Friday, June 28, 2019

চাঁদের কণার জীবন কি ঢেকে যাবে আঁধারে by নাজমুস সাকিব

বাবা-মায়ের কোল আলো করে এসেছিলেন তিনি। আদর করে বাবা নাম রাখলেন চাঁদের কণা। কে জানত বছর না ঘুরতে চাঁদের কণার জীবনে নেমে আসবে ঘোর অমাবস্যা। একদিন সেই অমানিশার ঘোর কাটবে—এ প্রত্যয়ে পাড়ি দিয়েছেন জীবনের ৩০ বছর। তবে এবার তাঁর দীর্ঘদিনের সংগ্রাম আর স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। নিরুপায় হয়ে চাঁদের কণা বাঁচার আকুতি নিয়ে আমরণ অনশন করছেন জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সহায়তা চান প্রতিবন্ধী চাঁদের কণা। বাঁচার জন্য চান একটি চাকরি।
সিরাজগঞ্জের প্রতিবন্ধী চাঁদের কণা দুদিন ধরে বাঁচার আকুতি নিয়ে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আমরণ অনশন করে যাচ্ছেন। পোলিও রোগ কেড়ে নিয়েছে তাঁর চলনশক্তি। শেষ সম্বল দুই হাত। অদম্য ইচ্ছাশক্তিতে ২০১৬ সালে ঢাকা ইডেন মহিলা কলেজ থেকে প্রথম বিভাগে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। তবে প্রতিবন্ধিতার কারণে যোগ্যতা অনুযায়ী কোথাও চাকরি পাচ্ছেন না চাঁদের কণা।
চাঁদের কণার বাড়িতে উপার্জনক্ষমও কেউ নেই। চোখে দেখছেন অন্ধকার। তাই বাঁচার আকুতি তাঁর প্রধানমন্ত্রীর কাছে। চান প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে। নিজ উপার্জনে পরিবারের হাল ধরতে। ‘আমার মা নেই, প্রধানমন্ত্রী আমার মা। তাঁর বুকে একটু আশ্রয় চাই আমি’ লেখা প্ল্যাকার্ডটি তাঁর গলায় ঝোলানো। গত দুই দিন প্রেসক্লাবের সামনে হুইলচেয়ারে বসে নানান প্ল্যাকার্ড নিয়ে অনশনে বসেছেন তিনি।
কথা বলে জানা গেল, সিরাজগঞ্জের কাজীপুর উপজেলার বিয়াড়া গ্রামের আবদুল কাদেরের মেয়ে চাঁদের কণা। ৯ মাস বয়সে পোলিও রোগে আক্রান্ত হয়ে দুটি পা চলনশক্তিহীন হয়ে পড়ে। তখন চিকিৎসক বলেছিলেন, এর কোনো চিকিৎসা নেই। তবে নিয়মিত ব্যায়ামের মাধ্যমে তা সারতে পারে। পরিবারে আর্থিক অভাব-অনটন ছিল। তাই কোনো ফিজিওথেরাপির ব্যবস্থা করা যায়নি। তখন কেবল এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গী দুহাত। হাতে ভর দিয়ে এগিয়ে যাওয়া চাঁদের কণা তাঁর প্রাথমিক স্কুলশিক্ষক মায়ের স্কুলেই স্কুলজীবন শুরু করেন। সেই শুরু। স্কুল ও কলেজজীবন চলতে থাকে নিজের অদম্য ইচ্ছা ও বাবা-মায়ের সহযোগিতায়। ভালোভাবেই চলছিল সব। বিপত্তি ঘটে ২০০৯ সালে। তিনি যখন স্নাতক প্রথম বর্ষের ছাত্রী, তাঁর মা হাসনা হেনা বেগম পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেন। এর কিছুদিন পর তাঁর কলেজশিক্ষক বাবা মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে এবং বাবার অসুস্থতাজনিত কারণে তাঁর জীবনে প্রতিবন্ধিতার সঙ্গে নেমে আসে চরম দারিদ্র্য। শত কষ্টের মধ্যেও ২০১৬ সালে ইডেন মহিলা কলেজ থেকে গার্হস্থ্য অর্থনীতিতে প্রথম বিভাগে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি।
চাঁদের কণা বলেন, সব প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও পড়ালেখার পাশাপাশি বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে দক্ষ করে গড়ে তুলেছেন নিজেকে। গান, উপস্থাপনা, সংবাদপাঠ, প্রোগ্রাম প্রোডিউসিং, কম্পিউটারের নানান কাজে দক্ষতা অর্জন করেছেন বলে জানান। এরপর যোগ্যতা অনুযায়ী সরকারি চাকরির জন্য বহু চেষ্টা করেছেন তিনি। কিন্তু পাননি। এ বছরই তাঁর সরকারি চাকরির বয়স শেষ। বাকি জীবনটা নিয়ে হতাশ তিনি।
চাঁদের কণা আরও বলেন, ছোট দুই ভাইকে নিয়ে তিনি এখন ঘোর অমানিশা দেখতে পাচ্ছেন। একদিকে বাবা অসুস্থ, আর ছোট দুই ভাইয়ের পড়াশোনা বন্ধের উপক্রম। তাই বাধ্য হয়ে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আমরণ অনশনে বসেছেন তিনি।
চাঁদের কণা বলেন, ‘আমিও তো একটা মানুষ। আমার যোগ্যতা আছে। কিন্তু শারীরিক প্রতিবন্ধিতার জন্য সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। জীবনের এই ঘোর সংকটে আজ শুধু বাঁচার আকুতি আমার।’ তিনি বলেন, ‘নিরুপায় হয়ে আজ পথে বসেছি। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে চাই। আমার কষ্টের কথা, সংগ্রামের কথা তাঁর কাছে বলতে চাই। বলতে চাই আমার জীবনের একটি গতি করে দিন।’
হুইলচেয়ারে বসে চাকরির জন্য আমরণ অনশন করছেন প্রতিবন্ধী চাঁদের কণা। গতকাল জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে। ছবি: প্রথম আলো

মানবসেবার স্বপ্ন পূরণ হলো না ফাহমিদার by মানাউবী সিংহ

ফাহমিদা ইয়াসমিন
চেয়েছিলেন চিকিৎসক হয়ে এলাকার অসহায় মানুষের সেবা করবেন। কিন্তু মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেননি। চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্নে ভাটা পড়লেও ছাড়েননি মানুষের সেবার স্বপ্ন। পরিবারের উৎসাহ ও সহযোগিতায় ভর্তি হন নার্সিং কলেজে। কিন্তু পড়া শেষ করে স্বপ্ন পূরণের আগেই তাঁকে জীবন থেকে বিদায় নিতে হলো।
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া বরমচালে গত রোববার রাতে উপবন এক্সপ্রেস ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত হন সিলেট নার্সিং কলেজের ছাত্রী ফাহমিদা ইয়াসমিন। সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার জালালপুরের আবদুল্লাহপুর গ্রামের আবদুল বারীর মেয়ে ফাহমিদার মৃত্যুতে পরিবারে এখন চলছে শোকের মাতম।
তিন ভাই দুই বোনের মধ্যে তৃতীয় ফাহমিদা ইয়াসমিন। বাবা আবদুল বারী সৌদিপ্রবাসী ছিলেন। ২০০৪ সালের দিকে ক্যানসার আক্রান্ত হয়ে দেশে ফেরেন। এরপর থেকে সংসারের দায়িত্ব, চার ভাইবোনের পড়ালেখা এবং বাবার চিকিৎসার দায়িত্ব কাঁধে নেন আবদুল বারীর বড় ছেলে আবদুল হামিদ। ছোট বোন ফাহমিদা ইয়াসমিনের আকস্মিক মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না আবদুল হামিদ। শুধু আবদুল হামিদ নন, মেয়েকে হারিয়ে পাগলপ্রায় মা রহিমা বেগম। কিছু সময় পরপর বিলাপ করতে করতে মূর্ছা যাচ্ছেন। প্রতিবেশীরাও ফাহমিদার পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দিতে আসেন। কান্নায় বাড়ির পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে। গতকাল মঙ্গলবার বেলা একটার দিকে জালালপুরের আবদুল্লাহপুর গ্রামে ফাহমিদাদের বাড়ি গিয়ে দেখা গেছে এমন চিত্র।
আবদুল হামিদ জানান, তাঁর বোনের ইচ্ছে ছিল চিকিৎসক হয়ে এলাকার অসহায় মানুষের সেবা করবেন। কিন্তু মেডিকেলে টিকতে পারেননি। বেসরকারি মেডিকেলে পড়ানোর সামর্থ্যও নেই। তাই বিএসসি নার্সিং ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সিলেট নার্সিং কলেজে ভর্তি হন ফাহমিদা। প্রায়ই বলতেন, চার বছরের নার্সিং পাস করার পর সরকারি হাসপাতালে চাকরি নেবেন। এতে সংসারের বোঝা অনেকটা কমবে। এবার তৃতীয় বর্ষে উত্তীর্ণ হওয়ার প্রতিটি পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করেছিলেন। এলাকার কেউ সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গেলে তাদের সহযোগিতা এবং সেবা করতেন তিনি। এলাকায় অনেকেই সুস্থ হয়ে ফিরে ফাহমিদার প্রশংসা করত। গত সোমবারও তাঁর মামা লিলু মিয়ার এলাকার এক নারী মামার কাছে ফাহমিদার মুঠোফোন নম্বর চেয়েছিলেন। কথাগুলো বলতে গিয়ে কান্নায় কণ্ঠ জড়িয়ে আসছিল আবদুল হামিদের।
আবদুল হামিদ জানান, গত শুক্রবার ফাহমিদা শেষবারের মতো বাড়িতে এসেছিলেন। তখন মা-বাবাকে জানিয়েছিলেন, দুদিন পর ঢাকায় কোনো কর্মশালায় যোগ দিতে সহপাঠীর সঙ্গে যাবেন। পরে রোববার রাতে ট্রেনে করে ঢাকায় যাচ্ছিলেন। রাত তিনটার দিকে মুঠোফোনে তাঁর এক সহপাঠী জানান, ফাহমিদা আহত হয়ে কুলাউড়ার একটি হাসপাতালে রয়েছেন। পরে সেখানে গিয়ে বোনের মৃত্যুর খবর জানতে পারেন হামিদ।
আবদুল হামিদ আরও বলেন, ‘দেশের অন্য অঞ্চলের চেয়ে সিলেটের রেলপথের অবস্থা খুবই নাজুক। রেলওয়েতে কর্মরত ব্যক্তিরা যদি নিজের কাজ ঠিকমতো করতেন, তাহলে এমন ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটত না। আমাদেরও অকালে বোন হারাতে হতো না।’
ট্রেন দুর্ঘটনায় দুই ছাত্রী নিহতের ঘটনায় সিলেট নার্সিং কলেজে তিন দিনব্যাপী শোক কর্মসূচি পালিত হয়। সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও কলেজে কর্মরত নার্স, শিক্ষক এবং চিকিৎসকেরা কালো ব্যাজ ধারণ করে শোক পালন করে।
ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত নার্সিং কলেজের শিক্ষার্থী ফাহমিদার কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন মা রহিমা বেগম ও মামা লিলু মিয়া। গতকাল দক্ষিণ সুরমার জালালপুর গ্রামে। প্রথম আলো

জি২০: বাণিজ্যে জোর ট্রাম্পের, সংরক্ষণবাদের বিরুদ্ধে জিনপিংয়ের সতর্কতা

জি২০ সম্মেলনে প্রথম দিনের বক্তব্যে নিজের উদ্দেশ্য পরিষ্কার করে তুলে ধরেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। জানিয়েছেন, এই সম্মেলনে বাণিজ্যই তার প্রধান লক্ষ্য। অন্যদিকে বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অর্থনীতির দেশ চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান সংরক্ষণবাদের বিরুদ্ধে সতর্ক করেছেন। এছাড়া, বহুপাক্ষিক বাণিজ্যের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে, জাপান, ভারত ও রাশিয়া। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
শুক্রবার থেকে জাপানে শুরু হয়েছে জি২০ সম্মেলন। এতে অংশ নিয়েছেন বিশ্বের ১৯ দেশ ও ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের (ইইউ) নেতা ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নররা। সম্মেলনের ফাঁকে একে অপরের সঙ্গে ব্যক্তিগত ও বহুপাক্ষিক বৈঠক করছেন নেতারা। এসব নেতাদের মধ্যে ট্রাম্পও রয়েছেন।
শুক্রবার তিনি জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে, ভারতের নরেন্দ্র মোদিসহ অন্যান্য নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এছাড়া, শনিবার জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে বসার কথা রয়েছে তার। কয়েকদিন আগেই যুক্তরাষ্ট্র-জাপান নিরাপত্তা চুক্তির সমালোচনা করেন তিনি। বলেন, এতে একপাক্ষিকভাবে বেশি লাভবান হচ্ছে জাপান। এছাড়া, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের ওপর ভারতের আরোপিত শুল্কহার প্রত্যাহার করে নেওয়ার আহ্বানও জানান তিনি।
মোদির সঙ্গে আলোচনায় বসার আগে ট্রাম্প বলেন, আমার ধারণা আমরা ঘোষণা করার মতো বেশ কয়েকটি বড় বিষয় পাবো। বড় ধরণের বাণিজ্য চুক্তি। বাণিজ্যের ক্ষেত্রে আমরা ভারতের সঙ্গে পণ্য উৎপাদন করা বিষয়ে বেশ বড় ধরণের চুক্তি করছি।
জাপানের বিষয়ে আবে’কে ট্রাম্প বলেন, ওহিও, পেনসিলভেনিয়া, নর্থ ক্যারোলিনা ও মিশিগানে আপনাদের অনেক মোটরগাড়ি প্রতিষ্ঠান পাঠানোর বিষয়টিতে আমি খুশি।
আবের সঙ্গে বৈঠকের আগে ট্রাম্প জানান, জাপানি ক্রেতারা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সরঞ্জাম কেনার ব্যাপারে আবের সঙ্গে আলোচনা করবেন তিনি। তবে এক জাপানি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এমন কোনো বিষয়ে আলোচনা হয়নি।
এদিকে, বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য সংরক্ষণবাদের বিরুদ্ধে সতর্ক করেছেন চীনা প্রেসিডেন্ট জিনপিং। তিনি বলেন, এসব সংরক্ষণবাদ বৈশ্বিক বাণিজ্য শৃঙ্খলা নষ্ট করছে। নষ্ট হচ্ছে আমাদের সকলের স্বার্থ, চাপা পড়ে যাচ্ছে বিশ্বজুড়ে শান্তি ও স্থিতিশীলতা।
সম্মেলনের প্রথম দিন বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও) সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন মোদি। তার সঙ্গে কিছু একমত প্রকাশ করেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ¬াদিমিত পুতিন। বলেছেন, অনেকে জেনেভা-ভিত্তিক সংগঠনটি ধ্বংস করার চেষ্টা চালাচ্ছে। পুতিন বলেন, আমরা মনে করি ডব্লিউটিও’কে ধ্বংস করা বা এর ভ’মিকা সংকুচিত করা উৎপাদন-বিরোধী।
যুক্তরাষ্ট্রের দিকে ইঙ্গিত করে পুতিন আরো বলেন, বিশ্ব অর্থনীতির বর্তমান পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। সংরক্ষণবাদ ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নিষেধাজ্ঞার প্রভাব পড়ছে বিশ্ব বাণিজ্যে।
শনিবার সম্মেলনটি শেষ হবে। এদিন বিশ্ব নেতাদের মধ্যে উচ্চ-পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

বন্ধুত্বের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে চান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ও আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট

প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক জোরদারের লক্ষ্যে দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি এখন পাকিস্তান রয়েছেন। বৃহস্পতিবার সকালে ইসলামবাদ পৌছেন তিনি।
ইসলামাবাদের নুর খান বিমান ঘাঁটিতে পৌছলে আফগান প্রেসিডেন্টকে স্বাগত জানান পাকিস্তান প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বাণিজ্য উপদেষ্টা আব্দুল রাজ্জাক দাউদ।
সেখান থেকে তিনি প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে যান এবং ইমরান খানের সঙ্গে সাক্ষাত করেন। সেখানে আফগান প্রেসিডেন্টকে গার্ড অব অনার দেয়া হয়। দুই নেতা পরস্পরের সঙ্গীদের পরিচয় করিয়ে দেন।
পরে ঘানি ও ইমরান একান্তে বৈঠক করেন। সেখানে তারা বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা সংশ্লিষ্ট বিষয় ও আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন।
প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে দেয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, দুই দেশ ও তাদের জনগণের লাভের জন্য এবং এই অঞ্চলে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি এগিয়ে নেয়ার স্বার্থে পারস্পরিক আস্থা ও সংহতির ভিত্তিতে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে দুই নেতা রাজি হয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী ইমরান আফগান নেতাকে আশ্বস্ত করে বলেন যে, তিনি তার শান্তিপূর্ণ প্রতিবেশী ভিশনের অংশ হিসেবে পাকিস্তান-আফগানিস্তান সম্পর্কে গুণগত পরিবর্তন আনতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পাকিস্তান-আফগানিস্তান সম্পর্কের একটি ভবিষ্যতমুখি ভিশন রচনার গুরুত্ব স্বীকার করেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ও আফগান প্রেসিডেন্ট।
চলমান আফগান শান্তি প্রক্রিয়ায় পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়েও দুই নেতা আলোচনা করেন। এ ব্যাপারে যৌথ দায়িত্ব রয়েছে বলে পাকিস্তান মনে করে।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, আফগানিস্তানের দশক-পুরনো সংঘাত নিরসনের জন্য আফগান নেতৃত্বাধিন ও আফগান মালিকানাধিন শান্তি প্রক্রিয়াই বাস্তব বিকল্প বলে প্রধানমন্ত্রী গুরুত্ব সহকারে উল্লেখ করেন।
দুই নেতা অর্থনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে কথা বলেন এবং যত দ্রুত সম্ভব সেন্ট্রাল এশিয়া-সাউথ এশিয়া (সিএএসএ ১০০০) বিদ্যুৎ পরিবহন লাইন এবং তুর্কমেনিস্তান-আফগানিস্তান-পাকিস্তান-ইন্ডিয়া (টাপি) গ্যাপ পাইপলাইন নির্মাণ শেষ করার গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেন।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কোরেশির সঙ্গেও সাক্ষাত করেন ঘানি এবং আফগান শান্তি প্রক্রিয়ায় পাকিস্তানের প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন।
প্রতিবেশী দেশটিতে ১৮ বছর ধরে চলা সংঘাত নিরসনে আফগান রাজনীতিবিদদের নিয়ে একটি সম্মেলন আয়োজনের এক সপ্তাহের মাথায় পাকিস্তান প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে ঘানির এই সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
ঘানির লাহোর সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে। ২০১৪ সালে ক্ষমতায় আসার পর এটা তার তৃতীয় পাকিস্তান সফর। কয়েক দশকের পুরনো আফগান যুদ্ধের অবসান ও একটি রাজনৈতিক নিস্পত্তিতে পৌছার প্রচেষ্টা জোরদার হয়েছে সাম্প্রতিক সময়ে।
আফগানিস্তানের অভ্যন্তরিণ বিষয়ে নাক গলানোর জন্য প্রেসিডেন্ট ঘানি চলতি বছরের গোড়ার দিকে পাকিস্তানকে অভিযুক্ত করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ইসলামাবাদ ও রাওয়ালপিন্ডির কারণে যুদ্ধ শেষ হচ্ছে না এবং কোয়েটা হলো তালেবান নেতাদের ঘাঁটি। পাকিস্তান অবশ্য তালেবানকে সহায়তা প্রদানের কথা অস্বীকার করে আসছে এবং এবং জানায় যে আফগানিস্তানে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে একটি রাজনৈতিক নিস্পত্তির পক্ষে।
‘আফগান সরকারের নতুন মনোভাব দেখে ভালো লাগছে’
পাকিস্তান প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারি ফেরদৌস আশিক আওয়ান বলেন যে এই অঞ্চলে শান্তি ও সমৃদ্ধি জোরদার এবং সংঘাত নিরসনের পথে অগ্রসর হওয়ার ইমরানের ভিসনের সঙ্গে সঙ্গতি রেখেই প্রেসিডেন্ট ঘানির সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
এই সফর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নত করবে বলে আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন: আফগান নেতৃত্ব আগের চেয়ে ভিন্ন মনোভাব গ্রহণ করেছে দেখে ভালো লাগছে।
পাকিস্তান সরকার আফগানিস্তানের সঙ্গে বাণিজ্য বৃদ্ধি ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক জোরদারের উদ্যোগ নিচ্ছে বলে আওয়ান উল্লেখ করেন।

জাতীয় মুক্তি মঞ্চের ঘোষণা কর্নেল অলির

‘জাতীয় মুক্তিমঞ্চ’ নামে নতুন রাজনৈতিক মঞ্চের ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলের অন্যতম শরিক লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল ড. অলি আহমেদ। গতকাল বিকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে জাতীয় সংসদের পুনঃনির্বাচন ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ ঘোষণা দেন। জাতীয় মুক্তি মঞ্চ জাতির দুরবস্থা ও জাতীয় সমস্যা সমাধানে কাজ করবে বলে জানিয়েছেন তিনি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটা বিএনপির বাইরের  কোন জোট নয়। এটি বেগম খালেদা জিয়ার দ্রুত মুক্তির দাবিতে একটি প্লাটফর্ম। আমার এই প্লাটফর্মে কে কে আছেন আপনারা তাদেরকে মঞ্চেই দেখতে পাচ্ছেন। আরও যারা থাকবেন আপনারা কিছুদিনের মধ্যেই দেখতে পারেন। দেশপ্রেমিক যে কেউ এই মঞ্চে আসতে পারবেন।
নতুন এই মঞ্চে জামায়াতের নেতাকর্মীরা থাকবেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের জামায়াত আর ২০১৯ সালের জামায়াত এক নয়।
তারা নিজেদের অনেক ভুল শুধরে নিয়েছে। এছাড়া, এটি কোন রাজনৈতিক জোট নয়। এখানে দেশপ্রেমিক নাগরিকদের যারা দেশ এবং সমাজের বর্তমান অবস্থার পরিবর্তন চান তারা সবাই থাকতে পারবেন। শুধু বেঈমানরা থাকতে পারবেন না। আত্মপ্রকাশের দিনে সরকারের উদ্দেশ্যে ১৮টি দাবি তুলে ধরা হয় মঞ্চের পক্ষ থেকে। দাবিগুলো হল-
গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে জাতীয় সংসদের পুননির্বাচন: এ দাবি তুলে ধরে মঞ্চের পক্ষ থেকে বলা হয়, গত ৩০শে ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ইতিহাসের একটি নির্মমতম রাষ্ট্রীয় প্রতারণা। সর্বকালের নিকৃষ্ট জাতীয় বেঈমানী ও প্রহসনের মাধ্যমে নির্বাচন নামের নাটক সৃষ্টি করে জনগণের ভোটের অধিকার হরণ করা হয়েছে। জনগণকে ভোটের অধিকার এবং ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। পক্ষান্তরে ৩০শে ডিসেম্বর দিনের বেলা কোনো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। বরং ২৯শে ডিসেম্বর রাতেই ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ ব্যালট পেপার কেটে ব্যালট বাক্স ভর্তি করা হয়। এই নির্বাচনে ভোটার ছিল পুলিশ ও প্রশাসনের সদস্যবৃন্দ। তাদের প্রার্থী ছিল আওয়ামী লীগের নেতা। কোন অবস্থাতেই এই নির্বাচন এবং এই নির্বাচনের ফলাফল জনগণ গ্রহণ করেনি। অতএব, জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে দেশের এবং দেশের জনগণের মঙ্গলের জন্য আমরা জাতীয় সংসদের পুননির্বাচনের জোর দাবি জানাচ্ছি।
অবিলম্বে খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবি: দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত সাজানো মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে বলা হয়, তিনি একজন প্রবীন রাজনীতিবিদ, সাবেক সেনা প্রধান, প্রেসিডেন্ট এবং মুক্তিযুদ্ধের ঘোষকের স্ত্রী। মিথ্যা মামলার নামে তাঁকে হয়রানি, সাজানো বিচারে আটক করে আর্থিক-শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করা হচ্ছে। এটি একটি গর্হিত কাজ। এতে সরকারের প্রতিশোধ পরায়ণতার প্রমাণ বিদ্যমান।
দেশবিরোধী চুক্তি প্রকাশের দাবি: বিগত দশ বছরে তথা বর্তমান অবৈধ সরকারের সময়ে যে সকল দেশবিরোধী চুক্তিতে অসম প্রটোকল স্বাক্ষরিত হয়েছে, তা জনসম্মুখে প্রকাশ করতে হবে।
রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান রক্ষার দাবি: ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য দেশের জাতীয় স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে যে সমস্ত মেগা প্রকল্প এবং স্পর্শকাতর রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বিদেশীদের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে, তা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।
জাতীয় বিশেষজ্ঞ কমিশন গঠনের দাবি: মঞ্চের পক্ষ থেকে বলা হয়, সাম্প্রতিককালের ভয়াবহ জাতীয় অর্থনৈতিক কেলেংকারী যথা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি, ব্যাংক ডাকাতি, শেয়ার মার্কেট লুটপাট, অর্থ পাচার ইত্যাদি অপকর্মের কারণে দেশে অর্থনৈতিক নীরব দুর্ভিক্ষ, সামাজিক বিশৃঙ্খলা, শিক্ষিত যুবকদের বেকারত্ব ও দারিদ্র্যের অশনি সংকেত দেখা দিয়েছে। এই ধরনের পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের লক্ষ্যে এবং ভবিষ্যতে যেন তার পুনরাবৃত্তি না হয়, তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সুপ্রিম কোর্টের নেতৃত্বে এক বা একাধিক জাতীয় বিশেষজ্ঞ কমিশন গঠন করতে হবে। কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে উক্ত সমস্যাগুলির সমাধান এবং দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
দেশের শিক্ষিত যুবকদের নিয়োগে অগ্রাধিকারের দাবি জানিয়ে বলা হয়, দেশে শিক্ষিত যুবকদের বেকরত্ব দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই বেকারত্ব হ্রাস করার লক্ষ্যে কারিগরি শিক্ষাকে আরও বেশি সম্প্রসারণ করার নিমিত্তে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। এই বেকারত্ব হ্রাস করার লক্ষ্যে প্রশিক্ষিত জনশক্তি বিদেশে রপ্তানীর জন্য কুটনৈতিক ও ব্যবসায়িক পদক্ষেপ জোরদার করতে হবে। এছাড়াও দেশের ব্যবসা ও শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দেশের শিক্ষিত ও প্রশিক্ষিত যুবকদের নিয়োগ নিশ্চিত করার জন্য আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
গুম ও খুন বন্ধের পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানিয়ে বলা হয়, দেশের সর্বত্র চরম বিশৃঙ্খলা ও নৈরাজ্য বিরাজ করছে। এই অবস্থা কারো কাম্য নয়। ন্যায় বিচার, সুশাসন এবং সাংবিধানিক অধিকার না থাকায় জনগণ হতাশাগ্রস্থ। বর্তমান সরকারের আমলে গুম, খুন, গুপ্তহত্যা, মাদক এবং ধর্ষণ মহামারি আকার ধারণ করেছে। জনগণের সরকার ব্যতীত এই ধরনের সমস্যা থেকে উত্তরণ সম্ভব নয়। এই ধরণের কর্মকাণ্ড বন্ধ করার জন্য অনতিবিলম্বে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে এবং জনগণকে আশ্বস্ত করতে হবে।
ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে বলা হয় অবৈধ পন্থায় নির্বাচন অনুষ্ঠান, অনৈতিক ও নির্মম ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে সংসদীয় গণতন্ত্রকে হত্যা করার নীল নকশা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বিরোধী দলীয় নেতা কর্মীদের বিরুদ্ধে সমগ্র দেশে দায়েরকৃত গায়েবী মামলা, মিথ্যা মামলা, ষড়যন্ত্র মূলক রাজনৈতিক মামলা, অনতিবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে এবং ক্ষতিগ্রস্থদেরকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
লিগ্যাল এইড কমিটি গঠনের ষোঘণা: জাতীয় মুক্তি মঞ্চের পক্ষ থেকে আগামী তিন মাসের মধ্যে প্রতি জেলায় ‘লিগ্যাল এইড’ কমিটি গঠন করা হবে। এই কমিটির মাধ্যমে বিরোধী দলের নেতা/কর্মীদের মামলাগুলি পরিচালনার সার্বিক দায়িত্ব বহন করা হবে।
প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি ও হয়রানী বন্ধের দাবি: বিরোধী রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের ব্যবসা-বাণিজ্যে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি, তাদের স্বাভাবিক জীবন যাপনে বাধা দান এবং বিদেশ গমনের সময় বিমান বন্দরে অহেতুক হয়রানি বন্ধ করার দাবি জানানো হয় মঞ্চের পক্ষ থেকে।
স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়ন, ভেজাল ও নকল ঔষধ বন্ধের দাবি: দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভঙ্গুর। চিকিৎসা ব্যবস্থার উপর দেশের প্রেসিডেন্টসহ যে কেউ আস্থা রাখতে পারছে না। বিধায়, বিত্তবান প্রায় সকলেই যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড এবং ভারতে চিকিৎসার জন্য অহরহ যাতায়াত করছেন। এতে দেশের অর্থনীতিতে এবং চিকিৎসা ব্যবস্থায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। স্বাস্থ্য ব্যবস্থা উন্নতির লক্ষ্যে সুপরিকল্পিত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
খাদ্যে ভেজালকারীদের মৃত্যুদণ্ড দাবি: ভেজাল খাদ্য মানুষকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে। নতুন আইন করে ভেজাল খাদ্য সরবরাহের সঙ্গে যারা জড়িত তাদের জন্য মৃত্যুদণ্ডের ব্যবস্থা করতে হবে।
কৃষকের ন্যায্যমূল্যের দাবি: অধিক ধান ফলনের কারণে বর্তমানে কৃষকরা দুর্দশাগ্রস্থ। এই ধরণের পরিস্থিতি কারো জন্য কাম্য নয়। প্রতি বছর নিয়মিতভাবে সরকারের পক্ষ থেকে ধান সংগ্রহ করার লক্ষ্য মাত্রা নির্ধারণ এবং কৃষককে ন্যায্য মূল্য প্রদানের লক্ষ্যে ধানের উপযুক্ত মূল্য নির্ধারণ করতে হবে।
অর্থনৈতিক সমতা ও সামাজিক ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার দাবি: জনগণের আয় ও ব্যয়ের সঙ্গে কোনো সামঞ্জস্য না থাকায় সমাজ ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েছে। সর্বত্র সামাজিক অবক্ষয় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। নিম্নমধ্যবিত্ত এবং গরীবদের মধ্যে নীরব দুর্ভিক্ষ চলছে। এই ধরণের সোনার বাংলার জন্য জাতি মুক্তিযুদ্ধ করেনি। সমাজে অর্থনৈতিক সমতা এবং সামাজিক ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সঠিক অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
জাল ভোট প্রদানকারী ও সাহায্যকারীদের শাস্তির দাবি জানিয়ে বলা হয়, জাল ভোট প্রদান বা প্রদানকারীদের সাহায্য করার সঙ্গে যারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত তাদের জন্য ন্যূনতম ১০ বছর সশ্রম কারাদন্ডের ব্যবস্থা রাখতে হবে।
ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট বাতিলের দাবি ও বন্ধ করে দেয়া মিডিয়া খুলে দেয়ার দাবি জানিয়ে বলা হয়, ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে সংসদে পাশকৃত ‘ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট ২০১৮’ কালো আইন হিসেবে বাতিল করতে হবে। এই আইনের মাধ্যমে জনগণের কণ্ঠ রোধ করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের মাধ্যমে যে সকল সংবাদপত্র, টেলিভিশন এবং জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে, তা অবিলম্বে খুলে দিতে হবে।
দুর্নীতি দমন আইনের বৈষম্য দূরীকরণের দাবি জানিয়ে বলা হয়, বর্তমান দুর্নীতি দমন আইনে দারুণ বৈষম্য রয়েছে। এই আইন শুধু অসহায় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োগ করা হচ্ছে। আমরা মনে করি, প্রধানমন্ত্রীসহ সকল নাগরিকের বিরুদ্ধে দুদক স্বাধীনভাবে প্রয়োজনে তদন্ত করতে পারবে ও মামলা করতে পারবে। এই ধরণের বিধান রেখে আইন সংশোধন করতে হবে। দেশের সকল নাগরিকের জন্য আইন সমানভাবে প্রযোজ্য হতে হবে।
রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য সাংবিধান অনুযায়ী সুযোগ সৃস্টির দাবি জানিয়ে বলা হয়, প্রত্যেক রাজনৈতিক দলকে সাংবিধানিক পন্থায়, বিনা বাধায় নিজ নিজ দলের কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে দিতে হবে। শান্তিপূর্ণ মিছিল ও জনসভা করার সুযোগ দিতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইব্রাহীম বীর প্রতীক, জাগপার সভাপতি ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান, খেলাফত মসলিসের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব আহম্মেদ আলী তাহেরী, ডেমোক্রেটিক ন্যাশনাল মুভমেন্টের মহাসচিব মুহিব খান, এলডিপির সাধারণ সম্পাদক রেদোয়ান আহম্মেদ, যুগ্ম মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম, গত নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী গোলাম মাওলা রনি প্রমুখ। এর আগে বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য মুক্তিযোদ্ধা ইসমাঈল হোসেন বেঈল অলি আহমেদের হাতে ফুল দিয়ে এলডিপিতে যোগদান করেন।

