Monday, October 7, 2013

পোশাকশিল্পের সমস্যা নিরসনে চাই দীর্ঘমেয়াদী সমাধান by এইচ এম মহসীন

বাংলাদেশ গার্মেন্ট শিল্পে রাহুর দশা কাটছেই না। গত এপ্রিলে সাভারের রানাপ্লাজায় ভবনধসে সহস্রাধিক শ্রমিকের নির্মম মৃত্যু এবং গত বছর তাজরীন ফ্যাশনসে দেশের স্মরণকালের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা বাংলাদেশের গার্মেন্ট ফ্যাক্টরিগুলোকে শ্রমিকদের মৃত্যুকূপ হিসেবে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি দিয়েছে।

জিপিএ-৫ প্রাপ্তরা দেশের আলোকিত সন্তান

যারা কঠোর পরিশ্রম ও সাধনায় এইচএসসিতে সর্বোচ্চ ফলাফল অর্জন করেছে তারা দেশের আলোকিত সন্তান। এই আলোকিত সন্তানরা বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল করবে।

রথম্যান, শ্যাকম্যান ও সুদোফ পেলেন চিকিৎসাবিদ্যায় নোবেল

চিকিৎসাবিদ্যায় অনন্য অবদান রাখার স্বীকৃতি স্বরূপ চলতি বছরের নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন যৌথভাবে মার্কিন নাগরিক জেমস ই রথম্যান, র‌্যান্ডি ডব্লিউ শ্যাকম্যান ও জার্মানির নাগরিক থমাস সি সুদোফ।

রথম্যান, শ্যাকম্যান ও সুদোফ পেলেন চিকিৎসাবিদ্যায় নোবেল

চিকিৎসাবিদ্যায় অনন্য অবদান রাখার স্বীকৃতি স্বরূপ চলতি বছরের নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন যৌথভাবে মার্কিন নাগরিক জেমস ই রথম্যান, র‌্যান্ডি ডব্লিউ শ্যাকম্যান ও জার্মানির নাগরিক থমাস সি সুদোফ।

জামায়াতকে ক্ষমা চাইতে হবে: মওদুদীপুত্র

’৭১ এর খুন, ধর্ষণসহ মানবতাবিরোধী নৃশংস কর্মকান্ডের জন্য বাংলাদেশের উগ্র ধর্মবাদী দল জামায়াতে ইসলামীকে অনুতপ্ত হয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করতে পরামর্শ দিয়েছেন খোদ পাকিস্তানে জামায়াতে ইসলামীর প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা আবুল আলা মওদুদীর পুত্র সাইয়্যেদ হায়দার ফারুক মওদুদী।

রাস্তায় শিশু জন্ম দিলেন অভাগা মা

ক্লিনিকের সামনে রাস্তার উপর সন্তান জন্ম দিচ্ছেন অসহায় এক মা। সে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য। মেক্সিকোর দক্ষিণে ওয়াক্সাকা প্রদেশে ঘটনাটি ঘটে। শুধু মেক্সিকোতেই নয় সারা বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে ঘটনাটি। ইরমা লোপেজ (২৯) নামের ওই প্রসূতি মাকে ভর্তি না করে ফেরত পাঠানোর জন্য ক্লিনিকের পরিচালক ড. আদ্রিয়ান ক্রুজকে বরখাস্ত করা হয়েছে। রাস্তার উপর শিশু জন্ম দেয়ার পর যন্ত্রণায় কাতর মার ছবি উঠে আসে এক পথচারীর ক্যামেরায়। ওয়াক্সাকার প্রাদেশিক সরকার বুধবার ক্লিনিকের পরিচালককে বরখাস্ত করার ঘোষণা দেয়। সরকারি আদেশে ২রা অক্টোবরের ওই ঘটনায় রাষ্ট্রীয় তদন্ত চলছে। তিন সন্তানের জননী ইরমা জানান, স্বামীর সঙ্গে তিনি সান ফেলিপে জালাপা দিয়াজ গ্রামের স্বাস্থ্য কেন্দ্রে গেলে ক্লিনিকের নার্স তাকে বলে সে এখনও ৮ মাসের অন্তঃসত্ত্বা এবং এখনও প্রসবের সময় আসেনি। প্রকৃতপক্ষে ইরমা পূর্ণকালীন গর্ভবতী ছিলেন। ইরমা ও তার স্বামী উভয়েই মাজাটেক নামক আদিবাসী গোত্রের এবং তারা মেক্সিকোয় প্রচলিত স্প্যানিশ ভাষায় কথা বলতে পারেন না। কাজেই নার্সের কথার তেমন কিছু বুঝতে পারেননি তারা। শুধু এতটুকু বুঝতে পেরেছিলেন যে, তাদেরকে ‘না’ বলা হয়েছে। নিরুপায় হয়ে তারা ক্লিনিক থেকে চলে যান। ঘটনাটি পরবর্তীতে এত বড় আকার ধারণ করবে হয়তো বুঝতে পারেননি ক্লিনিকের কর্তব্যরত নার্সরা। এখন তারা ঘটনার দায় চাপিয়ে দিচ্ছেন ভাষাগত প্রতিবন্ধকতার উপর। এছাড়াও তারা দাবি করছেন মহিলাকে সেবা দেয়ার মতো লোকবল তখন ছিল না। কেননা, তখন নাকি ক্লিনিকের কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ ছিল। এর দেড়ঘণ্টা পর সকাল সাড়ে সাতটার দিকে ইরমার প্রসব বেদনা শুরু হয়। ক্লিনিকের বাইরে একখণ্ড ঘাসের উপর বিল্ডিংয়ের দেয়াল ধরে যন্ত্রণায় কাতরাতে থাকেন তিনি। উন্মুক্ত স্থানে একাকী এভাবে সন্তান জন্ম দিতে চাননি ইরমা। কোন মা-ই এমনটি চাইবেন না- এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু তার কিছুই করার ছিল না। একদিকে তার স্বামী ক্লিনিকের নার্সদেরকে সাহায্যের জন্য অনুরোধ করেছিলেন অন্যদিকে রাস্তার উপর একাকী দুঃসহ যন্ত্রণা সয়ে অপ্রীতিকর পরিস্থিতিতে সন্তান জন্ম দিতে বাধ্য হন ইরমা লোপেজ। ইরমার আর্তচিৎকারে অনেকে জড়ো হয় ঘটনাস্থলে। এরই মধ্যে একজন ইলয় প্যাচেকো লোপেজ, যিনি ছবি তুলে একজন সংবাদকর্মীর কাছে দিয়ে দেন।

অনেকগুলো জাতীয় পত্রপত্রিকায় ঘটনার প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ট্যাবলয়েড পত্রিকা লা রেজন ডে মেক্সিকো তাদের পুরো কভার পেজে ছবিটি প্রকাশ করে। ওয়াক্সাকা মেক্সিকোর সব থেকে দরিদ্র প্রদেশ। আদিবাসী জনগোষ্ঠীর বসবাসও এ প্রদেশে সব থেকে বেশি। প্রসূতি মায়েদের মৃত্যুর ঘটনাও এখানে অনেক বেশি শোনা যায়। সৃষ্টিকর্তার অসীম কৃপায় ইরমার সঙ্গে এমনটি ঘটেনি। সে ও তার সন্তান দুজনই সুস্থ আছেন। ইরমা তার নবজাত পুত্র সন্তানের নাম রেখেছেন ‘সালভেদর’ যার অর্থ রক্ষাকারী। ইরমার ভাষায়, সে সত্যিই নিজেকে নিজে রক্ষা করে পৃথিবীতে এসেছে।

