Thursday, July 6, 2017

পায়ের পর ঠোঁট বিতর্কে প্রিয়াঙ্কা

তারকা হওয়ার কিছু সুবিধা যেমন আছে, তেমনি যন্ত্রণারও শেষ নেই। এই যন্ত্রণাই এখন হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন প্রিয়াঙ্কা চোপড়া। এই বলিউড তারকা মাস খানেক আগে পা দেখিয়ে বিতর্কে জড়িয়ে ছিলেন। জার্মানির রাজধানী বার্লিনে তখন নিজের প্রথম হলিউডি ছবি ‘বেওয়াচ’-এর প্রচারে গিয়েছিলেন তিনি। এ সময় আবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও রাষ্ট্রীয় সফরে বার্লিনে ছিলেন। বিদেশে গিয়ে নিজ দেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পেয়ে তা হাতছাড়া করতে চাননি প্রিয়াঙ্কা। এ পর্যন্ত ঠিকই ছিল। ‘ভুল’ তিনি করেছিলেন মোদির সামনে খাটো পোশাকে হাজির হয়ে। পোশাকটিতে প্রিয়াঙ্কার পায়ের বেশির ভাগ অংশই ছিল অনাবৃত। এ জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভারতীয় অনেক জনতার তোপের মুখে পড়েছিলেন তিনি। এবার প্যারিসে গিয়ে পড়লেন ঠোঁট বিতর্কে।
প্যারিস ফ্যাশন উইকে অংশ নিতে সাবেক এই বিশ্বসুন্দরী এখন ফ্রান্সে অবস্থান করছেন। সেখান থেকে ইনস্টাগ্রামে নিজের একটি সেলফি প্রকাশ করেছেন সম্প্রতি। এরপর কমেন্ট বক্সে শুরু হয় মানুষের ‘সমালোচনা বর্ষণ’। কেউ বলেন, ‘প্রিয়াঙ্কা প্লাস্টিক সার্জারি করিয়েছেন।’ কেউ আবার তার ফিরতি মন্তব্যে লেখেন, ‘তবে প্লাস্টিক সার্জারি খুব বাজে হয়েছে।’ প্রিয়াঙ্কার ঠোঁট মাছের মতো দেখতে লাগছে বলেও অনেকে হাসাহাসি করেন।
প্রিয়াঙ্কা চোপড়া শেষবার অনাবৃত পা প্রদর্শনের বিতর্কটি খুব কৌশলে সামলে ছিলেন। নিন্দুকদের কথার সরাসরি কোনো জবাব দেননি। ইনস্টাগ্রামে নিজের পা আরও বেশি প্রদর্শন করে অন্য আরেকটি ছবি প্রকাশ করেছিলেন এ অভিনেত্রী। ছবিতে তাঁর মা মধু চোপড়াও ছিলেন খাটো পোশাকে। ছবিটির ক্যাপশন প্রিয়াঙ্কা দিয়েছিলেন, ‘Legs for days...’
অবশ্য প্রিয়াঙ্কার মা মধু চোপড়া অনেক দিন পর হলেও সম্প্রতি এ বিষয়ে মুখ খুলেছেন। মধু বলেন, ‘প্রিয়াঙ্কা সেদিন হুট করেই নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পায়। পোশাক পাল্টানোর মতো সময় তখন তার ছিল না। মোদির সঙ্গে দেখা করাই তখন তাঁর কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল।’
এবার নতুন বিতর্কের জবাব প্রিয়াঙ্কা কতটা সৃজনশীলভাবে দেন, সেটাই দেখার পালা। সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।

রিয়া সেনের বেপরোয়া চলাফেরা

যখন তখন নগ্ন হয়ে যৌন অঙ্গ-ভঙ্গিতে সবার সামনে নিজেকে উপস্থাপন করা যেন টলি-বলিউড তারকা রিয়া সেনের নিত্য অভ্যাস। এ নিয়ে বিতর্কের মুখেও কম পড়েন না তিনি। অনেকে তো মাঝে মধ্যে বলেই বসেন, সাবেক পর্নোস্টার সানি লিওনের চেয়ে কোনো অংশে কম যান না রিয়া। তার অবশ্য প্রমাণ নিজেই দিয়েছেন তিনি। তবে এবার আরেক কীর্তির কথা জানান দিলেন রিয়া। সম্প্রতি নতুন কয়েকটি ছবি প্রকাশ করেছেন তিনি। না, কোনো সাদামাটা ছবি নয়। নিজের ইনস্টাগ্রামে একেবারে খোলামেলাভাবে হাজির হয়েছেন রিয়া। যা অনেকে রিয়ার বেপরোয়া চলাফেরা বলেই মন্তব্য করছেন। তবে এ ব্যাপারে তিনি ভিন্ন কথাই জানালেন ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে। খুব শিগগিরই ওয়েব সিরিজ ‘রাগিনী এমএমএস ২.২’ ছবির কাজ শুরু করবেন এ অভিনেত্রী। আর তাই এ ছবিগুলো প্রকাশ করে নিজের আগাম প্রস্তুতির কথা জানান রিয়া। নতুন এ চলচ্চিত্রে তাকে একাধিক রগরগে দৃশ্যে দেখা যাবে। ইনস্টাগ্রামের ওই ছবিগুলোর বেশিরভাগেই বিকিনি পরা ছিলেন রিয়া।

উপত্যকাটি ফিরে পেতে হলে by এম কে নারায়ণান

জম্মু ও কাশ্মিরের অবনতিশীল পরিস্থিতি এবং সেই সাথে রাজ্যটিতে জোটের শরিকদের মাঝে সম্পর্কের টানাপড়েন মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি আর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মাঝে অনুষ্ঠিত বৈঠকটি ত্বরান্বিত করেছিল। (কাশ্মির) উপত্যকাকে এবার যে সহিংস প্রতিবাদ কাঁপিয়ে তুলেছে, তার মোকাবেলার জন্য নানা পদক্ষেপের বিষয়ে তারা আলোচনা করেছেন। তবে বৈঠকের প্রধান অর্জন দৃশ্যত এটাই যে, বিজেপি-পিডিপি জোট অব্যাহত থাকবে।
দল দু’টির নরম জোটটি আরেকটি ধাক্কা সামলে উঠেছে হতো। তবে এতে যে কাশ্মিরে বিরাট কিছু হয়ে যাবে, তা নয়। সেখানকার পরিস্থিতি সম্পর্কে যাদের সন্দেহ, তাদের মূল্যায়ন হলোÑ কাশ্মিরের ভবিষ্যৎ সব সময়ই প্রায় একই। এই ধারণার পক্ষে যুক্তি হচ্ছে, দিল্লি তার ভূমিকা বদলাতে ইচ্ছুক নয় এবং এই রাজ্যে প্রাণহানি ও বারবার সঙ্কটের ব্যাপারে শিশুসুলভ ব্যাখ্যা দিয়ে পরিতৃপ্ত। ক্ষমতাসীন জোটের শরিক সংগঠন পিডিপি প্রশাসন পরিচালনার ক্ষেত্রে পথ হারিয়ে ফেলেছে। এ অবস্থায় দলটি জোট আঁকড়ে ধরে শ্রীনগরের গদি টিকিয়ে রাখতেই বেশি আগ্রহী। এই প্রেক্ষাপটে বলা যায়, কাশ্মিরের ভবিষ্যৎ নিয়ে কারো মাথাব্যথা নেই।
২০১৬ সালের শেষ দিকে বলা হয়েছিল, কাশ্মির তার ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ সঙ্কটগুলোর একটি মোকাবেলা করছে। আর যেকোনো বিচারে, আজ সেখানে পরিস্থিতি অনেক বেশি জটিল হয়ে উঠেছে। সহিংস প্রতিবাদের মাত্রা কদাচিৎ কমতে দেখা যায়। বিপুল সংখ্যক মানুষ হতাহত হয়েছে। ২০১৬ সালের জুলাই মাসে বুরহান ওয়ানি এনকাউন্টারে মারা যাওয়ার পর থেকে পরিস্থিতির ধরন একই রয়েছে।
কেন কাশ্মিরে সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে, শ্রীনগর বা দিল্লির প্রশাসনের কেউই তা জানে বলে মনে হয় না। যারা কাশ্মিরে সহিংসতা দেখতে দেখতে অভ্যস্ত হয়ে গেছে এবং যাদের পরিকল্পনায় আছে সেখানে একটা পরিবর্তন ঘটানো, তাদের একমাত্র চিন্তার বিষয় হলো, কাশ্মির ভারতের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ হয়ে থাকার বিষয় নিশ্চিত করা। কাশ্মিরের দৃশ্যপট গত বছর থেকে এখন পর্যন্ত একই রকম থাকায় তারাও উদ্বিগ্ন হয়ে উঠেছে। কাশ্মিরে যেসব সহিংসতা এখন ঘটছে, এগুলোর বেশির ভাগই ভয়ঙ্কর বিদেশী জঙ্গিরা ঘটাচ্ছে না। যারা এসব করছে, লশকর-এ-তৈয়বা এবং জইশ-এ-মোহাম্মদ-এর মতো পাকিস্তানপন্থী জঙ্গি সংগঠনের সাথে তাদের প্রত্যক্ষ সম্পর্ক আছে বলে মনে হয় না। স্থানীয় হিজবুল মুজাহিদিনের সাথে ওদের কিছু সম্পর্ক থাকতে পারে।
কাশ্মিরে চলমান সহিংসতার নেতাদের চেনা যায় না। তাদের তৎপরতার সুনির্দিষ্ট কারণ বোধগম্য নয়। পাকিস্তান তার ভূমিকা বদলায়নি এবং সহিংসতায় উসকানি দিচ্ছে আগের মতো। যেমনÑ উরি ও পাঠান কোটের পর কুপওয়ারায় সৈন্যদের ওপর হামলা চালিয়ে হতাহত করা হয়েছে। তবে কাশ্মিরে নতুন হুমকি আসছে সম্পূর্ণ ভিন্ন উৎস থেকে।
বর্তমান জটিল পরিস্থিতি বোঝা কঠিন হবে যদি আগের মতো শুধু বাইরের উসকানি এবং পাকিস্তানের ভূমিকাকে দায়ী করা হয়। একেবারে ভিন্ন কিছু ঘটেছে এবং নতুন কিছু করা দরকার।
কাশ্মিরে এবার যে প্রতিবাদ বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে, তা অসংগঠিত ও বিভক্ত। এ কারণে এটা ইনতিফাদারূপী বিপদ ঘটাতে পারে। ইনতিফাদা হলো এমন গণবিদ্রোহ যার কোনো পরিচিত নেতা থাকে না। ফলে আন্দোলনের নেতা হওয়ার দাবি জানাতে গিয়ে সমস্যা সৃষ্টি করেÑ এমন লোকের সংখ্যা বাড়তে থাকে। অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক কারণে এমন পরিস্থিতি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। এ ধরনের অবস্থা তৈরি হওয়ার আগেই এবং ‘শহীদ’ হওয়ার ঘটনা যাতে নিয়মিত হয়ে না দাঁড়ায়, সে জন্য ভারতকে অবশ্যই পদক্ষেপ নিতে হবে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, ভারত কি সত্যের সম্মুখীন হতে পারবে কিংবা এর ইচ্ছা পোষণ করে? ভারত আগের মতো বলে যেতে পারে, কাশ্মিরে অতীত সহিংসতার জন্য যারা দায়ী, তারা দৃশ্যপটে রয়ে গেছে। তবে একই সাথে এটাও ভারতের স্বীকার করা প্রয়োজন যে, নেপথ্যে একটা পরিবর্তন ঘটছে। জঙ্গিদের নতুন নতুন মুখ দেখা যাচ্ছে। তাদের মধ্যে বিপুলসংখ্যক এমন লোকও রয়েছে যাদের ব্যাপারে ভারত আশা করত যে, তারা স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনতে ভূমিকা রাখবে এবং তারা ভারতেই নিজেদের ভাগ্য গড়তে ইচ্ছুক ছিল।
২০০৮ সাল থেকে কাশ্মির উপত্যকা অস্থিরতার কয়েকটি তরঙ্গ প্রত্যক্ষ করেছে। ২০০৮ ও ২০১০ সালে কাশ্মির বেশ কঠিন সময় পার করেছে। তবে তখন এতে যারা কলকাঠি নেড়েছে, প্রধানত তারা ছিল পাকিস্তানে প্রশিক্ষিত লোকজন। যারা গোলযোগে জড়িত ছিল, তারা প্রেরণা পেয়েছে সেখান থেকে। তবে ২০১৬ থেকে কাশ্মিরে সংগ্রামের সামনের সারিতে আছে ‘সংযুক্ত নয়, এমন’ জঙ্গিরা। এর ব্যাখ্যা কিভাবে দেয়া যায়? আরো অনেক এলাকার মতো এ ক্ষেত্রেও মনে হয়, সত্য শুধু কোনো কোনো উপলক্ষে এখানে ওখানে প্রতিভাত হচ্ছে। বাস্তবতা অন্ধকারে থেকে যায়। মনে হচ্ছে, নব্বই দশকের বিপজ্জনক দিনগুলোর পর কাশ্মিরে জঙ্গিবাদ আবার সমাজে গ্রহণযোগ্যতা পাচ্ছে। শ্রীনগর আর দিল্লির কর্তৃপক্ষের ভণ্ডামিপূর্ণ বক্তব্যের বিপরীতে, ক্রমবর্ধমান সংখ্যায় তরুণসমাজ সহিংসতাকে স্থান দিয়েছে। আজকের পরিস্থিতিতে, অ্যাজেন্ডা ফর অ্যালায়েন্স, পিপলস ডেমোক্র্যাটিক পার্টি, সৈয়দ আলী শাহ গিলানি ও মিরওয়াইজ উমর ফারুকের মতো হুররিয়াত নেতারা, ইয়াসিন মালিকের মতো সাবেক বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা- সবাই কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন। কাশ্মিরে এখন ক্রোধ ও ক্ষোভেরই প্রাধান্য। সহিংসতাপূর্ণ প্রতিবাদ এবং শ্রীনগরের সাম্প্রতিক নির্বাচন প্রায় পুরোপুরি বর্জনের মধ্য দিয়ে এর প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। এর মাধ্যমে যে বার্তা দেয়া হচ্ছে, তা স্পষ্ট। জোরজবরদস্তি কিংবা হুকুমের দ্বারা শান্তি প্রতিষ্ঠা করা যায় না।
কাশ্মিরে এক উপাখ্যানের পর আরেক উপাখ্যান উন্মোচিত হচ্ছে। সিরিজ ঘটনা ঘটে চলেছে আর ‘স্বাভাবিক পরিস্থিতির’ কথা বলা আসলে ‘কৌশলগত মিথ্যাচার’-এর উদ্ভব ঘটিয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে বারবার টুইট করে বাস্তব পরিস্থিতি বদলে দেয়া হচ্ছে। অতিরঞ্জনের বাগাড়ম্বর সত্যকে উপহাস করছে এবং আরো মিথ্যাচারের পথ করে দিচ্ছে। কাশ্মিরে বাস্তবতা হলো : লাশ, জখম, শহীদ এবং সেই সাথে অবশ্যই আছে কর্তৃপক্ষরূপী খলনায়কেরা।
এ দিকে প্রশাসন হেরে যাচ্ছে প্রপাগান্ডা যুদ্ধে। সোশ্যাল মিডিয়া এনকাউন্টারসহ বিভিন্ন ঘটনার ব্যাপারে নিজস্ব ভাষ্য প্রচার করছে। সীমান্তের ওপার থেকে এই মিডিয়ার কয়েক হাজার উৎসও প্রচারযুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে। এখনকার অন্যরকম জঙ্গিদের অক্সিজেন জোগায় সামাজিক গণমাধ্যমই। আর এভাবেই ‘রংধনু মোর্চা’ গড়ে তুলেছে ‘অসংযুক্ত জঙ্গি’ এবং পাকিস্তানের ‘গভীর রাষ্ট্র’।
হতাশ হয়ে পরামর্শ দিলে তা কোনো কাজে আসে না। বর্তমানে যে অবস্থা, তাতে পা রাখলে দেবে যেতে পারে। এ জন্য ক্ষমতাসীন জোটকে দায়ী করা হলেই যে কাজ হবে, তা নয়। সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ফারুক আবদুল্লাহ এটাই করেছেন। দেশ দুর্যোগে নিপতিত হচ্ছে বললেই হবে না; বরং আগে যা বলা হয়েছে এবং যে জন্য চেষ্টা করা হয়েছে, সে ব্যাপারে তিনি পরামর্শ দিতে পারেন। ঘোলাপানিতে মাছ শিকার করা থেকে পাকিস্তানকে বিরত রাখা এবং এ ব্যাপারে তাকে নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। যুক্তরাষ্ট্র এ জন্য পাকিস্তানকে পর্যাপ্ত চাপ দেবে বলে আশা না করাই উচিত। আফগান সঙ্কট মোকাবেলায় আমেরিকার জন্য পাকিস্তান খুব গুরুত্বপূর্ণ। এদিকে, কাশ্মিরে বিরাজমান পরিস্থিতিতে হুররিয়াতের প্রভাব অনেক কমে গেছে। দ্বিধাগ্রস্ত পিডিপি-বিজেপি জোট ভুল করছে। যা ঘটছে, সে সম্পর্কে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি প্রায় অবাস্তব। কাশ্মির উপত্যকায় একের পর এক ভয়াবহ দৃশ্য দেখা গেলেও মনে হচ্ছে, দিল্লি সরকার এই বাস্তবতা থেকে বহু দূরে। এ অবস্থায় সব কিছু ছেড়ে দেয়া হয়েছে গোয়েন্দা আর নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর ওপর। অথচ এই সঙ্কট নিরসনে সেনাবাহিনী ব্যবহার করা হলে সবচেয়ে কম সুফল মিলবে।
আমরা এখন কোথায় যাচ্ছি? প্রথমেই বলতে হয়, কাশ্মিরে যেখানে বাস্তবেই এনকাউন্টার ঘটছে, হতাহত হওয়ার ঝুঁকি নিয়ে হলেও সাধারণ মানুষ সেখানে জড়ো হচ্ছে, যদিও তারা প্রতিবাদ বিক্ষোভে জড়িত নয়। কেন এটা হচ্ছে, নীতিনির্ধারকদের এ ব্যাপারে অবশ্যই গভীরভাবে চিন্তা করতে হবে। নিরাপত্তাবাহিনীর গাড়ির বনেটে একজন বিক্ষোভকারীকে বেঁধে প্রতিবাদরত জনতার মাঝ দিয়ে চালিয়ে যাওয়ার চিন্তা যত কম করা যায়, ততই উত্তম। এ ধরনের কৌশল আগুন নিয়ে খেলার শামিল। এখনকার বিক্ষোভকারীরা ক্ষুব্ধ ও বেপরোয়া। তারাই প্রতিবাদের ধরন এবং আন্দোলনের স্বরূপ নির্ধারণ করছে। এমন একটি পরিস্থিতির দাবি হলো, আমূল রূপান্তর ঘটানো। গোড়াতে ফিরে যেতে হবে। ১৯৬০-এর দশকের পর থেকে যে সংবিধান কাশ্মিরে কার্যকর রয়েছে, এতে আনা চাই পরিবর্তন। এর ফলে ভারতের এই দাবি কিছুটা হলেও বিশ্বাসযোগ্য হবে যে, কাশ্মিরের স্বায়ত্তশাসন অক্ষুণ্ন রাখা হবে। এই স্বায়ত্তশাসনকে কাশ্মির খুবই গুরুত্ব দিয়ে থাকে। সংবিধান ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ের বিশেষজ্ঞদের দিয়ে সাবধানে এসব কাজ করতে হবে।
যা হোক, যা সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ তা হলো- কাশ্মির উপত্যকায় শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য খোলা মনে আহ্বান জানিয়ে এ লক্ষ্যে বিভিন্ন পর্যায়ে বৈঠক ও আলোচনা চালিয়ে যাওয়া। এ ক্ষেত্রে কাউকে বাদ দেয়া যাবে না। বিচ্ছিন্নতাবাদী ও হুররিয়াতের সাথেও বৈঠক করা দরকার। ২০০৫ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত নেপথ্য চ্যানেলে দেয়া প্রস্তাবগুলোর কিছু আইডিয়ার পুনরুজ্জীবন ঘটানো উচিত।
অবশ্যই অগ্রাধিকার দিতে হবে কাশ্মিরের তরুণদের কর্মসংস্থানকে। এ জন্য ব্যাপক কর্মসূচি নিতে হবে। ভারত নিজের অহঙ্কার চাপা দিয়ে পাকিস্তানের সাথে আলোচনা আবার শুরু করার বিষয় বিবেচনা করে দেখতে পারে। পাকিস্তান এ ক্ষেত্রে এগিয়ে আসবে বলে বেশি আশা করা না গেলেও অন্তত কাশ্মিরে হার্ডলাইনের অনুসারীদের তো আশ্বস্ত করা যাবে। এখন দরকার, পেশিশক্তির ওপর নির্ভর না করে বেশি যুক্তিসঙ্গত পন্থা অবলম্বন করা।

