Wednesday, December 1, 2010

আলোচনা- 'পায়ে পড়ি বাঘ মামা, বেঁচে থাকো' by মহসীন হাবিব

মাত্র ১০০ বছর আগে পৃথিবী নামের এই গ্রহে মানুষের সংখ্যা ছিল ১৫০ কোটি। এই ১০০ বছরেই বুড়িয়ে গেছে লাখ লাখ বছরের সবুজ যৌবনা ধরিত্রী। এ জন্য দায়ী আধুনিক মানুষ। মাত্র ১০০ বছরে পৃথিবীর লোকসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬০০ কোটির বেশি। আবাসন সংকট, খাদ্যের সন্ধান এবং বাণিজ্যিক প্রয়োজনে মানুষ তার থাবা ছড়িয়ে দিয়েছে মালভূমি, মরুভূমি, সাগর-মহাসাগর সর্বত্র। মানুষের এই বিস্তার, বন উজাড়সহ বহুমুখী অবিচারের ফলে বৈশ্বিক উষ্ণতার পাশাপাশি একদিকে বিলুপ্তির পথে ইথিওপিয়ার জাতীয় প্রাণী হরিণ প্রজাতির ওয়ালিয়া আইবেঙ্, অন্য প্রান্তে বাংলাদেশ থেকে হারিয়ে যেতে শুরু করেছে মিঠা পানির কুমির, শকুন, কোবরাসহ অসংখ্য বিরল প্রজাতির জলজ, উভচর ও বন্য প্রাণী। একদিকে বিলুপ্তির মুখে ব্রাজিল উপকূলের নীল তিমি বা উরু নামের বনমোরগ, অন্যদিকে বরফাচ্ছাদিত সাইবেরিয়ার নেকড়ে।

আন্তর্জাতিক- 'পুরনো বন্ধুকে ত্যাগ করতে প্রস্তুত চীন' by ডেভিড উসবর্ন

বিশ্বব্যাপী কূটনৈতিক মহল ধারণা করছে, উত্তর কোরিয়া ধীরে ধীরে শেষ হয়ে যাওয়ার পথে। চীন তলে তলে ভাবতে শুরু করেছে, সিউলের অধীনে একটি একত্রিত কোরিয়া পেনিনসুলার কথা না ভাবার কোনো কারণ নেই। সম্প্রতি আমেরিকার কূটনৈতিক মিশন এবং ওয়াশিংটনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আগে গোপন থাকা যেসব গোপন দলিল বের হয়ে এসেছে তাতে দেখা যায়, চীনের দীর্ঘদিনের উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে বন্ধুত্বের ব্যাপারে যে ধারণা রয়েছে, তাতে আসলে ফাটল ধরেছে। যেমন_সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে, চীনের প্রতিনিধিরা সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে না বললেও সিউলের সঙ্গে আলোচনায় উত্তর কোরিয়ার প্রতি পশ্চিমাদের মতোই তাদের বিরক্তি ও দ্বিধার কথা প্রকাশ করেছেন।

খবর, কালের কণ্ঠের- আমরাই পারি 'দ্বিতীয় রাজধানী' গড়তে by আবেদ খান

কটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে কালের কণ্ঠ। আজ ডিসেম্বর মাসের ১ তারিখ। এই দিন থেকেই শুরু হচ্ছে কালের কণ্ঠের নিয়মিত বিশেষ আয়োজন 'দ্বিতীয় রাজধানী'। প্রকাশিত হবে এক দিন অন্তর এক দিন। বৃহত্তর চট্টগ্রাম বিভাগের যাবতীয় সমস্যা-সম্ভাবনা তুলে ধরে এখানকার মানুষের আজন্ম-লালিত স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার ব্যাপারে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার জন্যই আমাদের এ প্রয়াস। কী নেই চট্টগ্রামের? প্রকৃতি এ অঞ্চলকে অকৃপণভাবে দিয়েছে অনুপম রূপমাধুর্য। পাহাড়-সাগর-অরণ্য এই তিনের অনন্য সমাহার এবং এর পাশাপাশি অপরিমেয় প্রাকৃতিক সম্পদ বাংলাদেশকে পৃথিবীর মানচিত্রে কত সম্মানজনক স্থানে অধিষ্ঠিত করতে পারে, তা কি অন্তর দিয়ে উপলব্ধি করতে পারেন রাজধানী ঢাকায় যাঁরা বিভিন্ন সময়ে শাসনক্ষমতায় আসীন হন, তাঁরা? আমাদের দুর্ভাগ্য, চট্টগ্রামের গুরুত্ব আমাদের দেশের ক্ষমতাসীনরা কখনোই বোঝেন না, কিন্তু বোঝে বিদেশিরা।