১৪০- এটাও কি তার দেশপ্রেম? by বদিউর রহমান

পরশ্রীকাতরতা অবশ্যই খুবই খারাপ, খাস-বাংলায় বলা যেতে পারে ছোটলোকি। সে বিবেচনায় আমরা অনেকেই হয়তো ছোটলোকই বটে। কিন্তু বাদ সাধে ব্যাখ্যায়, কোনটা পরশ্রীকারতরতা আর কোনটা ছোটলোকি। ন্যায়সঙ্গতভাবে কেউ যদি ভালো কোনো অবস্থানে যেতে পারেন, সফল হোন, সার্থক হতে পারেন, তবে তার সেই ভালো অবস্থান, সফলতা এবং সার্থকতা নিয়ে অন্যায় আচরণ করাটাই পরশ্রীকাতরতা; তার ন্যায়সম্মত অর্জন নিয়ে বদহজমী-মন্তব্য করাটাই হতে পারে ছোটলোকি। কিন্তু ন্যায়ানুগ না হলে, সাধারণ বিবেচনায় প্রচলিত রেওয়াজেও কোনো কাজ গ্রহণযোগ্য বিবেচিত না হলে তেমন কোনো কর্মকাণ্ডের যথার্থ সমালোচনা করাটাকে কোনোভাবেই পরশ্রীকাতরতা যেমন বলা যাবে না, তেমনি সমালোচকদেরও ছোটলোক বলা আবশ্যই সমীচীন হবে না। এহেন বিবেচনায় আমরা যদি ১৪০ নিয়ে প্রশ্ন তুলি, সমালোচনা করি তাহলে আমাদের দয়া করে পরশ্রীকাতরতা বা ছোটলোকির খেতাব দেবেন না।
সম্প্রতি তিনি জাতিসংঘে গেলেন, ভালো কথা। গত চার বছরও গিয়েছেন। তাকে যেতে হয়। বিশ্বক্লাবে দেশকে তুলে ধরতে না পারা আমাদেরও কাম্য নয়। আর নিজ মাতৃভাষায় বক্তৃতা দেয়ার সাহসী ইতিহাস তো তার পিতা আমাদের জাতির জনকই সৃষ্টি করেছেন। তিনি তা ধরে রেখেছেন বলে আমরা গৌরবান্বিত। তার অনেক সাহসী কর্মের আমরা প্রশংসা করি। সেনা-নির্দেশিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের তার দেশে ফেরার বাধা উপেক্ষা করে তিনি দেশে ফিরেছেন, আমরা বলেছি বাপকা বেটি। জেলে গিয়েও মাথা নত করেননি, আমরা তার মাঝে পিতৃ-রক্তের মহিমা লক্ষ্য করলাম। ঢাকা সেনানিবাসের ১৬৮ কাঠা সম্পত্তি তিনি কল্যাণমুখী কাজে নিয়ে এলেন, গণতন্ত্রকে সেনাছাউনিতে বন্দিত্ব থেকে কিছুটা হলেও মুক্ত করলেন, সঙ্গে এক দেশনেত্রীকেও সেনা-আশ্রয়ে থাকার ‘অপবাদ’ থেকে রেহাই দিলেন; আমরা বাহবা দিলাম। জাতির জনক হত্যার পর টলটলায়মান নৌকার দলকে চাঙা করলেন, আমরা তার দেশপ্রেমে এবং গণতন্ত্রের পক্ষে অবস্থানে প্রীত হলাম। তার অনেক অর্জনে আমরা আশাবাদী অবশ্যই। কিন্তু তার কিছু কথাবার্তায় আমরা হতাশ হই। তাকে জননেত্রী বললে তা বলতে তিনি চামচাদের নিষেধ করেন না, তা-ও আমরা মেনে নিই। নেতা হলে তো নাম ফুটাতে হয়, নাম না ফুটালে কি ভাবমূর্তি সৃষ্টি হয়? একজন স্বামীর নামে রাজনীতি করে যদি প্রতিষ্ঠিত হয়ে যেতে পারেন, দেশনেত্রী হয়ে যেতে পারেন, তিনি কেন জননেত্রী হতে পারবেন না? আমরা পরশ্রীকাতর নই, আমরা ছোটলোক হব না, তারা দেশনেত্রী-জননেত্রী থাকুন। আমরা না বললেও কিছু আসে-যায় না, চামচারা তো আছেন, বলবেন। আমরা বৃক্ষ তোমার নাম কী শুনতে তত আগ্রহী নই, কারণ আমরা যে ফলের পরিচয়ে বিশ্বাস করি। অতএব, আমরা তার একটা আন্তর্জাতিক বিমাবন্দরের নাম বদলানোকে ভালোভাবে দেখি না। প্রতিহিংসারূপে ভাবি; আমরা এক নভোথিয়েটারের নাম বদলানোও সহজভাবে গ্রহণ করি না, এটিকে ছোটলোকি ভাবি, কারণ তার পিতাও অন্তত এ কাজটি করতেন না। যার নামে নভোথিয়েটারটি পরিচিত হয়ে গিয়েছিল তাকে তার পিতাও বেশ সম্মান করতেন এবং সে ব্যক্তিটি তার দলেরও প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। তার এমনতরো কিছু কিছু ছোটখাটো কাজ আমাদের পীড়িত করেছে, তার মহত্ত্ব¡ আর বড়ত্ব নিয়ে আমাদের সন্দিহান করেছে। কিছু সম্মানিত ব্যক্তিকে অপ্রয়োজনীয়ভাবে বাক্যবাণে অসম্মান করে তিনি অযথা নিজকে ‘ছোট’ করেছেন, তিনি নিজকে নিচে নামিয়েছেন। আমরা অসন্তষ্ট হয়েছি। রাজনীতি করলে অন্যকে বা বিপক্ষ কাউকে ঘায়েল করতে হতেই পারে। তবে তারও মাত্রা থাকে। ওই ঘায়েল করাটা রাজার মতো হতে হয়। সেখানে শ্রদ্ধাবোধ আর সম্মানবোধ ক্ষুণ্ন করার দরকার পড়ে না। সংসদীয় রীতিতে মিথ্যাকে সরাসরি মিথ্যা না বলে অসত্য বলা হয়। এভাবে শালীনতা প্রতিষ্ঠিত হয়। বিপক্ষ নেতাকে মাননীয় বলেও কঠোর সমালোচনা করা হয়, তাতে সমালোচনার গুরুত্ব কমে না, অথচ গণতান্ত্রিক ভব্যতা রক্ষা পায়। তাই ‘আমি কার খালুরে’, ‘মোটাতাজা’, ‘সিঁদেল চোর’, ‘নির্বাচন করতে ব্যর্থ’ জাতীয় বিভিন্ন কাঁচা শব্দে সম্মানিত ব্যক্তিদের গেঁয়ো-ঝগড়াটের মতো আক্রমণ যেমন আমরা পছন্দ করিনি, তেমনি বিশ্ববরেণ্য কাউকে সুদখোর, রক্তচোষা বলাও আমাদের ভালো লাগেনি। এ আক্রমণগুলো তিনি তার পদ এবং পিতৃ-পরিচয় বিবেচনায় আরও অনেক সম্মানজনকভাবে উদারতার সঙ্গেও করতে পারতেন। তাহলে আমরা খুশি হতাম, তাকে আমরা রাষ্ট্রনায়কোচিত পর্যায়ে ভাবতে আনন্দ পেতাম। কিন্তু তিনি আমাদের হতাশ করেছেন। তার আরও অনেক অনেক কর্মকাণ্ডে, বিশেষত বাক্যচয়নে আমরা ব্যথিত হয়েছি। অথচ আমরা তার গুণমুগ্ধ ভক্ত হতে চেয়েছিলাম, তার মাঝে দেশপ্রেমের ঔদার্যের সঙ্গে রাষ্ট্রনায়কোচিত আচরণ দেখতে চেয়েছিলাম। চেয়েছিলাম এ কারণে যে, তিনি জঙ্গিবাদ-মৌলবাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার সাহসী ভূমিকা নিয়েছেন, তিনি সত্যিই দেশকে কিছু দিতে চেয়েছেন।
তার দেশের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা নিয়ে আমাদের কোনো সন্দেহ জাগেনি। তিনি যখন আবেগভরা কণ্ঠে বলেন, মা-বাবা-ভাই সব হারিয়ে দেশকে কিছু দেয়া ছাড়া আমার আর কিছু চাওয়ার নেই, তখন আমরা আপ্লুত হই, আমরা বিশ্বাস করি। কিন্তু যখন দেখি তার ছালী (ছাত্রলীগ) -যুলী (যুবলীগ) এবং কিছু আলী (আওয়ামী লীগ) সদস্যও টেন্ডারবাজি আর খুন-খারাবিতে যুক্ত হয় এবং তিনি যেন কিছুটা নমনীয় তখন আমাদের খারাপ লাগে। তার আলী-ছালী-যুলীর অনেকেই যে তাকে ডোবাচ্ছেন, তা যদি তিনি বুঝেও না বুঝতে চান তখন আমাদের মনে হতে চায়, তিনি বোধহয় এদের আশকারা দিতে চান। আমরা কষ্ট পাই। এরপরও তিনি আমাদের স্বপ্ন দেখান, আমরা আশাবাদী হই। আমরা তার কিছু ভালো কাজের জন্য কিছু অন্যায় কাজকেও হজম করে নিতে চাই, হজম করে নিতে বাধ্য হই। কারণ মূলত এটিই এবং সেটা হচ্ছে- আমরা যাবটা কোথায়? তাকে বাদ দিলে যে ওনার কাছে যেতে হয়! ওনার কাছে গেলে তো আবার বাতাসভবন, আবার দুর্নীতি, আবার জঙ্গিবাদ-মৌলবাদ, আবার বাংলাভাই কিংবা ইংরেজিভাই! কিন্তু তার কাছেও যদি আমরা আলী-ছালী-যুলীর বঁটির নিচে পড়ে যাই, তাহলে আমাদের কাছে ‘ভাইছা’ আর ‘ভাইয়া’র পার্থক্য থাকল কোথায়? তারপরও আমরা ফুটন্ত কড়াই থেকে জ্বলন্ত চুলায় যেতে যেন ভয় পাই। আমাদের এ ভয় স্বাভাবিক- ঘরপোড়া গরু সিঁদুরে মেঘ দেখলে তো ভয় পাবেই। তিনি আমাদের যেন সে ভয়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন। তার দেশপ্রেম নিয়ে আমরা সন্দেহ করতে চাই না। আমরা অবশ্যই স্বীকার করি, তিনি গত কয়েক বছরে আমাদের বেশ সম্মানজনক অবস্থানে নিতে সচেষ্ট হয়েছেন, বেশ কিছু ক্ষেত্রে সফলও হয়েছেন। বিলবোর্ড নিয়ে দুষ্টলোকেরা বানানের ই-কারকে আ-কার করে হয়তো ঠাট্টা-মশকরা করে ফেলতে পারেন। কিন্তু আমরা বিলবোর্ড-প্রচার ছাড়াই তার আলী সরকারের অনেক অর্জন জানি, স্বীকার করি এবং এসব অর্জনের সুফলভোগী। কিন্তু তার কিছু অসহিষ্ণু-আচরণ, আগেই বলেছি কিছু বাক্যবাণ বা শব্দচয়ন, প্রতিহিংসা জাতীয় ক্ষুদ্রতা ছোট করে ফেলে, তার দেশপ্রেমকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। সরকারপ্রধান হিসেবে তিনি তো আমাদের সবার, বিরোধী দলের জনগণও তো তার সরকারেরই অধীনে। তার কোনো প্রতিমন্ত্রী হয়তো বলে ফেলতে পারেন যে, বিরোধী দলের লোকদের রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহারের জন্য আমরা ক্ষমতায় আসিনি, কিন্তু তিনি তো তেমন কিছু করতে পারেন না। তিনি দল করবেন ঠিকই, কিন্তু সরকারের সর্বোচ্চ পদে থেকে তো দলীয় হতে পারেন না; তিনি দলীয় প্রধান অবশ্যই থাকতে পারেন, কিন্তু সরকারপ্রধান হিসেবে তো দলীয়প্রধানের ভূমিকায় যেতে পারেন না। সরকারের কর্মকাণ্ডে তিনি সবার, তিনি সরকারপ্রধান; দলীয় কর্মকাণ্ডে তিনি অবশ্যই দলের, শুধুই আলী-ছালী-যুলীর। কিন্তু আমরা মাঝে-মধ্যে অপ্রস্তুত হয়ে যাই যখন দেখি, তিনি সরকার এবং দলকে গুলিয়ে ফেলেন, তিনি সরকারপ্রধান আর দলীয় প্রধানের মধ্যে সীমারেখা হারিয়ে ফেলেন। এবারের তার জাতিসংঘে গমনে সফরসঙ্গী নির্বাচন এবং তা-ই যেন চোখে আঙুল দিয়ে আবার দেখিয়ে দিল।
জাতিসংঘের অধিবেশনে তার সফরসঙ্গী নাকি ১৪০, আমাদের বিশ্বাসই হতে চায় না। এ ১৪০-এর নামধাম-পদবি জানতে পারলে একটা চুলচেরা বিশ্লেষণে হয়তো যাওয়া সহজ হতো- একজন একজন করে বলা যেত কে প্রয়োজনীয় আর কে অপ্রয়োজনীয়। প্রাতঃভ্রমণের সময়ে কেউ কেউ জিজ্ঞেস করেছেন, এ ১৪০ কে চিনি কি-না, কে সেখানে কী কাজে গেলেন? একজন তো আগ বাড়িয়ে রসিকতা করে বলেই ফেললেন, আরে ভাই, বিয়ে তো হয় শুধু কনের, একজনের, তাই বলে বরযাত্রী কি শত শত হয় না? তার সঙ্গে বাকিদের গোটা কয়েককে বর-কনের চাচা-জেঠা, ভাই-বেরাদার, কাজী-ঘটক ভেবে নিন, বাকি সব ওই যাত্রী। এর মধ্যে নাকি আবার ৯৪ জনের খরচ সরকারের, জনপ্রতি নাকি ৫ লাখ টাকারও বেশি ব্যয়। এক সাবেক চাকরিজীবী তো বললেন, হোটেল-যাতায়াত সব মিলিয়ে ৫ লাখেরও অনেক বেশি পড়বে। রাজা-বাদশাদের সফরসঙ্গী যত বেশি তত মজা, তিনিও হয়তো তেমন কাজটিই করেছেন। কিন্তু আমরা বড় নিষ্ঠুরভাবে প্রশ্ন রাখতে চাই- ১৪০ কেন? এরা দেশকে জাতিসংঘে কীভাবে উপকৃত করলেন? তিনি কি মেয়াদের শেষদিকে ‘ওস্তাদের মার শেষরাত’ করে দেখালেন? কার টাকায় তিনি এটা করলেন? ক্ষমতা থাকলেই কি সব করতে হয়? আর সুযোগ না হতে পারে ভেবেই কি তিনি দল-তুষ্টিতে এ ‘অপকর্ম’টা করলেন? মানুষের মুখ তো আর বন্ধ রাখা যায় না, একজন জিজ্ঞেস করলেন, ১৪০- এটাও কি তার দেশপ্রেম? তিনি জবাব দিতে বাধ্য নন, তা-ও জবাব দেবেন কি?
বদিউর রহমান : সাবেক সচিব, এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান

পোশাক শ্রমিকের ন্যূনতম মজুরি বিষয়ে নিরপেক্ষ আলোচনা by অরবিন্দ রায়

পোশাক শ্রমিকের ন্যূনতম মজুরি আট হাজার টাকা করার দাবি উঠেছে। দাবি আদায়ের লক্ষ্যে বেশ কিছুদিন থেকে শ্রমিকরা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। কেউ ডিউটি ফেলে রাস্তায় নেমে গাড়ি ভাংচুর করছে, আবার কেউ নিজ প্রতিষ্ঠানের মেশিন-আসবাবপত্র ভাংচুরের মাধ্যমে দাবি আদায়কে ত্বরান্বিত করতে চাইছে। আসন্ন ঈদ-পূজার বেতন-বোনাসের সঙ্গে বাড়তিটাও যেন চলে আসে এটাই সবার আশা। কিন্তু তা হাতে না পাওয়া পর্যন্ত আন্দোলনের ফসল ঘরে তোলার বিষয়ে কেউ নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারবে না। আবার বেশি রকম বাড়াবাড়ি সইতে না পেরে মালিকরা যদি ঈদ-পূজার আগেই গেটে তালা লাগিয়ে দেন, তাহলে আম-ছালা দুটোই হারানোর পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। কাজেই মালিক যেন কারখানা সিলগালা করতে বাধ্য না হয়, এ বিষয়টি মাথায় রেখে অগ্রসর হওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ বলে মনে করি। রক্তাক্ত ইতিহাস বিধৌত এ ভূখণ্ডে যে কোনো ঝগড়া ফ্যাসাদে বরাবরই তিনটি পক্ষ থাকে। শ্রমিকের ন্যূনতম মজুরি ধার্য সংক্রান্ত চলমান বিবাদে মূলত দুটি পক্ষ। একটি শ্রম ক্রেতা ও অন্যটি বিক্রেতা। ক্রেতা হচ্ছেন পোশাক কারখানার মালিকরা। বিক্রেতা হচ্ছেন শ্রমিক ভাইয়েরা। তবে এর মধ্যেও একটি তৃতীয় পক্ষ গজিয়ে উঠেছে। এ পক্ষটিকে শ্রমিকের দাবির সঙ্গে সংহতি প্রকাশসূচক নানা রকম ফতোয়া দিতে দেখা যাচ্ছে। এতে শ্রমিকের মঙ্গল কী অমঙ্গল হবে তা তারা খুব বেশি ভাবছেন বলে মনে হয় না। তবে দাবি আদায়ের জন্য যারা সহিংস মূর্তি ধারণ করছে তাদের এ কথা ভুলে গেলে চলবে না যে, কোনো প্রিয় নেতাকে জেল থেকে মুক্তির দাবিতে সহিংসতা প্রদর্শন আর আর্থিক সুবিধা আদায়ের জন্য সহিংসতা এক কথা নয়। যেহেতু মূল লক্ষ্য শ্রমের বাড়তি মূল্য আদায়, এ আদায় ধার বা কর্জের টাকা আদায়ের পর্যায়ে পড়ে না। উপরন্তু বাড়তি অর্থ প্রদানের বিষয়টি দাতার মনমর্জির ওপর ষোলআনা নির্ভরশীল। কাজেই এ ধরনের অর্থ আদায়ের কাজটি সমঝোতার মাধ্যমে করাই সমীচীন বলে মনে করি। রক্তপাতের সমূহ আশংকাকে হেলায় উড়িয়ে না দিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সংকট নিরসন করার জন্য উভয় পক্ষকেই আন্তরিক হতে হবে।
এবার ন্যূনতম মজুরি প্রসঙ্গ। একটি কারখানার সব শ্রমিককে তিন ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়। দক্ষ, আধা দক্ষ ও শিক্ষানবিস। বলার অপেক্ষা রাখে না, ন্যূনতম মজুরি বলতে শিক্ষানবিস এক কথায় ধানের চাতাল বা গম ক্ষেত থেকে উঠে এসে কাজে যোগ দেয়া শ্রমিকের মজুরিকেই বোঝানো হয়। সদ্য কাজে যোগ দেয়া একজন ফ্লোর ক্লিনার বা এফসি’রাও এ ন্যূনতম মজুরির ক্যাটাগরিতে পড়বে। তৈরি পোশাক কারখানার অধিকাংশেই এয়ার শিপমেন্ট ঠেকানোর তাগিদে তথা বেঁধে দেয়া সময়ের মধ্যে জাহাজিকরণের স্বার্থে ১২ ঘণ্টা কাজ করানো হয়। তার মধ্যে আট ঘণ্টা হচ্ছে মূল হাজিরা। বাকি চার ঘণ্টা ওভারটাইম বা ওটি। অধিকাংশ পোশাক কারখানায় যেহেতু ওটি চলে; কাজেই ওটির হিসাব আমলে নিলে একজন শিক্ষানবিস শ্রমিকের পেছনে একজন মালিককে প্রতি মাসে মূল মজুরি আট হাজারের সঙ্গে ওভারটাইম চারসহ মোট ১২ হাজার টাকা গুনতে হবে। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, একজন শিক্ষানবিস শ্রমিকের চেয়ে একজন সুদক্ষ শ্রমিক দুই-তিন গুণ বেশি মজুরি পেয়ে থাকে। সে হিসাবে একজন সুদক্ষ শ্রমিকের পেছনে একজন মালিককে ওটিসহ প্রতি মাসে ২৪ থেকে ৩৬ হাজার টাকা প্রদান করতে হবে। সুদক্ষ হলে এ টাকা পাবে, তাতে দোষের কিছু নেই। কিন্তু সমস্যা হল, দক্ষ হলেই উল্লিখিত পরিমাণ টাকা প্রাপ্তির সম্ভাবনা যখন নতুনদের হাতছানি দেবে, তখন নতুনদের মধ্যে এক কারখানায় বেশিদিন কাজ করার মনমানসিকতা থাকবে না। এমনকি একজন শ্রমিক শিক্ষানবিস হিসেবে কাজে যোগদানের দু’-এক মাস যেতে না যেতেই ওই কারখানার পরিচিতি কার্ড ব্যবহার করে অন্য কারখানায় ছুটে যাওয়ার জন্য ছটফট করতে থাকবে। প্রত্যন্ত এলাকা থেকে উঠে আসা একজন অশিক্ষিত বা সিকি শিক্ষিত ছেলে বা মেয়ের অদক্ষতা কাটিয়ে উঠতে কম করে হলেও এক বা দেড় বছর সময়ের প্রয়োজন। এ সময়ের মধ্যে সে কারখানাকে শতভাগ সেবা দিতে পারবে বলে মনে হয় না। অথচ তার পেছনে কোম্পানির প্রতি মাসে ১২ হাজার টাকা চলে যাবে। সে যাক। কিন্তু শ্রমিকটি দক্ষ হয়ে ওঠার পর যদি অন্যত্র ভেগে যায় তাহলে টাকা খরচ করে অদক্ষকে দক্ষ বানানোর এ ক্ষতি ওই কারখানা কতটা কাটিয়ে উঠতে পারবে, তা যথেষ্ট ভাবার বিষয়। প্রবাদ আছে, গাছ বাঁচিয়ে রেখে ফল খেতে হয়। কাজেই কোম্পানির ঘারে অতিরিক্ত বেতনের বোঝা চাপিয়ে দেয়ার ফলে কারখানাটি যদি বন্ধ হয়ে যায়, তখন ন্যূনতম মজুরি আট হাজারের স্থলে আট লাখ করলেও কোনো দিক থেকে কোনো ফায়দা আসবে বলে মনে হয় না।
শ্রমিকের ন্যূনতম মজুরি আট বা ওটিসহ ১২ হাজার করলে তাদের মঙ্গল কী অমঙ্গল হবে এর ব্যাখ্যাটি যতটা না ভাষা দিয়ে প্রকাশের; তার চেয়ে বেশি হৃদয় দিয়ে অনুভবের। এ বিষয়ে প্রথমেই যে কথাটি বলার তা হচ্ছে, যে পরিমাণ মজুরি কোনো মালিক মন খোলাসাভাবে দিতে অপারগতা প্রকাশ করে; তারপরও ইচ্ছার বিরুদ্ধে সেটি দিতে বাধ্য করানো হলে তা শ্রমিকের কল্যাণের চেয়ে অকল্যাণই বয়ে আনবে বলে মনে হয়। কেননা কোনো কোম্পানি যখন কাজে যোগদানকালীন মজুরি বেশি দিতে বাধ্য হবে, তখন পরবর্তী সময়ে কিংবা যথাসময়ে সেই কোম্পানি ওই শ্রমিককে ইনক্রিমেন্ট দিতে চাইবে না। বা অপারগতা প্রকাশ করবে। ফলে দেখা যাবে, একজন দুই বছরের পুরনো শ্রমিক যা পাচ্ছে, একজন সদ্য যোগদানকারীও একই মজুরি পাবে। চিনি ও লবণের এ সমমূল্য একজন পুরনো শ্রমিকের কাছে অবিচার বলে মনে হবে। আর এ অবিচার পুরনো শ্রমিকটির মেনে নেয়া সত্যিই কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। তখন সে উঠতে-বসতে ঠোঁট উল্টিয়ে বলবে, আমি যা পাই মুখ শুকলে দুধের গন্ধ বের হওয়া শ্রমিকটিও তো সেটাই পাচ্ছে। তাহলে দক্ষ হয়ে লাভ কী! তার এ ঠোঁট উল্টিয়ে কর্মপরিবেশ নষ্ট করা যৌক্তিক বলেই মনে হবে। কেননা তখন শুরুর দিকের বাড়তি মজুরির কথা কেউই তেমন মনে রাখবে না। একই ছাদের নিচে দক্ষ-অদক্ষের মজুরি যেহেতু সমান, তাই দক্ষ শ্রমিকটি অদক্ষের চেয়ে বেশি উৎপাদন দেয়ার গরজ দেখাবে বলে মনে হয় না। উপরন্তু মনের ভেতর জ্বলা অনির্বাপিত এ আগুন সেই শ্রমিককে দগ্ধ থেকে অঙ্গারে পরিণত করবে। আর এর ছোঁয়াচে শিখায় পুড়বে সেই সব শ্রমিকরাই, আজকে যারা ন্যূনতম মজুরি আট হাজারের দাবিতে কারখানা ও কারখানা লাগোয়া সড়ক মুহুর্মুহু স্লোগানে প্রকম্পিত করে তুলছে। সবচেয়ে আতংকের বিষয়, মনের ভেতর তুষের আগুন জ্বলা এ ধরনের শ্রমিককে পরিচালনা করা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পক্ষে তখন পাগলা ঘোড়া চালানোর পর্যায়ে চলে যাবে। ফলে আজকের এ মৌসুমভিত্তিক অশান্তি একসময় স্থায়ী গৃহদাহে রূপ নিতে পারে।
শত প্রতিকূলতা সত্ত্বেও সস্তা শ্রমবাজারের ওপর ভিত্তি করেই কিন্তু এদেশে হাজার হাজার গার্মেন্টস গড়ে উঠেছে। সেই সস্তা শ্রমবাজার যদি কখনো চড়া বাজারে রূপ নেয়, তখন এ শিল্পটিও বন্ধ হওয়ার আশংকা উড়িয়ে দেয়া যায় না। তবে এসব কথার অর্থ এই নয় যে, কথাগুলো মালিক পক্ষে চলে যাচ্ছে। এটি একটি সাধারণ আলোচনা মাত্র। এ প্রসঙ্গে যে কথাটি না বললেই নয় তা হচ্ছে, আজ যারা শ্রমিকের ন্যূনতম মজুরি ধার্য সংক্রান্ত মন্তব্য ছাড়ছেন, তাদের উচিত একটি কারখানা স্থাপন করে ওই পরিমাণ মজুরি শ্রমিকদের দিয়ে দেখিয়ে দেয়া যে, এভাবে কারখানা চালালেও কাক্সিক্ষত মুনাফা অর্জন করা সম্ভব। তখন সবাই তাকে অনুসরণ করার চেষ্টা করবে। একজন কারখানাহীন ব্যক্তি বা কারখানায় শ্রমিক পরিচালনা করেননি এমন ব্যক্তির শ্রমিক সংক্রান্ত কোনো গদবাঁধা বুলি আওড়ানো ঠিক নয়। কারণ পিপলস ম্যানেজমেন্ট বা মানুষ পরিচালনার কাজের মধ্যে অসংখ্য চোরাবালি আছে। এক্ষেত্রে সামান্য ভুলের কারণে অপূরণীয় ক্ষতি হতে পারে। এসব চোরাবালির খপ্পরে পড়ে অনেক কারখানা বন্ধ হতেও দেখা যায়।
অর্থনীতির প্রাথমিক পাঠ থেকে জানা যায়, কোনো দ্রব্য অবমূল্যায়িত হয় চাহিদার চেয়ে সরবরাহ বৃদ্ধি পেলে। বাংলাদেশের মতো উচ্চ ফলনশীল মানুষের দেশে জনবলের অধিক সরবরাহের কারণে শ্রমের বাজারে মন্দাভাব দেখা দেয়া স্বাভাবিক ঘটনা। যেখানে বিজ্ঞাপন না দিতেই মাসের প্রথম তারিখে মৌমাছির মতো মানুষ কারখানার গেটে হাজির হয় কর্মসংস্থানের জন্য; সেখানে ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা দিয়ে সেটি দিতে বাধ্য করানোর কাজ কতটা সফলতার মুখ দেখবে, তা নিয়ে সন্দেহ পোষণ করা অযৌক্তিক কিছু নয়। এ পরিস্থিতিতে কারখানা কর্তৃপক্ষ যদি তাদের বেঁধে দেয়া মজুরির ঘোষণাপত্র তৈরি করে সেই পত্রে অনাপত্তি সূচক মুচলেকা নিয়ে কোনো নবীন শ্রমিককে নিয়োগ দিতে চায় তাহলে মনে হয় ওই কারখানা কাক্সিক্ষত সংখ্যক শ্রমিক নিয়োগ দিতে ব্যর্থ হবে না। কথাটি অনেকের কাছে তেতো লাগতে পারে। তবে এটাই বাস্তব।
আগেই বলা হয়েছে যে, কারখানা মালিক ও শ্রমিক এ দুই পক্ষ মূলত শ্রম ক্রেতা ও বিক্রেতা। এখানে ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়েরই দরদাম করে শ্রম ক্রয় ও বিক্রয়ের অধিকার আছে। এর মাঝখানে দূতিয়ালির কোনো স্থান আছে বলে মনে হয় না। কেউ যদি তার শ্রমকে আট কেন ১৬ হাজারের নিচে বিক্রয় করবে না বলে মনঃস্থির করে তাহলে ঈশ্বর ছাড়া কেউই তাকে কাজে লাগাতে পারবে না। আবার শ্রম ক্রেতা যদি মনে করেন, আমি সাড়ে চারের ওপর ক্রয় করব না, তাহলে তাকেও এর বেশি রেটে শ্রম কেনানো যাবে না। কাজেই এ ধরনের পরিস্থিতি মূলত শ্রম ক্রেতা ও বিক্রেতার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে মনে হয় না পরিস্থিতি কখনো ঘোলাটে রূপ ধারণ করবে। কিন্তু সমস্যা সৃষ্টি হয় যখন তৃতীয় পক্ষ এসে বাগড়া দেয়া শুরু করে। বিষয়টি কতকটা মায়ের চেয়ে খালার দরদের মতো। শ্রমিকের ন্যূনতম মজুরি কত হবে এটি কারখানা মালিক ও শ্রমিকের ব্যাপার। এখানে কেউ কিছু মন্তব্য করার বিষয়টি ফপর-দালালি ছাড়া কিছু নয় বলে মনে হয়। তবে মালিকদেরও উচিত বর্তমান গগনচুম্বী দ্রব্যমূল্যের কথা মাথায় রেখে শ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণ করা, যাতে শ্রমিকরা প্রতিদিন না হলেও দু’-তিন দিন পর পর ভাতের সঙ্গে এক আধ টুকরা মাছ-মাংস খেতে পারে। শরীর ঠিক না থাকলে কেউই কাক্সিক্ষত কর্মদক্ষতা দেখাতে পারবে না। কাজেই শ্রমিকের শরীর ও মন সব দিক থেকে সুস্থ রাখার দায়িত্ব মূলত মালিকের। অন্য কারও নয়।
অরবিন্দ রায় : একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কারিগরি পরিচালক