ফরহাদ মজহারের কী অপরাধ by মাসুদ মজুমদার

ফরহাদ মজহার এখনো বিপর্যস্ত, অসুস্থ ও কিংকর্তব্যবিমূঢ় অবস্থায় হাসপাতালে রয়েছেন। অজানা আতঙ্ক এখনো তাকে তাড়া করছে। তার দেয়া জবানবন্দী আদালতের হাতে। তিনি শঙ্কামুক্ত হয়ে আবার কলম ধরবেন। জাতিকে নির্দেশনা দেবেন, তার প্রতিবাদী কণ্ঠ আবার দেশবাসীকে উদ্বুদ্ধ করবে- এটা আমাদের প্রত্যাশা। তার মামলা ডিবিতে গেছে, তারা তদন্ত করবে না ডিপ ফ্রিজে রাখার ব্যবস্থা নিশ্চিত হবে, তাও ভবিষ্যৎ বলবে। অনেকেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে সাবাসি দিচ্ছেন। পুলিশকে স্বল্পসময়ের মধ্যে উদ্ধারের জন্য বাহবা দিচ্ছেন। আমরা সব প্রশ্নের জবাব না পেলে সাবাসি দিতে পারি না। কারা অপহরণের হোতা? অপহরণে ব্যবহৃত মাইক্রোবাসটি কোথায়? অপহরণকারীরা যশোর-খুলনার দিকে যাচ্ছিল কেন? মোবাইল ট্রাকিংয়ের পরও উদ্ধারে এত বিলম্ব হলো কী জন্য? ঢাকা থেকে খুলনা দীর্ঘ পথে মোবাইল ট্র্যাকিংয়ের পরেও চেকপোস্ট বসিয়ে মাইক্রোবাসটি আটকের চেষ্টা কেন করা হলো না? খুলনার রেস্টুরেন্ট পর্যন্ত যাওয়া ও খাওয়ার বিলের টাকা দিলো কে? তাদের পরিচয় কী? হাতে ব্যাগ ধরিয়ে দেয়ার নাটুকেপনা কারা করল? তাকে ঢাকা পাঠানোর পুরো বিষয়টি রহস্যাবৃত রাখা হচ্ছে কেন? কারা টিকিট ধরিয়ে দিলো, তাও রহস্যময়।
সাধারণত তিন-চারজন যাত্রী নিয়ে কোনো পরিবহন ঢাকায় আসে না। তা ছাড়া এখন ঈদ মওসুম। র‌্যাব-পুলিশ যদি উদ্ধারকারী হয়, তারা অপহরণকারী শনাক্ত করেনি- এটা কিভাবে বিশ্বাসযোগ্য হতে পারে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী তাকে জাতিকে ব্যাখ্যা দিয়ে জানাতে হবে সীমান্তের ওপারে ঠেলে দেয়ার শঙ্কা জাগল কেন। এতসব প্রশ্নের বাইরেও বাস্তবে অনেক প্রশ্নের উত্তর মিলছে না। একজন বয়স্ক ব্যক্তিকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে গাড়ির নিচে বসিয়ে রাখা হয়। অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়।
আমরা ভুলে যাইনি বিএনপি সরকারের আমলে তিনিও একবার গ্রেফতার হয়েছিলেন। সেটা ছিল আনসার বিদ্রোহের ব্যাপারে। তিনি মন্তব্য করেছিলেন- এরা কৃষকের সন্তান তাই বঞ্চিত হয়েছেন। বিদ্রোহ উসকানি দেয়ার কোনো অভিযোগ ছিল না। বর্তমান সরকারি মহলে তার ওপর বিরক্তি কারো অজানা নেই। আমরা যদ্দুর জানি, ফরহাদ মজহার একজন বামপন্থী তাত্ত্বিক। তার সব তত্ত্বের ভক্ত সবাই হবেন- এমনটি কেউ আশা করে না। তবে মোটা দাগে তিনি একজন চিন্তাবিদ- তার সব চিন্তা জাতিকে ঘিরে। দেশকে নিয়ে। সেখানে তিনি সব বিতর্কের ঊর্ধ্বে একজন নিখাদ দেশপ্রেমিক এবং যুক্তিবাদী মানুষ। দেশের মানুষ ও দেশ নিয়ে তার ভাবনার ব্যাপারে কোনো বিতর্ক নেই। হেফাজত ইস্যুতে তার অবস্থান স্পষ্ট। ঢাকায় লাখ লাখ লোকের উপস্থিতির প্রেক্ষাপটে তিনি বলেছিলেন এরাই বাংলাদেশ। এটা কোনো উসকানি ছিল না, ছিল আবেগাপ্লুত মানুষের অনুভূতি। এর সাথে দ্বিমত করার অধিকার সবার আছে। ফরহাদ মজহারেরও চিন্তার স্বাধীনতা আছে। চিন্তার স্বাধীনতা যারা মেনে নিতে পারে না তারাই ফ্যাসিস্ট।
ফরহাদ মজহারের ব্যাগ ও পোশাক সবার চেনা, তার চলন-বলন এবং চেহারা-সুরতও কারো অচেনা নয়। তাই তার ব্যাগতত্ত্বের কোনো উত্তর এখনো মিলছে না। উত্তর পাচ্ছি না অপহরণকারীদের অসংলগ্ন আচরণের। তাকে যেভাবে ঢাকায় পাঠানো হলো তারও হিসাব মিলাতে পারছি না। অপহরণকারীদের উদ্দেশ্য যাই হোক, তারা ফরহাদ মজহারের বন্ধু, সুহৃদ কিংবা শুভাকাক্সক্ষী নন। তাদের চেহারা অচেনা। তারা কারা অনুমান করতে পারেননি ফরহাদ মজহার নিজেও।
ফরহাদ মজহার বাড়াবাড়ি করার মতো মানুষ নন। চিন্তাগত ফারাক অন্য জিনিসি- সেটা চিহ্নিত হওয়া উচিত। তাহলে কারা তাকে জব্দ করতে এতটা নিষ্ঠুরতা প্রদর্শন করেছে? সব প্রশ্নের জবাব না মিললে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বাহবা দেবো কিভাবে। তবে ফরহাদ মজহার ইস্যুতে তার সহমর্মী মানস কোনোভাবেই অশ্রদ্ধা করা যায় না। তাকে ওপারে ঠেলে দেয়ার শঙ্কা আমরা গুরুত্বের সাথে নেয়ার পক্ষে।
এখন ঘুরেফিরে প্রশ্ন একটাই- গুম ও অপহরণের যে দীর্ঘ তালিকা, বিচারবহির্ভূত হত্যার যে ফর্দ তার শেষ কবে হবে! কেই বা থামাবে এ অনাচার। রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের উপসংহার না টানলে জাতিকে খাদের কিনারা থেকে উদ্ধার করবে কে? ভারত-ইসরাইলের নয়া কৌশল পড়শিদের জন্য আরো বিপজ্জনক হবে না- সেই নিশ্চয়তা কার কাছে পাবো? কারণ ইসরাইলি বর্ণবাদী ও সন্ত্রাসী রাষ্ট্রটি কারো বন্ধু হলে তার আর শত্রুর প্রয়োজন হয় না। ১৯৪৮ সাল থেকে আরবজাহান ও বিশ্ববাসী সেই ইসরাইলি গোয়েন্দা মোসাদের নেটওয়ার্ক সম্পর্কে ভীতিকর অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেছে। এখন অভিজ্ঞতার ডালি কি আমাদের সীমান্তের ওপারে! অনেক পেছনে যাওয়ার গরজ নেই। প্রয়োজনও নেই। শফিক রেহমান প্রথিতযশা সাংবাদিক, উপস্থাপক ও রাজনৈতিক গদ্যের ভিন্ন ধারার লেখক। কিভাবে তাকে গুটিয়ে যেতে বাধ্য করা হলো- তা তো কারো ভুলে যাওয়া উচিত নয়। মাহমুদুর রহমান নিয়ে অল্প কথা বলাই ভালো। তিনি যখন সাদাকে সাদা বলা শুরু করলেন। লেখা শুরু করলেন নিজের মতো করে। হুল ফুটিয়ে দিলেন নীতিনির্ধারকদের শরীরে। তিনি হয়ে উঠলেন অসহ্য মানুষ। তারপরের ঘটনা সবার স্মৃতিতে তাজা।
আরো কম করে জনাদশেক মানুষের নাম বলা যাবে, যারা সাদাকে সাদা বলতে অভ্যস্ত হওয়ার কারণে এখন ‘অপাঙ্ক্তেয়’। তাদের টকশোতে ডেকে কর্তৃপক্ষ ঝুঁকির পাল্লা আরো ভারী করে তুলতে চান না। তাদের লেখা ছাপিয়ে কোপানলে পড়তে নারাজ। অবশিষ্ট রইলেন কবি, গবেষক ও চিন্তাবিদ ফরহাদ মজহার। কলাম লিখেন নিজস্ব ভাব ও ভাষায়। ইনসাফের কথা বলেন। মানবিকতার কথা বলেন। মানবাধিকারের কথা বলেন। বিচারবহির্ভূত হত্যার বিরুদ্ধে সরব থাকেন। জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের কথা বলেন। পরাশক্তির বিরুদ্ধে বলিষ্ঠ উচ্চারণে কথা বলেন। ভারতবিরোধিতার নামে সস্তা রাজনীতি করতে নিরুৎসাহিত করেন। নেতা-নেত্রীদের দেশের জনগণকে মর্যাদা দিয়ে পরিকল্পনা নিতে বলেন। আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে জাতিকে সতর্ক করেন। দেশপ্রেমের প্রেরণা জোগান। যা বলেন অনেক বেশি ঋজু ভাষায় বলেন। যারা বোঝেন না তারা চুপ থাকেন। যারা বোঝেন তারা অসহ্য বিবেচনা করেন। যাদের কাছে ফরহাদ মজহারের লেখা-চিন্তা অসহ্য, তারাই তাকে অপহরণ করেছেন। হয়তো হজম করতে পারেননি কিংবা চালে ভুল করেছেন। এমনও হতে পারে- একটা বড় খেলার মাঠ তৈরি করতে ফরহাদ মজহার বলির পাঁঠা হতে হতে বেঁচে গেলেন। এটাকেই বলা হয়- রাখে আল্লাহ মারে কে? এখন যারা ফরহাদ মজহারকে শুইয়ে পেটাতে চাচ্ছেন, তাদের জন্য সলিমুল্লাহ খানের দাওয়াই যথেষ্ট। আরো খুঁচিয়ে যারা ক্ষত দগদগে করে সেখানে নুন ছিটাতে চান, তাদের জন্য বার্তা একটাই, যারা মৃত্যুকে জয় করার মতো সাহস সঞ্চয় করেন তারা কখনো হেরে যান না। হেরে যায় ভীরু কাপুরুষ এবং সময়ের কুসন্তানেরা।
স্মৃতি প্রতারণা না করলে অনেকেরই স্মরণে পড়ার কথা, এবিএম মুসা টকশোতে বলেছিলেন, এক সময় বর্তমান সরকারের মুখপাত্ররা রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় জনগণ বলবে- ‘ধর ধর ওই চোর যায়।’ তারপর মুসা ভাইকে কে বা কারা সতর্ক করে দিয়েছিলেন। তিনি আমৃত্যু টকশো এড়াতেন!
আসাফউদ্দৌলা সত্য কথা সাহসের সাথে বলতেন, হঠাৎ একদিন টকশো থেকে বাড়ি ফেরার পথে তাকে টার্গেট করে অপ্রীতিকর ঘটনার জন্ম দিলো। তিনি পরিস্থিতি সামাল দিতে পেরেছিলেন, কিন্তু আর টকশোতে কথা বলতে রাজি হলেন না। কলাম লেখাও বন্ধ করে দিয়ে কুরআন চর্চায় মনোযোগ দিলেন। সাদাকে সাদা বলে সত্য উচ্চারণের একটা ভাবমর্যাদা সৃষ্টি করেছিলেন আসিফ নজরুল। তাকে এড়ানোর বিষয়টি কারো দৃষ্টি এড়াল না। ডক্টর তুহিন মালিক সাহসী উচ্চারণে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছিলেন- এক সময় দেখা গেল, তিনি আর ডাক পান না। শেষ পর্যন্ত দেশের বাইরে থাকা ভালো ভাবলেন। নূরুল কবির দেশপ্রেমিক বাম ধারার সাহসী সাংবাদিক। অনুগত দাসানুদাসের মতো কথা বলেন না। বামপন্থী এই সাংবাদিক কথা বলতেন সাহসের সাথে এবং ভয়ভীতির ঊর্ধ্বে থেকে। এক সময় দেখা গেল তার গাড়ি অনুসরণ করে জানান দেয়া হলো ‘খামোশ’। বিরোধীদলীয় রাজনীতির তুখোড় মানুষের দিকে তাকান- মামলার স্তূপ ঠেলে তারা সামনে পথ চলতে পারেন না। সামনে পাঁচ কদম এগোলে হেঁচকা টানে পনেরো কদম পিছিয়ে দেন।
মির্জা ফখরুলরা প্রায় শ’খানেক মামলার ঘানি টানছেন। খালেদা জিয়ার হাজিরার ধরন দেখুন না। গণতন্ত্রের এই ধরনের ভীতিকর বাতাবরণে কখনো বসন্ত আসে না, আসে দুর্যোগ। জানি না, রাজনীতিবিদেরা দুর্যোগ আঁচ করতে পারছেন কি না।
masud2151@gmail.com

জাপানী তরুণ-তরুণীদের এই অবস্থা!

