Tuesday, March 7, 2017

শিশুটির লাশ টিভির বাক্সে লুকিয়ে রাখে রেজাউল

কালাইয়ে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র তাওহীদ শামিম শুভকে অপহরণের পর হত্যার মূল হোতা রেজাউল করিমসহ ৫ জনকে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার রাতে পৌর শহরের মুন্সিপাড়া মহল্লা থেকে তাদের আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে রেজাউল এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। তথ্য উদঘাটনে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রেখেছে। পুলিশের দাবি চাঞ্চল্যকর তথ্য মিলেছে। তবে তদন্তের স্বার্থে এ মুহূর্তে কিছু বলা যাচ্ছে না।
আটককৃতরা হলো, কালাই মুন্সিপাড়া মহল্লার ছাত্তারের ছেলে রেজাউল করিম, জালাল উদ্দিনের ছেলে আব্দুল্লাহ রানা, মৃত সোলাইমানের ছেলে ফারুক হোসেন, আবদুর রশিদের ছেলে ছামছুল ইসলাম ও সাত্তারের ছেলে এমদাদুল হক। এলাকাবাসী ও থানা সূত্রে জানা গেছে, রেজাউল করিম পেশায় ভ্যানচালক। শুক্রবার সকালে কালাই কাকলী শিশু নিকেতনের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র ও কালাই মুন্সিপাড়া মহল্লার ঠিকাদার আবদুল গফুর ওরফে তোতা মিয়ার ছেলে শুভকে কৌশলে অপহরণ করে নিয়ে যায় তার বাড়িতে। পরে শিশুর বাবার কাছে ৭ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে রেজাউল। রফাদফা শেষে ৩ লাখ টাকা 
 মিটলেও ওই শিশুর বাবা পুলিশের আশ্রয় নেয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে রেজাউল গলা টিপে হত্যার পর নিজ ঘরে টেলিভিশনের বাক্সে লুকিয়ে রাখে। পরে সুযোগ বুঝে গভীর রাতে শুভর লাশ বাড়ির খুলিয়ানে খড়ের পালার নিকটে ফেলে রাখে। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে প্রথমে এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আরো ৩-৪ জন জড়িত থাকার কথা বললেও শেষ পর্যন্ত সে একাই এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে এমনই তথ্য দিয়েছে পুলিশের কাছে।
প্রতিবেশি রেজাউল ইসলাম, রেদোয়ান হোসেনসহ অনেকেই জানান, রেজাউল একজন সবজি বিক্রেতা। বড় ভাই পান বিক্রেতা আর তার বাবা ছিল কলা বিক্রেতা। অভাব অনটনের মধ্য দিয়ে চলতো তাদের পরিবার। সম্প্রতি রেজাউল স্থানীয় একটি এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে একটি অটোভ্যান কিনে তা চালানো শুরু করে।
শুভর বাবা আবদুল গফুর জানান, অল্প সময়ের মধ্যে আমার ছেলে হত্যার সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করেছে পুলিশ। আশা করি এই অপহরণ ও হত্যার সঙ্গে আরো যারা জড়িত তাদের সবাইকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করবে প্রশাসন।
কালাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নূরুজ্জামান চৌধুরী জানান, ইতিমধ্যে মামলার মূল হোতাসহ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। অধিকতর তদন্তের স্বার্থে সবকিছু শেয়ার করা সম্ভব হচ্ছে না।

মমতার কৌশল নিয়েছেন কেজরিওয়াল?



পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের সুসম্পর্ক রয়েছে। মমতার বিভিন্ন আন্দোলনের সমর্থকও কেজরিওয়াল। ভারতে ৫০০ ও ১০০০ রুপির নোট বাতিলের বিরুদ্ধে মমতা গর্জে উঠেছিলেন। শুরু করেছিলেন আন্দোলন। সে সময় মমতার পাশে প্রথম এসে দাঁড়িয়েছিলেন আম আদমি পার্টির (এএপি) প্রধান কেজরিওয়াল। দিল্লির তিনটি পৌরসভার নির্বাচন সমাগত। আগামী মাসে এই নির্বাচন হওয়ার কথা। দিল্লির এই তিনটি পৌরসভার ক্ষমতায় আছে বিজেপি। আর দিল্লির ক্ষমতায় কেজরিওয়ালের এএপি। নির্বাচন সামনে রেখে মাঠে নেমে পড়েছেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী। ঘোষণা দিয়েছেন, পৌর নির্বাচনে তাঁর দল জিতলে দিল্লিকে আগামী এক বছরের মধ্যে লন্ডন বানাবেন। পশ্চিমবঙ্গে পৌর নির্বাচনের প্রাক্কালে মমতার মুখেও এমন কথা শোনা গিয়েছিল। তবে কি মমতার কৌশল নিয়েছেন কেজরিওয়াল? ২০১১ সালে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসে মমতার তৃণমূল কংগ্রেস।
এর আগে পৌর নির্বাচনে জয়ী হয় দলটি। সেই নির্বাচনের প্রাক্কালে মমতা ঘোষণা দিয়েছিলেন, তাঁর ক্ষমতায় এলে তিনি কলকাতাকে লন্ডন বানাবেন। আর উত্তরবঙ্গকে বানাবেন সুইজারল্যান্ড। কিন্তু নির্বাচনে জয়ের পর কলকাতাকে কতটুকু লন্ডনের ধাঁচে গড়ে তোলা হয়েছে, তা কলকাতাবাসী জানে। এখন মমতার মতো করে কেজরিওয়াল বলছেন, পৌর নির্বাচনে এএপি জয়ী হলে দিল্লিকে এক বছরের মধ্যে লন্ডন বানাবেন। কেজরিওয়ালের এই ঘোষণা নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে। দিল্লিকে আদৌ লন্ডন বানানো সম্ভব কি না, তা নিয়ে অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন। কেউ কেউ বলছেন, এটা নির্বাচনী প্রচার-প্রচারের চমক ছাড়া আর কিছুই নয়।

বদলে যাচ্ছে সিরীয় শিশুরা

সিরিয়ায় চলমান যুদ্ধ ও সহিংসতার কারণে লাখ লাখ শিশু প্রচণ্ড মানসিক চাপের (টক্সিক স্ট্রেস) মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। এতে বদলে যাচ্ছে তাদের আচরণ। অনেকে ভয়ে ঘন ঘন বিছানা ভেজাচ্ছে, নিজেদের ক্ষতি করছে, আত্মহত্যার চেষ্টা করছে, আক্রমণাত্মক আচরণও করছে।আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থা সেভ দ্য চিলড্রেন বলছে, যুদ্ধের ভয়াবহতার কারণে শিশুরা এমন তীব্র মানসিক চাপে ভুগছে। সিরিয়ার অনেক শিশুর সাক্ষাৎকার নিয়ে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। বিবিসি অনলাইনের খবরে জানানো হয়, সংস্থাটি মনে করছে, শিশুদের এখনই মানসিক সহায়তা না দিতে পারলে এই ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা কঠিন হয়ে যাবে। সেভ দ্য চিলড্রেন বলছে, ২০১১ সালে সিরিয়ায় শুরু হওয়া যুদ্ধে এ পর্যন্ত তিন লাখ প্রাণহানি ঘটেছে। মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে এটাই সবচেয়ে বড় পরিসরের জরিপ বলে দাবি করেছে সেভ দ্য চিলড্রেন। সেভ দ্য চিলড্রেন সিরিয়ার ১৪ গভর্নরেটের মধ্যে সাত গভর্নরেটের ৪৫০ জনের সঙ্গে কথা বলেছে। বিভিন্ন বয়সের শিশু, মা-বাবা, পরিচর্যাকারী, সামাজিক কর্মী, ত্রাণকর্মী ও শিক্ষকদের কাছ থেকে যেসব তথ্য পাওয়া গেছে, তা অনেকটা এ রকম: প্রায় সব শিশু এবং ৮৪ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্করা বলছেন, বোমা ও শেল হামলা শিশুদের মানসিক চাপ বেড়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ। দুই-তৃতীয়াংশ শিশু প্রিয়জনকে হারিয়েছে। তাদের বাড়িতে বোমা বা শেল হামলা হয়েছে। কিংবা যুদ্ধের কারণে স্বজনেরা আহত হয়েছে। সাক্ষাৎকারদাতাদের ৭১ শতাংশ বলছেন, আশঙ্কাজনক হারে শিশুরা বিছানা ভিজিয়ে ফেলছে। যখন-তখন মূত্রত্যাগ করে দিচ্ছে। এসবই তীব্র মানসিক চাপ ও অস্থিরতার লক্ষণ।
৪৮ শতাংশ অভিভাবক বলছেন, তাঁরা এমন শিশুদের দেখেছেন, ভয়ে যাদের কথা বলা বন্ধ হয়ে গেছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে অনেকের মধ্যে তোতলামির লক্ষণ দেখা গেছে। অর্ধেক সাক্ষাৎকারদাতা বলছেন, শিশুরা সব সময় অথবা প্রায়ই বিমর্ষ থাকে। সহিংসতার কারণে সিরিয়া ছেড়ে পালিয়েছে ২৩ লাখ শিশু। পালাতে না পারা কমপক্ষে ৩০ লাখ শিশু, যাদের বয়স ছয় বছরের নিচে। তারা যুদ্ধ ছাড়া আর কিছুই দেখেনি। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিশু সুরক্ষা ও মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ আলেকজান্দ্রা চেন বলেন, প্রচণ্ড মানসিক চাপ শিশুদের মস্তিষ্ক ও শরীরের বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করে। বয়স বাড়লে শিশুরা মাদকাসক্তি, মানসিক অসুস্থতার শিকার হতে পারে। সেভ দ্য চিলড্রেনের জ্যেষ্ঠ মানসিক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা চিকিৎসক মার্সিয়া ব্রফি বলেন, যুদ্ধের কারণে শিশুদের স্থায়ীভাবে মানসিক ক্ষতি হতে পারে। সিরিয়ার স্কুলশিক্ষক হিশাম (ছদ্মনাম) বলেন, দির আল জর এলাকায় যখন তাঁরা থাকতেন, তখন প্রথমে শেল হামলার শব্দ শুনে শিশুরা আনন্দ পেত। এটি তাদের কাছে একধরনের খেলা মনে হতো। কিন্তু যখন তাদের স্বজনেরা একে একে মারা যেতে থাকল, তখন তারা ভয়ার্ত হয়ে পড়ল। সারা দিন শিশুরা রাস্তায় রাস্তায় ঘোরে। কারণ, তাদের স্কুল নেই। তাঁর বড় ছেলের বয়স নয় বছর। কিন্তু সে জানে না কীভাবে এক আর একে দুই হয়। সাহায্যকারী সংস্থা সেভ দ্য চিলড্রেন বলছে, তারা শিশুদের মানসিক সহায়তা দেওয়া শুরু করেছে। তবে এখনো খুব বেশি দেরি হয়ে যায়নি। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। এখনো মানসিক অবসাদ কাটিয়ে উঠতে পারে শিশুরা।

মালয়েশীয়দের উ. কোরিয়া ত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

উত্তর কোরিয়ায় অবস্থানরত মালয়েশিয়ার নাগরিকদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। আজ মঙ্গলবার উত্তর কোরিয়া এই নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। বিবিসি অনলাইনের প্রতিবেদনে জানানো হয়, উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উনের সৎভাই কিম জং-নাম মালয়েশিয়ায় খুন হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশ দুটির মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন চলছে। এর মধ্যে উত্তর কোরিয়ায় অবস্থানরত মালয়েশিয়ার নাগরিকদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হলো। পাল্টা ব্যবস্থা নিতে সময় নেয়নি মালয়েশিয়া। তারা উত্তর কোরিয়ার দূতাবাসের কর্মকর্তাদের মালয়েশিয়া ত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। গত ১৩ ফেব্রুয়ারি মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রহস্যজনকভাবে অসুস্থ হওয়ার পর মারা যান জং-নাম। বিষাক্ত রাসায়নিক প্রয়োগে উত্তর কোরিয়ার গুপ্তঘাতকেরা তাঁকে হত্যা করেছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। উত্তর কোরিয়ার অনুরোধ সত্ত্বেও জং-নামের লাশ ফেরত দেয়নি মালয়েশিয়া। তারা এই মৃত্যুর বিষয়টি তদন্ত করছে।
এ নিয়ে মালয়েশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে এখন কূটনৈতিক টানাপোড়েন তুঙ্গে। টানাপোড়েনের ধারাবাহিকতায় মালয়েশিয়া থেকে উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কার করা হয়। জবাবে উত্তর কোরিয়াও মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কার করে। উত্তর কোরিয়া আজ ঘোষণা দেয়, তাদের দেশে অবস্থানরত মালয়েশিয়ার নাগরিকদের দেশত্যাগে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কেসিএনএ বলেছে, মালয়েশিয়ায় যা ঘটেছে, তার যথাযথ সমাধানের আগ পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে। নিষেধাজ্ঞা চলাকালে উত্তর কোরিয়ায় অবস্থানরত মালয়েশিয়ার নাগরিকেরা আগের মতোই স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারবেন। উত্তর কোরিয়ার নিষেধাজ্ঞার ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মাথায় পাল্টা ব্যবস্থার ঘোষণা দেন মালয়েশিয়ার উপপ্রধানমন্ত্রী আহমাদ জাহিদ হামিদি। মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত উত্তর কোরিয়ার দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মীরা দেশ ত্যাগ করতে পারবেন না বলে জানান তিনি।

ওবামার স্বাস্থ্যবিমা বাতিলে প্রস্তাব

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের জন্য সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার চালু করা স্বাস্থ্যবিমা বাতিল করার প্রস্তাব দিয়েছে রিপাবলিকান পার্টি। এটি বাতিলে অনেক আগে থেকেই প্রচারণা চালাচ্ছিলেন রিপাবলিকানরা। স্বাস্থ্যবিমা গ্রহণের জন্য বাধ্যবাধকতা উঠিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব করেছে রিপাবলিকান পার্টি। এটি কিনতে সরকারের ভর্তুকি কমানো হবে। যুক্তরাষ্ট্রের জটিল এবং ব্যয়বহুল স্বাস্থ্যব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন এনেছিলেন সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। প্রবল বিরোধিতার পরও তিনি ‘অ্যাফোর্ডেবল হেলথ কেয়ার’ কর্মসূচি চালু করতে সক্ষম হয়েছিলেন। শুরু থেকেই রিপাবলিকান পার্টি ওবামা কেয়ারের বিরোধিতা করছিল। কিন্তু বিকল্প কোনো প্রস্তাব না দিতে পারায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর নির্বাচনী প্রচার থেকে ওবামা কেয়ার বাতিল করা হবে বলে ঘোষণা দেন। স্থানীয় সময় গতকাল সোমবার বিকেলে রিপাবলিকান পার্টি বিকল্প প্রস্তাব উপস্থাপন করে। এর মাধ্যমে ‘ওবামা কেয়ার’ বাতিল এবং প্রতিস্থাপন করা হবে বলে জানানো হয়। রিপাবলিকানদের প্রস্তাবে বলা হয়েছে, স্বাস্থ্যবিমা কিনতে কাউকে বাধ্য করা হবে না। বিমা না নেওয়ার কারণে কাউকে জরিমানা দিতে হবে না। ‘আমেরিকান হেলথ কেয়ার অ্যাক্টস’ নামে উপস্থাপিত এই প্রস্তাবে বিমাগ্রহীতাদের কর ক্রেডিট দেওয়া হবে।
ওবামা কেয়ারে নিম্নআয়ের লোকজনের জন্য স্বাস্থ্যবিমা কেনার ক্ষেত্রে সরকারি ভর্তুকি দেওয়ার বিধান ছিল। রিপাবলিকান পার্টির স্বাস্থ্যবিমা প্রস্তাবে বার্ষিক একক ৭৫ হাজার ডলার বা পরিবার মিলে ১ লাখ ৫০ হাজার ডলারের নিম্ন আয়ের লোকজনের জন্য বয়স অনুযায়ী কর ক্রেডিট দেওয়া হবে। রিপাবলিকান পার্টির নতুন প্রস্তাবে রাজ্য সরকার পরিচালিত মেডিকেইড ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা হবে। বিকল্প প্রস্তাব দেওয়ার পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, স্বাস্থ্যসেবার সংস্কার যে কত জটিল, তা তাঁর জানা ছিল না। স্বাস্থ্যসেবার প্রস্তাব নিয়ে রিপাবলিকানদের মধ্যে কতটা ঐকমত্য, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। আগামী কয়েক সপ্তাহের যাচাই-বাছাইয়ের পর এপ্রিলের শেষ দিকে প্রস্তাবটি কংগ্রেসে যাবে। কংগ্রেস অনুমোদন করলেও স্বাস্থ্যবিমা নিয়ে বিভক্ত যুক্তরাষ্ট্রের দুই দলের আইনপ্রণেতারা বাগ্‌বিতণ্ডায় নামবেন বলে মনে করা হচ্ছে। সিনেটে অনুমোদন পাওয়ার পরই স্বাস্থ্যবিমা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুমোদনের জন্য যাবে। এ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে স্বাস্থ্যবিমা আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে।

মার্কিন জাহাজের গতিপথ বদলাতে বাধ্য করল ইরান

হরমুজ প্রণালির কাছে চলে আসা মার্কিন নৌবাহিনীর একটি জাহাজের গতিপথ ফেরাতে বাধ্য করেছে ইরান। দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডের বেশ কয়েকটি নৌযান গিয়ে ওই জাহাজকে বাধা দেয়। এসব জাহাজ দ্রুত আঘাত হানতে সক্ষম। যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা গতকাল সোমবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এই তথ্য জানান। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, মার্কিন নৌবাহিনীর ইউএসএনএস ইনভিনসিবল নামের জাহাজটির প্রায় ৬০০ মিটারের মধ্যে ইরানের নৌযানগুলো চলে এসে ছিল।
জাহাজটির সঙ্গে ব্রিটিশ রয়্যাল নেভির তিনটি জাহাজও ছিল। ওই জাহাজগুলোও তাদের গতিপথ পাল্টাতে বাধ্য হয়। ঘটনার বিষয়ে মন্তব্য জানতে রেভল্যুশনারি গার্ডের সঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। মার্কিন নৌবাহিনীর এক কর্মকর্তার ভাষ্য, এ ধরনের ঘটনা নিয়মিতই ঘটছে। এ ঘটনাকে ‘অপেশাদার ও ভয়ংকর’ হিসেবে বিবেচনা করছে মার্কিন নৌবাহিনী।

কচ্ছপের পেটে শত শত ধাতব মুদ্রা!

