুমকিও দেয়া হচ্ছিল বলে জারিন সেসময় অভিযোগ করেছিলেন।
পদবঞ্চিত হয়ে হামলার শিকার এবং উপরন্তু বহিস্কারের ঘটনা সহ্য করতে না পেরে তিনি আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে।
এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে হামলার ঘটনায় ছাত্রলীগের পাঁচ নেতাকর্মীকে বহিষ্কারের বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করেছে পদবঞ্চিতরা। তাদের দাবি- এ ঘটনায় প্রকৃত অপরাধীদের কোনো শাস্তি দেওয়া হয়নি।
ছাত্রলীগের বিগত কমিটির কর্মসূচি ও পরিকল্পনা সম্পাদক রাকিব হোসেন বলেন, আমাদের উপর দু’দফা হামলা হয়েছে। মধুর ক্যান্টিনে হামলার ঘটনায় অনেক কেন্দ্রীয় নেতা জড়িত ছিল। কিন্তু তাদের কিছুই করা হয়নি। অন্যদিকে জারিন দিয়া আহতও হলো, তাকে বহিষ্কারও করা হলো। এ রকমটা করবে বলেই আমরা ধারণা করেছিলাম।
সাবেক উপ-দফতর সম্পাদক শেখ নকিবুল ইসলাম বলেন, এটি ব্যক্তিগত আক্রোশ ছাড়া আর কিছুই না। জারিন দিয়া ঐদিন আহত হলো। অথচ তাকেই সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে।
তিনি বলেন, কি প্রমাণ করতে চান এইগুলো করে? যারা মূল কালপ্রিট, তাদের কাউকেই অভিযুক্ত করলেন না, বহিষ্কার করলেন না। জাতি এগুলো বুঝে। এগুলো প্রহসন ছাড়া কিছু না।
উল্লেখ্য, গত ১৩ মে ছাত্রলীগের ৩০১ এক সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির পদবঞ্চিত একটি অংশ সন্ধায় বিক্ষোভ ও পরবর্তীতে সংবাদ সম্মেলন করতে যায় মধুর ক্যান্টিনে। এসময় তাদের ওপর পদপ্রাপ্ত ও তাদের সমর্থকরা হামলা করে। এতে রোকেয়া হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শ্রাবণী দিশাসহ ৫-৭ জন আহত হয়। এই ঘটনায় তিন সদস্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সুপারিশ অনুসারে পাঁচজনকে বহিষ্কার করে ছাত্রলীগ। এর আগে সোমবারই ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে হামলার ঘটনায় সংগঠনটির পাঁচ নেতাকর্মীকে বহিষ্কারের কথা জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে জিয়া হল ছাত্রলীগ কর্মী সালমান সাদিককে। আর সাময়িক বহিষ্কৃত হন- বিজ্ঞান অনুষদ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গাজী মুরসালিন অনু, জিয়া হল ছাত্রলীগের কর্মী সাজ্জাদুল কবির, কাজী সিয়াম ও সাবেক কেন্দ্রীয় সদস্য জারিন দিয়া।
মধুর ক্যান্টিনে মারামারি

‘নিম্ন মাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার পরিমাণ চারগুণ বাড়িয়েছে ইরান’

ইরানের আণবিক শক্তি সংস্থার মুখপাত্র বেহরুজ কামালবান্দি বলেছেন, তার সংস্থা নিম্ন মাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার পরিমাণ চারগুণ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিনি তেহরানে এক বক্তব্যে জানান, গতকাল সোমবার থেকে নাতাঞ্জ পরমাণু স্থাপনায় ৩.৬৭ মাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার পরিমাণ চারগুণ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে।
ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে কামালবান্দি জানান। তিনি বলেন, পরমাণু সমঝোতায় ইরানকে যেসব অর্থনৈতিক সুবিধা দেয়ার কথা বলা হয়েছিল তা দিতে বাকি পক্ষগুলো ব্যর্থ হয়েছে। কামালবান্দি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ইউরোপীয়রা ইরানকে প্রয়োজনীয় সুবিধা দিতে ব্যর্থ হলে তেহরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের মাত্রা বাড়িয়ে দেবে।
পাশ্চাত্যের সঙ্গে স্বাক্ষরিত পরমাণু সমঝোতায় ইরানকে সর্বোচ্চ ৩.৬৭ মাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অনুমতি দেয়া হয়েছে।  উচ্চ মাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম বেসামরিক কাজে লাগানোর পাশাপাশি পরমাণু অস্ত্র তৈরির কাজেও লাগানো সম্ভব। তবে ইরান শুরু থেকেই বলে এসেছে, পরমাণু অস্ত্র তৈরির কোনো অভিপ্রায় তার নেই।
এদিকে, পরমাণু সমঝোতা থেকে বেআইনিভাবে আমেরিকার বেরিয়ে যাওয়ার এক বছর পূর্তি উপলক্ষে গত ৮ মে ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ পরমাণু সমঝোতার কিছু ধারা বাস্তবায়ন স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়।
তবে ইরান এ সমঝোতা থেকে যেমন বেরিয়ে যায়নি তেমনি এটির ২৬ ও ৩৬ নম্বর ধারা মেনেই সর্বোচ্চ নিরাপত্তা পরিষদ কিছু সহযোগিতা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ওই দু’টি ধারায় বলা হয়েছে, পরমাণু সমঝোতার বাকি পক্ষগুলো তাদের প্রতিশ্রুতি মেনে চলতে ব্যর্থ হলে ইরানও কিছু ধারার বাস্তবায়ন স্থগিত রাখতে পারবে। ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তেহরান এখন থেকে আর সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ও ভারী পানি বিদেশের হাতে তুলে দেবে না।
নাতাঞ্জ পরমাণু স্থাপনায় বসানো সেন্ট্রিফিউজি; এই মেশিনের সাহায্যে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করা হয়