জাপানের তরুণরা ক্রমেই প্রেম বা যৌনতার প্রতি আগ্রহ হারাচ্ছে বলে সাম্প্রতিক একটি গবেষণায় বেরিয়ে এসেছে। কখনোই শারীরিক সম্পর্কে জড়াননি বা এখন কোনো সম্পর্ক নেই, এ রকম তরুণের সংখ্যা দিনে দিনে বাড়ছে।
জাপানের যৌনতা নানা রকমফেরের জন্য জাপানের নামডাক রয়েছে। বিশ্বের প্রথম লাভ হোটেলও চালু হয় জাপানেই। কিন্তু দেশটির তরুণদের মধ্যে এ বিষয়ে আগ্রহ কেমন?
বিবিসি সংবাদদাতা রুপার্ট উইংফিল্ড-হেইজের কাছে আনো মাতসুই নামের ২৬ বছরের এক তরুণ বলছেন, ‘এ বিষয়ে আমার ঠিক আত্মবিশ্বাস নেই। মেয়েদের কাছে আমি কখনোই জনপ্রিয় ছিলাম না। একবার একটি মেয়েকে আমি ডেটিংয়ের জন্য বলেছিলাম, সে না বলে দেয়। সেটাই আমাকে আহত করে।’
যে তরুণ জাপানীরা যৌনতাহীন জীবনে অভ্যস্ত হয়ে উঠছে, তাদেরই একজন আনো মাতসুই।
সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, ১৮ থেকে ৩৪ বছরের তরুণদের ৪৫ শতাংশ জানিয়েছে, তাদের কখনোই কোনো শারীরিক সম্পর্ক হয়নি। ৬৪ শতাংশ বলছে, তারা কোনো প্রেম বা সম্পর্কে নেই।
মি. মাতসুই বলছেন, ‘আমার মতো অনেক পুরুষ রয়েছে, যারা নারীদের ব্যাপারে সংকোচ বোধ করেন। কারণ প্রত্যাখ্যাত হওয়ার চেয়ে বরং অন্য কিছুতে মনোযোগ দেয়াই ভালো।’
কিন্তু এ বিষয়ে জাপানের মেয়েদের অভিমত কি?
৪৫ বছরের একজন শিল্পী, রোকুডেনাশিকো বলছেন, ‘একটি সম্পর্ক গড়ে তোলা হয়তো একটি ছেলের জন্য খুব সহজ ব্যাপার নয়। এজন্য তাকে প্রথমে একটি মেয়েকে ডেটিংয়ে নিয়ে যাবার প্রস্তাব দিতে হবে। এতসব ব্যাপার হয়তো অনেক তরুণ করতে চায় না। বরং তারা ইন্টারনেটে পর্ন দেখে যৌন তৃপ্তি পায়।’
জাপানী তরুণরা না হয় ইন্টারনেট থেকে যৌন তৃপ্তি পেলো। কিন্তু জাপানি তরুণীরা?
হিসাব কর্মকর্তা ২৪ বছরের আনা বলছেন, যৌনতার চেয়েও তার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ভালো খাবারদাবার আর ঘুম।
তিনি বলছেন, ‘যৌনতা হলো এমন কিছু, যার আসলে আমার দরকার বা চাহিদা নেই।’
আনা বলছিলেন, ‘আমি যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়, তখনি আমি প্রথম আমার কঠোর বাবা-মায়ের শাসন থেকে বেরিয়ে স্বাধীনতার স্বাদ পেতে শুরু করলাম। আমি বন্ধুদের সঙ্গে রাত করে বাইরে থাকা বা পানীয় পান করার সুযোগ পেলাম। একজন প্রেমিক হয়তো আমার সেই স্বাধীনতা সীমিত করে ফেলবে, যা আমি চাই না।’
ইন্টারনেট যৌনতা, আত্মকেন্দ্রিকতা বা নিজেকে লুকিয়ে রাখা, কারণ যাই হোক না কেন, গবেষণায় জানা যাচ্ছে, তরুণ জাপানীদের অর্ধেকই কোনোরকম প্রেম বা যৌন অভিজ্ঞতা ছাড়া তাদের ত্রিশ বছর বয়স পার করতে চলেছেন।
সূত্র: বিবিসি

বনানীতে ফের জন্মদিনের অনুষ্ঠানে ডেকে তরুণীকে ধর্ষণ

প্রতীকী ছবি
আপন জুয়েলার্সের মালিকের ছেলে সাফাত আহমেদের ঘটনার রেশ না কাটতেই রাজধানীর বনানীতে আবারও জন্মদিনের অনুষ্ঠানে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগে গতকাল বুধবার ওই তরুণী বনানী থানায় বাহাউদ্দিন ইভান নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। বনানী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুল মতিন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ইভান বিবাহিত এবং তার এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। তার বাবার নাম বোরহানউদ্দিন। বনানীতে এই ব্যবসায়ীর একটি বিপণি বিতান রয়েছে। ওই তরুণী বুধবার থানায় লিখিত অভিযোগ করার পর ইভানকে গ্রেপ্তারের জন্য মাঠে নেমেছে পুলিশ। মধ্যরাত পর্যন্ত ইভানকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। ওই তরুণীকে ভিকটিম সাপোর্টে সেন্টারে রাখা হয়েছে। বৃহস্পতিবার তার ডাক্তারি পরীক্ষা করা হবে বলে জানান পরিদর্শক মতিন।
মামলার এজাহারে ধর্ষণের শিকার তরুণী লিখেছেন, ১১ মাস আগে আসামি ইভানের সঙ্গে তার পরিচয়। ক্রমে তা ঘনিষ্ঠতা পায়। এরই সূত্র ধরে মঙ্গলবার রাত ৯টায় আসামি ওই তরুণীকে ফোন করে নিজের জন্মদিনের কথা জানিয়ে নিজের বাসায় আমন্ত্রণ জানান। ইভান ওই তরুণীকে নিজের পরিবারের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার কথাও বলেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, এরপর ওই তরুণী রাত সাড়ে ১০টার দিকে আসামির বাড়িতে পৌঁছান। এসময় তিনি বাসায় কাউকে না দেখলে আসামির মায়ের কথা জানতে চান। জবাবে আসামি জানান, বাবা-মা অসুস্থ বলে ঘুমিয়ে পড়েছেন। সকালে তাদের সঙ্গে ওই তরুণীর পরিচয় করিয়ে দেওয়া হবে। এসময় বাসায় জন্মদিনের উৎসবের কোনও ধরনের আয়োজন না দেখতে পেয়ে বাসায় ফিরতে চান। কিন্তু তাকে বাধা দেন ইভান। পরে ওই তরুণীকে নেশাজাতীয় দ্রব্যও খাওয়ানো হয়। রাত দেড়টার দিকে ধর্ষণের শিকার হন ওই তরুণী। ওই তরুণী চিৎকার করলে রাত সাড়ে ৩টার দিকে তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয় ইভান।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, এর আগেও ইভান বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেছে ওই তরুণীকে। এ প্রসঙ্গে কাউকে কিছু না বলার জন্য ভয়ভীতিও দেখিয়েছে ইভান। ধর্ষণের শিকার তরুণীর গোপন মুহূর্তের ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছে সে।
উল্লেখ্য, তিন মাস আগে বনানীতে একই রকম ঘটনার অভিযোগ ওঠার পর ব্যাপক আলোচনার মধ্যে আপন জুয়েলার্সের মালিকের ছেলে সাফাত আহমেদসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ওই মামলায় দুই তরুণীকে বনানীর রেইনট্রি হোটেলে জন্মদিনের অনুষ্ঠানে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়। মামলাটিতে পুলিশ ইতোমধ্যে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিয়েছে।

১৫ই জুন সাতকানিয়া সমিতি-চট্টগ্রামেরর ইফতার মাহফীল

আগামী ১৫ই জুন বৃহষ্পতিবার সাতকানিয়া সমিতি-চট্টগ্রাম এর উদ্যোগে নগরীর এসএ খালেদ রোডস্থ রিমা কমিউনিটি সেন্টারে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।
উক্ত ইফতার ও দোয়া মাহফিল সফল করার লক্ষ্যে এক প্রস্তুতি সভা রবিবার রাত ১০টায় আন্দরকিল্লাস্থ সংগঠনের অস্থায়ী কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়।
সমিতির আহ্বায়ক ও চট্টগ্রাম চেম্বারের পরিচালক অহীদ সিরাজ চৌধুরী স্বপনের সভাপতিত্বে এবং সাতকানিয়ার পৌর মেয়র ও সমিতির সদস্য সচিব মোহাম্মদ জোবায়েরের সঞ্চলনায় অনুষ্ঠিত উক্ত প্রস্তুতি সভায় বক্তব্য রাখেন সমিতির উপদেষ্টা ও টেরিবাজার বনিক কল্যাণ সমিতির সভাপতি ওসমান গণি চৌধুরী, মোহাম্মদ রফিক, আমানুল আলম, আব্দুল মাবুদ চৌধুরী, সাবেক চেয়ারম্যান সরওয়ার উদ্দিন চৌধুরী, সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন, সমিতির সদস্য এটিএম রশিদ উদ্দিন শাহীন, অধ্যাপক শাব্বির আহমদ, ফারুক-এ- আজম, নুরুল আলম মন্টু, বশির উদ্দিন চৌধুরী, সালাহ উদ্দিন দিনার, মোঃ জাবেদ চৌ: প্রমুখ।
প্রস্তুতি সভায় ইফতার মাহফিলকে সফল ও সার্থক করে তুলতে বিস্তারিত আলোচনা ও কর্মকৌশল নির্ধারণ করা হয়। যথাসময়ে অনুষ্ঠান শুরু করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিকভাবে উপস্থিত থাকার আহবান জানানো হয়েছে।

উ. কোরিয়ার বিরুদ্ধে কোনো সামরিক পদক্ষেপ মানা হবে না : রাশিয়া

রাশিয়া বলেছে, উত্তর কোরিয়ার সাম্প্রতিক আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র বা আইসিবিএম পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে দেশটির বিরুদ্ধে কোনো নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ বা সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করার বিরোধিতা করবে মস্কো। জাতিসঙ্ঘে নিযুক্ত মার্কিন উপ রাষ্ট্রদূত ভ্লাদিমির সাফরোনকভ এ কথা বলেছেন। তিনি বলেন, এটি অত্যন্ত পরিষ্কার যে উত্তর কোরিয়া সঙ্কট সামরিকভাবে সমাধানকে ন্যায় সঙ্গত প্রমাণের চেষ্টা করা হলে তা মেনে নেয়া হবে না। এ ধরণের পদক্ষেপ গোটা অঞ্চলের জন্য অকল্পনীয় ফলাফল বয়ে আনবে বলেও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন তিনি। পাশাপাশি উত্তর কোরিয়াকে অর্থনৈতিকভাবে দমবন্ধ করে দেয়ার কোনো চেষ্টা রাশিয়া মেনে নেবে না বলেও জানান তিনি। তিনি বলেন, উত্তর কোরিয়ার লাখ লাখ মানুষের বৃহত্তর মানবিক সহায়তার প্রয়োজন রয়েছে। জাতিসঙ্ঘকে এ ক্ষেত্রে ভূমিকা পালন করার এবং মানবিক তৎপরতাকে দলাদলি মুক্ত রাখার আহ্বান জানান তিনি। জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে এ মন্তব্য করেন তিনি। উত্তর কোরিয়ার সর্বশেষ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার ধারাবাহিকতায় এ বৈঠক আহ্বান করেছে আমেরিকা।
রাশিয়া বলেছে, উত্তর কোরিয়ার সাম্প্রতিক আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র বা আইসিবিএম পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে দেশটির বিরুদ্ধে কোনো নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ বা সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করার বিরোধিতা করবে মস্কো। জাতিসঙ্ঘে নিযুক্ত মার্কিন উপ রাষ্ট্রদূত ভ্লাদিমির সাফরোনকভ এ কথা বলেছেন। তিনি বলেন, এটি অত্যন্ত পরিষ্কার যে উত্তর কোরিয়া সঙ্কট সামরিকভাবে সমাধানকে ন্যায় সঙ্গত প্রমাণের চেষ্টা করা হলে তা মেনে নেয়া হবে না। এ ধরণের পদক্ষেপ গোটা অঞ্চলের জন্য অকল্পনীয় ফলাফল বয়ে আনবে বলেও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন তিনি। পাশাপাশি উত্তর কোরিয়াকে অর্থনৈতিকভাবে দমবন্ধ করে দেয়ার কোনো চেষ্টা রাশিয়া মেনে নেবে না বলেও জানান তিনি। তিনি বলেন, উত্তর কোরিয়ার লাখ লাখ মানুষের বৃহত্তর মানবিক সহায়তার প্রয়োজন রয়েছে। জাতিসঙ্ঘকে এ ক্ষেত্রে ভূমিকা পালন করার এবং মানবিক তৎপরতাকে দলাদলি মুক্ত রাখার আহ্বান জানান তিনি। জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে এ মন্তব্য করেন তিনি। উত্তর কোরিয়ার সর্বশেষ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার ধারাবাহিকতায় এ বৈঠক আহ্বান করেছে আমেরিকা।

সেনবাগে পুলিশী বাধায় বিএপির মানববন্ধন পণ্ড

বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও সাবেক বিরোধীদলীয় চীফহুইপ জয়নুল আবদিন ফারুককে ওপর ২০১১ সালের ৬ জুলাই সংসদ ভবন এলাকায় পুলিশী নির্যাতনের ৭বছর পূর্তিতে ও দোষীদের শাস্তির দাবীতে আয়োজিত মানবন্ধন পুলিশী বাধায় পন্ড হয়েছে। বৃহস্পতিবার সেনবাগ পৌরশহরের থানা মোড়ে পুলিশী বাঁধায় সেনবাগ উপজেলা বিএনপির ও অঙ্গ সংগঠনের আয়োজিত পূর্ব নির্ধারিত মানববন্ধন কর্মসূচী ঘোষণা করে । এ ছাড়াও সকাল ৯টার দিকে সেনবাগ থানা পুলিশ শহরের দক্ষিন বাজারে অবস্থিত দলীয় কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে বলেও অভিযোগ বিএনপি নেতাদের। পরে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নেতাকর্মীদের প্রতিবাদে মুখে দলীয় কার্যালয়ে তালা খূলে দিলে সেখানে প্রতিবাদ সভা করে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। সেনবাগ পৌর বিএনপির সভাপতি জহিরুল ইসলাম লিটনের সভাপতিত্বে ও উপজেলা যুবদল সভাপতি মির্জা মোস্তফার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন-নোয়াখালী জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ও সেনবাগ উপজেলা সেক্রেটারী মোক্তার হোসেন পাটোয়ারী। এসময় উপস্থিত ছিলেন সেনবাগ উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি মোঃ ইউসুফ মজুমদার,সেনবাগ পৌর বিএনপির সেক্রেটারী শহীদ উল্লাহ,নোয়াখালী জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন বাহার,নোয়াখালী জেলা বিএনপির সহসভাপতি জাহিদুল হক সবুজ,বিএনপি নেতা নুরনবী বাচ্ছু , সুজন চৌধুরী,ডমুরুয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাখাওয়াত হোসেন,বিএনপির নেতা মোঃ ইউসুফ কমিশনার,নবীপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি বাহার উদ্দিন ,সেক্রেটারী আমিন উল্লাহ বিএসসি,অজুনতলা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শাহাদাত হোসেন খান সাধন, সেক্রেটারী মোঃ হারুন,কাবিলপুর ইউনিয় বিএনপির সভাপতি শেখ মোস্তাফিজুর রহমান, মোহাম্মদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জাফর খান, সেক্রেটারীএকরামুল হক সোহাগ,সেনবাগ উপজেলা যুবদল সেক্রেটারী সুলতান সালা উদ্দিন লিটন,পৌর যুবদল সভাপতি মোকারম হোসেন, সেক্রেটারী,এমাম হোসেন,উপজেলা ছাত্রদল সভাপতি সাহেব উদ্দিন রাশেল, সেক্রেটারী নুরবনী রাজু, কাবিলপুর ইউনিয়ন যুবদল সভাপতি মহিন উদ্দিন,সেক্রেটারী মোয়াজ্জেম হোসেন দুলাল, উপজেলা সেচ্ছাসেবকদল সভাপতি তুহিন,কাবিলপুর ইউনিয়ন সেচ্ছাসেবকদল সভাপতি ইসমাই হোসেন, সেক্রেটারী সামছুল হক সামু, সহ বিএনপি,যুবদল,ছাত্রদল ও সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।আলোচনা সভা শেষে জয়নুল আবদিন ফারুকের সুস্থ্যতা ও কারামুক্তির জন্য বিশেষ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

খালেদা জিয়ার দুই মামলার পরবর্তী শুনানি ১৩ জুলাই

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম  খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দুদকের দায়ের করা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট  ও  জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার শুনানি আগামী ১৩ জুলাই পর্যন্ত মুলতবি করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার বকশীবাজারের আলিয়া মাদরাসা মাঠে স্থাপিত ঢাকার ৫নং বিশেষ জজ ড. আখতারুজ্জামান আসামিপক্ষের সময় আবেদন মঞ্জুর করে এ আদেশ দেন। জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপ-পরিচালক হারুন অর রশিদকে পুন:জেরা করছেন খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। অন্যদিকে এ মামলায়  পাঁচজন সাক্ষীকে জেরার জন্য অনুমতি চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করা হয়েছে। হাইকোর্টে আবেদনটি শুনানির অপেক্ষায় থাকায় আইনজীবীরা জেরার সময় আবেদন করলে আদালত দুটি মামলারই শুনানি মুলতবি করেন। আদালতে খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী আবদুর রেজাক খান, এজে মোহাম্মদ আলী, জয়নুল আবেদীন প্রমুখ। আইনজীবীরা  জানান,  জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের ৩৬ জন সাক্ষীর মধ্যে ৩২ জনের স্যা গ্রহণ করা হয়েছে। এই ৩২ সাীর মধ্যে পাঁচজনকে খালেদা জিয়ার পক্ষে  জেরা করা হয়নি। পাঁচজনকে জেরা করা অনুমতি চেয়ে আবেদন করা হলে ৮ জুন বিচারিক আদালত তা নামঞ্জুর করেন। এ আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে  রিভিশন আবেদনটি করা হয়। আবেদনটি হাইকোর্টের একটি বেঞ্চে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দুদকের দায়ের করা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার শুনানি আগামী ১৩ জুলাই পর্যন্ত মুলতবি করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার বকশীবাজারের আলিয়া মাদরাসা মাঠে স্থাপিত ঢাকার ৫নং বিশেষ জজ ড. আখতারুজ্জামান আসামিপক্ষের সময় আবেদন মঞ্জুর করে এ আদেশ দেন। জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপ-পরিচালক হারুন অর রশিদকে পুন:জেরা করছেন খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। অন্যদিকে এ মামলায় পাঁচজন সাক্ষীকে জেরার জন্য অনুমতি চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করা হয়েছে। হাইকোর্টে আবেদনটি শুনানির অপেক্ষায় থাকায় আইনজীবীরা জেরার সময় আবেদন করলে আদালত দুটি মামলারই শুনানি মুলতবি করেন। আদালতে খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী আবদুর রেজাক খান, এজে মোহাম্মদ আলী, জয়নুল আবেদীন প্রমুখ। আইনজীবীরা জানান, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের ৩৬ জন সাক্ষীর মধ্যে ৩২ জনের স্যা গ্রহণ করা হয়েছে। এই ৩২ সাীর মধ্যে পাঁচজনকে খালেদা জিয়ার পক্ষে জেরা করা হয়নি। পাঁচজনকে জেরা করা অনুমতি চেয়ে আবেদন করা হলে ৮ জুন বিচারিক আদালত তা নামঞ্জুর করেন। এ আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিভিশন আবেদনটি করা হয়। আবেদনটি হাইকোর্টের একটি বেঞ্চে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে।