অক্টোবরের আন্দোলন এবং হাসিনা সরকারের পতন কি হতে যাচ্ছে? by আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী

ঢাকার বন্ধু-বান্ধবদের প্রায়ই জিজ্ঞাসা করি কেমন আছেন? তারা কেউ বলেন, ভালো আছি, কেউ বলেন ভালো নেই। কিন্তু সম্প্রতি এক বন্ধু বললেন, বড় দুশ্চিন্তায় আছি। দুশ্চিন্তা কেন? তিনি বললেন, আগামী ২৫ অক্টোবরের পর অর্থাৎ আসন্ন কোরবানির ঈদের পর দেশে কী হবে তা তো বুঝতে পারছি না। বিএনপির নেতা-নেত্রীরা তো হুমকি দিয়েছেন, তাদের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি মানা না হলে অক্টোবরের শেষ থেকে ঘোর অরাজকতা সৃষ্টি করে দেশ অচল করে দেয়া হবে। কী ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ, রক্তপাত, প্রাণহানি শুরু হয় তা তো বুঝতে পারছি না। দেশের মানুষ আতংকে দিন কাটাচ্ছে। সভয়ে, রুদ্ধশ্বাসে মাস শেষের দিকে তাকিয়ে আছে। বন্ধুর কথা শুনে শৈশবের একটি ঘটনা আমার মনে পড়ল। বাংলা ১৩৪৮ এবং ইংরেজি ১৯৪১ সালের কথা। তখন আমার সাত-আট বছর বয়স। গ্রামের স্কুলে পড়ি। এ সময় সাধারণ মানুষ পঞ্জিকার কথা খুব বিশ্বাস করত। ঘরে ঘরে পঞ্জিকা থাকত। তখন গুপ্ত প্রেস ডাইরেক্টরি পঞ্জিকার যুগ। আবার মুসলমানদের জন্য মোহাম্মদী পঞ্জিকাও বের হতো। এই গুপ্ত প্রেস পঞ্জিকায় রাশিফল থাকত। ব্যক্তি ও রাষ্ট্রেরও অনেকেই তা পড়ত এবং অন্ধভাবে বিশ্বাসও করত। এসব রাশিফল বা ভবিষ্যৎগণনা বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ফলত না, কিন্তু দু-একটি হয়তো কখনও-সখনও খেটে যেত। তখন চারদিকে হৈচৈ পড়ে যেত। ১৩৪৮ (১৯৪১) সালের পঞ্জিকাতেও ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছিল। সে বছর ১১ জ্যৈষ্ঠ বাংলাদেশের দক্ষিণ অঞ্চলে প্রচণ্ড সাইক্লোন হবে। সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাস হবে। প্রকৃতির রুদ্ররোষে অসংখ্য মানুষ, গবাদিপশুর মৃত্যু হবে, ঘরবাড়ি, ক্ষেতের ফসল ধ্বংস হবে। সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাসে উপকূলীয় এলাকাগুলো প্লাবিত হবে। বৈশাখ মাস শুরু হতেই গুপ্ত প্রেস ডাইরেক্টরি পঞ্জিকায় এই রাশিফল মানুষের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ে এবং দক্ষিণ বাংলার মানুষ অত্যন্ত আতঙ্কের মধ্যে বাস করতে থাকে। তখন ব্রিটিশ আমল। আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেয়া বা ঝড়ের আভাস পেলে লোকোপসারণের ব্যবস্থা কিছুই ছিল না। দক্ষিণ বাংলার মানুষ ভাগ্যের ওপর নিজেদের ছেড়ে সেই ভয়ঙ্কর ১১ জ্যৈষ্ঠের অপেক্ষা করছিল।
আগেই লিখেছি আমি তখন সাত-আট বছরের বালক। দক্ষিণ বাংলার বরিশাল জেলার উলানিয়া গ্রামের এক স্কুলে নিচের ক্লাসে পড়ি। জ্যৈষ্ঠ মাস আসার সঙ্গে সঙ্গে গ্রামের মানুষ আসন্ন সাইক্লোনের কথা ভেবে কতটা আতঙ্কিত হয়ে উঠেছিল, সে কথা এখনও আমার মনে আছে। অনেকে অবশ্য পঞ্জিকায় ভবিষ্যদ্বাণী বিশ্বাস করেননি। কিন্তু ১০ জ্যৈষ্ঠ সকাল থেকে আকাশ খুব মেঘলা হয়ে ওঠে। সন্ধ্যায় সেই কালো মেঘের ওপর একটা লালচে আভা। সবাই বলল, সাইক্লোনের পূর্বাভাস।
বয়সে খুব ছোট ছিলাম। কিন্তু সেই দারুণ অভিজ্ঞতার কথা এখনও মনে আছে। ১০ জ্যৈষ্ঠের (১৩৪৮) সন্ধ্যা থেকে বাতাসের গতি বাড়তে থাকে। তারপর মধ্যরাতে প্রচণ্ড তাণ্ডব। সেই তাণ্ডবের রাতের অভিজ্ঞতার কথা মনে হলে এখনও গা শিউরে ওঠে। আমরা বাড়িঘর ছেড়ে পুরনো জীর্ণ একটা ইটের দালানে আশ্রয় নিয়েছিলাম। সকালে ঝড় থামলে দেখেছি সারা গ্রাম যেন একটা ধ্বংসস্তূপ। এই ঝড়ের পরই শুরু হয় পঞ্চাশের সেই ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ। দুর্ভিক্ষের পর মন্বন্তর। অবিভক্ত বাংলার ৫০ লাখ মানুষ তাতে মারা যায়। অতীতের কথা থাক। আজ ৭২ বছর পর দেখছি স্বাধীন বাংলার মানুষ আবার শঙ্কিত। তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ভয়ে নয়, মনুষ্যসৃষ্ট রাজনৈতিক দুর্যোগের ভয়ে তারা ভীত। লক্ষণীয় ব্যাপার হল, গ্রামের দিকে এই ভয় ততটা প্রকট নয়, যতটা প্রকট শহরে এবং শহরাঞ্চলের মানুষের মধ্যে। কারণ, রাজনৈতিক ঝড়ের প্রকোপটা শহরের দিকেই বেশি হয়। শহরের মানুষই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এটা পঞ্জিকার যুগ নয় এবং অক্টোবরের শেষে বাংলাদেশে কী ঘটবে সেটা পঞ্জিকার ভবিষ্যদ্বাণী নয়. একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠীর হুমকি। সেই হুমকির ভাষা বড় ভয়ঙ্কর। বিএনপির শীর্ষ নেতা-নেত্রীরাই বলেছেন, অক্টোবরের শেষে তারা যে আন্দোলন শুরু করবেন, তাতে হাসিনা সরকার আর ক্ষমতায় থাকবে না। বিএনপির এক পাতিনেতা বলেছেন, ২৫ অক্টোবরের পর দেশের প্রধানমন্ত্রী পদে থাকবেন বেগম খালেদা জিয়া। হেফাজত গত ৫ মে শাপলা চত্বরে অভ্যুত্থান ঘটিয়ে সরকারের পতন ঘটাবে এই আশায় শেখ হাসিনাকে বেগম জিয়া ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ক্ষমতা ত্যাগ ও দেশত্যাগের চরমপত্র দিয়েছিলেন। এবার হেফাজত ঘোষণা দিয়েছে, তারা ঢাকায় সচিবালয় ঘেরাও করবে। বিএনপির নেতা-নেত্রীদের মুখে এখন শুধু হুমকি আর হুমকি। তিনি ব্যারিস্টার মওদুদ কিংবা এমকে আনোয়ার হোন, আর সাদেক হোসেন খোকা কিংবা মির্জা ফখরুল হোন, তাদের রাজনীতির ভাষা এখন হুমকির ভাষা। ফলে দেশের মানুষ বিশেষ করে শহরবাসীর মধ্যে দারুণ শঙ্কা। তারা জানে গণআন্দোলন করার ক্ষমতা, অভিজ্ঞতা এবং সংগঠন কোনোটাই বিএনপির নেই। একসময় তাদের শক্তির ভিত্তি ছিল ক্যান্টনমেন্ট, এখন সেই শক্তির ভিত্তি জামায়াত ও হেফাজত। শেষোক্ত এই দুই দল মৌলবাদী এবং তাদের পেছনে সাধারণ মানুষের সমর্থন নেই। দেশে নির্বাচন এলেই এটা প্রমাণিত হয়।
কিন্তু জামায়াতের ট্রেনিংপ্রাপ্ত ক্যাডার আছে। কিছু মসজিদ ও মাদ্রাসা দখলে আছে। এই সশস্ত্র ক্যাডার ও মাদ্রাসা ছাত্র এবং শিক্ষকদের সাহায্যে তারা হরতাল ডাকার নামে বিচ্ছিন্ন বিক্ষিপ্ত হিংসাত্মক ঘটনা ঘটায়। সাধারণ পথচারী ও পুলিশ হত্যা করে। দু’চারটি বাস পোড়ানো হয়। বেশির ভাগ পোড়ে প্রাইভেট কার। হরতালের সমর্থনে নয়, আক্রান্ত হওয়ার ভয়ে কিছু দোকানপাট বন্ধ থাকে। স্কুলের লেখাপড়া ক্ষতিগ্রস্ত হয়, পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা বন্ধ হয়। অর্থাৎ ভয়ভীতি দেখিয়ে দেশের রাজধানীসহ কিছু শহরে প্রায় আধা সচল আধা অচল অবস্থা সৃষ্টি করা যায়। শহরবাসীর মধ্যে বিএনপি ও জামায়াতের তথাকথিত আন্দোলনের হুঙ্কারে তাই আতঙ্ক বেশি। এই ‘আন্দোলনে’ তারাই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন। আগামী ২৫ অক্টোবরের পর যদি বিএনপি তাদের ঘোষিত দেশ অচল করার কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামে, তাতে দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ এটা জেনে আতঙ্কিত যে, এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের নামে যে ভাংচুর, সন্ত্রাসের কর্মকাণ্ড শুরু হবে তার নেতৃত্ব দেবে জামায়াত। বিএনপি নয়। জামায়াতিদের নৃশংসতা ’৭১ সাল থেকে দেশের মানুষের জানা। বিএনপির এমন সাংগঠনিক শক্তি নেই, যাতে তারা দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করতে পারে। এক্ষেত্রে বিএনপির ছাতার তলে লুকিয়ে এই সন্ত্রাস সৃষ্টি করছে জামায়াত।
বেগম খালেদা জিয়ার বিশাল জনসভাগুলো তারাই এখন পূর্ণ করছে। জামায়াতি দাড়ি-টুপির সমাহার দেখলেই এই জনসভাগুলোর বৈশিষ্ট্য বোঝা যায়। সিলেটে তো বিএনপি নেত্রীর জনসভা উপলক্ষ করে ছাত্রদল ও শিবিরের মধ্যে এক দফা সংঘর্ষই হয়ে গেছে। ২৫ অক্টোবরের পর বিএনপি যদি তাদের ‘আন্দোলনের’ ডাক দেয় এবং যে আন্দোলন রূপ নেবে দেশময়- বিশেষ করে ছোট-বড় শহরগুলোতে ভাংচুর, সন্ত্রাসে তাতে যে জামায়াত নেতৃত্ব দেবে দেশের মানুষ তা জানে এবং সে জন্যই তারা শঙ্কিত।