একটি কচ্ছপের পেট থেকে শত শত ধাতব মুদ্রা উদ্ধার করা হয়েছে। চিকিৎসকেরা অস্ত্রোপচার করে এসব মুদ্রা বের করেছেন। তাই কি না ২৫ বছর বয়সী এই কচ্ছপটিকে ‘ব্যাঙ্ক’ নামে ডাকা হচ্ছে। মুদ্রাগুলোর মোট ওজন প্রায় পাঁচ কেজি! এবিসি নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে আজ সোমবার ওই মেয়ে কচ্ছপটির পেটে অস্ত্রোপচার করেন চিকিৎসকেরা। পেট থেকে একে একে বের করা হয় ৯১৫ মুদ্রা। প্রতিবেদনে বলা হয়, থাইল্যান্ডের পূর্বাঞ্চলীয় শহর শ্রী রাচার একটি ঝরনার কাছে থাকত কচ্ছপটি। সেখানে প্রতিদিন অনেক পর্যটক যান। স্থানীয় লোকজনের বিশ্বাস, এই ঝরনার কাছে কচ্ছপকে লক্ষ্য করে ধাতব মুদ্রা ছুড়ে মারলে আয়ু বাড়ে ও সৌভাগ্যের দরজা খুলে যায়। ক্রমশ এই বিশ্বাস বিদেশি পর্যটকদের মাঝেও ছড়িয়ে পড়ে। এ কারণে ওই ঝরনা দেখতে যাঁরা যান, তাঁরাই কচ্ছপকে লক্ষ্য করে ধাতব মুদ্রা ছুড়ে মারেন। আর ঝরনার পানিতে থাকা কচ্ছপেরা সেই ধাতব মুদ্রাগুলো গিলে ফেলত। এভাবে গিলতে গিলতে এই কচ্ছপটির পেটে ৯১৫ মুদ্রা জমে যায়; মুদ্রাগুলোর মোট ওজন দাঁড়ায় প্রায় পাঁচ কেজিতে। এত মুদ্রার ভারে কচ্ছপটির শরীরে ফাটল দেখা দেয়। কচ্ছপটিকে উদ্ধারের পর আজ অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে মুদ্রাগুলো বের করা হয়। কচ্ছপটির শারীরিক অবস্থা কিছুটা ভালোর দিকে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গত মাসের শেষের দিকে কচ্ছপটিকে এটির আবাসস্থলের কাছে আশঙ্কাজনক অবস্থায় দেখে নৌবাহিনীর সদস্যরা উদ্ধার করে। পরে তাঁরা কচ্ছপটিকে থাইল্যান্ডের চুলালংকর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণী চিকিৎসা বিভাগে পাঠিয়ে দেন। সে সময় কচ্ছপটিকে নিয়ে থাই গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদন দেখে কচ্ছপটিকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেন অনেকেই। তার অস্ত্রোপচারের জন্য ৪২৮ ডলার সাহায্য জমা পড়ে। চুলালংকর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণী চিকিৎসা বিভাগের ডিন রুংরোজ থানাওংনুয়েচ বলেন, কচ্ছপটি বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির। এটির শরীরে ফাটল সৃষ্টি হয়ে সংক্রমণ হয়েছিল। এর কারণে কচ্ছপটি মারাও যেতে পারত। এই প্রজাতির কচ্ছপ ৮০ বছর পর্যন্ত বাঁচে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, চুলালংকর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণী চিকিৎসা বিভাগের পাঁচজন শল্য চিকিৎসকের একটি দল প্রায় চার ঘণ্টা ধরে চেতনানাশক দিয়ে কচ্ছপটির অস্ত্রোপচার করেন। পেট থেকে বের করা মুদ্রাগুলোর বেশির ভাগ বিবর্ণ হয়ে ক্ষয়ে গেছে। এ ছাড়া তার পেট থেকে মাছ ধরার দুটি বড়শিও উদ্ধার করা হয়েছে। শল্য চিকিৎসকদের দলে থাকা পাসাকর্ণ ব্রিকসাওয়ান বলেন, অস্ত্রোপচারের পর কচ্ছপটির অবস্থা ভালোর দিকে। আগামী দুই সপ্তাহ এটিকে শুধু তরল খাবার দেওয়া হবে।

সুখের খোঁজে...

ইচ্ছে পূরণ কিংবা নিজের মতো করে একটু থাকা-পরার জন্য অনেক পাকিস্তানি তরুণী যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়েছেন। ভিন দেশে গিয়ে এই তরুণীরা সুখের দেখা পেয়েছেন কি না, তা তলিয়ে দেখার চেষ্টা করেছেন লেখক ও উন্নয়ন যোগাযোগ পেশাজীবী মাদিহা ওয়ারিস কোরেশি। পাকিস্তানের সেনাঘাঁটিতে বেড়ে উঠেছেন আসনিয়া আসিম। ওয়াশিংটনে যাওয়ার সিদ্ধান্তটা নিতে তাঁকে মোটেই বেগ পেতে হয়নি। নিজের শহর ইসলামাবাদ থেকে দূরে থাকা আসিমের জন্য নতুন কিছু ছিল না। পড়ালেখার জন্য করাচিতে নারীদের হোস্টেলে চার বছর থেকেছেন তিনি। তাঁর বাবা অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা। মা শিক্ষাবিদ। দুজনই উদার মনের মানুষ। উচ্চশিক্ষা ও পেশার ব্যাপারে উচ্চাকাঙ্ক্ষী আসিম বাইরে যেতে চাইতেন। এমনই একসময় বিশ্বব্যাংকের একটি আন্তর্জাতিক রচনা প্রতিযোগিতা জেতেন তিনি। এই সুবাদে ওয়াশিংটনে বিশ্বব্যাংকের সদর দপ্তরে কাজের সুযোগ আসে। এমন সুযোগ হাতছাড়া করেননি তিনি। নতুন জায়গায় গিয়ে জীবনের প্রথম চাকরি শুরু ও স্থিতি অর্জনে একটু সময় লাগে। কিন্তু সেখানে একাকী থাকার অভিজ্ঞতাটি ছিল আসিমের জন্য একেবারেই অন্য রকম। কারণ, আমেরিকায় একাকী বসবাস মানে সত্যিকার অর্থেই একাকী। ২০ বছরের মাঝামাঝি বয়সী আসিম ছিলেন অবিবাহিত। একজন অবিবাহিত পাকিস্তানি তরুণীর জন্য একাকী থাকা সহজ কিছু নয়।
তুলনামূলক উদার পরিবারে বেড়ে উঠলেও তাঁর পক্ষে রীতির বাইরে যাওয়া কঠিন ছিল। পাকিস্তানের জনসংখ্যার ৯৭ শতাংশ মুসলমান। সৌদি আরবের তুলনায় পাকিস্তানি নারীরা অধিক স্বাধীনতা ভোগ করেন। তা সত্ত্বেও দেশটির অধিকাংশ নারীর জীবন ধর্ম ও নিজস্ব সংস্কৃতি দ্বারা দারুণভাবে প্রভাবিত। পাকিস্তানি সমাজে বিয়ে ও পরিবার নারীর সম্পূর্ণতার জন্য অপরিহার্য হিসেবে বিবেচিত। এমন প্রেক্ষাপটে একাকী ও স্বাধীনভাবে থাকা নারীর জন্য বেশ ঝক্কির। পাকিস্তানি সাংবাদিক ও তথ্যচিত্র নির্মাতা বিনা সারোয়ারের মতে, পাকিস্তানি নারীরা দেশে বা দেশের বাইরে নিজের মতো করে থাকছেন। এই প্রবণতা বাড়ছে। তবে এ ক্ষেত্রে পরিবারের সম্মতি থাকার পরও নারীদের ওপর নানামুখী চাপ আসে। নারীদের পরিবারও চাপে পড়ে। একাকী থাকার ধারণাটি পাকিস্তানের সংস্কৃতিতে ভিন্ন চোখে দেখা হয়। একাত্মতা, নিজস্ব সময়—এসবের স্থান পাকিস্তানের সংস্কৃতিতে নেই। পাকিস্তানে নারীরা ব্যক্তিগত ও পেশার স্বাধীনতা খুঁজে পান না। এ কারণে অনেক একাকী (সিঙ্গেল) নারী পশ্চিমা দেশে পাড়ি জমান। পড়ালেখা শেষে দেশে ফেরার পরিবর্তে তাঁরা সেখানে থেকে যেতেই পছন্দ করেন। মাইগ্রেশন পলিসি ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ২ লাখ ৭৩ হাজার পাকিস্তানি অভিবাসী আছেন। অনেক পাকিস্তানি নারী বৃত্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে গেছেন। পাকিস্তানের যেসব নারী পশ্চিমা দেশে একাকী থাকেন, দেশে থাকা তাঁদের মা-বাবা সামাজিক চাপে পড়েন। আসিম জানান, তাঁর মা-বাবা দারুণ চাপ অনুভব করছিলেন। তাঁরা কীভাবে তাঁদের মেয়েকে একাকী থাকার জন্য ছেড়ে দিতে পারলেন, এমন প্রশ্ন করা হতো। বায়োকেমিস্ট্রি পড়তে বছর দশেক আগে শাহেলা ওয়ানির যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার সিদ্ধান্ত পুরোপুরি সমর্থন করেছিলেন তাঁর মা-বাবা। কিন্তু পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী মাস্টার্স শেষে দেশে ফিরে না আসায় তাঁর ওপর চাপ বাড়ে। তিনি পিএইচডি করেন। পরে আইন বিষয়ে পড়ার সিদ্ধান্ত নেন। এমন অবস্থায় পাকিস্তানের বাড়িতে এলে তাঁকে শুনতে হয়: এত শিক্ষিত মেয়ের যোগ্য পাত্র কোথায় মিলবে! শাহেলাকে তাঁর মা-বাবা বাড়িতে ফিরতে বাধ্য করেননি। কিন্তু মেয়ের কারণে তাঁদের চাপের মধ্যে থাকার বিষয়টি অনুভব করতে পারেন শাহেলা। আমেরিকায় যাওয়ার আগে পাঞ্জাবের সায়মা ফেরদৌসকে দীর্ঘ বন্ধুর পথ পাড়ি দিতে হয়েছে। তাঁর পরিবারে মেয়েদের শিক্ষার চল ছিল না। শিক্ষার উদ্দেশ্যে আমেরিকায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে তাঁর মা-বাবা বিস্মিত হয়। শেষ পর্যন্ত মিনেসোটায় আত্মীয়দের সঙ্গে থাকার শর্তে যুক্তরাষ্ট্র যান।
পরে হার্ভার্ডের ফেলোশিপ নিয়ে বোস্টনে চলে যান তিনি। যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে একাকী থাকাটাও পাকিস্তানি নারীদের জন্য সহজ নয়। তাঁদের জন্য সামাজিকভাবে খাপ খাওয়ানোর বিষয় রয়েছে। আসিম জানালেন, যুক্তরাষ্ট্রে আসার পর ধর্মীয় কারণে তাঁর নিজেকে সংখ্যালঘু মনে হচ্ছিল। শিক্ষার জন্য ১৯৯২ সালে পাকিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন আমেনা সাঈদ। ব্লুমবার্গ নিউজের এই সাংবাদিক নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে এসে থাকতে হলে ব্যাপকভাবে মানিয়ে চলতে হয়। অচেনা ও পুরোপুরি ভিন্ন সংস্কৃতির কারও সঙ্গে কক্ষ ভাগাভাগির বিষয়টি যে খুব একটা সহজ কাজ নয়, তা উল্লেখ করেন আমেনা। এ প্রসঙ্গে ফেরদৌসও তাঁর বাজে অভিজ্ঞতার কথা জানান। আমেনা ও ফেরদৌসের মতে, আমেরিকায় আসার সবচেয়ে ভালো দিক হলো, বিভিন্ন সংস্কৃতির লোকজনের সঙ্গে পরিচিত হওয়া। ভিন্ন সংস্কৃতির মানুষের সঙ্গে মেলামেশায় বিদ্যমান ধ্যানধারণা বদলে মন প্রশস্ত হয়। শাহেলার মতে, যুক্তরাষ্ট্রে তাঁর জীবনে তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে চলাফেরার স্বাধীনতায়। পাকিস্তানে এক শৃঙ্খলিত জীবন কাটিয়েছেন শাহেলা। আর যুক্তরাষ্ট্রে এসে স্বাধীনতা পেয়েছেন, স্বনির্ভর হয়েছেন। আসিম জানালেন, বিয়ে ও একাকী থাকার ভীতি নিয়ে ধারণায় আসা বিবর্তনই তাঁর প্রবাসজীবনের সবচেয়ে বড় পরিবর্তন।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্যা চিহ্নিত করতে কমিটি

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিজস্ব ক্যাম্পাসে না যাওয়াসহ অন্যান্য সমস্যা চিহ্নিত করার জন্য একটি কমিটি করা হয়েছে। এই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আজ মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে (ইউজিসি) শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসির এক যৌথ সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সভা শেষে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ সাংবাদিকদের এ কথা বলেন। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, চার সদস্যের কমিটির প্রধান করা হয়েছে ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক আকতার হোসেনকে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন ইউজিসির সদস্য এ কে এম শাহনেওয়াজ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (বিশ্ববিদ্যালয়) আবুল হাসান চৌধুরী, ইউজিসির উপপরিচালক জেসমিন পারভীন। জেসমিন পারভীনকে কমিটির সদস্যসচিব করা হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এ কমিটি আগামী ৩০ জুনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দেবে।
তবে এর আগেও তারা সময়ে সময়ে জরুরি ভিত্তিতে সুপারিশ করবে। এর ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিজস্ব ক্যাম্পাসে না যাওয়া বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা ঠিক করতেই আজ বৈঠক হয়। তবে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে ওই কমিটি গঠন করা হয়েছে। ইউজিসি সূত্র জানিয়েছ, গত ছয় বছরে চার দফায় সময় দেওয়া হয়েছে। কিন্তু পুরোনো ৫১টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে এখনো ৩৯টি পুরোপুরিভাবে নিজস্ব ক্যাম্পাসে যেতে পারেনি। তবে কেউ কেউ আংশিক গেছে, কেউ কেউ জমি কিনেছে, কেউ নকশা পর্যায়ে আছে। একটি জমিও কেনেনি। পূর্ণাঙ্গভাবে নিজস্ব ক্যাম্পাসে গেছে ১২টি। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের উদ্দেশ্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বন্ধ করা নয়। আমাদের উদ্দেশ্য এগুলো আরও ভালোভাবে চলুক। তবে আজকেই তো কোনো সিদ্ধান্ত দিতে পারি না। সমস্যা চিহ্নিত করার জন্য কমিটি করা হয়েছে।’

নাইকো দুর্নীতি মামলার কার্যক্রম স্থগিত

খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে করা নাইকো দুর্নীতি মামলার কার্যক্রম স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি শেখ আবদুল আউয়াল ও বিচারপতি মো. খসরুজ্জামানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ খালেদা জিয়ার করার এক আবেদনের শুনানি নিয়ে আজ মঙ্গলবার রুলসহ এ আদেশ দেন। আদালতে খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মওদুদ আহমদ ও মাহবুব উদ্দিন খোকন। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষে ছিলেন আইনজীবী খুরশীদ আলম খান।
কানাডার কোম্পানি নাইকোর সঙ্গে অস্বচ্ছ চুক্তির মাধ্যমে রাষ্ট্রের বিপুল পরিমাণ আর্থিক ক্ষতিসাধন ও দুর্নীতির অভিযোগে ২০০৭ সালের ৯ ডিসেম্বর খালেদা জিয়াসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। ২০০৮ সালের ৫ মে এই মামলায় খালেদা জিয়াসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। অভিযোগপত্রে প্রায় ১৩ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকার রাষ্ট্রীয় ক্ষতির অভিযোগ আনা হয়।

সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিতে সমন্বয়হীনতা আছে: তারানা

সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সরকারের বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে সমন্বয়হীনতা রয়েছে বলে জানিয়েছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম। সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে কমনওয়েলথ টেলিযোগাযোগ সংস্থার (সিটিও) উদ্যোগে আজ মঙ্গলবার ঢাকায় আয়োজিত দুই দিনব্যাপী এক আন্তর্জাতিক কর্মশালায় তারানা হালিম এই মন্তব্য করেন। ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ: সাইবার অপরাধ, নিরাপদ ইন্টারনেট ও ব্রডব্যান্ড’ শিরোনামের এই কর্মশালা আয়োজনে সহায়তা করছে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ এবং বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত এই কর্মশালার উদ্বোধন করেন জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর ‘সেফটি অন ইন্টারনেট’ শীর্ষক অধিবেশনে তারানা হালিম বলেন, সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো বিচ্ছিন্নভাবে কাজ করছে। এ ব্যাপারে সমন্বয় আনা হলে সাইবার নিরাপত্তার বিষয়ে কার্যকর ফলাফল আসবে। ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ফেসবুকের মাধ্যমে আপত্তিকর কনটেন্ট যাতে না ছড়ায়, সে জন্য চলতি মাসেই ফেসবুক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনায় বসা হবে। ফেসবুক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আগের আলোচনায় আপত্তিকর অনেক কনটেন্ট ও পেজ বন্ধ করা গেছে। বিষয়টিকে এগিয়ে নিতে এবারে আলোচনা হবে। কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বিটিআরসির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আহসান হাবিব খান।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়: ‘এফ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা ১৬ মার্চ

কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের ‘এফ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা পুনরায় ১৬ মার্চ অনুষ্ঠিত হবে। আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ভর্তি কমিটি এক জরুরি সভা করে এ সিদ্ধান্ত নেয়। এফ ইউনিটে মোট আসন ১০০টি। গতকাল সোমবার প্রশ্নপত্র ফাঁসের সত্যতা পাওয়ায় সিন্ডিকেট ওই ইউনিটের ভর্তি বাতিল করে। তা ছাড়া এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষককে সাময়িক বহিষ্কার,
দুজন শিক্ষককে পরীক্ষাসংক্রান্ত দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি এবং স্নাতকোত্তর বিভাগের এক শিক্ষার্থীর ছাত্রত্ব ও স্নাতক শ্রেণির সনদ বাতিল করা হয়েছে। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এস এম আবদুল লতিফ মোবাইলে প্রথম আলোকে বলেন, ভর্তি কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১৬ মার্চ সকাল ১০টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত ‘এফ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে। বাতিল হওয়া ভর্তি পরীক্ষায় আবেদনকারীর সংখ্যা ২ হাজার ৯০০। তবে নতুন করে কোনো আবেদনে নেওয়া হবে না। বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট, পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি ও টেলিটক মোবাইলের মাধ্যমে জানানো হবে।

মেয়রের বাসার পাশের ডোবা থেকে অস্ত্র উদ্ধার

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার মণিরামপুরে সাংবাদিক আবদুল হাকিম হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার ও রিমান্ডে থাকা মেয়র হালিমুল হকের বাসার পাশের ডোবা থেকে অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের সন্দেহ, ওই অস্ত্র সাংবাদিক আবদুল হাকিম হত্যায় ব্যবহার করা হয়। আজ মঙ্গলবার সকাল সাতটার দিকে দেশীয় পাইপগানটি উদ্ধার করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহজাদপুর থানার পরিদর্শক মনিরুল ইসলামের ভাষ্য, মেয়র হালিমুলের ছোট ভাই ও মামলার আরেক আসামি হাবিবুল হককে সঙ্গে নিয়ে পুলিশ সেখানে যায়।
হাবিবুলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই অস্ত্রটি উদ্ধার হয়। গত মঙ্গলবার শাহজাদপুর পৌরসভার মেয়র হালিমুল হক ও তাঁর ছোট ভাই হাবিবুল হককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দ্বিতীয় দফায় রিমান্ডে নেয় পুলিশ। গত ২ ফেব্রুয়ারি শাহজাদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষের সময় গুলিবিদ্ধ হন দৈনিক সমকালের উপজেলা প্রতিনিধি আবদুল হাকিম। পরের দিন ঢাকায় নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় হাকিমের স্ত্রী নুরুন নাহার বেগম বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা করেন। এতে মেয়র হালিমুল হক, তাঁর ছোট ভাই হাবিবুল হকসহ ১৮ জনের নামে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়। এখন পর্যন্ত মেয়র, তাঁর ছোট ভাইসহ ১৩ জন গ্রেপ্তার আছেন।

মুফতি হান্নানের প্রিজন ভ্যানে হামলায় মামলা

গাজীপুরের টঙ্গীতে জঙ্গিনেতা মুফতি আবদুল হান্নান ও তাঁর সহযোগীদের বহনকারী প্রিজন ভ্যানে হামলার ঘটনায় মামলা করেছে পুলিশ। এতে হামলার পর আটক হওয়া মোস্তফা কামাল (২২) ও অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। গতকাল সোমবার দিবাগত রাতে টঙ্গী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অজয় কুমার চক্রবর্তী বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী ও অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেন।
আসামি মোস্তফা কামালের বাড়ি ময়মনসিংহের তারাকান্দা থানার পূর্ব পাগলী এলাকায়। পুলিশ বলেছে, হামলার পর গতকাল তাঁর কাছ থেকে পাঁচটি হাতবোমা (আইইডি), দুটি চাপাতি, দুটি পেট্রলবোমা, হাতে তৈরি একটি গ্রেনেড ও সাড়ে সাত হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। টঙ্গী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফিরোজ তালুকদারের ভাষ্য, আদালতে হাজিরা শেষে মুফতি হান্নানসহ ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার ২১ জন আসামিকে ঢাকা থেকে প্রিজন ভ্যানে করে কাশিমপুর কারাগারে নেওয়া হচ্ছিল। গতকাল বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে টঙ্গীর কলেজ গেট এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে ওই প্রিজন ভ্যান লক্ষ্য করে দুটি বিস্ফোরক ছোড়ে দুর্বৃত্তরা। কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কারাগারের জেল সুপার মো. মিজানুর রহমান জানান, ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরী হত্যাচেষ্টা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ও হরকাতুল জিহাদ (হুজি) নেতা মুফতি হান্নান ও তাঁর সহযোগীরা কাশিমপুর কারাগারে আছেন। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার হাজিরা দিতে গতকাল সকালে প্রিজন ভ্যানে মুফতি হান্নান ও সহযোগীদের ঢাকায় আদালতে পাঠানো হয়।
হামলার পর সন্ধ্যা পৌনে সাতটার দিকে প্রিজন ভ্যানে করে মুফতি হান্নান ও সহযোগীরা কাশিমপুর কারাগারে ফিরেছেন। এর আগে ২০১৪ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার থেকে তিন জঙ্গিকে ময়মনসিংহের আদালতে নেওয়ার পথে প্রিজন ভ্যানে গুলি-বোমা হামলা চালিয়ে জেএমবির তিন নেতাকে ছিনিয়ে নেন তাঁদের সহযোগীরা। তিনজন হলেন রাকিব হাসান ওরফে হাফেজ মাহমুদ, সালাহউদ্দিন ওরফে সালেহীন ও জাহিদুল ইসলাম ওরফে বোমা মিজান। ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পরেই অবশ্য হাফেজ মাহমুদ ধরা পড়েন এবং পরদিন সকালে পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন। বাকি দুজন এখনো পলাতক। ওই ঘটনায় জঙ্গিদের গুলিতে এক পুলিশ সদস্যও নিহত হন।

মামলার একাংশ পুনঃ তদন্তে আবেদন খালেদার

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টসংক্রান্ত দুর্নীতি মামলার একটি অংশ পুনরায় তদন্ত চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেছেন খালেদা জিয়া। আজ মঙ্গলবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে আবেদনটি উপস্থাপন করা হয়। কাল বুধবার বিষয়টি শুনানির জন্য আদালতের কার্যতালিকায় আসবে বলে জানিয়েছেন খালেদা জিয়ার আইনজীবী জাকির হোসেন ভূঁইয়া। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টসংক্রান্ত দুর্নীতি মামলার একটি অংশ পুনরায় তদন্ত চেয়ে খালেদা জিয়ার করা আবেদন গত ২ ফেব্রুয়ারি বিচারিক আদালতে নামঞ্জুর হয়। বিচারিক আদালতের ওই আদেশের বিরুদ্ধে ১ মার্চ হাইকোর্টে রিভিশন আবেদন করেন খালেদা জিয়া। আজ হাইকোর্টে আবেদনটি উপস্থাপন করেন খালেদা জিয়ার আইনজীবী আবদুর রেজাক খান।
আবেদনে মামলার একটি অংশ পুনরায় তদন্তের আবেদন খারিজের আদেশ কেন বাতিল হবে না এবং মামলার সংশ্লিষ্ট অংশ পুনরায় তদন্ত করতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, এ বিষয়ে রুল চাওয়া হয়েছে। রুল হলে তা বিচারাধীন থাকা অবস্থায় বিচারিক মামলার কার্যক্রম স্থগিত চাওয়া হয়েছে। খালেদা জিয়ার আইনজীবী জাকির হোসেন ভূঁইয়া প্রথম আলোকে বলেন, মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, অর্থ সৌদি আরব থেকে এসেছে। বিবাদীপক্ষ বলছে, অর্থ কুয়েতের আমির দিয়েছেন। মামলার এই অংশ পুনরায় তদন্ত চাওয়া হয়েছে। এই মামলায় বিচারিক আদালতে ৯ মার্চ সাক্ষী জেরার তারিখ ধার্য রয়েছে। ঢাকার ৩ নম্বর বিশেষ জজ আদালতে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টসংক্রান্ত দুর্নীতি মামলার বিচারকাজ চলছে। একই আদালতে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টসংক্রান্ত দুর্নীতি মামলার বিচারকাজও চলছে। খালেদা জিয়া উভয় মামলার আসামি।

বিএনপি ইতিহাস স্বীকার করে না: ওবায়দুল কাদের

ঐতিহাসিক সাতই মার্চ উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার সকালে ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি দিবসটি (সাতই মার্চ) পালন করে না। তারা (বিএনপি) ইতিহাস স্বীকার করে না। তারা ক্ষমতায় গেলে ইতিহাস জবরদখল করে। পত্রিকায় প্রকাশিত জিয়াউর রহমানের একটি লেখার উদ্ধৃতি দিয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, তিনি লিখেছিলেন, বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতার সবুজ সংকেত পেয়েছিলেন। কিন্তু আজ তাঁর দল বিএনপি এই দিবসটি স্বীকার করে না। বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় মন্ত্রিসভার সদস্য ও আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রীয়ভাবে আজকের দিনটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করা হচ্ছে।
দিনটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন সাতই মার্চ উপলক্ষে নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। ১৯৭১ সালের এই দিনে তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানের (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) বিশাল জনসমাবেশে দেওয়া ভাষণে বঙ্গবন্ধু বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতাযুদ্ধের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। বিশাল জনসমুদ্রে দাঁড়িয়ে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করার আহ্বানের অধীর অপেক্ষায় ছিল বাঙালি জাতি। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের উদ্দীপ্ত ঘোষণায় বাঙালি জাতি পেয়ে যায় স্বাধীনতার দিকনির্দেশনা। স্বাধীনতার যে ডাক বঙ্গবন্ধু দিয়েছিলেন, তা বিদ্যুৎ-গতিতে দেশে ছড়িয়ে পড়ে। প্রকৃতপক্ষে, জাতির উদ্দেশে দেওয়া বঙ্গবন্ধুর ওই ভাষণই ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা। এরপরই দেশের মুক্তিকামী মানুষ ঘরে ঘরে চূড়ান্ত লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিতে শুরু করে।

ষোড়শ সংশোধনীর আপিল শুনানি ৮ মে

সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিল শুনানি আগামী ৮ মে পর্যন্ত মুলতবি করা হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের সময় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আজ মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন সাত সদস্যের আপিল বিভাগ এই সময় পর্যন্ত শুনানি মুলতবি করেন। আদালত বলেছেন, ৮ মে শুনানির জন্য রাখা হলো। ওই দিন বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শুনানি হবে। সুপ্রিম কোর্টের বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা জাতীয় সংসদের হাতে ন্যস্ত করে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী আনা হয়। হাইকোর্টের রায়ে সেই সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করা হয়। এর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করে। এর আগে গত ৮ ফেব্রুয়ারি সর্বোচ্চ আদালত ৭ মার্চ শুনানির জন্য দিন ধার্য করেন। একই সঙ্গে ১২ জন অ্যামিকাস কিউরির নাম ঘোষণা করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় আজ বিষয়টি শুনানির জন্য আসে। সকালে রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম প্রস্তুতির জন্য আট সপ্তাহ সময় আবেদন করেন। আদালত এই সময় মঞ্জুর করে ৮ মে শুনানির দিন ধার্য করেন। আদালত উপস্থিত অ্যামিকাস কিউরিদের লিখিত বক্তব্য এই সময়ের মধ্যে দাখিল করতে বলেছেন। একই সঙ্গে বক্তব্যের অনুলিপি সংশ্লিষ্টদের সরবরাহ করতে বলেছেন।
আদালতে উপস্থিত অ্যামিকাস কিউরি ড. কামাল হোসেনের কাছে আদালত জানতে চান, তিনি তাঁর লিখিত মত দিয়েছেন কি না। জবাবে ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘প্রস্তুত করে ফেলেছি। চাইলে এখনই দিয়ে দিতে পারি।’ ১২ জন অ্যামিকাস কিউরি হলেন টি এইচ খান, ড. কামাল হোসেন, ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলাম, ব্যারিস্টার রফিক-উল হক, ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ, আবদুল ওয়াদুদ ভুইয়া, ফিদা এম কামাল, ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ, এ এফ হাসান আরিফ, এ জে মোহাম্মদ আলী, আজমালুল হোসেন কিউসি ও এম আই ফারুকী। বিচারপতি অপসারণের ক্ষমতা সংসদের কাছে ফিরিয়ে নিতে ২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী পাস হয়। ২২ সেপ্টেম্বর তা গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়। এই সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে একই বছরের ৫ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্টের নয়জন আইনজীবী হাইকোর্টে রিট করেন। চূড়ান্ত শুনানি শেষে গত বছরের ৫ মে হাইকোর্টের তিন বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেন। হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করে।

কারাফটক থেকে হাবিব-উন-নবীকে আটকের অভিযোগ

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেলকে কারাগারের ফটক থেকে আবার আটক করার অভিযোগ উঠেছে। বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, গতকাল সন্ধ্যায় কেরানীগঞ্জে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তিনি মুক্তি পান। এরপর কারাফটক থেকে গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল তাঁকে আটক করে নিয়ে যায়। তবে এ ব্যাপারে পুলিশের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
গতকাল সোমবার বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এক বিবৃতিতে বলেন, আইনি সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে উচ্চ আদালত থেকে সব মামলায় জামিন পেয়ে কারাগার থেকে মুক্ত হওয়ার সময় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খানকে গোয়েন্দা পুলিশ আটক করে নিয়ে গেছে। তিনি হাবিব উন-নবী খানকে কারামুক্তির পর কারাফটক থেকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বিবৃতিতে হাবিব-উন-নবী খানের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি করেন রিজভী।

১২ বাসচালকের দণ্ড, ৭০ মামলা

মহানগরে ফিটনেসবিহীন গণপরিবহন বন্ধে পুরান ঢাকার বাহাদুর শাহ পার্ক, নিউমার্কেট ও নটর ডেম কলেজের সামনে অভিযান চালিয়ে ১২ জন গাড়ি চালককে কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় ফিটনেসবিহীন আটটি বাস জব্দ করা হয়। এ ছাড়া বিভিন্ন অপরাধে ৭০টি মামলা ও ১ লাখ ৪০ হাজার ৬০০ টাকা জরিমানা করা হয়। গতকাল সোমবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত দ্বিতীয় দিন এই অভিযান চালানো হয়। নগরের যানজট ও যাত্রীদের দুর্ভোগ কমাতে গত রোববার থেকে এই উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)।
এতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সংস্থা (বিআরটিএ), ঢাকা জেলা প্রশাসন ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) সহযোগিতা করছে। ডিএসসিসি জানিয়েছে, ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকায় ওই ১২ জন বাসচালককে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এ ছাড়া অতিরিক্ত যাত্রী নেওয়া, বাসের আসন নোংরা-ভাঙাচোরা থাকা এবং ভাড়ার তালিকা, রুট পারমিট, রেজিস্ট্রেশন, ট্যাক্স টোকেন না থাকাসহ বিভিন্ন অপরাধে ওই ৭০টি মামলা ও জরিমানা করা হয়। আগামী ১৩ কর্মদিবস পর্যন্ত ভ্রাম্যমাণ আদালতের এই অভিযান চলবে বলে জানানো হয়। গত রোববার প্রথম দিনে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ, দৈনিক বাংলা ও মতিঝিল এলাকায় অভিযান চালিয়ে সাতজনকে কারাদণ্ড দিয়েছিলেন ডিএসসিসির ভ্রাম্যমাণ আদালত। এই সময় ফিটনেসবিহীন দুটি যাত্রীবাহী বাস ও একটি লেগুনা আটক, বিভিন্ন অপরাধে ৭৫টি মামলা ও ৮৭ হাজার ৪০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছিল। তবে টানা দুই দিন এই অভিযানের ফলে শহরে গণপরিবহনের সংখ্যা অনেক কম ছিল বলে জানিয়েছেন যাত্রীরা। গতকাল দুপুর ১২টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাসের জন্য অপেক্ষা করছিলেন শেওড়াপাড়া বাসিন্দা আরমান হোসেন। তিনি বলেন, ভ্রাম্যমাণ আদালত বসায় সড়কে ভাঙাচোরা গাড়ির সংখ্যা কমে গেছে। এখন ঢাকা শহর ফাঁকা লাগছে। সড়কে তেমন যানজট নেই। এভাবে টানা অভিযান চললে ফিটনেসবিহীন বাস আর সড়কে চলবে না। গতকাল সোমবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত নটর ডেম কলেজের সামনের সড়কে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন ডিএসসিসির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মামুন সরদার।
এ সময় ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকায় এক বাসচালককে ২০ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এ ছাড়া বাসের আসন নোংরা-ভাঙাচোরা থাকা এবং ভাড়ার তালিকা, রুট পারমিট, রেজিস্ট্রেশন, ট্যাক্স টোকেন না থাকাসহ বিভিন্ন অপরাধে ১৮ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা ও ২৩টি মামলা করা হয়। একই সময়ে বাহাদুর শাহ পার্ক এলাকায় পৃথক আরেকটি অভিযান চালান ঢাকা জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাজমা সিদ্দিকা। তাঁর আদালতে ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকায় দুজনকে ১৫ দিন করে কারাদণ্ড, একটি বাস ডাম্পিং ও ১৯ হাজার ৪০০ টাকা জরিমানা করা হয়। এ ছাড়া নিউমার্কেট এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সংস্থার (বিআরটিএ) নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুজিত হাওলাদার। তাঁর আদালতে ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকায় নয় বাসচালককে ১৫ দিন করে কারাদণ্ড, ছয়টি বাস আটক, ৪৮টি মামলা ও ১ লাখ ২ হাজার ৭০০ টাকা জরিমানা করা হয়। জানতে চাইলে ডিএসসিসির প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, আটক করা গাড়িগুলো পুলিশের ডাম্পিং স্টেশনে পাঠানো হয়েছে। আজ মঙ্গলবার গুলিস্তান, খিলগাঁও ও শাহবাগে অভিযান চালানো হবে। এভাবে ঢাকা শহরের বিভিন্ন সড়কে এই আদালত পরিচালনা করা হবে।