খবর- পুলিশি হরতাল __সুত্র কালের কণ্ঠ

প্রধান বিরোধী দল বিএনপির ডাকা হরতালে দলীয় নেতা-কর্মীরা মাঠেই নামতে পারেননি। পুলিশ তাঁদের একরকম অবরোধই করে রেখেছিল। হরতালবিরোধী মিছিল করেছেন আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে মিছিল-পিকেটিং করতে গিয়ে আটক হয়েছেন বিএনপির শতাধিক নেতা-কর্মী। রাজধানীতে হরতাল সমর্থকরা দুটি বাস পুড়িয়েছে। ভাঙচুর করেছে তিনটি মিনিবাস ও একটি ট্যাঙ্কি্যাব।

যুক্তি তর্ক গল্পালোচনা- 'উপদেশের খেসারত' by সৈয়দ আবুল মকসুদ

বেহুদা কথাবার্তা শুনে সাধারণত লোকে হাসে। কখনো কেউ কাঁদেনও। যেমন কেঁদেছিলেন অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ। তবে বাংলাদেশে সংবাদপত্রের যে চরিত্র, তাতে বেহুদা কথা বললে সংবাদের শিরোনাম হওয়া সহজ। সংসদে কোনো দলই নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় কোন দলের নেতৃত্বে সরকার গঠিত হবে, সেই আনুষ্ঠানিকতা শেষ করতে একটু সময় লাগছিল। সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতার তর সইছিল না। তিনি বলে বসলেন, অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ক্ষমতা ছাড়তে চাইছেন না।