গুম ও গোপন আটক বন্ধ করুন

বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ২০১৩ সাল থেকে শত শত মানুষকে অবৈধভাবে আটক করেছে এবং গোপন স্থানে আটকে রেখেছে বলে একটি প্রতিবেদনে বলছে যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। যাদের মধ্যে কয়েকজন বিরোধী নেতাও রয়েছেন। অবিলম্বে গুম করার এই প্রবণতা বন্ধ করতে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। একই সঙ্গে এসব অভিযোগের তদন্ত করা, নিখোঁজদের পরিবারের কাছে ব্যাখ্যা তুলে ধরা আর এসব ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহবান জানিয়েছে সংস্থাটি। ৮২ পৃষ্ঠার ওই প্রতিবেদনের শিরোনাম , 'তিনি আমাদের কাছে নেই: বাংলাদেশে গোপন আটক আর গুম', যেখানে অন্তত ৯০ জনের তথ্য রয়েছে, যাদের শুধুমাত্র ২০১৬ সালেই গুম করা হয়েছে। এদের মধ্যে বেশিরভাগকে এক সপ্তাহ বা একমাস গোপন স্থানে আটকে রাখার পর আদালতে হাজির করা হয়েছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের কাছে তথ্য রয়েছে যে, এরকম আটক ২১জনকে পরে হত্যা করা হয়েছে আর নয়জনের কোন তথ্যই আর জানা যায়নি। এই ৯০জনের তালিকায় মানবতা বিরোধী অপরাধে ফাঁসি কার্যকর হওয়া তিন বিরোধী নেতার তিন সন্তান রয়েছে, যাদের একজন ছয়মাস পরে ফিরে এসেছেন। বাকি তিনজনের এখনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। ২০১৭ সালের প্রথম পাঁচ মাসে এরকম ৪৮জনের নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে, বলছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। ''নিখোঁজের বিষয়ে যথেষ্ট তথ্যপ্রমাণ থাকলেও, বাংলাদেশের সরকার এই বিষয়ে আইনের খুব একটা তোয়াক্কা করছে না''। বলছেন হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া পরিচালক ব্রাড অ্যাডামস। তিনি বলছেন, ''মানুষজনকে আটক করে তারা দোষী না নির্দোষ নির্ণয় করা, শাস্তি নির্ধারণ করা, এমনকি তারা বেঁচে থাকবে কিনা, সেই সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতাও যেন বাংলাদেশের নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের যেন এই ক্ষমতা দেয়া হয়েছে।'' ওই প্রতিবেদনে বিরোধী বিএনপির ১৯জন কর্মীর তথ্য রয়েছে, যাদের ২০১৪ সালের জানুয়ারির নির্বাচনের পূর্বে বিভিন্ন এলাকা থেকে তুলে নেয়া হয়। প্রতিবেদন তৈরি করতে গিয়ে নিখোঁজ পরিবারের সদস্য ও প্রত্যক্ষদর্শীসহ একশোজনের বেশি মানুষের সাক্ষাৎকার নিয়েছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। সেখানে পুলিশের কাছে করা অভিযোগ ও অন্যান্য আইনি কাগজপত্রও রয়েছে। সংস্থাটি বলছে, এসব অভিযোগের বিষয়ে ব্যাখ্যা চাইলেও তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষ।
এ ধরণের ঘটনায় র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন এবং ডিটেকটিভ ব্রাঞ্চের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিখোঁজদের পরিবারের সদস্যদের, যে সংস্থা দুটির বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের দীর্ঘ অভিযোগ রয়েছে। ২০১৩ সালের ৫ জানুয়ারি আদনান চৌধুরীকে তুলে নিয়ে যায় র‍্যাবের সদস্যরা। তার বাবা রুহুল আমিন চৌধুরী সংস্থাটিকে বলছেন, তাদের বলা হয়েছিল, পরদিন র‍্যাব সদস্যরা তাদের ছেড়ে দেবে। ''তারা বললো, আমরা তাকে নিয়ে যাচ্ছি, আমরাই আবার তাকে ফেরত দিয়ে যাবো। কিন্তু তারা আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে'', সংস্থাটিকে বলেছেন মি. চৌধুরী। প্রতিবেদনে বলা হয়, নিখোঁজ বিএনপি নেতা সাজেদুল ইসলাম সুমনের পরিবারের কাছে একজন জ্যেষ্ঠ র‍্যাব কর্মকর্তা গোপনে জানিয়েছেন, সুমনসহ আরো পাঁচজন তার হেফাজতে ছিল। কিন্তু তিনি তাদের হত্যা করতে অস্বীকৃতি জানানোর পর অন্য র‍্যাব কর্মকর্তারা তাদের নিয়ে যান। তার ধারণা, এই ছয়জনের কেউ বেঁচে নেই। যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক এই মানবাধিকার সংস্থাটি বলছে, এ ধরণের আটকের ঘটনা সবসময়ে অস্বীকার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সরকারি কর্মকর্তারাও তাদের এই দাবির সমর্থন দিয়ে আসছেন। বরং কখনো কখনো উল্টো বলা হয় যে, এসব ব্যক্তিরা নিজেরাই লুকিয়ে রয়েছেন। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলছে, এ ধরণের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগও গ্রহণ করে না পুলিশ। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলছে, বাংলাদেশ সরকারের উচিত জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারকে এসব অভিযোগ তদন্ত করার আহবান জানানো এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের কর্মকর্তা ব্রাড অ্যাডামস বলছেন, ''বাংলাদেশের সরকার এমনকি এসব অভিযোগ নাকচ না করে নীরব থাকছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও চুপ করে থাকছে।' 'এই নীরবতার অবসান হওয়া উচিত', বলছেন মি. অ্যাডামস। সূত্র : বিবিসি বাংলা

দেশের কোথাও কোথাও ভারী বর্ষণ হতে পারে

দেশের কোথাও কোথাও মাঝারী ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘন্টার আবহাওয়া পূর্বাভাসে আবহাওয়া অধিদফতর জানায়, রংপুর, ময়মনসিংহ, সিলেট, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা ও খুলনা বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ী দম্কা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারী ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। আবহাওয়া অফিস জানায়, সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রী সেলসিয়াস এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে। আজ দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা কক্সবাজারে ২৪ ডিগ্রী সেলসিয়াস এবং গতকালের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল রাজশাহীতে ৩৩ দশমিক ৬ ডিগ্রী সেলসিয়াস। গত ২৪ ঘন্টায় সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে কক্সবাজারে ২৪১ মিলিমিটার। ঢাকায় বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ২৭ মিলিমিটার। ঢাকায় বাতাসের গতিবেগ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘন্টায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার। আজ সকাল ৬ টায় ঢাকায় বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৯২ শতাংশ। আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটে ও আগামীকাল ঢাকায় সূর্যোদয় ভোর ৫টা ১৬ মিনিটে। আগামী ৭২ ঘন্টায় (৩ দিন) আবহাওয়ার অবস্থা সম্পর্কে বলা হয়েছে, এই সময়ের মধ্যে আবহাওয়ার সামান্য পরিবর্তন হতে পারে। আবহাওয়া চিত্রের সংক্ষিপ্তসারে বলা হয়, মৌসুমী বায়ুর অক্ষ ভারতের পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তর প্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ এবং বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল হয়ে ভারতের আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত। এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমী বায়ু বাংলাদেশের উপর মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারী অবস্থায় রয়েছে। দেশের কোথাও কোথাও মাঝারী ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘন্টার আবহাওয়া পূর্বাভাসে আবহাওয়া অধিদফতর জানায়, রংপুর, ময়মনসিংহ, সিলেট, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা ও খুলনা বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ী দম্কা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারী ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
আবহাওয়া অফিস জানায়, সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রী সেলসিয়াস এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে। আজ দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা কক্সবাজারে ২৪ ডিগ্রী সেলসিয়াস এবং গতকালের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল রাজশাহীতে ৩৩ দশমিক ৬ ডিগ্রী সেলসিয়াস। গত ২৪ ঘন্টায় সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে কক্সবাজারে ২৪১ মিলিমিটার। ঢাকায় বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ২৭ মিলিমিটার। ঢাকায় বাতাসের গতিবেগ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘন্টায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার। আজ সকাল ৬ টায় ঢাকায় বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৯২ শতাংশ। আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটে ও আগামীকাল ঢাকায় সূর্যোদয় ভোর ৫টা ১৬ মিনিটে। আগামী ৭২ ঘন্টায় (৩ দিন) আবহাওয়ার অবস্থা সম্পর্কে বলা হয়েছে, এই সময়ের মধ্যে আবহাওয়ার সামান্য পরিবর্তন হতে পারে। আবহাওয়া চিত্রের সংক্ষিপ্তসারে বলা হয়, মৌসুমী বায়ুর অক্ষ ভারতের পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তর প্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ এবং বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল হয়ে ভারতের আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত। এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমী বায়ু বাংলাদেশের উপর মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারী অবস্থায় রয়েছে।

ভারী বর্ষণ হতে পারে

দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। আজ সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়া পূর্বাভাসে আবহাওয়া অধিদফতর জানায়, রংপুর, ময়মনসিংহ, সিলেট, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা ও খুলনা বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ী দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারী ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। আবহাওয়া অফিস জানায়, সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রী সেলসিয়াস এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে। আজ দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা কক্সবাজারে ২৪ ডিগ্রী সেলসিয়াস এবং গতকালের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল রাজশাহীতে ৩৩ দশমিক ৬ ডিগ্রী সেলসিয়াস। গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে কক্সবাজারে ২৪১ মিলিমিটার। ঢাকায় বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ২৭ মিলিমিটার। ঢাকায় বাতাসের গতিবেগ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার। আজ সকাল ৬টায় ঢাকায় বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৯২ শতাংশ। আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটে ও আগামীকাল ঢাকায় সূর্যোদয় ভোর ৫টা ১৬ মিনিটে। আগামী ৭২ ঘণ্টায় আবহাওয়ার অবস্থা সম্পর্কে বলা হয়েছে, এই সময়ের মধ্যে আবহাওয়ার সামান্য পরিবর্তন হতে পারে। আবহাওয়া চিত্রের সংক্ষিপ্তসারে বলা হয়, মৌসুমী বায়ুর অক্ষ পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তর প্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ এবং বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত। এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমী বায়ু বাংলাদেশের উপর মোটামুটি সরিয়ে এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি অবস্থায় রয়েছে। দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। আজ সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়া পূর্বাভাসে আবহাওয়া অধিদফতর জানায়, রংপুর, ময়মনসিংহ, সিলেট, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা ও খুলনা বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ী দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারী ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। আবহাওয়া অফিস জানায়, সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রী সেলসিয়াস এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে। আজ দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা কক্সবাজারে ২৪ ডিগ্রী সেলসিয়াস এবং গতকালের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল রাজশাহীতে ৩৩ দশমিক ৬ ডিগ্রী সেলসিয়াস। গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে কক্সবাজারে ২৪১ মিলিমিটার। ঢাকায় বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ২৭ মিলিমিটার। ঢাকায় বাতাসের গতিবেগ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার। আজ সকাল ৬টায় ঢাকায় বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৯২ শতাংশ। আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটে ও আগামীকাল ঢাকায় সূর্যোদয় ভোর ৫টা ১৬ মিনিটে। আগামী ৭২ ঘণ্টায় আবহাওয়ার অবস্থা সম্পর্কে বলা হয়েছে, এই সময়ের মধ্যে আবহাওয়ার সামান্য পরিবর্তন হতে পারে। আবহাওয়া চিত্রের সংক্ষিপ্তসারে বলা হয়, মৌসুমী বায়ুর অক্ষ পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তর প্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ এবং বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত। এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমী বায়ু বাংলাদেশের উপর মোটামুটি সরিয়ে এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি অবস্থায় রয়েছে।