গণআন্দোলন করার ক্ষমতা ও অভিজ্ঞতা এবং জনসমর্থন বিএনপি এবং জামায়াত কোনো দলেরই নেই। তবে ভাংচুর, সন্ত্রাস সৃষ্টির দক্ষতা দুই দলেরই আছে। তাতে জামায়াতের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাই অনেক বেশি। সুতরাং আগামী ২৫ অক্টোবরের পরে বিএনপি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি আদায়ের জন্য ‘দেশ অচল করার’ আন্দোলনে নামলে তাতে দেশ অচল হবে না, দেশময় সন্ত্রাস ছড়াবে। আর এই সন্ত্রাস ছড়াতে জামায়াতের সমর্থন ও সহযোগিতা বিএনপির অবশ্যই প্রয়োজন হবে। এই সত্যটা জেনেই ’৭১-এর যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও দণ্ডদানের প্রশ্নে বিএনপি এখন আর জামায়াতের কাছ থেকে দূরত্ব বজায় রাখতে পারছে না। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও দণ্ড বানচাল করার লক্ষ্যে তারা এখন প্রকাশ্যে জামায়াতকে সমর্থন দিতে শুরু করেছে। ব্যারিস্টার মওদুদ ফতোয়া দিয়েছেন, সর্বোচ্চ আদালতের ফাঁসির আদেশ রিভিউ করা ছাড়া কাদের মোল্লার প্রাণদণ্ড কার্যকর করা যাবে না। জামায়াতি ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাকেরও একই দাবি। অন্যদিকে বিএনপির এক আইনজীবী হুমকি দিয়েছেন, ‘এখন যেসব বিচারপতি ’৭১-এর যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করছে, ভবিষ্যতে বাংলার মাটিতে তাদের বিচার করা হবে।’ স্পষ্টই বোঝা যায়, ২৫ অক্টোবরের পর যদি কোনো তথাকথিত আন্দোলন শুরু হয়, তাহলে তা হবে বিএনপির তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি আদায়ের আন্দোলনের মোড়কে ’৭১-এর যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও শাস্তি ভণ্ডুল করার আন্দোলন। ২৫ অক্টোবরের আগে বিএনপির দাবি মানা বা দলটির সঙ্গে কোনো ধরনের সমঝোতা প্রতিষ্ঠায় আওয়ামী লীগ সরকার এগোবে কিনা আমি জানি না। ধরে নেয়া যাক, তারাও তাদের জেদ বজায় রাখবেন এবং কোনো আপস করতে চাইবেন না। তাহলে বিএনপি ও জামায়াতের যৌথ শক্তি এবং পেছনে ইউনূস সেন্টার, সুশীল সমাজ ও একশ্রেণীর বিগ এনজিও ও বিগ মিডিয়ার সমর্থন কি হাসিনা সরকারের পতন ঘটাতে পারবে?
এখানে একটি বড় জিজ্ঞাসাবোধক চিহ্ন আঁকতে হয়। আমি বিএনপির দুজন শীর্ষস্থানীয় নেতাকে জিজ্ঞাসা করেছি, তারা দাবি করছেন এই আন্দোলনের মাধ্যমে তারা হাসিনা সরকারের পতন ঘটিয়ে ক্ষমতায় যেতে পারবেন। এটা সম্ভব বলে তারা কি ভাবছেন? দু’নেতাই নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, তারা দুটি লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছেন। এক. ব্যাপক সন্ত্রাস সৃষ্টি দ্বারা দেশ অচল করে দিয়ে হাসিনা-সরকারকে পদত্যাগে বাধ্য করে তারা ক্ষমতায় যাবেন। দুই. অরাজকতা সৃষ্টি দ্বারা তারা নিজেরা হাসিনা সরকারের পতন ঘটাতে না পারলেও দেশের অন্য কোনো শক্তি (সম্ভবত সেনাবাহিনীর দিকে ইঙ্গিত করেছেন) অরাজকতা দূর করার জন্য মাঠে নামতে বাধ্য হবে এবং তাতে হাসিনা সরকারের পতন হবে। হাসিনা সরকারের পতন হলে ওই শক্তি হয় বিএনপিকে ক্ষমতায় বসাবে, না হয় নিজেরা ক্ষমতা নেবে। সামনে ফখরুদ্দীনের মতো একজন শিখণ্ডী খাড়া রাখবে। তাও যদি হয়, বিএনপির আপত্তি নেই। বিএনপির উদ্দেশ্য হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করা। আর হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হলে একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও দণ্ডদানও স্থগিত হয়ে যাবে; চাই কি বাতিল হয়েও যেতে পারে। বিএনপির ক্ষমতায় যাওয়াও সম্ভব ও সহজ হবে।
বিএনপি নেতাদের এই আশাবাদের পাশে আরও একটি মহলের প্রবল আশাবাদ জাগ্রত রয়েছে। সেটি হল সুশীল সমাজ, ইউনূস সেন্টার এবং একশ্রেণীর বিগ মিডিয়া ও বিগ এনজিও’র সমন্বয়ে গঠিত এলিটসক্লাব। তার পেছনে ২০০১ সালের বিদেশী টুয়েসডেক্লাবেরও যোগসাজশ আছে বলে জানা যায়। তারা এই আশায় গোঁফে তেল মাখছেন, বিএনপি ও আওয়ামী লীগের লড়াইয়ে তারা বক্তৃতা-বিবৃতি ও সেমিনারের মাধ্যমে বিএনপিকে মদদ দিচ্ছেন বটে, কিন্তু তাদের প্রত্যাশা এই লড়াইয়ে দুই পক্ষই হারবে এবং তৃতীয় পক্ষ বা তৃতীয় শক্তি হিসেবে বহুকাল পর তাদের ক্ষমতায় বসার সুযোগটি নাকের ডগায় এসে যাবে। এ ব্যাপারে পশ্চিমা দেশগুলো এমনকি ভারতও তাদের সমর্থন দেবে। এই আশায় ভাগাড়ে গরু মরার আগেই এরা শকুনের মতো আকাশে উড়তে শুরু করেছেন। তাদের শীর্ষ নেতাদের কেউ বিদেশে সমর্থন সংগ্রহের আশায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন, কেউ দেশে বসে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে সমর্থন দানের নামে হাসিনাবিরোধী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। এরা বড় রুই। কিন্তু তাদের সমর্থক ছোট ছোট পুঁটিও বাংলাদেশের খালে-বিলে নাচতে শুরু করেছে। সংবাদপত্রের কলামে, টিভি টকশোতে এদেরই আধিক্য দেখা যায়।
কিন্তু বিশ্ব পরিস্থিতি, বড় বড় শক্তির বিশ্ব স্ট্র্যাটেজি যে বদলে গেছে এটা এই আত্মপ্রত্যয়ীদের দল সম্ভবত বুঝতে পারছেন না। এরা সত্যই ‘সুশীল বালক’। আফগানিস্তান, ইরাক, পাকিস্তানের অভিজ্ঞতা থেকে আমেরিকাসহ বিশ্বের তাবৎ বড় শক্তিই বুঝতে পেরেছে যে, কারজাই, জারদারি মার্কা সিভিল ফেস ক্ষমতায় বসিয়ে কোনো লাভ হয়নি, হবেও না। বাংলাদেশেও এক-এগারোর এক্সপেরিমেন্ট ব্যর্থ হয়েছে। তাই রাজনীতিকদের দ্বারাই রাজনৈতিক সমস্যা সমাধানের অনিবার্যতা আমেরিকাসহ পশ্চিমা দেশগুলো বুঝতে পেরেছে। সেজন্যই প্রেসিডেন্ট ওবামা শেখ হাসিনাকে তার ছেলে জয় সম্পর্কে বলেন, ‘ইওর সান ইজ এ ভেরি ফার্স্ট বয়’। অন্যদিকে গুজব রটেছে, লন্ডনে বিএনপি নেত্রীর পুত্র তারেক রহমানের সঙ্গে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের একাধিক কর্মকর্তা সাক্ষাৎ করেছেন। অর্থাৎ বাংলাদেশের দুটি বড় রাজনৈতিক দল খারাপ হোক আর ভালো হোক, তাদের মাইনাস করে কোনো সমস্যারই সমাধান করা যাবে না। সুতরাং দেশটির সংকট সমাধানে এই দুই দলকেই প্রাধান্য দিতে হবে। তাদের সঙ্গেই কথা বলতে হবে। এই সত্যিটি না বুঝে যারা এখন সুশীল সমাজ ও ইউনূস সেন্টারে গিয়ে জড়ো হয়েছেন এবং তাদের সমর্থনে পাগড়ি বেঁধেছেন, শিগগিরই তারা বুঝতে পারবেন কত বড় শুভঙ্করের ফাঁকির মধ্যে তারা বাস করছেন।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে আগামীতেও শক্তি পরীক্ষা হবে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে। অর্থাৎ গণতান্ত্রিক মিত্র এবং গণতন্ত্রের বিরুদ্ধবাদী শক্তির মধ্যে। এক্ষেত্রে একটাই ভরসা, বিএনপির আন্দোলন করার ক্ষমতা নেই; আছে জামায়াতের সহযোগিতায় সন্ত্রাস সৃষ্টির ক্ষমতা। সন্ত্রাস সৃষ্টির দ্বারা কোনো সরকারের পতন ঘটানো যায় না, আগামী ২৫ অক্টোবরের পরও যদি বিএনপি সন্ত্রাস সৃষ্টিতে নামে, তারা সফল হবে না। দেশে শান্তি-শৃংখলায় কিছুটা ক্ষতি করবে মাত্র। আওয়ামী লীগ তথা হাসিনা সরকার যদি তার জনসমর্থনের শিকড়টিতে জোড়া লাগাতে পারে, তাহলে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। ২০১৩ সালের ২৫ অক্টোবরের রাজনৈতিক প্রলয়ের ঝুঁকি ১৯৪১ সালের গুপ্ত প্রেস ডাইরেক্টরি পঞ্জিকায় প্রাকৃতিক ঝড়-ঝঞ্ঝার সতর্কবাণী নয়; সুতরাং ভয় পাওয়ার তেমন কিছু আছে বলে মনে করি না।

নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে সংকট

১৯৯১ থেকে ২০০৮ সালের ডিসেম্বরের নির্বাচন পর্যন্ত চারটি সংসদ নির্বাচনেই (১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারির নির্বাচন বাদে) বাংলাদেশের জনগণ ক্ষমতাসীন দল বা জোটকে প্রবলভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে পতিত স্বৈরাচারী এরশাদের নির্বাচনী বিপর্যয় প্রত্যাশিত ছিল, কিন্তু ১৯৯৬, ২০০১ ও ২০০৮ সালের নির্বাচনগুলোতে ভোটের মাধ্যমে জনসমর্থন পেয়ে নির্বাচিত ক্ষমতাসীন দল বা জোটের প্রত্যাখ্যাত হওয়ার ব্যাপারটি নিঃসন্দেহে তাদের প্রতি চপেটাঘাতের শামিল। ১৯৯১ সালে বিজয়ী বিএনপি নির্বাচনে কারচুপি করতে গিয়ে মাগুরায় ধরা খেয়ে যায়, যার পরিপ্রেক্ষিতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার আন্দোলন জোরদার এবং সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী পাস হয়। কিন্তু তাড়াহুড়ো করে পাস করা তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থায় বিএনপি ইচ্ছাকৃতভাবে বেশ কয়েকটি মারাত্মক ঘাপলা রেখে দেয়। প্রথম চালাকি ধরা পড়ে তদানীন্তন রাষ্ট্রপতি আবদুর রহমান বিশ্বাস কর্তৃক সেনাবাহিনীর কয়েকজন সিনিয়র কর্মকর্তাকে বরখাস্ত হওয়ার ঘটনায়।
ওই আদেশের প্রতিক্রিয়ায় সেনাবাহিনীতে বিদ্রোহ দেখা দেয়। তদানীন্তন প্রধান উপদেষ্টা বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান ও কয়েকজন উপদেষ্টার প্রজ্ঞা ও বিচক্ষণতার কারণে সরকার ওই সেনাবিদ্রোহ দমাতে সমর্থ হলেও সেনাপ্রধানসহ বেশ কয়েকজন মেধাবী সেনা অফিসার চাকরিচ্যুত হন। আরও মারাত্মক হলো ওই ব্যর্থ বিদ্রোহটি সেনাবাহিনীতে সুপ্ত দলীয় বিভাজনটিকে আবারও উসকে দিয়েছিল। ১৯৯৬ সালের জুনের নির্বাচনটি অবাধ ও নিরপেক্ষ হয়েছিল বলে দেশে-বিদেশে বহুল প্রশংসিত হলেও পরাজয় মেনে নিতে পারেনি বিএনপি; তারা কারচুপির অভিযোগ উত্থাপন করে। এরপর আবারও রাষ্ট্রপতি আবদুর রহমান বিশ্বাসকে ব্যবহার করে বিএনপি বিজয়ী দল আওয়ামী লীগকে সরকার গঠনের অধিকার থেকে বঞ্চিত করার ষড়যন্ত্র করে, যে ষড়যন্ত্রটি কয়েকটি দেশের কূটনীতিকদের সহায়তায় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ভন্ডুল করে দেয়। ২০০১ সালের নির্বাচনের আগেই বিরোধী দল বিএনপি, জামায়াত এবং ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ দলীয় আনুগত্যের ভিত্তিতে পুরো সিভিল প্রশাসন ও সামরিক বাহিনীতে সমর্থকদের নিয়ে নিজস্ব নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে ব্যাপক প্রয়াস চালায়। প্রকৃত প্রস্তাবে ১৯৯১-২০০১—এই এক দশকে রাষ্ট্রযন্ত্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা একদিকে আওয়ামী লীগ এবং অন্যদিকে বিএনপি-জামায়াত শিবিরে বিভক্ত হয়ে পড়ে। দলীয় আনুগত্যের ভিত্তিতে সৃষ্ট এহেন বিভাজন দেশ ও জাতির জন্য যে বিপর্যয় ডেকে এনেছে, যাতে আমরা শঙ্কিত ও উদ্বিগ্ন।
গণতন্ত্রে নির্বাচনী প্রতিযোগিতা থাকবেই, কিন্তু প্রতিযোগী ও প্রতিপক্ষ হওয়ার মানে তো ব্যক্তি বা সমাজজীবনে শত্রুতা কিংবা চিরস্থায়ী বৈরিতা হতে পারে না। বিজয়ী দল বা জোট ক্ষমতাসীন হয়ে পাঁচ বছরের জন্য ক্ষমতার বেলাগাম অপব্যবহারের সংস্কৃতি গড়ে তোলা এবং রাষ্ট্রীয় সব চাকরি, আকর্ষণীয় পদ, প্রকল্প ঠিকাদারি, পদোন্নতি ও ব্যাংকঋণ নিজ নিজ দলের ধান্দাবাজ ও তদবিরবাজ ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর মধ্যে ভাগ-বাঁটোয়ারার রেওয়াজ চালু গণতন্ত্রের নামে নিকৃষ্ট ধরনের স্বৈরাচার চালু করেছে। অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আনিসুর রহমান এ জন্যই এ দেশের ভোটের রাজনীতিকে অভিহিত করেছেন ‘নির্বাচিত জমিদারতন্ত্র’ হিসেবে। পাঁচ বছরের জন্য দেশটা পরিণত হচ্ছে বিজয়ী দল বা জোটের একচ্ছত্র জমিদারিতে, আর ওই জমিদারির একক ক্ষমতাধর মালিক প্রধানমন্ত্রী। সংবিধান যদিও ঘোষণা করছে ‘জনগণই এই রাষ্ট্রের মালিক’, তবু প্রকৃত বিচারে ক্ষমতার মেয়াদের পুরো পাঁচ বছর ক্ষমতাসীন ব্যক্তিদের জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে হচ্ছে না। প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধী দলের নেতাকে আরও সর্বনাশা একক ক্ষমতার অধিকারী করেছে সংবিধানের ৭০ ধারা। তাঁদের একক সিদ্ধান্তে এই দুই দলের যে কারোরই রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ মুহূর্তে ধূলিসাৎ হয়ে যেতে পারে এবং গত ৩০ বছরে দুই দলেই লাগামহীন ক্ষমতা প্রয়োগের ঘটনা আমরা প্রত্যক্ষ করেছি।
ফলে দুই দলের বাঘা বাঘা নেতা দলীয় নেত্রীর আনুগত্য মেনে নিতে বাধ্য হচ্ছেন। এদিকে ক্ষমতাসীন দলের দুর্নীতি, লুটপাট, দলবাজি, টেন্ডারবাজি, আত্মীয়-তোষণ, চাঁদাবাজি, মাস্তানির কারণে জনগণের মধ্যে ক্ষোভ পুঞ্জীভূত হয়, বিজয়ী দল বা জোট জনপ্রিয়তা হারায় এবং ভোটের মাধ্যমে মানুষ ক্ষমতাসীনদের শিক্ষা দিয়ে থাকে। প্রার্থীর যোগ্যতা আর বিবেচ্য থাকে না। এই নির্বাচনী মিউজিক্যাল চেয়ারের খেলায় নেতিবাচক ভোটের ফায়দা নিচ্ছে একবার আওয়ামী লীগ আরেকবার বিএনপি। ২০০১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে হজব্রত পালন করতে গিয়ে পবিত্র মদিনা নগরেই তদানীন্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁদের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই মার্চ মাসে নির্বাচন হবে বলে ঘোষণা দিয়ে বসেছিলেন; কিন্তু দেশে ফেরার পর তিনি পিছিয়ে গেলেন। পত্রপত্রিকায় কারণ উদ্ঘাটন করা হলো যে অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মোস্তাফা কামালের চেয়ে বিচারপতি লতিফুর রহমানকে আওয়ামী লীগ অধিকতর নিরাপদ বিকল্প মনে করেছিল। নির্বাচন পিছিয়ে যাওয়ায় বিচারপতি লতিফুর রহমান যখন নিশ্চিত হয়ে গেলেন যে তিনিই প্রধান উপদেষ্টা হতে যাচ্ছেন, তখন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতা গ্রহণের মাস খানেক আগেই তিনি তাঁর কথিত ‘হোমওয়ার্ক’ শুরু করে দিলেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা কাদের করবেন। এখন জানা যাচ্ছে যে এ রকম কয়েকজন উপদেষ্টাও তাঁর হোমওয়ার্কেও অংশ নিয়েছিলেন। একই সঙ্গে বিএনপি ও জামায়াতপন্থী কয়েকজন আমলা গোপনে তাঁদের নিজস্ব হোমওয়ার্ক শুরু করে দিলেন সিভিল প্রশাসন ও পুলিশ বাহিনীতে আওয়ামী লীগের সাজানো কাঠামো তছনছ করে দিতে।
ওই সময়ের মুয়ীদ-মইনুল-শাহজাহান কমিটিকে ব্যবহার করে বিএনপি-জামায়াতপন্থী কুশীলবেরা কীভাবে দুই মাসেরও কম সময়ে এক হাজার ৫২৬ জন কর্মকর্তার বদলি সম্পন্ন করেছিল, তা পরবর্তীকালে কয়েকজনের জবানিতেই জানা যায়। ওই গণরদবদলের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের আপত্তি বা অভিযোগ তত্ত্বাবধায়ক সরকার মোটেও আমলে নেয়নি। কিন্তু এর ফলে যে আওয়ামীপন্থী কর্মকর্তাদের নির্বাচনের মাঠ থেকে হটিয়ে দিয়ে তাঁদের স্থলে বিএনপি-জামায়াতপন্থী কর্মকর্তাদের বসিয়ে দেওয়া হয়েছিল, তাতে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল বলা যায় কি? এরপর বিএনপি দফায় দফায় দাবি তুলল, ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দিয়ে নির্বাচনের অন্তত এক সপ্তাহ আগে সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে সারা দেশে, নয়তো আওয়ামী লীগের মাঠপর্যায়ের মাস্তানেরা ভোটকেন্দ্র দখল করে রাখবে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার এবং নির্বাচন কমিশনের এতৎসম্পর্কীয় সুপারিশ মেনে নিলেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি। সেনাবাহিনী মাঠে গিয়ে ধাওয়া দিল মাস্তান-পাতি মাস্তান-ক্যাডারদের, পালিয়ে বাঁচল বীরপুঙ্গবরা। কিন্তু আওয়ামী দুষ্ট লোকদের খালি করা মাঠ যে বিএনপি-জামায়াতের ক্যাডার ও মাস্তানরা দখল করে নিয়েছিল, ওই সত্যটাও এত দিনে খোলাসা হয়ে গেছে। অতএব ১৯৯৬ এবং ২০০১ সালে ক্ষমতাসীন দলের নির্বাচনী বিপর্যয়ের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়ে গিয়েছিল যে ক্ষমতাসীন দলের সাজানো বাগান এবং ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কায়দাকানুন ভন্ডুল হয়ে যাচ্ছে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মাধ্যমে।
ফলে ২০০১-০৬ মেয়াদে বিএনপি-জামায়াত জোট আর ঝুঁকি নিতে রাজি হলো না। তারা তাদের শাসনামলের প্রথম থেকেই সেনাবাহিনী, সিভিল প্রশাসন এবং পুলিশ বাহিনী থেকে witch-hunting-এর মাধ্যমে ঝেঁটিয়ে বিদায় করে দিল আওয়ামীপন্থী কর্মকর্তাদের। এমনকি মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা থাকার কারণে শত শত কর্মকর্তাকে বাদ দেওয়া হয়েছে; নিদেনপক্ষে ওএসডি। সাতজন সিনিয়রকে ডিঙিয়ে জেনারেল মইন উ আহমেদকে চিফ অব স্টাফ করা হলো। তার আগেই অবশ্য অপমানজনকভাবে ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে সরিয়ে রাষ্ট্রপতি করা হলো ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদকে। বিএনপির প্রথম দিকের আন্তর্জাতিক সম্পাদক কে এম হাসানকে পুরস্কার হিসেবে হাইকোর্টে নেওয়া হয়েছিল; আর তাঁকেই ২০০৬ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা করার অঙ্ক কষে বিএনপির ‘চাণক্যপ্রবররা’ বিচারপতিদের অবসরের বয়স দুই বছর বাড়িয়ে ৬৭ বছরে নির্ধারণ করে দিলেন। এই ‘অতি চালাকি’ ধরা পড়ে গেল। শুরু হলো প্রাণঘাতী আন্দোলন-সংগ্রাম। ২৮ অক্টোবর ২০০৬ তারিখে দুপুরেই বিচারপতি হাসান রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিনকে প্রধান উপদেষ্টা হওয়ার ব্যাপারে তাঁর অসম্মতি জানিয়ে দেন। কিন্তু ওই মহাগুরুত্বপূর্ণ খবরটা জাতিকে না জানিয়ে রাষ্ট্রপতি মোবাইল ফোনে তা শুধু জানালেন খালেদা জিয়াকে। তিনি তড়িঘড়ি করে মঞ্চ থেকে নেমে গাড়িবহর নিয়ে সোজা চলে গেলেন বঙ্গভবনে। কিন্তু ওই দিন রাত ১২টায় বঙ্গভবন জাতিকে জানালো যে স্বাস্থ্যগত কারণে বিচারপতি হাসান অপারগতা জানিয়েছেন। ২৮ অক্টোবর বিকেল থেকে শুরু করে রাত ১২টার মধ্যে সংঘটিত সংঘর্ষে দেশে যে ৫৩ জন মানুষ নিহত হয়, তার নৈতিক দায় খালেদা জিয়া এবং প্রয়াত ইয়াজউদ্দিন এড়াবেন কীভাবে?
এরপর, তাঁদের (ইয়াজউদ্দিন-খালেদা জিয়া) বৈঠকের সিদ্ধান্ত মোতাবেকই বিচারপতি মাহমুদূল আমীন চৌধুরীকে প্রধান উপদেষ্টা হওয়ার অনুরোধ না জানিয়েই রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন নিজেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হয়ে গেলেন। যার পরিপ্রেক্ষিতে ২০০৭ সালের ১/১১-তে দেশ দুই বছরের জন্য ছদ্মবেশী সেনাশাসনের কবলে পড়ে। নিবন্ধের মূল বক্তব্যটা হলো, ১৯৯৬-২০০১ এবং ২০০৬-০৭-এর তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে মূল দুটো রাজনৈতিক দলই চাতুর্যপূর্ণ চাল-পাল্টা চালে নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে চেষ্টা করেছে। এবার খালেদা জিয়া সুবিধাজনক স্থানে রয়েছেন। আর ক্ষমতাসীনেরা জনগণের প্রত্যাখ্যানের সম্মুখীন। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত পাঁচটি সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মহাজোটের জনপ্রিয়তায় ধস নামার বিষয়টা পরিষ্কারভাবে বোঝা গেছে। ২০০১ সালের মতো প্রশাসন, পুলিশ বাহিনী এবং সেনাবাহিনীর একই রকম রদবদল এবং মাঠপর্যায়ের ভূমিকা বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮-দলীয় জোটের বিজয়কে হয়তো সুনিশ্চিত করবে। আর শেখ হাসিনাও চাইবেন না, আবারও তাঁর সাজানো বাগানটাকে তছনছ করার জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহাল করা হোক। অতএব, নির্বাচনকালীন অন্তর্বর্তী সরকার নিয়ে দেশের চলমান সংকট অত তাড়াতাড়ি সমাধানের পথে যাবে না বলেই আমাদের আশঙ্কা। নিবন্ধের শেষে প্রধানত সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকের কাছেই আমার অনুযোগ: সংবিধানের পঞ্চম ও সপ্তম সংশোধনী বাতিলের ঐতিহাসিক দুটি রায়ের কারণে এ দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে আপনার নাম স্বর্ণাক্ষরেই লেখা থাকবে। ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে অনির্বাচিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা চালু করা যে অসাংবিধানিক—এটাও যুগান্তকারী রায় বিবেচিত হতে পারত, যদি আরও দুবার তত্ত্বাবধায়ক সরকার (সংসদ চাইলে) চালু করাসংক্রান্ত সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সংক্ষিপ্ত নির্দেশনাটির পূর্ণ ব্যাখ্যা দিতে রহস্যজনকভাবে ২৬ মাস বিলম্ব না করা হতো। এত বিলম্ব হলো কেন? জাতি যে সর্বোচ্চ আদালতের এহেন অযৌক্তিক বিলম্বের জন্য মহা বিপদে পড়ে গেল।
ড. মইনুল ইসলাম: অধ্যাপক, অর্থনীতি বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও সাবেক সভাপতি, বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি।

