Friday, June 16, 2017

সাতকানিয়াবাসীর কল্যাণে যে কোন সেবামূলক ও উন্নয়ন কর্মকান্ডে সহযোগিতা প্রদান করা হবে: ড. আবু রেজা নদভী এমপি

সাতকানিয়া সমিতি-চট্টগ্রাম এর উদ্যোগে গতকাল ১৫ জুন, বৃহস্পতিবার নগরীর এসএ খালেদ রোডস্থ রিমা কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত  ইফতার মাহফিল ও দোয়া মাহফিল রূপ নিল সাতকানিয়াবাসির মিলন মেলায়। সমিতির আহ্বায়ক ও চিটাগাং চেম্বারের পরিচালক অহীদ সিরাজ চৌধুরী স্বপনের সভাপতিত্বে এবং সাতকানিয়ার পৌর মেয়র ও সমিতির সদস্য সচিব মোহাম্মদ জোবায়েরের সঞ্চলনায় দোয়া ও ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথি ছিলেন সাতকানিয়া লোহাগাড়া আসনের সাংসদ প্রফেসর ড. আবু রেজা মোহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপ-পুলিশ কমিশনার (চট্টগ্রাম দক্ষিণ) মুস্তেইন হোছাইন, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম.এ. হাশেম বক্কর, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি এডভোকেট এ.কে.এম. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, আল্লামা ফজলুল্লাহ ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী মিসেস রিজিয়া রেজা চৌধুরী, সাতকানিয়া সমিতি চট্টগ্রামের সাবেক প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আলহাজ্ব আবুল বশর আবু, সমিতির উপদেষ্টা আলহাজ্ব ওসমানগণি চৌধুরী, সাতকানিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এম.এ. মোতালেব সি.আই.পি, বিশিষ্ট শিল্পপতি আলহাজ্ব মুহাম্মদ আলী সি.আই.পি, প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মহিউদ্দিন, সাতকানিয়া উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মুহাম্মদ ইব্রাহিম চৌধুরী, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক কুতুব উদ্দিন চৌধুরী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফয়েজ আহমদ লিটন, সমিতির উপদেষ্টা আলহাজ্ব আমান উল্লাহ আমান, সাবেক চেয়ারম্যান সরওয়ার উদ্দিন চৌধুরী, সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব জসিম উদ্দিন, চট্টগ্রাম শপ্ ওনার্স এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আহমদ হোছাইন,  তামাকুমন্ডিলেইন বনিক সমিতির সভাপতি আব্দুল খালেক, সহ-সভাপতি মোঃ আবু তাহের, যুগ্ম সম্পাদক ফারুকে আজম, ছদহা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোসাদ হোসাইন চৌধুরী, পশ্চিম ঢেমশা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু তাহের জিন্নাহ, আমিলাইশ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এইচ এম হানিফ প্রমুখ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রফেসর ড. আবু রেজা মোহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী বলেন, সাতকানিয়াবাসীর কল্যাণে নিবেদিত যে কোন উন্নয়ন ও সেবামূলক কর্মকান্ডে সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করা হবে। তিনি বলেন, সাতকানিয়া সমিতি-চট্টগ্রামকে প্রতিষ্ঠার পর থেকে নিজের এবং আল্লামা ফজলুল্লাহ ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হয়েছে। সাতকানিয়াবাসীর কল্যাণে ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে তাঁর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় বাস্তবায়িত এবং গৃহীত বিভিন্ন কর্মকাণ্ডর তুলে ধরেন এবং  সাতকানিয়াবাসীর সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম মহানগরীর একটি বিশাল  অংশ সাতকানিয়াবাসী। ব্যবসা-বাণিজ্যসহ চট্টগ্রামের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকান্ডে সাতকানিয়াবাসীর অবদান অনস্বীকার্য। তিনি সদ্য ঘূর্ণিঝড় ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ সাতকানিয়াবাসীর সাহায্যর্থে এগিয়ে আসার জন্য বিত্তবান ব্যবসায়ীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

সাতকানিয়া সমিতি-চট্টগ্রামের দোয়া ও ইফতার মাহফিলে ড. আবু রেজা নদভী এমপি

সাতকানিয়াবাসীর কল্যাণে যে কোন সেবামূলক ও উন্নয়ন কর্মকান্ডে সহযোগিতা প্রদান করা হবে -নদভী।
সাতকানিয়া সমিতি-চট্টগ্রাম এর উদ্যোগে অদ্য ১৫ জুন, বৃহস্পতিবার নগরীর এসএ খালেদ রোডস্থ রিমা কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত ইফতার মাহফিল ও দোয়া মাহফিল রূপ নিল সাতকানিয়াবাসির মিলন মেলায়।
সমিতির আহ্বায়ক ও চিটাগাং চেম্বারের পরিচালক অহীদ সিরাজ চৌধুরী স্বপনের সভাপতিত্বে এবং সাতকানিয়ার পৌর মেয়র ও সমিতির সদস্য সচিব মোহাম্মদ জোবায়েরের সঞ্চলনায় দোয়া ও ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথি ছিলেন সাতকানিয়া লোহাগাড়া আসনের সাংসদ প্রফেসর ড. আবু রেজা মোহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপ-পুলিশ কমিশনার (চট্টগ্রাম দক্ষিণ) মুস্তেইন হোছাইন, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম.এ. হাশেম বক্কর, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি এডভোকেট এ.কে.এম. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, আল্লামা ফজলুল্লাহ ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী মিসেস রিজিয়া রেজা চৌধুরী, সাতকানিয়া সমিতি চট্টগ্রামের সাবেক প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আলহাজ্ব আবুল বশর আবু, সমিতির উপদেষ্টা আলহাজ্ব ওসমানগণি চৌধুরী, সাতকানিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এম.এ. মোতালেব সি.আই.পি, বিশিষ্ট শিল্পপতি আলহাজ্ব মুহাম্মদ আলী সি.আই.পি, প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মহিউদ্দিন, সাতকানিয়া উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মুহাম্মদ ইব্রাহিম চৌধুরী, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক কুতুব উদ্দিন চৌধুরী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফয়েজ আহমদ লিটন, সমিতির উপদেষ্টা আলহাজ্ব আমান উল্লাহ আমান, সাবেক চেয়ারম্যান সরওয়ার উদ্দিন চৌধুরী, সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব জসিম উদ্দিন, চট্টগ্রাম শপ্ ওনার্স এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আহমদ হোছাইন, তামাকুমন্ডিলেইন বনিক সমিতির সভাপতি আব্দুল খালেক, সহ-সভাপতি মোঃ আবু তাহের, যুগ্ম সম্পাদক ফারুকে আজম, ছদহা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোসাদ হোসাইন চৌধুরী, পশ্চিম ঢেমশা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু তাহের জিন্নাহ, আমিলাইশ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এইচ এম হানিফ প্রমুখ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রফেসর ড. আবু রেজা মোহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী বলেন, সাতকানিয়াবাসীর কল্যাণে নিবেদিত যে কোন উন্নয়ন ও সেবামূলক কর্মকান্ডে সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করা হবে। তিনি বলেন, সাতকানিয়া সমিতি-চট্টগ্রামকে প্রতিষ্ঠার পর থেকে নিজের এবং আল্লামা ফজলুল্লাহ ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হয়েছে। সাতকানিয়াবাসীর কল্যাণে ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে তাঁর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় বাস্তবায়িত এবং গৃহীত বিভিন্ন কর্মকাণ্ডর তুলে ধরেন এবং সাতকানিয়াবাসীর সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম মহানগরীর একটি বিশাল অংশ সাতকানিয়াবাসী। ব্যবসা-বাণিজ্যসহ চট্টগ্রামের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকান্ডে সাতকানিয়াবাসীর অবদান অনস্বীকার্য। তিনি সদ্য ঘূর্ণিঝড় ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ সাতকানিয়াবাসীর সাহায্যর্থে এগিয়ে আসার জন্য বিত্তবান ব্যবসায়ীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