আন্তর্জাতিক সিলেট উৎসবের উদ্বোধন

সিলেটে শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সিলেট উৎসব। গতকাল সোমবার সকালে শহরতলির লাক্কাতুরা এলাকার সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ‘শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য সম্প্রীতির অভিযাত্রা’ শীর্ষক এ উৎসবের উদ্বোধন হয়। জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন ঢাকা এ উৎসবের আয়োজক। সকাল সাড়ে ১০টায় জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে উৎসবের উদ্বোধন হয়। এরপর আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। আয়োজক সংগঠনের সভাপতি সি এম তোফায়েল সামির সভাপতিত্বে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ জগলুল পাশা।
এ পর্বে আয়োজক সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের পাশাপাশি সিলেটের রাজনৈতিক-সংস্কৃতি-পেশাজীবী অঙ্গনের বিশিষ্টজনেরা বক্তব্য দেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, বাংলাদেশের আর্থসামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিকাশে সিলেটবাসীর ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রবাসীরা যেমন বৈদেশিক মুদ্রা পাঠিয়ে এ অঞ্চলকে সমৃদ্ধ করে চলেছেন, তেমনি এখানকার বাউল-মরমি কবিরাও তাঁদের ভাবদর্শন বিলিয়ে এই অঞ্চলকে অনন্য মাত্রায় উদ্ভাসিত করেছেন। শিক্ষাক্ষেত্রেও এখন এ অঞ্চলের মানুষ মেধা ও সফলতার পরিচয় দিচ্ছেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর সিলেট-বিষয়ক তিনটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। এসব সেমিনারের বিষয় ছিল যথাক্রমে ‘সিলেটের শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন’, ‘সিলেটের স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন ও সম্ভাবনা’ এবং ‘সিলেটের সাহিত্য ও সংস্কৃতির ধারা’। এরপর বেলা তিনটায় শুরু হয় ‘প্রজন্মের কথামালা’ শীর্ষক সৌহার্দ্য বিনিময় অনুষ্ঠান। এ পর্বে উৎসবে অংশগ্রহণকারী দেশ-বিদেশের অতিথিরা বক্তব্য দেন। সবশেষে ছিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

বিদু্যৎকেন্দ্র নির্মাণে বাধা আ.লীগ কার্যালয়

নর্থ ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের ১৭ কোটি টাকার বিদ্যুৎ বিতরণ কেন্দ্র নির্মাণের কাজে বাধা হয়ে দাঁড়ানো আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়টি এবার পাকা করা হচ্ছে। এদিকে তিন দফা সময় বাড়ানোর পর কেন্দ্রটি চালুর শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ৩১ মার্চ। নর্থ ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী নগরের শহীদ এ এইচ এম কামারুজ্জামান চত্বরের পাশে এই বিদ্যুৎ বিতরণ কেন্দ্রটি নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রকল্পটির নাম ‘বিন্দুর মোড় ৩৩/১১ কেভি জিআইএস (গ্যাস ইনসুলেটেড সাবস্টেশন)’। এই বিদ্যুৎ বিতরণ কেন্দ্র থেকে ১৪টি ফিডার লাইনের মাধ্যমে নগরের বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে। রাজশাহীর পবার কাটাখালী থেকে একটি ৩৩ কেভি উৎস লাইন এর সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে। এ ছাড়া নগরের শালবাগান এলাকার সঙ্গে একটি রিং লাইন যুক্ত থাকবে। কোনো কারণে ওই এলাকার লাইন ‘ফল’ করলে এই বিতরণ কেন্দ্র থেকে তারা সরাসরি বিদ্যুৎ নিতে পারবে। এটি হবে কেপিআই-১ (কি পয়েন্ট ইনস্টলেশন)-এর অন্তর্ভুক্ত প্রতিষ্ঠান। বর্তমানে নগরে চারটি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র রয়েছে। লাইনের দূরত্ব বেশি হওয়ার কারণে ঠিকমতো ভোল্টেজ পাওয়া যায় না।
এই বিতরণ কেন্দ্র চালু হলে এ সমস্যা থাকবে না। তা ছাড়া ছোট ছোট অনেক ফিডার লাইন হবে। তখন লোড নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে। এই প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ইতিমধ্যে ছয় তলাবিশিষ্ট একটি ভবন তৈরি করা হয়েছে। তার ভেতরে প্রয়োজনীয় সব যন্ত্রপাতি বসানোর কাজ করা হয়েছে। এতে সরকারের প্রায় ১৭ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। এখন এই বিতরণ কেন্দ্রের বাথরুম, টেকনিক্যাল স্টাফদের টুলস রুম ও একটি অভিযোগ কেন্দ্র তৈরির কাজ বাকি। যে জায়গায় এগুলো নির্মাণ করার জন্য নকশা ছিল, সেখানেই রয়েছে আওয়ামী লীগের একটি দলীয় কার্যালয়। তারা জায়গা ছেড়ে না দেওয়ার কারণে পুরো প্রকল্পটিই আটকে আছে। এনার্জি প্যাক নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি করছে। কাজের মেয়াদ ছিল ১৮ মাস। সে সময় ইতিমধ্যে পার হয়ে গেছে। অবস্থা বিবেচনা করে ৩১ মার্চ পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে নর্থ ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের একজন কর্মকর্তা বলেন, প্রকল্প এলাকায় তাঁদের ১৭-১৮ কাঠা জমি ছিল। পাশে রাস্তা হওয়ায় ছয়-সাত কাঠা জমি ওই রাস্তায় চলে গেছে। বাকিটা রয়েছে। আধা শতাংশের ওপর এই দলীয় কার্যালয় করা হয়েছে। এর আগে দলীয় কার্যালয়টি চাটাইয়ের বেড়া দিয়ে ঘেরা এবং ওপরে টিনের ছাউনি দেওয়া ছিল। এই কার্যালয়ে কোনো সাইনবোর্ড নেই। ভেতরে একটি টেবিল ও কয়েকটি চেয়ার ছিল। সামনে একটি ব্যানার ঝোলানো ছিল। তাতে লেখা ছিল, ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, মহানগর আঞ্চলিক অফিস, গৌরহাঙ্গা, রাজশাহী।’ গতকাল সোমবার সেখানে গিয়ে দেখা যায়, চাটাই খুলে ইটের দেয়াল তোলা হচ্ছে।
কার্যালয়ের উত্তর-পূর্ব পাশে বুকসমান উঁচু করে দেয়াল নির্মাণ করা হয়েছে। আরও ইট ও বালু এনে ফেলা হয়েছে। নির্মাণশ্রমিক ছাড়া কাউকে পাওয়া যায়নি সেখানে। দলীয় ব্যানারটা এখনো এক পাশে ঝোলানো রয়েছে। গত বছরের ৫ অক্টোবর প্রথম আলোতে ‘বাধা দলীয় কার্যালয়: আটকে গেছে বিদ্যুৎ বিতরণ কেন্দ্র নির্মাণের কাজ’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সে সময় কার্যালয়ের ভেতরে বসে থাকা যুবকেরা বলেছিলেন, এটি একটি অর্পিত সম্পত্তি। এই জমি নিয়ে আদালতে মামলা রয়েছে। কাগজপত্র দেখতে চাইলে তাঁরা দেখাতে পারবেন। তাঁরা এ ব্যাপারে রাজশাহী মহানগরের ১৩ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সাবেক সভাপতি দেলোয়ার হোসেন খান ওরফে সেন্টুর সঙ্গে কথা বলতে বলেছিলেন। দেলোয়ার হোসেন খান বলেছিলেন, কার্যালয়টি রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি লিটন (এ এইচ এম খায়রুজ্জামান) ভাই করে দিয়েছেন। রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন বলেছিলেন, সরকারি জায়গা হলে অবশ্যই তাদের ছেড়ে দিতে হবে। তিনি দেলোয়ারের সঙ্গে কথা বলবেন বলে জানিয়েছিলেন। এবার (গতকাল সোমবার) তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘দেলোয়ার বাজে কথা বলেছে। আমি আজকেই তাকে ডেকে নিষেধ করে দিব। সরকারি কাজে বাধা দেওয়া যাবে না।’

ফুটপাতে বীরশ্রেষ্ঠদের ম্যুরাল ও জীবনী

বিশাল ফুটপাত। পাশে আছে নানান জাতের নানান রঙের মৌসুমি ফুলের বাগান, ফলের গাছ, কৃত্রিম ঝরনা। পায়ে হাঁটার আলাদা রাস্তা। বাহারি মাছের নান্দনিক লেক। হেঁটে ক্লান্ত হলে বিশ্রামের জন্য একটু পর পর কংক্রিটের তৈরি বসার স্থান।
আর এসবের মাঝেই নির্দিষ্ট দূরত্বে তৈরি হয়েছে স্বাধীনতাযুদ্ধে শহীদ হওয়া বীরশ্রেষ্ঠদের ম্যুরাল। ম্যুরালের পাশেই ছোট গোলাকার বৃত্তে লেখা তাঁদের জীবনী এবং মুক্তিযুদ্ধে তাঁদের অবদান। রাজধানীর রেডিও ব্লু হোটেলের বিপরীতে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের সামনে দিয়ে শেষ পর্যন্ত ফুটপাতে চোখে পড়বে সাত বীরশ্রেষ্ঠর ম্যুরাল ও জীবনী। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) তত্ত্বাবধানে এবং ভিনাইল ওয়ার্ল গ্রুপের নকশা ও অর্থায়নে বনানী রেলওয়ে ওভারপাস থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত ছয় কিলোমিটারব্যাপী ‘ডিজিটাল ও সবুজ সড়ক’ প্রকল্পের অধীনে এই ম্যুরাল নির্মাণ করা হয়েছে। ফুটপাত ব্যবহারকারী বনানীর বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা রেজাউল করিম বলেন, অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি বীরশ্রেষ্ঠদের ছোট জীবনীসমৃদ্ধ এমন ম্যুরাল তৈরির সৃজনশীল ও শিক্ষণীয় উদ্যোগ প্রশংসনীয়। এখন ফুটপাত ব্যবহারকারী সবাই বাংলার এই বীর সন্তানদের দেশপ্রেম আর আত্মত্যাগ সম্পর্কে জানতে পারবে।
সরেজমিনে দেখা যায়, নির্মাণাধীন এই ডিজিটাল ও সবুজ সড়কের কুর্মিটোলা হাসপাতালের সামনের অংশটি এখন অনেক পথচারীবান্ধব। তাই অনেকেই এখন সময় করে সকাল-বিকেল হাঁটতে আসেন এখানে। সঙ্গে নিয়ে আসেন ছোটদের। হাঁটার ফাঁকেই চোখ বুলিয়ে নেন বীরশ্রেষ্ঠদের ছবি ও জীবনীতে। প্রাপ্তবয়স্কদের অনেকেও ম্যুরালে চোখ রাখেন। একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে বীরত্ব, অতুলনীয় সাহস ও আত্মত্যাগের নিদর্শন স্থাপনকারী যোদ্ধার স্বীকৃতিস্বরূপ সাত শহীদকে দেওয়া হয়েছে বীরশ্রেষ্ঠ খেতাব। খিলক্ষেতের খাঁপাড়া থেকে চিকিৎসা নিতে কুর্মিটোলা হাসপাতালে এসেছিলেন ফৌজিয়া আক্তার। সঙ্গে আসা নাতিকে নিয়ে চোখ বোলাচ্ছিলেন ম্যুরালগুলোতে।

মদ, সিগারেট সবই এল

চট্টগ্রাম বন্দরে শুল্ক গোয়েন্দাদের জালে আটকে পড়া দুটি চালানের ১২টি কনটেইনারের সব কটিতেই চোরাচালানের পণ্য পাওয়া গেছে। এসব কনটেইনারের ভেতরে ছিল বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সিগারেটের ৩ কোটি ৮৪ লাখ শলাকা, তিনটি ব্র্যান্ডের ৪ হাজার ৭৪টি এইচডি ও এলইডি টেলিভিশন, ১৬ হাজার ১৭০ বোতল মদ ও ২৮১টি ফটোকপি মেশিন। এসব পণ্যের দাম ১৩৪ কোটি টাকা। প্রাণিখাদ্য তৈরির যন্ত্র আমদানির আড়ালে এসব পণ্য আনা হয়েছে। গত রোববার চালানটির প্রথম ছয়টি কনটেইনার খুলে সিগারেট, মদ ও টেলিভিশন পাওয়া যায়। গতকাল সোমবার বাকি ছয়টি কনটেইনার খোলার পর ওই তিন পণ্যের সঙ্গে ফটোকপি মেশিন পাওয়া গেছে। বন্দর চত্বরে গতকাল দুপুরে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মইনুল খান সাংবাদিকদের বলেন, এত বড় জালিয়াতির ঘটনা কারও একার পক্ষে করা সম্ভব নয়। আমদানিকারক ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ছাড়াও এতে অনেকের ইন্ধন ছিল। এসব খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তিনি বলেন, বন্দর-কাস্টমসকে ব্যবহার করে অবৈধ পণ্য এনে এখন কেউ পার পাবে না। যারা সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করবে, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। দুটি চালানই এনেছেন ঢাকার খিলক্ষেত এলাকার খোরশেদ আলম নামে একজন আমদানিকারক। হিনান আনহুই এগ্রো এলসি ও এগ্রো বিডি অ্যান্ড জেপি নামের দুটি প্রতিষ্ঠানের নামে এসব পণ্য আনা হয়। দুই চালানের পণ্য সরবরাহ করেছে চীনের জমরাজ ইন্ডাস্ট্রিজ, যাদের সিঙ্গাপুরেও অফিস রয়েছে। দুই চালানের পণ্যের ঘোষণায় ছিল, এই ১২টি কনটেইনারে থাকবে প্রাণিখাদ্য প্রস্তুতের যন্ত্র। বাস্তবে একটি যন্ত্রও পাওয়া যায়নি। যা পাওয়া গেল শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলেন, দুই চালানে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সিগারেটের ৩ কোটি ৮৪ লাখ শলাকা পাওয়া গেছে। সিগারেট আমদানিতে শুল্কায়ন মূল্যের ওপর ৫৯৬ দশমিক ৯৭ শতাংশ শুল্ক-কর দিতে হয়। অর্থাৎ, সিগারেটের দাম ১০০ টাকা হলে শুল্ক-কর দিতে হবে ৫৯৬ দশমিক ৯৭ টাকা। আবার আমদানিনীতির শর্ত অনুযায়ী, সিগারেটের প্যাকেটে বাংলায় ‘ধূমপান স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর’ লেখা থাকতে হবে। জব্দ করা সিগারেটে তা না থাকায় এটি আমদানি নিষিদ্ধ পণ্য। জব্দ করা সিগারেটের মূল্য ৭৪ কোটি টাকা। সিগারেট ছাড়াও বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ৩২ থেকে ৯০ ইঞ্চি মাপের ৪ হাজার ৭৪টি এইচডি ও এলইডি টেলিভিশন পাওয়া গেছে। টেলিভিশনের শুল্ক-কর ৯০ শতাংশ।
আমদানি মূল্যসহ এসব টেলিভিশনের মূল্য প্রায় ৪৫ কোটি টাকা। এ ছাড়া নামী-দামি ব্র্যান্ডের মদ পাওয়া গেছে ১৬ হাজার ১৭০ বোতল। আমদানি মূল্যের ওপর মদের মোট শুল্ক-কর দিতে হয় ৬০০ শতাংশ। এর বাইরে ২৮১টি ফটোকপি মেশিন পাওয়া গেছে, যেগুলোর মূল্য ২ কোটি ৭১ লাখ টাকা। মদ ও ফটোকপি মেশিনের মূল্য প্রায় ১৫ কোটি টাকা। শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মইনুল খান বলেন, দুটি চালানে ১৩৪ কোটি টাকা বাজারমূল্যের পণ্য পাওয়া গেলেও ব্যাংকিং চ্যানেলে বড়জোর ১ কোটি টাকা পাঠানো হয়েছে। বাকি টাকা অবৈধ পথে দেশ থেকে পাচার করা হয়েছে। এই চালান আনার ঘটনায় মানি লন্ডারিং হয়েছে। চোরাচালানের ঘটনা ঘটেছে। কাস্টমস আইন ভঙ্গ হয়েছে। শুল্ক গোয়েন্দা সূত্র জানায়, চালান দুটি চট্টগ্রাম বন্দরে আসার অন্তত এক সপ্তাহ আগে থেকে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মইনুল খানের নেতৃত্বে একটি দল নজরদারি শুরু করে। আমদানিকারকও এসব পণ্য জাহাজ থেকে বন্দরে নামানোর পর দ্রুত খালাস করে নেওয়ার সব প্রক্রিয়া প্রায় গুছিয়ে আনেন। তবে শুল্ক গোয়েন্দাদের কৌশলে পরিকল্পনা ব্যর্থ হওয়ায় তা আবার ফেরত নেওয়ার জন্য বন্দর ও কাস্টমস কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেন আমদানিকারক।
সেই আবেদন নাকচ হওয়ার পরই আমদানিকারক ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের মালিক আত্মগোপনে চলে যান। গতকাল বন্দর চত্বরে কাস্টমস কমিশনার এ এফ এম আবদুল্লাহ খান সাংবাদিকদের বলেন, চালানটি খালাসে নিযুক্ত সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠান রাবেয়া অ্যান্ড সন্সের লাইসেন্স বাতিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের লাইসেন্সও বাতিল করা হচ্ছে। আমদানিকারক খোরশেদ আলমের দুটি প্রতিষ্ঠানের ঠিকানায় কারখানার অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি বলে জানান শুল্ক গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। কারখানা না থাকার পরও ব্যাংকে হিসাব ও ঋণপত্র খোলার বিষয়টিকে সন্দেহজনক হিসেবে দেখছেন তাঁরা। নথিপত্রে দেখা যায়, দুই চালানের ঋণপত্র খোলা হয়েছে আইএফআইসি ব্যাংক থেকে। বন্দর চত্বরে উপস্থিত থাকা আইএফআইসি ব্যাংকের ঢাকার নয়াপল্টন শাখার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মেহেদী হোসেন প্রথম আলোর কাছে দাবি করেন, ২০১৫ সালের ২৬ এপ্রিল এই প্রতিষ্ঠানের নামে হিসাব খোলা হয়। এরপর কেরানীগঞ্জের চরগলগলিয়া এলাকায় প্রতিষ্ঠানটির কারখানার প্রাথমিক অবকাঠামো দেখতে পান ব্যাংক কর্মকর্তারা। কারখানার অস্তিত্ব দেখেই শিল্পের যন্ত্র আমদানির ঋণপত্র খোলা হয় বলে তিনি দাবি করেন। কারখানা না থাকার পরও একই প্রতিষ্ঠানের যন্ত্রপাতি আমদানির ৭১টি কনটেইনার এর আগে কীভাবে খালাস হয়েছে, তারও তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শুল্ক গোয়েন্দা কর্মকর্তারা।