এসব চিকিৎসকের উপযুক্ত বিচার হওয়া উচিত

ল্যাবএইড হাসপাতালের সামনে মানববন্ধন
অনলাইনে প্রথম আলো (prothom-alo.com) নিয়মিত পড়া হয় ১৯০টি দেশ থেকে। পড়ার পাশাপাশি পাঠকেরা প্রতিদিন রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজ, খেলাসহ বিভিন্ন বিষয়ে তাঁদের মতামত দেন। তাঁদের এ মতামত চিন্তার খোরাক জোগায় অন্যদের। গত কয়েক দিনে বিভিন্ন বিষয়ে পাঠকদের কিছু মন্তব্য ঈষৎ সংক্ষেপিত আকারে ছাপা হলো।
বিদ্যুৎ আমদানি ও রামপালের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং ভিডিও সম্মেলনের মাধ্যমে ভারত থেকে আমদানি করা বিদ্যুৎ দেশের ভেতরে সঞ্চালন করা ও বাগেরহাটের রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণকাজের উদ্বোধন ঘোষণা করেছেন। এ নিয়ে প্রকাশিত খবরে মতামত জানিয়ে সোহান মিহাফ লিখেছেন: ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলছেন, সুন্দরবন তাঁদেরও। কিন্তু সুন্দরবন ধ্বংস হলে ভারতের কিছুই হবে না। কারণ, তাদের আরও অনেক বন আছে। কিন্তু আমাদের ওই ছোট বনটিই সম্বল। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, ভারত সরকার বা ভারতের জনগণ আপনাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেনি, করবেও না। এ দেশের জনগণের কাছেই ভোট চাইতে হবে আপনাকে। যত দ্রুত পারেন, এ বিদ্যুৎ প্রকল্প বাতিল করুন। না হলে এ কূল-ও কূল সবই হারাবেন। হাবিবুল্লাহ: মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনি আমার মায়ের মতন। আমি সন্তানতুল্য আবদার নিয়ে বলছি, দেশের স্বার্থে এত বড় আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত নেবেন না। অতীতেও ফারাক্কা বাঁধের বিরোধিতা করে এ দেশের মানুষ আন্দোলন-সংগ্রাম করেছিল। মওলানা ভাসানী লংমার্চ করেছিলেন। কিন্তু আপনারা তখন শোনেননি। ভারতকে বাঁধ তৈরি করার সুযোগ করে দিয়েছিলেন। তার ফল আজ দেশের জনগণ হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে। সাব্বির আহমেদ: সুন্দরবনকে রক্ষার জন্য তেল-গ্যাস রক্ষা জাতীয় কমিটি লংমার্চ করেছে। এ ছাড়া বিএনপি, জাতীয় পার্টিসহ বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংগঠন রামপালে বিদ্যুৎ প্রকল্প তৈরির বিরোধিতা করেছে। এত জনমতকে উপেক্ষা করে জনবিরোধী একটি প্রকল্প চালু করা সরকারের একগুঁয়েমি মানসিকতারই পরিচয় বলে মনে হয়। নাফিয়া সারাওয়াত: জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দুর্যোগের হাত থেকে বাঁচতে বাংলাদেশ যখন শিল্পোন্নত দেশগুলোর কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করছে, ঠিক তখনি বাংলাদেশ নিজেই নিজ পরিবেশ, বিশেষ করে নিজ দেশের ম্যানগ্রোভ বনটি ধ্বংসের মতো একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে!
সাকা চৌধুরী ন্যায়বিচার পাবেন, যদি...
যুদ্ধাপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিচার-প্রক্রিয়াকে প্রশ্ন করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে। তখন সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ন্যায়বিচার পাবেন। তাঁর এ বক্তব্যে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে এস এম আপেল মাহমুদ লিখেছেন: বিএনপির বক্তব্য থেকে বোঝা যাচ্ছে, যুদ্ধাপরাধীরা ১৯৭১ সালে যাঁদের হত্যা করেছে, তাঁদের ন্যায়বিচার পাওয়া উচিত হবে না। শুধু সাকাচৌ, সাঈদী বা নিজামীদের মতো অপরাধীদেরই ন্যায়বিচার পাওয়া উচিত। যারা বাবা-মা, স্বামী-সন্তান হারিয়েছে, যে নারীরা ইজ্জত হারিয়েছেন, তাঁরা বিএনপির কাছে গুরুত্বপূর্ণ কেউ নন। দলটির কাছে মুখ্য হলো খুনিদের আন্তর্জাতিক মানের বিচারের সুযোগ দিয়ে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া! কয়েক দিন আগেও বিএনপির যে জোয়ার শুরু হয়েছিল, তা আপনাদের এসব রাজাকার-মার্কা কথায় এখন ভাটায় পরিণত হয়েছে। মাহবুব লিখেছেন: ভেবেছিলাম জনসমর্থন তাঁদের দিকে ঝুঁকবে। কারণ মানুষ পরিবর্তন চাইছিল। কিন্তু এখন দেখছি, রাজাকারদের দালালি ছাড়তে পারে না, এমন নেতাদের ক্ষমতায় বসালে আমাদের আম-ছালা দুই-ই হারাতে হবে। সাজ্জাদ হোসেন: নির্দলীয় সরকারের মর্ম যদি এটাই হয়, তবে সে নির্দলীয় সরকার না আসাই মঙ্গল। মানুষ সৎ নিয়তে নির্দলীয় সরকার চেয়েছিল, কিন্তু বিএনপি তা রাজাকার বাঁচাতে ব্যবহার করতে চায়। মোয়াজ্জেম হোসেন নিলু: ‘সাকাচৌ ন্যায়বিচার পাবেন’ এ কথায় ফখরুল কী বোঝাতে চাইছেন? সাকাচৌ অবশ্যই ন্যায়বিচার পেয়েছেন। এখন আপনারা যাঁরা তাঁর পক্ষে অবস্থান নিচ্ছেন, তাঁদের বিচার হওয়া দরকার।
ভুল চিকিৎসার অভিযোগে ল্যাবএইড ঘেরাও
ল্যাবএইড হাসপাতালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর ভুল চিকিৎসা করা হয়েছে—এমন অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়টির ছাত্রছাত্রীরা ওই হাসপাতাল ঘেরাও করেছেন। এমন খবরে মতামত জানিয়ে মীর দিদারুল হক লিখেছেন: এসব চিকিৎসক ও হাসপাতালের সাজা হওয়া উচিত। এই চিকিৎসকেরা সরকারি হাসপাতালে কোনোমতে কর্তব্য শেষ করে ব্যক্তিগতভাবে রোগী দেখার জন্য ছোটেন বেসরকারি হাসপাতাল বা ক্লিনিকে। সেখানে রোগীরা অসহায়। দরদস্তুর করার কোনো সুযোগ থাকে না। তাই সেখানে রোগীদের অসহায়ত্বের সুযোগ নেন এসব ডাক্তার। মমিন: ল্যাবএইড হাসপাতালে ভুল চিকিৎসার অভিযোগ অনেক আগে থেকেই আছে এবং অভিযোগের পরিমাণটা অনেক বেশি। যথাযথ তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে প্রয়োজনে এ ধরনের হাসপাতালের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। শান্তনু: প্রত্যেক চিকিৎসক এখন ব্যক্তিগত সম্পদ অর্জনে ব্যস্ত-ত্রস্ত। রোগী বাঁচল, না মরল—সেদিকে তাঁদের কোনো খেয়াল নেই। এসব চিকিৎসকের উপযুক্ত বিচার হওয়া উচিত। মোস্তাফিজুর রহমান জেরী: প্রতিবাদ চলবেই। সফল হবে, নাকি বিফল হবে—সে চিন্তা করেন প্রবীণেরা। আমরা নবীন। আমাদের সংগ্রাম চলবেই। দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। লক্ষ রাখুন, যাতে দোষীরা বিদেশে পালাতে না পারে। ওদের হাত অনেক লম্বা। কারণ, ওদের টাকা আছে। তবে পালাতে পারবে না।
সাকা চৌধুরীর ফাঁসির আদেশ
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাংসদ সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীর ফাঁসির আদেশ হয়েছে। এ সংবাদে মতামত জানিয়ে কিবরিয়া লিখেছেন: রায় তো ৪২ বছর আগে ১৯৭১ সালেই ঠিক হয়ে গিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত ন্যায়বিচার হয়েছে, এটাই বড় কথা। মামুন খান: এক অনলাইন পত্রিকাতে এক দিন আগেই রায় ফাঁস হয়ে গেল! ব্যাপার কী? এত নিরাপত্তার মধ্যেও যদি জাতীয় ও স্পর্শকাতর ব্যাপারগুলো ফাঁস হয়ে যায়, তবে তা ভীষণ উদ্বেগের ব্যাপার। মোশাররফ হোসেন: বলা হচ্ছে, রায় ছয় মাস আগে লেখা হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, ছয় মাস আগে লেখা রায় ছয় মাস পর রায়ের মাত্র এক দিন আগে ফাঁস হলো কেন? কাওসার উদ্দিন: আইন সবার জন্য সমান। অন্যায়ের শাস্তি পেতেই হবে। শান্ত: এই শয়তানের ফাঁসি না হলে, সময়ের কাছে নিজেকে অসহ্য বলে মনে হতো। মুছে দেওয়া হোক শয়তানের অট্টহাসি। দ্রুত কার্যকর করা হোক তাঁর ফাঁসি। আমরা কালক্ষেপণের তামাশা চাই না, রাজনৈতিক দালালিও দেখতে চাই না। শাকিল মণ্ডল: স্বাধীনতা অর্জনের চেয়ে রক্ষা করা যেমন কঠিন, তেমনি আজ যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে রায় দেওয়ার চেয়ে, তাদের শাস্তি দেওয়া কঠিন হয়ে গেছে। রায়ে আমরা সন্তুষ্ট, কিন্তু তা কার্যকর হবে কি না, সেই চিন্তা থাকছেই। আশা করি, জনগণ আশাহত হবে না।