যৌন মিলনের সময় ‘দ্রুত কাপড় না খোলায়’ স্ত্রীকে মারধর, ঘুষি

যুক্তরাষ্ট্রের মিসিসিপি রাজ্যের এক আইনপ্রণেতা মদ্যপ অবস্থায় তার স্ত্রীর মুখে ঘুষি দিয়ে আলোচনার ঝড় তুলেছেন। যৌন মিলনের জন্য স্ত্রী কাপড় খুলতে দেরি করায় তার মুখে ঘুষি মারেন স্বামী ডগ ম্যাকলয়েড। আর এই অভিযোগে ৫৮ বছর বয়সী মি: ম্যাকলয়েডকে এরই মধ্যে পুলিশ আটক করেছে। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতার অভিযোগ আনা হয়েছে।
মিসিসিপি রাজ্যের আইনপ্রণেতারা বলেছেন, মি: ম্যাকলয়েড-এর বিরুদ্ধে এই অভিযোগ যদি সত্যি হয়, তাহলে তার পদত্যাগ করা উচিত। অবশ্য এ অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত স্বামী মি: ম্যাকলেয়েড-এর কাছ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। মি: ম্যাকলয়েড তিন সন্তানের জনক।
মিসিসিপি রাজ্যের রাজধানী জ্যাকসন থেকে ২৪০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে লুকেডেল এলাকায় মি: ম্যাকলয়েডের বাড়ি। পুলিশ সেখানে পৌঁছে তার দেহে অ্যালকোহলের উপস্থিতি পায়।
বাড়িতে গিয়ে মি: ম্যাকলয়েড-এর স্ত্রী এবং আরেকজন নারীকে খুব ভীত অবস্থায় দেখতে পায় পুলিশ। সেই নারী পুলিশকে জানায়, মি: ম্যাকলয়েড-এর স্ত্রী রক্তাক্ত মুখ নিয়ে তার কক্ষের ভেতরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেয়।
এ সময় মি: ম্যাকলয়েড দরজায় আঘাত করতে থাকেন এবং তার স্ত্রীর অতি আদরের পোষা কুকুরটিকে হত্যা করার হুমকি দেন। পুলিশ সে দম্পতির বিছানায় রক্তের দাগ দেখতে পেয়েছে। মি: ম্যাকলয়েডকে ১০০০ ডলারের বিনিময়ে জামিন দিয়েছে আদালত।
মিসিসিপি রাজ্যে প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ফিলিপ গান, যিনি রিপাবলিকান দলের সদস্য, বলেছেন তিনি মি: ম্যাকলয়েড-এর সাথে কথা বলার চেষ্টা করেছেন। এই অভিযোগ যদি সত্যি হয় তাহলে তার পদত্যাগ করা উচিত।
এ ধরণের আচরণকে 'অগ্রহণযোগ্য' হিসেবে বর্ণনা করেন স্পিকার ফিলিপ গান।
এক জরিপে দেখা যাচ্ছে, আমেরিকায় প্রতি তিনজন নারীর মধ্যে একজন তার সঙ্গীর কাছে কোন না কোনভাবে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। ২০১৪ সালে মিসিসিপি রাজ্যে পারিবারিক সহিংসতার অভিযোগ নিয়ে প্রতি ঘণ্টায় গড়ে সাতটি টেলিফোন এসেছে হট লাইনে। সূত্র : বিবিসি।