মনোনয়ন পেতে মরিয়া আ’লীগের এমপিরা

আগামী নির্বাচনেও দলের মনোনয়ন পেতে মরিয়া আওয়ামী লীগের এমপিরা। সেই লক্ষ্যে যা যা করার তার সবই করছেন তারা। জনসংযোগ বাড়ানোর চেষ্টা করছেন নিজ নিজ এলাকায়। নানা মাধ্যমে দূরত্ব ঘোচানোর চেষ্টা করছেন দলের তৃণমূল নেতাকর্মীদের সাথে। শুধু তা-ই নয়, গায়ে কাদা মেখে মাটিকাটা, বাঁধ নির্মাণ, শ্রমিকদের সাথে বসে পান্তা খাওয়া, ভিুকের বাড়িতে গিয়ে ইফতার করা, প্রতিবন্ধীকে চাকরি দেয়া, নিজের জন্য কেনা ঈদের জামা শ্রমিকের গায়ে পরিয়ে দেয়া, রিকশা চালানো এমনকি হালচাষও করছেন অনেক এমপি। সস্তা জনপ্রিয় হতে এসব দুর্লভ দৃশ্য আবার নিজেদের ফেসবুক পেজে তুলে ধরছেন নিজেরাই। তা আবার নিমিষেই শেয়ার করছেন সংশ্লিষ্ট ওইসব এমপির সমর্থক নেতাকর্মীরা। তবে এমপিদের এমন সব কর্মকাণ্ডে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে খোদ দলের মধ্যেই। ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব কর্মকাণ্ড নিয়ে নানা ধরনের তির্যক মন্তব্য করছেন অনেকে। কেউ কেউ এটিকে এমপিদের সস্তা জনপ্রিয় হওয়ার নাটক বলে আখ্যায়িত করেন। আবার সংবাদের শিরোনাম হওয়ার কৌশল বলে মন্তব্য করছেন কেউ কেউ। সম্প্রতি বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্যের নির্বাচনী এলাকায় এমনসব কাজের ছবি এসেছে ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক গণমাধ্যমে। তবে শুরুতে আলোচনায় আসে কক্সবাজার সদর আসনের সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমলের নাম। তিনি এলাকার রাস্তা মেরামতের কাজ করে আলোচনায় আসেন। গত মে দিবসে চালকের আসনে বসে রিকশাচালককে রিকশায় চড়িয়ে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।
স্থানীয়রা জানান, প্রতি বছর মহান মে দিবস স্মরণে আইসিটি প্রতিমন্ত্রী শ্রমিকদের মধ্যে রিকশা ও ভ্যান বিতরণ করেন। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার সকালে সিংড়া বাসস্ট্যান্ডে ১০ জন শ্রমিককে ১০টি রিকশা ও ভ্যান এবং অনুদান বিতরণ করেন প্রতিমন্ত্রী। এরপর ওই রিকশায় অনুদানপ্রাপ্ত শ্রমিককে বসিয়ে নিজেই রিকশা চালান প্রতিমন্ত্রী। পরে ২১টি শ্রমিক সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত সিংড়া উপজেলা শ্রমিক ঐক্য পরিষদের সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন তিনি। এর কয়েক দিন আগে পলক একটি স্থাপনা তৈরির জন্য টুকরিতে করে মালামাল নিয়ে গেছেন মাথায় করে। তবে তার হাসিমাখা মুখে মাথায় টুকরির ছবি ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেয়। গত ১৮ জুন সাধারণের সাথে মিশে কাজ করার ধারাবাহিকতায় যোগ হয় আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ও সাবেক মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এমপির নাম। অতিবৃষ্টিতে তিগ্রস্ত চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় সড়ক মেরামতে মাটি কাটেন তিনি। মাটি কাটার ছবিটি সাথে সাথেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। চিরাচরিত শার্ট-প্যান্ট আর স্যুট পরা হাছানকে যারা এত দিন দেখেছেন, তারা লুঙ্গি, হাতাকাটা গেঞ্জি পরা আর মাথায় মাটির টুকরি বয়ে নিয়ে যাওয়া হাছানকে দেখে অবাক হয়েছেন। ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিমের ফেসবুক পেজে চাকরি চেয়ে আবেদন করেছিলেন রাজবাড়ীর দুই পায়ে শক্তি না-থাকা তরুণ মসিউল আজম রাজিব। কাজও হয়েছে তাতে। পাংশা সরকারি কলেজ থেকে মাস্টার্স পাস করা এই প্রতিবন্ধী তরুণের জন্য চাকরির ব্যবস্থাও করেন প্রতিমন্ত্রী। ১৫ জুন তারানা হালিম তার ফেসবুক পেজে লিখেন, ‘অদম্য ইচ্ছাশক্তির ওপর ভর করে স্কুল-কলেজের গণ্ডি পেরিয়ে মাস্টার্স পাস করা শারীরিক প্রতিবন্ধী রাজিব তার ফেসবুক পেজে চাকরি চেয়েছিল। তার এই ছোট্ট ইচ্ছে পূরণ করতে পেরে খুব ভালো লাগছে।’ যাদের জন্য বলার কেউ নেই, তাদের সবার জন্য কিছু করতে পারার ইচ্ছাও ব্যক্ত করা হয় স্ট্যাটাসে। তিনি বলেন, ‘সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন; যাদের বলার কেউ নেই, তাদের জন্য কিছু করার তৌফিক যেন আল্লাহ আমাকে দেন’-লিখেন তারানা। জামালপুরের নারী সংসদ সদস্য মাহজাবিন খালেদ বেবী সম্প্রতি তার নিজ নির্বাচনী এলাকা সফরকালে এক দরিদ্র পথশিশুর সাথে কুশল বিনিময় করেন। এ সময় শিশুটি এমপিকে তার বাড়ি যাওয়ার দাওয়াত দিলে সাথে সাথে তার হাত ধরে ছুটে যান তিনি। পরে শিশুটির হাত ধরে চলা এবং ছাপরা ঘরে বসা অবস্থার ছবি ফেসবুকে শেয়ার করেন এমপি নিজেই। স্ট্যাটাসে তিনি লিখেন, দরিদ্র, অসহায় ও গৃহহীনদের জন্য কিছু করার স্বপ্নের কথা। তবে এসব কাজে সবচেয়ে বেশি আলোচিত হয়েছেন সাতীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এম জগলুল হায়দার। নদীভাঙন কবলিত এলাকায় বাঁধ নির্মাণে অংশগ্রহণ, মাটি কাটার বিরতিতে শ্রমিকদের সাথে বসে পান্তাভাত খাওয়া, রমজানে বাজারখরচ করে অসহায় মানুষের বাড়িতে যাওয়া, ভিুকের বাড়িতে ইফতার করা, নিজের জন্য কেনা ঈদের পাঞ্জাবি ভ্যানচালককে পরিয়ে দেয়ার পর এবার কৃষকদের উৎসাহিত করতে নিজে লাঙলের মুঠি হাতে জমি চাষে অংশ নিলেন এই সংসদ সদস্য। গতকাল মঙ্গলবার সকালে সাতীরার শ্যামনগর সদরের হায়বাদপুর অভিমুখে রাস্তার পাশে আধুনিক বীজত্রে তৈরির প্রদর্শনী েেতর উদ্বোধনের সময় তিনি লাঙল দিয়ে জমি চাষ করেন। কৃষকদের উৎসাহ দিতে লুঙ্গি পরে খালি পায়ে কোমরে গামছা বেঁধে মাথায় টোপর লাগিয়ে জমিতে নেমে পড়েন এমপি জগলুল। বেশ কয়েকবার প্রদণি করার পর তিনি জমি থেকে চলে আসেন। সংসদ সদস্যের এমন কর্মকাণ্ড দেখে সেখানে উপস্থিত অনেকেই বিস্মিত হন। এমপির হালচাষ করার ছবি সাথে সাথেই ভাইরাল হয়ে যায় ফেসবুকে। আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগের সর্বশেষ পার্লামেন্টারি পার্টির সভায় দলীয়প্রধান শেখ হাসিনার হুঁশিয়ারি উচ্চারণের পরই এমপিদের এমন চিত্র দেখা যাচ্ছে। ওই সভায় আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলীয় সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে বলেছিলেন, ‘এবারের নির্বাচন অনেক কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে। তাই ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের মতো এবার আমি আর কারো দায়িত্ব নিতে পারব না। নির্বাচনী এলাকায় জনপ্রিয়তা থাকলে মনোনয়ন দেয়া হবে, জনপ্রিয়তা না থাকলে মনোনয়ন নয়।’ সে জন্য একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে মাঠ পারফরম্যান্সে নেমেছেন আওয়ামী লীগের বর্তমান এমপিরা। জনগণের মন জয়ে তারা নানা ধরনের কাজে নেমেছেন। এর মাধ্যমে এলাকার সাধারণ মানুষের কাছে সস্তা জনপ্রিয়তা অর্জনের চেষ্টা করছেন সংসদ সদস্যরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একজন নেতা এমপিদের এসব কর্মকাণ্ড সম্পর্কে বলেন, ‘আইন প্রণেতাদের কাজ এগুলো নয়। কারণ, জনগণ ভোট দিয়ে তাদের সংসদে পাঠিয়েছে আইন প্রণয়নের জন্য। এসব কাজ করার জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও কর্তৃপক্ষ রয়েছে।’ এমপিদের এসব কর্মকাণ্ডে বিরক্তি প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘কোনো কোনো কাজের উদ্বোধন করতে গিয়ে প্রতীকীভাবে সেই কাজ শুরু করা হতো। কিন্তু ইদানীং সস্তা জনপ্রিয় হতে এমপিরা যেন এসব কাজের প্রতিযোগিতায় নেমেছেন। আসলে তারা এসব কাজের মাধ্যমে এমপি পদকে হাসির খোরাকে পরিণত করেছেন, যা মোটেও কাম্য নয়।’ আগামী নির্বাচনেও দলের মনোনয়ন পেতে মরিয়া আওয়ামী লীগের এমপিরা। সেই লক্ষ্যে যা যা করার তার সবই করছেন তারা। জনসংযোগ বাড়ানোর চেষ্টা করছেন নিজ নিজ এলাকায়। নানা মাধ্যমে দূরত্ব ঘোচানোর চেষ্টা করছেন দলের তৃণমূল নেতাকর্মীদের সাথে। শুধু তা-ই নয়, গায়ে কাদা মেখে মাটিকাটা, বাঁধ নির্মাণ, শ্রমিকদের সাথে বসে পান্তা খাওয়া, ভিুকের বাড়িতে গিয়ে ইফতার করা, প্রতিবন্ধীকে চাকরি দেয়া, নিজের জন্য কেনা ঈদের জামা শ্রমিকের গায়ে পরিয়ে দেয়া, রিকশা চালানো এমনকি হালচাষও করছেন অনেক এমপি। সস্তা জনপ্রিয় হতে এসব দুর্লভ দৃশ্য আবার নিজেদের ফেসবুক পেজে তুলে ধরছেন নিজেরাই। তা আবার নিমিষেই শেয়ার করছেন সংশ্লিষ্ট ওইসব এমপির সমর্থক নেতাকর্মীরা। তবে এমপিদের এমন সব কর্মকাণ্ডে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে খোদ দলের মধ্যেই। ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব কর্মকাণ্ড নিয়ে নানা ধরনের তির্যক মন্তব্য করছেন অনেকে। কেউ কেউ এটিকে এমপিদের সস্তা জনপ্রিয় হওয়ার নাটক বলে আখ্যায়িত করেন। আবার সংবাদের শিরোনাম হওয়ার কৌশল বলে মন্তব্য করছেন কেউ কেউ। সম্প্রতি বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্যের নির্বাচনী এলাকায় এমনসব কাজের ছবি এসেছে ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক গণমাধ্যমে। তবে শুরুতে আলোচনায় আসে কক্সবাজার সদর আসনের সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমলের নাম। তিনি এলাকার রাস্তা মেরামতের কাজ করে আলোচনায় আসেন। গত মে দিবসে চালকের আসনে বসে রিকশাচালককে রিকশায় চড়িয়ে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। স্থানীয়রা জানান, প্রতি বছর মহান মে দিবস স্মরণে আইসিটি প্রতিমন্ত্রী শ্রমিকদের মধ্যে রিকশা ও ভ্যান বিতরণ করেন। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার সকালে সিংড়া বাসস্ট্যান্ডে ১০ জন শ্রমিককে ১০টি রিকশা ও ভ্যান এবং অনুদান বিতরণ করেন প্রতিমন্ত্রী। এরপর ওই রিকশায় অনুদানপ্রাপ্ত শ্রমিককে বসিয়ে নিজেই রিকশা চালান প্রতিমন্ত্রী। পরে ২১টি শ্রমিক সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত সিংড়া উপজেলা শ্রমিক ঐক্য পরিষদের সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন তিনি। এর কয়েক দিন আগে পলক একটি স্থাপনা তৈরির জন্য টুকরিতে করে মালামাল নিয়ে গেছেন মাথায় করে। তবে তার হাসিমাখা মুখে মাথায় টুকরির ছবি ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেয়। গত ১৮ জুন সাধারণের সাথে মিশে কাজ করার ধারাবাহিকতায় যোগ হয় আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ও সাবেক মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এমপির নাম। অতিবৃষ্টিতে তিগ্রস্ত চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় সড়ক মেরামতে মাটি কাটেন তিনি। মাটি কাটার ছবিটি সাথে সাথেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। চিরাচরিত শার্ট-প্যান্ট আর স্যুট পরা হাছানকে যারা এত দিন দেখেছেন, তারা লুঙ্গি, হাতাকাটা গেঞ্জি পরা আর মাথায় মাটির টুকরি বয়ে নিয়ে যাওয়া হাছানকে দেখে অবাক হয়েছেন। ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিমের ফেসবুক পেজে চাকরি চেয়ে আবেদন করেছিলেন রাজবাড়ীর দুই পায়ে শক্তি না-থাকা তরুণ মসিউল আজম রাজিব। কাজও হয়েছে তাতে। পাংশা সরকারি কলেজ থেকে মাস্টার্স পাস করা এই প্রতিবন্ধী তরুণের জন্য চাকরির ব্যবস্থাও করেন প্রতিমন্ত্রী। ১৫ জুন তারানা হালিম তার ফেসবুক পেজে লিখেন, ‘অদম্য ইচ্ছাশক্তির ওপর ভর করে স্কুল-কলেজের গণ্ডি পেরিয়ে মাস্টার্স পাস করা শারীরিক প্রতিবন্ধী রাজিব তার ফেসবুক পেজে চাকরি চেয়েছিল। তার এই ছোট্ট ইচ্ছে পূরণ করতে পেরে খুব ভালো লাগছে।’ যাদের জন্য বলার কেউ নেই, তাদের সবার জন্য কিছু করতে পারার ইচ্ছাও ব্যক্ত করা হয় স্ট্যাটাসে। তিনি বলেন, ‘সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন; যাদের বলার কেউ নেই, তাদের জন্য কিছু করার তৌফিক যেন আল্লাহ আমাকে দেন’-লিখেন তারানা। জামালপুরের নারী সংসদ সদস্য মাহজাবিন খালেদ বেবী সম্প্রতি তার নিজ নির্বাচনী এলাকা সফরকালে এক দরিদ্র পথশিশুর সাথে কুশল বিনিময় করেন। এ সময় শিশুটি এমপিকে তার বাড়ি যাওয়ার দাওয়াত দিলে সাথে সাথে তার হাত ধরে ছুটে যান তিনি। পরে শিশুটির হাত ধরে চলা এবং ছাপরা ঘরে বসা অবস্থার ছবি ফেসবুকে শেয়ার করেন এমপি নিজেই। স্ট্যাটাসে তিনি লিখেন, দরিদ্র, অসহায় ও গৃহহীনদের জন্য কিছু করার স্বপ্নের কথা। তবে এসব কাজে সবচেয়ে বেশি আলোচিত হয়েছেন সাতীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এম জগলুল হায়দার। নদীভাঙন কবলিত এলাকায় বাঁধ নির্মাণে অংশগ্রহণ, মাটি কাটার বিরতিতে শ্রমিকদের সাথে বসে পান্তাভাত খাওয়া, রমজানে বাজারখরচ করে অসহায় মানুষের বাড়িতে যাওয়া, ভিুকের বাড়িতে ইফতার করা, নিজের জন্য কেনা ঈদের পাঞ্জাবি ভ্যানচালককে পরিয়ে দেয়ার পর এবার কৃষকদের উৎসাহিত করতে নিজে লাঙলের মুঠি হাতে জমি চাষে অংশ নিলেন এই সংসদ সদস্য। গতকাল মঙ্গলবার সকালে সাতীরার শ্যামনগর সদরের হায়বাদপুর অভিমুখে রাস্তার পাশে আধুনিক বীজত্রে তৈরির প্রদর্শনী েেতর উদ্বোধনের সময় তিনি লাঙল দিয়ে জমি চাষ করেন। কৃষকদের উৎসাহ দিতে লুঙ্গি পরে খালি পায়ে কোমরে গামছা বেঁধে মাথায় টোপর লাগিয়ে জমিতে নেমে পড়েন এমপি জগলুল। বেশ কয়েকবার প্রদণি করার পর তিনি জমি থেকে চলে আসেন। সংসদ সদস্যের এমন কর্মকাণ্ড দেখে সেখানে উপস্থিত অনেকেই বিস্মিত হন। এমপির হালচাষ করার ছবি সাথে সাথেই ভাইরাল হয়ে যায় ফেসবুকে। আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগের সর্বশেষ পার্লামেন্টারি পার্টির সভায় দলীয়প্রধান শেখ হাসিনার হুঁশিয়ারি উচ্চারণের পরই এমপিদের এমন চিত্র দেখা যাচ্ছে। ওই সভায় আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলীয় সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে বলেছিলেন, ‘এবারের নির্বাচন অনেক কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে। তাই ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের মতো এবার আমি আর কারো দায়িত্ব নিতে পারব না। নির্বাচনী এলাকায় জনপ্রিয়তা থাকলে মনোনয়ন দেয়া হবে, জনপ্রিয়তা না থাকলে মনোনয়ন নয়।’ সে জন্য একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে মাঠ পারফরম্যান্সে নেমেছেন আওয়ামী লীগের বর্তমান এমপিরা। জনগণের মন জয়ে তারা নানা ধরনের কাজে নেমেছেন। এর মাধ্যমে এলাকার সাধারণ মানুষের কাছে সস্তা জনপ্রিয়তা অর্জনের চেষ্টা করছেন সংসদ সদস্যরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একজন নেতা এমপিদের এসব কর্মকাণ্ড সম্পর্কে বলেন, ‘আইন প্রণেতাদের কাজ এগুলো নয়। কারণ, জনগণ ভোট দিয়ে তাদের সংসদে পাঠিয়েছে আইন প্রণয়নের জন্য। এসব কাজ করার জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও কর্তৃপক্ষ রয়েছে।’ এমপিদের এসব কর্মকাণ্ডে বিরক্তি প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘কোনো কোনো কাজের উদ্বোধন করতে গিয়ে প্রতীকীভাবে সেই কাজ শুরু করা হতো। কিন্তু ইদানীং সস্তা জনপ্রিয় হতে এমপিরা যেন এসব কাজের প্রতিযোগিতায় নেমেছেন। আসলে তারা এসব কাজের মাধ্যমে এমপি পদকে হাসির খোরাকে পরিণত করেছেন, যা মোটেও কাম্য নয়।’

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ৯ কেজি সোনা উদ্ধার

রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক যাত্রীর শরীরে লুকানো নয় কেজির বেশি সোনা উদ্ধার করেছেন শুল্ক গোয়েন্দা কর্মকর্তারা।গতকাল বুধবার দিবাগত রাতে এই সোনাগুলো উদ্ধার করা হয়। শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো খুদেবার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে। খুদেবার্তায় বলা হয়, বুধবার মধ্যরাতে শাহজালালে ব্যাংকক থেকে আগত এক যাত্রীর শরীরে লুকায়িত ৯.২৭৮ কেজি স্বর্ণ আটক করেছে শুল্ক গোয়েন্দা। যাত্রীর নাম সিরাজুল ইসলাম (৪১)। যাত্রী পিজি ফ্লাইটে মালয়েশিয়া থেকে ব্যাংকক হয়ে বুধবার রাতে শাহজালালে অবতরণ করেন।  বার্তায় বলা হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গ্রিন চ্যানেল পার হওয়ার সময় যাত্রীকে চ্যালেঞ্জ করে শুল্ক গোয়েন্দা।  শুল্ক গোয়েন্দারা কাস্টমস হলে নিয়ে তাঁর শরীর তল্লাশি করে এক কেজি ওজনের নয়টি বারে নয় কেজি ও ২৭৮ গ্রামের খণ্ডিত টুকরা স্বর্ণ পান। নয়টি অক্ষত এবং বাকি একটি বার টুকরা অবস্থায় পাওয়া যায়। আটক স্বর্ণের মূল্য প্রায় ৪.৬০ কোটি টাকা। রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক যাত্রীর শরীরে লুকানো নয় কেজির বেশি সোনা উদ্ধার করেছেন শুল্ক গোয়েন্দা কর্মকর্তারা।গতকাল বুধবার দিবাগত রাতে এই সোনাগুলো উদ্ধার করা হয়। শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো খুদেবার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে। খুদেবার্তায় বলা হয়, বুধবার মধ্যরাতে শাহজালালে ব্যাংকক থেকে আগত এক যাত্রীর শরীরে লুকায়িত ৯.২৭৮ কেজি স্বর্ণ আটক করেছে শুল্ক গোয়েন্দা। যাত্রীর নাম সিরাজুল ইসলাম (৪১)। যাত্রী পিজি ফ্লাইটে মালয়েশিয়া থেকে ব্যাংকক হয়ে বুধবার রাতে শাহজালালে অবতরণ করেন। বার্তায় বলা হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গ্রিন চ্যানেল পার হওয়ার সময় যাত্রীকে চ্যালেঞ্জ করে শুল্ক গোয়েন্দা। শুল্ক গোয়েন্দারা কাস্টমস হলে নিয়ে তাঁর শরীর তল্লাশি করে এক কেজি ওজনের নয়টি বারে নয় কেজি ও ২৭৮ গ্রামের খণ্ডিত টুকরা স্বর্ণ পান। নয়টি অক্ষত এবং বাকি একটি বার টুকরা অবস্থায় পাওয়া যায়। আটক স্বর্ণের মূল্য প্রায় ৪.৬০ কোটি টাকা।

ফের বনানীতে জন্মদিনের পার্টির কথা বলে তরুণীকে ধর্ষণ

রাজধানীর বনানীতে ফের জন্মদিনের অনুষ্ঠানের কথা বলে ডেকে নিয়ে এক তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে এক ব্যবসায়ীর ছেলের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় গতকাল বনানী থানায় একটি মামলা করা হয়েছে। বনানীর রেইনট্রি হোটেলে জন্মদিনের পার্টিতে ডেকে নিয়ে দুই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীকে ধর্ষণের রেশ কাটতে না কাটতেই আবারো ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে আরেক ব্যবসায়ীপুত্র বাহাউদ্দিন ইভানের (২৮) বিরুদ্ধে। জানা গেছে, ওই তরুণী অভিনেত্রী। তাকে তেজগাঁও ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে রাখা হয়েছে। গত ১১ মাস আগে ওই তরুণীর সাথে বনানীর ব্যবসায়ী বোরহানউদ্দিনের ছেলে বাহাউদ্দিন ইভানের ফেসবুকের মাধ্যমে পরিচয় হয়। সেই পরিচয়ের সূত্র ধরে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হয়। এরপর গত মঙ্গলবার রাতে ইভান জন্মদিনের কথা বলে বনানীর ২ নম্বর সড়কে নিজের বাসায় ডেকে নিয়ে মেয়েটিকে রাতভর ধর্ষণ করে। বনানী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুল মতিন জানান, ইভানের বাবার বনানীতে একটি বিপণিবিতান রয়েছে বলে জানতে পেরেছেন। এজাহারের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, ইভান তার ওই বান্ধবীকে জন্মদিনের দাওয়াত দিয়ে নিজ বাসায় নিয়ে আসে। ইভান তার মায়ের সাথেও পরিচয় করিয়ে দেয়ার কথা বলেছিল। ওই তরুণী সন্ধ্যার পর বাসায় এসে দেখে কেউ নেই। এরপর তাকে আটকে গভীর রাত পর্যন্ত ধর্ষণ করে এবং রাত ৩টার দিকে বাসা থেকে বের করে দেয়। ইভান মোবাইল ফোনটিও রেখে দেয় বলে ওই তরুণী জানান। ভোরে থানায় গিয়ে ঘটনাটি জানান ওই তরুণী। পরে স্বজনদের সাথে পরামর্শের পর মামলা করেন। পুলিশ কর্মকর্তা মতিন বলেন, ওই তরুণী বুধবার দুপুরে থানায় লিখিত অভিযোগ করার পর ইভানকে গ্রেফতারে জন্য মাঠে নেমেছে পুলিশ। বুধবার মধ্যরাত পর্যন্ত ইভানকে গ্রেফতার করা যায়নি। ইভান বিবাহিত এবং তার এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে বলে পুলিশ কর্মকর্তা মতিন জানান। ওই তরুণীকে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে রাখা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার তার ডাক্তারি পরীা করা হবে বলে জানান পরিদর্শক মতিন। এর আগে, গত ২৮ মার্চ রাতে রেইনট্রি হোটেলে জন্মদিনের পার্টিতে দুই ছাত্রীধর্ষণের ঘটনার ৪০ দিন পর গত ৬ মে বনানী থানায় মামলা করেন নির্যাতিত এক তরুণী। পরদিন ৭ মে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ওই দুই তরুণীর ফরেনসিক টেস্ট সম্পন্ন হয়। একই রকম ঘটনার অভিযোগ ওঠার পর ব্যাপক আলোচনার মধ্যে আপন জুয়েলার্সের মালিকের ছেলে সাফাত আহমেদসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। অন্যরা হলেনÑ নাঈম আশরাফ, বিল্লাল হোসেন, সাদনান ও সাকিফ। সবাই গ্রেফতার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। মামলাটিতে পুলিশ ইতোমধ্যে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিয়েছে। রাজধানীর বনানীতে ফের জন্মদিনের অনুষ্ঠানের কথা বলে ডেকে নিয়ে এক তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে এক ব্যবসায়ীর ছেলের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় গতকাল বনানী থানায় একটি মামলা করা হয়েছে। বনানীর রেইনট্রি হোটেলে জন্মদিনের পার্টিতে ডেকে নিয়ে দুই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীকে ধর্ষণের রেশ কাটতে না কাটতেই আবারো ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে আরেক ব্যবসায়ীপুত্র বাহাউদ্দিন ইভানের (২৮) বিরুদ্ধে। জানা গেছে, ওই তরুণী অভিনেত্রী। তাকে তেজগাঁও ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে রাখা হয়েছে। গত ১১ মাস আগে ওই তরুণীর সাথে বনানীর ব্যবসায়ী বোরহানউদ্দিনের ছেলে বাহাউদ্দিন ইভানের ফেসবুকের মাধ্যমে পরিচয় হয়। সেই পরিচয়ের সূত্র ধরে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হয়। এরপর গত মঙ্গলবার রাতে ইভান জন্মদিনের কথা বলে বনানীর ২ নম্বর সড়কে নিজের বাসায় ডেকে নিয়ে মেয়েটিকে রাতভর ধর্ষণ করে। বনানী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুল মতিন জানান, ইভানের বাবার বনানীতে একটি বিপণিবিতান রয়েছে বলে জানতে পেরেছেন।
এজাহারের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, ইভান তার ওই বান্ধবীকে জন্মদিনের দাওয়াত দিয়ে নিজ বাসায় নিয়ে আসে। ইভান তার মায়ের সাথেও পরিচয় করিয়ে দেয়ার কথা বলেছিল। ওই তরুণী সন্ধ্যার পর বাসায় এসে দেখে কেউ নেই। এরপর তাকে আটকে গভীর রাত পর্যন্ত ধর্ষণ করে এবং রাত ৩টার দিকে বাসা থেকে বের করে দেয়। ইভান মোবাইল ফোনটিও রেখে দেয় বলে ওই তরুণী জানান। ভোরে থানায় গিয়ে ঘটনাটি জানান ওই তরুণী। পরে স্বজনদের সাথে পরামর্শের পর মামলা করেন। পুলিশ কর্মকর্তা মতিন বলেন, ওই তরুণী বুধবার দুপুরে থানায় লিখিত অভিযোগ করার পর ইভানকে গ্রেফতারে জন্য মাঠে নেমেছে পুলিশ। বুধবার মধ্যরাত পর্যন্ত ইভানকে গ্রেফতার করা যায়নি। ইভান বিবাহিত এবং তার এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে বলে পুলিশ কর্মকর্তা মতিন জানান। ওই তরুণীকে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে রাখা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার তার ডাক্তারি পরীা করা হবে বলে জানান পরিদর্শক মতিন। এর আগে, গত ২৮ মার্চ রাতে রেইনট্রি হোটেলে জন্মদিনের পার্টিতে দুই ছাত্রীধর্ষণের ঘটনার ৪০ দিন পর গত ৬ মে বনানী থানায় মামলা করেন নির্যাতিত এক তরুণী। পরদিন ৭ মে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ওই দুই তরুণীর ফরেনসিক টেস্ট সম্পন্ন হয়। একই রকম ঘটনার অভিযোগ ওঠার পর ব্যাপক আলোচনার মধ্যে আপন জুয়েলার্সের মালিকের ছেলে সাফাত আহমেদসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। অন্যরা হলেনÑ নাঈম আশরাফ, বিল্লাল হোসেন, সাদনান ও সাকিফ। সবাই গ্রেফতার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। মামলাটিতে পুলিশ ইতোমধ্যে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিয়েছে।