তিন পার্বত্য জেলায় শান্তিপূর্ণ হরতাল

পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইনের সংশোধনী বাতিল করাসহ বিভিন্ন দাবিতে বাঙালিদের দুটি সংগঠনের ডাকা সকাল-সন্ধ্যা হরতাল গতকাল সোমবার খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবানে শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়েছে। বাঙালি ছাত্র পরিষদ ও পার্বত্য নাগরিক পরিষদ এই হরতাল আহ্বান করে। স্থানীয় সূত্র জানায়, গতকাল সকাল ছয়টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত রাঙামাটি শহরের কলেজ গেট, বনরূপাসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বাঙালি ছাত্র পরিষদের নেতা-কর্মীরা অবস্থান নেন। হরতাল চলাকালে দূরপাল্লার ও অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন রুটের বাস চলেনি। শহরে অটোরিকশাও চলাচল করেনি। হরতাল চলাকালে রাঙামাটি শহরের অফিস-আদালত খোলা ছিল। তবে বিপণিবিতান ও ছোটখাটো দোকানপাট বন্ধ ছিল। সকাল ১০টায় হরতালের সমর্থনে বাঙালি ছাত্র পরিষদের নেতা-কর্মীরা রাঙামাটি শহরে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি শহরের কাঁঠালতলী ও বনরূপা এলাকা প্রদক্ষিণ করে। বিকেল পাঁচটায় বাঙালি ছাত্র পরিষদের নেতা-কর্মীরা শহরের বিএম বিপণিবিতানের সামনে থেকে আবারও মিছিল বের করেন। মিছিলটি বনরূপা পেট্রলপাম্প এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ হয়। রাঙামাটি জেলা বাঙালি ছাত্র পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীরের সভাপতিত্বে সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন বাঙালি ছাত্র পরিষদের সহসভাপতি মো. হাবিবুর রহমান, সহসাংগঠনিক সম্পাদক মো. নাজিম উদ্দিন, জেলা বাঙালি ছাত্র পরিষদের যুগ্ম সম্পাদক মো. শফি উল্লাহ ও লংগদু উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. বকুল। সমাবেশে মো. জাহাঙ্গীর বলেন,
রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজে চাকরির ক্ষেত্রে ও শিক্ষার্থীদের ভর্তিতে পার্বত্য কোটা চালু না করা পর্যন্ত বাঙালি ছাত্র পরিষদ আন্দোলন চালিয়ে যাবে। পার্বত্য নাগরিক পরিষদের সভাপতি মো. আলকাছ আল মামুন ভূঁইয়া বলেন, ‘দাবি পূরণ না হলে পার্বত্যবাসী আরও কঠোর কর্মসূচি দেবে। পার্বত্য চট্টগ্রামের সব সম্প্রদায়ের মানুষ আমাদের কর্মসূচির সঙ্গে একমত।’ কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রশিদ প্রথম আলোকে বলেন, হরতালে কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। শান্তিপূর্ণভাবে হরতাল শেষ হয়েছে। তিনি জানান, অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে শহরের বনরূপা, কলেজ গেটসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ছিল। এদিকে খাগড়াছড়িতেও শান্তিপূর্ণভাবে হরতাল শেষ হয়েছে। হরতাল চলাকালে খাগড়াছড়ি শহর থেকে দূরপাল্লার কোনো যানবাহন ছেড়ে যায়নি। তবে শহর এলাকায় অটোরিকশা চলাচল করেছে। দুপুরের পর থেকে দোকানপাটও খোলা ছিল।খাগড়াছড়ি সদর থানার ওসি তারেক মোহাম্মদ আবদুল হান্নান জানান, কোথাও কোনো ধরনের পিকেটিং হয়নি। পুলিশ ছিল সতর্ক অবস্থায়। বান্দরবান প্রতিনিধি জানান, হরতালে বান্দরবান শহর থেকে দূরপাল্লার যানবাহন ছেড়ে যায়নি। তবে শহরে জীবনযাত্রা ছিল স্বাভাবিক।

হঠাৎ বৃষ্টিতে লবণ উৎপাদন বন্ধ

কক্সবাজারে গতকাল সোমবার সকালের হঠাৎ বৃষ্টিতে বন্ধ হয়ে গেছে অন্তত ১০ হাজার একর জমির লবণ উৎপাদন। বিসিকের কক্সবাজার লবণ উন্নয়ন প্রকল্পের উপমহাব্যবস্থাপক মো. আবছার উদ্দিন প্রথম আলোকে জানান, গতকাল সকাল থেকে কক্সবাজার সদর, মহেশখালী, কুতুবদিয়া, পেকুয়া ও চকরিয়া উপজেলার বিভিন্ন স্থানে হালকা ও মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাত হয়েছে। এতে অনেক লবণ মাঠ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কী পরিমাণ মাঠ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তা মঙ্গলবার বলা যাবে। এখন জরিপকাজ চলছে। স্থানীয় সূত্রমতে, মহেশখালীতে পাঁচ হাজার একর, কক্সবাজার সদর উপজেলায় চার হাজার এবং পেকুয়া ও চকরিয়ায় প্রায় এক হাজার একর লবণ মাঠ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত মাঠ লবণ উৎপাদনের উপযোগী করতে সময় লাগবে ৮ থেকে ১০ দিন। স্থানীয় সূত্র জানায়, বৃষ্টিতে কক্সবাজার সদর উপজেলার খুরুশকুল ইউনিয়নের নয়াপাড়ার কয়েক শ একর জমির লবণ উৎপাদন বন্ধ গেছে। স্থানীয় লবণচাষি আবদুর রহমান বলেন, তাঁর উৎপাদিত প্রায় ২৬ মণ লবণ মাঠে রাখা ছিল। সকালের বৃষ্টিতে সব লবণ গলে গেছে।
মহেশখালীর কুতুবজোম, কালারমারছড়া, হোয়ানক ও বড় মহেশখালী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার লবণ মাঠ বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে। কুতুবজোমের লবণচাষি আবুল মনছুর বলেন, বৃষ্টির পানি সরিয়ে মাঠ লবণ উৎপাদনের উপযোগী করে তুলতে সময় লাগবে অন্তত আট দিন। কালারমারছড়া ইউনিয়নের চালিয়াতলি এলাকার লবণচাষি নুরুল আলম বলেন, ‘প্রায় তিন মাস ধরে পাঁচ একর জমিতে লবণ চাষ করছি। গত রোববার পর্যন্ত প্রায় এক হাজার মণ লবণ উৎপাদিত হয়েছে। আর মাঠে উত্তোলনের উপযোগী ছিল আরও এক শ মণ লবণ। কিন্তু সকালে ভারী বৃষ্টিতে সব লবণ গলে গেছে।’ বাংলাদেশ লবণ চাষি সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি আনোয়ার পাশা চৌধুরী বলেন, অন্তত পাঁচ হাজার একর জমিতে লবণ উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। বিসিক সূত্র জানায়, কক্সবাজারের সাত উপজেলায় চলতি মৌসুমে প্রায় ৬০ হাজার একর জমিতে লবণ উৎপাদিত হচ্ছে। চলতি মৌসুমে লবণ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৮ লাখ মেট্রিক টন। ৩ মার্চ পর্যন্ত উৎপাদিত হয়েছে প্রায় ৮ লাখ মেট্রিক টন। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে লবণ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ব্যাহত হতে পারে।

অ্যাসিডদগ্ধ নারীরা ফ্যাশন শোতে

সাতক্ষীরার ১৩ বছরের কিশোরী সোনালী খাতুন। জন্মের পর মাত্র ১৮ দিন বয়সে তার এক প্রতিবেশী চাচা অ্যাসিড মেরেছিলেন। সোনালীর মুখের চেহারা আসলে কেমন ছিল তা এখন আর বোঝার কোনো উপায় নেই। একই ঘটনায় সোনালীর মায়ের একটি চোখ নষ্ট হয়ে গেছে। আর বাবাও অ্যাসিডদগ্ধ হয়েছেন। সোনালীর বাবা নূর ইসলাম সরদার আর সোনালী এখন ঢাকায়। রাজধানীর আলো-ঝলমলে একটি হোটেলে এই বাপ-বেটি একসঙ্গে একটি ফ্যাশন শোতে অংশ নেবেন আজ মঙ্গলবার। গতকাল সোমবার রাজধানীর মতিঝিলে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ফ্যাশন ডিজাইনার বিবি রাসেলের অফিসে শুধু এই বাবা-মেয়ে নন, মোট ১৬ জন অ্যাসিডদগ্ধ নারী-পুরুষ বিভিন্ন গানের তালে তালে পা মেলাচ্ছেন। শুধু পা মেলানো না, গানের সঙ্গে নাচছেনও। ফ্যাশন শোতে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে আন্তর্জাতিক সংস্থা অ্যাকশন এইড বাংলাদেশ অ্যাসিডদগ্ধদের নিয়ে দেশে প্রথমবারের মতো ফ্যাশন শোর আয়োজন করেছে। ফ্যাশন শোটি পরিচালনা করছেন বিবি রাসেল। অ্যাসিডদগ্ধ ব্যক্তিরা হলেন অ্যাকশন এইড বাংলাদেশের সহায়তায় অ্যাসিডদগ্ধদের নিয়ে গঠিত নেটওয়ার্ক ‘সেতুবন্ধন গড়ি’র সদস্য। গতকাল চলছিল ফ্যাশন শোর চূড়ান্ত মহড়া। বিবি রাসেল নিজে সবাইকে দেখিয়ে দিচ্ছিলেন। মহড়া দিতে দিতেই বিবি রাসেল প্রতিবেদকের দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘স্টেজে দেখবেন ওঁরা একা একা কী করে। মাত্র তিনবারের মহড়ায় এই মানুষগুলো যা করেছেন, আমি সত্যিই অভিভূত। ২৭ ঘণ্টা জার্নি করে দেশে ফিরে সরাসরি অফিসে এসে মহড়া করাচ্ছি। এঁদের নিয়ে কাজ করতে পারছি বলে অ্যাকশন এইডকে ধন্যবাদ। বলা যায়, আমার একটি স্বপ্ন পূরণ হলো।’ কেন এই আয়োজন—এ প্রশ্নের উত্তরে বিবি রাসেল বলেন, ‘তাঁদের মধ্যে যে সাহস আছে তাকে জাগিয়ে তুলতেই এ আয়োজন। বলা যায়, পৃথিবীর কোনো দেশেই এর আগে অ্যাসিডদগ্ধদের নিয়ে এ ধরনের আয়োজন হয়নি।’ সাতক্ষীরার গঙ্গা দাসী যখন মহড়া দিচ্ছিলেন, তখন গানের তালে নাচ দেখে যে কেউ ভাববে তিনি প্রতিনিয়তই নাচেন। এক মুখ হেসে জানালেন, জীবনে প্রথমবারের মতো সবার সামনে কোনো গানের সঙ্গে নাচছেন। গর্ভে মেয়ের বয়স যখন তিন মাস তখন স্বামী পালিয়ে গেছেন ভারতে, পরে মারাও গেছেন। গঙ্গা দাসী অনেক সংগ্রাম করে মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন। গঙ্গা অ্যাসিডদগ্ধ হওয়ার কারণে সবাই তাঁর মেয়েকে বলত, ‘তোর মা খারাপ।’
১৯৮৮ সাল বা তারও আগের ঘটনা। জ্যোৎস্না বেগম বিয়ের ১৫ দিনের মাথায় অ্যাসিডদগ্ধ হন। স্বামী আগের স্ত্রী-সন্তানের কথা গোপন রেখে বিয়ে করেছেন, তাই দেখে জ্যোৎস্না ঘর করবেন না বলে জানান। এ অপরাধে স্বামী শাস্তি দেন। পরে আবার বিয়ে করেন জ্যোৎস্না। কিন্তু প্রায় ১১ বছর হলো ওই স্বামীও খোঁজ নেন না। তিন মেয়ে ও এক ছেলের মা জ্যোৎস্না বললেন, ‘এইখানে আইস্যা এগুলা কইরা খুব আনন্দ পাইছি।’ বরিশালের জেসমিন আক্তার এক চোখে দেখতে পান না। তাঁদের দোকানের কর্মচারী তাঁকে অ্যাসিড মারে। ২০০০ সালের ঘটনা। বর্তমানে জেসমিনের একটি মেয়ে আছে। এমএ পাস জেসমিন বললেন, ‘এখানে এসে সবার সামনে ফ্যাশন শোতে অংশ নেওয়ার জন্য মহড়া করছি। মনে অনেক সাহস পাচ্ছি। ভবিষ্যতে এই সাহসে ভর করে অনেকদূর যেতে পারব।’ সাতক্ষীরার সফুরাকে অ্যাসিড মারেন নিজের দেবর ও ভাশুর। সফুরা জানতেনই না, এভাবে জামাকাপড় গায়ে দিয়ে সবার সামনে হাঁটাই হচ্ছে একটা অনুষ্ঠান। তিনি বলেন, ‘ঢাকায় আসার পর যখন প্রথম জামা গায়ে দিই, কী যে ভয় পাইছিলাম। সারা রাত ঘুমাইতে পারি নাই।’ অ্যাকশন এইডে কর্মরত এবং অ্যাসিডদগ্ধদের নেটওয়ার্কের দায়িত্বপ্রাপ্ত অ্যাসিডদগ্ধ নুরুন্নাহার বললেন, ‘এই আয়োজনে সবাই মিলে অংশ নিতে পারায় খুব ভালো লাগছে।’ পাবনার কাকলী, সাতক্ষীরার নাসিমা, নার্গিস, কাসেদ আলী, ঈমান আলী, সাদেকুর রহমানসহ অন্যদেরও আছে জীবনের একেকটি গল্প। তবে তাঁরা যখন মহড়া দিচ্ছিলেন তখন মনে হচ্ছিল, তাঁরা তাঁদের অতীতকে ভুলে গেছেন বা ভুলে যেতে চান। মুখে হাসি কমে গেলেই বিবি রাসেল তা মনে করিয়ে দিচ্ছিলেন।