সেই ‘ভাগ্যবান’ ব্যাংককে দেয়া হলো এক হাজার কোটি টাকা by সৈয়দ সামসুজ্জামান নীপু

আবারো সেই ‘ভাগ্যবান’ ব্যাংককে এক হাজার কোটি টাকা দেয়া হলো। ভাগ্যবান ব্যাংকটির নাম ‘বেসিক ব্যাংক’। আর এই অর্থ দিয়েছে সরকারের অর্থমন্ত্রণালয়। পুরো টাকাই দেয়া হয়েছে জনগণের কাছ থেকে আদায় করা করের টাকা থেকে। গতকাল অর্থ বিভাগ থেকে এই অর্থ ছাড়ের কথা ঘোষণা করা হয়। কেন দেয়া হলো ১০০০ হাজার কোটি টাকা? বলা হয়েছে ব্যাংকটির মূলধন ঘাটতি পূরণে এই অর্থ ব্যবহার করা হবে। কেন এই ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি হয়েছে তা উল্লেখ করা হয়নি। আসলে পুরোপুরি রাষ্ট্রায়ত্ত এই ব্যাংকটিতে গত কয়েক বছরে ব্যাপক দুর্নীতি ও অনিয়মের কারণে এই মূলধন ঘাটতি হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য মতে অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে বেসিক ব্যাংকে আত্মসাৎ করা হয়েছে সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকার বেশি পরিমাণ অর্থ। আর এই অর্থ আত্মসাতে সহযোগিতা করেছে ব্যাংকের সাবেক একজন ব্যবস্থাপনা পরিচালক, পরিচালন পর্ষদ এবং ক্ষমতাসীন রাজনীতির সাথে জড়িত ব্যক্তিবর্গরা। যারা দুর্নীতির সাথে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে তেমন কোনো ব্যবস্থাই নেয়া হয়নি। কিন্তু ধারাবাহিক প্রতি বছর বেসিক ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি হয় এবং তা মোকাবেলায় জনগণের করের টাকা থেকে অর্থ দেয়া হচ্ছে। গতকালের এক হাজার কোটি টাকাসহ এ পর্যন্ত চার দফায় বেসিক ব্যাংককে সরকার অর্থ দিয়েছে গুনে গুনে তিন হাজার ৩৯০ কোটি টাকা। আর এসব অর্থেরই অনুমোদন করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।
অর্থনীতিবিদরা দুর্নীতিগ্রস্ত এই ব্যাংকে অর্থ দেয়াকে চরম অনৈতিক হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং বলেছেন, এই অর্থ দেয়ার মাধ্যমে দুর্নীতিকে উৎসাহ দেয়া হলো- যা কিনা অপচয়ের নামান্তর, কারণ বেসিক ব্যাংক সরকারের দেয়া অর্থ কখনোই ফেরত দিতে পারবে না।
অর্থ বিভাগের জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে-চলতি ২০১৬-১৭ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে ব্যাংকের মূলধন পুনর্গঠনে বিনিয়োগ খাতে রক্ষিত মোট ২০০০ হাজার কোটি টাকা থেকে এই অর্থ দেয়া হলো। বেসিক ব্যাংককে এক হাজার কোটি টাকা দেয়ার ক্ষেত্রে অর্থ বিভাগ থেকে গতানুুগতিক কিছু শর্তারোপ করা হয়েছে। শর্তের মধ্যে রয়েছে- এ অর্থ ব্যয়ে প্রচলিত সব বিধি-বিধান ও অনুশাসনাবলী যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে। যে উদ্দেশ্যে এ অর্থ দেয়া হলো ওই উদ্দেশ্য ব্যতীত অন্য কোনো খাতে এ অর্থ ব্যয় করা যাবে না এবং ভবিষ্যতে এ অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম পরিলক্ষিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী দায়ী থাকবেন।
এর আগেও বেসিক ব্যাংকের আর্থিক সঙ্কট কমানোর জন্য সরকারের পক্ষ থেকে তিন দফায় দুই হাজার ৩৯০ কোটি টাকা দেয়া হয়েছিল। প্রথমবার ২০১৪ সালে দুই দফায় যথাক্রমে ৭৯০ কোটি টাকা এবং দ্বিতীয় দফায় ৪০০ কোটি টাকা দেয়া হয়। পরে গত বছর দেয়া হয়েছিল আরো ১২ শ’ কোটি টাকা। এ সম্পর্কিত অর্থ বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছিল, ‘অর্থ বিভাগের ২০১৫-১৬ অর্থবছরের বাজেটে ব্যাংকের মূলধন পুনর্গঠনে বিনিয়োগ খাতে বরাদ্দকৃত অর্থ থেকে ১২০০ কোটি টাকা বেসিক ব্যাংক লিমিটেডের অনুকূলে মূলধন পুনর্ভরণখাতে প্রদান করা হলো’।
গতকাল জারি করা প্রজ্ঞাপনে বেসিক ব্যাংককে এক হাজার কোটি টাকা থেকে দেয়া ছাড়াও আরো কয়েকটি সরকারি ব্যাংক ও প্রতিষ্ঠানকে অর্থ দেয়া হয়েছে। এ পাঁচটি ব্যাংক ও একটি ঋণদানকারী সংস্থাকে আর এক হাজার কোটি টাকা দেয়া হয়। এর মধ্যে সরকারি খাতের বৃহত্তম ব্যাংক সোনালী ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি পূরণে দেয়া হয়েছে ৩০০ কোটি টাকা। একইভাবে রূপালী ব্যাংককেও দেয়া হয়েছে ১০০ কোটি টাকা। এ ছাড়া সরকারি ঋণদানকারী সংস্থা ‘বাংলাদেশ হাউজ বিল্ডিং ফাইন্যান্স কর্পোরেশনকে তহবিল সহায়তা বাবদ দেয়া হয়েছে ১৫০ কোটি টাকা। সুদ ভর্তুকি বাবদ রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক ও বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংককে দেয়া হয়েছে যথাক্রমে ১০০ কোটি ও ১৬৪ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। পরিশোধিত মূলধনের সরকারি অংশ বাবদ গ্রামীণ ব্যাংকের অনুকূলে ছাড় করা হয়েছে ২২ লাখ টাকা। আর রাইট শেয়ারের চাঁদা বাবদ আইএফআইসি ব্যাংক লিমিটেডকে দেয়া হয়েছে ১৮৫ কোটি টাকা।
হাউজ বিল্ডিংকে ১৫০ কোটি টাকা দেয়ার বিপরীতে বেশ কয়েকটি শর্ত আরোপ করা হয়েছে। এই শর্তের মধ্যে রয়েছে ঋণের সম্পূর্ণ অর্থ বিএইচবিএফসি কর্তৃক পরিচালিত গৃহ নির্মাণখাতে ব্যবহ্নত হবে। বার্ষিক ৩ শতাংশ হারে এ ঋণের ওপর সুদ প্রদান করতে হবে। এই ঋণ ২০ বছরে ছয় মাসিক ভিত্তিতে ৪০টি সমান কিস্তিতে আসল ও সুদসহ পরিশোধ করতে হবে। ঋণের টাকা উত্তোলনের তারিখ হতে পাঁচ বছর পর এ ঋণের টাকা আদায়যোগ্য। তবে প্রথম পাঁচ বছরের জন্য সুদ প্রদেয় হবে। সরকার প্রদত্ত এ ঋণের বিষয়ে অর্থ বিভাগের সাথে বিধিমতে বিএইচবিএফসিকে ঋণ চুক্তি স্বাক্ষর করতে হবে।