গল্প- 'স্বপ্নভঙ্গের ইতিবৃত্ত' by এম ইব্রাহিম মিজি

তাঁর কাঁধে সব সময় দেখা যাবে বেশ বড় একটা বোঁচকা। খুবই নোংরা, খুললেই উৎকট গন্ধ বের হয়। বোঁচকার ভেতরে থাকে রাজ্যের জিনিস, নানা রকম ওষুধপথ্য। একটা হাড়ও আছে। কিসের কে জানে। কতকগুলো পুঁটলি আর নানা রকম ছালবাকল হাত দিয়ে ঘাঁটতে ঘাঁটতে সবুজ, হলুদ আর কালো তেলতেলে কিছু পদার্থ শুক্কুরী বেগম যত্ন করে বিভিন্ন শিশিতে ভরে রাখেন। এগুলো দিয়ে ওষুধ বানাতে আজকাল তাঁর খুব কষ্ট হয়। বয়স ও দারিদ্র্যের কশাঘাতে দৃষ্টিও ক্ষীণ হয়ে এসেছে। তাই শুক্কুরী বেগম খুব কম দেখেন। চোখের ওপর পর্দা পড়েছে_ধূসর একটা কষ্টের, অভাবের আর স্বপ্নভঙ্গের। একসময় কত স্বপ্ন ছিল তাঁর দুচোখ জুড়ে! কত রঙের স্বপ্নঘর হবে, সংসার হবে, দুবেলা দুমুঠো ভাত পেট ভরে খেতে পারলেই হলো, পরনের শাড়িটি ছেঁড়া হবে না! একে একে সব আশাই শেষ হয়েছে। স্বপ্নরা কেবলই থেকে গেছে স্বপ্ন হয়ে, সত্য হয়নি একটিও। শুক্কুরী বেগম চাপা দীর্ঘশ্বাস ফেলেন। বাতাসে তাঁর রুক্ষ চুল ওড়ে, চোখের কোনায় জমে ওঠে দুফোঁটা নোনা জল। বাইরে থেকে কে যেন ডেকে ওঠে_এদিকে আয় শুক্কুরী। কী অদ্ভুত নাম! তাঁর বাবা ভেবেছিলেন, ওর নাম শুক্কুরী রাখলে আর কোনো কষ্ট হবে না। ছোটবেলায় সবাই তাঁকে শুকু বলে ডাকত। আহা! শৈশবের সেই আদরের ডাক। কত দিন চলে গেছে তাঁর অবহেলা আর অনাদরে! খুব ভোরবেলায় তাঁর ঘুম ভেঙে গেল, বুকের ভেতর কেমন যেন হাঁসফাঁস করে, কামার যেমন হাতুড়ি পেটায়। ভোরে উঠেই একটু দূরে বড় মাঠে চলে যান, কাঁপা কাঁপা হাতে ইট ভাঙেন। কষ্ট হয়, খুব কষ্ট। তবু করতে হয়, জীবিকার তাগিদে। এটি তাঁর নেশা ও পেশা নয়। হ্যাঁ, অদ্ভুত এক পেশা আছে তাঁর, বোঁচকার ভেতর ছোটখাটো অফিস। কিন্তু তাঁর এ পেশা আজকাল চলে না বললেই হয়। মানুষ এখন অন্য রকম আবিষ্কারের নেশায় ছুটছে গ্রহ থেকে গ্রহান্তরে। তার পরও সকাল একটু গড়াতে শুক্কুরী বেগম বের হন। ক্লান্ত পায়ে ঘুরে বেড়ান শহরের অলিগলি। মাথার ওপর ঝলমলে সূর্যটাকে সাক্ষী রেখে চিৎকার করেন শিঙ্গা দেবেন কেউ, শিঙ্গা। এই তাঁর পেশা। তিনি শিঙ্গাওয়ালি। পরনের শাড়িটি শতচ্ছিন্ন, পায়ে জোড়াতালি দেওয়া একটা চপ্পল আর কাঁধে একটা বোঁচকা। বোঁচকার ভেতর কালো বাঁকানো একটা শিং। শুক্কুরী বেগমের এটাই মূলযন্ত্র। কেউ কেউ তাঁকে ডাকে, নানা রকম ব্যথার কথা বলে। তিনি ব্যথার জায়গায় শিঙ্গাটা বসান, কিছু তন্ত্রমন্ত্র পড়েন, টেনে বের করে আনেন রক্ত। তারপর ওষুধ দেন। সে কত রকম ব্যাপারস্যাপার! মাঝে মাঝে কাঁধের বোঁচকাটাকে পাহাড়সমান ভারী মনে হয়, পা চলতে চায় না, খিদেয় কথা বন্ধ হয়ে আসে। আকাশের দিকে তাকান তিনি, ওখানে নাকি ঈশ্বর থাকেন। তিনি সব কিছু দেখেন। সবার দুঃখকষ্ট বোঝেন, কই, তাঁকে তো দেখেন না? দুঃখের সাগরে ভাসতে ভাসতে শুক্কুরী বেগম আজ আর শূন্য আকাশের দিকে মুখ তোলেন না। তাঁর চোখের সামনে একে একে ভেসে ওঠে ভয়াবহ বন্যা, মাতব্বরের শয়তানি, স্বামীর প্রতারণা, অভাবের অত্যাচার, কষ্ট_কত কষ্ট! সব ভুলে সামনে চলেছেন শুধু এই জীবনটার জন্য। জীবন তো এগিয়ে চলে জীবনের মতোই। আজকাল মানুষও তাঁকে আগের মতো ডাকে না। লতাপাতা, শেকড়বাকড়ের ওষুধে আর বিশ্বাস নেই কারো। তবু মধ্যদুপুরে রাজধানীর পথে পথে পা ফেলে চলেন। অদৃশ্য কারো উদ্দেশে চিৎকার করেন_শিঙ্গা দেবেন গো, শিঙ্গা। হয়তো জবাব আসে, আনন্দ ঝিলিক দেয় তাঁর চোখে-মুখে। দ্রুত গন্তব্যের উদ্দেশে পা বাড়ান। গন্তব্যহীন এক নিঃশব্দ নারী শুক্কুরী বেগম। তারপর সময় গড়ায়, সূর্য ডোবে, আসে রাত। হাঁড়িতে টগবগ করে চাল ফোটে_শুক্কুরী বেগম আগামীকালের কথা ভাবেন। কোনো প্রত্যাশায় নয়, শুধু বেঁচে থাকার জন্য। আগামীকাল আরো একটি দিন, শূন্য হাঁড়িতে এ চাল কালকেও ফুটবে তো?
=========================
দৈনিক কালের কণ্ঠ এর সৌজন্যে
লেখকঃ এম ইব্রাহিম মিজি

স্মরণ- 'জগদীশচন্দ্র বসুর কথা বলি' by সুরঞ্জিত বৈদ্য

‘বাবা জানো, আজ একটা ঝোপে দেখলাম আগুন জ্বলছে—অনেক আগুন। কাছে গিয়ে দেখি, ঝোপে নয়, এক রকম মাছির গায়ে আগুন জ্বলছে আর নিভছে। ও মাছিগুলো জ্বলে কেন, বাবা?’ জোনাকিপোকা দেখে সেদিন যে শিশুটি বাবার কাছে প্রশ্নটি করেছিল, তিনি আর কেউ নন, বাংলার বিখ্যাত বিজ্ঞানী স্যার জগদীশচন্দ্র বসু। বাবা ভগবানচন্দ্র বসু ছিলেন সেই আমলের ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট। ১৮৮০ সালে জগদীশচন্দ্র সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ থেকে বিজ্ঞান শাখায় বিএ পাস করে বাবার ইচ্ছায় বিলাত যাত্রা করেন। তিনি ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৮৮১ সালে বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন।