আইওআরএ সম্মেলনে যোগ দিতে জাকার্তা গেছেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশন (আইওআরএ) নেতাদের শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে তিন দিনের সরকারি সফরে গতকাল সোমবার ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তায় গেছেন। প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীদের বহনকারী বাংলাদেশ বিমানের ভিভিআইপি একটি ফ্লাইট সকাল ৮টা ৫৫ মিনিটে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়ন করে। বেলা ২টা ৫০ মিনিটে জাকার্তার হালিম পারদানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে ফ্লাইটটি। সেখানে প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানান সে দেশের নারীর ক্ষমতায়ন ও শিশু সুরক্ষাবিষয়ক মন্ত্রী ইউহানা সুসানা ইয়েমবাইস এবং জাকার্তায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল আজমল কবির।
প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলীসহ ৬০ সদস্যের একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল। সফরকালে প্রধানমন্ত্রী ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোকো ওইদোদো এবং শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট মৈত্রীপালা সিরিসেনার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন। তিনি আজ মঙ্গলবার সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান এবং নৌ-সহযোগিতা বিষয়ে একটি সাধারণ অধিবেশনে যোগ দেবেন। তিনি কাল বুধবার দেশে ফিরবেন।

পাটকে প্রধান কৃষিপণ্য ঘোষণার বাস্তবায়ন দাবি

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী পাটকে প্রধান কৃষিপণ্য হিসেবে সরকারি ঘোষণার দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন পাট ব্যবসায়ী ও শ্রমিকেরা। গতকাল সোমবার সকালে জাতীয় পাট দিবস উপলক্ষে আয়োজিত শোভাযাত্রা শেষে এ দাবি জানানো হয়। বাংলাদেশ জুট অ্যাসোসিয়েশন (বিজেএ) পাট দিবস উপলক্ষে নগরীতে শোভাযাত্রার আয়োজন করে। শোভাযাত্রায় নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন পাট কোম্পানিতে কর্মরত শ্রমিক, ব্যবসায়ী ও রপ্তানিকারকেরা অংশ নেন। শোভাযাত্রাটি নগরীর বঙ্গবন্ধু সড়কের বাংলাদেশ জুট অ্যাসোসিয়েশনের কার্যালয়ের সামনে থেকে বের হয়। এরপর এটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক ঘুরে বিজেএ কার্যালয়ের সামনে এসে শেষ হয়। বিজেএর পক্ষ থেকে পলিথিন ব্যবহার বর্জন করে পাটজাত পণ্যের বহুমুখী ব্যবহারের মাধ্যমে পাটের চাহিদা বৃদ্ধিতে গণসচেতনতা সৃষ্টির আহ্বান জানানো হয়। শোভাযাত্রা শেষে বিজেএর সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট দেলোয়ার হোসেন বলেন, গত বছর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পাট দিবস ঘোষণা করায় দেশে পাট ব্যবসা আবার জেগে উঠেছে। একসময়ের প্রাচ্যের ডান্ডি খ্যাত নারায়ণগঞ্জে আবারও পাট ব্যবসায়ের ব্যাপক সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী পাটকে প্রধান কৃষিপণ্য হিসেবে যে ঘোষণা দিয়েছেন, তা দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য তিনি সরকারের প্রতি দাবি জানান। একই সঙ্গে তিনি বলেন, পাট দিবসের শোভাযাত্রার মূল উদ্দেশ্য হলো পাটপণ্যকে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া ও পলিথিনকে বর্জন করার জন্য মানুষকে সচেতন করে তোলা। কারণ, পলিথিন দেশের পরিবেশ নষ্ট করে। পাট রপ্তানিকারক শহিদুল্লাহ সরকার বলেন, হাটবাজারে এবং ভোগ্যপণ্য বিক্রির প্রধান বাজারগুলোতে পাটপণ্যের মোড়ক ব্যবহার শতভাগ নিশ্চিত করা হলে এ শিল্পে আবার সুসময় ফিরে আসবে। কলগুলোতে পাটপণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে এখনো পাটশিল্পের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় তিন কোটি মানুষ জড়িত। শোভাযাত্রায় নেতৃত্ব দেন বিজেএর সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট দেলোয়ার হোসেন, কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য নুরুল হোসেন, গোপাল চন্দ্র তালুকদার, সামছুদ্দিন আহমেদ, তোফাজ্জল হোসেন, পাট রপ্তানিকারক শহীদুল্লাহ সরকার ও পাট শ্রমিকনেতা আবদুস সালাম। পাট দিবস উপলক্ষে শোভাযাত্রা ছাড়াও বিজেএর কার্যালয় বর্ণিল সাজে সাজানো হয়।

সোনারগাঁয়ের দুটি সড়কের একি হাল!

সামান্য বৃষ্টিতেই পানিতে ডুবে গেল নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার মেঘনাঘাট এলাকার দুটি সড়ক। খানাখন্দে ভরা এ সড়ক দুটিতে যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। এতে দুর্ভোগে পড়তে হয় সাধারণ মানুষকে। গত রোববার রাতে বৃষ্টির সময় এই অবস্থার সৃষ্টি হয়। এলাকাবাসী সূত্র জানায়, রোববার রাতের সামান্য বৃষ্টিতেই তলিয়ে যায় উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের ওই দুটি সড়ক। সড়ক দুটির মধ্যে বেশি গুরুত্বপূর্ণ মেঘনা সেতুর টোল প্লাজার পূর্ব পাশের সড়কটি। মেঘনা সেতু নির্মিত হওয়ার আগে এ সড়ক দিয়ে ফেরি পার হয়ে চট্টগ্রাম ও কুমিল্লাগামী সব ধরনের যানবাহন চলাচল করত। বর্তমানে এ সড়ক ব্যবহার করে মেঘনা লঞ্চঘাট পর্যন্ত সব ধরনের যানবাহন চলাচল করে। স্থানীয় বিভিন্ন শিল্পকারখানার মালবাহী ট্রাক ও লরিও চলাচল করে। তা ছাড়া মেঘনা লঞ্চঘাটের পাশে স্থানীয় মেঘনা শিল্পনগরী স্কুল অ্যান্ড কলেজ, প্রতাবনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, স্টার ফ্লাওয়ার স্কুলসহ পাঁচটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী এবং এলাকার চারটি গ্রামের মানুষ যাতায়াত করে। এদিকে মেঘনাঘাট ব্যাপারী মার্কেট থেকে ঝাউচর পর্যন্ত তিন কিলোমিটার সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না করায় এবং সড়কের পাশে নালা না থাকায় পানি সরতে পারছে না। এতে বৃষ্টির সময় সড়কের বিভিন্ন স্থানে হাঁটুসমান পানি জমে থাকে।
খানাখন্দে ভরা এ সড়ক দিয়ে যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। সড়কে পানি জমে থাকায় হেঁটেও মানুষ চলাচল করতে পারে না।গতকাল সোমবার দুপুরে সড়ক দুটিতে গিয়ে দেখা যায়, খানাখন্দে ভরা সড়ক দুটিতে পানি জমে আছে। বিভিন্ন যানবাহন ধীরগতিতে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। সড়কের ওপর বড় বড় গর্ত থাকায় রিকশা চলাচল করতে পারছে না। কাদা মাড়িয়ে এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীরা চলাচল করছে। ঝাউচর গ্রামের বাসিন্দা আবু হানিফ ও আলী নুর বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এ দুটি সড়ক মেরামত করা হয়নি। বর্ষা মৌসুমে দুই সড়ক দিয়ে চলাচল করা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের মহাব্যবস্থাপক কার্তিক চন্দ্র দাস বলেন, সড়কগুলো মেরামত না করার কারণে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় শিল্পকারখানার মালবাহী যানবাহন চলাচলে সমস্যা হচ্ছে। কারখানাগুলোর শ্রমিকেরা চলাচল করতে পারছেন না। সোনারগাঁ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আজহারুল মান্নান বলেন, ‘এ সড়ক দুটি দীর্ঘদিন ধরেই চলাচলের অনুপযোগী হয়ে আছে। সড়ক দুটি মেরামত করার জন্য আমি এলজিইডি এবং সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) প্রকৌশলীদের লিখিতভাবে অনুরোধ করেছি। কিন্তু তাঁরা কাজ বাস্তবায়নে এগিয়ে আসেননি।’ এলজিইডির সোনারগাঁ উপজেলা প্রকৌশলী আলী হায়দার খান বলেন, ‘আমরা সড়ক মেরামত করার জন্য প্রাক্কলন তৈরি করে এলজিইডির সদর দপ্তরে পাঠাব। সেখান থেকে অনুমতি পেলে দরপত্র বাস্তবায়ন করা হবে।’

অ্যাসিড–সন্ত্রাস কমলেও বিচার বিলম্বিত

দেশে অ্যাসিড-সন্ত্রাস কমলেও বিচার প্রক্রিয়া বিলম্বিত হচ্ছে। এর ফলে অ্যাসিড-সন্ত্রাসের শিকার হওয়া নারীরা বিষণ্ন ও হতাশ জীবন যাপন করছেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী গত ১৫ বছরে অ্যাসিড-সন্ত্রাসের মামলায় ১৪ আসামির মৃত্যুদণ্ড হয়েছে, কিন্তু কোনো মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়নি। এ ছাড়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়েছে ১১৮ জনের। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় ১ হাজার ৮৬৫ জন আসামি খালাস পেয়েছেন। অ্যাসিড সারভাইভারস ফাউন্ডেশনের (এএসএফ) তথ্য অনুযায়ী, ২০০২ সালে সর্বোচ্চসংখ্যক ৪৯৪টি ঘটনায় ৪৯৬ জন অ্যাসিড-সহিংসতার শিকার হয়েছিলেন। এখন এই সংখ্যা কমে এসেছে। গত দুই বছরে অ্যাসিড-সন্ত্রাসের ঘটনা ছিল ৭৪টি করে। ২০১৬ সালে অ্যাসিড হামলার সংখ্যা ৪৪। আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে এই সংখ্যা সবচেয়ে বেশি ছিল, অন্তত সাতটি করে। এসব ঘটনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৫০ জন। এর মধ্যে একজন নারী মারা গেছেন। অ্যাসিড-সন্ত্রাসের শিকার ৩০ জন নারী ও তাঁদের স্বজনদের সঙ্গে কথা হয় প্রথম আলোর। বিচার বিলম্বিত হওয়ায় তাঁরা হতাশার কথা জানিয়েছেন। অথচ অ্যাসিড অপরাধ দমন আইন, ২০০২ অনুযায়ী ৯০ কর্মদিবসের মধ্যে মামলার বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার কথা। অ্যাসিড-সন্ত্রাসে ঝলসে যাওয়া কুমিল্লার ফারজানা আক্তার হাসপাতালে ২২ দিন মৃত্যুযন্ত্রণায় ভুগে মারা যায়। এ ঘটনায় তার বাবা দাউদকান্দি থানায় একটি মামলা করেন। প্রায় পাঁচ বছর পার হয়ে গেলেও মামলাটি এখনো চলমান। বিচারকাজ কবে শেষ হবে তা কেউ জানে না।
ফারজানা যখন মারা যায়, তখন তার বয়স ছিল ১৫ বছর। তার বড় বোন মাকসুদা আক্তার প্রথম আলোকে বলেন, ‘বোনটা সবার চোখের সামনে মারা গেল, কিন্তু বিচার পেলাম না।’ মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ফারজানা দাউদকান্দির ড. মোশাররফ হোসেন ইসলামিয়া রহমানিয়া দাখিল মাদ্রাসার নবম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। পাশের গ্রাম জামালকান্দির সাদ্দাম হোসেন ও মাদ্রাসাশিক্ষক দেলোয়ার হোসেন তাকে যৌন হয়রানি করে এবং বিয়ের প্রস্তাব দেন। ফারজানা রাজি না হওয়ায় দেলোয়ার ক্ষিপ্ত হয়ে বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধমকি দিতে থাকেন। তিনি বলেন, ‘এমন কাজ করব যে নিজের চেহারা দেখতেও ভয় পাবি।’ এর কিছুদিন পরই অ্যাসিড-সন্ত্রাস চালানো হয়। অ্যাসিড-সন্ত্রাসের শিকার সিলেটের শারমিন আক্তার প্রথম আলোকে বলেন, ‘সাত বছর ধরে দৌড়াচ্ছি, খালি মামলার তারিখ দেয়। আমার ৩ লাখ টাকা এ পর্যন্ত খরচ হয়েছে। তবু বিচার পাই না।’ খুলনার নাছিমা আক্তার বলেন, ‘আমার গায়ে অ্যাসিড দেওয়ার পর দুটি মামলা হয়েছিল। এরপর একটি মামলা খারিজ হয়ে যায় সাক্ষীর অভাবে। এখন এই মামলা বিলম্ব হওয়ার কারণে সাক্ষীরা আসতে চান না। সারা শরীর ঝলসানো বলে আমি সবার কাছে ঘৃণার পাত্রী।’ সরকারি হিসাব অনুযায়ী ২০০২ থেকে ২০১৭ সালের জানুয়ারি মাস পর্যন্ত অ্যাসিড-সন্ত্রাসের ঘটনায় সারা দেশে মামলা হয়েছে ২ হাজার ৮০টি। অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি দাবি করে ৮২৯টি মামলায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়েছে পুলিশ। এর মধ্যে সাজাপ্রাপ্ত মামলার সংখ্যা মাত্র ১৮৮। এ বিষয়ে জানতে চাইলে মানবাধিকারকর্মী ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা সুলতানা কামাল বলেন, পুলিশ প্রভাবিত হয়ে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়। রাষ্ট্রের চোখে সবাই সমান হলেও কার্যক্ষেত্রে তা দেখা যায় না। অপরাধীরা চোখের সামনে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে না। সাক্ষীদের সুরক্ষা না থাকার কারণে তাঁরা ঠিকমতো আদালতে হাজির হন না। এ কারণে বিচার বিলম্বিত হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান বলছে, অ্যাসিড-সন্ত্রাসের মামলাগুলোর বেশির ভাগ আসামিই খালাস পেয়ে গেছে। মাত্র ২৫ শতাংশ মামলায় অভিযুক্তদের সাজা হয়েছে। প্রতি চারজন আসামির তিনজনই খালাস পেয়েছে। অর্থাৎ, চারজন আক্রান্ত নারীর তিনজনই বিচার পাননি।
৮৮ শতাংশ অভিযুক্ত ধরা পড়েনি
২০০২ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত অ্যাসিড মামলায় অভিযুক্তের সংখ্যা ছিল ৫ হাজারের বেশি। এর মধ্যে মাত্র ১২ শতাংশ মামলায় অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয়। বাকি ৮৮ শতাংশ অভিযুক্ত পুলিশের ধরাছোঁয়ার বাইরে। পরিসংখ্যান বলছে, ১৯৯৯ থেকে ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে অ্যাসিড-সন্ত্রাসের ঘটনা ঘটেছে ৩ হাজার ৩৪৭টি। এসব ঘটনায় অ্যাসিডে দগ্ধ হয়েছেন ৩ হাজার ৭০৪ জন। অ্যাসিড হামলা হয়েছে ৩ হাজার ৭১২ বার। এএসএফের নির্বাহী পরিচালক সেলিনা আহমেদ বলেন, দীর্ঘসূত্রতা ও সময়ক্ষেপণের কারণে অ্যাসিড মামলার অপরাধীরা ছাড়া পেয়ে যাচ্ছে। এমনকি তাদের অনেকে আবার উল্টো আক্রান্ত ব্যক্তির পরিবারকে হুমকি দিচ্ছে। অ্যাসিড-সন্ত্রাসের ঘটনা পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, হামলাকারীদের বেশির ভাগই ভুক্তভোগীর পূর্বপরিচিত, স্বামী, প্রেমিক অথবা আত্মীয়। আর নারীর ওপর অ্যাসিড নিক্ষেপকারী সবাই পুরুষ। তবে অ্যাসিডের সহজলভ্যতায় বর্তমানে শুধু নারীই সন্ত্রাসের শিকার হচ্ছেন না, পুরুষ এমনকি ছোট শিশুর জীবনও বিপন্ন হচ্ছে। প্রেমসংক্রান্ত কারণ ছাড়িয়ে এখন শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনে বাধা দেওয়া, যৌতুক ও জমি নিয়ে বিরোধ অথবা রাজনৈতিক কোন্দলের অস্ত্র হিসেবেও অ্যাসিড ব্যবহৃত হচ্ছে। আবার অ্যাসিড-সন্ত্রাসের ধরনও পাল্টেছে। সম্প্রতি কয়েকটি ঘটনায় দেখা গেছে, আগে আহত করে পরে অ্যাসিড নিক্ষেপ করা হচ্ছে। জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল প্রথম আলোকে বলেন, অ্যাসিড-সংক্রান্ত মামলার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট জেলা কমিটির ও জেলার সরকারি কৌঁসুলিকে বিশেষ যত্নবান হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অপরাধীদের দ্রুত সাজার আওতায় আনতে এবং মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির ব্যাপারে তদারকি চলছে। তিনি বলেন, অধিকসংখ্যক মামলার ক্ষেত্রে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়ার বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে নানা ধরনের ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। তারা বলতে চাইছে, ব্যাটারির পানিকেও কেউ কেউ অ্যাসিড বলেছে, আবার অনেক ক্ষেত্রে সাক্ষী পাওয়া যায়নি।
অ্যাসিড সহজলভ্য
দেশের কিছু এলাকায় এখনো চাইলেই অ্যাসিড সংগ্রহ করা যায়। মূলত ক্ষুদ্র ব্যবহারকারীদের কাছ থেকেই অ্যাসিড সংগ্রহ করে আক্রমণকারীরা। সোনার দোকান, আসবাবপত্রের দোকান, মাইকের দোকান, ব্যাটারির দোকান থেকে অ্যাসিড সংগ্রহের নজির বেশি। এসব ব্যবহারকারীর বেশির ভাগের অ্যাসিড ব্যবহারের লাইসেন্স না থাকার অভিযোগ রয়েছে। আইন অনুযায়ী লাইসেন্সের শর্ত পালন না করে কোনো অ্যাসিড উৎপাদন, আমদানি, পরিবহন, মজুত, বিক্রয় বা ব্যবহার করলে বা দখলে রাখলে শাস্তি হিসেবে ৩ থেকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং অতিরিক্ত ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডের বিধান আছে। কিন্তু দেশের বিভিন্ন এলাকায় লাইসেন্স ছাড়াই চলছে এর কেনাবেচা ও ব্যবহার।