গাছের পাতায় নিকেল

নিউ ক্যালিডোনিয়া দ্বীপপুঞ্জে এমন সব গাছপালা আছে, যারা মাটি থেকে নিকেল শুষে পাতায় জমা করতে পারে৷ এখন নিকেলের খনির ‘ক্ষত’ বা কলঙ্ক সারানোর চেষ্টা চলেছে ‘হাইপার-অ্যাকিউমুলেটর’ গাছের চাষ করে৷ সুদূর নিউ ক্যালিডোনিয়া দ্বীপপুঞ্জে সম্পূর্ণ অন্য ধরনের এক উদ্ভিদ জগৎ গড়ে উঠেছে৷ এখানে যা কিছু জন্মায়, তার সব কিছু এখানকার, বিশ্বের অন্যত্র তা পাওয়া যাবে না৷ মুখ্য দ্বীপটির নাম ‘গ্রঁদ ত্যার’৷ পরিবেশবিজ্ঞানী অ্যান্টনি ফ্যান ডের এন্ট এখানকার কিছু উদ্ভিদ নিয়ে গবেষণা করছেন, যাদের আশ্চর্য সব বৈশিষ্ট্য আছে৷ অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যান্টনি ফ্যান ডের এন্ট বলেন, ‘‘এটা হলো একটা বড় ‘পিকেনান্দ্রা আকুমিনাতে’, এর নীল-সবুজ কষের ২৫ শতাংশই হল নিকেল৷ কষে যে সবুজ রঙটা দেখা যায়, সেটাই হলো নিকেল৷ এটা হল মানুষের চেনা সবচেয়ে আশ্চর্য জৈবিক তরল পদার্থ৷ সত্যিই অসাধারণ যে, একটি জীবন্ত, সজীব গাছের কষে এই পরিমাণ ধাতু থাকতে পারে৷’’ নিকেল সাধারণত উদ্ভিদ ও জীবজন্তুর পক্ষে অত্যন্ত বিষাক্ত, এমনকি মানুষের পক্ষেও৷ কাজেই এ ধরনের কোনো গাছের বেঁচে থাকারই কথা নয়৷ অথচ পিকেনান্দ্রা ছাড়া এখানকার অন্যান্য গাছেও নিকেল আছে৷ এই গাছগুলো মাটি থেকে সরাসরি নিকেল শুষে নেয় ও তাদের কোষে তা জমা করে৷ ফ্যান ডের এন্ট এই সব গাছেদের ‘হাইপার-অ্যাকিউমুলেটর’ বলেন ও তাদের নমুনা তরল নাইট্রোজেনে ধরে রেখে পরে পরীক্ষাগারে বিশ্লেষণ করেন৷
‘পাতায় কতটা নিকেল আছে’
ফ্যান ডের এন্ট জানালেন, ‘‘আমরা পর্যায়ক্রমে নিউ ক্যালেডোনিয়ার সর্বত্র সংগৃহীত বিভিন্ন প্রজাতির গাছপালা পরীক্ষা করে দেখি, তাদের পাতায় কতটা নিকেল আছে৷ এভাবে আমরা তাদের শনাক্ত ও সংগ্রহ করে, পরে ওই ‘হাইপার-অ্যাকিউমুলেটর’ গাছের চাষ করে ফসল ঘরে তুলতে পারি৷ ‘হাইপার-অ্যাকিউমুলেটর’ গাছপালা নিয়ে গবেষণা করার জন্য নিউ ক্যালিডোনিয়াই সম্ভবত বিশ্বের সেরা জায়গা, কেননা এখানে ৬৫টির বেশি প্রজাতির ‘হাইপার-অ্যাকিউমুলেটর’ উদ্ভিদ পাওয়া যায়৷’’ এই গাছগুলো এখানে গজাতে পেরেছে দ্বীপটির ভূতাত্ত্বিক উপাদানের কারণে৷ এখানকার মাটিতে এত নিকেল ও অন্যান্য ধাতু আছে যে, অধিকাংশ গাছপালা এখানে বাড়তে পারে না৷ কিন্তু ‘হাইপার-অ্যাকিউমুলেটর’-রা ভালোই থাকে৷
নিকেলের রীতিনীতি
নিউ ক্যালিডোনিয়ার মাটি এমনই নিকেল-সমৃদ্ধ যে, নিকেলের খনি হলো নিউ ক্যালিডোনিয়ার অর্থনীতির একটা বড় অংশ৷ এর ফলে দ্বীপপুঞ্জটির নৈসর্গিক দৃশ্য যেন নানা প্রকাশ্য ক্ষতে ভরা৷ মাইনিং কোম্পানিগুলো বিভিন্ন পরিবেশ সংরক্ষণ কর্মসূচিতে বিনিয়োগ করতে শুরু করেছে৷ এই সব কর্মসূচির উদ্দেশ্য বিশেষ বিশেষ ‘হাইপার-অ্যাকিউমুলেটর’-এর সাহায্যে খনির চারপাশের জমির নবায়ন করা৷ কিন্তু এই বিধ্বস্ত এলাকায় এই জাদুকরি গাছপালাগুলোও দাঁত ফোটাতে কষ্ট পায়৷ মাটিতে এত লোহা আর নিকেল আছে যে, এই মাটি পাথরের মতো শক্ত৷ গাছ লাগানোর জন্য কর্মীরা স্পেশাল ড্রিল দিয়ে মাটিতে গর্ত করেন৷ নিউ ক্যালিডোনিয়ার বৃহত্তম খনিতে ওপেনকাস্ট বা খোলা খনি পদ্ধতিতে আকর সংগ্রহ করা হয়, যার অর্থ, ক্ষেত্রবিশেষে গোটা পাহাড় কেটে খনির কাজ চলে৷ পড়ে থাকে বিষাক্ত হেভি মেটালের ভাঙাচোরা স্তূপ৷ গবেষকরা এই খনিতে একটি চমকপ্রদ পরীক্ষা চালাচ্ছেন: তারা এখানে ‘হাইপার-অ্যাকিউমুলেটর’ গাছপালা লাগানোর পরিকল্পনা করছেন – শুধু মাটিকে বিষমুক্ত করার জন্যই নয়, বরং তাদের পাতা সংগ্রহ করে তা থেকে নিকেল বের করার জন্যে৷
খনি বর্জ্যের উপর ‘হাইপার-অ্যাকিউমুলেটর’ গাছের চাষ
ফ্যান ডের এন্ট বললেন, ‘‘আমি এখানে নিউ ক্যালিডোনিয়ান অ্যাগ্রোনমিক ইনস্টিটিউটের ব্রুনো ফোলিয়ানির সাথে কাজ করছি, যিনি খনি বর্জ্যের উপর নিকেল ‘হাইপার-অ্যাকিউমুলেটর’ বসানোর এই পরীক্ষার আয়োজন করেছেন৷ আমরা খনি বর্জ্য ফেলার একটা জায়গার উপর দাঁড়িয়ে রয়েছি – দেখছেনই তো, গাছপালাগুলো ভালোই বাড়ছে৷’’ ফোলিয়ানি জানালেন, ‘‘এই গাছটি নিকেল সংগ্রহ করে৷ এর পাতায় যে নিকেল আছে, আমরা সে বিষয়ে আগ্রহী৷ অর্থনৈতিক বিচারে পোষাতে গেলে, আমাদের সর্বোচ্চ পরিমাণ ‘বায়োমাস’ সংগ্রহের পন্থা বার করতে হবে৷ আমরা একাধিক ধরনের সার ব্যবহার করছি, অন্যান্য গাছপালার সঙ্গে ‘হাইপার-অ্যাকিউমুলেটর’ গাছের চাষ করার চেষ্টা করছি৷ শুধু এই একটি প্রজাতি নয়, বরং সব ধরনের গাছ লাগালে প্রকৃতি বাকিটা করে দেয়, প্রাকৃতিকভাবেই সারিয়ে দেয়৷’’ এই প্রযুক্তিকে বলে ‘ফাইটোমাইনিং’, অর্থাৎ গাছপালা ব্যবহার করে খনির কাজ৷ এটা যদি কার্যকরি হয়, তাহলে মাইনিং কোম্পানিগুলো সম্ভবত এই ‘হাইপার-অ্যাকিউমুলেটর’ গাছপালায় বিনিয়োগ করতে রাজি হবে – লাভের জন্যও বটে আবার তারা পরিবেশের যে ক্ষতি করেছে, তার কিছুটা পূরণ করার জন্যও বটে৷ কিন্তু ফাইটোমাইনিং প্রথাগত মাইনিং-এর বিকল্প হয়ে দাঁড়াতে পারবে না, কারণ ‘হাইপার-অ্যাকিউমুলেটর’ গাছগুলো থেকে পর্যাপ্ত পরিমাণ নিকেল পাওয়া যায় না৷ যার অর্থ, নিকেল মাইনিং-এর ধ্বংসলীলা আরো কিছুদিন ধরে চলবে৷ মাইনিং কোম্পানিগুলো মাটি খুঁড়ে ও পাথরের স্তর সরিয়ে আকরিক নিকেল বের করার চেষ্টা চালিয়ে যাবে৷ কিন্তু নিকেল শুষে নেয়া ‘হাইপার-অ্যাকিউমুলেটর’ গাছগুলোর কল্যাণে পরিবেশের ক্ষতি অন্তত কিছুটা লাঘব হবে৷ সূত্র : ডয়চে ভেলে

নতুন রোগ ইসকিমিয়া : কতটা চিন্তার?