পরিকল্পনাহীন স্থাপত্য শিক্ষা

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। স্থাপত্য ও নগর অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগ চালু হয়েছে প্রায় চার বছর। অথচ নেই কোনো নিজস্ব ভবন। স্থানসংকুলানের অভাবে শিক্ষার্থীদের ক্লাস করতে হচ্ছে ভূগর্ভস্থ পার্কিং (বেসমেন্ট) স্পেসে। পর্যাপ্ত আলো-বাতাসের অভাবে ভবিষ্যৎ দিনের স্থপতি ও পরিকল্পনাবিদেরা হয়ে পড়ছেন অসুস্থ। তা ছাড়া এ ধরনের শিক্ষাব্যবস্থার জন্য অন্যান্য প্রয়োজনীয় উপকরণ এমনকি শিক্ষকস্বল্পতার দরুন শিক্ষার সুষ্ঠু বিকাশ হচ্ছে বাধাপ্রাপ্ত, এটাই স্বাভাবিক। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যথাযথ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করলেও ফলপ্রসূ পদক্ষেপের অভাবে এমন অবস্থা বিদ্যমান। খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, এই অবস্থা সরকারিভাবে পরিচালিত অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়েও বিদ্যমান। অথচ বাংলাদেশে স্থাপত্য ও পরিকল্পনা শিক্ষার শুরুর দিকটা ছিল সময়ের প্রয়োজন। প্রথম ১৯৬১ সালে তৎকালীন আহসানউল্লাহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে (বর্তমানে বুয়েট) টেক্সাসের এ অ্যান্ড এম বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতায় রিচার্ড ব্রুম্যানকে শিক্ষক করে মাত্র ছয়জন শিক্ষার্থী নিয়ে স্থাপত্য শিক্ষার যে পদচারণ, আজ তার রূপরেখার পরিবর্তন ঘটেছে। দিন দিন দেশের আর্থসামাজিক চাহিদার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এ শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা যেমন বাড়ছে, ঠিক তেমনি ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ছাড়াই একের পর এক তৈরি হচ্ছে স্থাপত্য ও পরিকল্পনা বিভাগ।
দেশে বর্তমানে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে অনুমোদন সাপেক্ষে প্রায় সাতটি (নতুন দুটি অনুমোদন পাওয়া সাপেক্ষে) এবং বেসরকারিভাবে প্রায় ১৫-১৬টি স্থাপত্য বিভাগ তাদের শিক্ষার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। যদিও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে নগর ও অঞ্চল বিভাগের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম। গত এক দশকে দেশের ক্রমবর্ধমান আবাসন সমস্যার সমাধানকল্পে এবং প্রাকৃতিক সম্পদ ও ভূমি ব্যবহারে পরিকল্পায়নে এই শিক্ষার অগ্রযাত্রাকে সাধুবাদ জানানোই শ্রেয়, যদি সেখানে সুষ্ঠু শিক্ষার বিকাশে সঠিক পরিকল্পনা বিদ্যমান থাকে। কারণ, শুধু বিভাগসমূহ অনুমোদন দেওয়া সাপেক্ষে নয়, বরং প্রথম নিশ্চিত করতে হবে একজন স্থপতি কিংবা নগর পরিকল্পনাবিদ হিসেবে বেড়ে উঠতে গেলে একজন ছাত্রছাত্রীর শিক্ষার পরিবেশ বিকাশের ক্ষেত্রে যে ধরনের সুযোগ-সুবিধার প্রয়োজন, তা প্রথম নিশ্চিতকরণ। সরেজমিনে দেখা যায়, বুয়েট ব্যতীত অন্য বেশির ভাগ পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থাপত্য ও নগর পরিকল্পনা বিভাগসমূহে যে শুধু নিজস্ব ভবন নেই সেটা নয়, অপর্যাপ্ত ল্যাবের সুযোগ-সুবিধা, জুরি স্পেস, প্রদর্শনী স্পেস, কমিউনিকেটিভ স্পেস, প্রিন্টিং ও মডেল মেকিং ফ্যাসিলিটিস, উন্নত প্রযুক্তিসংবলিত ডিজাইন স্টুডিও, ডিজিটাল মাল্টিমিডিয়াযুক্ত শ্রেণীকক্ষ, থিয়েটার কিংবা অতিপ্রয়োজনীয় লাইব্রেরিতেও বইয়ের স্বল্পতা বিদ্যমান। এর কারণ হিসেবে উল্লেখ করা যায়, এ ধরনের শিক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় বইসমূহের মূল্য অন্যান্য সাধারণ বই থেকে অনেক বেশি।
অন্য শিক্ষাব্যবস্থার থেকে একটু আলাদা হওয়ার কারণে এখানে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও শিল্পসত্তার যোগসূত্রের বিকাশে সম্পূর্ণ শিক্ষাব্যবস্থাকে এমনভাবে ঢেলে সাজাতে হয়, যেখানে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে কমিউনিকেশনের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের আধুনিক প্রযুক্তি বিদ্যমান থাকা অতীব জরুরি। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, এসব বিবেচনা ব্যতিরেকেই প্রতিবছর তৈরি হচ্ছে একের পর এক স্থাপত্য ও পরিকল্পনা বিভাগ; ভর্তি হচ্ছেন শিক্ষার্থী; জন্ম দিচ্ছে কিছু প্রশ্নের, আসলেই কি তাঁরা সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিজেদের ভবিষ্যৎ দিনের একজন পূর্ণাঙ্গ স্থপতি কিংবা পরিকল্পনাবিদ হিসেবে গড়ে তুলতে পারবেন, নাকি শুধু ডিগ্রিসর্বস্ব হয়ে ভবিষ্যতে নগরকে পরিণত করবেন ইট-কাঠের জঞ্জালে? অন্যদিকে বাংলাদেশ স্থপতি ইনস্টিটিউট (আইএবি) কর্তৃক প্রণীত বিভাগসমূহের জন্য Accreditation এ উল্লেখিত নিয়মনীতিমালা পূরণ করার লক্ষ্যে যেকোনো নবনির্মিত সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগসমূহের ক্ষেত্রে সম্ভবপর নয় যদি না বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন কিংবা প্ল্যানিং কমিশন কর্তৃক সঠিকভাবে অর্থায়ন না করা হয় কিংবা প্রয়োজনীয় শিক্ষকের পদ সৃষ্টি না করা হয়। আর শিক্ষা যেহেতু কোনো ব্যবসা নয়, তাই দেশের আর্থসামাজিক এবং সাংস্কৃতিক বিকাশে যুগোপযোগী স্থাপত্য ও পরিকল্পনা শিক্ষার প্রায়োগিক বিকাশে কর্তৃপক্ষ আশু ব্যবস্থা নেবে, এটাই কাম্য।
বিশ্বের বিভিন্ন নামকরা স্থাপত্য ও পরিকল্পনা স্কুল ও অন্যান্য সুপ্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের দিকে লক্ষ করলে দেখা যায়, গবেষণা থেকে শুরু করে শিক্ষার সব যুগোপযোগী উপকরণ পরিপূর্ণভাবে বিদ্যমান বলেই যুগ যুগ ধরে সেগুলো মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে এবং বিখ্যাত স্থপতি ও পরিকল্পনাবিদদের আঙিনায় পরিণত হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ। পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ওই বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ প্রথম অবকাঠামোগত উন্নত করে তারপর পাঠদান কর্মসূচি শুরু করেছে। অথচ আমাদের দেশে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে হয় এর উল্টো। তা ছাড়া প্রায়োগিক শিক্ষার গবেষণার জন্য যে ধরনের গবেষণাগার প্রয়োজন, উপযুক্ত অর্থায়নের অভাবে তার স্বল্পতা থাকার কারণে এসব বিভাগ দেশীয় পরিমণ্ডলে উন্নত গবেষণার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ কোনো ভূমিকা পালন করতে পারছে না, যা অত্যন্ত কাম্য ছিল। ইতালির পলিটেকনিকো দ্য মিলানিও কিংবা অস্ট্রেলিয়ার নিউক্যাসেল ইউনিভার্সিটির উল্লিখিত বিভাগসমূহ প্রতিবছর মোট ব্যয়ের শতকরা ৪৪ ভাগ ব্যয় করে উচ্চতর গবেষণা ও উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে। অন্যদিকে বহিঃস্থ শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে গবেষণাক্ষেত্রে লিংক প্রোগ্রামের মাধ্যমে শক্তিশালী করে বিশ্ববিদ্যালয় অবকাঠামোকে।
অথচ আমাদের দেশের এ শিক্ষা বিকাশের প্রায় ৫২ বছর অতিবাহিত হলেও উন্নত গবেষণার ক্ষেত্র এখনো প্রসারিত হয়নি। তবে এখনো সময় ফুরিয়ে যায়নি। বাস্তবসম্মত এ শিক্ষার পরিপূর্ণ বিকাশে কর্তৃপক্ষকে শুরুতেই কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন কর্তৃক মনিটরিং সিস্টেমের মাধ্যমে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধান করতে হবে। অন্যথায় সময়ের প্রয়োজনে প্রতিবছর শত শত স্থপতি কিংবা পরিকল্পনাবিদ তৈরি হবেন ঠিকই। তবে তাঁদের মধ্যে থাকবে না বিশুদ্ধ প্রাণের সঞ্চার; দেশ গড়ার স্বপ্ন। ফলে কোনো এক সময় আমাদের নগর পরিণত হবে আবর্জনার স্তূপে। (মাঠপর্যায়ে নিরীক্ষা, বিশেষজ্ঞ অভিমত এবং পর্যালোচনার মাধ্যমে নিবন্ধটি লেখা হয়েছে)
সজল চৌধুরী: সহকারী অধ্যাপক, স্থাপত্য বিভাগ, চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম।
sajal_c@yahoo.com
মাহফুজ ফারুক: পরিবেশ ও স্থাপত্যবিষয়ক সাংবাদিক।
mahfuzfaruk@gmail.com

সহজ কথা যায় না বলা সহজে by বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম

এক সপ্তাহ লেখা হয়নি। ফোনের পর ফোন- কেন লেখা পেলাম না, কি হয়েছে, শরীর খারাপ কিনা? জবাব দিতে দিতে জীবন শেষ। এই দু’এক বছর আগেও দেশের মানুষ আমাকে নিয়ে যে এত ভাবে বুঝতে পারতাম না।

‘আগামী নির্বাচন হবে রিমোট কন্ট্রোলে’ - এবিএম মূসা

বরেণ্য সাংবাদিক এবিএম মূসা বলেছেন, আগামী নির্বাচন হবে রিমোট কন্ট্রোলের মাধ্যমে। প্রধানমন্ত্রী যদি কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা থেকে রিমোট কন্ট্রোলের মাধ্যমে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র উদ্বোধন করতে পারেন তাহলে আগামী জাতীয় নির্বাচনও রিমোট কন্ট্রোলের মাধ্যমে করা যাবে।

২৪ ইস্যুতে জেরবার হাসিনা সরকার

এ যেন ইস্যুর খেলা। বারবার গোল পোস্টের বদল। হাসিনা সরকারের সাড়ে চার বছর ইস্যুর পেছনেই ছুটেছে বিরোধী দল। একটার পর একটা ইস্যু তৈরি করা হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে।

বিশ্বাসঘাতক গানম্যান by চৌধুরী মুমতাজ আহমদ

বাংলায় এর সমান্তরাল অর্থ দেহরক্ষী। বিশেষ বা গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিকে নিরাপত্তা দিতে সরকার থেকেই গানম্যান দেয়া হয়। আবার কেউ বা নিজ খরচে গানম্যান চেয়ে নেন।

দ্বৈত ভূমিকায় এরশাদ

রাজনীতির আলোচনার কেন্দ্রে এরশাদ। প্রধান দুই দলের বাইরে তাকে নিয়েই এখন বেশি আলোচনা। কি করছেন এরশাদ? কি করবেন তিনি? চারদিকে এমন নানা প্রশ্ন।

জয়ের রাজনীতি সম্পর্কে ওয়াজেদ মিয়া যা বলেছিলেন-...

সজীব ওয়াজেদ জয় এখন সক্রিয় রাজনীতিতে। কখনও মতবিনিময় করছেন নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে, কখনও ছুটে যাচ্ছেন তৃণমূলে। সবচেয়ে বেশি সরব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে।

আলোচনায় সাঈদীর কান্না, গোলাম মাওলা রনির লেখা...

মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী আবার আলোচনায়। সরকার দলীয় সংসদ সদস্য গোলাম মাওলা রনির একটি লেখায় বহুল আলোচিত এ জামায়াত নেতার মোনাজাত এবং কান্নার বর্ণনায় তৈরি হয়েছে এ আলোচনা।

গোপন তথ্যের সুরক্ষা চাইলে ফিরিয়ে আনুন টাইপরাইটার! by তপন চক্রবর্তী

আধুনিক যুগ পেরিয়ে আমরা এখন উত্তর আধুনিকতার শেষের দিকে। যুগের সাথে তাল মিলিয়ে জীবনের সর্বক্ষেত্রে প্রযুক্তির ছোঁয়া লেগেছে।এযুগে এমন ব্যক্তি খুঁজে পাওয়া ভার যিনি প্রযুক্তির সর্বশেষ ভার্সন মুঠোফোনের সংস্পর্শ পাননি।

হাজার কোটি টাকার চামড়া নষ্টের আশঙ্কা! by ঊর্মি মাহাবুব

একদিকে রাজনৈতিক অস্থিরতা, অন্যদিকে ভারতীয় নিম্নমানের লবণ, এ সব নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন চামড়া শিল্পের ব্যবসায়ীরা।

কক্সবাজার-বান্দরবান নিয়ে স্বাধীন আরাকান! >> ধারাবাহিক প্রতিবেদনের প্রথম পর্ব। by রহমান মাসুদ ও ইলিয়াস সরকার

বাংলাদেশ-মায়ানমার সীমান্তে ভারী অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে রণপ্রস্তুতি নিচ্ছে রোহিঙ্গা সলিডিরাটারি অর্গানাইজেশন (আরএসও)। নতুন লোকবল, প্রশাসনিক শক্তি ও ভারী অস্ত্র সংগ্রহের মাধ্যমে ক্রমেই ভয়ংকর শক্তিধর হয়ে উঠছে মায়ানমারের এই বিচ্ছিন্নতাবাদী জঙ্গি সংগঠন।

প্রিয়াংকার আবেদনময়ী পিঠ

বলিউডের সেরা যৌন আবেদনময়ী পিঠ নাকি প্রিয়াংকা চোপড়ার ? সম্প্রতি এক জরিপের ফলাফলে উঠে এসেছে এ তথ্য। বলিউড অভিনেত্রী দীপিকা, ক্যাটরিনা, আনুশকা আর কারিনাকে হারিয়ে সর্বোচ্চ ভোট পেয়েছেন তিনি।