বিশ্ব একটা বিপর্যয়ের দিকে ধাবমান -ব্যাংককে প্রফেসর ইউনূস

নোবেল জয়ী ও সামাজিক ব্যবসার রূপকার প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বর্তমান বিশ্বের একটি ছবি এঁকেছেন। ব্যাংককে সামাজিক ব্যবসা সম্মেলনকে সামনে রেখে রোবট আর মানুষের মধ্যে যে ফারাক তারও জবাব খুঁজেছেন তিনি। তার ভাষায় যারা সিগারেট, অ্যালকোহল কিংবা ক্ষতিকর খাদ্য ও পানীয় উৎপাদন করছেন তারা আসলে সফল মানুষ নন। তাদের নিয়ে সাময়িকীর পাতায় প্রচ্ছদ করার মানে এই নয়, তারা পৃথিবীতে সফল হয়ে গেলেন, বরং তার দিকে অঙ্গুলি নির্দেশ করে মানুষ বলছে লোকটা কতোটা লোভী! শুধু সে তার নিজের জন্য সম্পদের পাহাড় গড়তে গিয়ে কতো অংসখ্য ভোক্তার জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছেন। বিশ্ব এভাবেই তাদেরকে সজ্ঞায়িত করেছে। তাই আজ সময় এসেছে সুখের সংজ্ঞা পুনঃনির্ধারণের। এটা বলা যে, অর্থ সুখ আসলে সুখ নয়, অসুখ।
আজ শুক্রবার থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে শুরু হচ্ছে নবম বার্ষিক সামাজিক ব্যবসা সম্মেলন। ইতিমধ্যেই বাংলাদেশসহ ৪৪ টি দেশের দেড় হাজার প্রতিনিধি ব্যাংককে হাজির হয়েছেন।
প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস সকাল ১০টায় ব্যাংককের সেন্টার ওয়ার্ল্ড এর সেন্টার গ্র্যান্ড অ্যান্ড ব্যাংকক কনভেনশন সেন্টারে সামাজিক ব্যবসার গতি-প্রকৃতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখবেন। ৪৪টি দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে সামাজিক ব্যবসা অনুষদ ইতিমধ্যেই খোলা হয়ে গেছে। এবারের সামাজিক ব্যবসা দিবসে করপোরেট সামাজিক নেতৃবৃন্দ, এনজিও, খেলোয়াড়, অভিনেতা, শিক্ষার্থী এবং উদ্যোক্তারা অংশ নেবেন। সামাজিক ব্যবসা দিবসকে সামনে রেখে প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বর্তমান বিশ্বের প্রেক্ষাপট তুলে ধরেছেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতের বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ার করণীয়ও বাতলে দিয়েছেন। তার কথায়, বিশ্ব একটা বিপর্যয়ের দিকে ধাবমান। তার আশঙ্কা, এই শতাব্দির বাইরে মানবজাতির বেঁচে থাকার কোনোই সম্ভাবনা নেই। একে বাঁচিয়ে রাখতে এখন একটাই পথ, তা হলো আমরা যেসব ক্ষতিকর কাজ ইতিমধ্যেই সাধন করেছি তা থেকে বেরিয়ে আসতে শুরু করা। যদি আমরা এই ক্ষতিকর পথ থেকে বেরিয়ে আসতে পারি তাহলে নতুন এক সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রফেসর ইউনূস বলেন, আমরা শিখেছি ব্যবসা শুধু অর্থের জন্য। এই ধারণা উল্টে দিতে আমাদেরকে ব্যবসার ডিজাইন বদলে দিতে হবে। এই ব্যবসার অন্তর্গত দর্শন হবে শুধুই মানুষের মঙ্গল চিন্তা। আর এই চিন্তা ধারণাই আমাদেরকে সামাজিক বিজনেসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। এই একটি মাত্র বিপরীতমুখী চিন্তা আকস্মিকভাবে আমাদের সামনে এক নতুন পৃথিবীকে তুলে ধরতে পারে। এতে করে আমরা আমাদের বিশ্বাস ফিরে পেতে পারি। আমরা কেবল এই পৃথিবীকে নিরাপদই করতে পারি না, আমরা এমন একটি পৃথিবী সৃষ্টি করতে পারি যা আমরা সবাই চাই। প্রত্যেক ব্যক্তিরই যাদুকরী ক্ষমতা রয়েছে। প্রত্যেক ব্যক্তিই সেই অফুরান শক্তির আধার অর্থে একজন ম্যাজিশিয়ান। আর এই সম্মেলন হলো সেই ম্যাজিকের বিষয়ে আমাদের প্রত্যেককে সচেতন করে তোলা। এই সম্মেলন থেকে আমরা সমগ্র মানব ইতিহাসের নানা দিক খুঁজে বের করবো। মনে রাখতে হবে, সমগ্র মানব ইতিহাসে প্রত্যেক ব্যক্তিই একটি অনন্য সৃষ্টি। মানব ইতিহাস সাক্ষ্য দিচ্ছে আমরা আমাদের কাউকেই অবিকল নকল দেখতে পারি না। আমার কাছে মানবজাতির এই বৈশিষ্ট্য রোমাঞ্চকর। এই অনন্য বৈশিষ্ট্য অত্যন্ত মূল্যবান। কারণ তা আমাদের প্রত্যেককে একটি করে সৃষ্টির মাস্টারপিস হিসেবে গড়ে তুলেছে। আপনি কোথায় জন্মগ্রহণ করেছেন, কীভাবে বেড়ে উঠেছেন তা একেবারেই অপ্রাসঙ্গিক। তাই সৃষ্টির এই যে অনন্য সাধারণ বৈশিষ্ট্য তাকে হালকাভাবে নেয়া উচিত নয়।
আর এই বৈশিষ্ট্যই আমাদেরকে রোবট থেকে আলাদা করেছে। তিনি বলেন, রোবটের ক্ষেত্রে আমরা তাদের উৎপাদনকারী কোম্পানি, উৎপাদনের তারিখ, মডেল নাম্বার, এমনকি তাদের সমগোত্রীয় বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে জেনে নিতে পারি। কিন্তু মানব প্রজাতির ক্ষেত্রে এর কোনোটিই পারি না। মানবজাতির দ্বিতীয় বৈশিষ্ট্য হচ্ছে- প্রত্যেকের ভেতরেই রয়েছে অসীম সৃজনশীল ক্ষমতা। সেই সৃজনশীল সামর্থ্য আমাদের অনন্য ভ্রমণ পথে বিকশিত হয়। আমরা মানুষদেরকে টাকার পেছনে হন্যে হয়ে ঘুরতে দেখি। তাতে ধরিত্রী ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মানুষকে আর ঠিক মানুষের মতো দেখায় না। সর্বোপরি এটিই প্রমাণ করা যে, সৃষ্টির বিস্ময় যে মানুষ তার অর্জনকে সীমিত কোনো ধারণা দিয়ে বাঁধা যায় না, তার বিজয়, তার সাফল্য অতলস্পর্শী। সুতরাং সুপার হ্যাপিনেস বা চরম সুখের ধারণা সেখানেই ধরা দিতে পারে। যেখানে আমি আমার মস্তিষ্ককে সংজ্ঞায়িত করতে পারি।
প্রফেসর ইউনূস বলেন, আপনার অনেক টাকা পয়সা, ধন-দৌলত, ব্যাংক ব্যালেন্স থাকতে পারে। আমি নিশ্চিত যে এসব কিছুর বিনিময়ে আপনি শুধু এক ধরনের সুখই অর্জন করতে পারেন। কিন্তু বলুনতো আপনি আপনার সম্পদ দ্বিগুণ-তিনগুণ করার মধ্য দিয়ে সুখের মাত্রা কি বৃদ্ধি করতে পেরেছেন? চূড়ান্ত হিসেবে আপনার অঢেল টাকা-পয়সা শুধুই একটা কাগুজে সংখ্যা মাত্র। মহাকালের তুলনায় মানবজীবন একটি বুদ্বুদ মাত্র। আসুন না, এই সীমিত সময় যেটুকু আমাদের জন্য বরাদ্দ আছে তা ভালোভাবে ব্যয় করি।

পাকা আমের মধুর রসে রঙিন হবে মুখ

বিগত বছরের উৎসবের ছবি
‘পাকা আমের মধুর রসে রাঙিয়ে দেব মুখ’ স্লোগান সঙ্গে নিয়ে চলছে তহবিল সংগ্রহ। নিজ নিজ স্থান থেকে প্রচারণার পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবীরা হাতে তৈরি বিভিন্ন জিনিস বিক্রি করছেন। উদ্দেশ্য সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাকা আমের স্বাদ নেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া।
দুইবেলা দুমুঠো খাবার যোগাতেই যাদের দিন চলে যায়, তাদের জন্য মৌসুমি ফল খাওয়া স্বপ্নের মতোই। পথশিশুদের এই স্বপ্ন পূরণ করতে অনলাইনভিত্তিক সংগঠন ‘আমরা খাঁটি গরিব’ ২০১০ সালে প্রথমবারের মতো আয়োজন করে আম উৎসবের। এরপর অনেকবারই পাকা আমের মধুর রসে শিশুদের মুখ হয়েছে রঙিন। তারই ধারাবাহিকতায় আগামী ৬ জুলাই ঢাকাসহ দেশের ৬ বিভাগে এক যোগে হবে আম উৎসব। চাইলে তহবিল সংগ্রহ করতে সাহায্য করে আপনিও অংশ হতে পারেন এই আনন্দের। ৩ জুলাই পর্যন্ত সাহায্য করা যাবে ব্যাংক, বিকাশ ও রকেট অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে।
ব্যাংক
নাসিরুল আলম মণ্ডল (Nasirul Alam Mondol)
অ্যাকাউন্ট নাম্বার- ৫২০৭০০২১৪২৭১৩
সোনালি ব্যাংক, কালিগঞ্জ শাখা লালমনিরহাট
বিকাশ- ০১৬১২৪৬২৩৩৪
রকেট- ০১৭১২৪৬২৩৩৪০
হাতে তৈরি জিনিস বিক্রি করে চলছে তহবিল সংগ্রহ

তুরিন আমাকে গুলি করে মারতে চায় -নয়া দিগন্তের সাথে একান্ত সাক্ষাতকারে তুরিন আফরোজের মা by শাহেদ মতিউর রহমান

ওষুধ কেনারও টাকা পাচ্ছেন না আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজের অসুস্থ্ মা শামসুন নাহার তসনিম। দুইটি কিডনিই ৬৫ ভাগ অকেজো হয়ে গেছে তার। প্রতি সপ্তাাহেই দৌঁড়াতে হচ্ছে হাসপাতালে। মেয়ের হাতে নির্যাতিত আর বাড়ি থেকে বিতাড়িত হয়ে এখন তিনি জীবনের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বিগ্ন। আইনজীবী একমাত্র মেয়ে ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ গর্ভধারিনী মাকেই গুলি করে হত্যার হুমকি দিচ্ছেন। প্রশাসনসহ প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়েও অসহায় এই মা অধ্যাবধি সেটিও পাচ্ছেন না।
সাক্ষাতকার নিয়েছেন নয়া দিগন্তের স্টাফ রিপোর্টার শাহেদ মতিউর রহমান।
নয়া দিগন্তের সাথে একান্ত আলাপকালে ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজের মা জানিয়েছেন তার অসহায়ত্বের নানা কথা। তার অভিযোগ, দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে তিনি তার বাড়ির বাইরে। স্বামী মারা যাওয়ার মাত্র দুই সপ্তাহ পরেই মেয়ে তুরিন আফরোজ তাকে উত্তরার নিজ বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছেন। নিজ বাড়িতে ফেরার জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তুরিন আফরোজের ছোট ভাই কানাডা প্রবাসী শাহনেওয়াজ শিশিরও কথা বলেছেন নয়া দিগন্তের সাথে। কয়েকদিনের ছুটিতে সম্প্রতি দেশে এসেছেন তিনি। নয়া দিগন্তকে তিনি জানিয়েছেন, উত্তরার বাড়িটি তার মা ১৯৯৭ সালেই তার নামে হেবা দলিল করে দিয়েছেন। জমিসহ বাড়িটির সুমদয় খাজনা ও অন্যান্য ইউটিলিটি বিল তার তামেই পরিশোধ করা হচেছ নিয়মিত। কিন্তু এখন তার বোন তুরিন আফরোজ ভয়ভীতি দেখিয়ে জবর দখল করে নিতে চায়। তাদের মাকেও বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে তুরিন আফরোজ।
তুরিন আফরোজের মা জানান, তার ৬৫ শতাংশ কিডনি অকেজো। এ অবস্থায় বাড়ি ভাড়ার টাকাসহ চিকিৎসার টাকাও নিয়ে গেছেন তার মেয়ে। এখন তার প্রয়োজনীয় ওষুধ কেনার টাকাও পাচ্ছেন না।
শামসুন নাহার তসনিম বলেন, দুই বছর সময়েরও বেশি সময় ধরে আমি আমার বাসার বাইরে। আমার স্বামী মারা যাওয়ার আঠারো দিন পরে তুরিন আমাকে বাসা থেকে বের করে দেয়। আমার দোষ তার (তুরিন আফরোজ) কিছু অনৈতিক আচরণের প্রতিবাদ করা। যেমন- আমাদের ভাড়াটিয়াদের থেকে সবসময় ভাড়ার টাকা আমিই নিতাম। আমার স্বামী অবসরে যাওয়ার পর থেকেই বাড়িভাড়ার টাকায় আমাদের সংসার, ওষুধ খরচ চলতো। এরপর ওর বাবা মারা যাওয়ার পর থেকে সে বাসা ভাড়ার টাকা জোর করে নিয়ে নেয়। অপরিচিত লোকদের রাত-বিরাতে ঘরে প্রবেশ নিয়ে দারোয়ান ও ভাড়াটিয়ারা অভিযোগ করলে তার সাথে প্রায়ই ঝগড়া হতো। এসব বিষয়ে নিষেধ করলে ডিজিএফআই, র‌্যাব, পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নামে ভয় দেখাতো এবং বলতো ওরা সবাই তার বন্ধু। কোনো কিছু বললেই ৫৭ ধারায় গ্রেফতার করার ভয় দেখাতো। এখন আমাকে গুলি করে হত্যা করতে চায় আমার মেয়ে।
তিনি আরো বলেন, গ্রামের বাড়ি নীলফামারীতেও আমি যেতে পারি না, সে সেখানে দায়িত্ব নিয়ে জমিজমা ও বাড়ি নিজের নামে কুক্ষীগত করেছে। প্রতিবাদ করলে প্রধানমন্ত্রী ও তার পরিবারের সদস্যদের নাম করেও হুমকি দেয়।
তিনি আরও বলেন, জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে আমি প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ চেয়ে ব্যর্থ হই। ভেবেছিলাম তিনি একজন মা। ওনার ঘরে এমন হলে উনি কী করতেন? আমরা জানি উনি অন্যায়-অবিচারকে প্রশ্রয় দেবেন না। আমি চাই প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ। আমি মিডিয়ার মাধ্যমে ওনার (প্রধানমন্ত্রীর) সহযোগিতা কামনা করছি। আমার শরীর ভীষণ খারাপ। ৬৫ শতাংশ কিডনি অকেজো, সঙ্গে আবার ডায়াবেটিসও। ওষুধ কেনার পয়সা বাড়িভাড়া থেকে পেতাম সেটাও সে কেড়ে নিয়েছে। দেশে থাকার জায়গা নেই এখানে-সেখানে থেকে ঘুরে বেড়াই। আমি আমার দেশ ছেড়ে এ বয়সে কেন বিদেশে পড়ে থাকবো? এ দেশ আমার জন্মস্থান ও আমার ৪৮ বছরের সংসার। আমি তো এখানেই থাকতে চাই। আমি আমার সংসারে ফিরে যেতে চাই।
উল্লেখ্য, নিজের বাড়িতে ঢুকতে না পেরে আলোচিত আইনজীবী ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজের বিরুদ্ধে রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন মা ও ভাই। মা শামসুন নাহার তসনিম ও ছোট ভাই শাহনেওয়াজ আহমেদ শিশিরকে বাড়িতে ঢুকতে না দেয়ায় গত ১৪ জুন তুরিনের বিরুদ্ধে এ জিডি করা হয়।
এর আগেও ২০১৭ সালের ১৯ নভেম্বর তুরিন আফরোজের বিরুদ্ধে থানায় জিডি (জিডি নম্বর- ১১৮৮) করেছিলেন তার মা। এছাড়া গত ১ জানুয়ারি ঢাকার প্রথম যুগ্ম জজ আদালতে বাড়ি দখলের অভিযোগে তুরিন আফরোজের বিরুদ্ধে মামলা করেন তার ছোট ভাই শাহনেওয়াজ আহমেদ শিশির। মামলায় তিনি উল্লেখ করেন, ২০১৭ সালের ২ মার্চ পুলিশ দিয়ে ভয় দেখিয়ে মা শামসুন নাহার এবং অন্য ভাড়াটিয়াদের বাড়ি থেকে বের করে দেন তুরিন আফরোজ। নিজেকে বাড়ির মালিক দাবি করে তুরিন বাড়ি ও জমির দলিলপত্রও দখলে নেন।
এদিকে বাড়ি দখল এবং মাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়ার বিষয়ে সোমবার সন্ধা সাড়ে ছয়টায় ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন ধরেননি। তবে ১৯ জুন হাইকোর্টে তুরিন আফরোজের বিরুদ্ধে মা এবং ভাইয়ের সাংবাদিক সম্মেলনের পর সাংবাদিকদের টেলিফোনে তুরিন আফরোজ জানিয়েছিলেন, আমি গণমাধ্যমের কল্যাণে জানতে পেরেছি, আমার মা ও ভাই একটি সংবাদ সম্মেলন করেছে। সেখানে অনেক অভিযোগ এনেছে। আমার মা ও ভাই আমার পরিবারের অংশ। তাদের নিয়ে কোনো বিরূপ মন্তব্য করতে চাই না। বাড়ি নিয়ে যে অভিযোগ সেটি নিয়ে আদালতে মামলা চলমান। এ বিষয়টি আদালতেই ফয়সালা হবে।’