গোটা দক্ষিণ এশিয়ায় এই রোগের দাপট ক্রমশ বেড়েই চলেছে। আক্রান্ত হচ্ছে হৃদপিণ্ড, মস্তিষ্ক, পা, ফুসফুস এবং পাচন নালির মতো অঙ্গগুলো। সঠিক সময়ে চিকিৎসা না হলে ঘটে যেতে পারে বড়সড় শারীরিক বিপত্তি। তবে কয়েকটি বিষয়ে সতর্ক থাকলেই এই রোগ থেকে দূরে থাকা সম্ভব বলে জানাচ্ছেন ভারতের পিয়ারলেস হসপিটাল অ্যান্ড বি কে রয় রিসার্চ ইনস্টিটিউটের কার্ডিওলজি বিভাগের ক্লিনিক্যাল ডিরেক্টর ডাঃ অঞ্জনলাল দত্ত।
 ইসকিমিয়া কী?
 আমাদের শরীরে বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সঠিকভাবে কাজ করে যাওয়ার জন্য রক্তের প্রয়োজন হয়। আসলে রক্তের মাধ্যমে প্রত্যেকটি অঙ্গ তাদের প্রয়োজনীয় খাদ্য, অর্থাৎ অক্সিজেন এবং গ্লুকোজ গ্রহণ করে। এবার কোনো কারণে একটি নির্দিষ্ট অঙ্গে রক্ত সঞ্চালন কমে গিয়ে রক্তাল্পতার সৃষ্টি হতে পারে। সহজে বললে, ওই নির্দিষ্ট অঙ্গে রক্ত কম পৌঁছয়। চিকিৎসা পরিভাষায় এমন অবস্থাকেই ইসকিমিয়া বলা হয়ে থাকে। পর্যাপ্ত রক্তের ঘাটতি হওয়ায় ওই অঙ্গের বিভিন্ন জটিলতার সৃষ্টি হয়। মূলত হৃদপিণ্ড, মস্তিষ্ক, পা, ফুসফুস এবং পাচন নালি ইত্যাদি অঙ্গগুলি এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
 কেন হয়?
 এই রোগের মূল কারণ হিসাবে অ্যাথেরোস্ক্লেরোসিসের কথা বলতে হয়। এবার অ্যাথেরোস্ক্লেরোসিসকে সহজে বুঝতে গেলে একটু রক্ত সংবহণ সম্বন্ধে জেনে নেয়া দরকার। আসলে যেমনটা প্রথমেই বলেছিলাম যে আমাদের দেহের প্রতিটি অঙ্গের রক্তের প্রয়োজন হয়। এবার রক্ত দেহের অঙ্গগুলিতে পৌঁছানোর সময় বিভিন্ন ধমনির মধ্যে দিয়ে যেতে হয়। তাই অনায়াসে ধমনিকে রক্ত পরিবহণের রাস্তা হিসাবে দেখা যেতে পারে। এবার অনেক সময় চর্বি জাতীয় পদার্থ এবং কিছু অন্যান্য পদার্থ ধমনির ভিতরের দেয়ালে জমাট বেঁধে উঁচু ঢিপির মতো তৈরি হয়। একে বলে ‘প্লাক’। ধমনির অভ্যন্তরে প্লাক গঠনের ফলে স্বভাবতই অপর্যাপ্ত রক্ত পরিবাহিত হয়। একেই বলে অ্যাথেরোস্ক্লেরোসিস। আর ধমনির পথে বাধা থাকায় অঙ্গের চাহিদা অনুযায়ী রক্তের যোগান না পাওয়ার ফল হল ইসকিময়া।
 কী কী সমস্যা হয়?
 রোগ যে অঙ্গে হয়, তার উপর নির্ভর করে সমস্যা তৈরি হয়। এবার একে একে সেই সকল অঙ্গের সমস্যা সম্বন্ধে জানা যাক।
 হৃদপিণ্ড—হৃদপিণ্ডের করোনারি ধমনির মধ্যে বাধার সৃষ্টি হলে ইসকিমিয়া রোগ হয়। একে বলে ইস্কিমিক হার্ট ডিজিজ। এক্ষেত্রে করোনারি ধমনিতে রক্তপ্রবাহে বাধা সৃষ্টি হয়। এই কোনো কোনো ক্ষেত্রে করোনারি আর্টারি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ারও আশঙ্কা থাকে। প্লাকের কারণে করোনারি আর্টারি আংশিক বন্ধ হয়ে গেলে অ্যানজাইনা হয়। অর্থাৎ একটু হাঁটলেই বুকে ব্যথা লাগে, চাপ বোধ হয়, শ্বাস-প্রশ্বাসে সমস্যা হয়। এক্ষেত্রে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিলে শারীরিক অস্বস্তিবোধ কমে।
করোনারি আর্টারি সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেলে বিশ্রামরত অবস্থাতেই বুকে ব্যথা, প্রবল চাপবোধ এবং শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যা দেখা দিতে পারে। এমনকী হার্ট অ্যাটাক হওয়ার আশঙ্কাও অনেকগুণ বেড়ে যায়। চিকিৎসা পরিভাষায় এমন অবস্থাকে মায়ো কার্ডিয়াল ইনফার্কশন বলে।
 ব্রেন— মস্তিষ্কে এই রোগের দরুন স্ট্রোক হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
 পা— পায়ের বিভিন্ন ধমনিগুলিতে প্লাক জমা হওয়ার কারণে রক্ত পরিবহণে সমস্যা সৃষ্টি হয়। এই সমস্যাকে পেরিফেরাল আর্টারি ডিজিজ (পিএডি) বলা হয়। সমস্যা জটিল হলে ক্রিটিক্যাল লিম্ব ইসকিমিয়া হয়। এই রোগ থেকে পায়ের পেশিতে গ্যাংগ্রিন (পচন) হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তবে শুধু পা নয়, অনেকসময় হাতেও এই সমস্যা হতে দেখা যায়।
 ফুসফুস— ফুসফুসের আর্টারিতে এই সমস্যার দরুন বুকে ব্যথা এবং শ্বাস-প্রশ্বাসে ভীষণরকম সমস্যা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। কোনো কোনো সময় ফুসফুসে এই রোগ মারাত্মক আকার ধারণ করতেও সক্ষম। এই সমস্যার নাম অ্যাকিউট পালমুনারি এমবোলিজম।
 পাচননালি— অনেক সময় এই রোগের কারণে পাচননালির দুই মুখ্য অংশ ক্ষুদ্রান্ত্র এবং বৃহদান্ত্রে ছিদ্র সৃষ্টি হয়। এরফলে ক্ষুদ্রান্ত্র বা বৃহদান্ত্রের সেই বিশেষ অংশে পচন ধরার আশঙ্কা বেড়ে যায়।
 এই রোগের লক্ষণগুলি কী কী?
 কোন অঙ্গে ইসকিমিয়া হয়েছে তার উপর নির্ভর করে লক্ষণ দেখা যায়—
 হৃদপিণ্ড—হার্টে এই রোগ হওয়ার প্রধান লক্ষণ হল বুকে ব্যথা। রোগের তীব্রতা কম হলে শুধুমাত্র হাঁটা-চলার সময় ব্যথা অনুভূত হয়। রোগের তীব্রতা বেশি হলে বিশ্রামরত অবস্থাতেও ব্যথা অনভূত হতে পারে। সাধারণত অ্যানজাইনা বুকের মাঝখানে হয়। মনে হয় বুকের মধে কেউ ওজন চাপিয়ে দিয়েছে। তবে প্রথম প্রথম অ্যানজাইনা হলে ব্যথা সবসময় বুকের মাঝে হয় না। অনেকসময় এই ব্যথা পেটের উপর দিক থেকে আসে, পিঠে, হাতে, চোয়ালের দিকে ছড়িয়ে যায়। তাই অনেকে এই ব্যথার সঙ্গে গ্যাসের ব্যথাকে মিলিয়ে ফেলেন। এখানে একটি সুক্ষ্ম পার্থক্য রয়েছে। প্রারম্ভিক পর্বে অ্যানজাইনা মূলত জোরে হাঁটা বা টেনশনের সময় বেশি হয়। আবার একটু বিশ্রাম নিলেই ব্যথা তুলনামূলকভাবে কমে আসে। অন্যদিকে গ্যাসের ব্যথার ক্ষেত্রে এরকম কোনো কমে আসা বা বেড়ে যাওয়ার লক্ষণ দেখা যায় না। আবার হার্ট অ্যাটাক হলে ব্যথা অনেকগুণ বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি রোগীর শারীরিক অবস্থারও ভীষণরকম অবনতি হয়। আবার ডায়াবেটিস রোগে আক্রান্তদের অনেকসময় কোনও রকম ব্যথা ছাড়াই হার্ট অ্যাটাক হয়ে যায়। এটা একটা বিশেষ সমস্যা যায়। এক্ষেত্রে সতর্ক থাকা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।
তবে ব্যথা বাদেও হৃদগতি বৃদ্ধি, একটু শারীরিক কাজকর্মেই শ্বাসকষ্ট, অকারণে ঘাম, ক্লান্তি ইত্যাদি বিশেষ ইঙ্গিতবাহী।
 মস্তিষ্ক— এক্ষেত্রে সবথেকে বড় লক্ষণ হল তীব্র মাথা ব্যথা। পাশাপাশি মাথা ঘোরা, দেহের নড়াচড়ায় সমস্যা, দুর্বলতা, দেহের কোনও একটি পাশে প্যারালিসিস ইত্যাদি লক্ষণ দেখা দেয়।
 পা— পায়ে অসারতা, ঠান্ডাভাব, তীব্র ব্যথা, ক্ষত ঠিক না হওয়া ইত্যাদি লক্ষণ ফুটে ওঠে।
 পাচননালি— পেটজুড়ে তীব্র ব্যথা, বমি, রক্তমল, ডায়রিয়া ইত্যাদি লক্ষণ প্রকাশ পায়।
 কাদের এই সমস্যা হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে?
 ডায়াবেটিস, হাই ব্লাডপ্রেশার, কোলেস্টেরল, স্থূলত্ব (ওবেসিটি) এবং ধূমপানের মতো বিষয়গুলি এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার মুখ্য কারণ।
বয়সের দিক থেকে ৫০ বছরের বেশি বয়স্ক মানুষদের এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে। তবে অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনের জন্য এখন ৪০ বছর বা তার নীচের অনেকেই এই রোগে আক্রান্ত হন। আবার স্ত্রী ও পুরুষদের মধ্যে পুরুষরা এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেশি। সাধারণত মহিলাদের হরমোনজনিত কারণে মনোপজের আগে হৃদরোগে আক্রান্ত হন না। তবে ডায়াবেটিস রোগে আক্রান্ত হওয়ার দরুন এখন অনেক মহিলাই কম বয়সে এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।
আগে পশ্চিমের দেশগুলিতে এই রোগের প্রকোপ ছিল বেশি। তবে নিজেদের জীবনযাত্রার মান বদলে নিয়ে সেইসব দেশগুলিতে এখন এই রোগ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে। বর্তমানে ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশীয় দেশগুলিতে ইসকিমিক হার্ট ডিজিজের প্রবণতা সবথেকে বেশি। এর মূল কারণ হিসাবে অবশ্যই খাদ্যাভ্যাসের কথা আসবে। এই অঞ্চলের বসবাসরত মানুষ কার্বোহাইড্রেট, ফ্যাট জাতীয় খাদ্য বেশি খান। ফলে এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যায়। পাশাপাশি ডায়াবেটিস, মেটাবলিক সিনড্রোম
(ভুঁড়ি বৃদ্ধি) ইত্যাদি রোগে আক্রান্ত মানুষ এই অঞ্চলে বেশি থাকায় সমস্যা আরো বেড়ে চলেছে।
 এই রোগের চিকিৎসা কী?
 দেখুন হার্টে এই রোগ হলে চিকিৎসাকে দু’টি ভাগে ভাগ করে নিতে হবে। ইসকিমিয়ার জন্য প্রাথমিকভাবে অ্যানজাইনা হলে ওষুধের মাধ্যমেই ভালো থাকা যায়। তবে হার্ট অ্যাটাক হলে তিন ঘণ্টার মধ্যে রোগীকে নিয়ে চিকিৎসাকেন্দ্রে পৌঁছাতে হয়। এই সময়টিকে বলে গোল্ডেন টাইম। এই সময়ে প্রাইমারি অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টি করে ধমনিতে সৃষ্ট বাধা সরিয়ে দেওয়া হয়। এতে হৃদপিণ্ডে রক্ত সঞ্চালন নতুন করে শুরু হয়ে যায়। তবে প্রাইমারি অ্যাঞ্জিওপ্ল্যাস্টি করা না গেলে ওষুধের মাধ্যমে রক্তকে গলিয়ে দেওয়া হয়। একে থ্রম্বোলাইটিস থেরাপি বলে। পায়ে এবং ফুসফুসে এই সমস্যা হলেও সেই অ্যাঞ্জিওপ্ল্যাস্টি করে আর্টারির বাধা মুক্ত করা হয়। তবে এই রোগের কারণে পায়ের সমস্যা বেড়ে গিয়ে থাকলে অনেকসময় অপারেশন করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়ে থাকে। আবার পাচননালির সমস্যার ক্ষেত্রে প্রাথমিক পর্যায়ে ওষুধ প্রয়োগ করা হলেও রোগ গড়িয়ে গেলে অপারেশন করা ছাড়া উপায় থাকে না। পাশাপাশি মস্তিষ্কের ক্ষেত্রে চিকিৎসাটা চলে ওষুধের উপর। দরকার পড়লে আবার অ্যাঞ্জিওপ্ল্যাস্টিও করা হয়ে থাকে।
 রোগ প্রতিরোধের উপায় কী?
 এই রোগ প্রতিরোধের একমাত্র উপায় হল জীবনযাত্রায় বদল আনা। এক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয়ে খেয়াল রাখুন— খাদ্যের তালিকায় বেশি পরিমাণে ফল, শাক-সবজি রাখুন। তেল খাওয়া কমিয়ে আনুন  নিয়মিত শরীরচর্চা করুন। এতে ওজন কমার পাশাপাশি শরীর সুস্থ থাকবে  ধূমপান থেকে বিরত থাকুন  ডায়াবেটিস, হাই ব্লাডপ্রেশার, হাই কোলেস্টেরল ইত্যাদি রোগ থাকলে প্রথমেই সজাগ হোন। নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে এই রোগগুলিকে নিয়ন্ত্রণে আনুন।
সূত্র : ওয়েবসাইট

‘আমাকে নিয়ে কোনো সমস্যা ছিল না’ by কামরুজ্জামান মিলু

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার বিজয়ী অভিনেত্রী সিমলা। অনেকদিন ধরেই চুপ রয়েছেন। মাঝে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। অনেকে নতুন কাজ নিয়ে তার সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হন। গতকাল মানবজমিনের সঙ্গে কথা বলেছেন সিমলা। তিনি বলেন, আমার মা অনেকদিন ধরেই বেশ অসুস্থ। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ভারতে নিয়ে গিয়েছিলাম। কয়েকদিন আগে ঢাকায় ফিরেছি। এজন্য মাঝে সবাই ফোন বন্ধ পেয়েছে। সেজন্য আমি আন্তরিকবাবে দু:খিত। কাজের কি খবর জানতে চাইলে সিমলা বলেন, শিগগিরই আবারো রাশিদ পলাশের ‘নাইওর’ ছবির বাকি কাজ শুরু করব। ২০১৫ সালের মার্চ মাসে নির্মাতা রাশিদ পলাশ শুরু করেছিলেন তার প্রথম ছবি ‘নাইওর’-এর কাজ। এ ছবির বেশ কিছু অংশের শুটিং হবার পর অনেকদিন ধরেই কাজ বন্ধ রয়েছে। গত বছরের এপ্রিলে অনলাইনে আপলোড করা হয়েছিল ছবির আড়াই মিনিটের টিজার। তবে এরপর ছবির বাকি কাজ এখনও শুরু হয়নি। কারণ কি জানতে চাইলে সিমলা বলেন, আমাকে নিয়ে কোনো সমস্যা ছিল না। আমি অভিনয়ের জন্য সবসময়ই প্রস্তুত। এ ছবির প্রযোজক একজন নারী। কাজ শুরু হবার পর তার বিয়ে হয়। তখন শুটিং বন্ধ ছিল, আবার কিছুদিন আগে তিনি মা হয়েছেন বলে জেনেছি। এর আগে ছবির শুটিং হয়েছে ঢাকার দুটি বস্তি, রমনা, এফডিসি ও রাজশাহীর বিভিন্ন জায়গায়। আমার বিপরীতে এ ছবিতে অভিনয় করছেন আনিসুর রহমান মিলন। ‘নাইওর’ ছবিতে একটা ভিন্নধর্মী চরিত্রে কাজ করেছি। এখানে আমার চরিত্রের নাম কমলা সুন্দরী। সে নাচ-গান করে। তার জীবনের সুখ-দুঃখ এ ছবিতে দর্শকরা দেখতে পাবেন। আমার ও মিলন ভাইয়ের কয়েকদিনের কাজ বাকি রয়েছে। আমার বিশ্বাস, খুব শিগগিরই এ ছবির কাজ শেষ হবে। ১৯৯৯ সালে প্রয়াত গুণী নির্মাতা শহীদুল ইসলাম খোকনের হাত ধরে বড়পর্দায় কাজ শুরু করেন সিমলা। নিজের অভিনীত প্রথম ছবি ‘ম্যাডাম ফুলি’। এ ছবি দিয়েই অর্জন করেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। এরপর তার অভিনয়ে ‘পাগলা ঘন্টা’ নামের ছবিটি মুক্তি পায়। এরপর শুধুই সামনে এগিয়ে চলা। মাঝে অভিনয় বিরতি থাকলেও সবশেষ মাসুদ পথিকের ‘নেকাব্বরের মহাপ্রয়াণ’ এবং হাবিবুর রহমান হাবিবের ‘রূপগাওয়াল’ ছবি দিয়ে আবারো আলোচনায় আসেন তিনি। ‘নাইওর’ ছবির বাইরে গত বছর রুবেল আনুশের ‘নিষিদ্ধ প্রেমের গল্প’ ছবির শুটিং করেছেন সিমলা। এ ছবির কাজ এরইমধ্যে শেষ হয়েছে। তবে ছবিটি নিয়ে আলোচনা ও সমালোচনা কম হয়নি। এ ছবির গল্পে অপ্রাপ্ত বয়স্ক একটি ছেলের সঙ্গে তার প্রেম দেখানো হয়েছে। ছবিটি প্রসঙ্গে সিমলা বলেন, এ ছবির কাজ কয়েকমাস আগেই শেষ হয়েছে। তবে এতে দর্শক আমার ভয়েজ পাবেন না। কারণ এ ছবির ডাবিংয়ে আমি ছিলাম না। আর পরিচালককে আগে থেকেই বলা ছিল আমি ভয়েজ দিব না। ছবির কাজ শেষ করতেও অনেক দেরি করেছেন পরিচালক। ‘নিষিদ্ধ প্রেমের গল্প’ ছবিতে অভিনয়ের পর থেকে আমাকে নিয়ে অকারণে নানা আলোচনা ও সমালোচনা হয়েছে। তবে আমি অভিনয়কে ভালোবাসি বলেই সবকিছু মেনে নিয়ে ছবির কাজটি শেষ করেছি। আশা করছি, এ বছরই নতুন এ দুটি ছবি মুক্তি পাবে আমার। ক্যারিয়ারের বাইরে সিমলা নিজেকে নিয়ে কি ভাবছেন এখন জানতে চাইলে বলেন, নিজের মতো করেই পথ হাঁটতে পছন্দ করি আমি। তাই আলাদাভাবে কাউকে কিছু বলার নেই। লবি মেইনটেইন করে আমি ছবিতে কাজ করবো না। তাই এখন ভিন্নধর্মী গল্পে একটু বেছে বেছে কাজ করতে শুরু করেছি। সামনে ‘ম্যাডাম ফুলি’ ছবির সিক্যুয়াল হবে ‘ম্যাডাম ফুলি টু’। এটা আমার কাছে একটা স্বপ্নের প্রোজেক্ট। বর্তমানে চিত্রনাট্য লেখার কাজ চলছে। তাই আমার ভক্তদের উদ্দেশে বলতে চাই অপেক্ষায় থাকুন। ভালো কিছুই সামনে আসছে।

মুখ দেখে রোগ চিনুন

ভিটামিনের অভাবে শরীরের বিভিন্ন অংশ অসুস্থ ও ক্লান্ত দেখায়। অপুষ্টির ছাপ পড়ে। মুখের কয়েকটি পরিবর্তনে খুব সহজেই বুঝে নেয়া যায়, ভিটামিনের অভাব হচ্ছে কি না।
লক্ষণ ১
চোখের কোল ফোলা
শরীরে আয়োডিনের মাত্রার তারতম্য হলে থাইরয়েডের হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়। ফলে ক্লান্তি, চোখের কোল ফোলে। শুষ্ক ত্বক, ওজন বেড়ে যাওয়া, নখ ভেঙে যাওয়ার সমস্যা হতে পারে। বেরি জাতীয় ফল, দই, আলু, বিনস খেলে এই সমস্যা দূর করা যেতে পারে।
লক্ষণ ২
অনুজ্জ্বল ত্বক
ভিটামিন বি১২-এর অভাবে ত্বক অনুজ্জ্বল দেখায়, চেহারায় ক্লান্তির ছাপ পড়ে। আরো একটি লক্ষণ সম্পূর্ণ মসৃণ জিভ। স্যামন মাছ, রেড মিট, দই, চিজ খেলে এই সমস্যার সমাধান হতে পারে।
লক্ষণ ৩
রুক্ষ চুল
রুক্ষ চুল মানে শরীরে বায়োটিন বা ভিটামিন বি৭-এর অভাব। নখ ভেঙে যেতে পারে, চুল পাতলা হয়ে যায়। ডিম, বাদাম, ডাল ও গোটা শস্য খেলে উপকার পাওয়া যাবে।
লক্ষণ ৪
ফ্যাকাশে ঠোঁট
ত্বক ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়ার সাথে সাথে যদি ঠোঁটও ফ্যাকাশে হয়ে যায়, তাহলে বুঝতে হবে রক্তাল্পতার সমস্যা। খুব বেশি ঠাণ্ডা লেগে যাওয়া, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। ডায়েটে রাখতেই হবে বেশি পরিমাণ আয়রন। রেড মিট, সি ফুড, বিনস, সবুজ শাক-সবজি, কড়াইশুঁটি খেতে হবে।
লক্ষণ ৫
মাড়ি থেকে রক্তক্ষরণ
মাড়ি যদি খুব স্পর্শকাতর হয়, মাঝে মাঝেই রক্তপাত হয়, তাহলে বুঝতে হবে ভিটামিন সি-র অভাব। স্কার্ভি হতে পারে। মুখের পেশি ও হাড়ে ব্যথা হতে পারে। লক্ষণ দেখে ফেলে রাখবেন না। সাথে সাথে পরামর্শ নিতে হবে চিকিৎসকের। সূত্র : ইন্টারনেট