এ পি জে আবদুল কালাম কেন ইফতার পার্টি দিতেন না! by মিজানুর রহমান খান

ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবনে ইফতার পার্টির রেওয়াজ বহুকাল ধরে চলে আসছে। সেই সঙ্গে সেখানে কাকে দেখা গেল, কাকে গেল না, কাকে দাওয়াত দেওয়া হলো, কাকে দেওয়া হলো না, সেদিকে মিডিয়ার সজাগ দৃষ্টি রাখা, এসব অনেকেরই জানা। কিন্তু একটা ছন্দপতন ঘটেছিল। আর সেটা ঘটিয়েছিলেন ড. এ পি জে আবদুল কালাম। তাঁর আমলটি ছিল ইফতার পার্টিমুক্ত।
ভারতের সাবেক এই বিদ্বান রাষ্ট্রপতির ব্যক্তিগত জীবনের অনেক চমকপ্রদ তথ্য ইতিমধ্যে বেরিয়েছে, কিন্তু এবারে এমন কিছু নজরে এল, যা সত্যি প্রত্যেককে সুগভীরভাবে স্পর্শ করার উপাদানে ভরপুর।
গতকাল বুধবার জাতীয় পার্টির নেতা জি এম কাদেরের কাছ থেকে হোয়াটসঅ্যাপে একটি ইলেকট্রনিক বার্তা পাই। এটা আমাদের গভীরভাবে স্পর্শ করেছে, এমনকি চোখকে আর্দ্র করেছে। তাই ভাবলাম বার্তাটি যেভাবে আছে, সেভাবেই অনুবাদ করি। অবশ্য এই টেক্সট সত্যম রায়চৌধুরীর ‘এ পি জে আবদুল কালাম’ বইয়েও গ্রন্থিত হয়েছে। গত নভেম্বরে বইটি বের করেছে টেকনো ইন্ডিয়া।
পি মাধভান নায়ারের লেখা ‘দ্য কালাম এফেক্ট, মাই ইয়ার্স উইথ দ্য প্রেসিডেন্ট’ প্রকাশিত হয়েছিল ২০০২ সালে। ১৯৬৭ ব্যাচের নায়ারকে আবদুল কালাম নিজেই বেছে নিয়েছিলেন। তাঁর সচিব হতে সরকারের দেওয়া প্যানেলের সব নাম তিনি নাকচ করেছিলেন।
ভারতের প্রয়াত রাষ্ট্রপতি আবদুল কালামকে নিয়ে তাঁর সাবেক সচিব অবসরপ্রাপ্ত আইএস কর্মকর্তা পি এম নায়ারের একটি সাক্ষাৎকার দূরদর্শনের তামিলভাষী আঞ্চলিক চ্যানেল ডিডিপোধিগাই প্রচার করেছিল। এর অনুবাদ নিচে তুলে ধরা হলো:
১. ড. এ পি জে আবদুল কালাম যখনই বিদেশ যেতেন, তখনই দামি উপঢৌকন নিতে তিনি অভ্যস্ত ছিলেন। এর কারণ, এটাই রাষ্ট্রাচার। অধিকাংশ ক্ষেত্রে বিভিন্ন দেশ ও জাতিরাষ্ট্রের কাছ থেকে সফররত বিদেশি রাষ্ট্র বা সরকারপ্রধানদের এ ধরনের উপঢৌকন নেওয়া একটি বৈশ্বিক প্রথা হিসেবে প্রচলিত রয়েছে। এই উপঢৌকন প্রত্যাখ্যান করা হলে তা কোনো জাতির প্রতি একটা উপহাস এবং ভারতের জন্য তা বিব্রতকর। সুতরাং, তিনি বিনা বাক্য ব্যয়ে এসব উপঢৌকন নিতেন। কিন্তু তিনি ফিরে আসার পরে তাঁর নির্দেশ থাকত, সব উপহারসামগ্রীর আলোকচিত্র তুলতে হবে। এর ক্যাটালগ করতে হবে। এরপর তা মহাফেজখানায় দিতে হবে। এরপরে তাঁকে আর কখনো উপহারসামগ্রীর দিকে ফিরে তাকাতেও দেখা যায়নি। তিনি যখন রাষ্ট্রপতি ভবন ত্যাগ করেছিলেন, তাঁকে এমনকি একটি পেনসিলও নিয়ে যেতে দেখা যায়নি।
২. ২০০২ সালে ড. আবদুল কালাম যখন রাষ্ট্রপতির পদ নিয়েছিলেন, তখন রমজান এসেছিল জুলাই-আগস্টে। ভারতীয় রাষ্ট্রপতির জন্য এটা একটা নিয়মিত রেওয়াজ যে তিনি একটি ইফতার পার্টির আয়োজন করবেন। একদিন ড. কালাম তাঁর সচিব মি. নায়রাকে বললেন, কেন তিনি একটি পার্টির আয়োজন করবেন? কারণ, এমন পার্টির অতিথিরা সর্বদা ভালো খাবার খেয়ে অভ্যস্ত। তিনি মি. নায়ারের কাছে জানতে চাইলেন, একটি ইফতার পার্টির আয়োজনে কত খরচ পড়ে? মি. নায়ার তাঁকে জানালেন, প্রায় ২২ লাখ রুপি। ড. কালাম তাঁকে নির্দেশ দিলেন, কতিপয় নির্দিষ্ট এতিমখানায় এই অর্থ, খাদ্য, পোশাক ও কম্বল কিনে দান করতে হবে। রাষ্ট্রপতি ভবনের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত একটি টিম এতিমখানা বাছাইয়ের দায়িত্ব পেয়েছিল। ড. কালাম এ ক্ষেত্রে কোনো ভূমিকা পালন করেননি। এতিমখানা বাছাইয়ের পরে ড. কালাম মি. নায়ারকে তাঁর কক্ষে ডাকলেন এবং এক লাখ রুপির একটি চেক দিলেন। তিনি বললেন, তিনি তাঁর ব্যক্তিগত সঞ্চয় থেকে কিছু অর্থ দান করছেন। কিন্তু এ তথ্য কারও কাছে প্রকাশ করা যাবে না। মি. নায়ার এতটাই আঘাত পান যে তিনি বললেন, ‘স্যার, আমি এখনই বাইরে যাব এবং সবাইকে বলব। কারণ, মানুষের জানা উচিত, এখানে এমন একজন মানুষ রয়েছেন, যে অর্থ তাঁর খরচ করা উচিত, শুধু সেটাই তিনি দান করেননি, তিনি সেই সঙ্গে নিজের অর্থও বিলিয়েছেন।’ ড. কালাম যদিও একজন ধর্মপ্রাণ মুসলমান ছিলেন; কিন্তু তিনি রাষ্ট্রপতি ভবনে থাকার বছরগুলোতে কোনো ইফতার পার্টি দেননি।
৩. ড. কালাম ‘ইয়েস স্যার’ ধরনের লোক পছন্দ করতেন না। একবার যখন ভারতের প্রধান বিচারপতি তাঁর সঙ্গে সাক্ষাতে এলেন এবং কোনো একটি পর্যায়ে ড. কালাম তাঁর সচিবের দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘আপনি কি আমার এ কথার সঙ্গে একমত?’ মি. নায়ার ভাবলেশহীনভাবে বললেন, ‘না স্যার, আমি আপনার সঙ্গে একমত নই।’ অবাক হয়ে গেলেন প্রধান বিচারপতি। তিনি নিজের কানকেই বিশ্বাস করতে পারছিলেন না। একজন সিভিল সার্ভেন্টের পক্ষে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দ্বিমত করা এবং এতটা প্রকাশ্যে করা, তা ভাবাও যায়নি। মি. নায়ার প্রধান বিচারপতিকে বলেন, রাষ্ট্রপতি পরে তাঁকে প্রশ্ন করবেন, জানতে চাইবেন, কেন তিনি তাঁর সঙ্গে একমত হতে পারেননি। এবং যদি মি. নায়ারের যুক্তি ৯৯ শতাংশ সংগত হয়, তাহলে তিনি তাঁর মন পরিবর্তন করবেন।
৪. ড. কালাম তাঁর আত্মীয়দের একবার দিল্লিতে আমন্ত্রণ জানালেন। তাঁরা সবাই রাষ্ট্রপতি ভবনে অবস্থান নিলেন। তাঁদের নগর পরিদর্শন করাতে তিনি একটি বাস ভাড়া করলেন এবং সে অর্থ তিনি পরিশোধ করেন। কোনা সরকারি গাড়ি তাঁর আত্মীয়দের জন্য ব্যবহৃত হয়নি। ড. কালামের নির্দেশনা অনুসারে, তাঁদের থাকা-খাওয়ার খরচ হিসাব করা হলো। বিল দাঁড়াল দুই লাখ রুপি, যা তিনি পরিশোধ করেছেন। ভারতীয় ইতিহাসে এটা আর কেউ করেননি।
এখানেই শেষ নয়, এবার বরং আরও নাটকীয়তার জন্য অপেক্ষা করুন। ড. কালাম একবার চাইলেন তাঁর সঙ্গে তাঁর বড় ভাই পুরো এক সপ্তাহ যাতে সময় কাটান। তা-ই হলো। কিন্তু তিনি চলে যাওয়ার পরে তাঁর রুমভাড়া বাবদ তিনি অর্থ পরিশোধ করতে চাইলেন। কল্পনা করুন, একটি দেশের রাষ্ট্রপতি এমন একটি কক্ষের জন্য ভাড়া পরিশোধ করতে চাইছেন, যা তাঁর নিজের জন্যই বরাদ্দ। এবারে রাষ্ট্রপতির ইচ্ছা পূরণ হলো না। কারণ, তাঁর ব্যক্তিগত স্টাফরা ভেবেছিলেন, এতখানি সততা অনুসরণ তাঁদের পক্ষে বিদ্যমান বিধির আওতায় সামাল দেওয়া কঠিন।
৫. মেয়াদ শেষ হয়ে এলে তিনি রাষ্ট্রপতি ভবন ছেড়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তখন সব পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাঁর সঙ্গে দেখা করে বিদায়ী শ্রদ্ধা জানান। মি. নায়ার এভাবেই শ্রদ্ধা জানাতে রাষ্ট্রপতির কাছে একা গিয়েছিলেন। তিনি তাঁর স্ত্রীকে সঙ্গে নিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সেটা হয়ে ওঠেনি। কারণ, স্ত্রীর পা ভেঙে গিয়েছিল বলে তিনি শয্যাশায়ী ছিলেন। ড. কালাম জানতে চাইলেন, তিনি কেন তাঁর স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে আসেননি। তিনি উত্তর দিয়েছিলেন, দুর্ঘটনাকবলিত হওয়ার কারণে তিনি শয্যাশায়ী।
পরের দিন। মি. নায়ার শশব্যস্ত হয়ে এদিক-ওদিক তাকালেন। কারণ, তিনি হঠাৎ দেখলেন, তাঁর ঘরের চারপাশে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী ছেয়ে ফেলেছে। নিরাপত্তারক্ষীরা জানালেন, ভারতের রাষ্ট্রপতি তাঁর ঘরে আসছেন। রাষ্ট্রপতি গৃহে প্রবেশ করলেন। মিসেস নায়ারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন। এবং কিছুক্ষণ খোশগল্পের পরে চলে গেলেন। মি. নায়ার তাঁর ওই সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘কোনো দেশের প্রেসিডেন্ট একজন সিভিল সার্ভেন্টের ঘরে এভাবে যাবেন না। তাও এমন এক ঠুনকো অজুহাতে।’
এ পি জে আবদুল কালামের ছোট ভাই একটি ছাতা মেরামতের দোকান চালান। মি. নায়ার তাঁর দেখা পেয়েছিলেন আবদুল কালামের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায়। তখন রাষ্ট্রপতির ভাই মি. নায়ারের কদমবুসি করলেন, যা ছিল তাঁর তরফে মি. নায়ার এবং তাঁর প্রয়াত ভাই ড. আবদুল কালামের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন।
জি এম কাদের এ নিয়ে একটি পোস্ট দিয়েছেন। তাতে তিনি লিখেছেন, ‘আমরা কোথায় আছি।’ মি. কাদেরের বড় ভাই আমাদের সাবেক রাষ্ট্রপতি জেনারেল হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ।
দৈনিক প্রথম আলোয় প্রকাশিত