ছিঁচকে চোর থেকে পেশাদার সন্ত্রাসী নয়ন by সাইফ আমীন

বরগুনায় স্ত্রীর সামনে স্বামী রিফাত শরীফকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনার প্রধান অভিযুক্ত সাব্বির হোসেন নয়নকে খুঁজছে পুলিশ। এ হত্যাকাণ্ডের পর নয়নের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে শুরু করেছে স্থানীয়রা। বেরিয়ে আসছে তার নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের তথ্য।
অভিযুক্ত সাব্বির হোসেন নয়ন বরগুনা পৌর শহরের বিকেবি রোডের শহরের ধানসিঁড়ি এলাকার আবু বক্কর সিদ্দিকির ছেলে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বরগুনা পৌর শহরের বিকেবি রোডের শহরের ধানসিঁড়ি এলাকার একাধিক বাসিন্দা জানান, কয়েক বছর আগে মাদক সেবনের টাকা যোগাড় করার জন্য ছিঁচকে চুরি আর মোবাইল ছিনতাই করতেন নয়ন। ছিঁচকে চোর থেকে একসময় তিনি হয়ে ওঠেন পেশাদার সন্ত্রাসী। একপর্যায়ে শুরু করেন হেরোইনের ব্যবসা। নিজ বাসায় মাদক সেবনের আখড়া বসান। চুরি আর ছিনতাই ছাড়াও চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
নিজ বাসায় মাদকসেবীদের মাদক সেবনের সুযোগও করে দিতেন নয়ন। মাদক সেবনের জন্য সেখানে যাওয়া-আসা করতেন যুবলীগ ও ছাত্রলীগের প্রভাবশালী কয়েকজন নেতা। মাদক ব্যবসার পরিধি বাড়াতে তাদের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তোলেন নয়ন। যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতাদের মাধ্যমে নয়নের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে কয়েকজন প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতার।
স্থানীয়রা জানান, নয়নের কোনো রাজনৈতিক পদ-পদবি না থাকলেও নিজেকে ক্ষমতাসীন দলের নেতা বলে পরিচয় দিতেন। জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি, সাবেক এমপি ও বর্তমান জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. দেলোয়ার হোসেনের ভায়রার ছেলে ছাত্রলীগ নামধারী রিফাত ফরাজী ও রিশানের সঙ্গে নয়নের ছিল ঘনিষ্ঠতা। কখনো কখনো তাদের সঙ্গে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতেন নয়ন। এরপর মাদক ব্যবসার পাশাপাশি এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের জন্য বিশাল সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে তোলেন নয়ন। নিয়ন্ত্রক হয়ে ওঠেন বরগুনা পৌর শহরের অপরাধ জগতের। এরপরও বীরদর্পে ও সদলবলে এলাকায় চলাফেরা করতেন নয়ন।
দুই বছর আগে বরগুনা পৌরসভার ৪ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শহিদুল ইসলাম নান্নাকে প্রকাশ্যে লাঞ্ছিত করেন নয়ন। এ ঘটনায় নান্না জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেনের কাছে বিচার দেন। তবে এ ঘটনায় তিনি কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি।
এরপর বাকিতে মালামাল বিক্রি করতে রাজি না হওয়ায় বিকেবি রোডের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী নয়া মিয়ার পা ভেঙে দিয়ে সন্ত্রাসী হিসেবে আলোচনায় আসেন নয়ন। এর কিছুদিন পর নয়নকে তার বাসা থেকে প্রায় ১৫ লাখ টাকা মূল্যের হেরোইন এবং দেশীয় ধারালো অস্ত্রসহ গ্রেফতার করে বরগুনা জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। এই মামলায় কিছুদিন কারাগারে থাকার পর জামিনে মুক্তি পেয়ে আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন নয়ন। এভাবেই বরগুনার ছিঁচকে চোর থেকে শীর্ষ সন্ত্রাসীদের তালিকায় নাম ওঠে নয়নের।
এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে প্রকাশ্যে স্ত্রীর সামনে স্বামী রিফাত শরীফকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করে নয়ন ও তার সহযোগীরা। হামলার একটি ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ার পর দেশজুড়ে শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা। ঘটনার পর আত্মগোপনে চলে যান নয়ন ও তার সহযোগীরা।
কোনো রাজনৈতিক পদ-পদবি না থাকলেও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি, সাবেক এমপি ও বর্তমান জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. দেলোয়ার হোসেনের ভায়রার ছেলে ছাত্রলীগ নামধারী রিফাত ও রিশানদের সঙ্গে চলাফেরা করায় কাউকেই পরোয়া করছিলেন না নয়ন। এমনকি দেলোয়ার হোসেনের বাসায় মাঝে মধ্যে কাজকর্ম করে নয়ন নিজেকে আওয়ামী লীগ প্রমাণের চেষ্টা করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি ও জেলা পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, নয়নতো দূরের কথা ভায়রার ছেলে রিফাত-রিশানদের সঙ্গে দুই বছর আগে সম্পর্ক ছিন্ন করেছি। এমনকি তাদের সন্ত্রাসীমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে ভায়রার ছেলে বলে তাদের পরিচয়ও দেই না। রিফাত-রিশান আমার কাছে ঘেঁষার সাহস পায় না। সুতরাং রিফাত-রিশানের সঙ্গে নয়নের ঘনিষ্ঠতা ছিল কি-না আমার জানা নেই। তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয়ার প্রশ্নই ওঠে না।
বরগুনা সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবীর হোসেন মাহমুদ বলেন, নয়নসহ পলাতক সকল আসামিকে ধরতে জোর প্রচেষ্টা চলছে। এরই মধ্যে দুই আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পাশাপাশি নয়নের অতীতের বিভিন্ন আলোচিত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের তথ্য সংগ্রহ করছি। ইতোমধ্যে কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। হত্যা মামলার তদন্তে অতীতের সব তথ্য বেরিয়ে আসবে।
উল্লেখ্য, গতকাল বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্ত্রী আয়েশাকে বরগুনা সরকারি কলেজে নিয়ে যান রিফাত। কলেজ থেকে ফেরার পথে মূল ফটকে নয়ন ও তার সহযোগীরা রিফাত শরীফের ওপর হামলা চালায়। এ সময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে রিফাত শরীফকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে তারা। রিফাত শরীফের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি দুর্বৃত্তদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেন। কিন্তু কিছুতেই হামলাকারীদের থামানো যায়নি। তারা রিফাত শরীফকে উপর্যুপরি কুপিয়ে রক্তাক্ত করে চলে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন রিফাত শরীফকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে রিফাত শরীফের মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় বুধবার রাতে নিহত রিফাতের বাবা দুলাল শরীফ বাদী হয়ে ১২ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। এ মামলায় বৃহস্পতিবার চন্দন, হাসান ও নাজমুল আহসান নামে তিন আসামিকে গ্রেফতারের কথা জাননিয়েছে পুলিশ।

শত চেষ্টা করেও স্বামীকে বাঁচাতে পারিনি

প্রথম কোপেই ওর শরীর থেকে ফিনকি দিয়ে রক্ত ঝরছিল। তারপরও ও বাঁচার জন্য ওদের থামানোর চেষ্টা করছিল। আর আমি পাগলের মতো একবার একজনকে বাধা দিতে থাকি। জাপটে ধরি। ওরা সমানে রিফাতকে কোপাচ্ছিল। নিজের সামনে স্বামীতে মারতে দেখেছি। রক্তের বন্যা দেখেছি। ওরা মানুষরূপী হায়েনা।
এভাবেই প্রকাশ্যে দিবালোকে স্বামী রিফাতের ওপর বর্বর হামলার বর্ণনা দিচ্ছিলেন আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি। চিৎকার করে কাঁদছিলেন মিন্নি। বলেন, আফসোস, হামলার সময় কোনো লোক এগিয়ে আসেনি। গতকাল সকালে বরগুনা পুলিশ লাইনের কাছে বাবার বাড়িতে সাংবাদিকদের তিনি এ সব কথা বলেন।
মিন্নি বলেন, বুধবার সকাল ৯টার দিকে স্বামী রিফাত শরীফের সঙ্গে বরগুনা সরকারি কলেজে আসি। সাড়ে ১০টার দিকে কলেজ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য রওনা দেই আমরা। এ সময় কলেজ সড়কের ক্যালিক্স কিন্ডার গার্টেনের সামনে বেশ কয়েকজন যুবক আমাদের গতিরোধ করে। সেই সঙ্গে রিফাত শরীফকে মারধর শুরু করে। এর মধ্যেই চাপাতি নিয়ে ঘটনাস্থলে হাজির হয় নয়ন বন্ড ও রিফাত ফরাজী। এরপরই রিফাত শরীফকে নির্মমভাবে চাপাতি দিয়ে কোপাতে থাকে নয়ন বন্ড ও রিফাত ফরাজী। আমি তাদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু কিছুতেই দমাতে পারিনি। ভিডিওতে যাদের পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে মূলত তারাই প্রথমে রিফাত শরীফ ও তার পথ আটকে দিয়েছিল বলে জানান আয়েশা আক্তার মিন্নি।
কাঁদতে কাঁদতে মিন্নি বলেন, প্রায়ই নয়ন আমাকে নানাভাবে বিরক্ত করতো। কলেজে গেলে আমার রিকশার উপর উঠে বসে। আমাকে উত্ত্যক্ত করতে থাকে। কথা বলার জন্য হুমকি দিতে থাকে। ভয়ে আমি কাউকে কিছু বলতে পারিনি। পরে বিষয়টি পরিবারকে জানালে তারা আমাকে রিফাতের সঙ্গে বিয়ে দেয়। ভালোভাবেই ছিলাম আমরা। কিন্তু নয়ন এই ঘটনা ঘটালো। আমি আমার স্বামী হত্যার বিচার চাই। প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমি বিচারের দাবি করছি। প্রধানমন্ত্রী নারী আমিও নারী আশা করি তিনি এ হত্যার বিচার করবেন।
উল্লেখ্য, বুধবার সকাল সোয়া ১০টার দিকে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে শত শত লোকের উপস্থিতিতে স্ত্রীর সামনে রিফাত শরীফকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। তার স্ত্রী আয়েশা আক্তার মিন্নি হামলাকারীদের সঙ্গে লড়াই করেও তাদের দমাতে পারেননি। একাধারে রিফাতকে কুপিয়ে বীরদর্পে অস্ত্র উঁচিয়ে এলাকা ত্যাগ করে হামলাকারীরা। গুরুতর আহত রিফাতকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে বিকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
১২ জনের নামে মামলা, গ্রেপ্তার ১, সীমান্তে রেড এলার্ট
রিফাত শরীফকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় ১২ জনকে আসামি করে মামলা করেছেন রিফাতের বাবা দুলাল শরীফ। গতকাল সকাল ৯টার দিকে ১২ জনের নাম উল্লেখ করে বরগুনা সদর থানায় এই হত্যা মামলা দায়ের করেন তিনি। মামলার প্রধান আসামি করা হয়েছে খুনের মূল হোতা হিসেবে অভিযুক্ত সাব্বির হোসেন নয়নকে। সে এলাকায় ‘নয়ন বন্ড’ নামেও পরিচিত। দুই নম্বর আসামি রিফাত ফরাজী, তিন নম্বর আসামি রিশান ফরাজী, চার নম্বর আসামি চন্দন। এর মধ্যে চন্দনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। বরগুনার পুলিশ সুপার মো. মারুফ হোসেন এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। বরগুনায় রিফাত শরীফকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে পুলিশের বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি মো. শফিকুল ইসলাম বলেছেন, নৃশংস ঘটনা ঘটেছে বরগুনায়। যারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে, তাদের আমরা চিহ্নিত করতে পেরেছি। একজন গ্রেপ্তার হয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত আছে। এদের আমরা আইনের আওতায় আনবোই। গতকাল সকাল ১১টার দিকে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। বরগুনা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। বরগুনার পুলিশ সুপার মো. মারুফ হোসেন জানান, হত্যার ঘটনায় ১২ জনকে আসামি করে মামলা করেছেন রিফাতের বাবা দুলাল শরীফ। মামলার চার নম্বর আসামি চন্দনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে। এদিকে এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার আসামিরা যেন দেশত্যাগ করতে না পারে, সে বিষয়ে সীমান্তে রেড এলার্ট জারি করতে পুলিশের আইজিকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। গতকাল বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ নির্দেশ দেন। এর আগে ঘটনার বিষয়ে বরগুনার জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন, তা দুপুরের মধ্যে আদালতকে জানানোর জন্য ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বাশারকে নির্দেশ দেয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় দুপুরে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আদালতকে জানান, আপনাদের আদেশের পর বরগুনার ডিসি, এসপি ও সদর থানার ওসির সঙ্গে কথা হয়েছে। তারা জানিয়েছেন, ওই ঘটনায় ভিকটিমের (রিফাত) বাবা ১২ জনকে আসামি করে মামলা করেছেন। এর মধ্যে চার নম্বর আসামিকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখনো মাঠে আছে। তখন আদালত বলেন, একটি সরকারি কলেজের সামনে দিন দুপুরে এ ঘটনা ঘটেছে। দুপুর ১১টার ঘটনা, অথচ মামলা হয়েছে পরের দিন সকালে।আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পদক্ষেপ জোরালো মনে হচ্ছে না।
এ পর্যায়ে আদালত বলেন, এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যতটা তৎপর হওয়া উচিত ছিল, তা মনে হয়নি। বরগুনার পাশে সুন্দরবন ও তার পাশে কয়েকটি বর্ডার রয়েছে। আসামিরা যাতে বর্ডার ক্রস করতে না পারে, সেজন্য পুলিশের আইজিকে পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেয়া হলো। আমরা আপাতত কোনো আদেশ বা রুল জারি করছি না। তবে এ মামলায় কোনো অনিয়ম হয় কিনা, তা আমরা নজরে রাখবো।
এ ছাড়া রিফাত শরীফ হত্যাকারীদের যেকোনো মূল্যে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
রিফাত হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন, পুলিশ অত্যন্ত কঠোর অবস্থানে আছে। যারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত তাদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলছে।
আইনশৃঙ্খলার অবনতি মনে করেন না স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম থেকে জানান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, বরগুনায় রিফাত নামে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যার ঘটনাকে তিনি সার্বিকভাবে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি বলে মনে করেন না। এ ঘটনায় জড়িত দু’জনকে পুলিশ ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করেছে। গতকাল দুপুরে বাংলাদেশ উইমেন পুলিশ অ্যাওয়ার্ড-২০১৯ উপলক্ষে চট্টগ্রাম মহানগরীর কাজীর দেউড়িস্থ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেয়ার পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা বলেন।
আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, পুলিশ অপরাধীদের ধরতে শুরু করেছে। তারা কেন এই ঘটনা ঘটিয়েছে, তারা কারা- সেটা তদন্ত করার পর আমরা জানতে পারবো। তবে ঘটনার পর পুলিশ কিন্তু বসে নেই। আমরা দৃঢ়গলায় বলতে পারি, যত ঘটনাই ঘটুক বাংলাদেশে, আমাদের পুলিশের দক্ষতা, সক্ষমতা বেড়েছে। আগের মতো পিছিয়ে পড়া পুলিশ আমাদের নেই।
তিনি বলেন, আমি সব সময় বলি, আপনি যদি ১০ বছর আগের পুলিশ আর এখনকার পুলিশের চিন্তা করেন, তাহলে ভুল করবেন। আমাদের পুলিশ এখন অনেক সক্ষম, অনেক দক্ষ। আমার কাছে এই মুহূর্তের খবর হচ্ছে দু’জনকে পুলিশ ধরে ফেলেছে। যারা এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিল তাদের সবাইকে গ্রেপ্তার করা হবে।

রোহিঙ্গা ফেরতে চীনের হস্তক্ষেপ চাইবেন প্রধানমন্ত্রী: ৭ চুক্তির সম্ভাবনা by মিজানুর রহমান