‘বাজে মেয়েরা হয়তো নিজেরাই বিছানায় যেতে চায়’ -ইনোসেন্ট ভারিদ থেক্কেথালা

চলচ্চিত্র জগতে ‘কাস্টিং কাউচ’ বা অভিনয়ের প্রস্তাবের বিনিময়ে যৌন শোষণ নতুন কিছু নয়। বলিউডের বহু অভিনেতা-অভিনেত্রী এ বিষয়ে নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন বিভিন্ন সময়। ভারতের মালায়ালাম চলচ্চিত্রশিল্পও এর বাইরে নয়। সম্প্রতি এ বিষয়ে নিজেদের অপ্রীতিকর অভিজ্ঞতার কথা খোলাখুলি জানান জনপ্রিয় মালায়ালাম অভিনেত্রী পার্বতী মেনন। অথচ মালায়ালাম চলচ্চিত্রে ‘কাস্টিং কাউচের’ অস্তিত্ব বেমালুম অস্বীকার করছেন কেরালার প্রবীণ অভিনেতা ও পার্লামেন্ট সদস্য ইনোসেন্ট ভারিদ থেক্কেথালা।
‘কোনো নারী শিল্পীর যদি চরিত্র খারাপ থাকে, মিডিয়ায় তা খুব তাড়াতাড়ি ছড়িয়ে পড়ে। বাজে মেয়েরা হয়তো নিজেরাই বিছানায় যেতে চায়’—সম্প্রতি এমন মন্তব্য করে সমালোচনার জন্ম দিয়েছেন ইনোসেন্ট ভারিদ থেক্কেথালা। গতকাল বুধবার ‘কাস্টিং কাউচ’ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘মালায়ালাম চলচ্চিত্রশিল্প এখন পরিচ্ছন্ন। কোনো কাস্টিং কাউচ হয় না। অতীতেও ছিল না। চরিত্র পাওয়ার জন্য নারীদের যৌন শোষণের মুখোমুখি হতে হয় না। বর্তমান সময়টা এমন—কোনো নারীর চরিত্রে খারাপ কিছু থাকলে তা মিডিয়ার মানুষ এমনিতেই জেনে যায়।’
২০১৪ সালে পার্লামেন্টে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে যোগ দেন ইনোসেন্ট। অ্যাসোসিয়েশন অব মালায়ালাম মুভি আর্টিস্টসের (এমএমএ) সভাপতিও তিনি। তাঁর মুখে এমন বক্তব্যে বিক্ষোভে ফেটে পড়েছেন ওই রাজ্যের নারী অধিকারকর্মীরা।
গত মাসেই কেরালার অভিনেত্রী মঞ্জু ওয়ারিয়েরের নেতৃত্বে গঠন করা হয় ‘উইমেন ইন সিনেমা কালেক্টিভ’ সংগঠনটি। পার্লামেন্ট সদস্যের এমন বক্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ওই সংগঠন। এক ফেসবুক পোস্টে সংগঠনটি বলে, ‘নতুন মেয়েরা যখন চলচ্চিত্রশিল্পে প্রবেশ করে, তখন তাঁদের নানা রকম যৌন নিগ্রহের মুখোমুখি হতে হয়। এমনকি আমাদের সহকর্মী পার্বতী ও লক্ষ্মী রাই কাস্টিং কাউচ নিয়ে জনসমক্ষেই কথা বলেছেন। আমরা এমন বক্তব্য মেনে নিতে পারছি না, যেখানে বলা হচ্ছে, ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে এ ধরনের কিছু হয় না। মন্তব্য করার ব্যাপারে অনেক বেশি সতর্ক থাকা উচিত বলে মনে করি আমরা।’
এমন অবস্থায় বিপাকে পড়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করতে ফেসবুকে পাল্টা মন্তব্য করেন ইনোসেন্ট। তিনি বলেন, ‘আমার কিছু মন্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা করে এমনভাবে প্রকাশিত হয়েছে, যা আমি বলতে চাইনি। আমি বলতে চেয়েছি, চলচ্চিত্রশিল্পে নারীদের কাজের পরিবেশ এখন আগের তুলনায় অনেক বন্ধুত্বপূর্ণ।’

চর্মরোগ সোরিয়াসিস

সোরিয়াসিস একটি দীর্ঘস্থায়ী দুরারোগ্য চর্মরোগ। এ রোগ নারী-পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রেই হতে দেখা যায়। এখন পর্যন্ত এ রোগের সুনির্দিষ্ট কারণ নির্ণয় করা সম্ভব হয়নি। লিখেছেন ডা: দিদারুল আহসান
সোরিয়াসিসের ক্ষেত্রে ত্বকে প্রথমে প্রদাহের সৃষ্টি হয় এবং সে স্থানে লালচে ভাব দেখা যায়। একই সাথে ছোট ছোট গুটি যা চামড়া থেকে সামান্য উঁচুতে থাকে। ধীরে ধীরে এগুলো বড় হতে পারে। মাছের আঁশের মতো উজ্জ্বল সাদা শুকনো চটলায় গুটিগুলো আচ্ছাদিত থাকে। এ আঁশগুলো ঘষে ঘষে তুললে আঁশের নিচের চামড়ায় লালচে ভাব দেখা যায় এবং তা থেকে কষ ঝরতে পারে এবং সেখান থেকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রক্তক্ষরণও হতে থাকে। সাধারণভাবে একজন সোরিয়াসিসের রোগীকে দেখলে অন্যরা ভয় পেয়ে যান এবং অনেকেরই ধারণা এটা ছোঁয়াচে রোগ। আসলে এটা কোনো ছোঁয়াচে রোগ নয়। এমনকি জীবাণুজনিত রোগও নয়। তাই এর থেকে অন্য কারো রোগ হওয়ার কোনো ঝুঁকি নেই। এটা বড় কোনো শারীরিক সমস্যারও সৃষ্টি করে না।
কাদের হয় : নারী-পুরুষ উভয় ক্ষেত্রেই সমহারে হতে পারে। যেকোনো বয়সেই হয়, তবে ১৫ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে বেশি হতে দেখা যায়। এর সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো আবিষ্কৃত হয়নি। এ ক্ষেত্রে পারিবারিক প্রভাব অবশ্যই আছে বলে প্রমাণিত হয়েছে এবং অনেক কিছুরই প্রভাবে এটা বাড়তে দেখা গেছে। যেমন আঘাত, ইনফেকশন, দুশ্চিন্তা, আবহাওয়ার পরিবর্তন, নানা রকম ওষুধ যেমনÑ ম্যালেরিয়ার ওষুধ, ব্লাড প্রেসারের ওষুধ, হরমোন ও কর্টিসনজাতীয় ওষুধ সেবনে প্রাথমিকভাবে উপকার পেলেও পরে বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।
উপসর্গ : সোরিয়াসিসের উপসর্গ ত্বকের যেকোনো স্থানেই দেখা দিতে পারে। ত্বক ছাড়া নখেও দেখা দিতে পারে। ত্বকের যেসব এলাকা সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়, তাহলে কনুই, হাঁটু, মাথার চামড়া, কোমরের নিচের মধ্যখানের স্থানে ইত্যাদি। তবে এটা শরীরের যেকোনো স্থানের যেকোনো ত্বকে হতে পারে। সাধারণত এ রোগে তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য উপসর্গই থাকে না। তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে সামান্য চুলকানি ভাব থাকতে পারে। তবে যাদের এ রোগ হয়, তারা লোকসমাজে যেতে ইতস্তত করেন, যাদের কাছে যান তারাও দেখলে ছোঁয়াচে ভেবে ভয়ে দূরে থাকতে চান। কারণ চামড়া উঠতে উঠতে এমন এক ভয়ঙ্কর অবস্থার সৃষ্টি হয়, যা রোগীর জন্য এক বিব্রত অবস্থার সৃষ্টি করে। আসলে কিন্তু এ রোগটি কোনো অবস্থায়ই ছোঁয়াচে নয়। প্রথমে ত্বকে প্রদাহের সৃষ্টি হয়, তার পর লালচে ভাব ধারণ করে, সেখানে ছোট ছোট গুটি দেখা দেয়, ওপরের ত্বকে চলটার আকারে মাছের আঁশের মতো শুকনো চামড়া দেখা দেয়, যা টানলে চলটা ধরে উঠে আসে। খুঁটে বা টেনে এই চামড়া তুললে নিচে লালচে চামড়া দেখা যায়, যা থেকে রস ঝরে এবং ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রক্তক্ষরণ দেখা যায়। সোরিয়াসিসের ক্ষেত্রে ত্বকের উপসর্গের বাইরে সাধারণত কোনো শারীরিক উপসর্গ থাকে না। তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। যেমন হাত ও পায়ের গিরায় ব্যথা হতে পারে, যাকে বলা হয় সোরিয়াটিক আর্থোপ্যাথি। এ ছাড়া হাত ও পায়ের তালুতে পুঁজভর্তি দানা দেখা দিতে পারে, যাকে বলা হয় প্যাস্টুলার সোরিয়াসিস। আবার ছোট ছোট দানার আকারে লালচে আঁশযুক্ত সোরিয়াসিস, যা সারা দেহসহ হাত-পা পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে, যাকে বলা হয় গাটেট সোরিয়াসিস। সোরিয়াসিসে নখও আক্রান্ত হতে পারে। সে ক্ষেত্রে নখের রঙ হলুদ হতে পারে এবং নখের গায়ে ছোট ছোট দানার আকারে ফোঁটা দেখা যায়। নখ পুরু হয়ে যেতে পারে, নখের গায়ে ফাটা ফাটা দাগ দেখা দিতে পারে। এ ছাড়া সোরিয়াসিসে আরেকটি জটিলতা দেখা দিতে পারে, যাকে বলা হয় সোরিয়াটিক এরিথ্রোডারমা, যাতে সারা শরীরের ত্বকে প্রদাহ দেখা দেয় এবং সারা শরীরের ত্বক লালচে হয়ে ফুটে ওঠে। সারা শরীর থেকে শুকনো আঁশ ঝরে পড়তে থাকে। এ অবস্থায় রোগীর জীবন আশঙ্কাযুক্ত হয়ে পড়ে এবং তাকে হাসপাতালে ভর্তির প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। সোরিয়াসিস যখন মাথায় দেখা দেয়, তখন তাকে বলা হয় স্কাল্প সোরিয়াসিস। তবে অনেকেই এটিকে মাথার ত্বকের ছত্রাকজনিত চর্মরোগ (টিনিয়া ক্যাপিটিস) ভেবে ভুল করে থাকেন। এ ক্ষেত্রে মাথার ত্বক থেকে গুঁড়ি গুঁড়ি আঁশ উঠতে থাকে এবং আঁশের নিচের ত্বকে লালচে প্রদাহজনিত ভাব দেখা যায়। তবে মাথায় তেমন কোনো চুলকানি থাকে না। সামান্য থাকলেও অনেকে আবার খুশকি ভেবেও ভুল করে থাকেন।
চিকিৎসা : চিকিৎসায় এটি সম্পূর্ণরূপে সেরে যাবে এ কথা বলা সঙ্গত হবে না। তবে বর্তমানে কিছু কিছু চিকিৎসাপদ্ধতি বেরিয়েছে, যা প্রচুর সাফল্য আনতে সক্ষম হয়েছে। এর মধ্যে চাঁধ থেরাপি অন্যতম। মলমের মধ্যে ক্যালসিপট্রিয়ল ও ক্লোরেস্টাল প্রপায়নেট অন্যতম।
লেখক : চর্ম, অ্যালার্জি ও যৌনরোগ বিশেষজ্ঞ
চেম্বার : আলরাজী হাসপাতাল, ১২ ফার্মগেট, ঢাকা। ফোন : ০১৮১৯২১৮৩৭৮

বাংলাদেশে শত শত গোপন আটক আর গুম: এইচআরডব্লিউ

বাংলাদেশে ২০১৩ সাল থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী শত শত মানুষকে অবৈধভাবে আটক করেছে এবং গোপন স্থানে আটকে রেখেছে বলে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। প্রতিবেদনে বলা হয়, গোপন আটক আর গুমের মধ্যে কয়েকজন বিরোধী নেতাও রয়েছেন। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ওই প্রতিবেদনে অবিলম্বে এই প্রবণতা বন্ধ করে এসব অভিযোগের তদন্ত করা, নিখোঁজদের পরিবারের কাছে ব্যাখ্যা তুলে ধরা আর এসব ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহবান জানিয়েছে। খবর বিবিসি। ৮২ পৃষ্ঠার ওই প্রতিবেদনের শিরোনাম করা হয় 'তিনি আমাদের কাছে নেই: বাংলাদেশে গোপন আটক আর গুম। প্রতিবেদনটিতে অন্তত ৯০ জনের তথ্য রয়েছে, যাদের শুধুমাত্র ২০১৬ সালেই গুম করা হয়েছে। এদের মধ্যে বেশিরভাগকে এক সপ্তাহ বা একমাস গোপন স্থানে আটকে রাখার পর আদালতে হাজির করা হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, হিউম্যান রাইটস ওয়াচের কাছে তথ্য রয়েছে যে, এরকম আটক ২১জনকে পরে হত্যা করা হয়েছে আর ৯ জনের কোন তথ্যই আর জানা যায়নি। এই ৯০ জনের তালিকায় মানবতা বিরোধী অপরাধে ফাঁসি কার্যকর হওয়া তিন বিরোধী নেতার তিন সন্তান রয়েছে, যাদের একজন ছয়মাস পরে ফিরে এসেছেন। বাকি তিনজনের এখনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। আন্তর্জাতিক এই মানবাদিকার সংস্থাটি জানায়, ২০১৭ সালের প্রথম পাঁচ মাসে এরকম ৪৮জনের নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সংস্থাটির এশিয়া পরিচালক ব্রাড অ্যাডামস বলেন, 'নিখোঁজের বিষয়ে যথেষ্ট তথ্যপ্রমাণ থাকলেও, বাংলাদেশের সরকার এই বিষয়ে আইনের খুব একটা তোয়াক্কা করছে না'।
তিনি বলছেন, 'মানুষজনকে আটক করে তারা দোষী না নির্দোষ নির্ণয় করা, শাস্তি নির্ধারণ করা, এমনকি তারা বেঁচে থাকবে কিনা, সেই সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতাও যেন বাংলাদেশের নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের দেয়া হয়েছে'। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রকাশিত প্রতিবেদনে বিএনপির ১৯জন কর্মীর তথ্য রয়েছে, যাদের ২০১৪ সালের জানুয়ারির নির্বাচনের পূর্বে বিভিন্ন এলাকা থেকে তুলে নেয়া হয়। প্রতিবেদন তৈরি করতে গিয়ে নিখোঁজ পরিবারের সদস্য ও প্রত্যক্ষদর্শীসহ একশ'জনের বেশি মানুষের সাক্ষাৎকার নিয়েছে সংস্থাটি। সেখানে পুলিশের কাছে করা অভিযোগ ও অন্যান্য আইনি কাগজপত্রও রয়েছে। সংস্থাটি বলছে, এসব অভিযোগের বিষয়ে ব্যাখ্যা চাইলেও তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষ। এ ধরনের ঘটনায় র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন এবং ডিটেকটিভ ব্রাঞ্চের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ নিখোঁজদের পরিবারের সদস্যদের। প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ করা হয়, ২০১৩ সালের ৫ জানুয়ারি আদনান চৌধুরীকে তুলে নিয়ে যায় র‍্যাবের সদস্যরা। তার বাবা রুহুল আমিন চৌধুরী সংস্থাটিকে বলছেন, তাদের বলা হয়েছিল, পরদিন র‍্যাব সদস্যরা তাদের ছেড়ে দেবে। রুহুল আমিন জানান, ''তারা (র‌্যাব) বললো, আমরা তাকে নিয়ে যাচ্ছি, আমরাই আবার তাকে ফেরত দিয়ে যাবো। কিন্তু তারা আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে'। প্রতিবেদনে বলা হয়, নিখোঁজ বিএনপি নেতা সাজেদুল ইসলাম সুমনের পরিবারের কাছে একজন জ্যেষ্ঠ র‍্যাব কর্মকর্তা গোপনে জানিয়েছেন, সুমনসহ আরও পাঁচজন তার হেফাজতে ছিল। কিন্তু তিনি তাদের হত্যা করতে অস্বীকৃতি জানানোর পর অন্য র‍্যাব কর্মকর্তারা তাদের নিয়ে যান। তার ধারণা, এই ছয়জনের কেউ বেঁচে নেই। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলছে, এ ধরনের আটকের ঘটনা সবসময়ে অস্বীকার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সরকারি কর্মকর্তারাও তাদের এই দাবির সমর্থন দিয়ে আসছেন। বরং কখনো কখনো উল্টো বলা হয় যে, এসব ব্যক্তিরা নিজেরাই লুকিয়ে রয়েছেন। সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়, এ ধরনের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগও গ্রহণ করে না পুলিশ। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাটি বলছে, বাংলাদেশ সরকারের উচিত জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারকে এসব অভিযোগ তদন্ত করার আহবান জানানো এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের কর্মকর্তা ব্রাড অ্যাডামস বলেন, 'বাংলাদেশের সরকার এসব অভিযোগ নাকচ না করে নীরব থাকছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও চুপ করে থাকছে'। তার মতে, এই নীরবতার অবসান হওয়া উচিত'।

অভিজিৎ হত্যা মামলার প্রতিবেদন দাখিল পেছাল

ব্লগার অভিজিৎ রায় হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৩ আগস্ট নতুন দিন ধার্য করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর হাকিম গোলাম নবী এ দিন ধার্য করেন। আজ এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের ধার্য দিন ছিল। কিন্তু তদন্ত সংস্থা ডিবি পুলিশ প্রতিবেদন দাখিল না করায় আদালত প্রতিবেদন দাখিলের নতুন দিন ধার্য করেন। ২০১৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি বইমেলার অদূরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় অভিজিৎ রায়কে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এসময় তার সঙ্গে থাকা স্ত্রী রাফিদা আহমেদ আহত হন। এ ঘটনায় শাহবাগ থানায় অভিজিতের বাবা অধ্যাপক ড. অজয় রায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। অভিজিৎ হত্যাকাণ্ডের পর আল-কায়েদার ভারতীয় উপমহাদেশ শাখার (একিউআইএস) নামে এই হত্যার দায় স্বীকারের খবর দেয় জঙ্গি গোষ্ঠীর ইন্টারনেটভিত্তিক তৎপরতা নজরদারি করা ওয়েবসাইট ‘সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপ।’ অবশ্য সরকার বরাবরই জঙ্গি হামলা ও এ ধরনের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আন্তর্জাতিক কোনো গোষ্ঠীর সম্পর্ক নেই বলে দাবি করে আসছে।

অটোরিক্সা চালকের গলাকাটা লাশ উদ্ধার

টাঙ্গাইল পৌর এলাকার ধুলেরচর মাদ্রাসার পাশ থেকে রতন চন্দ্র বর্মন (৩৫) নামে এক অটোরিক্সা চালকের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার সকালে পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। নিহত রতন সদর উপজেলার চৈতরবাইদ গ্রামের কান্দু চন্দ্র বর্মনের ছেলে। টাঙ্গাইল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সুকান্ত জানান, সকালে স্থানীয় লোকজন মাদ্রাসার পাশে একটি জমিতে রতনের গলাকাটা লাশ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেয়। পরে ঘটনাস্থল থেকে লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসাতাল মর্গে পাঠানো হয়। রাতে কোনো এক সময় দুর্বৃত্তরা তাকে হত্যা করে তার অটোরিক্সাটি ছিনতাই করে নিয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।