ডেইলি সান-এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক আমির হোসেন আর নেই

ইংরেজি দৈনিক ডেইলি সান-এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা আমির হোসেন (৭৩) হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে গতকাল সোমবার দুপুরে রাজধানীর একটি হাসপাতালে ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তিনি স্ত্রী, এক মেয়ে ও অনেক গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তাঁর মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শোক প্রকাশ করেছেন। আমির হোসেন গত রোববার বুকে ব্যথা অনুভব করলে তাঁকে দ্রুত অ্যাপোলো হাসপাতালে নেওয়া হয়।
সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল দুপুর ১২টার পর চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া কম্পাউন্ডে গতকাল দুপুরে আমির হোসেনের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয় বিকেল ৪টায় জাতীয় প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে। সেখানে আমির হোসেনের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন মন্ত্রী, সাংসদ, রাজনৈতিক ও গণমাধ্যমের নেতাসহ বিশিষ্টজনেরা। আজ মঙ্গলবার সকালে আমির হোসেনের মরদেহ মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলার ক্রোকচর গ্রামে নেওয়া হবে। সেখানে বাদ জোহর জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁর মরদেহ দাফন করা হবে। তিনি পাকিস্তান আমলে সাংবাদিকতা শুরু করেন দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকায় চাকরির মধ্য দিয়ে। এরপর বাংলার বাণী, জয়বাংলা, বাংলাদেশ টুডেসহ বেশ কয়েকটি দৈনিক ও সাপ্তাহিকের সম্পাদকসহ গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

ঐতিহাসিক ৭ মার্চ আজ

আজ ঐতিহাসিক ৭ মার্চ। ১৯৭১ সালের এই দিনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের যুগান্তকারী ভাষণের স্মারক হিসেবে দিনটি অবিস্মরণীয় হয়ে আছে। ১৯৭১ সালের এই দিনে তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানের (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) বিশাল জনসমাবেশে দেওয়া ওই ভাষণে বঙ্গবন্ধু বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতাযুদ্ধের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
বিশাল জনসমুদ্রে দাঁড়িয়ে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করার আহ্বানের অধীর অপেক্ষায় ছিল বাঙালি জাতি। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের উদ্দীপ্ত ঘোষণায় বাঙালি জাতি পেয়ে যায় স্বাধীনতার দিকনির্দেশনা। স্বাধীনতার যে ডাক বঙ্গবন্ধু দিয়েছিলেন, তা বিদ্যুৎ-গতিতে দেশে ছড়িয়ে পড়ে। সেদিন বিকেল ৩টা ২০ মিনিটে বঙ্গবন্ধু রেসকোর্স ময়দানে উপস্থিত হন। লাখো মানুষের উপস্থিতিতে ময়দান ছিল কানায় কানায় পূর্ণ। স্লোগান ছিল ময়দানজুড়ে, ‘পদ্মা মেঘনা যমুনা, তোমার আমার ঠিকানা’। উপস্থিত জনতাকে বঙ্গবন্ধু যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। প্রায় ১৯ মিনিটের ভাষণে তিনি ইতিহাসের পুরো ক্যানভাসই তুলে ধরেন। তিনি বলেছিলেন, ‘প্রত্যেক ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলো। তোমাদের যা কিছু আছে, তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবিলা করতে হবে।’ প্রকৃতপক্ষে জাতির উদ্দেশে দেওয়া বঙ্গবন্ধুর ওই ভাষণই ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা। এরপরই দেশের মুক্তিকামী মানুষ ঘরে ঘরে চূড়ান্ত লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিতে শুরু করে। লেখক ও ইতিহাসবিদ জ্যাকব এফ ফিল্ডের বিশ্বসেরা ভাষণ নিয়ে লেখা উই সেল ফাইট অন দ্য বিস: দ্য স্পিস দ্যাট ইন্সপায়ার্ড হিস্ট্রি গ্রন্থে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ স্থান পেয়েছে। অসংখ্য ভাষায় অনূদিত হয়েছে এই ভাষণ। রাষ্ট্রীয়ভাবে আজকের দিনটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করা হবে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন ৭ মার্চ উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। দিনটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি তাঁর বাণীতে বলেন, ১৯৭১ সালের এদিন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রেসকোর্স ময়দানে বজ্রকণ্ঠে যে ঐতিহাসিক ভাষণ দিয়েছিলেন, তার মধ্যে নিহিত ছিল বাঙালির মুক্তির ডাক। তাঁর অনন্যসাধারণ নেতৃত্বে বাঙালি জাতি পায় স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর বাণীতে বলেন, বাঙালির বীরত্বপূর্ণ সংগ্রাম ও সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে জাতির পিতার ৭ মার্চের ভাষণের দিকনির্দেশনাই ছিল সে সময় বজ্রকঠিন জাতীয় ঐক্যের মূলমন্ত্র।
অসীম ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত বাংলাদেশের স্বাধীনতাসংগ্রামের অমিত শক্তির উৎস ছিল এ ঐতিহাসিক ভাষণ। যার আবেদন কোনো দিনই ম্লান হবে না। দিনটি উপলক্ষে আওয়ামী লীগের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে আজ মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ছয়টায় বঙ্গবন্ধু ভবন ও দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, সকাল সাতটায় বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন। সকাল আটটায় দেশের সব ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, পৌরসভা, থানা, উপজেলা, মহানগর ও জেলার প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ প্রচার এবং সভা-সমাবেশের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয়ভাবে প্রতিবছরই বিকেলে সমাবেশ করে থাকে। এবার কেন্দ্রীয় সমাবেশ করা হবে না। দলের নেতারা জানিয়েছেন, যানজটের কথা বিবেচনা করে এখন থেকে ঢাকার রাস্তা ও মাঠে বড় সমাবেশ থেকে বিরত থাকবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এক বিবৃতিতে ঘোষিত কর্মসূচি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের জন্য দলটির সব স্তরের নেতা-কর্মী ও দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

ভাষণটি ছিল বাংলার মানুষের হৃদয়ের অনুরণন by নূরে আলম সিদ্দিকী

১৯৭১-এর ৭ই মার্চে বঙ্গবন্ধুর ভাষণটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের পরিপূর্ণ  প্রতীতি ও প্রত্যয় সৃষ্টির লক্ষ্যে সমস্ত জাতীয় চেতনাকে এক অটুট বন্ধনে আবদ্ধ ও অঙ্গীকারবদ্ধ করেছিল। ভাষণটি গোটা জাতিকে এমনভাবে উদ্বেলিত করেছিল যে, পৃথিবীর কোনো একক বক্তৃতায় এরূপ দৃষ্টান্ত আদৌ খুঁজে পাওয়া যাবে না। অনেকেই আবেগাপ্লুত হৃদয়ে, অভিভূত চিত্তে ভাষণটিকে গ্যাটিসবার্গে আব্রাহাম লিঙ্কনের বক্তৃতার সঙ্গে তুলনা করে থাকেন। আমি এই তুলনাটি করতে নারাজ। কারণ দুটি বক্তৃতার প্রেক্ষাপট এবং আঙ্গিক ছিল ভিন্নতর। গৃহযুদ্ধ সমাপ্ত আমেরিকার গৌরবদীপ্ত মঞ্চে দাঁড়িয়ে আব্রাহাম লিঙ্কন ওই ভাষণটি দিয়েছিলেন। সামাজিক দুর্যোগের মেঘ সরে গিয়ে যখন আমেরিকার পূর্ব দিগন্তে হাস্যোজ্জ্বল সূর্য উদ্ভাসিত তখন আমেরিকার বিজয়ী নেতা সারা বিশ্বের জন্য জগৎখ্যাত ভাষণটি দেন। কিন্তু ৭ই মার্চের প্রেক্ষাপটটি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। বাংলার দিগন্ত বিস্তৃত আকাশ ছিল ঘন কালো মেঘে ঢাকা। একদিকে নিদারুণ অনিশ্চয়তা, অন্যদিকে বুকভরা প্রত্যাশা। স্বাধীনতার উচ্ছ্বাস ও আকাঙ্ক্ষা তখন পরাধীনতার বক্ষ বিদীর্ণ করার জন্য উদগ্রীব। বাংলার মানুষের এই প্রত্যাশাকে সামনে রেখেই ৭ই মার্চের ভাষণটি প্রদত্ত। এখানে অবশ্যই উল্লেখ্য যে, হরতাল, অসহযোগ, অবরোধের মধ্য দিয়ে অহিংস ধারাকে অব্যাহত রেখে চলছিল নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন। এর আগে ৩রা মার্চ স্বাধীন বাংলা কেন্দ্রীয় সংগ্রাম পরিষদের সভায় বঙ্গবন্ধু অহিংস ও সুশৃঙ্খলভাবে এবং নাশকতার সম্পর্কে সতর্ক থেকে আন্দোলন এগিয়ে নেয়ার আহ্বান জানান।
জনান্তিকে জানিয়ে রাখি, বাংলাদেশের সমগ্র জনগোষ্ঠীই স্বাধীনতার প্রত্যয়ে সুদৃঢ় থাকলেও মূল রাজনীতির স্রোতধারায় তিনটি অভিমত তখনো কমবেশি সক্রিয় ছিল। আওয়ামী লীগের রক্ষণশীল একটি ভাগ তখনো ধারণা পোষণ করতেন, ২৩ বছর পর সরকার গঠনের সুযোগ যখন পেয়েছি তখন সরকার গঠনের পর সমস্ত শোষণের হিসাব পাই পাই করে বুঝে নিয়ে ওদেরকে আমরা নিজেরাই ‘খোদা হাফেজ’ দিয়ে দেব। হয়তো তাদের জন্যই বঙ্গবন্ধুর ভাষণে ছিল, ১৯৫৪ সালে জয়লাভ করেও আমরা গদিতে বসতে পারি নাই। (অর্থাৎ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও ওরা আমাদের ক্ষমতা দেবে না)। আরেক দল যারা কোনো অবস্থাতেই গণতান্ত্রিক ধারার আন্দোলনের সফলতার সৈকতে পৌঁছাতে পারে এই চেতনাটিতে বিশ্বাস করতেন না, বরং ’৭০-এর নির্বাচনের ম্যান্ডেট আদায়ের প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে উচ্চকিত কণ্ঠে আওয়াজ তুলতেন। বলতেন, ‘ভোটের কথা বলে যারা, ইয়াহিয়া খানের দালাল তারা’, ‘বাংলার অপর নাম, ভিয়েতনাম ভিয়েতনাম’, ‘মুক্তির একই পথ, সশস্ত্র বিপ্লব’, ‘ভোটের বাক্সে লাথি মার, বাংলাদেশ স্বাধীন কর’, ‘নির্বাচন নির্বাচন, প্রহসন, প্রহসন’। তারা চেয়েছিলেন, ৭ই মার্চে বঙ্গবন্ধু একতরফাভাবে জনগণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের নাম ঘোষণা করবেন। কিন্তু বঙ্গবন্ধু তা করলেন না। তিনি প্রখর থেকে প্রখরতর রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও দূরদর্শিতার পরিচয় দিয়ে চারটি শর্ত দিলেন সরকারকে। তৃতীয়ত ছিলাম আমরা। যারা বন্দুকের নলকে শক্তির উৎস হিসেবে কোনোদিনই বিশ্বাস করিনি। আমরা আমাদের শক্তির উৎস হিসেবে পেন্টাগন, ক্রেমলিন অথবা দিল্লির দুর্গকে কোনোদিনই ভাবিনি। মানুষের সমর্থনই আমাদের স্বাধীনতা অর্জনের মূল শক্তি মনে করেছি। মানুষের বুক-নিসৃত আশীর্বাদই আমাদের ’৭০-এর নির্বাচনের সপক্ষে ম্যান্ডেট এনে দিতে পারবে- এই প্রত্যয়ে উজ্জীবিত ছিলাম। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, আমাদের বিশ্বাসটি স্বগৌরবে সত্য প্রমাণিত হয়েছে। বঙ্গবন্ধু তিনটি শক্তিকেই অত্যন্ত সুকৌশলে পোষ মানিয়ে নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়েছিলেন। তা সত্ত্বেও আমাদের বিশ্বাস ও প্রতীতির প্রতি তার আস্থা নিরঙ্কুশ ছিল। তার সমস্ত সত্তায় বাংলার মানুষের হৃদয়ের অনুরণন অনুরণিত হতো। তাই তো তিনি ৭ই মার্চের ভাষণে বলতে পারলেন- ‘আমি প্রধানমন্ত্রিত্ব চাই না, আমি বাংলার মানুষের অধিকার চাই’। এ কারণেই স্বাধীনতা-উত্তরকালে সব ষড়যন্ত্রের জালকে ছিন্ন করে তিনি বাংলার মানুষকে একটি অদৃশ্য ঐক্যের রাখি বন্ধনে বাঁধতে পারলেন। ৭ই মার্চের ভাষণে তার অকুতোভয় চিত্ত বজ্রনির্ঘোষে ঘোষণা দিল, রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরো দেব। তবুও বাংলার মানুষকে মুক্ত করে ছাড়ব ইনশাআল্লাহ। অন্যদিকে বিচ্ছিন্নতার অপবাদ থেকে নিজেকে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে তিনি নিরাপদ রাখলেন। কৌশলী শব্দ প্রয়োগে বলতে পারলেন- আমি যদি হুকুম দেবার না-ও পারি, তোমাদের যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবিলা কর। তিনি আরো বলেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’। ভাষণটি শুধু সাধারণ বাঙালিদেরই নয়, রাজনৈতিক নেতৃত্বকেও এমনভাবে উজ্জীবিত করেছিল যে ’৭০-এর নির্বাচনে অংশ না নেয়া মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীও বঙ্গবন্ধুর ওপর অকৃত্রিম আস্থা রাখলেন। তিনি ১১ই মার্চ পল্টন ময়দানে এবং ১৭ই মার্চ রংপুরের জনসভায় বললেন, ‘আমার মজিবরকে অবিশ্বাস করিও না। তাহার নেতৃত্বেই দেশ ও জাতি মুক্ত হইবে’। এনডিএফ-এর নেতা মরহুম নুরুল আমীন সাহেব ১০ তারিখের গোলটেবিল অস্বীকার করে বললেন, শর্তহীনভাবে শেখ মুজিবের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করুন।
৭ই মার্চের ভাষণের বিশ্লেষণে আমার প্রত্যয়দীপ্ত বিশ্বাসটিকে উন্মোচিত করার জন্য আমি একটি তথ্য উপস্থাপন করতে চাই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলার জনাকীর্ণ এক সম্মেলনে একজন বিদেশি সাংবাদিক (সম্ভবত, মার্ক টালি) প্রশ্ন করলেন, আপনাদের নেতা, যাকে আপনারা জাতির পিতা ঘোষণা করেছেন, তিনি ৭ই মার্চের ভাষণে যে চারটি প্রস্তাব উপস্থাপন করেছেন সেই চারটি প্রস্তাব পরিপূর্ণ মেনে নিলেও পাকিস্তানের অস্তিত্ব টিকে থাকে। বাংলাদেশ পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন পেলেও স্বাধীনতা তো অর্জিত হয় না। আপনারা তো স্বাধীনতার সুস্পষ্ট প্রত্যয় ও প্রতীতি ঘোষণা করে আন্দোলন করছেন। যদি ইয়াহিয়া খান চারটি প্রস্তাবই পরিপূর্ণভাবে মেনে নেন তখন আপনাদের অবস্থান কি হবে? আপনারা কি বঙ্গবন্ধুর নির্দেশ অমান্য করে স্বাধীনতার দাবি অব্যাহত রাখবেন? নাকি আন্দোলনের গতি স্তিমিত করে দেবেন। স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের তরফ থেকে আমি উত্তর দিয়েছিলাম। বলেছিলাম, অপেক্ষায় থাকুন। ইতিহাস প্রমাণ করবে। ভয়ভীতি, নির্যাতন, নিগ্রহের আতঙ্ক অথবা কোনো প্রাপ্তি ও প্রত্যাশা ৭ই মার্চের প্রদত্ত স্বাধীনতার উদাত্ত আহ্বান থেকে বঙ্গবন্ধুকে একবিন্দু নড়াতে পারবে না। আমরা যে কর্মসূচি পালন করেছি, করছি এবং আগামীতেও করব সেটি তারই নির্দেশে। আমরা তারই চিন্তায় শানিত, তারই চেতনার উত্তরাধিকারী। বঙ্গবন্ধুর রাজনীতির সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো, এখানে তিনি অনন্য সাধারণ; মানুষ ও জনগণের নাড়ির স্পন্দন তিনি বুঝতে পারেন। তার আঙ্গিকেই তিনি কর্মসূচি দেবেন। ৭ই মার্চেও ঘোষণাটি সাড়ে সাত কোটি মানুষের চিন্তা-চেতনা, প্রত্যাশা ও প্রত্যয়ের অভিব্যক্তি। এই স্বাধীনতা ও মুক্তির আন্দোলনে যেকোনো সশস্ত্র আক্রমণকে আমরা মোকাবিলা করব তারই নির্দেশে, ইঙ্গিতে এবং নেতৃত্বকে অনুসরণ করে।
নতুন প্রজন্ম আমাকে প্রশ্ন করতে পারে, সেই সশস্ত্র সংগ্রামে তো আপনারা যেতে বাধ্য হলেন, তাহলে ৭ই মার্চ  থেকে ২৫শে মার্চ পর্যন্ত তাদের সংগঠিত হওয়ার সুযোগ দিলেন কেন? ঐতিহাসিক বাস্তবতার আঙ্গিকে আমি পুনরায় উল্লেখ করতে চাই, পাকিস্তানের বর্বরোচিত সামরিক জান্তার শক্তির উৎস ছিল অস্ত্র ও অর্থ। তাদের চলার পথের বাহন ছিল ষড়যন্ত্র। আর আমাদের শক্তির উৎস ছিল বাংলার জনগণ। তারা অস্ত্র আনছে, সংগঠিত হচ্ছে, চট্টগ্রামে অস্ত্র খালাস হচ্ছে। জয়দেবপুরে প্রতিরোধ গড়ে উঠছে। কিন্তু আমরা আস্তে আস্তে একেকটি অবরোধ, অসহযোগ, হরতালের কর্মসূচি দিয়ে নিরবচ্ছিন্ন ধারায় জনগণকে সংগঠিত করতে পেরেছিলাম বলেই ২৫শে মার্চের পৈশাচিক আক্রমণে মানুষ অকুতোভয়ে একযোগে মৃত্যুর সঙ্গে আলিঙ্গন করে প্রতিরোধ গড়ে তোলার সাহস পেয়েছিল। বাঙালি জাতির সর্বস্তরের মানুষ- ছাত্র, শিক্ষক, শ্রমিক, জনতা, সৈনিক, পুলিশ রাজনৈতিক মতভেদ ভুলে গিয়ে একটি মিলনের মোহনায় একত্রিত হতে পেরেছিল। ফলে এই নিরীহ, নিরস্ত্র মানুষ আগ্নেয়গিরির উত্তপ্ত লাভার মতো বিস্ফোরিত হয়ে উঠেছিল। বঙ্গবন্ধু তার অবর্তমানেই প্রজ্বলিত করতে পেরেছিলেন মুক্তিকামী জনতার ঐক্যের দাবানল। নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধে কোনো অপপ্রচারই সেই ঐক্যে চির ধরাতে পারেনি। বিশ্বজনমতকে বিভ্রান্ত করতে পারেনি। এটাই ছিল আমাদের জনশক্তিকে উজ্জীবিত করার সফলতা।
লেখক : স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের নেতা