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অত্যাসন্ন চীন সফরে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে দেশটির একান্ত সহযোগিতা চাওয়ার পাশাপাশি অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হবে। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, রোহিঙ্গা সংকটের শান্তিপূর্ণ এবং টেকসই সমাধান বিশেষ করে বাস্তুচ্যুত ১১ লাখ মিয়ানমার নাগরিককে রাখাইনে তাদের বসতভিটায় ফেরানোর প্রক্রিয়া দ্রুততর করার বিষয়ে চীনের হস্তক্ষেপ চাইবে বাংলাদেশ। ঢাকা চায় মিয়ানমারের ওপর চীনের যে প্রভাব রয়েছে সেটা কাজে লাগিয়ে বন্ধু এবং উন্নয়ন সহযোগী হিসাবে বাংলাদেশকে তারা এ সংকট উত্তরণে সহায়তা করুক। সরকার প্রধানের বেইজিং সফরে রোহিঙ্গা সংকটই মুখ্য আলোচ্য হবে জানিয়ে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বলেন, সফরে অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিষয়টিও সমান গুরুত্ব পাবে। ২০১৬ সালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিংয়ের সফরে দুই দেশের মধ্যকার সহযোগিতা জোরদারকরণে সরকারি-বেসরকারি মিলে প্রায় ৩০ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ মূল্যের ২৭টি চুক্তি-সমঝোতা এবং অঙ্গীকার সই হয়েছে। এসবের দ্রুত বাস্তবায়নে জোর দেয়া ছাড়াও নতুন করে আরও ৭টি চুক্তি ও সমঝোতা সইয়ের বিষয়ে আলোচনা হবে।
দেশটির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বৈঠকের পর ওই সব চুক্তি- সমঝোতা সইয়ের কথা রয়েছে। চুক্তিগুলোর মধ্যে ৩টি ডিপিডিসি সংক্রান্ত। ডিপিডিসি এলাকার বিদ্যুৎ নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ এবং শক্তিশালীকরণে একটি ফ্রেমওয়ার্ক এগ্রিমেন্ট, এ সংক্রান্ত প্রজেক্টের পৃথক লোন এগ্রিমেন্ট এবং প্রফেশনাল বায়ার্স ক্রেডিট লোন এগ্রিমেন্ট।
চতুর্থ যে চুক্তিটি হবে সেটি হলো- দুই দেশের মধ্যকার অর্থনৈতিক এবং টেকনিক্যাল কো-অপারেশন জোরদার সংক্রান্ত। পঞ্চমত: বিনিয়োগ সহযোগিতা বিষয়ক ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক। ৬ষ্ঠ: ইয়ালো জাংবো বা ব্রম্মপূত্র নদের হাইড্রোলজিক্যাল ইনফোরমেশন শেয়ারিং সংক্রান্ত সমঝোতা এবং সর্বশেষ প্রস্তাবিত চুক্তিটি হচ্ছে- পরস্পরিক সংস্কৃতি বিনিময় সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক। উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী পাঁচ দিনের সরকারি সফরের আগামী ১লা জুলাই চীন যাচ্ছেন। সফরের সূচনাতে তিনি দেশটির দালিয়ানে (২-৩ জুলাই) বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের বার্ষিক সম্মেলনে যোগ দিবেন। পরে তিনি বেইজিং যাবেন। সেখানে চীনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে বাসস জানিয়েছে, সফরকালে শেখ হাসিনা চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কেকিয়াং-এর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক এবং প্রেসিডেন্ট শি জিন পিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।
২ জুলাই স্থানীয় সময় সকালে লিয়াওনিং প্রদেশের দালিয়ানে পৌছাবেন প্রধানমন্ত্রী। বিমানবন্দরে অভ্যর্থনা শেষে আনুষ্ঠানিক মোটর শোভাযাত্রা সহকারে তাকে সাংগ্রিলা হোটেলে নিয়ে যাওয়া হবে। দালিয়ান সফরকালে তিনি এ হোটেলেই অবস্থান করবেন। ওই দিন সকালে দালিয়ান ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স সেন্টারে অনুষ্ঠেয় ডব্লিউইএফ সামার দাভোস সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে যোগ দিবেন তিনি। পরে অথনৈতিক ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা নির্বাহী চেয়ারম্যান ক্লস শোয়াবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। বিকেলে দালিয়ান ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স সেন্টারে শোয়াবের দপ্তরে অনুষ্ঠেয় ‘কো-অপারেশন ইন দ্যা প্যাসিফিক রিম’ শীর্ষক প্যানেল আলোচনায় অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। ৩রা জুলাই তিনি চীন সরকারের সরবরাহকৃত একটি ভাড়া করা বিমানে বেইজিং পৌঁছাবেন। বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে দিয়ায়োতাই স্টেট গেস্ট হাইজে নিয়ে যাওয়া হবে। চীনের রাজধানীতে সফরকালে তিনি ওই হোটেলেই অবস্থান করবেন। বিকেলে তিনি বেইজিংয়ের লিজেনডাল হোটেলে প্রবাসী বাংলাদেশীদের এক সংবর্ধনা ও নৈশভোজে যোগ দিবেন। ৪ঠা জুলাই সকালে তিনি গ্রেট হল অব দ্য পিপলে বীরদের স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। পরে তিনি চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কেকিয়াংয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন এবং গ্রেট হল অব দ্য পিপলে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। প্রধানমন্ত্রী গ্রেট হল অব দ্য পিপলে চীনের প্রধানমন্ত্রী আয়োজিত ভোজসভায় অংশ নিবেন। একই দিন বিকেলে সিসিপিআইটিতে চীনা ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বিজনেস রাউন্ডটেবিল বৈঠকে অংশ নিবেন।
৫ই জুলাই সকালে প্রধানমন্ত্রীর চাইনিজ থিংক ট্যাংক ‘পাঙ্গোয়াল ইনস্টিটিউশন’ আয়োজিত অনুষ্ঠানে ব্যক্তব্য রাখার কথা রয়েছে। চীনের বিভিন্ন কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাগণ শেখ হাসিনার অবস্থানকালীন আবাসে তাঁর সঙ্গে দেখা করার কথা রয়েছে এবং এনপিসি’র চেয়ারম্যান লি ঝাংশুর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর একটি বৈঠক হবে। বিকেলে প্রধানমন্ত্রী চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দিয়াওইয়ুতাই রাষ্ট্রীয় অতিথিশালায় বৈঠক করবেন। প্রধানমন্ত্রী একই স্থানে চীনা প্রেসিডেন্ট আয়োজিত ভোজ সভায়ও অংশ নেবেন। চীন সফর শেষে ৬ জুলাই দেশে ফিরবেন তিনি।

সিপিডি’র সেমিনার: এক শ্রেণির মানুষের উন্নয়নে এসডিজি বাস্তবায়ন সম্ভব নয়

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জন করতে হলে দেশের প্রতিটি জনপদের মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন করতে হবে। শুধুমাত্র এক শ্রেণির মানুষের জীবনমান উন্নয়নের মাধ্যমে এসডিজি বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। এজন্য সুষম বণ্টন নিশ্চিত করে আয় বৈষম্য কমিয়ে আনা প্রয়োজন। গতকাল রাজধানীর গুলশানে ‘হোয়াট টাইপ অব ডেমক্রেটিক প্র্যাকটিস আর সুইটেবল ইন এসডিজি’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এ মন্তব্য করে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। সিপিডির বিশেষ ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমানের সঞ্চালনায় আলোচনায় অংশ নেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান রেহমান সোবহান, সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরী, রাশেদ খান মেনন, বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত ড. রিনি হলেনস্ট্রিন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিপিডির বিশেষ ফেলো অধ্যাপক রওনক জাহান, ফাহমিদা খাতুন, গবেষণা পরিচালক  মোয়াজ্জেম হোসেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সুইস লেখক পিটার নিগিলি।
মূল প্রবন্ধে পিটার নিগিলি বলেন, এসডিজির মোট ১৭ অভীষ্টের মধ্যে প্রধান ৬টি বাস্তবায়নে ৬৮টি লক্ষ্য ও ৯৫টি সূচক বেঁধে দেয়া হলেও বেশ কিছু লক্ষ্য ও সূচকে অগ্রগতির তথ্য বাংলাদেশে নেই। তবে শিক্ষা, শোভন কর্ম, অসমতা, জলবায়ু, শান্তি ও ন্যায়বিচার এবং উন্নয়ন অংশিদারিত্ব সংক্রান্ত ছয় অভীষ্টের মাত্র ৩৮টি লক্ষ্য ও ৫০টি সূচকের অগ্রগতির সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেছে।
আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে এসডিজি অর্জন করতে হলে একটি বৈষম্যহীন সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন। উন্নয়ন যেন সর্বক্ষেত্রে হয় এবং দেশের প্রতিটি মানুষ যেন এ থেকে সুবিধা পেতে পারে। গত কয়েক বছরে নিম্ন মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার হার ১৯৯৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৩০ শতাংশ বেড়েছে। সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এমডিজি) বাস্তবায়নকালের তুলনায় এসডিজি সময়কালে শিক্ষার হার বেড়েছে। তবে শিক্ষা সমাপ্তি, প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষায় অন্তর্ভূক্তি, স্বাক্ষরতার হার বৃদ্ধি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ, প্রযুক্তি ও স্যানিটেশন নিশ্চিত করার মতো সূচকে আরও উন্নতি করতে হবে।
সিপিডির চেয়ারম্যান রেহমান সোবহান বলেন, যা কিছুই করি না কেন আমাদের পরিবেশের দিকেও নজর দিতে হবে। তা না হলে পরিবেশ আমাদের সঙ্গে বিরূপ আচরণ শুরু করবে। টেকসই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এটিও একটি অন্যতম দিক। কার্বন উৎপন্ন হয় এমন যানবাহন এবং কলকারখানায় বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দেন তিনি। রেহমান সোবহান বলেন, এসডিজি লক্ষ্য অর্জনের পথে আমরা বলছি, নোবডি লেফট বিহাইন্ড। সেফটিনেটের নানা প্রোগ্রামও সরকার পরিচালনা করছে। প্রান্তিকের সুবিধাবঞ্চিত নাগরিক বা ব্রাত্যজন যাদের বলা হচ্ছে, তাদের এই প্রোগ্রামের আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি সব ধরনের উন্নয়নকাজে তাদেরও অংশীদার করতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, বর্তমান সরকরের বেশ কয়েকটি ভিশন ও মিশন রয়েছে। এর মধ্যে এসডিজি একটি। এমডিজির মতো আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে এসডিজিও বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে। তিনি বলেন, আগামী বাজেটেও দেশের প্রান্তিক ও পিছিয়ে পড়া মানুষের জন্য বেশকিছু কর্মসূচি রাখা হয়েছে। এছাড়া সরকার আমার গ্রাম আমার শহর কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে শহরের মতো গ্রামের মানুষের সব ধরনের নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত হবে। মানুষের আয় বৈষম্য যাতে কমে আসে সেজন্য কাজ করা হচ্ছে। পিছিয়ে পড়া মানুষের জন্য সামাজিক সুরক্ষার আওতায় সেবা দেয়া হচ্ছে। এ কারণে দ্রুত দেশে দারিদ্র্যতা হ্রাস পাচ্ছে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য রাশেদ খান মেনন বলেন, আমাদের সংসদে যেসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয় তাতে প্রান্তিক জনগণের উন্নয়নের কথা খুব কম। মাত্র তিন মিনিট হয় গরীব মানুষের কথা বাকি সবসময় জুড়ে অন্যান্য আলোচনায় ব্যস্ত থাকে সংসদ। বর্তমান সংসদ গরিব মানুষের প্রতিনিধিত্ব করে না।
সিপিডির বিশেষ ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, যে কোন দেশের উন্নয়নের জন্য প্রত্যেকটি মানুষকে জাতীয় কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে হবে। এছাড়া উন্নয়ন টেকসই হবে না। পাশাপাশি ধনী গরিবের বৈষম্য যেন বৃদ্ধি না পায় সেদিকে নজর দেয়ার পরামর্শ দেন এই অর্থনীতিবিদ।
এদিকে এসডিজির মোট ১৭টি লক্ষ্যমাত্রা, ১৬৯টি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য এবং ২৩০টি ইন্ডিকেটর রয়েছে। ১৭টি লক্ষ্যমাত্রার ছয়টি নিয়ে এ গবেষণা চালানো হয়। এসডিজি বাস্তবায়নের অগ্রগতি মূল্যায়নে পর্যাপ্ত অর্থ ও তথ্য সংকটকে অন্যতম বাধা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, এসডিজি বাস্তবায়নেও সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে অর্থের সঙ্কট। আরেকটা সঙ্কট হলো তথ্যের অভাব।