আগুনে পুড়ছে দার্জিলিং, পরিস্থিতি উত্তপ্ত

গোর্খা জনমুক্তি মোচার প্রধান বিমল গুরুংয়ের বাড়ি ও পার্টি অফিস সহ বিভিন্ন জায়গায় বৃহষ্পতিবার ব্যাপক তল্লাশির পর থেকে দার্জিলিং পাহাড় এলাকা অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে। মোর্চার ডাকা অনির্দিষ্টকালের বন্ধের মধ্যেই বৃহস্পতিবার রাতে থেকে দার্জিলিং সদরের বাইরে বেশ কয়েকটি জায়গায় মোর্চা সমর্থকদের আগুনে পুড়ছে রেল স্টেশন, পঞ্চাযেত অফিস, স্বাস্থ্য কেন্দ্র। পুলিশ বলছে, গতকাল রাতেই কালিম্পং ও মিরিকের দু’টি পঞ্চায়েত অফিসে আগুন ধরিয়ে দেয় মোর্চা সমর্থকরা। অফিসগুলো ওই সময় বন্ধই ছিল। একই ভাবে, রিম্মিকে লোধামায় একটি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং তারখোলার ফরেস্ট অফিসের একটি কোয়ার্টারে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মোর্চা সমর্থকদের বিরুদ্ধে। তবে দার্জিলিংয়ে শুক্রবার সকাল থেকে কোনও অশান্তির খবর না পাওয়া গেলেও চলছে সর্বাত্মক বন্ধ। দাকানপাট বন্ধ রয়েছে। আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় শহরের রাস্তায় রাস্তায় চলছে পুলিশি টহলদারি। শহর পুলিশের নিারাপত্তার ঘোরাটোপে থাকার কারণে এ বার শহরের  বাইরের অঞ্চলগুলিকে হামলার জন্য বেছে নিয়েছে মোর্চা সমর্থকরা। বৃহস্পতিবার গুরুংয়ের পাতলেবাসের বাড়ি ও সংলগ্ন পার্টি অফিসসহ বিভিন্ন এলাকায় পুলিশি অভিযানকে কেন্দ্র করে দফায় দফায় সংঘর্ষ শুরু হয়েছে মোর্চা সমর্থকদের সঙ্গে। পুলিশকে লক্ষ্যে করে ইটবৃষ্টি, পেট্রোলবোমা ছোড়া হয় বলে অভিযোগ। মোর্চা সমর্থকদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস, লাঠিচার্জও প্রয়োগ করে।
দার্জিলিংয়ের অশান্ত পরিস্থিতি মোকাবলায় রাজ্য সরকারের আরজি মেনে কেন্দ্রীয় সরকার অতিরিক্ত ৪ কোম্পানি আধাসামারিক বাহিনী পাঠাচ্ছে দার্জিলিংয়ে। এর আগেই ১০ কোম্পানি আধা সামরিক বাহিনী পাঠানো হয়েছে।  প্রশাসনের অভিযোগ, শুক্রবার ভোররাতে তারাখোলা বনবাংলোয় আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়।  যদিও সব অভিযোগ অস্বীকার করে মোর্চা পাল্টা অভিযোগ করেছে তৃণমূল কংগ্রেসের দিকেই।
পাহাড়ের আইন শৃঙ্খলা রক্ষায়  আরও ৯ পুলিশ কর্তাকে দার্জিলিং পাঠাচ্ছে রাজ্য সরকার। তাঁদের মধ্যে থাকছেন ৬ জন আইপিএস অফিসার। বাকি তিনজন ডব্লুুবিসিএস অফিসার।এর আগে তিনজন আইপিএস অফিসারকে বিশেষ  দায়িত্ব দিয়ে দার্জিলিংয়ে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে,  ভারত সরকারের  ১৯ জুনের ত্রিপাক্ষিক বৈঠকের প্রস্তাব প্রত্যাখান করেছে রাজ্য সরকার।  যদিও মোর্চার তরফে দাবি করা হয়েছে, গোর্খাল্যান্ড নিয়ে ত্রিপাক্ষিক বৈঠক হলে তারা বন্ধ তুলে নিতে রাজি। অজ্ঞাতবাস থেকে বিমল গুরুং অভিযোগ করেছেন, সমতলে কংগ্রেস, সিপিএম-র সঙ্গে যা হয়েছে, পাহাড়েও সেই পথ অবলম্বন করে সব ক্ষমতা দখল করতে চাইছে তৃণমূল কংগ্রেস। পাহাড়ের সব মানুষকে একজোট হওয়ার ডাক দিয়েছেন মোর্চা নেতা। জিএনএলএফ নেতা নীরজ জিম্বা বলেছেন, মোর্চার এই আন্দোলন এখন আর শুধু মোর্চার নয়। এটি পাহাড়ের গণ আন্দোলনের রূপ নিয়েছে। আগেই জিএনএলএফ পরিষ্কার করে দিয়েছিল, গোর্খাল্যান্ডের দাবিতে তারা মোর্চার পাশেই আছে। অন্যদিকে  মোচার্র সাধারণ সম্পাদক রোশন গিরি বৃহষ্পতিবার রাতে নয়াদিল্লিতে কেন্দ্রীয স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠক শেষে তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, শুধু মাত্র গোর্খাল্যানড নিয়ে তারা আলোচনায় বসতে রাজি।