রাজাবিহীন রাজ্যে রাণীর দুঃখ by রোকনুজ্জামান পিয়াস

আলাদা জগৎ। অন্য দুনিয়া। যে দুনিয়ায় কিশোরী আর কুমারীর মর্যাদা বেশি। আছে বয়স্করাও। সেই দুনিয়ায় রাজাবিহীন রাণীর দাপট। তবে ওই দুনিয়ার স্বাদ নিতে আসে পুরুষ। কিশোর, যুবক থেকে শুরু করে বয়স্করাও। নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বাসিন্দা হন ওই দুনিয়ার। সেই দুনিয়ার দাপুটে রাণী এখন ক্লান্ত। অবসান চান সবকিছু থেকে। রাজ্য ছেড়ে বেরিয়ে আসতে চান খোলা ময়দানে। মিশে যেতে চান সমাজে। দীর্ঘ ১০ বছর শাসন করেছেন, শোষণ করেছেন যে রাজ্য, সে রাজ্য এখন কেন ত্যাগ করতে চাইছেন তিনি? সে অনেক কথা। এর আগে তার মুখে শোনা যাক রাজ্য শাসনের কথা-    বলেন, ঢাকা ও ঢাকার আশেপাশে বড় ফ্ল্যাট ভাড়া করে থাকছি। উঠাবসাও সমাজের বিত্তবান ও উচ্চ পেশার লোকজনদের সঙ্গে। নেটওয়ার্ক দেশের নানা প্রান্তে। কখনো কখনো দেশের সীমানাও পেরিয়ে গেছে সেই নেটওয়ার্ক। কেউ অর্থের প্রয়োজনে, কেউ শরীরের চাহিদা মেটাতে আবার কেউ প্রতারণার শিকার হয়ে পা রাখেন এই জগতে। আমি এই জগতেরই রাণী। আমাকে ঘিরেই যৌনকর্মীরা দেহব্যবসা করে যাচ্ছে নিরাপদে। আমার এ পরিচয় অজানা সমাজের চেনামুখ ও আত্মীয়-স্বজনের কাছে। তাদের কাছে এখনো আমি সাদাসিধে গৃহবধূই। তারা জানেন, চাকরি করছি কোন এক প্রতিষ্ঠানে। কেউ জানেন, বিদেশে লোক পাঠাই। এ পথে আসা জীবনের কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়ে। সে কাহিনীও শোনাবো আপনাদের। তবে এ রাজ্য ঘৃণার রাজ্য। কলঙ্কিত এক রাজ্য। বলেন, অপরাধ আমাকে কুরে কুরে খাচ্ছে। একাধিকবার অন্ধকারের এই গলি থেকে বেরও হতে চেয়েছি। কিন্তু বাস্তবতা সে সুযোগ দেয়নি। এখন হাঁপিয়ে উঠেছি। চিরদিনের জন্য ছেড়ে দিতে চাই এ রাজ্য। বলেন, আমার দুই মেয়ে বড় হয়েছে। একজন ইতিমধ্যে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ডিপ্লোমা শেষ করেছে। আরেক মেয়ে পড়ছে ৮ম শ্রেণিতে। তাদের সমাজে সম্মানের সঙ্গে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই। অথচ একদিন তাদের ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়েই ঘৃণিত এই জগতের মহারাণী হয়ে উঠেছিলাম। মাত্র ৩৬ বছর বয়সী সুন্দরী এই নারী। বলেন, অন্ধকার এ জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত থাকলেও নিজের সম্ভ্রম কখনো হারাননি। এ জন্য তাকে নানা কৌশল অবলম্বন করতে হয়েছে।  বলেন, স্বামীর সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হওয়ার পর অনেকেই আমাকে পেতে চেয়েছে। যখনই তাদের বিয়ের কথা বলেছি, স্থায়ীভাবে অর্থনৈতিক সাপোর্ট দিতে বলেছি, তখনই তারা পিছিয়ে গেছে।
রাজধানীর অদূরে একটি শহরের বিলাসবহুল বাড়িতে কথা হয় বেবীর সঙ্গে। তিনি তুলে ধরেন তার জীবনের ঘটে যাওয়া নানা ঘটনা। অপরিণত বয়সে বিয়ে, প্রতারিত হওয়া, নির্যাতনের কাহিনী, অন্ধকার জগতে পা বাড়ানো অতপর বিলাসী জীবন, পরিশেষে সেই পথ থেকে বের হওয়ার আকুতি।
অন্ধকার জগতের সেই রাণী বলেন, ৫ বছর বয়সে পোলিওতে আক্রান্ত হয়ে তার একটি পা অকেজো হয়ে যায়। কোনোমতে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলেন। এরমধ্যেও সংসারের সব কাজই করতে পারেন। ওই সময় তার পিতার সঙ্গে পরিচয় হয় এক সরকারি চাকরিজীবীর। মেয়ের একটি পা ত্রুটিপূর্ণ হলেও দেখতে সুন্দরী হওয়ায় তিনি বিয়ের প্রস্তাব দেন। তখন তার বয়স ১৬। আর ওই চাকরিজীবীর বয়স ৩৬। কিন্তু ছেলে চাকরিজীবী হওয়ায় এই বিয়েতে মত দেন তার দরিদ্র পিতা। ১৯৯০ সালের ৭ই এপ্রিল তাদের বিয়ে হয়। কিন্তু মাসের পর মাস কেটে গেলেও তিনি স্বামীর ঘরে যেতে পারেননি। স্বামীই সপ্তাহে ২-৩ দিন তার কাছে আসতো। স্বামীকে চাপ দিতে থাকেন তুলে নেয়ার জন্য। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে যায় স্বামী। কয়েক মাস যেতে না যেতেই মারধর শুরু হয়। লাথি, কিল, ঘুষি, লাঠিপেটা এসব এক সময় নিত্য ঘটনা হয়ে দাঁড়ায়। এক সময় জানতে পারেন তার আরো একটি সংসার রয়েছে। একদিন ঠিকানা সংগ্রহ করে নিজের পরিচয় গোপন রেখে সেই বাড়িতে গিয়ে ওঠেন। দেখেন সেখানে তার আরো এক স্ত্রী, তাদের এক মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে। আগের স্ত্রীর মেয়ে তার থেকে ৪ বছরের ছোট। এরপর থেকে তার ওপর নির্যাতনের মাত্রা বাড়তে থাকে। বিয়ের ৯ মাস পর স্বামী তার প্রতিষ্ঠান থেকে দেশের বাইরে চলে যায়। তিনি তখন গর্ভবতী। এরপর তার প্রথম সন্তান জন্ম নেয়ার ২১ দিন পর বিদেশ থেকে তার নামে ৪ হাজার টাকা পাঠায় তার স্বামী। এরপর থেকে দীর্ঘদিন কোনো যোগাযোগ ছিল না। এরইমধ্যে একদিন জানতে পারেন তার স্বামী দেশে ফিরেছে। যোগাযোগ করার পর সে আবারো আসা-যাওয়া শুরু করে। নিয়মিত থাকতো না। মাঝে মাঝে রাতে আসতো, সকালে চলে যেতো। ২০০২ সালে ছোট মেয়ের জন্ম হয়। তারপর ২০০৪ সালে হঠাৎ করে একদিন এসে তাকে আগের স্ত্রীর বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে তার স্ত্রী ও সন্তানরা মারধর করতো। তিনি সবকিছু মুখ বুজে সহ্য করছিলেন। একদিন সুজির সঙ্গে তার সতীন কি যেনো মিশিয়ে খাইয়ে ছিল তাতে মা-মেয়ে ৩২ দিন অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ছিলেন। এরপর স্বামী কোনো দায়-দায়িত্ব পালন না করায় একাধিকবার ছাড়াছাড়ির জন্য সালিশও হয়েছে। কিন্তু ওই পর্যন্তই। তিনি তখন কাগজ কুড়িয়ে ঠোঙা বানিয়ে তা বিক্রি করতেন। এক সময় সেই টাকা জমিয়ে এবং বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে একখণ্ড জমি কিনে তাতে টিনশেড বাড়ি করেন। পরে তার স্বামী জমিসহ ওই বাড়িটিও বিক্রি করে দেয়। তাদের কোয়ার্টারে তোলে। কিন্তু কোনো খরচ দিতো না। এরপর অফিসে সালিশ বসে। তাতে মাসের খরচের জন্য ১৩ শ’ টাকা করে দেয়ার নির্দেশ দেয়। ওই সময় থেকে তার স্বামী আবারো তাদের সঙ্গে থাকা শুরু করে। এদিকে এনজিও থেকে নেয়া ঋণের কিস্তি শোধ করার জন্য চাপ বাড়তে থাকে। ওই সময় পরিচয় হয় রেহানা নামে পরিবার পরিকল্পনায় চাকরি করা এক নারীর সঙ্গে। তিনি তাকে পরামর্শ দেন স্থায়ী জন্মনিয়ন্ত্রণ করার। বলেন, তাতে সে মাসে মাসে কিছু টাকাও পাবে। তার কথামতো এই পদ্ধতি গ্রহণ করতে চান। কিন্তু প্রেসার বেশি হওয়ায় তা নেয়া হয় না। তখন রেহানা তাকে সুযোগ বুঝে বলেন, তার বাসায় একজন মেয়ে এবং ছেলেকে কিছুক্ষণ সময় কাটাতে দিলে কিছু টাকা পাবে। এই কথা শোনার পর তিনি প্রথমদিকে রাজি হননি। কিন্তু যখন কিস্তিওয়ালা এসে তার ঘরের জিনিসপত্র নিয়ে গেছে তখন তিনি তাকে ফোন করে রাজি হওয়ার কথা জানান। তখন ২০০৭ সাল। সেই শুরু। স্বামী বাসায় না থাকলে বাইরে থেকে আসা নারী-পুরুষকে তিনি বাসা ব্যবহার করতে দিতেন। এক সময় স্বামীও জেনে যায়। প্রথমদিকে সেও ক্ষুব্ধ হয়। কিন্তু যখন বলে, কিস্তি শোধ হয়ে গেলে আর ওই কাজ করবেন না, তখন সেও রাজি হয়। ততদিনে এ লাইনটি কিছুটা আয়ত্তে তার। এরইমধ্যে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান জেনে যায়। তখন তার স্বামীকে চাকরিচ্যুত করে কোয়ার্টার থেকে বের করে দেয়। এরপর বাসা নেন সাভার। সেখানে পুরোদমে কাজ শুরু হয়। যৌনকর্মীদের নিরাপদ আশ্রয়ে পরিণত হয় তার বাসা। তার বাসায় আসে স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছেলেমেয়েরা। আসে সরকারি কর্মকর্তারা। আসে বড় বড় ব্যবসায়ী। অনেক সময় জোড়ায় জোড়ায় আসে। কাজ সেরে চলে যায়। অনেক সময় তিনি নিজেও যৌনকর্মী যোগাড় করে দেন। এরপর কিছু টাকা জমানোর পর বাসা পাল্টিয়ে নতুন বাসা নেন। স্বামীকে ব্যবসা করতে দেন। কিন্তু স্বামী সেইসব টাকা পয়সা নিয়ে উধাও হয়ে যায়। নিয়ে যায় জমানো স্বর্ণালঙ্কার। একেবারে নিঃস্ব করে দিয়ে যায়। এরপর আবারো নতুন বাসা নিয়ে কাজ শুরু করেন। কিছুদিন পর আবারো স্বামী ফিরে আসে। তখন তিনি তাকে ডিভোর্স দেন। এরপর বাসা নেন ঢাকার দারুস সালামে। মেয়েরা আসে। খরিদ্দার আসে। ওই রাজ্যে তার বিশাল নেটওয়ার্ক। তার এখানে আসে সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী।  ম্যানেজ করতে হয় এলাকার ছেলে ছোকরাদেরও। তবে এক জায়গায় বেশিদিন বাসা নিয়ে থাকা যায় না। সর্বোচ্চ ৩-৪ মাস। বাসার মালিক জানার আগেই ছেড়ে দিতে হয়। তিনি বলেন, প্রেমিক-প্রেমিকারা তার রুম ভাড়া নেয় এক ঘণ্টা, দুই ঘণ্টা, তিন ঘণ্টা কখনো সারাদিন বা রাতের জন্য। সময় হিসেবে রেট আলাদা। তিনি ভদ্রতার খাতিরে তাদের খেতেও দেন। তবে ঢাকার বাইরে থেকে যারা আসে তাদের বেশির ভাগই সারারাতেই জন্য নেয়। তাতে তাদের হোটেল ভাড়াও বেঁচে যায়। তিনি জানান, এই জগতে তার এক শক্তিশালী নেটওয়ার্ক রয়েছে। অনেকেই তাকে চেনে। দেশের বিভিন্ন শহরের হোটেলেও যৌনকর্মী সরবরাহ করেন। সব মিলে বিলাসী জীবন তার। অনেকে চাকরি দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে মেয়েকে এইখানে নিয়ে আসে। আমি বুঝতে পারলে তাকে কাজে লাগায় না। বরং নিজ খরচে তাকে বাড়ি যাওয়ার ব্যবস্থা করে দিই। তিনি বলেন, এই পথ থেকে মুক্তি পেতে চাই। যদি কোনো ৮০ বছরের বৃদ্ধও আমাকে বিয়ে করে, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা দিতে পারে তাহলে তাকে বিয়ে করবো। মেয়েরা বড় হয়েছে। তাদের বিয়ে দিতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাদেরকে কখনোই এই জগতের সঙ্গে পরিচিত করিনি। আলাদা বাসা ভাড়া করে সেখানে রেখেছি। বলেন, এর আগে পার্লারের প্রশিক্ষণ নিয়েছি। কিন্তু ওই পর্যন্তই। একটা পার্লার করতে গেলে প্রায় ১০ লাখ টাকা লাগে। কোথায় পাবো এতো টাকা? তার ওপর মেয়েদের লেখাপড়া, আলাদা বাসা ভাড়া। যেসব ধনীরা এখানে আসে তাদেরও বলেছি তারা যদি সাহায্য করে তো এই পথ ছেড়ে দিতে চাই। কিন্তু কেউ-ই রাজি হয়নি। তিনি বলেন, গত ১০ বছর ধরে এই পেশার সঙ্গে জড়িত থাকলেও স্বস্তি পাইনি। সব সময়ই অপরাধবোধ কাজ করে। না আমি আর এ জগতের রাণী হতে চাই না। রাজাবিহীন রাণীর কোনো দাম নেই।