শ্রীলঙ্কায় মুসলিমদের গণগ্রেপ্তার: ইইউ’র উদ্বেগ

ইস্টার সানডেতে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার পর শ্রীলঙ্কায় বাছবিচারহীনভাবে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে মুসলিমদের। সামান্য অজুহাত পেলেই এমন গ্রেপ্তারের শিকার হচ্ছেন তারা। গ্রেপ্তার ও পুলিশি হয়রানি বৃদ্ধির এমন দাবি করেছেন মুসলিম, অধিকারকর্মী ও রাজনীতিকরা। এ অবস্থায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। গত ১২ জুন বুধবার তারা এক বিবৃতিতে শ্রীলঙ্কার মুসলিম সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় চাপ সৃষ্টিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে। এতে আরো বলা হয়, এর ফলে দেশটির শান্তি ও পুনরেকত্রীকরণ নষ্ট হচ্ছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন আল জাজিরা।
শ্রীলঙ্কা পুলিশের মুখপাত্র রুয়ান গুনসেকারা বলেছেন, ইস্টার সানডে হামলার সঙ্গে জড়িত অথবা সংশ্লিষ্ট ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে এ পর্যন্ত ২২৮৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এর মধ্যে মুসলিমের সংখ্যা ১৮২০। কাউকে কাউকে তার পোশাকের কারণে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার করা এসব মানুষের মধ্যে ১৬৫৫ জনকে জামিনে মুক্তি দেয়া হয়েছে। ৬৩৪ জন এখনো নিরাপত্তা হেফাজতে আছেন। হয়তো তাদেরকে রিমান্ডে নেয়াহয়েছে না হয় তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। রিমান্ডে নেয়া হয়েছে ৪২৩ জনকে। এর মধ্যে ৩৫৮ জনই মুসলিম।
শুধু পোশাকের কারণে ১৭ই মে পুলিশ গ্রেপ্তার করে ৪৭ বছর বয়সী একজন নারী আবদুল রহিম মাজাহিনাকে। তিনি যে পোশাক পরেছিলেন তাতে ছিল জাহাজের চাকার ছবি। কিন্তু মাজাহিনাকে পুলিশ বলেছে, তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ওই পোশাকের কারণে। কারণ, ওই পোশাকে যে চাকার ছবি, তা আসলে ধর্মচক্রের। ধর্মচক্র হলো বৌদ্ধদের ধর্মীয় প্রতীক। ফলে তিনি এই পোশাক পরে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দিয়েছেন। অ্যাজমা ও উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত মাজাহিনা এই পোশাক পরেছেন এর আগে অনেকবার। কিন্তু কেউ এ বিষয়ে কিছু বলেন নি তাকে। তাই তিনি বলেন, যদি ওই ছবি ধর্মচক্রের হয়েই থাকে তাহলে কেউ তাকে বিষয়টি জানাতে পারতো। কিন্তু শ্রীলঙ্কার বৌদ্ধ ধর্ম বিষয়ক ডিপার্টমেন্ট পরে কর্তৃপক্ষকে বলেছে, মাজাহিনার পরা ওই পোশাকের ছবিটি প্রকৃতপক্ষে ধর্মচক্রের কিনা তা তারা নিশ্চিত হতে পারে নি।
রাজধানী কলম্বো থেকে ১৩০ কিলোমিটার পূর্বে হাসালাকা এলাকা। সেখানে ঘৃণাপ্রসূত আইনের অধীনে পুলিশ অভিযোগ গঠন করেছে মাজাহিনার বিরুদ্ধে। ওই আইনে ধর্ম অবমাননা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ কথা বলেছেন মাজাহিনার আইনজীবী ফাতিমা নুসরা জারুক। উল্লেখ্য, গত ২১শে এপ্রিল শ্রীলঙ্কায় ইস্টার সানডে’র প্রার্থনা সভা চলার সময় ৩টি গির্জা ও কয়েকটি বিলাসবহুল পাঁচ তারকা হোটেলে সন্ত্রাসীরা আত্মঘাতী বোমা হামলা করে। এতে কমপক্ষে ২৫০ জন নিহত ও ৫০০ মানুষ আহত হয়েছেন। ওই হামলার দায় স্বীকার করেছে জঙ্গি গোষ্ঠী আইএস।
মাজাহিনার মতো অনেক মানুষ নির্যাতিত হচ্ছেন। তাদের কান্না কেউ শুনছে না। অঝোরে কাঁদতে কাঁদতে তিনি বলেছেন, আমাকে পুলিশ স্টেশনে নিয়ে ওসি মাথার স্কার্ফ খুলে ফেলতে বাধ্য করেন। এ সময় অন্য অফিসাররা আমার ছবি তুলতে থাকেন। ১৭ দিন জেলে আটকা ছিলেন তিনি। ওই সময়ে বার বার প্রহরীরা তাকে একজন ‘সন্ত্রাসী’ বলে ডাকতো। ৩রা জুন তাকে জামিনে মুক্তি দিয়েছে ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট। তবে তাকে আবার নভেম্বরে আদালতে হাজিরা দিতে হবে। যদি তিনি অভিযুক্ত হন, তাহলে তার দু’বছর পর্যন্ত জেল হতে পারে। জেলে থাকা অবস্থায় তার রক্তের চাপ বেড়ে গেছে। জামিন পেয়ে বাড়ি ফিরলেও অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তার স্বামী মুনাফ একজন দিনমজুর। তাকে দেখাশোনা করতে তিনি কাজে যেতে পারছেন না। এর ফলে ওই পরিবারটির এখন কোনোই আয়ের উৎস নেই।
শ্রীলঙ্কায় মানবাধিকার বিষয়ক সরকারি সংস্থা হিউম্যান রাইটস কমিশন অব শ্রীলঙ্কা (এইচআরসিএসএল)। এর চেয়ারপারসন দীপিকা উদুগামা। তিনি বলেছেন, তারা মুসলিমদের খেয়ালখুশিমতো গ্রেপ্তারের বেশ কিছু অভিযোগ পেয়েছেন। তার ভাষায়, এমন গ্রেপ্তারের বিষয়টি উদাহরণসহ আমরা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিদর্শকের কাছে লিখিতভাবে জানাবো এবং আমাদের সুপারিশগুলো তুলে ধরবো। উদ্ভূত অবস্থায় আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।
ওদিকে ২০১৭ সালে জাতিসংঘের ওয়ার্কিং গ্রুপ অন আরবিট্রারি ডিটেনশন শীর্ষক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শ্রীলঙ্কায় ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থায় সিস্টেমেটিক সমস্যা চিহ্নিত করা হয়েছে। এমন ব্যবস্থায় বিবাদী খেয়ালখুশি মতো আটক হওয়ার ঝুঁকিতে থাকেন। ইস্টার সানডে হামলার আগে এমন গ্রেপ্তারের টার্গেটে ছিলেন জাতিগত তামিলরা, যারা হিন্দু ও খ্রিষ্টান। উল্লেখ্য, স্বাধীনতাকামী লিবারেশন টাইগারস অব তামিল এলমের (এলটিটিই) বিরুদ্ধে ২৬ বছরের গৃহযুদ্ধ হয় শ্রীলঙ্কায়। এলটিটিই একটি স্বাধীন তামিল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করছিল।
মুসলিমদের বিরুদ্ধে খেয়ালখুশি মতো গ্রেপ্তারের বিষয়ে পুলিশের কি কোনো উদ্বেগ আছে? এমন প্রশ্নের জবাবে মুখপাত্র রুয়ান গুনসেকারা বলেন, এটা আমি কীভাবে বলতে পারি? যদি কারো কোনো আপত্তি থাকে তাহলে তারা পুলিশ সদর দপ্তরে অথবা এইচআরসিএসএলে তাদের আপত্তি জানাতে পারেন। তিনি জানান, পুলিশ সদর দপ্তরে এখন পর্যন্ত এমন কোনো অভিযোগ যায় নি।
বাদুল্লা জেলার জেজিমা (ছদ্মনাম)। তার বয়স ৫৮ বছর। তিনি আল জাজিরাকে বলেছেন, পুলিশি হেফাজতে থাকা তার স্বামী নিখোঁজ। এ বিষয়ে তিনি অভিযোগ দিতে গিয়েছিলেন। কিন্তু বাদুল্লা পুলিশ তার অভিযোগ গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। তার স্বামীর কাছে দুটি পাসপোর্ট ছিল। তাই তাকে পুলিশ স্টেশনে ডেকে নেয়া হয়েছিল এর কারণ ব্যাখ্যা করতে। বিষয়টি জানতেন না জেজিমা। তিনি বলেন, আমার স্বামীর দুটি পাসপোর্ট থাকা একটি সাধারণ বিষয়। তার একটি পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছিল। অন্যটি চলমান। আমার স্বামী পুলিশ স্টেশনে যাওয়ার পর আর কখনো তিনি ফিরে আসেন নি। এমন কি তিনি কোথায় আছেন তাও বলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে পুলিশ।
তা সত্ত্বেও তিনি ১২ দিন ধরে এখানে ওখানে খুঁজেছেন তার স্বামীকে। তারপর সহায়তা চেয়েছেন এইচআরসিএসএলে। তারা অনুসন্ধান করে তার স্বামীর হদিস পায় কলম্বোতে ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্টে (সিআইডি)। জেজিমাকে সিআইডি নিশ্চিত করে যে, ৩রা জুনই তার স্বামীকে ছেড়ে দেয়া হবে। তারপর কেটে গেছে এক সপ্তাহের বেশি সময়। কিন্তু জেজিমার স্বামী ফেরেন নি।
নষ্ট হয়ে যাওয়া একটি মেমোরি কার্ড কাছে থাকার জন্য গ্রেপ্তার করা হয়েছিল ২০ বছর বয়সী আসলাম রিজভিকে। অন্যদিকে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল তারই প্রতিবেশী ১৯ বছর বয়সী আবদুল আরিসকে। তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন আল জাজিরার সাংবাদিক। মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেছেন শ্রীলঙ্কা মুসলিম কংগ্রেসের নেতা রউফ হাকিম। মুসলিমদের সুরক্ষা দিতে সরকারের ব্যর্থতার কথা গত সপ্তাহে তুলে ধরেছেন তিনি। রউফ হাকিম বলেছেন, সামান্য কারণে মুসলিমদের হয়রানি ও আটক করা হচ্ছে। তার ভাষায়, এটা সত্য যে, ২১শে এপ্রিল সন্ত্রাসী হামলাকারীরা আমাদের সম্প্রদায়েরই। কিন্তু ওই হামলার প্রথম দিন থেকেই ওইসব সন্ত্রাসীদের মূলোৎপাটনে তিন বাহিনীকে সহায়তা করে যাচ্ছে মুসলিম সম্প্রদায়। এ প্রক্রিয়া চলাকালে আমরা তীব্র দুর্ভোগে পড়েছি।
মুসলিমদের বিরুদ্ধে এই দমনপীড়ন বিশেষ করে তীব্র হয়েছে কাত্তানকুড়িতে। এটি পূর্ব উপকূলীয় শহর। ইস্টার বোমা হামলার মূলহোতা জাহারান হাশিমের বসবাস ছিল ওই এলাকায়। কাত্তানকুড়িতে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন লেকচারার  বলেছেন, এখন এখানকার সবাই ভীতসন্ত্রস্ত। অনেক নিরপরাধ মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আমাদের (মুসলিম) কাউকে দেখে যদি কারো সামান্য সন্দেহ হয়, অমনি তারা পুলিশে কল দেয়।
শ্রীলঙ্কায় মুসলিমদের নাগরিক অধিকারের পরামর্শ দিয়ে থাকে অল সাইলন জমিয়াতুল উলেমা নামের একটি সংগঠন। তাদেরকে পার্লামেন্ট সিলেক্ট কমিটির সামনে সাক্ষ্য দিতে হচ্ছে। এই সংগঠনের নেতৃত্বে রয়েছেন মুফতি রিজভি। তিনি ওই কমিটির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, খেয়ালখুশি মতো গ্রেপ্তার বৃদ্ধির বিষয়ে অবিলম্বে পদক্ষেপ নিতে। শ্রীলঙ্কার মোট জনসংখ্যার চার ভাগের মধ্যে তিন ভাগই বৌদ্ধ। মোট জনসংখ্যার শতকরা ১০ ভাগেরও কম মুসলিম। বাকি রয়েছেন হিন্দু ও খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের মানুষ।

বিপজ্জনক পরিণতির দিকে মার্কিন-ইরান উত্তেজনা

রাশিয়া বলেছে, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নতুন নিষেধাজ্ঞা তেহরান-ওয়াশিংটন উত্তেজনাকে একটি বিপজ্জনক পরিণতির দিকে নিয়ে যাচ্ছে। মালদ্বীপ সফররত রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ ২৬ জুন সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন। একই সাথে রাশিয়া ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রতিহত করারও ঘোষণা দিয়েছে। অন্য দিকে ইরানের বিরুদ্ধে জোট গড়ার চেষ্টার অংশ হিসেবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও ভারত সফরে এসেছেন।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি ও তার কার্যালয় এবং দেশটির শীর্ষস্থানীয় নেতাদের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার প্রতি ইঙ্গিত করে ল্যাভরভ বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের সিনিয়র কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগতভাবে টার্গেট করে যে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন তা খুবই উদ্বেগজনক। তার মতে, বর্তমান উত্তেজনাকর পরিস্থিতি ২০০৩ সালের কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে যখন যুক্তরাষ্ট্র ইরাকে আক্রমণ চালানোর জন্য একটি অজুহাত খুঁজছিল।
উল্লেখ্য, ইরাকে গণবিধ্বংসী অস্ত্র থাকার দাবি করে ২০০৩ সালে দেশটিতে আগ্রাসন চালানোর নির্দেশ দেন তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডাব্লিউ বুশ। সেটি স্মরণ করিয়ে দিয়ে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সে সময় ওয়াশিংটন দাবি করেছিল, ইরাকের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনের কাছে গণবিধ্বংসী অস্ত্র আছে। কিন্তু ইরাক দখলের পর এ ধরনের কোনো অস্ত্র সেখানে পাওয়া যায়নি। ল্যাভরভ বলেন, যুদ্ধের পরিণতি কি হয় তা আমরা সবাই জানি। ২০০৩ সালের মে মাসে যুক্তরাষ্ট্র ইরাকে ‘গণতন্ত্রের বিজয়’ ঘোষণা করে। কিন্তু গত ১৬ বছর ধরে আমরা সে গণতন্ত্রের স্বরূপ হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত সোমবার ইরানের সর্বোচ্চ নেতা, তার কার্যালয় ও ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসির আট শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। মার্কিন অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, চলতি সপ্তাহেই ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফের ওপরও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হবে।
মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রতিহত করবে রাশিয়া : ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞাকে ‘বেআইনি’ উল্লেখ করে রাশিয়া বলেছে, তারা নিষেধাজ্ঞা জারি করে মার্কিন প্রেসিডন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে নতুন কিছু করতে চাইলে মস্কো তা প্রতিহত করবে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে রাশিয়ার উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই রিয়াবকোভ এ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
একটি রুশ বার্তা সংস্থাকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন এ নিষেধাজ্ঞা শুধু উত্তেজনাই বৃদ্ধি করবে। ট্রাম্প প্রশাসনের উচিত ইরানের সাথে আলোচনায় বসা। তবে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে রাশিয়া কী পদক্ষেপ নেবে, তা স্পষ্ট করেননি তিনি। এর আগে গত সোমবার নতুন এ নিষেধাজ্ঞার সমালোচনা করে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ ব্রিফিংয়ে বলেছেন, আমরা ভেবে দেখেছি এ নিষেধাজ্ঞা বেআইনি।
এদিকে মস্কোয় গত সোমবার রিয়াবকোভের সাথে মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সামি শুকরা ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী মোহাম্মদ যাকি সাক্ষাৎ করেছেন। সেখানে আলোচনাকালে রুশ উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী সিরিয়াসহ মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেন।
ইরানবিরোধী জনমত গড়তে ভারতে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী : ইরানের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞার পক্ষে সমর্থন বাড়াতে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত সফরের পর ভারত এসেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও। আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা এস-৪০০ কেনা নিয়ে নিয়ে ভারতের সাথে রাশিয়ার অস্ত্রচুক্তি এবং ইরান থেকে তেল কেনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তির বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিশেষ বার্তা নিয়ে এসেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
খবরে বলা হয়, মঙ্গলবার রাতে নয়াদিল্লি পৌঁছেন মাইক পম্পেও। গতকাল বুধবার দুপুরে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সাথে বৈঠক করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাথেও বৈঠক করবেন পম্পেও।
জানা গেছে, রাশিয়ার আকাশ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা এস-৪০০ কিনতে আগ্রহী ভারত। তবে এতে ঘোরতর আপত্তি রয়েছে ট্রাম্প প্রশাসনের। রাশিয়ার কাছ থেকে সর্বাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধব্যবস্থা কেনার দিকে এগিয়ে গেলে ভারতকে তার মূল্য দিতে হবে আগেই সতর্ক করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। এ ছাড়া অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞারও হুমকি দেয়া হয়েছে।
এনডিটিভির খবরে বলা হয়, রাশিয়ার সাথে ভারতের ৫ বিলিয়ন ডলারের এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র চুক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তির বিষয়ে গতকালের বৈঠকে আলোচনা হয়। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে এ বিষয়ে ভারতের অবস্থানও স্পষ্ট করে বুঝিয়ে দেয়া হয়। চলতি সপ্তাহে জাপানের ওসাকায় জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে বৈঠক করবেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তার আগে ভারত সফরে এলেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও।
সূত্র : এএফপি, রয়টার্স ও এনডিটিভি

৩ বছর ধরে দাঁড়িয়ে আছে খাম্বা, ব্রীজ গেল কই? by কাজী আনিছুর রহমান

নওগাঁর রাণীনগরের কাশিমপুর ইউনিয়নের সর্বরামপুর গ্রামে তিন বছরেও শেষ হয়নি ফুট ব্রীজের নিমার্ণ কাজ। খালের দুই পাড়ে শুধুমাত্র সাড়ে ১৮ লাখ টাকা ব্যায়ে খাম্বা তৈরির পর নিমার্ণ কাজ বন্ধ হয়ে যায়। তাই চোখের সামনে তিন বছর ধরে শুধু দাড়িয়ে আছে খালের মধ্যে খাম্বা। ফলে ওই এলাকার প্রায় ২০ গ্রামের জনসাধারণদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
জানা গেছে, রাণীনগর উপজেলার সদর থেকে প্রায় ৭ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে কাশিমপুর-গোনা ইউনিয়নের সীমান্ত ঘেঁষে বয়ে গেছে রতনডারি খাল। ১৯১৪ সালে কৃষি জমিতে সেচ ব্যবস্থা ও নৌ চলাচলের স্বাভাবিক গতি ধরে রাখার জন্য এবং পানি প্রবাহ সচল রাখার লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী রাণীনগরের উদ্যোগে কুজাইল স্লুইচ গেট থেকে হাতিরপুল হয়ে রক্তদহ বিল পর্যন্ত খাল খনন করা হয়। বন্যা ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগে বছরের বেশি সময় ধরে বন্যার পানি থৈ থৈ করে।
এসময় পারিবারিক প্রয়োজনে যাতায়াতের একমাত্র ভরসা হয়ে দাঁড়ায় নৌকা। যানবাহন চলাচলের উপযোগী সরাসরি কোন পথ না থাকায় ওই এলাকার দুইটি ইউনিয়নের সর্বরামপুর, কাশিমপুর, ডাঙ্গাপাড়া, এনায়েতপুর, মঙ্গলপাড়া, ভবানীপুর, পীরেরা, বয়না, বেতগাড়ী, দূর্গাপুর, কৃষ্ণপুর, মালঞ্চি, ঘোষগ্রাম, নান্দাইবাড়ি, বেতগাড়ীসহ প্রায় ২০টি গ্রামের বসবাসরত সাধারণ মানুষ, স্কুলগামী ছাত্র-ছাত্রীদের রতনডারি খাল পাড় হতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
এছাড়া স্থানীয় কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ধানসহ অন্যান্য কৃষি পন্যসামগ্রী সহজভাবে পরিবহন ও বাজারজাত করতে না পারায় নায্যমূল্য প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হয়ে মোটা অংকের লোকসান গুনতে হচ্ছে।
তাই এলাকাবাসির দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি ছিল, একটি ব্রীজ নির্মাণ করা। স্থানীয়দের দাবির প্রেক্ষিতে এবং জন দুর্ভোগ লাঘব করতে রাণীনগর উপজেলা পরিষদের রাজস্ব উন্নয়ন তহবিল থেকে প্রায় ১৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ে রতনডারি খালের উপর কাশিমপুর ইউনিয়নের সর্বরামপুর-ভবানীপুর চৈতা পাড়া নামকস্থানে ফুট ব্রীজ নির্মাণের জন্য ২০১৬ সালের মার্চ মাসে একটি দরপত্র আহবান করা হয়।
এতে নওগাঁ সদরের পার-নওগাঁ মহল্লার মো: গোলাম কিবরিয়া নামের ঠিকাদার নির্মাণ কাজের দায়িত্ব পান। এর পর শুষ্ক মৌসুমে ওই খালের দুই পাড়ে খাম্বা নির্মাণ কাজ শুরু হলে শুধুমাত্র খালের মধ্যে খাম্বা নির্মাণ করার পর রহস্যজনক কারণে কাজটি বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় তিন বছর অতিবাহিত হলেও এই ফুট ব্রীজটি নিমার্ণে দৃশ্যমান কোন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। ফলে ওই এলাকার প্রায় ২০ গ্রামের জনসাধারণদের চরম দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয় কৃষক আসলাম আলী, ছোলাইমান, আব্দুর রহিমসহ শ্রমীক-মজুর, ব্যবসায়ীরা জানান, তিন বছর ধরে চোখের সামনে আমরা শুধু খাম্বাই দেখছি। কিন্তু নির্মাণ কাজের কোন নমুনা দেখছিনা। জনদুর্ভোগ লাঘব করতে দ্রুত নির্মাণ কাজ শেষ করার দাবি জানান তারা।
উপজেলার কাশিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো: মকলেছুর রহমান বাবু জানান, নির্মাণ কাজ সম্পূর্ণ করার জন্য আমি বারবার সংশ্লিষ্টদের কাছে ধরণা দিয়েছি। কিন্তু অদ্যবদি ফুট ব্রীজের বাকি কাজগুলো শুরু না হওয়ায় আংশিক অবকাঠামোও অপচয়ের দিকে চলে যাচ্ছে।
উপজেলা প্রকৌশলী মো: শাইদুল ইসলাম মিঞা বলেন, ওই সময় যে পরিমাণ ব্যয় ধরে কাজ শুরু করা হয়েছিল তা পাইলিং-টাওয়ার নির্মাণ করতেই টাকা শেষ হয়ে গেছে। ওই ব্রীজের নির্মাণ কাজ শেষ করতে এখনো প্রায় ২৫ লাখ টাকা লাগবে। আগামী অর্থ বছরে টাকা বরাদ্দ পেলে কাজটি শেষ করতে পারবেন বলে জানান তিনি।

'এরইমধ্যে আমেরিকার বিরুদ্ধে ইরানের নৈতিক জয় হয়েছে'

'ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকার অর্থনৈতিক সন্ত্রাস দেশটিকে ভয়াবহ বিপদে ফেলবে। রেডিও তেহরানকে দেয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে একথা বলেছেন বিশিষ্ট রাজনৈতিক ভাষ্যকার ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক এম শাহীদুজ্জামান
তিনি বলেন, আমেরিকা একের পর নানা অন্যায় ও ভুল পদক্ষেপ নিয়ে নিজেদেরকে নৈতিক দিক থেকে পরাজিত করছে। অপর দিকে ইরান নৈতিকভাবে জয়ী হচ্ছে- এতে কোনো সন্দেহ নেই।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক এম শাহীদুজ্জামান আরও বলেন, কথায় কথায় যে কোনো দেশের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার আমেরিকার অনৈতিক অ্যাডভেঞ্চারিজমকে প্রশ্রয় দিলে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার জন্য একটা বড় রকমের অস্থিরতা ও নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে পারে।
আমেরিকার অন্যায় আচরণ এবং ইসরাইলের অন্যান্য মারাত্মক পদক্ষেপ অত্যন্ত ভয়াবহ। গোলান মালভূমির উপর ইসরাইলি সার্বভৌমত্বে ট্রাম্পের স্বীকৃতির বিষয়টি যুদ্ধাপরাধের মতো।
আমেরিকার এসব মারাত্মক আচরণের কারণে শেষ পর্যন্ত মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির পরাজয় অনিবার্য বলে আমি মনে করি।
ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকার অর্থনৈতিক সন্ত্রাস আমেরিকাকে ভয়াবহ বিপদে ফেলবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই।
সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ ও উপস্থাপনা করেছেন গাজী আবদুর রশীদ।
রেডিও তেহরান: জনাব, অধ্যাপক এম শাহীদুজ্জামান ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা কঠোর করার ঘোষণা দিয়েছে আমেরিকা। তারা কী এ ঘোষণা বাস্তবায়ন করতে পারবে বলে মনে হয়?
 
আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
অধ্যাপক শাহীদুজ্জামান: দেখুন, আমেরিকা ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর করার যে ঘোষণা দিয়েছে তা তারা বাস্তবায়ন করতে পারবে কি না সে ব্যাপারে আমি অত্যন্ত সন্দেহ পোষণ করি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এ ধরনের নিষেধাজ্ঞাকে বেশি দূর টেনে নিয়ে যেতে পারবে কি না তাতে আমার সন্দেহ রয়েছে। যেসব দেশ তেল কিনছে আপাতদৃষ্টিতে হয়তো আমেরিকা এসব দেশের ওপর কিছুটা চাপ সৃষ্টি করবে। তারমধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকা ও ভারত রয়েছে। এসব দেশ ইরান থেকে সবসময় তেল ক্রয় করে। তাছাড়া ইরানের তেল ক্রয়ের দেশের তালিকায় চীন তো সবার ওপরে আছে। 
তবে আমার মনে হয় ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকার এই অবস্থানের ব্যাপারে বিশ্বব্যাপী সোচ্চার ভূমিকা তৈরি হচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোও মার্কিন চাপ সৃষ্টির প্রবণতাকে কাটিয়ে উঠছে। ইদানিং বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমেরিকার ট্রাম্প প্রশাসন  আচরণগত যে ব্যর্থতার প্রমাণ দিচ্ছে তাতে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইমপিচ করার মতো ধারনা সামনে আসছে। যদিও হয়তো শেষ পর্যন্ত ইমপিচমেন্টের দিকে শেষ পর্যন্ত যাবে না। তবে এটা বোঝা যায় ট্রাম্পের অবস্থা অত্যন্ত বিতর্কিত।
ইরান বিষয়ে ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতি বলতে গেলে সমালোচনার তালিকায় প্রথমেই রয়েছে। পরমাণু সমঝোতা হওয়ার পর তাদের এ ধরনের আচরণ একটা বিশ্বাসঘাতকতা ছাড়া আর কিছু নয়। ইরানের প্রতি মার্কিন এসব আচরণ তাদের দেউলিয়াত্বের প্রমাণ বহন করে।
রেডিও তেহরান:  অনেক দেশ বলছে- এ নিষেধাজ্ঞা একতরফা ও অবৈধ। সেক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সমাজ এর বিরুদ্ধে কী ধরনের পদক্ষেপ নিতে পারে?
 
হোয়াইট হাউজ
অধ্যাপক শাহীদুজ্জামান: দেখুন, এ ধরনের একতরফা নিষেধাজ্ঞার সবচেয়ে বড় উল্লেখযোগ্য বিষয় হচ্ছে আমেরিকাকে, ট্রাম্প প্রশাসনকে এক্সপোজ করে দিচ্ছে। অন্যদিকে বিশ্বব্যাপী সর্বাত্মক সহানুভূতি কিন্তু ইরানের পক্ষে রয়েছে। অন্যদিকে আমেরিকার একটি বড় সুবিধা হচ্ছে তার বিশাল অর্থনীতিতে পৃথিবীর বেশিরভাগ দেশ বিনিয়োগ করতে চায়। দেশগুলো আমেরিকার অর্থনীতিতে তাদের বাজার বজায় রাখতে চায়। 
অন্যদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞাগুলো এত বেশি নৈতিকতা বিবর্জিত অবস্থান নেয় যে অন্যান্য দেশগুলো সেই নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নিতে যেয়ে হিমশিম খায়। কেননা মার্কিন প্রশাসন এখন পাল্টা ওইসব দেশকেও নিষেধাজ্ঞার আওতায় নিয়ে আসছে। সেখানে আমেরিকার ইউরোপীয় মিত্রগুলোও বাদ যাচ্ছে না। সুতরাং এই কঠিন পরিস্থিতিতে অন্যান্য দেশগুলোর পাল্টা ব্যবস্থা নেয়া বেশ কঠিন। তাছাড়া ওইসব দেশের এ বিষয়ে পাল্টা ব্যবস্থা নেয়ার মতো পূর্ব অভিজ্ঞতাও নেই।
তবে ইরানই হচ্ছে একমাত্র দেশ যে দেশটি প্রথম কার্যকর দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে আমেরিকার বিরুদ্ধে। ইরানকে অবশ্যই এ ব্যাপারে কিছুটা ধৈর্যশীল অবস্থানে থাকতে হবে। আর অন্যান্য দেশগুলো যেমন, রাশিয়া, চীন, ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলো শেষ পর্যন্ত হয়তো একত্রিত হবে এবং পাল্টা ব্যবস্থা নেবে। কেননা আমেরিকার এ ধরনের অনৈতিক অ্যাডভেঞ্চারিজমকে প্রশ্রয় দিলে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার জন্য একটা বড় রকমের অস্থিরতা ও নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে পারে। অস্থিতিশীলতার মাত্রা অগ্রহণযোগ্য হয়ে যেতে পারে। তখন দেখা যাবে ট্রাম্প প্রশাসন শেষ পর্যন্ত নিজের কনট্রাডিকশনেই ধরা পড়ে যাবে। 
রেডিও তেহরান:  ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী বলেছেন, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ইরান তার ইচ্ছা অনুযায়ী যতটুকু প্রয়োজন ততটুকু জ্বালানি তেল রপ্তানি করবে। এ ঘোষণাকে আপনি কীভাবে দেখছেন?
 
ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী
অধ্যাপক শাহীদুজ্জামান: ইসলামি ইরানের সর্বোচ্চ নেতার এই বক্তব্য অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক ও আনন্দের খবর। আর আমরা এটাই শুনতে চাই ও দেখতে চাই। বিশ্বব্যাপী সবাই চায় ইরান যেভাবেই হোক কাটিয়ে উঠুক। ইরান একটি বিশাল দেশ। ইরানের বিশাল সম্পদ রয়েছে। আমেরিকা যদি আন্তর্জাতিক আইন ভঙ্গ করে ইসরাইলের প্ররোচনায় নির্বুদ্ধিতার মতো এই কাজ না করত  তাহলে ইরান খুব স্বাভাবিকভাবেই মধ্যপ্রাচ্যে অনেক বড় একটি দায়িত্বশীল ভূমিকায় অবতীর্ণ হতো।
আমরা প্রথম দিকে দেখেছিলাম ওবামা প্রশাসনের সময় থেকে পরমাণু সমঝোতা সই হওয়ার পর ইরানকে সবাই বুঝতে পারছিল যে তারা মধ্যপ্রাচ্যের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণ করবে। কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসন তা ভেঙ্গে চুরমার করে দিয়েছে। এ অবস্থায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা যে কথা বলেছেন, যে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ইরান তার ইচ্ছা অনুযায়ী যতটুকু প্রয়োজন ততটুকু জ্বালানি তেল রপ্তানি করবে এটি খুবই আশার বিষয়। আমেরিকার অন্যায় আচরণ এবং ইসরাইলের অন্যান্য মারাত্মক পদক্ষেপ অত্যন্ত ভয়াবহ। গোলান মালভূমির উপর ইসরাইলি সার্বভৌমত্বে ট্রাম্পের স্বীকৃতির বিষয়টি যুদ্ধাপরাধের মতো। তাছাড়া জেরুজালেমের একত্রীকরণের প্রক্রিয়াকে আমেরিকার  সমর্থন জানানো অত্যন্ত ভয়াবহ আচরণ। এসব বিষয় বিশ্বযুদ্ধের পূর্বশর্ত হিসেবে তৈরি হতে পারে। এসব আচরণ ও কাজ কখনও টিকে থাকতে পারে না। আমেরিকার এসব মারাত্মক আচরণের কারণে শেষ পর্যন্ত মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির পরাজয় অনিবার্য বলে আমি মনে করি।
রেডিও তেহরান: বিভিন্ন দেশের ওপর আমেরিকা কথায় কথায় অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছে। ইরান একে অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদ বলছে। আপনার মতামত কী?
অধ্যাপক শাহীদুজ্জামান: নিশ্চয়ই আমেরিকা কথায় কথায় অন্য দেশের উপর বিশেষ করে ইরানের ওপর যে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে সেটি অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদ। ইরান যথার্থই বলেছে। এরচেয়ে উপযুক্ত ভাষা আর কোনো কিছু হতেই পারে না। নিশ্চয়ই এটি আমেরিকার অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদ। এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মাদ জাওয়াদ জারিফ
আর এ বিষয়টি শুধু ইরান বলছে এমনটিই নয়; ইরানের বন্ধু রাষ্ট্রগুলোসহ ইউরোপের দেশগুলো যেমন জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালিসহ অন্যান্য রাষ্ট্রগুলো বেশ ভালোভাবেই বোঝে এবং জানে তাদের সন্ত্রাসবাদের বিষয়টি। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তিনি অত্যন্ত বিচক্ষণ, উচ্চ শিক্ষিত, জ্ঞানী এবং খুবই সম্মানিত ব্যক্তি। দীর্ঘ দিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে আছেন। তিনি বিশ্বব্যাপী কার্যকরভাবে তুলে ধরতে পেরেছেন যে অর্থনৈতিক সন্ত্রাস বলতে কি বোঝায়! 
আমেরিকা একের পর নানা অন্যায় ও ভুল পদক্ষেপ নিয়ে নিজেদেরকে নৈতিক দিক থেকে পরাজিত করছে। অপর দিকে ইরান নৈতিকভাবে জয়ী হচ্ছে- এতে কোনো সন্দেহ নেই। আমেরিকার এ ধরনের আচরণ কোনোসময় স্থায়ীত্ব পেতে পারে না। 
ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকার অর্থনৈতিক সন্ত্রাস আমেরিকাকে ভয়াবহ বিপদে ফেলবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। এরইমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে তাদের প্রভাব অনেক কমে গেছে আগের তুলনায়। মধ্যপ্রাচ্যে অনাকাঙ্খিত শক্তি আমেরিকা বর্তমানে সিরিয়া, ইরাক, লেবাননে যুদ্ধে ব্যস্ত রয়েছে। এসব জায়গায় তাদের আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বর্তমান অবস্থান অনেক দুর্বল। বিশ্বব্যাপী ট্রাম্প প্রশাসন এবং তাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও নিরাপত্তা উপদেষ্টা ঘৃণিত ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে আমরা দেখতে পাই উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট পর্যন্ত আমেরিকাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে রাশিয়ার সাথে নতুন সংযোগ স্থাপন করেছে। বিশ্বব্যাপী আমেরিকাকে প্রত্যাখ্যান করাই হচ্ছে তাদের অপকর্মের উপযুক্ত জবাব।

ক্রিপ্টোকারেন্সিতে লেনদেন ভেনেজুয়েলায়!

ক্রিপ্টোকারেন্সিতে লেনদেন ভেনেজুয়েলায়!
বিটকয়েন বা ক্রিপ্টোকারেন্সির প্রথম প্রচলন হয় ২০০৯ সালে। বর্তমানে বিটকয়েন ছাড়াও অনেকগুলো ক্রিপ্টোকারেন্সি প্রচলিত আছে। গত ১০ বছরে ব্যাপক সমালোচনার শিকার হয়েছে ক্রিপ্টোকারেন্সি। কিন্তু কিছু মানুষের জন্য এই ডিজিটাল মুদ্রা ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
লাতিন আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলা বর্তমানে মারাত্মক রাজনৈতিক সংকটের মধ্যে রয়েছে। দেশটিতে এখন দু’জন প্রেসিডেন্ট। একজন নিকোলাস মাদুরো, অন্যজন স্বঘোষিত প্রেসিডেন্ট হুয়ান গুয়াইদো। রাজনৈতিক সংকটের কারণে দেশটিতে দেখা দিয়েছে উচ্চ মূল্যস্ফীতি।
ভেনেজুয়েলার মুদ্রার নাম বলিভার। দেশটিতে এখন এক কাপ কফি কিনতে খরচ করতে হয় ২ হাজার ৮০০ বলিভার (২৮ সেন্ট)। মাত্র ১২ মাস আগে এক কাপ কফির দাম ছিল ০.৭৫ বলিভার। ব্লুমবার্গের তথ্য অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় পণ্য, টয়লেট পেপার ও ওষুধের সংকট, একই সঙ্গে অপরাধের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় ভেনেজুয়েলার ৩০ লাখের বেশি নাগরিক দেশ ছেড়ে চলে গিয়েছে। মুদ্রার মান কমে যাওয়ায় দেশটির অনেকেই বলিভারের বিকল্প হিসেবে বিটকয়েনের মতো ডিজিট্যাল মুদ্রার দিকে ঝুঁকছেন। এমনকি দেশটির সরকারও আর্থিক সংকট সমাধানে ‘পেট্রো’ নামে একটি ক্রিপ্টোকারেন্সি চালু করেছে। কিন্তু সমালোচকরা বলছেন, এই পদক্ষেপ ধোঁকা ছাড়া কিছুই নয়। কারণ, কেউ এই ধরনের মুদ্রা ব্যবহার করছে বলে প্রমাণ নেই।
২৮ বছর বয়সি ভেনিজুয়েলার নাগরিক এলি মেরেগোট বর্তমানে কলম্বিয়ায় বসবাস করছেন। দেশে অর্থ পাঠানোর জন্য তিনি বিটকয়েন বা অন্যান্য ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহার করছেন। এতে ওয়েস্টার্ন ইউনিয়নের মতো মানি ট্রান্সফার প্রতিষ্ঠানগুলোকে তার বাড়তি ফি দিতে হচ্ছে না। সিসিটিভি টেকনিশিয়ান মেরেগোট বলেন, ভেনিজুয়েলায় ২০১৭ সালে চাকরি হারানোর পর আমি প্রথম ক্রিপ্টো আবিষ্কার করি। ভেনিজুয়েলায় চাকরি করাটাও ছিল অর্থহীন, কেননা মাসে সর্বনিম্ন মজুরি ছিল মাত্র ৪ ডলার।
তার মতে, ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহারের ফলে কোনও ব্যাঙ্ক বা তৃতীয় পক্ষ তার অর্থের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে না। অর্থের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ তার হাতে। তিনি বলেন, বিটকয়েন বা অন্যান্য ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে তিনি দ্রুত এবং কোনো বাধা ছাড়াই দেশে অর্থ পাঠাতে পারেন।
বিটকয়েন হলো প্রচলিত একটি ডিজিট্যাল মুদ্রা। কোনো দেশের সরকার বা ব্যাংক এতে কোনো হস্তক্ষেপ করতে পারে না। অন্যান্য ক্রিপ্টোকারেন্সির মতো এর সব লেনদেন ব্লকচেন নামে একটি ডাটাবেজে স্থায়ীভাবে নথিভুক্ত থাকে। বর্তমানে বিশ্বে বিটকয়েনের মতো ১ হাজার ৬০০-র বেশি ক্রিপ্টোকারেন্সি রয়েছে। সমালোচকরা বলছেন, এসব মুদ্রা অস্থিতিশীল এবং ইন্টারনেটে অবৈধ পণ্য কিনতে এসব মুদ্রা ব্যবহৃত হয়। এছাড়া অর্থ পাচারকারীরাও এসব মুদ্রা ব্যবহার করেন।
ভেনেজুয়েলার অধিবাসীরা বিটকয়েন, লাইটকয়েন, ড্যাশ বা অন্যান্য ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে ডিজিট্যাল ওয়ালেটে তাদের অর্থ সংরক্ষণ করেন। নিজেদের মুদ্রা সংরক্ষণ করার চেয়ে এটিই তাদের জন্য ভালো। তবে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে ক্রিপ্টোর লেনদেন কিছুটা কমেছে। ক্রিপ্টোকারেন্সি ডাটা ট্র্যাকার কয়েন ড্যান্সের মতে, গত ফেব্রুয়ারিতে ভেনিজুয়েলায় সপ্তাহে ৬৮ লাখ ৪০ হাজার পাউন্ড অর্থমূল্যের ক্রিপ্টোকারেন্সির লেনদেন হয়েছে, অর্থাৎ দৈনিক প্রায় ১০ লাখ পাউন্ড।
কারাকাসের কনসালট্যান্সি প্রতিষ্ঠান ইকোন্যানালিটিকার অর্থনীতিবিদ আসদ্রুবাল অলিভেরোস বলেন, উচ্চ মুদ্রাস্ফীতির কারণে ভেনেজুয়েলার মুদ্রা বলিভারের মারাত্মক পতন হয়েছে। কিছুটা মান ধরে রাখতে অনেকেই বলিভারকে বিটকয়েনে রূপান্তর করছেন। তিনি বলেন, ভেনেজুয়েলার অনেকেই ফ্রিল্যান্সার হিসেবে কাজ করছেন। তারা বিটকয়েনেই তাদের কাজের মজুরি পাচ্ছেন। কারণ, বেশির ভাগ মানুষেরই বিদেশে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নেই। যার কারণে ডলারে লেনদেন করা তাদের পক্ষে সম্ভব হয় না। অন্যদিকে বলিভারে মজুরি পাওয়ার কোনো অর্থ হয় না।