যুক্তি তর্ক গল্পালোচনা- 'প্রধানমন্ত্রী কি হরতাল চান?' by আনিসুল হক

ই কথাটা সাধারণভাবেই বলা যায়, কোনো দেশের কোনো সরকারপ্রধানই কি চান যে তাঁর দেশে হরতাল হোক। নির্দিষ্টভাবেও বলা যায়, শেখ হাসিনা কি চেয়েছিলেন যে আজ দেশে হরতাল হোক। কিংবা যখন খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, তিনি কি চাইতেন যে আওয়ামী লীগ দেশে হরতাল ডাকুক?
এই প্রশ্নের উত্তর, ‘না।’ শেখ হাসিনা চান না যে দেশে হরতাল হোক। তিনি ১৯৯৬-২০০১ সালে প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে ঘোষণাও দিয়েছিলেন যে বিরোধী দলে গেলেও তিনি আর কোনো দিন হরতাল ডাকবেন না। অবশ্য তিনি তাঁর কথা রাখতে পারেননি। আর খালেদা জিয়ার হরতালবিরোধী কথামালা একত্র করলে একটা মহাকাব্য হয়ে যাবে। অবশ্য খালেদা জিয়া তখনই হরতালবিরোধী, যখন তিনি প্রধানমন্ত্রী।

আন্তর্জাতিক- 'ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা রাজনীতির নতুন মাত্রা' by পিটার কাস্টার্স

ন্যাটো সম্মেলনের আলোচ্যসূচিতে এবার বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্থান পেল। ২০ নভেম্বর পর্তুগালের রাজধানী লিসবনে ন্যাটো সামরিক জোটের ভবিষ্যতের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত পৌঁছাতে ২৮টি সদস্যরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা একত্র হন। অবধারিতভাবেই এতে বেশ গুরুত্ব পেয়েছে চলমান আফগান যুদ্ধ। আফগান বিদ্রোহীরা (তালেবান) ন্যাটোর সব সদস্যরাষ্ট্রের জন্যই মাথাব্যথার কারণ। আফগানিস্তানে ন্যাটোর উপস্থিতি আপাতত ২০১৪ সাল পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। অন্যদিকে পারমাণবিক অস্ত্র-নিরোধকব্যবস্থার (নিউক্লিয়ার ডিটারেন্স) ওপর নির্ভরতা কমানোর জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার পরিকল্পনা নিয়েও সম্মেলনে বিতর্ক ওঠে।

খবর, প্রথম আলোর-  বিএনপি কর্মীদের দাঁড়াতে দেয়নি পুলিশ

রাজধানী, এর বাইরে সিলেট, নরসিংদীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষের মধ্য দিয়ে গতকাল মঙ্গলবার বিএনপির ডাকা সকাল-সন্ধ্যা হরতাল পালিত হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে পুলিশ ও ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়েছে। ঢাকায় এসব ঘটনায় পুলিশ ৬০ জনকে গ্রেপ্তার করে। এর মধ্যে ৩৮ জনই গ্রেপ্তার হন নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় এলাকা থেকে।

গল্প- 'আজি ঝড়ের রাতে তোমার অভিসারে' by এস এম নাজমুল হক ইমন

খোলা বারান্দায় দাঁড়িয়ে বসুন্ধরা আনমনে ঝড়ের তাণ্ডব দেখে চলছে। আজ কেমন জানি সুধাংশুর কথা বেশি মনে পড়ছে। একসময় সুধাংশু ছাড়া কোনো কিছু ভাবার সময় ছিল না বসুন্ধরার। সুধাংশু ভালোবেসে বসুন্ধরাকে বসু বলে ডাকত। সে কত মধুর দিন ছিল_কলেজজীবনের। তখনকার সময়গুলোতে কত মান-অভিমান চলত, কত ভালোবাসাবাসি হতো। আবার মাঝেমধ্যে বসুন্ধরা আর সুধাংশু চলে যেত অজানার পথে। কলেজের সিনিয়র থেকে শুরু করে নতুন ছাত্রছাত্রীরাও অল্প কয়েক দিনের মধ্যে জেনে যেত তাদের সম্পর্কের কথা।

গল্প- 'মহামানুষের গল্প' by রাসেল আহমেদ

মার আট বছরের মেয়ে টিকলী প্রায় ছুটতে ছুটতে এল। সামান্যতেই ওর খুব ছোটাছুটির স্বভাব। আমি হাসতে হাসতে জিজ্ঞেস করলাম, কী হয়েছে রে, মা?

'বাবা, মহাপুরুষ অর্থ কি খুব বড় কোনো পুরুষ? বয়স্ক?'
আমি বললাম, না রে। কিন্তু কেন, বল তো?
'অর্থটা বলো না_'
'মহাপুরুষ মানে হলো মহৎ পুরুষ। যাঁরা পরোপকার করে বেড়ায়, নিজের কথা সামান্যও চিন্তা করে না_তাঁরাই মহাপুরুষ।'
টিকলী চোখ বড় বড় করে বলল, আর মহৎ মহিলা! যাঁরা শুধু অন্যের উপকার করতে চায়? তাঁরা কি মহামহিলা, বাবা?