‘এবার ভারতের সুরটাও একটু বদল’

পার্বত্য জেলায় পাহাড় ধসে ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুইডেন সফরকে আনন্দ ভ্রমণ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। বলেছেন, পাবর্ত্য চট্টগ্রামে পাহাড় ধসে ১৫৫ জন লোক মারা গেছে। আর্মির লোকজনও সেখানে মারা গেছে। এখনও অনেক নিখোঁজ রয়েছে। আর আওয়ামী লীগের নেত্রী এখন ভ্রমণে আছেন। দেশের মানুষের প্রতি তার কোনো মমতা নেই। রমনা ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি আয়োজিত ইফতার অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। খালেদা জিয়া বলেন, শেখ হাসিনা বলেন তিনি নাকি দেশের মানুষের জন্য জীবন দিতে প্রস্তুত। দেশের মানুষ জীবন দিচ্ছে, তিনি ভ্রমণ করছেন। তাহলে এটায় কী প্রমাণ হয়? তিনি কী দেশের মানুষের জন্য জীবন দিতে প্রস্তুত? ওয়ান ইলেভেনের সময় শেখ হাসিনার বাংলাদেশ ছেড়ে যাওয়ার প্রসঙ্গ টেনে খালেদা জিয়া বলেন, মইনউদ্দিন-ফখরুদ্দীন বললো, আর তারপরই তো তিনি দেশ ছেড়ে গেলেন। তারপরে তাদের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে অনেক নাটক করে আবার আসলেন। আসার পরে তাদের সঙ্গে বুঝাপড়া করে সবকিছু করেছেন। বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, সে সময় আমাকেও দেশের বাইরে চলে যেতে ওরা বলেছিল। আজকে যদি আমরা চলে যেতাম দেশের বাইরে, তাহলে আমার বড় ছেলেটা (তারেক রহমান) ভালো থাকতো। আমার ছোট ছেলেটাকেও (আরাফাত রহমান কোকো) আমি হারাতাম না। খালেদা জিয়া বলেন, আমি কিন্তু দেশ ছেড়ে যাইনি। দেশের মানুষকে ছেড়ে যাইনি। আমি বলেছি, এই দেশ আমার, এই দেশের মাটি ছেড়ে আমি যাবো না। আল্লাহর ইচ্ছা দেখেন, আমি দেশ ছেড়ে যাইনি কিন্তু মইনউদ্দিন-ফখরুদ্দীন দেশ ছেড়ে পালিয়েছে। আজকে বুঝতে হবে দেশের মানুষের সঙ্গে বেইমানি করে, দেশের সঙ্গে বেইমানি করে কোনোদিনও কিন্তু আল্লাহর হাত থেকে মুক্তি পাওয়া যায় না। বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, দেশের যে অবস্থা বিরাজমান, মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। দেশে অবিলম্বে নির্বাচন হওয়া প্রয়োজন। ২০১৪ সালে নির্বাচন হয়নি। কেউ ওই নির্বাচনের স্বীকৃতি দেয়নি, একমাত্র আমাদের প্রতিবেশী দিয়েছে। কিন্তু এবার তাদের সুরটাও একটু বদল। তারা বুঝেছে, তারা ভুল করেছে, ঠিক করেনি। সেজন্য এবার বিএনপি যদি না যায়, ২০ দল যদি না যায় এদেশে কোনো নির্বাচন হবে না। আওয়ামী লীগ একলা নির্বাচন করতে পারবে না। খালেদা জিয়া বলেন, আমরা ও ২০ দল নির্বাচনে যাবো। আমরা বিশ্বাস করি, দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আমরা জিতবো। সেজন্য বলতে চাই, নিরপেক্ষ নির্বাচনটা তখনই সম্ভব-যখন শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকবে না। নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকার যেটা আওয়ামী লীগ দাবি করেছিল আমাদের সময়ে (১৯৯৫ সালে) আমরা দিয়েছিলাম। তখন তত্ত্বাবধায়ক নাম ছিল, এখন যেকোনো নাম দিতে পারেন। তবে আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি, হবে না, হতে পারে না। খালেদা জিয়া বলেন, বর্তমান সরকার দেশে যত অপরাধ করেছে, কত মা তাদের সন্তান হারিয়েছে, কতজন তাদের স্বামী হারিয়েছে- তাদের কান্না, তাদের আহজারি বৃথা যাবে না। আমরা বিশ্বাস করি, এবার নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে দেশের মানুষ আওয়ামী লীগকে আরেকবারের মতো শিক্ষা দেবে। খালেদা জিয়া বলেন, আওয়ামী লীগের ছোট ছোট নেতারা বুঝতেছেন সময়টা কিন্তু সামনে ভালো নয়। আপনাদের সময় ভালো আসছে না। যারা গণনা করেন, গণনাকারীরাও এটা বলেছে। কাজেই ছোট-খাটো নেতারা যারা আছেন, যা কিছু বানিয়েছেন, ওগুলো নিয়ে কেটে পড়ার ব্যবস্থা করেন। বড় নেতারা তাদের ব্যবস্থা করেছে, পকেটে টিকিট নিয়ে ঘুরছে। অবস্থা দেখলেই তারা উড়াল দেবে- আপনাদের দিকে চাইবে না ফিরে। এ সময় তিনি বিরোধী দলের কারাবন্দি নেতাকর্মীদের অবিলম্বে মুক্তি দাবি করেন। বিএনপি চেয়ারপারসন বিনা টেন্ডারে চাল আমদানির সমালোচনা করেন। মূল মঞ্চে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, তরিকুল ইসলাম, মহানগর দক্ষিণ সভাপতি হাবিব-উন নবী খান সোহেল, সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশারসহ দক্ষিণের নেতাদের নিয়ে ইফতার করেন খালেদা জিয়া। ইফতারে ২০ দলীয় জোটের নেতা অধ্যাপিকা রেহানা প্রধান, মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, গরীবে নেওয়াজ, বিএনপির সিনিয়র নেতা ডা. জাহিদ হোসেন, আবদুল হালিম, হাবিবুর রহমান হাবিব, তাহসিনা রুশদীর লুনা, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, আলহাজ সালাহউদ্দিন আহমেদ, সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, এমএ মালেক, মীর সরফত আলী সপু, যুবদল নেতা সাইফুল ইসলাম নিরব, সুলতানা সালাহউদ্দিন টুকু, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা শফিউল বারী বাবু, আবদুল কাদের ভুঁইয়া জুয়েল, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি নেতাদের মধ্যে- শামসুল হুদা, ইউনুস মৃধা, মীর হোসেন মীরু, নাসিমা আখতার কল্পনা, সাজ্জাদ জহির, মোশাররফ হোসেন খোকন, মো. মোহন, জয়নাল আবেদীন রতন, সিরাজুল ইসলাম সিরাজ, হাবিবুর রশীদ হাবিব, আনম সাইফুল ইসলাম, শেখ রবিউল আলম রবি, সাইফুল ইসলাম পটু, রফিকুল ইসলাম রাসেল, সাইদুর রহমান মিন্টু, আবদুল হাই পল্লব, উত্তরের সিনিয়র সহ-সভাপতি মুন্সি বজলুল বাসিত আনজু, সাধারণ সম্পাদক আহসানউল্লাহ হাসান, যুগ্ম সম্পাদক এজিএম শামসুল হক, খন্দকার জিল্লুর রহমান অংশ নেন।

মৃত্যুটা যেন কষ্টের না হয় by ইমাদ উদ দীন

‘আগুন আমাদের ঘিরে ফেলেছে। আমরা সবাই এখন বাথরুমে। আমাদের বের হওয়ার কোনো উপায়  নেই। আমাদের জন্য দোয়া করেন মৃত্যুটা যেন কষ্টের না হয়।’ লন্ডনে থাকা চাচাতো ভাইয়ের সঙ্গে মৃত্যুর মুখে দাড়িয়ে মুঠোফোনে সর্বশেষ এ কথাই বলেছিলেন কমর উদ্দিনের ছোট মেয়ে হুছনা আক্তার তানিয়া। বুধবার লন্ডনের গ্রেনফেল টাওয়ারের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহত হয়েছেন মৌলভীবাজারের এই পরিবারের ৫ সদস্য। তাদের বাড়ি সদর উপজেলার আখাইলকুড়া ইউনিয়নের খৈসাউড়া গ্রামে।
কথা হয় তাদের গ্রামের বাড়িতে থাকা স্বজনদের সঙ্গে। তারা জানালেন- অগ্নিকাণ্ডের প্রথমদিকে মুঠোফোনে সেদেশে তাদের স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বাঁচার আকুতি জানালেও এখন মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। এ থেকে তাদের ধারণা ওই ভবনের ১৭ ও ১৮ তলার ফ্ল্যাটে থাকা তাদের পরিবারের ৫ সদস্যই নিহত হয়েছেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা তাদের লাশ উদ্ধার করেন। হুছনা আক্তার তানিয়ার বিয়ে হওয়ার কথা ছিল জুলাইয়ের ২৯ তারিখে। সব প্রস্তুতিও সমপন্ন হয়ে গেছে। কিন্তু তার আগেই এই ট্রাজেডি।
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর থেকেই স্বজনদের মধ্যে চলছে আহাজারি আর শোকের মাতম। প্রায় ৫০ বছর ধরে কমর উদ্দিন লন্ডনে বসবাস করছেন। নিখোঁজ থাকা কমর উদ্দিন কমরু মিয়ার (৯৬) দুই স্ত্রী, ৪ ছেলে ও ৩ মেয়ে। তার ২য় স্ত্রী রাবেয়া বেগম ও ২ ছেলে আব্দুল হামিদ (৩৩), আব্দুল হানিফ (২৭), ছোট মেয়ে হুছনা আক্তার তানিয়া (২৪)কে নিয়ে থাকতেন লন্ডনের গ্রেনফেল টাওয়ারে। ২য় স্ত্রীর গর্ভের বড় ছেলে আব্দুল হাকিম বছরখানেক আগে বিয়ে করায় নববধূকে নিয়ে অন্য একটি বাসায় থাকেন। তাই ওই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তিনি প্রাণে বেঁচে যান।
আর দেশের গ্রামের বাড়িতে তার ১ম স্ত্রী জুলেখা খাতুনকে নিয়ে থাকেন বড় ছেলে সুজন মিয়া ও তার পরিবার। কমর উদ্দিনের ৪ ছেলে ও ৩ মেয়ের মধ্যে ৪ জনের বিয়ে হলেও অবিবাহিত ছিলেন ৩ জন। এর মধ্যে ছোট মেয়ে মেডিকেল কলেজে পড়ুয়া হুছনা আক্তার তানিয়ার বিয়ের দিন ধার্য ছিল ২৯শে জুলাই। বর থাকে লন্ডনেই। বিয়ের অনুষ্ঠান হওয়ার কথা লন্ডনেই। এ নিয়ে চলছিল প্রস্তুতি। বিয়েতে দু’দেশের স্বজনদের মধ্যে আনন্দ উৎসবেরও কমতি ছিল না। বিয়ে উপলক্ষে দেশের বাড়িতেও চলছিল সংস্কার কাজ। কমর উদ্দিন সর্বশেষ মুঠোফোনে ঈদের পরে বাড়িতে আসবেন বলে জানিয়েছিলেন ছেলে সুজনকে। বাড়ি সাজাতে দিয়েছিলেন নানা দিকনির্দেশনাও। এখন এসব কথাই যেন স্মৃতি। এই কথাগুলো স্মরণ করে বার বার মূর্ছা যাচ্ছেন দেশে থাকা স্বজনরা।
তাদের শোকে শোকাতুর প্রবাসী অধ্যুষিত এ জেলার লোকজনও। গেল বছর চৈত্র মাসে বাড়িতে আসলেও আর আসা হয়নি কমর উদ্দিনের। এ বছর স্বপরিবারে জামাই ও মেজো ছেলের পুত্রবধূকে সঙ্গে নিয়ে দেশে আসার কথা ছিল তার। লন্ডনের অগ্নিকাণ্ডে একই পরিবারের ৫ জন নিখোঁজের খবর চাউর হলে পুরো জেলাজুড়ে নেমে আসে শোকের ছায়া। এলাকার লোকজন ওই শোকগ্রস্ত পরিবারটিকে সান্ত্বনা দিতে ছুটে যাচ্ছেন। পুরো গ্রামজুড়ে শোক।
দেশে থাকা কমর উদ্দিনের বড় ছেলে সুজন মিয়া ও বড় মেয়ের ছেলে সরকারি কলেজের ইংরেজি অনার্স ১ম বর্ষের ছাত্র মো. আকবর আলী জানান, তারা বুধবার ভোরেই তাদের চাচাত ভাই ও মামা লন্ডনপ্রবাসী আব্দুর রহিম মুঠোফোনে এই খবর পান। আব্দুর রহিম তাদের জানান তানিয়া তাকে ফোন দিয়ে তাদের অসহায়ত্বের কথা জানাচ্ছিলেন। তাই বাড়িতে ইমাম সাবদের দিয়ে দোয়া করাতে বলেন। বাড়ির সদস্যরা তাই করেন।
সেই থেকে শুরু হওয়া আহাজারি এখনো থামছে না ওই পরিবারে। দেশে থাকা পরিবারের সদস্যরা বলেন, আমরা বাংলাদেশ সরকারের কাছে আকুতি জানিয়েছি, স্বজনদের লাশ যেন দেশে আনার ব্যবস্থা করা হয়।

পাহাড়ে মানবিক সংকট by আলমগীর মানিক

পাহাড় ধসে শতাধিক মানুষের প্রাণহানির পর এবার মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে রাঙ্গামাটি জেলায়। শোকার্ত মানুষের আহাজারিতে ভারি পাহাড়ের বাতাস। দেখা দিয়েছে খাদ্য আর পানি সংকট। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি না থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন জেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা। যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় হু হু করে বাড়ছে বিভিন্ন নিত্যপণ্যের দাম। বেশি দাম নেয়ায় অনেকে প্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে পারছেন না। বেশি বিপাকে পড়েছেন আশ্রয় কেন্দ্রে থাকা ক্ষতিগ্রস্ত মানুষজন। স্থানীয়দের অভিযোগ, যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার অজুহাতে ব্যবসায়ী প্রায় সব পণ্যের দাম বাড়িয়েছেন অস্বাভাবিক হারে। জেলার কোথায়ও কোথাও আলুর কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১১০ টাকায়। মোটা চালের কেজি ৫০ টাকা ছাড়িয়ে গেছে। এছাড়া মোবাইল ফোন, ইন্টারনেট সেবাও বিঘ্নিত হচ্ছে জেলার বিভিন্ন স্থানে। এতে ব্যাংকগুলো স্বাভাবিক কার্যক্রম চালাতে পারছে না।
মজুত কমে আসায় প্রতি লিটার জ্বালানি তেল বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ২৫০ টাকায়। শহরের ভেদভেদী নতুন পাড়া এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দা জাকির হোসেন জানান, মাটি ধসে আমার ঘরের কিছুই নেই। আমরা কোনো রকমে বেঁচে আছি। গত দু’দিনে শুধু শুকনো খাবার খেয়ে দিন পার করেছি। মঙ্গলবার সকালে বাজারে আলু কিনতে গিয়ে শুধু দুই কেজি চাল কিনে বাসায় ফিরে এসেছি। তিনি জানান, আলু প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকা। চাল কিনেছি ৫০ টাকা কেজি ধরে। তিনি জানান, একমুঠো লাউ শাক কিনেছি ৪০ টাকায়। ভেদভেদী এলাকার অন্যরাও জানালেন বিদ্যুৎ না থাকায় বাজারের দোকানগুলোতে ৫ টাকার মোমবাতি বিক্রি করা হচ্ছে ২০ টাকায়। এ ব্যাপারে কনজ্যুমার এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ ক্যাব রাঙ্গামাটি জেলার সম্পাদক মোস্তফা কামাল, বলেন, রাঙ্গামাটির চরম এই দুর্যোগের সময় নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের সংকট দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ব্যবসায়ীদের অতি মুনাফা অর্জনের প্রবৃত্তি অত্যন্ত দুঃখজনক। দ্রুততার সঙ্গে দুর্যোগে থাকা রাঙ্গামাটিবাসীর এসব সমস্যা সমাধানে প্রশাসনের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ প্রয়োজন। দুর্যোগের চারদিন পরও বিদ্যুৎ পানির মতো অত্যাবশ্যকীয় সেবা সমূহ বন্ধ থাকায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সক্ষমতা বিষয়ে জনগণের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। শুধু ত্রাণ কার্যক্রমকে অগ্রাধিকার না দিয়ে অত্যাবশ্যকীয় সুযোগ-সুবিধাগুলো নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তিনি ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনাকে অবর্ণনীয় বলে অবিহিত করেন এবং চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা রাঙ্গামাটিবাসীকে প্রয়োজনীয় নিরাপদ পরিবেশে পুনর্বাসনের দাবি জানান।
এদিকে, রাঙ্গামাটিতে স্মরণকালের ভয়াবহ পাহাড় ধসের ঘটনায় সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০৮ জনে, আহত হয়েছেন দুইশতাধিক এবং নিখোঁজ রয়েছেন অন্তত ১৫ জন। জেলা প্রশাসনের দেয়া তথ্য অনুযায়ী নিহতদের মধ্যে রাঙ্গামাটি শহরে ৫ সেনা সদস্যসহ ৬১ জন, কাউখালী উপজেলায় ২৩ জন, কাপ্তাই উপজেলায় ১৮ জন, জুরাছড়ি ৪ জন ও বিলাইছড়িতে ২ জন রয়েছে। এর মধ্যে শিশু হচ্ছে ৩৪ জন, মহিলা ৩২ জন পুরুষ ৩৯ জন। নিখোঁজ রয়েছে অন্তত ২০ জন। আহত হয়েছে ৭৭ জন। ৩৪ জনের মতো রাঙ্গামাটি সদর হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে।
এদিকে রাঙ্গামাটি জেলায় পাহাড় ধসের ক্ষতিগ্রস্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭২০ পরিবারে। ক্ষতিগ্রস্ত ঘর বাড়ির মধ্যে রাঙ্গামাটি সদরে ৯০, কাউখালী-১৯০, নানিয়ারচর-৩০ বরকল-৭০, চিংমরং, ওয়াগ্‌গার রাইখালী ৩৪০। অন্যদিকে, রাঙ্গামাটি-চট্টগ্রাম মহাসড়ক, রাঙ্গামাটি- কাপ্তাই সড়ক, রাঙ্গামাটি-খাগড়াছড়ি সড়ক বিচ্ছিন্ন রয়েছে। এছাড়া অভ্যন্তরীন রুটে রাজারহাট লিচু বাগান, কারিগরপাড়া পাহাড় ধসে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। তিন দিনের একটানা ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে রাঙ্গামাটির কাপ্তাই হ্রদের পানি উচ্চতা বেড়ে যাওযায় নিম্নাঞ্চলে জেলার বিলাইছড়ির ফারুয়া, কাউখালী, জুরাছড়ি এবং বরকলের ভুষণছড়ার নিম্নাঞ্চল বন্যায় পাবিত হয়েছে। জুরাছড়িতে ৩৩ শতাংশ জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
উদ্ধার কার্যক্রমে দমকল বাহিনী: ১৩ই জুন রাঙ্গামাটিতে ভূমিধসের পর জেলার বিভিন্ন স্থানে উদ্ধার কার্যক্রমে ফায়ার ব্রিগেডের উদ্ধারকারী দলের সদস্যদের নিরলস প্রচেষ্টা প্রশংসিত হয়েছে সর্বত্র। ফায়ার ব্রিগেডের রাঙ্গামাটি ও কাপ্তাই স্টেশনের পাশাপাশি চট্টগ্রাম ও ঢাকা থেকে ব্রিগেডের উদ্ধারকারী দলের অভিজ্ঞ সদস্যরা অংশ নেন। দুর্যোগের পর মুহূর্ত থেকে টানা তিনদিন ভূমিধসে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালন করে দেশের সবচেয়ে অভিজ্ঞ এই উদ্ধারকারী বাহিনীর সদস্যরা।
সোমবার ভারি বর্ষণে ভূমিধ্বসের শুরুতেই রাঙ্গামাটি সেদরের ভেদভেদী এরাকার যুব উন্নয়ন কার্যালয় সংলগ্ন পাহাড়ে প্রথম উদ্ধার অভিয়ান শুরু করে দমকল বাহিনী। সেখানে ২ জনের মৃতদেহ উদ্ধারের পাশাপাশি আহত একাধিক ব্যক্তিকে উদ্ধার করা হয়। এর পর থেকে শহরের একাধিক স্থানে চলমান থাকে তাদের উদ্ধার কার্যক্রম। দুর্ঘনটনাস্থল থেকে নিহত ও আহতদের উদ্ধারের পাশাপাশি আহতদের দ্রুততার সঙ্গে রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতালে পাঠানোর মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ ও করে তারা।
ফায়ার ব্রিগেডের পরিচালক অপারেশন একেএম শাকিল নেওয়াজ এর নেতৃত্বে ফায়ার ব্রিগেডের উদ্ধার কাজের দক্ষ উচ্চ পর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল এই উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। রাঙ্গামাটির বিভিন্ন স্থানে ১৪৫ জন ফায়ার ব্রিগেড কর্মী উদ্ধার কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে রাঙ্গামাটি শহরে ১২০ জন এবং কাপ্তাই উপজেলায় ২৫ জন উদ্ধার কর্মী কাজ করছেন। বৃহস্পতিবার রাঙ্গামাটির ৫টি স্থানে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এই দিন উদ্ধারকারী দল মানিকছড়ি ভূমিধসের দুর্ঘটনাস্থল থেকে নিখোঁজ সৈনিক আজিজসহ আরো ২ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করে।

‘বঙ্গবন্ধুর ছবি নামাতে বলেছিলেন এরশাদ’

দিল্লির দূতাবাসে প্রায় সবাই ছিলেন শেখ মুজিবের আস্থাভাজন বা অনুগত। কর্নেল আবুল মনজুর (পরে মেজর জেনারেল) ছিলেন মিলিটারি অ্যাটাশে। ওই সময় কর্নেল এরশাদ দিল্লিতে ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের (এনডিসি) প্রশিক্ষণ নিচ্ছিলেন। হাইকমিশনে তৃতীয় সচিবের দায়িত্বে ছিলেন মো. কামালউদ্দিন। তিনি ওই সময়ের একটা বিবরণ দিয়েছেন:
১৫ই আগস্ট ছিল ভারতের স্বাধীনতা দিবস। প্রথা অনুযায়ী সকালে প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী লালকেল্লা থেকে ভাষণ দিচ্ছেন। শ্রোতাদের মধ্যে কূটনীতিকদের জন্য সংরক্ষিত জায়গায় বসে আছি। হঠাৎ কেউ একজন পেছন থেকে ঘাড়ে হাত দিয়ে আমাকে কিছু একটা বলতে চাইলো। ব্যাপারটা কূটনীতিকদের জন্য শোভন না। আমি ঘুরে তাকাতেই দেখলাম ভিয়েতনাম বা কম্বোডিয়ার একজন কূটনীতিক। বললেন, ‘তুমি কি জানো, তোমার দেশে কী ঘটেছে। তুমি যে এখানে বসে আছো?’। আমি অবাক হয়ে বললাম, ‘জানি না তো!’ সে আমাকে বললো, তুমি মিশনে যাও, রেডিও শোনো।’ সামনের দিকে আমাদের হাইকমিশনের কয়েকজন কর্মকর্তা ছিলেন। তাদের কাছে যাওয়া সম্ভব ছিল না। মিশনে ফিরে এসে দেখি কর্নেল হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। ওদের কলেজ আমাদের দূতাবাসের পায়ে হাঁটা দূরত্বে। আমি তখন মানসিকভাবে বিধ্বস্ত। তিনি আমাকে বললেন, আপনি কি হাইকমিশনের লোক?
-হ্যাঁ, আমি থার্ড সেক্রেটারি।
-ওই ছবিটা কেন এখানে আছে?
-কোন্‌ ছবিটা?
-ওই যে, ওই যে শেখ মুজিবের ছবি। ওইটা নামান।
-আপনার কথায় তো এটা নামানো সম্ভব না। আমাদের কাছে যদি নির্দেশ আসে, তাহলে নামাবো।
-বাহ্‌ আপনি তো একটু অন্যভাবে কথা বলেন।
লেখক ও গবেষক, মহিউদ্দিন আহমদ তার ‘রক্তাক্ত আগস্ট’ শীর্ষক নিবন্ধে এসব কথা লিখেছেন। নিবন্ধটি প্রথম আলোর ঈদ সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে। বলা হয়েছে, লেখাটি আওয়ামী লীগের ইতিহাস নিয়ে লেখা বইয়ের তৃতীয় পর্বের একটি অধ্যায়ের অংশবিশেষ।
এই লেখায় কামাল উদ্দিনের আরো বয়ান পাওয়া যায়, ‘ছবি আমি নামাইনি। দুপুরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. কামাল হোসেন জার্মানি থেকে দিল্লি বিমানবন্দরে এলেন। আমি দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রটোকল অফিসার। তাকে হাইকমিশনারের বাসায় নিয়ে গেলাম। তারা দুজন একে অন্যকে জড়িয়ে ধরে অনেকক্ষণ কাঁদলেন। কামাল হোসেন একদিন হাইকমিশনারের বাসায় ছিলেন। পরে লন্ডন চলে যান।
মহিউদ্দিন আহমদ তার নিবন্ধে আরো লিখেছেন, ১৫ই আগস্টের অভ্যুত্থান ও হত্যাকাণ্ডের খবর শুনে ইন্দিরা গান্ধী বিচলিত হয়েছিলেন, ইন্দিরার বন্ধু ও জীবনীকার পপুল জয়াকারের লেখায় বিষয়টি উঠে এসেছে। জয়াকারকে দেয়া সাক্ষাৎকারে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা র-এর প্রধান এন কাও বলেছিলেন, মুজিবকে উৎখাতের ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছিল ১৯৭৪ সালেই এবং বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যে বিদ্রোহের গোপন তৎপরতার খবর তার কাছে ছিল। তিনি ব্যক্তিগতভাবে বিষয়টি ইন্দিরাকে জানিয়েছিলেন এবং ইন্দিরা তাকে এ নিয়ে কথা বলার জন্য ঢাকায় পাঠিয়েছিলেন। কাও এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমরা বাগানে হাঁটছিলাম। আমি মুজিবকে বললাম, আমাদের কাছে তথ্য আছে যে, তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। কিন্তু তার মধ্যে উদ্বেগ ছিল না। বললেন, ‘আমার কিছুই হবে না। ওরা তো আমারই লোক।’ আমি তাকে আমাদের পাওয়া সুনির্দিষ্ট তথ্যের বিস্তারিত বিবরণ দিয়েছিলাম।’
পঁচাত্তরের মার্চে কাও জানতে পারেন যে, বাংলাদেশের গোলন্দাজ বাহিনীতে মুজিবের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। ইন্দিরা সঙ্গে সঙ্গেই মুজিবকে তা জানিয়েছিলেন। ‘কিন্তু মুজিব এটা বিশ্বাস করেননি। তিনি ছিলেন বঙ্গবন্ধু, বাংলাদেশের জাতির জনক; তার লোকেরা তাকে খুন করতেই পারে না।’ চুয়াত্তরে এমন খবরও ছিল যে, বাংলাদেশের বাইরে থেকেও ষড়যন্ত্র হচ্ছে। ১৫ই আগস্টের অভিজ্ঞতার বর্ণনা করতে গিয়ে জয়াকার বলেন:
‘আমি ১৫ই আগস্ট সন্ধ্যায় ইন্দিরার বাসায় গিয়েছিলাম। দেখলাম তিনি ভয়ে আচ্ছন্ন। নিজেকে নিরাপদ মনে করার চিন্তাটা একেবারে তলানিতে পৌঁছে গেছে। লালকেল্লা যাওয়ার ঠিক আগে তিনি হত্যাকাণ্ডের খবরটি শুনেছিলেন। সযত্নে তৈরি করা ভাষণটি তিনি দিলেন। কিন্তু এ ব্যাপারে কোনো ঘোষণা দেয়ার কথা তার মনে হয়নি।
তিনি আমাকে বলেছিলেন, মুজিব হত্যা হলো ষড়যন্ত্রের প্রথম অধ্যায়, যা গোটা উপমহাদেশকে প্রভাবিত করবে। তিনি নিশ্চিত যে, তিনিই হবেন পরবর্তী লক্ষ্য। মুজিবের ছোট ছেলে খুন হওয়ার খবরটা তার সব চিন্তা এলোমেলো করে দিয়েছিল। তিনি ভয় পেয়েছিলেন। বলেছিলেন, ‘আমি গোয়েন্দা রিপোর্টকে গুরুত্ব দেইনি। কিন্তু এটা উপেক্ষা করা আর ঠিক হবে না।’ তিনি সব ব্যাপারেই সন্দেহপ্রবণ ছিলেন এবং সবাইকে সন্দেহ করতে শুরু করলেন। ছায়ার মধ্যেও তিনি শত্রু দেখতে পান। আমাকে বললেন, ‘কাকে বিশ্বাস করবো? রাহুল (ইন্দিরার ছেলে রাজীব গান্ধীর পুত্র) মুজিবের ছেলের প্রায় সমান বয়সী। কাল তার অবস্থাও এমন হতে পারে। তারা আমাকে এবং আমার পরিবারকে শেষ করে দেবে।’