স্তন স্ফীতকরণে ক্যান্সার! আদালতে যাচ্ছেন ২৫০ নারী

বিশ্বজুড়ে অসংখ্য নারী অপারেশন করিয়ে তাদের স্তন স্ফীতকরণ করাচ্ছেন। তাদের দৃষ্টিতে এতে আকর্ষণ বৃদ্ধি পায়। কিন্তু এমন কৃত্রিম উপায়ে স্তন স্ফীতকরণ বা আকৃতি বড় করাতে গিয়ে তারা নিজেরা নিজেদের সর্বনাশ ডেকে আনছেন। তাদের অনেকেই এর ফলে ব্রেস্ট ক্যান্সার বা স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছেন। অনেকে অস্বস্তিকর জীবন যাপন করছেন। এ অপারেশনকে সাধারণত ব্রেন্ট ইমপ্লান্ট হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। এর ফলে ক্যান্সারের সম্ভাব্য যোগসূত্র আছে বলে একটি ব্রেস্ট ইমপ্লান্ট বিষয়ক কোম্পানির বিরুদ্ধে মামলা করছেন প্রায় আড়াইশত বৃটিশ নারী। তারা সবাই ওই কোম্পানির ক্লায়েন্ট বা তাদের কাছ থেকে সেবা নিয়েছেন।
এসব নারীর স্তনে ‘অ্যালারগ্যান বায়োসেল’ ইমপ্লান্ট করা হয়েছে। এখন তারা একত্রিত হয়ে আইনী পদক্ষেপ নিচ্ছেন। ওই কোম্পানিটিকে দাঁড় করাচ্ছেন কাঠগড়ায়। বৃটেনে স্তন বর্ধিতকরণের ফলে ক্যান্সারের সম্পর্ক বা ঝুঁকির বিষয়টি সামনে আসে ২০১১ সালে।
যে আড়াইশ নারী অ্যালারগ্যান বায়োসেল ইমপ্লান্ট করিয়েছিলেন, তাদের মধ্যে ক্যান্সারের আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। বৃটেনে এই ইমপ্লান্ট বা স্তন বর্ধিতকরণ পদ্ধতি সবচেয়ে জনপ্রিয়। কিন্ত বৃটেনে অ্যালারগ্যান বায়োসেল বিক্রি প্রত্যাহার করে নিয়েছে কোম্পানিটি। আলাদাভাবে মেডিসিনস অ্যান্ড হেলথকেয়ার বিষয়ক পণ্য নিয়ন্ত্রণকারী এজেন্সি পরীক্ষা করে দেখছে, স্তন বর্ধিতকরণের সঙ্গে স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বা কোনো পাশ্বপ্রতিক্রিয়াকে ব্রেস্ট ইমপ্লান্ট ইলনেস বা স্তন বর্ধিতকরণ সংক্রান্ত অসুস্থতাকে সরকারিভাবে স্বীকৃতি দেয়া হবে কিনা।
যে আড়াইশ নারী ওই মামলা করছেন তাদের মধ্যে ৬ জনের স্তনে অ্যানাপ্লাস্টিক লার্জ সেল লিম্ফোমা (এএলসিএল) নামের রিবল ব্লাড ক্যান্সার বেড়ে উঠছে বলে জানা গেছে। এর সঙ্গে স্তন বর্ধিতকরণের সম্পর্ক আছে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে অন্য যারা আছেন তাদের এমন ঝুঁকির বিষয়ে পর্যাপ্ত সতর্কতা দেয়া হয় নি। স্বাস্থ্য বিষয়ক কর্তৃপক্ষ পরামর্শ দিচ্ছে যে, যারা স্তন স্ফীতকরণ করিয়েছেন তাদের স্তনের ভিতর থেকে থলথলে কৃত্রিম সিলিকার ঝিল্লি তা প্রত্যাহার করে নেয়ার প্রয়োজন নেই। কিন্তু ঘটনাটি বৃটেনের ৫ লক্ষাধিক নারীর মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। এসব নারী স্তন স্ফীতকরণ করিয়েছেন। মোট নারীর মধ্যে তাদের শতকরা হার ৩ ভাগ।
অসংখ্য নারীর স্তন স্ফীতকরণ অপারেশনে সহায়তা করেছেন জুলি হ্যারিস। এমন কি তিনি নিজেই নিজের স্তন স্ফীতকরণ করিয়েছেন। এখন তিনিও ওই কোম্পানিটির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছেন। দুই দশক ধরে তিনি ম্যানচেস্টারে হারলে মেডিকেল গ্রুপে কনসালট্যান্ট নার্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এ সময়ে তিনি শত শত নারীর সঙ্গে বসেছেন। তাদেরকে স্তন স্ফীতকরণের পরামর্শ দিয়েছেন। জুলি হ্যারিসের বয়স এখন ৫৮ বছর। তার মধ্যে স্তন স্ফীতকরণ প্রযুক্তির ওপর আস্থা এতটাই বেশি ছিল যে, নিজেই নিজের অপারেশন করিয়েছেন।
তিনি ২০০৫ সালে নিজের স্তন স্ফীত করেন। কিন্তু ২০১২ সালে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে যে, স্তন স্ফীতকরণে ব্যবহৃত পিআইপি ফুটো হয়ে বেরিয়ে আসতে পারে। সঙ্গে সঙ্গে জুলি হ্যারিস তার স্তনের ভিতর থেকে সেগুলো বের করে ফেলেন এবং তার স্থানে প্রতিস্থাপন করেন অ্যালারগ্যান ইমপ্লান্ট। গত বছর তার স্তন পরীক্ষা করে তাতে ব্রেস্ট ইমপ্লান্ট-অ্যাকুয়ার্ড আনাপ্লাস্টিক লার্জ সেল লিম্ফোমা (বিআইএ-এএলসিএল) ধরা পড়ে। তারপর থেকে তাকে ৬ দফা কেমোথেরাপি দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, এই অপারেশনে যে ঝুঁকি তা কোনো নারীকেই আগে বলা হয় নি। ১৯৯৭ সালে বিআইএ-এএলসিএল পদ্ধতি প্রথম রেকর্ড করা হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত এর ঝুঁকি সম্পর্কে খুব বেশি নারীকে জানানো হয় নি।
এ সংক্রান্ত যে মামলা করা হবে সে বিষয়ে এরই মধ্যে বৃটেনের চ্যানেল ৪ একটি ডকুমেন্টারি প্রকাশ করার কথা। তবে অ্যালারগ্যান বায়োসেল ইমপ্লান্টের সঙ্গে কেন ক্যান্সারের যোগসূত্র সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায় নি। তবে এমনটা হতে পারে, এর ভিতর রয়েছে বিষাক্ত জেল এবং শেল। সার্জারির সময় সেগুলোতে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ ঘটে থাকতে পারে। বর্তমানে ইউরোপে এটি বিক্রির লাইসেন্স নিরাপত্তা ইস্যুতে বন্ধ করে রাখা হয়েছে।

অর্থনৈতিক স্বপ্নে পৌঁছতে হলে স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে ভাবতে হবে

অর্থনৈতিক স্বপ্নে পৌঁছতে হলে বাংলাদেশকে স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে ভাবতে হবে। অনলাইন কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ কথা বলেছেন সিলভানা কিউ সিনহা। তিনি প্রভা হেলথের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। তিনি ওই প্রতিবেদনে লিখেছেন, গত মাসে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক ঘোষণা দিয়েছে যে, ২০২০ সালের মধ্যে যেসব দেশ শতকরা ৭ ভাগ জাতীয় প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে এমন এশিয়ান সাতটি দেশের মধ্যে অন্যতম বাংলাদেশ। প্রকৃতপক্ষে এর অর্থ হলো, এই হিসাবে বাংলাদেশের মাথাপিছু জাতীয় প্রবৃদ্ধি ২০৩০ সালের মধ্যে ভারতকে ছাড়িয়ে যাবে।
বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির একটি দেশ হওয়ায় বাংলাদেশকে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম, দ্য ইকোনমিস্ট ও অন্যরা পরবর্তী এশিয়ান টাইহগার হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর মার্কিন কূটনীতিক হেনরি কিসিঞ্জারের ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ থেকে অনেক দূরে এসেছে বাংলাদেশ। দ্রুত এই অর্থনৈতিক অগ্রগতির ফলে ২০০৫ সালের দারিদ্র্যের হার শতকরা ৪০ ভাগ থেকে কমে ৩০ ভাগের নিচে নেমে এসেছে এখন।
বিশ্বব্যাংকের মতে, প্রায় চার কোটি গতিশীল মধ্যবিত্ত বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিচালিত করছেন।
যখন বাংলাদেশীদের জন্য এটি একটি খুব ভাল খবর, তখন স্বাস্থ্যখাতে এ বিষয়টি চিহ্নিত না করা একটি ঝুঁকি দেশের জন্য। এর ফলে এসব অগ্রগতি ঝুঁকিতে পড়তে পারে। বেশ কিছু নি¤œ থেকে মধ্যম আয়েদের দেশের সঙ্গে বাংলাদেশ বর্তমানে একটি অভিজ্ঞতার মুখে। একে বলা হচ্ছে ‘মিসিং মিডল’ সমস্যা। বাংলাদেশে যতই অর্থনৈতিক অগ্রগতি হচ্ছে, উন্নয়ন সহায়তা ততই কমছে। এরই মধ্যে স্বাস্থ্যখাতে সরকারের বিনিয়োগ যথেষ্ট গতিশীল নয়। প্রকৃতপক্ষে স্বাস্থ্যখাতে সরকার যে অর্থ খরচ করছে তা জাতীয় প্রবৃদ্ধির শতকরা হিসেবে গত ১০ বছরে শুধু কমছেই। মুদ্রাস্ফীতির সঙ্গে তার সামঞ্জস্য রাখার ঘটনা বিরল। জনস্বাস্থ্য খাতে খরচের বিষয় যখন আসে তখন সবচেয়ে বাজে পারফরমেন্স করছে যে ২৫টি দেশ তার মধ্যে বাংলাদেশ রয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশী পরিবারগুলোর পকেট থেকে বিপুল পরিমাণের অর্থ যাচ্ছে। তারা পাচ্ছে দুর্বল সেবা। মধ্যম আয়ের পরিবারের যখন আয় বাড়ছে, তখন তার আয়ের চেয়ে দ্রুত গতিতে বাড়ছে স্বাস্থ্যখাতের খরচ। এ জন্য স্বাস্থ্যসেবা পেতে মানুষকে লড়াই করতে হচ্ছে। এই খরচ দিয়ে বাংলাদেশী রোগিরা একজন চিকিৎসকের পরামর্শ পান গড়ে ৪৮ সেকেন্ড।
সরকারি স্বাস্থ্য খাতে স্টাফ কম। আর এর সুবিধা নিচ্ছে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো। এসব খাতে খরচ অনেক বেশি। তা বাড়ছেই। এমন প্রতিষ্ঠান ঢাকার মতো শহরে বাড়ছেই। এসব বেসরিকারি প্রতিষ্ঠানকে নিয়ন্ত্রিত করতে এবং সেখানে মনিটরিং করতে সরকারের সক্ষমতায় ঘাটতি আছে। ফলে এসব চিকিৎসা কেন্দ্রগুলোতে গুনগত মান নিয়ে রয়েছে গুরুত্বর প্রশ্ন।
ওই প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, দেশের ভিতর এত বেশি খরচ ও স্বাস্থ্য বিষয়ক অবকাঠামোর দুর্বল অবস্থার কারণে উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রতিদিন কয়েক হাজার বাংলাদেশী বিদেশে যান। সঙ্গে নিয়ে যান তাদের বর্ধিত আয় এবং তার সবটা শেষ করে আসেন। তাই দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি চিরস্থায়ীভাবে অব্যাহত থাকবে না, বিশেষ করে একটি অস্বাস্থ্যকর অবস্থা নিয়ে। একই সময়ে দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাংলাদেশের সামনে একটি সুস্থ স্বাস্থ্য বিষয়ক অবকাঠামো গড়ে তোলার সুযোগ এনে দিয়েছে।

রেমিটেন্স ১৬শ’ কোটি ডলার ছাড়ালো

বিদায়ী ২০১৮-১৯ অর্থবছরের এক সপ্তাহ বাকি থাকতেই রেমিটেন্স ১ হাজার ৬০০ কোটি ডলার (১৬ বিলিয়ন) ছাড়িয়েছে। দেশের ইতিহাসে এর আগে কখনোই এক অর্থবছরে ১৬ বিলিয়ন ডলার রেমিটেন্স আসেনি। এর আগে ২০১৪-১৫  অর্থবছরে ১৫.৩২ বিলিয়ন ডলার রেমিটেন্স পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা। যা ছিল এ যাবতকালের সর্বোচ্চ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্যে দেখা গেছে, বিদায়ী অর্থবছরের শেষ মাস জুনের ২১ দিনের রেমিটেন্সের তথ্য প্রকাশ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তাতে দেখা যায়, এই ২১ দিনে ৯৭ কোটি ২৯ লাখ ডলার রেমিটেন্স এসেছে বাংলাদেশে। অর্থবছরের ১১ মাসে অর্থাৎ জুলাই-মে সময়ে এসেছিল ১ হাজার ৫০৫ কোটি ৯০ লাখ (১৫.০৫ বিলিয়ন) ডলার। সবমিলিয়ে ৩০ জুন শেষ হতে যাওয়া ২০১৮-১৯ অর্থবছরের ১১ মাস ২১ দিনে ১ হাজার ৬০৩ কোটি ২০ লাখ ডলার (১৬.০৩ বিলিয়ন) রেমিটেন্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা।
অর্থবছরের বাকি এক সপ্তাহে আরও ২৫ থেকে ৩০ কোটি ডলার রেমিটেন্স আসবে বলে আশা করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
আর তাতে এবার রেমিটেন্স ১৬.৩০ বিলিয়ন ডলারে গিয়ে ঠেকবে। রোজা ও ঈদ সামনে রেখে প্রবাসীরা দেশে বেশি অর্থ পাঠানোয় মে মাসে ১৭৫ কোটি ৫৮ লাখ ডলার রেমিটেন্স এসেছে বাংলাদেশে; যা ছিল মাসের হিসাবে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।
তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের ১১ মাসে (জুলাই-মে) রেমিটেন্স প্রবাহে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১০.৭৫ শতাংশ। অর্থবছর শেষেও প্রবৃদ্ধি এমনটাই থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। গত ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ১ হাজার ৪৯৮ কোটি ১৭ লাখ (১৪.৯৮ বিলিয়ন) ডলারের রেমিটেন্স পাঠিয়েছিলেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানকারী প্রবাসীরা। ওই অঙ্ক ২০১৬-১৭ অর্থবছরের চেয়ে ১৭.৩২ শতাংশ বেশি ছিল।
বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি হল বিদেশে থাকা বাংলাদেশিদের পাঠানো অর্থ বা রেমিটেন্স। বর্তমানে এক কোটির বেশি বাংলাদেশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থান করছেন। জিডিপিতে তাদের পাঠানো অর্থের অবদান ১২ শতাংশের মত।
রেমিটেন্স বাড়ায় বাংলাদেশ ব্যাংকের বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়নও (রিজার্ভ) সন্তোষজনক অবস্থায় রয়েছে। গত রোববার রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩২.০২ বিলিয়ন ডলার।
গত ৭ই মে এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) মার্চ-এপ্রিল মেয়াদের ১২৪ কোটি ১০ লাখ ডলার আমদানি বিল পরিশোধের পর রিজার্ভ ৩১ বিলিয়ন ডলারের নীচে নেমে আসে। তা ফের ৩২ বিলিয়ন ডলারের উপরে অবস্থান করেছে মূলত রেমিটেন্স বাড়ার কারণে। স্থানীয় বাজারে ডলারের তেজিভাব এবং হুন্ডি ঠেকাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নানা পদক্ষেপের কারণে রেমিটেন্স প্রবাহ বেড়েছে বলে মনে করছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা।